(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: -)
الاعتبار في الناسخ والمنسوخ من الآثار   (الحازمي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب : الاعتبار في الناسخ والمنسوخ من الآثار

المؤلف : أبو بكر محمد بن موسى بن عثمان الحازمي الهمداني، زين الدين (المتوفى : 584هـ)

الناشر : دائرة المعارف العثمانية - حيدر آباد ، الدكن

الطبعة : الثانية ، 1359 هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 244

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইতিবার ফি আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ মিনাল আসার   (আল-হাজিমি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান


গ্রন্থ : আল-ইতিবার ফি আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ মিনাল আসার

লেখক : আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুসা বিন উসমান আল-হাজিমি আল-হামদানি, জয়নুদ্দিন (মৃত্যু : ৫৮৪ হিজরী)

প্রকাশক : দাইরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া - হায়দ্রাবাদ , দাক্ষিণাত্য

সংস্করণ : দ্বিতীয় , ১৩৫৯ হিজরী

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৪

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الاعتبار في الناسخ والمنسوخ من الآثار]ـ

المؤلف: أبو بكر محمد بن موسى بن عثمان الحازمي الهمداني (المتوفى: 584هـ)

الناشر: دائرة المعارف العثمانية - حيدر آباد، الدكن

الطبعة: الثانية، 1359 هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[আল-ইতিবার ফি আন-নাসিখ ওয়াল-মানসুখ মিনাল আসার]

লেখক: আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুসা বিন উসমান আল-হাজিমি আল-হামাদানি (মৃত্যু: ৫৮৪ হিজরি)

প্রকাশক: দায়িরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া - হায়দ্রাবাদ, দাক্ষিণাত্য

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৩৫৯ হিজরি

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمْدُ لِلَّهِ، وَصَلَوَاتُهُ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَامُهُ، قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْحَافِظُ زَيْنُ الدِّينِ أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْحَازِمِيُّ:

الْحَمْدُ لِلَّهِ الْكَبِيرُ الْمُتَعَالِ، الْكَثِيرُ النَّوَّالُ، الْمُنْعِمُ الْمِفْضَالُ، الْمَوْصُوفُ بِالْقُدْرَةِ وَالْكَمَالِ، وَالْعِزَّةِ وَالْجَلَالِ، الْمُقَدَّسُ عَنْ سِمَاتِ النَّقْصِ وَصُنُوفِ الزَّوَالِ: مُنْشِئُ السَّحَابِ الثِّقَالِ، وَمُخْرِجُ الْوَدْقِ مِنَ الْخِلَالِ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى خِيرَتِهِ مِنْ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ الْمَبْعُوثِ بِنَسْخِ آثَارِ الضَّلَالِ، وَرَفْعِ الْآصَارِ وَالْأَغْلَالِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ خَيْرِ صِحَابٍ وَأَفْضَلِ آلٍ.

أَمَّا بَعْدُ: فَهَذَا الْكِتَابُ أَذْكُرُ فِيهِ مَا انْتَهَتْ إِلَيَّ مَعْرِفَتُهُ مِنْ نَاسِخِ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْسُوخِهِ، إِذْ هُوَ عِلْمٌ جَلِيلٌ ذُو غَوْرٍ وَغُمُوضٍ، دَارَتْ فِيهِ الرُّءُوسُ، وَتَاهَتْ فِي الْكَشْفِ عَنْ مَكْنُونِهِ النُّفُوسُ، وَقَدْ تَوَهَّمَ بَعْضُ مَنْ لَمْ يَحْظَ مِنْ مَعْرِفَةِ الْآثَارِ إِلَّا بِآثَارٍ، وَلَمْ يُحَصِّلْ مِنْ طَرَائِقِ الْأَخْبَارِ إِلَّا أَخْبَارًا، أَنَّ الْخَطْبَ فِيهِ جَلِيلٌ يَسِيرٌ، وَالْمَحْصُولَ مِنْهُ قَلِيلٌ غَيْرُ كَثِيرٍ.

وَمَنْ أَمْعَنَ النَّظَرَ فِي اخْتِلَافِ الصَّحَابَةِ فِي الْأَحْكَامِ الْمَنْقُولَةِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم اتَّضَحَ لَهُ مَا قُلْنَاهُ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর। শায়খ, ইমাম, হাফিজ (الحافظ) জয়নুদ্দীন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুসা আল-হাযিমি বলেছেন:

সকল প্রশংসা সুমহান ও সুউচ্চ আল্লাহর জন্য, যিনি প্রচুর দানকারী, পরম অনুগ্রহকারী এবং শ্রেষ্ঠ দাতা; যিনি ক্ষমতা ও পূর্ণতা এবং মর্যাদা ও মহিমার গুণে গুণান্বিত; যিনি সকল ত্রুটির চিহ্ন ও নশ্বরতার প্রকারভেদ থেকে পবিত্র। তিনি ভারী মেঘমালার স্রষ্টা এবং মেঘের ছিদ্রপথ দিয়ে বৃষ্টিবর্ষণকারী। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি মুহাম্মাদের ওপর, যাঁকে গোমরাহীর চিহ্নসমূহ মিটিয়ে দিতে এবং কঠিন বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর, যাঁরা সর্বোত্তম সঙ্গী ও শ্রেষ্ঠ পরিজন।

অতঃপর: এটি এমন এক কিতাব যাতে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) বিষয়সমূহ সম্পর্কে আমার লব্ধ জ্ঞান উল্লেখ করব। কেননা এটি একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান, যার গভীরতা ও জটিলতা অপরিসীম। এ শাস্ত্রের আলোচনায় বিজ্ঞ ব্যক্তিদের মস্তক ঘূর্ণায়মান হয়েছে এবং এর নিগূঢ় রহস্য উন্মোচনে বহু প্রাণ বিভ্রান্ত হয়েছে। অথচ যারা বর্ণনা (آثار) সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান ছাড়া আর কিছুই পায়নি এবং সংবাদ (أخبار) আদান-প্রদানের পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে যৎসামান্যই অর্জন করেছে, তারা ধারণা করে বসেছে যে, এই বিষয়টি অত্যন্ত সহজ এবং এর সারবস্তু অতি নগণ্য।

নবী (সা.) থেকে বর্ণিত বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের মতপার্থক্যের বিষয়ে যে ব্যক্তি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করবেন, তার নিকট আমাদের বক্তব্যের যথার্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ৩)
وَيَشْهَدُ لِصِحَّةِ مَا رَسَمْنَاهُ مَا أَخْبَرَنِيهِ أَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَامِدِ بْنُ جَبْلَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ، حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ بْنُ رَجَاءِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي رَزِينٍ، قَالَ: سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ يَقُولُ: أَعْيَا الْفُقَهَاءَ وَأَعْجَزَهُمْ أَنْ يَعْرِفُوا نَاسِخَ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْسُوخَهُ.

أَلَا تَرَى الزُّهْرِيَّ وَهُوَ أَحَدُ مَنِ انْتَهَى إِلَيْهِ عِلْمُ الصَّحَابَةِ، وَعَلَيْهِ مَدَارُ

حَدِيثِ الْحِجَازِ، وَهُوَ الْقَائِلُ: " لَمْ يُدَوِّنْ هَذَا الْعِلْمَ أَحَدٌ قَبْلِي تَدْوِينِي " وَكَانَ إِلَيْهِ الْمَرْجِعُ فِي الْحَدِيثِ، وَعَلَيْهِ الْمُعَوَّلُ فِي الْفُتْيَا، كَيْفَ اسْتَعْظَمَ هَذَا الشَّأْنَ مُخْبِرًا عَنْ فُقَهَاءِ الْأَمْصَارِ.

ثُمَّ لَا نَعْلَمُ أَحَدًا جَاءَ بَعْدَهُ تَصَدَّى لِهَذَا الْفَنِّ وَلَخَّصَهُ، وَأَمْعَنَ فِيهِ وَخَصَّصَهُ إِلَّا مَا يُوجَدُ مِنْ بَعْضِ الْإِيمَاءِ وَالْإِشَارَةِ فِي عَرَضِ الْكَلَامِ عَنْ آحَادِ الْأَئِمَّةِ، حَتَّى جَاءَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه فَإِنَّهُ خَاضَ تَيَّارَهُ وَكَشَفَ أَسْرَارَهُ وَاسْتَنْبَطَ مَعِينَهُ، وَاسْتَخْرَجَ دَفِينَهُ، وَاسْتَفْتَحَ بَابَهُ، وَرَتَّبَ أَبْوَابَهُ.

أَخْبَرَنَا الْإِمَامُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَسَنُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْفَقِيهُ فِي كِتَابِهِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْحَافِظِ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَاجِيَةَ قَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ مُسْلِمِ بْنِ وَارَةَ

يَقُولُ: قَدِمْتُ مِنْ مِصْرَ فَأَتَيْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ أُسَلِّمُ عَلَيْهِ، فَقَالَ لِي: كَتَبْتَ كُتُبَ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: فَرَّطْتَ، مَا عَرَفْنَا الْمُجْمَلَ مِنَ الْمُفَسَّرِ، وَلَا نَاسِخَ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَنْسُوخِهِ حَتَّى جَالَسْنَا الشَّافِعِيَّ.

وَقَدْ ذَكَرَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه فِي كِتَابِ " الرِّسَالَةِ " مِنْ هَذَا الْفَنِّ أَحَادِيثَ، وَلَمْ يَسْتَنْزِفْ مَعِينَهُ فِيهَا، إِذْ لَمْ يَضَعِ الرِّسَالَةَ لِهَذَا الْفَنِّ وَحْدَهُ، غَيْرَ أَنَّهُ أَشَارَ إِلَى قِطْعَةٍ صَالِحَةٍ تُوجَدُ فِي غُضُونِ الْأَبْوَابِ مَنْ كُتُبِهِ، وَلَوْ كَانَتْ مَوْجُودَةً لَأَغْنَتِ الْبَاحِثَ عَنِ الطَّلَبِ،
আমরা যা বিধিবদ্ধ করেছি তার বিশুদ্ধতার (صحة) সাক্ষ্য দেয় সেই বর্ণনা যা আমাকে আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-হাফেজ (الحافظ) জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু হামিদ ইবনে জাবলাহ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে সাদ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হারুন ইবনে মারুফ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন দামরাহ ইবনে রাজা ইবনে আবি সালামাহ, আবু রাজিন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি জুহরিকে বলতে শুনেছি: ফকিহগণ আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) শনাক্ত করতে গিয়ে অপারগ ও অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন।

আপনি কি জুহরিকে দেখছেন না? অথচ তিনি ছিলেন এমন এক ব্যক্তি যার কাছে সাহাবীদের জ্ঞান এসে পৌঁছেছিল এবং তাঁর ওপরই হিজাজের হাদিসের আবর্তন (مدار)

ছিল। তিনিই বলেছিলেন: "আমার পূর্বে কেউ এই জ্ঞানকে আমার মতো সংকলন করেনি।" হাদিসের ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন প্রধান আশ্রয়স্থল এবং ফতোয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ওপরই নির্ভর করা হতো। দেখুন, তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহদের সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে এই বিষয়টিকে কত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছেন।

অতঃপর আমরা জানি না যে, তাঁর পরে এমন কেউ এসেছেন যিনি এই শাস্ত্রের (فن) প্রতি মনোনিবেশ করেছেন, একে সংক্ষিপ্ত করেছেন, এতে গভীরভাবে নিবিষ্ট হয়েছেন এবং একে বিশেষায়িত করেছেন; কেবল বিভিন্ন ইমামদের আলোচনার মাঝে সামান্য কিছু ইঙ্গিত ও ইশারা ছাড়া। পরিশেষে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিয়ী (রা.) আসলেন; তিনি এর স্রোতধারায় অবগাহন করলেন, এর রহস্যসমূহ উন্মোচন করলেন, এর প্রস্রবণ প্রবাহিত করলেন, এর লুক্কায়িত সম্পদ বের করে আনলেন, এর দ্বার উন্মুক্ত করলেন এবং এর অধ্যায়সমূহ বিন্যস্ত করলেন।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান ইবনে আল-আব্বাস আল-ফকিহ তাঁর কিতাবে, আবু মাসউদ আল-হাফেজ (الحافظ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ ইবনে সাহল, তিনি বলেন: আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাজিয়াহ, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে ওয়ারাহ

কে বলতে শুনেছি: আমি মিসর থেকে ফিরে আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে হাম্বলের কাছে তাঁকে সালাম জানাতে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন: তুমি কি শাফিয়ীর (রা.) কিতাবগুলো লিখেছ? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তুমি অনেক বড় সুযোগ হারিয়েছ; আমরা সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও ব্যাখ্যাত (مفسر) এর পার্থক্য জানতাম না এবং আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) চিনতাম না, যতক্ষণ না আমরা শাফিয়ীর সান্নিধ্যে বসেছি।

ইমাম শাফিয়ী (রা.) তাঁর "আর-রিসালাহ" কিতাবে এই শাস্ত্রের (فن) কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি এর সম্পূর্ণ জ্ঞানভাণ্ডারকে নিঃশেষ করেননি; কারণ তিনি কেবল এই শাস্ত্রের জন্যই "আর-রিসালাহ" রচনা করেননি। তবে তিনি তাঁর কিতাবসমূহের বিভিন্ন অধ্যায়ের মাঝে এর একটি বড় অংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। যদি তা (পূর্ণাঙ্গরূপে সংকলিত) থাকত, তবে তা গবেষককে অনুসন্ধানের কষ্ট থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ৪)
وَالطَّالِبَ عَنْ تَجَشُّمِ الْكَلَفِ، غَيْرَ أَنَّهَا بِمَوْتِ الرِّجَالِ تَفَرَّقَتْ، وَفِي أَيْدِي النَّوَائِبِ تَمَزَّقَتْ.

ثُمَّ هَذَا الْفَنُّ مِنْ تَتِمَّاتِ الِاجْتِهَادِ؛ إِذِ الرُّكْنُ الْأَعْظَمُ فِي بَابِ الِاجْتِهَادِ مَعْرِفَةُ النَّقْلِ، وَمِنْ فَوَائِدِ النَّقْلِ مَعْرِفَةُ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ، إِذِ الْخَطْبُ فِي ظَوَاهِرِ الْأَخْبَارِ يَسِيرٌ، وَتَجَشُّمُ كَلَفِهَا غَيْرُ عَسِيرٍ. وَإِنَّمَا الْإِشْكَالُ فِي كَيْفِيَّةِ اسْتِنْبَاطِ الْأَحْكَامِ مِنْ خَفَايَا النُّصُوصِ، وَمِنَ التَّحْقِيقِ فِيهَا مَعْرِفَةُ أَوَّلِ الْأَمْرَيْنِ وَآخِرِهِمَا، إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْمَعَانِي.

أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَلَاءِ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْقَارِي، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ الْفَقِيهُ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَرَجِ عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِسْحَاقَ الْبُرْجِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَفْصٍ مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُسَيْنِ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: مَرَّ عَلِيٌّ عَلَى قَاصٍّ فَقَالَ: أَتَعْرِفُ النَّاسِخَ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟ قَالَ: لَا. قَالَ: " هَلَكْتَ وَأَهْلَكْتَ ".

أَخْبَرَنِي أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْمُبَارَكِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْوَرَّاقُ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي دَاوُدَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْعَلَاءِ الْغَنَوِيُّ أَبُو هَارُونَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ، أَنَّهُ لَقِيَ أَبَا يَحْيَى الْمُعَرْقَبَ، فَقَالَ لَهُ: مَنِ الَّذِي قَالَ لَهُ: اعْرِفُونِي اعْرِفُونِي؟ قَالَ: ذَاكَ يَا سَعِيدُ أَنِّي أَنَا هُوَ. قَالَ: مَا عَرَفْتُ أَنَّكَ هُوَ. قَالَ: فَإِنِّي أَنَا هُوَ، مَرَّ بِي عَلِيٌّ رضي الله عنه وَأَنَا أَقُصُّ بِالْكُوفَةِ، فَقَالَ لِي: مَنْ أَنْتَ؟ فَقُلْتُ: أَنَا أَبُو يَحْيَى. قَالَ: لَسْتَ بِأَبِي يَحْيَى، وَلَكِنَّكَ تَقُولُ: اعْرِفُونِي اعْرِفُونِي. ثُمَّ قَالَ: هَلْ عَلِمْتَ النَّاسِخَ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟ قُلْتُ: لَا. قَالَ: هَلَكْتَ وَأَهْلَكْتَ. فَمَا عُدْتُ بَعْدُ أَنْ أَقُصَّ عَلَى أَحَدٍ، أَنَافِعُكَ ذَاكَ يَا سَعِيدُ؟ .

أَخْبَرَنِي أَبُو مُوسَى الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ، قَالَ: سُئِلَ حُذَيْفَةُ عَنْ شَيْءٍ فَقَالَ: إِنَّمَا يُفْتِي أَحَدُ ثَلَاثَةٍ: مَنْ عَرَفَ النَّاسِخَ وَالْمَنْسُوخَ، قَالُوا: وَمَنْ يَعْرِفُ ذَلِكَ؟
এবং জ্ঞানপিপাসুকে কষ্টসাধ্য পরিশ্রম থেকে মুক্তি দেয়; তবে ব্যক্তিবর্গের (মনীষীদের) মৃত্যুর ফলে তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গিয়েছে এবং কালের বিবর্তনে তা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

অতঃপর এই শাস্ত্রটি ইজতিহাদের (الاجتهاد) পূর্ণতাদানকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা ইজতিহাদের ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ স্তম্ভ হলো বর্ণনা (النقل) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর বর্ণনার উপকারিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। কারণ সংবাদের (الأخبار) বাহ্যিক অর্থ বুঝা সহজ এবং এর শ্রম স্বীকার করাও কঠিন নয়। বরং সমস্যা হলো দলিলাদির গূঢ় রহস্য থেকে বিধিবিধান আহরণ (استنباط) করার পদ্ধতির মধ্যে। আর এক্ষেত্রে সূক্ষ্ম গবেষণার একটি অংশ হলো দু’টি বিষয়ের মধ্যে কোনটি আগের এবং কোনটি পরের তা জানা, এছাড়া অন্যান্য তাৎপর্যও এর অন্তর্ভুক্ত।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আলা আল-হাসান ইবনে আহমদ হাফিজ (الحافظ), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমদ আল-ক্বারী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে হাফস ফকিহ (الفقيه), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ উসমান ইবনে আহমদ ইবনে ইসহাক আল-বুরজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু হাফস মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে হাফস, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আল-হুসাইন ইবনে হাফস, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান, তিনি আবু হুসাইন থেকে, তিনি আবু আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রা.) এক গল্পকথকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বললেন: “তুমি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জানো?” সে উত্তর দিল: “না।” তিনি বললেন: “তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছ।”

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে উমর ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবি দাউদ, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন হাজ্জাজ, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আল-আলা আল-গানাভি আবু হারুন, তিনি সাঈদ ইবনে আবিল হাসান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-মুআরকাবের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করেন: “কে সেই ব্যক্তি যাকে বলা হয়েছিল: ‘আমাকে চিনো, আমাকে চিনো’?” তিনি বললেন: “হে সাঈদ, সেই ব্যক্তি আমিই।” তিনি বললেন: “আমি তো জানতাম না যে আপনিই সেই ব্যক্তি।” তিনি বললেন: “হ্যাঁ, আমিই সেই ব্যক্তি। আলী (রা.) কুফায় আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি মানুষকে কিচ্ছা-কাহিনী শোনাচ্ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: ‘তুমি কে?’ আমি বললাম: ‘আমি আবু ইয়াহইয়া।’ তিনি বললেন: ‘তুমি আবু ইয়াহইয়া নও, বরং তুমি হলে সেই ব্যক্তি যে বলে: ‘আমাকে চিনো, আমাকে চিনো’ (অর্থাৎ আত্মপ্রচারাভিলাষী)।’ অতঃপর তিনি বললেন: ‘তুমি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে অবগত আছ?’ আমি বললাম: ‘না।’ তিনি বললেন: ‘তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছ।’ এরপর থেকে আমি আর কখনও কারও সামনে কিচ্ছা বর্ণনা করিনি। হে সাঈদ, এই ঘটনা কি তোমার উপকারে আসবে?”

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুসা হাফিজ (الحافظ), তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমদ, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন: আমাদের বর্ণনা করেছেন আবদুর রাজ্জাক, তিনি মামার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে এবং তিনি ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: হুযাইফা (রা.)-কে কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: “কেবল তিন ধরনের ব্যক্তিই ফতোয়া (الفتوى) দিতে পারেন: যে ব্যক্তি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জ্ঞান রাখে।” লোকেরা জিজ্ঞাসা করল: “এমন ব্যক্তি কে আছেন যে এটি জানে?”
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ৫)
قَالَ: عُمَرُ أَوْ رَجُلٌ وَلِيَ سُلْطَانًا، فَلَا يَجِدُ مِنْ ذَلِكَ بُدًّا، أَوْ مُتَكَلِّفٌ.

قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْقَاسِمِ الْحَذَّاءِ، أَخْبَرَكَهُ أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُقْرِي، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ نُبَيْطِ بْنِ شُرَيْطٍ الْأَشْجَعِيُّ، حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ بْنُ مُزَاحِمٍ، قَالَ: مَرَّ ابْنُ عَبَّاسٍ بِقَاصٍّ يَقُصُّ فَرَكَضَهُ بِرِجْلِهِ، فَقَالَ: أَتَدْرِي مَا النَّاسِخُ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟ قَالَ: وَمَا النَّاسِخُ مِنَ الْمَنْسُوخِ؟ قَالَ: وَمَا تَدْرِي مَا النَّاسِخُ مِنَ الْمَنْسُوخِ: قَالَ: لَا. قَالَ: هَلَكْتَ، وَأَهْلَكْتَ.

وَالْآثَارُ فِي هَذَا الْبَابِ تَكْثُرُ جِدًّا، وَإِنَّمَا أَوْرَدْنَا نُبْذَةً مِنْهَا لِيُعْلَمَ شِدَّةُ اعْتِنَاءِ الصَّحَابَةِ بِمَعْرِفَةِ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى، وَسُنَّةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ شَأْنُهُمَا وَاحِدٌ.

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْمَدِينِيُّ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ الْقَارِي، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْغِطْرِيفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الْعَدَوِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَعِيدٍ الْجُرْجَانِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَوْفٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ، أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ - ثَلَاثًا - أَلَا يُوشِكُ رَجُلٌ شَبْعَانُ عَلَى أَرِيكَتِهِ - أَيْ: سَرِيرِهِ - يَقُولُ: عَلَيْكُمْ بِهَذَا الْقُرْآنِ، فَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَلَالٍ فَأَحِلُّوهُ، وَمَا وَجَدْتُمْ فِيهِ مِنْ حَرَامٍ فَحَرِّمُوهُ.

وَقَبْلَ الشُّرُوعِ فِي الْمَقْصُودِ لَا بُدَّ مِنْ ذِكْرِ مُقَدِّمَةٍ تَكُونُ مَدْخَلًا إِلَى مَعْرِفَةِ الْمَطْلَبِ، نَذْكُرُ فِيهِ حَقِيقَةَ النَّسْخِ وَلَوَازِمَهُ وَتَوَابِعَهُ.

مُقَدِّمَةٌ فِي عِلْمِ نَاسِخِ الْحَدِيثِ وَمَنْسُوخِهِ

أَصْلُ كَلِمَةِ النَّسْخِ - النَّسْخُ فِي اللُّغَةِ - مَعْنَى النَّسْخِ فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ - حَدُّ النَّسْخِ وَشَرَائِطُهُ - الْجَمْعُ بَيْنَ الْأَحَادِيثِ الْمُتَعَارِضَةِ - أَمَارَاتُ النَّسْخِ - وُجُوهُ التَّرْجِيحِ وَعَدَدُهَا خَمْسُونَ وَجْهًا.

مُقَدِّمَةٌ فِي عِلْمِ النَّاسِخِ وَالْمَنْسُوخِ

اعْلَمْ أَنَّ النَّسْخَ لَهُ اشْتِقَاقٌ عِنْدَ أَرْبَابِ الْبَيَانِ، وَحَدٌّ عِنْدَ أَصْحَابِ الْمَعَانِي، وَشَرَائِطُ عِنْدَ الْعَالِمِينَ بِالْأَحْكَامِ.

أَمَّا أَصْلُهُ: فَالنَّسْخُ فِي اللُّغَةِ عِبَارَةٌ عَنْ إِبْطَالِ الشَّيْءِ وَإِقَامَةِ آخَرَ مَقَامَهُ.
তিনি বললেন: উমর অথবা এমন এক ব্যক্তি যিনি শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন, যার এ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার কোনো উপায় নেই, অথবা সে একজন কৃত্রিমতা অবলম্বনকারী।

আমি আবু আল-কাসিম আল-হাফ্ফার নিকট পাঠ করেছি, আবু সাদ আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মুকরি আপনাকে অবহিত করেছেন, আবু আল-হাসান আলী বিন উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নুমান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আবু নুয়াইম আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, সালামাহ বিন নুবাইত বিন শুরাইত আল-আশজাঈ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, আদ-দাহহাক বিন মুজাহিম আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস (রা.) এক গল্পকারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কিচ্ছা শোনাচ্ছিল, তখন তিনি তাকে পা দিয়ে আঘাত করলেন এবং বললেন: তুমি কি রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) সম্পর্কে জানো? সে বলল: রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) আবার কী? তিনি বললেন: তুমি রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) সম্পর্কে জানো না? সে বলল: না। তিনি বললেন: তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যদেরও ধ্বংস করেছ।

এই অধ্যায়ে বর্ণিত বর্ণনাগুলো (آثار) অত্যন্ত অধিক। আমরা এগুলোর মধ্য থেকে সামান্য কিছু অংশ এখানে উল্লেখ করেছি যাতে মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর মধ্যে রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوখ)-এর জ্ঞান অর্জনে সাহাবীদের গভীর গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি জানা যায়; যেহেতু এই উভয়ের বিধানের বিষয়টি অভিন্ন।

হাফিজ (الحافظ) মুহাম্মদ বিন উমর বিন আহমদ আল-মাদিনী আমাকে অবহিত করেছেন, হাসান বিন আহমদ আল-ক্বারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু নুয়াইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আহমদ আল-গিতরিফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন মুসা আল-আদাউয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসমাইল বিন সাইদ আল-জুরাযানি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ বিন জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি জারীর বিন উসমান থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন আবি আউফ থেকে, তিনি মিকদাম বিন মাদি কারিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরেকটি জিনিস প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরেকটি জিনিস প্রদান করা হয়েছে। সাবধান! আমাকে কিতাব এবং তার সাথে অনুরূপ আরেকটি জিনিস প্রদান করা হয়েছে - (এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন)। অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন জনৈক তৃপ্ত ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকেই অনুসরণ করো; এতে যা হালাল পাবে তাকেই হালাল হিসেবে গ্রহণ করবে এবং যা হারাম পাবে তাকেই হারাম হিসেবে গ্রহণ করবে।”

মূল উদ্দেশ্যে প্রবেশের পূর্বে একটি ভূমিকা উল্লেখ করা প্রয়োজন যা অভীষ্ট লক্ষ্যটি অর্জনের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে; আমরা এখানে রহিতকরণ (نسخ)-এর প্রকৃত রূপ, এর আবশ্যকতা এবং এর অনুগামী বিষয়াদি উল্লেখ করব।

হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) শাস্ত্রের ভূমিকা

রহিতকরণ (نسخ) শব্দের মূল উৎস - আভিধানিক অর্থে রহিতকরণ (نسخ) - কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে রহিতকরণ (نسخ)-এর অর্থ - রহিতকরণ (نسخ)-এর সংজ্ঞা (حد) ও শর্তাবলি - পরস্পর বিরোধী (متعارضة) হাদিসসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন (الجمع) - রহিতকরণ (نسخ)-এর চিহ্নসমূহ - অগ্রাধিকার (ترجيح)-এর দিকসমূহ এবং তার সংখ্যা পঞ্চাশটি।

রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) শাস্ত্রের ভূমিকা

জেনে রাখুন যে, অলঙ্কার শাস্ত্রবিদদের নিকট রহিতকরণ (نسخ)-এর একটি ব্যুৎপত্তিগত অর্থ রয়েছে, অর্থ বিশারদদের নিকট এর একটি সংজ্ঞা (حد) রয়েছে এবং আহকাম বা বিধান বিশেষজ্ঞ আলেমদের নিকট এর কিছু শর্তাবলি রয়েছে।

এর মূল উৎসের ক্ষেত্রে: আভিধানিক অর্থে রহিতকরণ (نسخ) হলো কোনো বিষয়কে বাতিল (إبطال) করা এবং তার স্থলে অন্য একটি বিষয়কে স্থলাভিষিক্ত করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ৬)
وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ: الْأَصْلُ فِيهِ النَّسْخُ، وَهُوَ أَنْ يُحَوَّلَ مَا فِي الْخَلِيَّةِ مِنَ الْعَسَلِ وَالنَّحْلِ فِي أُخْرَى، وَمِنْهُ نَسْخُ الْكِتَابِ، وَفِي الْحَدِيثِ: مَا مِنْ نُبُوَّةٍ إِلَّا وَتَنَاسَخَتْهَا فَتْرَةٌ ثُمَّ النَّسْخُ فِي اللُّغَةِ مَوْضُوعٌ بِإِزَاءِ مَعْنَيَيْنِ:

أَحَدُهُمَا: الزَّوَالُ عَلَى جِهَةِ الِانْعِدَامِ.

وَالثَّانِي: عَلَى جِهَةِ الِانْتِقَالِ.

أَمَّا النَّسْخُ بِمَعْنَى الْإِزَالَةِ فَهُوَ أَيْضًا عَلَى نَوْعَيْنِ:

نَسْخٌ إِلَى بَدَلٍ: نَحْوَ قَوْلِهِمْ: نَسَخَ الشَّيْبُ الشَّبَابَ، نَسَخَتِ الشَّمْسُ الظِّلَّ، أَيْ: أَذْهَبَتْهُ وَحَلَّتْ مَحَلَّهُ.

وَنَسْخٌ إِلَى غَيْرِ بَدَلٍ: إِنَّمَا هُوَ رَفْعُ الْحُكْمِ وَإِبْطَالُهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُقِيمَ لَهُ بَدَلًا، يُقَالُ: نَسَخَتِ الرِّيحُ الْآثَارَ، أَيْ: أَبْطَلَتْهَا وَأَزَالَتْهَا.

وَأَمَّا النَّسْخُ بِمَعْنَى النَّقْلِ فَهُوَ نَحْوَ قَوْلِكَ: نَسَخْتُ الْكِتَابَ إِذَا نَقَلْتَ مَا فِيهِ، وَلَيْسَ الْمُرَادُ بِهِ إِعْدَامُ مَا فِيهِ، وَمِنْهُ قَوْلُهُ تَعَالَى: إِنَّا كُنَّا نَسْتَنْسِخُ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ يُرِيدُ نَقْلَهُ إِلَى الصُّحُفِ، وَمِنَ الصُّحُفِ إِلَى غَيْرِهَا، غَيْرَ أَنَّ الْمَعْرُوفَ مِنَ النَّسْخِ فِي الْقُرْآنِ هُوَ إِبْطَالُ الْحُكْمِ مَعَ إِثْبَاتِ الْخَطِّ، وَكَذَلِكَ هُوَ فِي السُّنَّةِ.

أَمَّا فِي الْكِتَابِ فَهُوَ أَنْ تَكُونَ الْآيَةُ النَّاسِخَةُ وَالْمَنْسُوخَةُ ثَابِتَتَيْنِ فِي التِّلَاوَةِ، إِلَّا أَنَّ الْمَنْسُوخَةَ لَا يُعْمَلُ بِهَا مِثْلَ: عِدَّةُ الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا كَانَتْ سَنَةً؛ لِقَوْلِهِ تبارك وتعالى: مَتَاعًا إِلَى الْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ، ثُمَّ نُسِخَتْ بِأَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ وَعَشْرٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا.

وَأَمَّا فِي السُّنَّةِ فَعَلَى نَحْوٍ مِنْ ذَلِكَ أَيْضًا؛ لِأَنَّ الْغَالِبَ أَنَّهُمْ نَقَلُوا الْمَنْسُوخَ كَمَا نَقَلُوا النَّاسِخَ.

وَأَمَّا حَدُّهُ فَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: إِنَّهُ بَيَانُ انْتِهَاءِ مُدَّةِ الْعِبَادَةِ، وَقِيلَ: بَيَانُ انْقِضَاءِ مُدَّةِ الْعِبَادَةِ الَّتِي ظَاهِرُهَا الدَّوَامُ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: إِنَّهُ رَفْعُ الْحُكْمِ بَعْدَ ثُبُوتِهِ.

وَقَدْ أَطْبَقَ الْمُتَأَخِّرُونَ عَلَى مَا ذَكَرَهُ الْقَاضِي: أَنَّهُ الْخِطَابُ الدَّالُّ عَلَى

ارْتِفَاعِ الْحُكْمِ الثَّابِتِ بِالْخِطَابِ الْمُتَقَدِّمِ عَلَى وَجْهٍ لَوْلَاهُ لَكَانَ ثَابِتًا بِهِ مَعَ تَرَاخِيهِ عَنْهُ، وَهَذَا حَدٌّ صَحِيحٌ.

 

وَأَمَّا شَرَائِطُهُ فَمَدَارِكُ مَعْرِفَتِهَا مَحْصُورَةٌ.

(مِنْهَا) : أَنْ يَكُونَ النَّسْخُ بِخِطَابٍ؛ لِأَنَّ بِمَوْتِ الْمُكَلَّفِ يَنْقَطِعُ الْحُكْمُ، وَالْمَوْتُ مُزِيلٌ لِلْحُكْمِ لَا نَاسِخٌ لَهُ.

(وَمِنْهَا) : أَنْ يَكُونَ الْمَنْسُوخُ أَيْضًا حُكْمًا شَرْعِيًّا؛ لِأَنَّ الْأُمُورَ الْعَقْلِيَّةَ الَّتِي مُسْتَنَدُهَا الْبَرَاءَةُ الْأَصْلِيَّةُ لَمْ تُنْسَخْ، وَإِنَّمَا ارْتَفَعَتْ بِإِيجَابِ الْعِبَادَاتِ.

(وَمِنْهَا) : أَنْ يَكُونَ الْحُكْمُ
আবু হাতিম বলেন: এর মূল আভিধানিক অর্থ হলো রহিতকরণ (نسخ), আর তা হলো মৌচাক থেকে মধু ও মৌমাছি অন্যটিতে স্থানান্তর করা। এ থেকেই কিতাব প্রতিলিপি করার বিষয়টি এসেছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "এমন কোনো নবুওয়াত নেই যার স্থলাভিষিক্ত বা পরিবর্তন একটি নির্দিষ্ট বিরতি দ্বারা সাধিত হয়নি।" অতঃপর আভিধানিকভাবে রহিতকরণ (نسخ) শব্দটি দুটি অর্থের বিপরীতে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমটি: বিলুপ্তির মাধ্যমে অপসারণ।

দ্বিতীয়টি: স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিবর্তন।

অপসারণ অর্থে রহিতকরণ (نسخ) আবার দুই প্রকার:

বিনিময়সহ রহিতকরণ: যেমন বলা হয়, বার্ধক্য যৌবনকে রহিত করেছে, কিংবা সূর্য ছায়াকে রহিত করেছে; অর্থাৎ তা দূর করে দিয়েছে এবং নিজে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

বিনিময়হীন রহিতকরণ: আর তা হলো কোনো বিনিময় স্থাপন না করেই বিধান তুলে নেওয়া এবং তা বাতিল করে দেওয়া। যেমন বলা হয়: বাতাস পদচিহ্ন রহিত করেছে, অর্থাৎ তা বাতিল ও অপসারণ করেছে।

আর স্থানান্তর অর্থে রহিতকরণ (نسخ) হলো যেমন আপনার উক্তি: আমি কিতাবটি প্রতিলিপি (নাসখ) করেছি—যখন আপনি এতে যা আছে তা স্থানান্তর করেন; এর দ্বারা উদ্দেশ্য এতে যা আছে তা বিলুপ্ত করা নয়। এ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যা করতে আমরা তা লিপিবদ্ধ করে রাখতাম", এখানে উদ্দেশ্য হলো তা আমলনামায় স্থানান্তর করা এবং এক আমলনামা থেকে অন্যটিতে স্থানান্তর করা। তবে কুরআনের পরিভাষায় রহিতকরণ (نسخ) বলতে যা প্রসিদ্ধ তা হলো পাঠ্যরীতি বহাল রেখে বিধান বাতিল করা এবং সুন্নাহর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।

কুরআনের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) আয়াত তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে বহাল থাকবে, তবে রহিত (منسوخ) আয়াত অনুযায়ী আমল করা হবে না। যেমন: মৃত স্বামীর বিধবা স্ত্রীর ইদ্দতকাল ছিল এক বছর; মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "এক বছর পর্যন্ত জীবনোপকরণ ও বের করে না দেওয়া"। অতঃপর তা চার মাস দশ দিন দ্বারা রহিত করা হয়েছে মহান আল্লাহর এই বাণীতে: "তারা নিজেদের চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় রাখবে"।

আর সুন্নাহর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ; কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীগণ রহিত (منسوخ) বিষয়টি বর্ণনা করেছেন ঠিক যেভাবে তারা রহিতকারী (ناسخ) বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।

আর এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি ইবাদতের সময়সীমা সমাপ্তির বর্ণনা। আবার বলা হয়েছে: এটি এমন ইবাদতের সময়সীমা শেষ হওয়ার বর্ণনা যার বাহ্যিক রূপ ছিল স্থায়ী। আর কেউ কেউ বলেছেন: বিধান সাব্যস্ত হওয়ার পর তা তুলে নেওয়া।

পরবর্তী যুগের আলেমগণ কাজী (র.) উল্লেখিত সংজ্ঞার ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে: এটি এমন এক সম্বোধন যা পূর্ববর্তী সম্বোধনের মাধ্যমে সাব্যস্ত বিধানটি অপসারিত হওয়ার প্রমাণ দেয়, যদি এই (পরবর্তী) সম্বোধনটি না থাকত তবে বিধানটি বহাল থাকত; আর এটি (রহিতকারী সম্বোধনটি) পূর্বের সম্বোধনের কিছুটা পরে অবতীর্ণ হয়। আর এটি একটি সঠিক (صحيح) সংজ্ঞা।

 

আর এর শর্তাবলির ক্ষেত্রে তা জানার উপায়সমূহ সুনির্দিষ্ট।

(তার মধ্যে একটি হলো): রহিতকরণ (نسخ) যেন শরিয়তের ভাষ্য বা সম্বোধনের মাধ্যমে হয়; কারণ মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তির মৃত্যুর মাধ্যমে বিধান বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আর মৃত্যু বিধানকে অপসারণকারী মাত্র, রহিতকারী (ناسخ) নয়।

(অন্যটি হলো): রহিত (منسوخ) বিষয়টিকেও শরিয়তসম্মত বিধান হতে হবে; কারণ যে সকল যৌক্তিক বিষয় 'মৌলিক দায়মুক্তি'র ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত তা রহিত হয় না, বরং সেগুলো ইবাদত আবশ্যক হওয়ার মাধ্যমে অপসারিত হয়।

(অন্যটি হলো): বিধানটি যেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ৭)
السَّابِقُ مُقَيَّدًا بِزَمَانٍ مَخْصُوصٍ، مِثْلَ قَوْلِهِ عليه السلام: لَا صَلَاةَ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَلَا صَلَاةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ. فَإِنَّ الْوَقْتَ الَّذِي يَجُوزُ فِيهِ أَدَاءُ النَّوَافِلِ الَّتِي لَا سَبَبَ لَهَا مُؤَقَّتٌ، فَلَا يَكُونُ نَهْيُهُ عَنْ هَذِهِ النَّوَافِلِ فِي الْوَقْتِ الْمُخَصَّصِ نَاسِخًا لِمَا قَبْلَ ذَلِكَ مِنَ الْجَوَازِ؛ لِأَنَّ التَّأْقِيتَ يَمْنَعُ النَّسْخَ.

وَمِنْهَا: أَنْ يَكُونَ الْخِطَابُ النَّاسِخُ مُتَرَاخِيًا عَنِ الْمَنْسُوخِ، فَعَلَى هَذَا يُعْتَبَرُ الْحُكْمُ الثَّانِي، فَإِنَّهُ لَا يَعْدُو أَحَدَ الْقِسْمَيْنِ: إِمَّا أَنْ يَكُونَ مُتَّصِلًا أَوْ مُنْفَصِلًا.

فَإِنْ كَانَ مُتَّصِلًا بِالْأَوَّلِ لَا يُسَمَّى نَسْخًا، إِذْ مِنْ شَرْطِ النَّسْخِ التَّرَاخِي، وَقَدْ فُقِدَ هَهُنَا؛ لِأَنَّ قَوْلَهُ عليه السلام: لَا تَلْبَسُوا الْقُمُصَ، وَلَا السَّرَاوِيلَاتِ، وَلَا الْخِفَافَ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ لَيْسَ لَهُ نَعْلَانِ، فَلْيَلْبَسِ الْخُفَّيْنِ.

وَإِنْ كَانَ صَدْرُ الْحَدِيثِ يَدُلُّ عَلَى مَنْعِ لُبْسِ الْخِفَافِ وَعَجُزُهُ يَدُلُّ عَلَى جَوَازِهِ، وَهُمَا حُكْمَانِ مُتَنَافِيَانِ، غَيْرَ أَنَّهُ لَا يُسَمَّى نَسْخًا؛ لِانْعِدَامِ التَّرَاخِي فِيهِ، وَلَكِنَّ هَذَا النَّوْعَ يُسَمَّى بَيَانًا.

وَإِنْ كَانَ مُنْفَصِلًا نَظَرْتَ: هَلْ يُمْكِنُ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا أَمْ لَا؟ فَإِنْ أَمْكَنَ الْجَمْعُ جُمِعَ، إِذْ لَا عِبْرَةَ بِالِانْفِصَالِ الزَّمَانِيِّ مَعَ قَطْعِ النَّظَرِ فِي التَّنَافِي، وَمَهْمَا أَمْكَنَ حَمْلُ كَلَامِ الشَّارِعِ عَلَى وَجْهٍ يَكُونُ أَعَمَّ لِلْفَائِدَةِ كَانَ أَوْلَى صَوْنًا لِكَلَامِهِ عَنِ النَّقْصِ.

وَلِأَنَّ فِي ادِّعَاءِ النَّسْخِ إِخْرَاجَ الْحَدِيثِ عَنِ الْمَعْنَى الْمُفِيدِ، وَهُوَ عَلَى خِلَافِ الْأَصْلِ أَلَا تَرَى إِلَى قَوْلِهِ عليه السلام: شَرُّ الشُّهُودِ مَنْ شَهِدَ قَبْلَ أَنْ يُسْتَشْهَدَ.

وَفِي حَدِيثٍ آخَرَ: خَيْرُ الشُّهُودِ مَنْ شَهِدَ قَبْلَ أَنْ يُسْتَشْهَدَ.

وَهُمَا حَدِيثَانِ قَدْ تَعَارَضَا عَلَى مَا تَرَى. وَقَدْ يُشْكِلُ عَلَى غَيْرِ الْفَقِيهِ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا؛ لِمَا يُتَوَهَّمُ فِيهِ مِنْ ظَاهِرِ الْمُنَافَاةِ، مَعَ حُصُولِ الِانْفِصَالِ فِيهِمَا، وَرُبَّمَا يَرَاهُ بَعْضُ مَنْ لَهُ مَعْرِفَةٌ بِالْإِسْنَادِ فَيَرَى إِسْنَادَ الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ أَمْثَلَ فَيَحْكُمُ بِنَسْخِ الثَّانِي، وَلَيْسَ الْأَمْرُ عَلَى مَا يَتَوَهَّمُهُ؛ لِفُقْدَانِ شَرَائِطِ النَّسْخِ، لَكِنَّ طَرِيقَ الْجَمْعِ بَيْنَ هَذَيْنِ الْحَدِيثَيْنِ أَنْ يَجْعَلَ الْأَوَّلَ عَلَى مَا إِذَا شَهِدَ قَبْلَ أَنْ يُسْتَشْهَدَ مِنْ غَيْرِ مَسِيسِ حَاجَةٍ إِلَيْهِ.

وَهَذَا التَّفْسِيرُ ظَاهِرٌ فِي حَدِيثِ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: خَيْرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ الْقَرْنُ الَّذِي بُعِثْتُ فِيهِمْ، ثُمَّ الَّذِي يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَنْشَأُ قَوْمٌ يَشْهَدُونَ وَلَا يُسْتَشْهَدُونَ.

وَيُحْمَلُ
পূর্ববর্তী বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ থাকা, যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "ফজরের পর সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত কোনো সালাত নেই এবং আসরের পর সূর্যাস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সালাত নেই।" কারণ যে সময়ে কারণহীন নফল সালাত আদায় করা বৈধ তা সময় নির্ধারিত (مؤقت), তাই নির্ধারিত সময়ে এই নফলসমূহ থেকে তাঁর নিষেধ করা পূর্ববর্তী বৈধতাকে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে না; কেননা সময় নির্ধারণ রহিতকরণ (نسخ)-কে বাধা দেয়।

তার মধ্যে একটি হলো: রহিতকারী (ناسخ) বক্তব্যটি রহিত (منسوخ) থেকে সময়ের ব্যবধানে (تراخي) পরে আসা। এই ভিত্তিতে দ্বিতীয় বিধানটি বিবেচনা করা হবে, কারণ এটি দুটি প্রকারের বাইরে নয়: হয় এটি সংযুক্ত হবে অথবা বিচ্ছিন্ন হবে।

যদি তা প্রথমটির সাথে সংযুক্ত হয়, তবে তাকে রহিতকরণ (نسخ) বলা হবে না, যেহেতু সময়ের ব্যবধান (تراخي) রহিতকরণ (نسخ)-এর একটি শর্ত, আর তা এখানে অনুপস্থিত; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমরা কামিজ, পায়জামা বা মোজা পরিধান করো না, তবে এমন ব্যক্তি ছাড়া যার জুতো নেই, সে যেন মোজা পরিধান করে।"

যদিও হাদিসের প্রথমাংশ মোজা পরিধানে নিষেধাজ্ঞা এবং শেষাংশ তার বৈধতা নির্দেশ করছে এবং এ দুটি পরস্পরবিরোধী বিধান, তবুও একে রহিতকরণ (نسخ) বলা হবে না; কারণ এতে সময়ের ব্যবধান (تراخي) অনুপস্থিত, বরং এই প্রকারকে ব্যাখ্যা (بيان) বলা হয়।

আর যদি তা বিচ্ছিন্ন হয়, তবে লক্ষ্য করতে হবে: এ দুটির মধ্যে সমন্বয় (جمع) করা কি সম্ভব কি না? যদি সমন্বয় (جمع) করা সম্ভব হয়, তবে সমন্বয় (جمع) করা হবে, কারণ বৈপরীত্যের দিকটি বাদ দিলে সময়ের বিচ্ছিন্নতা বিবেচ্য নয়। আর যখনই বিধানদাতার (شارع) কথাকে এমনভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হয় যা অধিকতর উপকারী হবে, তখনই তাঁর কথাকে অসম্পূর্ণতা থেকে রক্ষার জন্য সেটিই উত্তম হবে।

কারণ রহিতকরণ (نسخ)-এর দাবি করার মধ্যে হাদিসকে তার উপকারী অর্থ থেকে বের করে দেওয়া হয়, যা মূল নীতি (أصل)-এর পরিপন্থী। আপনি কি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর দিকে লক্ষ্য করেন না: "নিকৃষ্টতম সাক্ষী হলো সেই যে তাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকার আগেই সাক্ষ্য দেয়।"

এবং অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "সর্বোত্তম সাক্ষী হলো সেই যে তাকে সাক্ষী হিসেবে ডাকার আগেই সাক্ষ্য দেয়।"

আপনি যেমন দেখছেন, এ দুটি হাদিস পরস্পরবিরোধী। ফকিহ ব্যতীত অন্যদের জন্য এই দুটির মধ্যে সমন্বয় (جمع) করা কঠিন হতে পারে; কারণ বাহ্যিক বৈপরীত্যের একটি বিভ্রম এতে তৈরি হয় এবং উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ বিদ্যমান। সম্ভবত সনদ (إسناد) সম্পর্কে জ্ঞান আছে এমন কেউ প্রথম হাদিসের সনদকে (إسناد) অধিকতর গ্রহণযোগ্য (أمثل) মনে করে দ্বিতীয়টিকে রহিত (منسوخ) বলে হুকুম দিতে পারেন। অথচ বিষয়টি তার ধারণা অনুযায়ী নয়; কারণ রহিতকরণ (نسخ)-এর শর্তাবলি এখানে অনুপস্থিত। বরং এই দুটি হাদিসের মধ্যে সমন্বয় (جمع) করার পদ্ধতি হলো প্রথমটিকে সেই ক্ষেত্রের জন্য নির্ধারণ করা যখন কোনো প্রয়োজন ছাড়াই ডাকার আগে সাক্ষ্য দেওয়া হয়।

আর এই ব্যাখ্যাটি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসে স্পষ্ট, তিনি বলেন: "এই উম্মতের সর্বোত্তম হলো সেই যুগ যাতে আমি প্রেরিত হয়েছি, অতঃপর তাদের পরবর্তীগণ, এরপর এমন এক কওম সৃষ্টি হবে যারা সাক্ষ্য দিবে অথচ তাদের সাক্ষী হতে বলা হবে না।"

এবং একে গ্রহণ করা হবে...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ৮)
الْحَدِيثُ الثَّانِي عَلَى مَا إِذَا شَهِدَ عِنْدَ مَسِيسِ الْحَاجَةِ فَهُوَ خَيْرُ الشُّهُودِ، وَعَلَى هَذَا فَيَنْبَغِي أَنْ يَحْتَالَ فِي طَرِيقِ الْجَمْعِ رَفْعًا لِلتَّضَادِّ عَنِ الْأَخْبَارِ.

وَإِنْ لَمْ يُمْكِنِ الْجَمْعُ، وَهُمَا حُكْمَانِ مُنْفَصِلَانِ نَظَرْتَ: هَلْ يُمْكِنُ التَّمْيِيزُ بَيْنَ السَّابِقِ وَالتَّالِي؟ فَإِنْ تَمَيَّزَ أُوجِبَ الْمَصِيرُ إِلَى الْآخَرِ مِنْهُمَا.

وَيُعْرَفُ ذَلِكَ بِأَمَارَاتِ عِدَّةٌ:

مِنْهَا: أَنْ يَكُونَ لَفْظُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُصَرِّحًا بِهِ نَحْوَ قَوْلِهِ عليه السلام: كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ أَلَا فَزُورُوهَا.

أَوْ يَكُونَ لَفْظُ الصَّحَابِيِّ نَاطِقًا بِهِ، نَحْوُ حَدِيثِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَنَا بِالْقِيَامِ فِي الْجِنَازَةِ ثُمَّ جَلَسَ بَعْدَ ذَلِكَ وَأَمَرَنَا بِالْجُلُوسِ.

وَمِنْهَا: أَنْ يَكُونَ التَّارِيخُ مَعْلُومًا نَحْوَ مَا رَوَاهُ أُبَيُّ بْنُ كَعْبٍ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِذَا جَامَعَ أَحَدُنَا فَأَكْسَلَ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ: يَغْسِلُ مَا مَسَّ الْمَرْأَةَ مِنْهُ، وَلْيَتَوَضَّأْ ثُمَّ لْيُصَلِّ.

هَذَا حَدِيثٌ يَدُلُّ عَلَى أَنْ لَا غُسْلَ مَعَ الْإِكْسَالِ، وَأَنَّ مُوجِبَ الْغُسْلِ الْإِنْزَالُ، ثُمَّ لَمَّا اسْتَقْرَأْنَا طُرُقَ هَذَا الْحَدِيثِ أَفَادَنَا بَعْضُ الطُّرُقِ أَنَّ شَرْعِيَّةَ هَذَا كَانَ فِي مَبْدَأِ الْإِسْلَامِ، وَاسْتَمَرَّ ذَلِكَ إِلَى بَعْدَ الْهِجْرَةِ بِزَمَانٍ.

ثُمَّ وَجَدْنَا الزُّهْرِيَّ قَدْ سَأَلَ عُرْوَةَ عَنْ ذَلِكَ فَأَجَابَهُ عُرْوَةُ أَنَّ عَائِشَةَ رضي الله عنها حَدَّثَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَفْعَلُ ذَلِكَ وَلَا يَغْتَسِلُ. وَذَلِكَ قَبْلَ فَتْحِ مَكَّةَ، ثُمَّ اغْتَسَلَ بَعْدَ ذَلِكَ وَأَمَرَ النَّاسَ بِالْغُسْلِ.

وَمِنْهَا: أَنْ تَجْتَمِعَ الْأُمَّةُ فِي حُكْمِهِ عَلَى أَنَّهُ مَنْسُوخٌ، فَهَذِهِ مُعْظَمُ أَمَارَاتِ النَّسْخِ، وَعِنْدَ الْكُوفِيِّينَ زِيَادَاتٌ أُخَرُ نَحْوُ حُسْنِ الظَّنِّ بِالرَّاوِي، وَهُوَ كَمَا ذَكَرَ الطَّحَاوِيُّ فِي كِتَابِهِ؛ فَإِنَّهُ رَوَى الْأَحَادِيثَ الصَّحِيحَةَ فِي غَسْلِ الْإِنَاءِ سَبْعَ مَرَّاتٍ مِنْ وُلُوغِ الْكَلْبِ، ثُمَّ جَاءَ إِلَى حَدِيثِ

عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي سُلَيْمَانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ

عَنْهُ مَوْقُوفًا عَلَيْهِ قَالَ: إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الْإِنَاءِ فَأَهْرِقْهُ، ثُمَّ اغْسِلْهُ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ. فَاعْتَمَدَ عَلَى هَذَا الْأَثَرِ، وَتَرَكَ الْأَحَادِيثَ الثَّابِتَةَ فِي الْوُلُوغِ، وَاسْتَدَلَّ بِهِ عَلَى نَسْخِ السَّبْعِ عَلَى حُسْنِ الظَّنِّ بِأَبِي هُرَيْرَةَ؛
দ্বিতীয় হাদিসটি এই বিষয়ের ওপর যে, যখন বিশেষ প্রয়োজনে সাক্ষ্য দেওয়া হয়, তখন সেটিই সর্বোত্তম সাক্ষ্য। এমতাবস্থায়, বর্ণনাগুলোর (الأخبار) মধ্যকার বৈপরীত্য দূর করার লক্ষ্যে সমন্বয়ের (الجمع) পথ অন্বেষণ করা সমীচীন।

আর যদি সমন্বয় (الجمع) করা সম্ভব না হয় এবং বিধান দুটি পৃথক হয়, তবে লক্ষ্য করতে হবে: পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব কি না? যদি পার্থক্য স্পষ্ট হয়, তবে সেগুলোর মধ্যে পরবর্তীটির দিকে প্রত্যাবর্তন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

আর তা বেশ কিছু চিহ্নের মাধ্যমে জানা যায়:

তার মধ্যে একটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী স্পষ্টভাবে তা ব্যক্ত করবে, যেমন তাঁর আলাইহিস সালাম উক্তি: "আমি তোমাদের কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন শোনো, তোমরা কবর জিয়ারত করো।"

অথবা সাহাবীর বক্তব্য তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করবে, যেমন আলী ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জানাজায় দণ্ডায়মান হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অতঃপর তিনি এর পরে বসেছিলেন এবং আমাদেরও বসার নির্দেশ দিয়েছিলেন।"

অন্যটি হলো: তারিখ বা সময় অবগত হওয়া, যেমন উবাই ইবন কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের কেউ সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত না হয়? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "স্ত্রীর শরীরের যে অংশ তার অঙ্গে লেগেছে তা সে ধুয়ে নেবে এবং ওজু করবে, অতঃপর সালাত আদায় করবে।"

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, বীর্যপাতহীন সহবাসে গোসল নেই এবং গোসল ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো বীর্যপাত। অতঃপর যখন আমরা এই হাদিসের বিভিন্ন সূত্রগুলো (الطرق) অনুসন্ধান করলাম, তখন কিছু সূত্র (الطرق) আমাদের এই তথ্য দিল যে, এই বিধানটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ছিল এবং হিজরতের পরবর্তী দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তা জারি ছিল।

অতঃপর আমরা দেখতে পেলাম যে, ইমাম জুহরি উরওয়াহকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। উরওয়াহ তাকে উত্তর দিলেন যে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন এবং গোসল করতেন না। আর তা ছিল মক্কা বিজয়ের পূর্বের কথা। অতঃপর তিনি এর পরে গোসল করেছেন এবং লোকজনকে গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আরেকটি হলো: কোনো বিধানের ব্যাপারে উম্মতের একমত হওয়া যে সেটি রহিত (منسوخ)। এগুলোই হলো রহিতকরণের (النسخ) অধিকাংশ নিদর্শন। তবে কুফাবাসীদের নিকট আরও কিছু অতিরিক্ত চিহ্ন রয়েছে যেমন বর্ণনাকারীর (الراوي) প্রতি সুধারণা পোষণ করা। এটি ইমাম তহাবি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন; তিনি কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র সাতবার ধৌত করা সম্পর্কে সহিহ (الصحيحة) হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন, অতঃপর একটি হাদিস নিয়ে এসেছেন—

আব্দুল মালিক ইবন আবি সুলাইমান থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মাওকুফ (موقوفًا) সূত্রে, তিনি বলেন: "কুকুর যখন পাত্রে মুখ দেয়, তখন তা ঢেলে ফেলে দাও এবং এরপর তিনবার ধৌত করো।" অতঃপর তিনি এই আসার (الأثر) বা বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছেন এবং কুকুরের মুখ দেওয়া সংক্রান্ত প্রমাণিত (الثابتة) হাদিসসমূহ বর্জন করেছেন। তিনি আবু হুরায়রার প্রতি সুধারণার ভিত্তিতে সাতবারের বিধানটি রহিত (نسخ) হওয়ার সপক্ষে এটি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন;
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ৯)
لِأَنَّهُ لَا يُخَالِفُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يَرْوِيهِ عَنْهُ، إِلَّا فِيمَا يَثْبُتُ عِنْدَهُ نَسْخُهُ، إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنْ نَظَائِرِهِ الَّتِي لَا يُكْتَرَثُ بِهَا.

وَإِنْ لَمْ يُمْكِنِ التَّمْيِيزُ بَيْنَهُمَا بِأَنْ أُبْهِمَ التَّارِيخُ، وَلَيْسَ فِي اللَّفْظِ مَا يَدُلُّ عَلَيْهِ، وَتَعَذَّرَ الْجَمْعُ بَيْنَهُمَا، فَحِينَئِذٍ يَتَعَيَّنُ الْمَصِيرُ إِلَى التَّرْجِيحِ. وَ‌‌وُجُوهُ التَّرْجِيحَاتِ كَثِيرَةٌ أَنَا أَذْكُرُ مُعْظَمَهَا.

‌‌الْوَجْهُ الْأَوَّلُ: فَمِمَّا يُرَجَّحُ بِهِ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ عَلَى الْآخَرِ كَثْرَةُ الْعَدَدِ فِي أَحَدِ الْجَانِبَيْنِ، وَهِيَ مُؤَثِّرَةٌ فِي بَابِ الرِّوَايَةِ؛ لِأَنَّهَا تُقَرِّبُ مِمَّا يُوجِبُ الْعِلْمَ، وَهُوَ التَّوَاتُرُ؛ نَحْوَ: اسْتِدْلَالِ مَنْ ذَهَبَ إِلَى إِيجَابِ الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ بِالْأَحَادِيثِ الْوَارِدَةِ فِي الْبَابِ، نَظَرًا إِلَى كَثْرَةِ الْعَدَدِ؛ لِأَنَّ حَدِيثَ

الْإِيجَابِ رَوَاهُ نَفَرٌ مِنَ الصَّحَابَةِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوُ: عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَائِشَةَ، وَأُمِّ حَبِيبَةَ، وَبُسْرَةَ، رضي الله عنهم وَأَمَّا حَدِيثُ الرُّخْصَةِ فَلَا يُحْفَظُ مِنْ طَرِيقٍ يُوَازِي هَذِهِ الطُّرُقَ أَوْ يُقَارِبُهَا، إِلَّا مِنْ حَدِيثِ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ الْيَمَامِيِّ؛ وَهُوَ حَدِيثٌ فَرْدٌ فِي الْبَابِ، وَلَوْ تَسَلَّمَ أَنَّ حَدِيثَ طَلْقٍ يُوَازِي تِلْكَ الْأَحَادِيثَ فِي الثُّبُوتِ كَانَ حَدِيثُ الْجَمَاعَةِ أَوْلَى أَنْ يَكُونَ مَحْفُوظًا مِنْ حَدِيثِ رَجُلٍ وَاحِدٍ.

وَقَالَ بَعْضُ الْكُوفِيِّينَ: كَثْرَةُ الرِّوَايَاتِ لَا تَأْثِيرَ لَهَا فِي بَابِ التَّرْجِيحَاتِ؛ لِأَنَّ طَرِيقَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا غَلَبَةُ الظَّنِّ، فَصَارَ كَشَهَادَةِ الشَّاهِدَيْنِ مَعَ شَهَادَةِ الْأَرْبَعَةِ.

يُقَالُ عَلَى هَذَا: إِنَّ إِلْحَاقَ الرِّوَايَةِ بِالشَّهَادَةِ غَيْرُ مُمْكِنٍ؛ لِأَنَّ الرِّوَايَةَ وَإِنْ شَارَكَتِ الشَّهَادَةَ فِي بَعْضِ الْوُجُوهِ فَقَدْ فَارَقَتْهَا فِي أَكْثَرِ الْوُجُوهِ، أَلَا تَرَى أَنَّهُ لَوْ شَهِدَ خَمْسُونَ امْرَأَةً لِرَجُلٍ بِمَالٍ لَا تُقْبَلُ شَهَادَتُهُنَّ، وَلَوْ شَهِدَ بِهِ رَجُلَانِ قُبِلَتْ شَهَادَتُهُمَا، وَمَعْلُومٌ أَنَّ شَهَادَةَ الْخَمْسِينِ أَقْوَى فِي النَّفْسِ مِنْ شَهَادَةِ رَجُلَيْنِ؛ لِأَنَّ غَلَبَةَ الظَّنِّ إِنَّمَا هِيَ مُعْتَبَرَةٌ فِي بَابِ الرِّوَايَةِ دُونَ الشَّهَادَةِ، وَكَذَا سَوَّى الشَّارِعُ بَيْنَ شَهَادَةِ إِمَامَيْنِ عَالِمَيْنِ، وَشَهَادَةِ رَجُلَيْنِ لَمْ يَكُونَا فِي مَنْزِلَتِهِمَا، وَأَمَّا فِي بَابِ الرِّوَايَةِ تُرَجَّحُ رِوَايَةُ الْأَعْلَمِ الْأَدْيَنِ عَلَى غَيْرِهِ مِنْ غَيْرِ خِلَافٍ يُعْرَفُ فِي ذَلِكَ، فَلَاحَ الْفَرْقُ بَيْنَهُمَا.
কারণ তিনি যা তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেন তাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরোধিতা করেন না, তবে সেই বিষয় ব্যতীত যা তাঁর নিকট রহিত (نسخ) বলে প্রমাণিত হয়েছে, এছাড়া অনুরূপ অন্যান্য বিষয় যার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা হয় না।

আর যদি উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব না হয়—এইভাবে যে সময়কাল অজ্ঞাত হয় এবং শব্দের মধ্যে এমন কিছু না থাকে যা তার প্রতি নির্দেশ করে, আর উভয়ের মধ্যে সমন্বয় (جمع) করা দুঃসাধ্য হয়—তবে সেই মুহূর্তে প্রাধান্য দান (ترجيح)-এর দিকে অগ্রসর হওয়া অবধারিত হয়ে পড়ে। আর প্রাধান্য দানের পদ্ধতিসমূহ (وجوه الترجيحات) অনেক, আমি তার অধিকাংশ উল্লেখ করছি।

প্রথম পদ্ধতি: যে সকল বিষয়ের মাধ্যমে একটি হাদিসকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়, তার মধ্যে একটি হলো কোনো এক পক্ষে বর্ণনাকারীর সংখ্যার আধিক্য। বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে এটি প্রভাবশালী; কারণ এটি এমন বিষয়ের নিকটবর্তী করে যা নিশ্চিত জ্ঞান (علم) দান করে, আর তা হলো মুতাওয়াতির (تواتر)। যেমন: লিঙ্গ স্পর্শ করলে অজু ওয়াজিব হওয়ার প্রবক্তাগণ এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত হাদিসসমূহ দ্বারা বর্ণনাকারীর আধিক্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে দলিল পেশ করেছেন; কারণ

ওয়াজিব হওয়ার হাদিসটি একদল সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, আবু হুরায়রা, আয়েশা, উম্মে হাবিবা এবং বুসরা রাযিয়াল্লাহু আনহুম। পক্ষান্তরে শিথিলতার (رخصة) হাদিসটি এমন কোনো সূত্রের (طريق) মাধ্যমে সংরক্ষিত নয় যা এই সূত্রগুলোর সমকক্ষ বা তার কাছাকাছি, কেবল তালক ইবনে আলী আল-ইয়ামামির হাদিস ব্যতিরেকে; আর এটি এই অনুচ্ছেদে একটি একক (فرد) হাদিস। যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) দিক থেকে তালকের হাদিসটি ওই হাদিসগুলোর সমপর্যায়ের, তবুও একক ব্যক্তির হাদিসের তুলনায় জামাতের হাদিসটিই সংরক্ষিত (محفوظ) হওয়ার অধিক যোগ্য।

কতিপয় কুফিবাসী বলেন: প্রাধান্য দানের (ترجيحات) ক্ষেত্রে বর্ণনার আধিক্যের কোনো প্রভাব নেই; কারণ উভয়ের প্রত্যেকটি পথই প্রবল ধারণা (غلبة الظن)-এর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, ফলে এটি চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের বিপরীতে দুইজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মতো হয়ে গেল।

এর উত্তরে বলা হয়: বর্ণনাকে (رواية) সাক্ষ্যের (شهادة) সাথে তুলনা করা সম্ভব নয়; কারণ বর্ণনা যদিও কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষ্যের সাথে সাদৃশ্য রাখে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা থেকে ভিন্ন। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, পঞ্চাশজন নারী যদি কোনো ব্যক্তির সম্পদের স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় তবে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় না, অথচ দুইজন পুরুষ সাক্ষ্য দিলে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়; অথচ এটি জানা কথা যে, মনোবল সৃষ্টির ক্ষেত্রে দুইজন পুরুষের সাক্ষ্যের চেয়ে পঞ্চাশজন নারীর সাক্ষ্য অধিক শক্তিশালী। কারণ প্রবল ধারণা (غلبة الظن) কেবলমাত্র বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রেই ধর্তব্য, সাক্ষ্যের (شهادة) ক্ষেত্রে নয়। অনুরূপভাবে শরয়ি বিধানদাতা দুইজন বিজ্ঞ ইমামের সাক্ষ্য এবং তাদের সমমর্যাদার নয় এমন দুইজন ব্যক্তির সাক্ষ্যের মধ্যে সমতা বজায় রেখেছেন। পক্ষান্তরে বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে, অধিক জ্ঞানী ও অধিক পরহেজগার ব্যক্তির বর্ণনাকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়—এ বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই। সুতরাং উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে উঠল।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الْوَجْهُ الثَّانِي: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الرَّاوِيَيْنِ أَتْقَنَ وَأَحْفَظَ؛ نَحْوُ مَا إِذَا اتَّفَقَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، وَشُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ فِي الزُّهْرِيِّ، فَإِنَّ شُعَيْبًا، وَإِنْ

كَانَ حَافِظًا ثِقَةً، غَيْرَ أَنَّهُ لَا يُوَازِي مَالِكًا فِي إِتْقَانِهِ وَحِفْظِهِ، وَمَنِ اعْتَبَرَ حَدِيثَهُمَا وَجَدَ بَيْنَهُمَا بَوْنًا بَعِيدًا.

‌‌الْوَجْهُ الثَّالِثُ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الرَّاوِيَيْنِ مُتَّفَقًا فِي عَدَالَتِهِ وَالْآخَرُ مُخْتَلَفًا فِيهِ، فَالْمَصِيرُ إِلَى الْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ أَوْلَى؛ مِثَالُهُ: حَدِيثُ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ فِي مَسِّ الذَّكَرِ مَعَ مَا يُعَارِضُهُ مِنْ حَدِيثِ طَلْقٍ، فَحَدِيثُ بُسْرَةَ رَوَاهُ مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، وَلَيْسَ فِيهِمْ إِلَّا مَنْ هُوَ عَدْلٌ صَدُوقٌ مُتَّفَقٌ عَلَى عَدَالَتِهِ، وَأَمَّا رُوَاةُ حَدِيثِ طَلْقٍ فَقَدِ اخْتُلِفَ فِي عَدَالَتِهِمْ، فَالْمَصِيرُ إِلَى حَدِيثِ بُسْرَةَ أَوْلَى.

‌‌الْوَجْهُ الرَّابِعُ: أَنْ يَكُونَ رَاوِي أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ لِمَا سَمِعَهُ كَانَ بَالِغًا، وَالثَّانِي كَانَ صَغِيرًا حَالَةَ الْأَخْذِ، فَالْمَصِيرُ إِلَى حَدِيثِ الْأَوَّلِ أَوْلَى؛ لِأَنَّ الْبَالِغَ أَفْهَمُ لِلْمَعَانِي، وَأَتْقَنُ لِلْأَلْفَاظِ، وَأَبْعَدُ مِنْ غَوَائِلِ الِاخْتِلَاطِ، وَأَحْرَصُ عَلَى الضَّبْطِ، وَأَشَدُّ اعْتِنَاءً بِمُرَاعَاةِ أُصُولِهِ مِنَ الصَّبِيِّ، وَلِأَنَّ الْكَبِيرَ سَمِعَهُ فِي حَالَةٍ لَوْ أَخْبَرَ بِهِ لَقُبِلَ مِنْهُ بِخِلَافِ الصَّبِيِّ.

وَلِهَذَا بَعْضُ أَهْلِ الْمَعْرِفَةِ بِالْحَدِيثِ لَمَّا ذُكِرَ فِي أَصْحَابِ الزُّهْرِيِّ رَجَّحَ مَالِكًا عَلَى سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ.

لِأَنَّ مَالِكًا أَخَذَ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَهُوَ كَبِيرٌ، وَابْنُ عُيَيْنَةَ إِنَّمَا صَحِبَ الزُّهْرِيَّ وَهُوَ صَغِيرٌ دُونَ الِاحْتِلَامِ.

فَإِنْ قِيلَ: فَعَلَى هَذَا يَجِبُ أَنْ يُقَدَّمَ مَنْ يَحْتَمِلُ شَهَادَةً وَهُوَ بَالِغٌ عَلَى مَنْ تَحَمَّلَهَا صَغِيرًا، قُلْنَا: إِنَّمَا لَمْ يُعْتَبَرْ هَذَا التَّرْجِيحُ فِي بَابِ الشَّهَادَةِ؛ لِأَنَّ الشَّهَادَةَ إِخْبَارٌ عَنْ مَعْنًى وَاحِدٍ، وَذَلِكَ الْمَعْنَى لَا يَتَغَيَّرُ وَلَا يَخْتَلِفُ مَعْرِفَتُهُ بِاخْتِلَافِ الْأَحْوَالِ صَغِيرًا أَوْ كَبِيرًا، وَلَيْسَ كَذَلِكَ الرِّوَايَةُ،

فَإِنَّمَا يُرَاعَى فِيهِ الْأَلْفَاظُ وَالْأَحْوَالُ وَالْأَسْبَابُ؛ لِتَطَرُّقِ الْوَهْمِ إِلَيْهَا، وَالتَّغْيِيرِ وَالتَّبْدِيلِ، وَيَخْتَلِفُ ذَلِكَ بِالْكِبَرِ وَالصِّغَرِ، فَيُبَالَغُ فِي مُرَاعَاتِهَا لِذَلِكَ.

‌‌الْوَجْهُ الْخَامِسُ: أَنْ يَكُونَ سَمَاعُ أَحَدِ الرَّاوِيَيْنِ تَحْدِيثًا، وَسَمَاعُ الثَّانِي
‌দ্বিতীয় দিক: দুইজন বর্ণনাকারীর (راوي) মধ্যে একজন অধিক নিখুঁত (أتقن) ও অধিক শক্তিশালী স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (أحفظ) হওয়া; যেমন ইমাম মালিক ইবনে আনাস এবং শুআইব ইবনে আবি হামজাহ যখন ইমাম যুহরির বর্ণনার ক্ষেত্রে একমত হন, তখন শুআইব যদিও

হাফিজ (حافظ) ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন, কিন্তু তিনি নিখুঁততা (إتقان) ও হেফজ বা মুখস্থশক্তিতে (حفظ) ইমাম মালিকের সমকক্ষ নন। যে ব্যক্তি তাদের উভয়ের হাদিস পর্যালোচনা করবে, সে তাদের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান খুঁজে পাবে।

‌‌তৃতীয় দিক: দুইজন বর্ণনাকারীর (راوي) মধ্যে একজনের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সর্বসম্মত হওয়া এবং অপরজনের ব্যাপারে মতভেদ থাকা। সেক্ষেত্রে যার ব্যাপারে সকলে একমত তাকে গ্রহণ করাই উত্তম। উদাহরণস্বরূপ: পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করা বিষয়ে বুসরাহ বিনতে সাফওয়ানের হাদিস এবং এর বিপরীতে তালক-এর হাদিস। বুসরার হাদিসটি ইমাম মালিক বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে জুবায়ের থেকে। তাদের মধ্যে প্রত্যেকেই ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও সত্যবাদী (صدوق), যাদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সর্বসম্মত। অন্যদিকে তালক-এর হাদিসের বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। অতএব, বুসরার হাদিসটি গ্রহণ করাই উত্তম।

‌‌চতুর্থ দিক: দুইটি হাদিসের মধ্যে কোনো একটির বর্ণনাকারী (راوي) তা শ্রবণের সময় প্রাপ্তবয়স্ক (بالغ) ছিলেন এবং দ্বিতীয়জন হাদিস গ্রহণের (أخذ) সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক (صغير) ছিলেন। সেক্ষেত্রে প্রথমজনের হাদিস গ্রহণ করাই উত্তম। কারণ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অর্থ ও মর্ম বুঝতে অধিক সক্ষম, শব্দ চয়নে অধিক নিখুঁত (أتقن), বার্ধক্যজনিত বিভ্রান্তি বা সংমিশ্রণের (اختلاط) আপদ থেকে অধিক মুক্ত, ধারণক্ষমতা বা হেফজের (ضبط) ব্যাপারে অধিক যত্নবান এবং শিশুর তুলনায় মূল পাণ্ডুলিপির রক্ষণাবেক্ষণে অধিক মনোযোগী। অধিকন্তু, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এমন অবস্থায় তা শুনেছেন যখন তিনি সংবাদ দিলে তা গ্রহণযোগ্য হতো, কিন্তু শিশুর ক্ষেত্রে বিষয়টি সেরূপ নয়।

এই কারণেই হাদিস শাস্ত্রের কিছু বিশেষজ্ঞ যখন ইমাম যুহরির ছাত্রদের আলোচনা করেন, তখন তারা সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহর ওপর ইমাম মালিককে প্রাধান্য দেন।

কারণ মালিক ইমাম যুহরি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় হাদিস গ্রহণ করেছেন, আর ইবনে উইয়াইনাহ কেবল শৈশবে সাবালক হওয়ার পূর্বেই ইমাম যুহরির সান্নিধ্য পেয়েছিলেন।

যদি বলা হয়: এই নিয়ম অনুযায়ী তো প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সাক্ষ্য গ্রহণকারীকে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সাক্ষ্য গ্রহণকারীর ওপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আমরা বলব: সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে এই প্রাধান্য বিবেচনা করা হয় না; কারণ সাক্ষ্য হলো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সংবাদ দেওয়া, আর সেই বিষয়টি শৈশব বা বার্ধক্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত বা ভিন্নতর হয় না। কিন্তু বর্ণনা (رواية) বিষয়টি এমন নয়।

এতে শব্দ, অবস্থা এবং প্রেক্ষাপটের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়; কারণ এতে কল্পনা বা ভুলের (وهم) অনুপ্রবেশ এবং পরিবর্তন ও পরিমার্জনের অবকাশ থাকে। আর বয়সভেদে (বড় বা ছোট হওয়ার কারণে) এগুলোর পার্থক্য হতে পারে। তাই এই কারণে বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

‌‌পঞ্চম দিক: দুইজন বর্ণনাকারীর (راوي) মধ্যে একজনের শ্রবণ (سماع) সরাসরি বর্ণনা প্রদান (تحديث) হিসেবে হওয়া, আর দ্বিতীয়জনের শ্রবণ...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১১)
عَرْضًا؛ فَالْأَوَّلُ أَوْلَى بِالتَّرْجِيحِ؛ إِذْ لَا طَرِيقَ أَبْلَغَ مِنَ النُّطْقِ بِالثُّبُوتِ، وَلِهَذَا قَدَّمَ بَعْضُهُمْ: عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ فِي الزُّهْرِيِّ عَلَى ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ؛ لِأَنَّ سَمَاعَ عُبَيْدِ اللَّهِ تَحْدِيثٌ، وَسَمَاعَ ابْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَرْضٌ.

وَهَذَا مَذْهَبُ أَهْلِ الْعِرَاقِ وَالْبَصْرِيِّينَ وَالشَّامِيِّينَ وَأَكْثَرِ الْمُحَدِّثِينَ، وَأَمَّا مَالِكٌ وَأَهْلُ الْحِجَازِ أَكْثَرُهُمْ ذَهَبُوا إِلَى أَنْ لَا فَارِقَ بَيْنَ الْعَرْضِ وَالْقِرَاءَةِ، وَإِلَيْهِ مَالَ الشَّافِعِيُّ أَيْضًا.

‌‌الْوَجْهُ السَّادِسُ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ سَمَاعًا أَوْ عَرْضًا، وَالثَّانِي يَكُونُ كِتَابَةً، أَوْ وِجَادَةً، أَوْ مُنَاوَلَةً، فَيَكُونُ الْأَوَّلُ أَوْلَى بِالتَّرْجِيحِ لِمَا يَتَخَلَّلُ هَذِهِ الْأَقْسَامَ مِنْ شُبْهَةِ الِانْقِطَاعِ لِعَدَمِ الْمُشَافَهَةِ؛ وَلِهَذَا رَجَحَ حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ فِي الدِّبَاغِ: أَيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ فَقَدْ طَهُرَ عَلَى حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ

عُكَيْمٍ: لَا تَنْتَفِعُوا مِنَ الْمَيْتَةِ بِإِهَابٍ وَلَا عَصَبٍ؛ لِأَنَّ هَذَا كِتَابٌ وَذَاكَ سَمَاعٌ.

‌‌الْوَجْهُ السَّابِعُ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الرَّاوِيَيْنِ مُبَاشِرًا لِمَا رَوَاهُ وَالثَّانِي حَاكِيًا، فَالْمُبَاشِرُ أَعْرَفُ بِالْحَالِ. مِثَالُهُ: حَدِيثُ مَيْمُونَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَكَحَهَا وَهُوَ حَلَالٌ، وَبَعْضُهُمْ رَوَاهُ: " نَكَحَهَا وَهُوَ حَرَامٌ "، فَمَنْ رَوَاهُ: " نَكَحَهَا وَهُوَ حَلَالٌ " أَبُو رَافِعٍ. وَمَنْ رَوَاهُ " نَكَحَهَا وَهُوَ حَرَامٌ " ابْنُ عَبَّاسٍ، وَحَدِيثُ أَبِي رَافِعٍ أَوْلَى بِالتَّقْدِيمِ؛ لِأَنَّ أَبَا رَافِعٍ كَانَ السَّفِيرَ بَيْنَهُمَا، وَكَانَ مُبَاشِرًا لِلْحَالِ، وَابْنُ عَبَّاسٍ كَانَ حَاكِيًا؛ وَلِهَذَا أَحَالَتْ عَائِشَةُ عَلَى عَلِيٍّ لَمَّا سَأَلُوهَا عَنِ الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ؛ فَقَالَتْ: سَلُوا عَلِيًّا؛ فَإِنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

‌‌الْوَجْهُ الثَّامِنُ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الرَّاوِيَيْنِ صَاحِبَ الْقِصَّةِ فَيُرَجَّحُ حَدِيثُهُ؛ لِأَنَّ صَاحِبَ الْقِصَّةِ أَعْرَفُ بِحَالِهِ مِنْ غَيْرِهِ وَأَكْثَرُ اهْتِمَامًا، وَلِذَلِكَ رَجَعَ نَفَرٌ مِنَ الصَّحَابَةِ مِمَّنْ كَانَ يَرَى الْمَاءَ مِنَ الْمَاءِ إِلَى حَدِيثِ عَائِشَةَ رضي الله عنها فِي الْتِقَاءِ الْخِتَانَيْنِ.

‌‌الْوَجْهُ التَّاسِعُ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الرَّاوِيَيْنِ أَحْسَنَ سِيَاقًا لِحَدِيثِهِ مِنَ الْآخَرِ، وَأَبْلَغَ اسْتِقْصَاءً فِيهِ؛ لِأَنَّهُ قَدْ يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ الرَّاوِي الْآخَرُ سَمِعَ بَعْضَ الْقِصَّةِ فَاعْتَقَدَ أَنَّ مَا سَمِعَهُ مُسْتَقِلٌّ بِالْإِفَادَةِ، وَيَكُونُ الْحَدِيثُ مُرْتَبِطًا بِحَدِيثٍ
পেশ করার (عرضًا) মাধ্যমে; তাই প্রথমটি (সরাসরি শ্রবণ) অগ্রগণ্য করার (الترجيح) ক্ষেত্রে অধিকতর উপযুক্ত। কারণ প্রমাণের বর্ণনায় সরাসরি উচ্চারণের চেয়ে অধিকতর প্রভাবশালী কোনো মাধ্যম নেই। এই কারণেই কেউ কেউ ইমাম যুহরীর বর্ণনার ক্ষেত্রে উবায়দুল্লাহ ইবনে উমরকে ইবনে আবি যিবের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন; কেননা উবায়দুল্লাহর শ্রবণ ছিল উস্তাদের সরাসরি হাদিস বর্ণনা (تحديث) এবং ইবনে আবি যিবের শ্রবণ ছিল পেশ করা (عرض) বা উস্তাদের সামনে পাঠ।

এবং এটি ইরাকবাসী, বসরার অধিবাসী, সিরিয়াবাসী এবং অধিকাংশ হাদিস বিশারদের (المحدثين) মাযহাব। পক্ষান্তরে ইমাম মালিক এবং হিজাজের অধিকাংশ আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, পেশ করা (العرض) এবং উস্তাদের নিকট পাঠ করার (القراءة) মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইমাম শাফিয়ীও এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন।

‌‌ষষ্ঠ দিক: দুটি হাদিসের একটি শ্রবণ (سماع) বা পেশ করার (عرض) মাধ্যমে প্রাপ্ত হওয়া এবং অন্যটি লিখন (كتابة), প্রাপ্তি (وجادة) অথবা হস্তান্তরের (مناولة) মাধ্যমে হওয়া। এক্ষেত্রে প্রথমটি অগ্রগণ্য করার (الترجيح) ক্ষেত্রে অধিকতর উপযুক্ত। কারণ এই শেষোক্ত প্রকারগুলোতে সরাসরি কথোপকথন না থাকার দরুন বিচ্ছিন্নতার (الانقطاع) সংশয় বিদ্যমান থাকে। এই কারণেই পশুর চামড়া পাকা করার বিষয়ে ইবনে আব্বাসের হাদিসটি—'যে কোনো চামড়া যখন পাকা করা হয় তখন তা পবিত্র হয়ে যায়'—আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইমের হাদিসের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে, যাতে বলা হয়েছে: 'তোমরা মৃত প্রাণীর চামড়া ও স্নায়ু দ্বারা কোনো উপকার গ্রহণ করো না'; কারণ এটি ছিল লিখিত লিপি (كتاب) এবং ওটি ছিল সরাসরি শ্রবণ (سماع)।

‌‌সপ্তম দিক: দুই বর্ণনাকারীর (الراويين) একজন যা বর্ণনা করছেন তাতে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন এবং অপরজন কেবল ঘটনাটি বর্ণনা করছেন। এক্ষেত্রে যিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন তিনি অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত। এর উদাহরণ: মায়মুনাহ (রা.)-এর হাদিস যে, নবী (সা.) যখন তাকে বিয়ে করেন তখন তিনি ইহরামমুক্ত (حلال) অবস্থায় ছিলেন। আবার কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন: 'তিনি ইহরাম অবস্থায় (حرام) তাকে বিয়ে করেছিলেন।' যারা বর্ণনা করেছেন যে 'তিনি ইহরামমুক্ত (حلال) ছিলেন' তাদের একজন হলেন আবু রাফে। আর যারা বর্ণনা করেছেন যে 'তিনি ইহরাম অবস্থায় (حرام) ছিলেন' তাদের একজন হলেন ইবনে আব্বাস। আবু রাফে-এর হাদিসটিই অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য; কারণ আবু রাফে তাদের দুজনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী (السفير) ছিলেন এবং তিনি অবস্থার সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। আর ইবনে আব্বাস ছিলেন বর্ণনাকারী মাত্র। এই কারণেই আয়িশা (রা.) মোজার ওপর মাসাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হয়ে আলীর (রা.) ওপর হাওয়ালা করেছিলেন এবং বলেছিলেন: 'তোমরা আলীকে জিজ্ঞাসা করো; কেননা তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সফর করতেন।'

‌‌অষ্টম দিক: দুই বর্ণনাকারীর (الراويين) একজন ঘটনার মূল পাত্র হওয়া। এমতাবস্থায় তার হাদিসটিকেই অগ্রগণ্য (يرجح) করা হবে; কেননা ঘটনার মূল পাত্র অন্যের তুলনায় নিজের অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত এবং অধিক সচেতন থাকেন। এই কারণেই সাহাবীদের একদল—যারা মনে করতেন যে বীর্যপাত হলেই কেবল গোসল ওয়াজিব হয়—আয়িশা (রা.)-এর বর্ণিত 'উভয় লিঙ্গাগ্র মিলিত হওয়া' সংক্রান্ত হাদিসের দিকে ফিরে এসেছিলেন।

‌‌নবম দিক: দুই বর্ণনাকারীর (الراويين) একজন অন্যজনের তুলনায় তার হাদিসের বর্ণনাধারা অধিক সুন্দরভাবে এবং পূর্ণাঙ্গরূপে উপস্থাপনা করা। কারণ হতে পারে যে, অপর বর্ণনাকারী (الراوي) ঘটনার একাংশ শুনেছেন এবং মনে করেছেন যে তিনি যা শুনেছেন তাই পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান করছে, অথচ হাদিসটি অন্য আরেকটি হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১২)
آخَرَ لَا يَكُونُ هَذَا قَدْ تَنَبَّهَ لَهُ، وَلِهَذَا مَنْ ذَهَبَ إِلَى الْإِفْرَادِ فِي الْحَجِّ قَدَّمَ حَدِيثَ جَابِرٍ؛ لِأَنَّهُ وَصَفَ خُرُوجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَدِينَةِ مَرْحَلَةً مَرْحَلَةً، وَدُخُولَهُ مَكَّةَ، وَحَكَى مَنَاسِكَهُ عَلَى تَرْبِيَتِهِ وَانْصِرَافِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ، وَغَيْرُهُ لَمْ يَضْبِطْ ضَبْطَهُ.

‌‌الْوَجْهُ الْعَاشِرُ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الرَّاوِيَيْنِ أَقْرَبَ مَكَانًا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَدِيثُهُ أَوْلَى بِالتَّقْدِيمِ؛ لِأَنَّهُ يَكُونُ أَمْكَنَ مِنِ اسْتِيفَاءِ كَلَامِهِ، وَأَسْمَعَ لَهُ؛ وَلِذَلِكَ مَنْ يَرَى الْإِفْرَادَ بِالْحَجِّ أَفْضَلَ مِنَ الْقِرَانِ يَذْهَبُ إِلَى حَدِيثِ ابْنِ

عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَفْرَدَ الْحَجَّ، وَيُرَجِّحُهُ عَلَى حَدِيثِ أَنَسٍ أَنَّهُ قَرَنَ؛ لِمَا ذَكَرَ ابْنُ عُمَرَ فِي حَدِيثِهِ قَالَ: كُنْتُ تَحْتَ جِرَانِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلُعَابُهَا بَيْنَ كَتِفِي.

‌‌(الْوَجْهُ الْحَادِي عَشَرَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الرَّاوِيَيْنِ أَكْثَرَ مُلَازَمَةً لِشَيْخِهِ، فَإِنَّ الْمُحَدِّثَ قَدْ يَنْشَطُ تَارَةً فَيَسُوقُ الْحَدِيثَ عَلَى وَجْهِهِ، وَقَدْ يَتَكَاسَلُ فِي الْأَوْقَاتِ فَيَقْتَصِرُ عَلَى الْبَعْضِ، أَوْ يَرْوِيهِ مُرْسَلًا، إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْأَسْبَابِ، وَهَذَا الضَّرْبُ يُوجَدُ كَثِيرًا فِي حَدِيثِ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ؛ وَلِهَذَا قَدَّمْنَا يُونُسَ بْنَ يَزِيدَ الْأَيْلِيَّ فِي الزُّهْرِيِّ عَلَى النُّعْمَانِ بْنِ رَاشِدٍ وَغَيْرِهِ مِنَ الشَّامِيِّينَ مِنْ أَصْحَابِ الزُّهْرِيِّ؛ لِأَنَّ يُونُسَ كَانَ كَثِيرَ الْمُلَازَمَةِ لِلزُّهْرِيِّ، حَتَّى كَانَ يُزَامِلُهُ فِي أَسْفَارِهِ، وَطُولُ الصُّحْبَةِ لَهُ زِيَادَةُ تَأْثِيرٍ، فَيُرَجَّحُ بِهِ.

‌‌الْوَجْهُ الثَّانِي عَشَرَ فِي التَّرْجِيحَاتِ " أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ سَمِعَهُ الرَّاوِي مِنْ مَشَايِخِ بَلَدِهِ، وَالثَّانِي سَمِعَهُ مِنَ الْغُرَبَاءِ فَيُرَجَّحُ الْأَوَّلُ؛ لِأَنَّ أَهْلَ

كُلِّ بَلَدٍ لَهُمُ اصْطِلَاحٌ فِي كَيْفِيَّةِ الْأَخْذِ مِنَ التَّشَدُّدِ وَالتَّسَاهُلِ وَغَيْرِ ذَلِكَ، وَالشَّخْصُ أَعْرَفُ بِاصْطِلَاحِ أَهْلِ بَلَدِهِ، وَلِهَذَا يَعْتَبِرُ أَئِمَّةُ النَّقْلِ حَدِيثَ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ، فَمَا وَجَدَهُ مِنَ الشَّامِيِّينَ احْتَجُّوا بِهِ، وَمَا كَانَ مِنَ الْحِجَازِيِّينَ وَالْكُوفِيِّينَ وَغَيْرِهِمْ لَمْ يَلْتَفِتُوا إِلَيْهِ؛ لِمَا يُوجَدُ فِي حَدِيثِهِ مِنَ النَّكَارَةِ إِذَا رَوَاهُ عَنِ الْغُرَبَاءِ.

‌‌الْوَجْهُ الثَّالِثَ عَشَرَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ لَهُ مَخَارِجُ عِدَّةٌ، وَالْحَدِيثُ
অন্য কেউ সম্ভবত এ বিষয়টি লক্ষ্য করেননি। একারণে যারা হজে 'ইফরাদ'-এর প্রবক্তা, তারা জাবির-এর হাদিসকে অগ্রাধিকার দেন; কারণ তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনা থেকে বের হওয়ার প্রতিটি পর্যায়, মক্কায় প্রবেশ এবং তাঁর হজের কার্যাবলি যথাযথ বিন্যাস অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন এবং মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। অন্য কেউ তাঁর মতো নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ (ضبط) করতে পারেননি।

‌‌দশম দিক: দুইজন বর্ণনাকারীর (الراويين) মধ্যে একজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থানের দিক থেকে অধিক নিকটবর্তী থাকা। এমতাবস্থায় তাঁর হাদিসটি অগ্রাধিকার পাওয়ার বেশি যোগ্য; কারণ তাঁর পক্ষে রাসূলের কথা পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করা এবং শোনা অধিকতর সম্ভব ছিল। একারণেই যারা হজে 'কিরান'-এর চেয়ে 'ইফরাদ'কে শ্রেষ্ঠ মনে করেন, তারা ইবনে উমরের হাদিসের প্রবক্তা যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'ইফরাদ' হজ করেছেন। তারা এটিকে আনাস-এর হাদিসের ওপর প্রাধান্য (ترجيح) দেন যাতে তিনি 'কিরান' করার কথা বলেছেন। কারণ ইবনে উমর তাঁর হাদিসে উল্লেখ করেছেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উটনীর গলার নিচে ছিলাম এবং তাঁর লালা আমার দুই কাঁধের মাঝখানে পড়ছিল।"

‌‌(একাদশ দিক: দুইজন বর্ণনাকারীর (الراويين) মধ্যে একজনের তাঁর উস্তাদের সাথে দীর্ঘদিনের সাহচর্য থাকা। কেননা মুহাদ্দিস কখনও পূর্ণ উদ্যমে যথাযথভাবে হাদিস বর্ণনা করেন, আবার কখনও অবসাদগ্রস্ত হয়ে সংক্ষেপে বর্ণনা করেন অথবা বিচ্ছিন্ন (مرسلاً) ভাবে বর্ণনা করেন বা অন্য কোনো কারণে এমন করেন। এ ধরনের ঘটনা মালিক ইবনে আনাসের হাদিসে অনেক দেখা যায়। একারণেই আমরা জুহরি থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আল-আইলি-কে নুমান ইবনে রাশিদ এবং জুহরির অন্যান্য শামি সঙ্গীদের ওপর প্রাধান্য দিয়েছি। কারণ ইউনুস জুহরির সাথে দীর্ঘকাল অবস্থান করেছেন, এমনকি সফরেও তাঁর সঙ্গী হতেন। দীর্ঘদিনের সাহচর্যের একটি বিশেষ প্রভাব রয়েছে, যা দ্বারা প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া হয়।

‌‌দ্বাদশ দিক প্রাধান্য প্রদানের (الترجيحات) ক্ষেত্রে: বর্ণনাকারী (الراوي) একটি হাদিস নিজ শহরের উস্তাদদের থেকে শুনেছেন এবং দ্বিতীয়টি বহিরাগতদের থেকে শুনেছেন, এমতাবস্থায় প্রথমটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া হবে। কারণ প্রতিটি অঞ্চলের অধিবাসীদের হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে কঠোরতা ও শিথিলতার নিজস্ব পরিভাষা (اصطلاح) থাকে এবং ব্যক্তি নিজ অঞ্চলের পরিভাষা সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত হন। একারণেই হাদিস বিশারদগণ ইসমাইল ইবনে আইয়াশ-এর হাদিসকে বিবেচনা করেন; তিনি শামি উস্তাদদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা তারা দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু হিজাজি, কুফি ও অন্যদের থেকে যা বর্ণনা করেছেন তার প্রতি তারা ভ্রুক্ষেপ করেননি; কারণ তিনি যখন বহিরাগতদের থেকে বর্ণনা করেন তখন তাঁর হাদিসে অসংগতি বা অস্বীকৃতি (النكارة) পাওয়া যায়।

‌‌ত্রয়োদশ দিক: উভয় হাদিসের মধ্যে একটির একাধিক সূত্র (مخارج) থাকা এবং হাদিসটি...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১৩)
الثَّانِي لَا يُعْرَفُ لَهُ سِوَى مَخْرَجٍ وَاحِدٍ، وَإِنْ كَانَ قَدْ رَوَاهُ نَفَرٌ ذَوُو عَدَدٍ فَيَكُونُ الْمَصِيرُ إِلَى الْأَوَّلِ أَوْلَى؛ لِأَنَّ الْحُكْمَ الْوَاحِدَ إِذَا عُمِلَ بِهِ فِي بُلْدَانٍ شَتَّى يَكُونُ أَقْوَى مِنَ الْحُكْمِ الْمَعْمُولِ بِهِ فِي بَلَدٍ وَاحِدٍ، وَإِنْ كَانَ عَدَدُ هَؤُلَاءِ أَكْثَرَ.

‌‌الْوَجْهُ الرَّابِعَ عَشَرَ: أَنْ يَكُونَ إِسْنَادُ أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ حِجَازِيًّا وَإِسْنَادُ الْآخَرِ عِرَاقِيًّا أَوْ شَامِيًّا، سِيَّمَا إِذَا كَانَ الْحَدِيثُ مَدَنِيَّ الْمَخْرَجِ؛ لِأَنَّهَا دَارُ الْهِجْرَةِ وَمَجْمَعُ الْأَنْصَارِ وَالْمُهَاجِرِينَ، وَالْحَدِيثُ إِذَا شَاعَ عِنْدَهُمْ وَذَاعَ وَتَلَقَّوْهُ بِالْقَبُولِ مَتُنَ وَقَوِيَ؛ وَلِهَذَا قَدَّمْنَا صَاعَهُمْ عَلَى صَاعِ غَيْرِهِمْ؛ لِأَنَّهُمْ شَاهَدُوا الْوَحْيَ وَالتَّنْزِيلَ، وَفِيهِمُ اسْتَقَرَّتِ الشَّرِيعَةُ، وَكَانَ الشَّافِعِيُّ رحمه الله يَقُولُ: " كُلُّ حَدِيثٍ لَا يُوجَدُ لَهُ أَصْلٌ فِي حَدِيثِ الْحِجَازِيِّينَ وَاهٍ، وَإِنْ تَدَاوَلَتْهُ الثِّقَاتُ ".

‌‌الْوَجْهُ الْخَامِسَ عَشَرَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ رَوَاهُ أَهْلُ بَلَدٍ لَيْسَ التَّدْلِيسُ مِنْ صِنَاعَتِهِمْ، وَالثَّانِي رَوَاهُ مَنْ يَرَى التَّدْلِيسَ، فَيَكُونُ الْأَوَّلُ أَوْلَى بِالِاعْتِبَارِ لِمَا فِي التَّدْلِيسِ مِنْ رُكُوبِ الْخَطَرِ، وَمَنْ لَا يَرَى بِالتَّدْلِيسِ بَأْسًا وَهُوَ فَاشٍ عِنْدَهُمْ أَهْلُ الْكُوفَةِ جَمِيعُهُمْ وَبَعْضُ الْبَصْرِيِّينَ.

‌‌الْوَجْهُ السَّادِسَ عَشَرَ: أَنْ يَكُونَ كِلَا الْحَدِيثَيْنِ عِرَاقِيَّ الْإِسْنَادِ، غَيْرَ أَنَّ أَحَدَهُمَا مُعَنْعَنٌ، وَالثَّانِي مُصَرَّحٌ فِيهِ بِالْأَلْفَاظِ الَّتِي تَدُلُّ عَلَى الِاتِّصَالِ

نَحْوُ: سَمِعْتُ وَحَدَّثَنَا، فَيُرَجَّحُ الْقِسْمُ الثَّانِي؛ لِاحْتِمَالِ التَّدْلِيسِ فِي الْعَنْعَنَةِ، إِذْ هُوَ عِنْدَهُمْ غَيْرُ مُسْتَنْكَرٍ، وَكَانَ شُعْبَةُ يَقُولُ: كُنْتُ إِذَا حَضَرْتُ مَجْلِسَ قَتَادَةَ لَمَحْتُ حَدِيثَهُ؛ فَمَا قَالَ فِيهِ: سَمِعْتُ وَحَدَّثَنَا وَأَخْبَرَنَا كَتَبْتُهُ، وَمَا قَالَ فِيهِ: " عَنْ " طَرَحْتُهُ.

‌‌الْوَجْهُ السَّابِعَ عَشَرَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الرَّاوِيَيْنِ جَمَعَ حَالَةَ الْأَخْذِ بَيْنَ الْمُشَافَهَةِ وَالْمُشَاهَدَةِ، وَالثَّانِي أَخَذَهُ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ، فَيُؤْخَذُ بِالْأَوَّلِ؛ لِأَنَّهُ أَقْرَبُ إِلَى الضَّبْطِ وَأَبْعَدُ مِنَ السَّهْوِ وَالْغَلَطِ، وَلِهَذَا لَمَّا اخْتُلِفَ فِي زَوْجِ بَرِيرَةَ هَلْ كَانَ حُرًّا أَوْ عَبْدًا، فَرَوَاهُ الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَعُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ بَرِيرَةَ أُعْتِقَتْ وَكَانَ زَوْجُهَا عَبْدًا وَرَوَاهُ أَسْوَدُ بْنُ يَزِيدَ عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ زَوْجَهَا كَانَ حُرًّا، كَانَ الْمَصِيرُ إِلَى حَدِيثِ الْقَاسِمِ وَعُرْوَةَ أَوْلَى؛ لِأَنَّهُمَا سَمِعَا مِنْهَا مِنْ غَيْرِ حِجَابٍ.
দ্বিতীয়টি হলো যার কেবল একটিমাত্র সূত্র (مخرج) জানা যায়, যদিও তা বেশ কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। এমতাবস্থায় প্রথমটি গ্রহণ করাই উত্তম হবে; কারণ একটি বিধান যখন বিভিন্ন শহরে প্রচলিত থাকে, তখন তা একটিমাত্র শহরে প্রচলিত বিধানের তুলনায় শক্তিশালী হয়, যদিও (পরবর্তী ক্ষেত্রে) বর্ণনাকারীদের সংখ্যা বেশি হয়।

‌‌চতুর্দশ দিক: দুটি হাদিসের একটির সনদ (إسناد) হিজাজি হওয়া এবং অন্যটির সনদ (إسنাদ) ইরাকি বা শামি হওয়া; বিশেষ করে যখন হাদিসটির উৎস (مخرج) মদিনা কেন্দ্রিক হয়। কেননা মদিনা হলো হিজরতের স্থান এবং আনসার ও মুহাজিরদের মিলনস্থল। হাদিস যখন তাদের মাঝে বহুল প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ হয় এবং তারা তা গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ (تلقوه بالقبول) করে নেয়, তখন তা সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হয়। এই কারণেই আমরা অন্যদের চেয়ে তাদের সা’ (পরিমাপক) কে অগ্রাধিকার দিয়েছি; কারণ তারা ওহি ও প্রত্যাদেশ নাজিল হতে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং তাদের মাঝেই শরিয়ত স্থিতি লাভ করেছে। ইমাম শাফিয়ি (রহ.) বলতেন: "এমন প্রতিটি হাদিস যার কোনো ভিত্তি (أصل) হিজাজিদের হাদিসে নেই, তা দুর্বল (واه); যদিও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ (الثقات) তা বর্ণনা করেছেন।"

‌‌পঞ্চদশ দিক: দুটি হাদিসের একটি এমন এক শহরের অধিবাসীদের বর্ণিত হওয়া যাদের অভ্যাস তাদলিস (تدليس) করা নয়, আর দ্বিতীয়টি এমন কেউ বর্ণনা করেছে যে তাদলিস (تدليس) করা সমীচীন মনে করে। এমতাবস্থায় প্রথমটিই বিবেচনার দিক থেকে অধিক উত্তম হবে, কারণ তাদলিস (تدليس)-এর মধ্যে ঝুঁকি গ্রহণের সম্ভাবনা থাকে। যারা তাদলিস (تدليس) করাকে দোষণীয় মনে করতেন না এবং যাদের মধ্যে এটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল তারা হলেন কুফাবাসীগণ এবং বসরার কিছু অধিবাসী।

‌‌ষোড়শ দিক: উভয় হাদিসের সনদ (إسناد) ইরাকি হওয়া, তবে পার্থক্য হলো একটি মুআনআন (معنعن) এবং অন্যটিতে এমন শব্দ পরিষ্কারভাবে বর্ণিত হয়েছে যা নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال) প্রমাণ দেয়।

যেমন: 'আমি শুনেছি' (سمعت) এবং 'আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন' (حدثنا)। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় প্রকারটিই প্রধান্য পাবে; কারণ মুআনআন (عنعنة) বর্ণনায় তাদলিস (تدليس)-এর সম্ভাবনা থাকে, কেননা তাদের নিকট এটি আপত্তিকর ছিল না। শু'বাহ বলতেন: "আমি যখন কাতাদাহর মজলিসে উপস্থিত হতাম, তখন তার বর্ণিত হাদিসগুলো লক্ষ্য করতাম; যাতে তিনি 'আমি শুনেছি' (سمعت), 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' (حدثنا) এবং 'আমাদের সংবাদ দিয়েছেন' (أخبرنا) বলতেন, কেবল সেগুলোই আমি লিখে নিতাম। আর যাতে তিনি 'হতে' (عن) বলতেন, আমি তা বর্জন করতাম।"

‌‌সপ্তদশ দিক: বর্ণনাকারীদের (الراويين) মধ্যে একজন হাদিস গ্রহণের সময় সরাসরি শ্রবণ ও সরাসরি দর্শনের সমন্বয় ঘটিয়েছেন, আর দ্বিতীয় জন তা পর্দার অন্তরাল থেকে গ্রহণ করেছেন। এমতাবস্থায় প্রথমটিই গ্রহণ করা হবে; কারণ এটি নির্ভুলতার (ضبط) অধিক নিকটবর্তী এবং বিস্মৃতি (سهو) ও ভুলের (غلط) সম্ভাবনা থেকে অধিক মুক্ত। এই কারণেই যখন বারিরার স্বামী স্বাধীন নাকি দাস ছিল এ নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছিল—যেখানে কাসেম ইবনে মুহাম্মদ ও উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, বারিরাকে মুক্ত করা হয়েছিল এবং তার স্বামী দাস ছিল, আর আসওয়াদ ইবনে ইয়াজিদ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার স্বামী স্বাধীন ছিল—তখন কাসেম ও উরওয়াহর হাদিসটি গ্রহণ করাই অধিক উত্তম বিবেচিত হয়েছে; কারণ তারা পর্দার অন্তরাল ছাড়াই সরাসরি তার থেকে শুনেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌الْوَجْهُ الثَّامِنَ عَشَرَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ اخْتَلَفَتِ الرِّوَايَةُ فِيهِ وَالثَّانِي لَمْ تَخْتَلِفْ، فَيُقَدَّمُ الْحَدِيثُ الَّذِي لَمْ تَخْتَلِفِ الرِّوَايَةُ فِيهِ، نَحْوُ مَا رَوَاهُ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ فِي بَابِ الزَّكَاةِ فِي صَدَقَةِ الْإِبِلِ إِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ، فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ، وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ، وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ مُخَرَّجٌ فِي الصِّحَاحِ مِنْ حَدِيثِ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ، وَرَوَاهُ عَنْ ثُمَامَةَ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ وَحَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، وَرَوَاهُ عَنْهُمَا جَمَاعَةٌ، وَكُلُّهُمْ قَدِ اتَّفَقُوا عَلَى هَذَا الْحُكْمِ مِنْ غَيْرِ اخْتِلَافٍ بَيْنَهُمْ.

وَرَوَى عَاصِمُ بْنُ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه فِي الْإِبِلِ إِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةً قَالَ: تُرَدُّ الْفَرَائِضُ إِلَى أَوَّلِهَا فَإِذَا كَثُرَتِ

الْإِبِلُ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ. كَذَا رَوَاهُ سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ عَلِيٍّ، وَرَوَاهُ شَرِيكٌ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ: إِذَا زَادَتِ الْإِبِلُ عَنْ عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ، وَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ. فَهَذِهِ الرِّوَايَةُ مُوَافِقَةٌ لِحَدِيثِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، وَالرِّوَايَةُ الْأُولَى تُخَالِفُهُ، وَحَدِيثُ أَنَسٍ لَمْ تَخْتَلِفِ الرِّوَايَةُ فِيهِ، وَحَدِيثُ عَلِيٍّ اخْتَلَفَتِ الرِّوَايَةُ فِيهِ كَمَا تَرَى، فَالْمَصِيرُ إِلَى حَدِيثِ أَنَسٍ أَوْلَى لِلْمَعْنَى الَّذِي ذَكَرْنَاهُ، عَلَى أَنَّ كَثِيرًا مِنَ الْحُفَّاظِ أَحَالُوا فِي حَدِيثِ عَلِيٍّ رضي الله عنه بِالْغَلَطِ عَلَى عَاصِمٍ.

وَإِذَا تَقَابَلَتْ حُجَّتَانِ فَيَكُونُ لِإِحْدَاهُمَا مُعَارِضٌ وَلَيْسَ لِلْأُخْرَى ذَلِكَ، فَمَا سَلِمَتْ تَكُونُ أَوْلَى كَالْبَيِّنَاتِ إِذَا تَقَابَلَتْ، فَمَا وُجِدَ لَهَا مُعَارِضٌ سَقَطَتْ، وَمَا سَلِمَتْ مِنَ الْمُعَارَضَةِ ثَبَتَتْ، كَذَلِكَ هَذَا.

‌‌الْوَجْهُ التَّاسِعَ عَشَرَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الرَّاوِيَيْنِ لَمْ يَضْطَرِبْ لَفْظُهُ، وَالْآخَرُ قَدِ اضْطَرَبَ لَفْظُهُ، فَيُرَجَّحُ خَبَرُ مَنْ لَمْ يَضْطَرِبْ لَفْظُهُ؛ لِأَنَّهُ يَدُلُّ عَلَى حِفْظِهِ وَضَبْطِهِ وَسُوءِ حِفْظِ صَاحِبِهِ، مِثَالُهُ حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَرْفَعُ يَدَيْهِ إِذَا كَبَّرَ، وَإِذَا رَكَعَ، وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ.

فَهَذَا حَدِيثٌ يُرْوَى عَنِ ابْنِ عُمَرَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ، وَمِمَّنْ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ،

وَلَمْ يُخْتَلَفْ عَلَيْهِ فِيهِ، وَلَا اضْطِرَابَ فِي مَتْنِهِ، فَكَانَ أَوْلَى بِالْمَصِيرِ إِلَيْهِ مِنْ حَدِيثِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ كَانَ إِذَا افْتَتَحَ الصَّلَاةَ رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ أُذُنَيْهِ ثُمَّ لَا يَعُودُ؛ لِأَنَّ هَذَا
অষ্টাদশ দিক: কোনো একটি হাদিসের বর্ণনায় যদি মতভেদ (اختلاف) পরিলক্ষিত হয় এবং দ্বিতীয়টিতে কোনো মতভেদ না থাকে, তবে যে হাদিসের বর্ণনায় মতভেদ ঘটেনি তাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। যেমন আনাস বিন মালিক (রা.) জাকাত অধ্যায়ে উটের সদকা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, উটের সংখ্যা একশ বিশের অধিক হলে প্রতি চল্লিশটিতে একটি বিনতে লাবুন এবং প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি হিক্কাহ দিতে হবে। এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস যা সহিহ গ্রন্থসমূহে সুমামাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন আনাস এর সূত্রে সংকলিত (مخرج) হয়েছে। সুমামাহ থেকে এটি তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ এবং হাম্মাদ বিন সালামাহ বর্ণনা করেছেন। তাঁদের থেকে একদল বর্ণনাকারী এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা সবাই কোনো প্রকার মতভেদ (اختلاف) ছাড়াই এই বিধানের ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

আসিম বিন দামরাহ, আলী বিন আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উটের সংখ্যা একশ বিশের অধিক হলে তিনি বলেছেন: ফরজ বিধানগুলো পুনরায় প্রারম্ভিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। অতঃপর যখন উটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে

তখন প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি হিক্কাহ দিতে হবে। সুফিয়ান এভাবেই আবু ইসহাক এর সূত্রে আসিম থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার শারিক, আবু ইসহাক এর সূত্রে আসিম থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যখন উটের সংখ্যা একশ বিশের অধিক হবে তখন প্রতি পঞ্চাশটিতে একটি হিক্কাহ এবং প্রতি চল্লিশটিতে একটি বিনতে লাবুন দিতে হবে। এই বর্ণনাটি আনাস বিন মালিক (রা.) এর হাদিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কিন্তু প্রথম বর্ণনাটি তার পরিপন্থী। আনাস (রা.) এর হাদিসের বর্ণনায় কোনো মতভেদ (اختلاف) নেই, কিন্তু আলীর (রা.) হাদিসে আপনার দৃষ্টিগোচর হওয়া মতভেদ (اختلاف) বিদ্যমান। সুতরাং আমাদের উল্লিখিত কারণে আনাস (রা.) এর হাদিসের দিকে প্রত্যাবর্তন করাই অধিকতর উত্তম। তাছাড়াও অনেক হাফেজ (الحفاظ) আলী (রা.) এর হাদিসের ক্ষেত্রে আসিমের ওপর ভুলের (غلط) দায়ভার চাপিয়েছেন।

যখন দুটি দলিল (حجة) পরস্পর মুখোমুখি হয় এবং তাদের একটির ক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ (معارض) বিষয় থাকে কিন্তু অন্যটির ক্ষেত্রে থাকে না, তবে যা নিরাপদ বা ত্রুটিমুক্ত তা-ই উত্তম হিসেবে বিবেচিত হবে। যেমন সাক্ষ্য-প্রমাণসমূহ যখন পরস্পর মুখোমুখি হয়, তখন যেটির ক্ষেত্রে বিরোধপূর্ণ (معارض) বিষয় পাওয়া যায় তা বাতিল হয়ে যায় এবং যা বিরোধিতা থেকে নিরাপদ থাকে তা প্রতিষ্ঠিত হয়; এটিও তদ্রূপ।

উনবিংশ দিক: যদি দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে একজনের শব্দচয়নে বিশৃঙ্খলা (اضطراب) না থাকে এবং অন্যজনের শব্দচয়নে বিশৃঙ্খলা (اضطراب) থাকে, তবে যাঁর শব্দে বিশৃঙ্খলা নেই তাঁর বর্ণনাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। কারণ এটি তাঁর মুখস্থশক্তি (حفظ) ও প্রখরতা (ضبط) এবং অপরজনের মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (سوء حفظ) নির্দেশ করে। এর উদাহরণ হলো ইবনে উমর (রা.) এর হাদিস: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকবির বলতেন, যখন রুকু করতেন এবং যখন রুকু থেকে মাথা তুলতেন তখন দুই হাত উত্তোলন করতেন।

এই হাদিসটি ইবনে উমর (রা.) থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইমাম যুহরি, সালিম এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এতে তাঁর প্রতি কোনো মতভেদ (اختلاف) করা হয়নি এবং এর মূলপাঠেও (متن) কোনো বিশৃঙ্খলা (اضطراب) নেই। সুতরাং বারা ইবনে আযিব (রা.) এর হাদিসের তুলনায় একে গ্রহণ করাই অধিকতর উত্তম; যাতে বর্ণিত হয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজ শুরু করতেন তখন কান পর্যন্ত হাত উঠাতেন, অতঃপর পুনরায় তা করতেন না। কারণ এটি...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১৫)
الْحَدِيثَ يُعْرَفُ بِيَزِيدَ بْنِ

أَبِي زِيَادٍ، وَقَدِ اضْطَرَبَ فِيهِ. قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ: كَانَ يَزِيدُ يَرْوِي هَذَا الْحَدِيثَ وَلَا يَذْكُرُ فِيهِ: ثُمَّ لَا يَعُودُ، ثُمَّ دَخَلْتُ الْكُوفَةَ فَرَأَيْتُ يَزِيدَ بْنَ أَبِي زِيَادٍ يَرْوِيهِ، وَقَدْ زَادَ فِيهِ: ثُمَّ لَا يَعُودُ، وَكَانَ لُقِّنَ فَتَلَقَّنَ.

‌‌الْوَجْهُ الْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مُتَّفَقًا عَلَى رَفْعِهِ، وَالْآخَرُ قَدِ اخْتَلَفَ فِي رَفْعِهِ، وَوَقْفِهِ الصَّحَابِيُّ، فَيَجِبُ تَرْجِيحُ مَا لَمْ يُخْتَلَفْ فِيهِ عَلَى مَا اخْتُلِفَ فِيهِ؛ لِأَنَّ الْمُتَّفَقَ عَلَى رَفْعِهِ حُجَّةٌ مِنْ جَمِيعِ جِهَاتِهِ، وَالْمُخْتَلَفَ فِي رَفْعِهِ عَلَى تَقْدِيرِ الْوَقْفِ هَلْ يَكُونُ حُجَّةً أَمْ لَا؟ فِيهِ خِلَافٌ، وَالْأَخْذُ بِالْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ أَقْرَبُ إِلَى الْحِيطَةِ.

‌‌الْوَجْهُ الْحَادِيَ وَالْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مُتَّفَقًا عَلَى اتِّصَالِهِ، وَالْآخَرُ يُوصِلُهُ بَعْضُهُمْ وَيُرْسِلُهُ آخَرُونَ، فَالْأَخْذُ بِالْمُسْنَدِ الْمُتَّفَقِ عَلَى اتِّصَالِهِ أَوْلَى مِنَ الْأَخْذِ بِالْمُخْتَلَفِ فِي إِرْسَالِهِ وَاتِّصَالِهِ، فَإِنَّ الْمُرْسَلَ أَكْثَرُ النَّاسِ عَلَى تَرْكِ الِاحْتِجَاجِ بِهِ، وَالْمُتَّصِلَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ فَلَا يُقَاوِمُهُ.

‌‌الْوَجْهُ الثَّانِي وَالْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ رُوَاةُ أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ مِمَّنْ لَا يُجَوِّزُونَ نَقْلَ الْحَدِيثِ بِالْمَعْنَى، وَرُوَاةُ الْحَدِيثِ الْآخَرِ يَرَوْنَ ذَلِكَ، فَحَدِيثُ مَنْ يُحَافِظُ عَلَى اللَّفْظِ أَوْلَى؛ لِأَنَّ النَّاسَ اخْتَلَفُوا فِي جَوَازِ نَقْلِ الْحَدِيثِ بِالْمَعْنَى مَعَ اتِّفَاقِهِمْ عَلَى أَوْلَوِيَّةِ نَقْلِهِ لَفْظًا، وَالْحِيطَةُ الْأَخْذُ بِالْمُتَّفَقِ عَلَيْهِ دُونَ غَيْرِهِ.

‌‌الْوَجْهُ الثَّالِثُ وَالْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ رُوَاةُ أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ مَعَ تَسَاوِيهِمْ فِي الْحِفْظِ وَالْإِتْقَانِ فُقَهَاءَ عَارِفِينَ بِاجْتِنَاءِ الْأَحْكَامِ مِنْ مُثَمِّرَاتِ الْأَلْفَاظِ، فَالِاسْتِرْوَاحُ إِلَى حَدِيثِ الْفُقَهَاءِ أَوْلَى.

وَحَكَى عَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالَ: قَالَ لَنَا وَكِيعٌ: أَيُّ الْإِسْنَادَيْنِ أَحَبُّ

إِلَيْكُمْ؛ الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَوْ سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ؟ فَقُلْنَا: الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ: يَا سُبْحَانَ اللَّهِ، الْأَعْمَشُ شَيْخٌ وَأَبُو وَائِلٍ شَيْخٌ،

وَسُفْيَانُ فَقِيهٌ، وَمَنْصُورٌ فَقِيهٌ، وَإِبْرَاهِيمُ فَقِيهٌ، وَعَلْقَمَةُ فَقِيهٌ، وَحَدِيثٌ يَتَدَاوَلُهُ الْفُقَهَاءُ خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَتَدَاوَلَهُ الشُّيُوخُ.

‌‌الْوَجْهُ الرَّابِعُ وَالْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ رَاوِي أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ مَعَ حِفْظِهِ
হাদিসটি ইয়াজিদ ইবনে আবি জিয়াদ এর মাধ্যমে পরিচিত এবং এতে বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা (اضطراب) ঘটেছে। সুফিয়ান ইবনে উয়ায়নাহ বলেছেন: ইয়াজিদ এই হাদিসটি বর্ণনা করতেন এবং তাতে "অতঃপর তিনি আর ফিরতেন না" অংশটি উল্লেখ করতেন না। পরবর্তীতে আমি কুফায় প্রবেশ করে দেখলাম ইয়াজিদ ইবনে আবি জিয়াদ এটি বর্ণনা করছেন এবং তাতে "অতঃপর তিনি আর ফিরতেন না" অংশটি বৃদ্ধি করেছেন। তাকে এটি শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি তা গ্রহণ (تلقين) করেছিলেন।

‌‌বিংশ পদ্ধতি: দুই হাদিসের একটি মারফু (رفع) হওয়ার বিষয়ে সকলে একমত হওয়া এবং অন্যটির মারফু (رفع) হওয়া ও সাহাবির ওপর স্থগিত বা মাওকুফ (وقف) হওয়ার বিষয়ে মতভেদ থাকা। এমতাবস্থায় যে বিষয়ে মতভেদ নেই সেটিকে মতভেদপূর্ণ বিষয়ের ওপর প্রাধান্য দেওয়া ওয়াজিব; কারণ মারফু (رفع) হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যপূর্ণ হাদিসটি সর্বদিক থেকে দলিল (حجة)। আর যার মারফু (رفع) হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ আছে, সেটিকে মাওকুফ (وقف) গণ্য করলে তা দলিল (حجة) হবে কি না সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়টিকে গ্রহণ করাই সতর্কতার নিকটতর।

‌‌একুশতম পদ্ধতি: দুই হাদিসের একটি নিরবচ্ছিন্ন বা মুত্তাসিল (اتصال) হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হওয়া এবং অন্যটিকে কেউ নিরবচ্ছিন্ন বা মুত্তাসিল (اتصال) হিসেবে বর্ণনা করা আর অন্যরা বিচ্ছিন্ন বা মুরসাল (إرسال) হিসেবে বর্ণনা করা। এক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন বা মুত্তাসিল (اتصال) হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যপূর্ণ মুসনাদ (مسند) হাদিসটি গ্রহণ করা, বিচ্ছিন্ন বা মুরসাল (إرسال) ও মুত্তাসিল (اتصال) হওয়ার বিষয়ে মতভেদপূর্ণ হাদিসটির চেয়ে অধিক উত্তম। কারণ অধিকাংশ আলেম মুরসাল (مرسل) হাদিসকে দলিল (احتجاج) হিসেবে গ্রহণ না করার পক্ষে, আর মুত্তাসিল (متصل) হাদিসটি সর্বসম্মত; তাই এটি তার সমকক্ষ হতে পারে না।

‌‌বাইশতম পদ্ধতি: দুই হাদিসের কোনো একটির বর্ণনাকারীরা এমন হওয়া যারা অর্থের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনা (نقل الحديث بالمعنى) করা জায়েজ মনে করেন না, আর অন্য হাদিসের বর্ণনাকারীরা তা জায়েজ মনে করেন। সেক্ষেত্রে যে ব্যক্তি মূল শব্দ সংরক্ষণে সচেষ্ট থাকেন তার বর্ণিত হাদিসটি অধিক উত্তম; কারণ মানুষ অর্থের মাধ্যমে হাদিস বর্ণনার বৈধতার বিষয়ে মতভেদ করেছেন, যদিও মূল শব্দে বর্ণনা করার উত্তম হওয়ার বিষয়ে তারা একমত। আর সতর্কতার দাবি হলো অন্যটির পরিবর্তে ঐকমত্যপূর্ণ বিষয়টিকেই গ্রহণ করা।

‌‌তেইশতম পদ্ধতি: দুই হাদিসের কোনো একটির বর্ণনাকারীরা মুখস্থশক্তি (حفظ) ও নিখুঁততায় (إتقان) সমান হওয়া সত্ত্বেও ফকিহ বা আইনজ্ঞ (فقهاء) হওয়া, যারা শব্দের নির্যাস থেকে বিধান আহরণে পারদর্শী। এমতাবস্থায় ফকিহদের বর্ণিত হাদিসের ওপর নির্ভর করা অধিক উত্তম।

আলী ইবনে খাশরাম বর্ণনা করেছেন যে, ওকি ইবনে জাররাহ আমাদের বললেন: তোমাদের নিকট কোন সনদটি (إسناد) অধিক প্রিয়; আমাশ, আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে; নাকি সুফিয়ান, মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে? আমরা বললাম: আমাশ, আবু ওয়ায়িল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে। তখন তিনি বললেন: সুবহানাল্লাহ! আমাশ একজন শায়খ (شيخ) এবং আবু ওয়ায়িল একজন শায়খ (شيخ); অথচ সুফিয়ান একজন ফকিহ (فقيه), মানসুর একজন ফকিহ (فقيه), ইব্রাহিম একজন ফকিহ (فقيه) এবং আলকামা একজন ফকিহ (فقيه)। ফকিহদের মাধ্যমে আবর্তিত হাদিস শায়খদের মাধ্যমে আবর্তিত হাদিসের চেয়ে উত্তম।

‌‌চব্বিশতম পদ্ধতি: দুই হাদিসের কোনো এক বর্ণনাকারী তার মুখস্থশক্তির (حفظ) সাথে সাথে...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১৬)
صَاحِبَ كِتَابٍ يَرْجِعُ إِلَيْهِ، وَالرَّاوِي الْآخَرُ حَافَظٌ غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَرْجِعُ إِلَى كِتَابٍ، فَحَدِيثُ الْأَوَّلِ أَوْلَى أَنْ يَكُونَ مَحْفُوظًا؛ لِأَنَّ الْخَاطِرَ قَدْ يَخُونُ أَحْيَانًا. وَقَالَ عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ: قَالَ لِي سَيِّدِي أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ - رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ -: " لَا تُحَدِّثَنَّ إِلَّا مِنْ كِتَابٍ ".

‌‌الْوَجْهُ الْخَامِسُ وَالْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مَنْسُوبًا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَصًّا وَقَوْلًا، وَالْآخَرُ يُنْسَبُ إِلَيْهِ اسْتِدْلَالًا وَاجْتِهَادًا، فَيَكُونُ الْأَوَّلُ مُرَجَّحًا نَحْوَ مَا رَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ رضي الله عنهما.

أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ بَيْعِ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ وَقَالَ: لَا يُبَعْنَ وَلَا يُوهَبْنَ وَيَسْتَمْتِعُ بِهَا سَيِّدُهَا مَا بَدَا لَهُ، فَإِذَا مَاتَ فَهِيَ حُرَّةٌ.

فَهَذَا أَوْلَى بِالْعَمَلِ مِنَ الْحَدِيثِ الَّذِي رَوَاهُ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ: كُنَّا نَبِيعُ أُمَّهَاتِ الْأَوْلَادِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم؛ لِأَنَّ حَدِيثَ ابْنِ عُمَرَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم وَلَا خِلَافَ فِي كَوْنِهِ حُجَّةً، وَحَدِيثَ أَبِي سَعِيدٍ لَيْسَ فِيهِ تَنْصِيصٌ مِنْهُ عليه السلام، فَيَحْتَمِلُ أَنَّ مَنْ كَانَ يَرَى هَذَا لَمْ يَسْمَعْ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خِلَافَهُ، فَكَانَ ذَلِكَ اجْتِهَادًا مِنْهُ، وَكَانَ تَقْدِيمُ مَا نُسِبَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَصًّا أَوْلَى. وَنَظِيرُهُ حَدِيثُ أَبِي رَافِعٍ فِي الْمُزَارَعَةِ: كُنَّا نُخَابِرُ، وَكُنَّا نَكْرِي الْأَرْضَ، وَلَمْ يَكُنْ فِعْلُهُمْ ذَلِكَ مُسْتَنِدًا إِلَى إِذْنِهِ، صلى الله عليه وسلم.

‌‌الْوَجْهُ السَّادِسُ وَالْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ فِي أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ. قَوْلُ

النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُقَارِبُ فِعْلَهُ، وَفِي الْآخَرِ مُجَرَّدُ قَوْلِهِ لَا غَيْرَ، فَيَكُونُ الْأَوَّلُ أَوْلَى بِالتَّرْجِيحِ، نَحْوَ مَا رَوَتْهُ حَبِيبَةُ بِنْتُ أَبِي تَجْرَاةَ قَالَتْ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي بَطْنِ الْمَسِيلِ وَهُوَ يَسْعَى وَيَقُولُ: اسْعَوْا؛ فَإِنَّ اللَّهَ كَتَبَ عَلَيْكُمُ السَّعْيَ حَتَّى أَنْ مِيزَرَهُ لَيَدُورُ بِهِ مِنْ شِدَّةِ السَّعْيِ فَهَذَا الْحَدِيثُ أَدَلُّ عَلَى الْمَقْصُودِ مِنْ قَوْلِهِ عليه السلام: الْحَجُّ عَرَفَةُ لِاشْتِمَالِهِ عَلَى أَنْوَاعٍ مِنَ التَّرْجِيحِ: الْأَوَّلُ قَوْلُهُ، وَالثَّانِي فِعْلُهُ، وَيَجِبُ فِيهِ الِاقْتِدَاءُ، وَالثَّالِثُ إِخْبَارُهُ عَنْ إِيجَابِ اللَّهِ تَعَالَى ذَلِكَ عَلَيْنَا، فَهُوَ أَوْلَى بِالتَّقْدِيمِ مِنْ مُجَرَّدِ الْقَوْلِ.

‌‌الْوَجْهُ السَّابِعُ وَالْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مُوَافِقًا
তিনি কিতাবের (পাণ্ডুলিপি) অধিকারী যার কাছে তিনি প্রত্যাবর্তন করেন, আর অন্য বর্ণনাকারী হলেন মুখস্থকারী (حافظ) তবে তিনি কিতাবের সহায়তা নেন না; এক্ষেত্রে প্রথমজনের হাদিসটি সংরক্ষিত (محفوظ) হওয়ার ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য; কারণ স্মৃতি মাঝে মাঝে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। আর আলী ইবনুল মাদিনী বলেন: আমার উস্তাদ আহমদ বিন হাম্বল (রহি.) আমাকে বলেছেন: "কিতাব ছাড়া হাদিস বর্ণনা করবে না।"

‌‌পঁচিশতম দিক: দুটি হাদিসের একটি যদি সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) ও মৌখিক বাণীর মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, আর অন্যটি যদি দলিল অনুসন্ধান ও ইজতিহাদের (اجتهاد) মাধ্যমে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তবে প্রথমটি অগ্রাধিকারযোগ্য (مرجح) হবে; যেমনটি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণনা করেছেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মুল ওয়ালাদদের (সন্তানের জননী দাসী) বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "তাদেরকে বিক্রয় করা যাবে না এবং দান করা যাবে না। তাদের মনিব যতদিন ইচ্ছা তাদের থেকে উপকার গ্রহণ করবেন, আর মনিব মারা গেলে তারা স্বাধীন হয়ে যাবে।"

আমল করার ক্ষেত্রে এই হাদিসটি আবু সাঈদ আল-খুদরি বর্ণিত হাদিসের চেয়ে অধিক উত্তম, যাতে বলা হয়েছে: "আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে উম্মুল ওয়ালাদদের বিক্রয় করতাম।" কারণ ইবনে ওমরের হাদিসটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজস্ব বাণী, যা দলিল (حجة) হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। আর আবু সাঈদের হাদিসটিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (تنصيص) নেই। তাই সম্ভাবনা রয়েছে যে, যারা এটি বৈধ মনে করতেন তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর বিপরীত কিছু শোনেননি, ফলে সেটি ছিল তাদের ব্যক্তিগত ইজতিহাদ (اجتهاد)। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে যা সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত, তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। এর সদৃশ উদাহরণ হলো বর্গা চাষ সংক্রান্ত আবু রাফে বর্ণিত হাদিস: "আমরা মুখাবারা করতাম এবং জমি ভাড়া দিতাম।" অথচ তাদের এই কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুমতির ওপর ভিত্তি করে ছিল না।

‌‌ছাব্বিশতম দিক: দুটি হাদিসের একটিতে যদি। বাণী

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর সাথে তাঁর কর্মের সাদৃশ্য থাকে, আর অন্যটিতে শুধুমাত্র তাঁর বাণী থাকে, তবে প্রথমটি অগ্রাধিকার (ترجيح) পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী হবে। যেমন হাবিবা বিনতে আবি তাজরা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাতনে মাসিলে দ্রুত দৌড়াতে (সাঈ করতে) দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: তোমরা সাঈ করো; কেননা আল্লাহ তোমাদের ওপর সাঈ করা লিখে দিয়েছেন (ফরজ করেছেন)। এমনকি দ্রুত দৌড়ানোর তীব্রতায় তাঁর লুঙ্গি তাঁর শরীরের চারদিকে ঘুরছিল।" এই হাদিসটি তাঁর এই বাণী—"হজ হলো আরাফা"—এর তুলনায় উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর অধিকতর নির্দেশক। কারণ এতে কয়েক ধরনের অগ্রাধিকার (ترجيح) বিদ্যমান: প্রথমত তাঁর বাণী, দ্বিতীয়ত তাঁর কর্ম—যার অনুসরণ করা আবশ্যক—এবং তৃতীয়ত এটি আমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে তা ফরজ করার সংবাদ। সুতরাং শুধুমাত্র বাণীর তুলনায় একে অগ্রাধিকার দেওয়া অধিক শ্রেয়।

‌‌সাতাশতম দিক: দুটি হাদিসের একটি যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭)
لِظَاهِرِ الْقُرْآنِ دُونَ الْآخَرِ، فَيَكُونُ الْأَوَّلُ أَوْلَى بِالِاعْتِبَارِ، نَحْوُ قَوْلِهِ عليه السلام: مَنْ نَامَ عَنْ صَلَاةٍ أَوْ نَسِيَهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا؛ فَإِنَّ ذَلِكَ وَقْتُهَا فَهَذَا حَدِيثٌ يُعَارِضُهُ نَهْيُهُ صلى الله عليه وسلم عَنِ الصَّلَاةِ فِي الْأَوْقَاتِ الَّتِي نَهَى عَنِ الصَّلَاةِ فِيهَا، غَيْرَ أَنَّ الْحَدِيثَ الْأَوَّلَ يُعَاضِدُهُ ظَوَاهِرُ مِنَ الْكِتَابِ، نَحْوُ قَوْلِهِ:

تَعَالَى: حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَقَوْلِهِ: سَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ، إِلَى غَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الْآيَاتِ.

‌‌الْوَجْهُ الثَّامِنُ وَالْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مُوَافِقًا لِسُنَّةٍ أُخْرَى دُونَ الْآخَرِ، نَحْوُ قَوْلِهِ عليه السلام: لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ يُقَدَّمُ عَلَى الْحَدِيثِ الْآخَرِ لَيْسَ لِلْوَلِيِّ مَعَ الثَّيِّبِ أَمْرٌ؛ لِأَنَّ الْأَوَّلَ رَوَاهُ أَبُو مُوسَى

عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَيُشِيدُهُ حَدِيثُ عَائِشَةَ رضي الله عنها عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ نَفْسَهَا بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ الْحَدِيثَ.

‌‌الْوَجْهُ التَّاسِعُ وَالْعِشْرُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مُوَافِقًا لِلْقِيَاسِ دُونَ الْآخَرِ، فَيَكُونُ الْعُدُولُ عَنِ الثَّانِي إِلَى الْأَوَّلِ مُتَعَيِّنًا، وَلِهَذَا قُدِّمَ حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: لَيْسَ عَلَى الْمُسْلِمِ فِي عَبْدِهِ وَلَا فِي فَرَسِهِ صَدَقَةٌ؛

لِأَنَّ مَا لَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ فِي ذُكُورِهِ لَا تَجِبُ فِي إِنَاثِهِ، كَسَائِرِ الْحَيَوَانَاتِ الَّتِي لَا يَجِبُ فِيهَا الزَّكَاةُ.

‌‌الْوَجْهُ الثَّلَاثُونَ: أَنْ يَكُونَ مَعَ أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ حَدِيثٌ آخَرُ مُرْسَلٌ أَوْ مُنْقَطِعٌ، وَلَا يَكُونُ ذَلِكَ مَعَ الْآخَرِ.

‌‌الْوَجْهُ الْحَادِي وَالثَّلَاثُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ قَدْ عَمِلَ بِهِ الْخُلَفَاءُ الرَّاشِدُونَ دُونَ الثَّانِي، فَيَكُونُ آكَدَ؛ وَلِذَلِكَ قَدَّمْنَا رِوَايَةَ مَنْ رَوَى فِي تَكْبِيرَاتِ الْعِيدَيْنِ سَبْعًا وَخَمْسًا، عَلَى رِوَايَةِ مَنْ رَوَى أَرْبَعًا كَأَرْبَعِ الْجَنَائِزِ؛ لِأَنَّ الْأَوَّلَ قَدْ عَمِلَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رضي الله عنهما فَيَكُونُ إِلَى الصِّحَّةِ أَقْرَبَ، وَالْأَخْذُ بِهِ أَصْوَبَ.
কুরআনের বাহ্যিক অর্থের অনুকূল হওয়া এবং অন্যটি তা না হওয়া; এমতাবস্থায় প্রথমটি বিবেচনার ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য হবে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি সালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে থাকে, সে যেন তা স্মরণ হওয়া মাত্রই আদায় করে নেয়; কারণ সেটিই তার সালাতের সময়।" এটি এমন একটি হাদিস যার সাথে তাঁর (সা.) সেই নিষেধাজ্ঞার বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয় যাতে তিনি নির্দিষ্ট কিছু সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। তবে প্রথম হাদিসটি কুরআনের বাহ্যিক আয়াতসমূহ দ্বারা সমর্থিত, যেমন আল্লাহর বাণী:

আল্লাহ তাআলা বলেন: "তোমরা সালাতসমূহের প্রতি যত্নবান হও" এবং তাঁর বাণী: "তোমরা তোমাদের রবের পক্ষ থেকে ক্ষমার দিকে দ্রুত ধাবিত হও" ইত্যাদি আয়াতসমূহ।

‌‌অষ্টবিংশ পদ্ধতি: দুটি হাদিসের মধ্যে একটি অন্য কোনো সুন্নাহর সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া এবং অন্যটি না হওয়া। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "অভিভাবক ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই" এই হাদিসটিকে অপর একটি হাদিসের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে যেখানে বলা হয়েছে: "বিধবা নারীর ওপর তার অভিভাবকের কোনো নির্দেশ খাটবে না"; কারণ প্রথম হাদিসটি আবু মুসা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন

এবং আয়েশা (রা.) কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসটি একে শক্তিশালী করে যে: "যে নারী তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করবে তার বিবাহ বাতিল" হাদিসটির শেষ পর্যন্ত।

‌‌ঊনত্রিশতম পদ্ধতি: দুটি হাদিসের মধ্যে একটি কিয়াসের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া এবং অন্যটি না হওয়া। সেক্ষেত্রে দ্বিতীয়টি বর্জন করে প্রথমটির দিকে প্রত্যাবর্তন করা সুনির্ধারিত হয়ে পড়ে। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: "মুসলমানের ওপর তার দাসের জন্য কিংবা তার ঘোড়ার জন্য কোনো সাদাকাহ (যাকাত) নেই";

কেননা যে প্রাণীর পুরুষের ওপর যাকাত ওয়াজিব নয়, তার নারীর ওপরও যাকাত ওয়াজিব হবে না; অন্যান্য সকল পশুর ন্যায় যাতে যাকাত ওয়াজিব হয় না।

‌‌ত্রিশতম পদ্ধতি: দুটি হাদিসের কোনো একটির সাথে অন্য একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) অথবা সূত্রবিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস বিদ্যমান থাকা, যা অপর হাদিসটির ক্ষেত্রে নেই।

‌‌একত্রিশতম পদ্ধতি: দুটি হাদিসের মধ্যে একটির ওপর খোলাফায়ে রাশেদীন আমল করেছেন এবং অন্যটির ওপর করেননি। ফলে সেটি অধিক সুদৃঢ় হবে। এ কারণেই দুই ঈদের তাকবীরের ক্ষেত্রে যারা সাত ও পাঁচ তাকবীরের বর্ণনা দিয়েছেন, আমরা তাদের বর্ণনাকে সেই বর্ণনার ওপর প্রাধান্য দিয়েছি যাতে জানাজার ন্যায় চার তাকবীরের কথা এসেছে; কারণ প্রথমটির ওপর আবু বকর ও উমর (রা.) আমল করেছেন, ফলে এটি বিশুদ্ধতার (الصحة) অধিক নিকটবর্তী এবং এটি গ্রহণ করাই অধিক সঠিক।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الْوَجْهُ الثَّانِي وَالثَّلَاثُونَ: فِي تَرْجِيحِ الْأَخْبَارِ: أَنْ يَكُونَ مَعَ أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ عَمَلُ الْأُمَّةِ دُونَ الْآخَرِ؛ لِأَنَّهُ يَجُوزُ أَنْ تَكُونَ عَمِلَتْ بِمُوجَبِهِ لِصِحَّتِهِ، وَلَمْ تَعْمَلْ بِمُوجَبِ الْآخَرِ لِضَعْفِهِ، فَيَجِبُ تَقْدِيمُ الْأَوَّلِ لِهَذَا التَّجْوِيزِ.

‌‌الْوَجْهُ الثَّالِثُ وَالثَّلَاثُونَ: أَنْ يَكُونَ الْحُكْمُ الَّذِي تَضَمَّنَهُ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مَنْطُوقًا بِهِ، وَمَا يَتَضَمَّنُهُ الْحَدِيثُ الْآخَرُ يَكُونُ مُحْتَمَلًا، وَلِذَلِكَ يَجِبُ تَقْدِيمُ قَوْلِهِ عليه السلام: فِي أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ فِي إِيجَابِ ذَلِكَ فِي مَالِ الصَّبِيِّ، عَلَى قَوْلِهِ عليه السلام: رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى

يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ الْحَدِيثَ؛ لِأَنَّ قَوْلَهُ عليه السلام فِي أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ نَصٌّ عَلَى وُجُوبِ الزَّكَاةِ فِي مِلْكِ مَنْ كَانَتْ، وَقَوْلُهُ عليه السلام: رُفِعَ الْقَلَمُ عَنِ الصَّبِيِّ لَا يُنْبِئُ عَنْ سُقُوطِ الزَّكَاةِ فِي مَالِ الصَّبِيِّ، بِأَنْ يَكُونَ الْخِطَابُ فِيهِ لِغَيْرِهِ وَهُوَ الْوَلِيُّ، فَرَفْعُ الْقَلَمِ عَنْهُ يُفِيدُ نَفْيَ خِطَابِهِ وَالتَّكْلِيفَ لَهُ، وَلَا يُعَارَضُ ذَلِكَ النَّصُّ بِوَجْهٍ.

‌‌الْوَجْهُ الرَّابِعُ وَالثَّلَاثُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مُسْتَقِلًا بِنَفْسِهِ لَا يَحْتَاجُ فِيهِ إِلَى إِضْمَارٍ، وَالْآخَرُ لَا يُفِيدُ إِلَّا بَعْدَ تَقْدِيرٍ وَإِضْمَارٍ، فَيُرَجَّحُ الْأَوَّلُ؛ لِأَنَّ الْمُسْتَقِلَّ بِنَفْسِهِ مَعْلُومٌ الْمُرَادُ مِنْهُ، وَالْمَحْذُوفُ مِنْهُ رُبَّمَا الْتَبَسَ مَا هُوَ الْمُضْمَرُ فِيهِ.

‌‌الْوَجْهُ الْخَامِسُ وَالثَّلَاثُونَ: أَنْ يَكُونَ الْحُكْمُ فِي أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ مَقْرُونًا بِصِفَةٍ، وَفِي الْآخَرِ مَقْرُونًا بِالِاسْمِ نَحْوُ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ، قُدِّمَ هَذَا عَلَى نَهْيِهِ عليه السلام عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ؛

لِأَنَّ تَبْدِيلَ الدِّينِ صِفَةٌ مَوْجُودَةٌ فِي الرَّجُلِ وَالْمَرْأَةِ، فَصَارَتْ كَالْعِلَّةِ وَهِيَ الْمُؤَثِّرَةُ فِي الْأَحْكَامِ دُونَ الْأَسَامِي.

‌‌الْوَجْهُ السَّادِسُ وَالثَّلَاثُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ يُقَارِنُهُ تَفْسِيرُ الرَّاوِي دُونَ الْآخَرِ، نَحْوَ مَا رَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: الْمُتَبَايِعَانِ بِالْخِيَارِ فِي بَيْعِهِمَا مَا لَمْ يَفْتَرِقَا فَإِنَّ التَّفَرُّقَ هَهُنَا مَحْمُولٌ عَلَى التَّفَرُّقِ بِالْبَدَنِ، وَذَلِكَ لِمَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّهُ كَانَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يُوجِبَ الْبَيْعَ مَشَى قَلِيلًا ثُمَّ رَجَعَ؛ وَلِأَنَّ الرَّاوِيَ إِذَا شَاهَدَ الْحَالَ أَعْلَمُ بِمَعْنَى الْخَبَرِ مِنْ غَيْرِهِ،
বত্রিশতম দিক: হাদিসসমূহকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে: একটি হাদিসের সাথে উম্মাহর আমল থাকা এবং অন্যটির সাথে না থাকা; কারণ এটি হওয়া সম্ভব যে, একটির বিশুদ্ধতা (صحيح) হওয়ার কারণে তারা সে অনুযায়ী আমল করেছে এবং অন্যটির দুর্বলতা (ضعيف) হওয়ার কারণে তারা সে অনুযায়ী আমল করেনি। সুতরাং এই সম্ভাবনার কারণে প্রথমটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক।

তেত্রিশতম দিক: একটি হাদিসে অন্তর্ভুক্ত বিধানটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত (منطوق) হওয়া এবং অন্য হাদিসে অন্তর্ভুক্ত বিষয়টি সম্ভাব্য (محتمل) হওয়া। আর এ কারণেই নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল (জাকাত)"-কে শিশুর সম্পদের ক্ষেত্রে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে তাঁর এই বাণীর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক: "তিন ব্যক্তি থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয় এবং শিশু যতক্ষণ না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়..." হাদিসটি শেষ পর্যন্ত; কারণ নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "প্রতি চল্লিশটি ছাগলে একটি ছাগল" হলো যার মালিকানাধীনই হোক না কেন তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص)। আর তাঁর বাণী "শিশুর ওপর থেকে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে" এটি শিশুর সম্পদ থেকে জাকাত রহিত হওয়ার সংবাদ দেয় না, কারণ এর সম্বোধনটি শিশুর পরিবর্তে তার অভিভাবকের প্রতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং তার থেকে কলম তুলে নেওয়ার অর্থ হলো তাকে সরাসরি সম্বোধন না করা এবং তার ওপর শরয়ি দায়িত্ব না থাকা; আর এটি কোনোভাবেই সেই সুস্পষ্ট ভাষ্যের (نص) পরিপন্থী হতে পারে না।

চৌত্রিশতম দিক: দুটি হাদিসের মধ্যে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যা বোঝার জন্য কোনো ঊহ্য শব্দ (إضمار) ধার্য করার প্রয়োজন হয় না এবং অন্যটি কোনো অনুমান বা ঊহ্য শব্দ (إضمار) নির্ধারণ করা ছাড়া অর্থবোধক হয় না। এক্ষেত্রে প্রথমটিকে প্রাধান্য দেওয়া হবে; কারণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হাদিসটির উদ্দেশ্য সুনিশ্চিতভাবে জানা যায়, আর যেটিতে ঊহ্য শব্দ থাকে সেখানে ক্ষেত্রবিশেষে সেই ঊহ্য বিষয়টি নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে।

পঁয়ত্রিশতম দিক: একটি হাদিসের বিধান কোনো বিশেষণের (صفة) সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া এবং অন্যটিতে কেবল নামের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া। যেমন নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে তার ধর্ম পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো।" এই হাদিসটিকে নারী ও শিশুদের হত্যা করার ব্যাপারে তাঁর নিষেধাজ্ঞার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে; কারণ ধর্ম পরিবর্তন করা এমন একটি বিশেষণ (صفة) যা পুরুষ ও নারী উভয়ের মাঝেই পাওয়া যেতে পারে। ফলে এটি একটি কার্যকর কারণ (علة) হিসেবে গণ্য হয়েছে, আর কেবল নামের পরিবর্তে এই কারণটিই বিধানের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী হয়।

ছত্রিশতম দিক: একটি হাদিসের সাথে বর্ণনাকারীর (راوي) ব্যাখ্যা থাকা এবং অন্যটির সাথে না থাকা। যেমন আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হয় ততক্ষণ তাদের ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার এখতিয়ার থাকে।" এখানে বিচ্ছিন্ন হওয়া বলতে শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়াকে বোঝানো হয়েছে। আর এটি এজন্য যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন বিক্রয় নিশ্চিত করতে চাইতেন তখন কিছুটা পথ হাঁটতেন এবং পুনরায় ফিরে আসতেন। কারণ বর্ণনাকারী (راوي) যখন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হন, তখন তিনি অন্যদের তুলনায় সেই সংবাদ বা হাদিসের (خبر) মর্মার্থ সম্পর্কে অধিক অবগত থাকেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ১৯)
إِذَا كَانَ مَعْنَاهُ لَائِقًا بِاللَّفْظِ.

‌‌الْوَجْهُ السَّابِعُ وَالثَّلَاثُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ قَوْلًا وَالْآخَرُ فِعْلًا، فَالْقَوْلُ أَبْلَغُ فِي الْبَيَانِ؛ وَلِأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَخْتَلِفُوا فِي كَوْنِ قَوْلِهِ عَلَيْهِ حُجَّةً، وَاخْتَلَفُوا فِي اتِّبَاعِ فِعْلِهِ؛ وَلِأَنَّ الْفِعْلَ مَا يَدُلُّ لِنَفْسِهِ عَلَى شَيْءٍ بِخِلَافِ الْقَوْلِ فَيَكُونُ أَقْوَى.

‌‌الْوَجْهُ الثَّامِنُ وَالثَّلَاثُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مُخَصِّصًا، وَالثَّانِي لَمْ يَدْخُلْهُ التَّخْصِيصُ، فَمَا لَمْ يَدْخُلْهُ التَّخْصِيصُ أَوْلَى؛ لِأَنَّ التَّخْصِيصَ يُضْعِفُ اللَّفْظَ وَيَمْنَعُهُ مِنْ جَرَيَانِهِ عَلَى مُقْتَضَاهُ، وَيَصِيرُ مَجَازًا عِنْدَ جَمَاعَةٍ مِنَ الْأَئِمَّةِ، بِخِلَافِ مَا لَمْ يَدْخُلْهُ التَّخْصِيصُ فَيَكُونُ أَقْوَى.

‌‌الْوَجْهُ التَّاسِعُ وَالثَّلَاثُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مُشْعِرًا بِنَوْعِ قَدْحٍ فِي أَحْوَالِ الصَّحَابَةِ، وَالثَّانِي لَا يُوهِمُ ذَلِكَ، نَحْوَ مَا رَوَاهُ أَهْلُ الْكُوفَةِ مِنْ أَمْرِ

رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصَّحَابَةَ بِإِعَادَةِ الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ مِنَ الْقَهْقَهَةِ فِيهَا، وَرَوَوْا أَيْضًا بِإِزَائِهِ حَدِيثَ صَفْوَانَ بْنِ عَسَّالٍ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُنَا إِذَا كُنَّا مُسَافِرِينَ أَنْ لَا نَنْزِعَ خِفَافَنَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ إِلَّا مِنْ جَنَابَةٍ، لَكِنْ مِنْ غَائِطٍ وَبَوْلٍ وَنَوْمٍ وَمَا مِنْ حَدِيثِ أَبِي الْعَالِيَةِ فِي الضَّحِكِ فِي الصَّلَاةِ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقْتَضِي الْقَدْحَ فِي حَالِ الصَّحَابَةِ، وَهُمْ أَجَلُّ مَنْصِبًا مِنْ ذَلِكَ دُونَ الْحَدِيثِ الثَّانِي، فَيَجِبُ تَقْدِيمُ مَا لَا يُوجِبُ ذَلِكَ.

‌‌الْوَجْهُ الْأَرْبَعُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ مُطْلَقًا، وَالْآخَرُ وَارِدًا عَلَى سَبَبٍ، فَيَتَقَدَّمُ الْمُطْلَقُ لِظُهُورِ أَمَارَاتِ التَّخْصِيصِ فِي الْوَارِدِ عَلَى سَبَبٍ، فَيَكُونُ أَوْلَى بِإِلْحَاقِ التَّخْصِيصِ بِهِ، وَعَلَى هَذَا يُقَدَّمُ قَوْلُهُ عليه السلام: مَنْ بَدَّلَ دِينَهُ فَاقْتُلُوهُ عَلَى نَهْيِهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ؛ لِأَنَّ النَّهْيَ وَارِدٌ عَلَى سَبَبٍ فِي الْحَرْبِيَّةِ.

‌‌الْوَجْهُ الْحَادِي وَالْأَرْبَعُونَ: فِي تَرْجِيحِ دِلَالَةِ الِاشْتِقَاقِ عَلَى أَحَدِ الْحُكْمَيْنِ؛ لِأَنَّ قَوْلَهُ عليه السلام: مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَلْيَتَوَضَّأْ ظَاهِرُ اللَّفْظِ يَتَنَاوَلُ مُجَرَّدَ اللَّمْسِ مِنْ غَيْرِ ضَمِيمَةِ الشَّهْوَةِ إِلَيْهِ؛ نَظَرًا إِلَى جِهَةِ الِاشْتِقَاقِ، وَالْأَصْلُ بَقَاءُ
যদি এর অর্থ শব্দের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

‌‌সাঁয়ত্রিশতম দিক: দুটি হাদিসের একটি যদি মৌখিক উক্তি এবং অন্যটি কর্মগত হয়, তবে মৌখিক উক্তিটি বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর প্রাঞ্জল। এর কারণ হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মৌখিক উক্তি দলিল (حُجَّة) হওয়ার ব্যাপারে কেউ দ্বিমত পোষণ করেননি, কিন্তু তাঁর কর্মের অনুসরণের ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছেন। এছাড়া কর্ম শব্দগত নির্দেশের ন্যায় নিজে থেকে কোনো বিষয়ের ওপর সরাসরি দালালত করে না, যা মৌখিক উক্তির বিপরীত; ফলে মৌখিক উক্তিটিই অধিক শক্তিশালী হয়।

‌‌আটত্রিশতম দিক: দুটি হাদিসের মধ্যে একটি যদি নির্দিষ্টকারী (مُخَصِّص) হয় এবং দ্বিতীয়টিতে কোনো নির্দিষ্টকরণ (تَّخْصِيص) প্রবেশ না করে, তবে যেটিতে নির্দিষ্টকরণ (تَّخْصِيص) প্রবেশ করেনি সেটিই অধিক উত্তম। কারণ, নির্দিষ্টকরণ (تَّخْصِيص) শব্দকে দুর্বল করে দেয় এবং একে এর স্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োগ হতে বাধা দেয়। একদল ইমামের মতে, এটি তখন রূপক (مَجَاز) অর্থে পরিণত হয়, যা নির্দিষ্টকরণ (تَّخْصِيص) মুক্ত শব্দের বিপরীত; ফলে এটিই অধিক শক্তিশালী হয়।

‌‌ঊনচল্লিশতম দিক: দুটি হাদিসের মধ্যে একটি যদি সাহাবীগণের অবস্থার ব্যাপারে কোনো ধরণের ত্রুটি বা সমালোচনা (قَدْح) নির্দেশ করে এবং অন্যটি সেরূপ কোনো সংশয় সৃষ্টি না করে। যেমন কুফাবাসীরা বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবীগণকে নামাজে উচ্চস্বরে হাসার কারণে অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আবার এর বিপরীতে তারা সাফওয়ান বিন আসসাল-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন: নবী (সা.) আমাদের নির্দেশ দিতেন যেন আমরা যখন সফরে থাকি, তখন তিন দিন পর্যন্ত আমাদের মোজা না খুলি, তবে অপবিত্রতা বা জানাবাত ব্যতীত; কিন্তু মল-মূত্র ত্যাগ ও নিদ্রার কারণে মোজা খোলার প্রয়োজন নেই। আবু আলিয়া থেকে বর্ণিত নামাজে হাসির হাদিসটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পেছনে সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে সাহাবীগণের মর্যাদার পরিপন্থী সমালোচনা (قَدْح) দাবি করে, অথচ তাঁদের মর্যাদা এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। এটি দ্বিতীয় হাদিসটির বিপরীত, তাই যাতে সাহাবীগণের প্রতি এরূপ সমালোচনা (قَدْح) আবশ্যক হয় না, সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া ওয়াজিব।

‌‌চল্লিশতম দিক: দুটি হাদিসের একটি যদি সাধারণ বা শর্তহীন (مُطْلَق) হয় এবং অন্যটি কোনো প্রেক্ষাপট (سَبَب) সাপেক্ষে বর্ণিত হয়। এমতাবস্থায় শর্তহীন (مُطْلَق) হাদিসটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ প্রেক্ষাপট (سَبَب) সাপেক্ষে বর্ণিত হাদিসে নির্দিষ্টকরণ (تَّخْصِيص)-এর আলামতসমূহ প্রকাশ পায়, ফলে সেটি নির্দিষ্টকরণ (تَّخْصِيص)-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য অধিক উপযুক্ত। এই ভিত্তিতে নবী (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে তাকে হত্যা করো" এই হাদিসটিকে নারী ও শিশুদের হত্যা করার ব্যাপারে তাঁর নিষেধাজ্ঞার ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে; কারণ সেই নিষেধাজ্ঞাটি যুদ্ধাবস্থার একটি বিশেষ প্রেক্ষাপট (سَبَب)-এর ওপর ভিত্তি করে এসেছে।

‌‌একচল্লিশতম দিক: দুটি বিধানের একটির ক্ষেত্রে শব্দমূল বা ব্যুৎপত্তিগত (الِاشْتِقَاق) প্রমাণের অগ্রাধিকার প্রদান; কারণ নবী (সা.)-এর বাণী: "যে ব্যক্তি তার পুরুষাঙ্গ স্পর্শ করে সে যেন অজু করে," এখানে শব্দের বাহ্যিক অর্থ ব্যুৎপত্তিগত (الِاشْتِقَاق) দিকের বিবেচনায় কেবল স্পর্শ করাকেই অন্তর্ভুক্ত করে, যার সাথে কামভাবের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর মূল নীতি হলো কোনো কিছুর ওপর বহাল থাকা...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২০)
اللَّفْظِ عَلَى مَدْلُولِهِ اللُّغَوِيِّ إِلَى أَنْ يَدُلَّ دَلِيلُ التَّغْيِيرِ.

‌‌الْوَجْهُ الثَّانِي وَالْأَرْبَعُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْخَصْمَيْنِ قَائِلًا بِالْخَبَرَيْنِ، يُرَجَّحُ قَوْلُهُ عَلَى الْآخَرِ إِذَا كَانَ يُسْقِطُ أَحَدَهُمَا وَيَقُولُ بِالْآخَرِ؛ لِأَنَّهُ جَامِعٌ بَيْنَ الدَّلِيلَيْنِ فَيَكُونُ أَوْلَى.

‌‌الْوَجْهُ الثَّالِثُ وَالْأَرْبَعُونَ: أَنْ يَكُونَ فِي أَحَدِ الْخَبَرَيْنِ زِيَادَةٌ لَا تَكُونُ فِي الثَّانِي، فَيُرَجَّحُ الْأَوَّلُ لِأَنَّ الزِّيَادَةَ عَنِ الثِّقَةِ مَقْبُولَةٌ؛ لِذَلِكَ قُدِّمَ التَّرْجِيعُ فِي الْأَذَانِ عَلَى خَبَرٍ رَوَاهُ مِنْ غَيْرِ تَرْجِيعٍ.

‌‌الْوَجْهُ الرَّابِعُ وَالْأَرْبَعُونَ: فِي تَرْجِيحِ أَحَدِ الْحَدِيثَيْنِ عَلَى الْآخَرِ، أَنْ يَكُونَ فِي أَحَدِهِمَا احْتِيَاطٌ لِلْفَرْضِ وَبَرَاءَةُ الذِّمَّةِ بِيَقِينٍ، وَلَا يَكُونُ فِي الْآخَرِ ذَلِكَ، فَتَقْدِيمُ مَا فِيهِ الِاحْتِيَاطُ أَوْلَى، فَإِنْ قِيلَ: لِمَ لَمْ يَسْتَعْمِلُوا

الِاحْتِيَاطَ فِي إِيجَابِ الْوُضُوءِ مِنَ الْقَهْقَهَةِ وَالرُّعَافِ، وَإِيجَابِ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ فِي الْغُسْلِ؟ أَجَابَ مَنْ خَالَفَهُمْ فِي هَذِهِ الْأَحْكَامِ، وَقَالَ: إِنَّا لَمْ نَقُلْ بِالِاحْتِيَاطِ فِي الْمَوَاضِعِ الَّتِي ذَكَرْتُمُوهَا؛ لِأَنَّ الْأُمَّةَ قَدْ أَجْمَعَتْ عَلَى تَرْكِهَا أَوْ تَرْكِ بَعْضِهَا، وَذَلِكَ أَنَّ الْعِرَاقِيَّ تَرَكَ إِيجَابَ الِاحْتِيَاطِ فِي الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ فِي الْوُضُوءِ، وَتَرَكَ الِاحْتِيَاطَ فِي يَسِيرِ الدَّمِ وَالْقَيْءِ، وَإِيجَابَ الْوُضُوءِ مِنَ الْقَهْقَهَةِ فِي صَلَاةِ الْجِنَازَةِ، فَإِذَا تَرَكَ الِاحْتِيَاطَ مَنْ قَالَ بِهِ فِي مُقْتَضَاهُ لِقِيَامِ الدَّلِيلِ عِنْدَهُ، كَذَا مَنْ لَا يَقُولُ بِهِ، بِخِلَافِ مَا يَقُولُ بِالِاحْتِيَاطِ فِي سَائِرِ الْمَوَاضِعِ.

‌‌الْوَجْهُ الْخَامِسُ وَالْأَرْبَعُونَ: فِيمَا يُرَجَّحُ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ عَلَى الْآخَرِ إِذَا كَانَ لِأَحَدِهِمَا نَظِيرٌ مُتَّفَقٌ عَلَى حُكْمِهِ، وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ لِلْآخَرِ، مِثَالُ: أَنْ يَقْضِيَ بِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ مِنَ التَّمْرِ صَدَقَةٌ عَلَى قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: فِيمَا سَقَتِ السَّمَاءُ الْعُشْرُ؛ لِأَنَّ لَهُ نَظِيرًا، وَهُوَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوَاقٍ مِنَ الْوَرِقِ صَدَقَةٌ قُضِيَ بِهِ

عَلَى قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: فِي الرَّقَّةِ رُبُعُ الْعُشْرِ لِأَنَّ ذَلِكَ نَظِيرُ مَا قَالَهُ فِي الْعُشْرِ.

‌‌الْوَجْهُ السَّادِسُ وَالْأَرْبَعُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ يَدُلُّ عَلَى الْحَظْرِ،
শব্দ তার ভাষাগত অর্থের ওপর বহাল থাকবে যতক্ষণ না অর্থ পরিবর্তনের কোনো দলিল পাওয়া যায়।

‌‌৪২তম দিক: যদি বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের কোনো এক পক্ষ উভয় সংবাদ (الخبرين) অনুযায়ী আমল করার কথা বলে, তবে তার বক্তব্য অপরজনের ওপর অগ্রাধিকার পাবে যে একটিকে বাতিল করে অন্যটি গ্রহণ করে; কারণ সে উভয় দলিলের মধ্যে সমন্বয় সাধনকারী, তাই এটিই অধিক উত্তম।

‌‌৪৩তম দিক: যদি দুটি সংবাদ (الخبرين)-এর মধ্যে একটিতে এমন বর্ধিতাংশ (زيادة) থাকে যা দ্বিতীয়টিতে নেই, তবে প্রথমটি অগ্রাধিকার পাবে। কারণ নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবির বর্ধিতাংশ (زيادة) গ্রহণযোগ্য (مقبولة); এই কারণে আজানে তারজি'র (পুনরাবৃত্তি) হাদিসকে এমন সংবাদের (خبر) ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যা তারজি' ছাড়া বর্ণিত হয়েছে।

‌‌৪৪তম দিক: এক হাদিসকে অন্য হাদিসের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি দিক হলো, যদি একটিতে ফরজের ক্ষেত্রে সতর্কতা (احتياط) এবং নিশ্চিতভাবে দায়মুক্তির (براءة الذمة) বিষয়টি থাকে এবং অন্যটিতে তা না থাকে, তবে যাতে সতর্কতা (احتياط) রয়েছে তাকে প্রধান্য দেওয়া অধিক উত্তম। যদি বলা হয়: কেন তাঁরা উচ্চস্বরে হাসলে ও নাক দিয়ে রক্ত পড়লে অজু ওয়াজিব হওয়া এবং গোসলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা (احتياط) নীতি অবলম্বন করেননি? যারা এই বিধানগুলোতে তাঁদের বিরোধিতা করেছেন তারা উত্তর দিয়েছেন যে: আমরা আপনাদের উল্লিখিত স্থানগুলোতে সতর্কতা (احتياط) অবলম্বন করিনি; কারণ উম্মাহ এগুলোর পরিত্যাগ বা এগুলোর কোনো কোনোটি ত্যাগের ওপর ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছে। আর তা এভাবে যে, ইরাকি ফকিহগণ অজুতে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হওয়ার নীতি ত্যাগ করেছেন এবং সামান্য রক্ত ও বমির ক্ষেত্রে সতর্কতা (احتياط) ত্যাগ করেছেন, আর জানাজার নামাজে উচ্চস্বরে হাসলে অজু ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্কতা (احتياط) ত্যাগ করেছেন। সুতরাং যিনি সতর্কতা (احتياط) নীতির প্রবক্তা তিনি যদি তাঁর নিকট দলিল বিদ্যমান থাকার কারণে কোনো ক্ষেত্রে তার দাবি ত্যাগ করেন, তবে যিনি এর প্রবক্তা নন তাঁর বিষয়টিও তেমনই হবে; যা অন্যান্য স্থানে সতর্কতা (احتياط) অবলম্বনের প্রবক্তাদের মতের পরিপন্থী।

‌‌৪৫তম দিক: দুটি হাদিসের মধ্যে একটিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আরেকটি ক্ষেত্র হলো, যখন একটি হাদিসের এমন কোনো অনুরূপ উদাহরণ বিদ্যমান থাকে যার বিধানের ওপর ঐকমত্য রয়েছে, কিন্তু অন্যটির ক্ষেত্রে তেমনটি নেই। উদাহরণস্বরূপ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণী: "পাঁচ ওসাকের কম খেজুরের ক্ষেত্রে সদকা নেই" দ্বারা তাঁর অপর বাণী "আকাশের পানিতে যা সিক্ত হয় তাতে উশর (দশমাংশ) প্রযোজ্য"-এর ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়া; কারণ প্রথমটির অনুরূপ উদাহরণ বিদ্যমান। আর তা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "পাঁচ উকিয়ার কম রূপার ক্ষেত্রে সদকা নেই", যার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাঁর অপর বাণী "রূপার ক্ষেত্রে ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত"-এর ওপর; কারণ এটি উশর সংক্রান্ত বাণীর অনুরূপ।

‌‌৪৬তম দিক: যদি হাদিস দুটির মধ্যে একটি নিষেধাজ্ঞার (حظر) প্রমাণ বহন করে,
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২১)
وَالْآخَرُ عَلَى الْإِبَاحَةِ، فَهَلْ يُقَدَّمُ الْحَظْرُ عَلَى الْإِبَاحَةِ أَمْ لَا؟ اخْتَلَفُوا فِيهِ؛ فَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: لَا يُرَجَّحُ بِهَذَا؛ لِأَنَّ تَحْرِيمَ الْمُبَاحِ كَإِبَاحَةِ الْمَحْظُورِ، فَلَا يَكُونُ لِأَحَدِهِمَا عَلَى الْآخَرِ رُجْحَانٌ، وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: يُرَجَّحُ بِذَلِكَ؛ لِأَنَّهُ إِذَا اجْتَمَعَ مَا يُبِيحُ وَمَا يَحْظُرُ غَلَبَ جَانِبُ الْحَظْرِ، كَمَا فِي الْمُتَوَلِّدِ بَيْنَ مَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ وَبَيْنَ مَا لَا يُؤْكَلُ لَحْمُهُ، وَكَاجْتِمَاعِ زَكَاةِ الْمُسْلِمِ وَالْوَثَنِيِّ فِي الشَّاةِ، وَلِأَنَّ الْإِثْمَ حَاصِلٌ فِي فِعْلِ الْمَحْظُورِ، وَلَا إِثْمَ فِي تَرْكِ الْمُبَاحِ، فَكَانَ التَّرْكُ أَوْلَى.

‌‌الْوَجْهُ السَّابِعُ وَالْأَرْبَعُونَ: أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ يُثْبِتُ حُكْمًا يُخَالِفُ الْحُكْمَ قَبْلَ الشَّرْعِ، وَالثَّانِي يُثْبِتُ حُكْمًا مُوَافِقًا لِحُكْمِ قَبْلِ الشَّرْعِ، فَقَدْ قِيلَ: هَذَا أَوْلَى بِالتَّقْدِيمِ، وَقِيلَ: هُمَا سَوَاءٌ؛ لِأَنَّ أَحَدَهُمَا وَإِنْ وَافَقَ حُكْمًا قَبْلَ الشَّرْعِ فَقَدْ صَارَ شَرْعًا لَنَا بَعْدَ وُرُودِهِ.

‌‌الْوَجْهُ الثَّامِنُ وَالْأَرْبَعُونَ: إِذَا تَعَارَضَ خَبَرَانِ فِي الْحُدُودِ وَأَحَدُهُمَا يَكُونُ مُسْقِطًا وَالْآخَرُ مُوجِبًا، فَقَدِ اخْتَلَفُوا فِيهِ؛ فَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: لَا يُرَجَّحُ أَحَدُهُمَا عَلَى الْآخَرِ؛ لِأَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا حُكْمٌ شَرْعِيٌّ، وَلَا تُؤَثِّرُ الشُّبْهَةُ فِي ثُبُوتِهِ شَرْعًا، كَمَا يَثْبُتُ الْحَدُّ بِخَبَرِ الْوَاحِدِ، وَالْقِيَاسُ مَعَ وُجُودِ الشُّبْهَةِ، وَمِنْهُمْ مَنْ قَالَ: يُقَدَّمُ الْمُسْقِطُ عَلَى الْمُوجِبِ لِقَوْلِهِ عليه السلام: ادْرَءُوا الْحُدُودَ مَا اسْتَطَعْتُمْ.

‌‌(الْوَجْهُ التَّاسِعُ وَالْأَرْبَعُونَ) أَنْ يَكُونَ أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ إِثْبَاتًا يَتَضَمَّنُ النَّقْلَ عَنْ حُكْمِ الْعَقْلِ، وَالثَّانِي نَفْيًا يَتَضَمَّنُ الْإِقْرَارَ عَلَى حُكْمِ الْعَقْلِ، فَيَكُونُ الْإِثْبَاتُ أَوْلَى؛ لِأَنَّا اسْتَفَدْنَا بِالْمُثَبَتِ مَا لَمْ نَكُنْ نَسْتَفِيدُهُ مِنْ قَبْلُ، وَلَمْ نَسْتَفِدْ مِنَ الثَّانِي أَمْرًا إِلَّا مَا كُنَّا نَسْتَفِيدُهُ مِنْ قَبْلُ، فَكَانَ الْمُثْبِتُ أَوْلَى، وَصُورَةُ الْمُثْبَتِ أَنْ يَرِدَ الْحَدِيثُ بِوُجُوبِ فِعْلٍ لَا يُوجِبُهُ الْعَقْلُ، وَيَرِدَ حَدِيثٌ آخَرُ بِأَنَّهُ لَا يَجِبُ، فَهَذَا مُبْقٍ عَلَى حُكْمِ الْعَقْلِ، وَذَلِكَ نَاقِلٌ مُفِيدٌ فَهُوَ أَوْلَى. فَأَمَّا إِذَا كَانَ نَفْيُهُ وَإِثْبَاتُهُ ثَابِتَيْنِ بِالشَّرْعِ فَلَا يَتَرَجَّحُ بِهَذَا أَحَدُ الْحَدِيثَيْنِ عَلَى الْآخَرِ؛ لِأَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا نَاقِلٌ عَنْ حُكْمِ الْعَقْلِ.

‌‌الْوَجْهُ الْخَمْسُونَ: أَنْ يَكُونَ الْحَدِيثَانِ الْمُتَعَارِضَانِ مِنْ قَبِيلِ الْأَقْضِيَةِ،
এবং অন্যটি বৈধতার (الإباحة) ওপর ভিত্তি করে। এমতাবস্থায় নিষিদ্ধতাকে (الحظر) বৈধতার (الإباحة) ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কি না? এ বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন: এর দ্বারা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না; কারণ বৈধকে নিষিদ্ধ করা যেমন, নিষিদ্ধকে বৈধ করাও তেমন। সুতরাং একটির ওপর অপরটির কোনো অগ্রাধিকার থাকবে না। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন: এর দ্বারা অগ্রাধিকার দেওয়া হবে; কারণ যখন বৈধকারী ও নিষিদ্ধকারী বিষয় একত্রে মিলিত হয়, তখন নিষিদ্ধতার (الحظر) দিকটি প্রবল হয়। যেমনটি ঘটে ভক্ষণযোগ্য ও অভক্ষণযোগ্য পশুর মিলনে জন্মানো প্রাণীর ক্ষেত্রে, কিংবা কোনো বকরির ক্ষেত্রে মুসলিম ও মূর্তিপূজারীর যাকাত একত্রে মিলিত হওয়ার ন্যায়। আর এ কারণে যে, নিষিদ্ধ (المحظور) কাজ করার মধ্যে গুনাহ রয়েছে, কিন্তু বৈধ (المباح) কাজ পরিত্যাগ করার মধ্যে কোনো গুনাহ নেই; তাই বর্জন করাই উত্তম।

‌‌সাতচল্লিশতম দিক: দুটি হাদিসের একটি এমন বিধান সাব্যস্ত করছে যা শরয়ি বিধান আসার পূর্বের বিধানের পরিপন্থী, আর দ্বিতীয়টি এমন বিধান সাব্যস্ত করছে যা শরয়ি বিধান আসার পূর্বের বিধানের অনুকূল। এমতাবস্থায় বলা হয়েছে: এটিই অগ্রাধিকারযোগ্য। আবার বলা হয়েছে: উভয়টি সমান; কারণ তাদের একটি যদিও শরয়ি বিধান আসার পূর্বের বিধানের অনুকূল হয়েছে, তবুও তা বর্ণিত হওয়ার পর আমাদের জন্য শরিয়ত (شرعًا) হিসেবে গণ্য হয়েছে।

‌‌আটচল্লিশতম দিক: যদি হদ বা দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা (خبر) পরস্পর বিরোধী হয়, যেখানে একটি দণ্ড রহিতকারী এবং অন্যটি দণ্ড কার্যকরকারী, তবে এ বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন: একটিকে অপরটির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে না; কারণ তাদের প্রতিটিই শরয়ি বিধান এবং শরয়িভাবে এর সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সংশয় (الشبهة) কোনো প্রভাব ফেলে না, ঠিক যেমন এক রাবির বর্ণনা (خبر الواحد) এবং সংশয় থাকা সত্ত্বেও কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে দণ্ড সাব্যস্ত হয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলেছেন: রহিতকারীকে কার্যকরকারীর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: 'তোমরা সাধ্যমতো দণ্ডসমূহ প্রতিহত করো।'

‌‌(ঊনপঞ্চাশতম দিক) দুটি হাদিসের একটি এমন ইতিবাচক (إثبات) যা আকলি বা যুক্তিগত বিধান থেকে পরিবর্তন নির্দেশ করে, আর দ্বিতীয়টি এমন নেতিবাচক (نفي) যা আকলি বিধানের ওপর বহাল রাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এমতাবস্থায় ইতিবাচক (الإثبات) বিধানটিই অগ্রগণ্য হবে; কারণ আমরা ইতিবাচকটি থেকে এমন কিছু জানতে পেরেছি যা ইতিপূর্বে জানতাম না, পক্ষান্তরে দ্বিতীয়টি থেকে আমরা এমন কিছুই অর্জন করিনি যা আগে থেকে জানতাম না। সুতরাং ইতিবাচকটিই (المثبت) উত্তম। ইতিবাচকটির স্বরূপ হলো- এমন একটি হাদিস বর্ণিত হওয়া যা এমন কোনো কাজ ওয়াজিব করে যা আকল বা যুক্তি ওয়াজিব করে না, আবার অন্য একটি হাদিসে এসেছে যে তা ওয়াজিব নয়। তবে এটি আকলি বিধানের ওপরই বহাল রাখা, আর পূর্বেরটি পরিবর্তনকারী ও উপকারী, তাই সেটিই অগ্রগণ্য। কিন্তু যদি এর নেতিবাচকতা ও ইতিবাচকতা উভয়টি শরিয়তের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তবে এর মাধ্যমে একটি হাদিসকে অপরটির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে না; কারণ তাদের প্রতিটিই আকলি বিধান থেকে পরিবর্তনকারী।

‌‌পঞ্চাশতম দিক: পরস্পর বিরোধী হাদিস দুটি বিচার বিভাগীয় ফয়সালার (الأقضية) অন্তর্ভুক্ত হওয়া,
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২২)
وَرَاوِي أَحَدِهِمَا عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، أَوْ مِنْ قَبِيلِ الْحَلَالِ وَالْحَرَامِ، وَرَاوِي أَحَدِهِمَا مُعَاذٌ، أَوْ مِنْ قَبِيلِ الْفَرَائِضِ، وَرَاوِي أَحَدِهِمَا زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ، وَهَلُمَّ جَرَّا فِي بَقِيَّةِ الْعُلُومِ، وَكُلُّ وَاحِدٍ مِنْ هَؤُلَاءِ شَهِدَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْبَرَاعَةِ وَالْحِذْقِ فِي فَنِّهِ، وَهَلْ يَصْلُحُ هَذَا فِي بَابِ التَّرْجِيحِ أَمْ لَا؟ اخْتَلَفُوا فِيهِ، فَذَهَبَ أَكْثَرُهُمْ إِلَى أَنَّهُ يَحْصُلُ بِهِ التَّرْجِيحُ، وَهُوَ الصَّحِيحُ؛ لِأَنَّ شَهَادَةَ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم لَهُمْ أَبْلَغُ فِي تَقْوِيَةِ الظَّنِّ مِنْ كَثِيرٍ مِمَّا ذَكَرْنَاهُ مِنَ التَّرْجِيحَاتِ.

وَلِهَذَا الْمَعْنَى قَدَّمْنَا قَوْلَ الصَّحَابِيِّ عَلَى قَوْلِ التَّابِعِيِّ؛ لِأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

أَصْحَابِي كَالنُّجُومِ بِأَيِّهِمُ اقْتَدَيْتُمُ اهْتَدَيْتُمْ. فَهَذَا الْقَدْرُ كَافٍ فِي مَوْضُوعِ التَّرْجِيحَاتِ، وَثَمَّ وُجُوهٌ كَثِيرَةٌ أَضْرَبْنَا عَنْ ذِكْرِهَا كَيْ لَا يَطُولَ بِهِ هَذَا الْمُخْتَصَرُ.

 

فَصْلٌ

وَلَمَّا انْتَهَى الْكَلَامُ فِي بَابِ التَّرْجِيحَاتِ، وَتَمْيِيزِ النَّاسِخِ مِنَ الْمَنْسُوخِ، لَا بُدَّ مِنْ ذِكْرِ‌‌ التَّمْيِيزِ بَيْنَ التَّخْصِيصِ وَالنَّسْخِ، إِذْ هُوَ مِنْ لَوَازِمِهِ، وَلَا

غِنًى لِمَنْ يُرِيدُ مَعْرِفَةَ النَّاسِخِ عَنْ مَعْرِفَتِهِ؛ لِحُصُولِ اللَّبْسِ فِيهِمَا، وَاشْتِرَاكِهِمَا فِي الْأَخَصِّ، إِذْ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا يَقْتَضِي اخْتِصَاصَ الْحُكْمِ بِبَعْضِ مَا يَتَنَاوَلُهُ اللَّفْظُ، غَيْرَ أَنَّ التَّمْيِيزَ بَيْنَهُمَا مِنْ وُجُوهٍ خَمْسَةٍ:

أَحَدُهُمَا: أَنَّ النَّاسِخَ لَا يَكُونُ إِلَّا مُتَأَخِّرًا عَنِ الْمَنْسُوخِ، وَالتَّخْصِيصُ يَصِحُّ اتِّصَالُهُ بِالْمَخْصُوصِ، وَيَصِحُّ تَرَاخِيهِ عَنْهُ، وَعِنْدَ مَنْ لَا يُجَوِّزُ تَأْخِيرَ الْبَيَانِ عَنْ وَقْتِ الْحَاجَةِ يَجِبُ اتِّصَالُهُ بِهِ.

وَالثَّانِي: أَنَّ دَلِيلَ النَّسْخِ لَا يَكُونُ إِلَّا خِطَابًا، وَالتَّخْصِيصُ قَدْ يَقَعُ بِقَوْلٍ وَفِعْلٍ وَقِيَاسٍ وَغَيْرِ ذَلِكَ.

الثَّالِثُ: أَنَّ نَسْخَ الشَّيْءِ لَا يَجُوزُ إِلَّا بِمَا هُوَ مِثْلُهُ فِي الْقُوَّةِ، أَوْ بِمَا هُوَ أَقْوَى مِنْهُ فِي الرُّتْبَةِ، وَالتَّخْصِيصُ جَائِزٌ بِمَا هُوَ دُونَ الْمَخْصُوصِ مِنْهُ فِي الرُّتْبَةِ.

الرَّابِعُ: أَنَّ التَّخْصِيصَ لَا يَدْخُلُ فِي الْأُمُورِ بِمَأْمُورٍ وَاحِدٍ، وَالنَّسْخُ
এবং তাদের একটির বর্ণনাকারী (راوي) হলেন আলী বিন আবি তালিব, অথবা সেটি হালাল ও হারাম সংক্রান্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, আর তাদের একটির বর্ণনাকারী (راوي) হলেন মুয়াজ, অথবা সেটি ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) সংক্রান্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, আর তাদের একটির বর্ণনাকারী (راوي) হলেন জায়েদ বিন সাবিত; এবং অন্যান্য শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। এঁদের প্রত্যেকের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় শাস্ত্রে পারদর্শিতা ও নিপুণতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রাধান্য দান (ترجيح)-এর ক্ষেত্রে কি এটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না? এ বিষয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। তাঁদের অধিকাংশের মতে এর মাধ্যমে প্রাধান্য দান (ترجيح) সাব্যস্ত হবে, আর এটিই সঠিক (صحيح) মত; কারণ তাঁদের ব্যাপারে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষ্যটি আমাদের উল্লেখিত অনেক প্রাধান্য দান (ترجيح)-এর পদ্ধতির চেয়ে প্রবল ধারণা সৃষ্টির ক্ষেত্রে অধিকতর কার্যকর।

আর এ কারণেই আমরা সাহাবীর বক্তব্যকে তাবেয়ীর বক্তব্যের উপর প্রাধান্য দিয়েছি; কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

আমার সাহাবীগণ নক্ষত্রতুল্য, তোমরা তাদের মধ্যে যারই অনুসরণ করবে, হেদায়েত প্রাপ্ত হবে। প্রাধান্য দান (ترجيح)-এর বিষয়ে এ পরিমাণই যথেষ্ট। এছাড়া আরও অনেক পদ্ধতি রয়েছে যা উল্লেখ করা থেকে আমরা বিরত থাকলাম যাতে এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি দীর্ঘায়িত না হয়।

 

পরিচ্ছেদ

যখন প্রাধান্য দান (ترجيح)-এর অধ্যায় এবং নাসিখ (ناسخ) ও মানসুখ (منسوخ)-এর পার্থক্য নির্ণয়ের আলোচনা সমাপ্ত হলো, তখন তখসীস (تخصيص) ও নসখ (نسخ)-এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করা আবশ্যক হয়ে পড়ল; যেহেতু এটি তার অপরিহার্য অনুষঙ্গ, আর কোনো

নাসিখ (ناسخ) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য এর পরিচয় জানা ব্যতিরেকে গত্যন্তর নেই; কারণ এ দুটির মাঝে সংশয় সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিশেষত্বের ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে সাদৃশ্য রয়েছে। কারণ উভয়ের প্রতিটিই শব্দটির অন্তর্ভুক্ত কোনো কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে বিধানকে সুনির্দিষ্ট বা সীমাবদ্ধ করে দেয়। তবে এ দুটির মধ্যে পাঁচটি দিক থেকে পার্থক্য করা যায়:

প্রথমটি: নাসিখ (ناسخ) সর্বদা মানসুখ (منسوخ) অপেক্ষা সময়ের দিক থেকে পরবর্তী হয়ে থাকে, কিন্তু তখসীস (تخصيص) যে শব্দকে বিশেষিত করা হয়েছে (مخصوص) তার সাথে যুক্ত হওয়াও বৈধ, আবার তা থেকে বিলম্বে আসাও বৈধ। আর যাঁদের মতে প্রয়োজনের সময় থেকে ব্যাখ্যা প্রদানকে বিলম্বিত করা বৈধ নয়, তাঁদের মতে তখসীস আম (সাধারণ) বিষয়ের সাথেই যুক্ত থাকা আবশ্যক।

দ্বিতীয়টি: নসখ (نسخ)-এর দলিল কেবল ভাষ্য বা খিতাব ছাড়া আর কিছু হয় না, কিন্তু তখসীস (تخصيص) অনেক সময় কথা, কাজ, কিয়াস (قياس) ও অন্যান্য বিষয়ের মাধ্যমেও সম্পন্ন হতে পারে।

তৃতীয়টি: কোনো বিষয়ের নসখ (نسخ) কেবল তার সমপর্যায়ের শক্তিশালী দলিল অথবা মর্যাদায় তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী দলিল দ্বারা হওয়া আবশ্যক। কিন্তু তখসীস (تخصيص) এমন দলিল দ্বারাও হওয়া জায়েজ যা মর্যাদার দিক থেকে বিশেষিত (مخصوص) বিষয় অপেক্ষা নিম্নতর।

চতুর্থটি: তখসীস (تخصيص) কেবল একজন আদিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না, পক্ষান্তরে নসখ (نسخ)
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২৩)
جَائِزٌ فِي مِثْلِهِ، سِيَّمَا عَلَى أَصْلِ لَا يُرَى نَسْخُ الشَّيْءِ قَبْلَ وَقْتِهِ.

الْخَامِسُ: أَنَّ التَّخْصِيصَ يَخْرُجُ مِنَ الْخِطَابِ مَا لَمْ يَرِدْ بِهِ، وَالنَّسْخُ رَافِعٌ مَا أُرِيدَ إِثْبَاتُ حُكْمِهِ.

ذِكْرُ وُقُوعِ النَّسْخِ فِي السُّنَّةِ عَلَى نَحْوِ وُقُوعِهِ فِي الْكِتَابِ

وُقُوعُ النَّسْخِ فِي السُّنَّةِ - اسْتِعْرَاضُ بَعْضِ الْآثَارِ الْمُؤَيِّدَةِ لِذَلِكَ.

أَخْبَرَنِي أَبُو الْمَحَاسِنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْخَالِقِ بْنِ أَبِي نَصْرٍ الْجَوْهَرِيُّ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْقَارِئُ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي حَاتِمٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ شَبَّةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ زِيَادٍ الْحَارِثِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: إِنَّ أَحَادِيثِي يَنْسَخُ بَعْضُهَا بَعْضًا.

إِنَّمَا يُعْرَفُ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ رِوَايَةِ ابْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، وَهُوَ صَاحِبُ مَنَاكِيرَ لَا يُتَابَعُ فِي حَدِيثِهِ، وَجَدَهُ يُعَدُّ فِي مَوَالِي عُمَرَ رضي الله عنه.

قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ الْجَبَّارِ بْنِ هِبَةِ اللَّهِ بْنِ الْقَاسِمِ، أَخْبَرَكَ أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْغَنَائِمِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَكْفَانِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْعَبْدِ، أَخْبَرَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ عَنْ أَبِيهِ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ هُوَ ابْنُ الشِّخِّيرِ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ حَدِيثُهُ يَنْسَخُ بَعْضُهُ بَعْضًا، كَمَا يَنْسَخُ الْقُرْآنُ بَعْضُهُ بَعْضًا.

قَرَأْتُ عَلَى أَبِي طَاهِرٍ رَوْحِ بْنِ بَدْرِ بْنِ ثَابِتٍ الصُّوفِيِّ، أَخْبَرَكَ أَبُو الْقَاسِمِ غَانِمُ بْنُ أَبِي نَصْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الشَّيْخِ، حَدَّثَنَا حَاجِبُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَسْعُودٍ الْعَجَمِيُّ، عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنِي التَّمِيمِيُّ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ لَاحِقِ بْنِ حُمَيْدٍ، قَالَ: إِنَّمَا حَدِيثُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلُ الْقُرْآنِ يَنْسَخُ بَعْضُهُ بَعْضًا.

أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَضْلِ مُحَمَّدُ بْنُ بُلَيْمَانَ بْنِ يُوسُفَ الْأَدِيبُ، أَخْبَرَنَا أَبُو مَنْصُورٍ سَعْدُ بْنُ عَلِيٍّ الْعِجْلِيُّ، أَخْبَرَنَا الْقَاضِي أَبُو الطَّيِّبِ طَاهِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الطَّبَرَيُّ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مَحْمُودٍ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُوسَى الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ الْبَرْقِيُّ،
অনুরূপ ক্ষেত্রে তা বৈধ (جائز), বিশেষ করে এমন একটি মূলনীতির ভিত্তিতে যেখানে কোনো বিষয়ের সময় আসার আগে তার রহিতকরণ (نسخ) দেখা যায় না।

পঞ্চম: বিশিষ্টকরণ (تخصيص) সম্বোধন (خطاب) থেকে এমন বিষয়কে বের করে দেয় যা এর অন্তর্ভুক্ত ছিল না, আর রহিতকরণ (نسخ) হচ্ছে এমন বিষয়কে তুলে দেওয়া যার বিধান সাব্যস্ত করার ইচ্ছা করা হয়েছিল।

কুরআনে যেভাবে রহিতকরণ সংঘটিত হয়, সুন্নাতেও অনুরূপ রহিতকরণ (نسخ) সংঘটিত হওয়ার উল্লেখ।

সুন্নাহর মধ্যে রহিতকরণ (نسخ) সংঘটিত হওয়া — এর সপক্ষে কিছু বর্ণনার (آثار) পর্যালোচনা।

আবু আল-মাহাসিন মুহাম্মদ ইবন আবদিল খালিক ইবন আবি নাসর আল-জাওহারি আমাকে অবহিত করেছেন, হাসান ইবন আহমদ ইবন আল-হাসান আল-কারি আমাদের অবহিত করেছেন, আহমদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আহমদ আমাদের অবহিত করেছেন, আবদুল্লাহ ইবন জাফর আমাদের অবহিত করেছেন, আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান ইবন আবি হাতিম আর-রাজি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবন শাব্বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হারিস ইবন জিয়াদ আল-হারিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আল-বাইলামানি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই আমার হাদিসসমূহের একটি অপরটিকে রহিত (نسخ) করে।

এই হাদিসটি কেবল ইবন আল-বাইলামানির বর্ণনা (رواية) হিসেবে পরিচিত, আর তিনি অস্বীকৃত (منكر) হাদিস বর্ণনাকারী (صاحب مناكير), যার হাদিসের ক্ষেত্রে অন্য কারো সমর্থন (متابعة) পাওয়া যায় না। তাঁর দাদাকে উমর (রা.)-এর মুক্তদাসদের (موالي) অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হয়।

আমি আবদ আল-জাব্বার ইবন হিবাতুল্লাহ ইবন আল-কাসিমের নিকট পাঠ করেছি, আহমদ ইবন আল-হাসান ইবন আহমদ আপনাকে অবহিত করেছেন, আবু আল-গানাইম মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ আমাদের অবহিত করেছেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-আকফানি আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আল-হাসান আলি ইবন আল-হাসান ইবন আল-আবদ আমাদের অবহিত করেছেন, আবু দাউদ আমাদের অবহিত করেছেন, উবাইদুল্লাহ ইবন মুয়াজ আমাদের অবহিত করেছেন, মুতামির তাঁর পিতা সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আল-আলা —যিনি ইবন আশ-শিখখির নামে পরিচিত— থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসসমূহ একটি অপরটিকে রহিত (نسخ) করত, যেমনিভাবে কুরআন একটি অপরটিকে রহিত (نسخ) করে।

আমি আবু তাহির রাওহ ইবন বাদর ইবন সাবিত আস-সুফির নিকট পাঠ করেছি, আবুল কাসিম গানিম ইবন আবি নাসর আপনাকে অবহিত করেছেন, আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আশ-শাইখ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাজিব ইবন আবি বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন মাসউদ আল-আজমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, আত-তামিমি তাঁর পিতা থেকে আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি আবু মিজলায লাহিক ইবন হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস ঠিক কুরআনের মতোই, এর একটি অপরটিকে রহিত (نسخ) করে।

আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবন বুলাইমান ইবন ইউসুফ আল-আদিব আমাদের অবহিত করেছেন, আবু মানসুর সাদ ইবন আলি আল-ইজলি আমাদের অবহিত করেছেন, কাজি আবু তায়্যিব তাহির ইবন আবদুল্লাহ আত-তাবারি আমাদের অবহিত করেছেন, আলি ইবন মাহমুদ আল-হাফিজ আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ ইবন মুসা আল-বাজজাজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলি ইবন আহমদ ইবন সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহিম আল-বারকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২৪)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي صَخْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ قَالَ: أَشْهَدُ عَلَى أَبِي يُحَدِّثُنِي، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقُولُ الْقَوْلَ، ثُمَّ يَلْبَثُ أَحْيَانًا، ثُمَّ يَنْسَخُهُ بِقَوْلٍ آخَرَ كَمَا يَنْسَخُ الْقُرْآنُ بَعْضُهُ بَعْضًا.

 

بَابُ

أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ الْخَطِيبُ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاتِبُ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَيَّانَ، حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ جَابِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ الْمِقْدَامَ بْنَ مَعْدِي كَرِبَ يَقُولُ: حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَشْيَاءَ يَوْمَ خَيْبَرَ، ثُمَّ قَالَ: يُوشِكُ رَجُلٌ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدَّثُ بِحَدِيثِي، فَيَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ، مَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ، وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ، وَأَنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ.

وَأَخْبَرَنِي أَبُو مُوسَى الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْغِطْرِيفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الْعَدَوِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ سَعِيدٍ الْكِسَائِيُّ الْفَقِيهُ، قَالَ: الْمَذْهَبُ فِي ذَلِكَ يَجِبُ عَلَى النَّاسِ أَنْ يَتَّبِعُوا الْقُرْآنَ، وَلَا يُخَالِفُوهُ، فَإِنِ احْتَجَّ مُحْتَجٌّ بِأَنَّ فِي السُّنَنِ مَا يُخَالِفُ التَّنْزِيلَ، قِيلَ لَهُمْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: أَلَا إِنِّي أُوتِيتُ الْكِتَابَ وَمِثْلَهُ مَعَهُ. وَكُلُّ سُنَّةٍ ثَبَتَتْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَجُوزُ لِقَائِلٍ أَنْ يَقُولَ إِنَّهَا خِلَافُ التَّنْزِيلِ؛ لِأَنَّ السُّنَّةَ تُفَسِّرُ التَّنْزِيلَ، وَالسُّنَّةُ كَانَ يَنْزِلُ بِهَا جِبْرِيلُ، وَيُعَلِّمُهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَانَ لَا يَقُولُ قَوْلًا يُخَالِفُ التَّنْزِيلَ إِلَّا مَا نُسِخَ مِنْ قَوْلِهِ بِالتَّنْزِيلِ، فَمَعْنَى التَّنْزِيلِ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَانَ ذَلِكَ بِإِسْنَادٍ ثَبَتَ عَنْهُ.

وَبِالْإِسْنَادِ قَالَ الْكِسَائِيُّ، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ دَاوُدَ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، وَهُمْ يَتَذَاكَرُونَ الْحَدِيثَ، فَقَالَ رَجُلٌ: دَعُونَا مِنْ هَذَا وَجِيئُونَا بِكِتَابِ اللَّهِ.
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল হাকাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইবনে লাহিয়াহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি আবু সাখর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আতা থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কথা বলতেন, তারপর কিছুকাল অতিবাহিত হতো, এরপর তিনি অন্য কোনো কথার মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করতেন, যেভাবে কুরআনের এক অংশ অন্য অংশকে রহিত (نسخ) করে।

 

পরিচ্ছেদ

আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-খাতিব আমাকে অবহিত করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-আবদী আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কাতিব আমাদের অবহিত করেছেন, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাইয়ান আমাদের অবহিত করেছেন, হাসান ইবনে হারুন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আমর ইবনে আলী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইবনে মাহদী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন হাসান ইবনে জাবির থেকে, তিনি বলেন: আমি মিকদাম ইবনে মাদি কারিবকে বলতে শুনেছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের দিন কিছু জিনিস হারাম করেছেন, তারপর তিনি বললেন: "অচিরেই এমন এক ব্যক্তির দেখা পাওয়া যাবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, যার কাছে আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করা হলে সে বলবে: আমাদের এবং তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব রয়েছে, তাতে আমরা যা হালাল পাব তা হালাল হিসেবে গণ্য করব এবং যা হারাম পাব তা হারাম হিসেবে গণ্য করব। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত জিনিসের মতোই।"

আবু মুসা আল-হাফিজ আমাকে অবহিত করেছেন, আবু আলী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু নুয়াইম আমাদের অবহিত করেছেন, আবু আহমদ আল-গিতরিফি আমাদের অবহিত করেছেন, আহমদ ইবনে মুসা আল-আদাউয়ি আমাদের অবহিত করেছেন, ফকিহ আবু ইসহাক ইসমাইল ইবনে সাঈদ আল-কিসায়ি বলেন: এই বিষয়ে সঠিক পদ্ধতি হলো মানুষের জন্য কুরআন অনুসরণ করা এবং এর বিরোধিতা না করা অপরিহার্য। যদি কোনো প্রতিবাদকারী এই যুক্তি দেখায় যে, সুন্নাহর মাঝে এমন কিছু আছে যা অবতীর্ণ ওহীর পরিপন্থী, তবে তাদের বলা হবে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت) প্রতিটি সুন্নাহর ক্ষেত্রে কোনো বক্তার জন্য এটি বলা বৈধ নয় যে, তা ওহীর পরিপন্থী; কারণ সুন্নাহ ওহীর ব্যাখ্যা প্রদান করে। জিবরাঈল সুন্নাহ নিয়ে অবতীর্ণ হতেন এবং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিক্ষা দিতেন। সুতরাং তিনি ওহীর পরিপন্থী কোনো কথা বলতেন না, তবে তার আগের কোনো বক্তব্য যদি ওহীর মাধ্যমে রহিত (نسخ) হয়ে থাকে তবে ভিন্ন কথা। সুতরাং ওহীর প্রকৃত অর্থ তাই যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি তা তার থেকে প্রমাণিত (ثابت) সূত্রপরম্পরার (إسناد) মাধ্যমে বর্ণিত হয়।

এবং একই সূত্রপরম্পরায় (إسناد) আল-কিসায়ি বলেন, মুসা ইবনে দাউদ আমাদের অবহিত করেছেন ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি আলী ইবনে যাইদ থেকে, তিনি আবু নাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা ইমরান ইবনে হুসাইনের নিকট ছিলাম এবং তারা হাদিস নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল: "আমাদের এসব থেকে ছাড় দিন এবং আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব নিয়ে আসুন।"
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২৫)
فَقَالَ عِمْرَانُ: إِنَّكَ أَحْمَقُ، أَتَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ الصَّلَاةَ مُفَسَّرَةً؟ أَتَجِدُ فِي كِتَابِ اللَّهِ الصِّيَامَ مُفَسَّرًا؟ إِنَّ الْقُرْآنَ جَمَعَ ذَلِكَ، وَالسُّنَّةُ تُفَسِّرُ ذَلِكَ.

قُلْتُ: وَالْمَذْهَبُ عِنْدَنَا أَنَّ السُّنَّةَ مُبَيِّنَةٌ لِلْكِتَابِ مُفَسِّرَةٌ لَهُ، هَذَا أَمْرٌ مُجْمَعٌ عَلَيْهِ.

وَقَدِ اخْتَلَفَ النَّاسُ بَعْدَ ذَلِكَ فِي مَسْأَلَتَيْنِ:

إِحْدَاهُمَا: جَوَازُ نَسْخِ الْكِتَابِ بِالسُّنَّةِ.

وَالثَّانِيَةُ: جَوَازُ نَسْخِ السُّنَّةِ بِالْكِتَابِ.

وَاتَّفَقُوا عَلَى مَسْأَلَتَيْنِ:

إِحْدَاهُمَا: نَسْخُ الْكِتَابِ بِالْكِتَابِ.

الثَّانِيَةُ: جَوَازُ نَسْخِ السُّنَّةِ بِالسُّنَّةِ.

أَمَّا الْمَسْأَلَةُ الْأُولَى: فِي نَسْخِ الْكِتَابِ بِالسُّنَّةِ، فَأَكْثَرُ الْمُتَأَخِّرِينَ ذَهَبُوا إِلَى الْجَوَازِ وَقَالُوا: لَا اسْتِحَالَةَ فِي وُقُوعِهِ عَقْلًا، وَقَدْ دَلَّ السَّمْعُ عَلَى وُقُوعِهِ، فَيَجِبُ الْمَصِيرُ إِلَيْهِ.

أَخْبَرَنِي أَبُو مُوسَى الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْحَافِظُ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَحْمَدَ الْغِطْرِيفِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى الْعَدَوِيُّ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ قَالَ: السُّنَّةُ قَاضِيَةٌ عَلَى الْكِتَابِ، وَلَيْسَ الْكِتَابُ بِقَاضٍ عَلَى السُّنَّةِ.

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ الْفَارِسِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاتِبُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى، قَالَ: السُّنَّةُ قَاضِيَةٌ عَلَى الْقُرْآنِ، أَيْ: تُفَسِّرُهُ.

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَحْمَدَ الْمَدِينِيُّ، أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْجُرْجَانِيُّ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُوسَى بْنِ الْعَبَّاسِ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْكِسَائِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ، عَنْ مَكْحُولٍ قَالَ: الْقُرْآنُ أَحْوَجُ إِلَى السُّنَّةِ مِنَ السُّنَّةِ إِلَى الْقُرْآنِ.

أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، أَخْبَرَنَا أَبُو طَاهِرِ بْنُ عَبْدِ الرَّحِيمِ، حَدَّثَنَا أَبُو الشَّيْخِ الْحَافِظُ قَالَ: ذِكْرُ مَا نُسِخَ مِنَ الْقُرْآنِ بِالسُّنَّةِ، قَوْلُ اللَّهِ عز وجل: يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ.

وَقَالَ: إِنْ تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ
ইমরান বললেন: নিশ্চয়ই তুমি একজন নির্বোধ; তুমি কি আল্লাহর কিতাবে সালাতকে বিশদভাবে ব্যাখ্যাত পাও? তুমি কি আল্লাহর কিতাবে সিয়ামকে বিশদভাবে ব্যাখ্যাত পাও? নিশ্চয়ই কুরআন একে সংক্ষেপে একত্র করেছে এবং সুন্নাহ একে ব্যাখ্যা করে।

আমি বলছি: আমাদের নিকট অভিমত হলো, সুন্নাহ কিতাবের বর্ণনাকারী ও ব্যাখ্যাকারী; এটি একটি সর্বসম্মত (مجمع عليه) বিষয়।

এর পরবর্তী দুটি বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে:

তার একটি হলো: সুন্নাহ দ্বারা কিতাব রহিত (نسخ) করার বৈধতা (الجواز)।

দ্বিতীয়টি হলো: কিতাব দ্বারা সুন্নাহ রহিত (نسخ) করার বৈধতা (الجواز)।

এবং তাঁরা অন্য দুটি বিষয়ে একমত হয়েছেন:

তার একটি হলো: কিতাব দ্বারা কিতাব রহিত (نسخ) করা।

দ্বিতীয়টি হলো: সুন্নাহ দ্বারা সুন্নাহ রহিত (نسخ) করার বৈধতা (الجواز)।

প্রথম বিষয়টি সম্পর্কে: সুন্নাহ দ্বারা কিতাব রহিত (نسخ) করার ক্ষেত্রে অধিকাংশ পরবর্তী যুগের আলেমগণ বৈধতার (الجواز) অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এটি ঘটা অসম্ভব নয়, এবং শ্রুতিগত দলিল (سمع) এর স্বপক্ষে প্রমাণ দিয়েছে, তাই এটি গ্রহণ করা আবশ্যক।

আবু মুসা হাফেজ (الحافظ) আমাকে জানিয়েছেন (أخبرني), আবু আলী আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), আবু নুআইম হাফেজ (الحافظ) আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), আবু আহমদ আল-গিতরিফি আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), আহমদ ইবনে মুসা আল-আদাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), সুহাইল ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আল-আওযায়ি থেকে (عن), তিনি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুন্নাহ কিতাবের ওপর ফয়সালাকারী, কিন্তু কিতাব সুন্নাহর ওপর ফয়সালাকারী নয়।

মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী আল-ফারিসি আমাকে জানিয়েছেন (أخبرني), আবু যাকারিয়া আল-আবদি আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-কাতিব আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), হাসান ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু যুরআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবদুর রহমান ইবনে ইব্রাহিম আদ-দিমাশকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আল-আওযায়ি থেকে (عن) ইয়াহইয়া থেকে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুন্নাহ কুরআনের ওপর ফয়সালাকারী, অর্থাৎ এটি কুরআনের ব্যাখ্যা করে।

মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে আহমদ আল-মাদিনি আমাকে জানিয়েছেন (أخبرني), হাসান ইবনে আহমদ আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-জোরজানি আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), আহমদ ইবনে মুসা ইবনুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আবু ইসহাক আল-কিসায়ি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আল-আওযায়ি থেকে (عن), তিনি মাকহুল থেকে (عن) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুন্নাহর প্রতি কুরআনের মুখাপেক্ষিতা, কুরআনের প্রতি সুন্নাহর মুখাপেক্ষিতার চেয়েও অধিক।

মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী আমাকে জানিয়েছেন (أخبرني), ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), আবু তাহির ইবনে আবদুর রহিম আমাদের জানিয়েছেন (أخبرنا), আবুশ শাইখ হাফেজ (الحافظ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) যে: সুন্নাহর মাধ্যমে কুরআনের যা রহিত (نسخ) হয়েছে তার উল্লেখ; মহান আল্লাহর বাণী: "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান।"

এবং তিনি বলেছেন: "যদি সে উত্তম কোনো সম্পদ রেখে যায়, তবে অসিয়ত করা..."
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২৬)
لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ.

فَنَسَخَ الْمِيرَاثَ قَوْلُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلَا الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ.

وَنَسْخُ الْوَصِيَّةِ لِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: لَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ.

قَالَ: وَأَجْمَعُوا أَنَّ الْعَبْدَ لَا يَرِثُ الْحُرَّ، وَلَا الْحُرُّ يَرِثُ الْعَبْدَ، وَقَالَ تَعَالَى: وَأُحِلَّ لَكُمْ مَا وَرَاءَ ذَلِكُمْ وَنُسِخَ ذَلِكَ بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: لَا تُنْكَحُ الصُّغْرَى عَلَى الْكُبْرَى، وَلَا الْكُبْرَى عَلَى الصُّغْرَى.

وَنُسِخَ أَيْضًا بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنَ النَّسَبِ.

وَقَالَ تَعَالَى: وَإِنْ فَاتَكُمْ شَيْءٌ مِنْ أَزْوَاجِكُمْ إِلَى الْكُفَّارِ فَعَاقَبْتُمْ فَآتُوا الَّذِينَ ذَهَبَتْ أَزْوَاجُهُمْ مِثْلَ مَا أَنْفَقُوا. فَنَسَخَ اللَّهُ ذَلِكَ بِسُنَّةِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم: إِنَّ كُلَّ امْرَأَةٍ ارْتَدَّتْ فَلَحِقَتْ بِالْمُشْرِكِينَ فَقَدْ بَانَتْ مِنْ زَوْجِهَا.

وَإِنَّ مَنْ صَارَ مِنْ نِسَاءِ الْمُشْرِكِينَ إِلَى الْمُسْلِمِينَ مُسْلِمَاتٍ أَوْ مُسْتَأْمَنَاتٍ بِغَيْرِ أَسْرٍ وَلَا قَهْرٍ أَنَّهُنَّ حَرَائِرُ، وَحِلٌّ لِلْمُسْلِمِينَ أَنْ يَنْكِحُوهُنَّ إِذَا آتَوْهُنَّ أُجُورَهُنَّ، وَلَا عِوَضَ عَلَى أَحَدٍ لِأَحَدٍ فِي ذَلِكَ، وَسَقَطَ حُكْمُ الْقُرْآنِ.

وَقَالَ تَعَالَى: وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَعَمَّ بِهِ كُلَّ سَارِقٍ، ثُمَّ نَسَخَ مِنْ ذَلِكَ سَارِقَ الْغَنَمِ، بِقَوْلِهِ عليه السلام: لَا قَطْعَ عَلَى سَارِقِ الْغَنَمِ، وَإِنْ كَثُرَتْ وَكَثُرَتْ قِيمَتُهَا إِذَا لَمْ يَأْوِهَا الْمُرَاحُ، وَلَا قَطْعَ عَلَى سَارِقِ التَّمْرِ إِذَا لَمْ يَأْوِهِ الْجَرِينُ.

وَقَالَ عليه السلام: لَا قَطْعَ فِي ثَمَرٍ وَلَا كَثَرٍ، وَقَطْعٌ فِي قِيمَتِهِ مَعْلُومَةً.

وَقَالَ تَعَالَى: مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ، فَأَطْلَقَ قَلِيلَ الْوَصِيَّةِ وَكَثِيرَهَا، ثُمَّ نُسِخَ ذَلِكَ بِقَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِسَعْدٍ: الثُّلُثُ، وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ

وَقَالَ تَعَالَى: قُلْ لَا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا الْآيَةَ، ثُمَّ حَرَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم كُلَّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، وَكُلَّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ.

وَقَالَ عز وجل: فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الْآيَةَ، وَصَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي السَّفَرِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ رَاحِلَتُهُ.

وَقَالَ عز وجل: فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَقْصُرُوا مِنَ الصَّلَاةِ إِنْ خِفْتُمْ - الْآيَةَ، وَإِنَّمَا أَبَاحَ الْقَصْرَ مَعَ الْخَوْفِ ثُمَّ سَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْقَصْرَ فِي السَّفَرِ بِكُلِّ حَالٍ.

هَذِهِ آخِرُ كَلَامِ أَبِي الشَّيْخِ، وَسَيَأْتِي ذِكْرُ
পিতামাতা এবং নিকটাত্মীয়দের জন্য।

অতঃপর উত্তরাধিকারের বিধানকে রহিত (نسخ) করেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: "একজন মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হবে না এবং কোনো কাফির মুসলিমের উত্তরাধিকারী হবে না।"

আর পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য অসিয়ত করার বিধানের রহিতকরণ (نسخ) হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা: "উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই।"

তিনি বলেন: আলেমগণ এই মর্মে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন যে, কোনো ক্রীতদাস স্বাধীন ব্যক্তির উত্তরাধিকারী হবে না এবং কোনো স্বাধীন ব্যক্তি ক্রীতদাসের উত্তরাধিকারী হবে না। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের জন্য এদের ছাড়া অন্য নারীদের হালাল করা হয়েছে" [সূরা নিসা: ২৪]। এই বিধানটি রহিত (نسخ) হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর মাধ্যমে: "ফুফুর উপস্থিতিতে তার ভাইঝিকে বিয়ে করা যাবে না এবং খালার উপস্থিতিতে তার ভাগ্নিকে বিয়ে করা যাবে না।"

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারাও রহিত (نسخ) হয়েছে যে: "বংশগত সম্পর্কের কারণে যা হারাম, দুগ্ধপানের কারণেও তা হারাম।"

মহান আল্লাহ বলেন: "তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ যদি কাফিরদের কাছে চলে যায় এবং তোমরা যদি তাদের ওপর জয়ী হও, তবে যাদের স্ত্রীরা চলে গেছে তাদেরকে তাদের ব্যয়ের সমপরিমাণ প্রদান করো" [সূরা মুমতাহিনা: ১১]। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর সুন্নাহ (سنة) দ্বারা একে রহিত (نسخ) করেছেন যে: "নিশ্চয়ই যে নারী ধর্মত্যাগ করে মুশরিকদের সাথে যোগ দেয়, সে তার স্বামীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।"

আর মুশরিক নারীদের মধ্য থেকে যারা মুসলিম হিসেবে অথবা আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বন্দিত্ব বা জবরদস্তি ব্যতিরেকেই মুসলিমদের কাছে চলে আসে, তারা স্বাধীন হিসেবে গণ্য হবে এবং মুসলিমদের জন্য তাদের বিয়ে করা হালাল যখন তারা তাদের মোহরানা প্রদান করবে। এক্ষেত্রে কারও জন্য অন্য কারও ওপর কোনো বিনিময় প্রদান করা আবশ্যক নয় এবং কুরআনের এই বিধানটি (حكم) রহিত হয়ে গেল।

মহান আল্লাহ বলেন: "চোর পুরুষ ও চোর নারী..." [সূরা মায়িদা: ৩৮], এর দ্বারা তিনি সকল চোরকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। এরপর ছাগল চোরের ক্ষেত্রে এই বিধানটি রহিত (نسخ) করা হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর দ্বারা: "ছাগল চুরির অপরাধে হাত কাটা যাবে না, যদিও তার সংখ্যা ও মূল্য অধিক হয়, যতক্ষণ না সেটিকে খোঁয়াড়ে রাখা হয়। আর খেজুর চুরির অপরাধেও হাত কাটা যাবে না, যতক্ষণ না সেটিকে গুদামে রাখা হয়।"

তিনি আরও বলেন: "গাছের ফল বা গাবের (খেজুর গাছের অভ্যন্তরীণ অংশ) চুরিতে হাত কাটা নেই, তবে নির্দিষ্ট মূল্যের ক্ষেত্রে হাত কাটা হবে।"

মহান আল্লাহ বলেন: "...সে যে অসিয়ত করে তা পূরণ করার পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর" [সূরা নিসা: ১১]। এখানে অসিয়তের পরিমাণ অল্প বা বেশি হওয়াকে শর্তহীন রাখা হয়েছিল। এরপর তা রহিত (نسخ) হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সা'দ (রা.)-কে বলা এই বাণীর মাধ্যমে: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক বেশি।"

মহান আল্লাহ বলেন: "আপনি বলুন, আমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে আহারকারীর জন্য কোনো কিছু হারাম পাই না, তবে যদি সেটি মৃত জানোয়ার বা প্রবাহিত রক্ত হয়..." আয়াতটি শেষ পর্যন্ত। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল হিংস্র দাঁতাল পশু এবং নখরধারী শিকারী পাখি হারাম করেছেন।

মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব আপনি আপনার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরিয়ে নিন" আয়াতটি শেষ পর্যন্ত। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে থাকাকালীন তাঁর সওয়ারী যেদিকেই মুখ করত সেদিকেই সালাত আদায় করতেন।

মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা যখন সালাত সংক্ষেপ (قصر) করো তখন তোমাদের কোনো গুনাহ নেই যদি তোমরা আশঙ্কা করো..." আয়াতটি শেষ পর্যন্ত। তিনি কেবল ভয়ের অবস্থায় সালাত সংক্ষেপ (قصر) করার অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর অবস্থায় সর্বাবস্থায় সালাত সংক্ষেপ (قصر) করার সুন্নাহ (سنة) প্রবর্তন করেন।

এটিই আবুশ শায়খ-এর বক্তব্যের শেষ অংশ, আর সামনে আলোচিত হবে...
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২৭)
حَدِيثٍ يُحَقَّقُ فِيهِ شَرْطُ النَّسْخِ فِي بَابِهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.

وَذَهَبَ جَمَاعَةٌ مِنَ الْمُتَقَدِّمِينَ، وَنَفَرٌ مِنَ الْمُتَأَخِّرِينَ إِلَى مَنْعِ ذَلِكَ، وَقَالُوا: كَمَا خَبَرُ الْوَاحِدِ لَا يَنْسَخُ الْمُتَوَاتِرَ مَعَ اشْتِرَاكِهِمَا فِي اللَّوَازِمِ وَالتَّوَابِعِ، كَذَلِكَ السُّنَّةُ لَا تَنْسَخُ الْقُرْآنَ، لِتَبَايُنِهِمَا فِي الْحَقَائِقِ وَاللَّوَاحِقِ، وَرُوِّينَا مَعْنَى ذَلِكَ عَنِ الشَّافِعِيِّ رضي الله عنه.

أَخْبَرَنِي الْأَمِيرُ أَبُو الْمَحَاسِنِ مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْفَارِسِيُّ، أَخْبَرَنَا زَاهِرُ بْنُ

طَاهِرٍ النَّيْسَابُورِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ الْبَيْهَقِيُّ، أَخْبَرَنَا الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ، أَخْبَرَنَا الرَّبِيعُ قَالَ: قَالَ الشَّافِعِيُّ رضي الله عنه: وَالنَّاسِخُ مِنَ الْقُرْآنِ الْأَمْرُ يُنْزِلُهُ اللَّهُ بَعْدَ الْأَمْرِ يُخَالِفُهُ، كَمَا حَوَّلَ الْقِبْلَةَ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ إِلَى الْكَعْبَةِ، وَكُلُّ مَنْسُوخٍ يَكُونُ حَقًّا مَا لَمْ يُنْسَخْ، فَإِذَا نُسِخَ كَانَ الْحَقُّ فِي نَاسِخِهِ، وَلَا يَنْسَخُ كِتَابَ اللَّهِ إِلَّا كِتَابُهُ، وَهَكَذَا سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا يَنْسَخُهَا إِلَّا سُنَّةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ، أَخْبَرَنَا أَبُو زَكَرِيَّا الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْكَاتِبُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ

مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ السِّجِسْتَانِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ - وَسُئِلَ عَنْ حَدِيثِ السُّنَّةُ قَاضِيَةٌ عَلَى الْكِتَابِ - قَالَ: لَا أَجْتَرِئُ أَنْ أَقُولَ فِيهِ، وَلَكِنَّ السُّنَّةَ تُفَسِّرُ الْقُرْآنَ، وَلَا يُنْسَخُ الْقُرْآنُ إِلَّا بِالْقُرْآنِ.

وَأَمَّا الْمَسْأَلَةُ الثَّانِيَةُ: فِي نَسْخِ السُّنَّةِ بِالْكِتَابِ، فَقَدْ ذَهَبَ أَكْثَرُ الْمُتَأَخِّرِينَ عَلَى جَوَازِهِ، وَقَالُوا: النَّاسِخُ فِي الْحَقِيقَةِ - هُوَ اللَّهُ تَعَالَى - وَالْكُلُّ مِنْ عِنْدِهِ، فَمَا الْمَانِعُ مِنْهُ؟ وَأَيُّ تَأْثِيرٍ لِاعْتِبَارِ التَّجَانُسِ فِي ذَلِكَ مَعَ أَنَّ الْعَقْلَ لَا يُحِيلُهُ، وَالسَّمْعَ دَلَّ عَلَى وُقُوعِهِ؟ وَقَدْ رُوِيَ فِي ذَلِكَ حَدِيثٌ فِي سَنَدِهِ مَقَالٌ.

قَرَأْتُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ مُحَمَّدِ بْنِ ذَاكِرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَكَ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحَسَنِ الْقَارِي، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحِيمِ، أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عُمَرَ الْحَافِظُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلَدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ الْقَنْطَرِيُّ أَبُو حَفْصٍ الْكَبِيرُ، حَدَّثَنَا جَبْرُونُ بْنُ وَاقِدٍ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: قَالَ
এমন হাদিস যাতে রহিতকরণের (نسخ) শর্তাবলী তার স্বীয় অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ তাআলা বাস্তবায়িত হবে।

পূর্ববর্তী উলামাগণের একটি দল এবং পরবর্তীগণের একদল তা নিষিদ্ধ হওয়ার পক্ষে গিয়েছেন। তারা বলেছেন: একক বর্ণনা (خبر الواحد) যেমন অবিচ্ছিন্ন (متواتر) বর্ণনাকে রহিত করতে পারে না—যদিও তারা উভয়ে অপরিহার্য বিষয় ও আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহে একীভূত—তেমনিভাবে সুন্নাহও কুরআনকে রহিত করতে পারে না; কারণ তাদের স্বরূপ এবং অনুবর্তী বিষয়সমূহে ভিন্নতা রয়েছে। আমরা ইমাম শাফিঈ (রা.) থেকে এই মর্মে বর্ণনা করেছি।

আমির আবু আল-মাহাসিন মুহাম্মদ ইবন আলী আল-ফারিসি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, যাহির ইবন তাহির আল-নায়সাবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর আল-বায়হাকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-আব্বাস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর-রাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, ইমাম শাফিঈ (রা.) বলেছেন: কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) হলো সেই আদেশ যা আল্লাহ তাআলা কোনো একটি আদেশের পর তার বিপরীতে অবতীর্ণ করেন, যেমন কিবলা বাইতুল মাকদিস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রতিটি রহিত (منسوخ) বিষয় ততক্ষণ পর্যন্ত সত্য থাকে যতক্ষণ না তা রহিত হয়। অতঃপর যখন তা রহিত হয়ে যায়, তখন রহিতকারীর (ناسخ) মধ্যেই সত্য নিহিত থাকে। আল্লাহর কিতাবকে কেবল তাঁর কিতাবই রহিত করতে পারে। অনুরূপভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহকেও কেবল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহই রহিত করতে পারে।

আবু বকর আল-খতিব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু জাকারিয়া আল-আবদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-কাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন যে, তিনি আহমদ ইবন হাম্বলকে বলতে শুনেছেন—যখন তাঁকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, 'সুন্নাহ কুরআনের ওপর ফয়সালাকারী'—তিনি বললেন: আমি এ বিষয়ে কিছু বলার সাহস রাখি না, বরং সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং কুরআন কেবল কুরআনের দ্বারাই রহিত হয়।

আর দ্বিতীয় মাসআলাটি হলো: কুরআনের মাধ্যমে সুন্নাহ রহিতকরণ (نسخ)। অধিকাংশ পরবর্তী আলিম একে জায়েজ মনে করেছেন এবং বলেছেন: প্রকৃত রহিতকারী (الناسخ) হলেন আল্লাহ তাআলা এবং সবকিছুই তাঁর পক্ষ থেকে; তবে এতে বাধা কোথায়? এবং এ ক্ষেত্রে উভয়টি সমজাতীয় হওয়ার বিবেচনার কী-ই বা প্রভাব আছে, যখন বুদ্ধি তা অসম্ভব মনে করে না এবং শ্রবণলব্ধ প্রমাণ এর সংঘটন নির্দেশ করে? এ বিষয়ে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে যার সনদে (سند) সমালোচনা (مقال) রয়েছে।

আমি আবু বকর মুহাম্মদ ইবন জাকির ইবন মুহাম্মদের কাছে পাঠ করেছি, আল-হাসান ইবন আহমদ ইবন আল-হাসান আল-ক্বারি আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আবদুর রহিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হাসান আলী ইবন উমর আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন মাখলাদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন দাউদ আল-কান্তারি আবু হাফস আল-কাবির আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, জাবরুন ইবন ওয়াকিদ বাইতুল মাকদিসে আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, সুফিয়ান ইবন উইয়াইনা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২৮)
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: كَلَامِي لَا يَنْسَخُ كَلَامَ اللَّهِ، وَكَلَامُ اللَّهِ يَنْسَخُ كَلَامِي، وَكَلَامُ اللَّهِ يَنْسَخُ بَعْضُهُ بَعْضًا.

جَبَرُونُ بْنُ وَاقِدٍ لَا يُعْرَفُ لَهُ سِوَى حَدِيثَيْنِ؛ هَذَا أَحَدُهُمَا وَهُوَ مُنْكَرٌ، وَلَا أَعْلَمُ رَوَاهُ غَيْرُهُ.

وَخَالَفَهُمْ فِي ذَلِكَ جَمَاعَةٌ، وَقَالُوا: لَا بُدَّ مِنِ اعْتِبَارِ التَّجَانُسِ، قَالُوا:

الْكِتَابُ مُجْمَلٌ، وَالسُّنَّةُ مُبَيِّنَةٌ، وَفِي تَجْوِيزِ نَسْخِ الْمُبَيَّنِ بِالْمُجْمَلِ إِخْلَالٌ بِمَقْصُودِ التَّفَاهُمِ، وَتَفَاصِيلُ مَذَاهِبِ الْكُلِّ مَذْكُورَةٌ فِي كُتُبِ أُصُولِ الْفِقْهِ، وَالْقَصْدُ هُنَا الْإِيمَاءُ إِلَى جُمَلٍ مِنْ ذَلِكَ.

وَإِذْ تَمَّتِ الْمُقَدِّمَةُ، فَلْنَشْرَعِ الْآنَ فِي الْمَقْصُودِ، مُرَتَّبًا عَلَى أَبْوَابِ الْفِقْهِ؛ لِيَكُونَ أَسْهَلَ تَنَاوُلًا، وَاللَّهُ تَعَالَى يُدِيمُ بِهِ النَّفْعَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ.

 

‌‌كِتَابُ الطَّهَارَةِ

‌‌بَابُ الْغُسْلِ:

مَا كَانَ فِي بَدْءِ الْإِسْلَامِ أَنْ لَا غُسْلَ إِلَّا مِنَ الْإِنْزَالِ

أَخْبَرَنِي أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَلِيٍّ الْخَطِيبُ الطَّرْقِيُّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ الْعَبْدِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدٍ الْكَاتِبُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نَاجِيَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ أَنَّ عَطَاءَ بْنَ يَسَارٍ أَخْبَرَهُ: أَنَّ زَيْدَ بْنَ خَالِدٍ، أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ سَأَلَ عُثْمَانَ قَالَ: قُلْتُ: أَرَأَيْتَ إِذَا جَامَعَ أَحَدٌ امْرَأَتَهُ وَلَمْ يُمْنِ؟ فَقَالَ عُثْمَانُ: يَتَوَضَّأُ كَمَا يَتَوَضَّأُ لِلصَّلَاةِ، وَيَغْسِلُ ذَكَرَهُ.

قَالَ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার কথা আল্লাহর কথাকে রহিত (نسخ) করে না, বরং আল্লাহর কথা আমার কথাকে রহিত (نسخ) করে এবং আল্লাহর কথার এক অংশ অন্য অংশকে রহিত (نسخ) করে।"

জাবারুন ইবনে ওয়াকিদ সম্পর্কে মাত্র দুটি হাদিস জানা যায়; এটি তার মধ্যে একটি এবং এটি প্রত্যাখ্যাত (منكر)। আমি জানি না তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন কি না।

এ বিষয়ে একদল আলেম তাঁদের বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: সমজাতীয়তার (تجانس) বিষয়টি বিবেচনা করা আবশ্যক। তাঁরা বলেছেন:

কুরআন হলো সংক্ষিপ্ত (مجمل) এবং সুন্নাহ হলো তার ব্যাখ্যাকারী (مبينة)। ব্যাখ্যাকারীকে (مبين) সংক্ষিপ্ত (مجمل) দ্বারা রহিতকরণ (نسخ) বৈধ করার মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। সকলের মাযহাবের বিস্তারিত বিবরণ উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) শাস্ত্রের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে এবং এখানে উদ্দেশ্য হলো তার একটি সংক্ষিপ্ত সারমর্মের দিকে ইঙ্গিত করা।

যেহেতু ভূমিকা সমাপ্ত হয়েছে, তাই এখন আমরা মূল উদ্দেশ্য বা বিষয়ের আলোচনা শুরু করি, যা ফিকহী অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করা হয়েছে; যাতে এটি গ্রহণ করা সহজতর হয়। মহান আল্লাহ এর দ্বারা উপকারকে দীর্ঘস্থায়ী করুন। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

 

‌‌পবিত্রতা অধ্যায়

‌‌গোসলের পরিচ্ছেদ:

ইসলামের প্রাথমিক যুগে বিধান ছিল যে, বীর্যপাত (إنزال) ব্যতীত গোসল ফরজ হতো না

আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে আলী আল-খতিব আল-তরকি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব আল-আবদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কাতিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাফর, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাজিয়াহ, আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আব্দুল ওয়ারিস ইবনে আব্দুস সামাদ, আমার পিতা আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন হুসাইন আল-মুয়াল্লিম, ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির থেকে বর্ণিত, আবু সালামাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, আতা ইবনে ইয়াসার তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন: যায়দ ইবনে খালিদ তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি উসমান (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছেন। তিনি (যায়দ) বলেন: আমি বললাম, আপনি কি মনে করেন যদি কেউ তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত (إمناء) না হয়? তখন উসমান (রা.) বললেন: সে নামাজের ন্যায় অজু করবে এবং তার গুপ্তাঙ্গ ধৌত করবে।

তিনি বলেন
(খণ্ড: ১) আল-ইতিবার ফীন নাসিখি ওয়াল মানসূখি মিনাল আসার (পৃষ্ঠা: ২৯)
عُثْمَانُ: سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

قَالَ: وَسَأَلْتُ عَنْ ذَلِكَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ، وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ،

وَطَلْحَةَ، وَأُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ، فَأَمَرُوهُ بِذَلِكَ.

قَالَ: وَحَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ: أَنَّ عُرْوَةَ أَخْبَرَهُ، أَنَّ أَبَا أَيُّوبَ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ.

وَقَالَ الشَّافِعِيُّ: أَخْبَرَنَا غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ، عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذَا جَامَعَ أَحَدُنَا فَلَمْ يُنْزِلْ مَا عَلَيْهِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: يَغْسِلُ مَا مَسَّ الْمَرْأَةَ مِنْهُ، وَلْيَتَوَضَّأْ، ثُمَّ لِيُصَلِّ.

قَالَ الشَّافِعِيُّ: وَهَذَا أَثْبَتُ مِنْ إِسْنَادِ الْمَاءِ مِنَ الْمَاءِ.

هُوَ كَمَا قَالَ الشَّافِعِيُّ: فَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ: شُعْبَةُ بْنُ الْحَجَّاجِ، وَحَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، وَغَيْرُهُمْ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، نَحْوَ مَا ذَكَرَهُ الشَّافِعِيُّ.

وَهُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ أَخْرَجُهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ مِنْ حَدِيثِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ مِنْ حَدِيثِ شُعْبَةَ، وَحَمَّادٍ، وَأَبِي مُعَاوِيَةَ.

قَرَأْتُ عَلَى أَبِي مَنْصُورٍ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ الْفَرَجِ الْوَكِيلُ، أَخْبَرَكَ أَبُو طَالِبٍ عَبْدُ الْقَادِرِ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ التَّمِيمِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ مَالِكٍ الْقَطِيعِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ، فَخَرَجَ وَرَأْسُهُ يَقْطُرُ، فَقَالَ: لَعَلَّنَا أَعْجَلْنَاكَ؟ قَالَ: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: إِذَا أُعْجِلْتَ أَوْ قُحِطْتَ فَلَا غُسْلَ عَلَيْكَ، وَعَلَيْكَ الْوُضُوءُ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ ثَابِتٌ، مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، أَخْرَجَاهُ فِي الصَّحِيحَيْنِ.

وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ، فَقَالَتْ طَائِفَةٌ: لَا غُسْلَ عَلَيْهِ إِذَا جَامَعَ وَلَمْ يُنْزِلْ. رُوِّينَا ذَلِكَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، وَأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ، وَأَبِي أَيُّوبَ، وَأَبِي سَعِيدٍ، وَرَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، وَابْنِ عَبَّاسٍ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ،
ওসমান (রা.): আমি এটি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছি।

তিনি বলেন: আর আমি সে বিষয়ে আলী ইবনে আবি তালিব এবং জুবায়ের ইবনে আওয়ামকে জিজ্ঞাসা করেছি,

এবং তালহা ও উবাই ইবনে কাবকেও; তারা তাকে এরই নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসির আবু সালামাহ থেকে আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, উরওয়া তাকে জানিয়েছেন, আবু আইয়ুব তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বলতে শুনেছেন।

ইমাম শাফেয়ি বলেন: আমাদেরকে একাধিক ইলম অন্বেষণকারী হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু আইয়ুব আনসারি থেকে এবং তিনি উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ যখন সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত না হয়, তবে তার করণীয় কী? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: নারীর শরীরের যে অংশ তার স্পর্শ লেগেছে তা ধৌত করবে এবং অজু করবে, তারপর সালাত আদায় করবে।

ইমাম শাফেয়ি বলেন: এই সনদ (إسناد) টি 'পানি থেকে পানি' (অর্থাৎ বীর্যপাত হলে গোসল) সংক্রান্ত হাদিসের সনদের (إسناد) তুলনায় অধিক শক্তিশালী (أثبت)।

বিষয়টি ইমাম শাফেয়ি যেমনটি বলেছেন তেমনই; কেননা শুবা ইবনুল হাজ্জাজ, হাম্মাদ ইবনে যাইদ, ইয়াহইয়া ইবনে সাইদ আল-কাত্তান, আবু মুয়াবিয়া এবং আরও অনেকে হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে এই হাদিসটি শাফেয়ি যা উল্লেখ করেছেন তার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এটি একটি হাসান (حسن) ও সহিহ (صحيح) হাদিস। ইমাম বুখারি এটি সহিহ গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে সাইদের হাদিস থেকে সংকলন করেছেন এবং ইমাম মুসলিম এটি শুবা, হাম্মাদ ও আবু মুয়াবিয়ার হাদিস থেকে সংকলন করেছেন।

আমি আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল ফরাজ আল-ওয়াকিলের কাছে পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আবু তালিব আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ আপনাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী আত-তামিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে মালিক আল-কাতিয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া আমাদের কাছে শুবা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি জাকওয়ান আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু সাইদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক আনসার সাহাবির কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি এমন অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন যে তার মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছিল। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়ো করতে বাধ্য করেছি? তিনি বললেন: জি হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যখন তোমাকে তাড়াহুড়ো করতে বাধ্য করা হবে অথবা বীর্যপাত না হয়, তখন তোমার ওপর গোসল ফরজ নয়, বরং তোমার ওপর অজু করা ওয়াজিব।

এটি একটি সহিহ (صحيح) ও সাব্যস্ত (ثابت) হাদিস, যা সর্বসম্মত (متفق عليه); ইমামদ্বয় তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে এটি সংকলন করেছেন।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবিদের মধ্যে যারা বিজ্ঞ আলেম ছিলেন, তারা এ অধ্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। একদল আলেম বলেছেন: সহবাস করলে কিন্তু বীর্যপাত না হলে গোসল ফরজ হবে না। আমরা এটি আলী ইবনে আবি তালিব, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, উবাই ইবনে কাব, আবু আইয়ুব, আবু সাইদ, রাফি ইবনে খাদিজ, ইবনে আব্বাস এবং যাইদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি থেকে বর্ণিত (رُوِّينَا) হয়েছে বলে জেনেছি।