(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: -)
تكميل النفع بما لم يثبت به وقف ولا رفع   (محمد عمرو بن عبد اللطيف)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب : تكميل النفع بما لم يثبت به وقف ولا رفع

المؤلف : محمد عمرو بن عبد اللطيف بن محمد بن عبد القادر بن رضوان بن سليمان بن مفتاح بن شاهين الشنقيطي (المتوفى : 1429هـ)

الناشر : مكتب التوعية الإسلامية

لإحياء التراث العربي - الجيزة ، مصر

الطبعة : الأولى 1410 هـ ، 1989 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 123

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাকমিলুন নাফ' বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়া লা রাফ'উ   (মুহাম্মদ আমর ইবনে আব্দুল লতিফ)

বিভাগ: ইলাল ও হাদিস বিষয়ক প্রশ্নাবলী


বই : তাকমিলুন নাফ' বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়া লা রাফ'উ (মওকুফ ও মারফু হিসেবে যা প্রমাণিত নয় তার দ্বারা উপকারের পূর্ণতা)

লেখক : মুহাম্মদ আমর ইবনে আব্দুল লতিফ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে রিজওয়ান ইবনে সুলাইমান ইবনে মিফতাহ ইবনে শাহীন আশ-শানকিতী (মৃত্যু : ১৪২৯ হিজরি)

প্রকাশক : মাকতাবাতুত তাওইয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ

আরবি ঐতিহ্য পুনর্জীবনের জন্য - গিজা ، মিশর

সংস্করণ : প্রথম ১৪১০ হিজরি ، ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ

[বইয়ের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৩

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: -)
ـ[تكميل النفع بما لم يثبت به وقف ولا رفع]ـ

المؤلف: محمد عمرو بن عبد اللطيف

الناشر: مكتب التوعية الإسلامية

لإحياء التراث العربي - الجيزة، مصر

الطبعة: الأولى 1410 هـ، 1989 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[সেই সকল বর্ণনার মাধ্যমে উপকারের পূর্ণতা যা মাওকুফ বা মারফু হিসেবে প্রমাণিত হয়নি]

লেখক: মুহাম্মদ আমর ইবনে আব্দুল লতিফ

প্রকাশক: মাকতাবাতুত তাওইয়াহ আল-ইসলামিয়াহ

আরবি ঐতিহ্য পুনর্জীবনের জন্য - গিজা, মিশর

সংস্করণ: প্রথম ১৪১০ হিজরি, ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১)
تكميل النفع

بما لم يثبت به

وقف ولا رفع

 

كتبه

محمد عمرو عبد اللطيف

القسم الأول

من 1: 25
উপকারের পূর্ণতা সাধন

যার দ্বারা সাব্যস্ত হয়নি

মাওকুফ কিংবা মারফু বর্ণনা

 

রচনা করেছেন

মুহাম্মদ আমর আব্দুল লতিফ

প্রথম অংশ

১ হতে ২৫ পর্যন্ত
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئا أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم.

(يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون) .

(يا أيها الذين آمنوا اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساءً. واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام. إن الله كان عليكم رقيباً) .

(يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً. يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم. ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً) .

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وعلى آله وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

فإني أثناء البحث عن مادة جديدة للأقسام التالية من كتابي: ((تبييض الصحيفة)) ، والتقليب في ((حلية الأولياء)) للحافظ أبي نعيم رحمه الله، وفي كتب أخرى، كنت أجد روايات موقوفة لكثير من الأحاديث التي أعلم عدم صحتها عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، فأسر بذلك، وأقيد مواضعها عندي، ولكن عند مراجعة أسانيد بعضها يتبين لي عدم ثبوت وقفها أيضاً، فتفسد عليّ وأغتم! ويشاء الرحمن الرحيم تعالى أن ينجيني من الغم، ويهديني إلى التفكير في عمل آخر يكون صنواً لـ: ((التبييض)) ، مع افتراقه عنه في التعريف بالأحاديث التي لا صحة لها،، لا عن نبينا صلى الله عليه وعلى آله وسلم، ولا عمن رويت عنه موقوفة عليه من الصحابة والتابعين فمن بعدهم
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ এবং আমাদের আমলের অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

(হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না)।

(হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন)।

(হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য লাভ করবে)।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

আমার লিখিত গ্রন্থ 'তাবয়ীযুস সাহীফা'-এর পরবর্তী অধ্যায়গুলোর জন্য নতুন বিষয়বস্তু অনুসন্ধান এবং হাফেজ আবু নুআঈম (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'হিলয়াতুল আউলিয়া' ও অন্যান্য গ্রন্থ পর্যালোচনাকালে আমি এমন অনেক হাদিসের মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য হিসেবে) বর্ণনা পাচ্ছিলাম যে হাদিসগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ নয় বলে আমি জানতাম। এতে আমি আনন্দিত হতাম এবং সেগুলোর উৎসসমূহ নিজের কাছে লিখে রাখতাম। কিন্তু সেগুলোর কয়েকটির সনদ যাচাই করতে গিয়ে আমার কাছে স্পষ্ট হয় যে, সেগুলো মাওকুফ হিসেবেও প্রমাণিত নয়। ফলে বিষয়টি আমার কাছে পণ্ড হয়ে যেত এবং আমি ব্যথিত হতাম! অতঃপর করুণাময় দয়ালু আল্লাহ চাইলেন আমাকে এই দুঃখ থেকে মুক্তি দিতে এবং আমাকে অন্য একটি কাজের প্রতি দিকনির্দেশনা দিলেন যা 'তাবয়ীয'-এর সমতুল্য হবে। তবে এটি সেই কিতাব থেকে ভিন্ন হবে এমন সব হাদিস পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই—না আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে, আর না ওইসব সাহাবী, তাবিঈ বা তাঁদের পরবর্তী ব্যক্তিদের থেকে যাঁদের উদ্ধৃতিতে তা মাওকুফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ৪)
فشرعت في هذا الأمر ـ مستعيناً بالله ـ حتى تجمع لي قدر من الأحاديث، فيها المشهور وغيره، يمكن انتخاب خمسين منها لإخراجه في القسم الأول من الكتاب. ثم تراجعت عن هذا القدر كله خوفاً وطمعاً وإشفاقاً، خوفاً من مغبة التسرع بتضعيف آثار تتبين صحتها بعد ذلك، وفي ذلك حرج لا يخفى، فإنه: ((من كثر كلامه كثر خطؤه)) كما في بعض الآثار! وذلك يوجب عليّ عمل استدراكات وتعقبات على ذلك.

وطمعاً في سرعة الإنجاز، توطئة لطباعة هذا القسم قبل أن يتسرب إلى النفس شئ من الضجر والملل ـ مما لا ينفك عنه أحد ـ، وقد يؤدي أيضاً إلى التوقف عن الفكرة أو إرجائها.

وإشفاقاً على أخي الحبيب، الصابر بالله ـ كما لقبه أحد أفاضل علمائنا المعاصرين ـ حفظه لنا الله ـ وهو القائم على نشر كتاباتي، فإنني لم أعرف في الناشرين الذين تعاملت معهم عن كثب أصدق منه ولا أحرص على إخراج العلم الصحيح النافع للمسلمين ولا يزال ـ ثبته الله ـ صابراً على تسويقي في إنجاز بعض مصالحه ومصالح المسلمين، فاللهم زده صبراً، وسخره لإخراج ما ينفع الكافة. آمين.

ومقصودي بالإشفاق عليه، ألا يعظم حجم الكتاب، بما يترتب عليه زيادة في تكاليف القيام على نشره. لذلك كله، رأيت الاقتصار على خمسة وعشرين حديثاً فحسب ـ كنظام ((البدائل المستحسنة)) ـ بحيث يبلغ حجم القسم منه ما يقارب حجم خمسين حديثاً من صنوة المتقدم ذكره. مع الرغبة في إعداد فهارس للرجال الذين تعرضت لهم بالقدح أثناء تخريج كل حديث أورده، وكذلك ما ورد في ثنايا الكتاب من أحاديث صحيحة استدللت بها، إلى جانب الفهرس الموضوعي بإذن الله. وسميته ـ بعد تردد ـ: ((تكميل النفع بما لم يثبت به وقف ولا رفع)) . وكان أحب إلى نفسي أن يكون اسمه بعيداً عن الإطراء والتزكية ـ حتى لا أكون أقرب إلى السلامة ـ، فكنت اخترت له اسمين آخرين، أحدهما:
তাই আমি এই কাজে ব্রতী হলাম—আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে—যতক্ষণ না আমার নিকট একগুচ্ছ হাদিস সংগৃহীত হলো, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ এবং অন্যান্য হাদিস রয়েছে, যেখান থেকে কিতাবটির প্রথম খণ্ডে প্রকাশের জন্য পঞ্চাশটি হাদিস নির্বাচন করা সম্ভব ছিল। অতঃপর আমি সেই পূর্ণ পরিমাণ থেকে ফিরে আসলাম ভয়, প্রত্যাশা এবং সমবেদনার কারণে। ভয় হলো সেই পরিণতির যা কোনো বর্ণনাকে তড়িঘড়ি করে দুর্বল সাব্যস্ত করার কারণে হতে পারে, অথচ পরবর্তীতে তার বিশুদ্ধতা প্রকাশ পেতে পারে; আর এতে যে জটিলতা রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়। কেননা: ‘যার কথা অধিক, তার ভুলও অধিক’ যেমনটি কিছু বর্ণনায় এসেছে! আর এটি আমার ওপর উক্ত বিষয়ের পরিমার্জন ও অনুবর্তিতা করা আবশ্যক করে দেয়।

আর দ্রুত কাজ সমাপ্ত করার প্রত্যাশায়, যাতে কোনো প্রকার ক্লান্তি ও বিরক্তি—যা থেকে কেউ মুক্ত নয়—মনে দানা বাঁধার আগেই এই খণ্ডটি মুদ্রণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা যায়; অন্যথায় এটি কাজটিকে বন্ধ করে দিতে অথবা স্থগিত করার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আর আমার প্রিয় ভাই, আস-সাবির বিল্লাহ (আল্লাহর সাহায্যে ধৈর্যশীল)—যেমনটি আমাদের সমকালীন একজন বরেণ্য আলেম তাকে উপাধি দিয়েছেন, আল্লাহ তাকে আমাদের জন্য হিফাজত করুন—তার প্রতি সমবেদনা স্বরূপ, যিনি আমার লেখাগুলো প্রকাশের দায়িত্ব পালন করছেন। আমি আমার নিকট থেকে দেখা প্রকাশকদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি সত্যবাদী এবং মুসলমানদের জন্য বিশুদ্ধ ও উপকারী ইলম প্রকাশের ব্যাপারে অধিক যত্নবান কাউকে দেখিনি। তিনি—আল্লাহ তাকে সুদৃঢ় রাখুন—এখনও তার ও মুসলমানদের কিছু স্বার্থ আদায়ে আমার বিলম্বের বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করে যাচ্ছেন। হে আল্লাহ! আপনি তার ধৈর্য বাড়িয়ে দিন এবং যা সবার উপকারে আসে তা প্রকাশের জন্য তাকে নিয়োজিত করুন। আমিন।

আর তার প্রতি সমবেদনা বলতে আমার উদ্দেশ্য হলো, কিতাবটির কলেবর যেন বড় না হয়, যার ফলে এটি প্রকাশের ব্যয়ভার বৃদ্ধি পেতে পারে। এসব কারণেই আমি মাত্র পঁচিশটি হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই সমীক্ষণ মনে করলাম—‘পছন্দনীয় বিকল্প’ পদ্ধতি হিসেবে—যাতে এই অংশের আকার পূর্বে উল্লিখিত সমজাতীয় পঞ্চাশটি হাদিসের আকারের কাছাকাছি হয়। সাথে প্রতিটি হাদিসের তাখরিজের সময় আমি যেসব বর্ণনাকারীর সমালোচনা করেছি তাদের তালিকা, কিতাবের ভেতরে উল্লিখিত সহিহ হাদিসসমূহ যা দ্বারা আমি দলিল পেশ করেছি সেগুলোর তালিকা এবং ইনশাআল্লাহ একটি বিষয়ভিত্তিক নির্ঘণ্ট তৈরির আকাঙ্ক্ষাও রয়েছে। দ্বিধা-দ্বন্দ্বের পর আমি এর নাম রেখেছি: ‘তাকমিলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়া লা রাফউন’ (মাওকুফ ও মারফু হিসেবে যা প্রমাণিত নয়, তার মাধ্যমে উপকারের পূর্ণতা)। আমার কাছে অধিক প্রিয় ছিল এর নাম যেন অতিশয়োক্তি ও আত্ম-প্রশংসা থেকে দূরে থাকে—যাতে আমি নিরাপত্তার অধিক নিকটবর্তী হতে পারি—তাই আমি এর জন্য অন্য দুটি নাম পছন্দ করেছিলাম, তার একটি হলো:
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ৫)
((إعلام الثقف بما لم يثبت بع رفع ولا وقف)) ، والثقف ـ بتسكين القاف وكسرها ـ: ((الحاذق الفطن النابه. والآخر: ((الشفع بما لم يثبت به وقف ولا رفع)) . لكني وجدت ـ بعد استشارة أحد الأحباب ـ أن الأسمين يكتنفهما شئ من الغموض لا سيما الأول، فإن الشائع على ألسنة الناس في هذا العصر ألفاظ: ((المثقف)) و ((الثقافة)) و ((التثقيف)) مع غياب المعنى اللغوي الدقيق لها عن الكثيرين، والذي استفدناه من ((لسان العرب)) لابن منظور رحمه الله. ولفظة: ((الشفع)) أيضاً قد يخفى معناها على كثير من الناس، ومن فهمها قد لا يدرك مقصودي منها.

ومن الملاحظ أنني قد تطرقت في هذا الكتاب ـ خاصة ـ إلى أمور ليس لها صلة مباشرة بالتخريج، كالحط على أدعياء التحقيق ـ ممن هم عنه بمنأى عدالة وضبطاً! ـ وإبداء الحرف والتخويف من الاغترار بالألقاب والتحصيل العلمي، ومن استمراء التردي في آفات القلوب كالعجب والرياء والسمعة والدعوى في العلم، وحب الرياسة والمشيخة نجانا الله بفضله ومنه وكرمه منها، وأعاننا على أنفسنا بالصد عنها، ولعل هذا الاتجاه مني ـ بما يتضمن التذكير لنفسي قبل الآخرين ـ، ناتج عما يراه المرء ويسمعه ويقرؤه ويبلغه لدى احتكاكه بساحة الواقع العلمي للمسلمين من مصر وغيرها، من باب القول المشهور المنسوب لأبي الدرداء رضي الله عنه: ((وجدت الناس: اخبر تقله)) . فهذا يقطع عنق أخيه ـ الناشئ في طلب العلم ـ بقوله عنه: ((ما رأيت مثله، وما رأى مثل نفسه)) كأنه ابن تيمية آخر! وآخر يجاهر، أو يفاخر، والله أعلم ـ وهو يطالبني برؤية إجازة شيخي رحمه الله إلى الإمام النووي رحمه الله بأن ستة ـ فقط ـ من شيوخه بالإجازة مبتدعون، ويذكر كلاماً فيه أن الشيخ الفلاني قد أجازه رواية جمسع مصنفات ابن أبي الدنيا، يقولها ضاحكاً متعجباً. وثالث فتان، بدلاً من أن يقول للآباء الذين يلاحقون بناتهم، بل منهم من جرى وراءهن بالسكاكين كما حدثني الثقة المأمون! ـ: ((ارفعوا أيديكم عنهن، أعينوهن على الصون والعفاف)) ، يجلس لى الملأ قائلاً: ((خروجاً من الخلاف
((বুদ্ধিমানকে সে সম্পর্কে অবগত করা যা মারফু বা মাওকুফ হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি)), আর 'আস-সাকাফ' — ক্বফ বর্ণে সাকিন ও কাসরা উভয় পাঠে — এর অর্থ হলো: ((দক্ষ, তীক্ষ্ণধী ও সচেতন ব্যক্তি))। দ্বিতীয় নামটি হলো: ((সে বিষয়ে জোড়া প্রদান যা মাওকুফ বা মারফু হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি))। কিন্তু একজন প্রিয়জনের সাথে পরামর্শ করার পর আমি দেখতে পেলাম যে, উভয় নামের মধ্যেই কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে, বিশেষ করে প্রথমটিতে। কেননা বর্তমান যুগে মানুষের মুখে 'মুতাসাক্কিফ' (শিক্ষিত), 'সাকাফাহ' (সংস্কৃতি) এবং 'তাসকিফ' (শিক্ষাদান) শব্দগুলো অত্যন্ত প্রচলিত, অথচ অনেকের কাছেই এগুলোর সঠিক ভাষাতাত্ত্বিক অর্থ অনুপস্থিত — যা আমরা ইবনে মানযুর (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘লিসানুল আরব’ থেকে লাভ করেছি। এছাড়া 'আশ-শাফ' শব্দটির অর্থও অনেক মানুষের কাছে অস্পষ্ট হতে পারে, আর যারা এর অর্থ বোঝেন তারাও হয়তো এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে পারবেন না।

এটি লক্ষ্যণীয় যে, আমি এই বইটিতে — বিশেষভাবে — এমন কিছু বিষয় অবতারণা করেছি যার সাথে ‘তাখরিজ’ বা বর্ণনাসূত্র যাচাইয়ের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন: তাহকিক বা গবেষণার দাবিদারদের সমালোচনা করা — যারা ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভুলতার মানদণ্ডে তা থেকে বহু দূরে! — এবং প্রকৃত সত্য উন্মোচন করা; পদবি ও অর্জিত ইলম নিয়ে ধোঁকায় পড়ার ব্যাপারে এবং অন্তরের বিভিন্ন ব্যাধি যেমন: আত্মমুগ্ধতা, রিয়া (লোকদেখানো ইবাদত), সুখ্যাতি ও ইলমের মিথ্যা দাবি এবং নেতৃত্বের লোভ ও শাইখ হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় নিমজ্জিত হওয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করা। আল্লাহ যেন তাঁর দয়া, অনুগ্রহ ও করুণায় আমাদের এসব থেকে মুক্তি দেন এবং নফসকে এ থেকে ফিরিয়ে রাখতে আমাদের সাহায্য করেন। আমার এই প্রবণতা — যা অন্যের আগে নিজের নফসের জন্য নসিহত হিসেবে গণ্য — হয়তো মিশর ও অন্যান্য অঞ্চলের মুসলমানদের বর্তমান ইলমি অঙ্গনের বাস্তব অবস্থার সাথে সম্পৃক্ততার ফলে একজন ব্যক্তি যা দেখে, শোনে, পড়ে এবং তার কাছে পৌঁছে, তারই ফলাফল। এটি আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দিকে নিসবতকৃত সেই প্রসিদ্ধ উক্তির মতো: ((আমি মানুষকে পরীক্ষা করে তাদের অপছন্দনীয়ই পেয়েছি))। কেউ হয়তো তার ইলম তলবকারী উদীয়মান ভাইয়ের গর্দান কেটে দিচ্ছে (অতিরিক্ত প্রশংসা করে) এই বলে যে: ((আমি তার মতো কাউকে দেখিনি এবং সেও নিজের মতো কাউকে দেখেনি!)) — যেন সে দ্বিতীয় এক ইবনে তাইমিয়্যাহ! আবার কেউ প্রকাশ্য দাম্ভিকতা বা অহংকার করে — আল্লাহই ভালো জানেন — যখন সে আমার কাছে আমার শাইখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) পর্যন্ত পৌঁছানো ইজাজত (সনদ) দেখতে চায় এই বলে যে, তার ইজাজত দানকারী শাইখদের মধ্যে মাত্র ছয়জন বিদয়াতি। এরপর সে বিদ্রূপের হাসি ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলে যে, অমুক শাইখ তাকে ইবনে আবিদ দুনিয়ার সমস্ত রচনাবলি বর্ণনার ইজাজত দিয়েছেন। তৃতীয় আরেকজন ফিতনাবাজ ব্যক্তি; যে সকল পিতা তাদের কন্যাদের অতিষ্ঠ করে তোলে, এমনকি তাদের মধ্যে কেউ কেউ তো কন্যাদের পেছনে ছুরি নিয়ে তাড়া করে — যেমনটি আমাকে একজন নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি জানিয়েছেন! — তাদের এ কথা বলার পরিবর্তে যে: ((তোমরা তাদের ওপর থেকে তোমাদের হাত সরিয়ে নাও, তাদের সতীত্ব ও পবিত্রতা রক্ষায় সাহায্য করো)), সে জনসম্মুখে বসে বলছে: ((মতপার্থক্য থেকে বেরিয়ে আসার জন্য...))
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ৬)
في مسألة الحجاب والنقاب، نأذن للمرأة أن تستر جميع جسدها إلا الوجه والكفين)) ، كما أخبرني أخو الشدة والرخاء عفا الله عنه. ما هذا الفقه المتين، والقريحة الفاذة التي خرجت على الناس بهذا الهذيان؟ ! أفلا يعلم هذا الكائن أن معنى القاعدة الشرعية التي قررها الفقهاء: ((الخروج من الخلاف مستحب ما لم يوقع في خلاف آخر)) أن معنى ذلك الأخذ بأحوط الأقوال التي يتفق الجميع على مشروعيتها.

أم هو يقصد أن الأنقياء والنقيات من أهل الصيانة والديانة سوف يرضخون لما قال، وبذلك يذوب الخلاف بين المسلمين في المسألة؟ ! احتمالان، أحلاهما مر، وقديماً قال أحدهم:

فإن كنت لا تدري فتلك مصيبة أو كنت تدري فالمصيبة أعظم

ورابع يقول ـ عقب خطبته في الناس ـ: ((من كان عنده سؤال في كذا وكذا أو استفسار عن صحة حديث، فليذكره)) . مع أن هذا الخطيب نفسه ـ سامحه الله ـ قد حشا خطبته بأحاديث لا يحل ذكرها البتة. بل هو شاهد على نفسه أن أصاب في جميع العلوم خطأ، سوى ((علم الجرح والتعديل)) ، هكذا بالضم والله.

فيا عباد الله، رحم الله امرأ عرف قدر نفسه (1) ، فلم يبخسها حقها، ولم يتعد حدوده أيضاً فيرفعها فوق قدرها. فهل آن لهؤلاء أن يكفوا عن الدعاوى العريضة، والمديح المردي، والألقاب الضارة. هل آن لنا أن نراقب القلوب، ونصلح من الألسن، ونتقي الله فنقول قولاً سديداً؟ هل آن لغير المختص في علم من العلوم أن يكف عن تلفيق قواعد وأصول لا سلف له فيها، ولم يحسن فهمها، حتى لا يأتي بالمضحكات المبكيات، قبل العرض على جبار الأرضين والسموات؟ وأن يتوب من دعوى استعداده الإجابة في كل ما يسأل عنه من تفسير أو حكم أو حديث بغير مسوغ؟ وقد قال ابن مسعود رضي الله عنه

--------------------------------------------

(1) جعله الشيخ محمد الغزالي عفا الله عنه حديثاً نبوياً في جريدة ((الشعب)) ليوم الثلاثاء 30 جمادى الآخر 1409هـ، 7 فبراير 1989م، ولا أعلم له أصلاً عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، بل هو أثر عن عمر بن عبد العزيز لم أتحقق من صحته.
হিজাব ও নেকাবের মাসআলায় আমরা নারীকে মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি ব্যতীত তার পুরো শরীর আবৃত করার অনুমতি দিই))—যেমনটি আমাকে সুখ ও দুঃখের সাথী (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) জানিয়েছেন। এই সুদৃঢ় ফিকহ এবং অনন্য প্রতিভাটি কী, যা মানুষের সামনে এই প্রলাপ নিয়ে হাজির হয়েছে?! এই ব্যক্তি কি জানে না যে ফকিহগণ কর্তৃক নির্ধারিত শরয়ি মূলনীতি: ((মতনৈক্য থেকে বেরিয়ে আসা ততক্ষণ মুস্তাহাব যতক্ষণ তা অন্য কোনো মতনৈক্যের জন্ম না দেয়))—এর অর্থ হলো সেই সতর্কতামূলক মতটি গ্রহণ করা যার বৈধতার বিষয়ে সকলে একমত।

নাকি তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন যে আত্মমর্যাদা ও দ্বীনদারির অধিকারী পবিত্র পুরুষ ও নারীরা তার কথায় বশীভূত হয়ে যাবে এবং এর মাধ্যমে এই মাসআলায় মুসলমানদের মধ্যাকার মতনৈক্য মিটে যাবে?! দুটি সম্ভাবনা রয়েছে, যার উভয়টিই তিক্ত। অতীতে কেউ একজন বলেছিলেন:

যদি তুমি না জানো তবে তা বিপদ, আর যদি জেনে থাকো তবে বিপদ আরও ভয়াবহ।

চতুর্থ জন মানুষের সামনে খুতবা প্রদানের পর বলেন: ((অমুক অমুক বিষয়ে কারো কোনো প্রশ্ন থাকলে বা কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জানার থাকলে তা বলতে পারেন))। অথচ এই খতিব নিজেই—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন—তার খুতবাকে এমন সব হাদিস দ্বারা পূর্ণ করেছেন যা উল্লেখ করা মোটেই জায়েজ নেই। বরং তিনি নিজের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তিনি সকল বিজ্ঞানেই ভুল করেছেন, কেবল 'ইলমুল জারাহ ওয়াত তাদীল' ব্যতীত—আল্লাহর কসম, কথাটি এভাবেই (পেশ দিয়ে) উচ্চকিত।

হে আল্লাহর বান্দাগণ, আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যে নিজের মর্যাদা বুঝতে পেরেছে (১), ফলে সে নিজের ওপর জুলুম করেনি এবং নিজের সীমাও অতিক্রম করেনি যাতে নিজেকে মর্যাদার ঊর্ধ্বে আসীন করে। তবে কি সময় আসেনি যে এসকল মানুষ বড় বড় দাবি, ধ্বংসাত্মক প্রশংসা এবং ক্ষতিকর উপাধি থেকে বিরত হবে? আমাদের কি সময় আসেনি যে আমরা অন্তরের পর্যবেক্ষণ করব, জিহ্বা সংশোধন করব এবং আল্লাহকে ভয় করে সঠিক কথা বলব? কোনো বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নন এমন ব্যক্তির জন্য কি সময় আসেনি যে তিনি এমন সব মূলনীতি ও উসুল উদ্ভাবন থেকে বিরত হবেন যেগুলোর বিষয়ে তার কোনো পূর্বসূরি নেই এবং তিনি সেগুলো সঠিকভাবে বুঝতেও সক্ষম নন? যাতে আসমান ও জমিনের প্রবল প্রতাপশালী আল্লাহর সামনে পেশ হওয়ার পূর্বে এমন কোনো হাস্যাস্পদ বা করুণ পরিস্থিতি তৈরি না হয়। এবং তিনি কি সেই দাবি থেকে তওবা করবেন না যেখানে তিনি কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাফসির, হুকুম বা হাদিস সংক্রান্ত প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকেন? অথচ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) শায়খ মুহাম্মাদ আল-গাযালি (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন) একে 'আশ-শা'ব' পত্রিকায় মঙ্গলবার ৩০ জুমাদাল আখিরাহ ১৪০৯ হিজরি, ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ ঈসায়ী তারিখে একটি নববী হাদিস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এর কোনো ভিত্তি আছে বলে আমার জানা নেই, বরং এটি উমর বিন আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণিত একটি আসার (উক্তি), যার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ৭)
فيما راوه الدارمي وغيره بإسناد صحيح عنه ـ: ((إن الذي يفتي الناس في كل ما يستفتى لمجنون)) : هذا ـ عباد الله ـ فيمن هو أهل، فكيف بمن ليس بأهل؟ ! .

إذ لا يستطيع مسلم أن يرد القول بأن: ((النية هي المطية)) ، كما يردد أحد الأحبة دائماً، ولا أن ينفي أن رأس مال كل مسلم من عالم وطالب علم وعابد هو إخلاص العمل لله عز وجل، ومعالجة النية وتصحيحيها على الدوام. وقد قال النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم: (( … ثلاث لا يغل عليهن قلب امرئ مسلم: إخلاص العمل لله، والنصح لأئمة المسلمين، ولزوم جماعتهم، فإن

دعوتهم تحوط من وراءهم (1)) .

وثبت أيضاً أن صلى الله عليه وعلى آله وسلم قال: ((بشر هذه الأمة بالسناء، والدين، والرفعة، والنصر، والتمكين في الأرض، فمن عمل منهم عمل الآخرة للدنيا، لم يكن له في الآخرة من نصيب (2)) . وقد كان سلفنا الصالح رضوان الله عليهم يحترزون من أقوال وأفعال، نعدها نحن في هذه الأيام من التوافه والمحقرات. قيل لأحدهم: أدع الله لنا. قال: لا تحضرني لذلك نية. وكان شيخ الإسلام الأوزاعي رحمه الله على إمامته وجلالته ـ يكره أن يرى معتماً يوم الجمعة وحده مخافة الشهرة، فكان يرسل إلى تلاميذه: الهقل وابن أبي العشرين وعقبة بن علقمة أن اعتموا اليوم فإني أكره أن أعتم. فيا سبحان الله، هلك الذين كانوا يحبون الخمول ويمقتون الشهرة، وكثرت عمائم العجب والخيلاء حتى ظن بعض من أرخى أربع أصابع أنه قد صار بذلك إمام المسلمين ـ وفيهم ـ يا أسفى ـ شباب في مقتبل العمر. وبعد كل ذلك، فلا يظنن ظان أنني أدعى لنفسي الإخلاص أو التجرد أو الرسوخ في العلم أو طهارة القلب من الآفات.

--------------------------------------------

(1) قطعة من حديث صحيح، رواه أحمد وأبو داود وابن ماجة عن زيد بن ثابت، وأحمد وابن ماجة والحاكم عن

جبير بن مطعم، وأحمد بن أنس. وبقيت له طرق لا مجال لذكرها هنا.

(2) حديث جيد الإسناد، رواه أحمد وابن حبان والحاكم والبيهقي وغيرهم عن أبي، وصححه غير واحد.
দারেমি এবং অন্যরা তাঁর থেকে সহিহ সনদে যা বর্ণনা করেছেন—: ((নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি মানুষের জিজ্ঞাসিত প্রতিটি বিষয়েই ফতোয়া প্রদান করে, সে একজন পাগল)) : হে আল্লাহর বান্দারা—এটি তো তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে যোগ্য, তাহলে তার অবস্থা কী হবে যে একেবারেই যোগ্য নয়?! .

কেননা কোনো মুসলিমই এই কথাটি প্রত্যাখ্যান করতে পারে না যে: ((নিয়ত হলো সওয়ারি)), যেমনটি আমার এক প্রিয়জন সর্বদা বলে থাকেন; আর না কেউ অস্বীকার করতে পারে যে, আলেম, ইলম অন্বেষণকারী এবং ইবাদতকারীসহ প্রত্যেক মুসলিমের আসল পুঁজি হলো মহান আল্লাহর জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করা এবং সর্বদা নিয়তকে পর্যবেক্ষণ ও সংশোধন করা। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (( ...তিনটি বিষয়ে কোনো মুসলিমের অন্তর খেয়ানত করে না: আল্লাহর জন্য আমল একনিষ্ঠ করা, মুসলিমদের ইমামদের শুভাকাঙ্ক্ষী হওয়া এবং তাদের জামাতকে আঁকড়ে ধরা; কেননা

তাদের দোয়া তাদের পশ্চাদবর্তীদের পরিবেষ্টন করে রাখে (১))।

এটিও সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((এই উম্মতকে মর্যাদা, দ্বীন, উচ্চতা, সাহায্য এবং জমিনে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুসংবাদ দাও। তবে তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি দুনিয়ার স্বার্থে আখেরাতের আমল করবে, আখেরাতে তার জন্য কোনো অংশ থাকবে না (২))। আমাদের সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এমন সব কথা ও কাজ থেকে বেঁচে চলতেন, যেগুলোকে আমরা বর্তমানে তুচ্ছ ও নগণ্য মনে করি। তাঁদের একজনকে বলা হলো: আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তিনি বললেন: এজন্য আমার অন্তরে কোনো নিয়ত উপস্থিত নেই। শাইখুল ইসলাম আওজায়ি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর ইমামত ও উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও লোকচক্ষুর ভয়ে জুমার দিনে একাকী পাগড়ি পরা অপছন্দ করতেন। তাই তিনি তাঁর ছাত্র হাক্বল, ইবনে আবিল ইশরিন এবং উকবা ইবনে আলকামার নিকট এই মর্মে সংবাদ পাঠাতেন যে: আজ তোমরা পাগড়ি পরো, কারণ আমি একাকী পাগড়ি পরা অপছন্দ করছি। সুবহানাল্লাহ! যারা নিভৃতচারিতা পছন্দ করতেন এবং প্রসিদ্ধি অপছন্দ করতেন তারা বিদায় নিয়েছেন, আর বর্তমানে আত্মম্ভরিতা ও অহঙ্কারের পাগড়ি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এমনকি যে ব্যক্তি পাগড়ির শিমলা চার আঙুল ঝুলিয়ে দেয়, সে নিজেকে মুসলিমদের ইমাম মনে করতে শুরু করে—আর তাদের মধ্যে—আফসোস!—এমন যুবকও রয়েছে যারা জীবনের প্রারম্ভে পদার্পণ করেছে। এত কিছুর পর, কেউ যেন মনে না করে যে আমি নিজের জন্য ইখলাস, নিঃস্বার্থতা, ইলমে গভীরতা কিংবা কলুষতা থেকে হৃদয়ের পবিত্রতা দাবি করছি।

--------------------------------------------

(১) সহিহ হাদিসের অংশবিশেষ, এটি ইমাম আহমদ, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ জায়েদ বিন সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইমাম আহমদ, ইবনে মাজাহ ও হাকেম

জুবায়ের বিন মুতঈম থেকে এবং আহমদ আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। এর আরও অনেক সূত্র রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।

(২) উত্তম (জায়্যিদ) সনদের হাদিস, এটি আহমদ, ইবনে হিব্বান, হাকেম, বায়হাকি এবং অন্যরা উবাই থেকে বর্ণনা করেছেন এবং একাধিক মুহাদ্দিস একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ৮)
حاشا وكلا، على أنني أسألها الله عز وجل على الدوام، عسى أو يرزقنيها يوماً من الأيام، ويهديني فيمن هدى، فلا يطردني عن بابه، ولا يحرمني من جنابه.

(أما) بشأن هذا الكتاب، فينبغي التنبيه على أنني قد أسسته على تضعيف الألفاظ لا المعاني، فما هو كتاب تصحيح مفاهيم، ولا تثبيت معاني، ولا خوض في أصول أو فروع، ولا ذكر بدائل، ولا تقرير معنى صحيح لآية. بل هو لدفع صحة صدور الألفاظ الواردة فيه عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم أو أحد من السلف. نعم، قد أطرق إلى بعض هذه الأمور إن اقتضى المقام ذلك في بعض الأحيان. فمثلاً، إذا أثبت وضع حديث: ((أفضل الحسنات تكرمة الجلساء)) ، ووهاءه موقوفاً، فلا يلزمني إيراد ما ثبت مرفوعاً في ((أفضل الحسنات)) أو ((الأعمال)) ، أو أحبها إلى الله عز وجل، ولا إيراد ما صح في فضل إكرام الكرء جليسه. وهذا باب لو فتح لم ينغلق أبداً. وإذا ثبت ضعف حديث ما في تعيين: ((اسم الله الأعظم)) ، فلا يلزمني إيراد ما صح في هذا الباب من الأحاديث والآثار، على ألا يفهم مما قررته إهدار أهمية الإلحاح على الله عز وجل بدعوة ذي النون علي السلام: (لا إله إلا أنت سبحانك، إني كنت من الظالمين) ، بدليل أنني قد أوردت بعض ما صح في فضلها.

وإذا حكيت تضعيف حديث: ((من استمع إلى آية من كتاب الله تعالى، كتب له حسنة مضاعفة … )) ، فليس مقصدي البتة أن الاستماع إلى القرآن العظيم لا ثواب له، ولا فضل فيه. كيف، وقد جعل الله تعالى جزاءه رحمته التي وسعت كل شئ، (وإذا قرئ القرآن فاستمعوا له وأنصتوا لعلكم ترحمون) (1) ، وجعله تعالى مشهوداً تشهده ملائكة الرحمة المتعاقبة في العباد، (وقرآن الفجر. إن قرآن الفجر كان مشهوداً) (2) .

--------------------------------------------

(1) على أن الآية نزلت في القراءة خلف الإمام كما حكى الإمام أحمد رحمه الله الإجماع على ذلك. والأدلة متوافرة على ذلك كقوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((إنما جعل الإمام ليؤتم به، فإذا كبر فكبروا، وإذا قرأ فأنصتوا … ) الحديث.

(2) وأحزنني أنني قد سمعت أحد الأحباب الطيبين يستدل بهذه الآية ـ حسب فهمه، على مشروعية التحلق بعد صلاة الفجر لقراءة القرآن في جماعة. وهذا فهم غير صحيح، بل ذهب الإمام مالك رحمه الله إلى أن التحلق المذكور من الأمور المحدثة. نعم، ثبت ذلك عن بعض تابعي أهل العراق، ولكن الحق أحق أن يتبع، ومجموع الوارد عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم يأبى ذلك في هذا الوقت خاصة، فانظر رسالة ((أخذ الجنة)) (ص52: 57) .
কখনই নয় এবং মোটেও না, বরং আমি আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালীর নিকট সর্বদা এটি প্রার্থনা করি, হতে পারে তিনি কোনো একদিন আমাকে তা দান করবেন, এবং যাদের তিনি হিদায়াত দিয়েছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন, আর আমাকে তাঁর দ্বার থেকে তাড়িয়ে দেবেন না এবং তাঁর সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত করবেন না।

(আর) এই কিতাব সম্পর্কে সতর্ক করা প্রয়োজন যে, আমি একে শব্দাবলির দুর্বলতা বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছি, অর্থের ওপর নয়। সুতরাং এটি কোনো ধারণা সংশোধনের কিতাব নয়, কোনো অর্থ সাব্যস্ত করার কিতাব নয়, আর উসূল (মূলনীতি) বা ফুরু (শাখা-প্রশাখা) নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্র নয়, না এখানে কোনো বিকল্প উল্লেখ করা হয়েছে, আর না কোনো আয়াতের সঠিক অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে। বরং এটি হলো এতে বর্ণিত শব্দাবলি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম অথবা সালাফদের কারো পক্ষ থেকে সাব্যস্ত হওয়াকে খণ্ডন করার জন্য। হ্যাঁ, ক্ষেত্রবিশেষে প্রয়োজন হলে আমি কখনো কখনো এসব বিষয়ের কোনোটির দিকে ইঙ্গিত করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমি 'শ্রেষ্ঠ নেক কাজ হলো মজলিসের সাথীদের সম্মান করা' হাদিসটির জাল হওয়া এবং এটি মাওকুফ হিসেবে অত্যন্ত দুর্বল হওয়া প্রমাণ করি, তবে 'শ্রেষ্ঠ নেক কাজ' বা 'আমল' অথবা আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল সম্পর্কে মারফু হিসেবে যা সাব্যস্ত হয়েছে, তা উল্লেখ করা আমার জন্য জরুরি নয়; আর কোনো ব্যক্তির তার সাথীকে সম্মান করার ফজিলত সম্পর্কে যা সহিহ প্রমাণিত হয়েছে তাও উল্লেখ করা আবশ্যক নয়। এটি এমন এক অধ্যায় যা একবার উন্মুক্ত হলে কখনোই বন্ধ হবে না। আর যদি 'আল্লাহর ইসমে আজম' নির্ধারণে কোনো হাদিসের দুর্বলতা প্রমাণিত হয়, তবে এই বিষয়ে বর্ণিত সহিহ হাদিস ও আসারসমূহ উল্লেখ করা আমার জন্য আবশ্যক নয়। তবে আমি যা বলেছি তা থেকে যেন এমনটি না বোঝা হয় যে, যুন-নুন আলাইহিস সালামের দোয়া: 'আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি অতি পবিত্র, নিশ্চয় আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম'—এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট আকুতি-মিনতি করার গুরুত্বকে আমি তুচ্ছ করেছি। এর প্রমাণ হলো, আমি এর ফজিলত সম্পর্কে যা সহিহ প্রমাণিত হয়েছে তার কিছু অংশ উল্লেখ করেছি।

আর আমি যদি এই হাদিসটির দুর্বলতা বর্ণনা করি যে: 'যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের কোনো আয়াত মনোযোগ দিয়ে শুনল, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব লেখা হবে … ', তবে আমার উদ্দেশ্য মোটেও এটি নয় যে, মহান কুরআন শোনার কোনো সওয়াব নেই বা এতে কোনো ফজিলত নেই। তা কীভাবে সম্ভব, অথচ মহান আল্লাহ এর প্রতিদান হিসেবে তাঁর সেই রহমতকে নির্ধারণ করেছেন যা প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে: 'আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো যাতে তোমরা রহমত লাভ করতে পারো', আর আল্লাহ একে 'মাশহুদ' (উপস্থিতি লাভের বিষয়) করেছেন, যেখানে বান্দাদের মাঝে পালাক্রমে আগমনকারী রহমতের ফেরেশতারা উপস্থিত হন: 'আর ফজরের কুরআন পাঠ; নিশ্চয় ফজরের কুরআন পাঠ ফেরেশতাদের উপস্থিতির সময়'।

--------------------------------------------

(১) যদিও আয়াতটি ইমামের পেছনে কিরাত পাঠের বিষয়ে নাজিল হয়েছে, যেমনটি ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত্য) বর্ণনা করেছেন। আর এ বিষয়ে অসংখ্য দলিল বিদ্যমান রয়েছে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণী: 'নিশ্চয় ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে তাকে অনুসরণ করা হয়; সুতরাং যখন তিনি তাকবির বলেন তখন তোমরাও তাকবির বলো, আর যখন তিনি কিরাত পাঠ করেন তখন তোমরা চুপ থাকো … ' [হাদিস]।

(২) এটি আমাকে ব্যথিত করেছে যে, আমি আমার জনৈক প্রিয় ব্যক্তিকে তার নিজস্ব বুঝ অনুযায়ী এই আয়াত দ্বারা ফজর নামাজের পর জামাতবদ্ধভাবে কুরআন পাঠের জন্য হালকাহ বা গোল হয়ে বসার বৈধতার পক্ষে দলিল পেশ করতে শুনেছি। এটি একটি ভুল উপলব্ধি। বরং ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, উল্লিখিত পদ্ধতিতে হালকাহ করা নব আবিষ্কৃত বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত। হ্যাঁ, ইরাকবাসী কিছু তাবিঈর পক্ষ থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত সামগ্রিক বর্ণনাগুলো বিশেষ করে এই সময়ে এমন কাজকে প্রত্যাখ্যান করে। এ বিষয়ে 'আখযুিল জান্নাহ' রিসালাহটি (পৃষ্ঠা ৫২-৫৭) দেখুন।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ৯)
فالمقصد أن القضية قضية تصحيح وتضعيف ألفاظ لا معاني، و ((رحم الله امرءا قال خيراً، أو سكت فسلم)) .

هذا، وقد حرصت في هذا الكتاب على الترضي عن أصحاب النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم، والترحم على تابعيهم بإحسان ـ في أغلب المواضع ـ، والدعاء لأئمة المسلمين، وتوقيرهم بما يستحقون من الألفاظ الدالة على إمامتهم ومنزلتهم العلمية، مع ترك الإغماض عما يقع في كلام بعضهم على الأحاديث من السهو والخطأ اللذين لا ينفك عنهما بشر، بما يتبين لي أنه الحق والصواب إن شاء الله تعالى، سائلاً إياه أن يصلح النية ويجعله نصحاً لوجهه، مجرداً من شهوة النفس وحظ الشيطان.

إنه على كل شئ قدير، وبالإجابة جدير.

وكتبه: محمد عمرو بن عبد اللطيف بن محمد. ثم الفراغ منها صبيحة يوم الجمعة الموافق الحادي عشر من رجب 1409هـ.، والسابع عشر من فبراير 1989م.
মূল উদ্দেশ্য হলো এই যে, বিষয়টি শব্দের শুদ্ধতা ও দুর্বলতা নিরূপণের বিষয়, অর্থের নয়। আর "আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি রহম করুন যে কল্যাণকর কথা বলে অথবা চুপ থেকে নিরাপদ থাকে।"

বস্তুত, আমি এই কিতাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন, অধিকাংশ স্থানে নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণের প্রতি রহমত কামনা, মুসলিম ইমামগণের জন্য দোয়া এবং তাঁদের ইমামত ও ইলমি মর্যাদার পরিচায়ক শব্দাবলির মাধ্যমে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। এর পাশাপাশি হাদিসের ক্ষেত্রে তাঁদের কারো কারো বক্তব্যে যেসব ভুল ও বিচ্যুতি ঘটেছে—যা থেকে কোনো মানুষই মুক্ত নয়—তা এড়িয়ে না গিয়ে বরং আমার নিকট যা সত্য ও সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে তা বর্ণনা করেছি, ইনশাআল্লাহ তাআলা। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার নিয়তকে সংশোধন করে দেন এবং একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিবেদিত নসিহত হিসেবে কবুল করেন, যা নফসের কামনা ও শয়তানের অংশ থেকে মুক্ত।

নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং দোয়া কবুলের যোগ্য।

এটি লিখেছেন: মুহাম্মদ আমরু বিন আব্দুল লতিফ বিন মুহাম্মদ। অতঃপর ১১ই রজব ১৪০৯ হিজরি মোতাবেক ১৭ই ফেব্রুয়ারি ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার সকালে এর কাজ সমাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الحديث الأول:

((إذا جعلت إصبعيك في أذنك، سمعت خرير الكوثر))
. موضوع. رواه الدارقطني كما في ((الجامع الصغير)) (553) عن عائشة، رضي الله عنها. وما هو في ((سننه)) المتبادرة لدى الإطلاق، فلعله في غيرها.

وقال الحافظ المناوي رحم الله في ((الفيض)) (1/327) : ((رمز لضعفه ـ يعني السيوطي ـ، ومن حكى أنه رمز لصحته أو حسنه فقد وهم، وبين السخاوي وغيره أن فيه وقفاً وانقطاعاً، لكن يعضده ما رواه الدارقطني أيضاً عن عائشة (يعني مرفوعاً) : ((إن الله أعطاني نهراً في الجنة لا يدخل أحد إصبعيه في أذنيه إلا سمع خريره)) قالت: فكيف؟ قال: ((أدخلي إصبعيك وسدي إذنيك منهما خريره)) اهـ. قلت: وأورده الشيخ الألباني حفظه الله في ((ضعيف الجامع)) (1/170) وقال: ((موضوع)) وأحال على كتاب ((تذكرة الموضوعات)) للشيخ الفتني رحمه الله.

(وروى) عن عائشة رضي الله عنها مرفوعاً ـ بسند ضعيف ومنقطع كما تقدمت الإشارة إلأى ذلك عن الحافز السخاوي رحمه الله. ففي ((زهد هناد)) (141) و ((تفسير الطبري)) (30/207) عن وكيع عن أبي جعفر الرازي عن ابن أبي نجيح عنها قالت: ((من أحب أن يسمع خرير الكوثر، فليجعل إصبعيه في أذنيه)) . ورواه الطبري عن ثقتين عن أبي جعفر الرازي عن ابن أبي نجيح عن مجاهد عن رجل عنها بنحوه. وروى البيهقي في ((البعث)) (130) من طريق يونس بن بكير عن عيسى عن عبد الله التميمي (هو جعفر الرازي) عن ابن أبي نجيح قال ـ في قوله (إنا أعطيناك الكوثر) قال: ((نهر في الجنة. وقالت عائشة: هو نهر في الجنة، ليس أحد يدخل … )) الأثر. قلت: وإسناده ضعيف، مداره على أبي جعفر الرازي، قال الحافظ رحمه الله في ((التقريب)) (8019) : ((صدوق سئ الحفظ خصوصاً عن مغيرة)) . وأما الانقطاع، فقال
প্রথম হাদিস:

((যদি তুমি তোমার দুই আঙুল তোমার কানে প্রবেশ করাও, তবে তুমি কাউসারের কলধ্বনি শুনতে পাবে))
। এটি জাল (মাওজু)। এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন যেমনটি ‘আল-জামি আস-সাগির’ (৫৫৩) গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তবে সাধারণভাবে প্রসিদ্ধ ‘সুনান’ গ্রন্থে এটি নেই, সম্ভবত এটি তাঁর অন্য কোনো গ্রন্থে রয়েছে।

হাফেজ আল-মুনাওয়ী (রহিমাহুল্লাহ) ‘আল-ফায়জ’ (১/৩২৭) গ্রন্থে বলেছেন: ((তিনি—অর্থাৎ সুয়ূতী—এটি দুর্বল হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আর যে ব্যক্তি বর্ণনা করেছে যে তিনি এটি সহিহ বা হাসান হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, সে মূলত ভুল করেছে। সাখাভী ও অন্যান্যরা স্পষ্ট করেছেন যে এতে ‘ওয়াকফ’ (মাওকুফ হওয়া) ও ‘ইনকিতা’ (বিচ্ছিন্নতা) রয়েছে। তবে দারা কুতনী আয়েশা থেকে (মারফু হিসেবে) যা বর্ণনা করেছেন তা একে সমর্থন করে: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে জান্নাতে একটি নদী দান করেছেন; কেউ তার দুই আঙুল দুই কানে প্রবেশ করাবে না যদি না সে তার কলধ্বনি শুনতে পায়।)) তিনি বললেন: তা কীভাবে? তিনি বললেন: ((তোমার দুই আঙুল প্রবেশ করাও এবং তোমার দুই কান বন্ধ করো, ওখান থেকেই তার কলধ্বনি শোনা যাবে))। সংক্ষেপিত। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: শাইখ আলবানী (হাফিযাহুল্লাহ) এটি ‘যঈফ আল-জামি’ (১/১৭০) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ((জাল)), আর তিনি শাইখ ফাতনী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ‘তাযকিরাতুল মাওযুআত’ গ্রন্থের প্রতি নির্দেশ করেছেন।

(বর্ণিত হয়েছে) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে মারফু হিসেবে—তবে একটি দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন সনদে, যেমনটি ইতিপূর্বে হাফেজ সাখাভী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সুতরাং ‘যুহদ হান্নাদ’ (১৪১) ও ‘তাফসীর আত-তাবারী’ (৩০/২০৭) গ্রন্থে ওয়াকি থেকে, তিনি আবু জাফর আর-রাজি থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে এবং তিনি তাঁর (আয়েশা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ((যে ব্যক্তি কাউসারের কলধ্বনি শুনতে পছন্দ করে, সে যেন তার দুই আঙুল তার দুই কানে প্রবেশ করায়))। আত-তাবারী দুইজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে, তারা আবু জাফর আর-রাজি থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি একজন ব্যক্তি থেকে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এবং ইমাম বাইহাকী ‘আল-বা’স’ (১৩০) গ্রন্থে ইউনুস বিন বুকাইরের সূত্রে, তিনি ঈসা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ আত-তামীমী (যিনি মূলত জাফর আর-রাজি) থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মহান আল্লাহর বাণী ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি’ সম্পর্কে বলেছেন: ((এটি জান্নাতের একটি নদী। এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: এটি জান্নাতের একটি নদী, কেউ প্রবেশ করবে না … )) আসার (বর্ণনা)। আমি বলছি: এর সনদ দুর্বল, এর মূল কেন্দ্র হলো আবু জাফর আর-রাজি। হাফেজ (ইবনে হাজার) রহিমাহুল্লাহ ‘আত-তাক্বরীব’ (৮০১৯) গ্রন্থে বলেছেন: ((তিনি সত্যবাদী কিন্তু মুখস্থ শক্তিতে দুর্বল, বিশেষ করে মুগীরাহ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে))। আর সনদের বিচ্ছিন্নতার ব্যাপারে তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১১)
الحافظ العلائي رحمه الله في ((جامع التحصيل)) (406) : ((عبد الله بن أبي نجيح يسار المكي، ذكره ابن المديني فيمن لم يلق أحداً من الصحابة رضي الل عنهم … )) قلت: فقول العلامة الألباني حفظه الله في ((الصحيحة)) (216) ـ في حديث آخر يرويه ابن أبي نجيح عن عائشة ـ: ((قلت: وهذا إسناد رجاله كلهم ثقات رجال الشيخين ولكنه منقطع بين ابن أبي نجيح ـ واسمه عبد الله ـ وعائشة، فإنه لم يسمع منها كما قال أبو حاتم، خلافاً لابن المديني، ووقع التصريح بسماعه منها في ((صحيح البخاري)) فالله أعلم)) اهـ.

هو وهم منه عفا الله عنه، فإن الكلام الذي ذكره يتعلق بمجاهد بن جبر رحمه الله أحد شيوخ ابن أبي نجيح ـ لا بد به هو، فانظر ((الجرح والتعديل)) (8/319) و ((جامع التحصيل)) (736) و ((التهذيب)) (10/42-43) يتبين لك صحة ما ذكرت، والله الذي لا إله إلا هو، ما أوردت هذا الحديث، ولا جعلته أول حديث في هذا الكتاب من أجل توهيم شيخنا الجليل، وما كان هذا على بالي قط حين اخترت هذا الحديث، ولكنني أثناء البحث عن قضية سماع ابن أبي نجيح من الصحابة تذكرت تعليقاً قديماً لي على نسختي من ((الصحيحة)) فرأيت من اللائق إيراده في هذا المقام تنبيهاً للشيخ ونصيحة للقراء.

والمقصود أن رواية ابن أبي نجيح عن عائشة منقطعة ـ على ما في رواية وكيع ويونس بن بكير ـ، أما على رواية أبي النضر وشبابه ـ عند الطبري ـ ففي الإسناد رجل مجهول العين لم يسم. ولا مانع من أن يكون ابن أبي نجيح قد رواه تارة عن مجاهد عنه عن عائشة، وتارة كان يرسله عنها لولا أن أبا جعفر الرازي ضعيف في حديثه خلل واضطراب كثير، فلعله هو الذي كان يضطرب فيه. والعلم عند الله تعالى.

وهذا الحديث ـ لنكارته ـ اضطر بعض العلماء إلى تأويله. قال العلامة ابن القيم رحمه الله في ((حادي الأوراح)) (ص148-149) : ((وقالت عائة: … )) فذكره، قال: ((وهذا معناه ـ والله أعلم ـ أن خرير ذلك النهر يشبه الخرير الذي يسمعه حين يدخل إصبعيه في أذنيه)) . وقال المناوي:
হাফেজ আলাইহি (রহিমাহুল্লাহ) ‘জামিুত তাহসিল’ (৪০৬) গ্রন্থে বলেছেন: “আব্দুল্লাহ ইবন আবি নাজিহ ইয়াসার আল-মাক্কি; ইবনুল মাদিনি তাকে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর কারও সাক্ষাৎ পাননি ... ”। আমি বলছি: আল্লামা আলবানি (হাফিজাহুল্লাহ) ‘আস-সহিহাহ’ (২১৬) গ্রন্থে—ইবন আবি নাজিহ কর্তৃক আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিস প্রসঙ্গে—যে কথা বলেছেন: “আমি বলছি: এই সনদের সকল বর্ণনাকারী বিশ্বস্ত (সিক্বাহ) এবং শায়খায়নের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনাকারী। কিন্তু ইবন আবি নাজিহ—যার নাম আব্দুল্লাহ—এবং আয়িশার মধ্যে সনদটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি)। কেননা আবু হাতিম যেমনটি বলেছেন, তিনি তার থেকে শোনেননি, যদিও ইবনুল মাদিনি ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তবে সহিহ বুখারিতে তার থেকে শোনার (সামা’) স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে, আল্লাহই ভালো জানেন।” (উদ্ধৃতি শেষ)।

এটি তার পক্ষ থেকে একটি ভ্রম, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন। কেননা তিনি যে কথাটি উল্লেখ করেছেন তা ইবন আবি নাজিহের অন্যতম উস্তাদ মুজাহিদ ইবন জাবর (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট—স্বয়ং তার (ইবন আবি নাজিহ) সাথে নয়। সুতরাং ‘আল-জারহু ওয়াত তাদিল’ (৮/৩১৯), ‘জামিুত তাহসিল’ (৭৩৬) এবং ‘আত-তাহজিব’ (১০/৪২-৪৩) গ্রন্থগুলো দেখুন, তবে আমার বক্তব্যের সত্যতা আপনার কাছে স্পষ্ট হবে। সেই আল্লাহর কসম যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, আমি আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খের ভুল ধরার জন্য এই হাদিসটি উল্লেখ করিনি কিংবা একে এই কিতাবের প্রথম হাদিস হিসেবে নির্ধারণ করিনি। আমি যখন এই হাদিসটি নির্বাচন করি, তখন আমার মনে এই চিন্তা মোটেও ছিল না। কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম থেকে ইবন আবি নাজিহের শ্রবণের (সামা’) বিষয়টি নিয়ে গবেষণার সময় আমার ‘আস-সহিহাহ’ কপির ওপর করা আমার একটি পুরনো টীকা মনে পড়ে যায়। তাই শায়খকে সতর্ক করার জন্য এবং পাঠকদের উপদেশের খাতিরে এই স্থানে এটি উল্লেখ করাকে আমি যথাযথ মনে করেছি।

উদ্দেশ্য হলো—ওয়াকি এবং ইউনুস ইবন বুকাইরের বর্ণনা অনুযায়ী—আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে ইবন আবি নাজিহের বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি)। পক্ষান্তরে তাবারির নিকট রক্ষিত আবু নাদর এবং শাবাবাহ-এর বর্ণনায় সনদের মধ্যে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি (মাজহুলুল আইন) রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। ইবন আবি নাজিহ কখনো এটি মুজাহিদের মাধ্যমে আয়িশা থেকে বর্ণনা করা এবং কখনো তার থেকে সরাসরি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না, যদি না আবু জাফর আর-রাজি দুর্বল হতেন; তার হাদিসে অনেক ত্রুটি এবং বিশৃঙ্খলা (ইজতিরাব) রয়েছে। সম্ভবত তিনিই এতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। আর প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহর কাছেই।

এই হাদিসটি—তার আপত্তিকর বৈশিষ্ট্যের (নাকারাত) কারণে—কিছু আলেমকে এর ব্যাখ্যার (তাকবিল) আশ্রয় নিতে বাধ্য করেছে। আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ‘হাদিউল আরওয়াহ’ (পৃষ্ঠা ১৪৮-১৪৯) গ্রন্থে বলেছেন: “আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: ... ”। এরপর তিনি সেটি উল্লেখ করে বলেন: “এর অর্থ হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—সেই নহরের কলকল ধ্বনি সেই শব্দের অনুরূপ যা কোনো ব্যক্তি তার কানে আঙুল প্রবেশ করালে শুনতে পায়।” আর মুনাউয়ি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১২)
((قال ابن الأثير (1) : معناه: من أحب أن يسمع خرير الكوثر أي نظيره أو ما يشبهه ـ لا أنه يسمعه بعينه ـ بل شبيه دويه بدوى ما يسمع إذا وضع إصبعيه في أذنيه)) اهـ. وقد صح عن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم وأصحابه رضوان الله عليهم الكثير في صفة الكوثر، بدون هذه العبارة، فالله أعلى وأعلم.

--------------------------------------------

(1) والذي وجدته في ((النهاية)) (2/21) لابن الأثير رحمه الله: ((وفي حديث ابن عباس: ((من أدخل أصبعيه في أنيه سمع خرير الكوثر)) خرير الماء: صوته، أراد مثل صوت خرير الكوثر)) اهـ. فالله أعلم أين قاله باللفظ الذي ساقه المناوى، ولم أجده أيضاً من حديث ابن عباس.
((ইবনুল আসির (১) বলেন: এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি কাউসারের কলধ্বনি শুনতে পছন্দ করে—অর্থাৎ এর অনুরূপ বা এর সদৃশ কিছু—এমন নয় যে সে সরাসরি সেটিই শুনছে—বরং কানে দুই আঙুল রাখলে যা শোনা যায়, তার গুঞ্জনের সাথে এর গুঞ্জনের সাদৃশ্য রয়েছে)) ইতি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) পক্ষ থেকে কাউসারের বর্ণনায় অনেক কিছুই সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে, তবে এই শব্দগুচ্ছ ব্যতীত। আর আল্লাহই সর্বাপেক্ষা উচ্চ ও সর্বাধিক জ্ঞাত।

--------------------------------------------

(১) আর আমি ইবনুল আসির (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'আন-নিহায়াহ' (২/২১) গ্রন্থে যা পেয়েছি তা হলো: "ইবনে আব্বাসের হাদিসে রয়েছে: 'যে ব্যক্তি তার কানে দুই আঙুল প্রবেশ করাবে, সে কাউসারের কলধ্বনি শুনতে পাবে।' পানির 'খারির' (কলধ্বনি) হলো তার শব্দ; তিনি কাউসারের কলধ্বনির শব্দের মতো শব্দ বুঝিয়েছেন।" ইতি। আল্লাহই ভালো জানেন আল-মুনাউয়ি কোন শব্দে এটি উল্লেখ করেছেন, আর আমি ইবনে আব্বাসের হাদিস হিসেবেও এটি খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১৩)
الحديث الثاني:

((إذا عسر على المرأة ولدها أخذ إناء نظيفاً (1) يكتب فيه: (كأنهم يوم يرون ما يوعدون) إلى آخر الآية، و: (كأنهم يوم يرونها لم يلبثوا إلا عشية أو ضحاها) و: (لقد كان في قصصهم عبرة لأولي الألباب) إلى آخر الآبة، ثم يغسل ويسقي المرأة منه، وينضح على بطنها وفرجها)) . ضعيف جداً أو موضوع. رواه ابن السني في ((عمل اليوم والليلة)) (619) من طريق عبد الله بن محمد بن المغيرة حدثنا سفيا الثوري عن ابن أبي ليلى عن الحكم عن سعيد بن جبير عن ابن عباس مرفوعاً به. وابن المغيرة هذا واه، أتهم. قال العقيلي: ((وكان يخالف في بعض حديثه، ويحدث بما لا أصل له)) . وقال النسائي: ((روى عن الثوري ومالك بن مغول أحاديث كانا أتقى لله من أن يحدثا بها)) . وأورد له الحافظ الذهبي رحمه الله في ((الميزان)) (2/487-488) أحاديث، وقال: ((قلت: وهذه موضوعات)) . وابن أبي ليلى هو محمد بن عبد الرحمن الكوفي القاضي، قال الحافظ (6081) : ((صدوق سئ الحفظ جداً)) . والحديث أورده الهندي رحمه الله في ((كنز العمال)) (10/64) من رواية ابن السني بلفظ: ((إذا عسر على المرأة ولادتها خذ إناء نظيفاً فاكتب عليه … )) وفيه: ((ثم يغسل وتسقى المرأة منه وينضح على بطنها وفي وجهها)) . ولا يبعد أن يكون هذا هو لفظه الصحيح قبل أن تتناول الكتاب أيدي التحريف وقلة الدقة في التحقيق، ثم يدعى تخريج أحاديثه من لا ناقة له ـ في هذا الشأن ـ ولا جمل، ممعناً في إيهام القراء أنه ملتزم أو متمكن ـ والله أعلم ـ إذ يكتب على طرته: ((حققه فلان بن فلان)) ! ثم كأنه تدارك الأمر فقال في طبعة أهرى: ((خرج أحاديثه وعلق عليه)) وحذف لفظ: ((ابن)) ، فالله المستعان.

ولا أقول هذا مقراً على نفسي بالتحقيق الذي يدخل فيه النظر في المخطوطات

--------------------------------------------

(1) في النسخة المتدوالة من ((ابن السني)) : ((أخذ إناء لطيفاً)) . والظاهر أنه تحريف صوابه هذا، أو: ((أخذ إناء نظيف)) . فالله أعلم.
দ্বিতীয় হাদিস:

((যদি কোনো নারীর সন্তান প্রসব কঠিন হয়ে পড়ে, তবে একটি পরিষ্কার পাত্র নেওয়া হবে (১), যাতে লেখা হবে: (যেন তারা যেদিন তা দেখতে পাবে যা তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে) আয়াতের শেষ পর্যন্ত, এবং: (যেন তারা যেদিন তা দেখতে পাবে, সেদিন তারা এক সন্ধ্যা বা এক প্রভাতের বেশি অবস্থান করেনি) এবং: (নিশ্চয়ই তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষা রয়েছে) আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এরপর তা ধৌত করা হবে এবং তা থেকে মহিলাকে পান করানো হবে, আর তার পেট ও লজ্জাস্থানে ছিটানো হবে।)) অত্যন্ত দুর্বল অথবা জাল। এটি ইবনুস সুন্নী 'আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ' (৬১৯) গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুগীরাহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান সাওরী, তিনি ইবনু আবী লায়লা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনু আব্বাস থেকে মারফূ’ হিসেবে। আর এই ইবনুল মুগীরাহ অত্যন্ত দুর্বল, তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ রয়েছে। উকায়লী বলেন: "তিনি তার কিছু হাদিসে বিরোধিতা করতেন এবং এমন সব হাদিস বর্ণনা করতেন যার কোনো ভিত্তি নেই।" ইমাম নাসাঈ বলেন: "তিনি সাওরী এবং মালিক বিন মিগওয়াল থেকে এমন সব হাদিস বর্ণনা করেছেন যা বর্ণনা করার চেয়ে তাঁরা আল্লাহকে অনেক বেশি ভয় করতেন।" হাফেজ যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-মিযান' গ্রন্থে (২/৪৮৭-৪৮৮) তার কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমি বলি: এগুলো জাল।" আর ইবনু আবী লায়লা হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-কূফী আল-কাদী। হাফেজ (ইবনু হাজার) বলেন (৬০৮১): "তিনি সত্যবাদী, তবে তার মুখস্থ শক্তি অত্যন্ত দুর্বল।" হাদিসটি হিন্দি (রহিমাহুল্লাহ) 'কানযুল উম্মাল' গ্রন্থে (১০/৬৪) ইবনুস সুন্নীর বর্ণনা থেকে এই শব্দে উল্লেখ করেছেন: ((যদি কোনো মহিলার প্রসব কঠিন হয়ে পড়ে, তবে একটি পরিষ্কার পাত্র নাও এবং তাতে লেখ … )) আর তাতে রয়েছে: ((অতঃপর তা ধোয়া হবে এবং মহিলাকে তা থেকে পান করানো হবে এবং তার পেটে ও মুখে ছিটানো হবে))। এটি অসম্ভব নয় যে, এটাই ছিল এর সঠিক শব্দবিন্যাস, কিতাবটি বিকৃতির হাতের শিকার হওয়ার আগে এবং গবেষণার নির্ভুলতার অভাব ঘটার আগে। এরপর যারা এই বিষয়ের সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নয় এবং কোনো যোগ্যতাই রাখে না, তারা এর হাদিস সমূহের তাখরীজের দাবি করে পাঠকদের এই ভ্রান্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছে যে সে খুবই একনিষ্ঠ বা দক্ষ—আল্লাহই ভালো জানেন—যখন সে প্রচ্ছদে লেখে: "অমুকের পুত্র অমুক কর্তৃক সম্পাদিত বা তাহকীককৃত"! এরপর যেন সে বিষয়টি সংশোধন করতে চাইল এবং অন্য একটি সংস্করণে বলল: "হাদিসগুলো তাখরীজ ও টীকা প্রদান করেছেন" এবং "পুত্র" শব্দটি বাদ দিল। আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি।

আমি এটি বলছি না যে আমি পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনার মতো গভীর তাহকীকের কাজে নিজেকে যোগ্য মনে করি

--------------------------------------------

(১) ইবনুস সুন্নীর প্রচলিত সংস্করণে রয়েছে: "একটি সূক্ষ্ম পাত্র নেওয়া হবে"। স্পষ্টত এটি একটি বিকৃতি, যার সঠিক রূপ হবে এটি (পরিষ্কার পাত্র), অথবা: "একটি পরিষ্কার পাত্র নেওয়া হয়েছে"। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১৪)
والبراعة في قراءتها وفك رموزها، بل أشهد على نفسي أيضاً لا باع لي في هذا الأمر، ولذلك لم يسند إلى تحقيق كتاب مخطوط حتى هذه اللحظة. فمن كتب على طرة كتاب: ((آداب حملة القرآن)) للإمام الآحري رحمه اله ـ محولاظً اسمه إلى: ((أخلاق أهل القرآن)) ـ: ((حققه وخرج أحاديثه الشيخ محمد عمرو بن عبد اللطيف)) ـ وما حققته ولا رأيت مخطوطته بل نقلها غيري ـ أقول: من كتب ذلك، فقط غلط عليّ. وقد دعا ذلك البعض إلى اتهامي بالتصرف في اسم الكتاب باعتباري محققه ثم إن الناشر وصمني بمشيخة لست لها بأهل دون استشارتي في ذلك. وما أنا إلا عبد مذنب فقير إلى رحمة ربه الجليل، وطالب علم لم يزل في بداية الطريق. نعوذ بالله من انتحال المشيخة قبل الأوان، ومن الاغترار بما وهبنا الرحمن تبارك وتعالى من بعض فهم لقواعد علم ((مصطلح الحديث)) وأحوال طائفة من رجال الحديث ومراتبه. وما هذا ـ وحده ـ علم الحديث بفنونه وتقاسيمه، على قصور وقلة بلع، وجهل تاك أحياناً في بعض فروع العلم. ومن نظر بعين البصيرة علم أن الفضل لله تعالى وحده يسلبه متى شاء ـ ويؤتيه من يشاء (وفوق كل ذي علم عليم) .

وبعد، فقد (روى) هذا الحديث أيضاً موقوفاً على ابن عباس رضي الله عنهما من طريق أخرى عن الثوري، وعن غيره عن ابن ليلى بنحوه، ففي ((مصنف ابن أبي شيبة)) (7/385) : ((حدثنا علي بن مسهر عن ابن أبي ليلى به … )) فذكره.

ولفظة: إذا عسر على المرأة ولدها فليكتب هاتين الآيتين والكلمات في صحفة ثم تغسل فتسقى منه: بسم الله لا إله إلا هو الحليم الكريم. سبحان الله رب السموات السبع ورب العرش العظيم: 0 كأنهم يوم يرونها لم يلبثوا إلا عشية أو ضحاها) ،: (كأنهم يوم يرون ما يوعدون لم يلبثوا إلا ساعة من نهار. بلاغ فهل يهلك إلا القوم الفاسقون) . وقال حمزة بن يوسف السهمي رحمه الله في ((تاريخ جرجان)) (ص229) : ((قرأت في كتاب (الطب) لأبي يعقوب إسحاق بن إبراهيم البحري: أعطاني أبو عمران إبراهيم
আমি পাণ্ডুলিপি পাঠ এবং এর সংকেতসমূহ উন্মোচনে পারদর্শিতার দাবি করি না, বরং আমি নিজের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এই বিষয়ে আমার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এই কারণেই এখন পর্যন্ত কোনো পাণ্ডুলিপি গ্রন্থের সম্পাদনার (তাহকিক) দায়িত্ব আমার ওপর অর্পণ করা হয়নি। সুতরাং ইমাম আজুরি (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব 'আদাবুল হামালাতিল কুরআন'—যার নাম পরিবর্তন করে 'আখলাকুল আহলিল কুরআন' রাখা হয়েছে—এর প্রচ্ছদে যিনি লিখেছেন: 'এটি সম্পাদনা ও হাদিসগুলোর মান যাচাই করেছেন শায়খ মুহাম্মদ আমর বিন আব্দুল লতিফ', অথচ আমি এটি সম্পাদনা করিনি এবং এর পাণ্ডুলিপিও দেখিনি, বরং অন্য কেউ এটি নকল করেছেন; আমি বলব: যে ব্যক্তি এটি লিখেছেন, তিনি আমার ওপর অপবাদ দিয়েছেন। এটি দেখে কেউ কেউ আমাকে কিতাবের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন এই মনে করে যে আমি এর সম্পাদক। এরপর প্রকাশক আমার পরামর্শ ছাড়াই আমাকে 'শায়খ' উপাধিতে ভূষিত করেছেন যার যোগ্য আমি নই। আমি তো কেবল একজন গুনাহগার বান্দা, তার মহান রবের রহমতের মুখাপেক্ষী এবং ইলমের একজন ছাত্র যে এখনও পথের শুরুতে রয়েছে। সময়ের আগেই 'শায়খ' উপাধি ধারণ করা থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই, এবং রহমান (পরম করুণাময়) আমাদের 'হাদিস পরিভাষা' শাস্ত্রের মূলনীতি এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও স্তর সম্পর্কে যে সামান্য বোধ দান করেছেন, তা নিয়ে আত্মমগ্ন হওয়া থেকেও আল্লাহর আশ্রয় চাই। ইলমে হাদিস এর শাখা-প্রশাখা ও প্রকারভেদসহ কেবল এটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশেষ করে আমার মতো ইলমের কিছু শাখায় জ্ঞানাল্পতা এবং মাঝে মাঝে সম্পূর্ণ অজ্ঞতার ক্ষেত্রে। যে ব্যক্তি অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখবেন তিনি জানবেন যে, সকল শ্রেষ্ঠত্ব একমাত্র মহান আল্লাহর, তিনি যখন ইচ্ছা তা ছিনিয়ে নেন এবং যাকে ইচ্ছা তা দান করেন (আর প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে রয়েছেন মহাজ্ঞানী)।

অতঃপর, এই হাদিসটি অন্য সূত্রে সওরি থেকে, এবং তিনি ছাড়া অন্যরাও ইবনে আবি লায়লা থেকে অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ওপর 'মাওকুফ' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। 'মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বাহ' (৭/৩৮৫) গ্রন্থে এসেছে: 'আলী বিন মুশহির আমাদের কাছে ইবনে আবি লায়লা সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন … ' এরপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

শব্দাবলি হলো: যখন কোনো নারীর প্রসব বেদনা কঠিন হয়, তখন যেন সে একটি পাত্রে এই দুটি আয়াত ও বাক্যগুলো লেখে, এরপর তা ধুয়ে তাকে পান করানো হয়: 'বিসমিল্লাহ, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও দয়ালু। সুবহানাল্লাহ, তিনি সাত আসমানের রব এবং মহা আরশের রব: (সেদিন যখন তারা তা দেখবে, মনে হবে যেন তারা এক সন্ধ্যা বা এক সকালের বেশি অবস্থান করেনি), এবং: (সেদিন তারা যা প্রতিশ্রুত হয়েছে তা যখন দেখতে পাবে, তখন মনে হবে তারা দিনের একটি মুহূর্তের বেশি অবস্থান করেনি। এটি একটি বার্তা। সুতরাং পাপাচারী সম্প্রদায় ছাড়া আর কাউকে কি ধ্বংস করা হবে?)।' হামযাহ বিন ইউসুফ আস-সাহমি (রহিমাহুল্লাহ) 'তারিখু জুরজান' (পৃ. ২২৯) গ্রন্থে বলেছেন: 'আমি আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-বাহরির 'আত-তিব' (চিকিৎসা) গ্রন্থে পড়েছি: আবু ইমরান ইবরাহিম আমাকে দিয়েছেন...'
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১৫)
ابن هانئ كتاباً له (في الأصل ـ محرفاً ـ كتاب الله) عن شجاع بن صبيح عن مصعب بن ماهان عن الثوري عن ابن أبي ليلى عن الحكم عن مقسم عن ابن عباس … )) فذكره لأخصر مما قبله، وفيه: ((قال سفيان: يكتب بعسل أو زعفران أو نحوهما ثم يغسله فتشربها المرأة)) . ومدار الطريقين على أن ابن أبي ليلى، وقد تقدم ذكره. وفي إسناد السهمي ـ سواه ـ: ((مصعب بن ماهان)) ، وهو مختلف فيه، وقال الحافظ (6694) : ((صدوق عابد كثير الخطأ)) . والراوي عنه لم يذكر فيه السهمي (367) جرحاً ولا تعديلاً. وكذلك أبو عمرن إبراهيم ابن هانئ (139) على جلالة ترجمته عنده. فقوله في هذا الإسناد: ((عن الحكم عن مقسم)) بدلاً من: ((عن سعيد بن جبير)) إن لم يكن من سوء حفظ ابن أبي ليلى واضطرابه، فهو من قبل أحد هؤلاء. فالله أعلم.

ومع ضعف هذا الأشر، فقد عمل به الإمام أحمد رحمه الله. قال الإمام ابن القيم رحمه الله في ((زاد المعاد)) (3/180) : ((كتاب لعسر الولادة. قال الخلال: حدثني عبد الله بن أحمد قال: رأيت أبي يكتب للمرأة إذا عسر عليها ولادتها في جام (1) أبيض أو شئ نظيف، يكتب حديث ابن عباس رضي الله عنه … )) فذكره. وقال ((قال الخلال: أنبأنا أبو بكر المروذي (2) أن أبا عبد الله جاءه رجل فقال: يا أبا عبد الله تكتب لامرأة قد عسر عليها ولدها منذ يومين، فقال: قل له يجئ بجام واسع وزعفران. ورأيته يكتب لغير واحد … )) . قلت: وفي هذا دليل على أن الإمام أحمد رحمه الله كان يأخذ بالأحاديث والآثار الضعيفة إذا لم يجد في الباب غيرها، ولم يكن هناك ما يدفعها، والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) قال ابن منظور في ((لسان العرب)) (1/731) : ((والجام إناء من فضة، عربي صحيح … )) .

(2) في الأصل: ((المروزي)) بالزاي. وهذا خطأ شائع في هذه النسخة، راج على محققي الكتاب أو لم يباليا به في الطبعة التي حققاها (4/357) . والروذي نسبة إلى ((مرو الروذ)) أو المروزي فنسبة إلى ((مرو)) ، وأبو بكر هذا يعد أجل أصحاب الإمام أحمد رحمهما الله.
ইবনে হানি তার একটি কিতাবে (মূল পাণ্ডুলিপিতে বিকৃতভাবে ‘কিতাবুল্লাহ’ রয়েছে) শুজা ইবনে সাবিহ থেকে, তিনি মুসআব ইবনে মাহান থেকে, তিনি সাওরী থেকে, তিনি ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে … বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এটি পূর্বের চেয়ে আরও সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। তাতে রয়েছে: ((সুফিয়ান বলেন: মধু বা জাফরান অথবা অনুরূপ কিছু দিয়ে লিখতে হবে, এরপর তা ধুয়ে ফেলতে হবে এবং মহিলাটি তা পান করবে))। উভয় সূত্রের কেন্দ্রবিন্দু হলো ইবনে আবি লায়লা, যার কথা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সাহমীর বর্ণনাসূত্রে—অন্যজন—হলেন: ((মুসআব ইবনে মাহান)), যার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। হাফেজ (ইবনে হাজার) (৬৬৯৪) বলেছেন: ((তিনি সত্যবাদী, ইবাদতগুজার, কিন্তু অনেক ভুল করেন))। তার থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তির ব্যাপারে সাহমী (৩৬৭) কোনো ‘জারহ’ (অযোগ্যতা) বা ‘তাদিল’ (যোগ্যতা) উল্লেখ করেননি। অনুরূপভাবে আবু ইমরান ইবরাহীম ইবনে হানি (১৩৯)-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যদিও তার কাছে তার জীবনীর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। সুতরাং এই বর্ণনাসূত্রে ((সাঈদ ইবনে জুবায়েরের)) পরিবর্তে ((হাকাম থেকে মিকসামের সূত্রে)) বলাটা যদি ইবনে আবি লায়লার স্মৃতিশক্তিহীনতা বা বর্ণনার বিশৃঙ্খলার (ইযতিরাব) কারণে না হয়, তবে তা এই রাবিদের কারো পক্ষ থেকে হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এই বর্ণনাটি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) এর ওপর আমল করেছেন। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ‘যাদুল মাআদ’ (৩/১৮০) গ্রন্থে বলেছেন: ((সন্তান প্রসব কঠিন হলে তার জন্য দুআ লেখা। খাল্লাল বলেন: আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে দেখেছি যে, যখন কোনো মহিলার প্রসব কঠিন হয়ে পড়ত, তখন তিনি একটি সাদা পাত্রে (১) অথবা কোনো পরিষ্কার জিনিসে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীসটি লিখতেন...)) অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ((খাল্লাল বলেছেন: আবু বকর আল-মাররুযী (২) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আবু আবদুল্লাহর কাছে এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আবু আবদুল্লাহ, আপনি কি এমন একজন মহিলার জন্য লিখে দেবেন যার দুই দিন ধরে প্রসব বেদনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে আছে? তিনি বললেন: তাকে বলো সে যেন একটি প্রশস্ত পাত্র ও জাফরান নিয়ে আসে। আমি তাকে একাধিক ব্যক্তির জন্য লিখে দিতে দেখেছি...))। আমি বলছি: এর মধ্যে এই দলীল রয়েছে যে, ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) যঈফ হাদীস ও আছার গ্রহণ করতেন যখন তিনি উক্ত বিষয়ে অন্য কিছু পেতেন না এবং সেখানে এমন কিছু থাকত না যা একে নাকচ করে দেয়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মানযুর ‘লিসানুল আরব’ (১/৭৩১) গ্রন্থে বলেছেন: ((‘জাম’ হলো রূপার তৈরি পাত্র, যা বিশুদ্ধ আরবী শব্দ...))।

(২) মূলে ‘যা’ যোগে ‘আল-মারওয়াযী’ রয়েছে। এটি এই কপিতে একটি সাধারণ ভুল, যা কিতাবটির গবেষকদের নজর এড়িয়ে গেছে অথবা তারা যে সংস্করণটি সম্পাদনা করেছেন (৪/৩৫৭) সেখানে তারা এ ব্যাপারে গ্রাহ্য করেননি। ‘রুযী’ হলো ‘মারওয়া রুয’-এর দিকে নিসবত (সম্পর্ক), আর ‘মারওয়াযী’ হলো ‘মারওয়া’-এর দিকে নিসবত। এই আবু বকর ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যতম মহান সাথী হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১৬)
فائدة: وقد روى ابن السني (620) - عقب حديث ابن عباس الذي تقدم الكلام عنه - حديثاً آخر مرفوعاً بإسناد أتلف منه بكثير، من طريق عبيد الله عن محمد بن خنيس (في الأصل: عبد الله ـ مكبراً - وهو تحريف) حدثني موسى ابن محمد بن عطاء حدثنا بقية بن الوليد حدثني عيسى بن إبراهيم القرشي عن موسى بن أبي حبيب قال: ((سمعت علي بن الحسين يحدث عن أبيه عن أمه فاطمة رضي الله عنها، أن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم - لما دنا ولادها - أمر أم سليم وزينب بنت جحش أن تأتيا فاطمة فتقرءا عندها آية الكرسي و: (إن ربكم الله … ) إلى آخر الآية، وتعوذاها بالمعوذتين)) . وهذا إسناد قد هلهل (1) بالمرة، وفيه الآتي:

1- عبيد الله بن محمد بن خنيس، وهو الدمياطي، وقيل: الدمشقي. ترجمة بن عساكر

في ((تاريخه)) (10/732-733) برواية جماعة عنه، ولم يذكر فيه جرحاً ولا تعديلاً.

2- وشيخه موسى بن محمد بن عطاء، وهو البلقاوي الدمياطي المقدسي، أحد التلفاء.

قال العقيلي: ((يحدث عن الثقات بالبواطيل والموضوعات)) . وقال ابن حبان وغيره: ((كان يضع الحديث)) . وكذبه أبو زرعة وأبو حاتم الرازيان. فالظاهر أنه من وضعه.

3- وعيسى بن إبراهيم القرشي، وهاه ابن معين وقال أبو حاتم والنسائي: ((متورك)) .

4- وشيخه موسى بن أبي حبيب، وهو الحمصي. ضعفه أبو حاتم. وقال الذهبي في ((الميزان)) (4/202) : ((وخبرة ساقط)) . قلت: ومن قرائن تهافت هذا الحديث واختلافه، أن الزهراء رضي الله عنها ماتت بعد النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم بستة أشهر، والحسين رضي الله عنه لم يزل غلاماً صغيراً، فمتى حدثته فاطمة بذلك عن جده المعصوم صلى الله عليه وعلى آله وسلم؟ ! .

--------------------------------------------

$! هذه العبارة استخدمها الحافظ المناوى رحمه الله، في حديث آخر لا أذكره الآن.
উপকারিতা: ইবনে আস-সুন্নী (৬২০) — ইবনে আব্বাসের সেই হাদিসের পরে যার আলোচনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে — মারফু হিসেবে অন্য একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যার সনদ সেটির চেয়েও অনেক বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত। এটি ওবায়দুল্লাহ এর সূত্রে মুহাম্মদ বিন খুনাইস থেকে (মূল পাণ্ডুলিপিতে: আব্দুল্লাহ — মুকাব্বার হিসেবে — যা একটি বিকৃতি) বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: আমাকে মূসা ইবনে মুহাম্মদ বিন আতা বলেছেন, আমাদেরকে বাকিয়্যাহ বিন ওয়ালিদ বলেছেন, আমাকে ঈসা ইবনে ইব্রাহিম আল-কুরাশি বলেছেন মূসা ইবনে আবি হাবীব থেকে, তিনি বলেন: ((আমি আলী ইবনুল হুসাইনকে তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর মা ফাতিমা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) — যখন ফাতিমার প্রসবকাল ঘনিয়ে এলো — তখন উম্মে সুলাইম ও যয়নব বিনতে জাহশকে নির্দেশ দিলেন যেন তারা ফাতিমার কাছে আসে এবং তার শিয়রে আয়াতুল কুরসী ও: (নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ … ) আয়াতের শেষ পর্যন্ত পাঠ করে এবং মুআউবিযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) দ্বারা তার জন্য পানাহ চায়))। আর এই সনদটি একেবারেই জরাজীর্ণ (১), এবং এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো রয়েছে:

১- ওবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন খুনাইস, তিনি আদ-দুমইয়াতি, আবার বলা হয়েছে: আদ-দিমাশকি। ইবনে আসাকির তাঁর

((তারিখ)) গ্রন্থে (১০/৭৩২-৭৩৩) একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেখানে তাঁর ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (জারহ) বা প্রশংসা (তাদিল) উল্লেখ করেননি।

২- এবং তাঁর শিক্ষক মূসা বিন মুহাম্মদ বিন আতা, তিনি আল-বালক্বাউয়ি আদ-দুমইয়াতি আল-মাকদিসি, ধ্বংসপ্রাপ্ত বর্ণনাকারীদের একজন।

আল-উকাইলি বলেছেন: ((তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বাতিল ও বানোয়াট বিষয় বর্ণনা করেন))। ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরা বলেছেন: ((তিনি হাদিস জাল করতেন))। আবু যুরআ ও আবু হাতিম আর-রাযীদ্বয় তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, এটি তাঁরই জাল করা।

৩- এবং ঈসা ইবনে ইব্রাহিম আল-কুরাশি, ইবনে মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন এবং আবু হাতিম ও আন-নাসায়ী বলেছেন: ((পরিত্যক্ত))।

৪- এবং তাঁর শিক্ষক মূসা বিন আবি হাবীব, তিনি আল-হিমসি। আবু হাতিম তাকে দুর্বল বলেছেন। আয-যাহাবি ((আল-মিজান)) গ্রন্থে (৪/২০২) বলেছেন: ((তার বর্ণিত সংবাদ অগ্রহণযোগ্য))। আমি বলি: এই হাদিসটির অসারতা ও অসংলগ্নতার অন্যতম প্রমাণ হলো যে, আয-যাহরা (ফাতিমা) (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) নবী (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ইন্তেকালের মাত্র ছয় মাস পর ইন্তেকাল করেন, আর হুসাইন (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন) তখনও ছোট শিশু ছিলেন। তাহলে ফাতিমা কখন তাঁর নিষ্পাপ নানা (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে এই হাদিসটি তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন?!

--------------------------------------------

$! এই অভিব্যক্তিটি হাফেজ আল-মুনাওয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) অন্য একটি হাদিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যা এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهذا الحافظ الطبراني (رحمه الله) - على سعة روايته - لم يورد في ((معجمه الكبير)) (22/414-415) من رواية الحسين عنها إلا حديثين، في أحدهما الحكم عبد الله الأيلي، وهو وضاع. وفي الآخر جماعة لم يعرفهم الهيثمي، وفيه أيضاً: جندل بن والق، صدقه أبو حاتم ووثقه ابن حبان. أما مسلم فقال: متروك الحديث. ولينه البزار. والمتن الذي رواه ظاهر البطلان في فضل أمير المؤمنين علي رضي الله عنه (1) . أما عامة ما أورده الطبراني للزهراء رضي الله عنها فلا يكاد يسلم منها حديث، إما وهاه في الإسناد، أو كونه من مسند غيرها لا من مسندها هي. أو مما حدثت به عائشة رضي الله عنها قبيل أو عقيب وفاته صلى الله عليه وعلى آله وسلم - من وراية مخصوصة بعينها -، وهذا ما تبين لي من مجموع هذه الروايات: (ويأبى الله إلا أن يتم نوره ولو كره الكافرون) .

--------------------------------------------

$! وما شاع بين المسلمين في تخصيص علي بقولهم: ((كرم الله وجهه)) ، فيما لم أقف له على أصل، ولا ثبوت عن أحد السلف المتقدمين. وهؤلاء الرافضة أخزاهم الله، لا يعجبهم من أهل السنة أن يقولوا: (رضي الله عنه) ولا ((كرم الله وجهه)) ، بل يصرون على تخصيصه وغيره من آل البيت بلفظة: (عليه السلام) ، كلمة حق أريد بها باطل!!
এবং এই হাফেজ তাবারানি (রহিমাহুল্লাহ) —তাঁর বর্ণনার বিশালতা সত্ত্বেও— তাঁর 'মুজামুল কাবীর' (২২/৪১৪-৪১৫) গ্রন্থে হুসাইনের মাধ্যমে ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সূত্রে মাত্র দু’টি হাদিস উল্লেখ করেছেন। তার একটিতে রয়েছেন হাকাম আব্দুল্লাহ আল-আইলি, যিনি একজন হাদিস জালকারী। অন্য হাদিসটিতে এমন একদল ব্যক্তি রয়েছেন যাদেরকে হাইসামি শনাক্ত করতে পারেননি, এবং তাতে জানদাল বিন ওয়ালিকও রয়েছেন; আবু হাতেম তাকে সত্যবাদী বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তবে ইমাম মুসলিম বলেছেন: তিনি পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী। আর বাজ্জার তাকে দুর্বল বলেছেন। আমিরুল মুমিনীন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফজিলত সম্পর্কে তিনি যে মূল পাঠটি (মতন) বর্ণনা করেছেন, তা স্পষ্টতই বাতিল (১)। আর জাহরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সূত্রে তাবারানি যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তার প্রায় কোনো হাদিসই ত্রুটিমুক্ত নয়; হয় সেটির সনদে দুর্বলতা রয়েছে, অথবা সেটি অন্য কারো মুসনাদভুক্ত, তাঁর নিজস্ব মুসনাদ নয়। অথবা সেটি এমন কিছু যা আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের ঠিক আগে বা পরে বর্ণনা করেছেন —একটি সুনির্দিষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে—। এই বর্ণনাসমূহের সমষ্টি থেকে আমার নিকট এটিই পরিস্ফুট হয়েছে: (আর আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া ক্ষান্ত হবেন না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে)।

--------------------------------------------

১. আর মুসলমানদের মাঝে আলীর ক্ষেত্রে 'কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু' কথাটি নির্দিষ্টভাবে বলার যে প্রচলন ঘটেছে, তার কোনো ভিত্তি আমি পাইনি এবং পূর্ববর্তী সালাফদের কারো থেকেও এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। আর এই রাফেজিরা—আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন—আহলে সুন্নাতের পক্ষ থেকে 'রাদিয়াল্লাহু আনহু' কিংবা 'কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু' বলা পছন্দ করে না; বরং তারা তাঁর জন্য এবং আহলে বাইতের অন্যান্যদের জন্য বিশেষভাবে 'আলাইহিস সালাম' শব্দ ব্যবহারের ওপর জেদ ধরে। এটি এমন এক সত্য কথা, যার দ্বারা বাতিল উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা হয়েছে!!
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الحديث الثالث:

((إذا كثرت ذنوب العبد، ولم يكن له ما يكفرها من العمل، ابتلاه الله عز وجل بالحزن ليكفرها عنه))
ضعيف. رواه الإمام أحمد (6/157) - واللفظ له - والبزار (3260) كشف الأستار) وأبو نعيم في ((أخبار أصبهان)) (2/189) وعنه ابن رشيد الفهري في ((ملئ العيبة) (3/3880389) والخطيب (6/88) من طريق حسين بن علي الجعفي عن زائدة عن ليث عن مجاهد عن عائشة مرفوعاً. وكذلك الديلمي كما في ((الفردوس)) (1332) ، قال الحافظ في ((تسديد القوس)) - ونقله المحققان -: ((أحمد وأبو الشيخ من رواية مجاهد عن عائشة)) . وقال البزار: ((لا نعلم رواه بهذا الإسناد إلا وائدة، ولا عنه إلا حسين)) اهـ. قلت: وهو إسناد ضعيف، رجاله كلهم ثقات رجال الصحيح سوى ليت ـ وهو ابن أبي سليم الكوفي ـ، فضعيف اختلط كما يأتي مفصلاً بإذن الله. وكلام الحافظ البزار رحمه الله، إليه المنتهى في الدقة، فقد روى الحديث عن ليث أيضاً بإسناد ومتن سوى هذا.

وقال الحافظ المنذري رحمه الله في ((الترغيب)) (4/537) : ((رواه أحمد، ورواته ثقات إلا ليث بن أبي سليم)) .

وذكره الحافظ الهيثمي رحمه الله في ((المجمع)) في موضعين، فقال في الأول (2/291) : ((رواه أحمد، وفيه ليث بن أبي سليم وهو مدلس، وبقية رجاله ثقات)) . وقال في الثاني (10/192) : ((رواه أحمد والبزار، وإسناده حسن)) . كذا قال.

وقال الحافظ العراقي رحمه الله كما في ((تخريج الإحياء)) (3319) -: ((تقدم أيضاً في ((النكاح)) ، وهو عند أحمد من حديث عائشة: ((ابتلاه الله بالحزن)) النتهى. قلت (القائل: الزبيدي) : ذكر هناك أن فيه ليث بن أبي سليم مختلف فيه، ولفظ أحمد في ((المسند)) … ، حتى قال: ((ولكن حسن السيوطي
তৃতীয় হাদিস:

((যখন বান্দার গুনাহ অনেক বেড়ে যায় এবং তা মোচনের মতো কোনো আমল তার থাকে না, তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে চিন্তায় লিপ্ত করেন যাতে তিনি তার পক্ষ থেকে তা মোচন করে দেন))
দুর্বল। এটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ (৬/১৫৭)—শব্দসমূহ তাঁর—এবং আল-বাযযার (৩২৬০, কাশফুল আস্তার) এবং আবু নুয়াইম 'আখবার আসবাহান' (২/১৮৯) গ্রন্থে এবং তাঁর সূত্রে ইবন রুশাইদ আল-ফিহরি 'মিলউল আইবাহ' (৩/৩৮৮-৩৮৯) গ্রন্থে এবং আল-খতিব (৬/৮৮) হুসাইন ইবন আলী আল-জুফী-এর সূত্রে যায়েদাহ থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনুরুপভাবে দায়লামি 'আল-ফিরদাউস' (১৩৩২) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাফিজ (ইবন হাজার) 'তাসদীদুল কাউস' গ্রন্থে বলেছেন—এবং তা মুহাক্কিকদ্বয় উদ্ধৃত করেছেন—: "আহমাদ ও আবুশ শাইখ মুজাহিদ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন।" এবং আল-বাযযার বলেছেন: "আমাদের জানা মতে এই সনদে যায়েদাহ ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি এবং তার থেকে হুসাইন ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।" ইতি। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এটি একটি দুর্বল সনদ, এর সকল বর্ণনাকারী সহীহ-এর বর্ণনাকারী এবং নির্ভরযোগ্য, লাইস—অর্থাৎ ইবন আবি সুলাইম আল-কুফি—ব্যতীত। তিনি দুর্বল, তার স্মৃতি বিভ্রাট ঘটেছিল যেমনটি আল্লাহর ইচ্ছায় বিস্তারিতভাবে সামনে আসবে। হাফিজ আল-বাযযার (রহ.)-এর বক্তব্য সূক্ষ্মতার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, কেননা তিনি লাইস থেকে এই সনদ ও মতন ছাড়াও হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

হাফিজ আল-মুনযিরি (রহ.) 'আত-তারগীব' (৪/৫৩৭) গ্রন্থে বলেছেন: "আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য লাইস ইবন আবি সুলাইম ছাড়া।"

হাফিজ আল-হাইসামি (রহ.) 'আল-মাজমা' গ্রন্থে এটি দুই স্থানে উল্লেখ করেছেন; প্রথম স্থানে (২/২৯১) তিনি বলেছেন: "আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন, এতে লাইস ইবন আবি সুলাইম রয়েছেন যিনি মুদাল্লিস, এবং অবশিষ্ট বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।" দ্বিতীয় স্থানে (১০/১৯২) তিনি বলেছেন: "আহমাদ ও বাযযার এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান।" তিনি এমনই বলেছেন।

হাফিজ আল-ইরাকি (রহ.) 'তাখরিজুল ইহয়া' (৩৩১৯) গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন: "এটি পূর্বে 'বিবাহ' অধ্যায়েও অতিবাহিত হয়েছে, এবং এটি আহমাদ-এর নিকট আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত: 'আল্লাহ তাকে চিন্তায় লিপ্ত করেন' ইতি। আমি (মন্তব্যকারী যুবাইদী) বলছি: সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতে লাইস ইবন আবি সুলাইম রয়েছেন যাকে নিয়ে মতভেদ আছে, এবং মুসনাদ আহমাদে শব্দের বিন্যাস … , এমনকি তিনি বলেছেন: "কিন্তু সুয়ূতী একে হাসান বলেছেন।"
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وكأنه رجح جانب التوثيق فيه، والله أعلم)) . قلت: كلا، بل لعله ذهول أو غير ذلك، فإن ليثاً عند الحافظ السيوطي رحمه الله من المقطوع بضعفهم، بل حكم ببطلان بعض أحاديث له من جهة المتن كما يأتي في الحديث التاسع عشر بإذن الله. والحديث في ((الجامع الصغير)) (838) مرموزاً له بالحسن.

قال المناوى (1/343) - بعد حكاية كلام المنذري والعراقي والهيثمي -: (( … وقد رمز المصنف لحسنه)) .

أما الإسناد الآخر الذي أشرنا إليه، فهو ما رواه البيهقي في ((شعب الإيمان)) (2/3/134/ب) من طريق أحمد بن عمران الأخنسي قال: سمعت أبا بكر ابن عياش وعبد الرحمن المحاربي عن ليث عن الحكم بن عتيبة رفعه قال: ((إذا كثرت ذنوب العبد … )) ، فذكره بنحو مما تقدم.

والأخنسي هاذ واه، قال أبو زرعة: ((كتبت عنه ببغداد، وكان كوفياً، وتركوه)) . وقال البخاري والأزدي: ((منكر الحديث)) ، ومع ذلك وثقه ابن عدي وقال ابن حبان في ((ثقاته)) : ((مستقيم الحديث)) . وقد توبع على روايته عن أبي بكر بن عياش وحده - فيما أعلم - بلفظ يختلف عن هذا، فعند عبد الله ابن الإمام أحمد في ((زوائد الزهد)) (ص10) وعند الخطيب (7/111) عن بيان ابن الحكم حدثنا محمد بن حاتم أبو جعفر عن بشر بن الحارث (1) أبنأنا أبو بكر بن عياش عن ليث عن الحكم مرفوعاً: ((إذا قصر العبد في العمل، ابتلاه الله بالهم)) .

ورواه أيضاً الديلمي كما في ((الفردوس)) (1147) ، بلفظ: ((بالحزن)) . قال الحافظ في (تسديد القوس)) : ((الحكم بن عمير)) يعني أن الحكم الذي أرسل هذا الحديث هو ابن عمير المجهول الذي لم تثبت صحبته من وجه يعتمد عليه، وليس الحكم بن عتيبة الفقيه الكوفي المشهور، ولا أدري ما حجة الحافظ رحمه الله في هذا الجزم، وليث لم أجد له رواية لا عن هذا ولا عن ذاك -، مع أن الأشبه أن يكون بلديه الحكم بن عتيبة -، والحديث في الحالين غير متصل،

--------------------------------------------

$! ثم وجدته في ((الحلية)) (8/344) عن بشر موقوفاً عليه بلفظ: ((إذا قل عمل العبد ابتلى بالهم)) . وشيخ أبي نعيم فيه: أبو الحسن أحمد بن محمد بن مقسم وهو واه ليس بثقة.
মনে হচ্ছে তিনি এতে নির্ভরযোগ্যতার দিকটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন, আল্লাহই ভালো জানেন। আমি বলছি: মোটেও না, বরং সম্ভবত এটি অসাবধানতা বা অন্য কিছু, কেননা হাফেজ সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট লাইস নিশ্চিতভাবেই দুর্বল বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত; এমনকি তিনি মতন বা মূল পাঠের দিক থেকে তার কিছু হাদিসের বাতুলতা বা অসারতারও হুকুম দিয়েছেন, যেমনটি ইনশাআল্লাহ উনিশতম হাদিসে আসবে। আর 'আল-জামি আস-সগির' (৮৩৮) গ্রন্থে হাদিসটিকে 'হাসান' প্রতীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মুনাবি (১/৩৪৩) -মুনজিরি, ইরাকি এবং হাইসামির বক্তব্য বর্ণনা করার পর- বলেছেন: (( ...আর গ্রন্থকার একে 'হাসান' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন))।

অন্য যে সনদের দিকে আমরা ইঙ্গিত করেছি, তা হলো যা বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' (২/৩/১৩৪/খ) গ্রন্থে আহমাদ ইবনে ইমরান আল-আখ্নাসি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইবনে আইয়াশ এবং আব্দুর রহমান আল-মুহারিবি-কে লাইস থেকে, তিনি হাকাম ইবনে উতাইবাহ থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: ((যখন বান্দার গুনাহ বেড়ে যায়...)), অতঃপর তিনি পূর্বের মতো উল্লেখ করেছেন।

আর এই আখ্নাসি অত্যন্ত দুর্বল; আবু জুরআ বলেছেন: ((আমি তার থেকে বাগদাদে লিখেছি, তিনি কুফাবাসী ছিলেন, কিন্তু তারা তাকে ত্যাগ করেছেন))। বুখারি এবং আজদি বলেছেন: ((মুনকারুল হাদিস))। তা সত্ত্বেও ইবনে আদি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তার 'আস-সিকাত' গ্রন্থে বলেছেন: ((তার হাদিস সঠিক))। আমার জানামতে কেবল আবু বকর ইবনে আইয়াশের বর্ণনায় ভিন্ন শব্দে তার অনুসরণ পাওয়া যায়; ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহর 'যাওয়াইদুয যুহদ' (পৃ. ১০) এবং খতিবের (৭/১১১) বর্ণনায় বয়ান ইবনুল হাকাম থেকে—তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে হাতিম আবু জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনুল হারিস (১) থেকে—তিনি বলেন, আবু বকর ইবনে আইয়াশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন লাইস থেকে, তিনি হাকাম থেকে মারফু সূত্রে: ((যখন বান্দা আমলে ত্রুটি করে, তখন আল্লাহ তাকে দুশ্চিন্তায় লিপ্ত করেন))।

দায়লামি এটি 'আল-ফিরদাউস' (১১৪৭) গ্রন্থে ((দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে)) শব্দে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ 'তাসদিদুল কাউস' গ্রন্থে বলেছেন: ((হাকাম ইবনে উমাইর)) অর্থাৎ যে হাকাম এই হাদিসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি হলেন ইবনে উমাইর, যিনি একজন মাজহুল ব্যক্তি এবং নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে যার সাহাবি হওয়া সাব্যস্ত হয়নি। তিনি কুফার বিখ্যাত ফকিহ হাকাম ইবনে উতাইবাহ নন। আমি জানি না হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই দৃঢ়তার স্বপক্ষে প্রমাণ কী, আর আমি লাইসের কোনো বর্ণনা এর কোনোটি থেকেই পাইনি—যদিও এটি অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ যে তিনি তার দেশি হাকাম ইবনে উতাইবাহ হবেন—যাই হোক, উভয় ক্ষেত্রেই হাদিসটি মুত্তাসিল বা অবিচ্ছিন্ন নয়।

--------------------------------------------

অতঃপর আমি এটি 'আল-হিলয়াহ' (৮/৩৪৪) গ্রন্থে বিশর থেকে মাওকুফ হিসেবে এই শব্দে পেয়েছি: ((যখন বান্দার আমল কমে যায়, তখন সে দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয়))। আর এতে আবু নুয়াইমের উস্তাদ হলেন আবুল হাসান আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মিকসাম, যিনি অত্যন্ত দুর্বল এবং নির্ভরযোগ্য নন।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২০)
أما رواية الأخنسي المتقدمة،، والتي تنص على أنه: ((ابن عتيبة)) ، فلا يؤبه لها. وله علة أخرى. ففي الإسناد أيضاً: بيان بن الحكم، ترجمة الخطيب في ((تاريخ بغداد)) من رواية عبد الله عنه، ولم يذكر فيه جرحاً ولا تعديلاً، وقال الذهبي في ((الميزان)) (1/356) : ((لا يعرف)) ، وذكر له هذا الحديث وقال: ((معضل)) .

ونخلص من ذلك أن الإسناد إلى أبي بكر بن عياش والمحاربيعن ليث لم يثبت أصلاً، وأن الصحيح عن ليث - على ضعفه - روايته عن مجاهد عن عائشة موصولاً باللفظ الأول. ومن أجل ذلك تركت إعلاله بابن عياش إذ لا مدخل له فيه. والأصل فيه القبول والتوثيق ما لم تثبت مخالفته للأثبات، ولم تثبت.

(ملحوظة) : ولا يغتر برواية الخطيب للحديث، بلفظ: ((إذا كان للعبد ذنوب وخطايا ولم يكن له عمل صالح، ابتلى بالغموم والأحزان ليكون كفارة لذنوبه)) . ففي إسنادها - سوى ليث -: عمربن مدرك الرازي وهو متروك كذب، فلعل هذه التزيدات منه، والراوي عنه لم يذكر فيه الخطيب جرحاً ولا تعديلاً. وشيخه لم أهتد به إليه.

(أما) الراوية الموقوفة، فقد روى بعض الرافضة هذا الحديث عن الحكم ابن عتيبة، فألصقوه بجعفر الصادق رحمه اللله، ففي ((أمالي المفيد)) (ص24،23) من طريق الحسين بن سعيد، عن ابن أ [ي عمير، عن إسماعيل بن إبراهيم، عن الحكم بن عتيبة قال: قال أبو عبد الله عليه السلام: ((إذا العبد إذا كثرت ذنوبه)) اهـ. وفي إسناده جماعة من الشيعة الذين لا يوثق بهم، والذين لا يتبين ضدقهم من كذبهم، والذين قال فيهم الذهبي رحمه الله في ((الميزان)) (1/5-6) - لدى كلامه عن البدعة الصغرى والبدعة الكبرى -: (( … ثم بدعة كبرى، كالرفض الكامل والغلو فيه والحط على أبي بكر وعمر رضي الله عنهما، والدعاء إلى ذلك، فهذا النوع لا يحتج بهم ولا كرامة. وأيضاً فما أستحضر الآن في هذا الضرب رجلاً
তবে আখনিসীর পূর্বোক্ত বর্ণনাটি, যা একে 'ইবনে উতাইবাহ' হিসেবে উল্লেখ করেছে, সেদিকে লক্ষ্য করার প্রয়োজন নেই। এর আরও একটি ত্রুটি রয়েছে। আর তা হলো এর সনদে ‘বায়ান ইবনুল হাকাম’ রয়েছেন। খাতীব আল-বাগদাদী তার ‘তারীখু বাগদাদ’-এ আবদুল্লাহ থেকে তার জীবনী উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেখানে তার ব্যাপারে কোনো 'জারহ' (সমালোচনা) বা 'তাদীল' (প্রশংসা) উল্লেখ করেননি। ইমাম যাহাবী ‘আল-মিযান’ (১/৩৫৬) গ্রন্থে বলেছেন: 'তিনি পরিচিত নন', এবং তার সূত্রে এই হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন: 'এটি মু’দাল' (বিচ্ছিন্ন)।

এর থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, লাইস থেকে আবু বকর ইবন আইয়্যাশ এবং আল-মুহারিবীর সনদটি আদৌ প্রমাণিত নয়। বরং লাইসের বর্ণনার ক্ষেত্রে—তা দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও—সঠিক হলো মুজাহিদ থেকে আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত প্রথম শব্দমালার মারফু বর্ণনাটি। এ কারণেই আমি ইবন আইয়্যাশকে এই বর্ণনার ত্রুটির কারণ হিসেবে গণ্য করা ছেড়ে দিয়েছি, কারণ এখানে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর বর্ণনাকারীর ব্যাপারে মূল নীতি হলো তার বর্ণনা গ্রহণ করা এবং তাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা, যতক্ষণ না নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সাথে তার বিরোধিতা প্রমাণিত হয়; আর এখানে তা প্রমাণিত হয়নি।

(দ্রষ্টব্য): খতীব আল-বাগদাদীর বর্ণিত হাদীসটির এই শব্দমালা দ্বারা যেন কেউ প্রতারিত না হন: "যখন কোনো বান্দার গুনাহ ও অপরাধ অনেক হয়ে যায় এবং তার কোনো সৎ কাজ থাকে না, তখন তাকে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ-কষ্টে লিপ্ত করা হয় যাতে তা তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।" কারণ এর সনদে—লাইস ছাড়াও—উমর ইবন মুদরিক আর-রাযী রয়েছেন, যিনি প্রত্যাখ্যাত ও মিথ্যাবাদী। সম্ভবত এই অতিরিক্ত অংশটুকু তারই কারসাজি। আর তার থেকে যিনি বর্ণনা করেছেন, তার ব্যাপারে খতীব কোনো সমালোচনা বা প্রশংসা উল্লেখ করেননি। এবং তার উস্তাদ সম্পর্কেও আমি কোনো তথ্য পাইনি।

(আর) মাওকুফ বর্ণনার ক্ষেত্রে বলতে হয় যে, কিছু রাফেযী এই হাদীসটি হাকাম ইবন উতাইবাহ থেকে বর্ণনা করেছে এবং একে জাফর আস-সাদিক (রহ.)-এর সাথে জুড়ে দিয়েছে। যেমন ‘আমালিল মুফীদ’ (পৃষ্ঠা ২৩, ২৪) গ্রন্থে হুসাইন ইবন সাঈদ থেকে, ইবন আবী উমাইর থেকে, ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম থেকে এবং হাকাম ইবন উতাইবাহর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আবু আবদুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "যখন বান্দার গুনাহ অনেক হয়ে যায়..."। এর সনদে শিয়াদের এমন এক দল রয়েছে যাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না, এবং যাদের সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করা যায় না। ইমাম যাহাবী (রহ.) তাদের সম্পর্কে ‘আল-মিযান’ (১/৫-৬) গ্রন্থে ‘বিদআতে সুগরা’ (ছোট বিদআত) এবং ‘বিদআতে কুবরা’ (বড় বিদআত) প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: (( … অতঃপর বড় বিদআত, যেমন পূর্ণাঙ্গ রাফেযী মতবাদ, এতে বাড়াবাড়ি করা এবং আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে হেয় করা এবং এর দিকে মানুষকে আহ্বান করা; এ ধরনের লোকদের বর্ণনা দলীল হিসেবে গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের কোনো সম্মান নেই। তাছাড়া, এই শ্রেণির কোনো ব্যক্তির কথা এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই যে...))
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২১)
صادقاً ولا مأموناً، بل الكذب شعارهم، والتقية والنفاق دثارهم، فكيف يقبل نقل من هذا حاله! حاشا وكلا. فالشيعي الغالي في زمان السلف وعرفهم هو من تكلم في عثمان والزبير وطلحة ومعاوية وطائفة ممن حارب علياً رضي الله عنه، وتعرض لسبهم. والغالي في زماننا وعرفنا هو الذي يكفر هؤلاء السادة، ويتبرأ من الشيخين أيضاً، فهذا ضال معثر … )) قلت: والذي وقعت على كلام فيه الآن منهم: ((الحسين بن سعيد)) . قال الحافظ في ((اللسان)) (2/284) : ((ذكره الطوسي والكشي في الراوة عن علي بن موسى الرضا وغيره، له تصانيف. روى عن الحسين بن الحسن بن أبان وأحمد بن محمد بن عيسى القمي)) . قلت: وإسماعيل بن إبراهيم - رواية عن الحكم - لم أدر من يكون؟ وانظر ترجمة المفيد نفسه، واسمه: ((محمد بن محمد بن النعمان البغدادي)) في ((السير)) (17/344-345) و ((اللسان)) (5/368) . والله الهادي إلى سواء السبيل، لا رب سواه.

أقول: ومن أمارات كونه ملصقاً بجعفر بن محمد رحمهما الله، أنني لم أجد للحكم رواية عنه في ترجمة كل منهما من ((تهذيب الكمال)) مع أنع لا يحسن إغفال مثل ذلك، فالله أعلى وأعلم.

استدراك:

وراوي الأثرعن الحسي بن سعيد: أحمد بن محمد بن عيسى القمي وجدته بعد في ((اللسان)) (1/260) وقال: (( … شيخ الرافضة بقم. له تصانيف شهيرة..)) .

وقد أسندوه أيضاً إلى علي رضي الله عنه بلفظ: ((من قصر بالعمل ابتلى بالهم..)) كما في ((النهج)) وعزاه صاحب ((مصادر نهج البلاغة وأسانيده)) (4/113) إلى كتاب ((غرر الحكم)) (ص295) ، وهو محذوف الأسانيد، لم أجد لمؤلفه ترجمة.
সত্যবাদী বা নির্ভরযোগ্যও নয়, বরং মিথ্যা তাদের ভূষণ এবং তাকিয়া ও নিফাক তাদের পোশাক; সুতরাং যার অবস্থা এমন, তার বর্ণনা কীভাবে গ্রহণ করা যায়! কক্ষনো না এবং কোনোভাবেই নয়। পূর্বসূরিদের (সালাফ) যুগে এবং তাদের পরিভাষায় চরমপন্থী শিয়া (গালি) ছিল সেই ব্যক্তি, যে উসমান, যুবাইর, তালহা, মুআবিয়া এবং একদল সাহাবী—যারা আলি (রা.)-এর সাথে যুদ্ধ করেছিলেন—তাদের সমালোচনা করত এবং তাদের গালিগালাজ করত। আর আমাদের সময়ে এবং পরিভাষায় চরমপন্থী হলো সেই ব্যক্তি, যে এই মহান ব্যক্তিদের কাফির মনে করে এবং শাইখাইন (আবু বকর ও উমর)-এর সাথেও সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করে। সে পথভ্রষ্ট এবং বিভ্রান্তিকর … )) আমি বলছি: এখন আমি তাদের মধ্য থেকে যার বক্তব্যের সন্ধান পেয়েছি, তিনি হলেন: "হুসাইন ইবনে সাঈদ"। হাফিজ (ইবনে হাজার) 'আল-লিসান' (২/২৮৪) গ্রন্থে বলেছেন: "তূসী এবং কাশশী তাকে আলি ইবনে মুসা আল-রিদা ও অন্যদের থেকে বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন, তার বহু কিতাব রয়েছে। তিনি হুসাইন ইবনুল হাসান ইবনে আবান এবং আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আল-কুম্মী থেকে বর্ণনা করেছেন।" আমি বলছি: আর ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম—যিনি হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন—আমি জানি না তিনি কে? আর আপনি স্বয়ং আল-মুফীদের জীবনী দেখুন, যার নাম: "মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুন নুমান আল-বাগদাদি", 'আদ-দুওয়াল' (১৭/৩৪৪-৩৪৫) এবং 'আল-লিসান' (৫/৩৬৮) গ্রন্থে। আল্লাহই সঠিক পথের দিশারী, তিনি ছাড়া কোনো রব নেই।

আমি বলছি: জাফর ইবনে মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন)-এর সাথে এটি জুড়ে দেওয়ার একটি আলামত হলো, আমি 'তহজীবুল কামাল' গ্রন্থে তাদের প্রত্যেকের জীবনীতে হাকামের কোনো বর্ণনা পাইনি, অথচ এ ধরনের বিষয় উপেক্ষা করা সংগত নয়। আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বজ্ঞ।

পরিশিষ্ট (ইস্তিদরাক):

আর হুসাইন ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনাটির বর্ণনাকারী হলেন: আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা আল-কুম্মী; আমি পরবর্তীতে তাকে 'আল-লিসান' (১/২৬০) গ্রন্থে পেয়েছি এবং সেখানে বলা হয়েছে: (( … কোম (শহর)-এর রাফেযীদের শাইখ। তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থাদি রয়েছে.. ))।

তারা এটিকে আলি (রা.)-এর সূত্রেও এই শব্দে বর্ণনা করেছে: "যে ব্যক্তি আমলের ক্ষেত্রে অবহেলা করে সে দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয়..", যেমনটি 'নাহজুল বালাগাহ' গ্রন্থে রয়েছে। আর 'মাসাদিরু নাহজিল বালাগাহ ওয়া আসানিদিহি' (৪/১১৩) এর লেখক এটিকে 'গুরারুল হিকাম' (পৃষ্ঠা ২৯৫) গ্রন্থের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন, যা সনদবিহীন একটি গ্রন্থ; আমি এর লেখকের কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌الحديث الرابع:

إن رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((أري الناس قبله أو ما شاء الله من ذلك، فكأنه تقاصر أعمال أمته أن لا يبلغوا من العمل مثل الذي بلغ غيرهم في طول العمر، فأعطاه الله ليلة القدر خير من ألف شهر))
.

ضعيف. رواه الإمام مالك رحمه الله في ((الموطأ)) (1/99) - (تنوير الحوالك للسيوطي) من رواية يحيى بن يحيى عن زياد ب عبد الرحمن عنه أنه سمع من يثق به من أهل العلم يقول: … فذكره. وهذا إسناد ضعيف لعدم اتصاله، عن رجل أبهمه الإمام مالك رحمه الله مع إخباره بوثوق به- على خلاف عند أهل العلم في قبول المبهم بصيغة التعديل. فعلى القول بقبول ذلك منه رحمه الله فالإسناد مرسل إن كان شيخه هذا تابعياً، وإلا فمعضل والعلم عند الله تعالى.

قال الحافظ السيوطي رحمه الله في ((التنوير)) : ((قال ابن عبد البر: هذا لا يعرف في غير ((الموطأ)) لا مسنداً ولا مرسلاً ، وهو أحد الأحاديث التى انفرد بها مالك. قلت: لكن له شواهد من حيث المعنى مرسلة، فأخرج ابن أبي حاتم … )) فذكر ما سنورده ونجيب عنه بحول الله وقوته. وعن مالك رواه البيهقي في ((شعب الإيمان)) كما في ((الدر المنثور)) (6/371) .

(وروى) معناه من حديث ابن عباس، ومرسل مجاهد، معضل علي بن عمرة الدمشقي 0 أحد الهلكي -، ومن مقطوع مجاهد - ببعضه - حكاية عن بني إسرائيل - دون أن يصرح برفعه -، مرسلاً بباقيه كما يأتي.

(أما) حيث ابن عباس، فقال الإمام البغوي رحمه الله في (تفسيره)) (4/512) : ((قال عطاء عن ابن عباس: ذكر لرسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم رجل من بني إسرائيل حمل السلاح على عاتقه في سبيل الله ألأف شهر، فعجب رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم لذلك، وتمنى ذلك لأمته فقال:
‌‌চতুর্থ হাদিস:

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে তাঁর পূর্ববর্তী মানুষদের (আয়ু) দেখানো হয়েছিল অথবা এ সংক্রান্ত আল্লাহ যা চেয়েছিলেন তা দেখানো হয়েছিল। ফলে তিনি তাঁর উম্মতের আমলগুলোকে (পূর্ববর্তীদের তুলনায়) কম মনে করলেন যে, তারা দীর্ঘায়ুপ্রাপ্ত অন্যদের মতো আমলের স্তরে পৌঁছাতে পারবে না। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে লাইলাতুল কদর দান করেন, যা এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
.

যঈফ (দুর্বল)। ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এটি ‘মুয়াত্তা’ (১/৯৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন - (সুয়ূতী রহ.-এর ‘তানভীরুল হাওয়ালেক’); ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া-এর বর্ণনায় যিয়াদ ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তিনি ইমাম মালিক থেকে যে, তিনি ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্য থেকে এমন একজনের নিকট শুনেছেন যাকে তিনি নির্ভরযোগ্য মনে করেন, তিনি বলেন: … অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন। এই সনদটি সূত্রবিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে দুর্বল; ইমাম মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যাকে তিনি অস্পষ্ট রেখেছেন যদিও তিনি তাঁর নির্ভরযোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন—তবে ‘তাদিল’ (নির্ভরযোগ্যতার ঘোষণা) প্রদানের মাধ্যমে অস্পষ্ট ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে আহলে ইলমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং তাঁর (ইমাম মালিকের) পক্ষ থেকে এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার মত অনুযায়ী, যদি তাঁর এই উস্তাদ তাবেঈ হয়ে থাকেন তবে সনদটি ‘মুরসাল’, অন্যথায় এটি ‘মু’দাল’ (সূত্রবিচ্ছিন্ন)। আর প্রকৃত জ্ঞান মহান আল্লাহর নিকট নিহিত।

হাফেয সুয়ূতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ‘আত-তানভীর’ গ্রন্থে বলেন: “ইবনে আবদিল বার বলেছেন: এটি ‘মুয়াত্তা’ ব্যতীত অন্য কোথাও ‘মুসনাদ’ বা ‘মুরসাল’ কোনোভাবেই পরিচিত নয়। এটি এমন একটি হাদিস যা বর্ণনায় ইমাম মালিক একক। আমি (সুয়ূতী) বলছি: তবে অর্থের দিক থেকে এর কিছু মুরসাল ‘শায়েদ’ (সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা) রয়েছে। যেমন ইবনে আবি হাতিম বর্ণনা করেছেন … ” অতঃপর তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা আমরা অচিরেই বর্ণনা করব এবং আল্লাহর তাওফীক ও শক্তিতে তার জবাব দেব। আর ইমাম মালিক থেকে ইমাম বাইহাকী এটি ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ‘আদ-দুররুল মানসুর’ (৬/৩৭১) গ্রন্থে রয়েছে।

এর মর্মার্থ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস, মুজাহিদের মুরসাল বর্ণনা, আলী ইবনে আমরাহ আদ-দিমাশকীর মু’দাল বর্ণনা (যিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত বর্ণনাকারীদের একজন) এবং মুজাহিদের ‘মাকতু’ বর্ণনা থেকে—এর কিয়দংশ—বনী ইসরাঈল থেকে একটি কাহিনী হিসেবে বর্ণিত হয়েছে—যা রাসূলুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর স্পষ্ট বর্ণনা ছাড়াই—আর অবশিষ্ট অংশ মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যেমনটি সামনে আসবে।

ইবনে আব্বাসের হাদিসের ব্যাপারে ইমাম বাগাভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘তাফসীর’ (৪/৫১২) গ্রন্থে বলেছেন: “আতা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির কথা আলোচনা করা হলো, যে আল্লাহর রাস্তায় এক হাজার মাস নিজের কাঁধে অস্ত্র বহন করেছিল। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম বিস্মিত হলেন এবং তাঁর উম্মতের জন্য এমন (ফজিলত) কামনা করে বললেন:
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২৩)
يارب جعلت أمتي الأمم أعماراً وأقلها أعمالاً، فأعطاه الله ليلة القدر، فقال: (ليلة القدر خير من ألف شهر) التي حمل فيها الإسرائيلي السلاح في سبيل الله، ولأمتك إلى يوم القيامة)) . هكذا علقه البغوي، ولم يسق سنده به إلى أعطاء. ففي القلب من ثبوته عند ارتياب كبير، بل أكاد أقطع بذلك. ولذلك لم يعرج عليه ابن عبد البر وابن كثير والسيوطي رحمهم الله إن كانوا وقفوا عليه - مع توافر الدواعي والهمم على إيراده موصولاً عن ابن عباس، وإعطائه الأولوية على مرسل مجاهد وقوله.

(وأما) مرسل مجاهد، فرواه ابن أبي حاتم في ((تفسيره)) كما في ((تفسير الحافظ ابن كثير)) رحمه الله (4/530) ، والبيهقي في ((سننه)) (4/306) والواحدي في ((أسباب النزول)) (ص339-340) من طرق عن مسلم ابن خالد الزنجي عن ابن أبي نجيح عنه أن النبي صلى الله عليه وعلى آله وسلم ذكر رجلاً من بني إسرائيل ليس السلاح في سبيل ألف شهر. قال: فعجب المسلمون من ذلك. قال: فأنزل الله عز وجل (إنا أنزلناه في ليلة القدر. وما أدراك ما ليلة القدر. ليلة القدر خير من ألف شهر) التي ليس فيها ذلك الرجل السلاح في سبيل ألف شهر)) . قال البيهقي: ((وهذ مرسل)) اهـ.

ولا يثبت إسناده إلى مجاهد أيضاً، فإن الزنجي ضعيف عند البيهقي نفسه والجمهور، فقد قال البيهقي (2/495) - عقب حديث مرسل رواه -: ((وقد روي بإسناد موصول إلا أنه ضعيف)) ثم رواه من طريق الإمام أبي داود رحمه الله بسنده إلى مسلم بن خالد عن العلاء بن عبد الرحمن عن أبيه عن أبي هريرة مرفوعاً، وقال: ((قال أبو داود: هذا الحديث ليس بالقوي، مسلم بن خالد ضعيف)) . قلت: ودلني على رأي البيهقي فيه الإمام ابن التركماني رحمه الله، إذ قال تعليقاً على حديث آخر رواه البيهقي (8/123) - في القسامة (1) - واحتج به للشافعية ساكتاً عنه: ((قلت: في إسناده لين، كذا

--------------------------------------------

$! قال ابن الأثير في ((النهاية)) (4/62) : ((القسامة بالفتح: اليمين، كالقسم. وحقيقتها أن يقسم من أولياء الدم خمسون نقراً على استحقاقهم دم صاحبهم، إذ وجدوه قتيلاً بين قوم ولم يعرف قاتله، فإن لم يكونوا خمسين أقسم الموجودون خمسين يميناً، ولا يكون فيم صبي، ولا امرأة، ولا مجنون، ولا عبد، أو يقسم بها المتهمون على نفي القتل عنهم، فإن حلف المدعون استحقوا الدية، وإن حلف المتهمون لم تلزمهم الدية، وقد أقسم يقسم قسماً وقسامة إذا حلف … )) .
হে প্রতিপালক! আপনি আমার উম্মতকে অন্যান্য জাতির তুলনায় সবচেয়ে কম আয়ু এবং সবচেয়ে কম আমলের অধিকারী করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাকে লাইলাতুল কদর দান করেন এবং বলেন: (লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম) যে সময়ে সেই ইসরাঈলী আল্লাহর পথে অস্ত্র বহন করেছিল, আর আপনার উম্মতের জন্য কিয়ামত দিবস পর্যন্ত (এই ফজিলত বিদ্যমান)। এভাবেই আল-বাগাবী এটি মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ আতা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে উল্লেখ করেননি। তাই এর প্রামাণিকতা সম্পর্কে অন্তরে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে, বরং আমি এ ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত। আর এই কারণেই ইবনে আব্দুল বারর, ইবনে কাসীর এবং আস-সুয়ূতী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি—যদি তাঁরা এর সন্ধান পেয়েও থাকেন—যদিও ইবনে আব্বাস থেকে এটি মুত্তাসিল (নিরবচ্ছিন্ন) সূত্রে বর্ণনা করার এবং মুজাহিদের মুরসাল বর্ণনা ও উক্তির ওপর একে প্রাধান্য দেওয়ার যথেষ্ট প্রেক্ষাপট ও আগ্রহ বিদ্যমান ছিল।

(আর) মুজাহিদের মুরসাল বর্ণনা সম্পর্কে বলা যায়, ইবনে আবি হাতেম তাঁর 'তাফসীর'-এ এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি হাফেজ ইবনে কাসীরের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) 'তাফসীর' (৪/৫৩০)-এ রয়েছে। এছাড়াও আল-বাইহাকী তাঁর 'সুনান' (৪/৩০৬) গ্রন্থে এবং আল-ওয়াহিদী তাঁর 'আসবাবুন নুযূল' (পৃ. ৩৩৯-৩৪০) গ্রন্থে মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-জানজীর সূত্রে ইবনে আবি নাজীহ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়াসাল্লাম) বনী ইসরাঈলের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যিনি আল্লাহর পথে এক হাজার মাস অস্ত্র ধারণ করেছিলেন। তিনি বলেন: এতে মুসলমানরা বিস্ময় প্রকাশ করল। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: (নিশ্চয় আমি এটি নাযিল করেছি কদরের রাতে। আর কদরের রাত কী তা কি আপনি জানেন? কদরের রাত এক হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম) যে এক হাজার মাস ওই ব্যক্তি আল্লাহর পথে অস্ত্র ধারণ করেছিলেন। বাইহাকী বলেন: "এটি মুরসাল।" (সমাপ্ত)

মুজাহিদ পর্যন্ত এর সনদও সাব্যস্ত নয়, কারণ আল-জানজী স্বয়ং আল-বাইহাকী এবং জমহুর (অধিকাংশ) মুহাদ্দিসের নিকট দুর্বল। আল-বাইহাকী (২/৪৯৫) একটি মুরসাল হাদীস বর্ণনার পর বলেছেন: "এটি একটি মুত্তাসিল সনদেও বর্ণিত হয়েছে, তবে তা দুর্বল।" অতঃপর তিনি ইমাম আবু দাউদ (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর সূত্রে তাঁর সনদে মুসলিম ইবনে খালিদ থেকে, তিনি আলা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আবু দাউদ বলেছেন: এই হাদীসটি শক্তিশালী নয়, মুসলিম ইবনে খালিদ দুর্বল।" আমি বলি: এই রাবীর ব্যাপারে আল-বাইহাকীর মতামতের দিকে আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন ইমাম ইবনুত তুর্কমানী (রহমতুল্লাহি আলাইহি), যখন তিনি আল-বাইহাকী (৮/১২৩) কর্তৃক বর্ণিত আরেকটি হাদীসের—যা কাসামাহ (১) সংক্রান্ত—টীকায় শাফেয়ীদের পক্ষে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন এবং এর ব্যাপারে নীরব ছিলেন: "আমি বলি: এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে, ঠিক এভাবেই..."

--------------------------------------------

১. ইবনুল আসীর 'আন-নিহায়াহ' (৪/৬২) গ্রন্থে বলেছেন: "কাসামাহ (কাফ বর্ণে জবরসহ): অর্থ শপথ, যেমন কাসাম। এর প্রকৃত রূপ হলো, যখন কোনো নিহত ব্যক্তিকে একদল লোকের মাঝে পাওয়া যায় এবং তার হত্যাকারীকে চেনা না যায়, তখন নিহতের অভিভাবকগণের মধ্য থেকে পঞ্চাশজন ব্যক্তি তাদের স্বজনের রক্তের বিনিময়ে (দাবিতে) শপথ করবে। যদি তাদের সংখ্যা পঞ্চাশ না হয়, তবে উপস্থিত ব্যক্তিরাই পঞ্চাশবার শপথ করবে। শপথকারীদের মধ্যে কোনো শিশু, নারী, পাগল বা ক্রীতদাস থাকবে না। অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের থেকে হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করার জন্য এর মাধ্যমে শপথ করবে। যদি দাবিদাররা শপথ করে, তবে তারা দিয়াত (রক্তপণ) পাওয়ার অধিকারী হবে। আর যদি অভিযুক্তরা শপথ করে, তবে তাদের ওপর দিয়াত আবশ্যক হবে না। সে শপথ করেছে, শপথ করে এবং শপথ করাকে কাসাম বা কাসামাহ বলা হয় যখন সে শপথ করে … ।"
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২৪)
في ((التمهيد)) . وذلك أن الزنجي ضعيف. كذا قال البيهقي في باب من زعم أن التروايح بالجماعة أفضل. وقال ابن المديني: ليس بشئ. وقال أبو زرعة والبخاري: منكر الحديث..)) الخ. ومرسل مجاهد رواه أيضاً ابن المنذر في ((تفسيره)) كما في ((الدر المنثور)) .

(وأما) معضل علي بن عروة - وهو أوهاها جميعاً إن لم يكن إسناد حديث البغوي إلى عطاء شر منه -، فقد رواه ابن أبي حاتم من طريق ابن وهب حدثني مسلمة بن علي عن علي بن عروة قال: ذكر لرسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يوماً أربعة من بني إسرائيل عبدوا الله ثمانين عاماً لم يعصوه طرفة عين، فذكر أيوب وزكريا وحزقيل بن العجوز ويوشع بن نون. قال: فعجب أصحاب رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم من ذلك، فأتاه جبريل فقال: يا محمد: عجبت أمتك من عبادة هؤلاء النفر ثمانين سنة لم يعصوه طرفة عين، فقد أنزل الله خيراً من ذلك، فقرأ عليه: (إنا أنزلناه في ليلة القدر. وما أدراك ما ليلة القدر. ليلة القدر خير من ألف شهر) هذا أفضل مما عجبت أنت وأمتك. قال: ((فسر بذلك رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم والناس معه)) . وفي هذا الإسناد مسلمة بن علي، وهو الخشني الدمشقي البلاطي، متروك كما في ((التقريب)) (6662) ، وقال الحاكم: ((روى عن الأوزاعي والزبيدي المناكير والموضوعات)) . وحكم أبو حاتم الرازي على أحاديث رواها بالبطلان. وشيخه على بن عروة هو القرشي الدمشقي أيضاً متروك مثله كما قال الحافظ (4771) ورماه صالح بن محمد جزرة وابن حبان بالوضع. ومع ذلك فالإسناد أيضاً معضل.
'আত-তামহিদ' গ্রন্থে রয়েছে। আর তা এই যে, আয-যানজি দুর্বল। বায়হাকি 'যারা তারাবিহ জামাতের সাথে পড়াকে উত্তম মনে করেন' অনুচ্ছেদে অনুরূপ বলেছেন। ইবনুল মাদিনি বলেছেন: তিনি কিছুই নন। আবু যুরআহ এবং বুখারি বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদিস... ইত্যাদি। আর মুজাহিদের মুরসাল বর্ণনাটি ইবনুল মুনযিরও তাঁর 'তাফসির'-এ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'আদ-দুররুল মানসুর'-এ রয়েছে।

(আর) আলি ইবনে উরওয়াহ-এর মু'দাল বর্ণনাটি - যা সবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্বল, যদি বাগাভির আতা পর্যন্ত হাদিসের সনদটি এর চেয়েও মন্দ না হয় - এটি ইবনে আবি হাতিম ইবনে ওয়াহবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন: মাসলামাহ ইবনে আলি আমার কাছে আলি ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নিকট বনী ইসরাঈলের এমন চারজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হলো যারা আশি বছর আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং চোখের এক পলকের জন্যও তাঁর অবাধ্য হননি। তিনি আইয়ুব, যাকারিয়া, হিযকীল ইবনুল আজুয এবং ইউশা ইবনে নূনের কথা উল্লেখ করলেন। তিনি বলেন: এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ বিস্ময় প্রকাশ করলেন। তখন জিবরাঈল তাঁর নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার উম্মত এই একদল ব্যক্তির আশি বছর ইবাদত করা এবং চোখের এক পলকের জন্যও নাফরমানি না করা দেখে বিস্মিত হয়েছে, অথচ আল্লাহ এর চেয়েও উত্তম কিছু নাযিল করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর ওপর তিলাওয়াত করলেন: (নিশ্চয়ই আমি এটি কদরের রাতে নাযিল করেছি। আপনি কি জানেন কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ)। এটি আপনার এবং আপনার উম্মতের বিস্ময় প্রকাশ করা বিষয়ের চেয়েও উত্তম। তিনি বলেন: এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাথে থাকা লোকজন আনন্দিত হলেন। এই সনদে মাসলামাহ ইবনে আলি রয়েছেন, যিনি আল-খুশানি আদ-দিমাশকি আল-বালাতি; তিনি 'আত-তাকরিব' (৬৬৬২) অনুযায়ী মাতরুক (পরিত্যক্ত)। আল-হাকিম বলেছেন: 'তিনি আল-আওযাঈ ও আয-যুবাইদি থেকে মুনকার ও মাওজু হাদিসসমূহ বর্ণনা করেছেন'। আবু হাতিম আর-রাজি তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহের ওপর বাতিলের হুকুম দিয়েছেন। আর তাঁর উস্তাদ আলি ইবনে উরওয়াহ হলেন আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি, তিনিও তাঁর মতোই মাতরুক, যেমনটি হাফেজ (৪৭৭১) বলেছেন এবং সালিহ ইবনে মুহাম্মদ জাযারাহ ও ইবনে হিব্বান তাঁকে হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। তদুপরি, এই সনদটিও মু'দাল।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২৫)
(وأما) موقوف مجاهد، فرواه الطبري (30/167) عن شيخه محمد بن حميد الرازي عن حكام بن سلم عن المثنى بن الصباح عنه قال: ((كان بني إسرائيل رجل يقوم الليل حتى يصبح، ثم يجاهد العدو بالنهار حتى يمسي، ففعل ذلك ألف شهر، فأنزل الله هذه الآية (ليلة القدر خير من ألف شهر) قيام تلك الليلة خير من عمل ذلك الرجل)) . نعم، ذكر نزول الآية حكمة حكم المرفوع المرسل - ولا بد - أما الحكاية عن بني إسرائيل فلم يبين مجاهد عمن تلقاها، ولا تحمل هذه الرواية على سابقتها المرسلة عنه لعدم ثبوت في كل. ومع ذلك، فإسناد هذه أوهى بكثير، فلا يصلح شاهداً ولا مشهوداً له. ومحمد بن حميد الرازي - مع أنه معدود في الحفاظ - لكنه متهم بالكذب وغيره من القبائح، وقد وهاه جماعة وصرح أبو زرعة وأبو حاتم وابن وارة - الرازيون - وصالح جزرة وابن حراش بتكذيبه، وبين بعضهم أنه كان يقلب الأحاديث عمداً ويأخذ أحاديث الكوفيين فيرويها عن الرازيين. نعم، ولم يتبين أمره لابن معين فوثقه هو وغير واحد.

والمثنى بن الصباح - راويه عن مجاهد - هو اليماني الأبناوي، نزيل مكة. وهو واه، اتفقوا على تضعيفه - بإستشناء رواية فيه نظر عن ابن معين -، ووهاه الإمام أحمد ويحيى القطان والنسائي والساجي وابن الجنيد وابن عدي والدارقطني.

(هذا) والصحيح في تفسير الآية خلاف ذلك، فقد قال الإمام الطبري رحمه الله (30/167-168) - بعد أن ذكر رواية أخرى أنكر من هذه تفسر نزول السورة بسبب يتعلق بملك بني أمية! -: ((وأشبه الأقوال في ذلك بظاهر التنزيل قول من قال: عمل في ليلة القدر خير من عمل ألف شهر ليس فيها ليلة القدر. وأما الأقوال الأخرى فدعاوى معانٍ باطلة لا دلالة عليها من خبر ولا عقل، ولا هي موجودة في التزيل)) . قلت: وهذا الذي رجحه الطبري مروي عن مجاهد وقتادة والإمام الشافعي وغيرهم. قالالحافظ بن كثير رحمه الله (4:531) : ((وهذا القول بأنها أفضل من عبادة ألف شهر ليس فيها ليلة القدر
(আর) মুজাহিদের মাওকুফ বর্ণনাটি তাবারী (৩০/১৬৭) তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আর-রাজি থেকে, তিনি হাক্কাম বিন সালাম থেকে, তিনি মুসান্না বিন সাবাহ থেকে, তিনি তাঁর (মুজাহিদ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: "বনী ইসরাঈলের এক লোক ছিল যে সকাল হওয়া পর্যন্ত রাত জেগে ইবাদত করত, তারপর সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনের বেলা শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করত। সে এক হাজার মাস এমনটা করেছিল। তখন আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেন: (লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ)। অর্থাৎ ঐ রাতের ইবাদত ঐ ব্যক্তির আমলের চেয়েও উত্তম।" হ্যাঁ, আয়াত নাযিলের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করাটা 'মারফূ মুরসাল' এর পর্যায়ভুক্ত—এবং এটাই স্বাভাবিক—তবে বনী ইসরাঈল সংক্রান্ত কাহিনীটি মুজাহিদ কার থেকে গ্রহণ করেছেন তা স্পষ্ট করেননি। আর কোনোটিই সাব্যস্ত না হওয়ার কারণে এই বর্ণনাটিকে তাঁর থেকে বর্ণিত পূর্ববর্তী মুরসাল বর্ণনার ওপর প্রয়োগ করা যাবে না। তা সত্ত্বেও, এর সনদটি অনেক বেশি দুর্বল, ফলে এটি কোনো কিছুর সাক্ষ্য (শাহিদ) হওয়ার বা কোনো বর্ণনার দ্বারা শক্তিশালী হওয়ার যোগ্য নয়। আর মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আর-রাজি—যদিও তাকে হাফিজদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়—তবে তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং আরও কিছু মন্দ গুণের অধিকারী। একদল আলেম তাকে দুর্বল বলেছেন। আর-রাজি অঞ্চলের তিন ইমাম—আবু যুরআহ, আবু হাতিম ও ইবনু ওয়ারাহ—এবং সালিহ জাযারাহ ও ইবনুল হাররাশি তাকে মিথ্যাবাদী বলে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন। তাদের কেউ কেউ স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে হাদিস ওলটপালট করতেন এবং কুফাবাসীদের হাদিস নিয়ে রাজি অঞ্চলের আলেমদের নামে বর্ণনা করতেন। তবে ইবনু মুঈনের কাছে তার প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পায়নি, তাই তিনি ও আরও অনেকে তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন।

আর মুসান্না বিন সাবাহ—যিনি মুজাহিদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন—তিনি হলেন আল-ইয়ামানি আল-আবনাউয়ি, মক্কায় বসবাসকারী। তিনি অত্যন্ত দুর্বল; ইবনু মুঈন থেকে বর্ণিত একটি অনির্ভরযোগ্য বর্ণনা ব্যতীত সকলে তাকে দুর্বল বলার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ইমাম আহমাদ, ইয়াহইয়া আল-কাত্তান, নাসায়ী, সাজি, ইবনুল জুনাইদ, ইবনু আদি এবং দারাকুতনী তাকে দুর্বল বলেছেন।

(মূলত) আয়াতের তাফসীরে সঠিক মত হলো এর বিপরীত। ইমাম তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ) (৩০/১৬৭-১৬৮)—উক্ত সূরার নাযিল হওয়ার কারণ উমাইয়্যাদের রাজত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট করে বর্ণিত এর চেয়েও আপত্তিকর একটি বর্ণনা উল্লেখ করার পর—বলেন: "এ বিষয়ে আল-কুরআনের প্রকাশ্য পাঠের সাথে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ মত হলো তাদের কথা যারা বলেন: লাইলাতুল কদরের আমল এমন এক হাজার মাসের আমল অপেক্ষা উত্তম যাতে লাইলাতুল কদর নেই। আর অবশিষ্ট মতগুলো হলো বাতিল অর্থের দাবি মাত্র, যার স্বপক্ষে কোনো বর্ণনা বা যুক্তিনির্ভর প্রমাণ নেই এবং তা কুরআনের পাঠেও বিদ্যমান নেই।" আমি বলছি: তাবারী যেটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন সেটি মুজাহিদ, কাতাদাহ, ইমাম শাফেয়ী ও অন্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে। হাফিজ ইবনু কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) (৪:৫৩১) বলেছেন: "এই মতটি যে, এটি (লাইলাতুল কদরের ইবাদত) এমন এক হাজার মাসের ইবাদত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ যাতে লাইলাতুল কদর নেই..."
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২৬)
هو اختيار بن جرير، وهو الصواب لا م عداه. وهو كقوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((رباط ليلة في سبيل الله، خير من ألف ليلة فيما سواه من المنازل)) .رواه أحمد. وكما جاء في قاصد الجمعة بهيئة حسنة ونية صالحة أنه يكتب له عمل سنة أجر صيامها وقيامها إلى غير ذلك من المعاني المشابهة لذلك)) اهـ. والله أعلم. قلت: يعني بالثني قوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((من غسل واعتسل يوم الجمعة ثم بكر وابتكر، ومشى ولم يركب، ودنا واستمع ولم بلغ، كان له بكل خطوة يخطوها، عمل سنة، صيامها وقيامها)) . وهو في ((صحيح الجامع)) (5/325) بنحوه. أما الأول، فلم أجده عند أحمد وكذا الترمذي والنسائي والحاكم إلا بلفظ: ((رباط يوم … خير من ألف يوم)) . وإسناده حسن، وقال الترمذي: ((حسن صحيح غريب)) ، وصححه الحاكم ووافقه الذهبي، وضعفه الشيخ الألباني في تخريج ((المشكاة)) (3831) مشيراً إلى جهالة أبي صالح مولى عثمان، وليس هو كذلك، فقد وثقه العجلي وابن حبان، وصحح له المذكورون وقال العجلي: ((روى عنه زهرة بن معبد والمصريون)) فهو صدوق - على أقل حالاته - والله أعلم.
এটি ইবনে জারীরের অভিমত, এবং এটিই সঠিক যা ছাড়া অন্য কিছু কাম্য নয়। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের বাণীর মতো: "আল্লাহর পথে এক রাত পাহারায় থাকা অন্য সব অবস্থানের হাজার রাতের চেয়ে উত্তম।" এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। এবং যেমনটি জুমার উদ্দেশ্যে উত্তম বেশভূষায় ও নেক নিয়তে গমনকারীর ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে যে, তার জন্য এক বছরের আমলের সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয়—তার রোজা ও কিয়ামের (তাহাজ্জুদ) সওয়াব—অনুরূপ অন্যান্য সদৃশ অর্থের ন্যায়। এখানেই বক্তব্য শেষ হলো। আর আল্লাহ অধিক জ্ঞাত। আমি বলছি: অর্থাৎ দ্বিতীয় বিষয়টি দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী উদ্দেশ্য: "যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করল ও করাল, অতঃপর সকাল সকাল মসজিদে গেল, হেঁটে গেল, কোনো সওয়ারিতে চড়ল না, ইমামের নিকটে বসল ও মনোযোগ দিয়ে শুনল এবং কোনো অনর্থক কাজ করল না, তার জন্য প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছরের আমলের সওয়াব রয়েছে—তার রোজা ও কিয়ামের সওয়াব।" এটি 'সহীহুল জামি' (৫/৩২৫) গ্রন্থে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। আর প্রথমটি সম্পর্কে বলছি, আমি ইমাম আহমাদ, তেমনি তিরমিজি, নাসাঈ এবং হাকিমের কাছে এই শব্দ ছাড়া পাইনি: "একদিন পাহারায় থাকা … হাজার দিনের চেয়ে উত্তম।" এর সনদ হাসান। তিরমিজি বলেছেন: "হাসান সহীহ গারীব"। হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং দাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন। তবে শাইখ আলবানি 'মিশকাত'-এর তাহকীক (৩৮৩১) করার সময় একে দুর্বল বলেছেন ওসমানের মুক্তদাস আবু সালেহের পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়, কারণ ইজলি ও ইবনে হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং উল্লেখিত ইমামগণ তার হাদিসকে সহীহ বলেছেন। ইজলি বলেছেন: "তার থেকে জুহরা বিন মাব্বাদ এবং মিশরীয়রা বর্ণনা করেছেন।" সুতরাং তিনি ন্যূনতম ক্ষেত্রে 'সদুক' (সত্যবাদী)। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الحديث الخامس:

((اسم الله الذي إذا دعي به أجاب، وإذا سئل به أعطى: دعوة يونس ابن متى))
ضعيف. رواه الطبري (17/65) من طريق علي بن زيد بن جدعان عن سعيد بن المسيب قال: سمعت سعد بن مالك يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: … فذكره، وفيه: ((قال: فقلت: يا رسول الله، هي ليونس بن متى خاصة أو لجماعة المسلمين؟ قال: هي ليونس بن متى خاصة وللمؤمنين عامة إذا دعوا بها، ألم نسمع قول الله تبارك وتعال: (فنادى في الظلمات أن لا إله إلا أنت سبحانك إني كنت من الظالمين. فاستجبنا له ونجيناه من الغم. وكذلك ننجي المؤمنين)

فهو شرط الله لمن دعاه بها)) اهـ وهذا إسناد ضعيف لضعف ابن جدعان، قال الحافظ (4734) : ((ضعيف، من الرابعة)) . وله طريق أخرى، لكنها واهية جداً، عند الحاكم (1/505-506) من طريق أحمد بن عمرو بن بر السكسكي (كذا) حدثني أبي عن محمد بن يزيد (كذا) عن سعيد بن المسيب عن سعد بن مالك رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم يقول: ((هل أدلكم على اسم الله الأعظم الذي إذا دعي به أجاب، وإذا سئل به أعطى؟ الدعوة التي دعا بها يونس حيث ناداه في الظلمات الثلاث (لا إله إلا أنت سبحانك إني كنت من الظالمين) فقال رجل: يا رسول الله، هل كانت ليونس خاصة أم للمؤمنين عامة؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ألا تسمع قول الله عز وجل: (فنجيناه من الغم. وكذلك ننجي المؤمنين) وقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: ((أيما مسلم دعا بها في مرضه أربعين مرة فمات في مرضه ذلك اعطي أجر شهيد، وإن برأ براً وقد غفر له جميع ذنوبه)) .

وسكت عنه الحاكم والذهبي. وهذا إسناد واه جداً، يشبه أن يكون موضوعاً. و: ((أحمد بن عمرو بن بكر)) كذا في الكتاب، وصوابه - إن شاء الله -: ((إبراهيم بن عمرو بن بكر)) ، فإنه هو المعروف بالرواية عن أبيه، وبرواية محمد
পঞ্চম হাদিস:

((আল্লাহর সেই নাম, যা দ্বারা ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দ্বারা চাইলে তিনি প্রদান করেন: তা হলো ইউনুস ইবনে মাত্তার দুয়া))
দুর্বল। এটি তাবারী (১৭/৬৫) আলী বিন যাইদ বিন জুদআনের সূত্র ধরে সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সা’দ বিন মালিককে বলতে শুনেছি: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: ... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন, এবং তাতে রয়েছে: ((তিনি বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি কি কেবল ইউনুস বিন মাত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট, নাকি সকল মুসলিমের জন্য? তিনি বললেন: এটি ইউনুস বিন মাত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট এবং সাধারণভাবে সকল মুমিনের জন্য যখন তারা এটি দ্বারা দুয়া করবে। আমরা কি মহান আল্লাহর বাণী শুনিনি: (অতঃপর তিনি অন্ধকারের মধ্য থেকে ডেকে বলেছিলেন: তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র-মহান, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। তখন আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদের মুক্তি দিয়ে থাকি)

সুতরাং এটি তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি শর্ত, যে ব্যক্তি তাকে এটি দ্বারা ডাকবে)) সমাপ্ত। আর এই সনদটি ইবনুল জুদআন দুর্বল হওয়ার কারণে দুর্বল। হাফেজ (ইবনে হাজার) (৪৭৩৪) বলেছেন: ((দুর্বল, চতুর্থ স্তরের))। এর আরেকটি সূত্র রয়েছে, কিন্তু সেটি অত্যন্ত ভঙ্গুর, যা হাকেম (১/৫০৫-৫০৬) আহমদ বিন আমর বিন বার আস-সাকসাকি (এরূপই আছে) এর সূত্র ধরে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমার পিতা মুহাম্মাদ বিন ইয়াযিদ (এরূপই আছে) থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি সা’দ বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((আমি কি তোমাদের আল্লাহর সেই মহানতম নামের কথা জানাব না, যা দিয়ে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দিয়ে চাইলে তিনি প্রদান করেন? সেটি হলো সেই দুয়া যা ইউনুস করেছিলেন যখন তিনি তিন অন্ধকারের মধ্য থেকে ডেকেছিলেন (তুমি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র-মহান, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম)। জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল: হে আল্লাহর রাসূল, এটি কি কেবল ইউনুসের জন্য সুনির্দিষ্ট ছিল, নাকি সকল মুমিনের জন্য সাধারণ? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি কি মহান আল্লাহর বাণী শোনোনি: (অতঃপর আমি তাকে দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি দিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদের মুক্তি দিয়ে থাকি)। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ((যেকোনো মুসলিম তার অসুস্থ অবস্থায় এটি চল্লিশ বার পাঠ করবে, এরপর যদি সে সেই অসুস্থতায় মারা যায়, তবে তাকে শহীদের সওয়াব দান করা হবে। আর যদি সে সুস্থ হয়ে যায়, তবে সে এমন অবস্থায় সুস্থ হবে যে তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে))।

হাকেম ও যাহাবী এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন। আর এটি অত্যন্ত ভঙ্গুর একটি সনদ, যা জাল হওয়ার সদৃশ। আর কিতাবে "আহমদ বিন আমর বিন বকর" এভাবেই রয়েছে, এর সঠিক রূপটি হবে - ইনশাআল্লাহ -: "ইব্রাহিম বিন আমর বিন বকর", কেননা তিনিই তার পিতার নিকট থেকে এবং মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনার জন্য সুপরিচিত।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২৮)
ابن الحسن بن قتيبة العسقلاني عنه - وهو رواية عنه عند الحاكم -، ولم أقف لإبراهيم على أخٍ اسمه: ((أحمد)) بعد جهد.

وإبراهيم، قال ابن حبان في ((المجروحين)) (1/112) : ((يروي عن أبيه الأشياء الموضوعة التي لا تعرف من حديث أبيه، وأبوه أيضاً لا شئ في الحديث، فلست أدري أهو الجاني على أبيه أو أبوه الذي كان يخصه بهذه الموضوعات … )) الخ. وقال الدارقطني في ((الضعفاء)) (19) : ((رملي، متروك)) . وأبوه، قال الذهبي في ((الميزان)) (3/247) : ((وله. قال ابن عدي: له أحاديث مناكير عن الثقات … )) حتى قال: ((أحاديثه شبه موضوعة)) . وقال الحافظ (4993) : ((متروك)) . وشيخه، صواب اسه: ((محمد بن زيد)) لا: ((ابن يزيد)) ، وهو ابن المهاجر بن قنفذ، فإنه هو الذي يروي عنه عمرو بن بكر كما في ((التهذيب)) (8/8) ، ويروي هو عن سعيد ابن المسيب. وهو ثقة. وهذه قرينة أخرى على وقوع التحريف في هذا الإسناد، ولاح لي الآن - أثناء تبييض الكتاب للمرة الثانية - أن ذاك الهالك أو أباه، أراد أحدهما أن يقول: ((عن علي بن زيد)) ، فلم يقو!! .

وقد زاد على رواية علي بن زيد زيادة عليها لوائح الكذب، فالله أعلم.

(وروى) الحديث عن الحسن البصري رحمه الله مقطوعاً - بإسناد واه جداً أيضاً. قال ابن أبي حاتم رحمهما الله: ((حدثنا أبي حدثنا أحمد بن أبي سريج حدثنا داود بن المحبر بن قحدم المقدسي)) . كذا في ((ابن كثير)) (3/193) (1) عن كثير بن معبد قال ((سألت الحسن فقلت: يا أبا سعيد: اسم الله الأعظم الذي إذا دعي به أجاب، وإذا سئل به أعطى؟ قال ابن أخي، أما تقرأ القرآن، قول الله تعالى (وذا النون إذ هب مغاضباً - إلى قوله - وكذلك ننجي المؤمنين) . ابن أخي: هذا اسم الله الأعظم، الذي إذا دعي به أجاب، وإذا سئل به أعطى)) . وداود بن المحبر كذاب، كذبه الإمام أحمد وغيره، واتهمه الدارقطني بأنه سرق كتاب ((العقل)) من ميسرة بن عبد ربه

--------------------------------------------

$! جاء فيه: ((ابن أبي شريج)) و: ((ابن محذم)) ، وجء في طبعة دار الشعب (5/364) على الصواب.
ইবনুল হাসান বিন কুতাইবাহ আল-আসকালানী তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন - যা হাকিমের নিকট তাঁর সূত্রে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত - এবং যথেষ্ট চেষ্টার পরও ইব্রাহীমের 'আহমদ' নামের কোনো ভাইয়ের সন্ধান আমি পাইনি।

আর ইব্রাহীম প্রসঙ্গে ইবনুল হিব্বান 'আল-মাজরুহীন' (১/১১২) গ্রন্থে বলেন: "তিনি তাঁর পিতার সূত্রে এমন সব জাল বিষয় বর্ণনা করেন যা তাঁর পিতার হাদিস হিসেবে পরিচিত নয়। তাঁর পিতাও হাদিসের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কেউ নন। আমি জানি না তিনি তাঁর পিতার ওপর অপরাধটি করেছেন নাকি তাঁর পিতাই তাঁকে এসব জাল বিষয়গুলো দিতেন … " ইত্যাদি। দারা কুতনী 'আদ-দুয়াফা' (১৯) গ্রন্থে বলেন: "রামলি, পরিত্যক্ত।" আর তাঁর পিতা সম্পর্কে যাহাবী 'আল-মিজান' (৩/২৪৭) গ্রন্থে বলেন: "তাঁর সম্পর্কে ইবনু আদি বলেন: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে তাঁর অনেক মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস রয়েছে … " এমনকি তিনি বলেন: "তাঁর হাদিসগুলো জাল সদৃশ।" হাফেজ (৪৯৯৩) বলেন: "পরিত্যক্ত।" আর তাঁর শাইখের নামের সঠিক রূপ হলো: 'মুহাম্মাদ বিন যায়েদ', 'ইবনে ইয়াযীদ' নয়। তিনি হলেন আল-মুহাজির বিন কুনফুযের পুত্র; কেননা তাঁর থেকেই আমর বিন বাকর বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'আত-তাহযীব' (৮/৮) গ্রন্থে এসেছে। আর তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেন। তিনি নির্ভরযোগ্য। আর এটি এই সনদে বিকৃতি ঘটার আরেকটি আলামত। কিতাবটি দ্বিতীয়বার পরিমার্জন করার সময় এখন আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি অথবা তাঁর পিতা—তাঁদের একজন বলতে চেয়েছিলেন: 'আলী বিন যায়েদ থেকে', কিন্তু তা পারেননি!!

আর তিনি আলী বিন যায়েদের বর্ণনার ওপর এমন কিছু বৃদ্ধি করেছেন যাতে মিথ্যার ছাপ স্পষ্ট, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

এবং হাদিসটি হাসান বসরী (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে 'মাকতু' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে—যা অত্যন্ত দুর্বল একটি সনদেও। ইবনে আবি হাতিম (রাহিমাহুমাল্লাহ) বলেন: "আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আহমদ বিন আবি সরাইজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট দাউদ বিন আল-মুহাব্বার বিন কাহদাম আল-মাকদিসি বর্ণনা করেছেন।" এভাবেই 'ইবনে কাসীর' (৩/১৯৩) (১) গ্রন্থে কাসীর বিন মা'বাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "আমি হাসানকে জিজ্ঞাসা করলাম: হে আবু সাঈদ, আল্লাহর সেই মহান নাম কোনটি যার মাধ্যমে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দিয়ে চাইলে তিনি প্রদান করেন? তিনি বললেন: হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি কি কুরআন পড় না? আল্লাহ তায়ালার বাণী (এবং যুন-নুন-এর কথা স্মরণ করো, যখন তিনি রাগান্বিত হয়ে চলে গিয়েছিলেন - তাঁর এই বাণী পর্যন্ত - এভাবেই আমি মুমিনদের নাজাত দিয়ে থাকি)। হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র: এটাই আল্লাহর সেই মহান নাম, যার মাধ্যমে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যা দিয়ে চাইলে তিনি দান করেন।" আর দাউদ বিন আল-মুহাব্বার একজন চরম মিথ্যাবাদী, ইমাম আহমদ এবং অন্যান্যরা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। দারা কুতনী তাঁর বিরুদ্ধে মাইসারা বিন আবদে রাব্বিহ্-এর 'আল-আকল' কিতাবটি চুরি করার অভিযোগ করেছেন।

--------------------------------------------

$! সেখানে এসেছে: "ইবনে আবি শুরাইজ" এবং "ইবনে মাহযাম", তবে দারুশ শাব মুদ্রণে (৫/৩৬৪) এটি সঠিকভাবে এসেছে।
(খণ্ড: ১) তাকমীলুন নাফই বিমা লাম ইয়াসবুত বিহি ওয়াকফুন ওয়ালা রাফউন (পৃষ্ঠা: ২৯)
الفارسي - الوضاع - وركب له أسانيد لنفسه. وقال الحافظ (1811) ، ((متروك، وأكثر كتاب ((العقل)) الذي صنفه موضوعات)) . قلت: ونسبته في هذا الإسناد: ((مقدسياً)) لا أدري ما وجهها، فإنه ثقفي بكراوي بصري، ثم بغدادي. وأما شيخه - كثير بن معبد -، فهو القيسي. قال الذهبي (3/410) : ((لا يكاد يعرف. ضعفه الأزدي)) . وأقره الحافظ في ((اللسان)) (4/484) وزاد: ((وقال: لا اعلم له حديثاً مسنداً)) . قلت: وأعضل أمره على محققي ((تفسير بن كثير)) ((ط. دار الشعب)) ، فقالوا: كذا ولم نجده (!!) . ولعله كثير بن سعيد، المترجم في ((الجرح)) لابن أبي حاتم: (3/2/152) (!!) . وكثير هذا، هو ابن سعد بن رومان، و: ((ابن سعيد)) تحريف كما نبه المعلق على ((ثقات ابن حبان)) (7/350) . وقد اتفق البخاري وابن أبي حاتم وابن حبان على أنه يروى عن أبيه عن ابن عمر، وعنه محمد بن مطرف، ولم يزيدوا.

(تنبيه) : وقد أورد الإمام السيوطي رحمه الله الحديثين والأثر في رسالته: ((الدر المنظم في الاسم الأعظم)) من كتابه ((الحاوي في الفتاوى) (1/397) - مع حديث عزاه للنسائي والحاكم عن فضالة بن عبيد رضي الله عنه مرفوعاً: ((دعوة ذي النون في بطن الحوت (لا إله إلا أنت سبحانك إني كنت من الظالمين) ، لم يدع بها رجل مسلم قط إلا استجاب الله له)) - مستدلاً بها لمن ذهب إلى أن دعوة ذي النون هي اسم الله الأعظم. وقد علمت ما في الحديثين - أو قل: الطريقين - والأثر بن المطعن. أما ما عزاه لفضالة بن عبيد، فلمأجده عند النسائي في: ((عمل اليوم والليلة)) والحاكم - ولا عند غيرهما - إلا من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه. ثم وجدت الحافظ المنذري رحمه الله بمحض القدر - يورد في ((الترغيب)) (2/830-831) حديث فضالة بن عبيد رضي الله عنه، قال: بينا رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم قاعد إذ جاء رجل فصلى، فقال: اللهم اغفر لي وارحمني، فقال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وسلم: عجلت أيها المصلي، إذا صليت فقعدت
আল-ফারিসি—তিনি জাল হাদিস রচনাকারী—এবং তিনি নিজের পক্ষ থেকে সনদ তৈরি করতেন। হাফেজ (১৮১১) বলেছেন, "তিনি পরিত্যক্ত, এবং তাঁর সংকলিত 'আল-আকল' নামক কিতাবের অধিকাংশ বর্ণনাই বানোয়াট।" আমি বলছি: এই সনদে তাঁকে 'মাকদিসি' হিসেবে যে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তার কারণ আমি জানি না; কেননা তিনি তো সাকাফি বাকরাউয়ি বাসরি, অতঃপর বাগদাদি। আর তাঁর উস্তাদ—কাসির বিন মাবাদ—তিনি আল-কায়সি। জাহাবি (৩/৪১০) বলেছেন: "তিনি প্রায় অপরিচিত। আল-আজদি তাঁকে দুর্বল বলেছেন।" হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আল-লিসান' (৪/৪৮৪) গ্রন্থে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন এবং আরও যোগ করেছেন: "তিনি বলেছেন: আমি তাঁর কোনো মুসনাদ হাদিস সম্পর্কে জানি না।" আমি বলছি: 'তাফসিরে ইবনে কাসির' (দারুশ শাব প্রকাশনী)-এর গবেষকদের জন্য তাঁর বিষয়টি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছিল, তাই তাঁরা বলেছিলেন: এভাবেই রয়েছে এবং আমরা তাঁকে খুঁজে পাইনি (!!)। সম্ভবত তিনি কাসির বিন সাঈদ, যাঁর জীবনী ইবনে আবি হাতিমের 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' (৩/২/১৫২) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে (!!)। আর এই কাসির হলেন সাদ বিন রুমানের ছেলে; আর 'ইবনে সাঈদ' নামটি মূলত একটি বিকৃতি, যেমনটি 'সিকাতু ইবনে হিব্বান' (৭/৩৫০)-এর টীকাভাষ্যকার সতর্ক করেছেন। বুখারি, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে হিব্বান এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেন মুহাম্মদ বিন মুতাররিফ; এর বেশি তাঁরা আর কিছু উল্লেখ করেননি।

(সতর্কবার্তা): ইমাম সুয়ূতি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-হাউয়ি লিল ফাতাওয়া' (১/৩৯৭) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'আদ-দুররুল মুনাজ্জাম ফিল ইসমিল আজম' নামক পুস্তিকায় এই দুটি হাদিস ও আসারটি উল্লেখ করেছেন—সাথে একটি হাদিসও এনেছেন যা তিনি ফাদালা বিন উবাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু হিসেবে নাসাঈ ও হাকিমের দিকে সম্বন্ধ করেছেন: "মাছের পেটে যুন-নুনের (ইউনুস আ.) দোয়া ছিল—'লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যালিমিন'—কোনো মুসলিম ব্যক্তি যখনই এ দোয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা করবে, আল্লাহ অবশ্যই তাঁর প্রার্থনা কবুল করবেন।" যারা মনে করেন যুন-নুনের দোয়াই হলো আল্লাহর 'ইসমে আজম' (সর্বশ্রেষ্ঠ নাম), তিনি তাঁদের সপক্ষে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন যে এই দুটি হাদিস—অথবা বলা যায় এই দুটি সূত্র—এবং আসারটির ত্রুটিগুলো কী। আর তিনি ফাদালা বিন উবাইদ-এর দিকে যা সম্বন্ধ করেছেন, তা আমি নাসাঈ-এর 'আমালুল ইয়াউমি ওয়াল লাইলাহ' ও হাকিম-এর নিকট—এমনকি অন্য কারও কাছেও—খুঁজে পাইনি, কেবল সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিস ছাড়া। এরপর দৈবক্রমে আমি হাফেজ মুনজিরি (রহিমাহুল্লাহ)-কে 'আত-তারগিব' (২/৮৩০-৮৩১) গ্রন্থে ফাদালা বিন উবাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটি উল্লেখ করতে দেখেছি, তিনি বলেন: একদা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বসে ছিলেন, এমন সময় একজন লোক আসলেন এবং নামাজ আদায় করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার ওপর রহম করুন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে নামাজি! তুমি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছ। যখন তুমি নামাজ শেষ করে বসবে...