(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: -)
الاعتقاد لابن أبي يعلى القسم: العقيدة
الكتاب : الاعتقاد
المؤلف : أبو الحسين ابن أبي يعلى ، محمد بن محمد (المتوفى : 526هـ)
المحقق : محمد بن عبد الرحمن الخميس
الناشر : دار أطلس الخضراء
الطبعة : الأولى ، 1423 هـ - 2002
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 59
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আবি ইয়া'লার আল-ই'তিকাদ বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ : আল-ই'তিকাদ
লেখক : আবু আল-হুসাইন ইবনে আবি ইয়া'লা ، মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ (মৃত্যু : ৫২৬ হিজরি)
সম্পাদক : মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস
প্রকাশক : দার আতলাস আল-খাদরা
সংস্করণ : প্রথম ، ১৪২৩ হিজরি - ২০০২
[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[الاعتقاد]ـ
المؤلف: أبو الحسين ابن أبي يعلى، محمد بن محمد (المتوفى: 526هـ)
المحقق: محمد بن عبد الرحمن الخميس
الناشر: دار أطلس الخضراء
الطبعة: الأولى، 1423 هـ - 2002
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[আল-ইতিকাদ]
লেখক: আবুল হুসাইন ইবনে আবি ইয়া'লা, মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ (মৃত্যু: ৫২৬ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস
প্রকাশক: দার আতলাস আল-খাদরা
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৩ হিজরি - ২০০২
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المحققإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الذين آمنوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَ إِلَاّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ} [آل عمرإن: 102] .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء: 1] .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب: 70، 71] .
أما بعد؛ فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২] ।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যার মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে (অধিকার) চেয়ে থাকো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বিষয়েও (সতর্ক থাকো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১] ।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহাসাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব: ৭০, ৭১] ।
অতঃপর; নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্য বাণী হলো মহান আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো পথনির্দেশনা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ৬)
محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار (1) .
وبعد؛ فهذه رسالة نفيسة للإمام أبي الحسين محمد بن محمد بن حسين الفراء الحنبلي البغدادي، ابن القاضي أبي يعلى، صاحب كتاب طبقات الحنابلة. وهي وإن كانت صغيرة الحجم، فهي غزيرة الفائدة، وتكشف عن كون الإمام المصنف على عقيدة السلف الصالح، كما تبين مدى جهاده وذبه عن هذه العقيدة، فقد عهده الناس فقيهاً مؤرخاً من خلال كتابه طبقات الحنابلة وهو في كتابه هذا يبين عقيدة السلف في الإيمان، والتوحيد، والصفات، والقدر، والبعث والصراط، والنبوة، وحقوق النبي صلى الله عليه وسلم، والصحابة، وغيرها، كما يبين فيه الواجب فعله تجاه المبتدعة المخالفين لعقيدة السلف.
(أ) - أسباب تحقيق الكتاب:
? أنَّ المصنف من العلماء الحنابلة الذين تمسكوا بعقيدة الإمام أحمد في الأصول، كما هم على مذهبه في الفروع.
? بيان المؤلف في هذا الكتاب لعقيدته، عقيدة السلف، مما يدل على إحاطة المؤلف بمذهب أهل السنة العقدي، ومعرفته بأقاويل الفرق المبتدعة.
? أن الكتاب لم يطبع من قبل.
--------------------------------------------
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর; আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম (১)।
অতঃপর; এটি ইমাম আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-ফাররা আল-হাম্বালী আল-বাগদাদী (যিনি কাযী আবু ইয়া'লার পুত্র এবং 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' গ্রন্থের লেখক)-এর একটি মূল্যবান পুস্তিকা। এটি আকারে ছোট হলেও এর উপকারিতা অত্যন্ত ব্যাপক। এটি প্রকাশ করে যে, গ্রন্থকার ইমাম সালাফে সালেহীনের আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন এবং এই আকিদা রক্ষায় তাঁর সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার স্বরূপও এতে ফুটে উঠেছে। মানুষ তাঁকে সাধারণত তাঁর 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' গ্রন্থের মাধ্যমে একজন ফকীহ ও ইতিহাসবিদ হিসেবে চিনত। তিনি এই গ্রন্থে ঈমান, তাওহীদ, সিফাত (আল্লাহর গুণাবলি), তাকদীর, পুনরুত্থান, সিরাত, নবুওয়াত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অধিকার, সাহাবায়ে কেরাম এবং অন্যান্য বিষয়ে সালাফদের আকিদা বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি সালাফদের আকিদার বিরোধিতাকারী বিদআতিদের প্রতি কী করা ওয়াজিব, তাও তিনি এতে তুলে ধরেছেন।
(ক) - গ্রন্থটি তাহকীক করার কারণসমূহ:
? গ্রন্থকার সেই সকল হাম্বালী আলেমদের অন্তর্ভুক্ত, যারা উসূল বা আকিদার ক্ষেত্রে ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর আকিদাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, ঠিক যেভাবে তারা ফروع বা ফিকহী মাসআলায় তাঁর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।
? এই গ্রন্থে লেখকের নিজ আকিদা অর্থাৎ সালাফদের আকিদা বর্ণনা করা, যা আহলে সুন্নাহর আকিদাগত মাযহাব সম্পর্কে লেখকের গভীর জ্ঞান এবং বিদআতি দলগুলোর মতামত সম্পর্কে তাঁর অবগতির প্রমাণ দেয়।
? গ্রন্থটি এর আগে কখনো মুদ্রিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ৭)
(ب) - خطة البحث:
رأيت من المناسب تقسيم البحث في هذا الموضوع إلى قسمين:
القسم الأول: في التعريف بالمؤلف وبالكتاب:
ويشتمل هذا القسم على مبحثين:
المبحث الأول: التعريف بالمؤلف:
ـ اسمه ونسبه وكنيته ومولده.
ـ نشأته العلمية.
ـ ثناء العلماء عليه.
ـ أشهر مصنفاته.
ـ أشهر شيوخه.
ـ أشهر تلاميذه.
ـ وفاته.
المبحث الثاني: التعريف بالكتاب ووصف المخطوطة:
أولاً: التعريف بالكتاب:
ـ اسم الكتاب.
ـ موضوع الكتاب.
ـ سبب تأليف الكتاب.
ـ توثيق نسبة الكتاب إلى المؤلف.
ثانيا: وصف المخطوطة:
(খ) - গবেষণার পরিকল্পনা:
আমি এই বিষয়ের গবেষণাকে দুটি অংশে বিভক্ত করা সমীচীন মনে করেছি:
প্রথম অংশ: লেখক ও গ্রন্থের পরিচিতি প্রসঙ্গে:
এই অংশটি দুটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতি:
— তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম এবং জন্ম।
— তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশ।
— তাঁর প্রতি আলেমগণের প্রশংসা।
— তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ রচনাবলি।
— তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ উস্তাদগণ।
— তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ছাত্রগণ।
— তাঁর মৃত্যু।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের পরিচিতি ও পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:
প্রথমত: গ্রন্থের পরিচিতি:
— গ্রন্থের নাম।
— গ্রন্থের বিষয়বস্তু।
— গ্রন্থ রচনার কারণ।
— লেখকের প্রতি গ্রন্থের সম্বন্ধের প্রামাণিকতা।
দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ৮)
القسم الثاني: تحقيق الكتاب.
(ج) عملي في الكتاب:
لقد اجتهدت حسب الوسع والطاقة في خدمة هذا الكتاب، وإخراجه بهذه الصورة، ويتلخص عملي في التحقيق في الخطوات التالية:
1 ـ الاعتماد في تحقيق الكتاب على أصل محفوظ في المكتبة الظاهرية بدمشق الشام، تحت رقم (4546) ، وهي نسخة وحيدة.
2 ـ عزو الآيات القرآنية إلى مواضعها في القرآن بين معقوفين بعد كل آية.
3 ـ عزو الأحاديث إلى مصادرها الحديثية، فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بالعزو إليهما، أما إذا كان في غير الصحيحين فاجتهد في العزو إلى أكثر من مصدر.
4 ـ التعليق والشرح لما يحتاج إليه في بعض المواضع التي تحتاج في نظري إلى تعليق، وفصلت بين الأصل وتعليقاتي عليه بوضع الأصل في أعلى الصفحة والتعليق في أسفلها.
5 ـ وضع عناوين جانبية توضح المقصود من كل فقرة.
6 ـ وضع فهارس عامة للكتاب، وهي:
أـ فهرس المصادر والمراجع.
ب ـ فهرس الموضوعات.
وأخيراً فإني بذلت الجهد في تحقيق هذا الكتاب وإخراجه، فإن وفّقت
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থটির সম্পাদনা।
(গ) গ্রন্থে আমার কর্মপদ্ধতি:
আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী এই কিতাবটির খিদমত করতে এবং একে এই রূপে প্রকাশ করতে সচেষ্ট হয়েছি। সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমার কাজ নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহে সারসংক্ষেপ করা হলো:
১ ـ গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে সিরিয়ার দামেস্কের মাকতাবাতুজ জাহিরিয়ায় সংরক্ষিত (৪৫৪৬) নম্বর পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যা একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি।
২ ـ কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহকে প্রতিটি আয়াতের পর ব্রাকেটের মধ্যে কুরআনের মূল সূত্রের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
৩ ـ হাদিসসমূহকে সেগুলোর হাদিস বিষয়ক মূল উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যদি হাদিসটি সহীহাইন বা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে কেবল সেগুলোর উদ্ধৃতি দেওয়া যথেষ্ট মনে করেছি। আর যদি তা সহীহাইন ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থে থাকে, তবে একাধিক সূত্রের উদ্ধৃতি দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
৪ ـ আমার দৃষ্টিতে যে স্থানগুলোতে টীকা বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, সেখানে টীকা ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। মূল পাঠ এবং আমার টীকার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য মূল পাঠকে পৃষ্ঠার ওপরে এবং টীকাকে নিচে রাখা হয়েছে।
৫ ـ প্রতিটি অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য পার্শ্ব-শিরোনাম যুক্ত করা হয়েছে।
৬ ـ গ্রন্থের জন্য সাধারণ নির্ঘণ্ট তৈরি করা হয়েছে, যা হলো:
কـ উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।
খ ـ বিষয়সূচি।
পরিশেষে, আমি এই কিতাবটির সম্পাদনা ও এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি, সুতরাং আমি যদি সফল হই
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ৯)
إلى ذلك وأصبت فهو من عند الله وله المنّة، وإن كان غير ذلك فأستغفر الله، وعذري أني استفرغت في البحث وسعي، وأسال الله تعالى القبول، إنه تعالى نعم المولى ونعم النصير، وهو حسبي ونعم الوكيل، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
এ পর্যন্তই; যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে থাকি তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং সকল অনুগ্রহ তাঁরই। আর যদি বিষয়টি অন্যরূপ হয় তবে আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার ওজর এই যে, আমি গবেষণায় ও আমার প্রচেষ্টায় আমার সাধ্যমতো সর্বাত্মক শ্রম ব্যয় করেছি। আমি মহান আল্লাহর নিকট কবুলিয়াতের প্রার্থনা করছি; নিশ্চয়ই তিনি উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১০)
القسم الأولالتعريف بالمؤلف وبالكتاب
প্রথম অংশগ্রন্থকার ও গ্রন্থ পরিচিতি
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الأول: التعريف بالمؤلف
أ - اسمه ونسبه وكنيته ومولده:هو أبو الحسين محمد بن محمد بن حسين بن محمد بن خلف بن أحمد بن الفراء الحنبلي، البغدادي، المشهور بالقاضي أبي الحسين، ولد سنة إحدى وخمسين وأربعمائة (1) .
ب - نشأته العلمية:نشأ القاضي أبو الحسين في بيئة علمية صالحة، حيث نشأ تحت رعاية والده العلامة محمد بن الحسين المشهور بالقاضي أبي يعلى، وهو شيخ الحنابلة وأمامهم في عصره، حيث عني بتعليم ابنه وتهذيبه منذ نعومة أظافره، وكان أول ما يتلقاه طلاب العلم في ذلك الوقت حفظ القرآن، ثم بعد ذلك يوجهون عنايتهم لدراسة الحديث النبوي وسائر العلوم الشرعية الأخرى. فأخذ على مشايخ بغداد في مختلف العلوم الشرعية، حتى فاق أقرانه.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচিতিক - তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উপনাম ও জন্ম:তিনি হলেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খালাফ ইবনে আহমদ ইবনুল ফারা আল-হাম্বলি আল-বাগদাদি, যিনি কাজি আবু আল-হুসাইন নামে পরিচিত। তিনি চারশত একান্ন হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন (১)।
খ - তাঁর শিক্ষাজীবন:কাজি আবু আল-হুসাইন এক নেককার ইলমি পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। তিনি তাঁর পিতা আল্লামা মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইনের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন, যিনি কাজি আবু ইয়ালা নামে পরিচিত এবং তাঁর সময়ের হাম্বলিদের শায়খ ও ইমাম ছিলেন। তিনি তাঁর শৈশব থেকেই পুত্রের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। সেই সময়ে জ্ঞান অন্বেষণকারীদের প্রথম পাঠ ছিল কুরআন হিফজ করা, এরপর তাঁরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস এবং অন্যান্য সকল শরয়ি জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করতেন। তিনি বাগদাদের বিভিন্ন শায়খদের নিকট থেকে বিভিন্ন শরয়ি জ্ঞান অর্জন করেন এবং এ ক্ষেত্রে তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১২)
ج - ثناء العلماء عليه:قال عنه الذهبي: (الإمام العلاّمة الفقيه القاضي أبو الحسين محمد بن القاضي الكبير أبي يعلى) (1) .
وقال عنه الذهبي في موضع آخر: (كان مفتياً مناظراً عارفاً بالمذهب ودقائقه، صلباً في السنة، كثير الحط على الأشاعرة) (2) .
وقال عنه ابن رجب: (برع في الفقه وأفتى وناظر، وكان عارفاً بالمذهب متشدداً في السنة) (3)
وقال عنه السلفي: (وكان كثيرا ما يتكلم في الأشاعرة، ويسمعهم، لا تأخذه في الله لومة لائم، وله تصانيف في مذهبه، وكان دينا ثقة ثبتاً، سمعنا منه) (4)
د - أشهر مصنفاته:1 ـ طبقات الحنابلة، وهو مطبوع.
2 ـ الرد على زائغي الاعتقاد في منعهم من سماع الآيات.
3 ـ شرف الاتباع وسرف الابتداع.
4 ـ المقنع في النيات.
5 ـ المفتاح في الفقه.
6 ـ المسائل التي حلف عليها أحمد.
--------------------------------------------
গ - তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা:যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (ইমাম, আল্লামা, ফকিহ, বিচারক আবুল হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনুল কাদি আল-কাবীর আবু ইয়ালা) (১)।
যাহাবি অন্য এক স্থানে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি ছিলেন মুফতি, তার্কিক, মাজহাব ও এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো সম্পর্কে অভিজ্ঞ, সুন্নাহর ওপর অবিচল এবং আশআরিদের কঠোর সমালোচক) (২)।
ইবনে রাজাব তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন, ফতোয়া দিতেন ও বিতর্ক করতেন। তিনি মাজহাব সম্পর্কে অবগত এবং সুন্নাহর বিষয়ে কঠোর ছিলেন) (৩)
সিলাফি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: (তিনি প্রায়ই আশআরিদের সমালোচনা করতেন এবং তাদের তা শুনাতেন, আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে তিনি কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে পরোয়া করতেন না। স্বীয় মাজহাবের ওপর তাঁর বহু রচনা রয়েছে। তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ, নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়; আমরা তাঁর থেকে হাদীস শ্রবণ করেছি) (৪)
ঘ - তাঁর প্রসিদ্ধ রচনাবলি:১ - তাবাকাতুল হানাবিলা, এটি মুদ্রিত।
২ - আয়াত শ্রবণ থেকে বিরত রাখার বিষয়ে আকিদাহ থেকে বিচ্যুতদের প্রতিবাদ।
৩ - অনুসরণের মর্যাদা ও বিদআতের নিকৃষ্টতা।
৪ - নিয়ত সম্পর্কিত পর্যাপ্ত আলোচনা।
৫ - ফিকহ শাস্ত্রের চাবিকাঠি।
৬ - সেসব মাসায়েল যেগুলোর ওপর ইমাম আহমাদ শপথ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
7 ـ إيضاح الأدلة في الرد على الفرقة الضالة المضلة.
8 ـ المجموع في الفروع.
9 ـ المفردات في أصول الفقه.
10 ـ تنزيه معاوية بن أبي سفيان.
11 ـ رؤوس المسائل.
12 ـ التمام لكتاب الروايتين والوجهين.
13 ـ المفردات في الفقه.
هـ - أشهر شيوخه:1 ـ والده: القاضي أبو يعلى.
2 ـ عبد الخالق بن عيسى الهاشمي العباسي المعروف بالشريف.
3 ـ عبد الصمد بن مأمون.
4 ـ أبو بكر الخطيب.
5 ـ أبو بكر الخياط.
6 ـ أبو المظفر هناد النسفي.
وأشهر تلاميذه:
1 ـ عبد المغيث بن زهير الحربي.
2 ـ الجنيد بن يعقوب الجيلي.
3ـ عبد الغني بن الحافظ أبي العلاء الهمداني.
4 ـ أبو نجيح محمود بن أبي المرجا الأصبهاني.
5 ـ علي بن المرحب البطائحي.
7 — বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের খণ্ডনে দলীলসমূহের স্পষ্টীকরণ।
8 — শাখা-প্রশাখা বিষয়ক মাসআলাসমূহের সংকলন।
9 — উসূলে ফিকহ বা ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির একক অভিমতসমূহ।
10 — মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের পবিত্রতা বর্ণনা।
11 — মাসআলাসমূহের প্রধান বিষয়বস্তু।
12 — কিতাবুর রিওয়ায়াতাইনি ওয়াল ওয়াজহাইন-এর পূর্ণতা।
13 — ফিকহশাস্ত্রের একক অভিমতসমূহ।
ঙ - তাঁর প্রসিদ্ধ শিক্ষকগণ:1 — তাঁর পিতা: আল-কাজী আবু ইয়ালা।
2 — আব্দুল খালিক বিন ঈসা আল-হাশিমী আল-আব্বাসী, যিনি আশ-শরীফ নামে পরিচিত।
3 — আব্দুস সামাদ বিন মামুন।
4 — আবু বকর আল-খাতীব।
5 — আবু বকর আল-খাইয়াত।
6 — আবু আল-মুযাফফর হান্নাদ আন-নাসাফী।
এবং তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্রগণ:
1 — আব্দুল মুগীস বিন জুহাইর আল-হারবী।
2 — আল-জুনায়েদ বিন ইয়াকুব আল-জীলী।
3 — আব্দুল গনী বিন হাফিয আবু আল-আলা আল-হামদানী।
4 — আবু নাজীহ মাহমুদ বিন আবি আল-মুরজা আল-আসবাহানী।
5 — আলী বিন আল-মুরাহহাব আল-বাতায়েহী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
6 ـ محمد بن غنيمة بن القاق.
ز - وفاته:توفي القاضي أبو الحسين سنة 526 هـ مقتولاً في بيته، فرحمه الله وغفر له.
৬. মুহাম্মদ ইবনে গুনিমা ইবনুল কাক।
যা - তাঁর মৃত্যু:কাজী আবুল হুসাইন ৫২৬ হিজরি সনে তাঁর নিজ ঘরে নিহত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المبحث الثاني: التعريف بالكتاب ووصف المخطوطة
أولا - التعريف بالكتاب:
أ - اسم الكتاب:دوِّن على غلاف النسخة الخطية (الاعتقاد) ، وهكذا ورد في السماعات المرفقة مع المخطوطة، ولم أقف على خلافه.
ب - موضوع الكتاب:يتضح من اسم الكتاب (الاعتقاد) أي اعتقاد المؤلف، وما يدين به ربه في مسائل الإيمان والتوحيد. فالكتاب يشتمل على المسائل الآتية:
1 ـ الإيمان بالله وتوحيده.
2 ـ الإسلام والإيمان.
3 ـ صفة الكلام، وأن القرآن كلام الله غير مخلوق.
4 ـ الصفات الثابتة لله تعالى في الكتاب والسنة: كالعلم، والحياة، والقدرة، والسمع، والبصر، والكلام، والإرادة، واليمين، والنزول، والضحك، والمجيء، والساق، وغير ذلك من الصفات.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি এবং পাণ্ডুলিপির বর্ণনাপ্রথমত - গ্রন্থ পরিচিতি:ক - গ্রন্থের নাম:পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে এটি (আল-ইতিকাদ) নামে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, এবং পাণ্ডুলিপির সাথে সংযুক্ত শ্রুতিলিপিগুলোতেও এভাবেই এসেছে, এর কোনো ব্যতিক্রম আমি পাইনি।
খ - গ্রন্থের বিষয়বস্তু:গ্রন্থের নাম (আল-ইতিকাদ) থেকেই স্পষ্ট হয় যে, এটি লেখকের আকিদা বা বিশ্বাস এবং ঈমান ও তাওহীদের মাসআলাসমূহে তিনি তাঁর রবের প্রতি যা বিশ্বাস পোষণ করেন। গ্রন্থটি নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে:
১. আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর তাওহীদ।
২. ইসলাম ও ঈমান।
৩. কথা বলার গুণ, এবং কুরআন আল্লাহর কালাম যা সৃষ্টি নয়।
৪. কুরআন ও সুন্নাহতে মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত গুণাবলি: যেমন জ্ঞান, জীবন, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন, কথা বলা, ইচ্ছা, ডান হাত, অবতরণ করা, হাসা, আসা, নলা (পা), এবং এছাড়া অন্যান্য গুণাবলি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
5 ـ بيان أن من شبه الله بخلقه فقد كفر.
6 ـ منهج أهل السنة في الأسماء والصفات.
7 ـ الإيمان بالقدر.
8 ـ الإيمان بعذاب القبر.
9 ـ الإيمان بالبعث والصراط.
10 ـ الإيمان بالميزان.
11 ـ الحوض والشفاعة.
12 ـ الحساب والجنة والنار.
13 ـ نبوة محمد صلى الله عليه وسلم.
14 ـ إعجاز القرآن الكريم.
15 ـ الإسراء والمعراج.
16 ـ حقوق النبي صلى الله عليه وسلم وتعظيمه.
17 ـ المفاضلة بين الصحابة.
18 ـ هجر أهل البدع.
19 ـ خاتمة المؤلف.
ج - سبب تأليف الكتاب:بين المؤلف رحمه الله تعالى سبب تأليفه للكتاب، فقال: " أما بعد! أعاذنا الله وإياك من التكلف لما لا يحسن والادعاء لما لا نتقن وجنبنا وإياك البدع والكذب فإنهما شرّ ما احتقب، وأخبث ما اكتسب. فإنك سألت عن مذهبي وعقدي، وما أدين به لربي عز وجل لتتبعه؛ فتفوز به من
৫ — এই বর্ণনা যে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল, সে অবশ্যই কুফরি করল।
৬ — আসমা ও সিফাতের (নাম ও গুণাবলির) ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর মানহাজ।
৭ — তাকদিরের ওপর ঈমান।
৮ — কবরের আজাবের ওপর ঈমান।
৯ — পুনরুত্থান ও সিরাতের ওপর ঈমান।
১০ — মিজানের ওপর ঈমান।
১১ — হাওজ ও শাফায়াত।
১২ — হিসাব, জান্নাত ও জাহান্নাম।
১৩ — মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়ত।
১৪ — পবিত্র কুরআনের মুজিজা।
১৫ — ইসরা ও মিরাজ।
১৬ — নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার ও তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
১৭ — সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে মর্যাদার তারতম্য।
১৮ — বিদআতিদের বর্জন করা।
১৯ — লেখকের উপসংহার।
জ - কিতাবটি রচনার কারণ:লেখক (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা) কিতাবটি রচনার কারণ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "অতঃপর! আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে এমন বিষয়ে অনর্থক কষ্ট করা থেকে রক্ষা করুন যা কল্যাণকর নয় এবং এমন বিষয়ে দাবি করা থেকে রক্ষা করুন যা আমরা সুনিপুণভাবে জানি না; আর তিনি আমাদের ও আপনাকে বিদআত ও মিথ্যা থেকে দূরে রাখুন, কারণ এ দুটি হলো সর্বনিকৃষ্ট পাথেয় যা মানুষ পিঠে বহন করে এবং অপবিত্রতম বিষয় যা মানুষ অর্জন করে। কেননা আপনি আমার মাযহাব ও আকিদা এবং আমি আমার সুমহান রবের সন্তুষ্টির জন্য যে দ্বীন পালন করি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন যেন আপনি তা অনুসরণ করতে পারেন; ফলে আপনি এর মাধ্যমে সফল হতে পারেন..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
البدع والأهواء المضلة، وتستوجب من الله عز وجل المنازل العلية فأجبتك إلى ما سألت عنه، مؤملاً من الله جزيل الثواب، وراهباً إليه من سوء العذاب ومعتمداً عليه في القول بالتأييد للصواب " أ. هـ.
من خلال ما سبق اتضح لنا أن سبب تأليفه للكتاب أن المؤلف سُئِل عن عقيدته ومذهبه؛ فأجاب السائل بكتابة عقيدته في هذه الرسالة.
د - توثيق نسبة الكتاب إلى المؤلف:تتحقق نسبة الكتاب إلى مؤلفه بما يلي:
1 ـ ما كتب على غلاف المخطوط من اسم الكتاب مع نسبته إلى مؤلفه.
2 ـ ما يوجد بآخره من السماعات الآتية بحروفها:
أ - سمعه جميعه من الشيخ الفقيه أبي سعيد بن الأعرابي، بقراءة الشيخ العالم الفقيه أبي عبد الله محمد بن أبي القاسم بن تيمية الحراني (.....) (1) الشيخ الفقيه أبو الفتح نصر الله بن عبد العزيز بن صالح بن عبدوس الحراني، وأبو محمد طلحة بن مظفر بن حاتم (......) (2) علي بن مكي بن علي الباجسرالي، وعبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي وهذا خطه وذلك يوم الأحد السابع عشر من ذي الحجة في سنة ثلاث وستين وخمسمائة للهجرة (563هـ) والحمد لله وحده وصلى الله على سيدنا محمد النبي وآله وسلم تسليماً، وحسبنا الله ونعم الوكيل.
ب - سمع جميع هذا الجزء وهو اعتقاد القاضي أبي الحسين بن الفراء على الشيخ الأجل أبي سعيد عبد الجبار بن يحيى بن هلال بن الأعرابي بقراءة الشيخ الفقيه أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عمر بن الحسين بن
--------------------------------------------
বিভ্রান্তিকর বিদআত ও প্রবৃত্তিসমূহ থেকে [রক্ষা করে], যা মহান আল্লাহর নিকট থেকে সুউচ্চ মর্যাদা লাভের দাবি রাখে। তাই আমি আপনি যা জানতে চেয়েছেন তার উত্তর দিয়েছি, আল্লাহর নিকট থেকে মহত্তম প্রতিদানের আশা রেখে, তাঁর নিকট কঠিন আজাব থেকে ভয় পেয়ে এবং সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁর সমর্থনের ওপর ভরসা রেখে।—উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, এই কিতাবটি রচনার কারণ হলো— লেখককে তাঁর আকিদা ও মাযহাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; অতঃপর তিনি এই পত্রে তাঁর আকিদা লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে প্রশ্নকারীর উত্তর প্রদান করেছেন।
ঘ - লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্পৃক্ততার প্রমাণীকরণ:লেখকের প্রতি কিতাবটির সম্পৃক্ততা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়:
১ — পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদে কিতাবের নামের সাথে লেখকের দিকে এর যে সম্পৃক্ততা লেখা রয়েছে।
২ — এর শেষে বিদ্যমান নিম্নোক্ত শ্রবণের (সামা‘আ) বিবরণসমূহ:
ক - এটি পূর্ণাঙ্গভাবে শ্রবণ করেছেন শায়খ ফকিহ আবু সাঈদ বিন আল-আরাবির নিকট থেকে, আলিম ও ফকিহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবুল কাসেম বিন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানির পাঠের মাধ্যমে (.....) (১) শায়খ ফকিহ আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন সালেহ বিন আবদুস আল-হাররানি, এবং আবু মুহাম্মাদ তালহা বিন মুজাফফর বিন হাতিম (......) (২) আলী বিন মাক্কি বিন আলী আল-বাজিসরালি, এবং আবদুল গনি বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর আল-মাকদিসি। আর এটি তাঁরই হস্তাক্ষর এবং তা ছিল ৫৬৩ হিজরি সনের ১৭ই জিলহজ, রবিবার। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ আমাদের নেতা নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
খ - কাজি আবু ইয়ালা বিন আল-ফাররা-এর আকিদা বিষয়ক এই সম্পূর্ণ অংশটি শ্রবণ করেছেন সুমহান শায়খ আবু সাঈদ আবদুল জাব্বার বিন ইয়াহইয়া বিন হিলাল বিন আল-আরাবির নিকট থেকে, শায়খ ফকিহ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন উমর বিন হুসাইন বিন এর পাঠের মাধ্যমে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
خلف القطيعي، صاحب هذه النسخة عبد الرحمن بن إبراهيم بن أحمد بن عبد الرحمن بن إسماعيل المقدسي، وذلك في ثالث عشر من شوال سنة ثلاث وسبعين وخمسمائة، الحمد لله وصلى الله على محمد وآله وسلم تسليماً.
هذا صحيح، وكتب عبد الجبار بن يحيى بن هلال بن الأعرابي في التاريخ المقدم ولله الحمد، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين.
ج - سمع جميع الاعتقاد وهو تأليف أبي الحسن محمد بن الفراء من لفظ شيخنا وسيدنا الإمام الأوحد العالم شمس الدين عز الإسلام أبي الفتح نصر الله ابن عبد العزيز بن صالح بن عبدوس نحو سماعه فيه من أبي سعيد بن الأعرابي الشيخ الأجل الفقيه أبو الخير سلامة بن صدقة بن الصولة، وولده صدقة وأبو طاهر إبراهيم بن شداد بن طفيل الشيزري، وكاتب الأسامي عبد المنعم بن علي بن نصر بن الصقال معارضاً بنسخة للشيخ المسموع منه، وذلك يوم الأربعاء حادي وعشرين من ذي القعدة سنة ست وسبعين وخمسمائة للهجرة بمدرسة مسجد العمران حرسها الله تعالى.
سمعته من أبي محمد أحمد بن محمد بن أبي نصر الخرساني (1) وعبد الحق بن أحمد سعد، وكتبه عبد الرحمن بن إبراهيم بن أحمد المقدسي في ذي القعدة سنة ست وتسعين وخمسمائة بنابلس وصلى الله على محمد وآله وسلم.
د- سمع جميع هذا الجزء على شيخنا الإمام العالم شيخ الإسلام بهاء
--------------------------------------------
খালাফ আল-কাতিয়ী, এই পাণ্ডুলিপির অধিকারী হলেন আবদুর রহমান বিন ইবরাহীম বিন আহমদ বিন আবদুর রহমান বিন ইসমাঈল আল-মাকদিসী। এটি সংঘটিত হয়েছে পাঁচশত তিয়াত্তর হিজরীর তেরো শাওয়াল তারিখে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এটি সঠিক। পূর্বে উল্লিখিত তারিখে এটি লিখেছেন আবদুল জাব্বার বিন ইয়াহইয়া বিন হিলাল বিন আল-আরাবী। আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
জ - 'আল-ইতিকাদ' নামক সম্পূর্ণ গ্রন্থটি, যা আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আল-ফাররা-এর রচনা, তা আমাদের শায়খ এবং নেতা, অদ্বিতীয় ইমাম, আলিম শামসুদ্দীন ইজ্জুল ইসলাম আবুল ফাতহ নাসরুল্লাহ ইবনে আবদুল আজিজ বিন সালিহ বিন আবদুস-এর মুখনিঃসৃত পাঠ থেকে শ্রবণ করেছেন। এটি আবু সাঈদ বিন আল-আরাবীর নিকট তাঁর শ্রবণের অনুরূপ। শ্রবণকারীদের মধ্যে ছিলেন অতি মর্যাদাপূর্ণ শায়খ ও ফকীহ আবুল খায়ের সালামা বিন সাদাকা বিন আস-সাওলাহ, তাঁর পুত্র সাদাকা, আবু তাহির ইবরাহীম বিন শাদ্দাদ বিন তুফাইল আশ-শাইজারী এবং নামসমূহের লেখক আবদুল মুনইম বিন আলী বিন নাসর বিন আস-সাক্কাল। এটি শ্রবণকৃত শায়খের পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তারিখটি ছিল হিজরী পাঁচশত ছিয়াত্তর সালের একুশে যিলকদ বুধবার, মাসজিদুল উমরান মাদরাসায়, আল্লাহ তাআলা একে হিফাযত করুন।
আমি এটি আবু মুহাম্মদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবু নাসর আল-খুরাসানী (১) এবং আবদুল হক বিন আহমদ সাদ-এর নিকট থেকে শ্রবণ করেছি। এটি লিখেছেন আবদুর রহমান বিন ইবরাহীম বিন আহমদ আল-মাকদিসী, পাঁচশত ছিয়ানব্বই হিজরীর যিলকদ মাসে নাবলুসে। মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
দ - এই পূর্ণ অংশটি আমাদের শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, শায়খুল ইসলাম বাহাউ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الدين أبي محمد عبد الرحمن بن إبراهيم بن أحمد بن عبد الرحمن المقدسي رضي الله عنه الجماعة الشيخ أبو محمد عبد الله بن عبد الرحمن التركي، ومحمد بن كامل السلمي، وعز الدين أبو حفص عمر بن محمد بن الحاجب منصور الأمين، وأبو بكر بن عبد الخالق بن أبي بكر المؤذن، وأبو بكر محمد بن الحافظ أبي طاهر إسماعيل بن عبد الله بن الأنماطي بقراءة عبد الرحمن بن عمر بن بردان بن سحابة الحراني، وهذا خطه، في شوال سنة أربع عشرة وستمائة للهجرة بجامع دمشق ولله الحمد والمنة، وصلواته على محمد وعلى آله وصحبه وسلم
قرأه عليّ سالم بن أبي الضوين البعلبكي وعبد الرحمن بن يوسف بن محمد البعلبكيون في رجب سنة أربع وعشرين وستمائة، وكتبه عبد الرحمن بن إبراهيم بن أحمد المقدسي فسمعه محمود بن أبي الحسن مفرح وعبد الرحمن بن أبي بكر بن أبي سعد.
قرأه أبو الحسن بن عبد الكريم بن محمود القاسم بن سهل وعبد الرحمن بن يوسف بن محمد ويوسف بن نصر بن سالم وكتبه عبد الرحمن بن إبراهيم بن أحمد في رجب سنة أربع وعشرين وستمائة ببعلبك وصلى الله عليه وآله وسلم (1)
هـ - وجاء على غلاف الكتاب ما يلي:
أخبرنا به جماعة وسمعوها إجازة عن ابن المحب (
… ..) (2) خطه فوق، وكتب يوسف بن عبد الهادي.
وأخبرنا به عدة (
… ) (3) عن أحمد بن أبي طالب وعدة، عن
--------------------------------------------
দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহিম ইবন আহমাদ ইবন আব্দুর রহমান আল-মাকদিসি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন), শায়খ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান আত-তুর্কি, মুহাম্মদ ইবন কামিল আস-সুলামি, ইজ্জুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবন মুহাম্মদ ইবন আল-হাজিব মানসুর আল-আমিন, আবু বকর ইবন আব্দুল খালিক ইবন আবি বকর আল-মুয়াযযিন এবং আবু বকর মুহাম্মদ ইবন হাফিয আবু তাহির ইসমাঈল ইবন আব্দুল্লাহ ইবন আল-আনমাতি এই দলটির উপস্থিতিতে; এটি পাঠ করেছেন আব্দুর রহমান ইবন উমর ইবন বারদান ইবন সাহাবাহ আল-হাররানি এবং এটি তাঁরই হস্তলিপি, হিজরি ছয়শত চৌদ্দ সনের শাওয়াল মাসে দামেস্কের জামে মসজিদে। সকল প্রশংসা ও করুণা আল্লাহর জন্য এবং মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
এটি আমার নিকট পাঠ করেছেন সালিম ইবন আবিল দাওয়াইন আল-বালবাকি এবং আব্দুর রহমান ইবন ইউসুফ ইবন মুহাম্মদ আল-বালবাকিগণ, ছয়শত চব্বিশ হিজরি সনের রজব মাসে। এটি লিখেছেন আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহিম ইবন আহমাদ আল-মাকদিসি এবং এটি শুনেছেন মাহমুদ ইবন আবিল হাসান মুফরিহ ও আব্দুর রহমান ইবন আবি বকর ইবন আবি সাদ।
এটি পাঠ করেছেন আবু হাসান ইবন আব্দুল কারিম ইবন মাহমুদ আল-কাসিম ইবন সাহল, আব্দুর রহমান ইবন ইউসুফ ইবন মুহাম্মদ এবং ইউসুফ ইবন নাসর ইবন সালিম। এটি লিখেছেন আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহিম ইবন আহমাদ, ছয়শত চব্বিশ হিজরি সনের রজব মাসে বালবাক শহরে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন (১)।
হ - এবং কিতাবের প্রচ্ছদে নিম্নোক্ত কথাগুলো রয়েছে:
আমাদের একটি দল এটি সংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁরা এটি ইবন আল-মুহিব্ব এর নিকট থেকে অনুমতিক্রমে (ইজাজাতান) শুনেছেন (
… ..) (২) তাঁর হস্তলিপি উপরে রয়েছে, এবং এটি লিখেছেন ইউসুফ ইবন আব্দুল হাদি।
এবং আমাদের বেশ কয়েকজন এটি সংবাদ দিয়েছেন (
… ) (৩) আহমাদ ইবন আবি তালিব ও আরও কয়েকজনের সূত্রে, তাঁদের সূত্রে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২০)
عائشة بنت عبد الهادي عنه، وكتب يوسف بن عبد الهادي.
سمع بعضه من لفظي ولدي أبو (.....) (1) عبد الله، وأخوه بدر الدين حسين، وابن بلبل بنت عبد الله ولدي علي. وصح ذلك يوم الأربعاء حادي عشر من شهر جمادى الآخر سنة سبع وتسعين وثمانمائة (....) (2) ، وكتب يوسف بن عبد الهادي.
ثانياً: وصف المخطوطة:اعتمدت في تحقيق هذا الكتاب على نسخة فريدة محفوظة بالمكتبة الظاهرية في دمشق تحت رقم (4546) ، وتقع في خمس عشرة صفحة معدل كل صفحة سبع عشرة سطراً، وبها بعض الكلمات المطموسة، وخطها واضح ومقروء في غالب أحوالها.
الناسخ وتاريخ النسخ:
… جاء في آخر النسخة ما نصه: فرغ من نسخه لنفسه عبد الرحمن بن إبراهيم أحمد المقدسي في ذي القعدة سنة ثلاث وستين وخمسمائة (563هـ) والحمد لله وصلى الله على سيدنا محمد النبي وآله وسلم تسليماً كثيراً وعلى آله الطاهرين.
--------------------------------------------
আয়েশা বিনতে আব্দুল হাদী তাঁর থেকে (শুনেছেন), এবং ইউসুফ ইবন আব্দুল হাদী লিখেছেন।
আমার পুত্র আবু (.....) (১) আব্দুল্লাহ, তাঁর ভাই বদরুদ্দীন হুসাইন, এবং ইবন বুলবুল বিনতে আব্দুল্লাহ ও আমার পুত্র আলী এর কিছু অংশ আমার শব্দ থেকে শুনেছেন। আর এটি সহীহ সাব্যস্ত হয়েছে ৮৯৭ হিজরী সনের জুমাদাল আখিরা মাসের এগারো তারিখ বুধবার (....) (২), এবং ইউসুফ ইবন আব্দুল হাদী লিখেছেন।
দ্বিতীয়ত: পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:আমি এই কিতাবটি সম্পাদনার জন্য দামেস্কের যাহিরিয়া লাইব্রেরিতে (৪৫৪৬) নম্বর অধীনে সংরক্ষিত একটি অনন্য অনুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এটি পনেরো পৃষ্ঠা বিশিষ্ট, যার প্রতি পৃষ্ঠায় গড়ে সতেরোটি লাইন রয়েছে। এতে কিছু শব্দ অস্পষ্ট হয়ে গেছে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর হস্তলিপি স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য।
অনুলিপিকারক এবং অনুলিপির তারিখ:
... অনুলিপির শেষে যা বর্ণিত হয়েছে তার পাঠ হলো: আব্দুর রহমান ইবন ইবরাহীম আহমাদ আল-মাকদিসী ৫৬৩ হিজরী সনের যিলকদ মাসে নিজের জন্য এটি অনুলিপি করার কাজ শেষ করেছেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর দরূদ ও প্রচুর সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের ওপর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২১)
القسم الثاني: كتاب الاعتقاد
দ্বিতীয় বিভাগ: আকিদাহ বিষয়ক কিতাব
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২২)
كتاب الاعتقاد
رب يسر، أخبرنا الشيخ الأجل أبو سعيد عبد الجبار بن يحيى بن علي بن هلال الأعرابي قراءة عليه وأنا أسمع، وذلك في يوم الجمعة ثالث عشر من شوال سنة ثلاث وسبعين وخمسمائة للهجرة (573هـ) قثنا (1) القاضي الأجل أبو الحسين محمد بن محمد بن الفرّاء قال:
خطبة المؤلف:الحمد لله حتى يرضى، ولا إله إلاّ الله العلي الأعلى، والحمد لله أهل الحمد ومولاه ومنتهى الحمد ومبتداه، والحمد لله الذي أخرجنا بعد العدم إلى الوجود في خير الأمم، واختار لنا دليلاً إليه من خلقه أكرمهم عليه، ومن رسله أشرفهم لديه، وجعله أول السابقين منزلة، وأحسن النبيين رسالة، صلى الله عليه وعلى آله الطيبين، صلاة تخصهم وتعمهم أجمعين.
--------------------------------------------
আকিদাহ বিষয়ক গ্রন্থ
হে প্রতিপালক, সহজ করে দিন। সুমহান শাইখ আবু সাঈদ আব্দুল জাব্বার বিন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন হিলাল আল-আরাবি আমাদেরকে সংবাদ প্রদান করেছেন, যখন তাঁর নিকট পাঠ করা হচ্ছিল এবং আমি শ্রবণ করছিলাম। আর তা ছিল হিজরি ৫৭৩ সনের ১৩ই শাওয়াল, শুক্রবার। তিনি বলেন, সুমহান কাজী আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাররা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
লেখকের ভূমিকা:যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য যতক্ষণ না তিনি সন্তুষ্ট হন। অতি উচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশংসার যোগ্য এবং এর অধিপতি, এবং প্রশংসার সমাপ্তি ও সূচনা যাঁর জন্য। প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের অনস্তিত্বের পর সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের মাঝে অস্তিত্বে আনয়ন করেছেন। তিনি আমাদের জন্য তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে তাঁর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত এবং রাসূলগণের মধ্য হতে তাঁর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাবান ব্যক্তিকে তাঁর দিকে পথপ্রদর্শক হিসেবে মনোনীত করেছেন। তিনি তাঁকে মর্যাদার দিক থেকে অগ্রগামীদের মধ্যে প্রথম এবং নবীগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বার্তার অধিকারী করেছেন। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর—এমন রহমত যা তাঁদের সকলকে বিশেষভাবে এবং সাধারণভাবে পরিবেষ্টন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(سبب تأليف الكتاب) :أما بعد، أعاذنا الله وإياك من التكلف لما لا نحسن، والادعاء لما لا نتقن، وجنبنا وإياك البدع والكذب، فإنهما شرّ ما احتقب، وأخبث ما اكتسب، فإنك سألت عن مذهبي وعقدي، وما أدين به لربي عز وجل، لتتبعه فتفوز به من البدع والأهواء المضلة، وتستوجب من الله عز وجل المنازل العلية، فأجبتك إلى ما سألت عنه، مؤملاً من الله جزيل الثواب، وراهباً إليه من سوء العذاب، ومعتمداً عليه في القول بالتأييد للصواب.
الإيمان بالله وتوحيده:فأول ما نبدأ بذكره من ذلك ذكر ما افترض الله تعالى على عباده، وبعث به رسوله صلى الله عليه (1) ، وأنزل فيه كتابه، وهو الإيمان بالله عز وجل، ومعناه التصديق بما قال به، وأمر به، وافترضه، ونهى عنه من كل ما جاءت به الرسل من عنده، ونزلت فيه الكتب، وبذلك أرسل المرسلين، فقال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مَن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَاّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إله إِلَاّ أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] .
حقيقة الإيمان:والتصديق بذلك: قول باللسان، وتصديق بالجنان، وعمل بالأركان، يزيده كثرة العمل والقول بالإحسان، وينقصه العصيان، ويستثنى في الإيمان، ولا يكون الاستثناء شكاً إنما هي سنة ماضية عند العلماء. فإذا سئل الرجل: أمؤمن أنت؟ فإنه يقول: أنا مؤمن إن شاء الله أو
--------------------------------------------
(বইটি রচনার কারণ):অতঃপর, আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে এমন বিষয়ের বোঝা বহন থেকে রক্ষা করুন যা আমরা জানি না এবং এমন কিছুর দাবি থেকে রক্ষা করুন যা আমরা নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করিনি। তিনি আমাদের ও আপনাকে বিদআত ও মিথ্যা থেকে দূরে রাখুন; কেননা এ দুটি হলো মানুষের অর্জিত নিকৃষ্টতম পাথেয় এবং নিকৃষ্টতম সম্পদ। আপনি আমার মাযহাব, আকিদাহ এবং আমি আমার মহান রবের সন্তুষ্টির জন্য যে দ্বীন পালন করি সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন, যাতে আপনি তা অনুসরণ করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে বিদআত ও পথভ্রষ্ট প্রবৃত্তি থেকে মুক্তি পেয়ে সফলকাম হতে পারেন এবং আল্লাহ তাআলার নিকট উচ্চ মর্যাদা লাভের যোগ্য হতে পারেন। তাই আমি আল্লাহর নিকট মহাপ্রতিদানের আশা করে, তাঁর নিকট যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে আশ্রয় চেয়ে এবং সঠিক কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁর তাওফীকের ওপর ভরসা করে আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি।
আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর তাওহীদ:এ প্রসঙ্গে আমরা সর্বপ্রথম যা আলোচনা করছি তা হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর যা ফরয করেছেন, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি (১) যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন এবং যে বিষয়ে তিনি তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন; আর তা হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান। এর অর্থ হলো আল্লাহ যা বলেছেন, যা আদেশ করেছেন, যা ফরয করেছেন এবং যা নিষেধ করেছেন—তার সবকিছুই সত্য বলে বিশ্বাস করা, যা রাসূলগণ তাঁর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন এবং যার বিষয়ে কিতাবসমূহ নাযিল হয়েছে। আর এই দাওয়াত দিয়েই তিনি রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই পাঠিয়েছি, তাঁর প্রতি এই ওহীই নাযিল করেছি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।" [আল-আম্বিয়া: ২৫]।
ঈমানের হাকীকত:আর এর সত্যায়ন হলো: মুখে বলা, অন্তরে বিশ্বাস করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা। সৎকাজ ও উত্তম কথার আধিক্যে এটি বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে এটি হ্রাস পায়। ঈমানের ক্ষেত্রে 'ইনশাআল্লাহ' বলা (ইস্তিসনা) বৈধ, আর এই ইস্তিসনা করা কোনো সংশয় বা সন্দেহের কারণে নয়, বরং এটি আলেমদের মাঝে প্রচলিত একটি প্রাচীন সুন্নত। সুতরাং কোনো ব্যক্তিকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়: আপনি কি মুমিন? তবে তিনি বলবেন: আমি মুমিন ইনশাআল্লাহ অথবা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مؤمن (أرجو) (1) ، ويقول آمنت بالله وملائكته وكتبه ورسله.
الإسلام والإيمان:والإيمان والإسلام اسمان لمعنيين، فالإسلام في الشرع عبارة عن الشهادتين مع التصديق بالقلب؛ والإيمان عبارة عن جميع الطاعات (2) .
القرآن كلام الله غير مخلوق:والقرآن كلام الله منزل غير مخلوق، كيف قرئ، وكيف كتب، وحيث يُتلى في أي موضع كان، والكتابة هي المكتوب، والقراءة هي المقروء، والتلاوة هي المتلو، وكلام الله قديم غير مخلوق على كل الحالات وفي كل الجهات فهو كلام الله غير مخلوق ولا محدث ولا مفعول، ولا جسم،
--------------------------------------------
মুমিন (আশা করি) (১), আর সে বলবে আমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি।
ইসলাম ও ঈমান:ঈমান ও ইসলাম দুটি ভিন্ন অর্থের নাম। শরীয়তের পরিভাষায় ইসলাম হলো অন্তরের সত্যায়নসহ শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী) পাঠ করা; আর ঈমান হলো সকল প্রকার আনুগত্যের কাজের সমষ্টি (২)।
কুরআন আল্লাহর কালাম, যা সৃষ্টি নয়:আর কুরআন আল্লাহর কালাম, যা অবতীর্ণ এবং সৃষ্টি নয়। এটি যেভাবে পাঠ করা হোক না কেন, যেভাবে লেখা হোক না কেন, যেখানেই তিলাওয়াত করা হোক না কেন—তা আল্লাহরই কালাম। লিখন যা লেখা হয়েছে তাই, পাঠ যা পড়া হয়েছে তাই এবং তিলাওয়াত যা তিলাওয়াত করা হয়েছে তাই। আল্লাহর কালাম সর্বাবস্থায় এবং সকল দিক থেকে অনাদি এবং তা সৃষ্টি নয়। সুতরাং তা আল্লাহর কালাম, যা সৃষ্টি নয়, নতুন করে সৃষ্ট নয় এবং কৃত নয়, আর তা কোনো শরীর নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ولا جوهر، ولا عرض. بل هو صفة من صفات ذاته. وهو شيء يخالف جميع الحوادث.
صفة الكلام:لم يزل ولا يزال متكلماً. (ولا يجوز مفارقته بالعدم لذاته) (1) .وأنه يُسْمَع تارة من الله عز وجل، وتارة من التالي فالذي يسمعه من الله سبحانه من يتولى خطابه بنفسه لا واسطة ولا ترجمان: كنبينا محمد عليه السلام ليلة المعراج لما كلمه. وموسى على جبل الطور. فكذلك سبيل من يتولى خطابه بنفسه من ملائكته، ومن عدا ذلك فإنما يسمع كلام الله القديم على الحقيقة من التالي. وهو حرف مفهوم، وصوت مسموع.
الصفات الثابتة لله تعالى:ثم الإيمان بأنَّ الله جل ذكره واحد لا يشبهه شيء. ولا نشبه صفاته، ولا نكيفه، ولا يُكيف صفاته وهم، وأن ما وقع في الوهم فالله وراء ذلك.
وأنه حي بحياة. عالم بعلم. قادر بقدرة. سميع بسمع. بصير ببصر. متكلم بكلام. مريد بإرادة. آمر بأمر. ناهي (2) بنهي. ونقرّ بأنه خلق آدم بيده لقوله تعالى: {مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] . وقال: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} [المائدة:64] . وأن له يميناً بقوله: {وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ} [الزمر: 6] وإن له وجها بقوله: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَاّ وَجْهَهُ}
--------------------------------------------
এবং তিনি কোনো মৌলিক পদার্থ (জাওহার) নন, এবং কোনো আপতিক গুণ (আরাদ) নন। বরং এটি তাঁর সত্তাগত গুণাবলির একটি গুণ। এবং তিনি এমন এক সত্তা যা সকল নব্যসৃষ্ট বস্তুর বিপরীত।
কথোপকথনের গুণ:তিনি অনাদাল থেকে কথা বলছেন এবং চিরকাল কথা বলতে থাকবেন। (এবং তাঁর সত্তা থেকে এটি অবিদ্যমান বা বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব নয়) (১)। আর এই কথা কখনো আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট থেকে শোনা যায়, আবার কখনো তিলাওয়াতকারীর নিকট থেকে। সুতরাং যিনি সরাসরি আল্লাহর নিকট থেকে তা শোনেন, তিনি কোনো মাধ্যম বা দোভাষী ছাড়াই তাঁর সম্বোধন লাভ করেন: যেমন মেরাজের রাতে আমাদের নবী মুহাম্মদ (আলাইহিস সালাম), যখন আল্লাহ তাঁর সাথে কথা বলেছিলেন। এবং তুর পাহাড়ে মুসা (আলাইহিস সালাম)। একইভাবে ফেরেশতাদের মধ্যে যারা সরাসরি আল্লাহর সম্বোধন লাভ করেন তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। আর যারা এর বাইরে, তারা মূলত তিলাওয়াতকারীর নিকট থেকেই আল্লাহর অনাদি কালাম প্রকৃতপক্ষে শ্রবণ করে। আর তা হলো বোধগম্য বর্ণ এবং শ্রবণযোগ্য শব্দ।
আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত গুণাবলি:অতঃপর এই ঈমান রাখা যে, আল্লাহ جل ذكره এক, কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। আমরা তাঁর গুণাবলিকে সৃষ্টির গুণের সাথে তুলনা করি না, এবং তাঁর ধরণ বর্ণনা করি না। কোনো কল্পনাও তাঁর গুণাবলির ধরণ নির্ণয় করতে পারে না; কল্পনায় যা কিছু আসে, আল্লাহ তার ঊর্ধ্বে।
এবং তিনি জীবনের মাধ্যমে জীবিত। জ্ঞানের (ইলম) মাধ্যমে জ্ঞানী। ক্ষমতার (কুদরত) মাধ্যমে সক্ষম। শ্রবণের (সাম’) মাধ্যমে শ্রবণকারী। দর্শনের (বাসার) মাধ্যমে দর্শনকারী। কালামের (কথা) মাধ্যমে কথা বলনেওয়ালা। ইচ্ছার (ইরাদা) মাধ্যমে ইচ্ছাকারী। আদেশের মাধ্যমে আদেশদাতা। নিষেধের (২) মাধ্যমে নিষেধকারী। এবং আমরা স্বীকার করি যে, তিনি আদমকে তাঁর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {আমি যাকে আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সেজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?} [সোয়াদ: ৭৫]। এবং তিনি বলেছেন: {বরং তাঁর দুই হাত প্রসারিত} [মায়েদাহ: ৬৪]। এবং তাঁর ডান হাত রয়েছে তাঁর এই বাণীর কারণে: {এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে} [যুমার: ৬]। এবং তাঁর চেহারা রয়েছে তাঁর এই বাণীর কারণে: {তাঁর চেহারা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল।}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
[القصص: 88] وقوله: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالإكْرَامِ} [الرحمن: 27] وأن له قدماً بقول النبي صلى الله عليه وسلم: "حتى يضع الرب فيها قدمه" يعني: جهنم. رواه أحمد (1) والبخاري ومسلم وأبو عيسى الترمذي وغيرهم.
وأنه ينزل كل ليلة إلى سماء الدنيا بقول رسول الله صلى الله عليه: "ينزل ربنا كل ليلة إلى سماء الدنيا حين يبقى ثلث الليل الآخر" (2) وهذا لفظ البخاري. وقد روى حديث النزول أحمد ومالك والبخاري ومسلم وأبو عيسى الترمذي وأبو داود وابن خزيمة والدارقطني وأئمة المسلمين. وأنه يضحك إلى عبده المؤمن بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم:"يضحك الله إلى رجلين قتل أحدهما الآخر كلاهما يدخل الجنة: يقاتل هذا في سبيل الله فيقتل. ثم يتوب الله على القاتل، فيقاتل في سبيل الله، فيستشهد" (3) رواه البخاري وغيره ونقر بأن لله نفساً لا كالنفوس بقوله: {وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ} [آل عمران: 28] . وقوله: {وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي} [طه:41] . وروى البخاري بإسناده عن
--------------------------------------------
[আল-কাসাস: ৮৮] এবং তাঁর বাণী: {এবং আপনার রবের মহিমাময় ও মহানুভব চেহারা অবশিষ্ট থাকবে} [আর-রাহমান: ২৭]। এবং আল্লাহর পা রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "যতক্ষণ না রব তাতে তাঁর পা রাখেন" অর্থাৎ: জাহান্নাম। এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (১), বুখারী, মুসলিম, আবু ঈসা আত-তিরমিযী এবং অন্যান্যরা।
এবং তিনি প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "আমাদের রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন যখন রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে" (২) আর এটি বুখারীর শব্দ। অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, মালিক, বুখারী, মুসলিম, আবু ঈসা আত-তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে খুযাইমা, আদ-দারাকুতনী এবং মুসলিমদের ইমামগণ। এবং তিনি তাঁর মুমিন বান্দার প্রতি হাসেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: "আল্লাহ এমন দুই ব্যক্তির প্রতি হাসেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করেছে অথচ তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে: এই ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে এবং নিহত হয়। অতঃপর আল্লাহ হত্যাকারীর তওবা কবুল করেন, ফলে সে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে এবং শাহাদাত বরণ করে" (৩) এটি বুখারী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এবং আমরা স্বীকার করি যে আল্লাহর নফস রয়েছে যা অন্য নফসগুলোর মতো নয়, তাঁর এই বাণীর কারণে: {এবং আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের নফস সম্পর্কে সতর্ক করছেন} [আলি ইমরান: ২৮]। এবং তাঁর বাণী: {এবং আমি তোমাকে আমার নিজের নফসের জন্য তৈরি করেছি} [ত্বহা: ৪১]। বুখারী তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يقول الله عز وجل أنا عند ظن عبدي (بي) ، وأنا معه إذا ذكرني؛ فإن ذكرني في نفسه ذكرته في نفسي " (1)
ونقر بأن الله على العرش استوى كذلك نطق به القرآن في سبع سور: في الأعراف، ويونس، والرعد، وطه، والفرقان، وتنزيل السجدة، والحديد (2) .
ونقر "بأن الرحمن خلق آدم على صورته " (3) رواه أحمد بن حنبل وابن خزيمة وغيرهما.
--------------------------------------------
আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মহান আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটবর্তী থাকি যেমনটি সে আমার প্রতি রাখে, এবং আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে; যদি সে আমাকে তার মনে মনে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে আমার মনে স্মরণ করি।" (১)
এবং আমরা স্বীকার করি যে, আল্লাহ আরশের উপর উঠেছেন, যেমনটি কুরআনের সাতটি সূরায় বর্ণিত হয়েছে: আল-আরাফ, ইউনুস, আর-রাদ, ত্ব-হা, আল-ফুরকান, তানজিল আস-সাজদাহ এবং আল-হাদিদ-এ (২)।
এবং আমরা স্বীকার করি যে, "নিশ্চয়ই পরম করুণাময় (রহমান) আদমকে তাঁর নিজ আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন" (৩)। এটি আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইবনে খুযাইমাহ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وروي: "على صورة الرحمن " (1) .
رواه الدارقطني وأبو بكر النجاد (2)
--------------------------------------------
বর্ণিত হয়েছে: "রহমানের আকৃতিতে" (১)।
এটি বর্ণনা করেছেন দারা কুতনী এবং আবু বকর আন-নাজ্জাদ (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأبو عبد الله بن بطة (1) وغيرهم.
ونقرّ بأن لله إصبعاً روى عبد الله (2) قال "جاء حبر من أحبار اليهود إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له: إذا كان يوم القيامة جعل الله السموات على إصبع والأرضين على إصبع، والجبال والشجر على إصبع، والماء والثرى على إصبع ثم يهزهن. ثم يقول: أنا الملك. أنا الملك "قال: فلقد رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ضحك حتى بدت نواجذه تعجباً مما قال، وتصديقاً له، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالأَرْضُ جَمِيعاً قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [الزمر: 67] (3) أخرجه هبة الله الطبري والبخاري ومسلم وأبو عيسى الترمذي، ولفظه: أخبرني المبارك بن عبد الجبار الصيرفي في حلقة والدي رحمه الله بجامع المنصور بإسناده عن عبد الله قال: "جاء يهودي إلى النبي صلى الله وسلم فقال: يا محمد إن الله يمسك السموات على إصبع والأرضين على إصبع، والخلائق على إصبع، ثم يقول: أنا الملك. قال فضحك رسول الله صلى الله عليه حتى بدت نواجذه وقال {وَمَا قَدَرُوا الله حَق قَدْرِهِ} . قال أبو عيسى: هذا
--------------------------------------------
এবং আবু আবদুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ (১) ও অন্যান্যরা।
এবং আমরা স্বীকার করি যে, আল্লাহর আঙুল রয়েছে। আবদুল্লাহ (২) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, "ইহুদি আলেমদের একজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাঁকে বললেন: যখন কিয়ামত দিবস হবে, আল্লাহ আসমানসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, জমিনসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, পাহাড় ও বৃক্ষরাজিকে একটি আঙুলের ওপর এবং পানি ও মাটিকে একটি আঙুলের ওপর রাখবেন, অতঃপর সেগুলোকে নাড়া দেবেন। তারপর বলবেন: আমিই রাজা। আমিই রাজা।" তিনি (আবদুল্লাহ) বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি তিনি এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল, ইহুদির কথার বিস্ময় প্রকাশ করে এবং তা সত্যায়ন করে। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: {তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি। কিয়ামত দিবসে সমস্ত পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। তিনি পবিত্র এবং তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অনেক উর্ধ্বে।} [সূরা যুমার: ৬৭] (৩) এটি হিবাতুল্লাহ আত-তবারী, বুখারি, মুসলিম ও আবু ঈসা আত-তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। এর শব্দগুলো হলো: মুবারাক বিন আবদুল জাব্বার আস-সাইরাফি আমার পিতার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) হালকায় জামে মানসুরে তাঁর সনদে আবদুল্লাহ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: "জনৈক ইহুদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মদ, নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমানসমূহকে একটি আঙুলের ওপর, জমিনসমূহকে একটি আঙুলের ওপর এবং সৃষ্টিজগতকে একটি আঙুলের ওপর ধারণ করবেন, অতঃপর বলবেন: আমিই রাজা। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন, এমনকি তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল এবং তিনি বললেন {তারা আল্লাহকে যথাযথ মর্যাদা দেয়নি}। আবু ঈসা বলেন: এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
حديث حسن صحيح. وفي لفظ آخر قال: "فضحك النبي صلى الله عليه تعجبا وتصديقاً " (1) .
وروى البخاري في صحيحه بإسناده في تفسير سورة (ن) (2) عن أبي سعيد (3) قال سمعت النبي صلى الله عليه يقول: "يكشف ربنا عن ساقه، فيسجد له كل مؤمن ومؤمنة، ويبقى من كان يسجد في الدنيا رياءً وسمعة، فيذهب ليسجد، فيعود ظهره طبقاً واحداً " (4) .
وروى البخاري بإسناده عن أنس (5) قال: قال رسول الله صلى الله عليه: "الله أفرح بتوبة عبده من أحدكم سقط على بعيره وقد أضله في أرض فلاة " (6) . وروى البخاري بإسناده عن عبد الله (7) قال: "ذكر الدجال عند النبي صلى الله عليه
--------------------------------------------
হাদিসটি হাসান সহীহ। অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে: "অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি (ওয়া সাল্লাম) বিস্ময় ও সত্যায়নবশত হাসলেন।" (১)।
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে স্বীয় সনদে সূরা 'নুন'-এর তাফসীরে (২) আবু সাঈদ (৩) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি (ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমাদের রব তাঁর পা উন্মোচন করবেন, তখন সকল মুমিন পুরুষ ও নারী তাঁকে সিজদা করবে। আর তারা অবশিষ্ট থেকে যাবে যারা দুনিয়াতে লোকদেখানো ও শোনানোর জন্য সিজদা করত। তারা সিজদা করতে যাবে কিন্তু তাদের পিঠ এক খণ্ড তক্তার মতো শক্ত হয়ে যাবে।" (৪)।
বুখারী তাঁর সনদে আনাস (৫) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি (ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের সেই ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে তার উটটি ফিরে পেল যা সে এক জনমানবহীন প্রান্তরে হারিয়ে ফেলেছিল।" (৬)। বুখারী তাঁর সনদে আব্দুল্লাহ (৭) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি (ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট দাজ্জালের কথা আলোচনা করা হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فقال: "إن الله لا يخفى عليكم، إن الله ليس بأعور. وأشار بيده إلى عينه. وإن المسيح الدجال أعور عين اليمنى، كأن عينه عنبة طافية " (1) .
تشبيه الله بخلقه كفر:فإن اعتقد معتقد في هذه الصفات ونظائرها مما وردت به الآثار الصحيحة التشبيه في الجسم والنوع والشكل والطول- فهو كافر.
تعطيل الصفات مذهب الجهمية:وإن تأولها على مقتضى اللغة وعلى المجاز فهو جهمي.
منهج أهل السنة في الأسماء والصفات:وإن أمرها كما جاءت، من غير تأويل، ولا تفسير، ولا تجسيم، ولا تشبيه، كما فعلت الصحابة والتابعون فهو الواجب عليه.
(الإيمان بالقدر) :ويجب الإيمان بالقدر: خيره وشره، وحلوه ومره، وقليله وكثيره، وظاهره وباطنه ومحبوبه ومكروهه، وحسنه وسيئه، وأوله وآخره من الله، قضى قضاءه على عباده، وقدر قدره - عليهم لا أحد يعدو منهم مشيئة الله عز وجل ولا يجاوز قضاءه، بل هم كلهم صائرون إلى ما خلقهم له، واقعون فيما قدر عليهم لا محالة، وهو عدل من ربنا عز وجل فأراد الطاعة، وشاءها، ورضيها، وأحبها، وأمر بها. ولم يأمر بالمعصية، ولا أحبها ولا رضيها، بل قضى بها، وقدّرها، وشاءها، وأرادها. والمقتول يموت بأجله.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের কাছে গোপন নন, নিশ্চয় আল্লাহ একচোখা বা কানা নন। আর তিনি তাঁর হাত দিয়ে তাঁর চোখের দিকে ইশারা করলেন। আর নিশ্চয়ই মসীহ দাজ্জাল ডান চোখে কানা, তার চোখটি যেন একটি ভেসে থাকা আঙুর।" (১) .
সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সাদৃশ্য প্রদান করা কুফরি:অতএব যদি কোনো বিশ্বাসী এই সকল গুণাবলি এবং সহীহ বর্ণনাসমূহে বর্ণিত এ জাতীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে শরীর, ধরন, আকৃতি ও দৈর্ঘ্যের দিক থেকে সাদৃশ্য প্রদানের বিশ্বাস পোষণ করে—তবে সে কাফির।
গুণাবলি অস্বীকার করা জাহমিয়াদের মতবাদ:আর যদি সে ভাষাগত দাবি বা রূপকতার ভিত্তিতে এগুলোর অপব্যাখ্যা করে, তবে সে জাহমি।
নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের মানহাজ:আর যদি সে এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই ছেড়ে দেয়—কোনো প্রকার অপব্যাখ্যা, ব্যাখ্যা, অঙ্গসংস্থান কিংবা সাদৃশ্য প্রদান ব্যতিরেকে, যেমনটি সাহাবী ও তাবেয়ীগণ করেছিলেন, তবে এটাই তার ওপর ওয়াজিব।
(তাকদীরের ওপর ঈমান) :এবং তাকদীরের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব: তার ভালো ও মন্দ, মিষ্টি ও তিক্ত, অল্প ও অধিক, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য, পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয়, উত্তম ও মন্দ, এবং তার শুরু ও শেষ সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে; তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর ফয়সালা কার্যকর করেছেন এবং তাদের জন্য তাকদীর নির্ধারণ করেছেন—তাদের কেউ মহান আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে যেতে পারে না এবং তাঁর ফয়সালাকে অতিক্রম করতে পারে না, বরং তারা সবাই সেদিকেই ধাবমান যার জন্য তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জন্য যা নির্ধারিত হয়েছে তা অনিবার্যভাবেই ঘটবে। আর তা আমাদের রবের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার; তিনি আনুগত্যের ইচ্ছা করেছেন, তা চেয়েছেন, তাতে সন্তুষ্ট হয়েছেন, তাকে ভালোবেসেছেন এবং তার আদেশ দিয়েছেন। তিনি পাপাচারের আদেশ দেননি, তা পছন্দ করেননি এবং তাতে সন্তুষ্ট হননি, বরং তিনি তা ফয়সালা করেছেন, নির্ধারণ করেছেন, চেয়েছেন এবং ইচ্ছা করেছেন। আর নিহত ব্যক্তি তার নির্ধারিত সময়েই মৃত্যুবরণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইতিিকাদ লিইবনি আবী ইয়ালা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الإيمان بعذاب القبر:ثم الإيمان بعذاب القبر، وبمنكر ونكير (1) ، قال الله تعالى: {فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكاً} [طه: 124] قال أصحاب التفسير: عذاب القبر (2) . وقال النبي صلى الله عليه وسلم لعمر بن الخطاب رضي الله عنه: "كيف بك وملكا القبر فتانان أسودان أزرقان أعينهما كالبرق الخاطف وأصواتهما كالرعد القاصف يطئان في أشعارهما ويحفران بأنيابهما بيدهما مرزبة لو ضرب بها (الثقلين) (3) لماتوا "قال عمر رضي الله عنه على أي حالة أنا يومئذ قال: "على حالتك اليوم" قال: إذن أكفيكهما يا رسول الله (4) . وروى البخاري بإسناده عن [أم خالد قالت] (5) : "سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يتعوذ من عذاب القبر" (6) وقال النبي صلى الله عليه:" لو نجا أحد من ضمة القبر (أو ضغطة القبر) لنجا سعد بن معاذ" (7) . ثم من بعد ذلك الإيمان بالصيحة للنشور، بصوت إسرافيل للقيام من القبور، فتلزم القلب أنك ميت ومضغوط في القبر، ومساءل في قبرك ومبعوث من بعد الموت فريضة لازمة. من أنكر ذلك فهو كافر.
--------------------------------------------
কবরের আজাবের প্রতি ঈমান:অতঃপর কবরের আজাব এবং মুনকার ও নাকিরের (১) প্রতি ঈমান আনা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন} [তহা: ১২৪]। তাফসীরকারগণ বলেছেন: এটি কবরের আজাব (২)। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: "তোমার অবস্থা কেমন হবে যখন কবরের দুইজন পরীক্ষক ফেরেশতা আসবে, যারা হবে কালো ও নীল বর্ণের, যাদের চোখ হবে চমকানো বিদ্যুতের মতো এবং কণ্ঠস্বর হবে বিকট বজ্রপাতের মতো, তারা তাদের চুলে পদদলিত করবে এবং তাদের দাঁত দিয়ে মাটি খনন করবে, যাদের হাতে এমন মুগুর থাকবে যা দিয়ে যদি (মানুষ ও জিনকে) (৩) আঘাত করা হয় তবে তারা মারা যেত।" উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: সেদিন আমি কোন অবস্থায় থাকব? তিনি বললেন: "আজ তুমি যে অবস্থায় আছ সেই অবস্থায়।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল, তবে আমি আপনার পক্ষ থেকে তাদের জন্য যথেষ্ট হব (৪)। এবং ইমাম বুখারী তাঁর সনদে [উম্মে খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন তিনি বলেন] (৫): "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কবরের আজাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুনেছি" (৬)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: "যদি কেউ কবরের চাপ (বা কবরের সংকীর্ণতা) থেকে রেহাই পেত, তবে সাদ ইবনে মুআজ রেহাই পেতেন" (৭)। অতঃপর এর পরে পুনরুত্থানের জন্য শিংগায় ফুৎকারের প্রতি ঈমান আনা, যা কবর থেকে উঠার জন্য ইসরাফিলের কণ্ঠে হবে। সুতরাং অন্তরে এই বিশ্বাস রাখা আবশ্যক যে আপনি মৃত, কবরে চাপপ্রাপ্ত হবেন, আপনার কবরে জিজ্ঞাসিত হবেন এবং মৃত্যুর পর পুনরুত্থিত হবেন—এটি একটি অপরিহার্য ফরজ। যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করবে সে কাফির।
--------------------------------------------