(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: -)
أحاديث القصاص - ت الصباغ   (ابن تيمية)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: أحاديث القصاص

المؤلف: شيخ الإسلام تقي الدين أحمد بن عبد الحليم ابن تيمية

المحقق: د. محمد بن لطفي الصباغ

الناشر: المكتب الإسلامي، بيروت - لبنان

الطبعة: الثانية، 1405 هـ - 1985 م

عدد الصفحات: 94

تنبيه: أضيفت في حاشية هذه النسخة (الإلكترونية) بعض الفروق من طبعة دار الآثار (القاهرة)، الطبعة الأولى 1425 هـ - 2004 م، حققها وخرج أحاديثها: محمد بن مصطفى أبو العلا.

اعتنى به: محمد المنصور، جزاه الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহাদিসুল কুসসাস - আস-সাব্বাগের তাহকিক   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


বই: আহাদিসুল কুসসাস

লেখক: শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়া

গবেষক: ড. মুহাম্মদ বিন লুৎফি আস-সাব্বাগ

প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামি، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৪

দ্রষ্টব্য: এই (ডিজিটাল) সংস্করণের টীকায় দারুল আসার (কায়রো) সংস্করণ থেকে কিছু পাঠভেদ যুক্ত করা হয়েছে। উক্ত সংস্করণটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দে এবং এর তাহকিক ও তাখরিজ করেছেন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আবু আল-আলা।

তত্ত্বাবধানে: মুহাম্মদ আল-মানসুর، আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين.

هذه أحاديث يرويها القُصَّاصُ عن النبيّ صلى الله عليه وسلم، وبعضها عن الله تعالى أجاب عنها شيخ الإسلام أَبو العباس أحمد بن تيمية رحمه الله تعالى.

 

منها:

‌‌1 - «مَا وَسِعَنِي سَمَائِي وَلَا أَرْضِي، بَلْ وَسِعَنِي قَلْبُ عَبْدِي الْمُؤْمِنِ».
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এগুলো এমন কিছু হাদিস যা গল্পকারগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, আর এর কিছু অংশ মহান আল্লাহ থেকে বর্ণিত; শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি এগুলোর উত্তর দিয়েছেন।

 

তন্মধ্যে রয়েছে:

‌‌১ - "আমার আকাশ এবং আমার পৃথিবী আমাকে ধারণ করতে পারেনি, বরং আমার মুমিন বান্দার অন্তর আমাকে ধারণ করেছে।"
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
هذا مذكورٌ في الإسرائيليات. وليس له إسناد معروفٌ عن النبي صلى الله عليه وسلم. ومعناه: وسع قلبُه الإيمانَ بي ومحبتي ومعرفتي. وإِلَّا فمن قال: إن ذات الله تَحُلُّ في قلوب الناس فهو أَكفر من النصارى الذين خصوا ذلك بالمسيح وحده.
এটি ইসরাঈলি বর্ণনাসমূহে উল্লিখিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর কোনো পরিচিত সনদ নেই। এর অর্থ হলো: তার অন্তর আমার প্রতি ঈমান, আমার প্রতি ভালোবাসা এবং আমার পরিচয়কে ধারণ করার মতো প্রশস্ত হয়েছে। অন্যথায়, যে ব্যক্তি বলবে যে আল্লাহর সত্তা মানুষের হৃদয়ে প্রবিষ্ট হয়, সে সেই নাসারাদের চেয়েও বড় কাফির যারা বিষয়টিকে কেবল মসীহের সাথে সুনির্দিষ্ট করেছিল।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
ومنها:

‌‌2 - «القَلْبُ بَيْتُ الرَّبِّ».

هذا الكلامُ مِنْ جنس الأَول: القلب بيتُ الإيمان بالله ومعرفته ومحبته.

وليس هذا من كلام النبي صلى الله عليه وسلم.

 

ومنها:

‌‌3 - «كُنْتُ كَنْزًا لَا أُعْرَفُ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُعْرَفَ فَخَلَقْتُ خَلْقًا. فَعَرَّفْتُهُمْ بِي، فَبِي عَرَفُونِي».

ليس هذا من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يعرف له إسنادٌ صحيح ولا ضعيف.

 

ومنها:

‌‌4 - «أَنَا مِنَ المُؤْمنينَ، وَالمُؤْمِنُونَ مِنِّي»(1).

هذا اللفظ لا يُعرف عن النبي صلى الله عليه وسلم. لكن ثبتَ في الكتاب

--------------------------------------------

(1) انظره في «المقاصد الحسنة» ص 98 و «الدرر المنتثرة» رقم 39 و «التمييز» ص 33 و «الأسرار المرفوعة» ص 119 و «تنزيه الشريعة» 402/ 2 و «كشف الخفاء» 205/ 1 و «الفوائد المجموعة» ص 326 و «الفوائد» للكرمي 71 و «تذكرة الموضوعات» 86 و «الفتاوى الحديثية» 211 و «فتاوى ابن تيمية» 72/ 11، وقد روته هذه المصادر كما يلي: «أنا من الله، والمؤمنون مني».
এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌২ - "অন্তর হলো রবের ঘর।"

এই কথাটি প্রথম প্রকারের অনুরূপ: অন্তর হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর পরিচয় এবং তাঁর প্রতি মহব্বতের ঘর।

আর এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী নয়।

 

এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌৩ - "আমি এক গুপ্ত ভাণ্ডার ছিলাম যা পরিচিত ছিল না, অতঃপর আমি পরিচিত হতে পছন্দ করলাম এবং সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলাম। ফলে আমি তাদের কাছে নিজের পরিচয় প্রদান করলাম এবং তারা আমার মাধ্যমেই আমাকে চিনতে পারল।"

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী নয়, এবং এর জন্য কোনো সহীহ বা যঈফ ইসনাদ জানা নেই।

 

এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌৪ - "আমি মুমিনদের থেকে এবং মুমিনরা আমার থেকে।"(১)

এই শব্দগুচ্ছ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বলে জানা নেই। তবে কিতাবে প্রমাণিত হয়েছে—

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'আল-মাকাসিদ আল-হাসানাহ' পৃষ্ঠা ৯৮, 'আদ-দুরার আল-মুনতাছিরাহ' নম্বর ৩৯, 'আত-তাময়ীয়' পৃষ্ঠা ৩৩, 'আল-আসরার আল-মারফুয়াহ' পৃষ্ঠা ১১৯, 'তানযীহ আশ-শারীআহ' ২/৪০২, 'কাশফুল খাফা' ১/২০৫, 'আল-ফাওয়াইদ আল-মাজমুআহ' পৃষ্ঠা ৩২৬, কারমীর 'আল-ফাওয়াইদ' ৭১, 'তাযকিরাতুল মাওদুআত' ৮৬, 'আল-ফাতাওয়া আল-হাদীসিয়্যাহ' ২১১ এবং 'ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ' ১১/৭২। এই উৎসগুলোতে এটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে: "আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং মুমিনরা আমার থেকে।"
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
والسنة: إنما المؤمنون بعضهم من بعض كما قال تعالى:

{بَعْضُكُمْ مِنْ بَعْضٍ}.

وقال النبيُّ صلى الله عليه وسلم لحيّ الأَشعريين:

«هُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ».

وقال لعلي رضي الله عنه: «أَنْتَ مِنِّي وَأَنَا مِنْكَ».

وقال لجُلَيْبِيب: «هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ».
আর সুন্নাহ হলো: মুমিনগণ একে অপরের অংশ, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন:

{তোমরা একে অপরের অংশ}।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশআরী গোত্র সম্পর্কে বলেছেন:

«তারা আমার পক্ষ থেকে এবং আমি তাদের পক্ষ থেকে।»

তিনি আলীর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) উদ্দেশ্যে বলেছেন: «তুমি আমার এবং আমি তোমার।»

তিনি জুলাইবিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সম্পর্কে বলেছেন: «এ আমার পক্ষ থেকে এবং আমি তার পক্ষ থেকে।»
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
هذه الأَحاديث في الصحيح.

 

ومنها:

‌‌5 - «لَا رَاحَةَ لِلْمُؤْمِنِ دُونَ لِقَاءِ رَبِّهِ».

هذا من كلام بعض السلف.

 

ومنها:

6 - [حديث] العقل: «إِنَّ اللهَ عز وجل لَمَّا خَلَقَ الْعَقْلَ قَالَ لَهُ: أَقْبِلْ، فأَقْبَلَ، ثُمَّ قَالَ لَهُ: أَدْبِرْ، فَأَدْبَرَ. فَقَالَ: وَعِزَّتِي وَجَلَالِي مَا خَلَقْتُ خَلْقًا أَشْرَفَ مِنْكَ، فَبِكَ آخُذُ وَبِكَ أُعْطِي».

هذا الحديث كذبٌ موضوع باتفاق أهل العلم، والذين يروونه ذكروه في فضل عقل الإِنسان. وأَما ما يظن بعض الناس المراد به العقل الفعّال [فهذا قول من يقول من المعتزلة والملاحدة][*] الذين يقولون بأنَّ العقل الفعال هو المبدع لهذا العالم، وهذا مما هو

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): في طبعة دار الآثار: «فهذا قول من أقوال المتفلسفة والملاحدة»
এই হাদিসগুলো সহিহ গ্রন্থে রয়েছে।

 

আর তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌৫ - "প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ ব্যতিরেকে মুমিনের কোনো প্রশান্তি নেই।"

এটি কোনো কোনো সালাফের (পূর্বসূরিদের) উক্তি।

 

আর তার মধ্যে রয়েছে:

৬ - [আকল বা বুদ্ধিবৃত্তি বিষয়ক হাদিস]: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল যখন আকল সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে বললেন: 'সামনে এসো', তখন সে সামনে এলো। এরপর তাকে বললেন: 'পেছনে যাও', তখন সে পেছনে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: 'আমার মর্যাদা ও মহত্ত্বের কসম! আমি তোমার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো সৃষ্টি আর করিনি। তোমার মাধ্যমেই আমি পাকড়াও করি এবং তোমার মাধ্যমেই আমি প্রদান করি'।"

এই হাদিসটি আলেমদের ঐকমত্যে একটি বানোয়াট মিথ্যা। যারা এটি বর্ণনা করেন, তারা এটি মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। আর কিছু লোক যে ধারণা করে যে, এর দ্বারা 'সক্রিয় বুদ্ধিবৃত্তি' (আকলুল ফায়্যাল) উদ্দেশ্য [এটি মুতাযিলা ও নাস্তিকদের মধ্য থেকে একদলের বক্তব্য] যারা বলে যে, সক্রিয় বুদ্ধিবৃত্তিই এই জগতের উদ্ভাবক; এটি এমন একটি বিষয় যা...

--------------------------------------------

[*] (শামেলা-র টীকা): দারুল আসার সংস্করণে রয়েছে: "এটি দার্শনিক ও নাস্তিকদের অন্যতম একটি মতবাদ।"
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
مخالف لما اتفقت [عليه الرسل]. مما هو مخالفٌ لصريح العقل.

 

ومنها:

‌‌7 - «حُبُّ الدُّنْيَا رَأْسُ كُلِّ خَطِيئَةٍ».

هذا معروف عن جندب بن عبد الله البَجَليّ. وأَما عن النبيّ صلى الله عليه وسلم فليس له إسناد معروف.
রাসুলগণ যার ওপর একমত হয়েছেন তার পরিপন্থী। যা সুস্পষ্ট বিবেকেরও পরিপন্থী।

 

আর তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌৭ - «দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা সকল পাপের মূল»।

এটি জুনদুব বিন আব্দুল্লাহ আল-বাজালি থেকে বর্ণিত বলে সুপরিচিত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এর কোনো পরিচিত সনদ নেই।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
ومنها:

‌‌8 - «الدُّنْيَا خُطْوَةُ رَجُلٍ مُؤْمِنٍ».

هذا لا يُعْرَف عن النبيّ صلى الله عليه وسلم ولا عن سلف الأُمة و [لا] خلفها و [لا] أئمتها.

 

ومنها:

‌‌9 - «مَنْ بُورِكَ لَهُ فِي شَيْءٍ فَلْيَلْزَمْهُ».

 

‌‌10 - «مَنْ أَلْزَمَ نَفْسَهُ شَيْئًا لَزِمَهُ».

الأَول مأْثور عن بعض السلف.

والثاني باطل؛ فمن أَلزم نفسه شيئًا فقد يلزمه، وقد لا يلزمه بحسب ما أَمر الله به ورسوله.

 

ومنها:

‌‌11 - «اتَّخِذُوا مَعَ الْفُقَرَاءِ أَيَادِي فَإِنَّ لَهُمْ [فِي غَدٍ] دَوْلَةً [وَأَيُّ دَوْلَةٍ]».
এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৮ - «দুনিয়া একজন মুমিন ব্যক্তির একটি পদক্ষেপ মাত্র।»

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পরিচিত নয় এবং উম্মতের সালাফ (পূর্বসূরি) থেকে নয়, [না] তাদের খালাফ (উত্তরসূরি) থেকে এবং [না] তাদের ইমামদের থেকে।

 

এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৯ - «যাকে কোনো বিষয়ে বরকত দান করা হয়েছে, সে যেন তা আঁকড়ে ধরে।»

 

‌‌১০ - «যে ব্যক্তি নিজের ওপর কোনো কিছু অবধারিত করে নেয়, তা তার ওপর আবশ্যক হয়ে যায়।»

প্রথমটি কিছু সালাফ থেকে বর্ণিত।

দ্বিতীয়টি বাতিল; কেননা কেউ নিজের ওপর কোনো কিছু অবধারিত করলেই তা তার ওপর আবশ্যক হতে পারে, আবার নাও হতে পারে—যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা নির্দেশ দিয়েছেন সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

 

এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌১১ - «তোমরা দরিদ্রদের প্রতি অনুগ্রহের হাত প্রসারিত করো, কেননা নিশ্চয়ই [আগামী কাল] তাদের জন্য এক রাজত্ব রয়েছে [আর তা কতই না চমৎকার রাজত্ব]।»
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬০)
‌‌12 - «الْفَقْرُ فَخْرِي، وَبِهِ أَفْتَخِرُ».

كلاهما كذبٌ، لا يُعرف في شيءٍ من كتب المسلمين المعروفة.

 

ومنها:

‌‌13 - «أَنَّ أَبَا مَحْذُورَةَ أَنْشَدَ بَيْنَ يَدَيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم:

[قَدْ](1) لَسَعَتْ حَيَّةُ الْهَوَى كَبِدِي … [فَـ](1) لَا طَبِيبَ لَهَا وَلَا رَاقِي

إِلَى آخِرِهَا.

--------------------------------------------

(1) زيادة ليست في الأصل، ويقتضيها الوزن، وهي موجودة في الكتب التي أوردت هذه القصة المكذوبة.
১২ - «দরিদ্রতা আমার গৌরব, এবং আমি এটি নিয়ে গর্ব করি।»

উভয়টিই মিথ্যা, মুসলিমদের পরিচিত কোনো কিতাবেই এর কোনো ভিত্তি জানা নেই।

 

এবং তার মধ্য থেকে:

১৩ - «নিশ্চয়ই আবু মাহজুরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে আবৃত্তি করেছিলেন:

[নিশ্চয়ই](১) প্রবৃত্তির সর্প আমার কলিজায় দংশন করেছে … [কাজেই](১) এর কোনো চিকিৎসক নেই এবং কোনো ঝাড়ফুঁককারীও নেই

শেষ পর্যন্ত।

--------------------------------------------

(১) এই অতিরিক্ত অংশটুকু মূল পাঠে নেই, তবে কবিতার ছন্দের প্রয়োজনে এটি আবশ্যক; এটি সেই সব কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে যেগুলোতে এই মিথ্যা কাহিনীটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَتَوَاجَدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَوَقَعَتِ الْبُرْدَةُ عَنْ كَتِفَيْهِ، فَتَقَاسَمَهَا فُقَرَاءُ الصُّفَّةِ وَجَعَلُوهَا رُقَعًا فِي ثِيَابِهِمْ».

هذا كذبٌ باتفاق أَهل العلم بالحديث، لكن قد رواه بعضهم، لكنَّه من الأَكاذيب الموضوعة.

 

ومنها:

‌‌14 - «أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَكَلَّمَ مَعَ أَبِي بَكْرٍ كُنْتُ [بَيْنَهُمَا] كَالزِّنْجِيِّ الَّذِي لَا يَفْهَمُ».

هذا كذبٌ ظاهرٌ، لم ينقله أَحدٌ من أَهل العلم بالحديث، ولا يرويه إلَّا جاهل [أَو] ملحد.
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভাবাবেগে বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর কাঁধ থেকে চাদরটি পড়ে গিয়েছিল, অতঃপর আহলে সুফফার দরিদ্ররা সেটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছিল এবং তা তাদের কাপড়ের তালি হিসেবে ব্যবহার করেছিল।

হাদিস বিশারদদের ঐকমত্যে এটি একটি মিথ্যা কথা, তবে কেউ কেউ এটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এটি বানোয়াট মিথ্যাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

 

এবং তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌১৪ - "উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আবু বকরের সাথে কথা বলতেন, তখন আমি [তাদের মাঝে] এমন একজন কৃষ্ণাঙ্গের মতো ছিলাম যে কিছুই বোঝে না।"

এটি একটি সুস্পষ্ট মিথ্যা, হাদিস বিশারদদের কেউ এটি বর্ণনা করেননি এবং কোনো মূর্খ [অথবা] ধর্মত্যাগী ছাড়া কেউ এটি বর্ণনা করে না।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬২)
ومنها:

‌‌15 - «أَنَا مَدِينَةُ الْعِلْمِ وَعَلِيٌّ بَابُهَا».

هذا ضعيف، بل موضوع عند أَهل المعرفة بالحديث لكن قد رواه الترمذيُّ وغيره، ومع هذا فهو كذب.

 

ومنها:

‌‌16 - «يَعْتَذِرُ إِلَى الْفُقَرَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَيَقُولُ - يَعْنِي اللهَ تَعَالَى -: وَعِزَّتِي وَجَلَالِي مَا زَوَيْتُ الدُّنْيَا عَنْكُمْ لِهَوَانِكُمْ عَلَيَّ، وَلَكِنْ أَرَدْتُ أَنْ أَرْفَعَ قَدْرَكُمْ فِي هَذَا الْيَوْمِ. انْطَلِقُوا إِلَى الْمَوْقِفِ، فَمَنْ أَحْسَنَ إِلَيْكُمْ بِكِسْرَةٍ، أَوْ سَقَاكُمْ شِرْبَةً مِنْ مَاءٍ أَوْ كَسَاكُمْ خِرْقَةً انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى الْجَنَّةِ».
এর মধ্যে রয়েছে:

‌‌১৫ - «আমি জ্ঞানের শহর এবং আলী তার দরজা»।

এটি দুর্বল, বরং হাদীস বিশারদদের নিকট এটি বানোয়াট; যদিও তিরমিযী ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন, তবুও এটি একটি মিথ্যা।

 

এর মধ্যে রয়েছে:

‌‌১৬ - «কিয়ামতের দিন তিনি দরিদ্রদের নিকট ওজর পেশ করবেন এবং বলবেন - অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা -: আমার মর্যাদা ও মহিমার কসম! আমার নিকট তোমাদের তুচ্ছতার কারণে আমি দুনিয়াকে তোমাদের থেকে সংকুচিত করিনি, বরং আমি চেয়েছিলাম আজকের এই দিনে তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে। তোমরা হাশরের ময়দানে যাও, অতঃপর যে ব্যক্তি তোমাদের এক টুকরো রুটি দিয়ে অনুগ্রহ করেছে, কিংবা এক ঢোক পানি পান করিয়েছে, অথবা এক টুকরো কাপড় পরিধান করিয়েছে, তাকে নিয়ে তোমরা জান্নাতে চলে যাও»।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
هذا الثاني[*] كذبٌ لم يروه أحدٌ من أهل العلم بالحديث وهو باطلٌ مخالفٌ الكتابَ والسنةَ والإجماعَ.

 

ومنها:

‌‌17 - «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم لَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ فِي الْهِجْرَةِ خَرَجَتْ بَنَاتُ النَّجَّارِ بِالدُّفُوفِ وَهُنَّ يَقُلْنَ:

طَلَعَ الْبَدْرُ عَلَيْنَا … مِنْ ثَنِيَّاتِ الْوَدَاعِ

إِلَى آخِرِ الشِّعْرِ.

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): في طبعة دار الآثار: (هذا السياق).
এই দ্বিতীয়টি[*] একটি মিথ্যা, যা হাদীস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের কেউ বর্ণনা করেননি এবং এটি বাতিল তথা কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার পরিপন্থী।

 

এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌১৭ - "নিশ্চয়ই তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন হিজরতের সময় মদীনায় আগমন করলেন, তখন বনু নাজ্জারের কন্যারা দফ নিয়ে বেরিয়ে এল" এবং তারা বলছিল:

আমাদের নিকট পূর্ণিমার চাঁদ উদিত হয়েছে … সানিয়াতুল ওয়াদা হতে

কবিতার শেষ পর্যন্ত।

--------------------------------------------

[*] (শামেলার টীকা): দারুল আসার সংস্করণে রয়েছে: (এই প্রেক্ষাপটটি)।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬৪)
فَقَالَ: «هُزُّوا كَرَابِيلَكُمْ بَارَكَ اللهُ فِيكُمْ».

أما ضربُ النسوة بالدفوف في الأَفراح فقد كان معروفًا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم.

وأَما قوله: «هُزُّوا كَرَابِيلَكُمْ بَارَكَ اللهُ فِيكُمْ» فهذا لا يُعرف.

 

ومنها:

‌‌18 - «لَوْ وُزِنَ إِيمَانُ أَبِي بَكْرٍ بِإِيمَانِ النَّاسِ لَرَجَحَ
তিনি বললেন: «তোমরা তোমাদের কারাবিল নাড়াও, আল্লাহ তোমাদের মাঝে বরকত দিন»।

আর আনন্দানুষ্ঠানে নারীদের দফ বাজানোর বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে সুপরিচিত ছিল।

কিন্তু তাঁর বাণী: «তোমরা তোমাদের কারাবিল নাড়াও, আল্লাহ তোমাদের মাঝে বরকত দিন» - এটি সুপরিচিত নয়।

 

এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌১৮ - «যদি আবু বকরের ঈমানকে সকল মানুষের ঈমানের সাথে ওজন করা হতো, তবে তা অবশ্যই ভারী হতো»
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬৫)
إِيمَانُ أَبِي بَكْرٍ عَلَى إِيمَانِ النَّاسِ».

هذا قد جاءَ معناه في حديث معروف في السنن:

«إِنَّ أَبَا بَكْرٍ وُزِنَ بِهَذِهِ الْأُمَّةِ فَرَجَحَ».

 

ومنها:

‌‌19 - «اللَّهُمَّ إِنَّكَ أَخْرَجْتَنِي مِنْ أَحَبِّ الْبِقَاعِ إِليَّ، فَأَسْكِنِّي فِي أَحَبِّ الْبِقَاعِ إِلَيْكَ».

هذا باطلٌ [كذب] بل ثبت في الترمذي وغيره أنه قال [لمكة]:
"আবু বকরের ঈমান মানুষের ঈমানের ওপর।"

এর অর্থ সুনান গ্রন্থসমূহের একটি সুপরিচিত হাদিসে এসেছে:

«নিশ্চয়ই আবু বকরকে এই উম্মতের সাথে ওজন করা হয়েছে এবং তিনি ওজনে ভারী হয়েছেন»।

 

তন্মধ্যে রয়েছে:

‌‌১৯ - «হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি আমাকে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড থেকে বের করে দিয়েছেন, সুতরাং আমাকে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ডে বসবাস করতে দিন»।

এটি বাতিল [মিথ্যা], বরং তিরমিজি ও অন্যান্য গ্রন্থে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি [মক্কাকে উদ্দেশ্য করে] বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬৬)
«وَاللهِ إِنَّكِ لَأَحَبُّ بِلَادِ اللهِ إِلَى اللهِ» وقالَ: «إِنَّكِ لَأَحَبُّ الْبِلَادِ إِليَّ».

فأَخبر أَنها أحب البلاد إِلى الله وإليه.

 

ومنها:

‌‌20 - «مَنْ زَارَنِي وَزَارَ [أَبِي] إِبْرَاهِيمَ فِي عَامٍ وَاحِدٍ دَخَلَ الْجَنَّةَ».

هذا حديث كذب موضوع. ولم يروه أَحدٌ من أهل العلم بالحديث.

 

ومنها:

‌‌21 - «فُقَرَاؤُكُمْ حَسَنَاتُكُمْ».

هذا [اللفظ] ليس مأْثورًا، لكنَّ معناه صحيح، فإن الفقراء موضعٌ للإِحسان إِليهم، فبهم تحصل الحسنات.
«আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর কাছে আল্লাহর ভূমিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ভূমি» এবং তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই তুমি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভূমি»।

সুতরাং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তা আল্লাহর কাছে এবং তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভূমি।

 

এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌২০ - «যে ব্যক্তি একই বছরে আমাকে এবং [আমার পিতা] ইব্রাহিমকে যিয়ারত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»।

এটি একটি মিথ্যা ও জাল হাদিস। হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কেউ এটি বর্ণনা করেননি।

 

এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌২১ - «তোমাদের দরিদ্ররাই তোমাদের পুণ্য»।

এই [শব্দটি] হাদিস হিসেবে বর্ণিত নয়, তবে এর অর্থ সঠিক; কেননা দরিদ্ররা হলো তাদের প্রতি অনুগ্রহ করার ক্ষেত্র, আর তাদের মাধ্যমেই পুণ্য অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬৭)
ومنها:

‌‌22 - «الْبَرَكَةُ مَعَ أَكَابِرِكُمْ».

قد ثبت في الصحيح في حديث قتيل خيبر أنه قال:

«كَبِّرْ كَبِّرْ».

أَي يتكلم الأكبر.

وثبت في حديث الإِمامة أَنه قال:

«فَإِنْ اسْتَوَوْا -[أَيْ] فِي الْقِرَاءَةِ وَالسُّنَّةِ وَالْهِجْرَةِ - فَلْيَؤُمُّهُمْ أَكْبَرُهُمْ سِنًّا».
এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌২২ - «তোমাদের বড়দের সাথেই বরকত রয়েছে।»

সহিহ হাদিসে খায়বারে নিহত ব্যক্তির বর্ণনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:

«বড়কে বলতে দাও, বড়কে বলতে দাও।»

অর্থাৎ, বয়সে বড় ব্যক্তি কথা বলবে।

এবং ইমামত সংক্রান্ত হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:

«যদি তারা সমান হয় —[অর্থাৎ] কিরাত, সুন্নাহ এবং হিজরতের ক্ষেত্রে— তবে তাদের মধ্যে বয়সে যে বড়, সে যেন তাদের ইমামতি করে।»
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬৮)
ومنها:

‌‌23 - «أَكْرِمُوا ظُهُورَكُمْ فَإِنَّ فِيهَا مَنَافِعَ لِلنَّاسِ».

هذا اللفظ لا أَعرفه مرفوعًا.

 

ومنها:

‌‌24 - «الشَّيْخُ فِي قَوْمِهِ كَالنَّبِيِّ فِي أُمَّتِهِ».

هذا ليس من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، وإِنما يقوله بعض الناس.

 

ومنها:

‌‌25 - «لَوْ وُزِنَ خَوْفُ الْمُؤْمِنِ وَرَجَاؤُهُ لَاعْتَدَلَا».

هذا ما(1) يعرف عن بعض السلف. وهو كلام صحيح.

 

ومنها:

‌‌26 - «عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه، أَنَّ أَعْرَابِيًّا صَلَّى وَنَقَرَ صَلَاتَهُ، فَقَالَ [عَلِيٌّ: لَا تَنْقُرْ صَلَاتَكَ].

فَقَالَ الْأَعْرَابِيُّ: يَا عَلِيُّ! لَوْ نَقَرَهَا أَبُوكَ مَا دَخَلَ النَّارَ».

هذا كذب.

--------------------------------------------

(1) أي هذا الذي. فـ (ما) هنا بمعنى الذي. وفي (الفتاوى) و ت: هذا مأثور عن.
আর তার মধ্য থেকে একটি হলো:

‌‌২৩ - «তোমাদের ভারবাহী পশুদের সম্মান করো, কারণ তাতে মানুষের জন্য বহু উপকারিতা রয়েছে।»

এই শব্দগুলো মারফু (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী) হিসেবে আমার জানা নেই।

 

আর তার মধ্য থেকে একটি হলো:

‌‌২৪ - «নিজ গোত্রের মাঝে শায়খ (বয়োজ্যেষ্ঠ বা জ্ঞানী) ঠিক তেমনি, যেমন তাঁর উম্মতের মাঝে নবী।»

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী নয়, বরং কিছু মানুষ তা বলে থাকে।

 

আর তার মধ্য থেকে একটি হলো:

‌‌২৫ - «যদি মুমিনের ভয় এবং আশাকে ওজন করা হতো, তবে তা সমান হতো।»

এটি(১) কোনো কোনো সালাফ (পূর্বসূরি) থেকে বর্ণিত বলে পরিচিত। আর এটি একটি সঠিক কথা।

 

আর তার মধ্য থেকে একটি হলো:

‌‌২৬ - «আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক গ্রাম্য আরব সালাত আদায় করল এবং সালাতে (পাখির মতো) ঠোকর দিচ্ছিল। তখন আলী বললেন: [তোমার সালাতে ঠোকর দিও না]। তখন গ্রাম্য আরবটি বলল: হে আলী! যদি তোমার পিতা এমনভাবে ঠোকর দিত, তবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করত না।»

এটি মিথ্যা।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ এটি যা। এখানে (মা) শব্দটি 'আল্লাজি' বা 'যা' অর্থে ব্যবহৃত। আর 'আল-ফাতাওয়া' এবং 'ত' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: এটি ... থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৬৯)
ومنها:

‌‌27 - «وَيَرْوُونَهُ عَنْ عُمَرَ أَيْضًا».

وهو أَيضًا كذب.

 

ومنها:

‌‌28 - «وَيَرْوُونَ عَنْ عُمَرَ أَنَّهُ قَتَلَ أَبَاهُ».

هذا كذبٌ فإِنَّ أَبا عمر مات في الجاهلية قبل مبعث الرسول صلى الله عليه وسلم.

 

ومنها:

‌‌29 - «كُنْتُ نَبِيًّا وَآدُمُ بَيْنَ الْمَاءِ وَالطِّينِ، وَكُنْتُ نَبِيًّا وَلَا آدَمَ وَلَا مَاءَ وَلَا طِينَ».

هذا اللفظ كذب باطل.

ولكن اللفظ المأْثور الذي رواه الترمذيُّ وغيره أَنه قيل:

يَا رَسُولُ اللهِ! مَتَى كُنْتَ نَبِيًّا؟

قَالَ: «وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ».

وفي السنن عن العرباض بن سارية أنه قال:
এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌২৭ - «তারা এটি উমর থেকেও বর্ণনা করে থাকেন»।

এটিও একটি মিথ্যা।

 

এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌২৮ - «তারা উমর সম্পর্কে বর্ণনা করে যে, তিনি তাঁর পিতাকে হত্যা করেছিলেন»।

এটি একটি মিথ্যা। কারণ উমরের পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই জাহেলিয়াতের যুগে মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌২৯ - «আমি নবী ছিলাম যখন আদম পানি ও কাদার মাঝে ছিলেন; এবং আমি নবী ছিলাম যখন আদম ছিলেন না, পানিও ছিল না এবং কাঁদাও ছিল না»।

এই শব্দগুলো মিথ্যা ও বাতিল।

তবে বর্ণিত শব্দসমূহ যা তিরমিযী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, তা হলো, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল:

হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কখন থেকে নবী ছিলেন?

তিনি বললেন: «যখন আদম রুহ ও দেহের মাঝে ছিলেন»।

আর সুনান গ্রন্থসমূহে ইরবায ইবন সারিয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭০)
«إِنِّي عِنْدَ اللهِ لَمَكْتُوبٌ: خَاتَمُ النَّبِيِّينَ، وَ [إِنَّ] آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينِهِ».

 

ومنها:

‌‌30 - «الْعَازِبُ فِرَاشُهُ مِنْ نَارٍ».

 

‌‌31 - و «مِسْكِينٌ رَجُلٌ بِلَا امْرَأَةٍ، وَمِسْكِينَةٌ امْرَأَةٌ بِلَا رَجُلٍ».

هذا ليس من كلام النبي صلى الله عليه وسلم، وما أَظنُّ أَجده مرويًّا[*]، ولم يثبت.

 

[ومنها]:

‌‌32 - «وَيَرْوُونَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): في طبعة دار الآثار: (ولم أجده مرويًّا).
"আমি আল্লাহর নিকট 'খাতামুন নাবিয়্যীন' হিসেবে লিখিত ছিলাম, এমতাবস্থায় যে আদম তাঁর কাদার মধ্যে লীন ছিলেন।"

 

তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌৩০ - "অবিবাহিত ব্যক্তির বিছানা আগুনের।"

 

‌‌৩১ - এবং "স্ত্রীহীন পুরুষ নিঃস্ব, আর স্বামীহীন নারী নিঃস্ব।"

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী নয়, এবং আমার মনে হয় না যে আমি এটি বর্ণিত অবস্থায় খুঁজে পাব[*], আর এটি প্রমাণিতও নয়।

 

[এবং তার মধ্য হতে]:

‌‌৩২ - "এবং তারা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেন...

--------------------------------------------

[*] (শামেলা টীকা): দারুল আসার সংস্করণে রয়েছে: (আমি এটি বর্ণিত হিসেবে পাইনি)।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭১)
أَنَّهُ لَمَّا بَنَى الْبَيْتَ صَلَّى فِي كُلِّ رُكْنٍ أَلْفَ رَكْعَةٍ، فَأَوْحَى اللهُ إِلَيْهِ: يَا إِبْرَاهِيمُ! أَفْضَلُ مِنْ هَذَا سَدُّ جَوْعَةٍ أَوْ سَتْرُ عَوْرَةٍ».

هذا كذبٌ ظاهر. وليس هذا من كتب المسلمين[*].

 

ومنها:

‌‌33 - «إِذَا ذُكِرَ إِبْرَاهِيمُ الْخَلِيلُ، وَذُكِرْتُ أَنَا [فَصَلُّوا عَلَيْهِ ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ. وَإِذَا ذُكِرْتُ أَنَا وَالْأَنْبِيَاءُ غَيْرُهُ] فَصَلُّوا عَلَيَّ [ثُمَّ صَلُّوا عَلَيْهِمْ]».

هذا كذبٌ لا يعرف في شيءٍ من كتب أَهل الحديث ولا عن أَحدٍ من العلماءِ المعروفين بالحديث.

 

ومنها:

‌‌34 - «مَنْ قَالَ: أَنَا فِي الْجَنَّةِ؛ فَهُوَ فِي النَّارِ. وَمَنْ قَالَ: أَنَا فِي النَّارِ؛ فَهُوَ كَمَا قَالَ».

ليس هذا من كلام النبي صلى الله عليه وسلم. ولكن يُروى عن عمر أَنه قال:

«مَنْ قَالَ: أَنَا مُؤْمِنٌ؛ فَهُوَ كَافِرٌ. وَمَنْ قَالَ: أَنَا فِي الْجَنَّةِ؛ فَهُوَ

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): في طبعة دار الآثار: (وليس هو في كتب المسلمين).
নিশ্চয়ই তিনি যখন (কাবা) ঘর নির্মাণ করলেন, তখন প্রতি কোণে এক হাজার রাকাত সালাত আদায় করলেন। তখন আল্লাহ তাঁর নিকট ওহি প্রেরণ করলেন: হে ইবরাহিম! এর চেয়েও উত্তম হলো কোনো ক্ষুধার্তের ক্ষুধা নিবারণ করা কিংবা কারো লজ্জা নিবারণ করা (বস্ত্র দান করা)।»

এটি একটি স্পষ্ট মিথ্যা। এটি মুসলমানদের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়[*]।

 

এবং তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌৩৩ - «যখন খলিলুল্লাহ ইবরাহিমের উল্লেখ করা হয় এবং আমারও উল্লেখ করা হয়, [তখন তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং তারপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো। আর যখন আমার এবং তিনি ব্যতীত অন্যান্য নবীদের উল্লেখ করা হয়] তখন আমার ওপর দরুদ পাঠ করো [এবং তারপর তাঁদের ওপর দরুদ পাঠ করো]»।

এটি এমন এক মিথ্যা যা হাদিস বিশারদগণের (আহলুল হাদিস) কোনো কিতাবে পরিচিত নয় এবং হাদিসশাস্ত্রে সুপরিচিত কোনো আলেমের থেকেও এটি বর্ণিত হয়নি।

 

এবং তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌৩৪ - «যে ব্যক্তি বলে: আমি জান্নাতে আছি; সে জাহান্নামে। আর যে ব্যক্তি বলে: আমি জাহান্নামে আছি; সে যেমন বলেছে তেমনই»।

এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা নয়। তবে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন:

«যে ব্যক্তি বলে: আমি মুমিন; সে কাফের। আর যে ব্যক্তি বলে: আমি জান্নাতে আছি; সে...

--------------------------------------------

[*] (শামেলা-র টীকা): দারুল আসার সংস্করণে রয়েছে: (এবং এটি মুসলমানদের কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়)।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭২)
فِي النَّارِ» وأظنه من مراسيل الحسن عنه.

 

ومنها:

‌‌35 - «مَنْ أَخْلَصَ لِلَّهِ عز وجل أَرْبَعِينَ يَوْمًا تَفَجَّرَتْ يَنَابِيعُ الْحِكْمَةِ مِنْ قَلْبِهِ عَلَى لِسَانِهِ».
আগুনের মধ্যে।" এবং আমি মনে করি এটি তাঁর থেকে বর্ণিত হাসান (বসরী)-র মুরসাল হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

 

এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৩৫ - "যে ব্যক্তি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য চল্লিশ দিন একনিষ্ঠতা অবলম্বন করবে, তার অন্তর থেকে প্রজ্ঞার ঝর্ণাধারা তার জিহ্বার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে।"
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭৩)
هذا قد رواه الإمام أَحمد رحمه الله وغيره عن مكحول عن النبيّ صلى الله عليه وسلم مرسلًا.

ورُوي مسندًا من حديث يوسف بن عطية الصفَّار، عن ثابت عن أَنس.

ويوسف ضعيفٌ لا يجوز الاحتجاج بحديثه.

 

ومنها:

‌‌36 - «مَنْ أَكَلَ مَعَ مَغْفُورٍ لَهُ غُفِرَ لَهُ».

هذا ليس له إِسناد عند أهل العلم، ولا هو في شيءٍ من كتب المسلمين. إِنما يروونه عن سنان(1). وليس معناه صحيحًا على الإطلاق؛ فقد يأْكل مع المسلمين الكفار والمنافقون.

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصل. وفي ت و «الرسائل»: سالم. وفي «المقاصد»: هشام.
এটি ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যান্যরা মাকহুল থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আর এটি ইউসুফ বিন আতিয়্যাহ আস-সাফফার-এর হাদীস থেকে সাবিত সূত্রে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মুসনাদ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

আর ইউসুফ দুর্বল, তার হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করা জায়েয নয়।

 

এবং এর মধ্য থেকে:

‌‌৩৬ - «যে ব্যক্তি এমন কারো সাথে আহার করবে যাকে ক্ষমা করা হয়েছে, তাকেও ক্ষমা করা হবে»।

বিদ্বানদের নিকট এর কোনো সনদ নেই এবং মুসলিমদের কোনো কিতাবেও এর অস্তিত্ব নেই। তারা কেবল এটি সিনান(১) থেকে বর্ণনা করেন। আর এর অর্থও ঢালাওভাবে সঠিক নয়; কারণ কাফির ও মুনাফিকরা মুসলিমদের সাথে আহার করতে পারে।

--------------------------------------------

(১) মূল কপিতে এভাবেই রয়েছে। 'তা' এবং 'আর-রাসাইল'-এ রয়েছে: সালিম। আর 'আল-মাকাসিদ'-এ রয়েছে: হিশাম।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭৪)
ومنها:

‌‌37 - «مَنْ أَشْبَعَ جَوْعَةً أَوْ سَتَرَ عَوْرَةً ضَمِنْتُ لَهُ عَلَى اللهِ الْجَنَّةَ».

هذا لفظٌ لا يعرف عن النبيِّ صلى الله عليه وسلم.

 

ومنها:

‌‌38 - «صَدَقَةُ السِّرِّ تُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ».

الحديث المعروف: «الصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ» واللفظ المذكور أَظنه مأثورًا.

 

ومنها:

‌‌39 - «لَا تَكْرَهُوا الْفِتَنَ، فَإِنَّ فِيهَا حَصَادَ الْمُنَافِقِينَ».

هذا ليس معروفًا عن النبي صلى الله عليه وسلم.
এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৩৭ - «যে ব্যক্তি কোনো ক্ষুধার্তকে তৃপ্ত করবে অথবা কারও লজ্জা নিবারণ করবে, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।»

এই শব্দবিন্যাসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বলে পরিচিত নয়।

 

এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৩৮ - «গোপন দান রবের ক্রোধকে প্রশমিত করে।»

সুপরিচিত হাদিসটি হলো: «সদকা গুনাহকে মিটিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়» আর উল্লিখিত শব্দবিন্যাসটিকে আমি পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণিত কোনো উক্তি বলে মনে করি।

 

এবং এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৩৯ - «তোমরা ফিতনাকে অপছন্দ করো না, কেননা এতে মুনাফিকদের সমূলে বিনাশ নিহিত রয়েছে।»

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বলে পরিচিত নয়।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭৫)
ومنها:

‌‌40 - «سَبُّ صَحَابَتِي ذَنْبٌ لَا يُغْفَرُ».

هذا كذبٌ على النبي صلى الله عليه وسلم. وقد قال الله تعالى: {إِنَّ اللهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ، وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ}.

 

ومنها:

‌‌41 - «مَا يَنْقُصُ مَالٌ مِنْ صَدَقَةٍ، بَلْ يَزِيدُ بِهَا».

قد ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أَنه قال: «ثَلَاثٌ إِنْ كُنْتُ لَحَالِفًا عَلَيْهِنَّ:

مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ، وَمَا زَادَ اللهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا، وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللهُ».
এর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৪০ - «আমার সাহাবীদের গালি দেওয়া এমন এক পাপ যা ক্ষমা করা হয় না»।

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর একটি মিথ্যা আরোপ। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না, এবং এছাড়া অন্য যা কিছু আছে তা তিনি যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করেন}।

 

এবং এর মধ্যে আরও রয়েছে:

‌‌৪১ - «দান-সদকার কারণে সম্পদ কমে না, বরং এর মাধ্যমে তা বৃদ্ধি পায়»।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ বর্ণনায় এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: «তিনটি বিষয় এমন যার ওপর আমি অবশ্যই শপথ করতে পারি:

দান-সদকার কারণে কোনো সম্পদ কমে নি, কোনো বান্দা ক্ষমা করলে আল্লাহ কেবল তার সম্মানই বৃদ্ধি করেন, আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কেউ বিনয়ী হলে আল্লাহ তাকে অবশ্যই উচ্চ মর্যাদা দান করেন»।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭৬)
ومنها:

‌‌42 - «يَوْمُ الْجُمُعَةِ حَجُّ الْمَسَاكِينِ».

هذا مأْثور. ومعناه: أي من عجز عن الحج فذهابه إلى المسجد يوم الجمعة هو له كالحج. ليس معناه سؤال الناس له.

 

ومنها:

‌‌43 - «مَا سَعِدَ مَنْ سَعِدَ إِلَّا بِالدُّعَاءِ، وَمَا شَقِيَ مَنْ شَقِيَ إِلَّا بِالدُّعَاءِ».
এবং তন্মধ্যে রয়েছে:

‌‌৪২ - «জুমার দিন হলো দরিদ্রদের হজস্বরূপ।»

এটি বর্ণিত। এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি হজ করতে অক্ষম, জুমার দিন মসজিদে তার গমন তার জন্য হজের ন্যায়। এর অর্থ এই নয় যে সে মানুষের কাছে হাত পাতবে।

 

এবং তন্মধ্যে রয়েছে:

‌‌৪৩ - «যে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান হয়েছে সে কেবল দোয়ার মাধ্যমেই হয়েছে, আর যে ব্যক্তি দুর্ভাগা হয়েছে সে কেবল দোয়ার মাধ্যমেই হয়েছে।»
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭৭)
‌‌44 - «الدُّعَاءُ مُخُّ الْعِبَادَةِ».

مأْثور. وأَما الأَول فلا يعرف.

 

ومنها:

‌‌45 - «مَنْ عَلَّمَ أَخَاهُ آيَةً مِنْ كِتَابِ اللهِ عز وجل فَقَدْ مَلَكَ رِقَّهُ».

هذا كذبٌ، ليس في شيء من كتبِ أَهل العلم.

 

ومنها:

‌‌46 - «اطَّلَعْتُ عَلَى ذُنُوبِ أُمَّتِي، فَلَمْ أَجِدْ ذَنْبًا أَعْظَمَ مِمَّنْ تَعَلَّمَ آيَةً ثُمَّ نَسِيَهَا».
৪৪ - «দুআ হলো ইবাদতের মজ্জা (সারবস্তু)»।

এটি বর্ণিত (মা’সুর)। তবে প্রথমটি সম্পর্কে কিছু জানা যায় না।

 

এবং তন্মধ্যে রয়েছে:

‌৪৫ - «যে ব্যক্তি তার ভাইকে মহান আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত শিক্ষা দিল, সে যেন তাকে দাসে পরিণত করল (তার মালিক হয়ে গেল)।»

এটি মিথ্যা, এটি ইলম অর্জনকারী ব্যক্তিবর্গের (আলেমদের) কোনো কিতাবে নেই।

 

এবং তন্মধ্যে রয়েছে:

‌৪৬ - «আমি আমার উম্মতের পাপরাশি প্রত্যক্ষ করলাম, অতঃপর যে ব্যক্তি কোনো আয়াত শিখে তা ভুলে গেছে, তার চেয়ে বড় কোনো পাপ আমি আর দেখতে পেলাম না।»
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭৮)
وإذا صحَّ هذا الحديث: فهل عنى بالنسيان الترك أو نسيان التلاوة؟

لفظ الحديث أَنه قال:

«مَوْجُودٌ فِي سَيِّئَاتِ أُمَّتِي: الرَّجُلُ يُؤْتِيهِ اللهُ آيَةً مِنَ الْقُرْآنِ، فَيَنَامُ عَنْهَا حَتَّى يُنَسَّاهَا».

والنسيان الذي هو يعني الإعراض عن القرآن وترك الإيمان والعمل [به] كفر.

وأَما إِهمال درسه حتى ينساه فهو [من] الذنوب.
আর যদি এই হাদিসটি সহিহ হয়, তবে তিনি কি বিস্মৃতি দ্বারা বর্জন করা উদ্দেশ্য নিয়েছেন নাকি তিলাওয়াত ভুলে যাওয়া?

হাদিসের শব্দসমূহ হলো, তিনি বলেছেন:

«আমার উম্মতের পাপাচারসমূহের মধ্যে এটি বিদ্যমান: সেই ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআনের কোনো আয়াত দান করেছেন, অতঃপর সে তা নিয়ে গাফেল হয়ে ঘুমিয়ে থাকে, এমনকি তাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়।»

আর সেই বিস্মৃতি যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন থেকে বিমুখ হওয়া এবং ঈমান ও তার ওপর আমল বর্জন করা, তা কুফর।

আর এর পাঠে অবহেলা করা যার ফলে সে তা ভুলে যায়, তবে তা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৭৯)
ومنها:

‌‌47 - «مَنْ وَسَّعَ عَلَى أَهْلِهِ فِي يَوْمِ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهِ».

قال حرب الكرماني: سأَلت أَحمد بن حنبل رحمه الله عن الحديث الذي يُروى: «مَنْ وسَّعَ عَلَى أَهْلِهِ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَسَّعَ عَلَيْهِ سَائِرَ سَنَتِهِ» فقال: لا أصل له.

قلت: وأَصله من كلام إبراهيم بن محمد بن المنتشر عن أَبيه قال: بلغنا. ولم يذكر عمّن بلغه ذلك.
এগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৪৭ - "যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য উদারহস্তে ব্যয় করবে, আল্লাহ সারা বছর তার প্রতি প্রশস্ততা (উদারতা) দান করবেন।"

হারব আল-কিরমানি বলেন: আমি আহমাদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-কে বর্ণিত সেই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি: "যে ব্যক্তি আশুরার দিনে তার পরিবারের জন্য উদারহস্তে ব্যয় করবে, আল্লাহ সারা বছর তার প্রতি প্রশস্ততা দান করবেন।" উত্তরে তিনি বললেন: এর কোনো ভিত্তি নেই।

আমি বলছি: এর উৎস মূলত ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুনতাশিরের বক্তব্য, যা তিনি তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে। তবে কার থেকে তার নিকট এই সংবাদটি পৌঁছেছে তা তিনি উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৮০)
ومنها:

‌‌48 - أنَّ «آيَةً مِنْ الْقُرْآنِ خَيْرٌ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِهِ».

القرآنُ كله كلام الله منزل غير مخلوق، فلا يشبه بالمخلوقين، واللفظ المذكور غير مأثور.

 

ومنها:

‌‌49 - «أَنَا مِنَ الْعَرَبِ، وَلَيْسَ الْأَعْرَابُ مِنِّي».

هذا ليس من كلام النبي صلى الله عليه وسلم.

 

ومنها:

‌‌50 - «اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مِسْكِينًا، وَأَمِتْنِي مِسْكِينًا، وَاحْشُرْنِي فِي زُمْرَةِ الْمَسَاكِينِ».
এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৪৮ - নিশ্চয়ই "কুরআনের একটি আয়াত মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার অপেক্ষা উত্তম।"

সম্পূর্ণ কুরআন আল্লাহর কালাম যা অবতীর্ণ ও অসৃষ্ট; সুতরাং একে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা চলবে না। আর উল্লিখিত শব্দসমষ্টি (হাদিস হিসেবে) বর্ণিত নয়।

 

এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৪৯ - "আমি আরবদের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু মরুবাসী আরবরা আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।"

এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী নয়।

 

এবং সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

‌‌৫০ - "হে আল্লাহ, আমাকে মিসকিন হিসেবে জীবিত রাখুন, আমাকে মিসকিন হিসেবে মৃত্যু দান করুন এবং আমাকে মিসকিনদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে হাশর করুন।"
(খণ্ড: ১) আহাদীসুল কুসসাস - ত সাববাগ (পৃষ্ঠা: ৮১)
يُرْوَى لكنه ضعيف لا يثبت. ومعناه: أحيني خاشعًا متواضعًا. لكنَّ اللفظ لم يثبت.

 

ومنها:

‌‌51 - «إِذَا سَمِعْتُمْ عَنِّي حَدِيثًا فَاعْرِضُوهُ عَلَى الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ فَإِنْ وَافَقَ فَارْوُوهُ عَنِّي، وَإِنْ لَمْ يُوَافِقْ فَلَا تَرْوُوهُ عَنِّي».
এটি বর্ণিত হয়েছে, তবে তা দুর্বল এবং প্রমাণিত নয়। আর এর অর্থ হলো: আমাকে বিনয়ী ও নম্র অবস্থায় জীবিত রাখুন। কিন্তু শব্দচয়নটি প্রমাণিত নয়।

 

তার মধ্যে রয়েছে:

‌‌৫১ - «যখন তোমরা আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদীস শুনবে, তখন তা কুরআন ও সুন্নাহর সামনে পেশ করো; যদি তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো, আর যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় তবে তা আমার পক্ষ থেকে বর্ণনা করো না।»