(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: -)
فضائل القرآن لابن كثير   (ابن كثير)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب : فضائل القرآن

المؤلف : أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي البصري ثم الدمشقي (المتوفى : 774هـ)

الناشر : مكتبة ابن تيمية

الطبعة : الطبعة الأولى - 1416 هـ

عدد الصفحات: 320

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে কাসীর রহ.-এর ফাদায়িলুল কুরআন   (ইবনে কাসীর)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলে তাফসীর


গ্রন্থ : ফাদায়িলুল কুরআন

লেখক : আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর আল-কুরাশী আল-বসরী অতঃপর আদ-দামেশকী (মৃত্যু : ৭৭৪ হিজরি)

প্রকাশক : মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া

সংস্করণ : প্রথম সংস্করণ - ১৪১৬ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২০

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: -)
ـ[فضائل القرآن]ـ

المؤلف: ابن كثير، أبي الفداء عماد الدين إسماعيل بن عمر

الناشر: مكتبة ابن تيمية

الطبعة: الطبعة الأولى - 1416 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
ـ[কুরআনুল কারিমের ফজিলতসমূহ]ـ

লেখক: ইবনে কাসির, আবুল ফিদা ইমাদ উদ্দিন ইসমাইল বিন উমর

প্রকাশক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ - ১৪১৬ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি টীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمات

‌‌مقدمة المحقق

 

بسم الله الرحمن الرحيم

إنَّ الحمد لله تعالى نحمده، ونستعين به ونستغفره، ونعوذ بالله تعالى من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا. مَنْ يهد الله تعالى فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد:

فإن أصدق الحديث كتابُ الله تعالى، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشرَّ الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

فهذا كتاب "فضائل القرآن" للإمام النحرير، السلفيّ الكبير، عماد الدين أبي الفداء، المعروف بـ "ابن كثير"، جرى فيه على منوال البخاريِّ، فذكر متنه وخرَّج أحاديثه، وعلَّقَ عليها تعليقات يسيرة، ثم أردف ذلك بباب جامع، سرد فيه طائفة من جياد الأحاديث، وألحقه الحافظ ابن كثير في آخر تفسيره في أول الأمر، ثم أثبته في أول التفسير بعد ذلك، فقال في "النسخة المكية" والمرموز لها بالرمز "أ" وكتبت سنة "759" في حياة المصنف، وقبل موته بخمسة عشر عامًا، قال رحمه الله: "ذكر البخاريُّ رحمه الله كتاب "فضائل القرآن" بعد "كتاب التفسير"؛ لأن التفسير أهم، فلهذا بدأ به، فجرينا على منواله وسننه مقتدين به".

وقال في النسخة التي كتبها العالم الحنبلي ابن المحب رحمه الله، واسمه أحمد بن محمد بن أحمد بن المحب، وكانت وفاته سنة "776" في شهر ربيع الآخر كما في "الدرر الكامنة" "1/ 244/ رقم 631"، وكتب ابن المحب هذه النسخة في حياة المصنف، وله تقييدات عليها بخطه، وهي في
ভূমিকা সমূহ

গবেষকের ভূমিকা

 

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর:

নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মদ (সা.)-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

এটি হলো গভীর প্রজ্ঞাবান ইমাম, মহান সালাফি, ইমাদুদ্দিন আবুল ফিদা—যিনি "ইবনে কাসির" নামে সমধিক পরিচিত—তাঁর রচিত "ফাযায়িলুল কুরআন" গ্রন্থ। তিনি এতে ইমাম বুখারীর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তিনি এর মূল পাঠ (متن) উল্লেখ করেছেন এবং এর হাদিসগুলোর উৎস নিরূপণ (تخريج) করেছেন এবং সেগুলোর ওপর সংক্ষিপ্ত টীকা (تعليق) প্রদান করেছেন। অতঃপর তিনি এর সাথে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় যুক্ত করেছেন, যেখানে তিনি একদল উৎকৃষ্ট (جياد) হাদিস ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ ইবনে কাসির শুরুতে এটি তাঁর তাফসিরের শেষে যুক্ত করেছিলেন, পরবর্তীতে তিনি তা তাফসিরের শুরুতে স্থান দেন। তিনি 'মক্কী পাণ্ডুলিপি'-তে (যাকে 'আলিফ' সংকেত দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যা লেখকের মৃত্যুর পনেরো বছর পূর্বে ৭৫৯ হিজরিতে লিখিত) বলেছেন (রহ.): "ইমাম বুখারী (রহ.) 'কিতাবুত তাফসির'-এর পর 'ফাযায়িলুল কুরআন' অধ্যায়টি উল্লেখ করেছেন; কারণ তাফসির অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তাই তিনি এটি দিয়েই শুরু করেছেন। আমরাও তাঁকে অনুসরণ করে তাঁরই পদ্ধতিতে এটি পরিচালনা করেছি।"

তিনি সেই পাণ্ডুলিপিতেও বলেছেন যা হাম্বলি আলেম ইবনুল মুহিব্ব (রহ.) লিখেছিলেন। তাঁর নাম হলো আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-মুহিব্ব। 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (১/২৪৪/নং ৬৩১) গ্রন্থ অনুযায়ী তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ৭৭৬ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসে। ইবনুল মুহিব্ব এই পাণ্ডুলিপিটি লেখকের জীবদ্দশায় লিখেছিলেন এবং এতে তাঁর নিজ হাতের কিছু টীকা ও সংযুক্তি (تقييد) রয়েছে। আর এটি...
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৪)
غاية الإتقان والتحرير، فقال ابن كثير -رحمة الله: "ذكر البخارى رحمه الله كتاب "فضائل القرآن" بعد "كتاب التفسير"؛ لأن التفسير أهم، فلهذا بدأ به، ونحن قدمنا الفضائل قبل التفسير، وذكرنا فضل كل سورة قبل تفسيرها؛ ليكون ذلك باعثًا على حفظ القرآن، وفهمه والعمل بما فيه، والله المستعان". اهـ.

وقد طُبِعَ هذا الكتاب مرارًا على مطبوعة الشيخ محمد رشيد رضا رحمه الله، واعتمد فيها على النسخة المكية، ولكن وقع في هذه المطبوعة تحريف كثير، وطبعه الناس بعده مقتفين أثره حتى في هذا التحريف، ولم يخدم بتخريج أحاديثه وآثاره، أضف إلى ذلك أن ابن كثير ألحق نحو صفحتين خلت منهما النسخة المكية، فبهذا تكون هذه الطبعة هي الوحيدة الكاملة، واعتمدت في إخراجها على أربع مخطوطات، يأتي وصفهنّ -إن شاء الله، وأوليت النص عناية فائقة، وأرجو أن يكون كما صنَّفَه صاحبه -إن شاء الله تعالى، وخرَّجْتُ أحاديثه تخريجًا مختصرًا، وقد أطيل أحيانًا إطالةً خفيفة لأمر اقتضاه المقام، وقد بسطت تخريج أحاديث هذا الكتاب في كتابي "تسلية الكظيم بتخريج أحاديث وآثار تفسير القرآن العظيم"، وقد نجز منه ثلاث مجلدات إلى نهاية سورة الفاتحة. والله أسأل أن يجعله زادًا إلى حسن المصير إليه، وعتادًا إلى يمن القدوم عليه، إنه بكل جميل كفيل، وهو حسبنا ونعم الوكيل، والحمد لله أولًا وآخرًا ظاهرًا وباطنًا.

 

وكتبه راجي عفو ربه الغفور

أبو إسحاق الحويني الأثري

حامدًا لله تعالى ومصليًّا على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين

أول ذي الحجة/ 1415هـ.
সূক্ষ্মতা ও সম্পাদনার চূড়ান্ত রূপ; ইবনে কাসীর (রহ.) বলেছেন: "ইমাম বুখারি (রহ.) 'কিতাবুত তাফসির'-এর পর 'ফাদায়িলুল কুরআন' অধ্যায়টি উল্লেখ করেছেন; কারণ তাফসির অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তাই তিনি তা দিয়েই শুরু করেছেন। আর আমরা তাফসিরের আগে ফাদায়িল (মর্যাদা) অংশটি উপস্থাপন করেছি এবং প্রতিটি সূরার তাফসিরের আগে তার মর্যাদা উল্লেখ করেছি; যাতে এটি কুরআন হিফজ করা, তা বোঝা এবং সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগায়। আল্লাহই সাহায্যকারী।" (সমাপ্ত)।

এই বইটি শায়খ মুহাম্মদ রশিদ রিদা (রহ.)-এর মুদ্রণের ওপর ভিত্তি করে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে, যেখানে তিনি মক্কী পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছিলেন। কিন্তু এই মুদ্রণে প্রচুর বিকৃতি (تحريف) ঘটেছে এবং মানুষ তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে এমনকি এই বিকৃতিসহই এটি মুদ্রণ করেছে। এর হাদিস ও বর্ণনাসমূহ (آثار)-এর উৎস নির্ণয় (تخريج)-এর মাধ্যমে কোনো খিদমত করা হয়নি। এর সাথে যোগ করা প্রয়োজন যে, ইবনে কাসীর প্রায় দুই পৃষ্ঠা সংযুক্ত করেছিলেন যা মক্কী পাণ্ডুলিপিতে ছিল না। সুতরাং এই সংস্করণটিই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ। এটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যেগুলোর বর্ণনা সামনে আসবে—ইনশাআল্লাহ। আমি মূল পাঠের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলাম এবং আশা করি এটি লেখক যেভাবে সংকলন করেছিলেন তেমনই হবে—ইনশাআল্লাহ। আমি এর হাদিসসমূহের সংক্ষেপে উৎস নির্ণয় (تخريج) করেছি। ক্ষেত্রবিশেষে প্রাসঙ্গিক কারণে কিছুটা দীর্ঘ আলোচনা করেছি। আমি এই বইয়ের হাদিসসমূহের বিস্তারিত উৎস নির্ণয় (تخريج) আমার 'তাসলিয়াতুল কাজিম বি-তাখরিজি আহাদিসি ওয়া আসারি তাফসিরিল কুরআনিল আজিম' গ্রন্থে বর্ণনা করেছি, যার তিনটি খণ্ড সূরা ফাতিহার শেষ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর সান্নিধ্যে যাওয়ার উত্তম পাথেয় এবং তাঁর সামনে উপস্থিত হওয়ার কল্যাণকর পুঁজি হিসেবে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি সকল কল্যাণের জিম্মাদার এবং তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

 

এটি লিখেছেন তাঁর ক্ষমাশীল রবের ক্ষমার প্রত্যাশী

আবু ইসহাক আল-হুওয়াইনী আল-আসারি

আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায়

১লা জিলহজ, ১৪১৫ হিজরী।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌ترجمة الحافظ ابن كثير رحمه الله 1:

الإمام الحافظ المحدّث المؤرخ الثقة، ذو الفضائل، عماد الدين، أبو الفداء: إسماعيل بن عمر بن كثير بن ضوء بن كثير، القرشيّ، الدمشقيّ، الشافعيّ.

وُلِدَ رحمه الله بقرية "مجدل" من أعمال "بُصْرَى"2. وكان أبوه من أهل "بُصْرَى"، وأمه من قرية "مجدل".

وقومه كانوا "ينتسبون إلى الشرف، وبأيديهم نسب، وقف على بعضها شيخنا المِزّي، فأعجبه ذلك وابتهج به، فصار يكتب في نسبي بسبب ذلك "القرشيّ" -كما قال هو في ترجمة أبيه، في تاريخه "البداية والنهاية".

وتاريخ مولده سنة 700، كما ذكر أكثر من ترجم له، "أو بعدها بقليل" كما قال الحافظ ابن حجر في الدرر الكامنة، وهو تاريخ تقريبي، أرجِّحُ أنه مستنبط من كلامه في ترجمة أبيه، حيث ذكر أن أباه "توفي سنة 703.. وكنت إذ ذاك صغيرًا ابن ثلاث سنين أو نحوها، لا أدركه إلّا كالحلم".

و"ابن ثلاث سنين" لا يعرف تواريخ السنين -على اليقين- في تلك السن، فقد سمع إذن تحديد السنة التي مات فيها أبوه ممن حوله من إخوة أو أهل أو جيران، ولكنه يدرك أباه "كالحلم"، فالذي هو في سنٍّ أقل

--------------------------------------------

1 مأخوذة من "عمدة التفسير" للشيخ العلَّامة المحدث أبي الأشبال أحمد بن محمد شاكر رحمه الله ورضي عنه.

2 "مجدل": بكسر الميم وفتحها مع سكون الدال، و"بصري" بضم الباء وسكون الصاد وآخرها ألف مقصورة: بلد بالشام من أعمال دمشق، وهي قصبة كورة "حوران".
হাফিজ (حافظ) ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী1:

ইমাম, হাফিজ (حافظ), হাদিস বিশারদ (محدّث), ইতিহাসবিদ, নির্ভরযোগ্য (ثقة), বহু গুণের অধিকারী, ইমাদুদ্দীন, আবুল ফিদা: ইসমাঈল বিন উমর বিন কাসির বিন যউ বিন কাসির, আল-কুরাশি, আদ-দিমাশকি, আশ-শাফি।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) "বুসরা" অঞ্চলের "মাজদাল" নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা "বুসরা"র অধিবাসী ছিলেন এবং তার মাতা ছিলেন "মাজদাল" গ্রামের।

তার বংশের লোকেরা "মর্যাদাপূর্ণ বংশধারার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাদের নিকট একটি বংশলতিকা ছিল, যার কিছু অংশ আমাদের শায়খ মিযযি দেখেছিলেন। এটি তাকে মুগ্ধ ও আনন্দিত করেছিল, যার ফলে তিনি আমার বংশের পরিচয়ে 'আল-কুরাশি' লিখতে শুরু করেন" - যেমনটি তিনি তার ইতিহাস গ্রন্থ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া-তে তার পিতার জীবনীতে উল্লেখ করেছেন।

তার জন্ম তারিখ হলো ৭০০ হিজরি সাল, যেমনটি তার অধিকাংশ জীবনীকার উল্লেখ করেছেন, "অথবা তার অল্পকাল পরে" যেমনটি হাফিজ (حافظ) ইবনে হাজার আদ-দুরার আল-কামিনাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এটি একটি আনুমানিক তারিখ; আমার প্রবল ধারণা এটি তার পিতার জীবনীতে উল্লিখিত বক্তব্য থেকে গৃহীত, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে তার পিতা "৭০৩ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন... আমি তখন তিন বছর বা তার কাছাকাছি বয়সের শিশু ছিলাম। পিতার স্মৃতি আমার কাছে স্বপ্নের মতো অস্পষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়"।

আর "তিন বছর বয়সী" শিশু নিশ্চিতভাবে বছরের হিসাব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না। সুতরাং তিনি তার পিতার মৃত্যুর বছরটি তার চারপাশের ভাই, পরিবার বা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে শুনেছিলেন। কিন্তু তিনি তার পিতাকে "স্বপ্নের মতো" অনুভব করতেন, আর যে ব্যক্তি এর চেয়েও কম বয়সী ছিল

--------------------------------------------

1 শায়খ, আল্লামা, হাদিস বিশারদ (محدّث) আবুল আশবাল আহমদ বিন মুহাম্মদ শাকির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উমদাতুত তাফসির থেকে সংগৃহীত।

2 "মাজদাল": মিম বর্ণের নিচে কাসরা অথবা উপরে ফাতহা এবং দাল বর্ণে সুকুন যোগে। আর "বুসরা": বা বর্ণে যম্ম এবং সাদ বর্ণে সুকুন যোগে, শেষে আলিফ মাকসুরা: এটি শামের একটি শহর যা দামেস্কের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি "হাওরান" অঞ্চলের প্রধান শহর।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৬)
من الثلاث ما أظنه يذكر شيئًَا "كالحلم"، ولا أبعد من الحلم ولا أقرب، فهو حين موت أبيه قد جاوز الثالثة -في أكبر ظني، ولذلك أرجِّح أن مولده كان في سنة 700 أو قبلها بقليل، وهو أقرب إلى الصحة من قول الحافظ ابن حجر: "أو بعدها بقليل"؛ لأن الذي "بعدها" لا يكاد يبلغ الثالثة عند موت أبيه.

وكان أبوه "الخطيب شهاب الدين أبو حفص عمر بن كثير" من العلماء الفقهاء الخطباء، وُلِدَ -كما قال ابنه- في حدود سنة 640، وترجم له ابنه الحافظ في تاريخه الكبير "البداية والنهاية"، ج14 ص31- 33، ومما قال في ترجمته: "اشتغل بالعلم عند أخواله بني عقبة ببصرى؛ فقرأ "البداية" في مذهب أبي حنيفة، وحفظ "جمل الزَّجَّاجي"، وعني بالنحو والعربية واللغة، وحفظ أشعار العرب، حتى كان يقول الشعر الجيد الفائق الرائق في المدح والمراثي وقليل من الهجاء، وقرر بمدارس بصرى بِمَبْرَكِ الناقة شماليّ البلدة، حيث يُزَار، وهو المبْرَك المشهور عند الناس1! والله أعلم بصحة ذلك، ثم انتقل إلى خطابة القرية شرقيّ بُصْرَى، وتمذهب للشافعي، وأخذ عن النواوي والشيخ تقي الدين الفزاري -وكان يكرمه ويحترمه، فيما أخبرني شيخنا العلامة ابن الزملكاني، فأقام بها نحو من 12 سنة، ثم تحول إلى خطابة "مجدل": القرية التي منها الوالدة، فأقام بها مدة طويلة، في خير وكفاية وتلاوة كثيرة، وكان يخطب جيدًا، وله مقول عند الناس، ولكلامه وقع؛ لديانته وفصاحته وحلاوته، وكان يؤثر الإقامة في البلاد2، لما يرى فيها من الرفق ووجود الحلال له ولعياله. وقد وُلِدَ له عدة أولاد من الوالدة ومن أخرى قبلها؛ أكبرهم: إسماعيل، ثم يونس،

--------------------------------------------

1 يريد هؤلاء الناس -فيما يزعمون: مَبْرَك ناقة صالح عليه السلام.

2 يعني: القرى.
তিন বছর বয়সের কথা—আমার মনে হয় না যে তিনি 'স্বপ্নের' মতো অস্পষ্ট স্মৃতি ছাড়া অন্য কিছু মনে রেখেছেন; আর স্বপ্নের চেয়ে দূরবর্তী বা নিকটবর্তী আর কিছুই নেই। তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুর সময় তিন বছর অতিক্রম করেছিলেন—আমার প্রবল ধারণা অনুযায়ী। এই কারণে আমি মনে করি যে, তাঁর জন্ম ৭০০ হিজরিতে অথবা তার সামান্য পূর্বে হয়েছিল। হাফেজ (حافظ) ইবনে হাজার-এর বক্তব্য—"অথবা তার সামান্য পরে"—এর তুলনায় এই মতটিই বিশুদ্ধতার (صحة) অধিক নিকটবর্তী; কারণ যিনি "পরে" জন্মেছেন, পিতার মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স তিন বছর পূর্ণ হওয়া প্রায় অসম্ভব।

এবং তাঁর পিতা "খতিব শিহাবুদ্দিন আবু হাফস উমর ইবনে কাসীর" ছিলেন আলেম, ফকিহ (فقيه) ও খতিবদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর পুত্র যেমনটি বলেছেন—তিনি ৬৪০ হিজরির আশেপাশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পুত্র হাফেজ (حافظ) তাঁর বিশাল ইতিহাস গ্রন্থ "আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া"-র ১৪শ খণ্ড, ৩১-৩৩ পৃষ্ঠায় তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছেন। তাঁর জীবনী (ترجمة) আলোচনা করতে গিয়ে তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "তিনি বসরার বনু উকবা নামক তাঁর মামাবাড়িতে ইলম অর্জনে নিয়োজিত ছিলেন; সেখানে তিনি হানাফি মাজহাব অনুযায়ী 'আল-বিদায়া' পাঠ করেন এবং 'জুমাল আজ-জাজ্জাজি' মুখস্থ করেন। তিনি নাহু (ব্যাকরণ), আরবি সাহিত্য ও ভাষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন এবং আরবদের কাব্য মুখস্থ করেন। এমনকি তিনি প্রশংসা ও শোকগাঁথা এবং সামান্য ব্যঙ্গাত্মক বিষয়েও অত্যন্ত চমৎকার, উৎকৃষ্ট ও প্রাঞ্জল কবিতা রচনা করতেন। তিনি বসরার 'মাবরাকুন নাকিহ' মাদরাসাসমূহে শিক্ষকতা করেছেন, যা শহরের উত্তর দিকে অবস্থিত এবং যেখানে যিয়ারত করা হয়। আর এটিই মানুষের কাছে প্রসিদ্ধ মাবরাক ১! এর সত্যতা (صحة) সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। অতঃপর তিনি বসরার পূর্ব দিকের একটি গ্রামের খতিব হিসেবে স্থানান্তরিত হন এবং শাফেয়ী মাজহাব গ্রহণ করেন। তিনি নববী এবং শেখ তাকিউদ্দিন আল-ফাজারি—যিনি তাঁকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন বলে আমাদের শায়খ আল্লামা ইবনুয যামলকানি আমাকে জানিয়েছেন—তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি প্রায় ১২ বছর অবস্থান করেন। এরপর তিনি 'মাজদাল' নামক গ্রামে খতিব হিসেবে চলে যান; এটি তাঁর স্ত্রীর (ইবনে কাসীরের মাতা) গ্রাম ছিল। সেখানে তিনি দীর্ঘকাল কল্যাণ, সচ্ছলতা ও প্রচুর তিলাওয়াতের মধ্যে অতিবাহিত করেন। তিনি খুব চমৎকার খুতবা দিতেন। মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল এবং তাঁর কথার প্রভাব ছিল; তাঁর ধার্মিকতা, বাগ্মিতা ও মাধুর্যের কারণে। তিনি গ্রাম্য অঞ্চলে ২ বসবাস করতে পছন্দ করতেন; কারণ সেখানে তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য এবং হালাল রিযিকের প্রাচুর্য ছিল। তাঁর এই স্ত্রী এবং এর পূর্ববর্তী স্ত্রীর গর্ভে বেশ কয়েকজন সন্তান জন্মগ্রহণ করে; তাদের মধ্যে বড় ছিলেন ইসমাইল, তারপর ইউনুস..."

--------------------------------------------

১. এর দ্বারা এই সকল মানুষ—তাদের দাবি অনুযায়ী—সালেহ (আলাইহিস সালাম)-এর উটনীর বসার স্থান উদ্দেশ্য নিয়েছেন।

২. অর্থাৎ: গ্রামসমূহ।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৭)
وإدريس، ثم من الوالدة: عبد الوهاب، وعبد العزيز، وأخوات عدة، ثم أنا أصغرهم، وسميت باسم الأخ "إسماعيل"؛ لأنه كان قد قَدِمَ دمشق، فاشتغل بها بعد أن حفظ القرآن على والده، وقرأ مقدمة في النحو، وحفظ التنبيه، وشرحه على العلَّامة تاج الدين الفزاري، وحصَّل المنتخب في أصول الفقه. قاله لي شيخنا ابن الزملكاني. ثم إنه سقط من سطح الشامية البرانية، فمكث أيامًا ومات، فوجد الوالد عليه وجدًا كثيرًا، ورثاه بأبيات كثيرة، فلما وُلِدْتُ أنا له بعد ذلك سماني باسمه؛ فأكبر أولاده: إسماعيل، وأصغرهم وآخرهم: إسماعيل. فرحم الله من سلف، وختم بخير لمن بقي. توفي والدي في شهر جمادى الأولى سنة 703 في قرية مجدل، ودُفِنَ بمقبرتها الشمالية عند الزيتون، وكنت إذ ذاك صغيرًا، ابن ثلاث سنين أو نحوها، لا أدركه إلّا كالحلم، ثم تحوَّلنا من بعده في سنة 707 إلى دمشق، صحبة "كمال الدين عبد الوهاب" وقد كان لنا شقيقًا، وبنا رفيقًا شفوقًا، وقد تأخَّرت وفاته إلى سنة خمسين "يعني سنة 750"، فاشتغلت على يديه في العلم، فيسَّر الله تعالى منه ما يسر، وسهَّل منه ما تعسر".

وقد بدأ الاشتغال بالعلم على يدي أخيه عبد الوهاب -كما قال آنفًا، ثم اجتهد في تحصيل العلوم على العلماء الكبار في عصره، وحفظ القرآن الكريم، وختم حفظه سنة 711، كما صرَّح بذلك في تاريخ 14: 312، وقرأ بالقراءات، حتى عدَّه الداودي من القراء1، وترجم له في طبقاتهم التي ألفها2، وسمع الحديث من كثير من أئمة الحفاظ في عصره، وعني

--------------------------------------------

1 الداودي: هو شمس الدين محمد بن علي بن أحمد الداودي المصري، مات سنة 945، ولكن ابن الجزري لم يذكر ابن كثير في طبقات القراء.

2 ومما ينبغي التنبيه إليه: أن "ابن كثير" هذا الحافظ المفسر، غير "ابن كثير" أحد القراء السبعة؛ فذاك اسمه "عبد الله بن كثير المكي"، إمام أهل مكة في القراءة، وهو قديم من التابعين، روى عن ابن الزبير وأنس بن مالك، ولد سنة 45، ومات سنة 120.
...এবং ইদ্রিস; এরপর একই মাতার গর্ভজাত হলেন: আব্দুল ওয়াহহাব, আব্দুল আজিজ এবং আরও কয়েকজন বোন। এরপর আমি তাদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ, এবং আমার নাম রাখা হয়েছে বড় ভাই 'ইসমাইল'-এর নামে। কারণ সে দামেস্কে এসেছিল এবং তার পিতার কাছে কুরআন হিফজ করার পর সেখানে জ্ঞানচর্চায় লিপ্ত হয়েছিল। সে নাহু (ব্যাকরণ)-এর একটি প্রাথমিক গ্রন্থ পাঠ করেছিল এবং 'আত-তানবিহ' হিফজ করেছিল, এবং আল্লামা তাজউদ্দিন আল-ফাজারির কাছে এর ব্যাখ্যাও পড়েছিল। সে উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه)-এর গ্রন্থ 'আল-মুনতাখাব' আয়ত্ত করেছিল। আমাদের শাইখ ইবনুল জামলাকানি আমাকে এটি বলেছেন। এরপর সে শামিয়া আল-বারানিয়া মাদরাসার ছাদ থেকে পড়ে যায়, কয়েক দিন অসুস্থ থেকে মৃত্যুবরণ করে। এতে আমার পিতা অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং তার বিয়োগে অনেক শোকগাঁথা রচনা করেন। এরপর যখন আমার জন্ম হলো, তখন তিনি আমার নামও তার নামেই রাখলেন। সুতরাং তার জ্যেষ্ঠ সন্তানও ইসমাইল এবং কনিষ্ঠ ও সর্বশেষ সন্তানও ইসমাইল। আল্লাহ পূর্বসূরিদের প্রতি রহম করুন এবং জীবিতদের পরিণাম কল্যাণময় করুন। আমার পিতা ৭০৩ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে মাজদাল গ্রামে ইন্তেকাল করেন এবং তার উত্তর দিকের কবরস্থানে জাইতুন (জলপাই) গাছের কাছে তাকে দাফন করা হয়। তখন আমি ছোট ছিলাম, আমার বয়স ছিল তিন বছর বা তার কাছাকাছি। তার কথা আমার কেবল স্বপ্নের মতো মনে পড়ে। এরপর ৭০৭ হিজরিতে আমরা 'কামালুদ্দিন আব্দুল ওয়াহহাব'-এর সাথে দামেস্কে স্থানান্তরিত হই। তিনি ছিলেন আমাদের সহোদর ভাই এবং আমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও বন্ধুসুলভ। তিনি ৭৫০ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। আমি তার তত্ত্বাবধানে জ্ঞানার্জন শুরু করি; অতঃপর আল্লাহ যা সহজ করার তা সহজ করে দিয়েছেন এবং যা কঠিন ছিল তা সুগম করে দিয়েছেন।

তিনি তার ভাই আব্দুল ওয়াহহাবের হাতে জ্ঞানচর্চা শুরু করেছিলেন—যেমনটি তিনি ইতিপূর্বে বলেছেন। অতঃপর তিনি তার যুগের প্রথিতযশা আলেমদের কাছে জ্ঞান অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করেন। তিনি পবিত্র কুরআন হিফজ করেন এবং ৭১১ হিজরিতে তার হিফজ সম্পন্ন হয়, যেমনটি তিনি নিজেই আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ইতিহাসের ১৪ খণ্ড ৩১২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। তিনি কিরাত শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, এমনকি আদ-দাউদি তাকে কারীদের (القراء) অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তার রচিত কারীদের জীবনী গ্রন্থে (طبقات) তার জীবনী আলোচনা করেছেন। তিনি তার সমসাময়িক অনেক হাফেজ (الحفاظ) ইমামদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং মনোনিবেশ করেছেন...

--------------------------------------------

১ আদ-দাউদি: তিনি হলেন শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আহমদ আদ-দাউদি আল-মিসরি, তিনি ৯৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তবে ইবনুল জাজারি তার কিরাত বিশেষজ্ঞদের জীবনী গ্রন্থে ইবনে কাসিরের কথা উল্লেখ করেননি।

২ যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন তা হলো: এই হাফেজ (الحافظ) ও মুফাসসির (المفسر) 'ইবনে কাসির' এবং কিরাতের সাত ইমামের অন্যতম 'ইবনে কাসির' এক ব্যক্তি নন। দ্বিতীয়জনের নাম হলো 'আবদুল্লাহ ইবনে কাসির আল-মাক্কি', যিনি কিরাত শাস্ত্রে মক্কাবাসীদের ইমাম ছিলেন। তিনি একজন প্রাচীন তাবেয়ি (التابعين), যিনি ইবনুয যুবাইর এবং আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ৪৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৮)
بالسماع والإكثار منه. فمما ذكر في تاريخه 14: 149، أنه سمع صحيح مسلم في تسعة مجالس على الشيخ نجم الدين ابن العسقلاني، بقراءة الوزير العالم أبي القاسم محمد بن محمد بن سهل الأزدي الغرناطي الأندلسي، المتوفى بالقاهرة في 22 محرم سنة 730، حين قدم دمشق في جمادى الأولى سنة 724 عازمًا على الحج.

وذكر في ترجمة شيخه الكبير المعمِّر الرحلة شهاب الدين الحجار، المعروف بابن الشحنة: أنه سمع عليه "بدار الحديث الأشرفية في أيام الشتويات نحوًا من خمسمائة جزء بالإجازات والسماع". وهذا الشيخ "عاش مائة سنة محققًا، وزاد عليها"، وتوفي سنة 730. "التاريخ 14: 150".

وتفقَّه على الشيخين برهان الدين الفزاري وكمال الدين ابن قاضي شهبة، وحفظ التنبيه للشيرازي في فروع الشافعية، ومختصر ابن الحاجب في الأصول، ولزم الحافظ الكبير أبا الحجاج المزي، وقرأ عليه مؤلفه العظيم في الرجال "تهذيب الكمال"، وصاهره على ابنته زينب1، وكان من أعظم تلاميذ شيخ الإسلام ابن تيمية، ولازمه وتخرَّج على يديه، وكانت له به خصوصيَّة ومناضلة عنه، واتِّباعٌ له في كثير من آرائه، وكان يفتي برأيه في مسألة الطلاق2، وامتُحِنَ بسبب ذلك وأوذي.

--------------------------------------------

1 ذكرها باسمها في ترجمة شيخه الحافظ المزي، المتوفى سنة 742. "التاريخ 14/ 191-192".

2 أي: وقوع الطلاق الثلاث بلفظ واحد طلقة واحدة، كما هو الحق الذي تدل عليه الدلائل الصحاح.
শ্রবণ (سماع) এবং এর প্রাচুর্যের মাধ্যমে। তাঁর ইতিহাস (تاريخ) গ্রন্থের ১৪: ১৪৯-এ বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি শায়খ নাজমুদ্দিন ইবনুল আসকালানির নিকট নয়টি মজলিসে সহিহ মুসলিম শ্রবণ করেছেন। এটি বিজ্ঞ উজির আবুল কাসিম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সাহল আল-আজদি আল-গুরনাতি আল-আন্দালুসির পাঠের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যিনি ৭৩০ হিজরির ২২শে মহররম কায়রোতে ইন্তেকাল করেন, যখন তিনি হজের সংকল্প নিয়ে ৭২৪ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে দামেস্কে পদার্পণ করেছিলেন।

এবং তাঁর মহান শায়খ, সুদীর্ঘ জীবনের অধিকারী ও পর্যটক শিহাবুদ্দিন আল-হাজ্জার, যিনি ইবনুশ শুহনা নামে পরিচিত, তাঁর জীবনীতে (ترجمة) বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি তাঁর নিকট "দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ-তে শীতকালীন সময়ে অনুমতি (إجازات) ও শ্রবণ (سماع) এর মাধ্যমে প্রায় পাঁচশ খণ্ড (جزء) হাদিস শ্রবণ করেছেন"। আর এই শায়খ "সুনিশ্চিতভাবে একশ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে ছিলেন", এবং ৭৩০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। "ইতিহাস (تاريخ) ১৪: ১৫০"。

তিনি শায়খ বুরহানুদ্দিন আল-ফাজারি ও কামালুদ্দিন ইবনে কাজি শাহবাহ-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং শাফেয়ি ফিকহ-এর ওপর শিরাজি রচিত "আত-তানবিহ" ও উসুল শাস্ত্রের ওপর ইবনুল হাজিব রচিত "মুখতাসার" মুখস্থ করেন। তিনি প্রখ্যাত হাফিজ (حافظ) আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জির একনিষ্ঠ সান্নিধ্য গ্রহণ করেন এবং তাঁর নিকট বর্ণনাকারী (رجال) বিষয়ক তাঁর মহান গ্রন্থ "তাহজিবুল কামাল" পাঠ করেন। তিনি তাঁর কন্যা জয়নাবকে বিবাহের মাধ্যমে তাঁর সাথে বৈবাহিক আত্মীয়তা স্থাপন করেন। তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ছাত্রদের অন্যতম ছিলেন এবং তাঁর নিকটেই অবস্থান করে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তাঁর সাথে তাঁর বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ও তাঁর পক্ষ হয়ে প্রতিরক্ষা প্রদানের বৈশিষ্ট্য ছিল এবং তিনি তাঁর অনেক মতাদর্শ অনুসরণ করতেন। তিনি তালাকের মাসআলায় তাঁর মতানুসারে ফতোয়া দিতেন এবং এই কারণে তিনি পরীক্ষার সম্মুখীন ও নিগৃহীত হন।

--------------------------------------------

১. লেখক তাঁর শায়খ হাফিজ (حافظ) আল-মিজ্জি—যিনি ৭৪২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন—তাঁর জীবনীতে (ترجمة) জয়নাবের নাম উল্লেখ করেছেন। "ইতিহাস (تاريخ) ১৪/ ১৯১-১৯২"。

২. অর্থাৎ: এক শব্দে তিন তালাক দিলে এক তালাকই কার্যকর হওয়া, যা বিশুদ্ধ (صحاح) দলিলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত সত্য বিষয়।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৯)
وكان من أفذاذ العلماء في عصره، أثنى عليه معاصروه وتلاميذه ومن بعدهم، الثناءَ الجمّ:

فذكره الحافظ الذهبي في طبقات الحفاظ 4: 29، مع أن الذهبي يكاد يكون من طبقة شيوخه؛ لأنه مات سنة 748، قبل ابن كثير بـ 26 سنة؛ فقال في طبقات الحفاظ: "وسمعت مع الفقيه المفتي المحدث، ذي الفضائل، عماد الدين إسماعيل بن عمر بن كثير البُصْرَوي الشافعيّ … سمع من ابن الشّحنة وابن الرداد وطائفة، له عناية بالرجال والمتون والفقه، خرَّجَ وناظَر وصنَّفَ وفسَّر وتقدَّم". وقال الذهبي في المعجم المختص -فيما نقل ابن حجر وغيره: "الإمام المفتي المحدث البارع، فقيه متفنن، محدث متقن، مفسّر نقّال".

وقال تلميذه شهاب الدين بن حجي: "كان أحفظ من أدركناه لمتون الأحاديث، وأعرفهم بتخريجها ورجالها، وصحيحها وسقيمها، وكان أقرانه وشيوخه يعترفون له بذلك، وكان يستحضر كثيرًا من التفسير والتاريخ، قليل النسيان، وكان فقيهًا جيد الفهم صحيح الذهن، ويحفظ التنبيه إلى آخر وقت. ويشارك في العربية مشاركة جيدة، وينظم الشعر، وما أعرف أني اجتمعت به -على كثرة ترددي عليه- إلّا واستفدت منه". "عن النعيمي في كتاب الدارس".

وقال تلميذه الحافظ أبو المحاسن الحسيني في ذيل تذكرة الحفاظ "ص 58": "وصاهر شيخنا أبا الحجاج المزي فأكثر عنه، وافتى ودرس وناظر، وبرع في الفقه والتفسير والنحو، وأمعن النظر في الرجال والعلل".
তিনি তাঁর যুগের অনন্য সাধারণ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর সমসাময়িকগণ, ছাত্রবৃন্দ এবং পরবর্তীগণ তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন:

হাফেজ যাহাবি তাকে 'তাবাকাতুল হুফফাজ' (৪: ২৯)-এ উল্লেখ করেছেন, যদিও যাহাবি প্রায় তাঁর উস্তাদদের স্তরের ছিলেন; কারণ তিনি ৭৪৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, যা ইবনে কাসীরের মৃত্যুর ২৬ বছর পূর্বে। তিনি 'তাবাকাতুল হুফফাজ'-এ বলেন: "আমি ফকিহ, মুফতি, মুহাদ্দিস, বহু গুণের অধিকারী ইমাদুদ্দিন ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর বুসরউয়ি শাফেয়ির সাথে (ইলম) শ্রবণ করেছি … তিনি ইবনুন শাহনাহ, ইবনুর রাদাদ এবং একটি জামাতের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। বর্ণনাকারী (رجال) এবং মূলপাঠ (متون) ও ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন ছিল। তিনি হাদিসের উৎস অনুসন্ধান বা তখরিজ (خرج) করেছেন, মুনাজারা (ناظر) করেছেন, গ্রন্থনা (صنف) করেছেন, তাফসির (فسر) করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।" যাহাবি 'আল-মুজামুল মুখতাস'-এ বলেছেন—যা ইবনে হাজার ও অন্যান্যরা উদ্ধৃত করেছেন: "ইমাম, মুফতি, দক্ষ মুহাদ্দিস, বিভিন্ন শাস্ত্রে পারদর্শী ফকিহ, সুদৃঢ় (متقن) মুহাদ্দিস এবং বর্ণনানির্ভর মুফাসসির।"

তাঁর ছাত্র শিহাবুদ্দিন ইবনে হাজ্জি বলেন: "আমাদের দেখা হাদিসের মূলপাঠ (متون) মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ হাফেজ এবং হাদিসের তখরিজ (تخريج), বর্ণনাকারী (رجال) এবং এর সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) হওয়া সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। তাঁর সমসাময়িক ও উস্তাদগণ তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিতেন। তিনি তাফসির ও ইতিহাসের অনেক বিষয় উপস্থিত রাখতে পারতেন, তাঁর বিস্মৃতি ছিল অত্যন্ত কম। তিনি প্রখর বোধশক্তি ও স্বচ্ছ ধীসম্পন্ন একজন ফকিহ ছিলেন এবং জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত 'আত-তানবিহ' গ্রন্থটি তাঁর মুখস্থ ছিল। আরবি ভাষায় তাঁর দখল ছিল চমৎকার এবং তিনি কবিতা রচনা করতেন। তাঁর নিকট আমার যাতায়াত অনেক বেশি থাকা সত্ত্বেও আমি এমন কোনো মজলিস দেখিনি যেখানে আমি তাঁর থেকে উপকৃত হইনি।" (আন-নুআইমি প্রণীত 'আদ-দারিস' গ্রন্থ থেকে)।

তাঁর ছাত্র হাফেজ আবুল মাহাসিন আল-হুসাইনি 'যাইলু তাজকিরাতিল হুফফাজ' (পৃষ্ঠা ৫৮)-এ বলেন: "তিনি আমাদের উস্তাদ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জির জামাতা ছিলেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর (ইলম) গ্রহণ করেছেন। তিনি ফতোয়া দিয়েছেন, পাঠদান করেছেন এবং মুনাজারা করেছেন। তিনি ফিকহ, তাফসির ও নাহু শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং বর্ণনাকারী (رجال) ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (علل) সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি রাখতেন।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১০)
وقال الحافظ ابن حجر في الدرر الكامنة: "ولازم المزّي، وقرأ عليه تهذيب الكمال، وصاهره على ابنته، وأخذ عن ابن تيمية ففُتِنَ بحبه، وامتُحِنَ بسببه، وكان كثير الاستحضار، حسن المفاكهة، سارت تصانيفه في البلاد في حياته، وانتفع بها الناس بعد وفاته، ولم يكن على طريقة المحدثين في تحصيل العوالي، وتمييز العالي من النازل، ونحو ذلك من فنونهم، وإنما هو من محدِّثي الفقهاء، وقد اختصر مع ذلك كتاب ابن الصلاح1، وله فيه فوائد".

ونقل السيوطي في ذيل طبقات الحفّاظ كلام الحافظ ابن حجر في أنه "لم يكن على طريقة المحدثين … " ثم تعقبه بقوله: "العمدة في علم الحديث معرفةُ صحيح الحديث وسقيمه، وعلله واختلاف طرقه، ورجاله جرحًا وتعديلًا، وأما العالي والنازل ونحو ذلك -فهو من الفضلات، لا من الأصول المهمة". وهذا حق.

وقال السيوطي أيضًا: "له التفسير الذي لم يؤلف على نمطه مثله".

وقال العلامة العيني -فيما نقل عنه ابن تغري بردي في النجوم الزاهرة: "كان قدوة العلماء والحفَّاظ، وعمدة أهل المعاني والألفاظ، وسمع وجمع، وصنَّف ودرس، وحدَّث وألَّف، وكان له اطلاعٌ عظيم في الحديث والتفسير والتاريخ، واشتُهِرَ بالضبط والتحرير، وانتهي إليه

--------------------------------------------

1 كتابه هذا هو "اختصار علوم الحديث". طبع أول مرة في مكة المكرمة بالمطبعة الماجدية سنة 1353، بتصحيح أخينا العلامة الكبير الشيخ محمد عبد الرزاق حمزة، أحد كبار المدرسين الآن بالحرم المكي، ثم شرحته أنا شرحًا متوسطًا، وطُبِعَ في مصر في شهر ذي القعدة سنة 1355، ثم أعدت طبعه مرة أخرى مع زيادات وتنقيح في الشرح، في شهر ذي الحجة سنة 1370.
হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার আদ-দুরারুল কামিনাহ গ্রন্থে বলেন: “তিনি মিযযির সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর নিকট তাহযীবুল কামাল পাঠ করেন। তিনি তাঁর কন্যাকে বিবাহ করে তাঁর জামাতা হন। তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং তাঁর ভালোবাসায় মগ্ন হন ও এ কারণে পরীক্ষার সম্মুখীন হন। তিনি ছিলেন প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী (كثير الاستحضار) এবং সুন্দর আলাপচারিতার অধিকারী। তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর রচনাবলি বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর মৃত্যুর পর মানুষ তা দ্বারা উপকৃত হয়। তিনি উচ্চ পর্যায়ের সনদ (العوالي) সংগ্রহ এবং উচ্চ পর্যায়ের (العالي) ও নিম্ন পর্যায়ের (النازل) সনদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করার মতো মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) বিশেষ শাস্ত্রীয় পদ্ধতির ওপর ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন ফকিহ মুহাদ্দিসগণের (محدثي الفقهاء) অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি তিনি ইবনে সালাহ-এর কিতাবকে সংক্ষেপ করেছেন এবং তাতে বহু মূল্যবান বিষয় সংযোজন করেছেন।”

সুয়ূতী যাইলু তবাকাতিল হুফফায গ্রন্থে হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজারের এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন যে, “তিনি মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) পদ্ধতির ওপর ছিলেন না … ” এরপর তিনি এর সমালোচনা করে বলেন: “হাদিস বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো সহিহ (صحيح) হাদিস ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) হাদিস চেনা, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (علل) ও বর্ণনার বিভিন্ন সূত্র (طرق) সম্পর্কে জানা এবং বর্ণনাকারীদের (رجال) জারহ (جرح) ও তাদীল (تعديل) তথা দোষ-গুণ বিশ্লেষণ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর উচ্চ পর্যায়ের সনদ (العالي) ও নিম্ন পর্যায়ের সনদ (النازل) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো অতিরিক্ত বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত, গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহের (الأصول) অন্তর্ভুক্ত নয়।” আর এটিই সঠিক।

সুয়ূতী আরও বলেন: “তাঁর এমন একটি তাফসির রয়েছে যার আদলে অন্য কোনো তাফসির ইতিপূর্বে রচিত হয়নি।”

আল্লামা আইনী—ইবনে তাগরি বারদি আন-নুজুমুয যাহিরাহ গ্রন্থে তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন—বলেন: “তিনি ছিলেন উলামা ও হাফেজদের (الحفاظ) আদর্শ এবং শব্দ ও অর্থের পণ্ডিতদের মূল আশ্রয়স্থল। তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন, সংগ্রহ করেছেন, গ্রন্থনা করেছেন এবং পাঠদান করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন ও রচনা করেছেন। হাদিস, তাফসির ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি বর্ণনার নিখুঁত নির্ভুলতা (ضبط) ও সুবিন্যস্ত রচনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁর মাধ্যমেই শেষ হয়েছে...”

--------------------------------------------

১. তাঁর এই বইটি হলো ‘ইখতিসারু উলুমিল হাদিস’। এটি প্রথমবার ১৩৫৩ হিজরিতে মক্কার আল-মাতবাআ আল-মাজিদিয়্যাহ থেকে আমাদের ভ্রাতা প্রখ্যাত আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক হামযা—যিনি বর্তমানে মসজিদুল হারামের অন্যতম প্রধান শিক্ষক—এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। এরপর আমি এর একটি মাঝারি মানের ব্যাখ্যা লিখেছি এবং এটি ১৩৫৫ হিজরির যিলকদ মাসে মিসরে মুদ্রিত হয়। অতঃপর ১৩৭০ হিজরির যিলহজ মাসে ব্যাখ্যাটিতে কিছু সংযোজন ও পরিমার্জনসহ আমি তা পুনরায় মুদ্রণ করি।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১১)
علم التاريخ والحديث والتفسير، وله مصنفات عديدة مفيدة".

ووصفه الحافظ العلّامة شمس الدين بن ناصر، في كتاب "الرد الوافر" بأنه "الشيخ الإمام العلامة الحافظ، عماد الدين، ثقة المحدثين، عمدة المؤرخين، عَلَم المفسّرين".

وقال فيه ابن حبيب -فيما نقل الداودي في طبقات القراء، وابن العماد في الشذرات: "إمام ذوي التسبيح والتهليل، وزعيم أرباب التأويل، سمع وجمع وصنَّف، وأطرب الأسماع بأقواله وشنَّف، وحدَّث وأفاد، وطارت فتاويه إلى البلاد، واشتهر بالضبط والتحرير، وانتهت إليه رياسة العلم في التاريخ والحديث والتفسير".

وروى له الحافظ ابن حجر في إنباء الغمر، وابن العماد في الشذرات، البيتين المشهورين، الذائعين على الألسنة:

تَمُرُّ بنا الأيام تترى وإنما … نُسَاقُ إلى الآجال والعين تَنْظُرُ

فلا عائِدٌ ذاك الشباب الذي مضى … ولا زائل هذا المشيب المُكَدِّرُ

وصحبته وملازمته لشيخ الإسلام ابن تيمية أفادته أعظم الفوائد، في علمه ودينه، وتقوية خلقه، وتربية شخصيته المستقلة الممتازة.

فهو مستقلّ الرأي، يدور مع الدليل حيث دار، لا يتعصّب لمذهبه ولا لغيره، وكتبه العظيمة، وخاصة هذا التفسير الجليل، فيها الدلائل الوافرة، ونجده -مع أنه شافعي المذهب- يفتي في مسألة الطلاق الثلاث بلفظ واحد، بما رجحته الدلائل الثابتة الصحاح، أنه يقع طلقة واحدة، ثم يُمْتَحَن ويلقى الأذى، فيثبت على قوله، ويصبر على ما يلقى في سبيل الله.

وهو -وهو تلميذ شيخ الإسلام ومن خاصة أنصاره -يعرف ما كان بين شيخه شيخ الإسلام، وبين قاضي القضاة تقي الدين السبكي- ومع
ইতিহাস, হাদিস ও তাফসির শাস্ত্র এবং তাঁর অসংখ্য উপকারী রচনাবলি রয়েছে।

হাফেজ (الحافظ) আল্লামা শামসুদ্দিন বিন নাসির তাঁর ‘আর-রাদ্দুল ওয়াফির’ গ্রন্থে তাঁকে ‘শাইখ ইমাম আল্লামা হাফেজ (الحافظ), ইমাদুদ্দিন, মুহাদ্দিসগণের নির্ভরযোগ্য (ثقة المحدثين), ঐতিহাসিকদের মূল স্তম্ভ এবং মুফাসসিরদের শিরোমণি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে হাবিব তাঁর সম্পর্কে বলেছেন—যেমনটি দাউদি ‘তাবাকাতুল কুররা’ এবং ইবনুল ইমাদ ‘আশ-শাযারাত’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন—: “তিনি তাসবিহ ও তাহলিল পাঠকারীদের ইমাম এবং ব্যাখ্যা বিশেষজ্ঞদের নেতা। তিনি ইলম শ্রবণ করেছেন, সংগ্রহ করেছেন ও সংকলন করেছেন; তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে শ্রবণকারীদের তৃপ্ত ও আনন্দিত করেছেন। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন ও শিক্ষা দান করেছেন। তাঁর ফতোয়াসমূহ বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি নির্ভুলতা (ضبط) ও সুক্ষ্ম বিশ্লেষণের (تحرير) জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ইতিহাস, হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রে ইলমের নেতৃত্ব তাঁর হাতেই সমাপ্ত হয়েছিল।”

হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার ‘ইনবাউল গুমর’ গ্রন্থে এবং ইবনুল ইমাদ ‘আশ-শাযারাত’ গ্রন্থে তাঁর রচিত মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত ও প্রসিদ্ধ এই দুটি পঙ্ক্তি বর্ণনা করেছেন:

দিনগুলো আমাদের ওপর দিয়ে একের পর এক অতিক্রান্ত হচ্ছে, অথচ … আমাদের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং চক্ষু তা চেয়ে চেয়ে দেখছে।

অতীতের সেই যৌবন আর ফিরে আসবে না … আর এই ঘোলাটে বার্ধক্যও দূর হবে না।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার সান্নিধ্য এবং তাঁর সাথে দীর্ঘ অবস্থান তাঁকে ইলম, দ্বীনদারি, নৈতিক শক্তির বিকাশ এবং স্বতন্ত্র ও চমৎকার ব্যক্তিত্ব গঠনে সর্বোচ্চ উপকারিতা দান করেছে।

তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র মতসম্পন্ন; দলীল যেদিকে ধাবিত হয়, তিনিও সেদিকেই ধাবিত হতেন। তিনি তাঁর নিজস্ব মাযহাব বা অন্য কোনো মাযহাবের প্রতি গোঁড়ামি করতেন না। তাঁর মহান গ্রন্থগুলোতে, বিশেষ করে এই মর্যাদাপূর্ণ তাফসির গ্রন্থে প্রচুর দলিল-প্রমাণ বিদ্যমান। আমরা দেখতে পাই যে, শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি এক মজলিসে তিন তালাক প্রদানের মাসআলায় অকাট্য ও সহিহ (صحاح) দলীলসমূহের প্রাধান্য অনুসারে ফতোয়া দিয়েছেন যে, এটি এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে। এরপর তিনি পরীক্ষিত হন ও কষ্টের সম্মুখীন হন, কিন্তু তিনি তাঁর বক্তব্যে অবিচল থাকেন এবং আল্লাহর পথে যা কিছু আপতিত হয়েছে তাতে ধৈর্য ধারণ করেন।

তিনি—শাইখুল ইসলামের ছাত্র এবং তাঁর বিশেষ অনুসারীদের একজন হওয়া সত্ত্বেও—তাঁর উস্তাদ শাইখুল ইসলাম এবং কাযিউল কুযাত তাক্বীউদ্দিন আস-সুবকির মধ্যকার মতপার্থক্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন। এবং...
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১২)
ذلك فإنه لا يعين عليه في محنة لحقته، بل يعلن عن غبطته بأن تزول عنه المحنة، فيذكر في التاريخ -في حوادث سنة 743 "14: 204" أنه أرجف الناس كثيرًا بقاضي القضاة في دمشق، واشتهر أنه سينعقد له مجلس للدعوى عليه بما دفعه من مال الأيتام إلى الطنبغا وإلى الفخري، وكُتِبَت فتوى عليه بذلك في تغريمه، وداروا بها على المفتين، فلم يكتب لهم أحد فيها غير القاضي جلال الدين بن حسام الدين الحنفي، رأيت خطَّه عليها وحده بعد الصلاة، وسئلت في الإفتاء عليها فامتنعت؛ لما فيها من التشويش على الحكام". ثم يقول: "وكانوا له في نية عجيبة، ففرَّج الله عنه بطلبه إلى الديار المصرية".

فهذا خُلُق أهل العلم النبلاء الأتقياء.

وقد طار ذكره في الأقطار الإسلامية، حتى إنه ليذكر في حوادث سنة 763 "14: 294-295" أن شابًّا عجميًّا حضر من بلاد تبريز وخراسان "يزعم أنه يحفظ البخاري ومسلمًا وجامع المسانيد والكشاف للزمخشري وغير ذلك"، وأنه امتحنه بقراءة مجالس من البخاري وغيره بحضرة قاضي القضاة الشافعي وجماعة من الفضلاء، ثم قال: "وفرح بكتابتي له بالسماع على الإجازة، وقال: أنا ما خرجت من بلادي إلّا إلى القصد إليك، وأن تجيزني، وذكرك في بلادنا مشهور".

وهذا الخبر يدل على أن كتابه "جامع المسانيد" وصل إلى أقصى الشرق، في بلاد تبريز وخراسان، حتى يحفظه هذا الشاب الأعجمي أو يحفظ شيئًا منه، في حين أن الحافظ ابن كثير لم يتم تأليف "جامع المسانيد" كما هو معروف؛ فكأن العلماء وطلاب العلم كانوا ينسخون ما يخرج منه، ويتداولونه بينهم، حتى يصل من دمشق إلى تلك النواحي النائية.

ولم يكن ممن يُخْدَع في الفتاوى التي ظاهرها قَصْد الاستفتاء،

এর ফলে, তাঁর ওপর কোনো বিপদ (محنة) আপতিত হলে তিনি তাতে তাকে সহায়তা করেন না, বরং তার সেই বিপদ (محنة) দূর হওয়ার ব্যাপারে আনন্দ প্রকাশ করেন। ইতিহাস গ্রন্থে—৭৪৩ হিজরির ঘটনাবলিতে (১৪: ২০৪)—উল্লেখ আছে যে, মানুষ দামেস্কের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অনেক গুজব ছড়িয়েছিল। এটি রটে গিয়েছিল যে, এতিমদের যে অর্থ তিনি তুনবুগা ও ফাখরিকে প্রদান করেছেন, সে বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার জন্য মজলিস বসবে। এ ব্যাপারে তাঁকে জরিমানা করার জন্য একটি ফতোয়া লেখা হয়েছিল এবং তা মুফতিদের কাছে ঘোরানো হয়েছিল। কিন্তু কাজী জালালুদ্দিন বিন হুসামুদ্দিন হানাফি ছাড়া আর কেউ তাতে স্বাক্ষর করেননি। আমি নামাজের পর একমাত্র তাঁর স্বাক্ষরই তাতে দেখেছি। আমার কাছেও সেই ফতোয়াটির ব্যাপারে ফতোয়া দিতে বলা হয়েছিল, কিন্তু আমি তাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি; কারণ এর মধ্যে শাসকদের বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরির উপাদান ছিল। এরপর তিনি বলেন: "তাঁরা তাঁর প্রতি অদ্ভুত নিয়ত পোষণ করেছিল, অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে মিসরে তলব করার মাধ্যমে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।"

এটিই হলো মহান এবং খোদাভীরু আলেমদের চরিত্র।

তাঁর সুখ্যাতি ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল, এমনকি ৭৬৩ হিজরির ঘটনাবলিতে (১৪: ২৯৪-২৯৫) উল্লেখ আছে যে, তাবরিজ ও খোরাসান অঞ্চল থেকে এক অনারব (عجمي) যুবক উপস্থিত হয়, যে "দাবি করছিল যে সে বুখারি, মুসলিম, জামেউল মাসানিদ এবং যামাখশারির কাশশাফসহ আরও অন্যান্য কিতাব মুখস্থ রেখেছে।" প্রধান শাফেয়ী বিচারপতি এবং একদল গুণী ব্যক্তির উপস্থিতিতে বুখারি ও অন্যান্য কিতাবের মজলিস পাঠ করার মাধ্যমে তিনি তাকে পরীক্ষা করলেন। এরপর তিনি বলেন: "আমি তাকে শ্রবণ (السماع) ও অনুমতি (الإجازة) প্রদান করে লিখে দিলে সে অনেক আনন্দিত হয় এবং বলে: আমি আপনার কাছে আসার উদ্দেশ্য ছাড়া নিজ দেশ ত্যাগ করিনি এবং আপনার থেকে অনুমতি (الإجازة) পাওয়ার জন্যই এসেছি, আমাদের দেশে আপনার সুনাম সুপ্রসিদ্ধ।"

এই সংবাদটি প্রমাণ করে যে, তাঁর কিতাব "জামেউল মাসানিদ" সুদূর প্রাচ্যে তাবরিজ ও খোরাসান পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, এমনকি সেই অনারব (عجمي) যুবক তা মুখস্থ করেছিল অথবা তার কিছু অংশ মুখস্থ করেছিল। অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে, হাফেজ ইবনে কাসির তখনও "জামেউল মাসানিদ" সংকলন শেষ করেননি; সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীরা এর যা কিছু প্রকাশিত হতো তা অনুলিপি করে নিতেন এবং নিজেদের মধ্যে তা বিনিময় করতেন, যতক্ষণ না তা দামেস্ক থেকে সেই সুদূর প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যেত।

আর তিনি এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যারা সেইসব ফতোয়া দেখে প্রতারিত হন, যেগুলোর বাহ্যিক উদ্দেশ্য মনে হতো ফতোয়া জানতে চাওয়া।

(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৩)
ووراءها ألاعيب سياسية، أو أغراض شخصية غير سلمية، وإن كان المستفتي من الأمراء أو ممن يخشى بأسه، فهو يقول في حوادث سنة 762: "وجاءتني فتيا صورتها: ما تقول السادة العلماء في ملك اشترى غلامًا، فأحسن إليه وأعطاه وقدّمه، ثم إنه وثب على سيده فقتله وأخذ ماله ومنع ورثته منه؟ وتصرَّفَ في المملكة، وأرسل إلى بعض نواب البلاد ليقدم عليه ليقتله: فهل له الامتناع منه، وهل إذا قاتل دون نفسه وماله حتى يقتل يكون شهيدًا؟ وهل يثاب الساعي في خلاص حق ورثة الملك المقتول من القصاص والمال؟ أفتونا مأجورين؟ ".

فهذا استفتاء صِيغَ في صورةٍ توحي بالجواب، وباطنُه أن ذاك الأمير السائل يريد أن يمتنع على الملك الذي دعاه للحضور عنده، ويريد أن يثير فتنةً وقتالًا على صاحب الأمر، لعله يصل إلى ما وصل إليه ذاك من الملك، كعادة الأمراء من المماليك في ذلك العهد، ولكنَّ ابن كثير يجيبه جوابًا حكيمًا يكشف عن بعض مقصده، ويضمن جوابه النصيحة الواجبة في مثل هذه الحال، فيقول: "فقلت للذي جاءني بها من جهة الأمير: إن كان مراده خلاص ذمته فيما بينه وبين الله تعالى، فهو أعلم بنيته في الذي يقصده! ولا يسعى في تحصيل حقٍّ معين، إذا تَرتَّب على ذلك مفسدة راجحة في ذلك، فيؤخر الطلب إلى وقت إمكانه بطريقه! وإن كان مراده بهذا الاستفتاء أن يتقوى بها في جمع الدولة، والأمراء عليه، فلا بُدَّ أن يكتب عليها كبار القضاة والمشايخ أولًا، ثم بعد ذلك بقية المفتين بطريقه".

"التاريخ 14: 281: 282".

وكان الإفرنج قد غدروا بمدينة الإسكندرية، وأشاعوا فيها الرعب، وارتكبوا الفظائع غدرًا، وذلك أنهم وصلوا إليها من البحر يوم الأربعاء 22 محرم سنة 767، فلم يجدوا بها نائبًا ولا جيشًا، ولا حافظًا للبحر

এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক কূটচাল কিংবা অ-শান্তিপূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য, যদিও প্রশ্নকারী কোনো আমির বা এমন কেউ হন যার প্রতাপকে ভয় করা হয়। তিনি ৭৬২ হিজরি সালের ঘটনাবলির বর্ণনায় বলেন: "আমার কাছে একটি ফতোয়া প্রার্থনার আবেদন এল যার বিবরণ ছিল নিম্নরূপ: বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম এমন এক অধিপতি সম্পর্কে কী বলেন, যিনি একজন গোলাম ক্রয় করলেন, অতঃপর তার প্রতি সদয় আচরণ করলেন, তাকে দান করলেন এবং উচ্চাসনে আসীন করলেন; এরপর সেই গোলাম তার মনিবের ওপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করল, তার সম্পদ দখল করল এবং তার উত্তরাধিকারীদের তা থেকে বঞ্চিত করল? সে রাজ্যের ওপর কর্তৃত্ব বিস্তার করল এবং দেশের কোনো কোনো প্রতিনিধির কাছে তাকে তলব করার জন্য বার্তা পাঠাল যেন তাকে হত্যা করতে পারে: এমতাবস্থায় উক্ত প্রতিনিধির জন্য কি তার আনুগত্য করা থেকে বিরত থাকা বৈধ? আর সে যদি নিজের জীবন ও মালের সুরক্ষায় লড়াইরত অবস্থায় নিহত হয়, তবে সে কি শহীদ (شهيد) হবে? আর যে ব্যক্তি নিহত অধিপতির উত্তরাধিকারীদের অধিকার আদায় এবং কিসাস (القصاص) ও অর্থ পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হবে, সে কি সওয়াবপ্রাপ্ত হবে? আমাদের ফতোয়া প্রদান করুন, আপনারা পুরস্কৃত হবেন।"

এটি এমন এক ফতোয়া প্রার্থনা যা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যা উত্তরের ইঙ্গিত প্রদান করে। এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হলো, সেই প্রশ্নকারী আমির সেই অধিপতির অবাধ্য হতে চান যিনি তাকে উপস্থিত হওয়ার জন্য তলব করেছেন এবং তিনি শাসক বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফিতনা (فتنة) ও যুদ্ধ উসকে দিতে চান। সম্ভবত তিনি ক্ষমতার সেই শিখরে পৌঁছাতে চান যেখানে অন্যজন পৌঁছেছে, যেমনটি সেই যুগের মামলুক আমিরদের প্রথা ছিল। কিন্তু ইবনে কাসির তাকে এক প্রজ্ঞাপূর্ণ উত্তর প্রদান করেন যা তার উদ্দেশ্যের কিছুটা উন্মোচন করে এবং এই ধরনের পরিস্থিতিতে যা নসিহত করা কর্তব্য তা অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বলেন: "আমিরের পক্ষ থেকে যিনি এটি নিয়ে এসেছিলেন আমি তাকে বললাম: যদি তার উদ্দেশ্য আল্লাহ তাআলার সমীপে নিজের দায়মুক্তি হয়, তবে তিনি যা চাচ্ছেন সে বিষয়ে তার নিয়ত সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত! তবে কোনো নির্দিষ্ট অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হওয়া সমীচীন নয় যদি তার ফলে অধিকতর অনিষ্টের (مفسدة) সম্ভাবনা তৈরি হয়; সেক্ষেত্রে সুযোগ বুঝে সঠিক পন্থায় তা আদায়ের জন্য বিলম্ব করতে হবে। আর যদি এই ফতোয়া প্রার্থনার উদ্দেশ্য হয় এর মাধ্যমে রাষ্ট্র ও আমিরদের তার সপক্ষে শক্তিশালী করা, তবে প্রথমে প্রধান প্রধান বিচারক ও মাশায়েখদের এতে স্বাক্ষর করতে হবে, তারপর অন্যান্য মুফতিরা নিয়মানুযায়ী অভিমত দেবেন।"

"আত-তারিখ ১৪: ২৮১: ২৮২"

ইউরোপীয়রা আলেকজান্দ্রিয়া শহরের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল এবং হীনভাবে নৃশংসতা চালিয়েছিল। তারা বুধবার ২২ মহররম ৭৬৭ হিজরি সালে সমুদ্রপথে সেখানে পৌঁছেছিল; কিন্তু তারা সেখানে কোনো প্রতিনিধি, সৈন্যবাহিনী বা সমুদ্র উপকূলীয় রক্ষী খুঁজে পায়নি।

(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولا ناصرًا، فدخلوها يوم الجمعة بكرة النهار، بعدما حرقوا أبوابًا كثيرة منها، وعاثوا في أهلها فسادًا؛ يقتلون الرجال، ويأخذون الأموال، ويأسرون النساء والأطفال، فالحكم لله العلي الكبير المتعال، وأقاموا يوم الجمعة والسبت والأحد والإثنين والثلاثاء، فلما كان صبيحة الأربعاء قَدِمَ الشاليش المصري1، فأقلعت الفرنج -لعنهم الله- عنها، وقد أسروا خلقًا كثيرًا يقاربون الأربعة آلاف، وأخذوا من الأموال ذهبًا وحريرًا وبهارًا وغير ذلك، ما لا يُحدُّ ولا يوصف، وقَدِمَ السلطان والأمير الكبير يلبغا ظهر يومئذ، وقد تفارط الحال، وتحولت الغنائم كلها إلى الشوائن بالبحر، فسمع للأسارى من العويل والبكار والشكوى والجأر إلى الله، والاستغاثة به وبالمسلمين، ما قطَّع الأكباد، وذرفت له العيون، وأصمَّ الأسماع.

فإنا لله وإنا إليه راجعون، ولما بلغت الأخبار إلى أهل دمشق شق عليهم ذلك جدًّا، وذكر ذلك الخطيب يوم الجمعة على المنبر، فتباكى الناس كثيرًا. فإنا لله وإنا إليه راجعون".

فهذه وقعة شنيعة غادرة من الإفرنج -كعادتهم، والنفوس تتقزز من مثلها، وتثور من أجلها، والملوك والأمراء الظالمون ينتهزون فرصة تعبئة الرأي العام الإسلامي، وتورثه من أجل هذا الغدر، وغضبًا لهذه الفظائع؛ ليأكلوا أموال الناس بالباطل، وظاهر أمرهم الانتقام، وباطنه السلب والنهب.

--------------------------------------------

1 في النجوم الزاهرة "11: 29 طبعة دار الكتب المصرية": "فلما وصل السلطان إلى الطرانة أرسل جاليشًا من الأمراء أمامه في خفية … ". وكتب مصححه الأستاذ محمد البرهامي منصور، بهامشه: "الجاليش: مقدمة الجيش، والراية العظيمة في رأسها خصلة من الشعر"، وهي كلمة أعجمية -لعلها تركية أو فارسية، وفي مثلها الجيم شديدة التعطيش -بين الجيم والشين- فيجوز تعريبها جيمًا أو شينًا، مثل "شاويش" و"جاويش".
এবং কোনো সাহায্যকারী ছিল না। তারা জুমআর দিন দিনের শুরুতে সেখানে প্রবেশ করল, এর বহু প্রবেশদ্বার পুড়িয়ে দেওয়ার পর। তারা সেখানে অধিবাসীদের মাঝে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করল; তারা পুরুষদের হত্যা করছিল, সম্পদ লুণ্ঠন করছিল এবং নারী ও শিশুদের বন্দী করছিল। সকল ফয়সালা সুউচ্চ, সুমহান আল্লাহরই। তারা জুমআ, শনি, রবি, সোম ও মঙ্গলবার সেখানে অবস্থান করল। যখন বুধবার সকাল হলো, তখন মিশরীয় অগ্রবর্তী দল (الشاليش)১ আগমন করল। ফলে ফিরিঙ্গিরা (الإفرنج) —আল্লাহ তাদের প্রতি লা’নত বর্ষণ করুন— সেখান থেকে প্রস্থান করল। তারা প্রায় চার হাজার মানুষকে বন্দী করেছিল এবং স্বর্ণ, রেশম, মশলা ও অন্যান্য এমন বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুণ্ঠন করেছিল যা সীমাহীন ও অবর্ণনীয়। ঐ দিন দুপুরে সুলতান এবং প্রধান আমির ইয়ালবুগা আগমন করলেন, কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল এবং সমস্ত গণিমত (الغنائم) সমুদ্রে জাহাজে স্থানান্তরিত হয়ে গিয়েছিল। বন্দীদের আর্তনাদ, ক্রন্দন, বিলাপ এবং আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ ও মুসলমানদের কাছে সাহায্য প্রার্থনার এমন করুণ শব্দ শোনা যাচ্ছিল যা কলিজা বিদীর্ণ করে দিচ্ছিল, চক্ষু অশ্রুসজল করছিল এবং কানকে বধির করে দিচ্ছিল।

নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন। যখন এই সংবাদ দামেস্কবাসীদের নিকট পৌঁছাল, তখন এটি তাদের নিকট অত্যন্ত পীড়াদায়ক মনে হলো। জুমআর দিন খতিব মিম্বারে দাঁড়িয়ে তা উল্লেখ করলেন, ফলে মানুষ অঝোরে কাঁদতে লাগল। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন।

এটি ছিল ফিরিঙ্গিদের (الإفرنج) পক্ষ থেকে একটি জঘন্য ও বিশ্বাসঘাতকতামূলক হামলা—যেমনটি তাদের স্বভাব। বিবেকবান হৃদয় এমন ঘটনায় শিউরে ওঠে এবং এর জন্য সংক্ষুব্ধ হয়। তবে জালেম রাজা ও আমিররা এই বিশ্বাসঘাতকতা ও নৃশংসতার প্রেক্ষাপটে মুসলিম জনমতকে সংগঠিত করার সুযোগ লুফে নেয়, যাতে তারা অন্যায়ভাবে মানুষের সম্পদ গ্রাস করতে পারে। তাদের বাহ্যিক রূপ হলো প্রতিশোধ গ্রহণ, কিন্তু অভ্যন্তরীণ প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো লুণ্ঠন ও ডাকাতি।

--------------------------------------------

১ আল-নুজুম আল-যাহিরা-তে (১১: ২৯, মিশরের দারুল কুতুব সংস্করণ): "যখন সুলতান আল-তারানাহ-তে পৌঁছালেন, তখন তিনি তাঁর আগে গোপনে আমিরদের একটি অগ্রবর্তী দল (جاليشًا) প্রেরণ করলেন..."। এর পাণ্ডুলিপি সংশোধক উস্তাদ মুহাম্মদ আল-বুরহামি মনসুর টীকায় লিখেছেন: "আল-জালিিশ: বাহিনীর অগ্রভাগ (مقدمة الجيش), এবং একটি বিশাল পতাকা যার শীর্ষে একগুচ্ছ চুল থাকে"। এটি একটি অ-আরবি শব্দ—সম্ভবত তুর্কি বা ফারসি। এতে 'জিম' বর্ণটির উচ্চারণ অত্যন্ত গভীর (জিম ও শিন এর মাঝামাঝি)—তাই এটিকে জিম বা শিন দিয়ে প্রতিবর্ণীকরণ করা বৈধ, যেমন "শাভিশ" (شاويش) এবং "জাভিশ" (جاويش)।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৫)
ولكن الحافظ ابن كثير يلزم جانب الحق والعدل، ولا يرضى بالظلم، ولو كان ظاهره الانتقام والثأر للمسلمين، فيقول: "وجاء المرسوم الشريف من الديار المصرية، إلى نائب السلطنة، يمسك النصارى من الشام جملة واحدة، وأن يأخذ منهم ربع أموالهم، لعمارة ما خرب من الإسكندرية، ولعمارة مراكب تغزو الإفرنج، فأهانوا النصارى، وطُلِبُوا من بيوتهم بعنف، وخافوا أن يقتلوا، ولم يفهموا ما يراد بهم، فهربوا كل مهرب. "ولم تكن هذه الحركة شرعية، ولا يجوز اعتمادها شرعًا". وقد طلبت يوم السبت السادس عشر من صفر -أي: سنة 767- إلى الميدان الأخضر، للاجتماع بنائب السلطنة، وكان اجتماعنا بعد العصر يومئذ، بعد الفراغ من لعب الكرة، فرأيت منه أنسًا كبيرًا، ورأيته كامل الفهم، حسن العبارة، كريم المجالسة. "فذكرت له أن هذا لا يجوز اعتماده في النصارى" -يعني المرسوم بالمصادرة، فقال: إن بعض فقهاء مصر أفتى للأمير الكبير بذلك! فقلت: له هذا مما لا يسوغ شرعًا، ولا يجوز لأحد أن يفتي بهذا، ومتى كانوا باقين على الذمة، يؤدون إلينا الجزية ملتزمين بالذلة والصغار، وأحكام الملة قائمة، لا يجوز أن يؤخذ منهم الدرهم الواحد الفرد فوق ما يبذلونه من الجزية، ومثل هذا لا يخفى على الأمير"! فقال: كيف أصنع وقد ورد المرسوم بذلك؟ ولا يمكنني أن أخالفه؟ ثم ذكر أن نائب السلطنة كتب بذلك إلى الديار المصرية، ولكن هذا النائب لم يكن عند قوله، فنفذ المرسوم، و"طلب النصارى الذين اجتمعوا في كنيستهم إلى بين يديه، وهم قريب من أربعمائة، فحلفهم: كم أموالكم؟ وألزمهم بأداء الربع من أموالهم، فإنا لله وإنا إليه راجعون". وكانت هذا المصادرة الظالمة في شهر ربيع الأول سنة 767، ثم قال الحافظ -في حوادث شهر ربيع الآخر: "وفي أوائل هذا الشهر ورد المرسوم الشريف السلطاني، بالرد على نساء النصارى، ما كان أخذ منهن مع الجباية التي كان تقدم أخذها منهم"، وإن

তবে আল-হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসীর সর্বদা সত্য ও ন্যায়ের পথ অবলম্বন করেন এবং তিনি কোনো প্রকার জুলুম বা অবিচার পছন্দ করেন না, এমনকি বাহ্যিকভাবে যদি তা মুসলিমদের পক্ষ থেকে নেওয়া প্রতিশোধ হিসেবেও পরিলক্ষিত হয়। তিনি বলেন: "মিশরীয় ভূখণ্ড থেকে নায়েবে সুলতানাতের নিকট এই রাজকীয় ফরমান আসলো যে, শামের (সিরিয়া) নাসারাদের (খ্রিষ্টানদের) পাইকারিভাবে পাকড়াও করতে হবে এবং তাদের সম্পদের এক-চতুর্থাংশ গ্রহণ করতে হবে; যা আলেকজান্দ্রিয়ার বিধ্বস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ এবং ইউরোপীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য নৌযান তৈরিতে ব্যয় করা হবে। ফলে নাসারাদের লাঞ্ছিত করা হলো এবং অত্যন্ত কঠোরভাবে তাদের ঘরবাড়ি থেকে তলব করা হলো। তারা জীবননাশের ভয়ে ভীত হয়ে পড়ল এবং তাদের সাথে কী করা হতে যাচ্ছে তা বুঝতে না পেরে সবদিকে পালিয়ে যেতে লাগল। আর এই পদক্ষেপটি শরয়ি ছিল না এবং শরিয়ত অনুযায়ী এটি গ্রহণ করাও বৈধ নয়।"

আমাকে ৭৬৭ হিজরি সনের ১৬ই সফর শনিবার আল-মায়দান আল-আখদারে নায়েবে সুলতানাতের সাথে সাক্ষাতের জন্য তলব করা হলো। সেদিন আছরের পর বল খেলা সমাপ্ত হওয়ার পর আমাদের সেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আমি তাকে অত্যন্ত অমায়িক, প্রখর ধীসম্পন্ন, সুবক্তা এবং চমৎকার মজলিসি মানুষ হিসেবে দেখতে পেলাম। "আমি তাকে উল্লেখ করলাম যে, নাসারাদের ক্ষেত্রে এই ফরমান কার্যকর করা বৈধ নয়" —অর্থাৎ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ফরমান। তিনি বললেন: মিশরের কিছু ফকীহ (আইনবিদ) বড় আমিরের জন্য এই মর্মে ফতোয়া দিয়েছেন! আমি তাকে বললাম: এটি এমন একটি বিষয় যা শরিয়ত অনুমোদন করে না এবং কারো পক্ষেই এই ফতোয়া দেওয়া জায়েজ বা বৈধ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা জিম্মি হিসেবে বিদ্যমান থাকবে এবং হীনতা ও আনুগত্য স্বীকার করে আমাদের জিজিয়া প্রদান করতে থাকবে এবং মিল্লাতের (ইসলামি শাসন) বিধানসমূহ বলবৎ থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের প্রদেয় জিজিয়ার অতিরিক্ত একটি দিরহাম গ্রহণ করাও বৈধ হবে না। আর এই বিষয়টি আমিরের মতো ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট থাকার কথা নয়!

তিনি বললেন: আমি কী করতে পারি যখন এই মর্মে ফরমান জারি হয়ে গেছে? আমার পক্ষে তো এর বিরোধিতা করা সম্ভব নয়। অতঃপর তিনি উল্লেখ করলেন যে, নায়েবে সুলতানাত এ বিষয়ে মিশরে পত্র পাঠিয়েছেন; কিন্তু এই নায়েবে সুলতানাত তার কথার ওপর অটল থাকতে পারেননি, বরং ফরমানটি কার্যকর করেন। "তিনি গির্জায় সমবেত প্রায় চারশ নাসারাকে তার সামনে হাজির করার নির্দেশ দিলেন এবং তাদের শপথ করালেন যে, তাদের সম্পদের পরিমাণ কত? এরপর তিনি তাদের সম্পদের এক-চতুর্থাংশ প্রদান করতে বাধ্য করলেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।"

এই জুলুমপূর্ণ বাজেয়াপ্তকরণ ৭৬৭ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে সংঘটিত হয়। অতঃপর আল-হাফিজ (الحافظ) রবিউস সানি মাসের ঘটনাবলির বর্ণনায় বলেন: "এই মাসের শুরুর দিকে সুলতানের পক্ষ থেকে রাজকীয় ফরমান আসল যে, নাসারা নারীদের থেকে ইতিপূর্বে আদায়কৃত করের সাথে অতিরিক্ত যা কিছু নেওয়া হয়েছে তা যেন তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।" এবং

(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৬)
كان الجمع ظلمًا، ولكن الأخذ من النساء أفحش وأبلغ في الظلم". "التاريخ 14: 314-315، 318".

فانظر إلى هذا الإمام العظيم، الذي يقف عند حدود الشريعة المطهرة، يقيم ميزان العدل الصحيح كما عرفه من دينه الحنيف، ويألم ويسترجع لما ناب النصارى من مصادرة ظالمة من أمراء طغاة جائرين، كما ألم واسترجع من قبل لما أصاب المسلمين من غدر النصارى وبغيهم، وشتان هذا وذاك، ولكنه لا يرضى إلّا أن يقيم ميزان العدل.

فكان هذا العقل المستقلّ العظيم الثابت على الحق، والذي لا تغلبه العواطف والأهواء، مما يجعل للرجل منزلة عند الناس كبيرة، يثق به أنصاره وغير أنصاره، وموافقوه ومخالفوه، بل جعله موضع الثقة والاستشارة عند الذميين، حتى ليستشيره بعض رؤسائهم في أخص شئونهم الكنيسية، فإنه يذكر قصة طريفة، في استشارة أحد البتاركة إياه في ذلك، يحسن أن نذكرها بعبارته بحروفها:

فقال -في حوادث سنة 767: "وحضر عندي يوم الثلاثاء تاسع شوال، البَتْرَك بشارة، الملقَّب بميخائيل، وأخبرني أن المطارنة بالشام بايعوه على أن جعلوه بتركًا بدمشق، عوضًا عن البَتْرَك بأنطاكية، فذكرت له أن هذا أمر مبتدع في دينهم، فإنه لا تكون البتاركة إلّا أربعة: بالإسكندرية، وبالقدس، وبأنطاكية، وبرومية، فنُقِلَ رومية إلى إسطنبول، وهي القسطنطينية، وقد أنكر عليهم كثير منهم إذ ذاك، فهذا الذي ابتدعوه في هذا الوقت أعظم من ذلك، لكن اعتذر بأنه في الحقيقة هو عن أنطاكية، وأنطاكية، وإنما إذن له في المقام بالشام الشريف، لأجل أنه أمره نائب السلطنة أن يكتب عنه وعن أهل ملتهم إلى صاحب قبرص، يذكر له ما حلَّ بهم من الخزي والنكال والجناية؛ بسبب عدوان صاحب قبرص على مدينة الإسكندرية، وأحضر لي الكتب إليه وإلى
"সমষ্টিগতভাবে গ্রহণ করাই ছিল জুলুম, তবে নারীদের থেকে গ্রহণ করা আরও জঘন্য এবং জুলুমের চরম বহিঃপ্রকাশ।" "আত-তারিখ ১৪: ৩১৪-৩১৫, ৩১৮।"

অতঃপর এই মহান ইমামের দিকে লক্ষ করুন, যিনি পবিত্র শরীয়তের সীমানায় অটল থাকেন, ন্যায়ের সঠিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেন যা তিনি তাঁর একনিষ্ঠ দ্বীন থেকে জেনেছেন। তিনি খ্রিস্টানদের ওপর যালিম ও স্বৈরাচারী শাসকদের পক্ষ থেকে অন্যায়ভাবে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কারণে ব্যথিত হন এবং 'ইন্না লিল্লাহ' পাঠ করেন, ঠিক যেমনটি তিনি এর আগে খ্রিস্টানদের বিশ্বাসঘাতকতা ও অবাধ্যতার কারণে মুসলমানদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল তাতে ব্যথিত হয়েছিলেন এবং 'ইন্না লিল্লাহ' পাঠ করেছিলেন। যদিও এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে, কিন্তু তিনি ন্যায়ের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হন না।

সুতরাং এই স্বাধীন ও মহান বুদ্ধি যা হকের ওপর অবিচল ছিল এবং আবেগ বা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়নি, তা এই ব্যক্তিকে মানুষের নিকট এক সুউচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছিল। তাঁর ওপর তাঁর সমর্থক ও অসমর্থক, একমত পোষণকারী ও বিরোধী সবাই আস্থা রাখত। এমনকি তিনি অমুসলিম জিম্মিদের (ذميين) নিকটও আস্থা ও পরামর্শের পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন, এমনকি তাদের কয়েকজন প্রধান ব্যক্তি তাদের গির্জা সংক্রান্ত একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়েও তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতেন। এ প্রসঙ্গে জনৈক প্যাট্রিয়ার্কের তাঁর সাথে পরামর্শ করার একটি চমৎকার ঘটনা তিনি উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর নিজের শব্দেই হুবহু উল্লেখ করা সমীচীন হবে:

তিনি ৭৬৭ হিজরীর ঘটনাবলীতে বলেন: "মঙ্গলবার ৯ই শাওয়াল প্যাট্রিয়ার্ক বিশারা, যাঁর উপাধি ছিল মিখাইল, আমার নিকট আসলেন। তিনি আমাকে জানালেন যে, সিরিয়ার বিশপগণ তাঁকে আন্তাকিয়ার প্যাট্রিয়ার্কের পরিবর্তে দামেশকের প্যাট্রিয়ার্ক হিসেবে মনোনীত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। আমি তাঁকে বললাম যে, এটি তাঁদের ধর্মে একটি নব উদ্ভাবিত (مبتدع) বিষয়; কারণ প্যাট্রিয়ার্ক কেবল চারজনই হতে পারে: আলেকজান্দ্রিয়া, জেরুজালেম, আন্তাকিয়া এবং রোমে। পরবর্তীতে রোম থেকে ইস্তাম্বুলে (যা কনস্টান্টিনোপল) স্থানান্তরিত হয়েছিল। সে সময় তাদের অনেকেই এর প্রতিবাদ করেছিলেন। সুতরাং বর্তমানে তারা যা উদ্ভাবন করেছে তা এর চেয়েও গুরুতর। কিন্তু তিনি ওজর পেশ করে বললেন যে, বাস্তবে এটি আন্তাকিয়ার পক্ষ থেকেই, আর তাঁকে শামে অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কেবল এই কারণে যে, সুলতানের প্রতিনিধি তাঁকে আদেশ করেছেন যেন তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এবং তাঁর জাতির পক্ষ থেকে সাইপ্রাসের অধিপতির নিকট একটি পত্র লেখেন। যেখানে সাইপ্রাসের অধিপতির আলেকজান্দ্রিয়া শহরে আক্রমণের কারণে তাদের ওপর যে অপমান, লাঞ্ছনা ও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তা বর্ণনা করা হয়। অতঃপর তিনি আমার নিকট তাঁর এবং অন্যদের উদ্দেশ্যে লেখা পত্রগুলো উপস্থাপন করলেন।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৭)
ملك إسطنبول، وقرأها عليّ من لفظه -لعنه الله ولعن المكتوب إليهم أيضًا، وقد تكلمت معه في دينهم، ونصوص ما يعتقده كل من الطوائف الثلاثة، وهم: الملكية، واليعقوبية -ومنهم الإفرنج والقبط- والنسطورية، فإذا هو يفهم بعض الشيء، ولكن حاصله أنه حمار، من أكفر الكفار! لعنه الله". "التاريخ 14: 319-320".

ولا يعجبنَّ القارئ من أن يكون ابن كثير أعلم بعقائد طوائف النصارى من أحد بتاركتهم. أستغفر الله، بل إنه يذكر عن ذاك البترك ميخائيل الذي تكلَّم معه -أنه يفهم بعض الشيء؛ لأن ابن كثير رحمه الله من أوسع العلماء اطلاعًا على أقوال أهل الملل والنحل، وخاصة مذاهب المسيحيين، كما يدل عليه كلامه في مواضع كثيرة في التفسير والتاريخ، بل يكفي في الدلالة على سعة اطلاعه في ذلك أن يكون تلميذ شيخ الإسلام ابن تيمية، الذي ألف موسوعته النفيسة في ذلك: "كتاب الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح". وهو مطبوع معروف.

وكان رحمه الله قد أضرَّ في آخر عمره، ثم مات يوم الخميس 26 شعبان سنة 774، وقال ابن ناصر: "وكانت له جنازة حافلة مشهورة، ودفن بوصية منه في تربة شيخ الإسلام ابن تيمية، بمقبرة الصوفية، خارج باب النصر من دمشق". أ. هـ.

قلت: وأما مصنفاته فكثيرة، وقد ذكرتها في مقدمتي لتفسيره الشهير، فلله الحمد على توفيقه. وهو المستعان.
"ইস্তাম্বুলের শাসক, আর তিনি এটি তাঁর নিজ মুখে আমার সামনে পাঠ করেছিলেন—আল্লাহ তাঁর ওপর লানত বর্ষণ করুন এবং যাদের কাছে এটি লেখা হয়েছিল তাদের ওপরও। আমি তাদের ধর্ম এবং এই তিনটি দলের প্রত্যেকের ধর্মবিশ্বাসের মূলপাঠ নিয়ে তাঁর সাথে কথা বলেছিলাম। তারা হলো: মালকানিয়া, ইয়াকুবিয়া—যাদের অন্তর্ভুক্ত ফ্রাঙ্ক ও কিবতিরা—এবং নাসতুরিয়ার। দেখা গেল তিনি কিছুটা বুঝেন, তবে সারকথা হলো তিনি গাধার মতো নির্বোধ এবং কাফেরদের মধ্যে চরম কাফের! আল্লাহ তাঁর ওপর লানত বর্ষণ করুন।" "আত-তারিখ ১৪: ৩১৯-৩২০"।

পাঠক যেন এতে আশ্চর্য না হন যে, ইবনে কাসীর খ্রিস্টানদের কোনো প্যাট্রিয়ার্কের চেয়েও তাদের বিভিন্ন দলের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বরং তিনি সেই প্যাট্রিয়ার্ক মাইকেল সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন—যার সাথে তিনি কথা বলেছিলেন—যে সে কিছুটা বুঝতে পারে। কারণ ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের বর্ণনায় আলেমদের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত পাণ্ডিত্যের অধিকারী, বিশেষ করে খ্রিস্টানদের মাযহাবসমূহের ক্ষেত্রে। যেমনটি তাফসীর ও ইতিহাসের বহু স্থানে তাঁর বক্তব্য থেকে প্রমাণিত হয়। বরং এ বিষয়ে তাঁর জ্ঞানের পরিধির প্রমাণ হিসেবে এটাই যথেষ্ট যে, তিনি ছিলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার ছাত্র, যিনি এ বিষয়ে তাঁর মূল্যবান বিশ্বকোষটি রচনা করেছেন: "আল-জওয়াবুস সহীহ লিমান বাদ্দালা দিনাল মাসিহ"। এটি একটি সুপ্রসিদ্ধ ও মুদ্রিত গ্রন্থ।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের শেষলগ্নে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। অতঃপর ৭৭৪ হিজরীর ২৬ শাবান বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন। ইবনে নাসির বলেন: "তাঁর জানাজা ছিল অত্যন্ত জনবহুল ও প্রসিদ্ধ। তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী তাঁকে দামেস্কের বাবুন নাসরের বাইরে সুফিয়া গোরস্তানে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার কবরের পাশে দাফন করা হয়।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

আমি বলছি: তাঁর রচনাবলি অসংখ্য। আমি তাঁর প্রসিদ্ধ তাফসীরের মুকাদ্দিমায় সেগুলো উল্লেখ করেছি। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর তাওফীকের কারণে। আর তিনিই একমাত্র সাহায্যস্থল।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌وصف نسخ الكتاب الخطية:

اعتمدت في إخراج هذا الكتاب على أربع نسخ:

النسخة الأولى:

وهي المرموز لها بالرمز "أ"، وكُتِبَت في حياة المصنف رحمه الله سنة "759"، ووقعت في المجلد العاشر من هذه النسخة من الورقة "193" إلى آخر الكتاب، والذي ينتهي بالورقة "238"، وجاء في آخره: "آخر كتاب فضائل القرآن، وبه تمَّ التفسير للحافظ العلامة الرحلة مفيد الطالبين، الشيخ عماد الدين إسماعيل، الشهير بـ "ابن كثير" -كثَّر الله أمثاله على يد أفقر العباد إلى الله الغني: محمد بن أحمد بن معمر المقرئ البغدادي -عفا الله عنه ونفعه بالعلم ووفقه للعمل به، آمين. وحرس الله مجد مالكه، آمين. بتاريخ الجمعة عاشر جمادى الآخرة سنة تسع وخمسين وسبعمائة هلالية هجرية، صلوات الله وسلامه على مشرفها، والحمد لله أولًا وآخرًا، وباطنًا وظاهرًا، وصلى الله على سيدنا محمد النبي الأمي وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا".

وخط النسخة حسن جيد، في كل ورقة وجهان، ومسطرتها "21" سطرًا في كل وجه، وهي من محفوظات مكتبة الحرم المكي -زاده الله تشريفًا، وهي مأخوذة عن الأصل المحفوظ في مكتبة الأوقاف ببغداد.

النسخة الثانية:

وهي المرموز لها بالرمز "جـ"، وكتبت في حياة المؤلف -رحمه الله تعالى، وقع لي منها المجلد الأول حسب، وعدد أوراقه "226" ورقة، وفي كل ورقة وجهان، ومسطرتها "27" سطرًا، وخطها في غاية
‌পাণ্ডুলিপির বর্ণনাসমূহ:

এই কিতাবটি সম্পাদনায় আমি চারটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

প্রথম পাণ্ডুলিপি:

এটি ‘আলিফ’ (أ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত। এটি লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবদ্দশায় ‘৭৫৯’ হিজরি সনে লিখিত। এই কিতাবটি উক্ত পাণ্ডুলিপির দশম খণ্ডের ১৯৩ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে কিতাবের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা ২৩৮ নম্বর পৃষ্ঠায় সমাপ্ত হয়েছে। এর শেষে উল্লেখ করা হয়েছে: “ফাযায়িলুল কুরআন কিতাবের সমাপ্তি; এর মাধ্যমেই হাফেজ (الحافظ), প্রাজ্ঞ আলেম, দেশভ্রমণকারী ও শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক শায়খ ইমাদ উদ্দীন ইসমাইল—যিনি ‘ইবনে কাসীর’ নামে প্রসিদ্ধ—তাঁর তাফসীর সম্পন্ন হলো। আল্লাহ তাঁর মতো গুণীজনদের বৃদ্ধি করে দিন। এটি আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দা মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মা’মার আল-মুকরি আল-বাগদাদী—আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন, তাকে ইলম দ্বারা উপকৃত করুন এবং তদানুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন—এর হাতে সম্পন্ন হয়েছে। আল্লাহ এর মালিকের সম্মান রক্ষা করুন, আমিন। এটি শুক্রবার, ১০ই জুমাদাল আখিরা, ৭৫৯ হিজরি চান্দ্রবর্ষে সমাপ্ত হয়েছে। এর সম্মানদাতার ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। শুরুতে ও শেষে, গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহর প্রশংসা। আর আমাদের নেতা উম্মী নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।”

পাণ্ডুলিপিটির লিপি অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার। প্রতিটি পাতার উভয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি করে সারি রয়েছে। এটি মক্কার হারাম লাইব্রেরির সংরক্ষিত সংগ্রহশালাভুক্ত—আল্লাহ এর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। এটি বাগদাদের আওকাফ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মূল কপি থেকে গৃহীত।

দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি:

এটি ‘জীম’ (جـ) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত। এটি লেখকের—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—জীবদ্দশায় লিখিত। আমি এর কেবল প্রথম খণ্ডটিই পেয়েছি, যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ২২৬। প্রতিটি পাতার উভয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৭টি করে সারি রয়েছে। এর লিপি অত্যন্ত...
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২০)
الحسن، ويبدأ كتاب "فضائل القرآن" من الورقة رقم "5/ 2" وحتى الورقة "41/ 2"، وناسخها هو العالم العلامة أحمد بن محمد بن أحمد بن المحب بن عبد الله المقدسي الحنبلي، وكان من فضلاء العلماء، تمهَّر وتكلَّم على الناس فأجاد، وكانت له عناية بالحديث، أحضر على الحجار، وأسمع من غيره، مات في شهر ربيع الآخر سنة "776" كما في "الدرر الكامنة" "1/ 244" -يعني بعد وفاة ابن كثير بسنتين.

وهذه النسخة بها حواشٍ من خطِّ المصنِّف، وعليها تصحيحات، وجاء في آخرها: "آخر السفر الأول من هذه النسخة، كتبه لنفسه العبد الفقير إلى عفو ربه القدير، أحمد بن محمد بن أحمد بن المحب، عفا الله عنهم وسامحهم، وهو يسأل الله تعالى بِمَنِّه وكرمه، وفضله ولطفه، أن يجعله من الذين اتقوا والذين هم محسنون، والحمد لله رب العالمين أولًا وآخرًا، وظاهرًا وباطنًا، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا إلى يوم الدين، وحسبنا الله ونعم الوكيل".

النسخة الثالثة:

وهي المرموز لها بالرمز "ط"، وهي من محفوظات دار الكتب المصرية، وتقع في عشر مجلدات، ووقع كتاب "فضائل القرآن" في آخر المجلد العاشر، ويبدأ من الورقة "218" حتى الورقة "260"، وهي ناقصة من آخرها نحو ورقتين، وهذه النسخة حسنة الخط والضبط، كتبت سنة "838"، وجاء في آخرها: "آخر التفسير ولله الحمد والمنة، بيد الفقير إلى الله تعالى مرعي "؟ " ابن عبد الله المرسي، في تواريخ آخرها … جمادى الآخرة من شهور سنة "838"، ويتلوه كتاب فضائل القرآن".

النسخة الرابعة:

وهي المرموز لها بالرمز "ل"، وهي من محفوظات الحرم المكي
আল-হাসান, এবং 'ফাদাইলুল কুরআন' গ্রন্থটি ৫/২ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে ৪১/২ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর অনুলিপিকারক হলেন প্রাজ্ঞ আলেম আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল মুহিব্ব ইবনে আবদুল্লাহ আল-মাকদিসি আল-হাম্বালি। তিনি গুণী ওলামাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তিনি দক্ষতা অর্জন করেছিলেন এবং মানুষের উদ্দেশ্যে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করতেন। হাদিসের প্রতি তার বিশেষ যত্ন ছিল। তিনি আল-হাজ্জারের নিকট উপস্থিত হয়েছিলেন এবং অন্যদের থেকেও হাদিস শ্রবণ করেছেন। 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' (১/২৪৪) গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ৭৭৬ হিজরি সনের রবিউল আখির মাসে মৃত্যুবরণ করেন—অর্থাৎ ইবনে কাসিরের মৃত্যুর দুই বছর পর।

এই পাণ্ডুলিপিতে গ্রন্থকারের হস্তাক্ষরে কিছু টীকা রয়েছে এবং এতে বিভিন্ন সংশোধন (تصحيحات) বিদ্যমান। এর শেষে উল্লেখ আছে: "এই পাণ্ডুলিপির প্রথম খণ্ডের সমাপ্তি; এটি নিজের জন্য লিখেছেন মহান রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী বান্দা আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনুল মুহিব্ব, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করুন ও মার্জনা করুন। তিনি মহান আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ, দয়া, বদান্যতা ও করুণার উসিলায় প্রার্থনা করছেন যেন তিনি তাকে মুত্তাকি ও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করেন। শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।"

তৃতীয় পাণ্ডুলিপি:

এটি 'ত্ব' (ط) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত। এটি মিশরের দারুল কুতুবের সংরক্ষিত সংগ্রহশালায় রয়েছে এবং এটি দশ খণ্ডে সমাপ্ত। 'ফাদাইলুল কুরআন' বিষয়টি দশম খণ্ডের শেষে ২১৮ নম্বর পৃষ্ঠা থেকে ২৬০ নম্বর পৃষ্ঠা পর্যন্ত স্থান পেয়েছে। এর শেষ দিক থেকে প্রায় দুই পৃষ্ঠার মতো অপূর্ণতা রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটির হস্তাক্ষর সুন্দর এবং এর বিন্যাস নির্ভুল (ضبط)। এটি ৮৩৮ হিজরি সনে লিখিত। এর শেষে বর্ণিত হয়েছে: "তাফসির সমাপ্ত, আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। এটি সম্পন্ন করেছেন আল্লাহর মুখাপেক্ষী মারঈ ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুরসি, ৮৩৮ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে ... এরপর 'ফাদائلুল কুরআন' গ্রন্থটি শুরু হয়েছে।"

চতুর্থ পাণ্ডুলিপি:

এটি 'লাম' (ل) প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত এবং এটি মক্কার হারাম শরিফের সংরক্ষিত সংগ্রহশালায় বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২১)
-زاده الله تشريفًا، ووقع لي منها المجلد الأول، ويبدأ من أول التفسير إلى الآية "31" من سورة النساء، عدد أوراقه "412" ورقة، في كل ورقة وجهان، ومسطرتها "20" سطرًا، وكتاب "فضائل القرآن" يبدأ من الورقة "6/ 2" إلى الورقة "49/ 2"، وجاء بعد تفسير آية الكرسي ما نصه: "والحمد لله رب العالمين أولًا وآخرًا، وظاهرًا وباطنًا، وصلى الله على خير خلقه أجمعين محمد خاتم المرسلين، وعلى آهل الطيبين وصحابته المطهرين، وعلينا معهم أجمعين، برحمتك يا أرحم الراحمين. وكان الفراغ من نسخ هذا الجزء يوم السبت المبارك في ثمانية وعشرين مضين من شهر جمادى الأخرى من شهور سنة ستة وعشرين ومائتين وألف من الهجرة النبوية، على مهاجرها أفضل الصلاة والسلام".

—আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আমার নিকট এর প্রথম খণ্ডটি এসে পৌঁছেছে, যা তাফসিরের শুরু থেকে সুরা আন-নিসার ৩১ নম্বর আয়াত পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পত্র সংখ্যা ৪১২টি, প্রতিটি পত্রে দুইটি পিঠ রয়েছে এবং প্রতিটি পৃষ্ঠায় ২০টি করে সারি রয়েছে। "ফাদাইলুল কুরআন" অংশটি ৬/২ নং পত্র থেকে শুরু হয়ে ৪৯/২ নং পত্রে সমাপ্ত হয়েছে। আয়াতুল কুরসির তাফসিরের পর নিম্নোক্ত পাঠটি এসেছে: "আদি ও অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা, রাসুলগণের পরিসমাপ্তি মুহাম্মদ-এর ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও পুত-পবিত্র সাহাবিবর্গের ওপর এবং আপনার রহমতের অসিলায় আমাদের সকলের ওপর, হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। ১২২৬ হিজরি সনের জুমাদাল উখরা মাসের আটাশ তারিখ, বরকতময় শনিবার এই খণ্ডটির অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছে; যাঁর হিজরতের মাধ্যমে এই সন গণনা করা হয়, তাঁর প্রতি সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।"

(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌صور من الأصول

…
মূলনীতির (أصول) কিছু রূপরেখা

…
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌كتاب فضائل القرآن:

قال البخارى1 رحمه الله: "كيف نزول2 الوحى؟ وأول ما نزل"، قال ابن عباس: المهيمن الأمين، القرآن أمين على كل كتاب قبله.

حدَّثنا عبيد الله بن موسى، عن شيبان، عن يحيى، عن أبى سلمه، قال: أخبرتني عائشة، وابن عباس قالا: لبث النبى صلى الله عليه وسلم بمكة عشر سنين ينزل عليه القرآن، وبالمدينة "عشرًا"3. اهـ.

ذكر البخارى رحمه الله كتاب فضائل القرآن بعد كتاب التفسير؛ لأن التفسير أهم، فلهذا بدأ به. "ونحن قدمنا "الفضائل" قبل التفسير، وذكرنا فضل كل سورة قبل تفسيرها؛ ليكون ذلك باعثًا على حفظ القرآن وفهمه والعمل بما فيه. والله المستعان"4. وقول ابن عباس في تفسير "المهيمن": إنما يريد به البخارى قوله تعالى في المائدة بعد ذكر التوراة والإنجيل:

--------------------------------------------

1 في "كتاب فضائل القرآن" من "صحيحه" "9/ 3".

2 كذا في "الأصول" كلها، وفي "البخاري" "9/ 3": "نزل"، قال الحافظ في "الفتح": "كذا لأبي ذر: "نزل" بلفظ الفعل الماضي، ولغيره: "كيف نزول الوحي" بصيغة الجمع". أهـ.

3 كذا في "الأصول"، وفي "البخاري": "عشر سنين".

قال الحافظ: "عشر سنين، كذا للكشميهني، ولغيره: "وبالمدينة عشرًا" بإبهام المعدود". اهـ.

4 وقع في "أ": "فلهذا بدأ به، فجرينا على منواله وسننه مقتدين به".

وما أثبته من "جـ" و"طـ" و"ل" وهي متأخرة عن "أ"، فهذا يدل على أن ابن كثير هو الذي غيَّر موضع "الفضائل"، فنقلها إلى أول الكتاب بدل آخره، وقد أحسن بذلك رحمه الله. والله أعلم.
কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন:

ইমাম বুখারি ১ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ওহি (وحي) কীভাবে অবতীর্ণ (نزول) ২ হতো? এবং সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে", ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: ‘আল-মুহাইমিন’ (المهيمن) অর্থ আমানতদার বা সংরক্ষক (الأمين); কুরআন তার পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবের সংরক্ষক স্বরূপ।

উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি শাইবান থেকে, তিনি ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি বলেন: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এবং ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أخبرتني) যে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন যখন তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ (نزول) হচ্ছিল, এবং মদিনায় "দশ" ৩ বছর। সমাপ্ত (اهـ)।

ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ) তাফসির (تفسير) অধ্যায়ের পর কুরআনের ফযিলত (فضائل) অধ্যায়টি উল্লেখ করেছেন; কারণ তাফসির (تفسير) অধিক গুরুত্বপূর্ণ, তাই তিনি তা দিয়েই শুরু করেছেন। "আমরা ফযিলত (فضائل) সংক্রান্ত আলোচনাকে তাফসিরের (تفسير) আগে নিয়ে এসেছি এবং প্রতিটি সূরার তাফসিরের (تفسير) আগে তার ফযিলত (فضل) উল্লেখ করেছি; যাতে এটি কুরআন মুখস্থ (حفظ) করা, তা বোঝা এবং সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগায়। আল্লাহই সাহায্যকারী ৪।" আর ‘আল-মুহাইমিন’ (المهيمن)-এর ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাসের উক্তি দ্বারা ইমাম বুখারি মূলত সুরা আল-মায়িদার সেই আয়াতটি বুঝাতে চেয়েছেন যেখানে তাওরাত ও ইঞ্জিলের আলোচনার পর আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

--------------------------------------------

১. তাঁর সহিহ বুখারি গ্রন্থের ৯/৩ পৃষ্ঠার ‘কিতাব ফাদায়িলুল কুরআন’-এ।

২. সকল মূল পাণ্ডুলিপিতে (الأصول) এভাবেই আছে, এবং বুখারিতে (৯/৩): "অবতীর্ণ হয়েছে (نزل)" আছে। হাফেজ (ইবনে হাজার) ফাতহুল বারিতে বলেছেন: "আবু যার-এর বর্ণনায় অতীতকালের ক্রিয়া (نزل) রূপে এসেছে, আর অন্যদের বর্ণনায় মাসদার (مصدر) তথা 'كيف نزول الوحي' রূপে এসেছে।" সমাপ্ত (أهـ)।

৩. মূল পাণ্ডুলিপিসমূহে (الأصول) এভাবেই আছে, তবে বুখারিতে আছে: "দশ বছর"। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: "দশ বছর—কুশমিহানি-এর বর্ণনায় এভাবেই আছে, অন্যদের বর্ণনায় সংখ্যাটি অস্পষ্টভাবে 'মদিনায় দশ' উল্লেখ করা হয়েছে।" সমাপ্ত (اهـ)।

৪. পাণ্ডুলিপি ‘আলিফ’-এ রয়েছে: "তাই তিনি তা দিয়ে শুরু করেছেন, আমরা তাঁর পথ ও পদ্ধতি অনুসরণ করে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি।" আর ‘জিম’, ‘তা’ এবং ‘লাম’ পাণ্ডুলিপিতে যা আমি সাব্যস্ত করেছি তা ‘আলিফ’-এর পরবর্তী সময়ের। এটি প্রমাণ করে যে, ইবনে কাসিরই ‘ফাদায়িল’ (فضائل) অংশের স্থান পরিবর্তন করেছেন এবং তা গ্রন্থের শেষে রাখার পরিবর্তে শুরুতে নিয়ে এসেছেন। তিনি এর মাধ্যমে একটি উত্তম কাজ করেছেন (রহিমাহুল্লাহ)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৩৪)
{وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْه} [المائدة: 48]

قال الغمام أبو جعفر بن جرير رحمه الله: ثنا المثنى، ثنا عبد الله بن صالح، حدثنى معاوية عن علي -يعني أبي طلحة، عن ابن عباس "في"1 قوله: {وَمُهَيْمِنًا عَلَيْه} ، قال: المهيمن الأمين، قال: القرآن أمين على كل كتاب قبله، وفى رواية: شهيدا عليه.

وقال سفيان الثورى وغير واحد من الأئمة، عن أبى اسحاق السبيعي، عن التميمى، عن ابن عباس: {وَمُهَيْمِنًا عَلَيْه} قال: مؤتمنًا، وبنحو ذلك قال مجاهد والسدي وقتادة وابن جريج والحسن البصرى، وغير واحد من أئمة السلف.

وأصل الهيمنة: الحفظ والارتقاب، يقال: "إذا رقب"2 الرجل الشىء وحفظه وشهده: "قد هيمن فلان عليه"، فهو مهيمن هيمنة، وهو عليه مهيمن، وفي أسماء الله تعالى: {الْمُهَيْمِنُ} [الحشر: 23] وهو الشهيد على كل شىء، الرقيب الحفيظ بكل شيء.

وأما الحديث الذى اسنده البخارى، أنه عليه السلام أقام بمكة عشر سنين ينزل عليه القرآن وبالمدينة عشرًا، فهو مما انفرد به البخاري3 دون

--------------------------------------------

1 من "جـ".

2 في "جـ": "أرقب".

3 في "صحيحه" "9/ 3- فتح".

وأخرجه النسائي في "الفضائل" "رقم1" عن حسين بن محمد، وأحمد "2696" حدثنا حسن، يعني أبي موسى الأشيب قالَا: حدثنا شيبان، فذكره.

وهذا إسناد صحيح وقال المصنِّف في "تاريخه" "5/ 257": "لم يخرجه مسلم".

وأخرج ابن الضريس في "فضائل القرآن" "126" بإسناد صحيح إلى الحسن البصري قال: "كان يقال: أنزل القرآن على نبي الله صلى الله عليه وسلم في ثماني سنين بمكة، وعشرًا بعدما هاجر، وكان قتادة يقول: "عشر بمكة وعشر بالمدينة".
{এবং আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং তার সংরক্ষক।} [আল-মায়িদাহ: ৪৮]

ইমাম আবু জাফর বিন জারীর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুসান্না, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবদুল্লাহ বিন সালিহ, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثني) মুয়াবিয়া, তিনি আলি—অর্থাৎ আবু তালহা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী: {وَمُهَيْمِنًا عَلَيْه} প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: 'মুহাইমিন' অর্থ হলো আমানতদার। তিনি বলেন: কুরআন তার পূর্ববর্তী সকল কিতাবের ওপর আমানতদার। অন্য বর্ণনায় এসেছে: সেগুলোর ওপর সাক্ষী।

সুফিয়ান সাওরী এবং একাধিক ইমাম আবু ইসহাক আস-সাবিঈ থেকে, তিনি তামিমি থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে {وَمُهَيْمِنًا عَلَيْه} প্রসঙ্গে বলেন: আমানতদার। মুজাহিদ, সুদ্দী, কাতাদাহ, ইবনে জুরাইজ, হাসান বসরী এবং সালাফগণের আরও অনেক ইমাম অনুরূপ কথা বলেছেন।

'হাইমানাহ'-এর মূল অর্থ হলো সংরক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ। বলা হয়ে থাকে: "যখন কোনো ব্যক্তি কোনো কিছু পর্যবেক্ষণ করে, তা সংরক্ষণ করে এবং তার সাক্ষী হয়, তখন বলা হয় 'অমুক ব্যক্তি তার ওপর আধিপত্য বা সংরক্ষণ করেছে'।" সুতরাং সে হলো নিয়ন্ত্রক, আর বিষয়টি তার নিয়ন্ত্রণাধীন। আল্লাহ তাআলার নামসমূহের মধ্যেও 'আল-মুহাইমিন' [আল-হাশর: ২৩] রয়েছে, যাঁর অর্থ হলো তিনি সবকিছুর ওপর সাক্ষী, সবকিছুর পর্যবেক্ষক ও সংরক্ষক।

আর যে হাদীসটি ইমাম বুখারী তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন (اسنده) যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেছিলেন যখন তাঁর ওপর কুরআন অবতীর্ণ হচ্ছিল এবং মদীনায় দশ বছর; এটি সেই বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যেগুলোতে ইমাম বুখারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন (انفرد) ব্যতিরেকে...

--------------------------------------------

১. 'জিম' পাণ্ডুলিপি থেকে।

২. 'জিম' পাণ্ডুলিপিতে: "পর্যবেক্ষণ করেছেন"।

৩. তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে "৯/৩- ফাতহুল বারী"।

নাসায়ী এটি 'ফাদাইল' গ্রন্থে (১ নং) হুসাইন বিন মুহাম্মদ থেকে এবং আহমাদ (২৬৯৬) বর্ণনা করেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) হাসান—অর্থাৎ আবু মুসা আল-আশইয়াব, তাঁরা উভয়েই বলেছেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) শাইবান, অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

এটি একটি সহীহ সনদ (إسناد صحيح)। গ্রন্থকার তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে (৫/২৫৭) বলেছেন: "ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি।"

ইবনে উদ-দুরাইস 'ফাদাইলুল কুরআন' গ্রন্থে (১২৬) হাসান বসরী পর্যন্ত একটি সহীহ সনদ (إسناد صحيح)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "বলা হতো যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর মক্কায় আট বছর এবং হিজরতের পর দশ বছর কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। কাতাদাহ বলতেন: 'মক্কায় দশ বছর এবং মদীনায় দশ বছর'।"
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৩৫)
مسلم، وإنما رواه النسائى من حديث شيبان وهو ابن عبد الرحمن، عن يحيى، وهو ابن "أبي"1 كثير، عن أبي سلمة عنهما.

وقال أبو عبيد2 القاسم بن سلام: حدثنا يزيد عن داود بن أبي هند

--------------------------------------------

1 في "أ": "ابن كثير".

2 في "فضائل القرآن" "ص222".

وأخرجه النسائي في "الفضائل" "14، 15"، وابن أبي شيبة "10/ 533"، والطبري في "تفسيره" "15/ 119، 30/ 166"، والحاكم "2/ 222" من طرقٍ عن داود بن أبي هند بسنده سواء.

وقال الحاكم: "صحيح الإسناد"، ووافقه الذهبيّ؛ وهو كما قالَا.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" "4/ 205" لابن أبي حاتم وابن مردويه والبيهقي.

وأخرج الطبرانيُّ في "الكبير" "ج12/ رقم 12382" من طريق عمرو بن عبد الغفار، ثنا الأعمش، ثنا حسان أبو الأشرس، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس في قوله تعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ} قال: "أنزل القرآن جملةً واحدةًَ حتى وضع في بيت العزة في السماء الدنيا، ونزله جبريل عليه السلام على محمد صلى الله عليه وسلم بجواب كلام العباد وأعمالهم".

قال الهيثمي في "المجمع" "7/ 140": "وفي إسناده عمرو بن عبد الغفار وهو ضعيف".

قلت: لم يتفَّرد به، فتابعه جرير بن عبد الحميد، وعمار بن رزيق، وأبو بكر بن عياش، والثوري، فرووه عن الأعمش بسنده سواء تامًّا ومختصرًا.

أخرجه النسائي "16"، وابن أبي شيبة "10/ 533"، والبزار =
মুসলিম, বরং এটি নাসায়ি বর্ণনা করেছেন শায়বান—যিনি ইবনে আবদুর রহমান—তাঁর সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া—যিনি ইবনে আবু কাসীর—তাঁর সূত্রে, তিনি আবু সালামাহ্ থেকে, তিনি তাঁদের উভয় থেকে।

আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লাম বলেন: ইয়াযীদ দাউদ ইবনে আবি হিন্দ-এর সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "ইবনে কাসীর"।

২. 'ফাদাইলুল কুরআন' পৃষ্ঠা: ২২২।

নাসায়ি তাঁর 'ফাদাইল' (১৪, ১৫), ইবনে আবি শাইবাহ (১০/ ৫৩৩), তাবারী তাঁর 'তাফসীর' (১৫/ ১১৯, ৩০/ ১৬৬) এবং হাকেম (২/ ২২২)-এ দাউদ ইবনে আবি হিন্দের সূত্রে তাঁর অনুরূপ সনদের মাধ্যমে এটি সংকলন করেছেন।

হাকেম বলেন: "এর সনদ বিশুদ্ধ (صحيح الإسناد)", এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন; বিষয়টি তেমনই যেমনটি তাঁরা উভয়ে বলেছেন।

সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' (৪/ ২০৫)-এ একে ইবনে আবি হাতিম, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং বাইহাকীর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

তাবারানি তাঁর 'আল-কাবীর' (খণ্ড ১২/ নম্বর ১২৩৮২)-এ আমর ইবনে আব্দুল গাফফারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসসান আবু আল-আশরাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি এটি কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি} প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "কুরআন একত্রে অবতীর্ণ করা হয়েছে এমনকি তা দুনিয়ার আকাশের 'বায়তুল ইজ্জত'-এ রাখা হয়েছিল। অতঃপর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বান্দাদের কথা ও কাজের উত্তর হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন।"

হাইসামি 'আল-মাজমা' (৭/ ১৪০)-এ বলেন: "এর সনদে আমর ইবনে আব্দুল গাফফার রয়েছে, এবং সে দুর্বল (ضعيف)।"

আমি বলছি: সে এটি একাকী বর্ণনা করেনি (لم يتفرد), বরং জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ, আম্মার ইবনে রুযাইক, আবু বকর ইবনে আইয়াশ এবং সাওরী তাঁর অনুসরণ করেছেন (تابعه); তাঁরা আমাশের সনদে এটি পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্ত উভয়ভাবেই অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

নাসায়ি (১৬), ইবনে আবি শাইবাহ (১০/ ৫৩৩) এবং বাযযার এটি সংকলন করেছেন...
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৩৬)
عن عكرمة، عن ابن عباس قال: أنزل القران جملة واحدة إلى سماء الدنيا فى ليلة القدر، ثم نزل بعد ذلك فى عشرين سنة، ثم قرأ: {وَقُرْآنًا فَرَقْنَاهُ لِتَقْرَأَهُ عَلَى النَّاسِ عَلَى مُكْثٍ وَنَزَّلْنَاهُ تَنْزِيلًا} [الإسراء: 106] هذا إسناد صحيح.

أما إقامته بالمدينة عشرا، فهذا مما لا خلاف فيه، وأما إقامته بمكة بعد النبوة، فالمشهور ثلاث عشرة سنة؛ لأنه عليه السلام أوحى إليه وهو ابن أربعين سنة، وتوفى وهو ابن ثلاث وستين سنة على الصحيح.

ويحتمل أنه حذف ما زاد على العشر اختصارا فى الكلام، لأن العرب كثيرا ما يحذفون الكسور فى كلامهم، أو أنهما إنما اعتبرا قرن جبريل عليه السلام "به عليه السلام"1.

فإنه قد روى الإمام أحمد أنه قرن به عليه السلام ميكائيل فى ابتداء الأمر يلقي إليه "الكلمة"2 والشيء، ثم قرن به جبريل، ووجه مناسبة هذا الحديث بفضائل القرآن أنه ابتدئ بنزوله فى مكان شريف وهو البلد الحرام، كما أنه "كان"1 فى زمن شريف، وهو شهر رمضان، فاجتمع

--------------------------------------------

= "ج3/ رقم 2290"، والحاكم "2/ 223" وقال: "صحيح الإسناد"، وتابعه منصور بن المعتمر عن سعيد بن جبير بسنده سواء.

أخرجه الطبري "30/ 166-167"، والحاكم "2/ 222، 530" وقال: "صحيح على شرط الشيخين" ووافقه الذهبي.

وأخرجه الحاكم "2/ 530"، والطبري "30/ 166" من طريق حكيم بن جبير، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس نحوه وقال: "صحيح على شرط الشيخين" ووافقه الذهبي! وليس كما قالَا؛ فلم يخرج الشيخان لحكيم بن جبير شيئًا، ثم هو ضعيف.

1 ساقط من "أ".

2 في "جـ": "الحكمة".
ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুরআন লাইলাতুল কদরে একসাথে দুনিয়ার আসমানে অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতঃপর তা পরবর্তী বিশ বছরে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "আমি কুরআনকে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তা মানুষের কাছে ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং আমি তা পর্যায়ক্রমে অবতীর্ণ করেছি" [আল-ইসরা: ১০৬]। এই সনদটি (إسناد) সঠিক (صحيح)।

মদিনায় তাঁর দশ বছর অবস্থানের বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। আর নবুওয়াতের পর মক্কায় তাঁর অবস্থানের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ (المشهور) মত হলো তেরো বছর। কেননা তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হয়েছিল যখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর, এবং তিনি সঠিক (الصحيح) মতানুসারে তেষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

এবং এটি সম্ভব যে, সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে দশ বছরের অতিরিক্ত অংশটুকু বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ আরবরা তাদের কথাবার্তায় প্রায়শই অতিরিক্ত অংশ বাদ দিয়ে থাকে। অথবা তাঁরা জিবরাঈল (আ.)-কে তাঁর সঙ্গে নিযুক্ত করার বিষয়টিকে বিবেচনা করেছেন।

কেননা ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন যে, শুরুর দিকে মিকাঈল (আ.)-কে তাঁর সঙ্গে নিযুক্ত করা হয়েছিল, যিনি তাঁর কাছে "বাণী" এবং কোনো বিষয় পৌঁছে দিতেন। এরপর জিবরাঈল (আ.)-কে তাঁর সঙ্গে নিযুক্ত করা হয়। কুরআনের ফজিলতের সাথে এই হাদিসের সামঞ্জস্যের বিষয়টি হলো—এর অবতরণ শুরু হয়েছে একটি সম্মানিত স্থানে তথা পবিত্র নগরীতে, ঠিক যেমন এটি শুরু হয়েছিল এক সম্মানিত সময়ে তথা রমজান মাসে। ফলে একত্রিত হয়েছে...

--------------------------------------------

= "৩য় খণ্ড/ হাদিস নং ২২৯০", আল-হাকিম "২/ ২২৩" এবং তিনি বলেছেন: "সনদটি সঠিক (صحيح الإسناد)", এবং মানসুর ইবনে আল-মুতামির সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে তাঁর সনদে একই রকম অনুসরণ করেছেন।

এটি আত-তাবারী "৩০/ ১৬৬-১৬৭" এবং আল-হাকিম "২/ ২২২, ৫৩০" বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "শায়খাইনের শর্তানুসারে সঠিক (صحيح على شرط الشيخين)" এবং আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

আল-হাকিম "২/ ৫৩০" এবং আত-তাবারী "৩০/ ১৬৬" হাকিম ইবনে জুবায়ের সূত্রে, সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "শায়খাইনের শর্তানুসারে সঠিক (صحيح على شرط الشيخين)" এবং আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন! কিন্তু বিষয়টি তাঁরা যেমনটি বলেছেন তেমন নয়; কারণ শায়খাইন হাকিম ইবনে জুবায়েরের কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি, তদুপরি তিনি দুর্বল (ضعيف)।

১. 'আলিফ' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

২. 'জীম' পাণ্ডুলিপিতে: "প্রজ্ঞা (الحكمة)"।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৩৭)
له شرف الزمان والمكان.

ولهذا يستحب إكثار تلاوة القرآن فى شهر رمضان، لأنه ابتدئ بنزوله، ولهذا كان جبريل1 يعارض به رسول الله صلى الله عليه وسلم 2 في كل سنة في شهر رمضان؛ لما كانت السنة التي توفي فيه عارضه "به"2 مرتين تأكيدًا وتثبيتًا.

وأيضًا ففي "هذا"2 الحديث بيان أنه من القرآن مكى، ومنه مدنى؛ فالمكى ما نزل قبل الهجرة، والمدنى ما نزل بعد الهجرة، سواء كان بالمدينة أو بغيرها من أى البلاد كان، حتى ولو كان بمكة أو عرفة.

وقد أجمعوا على سور أنها من المكى، وأُخَر أنها من المدنى، واختلفوا فى أُخَر. وأراد بعضهم ضبط ذلك بضوابط فى تقييدها عسر ونظر، ولكن قال بعضهم: كل سورة فى أولها شىء من الحروف المقطعة فهى مكية، إلا البقرة وآل عمران، كما أن كلَّ سورة فيها: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} فهى مدنية، وما فيه: {يَا أَيُّهَا النَّاس} فيحتمل أن يكون من هذا ومن هذا، والغالب أنه مكى، وقد يكون مدنيا كما فى البقرة: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 21] ، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلالًا طَيِّبًا وَلا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِين} [البقرة: 168] .

قال أبو3 عبيد: حدثنا أبو معاوية، ثنا من سمع الأعمش يحدث عن

--------------------------------------------

1 ورد هذا من حديث فاطمة الزهراء، وأبي هريرة، وابن عباس، وتأتي أحاديثهم قريبًا، إن شاء الله.

2 ساقط من "أ".

3 في "الفضائل" "ص222". =
এর রয়েছে কাল ও স্থানের শ্রেষ্ঠত্ব।

এ কারণেই রমজান মাসে অধিক পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব, কারণ এ মাসেই কুরআন অবতীর্ণ হওয়া শুরু হয়েছে। আর একারণেই জিবরাইল প্রতি বছর রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা পাঠ করে শুনাতেন; যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন, সে বছর জোর প্রদান ও স্থায়ীকরণের উদ্দেশ্যে তিনি তাঁকে দুই বার তা পাঠ করে শুনিয়েছিলেন।

এছাড়া এই হাদিস হতে এ কথারও বর্ণনা পাওয়া যায় যে, কুরআনের কিছু অংশ মক্কি (مكي) এবং কিছু অংশ মাদানি (مدني); সুতরাং মক্কি (مكي) হলো যা হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে, আর মাদানি (مدني) হলো যা হিজরতের পরে অবতীর্ণ হয়েছে, চাই তা মদিনায় হোক বা অন্য কোনো শহরে হোক, এমনকি তা মক্কা বা আরাফাতে হলেও (তা মাদানি হিসেবে গণ্য হবে)।

আলেমগণ কতিপয় সূরার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে সেগুলো মক্কি (مكي), এবং অন্যান্য সূরার ব্যাপারে যে সেগুলো মাদানি (مدني), আবার কিছু সূরার ব্যাপারে তারা মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে কতিপয় নিয়মের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করতে চেয়েছেন, কিন্তু সেগুলো সীমাবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জটিলতা ও পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। তবে কেউ কেউ বলেছেন: যে সূরার শুরুতে বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ (الحروف المقطعة) রয়েছে, তা মক্কি (مكي), তবে সূরা আল-বাকারা ও আলে ইমরান এর ব্যতিক্রম। অনুরূপভাবে যে সূরায়: {হে মুমিনগণ} সম্বোধন রয়েছে, তা মাদানি (مدني), আর যে সূরায়: {হে মানুষ} সম্বোধন রয়েছে, তা উভয় প্রকারেরই হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মক্কি (مكي) হয়। তবে কখনো তা মাদানিও (مدني) হতে পারে, যেমন সূরা আল-বাকারায়: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} [আল-বাকারা: ২১], এবং {হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র বস্তু রয়েছে তা হতে ভক্ষণ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু} [আল-বাকারা: ১৬৮]।

আবু উবাইদ বলেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যিনি আমাশকে হাদিস বর্ণনা করতে শুনেছেন তিনি...

--------------------------------------------

১. এটি ফাতিমা আয-যাহরা, আবু হুরায়রা এবং ইবনে আব্বাস বর্ণিত হাদিস হতে উদ্ধৃত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ শীঘ্রই তাদের বর্ণিত হাদিসগুলো আসবে।

২. পাণ্ডুলিপি "আলিফ" থেকে বিলুপ্ত।

৩. ফাদায়িল গ্রন্থে, পৃষ্ঠা ২২২। =
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৩৮)
إبراهيم عن علقمة: كل شىء فى القرآن: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} فانه أنزل بالمدينة، وما كان منها: {يَا أَيُّهَا النَّاس} فانه أنزل بمكة.

ثم1 قال: حدثنا على بن معبد، عن أبى الملِيح، عن ميمون بن مهران، قال: ما كان فى القرآن: {يَا أَيُّهَا النَّاس} و {يَا بَنِي آدَم} فإنه مكي، وماكان: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا} فإنه مدنى.

ومنهم من يقول: إن بعض السور نزل مرتين: مرة بالمدينة ومرة بمكة، والله أعلم. ومنهم من يستثنى من المكى آيات، يدعى أنها من المدنى، كما فى سورة الحج وغيرها.

والحق فى ذلك ما دلَّ عليه الدليل الصحيح، فالله أعلم.

وقال أبو عبيد2: حدثنا عبد الله بن صالح، عن معاوية بن صالح،

--------------------------------------------

= وأخرجه أيضًا ابن الضريس في "فضائل القرآن" "26" قال: أنبأنا ابن نمير، قال: حدثنا أبو معاوية بسنده سواء.

هكذا رواه أبو معاوية، عن رجل، عن الأعمش، عن إبراهيم، عن علقمة قوله، ورواه قيس بن الربيع، عن الأعمش، عن إبراهيم، عن علقمة، عن عبد الله ابن مسعود فذكر مثله.

أخرجه البزار "ج3/ رقم 2186" وقال: "لا نعلم أحدًا أسنده إلا قيس، وغيره يرسله"، والبزار يشير إلى رواية أبي معاوية السابقة، لكن قيسًا لم ينفرد به كما قال، فتابعه الجراح بن مَلِيح الرؤاسي، فرواه عن الأعمش مثل رواية قيس. أخرجه الحاكم "3/ 18" من طريق يحيى بن معين، ثنا وكيع بن الجراح، عن أبيه.

وسنده صحيح.

1 في "الفضائل" "ص222".

2 في "الفضائل" "ص221".
ইবরাহিম আলকামা থেকে বর্ণনা করেন: কুরআনের প্রতিটি বিষয় যেখানে "হে মুমিনগণ" রয়েছে, তা মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে; আর যেখানে "হে মানুষ" রয়েছে, তা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে।

অতঃপর তিনি বললেন: আলী ইবনে মাবাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল মালিহ থেকে, তিনি মায়মুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: কুরআনে যা কিছু "হে মানুষ" এবং "হে আদম সন্তান" হিসেবে রয়েছে তা মক্কী, আর যা কিছু "হে মুমিনগণ" হিসেবে রয়েছে তা মাদানী।

তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: কিছু সূরা দুইবার অবতীর্ণ হয়েছে: একবার মদিনায় এবং একবার মক্কায়, আর আল্লাহই ভালো জানেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মক্কী সূরা থেকে কিছু আয়াতকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেন এবং দাবি করেন যে সেগুলো মাদানী, যেমনটি সূরা আল-হাজ্জ ও অন্যান্য সূরার ক্ষেত্রে দেখা যায়।

এ বিষয়ে সত্য সেটিই যার ওপর সঠিক (صحيح) দলিল নির্দেশ করে, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আবু উবাইদ বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে,

--------------------------------------------

= ইবনে আদ-দারিসও 'ফাদাইলুল কুরআন' (২৬) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে নুমাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া তাঁর সনদ (سند) সহকারে একইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু মুয়াবিয়া এভাবেই একজন ব্যক্তি থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে তাঁর উক্তি হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আর কাইস ইবনুর রাবী' এটি আমাশ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

আল-বাজজার এটি বর্ণনা করেছেন (খণ্ড ৩/ হাদিস নং ২১৮৬) এবং বলেছেন: "কাইস ব্যতীত অন্য কেউ একে বর্ণিত (مسند) করেছেন বলে আমাদের জানা নেই, অন্যরা একে বিচ্ছিন্ন (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।" আল-বাজজার এখানে আবু মুয়াবিয়ার পূর্বোক্ত বর্ণনার দিকে ইঙ্গিত করছেন, তবে কাইস এই বর্ণনায় একক (منفرد) নন যেমনটি তিনি বলেছেন, বরং আল-জাররাহ ইবনে মালিহ আর-রুয়ানি তাঁর অনুসরণ (متابعة) করেছেন এবং আমাশ থেকে কাইসের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন (৩/ ১৮) ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের সূত্র ধরে, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ তাঁর পিতা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।

এবং এর সনদ (سند) সঠিক (صحيح)।

১ 'আল-ফাদাইল' (পৃষ্ঠা ২২২)।

২ 'আল-ফাদাইল' (পৃষ্ঠা ২২১)।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৩৯)
عن على بن أبى طلحة قال: نزلت بالمدينة سورة البقرة، وآل عمران، والنساء، والمائدة، والأنفال، والتوبة، والحج، والنور، والأحزاب، والذين1 كفروا، والفتح، والحديد، والمجادلة، والحشر، والممتحنة، والحواريون2، والتغابن، و {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاء} ، و {يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّم} ، {وَالْفَجْرِ} ، {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى} ، و {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْر} و {لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا} 3 و {إِذَا زُلْزِلَت} ، و {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّه} . وسائر ذلك بمكة.

هذا إسناد صحيح عن ابن أبى طلحة مشهور، وهو أحد أصحاب ابن عباس الذين رووا عنه التفسير.

وقد ذكر فى المدنى سورا فى كونها مدنية نظر. "وفاته"4 الحجرات والمعوذات.

الحديث الثاني:

وقال البخاري: حدَّثَنَا موسى بن إسماعيل، ثنا معتمر، قال: سمعت أبي، عن أبي عثمان، قال: أنبئت أن جبريل عليه السلام أتى النبى صلى الله عليه وسلم وعنده أم سلمة، فجعل يتحدث، فقال النبى صلى الله عليه وسلم: "من هذا"؟ أو كما قال، قالت: هذا دحيه، فلما قام قالت: والله ما حسبته إلا إياه حتى سمعت خطبة النبى صلى الله عليه وسلم بخبر جبريل أو كما قال.

--------------------------------------------

1 يعني: سورة محمد صلى الله عليه وسلم.

2 يعني: سورة الصف.

3 سقط من "أ" و"ط".

4 في "أ": "وما به"!!
আলী ইবনে আবু তালহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে সূরা আল-বাকারাহ, আল-ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদাহ, আল-আনফাল, আত-তাওবাহ, আল-হাজ্জ, আন-নূর, আল-আহজাব, আল্লাযিনা১ কাফারূ, আল-ফাতহ, আল-হাদীদ, আল-মুজাদালাহ, আল-হাশর, আল-মুমতাহানাহ, আল-হাওয়ারিয়্যূন২, আত-তাগাবুন এবং "হে নবী! যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও", "হে নবী! আপনি কেন হারাম করছেন", "শপথ ফজরের", "শপথ রাতের যখন তা আচ্ছন্ন করে", "নিশ্চয়ই আমি তা কদর রাতে নাজিল করেছি", "কাফিররা ... ছিল না"৩, "যখন প্রকম্পিত হবে" এবং "যখন আল্লাহর সাহায্য আসবে"। আর এর বাইরে অবশিষ্ট সবকিছু মক্কায় অবতীর্ণ।

এটি ইবনে আবু তালহা হতে একটি সঠিক সনদ (إسناد صحيح) যা প্রসিদ্ধ (مشهور)। তিনি ইবনে আব্বাসের সেই সকল সাথীদের একজন যারা তাঁর থেকে তাফসির বর্ণনা করেছেন।

আর মদিনায় অবতীর্ণ সূরাগুলোর তালিকায় এমন কিছু সূরা উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলোর মাদানি হওয়ার ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষ (نظر) বা সংশয় রয়েছে। আর তাঁর বর্ণনায়৪ আল-হুজুরাত ও আল-মুআউবিজাত বাদ পড়েছে।

দ্বিতীয় হাদিস:

ইমাম বুখারি বলেন: আমাদের কাছে মূসা ইবনে ইসমাঈল বর্ণনা করেছেন, মুতামির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার নিকট শুনেছি, তিনি আবু উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে জানানো হয়েছে যে, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলেন এবং তখন তাঁর কাছে উম্মে সালামাহ ছিলেন। তিনি কথা বলতে শুরু করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: "ইনি কে?" অথবা যেমনটি তিনি বলেছেন। তিনি বললেন: "ইনি দিহইয়াহ।" অতঃপর যখন তিনি উঠে চলে গেলেন, তখন উম্মে সালামাহ বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তাঁকে দিহইয়াহ ছাড়া অন্য কিছু মনে করিনি যতক্ষণ না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খুতবা হতে জিবরাঈলের আসার খবরটি শুনলাম।" অথবা যেমনটি তিনি বলেছেন।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ: সূরা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

২ অর্থাৎ: সূরা আস-সাফ।

৩ পাণ্ডুলিপি 'আলিফ' ও 'ত' হতে বাদ পড়েছে।

৪ পাণ্ডুলিপি 'আলিফ'-এ রয়েছে: "ওমা বিহি"!!
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৪০)
قال أبي1: فقلت لأبي عثمان: ممن سمعت هذا؟ قال: من أسامة بن زيد رضي الله عنه.

وهكذا رواه أيضا فى "علامات2 النبوة" عن عباس بن الوليد النرسي، ومسلم في "فضائل أم سلمة" عن عبد الأعلى بن حماد ومحمد بن عبد الأعلى، كلهم عن معتمر بن سليمان به.

والغرض من ايراده هذا الحديث هاهنا أن السفير بين الله وبين محمد صلى الله عليه وسلم جبريل عليه السلام، وهو ملك كريم، ذو وجاهة وجلالة ومكانة، كما قال تعالى: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ، عَلَى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ} [الشعراء: 193-194] ، وقال تعالى: {إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ، ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ، مُطَاعٍ ثَمَّ أَمِينٍ، وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُونٍ} [التكوير: 19-22] .

فمدح الرب تبارك وتعالى عبديه ورسوليه جبريل ومحمدًا -صلوات الله وسلامه عليهما3، وسنستقصى الكلام على تفسير هذا المكان فى موضعه إذا وصلنا إليه، إن شاء الله تعالى وبه الثقة.

وفى الحديث فضيلة عظيمة لأم سلمة -رضى الله عنها، كما بينه مسلم رحمه الله، لرؤيتها هذا الملك العظيم، وفضيلة أيضا لدحية بن خليفة الكلبي،

--------------------------------------------

1 القائل: هو معتمر بن سليمان.

2 من "صحيحه" "6/ 629- فتح".

وأخرجه أيضًا في "فضائل القرآن" "9/ 3"، ومسلم "2451/ 100" من طرق عن معتمر بن سليمان، عن أبيه، عن أبي عثمان النهدي، عن أسامة ابن زيد، وعند مسلم زيادة في أوله.

3 في "أ": "صلى الله وسلم عليهما".
আমার পিতা বললেন: আমি আবু উসমানকে বললাম: আপনি এটি কার নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন: উসামা ইবনে যায়েদ (রা.) থেকে।

অনুরূপভাবে তিনি এটি "আলামাতুন নবুওয়াত" গ্রন্থে আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ আন-নারসি থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম "ফাদায়িলু উম্মি সালামাহ" অধ্যায়ে আব্দুল আলা ইবনে হাম্মাদ ও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আলা থেকে বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই মুয়তামির ইবনে সুলাইমান থেকে এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এখানে এই হাদিসটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর মধ্যে দূত হলেন জিবরাঈল (আ.)। তিনি একজন সম্মানিত ফেরেশতা, সুউচ্চ মর্যাদা, গাম্ভীর্য ও অবস্থানের অধিকারী, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এটি নিয়ে অবতরণ করেছে বিশ্বস্ত আত্মা (الروح الأمين), আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন" [আশ-শুআরা: ১৯৩-১৯৪]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের বাণী, যিনি শক্তিশালী এবং আরশের মালিকের নিকট মর্যাদাবান (مكين), সেখানে তিনি মান্যবর (مطاع) ও বিশ্বস্ত (أمين)। আর তোমাদের সাথী পাগল নন" [আত-তাকভীর: ১৯-২২]।

অতএব বরকতময় ও সুমহান প্রতিপালক তাঁর দুই বান্দা ও দুই রাসূল—জিবরাঈল এবং মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রশংসা করেছেন। ইনশাআল্লাহ যখন আমরা সেই স্থানে পৌঁছাব, তখন এই বিষয়ের ব্যাখ্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব; আর আল্লাহর ওপরই ভরসা (الثقة)।

এই হাদিসে উম্মে সালামাহ (রা.)-এর এক মহান মর্যাদার কথা রয়েছে, যেমনটি ইমাম মুসলিম (রহ.) বর্ণনা করেছেন। কারণ তিনি এই মহান ফেরেশতাকে দেখেছিলেন। এছাড়া দাহইয়া ইবনে খলিফা আল-কালবীরও মর্যাদা প্রকাশ পেয়েছে।

--------------------------------------------

১. বক্তা হলেন: মুয়তামির ইবনে সুলাইমান।

২. তাঁর "সহিহ" থেকে "৬/ ৬২৯- ফাতহুল বারী"।

তিনি এটি "ফাদায়িলুল কুরআন" "৯/ ৩"-এও বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম "২৪৫১/ ১০০" মুয়তামির ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে, তিনি উসামা ইবনে যায়েদ থেকে বিভিন্ন সূত্রে (طرق) বর্ণনা করেছেন। মুসলিমের বর্ণনায় এর শুরুতে অতিরিক্ত কিছু অংশ রয়েছে।

৩. পাণ্ডুলিপি "আলিফ"-এ রয়েছে: "তাদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক"।
(খণ্ড: ১) ফাদায়িলুল কুরআন লি-ইবনি কাছীর (পৃষ্ঠা: ৪১)
وذلك أن جبريل عليه السلام "كثيرًا"1 ما "كان يجيء"2 إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على "صورته"3، وكان جميل الصورة -رضى الله عنه، وكان من قبيلة أسامة بن زيد بن حارثة الكلبي، كلهم يُنْسَبُون إلى كلب بن وبرة، وهم قبيلة من قضاعة، وقضاعة قيل: إنهم من عدنان، وقيل: من قحطان، وقيل: بطن مستقل بنفسه، والله أعلم.

الحديث الثالث:

حدثنا عبد الله4 بن يوسف، ثنا الليث، ثنا سعيد المقبرى عن أبيه، عن أبى هريرة، قال: قال النبى صلى الله عليه وسلم: "ما من الانبياء نبى إلا أعطي ما مثله آمن عليه البشر، وإنما كان الذى أوتيت وحيا أوحاه الله إلى، فأرجو أن أكون أكثرهم تابعا يوم القيامة".

ورواه أيضا فى "الاعتصام"، عن عبد العزيز بن عبد الله، ومسلم والنسائي عن قتيبة، جميعا عن الليث بن سعد، عن سعيد بن أبى سعيد، عن أبيه

--------------------------------------------

1 في "أ": "كان كثيرًا".

2 في "أ": "يأتي".

3 في "أ": "على صورة دحية".

4 القائل هو البخاري -رحمه الله تعالى، في "صحيحه" "9/ 3- فتح".

وأخرجه أيضًا في "كتاب الاعتصام" "13/ 247"، ومسلم "152/ 239"، والنسائي في "التفسير" "149"، وفي "فضائل القرآن" "2"، وأحمد "2/ 341، 451"، وأبو نعيم في "الحلية" "10/ 233"، والبيهقي في "الكبرى" "9/ 4"، وفي "الدلائل" "7/ 129"، والبغوي في "شرح السنة" "13/ 195-196" من طرقٍ عن الليث بن سعد، عن سعيد المقبرى، عن أبيه، عن أبى هريرة مرفوعًا فذكره.

قال أبو نعيم: "صحيح ثابت".
এর কারণ হলো, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) "প্রায়শই"১ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাঁর (দাহইয়ার) "আকৃতিতে আসতেন"২। তিনি (দাহইয়া) অত্যন্ত সুশ্রী চেহারার অধিকারী ছিলেন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি উসামা ইবনে যায়িদ ইবনে হারিসা আল-কালবীর গোত্রের লোক ছিলেন। তাঁদের সকলকে কালব ইবনে ওয়াবারা-এর বংশধর হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁরা কুযা'আ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। কুযা'আ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা আদনান বংশোদ্ভূত; আবার বলা হয়েছে যে, তারা কাহতান বংশোদ্ভূত; আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি একটি স্বতন্ত্র গোত্র। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তৃতীয় হাদিস:

আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ৪ ইবনে ইউসুফ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-লাইস, তিনি বর্ণনা করেছেন সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নবীদের মধ্যে এমন কোনো নবী গত হননি যাঁকে এমন কোনো নিদর্শন প্রদান করা হয়নি, যার ওপর মানুষ ঈমান এনেছে। আর আমাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা হলো ওহী, যা আল্লাহ আমার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন। অতএব আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন অনুসারীদের দিক থেকে আমি তাঁদের সবার চেয়ে সংখ্যায় অধিক হবো।"

তিনি এটি "কিতাবুল ইতিসাম"-এ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইমাম মুসলিম ও ইমাম নাসায়ি এটি কুতায়বা থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে আল-লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তিনি প্রায়শই ছিলেন"।

২ 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আসতেন"।

৩ 'আলিফ' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "দাহইয়ার আকৃতিতে"।

৪ এখানে প্রবক্তা হলেন ইমাম বুখারি (রহিমাহুল্লাহ), তাঁর সংকলিত সহীহ বুখারি-তে (৯/৩ - ফাতহ)।

এটি আরও বর্ণিত হয়েছে "কিতাবুল ইতিসাম"-এ (১৩/২৪৭), সহীহ মুসলিম-এ (১৫২/২৩৯), নাসায়ি-র আত-তাফসীর-এ (১৪৯), ফাযাইলুল কুরআন-এ (২), মুসনাদে আহমাদ-এ (২/৩৪১, ৪৫১), আবু নুয়াইম-এর আল-হিলয়াহ-তে (১০/২৩৩), বায়হাকির আল-কুবরা-তে (৯/৪) এবং আদ-দালাইল-এ (৭/১২৯), বাগাওয়ীর শারহুস সুন্নাহ-তে (১৩/১৯৫-১৯৬)। এসবই আল-লাইস ইবনে সাদ-এর বিভিন্ন সূত্রে সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

আবু নুয়াইম বলেছেন: "এটি সহীহ (صحيح) ও সাব্যস্ত (ثابت)"।