(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: -)
تحرير المقال في موازنة الأعمال وحكم غير المكلفين في العقبى والمآل   (عقيل القضاعي)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: تحرير المقال في موازنة الأعمال وحكم غير المكلفين في العقبى والمآل

المؤلف: أَبُو طالب وأَبُو المجد عقيل بن عطية بن أبي أحمد جعفر بن محمد بن عطية القضاعي الأندلسيّ الطّرطوشيّ، ثُمّ المَرّاكُشيّ (ت 608هـ)

ومعه: مراتب الجزاء يوم القيامة، لأبي عبد الله محمد بن أبي نصر الحميدي (المتوفى سنة 488)

المحقق: مصطفى باحو

الناشر: دار الإمام مالك، أبو ظبي - الإمارات العربية المتحدة

الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 محرم 1434

আমলসমূহের ভারসাম্য নিরূপণ এবং পরকালীন প্রতিদান ও পরিণামে দায়িত্বমুক্ত ব্যক্তিদের বিধান প্রসঙ্গে আলোচনার বিবরণ   (আকীল আল-কুদায়ী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

গ্রন্থ: আমলসমূহের ভারসাম্য নিরূপণ এবং পরকালীন প্রতিদান ও পরিণামে দায়িত্বমুক্ত ব্যক্তিদের বিধান প্রসঙ্গে আলোচনার বিবরণ

লেখক: আবু তালিব এবং আবু আল-মাজদ আকীল ইবনে আতিয়্যাহ ইবনে আবি আহমদ জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আতিয়্যাহ আল-কুদায়ী আল-আন্দালুসি আত-তারতুশি, অতঃপর আল-মাররাকুশি (মৃত্যু ৬০৮ হিজরি)

এবং এর সাথে রয়েছে: কিয়ামত দিবসের প্রতিদানের স্তরসমূহ, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবি নাসর আল-হুমাইদি রচিত (মৃত্যু ৪৮৮ হিজরি)

সম্পাদক: মুস্তফা বাহু

প্রকাশক: দারুল ইমাম মালিক, আবু ধাবি - সংযুক্ত আরব আমিরাত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ মুহররম ১৪৩৪ হিজরি

(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: -)
تحرير المقال في موازنة الأعمال وحكم غير المكلفين في العقبى والمآل

للقاضي أبي طالب عقيل بن عطية بن أبي أحمد القضاعي الطرطوشي (المتوفى سنة 608هـ/1211م)

 

ومعه:

مراتب الجزاء يوم القيامة

لأبي عبد الله محمد بن أبي نصر الحميدي (المتوفى سنة 488)

 

تحقيق: مصطفى باحُّو
আমলসমূহের ভারসাম্য নিরূপণ এবং পরকাল ও পরিণতির ক্ষেত্রে অ-মুকাল্লাফদের বিধানের বিশ্লেষণ

কাযী আবূ তালিব আকীল বিন আতিয়্যাহ বিন আবী আহমাদ আল-কুযায়ী আত-তারতূশী (মৃত্যু ৬০৮ হিজরী/১২১১ খ্রিষ্টাব্দ) এর রচিত

 

এবং এর সাথে রয়েছে:

কিয়ামত দিবসে প্রতিদানের স্তরসমূহ

আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবী নাসর আল-হুমাইদী (মৃত্যু ৪৮৮ হিজরী) এর রচিত

 

সম্পাদনা: মুস্তফা বাহু
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمان الرحيم.

الحمد لله وحده والصلاة والسلام على رسوله صلى الله عليه وسلم.

أما بعد:

فهذان كتابان جليلان في مبحث عقدي مهم، يسر الله الوقوف عليهما وتحقيقهما.

- الأول: مراتب الجزاء يوم القيامة لأبي عبد الله الحميدي.

استللته من الآتي بعده.

- والثاني: تحرير المقال في موازنة الأعمال وحكم غير المكلفين في العقبى والمآل لعقيل بن عطية القضاعي.

جعله مصنفه كالشرح لكتاب الحميدي السابق، وتعقبه في أشياء كثيرة وخطَّأه في مسائل عديدة.

اشتمل على تقريرات هامة، وفوائد مهمة، قل أن تعثر عليها في كتاب، بل بعضها لا يوجد بالتفصيل الذي ذكر المصنف إلا في هذا الكتاب.

فقد أطال النفس في بيان أصناف الناس يوم القيامة وموازنة أعمالهم.

وأجاد في بيان أحكام أهل الفترة وخصوصا أهل الجاهلية الذين
ভূমিকা

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা কেবল একক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

এগুলো হলো আকিদাগত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর রচিত দুটি মহান গ্রন্থ, আল্লাহ তাআলা এ দুটি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করা সহজ করে দিয়েছেন।

- প্রথমটি: আবু আবদুল্লাহ আল-হুমাইদি রচিত 'মারাতীবুল জাযা ইয়াওমাল কিয়ামাহ' (কিয়ামত দিবসে প্রতিদানের স্তরসমূহ)।

আমি এটি পরবর্তী গ্রন্থটি থেকে চয়ন করেছি।

- দ্বিতীয়টি: আকিল বিন আতিয়্যাহ আল-কুদায়ী রচিত 'তাহরীরুল মাকাল ফি মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গাইরিল মুকাল্লাফিনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল' (পরকালে আমলের ভারসাম্য এবং শরীয়তের বিধান বহির্ভূতদের হুকুম বর্ণনা)।

এর লেখক গ্রন্থটিকে পূর্বোক্ত আল-হুমাইদির কিতাবের ব্যাখ্যাস্বরূপ রচনা করেছেন এবং এতে তিনি অনেক বিষয়ে তাঁর পর্যালোচনা করেছেন ও বেশ কিছু মাসআলায় তাঁকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন।

এটি এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও তত্ত্ব সংবলিত যা অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া দুষ্কর; বরং কিছু বিষয় লেখক এখানে যেভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন তা এই কিতাব ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

তিনি কিয়ামত দিবসে মানুষের বিভিন্ন শ্রেণি এবং তাদের আমলের ভারসাম্যের বিবরণে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

তিনি 'আহলুল ফাতরাহ' (দুই নবীর অন্তর্বর্তীকালীন লোক) এবং বিশেষ করে জাহেলিয়াত যুগের লোকদের বিধান বর্ণনায় চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন যারা
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ৩)
بعث فيهم نبينا صلى الله عليه وسلم، وقسمهم أقساما، ونوعهم أنواعا.

وفصَّل في أحكام الأطفال يوم القيامة، وساق المذاهب في ذلك وناقشها قولا قولا.

وأسهب في تفصيل حكم غير المكلفين كالمجانين ونحوهم، وحكم الجن ويأجوج ومأجوج، وغير ذلك مما ستقف عليه مفصلا في كتابه.

وضمن ذلك توجيهات نفيسة لعدد من الآيات والأحاديث، وفوائد عديدة استطرد المصنف في بيانها، وتنبيهات لطيفة يعز أن ترى نظيرا لها في مصنف آخر.

وقديما قيل: كم ترك الأول للآخر، كما في الرفع والتكميل (51) (1).

وهذا جرد مختصر بأهم المسائل التي تعرض لها القضاعي في تحرير المقال، أقدمها تحفيزا لقارئ الكتاب، وتشويقا لمطالع هذا المصنف:

يتكون الكتاب من شطرين كبيرين:

الأول: في مناقشة الحميدي في كتابه الآنف الذكر.

--------------------------------------------

(1) ومن نظائر هذه المقالة: قال ابن رشيد السبتي في السنن الأبين (180): ولابد للأول أن يفضل للآخر.

وقال الصنعاني في إرشاد النقاد (21): فإن عطاء ربك لم يكن محظورا، وإفضاله الممدود ليس على السابق مقصورا.

وقال الحافظ في التهذيب (12/ 455): وهذا من المواضع الدقيقة والعلل الخفية التي ادخرها الله تعالى للمتأخر، لا إله إلا الله، ما أكثر مواهبه، ولا نحصي ثناء عليه، لا إله إلا هو. انتهى.

وقال ابن معصوم في مقدمة سلافة العصر في محاسن الشعراء بكل مصر: على أن تأخر الزمان، لا ينافي التقدم في الإحسان، فقد يتأخر الهاطل عن الرعد، والنائل عن الوعد. ومراتب الاعداد، تترقى بتأخير رقمتها وتزداد.
তিনি তাদের মাঝে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন ভাগে ও শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন।

আর তিনি কিয়ামতের দিন শিশুদের বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, এবং এই বিষয়ে বিভিন্ন মতবাদ উপস্থাপন করে প্রতিটি বক্তব্য নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করেছেন।

তিনি পাগল ও তাদের ন্যায় অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিদের বিধান, জীনদের বিধান এবং ইয়াজুজ ও মাজুজের বিধান বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন, এ ছাড়াও অন্যান্য অনেক বিষয় আপনি এই কিতাবে বিস্তারিতভাবে পাবেন।

এর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু আয়াত ও হাদিসের মূল্যবান ব্যাখ্যা, অনেকগুলো ফায়দা যা লেখক প্রাসঙ্গিকভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সূক্ষ্ম কিছু সতর্কবার্তা যার নজির অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া দুষ্কর।

প্রাচীনকালে বলা হতো: "পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন", যেমনটি 'আর-রাফ' ওয়াত-তাকমিল' (৫১) (১) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

আল-কুযায়ী 'তাহরীরুল মাকল' গ্রন্থে যেসব গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন এটি তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা, যা আমি এই কিতাবের পাঠক ও অধ্যয়নকারীর আগ্রহ ও উৎসাহ বৃদ্ধির জন্য পেশ করছি:

কিতাবটি দুইটি বড় অংশে বিভক্ত:

প্রথম অংশ: আল-হুমাইদীর পূর্বোক্ত কিতাবটি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে।

--------------------------------------------

(১) এই বক্তব্যের অনুরূপ কিছু বর্ণনা: ইবনে রুশাইদ আস-সাবতি 'আস-সুনানুল আবইয়ান' (১৮০) গ্রন্থে বলেন: পূর্ববর্তীরা অবশ্যই পরবর্তীদের জন্য কিছু শ্রেষ্ঠত্ব অবশিষ্ট রেখে যান।

আস-সানআনী 'ইরশাদুন নুউক্কাদ' (২১) গ্রন্থে বলেন: নিশ্চয়ই আপনার রবের দান কখনো রুদ্ধ হয় না এবং তাঁর অবারিত অনুগ্রহ কেবল পূর্ববর্তীদের জন্যই সীমিত নয়।

হাফেজ ইবনে হাজার 'আত-তাহজীব' (১২/৪৫৫) গ্রন্থে বলেন: এটি এমন এক সূক্ষ্ম স্থান ও গোপন কারণ যা আল্লাহ তাআলা পরবর্তীদের জন্য জমিয়ে রেখেছিলেন। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর দান কতই না প্রশস্ত, আমরা তাঁর প্রশংসা গুনে শেষ করতে পারব না, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। (সমাপ্ত)।

ইবনে মাসুম 'সুলাফাতুল আসর ফি মাহাসিনিশ শুআরা বি কুল্লি মাসর' কিতাবের ভূমিকায় বলেন: সময়ের বিচারে পরে আসাটা গুণের দিক থেকে অগ্রগামী হওয়ার পরিপন্থী নয়। কেননা অনেক সময় বজ্রপাতের পরেই বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং প্রতিশ্রুতির পরেই প্রাপ্তি ঘটে। আর সংখ্যার মানও পরের সংখ্যাগুলোর মাধ্যমেই বৃদ্ধি পায় ও উন্নত হয়।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ৪)
والثاني: فصول زائدة استدركها القضاعي، لم يذكرها الحميدي.

أما الشطر الأول: فقد اعترض فيه القضاعي الحميدي في المسائل التالية:

جعل الحميدي المقربين هم النبيين والشهداء فقط، في حين رجح عقيل القضاعي أن المقربين هم الأنبياء والصدقون والشهداء والصالحون.

وجزم الحميدي بأن السماوات هي الجنات، ورد القضاعي عليه هذا، وبين خطأه فيه.

وصرح الحميدي بأن أرواح الأنبياء والشهداء الآن في الجنة، وحكى الإجماع على أن من سواهم ليسوا الآن في الجنة. وناقشه القضاعي في هذا.

ورد القضاعي على ابن حزم زعمه أن صنف "من يأخذ كتابه وراء ظهره" هم المؤمنون المذنبون الذين يخرجون من النار بالشفاعة، وبين بما لامزيد عليه أن أخذ الكتاب وراء الظهر هو صفة للكافر الذي يأخذ كتابه بشماله من وراء ظهره.

أما صنف المذنبين من المؤمنين فيأخذونه بأيمانهم.

وعند القضاعي أصحاب اليمين هم الأبرار والمقربون، وهم جميع المؤمنين بما فيهم المذنبون.

وقسم الحميدي أصحاب اليمين ثلاثة أقسام: من رجح خيره على شره، ومن رجح شره على خيره، ومن استوى خيره وشره.

أما القضاعي فهذه الأقسام للمؤمنين جميعا، وليس لأصحاب اليمين فقط.
দ্বিতীয়: অতিরিক্ত পরিচ্ছেদসমূহ যা কুযায়ী সংযোজন করেছেন, যা হুমাইদী উল্লেখ করেননি।

প্রথম অংশের ক্ষেত্রে: এতে কুযায়ী নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে হুমাইদীর উপর আপত্তি জানিয়েছেন:

হুমাইদী মুক্বাররাবীনদের (নৈকট্যপ্রাপ্তদের) কেবল নবী এবং শহীদ হিসেবে গণ্য করেছেন, যেখানে আক্বীল কুযায়ী প্রাধান্য দিয়েছেন যে, মুক্বাররাবীন হলেন নবী, সিদ্দিক্ব, শহীদ এবং সালেহীন (নেককারগণ)।

হুমাইদী নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে আসমানসমূহ হলো জান্নাত, কুযায়ী তার এই মত প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এতে তার ভুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

হুমাইদী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, নবী ও শহীদদের আত্মা বর্তমানে জান্নাতে রয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন যে, তারা ব্যতীত অন্য কেউ এখন জান্নাতে নেই। কুযায়ী এ বিষয়ে তার সাথে আলোচনা করেছেন।

ইবনে হাযমের সেই দাবিকে কুযায়ী খণ্ডন করেছেন যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে, 'যাদের আমলনামা পিঠের পিছন থেকে দেওয়া হবে' তারা হলো সেই পাপিষ্ঠ মুমিন যারা শাফায়াতের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বের হবে। তিনি অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছেন যে, পিঠের পিছন থেকে আমলনামা গ্রহণ করা হলো কাফিরের বৈশিষ্ট্য, যে তার বাম হাতে পিঠের পিছন থেকে আমলনামা গ্রহণ করবে।

পক্ষান্তরে পাপিষ্ঠ মুমিনরা তা তাদের ডান হাতে গ্রহণ করবে।

কুযায়ীর মতে আসহাবুল ইয়ামীন (ডানদিকের লোক) হলেন আবরার (পুণ্যবান) এবং মুক্বাররাবীন, এবং তারা পাপিষ্ঠ মুমিনসহ সকল ঈমানদারকে অন্তর্ভুক্ত করে।

হুমাইদী আসহাবুল ইয়ামীনকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: যাদের পুণ্য পাপের ওপর প্রবল হয়েছে, যাদের পাপ পুণ্যের ওপর প্রবল হয়েছে এবং যাদের পুণ্য ও পাপ সমান হয়েছে।

আর কুযায়ীর মতে, এই বিভাগগুলো সকল মুমিনের জন্য, কেবল আসহাবুল ইয়ামীনের জন্য নয়।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ৫)
وقسم الحميدي صنف "من رجح شره على خيره" أربعة أقسام: كثير الخير كثير الشر، كثير الخير قليل الشر، قليل الخير قليل الشر، قليل الخير كثير الشر.

واعترضه الحميدي بأنه لا يدخل من هذه الأربعة في قسم من رجح شره على خيره إلا قسم واحد، وهو قليل الخير كثير الشر.

أما كثير الخير قليل الشر فلا يدخل.

وأما كثير الخير كثير الشر، وقليل الخير قليل الشر فهما صنف "من استوت حسناته وسيئاته".

وجعل الحميدي كثير الشر مقدما في الدخول في النار على القليل الشر، ويخرجان معا بعد القصاص.

وخطأه القضاعي في هذا، وبين أنه ظلم في حقه.

وقرر الحميدي أن الايمان يوزن في الميزان يوم القيامة، في حين منع ذلك القضاعي أي منع، وأطال في بيان ذلك بما لا طائل من ورائه.

وأهل الموازنة عند الحميدي أربعة أقسام:

‌‌1 - من رجحت حسناته، وهما صنفان.

‌‌2 - من استوت سيئاته وحسناته.

‌‌3 - من رجحت سيئاته على حسناته.

‌‌4 - قسم الكفار.
আল-হুমায়দী 'যার মন্দ তার ভালোর ওপর প্রবল হয়েছে' এই শ্রেণিকে চার ভাগে ভাগ করেছেন: অধিক ভালো অধিক মন্দ, অধিক ভালো সামান্য মন্দ, সামান্য ভালো সামান্য মন্দ এবং সামান্য ভালো অধিক মন্দ।

আর আল-হুমায়দী এর ওপর আপত্তি জানিয়েছেন এই বলে যে, এই চারটির মধ্যে 'যার মন্দ তার ভালোর ওপর প্রবল হয়েছে' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত কেবল একটি বিভাগই পড়ে, আর তা হলো: সামান্য ভালো অধিক মন্দ।

পক্ষান্তরে অধিক ভালো সামান্য মন্দ—এর অন্তর্ভুক্ত হবে না।

আর অধিক ভালো অধিক মন্দ এবং সামান্য ভালো সামান্য মন্দ—এই দুটি 'যাদের পুণ্য ও পাপ সমান হয়েছে' সেই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

আল-হুমায়দী অধিক মন্দ সম্পন্ন ব্যক্তিকে সামান্য মন্দ সম্পন্ন ব্যক্তির তুলনায় জাহান্নামে প্রবেশের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য করেছেন এবং প্রতিবিধানের পর তারা উভয়ে একসাথে বের হবে।

আর আল-কুযায়ী এই বিষয়ে তাকে ভ্রান্ত আখ্যা দিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে এটি তার প্রতি অন্যায়।

আল-হুমায়দী সাব্যস্ত করেছেন যে কিয়ামতের দিন পাল্লায় ঈমান ওজন করা হবে, যেখানে আল-কুযায়ী তা কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন এবং এর বর্ণনায় দীর্ঘ আলোচনা করেছেন যার কোনো সার্থকতা নেই।

আল-হুমায়দীর নিকট আমল ওজনযোগ্য ব্যক্তিগণ চার প্রকার:

‌‌১ - যার পুণ্য প্রবল হয়েছে, আর তারা দুই প্রকার।

‌‌২ - যার পাপ ও পুণ্য সমান হয়েছে।

‌‌৩ - যার পাপ তার পুণ্যের ওপর প্রবল হয়েছে।

‌‌৪ - কাফিরদের বিভাগ।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ৬)
أما القضاعي فالأصناف عنده خمسة:

‌‌1 - من عنده خير محض، كالأنبياء والرسل.

‌‌2 - من عنده شر محض كالكفار والمشركين.

‌‌3 - من غلب خيره على شره، وهم أصحاب اليمين، وهم أصناف.

‌‌4 - من غلب شره على خيره، فهم في المشيئة، وهم قسمان:

- من يعفى عنه، وهذا يلتحق بقسم من غلب خيره.

- من يقتص منه ثم يدخل الجنة، وهم من جملة أصحاب اليمين من المؤمنين المذنبين.

 

وأما الشطر الثاني:

فزاد المصنف قسمين آخرين لم يذكرهما الحميدي مما يتعين الكلام عليهما في باب الموازنة:

القسم الأول فيمن لم يلزمه التكليف:

الباب الأول في حكم المجانين.

والباب الثاني في حكم أهل الفترة.

وجعلهم أربعة أقسام:

القسم الأول: قوم أدركوا الحق ببصيرتهم ووحدوا الله في جاهليتهم، من غير أن يكونوا متبعين لشريعة من تقدمهم كقُس بن ساعدة وزيد بن عمرو بن نفيل.

فهؤلاء في الجنة.
আর কুদায়ী-এর মতে প্রকারসমূহ পাঁচটি:

‌‌১ - যাদের মাঝে কেবলই কল্যাণ বিদ্যমান, যেমন নবী ও রাসূলগণ।

‌‌২ - যাদের মাঝে কেবলই অকল্যাণ বিদ্যমান, যেমন কাফির ও মুশরিকগণ।

‌‌৩ - যাদের কল্যাণ তাদের অকল্যাণের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে; তারা হলেন আসহাবুল ইয়ামিন (ডানদিকের দল), আর তারা বিভিন্ন প্রকারের।

‌‌৪ - যাদের অকল্যাণ তাদের কল্যাণের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে; তারা (আল্লাহর) ইচ্ছাধীন, আর তারা দুই ভাগে বিভক্ত:

- যাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে; আর এরা ঐ দলের অন্তর্ভুক্ত হবে যাদের কল্যাণ প্রাধান্য পেয়েছে।

- যাদের থেকে শাস্তি গ্রহণ করা হবে এবং এরপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে; তারা গুনাহগার মুমিনদের মধ্য থেকে আসহাবুল ইয়ামিন-এর অন্তর্ভুক্ত।

 

আর দ্বিতীয় অংশের কথা:

গ্রন্থকার আরও দুটি প্রকার বৃদ্ধি করেছেন যা আল-হুমাইদি উল্লেখ করেননি, ভারসাম্য রক্ষা অধ্যায়ে যে দুটি বিষয়ে আলোচনা করা অপরিহার্য:

প্রথম প্রকার: যাদের ওপর শরীয়তের দায়বদ্ধতা (তাকলিফ) আবশ্যক হয়নি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: উন্মাদদের বিধান সম্পর্কে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলে ফাতরাহ (দুই নবীর অন্তর্বর্তীকালীন লোক)-দের বিধান সম্পর্কে।

তিনি তাদের চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম ভাগ: এমন এক সম্প্রদায় যারা নিজেদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে সত্যকে উপলব্ধি করেছিলেন এবং তাদের জাহেলিয়াত যুগে আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করেছিলেন, তাদের পূর্ববর্তী কারো শরীয়ত অনুসরণ করা ছাড়াই; যেমন কুস বিন সায়েদাহ এবং যায়েদ বিন আমর বিন নুফাইল।

সুতরাং তারা জান্নাতবাসী।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ৭)
القسم الثاني: قوم تدينوا بشريعة قائمة الرسوم مقررة الأحكام من الشرائع المتقدمة كمن تهود أو تنصر في الجاهلية.

فأما من تهود فمثل تبع أبي كرب وقومه من حمير.

وأما من تنصر من أهل الفترة فمثل أهل نجران وغيرهم.

وحكم هذا القسم أن كل من دخل من أهل الفترة في شريعة من الشرائع من قِبل نفسه فقد لزمته وصار من أهلها، وإن لم يكن مخاطبا بها قبل ذلك، وإذا لزمته فيحشر مع أهل تلك الشريعة ويسعه ما يسعهم من الثواب والعقاب.

القسم الثالث: هو من تعرض منهم إلى تغيير الشرائع ومخالفة الأنبياء في التوحيد أو اتبع غيره على ذلك كعمرو بن لحي.

وتكلم في هذا أثناء الفصل على مباحث عديدة، منها:

- الأصنام التي كان العرب يعبدونها.

- عبادة العرب للأصنام.

- عبادة العرب الحجارة في الجاهلية.

- جعل العرب الجن شركاء لله وأن الملائكة بنات الله.

- عبادة العرب للملائكة.

- تفسير ما غيره عمرو بن لحي من الدين.

- جعل العرب لآلهتهم شركا في أموالهم.

- وأدهم البنات.

- تحليلهم وتحريمهم بعض المطعومات.
দ্বিতীয় ভাগ: এমন এক জাতি যারা পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহের মধ্য হতে প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতি ও নির্ধারিত বিধান সংবলিত কোনো শরীয়ত অনুসরণ করত, যেমন জাহেলিয়াত যুগে যারা ইহুদি বা খ্রিষ্টান হয়েছিল।

যারা ইহুদি হয়েছিল তাদের উদাহরণ হলো তুব্বা আবু কারিব এবং হিময়ার গোত্রীয় তার সম্প্রদায়।

আর ফাতরাহ (দুই নবীর অন্তর্বর্তীকালীন সময়) যুগের লোকদের মধ্যে যারা খ্রিষ্টান হয়েছিল, তারা হলো নাজরানবাসী ও অন্যান্যরা।

এই ভাগের বিধান হলো, ফাতরাহ যুগের লোকদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো একটি শরীয়ত গ্রহণ করেছে, তা তার জন্য আবশ্যক হয়ে গিয়েছে এবং সে তার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; যদিও ইতিপূর্বে সে এর জন্য আদিষ্ট ছিল না। আর যখন এটি তার জন্য আবশ্যক হয়েছে, তখন সে সেই শরীয়তের অনুসারীদের সাথেই হাশরের ময়দানে সমবেত হবে এবং তাদের জন্য নির্ধারিত সওয়াব ও শাস্তি তাকেও বেষ্টন করবে।

তৃতীয় ভাগ: যারা শরীয়ত পরিবর্তন করার এবং তাওহিদের ক্ষেত্রে নবীদের বিরোধিতা করার অপচেষ্টা চালিয়েছে অথবা এই কাজে অন্যের অনুসরণ করেছে, যেমন আমর বিন লুহাই।

এই পরিচ্ছেদে এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

- আরবরা যেসব মূর্তির উপাসনা করত।

- আরবদের মূর্তিপূজা।

- জাহেলিয়াত যুগে আরবদের পাথর পূজা।

- আরবদের পক্ষ থেকে জিনদের আল্লাহর অংশীদার সাব্যস্ত করা এবং ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা—এমন দাবি করা।

- আরবদের ফেরেশতা পূজা।

- আমর বিন লুহাই দ্বীনের যা কিছু পরিবর্তন করেছিল তার ব্যাখ্যা।

- আরবরা তাদের উপাস্যদের জন্য তাদের ধন-সম্পদে অংশ নির্ধারণ করা।

- কন্যা সন্তানদের জীবন্ত দাফন করা।

- তাদের পক্ষ থেকে কিছু খাদ্যদ্রব্য হালাল ও হারাম সাব্যস্ত করা।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ৮)
- النسي في الشهور.

- استقسامهم بالأزلام.

- اختراع قريش أحكاما في الجاهلية وحمل العرب عليها.

ثم تكلم عن حكم أهل الجاهلية، وأطال بجلب مسائل نفيسة جدا لا يستغني عنها باحث في مسائل الشرك والكفر وحكم أهل الجاهلية.

وخلص في آخر هذا القسم إلى أن أهل هذا القسم كفار.

القسم الرابع من أهل الفترة: من لم يكن عنده توحيد ولا إشراك ولا دخول في شريعة نبي ولا تعرض لتغييرها ولا اختراع لدين، بل بقي عمره على حال غفلة وذهول عن ذلك كله، وقد نُقل أن في أهل الجاهلية من كان على هذه الوتيرة.

وهذا القسم عند القضاعي ليس عندهم ما يكذبون به ولا ما يصدقون، وبالتالي فهم من أهل الجنة.

الباب الثالث: في حكم من لم تبلغه الدعوة.

قرر القضاعي أنه لا يلزمهم التكليف ولا العقاب المترتب عليه، لأنه لا فرق بين من لم تبلغه الدعوة وبين أهل الفترة في المعنى.

ومن لم تبلغه الدعوة كما يتصور وجودهم في زمان النبي عليه السلام كذلك يتصور وجودهم بعده إلى قيام الساعة.

ثم تعرض بالبحث ليأجوج ومأجوج وهل هم من أهل الفترة أم لا؟

ورجح كفرهم.
- মাসসমূহের বিলম্বিতকরণ (নাসি)।

- ভাগ্যনির্ধারক তীরের মাধ্যমে তাদের বণ্টন বা ভাগ্য পরীক্ষা।

- জাহেলিয়াতের যুগে কুরাইশদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিধান উদ্ভাবন এবং আরবদের তা মেনে চলতে বাধ্য করা।

অতঃপর তিনি জাহেলিয়াতের অধিবাসীদের বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং অত্যন্ত মূল্যবান কিছু মাসআলাহ উপস্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, যা শিরক, কুফর এবং জাহেলিয়াতের অধিবাসীদের বিধান সংক্রান্ত গবেষণায় লিপ্ত যে কোনো গবেষকের জন্য অপরিহার্য।

এই পরিচ্ছেদের শেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা কাফের।

আহলে ফাতরাহ-এর (নবীহীন অন্তর্বর্তীকালীন মানুষ) চতুর্থ শ্রেণি: যাদের মধ্যে তাওহীদও ছিল না, শিরকও ছিল না এবং তারা কোনো নবীর শরিয়তে প্রবেশ করেনি, শরিয়ত পরিবর্তনের চেষ্টাও করেনি কিংবা কোনো নতুন ধর্মও উদ্ভাবন করেনি। বরং তারা তাদের সারা জীবন এই সকল বিষয়ে চরম গাফেলতি ও উদাসীনতার মধ্যে অতিবাহিত করেছে। বর্ণিত আছে যে, জাহেলিয়াতের যুগে এমন কিছু লোক ছিল যারা এই পথেই ছিল।

আল-কুদায়ীর মতে, এই শ্রেণির লোকদের এমন কিছু ছিল না যা তারা অস্বীকার করবে, আর এমন কিছুও ছিল না যা তারা সত্য বলে বিশ্বাস করবে; ফলে তারা জান্নাতবাসী হবে।

তৃতীয় অধ্যায়: যাদের নিকট দাওয়াত পৌঁছেনি তাদের বিধান প্রসঙ্গে।

আল-কুদায়ী সাব্যস্ত করেছেন যে, তাদের ওপর শরয়ী দায়িত্ব (তাকলীফ) এবং তার ওপর বর্তানো শাস্তি বাধ্যতামূলক হবে না। কেননা, যাদের নিকট দাওয়াত পৌঁছেনি এবং আহলে ফাতরাহ-এর মধ্যে অর্থগতভাবে কোনো পার্থক্য নেই।

যাদের নিকট দাওয়াত পৌঁছেনি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যেমন তাদের অস্তিত্ব সম্ভবপর ছিল, তেমনি তাঁর পরেও কিয়ামত অবধি তাদের অস্তিত্ব কল্পনা করা সম্ভব।

এরপর তিনি ইয়াজুজ ও মাজুজ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যে, তারা আহলে ফাতরাহ-এর অন্তর্ভুক্ত কি না?

এবং তিনি তাদের কাফের হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ৯)
الباب الرابع: في حكم الصبيان والأطفال.

ذكر المذاهب في ذلك، وناقشها ورجح أنهم في الجنة.

وتكلم عن معنى فطرة واختلاف العلماء فيها، وفصل الكلام في معنى حديث "كل مولود يولد على الفطرة".

القسم الثاني: في الكلام على الجن.

وهو يحتوي على أربعة أبواب:

الباب الأول: في وجود الجن وكونهم أمة عاقلة مميزة.

الباب الثاني: في تكليف الجن في الأمم الخالية قبل الإسلام.

الباب الثالث: في كون الجن متعبدين بشريعة نبينا محمد عليه السلام.

الباب الرابع: في أقسام الجن وحكم موازنتهم.

وضمن هذا كله مباحث أخرى ومسائل متعددة استطرد في بيانها، مما لا يسع معه إلا مطالعة الكتاب بأسره واستخراج فوائده. والله الموفق بمنه وكرمه.
চতুর্থ অধ্যায়: নাবালক ও শিশুদের বিধান সম্পর্কে।

এতে বিভিন্ন মাযহাব উল্লেখ করেছেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তারা জান্নাতি হওয়ার মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

আর তিনি ফিতরাতের অর্থ এবং এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ নিয়ে আলোচনা করেছেন, এবং "প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে" হাদীসটির মর্ম বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

দ্বিতীয় অংশ: জিন জাতির আলোচনা প্রসঙ্গে।

এটি চারটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:

প্রথম অধ্যায়: জিনদের অস্তিত্ব এবং তারা যে একটি বুদ্ধিমান ও স্বতন্ত্র জাতি, সে প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামের পূর্ববর্তী বিগত উম্মতদের মাঝে জিনদের শরীয়তের দায়বদ্ধতা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: জিনরা আমাদের নবী মুহাম্মদ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর শরীয়ত পালনে আদিষ্ট হওয়া প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: জিনদের প্রকারভেদ এবং তাদের তুলনামূলক অবস্থানের বিধান প্রসঙ্গে।

এই সবকিছুর অধীনে তিনি আরও অনেক আলোচনা ও বহুবিধ মাসয়ালা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন, যার জন্য সম্পূর্ণ বইটি পাঠ করা এবং এর উপকারিতাগুলো আহরণ করা ছাড়া উপায় নেই। আল্লাহ তাআলাই তাঁর অনুগ্রহ ও বদান্যতায় তাওফিক দানকারী।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تمهيد

- صحة نسبة الكتاب لمؤلفه.

لاخلاف في صحة نسبة الكتاب لمؤلفه وكل من ترجم لعقيل القضاعي نسبه له.

منهم ابن الزبير الغرناطي قال في صلة الصلة (4/ 170): وقفت له على تأليف سماه "فصل المقال في الموازنة بين الأعمال"، تكلم فيه مع أبي عبد الله الحميدي وشيخه أبي محمد بن حزم، فأجاد فيه وأحسن وأتى بكل بديع وأتقن.

ومنهم ابن فرحون في الديباج (2/ 123).

ومنهم كحالة في معجم المؤلفين (6/ 290) وسماه: فصل المقال في الموازنة بين الأعمال.

ونسبه له كذلك الحافظ ابن حجر، حيث قال في الفتح (11/ 398): وفي حديث أبي أمامة في نحو حديث أبي سعيد: إن الله يقول لا يجاوزني اليوم ظلم ظالم، وفيه دلالة على موازنة الأعمال يوم القيامة، وقد صنف فيه الحميدي صاحب الجمع كتابا لطيفا، وتعقب أبو طالب عقيل بن عطية أكثره في كتاب سماه: تحرير المقال في موازنة الأعمال.
ভূমিকা

- লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পর্কের বিশুদ্ধতা।

লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পর্কের বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই এবং আকিল আল-কুদায়ীর জীবনী রচয়িতাদের প্রত্যেকেই এটি তাঁর কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তাঁদের মধ্যে ইবনুল জুবাইর আল-গারনাতি অন্যতম। তিনি 'সিলাতুস সিলা' (৪/১৭০) গ্রন্থে বলেন: "আমি তাঁর একটি রচনার খোঁজ পেয়েছি যার নাম 'ফসলুল মাকাল ফীল মুওয়াযানাহ বাইনাল আমাল' (আমলসমূহের ভারসাম্য নিরূপণে চূড়ান্ত ফয়সালা)। এতে তিনি আবু আবদুল্লাহ আল-হুমাইদী এবং তাঁর উস্তাদ আবু মুহাম্মদ ইবনে হাযমের সাথে আলোচনা করেছেন। তিনি এতে অত্যন্ত দক্ষতা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়েছেন এবং অত্যন্ত চমৎকার ও নিপুণভাবে সূক্ষ্ম বিষয়াবলি নিয়ে এসেছেন।"

তাঁদের মধ্যে ইবনু ফারহুন 'আদ-দীবাজ' (২/১২৩) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

তাঁদের মধ্যে কাহহালা 'মুজামুল মুআল্লিফীন' (৬/২৯০) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন: 'ফসলুল মাকাল ফীল মুওয়াযানাহ বাইনাল আমাল'।

হাফেজ ইবনে হাজারও এটি তাঁর কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি 'আল-ফাতহ' (১১/৩৯৮) গ্রন্থে বলেছেন: "আবু উমামার হাদিসে আবু সাঈদের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে যে: আল্লাহ বলেন, 'আজ কোনো জালিমের জুলুম আমার বিচার এড়িয়ে যাবে না।' এতে কিয়ামতের দিন আমলসমূহের তুলনামূলক ভারসাম্যের প্রমাণ রয়েছে। 'আল-জাম' এর রচয়িতা হুমাইদী এই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করেছেন, আর আবু তালিব আকিল ইবনে আতিয়্যাহ এর অধিকাংশ বিষয়ের ওপর পর্যালোচনা করে একটি গ্রন্থ লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল'।"
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১১)
- النسخ المعتمدة ومنهج التحقيق:

اعتمدت في تحقيقي لهذا الكتاب على نسختين:

النسخة الأولى: محفوظة في الخزانة العامة بالرباط، رقم (109.ق)، وهي بخط أندلسي، كتبت في حياة المؤلف سنة 603، وقرأت عليه ثلاث مرات، تتكون من 156 ورقة.

وهي نسخة متقنة إلا أن بها بترا في عدد من الصفحات الأولى، فأكمل البتر بخط مشرقي مغاير، وتركت بعض البياضات، أكملت بعضها من النسخة (ب)، وبقيت بياضات أخرى بسبب وقوع سقط كبير في النسخة (ب).

كما أن بعض من قام بجمع النسخة خلط بعض الأوراق وقدم وأخر في الصفحات، فقمت مستعينا بالنسخة الثانية بإرجاع الأمر إلى نصابه.

تتخلل النسخة إلحاقات عديدة على الهامش وعليها علامة التصحيح صح. وأغلبها ثابت في النسخة (ب)، ولهذا لم أر أن أذكر ذلك في الهوامش، إلا أن يكون سقط من النسخة (ب)، ففي هذه الحال أشير لذلك.

وقد جعلت هذه النسخة هي الأم ورمزت لها بـ: (أ).

النسخة الثانية: محفوظة في الخزانة العامة رقم (652) وهي بخط مغربي إلا الصفحات الأولى فبخط أندلسي، تنقصها الورقة الأولى، وبها بتر في أسفل الثلاثين صفحة الأولى. ولم أشر لهذا البتر في الهوامش لكثرته.

تتكون من 254 صفحة، عارية من اسم الناسخ وتاريخ النسخ، منقولة من نسخة كتبت سنة 891.

مسطرتها: 28.5/ 19.5.
নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি এবং সম্পাদনা পদ্ধতি:

এই গ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি:

প্রথম পাণ্ডুলিপি: এটি রাবাতের আল-খিজানাহ আল-আম্মাহ-তে সংরক্ষিত, যার নম্বর (১০৯.কাফ)। এটি আন্দালুসী লিপিতে লিখিত, যা লেখকের জীবদ্দশায় ৬০৩ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছে এবং তাঁর সামনে তিনবার পাঠ করা হয়েছে। এটি ১৫৬টি পাতার সমন্বয়ে গঠিত।

এটি একটি নিখুঁত পাণ্ডুলিপি, তবে এর প্রথম দিকের বেশ কিছু পৃষ্ঠায় কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন ছিল। এই বিচ্ছিন্ন অংশগুলো ভিন্ন একটি মাশরিকী (প্রাচ্য) লিপিতে পূর্ণ করা হয়েছে এবং কিছু স্থান শূন্য রাখা হয়েছে। আমি এর কিছু অংশ (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে পূর্ণ করেছি, আর অন্য কিছু স্থান শূন্যই থেকে গেছে কারণ (খ) পাণ্ডুলিপিতে একটি বড় ধরনের অংশ বাদ পড়ে গিয়েছিল।

উপরন্তু, যিনি পাণ্ডুলিপিটি একত্রিত করেছিলেন তিনি কিছু পাতা এলোমেলো করে ফেলেছিলেন এবং পৃষ্ঠার ধারাবাহিকতা আগে-পাছে করে দিয়েছিলেন। তাই আমি দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির সাহায্যে বিষয়টিকে সঠিক ক্রমে ফিরিয়ে এনেছি।

এই পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় অনেক সংযোজন রয়েছে এবং সেগুলোতে সংশোধনের চিহ্ন 'সঠিক' (সহ) রয়েছে। এগুলোর অধিকাংশ (খ) পাণ্ডুলিপিতেও বিদ্যমান, তাই আমি ফুটনোটে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন মনে করিনি; তবে যদি (খ) পাণ্ডুলিপি থেকে কোনো অংশ বাদ পড়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আমি তা নির্দেশ করেছি।

আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে মূল উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং একে (আ) চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি: এটি আল-খিজানাহ আল-আম্মাহ-তে ৬৫২ নম্বরে সংরক্ষিত। প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা ছাড়া এটি মাগরিবী লিপিতে লিখিত, তবে প্রথম কয়েক পৃষ্ঠা আন্দালুসী লিপিতে। এর প্রথম পাতাটি নিখোঁজ এবং প্রথম ত্রিশ পৃষ্ঠার নিচের দিকে কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন। এর আধিক্যের কারণে আমি ফুটনোটে এই বিচ্ছিন্ন অংশের কথা উল্লেখ করিনি।

এটি ২৫৪ পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত। এতে লিপিকারের নাম এবং অনুলিপির তারিখ উল্লেখ নেই; তবে এটি ৮৯১ হিজরিতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে।

এর পরিমাপ: ২৮.৫/ ১৯.৫।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১২)
ورمزت لهذه النسخة بـ: (ب).

وقد اعتنيت بذكر الفروق بين النسختين مع ترجيح ما في (أ) غالبا.

وقابلت الكتاب جيدا على النسخة (أ) لجودتها وإتقانها وكونها قرأت على المؤلف، بخلاف النسخة (ب) فهي دونها في الجودة بكثير، وفيها سقط في مواطن عديدة كما نبهت عليه في الهوامش.

ونهجت في التعليق على الكتاب وتخريج أحاديثه منهج الاختصار، غير مخل بالفائدة المرجوة من التخريج وهي بيان الصحة والضعف، ولم أر الإسهاب في تتبع طرق الأحاديث وذكر الأسانيد، إلا إذا اقتضى المقام ذلك.

ولا يفوتني هنا أن أتوجه بالشكر لبعض إخواننا من طلبة العلم ممن أعانني على نسخ المخطوط. وقد قابلته بنفسي على النسختين عدة مرات، ولله الحمد. وصلى الله وسلم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
এবং আমি এই পাণ্ডুলিপিটিকে (খ) সংকেত দিয়েছি।

আমি উভয় পাণ্ডুলিপির মধ্যকার পার্থক্যগুলো উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে (ক) পাণ্ডুলিপিতে যা আছে তা-ই অগ্রাধিকার দিয়েছি।

আমি বইটি (ক) পাণ্ডুলিপির সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মিলিয়েছি এর উৎকর্ষ ও নির্ভুলতার কারণে এবং এটি লেখকের সামনে পাঠ করা হয়েছে বলে। পক্ষান্তরে (খ) পাণ্ডুলিপিটির মান এর চেয়ে অনেক নিচু এবং এতে অনেক স্থানে বিষয়বস্তু বাদ পড়েছে, যা আমি টীকাগুলোতে উল্লেখ করেছি।

বইটির ওপর টীকা প্রদান ও এর হাদিসগুলোর তাখরিজ করার ক্ষেত্রে আমি সংক্ষেপণের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি, যা তাখরিজের মূল লক্ষ্য অর্থাৎ বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না। আর আমি হাদিসের বিভিন্ন সূত্র অনুসন্ধান এবং সনদসমূহ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা অবলম্বন করা সমীচীন মনে করিনি, তবে ক্ষেত্রবিশেষে যদি প্রয়োজন হয় তবে ভিন্ন কথা।

এখানে আমি ইলম অন্বেষী সেই ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলব না, যারা পাণ্ডুলিপিটি অনুলিপি করতে আমাকে সহায়তা করেছেন। আমি নিজেই কয়েকবার উভয় পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়েছি, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১৩)
الصفحة الأولى من المخطوط (أ)
পাণ্ডুলিপি (ক)-এর প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১৪)
الصفحة الثانية من المخطوط (أ)
পাণ্ডুলিপি (ক)-এর দ্বিতীয় পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১৫)
الصفحة الأخيرة من المخطوط (أ)
পাণ্ডুলিপি (আলিফ)-এর সর্বশেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১৬)
الصفحة الأولى من المخطوط (ب)
পাণ্ডুলিপি (খ)-এর প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১৭)
الصفحة الأخيرة من المخطوط (ب)
পাণ্ডুলিপি (খ)-এর শেষ পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌ترجمة عقيل القضاعي

هو: عقيل بن عطية بن أبي أحمد جعفر بن محمد بن عطية القضاعي من أهل طرطوشة يكنى أبا المجد وأبا طالب.

ولد بمراكش سنة: 549هـ

روى بالأندلس عن أبي القاسم ابن بشكوال قرأ عليه وسمع منه، وعن أبي محمد بن عبيد الله الحجري، وأبي بكر بن الجد الحافظ، وأبي بكر بن خير، وأبي القاسم بن الحاج، وأبي القاسم بن حبيش، وأبي عبد الله بن الفخار، وأبي نصر فتح بن محمد القرطبي، وغيرهم.

وسمع منه: أبو جعفر بن الدلال وأبو الحسن بن منخل الشاطبي وغيرهم.

قال ابن الزبير في صلة الصلة (4/ 170 - 171): وكان نبيها متصرفا في فنون من العلم متقنا لها يتناوله من ذلك حسن التهدي وقفت له على تأليف سماه "فصل المقال في الموازنة بين الأعمال" تكلم فيه مع أبي عبد الله الحميدي وشيخه أبي محمد بن حزم، فأجاد فيه وأحسن وأتى بكل بديع وأتقن … وهو من بيت علم وطلب … وكان من ذوي المشاركة والتفنن في العلوم.

وقال ابن الأبار في التكملة لكتاب الصلة (4/ 33 - 34): وكان من أهل الحفظ والإتقان والضبط، يبصر الحديث ويتقدم في صناعته، مع حسن الخط والمشاركة في الأدب. انتهى.
আকিল আল-কুদায়ীর জীবনী

তিনি হলেন: আকিল বিন আতিয়্যা বিন আবি আহমাদ জাফর বিন মুহাম্মাদ বিন আতিয়্যা আল-কুদায়ী, তিনি তরতুশাহ এর অধিবাসী। তাঁর উপনাম ছিল আবুল মাজদ এবং আবু তালিব।

তিনি মাররাকুশ শহরে ৫৪৯ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি আন্দালুসে আবুল কাসিম ইবনে বাশকুওয়ালের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর কাছে পাঠ করেছেন এবং শ্রবণ করেছেন। এছাড়াও তিনি আবু মুহাম্মাদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-হাজারি, আবু বকর বিন আল-জাদ্দ আল-হাফিজ, আবু বকর বিন খাইর, আবুল কাসিম বিন আল-হাজ্জ, আবুল কাসিম বিন হুবাইশ, আবু আব্দুল্লাহ বিন আল-ফাকখার, আবু নাসর ফাতহ বিন মুহাম্মাদ আল-কুরতুবি এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন: আবু জাফর বিন আদ-দাল্লাল এবং আবু আল-হাসান বিন মুনখাল আশ-শাতিবি ও অন্যান্যরা।

ইবনুয যুবাইর ‘সিলাতুস সিলাহ’ (৪/ ১৭০ - ১৭১) গ্রন্থে বলেন: তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন এবং ইলমের বিভিন্ন শাখায় তাঁর বিচরণ ও পারদর্শিতা ছিল, যা তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনা লাভের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল। আমি তাঁর একটি সংকলন পেয়েছি যার নাম "ফাসলুল মাক্বাল ফিল মুওয়াযানাহ বাইনাল আমাল"। এতে তিনি আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি এবং তাঁর শাইখ আবু মুহাম্মাদ বিন হাজমের সাথে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি অত্যন্ত নৈপুণ্য ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং সূক্ষ্ম ও নিখুঁত সব বিষয় উপস্থাপন করেছেন … তিনি একটি ইলমি ও তালিবে ইলম পরিবার থেকে এসেছেন … তিনি বিভিন্ন জ্ঞানশাস্ত্রে অংশগ্রহণকারী ও অভিজ্ঞ ছিলেন।

ইবনুল আব্বার ‘আত-তাকমিলাহ লিকিতাবিস সিলাহ’ (৪/ ৩৩ - ৩৪) গ্রন্থে বলেন: তিনি হাফিজ, পারদর্শী ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি হাদীস শাস্ত্রের সমঝ রাখতেন এবং এই শিল্পে অগ্রসর ছিলেন। এর সাথে সাথে তাঁর হাতের লেখা অত্যন্ত সুন্দর ছিল এবং আদব বা সাহিত্য শাস্ত্রেও তাঁর বিশেষ দখল ছিল। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ১৯)
ألف عدة كتب منها:

شرح مقامات الحريري.

رد على ابن عبد البر في بعض تواليفه وتنبيه على أغلاطه.

ومنها هذا الكتاب، وسيأتي الحديث عنه.

ولي عقيل قضاء غرناطة وسجلماسة، وكان يكتب المناكح على القاضي ابن يربوع.

وتوفي بسجلماسة في صفر سنة 608 هـ/ 1211م، وقد قارب الستين سنة.

انظر ترجمته في: التكملة لكتاب الصلة لابن الأبار (4/ 33).

وصلة الصلة لابن الزبير الغرناطي (4/ 170).

وأعلام مالقة لابن عسكر وابن خميس (329).

والإحاطة في أخبار غرناطة (4/ 230).

والديباج المذهب لابن فرحون (2/ 123).

وتاريخ الإسلام للذهبي (43/ 299).

والإعلام لعباس بن إبراهيم المراكشي (9/ 318).

ومعجم المؤلفين لكحالة (6/ 290).
তিনি বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:

শারহু মাকামাতিল হারিরি।

ইবনে আব্দুল বার-এর কিছু রচনার খণ্ডন এবং তাঁর ভুলত্রুটি সম্পর্কে সতর্কীকরণ।

আর এই গ্রন্থটিও তার অন্তর্ভুক্ত, যা নিয়ে সামনে আলোচনা আসবে।

আকিল গ্রানাডা ও সিজিলমাসা’র বিচারপতির (কাজিত্ব) দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি বিচারক ইবনে ইয়ারবু’র অধীনে বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

তিনি ৬০৮ হিজরির সফর মাসে (১২১১ খ্রিষ্টাব্দ) সিজিলমাসায় মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ষাটের কাছাকাছি ছিল।

তাঁর জীবনী দেখুন: ইবনে আল-আব্বার কৃত ‘আত-তাকমিলা লি কিতাবিস সিলাহ’ (৪/ ৩৩)।

ইবনে আয-যুবাইর আল-গারনাতি কৃত ‘সিলাতুস সিলাহ’ (৪/ ১৭০)।

ইবনে আসকার ও ইবনে খামিস কৃত ‘আ'লামু মালাকাহ’ (৩২৯)।

‘আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতাহ’ (৪/ ২৩০)।

ইবনে ফারহুন কৃত ‘আদ-দিবাজুল মুযাহহাব’ (২/ ১২৩)।

ইমাম আয-যাহাবি কৃত ‘তারিখুল ইসলাম’ (৪৩/ ২৯৯)।

আব্বাস বিন ইব্রাহিম আল-মাররাকুশি কৃত ‘আল-ই'লাম’ (৯/ ৩১৮)।

কাহহালা কৃত ‘মু'জামুল মুয়াল্লিফিন’ (৬/ ২৯০)।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌تحرير المقال

في موازنة الأعمال

وحكم غير المكلفين في العقبى والمآل

للقاضي أبي طالب عقيل بن عطية بن أبي أحمد القضاعي الطرطوشي

(المتوفى سنة 608هـ/1211م)

 

تحقيق: مصطفى باحُّو
বক্তব্যের পরিমার্জন

আমলসমূহের ওজন করার বিষয়ে

এবং পরকাল ও শেষ পরিণতিতে দায়মুক্তদের বিধান প্রসঙ্গে

কাজী আবু তালিব আকিল বিন আতিয়্যাহ বিন আবি আহমাদ আল-কুদায়ী আত-তারতুশি কর্তৃক

(মৃত্যু ৬০৮ হিজরি/১২১১ খ্রিস্টাব্দ)

 

সম্পাদনা: মুস্তফা বাহু
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌[مقدمة المصنف]

(ق.2.أ) بسم الله الرحمان الرحيم، صلى الله على النبي محمد وآله وسلم.

قال القاضي أبو طالب عقيل بن عطـ (ـية القضاعي) (1):

الحمد لله ( … ) (2) (كما يحـ) ـب (3) ربنا ويرضى.

أما بعد، فإن أحد الطلبة رعاهم الله عرض علي كتابا، صنعه أبو عبد الله محمد بن أبي نصر الحميدي رحمه الله في الموازنة يوم القيامة وتقسيم أهلها وترتيب الجزاء من الثواب والعقاب عليها، وكان هذا الطالب المشار إليه معجبا بذلك الكتاب ومستحسنا لأغراضه، ومولعا بتقسيمه، وزاده كلفا به كون أبي محمد علي بن أحمد بن حزم رحمه الله قد رواه عن مؤلفه.

كذلك ذكر أبو محمد في برنامجه، وذلك أنه قال: كتاب جمعه صاحبنا أبو عبد الله محمد بن أبي نصر الحميدي في مراتب الجزاء يوم القيامة على ما جاءت به نصوص القرآن والسنن الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه دقق فيه وقرطس ما شاء، أخذته عنه لإحسانه فيه وجو (دة) (4) نظره في تقسيمه، يكون بضع عشرة ورقة صغارا.

هذا مع أن الحـ (ـميدي) (5) تلميذ لأبي محمد بن حزم، ومشهور بالاختصاص به والأخذ عنه.

--------------------------------------------

(1) بتر فيما بين القوسين في (أ)، وأتممته اعتمادا على السياق.

‌‌(2) بتر في (أ).

‌‌(3) بتر فيما بين القوسين في (أ)، وأتممته اعتمادا على السياق.

‌‌(4) بتر في (أ).

‌‌(5) ما بين القوسين به بتر في (أ)، وأتممته اعتمادا على السياق.
[গ্রন্থকারের ভূমিকা]

(পৃষ্ঠা ২.ক) পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

কাজী আবু তালিব আকিল বিন আতিয়্যাহ আল-কুদায়ী (১) বলেছেন:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য ( ... ) (২) যেভাবে আমাদের রব পছন্দ করেন (৩) এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।

অতঃপর, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন—আল্লাহ তাদের রক্ষা করুন—আমার নিকট একটি গ্রন্থ উপস্থাপন করেছেন, যা আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি নাসর আল-হুমাইদী (রহিমাহুল্লাহ) কিয়ামতের দিনের হিসাব-নিকাশ, তথাকার লোকেদের বিভাজন এবং সওয়াব ও শাস্তির মাধ্যমে প্রতিদানের বিন্যাস সম্পর্কে রচনা করেছেন। উক্ত শিক্ষার্থী গ্রন্থটির প্রতি অত্যন্ত মুগ্ধ ছিলেন এবং এর উদ্দেশ্যসমূহকে পছন্দ করতেন ও এর বিন্যাসের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। গ্রন্থটি সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল এই কারণে যে, আবু মুহাম্মাদ আলী বিন আহমাদ বিন হাযম (রহিমাহুল্লাহ) এটি এর লেখকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু মুহাম্মাদ তাঁর গ্রন্থতালিকায় এভাবেই উল্লেখ করেছেন; তিনি বলেছেন: "একটি গ্রন্থ যা আমাদের সাথী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আবি নাসর আল-হুমাইদী কিয়ামতের দিনের প্রতিদানের স্তরসমূহ সম্পর্কে সংকলন করেছেন; যা কুরআনের বর্ণনা এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত প্রমাণিত সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী রচিত। তিনি এতে গভীর গবেষণা করেছেন এবং লক্ষ্যভেদে সফল হয়েছেন। এতে তাঁর উত্তম পারদর্শিতা এবং এর বিন্যাসে তাঁর নিপুণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আমি এটি তাঁর নিকট থেকে গ্রহণ করেছি; এটি আকারে ছোট কয়েক পৃষ্ঠার মতো হবে।"

অথচ আল-হুমাইদী (৫) ছিলেন আবু মুহাম্মাদ বিন হাযমের ছাত্র এবং তাঁর বিশেষ সান্নিধ্য ও তাঁর থেকে জ্ঞান আহরণের জন্য সুপরিচিত।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি 'আ'-তে বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু কর্তিত ছিল, আমি প্রসঙ্গের ওপর নির্ভর করে তা পূর্ণ করেছি।

‌‌(২) পাণ্ডুলিপি 'আ'-তে কর্তিত।

‌‌(৩) পাণ্ডুলিপি 'আ'-তে বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু কর্তিত ছিল, আমি প্রসঙ্গের ওপর নির্ভর করে তা পূর্ণ করেছি।

‌‌(৪) পাণ্ডুলিপি 'আ'-তে কর্তিত।

‌‌(৫) পাণ্ডুলিপি 'আ'-তে বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু কর্তিত ছিল, আমি প্রসঙ্গের ওপর নির্ভর করে তা পূর্ণ করেছি।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২২)
ولم يمنع ذلك أبا محمد من رواية هذا الكتاب عنه، جريا على سنن أهل العلم في الإنصاف.

وقد ذكره الحميدي في كتاب جذوة المقتبس (1)، وأطنب في ذكره، حتى قال: وما رأينا مثله (2).

وأكثر ما يحكي فيه، عنه أخذه وإليه أسنده.

وروى الحميدي أيضا بالأندلس عن أبي عمر بن عبد البر النمري (3) وأبي العباس أحمد بن عمر بن أنس العذري (4) وغيرهما، وكان من (أهل) (5) جزيرة ميورقة، وأصله من قرطبة، ثم إن الحميدي رحمه الله رحل عن الأندلس إلى بلاد المشرق في حياة شيوخه المتقدم ذكرهم، وكانت رحلته قبل الخمسين

--------------------------------------------

(1) جذوة المقتبس (290 - طبعة الخانجي) (8/ 489 - المكتبة الأندلسية).

‌‌(2) جذوة المقتبس (291 - طبعة الخانجي).

‌‌(3) أبو عمر يوسف بن عبد الله بن محمد بن عبد البر بن عاصم النمري الأندلسي القرطبي المالكي المتوفى سنة: 463، انظر ترجمته في سير أعلام النبلاء (18/ 153) وطبقات الحفاظ (431) والصلة لابن بشكوال (521) وترتيب المدارك (8/ 127) وجذوة المقتبس (344) وشذرات الذهب (5/ 266) وغيرها كثير.

‌‌(4) المتوفى سنة: 478، انظر ترجمته في سير أعلام النبلاء (18/ 567) والصلة (70) وجذوة المقتبس (127) وشذرات الذهب (5/ 377).

‌‌(5) بياض في (أ)، وهكذا قدرتها اعتمادا على ما بقي من رسم الحروف.
এবং ইনসাফ বা ন্যায়নিষ্ঠার ক্ষেত্রে আহলে ইলমদের অনুসৃত রীতির ওপর ভিত্তি করে এটি আবু মুহাম্মদকে তাঁর নিকট থেকে এই কিতাব বর্ণনা করা থেকে বিরত রাখেনি।

আল-হুমাইদি তাঁর ‘জাযওয়াতুল মুকতাবিস’ গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর বর্ণনায় অত্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, এমনকি তিনি বলেছেন: “আমরা তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি।”

তিনি এতে যা কিছু বর্ণনা করেছেন, তার অধিকাংশ তাঁর থেকেই গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর দিকেই তা সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

আল-হুমাইদি আন্দালুসে আবু উমর বিন আবদিল বার আল-নামারি এবং আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন উমর বিন আনাস আল-উজরি ও অন্যদের নিকট থেকেও বর্ণনা করেছেন। তিনি মায়োরকা দ্বীপের অধিবাসী ছিলেন এবং তাঁর আদি নিবাস ছিল কর্ডোভা। অতঃপর আল-হুমাইদি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর উল্লিখিত উস্তাদগণের জীবদ্দশায় আন্দালুস থেকে প্রাচ্যের দেশসমূহের দিকে সফর করেন। তাঁর এই সফর ছিল চারশত পঞ্চাশ হিজরির পূর্বে।

--------------------------------------------

(১) জাযওয়াতুল মুকতাবিস (২৯০ - আল-খানজি সংস্করণ) (৮/ ৪৮৯ - আল-মাকতাবাতুল আন্দালুসিয়্যাহ)।

‌‌(২) জাযওয়াতুল মুকতাবিস (২৯১ - আল-খানজি সংস্করণ)।

‌‌(৩) আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদিল বার বিন আসিম আল-নামারি আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি আল-মালিকি, মৃত্যু বছর: ৪৬৩। তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৮/ ১৫৩), তাবাকাতুল হুফফাজ (৪৩১), ইবন বাশকুওয়াল রচিত আস-সিলাহ (৫২১), তারতিবুল মাদারিক (৮/ ১২৭), জাযওয়াতুল মুকতাবিস (৩৪৪), শাজারাতুজ জাহাব (৫/ ২৬৬) এবং অন্যান্য আরও অনেক গ্রন্থে।

‌‌(৪) মৃত্যু বছর: ৪৭৮। তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৮/ ৫৬৭), আস-সিলাহ (৭০), জাযওয়াতুল মুকতাবিস (১২৭), শাজারাতুজ জাহাব (৫/ ৩৭৭)।

‌‌(৫) (আ) পাণ্ডুলিপিতে শূন্যস্থান ছিল, অক্ষরের অবশিষ্ট রেখাচিত্রের ওপর ভিত্তি করে আমি একে এরূপ নির্ধারণ করেছি।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২৩)
والأربعمائة (1)، فسمع بمصر من أبي عبد الله القضاعي (2) وأبي إسحاق الحبال (3) وغيرهما.

وحج فلقي بمكة كريمة المروزية (4) وغيرها.

وسمع بالشام والعراق، ثم استوطن بغداد إلى أن توفي بها سنة ثمان وثمانين (ق.2.ب) وأربعمائة.

ومن شيوخه بها: أبو بكر بن ثابت الخطيب (5)، والأمير أبو نصر بن ماكولا (6).

وممن روى عنه هنالك: أبو نصر بن أبي مسلم النهاوندي، وأبو بكر محمد بن طرخان البغدادي (7) وغيرهما.

--------------------------------------------

(1) في الصلة (438): أنها سنة: 448.

‌‌(2) صاحب مسند الشهاب، المتوفى سنة: 454، انظر ترجمته في سير أعلام النبلاء (18/ 92).

‌‌(3) المتوفى سنة482: واسمه: إبراهيم بن سعيد النعماني المصري، قال عنه الذهبي في السير: الإمام الحافظ المتقن العالم، انظر ترجمته في سير أعلام النبلاء (18/ 495) وتذكرة الحفاظ (3/ 1191) وطبقات الحفاظ (441) وشذرات الذهب (5/ 351) وحسن المحاضرة (1/ 302) والإكمال (2/ 379).

‌‌(4) انظر ترجمتها في سير أعلام النبلاء (18/ 233).

‌‌(5) المتوفى سنة: (463)، انظر ترجمته في: سير أعلام النبلاء (18/ 270) وتذكرة الحفاظ (3/ 1135) وطبقات الحفاظ (433).

‌‌(6) هو أبو نصر علي بن هبة الله العجلي البغدادي الشهير بابن ماكولا مصنف كتاب الإكمال، المتوفى سنة: نيف وثمانين وأربعمائة، انظر ترجمته في سير أعلام النبلاء (18/ 569) وتذكرة الحفاظ (3/ 1201) وطبقات الحفاظ (443).

‌‌(7) المتوفى سنة (513)، انظر ترجمته في السير (19/ 423) وشذرات الذهب (6/ 67) وغيرها.
এবং চারশত (সাল) (১)। তিনি মিসরে আবু আব্দুল্লাহ আল-কুদায়ী (২) এবং আবু ইসহাক আল-হাব্বাল (৩) ও অন্যান্যদের নিকট থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেন।

তিনি হজ পালন করেন এবং মক্কায় কারীমা আল-মারওয়াযিয়্যাহ (৪) ও অন্যান্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

তিনি শাম ও ইরাকে (হাদিস) শ্রবণ করেন, অতঃপর বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং চারশত আটাশি হিজরি সনে (ক.২.খ) সেখানে মৃত্যুবরণ করেন।

বাগদাদে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: আবু বকর বিন সাবিত আল-খতিব (৫) এবং আল-আমির আবু নাসর বিন মাকুলা (৬)।

সেখানে যাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবু নাসর বিন আবি মুসলিম আল-নাহাওয়ান্দি এবং আবু বকর মুহাম্মদ বিন তারখান আল-বাগদাদি (৭) ও অন্যান্যরা।

--------------------------------------------

(১) আল-সিলাহ (৪৩৮) গ্রন্থে রয়েছে: এটি ৪৪৮ হিজরি সন।

(২) মুসনাদ আল-শিহাব-এর রচয়িতা, মৃত্যু: ৪৫৪ হিজরি। তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৮/ ৯২)।

(৩) মৃত্যু: ৪৮২ হিজরি; তাঁর নাম: ইবরাহিম বিন সাঈদ আল-নুমানি আল-মিসরি। আয-যাহাবি ‘সিয়ার’ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ইমাম, হাফিয, সুদৃঢ় ও আলিম। তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৮/ ৪৯৫), তাযকিরাতুল হুফফায (৩/ ১১৯১), তাবাকাতুল হুফফায (৪৪৩), শাযারাতুয যাহাব (৫/ ৩৫১), হুসনুল মুহাযারা (১/ ৩০২) এবং আল-ইকমাল (২/ ৩৭৯)।

(৪) তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৮/ ২৩৩)।

(৫) মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি। তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৮/ ২৭০), তাযকিরাতুল হুফফায (৩/ ১১৩৫) এবং তাবাকাতুল হুফফায (৪৩৩)।

(৬) তিনি হলেন আবু নাসর আলি বিন হিবাতুল্লাহ আল-ইজলি আল-বাগদাদি, যিনি ইবন মাকুলা নামে প্রসিদ্ধ এবং ‘আল-ইকমাল’ গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর মৃত্যু চারশত আশির কিছু পরে। তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৮/ ৫৬৯), তাযকিরাতুল হুফফায (৩/ ১২০১) এবং তাবাকাতুল হুফফায (৪৪৩)।

(৭) মৃত্যু: ৫১৩ হিজরি। তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ার (১৯/ ৪২৩) এবং শাযারাতুয যাহাব (৬/ ৬৭) ও অন্যান্য গ্রন্থ।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وذكره الأمير أبو نصر بن ماكولا في كتابه (1) فقال: أخبرنا صديقنا أبو عبد الله الحميدي، وهو من أهل العلم والفضل والتيقظ، وقال: لم أر مثله في عفته ونزاهته وورعه وتشاغله بالعلم.

وروى عنه من أهل الأندلس أبو علي حسين بن محمد الصدفي (2)، وأبو الحسن عباد بن سرحان المعافري (3).

ووصفه أبو علي بالإتقان والدين.

وهذه الجملة في أخبار الحميدي نقلنا أكثرها من كتاب الصلة (4) الذي أخذناه مشافهة (5) عن مؤلفه أبي القاسم بن بشكوال رحمه الله.

ومنها ما أخذناه عن غيره من الشيوخ.

وأبو عبد الله الحميدي هذا هو صاحب الجمع بين الصحيحين (6) ألفه ببغداد، وأُخذ عنه هنالك، وكذلك ألف بها تاريخه المسمى بجذوة المقتبس (7).

--------------------------------------------

(1) لم أجده في الإكمال.

‌‌(2) الأندلسي السرقسطي، الشهير بابن سكرة، المتوفى سنة: (514)، انظر ترجمته في سير أعلام النبلاء (19/ 376) وتذكرة الحفاظ (4/ 1253) وطبقات الحفاظ (455).

‌‌(3) المتوفى سنة (504)، انظر ترجمته في الصلة (359) وبغية الملتمس (345).

‌‌(4) الصلة لابن بشكوال (438).

‌‌(5) في (ب): من هذه مشافهة.

‌‌(6) طبع في دار ابن حزم بتحقيق علي حسين البواب سنة 1423/ 2002.

‌‌(7) طبع بمطبعة السعادة بمصر سنة 1372/ 1952 بتحقيق محمد بن تاويت الطنجي، نشر عزت العطار.

وطبع بالدار المصرية للتأليف والترجمة سنة 1966. … =

 

= ونشرته مكتبة الخانجي بالقاهرة بتحقيق محمد بن تاويت بدون تاريخ في مجلد واحد، كتب مقدمته محمد زاهد الكوثري.
আমির আবু নাসর বিন মাকুলা তাঁর কিতাবে (১) তাঁর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের বন্ধু আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর তিনি ইলম, মর্যাদা ও সতর্কতার অধিকারী ছিলেন। তিনি আরও বলেছেন: তাঁর পবিত্রতা, সততা, পরহেজগারি এবং ইলমি কাজে মগ্ন থাকার বিষয়ে আমি তাঁর সমকক্ষ কাউকে দেখিনি।

আর আন্দালুসবাসীদের মধ্যে আবু আলি হুসাইন বিন মুহাম্মদ আস-সাদাফি (২) এবং আবু আল-হাসান আব্বাদ বিন সারহান আল-মাআফিরি (৩) তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু আলি তাঁকে নিখুঁত দক্ষতা ও দ্বীনদারির গুণে গুণান্বিত করেছেন।

আল-হুমাইদির জীবনচরিত বিষয়ক এই আলোচনার অধিকাংশ আমরা 'কিতাবুস সিলাহ' (৪) থেকে উদ্ধৃত করেছি, যা আমরা এর লেখক আবুল কাসিম বিন বাশকুয়াল (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে (৫) গ্রহণ করেছি।

এর কিছু অংশ আমরা অন্যান্য শায়খদের থেকেও গ্রহণ করেছি।

আর এই আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদি হলেন 'আল-জামউ বাইনাস সাহিহাইন' (৬)-এর রচয়িতা; তিনি এটি বাগদাদে রচনা করেছেন এবং সেখানেই তাঁর নিকট থেকে এটি শিক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। একইভাবে তিনি সেখানে তাঁর ইতিহাসগ্রন্থ 'জাযওয়াতুল মুকতাবিস' (৭) রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আমি এটি আল-ইকমাল কিতাবে খুঁজে পাইনি।

‌‌(২) আন্দালুসি সারাকুস্তি, ইবনে সুকরা নামে প্রসিদ্ধ, মৃত্যু বছর: (৫১৪), তাঁর জীবনী দেখুন সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৯/৩৭৬), তাজকিরাতুল হুফফাজ (৪/১২৫৩) এবং তাবাকাতুল হুফফাজ (৪৫৫)।

‌‌(৩) মৃত্যু বছর (৫০৪), তাঁর জীবনী দেখুন আস-সিলাহ (৩৫৯) এবং বুগইয়াতুল মুলতামিস (৩৪৫)।

‌‌(৪) ইবনে বাশকুয়াল রচিত আস-সিলাহ (৪৩৮)।

‌‌(৫) (বা) পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে।

‌‌(৬) এটি ১৪২৩ হিজরি/২০০২ সালে আলি হুসাইন আল-বাওয়াবের সম্পাদনায় দার ইবনে হাজম থেকে মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌(৭) এটি ১৩৭২ হিজরি/১৯৫২ সালে মিশরের মাতবায়াতুস সাআদায় মুহাম্মদ বিন তাউইত আত-তানজির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে, প্রকাশক ইজ্জাত আল-আত্তার।

এবং ১৯৬৬ সালে আদ-দারুল মিসরিয়্যাহ লিত্তালিফ ওয়াত তারজামাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে। ... =

 

= এবং কায়রোর মাকতাবাতুল খানজি থেকে মুহাম্মদ বিন তাউইতের সম্পাদনায় কোনো প্রকার তারিখ ছাড়াই এক খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে, যার ভূমিকা লিখেছেন মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারি।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২৫)
ويذكر أن السبب في ذلك هو أن الأمير أبا نصر بن ماكولا كلفه أن يؤلف له مجموعا في ذكر علماء أهل الأندلس ليستعين به على غرضه، وكان الأمير إذ ذاك يؤلف كتاب الإكمال في المؤتلف والمختلف (1)، فصنعه الحميدي حينئذ.

ونظن أن هذا الذي ذكر صحيح، فإن الحميدي ذكر في أول كتابه أنه كُلف تأليفه (2)، وعظم قدر من كلفه ذلك من غير أن يسميه، فجاء الكتاب نبيلا في معناه، غير أنه ذكر فيه حكايات ليس من شأن أهل العلم تخليد أمثالها في الأوراق، كقصة أحمد بن كليب (النحوي) (3) وغيرها.

وما ذكرنا هذا كله عن الحميدي إلا ليعلم قدره من لم يقف على خبره، ويعرف أيضا من هو عالم به أنه لا يخفى علينا مكانه من العلم ولا مكانته عند العلماء.

لكن ليس ذلك بمانع أن يرد عليه بعض قوله، إذ لا ينبغي أن يؤخذ من قوله ومن قول غيره إلا ما وافق الحق، ونطرح ما عداه، ونحن لما نظرنا

--------------------------------------------

(1) طبع في مجلس دائرة المعارف العثمانية بحيدر آباد الدكن بالهند، سنة 1381 - 1385/ 1962 - 1966 بتحقيق عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني في 6 أجزاء، والسابع بتحقيق نايف العباس، نشر محمد أمين دمج ببيروت، المطبعة الهاشمية بدمشق.

وطبع في دار الكتاب الإسلامي بالقاهرة سنة 1993، في 10 مجلدات.

‌‌(2) جذوة المقتبس (1/ 3).

‌‌(3) في (أ) هنا هامش عليه علامة التصحيح، لكن فيه طمس، ولا شيء في (ب)، والمثبت من جذوة المقتبس (2/ 134).
উল্লেখ করা হয় যে, এর কারণ হলো আমির আবু নাসর ইবনে মাকুলা তাকে আন্দালুসের আলেমদের স্মরণে একটি সংকলন রচনা করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন যাতে তিনি তার উদ্দেশ্য সাধনে এর সাহায্য নিতে পারেন। আমির তখন 'আল-ইকমাল ফিল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' (১) কিতাবটি রচনা করছিলেন, তখনই আল-হুমাইদি এটি প্রস্তুত করেন।

আমরা মনে করি যে, যা উল্লেখ করা হয়েছে তা সঠিক। কারণ আল-হুমাইদি তার কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, তাকে এটি রচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল (২), এবং তিনি তার নাম উল্লেখ না করেই সেই দায়িত্ব প্রদানকারীর উচ্চ মর্যাদা বর্ণনা করেছেন। ফলে কিতাবটি এর বিষয়বস্তুর দিক থেকে অত্যন্ত উন্নত হয়েছে; তবে তিনি এতে এমন কিছু গল্প উল্লেখ করেছেন যা আলেমদের জন্য কাগজের পাতায় সংরক্ষণ করে রাখার মতো নয়, যেমন (নাহুবিদ) আহমাদ বিন কুলাইবের গল্প (৩) এবং অন্যান্য।

আল-হুমাইদি সম্পর্কে আমরা এই সব উল্লেখ করেছি কেবল এজন্যই যেন যারা তার খবর জানেন না তারা তার মর্যাদা জানতে পারেন, এবং যারা তার সম্পর্কে অবগত তিনিও যেন জানেন যে ইলমের ক্ষেত্রে তার অবস্থান এবং আলেমদের নিকট তার মর্যাদা আমাদের কাছে অজানা নয়।

কিন্তু এটি তার কিছু বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করতে বাধা দেয় না, কারণ তার এবং অন্য কারো বক্তব্য থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করা উচিত যা সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, এবং আমরা তা ছাড়া অন্য সব কিছু বর্জন করি। আর আমরা যখন দৃষ্টিপাত করেছি...

--------------------------------------------

(১) এটি ভারতের হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্যের মজলিসে দাইরাতুল মাআরিফ আল-উসমানিয়া থেকে ১৩৮১ - ১৩৮৫ হিজরি / ১৯৬২ - ১৯৬৬ ঈসায়ী সালে ৬ খণ্ডে আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানির তাহকিকে মুদ্রিত হয়েছে এবং সপ্তম খণ্ডটি নায়েফ আব্বাসের তাহকিকে বৈরুতের মুহাম্মাদ আমিন দামাজ ও দামেস্কের আল-মাতবাআহ আল-হাশিমিয়াহ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

এবং এটি ১৯৯৩ সালে কায়রোর দারুল কিতাব আল-ইসলামি থেকে ১০ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌(২) জাযওয়াতুল মুকতাবিস (১/ ৩)।

‌‌(৩) (আলিফ) পাণ্ডুলিপিতে এখানে সংশোধনের চিহ্নযুক্ত একটি টীকা রয়েছে, কিন্তু সেখানে লেখা অস্পষ্ট; এবং (বা) পাণ্ডুলিপিতে কিছুই নেই। আর পাঠটি জাযওয়াতুল মুকতাবিস (২/ ১৩৪) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২৬)
الكتاب المبدأ بذكره، وتأملنا غرض مؤلفه فيه وجدناه غير مخلص ( … ) (1) الأقسام التي عمد فيها إلى تنظير (2) بعضها ببعض، تضمحل عند التحصيل، فتحققنا أن الحميدي أصابته غفلة فيه، وكذلك أصابت الغفلة أبا محمد بن حزم في استحسانه له وتصويبه لتقاسيمه.

وما ذاك منه إلا لأن كثيرا من مضمنه هو مذهبه، فغاب عنه ما وراء ذلك مما لو أمعن النظر فيه لم يخف عليه، وقد قال الحميدي في أول كتابه هذا: إن الأصل (في ذلك تلقاه الحميدي) (3) من أبي محمد المذكور مشافهة حسبما يأتي ذكره، وهكذا وجدنا نحن في كتاب الفصل، من تأليف أبي محمد، (ق.3.أ) أشياء موافقة لما ذكره الحميدي في هذا الكتاب، مما نرى أن الحق في خلافه.

فكان هذا كله داعية لنا إلى تتبع ما في كتاب الحميدي وانتقاده وإبراز (4) ما يصح من أمر الموازنة في الآخرة، وتقسيم أهلها بحسب مفهوم الشريعة، ووضع ذلك كله في هذا الكتاب الذي تحرينا الحق جهدنا في مضمنه، ونقحنا الكلام المودع فيه (5).

--------------------------------------------

(1) بياض في النسخة (أ) وبتر في النسخة (ب).

‌‌(2) طمس قليل في الأصل، وسيكرر المصنف نحوها في مواطن من كتابه منها (ق.38.ب)، وفي النسخة (ب) بتر.

‌‌(3) بياض في النسخة (أ) وبتر في النسخة (ب)، وأتممته اعتمادا على قول الحميدي الآتي الذي أشار إليه عقيل هنا، وهو قوله: وإن كان أصله ما نبه عليه شيخنا أبو محمد أعزه الله في ذلك المجلس …

‌‌(4) كذا في النسخة (ب) وفي النسخة (أ): وإبرازه.

‌‌(5) كذا في النسخة (أ)، وفي النسخة (ب): في.
যে কিতাবটির আলোচনা দিয়ে শুরু করা হয়েছে, তার লেখকের উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা যখন চিন্তা-গবেষণা করলাম, তখন তা নিরেট বা ত্রুটিমুক্ত দেখতে পেলাম না ( … ) (১) তিনি যেসব অধ্যায়কে একে অপরের সাথে তুলনীয় করার লক্ষ্য স্থির করেছেন, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের সময় অসার প্রমাণিত হয়। ফলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, আল-হুমাইদি এ ক্ষেত্রে অসতর্কতার শিকার হয়েছেন। অনুরূপভাবে আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমও একে পছন্দ করে এবং এর বিন্যাসগুলোকে সঠিক বলে স্বীকৃতি দিয়ে অসতর্কতার পরিচয় দিয়েছেন।

আর এটি ঘটার কারণ এছাড়া আর কিছুই নয় যে, এর অনেক বিষয়বস্তুই ছিল তাঁর নিজস্ব মাযহাবের অনুকূলে। ফলে এর অন্তরালে থাকা বিষয়গুলো তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়নি, যা তিনি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তাঁর কাছে অস্পষ্ট থাকত না। আল-হুমাইদি তাঁর এই কিতাবের শুরুতে বলেছেন: এর মূল ভিত্তি (যা হুমাইদি গ্রহণ করেছেন) (৩) উল্লিখিত আবু মুহাম্মদের নিকট থেকে সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে, যেমনটি সামনে উল্লেখ করা হবে। অনুরূপভাবে আমরা আবু মুহাম্মদের রচিত 'কিতাবুল ফাসাল'-এ (পৃষ্ঠা ৩/ক) এমন কিছু বিষয় পেয়েছি যা হুমাইদি এই কিতাবে উল্লেখ করেছেন, অথচ আমরা মনে করি সত্য এর বিপরীত।

এসব কারণেই আমরা আল-হুমাইদির কিতাবের বিষয়গুলো অনুসরণ করতে, তার সমালোচনা করতে এবং পরকালের তুলাদণ্ড সংক্রান্ত বিষয়ের সঠিক রূপটি প্রকাশ করতে (৪) উদ্বুদ্ধ হয়েছি। সেইসাথে শরীয়তের সঠিক অনুধাবন অনুযায়ী পরকালবাসীদের শ্রেণিবিভাগ বর্ণনা করতে চেয়েছি। আর এই সবকিছুই আমরা এই কিতাবে সন্নিবেশিত করেছি, যার বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সাধ্য অনুযায়ী সত্য অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছি এবং এতে উপস্থাপিত বক্তব্যগুলো পরিমার্জিত করেছি (৫)।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি 'আলিফ'-এ ফাঁকা স্থান এবং পাণ্ডুলিপি 'বা'-তে কর্তিত অংশ রয়েছে।

‌‌(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে কিছুটা অস্পষ্টতা রয়েছে, গ্রন্থকার তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করবেন যার মধ্যে (পৃষ্ঠা ৩৮/খ) অন্যতম, আর পাণ্ডুলিপি 'বা'-তে কর্তিত অংশ রয়েছে।

‌‌(৩) পাণ্ডুলিপি 'আলিফ'-এ ফাঁকা স্থান এবং পাণ্ডুলিপি 'বা'-তে কর্তিত অংশ রয়েছে; আমি আল-হুমাইদির পরবর্তী উক্তিটির ওপর ভিত্তি করে এটি পূর্ণ করেছি যার দিকে উকাইল এখানে ইঙ্গিত করেছেন, আর তা হলো তাঁর বক্তব্য: "যদিও এর মূল ভিত্তি হলো সেই বিষয় যা আমাদের শায়খ আবু মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন) ওই মজলিসে অবহিত করেছিলেন..."

‌‌(৪) পাণ্ডুলিপি 'বা'-তে এভাবেই আছে, আর পাণ্ডুলিপি 'আলিফ'-এ আছে: এবং তা প্রকাশ করা।

‌‌(৫) পাণ্ডুলিপি 'আলিফ'-এ এভাবেই আছে, আর পাণ্ডুলিপি 'বা'-তে আছে: এতে।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২৭)
هذا مع أنه قد تضمن أشياء زائدة على ذكر الموازنة، لأنا لما بنيناه على كتاب الحميدي، وكان المقصود به عند مؤلفه مسألة الموازنة وما كان من غير ذلك فإنما هو عنده في حكم التبع تبعناه في ذلك، إذ شرطنا ذكر كلامه أولا ثم التكلم عليه ثانيا.

وقد رأينا أن نفصل بين كلامنا وكلامه، بحيث يمتاز أحدهما من الآخر، وذلك بأن ننقل كلامه بلفظه، فإذا كمل أردفنا عليه فصلا أو فصولا متتابعة من كلامنا لتحسين ما قاله أو لانتقاده وتبيين (1) وهمه، أو لتتميم معناه إن أخل به، أو لتقسيم حاصر لما يقصد به، أو لإيراد ما يليق بذلك الموضع مما لم يلم هو به، أو ألم به على وجه آخر (2).

فإذا كمل ذلك رجعنا إلى نقل لفظه أيضا، ثم عدنا إلى تلك الفصول كذلك، حتى يفرغ مقصودنا بحول الله في هذا الكتاب، ولم نترك من كلام الحميدي في كتابه المذكور شيئا، بل سقناه على ما هو عليه، بحيث لو شاء ناقل أن ينقل كتابه من المواضع التي ذكرناه فيها، فيها حتى يُختزل برأسه عن مجموع هذا الكتاب أمكنه ذلك.

والذي بنى الحميدي عليه مسألة الموازنة بعد صدر من كتابه هو حديث أنس بن مالك في الشفاعة (3)، غير أنه لم يقف عند نصه، بل أقحم فيه

--------------------------------------------

(1) كذا في النسخة (ب)، وفي النسخة (أ): وتبين.

‌‌(2) هذه الجملة كتبت في هامش (أ) وفيها بتر قليل، وعليها علامة التصحيح، وجاءت على الصواب في (ب).

‌‌(3) سيأتي تخريجه.
এর পাশাপাশি এতে 'মুওয়াজানা' (ভারসাম্য রক্ষা) আলোচনার অতিরিক্ত কিছু বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কেননা, আমরা যখন হুমাইদীর কিতাবের ওপর ভিত্তি করে এটি রচনা করেছি, আর তাঁর নিকট মূল উদ্দেশ্য ছিল 'মুওয়াজানা'র মাসআলাটিই এবং এর বাইরে যা কিছু ছিল তা তাঁর নিকট আনুষঙ্গিক বিষয় হিসেবে গণ্য ছিল, তাই আমরা সে বিষয়ে তাঁকে অনুসরণ করেছি। কারণ আমাদের শর্ত ছিল প্রথমে তাঁর বক্তব্য উল্লেখ করা এবং এরপর সেটির ওপর আলোচনা করা।

আমরা আমাদের বক্তব্য এবং তাঁর বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে একটি অন্যটি থেকে পৃথকভাবে চেনা যায়। আর তা এভাবে যে, আমরা তাঁর বক্তব্য হুবহু উদ্ধৃত করব; যখন তা পূর্ণ হবে, তখন আমরা আমাদের পক্ষ থেকে একটি বা একাধিক অনুচ্ছেদ পরপর যুক্ত করব—যাতে তাঁর বক্তব্যকে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়, অথবা সমালোচনা করা যায় এবং তাঁর ভুল (১) স্পষ্ট করা যায়, অথবা যদি তিনি কোনো অর্থ অপূর্ণ রেখে থাকেন তবে তা পূর্ণ করা যায়, অথবা তাঁর উদ্দেশ্যকে যথাযথ বিন্যাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়, অথবা সেই স্থানে উপযুক্ত এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা যায় যা তিনি স্পর্শ করেননি কিংবা ভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন (২)।

যখন তা সম্পন্ন হবে, তখন আমরা পুনরায় তাঁর শব্দাবলি উদ্ধৃত করার দিকে ফিরে যাব এবং একইভাবে পুনরায় আমাদের অনুচ্ছেদগুলোর দিকে ফিরে আসব, যতক্ষণ না আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে এই কিতাবে আমাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়। আমরা উক্ত কিতাবে বর্ণিত হুমাইদীর বক্তব্যের কোনো কিছুই বাদ দিইনি, বরং তা যেভাবে আছে সেভাবেই উপস্থাপন করেছি; যেন কোনো উদ্ধৃতিদাতা যদি আমাদের উল্লেখিত স্থানগুলো থেকে তাঁর কিতাবটিকে আলাদাভাবে উদ্ধৃত করতে চায়, যাতে এই সামগ্রিক কিতাব থেকে তাঁর মূল কিতাবটি পৃথক হয়ে যায়, তবে সে যেন তা করতে সক্ষম হয়।

হুমাইদী তাঁর কিতাবের প্রারম্ভিক অংশের পর 'মুওয়াজানা'র মাসআলাটি যেটির ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছেন, তা হলো সুপারিশ (শাফায়াত) বিষয়ে আনাস বিন মালিকের বর্ণিত হাদিস (৩)। তবে তিনি কেবল এর মূল পাঠের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং এতে তিনি অন্তর্ভুক্ত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি (খ)-তে এভাবেই আছে, আর পাণ্ডুলিপি (ক)-তে রয়েছে: 'তাবাইয়ুন'।

‌‌(২) এই বাক্যটি (ক) পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় লেখা ছিল এবং এতে সামান্য অস্পষ্টতা ছিল, আর তার ওপর সংশোধনী চিহ্ন ছিল; এটি (খ) পাণ্ডুলিপিতে সঠিকভাবে এসেছে।

‌‌(৩) এর তথ্যসূত্র (তাখরিজ) সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২৮)
عند الكلام عليه ما ليس منه (1)، واعتقد أنه في نص الحديث على ما سيأتي ذكره في موضعه، ويأتي في الكتاب بحول الله تبيين (2) ما عسى أن يرد عليه أو على أبي محمد بن حزم، إذا دعت إلى ذلك داعية، فإن كلامنا في هذا الكتاب إنما هو مع هذين الرجلين، أحدهما بالاختراع والتأليف، والثاني بالاستحسان والتصويب.

فعلى الحقيقة إذا رددنا على الحميدي في شيء ما تطرق ذلك إلى الرد على أبي محمد بن حزم، هذا إذا لم يوجد لأبي محمد فيه كلام.

وأما ما نص عليه فسيكون الرد على الحميدي فيه بحكم التبع، لأن ابن حزم من أهل النظر في الجملة، وأما الحميدي فإنما هو من أصحاب الحديث، وإن كان من أهل التحذق فيهم.

ثم إنا لما فرغنا من التكلم مع الحميدي فيما تضمنه كتابه، أردفنا عليه قسمين، لم يلم بذكرهما ويحسن التنبيه (3) عليهما والكلام فيهما:

القسم الأول: حكم المجانين وأهل الفترة ومن لم تبلغه الدعوة، وهؤلاء وإن لم تكن لهم موازنة في الجملة فلابد من حشرهم يوم القيامة، (ق.3.ب) ولابد لهم من حكم فيه، ومن هذا القسم (هم) (4) الأطفال بجملتهم، أعني أولاد المسلمين وأولاد المشركين.

--------------------------------------------

(1) كذا في النسخة (أ) وفي النسخة (ب): ما ليس في الكتاب منه.

‌‌(2) كذا في النسخة (ب)، وفي النسخة (أ): تبين.

‌‌(3) في الكلمتين الأخيرتين طمس قليل، وهكذا ظهرا لي.

‌‌(4) يظهر أنها زائدة، وفي (ب) بتر.
সে বিষয়ে আলোচনার সময় তাতে যা অন্তর্ভুক্ত নয় তা তিনি বর্ণনা করেছেন (১), আর তিনি বিশ্বাস করেছেন যে হাদিসের বর্ণনাটি সেভাবেই আছে যা তার নিজ স্থানে পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে। আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে এই কিতাবে সেই সব বিষয় স্পষ্ট করা (২) হবে যা তাঁর বিরুদ্ধে অথবা আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত হতে পারে, যদি তার কোনো কারণ থাকে। কেননা এই কিতাবে আমাদের আলোচনা কেবল এই দুই ব্যক্তিকে নিয়েই; তাদের একজন উদ্ভাবন ও রচনার মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় জন সমর্থন ও সংশোধনের মাধ্যমে।

প্রকৃতপক্ষে, যখন আমরা কোনো বিষয়ে আল-হুমায়দীর প্রতিবাদ করি, তখন তা আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজমেরও প্রতিবাদের শামিল হয়; এটি তখন প্রযোজ্য যখন উক্ত বিষয়ে আবু মুহাম্মদের পক্ষ থেকে কোনো স্বতন্ত্র বক্তব্য পাওয়া যায় না।

আর যে বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, সেখানে আল-হুমায়দীর প্রতিবাদ করা হবে গৌণ হিসেবে। কারণ ইবনে হাজম সামগ্রিকভাবে গবেষণা ও পর্যালোচনার অধিকারী, আর আল-হুমায়দী হলেন কেবল হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তিনি তাদের মধ্যে অত্যন্ত দক্ষ।

অতঃপর যখন আমরা আল-হুমায়দীর কিতাবে যা রয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা শেষ করেছি, তখন আমরা এর সাথে আরও দুটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছি, যা তিনি উল্লেখ করেননি কিন্তু সেগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ (৩) করা এবং সে বিষয়ে আলোচনা করা সমীচীন:

প্রথম পরিচ্ছেদ: উন্মাদ, ফাতরাহ যুগের লোক (যাদের কাছে কোনো নবী আসেননি) এবং যাদের কাছে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছায়নি তাদের বিধান। যদিও সামগ্রিকভাবে তাদের কর্মের কোনো জবাবদিহি বা ওজন থাকবে না, তবুও কিয়ামতের দিন তাদের অবশ্যই হাশর করা হবে (পৃষ্ঠা ৩-খ), এবং সেখানে তাদের জন্য অবশ্যই একটি ফয়সালা থাকবে। এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হলো (তারা) (৪) সকল শিশু, অর্থাৎ মুসলিমদের সন্তান এবং মুশরিকদের সন্তান।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি (আলিফ)-এ এভাবেই আছে, আর পাণ্ডুলিপি (বা)-তে রয়েছে: যা কিতাবের মূল বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত নয়।

‌‌(২) পাণ্ডুলিপি (বা)-তে এভাবেই আছে, আর পাণ্ডুলিপি (আলিফ)-এ রয়েছে: স্পষ্ট হওয়া।

‌‌(৩) শেষ শব্দ দুটিতে সামান্য অস্পষ্টতা রয়েছে, তবে আমার কাছে এভাবেই প্রতীয়মান হয়েছে।

‌‌(৪) মনে হচ্ছে এটি অতিরিক্ত শব্দ, আর পাণ্ডুলিপি (বা)-তে এই অংশটি কর্তিত।
(খণ্ড: ১) তাহরীরুল মাকাল ফী মুওয়াযানাতিল আমাল ওয়া হুকমি গায়রিল মুকাল্লাফীনা ফিল উকবা ওয়াল মাআল (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويلزم الحميدي دخول هؤلاء الأصناف الأربعة بالعموم في قوله أول الكتاب: (قد صح النص على أن جميع ولد آدم يوم القيامة على ثلاث طبقات)، إذ المجانين ومن ذكرنا معهم هم من بني آدم وليسوا من الطبقات الثلاث، لأن النص الذي ذكر إنما هو ما جاء في سورة الواقعة من قوله تعالى: {وكُنتُمْ أَزْوَاجاً ثَلَاثَةً} [الواقعة: 7].

ولا ريب في أن الله سبحانه إنما خاطب بذلك المكلفين من بني آدم، إذ هم المستحقون للثواب والعقاب المترتبين على السعادة والشقاوة، وذلك بحسب إيمانهم وتصديقهم أو كفرهم وتكذيبهم.

وبالكلام على الأصناف الأربعة المتقدم ذكرهم، وعلى ما تضمنه كتاب الحميدي من حكم المكلفين، وانقسامهم إلى ما انقسموا إليه يتم الكلام على جميع ولد (1) آدم في المعنى المقصود بهذا الكتاب، ويتبين من مجموع ذلك حكم الموازنة فيمن تلزمه منهم أو تسقط عنه، ثم من تسقط عنه ممن لا يلزمه التكليف يتقرر في جميعهم بالنظر إلى قانون الشرع ما يكون مآلهم إليه في الآخرة.

والقسم الثاني: حكم الجن في القيامة، إذ هم أمة يلزمهم التكليف، وإذا لزمهم التكليف ترتب عليه الجزاء، فلم يكن لهم بد من الموازنة لانقسامهم إلى من يستحق الثواب والعقاب، وتفضيل بعضهم على بعض فيهما كما كان ذلك لبني آدم.

--------------------------------------------

(1) كذا في النسخة (أ) وفي النسخة (ب): أولاد.
আল-হুমাইদির জন্য এই চারটি শ্রেণীকে তাঁর কিতাবের শুরুতে বর্ণিত সাধারণ বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে: (এই পাঠ্যটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, কিয়ামতের দিন আদমের সমস্ত সন্তান তিনটি স্তরে বিভক্ত হবে), কারণ পাগল এবং তাদের সাথে আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তারা আদমের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত হলেও এই তিনটি স্তরের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা তিনি যে পাঠ্যটির কথা উল্লেখ করেছেন তা মূলত সূরা আল-ওয়াকিআহর এই বাণী: "এবং তোমরা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হবে।"

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহ সুবহানাহু এর মাধ্যমে আদমের সন্তানদের মধ্য থেকে কেবল শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ (মুকাল্লাফ) ব্যক্তিদেরই সম্বোধন করেছেন। কারণ তারাই সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত প্রতিদান ও শাস্তির যোগ্য, যা তাদের ঈমান ও বিশ্বাস অথবা কুফর ও মিথ্যারোপের ওপর নির্ভরশীল।

পূর্বে উল্লেখিত চারটি শ্রেণী এবং আল-হুমাইদির কিতাবে বর্ণিত দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের বিধান ও তাদের বিভিন্ন ভাগের আলোচনার মাধ্যমে এই কিতাবের উদ্দিষ্ট অর্থে আদমের সমস্ত (১) সন্তান সম্পর্কে আলোচনা পূর্ণতা পায়। এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে আমলের ভারসাম্যের (মুওয়াজানাহ) বিধানটি স্পষ্ট হয় যে, এটি তাদের মাঝে কার জন্য প্রযোজ্য হবে আর কার ওপর থেকে রহিত হবে। অতঃপর যাদের ওপর শরীয়তের কোনো দায়বদ্ধতা নেই এবং যাদের থেকে এই বিধানটি রহিত হয়, শরীয়তের মূলনীতির আলোকে আখিরাতে তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য কী হবে তা নির্ধারিত হয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিয়ামতের দিন জিনদের বিধান। কেননা তারাও এমন এক জাতি যাদের ওপর শরীয়তের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আর যখন তাদের ওপর দায়বদ্ধতা বর্তায়, তখন তার ভিত্তিতে প্রতিদান ও শাস্তির বিষয়টিও অবধারিত হয়ে পড়ে। ফলে তাদের জন্যও আমলের ভারসাম্যের বিষয়টি অপরিহার্য হয়ে যায়, যেহেতু তারা সওয়াব ও আযাবের যোগ্য হিসেবে বিভক্ত এবং আদমের সন্তানদের ন্যায় তাদের মাঝেও একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য বিদ্যমান।

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডুলিপি (আলিফ)-এ এভাবেই রয়েছে এবং পাণ্ডুলিপি (বা)-তে রয়েছে: সন্তানগণ।