(খণ্ড: ১)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: -)
هداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى - ط دار القلم القسم: الفرق والردود
الكتاب: هداية الحيارى في أجوبة اليهود والنصارى
المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751هـ)
المحقق: محمد أحمد الحاج
الناشر: دار القلم- دار الشامية، جدة - السعودية
الطبعة: الأولى، 1416هـ - 1996م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইহুদি ও খ্রিস্টানদের জবাব প্রসঙ্গে বিভ্রান্তদের পথনির্দেশ - দারুল কলম সংস্করণ বিভাগ: বিভিন্ন দল ও মতবাদ এবং সেগুলোর খণ্ডন
কিতাব: ইহুদি ও খ্রিস্টানদের জবাব প্রসঙ্গে বিভ্রান্তদের পথনির্দেশ
লেখক: মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ আহমদ আল-হজ
প্রকাশক: দারুল কলম - দারুশ শামিয়্যাহ, জেদ্দা - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢١٧)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (وَبِهِ نَسْتَعِينُ)
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي رَضِيَ لَنَا الْإِسْلَامَ دِينًا، وَنَصَبَ لَنَا الدَّلَالَةَ عَلَى صِحَّتِهِ بُرْهَانًا مُبِينًا، وَأَوْضَحَ السَّبِيلَ إِلَى مَعْرِفَتِهِ وَاعْتِقَادِهِ حَقًّا يَقِينًا، وَوَعَدَ مَنْ قَامَ بِأَحْكَامِهِ وَحَفِظَ حُدُودَهُ أَجْرًا جَسِيمًا، وَذَخِرَ لِمَنْ وَافَاهُ بِهِ ثَوَابًا جَزِيلًا وَفَوْزًا عَظِيمًا، وَفَرَضَ عَلَيْنَا الِانْقِيَادَ لَهُ وَلِأَحْكَامِهِ، وَالتَّمَسُّكَ بِدَعَائِمِهِ وَأَرْكَانِهِ، وَالِاعْتِصَامَ بِعُرَاهُ وَأَسْبَابِهِ، فَهُوَ دِينُهُ الَّذِي ارْتَضَاهُ لِنَفْسِهِ وَلِأَنْبِيَائِهِ وَرُسُلِهِ وَمَلَائِكَةِ قُدْسِهِ، فِيهِ (اهْتَدَى) الْمُهْتَدُونَ، وَإِلَيْهِ دَعَا الْأَنْبِيَاءُ وَالْمُرْسَلُونَ أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعًا وَكَرْهًا وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ، فَلَا يَقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ دِينًا سِوَاهُ مِنَ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ.
شَهِدَ بِأَنَّهُ دِينُهُ قَبْلَ شَهَادَةِ الْأَنَامِ، وَأَشَادَ بِهِ وَرَفَعَ ذِكْرَهُ، وَسَمَّى بِهِ أَهْلَهُ وَمَا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ الْأَرْحَامُ، فَقَالَ تَعَالَى: شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি)
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন, এবং এর সত্যতার স্বপক্ষে আমাদের জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণাদি স্থাপন করেছেন, এবং একে জানা ও এর প্রতি সত্য ও নিশ্চিত বিশ্বাসের পথকে সুস্পষ্ট করেছেন। আর তিনি সেই ব্যক্তির জন্য মহা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে এর বিধানাবলী পালন করে এবং এর সীমারেখা সংরক্ষণ করে; আর যে ব্যক্তি এর ওপর অটল থেকে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে তার জন্য প্রচুর সওয়াব ও মহা সফলতা সঞ্চিত রেখেছেন। তিনি আমাদের ওপর এর ও এর বিধানাবলীর আনুগত্য, এর স্তম্ভ ও রুকনসমূহকে আঁকড়ে ধরা এবং এর রজ্জু ও মাধ্যমসমূহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা ফরজ করেছেন। এটিই সেই দ্বীন যা তিনি নিজের জন্য এবং তাঁর নবীগণ, রাসূলগণ ও পবিত্র ফেরেশতাগণের জন্য পছন্দ করেছেন। এর মাধ্যমেই হেদায়াতপ্রাপ্তরা পথ খুঁজে পেয়েছে এবং এর দিকেই নবী ও রাসূলগণ দাওয়াত দিয়েছেন। তবে কি তারা আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু তালাশ করে? অথচ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় তাঁরই অনুগত হয়েছে এবং তাঁরই কাছে তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে। সুতরাং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কারোর কাছ থেকেই তিনি এটি ব্যতীত অন্য কোনো দ্বীন কবুল করবেন না। আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তার থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
সৃষ্টির সাক্ষ্য প্রদানের পূর্বেই তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে এটিই তাঁর দ্বীন, তিনি একে মহিমান্বিত করেছেন ও এর মর্যাদাকে উচ্চকিত করেছেন এবং এর অনুসারীদের নামকরণ করেছেন এমনকি তারা যখন মাতৃগর্ভে ছিল তখনও। মহান আল্লাহ বলেন: আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; এবং ফেরেশতাগণ ও জ্ঞানীগণও (একই সাক্ষ্য দিয়েছেন), তিনি ন্যায়বিচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট দ্বীন হলো একমাত্র ইসলাম।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢١٨)
وَجَعَلَ أَهْلَهُ هُمُ الشُّهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ يَوْمَ يَقُومُ الْأَشْهَادُ، لِمَا فَضَّلَهُمْ بِهِ مِنَ الْإِصَابَةِ فِي الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ وَالْهُدَى وَالنِّيَّةِ وَالِاعْتِقَادِ، إِذْ كَانُوا أَحَقَّ بِذَلِكَ وَأَهْلَهُ فِي سَابِقِ التَّقْدِيرِ، فَقَالَ وَجَاهِدُوا فِي اللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِ هُوَ اجْتَبَاكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِي الدِّينِ مِنْ حَرَجٍ مِلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ هُوَ سَمَّاكُمُ الْمُسْلِمِينَ مِنْ قَبْلُ وَفِي هَذَا لِيَكُونَ الرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ فَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاعْتَصِمُوا بِاللَّهِ هُوَ مَوْلَاكُمْ فَنِعْمَ الْمَوْلَى وَنِعْمَ النَّصِيرُ.
وَحَكَمَ سُبْحَانَهُ بِأَنَّهُ أَحْسَنُ الْأَدْيَانِ، وَلَا أَحْسَنَ مِنْ حُكْمِهِ وَلَا أَصْدَقَ مِنْهُ قِيلًا فَقَالَ: وَمَنْ أَحْسَنُ دِينًا مِمَّنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ وَاتَّبَعَ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَاتَّخَذَ اللَّهُ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا.
وَكَيْفَ لَا يُمَيِّزُ مَنْ لَهُ أَدْنَى عَقْلٍ يَرْجِعُ إِلَيْهِ بَيْنَ دِينٍ قَامَ أَسَاسُهُ وَارْتَفَعَ بِنَاؤُهُ عَلَى عِبَادَةِ الرَّحْمَنِ، وَالْعَمَلِ بِمَا يُحِبُّهُ وَيَرْضَاهُ مَعَ الْإِخْلَاصِ فِي السِّرِّ وَالْإِعْلَانِ، وَمُعَامَلَةِ خَلْقِهِ بِمَا أَمَرَ بِهِ مِنَ الْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ، مَعَ إِيثَارِ طَاعَتِهِ عَلَى طَاعَةِ الشَّيْطَانِ، وَبَيْنَ دِينٍ أُسِّسَ بُنْيَانُهُ عَلَى شَفَا جُرُفٍ هَارٍ فَانْهَارَ بِصَاحِبِهِ فِي النَّارِ، أُسِّسَ عَلَى عِبَادَةِ النِّيرَانِ، وَعَقْدِ الشَّرِكَةِ بَيْنَ الرَّحْمَنِ وَالشَّيْطَانِ، وَبَيْنَهُ وَبَيْنَ الْأَوْثَانِ، أَوْ دِينٍ أُسِّسَ بُنْيَانُهُ عَلَى عِبَادَةِ الصُّلْبَانِ وَالصُّوَرِ الْمَدْهُونَةِ فِي السُّقُوفِ وَالْحِيطَانِ، وَأَنَّ رَبَّ الْعَالَمِينَ نَزَلَ عَنْ كُرْسِيِّ عَظَمَتِهِ فَالْتَحَمَ بِبَطْنِ أُنْثَى، وَأَقَامَ هُنَاكَ مُدَّةً مِنَ الزَّمَانِ، بَيْنَ دَمِ الطَّمْثِ فِي ظُلُمَاتِ
এবং তিনি এই দ্বীনের অনুসারীদেরকে মানুষের ওপর সাক্ষী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন সেই দিন যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে। আর তা করেছেন কথা, কাজ, হিদায়াত, নিয়ত ও আকিদার ক্ষেত্রে তাদেরকে যে সঠিকতা দান করে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তার কারণে। কেননা তারা পূর্বতকদীরে এর অধিক হকদার ও যোগ্য ছিলেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "আর তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন এবং দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি। এটি তোমাদের পিতা ইব্রাহিমের মিল্লাত। তিনি তোমাদের নাম রেখেছেন মুসলিম—পূর্বেও এবং এই কিতাবেও—যাতে রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন এবং তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও। সুতরাং তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো। তিনিই তোমাদের অভিভাবক। কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী তিনি।"
আর সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফয়সালা দিয়েছেন যে এটিই সর্বোত্তম দ্বীন। আর তাঁর ফয়সালার চেয়ে উত্তম ফয়সালা আর কারো নেই এবং তাঁর কথার চেয়ে সত্য কথা আর কারো নেই। তিনি বলেছেন: "ঐ ব্যক্তির চেয়ে দ্বীনের ক্ষেত্রে আর কে উত্তম যে সৎকর্মপরায়ণ হয়ে আল্লাহর নিকট নিজেকে সঁপে দেয় এবং একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহিমের মিল্লাত অনুসরণ করে? আর আল্লাহ ইব্রাহিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।"
সামান্যতম বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন কোনো ব্যক্তি কীভাবে সেই দ্বীনের মাঝে পার্থক্য করবে না—যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে এবং যার ইমারত উচ্চকিত হয়েছে রহমানের ইবাদতের ওপর, তাঁর পছন্দ ও সন্তুষ্টি অনুযায়ী আমল করার ওপর, গোপনে ও প্রকাশ্যে ইখলাসের ওপর এবং তাঁর সৃষ্টির সাথে ন্যায়বিচার ও সদাচরণের ওপর যা তিনি নির্দেশ দিয়েছেন; যেখানে শয়তানের আনুগত্যের চেয়ে তাঁর আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়—এবং সেই দ্বীনের মাঝে যার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে এক পতনোন্মুখ গর্তের কিনারায়, যা তার অনুসারীকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে ধসে পড়ে; যার ভিত্তি রাখা হয়েছে আগুনের ইবাদতের ওপর, রহমান ও শয়তানের মাঝে অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করার ওপর এবং তাঁর ও মূর্তির মাঝে অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করার ওপর। অথবা এমন দ্বীন যার ইমারত নির্মিত হয়েছে ক্রুশের ইবাদত এবং ছাদ ও দেয়ালে অঙ্কিত চিত্রের ওপর, আর এই বিশ্বাসের ওপর যে রাব্বুল আলামিন তাঁর মহত্ত্বের কুরসি থেকে নেমে এসেছেন এবং একজন নারীর জরায়ুর সাথে লীন হয়ে গেছেন, সেখানে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ঋতুস্রাবের রক্তের মাঝে অন্ধকারের মধ্যে অবস্থান করেছেন...
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢١٩)
الْأَحْشَاءِ تَحْتَ مُلْتَقَى الْأَعْكَانِ، ثُمَّ خَرَجَ صَبِيًّا رَضِيعًا شَبَّ شَيْئًا فَشَيْئًا، وَيَبْكِي وَيَأْكُلُ وَيَشْرَبُ وَيَبُولُ وَيَنَامُ وَيَتَقَلَّبُ مَعَ الصِّبْيَانِ، ثُمَّ أُودِعَ فِي الْمَكْتَبِ بَيْنَ صِبْيَانِ الْيَهُودِ يَتَعَلَّمُ مَا يَنْبَغِي لِلْإِنْسَانِ، هَذَا وَقَدْ قُطِعَتْ مِنْهُ الْقُلْفَةُ حِينَ الْخِتَانِ.
ثُمَّ جَعَلَ الْيَهُودُ يَطْرُدُونَهُ وَيُشَرِّدُونَهُ مِنْ مَكَانٍ إِلَى مَكَانٍ، ثُمَّ قَبَضُوا عَلَيْهِ وَأَحَلُّوهُ أَصْنَافَ الذُّلِّ وَالْهَوَانِ، فَعَقَدُوا عَلَى رَأْسِهِ مِنَ الشَّوْكِ تَاجًا مِنْ أَقْبَحِ التِّيجَانِ، وَأَرْكَبُوهُ قَصَبَةً لَيْسَ لَهَا لِجَامٌ وَلَا عِنَانٌ، ثُمَّ سَاقُوهُ إِلَى خَشَبَةِ الصَّلْبِ مَصْفُوعًا مَبْصُوقًا عَلَى وَجْهِهِ، وَهُمْ خَلْفَهُ وَأَمَامَهُ وَعَنْ شَمَائِلِهِ وَعَنِ الْأَيْمَانِ. ثُمَّ أَرْكَبُوهُ ذَلِكَ الْمَرْكَبَ الَّذِي تَقْشَعِرُّ مِنْهُ الْقُلُوبُ مَعَ الْأَبْدَانِ، ثُمَّ شُدَّتْ بِالْحِبَالِ يَدَاهُ وَالرِّجْلَانِ، ثُمَّ خَالَطَهَا تِلْكَ الْمَسَامِيرُ الَّتِي تَكْسِرُ الْعِظَامَ وَتُمَزِّقُ اللُّحْمَانَ، وَهُوَ يَسْتَغِيثُ: يَا قَوْمِ ارْحَمُونِي! فَلَا يَرْحَمُهُ مِنْهُمْ إِنْسَانٌ.
هَذَا وَهُوَ مُدَبِّرُ الْعَالَمِ الْعُلْوِيِّ وَالسُّفْلِيِّ الَّذِي يَسْأَلُهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ.
নাড়িভুঁড়ির অভ্যন্তরে চামড়ার ভাঁজগুলোর মিলনস্থলের নিচে, এরপর তিনি এক দুগ্ধপোষ্য শিশু হিসেবে ভূমিষ্ঠ হলেন এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলেন। তিনি কাঁদতেন, আহার ও পান করতেন, প্রস্রাব করতেন, ঘুমাতেন এবং অন্যান্য শিশুদের সাথে মেলামেশা করতেন। এরপর তাঁকে ইয়াহুদি শিশুদের মাঝে মক্তবে সোপর্দ করা হলো যাতে তিনি মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াদি শিক্ষা করেন; আর খতনার সময় তাঁর লিঙ্গাগ্রচর্ম কেটে ফেলা হয়েছিল।
অতঃপর ইয়াহুদিরা তাঁকে বিতাড়িত করতে এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে উদ্বাস্তু করে ঘুরাতে লাগল। এরপর তারা তাঁকে পাকড়াও করল এবং তাঁর ওপর নানা প্রকার লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দিল। তারা তাঁর মাথায় কাঁটার এক মুকুট পরিয়ে দিল যা ছিল অত্যন্ত কদর্য। তারা তাঁকে এমন এক দণ্ডের ওপর আরোহণ করাল যার কোনো লাগাম বা নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এরপর তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করার কাষ্ঠখণ্ডের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে গেল, এমতাবস্থায় যে তাঁর চেহারায় চপেটাঘাত করা হচ্ছিল এবং থুতু নিক্ষেপ করা হচ্ছিল; আর তারা তাঁর সামনে-পেছনে এবং ডানে-বামে বেষ্টন করে ছিল। এরপর তারা তাঁকে এমন এক বাহনে চড়ালো যা দেখে অন্তর ও শরীর শিউরে ওঠে। এরপর দড়ি দিয়ে তাঁর দুই হাত ও দুই পা শক্ত করে বাঁধা হলো। অতঃপর সেগুলোতে সেই পেরেকগুলো বিদ্ধ করা হলো যা হাড় চূর্ণ করে দেয় এবং গোশত ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। এমতাবস্থায় তিনি আর্তনাদ করছিলেন: "হে লোকসকল! আমার প্রতি দয়া করো!" কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো মানুষই তাঁর প্রতি দয়া করল না।
অথচ (তাদের দাবি অনুযায়ী) তিনিই নাকি ঊর্ধ্ব ও নিম্নজগতের পরিচালক, আসমান ও জমিনের সকলে যাঁর কাছে প্রার্থনা করে এবং যিনি প্রতিদিন কোনো না কোনো মহান কাজে ব্যাপৃত থাকেন।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢٠)
ثُمَّ مَاتَ وَدُفِنَ فِي التُّرَابِ تَحْتَ صُمِّ الْجَنَادِلِ وَالصَّوَّانِ، ثُمَّ قَامَ مِنَ الْقَبْرِ وَصَعِدَ إِلَى عَرْشِهِ وَمُلْكِهِ بَعْدَ أَنْ كَانَ مَا كَانَ.
فَمَا ظَنُّكَ بِفُرُوعٍ هَذَا أَصْلُهَا الَّذِي قَامَ عَلَيْهِ الْبُنْيَانُ، أَوْ دِينٍ أُسِّسَ بُنْيَانُهُ عَلَى عِبَادَةِ الْإِلَهِ الْمَنْحُوتِ بِالْأَيْدِي بَعْدَ نَحْتِ الْأَفْكَارِ مِنْ سَائِرِ الْأَجْنَاسِ عَلَى اخْتِلَافِ الْأَنْوَاعِ وَالْأَصْنَافِ وَالْأَلْوَانِ، وَالْخُضُوعِ لَهُ وَالتَّذَلُّلِ وَالْخُرُورِ سُجُودًا عَلَى الْأَذْقَانِ، لَا يُؤْمِنُ مَنْ يَدِينُ بِهِ بِاللَّهِ وَلَا مَلَائِكَتِهِ وَلَا كُتُبِهِ وَلَا رُسُلِهِ وَلَا لِقَائِهِ يَوْمَ يَجْزِي الْمُسِيءَ بِإِسَاءَتِهِ وَالْمُحْسِنَ بِالْإِحْسَانِ. أَوْ دِينِ الْأُمَّةِ الْغَضَبِيَّةِ الَّذِينَ انْسَلَخُوا مِنْ رِضْوَانِ اللَّهِ كَانْسِلَاخِ الْحَيَّةِ مِنْ قِشْرِهَا، وَبَاءُوا بِالْغَضَبِ وَالْخِزْيِ وَالْهَوَانِ، وَفَارَقُوا أَحْكَامَ التَّوْرَاةِ وَنَبَذُوهَا وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ، وَاشْتَرَوْا بِهَا الْقَلِيلَ مِنَ الْإِيمَانِ، فَتَرَحَّلَ عَنْهُمُ التَّوْفِيقُ وَقَارَنَهُمُ الْخِذْلَانُ، وَاسْتَبْدَلُوا بِوِلَايَةِ اللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَأَوْلِيَائِهِ وِلَايَةَ الشَّيْطَانِ، أَوْ دِينٍ أُسِّسَ بُنْيَانُهُ عَلَى أَنَّ رَبَّ الْعَالَمِينَ وُجُودٌ مُطْلَقٌ فِي الْأَذْهَانِ، لَا حَقِيقَةَ لَهُ فِي الْأَعْيَانِ، لَيْسَ بِدَاخِلٍ فِي الْعَالَمِ وَلَا خَارِجٍ عَنْهُ، وَلَا مُتَّصِلٍ بِهِ وَلَا مُنْفَصِلٍ عَنْهُ، وَلَا مُحَايِثٍ وَلَا مُبَايِنٍ لَهُ، لَا يَسْمَعُ، وَلَا يَرَى، وَلَا يَعْلَمُ شَيْئًا مِنَ الْمَوْجُودَاتِ، وَلَا يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ، لَا حَيَاةَ لَهُ وَلَا قُدْرَةَ، وَلَا إِرَادَةَ
অতঃপর সে মৃত্যুবরণ করল এবং মাটির নিচে শক্ত পাথর ও গ্রানাইটের স্তূপের নিচে তাকে দাফন করা হলো। এরপর সে কবর থেকে উঠল এবং যা হওয়ার তা হওয়ার পর তার আরশ ও রাজত্বের দিকে আরোহণ করল।
সুতরাং সেই শাখাগুলো সম্পর্কে তোমার ধারণা কী, যার মূল ভিত্তিই এটি যার ওপর ইমারত দাঁড়িয়ে আছে? অথবা এমন এক ধর্ম যার ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেই মাবুদের ইবাদতের ওপর যাকে হাত দিয়ে খোদাই করা হয়েছে, বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী, বর্ণ ও প্রকারভেদে চিন্তা-চেতনা খোদাই করার পর; এবং তার প্রতি আনুগত্য, বিনয় এবং থুতনির ওপর লুটিয়ে পড়ে সিজদাবনত হওয়ার ওপর? যে ব্যক্তি এই ধর্ম পালন করে সে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং সেই দিনের সাক্ষাতে বিশ্বাস করে না, যেদিন তিনি মন্দ কর্মীকে তার মন্দের বদলা দেবেন এবং সৎকর্মীকে তার সৎকর্মের প্রতিদান দেবেন। অথবা সেই অভিশপ্ত জাতির ধর্ম, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে নিজেদের বের করে নিয়েছে যেভাবে সাপ তার খোলস থেকে বের হয়ে আসে; এবং তারা গজব, লাঞ্ছনা ও অপমানের শিকার হয়েছে। তারা তাওরাতের বিধানসমূহ ত্যাগ করেছে এবং তাকে নিজেদের পিঠের পেছনে ফেলে দিয়েছে এবং তার বিনিময়ে সামান্য ইমান ক্রয় করেছে। ফলে তাওফিক তাদের থেকে বিদায় নিয়েছে এবং লাঞ্ছনা তাদের সঙ্গী হয়েছে; আর তারা আল্লাহর অভিভাবকত্ব, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর রাসূলগণ ও তাঁর বন্ধুদের পরিবর্তে শয়তানের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছে। অথবা এমন এক ধর্ম যার ইমারত এই ভিত্তির ওপর গড়ে উঠেছে যে, রাব্বুল আলামীন কেবল মনে বিদ্যমান এক বিমূর্ত সত্তা, বাস্তবে যাঁর কোনো হাকিকত বা অস্তিত্ব নেই। তিনি জগতের ভেতরেও নন, বাইরেও নন; জগতের সাথে সম্পৃক্তও নন, বিচ্ছিন্নও নন; তিনি জগতের সাথে মিশে থাকাও নন, আবার জগৎ থেকে আলাদাও নন। তিনি শোনেন না, দেখেন না এবং বিদ্যমান কোনো কিছু সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তিনি যা ইচ্ছা তা করেন না, তাঁর কোনো জীবন নেই, নেই কোনো ক্ষমতা এবং নেই কোনো ইচ্ছা।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢١)
وَلَا اخْتِيَارَ، وَلَمْ يَخْلُقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ، بَلْ لَمْ تَزَلِ السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ مَعَهُ، وُجُودُهَا مُقَارِنٌ لِوُجُودِهِ، لَمْ يُحْدِثْهَا بَعْدَ عَدَمِهَا وَلَا لَهُ قُدْرَةٌ عَلَى إِفْنَائِهَا بَعْدَ وُجُودِهَا، مَا أَنْزَلَ عَلَى بَشَرٍ كِتَابًا، وَلَا أَرْسَلَ إِلَى النَّاسِ رَسُولًا، فَلَا شَرْعَ يُتَّبَعُ، وَلَا رَسُولَ يُطَاعُ، وَلَا دَارَ بَعْدَ هَذِهِ الدَّارِ، وَلَا مَبْدَأَ لِلْعَالَمِ وَلَا مَعَادَ، وَلَا بَعْثَ وَلَا نُشُورَ، وَلَا جَنَّةَ وَلَا نَارَ، إِنْ هِيَ إِلَّا تِسْعَةُ أَفْلَاكٍ وَعَشَرَةُ عُقُولٍ، وَأَرْبَعَةُ أَرْكَانٍ، وَأَفْلَاكٌ تَدُورُ، وَنُجُومٌ تَسِيرُ، وَأَرْحَامٌ تَدْفَعُ، وَأَرْضٌ تَبْلَعُ وَمَا هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلَّا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلَّا يَظُنُّونَ وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَلَا ضِدَّ لَهُ وَلَا نِدَّ لَهُ، وَلَا صَاحِبَةَ لَهُ وَلَا وَلَدَ لَهُ، وَلَا كُفُؤَ لَهُ، تَعَالَى عَنْ إِفْكِ الْمُبْطِلِينَ، وَخَرَصِ الْكَاذِبِينَ، وَتَقَدَّسَ عَنْ شِرْكِ الْمُشْرِكِينَ، وَأَبَاطِيلِ الْمُلْحِدِينَ، كَذَبَ الْعَادِلُونَ بِهِ سِوَاهُ، وَضَلُّوا ضَلَالًا بَعِيدًا. وَخَسِرُوا خُسْرَانًا مُبِينًا مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذًا لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ.
এবং কোনো স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা নেই; আর তিনি আসমান ও জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেননি, বরং আসমান ও জমিন অনাদিকাল থেকে তাঁর সাথেই রয়েছে। এগুলোর অস্তিত্ব তাঁর অস্তিত্বের সাথে অবিচ্ছেদ্য। তিনি এগুলোকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনেননি এবং অস্তিত্ব লাভের পর এগুলোকে ধ্বংস করার ক্ষমতাও তাঁর নেই। তিনি কোনো মানুষের নিকট কোনো কিতাব অবতীর্ণ করেননি এবং মানুষের নিকট কোনো রসূল প্রেরণ করেননি। ফলে কোনো অনুসরণযোগ্য শরীয়ত নেই, আর নেই কোনো আনুগত্যযোগ্য রসূল। এই জগতের পর আর কোনো জগত নেই, জগতের কোনো সূচনাও নেই এবং নেই কোনো প্রত্যাবর্তন। পুনরুত্থান ও হাশর বলতে কিছু নেই, নেই জান্নাত ও জাহান্নাম। জগত বলতে কেবল নয়টি আকাশমণ্ডল, দশটি বুদ্ধি ও চারটি উপাদান; আর রয়েছে ঘূর্ণায়মান কক্ষপথ, বিচরণশীল নক্ষত্ররাজি, প্রসবকারী জরায়ু এবং গ্রাসকারী পৃথিবী। তাদের মতে, এটি কেবল আমাদের পার্থিব জীবন; আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি এবং কাল ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না। অথচ এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল ধারণা পোষণ করে। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। তাঁর কোনো প্রতিপক্ষ নেই, নেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই এবং নেই কোনো সন্তান। তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। বাতিলপন্থীদের অপবাদ ও মিথ্যাবাদীদের ভিত্তিহীন কল্পনা থেকে তিনি সুউচ্চ এবং তিনি পবিত্র মুশরিকদের শিরক ও নাস্তিকদের অসার প্রলাপ থেকে। যারা তাঁর সাথে অন্যদের সমতুল্য সাব্যস্ত করেছে তারা মিথ্যা বলেছে এবং তারা সুদূরপ্রসারী পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত হয়েছে। তারা সুস্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো ইলাহ নেই; যদি থাকতো তবে প্রত্যেক ইলাহ আপন সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং তারা একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর পরিজ্ঞাতা; তারা যা শিরক করে তা থেকে তিনি অতি ঊর্ধ্বে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢٢)
وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَصَفْوَتُهُ مِنْ خَلْقِهِ وَخِيرَتُهُ مِنْ بَرِيَّتِهِ، وَأَمِينُهُ عَلَى وَحْيِهِ، وَسَفِيرُهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ عِبَادِهِ: ابْتَعَثَهُ بِخَيْرِ مِلَّةٍ وَأَحْسَنِ شِرْعَةٍ، وَأَظْهَرِ دَلَالَةٍ، وَأَوْضَحِ حُجَّةٍ، وَأَبْيَنِ بُرْهَانٍ إِلَى جَمِيعِ الْعَالَمِينَ، إِنْسِهِمْ وَجِنِّهِمْ، عَرَبِهِمْ وَعَجَمِهِمْ، حَاضِرِهِمْ وَبَادِيهِمْ، الَّذِي بَشَّرَتْ بِهِ الْكُتُبُ السَّالِفَةُ، وَأَخْبَرَتْ بِهِ الرُّسُلُ الْمَاضِيَةُ، وَجَرَى ذِكْرُهُ فِي الْأَعْصَارِ فِي الْقُرَى وَالْأَمْصَارِ وَالْأُمَمِ الْخَالِيَةِ، ضُرِبَتْ لِنُبُوَّتِهِ الْبَشَائِرُ مِنْ عَهْدِ آدَمَ أَبِي الْبَشَرِ، إِلَى عَهْدِ الْمَسِيحِ ابْنِ الْبَشَرِ، كُلَّمَا قَامَ رَسُولٌ أُخِذَ عَلَيْهِ الْمِيثَاقُ بِالْإِيمَانِ بِهِ وَالْبِشَارَةِ بِنُبُوَّتِهِ حَتَّى انْتَهَتِ النُّبُوَّةُ إِلَى كَلِيمِ الرَّحْمَنِ مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ، فَأَذَّنَ بِنُبُوَّتِهِ عَلَى رُءُوسِ الْأَشْهَادِ بَيْنَ بَنِي إِسْرَائِيلَ مُعْلِنًا بِالْأَذَانِ " جَاءَ اللَّهُ مِنْ طُورِ سَيْنَاءَ، وَأَشْرَقَ مِنْ سَاعِيرَ، وَاسْتَعْلَنَ مِنْ جِبَالِ فَارَانَ ".
إِلَى أَنْ ظَهَرَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَرُوحُهُ وَكَلِمَتُهُ الَّتِي أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ، فَأَذَّنَ بِنُبُوَّتِهِ أَذَانًا لَمْ يُؤَذِّنْهُ أَحَدٌ مِثْلُهُ قَبْلَهُ، فَقَامَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ مَقَامَ الصَّادِقِ النَّاصِحِ وَكَانُوا لَا يُحِبُّونَ النَّاصِحِينَ، فَقَالَ: إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ تَاللَّهِ لَقَدْ أَذَّنَ الْمَسِيحُ أَذَانًا أَسْمَعَ الْبَادِيَ وَالْحَاضِرَ، فَأَجَابَهُ الْمُؤْمِنُ الْمُصَدِّقُ، وَقَامَتْ حُجَّةُ اللَّهِ عَلَى الْجَاحِدِ الْكَافِرِ، اللَّهُ أَكْبَرُ، عَمَّا يَقُولُ فِيهِ الْمُبْطِلُونَ، وَيَصِفُهُ الْكَاذِبُونَ، وَيَنْسِبُهُ إِلَيْهِ الْمُفْتَرُونَ وَالْجَاحِدُونَ، ثُمَّ قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল, তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত এবং তাঁর মাখলুকের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর ও তাঁর বান্দাদের মাঝে তাঁর দূত। তিনি তাঁকে সর্বোত্তম মিল্লাত (ধর্মাদর্শ), সর্বোৎকৃষ্ট শরীয়ত, প্রোজ্জ্বলতম নিদর্শন, সুস্পষ্টতম দলিল এবং উজ্জ্বলতম প্রমাণসহ জগতসমূহের সকলের নিকট—মানুষ ও জিন, আরব ও অনারব, শহরবাসী ও মরুবাসী নির্বিশেষে সকলের প্রতি প্রেরণ করেছেন। যাঁর সম্পর্কে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ সুসংবাদ দিয়েছে এবং বিগত রাসূলগণ সংবাদ দান করেছেন, আর যাঁর আলোচনা বিগত সময়সমূহে জনপদে, নগরে ও অতীত জাতিসমূহের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। মানবজাতির পিতা আদমের যুগ থেকে নিয়ে মানবসন্তান ঈসা মসীহের যুগ পর্যন্ত তাঁর নবুওয়াতের সুসংবাদ ধ্বনিত হয়েছে। যখনই কোনো রাসূলের আবির্ভাব ঘটেছে, তাঁর প্রতি ঈমান আনার এবং তাঁর নবুওয়াতের সুসংবাদ দেওয়ার অঙ্গীকার নেওয়া হয়েছে, এমনকি নবুওয়াত রহমান আল্লাহর সাথে কথোপকথনকারী মূসা ইবনে ইমরানের নিকট এসে পৌঁছেছে। অতঃপর তিনি বনী ইসরাঈলের সামনে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তাঁর নবুওয়াতের ঘোষণা দিলেন এই আহ্বান প্রচার করার মাধ্যমে যে, "আল্লাহ সিনাই পর্বত থেকে এসেছেন, সাঈর থেকে উদ্ভাসিত হয়েছেন এবং পারান পর্বতমালা থেকে আত্মপ্রকাশ করেছেন।"
অবশেষে মারইয়াম-পুত্র মসীহ আত্মপ্রকাশ করলেন, যিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর পক্ষ থেকে আগত রূহ এবং তাঁর সেই কালিমা (বাণী) যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন। তিনি তাঁর নবুওয়াতের এমন এক ঘোষণা দিলেন যা ইতিপূর্বে অন্য কেউ দেয়নি। তিনি বনী ইসরাঈলের মধ্যে একজন সত্যবাদী হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দণ্ডায়মান হলেন, যদিও তারা হিতাকাঙ্ক্ষীদের পছন্দ করত না। তিনি বললেন: "আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আগমনকারী একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা, যার নাম হবে আহমদ।" অতঃপর তিনি যখন তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসলেন, তখন তারা বলল: "এ তো এক সুস্পষ্ট জাদু।" আল্লাহর কসম! মসীহ এমন এক ঘোষণা দিয়েছিলেন যা গ্রামবাসী ও শহরবাসী সকলেই শুনেছিল। ফলে বিশ্বাসী ও সত্যায়নকারীরা তাতে সাড়া দিয়েছিল এবং অস্বীকারকারী কাফিরদের বিরুদ্ধে আল্লাহর হুজ্জত (প্রমাণ) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাতিলপন্থীরা তাঁর সম্পর্কে যা বলে, মিথ্যাচারীরা তাঁর যে বর্ণনা দেয় এবং অপবাদকারী ও অস্বীকারকারীরা তাঁর প্রতি যা আরোপ করে, আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও মহান। অতঃপর তিনি বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।"
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢٣)
وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَلَا نِدَّ لَهُ وَلَا كُفُؤَ لَهُ، وَلَا صَاحِبَةَ لَهُ وَلَا وَلَدَ لَهُ، وَلَا وَالِدَ لَهُ بَلْ هُوَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي: لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ ثُمَّ رَفَعَ صَوْتَهُ بِالشَّهَادَةِ لِأَخِيهِ وَأَوْلَى النَّاسِ بِهِ بِأَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، وَأَنَّهُ أَرَكُونُ الْعَالَمِ، وَأَنَّهُ رُوحُ الْحَقِّ الَّذِي لَا يَتَكَلَّمُ مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ، إِنَّمَا يَقُولُ مَا يُقَالُ لَهُ، وَأَنَّهُ يُخْبِرُ النَّاسَ بِكُلِّ مَا أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ، وَيَسُوسُهُمْ بِالْحَقِّ، وَيُخْبِرُهُمْ بِالْغُيُوبِ وَيُحْيِيهِمْ بِالتَّأْوِيلِ، وَيُوَبِّخُ الْعَالَمَ عَلَى الْخَطِيئَةِ، وَيُخَلِّصُهُمْ مِنْ يَدِ الشَّيْطَانِ، وَتَسْتَمِرُّ شَرِيعَتُهُ وَسُلْطَانُهُ إِلَى آخِرِ الدَّهْرِ، وَصَرَّحَ فِي آذَانِهِ بِاسْمِهِ وَنَعْتِهِ، وَصِفَتِهِ وَسِيرَتِهِ، حَتَّى كَأَنَّهُمْ يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ عِيَانًا، ثُمَّ قَالَ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ خَلْفَ إِمَامِ الْمُرْسَلِينَ، وَسَيِّدِ وَلَدِ آدَمَ أَجْمَعِينَ، حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ بِاتِّبَاعِ مَنِ السَّعَادَةُ فِي اتِّبَاعِهِ، وَالْفَلَاحُ فِي الدُّخُولِ فِي جُمْلَةِ أَشْيَاعِهِ، فَأَذَّنَ وَأَقَامَ وَتَوَلَّى وَقَالَ: لَسْتُ أَدَعُكُمْ كَالْأَيْتَامِ، وَسَأَعُودُ وَأُصَلِّي وَرَاءَ هَذَا الْإِمَامِ، هَذَا عَهْدِي إِلَيْكُمْ إِنْ حَفِظْتُمُوهُ دَامَ لَكُمُ الْمَلِكُ إِلَى آخَرِ الْأَيَّامِ. فَصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ مِنْ نَاصِحٍ بَشَّرَ بِرِسَالَةِ أَخِيهِ عَلَيْهِمَا أَفْضَلُ الصَّلَاةِ وَالسَّلَامِ، وَصَدَّقَهُ أَخُوهُ وَنَزَّهَهُ عَمَّا قَالَ فِيهِ وَفِي أُمِّهِ أَعْدَاؤُهُ الْمَغْضُوبُ عَلَيْهِمْ مِنَ الْإِفْكِ وَالْبَاطِلِ وَزُورِ الْكَلَامِ، كَمَا نَزَّهَ رَبَّهُ وَخَالِقَهُ وَمُرْسِلَهُ عَمَّا قَالَ فِيهِ الْمُثَلِّثَةُ عُبَّادُ الصَّلِيبِ، وَنَسَبُوهُ إِلَيْهِ مِنَ النَّقْصِ وَالْعَيْبِ وَالذَّمِّ.
أَمَّا بَعْدُ:
فَإِنَّ اللَّهَ عز وجل، جَلَّ ثَنَاؤُهُ وَتَقَدَّسَتْ أَسْمَاؤُهُ وَتَبَارَكَ اسْمُهُ وَتَعَالَى جَدُّهُ وَلَا إِلَهَ غَيْرُهُ، جَعَلَ الْإِسْلَامَ عِصْمَةً لِمَنْ لَجَأَ إِلَيْهِ، وَجُنَّةً لِمَنِ اسْتَمْسَكَ بِهِ، وَعَضَّ بِالنَّوَاجِذِ عَلَيْهِ، فَهُوَ حَرَمُهُ الَّذِي مَنْ دَخَلَهُ كَانَ مِنَ الْآمِنِينَ، وَحِصْنُهُ الَّذِي مَنْ لَجَأَ إِلَيْهِ كَانَ مِنَ الْفَائِزِينَ،
তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁর কোনো সমকক্ষ নেই এবং তাঁর সদৃশ কেউ নেই। তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই এবং তাঁর কোনো সন্তান নেই, আর তাঁর কোনো জন্মদাতাও নেই; বরং তিনি এক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। অতঃপর তিনি তাঁর ভ্রাতা ও তাঁর সর্বাধিক নিকটবর্তী ব্যক্তির জন্য উচ্চকণ্ঠে সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তিনি জগতের প্রধান নেতা, এবং তিনি সত্যের আত্মা যিনি নিজের থেকে কিছু বলেন না, বরং তাঁকে যা বলা হয় তিনি কেবল তাই বলেন। আর তিনি মানুষকে তা অবহিত করবেন যা আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন এবং তিনি সত্যের সাথে তাদের পরিচালনা করবেন। তিনি তাদের অদৃশ্যের সংবাদ দিবেন এবং সঠিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদের জীবিত করবেন। তিনি জগতকে পাপের জন্য তিরস্কার করবেন এবং তাদের শয়তানের হাত থেকে মুক্ত করবেন। আর তাঁর শরীয়ত ও রাজত্ব মহাকালের শেষ অবধি বলবৎ থাকবে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তাঁদের কানে কানে তাঁর নাম, গুণাবলী, বৈশিষ্ট্য ও জীবনচরিত বর্ণনা করলেন, এমনকি মনে হচ্ছিল যেন তাঁরা তাঁকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন। এরপর তিনি বললেন, সকল রাসূলের ইমাম এবং সমস্ত আদম সন্তানের নেতার পেছনে সালাতের জন্য এসো। সাফল্যের দিকে এসো সেই ব্যক্তির অনুসরণের মাধ্যমে, যাঁর অনুসরণের মধ্যে রয়েছে সৌভাগ্য এবং যাঁর অনুসারী দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মধ্যে রয়েছে চরম সার্থকতা। অতঃপর তিনি আযান দিলেন, ইকামত দিলেন এবং ফিরে গিয়ে বললেন: আমি তোমাদের এতিমদের মতো ফেলে যাব না। আমি পুনরায় ফিরে আসব এবং এই ইমামের পেছনে সালাত আদায় করব। এটিই তোমাদের প্রতি আমার অঙ্গীকার; যদি তোমরা তা রক্ষা করো, তবে শেষ দিন পর্যন্ত তোমাদের রাজত্ব টিকে থাকবে। আল্লাহ তাঁর উপর রহমত বর্ষণ করুন সেই উপদেশদাতারূপে যিনি তাঁর ভ্রাতার রিসালাতের সুসংবাদ দিয়েছেন—তাঁদের উভয়ের প্রতি সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আর তাঁর ভ্রাতা তাঁকে সত্য বলে স্বীকার করেছেন এবং তিনি ও তাঁর জননী সম্পর্কে অভিশপ্ত শত্রুরা যে অপবাদ, বাতিল ও মিথ্যা কথা রটনা করেছিল, তা থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে তিনি তাঁর প্রতিপালক, স্রষ্টা ও প্রেরণকর্তাকে সেই সমস্ত বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন যা ত্রিত্ববাদী ক্রুশ-পূজারিরা তাঁর সম্পর্কে বলেছে এবং তাঁর প্রতি যেসব ত্রুটি, খুঁত ও নিন্দা আরোপ করেছে।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা মহিমান্বিত, যাঁর নামসমূহ পবিত্র, যাঁর নাম বরকতময়, যাঁর মাহাত্ম্য সুউচ্চ এবং তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই—তিনি ইসলামকে সুরক্ষা বানিয়েছেন তার জন্য যে এর আশ্রয় গ্রহণ করে, আর ঢাল বানিয়েছেন তার জন্য যে একে মজবুতভাবে ধারণ করে এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকে। এটি হলো তাঁর এমন এক পবিত্র আশ্রয়স্থল যেখানে যে প্রবেশ করবে সে নিরাপদদের অন্তর্ভুক্ত হবে; এবং এটি তাঁর এমন এক দুর্গ যে এখানে আশ্রয় গ্রহণ করবে সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢٤)
وَمَنِ انْقَطَعَ دُونَهُ كَانَ مِنَ الْهَالِكِينَ. وَأَبَى أَنْ يَقْبَلَ مِنْ أَحَدٍ دِينًا سِوَاهُ، وَلَوْ بَذَلَ فِي الْمَسِيرِ إِلَيْهِ جَهْدَهُ وَاسْتَفْرَغَ قُوَاهُ، وَأَظْهَرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ حَتَّى طَبَقَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا، وَسَارَ مَسِيرَ الشَّمْسِ فِي الْأَقْطَارِ. وَبَلَغَ إِلَى حَيْثُ انْتَهَى اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ، وَعَلَتِ الدَّعْوَةُ الْإِسْلَامِيَّةُ وَارْتَفَعَتْ غَايَةَ الِارْتِفَاعِ وَالِاعْتِلَاءِ. بِحَيْثُ صَارَ أَصْلُهَا ثَابِتًا وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ فَتَضَاءَلَتْ لَهَا جَمِيعُ الْأَدْيَانِ، وَخَرَّتْ تَحْتَهَا الْأُمَمُ مُنْقَادَةً بِالْخُضُوعِ وَالذُّلِّ وَالْإِذْعَانِ، وَنَادَى الْمُنَادِي بِشِعَارِهَا فِي جَوِّ السَّمَاءِ بَيْنَ الْخَافِقَيْنِ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ صَارِخًا بِالشَّهَادَتَيْنِ، حَتَّى بَطَلَتْ دَعْوَى الشَّيَاطِينِ، وَتَلَاشَتْ عِبَادَةُ الْأَوْثَانِ، وَاضْمَحَلَّتْ عِبَادَةُ النِّيرَانِ، وَذَلَّتِ الْمُثَلِّثَةُ عُبَّادُ الصُّلْبَانِ، وَتَقَطَّعَتِ الْأُمَّةُ الْغَضَبِيَّةُ فِي الْأَرْضِ كَتَقَطُّعِ السَّرَابِ فِي الْقِيعَانِ، وَصَارَتْ كَلِمَةُ الْإِسْلَامِ هِيَ الْعُلْيَا، وَصَارَ لَهَا فِي قُلُوبِ الْخَلَائِقِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى، وَقَامَتْ بَرَاهِينُهُ وَحُجَجُهُ عَلَى سَائِرِ الْأُمَمِ فِي الْآخِرَةِ وَالْأُولَى، وَبَلَغَتْ مَنْزِلَتُهُ فِي الْعُلُوِّ وَالرَّفْعَةِ الْغَايَةَ الْقُصْوَى، وَأَقَامَ لَهُ وَلَيُّهُ وَمُصْطَفَاهُ أَعْوَانًا وَأَنْصَارًا نَشَرُوا أَلْوِيَتَهُ وَأَعْلَامَهُ، وَحَفِظُوا مِنَ التَّغْيِيرِ وَالتَّبْدِيلِ حُدُودَهُ وَأَحْكَامَهُ، وَبَلَّغُوا إِلَى نُظَرَائِهِمْ كَمَا بَلَّغَ إِلَيْهِمْ مَنْ قَبْلَهُمْ حَلَالَهُ وَحَرَامَهُ، فَعَظَّمُوا شَعَائِرَهُ، وَعَلَّمُوا شَرَائِعَهُ، وَجَاهَدُوا أَعْدَاءَهُ بِالْحُجَّةِ وَالْبُرْهَانِ، حَتَّى اسْتَغْلَظَ وَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ وَيَغِيظُ بِهِمُ الْكُفَّارَ، وَعَلَا بُنْيَانُهُ الْمُؤَسَّسُ عَلَى تَقْوَى مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ، إِذْ كَانَ بِنَاءُ غَيْرِهِ مُؤَسَّسًا عَلَى شَفَا جُرُفٍ هَارٍ. فَتَبَارَكَ الَّذِي رَفَعَ مَنْزِلَتَهُ، وَأَعْلَى كَلِمَتَهُ، وَفَخَّمَ شَأْنَهُ، وَأَشَادَ بُنْيَانَهُ، وَأَذَلَّ مُخَالِفِيهِ وَمُعَانَدِيهِ، وَكَبَتَ مَنْ يُبْغِضُهُ وَيُعَادِيهِ، وَوَسَمَهُمْ بِأَنَّهُمْ شَرُّ الدَّوَابِّ، وَأَعَدَّ لَهُمْ إِذَا قَدِمُوا عَلَيْهِ أَلِيمَ الْعَذَابِ وَالْعِقَابِ، وَحَكَمَ لَهُمْ بِأَنَّهُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا مِنَ الْأَنْعَامِ، إِذِ اسْتَبْدَلُوا الشِّرْكَ بِالتَّوْحِيدِ، وَالضَّلَالَ بِالْهُدَى، وَالْكُفْرَ بِالْإِسْلَامِ، وَحَكَمَ سُبْحَانَهُ لِعُلَمَاءِ الْكُفْرِ وَعِبَادِهِ حُكْمًا يَشْهَدُ ذَوُو الْعُقُولِ بِصِحَّتِهِ وَيَرَوْنَهُ شَيْئًا حَسَنًا، فَقَالَ تَعَالَى:
আর যে কেউ তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হলো সে ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হলো। তিনি ব্যতিরেকে অন্য কোনো দ্বীন কারো কাছ থেকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন, যদিও সে তাঁর দিকে যাত্রাপথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করে এবং তার যাবতীয় শক্তি নিঃশেষ করে দেয়। এবং তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেছেন, এমনকি তা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমকে আবৃত করে ফেলেছে এবং দিগন্তজুড়ে সূর্যের পরিক্রমণের ন্যায় পরিব্যাপ্ত হয়েছে। এবং তা সেখানে পৌঁছেছে যেখানে রাত ও দিনের পরিসমাপ্তি ঘটে। আর ইসলামী দাওয়াত উচ্চ হয়েছে এবং উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের চরম সীমায় আরোহণ করেছে। এমনভাবে যে, এর মূল সুদৃঢ় হয়েছে এবং এর শাখা আকাশে বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এর সম্মুখে অন্য সকল ধর্ম ম্লান হয়ে গেছে এবং জাতিসমূহ বিনয়, নম্রতা ও আনুগত্যের সাথে এর পদতলে লুটিয়ে পড়েছে। আর ঘোষণাকারী আসমানের দিগন্ত থেকে দিগন্তে এর স্লোগান নিয়ে ঘোষণা দিয়েছে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল'—এই দুই শাহাদাতের উচ্চধ্বনি দিয়ে। এমনকি শয়তানদের দাবি বাতিল হয়ে গেছে, মূর্তি পূজা বিলুপ্ত হয়েছে, অগ্নিপূজা স্তিমিত হয়ে গেছে এবং ক্রুশপূজারী ত্রিত্ববাদীরা লাঞ্ছিত হয়েছে। আর অভিশপ্ত জাতিটি জমিনে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে যেমন সমতলে মরীচিকা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়। ইসলামের বাণীই সর্বোচ্চ হয়েছে এবং সৃষ্টির অন্তরে তা সর্বোত্তম আদর্শে পরিণত হয়েছে। এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সকল জাতির বিরুদ্ধে এর অকাট্য প্রমাণ ও দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং উচ্চতা ও মর্যাদায় এর অবস্থান চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছে। আর তাঁর ওলী ও মনোনীত বান্দারা এর জন্য এমন সব সাহায্যকারী ও আনসার দাঁড় করিয়েছেন যারা এর ঝাণ্ডা ও নিশান উড্ডীন করেছেন এবং পরিবর্তন ও পরিমার্জন থেকে এর সীমানা ও বিধানসমূহকে রক্ষা করেছেন। আর তাদের পূর্ববর্তীরা যেভাবে তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই তারা তাদের সমসাময়িকদের কাছে এর হালাল ও হারাম পৌঁছে দিয়েছেন। ফলে তারা এর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করেছেন, এর বিধানাবলী শিক্ষা দিয়েছেন এবং দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে এর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন। অবশেষে তা শক্তিশালী হলো এবং নিজ কাণ্ডের ওপর স্থির হয়ে দাঁড়ালো, যা চাষীদের আনন্দ দেয় এবং কাফিরদের মনঃকষ্টের কারণ হয়। আর আল্লাহর তাকওয়া ও সন্তুষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত এর ভিত্তি সুউচ্চ হলো; কারণ অন্য সবার ইমারত তো ছিল ধসে পড়ার উপক্রম হওয়া এক খাদের কিনারে। অতএব অতি বরকতময় সেই সত্তা, যিনি এর মর্যাদা সুউচ্চ করেছেন, এর বাণীকে উন্নত করেছেন, এর শান মহিমান্বিত করেছেন, এর অট্টালিকাকে মজবুত করেছেন, এর বিরোধিতাকারী ও হঠকারীদের লাঞ্ছিত করেছেন এবং একে ঘৃণা ও শত্রুতা পোষণকারীদের নিগৃহীত করেছেন। আর তিনি তাদের 'নিকৃষ্টতম প্রাণী' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং যখন তারা তাঁর নিকট উপস্থিত হবে, তখন তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ও আজাব প্রস্তুত রেখেছেন। আর তিনি তাদের ব্যাপারে এই ফয়সালা দিয়েছেন যে, তারা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও অধিক পথভ্রষ্ট; কারণ তারা তাওহীদের পরিবর্তে শিরক, হিদায়াতের পরিবর্তে গোমরাহি এবং ইসলামের পরিবর্তে কুফরকে গ্রহণ করেছে। আর পবিত্র মহান আল্লাহ কুফরের আলিম ও তাদের উপাসকদের জন্য এমন এক বিধান দিয়েছেন যার যথার্থতার সাক্ষ্য বিবেকবানরা দিয়ে থাকেন এবং তাকে উত্তম হিসেবে গণ্য করেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢٥)
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَرُسُلِي هُزُوًا.
(فَصْلٌ) : فَأَيْنَ يَذْهَبُ مَنْ تَوَلَّى عَنْ تَوْحِيدِ رَبِّهِ وَطَاعَتِهِ، وَلَمْ يَرْفَعْ رَأْسًا بِأَمْرِهِ وَنَهْيِهِ، وَكَذَّبَ رَسُولَهُ وَأَعْرَضَ عَنْ مُتَابَعَتِهِ، وَحَادَ عَنْ شَرِيعَتِهِ، وَرَغِبَ عَنْ مِلَّتِهِ، وَاتَّبَعَ غَيْرَ سُنَّتِهِ، وَلَمْ يَتَمَسَّكْ بِعَهْدِهِ، وَمَكَّنَ الْجَهْلَ مِنْ نَفْسِهِ، وَالْهَوَى وَالْعِنَادَ مِنْ قَلْبِهِ، وَالْجُحُودَ وَالْكُفْرَ مِنْ صَدْرِهِ، وَالْعِصْيَانَ وَالْمُخَالَفَةَ مِنْ جَوَارِحِهِ، فَقَدْ قَابَلَ خَبَرَ اللَّهِ بِالتَّكْذِيبِ، وَأَمْرَهُ بِالْعِصْيَانِ، وَنَهْيَهُ بِالِارْتِكَابِ، يُغْضِبُ الرَّبَّ وَهُوَ رَاضٍ، وَيَرْضَى وَهُوَ غَضْبَانُ، يُحِبُّ مَا يُبْغِضُ، وَيُبْغِضُ مَا يُحِبُّ، وَيُوَالِي مَنْ يُعَادِيهِ، وَيُعَادِي مَنْ يُوَالِيهِ، يَدْعُو إِلَى خِلَافِ مَا يَرْضَى، وَيَنْهَى عَبْدًا إِذَا صَلَّى، فَقَدِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ فَأَصَمَّهُ وَأَبْكَمَهُ وَأَعْمَاهُ، فَهُوَ مَيِّتُ الدَّارَيْنِ، فَاقِدُ السَّعَادَتَيْنِ، قَدْ رَضِيَ بِخِزْيِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْآخِرَةِ، وَبَاعَ التِّجَارَةَ الرَّابِحَةَ بِالصَّفْقَةِ الْخَاسِرَةِ، فَقَلْبُهُ عَنْ رَبِّهِ مَصْدُودٌ، وَسَبِيلُ الْوُصُولِ إِلَى جَنَّتِهِ وَرِضَاهُ وَقُرْبِهِ عَنْهُ مَسْدُودٌ، فَهُوَ وَلِيُّ الشَّيْطَانِ وَعَدُوُّ الرَّحْمَنِ، وَحَلِيفُ الْكُفْرِ وَالْفُسُوقِ وَالْعِصْيَانِ، قَدْ رَضِيَ الْمُسْلِمُونَ بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم رَسُولًا، وَرَضِيَ الْمَخْذُولُ بِالصَّلِيبِ وَالْوَثَنِ إِلَهًا، وَبِالتَّثْلِيثِ وَالْكُفْرِ دِينًا، وَبِسَبِيلِ الضَّلَالِ وَالْغَضَبِ سَبِيلًا، أَعْصَى النَّاسِ لِلْخَالِقِ الَّذِي لَا سَعَادَةَ لَهُ إِلَّا فِي طَاعَتِهِ، وَأَطْوَعُهُمْ لِلْمَخْلُوقِ الَّذِي ذَهَابُ دُنْيَاهُ وَأُخْرَاهُ فِي طَاعَتِهِ، فَإِذَا سُئِلَ فِي قَبْرِهِ مَنْ رَبُّكَ؟ وَمَا دِينُكَ؟ وَمَنْ نَبِيُّكَ؟ قَالَ: آهْ آهْ لَا أَدْرِي، فَيُقَالُ لَهُ: لَا دَرَيْتَ، وَلَا تَلَيْتَ، وَعَلَى ذَلِكَ حَيِيتَ، وَعَلَيْهِ مِتَّ، وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ يُضْرَمُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ نَارًا، وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ كَالزَّجِّ فِي الرُّمْحِ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ، فَإِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ وَحُصِّلَ مَا فِي الصُّدُورِ وَقَامَ
বলুন, আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক দিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের সংবাদ দেব? তারা সেই সব লোক, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎ কাজ করছে। তারাই সেই সব লোক যারা তাদের রবের নিদর্শনাবলী ও তাঁর সাথে সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে, ফলে তাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোনো ওজন কায়েম করব না। এটাই তাদের প্রতিদান—জাহান্নাম, কারণ তারা কুফরি করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছে।
(পরিচ্ছেদ): সুতরাং সে কোথায় যাচ্ছে যে তার রবের তাওহীদ ও আনুগত্য থেকে বিমুখ হয়েছে, এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেনি, তাঁর রসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে ও তাঁর অনুসরণে বিমুখ হয়েছে, এবং তাঁর শরীয়ত থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাঁর আদর্শের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে, তাঁর সুন্নাহ ব্যতিরেকে অন্যের অনুসরণ করেছে, তাঁর অঙ্গীকারকে আঁকড়ে ধরেনি, এবং নিজ সত্তাকে মূর্খতার আশ্রয়ে সঁপে দিয়েছে, অন্তরকে প্রবৃত্তি ও জেদ এবং বক্ষকে অস্বীকার ও কুফুরির আবাস বানিয়েছে, আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে অবাধ্যতা ও বিরোধিতার কাজে নিয়োজিত করেছে। ফলে সে আল্লাহর সংবাদকে মিথ্যারোপের মাধ্যমে, তাঁর আদেশকে অবাধ্যতার মাধ্যমে এবং তাঁর নিষেধকে তা লঙঘনের মাধ্যমে মোকাবিলা করেছে। সে তার রবকে রাগান্বিত করে অথচ নিজে তুষ্ট থাকে, এবং নিজে সন্তুষ্ট থাকে অথচ রব রাগান্বিত হন। আল্লাহ যা ঘৃণা করেন সে তা ভালোবাসে, আর আল্লাহ যা ভালোবাসেন সে তা ঘৃণা করে। সে আল্লাহর শত্রুদের সাথে বন্ধুত্ব করে এবং তাঁর বন্ধুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে। সে আল্লাহর সন্তুষ্টির বিপরীত বিষয়ের দিকে আহ্বান করে এবং কোনো বান্দা যখন সালাত আদায় করে তখন তাকে বাধা দেয়। বস্তুত সে নিজের প্রবৃত্তিকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে এবং আল্লাহ জেনে-বুঝে তাকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং তার শ্রবণেন্দ্রিয় ও হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন এবং তার চোখের ওপর পর্দা ফেলে দিয়েছেন। ফলে সে উভয় জগতেই মৃত এবং উভয় জগতের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত। সে দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখেরাতের আযাবকে বেছে নিয়েছে এবং লাভজনক ব্যবসাকে লোকসানি সওদার বিনিময়ে বিক্রয় করে দিয়েছে। ফলে তার অন্তর তার রব থেকে প্রত্যাখ্যাত, এবং তাঁর জান্নাত, সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের পথ তার জন্য রুদ্ধ। সে শয়তানের বন্ধু ও পরম করুণাময় রহমানের শত্রু এবং কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতার মিত্র। মুসলিমগণ আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে রসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে; আর এই পরিত্যক্ত ব্যক্তি ক্রুশ ও মূর্তিকে উপাস্য হিসেবে, ত্রিত্ববাদ ও কুফরিকে দ্বীন হিসেবে এবং পথভ্রষ্টতা ও ক্রোধের পথকে নিজের পথ হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছে। সে স্রষ্টার প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবাধ্য—যাঁর আনুগত্য ব্যতীত কোনো সৌভাগ্য নেই; আর সে সৃষ্টির প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত—যাঁর আনুগত্যে তার দুনিয়া ও আখেরাত ধ্বংস হয়ে যায়। সুতরাং যখন কবরে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নবী কে? সে বলবে: হায়! হায়! আমি তো জানি না। তখন তাকে বলা হবে: তুমি জাননি এবং তুমি (কুরআন) অনুসরণ করোনি। এর ওপরই তুমি বেঁচে ছিলে, এর ওপরই মৃত্যুবরণ করেছ এবং ইনশাআল্লাহ এর ওপরই তুমি পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তার কবরকে আগুনের দ্বারা প্রজ্বলিত করা হবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাকে বল্লমের ফলার মতো সংকুচিত করে রাখা হবে। অতঃপর যখন কবরে যা আছে তা উত্থিত হবে এবং অন্তরে যা আছে তা প্রকাশ করা হবে এবং দণ্ডায়মান হবে...
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢٦)
النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ، وَنَادَى الْمُنَادِي وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ ثُمَّ رُفِعَ لِكُلِّ عَابِدٍ مَعْبُودُهُ الَّذِي كَانَ يَعْبُدُهُ وَيَهْوَاهُ، وَقَالَ الرَّبُّ تَعَالَى وَقَدْ أَنْصَتَ لَهُ الْخَلَائِقُ: أَلَيْسَ عَدْلًا مِنِّي أَنْ أُوَلِّيَ كُلَّ إِنْسَانٍ مِنْكُمْ مَا كَانَ فِي الدُّنْيَا يَتَوَلَّاهُ؟ فَهُنَاكَ يَعْلَمُ الْمُشْرِكُ حَقِيقَةَ مَا كَانَ عَلَيْهِ، وَبُيِّنَ لَهُ سُوءُ مُنْقَلَبِهِ وَمَا صَارَ إِلَيْهِ، وَيَعْلَمُ الْكُفَّارُ أَنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا أَوْلِيَاءَهُ إِنْ أَوْلِيَاؤُهُ إِلَّا الْمُتَّقُونَ، وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ وَسَتُرَدُّونَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ.
সকল মানুষ রাব্বুল আলামীনের সম্মুখে (দাঁড়াবে), এবং জনৈক ঘোষণাকারী আহ্বান করবেন: "হে অপরাধীরা, আজ তোমরা পৃথক হয়ে যাও।" অতঃপর প্রত্যেক ইবাদতকারীর সম্মুখে তার সেই উপাস্যকে উপস্থিত করা হবে যার সে ইবাদত করত এবং যাকে সে ভালোবাসত। মহান রব বলবেন—এমতাবস্থায় যে সমস্ত সৃষ্টি তাঁর প্রতি নিবিষ্টচিত্তে কান পেতে থাকবে: "তোমাদের প্রত্যেককে দুনিয়াতে সে যার আনুগত্য বা অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছিল তার সোপর্দ করা কি আমার পক্ষ থেকে ইনসাফ নয়?" সেখানে মুশরিক তার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তার শোচনীয় পরিণাম ও গন্তব্যস্থল তার সামনে স্পষ্ট হয়ে যাবে। আর কাফিররা জানতে পারবে যে তারা তাঁর বন্ধু ছিল না; মুত্তাকীরা ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর বন্ধু নয়। আর আপনি বলুন: "তোমরা আমল করতে থাকো, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও; আর তোমাদের শীঘ্রই অদৃশ্য ও দৃশ্যমান জগতের পরিজ্ঞাতার নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে, অতঃপর তোমরা যা করতে তিনি তোমাদেরকে সে সম্পর্কে অবহিত করবেন।"
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢٧)
(فَصْلٌ) : وَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم كَانَ أَهْلُ الْأَرْضِ صِنْفَيْنِ: أَهْلَ الْكِتَابِ، وَزَنَادِقَةً لَا كِتَابَ لَهُمْ، وَكَانَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَفْضَلَ الصِّنْفَيْنِ، وَهُمْ نَوْعَانِ: مَغْضُوبٌ عَلَيْهِمْ، وَضَالُّونَ.
(الْيَهُودُ) : فَالْأُمَّةُ الْغَضَبِيَّةُ هُمْ الْيَهُودُ: أَهْلُ الْكَذِبِ وَالْبَهْتِ وَالْغَدْرِ وَالْمَكْرِ وَالْحِيَلِ، قَتَلَةُ الْأَنْبِيَاءِ وَأَكَلَةُ السُّحْتِ وَالرِّبَا وَالرِّشَا، أَخْبَثُ الْأُمَمِ طَوِيَّةً، وَأَرْدَاهُمْ سَجِيَّةً، وَأَبْعَدُهُمْ مِنَ الرَّحْمَةِ، وَأَقْرَبُهُمْ مِنَ النِّقْمَةِ، عَادَتُهُمُ الْبَغْضَاءُ، وَدِيَنُهُمُ الْعَدَاوَةُ وَالشَّحْنَاءُ، بَيْتُ السِّحْرِ وَالْكَذِبِ وَالْحِيَلِ، لَا يَرَوْنَ لِمَنْ خَالَفَهُمْ فِي كُفْرِهِمْ وَتَكْذِيبِهِمْ وَلَوْ نَبِيًّا حُرْمَةً، وَلَا يَرْقُبُونَ فِي مُؤْمِنٍ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً، وَلَا لِمَنْ وَافَقَهُمْ عِنْدَهُمْ حَقٌّ وَلَا شَفَقَةٌ، وَلَا لِمَنْ شَارَكَهُمْ عِنْدَهُمْ عَدْلٌ وَلَا نَصَفَةٌ، وَلَا لِمَنْ خَالَطَهُمْ طُمَأْنِينَةٌ وَلَا أَمْنَةٌ، وَلَا لِمَنِ اسْتَعْمَلَهُمْ عِنْدَهُ نَصِيحَةٌ، بَلْ أَخْبَثُهُمْ أَعْقَلُهُمْ وَأَصْدَقُهُمْ أَغَشُّهُمْ، وَسَلِيمُ النَّاحِيَةِ وَحَاشَا أَنْ يُوجَدَ فِيهِمْ وَبَيْنَهُمْ - لَيْسَ بِيَهُودِيٍّ عَلَى الْحَقِيقَةِ، أَضْيَقُ الْخَلْقِ صُدُورًا، وَأَظْلَمُهُمْ بُيُوتًا، وَأَنْتَنُهُمْ أَفْنِيَةً، وَأَوْحَشُهُمْ سِحْنَةً، تَحِيَّتُهُمْ لَعْنَةٌ، وَلِقَاؤُهُمْ طِيَرَةٌ، شِعَارُهُمُ الْغَضَبُ، وَدِثَارُهُمُ الْمَقْتُ.
(পরিচ্ছেদ) : যখন আল্লাহ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করেন, তখন পৃথিবীর অধিবাসীগণ ছিল দুই প্রকার: আহলে কিতাব এবং কিতাবহীন ধর্মদ্রোহী। আহলে কিতাবগণ ছিল এই দুই প্রকারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তারা আবার দুই প্রকার: অভিশপ্ত এবং পথভ্রষ্ট।
(ইয়াহুদী) : অভিশপ্ত জাতি হলো ইয়াহুদী; তারা মিথ্যা, অপবাদ, বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার হোতা। তারা নবীদের হত্যাকারী এবং অবৈধ সম্পদ, সুদ ও ঘুষ ভক্ষণকারী। তারা জাতিসমূহের মধ্যে অন্তরের দিক থেকে সর্বাধিক কলুষিত এবং স্বভাবের দিক থেকে নিকৃষ্টতম। তারা রহমত থেকে সর্বাধিক দূরে এবং আযাবের সর্বাধিক নিকটবর্তী। ঘৃণা তাদের মজ্জাগত স্বভাব এবং শত্রুতা ও বিদ্বেষ তাদের ধর্ম। তারা জাদু, মিথ্যা ও কূটকৌশলের আখড়া। তাদের কুফরি ও অস্বীকৃতিতে যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা তাদের কোনো সম্মান রক্ষা করে না—এমনকি তিনি যদি নবীও হন। কোনো মুমিনের ক্ষেত্রে তারা কোনো আত্মীয়তার বন্ধন বা চুক্তির তোয়াক্কা করে না। এমনকি যারা তাদের সাথে একমত হয়, তাদের প্রতিও তাদের কোনো হক বা মমতা নেই; যারা তাদের সাথে কাজ করে, তাদের প্রতিও কোনো ইনসাফ বা ন্যায়বিচার নেই। যারা তাদের সাথে মেলামেশা করে, তাদের জন্য কোনো শান্তি বা নিরাপত্তা নেই। আর যে তাদের কাজে নিয়োগ করে, তার জন্য তাদের কাছে কোনো কল্যাণকামিতা নেই। বরং তাদের মাঝে যে সবচেয়ে দুষ্ট, সে-ই তাদের কাছে সর্বাধিক বুদ্ধিমান; আর যে সর্বাধিক প্রতারক, সে-ই তাদের কাছে সবচেয়ে সত্যবাদী। কোনো সজ্জন ব্যক্তি—যাদের তাদের মাঝে পাওয়া অসম্ভব—প্রকৃতপক্ষে ইয়াহুদী হতে পারে না। তারা সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক সংকীর্ণমনা, তাদের ঘরবাড়ি সর্বাধিক অন্ধকারাচ্ছন্ন, তাদের আঙিনা সর্বাধিক দুর্গন্ধযুক্ত এবং তাদের অবয়ব সর্বাধিক কদাকার। তাদের সম্ভাষণ হলো অভিশাপ আর তাদের সাক্ষাৎ হলো কুলক্ষণ। ক্রোধ তাদের অভ্যন্তরীণ পরিচয় এবং চরম ঘৃণা তাদের বাহ্যিক আবরণ।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢٨)
(النَّصَارَى) : وَالنَّوْعُ الثَّانِي: الْمُثَلِّثَةُ أُمَّةُ الضَّلَالِ أَوْ عُبَّادُ الصَّلِيبِ، الَّذِينَ سَبُّوا اللَّهَ الْخَالِقَ مَسَبَّةً مَا سَبَّهُ إِيَّاهَا أَحَدٌ مِنَ الْبَشَرِ، وَلَمْ يُقِرُّوا بِأَنَّهُ الْوَاحِدُ الْأَحَدُ الْفَرْدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ وَلَمْ يَجْعَلُوهُ أَكْبَرَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ، بَلْ قَالُوا مَا: تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا، فَقُلْ مَا شِئْتَ فِي طَائِفَةٍ أَصْلُ عَقِيدَتِهَا أَنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ وَأَنَّ مَرْيَمَ صَاحِبَتُهُ وَأَنَّ الْمَسِيحَ ابْنُهُ، وَأَنَّهُ نَزَلَ عَنْ كُرْسِيِّ عَظَمَتِهِ، وَالْتَحَمَ بِبَطْنِ الصَّاحِبَةِ، وَجَرَى لَهُ مَا جَرَى إِلَى أَنْ قُتِلَ وَمَاتَ وَدُفِنَ. وَدِينُهَا عِبَادَةُ الصُّلْبَانِ، وَدُعَاءُ الصُّوَرِ الْمَنْقُوشَةِ بِالْأَحْمَرِ وَالْأَصْفَرِ فِي الْحِيطَانِ، يَقُولُونَ فِي دُعَائِهِمْ: (يَا وَالِدَةَ الْإِلَهِ ارْزُقِينَا، وَاغْفِرِي لَنَا وَارْحَمِينَا) .
فَدِينُهُمْ شُرْبُ الْخُمُورِ، وَأَكْلُ الْخِنْزِيرِ، وَتَرْكُ الْخِتَانِ، وَالتَّعَبُّدُ بِالنَّجَاسَاتِ، وَاسْتِبَاحَةُ كُلِّ خَبِيثٍ مِنَ الْفِيلِ إِلَى الْبَعُوضَةِ، وَرَفْضُ نُصُوصِ الْكُتُبِ الْإِلَهِيَّةِ وَالْعَمَلُ بِقَوْلِ جَاهِلٍ مِنْ رَهَابِنَتِهِمْ، وَاتِّبَاعُ أَمْرِهِ وَأَنَّ الْحَقَّ مَعَهُ وَالْحَلَالَ مَا أَحَلَّهُ، وَالْحَرَامَ مَا حَرَّمَهُ، وَالدِّينَ مَا شَرَعَهُ، وَهُوَ الَّذِي يَغْفِرُ لَهُمُ الذُّنُوبَ، وَيُنَجِّيهِمْ مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ.
(الْوَثَنِيُّونَ وَالْمَلَاحِدَةُ) : فَهَذَا حَالُ مَنْ لَهُ كِتَابٌ، وَأَمَّا مَنْ لَا كِتَابَ لَهُ: فَهُوَ بَيْنَ عَابِدِ أَوْثَانٍ، وَعَابِدِ صَوَّانٍ، وَعَابِدِ شَيْطَانٍ، وَصَابِئٍ حَيْرَانَ، يَجْمَعُهُمُ الشِّرْكُ، وَتَكْذِيبُ الرُّسُلِ،
(খ্রিস্টানগণ) : এবং দ্বিতীয় প্রকার হলো: ত্রিত্ববাদী, পথভ্রষ্ট জাতি অথবা ক্রুশপূজারী; যারা স্রষ্টা আল্লাহকে এমন গালি দিয়েছে যা অন্য কোনো মানুষ তাঁকে দেয়নি। তারা এই স্বীকৃতি দেয়নি যে, তিনি এক, অদ্বিতীয়, অনন্য, অমুখাপেক্ষী; যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাঁকে জন্ম দেওয়া হয়নি এবং যাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তারা তাঁকে সবকিছুর চেয়ে বড় মনে করেনি, বরং তারা এমন কথা বলেছে যাতে আকাশসমূহ ফেটে পড়ার, পৃথিবী বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হয়। সুতরাং আপনি সেই গোষ্ঠী সম্পর্কে যা খুশি বলুন যাদের আকিদার মূলভিত্তি হলো—আল্লাহ তিনের তৃতীয়, মরিয়ম তাঁর সঙ্গিনী এবং মসীহ তাঁর পুত্র; এবং তিনি তাঁর মহিমাময় কুরসি থেকে নিচে নেমে এসেছেন এবং সঙ্গিনীর জঠরে প্রবিষ্ট হয়েছেন, আর তাঁর ওপর দিয়ে তা-ই অতিবাহিত হয়েছে যা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত তিনি নিহত হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সমাহিত হয়েছেন। তাদের ধর্ম হলো ক্রুশ পূজা করা এবং দেয়ালে লাল ও হলুদ রঙে অঙ্কিত প্রতিকৃতিগুলোর কাছে প্রার্থনা করা। তারা তাদের প্রার্থনায় বলে: (হে উপাস্যের জননী! আমাদের রিযিক দিন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের ওপর দয়া করুন)।
তাদের ধর্ম হলো মদ পান করা, শুকর ভক্ষণ করা, খতনা বর্জন করা, অপবিত্র বস্তু দিয়ে ইবাদত করা এবং হাতি থেকে মশা পর্যন্ত প্রতিটি অপবিত্র প্রাণীকে বৈধ জ্ঞান করা। আর আসমানি কিতাবসমূহের বাণীসমূহকে প্রত্যাখ্যান করা এবং তাদের পাদ্রীদের মধ্য থেকে কোনো মূর্খের কথা অনুযায়ী চলা ও তার নির্দেশ অনুসরণ করা; (তারা মনে করে) সত্য তারই সাথে আছে এবং সে যা হালাল করে তা-ই হালাল, সে যা হারাম করে তা-ই হারাম এবং সে যা প্রবর্তন করে তা-ই ধর্ম। সেই ব্যক্তিই তাদের পাপ ক্ষমা করে এবং তাদের প্রজ্বলিত আগুনের শাস্তি থেকে মুক্তি দান করে।
(মূর্তিপূজারী ও নাস্তিকগণ) : এটি হলো তাদের অবস্থা যাদের কিতাব আছে; আর যাদের কোনো কিতাব নেই তারা হলো: মূর্তিপূজারী, পাথরপূজারী, শয়তানপূজারী অথবা বিভ্রান্ত সাবেয়ী; শিরক এবং রাসূলগণের ওপর মিথ্যারোপ করা তাদের সকলকে একত্রিত করেছে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٢٩)
وَتَعْطِيلُ الشَّرَائِعِ، وَإِنْكَارُ الْمَعَادِ وَحَشْرِ الْأَجْسَادِ، لَا يَدِينُونَ لِلْخَالِقِ بِدِينٍ، وَلَا يَعْبُدُونَهُ مَعَ الْعَابِدِينَ، وَلَا يُوَحِّدُونَهُ مَعَ الْمُوَحِّدِينَ.
(الْمَجُوسُ) : وَأُمَّةُ الْمَجُوسِ مِنْهُمْ تَسْتَفْرِشُ الْأُمَّهَاتِ وَالْبَنَاتِ وَالْأَخَوَاتِ، مَعَ الْعَمَّاتِ وَالْخَالَاتِ، دِينُهُمُ الزَّمْزَمَةُ، وَطَعَامُهُمُ الْمَيْتَةُ، وَشَرَابُهُمُ الْخَمْرُ، وَمَعْبُودُهُمُ النَّارُ، وَوَلِيُّهُمُ الشَّيْطَانُ، فَهُمْ أَخْبَثُ بَنِي آدَمَ نِحْلَةً، وَأَرْذَلُهُمْ مَذْهَبًا، وَأَسْوَءُهُمُ اعْتِقَادًا.
(الصَّابِئَةُ وَالْفَلَاسِفَةُ) : وَأَمَّا زَنَادِقَةُ الصَّابِئَةِ وَمَلَاحِدَةُ الْفَلَاسِفَةِ، فَلَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا مَلَائِكَتِهِ وَلَا كُتُبِهِ وَلَا رُسُلِهِ وَلَا لِقَائِهِ، وَلَا يُؤْمِنُونَ بِمَبْدَأٍ وَلَا مَعَادٍ، وَلَيْسَ لِلْعَالَمِ عِنْدَهُمْ رَبٌّ فَعَّالٌ بِالِاخْتِيَارِ لِمَا يُرِيدُ، قَادِرٌ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، عَالِمٌ بِكُلِّ شَيْءٍ، آمِرٌ نَاهٍ مُرْسِلُ الرُّسُلِ، وَمُنْزِلُ الْكُتُبِ، وَمُثِيبُ الْمُحْسِنِ، وَمُعَاقِبُ الْمُسِيءِ، وَلَيْسَ عِنْدَ نَظَائِرِهِمْ إِلَّا تِسْعَةُ أَفْلَاكٍ، وَعَشَرَةُ عُقُولٍ، وَأَرْبَعَةُ أَرْكَانٍ، وَسِلْسِلَةٌ تَرَتَّبَتْ فِيهَا الْمَوْجُودَاتُ هِيَ بِسِلْسِلَةِ الْمَجَانِينِ أَشْبَهُ مِنْهَا بِمُجَوِّزَاتِ الْعُقُولِ.
(دِينُ الْحَنِيفِيَّةِ) : وَبِالْجُمْلَةِ فَدِينُ الْحَنِيفِيَّةِ الَّذِي لَا دِينَ لِلَّهِ غَيْرُهُ بَيْنَ هَذِهِ الْأَدْيَانِ الْبَاطِلَةِ الَّتِي لَا دِينَ فِي الْأَرْضِ غَيْرُهَا - أَخْفَى مِنَ السُّهَا تَحْتَ السَّحَابِ، وَقَدْ نَظَرَ اللَّهُ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ إِلَّا بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَأَطْلَعَ اللَّهُ شَمْسَ الرِّسَالَةِ فِي حِنَادِسِ تِلْكَ الظُّلَمِ سِرَاجًا مُنِيرًا، وَأَنْعَمَ اللَّهُ بِهَا عَلَى أَهْلِ الْأَرْضِ نِعْمَةً لَا يَسْتَطِيعُونَ لَهَا شُكْرًا، وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ بِنُورِ رَبِّهَا أَكْمَلَ الْإِشْرَاقِ،
এবং শরীয়তসমূহকে অকার্যকর করা, পরকাল এবং দেহের পুনরুত্থানকে অস্বীকার করা; তারা স্রষ্টার জন্য কোনো ধর্ম পালন করে না, ইবাদতকারীদের সাথে তাঁর ইবাদত করে না এবং একত্ববাদীদের সাথে তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করে না।
(মাজুস): আর তাদের মধ্যে মাজুস জাতি মা, কন্যা ও বোনদের সাথে শয্যা গ্রহণ করে, সেই সাথে ফুফু ও খালাদের সাথেও; তাদের ধর্ম হলো অস্পষ্ট গুঞ্জন, তাদের খাদ্য হলো মৃত প্রাণী, তাদের পানীয় হলো মদ, তাদের উপাস্য হলো আগুন এবং তাদের অভিভাবক হলো শয়তান। ফলে তারা আদর্শের দিক থেকে আদম সন্তানদের মধ্যে নিকৃষ্টতম, মতাদর্শের দিক থেকে নীচতম এবং বিশ্বাসের দিক থেকে জঘন্যতম।
(সায়েবি ও দার্শনিকগণ): আর সাবিয়ী যিন্দিক ও নাস্তিক দার্শনিকদের কথা হলো, তারা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রতি ঈমান রাখে না। তারা জগতের শুরু বা পরকালে বিশ্বাস করে না। তাদের মতে মহাবিশ্বের এমন কোনো প্রতিপালক নেই যিনি নিজের ইচ্ছানুসারে যা চান তা করেন, যিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, সব বিষয়ে পরিজ্ঞাত, যিনি আদেশ করেন ও নিষেধ করেন, রাসূল প্রেরণ করেন, কিতাব অবতীর্ণ করেন এবং সৎকর্মশীলকে পুরস্কৃত করেন ও মন্দকর্মীকে শাস্তি দেন। তাদের সমমনাদের নিকট নয়টি আকাশ, দশটি বুদ্ধি এবং চারটি মূল উপাদান ব্যতীত আর কিছুই নেই; এটি বিদ্যমান বস্তুসমূহের এমন এক বিন্যাস যা যুক্তিসিদ্ধ হওয়ার চেয়ে উন্মাদদের প্রলাপের সাথেই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
(হানিফী দীন): সারকথা হলো, এই বাতিল ধর্মগুলোর মাঝে হানিফী দীন—যা ব্যতীত আল্লাহর নিকট আর কোনো ধর্ম নেই এবং যা ছাড়া পৃথিবীতে তখন অন্য কোনো ধর্ম অবশিষ্ট ছিল না—মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়া সুহা নক্ষত্রের চেয়েও অধিক প্রচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। আল্লাহ তাআলা জমিনবাসীর দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং আহলে কিতাবদের কিছু অবশিষ্টাংশ ছাড়া আরব ও অনারব সকলের প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন। অতঃপর আল্লাহ সেই ঘোর অন্ধকারের মাঝে রিসালাতের সূর্যকে প্রোজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে উদিত করলেন। এর মাধ্যমে আল্লাহ জমিনবাসীদের ওপর এমন এক নিয়ামত দান করলেন যার শুকরিয়া আদায় করতে তারা সক্ষম নয়; আর পৃথিবী তার রবের নূরে পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত হলো।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣٠)
وَفَاضَ ذَلِكَ حَتَّى عَمَّ النَّوَاحِيَ وَالْآفَاقَ، وَانْشَقَّ الْقَمَرُ أَتَمَّ الِانْشِقَاقِ، وَقَامَ دِينُ اللَّهِ الْحَنِيفُ عَلَى سَاقٍ، فَلِلَّهِ الْحَمْدُ الَّذِي أَنْقَذَنَا بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم مِنْ تِلْكَ الظُّلُمَاتِ، وَفَتَحَ لَنَا بِهِ بَابَ الْهُدَى فَلَا يُغْلَقُ إِلَى يَوْمِ الْمِيقَاتِ، وَأَرَانَا فِي نُورِهِ أَهْلَ الضَّلَالِ وَهُمْ فِي ضَلَالِهِمْ يَتَخَبَّطُونَ، وَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ، وَفِي جَهَالَتِهِمْ يَتَقَلَّبُونَ، وَفِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ، يُؤْمِنُونَ وَيَعْدِلُونَ وَلَكِنْ بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ، وَيَعْمَلُونَ وَلَكِنْ ظَاهِرًا مِنَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ عَنِ الْآخِرَةِ هُمْ غَافِلُونَ وَيَسْجُدُونَ وَلَكِنْ لِلصَّلِيبِ، وَالْوَثَنِ وَالشَّمْسِ يَسْجُدُونَ، وَيَمْكُرُونَ وَمَا يَمْكُرُونَ إِلَّا بِأَنْفُسِهِمْ وَمَا يَشْعُرُونَ لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَغْنَانَا بِشَرِيعَتِهِ الَّتِي تَدْعُو إِلَى الْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ، وَتَتَضَمَّنُ الْأَمْرَ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ، وَالنَّهْيَ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ، فَلَهُ الْمِنَّةُ وَالْفَضْلُ عَلَى مَا أَنْعَمَ بِهِ عَلَيْنَا وَآثَرَنَا بِهِ عَلَى سَائِرِ الْأُمَمِ، وَإِلَيْهِ الرَّغْبَةُ أَنْ يُوَزِعَنَا شُكْرَ هَذِهِ النِّعْمَةِ، وَأَنْ يَفْتَحَ لَنَا أَبْوَابَ التَّوْبَةِ وَالْمَغْفِرَةِ وَالرَّحْمَةِ، فَأَحَبُّ الْوَسَائِلِ إِلَى الْمُحْسِنِ التَّوَسُّلُ إِلَيْهِ بِإِحْسَانِهِ، وَالِاعْتِرَافُ لَهُ بِأَنَّ الْأَمْرَ كُلَّهُ مَحْضُ فَضْلِهِ وَامْتِنَانِهِ، فَلَهُ عَلَيْنَا النِّعْمَةُ السَّابِغَةُ، كَمَا لَهُ عَلَيْنَا الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ، نَبُوءُ لَهُ بِنِعَمِهِ عَلَيْنَا، وَنَبُوءُ بِذُنُوبِنَا وَخَطَايَانَا، وَجَهْلِنَا وَظُلْمِنَا، وَإِسْرَافِنَا فِي أَمْرِنَا، فَهَذِهِ بِضَاعَتُنَا الَّتِي لَدَيْنَا، لَمْ تَبْقَ لَنَا، وَنِعَمُهُ وَحُقُوقُهَا وَذُنُوبُنَا حَسَنَةٌ نَرْجُو بِهَا الْفَوْزَ بِالثَّوَابِ وَالتَّخَلُّصَ مِنْ أَلِيمِ الْعِقَابِ، بَلْ بَعْضُ ذَلِكَ يُنْفِذُ جَمِيعَ حَسَنَاتِنَا، وَيَسْتَوْعِبُ كُلَّ طَاعَتِنَا، هَذَا لَوْ خَلَصَتْ مِنَ
এবং তা উপচে পড়ল এমনকি সকল দিক ও দিগন্তকে প্লাবিত করল, এবং চন্দ্র পরিপূর্ণভাবে বিদীর্ণ হলো, আর আল্লাহর একনিষ্ঠ দ্বীন সুপ্রতিষ্ঠিত হলো। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাধ্যমে আমাদের সেই সকল অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে আমাদের জন্য হিদায়াতের দ্বার উন্মোচন করেছেন যা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত বন্ধ হবে না। এবং তিনি তাঁর নূরের মাধ্যমে আমাদের ভ্রান্ত লোকদের দেখিয়েছেন, যারা তাদের ভ্রষ্টতার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে, তাদের মত্ততায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরছে, তাদের মূর্খতার মধ্যে আবর্তিত হচ্ছে এবং তাদের সন্দেহের মধ্যে দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে। তারা ঈমান আনে এবং সমকক্ষ সাব্যস্ত করে, কিন্তু তারা তাদের রবের সাথেই শিরক (সমকক্ষ সাব্যস্ত) করে। তারা আমল করে, তবে তা কেবল পার্থিব জীবনের বাহ্যিক বিষয় নিয়ে এবং তারা পরকাল সম্পর্কে উদাসীন। তারা সেজদা করে, তবে তারা ক্রুশ, প্রতিমা ও সূর্যের প্রতি সেজদা করে। তারা ষড়যন্ত্র করে, অথচ তারা নিজেদের ছাড়া আর কারো সাথে ষড়যন্ত্র করছে না এবং তারা তা অনুভবও করে না। অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যখন তিনি তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, যদিও তারা ইতিপূর্বে সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে ছিল। যেভাবে আমি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন, তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন এবং তোমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না। অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব; এবং আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও আর অকৃতজ্ঞ হয়ো না।
এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তাঁর সেই শরীয়তের মাধ্যমে অভাবমুক্ত করেছেন যা হিকমত ও উত্তম উপদেশের দিকে আহ্বান করে, এবং যা ইনসাফ ও ইহসানের নির্দেশ এবং অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং তাঁরই জন্য সকল অনুগ্রহ ও শ্রেষ্ঠত্ব যা তিনি আমাদের দান করেছেন এবং অন্যান্য সকল উম্মতের ওপর আমাদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আর তাঁরই নিকট প্রার্থনা যেন তিনি আমাদের এই নিআমতের শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দান করেন এবং আমাদের জন্য তাওবা, ক্ষমা ও রহমতের দ্বার উন্মোচন করেন। সুতরাং মহান দাতা আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় মাধ্যম হলো তাঁরই ইহসানের মাধ্যমে তাঁর নিকট অসিলা তালাশ করা এবং তাঁর সমীপে এই স্বীকারোক্তি প্রদান করা যে, সমস্ত বিষয়ই নিরঙ্কুশভাবে তাঁরই অনুগ্রহ ও করুণা। সুতরাং আমাদের ওপর রয়েছে তাঁর পরিপূর্ণ নিআমত, যেমন আমাদের ওপর রয়েছে তাঁর চূড়ান্ত দলিল। আমরা তাঁর নিকট আমাদের ওপর তাঁর নিআমতসমূহের কথা স্বীকার করছি এবং আমাদের গুনাহ, ভুলভ্রান্তি, অজ্ঞতা, জুলুম এবং আমাদের কাজে সীমালঙ্ঘনের কথা স্বীকার করছি। আমাদের কাছে থাকা আমাদের পুঁজি হলো এই; আমাদের জন্য অবশিষ্ট কিছুই নেই। আর তাঁর নিআমতসমূহ ও সেগুলোর পাওনা হক এবং আমাদের গুনাহসমূহ; (আমরা এমন) নেক আমল (আশা করি) যার মাধ্যমে আমরা সওয়াব অর্জন এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তির আশা রাখি; বরং এর কিছু অংশই আমাদের সমস্ত নেকিকে নিঃশেষ করে দেয় এবং আমাদের সকল আনুগত্যকে গ্রাস করে ফেলে, যদি তা...
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣١)
الشَّوَائِبِ، وَكَانَتْ خَالِصَةً لِوَجْهِهِ، وَاقِعَةً عَلَى وَفْقِ أَمْرِهِ، وَمَا هُوَ وَاللَّهِ إِلَّا التَّعَلُّقُ بِأَذْيَالِ عَفْوِهِ، وَحُسْنُ الظَّنِّ بِهِ، وَاللِّجَايَةُ إِلَيْهِ وَالِاسْتِعَانَةُ بِهِ مِنْهُ، وَالِاسْتِكَانَةُ وَالتَّذَلُّلُ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَمَدُّ يَدِ الْفَاقَةِ وَالْمَسْكَنَةِ إِلَيْهِ بِالسُّؤَالِ، وَالِافْتِقَارُ إِلَيْهِ فِي جَمِيعِ الْأَحْوَالِ، فَمَنْ أَصَابَتْهُ نَفْحَةٌ مِنْ نَفَحَاتِ رَحْمَتِهِ، أَوْ وَقَعَتْ عَلَيْهِ قَطْرَةٌ مِنْ قَطَرَاتِ رَأْفَتِهِ انْتَعَشَ بَيْنَ الْأَمْوَاتِ، وَأَنَاخَتْ بِفِنَائِهِ وُفُودُ الْخَيْرَاتِ، وَتَرَحَّلَتْ عَنْهُ جُيُوشُ الْهُمُومِ وَالْغُمُومِ وَالْحَسَرَاتِ.
شِعْرٌ:
وَإِذَا نَظَرْتَ إِلَيَّ نَظْرَةَ رَاحِمٍ
… فِي الدَّهْرِ يَوْمًا إِنَّنِي لَسَعِيدُ
...কলুষতামুক্ত, এবং তা যেন একনিষ্ঠভাবে তাঁর চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য হয় এবং তাঁর আদেশের অনুকূলে থাকে। আল্লাহর কসম, তা তো কেবল তাঁর ক্ষমার প্রান্তসমূহ আঁকড়ে ধরা, তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণ করা, তাঁর নিকট আশ্রয় নেওয়া এবং তাঁরই মাধ্যমে তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, তাঁর দুই হাতের সামনে বিনয় ও হীনতা প্রকাশ করা, প্রার্থনার মাধ্যমে তাঁর দিকে অভাব ও দীনতার হাত প্রসারিত করা এবং সকল অবস্থায় তাঁর মুখাপেক্ষী হওয়া। সুতরাং যার ওপর তাঁর রহমতের কোনো সুবাতাস স্পর্শ করে অথবা তাঁর মমতার কোনো বিন্দু পতিত হয়, সে মৃতদের মাঝ থেকে পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে; তার আঙিনায় কল্যাণের প্রতিনিধিদল এসে অবতরণ করে এবং তার থেকে দুশ্চিন্তা, বিষাদ ও আক্ষেপের বাহিনীসমূহ প্রস্থান করে।
কবিতা:
আর আপনি যদি যামানার কোনো একদিন আমার দিকে করুণাময়ের দৃষ্টিতে তাকান
… তবে নিশ্চয়ই আমি পরম সৌভাগ্যবান।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣٢)
(فَصْلٌ)
وَمِنْ بَعْضِ حُقُوقِ اللَّهِ عَلَى عَبْدِهِ رَدُّ الطَّاعِنِينَ عَلَى كِتَابِهِ وَرَسُولِهِ وَدِينِهِ، وَمُجَاهَدَتُهُمْ بِالْحُجَّةِ وَالْبَيَانِ، وَالسَّيْفِ وَالسِّنَانِ، وَالْقَلْبِ وَالْجَنَانِ، وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ حَبَّةُ خَرْدَلٍ مِنَ الْإِيمَانِ.
وَكَانَ انْتَهَى إِلَيْنَا مَسَائِلُ أَوْرَدَهَا بَعْضُ الْكُفَّارِ الْمُلْحِدِينَ عَلَى بَعْضِ الْمُسْلِمِينَ فَلَمْ يُصَادِفْ عِنْدَهُ مَا يَشْفِيهِ، وَلَا وَقَعَ دَوَاؤُهُ عَلَى الدَّاءِ الَّذِي فِيهِ، وَظَنَّ الْمُسْلِمُ أَنَّهُ بِضَرْبِهِ يُدَاوِيهِ، فَسَطَا بِهِ ضَرْبًا وَقَالَ: هَذَا هُوَ الْجَوَابُ، فَقَالَ الْكَافِرُ: صَدَقَ أَصْحَابُنَا فِي قَوْلِهِمْ: إِنَّ دِينَ الْإِسْلَامِ إِنَّمَا قَامَ بِالسَّيْفِ لَا بِالْكِتَابِ. فَتَفَرَّقَا وَهَذَا ضَارِبٌ وَهَذَا مَضْرُوبٌ، وَضَاعَتِ الْحُجَّةُ بَيْنَ الطَّالِبِ وَالْمَطْلُوبِ، فَشَمَّرَ الْمُجِيبُ عَنْ سَاعِدِ الْعَزْمِ، وَنَهَضَ عَلَى سَاقِ الْجَدِّ، وَقَامَ لِلَّهِ قِيَامَ مُسْتَعِينٍ بِهِ مُفَوِّضٍ إِلَيْهِ مُتَوَكِّلٍ فِي مُوَافَقَةِ مَرْضَاتِهِ عَلَيْهِ، وَلَمْ يَقُلْ مَقَالَةَ الْعَجَزَةِ الْجُهَّالِ: إِنَّ الْكُفَّارَ إِنَّمَا يُعَامَلُونَ بِالْجِلَادِ دُونَ الْجِدَالِ، وَهَذَا فِرَارٌ مِنَ الزَّحْفِ، وَإِخْلَادٌ إِلَى الْعَجْزِ وَالضَّعْفِ. فَمُجَادَلَةُ الْكُفَّارِ بَعْدَ دَعْوَتِهِمْ إِقَامَةٌ لِلْحُجَّةِ وَإِزَالَةٌ لِلْعُذْرِ لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَا مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ، وَالسَّيْفُ إِنَّمَا جَاءَ مُنْفِذًا لِلْحُجَّةِ مُقَوِّمًا لِلْمُعَانِدِ، وَحَدًّا لِلْجَاحِدِ.
(পরিচ্ছেদ)
এবং তাঁর দাসের ওপর আল্লাহর কিছু অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল ও তাঁর দ্বীনের ওপর আক্রমণকারীদের প্রতিহত করা এবং দলিল ও বর্ণনা, তলোয়ার ও বর্শা এবং অন্তর ও হৃদয়ের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা। এর বাইরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও অবশিষ্ট নেই।
আমাদের কাছে এমন কিছু প্রশ্নের সংবাদ এসেছিল যা কিছু নাস্তিক কাফির জনৈক মুসলিমের কাছে উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু সেই মুসলিমের কাছে এমন কিছু ছিল না যা তাকে আশ্বস্ত করতে পারে এবং তার প্রদানকৃত ওষুধ সেই রোগের নিরাময় হতে পারেনি যা তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। মুসলিম ব্যক্তিটি মনে করেছিল যে প্রহারের মাধ্যমেই সে তার চিকিৎসা করবে; ফলে সে তাকে প্রহার করল এবং বলল: "এটাই হলো উত্তর।" তখন কাফিরটি বলল: "আমাদের সঙ্গীরা তাদের এই কথায় সত্য বলেছে যে: ইসলাম ধর্ম কেবল তলোয়ারের জোরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কিতাবের মাধ্যমে নয়।" অতঃপর তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল—একজন প্রহারকারী এবং অন্যজন প্রহৃত হিসেবে, আর সত্য অন্বেষণকারী ও অন্বেষিত বিষয়ের মাঝে দলিলটি হারিয়ে গেল। তখন উত্তরদাতা সংকল্পের দৃঢ়তা নিয়ে এবং প্রচেষ্টার সাথে অগ্রসর হলেন। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে তাঁর ওপর ভরসা করে, তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে ও তাঁর প্রতি সমর্পিত হয়ে আল্লাহর জন্য দণ্ডায়মান হলেন। তিনি সেই সব অক্ষম মূর্খদের মতো কথা বলেননি যারা বলে: "কাফিরদের সাথে বিতর্কের অবকাশ নেই, কেবল তলোয়ার দিয়ে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।" এটি মূলত রণাঙ্গন থেকে পলায়ন এবং অক্ষমতা ও দুর্বলতার আশ্রয় নেওয়া। সুতরাং কাফিরদের দাওয়াত দেওয়ার পর তাদের সাথে বিতর্ক করা হলো দলিল প্রতিষ্ঠা ও অজুহাত খণ্ডনের জন্য; যাতে যে ধ্বংস হওয়ার সে স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকার সে স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জীবিত থাকে। আর তলোয়ার তো কেবল দলিলকে কার্যকর করতে, একগুঁয়েদের সংশোধন করতে এবং অস্বীকারকারীদের দণ্ড দিতে অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣٣)
قَالَ تَعَالَى: لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ وَأَنْزَلْنَا الْحَدِيدَ فِيهِ بَأْسٌ شَدِيدٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ.
فَدِينُ الْإِسْلَامِ قَامَ بِالْكِتَابِ الْهَادِي وَنَفَّذَهُ السَّيْفُ النَّاصِرُ.
شِعْرٌ:
فَمَا هُوَ إِلَّا الْوَحْيُ أَوْ حَدُّ مُرْهَفٍ
… يُقِيمُ ظباهُ أَخْدَعَيْ كُلِّ مَائِلِ
فَهَذَا شِفَاءُ الدَّاءِ مِنْ كُلِّ عَاقِلٍ
… وَهَذَا دَوَاءُ الدَّاءِ مِنْ كُلِّ جَاهِلِ
وَإِلَى اللَّهِ الرَّغْبَةُ فِي التَّوْفِيقِ، فَإِنَّهُ الْفَاتِحُ مِنَ الْخَيْرِ أَبْوَابَهُ، وَالْمُيَسِّرُ لَهُ أَسْبَابَهُ.
মহান আল্লাহ বলেন: আমি অবশ্যই আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও তুলাদণ্ড অবতীর্ণ করেছি যেন মানুষ ইনসাফের সাথে জীবনযাপন করতে পারে। আর আমি লোহা অবতীর্ণ করেছি যাতে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং মানুষের জন্য নানাবিধ উপকার। আর এটি এ জন্য যে, আল্লাহ জেনে নিতে পারেন কে অদৃশ্যে তাঁকে ও তাঁর রাসূলগণকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত শক্তিমান ও মহা পরাক্রমশালী।
সুতরাং ইসলাম ধর্ম হেদায়াত প্রদানকারী কিতাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সাহায্যকারী তলোয়ার তা বাস্তবায়ন করেছে।
কবিতা:
তা ওহী ব্যতীত আর কিছু নয় অথবা ধারালো তরবারির অগ্রভাগ
… যা প্রতিটি বিপথগামী ব্যক্তির ঘাড় সোজা করে দেয়।
এটি প্রতিটি বুদ্ধিমান ব্যক্তির রোগের আরোগ্য
… আর এটিই প্রতিটি মূর্খ ব্যক্তির ব্যাধির ঔষধ।
আর আল্লাহর নিকটই তাওফীক প্রার্থনা করা হয়, কেননা তিনিই কল্যাণের দ্বারসমূহ উন্মুক্তকারী এবং এর উপকরণসমূহ সহজকারী।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣٤)
وَقَدْ وَضَعْتُ هَذَا الْكِتَابَ وَسَمَّيْتُهُ هِدَايَةَ الْحَيَارَى فِي أَجْوِبَةِ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى.
وَقَسَّمْتُهُ قِسْمَيْنِ:
الْقِسْمُ الْأَوَّلُ: فِي أَجْوِبَةِ الْمَسَائِلِ.
الْقِسْمُ الثَّانِي: فِي تَقْرِيرٍ، نُبُوَّةِ سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ بْنِ هَاشِمٍ بِجَمِيعِ أَنْوَاعِ الدَّلَائِلِ، فَجَاءَ بِحَمْدِ اللَّهِ وَمَنِّهِ وَتَوْفِيقِهِ كِتَابًا مُمْتِعًا مُعْجِبًا، لَا يَسْأَمُ قَارِيِهِ وَلَا يَمَلُّ النَّاظِرُ فِيهِ، فَهُوَ كِتَابٌ يَصْلُحُ لِلدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَلِزِيَادَةِ الْإِيمَانِ، وَلَذَّةِ الْإِنْسَانِ. يُعْطِيكَ مَا شِئْتَ مِنْ أَعْلَامِ النُّبُوَّةِ وَبَرَاهِينِ الرِّسَالَةِ، وَبِشَارَاتِ الْأَنْبِيَاءِ بِخَاتَمِهِمْ، وَاسْتِخْرَاجِ اسْمِهِ الصَّرِيحِ مِنْ كُتُبِهُمْ، وَذِكْرِ نَعْتِهِ وَصِفَتِهِ وَسِيرَتِهِ مِنْ كُتُبِهِمْ، وَالتَّمَيُّزِ بَيْنَ صَحِيحِ الْأَدْيَانِ وَفَاسِدِهَا، وَكَيْفِيَّةِ فَسَادِهَا بَعْدَ اسْتِقَامَتِهَا، وَجُمْلَةً مِنْ فَضَائِحِ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ، وَمَا هُمْ عَلَيْهِ، وَأَنَّهُمْ أَعْظَمُ النَّاسِ بَرَاءَةً مِنْ أَنْبِيَائِهِمْ، وَأَنَّ نُصُوصَ أَنْبِيَائِهِمْ تَشْهَدُ بِكُفْرِهِمْ وَضَلَالِهِمْ، وَغَيْرَ ذَلِكَ مِنْ نُكَتٍ بَدِيعَةٍ، لَا تُوجَدُ فِي سِوَاهُ. وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْهِ التُّكْلَانِ، فَهُوَ حَسْبُنَا وَنَعِمَ الْوَكِيلُ.
আমি এই কিতাবটি রচনা করেছি এবং এর নামকরণ করেছি ‘ইহুদি ও খ্রিস্টানদের জবাবের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তদের পথনির্দেশ’।
আমি একে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম ভাগ: মাসআলাসমূহের উত্তর প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় ভাগ: আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ —আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন— যিনি আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশেমের পুত্র, তাঁর নবুওয়াতকে সব ধরণের প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে। ফলে আল্লাহর প্রশংসা, অনুগ্রহ ও তাওফীকে এটি একটি উপভোগ্য ও চমৎকার কিতাব হিসেবে তৈরি হয়েছে, যা পাঠকারীকে ক্লান্ত করে না এবং পাঠক এতে একঘেয়েমি অনুভব করে না। এটি এমন এক কিতাব যা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য কল্যাণকর এবং ঈমান বৃদ্ধি ও মানুষের আনন্দের জন্য উপযোগী। এটি আপনাকে নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ, রিসালাতের প্রমাণাদি এবং নবীগণের পক্ষ থেকে তাঁদের সমাপ্তিকারীর ব্যাপারে সুসংবাদ থেকে যা চান তাই প্রদান করবে। আর তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে তাঁর সুস্পষ্ট নাম বের করা এবং তাঁদের কিতাব থেকে তাঁর গুণাবলি, বৈশিষ্ট্য ও জীবনচরিতের আলোচনা এতে রয়েছে। এ ছাড়াও এতে সঠিক ও ভ্রান্ত ধর্মের পার্থক্য এবং সঠিক অবস্থায় থাকার পর কীভাবে তা বিকৃত ও নষ্ট হলো তার বর্ণনা হয়েছে। আর এতে দুই কিতাবধারীদের কেলেঙ্কারীসমূহের একটি সংকলন এবং তারা বর্তমানে কীসের ওপর লিপ্ত রয়েছে তার বর্ণনা রয়েছে। আরও আছে যে, তারা তাদের নবীগণ থেকে বিমুখ হওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে চরম এবং তাদের নবীগণের বক্তব্যসমূহ তাদের কুফরি ও গোমরাহির সাক্ষ্য দেয়। এ ছাড়াও এতে অন্যান্য চমৎকার ও সূক্ষ্ম বিষয় রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয় এবং তাঁর ওপরই ভরসা। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣٥)
فَنَقُولُ أَمَّا
الْمَسْأَلَةُ الْأُولَى وَهِيَ: قَوْلُ السَّائِلِ: قَدِ اشْتُهِرَ عِنْدَكُمْ بِأَنَّ أَهْلَ الْكِتَابَيْنِ مَا مَنَعَهُمْ مِنَ الدُّخُولِ فِي الْإِسْلَامِ إِلَّا الرِّئَاسَةُ وَالْمَأْكَلَةُ لَا غَيْرَ، فَكَلَامُ جَاهِلٍ بِمَا عِنْدَ الْمُسْلِمِينَ وَبِمَا عِنْدَ الْكُفَّارِ، أَمَّا الْمُسْلِمُونَ فَلَمْ يَقُولُوا: إِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْ أَهْلَ الْكِتَابِ مِنَ الدُّخُولِ فِي الْإِسْلَامِ إِلَّا الرِّئَاسَةُ وَالْمَأْكَلَةُ لَا غَيْرَ، وَإِنْ قَالَ هَذَا بَعْضُ عَوَامِّهِمْ فَلَا يَلْزَمُ جَمَاعَتَهُمْ، وَالْمُمْتَنِعُونَ مِنَ الدُّخُولِ فِي الْإِسْلَامِ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ وَغَيْرِهِمْ جُزْءٌ يَسِيرٌ جِدًّا بِالْإِضَافَةِ إِلَى الدَّاخِلِينَ فِيهِ مِنْهُمْ، بَلْ أَكْثَرُ الْأُمَمِ دَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ طَوْعًا وَرَغْبَةً وَاخْتِيَارًا لَا كَرْهًا وَاضْطِرَارًا.
وَإِنَّ اللَّهَ سبحانه وتعالى بَعْثَ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم رَسُولًا إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ وَهُمْ خَمْسَةُ أَصْنَافٍ قَدْ طَبَقُوا الْأَرْضَ: يَهُودُ، وَنَصَارَى، وَمَجُوسٌ، وَصَابِئُونَ، وَمُشْرِكُونَ.
وَهَذِهِ الْأَصْنَافُ هِيَ الَّتِي كَانَتْ قَدِ اسْتَوْلَتْ عَلَى الدُّنْيَا مِنْ مَشَارِقِهَا إِلَى مَغَارِبِهَا.
অতএব আমরা বলব, আর
প্রথম বিষয়টি হলো প্রশ্নকারীর এই উক্তি: আপনাদের নিকট এটি প্রসিদ্ধ যে, আহলে কিতাবদ্বয়কে নেতৃত্ব ও বৈষয়িক লালসা ছাড়া অন্য কিছুই ইসলাম গ্রহণ করতে বাধা দেয়নি, এটি মুসলিমদের নিকট যা রয়েছে এবং কাফিরদের নিকট যা রয়েছে সে সম্পর্কে এক অজ্ঞ ব্যক্তির কথা। মুসলিমগণ এমন কথা বলেননি যে, আহলে কিতাবদের ইসলামে প্রবেশ করতে নেতৃত্ব ও বৈষয়িক লালসা ছাড়া অন্য কিছু বাধা দেয়নি; যদি তাঁদের সাধারণ মানুষের কেউ এমনটি বলেও থাকেন, তবে তা তাঁদের জামাআতের (সামগ্রিক মতের) ওপর বর্তায় না। আহলে কিতাব ও অন্যদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে, তারা তাদের মধ্যে ইসলাম গ্রহণকারীদের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য অংশ। বরং অধিকাংশ জাতিই স্বেচ্ছায়, আগ্রহে এবং স্বতস্ফূর্তভাবে ইসলামে প্রবেশ করেছে, কোনো জবরদস্তি বা নিরুপায় হয়ে নয়।
নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমগ্র জগদ্বাসীর নিকট রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন, যখন তারা ছিল পাঁচ প্রকারের যারা পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত ছিল: ইহুদি, নাসারা, মজুসি, সাবেয়ি এবং মুশরিক।
আর এই শ্রেণিগুলোই পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত রাজত্ব ও কর্তৃত্ব বজায় রেখেছিল।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣٦)
فَأَمَّا الْيَهُودُ فَأَكْثَرُ مَا كَانُوا بِالْيَمَنِ وَخَيْبَرَ وَالْمَدِينَةِ وَمَا حَوْلَهَا، وَكَانُوا بِأَطْرَافِ الشَّامِ مُسْتَذَلِّينَ مَعَ النَّصَارَى، وَكَانَ مِنْهُمْ بِأَرْضِ فَارِسَ مُسْتَذَلَّةٌ مَعَ الْمَجُوسِ، وَكَانَ مِنْهُمْ بِأَرْضِ الْمَغْرِبِ فِرْقَةٌ، وَأَعَزُّ مَا كَانُوا بِالْمَدِينَةِ وَخَيْبَرَ وَمَا حَوْلَهَا، وَكَانَ اللَّهُ سبحانه وتعالى قَدْ قَطَّعَهُمْ فِي الْأَرْضِ أُمَمًا وَسَلَبَهُمُ الْمُلْكَ وَالْعِزَّ.
وَأَمَّا النَّصَارَى فَكَانُوا طَبَقَ الْأَرْضِ: فَكَانَتِ الشَّامُ كُلُّهَا نَصَارَى، وَأَرْضُ الْمَغْرِبِ كَانَ الْغَالِبُ عَلَيْهِمُ النَّصَارَى، وَكَذَلِكَ أَرْضُ مِصْرَ وَالْحَبَشَةِ وَالنُّوبَةِ وَالْجَزِيرَةِ وَالْمَوْصِلِ وَأَرْضُ نَجْرَانَ وَغَيْرُهَا مِنَ الْبِلَادِ.
وَأَمَّا الْمَجُوسُ فَهُمْ أَهْلُ مَمْلَكَةِ فَارِسَ وَمَا اتَّصَلَ بِهَا.
وَأَمَّا الصَّابِئَةُ فَأَهْلُ حَرَّانَ وَكَثِيرٌ مِنْ بِلَادِ الرُّومِ.
আর ইহুদিদের কথা হলো, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইয়ামেন, খায়বার, মদিনা এবং এর চারপাশের এলাকাগুলোতে অবস্থান করত। তারা সিরিয়ার প্রান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে খ্রিস্টানদের অধীনে লাঞ্ছিত অবস্থায় ছিল। পারস্য ভূখণ্ডেও তাদের এক অংশ অগ্নিপূজকদের সাথে অবমাননাকর অবস্থায় ছিল। মাগরিবের ভূখণ্ডেও তাদের একটি দল ছিল। তারা সর্বাধিক প্রভাবশালী ছিল মদিনা, খায়বার এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায়। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদেরকে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দিয়েছিলেন এবং তাদের থেকে রাজত্ব ও প্রতিপত্তি কেড়ে নিয়েছিলেন।
আর খ্রিস্টানদের কথা হলো, তারা ছিল পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র বিস্তৃত। সমগ্র শাম ছিল খ্রিস্টান অধ্যুষিত। মাগরিব ভূখণ্ডের অধিকাংশ অধিবাসীও ছিল খ্রিস্টান। অনুরূপভাবে মিসর, হাবাশা, নুবা, জাজিরা, মসুল, নাজরান এবং অন্যান্য জনপদসমূহও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আর অগ্নিপূজকদের কথা হলো, তারা ছিল পারস্য সাম্রাজ্য এবং এর সাথে সংযুক্ত অঞ্চলসমূহের অধিবাসী।
আর সাবিইদের কথা হলো, তারা ছিল হাররান এবং রোম সাম্রাজ্যের অনেক শহরের অধিবাসী।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣٧)
وَأَمَّا الْمُشْرِكُونَ فَجَزِيرَةُ الْعَرَبِ جَمِيعُهَا وَبِلَادُ الْهِنْدِ وَبِلَادُ التُّرْكِ وَمَا جَاوَرَهَا
وَأَدْيَانُ أَهْلِ الْأَرْضِ لَا تَخْرُجُ عَنْ هَذِهِ الْأَدْيَانِ الْخَمْسَةِ، وَدِينُ الْحُنَفَاءِ لَا يُعْرَفُ فِيهِمْ الْبَتَّةَ. وَهَذِهِ الْأَدْيَانُ الْخَمْسَةُ كُلُّهَا لِلشَّيْطَانِ كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما وَغَيْرُهُ: الْأَدْيَانُ سِتَّةٌ: وَاحِدٌ لِلرَّحْمَنِ وَخَمْسَةٌ لِلشَّيْطَانِ
وَهَذِهِ الْأَدْيَانُ السِّتَّةُ مَذْكُورَةٌ فِي آيَةِ الْفَصْلِ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئِينَ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا إِنَّ اللَّهَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ. فَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ رَسُولَهُ صلى الله عليه وسلم اسْتَجَابَ لَهُ وَلِخُلَفَائِهِ بَعْدَهُ أَكْثَرُ أَهْلِ الْأَدْيَانِ طَوْعًا وَاخْتِيَارًا، وَلَمْ يُكْرِهْ أَحَدًا قَطُّ عَلَى الدِّينِ، وَإِنَّمَا كَانَ يُقَاتِلُ مَنْ يُحَارِبُهُ وَيُقَاتِلُهُ، وَأَمَّا مَنْ سَالَمَهُ وَهَادَنَهُ فَلَمْ يُقَاتِلْهُ وَلَمْ يُكْرِهْهُ عَلَى الدُّخُولِ فِي دِينِهِ امْتِثَالًا لِأَمْرِ رَبِّهِ سبحانه وتعالى حَيْثُ يَقُولُ: لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيِّ
وَهَذَا نَفْيٌ فِي مَعْنَى النَّهْيِ، أَيْ لَا تُكْرِهُوا أَحَدًا عَلَى الدِّينِ، نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فِي رِجَالٍ مِنَ الصَّحَابَةِ كَانَ لَهُمْ أَوْلَادٌ، قَدْ تَهَوَّدُوا وَتَنَصَّرُوا قَبْلَ الْإِسْلَامِ، فَلَمَّا جَاءَ الْإِسْلَامُ أَسْلَمَ الْآبَاءُ وَأَرَادُوا إِكْرَاهَ الْأَوْلَادِ عَلَى الدِّينِ، فَنَهَاهُمُ اللَّهُ سبحانه وتعالى عَنْ ذَلِكَ حَتَّى يَكُونُوا هُمُ الَّذِينَ يَخْتَارُونَ الدُّخُولَ فِي الْإِسْلَامِ.
وَالصَّحِيحُ: الْآيَةُ عَلَى عُمُومِهَا فِي حَقِّ كُلِّ كَافِرٍ، وَهَذَا ظَاهِرٌ عَلَى قَوْلِ مَنْ يُجَوِّزُ أَخْذَ الْجِزْيَةِ مِنْ جَمِيعِ الْكُفَّارِ، فَلَا يُكْرَهُونَ عَلَى الدُّخُولِ فِي الدِّينِ، بَلْ إِمَّا أَنْ يَدْخُلُوا فِي الدِّينِ، وَإِمَّا أَنْ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ، كَمَا تَقُولُهُ أَهْلُ الْعِرَاقِ، وَأَهْلُ الْمَدِينَةِ، وَإِنِ اسْتَثْنَى هَؤُلَاءِ بَعْضَ عَبْدَةِ الْأَوْثَانِ.
আর মুশরিকদের কথা যদি বলি, তবে সমগ্র আরব উপদ্বীপ, হিন্দুস্তান (ভারতবর্ষ), তুর্কি ভূমি এবং তাদের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ।
আর পৃথিবীর অধিবাসীদের ধর্মসমূহ এই পাঁচটি ধর্মের বাইরে নয়, এবং তাদের মধ্যে একনিষ্ঠদের (হুনফাদের) ধর্ম মোটেও পরিচিত ছিল না। আর এই পাঁচটি ধর্ম সবই শয়তানের জন্য, যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ও অন্যান্যরা বলেছেন: "ধর্ম ছয়টি: একটি দয়াময় আল্লাহর জন্য আর পাঁচটি শয়তানের জন্য।"
আর এই ছয়টি ধর্ম মীমাংসার আয়াতে (আয়াতুল ফাসল) উল্লেখ করা হয়েছে, মহান আল্লাহর বাণীতে: "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহুদি হয়েছে, আর সাবেয়ি, নাসারা, মাজুসি এবং যারা শিরক করেছে; নিশ্চয় আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।" অতঃপর যখন আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ করলেন, তখন অধিকাংশ ধর্মাবলম্বী অনুসারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও স্বেচ্ছায় তাঁর ও তাঁর পরবর্তী খলীফাদের আহ্বানে সাড়া দিল। তিনি কাউকেও কখনো ধর্মের ব্যাপারে বাধ্য করেননি। তিনি কেবল তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করতেন যারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করত এবং লড়াই করত। আর যারা তাঁর সাথে সন্ধি ও শান্তিতে থাকত, তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করতেন না এবং তাদের নিজ ধর্মে প্রবেশ করতে বাধ্য করতেন না; তাঁর মহান প্রতিপালকের নির্দেশের আনুগত্য স্বরূপ যেখানে তিনি বলেছেন: "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; সত্য পথ ভ্রান্ত পথ থেকে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে।"
আর এটি নিষেধাজ্ঞার অর্থে একটি না-বাচক বাক্য, অর্থাৎ: তোমরা কাউকে ধর্মের ব্যাপারে বাধ্য করো না। এই আয়াতটি সাহাবীদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তির ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে যাদের সন্তানরা ইসলামের আগে ইয়াহুদি বা নাসারা হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর যখন ইসলাম আসলো, পিতারা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং সন্তানদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করতে চাইলেন। তখন মহান আল্লাহ তাঁদেরকে তা থেকে নিষেধ করলেন, যাতে তারা নিজেরাই ইসলামে প্রবেশের বিষয়টি বেছে নেয়।
আর সঠিক মত হলো: আয়াতটি সকল কাফিরের ক্ষেত্রে সাধারণ (ব্যাপক)। এটি তাদের মতানুসারে স্পষ্ট যারা সকল কাফিরের কাছ থেকে জিযিয়া গ্রহণ বৈধ মনে করেন; ফলে তাদেরকে ধর্মে প্রবেশের জন্য বাধ্য করা হবে না, বরং তারা হয় ইসলামে প্রবেশ করবে অথবা জিযিয়া প্রদান করবে; যেমনটি ইরাকবাসী ও মদীনাবাসীগণ বলেন, যদিও তাঁরা মূর্তিপূজারীদের মধ্য থেকে কিছু অংশকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣٨)
وَمَنْ تَأَمَّلَ سِيرَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَبَيَّنَ لَهُ أَنَّهُ لَمْ يُكْرِهْ أَحَدًا عَلَى دِينِهِ قَطُّ، وَأَنَّهُ إِنَّمَا قَاتَلَ مَنْ قَاتَلَهُ، وَأَمَّا مَنْ هَادَنَهُ فَلَمْ يُقَاتِلْهُ مَا دَامَ مُقِيمًا عَلَى هُدْنَتِهِ، لَمْ يَنْقُضْ عَهْدَهُ، بَلْ أَمَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى أَنْ يَفِيَ لَهُمْ بِعَهْدِهِمْ مَا اسْتَقَامُوا لَهُ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: فَمَا اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ.
فَلَمَّا قَدِمَ الْمَدِينَةَ صَالَحَ الْيَهُودَ وَأَقَرَّهُمْ عَلَى دِينِهِمْ، فَلَمَّا حَارَبُوهُ وَنَقَضُوا عَهْدَهُ وَبَدَءُوهُ بِالْقِتَالِ قَاتَلَهُمْ، فَمَنَّ عَلَى بَعْضِهِمْ، وَأَجْلَى بَعْضَهُمْ، وَقَاتَلَ بَعْضَهُمْ. وَكَذَلِكَ لَمَّا هَادَنَ قُرَيْشًا عَشْرَ سِنِينَ لَمْ يَبْدَأْهُمْ بِقِتَالٍ حَتَّى بَدَءُوا هُمْ بِقِتَالِهِ وَنَقْضِ عَهْدِهِ، فَحِينَئِذٍ غَزَاهُمْ فِي دِيَارِهِمْ، وَكَانُوا هُمْ يَغْزُونَهُ قَبْلَ ذَلِكَ كَمَا قَصَدُوهُ يَوْمَ الْخَنْدَقِ، وَيَوْمَ بَدْرٍ أَيْضًا هُمْ جَاءُوا لِقِتَالِهِ وَلَوِ انْصَرَفُوا عَنْهُ لَمْ يُقَاتِلْهُمْ.
وَالْمَقْصُودُ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُكْرِهْ أَحَدًا عَلَى الدُّخُولِ فِي دِينِهِ الْبَتَّةَ، وَإِنَّمَا دَخَلَ النَّاسُ فِي دِينِهِ اخْتِيَارًا وَطَوْعًا، فَأَكْثَرُ أَهْلِ الْأَرْضِ دَخَلُوا فِي دَعْوَتِهِ لَمَّا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْهُدَى، وَأَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ حَقًّا فَهَؤُلَاءِ أَهْلُ الْيَمَنِ كَانُوا عَلَى دِينِ الْيَهُودِيَّةِ وَأَكْثَرُهُمْ، كَمَا قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِمُعَاذٍ لَمَّا بَعَثَهُ إِلَى الْيَمَنِ: إِنَّكَ سَتَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ شَهَادَةُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ، ثُمَّ دَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ مِنْ غَيْرِ رَغْبَةٍ وَلَا رَهْبَةٍ، وَكَذَلِكَ مَنْ أَسْلَمَ مِنْ يَهُودِ الْمَدِينَةِ، وَهُمْ جَمَاعَةٌ كَثِيرُونَ غَيْرُ عَبْدِ اللَّهِ مَذْكُورُونَ فِي كُتُبِ السِّيَرِ وَالْمَغَازِي، لَمْ يُسْلِمُوا رَغْبَةً فِي الدُّنْيَا وَلَا رَهْبَةً مِنَ السَّيْفِ، بَلْ أَسْلَمُوا فِي حَالِ حَاجَةِ الْمُسْلِمِينَ وَكَثْرَةِ أَعْدَائِهِمْ، وَمُحَارَبَةِ أَهْلِ الْأَرْضِ لَهُمْ
আর যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত (জীবনী) নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে, তার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, তিনি কাউকে তাঁর দ্বীন গ্রহণের জন্য কখনো বাধ্য করেননি। তিনি কেবল তাদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করেছেন যারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আর যারা তাঁর সাথে সন্ধি করেছে, যতক্ষণ তারা সন্ধির ওপর অটল ছিল এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করেনি, তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেননি। বরং আল্লাহ তাআলা তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তারা যতক্ষণ তাদের অঙ্গীকারের ওপর অটল থাকে, তিনিও যেন তাদের প্রতি অঙ্গীকার পূর্ণ করেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যতক্ষণ তারা তোমাদের প্রতি (চুক্তিতে) অটল থাকে, তোমরাও তাদের প্রতি অটল থাকো।"
অতঃপর যখন তিনি মদীনায় আগমন করলেন, তখন তিনি ইহুদিদের সাথে সন্ধি করলেন এবং তাদেরকে তাদের দ্বীনের ওপর বহাল রাখলেন। কিন্তু যখন তারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল এবং তাঁর অঙ্গীকার ভঙ্গ করল ও আগে যুদ্ধ শুরু করল, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন। এরপর তিনি তাদের কারো ওপর অনুগ্রহ করলেন, কাউকে বহিষ্কার করলেন এবং কাউকে যুদ্ধক্ষেত্রে হত্যা করলেন। অনুরূপভাবে তিনি যখন কুরাইশদের সাথে দশ বছরের জন্য সন্ধি করেছিলেন, তখন তিনি তাদের সাথে আগে যুদ্ধ শুরু করেননি, যতক্ষণ না তারা আগে তাঁর সাথে যুদ্ধ শুরু করল এবং তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করল। তখন তিনি তাদের ভূখণ্ডে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। আর এর আগে তারাই তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত, যেমনটি তারা খন্দকের যুদ্ধে তাঁর ওপর আক্রমণের সংকল্প করেছিল এবং বদরের দিনেও তারাই তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য এসেছিল; তারা যদি তাঁর কাছ থেকে ফিরে যেত তবে তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করতেন না।
মূল কথা হলো, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে তাঁর দ্বীনে প্রবেশের জন্য একেবারেই বাধ্য করেননি। বরং মানুষ স্বেচ্ছায় ও সানন্দে তাঁর দ্বীনে প্রবেশ করেছে। পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ তাঁর দাওয়াতে প্রবেশ করেছে যখন তাদের কাছে হিদায়াত স্পষ্ট হয়েছে এবং তারা বুঝতে পেরেছে যে তিনি আল্লাহর সত্য রাসূল। এই যেমন ইয়ামানের অধিবাসীগণ, তারা এবং তাদের অধিকাংশ ছিল ইহুদি ধর্মের অনুসারী। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ (রা.)-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ যারা আহলে কিতাব। অতএব তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান যেন হয় এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই"—অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করলেন। এরপর তারা কোনো পার্থিব লোভ বা ভয়ভীতি ছাড়াই ইসলামে প্রবেশ করল। একইভাবে মদীনার ইহুদিদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন—আর তাঁরা আব্দুল্লাহ বিন সালাম ছাড়াও এক বিশাল জামাত যাদের কথা সীরাত ও মাগাযীর কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে—তাঁরা দুনিয়াবী লালসা বা তরবারির ভয়ে ইসলাম গ্রহণ করেননি। বরং তাঁরা এমন এক অবস্থায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন যখন মুসলিমরা চরম অভাবগ্রস্ত ছিল, তাদের শত্রুর সংখ্যা ছিল বিশাল এবং সমগ্র পৃথিবীর মানুষ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٣٩)
مِنْ غَيْرِ سَوْطٍ وَلَا نَوْطٍ، بَلْ تَحَمَّلُوا مُعَادَاةَ أَقْرِبَائِهِمْ وَحِرْمَانَهُمْ نَفْعَهُمْ بِالْمَالِ وَالْبَدَنِ مَعَ ضَعْفِ شَوْكَةِ الْمُسْلِمِينَ وَقِلَّةِ ذَاتِ أَيْدِيهِمْ. فَكَانَ أَحَدُهُمْ يُعَادِي أَبَاهُ وَأُمَّهُ وَأَهْلَ بَيْتِهِ وَعَشِيرَتِهِ، وَيَخْرُجُ مِنَ الدُّنْيَا رَغْبَةً فِي الْإِسْلَامِ، لَا لِرِئَاسَةٍ وَلَا مَالٍ، بَلْ يَنْخَلِعُ مِنَ الرِّئَاسَةِ وَالْمَالِ، وَيَتَحَمَّلُ أَذَى الْكُفَّارِ مِنْ ضَرْبِهِمْ وَشَتْمِهِمْ وَصُنُوفِ أَذَاهُمْ وَلَا يَصْرِفُهُ ذَلِكَ عَنْ دِينِهِ.
فَإِنْ كَانَ كَثِيرٌ مِنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ وَالْقِسِّيسِينَ وَمَنْ ذَكَرَهُ هَذَا السَّائِلُ قَدِ اخْتَارَ الْكُفْرَ، فَقَدْ أَسْلَمَ جُمْهُورُ أَهْلِ الْأَرْضِ مِنْ فِرَقِ الْكُفَّارِ، وَلَمْ يَبْقَ إِلَّا الْأَقَلُّ بِالنِّسْبَةِ إِلَى مَنْ أَسْلَمَ، فَهَؤُلَاءِ نَصَارَى الشَّامِ كَانُوا مِلْءَ الشَّامِ، ثُمَّ صَارُوا مُسْلِمِينَ إِلَّا النَّادِرَ، فَصَارُوا فِي الْمُسْلِمِينَ كَالشَّعْرَةِ السَّوْدَاءِ فِي الثَّوْرِ الْأَبْيَضِ.
وَكَذَلِكَ الْمَجُوسُ كَانَتْ أُمَّةً لَا يُحْصِي عَدَدَهُمْ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى فَأَطْبَقُوا عَلَى الْإِسْلَامِ، لَمْ يَتَخَلَّفْ مِنْهُمْ إِلَّا النَّادِرُ، وَصَارَتْ بِلَادَ الْإِسْلَامِ، وَصَارَ مَنْ لَمْ يُسْلِمْ مِنْهُمْ تَحْتَ الْجِزْيَةِ وَالذِّلَّةِ، وَكَذَلِكَ الْيَهُودُ أَسْلَمَ أَكْثَرُهُمْ وَلَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ إِلَّا شِرْذِمَةٌ قَلِيلَةٌ مُقَطَّعَةٌ فِي الْبِلَادِ.
فَقَوْلُ هَذَا الْجَاهِلِ: إِنَّ هَاتَيْنِ الْأُمَّتَيْنِ اللَّتَيْنِ لَا يُحْصِي عَدَدَهُمْ إِلَّا اللَّهُ تَعَالَى كَفَرُوا بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم كَذِبٌ ظَاهِرٌ وَبُهْتٌ مُبِينٌ، حَتَّى لَوْ كَانُوا كُلُّهُمْ قَدْ أَطْبَقُوا عَلَى اخْتِيَارِ الْكُفْرِ لَكَانُوا فِي ذَلِكَ أُسْوَةَ قَوْمِ نُوحٍ، وَقَدْ أَقَامَ فِيهِمْ نُوحٌ صلى الله عليه وسلم أَلْفَ سَنَةٍ إِلَّا خَمْسِينَ عَامًا يَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى، وَيُرِيهِمْ مِنَ الْآيَاتِ مَا يُقِيمُ حُجَّةَ اللَّهِ عَلَيْهِمْ، وَقَدْ أَطْبَقُوا عَلَى الْكُفْرِ إِلَّا قَلِيلًا مِنْهُمْ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلٌ.
কোনো বেত্রাঘাত বা বলপ্রয়োগ ছাড়াই, বরং তারা তাদের নিকটাত্মীয়দের শত্রুতা এবং তাদের থেকে আর্থিক ও শারীরিক সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হওয়াকে বরণ করে নিয়েছিলেন; অথচ তখন মুসলিমদের শক্তি ছিল দুর্বল এবং তাদের সহায়-সম্পদ ছিল অতি সামান্য। তাদের প্রত্যেকেই নিজের পিতা, মাতা, পরিবারের সদস্য এবং নিজ গোত্রের সাথে শত্রুতা তৈরি করতেন এবং ইসলামের প্রতি অনুরাগের কারণে দুনিয়াবি স্বার্থ ত্যাগ করে বেরিয়ে আসতেন। তারা এটা কোনো নেতৃত্ব বা সম্পদের লালসায় করতেন না, বরং নেতৃত্ব ও সম্পদ বিসর্জন দিয়ে আসতেন। তারা কাফিরদের প্রহার, গালিগালাজ এবং নানা প্রকার নির্যাতন সহ্য করতেন, তবুও এসব কিছুই তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারত না।
যদি অনেক ইহুদি পণ্ডিত, খ্রিস্টান সন্ন্যাসী ও যাজক এবং এই প্রশ্নকারী যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তারা কুফরকে বেছে নিয়ে থাকেন, তবে পৃথিবীর অধিকাংশ কাফির জাতিই ইসলাম গ্রহণ করেছে। যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের তুলনায় কুফরে অটল থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যা অত্যন্ত নগণ্য। যেমন শামের খ্রিস্টানদের কথা ধরা যাক, তারা একসময় পুরো শাম দেশ পূর্ণ করে রেখেছিল; অতঃপর হাতেগোনা কয়েকজন বাদে তারা সবাই মুসলিম হয়ে যায়। ফলে মুসলিমদের বিশাল জনসমুদ্রে তারা এখন একটি সাদা ষাঁড়ের গায়ে একটি কালো পশমের মতো নগণ্য সংখ্যায় পরিণত হয়েছে।
অনুরূপভাবে অগ্নিপূজক বা মাজুসরা ছিল এমন এক বিশাল জাতি যাদের সংখ্যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া কেউ গণনা করতে পারত না। অতঃপর তারা ব্যাপকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে এবং অতি সামান্য কিছু লোক ছাড়া তাদের কেউ বাকি থাকেনি। ফলে তাদের ভূখণ্ডগুলো ইসলামী জনপদে পরিণত হয় এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি তারা জিজিয়া ও হীনাবস্থার অধীন হয়ে পড়ে। একইভাবে ইহুদিদেরও অধিকাংশ ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এক নগণ্য ক্ষুদ্র দল ছাড়া তাদের মধ্যে আর কেউ অবশিষ্ট নেই।
সুতরাং এই জ্ঞানহীন ব্যক্তির কথা—যে এই দুটি জাতি (যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কুফরি করেছে—তা এক সুস্পষ্ট মিথ্যা এবং প্রকাশ্য অপবাদ। এমনকি যদি তারা সবাই কুফরকে বেছে নেওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করত, তবে তারা নূহ আলাইহিস সালামের কওমের সমতুল্য হতো। নূহ আলাইহিস সালাম তাদের মাঝে পঞ্চাশ বছর কম এক হাজার বছর অবস্থান করে তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং তাদেরকে এমন সব নিদর্শন দেখিয়েছিলেন যা তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর প্রমাণ কায়েম করেছিল। তবুও তাদের অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া সবাই কুফরিতে অটল ছিল, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর তাঁর সাথে অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান এনেছিল।"
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤٠)
وَهُمْ كَانُوا أَضْعَافَ أَضْعَافِ هَاتَيْنِ الْأُمَّتَيْنِ الْكَافِرَتَيْنِ، أَهْلِ الْغَضَبِ وَأَهْلِ الضَّلَالِ، وَقَوْمُ عَادٍ أَطْبَقُوا عَلَى الْكُفْرِ، وَهُمْ أُمَّةٌ عَظِيمَةٌ عُقَلَاءُ حَتَّى اسْتُؤْصِلُوا بِالْعَذَابِ، وَقَوْمُ ثَمُودَ أَطْبَقُوا جَمِيعُهُمْ عَلَى الْكُفْرِ بَعْدَ رُؤْيَةِ الْآيَةِ الْعَظِيمَةِ الَّتِي يُؤْمِنُ عَلَى مِثْلِهَا الْبَشَرُ، وَمَعَ هَذَا فَاخْتَارُوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ، كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَى عَلَى الْهُدَى وَقَالَ تَعَالَى: وَعَادًا وَثَمُودَ وَقَدْ تَبَيَّنَ لَكُمْ مِنْ مَسَاكِنِهِمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ فَصَدَّهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَكَانُوا مُسْتَبْصِرِينَ.
فَهَاتَانِ أُمَّتَانِ عَظِيمَتَانِ مِنْ أَكْبَرِ الْأُمَمِ قَدْ أَطْبَقَا عَلَى الْكُفْرِ مَعَ الْبَصِيرَةِ، فَأُمَّتَا الْغَضَبِ وَالضَّلَالِ إِذَا أَطْبَقَتَا عَلَى الْكُفْرِ فَلَيْسَ ذَلِكَ بِبِدْعٍ، وَهَؤُلَاءِ قَوْمُ فِرْعَوْنَ مَعَ كَثْرَتِهِمْ قَدْ أَطْبَقُوا عَلَى جَحْدِ نُبُوَّةِ مُوسَى عليه الصلاة والسلام مَعَ تَظَاهُرِ الْآيَاتِ الْبَاهِرَةِ آيَةً بَعْدَ آيَةٍ، فَلَمْ يُؤْمِنْ مِنْهُمْ إِلَّا رَجُلٌ وَاحِدٌ كَانَ يَكْتُمُ إِيمَانَهُ.
وَأَيْضًا، فَيُقَالُ لِلنَّصَارَى: هَؤُلَاءِ الْيَهُودُ مَعَ كَثْرَتِهِمْ فِي زَمَنِ الْمَسِيحِ عليه الصلاة والسلام حَتَّى كَانُوا قَدْ مَلَئُوا بِلَادَ الشَّامِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا وَكَانُوا قَدْ أَطْبَقُوا عَلَى تَكْذِيبِ الْمَسِيحِ وَجَحْدِ نُبُوَّتِهِ، وَفِيهِمُ الْأَحْبَارُ وَالرُّهْبَانُ، وَالْعُبَّادُ وَالْعُلَمَاءُ، حَتَّى آمَنَ بِهِ
এবং তারা ছিল এই দুই কাফের জাতি—ক্রোধের পাত্র ও পথভ্রষ্টদের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী ও সংখ্যায় অনেক বেশি। আদ জাতি কুফুরিতে লিপ্ত ছিল; তারা ছিল এক বিশাল ও বুদ্ধিমান জাতি, পরিশেষে আযাবের মাধ্যমে তাদের সমূলে নির্মূল করা হয়। আর সামূদ জাতি, তারা সকলে এমন এক মহান নিদর্শন দেখার পর কুফুরিতে লিপ্ত হয়েছিল যার মতো নিদর্শন দেখলে সাধারণত মানুষ ঈমান আনয়ন করে। তা সত্ত্বেও তারা ঈমানের পরিবর্তে কুফুরিকেই বেছে নিয়েছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর সামূদ জাতির কথা, আমি তাদের পথ প্রদর্শন করেছিলাম, কিন্তু তারা হিদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকেই (গোমরাহী) পছন্দ করেছিল।" এবং তিনি আরও বলেন: "আদ ও সামূদকেও (আমি ধ্বংস করেছি), তাদের ঘরবাড়ি থেকেই তোমাদের কাছে তা স্পষ্ট হয়েছে। শয়তান তাদের কাজগুলোকে তাদের নিকট শোভনীয় করে তুলেছিল এবং তাদের সৎপথ থেকে নিবৃত্ত করেছিল, অথচ তারা ছিল চক্ষুষ্মান।"
সুতরাং এই দুটি বিশাল জাতি ছিল সেই বৃহত্তম জাতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত যারা সত্য অনুধাবন করা সত্ত্বেও কুফুরিতে একতাবদ্ধ হয়েছিল। অতএব, ক্রোধের পাত্র ও পথভ্রষ্ট জাতিদ্বয় যখন কুফুরিতে একতাবদ্ধ হয়, তখন তা কোনো অভিনব বিষয় নয়। আর এই যে ফেরাউনের সম্প্রদায়, তাদের বিশাল সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও তারা একের পর এক উজ্জ্বল নিদর্শন প্রকাশ পাওয়ার পর মূসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করার ব্যাপারে একমত হয়েছিল। ফলে তাদের মধ্য থেকে কেবল একজন ব্যক্তি ব্যতীত আর কেউ ঈমান আনেনি, যে তার ঈমান গোপন রাখত।
এছাড়াও খ্রিস্টানদের বলা হয়: মসীহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর যুগে এই ইয়াহুদীরা তাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে শাম দেশ পূর্ণ করে রেখেছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর আমি সে সম্প্রদায়কে—যাদের দুর্বল মনে করা হতো—সে ভূমির পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের উত্তরাধিকারী করলাম যেখানে আমি বরকত দান করেছি।" তারা মসীহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এবং তাঁর নবুওয়াত অস্বীকার করতে একতাবদ্ধ হয়েছিল, অথচ তাদের মধ্যে বড় বড় ধর্মযাজক, সংসারত্যাগী সাধু, ইবাদতকারী ও আলেমগণ উপস্থিত ছিলেন, এমনকি তাঁর প্রতি ঈমান আনল...
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤١)
الْحَوَارِيُّونَ، فَإِذَا جَازَ عَلَى الْيَهُودِ - وَفِيهِمُ الْأَحْبَارُ وَالْعُبَّادُ وَالزُّهَّادُ وَغَيْرُهُمْ - الْإِطْبَاقُ عَلَى جَحْدِ نُبُوَّةِ الْمَسِيحِ، وَالْكُفْرِ بِهِ مَعَ ظُهُورِ آيَاتِ صِدْقِهِ كَالشَّمْسِ، جَازَ عَلَيْهِمْ إِنْكَارُ نُبُوَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَمَعْلُومٌ أَنَّ جَوَازَ ذَلِكَ عَلَى أُمَّةِ الضَّلَالِ الَّذِينَ هُمْ أَضَلُّ مِنَ الْأَنْعَامِ، وَهُمُ النَّصَارَى أَوْلَى وَأَحْرَى.
فَهَذَا السُّؤَالُ الَّذِي أَوْرَدَهُ هَذَا السَّائِلُ وَارِدٌ بِعَيْنِهِ فِي حَقِّ كُلِّ نَبِيٍّ كَذَّبَتْهُ أُمَّةٌ مِنَ الْأُمَمِ، فَإِنْ صَوَّبَ هَذَا السَّائِلُ رَأَى تِلْكَ الْأُمَمِ كُلِّهَا، فَقَدْ كَفَرَ بِجَمِيعِ الرُّسُلِ. وَإِنْ قَالَ: إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ كَانُوا عَلَى الْحَقِّ، وَكَانَتْ تِلْكَ الْأُمَمُ مَعَ كَثْرَتِهَا وَوُفُورِ عُقُولِهَا عَلَى الْبَاطِلِ، فَلَأَنْ يَكُونَ الْمُكَذِّبُونَ بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، وَهُمُ الْأَقَلُّونَ الْأَرْذَلُونَ، مِنْ هَذِهِ الطَّوَائِفِ عَلَى الْبَاطِلِ أَوْلَى وَأَحْرَى، وَأَيُّ أُمَّةٍ مِنَ الْأُمَمِ اعْتَبَرْتَهَا، وَجَدْتَ الْمُصَدِّقِينَ بِنُبُوَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم جُمْهُورَهَا، وَأَقَلُّهَا وَأَرْذَلُهَا هُمُ الْجَاحِدُونَ لِنُبُوَّتِهِ، فَرُقْعَةُ الْإِسْلَامِ اتَّسَعَتْ فِي مَشَارِقِ الْأَرْضِ وَمَغَارِبِهَا غَايَةَ الِاتِّسَاعِ بِدُخُولِ هَذِهِ الْأُمَمِ فِي دِينِهِ، وَتَصْدِيقِهِمْ بِرِسَالَتِهِ، وَبَقِيَ مَنْ لَمْ يَدْخُلْ مِنْهُمْ فِي دِينِهِ، وَهُمْ مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ أَقَلُّهَا.
وَأَيْنَ يَقَعُ النَّصَارَى الْمُكَذِّبُونَ بِرِسَالَتِهِ الْيَوْمَ مِنْ أُمَّةِ النَّصْرَانِيَّةِ الَّذِينَ كَانُوا قَبْلَهُ؟! وَكَذَلِكَ الْيَهُودُ وَالْمَجُوسُ وَالصَّابِئُونَ لَا نِسْبَةً لِلْمُكَذِّبِينَ بِرِسَالَتِهِ بَعْدَ بَعْثِهِ إِلَى جُمْلَةِ تِلْكَ الْأُمَّةِ قَبْلَ بَعْثِهِ.
وَقَدْ أَخْبَرَ تَعَالَى عَنِ الْأُمَمِ الَّتِي أَطْبَقَتْ عَلَى تَكْذِيبِ الرُّسُلِ وَدَمَّرَهَا اللَّهُ تَعَالَى، فَقَالَ سبحانه وتعالى: ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَى كُلَّ مَا جَاءَ أُمَّةً رَسُولُهَا كَذَّبُوهُ فَأَتْبَعْنَا بَعْضَهُمْ بَعْضًا وَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ فَبُعْدًا لِقَوْمٍ لَا يُؤْمِنُونَ.
فَأَخْبَرَ عَنْ هَؤُلَاءِ الْأُمَمِ أَنَّهُمْ تَطَابَقُوا عَلَى تَكْذِيبِ رُسُلِهِمْ وَأَنَّهُ عَمَّهُمْ بِالْإِهْلَاكِ، وَقَالَ تَعَالَى: كَذَلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ أَتَوَاصَوْا بِهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُونَ.
হাওয়ারীগণ; সুতরাং ইহুদিদের জন্য যদি সম্ভব হয়—যাদের মধ্যে পণ্ডিত, ইবাদতকারী, দুনিয়াবিমুখ সাধক এবং আরও অনেকে ছিল—মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করার ব্যাপারে এবং তাঁর প্রতি কুফরি করার ব্যাপারে একমত হওয়া, অথচ তাঁর সত্যতার নিদর্শনসমূহ সূর্যের মতো সুস্পষ্ট ছিল, তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত অস্বীকার করাও তাদের জন্য সম্ভব। আর এটি সুপরিচিত যে, সেই পথভ্রষ্ট উম্মত যারা চতুষ্পদ জন্তুর চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট, অর্থাৎ নাসারাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটা আরও বেশি স্বাভাবিক ও সঙ্গত।
সুতরাং এই প্রশ্নকারী যে প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন, তা হুবহু সেই প্রত্যেক নবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাঁকে কোনো না কোনো উম্মত মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। যদি এই প্রশ্নকারী ওই সকল উম্মতের মতাদর্শকে সঠিক মনে করে, তবে সে সমস্ত রাসুলের সাথেই কুফরি করল। আর যদি সে বলে যে, আম্বিয়া (আলাইহিমুস সালাম) সত্যের ওপর ছিলেন এবং ওই উম্মতগুলো সংখ্যাধিক্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও বাতিলের ওপর ছিল, তবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীরা—যারা এই দলগুলোর মধ্যে সংখ্যায় নগণ্য ও হীন—বাতিলের ওপর থাকা আরও বেশি স্বাভাবিক ও সঙ্গত। আপনি যে উম্মতকেই বিবেচনা করুন না কেন, আপনি দেখতে পাবেন যে তাদের অধিকাংশ লোকই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতকে সত্য বলে স্বীকার করেছে, আর যারা তাঁর নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে তারা সংখ্যায় অতি নগণ্য ও নিকৃষ্ট। ইসলামের পরিধি পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে অত্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এই উম্মতদের তাঁর দ্বীনে প্রবেশ এবং তাঁর রিসালাতকে সত্য বলে মেনে নেওয়ার মাধ্যমে; আর তাদের মধ্য থেকে যারা তাঁর দ্বীনে প্রবেশ করেনি তারা প্রতিটি উম্মতেরই একটি নগণ্য অংশ মাত্র।
বর্তমান সময়ের তাঁর রিসালাতকে অস্বীকারকারী নাসারারা তাঁর আগমনের পূর্ববর্তী নাসারা উম্মতের তুলনায় কোথায় অবস্থান করে?! তেমনিভাবে ইহুদি, অগ্নিপূজক এবং সাবেয়ী—তাঁর প্রেরণের পূর্ববর্তী সমগ্র উম্মতের তুলনায় তাঁর প্রেরণের পর তাঁর রিসালাত অস্বীকারকারীদের কোনো তুলনাই হয় না।
আল্লাহ তাআলা সেই উম্মতদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যারা একযোগে রাসুলদের অস্বীকার করেছিল এবং আল্লাহ তাআলা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: অতঃপর আমি একের পর এক আমার রাসুলদের প্রেরণ করেছি। যখনই কোনো উম্মতের কাছে তাদের রাসুল এসেছে, তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। ফলে আমি তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি এবং তাদের কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি। সুতরাং ধ্বংস সেই কওমের জন্য যারা ঈমান আনে না।
সুতরাং তিনি এই উম্মতদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা তাদের রাসুলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ব্যাপারে একমত হয়েছিল এবং তিনি তাদের সবাইকে ধ্বংসের মাধ্যমে গ্রাস করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: এমনিভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোনো রাসুল এসেছে, তারা বলেছে: সে একজন জাদুকর অথবা উন্মাদ। তারা কি একে অপরকে এই অসিয়ত (পরামর্শ) করে গেছে? বরং তারা তো এক সীমালঙ্ঘনকারী কওম।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤٢)
وَمَعْلُومٌ قَطْعًا أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يُهْلِكْ هَذِهِ الْأُمَمَ الْكَثِيرَةَ إِلَّا بَعْدَ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْهُدَى، فَاخْتَارُوا عَلَيْهِ الْكُفْرَ، وَلَوْ لَمْ يَتَبَيَّنْ لَهُمُ الْهُدَى وَاخْتَارُوا خِلَافَهُ لَمْ يَهْلِكُوا، كَمَا قَالَ تَعَالَى: وَمَا كُنَّا مُهْلِكِي الْقُرَى إِلَّا وَأَهْلُهَا ظَالِمُونَ، وَقَالَ تَعَالَى: فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ لَمَّا آمَنُوا كَشَفْنَا عَنْهُمْ عَذَابَ الْخِزْيِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَى حِينٍ، أَيْ فَلَمْ يَكُنْ قَرْيَةٌ آمَنَتْ فَنَفَعَهَا إِيمَانُهَا إِلَّا قَوْمَ يُونُسَ. وَمَعْلُومٌ قَطْعًا أَنَّهُ لَمْ يُصَدَّقْ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ أَوَّلِهِمْ إِلَى آخِرِهِمْ وَلَمْ يَتَّبِعْهُ مِنَ الْأُمَمِ مَا صُدِّقَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُ مِنَ الْأُمَمِ أَضْعَافُ هَاتَيْنِ الْأُمَّتَيْنِ الْمُكَذِّبَتَيْنِ مِمَّا لَا يُحْصِيهِمْ إِلَّا اللَّهُ وَلَا يَسْتَرِيبُ مَنْ لَهُ مُسْكَةٌ مِنْ عَقَلٍ أَنَّ الضَّلَالَ وَالْجَهْلَ وَالْغَيَّ وَفَسَادَ الْعَقْلِ إِلَى مَنْ خَالَفَهُ وَجَحَدَ نُبُوَّتَهُ أَقْرَبُ مِنْهُ إِلَى أَتْبَاعِهِ وَمَنْ أَقَرَّ بِنُبُوَّتِهِ.
وَحِينَئِذٍ فَيُقَالُ: كَيْفَ جَازَ عَلَى هَؤُلَاءِ الْأُمَمِ الَّذِينَ لَا يُحْصِيهِمْ إِلَّا اللَّهُ الَّذِينَ قَدْ بَلَغُوا مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا عَلَى اخْتِلَافِ طَبَائِعِهِمْ وَأَغْرَاضِهِمْ وَتَبَايُنِ مَقَاصِدِهِمِ الْإِطْبَاقُ عَلَى اتِّبَاعِ مَنْ يَكْذِبُ عَلَى اللَّهِ وَعَلَى الْعَقْلِ، وَيُحِلُّ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرُسُلُهُ وَيُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ، وَمَعْلُومٌ أَنَّ الْكَذَّابَ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى فِي دَعْوَى الرِّسَالَةِ هُوَ شَرُّ خَلْقِ اللَّهِ وَأَفْجَرُهُمْ وَأَظْلَمُهُمْ وَأَكْذَبُهُمْ. وَلَا يَشُكُّ مَنْ لَهُ أَدْنَى عَقْلٍ أَنَّ إِطْبَاقَ أَكْثَرِ الْأُمَمِ عَلَى
আর এটি নিশ্চিতভাবেই জানা যে, আল্লাহ তাআলা এই বহুসংখ্যক জাতিকে তখনই ধ্বংস করেছেন যখন তাদের নিকট হিদায়াত সুস্পষ্ট হয়েছে, অতঃপর তারা এর পরিবর্তে কুফরকে বেছে নিয়েছে। যদি তাদের নিকট হিদায়াত স্পষ্ট না হতো এবং তারা এর বিপরীত পথ বেছে নিত, তবে তাদের ধ্বংস করা হতো না; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি জনপদসমূহকে ধ্বংসকারী নই যতক্ষণ না তার অধিবাসীরা যালিম হয়।" এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "অতঃপর ইউনুসের সম্প্রদায় ব্যতীত এমন কোনো জনপদ কেন ছিল না যারা ঈমান আনত এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসত? যখন তারা ঈমান আনল, আমি তাদের থেকে পার্থিব জীবনের লাঞ্ছনাকর আযাব দূর করে দিলাম এবং তাদের এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জীবন উপভোগ করতে দিলাম।" অর্থাৎ ইউনুসের সম্প্রদায় ছাড়া এমন কোনো জনপদ ছিল না যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে এসেছে। আর এটি নিশ্চিতভাবেই জানা যে, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নবীদের মধ্য থেকে এমন কোনো নবী নেই যাকে এবং উম্মতদের মধ্য থেকে যারা তাঁর অনুসরণ করেছে তাদের ততটা সত্য বলে স্বীকার করা হয়েছে যতটা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্য বলে স্বীকার করা হয়েছে।
আর উম্মতদের মধ্য থেকে যারা তাঁর অনুসরণ করেছে, তারা এই দুই মিথ্যাচারী জাতির তুলনায় বহুগুণ বেশি, যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গণনা করতে পারে না। যার সামান্যতম বিবেকবুদ্ধি আছে সে এ বিষয়ে সন্দেহ করবে না যে, পথভ্রষ্টতা, মূর্খতা, বিচ্যুতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকৃতি সেই ব্যক্তির অধিক নিকটবর্তী যে তাঁর বিরোধিতা করেছে এবং তাঁর নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে—তাঁর অনুসারী ও যারা তাঁর নবুওয়াতকে স্বীকার করেছে তাদের তুলনায়।
এমতাবস্থায় বলা হবে: এই উম্মতসমূহ যাদের সংখ্যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, যারা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়েছে, যাদের স্বভাব, প্রবৃত্তি এবং লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন—তাদের পক্ষে এমন একজনকে অনুসরণের ব্যাপারে একমত হওয়া কীভাবে সম্ভব হতে পারে যে আল্লাহর নামে এবং বিবেকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণ যা হারাম করেছেন তাকে হালাল করে এবং যা হালাল করেছেন তাকে হারাম করে? অথচ এটি সুবিদিত যে, রিসালাতের দাবির ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপকারী ব্যক্তি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতম, সর্বাধিক পাপাচারী, সর্বাপেক্ষা যালিম এবং সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী। আর যার নূ্যনতম বুদ্ধি আছে সে এতে সন্দেহ করবে না যে, অধিকাংশ উম্মতের একমত হওয়া...
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤٣)
مُتَابَعَةِ هَذَا النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَخُرُوجَهُمْ عَنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ وَمُعَادَاتِهِمْ آبَاءَهُمْ وَعَشَائِرَهُمْ فِي مُتَابَعَتِهِ، وَبَذْلِهِمْ نُفُوسَهُمْ بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ أَمْحَلِ الْمُحَالِ.
فَتَجْوِيزُ اخْتِيَارِ الْكُفْرِ بَعْدَ تَبَيُّنِ الْهُدَى عَلَى شِرْذِمَةٍ قَلِيلَةٍ حَقِيرَةٍ لَهَا أَغْرَاضٌ عَدِيدَةٌ مِنْ هَاتَيْنِ الْأُمَّتَيْنِ أَوْلَى مِنْ تَجْوِيزِ ذَلِكَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّذِينَ طَبَقُوا مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا، وَهُمْ أَعْقَلُ الْأُمَمِ وَأَكْمَلُهَا فِي جَمِيعِ خِصَالِ الْفَضْلِ، وَأَيْنَ عُقُولُ عُبَّادِ الْعِجْلِ وَعُبَّادِ الصَّلِيبِ الَّذِي أَضْحَكُوا سَائِرَ الْعُقَلَاءِ عَلَى عُقُولِهِمْ، وَدَلُّوهِمْ عَلَى مَبْلَغِهَا بِمَا قَالُوهُ فِي مَعْبُودِهِمْ مِنْ عُقُولِ الْمُسْلِمِينَ؟
وَإِذَا جَازَ اتِّفَاقُ أُمَّةٍ - فِيهَا مَنْ قَدْ ذَكَرَهُ هَذَا السَّائِلُ - عَلَى أَنَّ رَبَّ الْعَالَمِينَ وَخَالِقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرَضِينَ، نَزَلَ عَنْ عَرْشِ عَظَمَتِهِ وَكُرْسِيِّ رِفْعَتِهِ، وَدَخَلَ فِي بَطْنِ امْرَأَةٍ فِي مَحَلِّ الْحَيْضِ وَالطَّمْثِ عِدَّةَ شُهُورٍ، ثُمَّ خَرَجَ مِنْ فَرْجِهَا طِفْلًا يَمُصُّ الثَّدْيَ، وَيَبْكِي وَيَكْبُرُ شَيْئًا فَشَيْئًا، وَيَأْكُلُ وَيَشْرَبُ، وَيَبُولُ وَيَصِحُّ وَيَمْرَضُ، وَيَفْرَحُ وَيَحْزَنُ، وَيَلِدُ وَيَأْلَمُ، ثُمَّ دَبَّرَ حِيلَةً عَلَى عَدُوِّهِ إِبْلِيسَ بِأَنْ مَكَّنَ أَعْدَاءَهُ الْيَهُودَ مِنْ نَفْسِهِ، فَأَمْسَكُوهُ وَسَاقُوهُ إِلَى خَشَبَتَيْنِ يَصْلُبُونَهُ عَلَيْهِمَا، وَهُمْ يَجُرُّونَهُ إِلَى الصَّلِيبِ، وَالْأَوْبَاشُ وَالْأَرَاذِلُ قُدَّامَهُ وَخَلْفَهُ وَعَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ، وَهُوَ يَسْتَغِيثُ وَيَبْكِي، فَقَرَّبُوهُ مِنَ الْخَشَبَتَيْنِ، ثُمَّ تَوَّجُوهُ بِتَاجٍ مِنَ الشَّوْكِ، وَصَفَعُوهُ صَفْعًا، ثُمَّ حَمَلُوهُ عَلَى الصَّلِيبِ، وَسَمَّرُوا يَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ وَجَعَلُوهُ بَيْنَ لِصَّيْنِ، وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَ هَذَا كُلَّهُ لِتَتِمَّ لَهُ الْحِيلَةُ عَلَى إِبْلِيسَ، لِيُخَلِّصَ آدَمَ وَسَائِرَ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ سِجْنِهِ، فَفَدَاهُمْ بِنَفْسِهِ حَتَّى خَلَصُوا مِنْ سِجْنِ إِبْلِيسَ.
এই নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসরণ করা, তাঁর অনুসারীদের নিজেদের ঘরবাড়ি ও ধন-সম্পদ ছেড়ে বেরিয়ে আসা, তাঁর অনুসরণের খাতিরে নিজেদের পিতা ও গোত্রের সাথে শত্রুতা করা এবং তাঁর সামনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার বিষয়টিকে ভিত্তিহীন মনে করা অসম্ভব বিষয়গুলোর মধ্যে চরম অসম্ভব।
সুতরাং এই দুই উম্মতের মধ্য থেকে এমন এক ক্ষুদ্র ও নগণ্য দলের ক্ষেত্রে—যাদের বহুবিধ উদ্দেশ্য রয়েছে—হেদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর কুফরকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনাকে বৈধ মনে করা সেই মুসলিমদের ক্ষেত্রে তা মনে করার চেয়ে অনেক বেশি সমীচীন, যারা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত জুড়ে বিস্তৃত এবং যারা সকল শ্রেষ্ঠ গুণের বিচারে উম্মতদের মধ্যে সর্বাধিক বুদ্ধিমান ও পূর্ণাঙ্গ। আর বাছুর পূজারি এবং ক্রুশ পূজারিদের বুদ্ধি মুসলিমদের বুদ্ধির তুলনায় কোথায়? যারা তাদের উপাস্য সম্পর্কে এমন সব কথা বলেছে, যা শুনে সকল বিবেকবান মানুষ তাদের বুদ্ধি নিয়ে উপহাস করে এবং তাদের এই কথাগুলোই তাদের বুদ্ধির দৌড় কতটুকু তা বুঝিয়ে দেয়।
আর যদি এমন এক উম্মতের—যাদের মধ্যে প্রশ্নকারীর উল্লিখিত সেই ব্যক্তিরাও রয়েছে—এই বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয় যে, বিশ্বজগতের প্রতিপালক এবং আসমান ও জমিনের স্রষ্টা তাঁর মহিমাময় আরশ এবং সুউচ্চ কুরসি ছেড়ে নেমে এসেছেন এবং কয়েক মাস এক মহিলার পেটে ঋতুস্রাব ও অপবিত্রতার স্থানে অবস্থান করেছেন, তারপর তাঁর লজ্জাস্থান দিয়ে এক শিশু হিসেবে ভূমিষ্ঠ হয়েছেন যে কি না স্তন্যপান করে, কাঁদে এবং ধীরে ধীরে বড় হয়, আহার করে ও পান করে, প্রস্রাব করে, সুস্থ হয় ও অসুস্থ হয়, আনন্দিত হয় ও দুঃখিত হয়, সন্তান জন্ম দেয় এবং ব্যথা অনুভব করে; অতঃপর তাঁর শত্রু ইবলিসের বিরুদ্ধে এক কৌশল অবলম্বন করার উদ্দেশ্যে নিজের শত্রু ইহুদিদেরকে নিজের ওপর ক্ষমতা দিয়ে দেন, ফলে তারা তাঁকে পাকড়াও করে এবং দুটি কাঠের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যায় যেন সেখানে তারা তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করতে পারে। যখন তারা তাঁকে ক্রুশের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন তাঁর সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে ছিল ইতর ও নীচ প্রকৃতির লোকেরা এবং তিনি তখন সাহায্য প্রার্থনা করছিলেন ও কাঁদছিলেন। তারপর তারা তাঁকে সেই কাঠ দুটির কাছে নিয়ে গেল, তাঁর মাথায় কাঁটার মুকুট পরাল, তাঁকে সজোরে চড় মারল, অতঃপর তাঁকে ক্রুশে চড়াল এবং আল্লাহর হাত ও আল্লাহর পায়ে পেরেক বিদ্ধ করল এবং তাঁকে দুই চোরের মাঝে স্থাপন করল; অথচ তিনি নিজেই এসব কিছু বেছে নিয়েছিলেন যাতে ইবলিসের বিরুদ্ধে তাঁর কৌশল পূর্ণ হয় এবং আদম ও অন্যান্য নবীদেরকে তার কারাগার থেকে মুক্ত করতে পারেন। এভাবে তিনি নিজেকে তাদের জন্য উৎসর্গ করলেন যাতে তারা ইবলিসের কারাগার থেকে মুক্তি পায়।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤٤)
فَإِذَا جَازَ اتِّفَاقُ هَذِهِ الْأُمَّةِ، وَفِيهِمُ الْأَحْبَارُ وَالرُّهْبَانُ وَالْقِسِّيسُونَ وَالزُّهَّادُ وَالْعُبَّادُ وَالْفُقَهَاءُ وَمَنْ ذَكَرْتُهُمْ، عَلَى هَذَا الْقَوْلِ فِي مَعْبُودِهِمْ وَإِلَهِهِمْ حَتَّى قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ وَهُوَ مِنْ أَكَابِرِهِمْ عِنْدَهُمْ: الْيَدُ الَّتِي خَلَقَتْ آدَمَ هِيَ الَّتِي بَاشَرَتِ الْمَسَامِيرَ وَنَالَتِ الصَّلْبَ، فَكَيْفَ يَجُوزُ عَلَيْهِمُ الِاتِّفَاقُ عَلَى تَكْذِيبِ مَنْ جَاءَ بِتَكْفِيرِهِمْ وَتَضْلِيلِهِمْ، وَنَادَى سِرًّا وَجَهْرًا بِكَذِبِهِمْ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى، وَشَتْمِهِمْ لَهُ أَقْبَحَ شَتْمٍ، وَكَذِبِهِمْ عَلَى الْمَسِيحِ، وَتَبْدِيلِهِمْ دِينَهُ، وَعَادَاهُمْ وَقَاتَلَهُمْ وَبَرَّأَهُمْ مِنَ الْمَسِيحِ، وَبَرَّأَهُ مِنْهُمْ، وَأَخْبَرَ أَنَّهُمْ وَقُودُ النَّارِ وَحَصَبُ جَهَنَّمَ؟ فَهَذَا أَحَدُ الْأَسْبَابِ الَّتِي اخْتَارُوا لِأَجْلِهَا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ وَهُوَ مِنْ أَعْظَمِ الْأَسْبَابِ.
فَقَوْلُكُمْ: إِنَّ الْمُسْلِمِينَ يَقُولُونَ إِنَّهُمْ لَمْ يَمْنَعْهُمْ مِنَ الدُّخُولِ فِي الْإِسْلَامِ إِلَّا الرِّئَاسَةُ وَالْمَأْكَلَةُ لَا غَيْرَ، كَذِبٌ عَلَى الْمُسْلِمِينَ، بَلْ الرِّئَاسَةُ وَالْمَأْكَلَةُ مِنْ جُمْلَةِ الْأَسْبَابِ الْمَانِعَةِ لَهُمْ مِنَ الدُّخُولِ فِي الدِّينِ، وَقَدْ نَاظَرْنَا نَحْنُ وَغَيْرُنَا جَمَاعَةً مِنْهُمْ، فَلَمَّا تَبَيَّنَ لِبَعْضِهِمْ فَسَادُ مَا هُمْ عَلَيْهِ، قَالُوا: لَوْ دَخَلْنَا فِي الْإِسْلَامِ لَكُنَّا مِنْ أَقَلِّ الْمُسْلِمِينَ لَا يُؤْبَهُ لَنَا، وَنَحْنُ مُتَحَكِّمُونَ فِي أَهْلِ مِلَّتِنَا فِي أَمْوَالِهِمْ وَمَنَاصِبِهِمْ وَلَنَا بَيْنَهُمْ أَعْظَمُ الْجَاهِ!، وَهَلْ مَنَعَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ مِنَ اتِّبَاعِ مُوسَى إِلَّا ذَلِكَ؟!
وَالْأَسْبَابُ الْمَانِعَةُ مِنْ قَبُولِ الْحَقِّ كَثِيرَةٌ جِدًّا
فَمِنْهَا: الْجَهْلُ بِهِ، وَهَذَا السَّبَبُ هُوَ الْغَالِبُ عَلَى أَكْثَرِ النُّفُوسِ، فَإِنَّ مَنْ جَهِلَ شَيْئًا عَادَاهُ وَعَادَى أَهْلَهُ، فَإِنِ انْضَافَ إِلَى هَذَا السَّبَبِ بُغْضُ مَنْ أَمَرَهُ بِالْحَقِّ وَمُعَادَاتُهُ لَهُ وَحَسَدُهُ كَانَ الْمَانِعُ مِنَ الْقَبُولِ أَقْوَى، فَإِنِ انْضَافَ إِلَى ذَلِكَ إِلْفُهُ وَعَادَتُهُ وَمُرَبَّاهُ عَلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ آبَاؤُهُ وَمَنْ يُحِبُّهُ وَيُعَظِّمُهُ قَوِيَ الْمَانِعُ، فَإِنِ انْضَافَ إِلَى ذَلِكَ تَوَهُّمُهُ أَنَّ الْحَقَّ الَّذِي دُعِيَ إِلَيْهِ يَحُولُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ جَاهِهِ وَعِزِّهِ وَشَهَوَاتِهِ وَأَغْرَاضِهِ قَوِيَ الْمَانِعُ مِنَ الْقَبُولِ جِدًّا.
সুতরাং এই উম্মতের (খ্রিস্টানদের) ঐক্যবদ্ধ হওয়া যখন সম্ভব হয়েছে—যাদের মধ্যে পণ্ডিত, সন্ন্যাসী, যাজক, সংসারত্যাগী, উপাসক, ফকিহ এবং আমি যাদের কথা উল্লেখ করেছি তারা রয়েছে—তাদের মা'বুদ ও ইলাহ সম্পর্কে এই বক্তব্যের ওপর; এমনকি তাদের এক প্রবক্তা, যে তাদের নিকট বড়দের অন্তর্ভুক্ত, সে বলেছে: "আল্লাহর যে হাত আদমকে সৃষ্টি করেছিল, সেই হাতই পেরেকের আঘাত সহ্য করেছে এবং ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে"; তবে তাদের জন্য সেই ব্যক্তির প্রতি মিথ্যারোপে ঐক্যবদ্ধ হওয়া কীভাবে অসম্ভব হতে পারে, যিনি তাদের কুফরি ও পথভ্রষ্টতার কথা নিয়ে এসেছেন এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে মহান আল্লাহর ওপর তাদের মিথ্যারোপ ও তাঁকে জঘন্যতম গালি প্রদানের বিষয়টি ঘোষণা করেছেন? এবং মাসিহ-এর ওপর তাদের মিথ্যারোপ, তাঁর দ্বীন পরিবর্তন করা, তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং মাসিহ থেকে তাদের ও তাদের থেকে মাসিহকে দায়মুক্ত ঘোষণা করার বিষয়টিও তিনি প্রকাশ করেছেন; আর সংবাদ দিয়েছেন যে তারা জাহান্নামের জ্বালানি ও কঙ্কর হবে। সুতরাং এটিই অন্যতম কারণ যার জন্য তারা ঈমানের পরিবর্তে কুফরকে বেছে নিয়েছে এবং এটি অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটি।
তোমাদের এই কথা: "নিশ্চয়ই মুসলিমরা বলে যে নেতৃত্ব এবং জীবিকার সংস্থান ছাড়া আর কিছুই তাদের ইসলামে প্রবেশে বাধা দেয়নি"—তা মুসলিমদের ওপর একটি মিথ্যাচার। বরং নেতৃত্ব এবং জীবিকা হলো ইসলামে প্রবেশে বাধা প্রদানকারী কারণগুলোর সমষ্টির অন্তর্ভুক্ত মাত্র। আমরা এবং অন্য অনেকে তাদের এক দলের সাথে বিতর্ক করেছি; অতঃপর যখন তাদের কারো নিকট তাদের বর্তমান মতবাদের অসারতা স্পষ্ট হয়ে গেল, তখন তারা বলল: "যদি আমরা ইসলাম গ্রহণ করি, তবে আমরা অতি নগণ্য মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব যাদের কোনো গুরুত্ব থাকবে না; অথচ বর্তমানে আমরা আমাদের স্বধর্মীয়দের সম্পদ ও পদের ওপর কর্তৃত্ব করছি এবং তাদের মাঝে আমাদের বিশাল প্রতিপত্তি রয়েছে!" আর ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে মুসার অনুসরণ করা থেকে কি এই কারণটিই বাধা দেয়নি?!
সত্য গ্রহণের পথে অন্তরায় বা বাধাসমূহ অত্যন্ত অনেক।
তার মধ্যে রয়েছে: সত্য সম্পর্কে অজ্ঞতা; আর এই কারণটিই অধিকাংশ মানুষের ওপর প্রবল হয়ে থাকে। কারণ মানুষ যা জানে না তার সাথে শত্রুতা পোষণ করে এবং তার অনুসারীদেরও শত্রু মনে করে। যদি এই কারণের সাথে সত্যের আদেশদাতার প্রতি ঘৃণা, শত্রুতা ও হিংসা যুক্ত হয়, তবে সত্য গ্রহণের বাধা আরও শক্তিশালী হয়ে যায়। এরপর যদি এর সাথে তার সেই অভ্যাস ও লালন-পালন যুক্ত হয় যা তার পিতৃপুরুষ এবং তার প্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিদের থেকে সে লাভ করেছে, তবে এই বাধা আরও প্রবল হয়। অতঃপর যদি এর সাথে তার এই ধারণা যুক্ত হয় যে, তাকে যে সত্যের দিকে আহ্বান করা হচ্ছে তা তার মর্যাদা, ক্ষমতা, লালসা ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যের পথে অন্তরায় হবে, তবে সত্য গ্রহণের বাধা অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে যায়।
(খণ্ড: ١)
হিদায়াতুল হায়ারা ফী আজউয়িবাতিল ইয়াহুদি ওয়ান নাসারা - তিবআত দারুল কালাম
(পৃষ্ঠা: ٢٤٥)
فَإِنِ انْضَافَ إِلَى ذَلِكَ خَوْفُهُ مِنْ أَصْحَابِهِ وَعَشِيرَتِهِ وَقَوْمِهِ عَلَى نَفْسِهِ وَمَالِهِ وَجَاهِهِ كَمَا وَقَعَ لِهِرَقْلَ مَلِكِ النَّصَارَى بِالشَّامِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ازْدَادَ الْمَانِعُ مِنْ قَبُولِ الْحَقِّ قُوَّةً، فَإِنَّ هِرَقْلَ عَرَفَ الْحَقَّ وَهَمَّ بِالدُّخُولِ فِي الْإِسْلَامِ فَلَمْ يُطَاوِعْهُ قَوْمُهُ وَخَافَهُمْ عَلَى نَفْسِهِ فَاخْتَارَ الْكُفْرَ عَلَى الْإِسْلَامِ بَعْدَ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى، كَمَا سَيَأْتِي ذِكْرُ قِصَّتِهِ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى.
وَمِنْ أَعْظَمِ هَذِهِ الْأَسْبَابِ: " الْحَسَدُ " فَإِنَّهُ دَاءٌ كَامِنٌ فِي النَّفْسِ، وَيَرَى الْحَاسِدُ الْمَحْسُودَ قَدْ فُضِّلَ عَلَيْهِ، وَأُوتِيَ مَا لَمْ يُؤْتَ نَظِيرُهُ، فَلَا يَدَعُهُ الْحَسَدُ أَنْ يَنْقَادَ لَهُ وَيَكُونَ مِنْ أَتْبَاعِهِ. وَهَلْ مَنَعَ إِبْلِيسَ مِنَ السُّجُودِ لِآدَمَ إِلَّا الْحَسَدُ؟! فَإِنَّهُ لَمَّا رَآهُ قَدْ فُضِّلَ عَلَيْهِ وَرُفِعَ فَوْقَهُ، غُصَّ بِرِيقِهِ وَاخْتَارَ الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ بَعْدَ أَنْ كَانَ بَيْنَ الْمَلَائِكَةِ.
وَهَذَا الدَّاءُ هُوَ الَّذِي مَنَعَ الْيَهُودَ مِنَ الْإِيمَانِ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ، وَقَدْ عَلِمُوا عِلْمًا لَا شَكَّ فِيهِ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ جَاءَ بِالْبَيِّنَاتِ، وَالْهُدَى فَحَمَلَهُمُ الْحَسَدُ عَلَى أَنِ اخْتَارُوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ، وَأَطْبَقُوا عَلَيْهِ، وَهُمْ أُمَّةٌ فِيهِمُ الْأَحْبَارُ وَالْعُلَمَاءُ وَالزُّهَّادُ وَالْقُضَاةُ وَالْمُلُوكُ وَالْأُمَرَاءُ.
هَذَا وَقَدْ جَاءَ الْمَسِيحُ بِحُكْمِ التَّوْرَاةِ وَلَمْ يَأْتِ بِشَرِيعَةٍ تُخَالِفُهَا وَلَمْ يُقَاتِلْهُمْ، وَإِنَّمَا أَتَى بِتَحْلِيلِ مَا حُرِّمَ عَلَيْهِمْ تَخْفِيفًا وَرَحْمَةً وَإِحْسَانًا، وَجَاءَ مُكَمِّلًا لِشَرِيعَةِ التَّوْرَاةِ، وَمَعَ هَذَا فَاخْتَارُوا الْكُفْرَ كُلُّهُمْ عَلَى الْإِيمَانِ، فَكَيْفَ يَكُونُ حَالُهُمْ مَعَ نَبِيٍّ جَاءَ بِشَرِيعَةٍ مُسْتَقِلَّةٍ نَاسِخَةٍ لِجَمِيعِ الشَّرَائِعِ، مُبَكِّتًا لَهُمْ بِقَبَائِحِهِمْ، وَمُنَادِيًا عَلَى فَضَائِحِهِمْ، وَمُخْرِجًا لَهُمْ مِنْ دِيَارِهِمْ، وَقَدْ قَاتَلُوهُ وَحَارَبُوهُ، وَهُوَ فِي ذَلِكَ كُلِّهِ يَنْصُرُ عَلَيْهِمْ، وَيَظْفَرُ بِهِمْ، وَيَعْلُو هُوَ وَأَصْحَابُهُ وَهُمْ مَعَهُ دَائِمًا فِي سَفَالٍ، فَكَيْفَ لَا يَمْلِكُ الْحَسَدُ وَالْبَغْيُ قُلُوبَهُمْ؟ وَأَيْنَ يَقَعُ حَالُهُمْ مَعَهُ مِنْ حَالِهِمْ مَعَ الْمَسِيحِ، وَقَدْ أَطْبَقُوا عَلَى الْكُفْرِ بِهِ مِنْ
এরপর যদি এর সাথে যুক্ত হয় তার নিজের জীবন, সম্পদ ও মর্যাদার ব্যাপারে তার সঙ্গী-সাথী, বংশ ও সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি; যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে সিরিয়ার খ্রিস্টান সম্রাট হিরাক্লিয়াসের ক্ষেত্রে ঘটেছিল, তবে সত্য কবুল করার পথে অন্তরায় আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। হিরাক্লিয়াস সত্য অনুধাবন করেছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণের সংকল্প করেছিলেন, কিন্তু তার সম্প্রদায় তার আনুগত্য করেনি এবং তিনি নিজের জীবনের ব্যাপারে তাদের ভয় পাচ্ছিলেন। ফলে হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর তিনি ইসলামের পরিবর্তে কুফরিকেই বেছে নিলেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা শীঘ্রই তাঁর কাহিনী বর্ণিত হবে।
আর এসব কারণের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো: "হিংসা"। এটি অন্তরে প্রচ্ছন্ন থাকা একটি ব্যাধি। হিংসুক ব্যক্তি মনে করে যে, যাকে হিংসা করা হচ্ছে তাকে তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাকে এমন কিছু দেওয়া হয়েছে যা তার সমপর্যায়ের কাউকে দেওয়া হয়নি। ফলে হিংসা তাকে সেই ব্যক্তির আনুগত্য করতে বা তার অনুসারী হতে বাধা দেয়। ইবলিসকে আদমের প্রতি সিজদা করা থেকে হিংসা ছাড়া আর কী বাধা দিয়েছিল?! যখন সে দেখল যে আদমকে তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তার ঊর্ধ্বে উন্নীত করা হয়েছে, তখন সে ক্ষোভে ফেটে পড়ল এবং ফেরেশতাদের মধ্যে থাকার পরও ঈমানের পরিবর্তে কুফরি বেছে নিল।
আর এই ব্যাধিই ইয়াহুদিদের মারইয়াম-পুত্র ঈসার প্রতি ঈমান আনতে বাধা দিয়েছিল। অথচ তারা সন্দেহাতীতভাবে জানত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ ও হেদায়েত নিয়ে এসেছেন। কিন্তু হিংসা তাদের ঈমানের পরিবর্তে কুফরি বেছে নিতে প্ররোচিত করল এবং তারা এর ওপর একতাবদ্ধ হলো; অথচ তারা ছিল এমন এক জাতি যাদের মধ্যে ধর্মীয় পুরোহিত, আলেম, দুনিয়াবিমুখ সাধক, বিচারক, রাজা এবং আমীরগণ বিদ্যমান ছিলেন।
অথচ মসীহ তাওরাতের বিধান অনুসারেই এসেছিলেন এবং তার বিরোধী কোনো শরিয়ত নিয়ে আসেননি, এমনকি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও করেননি। বরং তিনি কেবল তাদের প্রতি লাঘবকারী রহমত ও অনুগ্রহস্বরূপ তাদের জন্য নিষিদ্ধ কিছু বিষয় হালাল করতে এসেছিলেন এবং তাওরাতের শরিয়তকে পূর্ণতা দিতে এসেছিলেন। তা সত্ত্বেও তারা সকলেই ঈমানের পরিবর্তে কুফরিকেই বেছে নিল। তাহলে তাদের অবস্থা সেই নবীর ক্ষেত্রে কেমন হবে, যিনি স্বতন্ত্র এক শরিয়ত নিয়ে এসেছেন যা পূর্ববর্তী সকল শরিয়তকে রহিতকারী? যিনি তাদের কদর্য কার্যাবলীর জন্য তাদের তিরস্কার করেছেন, তাদের কেলেঙ্কারিগুলো প্রকাশ করে দিয়েছেন এবং তাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করেছেন। তারা তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং যুদ্ধ করেছে, আর এই সমস্ত কিছুতে তিনি তাদের ওপর সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছেন ও বিজয় লাভ করেছেন। তিনি এবং তাঁর সাথীরা সর্বদা উচ্চ মর্যাদায় আসীন হয়েছেন আর তারা হয়েছে হীন ও পর্যুদস্ত। এমতাবস্থায় হিংসা ও বিদ্বেষ কেন তাদের অন্তরকে আচ্ছন্ন করবে না? আর মসীহের সাথে তাদের আচরণের তুলনায় তাঁর সাথে তাদের আচরণের ব্যবধান কতই না বিশাল হবে, অথচ তারা মসীহের প্রতি কুফরির ওপরও একমত হয়েছিল...