(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: -)
المعنى في صفات الله تعالى معلوم والكيف مجهول   (محمد بن عبد الله المقشي)

القسم: العقيدة


الكتاب: المعنى في صفات الله تعالى معلوم والكيف مجهول

جمع وإعداد: د/ محمد بن عبد الله المقشي

عدد الصفحات: 117

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1442

আল্লাহ তাআলার গুণাবলির অর্থ জানা এবং ধরন অজ্ঞাত   (মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-মাকশি)

বিভাগ: আকীদা


বই: আল্লাহ তাআলার গুণাবলির অর্থ জানা এবং ধরন অজ্ঞাত

সংকলন ও প্রস্তুতি: ড./ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-মাকশি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৭

[বইটি মুদ্রিত নয়]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌1 - قول الإمام ربيعة بن أبي عبد الرحمن المشهور بربيعة الرأي (المتوفى: 136):

في الإبانة لابن بطة (3/ 164) وشرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة لللالكائي (3/ 398) عن سفيان بن عيينة قال: سئل ربيعة عن قوله: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} كيف استوى؟ قال الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، ومن الله الرسالة، وعلى الرسول البلاغ، وعلينا التصديق".

وقال أبو القاسم اللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة (3/ 527): "سئل ربيعة بن أبي عبد الرحمن عن قوله {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}؟ فقال: الاستواء معقول، والكيف مجهول، والإيمان به - قال ابن الجراح- واجب، والله عز وجل لا يحد".

وفي الاستذكار للحافظ ابن عبد البر (2/ 528): "وسئل ربيعة بن أبي عبد الرحمن عن قول الله عز وجل {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}؟ قال: استواؤه حق معلوم، وكيفيته مجهولة".
১ - ইমাম রাবিআ ইবনে আবি আব্দুর রহমান-এর বক্তব্য, যিনি রাবিআতুর রাঈ নামে পরিচিত (মৃত্যু: ১৩৬):

ইবনে বাত্তাহর আল-ইবানাহ (৩/ ১৬৪) এবং লালকাইয়ের শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (৩/ ৩৯৮)-তে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাবিআকে আল্লাহর বাণী: {দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তিনি কীভাবে উঠেছেন? তিনি বললেন: "উঠা অপরিচিত নয়, আর এর ধরণ বুদ্ধিগম্য নয়। আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে বার্তা, রাসূলের দায়িত্ব পৌঁছে দেওয়া এবং আমাদের দায়িত্ব হলো তা বিশ্বাস করা।"

এবং আবুল কাসিম লালকাই শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (৩/ ৫২৭)-তে বলেন: "রাবিআ ইবনে আবি আব্দুর রহমানকে আল্লাহর বাণী {দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: "উঠা বুদ্ধিগম্য এবং ধরণ অজ্ঞাত। আর এর ওপর ঈমান আনা—ইবনুল জাররাহ বলেন—ওয়াজিব, আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সীমাবদ্ধ নন।"

এবং হাফেজ ইবনে আব্দুল বার-এর আল-ইসতিযকার (২/ ৫২৮)-তে রয়েছে: "রাবিআ ইবনে আবি আব্দুর রহমানকে মহান আল্লাহর বাণী {দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: "তাঁর উঠে আসা সত্য ও সুবিদিত, আর এর ধরণ অজ্ঞাত।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌2 - قول الإمام حماد بن أبي حنيفة (المتوفى: 176):

في عقيدة السلف أصحاب الحديث لأبي عثمان الصابوني (ص: 234 - 235) أنّ محمد بن الحسن الشيباني قال: قال حماد بن أبي حنيفة: قلنا لهؤلاء أرأيتم قول الله عز وجل: {وَجَاء رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفّاً صَفّاً}؟ قالوا: أما الملائكة فيجيئون صفا صفا، وأما الرب تعالى فإنا لا ندري ما عنى بذلك، ولا ندري كيفية مجيئه. فقلت لهم: إنا لم نكلّفكم أن تعلموا كيف جيئته، ولكنا نكلّفكم أن تؤمنوا بمجيئه".
২ - ইমাম হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফার (মৃত্যু: ১৭৬) উক্তি:

আবু উসমান আস-সাবুনীর ‘আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস’ (পৃষ্ঠা: ২৩৪ - ২৩৫) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী বলেছেন: হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা বলেন: "আমরা তাদের বললাম, মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে তোমাদের অভিমত কী: 'এবং আপনার প্রতিপালক ও ফেরেশতারা কাতারবদ্ধভাবে আগমন করবেন'? তারা বলল: ফেরেশতাদের ক্ষেত্রে তারা কাতারবদ্ধভাবে আসবে, কিন্তু মহান প্রতিপালকের ক্ষেত্রে তিনি এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন তা আমরা জানি না, এবং তাঁর আগমনের পদ্ধতি বা ধরনও আমরা জানি না। তখন আমি তাদের বললাম: তাঁর আগমনের ধরন কেমন তা জানা আমরা তোমাদের ওপর আবশ্যক করিনি, বরং আমরা তোমাদের ওপর তাঁর আগমনে ঈমান আনা আবশ্যক করেছি।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌3 - قول الإمام مالك بن أنس (المتوفى: 179):

في الأسماء والصفات للبيهقي (2/ 305 - 306) عن يحيى بن يحيى التميمي قال: كنا عند مالك بن أنس فجاء رجل فقال: يا أبا عبد الله {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} فكيف استوى؟ قال: فأطرق مالك برأسه حتى علاه الرحضاء ثم قال: الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، وما أراك إلا مبتدعا. فأمر به أن يخرج".

وفي شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة لللالكائي (3/ 398) عن جعفر بن عبد الله قال: جاء رجل إلى مالك بن أنس فقال: يا أبا عبد الله {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} كيف استوى؟ قال: فما رأيت مالكا وجد من شيء كموجدته من مقالته، وعلاه الرحضاء -يعني: العرق- قال: وأطرق القوم وجعلوا ينتظرون ما يأتي منه فيه، قال: فسرّي عن مالك فقال: الكيف غير معقول، والاستواء منه غير مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، فإني أخاف أن تكون ضالا. وأمر به فأُخرج".

وفي التمهيد للحافظ ابن عبد البر (7/ 138) أن عبدالله بن نافع قال: قال مالك بن أنس: الله عز وجل في السماء، وعلمه في كل مكان لا يخلو منه مكان. قال: وقيل لمالك {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} كيف استوى؟ فقال مالك رحمه الله: استواؤه معقول، وكيفيته مجهولة، وسؤالك عن هذا بدعة، وأراك رجل سوء".

وفي العقيدة النظامية لإمام الحرمين الجويني (ص:34): "وما استحسن من كلام إمام دار الهجرة

رضي الله عنه وهو مالك بن أنس أنه سئل عن قوله تبارك وتعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} فقال: الاستواء معلوم، والكيفية مجهولة، والسؤال عنه بدعة".

وفي ترتيب المدارك وتقريب المسالك للقاضي عياض (2/ 39) "قال سفيان بن عيينة: سأل رجل مالكاً، فقال {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} كيف استوى يا أبا عبد الله؟ فسكت مالك ملياً حتى علاه الرحضاء، وما رأينا مالكاً وجد من شيء وجده من مقالته، وجعل الناس ينتظرون ما يأمر به، ثم سري عنه، فقال: الاستواء منه معلوم، والكيف منه غير معقول، والسؤال عن هذا بدعة، والإيمان به واجب، وإني لأظنك ضالاً أخرجوه عني"(1).

وفي عارضة الأحوذي لأبي بكر ابن العربي (3/ 166): "وذهب مالك رحمه الله أن كل حديث منها-أي أحاديث الصفات - معلوم المعنى، ولذلك قال للذي سأله: الاستواء معلوم، والكيفية مجهولة".

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ ابن القيم في مختصر الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة (ص: 390): "ولما سئل مالك وسفيان بن عيينة وقبلهما ربيعة بن عبد الرحمن عن الاستواء فقالوا: الاستواء معلوم، تلقى ذلك عنهم جميع أئمة الإسلام، ولم يقل أحد منهم إنه يحتاج إلى صرفه عن حقيقته إلى مجازه، ولا أنه مجمل له مع العرش خمسة عشر معنى، وقد حرّف بعضُهم كلامَ هؤلاء الأئمة على عادته فقال: معناه الاستواء معلوم لله، فنسبوا السائل إلى أنه كان يشك هل يعلمُ اللهُ استواءَ نفسه أو لا يعلمه، ولما رأى بعضهم فساد هذا التأويل قال: إنما أراد به أن ورود لفظه في القرآن معلوم، فنسبوا السائل والمجيب إلى الغفلة، فكأن السائل لم يكن يعلم أن هذا اللفظ في القرآن، وقد قال: يا أبا عبد الله {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} كيف استوى؟ فلم يقل: هل هذا اللفظ في القرآن أو لا؟ ونسبوا المجيب إلى أنه أجابه بما يعلمه الصبيان في المكاتب ولا يجهله أحد، ولا هو مما يحتاج إلى السؤال عنه ولا استشكله السائل، ولا خطر بقلب المجيب أنه يسأل عنه".
৩ - ইমাম মালিক ইবনে আনাস (মৃত্যু: ১৭৯)-এর বক্তব্য:

বায়হাক্বীর 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' (২/ ৩০৫ - ৩০৬)-এ ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আত-তামিমী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা মালিক ইবনে আনাসের কাছে ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} - তিনি কীভাবে উঠেছেন? তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: মালিক মাথা নিচু করে রইলেন যতক্ষণ না তিনি ঘামে ভিজে গেলেন, এরপর তিনি বললেন: "উঠা (ইস্তিওয়া) অপরিচিত নয়, আর এর ধরণ (কাইফ) বোধগম্য নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত। আর আমি তোমাকে একজন বিদআতী ছাড়া আর কিছু মনে করছি না।" এরপর তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

লালকায়ী-র 'শারহু উসূলি ই'তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আহ' (৩/ ৩৯৮)-এ জাফর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মালিক ইবনে আনাসের কাছে এসে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} - তিনি কীভাবে উঠেছেন? তিনি বলেন: আমি মালিককে কোনো বিষয়ে এতোটা রাগান্বিত হতে দেখিনি যতটা তার এই কথায় হতে দেখেছি, আর তিনি ঘামে ভিজে গেলেন। তিনি বলেন: উপস্থিত লোকেরা মাথা নিচু করে রইলেন এবং তিনি কী বলবেন তার অপেক্ষা করতে লাগলেন। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর মালিকের রাগ প্রশমিত হলো এবং তিনি বললেন: "ধরণ (কাইফ) বোধগম্য নয়, আর তাঁর উঠা (ইস্তিওয়া) অপরিচিত নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত, আর আমি আশঙ্কা করছি যে তুমি একজন পথভ্রষ্ট।" এরপর তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো।

হাফেজ ইবনুল বার-এর 'আত-তামহীদ' (৭/ ১৩৮)-এ বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনে নাফি' বলেন: মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আসমানে আছেন, আর তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় রয়েছে, কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞান থেকে খালি নয়।" তিনি বলেন: মালিককে জিজ্ঞেস করা হলো {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} - তিনি কীভাবে উঠেছেন? তখন মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বললেন: "তাঁর উঠা (ইস্তিওয়া) বোধগম্য, কিন্তু এর ধরণ (কাইফিয়্যাত) অজ্ঞাত, এবং এ সম্পর্কে তোমার প্রশ্ন করা বিদআত, আর আমি তোমাকে একজন খারাপ মানুষ মনে করছি।"

ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনীর 'আল-আক্বিদাহ আন-নিযামিয়্যাহ' (পৃষ্ঠা: ৩৪)-এ রয়েছে: "দারুল হিজরার ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বক্তব্য থেকে যা উত্তম গণ্য করা হয়েছে তা হলো, তাকে মহান আল্লাহর বাণী {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: উঠা (ইস্তিওয়া) জানা আছে, আর এর ধরণ (কাইফিয়্যাত) অজ্ঞাত, এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত।"

কাযী ইয়াজের 'তারতীবুল মাদারিক ওয়া তাক্বরীবুল মাসালিক' (২/ ৩৯)-এ রয়েছে: "সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ বলেন: এক ব্যক্তি মালিককে জিজ্ঞেস করল: হে আবু আব্দুল্লাহ, {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} - তিনি কীভাবে উঠেছেন? মালিক দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইলেন যতক্ষণ না তিনি ঘামে ভিজে গেলেন। আমরা মালিককে কোনো বিষয়ে এতোটা রাগান্বিত হতে দেখিনি যতটা তার এই কথায় হতে দেখেছি। মানুষ অপেক্ষা করতে লাগল যে তিনি কী নির্দেশ দেন। এরপর তাঁর অবস্থা স্বাভাবিক হলো এবং তিনি বললেন: তাঁর পক্ষ থেকে উঠা (ইস্তিওয়া) জানা আছে, আর তাঁর পক্ষ থেকে এর ধরণ (কাইফ) বোধগম্য নয়, এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত, আর এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব। আমি অবশ্যই তোমাকে পথভ্রষ্ট মনে করছি, একে আমার কাছ থেকে বের করে দাও।"(১)

আবু বকর ইবনুল আরাবীর 'আরিজাতুল আহওয়াযী' (৩/ ১৬৬)-তে আছে: "মালিক (রহিমাহুল্লাহ) এই মত পোষণ করতেন যে, এ সংক্রান্ত প্রতিটি হাদীস - অর্থাৎ সিফাতের (গুণের) হাদীসসমূহ - অর্থগতভাবে জানা আছে। এই কারণেই তিনি সেই ব্যক্তিকে বলেছিলেন যে তাকে প্রশ্ন করেছিল: উঠা (ইস্তিওয়া) জানা আছে, আর ধরণ (কাইফিয়্যাত) অজ্ঞাত।"

--------------------------------------------

(১) হাফেজ ইবনুল কাইয়্যিম 'মুখতাসারুস সাওয়া'ইকিল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মু'আত্তিলাহ' (পৃষ্ঠা: ৩৯০)-এ বলেছেন: "যখন মালিক, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং তাদের পূর্বে রাবি'আ ইবনে আব্দুর রহমানকে উঠা (ইস্তিওয়া) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তারা বলেছিলেন: উঠা (ইস্তিওয়া) জানা আছে। ইসলামের সকল ইমাম তাদের থেকে এটি গ্রহণ করেছেন। তাদের কেউই বলেননি যে এটিকে এর প্রকৃত অর্থ থেকে রূপক অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন আছে, কিংবা এটি অস্পষ্ট যার আরশের সাথে পনেরটি অর্থ হতে পারে। তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ অভ্যাসগতভাবে এই ইমামদের বক্তব্য বিকৃত করে বলেছে: এর অর্থ হলো উঠা (ইস্তিওয়া) আল্লাহর কাছে জানা আছে। ফলে তারা প্রশ্নকারীকে এমন একজনে পরিণত করেছে যে কি না সন্দেহ করছিল যে আল্লাহ নিজের উঠে আসা সম্পর্কে জানেন কি না। যখন তাদের কেউ কেউ এই ব্যাখ্যার অসারতা দেখতে পেল, তখন তারা বলল: তিনি কেবল এটাই বুঝাতে চেয়েছেন যে কুরআনে এই শব্দের উল্লেখ থাকাটা জানা আছে। এর মাধ্যমে তারা প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতা উভয়কেই অসতর্ক হিসেবে গণ্য করেছে; যেন প্রশ্নকারী জানতেনই না যে এই শব্দটি কুরআনে আছে, অথচ তিনি তো নিজেই বলেছিলেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} - তিনি কীভাবে উঠেছেন? তিনি তো এটা বলেননি যে এই শব্দটি কুরআনে আছে কি না। আর তারা উত্তরদাতার দিকে এমন উত্তরের সম্বন্ধ করেছে যা মক্তবের শিশুরাও জানে এবং যা কারো অজানা নয়, আর এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা সম্পর্কে প্রশ্ন করার প্রয়োজন পড়ে কিংবা যা নিয়ে প্রশ্নকারীর মনে কোনো খটকা তৈরি হয়েছিল, আর উত্তরদাতার মনেও এমনটি আসেনি যে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌4 - قول الحافظ حماد بن زيد بن درهم (المتوفى: 179):

في الإبانة الكبرى لابن بطة (7/ 203 - 204) أن بشر بن السري سأل حماد بن زيد فقال: يا أبا إسماعيل، الحديث الذي جاء «ينزل الله عز وجل إلى السماء الدنيا» قال: حق كل ذلك كيف شاء الله".
৪ - হাফেজ হাম্মাদ বিন যায়েদ বিন দিরহাম (মৃত্যু: ১৭৯ হিজরি)-এর বক্তব্য:

ইবনুল বাত্তাহ-এর আল-ইবানাতুল কুবরা (৭/ ২০৩ - ২০৪) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, বিশর বিন আস-সিররী হাম্মাদ বিন যায়েদকে জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আবু ইসমাঈল, সেই হাদিসটি যাতে এসেছে যে— 'আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন'— (তা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?)" তিনি বললেন: "এর প্রতিটিই সত্য, ঠিক যেভাবে আল্লাহ চেয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌5 - قول عبد الله بن المبارك (المتوفى: 181):

في عقيدة السلف أصحاب الحديث لأبي عثمان الصابوني (ص: 196) أنّ عبد الله بن المبارك سئل عن نزول ليلة النصف من شعبان؟ فقال: عبد الله يا ضعيف ليلة النصف، ينزل في كل ليلة. فقال الرجل: يا أبا عبد الله كيف ينزل؟ أليس يخلو ذلك المكان منه؟ فقال عبد الله: ينزل كيف يشاء".
৫ - আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (মৃত্যু: ১৮১)-এর উক্তি:

আবু উসমান আস-সাবুনী রচিত ‘আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস’ (পৃষ্ঠা: ১৯৬) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারককে শাবান মাসের মধ্যরাত্রিতে আল্লাহর অবতরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বললেন: "হে দুর্বল! তিনি কেবল শাবানের মধ্যরাত্রিতেই নয়, বরং প্রতি রাতেই অবতরণ করেন।" তখন সেই লোক জিজ্ঞেস করল: "হে আবু আব্দুল্লাহ, তিনি কীভাবে অবতরণ করেন? সেই স্থানটি কি তাঁর থেকে শূন্য হয়ে যায় না?" আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক বললেন: "তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই অবতরণ করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌6 - قول الإمام الفضيل بن عياض (المتوفى: 187):

روى أبو بكر الأثرم عن الفضيل بن عياض أنه قال: "ليس لنا أن نتوهم في الله كيف هو؛ لأن الله تعالى وصف نفسه فأبلغ، فقال: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ • اللَّهُ الصَّمَدُ • لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ • وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ} فلا صفة أبلغ مما وصف به نفسه.

وكل هذا النزول، والضحك، وهذه المباهاة، وهذا الاطلاع كما يشاء أن ينزل، وكما يشاء أن يباهي، وكما يشاء أن يضحك، وكما يشاء أن يطلع. فليس لنا أن نتوهَّم كيف وكيف. فإذا قال الجهمي: أنا أكفر برب يزول عن مكانه. فقل: بل أؤمن برب يفعل ما يشاء"(1).

--------------------------------------------

(1) الإبانة الكبرى لابن بطة (7/ 205)، الفتوى الحموية الكبرى (ص: 375 - 376).
৬ - ইমাম ফুজাইল বিন ইয়াদ (মৃত্যু: ১৮৭)-এর উক্তি:

আবু বকর আল-আছরাম আল-ফুজাইল বিন ইয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ কেমন—তা নিয়ে কল্পনা করা আমাদের কাজ নয়; কারণ আল্লাহ তাআলা নিজের বর্ণনা নিজেই স্পষ্টভাবে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমকক্ষ কেউই নেই}। সুতরাং তিনি নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তার চেয়ে অধিক স্পষ্ট আর কোনো বর্ণনা হতে পারে না।

আর এই সমস্ত অবতরণ, হাসি, এই গর্ব করা এবং এই দৃষ্টিপাত করা—সবই হবে সেভাবে যেভাবে তিনি অবতরণ করতে চান, যেভাবে তিনি গর্ব করতে চান, যেভাবে তিনি হাসতে চান এবং যেভাবে তিনি দৃষ্টিপাত করতে চান। সুতরাং 'কীভাবে' বা 'কেমন করে' তা কল্পনা করা আমাদের কাজ নয়। অতএব, যদি কোনো জাহমি বলে: 'আমি এমন রবকে অস্বীকার করি যিনি নিজের স্থান পরিবর্তন করেন', তবে আপনি বলুন: 'বরং আমি এমন রবের প্রতি ঈমান রাখি যিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন'।"(১).

--------------------------------------------

(১) ইবন বাত্তাহ-এর আল-ইবানাহ আল-কুবরা (৭/ ২০৫), আল-ফাতওয়া আল-হামাউইয়্যাহ আল-কুবরা (পৃষ্ঠা: ৩৭৫ - ৩৭৬)।
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌7 - قول الإمام وكيع بن الجراح بن مليح (المتوفى: 197):

أخرج الدارقطني في الصفات (ص: 71) عن أحمد الدورقي أنه قال: سمعت وكيعا، يقول: «نسلِّم هذه الأحاديث كما جاءت، ولا نقول: كيف هذا، ولم جاء هذا".
৭ - ইমাম ওয়াকি ইবনুল জাররাহ ইবনে মালিহ্ (মৃত্যু: ১৯৭ হিজরি)-এর উক্তি:

আদ-দারাকুতনি 'আস-সিফাত' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৭১) আহমাদ আদ-দাওরাকি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আমি ওয়াকিকে বলতে শুনেছি: "আমরা এই হাদিসগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই মেনে নেই, এবং আমরা বলি না: এটি কেমন, কিংবা কেন এটি এসেছে।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌8 - قول الحافظ يزيد بن هارون (المتوفى: 206):

قال الإمام البخاري في خلق أفعال العباد (ص: 36): "وحذَّر يزيد بن هارون عن الجهمية وقال: من زعم أن الرحمن على العرش استوى على خلاف ما يقر في قلوب العامة فهو جهمي"(1).

--------------------------------------------

(1) قال شيخ الإسلام ابن تيمية كما في اجتماع الجيوش الإسلامية (ص: 134): "والذي تقرر في قلوب العامة هو ما فطر الله تعالى عليه الخليقة من توجهها إلى ربها تعالى عند النوازل والشدائد والدعاء والرغبات إليه تعالى نحو العلو، لا يلتفت يمنة ولا يسرة من غير موقف وقفهم عليه، ولكن فطرة الله التي فطر الناس عليها، وما من مولود إلا وهو يولد على هذه الفطرة حتى يجهمه وينقله إلى التعطيل من يقيّض له".

وقال الحافظ الذهبي في العلو للعلي الغفار (ص: 157 - 158): "والعامة مراده بهم جمهور الأمة وأهل العلم، والذي وقر في قلوبهم من الآية هو ما دل عليه الخطاب مع يقينهم بأن المستوي ليس كمثله شيء، هذا الذي وقر في فطرهم السليمة وأذهانهم الصحيحة، ولو كان له معنى وراء ذلك لتفوّهوا به ولما أهملوه، ولو تأول أحد منهم الاستواء لتوفرت الهمم على نقله، ولو نقل لاشتهر، فإن كان في بعض جهلة الأغبياء من يفهم من الاستواء ما يوجب نقصا أو قياسا للشاهد على الغائب وللمخلوق على الخالق فهذا نادر، فمن نطق بذلك زُجر وعُلّم، وما أظن أن أحدا من العامة يقر في نفسه ذلك. والله أعلم".
৮ - হাফেজ ইয়াজিদ ইবনে হারুনের (মৃত্যু: ২০৬ হিজরি) উক্তি:

ইমাম বুখারী ‘খালকু আফআলিল ইবাদ’ (পৃষ্ঠা: ৩৬) গ্রন্থে বলেন: "ইয়াজিদ ইবনে হারুন জাহমিয়াদের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং বলেছেন: যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, রহমান আরশের ওপর এমনভাবে উঠেছেন যা সাধারণ মানুষের অন্তরে বদ্ধমূল বিষয়ের পরিপন্থী, তবে সে একজন জাহমি"(১).

--------------------------------------------

(১) শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, যেমনটি ‘ইজতিমাউল জুইউশ আল-ইসলামিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা: ১৩৪) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "সাধারণ মানুষের অন্তরে যা বদ্ধমূল হয়েছে তা হলো সেই ফিতরাত (সহজাত স্বভাব) যার ওপর মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। বিপদ-আপদ, সংকট, দুআ ও আকুল প্রার্থনার সময় তারা মহান রবের অভিমুখে উপরের দিকে ধাবিত হয়। তারা ডানে বা বামে ভ্রুক্ষেপ করে না এবং তাদের কোনো নির্দিষ্ট অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়নি। বরং এটি আল্লাহর সেই ফিতরাত যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি নবজাতকই এই ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে, যতক্ষণ না তার জন্য কেউ নিয়োজিত হয় যে তাকে জাহমি বানিয়ে দেয় এবং তাকে আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকারের (তাতিল) দিকে ধাবিত করে।"

হাফেজ যাহাবী ‘আল-উ্লুউ লিল-আলিয়্যিল গাফফার’ (পৃষ্ঠা: ১৫৭ - ১৫৮) গ্রন্থে বলেন: "সাধারণ মানুষ বলতে তিনি উম্মতের অধিকাংশ মানুষ এবং আলেম সমাজকে বুঝিয়েছেন। আয়াতটি থেকে তাদের অন্তরে যা গেঁথে গিয়েছে তা হলো সেই অর্থ যা সম্বোধন থেকে প্রকাশিত হয়, সেই সাথে তারা এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে যে, যিনি আরশের ওপর উঠেছেন তাঁর সদৃশ কিছুই নেই। এটিই তাদের সুস্থ ফিতরাত ও সঠিক বুদ্ধিবৃত্তিতে বদ্ধমূল হয়েছে। যদি এর বাইরে অন্য কোনো অর্থ থাকত, তবে তারা তা অবশ্যই উচ্চারণ করত এবং তা উপেক্ষা করত না। যদি তাদের কেউ ইস্তিওয়ার (আরশের ওপর উঠা) কোনো অপব্যাখ্যা করত, তবে তা বর্ণনা করার যথেষ্ট আগ্রহ পরিলক্ষিত হতো এবং বর্ণিত হলে তা প্রসিদ্ধি লাভ করত। যদি কিছু মূর্খ ও নির্বোধ ব্যক্তি ইস্তিওয়া থেকে এমন কিছু বোঝে যা আল্লাহর জন্য ত্রুটিপূর্ণ অথবা যা অদৃশ্যকে দৃশ্যের সাথে কিংবা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করা বোঝায়, তবে তা বিরল। যে ব্যক্তি এমন কথা উচ্চারণ করবে তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হবে এবং সঠিক জ্ঞান দান করা হবে। আমি মনে করি না যে সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ নিজের মনে এমন ধারণা পোষণ করে। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌9 - قول الحافظ بشر بن عمر الزهراني (المتوفى: 207):

قال بشر بن عمر كما في اعتقاد أهل السنة والجماعة لللالكائي (3/ 397): " سمعت غير واحد من المفسرين يقولون: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} قال: على العرش استوى: ارتفع"
৯ - হাফেজ বিশর বিন উমর আজ-জাহরানি (মৃত্যু: ২০৭ হিজরি)-এর উক্তি:

বিশর বিন উমর যেমনটি লালাকায়ি-কৃত 'এতেকাদ আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ' (৩/৩৯৭) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি একাধিক মুফাসসিরকে বলতে শুনেছি তারা বলতেন: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন}। তিনি বলেন: আরশের উপর উঠেছেন (ইস্তাওয়া), এর অর্থ হলো: উপরে উঠেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌10 - قول الإمام أبي عبيدة معمر بن المثنى (المتوفى: 209):

قال أبو عبيدة في مجاز القرآن (1/ 273): " {ثُمَّ اسْتَوى عَلَى الْعَرْشِ} مجازه: ظهر على العرش وعلا عليه، ويقال: استويت على ظهر الفرس، وعلى ظهر البيت".

وقال أيضًا (2/ 15): " {الرَّحْمنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوى} أي علا، يقال: استويت فوق الدابة وعلى البعير وعلى الجبل وفوق البيت، أي علوت عليه وفوقه".
১০ - ইমাম আবু উবাইদাহ মা'মার ইবনুল মুসান্নার (মৃত্যু: ২০৯) উক্তি:

আবু উবাইদাহ মাজাযুল কুরআনে (১/২৭৩) বলেছেন: "{অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} এর অর্থ: তিনি আরশের উপর প্রকাশিত হয়েছেন এবং এর উপরে উন্নীত হয়েছেন। বলা হয়: আমি ঘোড়ার পিঠে উঠেছি এবং ঘরের ছাদের উপর উঠেছি।"

তিনি আরও বলেছেন (২/১৫): "{পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} অর্থাৎ তিনি উন্নীত হয়েছেন। বলা হয়: আমি পশুর উপরে, উটের উপরে, পাহাড়ের উপরে এবং ঘরের ছাদের উপরে উঠেছি; অর্থাৎ আমি তার উপরে এবং উপরিভাগে উন্নীত হয়েছি।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌11 - قول الإمام عبد الله بن مسلمة القعنبي (المتوفى: 221):

قال الحافظ الذهبي في العلو للعلي الغفار (ص: 166): "قال بنان بن أحمد كنا عند القعنبي رحمه الله فسمع رجلا من الجهمية يقول: الرحمن على العرش استوى. فقال القعنبي: من لا يوقن أن الرحمن على العرش استوى كما يقر في قلوب العامة فهو جهمي".
১১ - ইমাম আবদুল্লাহ বিন মাসলামা আল-কা'নাবি (মৃত্যু: ২২১) এর উক্তি:

হাফেজ আজ-জাহাবি 'আল-উলু লি-আলিয়্যিল গাফফার' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ১৬৬) বলেন: "বুনান বিন আহমাদ বলেন, আমরা কা'নাবি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট ছিলাম, তখন তিনি জাহমিয়াদের একজন ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: 'দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন'। তখন কা'নাবি বললেন: 'যে ব্যক্তি এই নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে না যে দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন—যেমনটি সাধারণ মানুষের অন্তরে বদ্ধমূল থাকে—তবে সে একজন জাহমি'।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌12 - قول الإمام أبي عبيد القاسم بن سلام (المتوفى: 224):

قال أبو عبيد في غريب الحديث (2/ 7 - 9): "في حديث النبي عليه السلام حين سأله أبو رزين العقيلي: أين كان ربنا قبل أن يخلق السماوات والأرض فقال: «كان في عماء تحته هواء وفوقه هواء».

قوله: في عماء، في كلام العرب السحاب الأبيض … وإنما تأولنا هذا الحديث على كلام العرب المعقول عنهم، ولا ندري كيف كان ذلك العماء وما مبلغه. والله أعلم".

وقال الدارقطني في كتابه الصفات (ص: 68 - 69): "حدَّثنا محمد بن مخلد، ثنا العباس بن محمد الدوري قال: سمعت أبا عبيد القاسم بن سلام، وذكر الباب الذي يروى في الرؤية والكرسي وموضع القدمين، وضحك ربنا من قنوط عباده، وقرب غيره، وأين كان ربنا قبل أن يخلق السماء، وأن جهنم لا تمتلئ حتى يضع ربك عز وجل قدمه فيها فتقول: قط قط، وأشباه هذه الأحاديث فقال: "هذه الأحاديث صحاح حملها أصحاب الحديث والفقهاء بعضهم على بعض، وهي عندنا حق لا نشك فيها، ولكن إذا قيل: كيف وضع قدمه؟ وكيف ضحك؟ قلنا: لا يُفَسَّر هذا ولا سمعنا أحدًا يفسِّره"(1).

--------------------------------------------

(1) قول أبي عبيد هذا يبين أن التفسير المنفي في كلام بعض السلف هو التكييف، ولذلك قال: "ولكن إذا قيل: كيف وضع قدمه؟ وكيف ضحك؟ قلنا: لا يُفَسَّر هذا ولا سمعنا أحدًا يفسِّره".

أما المعنى الذي دل عليه الخطاب فقد كان يُثبته ولا ينفيه، وقد تقدم أنه فسّر حديث أبي رزين أن الله تبارك وتعالى كان قبل خلق السموات والأرض في عماء تحته هواء وفوقه هواء. وفسّر الحنان بالرحمة كما في غريب الحديث (4/ 400).

قال الحافظ الذهبي في العلو للعلي الغفار (ص: 173) بعد ذكره لكلام أبي عبيد هذا: "وقد ألّف كتاب غريب الحديث، وما تعرّض لأخبار الصفات بتفسير، بل عنده لا تفسير لذلك غير موضع الخطاب العربي".

ومما يؤكد أنّ المراد بنفي التفسير هو نفي التكييف أنّ نفي التفسير جاء في بعض عبارات السلف -كما في قول أبي عبيد المتقدم- أثناء الكلام على رؤية الله تعالى، مع كون معنى الرؤية واضحا، وأن المؤمنين يرون ربهم عيانا.

ومما يؤيد ما قلناه أيضًا أنه في بعض الروايات لبعض مرويات السلف جاءت كلمة (الكيف) مكان كلمة (التفسير) فمن ذلك قول الوليد بن مسلم كما في شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة لللالكائي (3/ 582) والشريعة للآجري (3/ 1146) والإبانة الكبرى لابن بطة (7/ 242) والعلو للعلي الغفار (ص: 139 - 140): سألتُ الأوزاعي ومالك والثوري والليث عن الأحاديث التي فيها الصفات فكلهم قالوا: "أمرّوها كما جاءت بلا تفسير" وفي رواية: "بلا كيف".

ويرِدُ في كلام السلف أيضًا نفيُ التفسير ومرادهم نفي التفسير المذموم الصارف للنص عن ظاهره، وهذا كثير في عباراتهم، ومن ذلك قول محمد بن الحسن كما في شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة لللالكائي (3/ 480): "اتفق الفقهاء كلهم من المشرق إلى المغرب على الإيمان بالقرآن والأحاديث التي جاء بها الثقات عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في صفة الرب عز وجل من غير تغيير ولا وصف ولا تشبيه، فمن فسّر اليوم شيئا من ذلك فقد خرج مما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وفارق الجماعة؛ فإنهم لم يصفوا ولم يفسروا، ولكن أفتوا بما في الكتاب والسنة، ثم سكتوا، فمن قال بقول جهم فقد فارق الجماعة؛ لأنه قد وصفه بصفة لا شيء".

فقوله: "فمن فسَّر اليوم شيئًا" المراد به التأويل المخالف للظاهر، بدليل قوله بعد ذلك: "فمن قال بقول جهم"، وجهم مذهبه تأويل آيات وأحاديث صفات الله بما يخالف ظاهرها، كتأويل الاستواء بالاستيلاء.

ونقل الحافظ ابن حجر في فتح الباري (13/ 407) قول محمد بن الحسن هذا بلفظ: " … غير تشبيه ولا تفسير، فمن فسر شيئا منها وقال بقول جهم فقد خرج عما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وفارق الجماعة، لأنه وصف الرب بصفة لا شيء".

ومما ورد نفي التفسير والمراد به نفي التأويل المخالف للظاهر قول الترمذي في سننه (3/ 42): "وقد ذكر الله عز وجل في غير موضع من كتابه اليد والسمع والبصر، فتأولت الجهمية هذه الآيات ففسَّروها على غير ما فسَّر أهل العلم، وقالوا: إن الله لم يخلق آدم بيده، وقالوا: إن معنى اليد هاهنا القوة".

ومن ذلك أيضًا قول أبي الحسن البربهاري في شرح السنة (ص: 31 - 32): "وكل ما سمعت من الآثار شيئا مما لم يبلغه عقلك نحو قول رسول الله صلى الله عليه و سلم: «قلوب العباد بين أصبعين من أصابع الرحمن عز وجل»، وقوله: «إن الله ينزل إلى السماء الدنيا»، … وأشباه هذه الأحاديث فعليك بالتسليم والتصديق والتفويض والرضا، ولا تفسِّر شيئا من هذه بهواك؛ فإنّ الإيمان بهذا واجب، فمن فسّر شيئا من هذا بهواه وردّه فهو جهمي".

ومما يؤكد استعمال السلف لنفي التفسير ومرادهم نفي التفسير المخالف للظاهر أنه قد جاء عن بعض السلف نفي التفسير في غير باب الصفات، وذلك كبعض أحايث الوعيد، مع كونها معلومة المعنى بالاتفاق، ومن ذلك قول علي بن المديني كما في شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة لللالكائي (1/ 190): "وهذه الأحاديث التي جاءت: «ثلاث من كن فيه فهو منافق» جاءت على التغليظ، نرويها كما جاءت ولا نفسِّرها، مثل: «لا ترجعوا بعدي كفارا يضرب بعضكم رقاب بعض» ، ومثل: «إذا التقى المسلمان بسيفيهما فالقاتل والمقتول في النار» ، ومثل: «سباب المسلم فسوق، وقتاله كفر» ".

وكقول الإمام أحمد كما في أصول السنة (ص: 56 - 58): " «ثلاث من كن فيه فهو منافق» على التغليظ، نرويها كما جاءت ولا نقيسها، وقوله: «لا ترجعوا بعدي كفارا ضلالا يضرب بعضكم رقاب بعض»، … ونحو هذه الأحاديث مما قد صح وحفظ، فإنا نسلِّم له وإن لم نعلم تفسيرها ولا نتكلم فيها ولا نجادل فيها ولا نفسر هذه الأحاديث إلا مثل ما جاءت لا نردها إلا بأحق منها".
‌‌১২ - ইমাম আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লামের (মৃত্যু: ২২৪) বক্তব্য:

আবু উবাইদ তার 'গারিবুল হাদিস' (২/ ৭-৯) গ্রন্থে বলেছেন: "নবী আলাইহিস সালামের হাদিসে আছে, যখন আবু রাজিন আল-উকাইলি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আসমান ও জমিন সৃষ্টির আগে আমাদের রব কোথায় ছিলেন? তখন তিনি বলেছিলেন: «তিনি ছিলেন এক মেঘমালার (আমা') মধ্যে, যার নিচে ছিল বাতাস এবং যার উপরে ছিল বাতাস»।

তাঁর বাণী: 'মেঘমালার মধ্যে', আরবদের ভাষায় এর অর্থ হলো সাদা মেঘমালা … আর আমরা এই হাদিসের ব্যাখ্যা করেছি আরবদের বোধগম্য ভাষার ভিত্তিতেই, তবে সেই মেঘমালাটি কেমন ছিল বা এর পরিধি কতটুকু ছিল তা আমরা জানি না। আল্লাহই ভালো জানেন।"

আদ-দারা কুতনি তার 'আস-সিফাত' গ্রন্থে (পৃ. ৬৮-৬৯) বলেছেন: "মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্বাস বিন মুহাম্মাদ আদ-দাওরি বলেছেন: আমি আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন তিনি সেই অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করছিলেন যাতে আল্লাহর দর্শন (রুইয়াত), কুরসি, দুই পায়ের স্থান, বান্দাদের হতাশায় আমাদের রবের হাসা, অন্যের নিকটবর্তী হওয়া, আসমান সৃষ্টির আগে আমাদের রব কোথায় ছিলেন এবং জাহান্নাম ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না আপনার রব আযযা ওয়া জাল্লা তাতে তাঁর পা রাখেন এবং জাহান্নাম বলবে: যথেষ্ট যথেষ্ট—এই জাতীয় হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে; তখন তিনি বলেছিলেন: "এই হাদিসগুলো সহিহ, যা হাদিস বিশারদ এবং ফকিহগণ একে অপরের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। এগুলো আমাদের নিকট সত্য, এতে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে তাঁর পা রাখবেন? অথবা তিনি কীভাবে হাসবেন? আমরা বলি: এর কোনো ব্যাখ্যা করা যাবে না, আর আমরা কাউকে এর ব্যাখ্যা করতেও শুনিনি"(১)।

--------------------------------------------

(১) আবু উবাইদের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, সলফদের বাণীতে যে 'ব্যাখ্যা' (তাফসির) নিষেধ করা হয়েছে, তার অর্থ হলো ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ)। আর এ কারণেই তিনি বলেছেন: "কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়: তিনি কীভাবে তাঁর পা রাখবেন? অথবা তিনি কীভাবে হাসবেন? আমরা বলি: এর কোনো ব্যাখ্যা করা যাবে না, আর আমরা কাউকে এর ব্যাখ্যা করতেও শুনিনি"৷

তবে সম্বোধনের মাধ্যমে যে অর্থ প্রকাশিত হয়, তা তিনি সাব্যস্ত করতেন এবং অস্বীকার করতেন না। ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি আবু রাজিনের হাদিসের ব্যাখ্যা করেছেন যে, আসমান ও জমিন সৃষ্টির আগে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এক মেঘমালার মধ্যে ছিলেন যার নিচে বাতাস এবং উপরে বাতাস ছিল। এছাড়াও তিনি 'আল-হান্নান' শব্দের ব্যাখ্যা 'রহমত' বা দয়া দ্বারা করেছেন, যেমনটি 'গারিবুল হাদিস' (৪/ ৪০০) গ্রন্থে রয়েছে।

হাফিজ আয-যাহাবি তার 'আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার' গ্রন্থে (পৃ. ১৭৩) আবু উবাইদের এই বক্তব্য উল্লেখ করার পর বলেছেন: "তিনি 'গারিবুল হাদিস' গ্রন্থটি রচনা করেছেন এবং সেখানে তিনি গুণাবলি সংক্রান্ত বর্ণনাগুলোর কোনো (রূপক) ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেননি, বরং তার নিকট আরবি সম্বোধনের ভাষাগত অর্থ ব্যতীত এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা নেই।"

'ব্যাখ্যা' (তাফসির) নাকচ করার দ্বারা যে 'ধরন নির্ধারণ' (তাকয়িফ) নাকচ করা উদ্দেশ্য—তা এই বিষয়টি দ্বারাও নিশ্চিত হয় যে, সলফদের কিছু বক্তব্যে আল্লাহর দর্শনের (রুইয়াত) আলোচনার সময়ও ব্যাখ্যা নাকচ করার বিষয়টি এসেছে; অথচ দর্শনের অর্থ অত্যন্ত স্পষ্ট যে মুমিনরা তাদের রবকে চাক্ষুষ দেখবেন।

সলফদের বক্তব্যে 'ব্যাখ্যা' (তাফসির) নাকচ করার মাধ্যমে আরও একটি উদ্দেশ্য হতে পারে, আর তা হলো—সেই নিন্দনীয় ব্যাখ্যা নাকচ করা যা শব্দকে তার প্রকাশ্য অর্থ (যাহির) থেকে সরিয়ে দেয়। তাদের বক্তব্যে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে। যেমন মুহাম্মাদ বিন হাসানের বক্তব্য, যা লালকায়ীর 'শারহু উসুল ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ' (৩/ ৪৮০) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমস্ত ফকিহগণ রবের গুণাবলি সম্পর্কে কুরআন এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপর কোনো প্রকার পরিবর্তন, বর্ণনা (তাকয়িফ) বা সাদৃশ্য (তাشবিহ) ছাড়াই ঈমান আনার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সুতরাং আজ যদি কেউ এর কোনো কিছুর (ভিন্ন) ব্যাখ্যা করে, তবে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলো এবং জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কারণ তারা এর কোনো ধরন বর্ণনা করেননি এবং (রূপক) ব্যাখ্যাও করেননি, বরং কিতাব ও সুন্নাহতে যা আছে সে অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন এবং এরপর নীরবতা অবলম্বন করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি জাহমের মতাদর্শ গ্রহণ করল, সে জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল; কারণ সে আল্লাহকে এমন এক বিশেষণে বিশেষিত করল যা মূলত অস্তিত্বহীন।"

সুতরাং তাঁর কথা: "আজ যদি কেউ কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করে"—এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রকাশ্য অর্থের (যাহির) বিরোধী অপব্যাখ্যা (তাউইল)। এর প্রমাণ হলো পরবর্তী অংশ: "যে ব্যক্তি জাহমের মতাদর্শ গ্রহণ করল"। কারণ জাহমের মাযহাব ছিল আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াত ও হাদিসগুলোর প্রকাশ্য অর্থের বিরুদ্ধে অপব্যাখ্যা করা, যেমন 'উঠা' (ইস্তিয়া)-এর অর্থ 'কর্তৃত্ব গ্রহণ' (ইস্তিলা) দ্বারা ব্যাখ্যা করা।

হাফিজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারী' (১৩/ ৪০৭) গ্রন্থে মুহাম্মাদ বিন হাসানের এই উক্তিটি এভাবে বর্ণনা করেছেন: "… কোনো সাদৃশ্য এবং (রূপক) ব্যাখ্যা ছাড়াই। সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোনো কিছুর ব্যাখ্যা করল এবং জাহমের মতাদর্শ গ্রহণ করল, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হলো এবং জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কারণ সে রবকে এমন এক বিশেষণে বিশেষিত করল যা মূলত অস্তিত্বহীন।"

সলফদের ব্যাখ্যা নাকচ করা দ্বারা যে প্রকাশ্য অর্থের বিরোধী অপব্যাখ্যা নাকচ করা উদ্দেশ্য, তার আরেকটি উদাহরণ হলো ইমাম তিরমিযীর বক্তব্য। তিনি তার সুনান গ্রন্থে (৩/ ৪২) বলেছেন: "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে হাত, শ্রবণ এবং দৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন। ফলে জাহমিয়্যারা এই আয়াতগুলোর অপব্যাখ্যা করেছে এবং আলেমগণ যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তার বাইরে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে: আল্লাহ আদমকে তাঁর নিজের হাত দিয়ে সৃষ্টি করেননি, বরং তারা বলেছে: এখানে হাত মানে হলো ক্ষমতা।"

আবু হাসান আল-বারবাহারি তার 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে (পৃ. ৩১-৩২) বলেছেন: "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর মতো যেসব আসার (বর্ণনা) তুমি শুনবে যা তোমার বিবেক বুঝতে অক্ষম—যেমন তাঁর বাণী: «বান্দাদের অন্তরসমূহ দয়াময় (আর-রাহমান) আযযা ওয়া জাল্লার আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে রয়েছে», এবং তাঁর বাণী: «নিশ্চয়ই আল্লাহ দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন», … এই জাতীয় হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে তোমার দায়িত্ব হলো আত্মসমর্পণ করা, তা সত্য বলে বিশ্বাস করা, এর প্রকৃত জ্ঞান আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা এবং সন্তুষ্ট থাকা। এসবের কোনো কিছুই নিজের খেয়ালখুশি মতো ব্যাখ্যা করবে না। কারণ এগুলোর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব। সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোনো কিছু নিজের খেয়ালখুশি মতো ব্যাখ্যা করবে এবং তা প্রত্যাখ্যান করবে, সে একজন জাহমি।"

সলফদের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা নাকচ করার দ্বারা যে প্রকাশ্য অর্থের বিরোধী ব্যাখ্যা উদ্দেশ্য, তার আরেকটি প্রমাণ হলো—কিছু সলফ গুণাবলির অধ্যায় ছাড়াও অন্য ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা করা নাকচ করেছেন। যেমন শাস্তির ধমকি সম্বলিত কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে, যদিও সেগুলোর অর্থ সর্বসম্মতভাবে জানা। এর মধ্যে আলী বিন আল-মাদীনীর বক্তব্য অন্যতম, যা লালকায়ীর 'শারহু উসুল ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ' (১/ ১৯০) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "এই হাদিসগুলো যাতে বলা হয়েছে: «তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে মুনাফিক»—এগুলো কঠোরতা বোঝানোর জন্য এসেছে। এগুলো যেভাবে এসেছে আমরা সেভাবেই বর্ণনা করি এবং এর (রূপক) ব্যাখ্যা করি না। যেমন: «আমার পরে তোমরা কাফির হয়ে যেও না যে একে অপরের ঘাড় কাটবে», এবং «যখন দুই মুসলিম তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী», এবং «মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকি এবং তার সাথে যুদ্ধ করা কুফরি»।"

অনুরূপভাবে ইমাম আহমাদ তার 'উসুলুস সুন্নাহ' (পৃ. ৫৬-৫৮) গ্রন্থে বলেছেন: "«তিনটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে সে মুনাফিক»—এটি কঠোরতা বোঝাতে বলা হয়েছে। এগুলো যেভাবে এসেছে আমরা সেভাবেই বর্ণনা করি এবং এগুলোর ওপর যুক্তি খাটাই না। আর তাঁর বাণী: «আমার পরে তোমরা পথভ্রষ্ট কাফির হয়ে যেও না যে একে অপরের ঘাড় কাটবে», … এই জাতীয় হাদিসগুলো যা সহিহ এবং সংরক্ষিত হয়েছে, আমরা সেগুলোর প্রতি আত্মসমর্পণ করি; যদিও আমরা সেগুলোর ব্যাখ্যা জানি না। আমরা এ নিয়ে কথা বলি না, বিতর্ক করি না এবং এই হাদিসগুলোর কোনো ব্যাখ্যা করি না, বরং যেভাবে এসেছে সেভাবেই রাখি। এর চেয়ে অধিকতর সত্য কোনো কিছুর মাধ্যম ছাড়া আমরা এগুলোকে প্রত্যাখ্যান করি না।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌13 - قول الإمام محمد بن زياد المعروف بابن الأعرابي (المتوفى: 231):

أخرج اللالكائي في أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة (3/ 442) عن داود بن علي قال: كنا عند ابن الأعرابي فأتاه رجل فقال له: ما معنى قول الله عز وجل: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}؟ فقال: هو على عرشه كما أخبر عز وجل، فقال: يا أبا عبد الله ليس هذا معناه، إنما معناه استولى، قال: اسكت ما أنت وهذا؟ لا يقال: استولى على الشيء إلا أن يكون له مضاد ، فإذا غلب أحدهما قيل استولى".
১৩ - ইমাম মুহাম্মদ বিন জিয়াদ, যিনি ইবনুল আ’রাবি নামে পরিচিত (মৃত্যু: ২৩১ হিজরি)-এর বক্তব্য:

আল-লালকায়ী ‘উসুলু ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ’ (৩/ ৪৪২) গ্রন্থে দাউদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা ইবনুল আ’রাবির নিকট ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল: মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থ কী: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন}? তিনি বললেন: মহান আল্লাহ যেভাবে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি সেভাবেই তাঁর আরশের উপর রয়েছেন। তখন ঐ ব্যক্তি বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, এর অর্থ এটি নয়; বরং এর অর্থ হলো ‘কর্তৃত্ব গ্রহণ করা’। তিনি বললেন: চুপ থাকো, তোমার এতে কী কাজ? কোনো কিছুর ওপর ‘কর্তৃত্ব গ্রহণ করা’ কথাটি কেবল তখনই বলা হয় যখন তার কোনো প্রতিপক্ষ থাকে; অতঃপর যখন তাদের একজন অন্যজনের ওপর বিজয়ী হয়, তখন বলা হয় যে সে ‘কর্তৃত্ব গ্রহণ’ করেছে।
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌14 - قول الإمام يحيى بن معين (المتوفى: 233):

روى اللالكائي في اعتقاد أهل السنة والجماعة (3/ 453) أن يحيى بن معين قال: "إذا سمعت الجهمي يقول: أنا كفرت برب ينزل، فقل: أنا أومن برب يفعل ما يريد".

وساق الحافظ ابن عبد البر في التمهيد (7/ 151) بسنده إلى ابن وضاح أنه قال: سألتُ يحيى بن معين عن التنزل؟ فقال: أقرّ به ولا تحد فيه بقول، كل من لقيت من أهل السنة يصدق بحديث التنزل.

قال: وقال: لي ابن معين صدق به ولا تصفه".
‌১৪ - ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাঈন (মৃত্যু: ২৩৩) এর উক্তি:

আল-লালকায়ী ‘ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত’ (৩/ ৪৫৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেছেন: "যখন তুমি কোনো জাহমিকে বলতে শুনবে যে: ‘আমি এমন রবকে অস্বীকার করি যিনি নিচে নামেন’, তখন তুমি বলো: ‘আমি এমন রবের প্রতি ঈমান রাখি যিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন’।"

হাফিজ ইবনে আব্দুল বার ‘আত-তামহীদ’ (৭/ ১৫১) গ্রন্থে তার সনদে ইবনে ওয়াদদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে নিচে নামা (তানাজ্জুল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম? তিনি বললেন: "এটি স্বীকার করো এবং এ বিষয়ে কোনো (সীমা নির্ধারণী) কথা বলো না; আহলুস সুন্নাহর যাদের সাথেই আমার দেখা হয়েছে, তারা সবাই নিচে নামা সংক্রান্ত হাদিসকে সত্য বলে বিশ্বাস করেন।"

তিনি বলেন: ইবনে মাঈন আমাকে বলেছেন, "এটিকে সত্য বলে বিশ্বাস করো এবং এর কোনো ধরণ বর্ণনা করো না।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌15 - قول الإمام إسحاق بن راهويه (المتوفى: 238):

قال أبو الشيخ الأصبهاني في كتاب السنة كما في الفتاوى الكبرى لشيخ الإسلام ابن تيمية (6/ 420): "قال إسحاق بن راهويه: إنّ الله تبارك وتعالى وصف نفسه من كتابه بصفات استغنى الخلق كلهم عن أن يصفوه بغير ما وصف به نفسه وأجله في كتابه، فإنما فسر النبي صلى الله عليه وسلم معنى إرادة الله تبارك وتعالى، … وكل ما وصف الله به نفسه من الصفات التي ذكرناها مما هي موجودة في القرآن، وما لم نذكر فهو كما ذُكر. وإنما يلزم العباد الاستسلام لذلك والتعبد، لا نُزيل صفة مما وصف الله بها نفسه أو وصف الرسول عن جهتها لا بكلام ولا بإرادة، إنما يلزم المسلم الأداء ويوقن بقلبه أن ما وصف الله به نفسه في القرآن إنما هي صفاته، ولا يعقل نبي مرسل ولا ملك مقرب تلك الصفات إلا بالأسماء التي عرفهم الرب تبارك وتعالى، فأما أن يدرك أحد من بني آدم معنى(1)

تلك الصفات فلا يدركه أحد، وذلك أن الله تعالى إنما وصف من صفاته قدر ما تحتمله عقول ذوي الألباب ليكون إيمانهم بذلك ومعرفتهم بأنه الموصوف بما وصف به نفسه، ولا يعقل أحد منتهاه ولا منتهى صفاته، وإنما يلزم المسلم أن يثبت معرفة صفات الله بالإتباع والاستسلام كما جاء، فمن جهل معرفة ذلك حتى يقول إنما أصف ما قال الله ولا أدري ما معاني ذلك حتى يفضي إلى أن يقول بمعنى قول الجهمية يد نعمة ويحتج بقوله: {أيدينا أنعاما} ونحو ذلك فقد ضل عن سواء السبيل.

هذا محض كلام الجهمية حيث يؤمنون بجميع ما وصفنا من صفات الله، ثم يحرفون معنى الصفات عن جهتها التي وصف الله بها نفسه، حتى يقولوا: معنى السميع هو البصير، ومعنى البصير هو السميع، ويجعلون اليد يد نعمة وأشباه ذلك يحرفونها عن جهتها لأنهم هم المعطلة".

وفي عقيدة السلف أصحاب الحديث لأبي عثمان الصابوني (ص: 197 - 198) أنّ إسحاق بن راهويه سئل عن حديث النزول أصحيح هو؟ قال: نعم. فقال له بعض قواد عبد الله [أي: ابن طاهر]: يا أبا يعقوب أتزعم أن الله ينزل كل ليلة؟ قال: نعم. قال كيف ينزل؟ فقال له إسحاق: أَثْبِته فوق حتى أصف لك النزول. فقال الرجل: أَثْبَتّه فوق. فقال إسحاق: قال الله عز وجل: {وَجَاء رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفّاً صَفّاً} فقال الأمير عبد الله: يا أبا يعقوب، هذا يوم القيامة. فقال إسحاق: أعز الله الأمير، ومن يجيء يوم القيامة من يمنعه اليوم".

وفي العلو للعلي الغفار (ص: 177) أن إسحاق بن راهويه قال: دخلت على ابن طاهر فقال: ما هذه الأحاديث يروون أن الله ينزل إلى السماء الدنيا؟ قلت: نعم رواها الثقات الذين يروون الأحكام.

فقال: ينزل ويدع عرشه؟ فقلت: يقدر أن ينزل من غير أن يخلو منه العرش؟ قال: نعم. قلت: فلم تتكلم في هذا".

--------------------------------------------

(1) ليس المراد أصل معنى الصفة، وإنما المراد تمام معاني تلك الصفات، ويدل على ذلك عدة أمور:

الأول: قول إسحاق بعد ذلك: "ولا يعقل أحدٌ منتهاه ولا منتهى صفاته"، ومنتهى الصفة أي: كُنه الصفة وحقيقتها.

الثاني: قوله: "لا نُزيل صفة مما وصف الله بها نفسه أو وصف الرسول عن جهتها"، فهو واضح في أنّ معاني الصفات لها جهة ثابتة، وهي ما دلّ عليه اللفظ. ويؤيد ذلك قوله عن الجهمية أنهم: "يحرفون معنى الصفات عن جهتها التي وصف الله بها نفسه".

الثالث: أنّ كلام إسحاق عام في جميع صفات الله، وقد ذكر صفتي السمع والبصر وهما من الصفات المعلومة المعنى.

أما تفويض المعنى بالكلية كما هو مذهب أهل التفويض فقد ذكر إسحاق أنه يُفضي إلى القول بقول الجهمية، حيث قال: "فمن جهل معرفة ذلك حتى يقول إنما أصف ما قال الله ولا أدري ما معاني ذلك حتى يفضي إلى أن يقول بمعنى قول الجهمية يد نعمة … ".
‌১৫ - ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াইহ (মৃত্যু: ২৩৮ হিজরি)-এর বক্তব্য:

আবু আল-শেখ আল-আসফাহানি 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা' (৬/৪২০) গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে: "ইসহাক বিন রাহওয়াইহ বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা স্বীয় কিতাবে নিজেকে এমন সব গুণাবলীতে ভূষিত করেছেন যার ফলে সমস্ত সৃষ্টিজগত তাঁকে সেই গুণাবলী ছাড়া অন্য কোনোভাবে বিশেষিত করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত হয়ে গেছে, যা তিনি স্বয়ং নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন এবং স্বীয় কিতাবে মহিমান্বিত করেছেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবল আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার ইচ্ছার অর্থের ব্যাখ্যা করেছেন, … এবং আল্লাহ কুরআনে বিদ্যমান যেসকল গুণাবলীর দ্বারা নিজেকে বিশেষিত করেছেন এবং যা আমরা উল্লেখ করেছি, আর যা আমরা উল্লেখ করিনি, তা ঠিক তেমনই যেমনটি বর্ণিত হয়েছে। বান্দাদের জন্য কেবল তার সামনে আত্মসমর্পণ করা এবং ইবাদত করা অপরিহার্য। আমরা আল্লাহর নিজের জন্য বর্ণনা করা অথবা রাসুলের বর্ণনা করা কোনো গুণকেই তার মূল দিক থেকে বিচ্যুত করব না—কথার মাধ্যমেও না, সংকল্পের মাধ্যমেও না। একজন মুসলিমের জন্য কেবল তা আদায় করা (মেনে নেয়া) অপরিহার্য এবং সে তার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে, আল্লাহ কুরআনে নিজের জন্য যে গুণাবলী বর্ণনা করেছেন সেগুলো মূলত তাঁরই গুণ। কোনো প্রেরিত নাবী বা নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাও সেই গুণাবলী সম্পর্কে অবগত নন, কেবল সেই নামগুলো ছাড়া যেগুলোর মাধ্যমে প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁদের পরিচয় করিয়েছেন। আর আদম সন্তানদের কেউ যদি সেই গুণাবলীর মর্মার্থ(১) অনুধাবন করতে চায়, তবে কেউ তা করতে পারবে না।

আর এর কারণ হলো, আল্লাহ তায়ালা তাঁর গুণাবলী থেকে কেবল ততটুকুই বর্ণনা করেছেন যতটুকু বুদ্ধিমানদের জ্ঞান ধারণ করতে পারে, যাতে এ বিষয়ে তাদের ঈমান ও এই পরিচয় অর্জিত হয় যে, তিনি সেই গুণাবলীতে গুণান্বিত যা তিনি নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন। কেউ তাঁর সত্তার শেষ সীমা বা তাঁর গুণাবলীর শেষ সীমা উপলব্ধি করতে পারে না। বরং একজন মুসলিমের জন্য অপরিহার্য হলো যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবেই অনুসরণের মাধ্যমে এবং আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আল্লাহর গুণাবলীর জ্ঞানকে সাব্যস্ত করা। অতএব, যে ব্যক্তি এ বিষয়ের জ্ঞান থেকে অজ্ঞ থেকে এই কথা বলে যে, 'আমি কেবল আল্লাহ যা বলেছেন তাই বর্ণনা করি কিন্তু এর অর্থ কী তা জানি না', যা তাকে শেষ পর্যন্ত জাহমিয়াদের বক্তব্যের দিকে নিয়ে যায় যে, 'আল্লাহর হাত' হলো 'নিয়ামত' এবং সে প্রমাণ হিসেবে তাঁর বাণী 'আমাদের হাতসমূহ গবাদি পশু (সৃষ্টি করেছে)' ইত্যাদি পেশ করে, সে অবশ্যই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।

এটি সরাসরি জাহমিয়াদের বক্তব্য, যারা আমরা আল্লাহর যেসকল গুণাবলী বর্ণনা করেছি সেসবে বিশ্বাস করার দাবি করে, কিন্তু এরপর তারা গুণাবলীর অর্থকে সেই দিক থেকে বিকৃত করে ফেলে যেভাবে আল্লাহ নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন। এমনকি তারা বলে: 'শোনা' (সামি') গুণের অর্থ হলো 'দেখা' (বাসীর), আর 'দেখা' (বাসীর) গুণের অর্থ হলো 'শোনা' (সামি')। তারা আল্লাহর হাত-কে 'নিয়ামত' এবং এ জাতীয় অর্থে গ্রহণ করে গুণাবলীকে তার প্রকৃত দিক থেকে বিকৃত করে, কারণ তারা হলো গুণাবলী অস্বীকারকারী (মুয়াত্তিলা)।"

আবু উসমান আস-সাবুনীর 'আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস' (পৃষ্ঠা: ১৯৭-১৯৮) গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-কে আল্লাহর নিচে নামা (নুজুল) সম্পর্কিত হাদিসটি সহিহ কিনা জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন আবদুল্লাহ [অর্থাৎ ইবনে তাহির]-এর জনৈক সেনাপতি তাঁকে বললেন: হে আবু ইয়াকুব, আপনি কি দাবি করেন যে আল্লাহ প্রতি রাতে নিচে নামেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: তিনি কীভাবে নিচে নামেন? তখন ইসহাক তাকে বললেন: আগে তাঁকে উপরে সাব্যস্ত করো যাতে আমি তোমার কাছে নিচে নামার বিবরণ দিতে পারি। লোকটি বলল: আমি তাঁকে উপরে সাব্যস্ত করলাম। তখন ইসহাক বললেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন: {এবং তোমার প্রতিপালক ও ফেরেশতারা কাতারবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হবেন}। তখন আমির আবদুল্লাহ বললেন: হে আবু ইয়াকুব, এতো কিয়ামতের দিনের কথা। ইসহাক বললেন: আল্লাহ আমিরকে সম্মানিত করুন, কিয়ামতের দিন যিনি আসবেন তাঁকে আজ আসতে কে বাধা দেবে?"

'আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার' (পৃষ্ঠা: ১৭৭) গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ বলেছেন: আমি ইবনে তাহিরের কাছে গেলাম। তিনি বললেন: এগুলো কী হাদিস যা তারা বর্ণনা করে যে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন? আমি বললাম: হ্যাঁ, বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীরা এগুলো বর্ণনা করেছেন যারা বিধিবিধানের হাদিস বর্ণনা করেন।

তিনি বললেন: তিনি কি নেমে আসেন এবং স্বীয় আরশ ছেড়ে দেন? আমি বললাম: তিনি কি আরশ শূন্য না করেই নিচে নামতে সক্ষম? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: তবে আপনি এ বিষয়ে কেন কথা বলছেন?"

--------------------------------------------

(১) এখানে উদ্দেশ্য গুণের মূল অর্থ নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো সেই গুণাবলীর অর্থের পূর্ণতা। বেশ কিছু বিষয় এর প্রমাণ দেয়:

প্রথমত: এরপর ইসহাকের এই উক্তি: "কেউ তাঁর সত্তার শেষ সীমা বা তাঁর গুণাবলীর শেষ সীমা উপলব্ধি করতে পারে না", আর গুণের শেষ সীমা মানে হলো গুণের স্বরূপ ও হাকিকত।

দ্বিতীয়ত: তাঁর উক্তি: "আমরা আল্লাহর নিজের জন্য বর্ণনা করা অথবা রাসুলের বর্ণনা করা কোনো গুণকেই তার মূল দিক থেকে বিচ্যুত করব না", এতে স্পষ্ট হয় যে গুণাবলীর অর্থের একটি সুনির্দিষ্ট দিক রয়েছে, যা শব্দের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। জাহমিয়াদের সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি একে সমর্থন করে যে তারা: "গুণাবলীর অর্থকে সেই দিক থেকে বিকৃত করে ফেলে যেভাবে আল্লাহ নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন।"

তৃতীয়ত: ইসহাকের বক্তব্য আল্লাহর সকল গুণের ক্ষেত্রে সাধারণ, এবং তিনি শোনা ও দেখা এই দুটি গুণ উল্লেখ করেছেন যার অর্থ সুপরিচিত।

আর অর্থের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সোপর্দ করা (তাফবীদ) যেমনটি মুফাওয়িদাহদের মাযহাব, সে সম্পর্কে ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে এটি জাহমিয়াদের মতবাদের দিকে নিয়ে যায়। তিনি বলেছেন: "অতএব, যে ব্যক্তি এ বিষয়ের জ্ঞান থেকে অজ্ঞ থেকে এই কথা বলে যে, 'আমি কেবল আল্লাহ যা বলেছেন তাই বর্ণনা করি কিন্তু এর অর্থ কী তা জানি না', যা তাকে শেষ পর্যন্ত জাহমিয়াদের বক্তব্যের দিকে নিয়ে যায় যে, 'আল্লাহর হাত' মানে 'নিয়ামত' … "।
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌16 - قول الإمام قتيبة بن سعيد (المتوفى: 240):

قال قتيبة بن سعيد كما في العلو للعلي الغفار (ص: 174): "هذا قول الأئمة في الإسلام والسنة والجماعة نعرف ربنا في السماء السابعة على عرشه كما قال جل جلاله: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} "(1).

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ الذهبي في العلو للعلي الغفار (ص: 174): "فهذا قتيبة في إمامته وصدقه قد نقل الإجماع على المسألة، وقد لقي مالكا والليث وحماد بن زيد والكبار، وعمّر دهرا، وازدحم الحفاظ على بابه".
১৬ - ইমাম কুতাইবা ইবনে সাঈদ (মৃত্যু: ২৪০ হিজরী)-এর উক্তি:

কুতাইবা ইবনে সাঈদ বলেছেন, যেমনটি আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৭৪) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "এটি ইসলাম, সুন্নাহ এবং জামাতের ইমামগণের বক্তব্য; আমরা আমাদের রবকে সপ্তম আসমানের ওপর তাঁর আরশের ওপর বলে জানি, যেমনটি তিনি সুমহান মহিমায় বলেছেন: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন}।"(১).

--------------------------------------------

(১) হাফেজ যাহাবী আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার (পৃষ্ঠা: ১৭৪) গ্রন্থে বলেছেন: "ইমামত এবং সত্যবাদিতার উচ্চ শিখরে থাকা এই কুতাইবা এই মাসআলায় ইজমা (ঐকমত্য) বর্ণনা করেছেন। তিনি মালিক, লাইস, হাম্মাদ ইবনে যাইদ এবং বড় বড় বরেণ্য ইমামদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তিনি দীর্ঘ জীবন পেয়েছিলেন এবং হাদিস বিশারদগণ তাঁর দ্বারে ভিড় জমাতেন।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌17 - قول الإمام أحمد بن حنبل (المتوفى: 241):

قال الإمام أحمد كما في الإبانة الكبرى لابن بطة (7/ 111)، والحجة في بيان المحجة للأصبهاني (1/ 473): "يضحك الله تعالى ولا نعلم كيف ذلك إلا بتصديق الرسول، وتثبيت القرآن. وقد نص أحمد على القول بظاهر الأخبار من غير تشبيه ولا تأويل".

وقال أيضًا في رواية حنبل كما في الإبانة الكبرى لابن بطة (7/ 326): "ولا نتعدى القرآن والحديث، فنقول كما قال، ونصفه كما وصف نفسه، ولا نتعدى ذلك، نؤمن بالقرآن كله محكمه ومتشابهه، ولا نُزيل عنه - تعالى ذكره - صفةً من صفاته لشناعة شنعت، ولا نزيل ما وصف به نفسه من كلام ونزول وخلوه بعبده يوم القيامة، ووضع كنفه عليه، … وقال: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} كيف شاء، المشيئة إليه والاستطاعة. و {ليْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} كما وصف نفسه سميع بصير بلا حد ولا تقدير.

قلتُ لأبي عبد الله: والمشبّهة ما يقولون؟ قال: بصر كبصري، ويد كيدي، وقدم كقدمي، فقد شبه الله بخلقه وهذا كلام سوء".
১৭ - ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (মৃত্যু: ২৪১)-এর বক্তব্য:

ইমাম আহমাদ ইবনে বাত্তাহর 'আল-ইবানাহ আল-কুবরা' (৭/১১১) এবং আল-আসবাহানির 'আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ' (১/৪৭৩)-তে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ তায়ালা হাসেন এবং রাসূলের সত্যায়ন ও কুরআনের প্রমাণের মাধ্যমেই শুধু আমরা তা জানি, এর ধরন আমাদের জানা নেই। আহমাদ খবরের প্রকাশ্য অর্থের ওপর অটল থাকার বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন, কোনো সাদৃশ্য প্রদান বা ব্যাখ্যা ছাড়াই।"

ইবনে বাত্তাহর 'আল-ইবানাহ আল-কুবরা' (৭/৩২৬)-তে হাম্বলের বর্ণনায় তিনি আরও বলেছেন: "আমরা কুরআন ও হাদিস অতিক্রম করব না। তাই তিনি যা বলেছেন আমরা তাই বলব এবং তিনি নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন আমরাও তাঁকে সেভাবেই বর্ণনা করব। আমরা একে অতিক্রম করব না। আমরা সমগ্র কুরআনের প্রতি ঈমান রাখি—এর সুস্পষ্ট এবং রূপক উভয় অংশের ওপর। তাঁর মহিমা সমুন্নত—আমরা তাঁর কোনো গুণাবলিকেই কোনো নিন্দুকের নিন্দার কারণে অপসারিত করি না। তিনি নিজেকে কথা বলা, অবতরণ করা এবং কিয়ামতের দিন তাঁর বান্দার সাথে একান্তে মিলিত হওয়া ও তাঁর আবরণ তার ওপর রাখা যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা আমরা অপসারিত করি না, ... এবং তিনি বলেছেন: {অতঃপর তিনি আরশের ওপর উঠেছেন} যেভাবে তিনি চেয়েছেন। ইচ্ছা ও সামর্থ্য তাঁরই। আর {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই}, তিনি নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা, কোনো সীমা বা পরিমাপ ছাড়াই।

আমি আবু আব্দুল্লাহকে বললাম: সাদৃশ্যবাদীরা কী বলে? তিনি বললেন: "আমার দেখার মতো দেখা, আমার হাতের মতো হাত, আমার পায়ের মতো পা—এভাবেই তারা আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করে। আর এটি একটি মন্দ কথা।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌18 - قول الإمام الحارث بن أسد المحاسبي (المتوفى: 243):

قال الحارث المحاسبي في كتابه فهم القرآن (ص: 349 - 352): "وأما قوله: {عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى}، {وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ} و {أأمِنْتم مَنْ في السّماءِ} فهذا مقطع يوجب أنه فوق العرش فوق الأشياء، منزه عن الدخول في خلقه، لا يخفى عليه منهم خافية، لأنه أبان في هذه الآيات أن ذاته بنفسه فوق عباده لأنه قال: {أأمِنْتم مَنْ في السّماءِ أنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ} يعني: فوق العرش، والعرش على السماء، لأن من كان فوق شيء على السماء فهو في السماء …

ثم استأنف التخويف بالخسف إلا أنه على العرش فوق السماء وقال {{يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ في يَومٍ} الآية، وقال: {تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ} فبين عروج الأمر وعروج الملائكة ثم وصف صعودها بالارتفاع صاعدة إليه فقال: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطِّيبُ}، وقال: {ثُمَّ يَعْرُجُ إِلَيْهِ} ثم قال {فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ} مقدار صعودها، وفصله من قوله: {إليه} كقول القائل: صعدت إلى فلان في يوم أو في ليلة، وإن صعودك إليه في يوم، فإذا صعدوا إلى العرش فقد صعدوا إلى الله جل وعز وإن كانوا لم يروه ولم يساووه في الارتفاع في علوه، فإنهم قد صعدوا من الأرض وعرجوا بالأمر إلى العلو الذي الله عز وجل فوقه … وقال عن فرعون {لَّعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَى إِلَهِ مُوسَى}، ثم استأنف فقال: {وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِباً} فيما قال لي إنه في السماء، فطلبه حيث قال له موسى، مع الظن منه بموسى عليه السلام أنه كاذب".
১৮ - ইমাম আল-হারিস বিন আসাদ আল-মুহাসিবীর (মৃত্যু: ২৪৩) উক্তি:

হারিস আল-মুহাসিবী তাঁর কিতাব 'ফাহমুল কুরআন'-এ (পৃ: ৩৪৯ - ৩৫২) বলেন: "আর তাঁর বাণী: {আরশের উপর উঠেছেন}, {এবং তিনি তাঁর বান্দাদের উপর পরাক্রমশালী} এবং {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গিয়েছ তাঁর থেকে যিনি আসমানে আছেন}—এই অংশটি অবধারিত করে যে, তিনি আরশের উপরে, সকল কিছুর উপরে; তিনি তাঁর সৃষ্টির ভেতরে প্রবেশ করা থেকে পবিত্র, তাদের কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর কাছে অগোচর নয়। কারণ তিনি এই আয়াতগুলোতে স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর সত্তা স্বয়ং তাঁর বান্দাদের উপরে। যেহেতু তিনি বলেছেন: {তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গিয়েছ তাঁর থেকে যিনি আসমানে আছেন যে তিনি তোমাদেরকে জমিনে ধসিয়ে দেবেন} অর্থাৎ: আরশের উপর, আর আরশ আসমানের উপরে। কারণ যে ব্যক্তি আসমানের উপরের কোনো কিছুর উপরে থাকে, সে আসমানেই (হিসেবে গণ্য হয়) ...

অতঃপর তিনি ভূমিধসের ভয় প্রদর্শনের বিষয়টি পুনরায় শুরু করেন, তবে তিনি আসমানের উপরে আরশের উপরে রয়েছেন। তিনি বলেছেন: {তিনি আকাশ থেকে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত বিষয় পরিচালনা করেন, অতঃপর তা একদিন তাঁর দিকেই উঠে যায়}—আয়াতটি, এবং তিনি বলেছেন: {ফেরেশতাগণ এবং রূহ তাঁর দিকেই আরোহণ করে}। ফলে তিনি নির্দেশের আরোহণ এবং ফেরেশতাদের আরোহণ স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর তিনি তাদের ঊর্ধ্বে আরোহণকে তাঁর দিকে আরোহণের উচ্চতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন: {তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে}, এবং বলেছেন: {অতঃপর তাঁর দিকেই আরোহণ করে}। এরপর তিনি বলেছেন: {এমন একদিনে যার পরিমাণ ছিল}—অর্থাৎ তাদের আরোহণের পরিমাণ। তিনি একে তাঁর এই কথা 'তাঁর দিকে' থেকে পৃথক করেছেন, যেমন কোনো বক্তার কথা: আমি অমুকের কাছে একদিনে বা এক রাতে আরোহণ করেছি, এবং তোমার আরোহণ তার কাছে একদিনে হয়েছে। সুতরাং যখন তারা আরশের দিকে আরোহণ করে, তখন তারা মহান আল্লাহর দিকেই আরোহণ করে, যদিও তারা তাঁকে দেখেনি এবং উচ্চতায় তাঁর সমকক্ষ হয়নি। তারা মূলত জমিন থেকে আরোহণ করেছে এবং নির্দেশ নিয়ে সেই উচ্চতার দিকে আরোহণ করেছে যার উপরে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা রয়েছেন ... এবং তিনি ফিরআউন সম্পর্কে বলেছেন: {যাতে আমি পৌঁছাতে পারি অবলম্বনসমূহে—আসমানসমূহের অবলম্বনসমূহে—অতঃপর উঁকি দিয়ে দেখতে পারি মূসার ইলাহকে}। এরপর সে পুনরায় বলেছে: {আর আমি অবশ্যই তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি}—মূসা আমাকে যা বলেছে যে তিনি আসমানে আছেন সে বিষয়ে। ফলে সে তাঁকে সেখানেই খুঁজেছে যেখানে মূসা তাকে বলেছিলেন, যদিও মূসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে সে এই ধারণা পোষণ করেছিল যে তিনি মিথ্যাবাদী।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌19 - قول الإمام محمد بن إسماعيل البخاري (المتوفى: 256):

قال الإمام البخاري في خلق أفعال العباد للبخاري (ص: 98): "ويذكر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه كان يحب أن يكون الرجل خفيض الصوت، ويكره أن يكون رفيع الصوت، وإن الله عز وجل ينادي بصوت يسمعه من بعُد كما يسمعه من قرب، فليس هذا لغير الله عز وجل ذكره.

قال أبو عبد الله: وفي هذا دليل أن صوت الله لا يشبه أصوات الخلق، لأن صوت الله جل ذكره يسمع من بعد كما يسمع من قرب، وأن الملائكة يصعقون من صوته، فإذا تنادى الملائكة لم يصعقوا، وقال عز وجل: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلّهِ أَندَاداً} فليس لصفة الله ند، ولا مثل، ولا يوجد شيء من صفاته في المخلوقين "

وقال أيضًا في خلق أفعال العباد للبخاري (ص: 53): "ومن الدليل على أن الله يتكلم كيف شاء … ".
১৯ - ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারীর (মৃত্যু: ২৫৬) উক্তি:

ইমাম বুখারী তাঁর ‘খালাকু আফআলিল ইবাদ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৯৮) বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মানুষের কণ্ঠস্বর নিচু হওয়া পছন্দ করতেন এবং কণ্ঠস্বর উচ্চ হওয়া অপছন্দ করতেন। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এমন শব্দে ডাক দেন যা দূর থেকে তেমন শোনা যায় যেমন কাছ থেকে শোনা যায়। এটি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ব্যতীত আর কারো জন্য নয়।

আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেন: এর মধ্যে দলিল রয়েছে যে আল্লাহর শব্দ সৃষ্টির শব্দের সদৃশ নয়, কারণ আল্লাহর শব্দ দূর থেকে তেমন শোনা যায় যেমন কাছ থেকে শোনা যায়, এবং ফেরেশতারা তাঁর শব্দ শুনে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। অথচ ফেরেশতারা যখন পরস্পরকে ডাকেন তখন তারা সংজ্ঞাহীন হন না। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য সমকক্ষ স্থির করো না}। সুতরাং আল্লাহর সিফাতের (গুণাবলির) কোনো সমকক্ষ নেই, কোনো সদৃশ নেই এবং তাঁর কোনো সিফাতই সৃষ্টিজীবের মধ্যে বিদ্যমান নেই।"

তিনি ‘খালাকু আফআলিল ইবাদ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৫৩) আরও বলেছেন: "আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা কথা বলেন তার প্রমাণাদির অন্তর্ভুক্ত হলো ..."।
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌20 - قول يحيى بن إبراهيم بن مزين (المتوفى: 259):

قال يحيى بن إبرهيم بن مزين كما في التمهيد للحافظ ابن عبد البر (7/ 151 - 152): "والنجاة في هذا الانتهاء إلى ما قال الله عز وجل، ووصف به نفسه بوجه ويدين وبسط واستواء وكلام، فقال: {فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللّهِ} وقال: {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} وقال: {وَالْأَرْضُ جَمِيعاً قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّماوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ} وقال: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} فليقل قائل بما قال الله ولينته إليه ولا يعدوه ولا يفسره ولا يقل كيف، فإن في ذلك الهلاك لأن الله كلف عبيده الإيمان بالتنزيل ولم يكلفهم الخوض في التأويل الذي لا يعلمه غيره".
২০ - ইয়াহইয়া ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুজাইন (মৃত্যু: ২৫৯ হিজরি)-এর বক্তব্য:

হাফেজ ইবনে আবদিল বার-এর আত-তামহিদ (৭/ ১৫১ - ১৫২) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মুজাইন বলেছেন: "আর এ বিষয়ে মুক্তি নিহিত রয়েছে মহান আল্লাহ যা বলেছেন এবং তিনি নিজেকে যেভাবে চেহারা, দুই হাত, প্রসারিত করা, উঠা ও কথা বলার মাধ্যমে বিশেষিত করেছেন, সে পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকার মাঝে। তিনি বলেছেন: {সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেখানেই আল্লাহর চেহারা বিদ্যমান।} তিনি বলেছেন: {বরং তাঁর দুই হাত প্রসারিত।} তিনি বলেছেন: {আর কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তাঁর আল্লাহর হাতের মুষ্টিতে এবং আসমানসমূহ তাঁর আল্লাহর ডান হাতে ভাঁজ করা থাকবে।} তিনি বলেছেন: {দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন।} সুতরাং কোনো বক্তার উচিত আল্লাহ যা বলেছেন তা-ই বলা এবং সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকা, একে অতিক্রম না করা, এর ব্যাখ্যা না করা এবং এটি 'কীভাবে' তা না বলা। কারণ এতেই ধ্বংস নিহিত। কেননা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা ফরজ করেছেন, কিন্তু তাদেরকে এমন ব্যাখ্যার গভীরে প্রবেশ করার দায়িত্ব দেননি যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌21 - قول الإمام أبي محمد ابن قتيبة الدينوري (المتوفى: 276):

قال ابن قتيبة في كتابه الاختلاف في اللفظ والرد على الجهمية (ص: 44): "الواجب علينا أن ننتهي في صفات الله حيث انتهى في صفته أو حيث انتهى رسوله صلى الله عليه وسلم، ولا نُزيل اللفظ عما تعرفه العرب وتضعه عليه، ونمسك عما سوى ذلك".

وقال أيضًا (ص: 41 - 42): "فإن قال لنا: ما اليدان ههنا؟ قلنا: هما اليدان اللتان تعرف الناس. كذلك قال ابن عباس في هذه الآية: (اليدان اليدان). وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «كلتا يديه يمين»، فهل يجوز لأحد أن يجعل اليدين ههنا نعمة أو نعمتين وقال: {لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} فنحن نقول كما قال الله تعالى وكما قال رسوله، ولا نتجاهل، ولا يحملنا ما نحن فيه من نفي التشبيه على أن ننكر ما وصف به نفسه، ولكنا لا نقول: كيف اليدان، وإن سئلنا نقتصر على جملة ما قال ونمسك عما لم يقل".

وقال أيضًا (ص: 53): "وعدْل القول في هذه الأخبار أن نؤمن بما صح منها بنقل الثقات لها، فنؤمن بالرؤية والتجلي، وإنه يعجب، وينزل إلى السماء الدنيا، وأنه على العرش استوى، وبالنفس واليدين من غير أن نقول في ذلك بكيفية أو بحد أو أن نقيس على ما جاء ما لم يأت".

وقال أيضًا في تأويل مختلف الحديث (ص: 322): "والذي عندي -والله تعالى أعلم- أن الصورة ليست بأعجب من اليدين، والأصابع، والعين، وإنما وقع الإلف لتلك لمجيئها في القرآن، ووقعت الوحشة من هذه لأنها لم تأت في القرآن، ونحن نؤمن بالجميع، ولا نقول في شيء منه بكيفية ولا حد".
২১ - ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনে কুতাইবা আদ-দিনাওয়ারীর (মৃত্যু: ২৭৬ হিজরী) উক্তি:

ইবনে কুতাইবা তাঁর ‘আল-ইখতিলাফ ফিল লাফজি ওয়ার-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা: ৪৪) গ্রন্থে বলেছেন: "আমাদের জন্য ওয়াজিব হলো আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে সেখানেই থেমে যাওয়া যেখানে তিনি নিজের গুণ বর্ণনায় থেমেছেন অথবা যেখানে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেমেছেন। আর আরবরা (শব্দ থেকে) যা বোঝে এবং শব্দটিকে যে অর্থে প্রয়োগ করে, আমরা শব্দটিকে সেই অর্থ থেকে বিচ্যুত করব না এবং এর বাইরে অন্য কিছু থেকে বিরত থাকব।"

তিনি আরও বলেছেন (পৃষ্ঠা: ৪১ - ৪২): "যদি কেউ আমাদের জিজ্ঞাসা করে: এখানে ‘দুই হাত’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? আমরা বলব: তা হচ্ছে সেই দুই হাত যা মানুষ চেনে। ইবনে আব্বাস এই আয়াতের ক্ষেত্রে এভাবেই বলেছেন: (দুই হাত মানে দুই হাত)। এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তাঁর উভয় হাতই ডান», সুতরাং কারো জন্য কি বৈধ হবে এখানে ‘দুই হাত’-কে একটি নিয়ামত বা দুটি নিয়ামত হিসেবে ব্যাখ্যা করা? অথচ আল্লাহ বলেছেন: {যাকে আমি আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি}। অতএব আল্লাহ যা বলেছেন এবং তাঁর রাসূল যা বলেছেন, আমরা তাই বলব। আমরা অজ্ঞতা প্রকাশ করব না। আর আমরা যে সাদৃশ্য অস্বীকার (নাফি আত-তাশবিহ) করার অবস্থানে আছি, তা যেন আমাদের এমন পথে পরিচালিত না করে যাতে আল্লাহ নিজের যে গুণ বর্ণনা করেছেন তা আমরা অস্বীকার করে বসি। তবে আমরা বলব না: হাত দুটি কেমন, আর যদি আমাদের জিজ্ঞাসা করা হয় তবে তিনি যা বলেছেন তার মধ্যেই আমরা সীমাবদ্ধ থাকব এবং যা তিনি বলেননি তা থেকে বিরত থাকব।"

তিনি আরও বলেছেন (পৃষ্ঠা: ৫৩): "এইসব সংবাদের ক্ষেত্রে সঠিক বক্তব্য হলো—নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে এর যা কিছু সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে তার ওপর ঈমান আনা। সুতরাং আমরা (আখেরাতে আল্লাহর) দর্শন ও জ্যোতির প্রকাশে ঈমান আনি, এবং বিশ্বাস করি যে তিনি আশ্চর্যান্বিত হন, দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন, তিনি আরশের ওপর উঠেছেন এবং তাঁর সত্তা (নফস) ও হাত দুটির ওপর ঈমান আনি; তবে এসবের ক্ষেত্রে কোনো ধরণ বা সীমা নির্ধারণ করব না এবং যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে এমন কিছু অনুমান করব না যা বর্ণিত হয়নি।"

তিনি ‘তাউইলু মুখতালিফিল হাদিস’ (পৃষ্ঠা: ৩২২) গ্রন্থে আরও বলেছেন: "আমার কাছে যা প্রতিভাত হয়—আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—তাহলো আল্লাহর আকৃতি (সুরাত) বিষয়টি আল্লাহর হাত, আঙুল এবং চোখের চেয়ে অধিক আশ্চর্যজনক কিছু নয়। মূলত কুরআনুল কারীমে আসার কারণে হাত, আঙুল এবং চোখের বর্ণনার সাথে মানুষ পরিচিত হয়েছে; আর আকৃতির বিষয়টি কুরআনে না আসার কারণে তা মানুষের কাছে ভীতিপ্রদ মনে হয়েছে। আমরা এ সবকিছুর ওপর ঈমান আনি এবং এগুলোর কোনোটির ক্ষেত্রেই ধরণ বা সীমা নির্ধারণ করি না।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌22 - قول الإمام محمد بن عيسى الترمذي (المتوفى: 279):

قال أبو عيسى الترمذي في سننه (4/ 692): "وهذا الذي اختاره أهل الحديث أن يرووا هذه الأشياء كما جاءت ويؤمن بها ولا تفسر ولا تتوهم ولا يقال: كيف، وهذا أمر أهل العلم الذي اختاروه وذهبوا إليه. ومعنى قوله في الحديث: «فيعرِّفهم نفسه» يعني يتجلى لهم ".

وقال أيضًا (3/ 42): "وقد ذكر الله عز وجل في غير موضع من كتابه اليد والسمع والبصر، فتأولت الجهمية هذه الآيات ففسَّروها على غير ما فسَّر أهل العلم(1)، وقالوا: إن الله لم يخلق آدم بيده، وقالوا: إن معنى اليد هاهنا القوة".

وقال أيضًا (3/ 41) عند حديث «إن الله يقبل الصدقة ويأخذها بيمينه فيربيها لأحدكم كما يربي أحدكم مهره»: "وقد قال غير واحد من أهل العلم في هذا الحديث وما يشبه هذا من الروايات من الصفات ونزول الرب تبارك وتعالى كل ليلة إلى السماء الدنيا، قالوا: قد تثبت الروايات في هذا ويؤمن بها ولا يتوهم ولا يقال: كيف. هكذا روي عن مالك، وسفيان بن عيينة، وعبد الله بن المبارك أنهم قالوا في هذه الأحاديث: أمرّوها بلا كيف(2)،

وهكذا قول أهل العلم من أهل السنة والجماعة".

--------------------------------------------

(1) قول الترمذي هذا يدل على أن لها تفسيرا عند أهل العلم مغايرا لتفسير الجهمية، وقرن بين اليد والسمع والبصر، مع كون صفتي السمع والبصر معناهما معلوم.

(2) الكيف المنفي في كلام السلف المراد به التكييف، فقولهم "بلا كيف" أي: بلا تكييف لصفات الله تعالى.

وقول الترمذي هنا يوكِّد ذلك حيث فسّر قول السلف: "أمرّوها كما جاءت بلا كيف" بقولهم: "ولا يقال: كيف".

ويبين ذلك أيضًا قول الحافظ ابن عبد البر في التمهيد (7/ 152): "وقول رسول الله صلى الله عليه وسلم «ينزل ربنا إلى السماء الدنيا» عندهم [أي: الصحابة] مثل قول الله عز وجل {فَلَمَّا تَجَلَّى رَبُّهُ لِلْجَبَلِ} ومثل قوله {وَجَاء رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفّاً صَفّاً} كلهم يقول: ينزل ويتجلى ويجيء بلا كيف، لا يقولون: كيف يجيء، وكيف يتجلى، وكيف ينزل".

ويؤكِّد ما قلناه أنّ نفي الكيف جاء في بعض عبارات السلف أثناء الكلام على رؤية الله تعالى، مع كون معنى الرؤية واضحا، وأن المؤمنين يرون ربهم عيانا.

ومن ذلك ما أخرجه الدارقطني في الصفات (ص: 44) عن الوليد بن مسلم قال: سألتُ الأوزاعي ومالك بن أنس وسفيان الثوري والليث بن سعد عن هذه الأحاديث التي فيها الرؤية وغير ذلك؟ فقالوا: أمْضِها بلا كيف"، وفي شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة لللالكائي (3/ 558) أنهم قالوا: "أمرّوها بلا كيف".

وجاء أيضًا التعبير بنفي الكيف فيما هو معلوم المعنى قطعًا، وهو الافتنان في القبر، ومن ذلك قول ابن أبي زَمَنِين المالكي (ت 399) في أصول السنة (ص: 150): "وأهل السنة يؤمنون بأنّ هذه الأمة تُفتن في قبورها، وتُسأل عن النبي صلى الله عليه وسلم كيف شاء الله، ويصدِّقون بذلك بلا كيف".

وافتنانُ هذه الأمة في قبورها، وسؤالها عن ربها ودينها ونبيها معلوم قطعًا، ولم يقل أحد بتفويض المعنى في ذلك، وإنما الذي يُفوَّض كيفية ذلك.

فكل هذا يدل على أنّ السلف يُطلِقون نفي الكيف في صفات الله ومرادهم نفي التكييف لصفاته تعالى، فقولهم: "أمرّوها كما جاءت بلا كيف" أي: بلا تكييف.
22 - ইমাম মুহাম্মদ বিন ঈসা আত-তিরমিযী (মৃত্যু: ২৭৯)-এর উক্তি:

আবু ঈসা আত-তিরমিযী তাঁর সুনানে (৪/ ৬৯২) বলেন: "মুহাদ্দিসগণ এটিই পছন্দ করেছেন যে, তাঁরা এই বিষয়গুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই বর্ণনা করবেন এবং এগুলোতে বিশ্বাস করবেন। এগুলো ব্যাখ্যা করা হবে না, কল্পনা করা হবে না এবং বলা হবে না যে: 'কেমন'। এটিই আলেমদের কর্মপন্থা যা তাঁরা পছন্দ করেছেন এবং যার দিকে তাঁরা ধাবিত হয়েছেন। আর হাদিসে তাঁর উক্তি: 'অতঃপর তিনি তাদের নিকট নিজের পরিচয় দেবেন'-এর অর্থ হলো তিনি তাদের নিকট প্রকাশিত হবেন।"

তিনি আরও বলেন (৩/ ৪২): "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর কিতাবের একাধিক স্থানে আল্লাহর হাত, শ্রবণ ও দর্শনের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর জাহমিয়্যারা এই আয়াতগুলোর অপব্যাখ্যা করেছে এবং আলেমগণ যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তার বাইরে ভিন্নভাবে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। তারা বলেছে যে, আল্লাহ আদমকে আল্লাহর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেননি এবং তারা বলেছে যে, এখানে হাত অর্থ হলো শক্তি।"

তিনি আরও বলেন (৩/ ৪১) এই হাদিসের আলোচনায়—'নিশ্চয়ই আল্লাহ সদকা কবুল করেন এবং তা নিজের ডান হাত দিয়ে গ্রহণ করেন, অতঃপর তোমাদের কারো জন্য তা লালন-পালন করেন যেভাবে তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন-পালন করে': "এই হাদিস এবং গুণাবলি সংক্রান্ত অনুরূপ বর্ণনাগুলো এবং প্রতি রাতে মহান রবের দুনিয়ার আসমানে অবতরণ সম্পর্কে একাধিক আলেম বলেছেন: 'এই বর্ণনাগুলো সাব্যস্ত হয়েছে, এগুলোতে বিশ্বাস করা হবে, কোনো কল্পনা করা হবে না এবং বলা হবে না যে: কেমন'। মালিক, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা এবং আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা এই হাদিসগুলোর ব্যাপারে বলেছেন: এগুলোকে কোনো 'কাইফ' (ধরন নির্ধারণ) ছাড়াই অতিবাহিত করো।

আর এটিই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আলেমদের বক্তব্য।"

--------------------------------------------

(১) তিরমিযীর এই উক্তি প্রমাণ করে যে, আলেমদের নিকট এগুলোর এমন এক ব্যাখ্যা রয়েছে যা জাহমিয়াদের ব্যাখ্যার বিপরীত। তিনি আল্লাহর হাত, শ্রবণ ও দর্শনকে একত্রে উল্লেখ করেছেন, অথচ শ্রবণ ও দর্শন গুণ দুটির অর্থ সুপরিজ্ঞাত।

(২) সালাফদের বক্তব্যে যে 'কাইফ' (ধরন) অস্বীকার করা হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো ধরন নির্ধারণ করা (তাকিয়িফ)। সুতরাং তাঁদের কথা "কাইফ ছাড়া" অর্থ হলো: মহান আল্লাহর গুণাবলির কোনো ধরন নির্ধারণ করা ছাড়া।

তিরমিযীর বক্তব্য এখানে সেটিকে সুদৃঢ় করে, যেখানে তিনি সালাফদের উক্তি: "এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই কাইফ ছাড়া অতিবাহিত করো"-এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁদের এই কথা দ্বারা: "এবং বলা হবে না যে: কেমন"।

হাফেয ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহিদ' (৭/ ১৫২)-এ এটি আরও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উক্তি 'আমাদের রব দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন' তাদের [অর্থাৎ: সাহাবীদের] নিকট মহান আল্লাহর বাণী {যখন তার রব পাহাড়ের নিকট প্রকাশিত হলেন} এবং তাঁর বাণী {এবং তোমার রব ও সারিবদ্ধভাবে ফেরেশতারা আসলেন}-এর মতোই। তাঁরা সবাই বলেন: তিনি অবতরণ করেন, প্রকাশিত হন এবং আসেন কোনো কাইফ (ধরন) ছাড়াই। তাঁরা বলেন না যে: কীভাবে আসেন, কীভাবে প্রকাশিত হন এবং কীভাবে অবতরণ করেন।"

আমরা যা বলেছি সেটিকে এটিও সুদৃঢ় করে যে, আল্লাহর দিদার (দর্শন) সংক্রান্ত আলোচনার সময় সালাফদের কোনো কোনো উক্তিতে কাইফ অস্বীকার করা হয়েছে, অথচ দর্শনের অর্থ সুস্পষ্ট এবং মুমিনরা তাদের রবকে চাক্ষুষ দেখবেন।

এর মধ্যে রয়েছে যা আদ-দারাকুতনী 'আস-সিফাত' (পৃ: ৪৪)-এ ওয়ালীদ বিন মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আওযাঈ, মালিক বিন আনাস, সুফিয়ান সাওরী এবং লাইস বিন সাদকে সেই হাদিসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যাতে দর্শন এবং অন্যান্য বিষয় রয়েছে? তাঁরা বললেন: এগুলোকে কোনো কাইফ ছাড়া চলতে দাও।" এবং লালকায়ী-র 'শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ' (৩/ ৫৫৮)-তে বর্ণিত হয়েছে যে তাঁরা বলেছেন: "এগুলোকে কোনো কাইফ ছাড়া অতিবাহিত করো।"

এমনকি যার অর্থ নিশ্চিতভাবে সুপরিজ্ঞাত সেই কবরের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ধরন বা কাইফ অস্বীকারের অভিব্যক্তি এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইবনে আবী যামানীন আল-মালিকী (মৃত্যু: ৩৯৯)-এর উক্তি 'উসূলুস সুন্নাহ' (পৃ: ১৫০)-এ: "আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করে যে, এই উম্মত তাদের কবরে পরীক্ষিত হবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে যেভাবে আল্লাহ চান, এবং তারা কোনো কাইফ ছাড়াই তা বিশ্বাস করে।"

এই উম্মতের কবরে পরীক্ষিত হওয়া এবং তাদের রব, দ্বীন ও নবী সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়া নিশ্চিতভাবে জানা বিষয়, আর এ ক্ষেত্রে অর্থের 'তাফবীয' (আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা) করার কথা কেউ বলেনি, বরং যা সোপর্দ করা হয় তা হলো এর ধরন বা প্রক্রিয়া।

সুতরাং এ সবই প্রমাণ করে যে, সালাফগণ আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে কাইফ বা ধরন অস্বীকার করেছেন এবং তাদের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর গুণাবলির তাকিয়িফ (ধরন নির্ধারণ) অস্বীকার করা। ফলে তাঁদের উক্তি: "এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবেই কাইফ ছাড়া অতিবাহিত করো" এর অর্থ হলো: কোনো ধরন নির্ধারণ ছাড়া।
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌23 - قول الإمام حرب الكرماني (المتوفى: 280):

قال حرب الكرماني كما في مسائل حرب (3/ 967، 974): "هذا مذهب أئمة العلم وأصحاب الأثر وأهل السنة المعروفين بها المقتدى بهم فيها، وأدركت من أدركت من علماء أهل العراق والحجاز والشام وغيرهم عليها، من خالف شيئا من هذه المذاهب أو طعن فيها أو عاب قائلها فهو مبتدع خارج عن الجماعة زائل عن منهج السنة وسبيل الحق، وهو مذهب أحمد وإسحق بن إبراهيم بن مخلد وعبد الله بن الزبير الحميدي وسعيد بن منصور وغيرهم ممن جالسنا وأخذنا عنهم العلم …

والله تعالى سميع لا يشك، بصير لا يرتاب، عليم لا يجهل … ويفرح ويحب ويكره ويبغض ويرضى ويسخط ويغضب ويرحم ويعفو ويغفر ويعطي ويمنع وينزل كل ليلة الى السماء الدنيا كيف شاء وكما شاء، ليس كمثله شيء وهو السميع البصير".
২৩ - ইমাম হারব আল-কিরমানীর (মৃত্যু: ২৮০ হি.) বক্তব্য:

হারব আল-কিরমানী 'মাসায়িল হারব' (৩/ ৯৬৭, ৯৭৪)-এ যেমনটি বলেছেন: "এটি ইলমের ইমামগণ, আসহাবে আসার (আসারপন্থী আলেম) এবং আহলুস সুন্নাহর মাযহাব, যারা এর মাধ্যমেই সুপরিচিত এবং যাদেরকে এক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়। আমি ইরাক, হিজাজ, শাম এবং অন্যান্য অঞ্চলের যেসকল আলেমদের সান্নিধ্য পেয়েছি তাদেরকে এই মতাদর্শের ওপরই অবিচল পেয়েছি। যে ব্যক্তি এই মাযহাবসমূহের কোনো কিছুর বিরোধিতা করবে কিংবা এতে কোনো দোষারোপ করবে অথবা এর প্রবক্তার নিন্দা করবে, সে একজন বিদআতী, জামাআত থেকে বহিষ্কৃত এবং সুন্নাহর মানহাজ ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত। আর এটিই হচ্ছে আহমাদ, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে মাখলাদ, আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের আল-হুমাইদী, সাঈদ ইবনে মানসুর এবং অন্যান্যদের মাযহাব, যাদের সাথে আমরা বসেছি এবং যাদের নিকট থেকে আমরা ইলম অর্জন করেছি …

আর আল্লাহ তাআলা শ্রবণকারী, যাতে কোনো সংশয় নেই; তিনি দর্শনকারী, যাতে কোনো দ্বিধা নেই; তিনি মহাজ্ঞানী, যিনি অজ্ঞ নন … এবং তিনি আনন্দিত হন, ভালোবাসেন, অপছন্দ করেন, ঘৃণা করেন, সন্তুষ্ট হন, অসন্তুষ্ট হন, রাগান্বিত হন, দয়া করেন, মার্জনা করেন, ক্ষমা করেন, দান করেন এবং প্রতিহত করেন। তিনি প্রতি রাতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন যেভাবে তিনি চান এবং যেভাবে তাঁর ইচ্ছা, তাঁর সদৃশ কোনো কিছু নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌24 - قول الإمام عثمان بن سعيد الدارمي (المتوفى: 280)(1):

قال عثمان بن سعيد الدارمي في الرد على الجهمية (ص: 67) بعد ذكره لقول مالك السابق: "وصدق مالك، لا يعقل منه كيف، ولا يجهل منه الاستواء، والقرآن ينطق ببعض ذلك في غير آية".

وقال أيضًا في النقض على المريسي (1/ 289 - 291): "فإذا قال: ضربني فلان بيده، وأعطاني الشيء بيده، وكتب لي بيده استحال أن يقال: ضربني بنعمته، وعلم كل عالم بالكلام أنها اليد التي بها يضرب وبها يكتب وبها يعطي لا النعمة …

ولا يجوز الكلام في آيات الصفات وأحاديث الإثبات لها ونفي المثلية عنها والإيمان بها إلا بما يعرف من اللغة العربية على سياق الكلام وملازمته. والله أعلم.

ولا يجوز لك أيها المريسي أن تنفي اليد التي هي اليد لما أنه وجد في فرط كلام العرب أن اليد قد تكون نعمة وقوة، ولكن هذا في سياق الكلام معقول، وذلك في سياق الكلام معقول، فلما قال الله

عز وجل: {لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} استحال فيهما كل معنى إلا اليدين كما قال العلماء الذين حكينا عنهم".

وقال أيضًا في النقض على المريسي (2/ 689): "لكنا نثبت له السمع والبصر والعين بلا تكييف، كما أثبته لنفسه فيما أنزل من كتابه، وأثبته له الرسول … وقد روينا روايات السمع والبصر والعين في صدر هذا الكتاب بأسانيدها وألفاظها عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فنقول كما قال، ونعني بها كما عنى، والتكييف عنا مرفوع".

وقال أيضًا في الرد على الجهمية (ص: 94 - 95): "قال: فقال قائل منهم: معنى إتيانه في ظلل من الغمام ومجيئه والملك صفا صفا كمعنى كذا وكذا.

قلت: هذا التكذيب بالآية صراحا، تلك معناها بيّن للأمة، لا اختلاف بيننا وبينكم وبين المسلمين في معناها المفهوم المعقول عند جميع المسلمين.

فأما مجيئه يوم القيامة وإتيانه في ظلل من الغمام والملائكة فلا اختلاف بين الأمة أنه إنما يأتيهم يومئذ كذلك لمحاسبتهم وليصدع بين خلقه ويقررهم بأعمالهم ويجزيهم بها، ولينصف المظلوم منهم من الظالم، لا يتولى ذلك أحد غيره تبارك اسمه وتعالى جده، فمن لم يؤمن بذلك لم يؤمن بيوم الحساب".

وقال أيضًا في النقض على المريسي (2/ 751): "فيقال لهذا المعارض: نراك قد كثرت لجاجتك في ردّ هذا الحديث، إنكارا منك لوجه الله تعالى، إذ تجعل ما أخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم بلسان عربي مبين معقول في سياق اللفظ أنه وجه الله نفسه … فإن لم تتحول العربية عن معقولها إنه لوجه حقا كما أخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم".

وقال أيضًا في النقض على المريسي (1/ 343 - 344): "علم بما قصّ الله من الدليل، وبما حدّ لنزول الملائكة يومئذ أن هذا إتيان الله بنفسه يوم القيامة ليلي محاسبة حلقه بنفسه، لا يلي ذلك أحد غيره، وأن معناه مخالف لمعنى إتيان القواعد، لاختلاف القضيتين … وإنما يصرف كل معنى إلى المعنى الذي ينصرف إليه ويحتمله في سياق القول، …

والقرآن عربي مبين، تصرف معانيه إلى أشهر ما تعرفه العرب في لغاتها، وأعمها عندهم".

وقال أيضًا في النقض على المريسي (2/ 780): "ثم لم تأنف من هذا التأويل حتى ادعيت على قوم من أهل السنة أنهم يفسرون ضحك الله على ما يعقلون من أنفسهم، وهذا كذب تدعيه عليهم؛ لأنا لم نسمع أحدا منهم يشبه شيئا من أفعال الله تعالى بشيء من أفعال المخلوقين، ولكنا نقول: هو نفس الضحك، يضحك كما يشاء، وكما يليق به".

وقال أيضًا في الرد على الجهمية (ص: 93 - 94): "لم نكلّف معرفة كيفية نزوله في ديننا، ولا تعقله قلوبنا، وليس كمثله شيء من خلقه، فنشبه منه فعلا أو صفة بفعالهم وصفتهم، ولكن ينزل بقدرته ولطف ربوبيته كيف يشاء، فالكيف منه غير معقول، والإيمان بقول رسول الله في نزوله واجب، ولا يُسأل الرب عما يفعل كيف يفعل وهم يسألون، لأنه القادر على ما يشاء أن يفعله كيف يشاء، وإنما يقال لفعل المخلوق الضعيف الذي لا قدرة له إلا ما أقدره الله تعالى عليه كيف يصنع؟ وكيف قدر؟ ".

--------------------------------------------

(1) قال ابن حبان في الثقات (8/ 455): "عثمان بن سعيد الدارمي، أبو سعيد السجستاني، سكن هراة، أحد أئمة الدنيا".
‌‌২৪ - ইমাম উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি (মৃত্যু: ২৮০ হিজরি)-এর উক্তি(১):

উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি 'আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৬৭) ইমাম মালিকের পূর্বোক্ত উক্তিটি উল্লেখ করার পর বলেন: "মালিক সত্য বলেছেন, এর ধরণ উপলব্ধি করা যায় না, আর তাঁর (আল্লাহর) উঠে যাওয়ার বিষয়টি অজানা নয়। কুরআন একাধিক আয়াতে এর স্বপক্ষে কথা বলেছে।"

তিনি 'আন-নাকদু আলাল মারিসি' গ্রন্থে (১/ ২৮৯-২৯১) আরও বলেন: "যখন কেউ বলে: অমুক তার হাত দিয়ে আমাকে মেরেছে, তার হাত দিয়ে আমাকে বস্তুটি দিয়েছে, অথবা তার হাত দিয়ে আমার জন্য লিখেছে, তখন একে 'সে তার নেয়ামত দিয়ে মেরেছে' বলা অসম্ভব। ভাষার প্রতিটি জ্ঞানী ব্যক্তিই জানেন যে, এটি সেই হাত যা দিয়ে আঘাত করা হয়, লেখা হয় এবং প্রদান করা হয়, এটি কোনো নেয়ামত নয় …

সিফাত বা গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াত এবং সেই গুণাবলি সাব্যস্তকারী ও সাদৃশ্য অস্বীকারকারী হাদিসসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করা এবং সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা বৈধ নয়, যতক্ষণ না তা আরবি ভাষা থেকে পরিচিত বাক্যের ধারা ও প্রাসঙ্গিকতা অনুযায়ী হয়। আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।

হে মারিসি, তোমার জন্য সেই হাতকে অস্বীকার করা বৈধ নয় যা প্রকৃতপক্ষে হাত-ই, কেবল একারণে যে আরবি ভাষার কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাতের অর্থ নেয়ামত বা শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ এটি বাক্যের ধারা অনুযায়ী বোধগম্য হয় এবং অন্যটিও বাক্যের ধারা অনুযায়ী বোধগম্য। সুতরাং আল্লাহ যখন বললেন:

মহিমান্বিত ও মহান: {যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি}, তখন সেখানে 'দুই হাত' ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ গ্রহণ করা অসম্ভব, যেমনটি আমরা যাদের উদ্ধৃতি দিয়েছি সেই আলেমগণ বলেছেন।"

তিনি 'আন-নাকদু আলাল মারিসি' গ্রন্থে (২/ ৬৮৯) আরও বলেন: "তবে আমরা তাঁর জন্য শ্রবণ, দর্শন ও চোখ সাব্যস্ত করি কোনো ধরণ নির্ধারণ ছাড়াই, যেমনটি তিনি তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন এবং রসূল তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন … আমরা এই গ্রন্থের শুরুতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ, দর্শন ও চোখ সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো সনদ ও শব্দসহ বর্ণনা করেছি। সুতরাং তিনি যেভাবে বলেছেন আমরাও সেভাবেই বলি এবং তিনি যা উদ্দেশ্য করেছেন আমরাও তা-ই উদ্দেশ্য করি, আর ধরণ নির্ধারণের বিষয়টি আমাদের নিকট থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।"

তিনি 'আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৯৪-৯৫) আরও বলেন: "তিনি বলেন: তাদের মধ্যকার এক বক্তা বলেছে: মেঘের ছায়াতলে তাঁর (আল্লাহর) আগমন এবং ফেরেশতাদের সারিবদ্ধভাবে আসার অর্থ হলো এই এই...

আমি বললাম: এটি আয়াতের সরাসরি প্রত্যাখ্যান। উম্মতের কাছে এর অর্থ স্পষ্ট। সমস্ত মুসলিমের কাছে এর যে অর্থ বোধগম্য ও বুদ্ধিগম্য, সে বিষয়ে আমাদের, আপনাদের এবং মুসলিমদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

কিয়ামতের দিন মেঘের ছায়াতলে তাঁর এবং ফেরেশতাদের আসার ব্যাপারে উম্মতের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই যে, তিনি সেদিন তাদের হিসাব গ্রহণের জন্য এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে ফয়সালা করার জন্য, তাদের আমলসমূহ স্বীকার করানোর জন্য ও তার প্রতিদান দেওয়ার জন্য এবং জালিম থেকে মজলুমের অধিকার আদায়ের জন্য এভাবেই আসবেন। তাঁর বরকতময় নাম এবং মহান মর্যাদা ব্যতীত অন্য কেউ এই দায়িত্ব গ্রহণ করবে না। সুতরাং যে ব্যক্তি এতে বিশ্বাস করে না, সে বিচার দিবসে বিশ্বাস করে না।"

তিনি 'আন-নাকদু আলাল মারিসি' গ্রন্থে (২/ ৭৫১) আরও বলেন: "এই বিরোধিতাকারীকে বলা হবে: আমরা দেখছি যে এই হাদিসটি প্রত্যাখ্যান করার ক্ষেত্রে তোমার জেদ বেড়ে গেছে, যা মহান আল্লাহর চেহারাকে অস্বীকার করার নামান্তর। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট আরবি ভাষায় যা সংবাদ দিয়েছেন, তা শব্দের ধারাবাহিকতা থেকে এটিই বোধগম্য হয় যে তা স্বয়ং আল্লাহর চেহারা … যদি আরবি ভাষা তার প্রচলিত অর্থ থেকে পরিবর্তিত না হয়, তবে এটি প্রকৃতপক্ষে চেহারা, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন।"

তিনি 'আন-নাকদু আলাল মারিসি' গ্রন্থে (১/ ৩৪৩-৩৪৪) আরও বলেন: "আল্লাহ যে প্রমাণ বর্ণনা করেছেন এবং সেদিন ফেরেশতাদের অবতরণের যে সীমা নির্ধারণ করেছেন, তা থেকে এটি জানা যায় যে, এটি কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিজের আগমন, যাতে তিনি নিজেই তাঁর সৃষ্টির হিসাব গ্রহণ করেন। তিনি ছাড়া অন্য কেউ এই দায়িত্ব পালন করবে না। আর এর অর্থ ঘর বা ভিত্তির আগমনের অর্থের বিপরীত, কারণ এই দুই ক্ষেত্রের ঘটনা ভিন্ন … প্রতিটি অর্থকে সেই অর্থের দিকেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে যেদিকে বাক্যটি ধাবিত হয় এবং বাক্যের ধারাবাহিকতায় যা সম্ভব হয় …

আর কুরআন স্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ, এর অর্থসমূহকে আরবরা তাদের ভাষায় সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও সাধারণ যে অর্থে ব্যবহার করে, সেদিকেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে।"

তিনি 'আন-নাকদু আলাল মারিসি' গ্রন্থে (২/ ৭৮০) আরও বলেন: "অতঃপর তুমি এই অপব্যাখ্যায় ক্ষান্ত হওনি, বরং আহলুস সুন্নাহর একদল লোকের বিরুদ্ধে এই দাবি করেছ যে, তারা আল্লাহর হাসিকে তাদের নিজেদের বুঝ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করে। এটি তাদের ওপর তোমার একটি মিথ্যা অপবাদ। কারণ আমরা তাদের কাউকেও মহান আল্লাহর কোনো কাজকে সৃষ্টির কোনো কাজের সাথে তুলনা করতে শুনিনি। বরং আমরা বলি: এটি হাসি-ই, তিনি যেভাবে চান এবং যেভাবে তাঁর শানের সাথে মানানসই হয় সেভাবেই তিনি হাসেন।"

তিনি 'আর-রদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ৯৩-৯৪) আরও বলেন: "আমাদের দ্বীনে তাঁর (আল্লাহর) অবতরণের ধরণ জানার দায়িত্ব আমাদের দেওয়া হয়নি এবং আমাদের অন্তর তা উপলব্ধি করতে পারে না। তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয় যে, আমরা তাঁর কোনো কাজ বা গুণকে তাদের কাজ বা গুণের সাথে তুলনা করব। বরং তিনি তাঁর কুদরত ও রুবুবিয়াতের অনুগ্রহে যেভাবে ইচ্ছা অবতরণ করেন। তাঁর এই অবতরণের ধরণ বোধগম্য নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাঁর অবতরণ সংক্রান্ত বাণীর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব। আর রবকে জিজ্ঞাসা করা যাবে না তিনি যা করেন তা কীভাবে করেন, অথচ তাদেরকেই (সৃষ্টিকে) জিজ্ঞাসা করা হবে। কারণ তিনি যা ইচ্ছা তা যেভাবে ইচ্ছা করার ক্ষমতা রাখেন। মূলত সেই দুর্বল সৃষ্টির কাজের ক্ষেত্রেই বলা হয় 'কীভাবে করল?' বা 'কীভাবে সক্ষম হলো?', যার আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতা ছাড়া নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই।"

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিব্বান 'আত-সিকাত' গ্রন্থে (৮/ ৪৫৫) বলেন: "উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি, আবু সাঈদ আস-সিজিস্তানি, তিনি হেরাতে বসবাস করতেন, তিনি দুনিয়ার ইমামদের একজন।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌25 - قول الإمام الحسين بن الفضل البجلي (المتوفى: 282):

قال أبو عثمان الصابوني في عقيدة السلف أصحاب الحديث (ص: 185): "وسئل أبو علي الحسين بن الفضل البجلي عن الاستواء، وقيل له: كيف استوى على عرشه؟ فقال: أنا لا أعرف من أنباء الغيب إلا مقدار ما كُشِف لنا، وقد أعلمنا جل ذكره أنه استوى على عرشه، ولم يخبرنا كيف استوى".
২৫ - ইমাম হুসাইন ইবনুল ফজল আল-বাজালি (মৃত্যু: ২৮২)-এর বক্তব্য:

আবু উসমান আস-সাবুনী ‘আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা: ১৮৫) বলেন: "আবু আলী হুসাইন ইবনুল ফজল আল-বাজালিকে আরশের উপর উঠা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তাকে বলা হলো: তিনি কীভাবে তাঁর আরশের উপর উঠেছেন? তখন তিনি বললেন: গায়েবের সংবাদ থেকে আমাদের কাছে যতটুকু প্রকাশ করা হয়েছে, আমি তার অতিরিক্ত কিছু জানি না। মহান আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, কিন্তু তিনি কীভাবে উঠেছেন তা আমাদের জানাননি।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌26 - قول الحافظ أبي بكر بن أبي عاصم (المتوفى: 287):

قال ابن أبي عاصم في كتاب السنة (1/ 221): "وأخبار النزول دالة على أنه في السماء دون الأرض".

وقال أيضًا كما في كتاب العرش للحافظ الذهبي (2/ 350): "وجميع ما في كتابنا كتاب السنة الكبير الذي فيه الأبواب من الأخبار التي ذكرنا أنها توجب العلم، فنحن نؤمن بها لصحتها، وعدالة ناقليها، ويجب التسليم لها على ظاهرها، وترك تكلف الكلام في كيفيتها".
২৬ - হাফেজ আবু বকর ইবন আবি আসেম (মৃত্যু: ২৮৭)-এর বক্তব্য:

ইবন আবি আসেম 'কিতাবুস সুন্নাহ' (১/ ২২১)-এ বলেন: "অবতরণ (নুজুল) সংক্রান্ত হাদিসগুলো এই প্রমাণ বহন করে যে, তিনি আসমানে আছেন, যমীনে নন।"

হাফেজ যাহাবীর 'কিতাবুল আরশ' (২/ ৩৫০)-এ বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী তিনি আরও বলেন: "আমাদের গ্রন্থ 'কিতাবুস সুন্নাহ আল-কাবীর'-এর অধ্যায়গুলোতে বর্ণিত যেসব সংবাদ সম্পর্কে আমরা উল্লেখ করেছি যে সেগুলো নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, তার সবকিছুর ওপরই আমরা ঈমান রাখি। কারণ সেগুলো সহীহ এবং তার বর্ণনাকারীরা ন্যায়পরায়ণ। আর সেগুলোকে সেগুলোর প্রকাশ্য অর্থের ওপর মেনে নেওয়া এবং সেগুলোর ধরন (কাইফিয়াত) নিয়ে অনর্থক কথা বলা ত্যাগ করা আবশ্যক।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌27 - قول الإمام أبي العباس أحمد بن يحيى، المعروف بثعلب إمام الكوفيين في النحو واللغة

(المتوفى: 291):

قال أبو القاسم اللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة (3/ 399 - 400): "وجدت بخط أبي الحسن الدارقطني رحمه الله عن إسحاق الهادي، قال: سمعت أبا العباس ثعلبا يقول: "استوى: أقبل عليه وإن لم يكن معوجا {ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء} أقبل، و {اسْتَوَى على العَرْش} علا، واستوى وجهه اتصل، واستوى القمر امتلأ، واستوى زيد وعمرو تشابها واستوى فعلاهما وإن لم تتشابه شخوصهما، هذا الذي يعرف من كلام العرب".
২৭ - ইমাম আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া, যিনি ব্যাকরণ ও ভাষা বিজ্ঞানে কুফাবাসীদের ইমাম 'সা'লাব' নামে পরিচিত, তাঁর বক্তব্য

(মৃত্যু: ২৯১ হিজরি):

আবু আল-কাসিম আল-লালকায়ী 'শারহু উসুল ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ' (৩/ ৩৯৯ - ৪০০) গ্রন্থে বলেছেন: "আমি আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি (রহিমাহুল্লাহ)-এর হস্তলিপিতে ইসহাক আল-হাদি থেকে বর্ণিত পেয়েছি, তিনি বলেন: আমি আবুল আব্বাস সা'লাবকে বলতে শুনেছি: 'ইস্তিওয়া: কোনো কিছুর প্রতি মনোনিবেশ করা যদিও তা বক্র না হয়; {অতঃপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন} অর্থাৎ তিনি মনোনিবেশ করলেন, এবং {তিনি আরশের উপর উঠলেন} অর্থাৎ তিনি উচ্চ হলেন; আর মুখমণ্ডল ইস্তিওয়া হওয়া মানে মিলিত হওয়া, চাঁদ ইস্তিওয়া হওয়া মানে পূর্ণ হওয়া, এবং জায়েদ ও আমর ইস্তিওয়া হওয়া মানে তারা সদৃশ হওয়া, আর তাদের কাজ দুটি ইস্তিওয়া হওয়া মানে কাজ দুটি সদৃশ হওয়া যদিও তাদের দেহ বা আকৃতি সদৃশ নয়; আরবদের ভাষা থেকে এটাই জানা যায়'।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌28 - قول الإمام أبي جعفر الترمذي محمد بن أحمد بن نصر (المتوفى: 295):

أورد الخطيب البغدادي في تاريخ بغداد (1/ 365) بسند رجاله ثقات أن أبا الطيب أحمد بن عثمان السمسار والد أبي حفص بن شاهين قال: حضرت عند أبي جعفر الترمذي فسأله سائل عن حديث النبي صلى الله عليه وسلم «إنّ الله تعالى ينزل إلى سماء الدنيا»، فالنزول كيف يكون؟ يبقى فوقه علو؟ فقال أبو جعفر الترمذي: النزول معقول، والكيف مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة"(1).

--------------------------------------------

(1) علّق الحافظ الذهبي في العلو للعلي الغفار (ص: 214) على هذا الأثر بقوله: "قلتُ: صدق فقيه بغداد وعالمها في زمانه، إذا السؤال عن النزول ما هو؟ عيّ؛ لأنه إنما يكون السؤال عن كلمة غريبة في اللغة، وإلا فالنزول والكلام والسمع والبصر والعلم والاستواء عبارات جلية واضحة للسامع، فإذا اتصف بها من ليس كمثله شيء، فالصفة تابعة للموصوف، وكيفية ذلك مجهولة عند البشر".
২৮ - ইমাম আবু জাফর আত-তিরমিজি মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাসর (মৃত্যু: ২৯৫ হিজরি)-এর উক্তি:

খতিব আল-বাগদাদি 'তারিখে বাগদাদ' (১/৩৬৫) গ্রন্থে এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য যে, আবু হাফস ইবনে শাহীনের পিতা আবু তাইয়িব আহমদ ইবনে উসমান আস-সামসার বলেছেন: আমি আবু জাফর আত-তিরমিজির নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন জনৈক প্রশ্নকারী তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস— "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন"—সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে, এই অবতরণ কীভাবে হয়? (আল্লাহর অবতরণের সময়) তাঁর উপরে কি উচ্চতা অবশিষ্ট থাকে? তখন আবু জাফর আত-তিরমিজি বললেন: "অবতরণ (শব্দের অর্থ) বোধগম্য, এর পদ্ধতি অজ্ঞাত, এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে (অসার) প্রশ্ন করা বিদআত"(১)।

--------------------------------------------

(১) হাফেজ আয-যাহাবি 'আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার' (পৃষ্ঠা: ২১৪) গ্রন্থে এই বর্ণনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "আমি বলছি: বাগদাদের ফকিহ এবং তাঁর সময়ের আলেম সত্যই বলেছেন। কেননা, অবতরণ কী—সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা তো এক প্রকার জড়তা; কারণ সাধারণত কোনো অপরিচিত শব্দ সম্পর্কেই প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। অন্যথায় অবতরণ, কথা বলা, শ্রবণ করা, দেখা, জ্ঞান এবং উঠা অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার অভিব্যক্তি। সুতরাং যার সদৃশ কেউ নেই, তিনি যখন এসব গুণে গুণান্বিত হন, তখন সেই গুণও সত্তার অনুগামী হয়। আর এর পদ্ধতি মানুষের নিকট অজ্ঞাত।"
(খণ্ড: ১) আল-মানা ফী সিফাতিল্লাহি তাআলা মালুমুন ওয়াল কাইফু মাজহুল (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌29 - قول الحافظ زكريا بن يحيى الساجي (المتوفى: 307)(1):

قال زكريا الساجي كما في كتاب العرش للذهبي (2/ 354) والعلو للعلي الغفار (ص: 205): "القول في السنة التي رأيت عليها أصحابنا أهل الحديث، أن الله تعالى على عرشه، في سمائه، يقرب من خلقه كيف شاء".

--------------------------------------------

(1) قال الحافظ الذهبي في العلو للعلي الغفار (ص: 205): "كان الساجي شيخ البصرة وحافظها، وعنه أخذ أبو الحسن الأشعري الحديث ومقالات أهل السنة".
২৯ - হাফেজ জাকারিয়া বিন ইয়াহিয়া আল-সাজি (মৃত্যু: ৩০৭)-এর বক্তব্য(১):

জাকারিয়া আল-সাজি বলেছেন, যেমনটি জাহাবীর 'কিতাবুল আরশ' (২/ ৩৫৪) এবং 'আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার' (পৃষ্ঠা: ২০৫) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "সুন্নাহর বিষয়ে যে বক্তব্যে আমি আমাদের আহলুল হাদিস সাথীদের পেয়েছি তা হলো, আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশের উপর, তাঁর আসমানে আছেন, তিনি তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হন যেভাবে তিনি চান।"

--------------------------------------------

(১) হাফেজ জাহাবী 'আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার' (পৃষ্ঠা: ২০৫) গ্রন্থে বলেছেন: "সাজি ছিলেন বসরার শায়খ ও তার হাফেজ, এবং তাঁর থেকেই আবুল হাসান আল-আশআরী হাদিস এবং আহলুস সুন্নাহর বক্তব্যসমূহ গ্রহণ করেছিলেন।"