(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
أوائل المؤلفين في السيرة النبوية   (عبد الشافى محمد عبد اللطيف)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: أوائل المؤلفين في السيرة النبوية

المؤلف: عبد الشافى محمد عبد اللطيف

الناشر: -

الطبعة: -

عدد الصفحات: 88

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাতুন্নবীর প্রথম দিকের লেখকগণ   (আব্দুশ শাফী মুহাম্মাদ আব্দুল লতীফ)

বিভাগ: সীরাতুন্নবী


গ্রন্থ: সীরাতুন্নবীর প্রথম দিকের লেখকগণ

লেখক: আব্দুশ শাফী মুহাম্মাদ আব্দুল লতীফ

প্রকাশক: -

সংস্করণ: -

পৃষ্ঠা সংখ্যা: 88

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة:

النبي محمد بن عبد الله -صلوات الله وسلامه عليه- هو صفوة الله من خلقه، بل هو صفوة الصفوة، فالأنبياء -عليهم جميعًا أفضل الصلاة والسلام- هم المصطفون الأخيار، وهو إمامهم وخاتمهم. وقد قال صلى الله عليه وسلم: "أنا سيد ولد آدم" 1. فهو حامل الرسالة العالمية الخاتمة لجميع الرسالات، وهو اللبنة الأخيرة في صرح عقيدة التوحيد. فقد قال صلى الله عليه وسلم: "إن مثلي ومثل الأنبياء من قبلي كمثل رجل بنى بيتًا فأحسنه وأجمله إلا موضع لبنة من زاوية، فجعل الناس يطوفون به ويعجبون له، ويقولون: هلا وضعت هذه اللبنة؟! قال: فأنا اللبنة" 2 وفي رواية أخرى: "وأنا خاتم النبيين".

ولقد وصف الله تعالى عددًا من الأنبياء -عليهم الصلاة والسلام- ببعض الصفات، فقد وصف أبا الأنبياء إبراهيم عليه السلام فقال: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّهُ كَانَ صِدِّيقًا نَبِيًّا} 3. وقال عن

--------------------------------------------

1 مسند الإمام أحمد بن حنبل جـ1 ص5.

2 ابن حجر العسقلاني. فتح الباري شرح صحيح البخاري. جـ6 ص158.

3 مريم: 41.
পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

‌‌ভূমিকা:

নবী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ —তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক— সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর মনোনীত বান্দা, বরং তিনি মনোনীতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনোনীত। নবীগণ —তাঁদের সকলের ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক— হলেন বাছাইকৃত ও উত্তম ব্যক্তি, আর তিনি তাঁদের ইমাম ও শেষ নবী। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আদম সন্তানের সর্দার" ১। তিনি সেই বিশ্বজনীন বার্তার বাহক যা সকল পূর্ববর্তী বার্তার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছে এবং তিনি তাওহিদের আকিদার ইমারতের শেষ ইট। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাকে অত্যন্ত সুশোভিত ও সুন্দর করল, তবে এক কোণে একটি ইটের জায়গা ফাঁকা রয়ে গেল। ফলে মানুষ তার চারদিকে ঘুরতে লাগল এবং তার সৌন্দর্য দেখে বিস্মিত হতে লাগল এবং বলতে লাগল: কেন এই ইটটি স্থাপন করা হলো না?! তিনি বললেন: আমিই সেই ইট" ২ এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "আর আমিই শেষ নবী।"

মহান আল্লাহ অনেক নবীকে —তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক— কিছু গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। তিনি নবীদের পিতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেছেন: {আর আপনি এই কিতাবে ইব্রাহিমের কথা স্মরণ করুন, নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন পরম সত্যবাদী, একজন নবী} ৩। এবং তিনি সম্পর্কে বলেছেন

--------------------------------------------

১ মুসনাদে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫।

২ ইবনে হাজার আসকালানি। ফাতহুল বারি শারহু সহিহিল বুখারি। খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৫৮।

৩ মারইয়াম: ৪১।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
إسماعيل: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ إِسْمَاعِيلَ إِنَّهُ كَانَ صَادِقَ الْوَعْدِ وَكَانَ رَسُولًا نَبِيًّا} 1.

وفي سورة الأنبياء يصف إسحاق ويعقوب بالصلاح والخيرية فيقول سبحانه وتعالى: {وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ نَافِلَةً وَكُلًّا جَعَلْنَا صَالِحِينَ، وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ} 2. ويصف لوطًا وداود وسليمان بالعلم والحكمة؛ فيقول: {وَلُوطًا آَتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا} 3 ويقول سبحانه وتعالى: {فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلًّا آَتَيْنَا حُكْمًا وَعِلْمًا} 4.

ويصف إسماعيل وإدريس وذا الكفل بالصبر فيقول: {وَإِسْمَاعِيلَ وَإِدْرِيسَ وَذَا الْكِفْلِ كُلٌّ مِنَ الصَّابِرِينَ} 5.

وهكذا نرى الله تعالى يصف بعض أنبيائه ببعض الصفات النبيلة، لكنه في ختام السورة عندما يصف محمدًا عليه الصلاة والسلام فإنه لا يصفه بصفة جزئية وإنما يجعله كله هداية إلهية

--------------------------------------------

1 مريم: 54.

2 الأنبياء: 72-73.

3 الأنبياء: 74.

4 الأنبياء: 79.

5 الأنبياء: 85.
ইসমাইল: {আর কিতাবে ইসমাইলের কথা স্মরণ করুন, নিশ্চয় তিনি ওয়াদা পালনে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন এবং তিনি ছিলেন একজন রাসূল ও নবী} ১।

আর সূরা আল-আম্বিয়ায় তিনি ইসহাক ও ইয়াকুবকে নেককার ও কল্যাণময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি তাকে দান করলাম ইসহাক এবং অতিরিক্ত হিসেবে ইয়াকুবকেও; এবং তাদের প্রত্যেককেই আমি সৎকর্মপরায়ণ করেছি। আর আমি তাদেরকে নেতা বানালাম, তারা আমার নির্দেশে মানুষকে পথপ্রদর্শন করত। আর আমি তাদের প্রতি সৎকাজ করা, সালাত কায়েম করা ও জাকাত প্রদানের ওহী পাঠিয়েছিলাম; তারা ছিল আমারই ইবাদতকারী} ২। তিনি লুত, দাউদ ও সুলাইমানকে জ্ঞান ও হিকমত দ্বারা গুণান্বিত করেছেন; তিনি বলেন: {আর লুতকে আমি দিয়েছিলাম বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান} ৩ এবং মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর আমি সুলাইমানকে বিষয়টি বুঝিয়ে দিলাম এবং তাদের প্রত্যেককেই আমি বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান দান করেছি} ৪।

তিনি ইসমাইল, ইদরিস ও যুল-কিফলকে সবর বা ধৈর্যের গুণে গুণান্বিত করে বলেন: {আর ইসমাইল, ইদরিস ও যুল-কিফল, তারা প্রত্যেকেই ছিল ধৈর্যশীল} ৫।

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কতিপয় নবীকে বিশেষ কিছু মহৎ গুণে গুণান্বিত করেছেন। কিন্তু সূরার শেষে যখন তিনি মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর বর্ণনা দেন, তখন তাঁকে কোনো আংশিক গুণের মাধ্যমে নয়, বরং তাঁকে পূর্ণাঙ্গভাবে ঐশী হেদায়েত হিসেবে সাব্যস্ত করেন।

--------------------------------------------

১. মারইয়াম: ৫৪।

২. আল-আম্বিয়া: ৭২-৭৩।

৩. আল-আম্বিয়া: ৭৪।

৪. আল-আম্বিয়া: ৭৯।

৫. আল-আম্বিয়া: ৮৫।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
إلى العالم، ورحمة لهذه الإنسانية1. فيقول تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} 2.

وفي موضع آخر يصفه بالصفة الجامعة لكل خصال الخير وجميع الفضائل الإنسانية، فيقول: {وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ} 3.

والخلق العظيم هو جوهر رسالته صلى الله عليه وسلم، فهو القائل: "بعثت لأتمم حسن الأخلاق"4 ولقد عاش رسول الله صلى الله عليه وسلم أخلاقيًّا من طفولته إلى أن لقي ربه، فقد كان قومه ينادونه بصفة نادرة في ذلك الزمان وقبل أن يبعث؛ فقد نادوه وعرف بينهم بـ"الصادق الأمين". وعظمة الرسول محمد صلى الله عليه وسلم ليست في أنه يمتاز بمجموعة من الأخلاق الإنسانية العالية فحسب، فهو الأمين إذا ذُكرت الأمانة، وهو الصادق إذا ذكر الصدق، وهو الوفي الكريم، الزاهد، الشجاع، المتواضع، الرحيم، البار، الحكيم، الفصيح، البليغ، العابد، كان الرسول هذا كله وكان فوق هذا، فكانت أخلاقه فوق الصعاب وفوق كل الظروف والتقلبات التي تأتي بها الأيام، لقد كان قادرًا على أن

--------------------------------------------

1 انظر في ذلك: البحث القيم الذي كتبه الأستاذ الدكتور عبد الحليم عويس بعنوان شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم في كتاب: الجزيرة العربية في عهد الرسول والخلفاء الراشدين" جـ1 ص63 إلى ص93. وهو مرجعنا الأساسي في تلك المقدمة.

2 الأنبياء: 107.

3 القلم: 4.

4 مسند الإمام أحمد بن حنبل حـ2 ص 281.
সমগ্র বিশ্বের জন্য এবং এই মানবতার জন্য রহমত স্বরূপ।১ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।}২

অন্য এক স্থানে তিনি তাঁকে এমন এক বিশেষণে বিশেষিত করেছেন যা সমস্ত কল্যাণকর স্বভাব এবং সকল মানবীয় শ্রেষ্ঠত্বের আধার। তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত।}৩

আর এই মহান চরিত্রই হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রিসালাতের মূল নির্যাস। তিনি নিজেই বলেছেন: "আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।"৪ আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর শৈশব থেকে শুরু করে তাঁর প্রতিপালকের সান্নিধ্যে গমন করা পর্যন্ত এক আদর্শ নৈতিক জীবন অতিবাহিত করেছেন। সেই যুগে এবং নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেও তাঁর কওম তাঁকে এক বিরল বিশেষণে সম্বোধন করত; তারা তাঁকে "সত্যবাদী ও বিশ্বাসী" হিসেবে ডাকত এবং তিনি তাদের মাঝে এই নামেই পরিচিত ছিলেন। রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শ্রেষ্ঠত্ব কেবল এই নয় যে তিনি উচ্চতর মানবীয় গুণাবলির এক অনন্য অধিকারী ছিলেন; বরং আমানতদারিতার আলোচনায় তিনি ছিলেন পরম বিশ্বস্ত, সত্যের আলোচনায় তিনি পরম সত্যবাদী। তদুপরি তিনি ছিলেন প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী, মহানুভব, দুনিয়াবিমুখ, সাহসী, বিনয়ী, দয়ালু, পুণ্যবান, প্রজ্ঞাবান, প্রাঞ্জলভাষী, বাগ্মী এবং পরম ইবাদতকারী। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন এই সবকিছুরই মূর্ত প্রতীক এবং এর চাইতেও ঊর্ধ্বে। তাঁর চরিত্র ছিল সকল প্রতিকূলতা এবং কালের আবর্তনে বয়ে আসা সকল পরিস্থিতি ও পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে। তিনি সক্ষম ছিলেন...

--------------------------------------------

১ এই বিষয়ে দেখুন: প্রফেসর ডক্টর আব্দুল হালিম উওয়াইস লিখিত মূল্যবান গবেষণা প্রবন্ধ যার শিরোনাম "রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্ব"; এটি "রাসূল ও খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে আরব উপদ্বীপ" গ্রন্থের ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৩ থেকে ৯৩-এ বর্ণিত। আর এই ভূমিকায় এটিই আমাদের প্রধান তথ্যসূত্র।

২ আল-আম্বিয়া: ১০৭।

৩ আল-কলম: ৪।

৪ মুসনাদে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৮১।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
يلتزم الموقف الأخلاقي المناسب، مهما تكن اللحظة التاريخية حرجة وحاسمة، إنه نبي يشرع بسلوكه، وينطلق من منهج واضح، وليس من رد فعل؛ تمليه أو تفرضه أية ضغوط أو ظروف1.

"لقد تحدث بعض الكتاب معددًا الخوارق التي صاحبت الدعوة المحمدية فقال: "إن من أعظم الخوارق التي لمحمد صلى الله عليه وسلم أخلاقه، فكانت في ذاتها أمرًا خارقًا للعادة بين بني الإنسان، فهي أعلى من أخلاق الملائكة؛ لأن الملائكة حسنت أخلاقهم بمقتضى كونهم، {لَا يَعْصُونَ اللَّهَ مَا أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ} … فمحمد بين الناس الإنسانُ الذي تتجلى فيه الإنسانية الكاملة2.

وقد كانت صفحة حياته عليه الصلاة والسلام كما نقلت إلينا بكل دقة وتوثيق -أخلاقية إنسانية بلغت من السمو غاية ما يستطيع إنسان أن يبلغ، وكانت لذلك أسوة حسنة لمن هداه الله أن يحاول بلوغ الكمال الإنساني من طريق العمل الصالح، وأي سمو في الحياة كهذا السمو الذي جعل حياة محمد صلى الله عليه وسلم قبل الرسول مضرب المثل في الصدق، والكرامة، والأمانة، كما كانت بعد الرسالة كلها التضحية في سبيل الله وفي سبيل الحق الذي بعثه الله به، تضحية استهدفت حياته من جرائها للموت مرات، فلم يصده عنه أن أغراه

--------------------------------------------

1 د. عبد الحليم عويس المرجع السابق ص73.

2 الشيخ محمد أبو زهرة -خاتم النبيين ج1 ص242.
তিনি উপযুক্ত নৈতিক অবস্থান বজায় রাখেন, ঐতিহাসিক মুহূর্তটি যতই সংকটপূর্ণ এবং চূড়ান্ত হোক না কেন। তিনি এমন একজন নবী যিনি তাঁর আচরণের মাধ্যমে বিধান দেন এবং একটি স্পষ্ট পদ্ধতির ভিত্তিতে চলেন, কোনো চাপের মুখে বা পরিস্থিতির প্রভাবে উদ্ভূত নিছক প্রতিক্রিয়া থেকে নয়১।

"কিছু লেখক মুহাম্মাদী দাওয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট অলৌকিক ঘটনাবলি গণনা করতে গিয়ে বলেছেন: 'মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ অলৌকিক বিষয় হলো তাঁর চরিত্র। তা মানবজাতির মাঝে স্বয়ং একটি অসাধারণ বিষয় ছিল। এমনকি তা ফেরেশতাদের চরিত্রের চেয়েও উচ্চতর; কারণ ফেরেশতাদের চরিত্র সুন্দর হয়েছে তাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের কারণে, {তারা আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ দেন তা অমান্য করেন না এবং তারা যা আদিষ্ট হন তা-ই পালন করেন} … সুতরাং মানুষের মাঝে মুহাম্মাদ এমন এক মানব যাঁর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মানবতা প্রতিফলিত হয়েছে২।

তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়—সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—যেভাবে অত্যন্ত সূক্ষ্মতা ও প্রামাণিকতার সাথে আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তা ছিল এমন এক মানবিক নৈতিকতা যা কোনো মানুষের পক্ষে অর্জনযোগ্য উচ্চতার চরম সীমায় পৌঁছেছে। এ কারণেই এটি সেই ব্যক্তির জন্য এক সর্বোত্তম আদর্শ যাকে আল্লাহ সৎকর্মের মাধ্যমে মানবীয় পূর্ণতা অর্জনের প্রচেষ্টার পথে হিদায়াত দিয়েছেন। জীবনের সেই শ্রেষ্ঠত্বের মতো আর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব হতে পারে যা নবুওয়াতের পূর্বে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনকে সত্যবাদিতা, মর্যাদা ও আমানতদারিতার মূর্ত প্রতীক করে তুলেছিল। তেমনি নবুওয়াতের পরের জীবনটি ছিল আল্লাহর পথে এবং যে সত্য নিয়ে আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন সেই সত্যের পথে পূর্ণ আত্মত্যাগ। এটি এমন এক আত্মত্যাগ ছিল যার কারণে তাঁর জীবন বারবার মৃত্যুর সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু কোনো প্রলোভন তাঁকে তা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

--------------------------------------------

১ ড. আবদুল হালিম উওয়াইস, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭৩।

২ শাইখ মুহাম্মাদ আবু জাহরা - খাতামুন নাবিয়্যিন, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৪২।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
قومه -وهو في الذروة منهم حسبًا ونسبًا- بالمال والملك وكل المغريات"1.

والغريب أن هذه الإنسانية الأخلاقية قد طبقت على هذا النحو الخارق للعادة في أروع صور البساطة واليسر، فبدت -مع سموها- وكأن البساطة وعدم التقعر أو التكلف نسيجها الذي يجمع بين خيوطها المترابطة2. فعن عائشة رضي الله عنها قالت: "ما لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم مسلمًا من لعنة تذكر، ولا انتقم لنفسه شيئًا يؤتى إليه إلا أن تنتهك حرمات الله، ولا ضرب بيده شيئًا قط، إلا أن يضرب في سبيل الله، ولا سئل شيئًا قط فمنعه إلا أن يسأل مأثمًا، فإنه كان أبعد الناس عنه.

عن عائشة رضي الله عنها قالت: "ما خير رسول الله صلى الله عليه وسلم بين أمرين إلا أخذ أيسرهما ما لم يكن إثمًا، فإن كان إثمًا كان أبعد الناس عنه" 3.

"إن هذا النبي كان له -كما يقول كاتب نصراني- في مجال الأخلاق شئون وشئون، فبالرغم من مهامه الجسام وانشغالاته الكثيرة المتنوعة، وبالرغم من الغزوات والسرايا والحروب،

--------------------------------------------

1 محمد حسين هيكل -حياة محمد ص583.

2 انظر د. عبد الحليم عويس -المرجع السابق ص74.

3 صحيح البخاري ج2 ص273. طبعة دار إحياء التراث العربي.
তাঁর কওম —যাদের মধ্যে তিনি বংশমর্যাদা ও আভিজাত্যের শীর্ষে ছিলেন— তাঁকে অর্থ-সম্পদ, রাজত্ব এবং সকল প্রকার প্রলোভন দিয়ে [প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছিল] ১।

বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, এই নৈতিক মানবতা এমন এক অসাধারণ উপায়ে অতি চমৎকার সরলতা ও সহজবোধ্যতার সাথে বাস্তবায়িত হয়েছিল যে, এটি তার উচ্চমর্যাদা সত্ত্বেও মনে হচ্ছিল যেন সরলতা এবং কৃত্রিমতাহীনতাই এর বুনন, যা এর প্রতিটি সুতোকে একত্রিত করে রেখেছে ২। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও কোনো মুসলিমকে উল্লেখযোগ্য কোনো অভিশাপ দেননি এবং তাঁর প্রতি কৃত কোনো আচরণের জন্য কখনও নিজের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেননি, যতক্ষণ না আল্লাহর পবিত্র সীমা লঙ্ঘিত হতো। তিনি নিজ হাতে কখনও কোনো কিছুকে আঘাত করেননি, আল্লাহর পথে জিহাদ করা ব্যতীত। আর তাঁর কাছে যা-ই চাওয়া হয়েছে তিনি কখনও তা দিতে অস্বীকার করেননি, যদি না তা কোনো পাপের বিষয় হতো; কারণ তিনি পাপের কাজ থেকে মানুষের মধ্যে সবথেকে দূরে থাকতেন।"

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি তার মধ্যে সহজটিই গ্রহণ করতেন, যতক্ষণ না সেটি পাপ হতো। আর যদি সেটি পাপ হতো, তবে তিনি মানুষের মধ্যে তা থেকে সবথেকে দূরে থাকতেন" ৩।

"নিশ্চয়ই এই নবীর —জনৈক খ্রিস্টান লেখকের ভাষ্যমতে— চরিত্রের ক্ষেত্রে ছিল বহুবিধ মহিমা। তাঁর বিশাল দায়িত্বসমূহ এবং বহুবিধ বিচিত্র ব্যস্ততা সত্ত্বেও, এবং যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সামরিক অভিযানের ডামাডোলের মধ্যেও,

--------------------------------------------

১ মুহাম্মদ হুসাইন হাইকাল - হায়াতে মুহাম্মদ, পৃষ্ঠা ৫৮৩।

২ দেখুন: ডক্টর আব্দুল হালিম উওয়াইস - পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭৪।

৩ সহীহ বুখারী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৭৩। দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
واضطلاعه بجميع المسئوليات وحده دون سواه، فلقد وجد الوقت الكافي ليلقي على المؤمنين -بأقواله وأفعاله- دروسًا في شئون لا تمر ببال مسئول كبير في مثل مستواه وخطورته … فذلك العظيم الذي كان يحاول تغيير التاريخ، ويعد شعبًا يفتح الدنيا من أجل الله، ذلك الرجل وجد الوقت الكافي ليلقي على الناس دروسًا في آداب المجتمع وفي أصول المجالسة وكيفية إلقاء السلام، لكأنه معلم حصر مهمته في تثقيف بضعة وعشرين تلميذًا، ولم يكن له مهمة سواها"1.

ولقد نجح محمد صلى الله عليه وسلم نجاحًا باهرًا في كل عمل اضطلع به، من أكبر عمل -وهو تبليغ الرسالة- إلى أصغر عمل قام به2.

فالتاريخ قد عرَّفنا برجال حملوا رسالات سماوية وأدوها بنجاح، ورجال بنوا أممًا، ورجال آخرين أسسوا دولًا، لكن التاريخ لم يحدثنا عن رجل جاء برسالة سماوية من عند الله تعالى، ثم بنى أمة ثم أسس دولة، ونجح في كل ذلك وفي حياته وقبل موته سوى النبي العربي محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم.

ولهذا جعله مايكل هارت على رأس قائمة الخالدين المائة من أبناء آدم وعلل ذلك حسب منهجه العلمي ومقاييس العظمة عنده، بأن

--------------------------------------------

1 المرجع السابق ص74 نقلا عن الطبقات الكبرى لابن سعد ج1 ص367.

2 نصرى سلهب -في خطى محمد ص366-367.
একা এবং অন্য কারো সাহায্য ছাড়াই সকল দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি মুমিনদের—তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে—এমন সব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পেতেন, যা তাঁর মতো সুউচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার কোনো দায়িত্বশীলের মনেও আসত না ... সেই মহান ব্যক্তি যিনি ইতিহাস পরিবর্তনের চেষ্টা করছিলেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিশ্বজয়ী একটি জাতি প্রস্তুত করছিলেন, সেই মানুষটি মানুষকে সামাজিক শিষ্টাচার, মজলিশের আদব এবং সালাম প্রদানের পদ্ধতির পাঠ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করে নিয়েছিলেন। যেন তিনি এমন একজন শিক্ষক যিনি কেবল বিশের অধিক কিছু সংখ্যক ছাত্রকে শিক্ষিত করার কাজে নিজেকে নিবদ্ধ করেছেন এবং এ ছাড়া তাঁর আর কোনো কাজ নেই।১

মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর হাতে নেওয়া প্রতিটি কাজে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছেন; সবচেয়ে বড় কাজ—অর্থাৎ রিসালাত প্রচার থেকে শুরু করে তাঁর করা ক্ষুদ্রতম কাজ পর্যন্ত।২

ইতিহাস আমাদের এমন সব ব্যক্তিদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে যারা আসমানি বার্তা বহন করেছেন এবং সফলভাবে তা পৌঁছে দিয়েছেন, যারা জাতি গঠন করেছেন এবং যারা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু ইতিহাস আমাদের এমন কোনো ব্যক্তির কথা বলেনি যিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসমানি বার্তা নিয়ে এসেছেন, তারপর একটি জাতি গঠন করেছেন, অতঃপর একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এই সবকটিতেই তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর আগেই সফল হয়েছেন—একমাত্র আরব নবী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত।

এই কারণেই মাইকেল হার্ট তাঁকে আদম সন্তানদের মধ্য থেকে ইতিহাসের সেরা ১০০ জন চিরস্মরণীয় ব্যক্তির তালিকার শীর্ষে স্থান দিয়েছেন এবং তাঁর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি অনুযায়ী এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন যে,

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭৪, ইবনে সাদের আত-তাবাকাতুল কুবরা হতে উদ্ধৃত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৬৭।

২ নাসরি সালহাব - ফি খুত মুহাম্মদ (মুহাম্মদের পদচিহ্নে), পৃষ্ঠা ৩৬৬-৩৬৭।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
محمدًا صلى الله عليه وسلم كان الرجل الوحيد في التاريخ الذي نجح بشكل أسمى، وبرز في كلا المستويين: الديني، والدنيوي، وأنه أسس ونشر أحد أعظم الأديان في العالم، وأصبح أحد الزعماء العالميين السياسيين العظام. "وأنه بعد مرور أربعة عشر قرنًا لا زال تأثيره قويًّا ومتجددًا"1.

وبالقياس نفسه يشهد لمحمد صلى الله عليه وسلم المؤرخ العالمي الشهير ول ديورانت فيقول: "وإذا ما حكمنا على العظمة بما كان للعظيم من أثر في الناس قلنا: إن محمدًا كان من أعظم عظماء التاريخ، فقد أخذ على نفسه أن يرفع المستوى الروحي والأخلاقي لشعب ألقت به في دياجير الهمجية حرارة الجو ولهيب الصحراء، وقد نجح في تحقيق هذا الغرض نجاحًا لا يدانيه فيه أي مصلح آخر في التاريخ كله. وقلَّ أن نجد إنسانًا غيره حقق كل ما كان يحلم به، وقد وصل إلى ما كان يبتغيه عن طريق الدين، ولم يكن ذلك لأنه هو نفسه كان شديد التمسك بالدين وكفى، بل لأنه لم يكن ثمة قوة غير قوة الدين، تدفع العرب في أيامه إلى سلوك ذلك الطريق الذي سلكوه، فقد لجأ إلى خيالهم وإلى مخاوفهم وآمالهم، وخاطبهم على قدر عقولهم، وكانت بلادُ العرب لما بدأ الدعوة صحراءَ جدباءَ، تسكنها قبائل من عبدة الأوثان، قليل عددها متفرقة كلمتها، وكانت عند وفاته أمة

--------------------------------------------

1 انظر: الخالدون مائة. تأليف مايكل هارت، ترجمة: أمين منصور ص13.
মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে সফল হয়েছেন এবং ধর্মীয় ও পার্থিব উভয় স্তরেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। তিনি বিশ্বের অন্যতম মহান একটি ধর্ম প্রতিষ্ঠা ও প্রচার করেছেন এবং বিশ্বের অন্যতম মহান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। "এবং চৌদ্দ শতাব্দী অতিবাহিত হওয়ার পরও তাঁর প্রভাব এখনও শক্তিশালী ও পুনর্জাগরিত রয়েছে"১।

একই মাপকাঠিতে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষে বিশ্বখ্যাত ইতিহাসবিদ উইল ডুরান্ট সাক্ষ্য দিয়ে বলেন: "মানুষের ওপর মহান ব্যক্তির প্রভাবের ভিত্তিতে যদি আমরা মহত্ত্বের বিচার করি, তবে আমরা বলব: মুহাম্মদ ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহামানব। তিনি একটি জাতির আধ্যাত্মিক ও নৈতিক মান উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন, যাদেরকে আবহাওয়ার উত্তাপ এবং মরুভূমির শিখা বর্বরতার অন্ধকারে নিক্ষেপ করেছিল। তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে এমন সাফল্য লাভ করেছিলেন যা সমগ্র ইতিহাসের অন্য কোনো সংস্কারকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁর মতো খুব কম মানুষই আছেন যারা তাদের স্বপ্নের সবকিছু বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন। তিনি ধর্মের মাধ্যমে তাঁর উদ্দীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছিলেন। এটি কেবল এই কারণে নয় যে তিনি নিজে ধর্মের প্রতি অত্যন্ত অবিচল ছিলেন, বরং এই কারণে যে ধর্মীয় শক্তি ছাড়া অন্য কোনো শক্তি ছিল না যা তৎকালীন আরবদের সেই পথে পরিচালিত করতে পারত যে পথে তারা চলেছিল। তিনি তাদের কল্পনাশক্তি, ভয় এবং আশাকে জাগ্রত করেছিলেন এবং তাদের বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী তাদের সাথে কথা বলেছিলেন। যখন তিনি তাঁর দাওয়াত শুরু করেন, তখন আরব দেশ ছিল এক ঊষর মরুভূমি, যেখানে মূর্তিপূজক গোত্রগুলো বাস করত, যাদের সংখ্যা ছিল কম এবং যাদের ঐক্য ছিল বিচ্ছিন্ন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর সময় তারা ছিল একটি জাতি...

--------------------------------------------

১ দেখুন: আল-খালিদুন মিআহ। লেখক: মাইকেল হার্ট, অনুবাদ: আমিন মানসুর, পৃষ্ঠা: ১৩।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
موحدة متماسكة، وقد كبح جماح التعصب والخرافات، وأقام فوق اليهودية، والمسيحية، ودين بلاده القديم، دينًا سهلًا واضحًا قويًّا، وصرحًا خلقيًّا قوامه البساطة والعزة، واستطاع في جيل واحد أن ينتصر في مائة معركة، وفي قرن واحد أن ينشئ دولة عظيمة، وأن يبقى إلى يومنا هذا قوة ذات خطر عظيم في نصف العالم"1.

بعد كل ما تقدم، وهو قليل من كثير من شخصية الرسول الخاتم محمد بن عبد الله عليه الصلاة والسلام ليس عجبًا أن تكون تلك الشخصية محور اهتمام كل الناس: مسلمين، وغير مسلمين، على مدى تاريخه كله وأظن أن هذا الاهتمام سيستمر ما استمرت الحياة، ولن يبلغ الكتاب والمؤلفون مهما كتبوا وألفوا جوانب العظمة في شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم وليس هناك أبلغ -في هذا المجال- من الكلمة التي قدم بها فضيلة الإمام الأكبر الشيخ محمد مصطفى المراغي، شيخ الأزهر الأسبق، كتابَ حياة محمد للأستاذ الدكتور محمد حسين هيكل حيث قال: "منذ وجد الإنسان على الأرض، وهو مشوق إلى تعرف ما في الكون المحيط به من سنن وخصائص، وكلما أمعن في المعرفة ظهرت له عظمة الكون أكثر من ذي قبل، وظهر ضعفه وتضاءل غروره.

--------------------------------------------

1 د. عبد الحليم عويس المرجع السابق ص89 نقلا عن قصة الحضارة ج2 ص47.
...একটি সুসংহত ঐক্যবদ্ধ সমাজ; তিনি গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের লাগাম টেনে ধরেছিলেন এবং ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম ও তাঁর দেশের প্রাচীন ধর্মের ঊর্ধ্বে এক সহজ, স্পষ্ট ও শক্তিশালী ধর্ম এবং এমন এক নৈতিক ইমারত প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যার ভিত্তি ছিল সরলতা ও আত্মমর্যাদা। তিনি মাত্র এক প্রজন্মের মধ্যে একশটি যুদ্ধে জয়ী হতে সক্ষম হন এবং এক শতাব্দীর মধ্যে একটি বিশাল রাষ্ট্র গড়ে তোলেন, যা আজ অবধি বিশ্বের অর্ধেক অংশে এক বিরাট প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে টিকে আছে।"১।

উপরিউক্ত আলোচনার পর—যা সর্বশেষ নবি মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর ব্যক্তিত্বের বিশালতার অতি সামান্য অংশ মাত্র—এটি আশ্চর্যের কিছু নয় যে, সেই ব্যক্তিত্ব সমগ্র ইতিহাসের পরিক্রমায় মুসলিম ও অমুসলিম নির্বিশেষে সকল মানুষের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হবে। আমি মনে করি, এই মনোযোগ ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ জীবন টিকে থাকবে। লেখক ও গ্রন্থকারগণ যতই লিখুন বা রচনা করুন না কেন, তাঁরা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যক্তিত্বের শ্রেষ্ঠত্বের দিকগুলো পূর্ণরূপে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন না। এই ক্ষেত্রে আল-আজহারের প্রাক্তন প্রধান ইমাম, শাইখ মুহাম্মদ মুস্তফা আল-মারাগি কর্তৃক অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ হুসাইন হাইকলের ‘হায়াতে মুহাম্মদ’ (মুহাম্মদের জীবন) গ্রন্থের ভূমিকায় প্রদত্ত বক্তব্যের চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল আর কিছু হতে পারে না, যেখানে তিনি বলেছেন: "পৃথিবীতে মানুষের আগমনের পর থেকেই সে তার চারপাশের মহাবিশ্বের নিয়ম ও বৈশিষ্ট্যগুলো জানার জন্য উদগ্রীব। সে যতই জ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করেছে, তার কাছে মহাবিশ্বের বিশালতা আগের চেয়েও বেশি প্রকাশ পেয়েছে এবং তার নিজের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে ও তার অহংকার তিলে তিলে বিলীন হয়েছে।

--------------------------------------------

১. ড. আব্দুল হালিম উওয়াইস, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৮৯; ‘কিসসাতুল হাদারাহ’ (সভ্যতার ইতিহাস), ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭ থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ونبي الإسلام -صلوات الله عليه وسلامه- شبيه بالوجود، فقد جد العلماء منذ أشرقت الأرض بنوره يلتمسون نواحي العظمة الإنسانية فيه، ويلتمسون مظاهر أسماء الله -جلت قدرته- في عقله وخلقه وعلمه، ومع أنهم استطاعوا الوصول إلى شيء من المعرفة، فقد فاتهم حتى الآن كمال المعرفة. وأمامهم جهاد طويل وبعد شاسع وطريق لا نهاية له"1.

ونَدُرَ أن نجد في التاريخ البشري رجلًا عرفت حياته -الخاصة والعامة- بكل تفاصيلها ودقائقها كما عرفت ودرست حياة النبي محمد عليه الصلاة والسلام.

"فحتى قضاؤه لوطره، واغتساله بعده، وطريقة غسله، ونومه، وطريقة قضائه لحاجته واغتساله منها، كل ذلك نقله إلينا التاريخ، بطريقة موثقة، ندر أن توثق بها نصوص في التاريخ"2.

يقول المستشرق مونتييه في وصف وضوح حياة الرسول صلى الله عليه وسلم: "ولقد ندر بين المصلحين من عرفت حياتهم بالتفصيل مثل محمد، وإن ما قام به من إصلاح الأخلاق، وتطهير المجتمع يمكن أن يعد به من أعظم المحسنين للإنسانية"3.

--------------------------------------------

1 ص ط من تقديم الإمام الأكبر الشيخ محمد مصطفى المراغي لكتاب حياة محمد.

2 د. عبد الحليم عويس - المرجع السابق ص67.

3 المرجع السابق ص68.

ইসলামের নবী—আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—অস্তিত্বের সদৃশ; পৃথিবী তাঁর আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ার পর থেকে আলেমগণ তাঁর মাঝে মানবিক শ্রেষ্ঠত্বের দিকসমূহ এবং তাঁর বুদ্ধি, চরিত্র ও জ্ঞানে আল্লাহ তাআলার—যাঁর ক্ষমতা সুমহান—নামসমূহের বহিঃপ্রকাশ খুঁজে চলেছেন। যদিও তাঁরা কিছুটা জ্ঞান লাভে সক্ষম হয়েছেন, তবুও এখন পর্যন্ত পূর্ণ জ্ঞান অর্জন তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাঁদের সামনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, বিশাল দূরত্ব এবং এক অন্তহীন পথ।১

মানব ইতিহাসে এমন কোনো ব্যক্তি পাওয়া দুষ্কর, যাঁর ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবন এমন নিখুঁত ও বিস্তারিতভাবে জানা গেছে এবং অধ্যয়ন করা হয়েছে, যেমনটি নবী মুহাম্মদ—আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—এর জীবন সম্পর্কে জানা গেছে।

“এমনকি তাঁর জৈবিক চাহিদা পূরণ, এরপর তাঁর গোসল, তাঁর গোসলের পদ্ধতি, তাঁর ঘুম, তাঁর প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ ও তা থেকে পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতির মতো বিষয়গুলোও ইতিহাস আমাদের কাছে প্রামাণ্য উপায়ে বর্ণনা করেছে, যা ইতিহাসের অন্য কোনো পাঠ্যের ক্ষেত্রে খুব কমই দেখা যায়।”২

রাসূলুল্লাহ—আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—এর জীবনের স্বচ্ছতার বর্ণনায় প্রাচ্যবিদ মন্টিয়ে বলেন: “সংস্কারকদের মধ্যে এমন ব্যক্তি বিরল যাঁর জীবন মুহাম্মদের মতো বিস্তারিতভাবে জানা গেছে। চরিত্র সংশোধন ও সমাজ সংস্কারে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা তাঁকে মানবতার শ্রেষ্ঠ হিতৈষীদের অন্তর্ভুক্ত করেছে।”৩

--------------------------------------------

১. শাইখ মুহাম্মদ মোস্তফা আল-মারাগী কর্তৃক ‘হায়াতু মুহাম্মদ’ গ্রন্থের ভূমিকা থেকে।

২. ড. আব্দুল হালিম উয়াইস - পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬৭।

৩. পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬৮।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌دوافع المسلمين للاهتمام بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم

‌‌مدخل

…

دوافع المسلمين للاهتمام بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم:

ليس هناك شخصية تاريخة لقيت من اهتمام الدارسين والباحثين قديمًا وحديثًا كما لقيت شخصية الرسول محمد صلى الله عليه وسلم وليس هناك أمة اعتنت بتاريخ وحياة نبيها -بكل تفاصيله ودقائقه- كما اعتنت الأمة الإسلامية، وذلك لسببين رئيسين:

الأول: أن هذه الحياة حياة مثالية في جميع جوانبها ومستوياتها ودراستها متعة روحية وذهنية؛ لأن الإنسان يبحث دائمًا عن المثل الأعلى والقدوة الحسنة، لعل الله يهديه إلى أقوم طريق وأفضل سلوك، وليس هناك حياة وسيرة يمكن أن يتعلم منها الناس أعظم من حياة وسيرة النبي صلى الله عليه وسلم وصدق الله تعالى إذ جعلنا؛ بل يأمرنا بالاقتداء به، فيقول: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} 1.

الثاني: أن الجانب الأعظم من حياة وسيرة الرسول ترجع للأمة ومن ثم كانت عنايتها بأحاديثه وأفعاله ومغازيه وأيامه، وتكاد تكون كل كلمة تلفظ بها الرسول، وكل حركة وكل فعل مرصودة من المسلمين، ويحفظونها عن ظهر قلب، ومدونة في صدورهم قبل أن تدون في الكتب عند بدء حركة التدوين مع نهاية القرن الأول الهجري وبداية القرن الثاني.

--------------------------------------------

1 الأحزاب: 21.
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের প্রতি মুসলমানদের আগ্রহের কারণসমূহ

‌ভূমিকা

...

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের প্রতি মুসলমানদের আগ্রহের কারণসমূহ:

ইতিহাসে এমন কোনো ব্যক্তিত্ব নেই যিনি প্রাচীন ও আধুনিককালের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নিকট থেকে এতটা মনোযোগ লাভ করেছেন, যতটা লাভ করেছেন রাসুলুল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যক্তিত্ব। এবং এমন কোনো জাতি নেই যারা তাদের নবীর ইতিহাস ও জীবন নিয়ে—তার সমস্ত বিস্তারিত ও সূক্ষ্ম বিষয়াদিসহ—এতটা যত্নশীল হয়েছে, যতটা যত্নশীল হয়েছে মুসলিম উম্মাহ। আর তা প্রধানত দুটি কারণে:

প্রথমত: এই জীবনটি তার সকল দিক ও পর্যায়ে একটি আদর্শ জীবন এবং এর অধ্যয়ন একটি আধ্যাত্মিক ও মানসিক প্রশান্তি; কারণ মানুষ সর্বদা উচ্চতর আদর্শ ও উত্তম অনুকরণীয় দৃষ্টান্তের অনুসন্ধান করে, যাতে আল্লাহ তাকে সবচেয়ে সঠিক পথ ও সর্বোত্তম আচরণের দিকে পরিচালিত করেন। মানুষের শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন ও সীরাতের চেয়ে মহৎ কোনো জীবন ও সীরাত হতে পারে না। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন যখন তিনি আমাদের জন্য তাঁকে আদর্শ বানিয়েছেন; বরং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁকে অনুসরণ করতে, তিনি বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুলের মাঝে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ} ১।

দ্বিতীয়ত: রাসুলের জীবন ও সীরাতের অধিকাংশ দিক উম্মতের সাথে সংশ্লিষ্ট, ফলে তাঁর হাদিস, কাজ, যুদ্ধাভিযান ও দিনলিপির প্রতি উম্মতের বিশেষ যত্ন ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উচ্চারিত প্রায় প্রতিটি শব্দ এবং প্রতিটি নড়াচড়া ও কাজ মুসলমানদের পর্যবেক্ষণে ছিল এবং তারা তা মুখস্থ রাখতেন। প্রথম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ ও দ্বিতীয় শতাব্দীর শুরুতে গ্রন্থ সংকলনের আন্দোলন শুরুর পূর্বে এটি তাঁদের বক্ষসমূহে সংরক্ষিত ছিল।

--------------------------------------------

১ আল-আহযাব: ২১।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌بداية التأليف في السيرة النبوية:

من سنن الله الكونية أن كل شيء يخضع للتدرج في النشأة والتكوين، يتساوى في ذلك الإنسان والحيوان والأفكار والعلوم والفنون، فلا شيء يخلق كاملًا، أو ينشأ ناضجًا مستوي التكوين، وإنما يمر بمراحل زمنية متتابعة، حتى يصل إلى نضجه واستوائه وكماله، وسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم لم تشذ عن تلك القاعدة ولم تخرج عن ذلك الناموس، فنحن نعلم أن سيرة الرسول لم تدون في حياته، أعني: أنه لم يكن من بين الكتَّاب الذين كانوا يكتبون للرسول صلى الله عليه وسلم الوحي وغيره -وهم كثيرون- مَن تخصص في تسجيل أحداث حياته صلى الله عليه وسلم؛ الخاصة والعامة، واستمر الحال على ذلك طوال خلافة الخلفاء الراشدين الأربعة 11-40هـ ويبدو أنه كان لذلك أسباب كثيرة من أهمها أن الرجال الذين عاصروا الرسول صلى الله عليه وسلم وهم صحابته -رضوان الله عليهم جميعًا- لم يكونوا في حاجة إلى تسجيل تلك الأحداث، فهم قد عايشوها وانفعلوا بها وتفاعلوا معها بدرجة لم يسبق لها مثيل في تاريخ الرسالات والدعوات الدينية فكل مشهد منطبع في ذاكرتهم، وكل كلمة نطق بها الرسول حفظوها، وكل عمل من أعماله معروف لديهم تمام المعرفة وبكل التفاصيل، هذا
সীরাতে নববী রচনার সূচনা:

আল্লাহর জাগতিক নিয়মসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, প্রতিটি বিষয়ই তার উৎপত্তি ও গঠনের ক্ষেত্রে ক্রমবিকাশের অধীন। মানুষ, প্রাণী, চিন্তা-চেতনা, বিজ্ঞান এবং শিল্পকলা—সবকিছুই এই নিয়মের ক্ষেত্রে সমান। কোনো কিছুই পূর্ণাঙ্গরূপে সৃষ্টি হয় না অথবা শুরুতেই পরিপক্ক ও সুসংগঠিত অবয়বে গড়ে ওঠে না; বরং তা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সময়কাল অতিক্রম করে, যতক্ষণ না তা তার পরিপক্কতা, পূর্ণতা ও পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতও এই নিয়মের ব্যতিক্রম ছিল না এবং এই শাশ্বত বিধানের বাইরে ছিল না। আমরা জানি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত তাঁর জীবদ্দশায় সংকলিত হয়নি। এর অর্থ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওহী এবং অন্যান্য বিষয় লিপিবদ্ধ করার জন্য যে বহুসংখ্যক লেখক ছিলেন—যাঁরা সংখ্যায় অনেক ছিলেন—তাঁদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি বিশেষভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট ছিলেন। চার খলিফায়ে রাশেদীনের শাসনকাল ১১-৪০ হিজরী পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত থাকে। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। তার মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো, যেসব ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমসাময়িক ছিলেন—অর্থাৎ তাঁর সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)—তাঁদের এসব ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কেননা তাঁরা সেই ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন, সেগুলোর দ্বারা আলোড়িত হয়েছেন এবং সেগুলোর সাথে এমন গভীরভাবে মিশে গিয়েছিলেন যার দৃষ্টান্ত দাওয়াত ও রিসালাতের ইতিহাসে ইতিপূর্বে আর দেখা যায়নি। প্রতিটি দৃশ্য তাঁদের স্মৃতিপটে অঙ্কিত ছিল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখনিসৃত প্রতিটি শব্দ তাঁরা মুখস্থ করেছিলেন এবং তাঁর প্রতিটি কাজ তাঁদের নিকট পূর্ণাঙ্গভাবে এবং বিস্তারিতভাবে সুপরিচিত ছিল। এই

(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
مع ما امتازوا به من قوة الحافظة وسرعة البديهة. لم تكن الحاجة إذن تدعو لتدوين أحداث حياة الرسول وسيرته لاستغنائهم بالمشاهدة والحفظ ولانشغالهم بالغزوات والفتوحات، غير أنه لم يكد جيل الصحابة -وهم شهود وحفاظ السيرة- يختفي حتى ظهرت الحاجة إلى تدوين وتسجيل السيرة النبوية، والتأريخ للعهد النبوي، فجيل التابعين -وهم الذين رأوا الصحابة وعاصروهم وتعلموا منهم- لم يروا بأنفسهم الأعمال الرائعة والجهاد المجيد الذي قام به الرسول صلى الله عليه وسلم من أجل الرسالة الإسلامية وتبليغها للناس، ولكنهم سمعوا عن ذلك من الصحابة، فبهرتهم الأعمال والمواقف والأخلاق، فتاقت نفوسهم لمعرفة كل شيء بالتفصيل، ولم يفوِّتوا الفرصة، بل عضوا عليها بالنواجذ، وأخذوا يسألون الصحابة الذين صحبوا الرسول وضحوا معه، وشهدوا جميع مشاهده ومواقعه، ومن الأسئلة التي كانوا يسألونها -على سبيل المثال- متى وكيف كانت بيعة العقبة؟ متى كانت الهجرة إلى الحبشة؟ وكم عدد الذين هاجروا في الأولى والثانية؟ ومتى عادوا؟ وكيف كانت غزوة بدر؟ ومن الذين شهدوها؟ هذه الأسئلة وأمثالها كانت تلقى على الصحابة ويجيبون عنها، وأسلوب السؤال والجواب -كما هو معروف- من أهم روافد العلم، خصوصًا في مراحل النشأة والتكوين.
সেই সঙ্গে তাঁরা প্রখর স্মৃতিশক্তি ও প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের অধিকারী ছিলেন। ফলে সেই সময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের ঘটনাবলি ও সীরাত লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন দেখা দেয়নি; কারণ প্রত্যক্ষ দর্শন ও মুখস্থ রাখার মাধ্যমেই তাঁরা পর্যাপ্ত জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁরা বিভিন্ন যুদ্ধ ও রাজ্য বিজয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তবে সীরাতের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও সংরক্ষণকারী সাহাবী প্রজন্মের তিরোধান শুরু হওয়ার সাথে সাথেই সীরাত আন-নববী লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ এবং নববী যুগের ইতিহাস রচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হতে থাকে। কেননা তাবিঈদের প্রজন্ম—যাঁরা সাহাবীদের দেখেছিলেন, তাঁদের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন এবং তাঁদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন—তাঁরা নিজের চোখে সেই অসাধারণ কর্মতৎপরতা ও গৌরবময় জিহাদ প্রত্যক্ষ করেননি যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের বাণী প্রচার ও মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিচালনা করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা সাহাবীদের নিকট থেকে সে সম্পর্কে শুনেছিলেন; ফলে সেইসব মহৎ কর্ম, দৃঢ় অবস্থান ও সুউচ্চ আখলাক তাঁদের বিমুগ্ধ করেছিল এবং তাঁদের অন্তর প্রতিটি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জানার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। তাঁরা এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি, বরং একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছিলেন এবং সেইসব সাহাবীদের প্রশ্ন করতে শুরু করেছিলেন যাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন, তাঁর সাথে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন এবং তাঁর প্রতিটি যুদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, তাঁরা যে ধরনের প্রশ্ন করতেন তা হলো—বায়আতে উকবা কখন ও কীভাবে হয়েছিল? আবিসিনিয়ায় হিজরত কখন হয়েছিল? প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় হিজরতকারীদের সংখ্যা কত ছিল? তাঁরা কখন ফিরে এসেছিলেন? বদর যুদ্ধ কেমন ছিল? এবং কারা এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন? এই জাতীয় প্রশ্নগুলো সাহাবীদের নিকট করা হতো এবং তাঁরা সেগুলোর উত্তর দিতেন। আর প্রশ্ন ও উত্তরের এই পদ্ধতিটি—যেমনটি সুপরিচিত—জ্ঞানের অন্যতম প্রধান উৎস, বিশেষ করে কোনো বিষয়ের সূচনা ও বিকাশের পর্যায়ে।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
بل إن القرآن الكريم حافل باستخدام أسلوب السؤال والجواب حتى في مجال العقيدة وإثباتها، وإقامة الحجة على الكافرين الجاحدين، مثل قول الله تعالى: {قُلْ لِمَنِ الْأَرْضُ وَمَنْ فِيهَا إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ، سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ، قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، سَيَقُولُونَ لِلَّهِ قُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ} 1.

وكان من الطبيعي أن تكون المدينة المنورة، هي أصلح بيئة للإجابة عن كل ما يتعلق بحياة الرسول وسيرته من حيث عاش معظم الصحابة الذين عايشوا أحداث الإسلام الكبرى في عهد الرسول، ونقلوها للتابعين، الذين لم يكتفوا بالتلقي والحفظ، بل بدأوا تدوين الوقائع والأحداث كما سمعوها من الذين شاهدوها، وكانت تلك لحظة البداية، بداية التأليف في السيرة النبوية. واتسعت دائرة السؤال والجواب، ولم تعد قاصرة على المدينة وحدها، بل سارع الناس في خطى الصحابة في كل مصرٍ حلوا به، مثل: البصرة والكوفة ودمشق والفسطاط … إلخ.

ومن حسن الحظ أن من كبار التابعين الذين بدأوا التدوين في السيرة النبوية، وأصبحوا مصدرًا رئيسًا من مصادرها كانوا من أبناء كبار الصحابة الذين أخذوا العلم عن آبائهم الكرام، وهم الذين

--------------------------------------------

1 المؤمنون: 84- 87.
প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কুরআন আকিদা ও তা প্রমাণের ক্ষেত্রে এবং অস্বীকারকারী কাফিরদের বিরুদ্ধে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন ও উত্তর পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিপূর্ণ। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, পৃথিবী এবং এতে যা আছে তা কার? যদি তোমরা জানো। তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবে কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবে না? বলুন, সপ্ত আকাশ ও মহান আরশের রব কে? তারা বলবে, আল্লাহ। বলুন, তবে কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?} ১।

আর রাসূলের জীবন ও তাঁর সীরাত সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ের উত্তর প্রদানের জন্য মদিনা মুনাওয়ারা সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশ হওয়াটাই ছিল স্বাভাবিক, কারণ সেখানে অধিকাংশ সাহাবী বাস করতেন যারা রাসূলের যুগে ইসলামের বড় বড় ঘটনাগুলোর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তা তাবিঈদের নিকট বর্ণনা করেছিলেন। তাবিঈগণ কেবল তা গ্রহণ ও মুখস্থ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তাঁরা ঘটনাবলি ও সংবাদসমূহ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে যেভাবে শুনেছিলেন ঠিক সেভাবেই তা লিপিবদ্ধ করতে শুরু করেন। আর এটিই ছিল সূচনালগ্ন, সীরাতুন নববী রচনার শুরু। প্রশ্ন ও উত্তরের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো এবং তা কেবল মদিনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং মানুষ সাহাবায়ে কিরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাঁরা যে সকল শহরে বসতি স্থাপন করেছিলেন সেখানেও ছড়িয়ে পড়ল, যেমন: বসরা, কুফা, দামেস্ক ও ফুসতাত ... ইত্যাদি।

এটি পরম সৌভাগ্য যে, যে সকল বিশিষ্ট তাবিঈ সীরাতুন নববী সংকলন শুরু করেছিলেন এবং এর প্রধান উৎস হয়ে উঠেছিলেন, তাঁরা ছিলেন বড় বড় সাহাবীদের সন্তান যারা তাঁদের সম্মানিত পিতাদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, এবং তাঁরাই যারা

--------------------------------------------

১ মুমিনুন: ৮৪-৮৭।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
رأوا كل شيء وشاركوا بأنفسهم، بل كان من أوائل علماء السيرة من هم على صلة قريبة ووثيقة ببيت النبي صلى الله عليه وسلم مثل: عروة بن الزبير بن العوام، فأمه أسماء بنت الصديق رضي الله عنهما وخالته أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها فتتلمذ عليها ونقل عنها أخبارًا كثيرة عن حياة النبي وسيرته، وقد قسم العلماء كتَّاب السيرة النبوية والمؤلفين فيها إلى طبقات، والطبقة في اصطلاح المحدثين، هم جماعة تقاربوا في السن، واجتمعوا في لقاء الشيوخ.
তারা সবকিছু প্রত্যক্ষ করেছেন এবং নিজেরা অংশগ্রহণ করেছেন; বরং সীরাত শাস্ত্রের প্রাথমিক আলেমদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরা ছিলেন যাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক ছিল, যেমন: উরওয়াহ ইবনুল জুবায়ের ইবনুল আওয়াম। তার মা ছিলেন আসমা বিনতে সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) এবং তার খালা ছিলেন উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন)। ফলে তিনি তাঁর নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন ও সীরাত সম্পর্কে অনেক সংবাদ বর্ণনা করেছেন। উলামায়ে কেরাম সীরাতুন্নবীর লেখক ও গ্রন্থকারদের বিভিন্ন স্তরে (ত্ববাকাত) বিভক্ত করেছেন। আর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় স্তর (ত্ববাকাহ) বলতে এমন একদলকে বোঝায় যারা বয়সে কাছাকাছি এবং শায়খদের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে একত্রিত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌طبقات كتَّاب السيرة:

‌‌رجال الطبقة الأولى من كتَّاب المغازي والسير:

1-‌‌ أبان بن عثمان:

هو ابن الخليفة الثالث عثمان بن عفان رضي الله عنه ولد في المدينة المنورة حوالي سنة عشرين للهجرة، وتوفي فيها في خلافة يزيد بن عبد الملك بن مروان 101- 105 على أرجح الأقوال، وقد نشأ أبان في كنف أبيه، الخليفة الراشد، أحد السابقين إلى الإسلام والمبشرين بالجنة والذي كانت تستحيي منه الملائكة كما أخبر الصادق الأمين صلى الله عليه وسلم فهو من كبار الصحابة وفضلائهم، وبيته من أصلح وأطهر البيوت، في أصلح وأطهر بيئة على وجه الأرض في ذلك الزمان، وهي بيئة المدينة المنورة، في هذا الجو وتلك البيئة وذلك البيت -حيث الصلاح والتقى- نشأ أبان وتعلم، حتى أصبح من كبار فقهاء المدينة المعدودين والمشهورين.

ومن أعلام رواة الحديث الشريف. فقد روى عن أبيه رضي الله عنه وغيره من كبار الصحابة. كما تتلمذ على يديه كثيرون من كبار المحدثين والفقهاء، أمثال محمد بن مسلم بن شهاب
সীরাত গ্রন্থকারদের স্তরসমূহ:

মাগাজি ও সীরাত গ্রন্থকারদের প্রথম স্তরের ব্যক্তিবর্গ:

১- আবান ইবনে উসমান:

তিনি হলেন তৃতীয় খলিফা উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর পুত্র। তিনি আনুমানিক ২০ হিজরি সনে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সর্বাধিক সঠিক মতানুসারে ১০১ থেকে ১০৫ হিজরি সনের মধ্যে ইয়াজিদ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফতকালে সেখানেই ইন্তেকাল করেন। আবান তাঁর পিতা—যিনি ছিলেন খুলাফায়ে রাশেদীনের অন্তর্ভুক্ত, ইসলামে অগ্রগামীদের অন্যতম এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্তদের একজন এবং যাঁর থেকে ফেরেশতাগণও লজ্জা বোধ করতেন যেমনটি সত্যবাদী ও আমানতদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন—তাঁরই সান্নিধ্যে ও তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের একজন এবং তাঁর পরিবার ছিল তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম ও পবিত্র পরিবেশে অবস্থিত এক অত্যন্ত নেককার ও পবিত্র পরিবার, যা ছিল মদিনা মুনাওয়ারার পরিবেশ। এই আবহ ও পরিবেশ এবং পুণ্য ও তাকওয়া সমৃদ্ধ এই গৃহেই আবান লালিত-পালিত হন ও শিক্ষা লাভ করেন, পরিশেষে তিনি মদিনার প্রসিদ্ধ ও প্রথম সারির শ্রেষ্ঠ ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত হন।

তিনি হাদীসে নববীর অন্যতম প্রখ্যাত বর্ণনাকারী। তিনি তাঁর পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং অন্যান্য বিশিষ্ট সাহাবীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর কাছে অনেক বড় বড় মুহাদ্দিস ও ফকীহ শিক্ষা লাভ করেছেন, যেমন মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব (আল-জুহরী)।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الزهري، أستاذ إمام المؤلفين في السيرة النبوية وعمدتهم، محمد بن إسحاق بن يسار المطلبي.

ولقد اشتهر أبان بن عثمان بالمغازي والسير -فوق شهرته في الفقه والحديث- حتى أصبح من أساتذة هذا الفن الحائزين على ثقة العلماء، فقد قال ابن سعد في الطبقات، وهو يترجم للمغيرة بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام بن المغيرة، قال عنه: "كان ثقة قليل الحديث، إلا مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذها عن أبان بن عثمان"1.

فهذا الخبر على وجازته يؤكد أستاذية أبان بن عثمان في المغازي والسير، فقد كان الحديث والمغازي والسير من أحب الأشياء إلى أهل المدينة، ولعل ابتعاد أبان عن الاشتغال بالسياسة -باستثناء الفترة التي عمل فيها واليًا على المدينة من سنة 75 إلى سنة 83هـ -في خلافة عبد الملك بن مروان- أقول: لعل ابتعاده عن السياسة -وقد عمر طويلًا حيث نيف على الثمانين عامًا- قلته من التفرغ للعلم، درسًا تدريسًا، وإذا كانت مؤلفاته قد ضاعت -فما ضاع أو تلف من تراث الإسلام.

ولم تصل أبدًا، فقد بقيت لنا -من حسن الحظ- رواياته وآراؤه في المصادر التي وصلتنا بروايات تلاميذه.

--------------------------------------------

1 انظر الطبقات الكبرى لابن سعد جـ5 ص179.
আয-যুহরী, সীরাতুন্নববী বিষয়ক গ্রন্থকারদের ইমাম এবং তাদের প্রধান অবলম্বন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার আল-মুত্তালিবীর উস্তাদ।

ফিকহ ও হাদীসে প্রসিদ্ধির পাশাপাশি আবান ইবনে উসমান মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) ও সীরাত (জীবনী) বিষয়েও সুখ্যাতি লাভ করেছিলেন—এমনকি তিনি এই শিল্পের এমন এক উস্তাদ হয়ে উঠেছিলেন যিনি আলেমদের আস্থা অর্জন করেছিলেন। ইবনে সা'দ 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে মুগীরা ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনে হিশাম ইবনুল মুগীরার জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি বিশ্বস্ত ছিলেন এবং অল্প হাদীস বর্ণনা করতেন, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাগাযী বা যুদ্ধাভিযানসমূহ তিনি আবান ইবনে উসমানের নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন"১।

এই সংবাদটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও মাগাযী ও সীরাত শাস্ত্রে আবান ইবনে উসমানের উস্তাদ সুলভ কর্তৃত্বকে নিশ্চিত করে। বস্তুত হাদীস, মাগাযী ও সীরাত মদীনার অধিবাসীদের নিকট সর্বাধিক প্রিয় বিষয়াবলির অন্তর্ভুক্ত ছিল। সম্ভবত আবান ইবনে উসমানের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হওয়া—আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের খিলাফতকালে ৭৫ হিজরী থেকে ৮৩ হিজরী পর্যন্ত মদীনায় ওয়ালী বা গভর্নর হিসেবে কাজ করার সময়টুকু ব্যতীত—আমি বলছি: সম্ভবত রাজনীতি থেকে তার দূরে থাকা, এবং তিনি দীর্ঘ জীবন লাভ করেছিলেন যা আশি বছরেরও বেশি ছিল, তাকে গবেষণা ও অধ্যাপনা উভয় ক্ষেত্রে ইলমের জন্য পূর্ণ সময় দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। যদিও তার রচনাবলি হারিয়ে গিয়েছে—ইসলামি ঐতিহ্যের যা কিছু হারিয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে (তার অন্তর্ভুক্ত)।

এবং তা কখনোই আমাদের নিকট পৌঁছেনি, তবে সৌভাগ্যবশত তার বর্ণনা ও মতামতগুলো আমাদের কাছে সেই সব উৎসের মাধ্যমে সংরক্ষিত রয়েছে যা তার ছাত্রদের বর্ণনায় আমাদের নিকট পৌঁছেছে।

--------------------------------------------

১ দেখুন ইবনে সা'দ কৃত আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৫ম খণ্ড, ১৭৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
2-‌‌ عروة بن الزبير:

هو الرجل الثاني من رجال الطبقة الأولى من كتَّاب المغازي والسير، وأبوه الزبير بن العوام بن خويلد، أحد السابقين الأولين إلى الإسلام، وأحد المبشرين بالجنة، وهو حواري الرسول صلى الله عليه وسلم وابن عمته صفية بنت عبد المطلب، وخديجة أم المؤمنين رضي الله عنها عمته، أي عمة الزبير بن العوام، أما أم عروة فهي ذات النطاقين السيدة أسماء بنت أبي بكر الصديق رضي الله عنهما وخالته عائشة أم المؤمنين، وأحب أزواج النبي إليه، وقد ولد عروة في المدينة المنورة، حوالي سنة 26هـ، على أرجح الأقوال، لأنه كان صغير السن عندما حدثت موقعة الجمل سنة 36هـ، ولم يشهدها فقد قال هو في نفسه: "رُددت أنا وأبو بكر بن عبد الرحمن بن الحارث بن هشام، يوم الجمل، استصغرونا".

فالبيت الذي نشأ فيه عروة ركناه: أبوه الزبير بن العوام، حواري الرسول، وأمه ذات النطاقين، أسماء بنت الصديق، أما أستاذته الكبرى ومعلمته فهي خالته، السيدة عائشة أم المؤمنين، التي كان كثير التردد عليها، والمداومة على زيارتها والتعلم منها والحديث إليها.
২-‌‌ উরওয়াহ ইবনুয যুবায়ের:

তিনি মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) ও সিয়ার (জীবনী) রচয়িতাদের প্রথম স্তরের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি। তাঁর পিতা হলেন যুবায়ের ইবনুল আওয়াম ইবনু খুওয়াইলিদ, যিনি ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম অগ্রবর্তীদের একজন এবং জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্তদের অন্যতম। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাওয়ারি (একনিষ্ঠ সহচর) এবং তাঁর ফুফু সাফিয়্যাহ বিনতে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র। মুমিন জননী খাদিজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন তাঁর ফুফু—অর্থাৎ যুবায়ের ইবনুল আওয়ামের ফুফু। আর উরওয়ার মা হলেন 'দাতুন নিতাকাইন' (দুই কোমরবন্ধনী বিশিষ্ট) মহীয়সী নারী আসমা বিনতে আবি বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এবং তাঁর খালা হলেন মুমিন জননী আয়েশা, যিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। উরওয়াহ হিজরি ২৬ সালের দিকে মদিনা মুনাওয়ারায় জন্মগ্রহণ করেন, যা সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মত; কারণ হিজরি ৩৬ সালে যখন উটের যুদ্ধ (জামাল যুদ্ধ) সংঘটিত হয়, তখন তিনি অল্পবয়স্ক ছিলেন এবং তাতে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: "উটের যুদ্ধের দিন আমাকে এবং আবু বকর ইবনু আব্দুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশামকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কারণ তারা আমাদের ছোট মনে করেছিলেন।"

যে ঘরে উরওয়াহ বেড়ে উঠেছেন তার দুটি স্তম্ভ ছিল: তাঁর পিতা যুবায়ের ইবনুল আওয়াম—রাসুলের হাওয়ারি, এবং তাঁর মা দাতুন নিতাকাইন আসমা বিনতে সিদ্দিক। আর তাঁর প্রধান শিক্ষিকা ও মেন্টর ছিলেন তাঁর খালা, মুমিন জননী সায়্যিদাহ আয়েশা, যাঁর কাছে তিনি ঘনঘন যাতায়াত করতেন এবং নিয়মিত তাঁর সান্নিধ্যে থেকে জ্ঞান অর্জন ও তাঁর সাথে আলোচনা করতেন।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وإذا كان عروة قد شهد -وهو صبي في العاشرة من عمره تقريبًا- الفتنة الكبرى التي حلت بالمسلمين وزلزلت كيانهم، في الشطر الثاني من خلافة عثمان بن عفان سنة 30- 35هـ -والتي استغرقت عهد علي بن أبي طالب كله 35-40هـ، فإن الله سبحانه وتعالى قد تدارك الأمة الإسلامية برحمته، ووحد كلمتها في عام 41هـ وهو العام الذي سماه المسلمون عام الجماعة -بعد الفتنة والفرقة- حينما تنازل الحسن بن علي رضي الله عنهما عن الخلافة لمعاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما إيثارًا لمصلحة الأمة، وحقنًا لدماء المسلمين، مصدقًا بذلك نبوءة جده عليه الصلاة والسلام حيث قال عنه: "ابني هذا سيد -يقصد الحسن- ولعل الله يصلح به بين فئتين عظيمتين من المسلمين"1.

ولقد استفتح معاوية رضي الله عنه عهده بالإحسان إلى أهل المدينة بصفة عامة، وإلى الصحابة وأبنائهم بصفة خاصة، وأغدق عليهم من الأموال ما أتاح لهم التفرغ للعلم والتعليم، فزخر مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم بأعداد هائلة من الفقهاء والمحدثين والمفسرين وأصحاب السير والمغازي، وكان عروة بن الزبير، فارسًا من فرسان هذه الحلقات وأبرز رجالها.

--------------------------------------------

1 صحيح البخاري جـ4 ص216.
উরওয়া যখন প্রায় দশ বছর বয়সী এক কিশোর ছিলেন, তখন তিনি মুসলমানদের ওপর আপতিত এবং তাদের অস্তিত্বকে প্রকম্পিতকারী সেই মহা ফিতনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, যা উসমান ইবনে আফফানের খিলাফতের দ্বিতীয় অংশে ৩০-৩৫ হিজরি সনে শুরু হয়েছিল এবং আলী ইবনে আবি তালিবের পুরো শাসনামল ৩৫-৪০ হিজরি জুড়ে পরিব্যপ্ত ছিল। তবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রহমতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে উদ্ধার করেন এবং ৪১ হিজরি সনে তাদের ঐক্য ফিরিয়ে আনেন। ফিতনা ও বিভক্তির পর এই বছরটিকে মুসলমানগণ ‘আমুল জামায়াত’ বা ঐক্যের বছর হিসেবে অভিহিত করেন; তখন হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) উম্মাহর স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং মুসলমানদের রক্তপাত বন্ধ করতে মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) অনুকূলে খিলাফত ত্যাগ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর নানা (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সেই ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্য প্রমাণিত করেন, যেখানে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: "আমার এই সন্তান একজন নেতা —তিনি হাসানকে উদ্দেশ্য করেছিলেন— এবং সম্ভবত আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলমানদের দুটি বিশাল দলের মধ্যে আপস-মীমাংসা করিয়ে দেবেন।"১

মুআবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর শাসনামল শুরু করেছিলেন সাধারণভাবে মদিনাবাসীদের প্রতি এবং বিশেষভাবে সাহাবী ও তাঁদের সন্তানদের প্রতি সদাচরণের মাধ্যমে। তিনি তাঁদেরকে পর্যাপ্ত ধন-সম্পদ প্রদান করেছিলেন, যা তাঁদেরকে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষাদানের জন্য পূর্ণ অবসর ও একাগ্রতা এনে দিয়েছিল। ফলে রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদ বিপুল সংখ্যক ফকিহ, মুহাদ্দিস, মুফাসসির এবং সিরাত ও মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। আর উরওয়া ইবনে যুবাইর ছিলেন এই ইলমি মজলিসগুলোর একজন বীর এবং তাদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

--------------------------------------------

১ সহিহ বুখারি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২১৬।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فتروي المصادر وكتب الطبقات، أنه كان يجتمع كل ليلة، بطريقة تكاد تكون منتظمة في المسجد النبوي، بمجموعة من كبار التابعين ومن رجال الطبقة الأولى منهم، كانت تضم أخاه مصعب بن الزبير، وأبا بكر بن عبد الرحمن، وعبد الملك بن مروان، وعبد الرحمن بن مسور، وإبراهيم بن عبد الرحمن، وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة، وقبيصة بن ذؤيب الخزاعي، ولم تكن هذه الاجتماعات سوى حلقات علمية، يدور الحديث فيها عن العلوم الإسلامية؛ من فقه وتفسير وحديث وسير ومغازٍ، وكما اشتهر عروة بن الزبير بأنه أحد فقهاء المدينة السبعة الكبار -كما هو الحال بالنسبة لأبان بن عثمان -فقد اشتهر بأنه من أكابر علماء السيرة والمغازي، وكان الناس -حتى زملاؤه في الدراسة- يتجهون إليه، ليسألوه ويتعلموا منه السيرة النبوية بصفة خاصة، لقربه من بيت النبي، ولمعرفته أكثر من غيره بما كان يدور في ذلك البيت الكريم عن طريق خالته السيدة عائشة رضي الله عنها فعبد الملك بن مروان -الخليفة الأموي المشهور 65- 86هـ مع أنه كان أحد تلاميذ مدرسة المدينة المشهورين ومن فقهائها، وقد لقب بحمامة المسجد؛ لشدة ملازمته مسجد الرسول صلى الله عليه وسلم وانكبابه على حلقات العلم، وهو من زملاء عروة وأصدقائه، إلا أنه كان كثير الرجوع إليه في كل ما يتعلق بأحداث السيرة النبوية، وذلك

উৎসসমূহ এবং জীবনী গ্রন্থগুলো বর্ণনা করে যে, তিনি প্রায় নিয়মিতভাবে প্রতি রাতে মসজিদে নববীতে একদল প্রবীণ তাবিঈ এবং তাঁদের মধ্যে প্রথম স্তরের ব্যক্তিদের সাথে একত্রিত হতেন। এই দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাঁর ভাই মুসআব ইবনুল জুবায়র, আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান, আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান, আবদুর রহমান ইবনে মিসওয়ার, ইব্রাহিম ইবনে আবদুর রহমান, উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ এবং ক্বাবীসাহ ইবনে জুআইব আল-খুজায়ী। এই সমাবেশগুলো ইলমি হালক্বাহ বা জ্ঞানচর্চার আসর ব্যতীত অন্য কিছু ছিল না, যেখানে ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান; যেমন—ফেকাহ, তাফসির, হাদিস, সিরাত এবং মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) সম্পর্কে আলোচনা করা হতো। উরওয়াহ ইবনুল জুবায়র যেমন মদিনার প্রখ্যাত সাত ফকিহ-এর অন্যতম হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন—যেমনটি আবান ইবনে উসমানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য—তেমনি তিনি সিরাত ও মাগাজি শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ আলেমদের একজন হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। মানুষ—এমনকি তাঁর সহপাঠীরাও—তাঁর অভিমুখী হতেন বিশেষ করে সীরাতুন্নবী সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে এবং তাঁর কাছ থেকে তা শিখতে। এর কারণ ছিল নবীজির গৃহের সাথে তাঁর নৈকট্য এবং তাঁর খালা সাইয়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার মাধ্যমে সেই মহিমান্বিত ঘরে যা কিছু ঘটত সে সম্পর্কে অন্যদের তুলনায় তাঁর অধিক জানাশোনা। এমনকি প্রখ্যাত উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান (৬৫-৮৬ হিজরি), যিনি মদিনার ইলমি মারকাজের একজন প্রসিদ্ধ ছাত্র এবং সেখানকার ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের সাথে তাঁর গভীর সংলগ্নতা ও ইলমি হালক্বাহগুলোতে একনিষ্ঠভাবে মগ্ন থাকার কারণে তাঁকে 'মসজিদের কবুতর' উপাধি দেওয়া হয়েছিল, এবং তিনি উরওয়াহর সহপাঠী ও বন্ধুদের একজন হওয়া সত্ত্বেও সীরাতুন্নবীর ঘটনাবলি সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয়ে তিনি উরওয়াহর কাছেই বেশি প্রত্যাবর্তন করতেন। আর এটি...

(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
عندما شغلته السياسة عن طلب العلم بعد أن أصبح خليفة، ويبدو أن عروة قد ألف كتبًا كثيرة في السيرة وغيرها، فهناك خبر جدير بالتنويه، يرويه ابن سعد1، عن هشام بن عروة أن أباه أَحرقَ يوم الحرة -يقصد يوم وقعة الحرة المشهورة بين ثوار المدينة وجيش الخليفة الأموي يزيد بن معاوية بن أبي سفيان سنة 63هـ- عدة كتب، وقد حزن كثيرًا على فقدها فيما بعد، فهذا الخبر يدل على انتشار الكتابة والتأليف في ذلك الوقت المبكر من عهد المسلمين بالتأليف والتدوين العلمي.

وإذا كانت مؤلفات عروة بن الزبير لم تصل إلينا، فقد حفظت لنا المصادر الباقية لدينا، الكثير من المادة العلمية والروايات التي كان مصدرها عروة، ففي سيرة ابن إسحاق ومغازي الواقدي وطبقات ابن سعد وتاريخ الطبري روايات كثيرة عن أحداث سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم ومغازيه عن عروة بن الزبير، وقد توفي رحمه الله تعالى سنة 94هـ2.

--------------------------------------------

1 الطبقات الكبرى جـ5 ص133.

2 انظر ترجمة عروة في المصدر السابق جـ5 ص 178- 182.
যখন রাজনীতি তাঁকে ইলম অর্জন থেকে বিমুখ করে দিয়েছিল যখন তিনি খলিফা হয়েছিলেন, এবং প্রতীয়মান হয় যে উরওয়াহ সীরাত ও অন্যান্য বিষয়ে অনেক কিতাব রচনা করেছিলেন। এমতাবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য সংবাদ রয়েছে যা ইবনে সাদ ১ হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর পিতা হাররার দিনে—অর্থাৎ ৬৩ হিজরিতে মদিনার বিপ্লবী ও উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বাহিনীর মধ্যে সংঘটিত হাররার যুদ্ধের দিনে—বেশ কিছু কিতাব পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেগুলো হারিয়ে ফেলার কারণে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন। এই সংবাদটি মুসলিমদের বৈজ্ঞানিক সংকলন ও গ্রন্থ রচনার যুগের সেই প্রাথমিক সময়ে লেখালেখি ও গ্রন্থ রচনার প্রসারের প্রমাণ দেয়।

যদিও উরওয়াহ ইবনে জুবায়েরের রচিত গ্রন্থসমূহ আমাদের নিকট পৌঁছায়নি, তবুও আমাদের কাছে বিদ্যমান উৎসগুলো উরওয়াহ থেকে প্রাপ্ত অনেক জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান ও বর্ণনা সংরক্ষণ করেছে। ফলে ইবনে ইসহাকের সীরাত, ওয়াকিদির মাগাজি, ইবনে সাদের তাবাকাত এবং তাবারির ইতিহাসে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাতের ঘটনাবলি ও তাঁর যুদ্ধসমূহ সম্পর্কে উরওয়াহ ইবনে জুবায়েরের সূত্রে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি ৯৪ হিজরিতে (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ইন্তেকাল করেন ২।

--------------------------------------------

১ আত-তাবাকাতুল কুবরা, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৩৩।

২ পূর্বোক্ত উৎসে উরওয়াহ-এর জীবনী দেখুন, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৭৮-১৮২।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
3-‌‌ شرحبيل بن سعد:

ثالث الثلاثة في الطبقة الأولى من كتاب السيرة المدنيين، وهو مولى بني خطمة، نشأ في المدينة، وتلقى عن جمع من الصحابة؛ منهم زيد بن ثابت وأبو هريرة، وأبو سعيد الخدري، وغيرهم من كبار الصحابة1. وروي عن سفيان بن عيينة أنه لم يكن أحد أعلم بالمغازي والبدريين منه، وبرهن موسى بن عقبة أن شرحبيل دوَّن قوائم بأسماء المهاجرين إلى المدينة، وأسماء الرجال الذين اشتركوا في غزوتي بدر وأحد2. وقد امتد العمر بشرحبيل؛ حيث توفي عام 123هـ.

--------------------------------------------

1 انظر الطبقات الكبرى لابن سعد جـ5 ص310 وفيها ترجمة لشرحبيل بن سعد.

2 انظر كتاب: المغازي الأولى ومؤلفوها. ليوسف هوروفيتش. ترجمة د/ حسين نصار.
৩-‌‌ শুরাহবিল বিন সাদ:

মাদানি সিরাত রচয়িতাদের প্রথম স্তরের তিনজনের মধ্যে তৃতীয় জন, এবং তিনি বনু খাতমার মুক্তদাস ছিলেন। তিনি মদিনায় বেড়ে ওঠেন এবং একদল সাহাবীর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যায়েদ বিন সাবিত, আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ আল-খুদরি এবং আরও অনেক বড় বড় সাহাবী ১। সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যুদ্ধসমূহ (মাগাজি) এবং বদরি সাহাবীদের সম্পর্কে তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী আর কেউ ছিলেন না। মুসা বিন উকবা প্রমাণ করেছেন যে, শুরাহবিল মদিনায় হিজরতকারী মুহাজিরদের নামের তালিকা এবং বদর ও উহুদ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের নামের তালিকা লিপিবদ্ধ করেছিলেন ২। শুরাহবিল দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন; তিনি ১২৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন ইবনে সা'দ রচিত আল-তাবাকাত আল-কুবরা, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩১০, যেখানে শুরাহবিল বিন সাদের জীবনী বর্ণিত হয়েছে।

২ দেখুন বই: আল-মাগাজি আল-উলা ওয়া মুআল্লিফুহা। লেখক: জোসেফ হোরোভিটজ। অনুবাদ: ডক্টর হুসাইন নাসসার।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
4-‌‌ وهب بن منبه:

يعتبر وهب بن منبه من رجال الطبقة الأولى من كتاب المغازي والسير وهو من مواليد اليمن، فقد ولد في قرية تسمى زمار بجوار صنعاء حوالي سنة 34هـ. وهو من هذه الناحية -ناحية النشأة والميلاد - يختلف عن الرجال الثلاثة الذين سبق الحديث عنهم، فكلهم مدنيون، نشأوا في مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم ومعنى هذا الاهتمام بالمغازي والسير لم يعد مقصورًا على أهل المدينة وحدهم، بل أصبح الاشتغال بها موضع اهتمام من العلماء في كل الأقطار الإسلامية. ويختلف مؤرخو وهب بن منبه حول نسبه؛ فمنهم من يرى أنه من أصل يهودي، ومنهم من يرى -وهو الأرجح- أنه من أصل فارسي؛ أي من الفرس الذين سكنوا اليمن في فترة السيطرة الفارسية وسموا بالأبناء، ولكن الأهم من هذا كله أنه قد نشأ في أسرة مسلمة، اشتهر معظم رجالها بالعلم، وكانوا أهل ثقة عند العلماء1، وقد تأثر وهب بالجو العلمي الذي كان يحيط به في أسرته، وروى عن طائفة من الصحابة؛ منهم أبو هريرة، وعبد الله بن عمر بن الخطاب، وعبد الله بن عباس، وأبو سعيد الخدري، وجابر بن عبد الله وغيرهم، وعنده من علم أهل الكتاب شيء كثير، وحديثه في الصحيحين عن أخيه همام بن منبه، وكان ثقة واسع العلم2. ويعتبر من العلماء الموسوعيين، الذين تناولوا موضوعات شتى، فقد كانت له عناية واهتمام بأحاديث أهل الكتاب الذين كثر عددهم في جنوب بلاد العرب، وهو من الثقات المعتمدين خاصة في

--------------------------------------------

1 انظر طبقات ابن سعد ج5، ص543، وتذكرة الحفاظ للذهبي، ج1، ص100 وفيهما ترجمة لوهب.

2 تذكرة الحفاظ، ج1، ص100- 101.
৪-‌‌ ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ:

ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং সিরত (জীবনী) লেখকদের প্রথম স্তরের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত। তিনি ইয়েমেনে জন্মগ্রহণ করেন; সানআর নিকটবর্তী যামার নামক গ্রামে আনুমানিক ৩৪ হিজরি সনে তার জন্ম হয়। লালন-পালন ও জন্মস্থানের দিক থেকে তিনি পূর্বে আলোচিত তিনজন ব্যক্তির চেয়ে ভিন্ন; কারণ তাঁরা সবাই ছিলেন মদিনাবাসী এবং তাঁরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহরে বেড়ে উঠেছিলেন। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, মাগাজি ও সিরতের প্রতি গুরুত্বারোপ কেবল মদিনাবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর চর্চা সকল ইসলামি ভূখণ্ডের আলেমদের নিকট আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহের বংশপরিচয় নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; তাঁদের কেউ কেউ মনে করেন তিনি ইহুদি বংশোদ্ভূত, আবার কারো কারো মতে—যা অধিকতর গ্রহণযোগ্য—তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত। অর্থাৎ তিনি সেই সব পারসিকদের বংশধর যারা পারস্য শাসনের সময় ইয়েমেনে বসবাস শুরু করেছিলেন এবং যাদের 'আল-আবনা' বলা হতো। তবে এসবের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি একটি মুসলিম পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যার অধিকাংশ পুরুষ সদস্যই ইলম বা জ্ঞানের জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং আলেমদের নিকট তাঁরা নির্ভরযোগ্য ছিলেন। ওয়াহাব তার পরিবারের এই ইলমি পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি সাহাবিদের একটি দলের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু হুরায়রা, আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবু সাঈদ আল-খুদরি, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ প্রমুখ। আহলে কিতাবদের জ্ঞান সম্পর্কেও তার প্রভূত দখল ছিল। সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ তার ভাই হাম্মাম বিন মুনাব্বিহের সূত্রে তার বর্ণনা রয়েছে। তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি সেই সব বিশ্বকোষীয় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চর্চা করেছেন। দক্ষিণ আরবে বসবাসকারী আহলে কিতাবদের বর্ণনাগুলোর প্রতি তার বিশেষ মনোযোগ ও আগ্রহ ছিল। তিনি বিশেষত নির্ভরযোগ্য ও আস্থাভাজনদের অন্তর্ভুক্ত...

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাবাকাতে ইবনে সাদ, ৫ম খণ্ড, ৫৪৩ পৃষ্ঠা; এবং জাহাবির তাযকিরাতুল হুফফাজ, ১ম খণ্ড, ১০০ পৃষ্ঠা; এই উভয় গ্রন্থে ওয়াহাবের জীবনী রয়েছে।

২ তাযকিরাতুল হুফফাজ, ১ম খণ্ড, ১০০-১০১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
قصص الأنبياء1. ويرجح أنه كتب كثيرًا في المغازي والسير، مما جعل العلماء يضعونه بين رجال الطبقة الأولى من علماء هذا الفن. ويوجد في مجموعة البرديات الموجودة في مدينة هيدلبرج في ألمانيا مجلد، يقول عنه بيكر: إنه يرجح أنه يحتوي على قطعة من كتاب المغازي لوهب بن منبه، وتاريخ نسخ هذه القطعة عام 228 هـ، وفيها معلومات عن بيعة العقبة الكبرى، وحديث قريش في دار الندوة -الذي قرروا فيه قتل النبي صلى الله عليه وسلم والاستعداد للهجرة نفسها، ووصول النبي صلى الله عليه وسلم إلى المدينة2.

وهكذا أسهم وهب بن منبه إسهامًا طيبًا في إثراء حركة التأليف في المغازي والسير وعاش حياة علمية ثرية حتى توفاه الله سنة 110هـ.

--------------------------------------------

1 المغازي الأولى ومؤلفوها. مرجع سبق ذكره ص30- 31.

2 انظر المرجع السابق ص34- 35.
নবীদের কাহিনী১। এবং প্রবল ধারণা করা হয় যে, তিনি মাগাযি (যুদ্ধাভিযান) ও সিয়ার (জীবনী) বিষয়ে প্রচুর লিখেছেন, যা আলেমদের নিকট তাকে এই শাস্ত্রের প্রথম স্তরের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরে সংরক্ষিত প্যাপিরাস সংগ্রহে একটি খণ্ড রয়েছে, যার সম্পর্কে বেকার বলেন: এটি সম্ভবত ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ-এর 'কিতাবুল মাগাযি'-এর একটি অংশ। এই অংশটি অনুলিপির তারিখ হচ্ছে ২২৮ হিজরি। এতে বাইয়াতে আকাবায়ে কুবরা (আকাবায় দ্বিতীয় শপথ), দারুন নদওয়ায় কুরাইশদের আলোচনা—যেখানে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—হিজরতের প্রস্তুতি এবং মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পৌঁছানোর বিষয়ে তথ্য রয়েছে২।

এভাবেই ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ মাগাযি ও সিয়ার বিষয়ক রচনা আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করতে এক অনবদ্য অবদান রেখেছেন এবং ১১০ হিজরিতে আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত এক সমৃদ্ধ জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন অতিবাহিত করেছেন।

--------------------------------------------

১ প্রাথমিক মাগাযি এবং এর লেখকগণ। পূর্বে উল্লেখিত সূত্র পৃষ্ঠা ৩০-৩১।

২ পূর্বোক্ত সূত্র দেখুন, পৃষ্ঠা ৩৪-৩৫।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌رجال الطبقة الثانية من كتاب المغازى والسير

‌‌مدخل

…

رجال الطبقة الثانية من كتاب المغازي والسير:

لا يعني تقسيم علماء المغازي والسير إلى طبقات؛ أولى وثانية وثالثة.. إلخ، أنه لا تبدأ الطبقة الثانية إلا إذا انتهت الطبقة الأولى؛ لأنه ليس هناك حد زمني فاصل بين هذه الطبقات، فالعلم متصل، وحلقاته ممتدة ومستمرة، وأجيال العلماء متداخلة، وربما يكون الواحد منهم تلميذًا وأستاذًا في نفس الوقت، بل المقصود من هذا التقسيم، تمييز رجال كل مرحلة عن التي سبقتها والتي تلتها. وكلما امتد الزمن اتسعت دائرة العلم وزاد عدد العلماء وتلاميذهم؛ ولذلك سنجد في هذه الطبقة الثانية، حشدًا كبيرًا من علماء المغازي والسير ذوي المكانة العلمية الرفيعة، خاصة في مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم.

ويكفي أن نلقي نظرة على سيرة ابن إسحاق -الذي سنخصه بحديث مفصل في هذا الكتيب؛ لتميزه وإمامته في ميدان السيرة النبوية -والتي جاءتنا عن طريق عبد الملك بن هشام برواية زياد بن عبد الله البكائي، ليعرف مدى الحجم الذي وصل إليه عدد العلماء، وكيف كان اهتمام هذا الجيل بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم فابن إسحاق يروي مباشرة بطريق المشافهة، عن أكثر من مائة راوٍ من علماء المدينة، وكلهم يروي عنه بقوله: حدثني فلان، أو أخبرني فلان، أو سألت
মাগাজি ও সীরাত শাস্ত্রের দ্বিতীয় স্তরের ব্যক্তিবর্গ

‌ভূমিকা

…

মাগাজি ও সীরাত শাস্ত্রের দ্বিতীয় স্তরের ব্যক্তিবর্গ:

মাগাজি ও সীরাত শাস্ত্রের আলিমদের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ইত্যাদি স্তরে বিভক্ত করার অর্থ এই নয় যে, প্রথম স্তর শেষ না হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় স্তর শুরু হবে না; কারণ এই স্তরগুলোর মাঝে কোনো নির্দিষ্ট সময়গত বিভাজন রেখা নেই। বরং ইলম বা জ্ঞান একটি অবিচ্ছিন্ন ধারা, যার বলয়গুলো সম্প্রসারিত ও চলমান এবং আলিমদের প্রজন্মগুলো একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। হতে পারে তাঁদের কেউ একই সাথে ছাত্র এবং শিক্ষক। বরং এই বিভাজনের উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ থেকে পৃথক করা। সময়ের পরিক্রমায় ইলমের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং আলিম ও তাঁদের ছাত্রদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে; আর একারণেই আমরা এই দ্বিতীয় স্তরে মাগাজি ও সীরাত শাস্ত্রের সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আলিমদের এক বিশাল সমাবেশ দেখতে পাই, বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহর মদিনায়।

ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থের ওপর দৃষ্টিপাত করাই যথেষ্ট—যার সম্পর্কে আমরা এই পুস্তিকায় বিস্তারিত আলোচনা করব; সীরাত শাস্ত্রের ময়দানে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও ইমামতের কারণে—যা যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ আল-বুক্কায়ীর বর্ণনায় আব্দুল মালিক বিন হিশামের মাধ্যমে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে আলিমদের সংখ্যার ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের প্রতি এই প্রজন্মের আগ্রহ কেমন ছিল তাও জানা যায়। ইবনে ইসহাক সরাসরি মৌখিকভাবে মদিনার একশোরও বেশি আলিম রাবীর কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি এভাবে বর্ণনা করেছেন: 'অমুক আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন' অথবা 'অমুক আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' অথবা 'আমি জিজ্ঞাসা করেছি...'
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
فلانًا فأخبرني، فبالإضافة إلى أستاذه الأكبر محمد بن مسلم بن شهاب الزهري، نجده يروي عن عدد كبير من العلماء، كثيرون منهم من أسرة واحدة؛ مثل آل الزبير ومواليهم، فهو يروي عن هشام بن عروة بن الزبير، وعن يحيى بن عروة بن الزبير، وعن عمر بن عبد الله بن الزبير، وعن محمد بن جعفر بن الزبير وعن يحيى بن عباد بن عبد الله بن الزبير، وعن يزيد بن رومان، مولى عروة بن الزبير، وغيره من مواليهم، ورواية ابن إسحاق عن هشام بن عروة عن أبيه، أو عن الزهري عن عروة بن الزبير، لها قيمتها الكبرى من ناحية التوثيق العلمي؛ فهي مرفوعة في أغلب الأحوال إلى السيدة عائشة، أم المؤمنين رضي الله عنها وإذا رفعت الرواية عن الثقات، عن سيرة الرسول صلى الله عليه وسلم إلى السيدة عائشة، كانت هي الصدق بعينه، كذلك يروي ابن إسحاق عن نافع مولى عبد الله بن عمر بن الخطاب، وعن عاصم بن عمر بن قتادة الأنصاري، وعن عبد الله بن أبي بكر بن حزم الأنصاري، وعن أبيه إسحاق بن يسار. ورجال هذه الطبقة -الثانية- من علماء المغازي والسير، هم أساتذة محمد ابن إسحاق وشيوخه المباشرون، ولكثرة عددهم؛ فمن الصعب الحديث عنهم كلهم في حيز هذا الكتيب، ولذلك سنقصر الحديث على أشهرهم وأكثرهم تأثرًا في إثراء حركة التأليف في ميدان المغازي والسير، ويأتي على رأس القائمة:
অমুক ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন; তাঁর প্রধান উস্তাদ মুহাম্মাদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আয-যুহরী ছাড়াও আমরা দেখতে পাই যে, তিনি বিপুল সংখ্যক আলিমের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের অনেকেরই সম্পর্ক একটি বিশেষ পরিবারের সাথে; যেমন আলে যুবাইর ও তাঁদের আযাদকৃত দাসগণ। তিনি বর্ণনা করেছেন হিশাম বিন উরওয়াহ বিন আল-যুবাইর, ইয়াহইয়া বিন উরওয়াহ বিন আল-যুবাইর, উমর বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-যুবাইর, মুহাম্মাদ বিন জা'ফর বিন আল-যুবাইর এবং ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-যুবাইর থেকে। এছাড়া তিনি উরওয়াহ বিন আল-যুবাইরের আযাদকৃত দাস ইয়াযীদ বিন রুমান এবং তাঁদের অন্যান্য আযাদকৃত দাসদের থেকেও বর্ণনা করেছেন। বৈজ্ঞানিক প্রামাণিকতার দিক থেকে হিশাম বিন উরওয়াহর মাধ্যমে তাঁর পিতা থেকে, অথবা যুহরীর মাধ্যমে উরওয়াহ বিন আল-যুবাইর থেকে ইবনে ইসহাকের বর্ণনার অত্যন্ত বড় গুরুত্ব রয়েছে; কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়। আর যখন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সীরাত সম্পর্কিত কোনো বর্ণনা হযরত আয়েশা পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন তা অকাট্য সত্য হিসেবেই গণ্য হয়। অনুরূপভাবে ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাবের আযাদকৃত দাস নাফে' থেকে, আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ আল-আনসারী থেকে, আব্দুল্লাহ বিন আবি বকর বিন হাযম আল-আনসারী থেকে এবং তাঁর পিতা ইসহাক বিন ইয়াসার থেকে। মাগাযী ও সীরাত শাস্ত্রের আলিমদের এই দ্বিতীয় স্তরের ব্যক্তিবর্গই হলেন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাকের উস্তাদ এবং তাঁর প্রত্যক্ষ শায়খ। তাঁদের বিপুল সংখ্যার কারণে এই ছোট পুস্তিকার পরিসরে তাঁদের সকলের সম্পর্কে আলোচনা করা কঠিন। তাই আমরা কেবল তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ এবং মাগাযী ও সীরাত শাস্ত্রের গ্রন্থ রচনা আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে যাঁদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল, তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব। আর এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন:
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
1-‌‌ محمد بن مسلم بن شهاب الزهري 1:

ينتسب الزهري إلى بني زهرة، وهم أخوال النبي صلى الله عليه وسلم وهو من كبار التابعين وأعلامهم، ويعتبر من أعظم مؤرخي المغازي والسير، وإليه يرجع الفضل في تأسيس مدرسة المدينة التاريخية، إلى جانب كونه من كبار الفقهاء والمحدثين. وقد رأى الزهري عشرة من الصحابة، وتتلمذ على كبار علماء التابعين وأعلامهم، ومنهم سعيد بن المسيب، وعروة بن الزبير، وأبو سلمة بن عبد الرحمن بن عوف، وعبيد الله بن عبد الله بن عتبة وهؤلاء هم الذين كان الزهري يعتبرهم بحور قريش في العلم.

وروى عن الزهري جماعة من العلماء الأئمة الأعلام، يأتي في مقدمتهم فقيه المدينة وعالمها الأشهر -الذي قيل عنه: لا يفتى ومالك في المدينة- مالك بن أنس الأصبحي، وسفيان بن عيينة، وسفيان الثوري، وقد ذاع صيت الزهري، وأصبحت له مكانة علمية رفيعة في أوساط العلماء، فقد سئل مكحول الدمشقي: من أعلم من رأيت؟ فقال: ابن شهاب. قيل له: ثم من؟ قال: ابن شهاب. قيل له: ثم من؟ قال: ابن شهاب؛ كان قد حفظ علم الفقهاء السبعة -يقصد فقهاء المدينة المشهورين. وكتب عمر بن عبد العزيز وهو خليفة -إلى

--------------------------------------------

1 انظر ترجمة الزهري في وفيات الأعيان لابن خَلِّكَان، جـ4 ص177 وما بعدها، وفي تهذيب التهذيب لابن حجر العسقلاني، جـ9، ص448 وما بعدها.
১-‌‌ মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আয-যুহরী ১:

আয-যুহরী বনু যুহরা গোত্রের সাথে সম্পৃক্ত, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতুল বংশ। তিনি প্রবীণ ও প্রসিদ্ধ তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁকে মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) এবং সীরাত (জীবনী) শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক মনে করা হয়। মদীনার ঐতিহাসিক ইলমী ঘরানা (মাদরাসা) প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব তাঁরই, পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ ফকীহ ও মুহাদ্দিস। আয-যুহরী দশজন সাহাবীকে দেখেছিলেন এবং তিনি প্রবীণ ও বিদগ্ধ তাবেয়ী আলেমদের নিকট ইলম অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, উরওয়াহ ইবনুল যুবায়ের, আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এবং উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবাহ। এঁদেরকেই আয-যুহরী ইলমের ক্ষেত্রে কুরাইশদের সমুদ্র মনে করতেন।

একদল ইমাম ও বরেণ্য আলেম আয-যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন মদীনার ফকীহ এবং সবচেয়ে প্রসিদ্ধ আলেম—যাঁর সম্পর্কে বলা হতো: "মদীনায় মালিকের উপস্থিতিতে ফতোয়া দেওয়া হবে না"—অর্থাৎ মালিক ইবনে আনাস আল-আসবাহী, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এবং সুফিয়ান আল-সাওরী। আয-যুহরীর খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং আলেমদের মাঝে তাঁর এক সুউচ্চ ইলমী মর্যাদা তৈরি হয়েছিল। মাকহুল আদ-দিমাশকী-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "আপনি যাঁদের দেখেছেন তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আলেম কে?" তিনি বললেন: "ইবনে শিহাব"। তাঁকে বলা হলো: "তারপর কে?" তিনি বললেন: "ইবনে শিহাব"। তাঁকে আবার বলা হলো: "তারপর কে?" তিনি বললেন: "ইবনে শিহাব"; তিনি মদীনার বিখ্যাত সাতজন ফকীহর ইলম আত্মস্থ করেছিলেন। খলীফা থাকাকালীন ওমর বিন আব্দুল আজিজ লিখেছিলেন—

--------------------------------------------

১. আয-যুহরীর জীবনবৃত্তান্তের জন্য দেখুন ইবনে খাল্লিকানের 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান', ৪র্থ খণ্ড, ১৭৭ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ; হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানীর 'তাহযীবুত তাহযীব', ৯ম খণ্ড, ৪৪৮ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
سائر الأقاليم: "علكيم بابن شهاب، فإنكم لا تجدون أحدًا أعلم بالسنة الماضية منه"1. فعمر بن عبد العزيز -وهو من هو- لا يقول مثل ذلك الكلام عن ابن شهاب إلا إذا كان الرجل -فعلًا- يستحق هذا الثناء من الخليفة العالم، بما بلغ من مكانة علمية. والحق أن ابن شهاب كان موضع احترام وإجلال خلفاء بني أمية، لأنه إلى جانب تبحره في العلوم، كان يحترم نفسه، ولم يداهن في الحق2.

وقد امتاز محمد ابن شهاب الزهري عن معاصريه بكثرة الكتابة والتدوين واقتناء الكتب. وكان إذا جلس في بيته بين كتبه اشتغل بها عن كل شيء سواها من أمور الدنيا، حتى يروى أن امرأته كانت تقول له: "إن هذه الكتب أشد عليَّ من ثلاث ضرائر"3. لاشتغاله بها عنها.

وكان اهتمام الزهري بالكتابة والتدوين هو الذي مكنه من نشر علمه، وبوأه تلك المكانة العلمية الرفيعة التي حظي بها في أوساط العلماء، وفي بلاط الخلفاء ومجالسهم وكان هو شديد الفخر بذلك، وروي عنه أنه كان يقول: "ما نشر أحد من الناس هذا العلم نشري، ولا بذله بذلي". ولقد ضاع ما كتبه ودونه الزهري بنفسه، ولم يصل

--------------------------------------------

1 انظر وفيات الأعيان، ج4، ص177.

2 انظر المغازي الأولى ومؤلفوها، ص58.

3 انظر وفيات الأعيان، ج4، ص177.
অন্যান্য সকল অঞ্চলের প্রতি (তাঁর নির্দেশ ছিল): "তোমরা ইবনে শিহাবকে (অনুসরণ করা) আবশ্যক করে নাও, কারণ তোমরা বিগত সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে পাবে না।"১। উমর বিন আব্দুল আজিজ—যিনি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন—ইবনে শিহাব সম্পর্কে এমন কথা তখনই বলেছেন যখন সেই ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে তাঁর অর্জিত ইলমি মর্যাদার কারণে এই আলেম খলিফার পক্ষ থেকে এই প্রশংসার যোগ্য ছিলেন। সত্য কথা হলো, ইবনে শিহাব বনী উমাইয়া খলিফাদের শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র ছিলেন; কারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্যের পাশাপাশি তিনি নিজের আত্মসম্মান বজায় রাখতেন এবং সত্যের ব্যাপারে কোনো প্রকার তোষামোদ করতেন না।২।

মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আল-জুহরি তাঁর সমসাময়িকদের তুলনায় প্রচুর লেখালেখি, সংকলন এবং কিতাব সংগ্রহের মাধ্যমে বিশিষ্টতা অর্জন করেছিলেন। তিনি যখন তাঁর বাড়িতে নিজের কিতাবসমূহের মাঝে বসতেন, তখন দুনিয়াবি অন্যান্য সকল বিষয় ছেড়ে সেগুলোতে মগ্ন থাকতেন। এমনকি বর্ণিত আছে যে, তাঁর স্ত্রী তাঁকে বলতেন: "নিশ্চয়ই এই কিতাবগুলো আমার কাছে তিনজন সতীনের চেয়েও অধিক কষ্টদায়ক।"৩। কারণ তিনি স্ত্রীর চেয়ে কিতাব নিয়েই অধিক মগ্ন থাকতেন।

লেখালেখি ও সংকলনের প্রতি জুহরির এই বিশেষ গুরুত্বই তাঁকে তাঁর জ্ঞান প্রচার করার সক্ষমতা দান করেছিল এবং তাঁকে সেই উচ্চ ইলমি মর্যাদায় আসীন করেছিল যা তিনি আলেমদের মাঝে এবং খলিফাদের দরবার ও মজলিসসমূহে লাভ করেছিলেন। তিনি এই বিষয়ে অত্যন্ত গর্ব বোধ করতেন এবং তাঁর থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলতেন: "মানুষের মধ্যে কেউ এই জ্ঞানকে আমার মতো করে প্রচার করেনি এবং আমার মতো করে বিলিয়ে দেয়নি।" জুহরি নিজে যা লিখেছিলেন এবং সংকলন করেছিলেন তা হারিয়ে গেছে এবং (পরবর্তী প্রজন্মের কাছে) পৌঁছায়নি...

--------------------------------------------

১ দেখুন ওফায়াতুল আইয়ান, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭৭।

২ দেখুন আল-মাগাযী আল-উলা ওয়া মুয়াল্লিফুহা, পৃষ্ঠা ৫৮।

৩ দেখুন ওফায়াতুল আইয়ান, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭৭।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
إلينا كما هو. ولولا ما بقي لنا من علمه مما رواه تلامذته -وبصفة خاصة أشهرهم وأنبغهم محمد بن إسحاق -لكانت خسارتنا فادحة، فإلى ابن إسحاق يرجع الفضل الأكبر في حفظ علم أستاذه الزهري، فهو الذي أوصله إلينا، لأنه كانت تربطه بأستاذه علاقة متينة قائمة على الحب والاحترام، ومما دل على قوة تلك العلاقة ومتانتها، ورفعة مكانة ابن إسحاق عند أستاذه وثقته فيه، أنه كان يعتبره مرجعه الأول في كل ما يتعلق بسيرة الرسول صلى الله عليه وسلم مما يحصل عليه من معلومات من طرق أخرى ليتثبت من صحتها. فعندما زار ابن إسحاق مصر، والتقى بعالمها الكبير يزيد بن أبي حبيب، وروى عنه العلم، أرسل إلى أستاذه الزهري، ليتثبت من صحة بعض الروايات، وذلك من أمثال القصة التالية؛ فقد قال ابن إسحاق نفسه: "حدثني يزيد بن أبي حبيب المصري أنه وجد كتابًا فيه ذكر من بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى البلدان، وملوك العرب والعجم، وما قال لأصحابه حين بعثهم، قال -ابن إسحاق: فبعثت به إلى محمد ابن شهاب الزهري فعرفه"1. واسم الزهري هو الأشهر والأكثر ذكرًا في سيرة ابن إسحاق، وكثيرًا ما يعبر فيما يتعلق بروايته عن الزهري، بقوله: حدثني محمد بن مسلم بن شهاب الزهري، وأحيانًا يقول: حدثني الزهري فقط، أو حدثني ابن شهاب، أو سألت ابن شهاب الزهري، إلى غير ذلك من التعابير.

وكان الزهري -الذي توفي سنة 124هـ- عدد آخر من التلاميذ غير ابن إسحاق، وإن كانوا أقل شهرة من ابن إسحاق، ومنهم موسى بن عقبة المتوفى حوالي عام 141هـ. ومعمر بن راشد المتوفى حوالي عام 154هـ وهما من رجال الطبقة الثالثة ومن كبار علماء المغازي والسير.

--------------------------------------------

1 سيرة ابن هشام، ج4، ص299.
আমাদের নিকট যেভাবে রয়েছে। তাঁর ইলম হতে যা অবশিষ্ট রয়েছে—বিশেষ করে তাঁর ছাত্রবৃন্দের মাধ্যমে যা বর্ণিত হয়েছে, এবং বিশেষভাবে তাদের মাঝে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও মেধাবী মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের মাধ্যমে—তা যদি না থাকত, তবে আমাদের ক্ষতি হতো অপূরণীয়। তাঁর উস্তাদ যুহরীর ইলম সংরক্ষণে ইবনে ইসহাকের কৃতিত্বই সবচেয়ে বেশি, কারণ তিনিই তা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর উস্তাদের সাথে তাঁর গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে একটি সুদৃঢ় সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের গভীরতা ও দৃঢ়তা এবং তাঁর উস্তাদের নিকট ইবনে ইসহাকের উচ্চ মর্যাদা ও তাঁর প্রতি উস্তাদের আস্থার একটি প্রমাণ হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সম্পর্কিত অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করার জন্য যুহরী তাঁকেই প্রধান নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করতেন। যখন ইবনে ইসহাক মিশর সফর করেন এবং সেখানের প্রখ্যাত আলেম ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করেন, তখন কিছু বর্ণনার সঠিকতা যাচাই করার জন্য তিনি তাঁর উস্তাদ যুহরীর নিকট পাঠান। এর একটি উদাহরণ হলো নিচের ঘটনাটি; ইবনে ইসহাক নিজেই বলেন: "মিশরীয় ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এমন একটি কিতাব পেয়েছেন যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন দেশে এবং আরব ও অনারবদের রাজাদের কাছে যাদেরকে পাঠিয়েছিলেন তাঁদের উল্লেখ রয়েছে এবং তাঁদের পাঠানোর সময় তিনি তাঁর সাহাবীদের যা বলেছিলেন তাও বর্ণিত আছে। ইবনে ইসহাক বলেন: আমি সেটি মুহাম্মদ ইবনে শিহাব যুহরীর কাছে পাঠিয়েছিলাম এবং তিনি তা চিনতে পেরেছিলেন।"১। ইবনে ইসহাকের সীরাতে যুহরীর নামই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ এবং সর্বাধিকবার উল্লিখিত হয়েছে। যুহরীর বর্ণনা সম্পর্কে তিনি প্রায়ই এই শব্দগুলো ব্যবহার করতেন: "মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব যুহরী আমাকে বর্ণনা করেছেন," আবার কখনও বলতেন: "কেবল যুহরী আমাকে বর্ণনা করেছেন," অথবা "ইবনে শিহাব আমাকে বর্ণনা করেছেন," অথবা "আমি ইবনে শিহাব যুহরীকে জিজ্ঞেস করেছি," ইত্যাদি অভিব্যক্তি।

যুহরী—যিনি ১২৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন—তাঁর ইবনে ইসহাক ছাড়াও আরও বেশ কিছু ছাত্র ছিল, যদিও তাঁরা ইবনে ইসহাকের তুলনায় কম প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মূসা ইবনে উকবা (মৃত্যু আনুমানিক ১৪১ হি.) এবং মা’মার ইবনে রাশিদ (মৃত্যু আনুমানিক ১৫৪ হি.)। তাঁরা উভয়েই তৃতীয় স্তরের এবং মাগাযী ও সীরাত শাস্ত্রের বরেণ্য আলেমদের অন্যতম।

--------------------------------------------

১. সীরাতে ইবনে হিশাম, ৪র্থ খণ্ড, ২৯৯ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আওয়াইলুল মুআল্লিফীন ফিস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
2-‌‌ عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم الأنصاري 1:

من علماء الطبقة الثانية من مؤلفي المغازي والسير، وهو مدني -أي من أهل المدينة- وكان جده الأعلى عمرو ابن حزم أحد صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد ولاه الرسول على نجران، وكتب له كتابًا حين بعثه، أمره فيه بتقوى الله في أمره كله، ثم أمره بقبض الصدقات وتوزيعها على مستحقيها، وأن يعلمهم القرآن والسنة ويفقههم في الدين. أما جده المباشر، محمد بن عمرو فقد قيل: إن له رؤية - أي رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم وتوفي عام 63هـ أما أبوه أبو بكر فقد ولي قضاء المدينة المنورة أثناء ولاية عمر بن عبد العزيز عليها من سنة 87 إلى سنة 93هـ. وذلك في خلافة الوليد بن عبد الملك

--------------------------------------------

1 انظر ترجمته في سير أعلام النبلاء للذهبي، ج5، ص314.
২-‌‌ আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাযম আল-আনসারী ১:

তিনি মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) এবং সীরাহ (জীবনী) রচয়িতাদের দ্বিতীয় স্তরের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন মাদানী—অর্থাৎ মদিনাবাসীদের একজন—তাঁর ঊর্ধ্বতন পিতামহ আমর ইবনে হাযম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম সাহাবী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ তাকে নাজরানের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন এবং তাকে পাঠানোর সময় একটি পত্র লিখে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি তাকে তার সকল কাজে আল্লাহকে ভয় করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি তাকে সাদাকাহ (যাকাত) সংগ্রহ ও তা হকদারদের মাঝে বন্টন করার এবং তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা দেওয়ার ও দ্বীনের গভীর জ্ঞান (ফেকাহ) দান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাঁর সরাসরি পিতামহ মুহাম্মদ ইবনে আমরের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছিলেন এবং ৬৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। আর তাঁর পিতা আবু বকর, ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালিকের খিলাফতকালে ৮৭ হিজরি থেকে ৯৩ হিজরি পর্যন্ত উমর ইবনে আবদুল আজিজের মদিনার গভর্নর থাকাকালীন সেখানে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

--------------------------------------------

১ আয-যাহাবীর সিয়ারু আলামিন নুবালা-তে তাঁর জীবনী দেখুন, ৫ খণ্ড, ৩১৪ পৃষ্ঠা।