(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফীমা ইযা কানা ফিল আবদি মাহাব্বাতুন লিমা হুয়া খাইরুন ওয়া হাক্কুন ওয়া মাহমুুদুন ফী নাফসিহি
(পৃষ্ঠা: -)
مسألة فيما إذا كان في العبد محبة لما هو خير وحق ومحمود في نفسه القسم: العقيدة
الكتاب: مسألة فيما إذا كان في العبد محبة لما هو خير وحق ومحمود في نفسه
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: د. محمد رشاد سالم
(من كتاب: دراسات عربية وإسلامية مهداة إلى محمود محمد شاكر)
سنة النشر: 1403هـ - القاهرة
عدد الصفحات: 8
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مقابل]
* أعده للمكتبة الشاملة: محمد المنصور
m_almansour@yahoo.com
25/7/1429هـ - 28/7/2008م
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বান্দার মধ্যে যা কল্যাণকর, সত্য এবং স্বয়ং প্রশংসনীয়, তার প্রতি ভালোবাসা থাকা সম্পর্কিত একটি মাসআলা বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: বান্দার মধ্যে যা কল্যাণকর, সত্য এবং স্বয়ং প্রশংসনীয়, তার প্রতি ভালোবাসা থাকা সম্পর্কিত একটি মাসআলা
লেখক: তকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসেম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)
সম্পাদক: ড. মুহাম্মদ রাশাদ সালেম
(গ্রন্থ থেকে সংকলিত: মাহমূদ মুহাম্মদ শাকিরের প্রতি উৎসর্গীকৃত আরবি ও ইসলামি গবেষণা)
প্রকাশকাল: ১৪০৩ হিজরি - কায়রো
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি মূলের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]
* মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ আল-মনসুর
m_almansour@yahoo.com
২৫/৭/১৪২৯ হিজরি - ২৮/৭/২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফীমা ইযা কানা ফিল আবদি মাহাব্বাতুন লিমা হুয়া খাইরুন ওয়া হাক্কুন ওয়া মাহমুুদুন ফী নাফসিহি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৫)
مسألة فيما إذا كان [في] العبد محبةبسم الله الرحمن الرحيم
***
بسم الله الرحمن الرحيم
فصل
فيما إذا كان في العبد محبة لما هو خير وحق ومحمود [في] نفسه، فهو يفعله لما فيه من المحبة له، لا لله، ولا لغيره من الشركاء، مثل أن يحب الإحسان إلى ذوي الحاجات، ويحب العفو عن أهل الجنايات، ويحب العلم والمعرفة وإدراك الحقائق، ويحب الصدق والوفاء بالعهد وأداء الأمانة وصلة الرحم، فإن هذا كثير غالب في الخلق في جاهليتهم وإسلامهم، في قوتي النفس العلمية والعملية، فإن أكثر طلاب العلم يطلبونه محبة، ولهذا قال أبو داود للإمام أحمد بن حنبل: طلبتَ هذا العلمَ - أو قال -: جمعته لله؟ فقال لله عزيز، ولكن حُبِّب إليَّ أمر ففعلته.
وهذ حال أكثر النفوس، فإن الله خلق فيها محبة للمعرفة والعلم وإدراك الحقائق، وقد يخلق فيها محبة للصدق والعدل والوفاء بالعهد، ويخلق فيها محبة للإحسان والرحمة للناس، فهو يفعل هذه الأمور: لا يتقرب بها إلى أحد من الخلق، ولا يطلب مدح أحدٍ ولا خوفًا من ذمِّه، بل لأن هذه الإدراكات والحركات يتنعَّم بها الحيُّ ويلتذُّ بها، ويجد بها فرحًا وسرورًا، كما يلتذ بمجرد سماع الأصوات الحسنة، وبمجرد رؤية الأشياء البَهِجَة، وبمجرد الرائحة الطيبة.
বান্দার অন্তরে ভালোবাসা বিদ্যমান থাকার বিষয়টিপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
***
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
পরিচ্ছেদ
সে বিষয়ে, যখন কোনো বান্দার মধ্যে এমন কিছুর প্রতি ভালোবাসা থাকে যা স্বয়ং কল্যাণকর, সত্য এবং প্রশংসনীয়; আর সে তা সম্পাদন করে কেবল তার প্রতি ভালোবাসার কারণেই—আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নয়, কিংবা অন্য কোনো অংশীদারের জন্যও নয়। উদাহরণস্বরূপ: অভাবগ্রস্তদের প্রতি ইহসান করাকে ভালোবাসা, অপরাধীদের ক্ষমা করাকে ভালোবাসা, জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও সত্যের প্রকৃত রূপ উপলব্ধি করাকে ভালোবাসা, এবং সত্যবাদিতা, অঙ্গীকার পূর্ণ করা, আমানত রক্ষা ও আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখাকে ভালোবাসা। এটি মানুষের জাহেলি ও ইসলামি উভয় অবস্থায় তাদের জ্ঞানগত ও কর্মগত উভয় শক্তির ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রবল ও ব্যাপক। অধিকাংশ জ্ঞান অন্বেষণকারী মূলত ভালোবাসার তাড়না থেকেই তা অন্বেষণ করে। এই কারণেই আবু দাউদ ইমাম আহমদ বিন হাম্বলকে বলেছিলেন: "আপনি কি এই ইলম অন্বেষণ করেছেন—অথবা বলেছিলেন—সংগ্রহ করেছেন আল্লাহর জন্য?" তখন তিনি বলেছিলেন: "আল্লাহর জন্য" বিষয়টি অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ, তবে একটি বিষয় আমার নিকট প্রিয় করা হয়েছিল, তাই আমি তা করেছি।
আর এটিই অধিকাংশ নফসের অবস্থা; কেননা আল্লাহ তাআলা নফসের মাঝে জ্ঞান, ইলম ও সত্যের স্বরূপ উপলব্ধির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। কখনো তার মধ্যে সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার ও অঙ্গীকার পালনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করেন, আবার কখনো মানুষের প্রতি ইহসান ও দয়া করার ভালোবাসা সৃষ্টি করেন। ফলে সে এই কাজগুলো করে: এর মাধ্যমে সে সৃষ্টির কারো নৈকট্য অর্জন করতে চায় না, কারো প্রশংসার প্রত্যাশা করে না এবং কারো নিন্দার ভয়ও করে না; বরং এই সকল উপলব্ধি ও কর্মের মাধ্যমে জীবন্ত সত্তা পরিতৃপ্তি ও স্বাদ লাভ করে এবং এর মাঝে আনন্দ ও উল্লাস খুঁজে পায়; যেমনটি সে নিছক সুন্দর শব্দ শ্রবণে, নয়নাভিরাম বস্তু দর্শনে এবং সুগন্ধ আঘ্রাণে স্বাদ অনুভব করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফীমা ইযা কানা ফিল আবদি মাহাব্বাতুন লিমা হুয়া খাইরুন ওয়া হাক্কুন ওয়া মাহমুুদুন ফী নাফসিহি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৬)
وكذلك يلتذ ويفرح ويتنعَّم بمعرفة نفسه للأشياء التي تُعرف بالباطن، ويلتذ أيضًا بشهود باطنه وإحساسه، كما يلتذ بشهود ظاهره وإحساسه، وكذلك يلتذ بما تعقله نفسه من الأمور الكلية التي تعقلها، وكذلك في أفعاله وحركاته، كما يلتذ بأكله وشربه ونكاحه، وكما يلتذ برحمته وإحسانه إلى أهل الحاجات من أقاربه وغير أقاربه، ويلتذ بالجود والإعطاء، ويلتذ بالعفو عن المسيء إليه وترك معاقبة المسيء، كما يُذكر عن المأمون أنه قال: لقد حُبِّبَ إليَّ العفو حتى إني أخاف ألا أثاب عليه.
فهذه مكارم الأخلاق التي تكون في بني آدم، كما كانت تكون في أهل البادية، فهذا الحس وهذه الحركة الإرادية يتنعَّم به الحي وينتفع به ويلتذ في الحال.
ولا يُقال: إن فعل ذلك لغير غرض ولا لجلب منفعة أو دفع مضرة، بل فيه جلب منفعة ودفع مضرة في نفسه، كما في نفس الآكل والشارب يستجلب به منفعة الشبع، ويستدفع به مضرة الجوع، فهكذا سائر هذه الأمور يدفع بها عن نفسه مضرات، ويستجلب لها بها لذات.
ولهذا يُقال: اشتفت نفسه، وشفيت صدري، فيجد شفاءً في صدره، كما يجد شفاءً في جسمه بزوال المرض وحصول العافية.
وهذه أمور محسوسة بالباطن والظاهر، وهي التي أدرك حسنها من قال: إن العقل يُقبِّح ويُحسِّن ومن قال: إن العلم بحسنها لِصفة قائمةٍ بها معقولةٍ: إما بالبديهة وإما بالنظر، أو معلومة بالشرع.
ولقد صدق في قوله: إن حسنها وقبحها لمعنى قام بها، وصدق أن ذلك قد يُدْرَك بالعقل وقد يدرك بالشرع.
وقد غلط الأول في نفيه أن يكون ذلك لما فيه من جلب منفعة إلى العبد ودفع مضرة راجعة إلى نفسه، وإن كان ذلك في الدار الآخرة أيضًا، فإن ذلك أمر محسوس.
والثاني غلط حيث اعتقد أن ذلك ليس لصفة في الفعل، وأن الحُسن والقُبح ليس إلا مجرد
একইভাবে সে এমন সব বিষয় সম্পর্কে তার নফসের জ্ঞানের মাধ্যমে আনন্দ, খুশি ও সুখ অনুভব করে যা অন্তরের মাধ্যমে জানা যায়। সে তার অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ও অনুভবের মাধ্যমেও আনন্দ পায়, যেমনটি সে তার বাহ্যিক পর্যবেক্ষণ ও অনুভবের মাধ্যমে আনন্দ পায়। একইভাবে তার নফস যে সকল সামষ্টিক বিষয় অনুধাবন করে তার মাধ্যমেও সে আনন্দিত হয়। তার কার্যাবলি ও নড়াচড়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ, যেমনটি সে তার আহার, পান ও দাম্পত্য মিলনের মাধ্যমে আনন্দ পায়। সে তার আত্মীয়-স্বজন ও অন্যদের মধ্য থেকে অভাবী লোকদের প্রতি তার দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমেও আনন্দ লাভ করে। সে বদান্যতা ও দানের মাধ্যমে আনন্দ পায় এবং অপরাধীকে ক্ষমা করা ও শাস্তি প্রদান বর্জন করার মাধ্যমে আনন্দ পায়, যেমনটি আল-মামুন সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন: "ক্ষমা আমার কাছে এতই প্রিয় হয়ে উঠেছে যে, আমি ভয় পাচ্ছি এর বিনিময়ে আমি কোনো সওয়াব পাব না।"
এগুলো হলো সেই সকল উন্নত চারিত্রিক গুণাবলি যা আদম সন্তানদের মধ্যে বিদ্যমান থাকে, যেমনটি মরুবাসীদের মধ্যেও ছিল। সুতরাং এই অনুভূতি ও এই স্বেচ্ছামূলক কর্মতৎপরতার মাধ্যমে প্রাণবান সত্তা সুখ লাভ করে, এর দ্বারা উপকৃত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আনন্দ পায়।
আর একথা বলা যাবে না যে, এই কাজ কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া অথবা কোনো উপকার লাভ কিংবা অপকার দূর করার জন্য করা হয় না; বরং এর মধ্যে তার নিজের জন্য উপকার লাভ ও অপকার দূর করার বিষয়টি বিদ্যমান থাকে। যেমন আহারকারী ও পানকারীর মনে তৃপ্তি লাভের মাধ্যমে উপকার অর্জনের উদ্দেশ্য থাকে এবং ক্ষুধার কষ্ট দূর করার মাধ্যমে অপকার প্রতিহত করার উদ্দেশ্য থাকে। একইভাবে অন্যান্য সকল বিষয়ের মাধ্যমে সে নিজের থেকে ক্ষতিসমূহ প্রতিহত করে এবং এর দ্বারা নিজের জন্য তৃপ্তি ও আনন্দসমূহ অর্জন করে।
একই কারণে বলা হয়: "তার নফস শান্ত হয়েছে," এবং "আমি আমার হৃদয়কে শান্ত করেছি।" ফলে সে তার হৃদয়ে এক প্রকার প্রশান্তি ও আরোগ্য অনুভব করে, যেমনটি সে রোগমুক্তি এবং সুস্থতা লাভের মাধ্যমে তার শরীরে আরোগ্য অনুভব করে।
এগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে অনুভূত বিষয়। যারা বলেন যে—বিবেক কোনো কিছুর ভালো ও মন্দ হওয়া নির্ধারণ করে, এবং যারা বলেন যে—কোনো বিষয়ের ভালো হওয়া সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয় তার সাথে সংশ্লিষ্ট এমন একটি গুণের মাধ্যমে যা বুদ্ধিগ্রাহ্য: হয় তা স্বতঃসিদ্ধভাবে অথবা পর্যালোচনার মাধ্যমে, অথবা তা শরীয়তের মাধ্যমে জানা যায়—তারা এই বিষয়গুলোর সৌন্দর্য অনুধাবন করেছেন।
তিনি তার এই বক্তব্যে সত্য বলেছেন যে: এগুলোর ভালো ও মন্দ হওয়া তার সাথে সম্পৃক্ত একটি অর্থের কারণে। আর তিনি এ বিষয়েও সত্য বলেছেন যে, তা কখনো বিবেকের মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়, আবার কখনো শরীয়তের মাধ্যমে অনুধাবন করা যায়।
প্রথম পক্ষ তাদের এই অস্বীকারের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন যে, এটি বান্দার জন্য উপকার অর্জন এবং তার নিজের দিকে প্রত্যাবর্তিত অপকার দূর করার জন্য নয়; যদিও বিষয়টি পরকালেও হয়ে থাকে। কেননা এটি একটি অনুভূত বিষয়।
দ্বিতীয় পক্ষ সেখানে ভুল করেছেন যেখানে তারা বিশ্বাস করেছেন যে, এটি কর্মের কোনো গুণের কারণে নয় এবং ভালো ও মন্দ হওয়া কেবল নিছক...
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফীমা ইযা কানা ফিল আবদি মাহাব্বাতুন লিমা হুয়া খাইরুন ওয়া হাক্কুন ওয়া মাহমুুদুন ফী নাফসিহি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৭)
إضافة الفعل إلى الأمر والنهي، فأصاب بعض الإصابة في كونه جعل ذلك من الملاءمة للطبع والمنافرة عنه، ومن باب كمال المتصف بذلك ونقصه، ولكن غلط في ظنه أن الحُسن والقُبح العقليين صادرَيْن عن ذلك، ولم يغلطا كل الغلط، فإن الحُسن والقبح: الذي يُدرك بالحس وبالعقل وبالشرع، وبالبصر والنظر والخبر، بالمشهور الظاهر وبالباطن، وبالمعقول القياسي وبالأمر الشرعي، هو في الأصل من جنس واحد، فإن كلاًّ يُعْلَم بذلك، يثبت به ما لا يُعلم بالآخر ويثبت به.
[طرق العلم الثلاثة] :وهذه الطرق الثلاثة: السمع، والبصر، والعقل، هي طرق العلم:
[1- البصر] :فالبصر - وهو المشهود الباطن والظاهر - يدرك ما في هذه الحركات والإرادات من الملاءمة والمنافرة، والمنفعة والمضرة العاجلة.
[2- السمع] :والسمع - وهو وحي الله وتنزيله - يخبر بما يقصِّر الشهود عن إدراكه من منفعة ذلك ومضرته في الدار الآخرة.
فتمام الدين بالفطرة وتقديرها، لا بتحويلها وتغييرها، فإن كل مولود يولد على الفطرة، والله خلق عباده حُنفاء فاجتالتهم الشياطين وحرَّمت عليهم ما أحل الله لهم، وأمرتهم أن يشركوا به ما لم ينزِّل به سلطانًا. هكذا أخبرنا الله فيما روى عنه رسوله في الحديث الصحيح الذي رواه مسلم.
فهم بفطرتهم يحبون الله وحده ويحبون تناول ما يحتاجون إليه من الطيِّبات، والمحبة تتبع الشهود والإحساس، فهذا الذي في فطرهم من الحس والحركة إلى عبادة خالقهم مما يعينهم عليها من طيبات الرزق، هو وجه الحُسن الثابت بالأفعال الحسنة: مأمُورِها ومبَاحِها، فإن ذلك كله حسن، لما فيه من هذه الملاءمة المناسبة والمحبة التي فطروا عليها، فما كان من ذلك مشهودًا في عالم الشهادة أدرك بالشهود والإحساس، وما كان غيبًا أدرك بالسمع الذي جاء به المرسلون.
আদেশ ও নিষেধের প্রতি ক্রিয়াকে সম্বন্ধযুক্ত করা; তিনি এ ক্ষেত্রে কিছুটা সঠিক ছিলেন যে, তিনি একে স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যতা ও বিমুখতা এবং এই গুণের অধিকারী সত্তার পূর্ণতা ও অপূর্ণতার বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন। তবে তিনি এ ধারণায় ভুল করেছেন যে, বুদ্ধিবৃত্তিক ভালো ও মন্দ (হুসন ও কুবহ) তা থেকে উৎসারিত। আর তারা সম্পূর্ণ ভুল করেননি, কারণ ভালো ও মন্দ—যা ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি ও শরিয়তের মাধ্যমে, দৃষ্টি, পর্যবেক্ষণ ও সংবাদের মাধ্যমে, প্রসিদ্ধ প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য বিষয়ের মাধ্যমে এবং যৌক্তিক কিয়াস ও শরয়ি আদেশের মাধ্যমে অনুভূত হয়—তা মূলত একই জাতীয়। কেননা প্রতিটি বিষয়ের মাধ্যমেই এটি জানা যায় এবং এর মাধ্যমে এমন কিছু প্রমাণিত হয় যা অন্যটির মাধ্যমে জানা যায় না এবং এর দ্বারাই তা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
[জ্ঞানের তিনটি মাধ্যম] :আর এই তিনটি পথ: শ্রুতি (ওহি), দর্শন ও বুদ্ধি হলো জ্ঞানের মাধ্যম:
[১- দর্শন] :দর্শন—যা দৃশ্যমান অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়—তা এই সকল নড়াচড়া ও ইচ্ছার মধ্যে বিদ্যমান সামঞ্জস্যতা ও বিমুখতা এবং তাৎক্ষণিক উপকার ও ক্ষতি অনুধাবন করে।
[২- শ্রুতি] :আর শ্রুতি—যা আল্লাহর ওহি ও তাঁর অবতীর্ণ কালাম—তা আখিরাতে এর উপকার ও ক্ষতি সম্পর্কে এমন সংবাদ প্রদান করে যা অনুধাবন করতে প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ অক্ষম।
সুতরাং দ্বীনের পূর্ণতা ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির মাধ্যমে এবং তার স্বীকৃতির ভিত্তিতে, তার রূপান্তর বা পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়। কেননা প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর শয়তানরা তাদেরকে বিচ্যুত করেছে এবং আল্লাহ তাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা তাদের ওপর হারাম করে দিয়েছে এবং তাদেরকে আদেশ দিয়েছে যেন তারা তাঁর সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহ এভাবেই আমাদের জানিয়েছেন যা তাঁর রাসূল তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন সেই সহিহ হাদিসে যা ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
ফলে তারা তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতিগতভাবেই একমাত্র আল্লাহকে ভালোবাসে এবং তাদের প্রয়োজনীয় পবিত্র বস্তুসমূহ গ্রহণ করা পছন্দ করে। আর ভালোবাসা হলো প্রত্যক্ষ দর্শন ও অনুভূতির অনুগামী। সুতরাং তাদের ফিতরাতের মধ্যে বিদ্যমান তাদের স্রষ্টার ইবাদতের প্রতি এই অনুভূতি ও তাড়না—যা তাদেরকে পবিত্র রিযিক থেকে ইবাদতে সহায়তা করে—তাহলো সৎকাজের মাধ্যমে প্রমাণিত সৌন্দর্যের দিক, তা নির্দেশিত কাজ হোক বা বৈধ কাজ। কারণ এ সবই উত্তম, কেননা এতে সেই সামঞ্জস্যতা ও ভালোবাসা রয়েছে যার ওপর তারা সৃজিত হয়েছে। এর মধ্যে যা দৃশ্যমান জগতের অন্তর্ভুক্ত তা প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ ও অনুভূতির মাধ্যমে অনুভূত হয়, আর যা অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত তা সেই শ্রুতির মাধ্যমে অনুভূত হয় যা রাসূলগণ নিয়ে এসেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফীমা ইযা কানা ফিল আবদি মাহাব্বাতুন লিমা হুয়া খাইরুন ওয়া হাক্কুন ওয়া মাহমুুদুন ফী নাফসিহি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৮)
[3- العقل (القلب) ] :والقلب يعقل هذا المشهود وهذا المسموع، فلا بد من أن يعقل ما أمر الله به وأخبر، كما لا بد أن يعقل ما شهدنا وحسسنا، فيعقل الشهادة والغيب، بمعنى ضبط العلم يجريان ذلك على وجه كليٍّ ثابت في النفس.
لكن زَعْم أولئك أن العقل يُدرك من حسن الفعل وقبحه ما فيه ملاءَمة باطل، كما أن زعم أولئك أن الشرع يأتي بحسن أو قبح لا ملاءمة فيه باطل، فأولئك إنما نفوا ذلك لأنهم أرادوا أن يثبتوا للرب من جنس ما عقلوه في البشر، وأنكروا الملاءمة في حقه والنافرة، وهؤلاء أرادوا أن يثبتوا شرعًا محضًا مبنيًّا على محض المشيئة ليس فيه ملاءمة ولا منافرة، وكلا الفريقين أنكر حقيقة محبة الله ورضاه للأفعال الحسنة، وبغضه للمسيئين بها، وهذا هو المعنى الذي يُعبِّرون عنه في حقنا: الملاءمة والمنافرة، وإنما أُتوا من جهة ما فيهم من نوع تجهم.
ولهذا أنكر أولئك - مع إنكارهم لهذه الصفات - أنكروا القدر، وهو عموم قدرته ومشيئته وخلقه، وأنكر هؤلاء ما في الشريعة من المناسبات والمحاسن التي انطوى عليها الأمر والنهي، وأنكروا أيضًا ما في خلقه ومشيئته من الحكمة والرحمة.
[৩- আকল (অন্তর)] :অন্তর এই দৃশ্যমান ও শ্রুত বিষয়গুলো অনুধাবন করে; সুতরাং আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন এবং যার সংবাদ দিয়েছেন, তা-ও তাকে অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে, যেমনটি আমরা যা প্রত্যক্ষ করি এবং অনুভব করি তা অনুধাবন করা আবশ্যক। ফলে সে দৃশ্যমান জগত এবং অদৃশ্যের বিষয়গুলো অনুধাবন করে; অর্থাৎ জ্ঞান সংরক্ষণের অর্থে, যা আত্মায় একটি সামগ্রিক ও সুপ্রতিষ্ঠিত রূপে জারি থাকে।
কিন্তু তাদের এই দাবি যে, আকল বা বুদ্ধিবৃত্তি কাজের ভালো-মন্দের মধ্য থেকে কেবল অনুকূলতাকে উপলব্ধি করতে পারে—তা বাতিল; তেমনি তাদের সেই দাবিও বাতিল যে, শরয়ি বিধান এমন ভালো বা মন্দ নিয়ে আসে যাতে কোনো অনুকূলতা নেই। তারা এটি অস্বীকার করেছে কেবল এই কারণে যে, তারা রবের জন্য সেই জাতীয় বিষয় সাব্যস্ত করতে চেয়েছিল যা তারা মানুষের মধ্যে বুঝতে পেরেছে, ফলে তারা আল্লাহর ক্ষেত্রে অনুকূলতা ও প্রতিকূলতাকে অস্বীকার করেছে। আর এরা চেয়েছে নিছক ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে এমন এক বিশুদ্ধ শরয়ি বিধান সাব্যস্ত করতে যেখানে কোনো অনুকূলতা বা প্রতিকূলতা নেই। উভয় দলই সৎ কাজের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি এবং মন্দ কাজের হোতাদের প্রতি তাঁর ক্রোধের প্রকৃত স্বরূপকে অস্বীকার করেছে। আর এটিই সেই অর্থ যা তারা মানুষের ক্ষেত্রে অনুকূলতা ও প্রতিকূলতা হিসেবে ব্যক্ত করে থাকে; মূলত তাদের মধ্যে এক প্রকার জাহমিয়্যাত থাকার কারণেই তাদের এই দশা হয়েছে।
একই কারণে তারা—এই সিফাত বা গুণাবলি অস্বীকার করার পাশাপাশি—তকদিরকেও অস্বীকার করেছে, যা হলো আল্লাহর ব্যাপক ক্ষমতা, ইচ্ছা ও সৃষ্টির বহিঃপ্রকাশ। আর এরা শরয়ি বিধানের অন্তর্ভুক্ত সেই সকল প্রাসঙ্গিকতা ও কল্যাণকে অস্বীকার করেছে যা আদেশ ও নিষেধের মধ্যে নিহিত থাকে; এমনকি তারা আল্লাহর সৃষ্টি ও ইচ্ছার মধ্যে বিদ্যমান হিকমত ও রহমতকেও অস্বীকার করেছে।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফীমা ইযা কানা ফিল আবদি মাহাব্বাতুন লিমা হুয়া খাইরুন ওয়া হাক্কুন ওয়া মাহমুুদুন ফী নাফসিহি
(পৃষ্ঠা: ৪৪৯)
فهؤلاء أثبتوا القدرة والمشيئة والخلق، ولكن قصَّروا في إثبات الرحمة والحكمة والعدل، وأولئك أثبتوا شيئًا من الحكمة والعدل، ولكن قصَّروا في ذلك أيضًا، مع تقصيرهم في القدرة والمشيئة والخلق، وإن كان كل من الفريقين لا ينكر أمر الشرع ونهيه.
لكن غلاة أولئك دفعوا بعقولهم كثيرًا مما جاء به الشرع من الأمر والنهي، وقالوا: هذا يخالف الحكمة المعقولة، كما فعل إبليس وذووه. وغلاة هؤلاء دفعوا أيضًا الأمر والنهي وقالوا: لو شاء الرحمن ما عبدناهم، كما قال المشركون. وإبليس أغلظ كفرًا، ولهذا كانت بدعة أولئك أقرب إلى السنة والجماعة.
وهذه الأمور التي تحبها النفوس والقلوب بفطرتها هي المعروف، والتي تبغضها هي المنكر، فإن المعرفة هي إحساس مع محبة، والإنكار إحساس مع بغضة. فأما ما لم يُحَسّ بحال فلا يُعرف ولا ينكر، وما لا يُحب ولا يبغض بحال فلا يُعْرف ولا ينكر. وإذا حُدِّث الرجل بحديث فأنكره لجهله
সুতরাং তারা ক্ষমতা, ইচ্ছা ও সৃষ্টিকে সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু দয়া, হিকমত ও ন্যায়বিচার সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ত্রুটি করেছেন। আর অন্য দলটি হিকমত ও ন্যায়বিচারের কিছু অংশ সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু সেখানেও তারা ত্রুটি করেছেন; পাশাপাশি ক্ষমতা, ইচ্ছা ও সৃষ্টির বর্ণনায়ও তাদের ত্রুটি ছিল। যদিও উভয় দলের কেউই শরীয়তের আদেশ ও নিষেধকে অস্বীকার করে না।
কিন্তু তাদের মধ্য হতে যারা চরমপন্থী, তারা শরীয়তের অনেক আদেশ ও নিষেধকে নিজেদের বিবেক দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে: "এটি যুক্তিযুক্ত হিকমতের পরিপন্থী", যেমনটি ইবলিস ও তার অনুসারীরা করেছিল। আর এদের মধ্য হতে যারা চরমপন্থী, তারাও আদেশ ও নিষেধকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে: "যদি রহমান চাইতেন, তবে আমরা এদের ইবাদত করতাম না", যেমনটি মুশরিকরা বলেছিল। আর ইবলিসের কুফর ছিল অত্যন্ত কঠোর, একারণেই পূর্বোক্তদের বিদআত সুন্নাহ ও জামাআতের অধিক নিকটবর্তী ছিল।
আর সেসব বিষয়—যা আত্মা ও অন্তরসমূহ তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতিগতভাবে ভালোবাসে—সেগুলোই হলো মারূফ (সৎকাজ), আর যা তারা ঘৃণা করে তা হলো মুনকার (অসৎকাজ)। কেননা কোনো কিছুকে জানা বা চেনা হলো ভালোবাসাসহ তার অনুভূতি লাভ করা, আর কোনো কিছুকে অস্বীকার করা হলো ঘৃণাসহ তার অনুভূতি লাভ করা। আর যা কোনোভাবেই অনুভূত হয় না, তা পরিচিতও হয় না এবং অস্বীকৃতও হয় না। আর যা কোনো অবস্থাতেই ভালোবাসা হয় না বা ঘৃণা করা হয় না, তাও পরিচিত বা অস্বীকৃত হয় না। যখন কোনো ব্যক্তিকে কোনো হাদীস শোনানো হয় এবং সে তার অজ্ঞতাবশত তা অস্বীকার করে...
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফীমা ইযা কানা ফিল আবদি মাহাব্বাতুন লিমা হুয়া খাইরুন ওয়া হাক্কুন ওয়া মাহমুুদুন ফী নাফসিহি
(পৃষ্ঠা: ৪৫০)
فإنه أنكر ما لا أحبه سمعُه، وكذلك الحديث المنكر عند أهل الحديث هو ما لم يسمعوه فيحبوه لصحته وصدقه، فإذا سمعوه بذلك أنكروه بعد إحساسه.
والمقصود هنا أن محبة هذه الأمور الحسنة ليس مذمومًا بل محمودًا، ومن فعل هذه الأمور لأجل هذه المحبة لم يكن مذمومًا ولا معاقبًا، ولا يُقال إن هذا عمله لغير الله، فيكون بمنزلة المرائي والمشرك، فذاك هو الشرك المذموم. وأما من فعلها لمجرد المحبة الفطرية فليس بمشرك ولا هو أيضًا متقربًا بها إلى الله، حتى يستحق عليها ثواب من عمل لله وعبده، بل قد يثيبه عليها بأنواع من الثواب: إما بزيادة فيها في أمثالها، فيتنعَّم بذلك في الدنيا، ولهذا كان الكافر يُجزى على حسناته في الدنيا وإن لم يتقرب بها إلى الله، ولو كان فِعْلُ كل حَسَن إذا لم يُفعل لله مذمومًا يستحق به صاحبه العقاب لما أُطعم الكافر بحسناته في الدنيا إذا كانت تكون سيئاتٍ لا حسنات، وإذا كان قد يتنعَّم بها في الدنيا ويُطعم بها في الدنيا، فقد يكون من فوائد هذه الحسنات ونتيجتها وثوابها في الدنيا أن يهديه الله إلى أن يتقرب بها إليه، فيكون له عليها أعظم الثواب في الآخرة.
وهذا معنى قول بعض السلف: طلبنا العلم لغير الله فأبى أن يكون إلا لله. وقول الآخر لما قيل له: إنهم يطلبون الحديث بغير نية، فقال: طلبهم له نيَّة، يعني نفس طلبه حسن ينفعهم. وهذا قيل في العلم لخصوصيته، لأن العلم هو الدليل المرشد، فإذا طلبه بالمحبة وحصَّله عرَّفه الإخلاص لله والعمل له.
ولهذا قال من قال: هو من النظر الأول الذي هو مُقدمة العِرفان، فإن القصد والنية مشروط بمعرفة المقصود المنوي به، فإذا لم يعرفه بعدُ كيف يتقرب إليه؟ فإذا نظر بمحبة أو غيرها فعلم المعبود المقصود صح حينئذ أن يعبده ويقصده. وكذلك الإخلاص كيف يخلص من لم يعرف الإخلاص؟ فلو كان طلب علم الإخلاص لا يكون إلا بالإخلاص لزم الدَّوْر، فإن العلم هو قبل القصد والإرادة من إخلاص وغيره، ولا تقع الإرادة والقصد حتى يحصل العلم.
وعلى هذا فما ذكره الإمام أحمد عن نفسه هو حسن، وهو حال النفوس المحمودة المستقيم
নিশ্চয়ই তিনি তাকেই অস্বীকার করেছেন যা তার শ্রবণ পছন্দ করেনি। অনুরূপভাবে, হাদিস বিশারদদের নিকট 'মুনকার' (অস্বীকৃত) হাদিস হলো সেটি যা তারা শোনেননি যে তার বিশুদ্ধতা ও সত্যতার কারণে তা পছন্দ করবেন; বরং যখন তারা তা শোনেন, তখন অনুভবের পরেই তা অস্বীকার করেন।
এখানে উদ্দেশ্য হলো, এই সুন্দর বিষয়গুলোর প্রতি ভালোবাসা কোনো নিন্দনীয় বিষয় নয়, বরং প্রশংসনীয়। যে ব্যক্তি এই ভালোবাসার বশবর্তী হয়ে এ কাজগুলো করে, সে নিন্দিত হবে না এবং শাস্তিযোগ্যও হবে না। এমন বলা হবে না যে, তার এই আমল আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য, যার ফলে সে লোক দেখানো আমলকারী (রিয়াকারী) ও মুশরিকের স্তরে গণ্য হবে; কারণ সেটি হলো নিন্দনীয় শিরক। আর যে ব্যক্তি নিছক সহজাত ভালোবাসার কারণে তা করে, সে মুশরিক নয় এবং এর মাধ্যমে সে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনকারীও নয় যে, সে আল্লাহর জন্য আমলকারী ও তাঁর ইবাদতকারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করবে। বরং আল্লাহ তাকে বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার প্রদান করতে পারেন: হয় এর অনুরূপ নেয়ামত বৃদ্ধির মাধ্যমে যা দ্বারা সে দুনিয়াতে ভোগ-বিলাস করবে। এই কারণেই কাফেরকে তার সৎ কাজের প্রতিদান দুনিয়াতেই দিয়ে দেওয়া হয়, যদিও সে এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য কামনা করেনি। যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য ছাড়া কৃত প্রতিটি ভালো কাজই নিন্দনীয় হতো এবং এর কারণে কর্তা শাস্তির যোগ্য হতো, তবে কাফেরকে দুনিয়াতে তার সৎ কাজের জন্য জীবিকা দেওয়া হতো না—যদি সেগুলো সওয়াবের বদলে গুনাহ হিসেবে গণ্য হতো। আর যেহেতু সে দুনিয়াতে এর দ্বারা নেয়ামত ও জীবিকা প্রাপ্ত হচ্ছে, তাই দুনিয়াতে এই নেক কাজগুলোর অন্যতম উপকারিতা, ফলাফল ও পুরস্কার হতে পারে এই যে, আল্লাহ তাকে এর বরকতে তাঁর নৈকট্য অর্জনের তাওফিক দান করবেন, যার ফলে পরকালেও সে মহান সওয়াব লাভ করবে।
এটাই কতিপয় সালাফদের বাণীর মর্মার্থ: "আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে জ্ঞান অন্বেষণ শুরু করেছিলাম, কিন্তু জ্ঞান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হতে বাধ্য হলো।" অন্য একজনের কথা, যাকে বলা হয়েছিল: "তারা তো কোনো নিয়ত ছাড়াই হাদিস অন্বেষণ করছে।" তিনি বললেন: "তাদের এই অন্বেষণই একটি নিয়ত।" অর্থাৎ, জ্ঞান অন্বেষণ করা নিজেই একটি ভালো কাজ যা তাদের উপকৃত করবে। আর জ্ঞানের বিশেষত্বের কারণেই এটি বলা হয়েছে, কারণ জ্ঞান হলো সঠিক পথপ্রদর্শক দলিল। সুতরাং যদি কেউ ভালোবাসার বশবর্তী হয়ে জ্ঞান অন্বেষণ করে এবং তা অর্জন করে, তবে তা তাকে আল্লাহর জন্য ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমল করা শিখিয়ে দেয়।
এই কারণেই কেউ কেউ বলেছেন: এটি হলো সেই প্রাথমিক পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত যা পরিচয় বা মা’রিফাতের ভূমিকা স্বরূপ। কেননা লক্ষ্য ও নিয়ত মূলত সেই উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানার ওপর নির্ভরশীল যার নিয়ত করা হচ্ছে। সুতরাং সে যদি এখনো তাঁকে চিনতেই না পারে, তবে কীভাবে তাঁর নৈকট্য লাভ করবে? যখন সে ভালোবাসা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পর্যালোচনা করবে এবং কাঙ্ক্ষিত উপাস্য সম্পর্কে জানতে পারবে, তখনই কেবল তাঁর ইবাদত করা এবং তাঁকে উদ্দেশ্য করা শুদ্ধ হবে। অনুরূপভাবে ইখলাস; যে ব্যক্তি ইখলাস কী তা জানেই না, সে কীভাবে ইখলাস অবলম্বন করবে? যদি ইখলাস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করার জন্য আগে থেকেই ইখলাস থাকা শর্ত হতো, তবে তা একটি আবর্তন বা বৃত্তাকার যুক্তিতে পর্যবসিত হতো। কারণ ইখলাস বা অন্য কোনো ইচ্ছা ও সংকল্পের পূর্বেই জ্ঞানের অবস্থান, আর জ্ঞান অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইচ্ছা ও সংকল্প তৈরি হয় না।
সেই হিসেবে ইমাম আহমাদ নিজের সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা উত্তম, এবং এটিই প্রশংসিত ও সঠিক পথের অনুসারী আত্মাসমূহের অবস্থা।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফীমা ইযা কানা ফিল আবদি মাহাব্বাতুন লিমা হুয়া খাইরুন ওয়া হাক্কুন ওয়া মাহমুুদুন ফী নাফসিহি
(পৃষ্ঠা: ৪৫১)
حالها. ومن هذا قول خديجة رضي الله عنها للنبي صلى الله عليه وسلم: إنك لتصل الرحم وتصدق الحديث وتقري الضيف وتحمل الكل وتكسب المعدوم وتعين على نوائب الحق. فهذه الأمور كان يفعلها محبة لها خُلق على ذلك وفُطر عليه، فعلمت أن النفوس المطبوعة على محبة الأمور المحمودة وفعلها لا يوقعها الله فيما يضاد ذلك من الأمور المذمومة، لما قال لها: قد خشيتُ على نفسي. قالت: كلا والله لا يخزيك الله أبدًا.. الحديث وهو في الصحيحين.
وقد تنازع الناس في النبوة: هل هي مجرد إنباء الله لعبده، أو هي راجعة إلى صفات كمال فيه؟ كما تنازعوا في النبوة: هل هي مجرَّد تعلق خطاب الشارع، أو هي راجعة إلى صفات يتميز بها، ولا بد من خطاب إلهي أو إنباء؟ ولهذا كانت النبوة أجزاءً، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: الهدي الصالح والسمت الصالح والاقتصاد جزء من خمسة وعشرين جُزءًا من النبوة - رواه أهل السنن، فهذا في العمل. وقال في العلم: الرؤيا الصالحة جزءٌ من ستة وأربعين جزءًا من النبوة. وقال: ثلاث من أخلاق المرسلين
…
তার অবস্থা। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার উক্তি: নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, মেহমানদারী করেন, অসহায়দের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন এবং সত্যের পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন। এই কাজগুলো তিনি ভালোবেসেই করতেন; তিনি এভাবেই সৃজিত এবং এর ওপরই তিনি স্বভাবজাত। তাই তিনি (খাদিজা) বুঝতে পেরেছিলেন যে, যেসব আত্মা প্রশংসনীয় বিষয়সমূহের প্রতি ভালোবাসা এবং তা পালনের ওপর প্রকৃতিজাত, আল্লাহ সেগুলোকে এর বিপরীত কোনো নিন্দনীয় বিষয়ে পতিত করবেন না, যখন তিনি তাকে বলেছিলেন: আমি নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি। তিনি বলেছিলেন: কখনো নয়, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না... হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত।
নবুওয়াত নিয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে: এটি কি কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাকে সংবাদ প্রদান, নাকি এটি তাঁর মধ্যকার পূর্ণতা গুণাবলির দিকে প্রত্যাবর্তনকারী? যেমন তারা নবুওয়াতের ব্যাপারে মতভেদ করেছে: এটি কি কেবল শরিয়ত প্রবর্তকের সম্বোধনের সাথে সংশ্লিষ্ট, নাকি এটি এমন কিছু গুণাবলির দিকে প্রত্যাবর্তনকারী যার দ্বারা তিনি স্বতন্ত্র হন, আর অবশ্যই ঐশী সম্বোধন বা সংবাদ প্রদানের প্রয়োজন রয়েছে? একারণেই নবুওয়াত ছিল বিভিন্ন অংশ সম্বলিত, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: উত্তম পথনির্দেশ, উত্তম আচরণ এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন হলো নবুওয়াতের পঁচিশটি অংশের মধ্যে একটি অংশ - সুনান গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন, আর এটি কর্মের ক্ষেত্রে। আর জ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: নেক স্বপ্ন হলো নবুওয়াতের ছিচল্লিশটি অংশের মধ্যে একটি অংশ। তিনি আরও বলেছেন: তিনটি বিষয় রাসূলগণের চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত
…
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফীমা ইযা কানা ফিল আবদি মাহাব্বাতুন লিমা হুয়া খাইরুন ওয়া হাক্কুন ওয়া মাহমুুদুন ফী নাফসিহি
(পৃষ্ঠা: ৪৫২)
وهذا الحب والإحساس الذي خلقه الله في النفوس هو الأصل في كل حُسن وقُبح، وكل حمدٍ وذمٍّ، فإنه لولا الإحساس الذي يُعتد به في حب حبيب وبغض بغيض لما وجدت حركة إرادية أصلاً تحرك شيئًا من الحيوان باختياره، ولما كان أمر ونهي وثواب وعقاب، فإن الثواب إنما هو بما تحبه النفوس وتتنعم به، والعقاب إنما هو بما تكره النفوس وتتعذب به، وذلك إنما يكون بَعْد الإحساس، فالإحساس والحب والبغض هو أصل ما يوجد في الدنيا والآخرة من أمور الحي، وبه حَسُنَ الأمر والنهي والوعد والوعيد. وذاك الأمر والنهي والوعد والوعيد هو تكميل للفطرة، وكل منهما عون على الآخر، فالشريعة تكميل للفطرة الطبيعية، والفطرة الطبيعية مبدأ وعون على الإيمان بالشرع والعمل به، والعبد من دان بالدين الذي يصلحه فيكون من أهل [العمل] الصالح في الآخرة، والشقيّ من لم يتبع الدين ويعمل العمل الذي جاءت به الشريعة، فهذا هذا، والله أعلم.
এই ভালোবাসা ও অনুভূতি যা আল্লাহ মানুষের অন্তরে সৃষ্টি করেছেন, তা-ই হলো সকল সৌন্দর্য ও কদর্যতা এবং সকল প্রশংসা ও নিন্দার মূল ভিত্তি। কারণ, কোনো প্রিয়জনকে ভালোবাসা এবং কোনো অপছন্দনীয় বস্তুকে ঘৃণা করার মতো কার্যকর অনুভূতি যদি না থাকত, তবে প্রাণিকুলের মধ্যে স্বীয় ইচ্ছায় চালিত কোনো ঐচ্ছিক গতির অস্তিত্বই থাকত না। আর আদেশ, নিষেধ, সওয়াব ও শাস্তিরও কোনো অবকাশ থাকত না। কেননা সওয়াব হলো তা-ই যা আত্মা পছন্দ করে এবং যার দ্বারা সে আনন্দ লাভ করে, আর শাস্তি হলো তা-ই যা আত্মা অপছন্দ করে এবং যার ফলে সে কষ্ট পায়। আর এই সবকিছুই অনুভূতির পরবর্তী বিষয়। সুতরাং অনুভূতি, ভালোবাসা এবং ঘৃণাই হলো দুনিয়া ও আখিরাতে প্রাণবন্ত সত্তার যাবতীয় বিষয়ের মূল ভিত্তি, আর এর মাধ্যমেই আদেশ, নিষেধ, প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী অর্থবহ হয়েছে। উক্ত আদেশ, নিষেধ, প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবাণী হলো স্বভাবজাত প্রকৃতির পূর্ণতাদানকারী এবং এদের প্রতিটি অপরটির সহায়ক। সুতরাং শরীয়ত হলো স্বভাবজাত প্রকৃতির পরিপূরক, আর স্বভাবজাত প্রকৃতি হলো শরীয়তের প্রতি ঈমান আনা এবং তদনুযায়ী আমল করার মূল ভিত্তি ও সহায়ক। আর প্রকৃত বান্দা সেই ব্যক্তি যে এমন দ্বীন অনুসরণ করে যা তাকে সংশোধন করে, ফলে সে আখিরাতে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর হতভাগ্য সেই ব্যক্তি যে দ্বীনের অনুসরণ করে না এবং শরীয়ত নির্দেশিত আমল করে না। বিষয়টি এমনই, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।