(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: -)
تحقيق القول في مسألة: عيسى كلمة الله والقرآن كلام الله القسم: العقيدة
الكتاب: تحقيق القول في مسألة: عيسى كلمة الله والقرآن كلام الله
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: قسم التحقيق بدار النشر
الناشر: دار الصحابة للتراث - طنطا (مصر)
الطبعة: الأولى 1412هـ / 1992م
عدد الصفحات: 47
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مقابل]
* تنبيه: سقط من الكتاب المصور الصفحات من 52-53 ومن 60-61، وتبعتها نسختنا هذه.
* أعده للمكتبة الشاملة: محمد المنصور
m_almansour@hotmail.com
21/7/1429هـ - 24/7/2008م
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাসআলার ওপর বক্তব্যের বিশ্লেষণ: ঈসা আল্লাহর কালিমা এবং কুরআন আল্লাহর কালাম বিভাগ: আকীদা
গ্রন্থ: মাসআলার ওপর বক্তব্যের বিশ্লেষণ: ঈসা আল্লাহর কালিমা এবং কুরআন আল্লাহর কালাম
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবন তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (মৃ. ৭২৮ হিজরী)
গবেষক/সম্পাদক: প্রকাশনা সংস্থার গবেষণা বিভাগ
প্রকাশক: দারুস সাহাবাহ লিত-তুরাস - তানতা (মিশর)
সংস্করণ: প্রথম ১৪১২ হিজরী / ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ، এবং এটি মূল কপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে]
* সতর্কতা: স্ক্যানকৃত কপি থেকে ৫২-৫৩ এবং ৬০-৬১ নম্বর পৃষ্ঠাগুলো বাদ পড়েছে، এবং আমাদের এই কপিতেও তা অনুসরণ করা হয়েছে.
* মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ আল-মানসুর
m_almansour@hotmail.com
২১/৭/১৪২৯ হিজরী - ২৪/৭/২০০৮ খ্রিস্টাব্দ
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
رسالة في كلمة الله عيسى بن مريم وخلق القرآن بسم الله الرحمن الرحيم
وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت
سئل الشيخ الإمام العالم أبو العباس أحمد ابن تيمية - رحمه الله تعالى - عن مسلم ونصراني، تفاوضا في الكلام، فقال النصراني: أنتم معاشر المسلمين، في كتابكم: أن عيسى كلمة الله، وتقولون: القرآن كلام الله، وهو غير مخلوق، فبينوا لنا القول في ذلك وابسطوا الجواب.
أجاب - رحمه الله تعالى -:
ঈসা ইবনে মারইয়াম আল্লাহর কালিমা এবং কুরআনের সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে একটি রিসালা পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমার যাবতীয় তাওফিক কেবল আল্লাহরই পক্ষ থেকে, আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি।
শায়খুল ইমাম আল-আলিম আবু আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- কে এক মুসলিম ও এক খ্রিষ্টানের কথোপকথন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন খ্রিষ্টান ব্যক্তিটি বলেছিল: "হে মুসলিম সম্প্রদায়, তোমাদের কিতাবে আছে যে, ঈসা আল্লাহর কালিমা; আবার তোমরা বলো যে, কুরআন আল্লাহর কালাম এবং তা মাখলুক বা সৃষ্টি নয়। সুতরাং এ বিষয়ে আমাদের নিকট বিষয়টি স্পষ্ট করুন এবং বিস্তারিত উত্তর প্রদান করুন।"
তিনি -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- উত্তর দিলেন:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الحمد لله.. هذه حجة داحضة، يحتج بها النصارى والجهمية، من المعتزلة وغيرهم، الذين يقولون: إن كلام الله مخلوق، والجهمية تقول كما قال الذي امتحن الناس بخلق القرآن من الخلفاء، لمن ناظره: أليس عيسى كلمة الله؟! قال: بلى. قال: أو ليس مخلوق؟ قال: بلى. قال: فالقرآن كلام الله؟ قال: نعم. قال: وهو مخلوق؟ قال: لا. قال: فكيف تكون الكلمة من القرآن كلام الله وهو غير مخلوق، وهذا كلمة الله وهو مخلوق؟
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। এটি একটি অসার যুক্তি, যা খ্রিস্টান এবং জাহমিয়ারা—মুতাযিলা ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে—পেশ করে থাকে, যারা বলে যে: আল্লাহর কালাম সৃষ্টি। জাহমিয়ারা তেমনটিই বলে যেমনটি সেই খলিফা তার সাথে বিতর্ককারীকে বলেছিলেন, যিনি মানুষকে 'কুরআন সৃষ্টি'র মতবাদ দিয়ে পরীক্ষা করেছিলেন: ঈসা কি আল্লাহর কালিমা নন?! তিনি বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: তিনি কি সৃষ্টি নন? তিনি বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: তাহলে কুরআন কি আল্লাহর কালাম? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আর তা কি সৃষ্টি? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে কুরআনের কালিমা কীভাবে আল্লাহর কালাম হওয়া সত্ত্বেও অ-সৃষ্ট হয়, অথচ ইনি (ঈসা) আল্লাহর কালিমা হওয়া সত্ত্বেও সৃষ্টি?
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وقد ذكر الإمام أحمد هذا السؤال فيما كتبه في الردّ على الجهمية وبين جوابه وذكر أنَّ النصارى والجهمية يحتجون بهذا وبيّن فساد حجتهم.
ইমাম আহমদ জাহমিয়্যাহদের প্রতিবাদে তাঁর লিখিত গ্রন্থে এই প্রশ্নটি উল্লেখ করেছেন এবং এর উত্তর স্পষ্ট করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, নাসারা এবং জাহমিয়্যাহরা এটি দিয়ে দলিল পেশ করে থাকে এবং তিনি তাদের দলিলের অসারতা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ونحن نذكر في هذا الجواب ما يحصل به المقصود، فإن غلط هؤلاء وأمثالهم كان من جهة اللفظ المشترك، وقد قيل إن أكثر* اختلاف العقلاء من جهة اشتراك الأسماء والله تعالى ورسوله إذا خاطب عباده باسم مشترك؛ كان مقرونًا في كل موضع بما يبين المراد به كما في قوله: {إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِلَّهِ} أي قدوة للناس يؤتم به أو يقتدى به. وفي قوله: {وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ} أي قرن وزمان وأصل الكلام في ذلك أن لغة العرب أنها تعبر بالألفاظ التي هي المصادر عن المفعول كما يقولون هذا درهم ضرب الأمير أي مضروب الأمير، ومنه قوله تعالى: {هَذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ
--------------------------------------------
আমরা এই উত্তরে সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করছি যার মাধ্যমে মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হয়। কেননা এদের ও এদের সদৃশ ব্যক্তিদের ভ্রান্তি মূলত 'মুশতারাক' বা একাধিক অর্থবোধক শব্দের ব্যবহারের কারণে হয়েছিল। বলা হয়ে থাকে যে, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের অধিকাংশ মতভেদ মূলত শব্দের এই একাধিক অর্থবোধকতার দিক থেকেই হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল যখন তাঁর বান্দাদের কোনো একাধিক অর্থবোধক শব্দ দ্বারা সম্বোধন করেন, তখন প্রতিটি স্থানেই এমন কিছু অনুষঙ্গ যুক্ত থাকে যা দ্বারা তার প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় ইবরাহিম ছিলেন এক উম্মাহ, আল্লাহর প্রতি অনুগত}, অর্থাৎ মানুষের জন্য এমন একজন আদর্শ যাকে অনুসরণ করা হয়। আবার তাঁর বাণী: {এবং দীর্ঘ এক উম্মাহ (সময়) পরে তার স্মরণ হলো}, অর্থাৎ এক যুগ বা দীর্ঘ সময়। এ বিষয়ে মূল কথা হলো, আরবি ভাষার একটি বৈশিষ্ট্য হলো তারা 'মাজদার' বা ক্রিয়ামূল শব্দ দ্বারা 'মাফউল' বা কর্মবাচক অর্থ প্রকাশ করে। যেমন তারা বলে থাকে: "এটি আমিরের আঘাত (যারব) করা দিরহাম", অর্থাৎ আমিরের দ্বারা মুদ্রিত দিরহাম। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এটি আল্লাহর সৃষ্টি, অতএব তোমরা আমাকে দেখাও তিনি ছাড়া অন্য যারা আছে তারা কী সৃষ্টি করেছে...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
الَّذِينَ مِن دُونِهِ} فسمى المخلوقات خلق الله والخلق مصدر خلق يخلق خلقًا فهو لفظ يراد به معنى المصدر تارة ومعنى المفعول تارة فإذا قيل: {مَا أَشْهَدتُّهُمْ خَلْقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنفُسِهِمْ} فإن المراد معنى المصدر أي ما أشهدتهم تخليق ذلك ولا تكوينه وإذا قيل: {هَذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِن دُونِهِ} كان المراد به المفعول أي هذا مخلوق الله فإنه قال تعالى: {خَلَقَ السَّمَوَاتِ بِغَيْرِ عَمَدٍ تَرَوْنَهَا وَأَلْقَى فِي الأَرْضِ رَوَاسِيَ أَن تَمِيدَ بِكُمْ وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ} ثم قال:
...যারা তিনি ব্যতীত।} সুতরাং তিনি সৃষ্টিসমূহকে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর সৃষ্টি (খালক) শব্দটি সৃষ্টি করা (খালাকা-ইয়াখলুকু-খালকান)-এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল। এটি এমন একটি শব্দ যা দ্বারা কখনো ক্রিয়ামূলের অর্থ উদ্দেশ্য হয়, আবার কখনো কর্মের (সৃষ্ট বস্তু) অর্থ উদ্দেশ্য হয়। সুতরাং যখন বলা হয়: {আমি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টির সময়ে তাদেরকে উপস্থিত রাখিনি}, তখন এর দ্বারা ক্রিয়ামূলের অর্থই উদ্দেশ্য; অর্থাৎ আমি তাদেরকে ওইসব সৃষ্টি করা বা অস্তিত্বে আনয়নের সময় উপস্থিত রাখিনি। আর যখন বলা হয়: {এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি; সুতরাং তিনি ছাড়া অন্য যারা আছে তারা কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও}, তখন এর দ্বারা কর্ম উদ্দেশ্য হয়; অর্থাৎ এটি আল্লাহর মাখলুক বা সৃষ্টি। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করেছেন খুঁটি ছাড়াই—যা তোমরা দেখছ। আর তিনি পৃথিবীতে সুদৃঢ় পর্বত স্থাপন করেছেন যাতে তা তোমাদের নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং তিনি এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সব ধরনের জীবজন্তু। আর আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি সব ধরণের উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ জোড়া।} অতঃপর তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
{هَذَا خَلْقُ اللَّهِ} فالإشارة إلى هذه الأمور التي هي مخلوقة؛ فالسموات وغيرها إذا تبين هذا فالسموات صفات الله* كالأمر والكلام والرحمة والعلم والقدرة وغير ذلك وهي من هذا الباب تطلق على الصفة القائمة بالله وتطلق على مفعول تلك الصفة وما يتعلق بها بلفظ الأمر مصدر أمر يأمر أمرًا وأمر الله من كلامه وذلك الأمر الذي هو كلامه الذي يأمر به غير مخلوق ولهذا فصل بين الخلق والأمر في قوله: {أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ} ولفظ الأمر يراد به المفعول الذي هو المأمور وهو ما كوّنه الله فالأمر كقوله: {وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَّقْدُورًا} . وقوله: {أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ} وكذلك لفظ الرحمة يراد بالرحمة صفة الله القائمة بذته وصفات الله غير مخلوقة كقوله:
--------------------------------------------
{এটি আল্লাহর সৃষ্টি} এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে সেই বিষয়গুলোর প্রতি যেগুলো সৃষ্টি; সুতরাং আসমানসমূহ ও অন্যান্য বিষয়সমূহ। যখন এটি স্পষ্ট হলো, তখন আসমানসমূহ আল্লাহর গুণাবলি* যেমন নির্দেশ, কথা, দয়া, জ্ঞান, ক্ষমতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। আর এগুলো এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহর সত্তায় বিদ্যমান গুণের ওপর প্রযুক্ত হয় এবং সেই গুণের ফলাফল ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপরও 'নির্দেশ' (আমর) শব্দের মাধ্যমে প্রযুক্ত হয়, যা 'নির্দেশ দেওয়া' ক্রিয়ামূল থেকে আগত। আর আল্লাহর নির্দেশ তাঁর কথার (কালাম) অন্তর্ভুক্ত, এবং সেই নির্দেশ যা তাঁর কথা, যার মাধ্যমে তিনি আদেশ করেন, তা অ-সৃষ্ট। এই কারণেই তিনি তাঁর বাণী: {জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই} -তে সৃষ্টি ও নির্দেশের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। আর 'নির্দেশ' শব্দ দ্বারা সেই কর্মকেও বোঝানো হয় যা আদিষ্ট, আর তা হলো যা আল্লাহ অস্তিত্ব দান করেছেন। সুতরাং 'নির্দেশ' তাঁর এই বাণীর মতো: {আর আল্লাহর নির্দেশ হলো সুনির্ধারিত বিষয়}। এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে, সুতরাং তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না}। তদ্রূপ 'দয়া' (রহমত) শব্দ দ্বারা আল্লাহর সত্তায় বিদ্যমান গুণকে বোঝানো হয়, আর আল্লাহর গুণাবলি অ-সৃষ্ট, যেমন তাঁর বাণী:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
{رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا} أي وسع كلّ شيء رحمتُك وعلمك ويراد بالرحمة ما يرحم الله به عباده من المخلوقات كما في (الصحيح) : «إن الله تعالى قال للجنة: أنت رحمتي أرحم بك من أشاء من عبادي وقال للنار: أنت عذابي أعذب بك من أشاء من عبادي» .
وفي الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إن الله خلق الرحمة يوم خلقها مائة رحمة أنزل منها رحمة واحدة فبها يتراحم الخلق وبها يتعاطفون حتى أن الدابة لترفع حافرها عن ولدها من تلك الرحمة واحتبس عنده تسعة وتسعين رحمة فإذا كان يوم القيامة جمع هذه الرحمة إلى التسعة والتسعين فرحم بها عباده» . ومنه قوله تعالى:
{হে আমাদের রব! আপনার রহমত ও জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে} অর্থাৎ আপনার রহমত ও জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে ব্যাপ্ত করে রেখেছে। এখানে রহমত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত ওই মাধ্যম যার দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করেন, যেমনটি (সহিহ) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে বলেছেন: তুমি আমার রহমত, তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দয়া করি। আর তিনি জাহান্নামকে বলেছেন: তুমি আমার আযাব, তোমার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করি।"
এবং সহিহ গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যেদিন রহমত সৃষ্টি করেছেন, সেদিন তিনি একশতটি রহমত সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার মধ্য হতে একটি রহমত অবতীর্ণ করেছেন, যার মাধ্যমে সৃষ্টিজগত পরস্পরের প্রতি দয়া করে এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে, এমনকি কোনো চতুষ্পদ জন্তুও সেই রহমতের কারণে তার সন্তানের ওপর থেকে তার পা সরিয়ে নেয়। আর তিনি তাঁর নিকট নিরানব্বইটি রহমত রেখে দিয়েছেন। অতঃপর যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, তখন তিনি এই রহমতটিকে ওই নিরানব্বইটির সাথে যুক্ত করবেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়া করবেন।" এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
{فَانظُرْ إِلَى آثَارِ رَحْمَتِ اللَّهِ} قيل: هو أثر المطر يقال له رحمة الله تعالى.
وكذلك لفظ القدرة فإن القدرة صفة لله كالعلم كما في (الصحيح) : أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعلم أصحابه الاستخارة في الأمور كما يعلمهم السورة من القرآن يقول: «إذا هم أحدكم بالأمر فليركع ركعتين من غير الفريضة ثم ليقل: اللهم إني أستخيرك بعلمك وأستقدرك بقدرتك» .
ومنه قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} . وقوله تعالى: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً} ولفظ القدرة يعبر به
{অতএব আল্লাহর রহমতের চিহ্নের প্রতি লক্ষ্য করো} বলা হয়েছে: এটি বৃষ্টির প্রভাব, যাকে আল্লাহ তাআলার রহমত বলা হয়।
অনুরূপভাবে ‘ক্ষমতা’ (কুদরত) শব্দটি, কেননা ক্ষমতা হলো আল্লাহর একটি গুণ যেমন জ্ঞান (ইলম)। যেমনটি (সহিহ) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীগণকে সকল বিষয়ে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন যেমন তিনি তাঁদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: “তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের সংকল্প করে, সে যেন ফরয নামাজ ছাড়া দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, অতঃপর বলে: হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে আপনার নিকট সামর্থ্য প্রার্থনা করছি।”
এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন রিযিকদাতা, প্রবল শক্তির অধিকারী, সুদৃঢ়।} এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারা কি লক্ষ্য করেনি যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ—যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন—তিনি শক্তিতে তাদের অপেক্ষা অধিক প্রবল?} এবং ক্ষমতা শব্দটির দ্বারা প্রকাশ করা হয়...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
عن المقدور كقول القائل لما يشاهده من الآيات هذه قدرة عظيمة.
وكذلك لفظ العلم يعبر به عن العلم الذي هو الصفة ويعبر به عن المعلوم كما يقال: غفر الله لك علمه فيك، أي معلومه.
[المراد بكلام الله] :وهكذا لفظ الكلمة والكلام يراد بهما الكلام الذي تكلم به وذلك صفة من صفاته قائمة بذاته ليس بمخلوق منفصل عن ذاته ولا بائن عنه فإن صفة الموصوف لا يجوز أن تفارق ذاته وتنتقل عنه وإن كان مخلوقًا فكيف في الخالق سبحانه وتعالى والكلام يتكلم به المتكلم فيقال: خرج منه الكلام، وبدأ منه الكلام، وهو لم يفارق ذاته وينتقل منه إلى غيره. قال تعالى: {كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَاّ كَذِباً} .
সক্ষমতা বা কুদরত বলতে সেই বিষয়কেও বোঝানো হয় যা কুদরতের দ্বারা নির্ধারিত বা প্রকাশিত হয়েছে, যেমন কোনো ব্যক্তি যখন নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করে বলে: এটি এক মহান কুদরত (সক্ষমতা)।
একইভাবে 'ইলম' (জ্ঞান) শব্দটি দিয়ে যেমন গুণ হিসেবে জ্ঞানকে বোঝানো হয়, তেমনি তা দ্বারা জ্ঞাত বিষয়কেও (মালুম) বোঝানো হয়। যেমন বলা হয়: আল্লাহ তোমার মাঝে বিদ্যমান তাঁর জ্ঞানকে ক্ষমা করুন, অর্থাৎ তাঁর জ্ঞাত বিষয়কে।
[আল্লাহর কালাম দ্বারা যা উদ্দেশ্য]:অনুরূপভাবে 'কালিমা' এবং 'কালাম' (কথা) শব্দ দুটি দ্বারা সেই কালামকেই বোঝানো হয় যা তিনি বলেছেন। আর তা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। এটি তাঁর সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো সৃষ্টি নয় এবং তাঁর থেকে পৃথক কোনো বিষয়ও নয়। কারণ কোনো গুণবিশিষ্ট সত্তা থেকে তাঁর গুণ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা স্থানান্তরিত হওয়া অসম্ভব, এমনকি তা যদি সৃষ্টির ক্ষেত্রেও হয়; তাহলে মহান স্রষ্টার ক্ষেত্রে তা কেমন হতে পারে! আর বক্তা যখন কথা বলেন, তখন বলা হয়: তাঁর থেকে কথা নির্গত হয়েছে এবং তাঁর থেকে কথা শুরু হয়েছে, অথচ তা তাঁর সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্যের কাছে স্থানান্তরিত হয় না। মহান আল্লাহ বলেন: "তাদের মুখ থেকে নির্গত হওয়া কথাটি কতই না জঘন্য! তারা কেবল মিথ্যাই বলে।"
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
فهذه الكلمة التي هي كلمة مخلوق وقد قيل إنها خرجت منه ومع هذا فلم تفارق ذاته وتنتقل إلى غيره فكلام الله تعالى أولى بذلك ولهذا قال السلف: القرآن كلام الله غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود. وقولهم: منه بدأ، أي هو المتكلم به فمنه بدأ ليس بمخلوق في غيره حتى يكون قد بدأ من ذلك وسمع كما يقوله الجهمية المنتسبة إلى أهل الملل من المسلمين واليهود والنصارى يقولون: إن الله لما كلم موسى لم يكن الكلام قائمًا بذات الله بل خلق كلامًا في الشجرة أو في الهواء فسمع موسى ذلك الكلام. وهؤلاء يكذبون الرسل لأنه قد علم أن الكلام إذا قام ابتداء بمحل كان كلامًا لذلك المحل وكذلك العلم والقدرة والسمع والبصر وسائر الصفات فمن قام به العلم فهو عالم ومن قامت به القدرة فهو قادر ومن قام به السمع والبصر فهو سميع بصير ومن قام به الكلام فهو متكلم فالكلام المخلوق في محل هو كلام لذلك المحل لا كلام الله كإنطاق الله للجلود وغيرها قال تعالى: {وَقَالُوا لِجُلُودِهِمْ لِمَ شَهِدتُّمْ
সুতরাং এই কথাটি, যা একজন সৃষ্টির কথা এবং বলা হয়েছে যে এটি তার থেকে নির্গত হয়েছে, তা সত্ত্বেও এটি তার সত্তা থেকে পৃথক হয়ে অন্যের কাছে স্থানান্তরিত হয়ে যায়নি। অতএব মহান আল্লাহর কালাম এই বিষয়ের জন্য অধিকতর উপযোগী। আর এই কারণেই সালাফগণ বলেছেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়; তাঁর থেকেই এর শুরু এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে। আর তাঁদের উক্তি: ‘তাঁর থেকেই এর শুরু’, অর্থাৎ তিনিই এর বক্তা, ফলে তাঁর থেকেই এর শুরু হয়েছে; এটি অন্য কারো মধ্যে সৃষ্টি নয় যে সেখান থেকে এর শুরু হবে ও শোনা যাবে—যেমনটি মুসলিম, ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের বিভিন্ন ধর্মাদর্শের সাথে সম্পৃক্ত জাহমিয়ারা বলে থাকে। তারা বলে: আল্লাহ যখন মুসার সাথে কথা বলেছিলেন, তখন সেই কথা আল্লাহর সত্তার সাথে বিদ্যমান ছিল না, বরং তিনি গাছের মধ্যে অথবা বাতাসের মধ্যে কথা সৃষ্টি করেছিলেন এবং মুসা সেই কথা শুনেছিলেন। আর এরা রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করে, কারণ এটি সর্বজনবিদিত যে, কথা যখন প্রাথমিকভাবে কোনো আধারে প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তা সেই আধারেরই কথা বলে গণ্য হয়। অনুরূপভাবে জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ, দৃষ্টি এবং অন্যান্য গুণাবলির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যার মধ্যে জ্ঞান বিদ্যমান সে হলো জ্ঞানী, যার মধ্যে ক্ষমতা বিদ্যমান সে হলো ক্ষমতাধর, যার মধ্যে শ্রবণ ও দৃষ্টি বিদ্যমান সে হলো সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা এবং যার মধ্যে কথা বিদ্যমান সে হলো বক্তা। সুতরাং কোনো আধারে সৃষ্ট কথা সেই আধারেরই কথা, তা আল্লাহর কথা নয়; যেমন আল্লাহ চামড়া ও অন্যান্য বস্তুকে বাকশক্তি দান করবেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা তাদের চামড়াসমূহকে বলবে, কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?}
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
عَلَيْنَا قَالُوا أَنطَقَنَا اللَّهُ الَّذِي أَنطَقَ كُلَّ شَيْءٍ} . وقال تعالى: {يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} فتلك الشهادة وذلك النطق ليس هو كلام الله بل المفرق بين إنطاقه للمخلوقات وبين نطقه الذي هو كلامه فهذا الكلام الذي هو حقيقة الكلام إذا أضيف إليه فكلامه غير مخلوق وقد يراد بلفظ الكلام المفعول وهو المخلوق والمصنوع بالكلام كما يراد بالأمر المخلوق بالأمر.
[معنى المسيح كلمة الله] :ومن هذا تسمية المسيح كلمة الله فإن الله تعالى خلقه بكلمته أي بقوله: {كن} فكان. قال تعالى: {إِنَّ مَثَلَ عِيسَى عِندَ اللَّهِ كَمَثَلِ آدَمَ خَلَقَهُ مِن تُرَابٍ ثِمَّ قَالَ لَهُ كُن فَيَكُونُ} . وقوله: {خلقه} أي خلق آدم من تراب ثم قال له {كن} فكان، والمسيح لم يخلق من
আমাদের বিরুদ্ধে। তারা বলবে, 'আল্লাহ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে কথা বলার ক্ষমতা দিয়েছেন।' এবং মহান আল্লাহ বলেন, 'যে দিন তাদের বিরুদ্ধে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা করত সে সম্পর্কে।' সুতরাং সেই সাক্ষ্য প্রদান ও সেই কথা বলা আল্লাহর কালাম নয়; বরং সৃষ্টজীবকে কথা বলানো এবং আল্লাহর নিজস্ব কথা—যা তাঁর কালাম—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সুতরাং এই কালাম, যা প্রকৃত কালাম, তা যখন আল্লাহর দিকে সম্বন্ধিত করা হয়, তখন তাঁর কালাম সৃষ্টি নয়। আর কখনো কখনো 'কালাম' শব্দ দ্বারা সেই মাফউল বা কর্মকে বোঝানো হয় যা কালিমার মাধ্যমে সৃষ্টি বা তৈরি হয়েছে; যেমন 'আদেশ' শব্দ দ্বারা ওই সৃষ্টিকে বোঝানো হয় যা আদেশের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে।
[মসীহ আল্লাহর কালিমা হওয়ার অর্থ]:আর এখান থেকেই মসীহ-কে 'আল্লাহর কালিমা' বলা হয়। কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর কালিমার মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন, অর্থাৎ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: 'হও', ফলে তিনি হয়ে গেলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের সদৃশ; তিনি তাকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তাকে বলেছেন: হও, ফলে সে হয়ে গেল।' আর তাঁর বাণী: 'তাকে সৃষ্টি করেছেন' অর্থাৎ আদমকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তাকে বলেছেন: 'হও', ফলে সে হয়ে গেল। আর মসীহ সৃষ্টি হননি...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
تراب بل خلقه بقوله {كن} من غير تراب وآدم بقى مخلوقًا من تراب حينًا من الدهر قد قيل أربعين عامًا حتى نفخ فيه الروح وقال له {كن} فكان. وأما المسيح فإن خلقه ابتداءً بقوله {كن} فكان، لم يخلقه على الوجه الذي خلق عليه غيره من البشر حيث خلقه من ماء الأبوين وأقره في الرحم المدة المعلومة، فسائر البشر خلقوا بالسنة - أي: بعادة الله في مخلوقاته - والمسيح خلق بخرق العادة، فكوَّنه بكلمته. فلهذا سمي: كلمة الله دون غيره من المخلوقات.
وهذا يقتضي أن يكون المسيح آية من آيات الله وذلك يبين عموم قدرته فإنه سبحانه خلق النوع البشري على الوجوه الممكنة؛ خلق بعضه من غير ذكر ولا أنثى وهو آدم، وخلق بعضه من ذكر بلا أنثى وهو حواء، وخلق بعضه من أنثى بلا ذكر وهو المسيح، وخلق سائر الزوجين من الذكر والأنثى، ولا يقتضي أن يكون المسيح بهذا أفضل من غيره من المرسلين فإنه قد جاء في الحديث الذي رواه عثمان بن سعيد الدارمي وغيره بإسناد صحيح عن عبد الله بن عمر وقد رواه عبد الله
মাটি, বরং তিনি তাঁকে তাঁর 'হও' বাণীর মাধ্যমে কোনো মাটি ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন। অথচ আদম কালপরিক্রমায় এক সময় পর্যন্ত মাটি দ্বারা গঠিত অবস্থায় ছিলেন, বলা হয়ে থাকে চল্লিশ বছর যাবৎ, যতক্ষণ না তাঁর মধ্যে রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁকে বলা হয়েছিল 'হও', ফলে তিনি হয়ে গেলেন। আর মসীহের বিষয়টি হলো, তাঁর সৃষ্টি শুরু থেকেই তাঁর 'হও' বাণীর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল এবং তিনি হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁকে অন্যান্য মানুষের ন্যায় পদ্ধতিতে সৃষ্টি করা হয়নি, যেখানে পিতা-মাতার বীর্য থেকে সৃষ্টি করা হয় এবং জরায়ুতে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাখা হয়। সুতরাং অন্যান্য সকল মানুষ সুন্নাহ অনুযায়ী—অর্থাৎ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর সাধারণ রীতি অনুযায়ী—সৃষ্ট হয়েছে, আর মসীহ সৃষ্টি হয়েছেন প্রথা বহির্ভূত উপায়ে; ফলে তিনি তাঁকে তাঁর বাণীর মাধ্যমে অস্তিত্ব দান করেছেন। এই কারণেই অন্যান্য সৃষ্টির বিপরীতে তাঁকে 'আল্লাহর বাণী' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
এটি দাবি করে যে, মসীহ হবেন আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে একটি নিদর্শন, যা তাঁর কুদরতের ব্যাপকতাকে সুস্পষ্ট করে। কারণ তিনি (পবিত্র ও মহান তিনি) মানবজাতিকে সম্ভাব্য সকল পন্থায় সৃষ্টি করেছেন: তাদের কাউকে পুরুষ ও নারী ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি হলেন আদম; কাউকে পুরুষ থেকে সৃষ্টি করেছেন নারী ছাড়া এবং তিনি হলেন হাওয়া; কাউকে নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন পুরুষ ছাড়া এবং তিনি হলেন মসীহ; আর অবশিষ্ট সকল জোড়াকে পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর এর মাধ্যমে মসীহ অন্যান্য রাসূলদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবেন এমনটি আবশ্যক হয় না। কারণ উসমান বিন সাঈদ আদ-দারিমি ও অন্যান্যরা সহীহ সনদে আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে যে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন তাতে এটি এসেছে এবং আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
ابن أحمد في كتاب السنة عن النبي صلى الله عليه وسلم، مرسلاً: «إن الملائكة قالت: يا ربنا! قد جعلت لبني آدم الدنيا يأكلون فيها ويشربون ويلبسون وينكحون فاجعل لنا الآخرة كما جعلت لهم الدنيا. فقال: لا أفعل، ثم أعادوا عليه، فقال: لا أفعل، ثم أعادوا عليه، فقال: وعزتي لا أجعل صالح ذرية من خلقت بيدي كمن قلت له {كن} فكان» .
[خلق الله آدم بيده] :وقد أجمع المسلمون واليهود والنصارى على ما في الكتب الإلهيَّة من أن الله تعالى خلق آدم بيديه وأنه خصه بذلك دون الملائكة والجن، كما قال في القرآن لإبليس: {مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} . وقال له إبليس: {أَرَأَيْتَكَ هَذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ} وإن كان جهمية أهل الملل يتأولون اليد بالنعمة والقدرة
ইবনে আহমদ 'কিতাবুস সুন্নাহ'-এ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "ফেরেশতারা বলেছিল: হে আমাদের রব! আপনি আদম সন্তানদের জন্য দুনিয়া নির্ধারণ করেছেন যেখানে তারা আহার করে, পান করে, পোশাক পরিধান করে এবং বিবাহ-শাদি করে; সুতরাং আমাদের জন্য আখেরাতকে সেভাবে নির্ধারণ করুন যেমনটি তাদের জন্য দুনিয়াকে করেছেন। তিনি বললেন: আমি তা করব না। তারা পুনরায় তা নিবেদন করলে তিনি বললেন: আমি তা করব না। তারা পুনরায় তা নিবেদন করলে তিনি বললেন: আমার ইজ্জতের কসম, আমি যাকে নিজের হাতে সৃষ্টি করেছি তার নেককার সন্তানদের আমি তাদের মতো করব না যাদের প্রতি আমি শুধু বলেছিলাম 'হও', ফলে তারা হয়ে গিয়েছিল।"
[আল্লাহর নিজ হাতে আদমকে সৃষ্টি করা] :মুসলিম, ইহুদি ও নাসারাগণ ঐশী কিতাবসমূহে বর্ণিত এই বিষয়ের ওপর একমত হয়েছেন যে, আল্লাহ তাআলা আদমকে তাঁর দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং ফেরেশতা ও জিনদের বাদ দিয়ে তাঁকেই এই বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করেছেন। যেমনটি তিনি কুরআনে ইবলিসকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "আমি যাকে আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সেজদা করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?" এবং ইবলিস তাঁকে বলেছিল: "আপনি কি দেখছেন, একেই কি আপনি আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন?" যদিও বিভিন্ন ধর্মের জাহমিয়্যারা 'হাত' শব্দটিকে নেয়ামত ও কুদরত দ্বারা রূপক ব্যাখ্যা করে থাকে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
ويجعلون مجرد الإضافة هي المخصصة فليس المقصود هنا الرد عليهم إذ هو مبسوط في غير هذا الموضع. ومعلوم أنه لم يفضل آدم إلا لأمر خصه به وإبليس والملائكة خلقوا بقدرته وخلقوا بنعمته، وكلهم مخلوقون لله فلا مزية لآدم عليهم من هذه الوجوه. وقوله:
আর তারা কেবল সম্বন্ধযুক্ত হওয়াকেই বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী মনে করে; তবে এখানে তাদের খণ্ডন করা উদ্দেশ্য নয়, কারণ এটি অন্য স্থানে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। আর এটি সুবিদিত যে, আদমকে কেবল এমন একটি বিষয়ের মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে যার দ্বারা তাকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে; অথচ ইবলিস ও ফেরেশতারাও আল্লাহর কুদরত বা সক্ষমতায় সৃষ্টি হয়েছেন এবং তাঁর নিয়ামতেই সৃষ্টি হয়েছেন এবং তারা সকলেই আল্লাহর সৃষ্টি। সুতরাং এই দিকগুলো থেকে তাদের ওপর আদমের কোনো বিশেষ মর্যাদা নেই। আর তাঁর বাণী:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
{مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} يقتضي بأنه خلقه بيديه دونهم حتى يصح التفضيل وتقوم حجة الله على إبليس وإلا أمكنه أن يقول: وأنا أيضًا خلقتني بيديك.
وما أضيف إلى الله دون غيره كقوله تعالى: (بيت الله) ، و {هَذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ} يوجب أن يكون في المضاف معنى يتوقى خصه الله به دون سائر البيوت كما خص البيت العتيق بما فيه من الخصائص، وخص المساجد بأن يعبد فيها ويذكر فيها اسمه، وخص تلك الناقة بما جعله فيها من الآيات.
وأما إذا كان شيئان متماثلان في جهة الإضافة فإنه لا يجوز تخصيص أحدهما بالإضافة دون الآخر والمقصود هنا أن آدم مع كونه خلقه بيديه ثم قال له {كن} فكان [مفضلاً] على من قال له {كن} فكان ولم يخلقه بيديه.
{আমি যাকে আমার দুই হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদা করতে কিসে তোমাকে বাধা দিল?}—এই আয়াতটি দাবি করে যে, তিনি তাকে (আদমকে) তাঁর দুই হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, অন্যদের বাদ দিয়ে; যাতে শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত হয় এবং ইবলিসের বিরুদ্ধে আল্লাহর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যথায় সে (ইবলিস) বলতে পারত: "আপনি তো আমাকেও আপনার দুই হাত দিয়েই সৃষ্টি করেছেন।"
আর যা কিছু অন্যকে বাদ দিয়ে কেবল আল্লাহর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (আল্লাহর ঘর) এবং {এটি আল্লাহর উষ্ট্রী}—তা এই আবশ্যকতা প্রদান করে যে, সম্বন্ধযুক্ত বস্তুটির মধ্যে এমন কোনো অর্থ বা বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার কারণে আল্লাহ সেটিকে অন্যান্য ঘর থেকে আলাদা করে বিশেষত্ব দান করেছেন। যেমন তিনি প্রাচীন ঘরকে তার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন, মসজিদসমূহকে সেখানে আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর নাম জিকির করার মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন এবং সেই উষ্ট্রীকে তাতে নিহিত নিদর্শনের মাধ্যমে বিশিষ্ট করেছেন।
পক্ষান্তরে, সম্বন্ধের দিক থেকে যদি দুটি বিষয় সমপর্যায়ের হয়, তবে একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে সম্বন্ধের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা বৈধ নয়। এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো—আদমকে যদিও 'হও' বলার মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তিনি হয়ে গেছেন, তবুও তিনি তাঁর দুই হাত দ্বারা সৃষ্টির কারণে তাদের তুলনায় [মর্যাদাবান], যাদেরকে কেবল 'হও' বলার মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তারা হয়ে গেছে, কিন্তু তিনি তাদেরকে তাঁর দুই হাত দ্বারা সৃষ্টি করেননি।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
[العبرة في خلق المسيح بدون أب] :فالمسيح إذا خلقه بقوله {كن} فكان، لم يقتض ذلك أن يكون أفضل من إبراهيم، ومحمد، لمن خلق في الرح بسنة الله وعادته وإنما يدل ذلك على أن المسيح آية من آيات الله، وقد قال تعالى: {وَجَعَلْنَاهَا وَابْنَهَا آيَةً لِّلْعَالَمِينَ} .
ومعلوم أن الأنبياء وحمل مريم أفضل من مريم وخلق آدم من غير زوج آية كما أن المسيح من غير أب آية وما خلقه الله بغير
… * من العجائب الخارقة للعادات فيها من الآيات ما ليس في غيرها وإن كان غيرها أفضل منها ولا يقول قائل إن القمر لما انشق كان أفضل من الشمس فقوله تعالى: {إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ} بين بذلك أنه مخلوق بكلمته فإنه قادر على أن يخلقه على غير هذا الوجه المعتاد
--------------------------------------------
[পিতা ব্যতীত মাসীহের সৃষ্টির অন্তর্নিহিত শিক্ষা] :মাসীহকে যখন তিনি তাঁর "হও" নির্দেশের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি অস্তিত্ব লাভ করেছেন, তখন এটি তাকে ইব্রাহীম ও মুহাম্মাদ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হওয়াকে আবশ্যক করে না—যাঁরা আল্লাহর বিধান ও চিরন্তন নিয়ম অনুযায়ী জরায়ুতে সৃষ্ট হয়েছেন। বরং এটি কেবল একথাই প্রমাণ করে যে, মাসীহ আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি তাকে এবং তার পুত্রকে বিশ্ববাসীর জন্য একটি নিদর্শন বানিয়েছি।"
আর এটি সুবিদিত যে, নবীগণ এবং মারইয়ামের গর্ভজাত সন্তান মারইয়াম অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আর জীবনসঙ্গিনী ব্যতিরেকে আদমের সৃষ্টি যেমন একটি নিদর্শন, তেমনি পিতা ব্যতিরেকে মাসীহের সৃষ্টিও একটি নিদর্শন। আল্লাহ তাআলা অলৌকিক ও অভ্যাস-বহির্ভূত বিষয়াদির মধ্য থেকে যা কিছু
... * ব্যতিরেকে সৃষ্টি করেছেন, তাতে এমন সব নিদর্শন রয়েছে যা অন্যগুলোতে নেই, যদিও সেই অন্যটি এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে। কোনো বক্তাই এ কথা বলে না যে, চন্দ্র যখন বিদীর্ণ হয়েছিল তখন তা সূর্য অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই মারইয়াম-পুত্র ঈসা মাসীহ আল্লাহর একজন রাসূল," এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে সৃষ্ট; কেননা তিনি তাঁকে এই প্রচলিত পদ্ধতি ব্যতিরেকে ভিন্ন পন্থায় সৃষ্টি করতে সক্ষম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٩)
بكلمته وكان في ذلك رد على من يقذف المسيح وأمه، ويزعم أنه ولد عنه أو يقول: إنه ابن يوسف النجار؛ لرشده، والنصارى الجهال يزعمون أن مريم تزوجت بيوسف النجار، وأنها ولدت المسيح؛ فيكون في هذا حجة للفلاسفة واليهود على أنه ابن يوسف، سواء كان لرشده أو لغيه، وهذا باطل؛ فإن مريم بتول لم تتزوج قط، فما يقوله المسلمون أعظم ببريته كما* تقوله النصارى.
--------------------------------------------
তাঁর বাণীর মাধ্যমে; আর এতে তাদের প্রতি প্রত্যাখ্যান রয়েছে যারা মসীহ ও তাঁর মাতার প্রতি অপবাদ দেয় এবং দাবি করে যে তিনি তাঁর থেকে জন্ম নিয়েছেন, অথবা বলে যে: তিনি ইউসুফ নাজ্জারের পুত্র—বৈধ মিলনের মাধ্যমে; আর অজ্ঞ খ্রিস্টানরা দাবি করে যে মরিয়ম ইউসুফ নাজ্জারকে বিবাহ করেছিলেন এবং তিনি মসীহকে জন্ম দিয়েছিলেন; ফলে এতে দার্শনিক ও ইহুদিদের জন্য এই স্বপক্ষে দলিল হয়ে যায় যে তিনি ইউসুফের পুত্র, চাই তা বৈধভাবে হোক কিংবা অবৈধভাবে, অথচ এটি অসার; কেননা মরিয়ম ছিলেন চিরকুমারী, তিনি কখনো বিবাহ করেননি। সুতরাং মুসলিমরা তাঁর পবিত্রতা সম্পর্কে যা বলে তা খ্রিস্টানদের বলা কথার চেয়ে* মহান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٠)
[المراد بكلمة الله] :والذي يبين الفرق بين قولنا أن القرآن كلام الله وقولنا: الحمد لله رب العالمين كلمة الله وقولنا: المسيح كلمة الله أن القرآن صفة من الصفات لا يقوم بنفسه ليس هو عينًا قائمًا بنفسه ولا جسم فينتقل بنفسه من مكان إلى مكان، والمسيح مثل غيره من البشر عين من الأعيان وجسم من الأجسام ينتقل من مكان إلى مكان ويقوم بنفسه وتقوم به الصفات والأعراض كالكلام والحياة والقدرة وكلام الله الذي هو صفة قائم به كما يقوم
[আল্লাহর ‘কালেমা’ বা বাণী দ্বারা যা উদ্দেশ্য]:আমাদের এই বক্তব্য যে 'কুরআন আল্লাহর কালাম' এবং আমাদের এই বক্তব্য যে 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন আল্লাহর কালেমা' এবং আমাদের এই বক্তব্য যে 'মাসীহ আল্লাহর কালেমা'—এগুলোর মধ্যে পার্থক্য যা স্পষ্ট করে তা হলো, কুরআন হলো গুণাবলির মধ্য হতে একটি গুণ যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অবস্থান করে না; এটি কোনো স্বয়ংসম্পূর্ণ সত্তা নয় এবং কোনো দেহও নয় যা নিজে নিজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হতে পারে। আর মাসীহ অন্যান্য মানুষের মতোই একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি এবং একটি দেহ, যিনি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হন এবং স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অবস্থান করেন; তাঁর মধ্যে বিভিন্ন গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে যেমন কথা বলা, জীবন ও ক্ষমতা। আর আল্লাহর কালাম যা একটি গুণ, তা তাঁর সাথেই প্রতিষ্ঠিত যেমনটি প্রতিষ্ঠিত থাকে...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤١)
به علمه وقدرته وسمعه وبصره وسائر صفاته وكلامه لا يباين ذاته ولا ينتقل إلى غيره؛ إذ كلام المخلوق لا يفارق ذاته وينتقل إلى غيره.
[الرد على من يزعم أن المسيح كلام الله] :فالمسيح الذي يتحرك وينتقل من مكان إلى مكان كيف يكون هو كلام الله الذي هو صفة من صفاته قائمة به سبحانه وتعالى عما يقول الظالمون علوًّا كبيرًا، وكذلك ما يقال أنه حل في المسيح أو تدرع به من اللاهوت فإن ذلك اللاهوت إن كان هو كلام الله القائم به امتنع أن ينتقل عنه ويحل بغيره وإن كان اللاهوت هو المتكلم بالكلام وهو الجوهر الجامع الأقانيم فذلك هو رب العالمين الذي تسميه النّصارى الأب فيكون المسيح هو الأب وهو مجمعون على أن المسيح ليس هو الأب ومجمعون على أنه إله يخلق ويرزق وهذان قولان متناقضان يظهر تناقضهما للعاقل من الصبيان فإن الذي تدرع
তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা, শ্রবণ, দর্শন এবং তাঁর অন্যান্য সকল গুণাবলি ও তাঁর বাণী তাঁর সত্তা থেকে পৃথক হয় না এবং অন্য কারো কাছে স্থানান্তরিত হয় না; কারণ মাখলুকের বাণীও তার সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য কারো মাঝে স্থানান্তরিত হয় না।
[মসীহ আল্লাহর কালাম বা বাণী—এই দাবি পোষণকারীদের খণ্ডন] :সুতরাং মসীহ—যিনি নড়াচড়া করেন এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হন—তিনি কীভাবে আল্লাহর বাণী হতে পারেন, যা কি না আল্লাহরই একটি গুণ যা তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান? যালেমগণ যা বলে তা থেকে তিনি পবিত্র এবং সুউচ্চ। অনুরূপভাবে, এই যে বলা হয় যে 'লাহুত' (দিব্যত্ব) মসীহের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়েছে বা তিনি তা পরিধান করেছেন; সেই লাহুত যদি আল্লাহর সাথে বিদ্যমান তাঁর বাণী হয়ে থাকে, তবে তাঁর থেকে পৃথক হয়ে অন্যের মাঝে প্রবিষ্ট হওয়া অসম্ভব। আর যদি লাহুত বলতে সেই সত্তাকে বোঝানো হয় যিনি বাণীর বক্তা এবং যিনি বিভিন্ন আকানিম (ব্যক্তিসত্ত্বা) ধারণকারী মূল সত্তা, তবে তিনি তো বিশ্বজগতের রব, যাকে খ্রিষ্টানরা 'পিতা' বলে অভিহিত করে। এমতাবস্থায় মসীহ নিজেই পিতা হয়ে যান, অথচ তারা এ ব্যাপারে একমত যে মসীহ পিতা নন। আবার তারা একমত যে তিনি এমন ইলাহ যিনি সৃষ্টি করেন ও রিযিক দেন। এই দুটি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য, যার বৈপরীত্য এমনকি বুদ্ধিমান শিশুদের কাছেও স্পষ্ট। কেননা যিনি আবৃত হয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٢)
المسيح إن كان هو المتكلم فالمسيح هو الأب وإن كان هو الكلمة فالكلمة صفة لا تفارق الموصوف وتحل بغيره وإن كان كما قالوا: إنه أنزل عليه كلام الله وإنه ظهر فيه نور الله كما يظهر شعاع الشمس على وجه الأرض فهذا حق يوافقهم فيه المسلمون وهو يبطل قول النصارى من وجهين:
أحدهما: أنه لا فرق في ذلك بين المسيح وغيره من الرسل فإن موسى وإبراهيم وغيرهما بهذه المنزلة.
الثاني: أن الشمس نفسها لم تحل في الأرض ولا النور الذي قام بها فارقها وانتقل إلى الأرض، ولكن إذا قابلتها الأجسام انعكس عليها شعاعها، فالشعاع الحاصل على الأرض ليس هو عين ما قام بالشمس، بل حدث بسبب المقابلة كما أن السراج إذا كان في البيت حصل على الأرض والحيطان والسقف نور ينعكس من شعاع السراج، ونفس النار الخارجة من السراج لم ينفصل عنها شيء ولا قامت صفتها بغيرها، وتلك النار عين قائمة بنفسها والضوء الذي على الحيطان صفة
মসীহ যদি স্বয়ং বক্তা হন, তবে মসীহ-ই হলেন পিতা। আর যদি তিনি 'কালেমা' (বাক্য) হন, তবে কালেমা হলো এমন একটি গুণ যা গুণী থেকে পৃথক হয় না এবং অন্য কারো মাঝে অনুপ্রবিষ্ট হয় না। আর যদি বিষয়টি এমন হয় যেমনটি তারা বলেছে যে, তাঁর ওপর আল্লাহর কালাম অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁর মাঝে আল্লাহর নূর প্রকাশিত হয়েছে—যেমনভাবে সূর্যের রশ্মি ভূপৃষ্ঠে প্রকাশিত হয়—তবে এটি এমন এক সত্য যাতে মুসলিমরাও তাঁদের সাথে একমত। আর এটি খ্রিস্টানদের দাবিকে দুটি দিক থেকে বাতিল করে দেয়:
প্রথমত: এই ক্ষেত্রে মসীহ এবং অন্যান্য রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; কেননা মূসা, ইব্রাহিম এবং অন্যান্যরাও এই একই মর্যাদাপ্রাপ্ত ছিলেন।
দ্বিতীয়ত: সূর্য স্বয়ং পৃথিবীতে অবতরণ করেনি এবং সূর্যের মাঝে বিদ্যমান নূরও তাকে ছেড়ে পৃথিবীতে স্থানান্তরিত হয়নি। বরং যখন বস্তুসমূহ সূর্যের মুখোমুখি হয়, তখন তার ওপর সূর্যের রশ্মি প্রতিফলিত হয়। সুতরাং জমিনে অর্জিত রশ্মিটি হুবহু সূর্যের মাঝে বিদ্যমান সেই সত্তাগত নূর নয়, বরং তা মুখোমুখি হওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে; ঠিক যেমন প্রদীপ যখন ঘরের ভেতর থাকে, তখন মেঝে, দেয়াল এবং ছাদে প্রদীপের রশ্মি থেকে বিচ্ছুরিত আলো আপতিত হয়, অথচ প্রদীপ থেকে নির্গত আগুন থেকে কোনো কিছুই বিচ্ছিন্ন হয় না এবং এর গুণাগুণ অন্য কিছুতে সংক্রামিত হয় না। সেই আগুন স্বয়ং একটি স্বতন্ত্র সত্তা এবং দেয়ালের ওপর প্রতিফলিত আলোটি হলো একটি গুণ।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٣)
وعرض وكذلك الشعاع الذي على الأرض صفة من الصفات وعرض من الأعراض.
[الرد على من زعم أن المسيح من ذات الله] :فإذا قالوا إن ما كان في المسيح من هذا النمط تبين أن المسيح ليس فيه شيء من ذات الله أصلاً ولا صفة من صفاته أصلاً فضلاً عن أن يكون هو الله وابن الله، بل فيه من هدى الله ونوره نظير ما في المرسلين كما قال تعالى: {اللَّهُ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ مَثَلُ نُورِهِ كَمِشْكَاةٍ} (الآية) . أي مثل نوره في قلوب المؤمنين. وقال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِّنْ أَمْرِنَا مَا كُنتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الإِيمَانُ وَلَكِن جَعَلْنَاهُ نُورًا نَّهْدِي بِهِ مَن نَّشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا} . وقال تعالى: {أُوْلَئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الإِيمَانَ وَأَيَّدَهُم بِرُوحٍ مِّنْهُ} وهذا التفريق بَيِّن، فيما أضافه صفة
এবং একটি আপতিক গুণ; একইভাবে ভূমির উপর পতিত রশ্মিও একটি গুণ এবং আপতিক গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত।
[মসীহ আল্লাহর সত্তার অংশ বলে যারা দাবি করে তাদের খণ্ডন] :সুতরাং তারা যদি বলে যে মসীহের মাঝে যা ছিল তা এই পর্যায়ের, তবে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে মসীহের মাঝে মূলত আল্লাহর সত্তার কোনো কিছুই নেই এবং তাঁর গুণাবলিরও কোনো ছিটেফোঁটা নেই; তিনি স্বয়ং আল্লাহ কিংবা আল্লাহর পুত্র হওয়া তো দূরের কথা। বরং তাঁর মাঝে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হেদায়াত ও নূর ছিল অন্যান্য রাসূলগণের মাঝে বিদ্যমান নূরের মতোই, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনের নূর। তাঁর নূরের দৃষ্টান্ত একটি তাকের মতো} (আয়াত)। অর্থাৎ মুমিনদের হৃদয়ে তাঁর নূরের দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ ওহী করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী, কিন্তু আমি একে নূর করেছি, যা দিয়ে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করি}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তাদের হৃদয়ে তিনি ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে রূহ দ্বারা তাদের শক্তিশালী করেছেন}। আর যে বিষয়গুলোকে তিনি গুণ হিসেবে সম্বন্ধ করেছেন, সে ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٤)
أو أضافه خلقًا، فإن كان المضاف صفة لا يقوم بنفسه كالكلام الذي هو الكلام والعلم الذي هو العلم والأمر الذي هو الأمر، فإذا أضيف إلى الله تعالى، كان ذلك صفة من صفاته، وإن كان المضاف إليه بعض الأعيان القائمة بنفسها، وما يقوم بها من الصفات، كان مخلوقًا لله، ولم تكن إضافته إليه إضافة الصفة، كقوله للجنة: أنت رحمتي وقوله: {أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ} .
[المراد بقوله {وروح منه} ] :وقوله عن السموات: {هَذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي} . وقوله للمسيح كلمة الله وبهذا يظهر أيضًا قوله في المسيح: {وَرُوحٌ مِّنْهُ} فإن ذلك لا يقتضي أنه صفة لله، وذلك أن قوله: روحي أبلغ من قوله: وروح منه وقد قال في جبريل: {فَأَرْسَلْنَا
অথবা তিনি একে সৃষ্টি হিসেবে সম্বন্ধযুক্ত করেন। সুতরাং যদি সম্বন্ধযুক্ত বিষয়টি এমন কোনো গুণ হয় যা স্বতন্ত্রভাবে অবস্থান করতে পারে না, যেমন কথা—যা কথা হিসেবে বিদ্যমান, জ্ঞান—যা জ্ঞান হিসেবে বিদ্যমান এবং আদেশ—যা আদেশ হিসেবে বিদ্যমান; এমতাবস্থায় যখন তা আল্লাহ তাআলার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তখন তা তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত একটি গুণ হিসেবে গণ্য হয়। আর যদি সম্বন্ধযুক্ত বিষয়টি এমন কোনো স্বতন্ত্র সত্তা হয় যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বিদ্যমান অথবা সেই সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো গুণ হয়, তবে তা আল্লাহর একটি সৃষ্টি হিসেবে গণ্য হবে এবং সেক্ষেত্রে আল্লাহর দিকে এর সম্বন্ধ করাটা কোনো গুণের সম্বন্ধ নয়। যেমন জান্নাতের প্রতি তাঁর বাণী: "তুমি আমার রহমত" এবং তাঁর বাণী: "আল্লাহর আদেশ এসে পৌঁছেছে, সুতরাং তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেয়ো না।"
[তাঁর বাণী "এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ" দ্বারা যা উদ্দেশ্য] :এবং আসমানসমূহ সম্পর্কে তাঁর বাণী: "এটি আল্লাহর সৃষ্টি, সুতরাং তোমরা আমাকে দেখাও।" আর মসীহ (আ.)-এর ব্যাপারে তাঁর উক্তি "আল্লাহর কালিমা (বাণী)"। এর মাধ্যমেই মসীহ (আ.) সম্পর্কে আল্লাহর বাণী "এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ"-এর বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে যায়; কেননা এটি এই দাবি করে না যে তিনি আল্লাহর একটি গুণ। বিষয়টি হলো, "আমার রূহ" বলাটি "তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ" বলার চেয়ে অধিক অর্থবহ বা জোরালো। আর তিনি জিবরাঈল (আ.) সম্পর্কে বলেছেন: "অতঃপর আমরা পাঠিয়েছি..."
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٥)
إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا} . وقد قال في جبريل: {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِن رَّبِّكَ بِالْحَقِّ} . وقال تعالى: {نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الأَمِينُ} فهذا جبريل سماه الروح الأمين وروح القدس وأضافه إلى نفسه ومع هذا فهو مخلوق فقوله في المسيح روح منه أولى أن يكون مخلوقًا فإنه سبحانه قد قال: {وَسَخَّرَ لَكُم مَّا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ جَمِيعًا مِّنْهُ} وذلك كله مخلوق. وقال تعالى {وَمَا بِكُم مِّن نِّعْمَةٍ فَمِنَ اللَّهِ} والنعم التي بنا (من الله) مخلوقة وكان النبي عليه الصلاة والسلام
...তাঁর নিকট আমাদের রূহকে (পাঠালাম), ফলে সে তাঁর নিকট একজন সুঠাম মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল}। জিবরীল (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {বলুন, রূহুল কুদুস (পবিত্র আত্মা) সত্যসহ এটি আপনার রবের পক্ষ থেকে নাযিল করেছেন}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তা নিয়ে রূহুল আমীন (বিশ্বস্ত আত্মা) অবতরণ করেছেন}। এই জিবরীলকেই তিনি রূহুল আমীন ও রূহুল কুদুস নামকরণ করেছেন এবং নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, তা সত্ত্বেও তিনি একজন সৃষ্টি। সুতরাং মসীহ (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে আল্লাহর এই বাণী যে, তিনি ‘তাঁর পক্ষ থেকে আসা এক রূহ’—তা সৃষ্টি হওয়ার ব্যাপারে অধিকতর যুক্তিযুক্ত। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর আসমানসমূহে যা আছে এবং যমীনে যা আছে তার সবকিছুই তিনি তোমাদের জন্য অনুগত করেছেন, যা তাঁরই পক্ষ থেকে}। আর এগুলোর সবই হলো সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তোমাদের নিকট যে নিয়ামতই বিদ্যমান তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই}। আর আমাদের মাঝে বিদ্যমান যে নিয়ামতসমূহ (আল্লাহর পক্ষ থেকে), তা সৃষ্টি। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٦)
يقول على أضحيته: «اللهم منك ولك» . وقال: «من قال إذا أصبح: اللهم ما أصبح بي من نعمة أو بأحد من خلقك فمنك وحدك لا شريك لك فلك الحمد ولك الشكر فقد أدى شكر ذلك اليوم»
তিনি তাঁর কুরবানির পশুর উপর বলতেন: “হে আল্লাহ, এটি আপনার পক্ষ থেকে এবং আপনারই জন্য।” এবং তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে বলে: ‘হে আল্লাহ, আমার নিকট অথবা আপনার সৃষ্টির যে কারও নিকট সকালে যে নেয়ামত পৌঁছেছে, তা একমাত্র আপনার পক্ষ থেকে, আপনার কোনো শরিক নেই। সুতরাং সকল প্রশংসা আপনারই এবং সকল কৃতজ্ঞতা আপনারই জন্য’, তবে সে ঐ দিনের কৃতজ্ঞতা আদায় করল।”
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٧)
فإذا كانت النعم التي بنا وما في السموات وما في الأرض من الله وهي مخلوقة فما المانع أن يكون المسيح روحًا من الله وهو مخلوق. وقد بينا أن جبريل الذي قال فيه: {فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا} هو مخلوق أيضًا وذلك كله لأن جبريل عين من الأعيان والمسيح وروحه عين من الأعيان قائم بنفسه. والأعيان القائمة بنفسها التي تنتقل من موضع إلى موضع يمتنع* فيها أن تكون صفة للمخلوق فكيف يكون صفة للخالق سبحانه وتعالى
--------------------------------------------
সুতরাং আমাদের কাছে থাকা নেয়ামতসমূহ এবং আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে তা যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং সেগুলো যদি সৃষ্ট হয়, তবে মাসিহ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত একটি রূহ এবং তিনি সৃষ্ট হতে বাধা কোথায়? আর আমরা স্পষ্ট করেছি যে, জিবরাঈল—যাঁর সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "অতঃপর আমি তার নিকট আমার রূহকে প্রেরণ করলাম"—তিনিও সৃষ্ট। আর এ সবকিছুর কারণ হলো, জিবরাঈল স্বতন্ত্র সত্তাসমূহের মধ্য হতে একটি সত্তা এবং মাসিহ ও তাঁর রূহও স্বতন্ত্র সত্তাসমূহের মধ্য হতে এমন এক সত্তা যা নিজস্ব সত্তায় বিদ্যমান। আর যে সকল স্বতন্ত্র সত্তা নিজস্ব সত্তায় বিদ্যমান থেকে এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো সৃষ্টির গুণ হওয়া অসম্ভব; তবে তা কীভাবে মহিমান্বিত ও সুউচ্চ স্রষ্টার গুণ হতে পারে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٨)
وهذا بخلاف قوله: {وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي} . وقوله: {تَنزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ} . وقوله: {قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِن رَّبِّكَ بِالْحَقِّ} . وقوله: {تَنزِيلٌ مِّنَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} فإن القول هو صفة من الصفات لا تقوم بنفسها بل لا بد له من قائل يقوم به، فإذا قال: {حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي} امتنع أن يكون ذلك القول مخلوقًا في غيره وأنه قد يكون حق من ذلك الغير لا من الله. وكذلك القرآن كلام لا يقوم بنفسه بل بغيره فلو كان قد خلقه في الهواء أو في نفس جبريل أو نفس محمد أو في غير ذلك من المواضع* ولهذا قال السلف: القرآن كلام الله غير مخلوق، منه بدأ وإليه يعود أي بدأ منه لم يبدأ
--------------------------------------------
এটি তাঁর এই বাণীর বিপরীত: {কিন্তু আমার পক্ষ থেকে কথাটি অবধারিত হয়েছে}। এবং তাঁর বাণী: {মহা পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব অবতীর্ণকরণ}। এবং তাঁর বাণী: {বলুন, একে পবিত্র আত্মা আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে অবতীর্ণ করেছেন}। এবং তাঁর বাণী: {পরম করুণাময়, অতি দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ}। কেননা কথা বা বাণী হলো এমন একটি গুণ যা নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, বরং এর জন্য অবশ্যই একজন বক্তা প্রয়োজন যার মাধ্যমে তা সাব্যস্ত হয়। সুতরাং যখন তিনি বলেন: {আমার পক্ষ থেকে কথাটি অবধারিত হয়েছে}, তখন সেই কথাটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো মাঝে সৃজিত হওয়া অসম্ভব, কারণ সেক্ষেত্রে তা আল্লাহর পরিবর্তে সেই অন্য সত্তার পক্ষ থেকে অবধারিত কোনো বিষয় হিসেবে গণ্য হতো। অনুরূপভাবে কুরআন হলো এমন এক কালাম যা নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত হয় না বরং অন্যের মাধ্যমে হয়। সুতরাং তিনি যদি তা বাতাসে কিংবা জিবরাঈলের অন্তরে অথবা মুহাম্মদের অন্তরে কিংবা অন্য কোনো স্থানে সৃষ্টি করতেন* আর একারণেই সালাফগণ বলেছেন: কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্ট নয়; তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই তা ফিরে যাবে। অর্থাৎ তা তাঁর থেকেই শুরু হয়েছে, শুরু হয়নি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٤٩)
من غيره، فيكون كلامًا لذلك الغير وإليه يعود أي يرفع من الصدور والمصاحف في آخر الزمان.
فالأصل المعقول في هذا الباب أن يفرق فيما أضيف إلى الله أو قيل: إنه منه وبين ما كان عينًا من الأعيان الموجودة في العالم التي تمتنع أن تكون صفة لغيره وبين ما قام بتلك الأعيان وبين ما هو صفة لا يقوم إلا بموصوف ولو قامت بغير الله لكانت صفة لذلك الغير لا لله تعالى فإن هذا الباب ضل فيه النصارى واليهود؛ فالنصارى شبهوا المخلوق بالخالق وجعلوا ما هو صفة لله صفة للمخلوق حتى جعلوا المخلوق إلهًا وربًّا، واليهود شبهوا الخالق بالمخلوق فجعلوا ما كان من خصائص المخلوق كاللغوب والفقر والبخل صفة لله والله سبحانه نزه نفسه عن هذا وهذا فقال للنصارى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَاّ الْحَقِّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِّنْهُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انتَهُوا خَيْرًا
অন্যের থেকে নয়, সুতরাং এটি সেই অন্যেরই কথা হবে এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাবে, অর্থাৎ শেষ যমানায় অন্তরসমূহ এবং মাসহাফসমূহ (কুরআনের অনুলিপি) থেকে তা তুলে নেওয়া হবে।
এই বিষয়ের যৌক্তিক মূলনীতি হলো আল্লাহর দিকে যা সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে বা যা বলা হয়েছে যে তাঁর পক্ষ থেকে—তা এবং জগতের বিদ্যমান এমন বস্তুসমূহের মধ্যে পার্থক্য করা যা অন্য কারো গুণ হওয়া অসম্ভব, আর যা সেই বস্তুসমূহের মধ্যে বিদ্যমান থাকে এবং যা এমন গুণ যা কোনো গুণী ব্যতীত থাকতে পারে না। যদি এই গুণ আল্লাহ ছাড়া অন্যের মাঝে থাকত, তবে তা আল্লাহর গুণ না হয়ে সেই সত্তার গুণ হতো। নিশ্চয়ই এই বিষয়ে খ্রিস্টান ও ইহুদিরা পথভ্রষ্ট হয়েছে; খ্রিস্টানরা সৃষ্টিকে স্রষ্টার সাথে তুলনা করেছে এবং যা আল্লাহর গুণ তাকে সৃষ্টির গুণ বানিয়ে দিয়েছে, এমনকি তারা সৃষ্টিকে ইলাহ ও প্রতিপালক বানিয়ে নিয়েছে। আর ইহুদিরা স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করেছে এবং সৃষ্টির বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন ক্লান্তি, দারিদ্র্য ও কৃপণতাকে আল্লাহর গুণ সাব্যস্ত করেছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নিজেকে এ সবকিছু থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন এবং খ্রিস্টানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: "হে কিতাবীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের মধ্যে অতিরঞ্জন করো না এবং আল্লাহর সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলো না। নিশ্চয়ই মারইয়াম-তনয় ঈসা মাসীহ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী (কালিমা), যা তিনি মারইয়ামের নিকট প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ হতে এক রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনো এবং বলো না যে, (আল্লাহ) 'তিনজন'। বিরত হও, তোমাদের জন্য তা কল্যাণকর হবে।"
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٥٠)
لَّكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَن يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ} . وقال: {لَّقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَآلُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ} . وقال: {لَّقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ} . {وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتْ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَبْلُ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ • اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَاّ لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَاّ إِلَهَ إِلَاّ هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} .
...তোমাদের জন্য; নিশ্চয়ই আল্লাহ একমাত্র ইলাহ; তিনি পবিত্র এটি থেকে যে তাঁর কোনো সন্তান হবে।}। এবং তিনি বলেছেন: {অবশ্যই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, আল্লাহই হলেন মারয়াম-পুত্র মসীহ।}। এবং তিনি বলেছেন: {অবশ্যই তারা কুফরি করেছে যারা বলেছে যে, আল্লাহ তিনজনের মধ্যে একজন।}। {আর ইয়াহূদীরা বলে, ‘উযায়ের আল্লাহর পুত্র’ এবং নাসারারা বলে, ‘মসীহ আল্লাহর পুত্র’। এগুলো তাদের মুখের কথা; তারা তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের কথার অনুকরণ করে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন; তারা সত্য থেকে কোথায় বিচ্যুত হচ্ছে? • তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের পণ্ডিত ও ধর্মযাজকদের এবং মারয়াম-পুত্র মসীহকে রবরূপে গ্রহণ করেছে; অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই; তারা যা শরিক করে তা থেকে তিনি অত্যন্ত পবিত্র।}।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকুল কাওলি ফী মাসআলাতি: ঈসা কালিমাতুল্লাহ ওয়াল কুরআনু কালামুল্লাহ
(পৃষ্ঠা: ٥١)
وأمثال ذلك. وقال عن اليهود: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ} . وقال: {لَّقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا} .
وقال: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِن لُّغُوبٍ} . وقد ذكروا أن هذه الآية نزلت ردًّا على اليهود لما زعموا أن الله عز وجل لما خلق السموات والأرض في ستة أيام استراح وهذه اللفظة هي في التوراة التي بأيديهم لكن لعلماء المسلمين فيها قولين:
এবং এর অনুরূপ বিষয়সমূহ। এবং তিনি ইহুদিদের সম্পর্কে বলেছেন: {ইহুদিরা বলে, আল্লাহর হাত আবদ্ধ; তাদের হাতই আবদ্ধ করা হয়েছে এবং তারা যা বলেছে তার জন্য তারা অভিশপ্ত হয়েছে। বরং তাঁর উভয় হাত প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা খরচ করেন।}। এবং তিনি বলেছেন: {অবশ্যই আল্লাহ তাদের কথা শুনেছেন যারা বলেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ দরিদ্র এবং আমরা ধনী। তারা যা বলেছে আমি তা লিখে রাখব।}।
এবং তিনি বলেছেন: {আর নিশ্চয়ই আমি আসমানসমূহ ও জমিন এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি।}। আর তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি ইহুদিদের প্রতিবাদে অবতীর্ণ হয়েছে যখন তারা দাবি করেছিল যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যখন আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করলেন তখন তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন। আর এই শব্দটি তাদের নিকট বিদ্যমান তাওরাতে রয়েছে, তবে মুসলিম আলেমদের এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: