(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: -)
العقيدة الواسطية - ت أشرف عبد المقصود القسم: العقيدة
الكتاب: العقيدة الواسطية: اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة أهل السنة والجماعة
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728 هـ)
المحقق: أبو محمد أشرف بن عبد المقصود
الناشر: أضواء السلف - الرياض
الطبعة: الثانية 1420 هـ / 1999 م
عدد الصفحات: 71
أعده للشاملة: محمد المنصور
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مقابل]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - আশরাফ আব্দুল মাকসুদ কর্তৃক সম্পাদিত বিভাগ: আকিদাহ
বই: আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ: কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত ও মুক্তিপ্রাপ্ত দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিশ্বাসমালা
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)
সম্পাদক: আবু মুহাম্মাদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ - রিয়াদ
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪২০ হিজরি / ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ আল-মানসুর
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি যাচাইকৃত]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: -)
الكتاب: العقيدة الواسطية: اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة أهل السنة والجماعة
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن تيمية الحراني (المتوفى: 728هـ)
المحقق: أبو محمد أشرف بن عبد المقصود
الناشر: أضواء السلف - الرياض
الطبعة: الثانية 1420هـ / 1999م
عدد الصفحات: 71
[الكتاب مقابل، ومشكول، ومفهرس، وترقيم صفحاته موافق للمطبوع]
--------------------------------------------
কিতাব: আল-আকীদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ: কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত ও নাজাতপ্রাপ্ত দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদাহ
লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরী)
তাহকীক: আবু মুহাম্মদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসূদ
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ - রিয়াদ
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪২০ হিজরী / ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
[কিতাবটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে, হরকত প্রদান করা হয়েছে, সূচিপত্র করা হয়েছে এবং এর পৃষ্ঠা নম্বর মূল ছাপার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয়েছে]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
[مقدمة المصنف] :الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ؛ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا.
وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ؛ إِقْرَارًا بِهِ وَتَوْحِيدًا.
وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمًا مَزِيدًا.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
[গ্রন্থকারের ভূমিকা] :সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন; যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তাঁর প্রতি স্বীকৃতি ও তাওহীদের ঘোষণারূপে।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অত্যধিক রহমত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
الْمَسْأَلَةُ الْوَاسِطِيَّةُ فِي الْعَقِيدَةِ
اعْتِقَادُ الْفِرْقَةِ النَّاجِيَةِ الْمَنْصُورَةِ إلَى قِيَامِ السَّاعَةِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ
[أصول الإيمان وأركانه الست] :1- الْإِيمَانُ بِاَللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْبَعْثِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالْإِيمَانِ بِالْقَدَرِ؛ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ.
* * * *
আকিদাহ বিষয়ক আল-ওয়াসিতিয়্যাহ মাসআলা
কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ বিশ্বাস
[ঈমানের মূলনীতিসমূহ ও এর ছয়টি রুকন] :১- আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি এবং তাকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা।
* * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
[الباب الأول:الإيمان بالله تعالى ويشتمل على خمسة فصول:
الفصل الأول: القواعد الأساسية في الإيمان بصفات الله.
الفصل الثاني: الإيمان بما وصف الله به نفسه في كتابه.
الفصل الثالث: الإيمان بما وصف به الرسول صلى الله عليه وسلم ربه.
الفصل الرابع: وسطية أهل السنة والجماعة بين فرق الأمة.
الفصل الخامس: يدخل في الإيمان بالله: أنه سبحانه فوق سماواته، عال على عرشه.
الفصل السادس: يدخل في الإيمان بالله: أنه قريب من خلقه.]
* * * *
[প্রথম অধ্যায়:মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর গুণাবলীতে ঈমান আনার মৌলিক নীতিমালা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের যে বর্ণনা দিয়েছেন তার ওপর ঈমান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালকের যে বর্ণনা দিয়েছেন তার ওপর ঈমান।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: উম্মতের বিভিন্ন দলের মাঝে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্যপন্থা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়: পবিত্র ও মহান তিনি তাঁর আসমানসমূহের উপরে, তাঁর আরশের ঊর্ধ্বে সমুন্নত।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়: তিনি তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী।]
* * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
[الفصل الأول:القواعد الأساسية في الإيمان بأسماء الله وصفاته]2- وَمِنَ الْإِيمَانِ بِاللَّهِ:
- الْإِيمَانُ بِمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ فِي كِتَابِهِ.
- وَبِمَا وَصَفَهُ بِهِ رَسُولُهُ مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم.
[الابتعاد عن التحريف والتعطيل والتكييف والتمثيل] :مِنْ غَيْرِ: تَحْرِيفٍ وَلَا تَعْطِيلٍ، وَمِنْ غَيْرِ: تَكْيِيفٍ وَلَا تَمْثِيلٍ.
[প্রথম পরিচ্ছেদ:আল্লাহর নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমানের মৌলিক মূলনীতিসমূহ]২- আর আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো:
- তিনি তাঁর কিতাবে নিজের যে গুণ বর্ণনা করেছেন তার ওপর ঈমান আনা।
- এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যে গুণ বর্ণনা করেছেন তার ওপর ঈমান আনা।
[তাহরীফ (বিকৃতি), তা'তীল (অস্বীকার), তাকয়ীফ (ধরণ নির্ধারণ) ও তামসীল (সাদৃশ্য প্রদান) থেকে দূরে থাকা] :কোনো প্রকার তাহরীফ (বিকৃতি) ও তা'তীল (অস্বীকার) ব্যতিরেকে, এবং কোনো প্রকার তাকয়ীফ (ধরণ নির্ধারণ) ও তামসীল (সাদৃশ্য প্রদান) ব্যতিরেকে।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
3- بَلْ يُؤْمِنُونَ بِأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] .
4- فَلَا يَنْفُونَ عَنْهُ: مَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ.
5- وَلَا يُحَرِّفُونَ: الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ.
[الإلحاد في أسماء الله وآياته] :6- وَلَا يُلْحِدُونَ فِي: أَسْمَاءِ اللَّهِ، وَآيَاتِهِ.
7- وَلَا يُمَثِّلُونَ: صِفَاتِهِ بِصِفَاتِ خَلْقِهِ.
[لا يقاس الله بخلقه] :8- لِأَنَّهُ سُبْحَانَهُ؛ لَا سَمِيَّ لَهُ، وَلَا كُفُوَ لَهُ، وَلَا نِدَّ لَهُ، وَلَا يُقَاسُ بِخَلْقِهِ سبحانه وتعالى.
9- فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ؛ أَعْلَمُ بِنَفْسِهِ وَبِغَيْرِهِ، وَأَصْدَقُ قِيلًا، وَأَحْسَنُ حَدِيثًا مِنْ خَلْقِهِ.
3- বরং তারা বিশ্বাস করে যে, মহান আল্লাহ: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [আশ-শূরা: ১১] ।
4- সুতরাং আল্লাহ নিজের সম্পর্কে যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন, তারা তা অস্বীকার করেন না।
5- আর তারা (আল্লাহর) বাণীসমূহকে তার সঠিক স্থান থেকে পরিবর্তন করেন না।
[আল্লাহর নাম ও তাঁর নিদর্শনাবলির ক্ষেত্রে বিকৃতি]:6- এবং তারা আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর নিদর্শনাবলির ক্ষেত্রে বিকৃতি বা বক্রতা অবলম্বন করেন না।
7- আর তারা তাঁর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করেন না।
[আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায় না]:8- কারণ তিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত; তাঁর সমনামের কেউ নেই, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই, তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এবং মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায় না।
9- কেননা তিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত; তিনি নিজের সম্পর্কে ও অন্যদের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত এবং তাঁর বক্তব্য ও কথা তাঁর সৃষ্টির কথার চেয়ে অধিকতর সত্য ও অধিকতর উত্তম।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
10- ثُمَّ رُسُلُهُ صَادِقُونَ مُصَدَّقُونَ؛ بِخِلَافِ الَّذِينَ يَقُولُونَ عَلَيْهِ مَا لَا يَعْلَمُونَ.
11- وَلِهَذَا قَالَ سبحانه وتعالى: {سُبْحَانَ رَبِّك رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصْفُونَ • وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ • وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} [الصافات: 180 - 182] .
12- فَسَبَّحَ نَفْسَهُ عَمَّا وَصَفَهُ بِهِ الْمُخَالِفُونَ لِلرُّسُلِ، وَسَلَّمَ عَلَى الْمُرْسَلِينَ لِسَلَامَةِ مَا قَالُوهُ مِنَ النَّقْصِ وَالْعَيْبِ.
13- وَهُوَ سُبْحَانَهُ قَدْ جَمَعَ فِيمَا وَصَفَ وَسَمَّى بِهِ نَفْسَهُ بَيْنَ: النَّفْيِ وَالْإِثْبَاتِ.
14- فَلَا عُدُولَ لِأَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ عَمَّا جَاءَتْ بِهِ الْمُرْسَلُونَ.
15- فَإِنَّهُ الصِّرَاطُ الْمُسْتَقِيمُ، صِرَاطُ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ، وَالصِّدِّيقِينَ، وَالشُّهَدَاءِ، وَالصَّالِحِينَ.
* * * *
10- অতঃপর তাঁর রাসূলগণ সত্যবাদী এবং সত্যয়নকারী; তাদের বিপরীতে যারা তাঁর সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তারা জানে না।
11- আর এ কারণেই তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {পবিত্রতা আপনার রবের, যিনি সম্মানের অধিকারী, তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে। আর শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর। এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল সৃষ্টির রব।} [আস-সাফফাত: ১৮০ - ১৮২] ।
12- সুতরাং তিনি তাঁর নিজের পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন সেই বিষয় হতে যা রাসূলগণের বিরোধীরা তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করে থাকে, এবং তিনি রাসূলগণের ওপর শান্তি বর্ষণ করেছেন যেহেতু তাঁরা যা বলেছেন তা ত্রুটি ও দোষ থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে।
13- আর তিনি সুবহানাহু তাঁর নিজের যে সকল গুণ ও নাম বর্ণনা করেছেন তাতে নেতিবাচক (অস্বীকৃতি) ও ইতিবাচক (স্বীকৃতি) প্রসঙ্গের সমন্বয় ঘটিয়েছেন।
14- অতএব আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের জন্য রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
15- কারণ এটিই হলো সরল পথ, তাদের পথ যাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ।
* * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
[الفصل الثاني:الإيمان بما وصف الله به نفسه في كتابه]• وَقَدْ دَخَلَ فِي هَذِهِ الْجُمْلَةِ:
[سورة الإخلاص تعدل ثلث القرآن] :16- مَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ فِي «سُورَةِ الْإِخْلَاصِ» الَّتِي تَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِ.
17- حَيْثُ يَقُولُ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ • اللَّهُ الصَّمَدُ • لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ • وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 1 - 4] .
* * * *
[آية الكرسي أعظم آية في كتاب الله] :18- وَمَا وَصَفَ بِهِ نَفْسَهُ فِي أَعْظَمِ آيَةٍ فِي كِتَابِهِ.
19- حَيْثُ يَقُولُ: {اللَّهُ لَا إلَهَ إلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ} - أَيْ: لَا يُكْرِثُهُ وَلَا يُثْقِلُهُ - {حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ} [البقرة: 255] .
[দ্বিতীয় অধ্যায়:আল্লাহ তাঁর কিতাবে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন তার ওপর ঈমান আনা]• এই সামষ্টিক আলোচনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
[সূরা আল-ইখলাস কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য] :১৬- আল্লাহ নিজের যে গুণাবলি ‘সূরা আল-ইখলাসে’ বর্ণনা করেছেন, যা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য।
১৭- যেখানে তিনি বলেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, একক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} [আল-ইখলাস: ১ - ৪] ।
* * * *
[আয়াতুল কুরসি আল্লাহর কিতাবের মহানতম আয়াত] :১৮- এবং আল্লাহ তাঁর কিতাবের মহানতম আয়াতে নিজের যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন।
১৯- যেখানে তিনি বলেন: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং জমিনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর নিকট সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর তাঁর জ্ঞানের সামান্যতম অংশও তারা আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসি আসমানসমূহ ও জমিনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে। আর সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁকে ক্লান্ত করে না} - অর্থাৎ: তাঁকে পরিশ্রান্ত বা ভারাক্রান্ত করে না - {এবং তিনি সুউচ্চ, সুমহান।} [আল-বাকারা: ২৫৫] ।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
20- وَلِهَذَا كَانَ مَنْ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ فِي لَيْلَةٍ؛ لَمْ يَزَلْ عَلَيْهِ مِنْ اللَّهِ حَافِظٌ، وَلَا يَقْرَبُهُ شَيْطَانٌ حَتَّى يُصْبِحَ.
* * * *
[صفة الحياة] :21- وَقَوْلُهُ سُبْحَانَهُ: {وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ} [الفرقان: 58] .
* * * *
[صفة العلم] :22- وَقَوْلُهُ سُبْحَانَهُ: {هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [الحديد: 3] .
23- وَقَوْلُهُ سُبْحَانَه: {الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} [التحريم: 3] .
24-: {يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا} [سبأ: 2] .
25-: {وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا
২০- এ কারণেই যে ব্যক্তি রাতে এই আয়াতটি পাঠ করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বদা তার জন্য একজন রক্ষক নিয়োজিত থাকবে এবং সকাল হওয়া পর্যন্ত শয়তান তার নিকটবর্তী হতে পারবে না।
* * * *
[জীবনের গুণাবলি] :২১- এবং সুবহানাহুর বাণী: {আর আপনি সেই চিরঞ্জীবের ওপর ভরসা করুন যাঁর মৃত্যু নেই} [আল-ফুরকান: ৫৮]।
* * * *
[জ্ঞানের গুণাবলি] :২২- এবং সুবহানাহুর বাণী: {তিনিই প্রথম, তিনিই শেষ, তিনিই প্রকাশ্য ও তিনিই অপ্রকাশ্য; আর তিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ} [আল-হাদীদ: ৩]।
২৩- এবং সুবহানাহুর বাণী: {সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} [আত-তাহরীম: ৩]।
২৪-: {তিনি জানেন যা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে নির্গত হয়, আর যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা কিছু তাতে আরোহণ করে} [সাবা: ২]।
২৫-: {আর তাঁর নিকটেই রয়েছে অদৃশ্যের চাবিকাঠি, যা তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও ঝরে না এবং মাটির গভীর অন্ধকারে এমন কোনো শস্যকণাও নেই আর না...
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ} [الأنعام: 59] .
26-: {وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنثَى وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ} [فاطر: 11] .
27- وَقَوْلُهُ: {لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا} [الطلاق: 12] .
* * * *
[صفة القوة] :28- وَقَوْلُهُ: {إنَّ اللَّهَ هُوَ الرَّزَّاقُ ذُو الْقُوَّةِ الْمَتِينُ} [الذاريات: 58] .
* * * *
[صفة السمع وصفة البصر] :29- وَقَوْلُهُ: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11] .
30-: {إنَّ اللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِ إنَّ اللَّهَ كَانَ سَمِيعًا بَصِيرًا} [النساء: 58] .
* * * *
[صفة الإرادة] :31- وَقَوْلُهُ: {وَلَوْلَا إذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَاءَ اللَّهُ لَا قُوَّةَ إلَّا بِاللَّهِ} [الكهف: 39] .
32- وَقَوْلُهُ: {وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِن بَعْدِهِم مِّن بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَلَكِنِ اخْتَلَفُوا فَمِنْهُم مَّنْ آمَنَ وَمِنْهُم مَّن كَفَرَ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا اقْتَتَلُوا وَلَكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ} [البقرة: 253] .
33- وَقَوْلُهُ: {أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ إنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ} [المائدة: 1] .
আর্দ্র বা শুষ্ক এমন কিছুই নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে নেই। [আল-আনআম: ৫৯] .
২৬-: {আর কোনো নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসব করে না তাঁর জ্ঞান ব্যতীত} [ফাতির: ১১] .
২৭- এবং তাঁর বাণী: {যাতে তোমরা জানতে পারো যে, আল্লাহ সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দিয়ে সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন} [আত-তালাক: ১২] .
* * * *
[শক্তিগুণ] :২৮- এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ-ই হলেন রিজিকদাতা, মহাশক্তিধর, অতি সুদৃঢ়} [আয-যারিয়াত: ৫৮] .
* * * *
[শ্রবণগুণ ও দর্শনগুণ] :২৯- এবং তাঁর বাণী: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আশ-শূরা: ১১] .
৩০-: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে যা উপদেশ দেন তা কতই না চমৎকার! নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা} [আন-নিসা: ৫৮] .
* * * *
[ইচ্ছাগুণ] :৩১- এবং তাঁর বাণী: {আর তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন কেন বললে না—আল্লাহ যা চেয়েছেন (তা-ই হয়েছে), আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই?} [আল-কাহফ: ৩৯] .
৩২- এবং তাঁর বাণী: {আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তাদের পরবর্তী লোকেরা তাদের নিকট সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর একে অপরের সাথে লড়াই করত না। কিন্তু তারা মতভেদ করল; ফলে তাদের কেউ ঈমান আনল এবং কেউ কুফরি করল। আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তারা লড়াই করত না; কিন্তু আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন} [আল-বাকারা: ২৫৩] .
৩৩- এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে—যা তোমাদের নিকট তিলাওয়াত করা হয়েছে তা ব্যতীত, তবে ইহরাম অবস্থায় শিকারকে হালাল মনে করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন সেই নির্দেশই দেন} [আল-মায়িদা: ১] .
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
34- وَقَوْلُهُ: {فَمَن يُرِدِ اللَّهُ أَن يَهدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَن يُرِدْ أَن يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ} [الأنعام: 125] .
* * * *
[صفة المحبة] :35- وَقَوْلُهُ: {وَأَحْسِنُوا إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} [البقرة: 195] .
36-: {وَأَقْسِطُوا إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ} [الحجرات: 9] .
37-: {فَمَا اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ} [التوبة: 7] .
38-: {إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ} [البقرة: 222] .
39-: {فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ} [المائدة: 54] .
40-: {إنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوصٌ} [الصف: 4] .
41-: {قُلْ إن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ} [آل عمران: 31] .
* * * *
[صفة الرضى] :42- وَقَوْلُهُ: {رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ} [البينة: 8] .
* * * *
34- এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেওয়ার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তার বক্ষকে অতিশয় সংকীর্ণ ও সংকুচিত করে দেন, যেন সে অতি কষ্টে আকাশে আরোহণ করছে।} [আল-আনআম: ১২৫] ।
* * * *
[মুহাব্বত বা ভালোবাসা গুণ] :35- এবং তাঁর বাণী: {এবং তোমরা ইহসান (সদাচরণ) করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহসিনদের (সদাচারীদের) ভালোবাসেন।} [আল-বাকারাহ: ১৯৫] ।
36-: {এবং তোমরা ন্যায়বিচার করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকদের ভালোবাসেন।} [আল-হুজুরাত: ৯] ।
37-: {কাজেই তারা যতক্ষণ তোমাদের জন্য (চুক্তিতে) অটল থাকবে, তোমরাও তাদের জন্য অটল থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের (পরহেযগারদের) ভালোবাসেন।} [আত-তাওবাহ: ৭] ।
38-: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং তিনি পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।} [আল-বাকারাহ: ২২২] ।
39-: {শীঘ্রই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসবে।} [আল-মায়েদাহ: ৫৪] ।
40-: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধ হয়ে লড়াই করে, যেন তারা সিসাঢালা এক সুদৃঢ় প্রাচীর।} [আছ-ছফ: ৪] ।
41-: {বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।} [আলে ইমরান: ৩১] ।
* * * *
[রিদা বা সন্তুষ্টি গুণ] :42- এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে।} [আল-বাইয়্যিনাহ: ৮] ।
* * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
[صفة الرحمة] :43- وَقَوْلُهُ: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} [النمل: 30] .
44-: {رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا} [غافر: 7] .
45-: {وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا} [الأحزاب: 43] .
46-: {كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ} [الأنعام: 54] .
47-: {وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [يونس: 107] .
48-: {فَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظًا وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ} [يوسف: 64] .
* * * *
[صفات: الغضب والسخط والكراهية والبغض] :49- وَقَوْلُهُ: {وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَاؤُهُ جَهَنَّمُ خَالِدًا فِيهَا وَغَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُ} [النساء: 93] .
50- وَقَوْلُهُ: {ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللَّهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ} [محمد: 28] .
51- وَقَوْلُهُ: {فَلَمَّا آسَفُونَا انتَقَمْنَا مِنْهُمْ} [الزخرف: 55] .
52- وَقَوْلُهُ: {وَلَكِن كَرِهَ اللَّهُ انبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ} [التوبة: 46] .
53- وَقَوْلُهُ: {كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ أَن تَقُولُوا مَا لَا تَفْعَلُونَ} [الصف: 3] .
* * * *
[صفتي: المجيء والإتيان] :54- وَقَوْلُهُ: {هَلْ يَنظُرُونَ إلَّا أَن يَأْتِيَهُمُ اللَّهُ فِي ظُلَلٍ مِّنَ الْغَمَامِ وَالْمَلَائِكَةُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ} [البقرة: 210] .
[রহমত (দয়া) গুণ] :৪৩- এবং তাঁর বাণী: {পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।} [আন-নামল: ৩০] ।
৪৪-: {হে আমাদের রব! আপনি প্রতিটি বস্তুকে রহমত ও জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।} [গাফির: ৭] ।
৪৫-: {আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু।} [আল-আহযাব: ৪৩] ।
৪৬-: {তোমাদের রব তাঁর নিজের ওপর দয়া করাকে আবশ্যক করে নিয়েছেন।} [আল-আন'আম: ৫৪] ।
৪৭-: {আর তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [ইউনুস: ১০৭] ।
৪৮-: {সুতরাং আল্লাহই শ্রেষ্ঠ রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং তিনি শ্রেষ্ঠ দয়ালু।} [ইউসুফ: ৬৪] ।
* * * *
[রাগ, অসন্তুষ্টি, অপছন্দ ও ক্রোধের গুণাবলী] :৪৯- এবং তাঁর বাণী: {আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করবে, তার প্রতিদান হবে জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আর আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তাকে অভিশাপ দিয়েছেন।} [আন-নিসা: ৯৩] ।
৫০- এবং তাঁর বাণী: {এটি এজন্য যে, তারা এমন বিষয়ের অনুসরণ করেছিল যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছিল।} [মুহাম্মদ: ২৮] ।
৫১- এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর তারা যখন আমাকে রাগান্বিত করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম।} [আয-যুখরুফ: ৫৫] ।
৫২- এবং তাঁর বাণী: {কিন্তু আল্লাহ তাদের অভিযানে বের হওয়া অপছন্দ করলেন, ফলে তিনি তাদের নিবৃত্ত করলেন।} [আত-তাওবাহ: ৪৬] ।
৫৩- এবং তাঁর বাণী: {তোমরা যা করো না তা বলা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত ক্রোধের বিষয়।} [আস-সাফ: ৩] ।
* * * *
[আসা এবং উপস্থিত হওয়া সংক্রান্ত দুটি গুণ] :৫৪- এবং তাঁর বাণী: {তারা কি কেবল এই অপেক্ষায় আছে যে, আল্লাহ মেঘমালার ছায়াতলে তাদের নিকট উপস্থিত হবেন এবং ফেরেশতারাও আসবে? আর তখন সকল বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাবে।} [আল-বাকারাহ: ২১০] ।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
55-: {هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمُ الْمَلَائِكَةُ أَوْ يَأْتِيَ رَبُّكَ أَوْ يَأْتِيَ بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ يَوْمَ يَأْتِي بَعْضُ آيَاتِ رَبِّكَ} [الأنعام: 158] .
56-: {كَلَّا إذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكًّا دَكًّا • وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا} [الفجر: 21 - 22] .
57-: {وَيَوْمَ تَشَقَّقُ السَّمَاءُ بِالْغَمَامِ وَنُزِّلَ الْمَلَائِكَةُ تَنْزِيلًا} [الفرقان: 25] .
* * * *
[صفة الوجه لله سبحانه] :58- وَقَوْلُهُ: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ} [الرحمن: 27] .
59-: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إلَّا وَجْهَهُ} [القصص: 88] .
* * * *
[إثبات اليدين لله تعالى] :
60- وَقَوْلُهُ: {مَا مَنَعَكَ أَن تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} [ص: 75] .
61-: {وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ} [المائدة: 64] .
* * * *
[إثبات العينين لله تعالى] :62- وَقَوْلُهُ: {وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا} [الطور: 48] .
63-: {وَحَمَلْنَاهُ عَلَى ذَاتِ أَلْوَاحٍ وَدُسُرٍ • تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا جَزَاءً لِّمَن كَانَ كُفِرَ} [القمر: 13 - 14] .
৫৫-: {তারা কি কেবল এই অপেক্ষায় আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতারা আসবে অথবা আপনার রব আসবেন অথবা আপনার রবের কিছু নিদর্শন আসবে? যেদিন আপনার রবের কিছু নিদর্শন আসবে [সেদিন বিশ্বাসের কোনো উপকারে আসবে না]} [আল-আনআম: ১৫৮] ।
৫৬-: {কখনো নয়, যখন জমিন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে ধুলিসাৎ হবে • এবং আপনার রব আসবেন আর ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবে} [আল-ফজর: ২১ - ২২] ।
৫৭-: {আর যেদিন মেঘমালাসহ আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং ফেরেশতাদের যথাযথভাবে নামানো হবে} [আল-ফুরকান: ২৫] ।
* * * *
[মহান আল্লাহর চেহারার গুণাবলি] :৫৮- এবং তাঁর বাণী: {আর আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে} [আর-রাহমান: ২৭] ।
৫৯-: {তাঁর চেহারা ব্যতীত সব কিছুই ধ্বংসশীল} [আল-কাসাস: ৮৮] ।
* * * *
[আল্লাহ তাআলার জন্য দুই হাত সাব্যস্তকরণ] :৬০- এবং তাঁর বাণী: {আমি আমার দুই হাত দিয়ে যাকে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে কিসে তোমাকে বাধা দিল?} [সোয়াদ: ৭৫] ।
৬১-: {আর ইহুদিরা বলে, আল্লাহর হাত রুদ্ধ; তাদের হাতই রুদ্ধ হয়েছে এবং তাদের উক্তির কারণে তারা অভিশপ্ত হয়েছে। বরং আল্লাহর দুই হাতই প্রসারিত, তিনি যেভাবে ইচ্ছা ব্যয় করেন} [আল-মায়িদাহ: ৬৪] ।
* * * *
[আল্লাহ তাআলার জন্য দুই চোখ সাব্যস্তকরণ] :৬২- এবং তাঁর বাণী: {আর আপনি আপনার রবের ফয়সালার জন্য ধৈর্য ধারণ করুন, কারণ আপনি আমাদের চোখের সামনেই আছেন} [আত-তুর: ৪৮] ।
৬৩-: {আর আমি তাকে (নূহকে) কাষ্ঠখন্ড ও পেরেক নির্মিত এক নৌযানে আরোহণ করালাম • যা আমাদের চোখের সামনে চলত, এটি তার জন্য পুরস্কার স্বরূপ যাকে অস্বীকার করা হয়েছিল} [আল-কামার: ১৩ - ১৪] ।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
64-: {وَأَلْقَيْتُ عَلَيْكَ مَحَبَّةً مِّنِّي وَلِتُصْنَعَ عَلَى عَيْنِي} [طه: 39] .
* * * *
[صفتي السمع والبصر لله تعالى] :65- وَقَوْلُهُ: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ} [المجادلة: 1] .
66-: {لَقَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّذِينَ قَالُوا إنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ سَنَكْتُبُ مَا قَالُوا} [آل عمران: 181] .
67-: {أَمْ يَحْسَبُونَ أَنَّا لَا نَسْمَعُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ بَلَى وَرُسُلُنَا لَدَيْهِمْ يَكْتُبُونَ} [الزخرف: 80] .
68-: {إنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} [طه: 46] .
69-: {أَلَمْ يَعْلَم بِأَنَّ اللَّهَ يَرَى} [العلق: 14] .
70-: {الَّذِي يَرَاكَ حِينَ تَقُومُ • وَتَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ} [الشعراء: 218 - 219] .
71-: {وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ} [التوبة: 105] .
* * * *
[صفات المكر والكيد والمِحال لله تعالى على ما يليق بجلاله] :72- وَقَوْلُهُ: {شَدِيدُ الْمِحَالِ} [الرعد: 13] .
৬৪-: {আর আমি আপনার উপর আমার পক্ষ থেকে ভালোবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম, যাতে আপনি আমার চোখের সামনে লালিত-পালিত হন।} [ত্বহা: ৩৯] ।
* * * *
[মহান আল্লাহর শ্রবণ ও দর্শন গুণাবলি] :৬৫- এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছিল। আল্লাহ আপনাদের উভয়ের কথোপকথন শুনছিলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [আল-মুজাদিলা: ১] ।
৬৬-: {আল্লাহ অবশ্যই তাদের কথা শুনেছেন যারা বলেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবগ্রস্ত আর আমরা ধনী’। তারা যা বলেছে তা আমি লিখে রাখব।} [আল-ইমরান: ১৮১] ।
৬৭-: {নাকি তারা মনে করে যে, আমি তাদের গোপন কথা ও গোপন পরামর্শ শুনি না? অবশ্যই (শুনি), আর আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তাদের কাছে থেকে তা লিখে রাখছেন।} [আয-যুখরুফ: ৮০] ।
৬৮-: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি; আমি শুনি এবং দেখি।} [ত্বহা: ৪৬] ।
৬৯-: {সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন?} [আল-আলাক: ১৪] ।
৭০-: {যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি সালাতে দাঁড়ান, এবং সিজদাকারীদের মাঝে আপনার উঠাবসাও দেখেন।} [আশ-শুআরা: ২১৮ - ২১৯] ।
৭১-: {আর আপনি বলুন, ‘তোমরা আমল করতে থাকো, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও দেখবেন’।} [আত-তাওবাহ: ১০৫] ।
* * * *
[আল্লাহ তাআলার মর্যাদা অনুযায়ী তাঁর মাকর (কৌশল), কাইদ (পরিকল্পনা) ও মিহাল (কঠিন পাকড়াও) সংক্রান্ত গুণাবলি] :৭২- এবং তাঁর বাণী: {এবং তিনি মহাশক্তিশালী (কঠিন পাকড়াওকারী)।} [আর-রাদ: ১৩] ।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
73- وَقَوْلُهُ: {وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللَّهُ} [آل عمران: 54] .
74- وَقَوْلُهُ: {وَمَكَرُوا مَكْرًا وَمَكَرْنَا مَكْرًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ} [النمل: 50] .
75- وَقَوْلُهُ: {إنَّهُمْ يَكِيدُونَ كَيْدًا • وَأَكِيدُ كَيْدًا} [الطارق: 15 - 16] .
* * * *
[صفات العفو والمغفرة والرحمة والعزة والقدرة] :76- وَقَوْلُهُ: {إِن تُبْدُوا خَيْرًا أَوْ تُخْفُوهُ أَوْ تَعْفُوا عَن سُوءٍ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا قَدِيرًا} [النساء: 149] .
77-: {وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} [النور: 22] .
78- وَقَوْلُهُ: {وَلِلَّهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُولِهِ وَلِلْمُؤْمِنِينَ} [المنافقون: 8] .
79- وَقَوْلُهُ عَنْ إبْلِيسَ: {فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ} [ص: 82] .
* * * *
[إثبات الاسم لله] :80- وَقَوْلُهُ: {تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ} [الرحمن: 78] .
81- وَقَوْلُهُ: {فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} [مريم: 65] .
* * * *
[آيات الصفات المنفية في تنزيه الله ونفي المثل عنه] :82- {وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ} [الإخلاص: 4] .
৭৩- এবং তাঁর বাণী: {এবং তারা মকর (কৌশল) করেছিল এবং আল্লাহও মকর (কৌশল) করেছিলেন।} [আলে ইমরান: ৫৪] ।
৭৪- এবং তাঁর বাণী: {এবং তারা এক মকর (কৌশল) করেছিল এবং আমরাও এক মকর (কৌশল) করেছিলাম, অথচ তারা বুঝতে পারেনি।} [আন-নামল: ৫০] ।
৭৫- এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই তারা ভীষণ কায়দ (কৌশল) করে, এবং আমিও ভীষণ কায়দ (কৌশল) করি।} [আত-তারিক: ১৫ - ১৬] ।
* * * *
[ক্ষমা, মার্জনা, দয়া, সম্মান ও ক্ষমতার গুণাবলি] :৭৬- এবং তাঁর বাণী: {তোমরা যদি কোনো ভালো কাজ প্রকাশ করো কিংবা তা গোপন করো অথবা কোনো মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, সর্বশক্তিমান।} [আন-নিসা: ১৪৯] ।
৭৭-: {এবং তারা যেন ক্ষমা করে ও মার্জনা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করেন? আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [আন-নূর: ২২] ।
৭৮- এবং তাঁর বাণী: {আর সমস্ত সম্মান কেবল আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদের জন্য।} [আল-মুনাফিকুন: ৮] ।
৭৯- এবং ইবলিস সম্পর্কে তাঁর বাণী: {সে বলল, আপনার সম্মানের শপথ! আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করব।} [সোয়াদ: ৮২] ।
* * * *
[আল্লাহর জন্য নাম সাব্যস্ত করা] :৮০- এবং তাঁর বাণী: {কতই না বরকতময় আপনার প্রতিপালকের নাম, যিনি মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী।} [আর-রাহমান: ৭৮] ।
৮১- এবং তাঁর বাণী: {অতএব তাঁর ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে ধৈর্যশীল থাকুন। আপনি কি তাঁর সমজাতীয় কাউকে জানেন?} [মারইয়াম: ৬৫] ।
* * * *
[আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা এবং তাঁর সদৃশতা নাকচ করার ক্ষেত্রে নেতিবাচক গুণাবলি সংক্রান্ত আয়াতসমূহ] :৮২- {এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} [আল-ইখলাস: ৪] ।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
83-: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ} [البقرة: 22] .
84-: {وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ} [البقرة: 165] .
85-: {وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُ وَلِيٌّ مِّنَ الذُّلِّ وَكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا} [الإسراء: 111] .
86-: {يُسَبِّحُ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} [التغابن: 1] .
87-: {تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا • الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا} [الفرقان: 1 - 2] .
88-: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِن وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إذًا لَّذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلَا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ • عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} [المؤمنون: 91 - 92] .
89-: {فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ إنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 74] .
90-: {قُلْ إنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ
৮৩-: {কাজেই তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ স্থির করো না।} [আল-বাকারা: ২২] .
৮৪-: {আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ ছাড়া অন্যকে আল্লাহর সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে, তারা তাদের ভালোবাসে আল্লাহকে ভালোবাসার মতো।} [আল-বাকারা: ১৬৫] .
৮৫-: {আর বলো, সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যাঁর কোনো শরিক নেই এবং যিনি অপদস্থতা থেকে বাঁচার জন্য কোনো সাহায্যকারীর মুখাপেক্ষী নন; আর তুমি তাঁর মহিমা ঘোষণা করো যথাযথ মর্যাদায়।} [আল-ইসরা: ১১১] .
৮৬-: {আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে; রাজত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।} [আত-তাগাবুন: ১] .
৮৭-: {পরম কল্যাণময় তিনি, যিনি তাঁর বান্দার ওপর ‘ফুরকান’ অবতীর্ণ করেছেন যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে। যাঁর রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে যাঁর কোনো শরিক নেই এবং তিনি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন।} [আল-ফুরকান: ১ - ২] .
৮৮-: {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো ইলাহ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অন্যের ওপর প্রবল হতো। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ কতই না পবিত্র! তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তারা যা শরিক করে তিনি তার থেকে কত ঊর্ধ্বে!} [আল-মুমিনুন: ৯১ - ৯২] .
৮৯-: {কাজেই আল্লাহর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না।} [আন-নাহল: ৭৪] .
৯০-: {বলো, আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ—যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে—আর পাপ...} [আল-আরাফ: ৩৩] .
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭০)
وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33] .
* * * *
[استواء الله على عرشه] :91- وَقَوْلُهُ: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} [طه: 5] .
92-: {ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ} فِي سِتَّةِ مَوَاضِعَ: [الأعراف: 54] [يونس: 3] [الرعد: 2] [الفرقان: 59] [السجدة: 4] [الحديد: 4] .
* * * *
[إثبات علو الله على مخلوقاته] :93-: {يَا عِيسَى إنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إلَيَّ} [آل عمران: 55] .
94-: {بَل رَّفَعَهُ اللَّهُ إلَيْهِ} [النساء: 158] .
95-: {إلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ} [فاطر: 10] .
96-: {يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَّعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ • أَسْبَابَ السَّمَوَاتِ فَأَطَّلِعَ إلَى إِلَهِ مُوسَى وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا} [غافر: 36 - 37] .
97-: {أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ • أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ} [الملك: 16 - 17] .
* * * *
এবং অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ করা, আর আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না। [আল-আরাফ: ৩৩] .
* * * *
[আরশের উপর আল্লাহর উঠা] :৯১- এবং তাঁর বাণী: {পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন} [ত্বহা: ৫]।
৯২-: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন} ছয়টি স্থানে: [আল-আরাফ: ৫৪] [ইউনুস: ৩] [আর-রাদ: ২] [আল-ফুরকান: ৫৯] [আস-সাজদাহ: ৪] [আল-হাদিদ: ৪]।
* * * *
[সৃষ্টির উপরে আল্লাহর উচ্চতা সাব্যস্তকরণ] :৯৩-: {হে ঈসা! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে গ্রহণ করব এবং তোমাকে আমার নিকট উঠিয়ে নেব} [আল ইমরান: ৫৫]।
৯৪-: {বরং আল্লাহ তাকে তাঁর নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন} [আন-নিসা: ১৫৮]।
৯৫-: {তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ আরোহণ করে এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে} [ফাতির: ১০]।
৯৬-: {হে হামান! আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করো, যাতে আমি পৌঁছাতে পারি সেই পথগুলোতে— আসমানসমূহের পথগুলোতে, যাতে আমি মূসার ইলাহকে দেখতে পাই; আর আমি তো তাকে মিথ্যাবাদীই মনে করি} [গাফির: ৩৬ - ৩৭]।
৯৭-: {তোমরা কি নির্ভয় হয়ে গিয়েছ তাঁর থেকে যিনি আকাশে আছেন যে, তিনি তোমাদেরসহ জমিনকে ধসিয়ে দেবেন না, আর তখনই তা কাঁপতে থাকবে? নাকি তোমরা নির্ভয় হয়ে গিয়েছ তাঁর থেকে যিনি আকাশে আছেন যে, তিনি তোমাদের উপর পাথরকুচি বর্ষণকারী ঝড় পাঠাবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী} [আল-মুলক: ১৬ - ১৭]।
* * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭১)
[إثبات معية الله لخلقه] :98- وَقَوْلُهُ: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [الحديد: 4] .
99-: {مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلَاثَةٍ إلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [المجادلة: 7] .
100-: {لَا تَحْزَنْ إنَّ اللَّهَ مَعَنَا} [التوبة: 40] .
101-: {إنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} [طه: 46] .
102-: {إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُم مُّحْسِنُونَ} [النحل: 128] .
103-: {وَاصْبِرُوا إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [الأنفال: 46] .
104-: {كَم مِّن فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ} [البقرة: 249] .
* * * *
[إثبات الكلام لله تعالى] :105- وَقَوْلُهُ: {وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ حَدِيثًا} [النساء: 87] .
[সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সাথে থাকার (মাইয়্যাত) প্রমাণ] :৯৮- এবং তাঁর বাণী: {তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা কিছু ভূমিতে প্রবেশ করে এবং যা কিছু তা থেকে নির্গত হয়, আর যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা কিছু তাতে আরোহণ করে। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন। আর তোমরা যা কিছু করো, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।} [আল-হাদিদ: ৪] ।
৯৯-: {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যেখানে তিনি চতুর্থজন না থাকেন, আর পাঁচ ব্যক্তিরও না যেখানে তিনি ষষ্ঠজন না থাকেন; তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি এবং তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে থাকেন। তারপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।} [আল-মুজাদিলা: ৭] ।
১০০-: {তুমি বিষণ্ণ হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।} [আত-তাওবাহ: ৪০] ।
১০১-: {নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি ও দেখি।} [ত্বহা: ৪৬] ।
১০২-: {নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।} [আন-নাহল: ১২৮] ।
১০৩-: {আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো; নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [আল-আনফাল: ৪৬] ।
১০৪-: {আল্লাহর ইচ্ছায় কত ক্ষুদ্র দল কত বৃহৎ দলের ওপর বিজয়ী হয়েছে! আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [আল-বাকারা: ২৪৯] ।
* * * *
[আল্লাহ তাআলার কথা বলা (কালাম) গুণ সাব্যস্তকরণ] :১০৫- এবং তাঁর বাণী: {আর কথায় আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?} [আন-নিসা: ৮৭] ।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭২)
106-: {وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلًا} [النساء: 122] .
107-: {وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ} [المائدة: 116] .
108-: {وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا} [الأنعام: 115] .
109-: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} [النساء: 164] .
110-: {مِنْهُم مَّن كَلَّمَ اللَّهُ} [البقرة: 253] .
111-: {وَلَمَّا جَاءَ مُوسَى لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ} [الأعراف: 143] .
* * * *
112-: {وَنَادَيْنَاهُ مِن جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَاهُ نَجِيًّا} [مريم: 52] .
113-: {وَإِذْ نَادَى رَبُّكَ مُوسَى أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} [الشعراء: 10] .
114-: {وَنَادَاهُمَا رَبُّهُمَا أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَنْ تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ} [الأعراف: 22] .
115-: {وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ أَيْنَ شُرَكَائِيَ الَّذِينَ كُنتُمْ تَزْعُمُونَ} [القصص: 62] .
116-: {وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ فَيَقُولُ مَاذَا أَجَبْتُمُ الْمُرْسَلِينَ} [القصص: 65] .
* * * *
117-: {وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ} [التوبة: 6] .
১০৬-: {কথায় আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?} [আন-নিসা: ১২২] ।
১০৭-: {এবং যখন আল্লাহ বললেন, হে মারইয়াম পুত্র ঈসা!} [আল-মায়িদাহ: ১১৬] ।
১০৮-: {আপনার রবের বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক থেকে পূর্ণ হয়েছে।} [আল-আনআম: ১১৫] ।
১০৯-: {এবং আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন।} [আন-নিসা: ১৬৪] ।
১১০-: {তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন ছিলেন যাদের সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন।} [আল-বাক্বারাহ: ২৫৩] ।
১১১-: {আর যখন মূসা আমার নির্ধারিত সময়ে আসলেন এবং তাঁর রব তাঁর সাথে কথা বললেন।} [আল-আরাফ: ১৪৩] ।
* * * *
১১২-: {আমি তাকে তূর পাহাড়ের ডান দিক থেকে আহ্বান করলাম এবং তাকে নিভৃতে আলাপ করার জন্য নিকটবর্তী করলাম।} [মারইয়াম: ৫২] ।
১১৩-: {এবং যখন আপনার রব মূসাকে ডেকে বললেন যে, তুমি যালিম সম্প্রদায়ের নিকট যাও।} [আশ-শুআরা: ১০] ।
১১৪-: {তাদের রব তাদেরকে ডেকে বললেন, আমি কি তোমাদেরকে ওই গাছটি থেকে নিষেধ করিনি?} [আল-আরাফ: ২২] ।
১১৫-: {এবং যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার ওই শরীকরা কোথায় যাদেরকে তোমরা (শরীক বলে) ধারণা করতে?} [আল-কাসাস: ৬২] ।
১১৬-: {এবং যেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা রাসূলগণকে কী উত্তর দিয়েছিলে?} [আল-কাসাস: ৬৫] ।
* * * *
১১৭-: {আর যদি মুশরিকদের মধ্য থেকে কেউ আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দিন যাতে সে আল্লাহর বাণী শুনতে পারে।} [আত-তাওবাহ: ৬] ।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
118-: {وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِن بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [البقرة: 75] .
119-: {يُرِيدُونَ أَن يُبَدِّلُوا كَلَامَ اللَّهِ قُل لَّن تَتَّبِعُونَا} [الفتح: 15] .
120-: {وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إلَيْكَ مِن كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ} [الكهف: 27] .
121-: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَقُصُّ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ} [النمل: 76] .
* * * *
[إثبات أن القرآن مُنَزَّل من الله تعالى] :122-: {وَهَذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ} [الأنعام: 155] .
123-: {لَوْ أَنزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّهِ} [الحشر: 21] .
124-: {وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَّكَانَ آيَةٍ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوا إنَّمَا أَنتَ مُفْتَرٍ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ • قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِن رَّبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ • وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِّسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُّبِينٌ} [النحل: 101 - 103] .
* * * *
১১৮-: {তাদের একটি দল আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত, অতঃপর তা অনুধাবন করার পর তারা তা জেনে-বুঝে বিকৃত করত।} [আল-বাকারা: ৭৫] .
১১৯-: {তারা আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করতে চায়; বলুন: তোমরা কখনোই আমাদের অনুসরণ করবে না।} [আল-ফাতহ: ১৫] .
১২০-: {আপনার প্রতি আপনার রবের কিতাব থেকে যা ওহি করা হয়েছে তা পাঠ করুন, তাঁর বাণীসমূহ পরিবর্তন করার কেউ নেই।} [আল-কাহাফ: ২৭] .
১২১-: {নিশ্চয় এই কুরআন বনী ইসরাঈলের নিকট অধিকাংশ বিষয় বর্ণনা করে।} [আন-নামল: ৭৬] .
* * * *
[কুরআন যে মহান আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ তার প্রমাণ] :১২২-: {আর এটি একটি কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি, এটি বরকতময়।} [আল-আনআম: ১৫৫] .
১২৩-: {যদি আমি এই কুরআন কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করতাম, তবে আপনি তা আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ হতে দেখতেন।} [আল-হাশর: ২১] .
১২৪-: {আর যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত স্থলাভিষিক্ত করি—আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন সে সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবগত—তখন তারা বলে: আপনি তো কেবল একজন মিথ্যা রচনাকারী; বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। বলুন: আপনার রবের পক্ষ থেকে রুহুল কুদুস এটি সত্যসহ অবতীর্ণ করেছেন, যাতে তা মুমিনদেরকে সুদৃঢ় করে এবং এটি মুসলিমদের জন্য হেদায়াত ও সুসংবাদ। আর আমি অবশ্যই জানি যে তারা বলে: তাকে তো কেবল একজন মানুষ শিক্ষা দেয়। তারা যার দিকে বাঁকাভাবে ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো অনারব, আর এটি হচ্ছে সুস্পষ্ট আরবি ভাষা।} [আন-নাহল: ১০১ - ১০৩] .
* * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
[إثبات رؤية المؤمنين لربهم يوم القيامة] :125- وَقَوْلُهُ: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ • إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} [القيامة: 22 - 23] .
126-: {عَلَى الْأَرَائِكِ يَنظُرُونَ} [المطففين: 24] .
127-: {لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ} [يونس: 26] .
128-: {لَهُم مَّا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ} [ق: 35] .
129- وَهَذَا الْبَابُ فِي كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى كَثِيرٌ.
130- وَمَنْ تَدَبَّرَ الْقُرْآنَ طَالِبًا لِلْهُدَى مِنْهُ؛ تَبَيَّنَ لَهُ طَرِيقُ الْحَقِّ.
* * * *
[কিয়ামত দিবসে মুমিনদের জন্য তাদের রবকে দর্শনের প্রমাণ] :১২৫- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে; তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে।} [আল-কিয়ামাহ: ২২-২৩]।
১২৬-: {তারা সুসজ্জিত আসনে বসে তাকিয়ে দেখবে।} [আল-মুতাফফিফিন: ২৪]।
১২৭-: {যারা কল্যাণকর কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত এবং আরও অতিরিক্ত।} [ইউনুস: ২৬]।
১২৮-: {তারা সেখানে যা চাইবে তা-ই পাবে এবং আমাদের নিকট রয়েছে আরও অতিরিক্ত।} [ক্বাফ: ৩৫]।
১২৯- আর আল্লাহ তাআলার কিতাবে এই বিষয়টি অনেক বেশি বর্ণিত হয়েছে।
১৩০- আর যে ব্যক্তি হিদায়াত লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করবে, তার নিকট সত্যের পথ স্পষ্ট হয়ে যাবে।
* * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
[الفصل الثالث:الإيمان بما وصف به الرسول صلى الله عليه وسلم ربه]• ثُمَّ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:
131- تُفَسِّرُ الْقُرْآنَ، وَتُبَيِّنُهُ، وَتَدُلُّ عَلَيْهِ، وَتُعَبِّرُ عَنْهُ.
132- وَمَا وَصَفَ الرَّسُولُ بِهِ رَبَّهُ، مِنَ الْأَحَادِيثِ الصِّحَاحِ الَّتِي تَلَقَّاهَا أَهْلُ الْمَعْرِفَةِ بِالْقَبُولِ؛ وَجَبَ الْإِيمَانُ بِهَا كَذَلِكَ.
* * * *
[أحاديث الصفات] :
[1- في إثبات نزول الله إلى السماء الدنيا] :133- مِثْلُ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «يَنْزِلُ رَبُّنَا إلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ، حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرِ، فَيَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
* * * *
[2- في إثبات الفرح لله عز وجل] :134- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «لَلَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ، مِنْ أَحَدِكُمْ بِرَاحِلَتِهِ
… » الْحَدِيثَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
[তৃতীয় অধ্যায়:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালককে যে সকল বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করেছেন সেগুলোর প্রতি ঈমান]• অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ:
১৩১- যা কুরআনের তাফসীর করে, একে ব্যাখ্যা করে, এর দিকে পথপ্রদর্শন করে এবং এর মর্ম প্রকাশ করে।
১৩২- এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালককে যে সকল বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন—সে সকল সহীহ হাদীসের মাধ্যমে যা ইলম বিশারদগণ কবুল করে নিয়েছেন—সেগুলোর প্রতিও অনুরূপভাবে ঈমান রাখা ওয়াজিব।
* * * *
[গুণাবলি সংক্রান্ত হাদীসসমূহ] :[১- দুনিয়ার আসমানে আল্লাহর অবতরণ সাব্যস্তকরণে] :১৩৩- যেমন তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতে যখন রাতের শেষ এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে, তখন দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন: কে আমাকে ডাকবে যে আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আমার কাছে চাইবে যে আমি তাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে যে আমি তাকে ক্ষমা করব?» মুত্তাফাকুন আলাইহি।
* * * *
[২- মহামহিম আল্লাহর জন্য আনন্দ সাব্যস্তকরণে] :১৩৪- এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের কারো নিজ বাহন (হারিয়ে ফিরে পাওয়ার) আনন্দের চেয়েও অধিক আনন্দিত হন...» হাদীসটি। মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
[3- في إثبات الضحك] :135- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «يَضْحَكُ اللَّهُ إلَى رَجُلَيْنِ؛ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ؛ كِلَاهُمَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
* * * *
[4- في إثبات العجب وصفات أخرى] :136- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «عَجِبَ رَبُّنَا مِنْ قُنُوطِ عِبَادِهِ وَقُرْبِ غِيَرِهِ؛ يَنْظُرُ إلَيْكُمْ أَزِلِينَ قَنِطِينَ، فَيَظَلُّ يَضْحَكُ؛ يَعْلَمُ أَنَّ فَرَجَكُمْ قَرِيبٌ» . حَدِيثٌ حَسَنٌ.
* * * *
[5- في إثبات الرجل أو القدم] :137- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزَالُ جَهَنَّمُ يُلْقَى فِيهَا، وَتَقُولُ: هَلْ مِنْ مَزِيدٍ؛ حَتَّى يَضَعَ رَبُّ الْعِزَّةِ فِيهَا - وَفِي رِوَايَةٍ: عَلَيْهَا - قَدَمَهُ
[৩- হাসি সাব্যস্ত করার বিষয়ে] :১৩৫- এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «আল্লাহ এমন দুইজন ব্যক্তির প্রতি হাসেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করে; অথচ তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করে»। মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমতে বর্ণিত)।
* * * *
[৪- আশ্চর্য হওয়া ও অন্যান্য গুণাবলি সাব্যস্ত করার বিষয়ে] :১৩৬- এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «আমাদের রব তাঁর বান্দাদের নিরাশা এবং তাঁর পক্ষ থেকে অবস্থার পরিবর্তনের নৈকট্য দেখে আশ্চর্য হন; তিনি তোমাদের দিকে তাকান এই অবস্থায় যে তোমরা চরম সংকটাপন্ন ও হতাশ, আর তিনি হাসতে থাকেন; তিনি জানেন যে তোমাদের মুক্তি নিকটবর্তী»। এটি একটি হাসান হাদিস।
* * * *
[৫- পা সাব্যস্ত করার বিষয়ে] :১৩৭- এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «জাহান্নামে অবিরত (জাহান্নামিদের) নিক্ষেপ করা হতে থাকবে এবং সে বলতে থাকবে: 'আরও কি অতিরিক্ত আছে?' যতক্ষণ না ইজ্জতের রব তাতে —অন্য বর্ণনায়: তার উপরে— আল্লাহর পা রাখেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
فَيَنْزَوِي بَعْضُهَا إلَى بَعْضٍ؛ وَتَقُولُ: قَط قَط» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
* * * *
[6- في إثبات الكلام والصوت] :138- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: يَا آدَمَ! فَيَقُولُ: لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ. فَيُنَادِي بِصَوْتِ: إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكَ أَنْ تُخْرِجَ مِنْ ذُرِّيَّتِكَ بَعْثًا إِلَى النَّارِ..» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
* * * *
139- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا سَيُكَلِّمُهُ رَبُّهُ، لَيْسَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ حَاجِبٌ وَلَا تُرْجُمَانٌ» .
* * * *
[7- في إثبات العلو لله وصفات أخرى] :140- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم فِي رُقْيَةِ الْمَرِيضِ: «رَبُّنَا اللَّهُ الَّذِي فِي السَّمَاءِ! تَقَدَّسَ اسْمُكَ، أَمْرُك فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ؛ كَمَا رَحْمَتُكَ فِي السَّمَاءِ؛ اجْعَلْ رَحْمَتَكَ فِي الْأَرْضِ، اغْفِرْ لَنَا حُوْبَنَا
ফলে এর এক অংশ অপর অংশের সাথে সংকুচিত হয়ে যাবে এবং তা বলবে: যথেষ্ট, যথেষ্ট। মুত্তাফাকুন আলাইহি।
* * * *
[৬- আল্লাহর কথা বলা ও আওয়াজ সাব্যস্ত করার বিষয়ে] :১৩৮- এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «আল্লাহ তাআলা বলবেন: হে আদম! তিনি (আদম) বলবেন: আমি আপনার দরবারে উপস্থিত ও সৌভাগ্যবান। তখন তিনি একটি আওয়াজের সাথে ডেকে বলবেন: নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে নির্দেশ দিচ্ছেন যেন আপনি আপনার বংশধরদের মধ্য থেকে একটি দলকে জাহান্নামের জন্য বের করে আনেন...»। মুত্তাফাকুন আলাইহি।
* * * *
১৩৯- এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে তার রব অচিরেই কথা বলবেন, এমন অবস্থায় যে তাঁর ও বান্দার মাঝে কোনো পর্দা থাকবে না এবং কোনো দোভাষীও থাকবে না»।
* * * *
[৭- আল্লাহর উচ্চতা এবং অন্যান্য গুণাবলি সাব্যস্ত করার বিষয়ে] :১৪০- এবং অসুস্থ ব্যক্তির ঝাড়ফুঁকের ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: «আমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানে রয়েছেন! আপনার নাম পবিত্র হোক, আসমান ও জমিনে আপনারই নির্দেশ (কার্যকর); আসমানে যেমন আপনার রহমত রয়েছে, জমিনেও আপনার রহমত দান করুন, আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন...»
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
وَخَطَايَانَا، أَنْتَ رَبُّ الطَّيِّبِينَ، أَنْزِلْ رَحْمَةً مِنْ رَحْمَتِكَ وَشِفَاءً مِنْ شِفَائِكَ عَلَى هَذَا الْوَجَعِ» . رَوَاهُ «أَبُو دَاوُد» .
* * * *
[8- في إثبات العلو أيضًا] :141- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا تَأْمَنُونِي وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِي السَّمَاءِ» . رَوَاهُ «الْبُخَارِيُّ» وَغَيْرُهُ.
* * * *
[9- في إثبات العلو أيضًا] :142- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «وَالْعَرْشُ فَوْقَ ذَلِكَ، وَاللَّهُ فَوْقَ الْعَرْشِ وَهُوَ يَعْلَمُ مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ» . رَوَاهُ «أَبُو دَاوُد» «وَالتِّرْمِذِيُّ» وَغَيْرُهُمَا.
এবং আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো (ক্ষমা করুন), আপনি পবিত্রদের প্রতিপালক, আপনার পক্ষ হতে রহমত এবং আপনার আরোগ্য হতে আরোগ্য এই ব্যথার ওপর অবতীর্ণ করুন। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।
* * * *
[৮- উচ্চতা (উলুউ) সাব্যস্ত করার বিষয়েও] :১৪১- এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "তোমরা কি আমাকে বিশ্বাস করবে না? অথচ আমি আসমানে যিনি আছেন তাঁর বিশ্বস্ত প্রতিনিধি।" এটি বুখারী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
* * * *
[৯- উচ্চতা (উলুউ) সাব্যস্ত করার বিষয়েও] :১৪২- এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "আর আরশ তার উপরে, এবং আল্লাহ আরশের উপরে, আর তোমরা যে অবস্থার ওপর আছো তা তিনি জানেন।" আবু দাউদ, তিরমিযী এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
[10- في إثبات العلو أيضًا] :143- وَقَوْلُهُ عليه السلام لِلْجَارِيَةِ: «أَيْنَ اللَّهُ؟» .
قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ.
قَالَ: «مَنْ أَنَا؟» .
قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ.
قَالَ: «أَعْتِقْهَا؛ فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ» . رَوَاهُ «مُسْلِمٌ» .
* * * *
[11- في إثبات المعية] :144- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «أَفْضَلُ الْإِيمَانِ: أَنْ تَعْلَمَ أَنَّ اللَّهَ مَعَكَ حَيْثُمَا كُنْتَ» . حَدِيثٌ حَسَنٌ.
* * * *
[12- في إثبات كون الله قبل وجه المصلي] :145- وَقَوْلُهُ: «إذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ؛ فَإِنَّ اللَّهَ قِبَلَ وَجْهِهِ؛ فَلَا يَبْصُقَنَّ قِبَلَ وَجْهِهِ، وَلَا عَنْ يَمِينِهِِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ، أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
[১০- ঊর্ধ্বমুখিতা সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গেও] :১৪৩- এবং দাসীর প্রতি তাঁর (আলাইহিস সালাম) বক্তব্য: «আল্লাহ কোথায়?»।
সে বলল: আসমানে।
তিনি বললেন: «আমি কে?»।
সে বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল।
তিনি বললেন: «তাকে মুক্ত করে দাও; কারণ সে মুমিনাহ (ঈমানদার)»। এটি «মুসলিম» বর্ণনা করেছেন।
* * * *
[১১- সাথে থাকা (মা'ইয়াত) সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে] :১৪৪- এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: «সর্বোত্তম ঈমান হলো—তুমি এটা জানবে যে, তুমি যেখানেই থাকো না কেন আল্লাহ তোমার সাথে আছেন»। এটি একটি হাসান হাদিস।
* * * *
[১২- আল্লাহ মুসল্লির চেহারার সামনে থাকা সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে] :১৪৫- এবং তাঁর বাণী: «যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ায়, তখন নিশ্চয়ই আল্লাহ তার চেহারার সামনে থাকেন; সুতরাং সে যেন তার চেহারার সামনে কিংবা তার ডান দিকে থুথু না ফেলে, বরং তার বাম দিকে অথবা তার পায়ের নিচে ফেলে»। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৮০)
[13- في إثبات العلو وصفات أخرى] :146- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «اللَّهُمَّ! رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ! رَبَّنَا وَرَبَّ كُلِّ شَيْءٍ! فَالِقَ الْحَبِّ وَالنَّوَى! مُنَزِّلَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ! أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا. اللَّهُمَّ أَنْتَ الْأَوَّلُ؛ فَلَيْسَ قَبْلَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْآخِرُ؛ فَلَيْسَ بَعْدَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الظَّاهِرُ؛ فَلَيْسَ فَوْقَكَ شَيْءٌ، وَأَنْتَ الْبَاطِنُ؛ فَلَيْسَ دُونَكَ شَيْءٌ، اقْضِ عَنِّي الدَّيْنَ، وَأَغْنِنِي مِنْ الْفَقْرِ» . رَوَاهُ «مُسْلِمٌ» .
* * * *
[14- في إثبات قرب الله تعالى] :147- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم لَمَّا رَفَعَ أَصْحَابُهُ أَصْوَاتَهُمْ بِالذِّكْرِ: «أَيُّهَا النَّاسُ! ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ؛ فَإِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا؛ إِنَّمَا تَدْعُونَ سَمِيعًا قَرِيبًا؛ إنَّ الَّذِي تَدْعُونَهُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
* * * *
[১৩- আল্লাহর উচ্চতা এবং অন্যান্য গুণাবলি সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে] :১৪৬- এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: “হে আল্লাহ! সাত আসমানের রব এবং সুমহান আরশের রব! আমাদের রব এবং প্রতিটি বস্তুর রব! শস্যদানা ও আঁটি বিদীর্ণকারী! তাওরাত, ইনজিল ও কুরআন অবতীর্ণকারী! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেই প্রতিটি প্রাণীর অনিষ্ট হতে যার ললাট আপনি ধারণ করে আছেন। হে আল্লাহ! আপনিই আদি, আপনার পূর্বে কিছু নেই; আপনিই অন্তিম, আপনার পরে কিছু নেই; আপনিই প্রকাশ্য, আপনার উপরে কিছু নেই; এবং আপনিই অপ্রকাশ্য, আপনার নিচে কিছু নেই। আপনি আমার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে স্বচ্ছলতা দান করুন।” এটি বর্ণনা করেছেন ‘মুসলিম’।
* * * *
[১৪- আল্লাহ তাআলার নৈকট্য সাব্যস্তকরণ প্রসঙ্গে] :১৪৭- এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী, যখন তাঁর সাহাবীগণ জিকিরের সময় তাঁদের আওয়াজ উচ্চ করলেন: “হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও; কেননা তোমরা কোনো বধির কিংবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না। তোমরা তো ডাকছ সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী সত্তাকে। নিশ্চয়ই তোমরা যাকে ডাকছ, তিনি তোমাদের কারো নিকট তার সওয়ারির ঘাড়ের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী।” এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত্যভাবে বর্ণিত)।
* * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৮১)
[15- إثبات رؤية المؤمنين لربهم] :148- وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ؛ كَمَا تَرَوْنَ الْقَمَرَ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَا تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ؛ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ، وَصَلَاةٍ قَبْلَ غُرُوبِهَا؛ فَافْعَلُوا» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
* * * *
149- إلَى أَمْثَالِ هَذِهِ الْأَحَادِيثِ الَّتِي يُخْبِرُ فِيهَا رَسُولُ اللَّهِ عَنْ رَبِّهِ؛ بِمَا يُخْبِرُ بِهِ.
150- فَإِنَّ الْفِرْقَةَ النَّاجِيَةَ أَهْلَ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ يُؤْمِنُونَ بِذَلِكَ.
كَمَا يُؤْمِنُونَ بِمَا أَخْبَرَ اللَّهُ بِهِ فِي كِتَابِهِ، مِنْ غَيْرِ: تَحْرِيفٍ وَلَا تَعْطِيلٍ، وَمِنْ غَيْرِ: تَكْيِيفٍ وَلَا تَمْثِيلٍ.
* * * *
[১৫- মুমিনদের জন্য তাদের রবকে দেখার সাব্যস্তকরণ] :১৪৮- এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহ) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমরা অচিরেই তোমাদের রবকে দেখতে পাবে, যেমন তোমরা পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে দেখতে পাও; তাঁকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কোনো ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। সুতরাং তোমরা যদি সূর্যোদয়ের পূর্বের সালাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত আদায়ে পরাজিত না হতে সক্ষম হও, তবে তা করো।" (বুখারী ও মুসলিম দ্বারা সর্বসম্মত)।
* * * *
১৪৯- এই জাতীয় আরও বহু হাদীস রয়েছে যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেছেন যা তিনি সংবাদ দেওয়ার ছিল।
১৫০- কেননা মুক্তিপ্রাপ্ত দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত এগুলোর প্রতি ঈমান পোষণ করেন।
যেমন তারা ঈমান আনেন আল্লাহ তাঁর কিতাবে যা সংবাদ দিয়েছেন তার প্রতি; কোনো রূপ বিকৃতি (তাহরিফ) ও অস্বীকার (তাতিল) ব্যতিরেকে, এবং কোনো রূপ ধরণ নির্ধারণ (তাকয়িফ) ও সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই।
* * * *
(খণ্ড: ১)
আল-আকীদা আল-ওয়াসিতিয়্যাহ - তাহকীক আশরাফ আব্দুল মাকসূদ
(পৃষ্ঠা: ৮২)
[الفصل الرابع:وسطية أهل السنة والجماعة بين فرق الأمة]151- بَلْ هُمُ الْوَسَطُ فِي فِرَقِ الْأُمَّةِ؛ كَمَا أَنَّ الْأُمَّةَ هِيَ الْوَسَطُ فِي الْأُمَمِ.
[الأصل الأول: باب الأسماء والصفات] :152- فَهُمْ وَسَطٌ فِي: بَابِ صِفَاتِ اللَّهِ سبحانه وتعالى.
بَيْنَ أَهْلِ التَّعْطِيلِ «الْجَهْمِيَّةِ» ، وَبَيْنَ أَهْلِ التَّمْثِيلِ «الْمُشَبِّهَةِ» .
[الأصل الثاني: أفعال الله] :153- وَهُمْ وَسَطٌ فِي: بَابِ أَفْعَالِ اللَّهِ تَعَالَى.
بَيْنَ «الْقَدَرِيَّةِ» ، «وَالْجَبْرِيَّةِ» .
[الأصل الثالث: الوعيد] :154- وَفِي: بَابِ وَعِيدِ اللَّهِ.
بَيْنَ «الْمُرْجِئَةِ» ، وَبَيْنَ «الْوَعِيدِيَّةِ» مِنَ «الْقَدَرِيَّةِ» وَغَيْرِهِمْ.
[الأصل الرابع: أسماء الإيمان والدين] :155- وَفِي: بَابِ الْإِيمَانِ وَالدِّينِ.
بَيْنَ «الْحَرُورِيَّةِ» «وَالْمُعْتَزِلَةِ» ، وَبَيْنَ «الْمُرْجِئَةِ» «وَالْجَهْمِيَّةِ» .
[الأصل الخامس: في الصحابة رضي الله عنهم] :156- وَفِي: أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
بَيْنَ «الرَّوَافِضِ» ، وَبَيْنَ «الْخَوَارِجِ» .
* * * *
[চতুর্থ অধ্যায়:উম্মতের বিভিন্ন ফেরকার মধ্যে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্যপন্থা]১৫১- বরং তারা উম্মতের ফেরকাগুলোর মধ্যে মধ্যপন্থী; যেমন এই উম্মত অন্যান্য উম্মতের মধ্যে মধ্যপন্থী।
[প্রথম মূলনীতি: নাম ও গুণাবলি অধ্যায়] :১৫২- তারা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার গুণাবলির অধ্যায়ে মধ্যপন্থী।
গুণাবলি অস্বীকারকারী ‘জাহমিয়া’ এবং সৃষ্টির সাথে আল্লাহর সাদৃশ্য প্রদানকারী ‘মুসাব্বিহা’দের মাঝে।
[দ্বিতীয় মূলনীতি: আল্লাহর কার্যাবলি] :১৫৩- আর তারা মহান আল্লাহর কার্যাবলির অধ্যায়ে মধ্যপন্থী।
‘কাদারিয়া’ এবং ‘জাবারিয়া’দের মাঝে।
[তৃতীয় মূলনীতি: শাস্তির ভীতি প্রদর্শন] :১৫৪- এবং আল্লাহর শাস্তির ভীতি প্রদর্শনের অধ্যায়ে।
‘মুরজিয়া’ এবং ‘কাদারিয়া’ ও অন্যান্যদের মধ্য থেকে আগত ‘ওয়াইদিয়া’দের মাঝে।
[চতুর্থ মূলনীতি: ঈমান ও দ্বীনের নামসমূহ] :১৫৫- এবং ঈমান ও দ্বীনের অধ্যায়ে।
‘হারুরিয়া’ ও ‘মু’তাযিলা’ এবং ‘মুরজিয়া’ ও ‘জাহমিয়া’দের মাঝে।
[পঞ্চম মূলনীতি: সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম-এর ব্যাপারে] :১৫৬- এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ব্যাপারে।
‘রাফেযী’ এবং ‘খারেজী’দের মাঝে।
* * * *