(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: -)
دلائل الإعجاز ت الأيوبي القسم: البلاغة
الكتاب: دلائل الإعجاز في علم المعاني
المؤلف: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (ت 471هـ)
المحقق: ياسين الأيوبي
الناشر: المكتبة العصرية- الدار النموذجية
الطبعة: الأولى
عدد الاجزاء: 1
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 434
تاريخ النشر بالشاملة: 24 ذو القعدة 1432
দালাইলুল ই'জায - আল-আইয়ুবী সংস্করণ বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত)
কিতাব: ইলমুল মা'আনীতে দালাইলুল ই'জায
লেখক: আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ পারস্য বংশোদ্ভূত, জুরজান নিবাসী (মৃত্যু ৪৭১ হি.)
সম্পাদক: ইয়াসীন আল-আইয়ুবী
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ- আদ-দারুন নামুজাজিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম
খণ্ড সংখ্যা: ১
[কিতাবটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বর প্রদান করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩৪
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ যিলকদ ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[دلائل الإعجاز في علم المعاني]ـ
المؤلف: أبو بكر عبد القاهر بن عبد الرحمن بن محمد الفارسي الأصل، الجرجاني الدار (المتوفى: 471هـ)
المحقق: ياسين الأيوبي
الناشر: المكتبة العصرية- الدار النموذجية
الطبعة: الأولى
عدد الاجزاء: 1
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
—[দালাইলুল ইজায ফি ইলমিল মাআনি]—
গ্রন্থকার: আবু বকর আব্দুল কাহির বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ, আদি নিবাস পারস্য, আবাসস্থল জুরজান (মৃত্যু: ৪৭১ হিজরি)
সম্পাদক: ইয়াসিন আল-আইয়ুবী
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল আসরিয়া - আদ-দারুন নামুজাজিয়া
সংস্করণ: প্রথম
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিন্যাসকৃত যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১)
القسم الأول
مقدمة الكتاب: محطات الكتابة ومعطيات البحث: بقلم الدكتور ياسين الأيوبيأَنْ تُقْدم على تناول كتابٍ تراثي: قراءةً، وتشكيلاً، ودراسةً، وتَحْشيةً، أَمرٌ لا يخلو من الصعوبة والمكابدة.
فكيف إذا كان الكتاب في صميم التراث البلاغي، ولوِاحدٍ من أعيانه، كتاب اتَّسم بكثير من العمق والرسوخ في علْمٍ هو الأَصعبُ، والأَصلُ في تأسيس الكلام ورصْفه وتنضيده، للارتقاء به إلى رتبة الخَلْق والإبداع؟
عَنيتُ: سيدَ الفكر البلاغي، وسادِنَ كعبته، الشيخ عبد القاهر الجرجاني، وكتابه الفرد: دلائل الإعجاز.
فأنتَ إذن أمام عقبتين أُخريين، عليك اجتيازهما بما يشبه المغامرة، لصعوبة مسلكهما، ووعورة الآفاق التي تشكل الإطار العريض لهما.
ولولا أَنني مَشُوقٌ إلى هذا التراث، منذ نعومة أظفاري، ومَعْنيٌّ به ومُعْنًى مُذْ توليتُ تدريس البلاغة والعروض في أروقة الجامعة، نحواً من ربع القرن، وإقدامي على وضع ثلاثة كتب في البلاغة وحرفة الكتابة، وعددٍ من البحوث والمقالات المنشورة في عدد من الدوريات المختصة .. لاستحال عليَّ ركوبُ هذه الموجة الصاخبة، تعصف حولها الرياح من كل حَدَبٍ وصوب.
ومما ينبغي ذكره في هذا الصدد، التهيُّبُ المتجدد في كل مرة أُقبل فيها على وضع كتاب، أو كتابةِ بحثٍ في الميدان البلاغي، لأمرٍ يجب الاعتراف به، ألا وهو: صعوبة الإضافة إلى ما كتبه القدماء، ووثَّقوا به شروحهم ونظرياتهم، ولا سيما الشواهد الأدبية واللغوية الدالَّة.
وها أنذا في الحال نفسها وأنا أسطر هذه المقدمة - الدراسة، لكتاب الجرجاني، الذي يحارُ المرءُ في المسائل التي ينبغي طرحها، والنقاط التي تستحق التوضيح والإنارة.
- هل أَسْلكُ، في التقديم، سلوكَ معظم من قام بصنيع مماثل، من ذكر الدواعي، والظروف، والغايات التي اقتضت الكتابة والتعليق
… ؟
- أم أَقفُ وقفة الدارس المسؤول أمام الكتاب، أَعْرض لأهمْ مسائله وموضوعاته، وأُولي المنهج والأسلوب ما يليق بهما من التأمل، وأحاول تقديم ما توصل إليه المؤلّف؟
প্রথম বিভাগগ্রন্থের ভূমিকা: রচনার পর্যায়সমূহ এবং গবেষণার উপাত্ত: ড. ইয়াসীন আল-আইয়ুবীর কলমেএকটি ঐতিহ্যবাহী (তুরাস) গ্রন্থ পাঠ করা, বিন্যস্ত করা, অধ্যয়ন করা এবং টীকা প্রদান করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা এমন একটি বিষয় যা কষ্ট ও কঠোর পরিশ্রম থেকে মুক্ত নয়।
আর সেই গ্রন্থটি যদি হয় অলঙ্কারশাস্ত্রীয় (বালাগাত) ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এমন এক ইমামের রচনা, যে গ্রন্থটি গভীরতা ও প্রজ্ঞায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং এমন এক শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত যা অত্যন্ত কঠিন এবং যা কথা নির্মাণ, বিন্যাস ও সজ্জার মূল ভিত্তি, যাতে কথাকে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের স্তরে উন্নীত করা যায়, তবে তা কেমন হবে?
আমি উদ্দেশ্য করছি: অলঙ্কারশাস্ত্রীয় চিন্তাধারার শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব এবং এর পবিত্র আঙিনার খাদেম, শেখ আব্দুল কাহের আল-জুরজানী এবং তাঁর অনন্য গ্রন্থ: দালাইলুল ই'জায।
সুতরাং আপনি এখন আরও দুটি বাধার সম্মুখীন, যা আপনাকে অনেকটা দুঃসাহসিক অভিযানের মতো পাড়ি দিতে হবে; কারণ এর পথ অত্যন্ত কঠিন এবং এর দিগন্তের পরিধি অত্যন্ত বন্ধুর।
শৈশব থেকেই এই ঐতিহ্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ না থাকলে এবং প্রায় এক চতুর্থাংশ শতাব্দী ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিন্দে অলঙ্কারশাস্ত্র ও ছন্দশাস্ত্র শিক্ষাদানে নিয়োজিত না থাকলে, এবং অলঙ্কারশাস্ত্র ও রচনাশৈলীর ওপর তিনটি গ্রন্থ ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সাময়িকীতে প্রকাশিত বেশ কিছু গবেষণা ও প্রবন্ধ না থাকলে—এই উত্তাল তরঙ্গে সওয়ার হওয়া আমার জন্য অসম্ভব হতো, যার চারপাশ থেকে প্রচণ্ড বাতাস বইছে।
এক্ষেত্রে যা উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো, প্রতিবার যখন আমি অলঙ্কারশাস্ত্রের ময়দানে কোনো গ্রন্থ রচনা বা গবেষণা করতে যাই, তখন এক ধরণের নতুন শঙ্কা অনুভব করি। এর কারণটি স্বীকার করা আবশ্যক, আর তা হলো: প্রাচীন মনীষীগণ যা লিখেছেন এবং যে সকল সাহিত্যিক ও ভাষাতাত্ত্বিক নিদর্শনের মাধ্যমে তাঁদের ব্যাখ্যা ও তত্ত্বগুলোকে সুদৃঢ় করেছেন, তাতে নতুন কিছু যোগ করা অত্যন্ত কঠিন।
আর আজ আমি আল-জুরজানীর গ্রন্থের এই ভূমিকা-গবেষণাটি লেখার সময় সেই একই অবস্থার সম্মুখীন, যেখানে মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে যে কোন মাসআলাগুলো উত্থাপন করা উচিত এবং কোন পয়েন্টগুলো স্পষ্ট ও আলোকিত করা প্রয়োজন।
- আমি কি এই ভূমিকায় সেই সব ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করব যারা অনুরূপ কাজ করতে গিয়ে সেসব কারণ, পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্যগুলো উল্লেখ করেছেন যা রচনা ও টীকা প্রদানের জন্য আবশ্যক ছিল
… ?
- নাকি আমি গ্রন্থের সামনে একজন দায়িত্বশীল গবেষকের ন্যায় দাঁড়াব, এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ও বিষয়সমূহ উপস্থাপন করব, এবং এর পদ্ধতি ও শৈলী নিয়ে যথাযথভাবে চিন্তা করব এবং লেখক যা বলতে চেয়েছেন তা উপস্থাপনের চেষ্টা করব?
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২)
لم تطل حيرتي، بل وجدتُني أختار المنحى الثاني. ذاك أن مقدّمة لا تأخذ بنظر الاعتبار، التطرق إلى لُبّ الموضوع والطواف في جنباته، تبقى قاصرةً أمام عظمة العطاء ودويِّه لكلا الكتاب ومؤلفه
…وإذا بي أمام عناوين ومحطاتٍ من الكتابة، لا بد منها للعبور إلى الضفَّة الأخرى، لعلي أَرشفُ بعضَ قطرات السموِّ والمشاركة، ولو في حدود الملامسة واعتمار العَتَبات!!
أنا والكتاب
صدر كتاب دلائل الإعجاز في غير طبعة وغير شرح. لكنَّ أفضل الطبعات والشروح هي تلك التي صدرت في مصر سنة 1321 هـ ثم أعيد طبعها ونشرها سنة 1331 هـ / 1912م مصحَّحةً على التوالي من الإمام الشيخ محمد عبده مفتي الديار المصرية، والمحدِّث الشيخ محمد محمود التركزي الشنقيطي، ثم من الشيخ محمد رشيد رضا الذي علَّق حواشي الكتاب وصحح طبعته.
وقد اعتمدتُ هذه الطبعة على شيء من المقابلة والمراجعة مع طبعة أخرى صدرت في دمشق سنة 1983 بتحقيق الدكتورين الشقيقين: محمد رضوان الداية وفايز الداية
…عُنِيت الطبعةُ المصرية بدقة النقل وأمانته وتصحيح الكتاب بعد مقابلة النسخ التي كانت بحوزة الإمام محمد عبده الذي استحضر نسختين له من المدينة المنورة ومن بغداد؛ وذُيِّلتْ صفحاته بما تحصَّل للإمام من حواشٍ وشروح أثناء تدريسه الكتاب على طلبة جامعة الأزهر. وبذلك يكون قد تحقق لهذا الكتاب القدرُ الأوفر لصحَّة مادته، المتوفرة "بعلَاّمتي المعقول والمنقول" الشيخين عبده والشنقيطي، ثم التدريس الذي يمثل السبيل الأفضل للتصحيح والتصويب والتنقيح، يضاف إلى ذلك جهود الشيخ رضا الذي سهر على الكتاب وأسهم كل الإسهام في إخراجه على الصورة التي وصلتنا.
إلَاّ أنَّ هذا الجهد وذلكما العناية والإشراف، حفلت بكثير من النقص الذي اعتور معظم الكتب الصادرة في تلك المرحلة، والمتمثل بما يلي:
- خلوُّ النص من التشكيل الإعرابي إلَاّ فيما ندر، ما عدا قسم يسير من الآيات القرآنية والأبيات الشعرية، الأمر الذي يربك القارئ ويعيق إفادته.
আমার দ্বিধা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, বরং আমি নিজেকে দ্বিতীয় পথটি বেছে নিতে দেখলাম। কারণ, যে ভূমিকা মূল বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করা এবং এর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার বিষয়টি বিবেচনায় নেয় না, তা গ্রন্থ এবং এর রচয়িতা—উভয়ের মহত্ত্ব ও প্রভাবের সামনে অপূর্ণই থেকে যায়
…আর আমি এখন লেখনীর এমন কিছু শিরোনাম ও মনজিলের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, যা অপর তীরে পৌঁছানোর জন্য অপরিহার্য; যাতে আমি হয়তো শ্রেষ্ঠত্ব ও অংশীদারিত্বের কিছু বিন্দু পান করতে পারি, যদিও তা কেবল স্পর্শ করা এবং দোরগোড়ায় উপনীত হওয়ার সীমানায় হয়!!
আমি ও গ্রন্থটি
‘দালাইলুল ইজায’ গ্রন্থটি বিভিন্ন সংস্করণ ও ব্যাখ্যাসহ প্রকাশিত হয়েছে। তবে সর্বোত্তম সংস্করণ ও ব্যাখ্যা হলো সেগুলো, যা ১৩২১ হিজরিতে মিসরে প্রকাশিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৩৩১ হিজরি / ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে পুনঃমুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়েছিল। এগুলো পর্যায়ক্রমে মিসরের মুফতি ইমাম শেখ মুহাম্মদ আবদুহ, মুহাদ্দিস শেখ মুহাম্মদ মাহমুদ আত-তুর্কিজি আশ-শানকিতি এবং এরপর শেখ মুহাম্মদ রশিদ রিদা কর্তৃক সংশোধিত হয়েছিল, যিনি গ্রন্থটিতে টীকা সংযোজন করেছেন এবং এর সংস্করণটি সংশোধন করেছেন।
আমি এই সংস্করণের ওপর নির্ভর করেছি এবং পাশাপাশি ১৯৮৩ সালে দামেশকে প্রকাশিত অন্য একটি সংস্করণের সাথে কিছুটা তুলনা ও পর্যালোচনা করেছি, যা দুই ভাই—ডক্টর মুহাম্মদ রিদওয়ান আদ-দায়া এবং ডক্টর ফায়েজ আদ-দায়া কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছিল
…মিসরীয় সংস্করণটিতে পাঠ্যের নির্ভুলতা ও বিশ্বস্ততা এবং ইমাম মুহাম্মদ আবদুহর নিকট থাকা পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মিলিয়ে গ্রন্থটি সংশোধনের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। তিনি মদিনা মুনাওয়ারা ও বাগদাদ থেকে দুটি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করেছিলেন। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের কাছে গ্রন্থটি পড়ানোর সময় ইমামের সংগৃহীত টীকা ও ব্যাখ্যাগুলো এর পৃষ্ঠাগুলোতে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রন্থটির পাঠ্যের বিশুদ্ধতা অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে, যা ‘আকলি ও নাকলি’ (যুক্তি ও বর্ণনা) উভয় শাস্ত্রের দুই পণ্ডিত শেখ আবদুহ ও শেখ শানকিতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এরপর পাঠদান পদ্ধতি, যা সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিশীলনের সর্বোত্তম পথ হিসেবে গণ্য, তার মাধ্যমে এটি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে শেখ রিদার প্রচেষ্টা, যিনি গ্রন্থটির পেছনে নিরলস শ্রম দিয়েছেন এবং এটি আমাদের কাছে যে রূপে পৌঁছেছে, সেই রূপে উপস্থাপনে পূর্ণ অবদান রেখেছেন।
তবে এই প্রচেষ্টা এবং সেই যত্ন ও তত্ত্বাবধান সত্ত্বেও এতে কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে, যা ওই যুগে প্রকাশিত অধিকাংশ গ্রন্থের ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হতো। তা নিম্নরূপ:
- কদাচিৎ ক্ষেত্র ব্যতীত মূল পাঠ্যটি হরকত বা স্বরচিহ্নমুক্ত থাকা; কেবল কিছু কুরআনের আয়াত এবং কাব্যগ্রন্থের চরণে হরকত দেওয়া হয়েছে। এটি পাঠককে বিভ্রান্ত করে এবং গ্রন্থটি থেকে উপকৃত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ৩)
- اقتصار الحواشي على بعض الشروح اللغوية والإعرابية، وتسمية أصحاب الشواهد الشعرية بنسبة ضئيلة، لا تغني عن المتابعة والاستقصاء المؤدِّيَيْن إلى معرفة المصدر الشعري والقصيدة والمناسبة. الخ
…- خلوّ الكتاب من كل الفهارس على أنواعها، والاكتفاء بفهرس الموضوعات.
- خلو المقدمات التي كتبها الشيخ رشيد رضا، وناشر الطبعة الثانية من تناول الكتاب وإخضاعه لشيء من الدراسة والتأمل، باستثناء فقرة كتبها الشيخ رضا في "مكانة الكتاب" التي حدَّد فيها الخطوط العريضة لأهمية الكتاب ودور مؤلفه في التصدي لعلماء عصره، في سطور قليلة لا تروي غليلاً.
- خلوّ حرف الياء من التنقيط، أنَّى وُجدت، فيما عدا التي تَرد في وسط الكلمة. وغير ذلك من أمور، جهدتُ في تلافيها جميعاً، وسدِّ كل ثغرة وإخراج الكتاب بما يليق به وبصاحبه، فعمدتُ إلى ما يلي:
* ضبط النص ضبطاً كاملاً حتى الذي كان موضع تردد وإشكال، مفضِّلاً خطأً محتملاً على قولِ: بجهل القراءة.
إذ لا قيمة لتحقيق أي أثر تراثي إنْ لم يقترن بتشكيلٍ دقيقٍ، لأنَّ من شأن ذلك، الوقوفَ على دقائق الأفكار ومسارها الإعرابي الصحيح، بحيث لو وُضِعتْ ضمَّةٌ مكان فتحةٍ، أو حركةٌ ما مكان تنوينٍ، أو أهملت علاماتُ الوقف - وهي من مقتضيات التشكيل - تغيَّر المعنى، وضاعت الفائدة.
من هنا كانت العناية الشديدة، والجهد الكبير لوضع العلامات، وحركات الإعراب، مع الاعتراف بأن ما قمتُ به يظل بحاجة إلى مراجعةٍ وتدقيق.
فقد يعتورني الخطأ في جانبٍ أو آخر، لصعوبة المنحى التأليفي الذي اختطه الجرجاني، ولإطالة الجمل والعبارات، وتداخُل أغراضٍ شتى داخل الغرض الرئيسي الذي يصاغ الكلام لأجله.
* تخريج الآيات القرآنية، وربط الجزء بالكل وشرح ما ينبغي شرحه.
টীকাগুলো কেবল কিছু ভাষাতাত্ত্বিক এবং ব্যাকরণগত ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা এবং কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের রচয়িতাদের নাম উল্লেখের হার অত্যন্ত নগণ্য হওয়া, যা কাব্যিক উৎস, কবিতা এবং প্রেক্ষাপট জানার জন্য প্রয়োজনীয় অনুসরণ ও অনুসন্ধানের অভাব পূরণ করে না। ইত্যাদি
...- বইটি সব ধরণের নির্ঘণ্ট (ইনডেক্স) থেকে মুক্ত থাকা এবং কেবল বিষয়সূচির ওপর নির্ভর করা।
- শায়খ রশিদ রিদা এবং দ্বিতীয় সংস্করণের প্রকাশকের লেখা ভূমিকাগুলোতে বইটিকে কোনো প্রকার অধ্যয়ন বা পর্যালোচনার আওতায় না আনা; কেবল "বইটির মর্যাদা" শিরোনামে শায়খ রিদার লেখা একটি অনুচ্ছেদ ব্যতীত, যেখানে তিনি বইটির গুরুত্ব এবং তাঁর সমসাময়িক আলেমদের মোকাবিলায় লেখকের ভূমিকার রূপরেখা তুলে ধরেছেন সামান্য কয়েকটি লাইনে, যা পিপাসা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
- শব্দের মাঝখানে আসা 'ইয়া' বর্ণটি ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে 'ইয়া' বর্ণটি নুকতাহীন হওয়া। এছাড়া আরও কিছু বিষয় ছিল, যা আমি কাটিয়ে ওঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি এবং প্রতিটি ত্রুটি সংশোধন করে বইটিকে এর এবং এর লেখকের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। এজন্য আমি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছি:
* মূল পাঠ্যটিতে (টেক্সট) সম্পূর্ণ হরকত প্রদান করা, এমনকি দ্বিধা বা জটিলতার জায়গাগুলোতেও; এক্ষেত্রে পাঠোদ্ধারে অক্ষমতা প্রকাশের চেয়ে একটি সম্ভাব্য ভুলকেও আমি অগ্রাধিকার দিয়েছি।
কেননা কোনো ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার (তাহকিক) কোনো মূল্য নেই যদি না তা নির্ভুল হরকত প্রদানের সাথে যুক্ত হয়। কারণ এর মাধ্যমেই সূক্ষ্ম চিন্তাধারা এবং সঠিক ব্যাকরণগত গতিধারা উপলব্ধি করা সম্ভব হয়। পরিস্থিতি এমন যে, যদি 'ফাতহা'র স্থলে 'দাম্মা' বসানো হয়, কিংবা তানভীনের স্থলে অন্য কোনো হরকত দেওয়া হয়, অথবা বিরামচিহ্নগুলো—যা হরকত প্রদানেরই অন্যতম অনুষঙ্গ—উপেক্ষা করা হয়, তবে অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং উপকারিতা নষ্ট হয়।
এখান থেকেই চিহ্ন এবং ব্যাকরণগত হরকত প্রদানের ক্ষেত্রে গভীর মনোযোগ এবং ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে, যদিও আমি স্বীকার করছি যে আমার সম্পাদিত কাজটি এখনও পুনঃনিরীক্ষণ ও পর্যালোচনার মুখাপেক্ষী।
কারণ জুরজানি কর্তৃক গৃহীত রচনাশৈলীর কাঠিন্য, বাক্য ও শব্দগুচ্ছের দীর্ঘতা এবং মূল উদ্দেশ্যের ভেতরে বিভিন্ন প্রসঙ্গের অনুপ্রবেশের কারণে আমার ক্ষেত্রে কোনো না কোনো দিকে ভুল হওয়া অসম্ভব নয়।
* কুরআনের আয়াতসমূহের উৎস নির্দেশ করা, আংশিক বিষয়কে পূর্ণাঙ্গের সাথে যুক্ত করা এবং যা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন তা ব্যাখ্যা করা।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ৪)
فقد عُنيتُ بهذا الجانب، لأن الكتاب قائم في الأصل، وفي عمق التصور وكتابة النظرية البلاغية، على النظم القرآني. الأمر الذي اقتضى وضع الشاهد أو المقبوس القرآني في سياق الآية أو السورة، ليفهم القارئ موقع هذا الشاهد، ويدرك حقيقة الإعجاز البلاغي في النص القرآني. إذ لا يكفي أن نعيِّن موقع الشاهد من الآية أو السورة - فقد اضطلع الكومبيوتر عنَّا بكل ذلك - بل لا بد من استجلاء ما هو أبعد وأعملُ، لتحقيق الفائدة البلاغية والفكرية التاريخية المرجوة.
* تخريج الشواهد الشعرية، وربطها بمصادرها في القصيدة والديوان أو في الكتب الأمهات، لفسح المجال أمام القارئ بمتابعة القراءة والاستمتاع والبحث والإفادة، وهي مهمة عسيرة ولا سيما مع الأبيات غير المنسوبة التي وُضعتْ لأجلها كتب جامعة، وفي مقدمها "معجم شواهد العربية" الذي أعده المحقق العلامة عبد السلام محمد هارون. ولكنه لم يحط بكل الأبيات الشاردة في بطون الكتب والمصنفات القديمة
…فكان عليَّ البحث في مصادر أخرى، والحصيلة هزيلة في الغالب
…وفي تخريج الأبيات، والشطور الشعرية، لم أَسْعَ إلى حَشْد كل المصادر أو المصنفات التي عنيتْ بإثبات الشاهد أو استخدامه، بل اكتفيتُ بالقليل منها، لأنها تُرشد إلى بعضها البعض. كذلك فعلتُ في ترجمة الشعراء والكتَّاب، مكتفياً بواحد أو أكثر من كتب التراجم المعروفة، ومعظمها يضع في الحاشية قائمة بيبليوغرافية لترجمة العلم المدروس، وكان كتابي "معجم الشعراء في لسان العرب" أحد المراجع الحديثة التي اعتمدتها لهذا الغرض.
* وضع الفهارس الفنيَّة على اختلافها، استكمالاً للفائدة وحرصاً على تبويب كل شيء في خانته
… وهو جهد بالغ وحجم كبير من الكلام يكاد يضاهي الجهود الأخرى.
وما أحوجنا إلى مثل هذه الفهارس في الكتب والإصدارات التي تُخرجها لنا المطابع ودور النشر التي تبخل على الكتاب وقارئه بالفهارس اللازمة، بحجة الكلفة المادية!
أما النَّسق الذي اتَّبعتُه في إعداد هذا الكتاب فقد راعيتُ فيه الأمور الآتية:
আমি এই দিকটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ এই বইটি এর মূল ভিত্তিতে এবং আলঙ্কারিক তত্ত্বের গভীর চিন্তায় কুরআনের অনন্য বুননশৈলীর ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই বিষয়টি কুরআনিক উদাহরণ বা উদ্ধৃতিকে সংশ্লিষ্ট আয়াত বা সূরার প্রেক্ষাপটে স্থাপন করাকে অপরিহার্য করে তুলেছে, যাতে পাঠক এই উদ্ধৃতির অবস্থানটি অনুধাবন করতে পারেন এবং কুরআনিক ভাষ্যে আলঙ্কারিক অলৌকিকত্বের প্রকৃত রূপ উপলব্ধি করতে পারেন। কারণ আয়াত বা সূরায় কোনো উদ্ধৃতির অবস্থান চিহ্নিত করাই যথেষ্ট নয়—কম্পিউটার আমাদের হয়ে সেই কাজটি করে দিয়েছে—বরং কাঙ্ক্ষিত আলঙ্কারিক ও ঐতিহাসিক-বুদ্ধিবৃত্তিক ফায়দা অর্জনের জন্য আরও গভীর ও কার্যকর বিষয়গুলো উন্মোচন করা প্রয়োজন।
* কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের উৎস নির্ণয় এবং সেগুলোকে মূল কবিতা, কাব্যগ্রন্থ বা মৌলিক উৎসসমূহের সাথে সংযুক্ত করা, যাতে পাঠকের সামনে পাঠ অব্যাহত রাখা, রসাস্বাদন, গবেষণা ও উপকৃত হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। এটি একটি অত্যন্ত দুরুহ কাজ, বিশেষ করে সেই সব পঙ্ক্তির ক্ষেত্রে যেগুলোর রচয়িতার নাম পাওয়া যায় না এবং যেগুলোর জন্য পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচিত হয়েছে; যার শীর্ষে রয়েছে বিজ্ঞ গবেষক আব্দুস সালাম মুহাম্মাদ হারুন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত "মুজামু শাওয়াহিদিল আরাবিয়্যাহ"। কিন্তু এটিও প্রাচীন বই ও রচনাসমগ্রের গভীরে ছড়িয়ে থাকা সমস্ত পঙ্ক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি
…ফলে আমাকে অন্যান্য উৎসে অনুসন্ধান করতে হয়েছে, যদিও প্রাপ্ত ফলাফল অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছিল যৎসামান্য
…কাব্যিক পঙ্ক্তি বা চরণের উৎস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমি সেই সমস্ত উৎস বা গ্রন্থাদির বিশাল স্তূপ একত্র করার চেষ্টা করিনি যেগুলোতে এই উদ্ধৃতিটির প্রমাণ বা ব্যবহার রয়েছে; বরং আমি অল্প কিছু উৎসের ওপর নির্ভর করেছি, কারণ সেগুলো একে অপরের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। কবি ও লেখকদের জীবনীর ক্ষেত্রেও আমি একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং এক বা একাধিক প্রসিদ্ধ জীবনীগ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছি। এগুলোর অধিকাংশই আলোচিত ব্যক্তির জীবনীর ক্ষেত্রে পাদটীকায় একটি গ্রন্থপঞ্জি প্রদান করে। আমার রচিত গ্রন্থ "মুজামুশ শুয়ারা ফি লিসানিল আরব" ছিল এই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত আধুনিক উৎসগুলোর অন্যতম।
* উপকারিতা পূর্ণ করতে এবং প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযথ শ্রেণিতে বিন্যস্ত করার তাগিদে বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্ট তৈরি করা
… যা একটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ এবং এর কলেবর অন্যান্য প্রচেষ্টার প্রায় সমতুল্য।
আমাদের ছাপানো বই এবং প্রকাশনা সংস্থাগুলো থেকে বের হওয়া বইগুলোতে এই ধরণের নির্ঘণ্টের কতই না প্রয়োজন ছিল! অথচ এই প্রকাশনীগুলো কেবল আর্থিক খরচের অজুহাতে বই ও পাঠকের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নির্ঘণ্ট প্রদানে কার্পণ্য করে থাকে।
এই বইটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমি যে রীতি অনুসরণ করেছি, তাতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ৫)
1 - أَبقيتُ على حواشي الطبعة المصرية سواءٌ ما كان منها للإمام محمد عبده أم للشارح المصحّح الشيخ رشيد رضا، حفاظاً على أمانة السلف الذين سبقونا إلى درس هذا الكتاب وتناوله، وتوضيح ما أَشكل عليهم، ولإتاحة الفرصة أمام القارئ، الاطلاعَ على النَّسق والمستوى اللذين كان عليهما علماؤنا، والقدر الذي أسهموا فيه لتقديم تراثنا ونشره لأجيال عصرهم
… وليُعْرَف من بعدُ، ما قمتُ به من شروح وتوضيحات، وما أضفْتُه من تخريج وتعريف، ناهيك بالضبط التام لنص المتن، ولحواشي الشارحين، التي نادراً ما ضُبط الكلامُ فيها.
وقد أغفلتُ بعض الحواشي التي لم أجد لها فائدة تذكر، كالاختلاف في الرواية، أو في ورود المفردات والشروح اللغوية. وكنتُ أضيف إليها بعض التوضيحات والشروح، واضعاً الزيادات بين معقوفتين.
2 - استحدثتُ بعض العناوين الداخلية، وجَعلْتُها فقراتٍ مستقلَّة لأهميتها.
3 - كما أنزلتُ جميع العناوين الموضوعة في أعلى الصفحات، إلى مواضعها داخل الصفحات، لترتيب الكلام وفقاً لأغراضه التي حدَّدها الجرجاني.
4 - ميَّزتُ بين حواشي الشارحَيْن وحواشيَّ؛ فجعلتُ "النجوم" للأولى، و "الأرقام" للثانية.
5 - سمَّيتُ بحور الأبيات الشعرية، وجعلتها في مطلع كل واحد منها.
6 - أما نَسق الفهارس، فسوف نبيِّنُه في رأس كل فهرس على حدة.
وأما الطبعة الدمشقية التي عُني بها محققان جليلان، فكنتُ أعود إليها من حين لآخر في بعض حالات الإشكال الإعرابي، وربما للاهتداء إلى مَنْ عزَّتْ عليَّ المصادر في معرفة صاحب الشاهد الشعري؛ فإذا بها لم تُعنَ بتشكيل النص إلَاّ في حدودٍ ضيقة، قلَّما أفدتُ منها في هذا الجانب
… وإذا المصادر وأصحاب الشواهد الشعرية هي ذاتها التي عيَّنها عبد السلام محمد هارون في سِفره النفيس "معجم شواهد العربية" إلا فيما ندر، باستثناء ما وُفِّقتْ إليه من دواوين ومجاميع شعرية لم تتوافر لديَّ. ومع ذلك فلم أعتمد هذه الدواوين احتراماً لجهدها وتحصيلها، وللتثبُّت الشخصي من صحتها؛ فكنتُ أحيل إلى المصادر والمصنفات العامة
… حتى إذا لم أجد ضالتي أوضحتُ ذلك في موضعه
…
১ - আমি মিসরীয় সংস্করণের টীকাগুলো অপরিবর্তিত রেখেছি, চাই তা ইমাম মুহাম্মদ আবদুহ-এর হোক কিংবা ভাষ্যকার ও সংশোধক শেখ রশিদ রিদার হোক। এটি আমাদের পূর্বসূরিদের আমানত রক্ষার স্বার্থে, যারা আমাদের আগে এই কিতাবটি পাঠ ও চর্চায় এবং এর অস্পষ্ট বিষয়গুলো ব্যাখ্যায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। এর মাধ্যমে পাঠকের সামনে আমাদের আলেমদের কর্মপদ্ধতি ও মান সম্পর্কে জানার সুযোগ হবে এবং তারা তাদের সময়ের প্রজন্মের জন্য আমাদের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রচারে কতটা অবদান রেখেছিলেন তাও স্পষ্ট হবে
… আর পরবর্তীতে যেন এটিও জানা যায় যে, আমি নিজে কোন ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ যুক্ত করেছি এবং কী কী তথ্যসূত্র ও পরিচিতি যোগ করেছি; পাশাপাশি মূল পাঠ এবং ব্যাখ্যাকারীদের টীকাগুলোর পূর্ণ বিন্যাস ও শুদ্ধিকরণ তো রয়েছেই, যা ইতিপূর্বে খুব কমই যথাযথভাবে করা হয়েছে।
আর আমি এমন কিছু টীকা পরিহার করেছি যা বিশেষ কোনো উপকারে আসবে না বলে মনে করেছি, যেমন বর্ণনার ভিন্নতা বা শব্দগত বৈচিত্র্য এবং ভাষাগত ব্যাখ্যা। আমি এগুলোর সাথে কিছু স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যা যুক্ত করেছি এবং অতিরিক্ত অংশগুলো বন্ধনীর মধ্যে রেখেছি।
২ - আমি কিছু নতুন অভ্যন্তরীণ শিরোনাম তৈরি করেছি এবং সেগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে স্বতন্ত্র অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি।
৩ - এছাড়া আমি পৃষ্ঠার উপরের শিরোনামগুলোকে মূল পৃষ্ঠার ভেতরে সঠিক স্থানে নিয়ে এসেছি, যাতে জুরজানি কর্তৃক নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিষয়বস্তু সুবিন্যস্ত থাকে।
৪ - আমি পূর্ববর্তী দুই ব্যাখ্যাকারীর টীকা এবং আমার নিজের টীকার মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেছি; পূর্ববর্তীদের জন্য 'তারকা চিহ্ন' এবং আমার নিজের জন্য 'সংখ্যা' ব্যবহার করেছি।
৫ - আমি কবিতাগুলোর ছন্দের নাম উল্লেখ করেছি এবং প্রতিটি কবিতার শুরুতে তা যুক্ত করেছি।
৬ - আর সূচিপত্রের বিন্যাস পদ্ধতি প্রতিটি সূচির শুরুতে আলাদাভাবে বর্ণনা করা হবে।
আর দামেস্ক সংস্করণটি সম্পর্কে বলি, যার সম্পাদনা করেছেন দুইজন মহান গবেষক; আমি মাঝে মাঝে ব্যাকরণগত জটিলতার ক্ষেত্রে এবং কবিতার পঙ্ক্তির রচয়িতার পরিচয় খুঁজে পেতে সেটির সাহায্য নিয়েছি যখন অন্যান্য উৎস পাওয়া কঠিন ছিল। তবে দেখা গেছে যে, সেই সংস্করণে পাঠ্যের স্বরচিহ্ন প্রদানের ক্ষেত্রে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, তাই এই দিক থেকে আমি খুব কমই উপকৃত হয়েছি
… আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে কবিতাগুলোর উৎস ও রচয়িতাদের নাম আব্দুস সালাম মুহাম্মদ হারুন তার মূল্যবান গ্রন্থ 'মুজামুশ শাওয়াহিদিল আরাবিয়্যাহ'-তে যা উল্লেখ করেছেন মূলত সেগুলোই দেওয়া হয়েছে, সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। তবে তারা যেসব কাব্যগ্রন্থ বা কবিতার সংকলন থেকে সাহায্য নিয়েছেন যা আমার কাছে ছিল না, আমি তাদের পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ব্যক্তিগতভাবে সঠিকতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সরাসরি সেই কাব্যগ্রন্থগুলোর ওপর নির্ভর করিনি। বরং আমি সাধারণ উৎস ও মূল গ্রন্থসমূহের বরাত দিয়েছি
… এমনকি যখন আমার অন্বেষিত বিষয়টি খুঁজে পাইনি, তখন আমি যথাস্থানে তা স্পষ্ট করে দিয়েছি
…
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ৬)
ذلك هو دأبي ومنهجي: احترام جهود الآخرين ونَسْبها إليهم، واحترام الأمانة العلمية واعتماد الجرأة في قول الحقيقة. فإنَّ "لا أدري" لَمِنَ العلم.
بقيتْ كلمة يجب أن تقال في هذه الطبعة، ألا وهي أنْ ليس فيها من التحقيق زيادةً عمَّا فعلتُه إلَاّ بعضُ التوضيحات الهامشيَّة (نسبة إلى الهوامش) لفروق طفيفة بين هذه النسخة وتلك، ولكنها، لم تَحِد عن نص طبعة الشيخَيْن قيد أنملة، في حدود ملاحظتي ومتابعتي، فيما لا يكاد يُلحظ. إلَاّ إذا كانتِ النّسخ التي بحوزة المحققين الكريمين هي عينها التي اعتمدها الإمام محمد عبده.
حتى الخطأ القرآني الذي وقعت فيه طبعة الشيخين، في استخدام الآية القرآنية (130) من سورة الشعراء الواردة في (الدلائل) ص 411، قد اعتمدته الطبعة الدمشقية بحرفيته (ص 359) - والخطأ القرآني هو:
{وإذ بطَشْتُم بَطَشْتُم جبَّارين} [الشعراء: 130] والصحيح: {وَإِذَا بَطَشْتُم بَطَشْتُمْ جَبَّارِينَ} [الشعراء: 130]
الكتاب وجهود الشارحَيْن
أوضح الشيخ رشيد رضا، في مستهل تقديمه للكتاب، حدود صنيعة وطبيعتَه بالمقارنة والمقابلة مع صنيع الإمام محمد عبده، فأكد أنه - عند هجرته إلى مصر لإنشاء مجلة "المنار" - وجد الإمام عبده مشتغلاً بتصحيح كتاب دلائل الإعجاز، وقد أشرك معه في ذلك، إمامَ اللغة في عصره الشيخ محمد الشنقيطي
… وأنّ دوره اقتصر على "تصحيح الكتاب المطبوع وتفسير بعض الكلمات الغريبة فيه وفي شواهده بالاختصار" (ص: ح).
وقد وفى الشيخ رضا بما رسمه لنفسه وطُلب إليه؛ فقام بالتصحيح، وحافظَ على حواشي الإمام بأمانة شديدة
… ولكنه لم يتردد في تسجيل بعض الملاحظات على حواشي الإمام كلما وجد ذلك مناسباً وضرورياً. لكنَّ هذه الملاحظات كانت تالية لحواشي الإمام. وكانت له حصة يسيرة من النقد والتعليق الذي يصل حد المخالفة والتصويب لما أبداه الإمام في حواشي نسخته، علماً بأنه لم يصرِّح بذلك ولم يقصد إليه، بل لم ير فيه إلَاّ الاستدراك أو التوضيح لِمَا يحتاج إليه القارئ:
এটাই আমার অভ্যাস ও নীতি: অন্যের প্রচেষ্টাকে শ্রদ্ধা করা এবং তা তাদের দিকেই সম্বন্ধিত করা, ইলমি আমানত রক্ষা করা এবং সত্য প্রকাশে সাহসিকতা অবলম্বন করা। কেননা, "আমি জানি না" বলাও ইলমের অংশ।
এই সংস্করণে একটি কথা বলা জরুরি, তা হলো এতে আমার করা কাজের বাইরে নতুন কোনো তাহকিক নেই, কেবল পাণ্ডুলিপিগত সামান্য পার্থক্যের কারণে কিছু প্রান্তটীকাগত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে আমার পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ অনুযায়ী, এটি দুই শাইখের সম্পাদিত সংস্করণের পাঠ থেকে তিল পরিমাণ বিচ্যুত হয়নি, যা প্রায় অলক্ষ্যই বলা যায়। অবশ্য যদি দুই সম্মানিত মুহাক্কিকের নিকট থাকা পাণ্ডুলিপিগুলো হুবহু ইমাম মুহাম্মদ আবদু কর্তৃক ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপিই হয়ে থাকে, তবে তা ভিন্ন কথা।
এমনকি দুই শাইখের সংস্করণে যে কুরআনি ভুলটি হয়েছে—অর্থাৎ 'দালাইল' গ্রন্থের ৪১১ পৃষ্ঠায় সূরা শু'আরার ১৩০ নম্বর আয়াত ব্যবহারের ক্ষেত্রে—দামেস্কি সংস্করণটিও তা হুবহু অনুকরণ করেছে (পৃষ্ঠা ৩৫৯)। কুরআনি ভুলটি হলো:
{আর যখন তোমরা আক্রমণ করেছিলে, প্রতাপশালীদের মতো আক্রমণ করেছিলে} [শু'আরা: ১৩০]। সঠিক হলো: {আর যখন তোমরা আক্রমণ করো, তখন প্রতাপশালীদের মতো আক্রমণ করে থাকো} [শু'আরা: ১৩০]
কিতাব এবং দুই ব্যাখ্যাকারীর প্রচেষ্টা
শাইখ রশিদ রিদা কিতাবটির মুখবন্ধের শুরুতে ইমাম মুহাম্মদ আবদুর কাজের সাথে তুলনা ও বৈসাদৃশ্য তুলে ধরে নিজের কাজের সীমা ও প্রকৃতি স্পষ্ট করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, যখন তিনি 'আল-মানার' পত্রিকা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মিসরে হিজরত করেন, তখন তিনি ইমাম আবদুকে 'দালাইলুল ই'জায' কিতাবটি সংশোধনে ব্যস্ত পান। ইমাম এই কাজে তৎকালীন ভাষাবিদ ইমাম শাইখ মুহাম্মদ আশ-শানকিতিকে নিজের সাথে যুক্ত করেছিলেন
… আর তাঁর ভূমিকা কেবল "মুদ্রিত কিতাবটি সংশোধন এবং কিতাবের পাঠ ও উদ্ধৃতিতে বিদ্যমান কিছু দুর্বোধ্য শব্দের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদানের" মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল (পৃষ্ঠা: হা)।
শাইখ রিদা নিজের জন্য যা নির্ধারণ করেছিলেন এবং তাঁর কাছে যা চাওয়া হয়েছিল, তিনি তা যথাযথভাবে পালন করেছেন। তিনি সংশোধনের কাজ করেছেন এবং অত্যন্ত আমানতদারিতার সাথে ইমামের টীকাগুলো সংরক্ষণ করেছেন
… তবে যখনই তিনি উপযুক্ত ও প্রয়োজন মনে করেছেন, ইমামের টীকাগুলোর ওপর কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে দ্বিধা করেননি। তবে এই পর্যবেক্ষণগুলো ইমামের টীকার পরেই স্থান পেয়েছে। ইমাম তাঁর পাণ্ডুলিপির টীকায় যা ব্যক্ত করেছেন, তার বিরুদ্ধে সমালোচনা ও মন্তব্যের ক্ষেত্রে তাঁর সামান্য অংশ ছিল, যা ক্ষেত্রবিশেষে ইমামের মতের বিরোধিতা বা সংশোধনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও তিনি স্পষ্টভাবে তা প্রকাশ করেননি কিংবা এমন উদ্দেশ্যও পোষণ করেননি; বরং তিনি এটিকে কেবলই পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো বিষয়ের পরিপূরক সংযোজন বা ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য করেছেন:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ৭)
"ثم إِنَّنا زدْنا على ضوابط الأستاذ وهوامشه ما خطر لنا في أثناء تصحيح الطبع أنَّ القارئ يحتاج إليه، وقليل من ذلك يدخل في باب الاستدارك على شيخنا رحمه الله تعالى أو التوضيح لما كتبه".
وترجع حواشي الإمام بمعظمها إلى معاجم اللغة وشروح القصائد في الدواوين والأمهات ولا سيما معجما "القاموس المحيط" و "لسان العرب"، كما بيَّنتُ غير مرة في شروحي وتعليقاتي.
وما تبقى فهو آراء ولفتات نحوية أو ذاتية، لشرح هذا الاستعمال، أو هذه النكتة، أو تلك المفردة الغريبة. بينما جادتْ حواشي السيد رضا واتَّسعت لتشمل شرح الشواهد الشعرية، وتُتِمَّ بعضها، ولا سيما في القسم الأخير من الكتاب.
"وجُملة الأمر" - كما يقول شيخنا الجرجاني في كثير من خلاصاته - أنَّ ما طُرِّز به الكتاب من حواشٍ لكلا العلَاّمتين، يُكمل بعضه بعضاً، ويشكل إضافة عضوية يصعب تجزئتها، لئن تفاوتتْ فيما بينها في المنهجية والتوضيح، أو في الإعراب النحوي والبياني واللغوي، فقد اتَّسقتْ وائتلفتْ، لتضيء الكثير من العتمات وتفْتح الكثير من المغالق، التي اكتنفت الكتاب.
এরপর আমরা উস্তাদের নির্ধারিত মানদণ্ড ও টীকাসমূহের সাথে এমন কিছু যোগ করেছি যা মুদ্রণ সংশোধনের সময় আমাদের কাছে পাঠকের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে। এর সামান্য অংশ আমাদের শাইখের (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ভুল সংশোধন অথবা তাঁর লেখনীর ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত।
ইমামের টীকাগুলোর অধিকাংশই মূলত অভিধান এবং কাব্যগ্রন্থ ও মৌলিক উৎসসমূহের কবিতার ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে "আল-কামুস আল-মুহিত" এবং "লিসানুল আরব" অভিধানদ্বয়ের ওপর; যেমনটি আমি আমার ব্যাখ্যা ও টীকাগুলোতে একাধিকবার স্পষ্ট করেছি।
বাকি অংশগুলো ব্যাকরণগত অথবা নিজস্ব মতামত ও পর্যবেক্ষণ, যা কোনো নির্দিষ্ট প্রয়োগ, সূক্ষ্ম রহস্য বা কোনো অপরিচিত শব্দের ব্যাখ্যার জন্য প্রদত্ত। অন্যদিকে সাইয়্যেদ রিদশার টীকাসমূহ অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বিস্তৃত হয়েছে, যা কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের ব্যাখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং সেগুলোর কিছু অংশকে পূর্ণতা দান করেছে, বিশেষ করে গ্রন্থের শেষ ভাগে।
"সারকথা এই যে" — যেমনটি আমাদের শাইখ জুরজানি তাঁর অনেক উপসংহারে বলে থাকেন — কিতাবটি এই দুই মহাজ্ঞানীর যে টীকাগুলো দ্বারা সুশোভিত হয়েছে, তা একে অপরের পরিপূরক এবং এটি এমন এক অবিচ্ছেদ্য সংযোজন যা পৃথক করা কঠিন। যদিও পদ্ধতিগত ও ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অথবা ব্যাকরণগত, আলঙ্কারিক ও ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের বিচারে তাদের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান, তবুও সেগুলো অত্যন্ত সুসংগত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে, যা কিতাবটিকে ঘিরে থাকা বহু অন্ধকারকে দূরীভূত করে এবং অনেক রুদ্ধ দ্বার উন্মোচন করে।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ৮)
موضوعات الكتابالناظر في موضوعات "دلائل الإعجاز" التي ضمَّها فهرستُه المنشور في الصفحات الأولى منه، ينتابه شعور بأنَّ صاحب الكتاب، تفجرتْ عنده ينابيع المعرفة، فسلكتْ به شتى الدرس البلاغي الذي راح يلقيه على قرَّاء زمانه، من طلبة وعلماء تفاوتتْ مداركُهم وقدراتهم بين المتقبل المتذوق، والدّعيِّ الغبيِّ، فأفرغَ جُلَّ ما توصل إليه من حقائق ومعلومات صاغها بمنطق المحاضر الموسوعي، لا يسعه الانضواء في موضوع واحد، بل يلتفت إلى هذا الجانب وذاك، وإلى هذا الباب، وهذا الميدان، من أبواب الفكر البلاغي وميادينه المترامية الأطراف.
فعلى الرغم من كون الكتاب قد وضع لتأسيس علم المعاني، وما يقتضيه من مسائل محددة توافق عليها العلماء والدارسون، فإننا أمام سلسلة أو خليط من الموضوعات التي تداخلت وتفرعتْ، أو اتَّسقتْ وافترقت - ولا نقول: ائتلفتْ واختلفت - لأنها في تَضامِّها، تؤلِّف الأفق البلاغي الواسع لما سمَّاه: علم المعاني، مفتوحاً على علمي البيان والبديع اللذين لم يستقلَاّ عن العلم الأول، إلَاّ في نطاق الاصطلاح والتحديد المتأخرين مع السكاكيِّ أو القزويني، ومَنْ تبعهما وعاصرهما من علماء البلاغة.
وإن أردتُ محاسبة المؤلف بالمنظور العلمي المختص، وقعتُ على نسبة ملحوظةٍ من الخروج على الموضوع بسبب عدد غير يسير من الموضوعات التي طرحها وعالجها داخل موضوعات الأبواب والفصول المختصة، وأعني بها تلك التي ترتبط مباشرة بعلم المعاني، كما يتبيَّن لمن تابع معي أهم موضوعات الكتاب وفقاً لتسلسلها، وهي على التوالي:
* الكلام في الشعر: روايته وحفظه وذمُّ علمه.
* الكلام في النحو.
* كلام تمهيدي في الفصاحة والبلاغة.
* كلام في المجاز وفروعه ووجوهه.
* نظم الكلام وعلاقته بالنحو والبلاغة، وما يستلزم من معرفة التقديم والتأخير والإسناد والاستفهام والخبر والنكرة.
* موضوعة الحذف: مواضعة وأنواعه، بلاغته.
* كلام ثانٍ في الخبر بين التعريف والتنكير، والإثبات والنفي.
* كلام في الحال ودور واو الحال.
* الفصل والوصل
* باب اللفظ والنظم، متداخل فيه: المجازُ الحُكْمي، والكناية والتعريض.
* القصر والاختصاص: إنما، ما وإلَاّ.
* فصول أخرى في اللفظ والنظم، متداخل فيه: الحقيقة والمجاز.
* القول المبسَّط والموسَّع في الإعجاز والفصاحة والبلاغة.
* حقيقة الإعجاز ومعالمه ووجوهه. متداخل فيه: غريب الكلام، وفساد الذوق، الفصاحة والنحو، الاستعارة: وجوهها وأنواعها وسمُّو المعنى فيها.
* الاحتذاء والأخذ والسرقة في الشعر.
* الموازنة بين المعنى المتحدِ في اللفظِ المتعدد (في شعر البلغاء).
* السجع والتجنيس المتكلَّفان وذمُّهما.
* متعلَّقات الفعل ومتغيرات معاني الجمل.
* إدراك البلاغة وتحقيقها في الذوق والإحساس الروحاني.
গ্রন্থের বিষয়বস্তুসমূহ"দালাইলুল ই'জাজ"-এর বিষয়বস্তুসমূহের প্রতি দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি, যা এর প্রথম পৃষ্ঠাগুলোতে প্রকাশিত সূচিপত্রে সন্নিবেশিত হয়েছে, তার মনে এই অনুভূতি জাগে যে, লেখকের নিকট জ্ঞানের ঝরনাধারা উৎসারিত হয়েছে। ফলে তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন পাঠের দিকে ধাবিত হয়েছেন যা তিনি তাঁর সমসাময়িক পাঠক—ছাত্র ও আলেমদের সামনে উপস্থাপন করেছেন, যাদের বোধশক্তি ও সামর্থ্য ছিল ভিন্নতর; কেউ ছিল রসগ্রাহী ও সমঝদার, আবার কেউ ছিল স্থূলবুদ্ধি সম্পন্ন দাবিদার। তিনি তাঁর অর্জিত অধিকাংশ সত্য ও তথ্য এমনভাবে ঢেলে দিয়েছেন যা একজন বিশ্বকোষীয় বক্তার যৌক্তিক ভঙ্গিতে রচিত। তিনি নিজেকে কেবল একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে পারেননি, বরং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় চিন্তাধারার দিগন্তবিস্তৃত ময়দান ও অধ্যায়সমূহের এদিক-সেদিক এবং বিভিন্ন দ্বারের প্রতি লক্ষ্য নিবদ্ধ করেছেন।
বইটি যদিও 'ইলমুল মা'আনি'-র ভিত্তি স্থাপনের জন্য এবং এর প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট মাসআলাসমূহের জন্য রচিত হয়েছিল যে বিষয়ে আলেম ও গবেষকগণ একমত হয়েছিলেন, তবুও আমরা এখানে এমন এক ধারাবাহিকতা বা বিষয়বস্তুর সংমিশ্রণের সামনে দাঁড়িয়ে আছি যা একে অপরের সাথে প্রবিষ্ট এবং শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত, অথবা সুবিন্যস্ত অথচ পৃথক—আমরা 'সঙ্গতিপূর্ণ ও ভিন্ন' বলব না—কারণ তাদের এই সমন্বিত রূপ অলঙ্কারশাস্ত্রের সেই বিশাল দিগন্ত তৈরি করে যাকে তিনি 'ইলমুল মা'আনি' নামে অভিহিত করেছেন। এটি 'ইলমুল বায়ান' এবং 'ইলমুল বাদি' এর জন্য উন্মুক্ত, যা সাক্কাকি বা কাজউইনি এবং তাঁদের পরবর্তী ও সমসাময়িক অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের মাধ্যমে পারিভাষিক ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞায় পৃথক হওয়ার আগে পর্যন্ত মূল শাস্ত্রটি থেকে আলাদা হয়নি।
যদি আমি বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে লেখকের বিচার করতে চাই, তবে আমি মূল বিষয়বস্তু থেকে বিচ্যুত হওয়ার এক উল্লেখযোগ্য হার দেখতে পাই। কারণ তিনি নির্দিষ্ট অধ্যায় ও পরিচ্ছেদসমূহের আলোচনার ভেতরে বেশ কিছু সংখ্যক বিষয় উত্থাপন ও পর্যালোচনা করেছেন। আমি সেই বিষয়গুলোকে বোঝাচ্ছি যা সরাসরি ইলমুল মা'আনি-র সাথে সম্পৃক্ত, যেমনটি বইটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুর ক্রমধারা অনুসরণ করলে স্পষ্ট হবে। সেগুলো পর্যায়ক্রমে হলো:
* কাব্য বিষয়ক আলোচনা: এর বর্ণনা, মুখস্থকরণ এবং এর জ্ঞানের নিন্দা।
* নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক আলোচনা।
* ফাসাহাত (বাকপটুতা) ও বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ক প্রাথমিক আলোচনা।
* মাজায (রূপক), এর শাখা এবং দিকসমূহ বিষয়ক আলোচনা।
* বাক্যের বিন্যাস এবং নাহু ও বালাগাতের সাথে এর সম্পর্ক, এবং তাকদীম-তা'খীর (অগ্র-পশ্চাৎ), ইসনাদ (সম্বন্ধ), ইস্তিফহাম (প্রশ্নবোধক), খবর (সংবাদ) এবং নাকিরাহ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) সংক্রান্ত জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা।
* হজফ (উহ্যকরণ) প্রসঙ্গ: এর ক্ষেত্র, প্রকারভেদ এবং অলঙ্কারিক গুরুত্ব।
* খবর (সংবাদ) বিষয়ক দ্বিতীয় আলোচনা: নির্দিষ্টকরণ ও অনির্দিষ্টকরণ এবং ইতিবাচকতা ও নেতিবাচকতার প্রেক্ষাপটে।
* হাল (অবস্থা) এবং 'ওয়াও-এ হাল'-এর ভূমিকা বিষয়ক আলোচনা।
* ফাসল (বিচ্ছেদ) এবং ওয়াসল (সংযুক্তি)।
* শব্দ ও বিন্যাস অধ্যায়, যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: মাজাযে হুকমি (আইনগত রূপক), কিনায়াহ (পরোক্ষ উক্তি) এবং তা'রীদ (ইঙ্গিত)।
* কাসর (সীমাবদ্ধকরণ) এবং ইখতিসাস (বিশেষায়ন): ইন্নামা, মা এবং ইল্লা-এর ব্যবহার।
* শব্দ ও বিন্যাস বিষয়ক অন্যান্য পরিচ্ছেদ, যাতে হাকীকত (প্রকৃত অর্থ) এবং মাজায (রূপক অর্থ) ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
* ই'জাজ (অলৌকিকত্ব), ফাসাহাত এবং বালাগাত সম্পর্কে বিস্তারিত ও বিস্তৃত আলোচনা।
* ই'জাজের হাকীকত, এর নিদর্শন ও দিকসমূহ; যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: বিরল শব্দাবলী, রুচিবোধের বিকৃতি, ফাসাহাত ও নাহু, ইস্তিআরাহ (রূপক): এর বিভিন্ন দিক, প্রকারভেদ এবং অর্থের গাম্ভীর্য।
* কাব্যে অনুকরণ, গ্রহণ এবং চৌর্যবৃত্তি।
* সমার্থক অথচ ভিন্ন শব্দযুক্ত বক্তব্যের মাঝে তুলনা (বালাগাতবিদদের কাব্যে)।
* কৃত্রিম সাজা (অনুপ্রাস) ও তাজনিস (শব্দালঙ্কার) এবং এগুলোর নিন্দা।
* ক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ এবং বাক্যের অর্থের পরিবর্তনশীলতা।
* অলঙ্কারশাস্ত্র উপলব্ধি করা এবং রুচিবোধ ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ৯)
كانت هذه أبرز موضوعات الكتاب، صغتُها بكثير من الجمع والتلخيص، إن دلَّت على شيء، فعلى المنحى الدوراني المتشعب حول نقطة مركزية هي إعجاز النظم وما يتعلق به أو يؤدي إليه من دروب وقنواتٍ، كل واحدة منها تمثل مشروع دائرة شبه مستقلة، وما ذاك إلاّ لغنى العناصر التي يتكون منها الإعجاز البلاغي الذي يحيط بالنظم القرآني وكلِّ نظم آخر يقتدي به أو يقتبس منه، ويسعى لبلوغ ما بلغه من مراتب السمو في الإبداع الفني
…ولا يسعني ههنا إلَاّ تأكيد ما قلْتُه من قبل بموسوعية الطرح والمعالجة، وبالنظرة شبه الشمولية التي يتطلبها الدرس البلاغي، ويُفْضي إليها؛ وبخاصة علم المعاني الذي يفترض الإلمام بإحكام، بمختلف علوم اللغة وقواعدها. ذاك أنه الأصل والقاعدة وما سمِّي بمقتضى الحال. يؤكد ذلك تعريف السكاكي له بما يشبه إحاطة السِّوار بالمعصم، قائلاً:
"هو تتبعُ خواص تراكيب الكلام في الإفادة، وما يتصل بها من الاستحسان وغيره، ليُحترزَ بالوقوف عليها عن الخطأ في تطبيق الكلام على ما يَقتضي الحال ذكره".
ولو تأملنا معاني المفردات التي يتألف منها هذا التعريف، لظهر لنا المدى البعيد الذي يبلغه هذا العلم والمراحل التي ينبغي اجتيازها لتحقيق مضمونه
… وأكتفي بالشطر الأول من التعريف: "تتبُّع خواص تراكيب الكلام في الإفادة" وأترك القارئ يُنعم النظر وراء كل مفردة على حدة، فيدرك السُّبل التي عليه سلوكها أو الإحاطة بها، ولا سيما (تراكيب الكلام) التي لو فتحنا نافذة للتعرف إلى مضمونها وشرائحها التي تتناول الجمل والمفردات وأسس تشكيلها وتركيبها وتأليفها لتصبح نسيجاً دارئاً ما دونه من معان ومقاصد
… لأطَلْنا وأفَضْنا. وقِسْ على ذلكِ، كلآ من الإفادة، والاستحسان والاحتراز من الخطأ، ومقتضى الحال .. أفلا يتطلب منا ذلك: الطوافَ المتأني حول مجمل عناصر الكلام ووجوهه وسُننه وسبل تحسينه، وإضفاء البهجة والحياة فيمن حوله؟
…المنهج والطريقة
এগুলো ছিল বইটির প্রধান আলোচ্য বিষয়সমূহ, যা আমি অনেক সংগ্রহ ও সংক্ষেপণের মাধ্যমে বিন্যস্ত করেছি। এটি যদি কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয়, তবে তা হলো সেই বহুমুখী আবর্তিত ধারার যা একটি কেন্দ্রীয় বিন্দুকে কেন্দ্র করে আবর্তিত—আর তা হলো রচনার অলৌকিকত্ব (ইজাযুল নাজম) এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বা এর দিকে ধাবিত বিভিন্ন পথ ও মাধ্যম। এর প্রতিটিই যেন একটি প্রায় স্বতন্ত্র বৃত্তের প্রকল্পের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি কেবল সেই উপাদানের প্রাচুর্যের কারণেই, যা দ্বারা সেই আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব গঠিত, যা কুরআনের রচনাশৈলী এবং একে অনুসরণকারী বা এর থেকে নির্যাস গ্রহণকারী অন্য যেকোনো রচনাশৈলীকে পরিবেষ্টন করে থাকে, এবং যা শৈল্পিক সৃজনশীলতার সেই উচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সচেষ্ট হয় যা কুরআন অর্জন করেছে
…এখানে আমি পূর্বে যা বলেছি—উপস্থাপনার বিশ্বকোষীয় ব্যাপকতা এবং আলঙ্কারিক পাঠের জন্য প্রয়োজনীয় ও এর দ্বারা অর্জিত প্রায়-সামষ্টিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে—তা পুনরায় নিশ্চিত করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই; বিশেষ করে অর্থবিজ্ঞান (ইলমুল মাআনি), যা ভাষার বিভিন্ন শাস্ত্র ও তার নিয়মাবলীর ওপর সুদৃঢ় দক্ষতা দাবি করে। কারণ এটিই হলো মূল ও ভিত্তি এবং যাকে পরিস্থিতির দাবি (মুকতাদাল হাল) বলা হয়। আল-সাক্কাকি একে কব্জিতে বলয়ের বেষ্টনীর মতো এক সংজ্ঞার মাধ্যমে সুনিশ্চিত করেছেন, তিনি বলেছেন:
"এটি হলো অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে বাক্যের গঠনশৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সৌন্দর্য বা অন্যান্য বিষয়গুলো অনুসন্ধান করা, যাতে সেগুলো অবগত হওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী কথা বলার ক্ষেত্রে ভুল থেকে বেঁচে থাকা যায়।"
আমরা যদি এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত শব্দগুলোর অর্থের দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করি, তবে এই শাস্ত্র যে সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় এবং এর বিষয়বস্তু সার্থক করার জন্য যে স্তরগুলো অতিক্রম করা প্রয়োজন, তা আমাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে
… আমি সংজ্ঞার প্রথম অংশটির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকছি: "অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে বাক্যের গঠনশৈলীর বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুসন্ধান করা" এবং আমি পাঠকের ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি যেন তিনি প্রতিটি শব্দের গভীরে আলাদাভাবে দৃষ্টিপাত করেন। ফলে তিনি সেই পথগুলো উপলব্ধি করতে পারবেন যা তাকে চলতে হবে বা আয়ত্ত করতে হবে, বিশেষ করে 'বাক্যের গঠনশৈলী' (তারাকিবুল কালাম); আমরা যদি এর বিষয়বস্তু এবং এর সেই স্তরগুলো জানার জন্য একটি জানালা উন্মোচন করি যা বাক্য, শব্দ এবং এগুলোর গঠন ও বিন্যাসের ভিত্তি নিয়ে আলোচনা করে—যাতে এটি এর ভেতরে থাকা অর্থ ও উদ্দেশ্যসমূহের জন্য একটি অভেদ্য বুনন হয়ে ওঠে
… তবে আলোচনা দীর্ঘ ও বিস্তৃত হয়ে যাবে। একইভাবে অর্থ প্রদান, সৌন্দর্যবোধ, ভুল থেকে বেঁচে থাকা এবং পরিস্থিতির দাবি—সবকিছুর ওপর এটি প্রয়োগ করুন। তবে কি এটি আমাদের কাছে কথার সামগ্রিক উপাদান, এর বিভিন্ন দিক ও নিয়ম এবং তা সুন্দর করার পদ্ধতি এবং এর মাধ্যমে চারপাশের মানুষের মাঝে আনন্দ ও প্রাণের সঞ্চার করার বিষয়ে ধীরস্থির পর্যালোচনার দাবি রাখে না?
…পদ্ধতি ও পন্থা
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১০)
تندرج كتابة عبد القاهر الجرجاني البلاغية بعامة، وكتاب دلائل الإعجاز بخاصة، تحت عارضة العقل والمنطق، لأن كل شيء عنده قائم على إبداء الرأي وبسطة والتمثيل له، أو العكس، معتمداً القياس والاستنتاج، محكِّماً عقله وتفكيره، معتمداً المبادئ المعرفية التي يحكم بها البلغاء الحقيقيون، وما يحصله من عيون الشواهد الأدبية، يسبقها أو يواكبها الشاهد القرآني المعجز.
فكان أحياناً مستقرئاً، يبحث في التفاصيل والجزئيات وصولا إلى خلاصة الرأي وزبدة النظرية
… وأحياناً مستنتجاً، يطرح الرأي، وينصب ميزان الحكم ثم يعرض مفاهيمه وشروحه في بوتقة العقلي المستمد من ثقافته الفكرية التأملية ومقاربته الأشياء، فضلاً عن المنطق اليوناني الأرسطي الذي تشرَّبتْ به طائفة كبيرة من علماء عصره؛ ولكنه خفَّف من جفاء المنطق ورصانة العقل بما اكتسبه من لطافة الذوق ورهافة الإحساس. لنقرأْ له دفاعه عن نظريته في أن الفصاحة لا تكون للفظ إلَاّ باعتبار معناه:
"إن القارئ إذا قرأ قوله تعالى: {وَاشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيَبْاً} [مريم: 4] فإنه لا يَجد الفصاحة التي تجدها إلَاّ من بعد أن ينتهي الكلام إلى آخره؛ فلو كانت الفصاحة صفةً للفظ "اشتعل" لكان ينبغي أن يُحسَّها القارئ فيه حال نطقه به، فمحالٌ أن تكون للشيء صفةٌ، ثم لا يصح العلمُ بتلك الصفة إلَاّ من بعد عدَمِه. ومن ذا رأى صفةً يَعْرى موصوفُها عنها في حال وجوده، حتى إذا عُدِمَ صارت موجودةٌ فيه؟ وهل سمع السامعون في قديم الدهر وحديثه، بصفةٍ شرطُ حصولها لموصوفها أَنْ يُعدَم الموصوفُ؟ "
لا أغالي إذا قلت إِنَّ كل رأي صدر عن الجرجاني، وكل نظرية طرحها أو توصَّل إليها، إنما سلكَ في سبيلهما هذا المسلكَ القياسي الاستدلالي الاستقرائي،، في إطار من التحليل المنطقي والتفكير العقلاني
… بغض النظر عما يَؤُول إليه أو يستنتجه أو يؤسِّس عليه. ذاك مجال آخر يمكن فيه مناقشتُه وإخضاع ما يقول لميزان القناعة أو الرفض. إقرأ معي - إنْ شئتَ - مثالاً آخر؛ تحليله لبيت العباس ابن الأحنف، في بثَّ شجونه ومعاناته في إثر الحبيب:
سأَطلبُ بُعْد الدارِ عنكُمْ لِتَقْربوا
… وتَسْكُبُ عينايَ الدموعَ لِتَجْمُدا
আব্দুল কাহির আল-জুরজানির আলঙ্কারিক রচনাগুলো সাধারণভাবে এবং বিশেষ করে 'দালায়িলুল ইজায' গ্রন্থটি বুদ্ধি ও যুক্তির কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত, কেননা তাঁর নিকট সবকিছুই মতামত ব্যক্ত করা, তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা এবং সেটির উদাহরণ পেশ করার ওপর (অথবা এর বিপরীত ধারার ওপর) প্রতিষ্ঠিত। এক্ষেত্রে তিনি যৌক্তিক অনুমান ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করেন, নিজের বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তিকে বিচারক নির্ধারণ করেন এবং সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক নীতিমালার ওপর ভিত্তি করেন যার দ্বারা প্রকৃত অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ বিচারকার্য পরিচালনা করেন। সেইসাথে তিনি শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক নিদর্শনসমূহ থেকে যা কিছু আহরণ করেন, তার আগে বা সাথে অলৌকিক কুরআনী উদাহরণ বিদ্যমান থাকে।
তিনি কখনো ছিলেন আরোহী গবেষক, যিনি মতামতের নির্যাস ও তত্ত্বের সারসংক্ষেপে পৌঁছানোর জন্য বিস্তারিত ও খুটিনাটি বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতেন
… আবার কখনো ছিলেন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, যিনি মতামত পেশ করতেন, বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করতেন এবং তারপর তাঁর চিন্তাশীল বৌদ্ধিক সংস্কৃতি ও বিষয়াবলীর প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রাপ্ত বুদ্ধিবৃত্তিক আধারে নিজের ধারণা ও ব্যাখ্যাগুলো উপস্থাপন করতেন। এর পাশাপাশি গ্রীক অ্যারিস্টটলীয় যুক্তিবিদ্যার প্রভাবও ছিল, যা তাঁর যুগের এক বিশাল আলিম সমাজ গ্রহণ করেছিলেন; তবে তিনি যুক্তিবিদ্যার শুষ্কতা এবং বুদ্ধির কঠোরতাকে তাঁর অর্জিত রুচিবোধের কোমলতা ও সংবেদনশীলতার মাধ্যমে লাঘব করেছিলেন। আসুন তাঁর সেই তত্ত্বের সপক্ষে তাঁর প্রতিরক্ষা পড়ি যেখানে তিনি বলেছেন যে, অর্থের বিবেচনা ছাড়া কেবল শব্দের জন্য প্রাঞ্জলতা হতে পারে না:
"নিশ্চয়ই পাঠক যখন মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করে: {এবং বার্ধক্যে আমার মস্তক শুভ্রতায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে} [মারইয়াম: ৪], তখন সে সেই প্রাঞ্জলতা পায় না যা বাক্যটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব নয়। যদি প্রাঞ্জলতা 'উদ্ভাসিত হওয়া' শব্দটির গুণ হতো, তবে পাঠকের উচিত ছিল শব্দটি উচ্চারণ করার সময়ই তা অনুভব করা। অথচ কোনো বস্তুর গুণ থাকা এবং সেই বস্তুর বিলুপ্তির আগে সেই গুণের জ্ঞান হওয়া অসম্ভব—এটা তো হতে পারে না। এমন কোন্ ব্যক্তি আছে যে এমন কোনো গুণ দেখেছে যার গুণান্বিত সত্তা বিদ্যমান থাকাকালীন গুণটি থেকে মুক্ত থাকে, আর সত্তাটি বিলুপ্ত হওয়ার পর গুণটি তাতে প্রকাশ পায়? প্রাচীন বা আধুনিক কালে শ্রোতারা কি এমন কোনো গুণের কথা শুনেছে, যার অর্জনের শর্ত হলো গুণান্বিত সত্তাটি বিলুপ্ত হওয়া?"
আমি অতুক্তি করছি না যদি বলি যে, আল-জুরজানির পক্ষ থেকে ব্যক্ত করা প্রতিটি মতামত এবং তাঁর উপস্থাপিত বা উদ্ভাবিত প্রতিটি তত্ত্ব যৌক্তিক বিশ্লেষণ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তার কাঠামোর মধ্যে এই অনুমানমূলক, প্রমাণনির্ভর ও আরোহী পদ্ধতিই অনুসরণ করেছে
… তিনি যা কিছুর দিকে ধাবিত হন, যা সিদ্ধান্ত নেন বা যার ওপর ভিত্তি স্থাপন করেন, তা নির্বিশেষে। সেটি অন্য একটি ক্ষেত্র যেখানে তাঁর সাথে আলোচনা করা যেতে পারে এবং তাঁর কথাকে গ্রহণ বা বর্জনের মানদণ্ডে নিরূপণ করা যেতে পারে। আপনি চাইলে আমার সাথে আরও একটি উদাহরণ পড়তে পারেন; যেখানে তিনি আব্বাস ইবনে আল-আহনাফ-এর একটি পঙক্তির বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে কবি প্রিয়ার বিরহে তাঁর দুঃখ ও যাতনা প্রকাশ করেছেন:
আমি তোমাদের থেকে গৃহের দূরত্ব কামনা করব যাতে তোমরা নিকটবর্তী হও
… আর আমার দুই চোখ অশ্রু বিসর্জন দেবে যাতে তা স্থির হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১১)
وافقَ الجرجانيُّ الشاعرَ في الشطر الأول، بوجوب سَكْب الدمع مع الفراق، لكنه غالطه في مسألة الجمود قائلاً:
"إذا قال "لتجمدا" فكأنه قال: أحزنُ اليوم لئلَاّ أحزنَ غداً، وتبكي عيناي جهدهما لئلَاّ تبكيا أبداً؛ وغلط فيما ظنَّ؛ وذاك أنَّ الجمود هو أن لا تبكي العينُ، مع أنَّ الحال حالُ بكاء، ومع أنَّ العين يراد منها أن تبكي ويُشتكى من أن لا تبكي، ولذلك لا نرى أحداً يذكر عينه بالجمود إلَاّ وهو يشكوها ويذمُّها وينسبها إلى البخل، ويعدُّ امتناعها من البكاء تَرْكاَ لمعونة صاحبها على ما به من الهم ..
(
… ) وجملة الأمر أَنَّا لا نعلم أحداً جعل جمودَ العين دليلَ سرور وأمارةَ غبطة، وكنايةً عن أنَّ الحال حال فرح. فهذا مثالٌ فيما هو بالضدِّ مما شرَطوا من أن لا يكون لفظُه أسبقَ إلى سمعك، من معناه إلى قلبك، لأنك ترى اللفظ يصل إلى سمعك وتحتاج إلى أنْ تَخُبَّ وتُوضِعَ في طلب المعنى".
ربما لا أوافق شيخ البلغاء على نظرته التحليلية لجمود العينين ههنا - ذاكَ أن حالة الجمود والصورة التي رسمها ابن الأحنف، كامنتان في وجدان الشاعر ومخيِّلته، إذ قد يكون قصد إقامة معادلة متوازية بين البعد والقرب من جهة، والانسكاب والجمود من جهة ثانية، وأن الجمود حالة شخوصٍ واشتدادِ نظر تسمَّرَ إلى الأفق البعيد، حيث طيفُ الحبيب، أو إلى ما حوله
… لكنَّ أحداً لا يسعه الجدالُ في المنطق التحليلي الاستنتاجي الآسر الذي بسطه الشيخ عبد القاهر بكثير من دقة المُعَاينة وإحكام المُسَاءلة
…إنَّ العقل عنده سيد الرقابة والتوجيه والحكم في العلاقات والاختيار والتنسيق، وترتيب المعاني وما يناسبها من الألفاظ. كيفما التفتَّ إلى سياق نظريته البلاغية وصياغة أصولها، وجدتَ العقلَ رأساً في ذلك، لا يتحول عن مساره أو يَخْبو له ضوءٌ لدى أية مناقشة أو محاجَّة. فهو لا يفتأ يذكر العقلاء في كل خلاصة أو استنتاج يعتمدهما في طرح آرائه، وبسط الأدلة والشواهد: حتى الفصاحةُ، عنده، لا تُدرك إلَاّ بالعقل:
জুরজানি প্রথম পঙক্তিতে বিচ্ছেদের সময় অশ্রু বিসর্জন দেয়া আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে কবির সাথে একমত পোষণ করেছেন, তবে তিনি জুমুদ (অশ্রুহীনতা) এর বিষয়ে তার ভুল ধরিয়ে দিয়ে বলেছেন:
"যখন তিনি বলেন 'যাতে তোমরা (উভয় চক্ষু) স্থির বা অশ্রুহীন হও', তখন বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যেন তিনি বলছেন: আমি আজ দুঃখ করছি যাতে আগামীকাল দুঃখ করতে না হয়, এবং আমার দুচোখ তাদের সাধ্যমতো কাঁদছে যাতে তারা আর কখনো না কাঁদে। তিনি যা ধারণা করেছেন তাতে ভুল করেছেন; কারণ 'জুমুদ' হলো কান্নার অবস্থায় চোখ না কাঁদা, অথচ তখন চোখের কাছে প্রত্যাশা থাকে কাঁদার এবং না কাঁদার কারণে তখন অভিযোগ করা হয়। এ কারণেই আমরা কাউকে তার চোখের জুমুদের কথা উল্লেখ করতে দেখি না, যতক্ষণ না সে তার চোখের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে, তাকে নিন্দা জানায় এবং কৃপণতার দোষে দুষ্ট করে। আর চোখের কান্নায় বিরত থাকাকে তার অধিকারীর দুশ্চিন্তায় সাহায্য করা থেকে বিরত থাকা হিসেবে গণ্য করা হয়...
(
… ) সারকথা এই যে, আমরা এমন কাউকে চিনি না যে চোখের অশ্রুহীনতাকে আনন্দের প্রমাণ, সুখের চিহ্ন বা পরিস্থিতির প্রসন্নতা বোঝাতে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছে। এটি এমন একটি উদাহরণ যা তাদের (আলঙ্কারিকদের) শর্তের সম্পূর্ণ বিপরীত—যেখানে শর্ত ছিল শব্দ শোনার আগেই যেন অর্থ হৃদয়ে পৌঁছে না যায়। কারণ আপনি দেখছেন যে শব্দটি কানে পৌঁছালেও অর্থটি অনুসন্ধান করার জন্য আপনাকে দ্রুতবেগে দৌড়াতে এবং সচেষ্ট হতে হচ্ছে।"
সম্ভবত আমি এখানে বাগ্মীশ্রেষ্ঠের (শাইখুল বুলাগা) চোখের অশ্রুহীনতা সংক্রান্ত বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হতে পারছি না—কেননা জুমুদের অবস্থা এবং ইবনুল আহনাফ যে চিত্রটি অঙ্কন করেছেন, তা কবির চেতনা ও কল্পনায় নিহিত। কারণ তিনি সম্ভবত একদিকে দূরত্ব ও নৈকট্য এবং অন্যদিকে অশ্রু বিসর্জন ও অশ্রুহীনতার মধ্যে একটি সমান্তরাল সমীকরণ তৈরি করতে চেয়েছেন। আর এই জুমুদ বা স্থিরতা হলো দৃষ্টির এমন এক তীব্রতা যা সুদূর দিগন্তে নিবদ্ধ হয়েছে, যেখানে প্রিয়ার ছায়া বিদ্যমান, অথবা তার চারপাশের কোনো কিছুর প্রতি... তবে শেখ আব্দুল কাহির অত্যন্ত সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও সুশৃঙ্খল পর্যালোচনার মাধ্যমে যে আকর্ষণীয় বিশ্লেষণাত্মক ও অনুমানমূলক যুক্তি পেশ করেছেন, তা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ কারও নেই...
তাঁর নিকট আকল (বুদ্ধি) হলো সম্পর্ক স্থাপন, নির্বাচন, সমন্বয় এবং অর্থের বিন্যাস ও তার সাথে মানানসই শব্দের চয়নের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ, দিকনির্দেশনা ও বিচারের মূল অধিপতি। আপনি তাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় তত্ত্বের প্রেক্ষাপট এবং এর মূলনীতির কাঠামোর দিকে যেভাবেই তাকান না কেন, আকলকেই সেখানে প্রধান হিসেবে পাবেন; কোনো আলোচনা বা যুক্তিতর্কের ক্ষেত্রে তা তার পথ থেকে বিচ্যুত হয় না কিংবা তার আলো ম্লান হয় না। তিনি তাঁর মতামত উপস্থাপন এবং দলিল ও প্রমাণাদি বিস্তারের ক্ষেত্রে গৃহীত প্রতিটি সারসংক্ষেপ বা সিদ্ধান্তে বুদ্ধিমানদের কথা উল্লেখ করতে ভোলেন না: এমনকি তাঁর মতে, ফাসাহাত (প্রাঞ্জলতা) ও আকল ছাড়া অনুধাবন করা সম্ভব নয়:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১২)
"هذا فنّ من الاستدلال لطيف على بطلان أن تكون الفصاحة صفةً للّفظ من حيث هو لفظ: لا تخلو الفصاحة من أن تكون صفة في اللفظ محسوسة تُدرك بالسمع، أو تكون صفة فيه معقولةً تُعرف بالقلب. فمحال أن تكون صفةً في اللفظ محسوسة؛ لأنها لو كانت كذلك، لكان ينبغي أن يستوي السامعون للفظ الفصيح في العلم بكونه فصيحاً. وإذا بطلَ أن تكون محسوسةً، وجبَ الحكْمُ ضرورةً بأنها صفة معقولة، وإذا وجبَ الحكم بكونها صفةً معقولة، فإنّا لا نعرف صفةً يكون طريقُ معرفتها العقلَ دون الحِسّ، إلَاّ دلالته على معناه؛ وإذا كان كذلك، لزم منه العلمُ بأنَّ وصْفَنا اللفظ بالفصاحة وصفٌ له، من جهة معناه، لا من جهة نفسه. وهذا ما يبقى لعاقلٍ معه عذرٌ في الشك، واللهُ الموفق للصواب".
أرأيتَ إلى هذا المنهج العقلاني الدقيق المطَّرد، وقد اعتمد الاستنتاجَ فيْه عندما انطلق من مقولته - في السطر الأول - "بطلان أن تكون الفصاحة صفةً للفظ كلفظٍ"، ثم راح يبسط نظرته ويعرض لاحتمالٍ ثم يستنتج، بصورة تتابعية موضوعيةٍ لا خلل فيها ولا التواء، حتى انتهى إلى ما انتهى إليه وقد استراح قلقُه وابتردت طاقاتُه في البحث والتدليل، كما استراح معه القارئ واستشعر القناعة اللازمة.
أثبت الجرجاني، أنه، في معظم ما شرح وأوضح، وبرهن ودلَّل وعلَّل
… كان في وضع الباحث المنهجي، والمحاضر الممتاز يقدِّم معارفَه لطلبته بكل صبر ورويَّة، متوخياً على الدوام الإِقناعَ والإفادة، "متخوفاً" أو قل: متوجِّساً من أن يكون كلُّ ما جهد في سبيله، عرضَةً للضياع في مهب الريح، حتى وصل به الأمر في مطلع أحد الفصول، في باب اللفظ والنظم، إلى تكرار التنبيه ومعاودة وصاياه المتتابعة، في مطلع كل فصل ونهاية كل فقرة، كأنما هو في وادٍ والقارئ في وادٍ
… فكانت هذه الكلمات التي تزخر باليقظة والإلحاف والتأكيد على كل ما يملك من مشاعر الحرص على سلامة المعارف التي يطرحها قائلاً:
এটি শব্দের কেবল শব্দ হিসেবেই বাগ্মিতা (ফাসাহাত) হওয়ার অসারতা প্রমাণের একটি সূক্ষ্ম যুক্তিপদ্ধতি: বাগ্মিতা শব্দের এমন কোনো গুণ হওয়া থেকে মুক্ত নয় যা হয় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য—যা শ্রবণের মাধ্যমে অনুভূত হয়, অথবা তা এমন কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক গুণ—যা অন্তঃকরণ বা বুদ্ধি দিয়ে উপলব্ধি করা যায়। এটি অসম্ভব যে বাগ্মিতা শব্দের কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণ হবে; কারণ যদি তা-ই হতো, তবে কোনো অলঙ্কারপূর্ণ শব্দ শুনে তার অলঙ্কার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে সকল শ্রোতা সমান হতো। যখন এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য হওয়া বাতিল হয়ে গেল, তখন অবধারিতভাবেই এটি সাব্যস্ত হয় যে এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক গুণ। আর যখন এটি বুদ্ধিবৃত্তিক গুণ হিসেবে সাব্যস্ত হলো, তখন আমরা এমন কোনো গুণের কথা জানি না যার উপলব্ধির পথ ইন্দ্রিয়ের পরিবর্তে কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক, তার অর্থের দিকে নির্দেশ করা ব্যতীত। আর যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে তা থেকে এই জ্ঞান অনিবার্য হয়ে পড়ে যে, কোনো শব্দকে অলঙ্কারপূর্ণ বলা মূলত তার অর্থের দিক থেকেই বলা, খোদ শব্দের কারণে নয়। এটি এমন এক বিষয় যা নিয়ে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তির সংশয়ে থাকার অবকাশ নেই। আর আল্লাহই সঠিক পথ প্রদর্শনের তৌফিকদাতা।
আপনি কি এই সূক্ষ্ম ও সুসংগত যৌক্তিক পদ্ধতিটি দেখেছেন? যেখানে তিনি অনুমানের ওপর নির্ভর করেছেন যখন তিনি তার প্রথম লাইনের বক্তব্য—"শব্দ হিসেবে শব্দের বাগ্মিতা হওয়ার অসারতা"—থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তারপর তিনি ধারাবাহিকভাবে ও বস্তুনিষ্ঠভাবে কোনো প্রকার ত্রুটি বা বক্রতা ছাড়াই তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করেছেন এবং সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরে উপসংহারে পৌঁছেছেন। যতক্ষণ না তিনি তার গন্তব্যে পৌঁছালেন, তার অস্থিরতা প্রশমিত হলো এবং গবেষণা ও দলিল উপস্থাপনের শক্তি শান্ত হলো, যেমনটি পাঠকের ক্ষেত্রেও ঘটেছে এবং সে প্রয়োজনীয় সন্তুষ্টি অনুভব করেছে।
আল-জুরজানি প্রমাণ করেছেন যে, তিনি যা কিছু ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেছেন এবং যুক্তি ও কারণ দর্শিয়েছেন, তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন একজন সুশৃঙ্খল গবেষক এবং একজন শ্রেষ্ঠ প্রভাষক, যিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও ধীরস্থিরতার সাথে তার শিক্ষার্থীদের সামনে জ্ঞান উপস্থাপন করেন। তিনি সর্বদা মানুষকে আশ্বস্ত করা এবং উপকৃত করার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি "শঙ্কিত" ছিলেন, অথবা বলা যায় উদ্বিগ্ন ছিলেন যে, তিনি যে বিষয়ের জন্য এত পরিশ্রম করেছেন তা যেন বিফলে না যায়। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, শব্দ ও বিন্যাস (আল-লফজ ওয়ান নাজম) অধ্যায়ের একটি পরিচ্ছেদের শুরুতে তিনি বারবার সতর্কবার্তা এবং তার উপদেশগুলো পুনর্ব্যক্ত করছিলেন—প্রতিটি পরিচ্ছেদের শুরুতে এবং প্রতিটি অনুচ্ছেদের শেষে। যেন তিনি এক প্রান্তরে আর পাঠক অন্য প্রান্তরে
… ফলে এই শব্দগুলো ছিল সতর্কতা, ঐকান্তিকতা এবং তার উপস্থাপিত জ্ঞানের বিশুদ্ধতা রক্ষার এক গভীর আকুলতায় পরিপূর্ণ। তিনি বলছিলেন:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
"واعلمْ أني على طول ما أعدتُ وأبدأتُ، وقلت شرحتُ في هذا الذي قام في أوهام الناس من حديث اللفظ، لربما ظننتَ أني لم أصنع شيئاً (
… ) وهذا والذي بيِّنَّاه وأوضحناه، كأنك ترى أبداً حجاباً بينهم وبين أن يعرفوه، وكأنك تُسمعُهم منه شيئاً تَلفِظُه أسماعُهم، وتُنكره نفوسهم، وحتى كأنه كلما كان الأمرُ أَبْينَ كانوا عن العلم به أبعد، وفي توهم خلافه أَقعد؛ وذاك لأن الاعتقاد الأول قد نشب في قلوبهم وتأشَّب فيها، ودخل بعروقه في نواحيها، وصار كالنبات السوءِ الذي كلما قلعتهُ نبتَ".
لكأنه دائماً في حوار جدلي كلامي مع قارئ يتمثله، فيخاطبه ويحاجُّه في مثل حلقات المتكلمين المسلمين في مطالع عهدهم. ومن الصعب على القارئ مخالفته، لأنه يمسك بأطراف القناعة والبرهان، فيدلي، ويطرح، ويبسط بكل تؤدة وحسْن مراجعة.
ولا يفوتنا الطريقة التي لا تختلف في شيء عن الدرس الصفّي الذي يقتضي التمهيد والرأي الجزل والمثال العلمي البلاغي، الذي يتناوله من غير جانب، حتى إذا أعوزه الإقناع الكلّي، عمد إلى التفسير الإعرابي النحوي المُفضي إلى حسْن فهم الكلام، وربط أجزائه بعضها ببعض.
ومن الإعراب النحوي، إلى الإعراب الإسناديّ الذي يجعله مستوطن البغية التعبيرية؛ وإلَاّ اختلَّ السياقُ؛ ومثله الإعراب البياني الذي اعتمد - في حيز كبير منه على تحليل لغوي يصل حد الوقوف الدقيق عند بعض الحروف
… وبوسع القارئ الاهتداء إلى مختلف وجوه الإعراب لدى مطالعته لأي فصل، فسيجد ما هو أكثر من ذلك وأبعد، كالإعراب المعنوي (أي تقليب المعاني واستبدال بعض الكلمات، لتبيان ما يذهب إليه) والإعراب النفسي وبخاصة في الصفحات الأخيرة بحيث ينتهي إلى (الفروق والإحساس الروحاني) بما لم يسبق إليه
…الأساليب
تناولت الفقرة السابقةُ مسألةَ المنهج والطريقة من غير فصل بينهما، لشدة ترابطهما وتداخلهما في نسيج يسمح لي بالقول: إنه نسيجُ وحده. وها أنذا أُوضح ما هو أدقُّ وأقرب إلى الشرح التطبيقي لما تضمنته الفقرة السابقة، ولما قلتُ: "إنه نسيج وحده".
জেনে রাখুন, শব্দের (লাফজ) আলোচনা নিয়ে মানুষের কল্পনায় যা উদিত হয়েছে, সে বিষয়ে আমি দীর্ঘ সময় ধরে যা কিছু পুনরাবৃত্তি করেছি, শুরু করেছি, বলেছি এবং ব্যাখ্যা করেছি, তাতে হয়তো আপনার মনে হতে পারে যে আমি কিছুই করতে পারিনি (
… )। আমরা যা কিছু বর্ণনা ও স্পষ্ট করেছি, তাতে সবসময় আপনার মনে হবে যেন তাদের এবং এই বিষয়টি বোঝার মাঝখানে একটি পর্দা রয়ে গেছে। মনে হবে আপনি তাদের এমন কিছু শোনাচ্ছেন যা তাদের কান প্রত্যাখ্যান করছে এবং তাদের অন্তর অস্বীকার করছে। এমনকি বিষয়টি যত বেশি স্পষ্ট হচ্ছে, তারা তা জানা থেকে তত বেশি দূরে সরে যাচ্ছে এবং এর বিপরীতে অবস্থান গ্রহণে তত বেশি দৃঢ় হচ্ছে। আর এর কারণ হলো, পূর্ববর্তী বিশ্বাস তাদের হৃদয়ে গেঁথে গেছে এবং সেখানে বদ্ধমূল হয়ে আছে। তা তাদের অন্তরের চারদিকের শিরা-উপশিরায় প্রবেশ করেছে এবং এমন এক ক্ষতিকর উদ্ভিদে পরিণত হয়েছে, যা আপনি যতবারই উপড়ে ফেলবেন, ততবারই তা পুনরায় গজিয়ে উঠবে।
মনে হয় তিনি যেন সর্বদা একজন কাল্পনিক পাঠকের সাথে তাত্ত্বিক ও বিতর্কমূলক সংলাপে লিপ্ত আছেন; তিনি তাকে সম্বোধন করছেন এবং তার সাথে এমনভাবে বিতর্ক করছেন, যেমনটি প্রাথমিক যুগের মুসলিম তাত্ত্বিকদের (মুতাকাল্লিমিন) মজলিসগুলোতে দেখা যেত। পাঠকের পক্ষে তার বিরোধিতা করা কঠিন, কারণ তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ও প্রমাণের রশি ধরে থাকেন। তিনি অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে এবং চমৎকার পর্যালোচনার মাধ্যমে তার বক্তব্য উপস্থাপন, উত্থাপন এবং ব্যাখ্যা করেন।
আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যায় না সেই পদ্ধতিটি, যা শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের চেয়ে কোনো অংশেই ভিন্ন নয়। যেখানে প্রয়োজন হয় ভূমিকা, জোরালো অভিমত এবং ইলমি-বালাগাতভিত্তিক উদাহরণ, যা তিনি বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা করেন। এমনকি যখন তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে তুষ্ট করতে ব্যর্থ হন, তখন তিনি ব্যাকরণগত ও অন্বয়গত (ই’রাব) ব্যাখ্যার আশ্রয় নেন, যা বক্তব্যের সুনিপুণ উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায় এবং এর অংশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র স্থাপন করে।
ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ থেকে তিনি এমন এক অন্বয়গত (ইসনাবি) বিশ্লেষণের দিকে ধাবিত হন, যাকে তিনি অভিব্যক্তির লক্ষ্যের মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য করেন; অন্যথায় প্রেক্ষাপট ক্ষুণ্ন হতো। অনুরূপভাবে রয়েছে অলংকারিক বিশ্লেষণ (ই’রাব বায়ানি), যা অনেকাংশেই ভাষাগত বিশ্লেষণের ওপর নির্ভরশীল এবং কিছু বর্ণের সূক্ষ্ম পর্যালোচনার পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যায়
… পাঠক যেকোনো অধ্যায় পড়ার সময় এই বিশ্লেষণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে দিকনির্দেশনা পেতে পারেন। তিনি সেখানে এর চেয়েও বেশি এবং সুদূরপ্রসারী বিষয় খুঁজে পাবেন, যেমন অর্থগত বিশ্লেষণ (অর্থাৎ অর্থের পরিবর্তন ও কিছু শব্দের প্রতিস্থাপন, যার মাধ্যমে তিনি তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেন) এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, বিশেষ করে শেষ পৃষ্ঠাগুলোতে, যেখানে তিনি এমন এক অনন্য পদ্ধতিতে 'পার্থক্য ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি'তে উপনীত হন যা ইতিপূর্বে কেউ করেনি
…শৈলীসমূহ
পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়ার বিষয়টিকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন না করে আলোচনা করা হয়েছে, কারণ তাদের মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ক ও সংমিশ্রণ এমন একটি বুনন তৈরি করেছে যা আমাকে বলতে বাধ্য করে যে: এটি তার আপন বৈশিষ্ট্যে অনন্য। এখন আমি পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে এবং আমি যাকে 'আপন বৈশিষ্ট্যে অনন্য বুনন' বলেছি, তার আরও সূক্ষ্ম ও প্রায়োগিক ব্যাখ্যার নিকটবর্তী বিষয়গুলো স্পষ্ট করছি।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
في معرض كلامه على الاحتذاء عند الشعراء تعريفاً وتطبيقاً، عرَّف الجرجاني الأسلوب بوجازة متناهية فقال: "والأسلوبُ الضربُ من النظم والطريقة فيه".
أمام هذا التعريف المكثف والمقتضب في آن، أتساءل بنسبة عالية من التفكير والتأمل: هل بالإمكان التحقق من تطبيق هذا التعريف على نص الجرجاني و "دلائله"؟ أيْ: هل يمكن اعتبار الكتاب: نظْماً آخر على غرار ما أَوردَ من نصوصٍ وأحكام وخلاصات؟
والجواب: ليس هناك ما يمنع، إذا قمتُ بسبْرِ أغوار نسيجه اللغوي المحْكم، والنظر إليه بنفس المقياس الذي استخدمه مع عدد كبير من الآيات القرآنية والشواهد الشعرية
…ولعلي أقترب من الجواب أكثر، إذا استطعتُ التعامل مع النص بشيء من التحليل المرتكز على تسليط الضوء على خيوط هذا النسيج وتنوع وجوه الحبكة فيه ومقتضيات الصنعة فيه، أعرض ذلك كله وفقاً للعناوين والفقرات الآتية:
* الحبْك المتشابك وتداخل الجمل
تميز أسلوب الجرجاني بما أُسمّيه الحبك المتشابك المطَّرد، في جمل متتابعة وأغراض متداخلة، الأمر الذي يورث القلق في المتابعة، والالتباس في القصد. فتجتهدُ لمعرفة طبيعة الفعل: أهو للمجهول أم للمعلوم، وفي إلحاق الضمير بهذا الاسم أم بغيره
… فتقف حائراً مفكْراً في ضبط الكلام وإعرابه وتأويله - لأنَّ كلَّ ما يُفهم من السياق، إنما يرتبط بصورة مباشرة بحسْن إعرابنا الكلامَ، وربطِ جُمله وعباراته. ولولا تدخل الإمام عبده والمصحح رضا في تنوير القارئ ببعض الحواشي الموضحة، لبقي كثير من النصوص شبه مُقْفلٍ، بسبب تعذر تشكيل بعض المفردات، وغياب علامات الترقيم التي تكمِّل التشكيل وتُزيل الالتباس، كأنما بعضُ العلامات، حركات إعرابية نيّرة.
من ذلك وقوفُه شبهُ المستهجن أمام رأي الناس في جعل الاستعارة هي وحدها التي تميَّزتْ بالشرف المستمد من الآية الكريمة: {وَاشْتَعَلَ الرَّأسُ شَيَبْاً} [مريم: 4] وجوابه:
কবিদের রচনারীতি অনুকরণের (আল-ইহতিযা) সংজ্ঞা ও প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনার প্রেক্ষাপটে, জুরজানি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে শৈলীর (উসলুব) সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: "শৈলী হলো এক ধরনের রচনাশৈলী এবং রচনার পদ্ধতি।"
একই সাথে এই গভীর অথচ সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞার সামনে দাঁড়িয়ে আমি অত্যন্ত গভীর চিন্তা ও ধ্যানের সাথে প্রশ্ন করি: জুরজানির মূল পাঠ্য এবং তাঁর 'দালাইল' (দালাইলুল ই'জায) গ্রন্থের ওপর কি এই সংজ্ঞার প্রয়োগ যাচাই করা সম্ভব? অর্থাৎ: তিনি যেসব পাঠ্য, বিধান এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেছেন, তার আলোকে এই গ্রন্থটিকেও কি একটি স্বতন্ত্র রচনাশৈলী বা 'নাজম' হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে?
এর উত্তর হলো: এতে কোনো বাধা নেই, যদি আমি এর সুদৃঢ় ভাষাগত বুননের গভীরতা পরিমাপ করি এবং সেটিকে সেই একই মানদণ্ডে বিচার করি যা তিনি অসংখ্য কুরআনিক আয়াত ও কাব্যিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন
…সম্ভবত আমি উত্তরের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব, যদি আমি এই পাঠ্যটিকে এমন কিছু বিশ্লেষণের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে পারি যা এই বুননের সুতোগুলো, এর জটিল বিন্যাসের বৈচিত্র্য এবং এতে বিদ্যমান শিল্পনৈপুণ্যের দাবিসমূহের ওপর আলোকপাত করবে। আমি এই সমস্ত বিষয় নিম্নোক্ত শিরোনাম ও অনুচ্ছেদ অনুযায়ী উপস্থাপন করছি:
* জটিল বুনন এবং বাক্যের আন্তঃপ্রবেশ
জুরজানির শৈলীটি এমন এক বৈশিষ্ট্যে অনন্য যাকে আমি 'অবিরাম জটিল বুনন' বলে অভিহিত করি, যেখানে বাক্যগুলো পরস্পর অনুগামী এবং উদ্দেশ্যগুলো একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই বিষয়টি অনুধাবনের ক্ষেত্রে উদ্বেগ এবং উদ্দেশের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা তৈরি করে। ফলে আপনি ক্রিয়ার প্রকৃতি জানার জন্য কঠোর চেষ্টা করেন: এটি কি কর্মবাচ্য নাকি কর্তৃবাচ্য? সর্বনামটি কি এই বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হবে নাকি অন্যটির সাথে?
… ফলে আপনি বাক্যের গঠন, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) এবং এর ব্যাখ্যা নির্ধারণে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ও চিন্তামগ্ন হয়ে পড়েন—কেননা প্রসঙ্গ থেকে যা কিছু বোঝা যায়, তা সরাসরি আমাদের শব্দ বিশ্লেষণের বিশুদ্ধতা এবং বাক্য ও শব্দগুচ্ছের সঠিক সংযোগের সাথে সম্পর্কিত। যদি ইমাম (মুহাম্মদ) আবদুহু এবং সংশোধক (রশীদ) রিদা কিছু ব্যাখ্যামূলক টীকা দিয়ে পাঠককে আলোকিত না করতেন, তবে অনেক পাঠ্যই প্রায় রুদ্ধ বা অবোধ্য থেকে যেত। এর কারণ ছিল কিছু শব্দের উচ্চারণরীতি (তশকিল) নির্ধারণের দুঃসাধ্যতা এবং যতিচিহ্নের অনুপস্থিতি, যা উচ্চারণরীতিকে পূর্ণতা দেয় এবং অস্পষ্টতা দূর করে; যেন কিছু চিহ্ন উজ্জ্বল ব্যাকরণিক চিহ্নের মতোই কাজ করে।
এর একটি উদাহরণ হলো, সাধারণ মানুষের সেই মতামতের প্রতি তাঁর এক প্রকার বিস্ময়কর আপত্তি, যারা মনে করে যে রূপক বা ইস্তিআরাই একমাত্র বিষয় যা এই পবিত্র আয়াতের মাধ্যমে অর্জিত শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হয়েছে: {এবং বার্ধক্যে আমার মস্তক প্রজ্বলিত হয়ে উঠেছে} [মারইয়াম: ৪] এবং তাঁর উত্তর হলো:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
"وليس الأمرُ على ذلك - ولا هذا الشرف العظيم ولا هذه المزية الجليلة وهذه الروعة التي تدخلُ على النفوس عند هذا الكلام لمجرد الاستعارة، ولكن لأن يُسلك بالكلام طريقُ ما يسند الفعل فيه إلى الشيء وهو لما هو من سببه، فيرفع به ما يُسند إليه ويُؤتى بالذي الفعلُ له في المعنى منصوباً بعده مبيناً أن ذلك الإسناد وتلك النسبة إلى ذلك الأول إنما كان من أجل هذا الثاني ولما بينه وبينه من الاتصال والملابسة".
لن أشكو من الصعوبة التي اعتورَتْني وأنا أقرأ هذا المقطع. فالشكوى غير مقبولة من دارسٍ متصدِّ لنص كنصِّ الجرجاني - إنما كان عليَّ القراءة المرة تلو المرة لتشكيل حروفها ووضع علامات الوقف بين الجمل والعبارات
… وقد شئتُ أن أنقل هذا المقطع من دون ضبط ليدرك القارئ نمط الكتابة لدى الجرجاني وأسلوبه المتشابك الذي، ولو شُكِل كما يجب، بقي على قدر من الإشكال والتداخل وبخاصة لقرَّاءٍ: من الدرجة الدنيا حتى درجة جيدة - أي لا بد من نسبة عالية من المعرفة النحوية والتمرس بقراءة نصوصٍ كالتي واجهتني في هذا الكتاب الذي أزعم أن ضبطه وحده، من دون أي عمل آخر، كفيل بتحقيق الفائدة المرجوة وإن متواضعة. فمن يقرأ جيداً يفهم جيداً، فيما خلا بعض المفردات أو المصطلحات التي تكفلت المعاجمُ وكتب التفسير بشرحها.
وما كان من إضافة الحاشية في سياق المقطع، ونقلها كما جاءت في هامش الصفحة المطبوعة في الطبعة المصرية، إلَاّ إلحاقُ الإشكال بالإشكال، بسبب غياب التشكيل والترقيم حتى في الحواشي، كالذي يدور على نفسه ولا يتقدم خطوة إلى الأمام.
* تعقيد التركيب اللغوي بسبب دخول (كان) على (كان) غير المحدود في الكتاب
এবং বিষয়টি সেরূপ নয়—আর এই মহান মর্যাদা, এই সুমহান বৈশিষ্ট্য এবং এই কথা শোনার পর অন্তরে যে ভাবগাম্ভীর্য সৃষ্টি হয় তা কেবল রূপক ব্যবহারের কারণে নয়। বরং এর কারণ হলো কথার মধ্যে এমন একটি পথ অনুসরণ করা যেখানে ক্রিয়াকে এমন একটি বিষয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যা তার কারণস্বরূপ। এর মাধ্যমে যার দিকে সম্বন্ধ করা হয় তাকে উচ্চমর্যাদা প্রদান করা হয় এবং অর্থের দিক থেকে ক্রিয়াটি যার জন্য প্রযোজ্য তাকে কর্মকারক হিসেবে (মানসুব অবস্থায়) তার পরে নিয়ে আসা হয়, যা স্পষ্ট করে দেয় যে প্রথমটির দিকে ঐ সম্বন্ধ ও নিসবত কেবল এই দ্বিতীয়টির কারণেই হয়েছে এবং তাদের উভয়ের মধ্যে বিদ্যমান সংযোগ ও সংশ্লিষ্টতার কারণে হয়েছে।
এই অনুচ্ছেদটি পড়ার সময় আমি যে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি সে সম্পর্কে কোনো অভিযোগ করব না। কারণ জুরজানির মতো একটি কিতাব নিয়ে কাজ করা গবেষকের পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। বরং আমাকে বারবার এটি পড়তে হয়েছে যাতে এর অক্ষরগুলোতে হরকত প্রদান করা যায় এবং বাক্য ও বাক্যাংশের মাঝে যতিচিহ্ন স্থাপন করা যায়
… আমি এই অনুচ্ছেদটিকে কোনো প্রকার হরকত প্রদান ছাড়াই উদ্ধৃত করতে চেয়েছি যাতে পাঠক জুরজানির লেখার ধরন এবং তার জটিল শৈলী সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। যদি এটি সঠিকভাবে হরকতযুক্তও করা হয়, তবুও তা কিছুটা অস্পষ্টতা ও জটিলতামুক্ত হবে না, বিশেষ করে নিম্ন থেকে সাধারণ মানের পাঠকদের জন্য। অর্থাৎ, উচ্চমানের নাহু (ব্যাকরণ) বিষয়ক জ্ঞান এবং এই কিতাবে আমি যে ধরনের পাঠ্যের সম্মুখীন হয়েছি তা পড়ার অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক। আমি দাবি করি যে, অন্য কোনো কাজ ছাড়াই কেবল এই কিতাবটির সঠিক হরকত নির্ধারণ করাই কাঙ্ক্ষিত উপকার সাধনের জন্য যথেষ্ট, যদিও তা সামান্য হতে পারে। কারণ যে ব্যক্তি সঠিকভাবে পড়তে পারে, সে সঠিকভাবে বুঝতেও পারে, কিছু শব্দ বা পরিভাষা ছাড়া যেগুলোর ব্যাখ্যা অভিধান এবং তাফসীর গ্রন্থসমূহ প্রদান করেছে।
আর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষাপটে টীকা সংযোজন করা এবং মিশরীয় সংস্করণের মুদ্রিত পৃষ্ঠার পাদটীকা থেকে তা যেভাবে আছে সেভাবেই উদ্ধৃত করা কেবল অস্পষ্টতার সাথে অস্পষ্টতা বৃদ্ধি করেছে। কারণ টীকাগুলোতেও হরকত ও বিরামচিহ্নের অভাব ছিল, যা অনেকটা নিজের চারপাশেই ঘোরার মতো এবং এক কদমও সামনে অগ্রসর না হওয়ার নামান্তর।
* কিতাবটিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে 'কানা' (كان)-এর ওপর 'কানা' (كان)-এর অনুপ্রবেশের কারণে ভাষাগত কাঠামোর জটিলতা।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في كتاب "فقه اللغة وأسرار العربية" الذي صدر عن المكتبة العصرية مطلع عام 1999 بعنايتي، دوَّنتُ ملاحظة لغوية لافتة هي: إدخال الثعالبي فعل (كان) الناقص على (كان)، مباشرة، وقلتُ معلقاً على جملة وردت في الكتاب، وهي "وإذا كانت تكون في وسطهنَّ فهي دَفُون" "لعلها المرة الأولى التي دخل فيها فعل "كان" (بالمضارع) على نفسه بالماضي. وإذا بي أفاجأ بأن هناك عدداً كبيراً من المرات، دخلت فيها (كان) على (كان) حتى أصبحتْ من صلب أسلوب الجرجاني، مع قناعتي بأن هذه الصيغة غير مستساغة، لأنه بالإمكان وضع فعل آخر مكان فعل الكينونة الثاني الذي غالباً ما يعني: وُجدَ، حَدَث، حصل الخ
…كقوله، في باب "الفصل والوصل":
"وإنْ لم يكونوا كذلك، لكان لا يكونُ عليهم مؤاخذةٌ فيما قالوه من حيث كانت المؤاخذة تكون".
وقوله في فقرة: (الكناية أبلغ من التصريح):
"وذكرتُ أن السبب في أنْ كان يكون للإثبات، إذا كان من طريق الكناية، مزيَّة لا تكون إذا كان من طريق التصريح".
أفلا يمكن أن يقال، مثلاً
(وذكرتُ أن السبب في أن كان يحصل للإثبات، إذا كان من طريق الكناية، مزية لا تحصل، إذا كان من طريق التصريح)
…وقوله، مطلع الكلام على الفصل الخاص "بكشف الشبهة للقائلين بأن الفصاحة للألفاظ":
"إنْ كان اللفظ إنما يَشْرف من أجل معناه فإنَّ لفظ المفسِّر يأتي على المعنى ويؤديه لا محالة. إذ لو كان لا يؤديه، لكان لا يكون تفسيراً له".
أليس قولنا: (لو كان لا يؤديه لما كان تفسراً له) أسوغَ وأعلقَ، فنتخلَّصَ من دخول (لام الجواب) في "لـ كان" على مضارع منفيِّ؟
… وهكذا في عشرات الصيغ التي تشيع في الكتاب من أقصاه إلى أقصاه.
*أسلوب التطويل والتكرار في صيغ الشرح
১৯৯৯ সালের শুরুতে আমার সম্পাদনায় মাকতাবাতুল আসরিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত "ফিকহুল লুগাহ ওয়া আসরারুল আরাবিয়্যাহ" গ্রন্থে আমি একটি উল্লেখযোগ্য ভাষাগত পর্যবেক্ষণ নথিবদ্ধ করেছি, তা হলো: আল-সা'আলিবি কর্তৃক অপূর্ণ ক্রিয়া (কান)-কে সরাসরি (কান)-এর ওপর প্রয়োগ করা। গ্রন্থে উল্লিখিত একটি বাক্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে আমি বলেছিলাম, বাক্যটি হলো— "আর যখন তা তাদের মাঝখানে থাকে, তখন তা প্রোথিত (দাফুন)"— "সম্ভবত এটিই প্রথমবার যেখানে 'কান' ক্রিয়াটি (বর্তমানকালে) তার নিজের (অতীতকালের) ওপর প্রবেশ করেছে।" কিন্তু আমি বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলাম যে, এমন অসংখ্যবার ঘটেছে যেখানে (কান) ক্রিয়াটি (কান)-এর ওপর প্রবেশ করেছে, এমনকি এটি জুরজানির রচনারীতির অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যদিও আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই যে, এই গঠনটি শ্রুতিমধুর নয়; কারণ দ্বিতীয় সত্তাবাচক ক্রিয়াটির (কান) স্থলে অন্য কোনো ক্রিয়া ব্যবহার করা সম্ভব ছিল, যার অর্থ সাধারণত: বিদ্যমান থাকা, ঘটা বা সংঘটিত হওয়া ইত্যাদি বোঝায়
…যেমন "বিচ্ছেদ ও সংযোগ" (আল-ফাসল ওয়াল ওয়াসল) অধ্যায়ে তাঁর উক্তি:
"আর তারা যদি তেমন না হতো, তবে তারা যা বলেছে সে বিষয়ে তাদের ওপর কোনো পাকড়াও হওয়ার অবকাশ থাকতো না, যে প্রেক্ষিত থেকে পাকড়াও সংঘটিত হয়।"
এবং "পরোক্ষ উক্তি প্রত্যক্ষ উক্তির চেয়ে অধিকতর অলঙ্কারপূর্ণ" অনুচ্ছেদে তাঁর উক্তি:
"আর আমি উল্লেখ করেছি যে, কোনো বিষয় সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যদি তা পরোক্ষভাবে হয়, তবে সেখানে এমন একটি বিশেষত্ব তৈরি হয় যা প্রত্যক্ষভাবে বললে তৈরি হয় না।"
উদাহরণস্বরূপ, এমনটি কি বলা যেত না—
(এবং আমি উল্লেখ করেছি যে, কোনো বিষয় সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে যদি তা পরোক্ষভাবে হয়, তবে সেখানে এমন একটি বিশেষত্ব অর্জিত হয় যা প্রত্যক্ষভাবে বললে অর্জিত হয় না)
…এবং "যাঁরা অলঙ্কারশাস্ত্রকে কেবল শব্দের মাঝে সীমাবদ্ধ মনে করেন তাদের সংশয় নিরসন" সংক্রান্ত বিশেষ পরিচ্ছেদের শুরুতে তাঁর উক্তি:
"শব্দ যদি কেবল তার অর্থের কারণেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে, তবে ব্যাখ্যাকারীর শব্দ সেই অর্থের ওপর আসবে এবং অবশ্যই তা প্রকাশ করবে। কেননা যদি তা প্রকাশ না করতো, তবে সেটি তার ব্যাখ্যা হতো না।"
আমাদের এই বক্তব্যটি কি: (যদি তা প্রকাশ না করতো তবে তা ব্যাখ্যা হতো না) অধিকতর সাবলীল ও সংলগ্ন নয়? যার ফলে আমরা "লামুল জাওয়াব" যুক্ত "লা-কানা" এর সাথে না-বোধক বর্তমানকালীন ক্রিয়ার ব্যবহার থেকে নিষ্কৃতি পেতাম?
… এবং এভাবেই বইটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য এ জাতীয় গঠনশৈলী বিদ্যমান রয়েছে।
*ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে দীর্ঘায়ন ও পুনরাবৃত্তির শৈলী।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
تكرار الكلام والجمل المفسِّرة الموضِحة، سمةٌ غالبة في أسلوب عبد القاهر الذي اختطَّ لنفسه هذا المنحى انطلاقاً من فكرة الفلسفي الذي يسعى دائماً إلى كشفِ الحقيقة. فما باله وقد نَدَب نفسه لتثقيف أبناء عصره، وتفتيح كوى الأذهان نحو علم لم يكن له وجود نظاميِّ من قبل
… ألا وهو علم المعاني الذي نبتَ على جذوع علم النحو نباتَ إخصابٍ وإثمار، لا نباتاً طفيلياً، فإذا به يستقل عن أصله وجوهر وجوده، ليلتحق بعلوم البلاغة ويتصدر هذه العلوم، بعد أن انصرف النحو بأكبر قدرٍ من عنايته، إلى قضايا الإعراب. الأمر الذي حدا بعبد القاهر إلى إعادة العلاقة إلى أصلها وطبيعتها؛ وحسَناً فعلَ لأنه ما انفكَّ في مختلف فصول الكتاب يربط بإحكام بين "المعاني" والنحو ربطاً لا نكاد نشعر باستقلال الواحد عن الآخر، فنَسوغُ النحوَ، من جهة، ونفهم علم المعاني، من جهة ثانية. وبمعنى آخر أضفى الجرجاني على الخطاب البلاغي مسحة من الأصولية العربية التي تعبِّر أفضل تعبير عن غنى القدماء وإقبالهم على كل ما يؤدي إلى الينابيع، واعتبار علوم العربية وحدةٌ متكاملة يؤدي بعضُها إلى بعض ويكمل بعضُها بعضاً: فلا بلاغة من غير "معان"، ولا "معاني" من غير نحو، ومن النحو إلى الصرف، ومنه إلى فقه اللغة، انتهاءً بلغة العرب المشروحة في المعاجم والموسوعات اللغوية: حلقةٌ أو قل: سلسلةٌ مترابطة منتظمة في عِقْدٍ، إن فُقدت منه حبة أو جوهرة، انفَرَط العقد، واختلَّ المسار.
ولم يكتف علَاّمتنا بهذا الإنجاز التاريخي، بل تفوق على نفسه، فوق تفوقه على علماء زمانه، فأوجد ما سمِّي النقد الذوقي الجمالي الذي جمعه إلى قواعد النحو وأساسيات البلاغة بمختلف علومها وتفرعاتها، من غير فصل أو مفاضلة
… فكان من الفطرة السليمة والطبع النقي والذوق النادر ما جعله يستنكف عن جفاء الصنعة الكلامية وأسلوبها الفلسفي الذي ساد عصره.
বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি এবং ব্যাখ্যামূলক ও স্পষ্টকারী বাক্যের ব্যবহার আব্দুল কাহিরের শৈলীর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য, যিনি সত্য উন্মোচনের সন্ধানী একজন দার্শনিকের ন্যায় এই পথটি নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন। তবে তা হবেই না কেন, যেখানে তিনি তাঁর যুগের সন্তানদের শিক্ষিত করার জন্য এবং এমন এক বিজ্ঞানের দিকে মেধার জানালা খুলে দেওয়ার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, যার আগে কোনো সুশৃঙ্খল অস্তিত্ব ছিল না
… আর তা হলো 'ইলমে মাআনি' (অর্থবিজ্ঞান), যা নাহু শাস্ত্রের কাণ্ডের ওপর একটি উর্বর ও ফলবান উদ্ভিদের ন্যায় বেড়ে উঠেছে, কোনো পরজীবী উদ্ভিদ হিসেবে নয়; অতঃপর তা তার মূল এবং অস্তিত্বের সারসত্তা থেকে স্বতন্ত্র হয়ে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এই শাস্ত্রসমূহের শীর্ষে স্থান করে নেয়, যখন নাহু শাস্ত্র তার অধিকতর মনোযোগ পদপ্রকরণের (ইরাব) বিষয়ের দিকে নিবদ্ধ করেছিল। এই বিষয়টিই আব্দুল কাহিরকে সেই সম্পর্ককে তার মূল ও প্রকৃতির দিকে ফিরিয়ে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল; এবং তিনি চমৎকার কাজ করেছেন, কারণ তিনি গ্রন্থের বিভিন্ন পরিচ্ছেদে 'মাআনি' এবং 'নাহু'-এর মধ্যে এমন সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করেছেন যে, আমরা একটি থেকে অন্যটির পৃথক হওয়া প্রায় অনুভবই করতে পারি না; ফলে আমরা একদিকে যেমন নাহু আত্মস্থ করি, অন্যদিকে ইলমে মাআনি উপলব্ধি করি। অন্য কথায়, জুরজানি আলঙ্কারিক আলোচনার ওপর আরবি মৌলিকত্বের (উসুলিয়্যাহ) একটি প্রলেপ দিয়েছেন, যা প্রাচীনদের সমৃদ্ধি এবং উৎসের দিকে নিয়ে যায় এমন সবকিছুর প্রতি তাঁদের আগ্রহকে চমৎকারভাবে প্রকাশ করে; সাথে সাথে আরবি ভাষাভিত্তিক শাস্ত্রসমূহকে একটি পূর্ণাঙ্গ একক হিসেবে বিবেচনা করে যার প্রতিটি অংশ অন্যটির দিকে ধাবিত করে এবং একে অপরকে পূর্ণতা দান করে: সুতরাং 'মাআনি' ব্যতীত কোনো অলঙ্কারশাস্ত্র নেই, আর নাহু ব্যতীত কোনো 'মাআনি' নেই; এবং নাহু থেকে সরফ, তা থেকে ফিকহুল লুগাহ (ভাষাতত্ত্ব), পরিশেষে অভিধান ও ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্বকোষে বর্ণিত আরবদের ভাষা পর্যন্ত: এটি একটি চক্র বা বলা যায় একটি মালায় গাঁথা পরস্পর সংযুক্ত ধারাবাহিকতা; যদি সেখান থেকে একটি মণি বা মুক্তা হারিয়ে যায়, তবে সেই মালা ছিঁড়ে যায় এবং এর গতিপথ বিপর্যস্ত হয়।
আমাদের এই আল্লামা কেবল এই ঐতিহাসিক অর্জনেই সন্তুষ্ট থাকেননি, বরং তিনি তাঁর সমসাময়িক আলেমদের ছাড়িয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেকেও ছাড়িয়ে গেছেন; তিনি 'নাকদে যাওকি' বা নান্দনিক রুচিভিত্তিক সমালোচনা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যা তিনি নাহুর নিয়মাবলি এবং বালাগাতের মূলনীতিসমূহের সাথে এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখাসহ কোনো বিচ্ছেদ বা শ্রেষ্ঠত্ব আরোপ ছাড়াই সমন্বিত করেছেন
… তাঁর মধ্যে ছিল এমন সুস্থ প্রকৃতি, নির্মল স্বভাব এবং বিরল রুচিবোধ যা তাঁকে শব্দশৈলীর রুক্ষতা এবং তাঁর যুগে প্রচলিত দার্শনিক ঢং থেকে বিমুখ করে তুলেছিল।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأرى أنَّ هذه الصفحة المشرقة والمدماك الشامخ في صرح العربية قد حاز من الإجلال والإعجاز ما يدفع القارئ إلى تسجيل أية إشارة غير منسَجمة مع نسِيجه البليغ وفكره السديد، كالتطويل في الجمل من جهة وتكرار صيغ الشرح من جهة أخرى. ومن هذا القبيل قوله في فقرة (عَود إلى مباحث إنما) في باب القصر والاختصاص"
"
… وذلك أنك ترى أنك لو قلت: ما جاءني زيد وإنَّ عمراً جاءني: لم يُعقل منه أنك أردتَ أن الجائي عمرو لا زيد".
وكان بإمكانه القول: (لأنك لو قلتَ) مُستغْنياً عن الجملة التي سبقت، ومتخلِّصاً من تكرار "أنك" المتتابعة مرتين.
ومثله تعليقه على "إنما" في الآية {وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لا تُفْسِدُوا في الأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُون} [البقرة: 11] "دخلتْ (إنما) لتدل على أنهم حيث ادَّعوا لأنفسهم أنهم مصلحون أَظهروا أنهم يدَّعون من ذكر أمراً ظاهراً معلوماً".
هذا التكرار المتقارب لـ "أنهم" يورث الثقل في التركيب - وأُفضِّل لو نوَّعَ فاستخدم المصدر المؤوَّل بعدها. مثال: (حيْن ادَّعوا لأنفسهم الإصلاح).
ومن التكرار الواضح الذي نُطالعه بكثرة وبخاصة في المثال النحوي "الشهير": "ضربَ زيد عمراً" الذي لو أحصينا عدد المرات التي ورد فيه كلٌّ من [ضرب] و [زيدٌ] و [عمرو] لعَيينا عن ذلك
…ولا أرى ضرورة لضرب مثال على ذلك
… ولكني أورد مثالاً لتكرار الفكرة مع لفظها في الصفحة الواحدة، بل في المقطع الواحد؛ وعندما أقول بالتكرار، إنما أقصد إلى هذا المدى الضيق؛ ففي كلامه على (الفرق بين معنى المفسَّر ومعنى التفسير) نقرأ له:
"
… كان للمفسَّر فيما نحن الفضلُ والمزية على التفسير، من حيث كانت دلالة في المفسَّر دلالةَ معنى على معنى، وفي التفسير دلالة لفظ على معنى".
ثم يقول، بعد أربعة سطور، من التعقيب:
"ولا يكون هذا الذي ذكرتُ أنه سبب فضل المفسَّر على التفسير من كون الدلالة في المفسَّر دلالة معنى على معنى، وفي التفسير دلالةَ لفظ على معنى، حتى يكون للفظ المفسَّر معنى معلوم يعرفة السامع
… "
আমি মনে করি যে আরবী সাহিত্যের প্রাসাদে এই উজ্জ্বল অধ্যায় এবং সুউচ্চ স্তম্ভটি এমন মর্যাদা ও অলৌকিকত্ব লাভ করেছে যা পাঠককে এর অলঙ্কৃত বুনন এবং সঠিক চিন্তাধারার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যে কোনো সংকেত লিপিবদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যেমন একদিকে বাক্যের দীর্ঘসূত্রতা এবং অন্যদিকে ব্যাখ্যার কাঠামোর পুনরাবৃত্তি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'কাসর' (সীমাবদ্ধকরণ) ও 'ইখতিসাস' (বিশেষায়ন) অধ্যায়ের 'ইন্নামা-র আলোচনায় প্রত্যাবর্তন' অনুচ্ছেদে তাঁর উক্তি: "
"
… "আর তা এই কারণে যে, আপনি দেখছেন যে আপনি যদি বলেন: জায়েদ আমার কাছে আসেনি বরং আমর আমার কাছে এসেছে, তবে তা থেকে এটা বোঝা যাবে না যে আপনি বুঝাতে চেয়েছেন যে আগমনকারী আমর, জায়েদ নয়।"
অথচ তিনি পূর্ববর্তী বাক্যটি বর্জন করে এবং পর পর দুইবার "আপনি যে" শব্দের পুনরাবৃত্তি পরিহার করে কেবল বলতে পারতেন: (কেননা আপনি যদি বলতেন)।
অনুরূপ বিষয় হলো আয়াতে 'ইন্নামা'-র ওপর তাঁর মন্তব্য: {আর যখন তাদের বলা হয়, তোমরা জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না, তারা বলে, আমরা তো কেবল সংশোধনকারী} [আল-বাকারা: ১১] "'ইন্নামা' যুক্ত হয়েছে এটা বুঝাতে যে, যখন তারা নিজেদের সংশোধনকারী বলে দাবি করেছে, তখন তারা প্রকাশ করেছে যে তারা এমন একটি বিষয় দাবি করছে যা সুস্পষ্ট ও সুবিদিত।"
"তারা যে" শব্দের এই কাছাকাছি পুনরাবৃত্তি বাক্য গঠনে এক প্রকার স্থবিরতা তৈরি করে - এবং আমি পছন্দ করতাম যদি তিনি এতে বৈচিত্র্য আনতেন এবং এরপর ব্যাখ্যামূলক বিশেষ্য ব্যবহার করতেন। উদাহরণস্বরূপ: (যখন তারা নিজেদের জন্য সংশোধনের দাবি করেছিল)।
আর একটি স্পষ্ট পুনরাবৃত্তি যা আমরা প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাই, বিশেষ করে সেই "বিখ্যাত" ব্যাকরণিক উদাহরণে: "জায়েদ আমরকে প্রহার করেছে", যেখানে আমরা যদি 'প্রহার করা', 'জায়েদ' এবং 'আমর' শব্দগুলো কতবার এসেছে তা গণনা করতে যাই, তবে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ব
…আমি এর উদাহরণ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন বোধ করছি না
… তবে আমি একই পৃষ্ঠায়, এমনকি একই অনুচ্ছেদে শব্দের সাথে সাথে ভাবের পুনরাবৃত্তির একটি উদাহরণ দিচ্ছি; আর যখন আমি পুনরাবৃত্তির কথা বলি, তখন আমি এই সংকীর্ণ পরিসরকেই বুঝাতে চাই। যেমন (ব্যাখ্যাকৃতের অর্থ এবং ব্যাখ্যার অর্থের মধ্যকার পার্থক্য) সম্পর্কে তাঁর আলোচনায় আমরা তাঁর এই বক্তব্যটি পাই:
"
… আমাদের আলোচ্য বিষয়ে ব্যাখ্যার ওপর ব্যাখ্যাকৃতের শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্য ছিল, যেহেতু ব্যাখ্যাকৃতের ক্ষেত্রে নির্দেশকটি ছিল অর্থের ওপর অর্থের নির্দেশক, আর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নির্দেশকটি ছিল শব্দের ওপর অর্থের নির্দেশক।"
এরপর চার লাইন মন্তব্যের পর তিনি বলেন:
"আর আমি ব্যাখ্যার ওপর ব্যাখ্যাকৃতের শ্রেষ্ঠত্বের যে কারণ উল্লেখ করেছি - অর্থাৎ ব্যাখ্যাকৃতের ক্ষেত্রে নির্দেশকটি অর্থের ওপর অর্থের নির্দেশক হওয়া এবং ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নির্দেশকটি শব্দের ওপর অর্থের নির্দেশক হওয়া - তা কার্যকর হবে না যতক্ষণ না ব্যাখ্যাকৃত শব্দের এমন একটি পরিচিত অর্থ থাকবে যা শ্রোতা জানে
… "
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن صيغة التي يستخدمها باستمرار، في الفصل الواحد، وفي الفقرة الواحدة، مفردات وجمل نادراً ما يتخلَّى عنها أو يبدِّل فيها، وقد حاولتُ تعدادها فبلغت نحو ثلاثين صيغة بعضها للبدايات كـ "إِعْلَمْ" و "معلومٌ أنه" و "لا شُبْهَة في أنَّ"
… وبعضها للخواتيم والخلاصات كـ "وجملةُ الأمر" و "فاعرف ذلك" أو فاعرفْه" وهي الأكثر شيوعاً.
وبعضها في الشرح والتحليل الداخلي وهي الغالبة في الاستعمال، مثال:
"أفلا ترى"، و"إذا كان الأمر كذلك فينبغي"، "مما لا يَخْفَى فسادُه" و "إذْ قد عرفت ذلك" - وهي لا تكاد تخلو منها صفحة واحدة - "المحال"، "الفضل والمزيَّة"، "وإذا كان ذلك كذلك" و "لو أنهم"، "ولو فعلوا"، "لا يخفى على عاقل"، "وإن قال قائلِ .. قيل .. " "كما بيَّنَّا"، "يُتصور" - التي لا حصر لاستعمالها لديه - "البتَّة"، "عمدَ عامدٌ"، "مِن أجل ذلك"، "معلوم أنه"، "وأنا أُفسِّر لك ذلك"، "ولا شبهة في أن"، "وههنا كلام ينبغي أن تعلمه" الخ
…هذا الكم المذهل من الصيغ الواردة أعلاه، يشكل لبنةَ العبارة الجرجانية ومفاتيحها ومغاليقها، ما إن تقرأ وتتابع القراءة حتى تشعر أنك مع كاتب تراثي من طراز خاص، عني بأفكاره ومقاصده عناية خاصة جعلته أمام هذه الصيغة وتلك، كالملوِّح بالمشاعل في مغربيَّةٍ - والدنيا خافتة الضوء والرؤية - كي يتضح كلُّ شيء على خير ما يرام، ويُوضعَ كلُّ شيء في موضعه الصحيح.
وإن فاتنا شيء في هذا الصدد، فلن يفوتَنا تكرار تعريف النظم وقواعده بقوله: (ليس النظم شيئاً غير توخي معاني النحو وأحكامه فيما بين الكلم).
* انشغاف المؤلف بصيغة المجهول
তিনি ক্রমাগতভাবে যে সকল প্রকাশভঙ্গি ব্যবহার করেন, একই পরিচ্ছেদে এবং একই অনুচ্ছেদে, এমন কিছু শব্দ ও বাক্য যা তিনি খুব কমই বর্জন করেন বা পরিবর্তন করেন। আমি সেগুলো গণনা করার চেষ্টা করেছি এবং প্রায় ত্রিশটি প্রকাশভঙ্গি পেয়েছি। যার কিছু প্রারম্ভিক ব্যবহারের জন্য, যেমন "জেনে রেখো", "এটি সুবিদিত যে", "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে"
… এবং কিছু উপসংহার ও সারসংক্ষেপের জন্য, যেমন "সারকথা এই যে", "এটি চিনে রাখো" অথবা "এটি জেনে রাখো", যা সর্বাধিক ব্যবহৃত।
আর কিছু ব্যাখ্যা ও অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো ব্যবহারের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি। উদাহরণস্বরূপ:
"তুমি কি দেখছ না?", "যদি বিষয়টি এমনই হয় তবে উচিত", "যার অসারতা গোপন নয়" এবং "যেহেতু তুমি তা জানতে পেরেছ" - যা থেকে কোনো পৃষ্ঠাই প্রায় খালি থাকে না - "অসম্ভব", "শ্রেষ্ঠত্ব ও বৈশিষ্ট্য", "যদি বিষয়টি এমনই হয়" এবং "যদি তারা করত", "যদি তারা করত", "কোনো বুদ্ধিমানের কাছে তা অস্পষ্ট নয়", "যদি কেউ বলে .. তবে বলা হবে .. ", "যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি", "কল্পনা করা যায়" - যার ব্যবহার তার কাছে অগণিত - "একেবারেই", "কোনো সংকল্পকারীর সংকল্প করা", "এই কারণে", "এটি সুবিদিত যে", "আমি তোমার জন্য তা ব্যাখ্যা করছি", "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে", "এখানে এমন কিছু কথা রয়েছে যা তোমার জানা উচিত" ইত্যাদি
…উপরে বর্ণিত এই বিস্ময়কর পরিমাণ প্রকাশভঙ্গি জুরজানি বাচনভঙ্গির ভিত্তিপ্রস্তর এবং এর চাবিকাঠি ও সমাপনী গঠন করে। আপনি পাঠ শুরু করলেই এবং পাঠ চালিয়ে গেলেই অনুভব করবেন যে, আপনি এক বিশেষ স্তরের ঐতিহ্যবাহী লেখকের সাথে আছেন, যিনি তার চিন্তা ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন। যা তাকে এই সকল প্রকাশভঙ্গির সামনে এমনভাবে দাঁড় করিয়েছে, যেন তিনি গোধূলিলগ্নে মশাল হাতে সংকেত দিচ্ছেন - যখন পৃথিবী মৃদু আলো ও অস্পষ্ট দৃষ্টিতে আচ্ছন্ন - যাতে সবকিছু সর্বোত্তমভাবে স্পষ্ট হয়ে যায় এবং প্রতিটি বিষয় তার সঠিক স্থানে স্থাপিত হয়।
এই প্রসঙ্গে আমাদের কোনো কিছু বাদ পড়লেও, তার বক্তব্যের মাধ্যমে 'নাজম' (শব্দবিন্যাস) এবং এর নিয়মনীতির সংজ্ঞার পুনরাবৃত্তি আমাদের বাদ পড়বে না: (শব্দসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাকরণের অর্থ ও বিধিবিধানের অন্বেষণ ব্যতীত 'নাজম' বা বিন্যাস অন্য কিছু নয়)।
* কর্মবাচ্যের (Passive voice) প্রতি লেখকের গভীর আসক্তি
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
هناك عدة صيغ أو أبنيةٌ للمجهول، أشهرها ما هو في بناء الفعل، وما هو في صيغة أو زِنة [مفعول]؛ وقد يكون بصورة غير مباشرة عندما يكون الخطاب أو الكلام موجهاً إلى كائن غائب غير محدَّد الهويَّة، كقولنا: (ومن الناس من يفضِّل كذا أو يفعل كذا). أو يكون زنة [تفعَّل] كـ: (تَبيَّنَ) وزِنة [انفعل] كقولنا: (ينسحب هذا الرأي على غيره) وغير ذلك من صيغ النحو المتعددة التي تجري على ألسنة الكتاب، فيبتعدون عن التصريح بالفاعل، ويجنحون إلى التعميم والتكنية، لِسَعة الأفق والتناول، في جانب التعميم، وضيق المدى المنشود، في جانب التصريح ..
وقد استخدم علَاّمتُنا في كتابه، مختلف الصيغ المعروفة في تراكيب الكلام، مصرِّحاً أو مكنِّياً مُعمِّماً. إلَاّ أن نسبة البناء للمجهول قد تجاوزت عنده الحد المألوف في كتابات القدماء وطبعت كتابته بما يشبه الهاجس من الظهور بمظهر المخاطِب (بالكسر) المتسائل، الناقِد، الرائي، المستغرب، الملخِّص، المستنتج (بالكسر) .. أي يتحاشى أن يكون هو مصدرَ هذه الفِعال والقائم بها مباشرة .. فينسبها إلى آخر غائب غير معيَّن ولا معروف، مفرداً كان أم جماعة، كقوله في تناوله الأول لموضوعه النحو، واصفاً مُخْبراً، تارة، أو مخاطباً تارة أخرى:
"فإنْ قالوا: إنَّا لم نَأْبَ صحة هذا العلم، ولم نُنكر مكان الحاجة إليه في معرفة كتاب الله تعالى، وإنما أنكرنا أشياء كثَّرْتُموهُ بها، وفضولَ قولِ تكلَّفتموها .. (
… ) قلنا لهم أمَّا هذا الجنس فلسنا نعيبكم إن لم تنظروا فيه ولم تُعنوا به، وليس يهمنا أمره .. "
وقوله، في الكلام على (الاستدلال بالاستعارة والكناية والتمثيل) جامعاً معظم الصيغ والضمائر المجهولة:
"يَعلمُ كلُّ عاقل أنه لا يُكنَّى باللفظ عن اللفظ، وإنما يكنى بالمعنى عن المعنى - وكذلك يعلم أنه لا يُستعار اللفظُ مجرداً عن المعنى، ولكنْ يُستعار المعنى ثم اللفظُ يكون تبْعَ المعنى (
… ) وكذلك الأمرُ في التمثيل لأن تفسيره أن نذكر المتمثَّلَ له".
وقوله في فقرة الكلام على (الفرق بين معنى المفسَّر ومعنى التفسير) مستغرقاً في صيغتْي المضارع والماضي للمجهول:
কর্মবাচ্যের বেশ কিছু রূপ বা কাঠামো রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো ক্রিয়া গঠন এবং [মাফউল] বা কর্মবাচক বিশেষ্যের ওজনে গঠিত রূপ। এটি পরোক্ষ রূপেও হতে পারে যখন সম্বোধন বা বক্তব্য কোনো অনির্দিষ্ট ও পরিচয়হীন অনুপস্থিত সত্তার দিকে পরিচালিত হয়, যেমন আমাদের এই কথা: (মানুষের মধ্যে এমনও আছে যারা একে প্রাধান্য দেয় বা এটি করে)। অথবা এটি [তাফা'আলা] ওজনে হতে পারে যেমন: (তাবিইয়ানা - স্পষ্ট হওয়া) এবং [ইনফা'আলা] ওজনে হতে পারে যেমন আমাদের কথা: (এই মতটি অন্যের ওপরও প্রযোজ্য হয়) এবং অন্যান্য বহুবিধ ব্যাকরণিক রূপ যা লেখকদের লেখনীতে ব্যবহৃত হয়। তারা কর্তার স্পষ্ট উল্লেখ পরিহার করেন এবং ব্যাপকতা ও রূপক বা ইশারার আশ্রয় নেন; ব্যাপকতার ক্ষেত্রে প্রসঙ্গের বিশালতা ও পরিধি বিস্তৃত করার উদ্দেশ্যে এবং স্পষ্ট বিবৃতির ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের সংকীর্ণতার কারণে।
আমাদের আল্লামা (বিদ্বান) তাঁর গ্রন্থে বাক্যের বিন্যাসে প্রচলিত বিভিন্ন রূপ ব্যবহার করেছেন, কখনো স্পষ্ট করে আবার কখনো ইশারা বা সাধারণীকরণের মাধ্যমে। তবে তাঁর কাছে কর্মবাচ্যের ব্যবহারের হার প্রাচীনদের রচনার স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম করেছে এবং তাঁর লেখাকে এমন একটি রূপ দিয়েছে যা অনেকটা প্রশ্নকারী, সমালোচক, পর্যবেক্ষক, বিস্মিত ব্যক্তি, সারসংক্ষেপকারী এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সম্বোধনকারীরূপে প্রকাশ পাওয়ার ব্যাকুলতার মতো। অর্থাৎ, তিনি সরাসরি এই কাজগুলোর উৎস বা সম্পাদনকারী হওয়া এড়িয়ে চলেন; ফলে তিনি এগুলোকে অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ও অপরিচিত অনুপস্থিত সত্তার দিকে সম্বন্ধ করেন, তা সে একবচন হোক বা বহুবচন। যেমন ব্যাকরণ বিষয়ে তাঁর প্রাথমিক আলোচনায় তিনি কখনো বর্ণনাকারীর বর্ণনা দিচ্ছেন আবার কখনো সম্বোধনকারী হিসেবে বলছেন:
"যদি তারা বলে: আমরা এই শাস্ত্রের সঠিকতাকে অস্বীকার করিনি এবং আল্লাহর কিতাব বোঝার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তাকেও অস্বীকার করিনি, বরং আমরা কেবল সেই সব বিষয়কে অস্বীকার করেছি যা দিয়ে আপনারা একে ভারাক্রান্ত করেছেন এবং সেই সব অতিরিক্ত কথা যা আপনারা কষ্ট করে তৈরি করেছেন... (
... ) আমরা তাদের বলি: এই শ্রেণির বিষয়ে আমরা আপনাদের দোষারোপ করি না যদি আপনারা তাতে দৃষ্টিপাত না করেন বা এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করেন এবং এর বিষয়টি আমাদের ভাবিয়ে তোলে না..."
এবং (রূপক, ইশারা এবং উপমার মাধ্যমে দলিল উপস্থাপন) প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, যেখানে তিনি অধিকাংশ কর্মবাচ্যের রূপ ও সর্বনাম একত্রিত করেছেন:
"প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি জানেন যে, শব্দের মাধ্যমে শব্দের ইশারা করা হয় না, বরং অর্থের মাধ্যমে অর্থের ইশারা করা হয়—তেমনিভাবে তিনি জানেন যে, অর্থ ছাড়া কেবল শব্দ ধার করা হয় না, বরং অর্থ ধার করা হয় এবং শব্দ সেই অর্থের অনুগামী হয় (
... ) উপমার ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রূপ, কারণ এর ব্যাখ্যা হলো আমরা যার জন্য উপমা দিচ্ছি তাকে উল্লেখ করি।"
এবং (ব্যাখ্যাকৃত বস্তুর অর্থ ও ব্যাখ্যার অর্থের মধ্যে পার্থক্য) বিষয়ক অনুচ্ছেদে তাঁর উক্তি, যেখানে তিনি বর্তমান ও অতীতকালের কর্মবাচ্যের উভয় রূপ ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
وكان من المركوز في الطباع والراسخ في غرائز العقول، أنه متى أُريد الدلالة على معْنى، فتُرك أن يُصرَّحَ به ويُذْكَر باللفظ الذي هو له في اللغة، وعُمد إلى معنى آخر فأُشير به إليه، وجُعل دليلاً عليه، كان للكلام بذلك حسْنٌ ومزية لا يكونان إذا لم يُصنَع ذلك وذُكر بلفظه صريحاً".
وإذا كان ما قدَّمتُ من شواهد الانشغاف بالمجهول وصيغه، مسألة جارية في نثر القدماء ومخاطباتهم، فإنني أرى له انشغافاً حقيقياً باستخدام الفعل المضارع للمجهول "يُتصوَّر" بصورة لافتة تومئ بانشداد خاص لها، لا يكاد يفتر لسانه عن استعمالها مراراً أو تكراراً في الفصل الواحد، والفقرة الواحدة، والصفحة الواحدة. وما على القارئ إلَاّ القراءة والمتابعة
… ومما انتقيتُه من الأمثلة الساطعة، كلامُه في: (الإسناد وتحقيق معنى الخبر) في فضْل (التفاضل في نظم الكلام) وكذلك في (الخبر والمُخْبَر به) من الفصل نفسه، ما لا يسع القارئ إلَاّ الحيرة والذهول من كثرة ما ردَّدَ وأسرف في استعمال الصيغة المذكورة، حيث بلغ تعداد هذا الاستعمال، في صفحتين متتاليتين: عشر مرات، ما عدا الصيغة التي تؤدي مؤداها "يُعْقَل" و "يُعْرف" "ويقدَّر".
* استخدام (أنْ) المصدرية و (إنَّ وأَنَّ وكأَنَّ) بصورة غالبة
بقدر ما شاعتْ عنده صيغ البناء للمجهول، وبخاصة صيغة المضارع "يُتصوَّر"، شاع أيضاً ورُود الحروف المذكورة في عنوان الفقرة، وبنسبة تفوق سابقتها أحياناً كثيرة، تجعل القارئ يتساءل بنفس الحيرة والذهول: لماذا هذا الاحتفاء بـ (أنْ) الناصبة و (إنَّ وأنَّ وكأنَّ) وما هي إلَاّ حروفُ وصْل ووسائطُ تعبير يؤتى بها لضرورات بلاغية شبه محدَّدة، ووفقاً لأحوال ومقتضياتٍ دقيقة؟؟
قد يُفهم خطأً أنني ألْفِتُ إلى غلَط لغوي وقع فيه الجرجاني أو إلى هشاشة شابتْ أسلوبه. حاشاه من ذلك، وحاشاي أن أقوم بهذه اللفتة أو المحاسبة!
মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতিতে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সহজাত প্রবণতায় এটি বদ্ধমূল যে, যখন কোনো অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করার সংকল্প করা হয় এবং সেটিকে সরাসরি বর্ণনা না করে কিংবা ভাষায় তার জন্য নির্ধারিত শব্দের মাধ্যমে উল্লেখ না করে বরং অন্য একটি অর্থের দিকে ধাবিত হয়ে তার মাধ্যমে সেটির দিকে ইশারা করা হয় এবং তাকে তার প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হয়, তখন সেই বক্তব্যের মাঝে এমন এক সৌন্দর্য ও বিশেষত্ব সৃষ্টি হয় যা সরাসরি সেই শব্দের মাধ্যমে উল্লেখ করলে অর্জিত হতো না।
আর কর্মবাচ্যের (মাঝহুল) রূপের প্রতি অনুরাগের যে প্রমাণাদি আমি পূর্বে পেশ করেছি তা প্রাচীনদের গদ্য ও কথোপকথনে একটি প্রচলিত বিষয় হলেও, আমি তার মাঝে বর্তমানকালীন কর্মবাচ্যের ক্রিয়া "কল্পনা করা হয়" ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক প্রকৃত আসক্তি লক্ষ্য করি। এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে এমন এক বিশেষ টানকে নির্দেশ করে যার ব্যবহার থেকে তার জিহ্বা একটি পরিচ্ছেদ, একটি অনুচ্ছেদ এমনকি একটি পৃষ্ঠার মধ্যেও বারবার বা পুনরাবৃত্তিমূলক ব্যবহারে প্রায় বিরত হয় না। আর পাঠকের জন্য কেবল পাঠ ও অনুসরণই অবশিষ্ট থাকে … আমি যেসব উজ্জ্বল উদাহরণ নির্বাচন করেছি তার মধ্যে অন্যতম হলো: (ইসনাদ এবং সংবাদের অর্থের যথার্থতা নিরূপণ) প্রসঙ্গে (বাক্য বিন্যাসের তারতম্য) বিষয়ে তার বক্তব্য, এবং একইভাবে একই পরিচ্ছেদের (সংবাদ এবং যা সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হয়েছে) প্রসঙ্গে তার আলোচনা। সেখানে এই উল্লিখিত রূপের এত অধিক ও অতিরঞ্জিত ব্যবহার দেখে পাঠক বিস্ময় ও হতবাক না হয়ে পারেন না। কারণ টানা দুই পৃষ্ঠায় এই ব্যবহারের সংখ্যা দশবার পৌঁছেছে, সেই রূপগুলো বাদে যা একই অর্থ প্রদান করে যেমন "অনুধাবন করা হয়", "জানা যায়" এবং "নির্ধারণ করা হয়" ।
* মাসদারিয়া "আন" এবং "ইন্না, আন্না ও কা-আন্না" এর ব্যাপক ব্যবহার
তার নিকট কর্মবাচ্যের রূপসমূহ, বিশেষ করে বর্তমানকালীন "কল্পনা করা হয়" রূপটি যতটা প্রচলিত ছিল, অনুচ্ছেদের শিরোনামে উল্লিখিত হরফগুলোর ব্যবহারও ততটাই ব্যাপক ছিল। অনেক সময় এর অনুপাত পূর্ববর্তীকেও ছাড়িয়ে যায়, যা পাঠককে একই রকম বিস্ময় ও হতবাক হয়ে প্রশ্ন করতে বাধ্য করে: কেন এই "আন" নাসেবা এবং "ইন্না, আন্না ও কা-আন্না" এর প্রতি এই বিশেষ গুরুত্বারোপ? অথচ এগুলো তো কেবল কিছু সংযোগকারী বর্ণ এবং প্রকাশের মাধ্যম যা নির্দিষ্ট অলঙ্কারশাস্ত্রীয় প্রয়োজনে এবং সূক্ষ্ম অবস্থা ও চাহিদাহুযায়ী ব্যবহৃত হয়।
ভুলবশত এমনটি বোঝা যেতে পারে যে, আমি জুরজানির কোনো ভাষাগত ভুল অথবা তার শৈলীর কোনো দুর্বলতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি তা থেকে পবিত্র, আর আমিও এমন দৃষ্টিপাত বা হিসাব নেওয়ার কাজ থেকে মুক্ত!
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
إنه من محصلة القراءة والتأمل في طبيعة النص وخصوصية التعبير فيه، سواء أكان مُريحاً أم مُتْعباً. وفي اعتقادي، أنَّ السبب في الاحتفاء يعود إلى حرص المؤلف على تخليص خطابه من أي أثر أو عائق يُعيق توصيلَ النظرية إلى قراء جيلة ومن يليهم من الأجيال، ليس بنقل هذه النظرية بأوضح ما يكون من اللغة والأداء فحسْب، بل بجعل اللغة التي تتولَّى النقل والترجمة، نموذجاً فنياً بلاغياً يُحتذى؛ كونُ هذه اللغة قد راعت الأصول ونهلتْ من قبس القرآن، الكثير من سحره البياني ووضوح الأفكار وتتابُعها العقلاني.
ومع ذلك فقد بالغ الجرجاني في استعمال هذه الحروف، وبخاصة (أنْ) الناصبة المؤولة، حتى لنجدُه يحشدها حشداً في الصفحة الواحدة، وأحياناً في الجملة الواحدة، كقوله في مطلع فصل (القول في التقديم والتأخير):
"ولا تزال ترى شِعراً يروقك مسْمَعُه، ويلطف لديك موقعه، ثم تنظر فتجد سبب أَنْ راقكَ ولطفَ عندك أن قُدِّم فيه شيءٌ وحُوِّل اللفظ عن مكان إلى مكان".
ألم يكن أخفَّ لفظاً وأسوغ تعبيراً، لو قال: (فتجدُ سببَ إعجابك به ولطفه عندك، تقديم شيء فيه وتحويل اللفظ)؟
وقوله، في الفصل نفسه، في معرض اهتمام الناس بالمُهمِّ والأهم، فيقدِّمونه في الكلام، كهذا المثال المعبِّر: "قَتَلَ الخارجيَّ زيدٌ" ولا يقول: (قتلَ زيدٌ الخارجيَّ) لأنه يعلم أنْ ليس للناس في أنْ يعملوا أنَّ القاتل له زيدٌ، جدوى وفائدة .. "
لاحظ تتابع حرفَيْ النصب والمشبه بالفعل في جملة واحدة لها سياق معنوي واحد هو: (يهمُّ الناس معرفة مقتل الخارجي لكثرة فساده. ولا يهمهم من قتله وكيف) كما يمكن صياغة الجملة على الوجه الآتي تفادياً لثقل تكرار (أَنْ) مرتين و (يعلم) مرتين:
(لأنه يَعْلم أنْ ليس للناس فائدة من معرفة القاتل) .. لكنه الأسلوب الجرجاني لا مناصَ من قبوله والنسج على منواله في كثير من المواضع والحالات التي تتطلب دقة في القصد ونصوعاً في أداء الفكرة.
وقوله، وفي نهاية هذا القول هيئةُ التباسٍ لتداخل أغراض الكلام بين الجمل، ما جاء في فصل: (تقديم النكرة على الفعل وعكسه):
এটি পাঠ এবং পাঠ্যের প্রকৃতি ও এর অভিব্যক্তির বৈশিষ্ট্য নিয়ে চিন্তাভাবনা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের একটি নির্যাস, তা স্বস্তিদায়ক হোক বা ক্লান্তিকর। আমার বিশ্বাস, এই সমাদরের কারণ হলো লেখকের তাঁর বক্তব্যকে এমন কোনো প্রভাব বা বাধা থেকে মুক্ত করার আকাঙ্ক্ষা যা তাঁর সমসাময়িক এবং পরবর্তী প্রজন্মের পাঠকদের কাছে তত্ত্বটি পৌঁছে দিতে অন্তরায় হতে পারে। এটি কেবল স্পষ্টতম ভাষা ও উপস্থাপনার মাধ্যমে এই তত্ত্বটি পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং যে ভাষার মাধ্যমে এই স্থানান্তরের কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে তাকে একটি অনুকরণীয় শৈল্পিক ও আলঙ্কারিক মডেলে পরিণত করার প্রচেষ্টাও বটে। কারণ এই ভাষা মূলনীতিগুলোকে বজায় রেখেছে এবং আল-কুরআনের আলোকচ্ছটা থেকে এর বর্ণনামূলক জাদু, ধারণার স্পষ্টতা এবং সেগুলোর যৌক্তিক ধারাবাহিকতা থেকে অনেক কিছু আহরণ করেছে।
তাসত্ত্বেও আল-জুরজানি এই অব্যয়গুলো ব্যবহারে অতিরঞ্জন করেছেন, বিশেষ করে নসব প্রদানকারী 'আন' অব্যয়টি। এমনকি আমরা তাঁকে এক পৃষ্ঠার মধ্যে, আবার কখনো কখনো একটি বাক্যের মধ্যেই সেগুলোকে স্তূপীকৃত করতে দেখি। যেমন 'শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ বর্ণনা' অধ্যায়ের শুরুতে তাঁর উক্তি:
"আপনি এমন কবিতা দেখতে পাবেন যা আপনার শ্রবণে আনন্দ দেয় এবং আপনার কাছে তার অবস্থান সূক্ষ্ম মনে হয়, তারপর আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে, আপনার কাছে এটি ভালো লাগার এবং সূক্ষ্ম মনে হওয়ার কারণ হলো এই যে, এতে কোনো কিছুকে আগে আনা হয়েছে এবং শব্দকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
এটি কি ভাষাগতভাবে আরও হালকা এবং সহজতর অভিব্যক্তি হতো না যদি তিনি বলতেন: "ফলে আপনি আপনার মুগ্ধতা ও এটি আপনার নিকট সূক্ষ্ম হওয়ার কারণ হিসেবে পাবেন কোনো কিছুকে আগে আনা এবং শব্দের রূপান্তরকে"?
এবং একই অধ্যায়ে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে তাঁর উক্তি, যেখানে তারা কথা বলার সময় সেটিকে বাক্যের শুরুতে নিয়ে আসে, যেমন এই অর্থপূর্ণ উদাহরণটি: "খারেজীকে যায়েদ হত্যা করেছে" এবং তিনি বলেননি: "যায়েদ খারেজীকে হত্যা করেছে", কারণ তিনি জানেন যে, "হত্যাকারী যে যায়েদ—এটি জানার মধ্যে মানুষের জন্য কোনো বিশেষ গুরুত্ব বা উপকার নেই..."
লক্ষ্য করুন, একটি বাক্যের মধ্যেই নসব প্রদানকারী অব্যয় এবং ক্রিয়ার সদৃশ অব্যয়গুলোর (হরফে মুশাব্বাহ বিল ফিল) ধারাবাহিক ব্যবহার, যার একটিই অর্থগত প্রেক্ষাপট রয়েছে, আর তা হলো: (মানুষের জন্য খারেজীর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানাটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ তার ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলা ছিল অত্যধিক। আর কে তাকে হত্যা করেছে এবং কীভাবে করেছে তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই)। যেমন ‘আন’ অব্যয়টি দুইবার এবং ‘জানা’ ক্রিয়াটি দুইবার আসার ভারী ভাব এড়িয়ে বাক্যটি এভাবেও গঠন করা সম্ভব ছিল:
"(কেননা তিনি জানেন যে, হত্যাকারীকে চেনার মধ্যে মানুষের কোনো উপকার নেই)"... কিন্তু এটি জুরজানির নিজস্ব শৈলী, যা গ্রহণ করা এবং অনেক ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পথেই চলা ছাড়া কোনো উপায় নেই, বিশেষ করে সেই সব ক্ষেত্রে যেখানে উদ্দেশ্যের সূক্ষ্মতা এবং ধারণার স্বচ্ছ উপস্থাপনা প্রয়োজন।
এবং তাঁর উক্তি, যার শেষে বাক্যগুলোর মধ্যে বক্তব্যের উদ্দেশ্যের সংমিশ্রণের কারণে এক প্রকার অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে, যা ‘ক্রিয়ার পূর্বে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য আনা এবং তার বিপরীত’ অধ্যায়ে এসেছে:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
"واعلم أنْ لم نُرِدْ بما قلناه من أنه إنَّما حَسُنَ الابتداء بالنكرة في قولهم: "شَرٌّ أهرَّ ذا ناب"، لأنه أُريد به الجنس أَنَّ معنى شرٌّ والشرُّ سواءٌ، وإنما أردنا أنَّ الغرض من الكلام أن تبيِّن أنَّ الذي أهرَّ ذا الناب، هو جنس الشر لا جنس الخير".
تسعُ حروف "أنْ" و "أَنَّ " و "إِنَّ" بقدر ما عملتُ على توضيح المراد في قلب الكاتب، أوقعتِ القارئ في وطأة البحث عن ترابط المعنى واستيعابه بيُسْر ..
ويمتاز أسلوب الجرجاني في هذا الصدد، بنمط آخر شاع في آثار القدامى، وندَرَ حديثاً، ألا وهو مَيْله إلى ما سمَّيتُه "الجواب المستدير أو المداوِر" فيعبّر عن المعنى من فوق المعنى أو من حوله، كقوله أثناء شرحه وتحليله لقول الناس: الشجاع موقَّى والجبانُ مُلقَّى":
"
… ليس القصدُ أن تأتي إلى شجاعات كثيرة (
… ) بل المعنى على أنك تقول: كنَّا قد عقَلْنا الشجاعة وعرفنا حقيقتها (
… ) ولو كان المعنى على أنه استغرق الشجاعات
… كما قالوا إنه بمعنى الكامل في الشجاعة، لأنَّ الكمال هو أن تكون الصِّفة على ما ينبغي أن تكون عليه .. ".
يقتضي التعبيرُ المباشر أن يقال: (
… بل المعنى أن تقول: كنا قد عقلنا .. ولو كان المعنى استغراق الشجاعات، لما قالوا
… )، فلم يرقْ ذلك لأبي بكر الجرجاني، بل رسمَ لمقصده الفكري دائرةً عرَّج بها على المعنى، أو قفَز من فوقه بوساطة حرفِ الجر "على" تاركاً في فضاء المدى تموُّجاتِ سؤال حائرٍ عن البعد البلاغي لمثل هذه الصيغة اللغوية المستعلية على ذاتها الباحثة عن غور حقيقةٍ تستقر فيه!!
জেনে রাখুন, আমরা আমাদের এই কথার দ্বারা এটি বুঝাতে চাইনি যে—তাদের প্রবাদ “মন্দই শ্বাপদকে গর্জন করিয়েছে”-তে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ) দিয়ে বাক্য শুরু করা উত্তম হয়েছে কারণ এর দ্বারা প্রজাতি (জিনস) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে—‘মন্দ’ (অনির্দিষ্ট) এবং ‘মন্দের’ (নির্দিষ্ট) অর্থ অভিন্ন। বরং আমরা এটিই বুঝাতে চেয়েছি যে, আলোচনার উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, যে বিষয়টি শ্বাপদকে গর্জন করিয়েছে তা হলো মন্দের প্রজাতি, ভালোর প্রজাতি নয়।
‘আন’, ‘আন্না’ এবং ‘ইন্না’—এই নয়টি অব্যয় লেখকের অন্তরে থাকা উদ্দেশ্যকে যতটুকু স্পষ্ট করার কাজ করেছে, পাঠককে অর্থের আন্তঃসম্পর্ক খুঁজে বের করা এবং তা সহজে অনুধাবন করার অনুসন্ধানে ততটুকুই ভারাক্রান্ত করেছে...
এই ক্ষেত্রে জুরজানির রচনাশৈলী অন্য একটি বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র, যা প্রাচীনদের রচনাবলিতে ব্যাপকভাবে দেখা গেলেও বর্তমানে বিরল। আর তা হলো তাঁর সেই ঝোঁক যাকে আমি ‘বৃত্তাকার বা পরোক্ষ উত্তর’ বলে অভিহিত করেছি। তিনি কোনো অর্থের প্রকাশ করেন সেই অর্থের ওপর দিয়ে অথবা তার চারপাশ দিয়ে ঘুরিয়ে; যেমন মানুষের প্রচলিত কথা ‘সাহসী সুরক্ষিত এবং ভীরু নিক্ষিপ্ত’—এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের সময় তাঁর উক্তি:
“
… উদ্দেশ্য এটি নয় যে আপনি অনেকগুলো সাহসিকতার দৃষ্টান্ত নিয়ে আসবেন (
… ) বরং এর অর্থ হলো আপনার এই বলা: আমরা সাহসিকতাকে অনুধাবন করেছি এবং এর প্রকৃত রূপ চিনেছি (
… ) আর যদি এর অর্থ সাহসিকতার সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করা হতো
… যেমনটি তারা বলেছেন যে এটি সাহসিকতায় পূর্ণতা বুঝায়; কারণ পূর্ণতা হলো কোনো গুণ সেই স্তরে থাকা যেমনটি থাকা বাঞ্ছনীয়... ”।
সরাসরি প্রকাশভঙ্গি দাবি করত এটি বলা: (
… বরং অর্থ হলো আপনার বলা: আমরা অনুধাবন করেছি.. এবং যদি অর্থটি সকল সাহসিকতাকে পরিব্যাপ্ত করা হতো, তবে তারা বলতেন না
… ), কিন্তু আবু বকর জুরজানির কাছে তা পছন্দনীয় হয়নি। বরং তিনি তাঁর চিন্তাগত উদ্দেশ্যের জন্য এমন একটি বৃত্ত অঙ্কন করেছেন যা দিয়ে তিনি অর্থের ওপর দিয়ে আরোহণ করেছেন, অথবা ‘আলা’ (উপরে) অব্যয়টির মাধ্যমে তার ওপর দিয়ে লাফিয়ে পার হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি সুদূরপ্রসারী দিগন্তে এক বিভ্রান্ত প্রশ্নের ঢেউ রেখে গেছেন—এমন এক ভাষাগত কাঠামোর অলঙ্কারিক মাত্রা সম্পর্কে, যা নিজের ঊর্ধ্বে আরোহণ করে এমন এক গূঢ় সত্যের গভীরতা অনুসন্ধান করে যেখানে তা স্থির হতে পারে!!
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأخلصُ إلى القول: إن أسلوب الجرجاني جدول ماء يتدفق في نغمية متنوعة وحركة متفاوتة السرعة بحسب الحالات والمراحل التي يقطعها والأوقات والفصول التي تصاحبه، فهو هادئ مبسَّط، كالشروح الصفِّية عندما يتعلق الأمر بالكشف والتوضيح والجري فوق هضاب فسيحة الأرجاء، وضيئة الجنبات. ومكثفٌ متداخل إلى حدود المعاظلة، عند التوقف أمام المسائل الجوهرية التي اختلف فيها مع عامة المتعاملين بالشأن اللغوي البلاغي، فصرف لأجلهم كل طاقاته وحنكته وبراعته في العرض والدفاع ودحض الحجج القوية الراسخة بفعل البلادة الذهنية وسيادة التقليد. ومثله النهر الصاخب المزبد الذي يرتطم بالصخور والنتوءات وهو يَنْصبُّ من علوِّ شاهق، فيصطفق موجه، وتبيضُّ مياهه، لتعودَ إلى صفاءٍ ورواء فوق السهوب والمنفسحات السَّفحية.
كقوله فيما يشبه العزْفَ على شبَّابة أو ربابٍ مختلجة الخفق: "إنَّا قد علمنا علْمَ ضرورةٍ أنَّا لو بَقينا الدهرَ الأطول، نصعِّدُ ونُصوِّبُ، ونبحثُ وننقّب، نبْتغي كلمةً قد اتصلتْ بصاحبةٍ لها، ولفظةٍ قد انتظمت مع أختها، من غير أن نتوخى فيما بينهما معنىً من معاني النحو، طَلبْنا مُمْتَنِعا، وثَنيننَا مَطايا الفكر ظُلَّعا".
ملاحظ نقدية بين الإعجاب والإغراب
আমি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছি যে: জুরজানীর রচনাশৈলী যেন একটি জলধারা, যা তার অতিক্রান্ত অবস্থা ও পর্যায় এবং তার সংগী সময় ও ঋতুভেদে বিচিত্র ছন্দ ও ভিন্ন ভিন্ন গতিতে প্রবাহিত হয়। যখন বিষয়টি উন্মোচন ও স্পষ্টীকরণ এবং প্রশস্ত ও উজ্জ্বল মালভূমির ওপর দিয়ে বয়ে চলার সাথে সম্পর্কিত হয়, তখন তা শ্রেণিকক্ষের ব্যাখ্যার ন্যায় শান্ত ও সরল হয়। আবার ভাষাগত ও আলঙ্কারিক বিষয়ের সাধারণ চর্চাকারীদের সাথে যেসব মৌলিক মাসআলায় তার মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলোর সামনে যখন তিনি থামেন, তখন তার শৈলী জটিলতার সীমা পর্যন্ত নিবিড় ও সংমিশ্রিত হয়ে ওঠে। তখন তিনি তাদের জন্য নিজের যাবতীয় শক্তি, প্রজ্ঞা এবং উপস্থাপন, প্রতিরক্ষা ও সেইসব শক্তিশালী যুক্তি খণ্ডনে নিজের পারদর্শিতা নিয়োগ করেন, যা মূলত মানসিক জড়তা ও অন্ধ অনুকরণের প্রভাবে প্রোথিত। তার দৃষ্টান্ত সেই শব্দমুখর ও ফেনিল নদীর মতো, যা সুউচ্চ শিখর থেকে পতনের সময় পাথর ও উঁচু-নিচু বাধার সাথে সজোরে ধাক্কা খায়; ফলে তার ঢেউগুলো আছড়ে পড়ে এবং পানি সাদা বর্ণ ধারণ করে, অতঃপর তা পুনরায় সমভূমি ও পাদদেশের প্রশস্ত প্রাঙ্গণে স্বচ্ছতা ও সজীবতায় ফিরে আসে।
যেমনটি তাঁর উক্তি—যা বাঁশি বা স্পন্দিত রবাবের সুরমূর্ছনার সদৃশ: "আমরা অকাট্যভাবে জেনেছি যে, আমরা যদি দীর্ঘকাল ধরে আরোহণ ও অবতরণ করি এবং অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়ে এমন একটি শব্দ খুঁজি যা তার সাথীর সাথে যুক্ত হয়েছে, কিংবা এমন একটি শব্দ খুঁজি যা তার সমজাতীয় শব্দের সাথে বিন্যস্ত হয়েছে—অথচ তাদের উভয়ের মাঝে ব্যাকরণিক অর্থসমূহের কোনো একটি অর্থও অন্বেষণ না করি—তবে আমরা এক অসম্ভব বস্তুর তালাশ করলাম এবং চিন্তার সওয়ারিকে ক্লান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনলাম।"
প্রশংসা ও বিস্ময়ের দোলাচলে কিছু সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إنَّ ما سطره القلم حتى الآن، في هذه المقدمة، لا يخرج عن كونه نظرةً أفقية على شيء من التغوُّر، عرضتُ فيها العناصر التي تكوَّن منها الكتاب والجهود التي بذلتُها، وكذلك المبذولة من الشارحَيْن الإمام عبده والشيخ رضا، معرِّجاً على المنهج المتَّبع والأساليب المسلوكة .. ولم أقم بتقويم الكتاب ووضعه في ميزان النقد المنهجي الأكاديمي … ولا أظنني فاعلا شيئاً من هذا القبيل، في السطور الآتية، لأن ما أودعه عبد القاهر الجرجاني في هذا السِّفر النفيس، لا يليق به سطورٌ أو صفحات لتقويمه واستخراج لآلية وفرز الزبد الطافي على السطح. الأحرى أن تُدبج لذلك، الكتب والبحوث المعمَّقة .. جلُّ ما أبتغيه ههنا عَرْضةٌ نقدية متواضعة أعدِّد فيها بعض سمات الفضل والمزيد التي تتهادى بها أعطاف الكتاب، فتتمايل ذات اليمين وذات الشمال، وما على العابر إلى تخومه إلَاّ اعتلاء بضع درجات ليصبح القطف على ملمس يديه ومرمى نظره. وما قصدتُه في العنوان لا تورية فيه ولا إيحاء أو تكثيف. إنها ملاحظ: أي نظرات شبه تأملية في جوانب الحسْن والإجادة التي تصل بالقارئ حدَّ الإعجاب، ومثلُها في جوانب أخرى شحَّتْ فيها قنوات التجلِّي المبدع وجنحْت إلى تعمُّلِ في القول وتعسُّف في الشرح وتقرير الحكم، ستسعى هذه الفقرة إلى تبيانها بالقدر المتاح من غير عنت أو مبالغة.
এই ভূমিকায় এখন পর্যন্ত কলম যা লিখেছে, তা কিছুটা গভীরতাসহ একটি অনুভূমিক পর্যালোচনার বাইরে কিছু নয়। এতে আমি সেই উপাদানগুলো উপস্থাপন করেছি যা দ্বারা বইটি গঠিত হয়েছে এবং আমি যে শ্রম ব্যয় করেছি, সেইসাথে দুই ব্যাখ্যাকার ইমাম আবদুহু এবং শেখ রিদা যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, তার বর্ণনা দিয়েছি; পাশাপাশি অনুসৃত পদ্ধতি ও শৈলীগুলোও উল্লেখ করেছি। আমি বইটির মূল্যায়ন করিনি এবং একে পদ্ধতিগত অ্যাকাডেমিক সমালোচনার তুলাদণ্ডে স্থাপন করিনি ... আর আমি পরবর্তী লাইনগুলোতেও এই ধরনের কিছু করার চিন্তা করছি না, কারণ আবদুল কাহির আল-জুরজানি এই মূল্যবান গ্রন্থে যা নিহিত রেখেছেন, তা মূল্যায়ন করা, তার মুক্তাসমূহ আহরণ করা এবং উপরিভাগের ফেনা পৃথক করার জন্য কয়েক লাইন বা কয়েক পৃষ্ঠা যথেষ্ট নয়। বরং এর জন্য গভীর গবেষণাপত্র ও গ্রন্থাদি রচিত হওয়া অধিক সঙ্গত। এখানে আমার মূল লক্ষ্য হলো একটি বিনীত সমালোচনামূলক উপস্থাপনা, যেখানে আমি শ্রেষ্ঠত্ব ও উৎকর্ষের কিছু বৈশিষ্ট্য গণনা করব যার মাধ্যমে বইটির পরতগুলো দুলে ওঠে এবং ডানে-বামে হেলে পড়ে; এর সীমানায় প্রবেশকারীর জন্য কেবল কয়েকটি ধাপ আরোহণ করাই যথেষ্ট, যাতে ফলমূল তার হাতের নাগালে এবং দৃষ্টির সীমায় চলে আসে। শিরোনামে আমি যা বুঝিয়েছি তাতে কোনো শ্লেষ নেই, নেই কোনো ইঙ্গিত বা অতিসংক্ষিপ্ততা। এগুলো হলো পর্যবেক্ষণ: অর্থাৎ সৌন্দর্য ও নিপুণতার দিকগুলোতে আধা-চিন্তাশীল দৃষ্টিপাত যা পাঠককে বিস্ময়ের পর্যায়ে নিয়ে যায়, এবং একইভাবে অন্যান্য দিকগুলোতেও যেখানে সৃজনশীল বহিঃপ্রকাশের পথগুলো সংকীর্ণ ছিল এবং যা কৃত্রিম বাগাড়ম্বর, ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে জবরদস্তি ও রায় প্রদানের ক্ষেত্রে একদেশদর্শিতার দিকে ঝুঁকে পড়েছে; এই অনুচ্ছেদটি কোনো প্রকার কষ্টকল্পনা বা অতিরঞ্জন ছাড়াই সাধ্যমতো সেগুলো স্পষ্ট করার চেষ্টা করবে।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أولاً: جوانب الإعجاب* إسهامه المعجب الأول: النظم: نظريةً وطبيعةً
النظم في اللغة، التأليف، وأصله: جمعُ الخَرز بعضِه إلى بعض في سِلْكٍ واحد. ويدعى النظام. وكل شيء قرنْتَه بآخر أو ضممتَ بعضَه إلى بعض، فقد نظمتَه. ومنه نظمُ الشعر وتنظيمُه.
النظم إذن، تأليف، أو جمعٌ وإضافة بمثل الاقتران، في نمط أو نسَقٍ معين يبعث على الرضى والارتياح، كنظم اللؤلؤ، والخرز، والكلام ومنه الشعر. ذاك هو منطلق الجرجاني ومرتكزه: تأليفٌ بطريقة محكمة العرى، متناسقة الشَّكل. لكنه أضاف مادة نظمية أخرى، هي آي القرآن الكريم التي رأى فيها النموذج المثالي لأي نظم لغوي، دفعه، كما دفع كل المشتغلين ببلاغة التعبير العربي، إلى عجز الإنسان العربي، بله الأعجمي عن مجاراة هذا النظم أو جزء يسير منه.
أمَّا وقد اقتنع الجميع بذلك، فقد عمدوا لا إلى الاقتداء والمحاكاة أو المجاوزة .. بل إلى درس الحقيقة التي تكتنفه والطبيعة التي تؤلفه .. فكان لنا إرث لغوي فنِّي جمٌّ. منبعه ومصبُّه: القرآن المحكم، ووجوهُه: علومُ العربية المختلفة، بينها البلاغة بفروعها، وأفانينها اللامحدودة.
واحد من البلغاء الأجلَاّء هو عبد القاهر الجرجاني أُعطي من القدرة والعبقرية ما جعله ينكبُّ على تراث العربية ونتاج شعرائها فيستخرج منه البنى اللفظية والمعنوية والتصويرية التي جرى بها اللسان وفقاً لأصول وأساليب مرسومة ومبتدعة، ويضعها في مقابل النتاج اللغوي الإلهي، فيرى عبقرية العربية التي وُضع فيها أجمل الصنائع، وأنَّ ذلك ناشئ عن قانون قديم تفجَّر بين حرور الرمال المحرقة، وظلال النخيل والواحات الوارفة؛ جعلهم يُبدعون قصائد شعرية لا نزال حتى اليوم عاجزين عن الإتيان بمثلها، وأُنزل القرآن بهذه اللغة وقانونها فزاد الألَقُ ورقيَ بهم النسقُ التعبيري إلى المرتبة التي اقتضتْ وضْعَ ما سمَّاه الجرجاني: "النظم" استناداً إلى الأصل اللغوي، وإلى القسمات الفنية المتسقة المتقنة التي استجلاها من قرائح الشعراء وعلماء النحو والبلاغة، ووشَّجها بالمثال القرآني المعْجز، وهذه حقيقته التي شرحها غير مرة في كتابه الخالد قائلاً:
"إعلم أن ليس النظمُ إلا أن تضعَ كلامكَ الوضع الذي يقتضيه علم النحو، وتعملَ على قوانينه وأصوله، وتعرفَ مناهجَه التي نُهِجتْ فلا تزيغَ عنها، وتحفظ الرسوم التي رُسمتْ لكَ فلا تُخلَّ بشىء منها.
(
… ) فلا ترى كلاماً قد وُصف بصحة نظم أو فساده، أو وُصف بمزيةٍ وفضل فيه، إلَاّ وأنت تجد مرجع تلك الصحة، وذلك الفساد وتلك المزية وذلك الفضل، إلى معاني النحو وأحكامه".
ثم يختم كلامه بما أصبح لازمة ومنطلقاً لكل شرح وتحليل، ومحطَّ رحالٍ لدى كل جولة وكل محاضرة:
"وإذا ثبتَ جميع ذلك، ثبتَ أن ليس [النظم] شيئاً غير توخِّي معاني هذا العلم [النحو] وأحكامه فيما بين الكَلِم".
প্রথমত: মুগ্ধতার দিকসমূহ* তার প্রথম বিস্ময়কর অবদান: নজম (বিন্যাসশৈলী): তত্ত্ব ও প্রকৃতি
অভিধানে 'নজম' অর্থ হলো বিন্যস্ত করা বা গেঁথে ফেলা। এর মূল অর্থ হলো: একটি সুতায় পুঁতিগুলোকে একটির সাথে অন্যটি গেঁথে একত্রিত করা। একে 'নিযাম' (পদ্ধতি বা ব্যবস্থা) বলা হয়। যেকোনো বস্তুকে যখন আপনি অন্যটির সাথে যুক্ত করেন বা একটিকে অন্যটির সাথে মিলিয়ে দেন, তখন আপনি তা বিন্যস্ত করলেন। কবিতা রচনা এবং এর সুশৃঙ্খল বিন্যাস এখান থেকেই এসেছে।
সুতরাং, নজম হলো একটি নির্দিষ্ট ঢং বা বিন্যাসে সংযোজন, একত্রীকরণ বা সংযুক্তকরণ যা মনে সন্তুষ্টি ও প্রশান্তি জাগায়; যেমন মুক্তার বিন্যাস, পুঁতির বিন্যাস এবং কথা বা কবিতার বিন্যাস। এটিই ছিল জুরজানির যাত্রাবিন্দু ও মূল ভিত্তি: অত্যন্ত সুদৃঢ় বন্ধন এবং সুসমন্বিত রূপে শব্দবিন্যাস করা। তবে তিনি এতে আরও একটি শৈল্পিক উপাদান যুক্ত করেছেন, যা হলো পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ। তিনি এগুলোকে যেকোনো ভাষাগত বিন্যাসের জন্য আদর্শ নমুনা হিসেবে দেখেছিলেন। এটি তাকে এবং আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের সকল বিশেষজ্ঞকে এই উপলব্ধিতে পৌঁছে দিয়েছিল যে, কেবল অনারবরাই নয়, বরং খোদ আরবরাও এই বিন্যাস বা এর সামান্য অংশের সমকক্ষতা অর্জনে অক্ষম।
যখন সবাই এই বিষয়ে নিশ্চিত হলেন, তখন তারা এর অনুকরণ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেষ্টা না করে বরং এর অন্তর্নিহিত সত্য এবং এর গঠনপ্রকৃতি নিয়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করলেন। এর ফলে আমরা এক বিশাল ভাষাগত ও শৈল্পিক ঐতিহ্য লাভ করেছি। এর উৎস ও লক্ষ্য হলো সুসংহত কুরআন; আর এর বহিঃপ্রকাশ হলো আরবি ভাষার বিভিন্ন শাস্ত্র, যার মধ্যে অন্যতম হলো অলঙ্কারশাস্ত্র এবং এর অগণিত শাখা-প্রশাখা ও বৈচিত্র্য।
বড় মাপের অলঙ্কারবিদদের মধ্যে একজন হলেন আব্দুল কাহের আল-জুরজানি। তাকে এমন সক্ষমতা ও মেধা দেওয়া হয়েছিল যার মাধ্যমে তিনি আরবি ঐতিহ্য এবং কবিদের সৃজনশীল কর্মের ওপর নিবিড় গবেষণা চালিয়েছেন। তিনি সেখান থেকে শাব্দিক, অর্থগত এবং আলঙ্কারিক কাঠামোগুলো আহরণ করেছেন, যা সুনির্দিষ্ট ও উদ্ভাবিত মূলনীতি অনুযায়ী আরবের মুখে মুখে প্রচলিত ছিল। তিনি সেগুলোকে ঐশী ভাষাশৈলীর বিপরীতে স্থাপন করে দেখেন যে, আরবি ভাষার অসাধারণ প্রতিভা যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মগুলো নিহিত রয়েছে, তা মরুভূমির তপ্ত বালুরাশি এবং খেজুর কুঞ্জ ও মরুদ্যানের ছায়াতলে প্রস্ফুটিত এক প্রাচীন নিয়মের ফসল। এই নিয়মই তাদের এমন সব কবিতা সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল যার সমতুল্য কিছু নিয়ে আসতে আজও আমরা অক্ষম। আর কুরআন নাজিল হয়েছে এই ভাষা ও এর নিয়মনীতি অনুসরণ করেই, যা এর উজ্জ্বলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং এর প্রকাশভঙ্গি এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে যাকে জুরজানি তার ভাষাগত উৎস এবং কবি ও ব্যাকরণবিদদের মেধা থেকে আহরিত সুসংগত শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে 'নজম' (বিন্যাসশৈলী) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি একে কুরআনের অলৌকিক নিদর্শনের সাথে সুসমন্বিত করেছেন। এটিই সেই বাস্তবতা যা তিনি তার অমর গ্রন্থে বারবার ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে:
"জেনে রেখো যে, নজম বা বিন্যাসশৈলী আর কিছুই নয়, বরং তা হলো তোমার কথাকে ব্যাকরণ শাস্ত্রের চাহিদ অনুযায়ী স্থাপন করা, এর নিয়ম ও মূলনীতিগুলো মেনে চলা এবং এর নির্ধারিত পথগুলো চিনে নেওয়া যাতে তুমি তা থেকে বিচ্যুত না হও। আর তোমার জন্য অঙ্কিত সীমারেখাগুলো সংরক্ষণ করা যাতে সেগুলোর কোনো কিছুই ক্ষুণ্ণ না হয়।
(
… ) তুমি এমন কোনো কথা পাবে না যাকে বিন্যাসগত শুদ্ধতা বা অশুদ্ধতা অথবা এর কোনো বৈশিষ্ট্য বা শ্রেষ্ঠত্বের গুণে বিশেষায়িত করা হয়েছে, যার সেই শুদ্ধতা, অশুদ্ধতা, বৈশিষ্ট্য কিংবা শ্রেষ্ঠত্বের উৎস ব্যাকরণগত অর্থ ও বিধানের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যাবে না।"
এরপর তিনি তার কথা এমন এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শেষ করেছেন যা প্রতিটি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়েছে এবং প্রতিটি আলোচনা ও বক্তৃতার কেন্দ্রে স্থান পেয়েছে:
"আর যখন এই সব কিছু প্রমাণিত হলো, তখন এটিও সাব্যস্ত হলো যে, শব্দমালার পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রের (ব্যাকরণ) অর্থ ও বিধানসমূহ অনুসরণ করাই হলো নজম বা বিন্যাসশৈলী।"
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ولدينا في كتاب "الدلائل" نوعان من "النظم"، الأول إبداعي إنشائي مصدرُهُ الشواهد القرآنية والشعرية، والثاني، وصفي نقدي، مصدره الخطاب الأدبي البليغ الذي يصدر عن صاحبه صدورَ الشهد عن النحل، ولنا الكتاب كلُّه مثالاً غير محدود. ولكنني أقتطف مثالين صغيرين سريعين، مُحيلاً إلى فِقَرٍ لاحقة في هذه المقدمة، موقوفة على مقتطفات من صنيعه الجميل.
المثال الأول: "وأمَّا زهدُهم في النحو، واحتقارهم له، وإصغارهم أمره، وتهاونُهم به: فصنيعُهم في ذلك أشنعُ من صَنيعهم في الذي تقدم (
… ) إذْ كان قد عُلم أنَّ الألفاظ مغلقةٌ على معانيها، حتى يكون الإعرابُ هو الذي يَفتحها، وأنَّ الأغراضَ كامنة فيها حتى يكونَ هو المستخرِجَ لها، وأنه المعيارُ الذي لا يتبيَّن نقصانُ كلام ورجحانُه حتى يعرضَ عليه، والمقياس الذي لا يُعرفُ صحيحٌ من سَقيمٍ حتى يُرجع إليه".
المثال الثاني: يتعلق بشرح شاهد قرآني، يعتمده لتأكيد علاقة اللفظ بالنظم: "وشبيهٌ بتنكير الحياة في هذه الآية، تنكيرها في قوله عز وجل: {وَلَكُمْ فِى القِصَاصِ حَيَاةٌ} [البقرة: 179] وذلك أنَّ السبب في حسن التنكير وأنْ لم يَحْسُن التعريفُ، أنْ ليس المعنى على الحياة نفسها، ولكنْ على أنه لمَّا كان الإنسانُ إذا عَلمَ أنه إذا قتلَ قُتِل، ارتدعَ بذلك عن القتل فسلم صاحبُه، صارتْ حياةُ هذا المهموم بقتله، في مستأنفِ الوقت، مستفادةً بالقصاص، وصار كأنه قد حَييَ في باقي عُمره، أي بالقصاص".
نعْمَ الشرحُ والتحليل، ونعْمَ العقلُ النَّيرُ الذي مدَّ صاحبَه بهذه الحَزْمة الضوئية نفذَتْ ببصره إلى ما وراء الألفاظ والمعاني، فأطْلع لنا حكمة الآية المحكمة، وجعلتْنا نقرأ في (القصاص) حياة على الرغم من كونه قد يكون قتلاً آخر ..
ونُدهش من جديد، وهو يستقصي الحكمة من ورود كلمة "حياة" منكَّرة، ليقرِّر مسألة دقيقة لا يلحظها إلَاّ العارف المتأمل، وهي وقْفُ (الحياة) على مرتكب القتل الذي اقتُصَّ منه، وليس على أي إنسان:
'দালাইল' গ্রন্থে আমাদের সামনে দুই ধরনের 'নাজম' বা বিন্যাস রয়েছে। প্রথমটি হলো সৃজনশীল ও নির্মাণমূলক, যার উৎস হলো কুরআনিক ও কাব্যিক নিদর্শনসমূহ। দ্বিতীয়টি হলো বর্ণনামূলক ও সমালোচনামূলক, যার উৎস হলো সেই সাবলীল সাহিত্যিক বক্তব্য, যা তার রচয়িতার কাছ থেকে ঠিক সেভাবেই নিঃসৃত হয় যেভাবে মৌমাছি থেকে মধু নিঃসৃত হয়। সম্পূর্ণ গ্রন্থটিই আমাদের জন্য এর এক অসীম উদাহরণ। তবে আমি এখান থেকে দ্রুত দুটি ছোট উদাহরণ উদ্ধৃত করছি এবং এই ভূমিকার পরবর্তী অনুচ্ছেদগুলোর দিকে ইঙ্গিত করছি, যা তাঁর চমৎকার কর্মের উদ্ধৃতিগুলোর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
প্রথম উদাহরণ: "আর ব্যাকরণের প্রতি তাদের অনীহা, এর প্রতি অবজ্ঞা, একে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং এর প্রতি অবহেলা—এ ক্ষেত্রে তাদের আচরণ পূর্বোক্ত বিষয়ের আচরণের চেয়েও জঘন্য (
… ) কেননা এটি জানা কথা যে, শব্দাবলি তাদের অর্থের ওপর তালাবদ্ধ থাকে, যতক্ষণ না ই'রাব (বাক্যের অন্ত্যস্বর ও কারক বিভক্তি) এসে তা উন্মোচন করে। আর উদ্দেশ্যসমূহ শব্দের মধ্যে প্রচ্ছন্ন থাকে, যতক্ষণ না ই'রাব তা বের করে আনে। আর ই'রাবই হলো সেই মানদণ্ড, যার ওপর উপস্থাপন না করা পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের ত্রুটি বা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পায় না। এটিই সেই পরিমাপক, যার কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত সঠিক ও ত্রুটিযুক্তের পার্থক্য বোঝা যায় না।"
দ্বিতীয় উদাহরণ: এটি একটি কুরআনিক নিদর্শনের ব্যাখ্যার সাথে সম্পর্কিত, যা তিনি শব্দের সাথে বিন্যাসের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে গ্রহণ করেছেন: "এই আয়াতে 'জীবন' শব্দটিকে অনির্দিষ্ট (নাকেরা) হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক সেরকমই, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে হয়েছে: 'আর কিসাসের (দণ্ডবিধি) মধ্যে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে।' [বাকারা: ১৭৯]। এর কারণ হলো, 'জীবন' শব্দটিকে নির্দিষ্ট না করে অনির্দিষ্ট করার মাধ্যমে যে সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে—তার মূল রহস্য এই নয় যে এটি কেবল সাধারণ জীবনকে বুঝিয়েছে; বরং বিষয়টি হলো—যখন মানুষ জানতে পারে যে সে যদি কাউকে হত্যা করে তবে তাকেও দণ্ডস্বরূপ হত্যা করা হবে, তখন সে এই ভয়ে হত্যা থেকে বিরত থাকে এবং তার লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিটি নিরাপদ থাকে। ফলে যে ব্যক্তি হত্যার সংকল্প করেছিল, তার অনাগত সময়ের জীবনটি এই কিসাসের মাধ্যমেই অর্জিত হলো। মনে হলো যেন সে তার বাকি জীবনটি ফিরে পেল, অর্থাৎ কিসাসের মাধ্যমেই তা সম্ভব হলো।"
কতই না চমৎকার এই ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ! আর কতই না চমৎকার সেই উজ্জ্বল মেধা, যা তার অধিকারীকে এমন এক আলোকবর্তিকা দান করেছে যা তার দৃষ্টিকে শব্দ ও অর্থের গভীরে নিয়ে গেছে। ফলে তিনি আমাদের সামনে এই সুসংহত আয়াতের প্রজ্ঞা উন্মোচন করেছেন এবং আমাদের এমনভাবে পড়তে শিখিয়েছেন যে, কিসাসের মাঝেও জীবন নিহিত রয়েছে, যদিও বাহ্যিকভাবে এটি একটি হত্যা বলে মনে হতে পারে।
আমরা পুনরায় বিস্মিত হই যখন দেখি তিনি 'জীবন' শব্দটি অনির্দিষ্টভাবে আসার রহস্য অনুসন্ধান করছেন, যাতে তিনি এমন এক সূক্ষ্ম বিষয় সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারেন যা কেবল গভীর চিন্তাশীল প্রাজ্ঞ ব্যক্তিই লক্ষ্য করেন। আর তা হলো, এই 'জীবন'কে সেই সম্ভাব্য হত্যাকারীর ওপর সীমাবদ্ধ রাখা যার ওপর কিসাস কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, কেবল সাধারণ কোনো মানুষের ওপর নয়:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুল ইজায - তাহকীক আল-আইয়ুবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
"لا يكون ارتداعٌ حتى يكونَ همٌّ وإرادةٌ، وليس بواجبٍ أن لا يكون إنسانٌ في الدنيا إلَاّ وله عَدوٌّ يَهمُّ بقتله ثم يردَعُه خوفُ القصاص، وإذا لم يجب ذلك، فمن لم يَهُمَّ بقتله فكُفيَ ذلك الهَمَّ لخوفِ القصاص، فليس هو ممن حَيَّ بالقصاص".
من خلال هذه الأمثلة، لا بد من الاعتراف بأن النص المحكم الذي يستخدمه المؤلف هو "نظم" من النسق الرفيع، له جمالُ وقعه ونكهة تتبُّعه وتحسس مجرى المعاني في سرِّه وإظهار ذلك للعيان بطريقة أو بأخرى.
ومن شروط النظم وطبيعته، قيامه على الكلمات، لا الحروف، باعتبار مكانها، وحسْن ملاءمة معناها لمعاني جاراتها، وفضل مؤانستها لأخَواتها. وهذا يعني أن تكون الكلمة فصيحة لا بحُروفها ولكن بما ينجم عنها وعن موقعها من أسباب الجمال والتأثير، بحيث لو حدثَ لها أي خلل مهما صغر، انعكس ذلك سلباً على واقع النص.
"وهل تجد أحداً يقول: هذه اللفظة فصيحة، إلَاّ وهو يعتبر مكانها من النظم، وحسْنَ ملاءمة معناها لمعنى جاراتها وفضل مؤانستها لجاراتها؟ وهل قالوا: لفظةٌ متمكنة ومقبولة، وفي خلافه؛ قلقلة ونابية، ومستكرهة، إلا وغرَضُهم أن يعبِّروا بالتمكن عن حسن الاتفاق بين هذه وتلك من جهة معناها، وبالقلق والنبوِّ عن سوء التلاؤم، وأنَّ الأولى لم تَلِقْ بالثانية في معناها، وأن السابقة لم تصلح أن تكون لِفْقاً للتالية في مؤدَّاها".
ولم يكتف المؤلف بهذا التوضيح الدقيق، بل عمد إلى التفريق بين "الحروف المنظومة" و "الكلم المنظومة" فقال:
"إنَّ نظم الحروف هو تواليها في النطق فقط، وليس نظمها بمقتضىً عن معنى .. (
… ) فلو أن واضع اللغة كان قد قال: (ربض) مكان (ضرب) لما كان في ذلك ما يؤدي إلى فَسَاد. وأما نظم الكَلِم فليس الأمر فيه كذلك، لأنك تقتضي في نظمها آثار المعاني وتُرتِّبها على حسب ترتيب المعاني في النفس، فهو إذن نظمٌ يعتبر فيه حال المنظوم بعضه مع بعضٍ، وليس هو النظم الذي معناه ضمُّ الشيء إلى الشيء كيف جاء واتفق".
"সংযম বা নিবৃত্তি ততক্ষণ ঘটে না যতক্ষণ না সংকল্প ও ইচ্ছা থাকে। আর দুনিয়াতে এমন হওয়া অপরিহার্য নয় যে, প্রত্যেক মানুষেরই একজন শত্রু থাকবে যে তাকে হত্যার সংকল্প করবে এবং তারপর কিসাসের (প্রতিশোধের) ভয়ে নিবৃত্ত হবে। আর যদি এটি অপরিহার্য না হয়, তবে যার ক্ষেত্রে কেউ তাকে হত্যার সংকল্পই করেনি এবং কিসাসের ভয়ে সেই সংকল্প থেকে বিরত থেকেছে, সে এমন ব্যক্তি নয় যে কিসাসের মাধ্যমে জীবন লাভ করেছে।"
এই উদাহরণগুলোর মাধ্যমে এটি স্বীকার করা প্রয়োজন যে, লেখক যে সুসংহত পাঠ ব্যবহার করেছেন তা হলো এক উচ্চমানের ‘নাজম’ (বিন্যাস), যার রয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্যের প্রভাব এবং এর নিহিত অর্থের গতিধারা অনুসরণ ও অনুধাবন করার এক বিশেষ স্বাদ, যা কোনো না কোনোভাবে প্রকাশ্য রূপ পায়।
আর নাজমের শর্ত ও প্রকৃতি হলো, এটি বর্ণের পরিবর্তে শব্দের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়—তার অবস্থানের বিচারে এবং পার্শ্ববর্তী শব্দগুলোর অর্থের সাথে তার অর্থের চমৎকার সামঞ্জস্য ও সহাবস্থানের শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে। এর অর্থ হলো, একটি শব্দ কেবল তার বর্ণের কারণে প্রাঞ্জল হয় না, বরং তার সৌন্দর্য ও প্রভাবের কারণসমূহের প্রেক্ষিতে তার অবস্থান থেকে যা উদ্ভূত হয় তার মাধ্যমে হয়; যাতে করে সেখানে সামান্যতম ত্রুটি দেখা দিলেও তা মূল পাঠের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
"আপনি কি এমন কাউকে পাবেন যে বলে: ‘এই শব্দটি প্রাঞ্জল’, অথচ সে বিন্যাসে শব্দটির অবস্থান, পার্শ্ববর্তী শব্দগুলোর অর্থের সাথে এর অর্থের চমৎকার সামঞ্জস্য এবং প্রতিবেশীদের সাথে এর সহাবস্থানের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে না? তারা কি একটি শব্দকে ‘সুপ্রতিষ্ঠিত ও গ্রহণযোগ্য’ এবং এর বিপরীতে ‘অস্থির, বিজাতীয় ও অপছন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেন না? তাদের উদ্দেশ্য তো কেবল সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে শব্দগুলোর অর্থের দিক থেকে চমৎকার মিলকে প্রকাশ করা, আর অস্থিরতা ও বিজাতীয় ভাব দ্বারা অসামঞ্জস্যতাকে বোঝানো। অর্থাৎ প্রথম শব্দটি দ্বিতীয় শব্দটির অর্থের সাথে মানানসই হয়নি এবং পূর্ববর্তী শব্দটি তার পরবর্তী শব্দের সাথে অর্থের বিচারে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ার যোগ্য ছিল না।"
লেখক কেবল এই সূক্ষ্ম ব্যাখ্যাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি ‘বর্ণের বিন্যাস’ এবং ‘শব্দের বিন্যাস’-এর মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে বলেছেন:
"বর্ণের বিন্যাস হলো কেবল উচ্চারণে সেগুলোর একের পর এক আসা, আর সেগুলোর বিন্যাস কোনো অর্থ অনুসারী নয়... (
… ) যদি ভাষার প্রণেতা ‘রাবাদা’ শব্দটিকে ‘দারাবা’ শব্দের স্থলে নির্ধারণ করতেন, তবে তাতে কোনো বিপর্যয় ঘটত না। কিন্তু শব্দের বিন্যাসের বিষয়টি এমন নয়। কারণ আপনি শব্দের বিন্যাসে অর্থের প্রভাব খোঁজেন এবং অন্তরে অর্থের যে বিন্যাস থাকে সেই অনুযায়ী শব্দগুলোকে সাজান। সুতরাং এটি এমন এক বিন্যাস যেখানে বিন্যস্ত বিষয়গুলোর একে অপরের সাথে পারস্পরিক অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়; এটি এমন কোনো বিন্যাস নয় যার অর্থ হলো কেবল একটি জিনিসের সাথে অন্যটিকে যেমন খুশি জুড়ে দেওয়া।"