(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: -)
مسألة في الكنائس القسم: العقيدة
الكتاب: مسألة في الكنائس
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: علي بن عبدالعزيز الشبل
الناشر: مكتبة العبيكان - الرياض
الطبعة: الأولى 1416هـ
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
* أعده للمكتبة الشاملة: محمد المنصور
m_almansour@yahoo.com
عدد الصفحات: 146
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
গির্জা সংক্রান্ত একটি মাসআলা বিভাগ: আকিদাহ
বই: গির্জা সংক্রান্ত একটি মাসআলা
লেখক: তাক্বিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)
গবেষক: আলি বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবল
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ওবাইকান - রিয়াদ
সংস্করণ: প্রথম ১৪১৬ হিজরি
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
* আল-মাকতাবাতুশ শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ আল-মানসুর
m_almansour@yahoo.com
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৬
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
(1) ما تقول (2) السادة العلماء أئمة الدين، وهداة المسلمين رضي الله عنهم أجمعين، وأعانهم على إظهار الحق المبين، وإخمال الكفار والمنافقين، في الكنائس التي بالقاهرة وغيرها التي أغلقت (3) بأمر ولاة الأمور، إذا ادعى أهل الذمة: أنها غلِّقت ظلماً، وأنهم يستحقون فتحها، وطلبوا ذلك من ولي الأمر أيده الله تعالى ونصره.
فهل تقبل دعواهم؟ وهل تجب إجابتهم أم لا؟!
وإذا قالوا: إن هذه الكنائس كانت قديمةً، من زمن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه وغيره. وأنهم يطلبون أن يقروا (4) ، على ما كانوا عليه في زمن عمر رضي الله عنه وغيره من خلفاء المسلمين، وأن إغلاقها مخالفٌ لحكم الخلفاء الراشدين.
فهل القول مقبولٌ منهم أو مردود؟
وإذا ذهب (5) أهل الذمة إلى من يقدم من بلاد الحرب، من رسولٍ أو غيره، فسألوه أن يسأل ولي الأمر في فتحها، أو كاتبوا ملوك الحرب ليطلبوا ذلك من ولي أمر المسلمين فهل لأهل الذمة ذلك؟ وهل ينتقض عهدهم أم لا؟!
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(১) সম্মানিত উলামায়ে কিরাম, দ্বীনের ইমামগণ এবং মুসলিমদের পথপ্রদর্শকগণ—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং স্পষ্ট সত্যকে প্রকাশ করতে ও কাফির ও মুনাফিকদের দমনে তাঁদের সাহায্য করুন—তাঁরা কী বলেন (২)? কায়রো এবং অন্যান্য স্থানে অবস্থিত সেই গির্জাগুলো সম্পর্কে যা শাসকবর্গের আদেশে বন্ধ (৩) করে দেওয়া হয়েছে; যদি জিম্মিরা দাবি করে যে, সেগুলো অন্যায়ভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং সেগুলো পুনরায় খোলার অধিকার তাদের রয়েছে, আর তারা যদি উলুল আমর বা শাসকের (আল্লাহ তাআলা তাঁকে শক্তিশালী করুন ও সাহায্য করুন) কাছে তা খোলার আবেদন জানায়।
তবে কি তাদের এই দাবি গ্রহণ করা হবে? এবং তাদের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়া কি ওয়াজিব হবে কি না?!
আর তারা যদি বলে যে: এই গির্জাগুলো অনেক প্রাচীন, যা আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং অন্যদের সময় থেকে বিদ্যমান ছিল। আর তারা আবেদন করে যে, উমর (রা.) এবং অন্যান্য মুসলিম খলিফাদের যুগে তারা যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থাতেই যেন তাদের বহাল (৪) রাখা হয়; এবং এই গির্জাগুলো বন্ধ করা খোলাফায়ে রাশেদীনের হুকুমের পরিপন্থী।
তবে তাদের এই বক্তব্য কি গ্রহণযোগ্য হবে নাকি তা প্রত্যাখ্যান করা হবে?
আর যদি জিম্মিরা (৫) দারুল হরব (যুদ্ধরত দেশ) থেকে আগত কোনো দূত বা অন্য কারো কাছে যায় এবং তার মাধ্যমে শাসকের কাছে গির্জাগুলো খোলার আবেদন জানায়, অথবা তারা যদি যুদ্ধরত কাফির রাজাদের কাছে পত্র লিখে মুসলিম শাসকের কাছে এই সুপারিশ করার অনুরোধ জানায়, তবে জিম্মিদের জন্য কি তা বৈধ হবে? এবং এর ফলে কি তাদের চুক্তি ভঙ্গ হবে কি না?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০০)
وإذا قال قائلٌ: إنهم إن لم يجابوا إلى ذلك حصل للمسلمين ضررٌ، إما بالعدوان على من عندهم من الأسرى (1) (2) ، أو (3) المساجد، وإما بقطع متاجرهم عن ديار الإسلام، وإما بترك معاونتهم لولي أمر المسلمين على ما يعتمده من مصالح المسلمين، ونحو ذلك. فهل هذا القول صوابٌ، أو خطأٌ؟ بينوا ذلك مبسوطاً مشروحاً.
وإذا كان في فتحها تغير قلوب المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها، [وحصول الفتنة والفرقة بينهم] (4) ، وتغيرت قلوب أهل الصلاح والدين، وعموم الجند والمسلمين على ولاة الأمور؛ لأجل إظهار شعائر الكفر، وظهور عزهم وفرحهم وسرورهم بما يظهرونه وقت فتح الكنائس، من الشموع والجموع والأفراح وغير ذلك، وهذا فيه تغير قلوب المسلمين من الصالحين وغيرهم (5) ، حتى إنهم يدعون الله تعالى على من تسبب في ذلك، وأعان عليه.
فهل لأحد أن يشير على ولي الأمر بذلك؟ ومن أشار عليه بذلك هل يكون ناصحاً لولي أمر المسلمين أم غاشًّا له؟!
وأي الطرق هو الأفضل لولي الأمر -أيده الله تعالى- ولأوليائه من قمع أعدائه وإذلالهم؟ أو مطاوعتهم (6) ؟!
--------------------------------------------
যদি কোনো বক্তা বলেন: যদি তাদের এই দাবি পূরণ না করা হয়, তবে মুসলিমদের ক্ষতি হবে—হয়তো তাদের কাছে থাকা বন্দিদের প্রতি অন্যায় আচরণের মাধ্যমে (১) (২), অথবা (৩) মসজিদের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে, অথবা ইসলামি ভূখণ্ড থেকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে, কিংবা মুসলিম শাসকের গৃহীত জনকল্যাণমূলক কাজে তাদের সহযোগিতা বন্ধ করার মাধ্যমে এবং এ জাতীয় অন্যান্য কারণে। তবে কি এই কথাটি সঠিক নাকি ভুল? এটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করুন।
আর যদি এগুলো (গির্জাগুলো) পুনরায় উন্মুক্ত করার ফলে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলিমদের হৃদয়ে পরিবর্তন আসে [এবং তাদের মাঝে ফিতনা ও বিভেদ সৃষ্টি হয়] (৪), আর নেককার ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরাসহ সাধারণ সৈন্য ও মুসলিম জনগণের অন্তরগুলো শাসকদের প্রতি বিরূপ হয়ে যায়; কেননা এতে কুফরি নিদর্শনাবলি প্রকাশিত হয় এবং গির্জা খোলার সময় মোমবাতি জ্বালানো, জনসমাগম, আনন্দ-উৎসব ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের দাপট, উল্লাস ও খুশি প্রকাশ পায়—যা নেককার ও সাধারণ সকল মুসলিমের হৃদয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, এমনকি তারা এই কাজের হোতা ও সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর কাছে বদদোয়া করতে থাকে।
এমতাবস্থায় কেউ কি মুসলিম শাসককে এমন পরামর্শ দিতে পারে? আর যে তাকে এই পরামর্শ দেয়, সে কি শাসকের কল্যাণকামী নাকি তার সাথে প্রতারণাকারী?!
আর মুসলিম শাসকের জন্য—মহান আল্লাহ তাকে শক্তিশালী করুন—এবং তার মিত্রদের জন্য কোন পথটি সর্বোত্তম? শত্রুদের দমন ও লাঞ্ছিত করা, নাকি তাদের আনুগত্য করা (৬)?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০১)
بينوا لنا ذلك، وابسطوا بسطاً شافياً، مثابين مأجورين -إن شاء الله تعالى- وحسبنا الله ونعم الوكيل. وصلى الله على سيدنا محمدٍ خاتم النبيين، وعلى آله وصحبه أجمعين، ورضي الله عن الصحابة المكرمين، وعن التابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، يا أرحم الراحمين (1) .
الرد على دعوى أن المسلمين ظلموهم بإغلاق كنائسهم:
الجواب:الحمد لله رب العالمين، أما دعواهم أن المسلمين ظلموهم في إغلاقها فهذا كذبٌ مخالفٌ (2) لأهل العلم (3) . فإن علماء المسلمين من أهل المذاهب الأربعة: مذهب أبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد، وغيرهم من الأئمة، كسفيان الثوري (4) ، والأوزاعي (5) ، والليث بن سعد (6) ، وغيرهم، ومن قبلهم من
--------------------------------------------
আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট করুন এবং বিস্তারিত ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করুন। ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি সওয়াব ও প্রতিদান পাবেন। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যিনি শেষ নবী, এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর, হে শ্রেষ্ঠ দয়ালু (১)।
এই দাবির খণ্ডন যে, মুসলমানরা তাদের গির্জাগুলো বন্ধ করে তাদের ওপর জুলুম করেছে:
উত্তর:সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর তাদের এই দাবি যে মুসলমানরা গির্জাগুলো বন্ধ করে তাদের ওপর জুলুম করেছে, তা একটি মিথ্যা দাবি যা আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের (২) মতের পরিপন্থী (৩)। কেননা চার মাযহাবের মুসলিম উলামায়ে কেরাম: আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ী ও আহমদের মাযহাব এবং অন্যান্য ইমামগণ যেমন সুফিয়ান সাওরী (৪), আওযায়ী (৫), লাইস বিন সাদ (৬) ও অন্যান্যরা এবং তাঁদের পূর্ববর্তীরা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০২)
الصحابة والتابعين، متفقون على أن الإمام لو هدم كل كنيسةٍ بأرض العنوة كأرض مصر والسواد (1) بالعراق، وبر الشام ونحو ذلك، مجتهدًا في ذلك، ومتبعًا في ذلك لمن يرى ذلك، لم يكن ذلك (2) ظلماً منه؛ بل تجب طاعته في ذلك (3) .
وإن امتنعوا عن حكم المسلمين لهم، كانوا ناقضين العهد، وحلت بذلك دماؤهم وأموالهم.
تكذيب دعوى وجود الكنائس بالقاهرة منذ عهد الخلفاء الراشدين:وأما قولهم إن هذه الكنائس من عهد أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأن الخلفاء الراشدين أقروهم عليها، فهذا أيضًا من الكذب. فإن من المعلوم المتواتر أن القاهرة (4) بنيت بعد عمر بن الخطاب رضي الله عنه بثلاثمائة سنة، بنيت بعد بغداد، وبعد البصرة والكوفة (5) وواسط (6) .
وقد اتفق المسلمون على أن ما بناه المسلمون من المدائن لم يكن لأهل الذمة أن يحدثوا فيها كنيسة، مثل ما فتحه المسلمون صلحاً، وأبقوا لهم كنائسهم القديمة،
--------------------------------------------
সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ একমত যে, ইমাম যদি জোরপূর্বক বিজিত ভূমি (আরদুল আনওয়াহ) যেমন মিশরের ভূমি এবং ইরাকের সাওয়াদ (১), শামের স্থলভাগ এবং এই জাতীয় অঞ্চলের প্রতিটি গির্জা ধ্বংস করে দেন—এ বিষয়ে ইজতিহাদ করে অথবা যারা এটি বৈধ মনে করেন তাদের অনুসরণ করে—তবে তা তার পক্ষ থেকে কোনো যুলুম হবে না; বরং এই কাজে তার আনুগত্য করা ওয়াজিব (৩)।
আর যদি তারা তাদের ওপর মুসলিমদের হুকুম মেনে নিতে অস্বীকার করে, তবে তারা অঙ্গীকার ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে তাদের রক্ত ও সম্পদ বৈধ হয়ে যাবে।
খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকে কায়রোতে গির্জা থাকার দাবির অসারতা:আর তাদের এই কথা যে, এই গির্জাগুলো আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমল থেকে বিদ্যমান এবং খুলাফায়ে রাশেদীন তাদের এগুলো রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন—এটিও একটি মিথ্যা কথা। কেননা মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে এটি সুপরিচিত যে, কায়রো (৪) উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর তিনশ বছর পর নির্মিত হয়েছে। এটি বাগদাদ, বসরা, কুফা (৫) এবং ওয়াসিত (৬) নির্মাণের পর তৈরি করা হয়েছে।
আর মুসলিমগণ একমত হয়েছেন যে, মুসলিমরা যেসকল শহর নির্মাণ করেছে, সেখানে যিম্মিদের জন্য নতুন কোনো গির্জা তৈরি করার সুযোগ নেই, যেমনটি হয়েছে মুসলিমদের সন্ধির মাধ্যমে বিজিত শহরগুলোর ক্ষেত্রে, যেখানে তারা তাদের পুরাতন গির্জাগুলো বহাল রেখেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
بعد أن شرط عليهم فيه عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن لا يحدثوا كنيسة في أرض الصلح، فكيف في بلاد المسلمين؟!
بقاء الكنائس في مدائن الإسلام:بل إذا كان لهم كنيسة بأرض العنوة، كالعراق ومصر ونحو ذلك فبنى المسلمون مدينة عليها، فإن لهم أخذ تلك الكنيسة؛ لئلا تترك في مدائن المسلمين كنيسةٌ بعد عهد (1) . فإن في سنن أبي داود بإسنادٍ جيد عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا تصلح قبلتان بأرضٍ، ولا جزية
--------------------------------------------
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের উপর এই শর্ত আরোপ করার পর যে, তারা সন্ধিকৃত ভূমিতে কোনো নতুন গির্জা নির্মাণ করবে না, তবে মুসলিমদের ভূখণ্ডে তা কীভাবে সম্ভব?!
মুসলিম শহরগুলোতে গির্জা অবশিষ্ট থাকা:বরং যুদ্ধলব্ধ ভূমিতে (আনওয়াহ) যদি তাদের কোনো গির্জা থাকে, যেমন ইরাক, মিসর এবং এই জাতীয় স্থানগুলোতে, আর মুসলিমরা সেখানে কোনো শহর গড়ে তোলে, তবে তাদের জন্য সেই গির্জাটি নিয়ে নেওয়ার অধিকার রয়েছে; যাতে চুক্তির পর (১) মুসলিম শহরগুলোতে কোনো গির্জা অবশিষ্ট না থাকে। কেননা সুনানে আবু দাউদে উত্তম সনদে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একই জমিনে দুই কিবলা সঠিক নয়, এবং কোনো জিজিয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
على مسلم" (1) . والمدينة التي يسكنها المسلمون، والقرية التي يسكنها المسلمون، وفيها مساجد المسلمين، لا يجوز أن يظهر فيها شيء من شعائر الكفر: لا كنائس ولا غيرها (2) ، إلا أن يكون لهم عهدٌ، فيوفى لهم بعهدهم. فلو كان بأرض القاهرة ونحوها كنيسةٌ قبل بنائها، لكان للمسلمين أخذها، لأن الأرض عنوةً فكيف وهذه الكنائس محدثة، أحدثها النصارى؟!
حقيقة دولة العبيديين بمصر:فإن القاهرة بقي ولاة أمورها نحو مائتي سنةٍ، على غير شريعة الإسلام، وكانوا يظهرون أنهم رافضة (3) ، وهم في الباطن إسماعيلية (4) ،
--------------------------------------------
কোনো মুসলিমের ওপর" (১)। আর যে শহর বা গ্রামে মুসলিমরা বসবাস করে এবং যেখানে মুসলিমদের মসজিদ রয়েছে, সেখানে কুফরের কোনো নিদর্শন প্রকাশ পাওয়া বৈধ নয়: গির্জা বা অন্য কিছু (২), তবে যদি তাদের সাথে কোনো চুক্তি থাকে, তবে তাদের সেই চুক্তি পূর্ণ করা হবে। কায়রো বা এ জাতীয় কোনো ভূখণ্ড নির্মাণের পূর্বে যদি সেখানে কোনো গির্জা থেকে থাকে, তবে মুসলিমদের জন্য তা গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে, কারণ এ ভূমি যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত। তাহলে এই গির্জাগুলোর অবস্থা কী হবে যা নতুন করে তৈরি করা হয়েছে, যা নাসারারা (খ্রিস্টানরা) নতুনভাবে নির্মাণ করেছে?!
মিশরে উবাইদি রাষ্ট্রের প্রকৃত রূপ:নিশ্চয়ই কায়রোর শাসনকর্তারা প্রায় দুইশ বছর যাবৎ ইসলামের শরীয়ত বহির্ভূত অবস্থায় ছিল। তারা প্রকাশ্যভাবে নিজেদের রাফেজি (৩) হিসেবে পরিচয় দিত, কিন্তু অন্তরালে তারা ছিল ইসমাইলি (৪),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
_________
= في 1 / 20، (وهذا حال أهل البدع المخالفة للكتاب والسنة، فإنهم إن يتبعون إلا الظن وما تهوى الأنفس، ففيهم جهل وظلم، لا سيما الرافضة، فإنهم أعظم ذوي الأهواء جهلاً وظلماً يعادون خيار أولياء الله تعالى بعد النبيين من السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان - رضي الله عنهم ورضوا عنه -، ويوالون الكفار والمنافقين من اليهود والنصارى والمشركين وأصناف الملحدين كالنصيرية والإسماعيلية وغيرهم من الضالين. . .) . وقال في المنهاج 1/ 9 - 11 (ولهذا كانوا - أي الرافضة - عند عامة أهل العلم والدين، من أجهل الطوائف الداخلين في المسلمين، ومنهم من أدخل على الدين من الفساد ما لا يحصيه إلا العباد، فملاحدة الإسماعيلية والنصيرية وغيرهم من الباطنية المنافقين من بابهم دخلوا، وأعداء المسلمين من المشركين وأهل الكتاب بطريقهم وصلوا، استولوا بهم على بلاد الإسلام، وسبوا الحريم وأخذوا الأموال وسفكوا الدم الحرام، وجرى على الأمة بمعاونتهم من فساد الدنيا والدين ما لا يعلمه إلا رب العالمين) .
وقال في تسميتهم 1/ 35 (ومن زمن خروج زيد - يعني به علي بن الحسين بالكوفة سنة 22هـ - افترقت الشيعة إلى رافضة وزيدية، فإنه لما سئل عن أبي بكر وعمر؟ فترحم عليهما، رفضه قوم، فقال لهم: رفضتموني! فسموا رافضة لرفضهم إياه، وسمي من لم يرفضه من الشيعة زيدياً لانتسابهم إليه) . وهم بعد ذلك طوائف وفرق وبالجملة فهم مبغضون للصحابة ومكفروهم إلا خمسة وأوائلهم مشبهة مجسمة ثم هم معتزلة في صفات الله، قبورية في توحيد العبادة. ولا تكاد توجد مسألة إلا وهم مخالفون للسنة فيها أسأل الله العافية والسلامة، وأعوذ به من الخذلان والكفران.
(4) الإسماعيلية طائفة باطنية كافرة خارجة عن الإسلام تنتسب إلى إسماعيل بن جعفر الصادق بن محمد الباقر بن علي زين العابدين رحمهم الله ورضي عنهم - وانظر في هذه النسبة المنهاج 4/ 17 - 18 هزل! هم الذين يقولون بإلهية الحاكم بأمر الله العبيدي قال فيهم الشيخ 6/ 342 وما بعدها (وإنها ظهر من دعا إلى الرفض، وتسمى بأمير المؤمنين وأظهر القتال على ذلك، وحصل لهم ملك وأعوان مدة بني عبيد الله القداح الذين أقاموا بالمغرب مدة وبمصر نحو مائتي سنة. وهؤلاء باتفاق أهل العلم والدين كانوا ملاحدة ونسبهم باطل، فلم يكن لهم بالرسول اتصال نسب في الباطن ولا دين، وإنما أظهروا النسب الكاذب وأظهروا التشيع، ليتوسلوا بذلك إلى متابعة الشيعة إذ كانت أقل الطوائف عقلاً وديناً، وأكثرها جهلاً، وإلا فأمر هؤلاء العبيدية المنتسبين إلى إسماعيل بن جعفر أظهر من أن يخفي على مسلم.
ولهذا فجميع المسلمين الذين هم مؤمنون في طوائف الشيعة يتبرأون منهم، فالزيدية والإمامية تكفرهم وتتبرأ منهم، وإنما ينتسب إليهم الإسماعيلية الملاحدة الذين فيهم من الكفر ما ليس لليهود والنصارى كابن الصباح الذي أخرج لهم السكين وشر منهم قرامطة البحرين. . . .) .
وابن الصباح - كما عرفه المحقق - هو الحسن بن علي بن محمد بن صباح الحميري ولد سنة 428 هـ وهلك سنة 518 هـ مؤسس فرقة الحشاشين، استولى على قلعة الألموت بجبال الديلم هو من اتخذ القتل والاغتيال وسيلة لتحقيق أهداف دعوته، وهو من أئمة الإسماعيلية.
১/২০-এ আছে, (আর এটিই হলো কিতাব ও সুন্নাহ বিরোধী বিদআতিদের অবস্থা; কেননা তারা কেবল ধারণা এবং কুপ্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। তাদের মধ্যে রয়েছে মূর্খতা ও অবিচার, বিশেষ করে রাফেযীদের মধ্যে। কেননা তারা প্রবৃত্তিপূজারীদের মধ্যে মূর্খতা ও অবিচারের দিক থেকে সর্বাপেক্ষা বড়। তারা নবীদের পরে আল্লাহর সর্বোত্তম বন্ধুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, যারা হলেন মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে অগ্রবর্তী প্রথম সারির ব্যক্তিবর্গ এবং যারা উত্তমভাবে তাদের অনুসরণ করেছেন - আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। আর তারা ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান, মুশরিক এবং নুসাইরিয়া ও ইসমাইলিয়ার মতো বিভিন্ন প্রকারের নাস্তিক ও অন্যান্য পথভ্রষ্ট কাফের ও মুনাফিকদের সাথে বন্ধুত্ব ও মিত্রতা বজায় রাখে...)। মিনহাজ গ্রন্থে (১/৯-১১) তিনি বলেন, (আর একারণেই সাধারণ আলিম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গের নিকট তারা - অর্থাৎ রাফেযীরা - মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মূর্খতম দল হিসেবে গণ্য। তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা দ্বীনের মধ্যে এমন ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে যা বান্দাদের পক্ষে গণনা করা সম্ভব নয়। ইসমাইলিয়া ও নুসাইরিয়ার নাস্তিকরা এবং অন্যান্য বাতেনী মুনাফিকরা তাদের পথ দিয়েই প্রবেশ করেছে। মুশরিক ও আহলে কিতাবভুক্ত মুসলিমদের শত্রুরা তাদের মাধ্যমেই নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছেছে। তাদের সাহায্যেই তারা মুসলিম দেশগুলো দখল করেছে, নারীদের বন্দী করেছে, সম্পদ লুণ্ঠন করেছে এবং পবিত্র রক্ত প্রবাহিত করেছে। তাদের সহযোগিতায় উম্মাহর দ্বীন ও দুনিয়ার এমন ক্ষতি সাধিত হয়েছে যা জগতসমূহের প্রতিপালক ব্যতীত আর কেউ জানে না।)
তাদের নামকরণের বিষয়ে তিনি (১/৩৫) বলেন, (যায়দ - অর্থাৎ কূফায় ১২২ হিজরীতে আলী ইবনে হুসাইনের ছেলে যায়দ - এর বিদ্রোহের সময় থেকে শিয়ারা ‘রাফেযী’ ও ‘যায়দী’ - এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যখন তাঁকে আবু বকর ও উমর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি তাঁদের উভয়ের জন্য রহমতের দোয়া করলেন। তখন একদল লোক তাঁকে বর্জন করল, তিনি তাদের উদ্দেশ্য করে বললেন: তোমরা আমাকে বর্জন (রাফাযতুমুনী) করলে! তাঁর প্রতি এই বর্জন বা প্রত্যাখ্যানের কারণে তাদের নাম ‘রাফেযী’ রাখা হয়। আর শিয়াদের মধ্যে যারা তাঁকে বর্জন করেনি, তাঁর প্রতি সম্পৃক্ততার কারণে তাদের ‘যায়দী’ বলা হয়।) এরপর তারা আরও অনেক দল ও উপদলে বিভক্ত হয়েছে। সারসংক্ষেপ হলো, তারা সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং মাত্র পাঁচজন ব্যতীত সবাইকে কাফির মনে করে। তাদের প্রথম দিকের লোকেরা ছিল ‘মুশাব্বিহা’ ও ‘মুজাসসিমা’ (আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনাদানকারী), পরবর্তীতে তারা আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলীর ক্ষেত্রে ‘মুতাযিলা’পন্থী এবং ইবাদতের তাওহীদের ক্ষেত্রে কবরপূজারীতে পরিণত হয়েছে। এমন কোনো মাসআলাহ নেই বললেই চলে যেটিতে তারা সুন্নাহর বিরোধিতা করেনি। আমি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে লাঞ্ছনা ও কুফরি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
(৪) ইসমাইলিয়া হলো একটি বাতেনী কাফের সম্প্রদায় যারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত। তারা নিজেদেরকে ইসমাইল ইবনে জাফর আস-সাদিক ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকির ইবনে আলী যায়নুল আবেদীন - আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন - এর দিকে সম্পৃক্ত করে। (এই সম্পৃক্ততার বিষয়ে মিনহাজ ৪/১৭-১৮ দেখুন, এটি একটি তামাশা!) এরাই উবাইদী শাসক ‘আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহ’র উপাস্য হওয়ার দাবি করে। শায়খ তাদের সম্পর্কে ৬/৩৪২ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে বলেন, (যে ব্যক্তি রাফেযী মতবাদের দিকে দাওয়াত দিয়েছিল তার প্রকাশ ঘটেছিল এবং সে নিজেকে আমিরুল মুমিনীন হিসেবে দাবি করেছিল এবং এর ভিত্তিতে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। বনু উবাইদুল্লাহ আল-কাদ্দাহর আমলে তাদের জন্য রাজত্ব ও সাহায্যকারী বাহিনী তৈরি হয়েছিল, যারা মাগরিবে কিছুকাল এবং মিসরে প্রায় দুইশ বছর অবস্থান করেছিল। আলেম সমাজ ও দ্বীনদারদের ঐকমত্য অনুযায়ী তারা ছিল নাস্তিক এবং তাদের বংশপরিচয় ছিল মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাদের বংশগত বা ধর্মীয় কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারা কেবল মিথ্যা বংশপরিচয় এবং শিয়া মতবাদ প্রকাশ করেছিল যাতে এর মাধ্যমে তারা শিয়াদের অনুগামী করতে পারে। কেননা শিয়ারা হলো বিচারবুদ্ধি ও দ্বীনদারিতে সবচেয়ে অধম এবং মূর্খতায় সবচেয়ে অগ্রগামী একটি দল। অন্যথায়, ইসমাইল ইবনে জাফরের দিকে সম্পৃক্ত এই উবাইদীদের বিষয়টি কোনো মুসলিমের কাছে গোপন থাকার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট।
একারণে শিয়াদের বিভিন্ন দলের মধ্যে যারা মুমিন তারা সবাই এদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে। যায়দী ও ইমামিয়ারাও এদের কাফির মনে করে এবং এদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। কেবল নাস্তিক ইসমাইলিয়ারাই নিজেদেরকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত করে, যাদের মধ্যে এমন কুফরি বিদ্যমান যা ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের মধ্যেও নেই; যেমন ইবনে সাবাহ, যে তাদের জন্য ছুরি বের করেছিল এবং তাদের চেয়েও জঘন্য হলো বাহরাইনের কারামিতা সম্প্রদায়...।)
আর ইবনে সাবাহ - যেমনটি মুহাক্কিক পরিচয় দিয়েছেন - তিনি হলেন হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন সাবাহ আল-হিময়ারী। তিনি ৪২৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫১৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হাশাশীন ফির্কার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দাইলাম পাহাড়ের আলমুত দুর্গ দখল করেছিলেন। তিনিই নিজের দাওয়াতের লক্ষ্য অর্জনে হত্যা ও গুপ্তহত্যাকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন ইসমাইলিয়াদের অন্যতম ইমাম।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
ونصيرية (1) ، وقرامطة (2) (3) ؛ كما قال فيهم الغزالي (4) رحمه الله في كتابه الذي صنفه (5) في الرد عليهم: "ظاهر مذهبهم الرفض، وباطنه الكفر المحض" (6) .
--------------------------------------------
এবং নুসাইরিয়া (১), ও কারামিতা (২) (৩); যেমনটি তাদের সম্পর্কে আল-গাযালী (৪) রহিমাহুল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন যা তিনি তাদের খণ্ডনে রচনা (৫) করেছেন: "তাদের মাযহাবের বাহ্যিক দিক হলো রাফয (শিয়া মতবাদ), আর এর অভ্যন্তরীণ দিক হলো বিশুদ্ধ কুফর" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
_________
= والحقيقة أكفر من اليهود والنصاري وأما في الظاهر فيدعون الإسلام، بل إيصال النسب إلى العترة النبوية - أهل البيت - وعلم الباطن الذي لا يوجد عند الأنبياء والأولياء. وأن أمامهم معصوم. فهم في الظاهر من أعظم الناس دعوى بحقائق الإيمان وفي الباطن من أكفر الناس بالرحمن، بمنزلة من ادعى النبوة من الكذابين قال تعالى {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِباً أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَنْ قَالَ سَأُنزِلُ مِثْلَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ} وهؤلاء قد يدعون هذا وهذا. وقال في موضع آخر عن أشهرهم - في المنهاج 6/ 343 وشر منهم - أي من العبيدية الإسماعيلية - قرامطة البحرين - وهي المعروفة الآن بالأحساء - أصحاب أبي سعيد الجنابي - قتل سنة 301 هـ - فإن أولئك لم يكونوا يتظاهرون بدين الإسلام بالكلية، بل قتلوا الحجاج، وأخذوا الحجر الأسود) .
والقرامطة الباطنية الفلاسفة يقولون عن الله: لا موجود ولا معدوم، ولا حي ولا ميت كما في الدرء 7/ 119 وفي التدمرية 16، 38 - 39 وانظر شرح الأصبهانية5/ 0 7 - 73 ضمن الفتاوى الكبرى.
(3) في الظاهرية: وقرامطة باطنية.
(4) هو أبو حامد محمد بن محمد الغزالي المتوفى سنة505 هـ وعمره 55سنة، الفقيه الأصولي صاحب التصانيف الصوفي المنظر الأشعري، المصبوغ بصبغة الفلاسفة، ومن أجل كتبه إحياء علوم الدين الذي انتقد كثيراً - ذكره الشيخ ابن تيمية كثيراً وسأذكر طرفاً من هذا في تحقيق قاعدة في الرد على الغزالي في التوكل، لشيخ الإسلام ابن تيمية إن شاء الله.
قال في ما نحن فيه - في كتابه منهاج السنة 8/ 14 (وصنف المسلمون في كشف أسرارهم وهتك أستارهم يعني العبيدين الباطنية الإسماعيلية. . . . كتبا معروفة لما علموه من إفسادهم الدين والدنيا، وصنف فيهم القاضي عبد الجبار، والقاضي أبو بكر بن الطيب - هو الباقلاني -، وأبو يعلى والغزالي، وابن عقيل وأبو عبد الله الشهرستاني، وطوائف غير هؤلاء، وهم الملاحدة الذين ظهروا بالمشرق والمغرب واليمن والشام ومواضع متعددة، كأصحاب الألموت وأمثالهم) . وأصحاب الألموت هم الإسماعيلية والألموت هي قلاع في جبال الديلم جنوب بحر قزوين كانت معاقل دعوتهم - حتى هدمها هولاكو.
(5) صنف الغزالي كتباً في الرد عليهم وصلنا منها ثلاثة هي:
1 - فضائح الباطنية وفضائل المستظهرية، وأشار في إحياء علوم الدين 2/ 130 أن هذا الكتاب مستنبط من كشف الأسرار وهتك الأستار، الكتاب المشهور لأبي بكر ابن الطيب الباقلاني والذي ذكره الشيخ في مواضع متعددة باسمه ولم يصلنا إلا في نقول الكتب.
2 - القسطاس المستقيم، طبع عدة طبعات آخرها في لبنان تحققه.
3 - جواب المسائل الأربع - من باطنية همدان، نشره رشيد رضا في المنار عدد 29 ص (601-608) .
ولكتاب القسطاس المستقيم بالمناسبة نسخة خطية بدار الكتب المصرية رقم 98 عقائد تيمور، مع طبعات قديمة أقدمها سنة 1318 هـ في مطبعة. . . . . بمصر. =
_________
= প্রকৃতপক্ষে তারা ইহুদি ও নাসারাদের চেয়েও বড় কাফের, তবে বাহ্যিকভাবে তারা ইসলামের দাবি করে; বরং তারা নবী পরিবারের (আহলে বাইত) সাথে বংশীয় যোগসূত্র এবং এমন এক গোপন বা বাতেনি ইলমের দাবি করে যা নবী ও ওলিদের কাছেও নেই। তাদের মতে তাদের ইমাম নিষ্পাপ। তারা বাহ্যিকভাবে মানুষের মাঝে ঈমানের হাকিকত বা প্রকৃত সত্যের সবচেয়ে বড় দাবিদার, কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে তারা পরম দয়াময় (রাহমান)-এর সাথে কুফরি করা মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম। তারা সেইসব মিথ্যুকদের স্তরে যারা নবুওয়াতের দাবি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে অথবা বলে যে, 'আমার প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়েছে', অথচ তার প্রতি কোনো কিছুই ওহি করা হয়নি এবং যে বলে, 'আল্লাহ যা নাজিল করেছেন আমিও অনুরূপ নাজিল করব'}। তারা এই উভয় প্রকারেরই দাবি করে থাকে। তিনি অন্য এক স্থানে তাদের মধ্যে অধিক পরিচিতদের সম্পর্কে বলেন—আল-মিনহাজ ৬/৩৪৩-এ, আর তারা হচ্ছে তাদের (উবাইদি ইসমাইলিদের) চেয়েও নিকৃষ্ট—অর্থাৎ বাহরাইনের কারামিতা সম্প্রদায়—যা বর্তমানে আল-আহসা নামে পরিচিত—আবু সাঈদ আল-জান্নাবির অনুসারীগণ—যিনি ৩০১ হিজরিতে নিহত হন। তারা পুরোপুরিভাবে ইসলাম ধর্মের বেশ ধারণ করত না; বরং তারা হাজিদের হত্যা করেছিল এবং হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়েছিল।
বাতেনি কারামিতা দার্শনিকরা আল্লাহ সম্পর্কে বলে: তিনি বিদ্যমানও নন আবার অবিদ্যমানও নন, জীবিতও নন আবার মৃতও নন। যেমনটি 'আদ-দারউ' ৭/১১৯ এবং 'আত-তাদমুরিয়্যাহ' ১৬, ৩৮-৩৯ পৃষ্ঠায় রয়েছে। আরও দেখুন 'শারহুল আসবাহানিয়্যাহ' ৫/৭০-৭৩, 'আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা'-এর অন্তর্ভুক্ত।
(৩) জাহিরিয়্যাহ মতে: এবং বাতেনি কারামিতা সম্প্রদায়।
(৪) তিনি হলেন আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজালি, মৃত্যু ৫০৫ হিজরি, ৫৫ বছর বয়সে। তিনি একজন ফকিহ, উসুলি (মূলনীতিবিদ), বহু গ্রন্থের প্রণেতা, সুফি তাত্ত্বিক এবং আশআরি মতাবলম্বী, যার ওপর দার্শনিকদের প্রভাব ছিল। তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো 'ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন', যা অনেক সমালোচিত হয়েছে—শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি বহুবার উল্লেখ করেছেন। আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'কায়েদাতুন ফির রাদ্দি আলাল গাজালি ফিত তাওয়াক্কুল'-এর তাহকিক করার সময় ইনশাআল্লাহ এর কিছু অংশ উল্লেখ করব।
আমরা যে প্রসঙ্গে কথা বলছি সে সম্পর্কে তিনি তার গ্রন্থ 'মিনহাজুস সুন্নাহ' ৮/১৪-এ বলেন: (উবাইদি বাতেনি ইসমাইলিদের গোপন রহস্য উন্মোচন করতে এবং তাদের পর্দা ফাঁস করতে মুসলমানরা বহু প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন, কারণ তারা জানত যে তারা দ্বীন ও দুনিয়া উভয়কে ধ্বংস করছে। তাদের খণ্ডনে কাজি আবদুল জাব্বার, কাজি আবু বকর বিন তায়্যিব—যিনি আল-বাকিল্লানি—, আবু ইয়ালা, আল-গাজালি, ইবনু আকিল, আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাহরাস্তানি এবং আরও অনেকে কিতাব লিখেছেন। তারা হলো সেই মুলহিদ (ধর্মত্যাগী) গোষ্ঠী যারা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, ইয়েমেন, সিরিয়া এবং বিভিন্ন স্থানে আত্মপ্রকাশ করেছিল, যেমন আলামুত দুর্গের অধিবাসী ও তাদের সমমনাগণ)। আলামুত দুর্গের অধিবাসী বলতে ইসমাইলিদের বোঝানো হয়েছে। আলামুত হলো কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণে দাইলাম পাহাড়ে অবস্থিত কিছু দুর্গ যা ছিল তাদের দাওয়াতের কেন্দ্রস্থল—যতক্ষণ না হালাকু খান সেগুলো ধ্বংস করেন।
(৫) বাতেনিদের খণ্ডনে গাজালি বেশ কিছু কিতাব রচনা করেছেন যার মধ্যে তিনটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে:
১ - ফাদায়িহুল বাতিনিয়্যাহ ওয়া ফাদায়িলুল মুস্তাজহিরিয়্যাহ। তিনি 'ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন' ২/১৩০-এ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই বইটি আবু বকর ইবনু তায়্যিব আল-বাকিল্লানির প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'কাশফুল আসরার ওয়া হাতকুল আস্তার' থেকে সংগৃহীত। শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহ বিভিন্ন স্থানে এর নাম উল্লেখ করেছেন, তবে অন্যান্য বইয়ের উদ্ধৃতি ছাড়া মূল গ্রন্থটি আমাদের কাছে পৌঁছেনি।
২ - আল-কিসতাসুল মুস্তাকিম, এটি অনেকবার মুদ্রিত হয়েছে, সর্বশেষ লেবাননে তাহকিকসহ প্রকাশিত হয়েছে।
৩ - জাওয়াবুল মাসাইলিল আরবা'—হামাদানের বাতেনিদের পক্ষ থেকে আসা প্রশ্নের উত্তর। রশিদ রিদা এটি 'আল-মানার' পত্রিকার ২৯তম সংখ্যায় (৬০১-৬০৮ পৃষ্ঠায়) প্রকাশ করেছেন।
প্রসঙ্গত 'আল-কিসতাসুল মুস্তাকিম' বইটির একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ '৯৮ আকাইদ তায়মুর' নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এর পুরনো সংস্করণগুলোর মধ্যে প্রাচীনতমটি ১৩১৮ হিজরিতে মিশরের... ছাপাখানায় মুদ্রিত। =
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
واتفق طوائف المسلمين: علماؤهم، وملوكهم، عامتهم من الحنفية والمالكية والشافعية والحنابلة وغيرهم، على أنهم كانوا خارجين عن شريعة الإسلام، وأن قتالهم كان جائزاً: بل نصّوا على نسبهم كان باطلاً (1) . وأن جدهم كان عبيد الله بن ميمون القدّاح (2) ، لم يكن من آل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
মুসলিমদের সকল দল: তাদের আলেমগণ, শাসকগণ এবং হানাফী, মালিকী, শাফিঈ, হাম্বলী ও অন্যান্য মাযহাবের সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তারা (উবাইদীগণ) ইসলামের শরীয়ত থেকে বিচ্যুত ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ ছিল। বরং তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের বংশপরিচয় ছিল ভিত্তিহীন (১)। তাদের দাদা ছিল উবাইদুল্লাহ বিন মাইমুন আল-কাদ্দাহ (২), সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইত বা পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
وصنف العلماء في ذلك مصنفات. وشهد بذلك مثل الشيخ أبي الحسن القدوري (1) إمام الحنفيّة، والشيخ أبي حامد الإسفراييني (2) إمام الشافعيّة،
--------------------------------------------
এবং আলেমগণ এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। হানাফি মাযহাবের ইমাম শায়খ আবুল হাসান আল-কুদুরি (১) এবং শাফেয়ি মাযহাবের ইমাম শায়খ আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনি (২)-এর মতো ব্যক্তিবর্গ এর সাক্ষ্য দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১০)
ومثل القاضي أبي يعلى (1) إمام الحنبليّة، ومثل أبي محمد بن أبي زيد (2) إمام المالكيّة.
وصنف القاضي أبو بكر ابنُ الطيِّب (3) فيهم كتاباً، في كشف أسرارهم، سماه: "كشف الأسرار وهتك الأستار" (4) .
--------------------------------------------
যেমন হাম্বলিদের ইমাম কাজি আবু ইয়ালা (১) এবং মালিকিদের ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনে আবি যায়েদ (২) এর মতো আলেমগণ।
এবং কাজি আবু বকর ইবনুত তাইয়্যেব (৩) তাদের সম্পর্কে তাদের গোপন রহস্য উন্মোচনে একটি কিতাব রচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন: "কাশফুল আসরার ওয়া হাতকুল আস্তার" (গোপন রহস্য উন্মোচন ও পর্দা ছিন্নকরণ) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১১)
_________
= وأبي الحسن الأشعري، وأبي الحسن علي بن مهد الطبري والقاضي أبي بكر بن الباقلاني وأمثالهم، أقرب إلى السنة، وأتبع لأحمد بن حنبل وأمثاله من أهل خرسان المائلين إلى طريقة ابن كلاب، ولهذا كان القاضي أبو بكر بن الطيب يكتب في أجوبته أحياناً: محمد بن الطيب الحنبلي، كما كان يقول الأشعري. إذ كان الأشعري وأصحابه منتسبين إلى أحمد بن حنبل وأمثاله من أئمة السنة، وكان الأشعري أقرب إلى مذهب أحمد بن حنبل وأهل السنة من كثير من المتأخرين المنتسبين إلى أحمد الذين مالوا إلى بعض كلام المعتزلة، كابن عقيل، وصدقة بن الحسين، وابن الجوزي وأمثالهم) 0 انظر المنهاج 293/3 0 النبلاء 379/5، وترتيب المدارك 4/ 585 - 2 0 6، الديباج 228/2، تبيين كذب المفتري 17 2 - 26 2.
(4) هذا الكتاب له اسمان، الأول ما ذكره الشيخ، ومختصر هو فضائح الباطنية أو الرد على الباطنية، وهذا الكتاب لم أره ولم أسمع أنه طبع، بل يظن أنه مفقود، وقد ذكر الغزالي في الإحياء 2/ 130 أنه استنبط ما فيه من كتاب الفضائح وقد ذكره ابن تيمية في مواضع ومما ذكره في المنهاج 8/ 14 و 258 (وقد صنف العلماء كتباً في كشف أسرارهم وهتك أستارهم مثل كتاب القاضي أبي بكر الباقلاني والقاضي عبد الجبار الهمداني وكتاب الغزالي ونحوهم) . ونقل منه أسلوب دعوة هو الباطنية ومنهجها في المنهاج 8/ 479 - 86 4 ومما نقل (قد اتفق جميع الباطنية، وكل مصنف لكتاب ورسالة منهم في ترتيب الدعوة المضلة، على أن من سبيل الداعي إلى دينهم ورجسهم. . فقالوا للداعي: يجب عليك إذا وجدت من تدعوه مسلماً: أن تجعل التشيع عنده دينك وشعارك، واجعل المدخل عليه من جهة ظلم السلف، وقتلهم الحسين، وسبيهم نساءه وذريته، والتبري من تيم وعدي، وبني أمية والعباس. . وأن علياً إله يعلم الغيب، مفوض إليه خلق العالم، وما أشبه ذلك من أعاجيب الشيعة وجهلهم؟ فإنهم أسرع إلى إجابتك بهذا الناموس. . . . فإذا آنست من بعض الشيعة عند الدعوة إجابة ورشداً أوقفته على مثالب علي وولده، وعرفته حقيقته الحق لمن هو، وفيمن هو، وباطل البطلان كل ما عليه أهل ملة محمد صلى الله عليه وسلم وغيره من الرسل.
ومن وجدته صابئا. فأدخله بالأشانيع وتعظيم الكواكب. . . .، ومن وجدته مجوسياً اتفقت معه، في الأصل، في الدرجة الرابعة، من تعظيم النار والنور والشمس والقمر. . فإنهم مع الصائبة أقرب الأمم إلينا، وأولاهم بنا. . . . . . وإن ظفرت بيهودي فادخل عليه جهة انتظار المسيح. . وعظم السبت عندهم وتقرب إليهم بذلك. . . . وإن وجدت المدعى نصرانياً فادخل عليه بالطعن على اليهود والمسلمين جميعاً، وصحة قولهم في الثالوث. وعظم الصليب عندهم وعرفهم تأويله. .) إلى آخر الزندقة المحضة، نعوذ بالله من ذلك كله.
وهذا الكتاب للباقلاني - عجل الله الظفر به - صحيح النسبة إليه فقد ذكره ابن السبكي في طبقاته في مواطن ونقل منه ، كما في ترجمته علي بن محمد بن الحسين ، وترجمته محمد بن الموفق بن سعيد وذكره ابن كثير في ترجمته من البداية والنهاية 11/350 ، وحاجي خليفة بل وعامة من ترجموا للباقلاني. وسبق نقل من النجوم الزاهرة من هذا الكتاب. =
= এবং আবুল হাসান আল-আশআরি, আবুল হাসান আলি বিন মাহদি আত-তবারি এবং কাজি আবু বকর বিন আল-বাকিললানি ও তাঁদের মতো ব্যক্তিবর্গ সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী এবং ইবনে কুল্লাবের পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়া খুরাসানবাসীদের তুলনায় আহমাদ বিন হাম্বল ও তাঁর অনুসারীদের অধিক অনুসরণকারী। এই কারণেই কাজি আবু বকর বিন আত-তাইয়্যেব মাঝে মাঝে তাঁর উত্তরসমূহে লিখতেন: মুহাম্মদ বিন আত-তাইয়্যেব আল-হাম্বলি, যেমনটি আল-আশআরি বলতেন। কারণ আল-আشআরি এবং তাঁর সঙ্গীরা আহমাদ বিন হাম্বল ও সুন্নাহর অন্যান্য ইমামদের দিকে নিজেদের নিসবত করতেন। আল-আশআরি আহমাদ বিন হাম্বল এবং আহলে সুন্নাহর মাযহাবের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন তাঁদের অনেকের তুলনায়, যারা পরবর্তীকালে আহমাদের দিকে নিজেদের নিসবত করলেও মুতাযিলাদের কিছু কথার দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন, যেমন ইবনুল আকিল, সাদাকা বিন আল-হুসাইন, ইবনুল জাওজি ও তাঁদের মতো ব্যক্তিবর্গ। দেখুন: আল-মিনহাজ ৩/২৯৩; আন-নুবালা ৫/৩৭৯; তারতিব আল-মাদারিক ৪/৫৮৫-৬০৬; আদ-দিবাজ ২/২২৮; তাবয়িন কাযিব আল-মুফতারি ১৭২-২৬২।
(৪) এই বইটির দুটি নাম রয়েছে। প্রথমটি যা শায়খ উল্লেখ করেছেন, আর সংক্ষিপ্তটি হলো 'ফাদায়িহ আল-বাতিনিয়্যাহ' বা 'আর-রাদ্দ আলা আল-বাতিনিয়্যাহ'। এই বইটি আমি দেখিনি এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে বলেও শুনিনি, বরং ধারণা করা হয় যে এটি হারিয়ে গেছে। আল-গাজালি 'আল-ইহয়া' ২/১৩০-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে যা আছে তা 'কিতাবুল ফাদায়িহ' থেকে আহরণ করেছেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ বিভিন্ন স্থানে এর কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে 'আল-মিনহাজ' ৮/১৪ ও ২৫৮-এ তিনি বলেছেন: (উলামায়ে কেরাম তাদের গোপন রহস্য উন্মোচন এবং তাদের পর্দা ফাঁশ করার জন্য অনেক কিতাব রচনা করেছেন, যেমন কাজি আবু বকর আল-বাকিললানি, কাজি আব্দুল জব্বার আল-হামাদানি এবং আল-গাজালির কিতাব ও তাঁদের অনুরূপ কিতাবসমূহ)। তিনি সেখান থেকে বাতিনিদের দাওয়াতের পদ্ধতি এবং তাদের কর্মপন্থা সম্পর্কে 'আল-মিনহাজ' ৮/৪৭৯-৪৮৬-এ উদ্ধৃতি দিয়েছেন। উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যে রয়েছে: (সমস্ত বাতিনি এবং পথভ্রষ্ট দাওয়াতের ধারা বিন্যাসের ক্ষেত্রে কিতাব ও রিসালাহ রচয়িতাগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তাদের দ্বীন এবং অপবিত্রতার দিকে আহ্বানকারীর পন্থার ক্ষেত্রে... তারা দাঈর উদ্দেশ্যে বলেছে: যখন তুমি এমন কাউকে পাবে যাকে দাওয়াত দিবে এবং সে মুসলিম হবে, তখন তোমার উচিত তার কাছে শিয়া মতবাদকে তোমার দ্বীন ও প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা। তার কাছে প্রবেশের পথ বানাও পূর্বসূরিদের প্রতি জুলুম, তাদের কর্তৃক হুসাইনের হত্যাকাণ্ড, তাঁর পরিবারের নারী ও সন্তানদের বন্দীকরণ এবং তায়িম, আদি, বনু উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টিকে। ... আর আলি হলেন ইলাহ যিনি গায়িব জানেন, বিশ্বজগত সৃষ্টির দায়িত্ব তাঁকে অর্পণ করা হয়েছে; শিয়াদের এই জাতীয় অদ্ভুত বিষয় ও তাদের মূর্খতাসমূহ। কারণ তারা এই চাতুর্যের মাধ্যমে তোমার আহ্বানে দ্রুত সাড়া দিবে। ... অতঃপর যখন তুমি দাওয়াতের সময় কোনো শিয়াদের পক্ষ থেকে সাড়া ও সঠিক পথের দিশা দেখবে, তখন তাকে আলি ও তাঁর সন্তানদের দোষত্রুটি সম্পর্কে অবগত করবে এবং তাকে জানাবে যে হাকিকতে হক আসলে কার এবং কাদের মধ্যে রয়েছে, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিল্লাতের অনুসারী এবং অন্যান্য রাসুলদের অনুসারীরা যা কিছুর ওপর রয়েছে তার সবই ডাহা মিথ্যা বা বাতিল।
আর যাকে তুমি সাবেয়ি পাবে, তাকে জঘন্য বিষয়াদি এবং নক্ষত্র পূজার মাধ্যমে প্রবিষ্ট করাও। ... আর যাকে তুমি অগ্নিপূজক পাবে, তার সাথে মূলনীতির চতুর্থ স্তরে গিয়ে একমত হও যেমন আগুন, আলো, সূর্য ও চন্দ্রের সম্মান করা। ... কারণ সাবেয়িদের পাশাপাশি তারাই আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী জাতি এবং আমাদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য। ... আর যদি তুমি কোনো ইহুদিকে বাগে আনতে পারো, তবে মসীহের অপেক্ষার দিক থেকে তার কাছে প্রবেশ করো। ... তাদের কাছে শনিবারের মাহাত্ম্য বর্ণনা করো এবং এর মাধ্যমে তাদের নিকটবর্তী হও। ... আর যদি দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে খ্রিস্টান পাও, তবে ইহুদি ও মুসলিমদের একত্রে নিন্দা করার মাধ্যমে এবং ত্রিত্ববাদ সম্পর্কে তাদের বক্তব্যের সত্যতা তুলে ধরে তার কাছে প্রবেশ করো। তাদের কাছে ক্রুশের মাহাত্ম্য বর্ণনা করো এবং তাদের কাছে এর ব্যাখ্যা তুলে ধরো...) ঘোর যিন্দিকি বা ধর্মহীনতার শেষ সীমা পর্যন্ত; আমরা এ সমস্ত কিছু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।
আল-বাকিললানির এই কিতাবটি—আল্লাহ যেন এটি প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করেন—তার প্রতি এর নিসবত সঠিক। ইবনে সুবকি তাঁর 'তাবাকাত'-এ বিভিন্ন স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমনটি তিনি আলি বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন এবং মুহাম্মদ বিন আল-মুওয়াফফাক বিন সাঈদের জীবনীতে করেছেন। ইবনে কাসির 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ' ১১/৩৫০-এ তাঁর জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন, হাজি খলিফাও করেছেন, এমনকি যারা আল-বাকিললানির জীবনী লিখেছেন তাদের প্রায় সবাই এটি উল্লেখ করেছেন। এর আগে 'আন-নুজুম আজ-জাহিরহ' থেকে এই কিতাবটির উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে। =
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১২)
_________
= هذا ويوجد لجمال الدين أبي الفضائل الصفدي (ت 696 هـ) كتاب باسم كشف الأسرار وهتك الأستار في ثلاثة مجلدات في مكتبة مراد ملا بتركيا أرقامها من (158 - 162) وفي متحف طبقو سراى من (1865 - 1867) المجلدات الثلاث في 767 ورقة مكتوبة سنة 1 69 هـ ونسخ أخرى في السليمانية رقم 133 ورستم باشا 45، 46 وشهيد علي باشا 550 ورقة رقم 157 وأظنه في التفسير، ولا أجزم بذلك.
هذا وأشار الشيخ في مواطن من المنهاج إلى من صنف في كشف أسرارهم وهتك أستارهم كما في 8/ 14 فمن عد:
1- القاضي عبد الجبار الهمذاني المعتزلي (415) ولعل الشيخ يقصد كتابه المنية والأمل شرح الملل والنحل وهو مطبوع حديثاً، وله طبعة سنة 1972 باسم فرق وطبقات المعتزلة.
2- أبو بكر ابن الطيب بن الباقلاني (403) وسبقت الإشارة إلى كتابه في ترجمته.
3- أبو يعلى ابن الفراء الحنبلي (458) ولا أعلم له كتاباً فيهم مطبوعاً أو مخطوطاً لكن ذكر المترجمون له أن له كتاباً اسمه الرد على الباطنية.
4- أبو حامد الغزالي (505) وسبق ذكر كتابه وترجمته.
5- أبو الوفاء علي بن عقيل الحنبلي (513) وهذا له كتاب اسمه كتاب الفرق له نسخة خطية بالهند في مكتبه رجتا رامبور رقمه 1/ 512 (119) .
6- أبو عبد الله محمد الشهرستاني (548) والظاهر أن المقصود بكتابه الملل والنحل الكتاب المشهور وفيه تحدث عن الباطنية وفرقها بالتفصيل.
وممن ألف في كشفهم أيضا أبو محمد عبد الرحمن المعروف بأبي شامة (665) ألف كتابا سماه كشف ما كان عليه بنو عبيد من الكفر والكذب والمكر والكيد ذكره في الذيل على الروضتين ص 39 ونسبة له ابن كثير في التاريخ 2 1/ 87 2 والذهبي في معرفة القراء الكبار 2/538 بأسماء نحو هذا.
জামালুদ্দিন আবুল ফাদায়েল আস-সাফাদি (মৃত্যু ৬৯৬ হিজরি)-এর ‘কাশফুল আসরার ওয়া হাতকুল আস্তার’ নামে তিন খণ্ডের একটি গ্রন্থ রয়েছে। এটি তুরস্কের মুরাদ মোল্লা লাইব্রেরিতে ১৫৮-১৬২ নম্বরে এবং তোপকাপি প্রাসাদ মিউজিয়ামে ১৮৬৫-১৮৬৭ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। তিনটি খণ্ড ৭৬৭ পৃষ্ঠায় ১০৬৯ হিজরিতে লিখিত। এর অন্যান্য পাণ্ডুলিপি সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে ১৩৩ নম্বর, রুস্তম পাশা লাইব্রেরিতে ৪৫ ও ৪৬ নম্বর এবং শহীদ আলী পাশা লাইব্রেরিতে ১৫৭ নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত আছে। আমার ধারণা এটি তাফসির বিষয়ক গ্রন্থ, তবে আমি এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত নই।
শায়খ (ইবনে তাইমিয়া) ‘আল-মিনহাজ’ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে তাদের (বাতিনিদের) রহস্য উন্মোচন ও গোপনীয়তা ফাঁস করার বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেমনটি ৮/১৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
১- কাজী আব্দুল জব্বার আল-হামদানি আল-মুতাযিলি (মৃত্যু ৪১৫ হিজরি)। সম্ভবত শায়খ তাঁর ‘আল-মুনইয়া ওয়াল আমাল শারহুল মিলাল ওয়ান নিহাল’ গ্রন্থটি বুঝিয়েছেন, যা সম্প্রতি মুদ্রিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে এটি ‘ফিরাক ওয়া তাবাকাতুল মুতাযিলা’ নামেও প্রকাশিত হয়েছে।
২- আবু বকর ইবনুত তাইয়িব আল-বাকিলানি (মৃত্যু ৪০৩ হিজরি)। তাঁর জীবনীতে ইতিপূর্বে তাঁর গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৩- আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি)। তাদের বিষয়ে তাঁর কোনো মুদ্রিত বা পাণ্ডুলিপি গ্রন্থ সম্পর্কে আমি জানি না, তবে জীবনীকাররা উল্লেখ করেছেন যে, ‘আর-রাদ্দ আলাল বাতিনিয়্যাহ’ নামে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে।
৪- আবু হামিদ আল-গাজালি (মৃত্যু ৫০৫ হিজরি)। ইতিপূর্বে তাঁর গ্রন্থ ও জীবনীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৫- আবু আল-ওয়াফা আলী ইবনে আকিল আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৫১৩ হিজরি)। তাঁর ‘কিতাবুল ফিরাক’ নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে, যার একটি পাণ্ডুলিপি ভারতের রাজা রামপুর লাইব্রেরিতে ১/৫১২ (১১৯) নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত আছে।
৬- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আশ-শাহরাস্তানি (মৃত্যু ৫৪৮ হিজরি)। দৃশ্যত এখানে তাঁর প্রসিদ্ধ ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ গ্রন্থটিই উদ্দেশ্য, যেখানে তিনি বাতিনি সম্প্রদায় ও তাদের বিভিন্ন উপদল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তাদের স্বরূপ উন্মোচনে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, যিনি আবু শামাহ (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি) নামে পরিচিত, তিনিও রয়েছেন। তিনি ‘কাশফু মা কানা আলাইহি বানু উবাইদ মিনাল কুফরি ওয়াল কাযিবি ওয়াল মাকরি ওয়াল কাইদ’ (বনু উবাইদদের কুফরি, মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন) নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি এটি ‘যাইল আলার রওদাতাইন’ গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। ইবনে কাসির তাঁর ইতিহাসের ১২/৮৭২ পৃষ্ঠায় এবং যাহাবি ‘মা’রিফাতুল কুররাউল কিবার’ গ্রন্থের ২/৫৩৮ পৃষ্ঠায় প্রায় একই নামে এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
عداوة الباطنية والرافضة للمسلمين وصوره:والذين يوجدون في بلاد الإسلام من الإسماعيلية، والنصيرية، والدرزية (1) ، وأمثالهم من أتباعهم.
وهم الذين عاونوا التتر (2) على قتال المسلمين وكان وزير هولاكو النصير
--------------------------------------------
মুসলিমদের প্রতি বাতিনিয়্যাহ ও রাফিযাহদের শত্রুতা এবং এর স্বরূপ:এবং যারা ইসলামের দেশসমূহে ইসমাইলীয়, নুসাইরী, দ্রুজ (১) এবং তাদের অনুসারীদের মতো বিদ্যমান রয়েছে।
এরাই মূলত মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাতারীদের (২) সাহায্য করেছিল এবং হালাকু খানের উজির ছিল নাসির...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
الطوسي (1) من أئمتهم. وهؤلاء أعظم الناس عداوة للمسلمين وملوكهم، ثم الرافضة بعدهم فالرافضة يوالون من يعادي أهلَ السنة والجماعة، يوالون التتار، ويوالون النصارى.
وقد كان بالساحل بين الرافضة (2) ، وبين الفرنج مهادنة؛ حتى صارت الرافضة تحملُ إلى قبرص (3) خيل المسلمين، وسلاحهم، وغلمان السلطان، وغيرهم من الجند والصبيان، وإذا انتصر المسلمون على التتار أقاموا المأتم
--------------------------------------------
তূসী (১) তাদের ইমামদের অন্যতম। আর এই লোকেরা মুসলিমদের এবং তাদের শাসকদের প্রতি শত্রুতার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কট্টর; এরপর রয়েছে রাফেযীরা। রাফেযীরা তাদের সাথে মিত্রতা করে যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের শত্রুতা করে, তারা তাতারীদের সাথে মিত্রতা করে এবং খ্রিস্টানদের সাথে মিত্রতা করে।
উপকূলীয় অঞ্চলে রাফেযী (২) এবং ফরাসীদের (ক্রুসেডার) মধ্যে যুদ্ধবিরতি ছিল; এমনকি অবস্থা এমন হয়েছিল যে, রাফেযীরা সাইপ্রাসে (৩) মুসলিমদের ঘোড়া, তাদের অস্ত্রশস্ত্র, সুলতানের দাস এবং অন্যান্য সৈন্য ও কিশোরদের নিয়ে যেত। আর যখনই মুসলিমরা তাতারীদের ওপর বিজয়ী হতো, তখন তারা শোক পালন করত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
والحزن، وإذا انتصر التتار على المسلمين أقاموا الفرح والسرور، وهم الذين أشاروا على التتر بقتل الخليفة (1) ، وقتل أهل بغداد، ووزير بغداد ابن العلقمي (2) هو الذي خامر (3) على المسلمين، وكاتب التتار، حتى أدخلهم أرض العراق بالمكر والخديعة، [ونهى الناس عن قتالهم] (4) ، وقد عرف العارفون بالإسلام أن الرافضة تميل مع أعداء الدين. ولما كانوا ملوك القاهرة، كان
--------------------------------------------
...এবং দুঃখ প্রকাশ করে। আর যখন তাতারীরা মুসলমানদের ওপর বিজয়ী হয়, তখন তারা আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে। তারাই তাতারীদের খলিফাকে হত্যা করার (১) এবং বাগদাদবাসীদের হত্যা করার পরামর্শ দিয়েছিল। বাগদাদের উজির ইবনুল আলকামিই (২) মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল (৩) এবং তাতারীদের কাছে পত্র লিখেছিল, এমনকি শেষ পর্যন্ত সে চাতুর্য ও প্রতারণার মাধ্যমে তাদের ইরাকের ভূখণ্ডে প্রবেশ করিয়েছিল এবং [লোকদের তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিষেধ করেছিল] (৪)। ইসলাম সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ জানেন যে, রাফেযীরা দ্বীনের শত্রুদের প্রতি ঝুঁকে থাকে। আর যখন তারা কায়রোর শাসক ছিল, তখন তারা ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
وزيرهم مرة يهودياً، ومرة نصرانياً أرمنياً (1) وقويت النصارى بسبب ذلك النصراني الأرمني، وبنوا كنائس كثيرةً بأرض مصر، في دولة أولئك الرافضة والمنافقين.
وكانوا ينادون بين القصرين: من لعن وسب فله دينارٌ وأردبّ وفي أيامهم أخذت النصارى ساحل الشام من المسلمين، حتى فتحه نور الدين (2) وصلاح الدين (3) .
--------------------------------------------
তাদের মন্ত্রী কখনও ছিল ইহুদি, আবার কখনও আরমানি খ্রিস্টান (১)। সেই আরমানি খ্রিস্টানের কারণে খ্রিস্টানরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং তারা মিশরের জমিনে প্রচুর গির্জা নির্মাণ করে; ওই সকল রাফেজি ও মুনাফিকদের শাসন আমলে।
আর তারা দুই প্রাসাদের মাঝখানে ঘোষণা করত: "যে লানত করবে এবং গালিগালাজ করবে, তার জন্য রয়েছে একটি দিনার ও এক আরদাব্ব (শস্য পরিমাপের একক)।" তাদের সময়ে খ্রিস্টানরা মুসলিমদের কাছ থেকে শাম অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা দখল করে নিয়েছিল, অবশেষে নুরউদ্দিন (২) ও সালাহউদ্দিন (৩) তা জয় করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
وفي أيامهم جاءت الفرنج إلى بلبيس (1) ، وغُلبوا من الفرنج؛ فإنهم منافقون، وأعانوهم النصارى والله لا ينصر المنافقين، الذين هم يوالون النصارى، فبعثوا إلى نور الدين يطلبون النجدة، فأمدهم بأسد الدين (2) وابن أخيه صلاح الدين. فلما جاءت الغُزّى (3) المجاهدون إلى ديار مصر، قامت الرافضة مع النصارى، فطلبوا قتال الغزّاة المجاهدين المسلمين، وجرت فصولٌ (4) يعرفها الناس، حتى قتل صلاح الدين مقدّمهم شاور (5) .
--------------------------------------------
আর তাদের দিনগুলোতে ক্রুসেডাররা বিলবাইসে (১) আসে এবং তারা ক্রুসেডারদের কাছে পরাজিত হয়; কারণ তারা ছিল মুনাফিক, আর খ্রিস্টানরা তাদের সাহায্য করেছিল। আর আল্লাহ মুনাফিকদের সাহায্য করেন না, যারা খ্রিস্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করে। তখন তারা নূরুদ্দীনের কাছে সাহায্য চেয়ে পাঠালে তিনি আসাদ উদ্দীন (২) এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সালাহউদ্দীনকে পাঠিয়ে তাদের সাহায্য করেন। অতঃপর যখন মুজাহিদ যোদ্ধারা (৩) মিসর ভূখণ্ডে আগমন করল, তখন রাফেজিরা খ্রিস্টানদের পক্ষ নিল এবং তারা মুসলিম মুজাহিদ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানাল। সেখানে এমন সব ঘটনা (৪) ঘটেছিল যা মানুষ জানে, এমনকি সালাহউদ্দীন তাদের নেতা শাওয়ারকে (৫) হত্যা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
الكنائس القديمة في بر مصر وحكمها:وقد كان في بر مصر كنائس قديمة، لكن تلك الكنائس أقرهم المسلمون عليها حين فتحوا البلاد؛ لأن الفلاحين كلهم كانوا نصارى، ولم يكونوا مسلمين، وإنما كان المسلمون الجندَ خاصة، فأقرهم كما أقر النبي صلى الله عليه وسلم اليهود على خيبر (1) لما فتحها؛ لأن اليهود كانوا فلاحين، وكان المسلمون مشتغلين بالجهاد. ثم إنه بعد هذا في خلافة عمر بن الخطاب رضي الله عنه لما كثر المسلمون واستغنوا عن اليهود، أجلاهم أمير المؤمنين عن خيبر، كما أقر بذلك النبي صلى الله عليه وسلم حيث قال: "أخرجوا اليهود والنصارى من جزيرة العرب" (2) ، حتى لم يبق في خيبر يهودي. وهكذا القرية التي يكون أهلها نصارى وليس عندهم مسلمون، ولا مسجدٌ للمسلمين، فإذا أقرهم المسلمون على كنائسهم التي فيها، جاز ذلك، كما فعله المسلمون.
--------------------------------------------
মিসর ভূখণ্ডের প্রাচীন গির্জা এবং সেগুলোর বিধান:মিসর ভূখণ্ডে প্রাচীন কিছু গির্জা ছিল, তবে মুসলিমরা যখন দেশটি জয় করেন, তখন তারা তাদের সেসব গির্জার ওপর বহাল রেখেছিলেন; কারণ কৃষকদের সবাই ছিল খ্রিস্টান এবং তারা মুসলিম ছিল না। বরং মুসলিমরা ছিল প্রধানত সেনাবাহিনী। ফলে তিনি তাদের বহাল রেখেছিলেন যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বিজয়ের পর (১) সেখানকার ইহুদিদের তাদের অবস্থানে বহাল রেখেছিলেন; কারণ ইহুদিরা ছিল কৃষক আর মুসলিমরা জিহাদে লিপ্ত ছিলেন। এরপর যখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকাল এল এবং মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল ও তারা ইহুদিদের থেকে অমুখাপেক্ষী হলো, তখন আমিরুল মুমিনীন তাদের খায়বার থেকে বহিষ্কার করেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন করেছিলেন যেখানে তিনি বলেছিলেন: "তোমরা আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বের করে দাও" (২), এমনকি খায়বারে কোনো ইহুদি অবশিষ্ট রইল না। অনুরূপভাবে যে জনপদবাসীর সবাই খ্রিস্টান এবং তাদের মাঝে কোনো মুসলিম নেই, আর মুসলিমদের কোনো মসজিদও নেই, সেখানে মুসলিমরা যদি তাদের গির্জাগুলোর ওপর তাদের বহাল রাখে, তবে তা জায়েজ হবে, যেমনটি মুসলিমরা করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
_________
= وأصل الحديث في الصحيحين عن ابن عباس مرفوعاً (أخرجوا المشركين من جزيرة العرب وأجيزوا الوفد بنحو ما كنت أجيزهم) . قاله عليه السلام قبل موته بثلاث، فهو في البخاري في كتاب الجزية -باب إخراج اليهود من جزيرة العرب 3/ 1155. ومسلم في كتاب الوصية- باب ترك الوصية لمن ليس له شيء يوحى فيه رقم 1637، ولا شك أن اليهود والنصارى من المشركين. كما في آية براءة {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أرباباً من دون الله والمسيح ابن مريم} الآية.
وذكر الهيثمي أن الطبراني أخرج الحديث عن أم سلمة-رضي الله عنها -بلفظ أخرجوا اليهود والنصارى من جزيرة العرب في المعجم الكبير من طريقين وقال: رجال أحدهما رجال الصحيح. وفي الباب حديث عائشة المشهور المرفوع (لا يجتمع أو لا ينزل بجزيرة العرب دينان) . رواه أحمد والطبراني في الأوسط. قال الهيثمي:= =رجال أحمد رجال الصحيح غير ابن إسحاق وفد صرح بالسماع أ. هـ. وهو محمد بن إسحاق بن يسار المطلبي المدني صدوق يدلس، وعده الحافظ في المرتبة الرابعة من مراتب المدلسين، وهم من اتفق على أنه لا يحتج بحديثهم إلا ما صرحوا فيه بالسماع لكثرة تدليسهم عن الضعفاء، واستنكر الذهبي ما انفرد به حتى لو صرح بالسماع. ورواه عبد الرزاق في مصنفه رقم 19359، وكذا البيهقي مرسلاً 9/ 219.
وفي بعض الطرق (لا يجتمع بأرض الحجاز دينان) عند عبد الرزاق 7209 وغيره.
وحدود جزيرة العرب: ما بين البحر الأحمر والخليج العربي أفقا وطولاً من حضرموت إلى ريف جنوب العراق وأطراف الشام الجنوبية، كما حدده بذلك جماعه من السلف، كما في السنن الكبرى 9/ 209، وروى البيهقي فيها بسنده إلى الإمام مالك بن أنس أنه قال: جزيرة العرب: المدينة، ومكة، واليمن، وأما مصر فمن بلاد المغرب، والشام من بلاد الروم، والعراق من بلاد فارس.
هذا وقد عمل عمر بن الخطاب -الخليفة الراشد الثاني رضي الله عنه -بأمره صلى الله عليه وآله وسلم فأجلى اليهود عن خيبر وما حولها إلى أذرعات الشام - تسمى الآن درعا بالأردن -وهي خارج الجزيرة العربية، وكان قد بدأ صلى الله عليه وآله وسلم بإجلائهم عن المدينة إلى خيبر، وضرب رضي الله عنه لليهود والنصارى والمجوس بالمدينة إقامة ثلاثة أيام يتسوقون ويقضون حوائجهم، ولا يقيم أحد منهم فوق ذلك.
كما كان له موقف من موالي المسلمين وعبيدهم من هؤلاء ما هو مشهور ومعروف، فلله دره، ورفعه الله بذا منزلته في جناته.
أما هذا الزمان، فقد عصى الناس أمر الله وأمر رسوله صلى الله عليه وآله وسلم، وطريقة خلفائه فاستقدموا اليهود والنصارى، بل الوثنين من البوذيين والهندوس وأمثالهم إلى جزيرة العرب، وأرض الحجاز، حتى غدوا بالكثرة بمكان -ولا حول ولا قوة إلا بالله - بدعوى الحاجة ولا حاجة. هذا مع أن المسلمين فيهم كفاية وسداد والحمد لله، ولكن أكثر الناس لا يرعون ولا يشكرون. أسأل الله للمسلمين الهداية والرشاد.
= মূল হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমে ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে (তোমরা আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দাও এবং প্রতিনিধি দলকে উপঢৌকন দাও যেমনটি আমি দিতাম)। তিনি (সা.) তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগে এটি বলেছিলেন। এটি বুখারির 'কিতাবুল জিজয়া'-এর 'আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদিদের বের করে দেওয়া' অনুচ্ছেদে (৩/১১৫৫) এবং মুসলিমে 'কিতাবুল ওয়াসিয়্যা'-এর 'যাঁর কাছে ওহী করা হয়েছে এমন কিছু নেই তাঁর জন্য অসিয়ত ছেড়ে দেওয়া' অনুচ্ছেদে (নং ১৬৩৭) রয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি বারাআতের আয়াতে রয়েছে: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়ম তনয় মসীহকেও...}। আয়াতে শেষ পর্যন্ত।
হাইসামি উল্লেখ করেছেন যে তাবারানি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে দুটি সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দ হলো: 'আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বের করে দাও' এবং তিনি বলেছেন: একটি সূত্রের বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী। এই অধ্যায়ে আয়েশার প্রসিদ্ধ মারফু হাদিস রয়েছে (আরব উপদ্বীপে দুটি দ্বীন একত্র হবে না বা অবস্থান করবে না)। এটি আহমাদ এবং তাবারানি আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন: আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী, তবে ইবনে ইসহাক ব্যতীত, আর তিনি শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার আল-মুত্তালিবি আল-মাদানি, যিনি সত্যবাদী কিন্তু তাদলিস করতেন। হাফেজ তাকে তাদলিসকারীদের চতুর্থ স্তরে গণনা করেছেন, যাদের হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে ঐকমত্য রয়েছে যতক্ষণ না তারা স্পষ্ট শ্রবণের কথা উল্লেখ করেন, কারণ তারা দুর্বলদের থেকে প্রচুর তাদলিস করতেন। যাহাবি তার একক বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এমনকি তিনি যদি স্পষ্ট শ্রবণের কথা উল্লেখও করেন। আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফে (নং ১৯৩৫৯) এবং বায়হাকি মুরসাল হিসেবে (৯/২১৯) এটি বর্ণনা করেছেন।
কিছু বর্ণনায় আব্দুর রাজ্জাকের নিকট (৭২০৯) ও অন্যান্য স্থানে 'হিজাজের ভূমিতে দুটি দ্বীন একত্র হবে না' শব্দে এসেছে।
আরব উপদ্বীপের সীমানা হলো: আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে লোহিত সাগর ও আরব উপসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল, যা হাজরামাউত থেকে দক্ষিণ ইরাকের গ্রামাঞ্চল এবং শামের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, যেমনটি একদল সালাফ নির্ধারণ করেছেন। যেমনটি সুনানে কুবরাতে (৯/২০৯) রয়েছে। বায়হাকি সেখানে স্বীয় সনদে ইমাম মালিক বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আরব উপদ্বীপ হলো মদিনা, মক্কা ও ইয়ামান। আর মিসর মাগরিব দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত, শাম রোম দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং ইরাক পারস্য দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় খুলাফায়ে রাশেদ ওমর বিন খাত্তাব (রা.) নবী (সা.)-এর নির্দেশের ওপর আমল করেছেন এবং তিনি ইহুদিদের খায়বার ও এর আশপাশ থেকে শামের আজরুয়াত—যা বর্তমানে জর্ডানের দারা নামে পরিচিত—সেখানে বহিষ্কার করেছিলেন, যা আরব উপদ্বীপের বাইরে অবস্থিত। অথচ নবী (সা.) তাদের মদিনা থেকে খায়বারে বহিষ্কার করা শুরু করেছিলেন। তিনি (রা.) মদিনায় ইহুদি, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের কেনাকাটা ও তাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য তিন দিন অবস্থানের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং তাদের কেউ এর বেশি অবস্থান করতে পারত না।
তেমনিভাবে মুসলমানদের এসব দাস ও গোলামদের বিষয়ে তাঁর যে অবস্থান ছিল তা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত। আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ এর মাধ্যমে জান্নাতে তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করুন।
কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষ আল্লাহর আদেশ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর আদেশ এবং তাঁর খলিফাদের পথ অমান্য করেছে। তারা ইহুদি, খ্রিস্টান এমনকি বৌদ্ধ ও হিন্দুদের মতো মূর্তিপূজকদেরও আরব উপদ্বীপ ও হিজাজের ভূমিতে নিয়ে এসেছে, এমনকি তারা সেখানে সংখ্যাধিক্য লাভ করেছে—আর আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই—প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে অথচ এর কোনো প্রয়োজন নেই। অথচ মুসলমানদের মাঝে পর্যাপ্ত জনবল ও সক্ষমতা রয়েছে, সকল প্রশংসা আল্লাহর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ সচেতন নয় এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আমি আল্লাহর কাছে মুসলমানদের জন্য হেদায়েত ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১২০)
وأما إذا سكنها المسلمون وبنوا بها مساجدهم، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تصلح قبلتان بأرض" (1) . وفي أثر آخر: "لا يجتمع بيت رحمة وبيت عذاب" (2) . والمسلمون قد كثروا بالديار المصرية، وعمرت في هذه الأوقات؛ حتى صار أهلها بقدْر ما كانوا في زمن صلاح الدين مراتٍ متعددة. وصلاح الدين وأهل بيته كانوا يذلون النصارى، ولم يكونوا يستعملون منهم أحداً من أمرٍ من أمور المسلمين أصلاً.
ولهذا كانوا مؤيدين منصورين على الأعداء مع قلة المال والعدد. فيما قويت شوكة النصارى والتتار بعد موت العادل (3) ، أخي صلاح الدين، حتى إن بعض الملوك أعطاهم بعض مدائن المسلمين. وحدثت حوادث بسبب التفريط فيما أمر الله (4) به ورسوله صلى الله عليه وسلم، فإن الله تعالى يقول: {وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ} [سورة الحديد - 25] .
--------------------------------------------
আর যখন সেখানে মুসলমানরা বসবাস শুরু করে এবং সেখানে তারা তাদের মসজিদসমূহ নির্মাণ করে, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এক জমিনে দুটি কিবলা সঠিক নয়" (১)। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "রহমতের ঘর এবং আযাবের ঘর একত্রে অবস্থান করতে পারে না" (২)। মিশরীয় ভূখণ্ডে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমান সময়ে তা আবাদ হয়েছে; এমনকি এর অধিবাসীদের সংখ্যা সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সালাহুদ্দীন এবং তাঁর পরিবার খ্রিস্টানদের বশীভূত করে রাখতেন এবং তারা মুসলমানদের কোনো বিষয়ে তাদের কাউকে আদৌ নিয়োগ করতেন না।
এই কারণেই তারা সম্পদ ও লোকবলের স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী ছিলেন। সালাহুদ্দীনের ভাই আল-আদিল (৩)-এর মৃত্যুর পর খ্রিস্টান এবং তাতারদের শক্তি বৃদ্ধি পায়, এমনকি কোনো কোনো রাজা তাদের হাতে মুসলমানদের কিছু শহর হস্তান্তর করে দেন। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে শিথিলতা প্রদর্শনের কারণে নানাবিধ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, কেননা মহান আল্লাহ বলেন: "যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন কে অদৃশ্যে তাঁকে ও তাঁর রাসূলগণকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।" [সূরা আল-হাদীদ - ২৫] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১২১)
وقال الله تعالى: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوْا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنْ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الأُمُورِ} [سورة الحج - 41] .
فكان ولاة الأمور الذين يهدمون كنائسهم ويقيمون أمر الله فيهم كعمر بن عبد العزيز (1) وهارون الرشيد (2) ونحوهما مؤيدين منصورين، وكان الذين هم بخلاف ذلك مغلوبين مقهورين.
وإنما كثرت الفتن بين المسلمين، وتفرقوا على ملوكهم من حين دخل النصارى مع ولاة الأمر بالديار المصرية، في دولة المعز (3) ، ووزارة الفائز، وتفرق البحرية، وغير ذلك. والله يقول في كتابه: {وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ * إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ * وَإِنَّ جُندَنَا لَهُم الْغَالِبُونَ} [الصافات
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি যদি জমিনে ক্ষমতা দান করি, তবে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণাধীন।} [সূরা আল-হাজ্জ - ৪১]।
সুতরাং সেসব শাসক যারা তাদের গির্জাগুলো ধ্বংস করতেন এবং তাদের মধ্যে আল্লাহর বিধান কার্যকর করতেন, যেমন উমর বিন আব্দুল আজিজ (১) এবং হারুনুর রশিদ (২) ও তাদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গ, তারা ছিলেন সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী। পক্ষান্তরে যারা এর বিপরীতে ছিল তারা ছিল পরাজিত ও পরাভূত।
বস্তুত মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সেই সময় থেকে, যখন থেকে মিশরের ভূখণ্ডে শাসকদের সাথে নাসারারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে— মুইয-এর (৩) শাসনকাল এবং ফায়েজ-এর উজিরগিরির সময়ে, এবং বাহরিয়াদের বিভক্তি ও অন্যান্য কারণে। আর আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেন: {আর অবশ্যই আমার রাসূল বান্দাদের পক্ষে আমার বাণী পূর্বেই নির্ধারিত হয়েছে যে, নিশ্চয়ই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী।} [আস-সাফফাত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১২২)
171 - 173] وقال تعالى في كتابه: {إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الأَشْهَادُ} [غافر - 51] . وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} [سورة محمد - 7] .
وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق، لا يضرهم من خالفهم، ولا من خذلهم حتى تقوم الساعة" (1) . وكل من عرف سير الناس وملوكهم رأى كل من كان أنصر لدين الإسلام، وأعظم جهاداً لأعدائه، وأقوم بطاعة الله ورسوله، أعظم نصرة وطاعة وحرمة، من عهد أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه وإلى هذا الزمان.
حكم هدم كنائس النصارى في أرض العنوة:وقد أخذ المسلمون منهم كنائس كثيرةً من أرض العنوة، بعد أن أُقروا عليها في خلافة عمر بن عبد العزيز، وغيره من الخلفاء (2) ، وليس في المسلمين من
--------------------------------------------
১৭১ - ১৭৩] এবং মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদের এবং মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবনে এবং সেদিন সাহায্য করব যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে} [গাফির - ৫১]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন} [সূরা মুহাম্মদ - ৭]।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের বিরোধিতা করবে কিংবা যারা তাদের পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়" (১)। আর যারা মানুষের জীবনচরিত ও রাজন্যবর্গের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত, তারা দেখতে পায় যে, যারা ইসলামের দ্বীনের অধিক সাহায্যকারী ছিল, এর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে যারা অধিক মহান ছিল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে যারা অধিক অটল ছিল—আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তারাই অধিক সাহায্য, আনুগত্য ও মর্যাদা লাভ করেছে।
যুদ্ধবিজিত (আনওয়াহ) ভূমিতে খ্রিস্টানদের গির্জা ভেঙে ফেলার বিধান:উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এবং অন্যান্য খলিফাদের খিলাফতকালে তাদেরকে গির্জাগুলোতে অবস্থানের অনুমতি দেওয়ার পর মুসলিমরা তাদের থেকে যুদ্ধবিজিত ভূমির অনেক গির্জা গ্রহণ করেছিলেন (২), আর মুসলিমদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
أنكر ذلك، فعُلم أن هدم كنائس العنوة جائزٌ، إذا لم يكن فيه ضرر على المسلمين (1) . فإعراض من أعرض عنهم كان لقلة المسلمين، ونحو ذلك من الأسباب، كما أعرض النبي صلى الله عليه وسلم عن إجلاء اليهود، حتى أجلاهم عمر بن الخطاب رضي الله عنه.
--------------------------------------------
তিনি তা অস্বীকার করেছেন, এর মাধ্যমে জানা গেল যে, যুদ্ধলব্ধ (আনোয়া) অঞ্চলের গির্জাগুলো ধ্বংস করা জায়েজ, যদি তাতে মুসলিমদের কোনো ক্ষতি না হয় (১)। যারা এগুলো থেকে বিরত থেকেছেন, তা ছিল মুসলিমদের সংখ্যাস্বল্পতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কারণে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের বহিষ্কার করা থেকে বিরত ছিলেন, যতক্ষণ না ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের বহিষ্কার করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
حكم مظاهرة الذميّين لأهل دينهم على المسلمين:وليس لأحد من أهل الذمة أن يكاتبوا أهل دينهم من أهل الحرب، ولا يخبرونهم بشيء من أخبار المسلمين، ولا يطلبوا من رسولهم أن يكلف ولي المسلمين ما فيه ضررٌ على المسلمين، ومن فعل ذلك منهم وجبت عقوبته باتفاق المسلمين، وفي أحد القولين يكون قد نُقض عهده، وحل دمه، وماله (1) .
ومن قال إن المسلمين يحصل لهم ضررٌ، وإن* لم يجابوا إلى ذلك؛ لم يكن عارفاً بحقيقة الحال، فإن المسلمين قد فتحوا ساحل الشام، وكان أعظم المصائب عليهم؛ أخذُ أموالهم، وهدم كنائسهم (2) .
--------------------------------------------
মুসলিমদের বিরুদ্ধে জিম্মিদের নিজ ধর্মের অনুসারীদের পক্ষাবলম্বন বা সহযোগিতা করার বিধান:জিম্মিদের কারও জন্য এটি বৈধ নয় যে, তারা যুদ্ধরত কাফিরদের মধ্যে থাকা তাদের স্বজাতীয়দের কাছে পত্রালাপ করবে, না তারা তাদেরকে মুসলিমদের সংবাদের কোনো কিছু জানাবে, আর না তারা তাদের দূতের মাধ্যমে মুসলিমদের অভিভাবককে এমন কোনো বিষয় চাপিয়ে দিতে বলবে যাতে মুসলিমদের ক্ষতি হয়। আর তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এমনটি করবে, মুসলিমদের ঐকমত্যে তাকে শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব। আর দুই অভিমতের একটি অনুযায়ী, এতে তার চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং তার রক্ত ও সম্পদ বৈধ হয়ে যাবে (১)।
আর যে ব্যক্তি বলে যে, যদি তাদের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া হয় তবে মুসলিমদের ক্ষতি হবে, সে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়। কারণ, মুসলিমরা যখন শামের উপকূলীয় অঞ্চল জয় করেছিলেন, তখন তাদের ওপর আপতিত সর্ববৃহৎ বিপদ ছিল তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং তাদের গির্জাগুলো ধ্বংস করা (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
وكان نوروز (1) رحمه الله قد شرط عليهم الشروط، ووضع الجزية، وكان ذلك أعظم المصائب عليهم، ومع هذا لم يدخل على المسلمين بذلك إلا كل خير، فإن المسلمين مستغنون عنهم، وهم إلى ما في بلاد المسلمين أحوج من المسلمين إلى ما في بلادهم، بل مصلحة دينهم ودنياهم لا تقوم إلا بما في بلاد المسلمين، والمسلمون -ولله الحمد والمنة- أغنياء عنهم في دينهم ودنياهم. فأما نصارى الأندلس فهم لا يتركون المسلمين في بلادهم إلا لحاجتهم إليهم، وخوفهم من التتار، فإن المسلمين عند التتار أعز من النصارى وأكرم، ولو قدروا، وإنهم قادرون على من عندهم من النصارى (2) .
والنصارى الذين في ذمة المسلمين فيهم من البتاركة (3) ، وغيرهم من علماء النصارى ورهبانهم، وليس عند النصارى مسلمٌ يحتاج إليه المسلمون ولله
--------------------------------------------
এবং নওরোজ (১) -আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- তাদের ওপর কিছু শর্ত আরোপ করেছিলেন এবং জিজিয়া নির্ধারণ করেছিলেন। আর এটি ছিল তাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ বিপদ। তা সত্ত্বেও এর মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য কেবল কল্যাণই বয়ে এসেছে। কেননা মুসলমানরা তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী, আর তারা মুসলমানদের ভূখণ্ডে যা রয়েছে তার প্রতি তার চেয়েও অধিক মুখাপেক্ষী যা মুসলমানদের জন্য তাদের ভূখণ্ডে রয়েছে। বরং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার স্বার্থ কেবল মুসলমানদের ভূখণ্ডের মাধ্যমেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। আর মুসলমানরা -সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহর জন্য- তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী। আর আন্দালুসের খ্রিষ্টানদের কথা হলো, তারা মুসলমানদের তাদের ভূখণ্ডে কেবল নিজেদের প্রয়োজনে এবং তাতারদের ভয়ের কারণে থাকতে দেয়। কেননা তাতারদের নিকট খ্রিষ্টানদের তুলনায় মুসলমানরা অধিকতর সম্মানিত ও মর্যাদাবান। আর তারা যদি সক্ষম হয়, তবে তারা তাদের নিকট থাকা খ্রিষ্টানদের ওপর কর্তৃত্ব করতে সক্ষম (২)।
আর মুসলমানদের আশ্রয়ে থাকা খ্রিষ্টানদের মধ্যে উচ্চপদস্থ ধর্মযাজকগণ (৩) এবং খ্রিষ্টানদের অন্যান্য আলেম ও দরবেশগণ রয়েছেন। আর খ্রিষ্টানদের কাছে এমন কোনো মুসলমান নেই যার প্রতি মুসলমানরা মুখাপেক্ষী হতে পারে এবং আল্লাহর জন্যই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
الحمد، مع أن إفكاك الأسارى من أعظم الواجبات، وبذل ذلك (1) الموقوف وغيره في ذلك من أعظم القربات.
وكل مسلمٍ يعلم أنهم لا يتجرون إلى بلاد المسلمين، إلا لأغراضهم، لا لنفع المسلمين؛ ولو منعهم ملوكهم من ذلك لكان حرصهم على المال يمنعهم من الطاعة. فإنهم أرغب الناس في المال (2) ، ولهذا يتقامرون في الكنائس (3) . وهم طوائف مختلفون، وكل طائفة تضاد الأخرى (4) .
--------------------------------------------
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যদিও বন্দিদের মুক্ত করা মহান ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং সে কাজে ওয়াকফকৃত সম্পদ বা অন্যান্য সম্পদ ব্যয় করা শ্রেষ্ঠ নেক আমলগুলোর অন্যতম।
প্রত্যেক মুসলিম জানেন যে, তারা মুসলিম দেশগুলোতে ব্যবসা করতে আসে কেবল তাদের নিজেদের স্বার্থে, মুসলিমদের উপকারের জন্য নয়। এমনকি তাদের রাজারা যদি তাদের এটি করতে নিষেধ করতেন, তবুও সম্পদের প্রতি তাদের লোভ তাদের অবাধ্য হতে বাধ্য করত। কারণ তারা মানুষের মধ্যে সম্পদের প্রতি সবচেয়ে বেশি লালায়িত, এই কারণেই তারা গির্জাগুলোতে জুয়া খেলে। আর তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত এবং প্রত্যেক দল অপরটির বিরোধী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মাসআলাতুন ফিল কানায়িস
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
المشورة على ولي الأمر في إعزازهم:ولا يشير على ولي المسلمين بما فيه إظهار شعائرهم في بلاد الإسلام، أو تقوية أمرهم بوجه من الوجوه، إلا رجل منافقٌ، يظهر الإسلام (1) ، وهو منهم في الباطن، أو رجلٌ له غرضٌ فاسدٌ، مثل أن يكونوا برطلوه (2) ، ودخلوا عليه برغبةٍ، أو رهبةٍ، أو رجلٌ جاهلٌ في غاية الجهل، لا يعرف السياسة الشرعية الإلهية التي تنصر سلطان المسلمين على أعدائه، وأعداء الدين. وإلا فمن كان عارفاً ناصحاً له أشار عليه بما يوجب نصره، وثباته، وتأييده، واجتماع قلوب المسلمين عليه، وفتحهم له، ودعاء الناس له في مشارق الأرض ومغاربها. وهذا كله إنما يكون بإعزاز دين الله، وإظهار كلمة الله، وإذلال أعداء الله تعالى.
وليعتبر المعتبر بسيرة نور الدين، وصلاح الدين، ثم العادل، كيف مكنهم الله، وأيدهم، وفتح لهم البلاد، وأذل لهم الأعداء، لما قاموا من ذلك بما قاموا به؟!
وليعتبر بسيرة من والى النصارى؛ كيف أذله الله، وكبته؟! (3) .
--------------------------------------------
শাসককে তাদের সম্মানিত করার বিষয়ে পরামর্শ প্রদান:মুসলিমদের শাসককে এমন কোনো বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা—যার মধ্যে ইসলামের ভূখণ্ডে তাদের ধর্মীয় নিশানাসমূহ প্রকাশ পায় অথবা কোনোভাবে তাদের বিষয়সমূহ শক্তিশালী হয়—তা কেবল একজন মুনাফিকই করতে পারে, যে প্রকাশ্যে ইসলাম প্রকাশ করে, অথচ অন্তরে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। অথবা এমন ব্যক্তি যার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে, যেমন তারা হয়তো তাকে ঘুষ দিয়েছে এবং তারা তার কাছে কোনো লোভ অথবা ভীতি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। অথবা এমন ব্যক্তি যে চূড়ান্ত পর্যায়ের মূর্খ, যে ঐ সকল ঐশ্বরিক শারঈ রাজনীতি সম্পর্কে অবগত নয় যা মুসলিম সুলতানকে তার শত্রু এবং দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করে। অন্যথায়, যে ব্যক্তি জ্ঞানী এবং শাসকের হিতাকাঙ্ক্ষী, সে তাকে এমন পরামর্শই দেবে যা তার বিজয়, স্থায়িত্ব, সমর্থন এবং তার অনুকূলে মুসলিমদের অন্তরসমূহকে একত্রিত করা ও তাদের পক্ষ থেকে দেশ বিজয়ের কারণ হয়, আর যার ফলে পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিমে মানুষ তার জন্য দুআ করে। আর এই সবকিছু কেবল আল্লাহর দ্বীনকে সম্মানিত করার, আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার এবং মহান আল্লাহর শত্রুদের লাঞ্ছিত করার মাধ্যমেই সম্ভব হয়।
উপদেশ গ্রহণকারীর উচিত নূরুদ্দীন, সালাহুদ্দীন এবং অতঃপর আদিল-এর জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা; আল্লাহ কীভাবে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সাহায্য করেছিলেন, তাদের জন্য দেশসমূহ বিজয় করে দিয়েছিলেন এবং শত্রুদের লাঞ্ছিত করেছিলেন যখন তারা এই কাজগুলো যথাযথভাবে আঞ্জাম দিয়েছিলেন?!
আর যে ব্যক্তি নাসারাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিল তার জীবনী থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত; আল্লাহ কীভাবে তাকে লাঞ্ছিত এবং পর্যুদস্ত করেছিলেন?!
--------------------------------------------