(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: -)
مسألة في الكنائس   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: مسألة في الكنائس

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

المحقق: علي بن عبدالعزيز الشبل

الناشر: مكتبة العبيكان - الرياض

الطبعة: الأولى 1416هـ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

* أعده للمكتبة الشاملة: محمد المنصور

m_almansour@yahoo.com

عدد الصفحات: 146

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

গির্জা সংক্রান্ত একটি মাসআলা   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: গির্জা সংক্রান্ত একটি মাসআলা

লেখক: তাক্বিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

গবেষক: আলি বিন আব্দুল আজিজ আশ-শিবল

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ওবাইকান - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম ১৪১৬ হিজরি

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

* আল-মাকতাবাতুশ শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ আল-মানসুর

m_almansour@yahoo.com

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৬

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ৯৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

(1) ما تقول (2) السادة العلماء أئمة الدين، وهداة المسلمين رضي الله عنهم أجمعين، وأعانهم على إظهار الحق المبين، وإخمال الكفار والمنافقين، في الكنائس التي بالقاهرة وغيرها التي أغلقت (3) بأمر ولاة الأمور، إذا ادعى أهل الذمة: أنها غلِّقت ظلماً، وأنهم يستحقون فتحها، وطلبوا ذلك من ولي الأمر أيده الله تعالى ونصره.

فهل تقبل دعواهم؟ وهل تجب إجابتهم أم لا؟!

وإذا قالوا: إن هذه الكنائس كانت قديمةً، من زمن أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه وغيره. وأنهم يطلبون أن يقروا (4) ، على ما كانوا عليه في زمن عمر رضي الله عنه وغيره من خلفاء المسلمين، وأن إغلاقها مخالفٌ لحكم الخلفاء الراشدين.

فهل القول مقبولٌ منهم أو مردود؟

وإذا ذهب (5) أهل الذمة إلى من يقدم من بلاد الحرب، من رسولٍ أو غيره، فسألوه أن يسأل ولي الأمر في فتحها، أو كاتبوا ملوك الحرب ليطلبوا ذلك من ولي أمر المسلمين فهل لأهل الذمة ذلك؟ وهل ينتقض عهدهم أم لا؟!

--------------------------------------------

(1) في الظاهرية: مسألة سئل عنها الشيخ الإمام العلامة الحافظ تقي الدين ابن تيمية الحراني الحنبلي تغمده الله برحمته في الكنائس.

(2) في نسخة مصر: ما يقول.

(3) في الظاهرية: غلّقت.

(4) في الأصل: يقرون وما أثبته من المصرية هو الصواب.

(5) في القاهرية: بعث.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

(১) সম্মানিত উলামায়ে কিরাম, দ্বীনের ইমামগণ এবং মুসলিমদের পথপ্রদর্শকগণ—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং স্পষ্ট সত্যকে প্রকাশ করতে ও কাফির ও মুনাফিকদের দমনে তাঁদের সাহায্য করুন—তাঁরা কী বলেন (২)? কায়রো এবং অন্যান্য স্থানে অবস্থিত সেই গির্জাগুলো সম্পর্কে যা শাসকবর্গের আদেশে বন্ধ (৩) করে দেওয়া হয়েছে; যদি জিম্মিরা দাবি করে যে, সেগুলো অন্যায়ভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং সেগুলো পুনরায় খোলার অধিকার তাদের রয়েছে, আর তারা যদি উলুল আমর বা শাসকের (আল্লাহ তাআলা তাঁকে শক্তিশালী করুন ও সাহায্য করুন) কাছে তা খোলার আবেদন জানায়।

তবে কি তাদের এই দাবি গ্রহণ করা হবে? এবং তাদের এই আহ্বানে সাড়া দেওয়া কি ওয়াজিব হবে কি না?!

আর তারা যদি বলে যে: এই গির্জাগুলো অনেক প্রাচীন, যা আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এবং অন্যদের সময় থেকে বিদ্যমান ছিল। আর তারা আবেদন করে যে, উমর (রা.) এবং অন্যান্য মুসলিম খলিফাদের যুগে তারা যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থাতেই যেন তাদের বহাল (৪) রাখা হয়; এবং এই গির্জাগুলো বন্ধ করা খোলাফায়ে রাশেদীনের হুকুমের পরিপন্থী।

তবে তাদের এই বক্তব্য কি গ্রহণযোগ্য হবে নাকি তা প্রত্যাখ্যান করা হবে?

আর যদি জিম্মিরা (৫) দারুল হরব (যুদ্ধরত দেশ) থেকে আগত কোনো দূত বা অন্য কারো কাছে যায় এবং তার মাধ্যমে শাসকের কাছে গির্জাগুলো খোলার আবেদন জানায়, অথবা তারা যদি যুদ্ধরত কাফির রাজাদের কাছে পত্র লিখে মুসলিম শাসকের কাছে এই সুপারিশ করার অনুরোধ জানায়, তবে জিম্মিদের জন্য কি তা বৈধ হবে? এবং এর ফলে কি তাদের চুক্তি ভঙ্গ হবে কি না?!

--------------------------------------------

(১) জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: এটি একটি মাসআলা, যা শায়খ, ইমাম, আল্লামা, হাফেজ তাকিউদ্দীন ইবন তাইমিয়া আল-হাররানী আল-হাম্বলীকে (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন) গির্জা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।

(২) মিসরীয় কপিতে রয়েছে: কী বলেন (একবচনে)।

(৩) জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: বন্ধ করা হয়েছে।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'বহাল থাকবে' (ব্যাকরণগত ভিন্নতা), তবে মিসরীয় কপিতে যা আছে সেটিই সঠিক।

(৫) কায়রো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: প্রেরণ করে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০০)
وإذا قال قائلٌ: إنهم إن لم يجابوا إلى ذلك حصل للمسلمين ضررٌ، إما بالعدوان على من عندهم من الأسرى (1) (2) ، أو (3) المساجد، وإما بقطع متاجرهم عن ديار الإسلام، وإما بترك معاونتهم لولي أمر المسلمين على ما يعتمده من مصالح المسلمين، ونحو ذلك. فهل هذا القول صوابٌ، أو خطأٌ؟ بينوا ذلك مبسوطاً مشروحاً.

وإذا كان في فتحها تغير قلوب المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها، [وحصول الفتنة والفرقة بينهم] (4) ، وتغيرت قلوب أهل الصلاح والدين، وعموم الجند والمسلمين على ولاة الأمور؛ لأجل إظهار شعائر الكفر، وظهور عزهم وفرحهم وسرورهم بما يظهرونه وقت فتح الكنائس، من الشموع والجموع والأفراح وغير ذلك، وهذا فيه تغير قلوب المسلمين من الصالحين وغيرهم (5) ، حتى إنهم يدعون الله تعالى على من تسبب في ذلك، وأعان عليه.

فهل لأحد أن يشير على ولي الأمر بذلك؟ ومن أشار عليه بذلك هل يكون ناصحاً لولي أمر المسلمين أم غاشًّا له؟!

وأي الطرق هو الأفضل لولي الأمر -أيده الله تعالى- ولأوليائه من قمع أعدائه وإذلالهم؟ أو مطاوعتهم (6) ؟!

--------------------------------------------

(1) في المصرية: الأسراء وهو وجه في جمعها.

(2) في الظاهرية: الأسرى المسلمين.

(3) في المصرية: المساجد بدون أو التخيير.

(4) ما بين المعكوفين زيادة من المطبوعة ، وزدتها لما فيها من إيضاح وبيان ، وإلا فجميع النسخ متفقة على عدم ذكر هذه العبارة.

(5) لأن المسلم يتغير قلبه ويحزن لظهور المنكر وإعلانه ، بل لوقوعه أولاً وهذا أقل ما يكون من المسلم الحقيقي لحديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال [من رأى منكم منكراً فليغيره بيده ، فإن لم يستطع فبلسانه فإن لم يستطع فبقلبه وذلك أضعف الإيمان] والتغير بالقلب بكرهه وبغضه وهو متعين على الجميع إما باللسان واليد فهما لمن استطاع إلى ذلك سبيلاً وأولاهم ولي الأمر ونائبه وأهل الحسبة.

(6) في الظاهرية: أو مطاوعتهم عنهم في ذلك.
যদি কোনো বক্তা বলেন: যদি তাদের এই দাবি পূরণ না করা হয়, তবে মুসলিমদের ক্ষতি হবে—হয়তো তাদের কাছে থাকা বন্দিদের প্রতি অন্যায় আচরণের মাধ্যমে (১) (২), অথবা (৩) মসজিদের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে, অথবা ইসলামি ভূখণ্ড থেকে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে, কিংবা মুসলিম শাসকের গৃহীত জনকল্যাণমূলক কাজে তাদের সহযোগিতা বন্ধ করার মাধ্যমে এবং এ জাতীয় অন্যান্য কারণে। তবে কি এই কথাটি সঠিক নাকি ভুল? এটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করুন।

আর যদি এগুলো (গির্জাগুলো) পুনরায় উন্মুক্ত করার ফলে পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলিমদের হৃদয়ে পরিবর্তন আসে [এবং তাদের মাঝে ফিতনা ও বিভেদ সৃষ্টি হয়] (৪), আর নেককার ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরাসহ সাধারণ সৈন্য ও মুসলিম জনগণের অন্তরগুলো শাসকদের প্রতি বিরূপ হয়ে যায়; কেননা এতে কুফরি নিদর্শনাবলি প্রকাশিত হয় এবং গির্জা খোলার সময় মোমবাতি জ্বালানো, জনসমাগম, আনন্দ-উৎসব ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের দাপট, উল্লাস ও খুশি প্রকাশ পায়—যা নেককার ও সাধারণ সকল মুসলিমের হৃদয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, এমনকি তারা এই কাজের হোতা ও সহায়তাকারীর বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর কাছে বদদোয়া করতে থাকে।

এমতাবস্থায় কেউ কি মুসলিম শাসককে এমন পরামর্শ দিতে পারে? আর যে তাকে এই পরামর্শ দেয়, সে কি শাসকের কল্যাণকামী নাকি তার সাথে প্রতারণাকারী?!

আর মুসলিম শাসকের জন্য—মহান আল্লাহ তাকে শক্তিশালী করুন—এবং তার মিত্রদের জন্য কোন পথটি সর্বোত্তম? শত্রুদের দমন ও লাঞ্ছিত করা, নাকি তাদের আনুগত্য করা (৬)?!

--------------------------------------------

(১) মিসরীয় পাণ্ডুলিপিতে: এটি বহুবচনের একটি ভিন্ন রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

(২) জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: মুসলিম বন্দিগণ।

(৩) মিসরীয় পাণ্ডুলিপিতে: 'অথবা' অব্যয়টি ছাড়াই 'মসজিদসমূহ' শব্দটি এসেছে।

(৪) বন্ধনীভুক্ত অংশটি মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টির অধিকতর ব্যাখ্যার জন্য আমি এটি যোগ করেছি; অন্যথায় সমস্ত পাণ্ডুলিপিই এই বাক্যটি না থাকার ব্যাপারে একমত।

(৫) কারণ কোনো অন্যায় প্রকাশ পেলে বা তা স্রেফ সংঘটিত হলেও মুসলিমের অন্তর ব্যথিত হয়; আর একজন প্রকৃত মুসলিমের পক্ষ থেকে এটিই ঈমানের সর্বনিম্ন দাবি। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় হতে দেখে, তবে সে যেন তা নিজের হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়; যদি সে সক্ষম না হয় তবে যেন মুখ দিয়ে (প্রতিবাদ করে), আর যদি তাতেও সক্ষম না হয় তবে যেন অন্তর দিয়ে (ঘৃণা করে)। আর এটাই ঈমানের দুর্বলতম স্তর।" অন্তর দিয়ে ঘৃণা করা ও অপছন্দ করা প্রত্যেকের জন্যই অপরিহার্য; তবে হাত ও মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করা তাদের দায়িত্ব যারা এর সামর্থ্য রাখে, বিশেষ করে শাসক, তার প্রতিনিধি এবং জননিরাপত্তা বা হিসবাহ বিভাগের দায়িত্বশীলগণ এর জন্য অধিক উপযুক্ত।

(৬) জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: অথবা এই বিষয়ে তাদের কথা মেনে চলা।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০১)
بينوا لنا ذلك، وابسطوا بسطاً شافياً، مثابين مأجورين -إن شاء الله تعالى- وحسبنا الله ونعم الوكيل. وصلى الله على سيدنا محمدٍ خاتم النبيين، وعلى آله وصحبه أجمعين، ورضي الله عن الصحابة المكرمين، وعن التابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، يا أرحم الراحمين (1) .

‌‌الرد على دعوى أن المسلمين ظلموهم بإغلاق كنائسهم:

‌‌الجواب:

الحمد لله رب العالمين، أما دعواهم أن المسلمين ظلموهم في إغلاقها فهذا كذبٌ مخالفٌ (2) لأهل العلم (3) . فإن علماء المسلمين من أهل المذاهب الأربعة: مذهب أبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد، وغيرهم من الأئمة، كسفيان الثوري (4) ، والأوزاعي (5) ، والليث بن سعد (6) ، وغيرهم، ومن قبلهم من

--------------------------------------------

(1) آمين واجعلنا معهم بجودك وإحسانك يا رب العالمين ، وإن رغم أنف الرافضة وأذنابهم ، والخوارج الناصبة وأذيالهم أعداء السنة والدين.

(2) في المصرية: مخالف به لأهل العلم.

(3) في المطبوعة مخالف لإجماع المسلمين.

(4) الأئمة الأربعة معروفون وسفيان الثوري هو: أبو عبد الله سفيان بن سعيد الكوفي الجهبذ ولد سنة 91هـ ومات سنة 161 هـ من كبار الأئمة الحفاظ كثير الشيوخ وروى عنه الجماعة فأكثروا الرواية عنه منهم جماعة حدث عنهم وحدثوا عنه ،..... حافظ فقيه إمام حجة وأكثر العلماء الثناء عليه في علمه وورعه انظر النبلاء 7/229-279 ، وطبقات ابن سعد 6/371-374 ، والتاريخ الكبير للبخاري 4/92-93 وتهذيب الكمال ص 515.

(5) هو أبو عمرو عبد الرحمن بن عمرو الأوزاعي ، شيخ الإسلام ، وعالم أهل الشام ولد سنة 88 هـ وتوفي سنة 157 هـ، أخرج له أصحاب الكتب الستة وأحمد " الجماعة " كان رحمه الله من أفضل أهل زمانه وأعلمهم ، وكان قذى في أعين المبتدعة القدرية انظر النبلاء 7/107-134 ، طبقات ابن سعد 7/488 ، طبقات خليفة 351-316 ، المعرفة والتاريخ الفسوي 2/390-397 وتهذيب الكمال 808.

(6) هو الإمام الليث بن سعد بن عبد الرحمن الفهمي ، شيخ الإسلام وعالم الديار المصرية ، أخرج له الجماعة ، وهو من كبار أئمة الحديث وأصحاب المدارس الفقهية ولد سنة 94هـ وقال فيه الحافظ في التقريب ، ثقة ثبت فقيه إمام مشهور توفي سنة 175هـ وكان يوماً مشهوداً رفع الله درجاتهم في عليين. النبلاء 8/136-163 ، الطبقات 7/517 ، طبقات خليفة ص296 ، تهذيب الكمال 1152 ، المعارف لابن قتيبة 505 وما بعدها.
আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট করুন এবং বিস্তারিত ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করুন। ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি সওয়াব ও প্রতিদান পাবেন। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যিনি শেষ নবী, এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাদের ওপর, হে শ্রেষ্ঠ দয়ালু (১)।

‌‌এই দাবির খণ্ডন যে, মুসলমানরা তাদের গির্জাগুলো বন্ধ করে তাদের ওপর জুলুম করেছে:

‌‌উত্তর:

সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর তাদের এই দাবি যে মুসলমানরা গির্জাগুলো বন্ধ করে তাদের ওপর জুলুম করেছে, তা একটি মিথ্যা দাবি যা আহলে ইলম বা জ্ঞানীদের (২) মতের পরিপন্থী (৩)। কেননা চার মাযহাবের মুসলিম উলামায়ে কেরাম: আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ী ও আহমদের মাযহাব এবং অন্যান্য ইমামগণ যেমন সুফিয়ান সাওরী (৪), আওযায়ী (৫), লাইস বিন সাদ (৬) ও অন্যান্যরা এবং তাঁদের পূর্ববর্তীরা...

--------------------------------------------

(১) আমীন, এবং হে রাব্বুল আলামীন! আপনার উদারতা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাদের তাঁদের সঙ্গী করুন; যদিও রাফেযী ও তাদের অনুসারীদের এবং খারেজী-নাসেবী ও তাদের অনুগামীদের—যারা সুন্নাহ ও দ্বীনের শত্রু—নাক ধূলায় ধূসরিত হোক।

(২) মিশরীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: আহলে ইলমের কাছে এটি একটি পরিপন্থী বিষয়।

(৩) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: মুসলমানদের ইজমার পরিপন্থী।

(৪) চার ইমাম সুপরিচিত, আর সুফিয়ান সাওরী হলেন: আবু আব্দুল্লাহ সুফিয়ান বিন সাঈদ আল-কুফি আল-জাহবায। তিনি ৯১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বড় ইমাম ও হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তাঁর অনেক শিক্ষক ছিলেন এবং একটি বড় জামাত তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন... তিনি একজন হাফেজ, ফকিহ, ইমাম ও হুজ্জাত। অধিকাংশ আলেম তাঁর জ্ঞান ও তাকওয়ার প্রশংসা করেছেন। দেখুন: আন-নুবালা ৭/২২৯-২৭৯, তাবাকাত ইবনে সাদ ৬/৩৭১-৩৭৪, ইমাম বুখারীর তারিখুল কাবীর ৪/৯২-৯৩ এবং তাহযীবুল কামাল পৃ. ৫১৫।

(৫) তিনি হলেন আবু আমর আব্দুর রহমান বিন আমর আল-আওযায়ী, শায়খুল ইসলাম এবং সিরিয়া (শাম) অঞ্চলের আলেম। তিনি ৮৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সিত্তাহ বা ছয়টি কিতাবের লেখকগণ এবং আহমদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও বিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি ক্বাদারিয়া বিদআতিদের চোখের কাঁটা ছিলেন। দেখুন: আন-নুবালা ৭/১০৭-১৩৪, তাবাকাত ইবনে সাদ ৭/৪৮৮, তাবাকাত খলিফা ৩৫১-৩১৬, আল-মারিফাহ ওয়াত তারিখ আল-ফাসাবী ২/৩৯০-৩৯৭ এবং তাহযীবুল কামাল ৮০৮।

(৬) তিনি হলেন ইমাম লাইস বিন সাদ বিন আব্দুর রহমান আল-ফাহমি, শায়খুল ইসলাম এবং মিশর ভূখণ্ডের আলেম। জামাত (প্রধান মুহাদ্দিসগণ) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদীসের বড় ইমাম এবং ফিকহী মাযহাবের প্রবর্তকদের একজন ছিলেন। তিনি ৯৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তাকরীব গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), সুদৃঢ় (সাবত), ফকিহ ও প্রসিদ্ধ ইমাম। তিনি ১৭৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং সেটি ছিল একটি স্মরণীয় দিন। আল্লাহ ইল্লীয়্যিনে তাঁদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। আন-নুবালা ৮/১৩৬-১৬৩, আত-তাবাকাত ৭/৫১৭, তাবাকাত খলিফা পৃ. ২৯৬, তাহযীবুল কামাল ১১৫২, ইবনে কুতাইবার আল-মাআরিফ ৫০৫ ও পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০২)
الصحابة والتابعين، متفقون على أن الإمام لو هدم كل كنيسةٍ بأرض العنوة كأرض مصر والسواد (1) بالعراق، وبر الشام ونحو ذلك، مجتهدًا في ذلك، ومتبعًا في ذلك لمن يرى ذلك، لم يكن ذلك (2) ظلماً منه؛ بل تجب طاعته في ذلك (3) .

وإن امتنعوا عن حكم المسلمين لهم، كانوا ناقضين العهد، وحلت بذلك دماؤهم وأموالهم.

‌‌تكذيب دعوى وجود الكنائس بالقاهرة منذ عهد الخلفاء الراشدين:

وأما قولهم إن هذه الكنائس من عهد أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأن الخلفاء الراشدين أقروهم عليها، فهذا أيضًا من الكذب. فإن من المعلوم المتواتر أن القاهرة (4) بنيت بعد عمر بن الخطاب رضي الله عنه بثلاثمائة سنة، بنيت بعد بغداد، وبعد البصرة والكوفة (5) وواسط (6) .

وقد اتفق المسلمون على أن ما بناه المسلمون من المدائن لم يكن لأهل الذمة أن يحدثوا فيها كنيسة، مثل ما فتحه المسلمون صلحاً، وأبقوا لهم كنائسهم القديمة،

--------------------------------------------

(1) المقصود بأرض السواد الأرياف وأماكن الزراعة ، وصارت علماً على ما حول دجلة والفرات من أراضي الزراعة.

(2) أي هدم كنائسهم بأرض العنوة مجتهداً أو متبعاً.

(3) وزادت المطبوعة [ومساعدته في ذلك ممن يرى ذلك] وفيها حصر وجوب مساعدة الإمام في هذا على من يرى، دون من لا يرى ذلك فلا تجب طاعته للإمام! فلاحظه.

(4) القاهرة هي عاصمة مصر الآن.

(5) الكوفة: بلد خُطت سنة 17 هـ قريبة من نهر الفرات في وسط العراق وشمال النجف مباشرة ، وجنوب كربلاء انظر الأطلس التاريخي ص113-115.

(6) واسط: مدينة وسط العراق على ضفاف أحد فروع دجلة في جنوب شرق بغداد ، وشمال شرق سواد العراق انظر الأطلس التاريخي ص 113.
সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ একমত যে, ইমাম যদি জোরপূর্বক বিজিত ভূমি (আরদুল আনওয়াহ) যেমন মিশরের ভূমি এবং ইরাকের সাওয়াদ (১), শামের স্থলভাগ এবং এই জাতীয় অঞ্চলের প্রতিটি গির্জা ধ্বংস করে দেন—এ বিষয়ে ইজতিহাদ করে অথবা যারা এটি বৈধ মনে করেন তাদের অনুসরণ করে—তবে তা তার পক্ষ থেকে কোনো যুলুম হবে না; বরং এই কাজে তার আনুগত্য করা ওয়াজিব (৩)।

আর যদি তারা তাদের ওপর মুসলিমদের হুকুম মেনে নিতে অস্বীকার করে, তবে তারা অঙ্গীকার ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ফলে তাদের রক্ত ও সম্পদ বৈধ হয়ে যাবে।

‌‌খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগ থেকে কায়রোতে গির্জা থাকার দাবির অসারতা:

আর তাদের এই কথা যে, এই গির্জাগুলো আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমল থেকে বিদ্যমান এবং খুলাফায়ে রাশেদীন তাদের এগুলো রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন—এটিও একটি মিথ্যা কথা। কেননা মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে এটি সুপরিচিত যে, কায়রো (৪) উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মৃত্যুর তিনশ বছর পর নির্মিত হয়েছে। এটি বাগদাদ, বসরা, কুফা (৫) এবং ওয়াসিত (৬) নির্মাণের পর তৈরি করা হয়েছে।

আর মুসলিমগণ একমত হয়েছেন যে, মুসলিমরা যেসকল শহর নির্মাণ করেছে, সেখানে যিম্মিদের জন্য নতুন কোনো গির্জা তৈরি করার সুযোগ নেই, যেমনটি হয়েছে মুসলিমদের সন্ধির মাধ্যমে বিজিত শহরগুলোর ক্ষেত্রে, যেখানে তারা তাদের পুরাতন গির্জাগুলো বহাল রেখেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) 'আরদুস সাওয়াদ' বলতে গ্রামাঞ্চল ও কৃষিপ্রধান এলাকাকে বোঝায়। এটি দজলা ও ফোরাত নদীর আশপাশের কৃষিজমির পারিভাষিক নাম হয়ে গেছে।

(২) অর্থাৎ, ইজতিহাদ করে বা কারো অনুসরণ করে 'আনওয়াহ' (জোরপূর্বক বিজিত) ভূমিতে তাদের গির্জাগুলো ধ্বংস করা।

(৩) মুদ্রিত কপিতে বৃদ্ধি করা হয়েছে: [এবং যারা এটি সঠিক মনে করেন তাদের পক্ষ থেকে তাকে এই কাজে সহায়তা করা]। এতে ইমামের আনুগত্যের ওয়াজিব হওয়াকে শুধুমাত্র তাদের জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যারা এটি সঠিক মনে করেন, আর যারা মনে করেন না তাদের জন্য ইমামের আনুগত্য ওয়াজিব নয়! বিষয়টি লক্ষ্য করুন।

(৪) কায়রো বর্তমানে মিশরের রাজধানী।

(৫) কুফা: এটি হিজরী ১৭ সনে ইরাকের মধ্যভাগে ফোরাত নদীর নিকটবর্তী একটি শহর হিসেবে পত্তন করা হয়, যা নাজাফ শহরের ঠিক উত্তরে এবং কারবালার দক্ষিণে অবস্থিত। দেখুন: আল-আতলাসুল তারিখি, পৃষ্ঠা ১১৩-১১৫।

(৬) ওয়াসিত: মধ্য ইরাকের একটি শহর, যা বাগদাদের দক্ষিণ-পূর্বে এবং ইরাকের সাওয়াদ অঞ্চলের উত্তর-পূর্বে দজলা নদীর একটি শাখার তীরে অবস্থিত। দেখুন: আল-আতলাসুল তারিখি, পৃষ্ঠা ১১৩।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০৩)
بعد أن شرط عليهم فيه عمر بن الخطاب رضي الله عنه أن لا يحدثوا كنيسة في أرض الصلح، فكيف في بلاد المسلمين؟!

‌‌بقاء الكنائس في مدائن الإسلام:

بل إذا كان لهم كنيسة بأرض العنوة، كالعراق ومصر ونحو ذلك فبنى المسلمون مدينة عليها، فإن لهم أخذ تلك الكنيسة؛ لئلا تترك في مدائن المسلمين كنيسةٌ بعد عهد (1) . فإن في سنن أبي داود بإسنادٍ جيد عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا تصلح قبلتان بأرضٍ، ولا جزية

--------------------------------------------

(1) هكذا في جميع النسخ ولعل الأصح ما في المطبوعة: بغير عهد.

وهذا طرف مما جاء في هدم كنائس المشركين خصوصاً اليهود والنصارى، وغيرهم من باب أولى: فقد روى البيهقي بسنده 20219 إلى ابن عباس رضي الله عنهما قال: صالح رسول الله صلى الله عليه وسلم أهل نجران - يعني النصارى - على ألفي حلة وقال: على أن لا تهدم لهم بيعة ولا يخرج لهم قس ولا يفتنون عن دينهم، ما لم يحدثوا حدثاً، أو يأكلوا الربا. وهذا معنى ما رواه عبد الرزاق في المصنف رقم (10004) بسنده قال. قال عمرو بن ميمون: واستشارني عمر - يعني ابن عبد العزيز - في هدم كنائسهم - فقلت لا تهدم، هذا صولحوا عليه، فتركها عمر. والمقصود بها الكنائس التي صولحوا وهي قائمة بأيديهم، ليس ما أحدثوا بعد.

ولهذا قال عبد الرزاق (رقم 19234، 10002) أخبرنا ابن التيمي عن أبيه قال حدثني شيخ من أهل المدينة يقال له: حنش أبو علي أن عكرمة أخبره، قال: سئل ابن عباس: هل للمشركين أن يتخذوا الكنائس في أرض العرب؟ فقال: أما ما مصر المسلمون فلا ترفع فيه كنيسة، ولا بيعة، ولا صليب، ولا سنان، ولا ينفخ فيها ببوق، ولا يضرب ناقوس، ولا يدخل فيها خمر ولا خنزير.

وما كانت من أرض صولحوا صلحا ، فعلى المسلمين أن يفوا لهم بصلحهم. وتفسير ما مصر المسلمون: ما كانت من أرضهم أو أخذوها عنوة.

وهذا بنحوه ما رواه البيهقي عنه في الكبرى 9/ 202 وفي آخره: أو أيما مصر اتخذه العجم فعلى العرب أن يفوا لهم بعهدهم فيه، ولا يكلفوهم ما لا طاقة لهم به. ورواه بنحوه أبو عبيدة في الأموال ص 269. ومحصل هذا أن كنائسهم التي صولحوا عليها تبقى لهم بالشروط التي ذكرها ابن عباس وقبله عمر بن الخطاب رضي الله عنهم وستأتي في آخر الفتوى مفصلة.

أما ما أحدثوا بعد الصلح معهم - سواء على حين ضعف من المسلمين أو غرة منهم - فلا يجوز إقرارهم عليها؟ بل يجب هدمها وتأديبهم. رحم الله حالنا وضعفنا، وجبر مصيبتنا.
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের উপর এই শর্ত আরোপ করার পর যে, তারা সন্ধিকৃত ভূমিতে কোনো নতুন গির্জা নির্মাণ করবে না, তবে মুসলিমদের ভূখণ্ডে তা কীভাবে সম্ভব?!

‌‌মুসলিম শহরগুলোতে গির্জা অবশিষ্ট থাকা:

বরং যুদ্ধলব্ধ ভূমিতে (আনওয়াহ) যদি তাদের কোনো গির্জা থাকে, যেমন ইরাক, মিসর এবং এই জাতীয় স্থানগুলোতে, আর মুসলিমরা সেখানে কোনো শহর গড়ে তোলে, তবে তাদের জন্য সেই গির্জাটি নিয়ে নেওয়ার অধিকার রয়েছে; যাতে চুক্তির পর (১) মুসলিম শহরগুলোতে কোনো গির্জা অবশিষ্ট না থাকে। কেননা সুনানে আবু দাউদে উত্তম সনদে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "একই জমিনে দুই কিবলা সঠিক নয়, এবং কোনো জিজিয়া...

--------------------------------------------

(১) সমস্ত পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে সম্ভবত মুদ্রিত কপির পাঠটিই অধিক সঠিক: "চুক্তি ব্যতিরেকে"।

মুশরিকদের গির্জা, বিশেষ করে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের গির্জা ধ্বংস করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এটি তার একটি অংশ, আর অন্যদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য। বায়হাকি তাঁর সনদে (২০২১৯) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজরানবাসীদের সাথে—অর্থাৎ খ্রিস্টানদের সাথে—দুই হাজার জোড়া পোশাকের বিনিময়ে সন্ধি করেছিলেন এবং বলেছিলেন: এই শর্তে যে, তাদের কোনো উপাসনালয় ধ্বংস করা হবে না, কোনো পাদ্রিকে বহিষ্কার করা হবে না এবং তাদের দ্বীন থেকে তাদের বিচ্যুত করা হবে না, যতক্ষণ না তারা কোনো নতুন হাঙ্গামা সৃষ্টি করে অথবা সুদ খায়। আব্দুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ'-এ (নং ১০০০০৪) তাঁর সনদে যা বর্ণনা করেছেন তার অর্থও এটিই। তিনি বলেন, আমর ইবনে মাইমুন বলেছেন: উমর—অর্থাৎ ইবনে আব্দুল আজিজ—তাদের গির্জাগুলো ধ্বংস করার ব্যাপারে আমার সাথে পরামর্শ করেছিলেন। আমি বললাম, ধ্বংস করবেন না, কারণ এর ওপর তাদের সাথে সন্ধি করা হয়েছে। তখন উমর সেগুলো ছেড়ে দিলেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সব গির্জা যা সন্ধির সময় তাদের হাতে বিদ্যমান ছিল, সন্ধির পরে তারা যা নতুন করে নির্মাণ করেছে তা নয়।

একারণেই আব্দুর রাজ্জাক (নং ১৯২৩৪, ১০০০০২) বর্ণনা করেছেন, ইবনুত তাইমি তাঁর পিতা থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মদিনার অধিবাসী হানাশ আবু আলী নামক এক শাইখ আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, ইকরিমা তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: মুশরিকদের জন্য কি আরব ভূমিতে গির্জা নির্মাণ করার অধিকার আছে? তিনি বললেন: মুসলিমরা যে শহর নির্মাণ করেছে তাতে কোনো গির্জা, উপাসনালয়, ক্রুশ বা বর্শা উত্তোলন করা যাবে না, শিঙা ফুঁকা যাবে না, ঘণ্টা বাজানো যাবে না এবং সেখানে মদ বা শুকর প্রবেশ করানো যাবে না।

আর যেসব ভূমিতে তাদের সাথে সন্ধি করা হয়েছে, মুসলিমদের কর্তব্য হলো তাদের সন্ধি পূর্ণ করা। আর 'মুসলিমদের নির্মিত শহর'-এর ব্যাখ্যা হলো: যা তাদের নিজস্ব ভূমি ছিল অথবা যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করেছে।

বায়হাকি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (৯/২০২) এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এর শেষে রয়েছে: অথবা অনারবরা যেসব শহর নির্মাণ করেছে, সেগুলোতে আরবদের (মুসলিমদের) কর্তব্য হলো তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করা এবং তাদের সাধ্যের অতীত কোনো কিছুর বোঝা তাদের ওপর না চাপানো। আবু উবাইদ 'আল-আমওয়াল' (পৃষ্ঠা ২৬৯) গ্রন্থে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এর সারকথা হলো, তাদের যেসব গির্জার ওপর সন্ধি করা হয়েছে সেগুলো তাদের জন্য সেই সব শর্তে বহাল থাকবে যা ইবনে আব্বাস এবং তার পূর্বে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) উল্লেখ করেছেন, যা ফতওয়ার শেষে বিস্তারিতভাবে আসবে।

তবে সন্ধির পর তারা যা নতুন করে নির্মাণ করেছে—তা মুসলিমদের দুর্বলতার সময় হোক বা তাদের অসতর্কতার সুযোগে হোক—সেগুলো বহাল রাখা জায়েজ নয়; বরং সেগুলো ধ্বংস করা এবং তাদের শাস্তি দেওয়া ওয়াজিব। আল্লাহ আমাদের অবস্থা ও দুর্বলতার প্রতি দয়া করুন এবং আমাদের বিপদ কাটিয়ে দিন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০৪)
على مسلم" (1) . والمدينة التي يسكنها المسلمون، والقرية التي يسكنها المسلمون، وفيها مساجد المسلمين، لا يجوز أن يظهر فيها شيء من شعائر الكفر: لا كنائس ولا غيرها (2) ، إلا أن يكون لهم عهدٌ، فيوفى لهم بعهدهم. فلو كان بأرض القاهرة ونحوها كنيسةٌ قبل بنائها، لكان للمسلمين أخذها، لأن الأرض عنوةً فكيف وهذه الكنائس محدثة، أحدثها النصارى؟!

‌‌حقيقة دولة العبيديين بمصر:

فإن القاهرة بقي ولاة أمورها نحو مائتي سنةٍ، على غير شريعة الإسلام، وكانوا يظهرون أنهم رافضة (3) ، وهم في الباطن إسماعيلية (4) ،

--------------------------------------------

(1) هذا الحديث أخرجه أبو داود - كما قال الشيخ تقي الدين - من وجهين. الأول: رقمه (3032) قال حدثنا سليمان بن داود. العتكي ثنا جرير عن قابوس بن أبي ظبيان عن أبيه عن ابن عباس رضي الله عنهما مرفوعاً (لا تصلح قبلتان بأرض) إلى جملة الحديث الأولى.

والثاني: رقمه (3053) حدثنا عبد الله بن الجراح عن جرير عن قابوس به (لا جزية على مسلم) أي جملته الثانية والشيخ كما ترى جود إسناده.

والحديث أخرجه أحمد في المسند 1/ 223 وه 28 من وجهين: الأول حدثنا أسود بن عامر ثنا جعفر الأحمر عن قابوس به والثاني حدثنا جرير عن قابوس به. وأخرجه الترمذي رقم 633 قال: ثنا يحيى بن أكثم عن جرير عن قابوس بلفظ مقارب.

وأخرجه ابن أبي شيبة في مصنفه 3/197 ثنا جرير بن عبد الحميد عن قابوس به.

وأخرجه أبو عبيدة في الأموال رقم 121 قال حدثنا مصعب بن المقدام عن سفيان بن سعيد الثوري عن قابوس به مختصراً. وكذا أخرجه الدارقطني في السنن 4/ 156 و 157 والطحاوي في مشكل الآثار 4/ 16 وأبو نعيم في الحلية 9/ 197 وابن عدي في الكامل 2/ 142. والحديث -كما ترى - مداره على قابوس عن أبيه به وعن قابوس تعدد رواته.

(2) كبيع اليهود ومعابدهم أو أسواق بيع الخنازير أو مصانع الصليب. وغيرها من باب أولى كشعائر الوثنيين من الهندوس والسيخ والمجوس وشاكلتهم.

(3) هم أشهر من أن يعرفوا، وضلالهم بين، فغلوا في آل بيته صلى الله عليه وسلم وجفوا أزواجه وأصهاره وبقية الأصحاب وكفروهم، فصاروا باباً دخل منه الباطنية والزنادقة لهدم أصول الدين، وقد فضحهم شيخ الإسلام تقي الدين وفند شبههم في كتابه النادر (منهاج السنة النبوية في نقض كلام الشيعة والقدرية) ومما ذكره =
কোনো মুসলিমের ওপর" (১)। আর যে শহর বা গ্রামে মুসলিমরা বসবাস করে এবং যেখানে মুসলিমদের মসজিদ রয়েছে, সেখানে কুফরের কোনো নিদর্শন প্রকাশ পাওয়া বৈধ নয়: গির্জা বা অন্য কিছু (২), তবে যদি তাদের সাথে কোনো চুক্তি থাকে, তবে তাদের সেই চুক্তি পূর্ণ করা হবে। কায়রো বা এ জাতীয় কোনো ভূখণ্ড নির্মাণের পূর্বে যদি সেখানে কোনো গির্জা থেকে থাকে, তবে মুসলিমদের জন্য তা গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে, কারণ এ ভূমি যুদ্ধের মাধ্যমে বিজিত। তাহলে এই গির্জাগুলোর অবস্থা কী হবে যা নতুন করে তৈরি করা হয়েছে, যা নাসারারা (খ্রিস্টানরা) নতুনভাবে নির্মাণ করেছে?!

‌‌মিশরে উবাইদি রাষ্ট্রের প্রকৃত রূপ:

নিশ্চয়ই কায়রোর শাসনকর্তারা প্রায় দুইশ বছর যাবৎ ইসলামের শরীয়ত বহির্ভূত অবস্থায় ছিল। তারা প্রকাশ্যভাবে নিজেদের রাফেজি (৩) হিসেবে পরিচয় দিত, কিন্তু অন্তরালে তারা ছিল ইসমাইলি (৪),

--------------------------------------------

(১) এই হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন - যেমনটি শাইখ তাকীউদ্দীন বলেছেন - দুটি সূত্রে। প্রথমটি: নম্বর (৩০৩২), তিনি বলেন, সুলায়মান ইবনে দাউদ আল-আতাকি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি জারীর থেকে, তিনি কাবুস ইবনে আবি জোবইয়ান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে মারফু হিসেবে: (একই ভূখণ্ডে দুই কিবলা সঠিক নয়) হাদিসের প্রথম অংশ পর্যন্ত।

দ্বিতীয়টি: নম্বর (৩০৫৩), আবদুল্লাহ ইবনে আল-জাররাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জারীর থেকে, তিনি কাবুস থেকে (কোনো মুসলিমের ওপর জিজিয়া নেই) অর্থাৎ এর দ্বিতীয় অংশ। আর আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে শাইখ এর সনদকে শক্তিশালী বলেছেন।

হাদিসটি ইমাম আহমাদ তার মুসনাদে ১/২২৩ ও ৫/২৮ এ দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন: প্রথমটি আসওয়াদ ইবনে আমির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জাফর আল-আহমার থেকে কাবুস সূত্রে। দ্বিতীয়টি জারীর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাবুস সূত্রে। তিরমিজি এটি ৬৬৩ নম্বরে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আকসাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জারীর থেকে কাবুস সূত্রে প্রায় একই শব্দে।

ইবন আবি শায়বাহ এটি তার মুসান্নাফে ৩/১৯৭ এ বর্ণনা করেছেন, জারীর ইবনে আব্দুল হামিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন কাবুস সূত্রে।

আবু উবাইদাহ আল-আমওয়াল-এ ১২১ নম্বরে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, মুসআব ইবনুল মিকদাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরী থেকে কাবুস সূত্রে সংক্ষেপে। তদ্রূপ দারা কুতনী আস-সুনান ৪/১৫৬ ও ১৫৭ এ, তাহাবি মুশকিলুল আসার ৪/১৬ এ, আবু নুয়াইম আল-হিলয়াহ ৯/১৯৭ এ এবং ইবনে আদি আল-কামিল ২/১৪২ এ বর্ণনা করেছেন। আর হাদিসটি - যেমন আপনি দেখছেন - কাবুস থেকে তার পিতা সূত্রে আবর্তিত হয়েছে এবং কাবুস থেকে বর্ণনাকারীর সংখ্যা অনেক।

(২) যেমন ইহুদিদের উপাসনালয় ও ধর্মীয় স্থান, অথবা শুকর বিক্রির বাজার বা ক্রুশ তৈরির কারখানা। এবং অন্যান্য বিষয়গুলো আরও গুরুত্বের সাথে (নিষিদ্ধ), যেমন হিন্দু, শিখ, মজুসী (অগ্নিউপাসক) এবং তাদের মতো মূর্তিপূজকদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।

(৩) তারা পরিচিত হওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, তাদের পথভ্রষ্টতা সুস্পষ্ট। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহলে বাইতের ব্যাপারে অতিরঞ্জন করেছে এবং তাঁর স্ত্রীগণ, শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় এবং অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের প্রতি অন্যায় আচরণ করেছে ও তাঁদের কাফের বলেছে। ফলে তারা এমন একটি দরজায় পরিণত হয়েছে যেখান দিয়ে বাতেনি ও যিনদীকগণ দ্বীনের মূল ভিত্তি ধ্বংস করার জন্য প্রবেশ করেছে। শাইখুল ইসলাম তাকীউদ্দীন তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন এবং তাঁর অনন্য কিতাব 'মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ ফি নাকদি কালামিশ শিয়া ওয়াল কাদারিয়া'-তে তাদের সংশয়গুলো খণ্ডন করেছেন। এবং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা হলো =
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০৫)
_________

= في 1 / 20، (وهذا حال أهل البدع المخالفة للكتاب والسنة، فإنهم إن يتبعون إلا الظن وما تهوى الأنفس، ففيهم جهل وظلم، لا سيما الرافضة، فإنهم أعظم ذوي الأهواء جهلاً وظلماً يعادون خيار أولياء الله تعالى بعد النبيين من السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان - رضي الله عنهم ورضوا عنه -، ويوالون الكفار والمنافقين من اليهود والنصارى والمشركين وأصناف الملحدين كالنصيرية والإسماعيلية وغيرهم من الضالين. . .) . وقال في المنهاج 1/ 9 - 11 (ولهذا كانوا - أي الرافضة - عند عامة أهل العلم والدين، من أجهل الطوائف الداخلين في المسلمين، ومنهم من أدخل على الدين من الفساد ما لا يحصيه إلا العباد، فملاحدة الإسماعيلية والنصيرية وغيرهم من الباطنية المنافقين من بابهم دخلوا، وأعداء المسلمين من المشركين وأهل الكتاب بطريقهم وصلوا، استولوا بهم على بلاد الإسلام، وسبوا الحريم وأخذوا الأموال وسفكوا الدم الحرام، وجرى على الأمة بمعاونتهم من فساد الدنيا والدين ما لا يعلمه إلا رب العالمين) .

وقال في تسميتهم 1/ 35 (ومن زمن خروج زيد - يعني به علي بن الحسين بالكوفة سنة 22هـ - افترقت الشيعة إلى رافضة وزيدية، فإنه لما سئل عن أبي بكر وعمر؟ فترحم عليهما، رفضه قوم، فقال لهم: رفضتموني! فسموا رافضة لرفضهم إياه، وسمي من لم يرفضه من الشيعة زيدياً لانتسابهم إليه) . وهم بعد ذلك طوائف وفرق وبالجملة فهم مبغضون للصحابة ومكفروهم إلا خمسة وأوائلهم مشبهة مجسمة ثم هم معتزلة في صفات الله، قبورية في توحيد العبادة. ولا تكاد توجد مسألة إلا وهم مخالفون للسنة فيها أسأل الله العافية والسلامة، وأعوذ به من الخذلان والكفران.

(4) الإسماعيلية طائفة باطنية كافرة خارجة عن الإسلام تنتسب إلى إسماعيل بن جعفر الصادق بن محمد الباقر بن علي زين العابدين رحمهم الله ورضي عنهم - وانظر في هذه النسبة المنهاج 4/ 17 - 18 هزل! هم الذين يقولون بإلهية الحاكم بأمر الله العبيدي قال فيهم الشيخ 6/ 342 وما بعدها (وإنها ظهر من دعا إلى الرفض، وتسمى بأمير المؤمنين وأظهر القتال على ذلك، وحصل لهم ملك وأعوان مدة بني عبيد الله القداح الذين أقاموا بالمغرب مدة وبمصر نحو مائتي سنة. وهؤلاء باتفاق أهل العلم والدين كانوا ملاحدة ونسبهم باطل، فلم يكن لهم بالرسول اتصال نسب في الباطن ولا دين، وإنما أظهروا النسب الكاذب وأظهروا التشيع، ليتوسلوا بذلك إلى متابعة الشيعة إذ كانت أقل الطوائف عقلاً وديناً، وأكثرها جهلاً، وإلا فأمر هؤلاء العبيدية المنتسبين إلى إسماعيل بن جعفر أظهر من أن يخفي على مسلم.

ولهذا فجميع المسلمين الذين هم مؤمنون في طوائف الشيعة يتبرأون منهم، فالزيدية والإمامية تكفرهم وتتبرأ منهم، وإنما ينتسب إليهم الإسماعيلية الملاحدة الذين فيهم من الكفر ما ليس لليهود والنصارى كابن الصباح الذي أخرج لهم السكين وشر منهم قرامطة البحرين. . . .) .

وابن الصباح - كما عرفه المحقق - هو الحسن بن علي بن محمد بن صباح الحميري ولد سنة 428 هـ وهلك سنة 518 هـ مؤسس فرقة الحشاشين، استولى على قلعة الألموت بجبال الديلم هو من اتخذ القتل والاغتيال وسيلة لتحقيق أهداف دعوته، وهو من أئمة الإسماعيلية.

১/২০-এ আছে, (আর এটিই হলো কিতাব ও সুন্নাহ বিরোধী বিদআতিদের অবস্থা; কেননা তারা কেবল ধারণা এবং কুপ্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে। তাদের মধ্যে রয়েছে মূর্খতা ও অবিচার, বিশেষ করে রাফেযীদের মধ্যে। কেননা তারা প্রবৃত্তিপূজারীদের মধ্যে মূর্খতা ও অবিচারের দিক থেকে সর্বাপেক্ষা বড়। তারা নবীদের পরে আল্লাহর সর্বোত্তম বন্ধুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, যারা হলেন মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে অগ্রবর্তী প্রথম সারির ব্যক্তিবর্গ এবং যারা উত্তমভাবে তাদের অনুসরণ করেছেন - আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। আর তারা ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান, মুশরিক এবং নুসাইরিয়া ও ইসমাইলিয়ার মতো বিভিন্ন প্রকারের নাস্তিক ও অন্যান্য পথভ্রষ্ট কাফের ও মুনাফিকদের সাথে বন্ধুত্ব ও মিত্রতা বজায় রাখে...)। মিনহাজ গ্রন্থে (১/৯-১১) তিনি বলেন, (আর একারণেই সাধারণ আলিম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গের নিকট তারা - অর্থাৎ রাফেযীরা - মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মূর্খতম দল হিসেবে গণ্য। তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা দ্বীনের মধ্যে এমন ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে যা বান্দাদের পক্ষে গণনা করা সম্ভব নয়। ইসমাইলিয়া ও নুসাইরিয়ার নাস্তিকরা এবং অন্যান্য বাতেনী মুনাফিকরা তাদের পথ দিয়েই প্রবেশ করেছে। মুশরিক ও আহলে কিতাবভুক্ত মুসলিমদের শত্রুরা তাদের মাধ্যমেই নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছেছে। তাদের সাহায্যেই তারা মুসলিম দেশগুলো দখল করেছে, নারীদের বন্দী করেছে, সম্পদ লুণ্ঠন করেছে এবং পবিত্র রক্ত প্রবাহিত করেছে। তাদের সহযোগিতায় উম্মাহর দ্বীন ও দুনিয়ার এমন ক্ষতি সাধিত হয়েছে যা জগতসমূহের প্রতিপালক ব্যতীত আর কেউ জানে না।)

তাদের নামকরণের বিষয়ে তিনি (১/৩৫) বলেন, (যায়দ - অর্থাৎ কূফায় ১২২ হিজরীতে আলী ইবনে হুসাইনের ছেলে যায়দ - এর বিদ্রোহের সময় থেকে শিয়ারা ‘রাফেযী’ ও ‘যায়দী’ - এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যখন তাঁকে আবু বকর ও উমর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি তাঁদের উভয়ের জন্য রহমতের দোয়া করলেন। তখন একদল লোক তাঁকে বর্জন করল, তিনি তাদের উদ্দেশ্য করে বললেন: তোমরা আমাকে বর্জন (রাফাযতুমুনী) করলে! তাঁর প্রতি এই বর্জন বা প্রত্যাখ্যানের কারণে তাদের নাম ‘রাফেযী’ রাখা হয়। আর শিয়াদের মধ্যে যারা তাঁকে বর্জন করেনি, তাঁর প্রতি সম্পৃক্ততার কারণে তাদের ‘যায়দী’ বলা হয়।) এরপর তারা আরও অনেক দল ও উপদলে বিভক্ত হয়েছে। সারসংক্ষেপ হলো, তারা সাহাবীগণের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং মাত্র পাঁচজন ব্যতীত সবাইকে কাফির মনে করে। তাদের প্রথম দিকের লোকেরা ছিল ‘মুশাব্বিহা’ ও ‘মুজাসসিমা’ (আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনাদানকারী), পরবর্তীতে তারা আল্লাহর সিফাত বা গুণাবলীর ক্ষেত্রে ‘মুতাযিলা’পন্থী এবং ইবাদতের তাওহীদের ক্ষেত্রে কবরপূজারীতে পরিণত হয়েছে। এমন কোনো মাসআলাহ নেই বললেই চলে যেটিতে তারা সুন্নাহর বিরোধিতা করেনি। আমি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছে লাঞ্ছনা ও কুফরি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

(৪) ইসমাইলিয়া হলো একটি বাতেনী কাফের সম্প্রদায় যারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত। তারা নিজেদেরকে ইসমাইল ইবনে জাফর আস-সাদিক ইবনে মুহাম্মদ আল-বাকির ইবনে আলী যায়নুল আবেদীন - আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন - এর দিকে সম্পৃক্ত করে। (এই সম্পৃক্ততার বিষয়ে মিনহাজ ৪/১৭-১৮ দেখুন, এটি একটি তামাশা!) এরাই উবাইদী শাসক ‘আল-হাকিম বি-আমরিল্লাহ’র উপাস্য হওয়ার দাবি করে। শায়খ তাদের সম্পর্কে ৬/৩৪২ ও পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে বলেন, (যে ব্যক্তি রাফেযী মতবাদের দিকে দাওয়াত দিয়েছিল তার প্রকাশ ঘটেছিল এবং সে নিজেকে আমিরুল মুমিনীন হিসেবে দাবি করেছিল এবং এর ভিত্তিতে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। বনু উবাইদুল্লাহ আল-কাদ্দাহর আমলে তাদের জন্য রাজত্ব ও সাহায্যকারী বাহিনী তৈরি হয়েছিল, যারা মাগরিবে কিছুকাল এবং মিসরে প্রায় দুইশ বছর অবস্থান করেছিল। আলেম সমাজ ও দ্বীনদারদের ঐকমত্য অনুযায়ী তারা ছিল নাস্তিক এবং তাদের বংশপরিচয় ছিল মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাদের বংশগত বা ধর্মীয় কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারা কেবল মিথ্যা বংশপরিচয় এবং শিয়া মতবাদ প্রকাশ করেছিল যাতে এর মাধ্যমে তারা শিয়াদের অনুগামী করতে পারে। কেননা শিয়ারা হলো বিচারবুদ্ধি ও দ্বীনদারিতে সবচেয়ে অধম এবং মূর্খতায় সবচেয়ে অগ্রগামী একটি দল। অন্যথায়, ইসমাইল ইবনে জাফরের দিকে সম্পৃক্ত এই উবাইদীদের বিষয়টি কোনো মুসলিমের কাছে গোপন থাকার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট।

একারণে শিয়াদের বিভিন্ন দলের মধ্যে যারা মুমিন তারা সবাই এদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে। যায়দী ও ইমামিয়ারাও এদের কাফির মনে করে এবং এদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়। কেবল নাস্তিক ইসমাইলিয়ারাই নিজেদেরকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত করে, যাদের মধ্যে এমন কুফরি বিদ্যমান যা ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের মধ্যেও নেই; যেমন ইবনে সাবাহ, যে তাদের জন্য ছুরি বের করেছিল এবং তাদের চেয়েও জঘন্য হলো বাহরাইনের কারামিতা সম্প্রদায়...।)

আর ইবনে সাবাহ - যেমনটি মুহাক্কিক পরিচয় দিয়েছেন - তিনি হলেন হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন সাবাহ আল-হিময়ারী। তিনি ৪২৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫১৮ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হাশাশীন ফির্কার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি দাইলাম পাহাড়ের আলমুত দুর্গ দখল করেছিলেন। তিনিই নিজের দাওয়াতের লক্ষ্য অর্জনে হত্যা ও গুপ্তহত্যাকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন ইসমাইলিয়াদের অন্যতম ইমাম।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০৬)
ونصيرية (1) ، وقرامطة (2) (3) ؛ كما قال فيهم الغزالي (4) رحمه الله في كتابه الذي صنفه (5) في الرد عليهم: "ظاهر مذهبهم الرفض، وباطنه الكفر المحض" (6) .

--------------------------------------------

(1) النصيرية: طائفة باطنية خبيثة كتب فيهم الشيخ تقي الدين فتوى مشهورة أنقل منها ما يناسب المقام، من مجموع الفتاوى 53/ 145 - 160 ومما قاله. (الحمد الله رب العالمين، هؤلاء القوم المسمون بالنصيرية هم وسائر أصناف القرامطة الباطنية أكفر من اليهود والنصارى، بل وأكفر من كثير من المشركين. وضررهم على أمة محمد صلى الله عليه وسلم أعظم من ضرر الكفار المحاربين مثل كفار التتار والفرنج وغيرهم، فإن هؤلاء يتظاهرون عند جهال المسلمين بالتشيع، وموالات أهل البيت، هم في الحقيقية لا يؤمنون بالله ولا برسوله ولا بكتابه، ولا بأمر ولا نهي، ولا ثواب ولا عقاب، ولا جنة ولا نار، ولا بأحد من المرسلين قبل محمد صلى الله عليه وسلم ولا بملة من الملل السالفة؟ بل يأخذون كلام الله ورسوله المعروف عند علماء المسلمين يتأولونه على أمور يفترونها، يدعون أنها علم الباطن. . . ومن جنس قولهم: إن الصلوات الخمس معرفة أسرارهم، والصيام المفروض كتمان أسرارهم، وحج البيت العتيق زيارة شيوخهم، وإن (يدا أبي لهب) هما أبو بكر وعمر. . . . ولهم ألقاب معروفة عند المسلمين، تارة يسمون الملاحدة وتارة القرامطة وتارة (الباطنية) وتارة االإسماعيلية وتارة النصيرية وتارة الخرمية وتارة المحمرة وهذه الأسماء منها ما يعمهم، ومنها ما يخص بعض أصنافهم. . . وهم كما قال العلماء فيهم: ظاهر مذهبهم الرفض وباطنه الكفر المحض - وأن أوانيهم كأواني المجوس وملابسهم - ولا يجوز دفنهم في مقابر المسلمين ولا يصلى على من مات منهم. . . وإذا أظهروا التوبة ففي قبولها منهم نزاع بين العلماء. . ولا ريب أن جهاد هؤلاء وإقامة الحدود عليهم من أعظم الطاعات وأكبر الواجبات، وهو أفضل من جهاد من لا يقاتل المسلمين من المشركين وأهل الكتاب، فإن جهاد هؤلاء من جنس جهاد المرتدين. . أيضاً فضرر هؤلاء أي النصيرية - على المسلمين - أعظم من ضرر أولئك. . . . فلا يحل لأحد أن يكتم ما يعرفه من أخبارهم بل يفشيها ويظهرها ليعرف المسلمون حقيقة حالهم. . .) ولا بد لك أيها القارئ من تكرار قراءة فتوى الشيخ فيهم وفهمها ثم العمل بها. وانظر التدمرية ص 48 - 49. وقال في المجموع 35/ 168 (فأما النصيرية فهم أتباع أبي شعيب محمد بن نصير، وكان من الغلاة الذين يقولون، إن عليا إله) وقد هلك سنة 260 هـ في سامراء العراق وهؤلاء النصيرية هم الذين يسميهم شيخ الإسلام رافضة الشام في مواضع عديدة من كتبه.

(2) القرامطة: مر في كلام الشيخ ابن تيميه الآنف أنهم هم النصيرية، أو بعضهم حيث عد القرامطة من ألقابهم سموا بهذا الاسم نسبه إلى داعية من دعاتهم اسمه حمدان بن الأشعت الشهير بقرمط من سواد العراق المتوفى سنة 278 هـ قال الشيخ في المجموع 35/ 43 1، (فهؤلاء القرامطة هم في الباطن =
এবং নুসাইরিয়া (১), ও কারামিতা (২) (৩); যেমনটি তাদের সম্পর্কে আল-গাযালী (৪) রহিমাহুল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন যা তিনি তাদের খণ্ডনে রচনা (৫) করেছেন: "তাদের মাযহাবের বাহ্যিক দিক হলো রাফয (শিয়া মতবাদ), আর এর অভ্যন্তরীণ দিক হলো বিশুদ্ধ কুফর" (৬)।

--------------------------------------------

(১) নুসাইরিয়া: একটি নিকৃষ্ট বাতেনী গোষ্ঠী। শাইখ তাকীউদ্দীন তাদের সম্পর্কে একটি প্রসিদ্ধ ফতোয়া লিখেছেন, যেখান থেকে আমি প্রাসঙ্গিক অংশটুকু উদ্ধৃত করছি যা 'মাজমুউল ফাতাওয়া' ৩৫/১৪৫-১৬০ থেকে নেওয়া। তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: (সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য। নুসাইরিয়া নামে অভিহিত এই গোষ্ঠী এবং কারামিতা বাতেনিয়াদের অন্যান্য সকল শ্রেণী ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের চেয়েও বড় কাফির; বরং তারা অনেক মুশরিকের চেয়েও বড় কাফির। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের উপর তাদের ক্ষতি তাতার ও ক্রুসেডারদের মতো যুদ্ধরত কাফিরদের ক্ষতির চেয়েও অনেক বেশি। কারণ এরা সাধারণ মুসলিমদের কাছে শিয়া মতবাদ এবং আহলে বাইতের প্রতি মহব্বত প্রকাশের ভান করে, অথচ তারা বাস্তবে আল্লাহ, তাঁর রাসূল, তাঁর কিতাব, আদেশ-নিষেধ, সওয়াব-গুনাহ, জান্নাত-জাহান্নাম এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পূর্ববর্তী কোন রাসূল বা অতীতের কোন শরীয়তের ওপর বিশ্বাস রাখে না। বরং তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কালাম যা মুসলিম আলেমদের নিকট সুপরিচিত, তা গ্রহণ করে সেগুলোর এমন সব অপব্যাখ্যা দেয় যা তারা নিজেরা বানিয়ে নিয়েছে এবং দাবি করে যে এগুলো বাতেনী বা গোপন জ্ঞান। ... তাদের কথার ধরন হলো: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত হলো তাদের গোপন রহস্যের পরিচয় লাভ করা, ফরয সাওম হলো তাদের গোপন রহস্য লুকিয়ে রাখা এবং বায়তুল্লাহর হাজ্জ হলো তাদের শাইখদের যিয়ারত করা। আর (আবু লাহাবের দুই হাত) বলতে তারা আবু বকর ও উমরকে বোঝায়। ... মুসলিমদের কাছে তাদের পরিচিত কিছু উপাধি রয়েছে, কখনো তাদের মুলহিদ (নাস্তিক), কখনো কারামিতা, কখনো বাতেনিয়া, কখনো ইসমাইলিয়া, কখনো নুসাইরিয়া, কখনো খুররামীয়া এবং কখনো মুহাম্মিরা বলা হয়। এই নামগুলোর কোনটি তাদের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আবার কোনটি কোন বিশেষ উপদলের ক্ষেত্রে। ... আলেমগণ তাদের সম্পর্কে যেমন বলেছেন: তাদের মাযহাবের বাহ্যিক দিক হলো রাফয এবং অভ্যন্তরীণ দিক হলো বিশুদ্ধ কুফর। তাদের থালা-বাসন মজুসীদের (অগ্নিউপাসক) থালা-বাসনের মতো, তাদের পোশাক-পরিচ্ছদও তাই। তাদের মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা বৈধ নয় এবং তাদের মৃতদের ওপর জানাযার সালাত পড়া যাবে না। ... যদি তারা তাওবাহ প্রকাশ করে তবে তা কবুল করার ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ... এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা এবং এদের ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করা মহান ইবাদত ও আবশ্যিক কর্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি ঐসব মুশরিক ও আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার চেয়েও উত্তম যারা মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করে না। কারণ এদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা মুরতাদদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার মতো। ... মুসলিমদের ওপর নুসাইরিয়াদের ক্ষতি অন্যদের চেয়েও বেশি। ... সুতরাং তাদের সম্পর্কে যা জানা আছে তা গোপন করা কারো জন্য হালাল নয়, বরং তা প্রচার ও প্রকাশ করে দিতে হবে যাতে মুসলিমরা তাদের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারে।) হে পাঠক, শাইখের এই ফতোয়াটি বারবার পড়া, বোঝা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আপনার জন্য অপরিহার্য। দেখুন: আত-তাদমুরিয়া, পৃষ্ঠা ৪৮-৪৯। মাজমুউল ফাতাওয়া ৩৫/১৬৮-এ তিনি বলেছেন: (নুসাইরিয়ারা হলো আবু শুআইব মুহাম্মাদ ইবনে নুসাইরের অনুসারী, সে ছিল চরমপন্থীদের অন্যতম যারা বলত যে আলী ইলাহ।) সে ২৬০ হিজরীতে ইরাকের সামাররায় মারা যায়। এই নুসাইরিয়াদেরকেই শাইখুল ইসলাম তাঁর কিতাবের অনেক স্থানে শামের রাফেযী বলে অভিহিত করেছেন।

(২) কারামিতা: শাইখ ইবনে তাইমিয়্যার পূর্বোক্ত আলোচনায় এসেছে যে তারাই হলো নুসাইরিয়া অথবা তাদেরই অংশবিশেষ, যেখানে তিনি কারামিতাকে তাদের উপাধি হিসেবে গণ্য করেছেন। তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে তাদের জনৈক দাঈর নামানুসারে যার নাম হামদান ইবনে আশ'আছ, যে ইরাকের গ্রাম্য অঞ্চলের বাসিন্দা ছিল এবং কারামাত নামে প্রসিদ্ধ ছিল, সে ২৭৮ হিজরীতে মারা যায়। শাইখ মাজমুউল ফাতাওয়া ৩৫/১৪৩-এ বলেছেন: (এই কারামিতারা মূলত অভ্যন্তরীণভাবে =
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০৭)
_________

= والحقيقة أكفر من اليهود والنصاري وأما في الظاهر فيدعون الإسلام، بل إيصال النسب إلى العترة النبوية - أهل البيت - وعلم الباطن الذي لا يوجد عند الأنبياء والأولياء. وأن أمامهم معصوم. فهم في الظاهر من أعظم الناس دعوى بحقائق الإيمان وفي الباطن من أكفر الناس بالرحمن، بمنزلة من ادعى النبوة من الكذابين قال تعالى {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِباً أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَنْ قَالَ سَأُنزِلُ مِثْلَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ} وهؤلاء قد يدعون هذا وهذا. وقال في موضع آخر عن أشهرهم - في المنهاج 6/ 343 وشر منهم - أي من العبيدية الإسماعيلية - قرامطة البحرين - وهي المعروفة الآن بالأحساء - أصحاب أبي سعيد الجنابي - قتل سنة 301 هـ - فإن أولئك لم يكونوا يتظاهرون بدين الإسلام بالكلية، بل قتلوا الحجاج، وأخذوا الحجر الأسود) .

والقرامطة الباطنية الفلاسفة يقولون عن الله: لا موجود ولا معدوم، ولا حي ولا ميت كما في الدرء 7/ 119 وفي التدمرية 16، 38 - 39 وانظر شرح الأصبهانية5/ 0 7 - 73 ضمن الفتاوى الكبرى.

(3) في الظاهرية: وقرامطة باطنية.

(4) هو أبو حامد محمد بن محمد الغزالي المتوفى سنة505 هـ وعمره 55سنة، الفقيه الأصولي صاحب التصانيف الصوفي المنظر الأشعري، المصبوغ بصبغة الفلاسفة، ومن أجل كتبه إحياء علوم الدين الذي انتقد كثيراً - ذكره الشيخ ابن تيمية كثيراً وسأذكر طرفاً من هذا في تحقيق قاعدة في الرد على الغزالي في التوكل، لشيخ الإسلام ابن تيمية إن شاء الله.

قال في ما نحن فيه - في كتابه منهاج السنة 8/ 14 (وصنف المسلمون في كشف أسرارهم وهتك أستارهم يعني العبيدين الباطنية الإسماعيلية. . . . كتبا معروفة لما علموه من إفسادهم الدين والدنيا، وصنف فيهم القاضي عبد الجبار، والقاضي أبو بكر بن الطيب - هو الباقلاني -، وأبو يعلى والغزالي، وابن عقيل وأبو عبد الله الشهرستاني، وطوائف غير هؤلاء، وهم الملاحدة الذين ظهروا بالمشرق والمغرب واليمن والشام ومواضع متعددة، كأصحاب الألموت وأمثالهم) . وأصحاب الألموت هم الإسماعيلية والألموت هي قلاع في جبال الديلم جنوب بحر قزوين كانت معاقل دعوتهم - حتى هدمها هولاكو.

(5) صنف الغزالي كتباً في الرد عليهم وصلنا منها ثلاثة هي:

1 - فضائح الباطنية وفضائل المستظهرية، وأشار في إحياء علوم الدين 2/ 130 أن هذا الكتاب مستنبط من كشف الأسرار وهتك الأستار، الكتاب المشهور لأبي بكر ابن الطيب الباقلاني والذي ذكره الشيخ في مواضع متعددة باسمه ولم يصلنا إلا في نقول الكتب.

2 - القسطاس المستقيم، طبع عدة طبعات آخرها في لبنان تحققه.

3 - جواب المسائل الأربع - من باطنية همدان، نشره رشيد رضا في المنار عدد 29 ص (601-608) .

ولكتاب القسطاس المستقيم بالمناسبة نسخة خطية بدار الكتب المصرية رقم 98 عقائد تيمور، مع طبعات قديمة أقدمها سنة 1318 هـ في مطبعة. . . . . بمصر. =
_________

= প্রকৃতপক্ষে তারা ইহুদি ও নাসারাদের চেয়েও বড় কাফের, তবে বাহ্যিকভাবে তারা ইসলামের দাবি করে; বরং তারা নবী পরিবারের (আহলে বাইত) সাথে বংশীয় যোগসূত্র এবং এমন এক গোপন বা বাতেনি ইলমের দাবি করে যা নবী ও ওলিদের কাছেও নেই। তাদের মতে তাদের ইমাম নিষ্পাপ। তারা বাহ্যিকভাবে মানুষের মাঝে ঈমানের হাকিকত বা প্রকৃত সত্যের সবচেয়ে বড় দাবিদার, কিন্তু অভ্যন্তরীণভাবে তারা পরম দয়াময় (রাহমান)-এর সাথে কুফরি করা মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম। তারা সেইসব মিথ্যুকদের স্তরে যারা নবুওয়াতের দাবি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে অথবা বলে যে, 'আমার প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়েছে', অথচ তার প্রতি কোনো কিছুই ওহি করা হয়নি এবং যে বলে, 'আল্লাহ যা নাজিল করেছেন আমিও অনুরূপ নাজিল করব'}। তারা এই উভয় প্রকারেরই দাবি করে থাকে। তিনি অন্য এক স্থানে তাদের মধ্যে অধিক পরিচিতদের সম্পর্কে বলেন—আল-মিনহাজ ৬/৩৪৩-এ, আর তারা হচ্ছে তাদের (উবাইদি ইসমাইলিদের) চেয়েও নিকৃষ্ট—অর্থাৎ বাহরাইনের কারামিতা সম্প্রদায়—যা বর্তমানে আল-আহসা নামে পরিচিত—আবু সাঈদ আল-জান্নাবির অনুসারীগণ—যিনি ৩০১ হিজরিতে নিহত হন। তারা পুরোপুরিভাবে ইসলাম ধর্মের বেশ ধারণ করত না; বরং তারা হাজিদের হত্যা করেছিল এবং হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়েছিল।

বাতেনি কারামিতা দার্শনিকরা আল্লাহ সম্পর্কে বলে: তিনি বিদ্যমানও নন আবার অবিদ্যমানও নন, জীবিতও নন আবার মৃতও নন। যেমনটি 'আদ-দারউ' ৭/১১৯ এবং 'আত-তাদমুরিয়্যাহ' ১৬, ৩৮-৩৯ পৃষ্ঠায় রয়েছে। আরও দেখুন 'শারহুল আসবাহানিয়্যাহ' ৫/৭০-৭৩, 'আল-ফাতাওয়া আল-কুবরা'-এর অন্তর্ভুক্ত।

(৩) জাহিরিয়্যাহ মতে: এবং বাতেনি কারামিতা সম্প্রদায়।

(৪) তিনি হলেন আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজালি, মৃত্যু ৫০৫ হিজরি, ৫৫ বছর বয়সে। তিনি একজন ফকিহ, উসুলি (মূলনীতিবিদ), বহু গ্রন্থের প্রণেতা, সুফি তাত্ত্বিক এবং আশআরি মতাবলম্বী, যার ওপর দার্শনিকদের প্রভাব ছিল। তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হলো 'ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন', যা অনেক সমালোচিত হয়েছে—শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহ এটি বহুবার উল্লেখ করেছেন। আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর 'কায়েদাতুন ফির রাদ্দি আলাল গাজালি ফিত তাওয়াক্কুল'-এর তাহকিক করার সময় ইনশাআল্লাহ এর কিছু অংশ উল্লেখ করব।

আমরা যে প্রসঙ্গে কথা বলছি সে সম্পর্কে তিনি তার গ্রন্থ 'মিনহাজুস সুন্নাহ' ৮/১৪-এ বলেন: (উবাইদি বাতেনি ইসমাইলিদের গোপন রহস্য উন্মোচন করতে এবং তাদের পর্দা ফাঁস করতে মুসলমানরা বহু প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন, কারণ তারা জানত যে তারা দ্বীন ও দুনিয়া উভয়কে ধ্বংস করছে। তাদের খণ্ডনে কাজি আবদুল জাব্বার, কাজি আবু বকর বিন তায়্যিব—যিনি আল-বাকিল্লানি—, আবু ইয়ালা, আল-গাজালি, ইবনু আকিল, আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাহরাস্তানি এবং আরও অনেকে কিতাব লিখেছেন। তারা হলো সেই মুলহিদ (ধর্মত্যাগী) গোষ্ঠী যারা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, ইয়েমেন, সিরিয়া এবং বিভিন্ন স্থানে আত্মপ্রকাশ করেছিল, যেমন আলামুত দুর্গের অধিবাসী ও তাদের সমমনাগণ)। আলামুত দুর্গের অধিবাসী বলতে ইসমাইলিদের বোঝানো হয়েছে। আলামুত হলো কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণে দাইলাম পাহাড়ে অবস্থিত কিছু দুর্গ যা ছিল তাদের দাওয়াতের কেন্দ্রস্থল—যতক্ষণ না হালাকু খান সেগুলো ধ্বংস করেন।

(৫) বাতেনিদের খণ্ডনে গাজালি বেশ কিছু কিতাব রচনা করেছেন যার মধ্যে তিনটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে:

১ - ফাদায়িহুল বাতিনিয়্যাহ ওয়া ফাদায়িলুল মুস্তাজহিরিয়্যাহ। তিনি 'ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন' ২/১৩০-এ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই বইটি আবু বকর ইবনু তায়্যিব আল-বাকিল্লানির প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'কাশফুল আসরার ওয়া হাতকুল আস্তার' থেকে সংগৃহীত। শায়খ ইবনে তাইমিয়্যাহ বিভিন্ন স্থানে এর নাম উল্লেখ করেছেন, তবে অন্যান্য বইয়ের উদ্ধৃতি ছাড়া মূল গ্রন্থটি আমাদের কাছে পৌঁছেনি।

২ - আল-কিসতাসুল মুস্তাকিম, এটি অনেকবার মুদ্রিত হয়েছে, সর্বশেষ লেবাননে তাহকিকসহ প্রকাশিত হয়েছে।

৩ - জাওয়াবুল মাসাইলিল আরবা'—হামাদানের বাতেনিদের পক্ষ থেকে আসা প্রশ্নের উত্তর। রশিদ রিদা এটি 'আল-মানার' পত্রিকার ২৯তম সংখ্যায় (৬০১-৬০৮ পৃষ্ঠায়) প্রকাশ করেছেন।

প্রসঙ্গত 'আল-কিসতাসুল মুস্তাকিম' বইটির একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ '৯৮ আকাইদ তায়মুর' নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এর পুরনো সংস্করণগুলোর মধ্যে প্রাচীনতমটি ১৩১৮ হিজরিতে মিশরের... ছাপাখানায় মুদ্রিত। =
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০৮)
واتفق طوائف المسلمين: علماؤهم، وملوكهم، عامتهم من الحنفية والمالكية والشافعية والحنابلة وغيرهم، على أنهم كانوا خارجين عن شريعة الإسلام، وأن قتالهم كان جائزاً: بل نصّوا على نسبهم كان باطلاً (1) . وأن جدهم كان عبيد الله بن ميمون القدّاح (2) ، لم يكن من آل بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم.

--------------------------------------------

= (6) هذه العبارة التي نقلها شيخ الإسلام ، ذكرها أبو حامد في الباب الرابع من الفضائح ، في نقل مذهبهم جملة وتفصيلاً ص 37 فقال: (أما الجملة فهو أنه مذهب ظاهره الرفض وباطنه الكفر المحض ، ومفتتحه حصر مدارك العلوم في قول الإمام المعصوم ، وعزل العقول أن تكون مدركة للحق لما يعتريها من الشبهات. هذا مبدأ دعوتهم ثم إنهم بالآخرة يظهرون ما يناقض الشرع وكأنه غاية مقصودهم ، لأن سبيل دعوتهم ليس بمتعين في فن واحد ، بل يخاطبون كل فريق بما يوافق رأيه ، بعد أن يظهروا منهم بالانقياد لهم والموالاة لإمامهم. فيوافقون اليهود والنصارى والمجوس على جملة معتقداتهم ويقرونهم عليها فهذه جملة المذهب. وأما تفصيله. . .) إلخ.

(1) في الظاهرية: على أن نسبهم كان ، وفي المطبوعة: على أن نسبهم كان.. لأنهم ينتسبون إلى ولد فاطمة ابنة رسول الله صلى الله عليه وسلم من ولد علي بن أبي طالب رضي الله عنه وعن صحابة الرسول أجمعين.

(2) هذا الرجل ليس هو عبد الله بن ميمون بن داود القداح - مولى بني الحارث بن مخذوم المكي من رجال الترمذي رحمه الله ، وهو متوفي 180 هـ وهو منكر الحديث متروك ، وترجمته في النبلاء 9/320 ، والكامل 4/187-190 ، وتهذيب الكمال ص 747 والمجروحين لابن حبان 2/21 أقول هذا لتخليط البعض بينه وبين عبيد الله هذا الذي ذكره الشيخ ، ربما بسبب اشتراكهما في الاسم الثلاثي ، لكن تغايرهما واضح في النسب وسنة الوفاة. وعبيد الله هذا هو ابن ميمون بن ديصان القداح المولود سنة 259 هـ والهالك سنة 322 هـ وهو من أهواز العراق من مدينة سليمة كان أبوه يهودياً فمات فتزوجت أمه أحد العلويين الذي رباه ، ثم لما كبرا وعى العلوية وهو الذي أسس الدولة العبيدية بالمغرب سنة 297 هـ. انظر التبصير في الدين ص 141 ، والفرق بين الفرق ص 282-289 والقرامطة لابن الجوزي ص 71 - 72 وقال شيخ الإسلام في المنهاج 4/99-100 (وقد ادعى قبله - أي قبل ابن تومرت (ت 520) - أنه المهدي عبيد الله بن ميمون القداح ، ولكن لم يوافق في الاسم ولا اسم الأب ، وهذا ادعى أنه ولد محمد بن إسماعيل بن جعفر - أي جعفر الصادق - ، وأن ميموناً هذا هو محمد بن إسماعيل وأهل المعرفة بالنسب وغيرهم من علماء المسلمين يعلمون أنه كذب في دعوى نسبه ، وأن أباه كان يهودياً ، ربيب مجوس ، فله نسبتان: نسبة إلى اليهود ، ونسبة إلى المجوس ، وهو وأهل بيته كانوا ملاحدة ، وهو أئمة الإسماعيلية ، الذين قال فيهم العلماء: إن ظاهر =
মুসলিমদের সকল দল: তাদের আলেমগণ, শাসকগণ এবং হানাফী, মালিকী, শাফিঈ, হাম্বলী ও অন্যান্য মাযহাবের সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তারা (উবাইদীগণ) ইসলামের শরীয়ত থেকে বিচ্যুত ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা বৈধ ছিল। বরং তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাদের বংশপরিচয় ছিল ভিত্তিহীন (১)। তাদের দাদা ছিল উবাইদুল্লাহ বিন মাইমুন আল-কাদ্দাহ (২), সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইত বা পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

--------------------------------------------

= (৬) শায়খুল ইসলাম কর্তৃক উদ্ধৃত এই বক্তব্যটি আবু হামিদ (আল-গাযালী) ‘আল-ফাদাইহ’ গ্রন্থের চতুর্থ অধ্যায়ে তাদের মতবাদের বিস্তারিত বিবরণে (পৃষ্ঠা ৩৭) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: “সারকথা হলো, এটি এমন একটি মতবাদ যার বহির্ভাগ রাফেযী মতাদর্শের মতো, কিন্তু এর অভ্যন্তরীণ রূপ হলো নিরেট কুফর। এর সূচনালগ্ন হলো জ্ঞানের উৎসকে কেবল একজন মাসুম (নিষ্পাপ) ইমামের বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং যুক্তিবুদ্ধিকে সত্য উপলব্ধি করার ক্ষমতা থেকে বিচ্যুত করা, কারণ যুক্তিতে নানা সংশয় দেখা দিতে পারে। এটিই তাদের দাওয়াতের মূলনীতি। এরপর শেষ পর্যায়ে তারা এমন বিষয় প্রকাশ করে যা শরীয়তের পরিপন্থী এবং মনে হয় যেন এটিই তাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য। কারণ তাদের দাওয়াতের পদ্ধতি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা প্রত্যেক দলের সাথে তাদের নিজস্ব মতামতের অনুকূলে কথা বলে, যখন তারা দেখে যে ওই দলটি তাদের আনুগত্য করতে এবং তাদের ইমামের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে প্রস্তুত। ফলে তারা ইহুদি, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের সাথে তাদের মৌলিক বিশ্বাসের বিষয়ে একমত পোষণ করে এবং সেগুলোতে তাদের সমর্থন জানায়। এটিই হলো এই মতবাদের সারসংক্ষেপ। আর এর বিস্তারিত বিবরণ হলো...” ইত্যাদি।

(১) জাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘তাদের বংশপরিচয় ছিল’, এবং মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: ‘তাদের বংশপরিচয় ছিল... কারণ তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা ফাতিমার বংশধর এবং আলী বিন আবু তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও রাসূলের সকল সাহাবীর বংশধারার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত বলে দাবি করত।’

(২) এই ব্যক্তি আব্দুল্লাহ বিন মাইমুন বিন দাউদ আল-কাদ্দাহ নন—যিনি বনী হারিস বিন মাখযুম আল-মাক্কীর আযাদকৃত গোলাম এবং ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত বর্ণনাকারীদের একজন। তিনি ১৮০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তিনি ‘মুনকারুল হাদীস’ ও পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী ছিলেন। তার জীবনী সিয়ারু আলামিন নুবালা (৯/৩২০), আল-কামিল (৪/১৮৭-১৯০), তাহযীবুল কামাল (পৃষ্ঠা ৭৪৭) এবং ইবনে হিব্বানের আল-মাজরুহীন (২/২১)-এ বর্ণিত হয়েছে। আমি এ কথা এ কারণে বলছি যে, কেউ কেউ এই ব্যক্তির সাথে শায়খ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) উল্লিখিত এই উবাইদুল্লাহর মাঝে গুলিয়ে ফেলেন। সম্ভবত তাদের তিন স্তরের নামের মিল থাকার কারণে এমনটি হয়, কিন্তু বংশপরিচয় এবং মৃত্যুসালের দিক থেকে তাদের পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট। আর এই উবাইদুল্লাহ হলো মাইমুন বিন দাইসান আল-কাদ্দাহর ছেলে, যার জন্ম ২৫৯ হিজরীতে এবং মৃত্যু ৩২২ হিজরীতে। সে ইরাকের আহওয়ায অঞ্চলের সালিমা শহরের বাসিন্দা ছিল। তার বাবা ছিল একজন ইহুদি, সে মারা যাওয়ার পর তার মা একজন আলভীর (আলী রা.-এর বংশধর) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি তাকে লালন-পালন করেন। যখন সে বড় হলো, তখন সে ওই আলভীর শিক্ষা গ্রহণ করল এবং সে-ই ২৯৭ হিজরীতে মাগরিবে (উত্তর আফ্রিকা) ‘উবাইদী রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠা করে। দেখুন: আত-তাবসীর ফিদ-দীন (পৃষ্ঠা ১৪১), আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক (পৃষ্ঠা ২৮২-২৮৯) এবং ইবনুল জাওযীর আল-কারামিতা (পৃষ্ঠা ৭১-৭২)। শায়খুল ইসলাম ‘আল-মিনহাজ’ (৪/৯৯-১০০) গ্রন্থে বলেছেন: “ইবনে তূমারত (মৃত্যু ৫২০ হি.)-এর আগে এই উবাইদুল্লাহ বিন মাইমুন আল-কাদ্দাহ নিজেকে মাহদী বলে দাবি করেছিল। কিন্তু তার নাম বা তার পিতার নামের সাথে হাদীসে বর্ণিত মাহদীর নামের মিল ছিল না। সে দাবি করেছিল যে, সে মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন জাফর (অর্থাৎ জাফর আস-সাদিক)-এর বংশধর এবং এই মাইমুনই হলো মুহাম্মদ বিন ইসমাইল। অথচ বংশপরম্পরা বিশেষজ্ঞগণ এবং মুসলিম আলেমগণ ভালোভাবেই জানেন যে, সে তার বংশপরিচয়ের দাবিতে মিথ্যাবাদী ছিল। তার বাবা ছিল একজন ইহুদি এবং সে একজন অগ্নিপূজকের আশ্রিত ছিল। ফলে তার দুটি পরিচয় পাওয়া যায়: একটি ইহুদিদের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং অন্যটি অগ্নিপূজকদের সাথে। সে এবং তার পরিবারের সদস্যরা ছিল মুলহিদ (ধর্মত্যাগী), এবং তারাই হলো ইসমাইলী সম্প্রদায়ের ইমাম, যাদের সম্পর্কে আলেমগণ বলেছেন যে, তাদের বাহ্যিক রূপ হলো...”
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১০৯)
وصنف العلماء في ذلك مصنفات. وشهد بذلك مثل الشيخ أبي الحسن القدوري (1) إمام الحنفيّة، والشيخ أبي حامد الإسفراييني (2) إمام الشافعيّة،

--------------------------------------------

= مذهبهم الرفض ، وباطنه الكفر المحض وقد صنف العلماء كتباً في كشف أسرارهم ، وهتك أستارهم، وبيان كذبهم في دعوى النسب، ودعوى الإسلام، وأنهم بريئون من النبي صلى الله عليه وسلم نسباً وديناً. وقال في 6/ 342 (هؤلاء - يعني بني عبيد الله القداح، الذين أقاموا بالمغرب مدة وبمصر نحو مائتي سنة - بإتقان أهل العلم الدين كانوا ملاحدة، ولنسبهم كان باطلاً، فلم يكن لهم بالرسول اتصال نسب في الباطن، ولا دين، وإنما أظهروا النسب الكاذب، وأظهروا التشيع ليتوسلوا بذلك إلى متابعة الشيعة، إذ كانت أقل الطوائف عقلاً وديناً، أكثرهم جهلاً وإلا فأمر العبيدية المنتسبين إلى إسماعيل ابن جعفر أظهر من أن يخفى على كل مسلم) .

بل ونقل ابن تغري بردي في النجوم الزاهرة 4/ 80 عبارة من كتاب الباقلاني أبي بكر بن الطيب الذي ألفه في الباطنية واسمه كشف الأسرار وهتك الأستار قال (القداح جد عبيد الله كان مجوسياً، ودخل عبيد الله- هو المهدي العبيدى - المغرب وادعى أنه علوي، ولم يعرفه أحد من علماء النسب، وكان باطنياً خبيثاً حريصاً على إزالة ملة الإسلام، أعدم الفقه والعلم ليتمكن من إغرار الخلق، وجاء أولاده بأسلوبه، وأباحوا الخمر والفروج، وأشاعوا الرفض، وبنوا دعاة، فأفسدوا عقائد جبال الشام كالنصيرية والدروزية، كان القداح كاذباً مخرفاً وهو أصل دعاة القرامطة) .

(1) اتفقت النسخ - والمطبوعة على تكنيته بأبي الحسن: وفي المصادر المترجمة له هو: أبو الحسين أحمد بن محمد القدورى - بضم المثنأة والمهملة - شيخ الحنفية. قال فيه الخطيب: كان صدوقاً حسن العبارة، جريء اللسان، مديماً للتلاوة، صاحب المختصر المشهور في مذهب الأحناف، وله كتاب النكاح والتجريد في الخلاف بين الشافعية والأحناف. يوجد المجلد الأول منه في مكتبة جامعة الإمام رقم 3523. ويذكره شيخ الإسلام في تعداده لكبار أتباع الأئمة الأربعة - عن الأحناف كثيراً، توفي سنة 428 هـ رحمهم الله. النبلاء 17 / 574، وتاريخ بغداد 4 / 377، تذكرة الحفاظ 3/ 1086، والطبقات السنية رقم 94، تاج التراجم رقم 19.

(2) هو أبو حامد أحمد بن أبي طاهر محمد الاسفراييني المولود سنة 344 هـ برع من صغره، أذكر له كتاباً في الفقه في خمسين مجلداً، وكان ذا جاه عند الملوك توفي سنة 406 هـ. نقل شيخ الإسلام في الدرء 2/ 95 - 101 (عن أبي الحسن الكرجي في كتابه الفصول في الأصول عن الأئمة الفحول عن عدد من الأئمة والشيوخ أنهم يقولون كان الشيخ أبو حامد أحمد بن أبي طاهر الإسفراييني إمام الأئمة الذي طبق الأرض علماً. . . وكان يقول في يوم الجمعة: اشهدوا علي بأن القرآن كلام الله غير مخلوق، كما قاله الإمام ابن حنبل، لا كما يقوله الباقلاني. . .) . وكان شديد الإنكار عليه وعلى أهل الكلام رحمه الله ورفع ذكره. وانظر كلام الشيخ بتمامه هناك. النبلاء 17/193-197، وتاريخ بغداد 4 / 368 - 5 37 شذرات الذهب 3/ 178، طبقات الشافعية الكبرى 4 / 1 6 - 74، طبقات الشافعية لابن هداية الله 127 وما بعدها.
এবং আলেমগণ এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। হানাফি মাযহাবের ইমাম শায়খ আবুল হাসান আল-কুদুরি (১) এবং শাফেয়ি মাযহাবের ইমাম শায়খ আবু হামিদ আল-ইসফারায়িনি (২)-এর মতো ব্যক্তিবর্গ এর সাক্ষ্য দিয়েছেন।

--------------------------------------------

= তাদের মাযহাব হলো রাফয (শিয়া মতবাদ), আর এর অভ্যন্তরীণ রূপ হলো নিরেট কুফর। আলেমগণ তাদের গোপন রহস্য উন্মোচন, তাদের পর্দা ফাঁস এবং বংশপরিচয় ও ইসলামের দাবির ক্ষেত্রে তাদের মিথ্যার বর্ণনা দিয়ে বহু কিতাব রচনা করেছেন; এবং তারা যে বংশগত ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পর্কহীন তা বর্ণনা করেছেন। তিনি ৬/৩৪২ পৃষ্ঠায় বলেছেন: (এরা - অর্থাৎ বনু উবাইদুল্লাহ আল-কাদ্দাহ, যারা মাগরিবে কিছুকাল এবং মিশরে প্রায় দুইশত বছর অবস্থান করেছিল - দ্বীন বিশেষজ্ঞ আলেমদের সুক্ষ্ম বিচারে তারা ছিল নাস্তিক, এবং তাদের বংশপরিচয় ছিল মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে রাসূলের সাথে তাদের বংশগত বা ধর্মীয় কোনো সংযোগ ছিল না। তারা কেবল মিথ্যা বংশপরিচয় প্রকাশ করেছিল এবং শিয়া মতবাদ জাহির করেছিল যাতে এর মাধ্যমে শিয়াদের অনুগামী করা যায়; কারণ শিয়ারা ছিল আকল ও দ্বীনের দিক থেকে সবচেয়ে নগণ্য এবং অজ্ঞতায় অগ্রগামী। অন্যথায়, ইসমাইল ইবনে জাফরের দিকে সম্বন্ধকারী উবাইদিদের বিষয়টি যে কোনো মুসলমানের কাছে স্পষ্ট হওয়ার চেয়েও বেশি স্পষ্ট)।

বরং ইবনে তাগরি বারদি 'আন-নুজুম আয-যাহিরা' (৪/৮০) গ্রন্থে আল-বাকিল্লানি আবু বকর বিন আল-তাইয়িবের 'কাশফুল আসরার ওয়া হাতকুল আস্তার' নামক কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যা তিনি বাতিনিয়াদের বিষয়ে লিখেছিলেন। তিনি বলেন: (উবাইদুল্লাহর দাদা কাদ্দাহ ছিল একজন অগ্নিপূজক। উবাইদুল্লাহ - যে কি না উবাইদি মাহদি - মাগরিবে প্রবেশ করে দাবি করে যে সে একজন আলভি, অথচ বংশবিদ আলেমদের কেউ তাকে চিনতেন না। সে ছিল এক খবিস বাতিনি, যে ইসলাম ধর্ম মিটিয়ে দেওয়ার জন্য মরিয়া ছিল। সে ফিকহ ও ইলমকে বিলুপ্ত করে দিয়েছিল যাতে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তার সন্তানরা তার পথই অনুসরণ করেছিল; তারা মদ ও ব্যভিচারকে বৈধ করেছিল, রাফযি মতবাদ প্রচার করেছিল এবং দাঈ নিয়োগ করেছিল। ফলে তারা সিরিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলের আকিদা নষ্ট করেছিল, যেমন নুসাইরিয়া ও দ্রুজরা। কাদ্দাহ ছিল একজন মিথ্যাবাদী ও বানোয়াট গল্পকার এবং সে-ই ছিল কারামিতা দাঈদের মূল হোতা)।

(১) সকল পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির ঐক্যমতে তার কুনিয়াত হলো আবুল হাসান। তবে তার জীবনী গ্রন্থে তাকে আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-কুদুরি -কুদুরি শব্দটি কাফ ও দাল বর্ণের পেশ দিয়ে - হানাফিদের শায়খ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল-খতিব তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ছিলেন সত্যবাদী, সুন্দর অভিব্যক্তির অধিকারী, বাগ্মী এবং সর্বদা তিলাওয়াতকারী। তিনি হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ 'মুখতাসার' গ্রন্থের রচয়িতা। এছাড়াও শাফেয়ি ও হানাফিদের মধ্যকার মতপার্থক্য নিয়ে তার 'কিতাবুন নিকাহ' এবং 'আত-তাজরিদ' নামক গ্রন্থ রয়েছে। এর প্রথম খণ্ড ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে ৩৫২৩ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। শাইখুল ইসলাম চার ইমামের বড় অনুসারীদের গণনার সময় হানাফিদের মধ্য থেকে প্রায়ই তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ৪২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন। আন-নুবালা ১৭/৫৭৪, তারিখু বাগদাদ ৪/৩৭৭, তাযকিরাতুল হুফফায ৩/১০৮৬, আত-তাবাকাতুস সুন্নিয়া নং ৯৪, তাজুত তারাযুম নং ১৯।

(২) তিনি হলেন আবু হামিদ আহমদ বিন আবু তাহের মুহাম্মদ আল-ইসফারায়িনি, যিনি ৩৪৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শৈশব থেকেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। আমি ফিকহ শাস্ত্রে তার একটি গ্রন্থের কথা জানি যা পঞ্চাশ খণ্ডে রচিত। রাজদরবারে তার উচ্চ মর্যাদা ছিল। তিনি ৪০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। শাইখুল ইসলাম 'আদ-দারউ' গ্রন্থে (২/৯৫-১০১) আবুল হাসান আল-কারজি-র 'আল-ফুনুন ফিল উসুল' গ্রন্থ থেকে এবং শ্রেষ্ঠ ইমাম ও শায়খদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে তারা বলতেন: শায়খ আবু হামিদ আহমদ বিন আবু তাহের আল-ইসফারায়িনি ছিলেন ইমামদের ইমাম, যার ইলম পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি জুমার দিনে বলতেন: "তোমরা আমার ব্যাপারে সাক্ষী থাকো যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্ট নয়; যেমনটি ইমাম ইবনে হাম্বল বলেছেন, বাকিল্লানি যা বলেছেন তেমন নয়।" তিনি তার (বাকিল্লানি) এবং ইলমুল কালামের অনুসারীদের কঠোর বিরোধী ছিলেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। সেখানে শায়খের পূর্ণ বক্তব্য দেখুন। আন-নুবালা ১৭/১৯৩-১৯৭, তারিখু বাগদাদ ৪/৩৬৮-৫৩৭, শাযারাতুয যাহাব ৩/১৭৮, তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ আল-কুবরা ৪/১৬-৭৪, ইবনে হিদায়াতুল্লাহর তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ ১২৭ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১০)
ومثل القاضي أبي يعلى (1) إمام الحنبليّة، ومثل أبي محمد بن أبي زيد (2) إمام المالكيّة.

وصنف القاضي أبو بكر ابنُ الطيِّب (3) فيهم كتاباً، في كشف أسرارهم، سماه: "كشف الأسرار وهتك الأستار" (4) .

--------------------------------------------

(1) هو محمد بن الحسين بن الفراء ، أبو يعلى قاضي الحنابلة ولد سنة 380 هـ وقرأ القرآن بالروايات العشر مع المعرفة البالغة في الحديث والفقه ، كان دينا ذا عبادة وتهجد، له تصانيف كثيرة: كإبطال التأويلات ، والعدة في الأصول ، والروايتين والوجهين في المذاهب توفي سنة 458 هـ أبناؤه علماء حنابلة رحمهم الله جميعاً. ولما سئل شيخ الإسلام عن أبي يعلى وغيره من العلماء أجاب في المجموع 20/40 (إنهم على مذهب أهل الحديث ليسوا بمقلدين لواحد بعينه من العلماء ولا هم من الأئمة المجتهدين على الإطلاق ، بل يميلون إلى قول أئمة الحديث..وهؤلاء كلهم يعظمون السنة والحديث..) وربما كان له ميل إلى الكلامية الصفاتية والله يغفر له. انظر جامع الرسائل 1/127 والمنهاج 5/360 و412. وانظر النبلاء 18/89 وطبقات الحنابلة 2/193 - 230 وتاريخ بغداد 2/256 وما بعدها ، ومناقب أحمد لابن الجوزي ص 520، والوافي بالوفيات 3/7.

(2) هو أبو محمد عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي زيد القيرواني ، عالم المغرب ، الملقب بمالك الصغير ، ولد سنة 310 هـ أثنى عليه الذهبي فقال: كان رحمه الله على طريقة السلف في الأصول ، لا يدري الكلام ولا يتأول فنسأل الله التوفيق. أشهر مؤلفاته: الرسالة في معتقد أهل السنة ، مطبوعة ولها شروح عديدة منها المطبوع والمخطوط توفي سنة 386 هـ أثنى عليها شيخ الإسلام في مواضع. ومنها المجموع 5/182-183 فقال (كلام المالكية في ذم الجهمية النفاة مشهور في كتبهم ، وكلام أئمة المالكية وقدمائهم في الإثبات - أي الصفات وأمور الغيب - كثير مشهور ، حتى علماؤهم حكوا إجماع أهل السنة والجماعة على أن الله بذاته فوق عرشه ، وابن أبي زيد إنما ذكر ما ذكره سائر أئمة السلف ، ولم يكن من أئمة المالكية من خالف ابن أبي زيد في هذا ، وهو إنما ذكر هذا في مقدمة الرسالة لتلقن لجميع المسلمين ، لأنه عند أئمة السنة من الاعتقادات التي يلقنها كل أحد … ) النبلاء 177/210 الديباج المذهب 1/427 ، ترتيب المدارك 4/492 ، شجرة النور الزكية 1/96 فهرست ابن خير 244.

(3) هو أبو بكر محمد بن الطيب بن الباقلاني المتوفى سنة 403 هـ صاحب التواليف ، ومضرب المثل في ذكائه وفهمه ، له مع ملك الروم قصص في هذا ، من كبار علماء الأشاعرة الكلابية ومنظريهم ، كان ذا ردود على الباطنية والرافضة والجهمية والخوارج تقدر بسبعين ألف ورقة له التمهيد في إعجاز القرآن وغيرها كثيراً ما يذكره شيخ الإسلام في تعداد كبار المتكلمين وسبق نقل شيء من كلام الإسفراييني فيه من درء التعارض للشيخ 2/95-102 ، وقال رحمه الله في ترتيب الكلاميين في درء التعارض 1/270 (وهذا كما أن العراقيين المنتسبين إلى أهل الإثبات من أتباع ابن كلاب كأبي العباس القلاني =
যেমন হাম্বলিদের ইমাম কাজি আবু ইয়ালা (১) এবং মালিকিদের ইমাম আবু মুহাম্মদ ইবনে আবি যায়েদ (২) এর মতো আলেমগণ।

এবং কাজি আবু বকর ইবনুত তাইয়্যেব (৩) তাদের সম্পর্কে তাদের গোপন রহস্য উন্মোচনে একটি কিতাব রচনা করেছেন, যার নাম দিয়েছেন: "কাশফুল আসরার ওয়া হাতকুল আস্তার" (গোপন রহস্য উন্মোচন ও পর্দা ছিন্নকরণ) (৪)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-ফাররা, আবু ইয়ালা, হাম্বলিদের কাজি। তিনি ৩৮০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদিস ও ফিকহের প্রগাঢ় জ্ঞানের সাথে সাথে দশ কিরাআতে কুরআন পাঠ করেছেন। তিনি ধর্মপ্রাণ, ইবাদতকারী এবং তাহাজ্জুদগুজার ছিলেন। তাঁর অনেক রচনা রয়েছে: যেমন 'ইবতালুত তাওয়ীলাত', উসূলে 'আল-উদ্দাহ', এবং মাজহাবের ক্ষেত্রে 'আর-রিওয়ায়াতাইন ওয়াল ওয়াজহাঈন'। তিনি ৪৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর সন্তানগণ হাম্বলি আলেম ছিলেন, আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহম করুন। যখন শাইখুল ইসলামকে আবু ইয়ালা এবং অন্যান্য আলেমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি 'মাজমু ফাতাওয়া' ২০/৪০-এ উত্তর দেন: (তাঁরা আহলে হাদিসের মাজহাবের ওপর ছিলেন, তাঁরা আলেমদের মধ্যে নির্দিষ্ট কারও মুকাল্লিদ ছিলেন না এবং তাঁরা নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ ইমামও ছিলেন না, বরং তাঁরা হাদিসের ইমামদের মতের দিকে ঝুঁকে থাকতেন... তাঁরা সবাই সুন্নাহ ও হাদিসকে সম্মান করতেন...)। সম্ভবত তাঁর মধ্যে সিফাতিয়া কালামশাস্ত্রের প্রতি কিছুটা ঝোঁক ছিল, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন। দেখুন: 'জামেউল রাসায়েল' ১/১২৭, 'আল-মিনহাজ' ৫/৩৬০ ও ৪১২। আরও দেখুন: 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' ১৮/৮৯, 'তাবাকাতুল হানাবিলাহ' ২/১৯৩ - ২৩০, 'তারিখু বাগদাদ' ২/২৫৬ ও পরবর্তী অংশ, ইবনুল জাওযি রচিত 'মানাকিবে আহমাদ' পৃষ্ঠা ৫২০, এবং 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত' ৩/৭।

(২) তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আবি যায়েদ আল-কায়রাওয়ানি, মাগরিবের আলেম, যাঁর উপাধি 'ছোট মালিক'। তিনি ৩১০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। আজ-জাহাবি তাঁর প্রশংসা করে বলেছেন: আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি উসূলের ক্ষেত্রে সালাফদের পথে ছিলেন, তিনি কালামশাস্ত্র জানতেন না এবং অপব্যাখ্যা করতেন না; আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিকের প্রার্থনা করি। তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ রচনা: আহলে সুন্নাতের আকিদা বিষয়ক 'আর-রিসালা', যা মুদ্রিত এবং এর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে কোনটি মুদ্রিত আবার কোনটি পাণ্ডুলিপি। তিনি ৩৮৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। শাইখুল ইসলাম বিভিন্ন স্থানে এর প্রশংসা করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে 'মাজমু ফাতাওয়া' ৫/১৮২-১৮৩, যেখানে তিনি বলেছেন: (নিষেধকারী জাহমিদের নিন্দায় মালিকিদের বক্তব্য তাদের কিতাবসমূহে প্রসিদ্ধ, এবং মালিকি ইমামদের ও তাঁদের পূর্বসূরিদের 'ইসবাত' বা আল্লাহর গুণাবলি ও গায়েবের বিষয়াদি সাব্যস্তকরণের বিষয়ে বক্তব্য প্রচুর ও প্রসিদ্ধ। এমনকি তাঁদের আলেমগণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর সত্তাসহ তাঁর আরশের উপরে। ইবনে আবি যায়েদ কেবল তা-ই উল্লেখ করেছেন যা সালাফদের অন্যান্য ইমামগণ উল্লেখ করেছেন। মালিকি ইমামদের মধ্যে এমন কেউ ছিলেন না যিনি এই বিষয়ে ইবনে আবি যায়েদের বিরোধিতা করেছেন। তিনি এটি 'রিসালা'-র ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যাতে এটি সকল মুসলিমকে শিক্ষা দেওয়া হয়, কারণ সুন্নাহর ইমামদের কাছে এটি সেইসব বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত যা প্রত্যেককে শিক্ষা দেওয়া হয় … ) 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' ২১/১৭৭-২১০, 'আদ-দিবাজুল মাজহাব' ১/৪২৭, 'তারতিবুল মাদারিক' ৪/৪৯২, 'শাজারাতুন নূরুজ জাকিয়্যাহ' ১/৯৬, 'ফিহরিসত ইবনে খাইর' ২৪৪।

(৩) তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মদ বিনত তাইয়্যেব আল-বাকিল্লানি, যিনি ৪০৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা এবং তাঁর বুদ্ধিমত্তা ও প্রজ্ঞার জন্য প্রবাদতুল্য ছিলেন। রোম সম্রাটের সাথে এই বিষয়ে তাঁর অনেক ঘটনা রয়েছে। তিনি আশআরি কিলাবিদের বড় আলেম ও তাত্ত্বিকদের একজন ছিলেন। বাতিনিয়া, রাফেজি, জাহমি ও খারিজিদের খণ্ডনে তাঁর প্রায় সত্তর হাজার পৃষ্ঠার লেখা ছিল। কুরআন অলৌকিকত্বের ওপর তাঁর 'আত-তামহিদ' এবং আরও অনেক গ্রন্থ রয়েছে। শাইখুল ইসলাম বড় বড় কালামশাস্ত্রবিদদের তালিকায় প্রায়ই তাঁর নাম উল্লেখ করেন। তাঁর সম্পর্কে ইসফারায়িনির বক্তব্যের কিছু অংশ ইতিপূর্বে শাইখের 'দারউ তাআরুদ' ২/৯৫-১০২ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে। তিনি (ইবনে তাইমিয়্যাহ) 'দারউ তাআরুদ' ১/২৭০-এ কালামশাস্ত্রবিদদের ক্রমবিন্যাস করতে গিয়ে বলেন: (এটি যেমন ইরাকিদের ক্ষেত্রে যারা ইবনে কুল্লাবের অনুসারীদের মধ্য থেকে ইসবাত বা আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্তকারীদের অন্তর্ভুক্ত, যেমন আবুল আব্বাস আল-কালানি =
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১১)
_________

= وأبي الحسن الأشعري، وأبي الحسن علي بن مهد الطبري والقاضي أبي بكر بن الباقلاني وأمثالهم، أقرب إلى السنة، وأتبع لأحمد بن حنبل وأمثاله من أهل خرسان المائلين إلى طريقة ابن كلاب، ولهذا كان القاضي أبو بكر بن الطيب يكتب في أجوبته أحياناً: محمد بن الطيب الحنبلي، كما كان يقول الأشعري. إذ كان الأشعري وأصحابه منتسبين إلى أحمد بن حنبل وأمثاله من أئمة السنة، وكان الأشعري أقرب إلى مذهب أحمد بن حنبل وأهل السنة من كثير من المتأخرين المنتسبين إلى أحمد الذين مالوا إلى بعض كلام المعتزلة، كابن عقيل، وصدقة بن الحسين، وابن الجوزي وأمثالهم) 0 انظر المنهاج 293/3 0 النبلاء 379/5، وترتيب المدارك 4/ 585 - 2 0 6، الديباج 228/2، تبيين كذب المفتري 17 2 - 26 2.

(4) هذا الكتاب له اسمان، الأول ما ذكره الشيخ، ومختصر هو فضائح الباطنية أو الرد على الباطنية، وهذا الكتاب لم أره ولم أسمع أنه طبع، بل يظن أنه مفقود، وقد ذكر الغزالي في الإحياء 2/ 130 أنه استنبط ما فيه من كتاب الفضائح وقد ذكره ابن تيمية في مواضع ومما ذكره في المنهاج 8/ 14 و 258 (وقد صنف العلماء كتباً في كشف أسرارهم وهتك أستارهم مثل كتاب القاضي أبي بكر الباقلاني والقاضي عبد الجبار الهمداني وكتاب الغزالي ونحوهم) . ونقل منه أسلوب دعوة هو الباطنية ومنهجها في المنهاج 8/ 479 - 86 4 ومما نقل (قد اتفق جميع الباطنية، وكل مصنف لكتاب ورسالة منهم في ترتيب الدعوة المضلة، على أن من سبيل الداعي إلى دينهم ورجسهم. . فقالوا للداعي: يجب عليك إذا وجدت من تدعوه مسلماً: أن تجعل التشيع عنده دينك وشعارك، واجعل المدخل عليه من جهة ظلم السلف، وقتلهم الحسين، وسبيهم نساءه وذريته، والتبري من تيم وعدي، وبني أمية والعباس. . وأن علياً إله يعلم الغيب، مفوض إليه خلق العالم، وما أشبه ذلك من أعاجيب الشيعة وجهلهم؟ فإنهم أسرع إلى إجابتك بهذا الناموس. . . . فإذا آنست من بعض الشيعة عند الدعوة إجابة ورشداً أوقفته على مثالب علي وولده، وعرفته حقيقته الحق لمن هو، وفيمن هو، وباطل البطلان كل ما عليه أهل ملة محمد صلى الله عليه وسلم وغيره من الرسل.

ومن وجدته صابئا. فأدخله بالأشانيع وتعظيم الكواكب. . . .، ومن وجدته مجوسياً اتفقت معه، في الأصل، في الدرجة الرابعة، من تعظيم النار والنور والشمس والقمر. . فإنهم مع الصائبة أقرب الأمم إلينا، وأولاهم بنا. . . . . . وإن ظفرت بيهودي فادخل عليه جهة انتظار المسيح. . وعظم السبت عندهم وتقرب إليهم بذلك. . . . وإن وجدت المدعى نصرانياً فادخل عليه بالطعن على اليهود والمسلمين جميعاً، وصحة قولهم في الثالوث. وعظم الصليب عندهم وعرفهم تأويله. .) إلى آخر الزندقة المحضة، نعوذ بالله من ذلك كله.

وهذا الكتاب للباقلاني - عجل الله الظفر به - صحيح النسبة إليه فقد ذكره ابن السبكي في طبقاته في مواطن ونقل منه ، كما في ترجمته علي بن محمد بن الحسين ، وترجمته محمد بن الموفق بن سعيد وذكره ابن كثير في ترجمته من البداية والنهاية 11/350 ، وحاجي خليفة بل وعامة من ترجموا للباقلاني. وسبق نقل من النجوم الزاهرة من هذا الكتاب. =

= এবং আবুল হাসান আল-আশআরি, আবুল হাসান আলি বিন মাহদি আত-তবারি এবং কাজি আবু বকর বিন আল-বাকিললানি ও তাঁদের মতো ব্যক্তিবর্গ সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী এবং ইবনে কুল্লাবের পদ্ধতির দিকে ঝুঁকে পড়া খুরাসানবাসীদের তুলনায় আহমাদ বিন হাম্বল ও তাঁর অনুসারীদের অধিক অনুসরণকারী। এই কারণেই কাজি আবু বকর বিন আত-তাইয়্যেব মাঝে মাঝে তাঁর উত্তরসমূহে লিখতেন: মুহাম্মদ বিন আত-তাইয়্যেব আল-হাম্বলি, যেমনটি আল-আশআরি বলতেন। কারণ আল-আشআরি এবং তাঁর সঙ্গীরা আহমাদ বিন হাম্বল ও সুন্নাহর অন্যান্য ইমামদের দিকে নিজেদের নিসবত করতেন। আল-আশআরি আহমাদ বিন হাম্বল এবং আহলে সুন্নাহর মাযহাবের অধিক নিকটবর্তী ছিলেন তাঁদের অনেকের তুলনায়, যারা পরবর্তীকালে আহমাদের দিকে নিজেদের নিসবত করলেও মুতাযিলাদের কিছু কথার দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন, যেমন ইবনুল আকিল, সাদাকা বিন আল-হুসাইন, ইবনুল জাওজি ও তাঁদের মতো ব্যক্তিবর্গ। দেখুন: আল-মিনহাজ ৩/২৯৩; আন-নুবালা ৫/৩৭৯; তারতিব আল-মাদারিক ৪/৫৮৫-৬০৬; আদ-দিবাজ ২/২২৮; তাবয়িন কাযিব আল-মুফতারি ১৭২-২৬২।

(৪) এই বইটির দুটি নাম রয়েছে। প্রথমটি যা শায়খ উল্লেখ করেছেন, আর সংক্ষিপ্তটি হলো 'ফাদায়িহ আল-বাতিনিয়্যাহ' বা 'আর-রাদ্দ আলা আল-বাতিনিয়্যাহ'। এই বইটি আমি দেখিনি এবং এটি মুদ্রিত হয়েছে বলেও শুনিনি, বরং ধারণা করা হয় যে এটি হারিয়ে গেছে। আল-গাজালি 'আল-ইহয়া' ২/১৩০-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এতে যা আছে তা 'কিতাবুল ফাদায়িহ' থেকে আহরণ করেছেন। ইবনে তাইমিয়্যাহ বিভিন্ন স্থানে এর কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে 'আল-মিনহাজ' ৮/১৪ ও ২৫৮-এ তিনি বলেছেন: (উলামায়ে কেরাম তাদের গোপন রহস্য উন্মোচন এবং তাদের পর্দা ফাঁশ করার জন্য অনেক কিতাব রচনা করেছেন, যেমন কাজি আবু বকর আল-বাকিললানি, কাজি আব্দুল জব্বার আল-হামাদানি এবং আল-গাজালির কিতাব ও তাঁদের অনুরূপ কিতাবসমূহ)। তিনি সেখান থেকে বাতিনিদের দাওয়াতের পদ্ধতি এবং তাদের কর্মপন্থা সম্পর্কে 'আল-মিনহাজ' ৮/৪৭৯-৪৮৬-এ উদ্ধৃতি দিয়েছেন। উদ্ধৃতিগুলোর মধ্যে রয়েছে: (সমস্ত বাতিনি এবং পথভ্রষ্ট দাওয়াতের ধারা বিন্যাসের ক্ষেত্রে কিতাব ও রিসালাহ রচয়িতাগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তাদের দ্বীন এবং অপবিত্রতার দিকে আহ্বানকারীর পন্থার ক্ষেত্রে... তারা দাঈর উদ্দেশ্যে বলেছে: যখন তুমি এমন কাউকে পাবে যাকে দাওয়াত দিবে এবং সে মুসলিম হবে, তখন তোমার উচিত তার কাছে শিয়া মতবাদকে তোমার দ্বীন ও প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা। তার কাছে প্রবেশের পথ বানাও পূর্বসূরিদের প্রতি জুলুম, তাদের কর্তৃক হুসাইনের হত্যাকাণ্ড, তাঁর পরিবারের নারী ও সন্তানদের বন্দীকরণ এবং তায়িম, আদি, বনু উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টিকে। ... আর আলি হলেন ইলাহ যিনি গায়িব জানেন, বিশ্বজগত সৃষ্টির দায়িত্ব তাঁকে অর্পণ করা হয়েছে; শিয়াদের এই জাতীয় অদ্ভুত বিষয় ও তাদের মূর্খতাসমূহ। কারণ তারা এই চাতুর্যের মাধ্যমে তোমার আহ্বানে দ্রুত সাড়া দিবে। ... অতঃপর যখন তুমি দাওয়াতের সময় কোনো শিয়াদের পক্ষ থেকে সাড়া ও সঠিক পথের দিশা দেখবে, তখন তাকে আলি ও তাঁর সন্তানদের দোষত্রুটি সম্পর্কে অবগত করবে এবং তাকে জানাবে যে হাকিকতে হক আসলে কার এবং কাদের মধ্যে রয়েছে, আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিল্লাতের অনুসারী এবং অন্যান্য রাসুলদের অনুসারীরা যা কিছুর ওপর রয়েছে তার সবই ডাহা মিথ্যা বা বাতিল।

আর যাকে তুমি সাবেয়ি পাবে, তাকে জঘন্য বিষয়াদি এবং নক্ষত্র পূজার মাধ্যমে প্রবিষ্ট করাও। ... আর যাকে তুমি অগ্নিপূজক পাবে, তার সাথে মূলনীতির চতুর্থ স্তরে গিয়ে একমত হও যেমন আগুন, আলো, সূর্য ও চন্দ্রের সম্মান করা। ... কারণ সাবেয়িদের পাশাপাশি তারাই আমাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী জাতি এবং আমাদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য। ... আর যদি তুমি কোনো ইহুদিকে বাগে আনতে পারো, তবে মসীহের অপেক্ষার দিক থেকে তার কাছে প্রবেশ করো। ... তাদের কাছে শনিবারের মাহাত্ম্য বর্ণনা করো এবং এর মাধ্যমে তাদের নিকটবর্তী হও। ... আর যদি দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে খ্রিস্টান পাও, তবে ইহুদি ও মুসলিমদের একত্রে নিন্দা করার মাধ্যমে এবং ত্রিত্ববাদ সম্পর্কে তাদের বক্তব্যের সত্যতা তুলে ধরে তার কাছে প্রবেশ করো। তাদের কাছে ক্রুশের মাহাত্ম্য বর্ণনা করো এবং তাদের কাছে এর ব্যাখ্যা তুলে ধরো...) ঘোর যিন্দিকি বা ধর্মহীনতার শেষ সীমা পর্যন্ত; আমরা এ সমস্ত কিছু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।

আল-বাকিললানির এই কিতাবটি—আল্লাহ যেন এটি প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করেন—তার প্রতি এর নিসবত সঠিক। ইবনে সুবকি তাঁর 'তাবাকাত'-এ বিভিন্ন স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যেমনটি তিনি আলি বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন এবং মুহাম্মদ বিন আল-মুওয়াফফাক বিন সাঈদের জীবনীতে করেছেন। ইবনে কাসির 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ' ১১/৩৫০-এ তাঁর জীবনীতে এটি উল্লেখ করেছেন, হাজি খলিফাও করেছেন, এমনকি যারা আল-বাকিললানির জীবনী লিখেছেন তাদের প্রায় সবাই এটি উল্লেখ করেছেন। এর আগে 'আন-নুজুম আজ-জাহিরহ' থেকে এই কিতাবটির উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে। =
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১২)
_________

= هذا ويوجد لجمال الدين أبي الفضائل الصفدي (ت 696 هـ) كتاب باسم كشف الأسرار وهتك الأستار في ثلاثة مجلدات في مكتبة مراد ملا بتركيا أرقامها من (158 - 162) وفي متحف طبقو سراى من (1865 - 1867) المجلدات الثلاث في 767 ورقة مكتوبة سنة 1 69 هـ ونسخ أخرى في السليمانية رقم 133 ورستم باشا 45، 46 وشهيد علي باشا 550 ورقة رقم 157 وأظنه في التفسير، ولا أجزم بذلك.

هذا وأشار الشيخ في مواطن من المنهاج إلى من صنف في كشف أسرارهم وهتك أستارهم كما في 8/ 14 فمن عد:

1- القاضي عبد الجبار الهمذاني المعتزلي (415) ولعل الشيخ يقصد كتابه المنية والأمل شرح الملل والنحل وهو مطبوع حديثاً، وله طبعة سنة 1972 باسم فرق وطبقات المعتزلة.

2- أبو بكر ابن الطيب بن الباقلاني (403) وسبقت الإشارة إلى كتابه في ترجمته.

3- أبو يعلى ابن الفراء الحنبلي (458) ولا أعلم له كتاباً فيهم مطبوعاً أو مخطوطاً لكن ذكر المترجمون له أن له كتاباً اسمه الرد على الباطنية.

4- أبو حامد الغزالي (505) وسبق ذكر كتابه وترجمته.

5- أبو الوفاء علي بن عقيل الحنبلي (513) وهذا له كتاب اسمه كتاب الفرق له نسخة خطية بالهند في مكتبه رجتا رامبور رقمه 1/ 512 (119) .

6- أبو عبد الله محمد الشهرستاني (548) والظاهر أن المقصود بكتابه الملل والنحل الكتاب المشهور وفيه تحدث عن الباطنية وفرقها بالتفصيل.

وممن ألف في كشفهم أيضا أبو محمد عبد الرحمن المعروف بأبي شامة (665) ألف كتابا سماه كشف ما كان عليه بنو عبيد من الكفر والكذب والمكر والكيد ذكره في الذيل على الروضتين ص 39 ونسبة له ابن كثير في التاريخ 2 1/ 87 2 والذهبي في معرفة القراء الكبار 2/538 بأسماء نحو هذا.

জামালুদ্দিন আবুল ফাদায়েল আস-সাফাদি (মৃত্যু ৬৯৬ হিজরি)-এর ‘কাশফুল আসরার ওয়া হাতকুল আস্তার’ নামে তিন খণ্ডের একটি গ্রন্থ রয়েছে। এটি তুরস্কের মুরাদ মোল্লা লাইব্রেরিতে ১৫৮-১৬২ নম্বরে এবং তোপকাপি প্রাসাদ মিউজিয়ামে ১৮৬৫-১৮৬৭ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। তিনটি খণ্ড ৭৬৭ পৃষ্ঠায় ১০৬৯ হিজরিতে লিখিত। এর অন্যান্য পাণ্ডুলিপি সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে ১৩৩ নম্বর, রুস্তম পাশা লাইব্রেরিতে ৪৫ ও ৪৬ নম্বর এবং শহীদ আলী পাশা লাইব্রেরিতে ১৫৭ নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত আছে। আমার ধারণা এটি তাফসির বিষয়ক গ্রন্থ, তবে আমি এ ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত নই।

শায়খ (ইবনে তাইমিয়া) ‘আল-মিনহাজ’ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে তাদের (বাতিনিদের) রহস্য উন্মোচন ও গোপনীয়তা ফাঁস করার বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেমনটি ৮/১৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

১- কাজী আব্দুল জব্বার আল-হামদানি আল-মুতাযিলি (মৃত্যু ৪১৫ হিজরি)। সম্ভবত শায়খ তাঁর ‘আল-মুনইয়া ওয়াল আমাল শারহুল মিলাল ওয়ান নিহাল’ গ্রন্থটি বুঝিয়েছেন, যা সম্প্রতি মুদ্রিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে এটি ‘ফিরাক ওয়া তাবাকাতুল মুতাযিলা’ নামেও প্রকাশিত হয়েছে।

২- আবু বকর ইবনুত তাইয়িব আল-বাকিলানি (মৃত্যু ৪০৩ হিজরি)। তাঁর জীবনীতে ইতিপূর্বে তাঁর গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।

৩- আবু ইয়ালা ইবনুল ফারা আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি)। তাদের বিষয়ে তাঁর কোনো মুদ্রিত বা পাণ্ডুলিপি গ্রন্থ সম্পর্কে আমি জানি না, তবে জীবনীকাররা উল্লেখ করেছেন যে, ‘আর-রাদ্দ আলাল বাতিনিয়্যাহ’ নামে তাঁর একটি গ্রন্থ রয়েছে।

৪- আবু হামিদ আল-গাজালি (মৃত্যু ৫০৫ হিজরি)। ইতিপূর্বে তাঁর গ্রন্থ ও জীবনীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

৫- আবু আল-ওয়াফা আলী ইবনে আকিল আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৫১৩ হিজরি)। তাঁর ‘কিতাবুল ফিরাক’ নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে, যার একটি পাণ্ডুলিপি ভারতের রাজা রামপুর লাইব্রেরিতে ১/৫১২ (১১৯) নম্বর হিসেবে সংরক্ষিত আছে।

৬- আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আশ-শাহরাস্তানি (মৃত্যু ৫৪৮ হিজরি)। দৃশ্যত এখানে তাঁর প্রসিদ্ধ ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ গ্রন্থটিই উদ্দেশ্য, যেখানে তিনি বাতিনি সম্প্রদায় ও তাদের বিভিন্ন উপদল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

তাদের স্বরূপ উন্মোচনে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান, যিনি আবু শামাহ (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরি) নামে পরিচিত, তিনিও রয়েছেন। তিনি ‘কাশফু মা কানা আলাইহি বানু উবাইদ মিনাল কুফরি ওয়াল কাযিবি ওয়াল মাকরি ওয়াল কাইদ’ (বনু উবাইদদের কুফরি, মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন) নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি এটি ‘যাইল আলার রওদাতাইন’ গ্রন্থের ৩৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন। ইবনে কাসির তাঁর ইতিহাসের ১২/৮৭২ পৃষ্ঠায় এবং যাহাবি ‘মা’রিফাতুল কুররাউল কিবার’ গ্রন্থের ২/৫৩৮ পৃষ্ঠায় প্রায় একই নামে এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১৩)
‌‌عداوة الباطنية والرافضة للمسلمين وصوره:

والذين يوجدون في بلاد الإسلام من الإسماعيلية، والنصيرية، والدرزية (1) ، وأمثالهم من أتباعهم.

وهم الذين عاونوا التتر (2) على قتال المسلمين وكان وزير هولاكو النصير

--------------------------------------------

(1) في الظاهرية: والقدرية بدل الدرزية. والقدرية يأتي تعريفهم.

والدروز: فرقة باطنية فرخها العبيديون ، وهذا الاسم نسبة إلى الرجل الثاني في هذه الفرقة وهو محمد بن إسماعيل الدرزي المشهور بنشتكين المقتول سنة 411 هـ وهو أول من أله الحاكم العبيدي المنصور بن عبد العزيز المتوفى سنة 411 هـ علانية ، وللشيخ تقي الدين فتوى فيهم ، المجموع 35/161-162 ، لما سئل عنهم أجاب (هؤلاء الدرزية والنصيرية كفار باتفاق المسلمين لا يحل أكل ذبائحهم ، ولا نكاح نسائهم ، بل ولا يقرون بالجزية ، فإنهم مرتدون عن دين الإسلام ، ليسوا مسلمين ، ولا يهود ، ولا نصارى لا يقرون بوجوب الصلوات الخمس ، ولا وجوب صوم رمضان ، ولا وجوب الحج ولا تحريم ما حرم الله ورسوله من الميتة والخمر وغيرها. وإن أظهروا الشهادتين مع هذه العقائد فهم كفار باتفاق المسلمين.. كفر هؤلاء مما لا يختلف فيه المسلمون ، بل من شك في كفرهم فهو كافر مثلهم لا هم بمنزلة أهل الكتاب ولا المشركين ، بل هم الكفرة الضالون ، فلا يباح أكل طعامهم ، وتسبى نساؤهم ، وتؤخذ أموالهم. فإنهم زنادقة مرتدون لا تقبل توبتهم ، بل يقتلون أينما ثقفوا ، ويلعنون كما وصفوا ولا يجوز استخدامهم للحراسة والبوابة والحفاظ. ويجب قتل علمائهم وصلحائهم لئلا يضلوا غيرهم، ويحرم النوم معهم في بيوتهم، ورفقتهم، والمشي معهم، وتشييع جنائزهم إذا علم موتها، ويحرم على ولاة أمور المسلمين إضاعة ما أمر الله من إقامة الحدود عليهم بأي شيء يراه المقيم لا المقام عليه. والله المستعان وعليه التكلان) .

(2) التتار شعوب أعاجم من جنس الترك قدموا من وسط آسيا وأطرافها الشرقية وثنيون أوباش ذكر شيخ الإسلام في الاقتضاء 1/369 أنهم بادية الترك وذكر في جامع الرسائل 2/ 360 أنهم من الأمم البعيدة عن العلم والإيمان كالعرب في جاهليتهم وقال في المنهاج 5/ 155 (حتى دخلوا - أي التتار لبغداد - فقتلوا من المسلمين ما يقال إنه بضعة عشر ألف ألف إنسان، أو أكثر أو أقل، ولم ير في الإسلام ملحمة مثل ملحمة الترك الكفار المسمين بالتتر. . .) .

وملك هؤلاء التتر حين دخولهم بلاد الإسلام المدعو هولاكو. قال الشيخ في الفتاوى 13 / 18 (وكان بعض المشائخ يقول: هولاكو - ملك التتر الذي قهر الخليفة بالعراق، وقتل ببغداد مقتلة عظيمة جداً، يقال: قتل منهم ألف ألف. وكذلك قتل بحلب دار الملك حينئذ. كان بعض الشيوخ يقول هو للمسلمين بمنزلة بخنتصر لبني إسرائيل. وكان من أسباب دخول هؤلاء ديار المسلمين ظهور الإلحاد والنفاق والبدع. . .) وكذا إعانة الرافضة لهم، تمثل ذلك في وزيري هولاكو ابن العلقمي، والنصير الطوسي وسيأتي لهما تشهير وفضح.
মুসলিমদের প্রতি বাতিনিয়্যাহ ও রাফিযাহদের শত্রুতা এবং এর স্বরূপ:

এবং যারা ইসলামের দেশসমূহে ইসমাইলীয়, নুসাইরী, দ্রুজ (১) এবং তাদের অনুসারীদের মতো বিদ্যমান রয়েছে।

এরাই মূলত মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাতারীদের (২) সাহায্য করেছিল এবং হালাকু খানের উজির ছিল নাসির...

--------------------------------------------

(১) যাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপিতে: দ্রুজের পরিবর্তে কাদারিয়্যাহ রয়েছে। কাদারিয়্যাহদের পরিচয় সামনে আসবে।

আর দ্রুজ হচ্ছে একটি বাতিনিয়্যাহ গোষ্ঠী যা উবায়দীদের থেকে উদ্ভূত। এই নামটি এই গোষ্ঠীর দ্বিতীয় ব্যক্তি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আদ-দারজী-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যে নাশতাকীন নামে পরিচিত এবং ৪১১ হিজরীতে নিহত হয়েছে। সেই সর্বপ্রথম উবায়দী শাসক আল-হাকিম আল-মানসুর বিন আব্দুল আজিজকে (মৃত্যু ৪১১ হি.) প্রকাশ্যে উপাস্য হিসেবে ঘোষণা দেয়। তাদের ব্যাপারে শায়খুত তাকীউদ্দীন (ইবনে তাইমিয়্যাহ)-এর একটি ফতোয়া রয়েছে, যা মাজমুউল ফাতাওয়া ৩৫/১৬১-১৬২ তে বর্ণিত হয়েছে। যখন তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: (এই দ্রুজ ও নুসাইরীরা মুসলিমদের ঐকমত্যে কাফির। তাদের জবাইকৃত পশু খাওয়া এবং তাদের নারীদের বিবাহ করা বৈধ নয়। এমনকি তাদের থেকে জিযিয়াও গ্রহণ করা হবে না। কারণ তারা ইসলাম ধর্ম থেকে মুরতাদ; তারা মুসলিম নয়, ইহুদি নয় এবং খ্রিস্টানও নয়। তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আবশ্যকতা, রমজানের রোজা, হজ এবং আল্লাহর রাসূল কর্তৃক হারামকৃত মৃত পশু, মদ ইত্যাদি হারাম হওয়াকে স্বীকার করে না। যদি তারা এই আকীদার সাথে শাহাদাতাইন (কালেমা) প্রকাশও করে, তবুও তারা মুসলিমদের ঐকমত্যে কাফির। এদের কুফরের ব্যাপারে মুসলিমদের মাঝে কোনো দ্বিমত নেই, বরং যে ব্যক্তি তাদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করবে, সেও তাদের মতো কাফির। তারা আহলে কিতাব কিংবা মুশরিকদের স্তরেও নয়, বরং তারা পথভ্রষ্ট কাফির। তাই তাদের খাবার খাওয়া জায়েজ নেই, তাদের নারীদের যুদ্ধবন্দী করা হয় এবং তাদের সম্পদ নিয়ে নেওয়া হয়। কারণ তারা যিন্দীক ও মুরতাদ যাদের তাওবা কবুল করা হয় না, বরং যেখানেই পাওয়া যাবে তাদের হত্যা করা হবে এবং তাদের অভিশাপ দেওয়া হবে যেভাবে তাদের বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের পাহারাদার, দারোয়ান বা সংরক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া জায়েজ নয়। তাদের আলেম ও সৎ লোকদের হত্যা করা ওয়াজিব যাতে তারা অন্যদের পথভ্রষ্ট করতে না পারে। তাদের সাথে তাদের ঘরে ঘুমানো, তাদের সান্নিধ্য, তাদের সাথে চলাফেরা এবং তাদের জানাজায় অংশ নেওয়া (যদি তাদের মৃত্যু সম্পর্কে জানা যায়) হারাম। মুসলিম শাসকদের জন্য আবশ্যক হলো তাদের ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করার বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ পালন করা এবং এক্ষেত্রে কোনো প্রকার অবহেলা না করা। আল্লাহই সাহায্যকারী এবং তাঁর ওপরই ভরসা।)

(২) তাতারীরা হলো তুর্কী বংশোদ্ভূত অনারব জাতি যারা মধ্য এশিয়া ও এর পূর্ব প্রান্ত থেকে এসেছিল। তারা ছিল মূর্তিপূজারী ও বর্বর। শায়খুল ইসলাম আল-ইকতিদা ১/৩৬৯ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তারা তুর্কীদের মরুচারী গোষ্ঠী। জামিউর রাসাইল ২/৩৬০ গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তারা জ্ঞান ও ঈমান থেকে অনেক দূরের জাতি, যেমন জাহিলিয়্যাত আমলের আরবরা ছিল। আল-মিনহাজ ৫/১৫৫ গ্রন্থে তিনি বলেন: (এমনকি তারা—অর্থাৎ তাতারীরা—বাগদাদে প্রবেশ করে এবং এত সংখ্যক মুসলিমকে হত্যা করে যে বলা হয় এক কোটিরও বেশি মানুষ, অথবা কম-বেশি। ইসলামে তুর্কী কাফির তথা তাতারীদের মতো এমন ভয়াবহ যুদ্ধ আর দেখা যায়নি...)।

মুসলিম দেশসমূহে প্রবেশের সময় এই তাতারীদের সম্রাট ছিল হালাকু নামক ব্যক্তি। শায়খ আল-ফাতাওয়া ১৩/১৮ গ্রন্থে বলেন: (কোনো কোনো শায়খ বলতেন: হালাকু—তাতারী সম্রাট যে ইরাকে খলিফাকে পরাজিত করেছিল এবং বাগদাদে এক বিশাল হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, বলা হয় সে দশ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। অনুরূপভাবে সে তৎকালীন রাজপুরী হালব শহরেও হত্যাযজ্ঞ চালায়। কোনো কোনো শায়খ বলতেন, সে মুসলিমদের জন্য ঠিক তেমন ছিল যেমন বনী ইসরাঈলদের জন্য বুখত নাসার (নেবুচাদনেজার) ছিল। এসব তাতারীদের মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশের অন্যতম কারণ ছিল নাস্তিকতা, নিফাক ও বিদআতের প্রকাশ পাওয়া...)। এবং তাতারীদের প্রতি রাফিযাহদের সাহায্য-সহযোগিতা করা, যা হালাকু খানের দুই উজির ইবনুল আলকামী ও নাসিরুদ্দীন তুসী-এর মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিল। সামনে তাদের কেলেঙ্কারি ও মুখোশ উন্মোচন করা হবে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১৪)
الطوسي (1) من أئمتهم. وهؤلاء أعظم الناس عداوة للمسلمين وملوكهم، ثم الرافضة بعدهم فالرافضة يوالون من يعادي أهلَ السنة والجماعة، يوالون التتار، ويوالون النصارى.

وقد كان بالساحل بين الرافضة (2) ، وبين الفرنج مهادنة؛ حتى صارت الرافضة تحملُ إلى قبرص (3) خيل المسلمين، وسلاحهم، وغلمان السلطان، وغيرهم من الجند والصبيان، وإذا انتصر المسلمون على التتار أقاموا المأتم

--------------------------------------------

(1) هو محمد بن محمد بن الحسن المولود سنة 97 5هـ والهالك ببغداد سنة 672 هـ نصير الشرك ربط شيخ الإسلام نكبة المسلمين ببغداد، وشيوع البدع والزندقة به في مواطن كثيرة من الفتاوى والمنهاج وغيرهم ومما قاله في درء التعارض 27/5 - 28 وكان خيار علمائهم - التتر - رؤوس الملاحدة مثل النصير الطوسي وأمثاله. . . وهل كان الطوسي وأمثاله ينفقون عند المشركين من التتر إلا بأكاذيب المنجمين، ومكايد المحتالين. المنافية للعقل والدين؟!) .

ولم يلقب الشيخ بلقب المركب نصير الدين لأنه لا يستحقه بل يستأهل ضده ولهذا ذكره ابن القيم في إغاثة اللهفان 2/ 0 38 - 1 38 فقال (. . . نصير الشرك والكفر الملحد وزير الملاحدة النصير الطوسي وزير هولاكو. . . فقتل الخليفة والقضاة والفقهاء المحدثين، واستبقى الفلاسفة والمنجمين والصابئين والسحرة. . . وقال في كتبه بقدم العالم، وبطلان المعاد. . . وإنكار صفات الرب جل جلاله. . . وتعلم السحر في آخر الأمر فكان ساحراً يعبد الأصنام) . هذه حاله وخاتمته عامله الله بما يستحق. ألا فليعتبر بهذه الأمور وما آلت إليه ولاة المسلمين والمسلمون ولا يتخذوا بطانه من دونهم، حتى لا يألونهم خبالاً {أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ دَمَّرَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَلِلْكَافِرِينَ أَمْثَالُهَا} . والسنن إذا تشابهت أعاد التاريخ نفسه!

(2) المقصود بالرافضة في الساحل هو ساحل الشام وهم النصيرية وأصحاب المقالات والفرق يعدونهم من غلاة الرافضة.

(3) قبرص جزيرة كبيرة في شرق البحر الأبيض المتوسط، وهي قريبة من جنوب تركيا وشمال ساحل الشام فتحها معاوية بن أبي سفيان في خلافة عثمان بن عفان رضي الله عن الجميع ثم في الحروب الصليبية صارت مركزاً للنصارى يتقون منه على المسلمين. . وهي في هذا الزمن قسمان قبارصة أتراك مسلمون في الجملة، وقبارصة يونانيون نصارى في الجملة وكانت قد بقيت بيد المسلمين إلى أثناء المائة الرابعة من الهجرة.
তূসী (১) তাদের ইমামদের অন্যতম। আর এই লোকেরা মুসলিমদের এবং তাদের শাসকদের প্রতি শত্রুতার দিক থেকে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কট্টর; এরপর রয়েছে রাফেযীরা। রাফেযীরা তাদের সাথে মিত্রতা করে যারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের শত্রুতা করে, তারা তাতারীদের সাথে মিত্রতা করে এবং খ্রিস্টানদের সাথে মিত্রতা করে।

উপকূলীয় অঞ্চলে রাফেযী (২) এবং ফরাসীদের (ক্রুসেডার) মধ্যে যুদ্ধবিরতি ছিল; এমনকি অবস্থা এমন হয়েছিল যে, রাফেযীরা সাইপ্রাসে (৩) মুসলিমদের ঘোড়া, তাদের অস্ত্রশস্ত্র, সুলতানের দাস এবং অন্যান্য সৈন্য ও কিশোরদের নিয়ে যেত। আর যখনই মুসলিমরা তাতারীদের ওপর বিজয়ী হতো, তখন তারা শোক পালন করত।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান, যিনি ৫৯৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৭২ হিজরিতে বাগদাদে ধ্বংস (মৃত্যু) হন। শিরকের সাহায্যকারী (নাসীরুশ শিরক)। শাইখুল ইসলাম ফাতাওয়া, মিনহাজ এবং অন্যান্য কিতাবের অনেক স্থানে বাগদাদে মুসলিমদের বিপর্যয় এবং সেখানে বিদআত ও যিন্দিকপনার প্রসারকে তার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। 'দারউত তাআরুদ' (৫/২৭-২৮) গ্রন্থে তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "আর তাতারীদের শ্রেষ্ঠ আলেমগণ ছিলেন নাস্তিকদের প্রধান, যেমন নাসীর তূসী এবং তার সমমনা ব্যক্তিরা... তূসী এবং তার মতো ব্যক্তিরা কি তাতারী মুশরিকদের কাছে জ্যোতিষীদের মিথ্যাচার এবং প্রতারকদের চক্রান্ত ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, যা বিবেক ও ধর্মের পরিপন্থী?!"

শাইখ (ইবনে তাইমিয়া) তাকে 'নাসীরুদ্দিন' (দ্বীনের সাহায্যকারী) উপাধিতে ভূষিত করেননি, কারণ তিনি এর যোগ্য নন; বরং তিনি এর বিপরীত উপাধির যোগ্য। এজন্য ইবনুল কাইয়্যিম 'ইগাসাতুল লাহফান' (২/৩৮০-৩৮১) গ্রন্থে তাকে উল্লেখ করে বলেছেন: "...শিরক ও কুফরের সাহায্যকারী, নাস্তিক, নাস্তিকদের উজির, হালাকু খানের উজির নাসীর তূসী... সে খলিফা, বিচারক, ফকীহ ও মুহাদ্দিসদের হত্যা করেছিল এবং দার্শনিক, জ্যোতিষী, সাবেয়ী ও জাদুকরদের বাঁচিয়ে রেখেছিল... সে তার বইগুলোতে জগতের অনাদিত্ব, পরকালের অসারতা এবং মহান রবের গুণাবলী অস্বীকার করার কথা বলেছে... শেষ জীবনে সে জাদুবিদ্যা শিখেছিল এবং সে ছিল মূর্তিপূজারি এক জাদুকর।" এই হলো তার অবস্থা ও পরিণতি; আল্লাহ তার সাথে সেই আচরণ করুন যার সে যোগ্য। সাবধান! এই বিষয়গুলো থেকে এবং মুসলিম শাসকদের ও মুসলিমদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। তারা যেন নিজেদের লোক ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করে, যাতে তারা তাদের ক্ষতি করতে ত্রুটি না করে। {তবে কি তারা পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি এবং দেখেনি তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল? আল্লাহ তাদের ধ্বংস করেছেন এবং কাফিরদের জন্য রয়েছে অনুরূপ পরিণাম।} আর রীতিনীতি যখন একই রকম হয়, তখন ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে!

(২) উপকূলীয় অঞ্চলে রাফেযী বলতে শামের (সিরিয়া অঞ্চল) উপকূলীয় এলাকা উদ্দেশ্য, আর তারা হলো নুসাইরি সম্প্রদায়। মতবাদ ও উপদল বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা তাদের কট্টর রাফেযীদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেন।

(৩) সাইপ্রাস হলো পূর্ব ভূমধ্যসাগরের একটি বৃহৎ দ্বীপ, যা দক্ষিণ তুরস্ক এবং উত্তর শামের উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত। উসমান বিন আফফানের (আল্লাহ তাদের সবার প্রতি সন্তুষ্ট হোন) খিলাফতকালে মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান এটি জয় করেন। পরবর্তীতে ক্রুসেড যুদ্ধের সময় এটি খ্রিস্টানদের একটি কেন্দ্রে পরিণত হয় যেখান থেকে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করত। বর্তমান সময়ে এটি দুই ভাগে বিভক্ত: তুর্কি সাইপ্রিয়ট যারা মূলত মুসলিম এবং গ্রিক সাইপ্রিয়ট যারা মূলত খ্রিস্টান। এটি হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত মুসলিমদের হাতে ছিল।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১৫)
والحزن، وإذا انتصر التتار على المسلمين أقاموا الفرح والسرور، وهم الذين أشاروا على التتر بقتل الخليفة (1) ، وقتل أهل بغداد، ووزير بغداد ابن العلقمي (2) هو الذي خامر (3) على المسلمين، وكاتب التتار، حتى أدخلهم أرض العراق بالمكر والخديعة، [ونهى الناس عن قتالهم] (4) ، وقد عرف العارفون بالإسلام أن الرافضة تميل مع أعداء الدين. ولما كانوا ملوك القاهرة، كان

--------------------------------------------

(1) هو أبو أحمد عبد الله الملقب بالمستعصم بالله آخر خلفاء بني العباس ولد سنة 609 هـ وتولى الخلافة سنة 640. كان دينا في نفسه، ذو لهو وغفلة، ومن ذلك توزيره لابن العلقمي الرافضي حتى أضعف ملكه، وفرق جنده ثم قتله هولاكو سنة 656 هـ لما خرج إليه مع كبراء دولته، ثم استحل هولاكو بغداد أزيد من شهر يقتل وينهب حتى سالت الدماء في الطرقات. ولا حول ولا قوة إلا بالله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ بِطَانَةً مِّن دُونِكُمْ لَا يَأْلُونَكُمْ خَبَالاً وَدُّواْ مَا عَنِتُّمْ قَدْ بَدَتِ الْبَغْضَاء مِنْ أَفْوَاهِهِمْ وَمَا تُخْفِي صُدُورُهُمْ أَكْبَرُ قَدْ بَيَّنَّا لَكُمُ الآيَاتِ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ} آل عمران. النبلاء 23/ 174 - 184، فوات الوفيات 2/ 230 - 235، العقد الثمين رقم 1644 وتاريخ الخلفاء 464.

(2) هو محمد بن محمد العلقمي وزير المستعصم آخر خلفاء بني العباس - الرافضي الخبيث. ولد سنة 591هـ وبقي وزيراً أربع عشرة سنة أشاع الرفض والكفر، وأهان المسلمين، وكاتب هولاكو ملك التتر، وجره وقوى عزمه على قصد العراق ودخولها، وكان سبباً في بلائهم على المسلمين. هلك ابن العلقمي في سنة سقوط بغداد سنة 656 س - عامله الله بما يستحقه.

قال الشيخ ابن تيمية في منهاج السنة5/ 155 (وكان وزير الخليفة في بغداد الذي يقال له ابن العلقمي منهم - أي الرافضة - فلم يزل يمكر بالخليفة والمسلمين، ويسعى في قطع أرزاق عسكر المسلمين وضعفهم، وينهى العامة عن قتالهم - يعني التتر - ويكيد أنواعاً من الكيد حتى دخلوا فقتلوا من المسلمين ما يقال إنه بضعة عشر ألف ألف إنسان. .) وانظر المنهاج 3/ 377 و 6/ 374 وفضائحه في النبلاء 23/ 361 والبداية والنهاية 11/ 312، الوافي بالوفيات 1 / 4 8 1، وشذرات الذهب 5/ 272، وفوات الوفيات 3/ 252 وما بعدها.

(3) في المصرية: خابر بالباء - وهما بمعنى في هذا السباق، قال في القاموس: المخامرة: الإقامة ولزوم المكان، وأن تبيع حراً على أنه عبد - أي مخادعة وغشاً - والمقاربة، والمخالطة، والاستتار انظر مادة خمر فيه وفي لسان.

(4) ما بين المعكوفين زيادة من المطبوعة للتوضيح.
...এবং দুঃখ প্রকাশ করে। আর যখন তাতারীরা মুসলমানদের ওপর বিজয়ী হয়, তখন তারা আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে। তারাই তাতারীদের খলিফাকে হত্যা করার (১) এবং বাগদাদবাসীদের হত্যা করার পরামর্শ দিয়েছিল। বাগদাদের উজির ইবনুল আলকামিই (২) মুসলমানদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল (৩) এবং তাতারীদের কাছে পত্র লিখেছিল, এমনকি শেষ পর্যন্ত সে চাতুর্য ও প্রতারণার মাধ্যমে তাদের ইরাকের ভূখণ্ডে প্রবেশ করিয়েছিল এবং [লোকদের তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিষেধ করেছিল] (৪)। ইসলাম সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ জানেন যে, রাফেযীরা দ্বীনের শত্রুদের প্রতি ঝুঁকে থাকে। আর যখন তারা কায়রোর শাসক ছিল, তখন তারা ছিল...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু আহমদ আবদুল্লাহ, যার উপাধি আল-মুসতাসিম বিল্লাহ; তিনি আব্বাসী বংশের সর্বশেষ খলিফা। ৬০৯ হিজরিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৪০ হিজরিতে খেলাফত লাভ করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ধর্মপরায়ণ ছিলেন, তবে আমোদ-প্রমোদ ও উদাসীনতায় মগ্ন থাকতেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি রাফেযী ইবনুল আলকামি-কে উজির নিযুক্ত করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত তার রাজত্বকে দুর্বল করে দেয় এবং তার সেনাবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অতপর যখন তিনি তার রাষ্ট্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ তার (হালাকু) কাছে বের হন, তখন হালাকু ৬৫৬ হিজরিতে তাকে হত্যা করে। এরপর হালাকু এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাগদাদে হত্যা ও লুণ্ঠন বৈধ করে নেয়, এমনকি রাস্তাঘাটে রক্ত প্রবাহিত হয়েছিল। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং কোনো শক্তি নেই। {হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না; তারা তোমাদের ক্ষতি করতে কোনো ত্রুটি করবে না। তারা তোমাদের দুর্দশা কামনা করে। তাদের মুখ থেকে তো বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছেই, আর তাদের অন্তর যা গোপন রাখে তা আরও গুরুতর। আমি তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি, যদি তোমরা অনুধাবন করো} - আল ইমরান। আন-নুবালা ২৩/১৭৪-১৮৪, ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ২/২৩০-২৩৫, আল-আকদুস সামিন নং ১৬৪৪ এবং তারিখুল খুলাফা ৪৬৪।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আলকামি, আব্বাসী বংশের শেষ খলিফা আল-মুসতাসিমের উজির—একজন পাপিষ্ঠ রাফেযী। তিনি ৫৯১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং চৌদ্দ বছর উজির পদে বহাল ছিলেন। সে রাফেযীবাদ ও কুফর ছড়িয়ে দিয়েছিল, মুসলমানদের লাঞ্ছিত করেছিল এবং তাতার রাজা হালাকু-র কাছে পত্র লিখেছিল। সে তাকে ইরাক আক্রমণ ও সেখানে প্রবেশের জন্য উৎসাহিত করেছিল এবং তার সংকল্প দৃঢ় করেছিল। মুসলমানদের ওপর এই বিপদ নেমে আসার কারণ ছিল সে। ৬৫৬ হিজরিতে বাগদাদের পতনের বছর ইবনুল আলকামি ধ্বংস হয়—আল্লাহ তাকে তার প্রাপ্য অনুযায়ী প্রতিদান দিন।

শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহ মিনহাজুস সুন্নাহ গ্রন্থে (৫/১৫৫) বলেছেন: (বাগদাদে খলিফার উজির, যাকে ইবনুল আলকামি বলা হতো, সে তাদেরই—অর্থাৎ রাফেযীদের—অন্তর্ভুক্ত ছিল। সে খলিফা ও মুসলমানদের সাথে প্রতারণা করতে থাকল এবং মুসলিম সৈন্যদের জীবিকা কর্তন ও তাদের দুর্বল করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকল। সে সাধারণ মানুষকে তাদের—অর্থাৎ তাতারীদের—বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে নিষেধ করত এবং বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত চালত যতক্ষণ না তারা প্রবেশ করল এবং মুসলমানদের মধ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে হত্যা করল, বলা হয় যে তাদের সংখ্যা ছিল কয়েক কোটি মানুষ...) আরও দেখুন আল-মিনহাজ ৩/৩৭৭ এবং ৬/৩৭৪, এবং তার অপকর্মের বিবরণ আন-নুবালা ২৩/৩৬১, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১১/৩১২, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ১/৪৮১, শাযারাতুয যাহাব ৫/২৭২ এবং ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ৩/২৫২ ও পরবর্তী অংশ।

(৩) মিশরীয় সংস্করণে: ‘খাবারা’ (বা বর্ণ দিয়ে)—এই প্রেক্ষাপটে উভয়ই একই অর্থ প্রকাশ করে। কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: আল-মুখামারাহ হলো: অবস্থান করা ও কোনো স্থানে লেগে থাকা, এবং কোনো স্বাধীন মানুষকে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করা—অর্থাৎ প্রতারণা ও জালিয়াতি করা—এবং নিকটবর্তী হওয়া, মেলামেশা করা ও আত্মগোপন করা। এই শব্দের জন্য তাতে (কামুসে) এবং লিসানুল আরবে ‘খমর’ মূলধাতু দেখুন।

(৪) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু স্পষ্টীকরণের জন্য মুদ্রিত সংস্করণ থেকে সংযোজন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১৬)
وزيرهم مرة يهودياً، ومرة نصرانياً أرمنياً (1) وقويت النصارى بسبب ذلك النصراني الأرمني، وبنوا كنائس كثيرةً بأرض مصر، في دولة أولئك الرافضة والمنافقين.

وكانوا ينادون بين القصرين: من لعن وسب فله دينارٌ وأردبّ وفي أيامهم أخذت النصارى ساحل الشام من المسلمين، حتى فتحه نور الدين (2) وصلاح الدين (3) .

--------------------------------------------

(1) الأرمني نسبة إلى أرمينية إقليم في آسيا الوسطى بين بحر قزوين وبلاد القوقاز افتتحها المسلمون في عهد الخلفاء الراشدين، وهم بادية الروم كما ذكره شيخ الإسلام في الاقتضاء 1/ 369. وهؤلاء الأرمن يتبعون طائفة الأرثوذكس من النصارى أتباع الكنيسة الشرقية التي كانت في القسطنطينية. كالأقباط والروم والصرب. وهم يقولون بالتثليث، لكن للمسيح عيسى ابن مريم طبيعة واحدة ومشيئة واحدة اتحد فيها اللاهوت بالناسوت ويعتقدون أن روح القدس نشأ من الإله الأب فقط.

(2) هو أبو القاسم نور الدين محمود بن الأتابك زنكي صاحب الشام ولد سنة 511 هـ، وخلص مدن الشام وسواحلها من الفرنج وأظهر السنة بالشام، وقمع الرافضة بحلب وغيرها، كان دينا يحب العلم والعلماء، بنى المدارس وأوقف المكتبات، مع جهاده الكثير توفي على فراشه سنة 569هـ رحمه الله وغفر له.

لما عد شيخ الإسلام الملوك الذين نصروا الإسلام والسنة عدة منهم كما في المجموع 4/ 22و 32/ 0 6 وقال في 35/ 151 (ثم لما أقام الله ملوك المسلمين المجاهدين في سبيل الله تعالى كنور الدين والشهيد صلاح الدين وأتباعهما، وفتحوا السواحل من النصارى ممن كان بها منهم، وفتحوا أيضاً أرض مصر، فإنهم كانوا - أي الرافضة العبيدية - مستولين عليها نحو مائتي سنة، واتفقوا هم والنصارى، فجاهدهم المسلمون حتى فتحوا البلاد، ومن ذلك التاريخ انتشرت دعوة الإسلام بالديار المصرية والشامية) . وذكره 35/ 138 كيف أن الشهيد نور الدين محمود، وقائده صلاح الدين الأيوبي أبطلوا شعار الرافضة في بلاد مصر. انظر النبلاء 20/531، شذرات الذهب 4/ 228 - 231، تاريخ ابن خلدون 5/ 253 وفيات الأعيان 5/ 184 والكواكب الدرية في السير النورية خطوط ومطبوع.

(3) هو الأمير المجاهد صلاح الدين يوسف بن نجم الدين المولود سنة 532 هـ طلب العلم فسمع الحديث على أبي طاهر السلفي وغيره. أمره نور الدين محمود ، وبعثه مع عمه أسد الدين شيركوه لفتح مصر وجهاد النصارى ، وأظهره الله عليهم في مواطن أشهرها حطين ، كان تقياً محباً للعلم وأهله وموقراً لهم. مات مريضاً بدمشق سنة 589 هـ ، رفع الله درجته في جنته آمين. وقد حفظ التاريخ جهاده للإسماعيلية في الشام ، أثنى عليه الشيخ ابن تيمية ، وعلى جهاده للنصارى والروافض هو ونور الدين ، ومر في ترجمته نور الدين شيء من هذا. قال الذهبي: (محاسن صلاح الدين جمة لا سيما =
তাদের মন্ত্রী কখনও ছিল ইহুদি, আবার কখনও আরমানি খ্রিস্টান (১)। সেই আরমানি খ্রিস্টানের কারণে খ্রিস্টানরা শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং তারা মিশরের জমিনে প্রচুর গির্জা নির্মাণ করে; ওই সকল রাফেজি ও মুনাফিকদের শাসন আমলে।

আর তারা দুই প্রাসাদের মাঝখানে ঘোষণা করত: "যে লানত করবে এবং গালিগালাজ করবে, তার জন্য রয়েছে একটি দিনার ও এক আরদাব্ব (শস্য পরিমাপের একক)।" তাদের সময়ে খ্রিস্টানরা মুসলিমদের কাছ থেকে শাম অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা দখল করে নিয়েছিল, অবশেষে নুরউদ্দিন (২) ও সালাহউদ্দিন (৩) তা জয় করেন।

--------------------------------------------

(১) আরমানি হলো আরমানিয়া (আর্মেনিয়া) এর সাথে সম্পর্কিত, যা মধ্য এশিয়ার একটি অঞ্চল, কাস্পিয়ান সাগর এবং ককেশাস অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে মুসলিমরা এটি জয় করেন। তারা মূলত রোমানদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইকতিজা ১/৩৬৯ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এই আরমানিরা খ্রিস্টানদের অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, যারা কনস্টান্টিনোপলে অবস্থিত প্রাচ্য গির্জার অনুসারী; যেমন কিবতি, রোমান ও সার্বরা। তারা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী, তবে তারা মনে করে মারয়াম পুত্র ঈসা মসিহের প্রকৃতি একটি এবং ইচ্ছা একটি, যেখানে লাহুত (প্রভুত্ব) ও নাসুত (মানবত্ব) একীভূত হয়েছে। তারা বিশ্বাস করে যে, পবিত্র আত্মা কেবল পিতা ঈশ্বর থেকেই উৎপন্ন হয়েছে।

(২) তিনি হলেন আবুল কাসিম নুরউদ্দিন মাহমুদ ইবনে আতাবেগ জাঙ্গি, শামের অধিপতি। তিনি ৫১১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শামের শহরসমূহ ও এর উপকূলীয় অঞ্চলগুলো ক্রুসেডারদের থেকে মুক্ত করেন এবং শামে সুন্নাহকে বিজয়ী করেন। তিনি আলেপ্পো ও অন্যান্য স্থানে রাফেজিদের দমন করেন। তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ এবং ইলম ও ওলামাদের প্রতি মহব্বত পোষণকারী। তিনি অনেক মাদ্রাসা নির্মাণ করেন এবং কুতুবখানা বা লাইব্রেরি ওয়াকফ করেন। প্রচুর জিহাদ সত্ত্বেও তিনি নিজ বিছানায় ৫৬৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাকে রহম করুন ও ক্ষমা করুন।

শাইখুল ইসলাম যখন ইসলাম ও সুন্নাহর সাহায্যকারী রাজাদের কথা গণনা করেছেন, তখন তাদের মাঝে তার কথা মাজমু' ৪/২২ এবং ৩২/৬০ এ উল্লেখ করেছেন। তিনি ৩৫/১৫১ তে বলেছেন: (অতঃপর যখন আল্লাহ তায়ালা আল্লাহর পথে জিহাদকারী মুসলিম রাজাদের প্রতিষ্ঠিত করলেন—যেমন নুরউদ্দিন ও শহীদ সালাহউদ্দিন এবং তাদের অনুসারীগণ—তারা খ্রিস্টানদের দখল থেকে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো মুক্ত করেন এবং মিশরও জয় করেন। কেননা তারা—অর্থাৎ ওবায়দি রাফেজিরা—প্রায় দুইশ বছর সেখানে শাসন চালিয়েছিল এবং তারা খ্রিস্টানদের সাথে একাত্ম হয়েছিল। ফলে মুসলিমরা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেন এবং দেশগুলো জয় করেন। সেই সময় থেকেই মিশর ও শামে ইসলামের দাওয়াত প্রসারিত হয়)। তিনি ৩৫/১৩৮ তে উল্লেখ করেছেন কীভাবে শহীদ নুরউদ্দিন মাহমুদ এবং তার সেনাপতি সালাহউদ্দিন আইয়ুবি মিশর থেকে রাফেজিদের নিদর্শনসমূহ বিলুপ্ত করেছিলেন। দেখুন: নুবালা ২০/৫৩১, শাযারাতুয যাহাব ৪/২২৮-২৩১, তারিখ ইবনে খালদুন ৫/২৫৩, ওফায়াতুল আ'ইয়ান ৫/১৮৪ এবং আল-কাওয়াকিবুদ দুররিয়্যাহ ফিস সিয়ারিন নুরিয়্যাহ এর পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণ।

(৩) তিনি হলেন আমিরুল মুজাহিদ সালাহউদ্দিন ইউসুফ ইবনে নাজমুদ্দিন, ৫৩২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং আবু তাহের সিলফি ও অন্যদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন। নুরউদ্দিন মাহমুদ তাকে আদেশ দেন এবং তাকে তার চাচা আসাদুদ্দিন শিরকুহ এর সাথে মিশর বিজয় ও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য পাঠান। আল্লাহ তাকে তাদের বিরুদ্ধে বহু স্থানে বিজয়ী করেন, যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো হিত্তিন। তিনি ছিলেন পরহেজগার, ইলম ও আহলে ইলমদের প্রতি মহব্বত পোষণকারী এবং তাদের সম্মানকারী। তিনি ৫৮৯ হিজরিতে দামেস্কে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ তার জান্নাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন, আমিন। ইতিহাস শামে ইসমাইলিয়াদের বিরুদ্ধে তার জিহাদকে সংরক্ষণ করেছে। শাইখ ইবনে তাইমিয়্যাহ তার প্রশংসা করেছেন এবং খ্রিস্টান ও রাফেজিদের বিরুদ্ধে তার ও নুরউদ্দিনের জিহাদের প্রশংসা করেছেন। নুরউদ্দিনের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে এর কিছুটা অতিবাহিত হয়েছে। যাহাবি বলেছেন: (সালাহউদ্দিনের বহু গুণাবলি রয়েছে বিশেষত =
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১৭)
وفي أيامهم جاءت الفرنج إلى بلبيس (1) ، وغُلبوا من الفرنج؛ فإنهم منافقون، وأعانوهم النصارى والله لا ينصر المنافقين، الذين هم يوالون النصارى، فبعثوا إلى نور الدين يطلبون النجدة، فأمدهم بأسد الدين (2) وابن أخيه صلاح الدين. فلما جاءت الغُزّى (3) المجاهدون إلى ديار مصر، قامت الرافضة مع النصارى، فطلبوا قتال الغزّاة المجاهدين المسلمين، وجرت فصولٌ (4) يعرفها الناس، حتى قتل صلاح الدين مقدّمهم شاور (5) .

--------------------------------------------

= الجهاد فله فيه اليد البيضاء) النبلاء 21/278 ، شفاء القلوب ص 23 وما بعدها ، وانظر سيرته المسماة (النوادر السلطانية والمحاسن اليوسفية) لابن شداد ومفرج الكروب في أخبار بني أيوب لابن واصل ، والنجوم الزاهرة 6/3-5.

(1) بلْبيس: ببائين وسكون اللام والياء ، والعامة الآن تكسر الباء الأولى: بلدة بمصر في محافظة الشرقية ، شرق القاهرة بخمسة وثلاثين كيلاً ، على فرع من النيل يسمى الإسماعيلية. انظر المراصد 1/216.

(2) هو عم صلاح الدين واسمه: أسد الدين شيركوه بن شادى بن مروان ، فاتح الديار المصرية، ومرعب الفرنجة النصارى لقب بالملك المنصور لما قتل شاور، كان من كبار القواد مات فجأة سنة 564 هـ رحم الله الجميع ، انظر النبلاء 20/587 وحسن المحاظرة 2/23، تاريخ دمشق لابن عساكر 58/36، النجوم الزاهرة 5/367، شفاء القلوب ص 25.

(3) جمع غازي انظر مادة غزا من القاموس وشرحه.

(4) من هذا ما كان من شأن مؤتمن خلافة العبيدين اسمه الطواشي وكان حبشياً حيث كاتب النصارى الفرنج في القدوم إلى الديار المصرية وإخراج جيوش صلاح الدين وعمه أسد الدين ومناهم حيث أرسل بهذا الكتاب مع رجل ، لكنه وقع بيد صلاح الدين، فتربص بالطواشي حتى قتله. وثار لمقتله ما يقرب من خمسين ألفاً من الأحباش وغيرهم مما كان على طويته فاقتتلوا بين القصرين مع جيوش صلاح الدين حتى كانت الدائرة عليهم في آخر الأمر. وانظرها في تاريخ البداية والنهاية 12/ 277 وانظر 307-309.

(5) هو أبو شجاع شاور بن مجبر أحد القواد في إمارة العاضد العبيدي على مصر - وهو آخر خلفاء العبيديين بها - لجأ إلى نور الدين زنكي بالشام ثم غدر به واستعان بالنصارى للاستيلاء على مصر. قبض عليه صلاح الدين، وقتله في ولاية عمه أسد الدين شيركوه على مصر سنة 564هـ. البداية والنهاية 2 1/ 78 2، النبلاء 0 2/ 514، حسن المحاظرة 2/ 251، وفيات الأعيان 2/ 439. تاريخ ابن خلدون 5/246.
আর তাদের দিনগুলোতে ক্রুসেডাররা বিলবাইসে (১) আসে এবং তারা ক্রুসেডারদের কাছে পরাজিত হয়; কারণ তারা ছিল মুনাফিক, আর খ্রিস্টানরা তাদের সাহায্য করেছিল। আর আল্লাহ মুনাফিকদের সাহায্য করেন না, যারা খ্রিস্টানদের সাথে বন্ধুত্ব করে। তখন তারা নূরুদ্দীনের কাছে সাহায্য চেয়ে পাঠালে তিনি আসাদ উদ্দীন (২) এবং তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র সালাহউদ্দীনকে পাঠিয়ে তাদের সাহায্য করেন। অতঃপর যখন মুজাহিদ যোদ্ধারা (৩) মিসর ভূখণ্ডে আগমন করল, তখন রাফেজিরা খ্রিস্টানদের পক্ষ নিল এবং তারা মুসলিম মুজাহিদ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানাল। সেখানে এমন সব ঘটনা (৪) ঘটেছিল যা মানুষ জানে, এমনকি সালাহউদ্দীন তাদের নেতা শাওয়ারকে (৫) হত্যা করেন।

--------------------------------------------

= জিহাদ; এতে তাঁর প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে) আন-নুবালা ২১/২৭৮, শিফাউল কুলুব পৃষ্ঠা ২৩ এবং পরবর্তী অংশ, এবং ইবনে শাদ্দাদ রচিত তাঁর জীবনী (আন-নাওয়াদিরুস সুলতানিয়া ওয়াল মাহাসিনুল ইউসুফিয়া), ইবনে ওয়াসিলের 'মুফাররিজুল কুরুব ফি আখবারি বানি আইয়ুব' এবং আন-নূজুমুয যাহিরা ৬/৩-৫ দেখুন।

(১) বিলবাইস: দুটি 'বা' এবং 'লাম' ও 'ইয়া' এর সুকুন যোগে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ প্রথম 'বা' টিকে কাসরা (জের) দিয়ে পড়ে: এটি মিসরের শারকিয়া প্রদেশের একটি শহর, যা কায়রোর পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার পূর্বে নীল নদের একটি শাখা, যাকে ইসমাইলিয়া বলা হয়, তার উপর অবস্থিত। দেখুন আল-মারাসিদ ১/২১৬।

(২) তিনি সালাহউদ্দীনের চাচা এবং তাঁর নাম: আসাদ উদ্দীন শিরকুহ ইবনে শাদি ইবনে মারওয়ান। তিনি মিসর বিজয়ী এবং খ্রিস্টান ক্রুসেডারদের ত্রাস ছিলেন। শাওয়ারকে হত্যা করার পর তাকে 'আল-মালিকুল মানসুর' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি অন্যতম প্রধান সেনাপতি ছিলেন। ৫৬৪ হিজরিতে তিনি আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ সকলের ওপর রহম করুন। দেখুন আন-নুবালা ২০/৫৮৭, হুসনুল মুহাদারা ২/২৩, ইবনে আসাকিরের তারিখে দামেশক ৫৮/৩৬, আন-নূজুমুয যাহিরা ৫/৩৬৭, শিফাউল কুলুব পৃষ্ঠা ২৫।

(৩) এটি 'গাজি' শব্দের বহুবচন। আল-কামুস এবং এর ব্যাখ্যা থেকে 'গাযা' মূলশব্দটি দেখুন।

(৪) এর মধ্যে রয়েছে উবাইদি খিলাফতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি 'মু'তামানুল খিলাফাহ' এর ঘটনা, যার নাম ছিল তওয়াশি এবং সে ছিল একজন হাবশি। সে জেরুজালেমের খ্রিস্টান ক্রুসেডারদের কাছে মিসরে আসার এবং সালাহউদ্দীন ও তাঁর চাচা আসাদউদ্দীনের সৈন্যবাহিনীকে বের করে দেওয়ার জন্য পত্র পাঠিয়েছিল। সে একজন লোকের মাধ্যমে এই পত্র পাঠিয়েছিল, কিন্তু তা সালাহউদ্দীনের হাতে পড়ে যায়। অতঃপর তিনি তওয়াশির জন্য ওত পেতে থাকেন এবং তাকে হত্যা করেন। তার হত্যার প্রতিশোধ নিতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার হাবশি এবং তার মতাদর্শী অন্যরা বিদ্রোহ করে এবং তারা সালাহউদ্দীনের বাহিনীর সাথে 'বাইনার কাসরাইন' নামক স্থানে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অবশেষে তারা পরাজিত হয়। দেখুন আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/২৭৭ এবং ৩০৭-৩০৯ পৃষ্ঠা।

(৫) তিনি হলেন আবু শুজা শাওয়ার ইবনে মুজবির, মিসরের উবাইদি আমির আল-আদিদের সময়কার অন্যতম সেনাপতি—যিনি সেখানকার শেষ উবাইদি খলিফা ছিলেন। তিনি সিরিয়ায় নূরুদ্দীন জঙ্গীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন এবং মিসর দখলের জন্য খ্রিস্টানদের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ৫৬৪ হিজরিতে তাঁর চাচা আসাদ উদ্দীন শিরকুহ যখন মিসরের শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন সালাহউদ্দীন তাকে বন্দী করেন এবং হত্যা করেন। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১২/৭৮, আন-নুবালা ২০/৫১৪, হুসনুল মুহাদারা ২/২৫১, ওয়াফায়াতুল আইয়ান ২/৪৩৯, ইবনে খালদুনের ইতিহাস ৫/২৪৬।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১৮)
‌‌الكنائس القديمة في بر مصر وحكمها:

وقد كان في بر مصر كنائس قديمة، لكن تلك الكنائس أقرهم المسلمون عليها حين فتحوا البلاد؛ لأن الفلاحين كلهم كانوا نصارى، ولم يكونوا مسلمين، وإنما كان المسلمون الجندَ خاصة، فأقرهم كما أقر النبي صلى الله عليه وسلم اليهود على خيبر (1) لما فتحها؛ لأن اليهود كانوا فلاحين، وكان المسلمون مشتغلين بالجهاد. ثم إنه بعد هذا في خلافة عمر بن الخطاب رضي الله عنه لما كثر المسلمون واستغنوا عن اليهود، أجلاهم أمير المؤمنين عن خيبر، كما أقر بذلك النبي صلى الله عليه وسلم حيث قال: "أخرجوا اليهود والنصارى من جزيرة العرب" (2) ، حتى لم يبق في خيبر يهودي. وهكذا القرية التي يكون أهلها نصارى وليس عندهم مسلمون، ولا مسجدٌ للمسلمين، فإذا أقرهم المسلمون على كنائسهم التي فيها، جاز ذلك، كما فعله المسلمون.

--------------------------------------------

(1) خيبر مدينة في شمال غرب المملكة العربية السعودية ، وشمال مدينة الرسول صلى الله عليه وسلم بينها مسافة ثلاثمائة كيلاً ، ويصلها طريق معبد ، كان فيها اليهود قديماً حتى فتحها الرسول صلى الله عليه وسلم ثم أخرجهم منها عمر الفاروق رضي الله عنه.

(2) أخرجه الإمام أحمد بأسانيد: حدثنا يحيى بن سعيد ، حدثنا أبو أحمد الزيدي كلاهما ثنا إبراهيم بن ميمون عن سعد سمرة عن سمرة بن جندب عن أبي عبيدة عامر بن الجراح رضي الله عنه أنه قال: آخر ما تكلم به النبي صلى الله عليه وسلم: أخرجوا يهود أهل الحجاز ، وأهل نجران من جزيرة العرب ، واعلموا أن شرار الناس الذين اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد. وثنا وكيع به لكنه عن إسحاق بن سعد بن سمرة ، وقال في مجمع الزوائد 5/328: رواه أحمد بإسنادين ورجال طريقين منها ثقات متصل إسنادهما ورواه أبو يعلى ، وكل الأسانيد الثلاثة صحيحة ، إسناد وكيع فيه وهم والصواب أنه عن سعد بن سمرة وليس عن ابنه إسحاق ، وانظر العلل للدارقطني 4/439 وما بعدها ، ورواه الطيالسي في المسند 229 والدارمي في سننه رقم 2498 ، والحميدي في المسند رقم 85 ، وابن أبي عاصم في الآحاد والمثاني رقم 235 و236 وأبو نعيم في الحلية 8/372 وفي معرفة الصحابة رقم 596 ، والبيهقي في الكبرى 9/208. والطحاوي في شرح المشكل 4/12 ، وهو بمعنى الحديث الذي ذكره الشيخ تماماً. وروى الحديث الإمام مسلم في كتاب الجهاد - باب إخراج اليهود والنصارى من جزيرة العرب رقم 1767 عن جابر عن عمر بن الخطاب رضي الله عنهما مرفوعاً بلفظ (لأخرجن اليهود والنصارى من جزيرة العرب حتى لا أدع مسلماً) . =
মিসর ভূখণ্ডের প্রাচীন গির্জা এবং সেগুলোর বিধান:

মিসর ভূখণ্ডে প্রাচীন কিছু গির্জা ছিল, তবে মুসলিমরা যখন দেশটি জয় করেন, তখন তারা তাদের সেসব গির্জার ওপর বহাল রেখেছিলেন; কারণ কৃষকদের সবাই ছিল খ্রিস্টান এবং তারা মুসলিম ছিল না। বরং মুসলিমরা ছিল প্রধানত সেনাবাহিনী। ফলে তিনি তাদের বহাল রেখেছিলেন যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার বিজয়ের পর (১) সেখানকার ইহুদিদের তাদের অবস্থানে বহাল রেখেছিলেন; কারণ ইহুদিরা ছিল কৃষক আর মুসলিমরা জিহাদে লিপ্ত ছিলেন। এরপর যখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফতকাল এল এবং মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল ও তারা ইহুদিদের থেকে অমুখাপেক্ষী হলো, তখন আমিরুল মুমিনীন তাদের খায়বার থেকে বহিষ্কার করেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন করেছিলেন যেখানে তিনি বলেছিলেন: "তোমরা আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বের করে দাও" (২), এমনকি খায়বারে কোনো ইহুদি অবশিষ্ট রইল না। অনুরূপভাবে যে জনপদবাসীর সবাই খ্রিস্টান এবং তাদের মাঝে কোনো মুসলিম নেই, আর মুসলিমদের কোনো মসজিদও নেই, সেখানে মুসলিমরা যদি তাদের গির্জাগুলোর ওপর তাদের বহাল রাখে, তবে তা জায়েজ হবে, যেমনটি মুসলিমরা করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) খায়বার সৌদি আরব রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি শহর, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহর (মদিনা) থেকে উত্তরের দিকে তিনশ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। একটি পাকা রাস্তা সেখানে পৌঁছেছে। সেখানে প্রাচীনকাল থেকে ইহুদিদের বসবাস ছিল যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা জয় করেন, অতঃপর উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের সেখান থেকে বের করে দেন।

(২) ইমাম আহমদ বিভিন্ন সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আহমদ আল-জাইদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে ইব্রাহিম ইবনে মাইমুন থেকে, তিনি সা'দ সামুরা থেকে, তিনি সামুরা ইবনে জুনদুব থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ আমের ইবনুল জাররাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ কথা ছিল: তোমরা হিজাজের ইহুদি এবং নাজরানের অধিবাসীদের আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দাও, আর জেনে রেখো যে, মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম তারা যারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। আর ওকি'ও এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি ইসহাক ইবনে সা'দ ইবনে সামুরা থেকে। মাজমাউজ জাওয়াইদ ৫/৩২৮-এ বলা হয়েছে: আহমদ এটি দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন এবং উভয় সূত্রের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য ও তাদের সনদ নিরবচ্ছিন্ন। আবু ইয়ালাও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনটি সনদই সহিহ। ওকি'-এর সনদে কিছুটা ভ্রম আছে এবং সঠিক হলো এটি সা'দ ইবনে সামুরা থেকে, তার পুত্র ইসহাক থেকে নয়। দেখুন: আল-ইলাল আদ-দারাকুতনি ৪/৪৩৯ এবং তার পরবর্তী পৃষ্ঠা। আত-তয়ালিসি আল-মুসনাদে (২২৯), আদ-দারিমি তার সুনানে (নম্বর ২৪৯৮), আল-হুমাইদি মুসনাদে (নম্বর ৮৫), ইবনে আবি আসিম আল-আহাদ ওয়াল মাসানিতে (নম্বর ২৩৫ ও ২৩৬), আবু নুআইম আল-হিলিয়াতে (৮/৩৭২) এবং মা’রিফাতুস সাহাবাতে (নম্বর ৫৯৬), এবং আল-বাইহাকি আল-কুবরাতে (৯/২০৮) এটি বর্ণনা করেছেন। আত-তহাবি শারহুল মুশকিলে (৪/১২) বর্ণনা করেছেন, যা শায়খের উল্লিখিত হাদিসের হুবহু অর্থ প্রকাশ করে। ইমাম মুসলিম কিতাবুল জিহাদে—আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বহিষ্কার অধ্যায়ে (নম্বর ১৭৬৭)—জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: (আমি অবশ্যই আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বের করে দেব যেন আমি সেখানে মুসলিম ছাড়া কাউকে না রাখি)।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১১৯)
_________

= وأصل الحديث في الصحيحين عن ابن عباس مرفوعاً (أخرجوا المشركين من جزيرة العرب وأجيزوا الوفد بنحو ما كنت أجيزهم) . قاله عليه السلام قبل موته بثلاث، فهو في البخاري في كتاب الجزية -باب إخراج اليهود من جزيرة العرب 3/ 1155. ومسلم في كتاب الوصية- باب ترك الوصية لمن ليس له شيء يوحى فيه رقم 1637، ولا شك أن اليهود والنصارى من المشركين. كما في آية براءة {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أرباباً من دون الله والمسيح ابن مريم} الآية.

وذكر الهيثمي أن الطبراني أخرج الحديث عن أم سلمة-رضي الله عنها -بلفظ أخرجوا اليهود والنصارى من جزيرة العرب في المعجم الكبير من طريقين وقال: رجال أحدهما رجال الصحيح. وفي الباب حديث عائشة المشهور المرفوع (لا يجتمع أو لا ينزل بجزيرة العرب دينان) . رواه أحمد والطبراني في الأوسط. قال الهيثمي:= =رجال أحمد رجال الصحيح غير ابن إسحاق وفد صرح بالسماع أ. هـ. وهو محمد بن إسحاق بن يسار المطلبي المدني صدوق يدلس، وعده الحافظ في المرتبة الرابعة من مراتب المدلسين، وهم من اتفق على أنه لا يحتج بحديثهم إلا ما صرحوا فيه بالسماع لكثرة تدليسهم عن الضعفاء، واستنكر الذهبي ما انفرد به حتى لو صرح بالسماع. ورواه عبد الرزاق في مصنفه رقم 19359، وكذا البيهقي مرسلاً 9/ 219.

وفي بعض الطرق (لا يجتمع بأرض الحجاز دينان) عند عبد الرزاق 7209 وغيره.

وحدود جزيرة العرب: ما بين البحر الأحمر والخليج العربي أفقا وطولاً من حضرموت إلى ريف جنوب العراق وأطراف الشام الجنوبية، كما حدده بذلك جماعه من السلف، كما في السنن الكبرى 9/ 209، وروى البيهقي فيها بسنده إلى الإمام مالك بن أنس أنه قال: جزيرة العرب: المدينة، ومكة، واليمن، وأما مصر فمن بلاد المغرب، والشام من بلاد الروم، والعراق من بلاد فارس.

هذا وقد عمل عمر بن الخطاب -الخليفة الراشد الثاني رضي الله عنه -بأمره صلى الله عليه وآله وسلم فأجلى اليهود عن خيبر وما حولها إلى أذرعات الشام - تسمى الآن درعا بالأردن -وهي خارج الجزيرة العربية، وكان قد بدأ صلى الله عليه وآله وسلم بإجلائهم عن المدينة إلى خيبر، وضرب رضي الله عنه لليهود والنصارى والمجوس بالمدينة إقامة ثلاثة أيام يتسوقون ويقضون حوائجهم، ولا يقيم أحد منهم فوق ذلك.

كما كان له موقف من موالي المسلمين وعبيدهم من هؤلاء ما هو مشهور ومعروف، فلله دره، ورفعه الله بذا منزلته في جناته.

أما هذا الزمان، فقد عصى الناس أمر الله وأمر رسوله صلى الله عليه وآله وسلم، وطريقة خلفائه فاستقدموا اليهود والنصارى، بل الوثنين من البوذيين والهندوس وأمثالهم إلى جزيرة العرب، وأرض الحجاز، حتى غدوا بالكثرة بمكان -ولا حول ولا قوة إلا بالله - بدعوى الحاجة ولا حاجة. هذا مع أن المسلمين فيهم كفاية وسداد والحمد لله، ولكن أكثر الناس لا يرعون ولا يشكرون. أسأل الله للمسلمين الهداية والرشاد.

= মূল হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমে ইবনে আব্বাস থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে (তোমরা আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদের বের করে দাও এবং প্রতিনিধি দলকে উপঢৌকন দাও যেমনটি আমি দিতাম)। তিনি (সা.) তাঁর মৃত্যুর তিন দিন আগে এটি বলেছিলেন। এটি বুখারির 'কিতাবুল জিজয়া'-এর 'আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদিদের বের করে দেওয়া' অনুচ্ছেদে (৩/১১৫৫) এবং মুসলিমে 'কিতাবুল ওয়াসিয়্যা'-এর 'যাঁর কাছে ওহী করা হয়েছে এমন কিছু নেই তাঁর জন্য অসিয়ত ছেড়ে দেওয়া' অনুচ্ছেদে (নং ১৬৩৭) রয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইহুদি ও খ্রিস্টানরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি বারাআতের আয়াতে রয়েছে: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মরিয়ম তনয় মসীহকেও...}। আয়াতে শেষ পর্যন্ত।

হাইসামি উল্লেখ করেছেন যে তাবারানি উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে দুটি সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যার শব্দ হলো: 'আরব উপদ্বীপ থেকে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বের করে দাও' এবং তিনি বলেছেন: একটি সূত্রের বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী। এই অধ্যায়ে আয়েশার প্রসিদ্ধ মারফু হাদিস রয়েছে (আরব উপদ্বীপে দুটি দ্বীন একত্র হবে না বা অবস্থান করবে না)। এটি আহমাদ এবং তাবারানি আল-আওসাতে বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন: আহমাদের বর্ণনাকারীগণ সহিহ-এর বর্ণনাকারী, তবে ইবনে ইসহাক ব্যতীত, আর তিনি শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার আল-মুত্তালিবি আল-মাদানি, যিনি সত্যবাদী কিন্তু তাদলিস করতেন। হাফেজ তাকে তাদলিসকারীদের চতুর্থ স্তরে গণনা করেছেন, যাদের হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে ঐকমত্য রয়েছে যতক্ষণ না তারা স্পষ্ট শ্রবণের কথা উল্লেখ করেন, কারণ তারা দুর্বলদের থেকে প্রচুর তাদলিস করতেন। যাহাবি তার একক বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এমনকি তিনি যদি স্পষ্ট শ্রবণের কথা উল্লেখও করেন। আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফে (নং ১৯৩৫৯) এবং বায়হাকি মুরসাল হিসেবে (৯/২১৯) এটি বর্ণনা করেছেন।

কিছু বর্ণনায় আব্দুর রাজ্জাকের নিকট (৭২০৯) ও অন্যান্য স্থানে 'হিজাজের ভূমিতে দুটি দ্বীন একত্র হবে না' শব্দে এসেছে।

আরব উপদ্বীপের সীমানা হলো: আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে লোহিত সাগর ও আরব উপসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল, যা হাজরামাউত থেকে দক্ষিণ ইরাকের গ্রামাঞ্চল এবং শামের দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, যেমনটি একদল সালাফ নির্ধারণ করেছেন। যেমনটি সুনানে কুবরাতে (৯/২০৯) রয়েছে। বায়হাকি সেখানে স্বীয় সনদে ইমাম মালিক বিন আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আরব উপদ্বীপ হলো মদিনা, মক্কা ও ইয়ামান। আর মিসর মাগরিব দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত, শাম রোম দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং ইরাক পারস্য দেশসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় খুলাফায়ে রাশেদ ওমর বিন খাত্তাব (রা.) নবী (সা.)-এর নির্দেশের ওপর আমল করেছেন এবং তিনি ইহুদিদের খায়বার ও এর আশপাশ থেকে শামের আজরুয়াত—যা বর্তমানে জর্ডানের দারা নামে পরিচিত—সেখানে বহিষ্কার করেছিলেন, যা আরব উপদ্বীপের বাইরে অবস্থিত। অথচ নবী (সা.) তাদের মদিনা থেকে খায়বারে বহিষ্কার করা শুরু করেছিলেন। তিনি (রা.) মদিনায় ইহুদি, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের কেনাকাটা ও তাদের প্রয়োজন পূরণের জন্য তিন দিন অবস্থানের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং তাদের কেউ এর বেশি অবস্থান করতে পারত না।

তেমনিভাবে মুসলমানদের এসব দাস ও গোলামদের বিষয়ে তাঁর যে অবস্থান ছিল তা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও সুপরিচিত। আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক এবং আল্লাহ এর মাধ্যমে জান্নাতে তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ করুন।

কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষ আল্লাহর আদেশ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর আদেশ এবং তাঁর খলিফাদের পথ অমান্য করেছে। তারা ইহুদি, খ্রিস্টান এমনকি বৌদ্ধ ও হিন্দুদের মতো মূর্তিপূজকদেরও আরব উপদ্বীপ ও হিজাজের ভূমিতে নিয়ে এসেছে, এমনকি তারা সেখানে সংখ্যাধিক্য লাভ করেছে—আর আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই—প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে অথচ এর কোনো প্রয়োজন নেই। অথচ মুসলমানদের মাঝে পর্যাপ্ত জনবল ও সক্ষমতা রয়েছে, সকল প্রশংসা আল্লাহর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ সচেতন নয় এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আমি আল্লাহর কাছে মুসলমানদের জন্য হেদায়েত ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১২০)
وأما إذا سكنها المسلمون وبنوا بها مساجدهم، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تصلح قبلتان بأرض" (1) . وفي أثر آخر: "لا يجتمع بيت رحمة وبيت عذاب" (2) . والمسلمون قد كثروا بالديار المصرية، وعمرت في هذه الأوقات؛ حتى صار أهلها بقدْر ما كانوا في زمن صلاح الدين مراتٍ متعددة. وصلاح الدين وأهل بيته كانوا يذلون النصارى، ولم يكونوا يستعملون منهم أحداً من أمرٍ من أمور المسلمين أصلاً.

ولهذا كانوا مؤيدين منصورين على الأعداء مع قلة المال والعدد. فيما قويت شوكة النصارى والتتار بعد موت العادل (3) ، أخي صلاح الدين، حتى إن بعض الملوك أعطاهم بعض مدائن المسلمين. وحدثت حوادث بسبب التفريط فيما أمر الله (4) به ورسوله صلى الله عليه وسلم، فإن الله تعالى يقول: {وَلِيَعْلَمَ اللَّهُ مَنْ يَنْصُرُهُ وَرُسُلَهُ بِالْغَيْبِ إِنَّ اللَّهَ قَوِيٌّ عَزِيزٌ} [سورة الحديد - 25] .

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه ، وتجويد الشيخ لإسناد أبي داود.

(2) لم أعثر على تخريجه بعد.

(3) هو الملك العادل سيف الدين أبو بكر بن أيوب أخو المجاهد صلاح الدين ، لكنه أصغر منه بسنتين ، ولد سنة 534 ، وحضر الفتوحات مع أخيه وكان عوناً له فيها وردءاً ، تولى ملك مصر تسع عشرة سنة ، وبها مات سنة 615 هـ ، وله صنف الفخر الرازي كتابه: (أساس التقديس) كما في مقدمته ، وهو الكتاب الذي رده شيخ الإسلام في كتابه الحافل (بيان تلبيس الجهمية في نقض بدعهم الكلامية) أسرع الله بنشره. رحم الله الجميع.

انظر السير 22/115 ، النجوم الزاهرة 6/144-199 ، شفاء القلوب 200 ، ذيل الروضتين ص 111.

(4) ومن ذلك اتخاذ اليهود والنصارى والمشركين والملاحدة بطانة وأعواناً ومستشارين وجعلهم على مصالح المسلمين متنفذين ، وتوليتهم خواص أمور الناس العسكرية والسياسية والاقتصادية والاجتماعية ، فعصوا الله ورسوله وحصل ما يشهده التاريخ والواقع ، وإلى الله المشتكى ، وعليه التكلان.
আর যখন সেখানে মুসলমানরা বসবাস শুরু করে এবং সেখানে তারা তাদের মসজিদসমূহ নির্মাণ করে, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এক জমিনে দুটি কিবলা সঠিক নয়" (১)। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "রহমতের ঘর এবং আযাবের ঘর একত্রে অবস্থান করতে পারে না" (২)। মিশরীয় ভূখণ্ডে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমান সময়ে তা আবাদ হয়েছে; এমনকি এর অধিবাসীদের সংখ্যা সালাহুদ্দীন আইয়ুবীর সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সালাহুদ্দীন এবং তাঁর পরিবার খ্রিস্টানদের বশীভূত করে রাখতেন এবং তারা মুসলমানদের কোনো বিষয়ে তাদের কাউকে আদৌ নিয়োগ করতেন না।

এই কারণেই তারা সম্পদ ও লোকবলের স্বল্পতা থাকা সত্ত্বেও শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী ছিলেন। সালাহুদ্দীনের ভাই আল-আদিল (৩)-এর মৃত্যুর পর খ্রিস্টান এবং তাতারদের শক্তি বৃদ্ধি পায়, এমনকি কোনো কোনো রাজা তাদের হাতে মুসলমানদের কিছু শহর হস্তান্তর করে দেন। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে শিথিলতা প্রদর্শনের কারণে নানাবিধ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, কেননা মহান আল্লাহ বলেন: "যাতে আল্লাহ জেনে নিতে পারেন কে অদৃশ্যে তাঁকে ও তাঁর রাসূলগণকে সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিমান, মহাপরাক্রমশালী।" [সূরা আল-হাদীদ - ২৫] ।

--------------------------------------------

(১) পূর্বে এর তাখরীজ করা হয়েছে এবং শায়খ আবু দাউদের সনদকে জায়্যিদ (উত্তম) বলেছেন।

(২) আমি এখনো এর তাখরীজ খুঁজে পাইনি।

(৩) তিনি হলেন আল-মালিকুল আদিল সাইফুদ্দীন আবু বকর বিন আইয়ুব, মুজাহিদ সালাহুদ্দীনের ভাই, তবে তিনি তাঁর চেয়ে দুই বছরের ছোট ছিলেন। তিনি ৫৩৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর ভাইয়ের সাথে বিভিন্ন বিজয়ে অংশ নেন এবং সেখানে তাঁর জন্য সহায়ক ও রক্ষক ছিলেন। তিনি উনিশ বছর মিশরের রাজত্ব করেন এবং সেখানেই ৬১৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ফখরুদ্দীন রাযী তাঁর 'আসাসুত তাকদীস' গ্রন্থটি তাঁর জন্যই রচনা করেছিলেন যেমনটি এর ভূমিকায় রয়েছে, আর এটি সেই কিতাব যা শায়খুল ইসলাম তাঁর বিশাল গ্রন্থ 'বায়ানু তালবিসিল জাহমিয়্যাহ ফী নাকদি বিদা'য়িহিমুল কালামিয়্যাহ'-তে খণ্ডন করেছেন; আল্লাহ এর প্রকাশনা দ্রুততর করুন। আল্লাহ সকলের ওপর রহম করুন।

দেখুন: আস-সিয়ার ২২/১১৫, আন-নুজুমুয যাহেরা ৬/১৪৪-১৯৯, শিফাউল কুলুব ২০০, যাইলুর রওজাতাইন পৃষ্ঠা ১১১।

(৪) আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো ইহুদি, খ্রিস্টান, মুশরিক এবং নাস্তিকদের অন্তরঙ্গ বন্ধু, সাহায্যকারী ও উপদেষ্টা হিসেবে গ্রহণ করা এবং মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের প্রভাবশালী করা এবং মানুষের সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীতে তাদের নিয়োগ করা। ফলে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়েছে এবং এমন সব ঘটনা ঘটেছে যার সাক্ষী ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা। আল্লাহর নিকটই অভিযোগ এবং তাঁর ওপরই ভরসা।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১২১)
وقال الله تعالى: {الَّذِينَ إِنْ مَكَّنَّاهُمْ فِي الأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوْا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنْ الْمُنْكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الأُمُورِ} [سورة الحج - 41] .

فكان ولاة الأمور الذين يهدمون كنائسهم ويقيمون أمر الله فيهم كعمر بن عبد العزيز (1) وهارون الرشيد (2) ونحوهما مؤيدين منصورين، وكان الذين هم بخلاف ذلك مغلوبين مقهورين.

وإنما كثرت الفتن بين المسلمين، وتفرقوا على ملوكهم من حين دخل النصارى مع ولاة الأمر بالديار المصرية، في دولة المعز (3) ، ووزارة الفائز، وتفرق البحرية، وغير ذلك. والله يقول في كتابه: {وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا الْمُرْسَلِينَ * إِنَّهُمْ لَهُمُ الْمَنصُورُونَ * وَإِنَّ جُندَنَا لَهُم الْغَالِبُونَ} [الصافات

--------------------------------------------

(1) ممن لا يعرف بهم لشهرتهم ، لكنه عمر بن عبد العزيز بن مروان بن الحكم الأموي القرشي، اعتبر خامس الخلفاء الراشدين ، ولد سنة 563 هـ وهو من أزهد الخلفاء وأدينهم في وقت ترف فيه الملوك ، أخرج له الجماعة مات رضي الله عنه سنة 101 وعمره تسع وثلاثون سنة.

أكثر الناس من التأليف في فضله ومناقبه ، ومن ذلك سيرة عبد الملك بن عمر وأبيه لابن رجب وسيرة عمر بن عبد العزيز لابن عبد الحكم (ت214) ، وتهذيب الكمال ص 1017 ، طبقات ابن سعد 5/330 وسيأتي بيان شيء من فعله رضي الله عنه بهدم كنائس النصارى.

(2) هو أبو جعفر هارون بن المهدي العباسي الهاشمي. ولد سنة 148 هـ ومات غازياً وعمره 45 سنة أثنى عليه الشيخ ابن تيمية في المنهاج 8/240 ، وكذلك الرشيد كان فيه من تعظيم العلم والجهاد والدين ما كانت به دولته من خيار دول بني العباس ، وكأنها كانت تمام سعادتهم ، فلم ينتظم بعدها الأمر لهم.

وقال في موضع آخر في الفتاوى 4/20 مثل دولة المهدي والرشيد ونحوهما ممن كان يعظم الإسلام والإيمان ، ويغزو أعداءه من الكفار والمنافقين ، كان أهل السنة في تلك الأيام أقوى وأكثر ، وأهل البدع أذل وأقل. رحمه الله ورفع درجته.

إذا علم هذا فلا يلتفت إلى ما أقذاه به بعضهم من أنه صاحب سكر ولهو. . .

انظر تاريخ بغداد 14/5 ، النبلاء 9/286 ، ومما ذكره عنه أنه يحج عام ويغزو عام ، والمعارف لابن قتيبة 381 وما بعدها ، تاريخ خليفة 447 وما بعدها، المعرفة والتاريخ 1/161.

(3) هو معد بن المنصور إسماعيل ويلقب بالمعز لدين الله منذ ولاة العبيدين وأئمتهم. ولد سنة 310 هـ وهلك سنة 365 هـ. وفي عهده توسعت الدولة وأخافوا الناس في شمال أفريقية ، وأذلوهم ، أذلهم الله ، وكانت مدة ولايته ثلاث سنين.
মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা এমন লোক যাদেরকে আমি যদি জমিনে ক্ষমতা দান করি, তবে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে। আর সকল বিষয়ের পরিণাম আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণাধীন।} [সূরা আল-হাজ্জ - ৪১]।

সুতরাং সেসব শাসক যারা তাদের গির্জাগুলো ধ্বংস করতেন এবং তাদের মধ্যে আল্লাহর বিধান কার্যকর করতেন, যেমন উমর বিন আব্দুল আজিজ (১) এবং হারুনুর রশিদ (২) ও তাদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গ, তারা ছিলেন সাহায্যপ্রাপ্ত ও বিজয়ী। পক্ষান্তরে যারা এর বিপরীতে ছিল তারা ছিল পরাজিত ও পরাভূত।

বস্তুত মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা তাদের শাসকদের বিরুদ্ধে বিভক্ত হয়ে পড়েছে সেই সময় থেকে, যখন থেকে মিশরের ভূখণ্ডে শাসকদের সাথে নাসারারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে— মুইয-এর (৩) শাসনকাল এবং ফায়েজ-এর উজিরগিরির সময়ে, এবং বাহরিয়াদের বিভক্তি ও অন্যান্য কারণে। আর আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেন: {আর অবশ্যই আমার রাসূল বান্দাদের পক্ষে আমার বাণী পূর্বেই নির্ধারিত হয়েছে যে, নিশ্চয়ই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে। আর আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী।} [আস-সাফফাত

--------------------------------------------

(১) তাদের প্রসিদ্ধির কারণে তারা কারো অজানা নন, তবে তিনি হলেন উমর বিন আব্দুল আজিজ বিন মারওয়ান বিন হাকাম আল-উমাবী আল-কুরাশী। তাকে পঞ্চম খুলাফায়ে রাশিদিন হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি ৫৬৩ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন (মূল পাঠ অনুযায়ী), এবং তিনি ছিলেন শাসকদের বিলাসিতার যুগে সর্বাধিক দুনিয়াবিমুখ ও ধর্মপ্রাণ খলিফাদের অন্যতম। ইমামগণের জামাত তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি (রা.) ১০১ হিজরীতে ৩৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

অধিকাংশ মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি সম্পর্কে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে ইবনে রাজাব রচিত 'সিরাত আব্দুল মালিক বিন উমর ও তার পিতা' এবং ইবনে আব্দুল হাকাম (মৃত্যু ২১৪) রচিত 'সিরাত উমর বিন আব্দুল আজিজ', এবং তাহযিবুল কামাল ১০১৭ পৃষ্ঠা, তাবাকাতে ইবনে সাদ ৫/৩৩০ উল্লেখযোগ্য। নাসারাদের গির্জা ধ্বংস করার বিষয়ে তার (রা.) কার্যাবলি সামনে বিস্তারিত আসবে।

(২) তিনি হলেন আবু জাফর হারুন বিন মাহদী আল-আব্বাসী আল-হাশিমী। তিনি ১৪৮ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৫ বছর বয়সে গাযী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। শাইখ ইবনে তাইমিয়া 'মিনহাজুস সুন্নাহ'র ৮/২৪০ পৃষ্ঠায় তার প্রশংসা করেছেন। অনুরূপভাবে হারুনুর রশিদের মধ্যে ইলম, জিহাদ ও দ্বীনের প্রতি এমন সম্মানবোধ ছিল যার কারণে তার রাষ্ট্র বনু আব্বাসের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। মনে হয় যেন সেটিই ছিল তাদের সৌভাগ্যের পূর্ণতা, কারণ এরপর তাদের শাসনব্যবস্থা আর সুসংহত হয়নি।

তিনি ফাতাওয়ার অন্য স্থানে (৪/২০) বলেছেন: মাহদী এবং রশিদ ও তাদের ন্যায় ব্যক্তিবর্গের শাসনকাল, যারা ইসলাম ও ঈমানকে সম্মান করত এবং কাফের ও মুনাফেক শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত; সে সময়ে আহলুস সুন্নাহ শক্তিশালী ও সংখ্যায় বেশি ছিল এবং বিদআতিরা ছিল লাঞ্ছিত ও সংখ্যায় নগণ্য। আল্লাহ তাকে রহম করুন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।

যখন এটি জানা গেল, তখন কেউ কেউ তার প্রতি যে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছে যে তিনি মদ্যপান ও আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত থাকতেন, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না।

দেখুন: তারিখে বাগদাদ ১৪/৫, আলামুন নুবালা ৯/২৮৬। তার সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি এক বছর হজ করতেন এবং এক বছর জিহাদ করতেন। আরও দেখুন: ইবনে কুতাইবার আল-মাআরিফ ৩৮১ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা, তারিখে খলিফা ৪৪৭ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠা, আল-মাআরিফাতু ওয়াত তারিখ ১/১৬১।

(৩) তিনি হলেন মাআদ বিন আল-মানসুর ইসমাঈল, উবাইদী শাসক ও ইমামদের সময় থেকে তাকে 'আল-মুইয লি-দিনিল্লাহ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তিনি ৩১০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৬৫ হিজরীতে ধ্বংস হন। তার আমলে সাম্রাজ্য প্রসারিত হয় এবং তারা উত্তর আফ্রিকার লোকদের আতঙ্কিত ও লাঞ্ছিত করেছিল—আল্লাহ তাদের লাঞ্ছিত করুন। তার শাসনের মেয়াদ ছিল তিন বছর।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১২২)
171 - 173] وقال تعالى في كتابه: {إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الأَشْهَادُ} [غافر - 51] . وقال تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنصُرُوا اللَّهَ يَنصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَكُمْ} [سورة محمد - 7] .

وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق، لا يضرهم من خالفهم، ولا من خذلهم حتى تقوم الساعة" (1) . وكل من عرف سير الناس وملوكهم رأى كل من كان أنصر لدين الإسلام، وأعظم جهاداً لأعدائه، وأقوم بطاعة الله ورسوله، أعظم نصرة وطاعة وحرمة، من عهد أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه وإلى هذا الزمان.

‌‌حكم هدم كنائس النصارى في أرض العنوة:

وقد أخذ المسلمون منهم كنائس كثيرةً من أرض العنوة، بعد أن أُقروا عليها في خلافة عمر بن عبد العزيز، وغيره من الخلفاء (2) ، وليس في المسلمين من

--------------------------------------------

= كثيراً ما يذكره شيخ الإسلام مع الحاكم بأمر نفسه في عداد أئمة الإسماعيليين كما في المنهاج 4/519 و3/495.

وانظر النبلاء 15/159 ، النجوم الزاهرة 4/74-115 ، البيان المغرب 1/221 وحسن المحاظر 2/15.

(2) حديث متفق عليه ، وقد نص شيخ الإسلام في الاقتضاء 1/96 على أنه متواتر عنه صلى الله عليه وسلم ، وكذا السيوطي في قطف الأزهار رقم 81 والكتاني في نظم المتناثر. وهو عندهما بألفاظ مقاربه للفظ الشيخ.

فأخرجه البخاري عن جماعة من الصحابة منهم المغيرة ومعاوية بن أبي سفيان رضي الله عنهما في كتاب المناقب - باب سؤال المشركين أن يريهم النبي آية 3/1331.

فأخرجه مسلم عن ثوبان والمغيرة وجابر ومعاوية وعبد الله بن عمرو رضي الله عنهم في كتاب الإمارة - باب قوله عليه السلام (لا تزال طائفة) - من الأرقام 1920 - 1924. ولألفاظ الحديث ورواياته والعزو إليها انظر صفة الغرباء للعودة 138-165.

(1) كما ذكر طرفاً من ذلك ابن القيم في كتابه النفيس أحكام أهل الذمة 1/212-222 وعده بعد عمر =
১৭১ - ১৭৩] এবং মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদের এবং মুমিনদেরকে দুনিয়ার জীবনে এবং সেদিন সাহায্য করব যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে} [গাফির - ৫১]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করবেন} [সূরা মুহাম্মদ - ৭]।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের বিরোধিতা করবে কিংবা যারা তাদের পরিত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়" (১)। আর যারা মানুষের জীবনচরিত ও রাজন্যবর্গের ইতিহাস সম্পর্কে অবগত, তারা দেখতে পায় যে, যারা ইসলামের দ্বীনের অধিক সাহায্যকারী ছিল, এর শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে যারা অধিক মহান ছিল এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যে যারা অধিক অটল ছিল—আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তারাই অধিক সাহায্য, আনুগত্য ও মর্যাদা লাভ করেছে।

‌‌যুদ্ধবিজিত (আনওয়াহ) ভূমিতে খ্রিস্টানদের গির্জা ভেঙে ফেলার বিধান:

উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এবং অন্যান্য খলিফাদের খিলাফতকালে তাদেরকে গির্জাগুলোতে অবস্থানের অনুমতি দেওয়ার পর মুসলিমরা তাদের থেকে যুদ্ধবিজিত ভূমির অনেক গির্জা গ্রহণ করেছিলেন (২), আর মুসলিমদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে

--------------------------------------------

= অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শায়খুল ইসলাম তাকে ‘আল-হাকিম বি-আমরি নাফসিহি’-এর সাথে ইসমাইলি ইমামদের তালিকায় উল্লেখ করেন, যেমনটি আল-মিনহাজ ৪/৫১৯ এবং ৩/৪৯৫-এ রয়েছে।

এবং দেখুন: আন-নুবালা ১৫/১৫৯, আন-নুজুম আয-যাহিরা ৪/৭৪-১১৫, আল-বায়ান আল-মাগরিব ১/২২১ এবং হুসনুল মুহাযারা ২/১৫।

(২) এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীস। শায়খুল ইসলাম আল-ইকতিদা ১/৯৬-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত মুতাওয়াতির হাদীস। তেমনিভাবে সুয়ূতী ক্বাতফুল আযহার (নং ৮১) এবং আল-কাত্তানী নাযমুল মুতানাছির গ্রন্থেও এটি উল্লেখ করেছেন। তাঁদের নিকট হাদীসটি শায়খের শব্দের কাছাকাছি শব্দে বর্ণিত।

ইমাম বুখারী এটি একদল সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে মুগীরা এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা রয়েছেন। কিতাবুল মানাকিবে - মুশরিকদের নবীকে মুজিযা দেখানোর আবেদন অধ্যায় ৩/১৩৩১।

ইমাম মুসলিম এটি সাওবান, মুগীরা, জাবির, মুয়াবিয়া এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেছেন। কিতাবুল ইমারা - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী (একটি দল সর্বদা থাকবে) অধ্যায় - ১৯২০ থেকে ১৯২৪ নং পর্যন্ত। হাদীসের শব্দাবলী, বর্ণনা এবং উৎসসমূহের জন্য আল-আওদাহ রচিত সিফাতুল গুরবা ১৩৮-১৬৫ দেখুন।

(১) ইবনুল কাইয়িম তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ আহকামু আহলিয যিম্মাহ ১/২১২-২২২-এ এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন এবং একে উমরের পরে গণ্য করেছেন =
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১২৩)
أنكر ذلك، فعُلم أن هدم كنائس العنوة جائزٌ، إذا لم يكن فيه ضرر على المسلمين (1) . فإعراض من أعرض عنهم كان لقلة المسلمين، ونحو ذلك من الأسباب، كما أعرض النبي صلى الله عليه وسلم عن إجلاء اليهود، حتى أجلاهم عمر بن الخطاب رضي الله عنه.

--------------------------------------------

= ابن الخطاب عمر بن عبد العزيز والمنصور والمهدي والرشيد والمأمون والمتوكل وأنهم هدموا الكنائس فذكر أن عمر بن عبد العزيز أمر أن تهدم الكنائس المستخدمة، فيقال إنهم توصلوا إلى بعض ملوك الروم، وسألوه في مكاتبة عمر بن عبد العزيز، فكتب إليه: أما بعد يا عمر فإن هؤلاء الشعب سألوا في مكاتبك لتجري أمورهم على ما وجدناها عليه، فتبقى كنائسهم، ونمكنهم من عمارة ما خرب منها، فإنهم زعموا أن من تقدمك فعل في أمر كنائسهم ما منعتهم منه، فإن كانوا مصيبين في اجتهادهم فاسلك سننهم، وإن يكونوا مخالفين لها فافعل ما أردت. فكتب إليه عمر: أما بعد، فإن مثلي ومثل من تقدمني كما قال الله تعالى في قصة داود وسليمان: {إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ * فَفَهَّمْنَاهَا سُلَيْمَانَ وَكُلاًّ آتَيْنَا حُكْماً وَعِلْماً} [الأنبياء - 78 - 79] .

وكذا فعل هارون الرشيد فقد ميز النصارى في زيهم وصرفهم عن أعمالهم وخرب كنائسهم بفتوى العلماء. انظر البداية والنهاية 10/ 214.

(1) لشيخ الإسلام رحمه الله فتوى في هذه المسألة بالخصوص ذكرها ابن القيم في أحكام أهل الذمة وستأتي في الملحق بتمامها. وخلاصة الجواب ما أردفه ابن القيم بعد ذكره الفتوى. وخلاصة الخلاصة، أن الكنائس على ثلاثة أقسام.

1- ما لا يجوز أخذه ولا هدمه -وهي الكنائس التي أقروا عليها عند فتح بلادهم ما داموا موفين بالعهد والشروط ككنيسة دمشق عند فتح المسلمين لها.

2- ما يجب أخذه وهدمه، وهي الكنائس المحدثة في بلاد المسلمين، وأحدثها النصارى بعد.

3- ما يفعل فيها الأصلح للمسلمين بنظر إمام المسلمين لتحقيق إعزاز الدين وقمع أعدائه، وهي مثل الكنائس من أرض العنوة، إذا فتحها المسلمون، فإن القديمة من هذه الكنائس يجوز هدمها ويجوز إقرارهم عليها بالشروط بحسب المصلحة.

وهذه مثل الكنائس القديمة في الصعيد بمصر، وفي بر مصر والشام مما دخله المسلمون وهي موجودة. وقال شيخ الإسلام في فتوى النصراني يشتري أرضاً فيها آثار كنيسة وهي خراب، ثم يعمرها. . من الفتاوى 28 / 6 4 6 فأجاب:

ليس له أن يحدث ما ذكره من الكنيسة. وإن كان هناك آثار كنيسة قديمة ببر الشام، فإن بر الشام فتحه المسلمون عنوة، وملكوا تلك الكنائس ، وجاز لهم تخريبها باتفاق العلماء. =
তিনি তা অস্বীকার করেছেন, এর মাধ্যমে জানা গেল যে, যুদ্ধলব্ধ (আনোয়া) অঞ্চলের গির্জাগুলো ধ্বংস করা জায়েজ, যদি তাতে মুসলিমদের কোনো ক্ষতি না হয় (১)। যারা এগুলো থেকে বিরত থেকেছেন, তা ছিল মুসলিমদের সংখ্যাস্বল্পতা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কারণে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের বহিষ্কার করা থেকে বিরত ছিলেন, যতক্ষণ না ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের বহিষ্কার করেন।

--------------------------------------------

= ইবনুল খাত্তাব, ওমর বিন আব্দুল আজিজ, আল-মনসুর, আল-মাহদী, আল-রশিদ, আল-মামুন এবং আল-মুতাওয়াক্কিল এবং তাঁরা গির্জা ধ্বংস করেছেন। উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওমর বিন আব্দুল আজিজ ব্যবহৃত গির্জাগুলো ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বলা হয় যে, তারা রোমান সম্রাটদের একজনের সাথে যোগাযোগ করে তাকে ওমর বিন আব্দুল আজিজকে পত্র লিখতে অনুরোধ করেছিল। তিনি তাকে লিখেছিলেন: আম্মা বাদ, হে ওমর! এই লোকেরা আপনার নিকট পত্র মারফত আবেদন করেছে যাতে তাদের বিষয়গুলো আমরা যেভাবে পেয়েছিলাম সেভাবেই পরিচালিত হয়, অর্থাৎ তাদের গির্জাগুলো অক্ষুণ্ণ রাখা হয় এবং ধ্বংসপ্রাপ্তগুলো সংস্কার করার সুযোগ দেয়া হয়। তারা দাবি করেছে যে, আপনার পূর্বসূরিরা তাদের গির্জার ব্যাপারে এমন আচরণ করেছিলেন যা আপনি তাদের করতে বাধা দিচ্ছেন। যদি তারা তাদের ইজতিহাদে সঠিক হয়ে থাকেন তবে আপনি তাদের নীতি অনুসরণ করুন, আর যদি তারা তা লঙ্ঘন করে থাকেন তবে আপনি যা চান তাই করুন। তখন ওমর তাকে লিখেছিলেন: আম্মা বাদ, আমার এবং আমার পূর্বসূরিদের উদাহরণ আল্লাহ তাআলা দাউদ ও সুলায়মানের ঘটনায় যা বলেছেন সেরূপ: {যখন তারা শস্যক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিল, যাতে রাতের বেলা কতিপয় লোকের মেষপাল ঢুকে পড়েছিল; এবং আমি তাদের বিচার প্রত্যক্ষ করছিলাম। আমি সুলায়মানকে এর বিচার বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং আমি তাদের উভয়কেই প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করেছিলাম।} [আল-আম্বিয়া: ৭৮-৭৯]।

হারুনুর রশিদও একই কাজ করেছিলেন; তিনি খ্রিস্টানদের তাদের পোশাকে স্বতন্ত্র করেছিলেন, তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন এবং উলামায়ে কেরামের ফতোয়া অনুযায়ী তাদের গির্জাগুলো ধ্বংস করেছিলেন। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১০/২১৪ দেখুন।

(১) শায়খুল ইসলাম রহমাতুল্লাহি আলাইহির এই বিষয়ে একটি বিশেষ ফতোয়া রয়েছে যা ইবনুল কাইয়্যিম 'আহকামু আহলিয যিম্মাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এটি পরিশিষ্টে পূর্ণাঙ্গভাবে আসবে। জওয়াবের সারসংক্ষেপ হলো যা ইবনুল কাইয়্যিম ফতোয়াটি উল্লেখ করার পর যুক্ত করেছেন। আর সারসংক্ষেপের সারকথা হলো, গির্জা তিন প্রকার।

১- যা দখল করা বা ধ্বংস করা জায়েজ নেই—সেগুলো হলো ঐসব গির্জা যেগুলোর ওপর তাদের বহাল রাখা হয়েছিল তাদের দেশ বিজয়ের সময়, যতক্ষণ তারা সন্ধি ও শর্তাবলী মেনে চলে, যেমন মুসলিমদের বিজয়ের সময় দামেস্কের গির্জা।

২- যা দখল করা ও ধ্বংস করা ওয়াজিব—সেগুলো হলো মুসলিম ভূখণ্ডে নবনির্মিত গির্জা, যা খ্রিস্টানরা পরবর্তীতে নির্মাণ করেছে।

৩- যেগুলোর ব্যাপারে মুসলিমদের ইমামের নিকট যা কল্যাণকর বলে বিবেচিত হবে তাই করা হবে দ্বীনের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং এর শত্রুদের দমনের উদ্দেশ্যে। এগুলো হলো যুদ্ধলব্ধ (আনোয়া) ভূমির গির্জাসমূহ; যখন মুসলিমরা তা জয় করে, তখন এই প্রাচীন গির্জাগুলো ধ্বংস করা জায়েজ এবং মাসলাহাত অনুযায়ী তাদের সেগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেয়াও জায়েজ।

এগুলো মিশরের সাঈদ (উচ্চ মিশর) অঞ্চল এবং মিশরের সমতল ও সিরিয়ার প্রাচীন গির্জাগুলোর মতো যেগুলোতে মুসলিমরা প্রবেশ করেছিলেন এবং সেগুলো বিদ্যমান রয়েছে। শায়খুল ইসলাম জনৈক খ্রিস্টান সম্পর্কে এক ফতোয়ায় বলেন, যে এমন একটি জমি ক্রয় করে যাতে একটি গির্জার ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এবং সে তা পুনর্নির্মাণ করতে চায়। (মাজমুউল ফাতাওয়া ২৮/৬৪৬)। তিনি উত্তর দেন:

তার জন্য উল্লিখিত গির্জাটি পুনরায় নির্মাণ করা বৈধ নয়। সিরিয়ার ভূখণ্ডে যদি প্রাচীন গির্জার ধ্বংসাবশেষ থেকেও থাকে, তবে সিরিয়া মুসলিমরা যুদ্ধের মাধ্যমে (আনোয়া) জয় করেছেন এবং তাঁরা সেই গির্জাগুলোর মালিক হয়েছেন, ফলে উলামায়ে কেরামের ঐকমত্যে সেগুলো ধ্বংস করা তাদের জন্য জায়েজ ছিল। =
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১২৪)
‌‌حكم مظاهرة الذميّين لأهل دينهم على المسلمين:

وليس لأحد من أهل الذمة أن يكاتبوا أهل دينهم من أهل الحرب، ولا يخبرونهم بشيء من أخبار المسلمين، ولا يطلبوا من رسولهم أن يكلف ولي المسلمين ما فيه ضررٌ على المسلمين، ومن فعل ذلك منهم وجبت عقوبته باتفاق المسلمين، وفي أحد القولين يكون قد نُقض عهده، وحل دمه، وماله (1) .

ومن قال إن المسلمين يحصل لهم ضررٌ، وإن* لم يجابوا إلى ذلك؛ لم يكن عارفاً بحقيقة الحال، فإن المسلمين قد فتحوا ساحل الشام، وكان أعظم المصائب عليهم؛ أخذُ أموالهم، وهدم كنائسهم (2) .

--------------------------------------------

= وإنما تنازعوا في وجوب تخريبها ، وليس لأحد أن يعاونه على إحداث ذلك - أي عمارة هذه الخراب - ويجب عقوبة من أعانه على ذلك.

وأما المحدث لذلك من أهل الذمة ، فإنه في أحد قولي العلماء ينتقض عهده ، يباح دمه وماله ، لأنه خالف الشروط التي شرطها عليهم المسلمون ، وشرطوا عليهم أن من نقضها ، فقد حل لهم منها ما يباح من أهل الحرب، والله أعلم. اهـ.

(1) وهذه المسألة كمسألة الجاسوس ، وفيها أنه يقتل ولو كان مسلماً. قال في الاختيارات ص 320.

[من قطع الطريق على المسلمين أو تجسس عليهم ، أو أعان أهل الحرب على سلب المسلمين أو أسرهم وذهب بهم إلى دار الحرب ونحو ذلك مما فيه مضرة على المسلمين ، فهذا يقتل ولو أسلم.

وهذا النصراني أو اليهودي وغيرهما ينتقض عهده بأقل من هذا وأضعف ضرراً منه كأن يعلو على المسلم أو يعلم أولاده القرآن ، فإنه إذا أصر عليه انتفض عهده ، فكيف بمن خابر على المسلمين وتجسس عليهم؟!] اهـ.

وفي الشروط العمرية: ولا يظهرون شركاً ولا ريبة لأهل الإسلام.

وبحث المسألة طويل ، في هذه الإشارة كفاية والحمد لله.

(2) في المطبوعة ، وقد ألزموهم بلبس الغيار. وكان ذلك أعظم المصائب ، بل التتار في بلادهم خربوا جميع الكنائس.

‌‌[التعليق]

* (وإن) هكذا في المطبوعة، والصواب حذف الواو ليستقيم المعنى، وراجع نص المسألة. (المنصور)
মুসলিমদের বিরুদ্ধে জিম্মিদের নিজ ধর্মের অনুসারীদের পক্ষাবলম্বন বা সহযোগিতা করার বিধান:

জিম্মিদের কারও জন্য এটি বৈধ নয় যে, তারা যুদ্ধরত কাফিরদের মধ্যে থাকা তাদের স্বজাতীয়দের কাছে পত্রালাপ করবে, না তারা তাদেরকে মুসলিমদের সংবাদের কোনো কিছু জানাবে, আর না তারা তাদের দূতের মাধ্যমে মুসলিমদের অভিভাবককে এমন কোনো বিষয় চাপিয়ে দিতে বলবে যাতে মুসলিমদের ক্ষতি হয়। আর তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এমনটি করবে, মুসলিমদের ঐকমত্যে তাকে শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব। আর দুই অভিমতের একটি অনুযায়ী, এতে তার চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং তার রক্ত ও সম্পদ বৈধ হয়ে যাবে (১)।

আর যে ব্যক্তি বলে যে, যদি তাদের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়া হয় তবে মুসলিমদের ক্ষতি হবে, সে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়। কারণ, মুসলিমরা যখন শামের উপকূলীয় অঞ্চল জয় করেছিলেন, তখন তাদের ওপর আপতিত সর্ববৃহৎ বিপদ ছিল তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা এবং তাদের গির্জাগুলো ধ্বংস করা (২)।

--------------------------------------------

= তবে তারা সেগুলো ধ্বংস করার আবশ্যকতা নিয়ে মতভেদ করেছেন। আর এটি—অর্থাৎ এই ধ্বংসপ্রাপ্ত গির্জাগুলো—পুনর্নির্মাণে সাহায্য করার অধিকার কারও নেই এবং যে ব্যক্তি এই কাজে তাদের সাহায্য করবে তাকে শাস্তি প্রদান করা ওয়াজিব।

আর জিম্মিদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি এটি নতুন করে তৈরি করবে, ওলামায়ে কিরামের দুই অভিমতের একটি অনুযায়ী তার চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং তার রক্ত ও সম্পদ বৈধ হয়ে যাবে; কারণ সে মুসলিমদের আরোপিত শর্তসমূহ লঙ্ঘন করেছে। তারা তাদের ওপর শর্ত দিয়েছিল যে, যে ব্যক্তি এগুলো লঙ্ঘন করবে, যুদ্ধরত কাফিরদের ক্ষেত্রে যা বৈধ, তার ক্ষেত্রেও তা বৈধ হয়ে যাবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। সমাপ্ত।

(১) আর এই বিষয়টি গোয়েন্দার মাসআলার মতো। এতে বলা হয়েছে যে, তাকে হত্যা করা হবে—যদিও সে মুসলিম হয়। 'আল-ইখতিয়ারাত' (পৃ. ৩২০)-এ বলা হয়েছে:

[যে ব্যক্তি মুসলিমদের রাস্তা বন্ধ করে (ডাকাতি করে), বা তাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করে, অথবা মুসলিমদের সম্পদ লুণ্ঠনে বা তাদের বন্দি করার ক্ষেত্রে যুদ্ধরত কাফিরদের সাহায্য করে এবং তাদের দারুল হারবে (শত্রু ভূখণ্ডে) নিয়ে যায় এবং এ জাতীয় যা কিছু মুসলিমদের ক্ষতির কারণ হয়, তাকে হত্যা করা হবে—যদিও সে ইসলাম গ্রহণ করে।

আর এই খ্রিস্টান, ইহুদি বা অন্যরা এর চেয়েও তুচ্ছ বা কম ক্ষতির কাজের মাধ্যমে চুক্তি ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হয়। যেমন: মুসলিমের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা অথবা নিজ সন্তানদের কুরআন শেখানো; যদি সে এর ওপর অটল থাকে, তবে তার চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যায়। তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কেমন হবে যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সংবাদ আদান-প্রদান করে এবং তাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করে?!] সমাপ্ত।

উমরীয় শর্তাবলীতে রয়েছে: তারা ইসলাম অনুসারীদের সামনে কোনো শিরক বা সন্দেহজনক বিষয় প্রকাশ করবে না।

এই বিষয়ের আলোচনা দীর্ঘ। এই সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিতই যথেষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।

(২) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে: এবং তিনি তাদের ওপর 'গিয়ার' (ভিন্ন পোশাক) পরিধান করা বাধ্যতামূলক করেছিলেন। আর এটি ছিল সবচেয়ে বড় বিপদ। বরং তাতারীরা তাদের দেশসমূহের সমস্ত গির্জা ধ্বংস করে দিয়েছিল।

‌‌[মন্তব্য]

* (যদি/ইন) - মুদ্রিত কপিতে এভাবেই রয়েছে। তবে সঠিক হলো 'ওয়াও' বর্ণটি বিলুপ্ত করা, যাতে অর্থ সুসংগত হয়। মাসআলার মূল পাঠটি দেখে নিন। (আল-মানসুর)
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১২৫)
وكان نوروز (1) رحمه الله قد شرط عليهم الشروط، ووضع الجزية، وكان ذلك أعظم المصائب عليهم، ومع هذا لم يدخل على المسلمين بذلك إلا كل خير، فإن المسلمين مستغنون عنهم، وهم إلى ما في بلاد المسلمين أحوج من المسلمين إلى ما في بلادهم، بل مصلحة دينهم ودنياهم لا تقوم إلا بما في بلاد المسلمين، والمسلمون -ولله الحمد والمنة- أغنياء عنهم في دينهم ودنياهم. فأما نصارى الأندلس فهم لا يتركون المسلمين في بلادهم إلا لحاجتهم إليهم، وخوفهم من التتار، فإن المسلمين عند التتار أعز من النصارى وأكرم، ولو قدروا، وإنهم قادرون على من عندهم من النصارى (2) .

والنصارى الذين في ذمة المسلمين فيهم من البتاركة (3) ، وغيرهم من علماء النصارى ورهبانهم، وليس عند النصارى مسلمٌ يحتاج إليه المسلمون ولله

--------------------------------------------

(1) في الظاهرية: نور الدين وهو خطأ ، وقد تكرر اسمه عند شيخ الإسلام في مواضع ومنها في المنهاج 3/477. [ولهذا كانوا - أي الرافضة - من أنقص الناس منزلة عند الأمير نوروز المجاهد في سبيل الله ، الشهيد الذي دعا ملك المغول غازان إلى الإسلام ، والتزم له أن ينصره. إذا أسلم ، وقتل المشركين الذين لم يسلموا من النجشية السحرة وغيرهم ، وهدم الباذخات وكسر الأصنام، ومزق سدنتها كل ممزق وألزم اليهود والنصارى بالجزية والصغار وبسببه ظهر الإسلام في المغول وأتباعهم] .

وهو نوروز نائب غازان ، كان مسلماً عالي الهمة ، ودعاه إلى الإسلام فأسلم قازان وأسلم معه عامة التتار ، وكان من خيار أمرائه ذا عبادة وتطوع وصدق في إسلامه شوش التتار خاطر قازان عليه ، فما زال به حتى قتله= =سنة 696 هـ. شهيداً إن شاء الله. انظر الدليل الشامي رقم 2596 ، والبداية والنهاية 13/372 ، والسلوك 1/3: 837، 874.

(2) في المطبوعة خلاف النسخ الثلاثة ، ولو قدر أنهم قادرون على من عندهم من المسلمين ، فالمسلمون أقدر على من عندهم من النصارى.

(3) لعل المقصود بها البطارقة وهي جمع بطريق وهو في معاجم اللغة القائد العظيم عند النصارى يسمى كذلك بطريرك كما كان يسمى به كبيرهم بالإسكندرية. وانظر الجواب الصحيح 3/11.

ومعنى هذا أن علماء النصارى من البطارقة والقسس والرهبان أكثرهم عند المسلمين ، وليس يوجد عند النصارى مسلم يحتاج إليه في علمه أو دنياه. نحمد الله ونشكره.
এবং নওরোজ (১) -আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- তাদের ওপর কিছু শর্ত আরোপ করেছিলেন এবং জিজিয়া নির্ধারণ করেছিলেন। আর এটি ছিল তাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ বিপদ। তা সত্ত্বেও এর মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য কেবল কল্যাণই বয়ে এসেছে। কেননা মুসলমানরা তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী, আর তারা মুসলমানদের ভূখণ্ডে যা রয়েছে তার প্রতি তার চেয়েও অধিক মুখাপেক্ষী যা মুসলমানদের জন্য তাদের ভূখণ্ডে রয়েছে। বরং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার স্বার্থ কেবল মুসলমানদের ভূখণ্ডের মাধ্যমেই সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। আর মুসলমানরা -সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহর জন্য- তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়ে তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী। আর আন্দালুসের খ্রিষ্টানদের কথা হলো, তারা মুসলমানদের তাদের ভূখণ্ডে কেবল নিজেদের প্রয়োজনে এবং তাতারদের ভয়ের কারণে থাকতে দেয়। কেননা তাতারদের নিকট খ্রিষ্টানদের তুলনায় মুসলমানরা অধিকতর সম্মানিত ও মর্যাদাবান। আর তারা যদি সক্ষম হয়, তবে তারা তাদের নিকট থাকা খ্রিষ্টানদের ওপর কর্তৃত্ব করতে সক্ষম (২)।

আর মুসলমানদের আশ্রয়ে থাকা খ্রিষ্টানদের মধ্যে উচ্চপদস্থ ধর্মযাজকগণ (৩) এবং খ্রিষ্টানদের অন্যান্য আলেম ও দরবেশগণ রয়েছেন। আর খ্রিষ্টানদের কাছে এমন কোনো মুসলমান নেই যার প্রতি মুসলমানরা মুখাপেক্ষী হতে পারে এবং আল্লাহর জন্যই...

--------------------------------------------

(১) জাহিরিয়া পাণ্ডুলিপিতে 'নূরুদ্দীন' এসেছে যা ভুল। শাইখুল ইসলামের বিভিন্ন রচনায় তাঁর নাম বারবার এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে 'আল-মিনহাজ' ৩/৪৭৭। [একারণে তারা -অর্থাৎ রাফেজিরা- আল্লাহর পথে জিহাদকারী আমির নওরোজের নিকট সবচেয়ে নিম্ন মর্যাদার মানুষ ছিল। তিনি সেই শহীদ যিনি মঙ্গোল সম্রাট গাজানকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং তাঁর নিকট এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সে যদি ইসলাম গ্রহণ করে তবে তিনি তাকে সাহায্য করবেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তিনি সেইসব মুশরিকদের হত্যা করেছিলেন যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি, যেমন জাদুকর ও অন্যান্যরা। তিনি সুউচ্চ মন্দিরগুলো ধ্বংস করেছিলেন, প্রতিমাগুলো ভেঙেছিলেন এবং তাদের সেবকদের ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিলেন। তিনি ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের জিজিয়া ও লাঞ্ছনার শর্ত মানতে বাধ্য করেছিলেন এবং তাঁর মাধ্যমেই মঙ্গোল ও তাদের অনুসারীদের মাঝে ইসলামের প্রকাশ ঘটেছিল]।

তিনি হলেন গাজানের প্রতিনিধি নওরোজ, তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী মুসলমান। তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলে গাজান ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁর সাথে সাধারণ তাতাররাও ইসলাম গ্রহণ করে। তিনি তাঁর সর্বোত্তম আমিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, ইবাদতকারী, নফল ইবাদতে মগ্ন এবং নিজের ইসলামে একনিষ্ঠ। তাতাররা গাজানের মন তাঁর বিরুদ্ধে বিষিয়ে তোলে এবং তারা ক্রমাগত প্ররোচনা দিতে থাকে যতক্ষণ না ৬৯৬ হিজরিতে তাঁকে হত্যা করা হয়। ইনশাআল্লাহ তিনি একজন শহীদ। দেখুন: আদ-দালিলুশ শামি নং ২৫৯৬, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ১৩/৩৭২, আস-সুলুক ১/৩: ৮৩৭, ৮৭৪।

(২) মুদ্রিত কপিতে তিনটি পাণ্ডুলিপির বিপরীত পাঠ রয়েছে: "যদি ধরে নেওয়া হয় যে, তারা তাদের নিকট থাকা মুসলমানদের ওপর সক্ষম, তবে মুসলমানরা তাদের নিকট থাকা খ্রিষ্টানদের ওপর অধিকতর সক্ষম।"

(৩) সম্ভবত এর দ্বারা 'বাতারি কাহ' বোঝানো হয়েছে যা 'বিতরিক' শব্দের বহুবচন। আভিধানিক গ্রন্থসমূহে এটি খ্রিষ্টানদের মহান সেনাপতিকে বোঝায়, একে 'প্যাট্রিয়ার্ক'ও বলা হয়, যেমনটি আলেকজান্দ্রিয়ার প্রধান যাজককে বলা হতো। দেখুন: আল-জওয়াবুস সহিহ ৩/১১।

এর অর্থ হলো, খ্রিষ্টানদের আলেমদের মধ্যে যারা প্যাট্রিয়ার্ক, পাদ্রি ও দরবেশ, তাদের অধিকাংশই মুসলমানদের কাছে বসবাস করেন। আর খ্রিষ্টানদের কাছে এমন কোনো মুসলমান নেই যার জ্ঞান বা দুনিয়াবি বিষয়ের প্রতি মুসলমানদের কোনো প্রয়োজন রয়েছে। আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি ও তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১২৬)
الحمد، مع أن إفكاك الأسارى من أعظم الواجبات، وبذل ذلك (1) الموقوف وغيره في ذلك من أعظم القربات.

وكل مسلمٍ يعلم أنهم لا يتجرون إلى بلاد المسلمين، إلا لأغراضهم، لا لنفع المسلمين؛ ولو منعهم ملوكهم من ذلك لكان حرصهم على المال يمنعهم من الطاعة. فإنهم أرغب الناس في المال (2) ، ولهذا يتقامرون في الكنائس (3) . وهم طوائف مختلفون، وكل طائفة تضاد الأخرى (4) .

--------------------------------------------

(1) في المطبوعة ، بذل المال الموقوف وغيره.

(2) هذا دأبهم في كل زمان هم واليهود عليهم لعائن الله المتتابعة كما ذكر الله سبحانه في آل عمران. {. . . . . . وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِقِنطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ إِنْ تَأْمَنْهُ بِدِينَارٍ لا يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ إِلَاّ مَا دُمْتَ عَلَيْهِ قَائِماً ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا لَيْسَ عَلَيْنَا فِي الأُمِّيِّينَ سَبِيلٌ} كما قال في سورة البقرة: {وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنْ الَّذِينَ أَشْرَكُوا} الآية. وقوله في سورة النساء: {وَأَخْذِهِمْ الرِّبَا وَقَدْ نُهُوا عَنْهُ وَأَكْلِهِمْ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ مِنْهُمْ عَذَاباً أَلِيماً} رقم 161، وكما قال في سورة براءة: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيراً مِنْ الأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ} آية 34. وغيرها من الآيات وهي بمجموعها دالة على حال أهل الكتاب واليهود والنصارى، وما هذا إلا من استحكام الشيطان على قلوبهم بالكفر وحب الدنيا وتسلطه عليهم كما قال تعالى في سورة الإسراء: {وَاسْتَفْزِزْ مَنْ اسْتَطَعْتَ مِنْهُمْ بِصَوْتِكَ وَأَجْلِبْ عَلَيْهِمْ بِخَيْلِكَ وَرَجِلِكَ وَشَارِكْهُمْ فِي الأَمْوَالِ وَالأَولادِ وَعِدْهُمْ وَمَا يَعِدُهُمْ الشَّيْطَانُ إِلَاّ غُرُوراً} .

(3) بل وفي غيرها، فلهم الآن أماكن خاصة بالمقامرة في فنادق كبرى وصالات ونواد، حتى تابعهم بعض ضعاف الإيمان أو عديميه من المسلمين متابعتهم لهم بما يفعلون حذو القذة بالقذة كما أخبر به الرسول صلى الله عليه وسلم في حديث أبي سعيد الخدري مرفوعاً (لتتبعن سنن من كان قبلكم حذو القذة بالقذة حتى لو دخلوا جحر ضب لدخلتموه. قالوا اليهود والنصارى؟ قال فمن؟ !) متفق عليه.

(4) وأشهر فرقهم القديمة: اليعقوبية والنسطورية والموحدون.

وهم الآن ثلاث فرق كبار: الأرثوذكس وهي الكنائس الشرقية في اليونان وروسيا والصرب والأقباط، والكاثوليك وهي كنيسة روما وعامة بلاد أوروبا ، والبروتستانت هي أحدثها وتمثلها أمريكا وتسمى كنائسها بالإنجيلية. ولكنهم متفقون على عقائد التثليث والصلب والفداء ، والخلاف بينهم في صوره وتفاصيله - كفى الله الناس شرهم.
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যদিও বন্দিদের মুক্ত করা মহান ওয়াজিবসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং সে কাজে ওয়াকফকৃত সম্পদ বা অন্যান্য সম্পদ ব্যয় করা শ্রেষ্ঠ নেক আমলগুলোর অন্যতম।

প্রত্যেক মুসলিম জানেন যে, তারা মুসলিম দেশগুলোতে ব্যবসা করতে আসে কেবল তাদের নিজেদের স্বার্থে, মুসলিমদের উপকারের জন্য নয়। এমনকি তাদের রাজারা যদি তাদের এটি করতে নিষেধ করতেন, তবুও সম্পদের প্রতি তাদের লোভ তাদের অবাধ্য হতে বাধ্য করত। কারণ তারা মানুষের মধ্যে সম্পদের প্রতি সবচেয়ে বেশি লালায়িত, এই কারণেই তারা গির্জাগুলোতে জুয়া খেলে। আর তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত এবং প্রত্যেক দল অপরটির বিরোধী।

--------------------------------------------

(১) মুদ্রিত কপিতে রয়েছে, ওয়াকফকৃত অর্থ এবং অন্যান্য সম্পদ ব্যয় করা।

(২) এটিই যুগে যুগে তাদের এবং ইহুদিদের স্বভাব, তাদের ওপর আল্লাহর ক্রমাগত লানত বর্ষিত হোক, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আল-ইমরানে উল্লেখ করেছেন: {এবং আহলে কিতাবদের মধ্যে কেউ এমন আছে যে, যদি তুমি তার কাছে বিপুল সম্পদ আমানত রাখো, তবে সে তা তোমাকে ফেরত দেবে। আবার তাদের মধ্যে কেউ এমন আছে যে, যদি তুমি তার কাছে একটি দিনারও আমানত রাখো, তবে তুমি তার মাথার ওপর দাঁড়িয়ে না থাকা পর্যন্ত সে তা তোমাকে ফেরত দেবে না। এটি এ জন্য যে, তারা বলে: উম্মীদের (অজ্ঞ আরবদের) প্রতি আমাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।} যেমনটি তিনি সূরা আল-বাকারায় বলেছেন: {এবং আপনি অবশ্যই তাদেরকে জীবনের প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোভী হিসেবে পাবেন, এমনকি মুশরিকদের চেয়েও বেশি}—আয়াত। এবং সূরা আন-নিসায় তাঁর বাণী: {এবং তাদের সুদ গ্রহণের কারণে, অথচ তাদের তা থেকে নিষেধ করা হয়েছিল এবং মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করার কারণে। আমি তাদের মধ্যে কাফিরদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রস্তুত করে রেখেছি} (আয়াত ১৬১)। যেমনটি তিনি সূরা বারাআতে বলেছেন: {হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই আহবার (ইহুদি পণ্ডিত) ও রুহবানদের (খ্রিস্টান সন্ন্যাসী) অনেকেই মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে বাধা প্রদান করে} (আয়াত ৩৪)। এ ছাড়াও অন্যান্য আয়াত রয়েছে যা সব মিলিয়ে আহলে কিতাব, ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অবস্থার প্রমাণ বহন করে। এটি মূলত কুফরি ও দুনিয়ার ভালোবাসার মাধ্যমে তাদের হৃদয়ের ওপর শয়তানের আধিপত্য ও কর্তৃত্বের ফল, যেমনটি মহান আল্লাহ সূরা আল-ইসরায় বলেছেন: {তাদের মধ্যে যাকে পারো তোমার কণ্ঠস্বর দিয়ে প্রলুব্ধ করো, তোমার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালাও, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে অংশীদার হও এবং তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দাও। আর শয়তান তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়}।

(৩) বরং গির্জা ছাড়াও অন্যান্য জায়গায়, বর্তমানে বড় বড় হোটেল, হল ও ক্লাবগুলোতে তাদের জুয়ার জন্য বিশেষ স্থান রয়েছে। এমনকি কিছু দুর্বল ঈমানের অধিকারী বা ঈমানহীন মুসলিমও প্রতিটি কাজে তাদের এমনভাবে অনুসরণ করেছে যেমন একটি তীরের পালক অপর তীরের পালকের সমান হয়, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু সাঈদ আল-খুদরি বর্ণিত মারফু হাদিসে সংবাদ দিয়েছেন: (তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বিঘত বিঘত ও হাত হাত ধরে হুবহু অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি সাপের গর্তে প্রবেশ করে তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। সাহাবীগণ বললেন: ইহুদি ও খ্রিস্টানদের? তিনি বললেন: তবে আর কাদের?!) — বুখারি ও মুসলিম।

(৪) তাদের প্রাচীন দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: ইয়াকুবিয়া, নেস্টোরীয় এবং একেশ্বরবাদী।

বর্তমানে তারা তিনটি বড় দলে বিভক্ত: অর্থোডক্স, যা গ্রিস, রাশিয়া, সার্বিয়া এবং কিবতিদের প্রাচ্যীয় গির্জা; ক্যাথলিক, যা রোমের গির্জা এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশ; এবং প্রোটেস্ট্যান্ট, যা তাদের মধ্যে সবচেয়ে আধুনিক এবং আমেরিকা এর প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের গির্জাগুলোকে ইভানজেলিকাল বলা হয়। তবে তারা ত্রিত্ববাদ, ক্রুশবিদ্ধকরণ এবং প্রাশ্চিত্তের আকিদায় একমত, তাদের মধ্যকার বিরোধ কেবল এর ধরণ ও বিস্তারিত বিষয়ে—আল্লাহ মানুষকে তাদের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।
(খণ্ড: ১) মাসআলাতুন ফিল কানায়িস (পৃষ্ঠা: ১২৭)
‌‌المشورة على ولي الأمر في إعزازهم:

ولا يشير على ولي المسلمين بما فيه إظهار شعائرهم في بلاد الإسلام، أو تقوية أمرهم بوجه من الوجوه، إلا رجل منافقٌ، يظهر الإسلام (1) ، وهو منهم في الباطن، أو رجلٌ له غرضٌ فاسدٌ، مثل أن يكونوا برطلوه (2) ، ودخلوا عليه برغبةٍ، أو رهبةٍ، أو رجلٌ جاهلٌ في غاية الجهل، لا يعرف السياسة الشرعية الإلهية التي تنصر سلطان المسلمين على أعدائه، وأعداء الدين. وإلا فمن كان عارفاً ناصحاً له أشار عليه بما يوجب نصره، وثباته، وتأييده، واجتماع قلوب المسلمين عليه، وفتحهم له، ودعاء الناس له في مشارق الأرض ومغاربها. وهذا كله إنما يكون بإعزاز دين الله، وإظهار كلمة الله، وإذلال أعداء الله تعالى.

وليعتبر المعتبر بسيرة نور الدين، وصلاح الدين، ثم العادل، كيف مكنهم الله، وأيدهم، وفتح لهم البلاد، وأذل لهم الأعداء، لما قاموا من ذلك بما قاموا به؟!

وليعتبر بسيرة من والى النصارى؛ كيف أذله الله، وكبته؟! (3) .

--------------------------------------------

(1) زاد الأصل على ما في النسخ بهذه العبارة: يظهر الإسلام أو تقوية أمرهم وهو منهم. ويظهر أنها مكررة لما قبلها.

(2) أي رشوه ، وانظر مادة برطل من القاموس وشرحه ، وهذه الكلمة لا تزال تستعمل في بعض الجهات على هذا المعنى ونحوه.

(3) إي والله ، وأنتم يا ولاة المسلمين أولى من يعتبر بهذا ، فإن من اتقى الله كفاه ، ومن اتقى الله بسخط الناس رضي الله عنه ، وأرضى عنه الناس. ومن اتقى الناس بسخط الله أسخط الله وأسخط عليه الناس!

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى أَوْلِيَاء بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاء بَعْضٍ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ إِنَّ اللهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ} من المائدة. وقال فيها: {لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ * كَانُوا لا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ * تَرَى كَثِيراً مِنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنفُسُهُمْ أَنْ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ * وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيراً مِنْهُمْ فَاسِقُونَ} .
শাসককে তাদের সম্মানিত করার বিষয়ে পরামর্শ প্রদান:

মুসলিমদের শাসককে এমন কোনো বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা—যার মধ্যে ইসলামের ভূখণ্ডে তাদের ধর্মীয় নিশানাসমূহ প্রকাশ পায় অথবা কোনোভাবে তাদের বিষয়সমূহ শক্তিশালী হয়—তা কেবল একজন মুনাফিকই করতে পারে, যে প্রকাশ্যে ইসলাম প্রকাশ করে, অথচ অন্তরে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। অথবা এমন ব্যক্তি যার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে, যেমন তারা হয়তো তাকে ঘুষ দিয়েছে এবং তারা তার কাছে কোনো লোভ অথবা ভীতি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। অথবা এমন ব্যক্তি যে চূড়ান্ত পর্যায়ের মূর্খ, যে ঐ সকল ঐশ্বরিক শারঈ রাজনীতি সম্পর্কে অবগত নয় যা মুসলিম সুলতানকে তার শত্রু এবং দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করে। অন্যথায়, যে ব্যক্তি জ্ঞানী এবং শাসকের হিতাকাঙ্ক্ষী, সে তাকে এমন পরামর্শই দেবে যা তার বিজয়, স্থায়িত্ব, সমর্থন এবং তার অনুকূলে মুসলিমদের অন্তরসমূহকে একত্রিত করা ও তাদের পক্ষ থেকে দেশ বিজয়ের কারণ হয়, আর যার ফলে পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিমে মানুষ তার জন্য দুআ করে। আর এই সবকিছু কেবল আল্লাহর দ্বীনকে সম্মানিত করার, আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার এবং মহান আল্লাহর শত্রুদের লাঞ্ছিত করার মাধ্যমেই সম্ভব হয়।

উপদেশ গ্রহণকারীর উচিত নূরুদ্দীন, সালাহুদ্দীন এবং অতঃপর আদিল-এর জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা; আল্লাহ কীভাবে তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, সাহায্য করেছিলেন, তাদের জন্য দেশসমূহ বিজয় করে দিয়েছিলেন এবং শত্রুদের লাঞ্ছিত করেছিলেন যখন তারা এই কাজগুলো যথাযথভাবে আঞ্জাম দিয়েছিলেন?!

আর যে ব্যক্তি নাসারাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছিল তার জীবনী থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত; আল্লাহ কীভাবে তাকে লাঞ্ছিত এবং পর্যুদস্ত করেছিলেন?!

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে বিভিন্ন কপির তুলনায় এই শব্দগুলো অতিরিক্ত রয়েছে: "সে ইসলাম প্রকাশ করে অথবা তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত"। প্রতীয়মান হয় যে, এটি পূর্ববর্তী কথারই পুনরাবৃত্তি।

(২) অর্থাৎ তারা তাকে ঘুষ দিয়েছে। 'কামুস' এবং তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে 'বারতালা' ধাতু দেখুন। এই শব্দটি এখনও কিছু কিছু অঞ্চলে এই বা এর কাছাকাছি অর্থে ব্যবহৃত হয়।

(৩) হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! হে মুসলিম শাসকগণ, আপনাদেরই এটি থেকে শিক্ষা নেওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হন। আর যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টির বিনিময়ে আল্লাহকে ভয় করে চলে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির বিনিময়ে মানুষকে ভয় করে চলে, আল্লাহ তার ওপর রাগান্বিত হন এবং মানুষকেও তার ওপর রাগান্বিত করে দেন!

{হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও নাসারাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেন না।} সূরা মায়িদা থেকে। সেখানে আরও বলা হয়েছে: {বনী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কুফরি করেছিল তারা দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখে অভিশপ্ত হয়েছে। এটি এ কারণে যে, তারা নাফরমানি করেছিল এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত। তারা পরস্পরকে এমন মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করত না যা তারা করত। তারা যা করত তা কতই না নিকৃষ্ট! তাদের অনেককে আপনি দেখবেন যারা কাফিরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। তারা নিজেদের জন্য যা অগ্রিম পাঠিয়েছে তা কতই না মন্দ যে, আল্লাহ তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন এবং তারা আজাবের মধ্যে চিরকাল থাকবে। তারা যদি আল্লাহ, নবী এবং তাঁর প্রতি যা নাজিল হয়েছে তাতে ঈমান রাখত, তবে তাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের অনেকেই ফাসিক।}।