(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: -)
قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728 هـ)

المحقق: ربيع بن هادي عمير المدخلي [ت 1447 هـ]

الناشر: مكتبة الفرقان - عجمان

الطبعة: الأولى (لمكتبة الفرقان) 1422 هـ - 2001 هـ

عدد الصفحات: 418

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

* أعده للمكتبة الشاملة: محمد المنصور

m_almansour@yahoo.com

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাওয়াসসুল ও ওয়াসিলা সম্পর্কিত একটি মহান মূলনীতি   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: তাওয়াসসুল ও ওয়াসিলা সম্পর্কিত একটি মহান মূলনীতি

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হানবালি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৭২৮ হিজরি)

মুহাক্কিক (সম্পাদক): রাবি বিন হাদি উমাইর আল-মাদখালি [মৃত্যু ১৪৪৭ হিজরি]

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ফুরকান - আজমান

সংস্করণ: প্রথম (মাকতাবাতুল ফুরকানের জন্য) ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১৮

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

* মাকতাবাতু শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মদ আল-মানসুর

m_almansour@yahoo.com

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: -)
قاعدة جليلة

في

التوسل والوسيلة

 

تأليف

شيخ الإسلام ابن تيمية

"661 - 728"

 

دراسة وتحقيق

ربيع بن هادي عمير المدخلي

أستاذ في السنة وعلومها

بالجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية سابقاً
একটি মহান মূলনীতি

প্রসঙ্গে

তাওয়াসসুল এবং ওয়াসিলা

 

রচনায়

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ

"৬৬১ - ৭২৮"

 

গবেষণা ও সম্পাদনা

রাবী বিন হাদী উমায়ের আল-মাদখালী

সুন্নাহ ও এর শাস্ত্রসমূহের অধ্যাপক

মদিনা নববীস্থ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সাবেক)
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم.

أَمَّا بعد: فإن التوحيد سر القرآن ولب الإيمان - كما يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله وهو دعوة جميع الرسل ومحور جميع الكتب السماوية، وهو صراط الله المستقيم، ولا سبيل إلى الجنة والنجاة من النار إلا به. ومن أجله شرع الجهاد وعلى أساسه ربى الأنبياء أتباعهم، أدرك ذلك سلفنا الصالح اهتداء بالقرآن والسنة، وجهله كثير من الناس وعلى رأسهم كثير من أدعياء العلم، بعد ذهاب العلماء حقًّا وبعد القرون المفضلة.

ألهاهم عن التوحيد علوم اليونان؛ الفلسفة والمنطق والكلام وألهاهم التصوف وما امتزج به من حلول واتحاد وخرافات وأساطير وتعلق بالقبور وغلو في الأموات من الصالحين وغير الصالحين، ومع كل هذا لا يزال في الأمة من هو قائم بالحق وثابت عليه، يقيم حجة الله على عباده كما أشار إلى ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: "لا تزال طائفة من أمتي على الحق ظاهرين لا يضرهم من خذلهم ولا من خالفهم حتى يأتي أمر الله" (1) . إلى أن أتى الله بشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله الذي

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في المناقب حديث (3641) ومسلم في الإمارة حديث (1920) .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথ প্রদর্শনকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর: নিশ্চয়ই তাওহীদ হলো কুরআনের রহস্য এবং ঈমানের নির্যাস—যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন। এটি সকল রাসূলের দাওয়াত এবং সমস্ত আসমানী কিতাবের মূল কেন্দ্র। এটিই আল্লাহর সরল পথ, আর এটি ছাড়া জান্নাতে যাওয়ার এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ নেই। এ কারণেই জিহাদ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এর ভিত্তিতেই নবীগণ তাঁদের অনুসারীদের লালন-পালন করেছেন। আমাদের সালাফে সালেহীন কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনায় এটি উপলব্ধি করেছিলেন। কিন্তু অনেক মানুষ এটি সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে গেছে, বিশেষ করে প্রকৃত আলেমদের বিদায় নেওয়ার পর এবং সর্বোত্তম যুগসমূহের সমাপ্তির পর অনেক তথাকথিত আলেম নামধারীরাও এর গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

গ্রীক বিজ্ঞানসমূহ; দর্শন, যুক্তিবিদ্যা ও ইলমুল কালাম তাদেরকে তাওহীদ থেকে বিমুখ করে রেখেছে। এছাড়া তাসাউফ এবং এর সাথে মিশে থাকা হুলুল (সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার অনুপ্রবেশ), ইত্তিহাদ (স্রষ্টা ও সৃষ্টি এক হয়ে যাওয়া), কুসংস্কার, উপকথা, কবরের সাথে সংশ্লিষ্টতা এবং নেককার ও বদকার মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে বাড়াবাড়ি তাদেরকে তাওহীদ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এতদসত্ত্বেও, এই উম্মতের মধ্যে এমন একটি দল সর্বদা হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ও অবিচল থাকবে, যারা আল্লাহর বান্দাদের ওপর তাঁর প্রমাণাদি তুলে ধরবে। যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় বা যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে।" (১)। পরিশেষে আল্লাহ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-কে নিয়ে আসলেন, যিনি

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন মানাকিব অধ্যায়ে, হাদিস (৩৬৪১) এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন ইমারাহ অধ্যায়ে, হাদিস (১৯২০)।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٦)
أمده الله بمواهب وطاقات أهلته لحمل لواء السنة وراية التوحيد وشجعته أن يتصدى للباطل وأهله في كل مجال بقوة وشجاعة وعلم واسع قل أن تتوافر في غيره بعد القرون المفضلة؛ فكان من ثمار ذلك الجهاد والعلم مؤلفاته الكثيرة النافعة التي لا يوجد لها نظير في شمولها وقوتها وعمقها وذيادها عن الحق ودك صروح الباطل في شتى ألوانه وصوره والتي هي المنار المضيء بعد كتاب الله وسنة رسول الله لكل مصلح ناصح يريد للأمة الإسلامية السعادة والفلاح والنجاح في الدنيا والآخرة.

ومن بين مؤلفاته النافعة الجليلة "قاعدة جليلة في التوسل والوسيلة" أحببت أن أقدمها للقرّاء الكرام في أحسن ثوب وأجمل صورة ولقد بذلت أقصى ما عندي من جهد في خدمتها من ضبط نصوصها وتخريج أحاديثها والحكم عليها وتخريج الآثار وعزو الأقوال إلى مصادرها وعمل الفهارس النافعة لها، ولا أدعي الكمال فالنقص والتقصير لازمة من لوازم البشر.

أسأل الله أن ينفعني والقراء الكرام بما حوته من عقيدة وقواعد ومقاصد ونصوص ضمنها المؤلف العظيم هذا الكتاب المبارك.

‌‌الأسباب الدافعة إلى العمل في هذا الكتاب

أول الأسباب وأهمها هو أني في إحدى مطالعاتي في هذا الكتاب استوقفتني كلمة استبعدت أن تكون ممن هو دون شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله فضلاً عن أن تكون منه والكلمة هي: "والرغبة إلى الله ورسوله" في ص 44 س 12 كما في نسخة محب الدين الخطيب رحمه الله نشر المكتبة العلمية. بيروت وص 44 س 4 من طبعة زهير الشاويش سنة 1390هـ 1970م والتي راجعها - بطلب من الشيخ زهير -
আল্লাহ তাকে এমন প্রতিভা ও সামর্থ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তাকে সুন্নাহর ঝাণ্ডা এবং তাওহীদের পতাকা বহনের যোগ্য করে তুলেছে, আর তাকে উৎসাহিত করেছে যেন তিনি বাতিলের বিরুদ্ধে এবং সর্বক্ষেত্রে বাতিলের অনুসারীদের বিরুদ্ধে এমন শক্তি, সাহস এবং বিশাল জ্ঞান নিয়ে রুখে দাঁড়ান যা সর্বোত্তম যুগসমূহের পর অন্যদের মধ্যে খুব কমই দেখা যায়; সেই জিহাদ ও ইলমের অন্যতম ফসল হলো তাঁর অসংখ্য উপকারী রচনাবলি, যার ব্যাপকতা, শক্তি, গভীরতা, হকের প্রতিরক্ষা এবং বাতিলের নানা রূপ ও প্রতিকৃতির প্রাসাদসমূহ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নজির নেই। এই গ্রন্থসমূহ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর পরে এমন প্রত্যেক হিতাকাঙ্ক্ষী সংস্কারকের জন্য এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা, যারা মুসলিম উম্মাহর জন্য ইহকাল ও পরকালে সুখ, সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করেন।

তাঁর উপকারী ও মহান রচনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো "কায়েদাহ জালিল্লাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ", যা আমি সম্মানিত পাঠকদের নিকট সর্বোত্তম পোশাকে ও সুন্দর অবয়বে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। আমি এর খেদমতে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি—এর পাঠ্য বিন্যাস, হাদিসসমূহের তাখরীজ ও সেগুলোর ওপর হুকুম প্রদান, আছারসমূহের তাখরীজ, উক্তিগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় নির্ঘণ্ট তৈরির মাধ্যমে। আমি পূর্ণতার দাবি করি না, কেননা অপূর্ণতা ও ত্রুটি মানুষের মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এবং সম্মানিত পাঠকদের এই বরকতময় কিতাবে মহান লেখকের অন্তর্ভুক্ত আকিদা, মূলনীতি, উদ্দেশ্য ও উদ্ধৃতিগুলোর মাধ্যমে উপকৃত করেন।

‌‌এই কিতাবটি নিয়ে কাজ করার নেপথ্যের কারণসমূহ

প্রথম এবং প্রধান কারণটি হলো, এই কিতাবটি অধ্যয়নের এক পর্যায়ে আমি এমন একটি শব্দ দেখে থমকে দাঁড়াই যা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর স্তরের নিচের কারও পক্ষ থেকেও হওয়া সুদূরপরাহত বলে আমি মনে করেছি, তাঁর পক্ষ থেকে হওয়া তো দূরের কথা। সেই শব্দটি হলো: "এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আকাঙ্ক্ষা করা", যা বৈরুতের আল-মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ কর্তৃক প্রকাশিত মুহিব্বুদ্দিন আল-খতিব (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংস্করণের ৪৪ পৃষ্ঠার ১২ নম্বর লাইনে এবং ১৩৯০ হিজরি/১৯৭০ সালে যুহাইর আল-শাভিশের সংস্করণের ৪৪ পৃষ্ঠার ৪ নম্বর লাইনে রয়েছে, যা শাইখ যুহাইরের অনুরোধে পর্যালোচনা করা হয়েছিল—
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٧)
كل من الشيخ شعيب أرناؤوط والشيخ أحمد القطيفاني على المخطوطة المحفوظة في الظاهرية.

وتكرر الخطأ نفسه في الطبعة الثانية لزهير سنة 1398هـ - 1978م ولم ينج من هذا الخطأ الشيخ عبد القادر أرناؤوط حيث خدم هذا الكتاب مشكورًا ونشره له مكتبة دار البيان في دمشق سنة 1405هـ- 1985م وجاء الخطأ نفسه في نسخته ص 49 س 18 وكذلك جاء الخطأ نفسه في الطبعة التي راجعها الشيخ عطية محمد سالم، والخطأ جسيم جداً ولا أدري كيف خفي على هؤلاء الأفاضل وواضح جداً من كتاب الله ومن سنة رسوله أن الرغبة كسائر قضايا التوحيد من العبادات التي لا يجوز أن يتوجه بها العبد إلا إلى الله وحده جل جلاله، كما قال تعالى (94: 7، 8) : {فإذا فرغت فانصب وإلى ربك فارغب} . وكما قال تعالى (9: 59) : {وقالوا حسبنا الله سيؤتينا الله من فضله ورسوله إنا إلى الله راغبون} .

وكم رأينا شيخ الإسلام ابن تيمية يقرر في كتبه أن الرغبة من العبادات الخاصة بالله حتى في هذا الكتاب "التوسل والوسيلة" قرر فيه عدة مرات قبل هذا الموضع وبعده أن الرغبة من العبادات التي لا يجوز صرفها إلى غير الله، انظر إليه وهو يقرر أن الرغبة والحسب من خصائص الله لا يشركه فيها غيره.

قال رحمه الله: "وسؤال الخلق في الأصل محرم، لكنه أبيح للضرورة وتركه توكلاً على الله أفضل، قال تعالى (94: 7، 8) : {فإذا فرغت فانصب وإلى ربك فارغب} أي ارغب إلى الله لا إلى غيره.
শায়খ শুআইব আরনাউত এবং শায়খ আহমদ আল-কাতিফানি উভয়েই জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিটি ব্যবহার করেছেন।

আর একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হয়েছে ১৩৯৮ হিজরি - ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে জুহাইরের দ্বিতীয় সংস্করণে। শায়খ আব্দুল কাদির আরনাউতও এই ভুল থেকে রক্ষা পাননি, যদিও তিনি কৃতজ্ঞতাভাজন হওয়ার মতো এই কিতাবটির খিদমত করেছেন এবং ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্কের মাকতাবাতু দারিল বায়ান থেকে এটি প্রকাশ করেছেন। তার সংস্করণের ৪৯ পৃষ্ঠার ১৮ নম্বর লাইনেও এই একই ভুল এসেছে। একইভাবে শায়খ আতিয়াহ মুহাম্মাদ সালিম কর্তৃক পর্যালোচিত সংস্করণেও একই ভুল পরিলক্ষিত হয়। এই ভুলটি অত্যন্ত গুরুতর এবং আমি জানি না কীভাবে এই মহৎ ব্যক্তিদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেল। অথচ আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট যে, অনুরাগী হওয়া (রাগবাহ) তাওহিদের অন্যান্য বিষয়ের মতো এমন একটি ইবাদত যা কোনো বান্দার পক্ষে একমাত্র প্রতাপশালী আল্লাহ ছাড়া আর কারও প্রতি নিবেদন করা বৈধ নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন (৯৪: ৭, ৮): "সুতরাং আপনি যখনই অবসর পান তখনই কঠোর পরিশ্রমে আত্মনিয়োগ করুন, আর আপনার প্রতিপালকের প্রতিই অনুরাগী হোন।" আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন (৯: ৫৯): "আর তারা যদি বলত, আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে আমাদের দেবেন এবং তাঁর রাসূলও; আমরা আল্লাহর প্রতিই অনুরাগী।"

আমরা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহকে তাঁর বইগুলোতে বারবার সাব্যস্ত করতে দেখেছি যে, অনুরাগী হওয়া কেবল আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট একটি ইবাদত। এমনকি এই "আত-তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলা" বইটিতেও তিনি এই স্থানের আগে ও পরে কয়েকবার সাব্যস্ত করেছেন যে, অনুরাগী হওয়া এমন ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য নিবেদন করা জায়েজ নয়। লক্ষ্য করুন, তিনি কীভাবে সাব্যস্ত করছেন যে অনুরাগ এবং পর্যাপ্ততা (হাসব) আল্লাহর অনন্য বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত, যাতে অন্য কেউ তাঁর অংশীদার নয়।

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সৃষ্টির কাছে চাওয়া মূলত হারাম, তবে প্রয়োজনের খাতিরে তা বৈধ করা হয়েছে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে তা ত্যাগ করাই উত্তম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন (৯৪: ৭, ৮): 'সুতরাং যখনই অবসর পান তখনই কঠোর পরিশ্রমে আত্মনিয়োগ করুন, আর আপনার প্রতিপালকের প্রতিই অনুরাগী হোন।' অর্থাৎ আল্লাহর দিকেই অনুরাগী হোন, অন্য কারও দিকে নয়।"
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٨)
وأما الحسب فأمرهم أن يقولوا: {حسبنا الله} ، لا أن يقولوا حسبنا الله ورسوله، ويقولوا: (9: 59) {إنا إلى الله راغبون} ، لم يأمرهم أن يقولوا: إنا إلى الله ورسوله راغبون.

فالرغبة إلى الله وحده، كما قال تعالى في الآية الأخرى (24: 52) : {ومن يطع الله ورسوله ويخش الله ويتقْهِ فأولئك هم الفائزون} ، فجعل الطاعة لله والرسول، وجعل الخشية والتقوى لله وحده "التوسل والوسيلة" ص 56 الفقرتان (154، 155) وانظر ص 237 الفقرة 659 فإنه تكلم عن الرغبة وغيرها بمثل هذا الكلام الذي سقناه لك.

وقال رحمه الله في كتاب الرد على الأخنائي (ص 98) : "ويدخل في العبادة جميع خصائص الرب، فلا يتقى غيره، ولا يخاف غيره، ولا يتوكل على غيره، ولا يدعى غيره، ولا يصلى لغيره، ولا يصام لغيره، ولا يتصدق إلا له ولا يحج إلا إلى بيته، قال تعالى (النور: 52) : {ومن يطع الله ورسوله ويخش الله ويتقهِ فأولئك هم الفائزون} فجعل الطاعة لله والرسول، وجعل الخشية والتقوى لله وحده وقال تعالى (التوبة: 59) : {ولو أنهم رضوا ما آتاهم الله ورسوله وقالوا حسبنا الله سيؤتينا الله من فضله ورسوله إنا إلى الله راغبون} فجعل الإيتاء لله والرسول. كما قال تعالى (الحشر: 7) : {وما آتاكم الرسول فخذوه وما نهاكم عنه فانتهوا} وجعل التوكل والرغبة إلى الله وحده. وكثيراً ما يذكر هذا في كثير من مؤلفاته رحمه الله.

كان الخطأ السابق وما أعرفه في هذه القضية وما أعرفه من منهج شيخ الإسلام فيها وفي مثيلاتها من الجزم بأنها من العبادات الخاصة بالله، من أقوى الدوافع للقيام بخدمة هذا الكتاب فرأيت لزاما البحث أولاً عن
আর পর্যাপ্ততার (হাসব) বিষয়টি হলো, তিনি তাদেরকে বলতে নির্দেশ দিয়েছেন: "আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট", তারা যেন এ কথা না বলে যে "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের জন্য যথেষ্ট"। এবং তারা যেন বলে: (৯: ৫৯) "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর প্রতিই অনুরাগী।" তিনি তাদেরকে এ কথা বলার নির্দেশ দেননি যে: "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অনুরাগী।"

সুতরাং অনুরাগ বা আকাঙ্ক্ষা কেবল আল্লাহর নিকটেই, যেমনটি মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেছেন (২৪: ৫২): "যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকে, তারাই সফলকাম।" এখানে তিনি আনুগত্যকে আল্লাহ ও রাসূলের জন্য রেখেছেন, আর ভয় ও তাকওয়াকে নির্ধারণ করেছেন একমাত্র আল্লাহর জন্য। "আত-তাওয়াসসুল ওয়াল-ওয়াসিলাহ", পৃষ্ঠা ৫৬, অনুচ্ছেদ (১৫৪, ১৫৫); আরও দেখুন পৃষ্ঠা ২৩৭, অনুচ্ছেদ ৬৫৯, কেননা সেখানে তিনি অনুরাগ ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আমরা আপনার কাছে যা উপস্থাপন করেছি অনুরূপ আলোচনা করেছেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) "আর-রাদ্দু আলাল ইখনাই" কিতাবে (পৃষ্ঠা ৯৮) বলেছেন: "ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হলো রবের সকল বৈশিষ্ট্য। সুতরাং তিনি ব্যতীত আর কাউকে ভয় করা হবে না (তাকওয়া), তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করা হবে না (খাওফ), অন্য কারো ওপর ভরসা করা হবে না, অন্য কারো কাছে দুআ করা হবে না, অন্য কারো জন্য সালাত আদায় করা হবে না, অন্য কারো জন্য রোজা রাখা হবে না, একমাত্র তাঁর জন্যই সদকা করা হবে এবং কেবল তাঁর ঘরের দিকেই হজ করা হবে। মহান আল্লাহ বলেন (আন-নূর: ৫২): 'যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বেঁচে থাকে, তারাই সফলকাম।' এখানে তিনি আনুগত্যকে আল্লাহ ও রাসূলের জন্য রেখেছেন, আর ভয় ও তাকওয়াকে নির্ধারণ করেছেন একমাত্র আল্লাহর জন্য। মহান আল্লাহ আরও বলেন (আত-তাওবাহ: ৫৯): 'যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট হতো এবং বলত, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট; আল্লাহ অচিরেই তাঁর অনুগ্রহ থেকে আমাদের দান করবেন এবং তাঁর রাসূলও; আমরা আল্লাহর প্রতিই অনুরাগী।' এখানে তিনি দান করার বিষয়টি আল্লাহ ও রাসূলের জন্য রেখেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন (আল-হাশর: ৭): 'রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।' আর তিনি ভরসা ও অনুরাগকে কেবল আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।" তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর অনেক রচনায় প্রায়ই এটি উল্লেখ করেছেন।

পূর্ববর্তী ভুলটি এবং এই বিষয়ে আমি যা জানি, আর শাইখুল ইসলামের মানহাজ বা পদ্ধতি সম্পর্কে এই বিষয়ে ও এর সমজাতীয় বিষয়গুলোতে আমার যা জানা আছে—যে এগুলো আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত—তা এই কিতাবটি সম্পাদনার কাজে আত্মনিয়োগ করার অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তি ছিল। তাই আমি প্রথমে এটি অনুসন্ধান করা আবশ্যক মনে করলাম যে...
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٩)
أصوله الخطية في المكتبات الإسلامية ومظان وجودها؛ فشرعت في البحث والسؤال عنها، وكنت أعلم أن هذه الطبعات كلها ترجع إلى الأصل الذي ضمنه ابن عروة كتابه العظيم "الكواكب الدراري" لكني سمعت من بعض المعنيين بالمخطوطات أنه يوجد نسختان في الرياض، إحداهما في مكتبة عبد الرحمن بن قاسم، والثانية في المكتبة السعودية فطلبت من والدنا الكريم وشيخنا الكبير سماحة رئيس الإفتاء والدعوة والإرشاد الشيخ عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله أن يحاول الحصول على النسختين المذكورتين فبذل جهدًا مشكورًا للحصول عليهما ثم بعد البحث تبين له أنهما لا يوجدان في المكتبتين المذكورتين فأبلغني بذلك ثم لعله كلف الشيخ سعدًا الحصين بأن يصور لي صورة عن مخطوطة الكواكب بالظاهرية فتكرم مشكورًا بإرسال صورة منها فتناولتها مبتهجاً بها شاكراً ومقدرًا جهود شيخنا الكبير نفع الله به ثم تعاون أخينا سعد الحصين ومبادرته بإرسالها وأول شيء بدأت بقراءته من المصورة هوتلك الكلمة فوجدت ما حقق اعتقادي في شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله وهو أن الكلمة كما وضعها المؤلف "والرغبة إلى الله وسؤاله" فطرت بذلك فرحًا ثم شمرت عن ساعد الجد لخدمة هذا الكتاب العظيم خدمة تليق بمكانته العظيمة بين كتب شيخ الإسلام وكتب التوحيد وبعد إنجازه ظهرت للكتاب طبعة جديدة للشيخ عبد القادر أرناؤوط.

فأول شيء أحببت الاطلاع عليه هو تلك الكلمة الخاطئة راجياً أن يكون قد انتبه لها وقام بتصحيحها فصدمت بأنه قد اشترك مع سابقيه
ইসলামি লাইব্রেরিগুলোতে এর পাণ্ডুলিপিগত উৎস এবং তা পাওয়ার সম্ভাব্য স্থানসমূহ; ফলে আমি সেগুলোর খোঁজ ও অনুসন্ধান শুরু করলাম। আমি জানতাম যে, এই সকল মুদ্রণ সেই মূল কপির দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, যা ইবনে উরওয়া তাঁর মহান গ্রন্থ 'আল-কাওয়াকিব আদ-দুরারি'-তে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু পাণ্ডুলিপি বিশেষজ্ঞদের কারো কারো নিকট থেকে আমি শুনেছিলাম যে, রিয়াদে এর দুটি কপি রয়েছে; একটি আব্দুর রহমান বিন কাসিমের লাইব্রেরিতে এবং দ্বিতীয়টি আল-মাকতাবাতুস সাউদিইয়্যাহ (সৌদি লাইব্রেরি)-তে। তাই আমি আমাদের সম্মানিত পিতা ও মহান শাইখ, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিভাগের প্রধান মহামান্য শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট অনুরোধ করলাম যেন তিনি উল্লিখিত কপি দুটি সংগ্রহের চেষ্টা করেন। তিনি সেগুলো সংগ্রহের জন্য প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা চালালেন। অতঃপর অনুসন্ধানের পর তাঁর কাছে স্পষ্ট হলো যে, কপি দুটি ওই দুই লাইব্রেরিতে নেই। তিনি আমাকে সে বিষয়ে অবহিত করলেন। এরপর সম্ভবত তিনি শাইখ সা'দ আল-হুসাইনকে দায়িত্ব দিলেন যেন তিনি জাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে রক্ষিত 'আল-কাওয়াকিব'-এর পাণ্ডুলিপি থেকে আমার জন্য একটি ফটোকপি করে দেন। তিনি অনুগ্রহপূর্বক তার একটি কপি পাঠিয়ে কৃতজ্ঞতাভাজন হলেন। আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে সেটি গ্রহণ করলাম এবং আমাদের মহান শাইখ—আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে উপকৃত করুন—এর প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও মূল্যায়ন করলাম; আর সেই সাথে আমাদের ভাই সা'দ আল-হুসাইনের সহযোগিতা ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেটি প্রেরণের প্রচেষ্টাকেও। ফটোকপিটি পাওয়ার পর প্রথমেই আমি যা পড়তে শুরু করলাম তা হলো সেই নির্দিষ্ট শব্দটি। আমি যা পেলাম তা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি আমার বিশ্বাসকেই সুদৃঢ় করল; আর তা হলো শব্দটি লেখক যেভাবে লিখেছিলেন ঠিক তেমনই আছে: "আল্লাহর প্রতি অনুরাগী হওয়া এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করা।" এতে আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলাম। এরপর আমি এই মহান গ্রন্থের খেদমতে কোমর বেঁধে লেগে পড়লাম, যেন শাইখুল ইসলামের গ্রন্থাবলি ও তাওহীদের কিতাবসমূহের মাঝে এর যে সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে তার যথাযথ হক আদায় হয়। এটি সম্পন্ন করার পর শাইখ আব্দুল কাদির আরনাউতের সম্পাদনায় গ্রন্থটির একটি নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।

তখন আমি সর্বপ্রথম সেই ভুল শব্দটি দেখতে চাইলাম, এই আশায় যে—হয়তো তিনি বিষয়টি খেয়াল করেছেন এবং তা সংশোধন করেছেন। কিন্তু আমি ব্যথিত হলাম এই দেখে যে, তিনিও তাঁর পূর্ববর্তীদের মতোই ভুলটি করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١٠)
في هذا الخطأ وإني لأرجو الله أن يتجاوز عن تساهلهم وأن يكرمني بجزاء تصحيح هذا الخطأ الجسيم.

ومن الأسباب التي دفعتني لخدمة هذا الكتاب مكانته العظيمة ومكانة مؤلفه الكبير.

ومن الأسباب أيضاً حب عقيدة التوحيد والحرص علىتقديم جهد في ميادينها.

والسبب الرابع والأخير أن الكتاب لم يخدم الخدمة اللائقة بمكانته إلى حين شروعي في خدمته.

‌‌الكتب التي ألفت في التوسل:

منها: هذا الكتاب العظيم.

ومنها: كتاب آخر أقل حجماً منه لشيخ الإسلام نفسه وهو من مصورات مكتبة الجامعة الإسلامية.

ومنها: مؤلف للشوكاني وهو من مصورات الجامعة.

وقد تعرض للتوسل كثير من المخالفين لشيخ الإسلام ابن تيمية وكتاباتهم تدل على تعسف ومجازفات، وتدل على جهل يؤدي إلى الخلط الشنيع بين التوسل والاستغاثة ويؤدي ثانياً إلى هدم قواعد التوحيد وتحريف نصوص الكتاب والسنة، ويؤدي إلى تضليل الأمة الإسلامية وإيقاعهم في مهاوي الشرك بحجة أن الآيات التي تضلل وتكفر من يدعو غير الله إنما تعني كفار قريش والعرب خاصة، فإذا دعا القرشي أو غيره من العرب غير الله في وقت نزول القرآن وقبله فهو مشرك كافر، وإذا
এই ভুলের ব্যাপারে; আর আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি তাদের শিথিলতা ক্ষমা করবেন এবং এই গুরুতর ভুল সংশোধনের বিনিময়ে আমাকে পুরস্কৃত করবেন।

এই কিতাবটির খিদমতে আমাকে উদ্বুদ্ধ করার অন্যতম কারণ হলো এর সুমহান মর্যাদা এবং এর মহান লেখকের উচ্চ মকাম।

অন্যতম একটি কারণ হলো তাওহীদের আকিদার প্রতি ভালোবাসা এবং এর ময়দানগুলোতে শ্রম প্রদানের গভীর আগ্রহ।

চতুর্থ এবং শেষ কারণটি হলো, আমার খিদমত শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত কিতাবটি তার মর্যাদাপূর্ণ যথাযথ খিদমত পায়নি।

‌‌তাওয়াসসুল বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহ:

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: এই মহান কিতাবটি।

আরও রয়েছে: শায়খুল ইসলাম (ইবনে তাইমিয়্যাহ) রহ.-এরই রচিত অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের অন্য একটি কিতাব, যা মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির ছায়াচিত্র বা মাইক্রোফিল্মের অন্তর্ভুক্ত।

আরও রয়েছে: শাওকানী রহ.-এর একটি রচনা, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর বিরোধীদের অনেকেই তাওয়াসসুল প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন, তবে তাদের লেখনিগুলো হঠকারিতা ও দুঃসাহসিকতার পরিচয় দেয়। তাদের এসব লেখা এমন এক অজ্ঞতা নির্দেশ করে যা তাওয়াসসুল এবং ইস্তিগাসার (বিপদে গায়বি সাহায্য প্রার্থনা) মধ্যে জঘন্য সংমিশ্রণ ঘটায়। তদুপরি এটি তাওহীদের মূলনীতিসমূহ ধ্বংস করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ বিকৃত করার দিকে ধাবিত করে। এটি মুসলিম উম্মাহকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয় এবং তাদের শিরকের গভীর খাদে নিপতিত করে এই অজুহাতে যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে আহ্বানকারীকে বিভ্রান্ত ও কাফির সাব্যস্তকারী আয়াতগুলো কেবল কুরাইশ কাফির এবং বিশেষ করে তৎকালীন আরবদের জন্য নির্দিষ্ট। অর্থাৎ কুরআন নাজিলের সময় বা তার আগে যদি কোনো কুরাইশ বা অন্য কোনো আরব আল্লাহ ছাড়া কাউকে ডাকত, তবে সে মুশরিক কাফির হতো; আর যদি...
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١١)
دعا غير الله من يدعي الإسلام فهذا في نظرهم جائز أو هو مما يقرب إلى الله زلفى.

وفي العصر الحاضر ألف علامة الشام ومحدثها الشيخ محمد ناصر الدين الألباني حفظه الله كتاباً في التوسل وأحكامه فأجاد وأفاد.

وللشيخ نسيب الرفاعي أحد كبار تلاميذ الشيخ الألباني كتاب "التوصل إلى حقيقة التوسل" أجاد فيه وأفاد.

ولكن ميزة ما كتبه شيخ الإسلام في هذا الكتاب أنه وضع قضية التوحيد نصب عينيه فجعل من الكتابة عن التوسل وسيلة إلى توضيح قضايا التوحيد ووسائله وقضايا الشرك ووسائله معتمدًا في توضيحه على الكتاب والسنة وقواعد التوحيد والأصول واللغة والتاريخ.

ولشيخ الإسلام عناية خاصة بالتوحيد بأنواعه لا يخلو كتاب من كتبه من هذه العناية.

ومما شارك هذا الكتاب في موضوعه من مؤلفات شيخ الإسلام "الفرقان بين أولياء الرحمن وأولياء الشيطان" وكتاب "العبودية" وكتاب "الرد على البكري" وكتاب "الرد على الأخنائي" وكتابه الآخر في التوسل ولا يخلو كتاب من كتبه من التركيز على قضية التوحيد.

‌‌عملي في هذا الكتاب:

أولاً: حرصت على ضبط نص الكتاب، فقابلت بين المخطوطة وبين نسختين مطبوعتين إحداهما: نسخة محب الدين الخطيب رحمه الله والتي صورتها المكتبة العلمية ببيروت وحذفت تاريخ الطبع وثانيتهما: نسخة زهير الشاويش طبع دار العربية للطباعة والنشر عام 1390 بمراجعة الأستاذ شعيب أرناؤوط، والأستاذ أحمد القطيفاني على مخطوطة الظاهرية.
যারা ইসলামের দাবিদার, তাদের মধ্য হতে আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকা তাদের দৃষ্টিতে বৈধ অথবা এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।

বর্তমান যুগে শামের প্রথিতযশা বিদগ্ধ পণ্ডিত ও মুহাদ্দিস শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) তাওয়াসসুল ও এর বিধান বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাতে তিনি অত্যন্ত নিপুণতার পরিচয় দিয়েছেন এবং জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন।

শাইখ আলবানীর অন্যতম প্রধান শিষ্য শাইখ নাসীব আর-রিফাঈ ‘আত-তাওয়াসসুল ইলা হাকীকাতিত তাওয়াসসুল’ নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেখানে তিনি সবিস্তারে ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।

তবে এই গ্রন্থে শাইখুল ইসলাম যা লিখেছেন তার বিশেষত্ব হলো, তিনি তাওহীদের বিষয়টিকে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ফলে তিনি তাওয়াসসুল বিষয়ক আলোচনাকে তাওহীদের বিভিন্ন দিক ও এর মাধ্যমসমূহ এবং শিরকের বিভিন্ন দিক ও এর মাধ্যমসমূহ স্পষ্ট করার একটি শক্তিশালী উপায়ে পরিণত করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি আল-কুরআন, সুন্নাহ, তাওহীদের নীতিমালা, উসূল, ভাষা এবং ইতিহাসের ওপর নির্ভর করেছেন।

তাওহীদের বিভিন্ন প্রকারের প্রতি শাইখুল ইসলামের বিশেষ গুরুত্বারোপ রয়েছে এবং তাঁর কোনো কিতাবই এই বিষয়ের আলোচনা থেকে মুক্ত নয়।

শাইখুল ইসলামের রচনাবলির মধ্যে এই গ্রন্থের বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো: ‘আল-ফুরকান বাইনা আউলিয়া-ইর রহমান ওয়া আউলিয়া-ইশ শাইতান’, ‘আল-উবুদিয়্যাহ’, ‘আর-রাদ্দু আলাল বকরি’, ‘আর-রাদ্দু আলাল আখনা-ঈ’ এবং তাওয়াসসুল বিষয়ে তাঁর অন্য একটি গ্রন্থ। বস্তুত তাওহীদের বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা থেকে তাঁর কোনো কিতাবই বাদ পড়েনি।

‌‌এই কিতাবে আমার কর্মপদ্ধতি:

প্রথমত: আমি কিতাবটির মূল পাঠ সুবিন্যস্ত ও নির্ভুল করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। এজন্য আমি পাণ্ডুলিপি এবং দুটি মুদ্রিত কপির মধ্যে পাঠান্তর তুলনা করেছি। এর মধ্যে একটি হলো মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংস্করণ, যা বৈরুতের মাকতাবাতুল ইলমিয়্যাহ থেকে পুনর্মুদ্রিত হয়েছে এবং মুদ্রণ তারিখটি উহ্য রাখা হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো যুহাইর আশ-শাউয়িশের সংস্করণ, যা ১৩৯০ হিজরীতে দারুল আরাবিয়্যাহ মুদ্রণ ও প্রকাশনী থেকে উস্তাদ শুআইব আরনাউত ও উস্তাদ আহমদ আল-কাতিফানীর তত্ত্বাবধানে যাহিরিয়্যাহ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে সংশোধিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١٢)
وكان يشاركني في المراجعة أحد الطلاب النبهاء فاستدركنا على الطبعتين المذكورتين أخطاء من أهمها الخطأ الكبير الذي نوهنا عنه سابقاً.

ثانياً: خرجت الأحاديث والآثار من مصادرها وكثيرًا ما أضيف مصادر لم يذكرها شيخ الإسلام.

ثالثاً: عزوت الأقوال التي نقلها شيخ الإسلام إلى المصنفين الذين نقل عنهم والأئمة والمذاهب إلى مصادرها بقدر الإمكان.

رابعاً: حكمت على الأحاديث بالحسن أو الصحة أو الضعف في ضوء الدراسة وقواعد أهل الحديث.

خامساً: علقت بعض التعليقات في المواضع التي تتطلب التعليق وهي مهمة جداً والحمد لله.

سادساً: استفدت من تعليقات الطبعتين المذكورتين اللغوية وغيرها فأبقيت منها ما رأيته مناسباً.

سابعاً: اعتمدت في ترقيم الآيات القرآنية على ترقيم الطبعتين مع العودة في بعض الأحيان إلى المصحف الكريم للتأكد.

ثامناً: عملت مقدمة اشتملت على ترجمة موجزة لشيخ الإسلام رحمه الله وملخص لمقاصد الكتاب وفكرة عن منهج شيخ الإسلام فيه وأسباب عملي في الكتاب ووصف المخطوطة.

تاسعاً: عملت فهارس للأحاديث والآثار والأعلام والموارد والطوائف وموضوعات الكتاب.
পর্যালোচনার কাজে আমার সাথে একজন মেধাবী ছাত্র অংশগ্রহণ করেছিল, ফলে আমরা উল্লেখিত দুটি সংস্করণের ভুলগুলো সংশোধন করেছি, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই বড় ভুলটি যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয়ত: হাদীস ও আছারসমূহকে তাদের মূল উৎস থেকে তাখরীজ করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে এমন সব উৎস যুক্ত করা হয়েছে যা শাইখুল ইসলাম উল্লেখ করেননি।

তৃতীয়ত: শাইখুল ইসলাম যেসব উক্তি উদ্ধৃত করেছেন, আমি সেগুলোকে যথাসম্ভব মূল গ্রন্থকার, ইমাম এবং মাযহাবসমূহের মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি।

চতুর্থত: পর্যালোচনা এবং মুহাদ্দিসগণের মূলনীতির আলোকে হাদীসসমূহের হাসান, সহীহ অথবা যয়ীফ হওয়ার ব্যাপারে হুকুম প্রদান করেছি।

পঞ্চমত: যে স্থানগুলোতে ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল সেখানে আমি কিছু টীকা প্রদান করেছি এবং আলহামদুলিল্লাহ্‌, সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ষষ্ঠত: উল্লেখিত সংস্করণ দুটির ভাষাতাত্ত্বিক ও অন্যান্য টীকা থেকে আমি উপকৃত হয়েছি এবং এর মধ্য থেকে যেগুলোকে আমি উপযুক্ত মনে করেছি তা বহাল রেখেছি।

সপ্তমত: কুরআনের আয়াতসমূহের নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে আমি পূর্বোক্ত সংস্করণ দুটির নম্বরের ওপর নির্ভর করেছি, পাশাপাশি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মাঝে মাঝে পবিত্র মুসহাফের সাহায্য নিয়েছি।

অষ্টমত: আমি একটি ভূমিকা তৈরি করেছি যাতে শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী, গ্রন্থের উদ্দেশ্যসমূহের সারসংক্ষেপ, এতে শাইখুল ইসলামের অনুসৃত মানহাজ সম্পর্কে ধারণা, এই গ্রন্থ নিয়ে আমার কাজ করার কারণসমূহ এবং পাণ্ডুলিপির বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নবমত: আমি হাদীস, আছার, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, উৎসসমূহ, বিভিন্ন দল-উপদল এবং কিতাবের বিষয়বস্তুসমূহের নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌لمحة عن حياة الإمام ابن تيمية

(661 - 728)

هو شيخ الإسلام ابن تيمية الإمام المحدث الحافظ الناقد والمفسر الغواص في معاني القرآن والمؤرخ المطلع على أحداث التاريخ المبرز في العلوم النقلية والعقلية على كبار المتخصصين فيها والآمر بالمعروف الناهي عن المنكر الزاهد العابد المجاهد المظفر في ميادين القتال وفي ميادين الدفاع عن حياض الإسلام بالحجة والبرهان.

سيف الله المسلول على الفلاسفة والملحدين وعلى الغلاة المبتدعين، جندت كثير من الأقلام لترجمته وإبراز شخصيته الفذة وسطرت في هذا الشأن عشرات من المجلدات (1) وفي ذلك ما يغني القارئ عن أن أترجم له في هذه المقدمة، غير أني أرى أن أتحف القارئ بشذرات مما زكاه به كبار علماء عصره تتناول بعض الجوانب من حياته وأن أعطيه فكرة مجملة عن كثرة مصنفاته الدالة على تبحره في العلوم وامتلاك نواصيها.

--------------------------------------------

(1) كثرت الكتابة عن شيخ الإسلام رحمه الله فبلغ عدد المعروف من المؤلفات المستقلة في سيرته وأعماله ثمانية وستين مؤلفاً.

وترجم له عدد كبير من المؤرخين القدامى والمحدثين المعروف منهم أربعة وستون.

وهناك دراسات لعدد من المستشرقين تناولت تراث شيخ الإسلام ومنهجه وأفكاره.

انظر في هذا مقدمة الرسالة الموسومة بـ (شيخ الإسلام ابن تيمية وجهوده في الحديث وعلومه) (1/179 - 195) لأخي وأحد تلاميذي النجباء عبد الرحمن عبد الجبار الفريوائي قدمها لنيل درجة الدكتوراه من شعبة السنة بقسم الدراسات العليا بالجامعة الإسلامية.
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর জীবনীর ওপর এক ঝলক

(৬৬১ - ৭২৮)

তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ; তিনি একজন ইমাম, মুহাদ্দিস, হাফেজ, সমালোচক এবং কুরআনের অর্থের গভীরে অবগাহনকারী মুফাসসির। তিনি ইতিহাসের ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত একজন ঐতিহাসিক, যিনি উদ্ধৃতিমূলক (নকলি) এবং যুক্তিমূলক (আকলি) জ্ঞানে এগুলোর বড় বড় বিশেষজ্ঞদের চেয়েও অগ্রগামী ছিলেন। তিনি সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী, দুনিয়াত্যাগী (যাহিদ), ইবাদতকারী এবং জিহাদের ময়দানে এবং দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে ইসলামের সীমানা রক্ষার ক্ষেত্রে একজন বিজয়ী মুজাহিদ।

দার্শনিক, নাস্তিক এবং চরমপন্থী বিদআতিদের বিরুদ্ধে তিনি আল্লাহর উন্মুক্ত তলোয়ার। তাঁর জীবনী রচনার জন্য এবং তাঁর অনন্য ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলার জন্য অসংখ্য কলম নিয়োজিত হয়েছে এবং এই বিষয়ে দশ দশটি খণ্ড রচিত হয়েছে (১)। এই বিষয়টি পাঠককে বর্তমান ভূমিকায় তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনী আলোচনা করা থেকে অমুখাপেক্ষী করে তোলে। তবে আমি তাঁর যুগের বড় বড় আলেমদের পক্ষ থেকে তাঁর সম্পর্কে আসা প্রশংসামূলক বাণীসমূহের কিছু অংশ পাঠকের সামনে উপহার হিসেবে পেশ করাকে উপযুক্ত মনে করছি, যা তাঁর জীবনের কিছু দিক উন্মোচন করবে। সেই সাথে তাঁর অসংখ্য কিতাবাদি সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা প্রদান করব, যা বিভিন্ন জ্ঞানে তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও পূর্ণ দখলদারিত্বের প্রমাণ দেয়।

--------------------------------------------

(১) শায়খুল ইসলাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে লেখালেখি প্রচুর হয়েছে। তাঁর জীবনী ও কর্ম নিয়ে রচিত স্বতন্ত্র গ্রন্থের সংখ্যা ৬৮টিতে পৌঁছেছে।

প্রাচীন ও আধুনিক ঐতিহাসিকদের একটি বড় দল তাঁর জীবনী লিখেছেন, যাদের মধ্যে পরিচিতদের সংখ্যা ৬৪ জন।

এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রাচ্যবিদের (ওরিয়েন্টালিস্ট) গবেষণাকর্ম রয়েছে যেখানে শায়খুল ইসলামের ঐতিহ্য, মানহাজ এবং চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এই বিষয়ে দেখুন: আমার ভাই এবং আমার অন্যতম মেধাবী ছাত্র আবদুর রহমান আবদুল জব্বার আল-ফারিওয়াই কর্তৃক মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের সুন্নাহ শাখা থেকে পিএইচডি ডিগ্রির জন্য পেশকৃত ‘শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ওয়া জুহুদুহু ফিল হাদিসি ওয়া উলুমিহি’ নামক থিসিসটির ভূমিকা (১/১৭৯ - ১৯৫)।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١٤)
1 - قال الإمام الحافظ أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الهادي (ت744) : "هو الشيخ الإمام الرباني إمام الأئمة، ومفتي الأمة، وبحر العلوم، سيد الحفاظ، وفارس المعاني والألفاظ، فريد العصر وقريع الدهر، شيخ الإسلام، وعلامة الزمان ترجمان القرآن، علم الزهاد، أوحد العباد وقامع المبتدعين وآخر المجتهدين، تقي الدين أبو العباس، أحمد بن الشيخ الإمام العلامة شهاب الدين أبي المحاسن، عبد الحليم بن الشيخ الإمام العلامة، شيخ الإسلام مجد الدين أبي البركات، عبد السلام بن أبي محمد عبد الله بن أبي القاسم الخضر بن محمد بن الخضر بن علي بن عبد الله ابن تيمية الحراني، نزيل دمشق، صاحب التصانيف التي لم يسبق إلى مثلها" (1) .

2 - وقال الإمام الحافظ الفقيه الأديب ابن سيد الناس فتح الدين أبو الفتح محمد بن محمد اليعمري المصري الشافعي: وهو يتحدث عن المزي: "وهو الذي حداني على رؤية الشيخ الإمام شيخ الإسلام تقي الدين أبي العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية، فألفيته ممن أدرك من العلوم حظاً، وكاد أن يستوعب السنن والآثار حفظاً. إن تكلم في التفسير، فهو حامل رايته، أو أفتى في الفقه، فهو مدرك غايته، أو ذاكر في الحديث فهو صاحب علمه وذو روايته، أو حاضر بالملل والنحل، لم ير أوسع من نحلته في ذلك، ولا أرفع من درايته. برز في كل فن على أبناء جنسه، ولم تر عين من رآه مثله ولا رأت عينه مثل نفسه (2) .

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية (ص 2) .

(2) العقود الدرية (ص10) والرد الوافر ص (26) والشهادة الزكية في ثناء الأئمة على ابن تيمية (ص 26) والدرر الكامنة (1/166 - 167) .
১ - ইমাম হাফিজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবদ আল-হাদি (মৃত্যু ৭৪৪ হিজরি) বলেছেন: "তিনি হলেন শায়খ, ইমাম রাব্বানী, ইমামদের ইমাম, উম্মাহর মুফতি, ইলমের সমুদ্র, হাফিজগণের সর্দার, অর্থ ও শব্দের অশ্বারোহী, যুগের অনন্য ও মহাকালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, শায়খুল ইসলাম, জামানার আল্লামা, কুরআনের ভাষ্যকার, যাহিদদের আদর্শ, ইবাদতকারীদের মধ্যে অনন্য, বিদআতীদের দমনকারী এবং মুজতাহিদদের শেষ উত্তরসূরি, তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে শায়খ ইমাম আল্লামা শিহাবুদ্দীন আবুল মাহাসিন আবদুল হালিম ইবনে শায়খ ইমাম আল্লামা শায়খুল ইসলাম মাজদুদ্দীন আবুল বারাকাত আবদুস সালাম ইবনে আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবুল কাসিম আল-খিদর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আল-খিদর ইবনে আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানি, দামেস্কের অধিবাসী, এমন সব কিতাবের লেখক যার সমতুল্য পূর্বে আর কেউ রচনা করতে পারেনি" (১) ।

২ - ইমাম হাফিজ ফকিহ সাহিত্যিক ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস ফাতহুদ্দীন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ইয়াহমারি আল-মিসরি আল-শাফিঈ বলেছেন—আর তিনি আল-মিজ্জি সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন—: "তিনিই আমাকে শায়খ ইমাম শায়খুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবদুল হালিম ইবনে আবদুস সালাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে দেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। অতঃপর আমি তাঁকে এমন একজন হিসেবে পেলাম যিনি জ্ঞানের বিশাল অংশ লাভ করেছেন এবং মুখস্থের দিক থেকে প্রায় সমস্ত সুন্নাহ ও আসারকে (সাহাবীদের বাণী) আয়ত্ত করেছেন। তিনি যদি তাফসির নিয়ে আলোচনা করেন তবে তিনিই তার পতাকাবাহী, আর যদি ফিকহ নিয়ে ফতোয়া দেন তবে তিনিই তার চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনকারী, আর যদি হাদিস নিয়ে আলোচনা করেন তবে তিনিই তার ইলমের অধিকারী এবং বর্ণনার পারদর্শী। অথবা যদি তিনি বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শ নিয়ে উপস্থিত হন, তবে এ বিষয়ে তাঁর চেয়ে প্রশস্ত হৃদয়ের এবং তাঁর চেয়ে উচ্চতর প্রজ্ঞার আর কাউকে দেখা যায়নি। তিনি প্রতিটি বিদ্যায় তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন; তাঁকে যারা দেখেছে তাদের চোখ তাঁর মতো কাউকে দেখেনি এবং তাঁর নিজের চোখও তাঁর মতো কাউকে দেখেনি" (২) ।

--------------------------------------------

(১) আল-উকুদ আদ-দুরিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা ২)।

(২) আল-উকুদ আদ-দুরিইয়্যাহ (পৃষ্ঠা ১০), আর-রাদ্দুল ওয়াফির পৃষ্ঠা (২৬), আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ ফী সানাউল আইম্মাহ আলা ইবনে তাইমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ২৬) এবং আদ-দুরার আল-কামিনাহ (১/১৬৬ - ১৬৭)।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١٥)
3 - وقال الإمام الحافظ الناقد أبو الحجاج يوسف المزي (ت742) :

ما رأيت مثله، ولا رأى هو مثل نفسه، وما رأيت أحدًا أعلم بكتاب الله وسنة رسوله ولا أتبع لهما منه".

4 - وقال العلامة كمال الدين ابن الزملكاني:

"كان إذا سئل عن فن من العلم ظن الرائي والسامع أنه لا يعرف غير ذلك الفن، وحكم أن أحدًا لا يعرفه مثله، وكان الفقهاء من سائر الطوائف، إذا جلسوا معه استفادوا في مذاهبهم منه ما لم يكونوا قد عرفوه قبل ذلك، ولا يعرف أنه ناظر أحدًا فانقطع معه ولا تكلم في علم من العلوم سواء أكان من علوم الشرع أم غيرها إلا فاق فيه أهله والمنسوبين إليه، وكانت له اليد الطولى في حسن التصنيف وجودة العبارة والترتيب والتقسيم والتبيين.. واجتمعت فيه شروط الاجتهاد على وجهها" (1) .

وقال الإمام الحافظ أبو عبد الله شمس الدين الذهبي (ت 748) وقد ذكر شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله:

"كان آية في الذكاء وسرعة الإدراك رأساً في معرفة الكتاب والسنة، والاختلاف، بحراً في النقليات، هو في زمانه فريد عصره علماً وزهداً وشجاعة وسخاء وأمراً بالمعروف ونهياً عن المنكر وكثرة التصانيف وقرأ وحصل وبرع في الحديث والفقه وتأهل للتدريس

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية (ص 7 - 8) وسجل ابن عبد الهادي لكمال الدين شهادات أخر قد تفوق هذه الشهادة مع أنه كان من مخالفيه والمتعصبين عليه.
৩ - ইমাম হাফিজ সমালোচক আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ আল-মিজ্জি (মৃত্যু ৭৪২) বলেছেন:

"আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি, এবং তিনি নিজেও তাঁর নিজের মতো কাউকে দেখেননি। আমি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ সম্পর্কে তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং এই দুটির অনুসরণে তাঁর চেয়ে অগ্রগামী আর কাউকে দেখিনি।"

৪ - আল্লামা কামালুদ্দিন ইবনুল জামলাকানি বলেছেন:

"যখন তাঁকে কোনো একটি শাস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন দর্শক ও শ্রোতা মনে করত যে তিনি ওই শাস্ত্রটি ছাড়া অন্য কিছু জানেন না এবং তারা সিদ্ধান্ত দিত যে তাঁর মতো এটি আর কেউ জানে না। বিভিন্ন মতাদর্শের ফকীহগণ যখন তাঁর সাথে বসতেন, তখন তাঁরা নিজেদের মাযহাব সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে এমন সব জ্ঞান অর্জন করতেন যা তারা ইতিপূর্বে জানতেন না। এমনটি জানা নেই যে তিনি কারো সাথে বিতর্ক করেছেন আর সেই ব্যক্তি তাঁর কাছে নিরুত্তর হয়ে পড়েনি। শরয়ি জ্ঞান হোক বা অন্য কিছু—তিনি যে বিষয়েই কথা বলতেন, তাতে তিনি সেই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে যেতেন। চমৎকার গ্রন্থ রচনা, সাবলীল প্রকাশভঙ্গি, বিন্যাস, শ্রেণিবিন্যাস ও ব্যাখ্যাপ্রদানে তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ছিল... এবং তাঁর মধ্যে ইজতিহাদের সকল শর্ত যথাযথভাবে বিদ্যমান ছিল।" (১)।

ইমাম হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ শামসুদ্দিন আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর স্মৃতিচারণ করে বলেছেন:

"তিনি ছিলেন প্রখর মেধা ও দ্রুত অনুধাবন ক্ষমতার এক নিদর্শন। কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান এবং আলিমদের মতপার্থক্য সম্পর্কে অবগতির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শীর্ষস্থানীয় এবং বর্ণিত বিদ্যায় (নকলিয়্যাত) ছিলেন এক সমুদ্র। তিনি তাঁর যুগে জ্ঞান, দুনিয়াবিমুখতা, বীরত্ব, দানশীলতা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং প্রচুর গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে ছিলেন অদ্বিতীয়। তিনি পড়াশোনা করেছেন, জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেছেন এবং শিক্ষকতার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।"

--------------------------------------------

(১) আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ৭ - ৮)। ইবনে আব্দুল হাদি কামালুদ্দিনের পক্ষ থেকে আরও কিছু সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করেছেন যা সম্ভবত এই সাক্ষ্যের চেয়েও অগ্রগণ্য, যদিও তিনি তাঁর বিরোধীদের এবং তাঁর প্রতি কঠোর মনোভাবাপন্নদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١٦)
والفتوى وهو ابن سبع عشرة سنة وتقدم في علم الأصول وجميع علوم الإسلام: أصولها وفروعها، ودقها وجلها سوى علم القراءات فإن ذكر التفسير فهو حامل لوائه، وإن عد الفقهاء فهو مجتهدهم المطلق، وإن حضر الحفاظ نطق وخرسوا وسرد وأُبلسوا واستغنى وأفلسوا وإن سمي المتكلمون فهو فردهم، وإليه مرجعهم، وإن لاح ابن سيناء يقدم الفلاسفة فلَّهم وتيَّسهم وهتك أستارهم وكشف عوراهم وله يد طولى في معرفة العربية والصرف واللغة، وهو أعظم من أن يصفه كلمي أو ينبه على شأوه قلمي، فإن سيرته وعلومه ومعارفه ومحنه وتنقلاته تحتمل أن توضع في مجلدتين وهو بشر من البشر له ذنوب فالله يغفر له ويسكنه أعلى الجنة فإنه كان رباني الأمة فريد الزمان وحامل لواء الشريعة وصاحب معضلات المسلمين، وكان رأسا في العلم يبالغ في إطراء قيامه في الحق، والجهاد والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر مبالغة ما رأيتها ولا شاهدتها من أحد، ولا لحظتها من فقيه.

وقال في مكان آخر: قلت: وله خبرة تامة بالرجال وجرحهم وتعديلهم وطبقاتهم ومعرفة بفنون الحديث وبالعالي والنازل وبالصحيح وبالسقيم مع حفظه لمتونه الذي انفرد به، فلا يبلغ أحد في العصر رتبته، ولا يقاربه وهو عجب في استحضاره واستخراج الحجج منه وإليه المنتهى في عزوه إلى الكتب الستة والمسند بحيث يصدق عليه أن يقال: "كل حديث لا يعرفه ابن تيمية فليس بحديث" لكن الإحاطة لله غير أن يغترف من بحر، وغيره من الأئمة يغترفون من السواقي.

وأما التفسير فمسلم إليه، وله في استحضار الآيات من القرآن - وقت إقامة الدليل بها على المسألة - قوة عجيبة، وإذا رآه المقرئ تحير فيه،
সতেরো বছর বয়সেই তিনি ফতোয়া প্রদান করতেন। তিনি উসুল এবং ইসলামের সকল বিদ্যায়—তা এর মূল হোক বা শাখা, সূক্ষ্ম হোক বা স্থূল—সবকিছুতেই অগ্রগামিতা অর্জন করেন, শুধু কিরাআত শাস্ত্র ব্যতীত। যদি তাফসিরের আলোচনা করা হয়, তবে তিনি তার ঝাণ্ডাবাহী; যদি ফকিহদের গণনা করা হয়, তবে তিনি তাদের মুজতাহিদে মুতলাক (স্বতন্ত্র মুজতাহিদ); আর যদি হাফেজগণ উপস্থিত হন, তবে তিনি কথা বলেন আর তারা নীরব হয়ে যান, তিনি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করে যান আর তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন, তিনি সমৃদ্ধ হয়ে ওঠেন আর তারা রিক্ত হয়ে পড়েন। যদি ইলমুল কালামবিদদের নাম নেওয়া হয়, তবে তিনি তাদের মধ্যে অনন্য এবং তাদের সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল; আর যদি দার্শনিকদের অগ্রগণ্য ইবনে সিনা আবির্ভূত হয়, তবে তিনি তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন, তাদের মূর্খ সাব্যস্ত করেন, তাদের পর্দা উন্মোচন করে দেন এবং তাদের দোষ-ত্রুটিগুলো প্রকাশ করে দেন। আরবি ভাষা, সরফ এবং ভাষাতত্ত্বে তার সুদীর্ঘ হাত (অসাধারণ দখল) ছিল। আমার কথা দ্বারা তার বর্ণনা দেওয়া অথবা আমার কলম দ্বারা তার উচ্চ মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত করার চেয়ে তিনি অনেক মহান। কেননা, তার জীবনী, ইলম, জ্ঞান, পরীক্ষা ও সফরসমূহ দুই খণ্ডের বিশাল গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করার যোগ্য। তিনি তো একজন মানুষ, যার গুনাহ রয়েছে; সুতরাং আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করেন এবং জান্নাতের উচ্চ মাকামে স্থান দেন। কেননা তিনি ছিলেন উম্মতের রব্বানি আলেম, যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব, শরিয়তের ঝাণ্ডাবাহী এবং মুসলমানদের কঠিন সমস্যাবলি সমাধানকারী। তিনি ইলমের ক্ষেত্রে ছিলেন শীর্ষস্থানীয়। সত্যের ওপর অবিচল থাকা, জিহাদ এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে তার দৃঢ়তার প্রশংসা এমন অতিরঞ্জিত ছিল যা আমি আর কারও মাঝে দেখিনি বা প্রত্যক্ষ করিনি এবং কোনো ফকিহর মাঝেও লক্ষ্য করিনি।

তিনি অন্য এক স্থানে বলেছেন: আমি বলছি: বর্ণনাকারী ব্যক্তিগণ, তাদের সমালোচনা ও সংশোধন, তাদের স্তর বিন্যাস, হাদিসের বিভিন্ন শাখা, উচ্চ ও নিম্ন সনদ এবং সহিহ ও দুর্বল হাদিস সম্পর্কে তার পূর্ণ অভিজ্ঞতা ছিল। এর পাশাপাশি হাদিসের মূল পাঠ মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ছিলেন। এই যুগে কেউ তার স্তরে পৌঁছাতে পারেনি এবং তার নিকটবর্তীও হতে পারেনি। হাদিস উপস্থাপন এবং তা থেকে দলিল উদঘাটনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এক বিস্ময়। কুতুবে সিত্তা এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের দিকে হাদিসের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে তার দক্ষতা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের, যা সম্পর্কে বলা সত্য যে: "যে হাদিস ইবনে তাইমিয়া জানেন না, তা হাদিসই নয়।" তবে পূর্ণ জ্ঞান কেবল আল্লাহরই; তিনি যেন এক মহাসমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে নিচ্ছিলেন, আর অন্য ইমামগণ ছোট ছোট নালা থেকে অঞ্জলি নিচ্ছিলেন।

আর তাফসিরের বিষয়টি তো তার কাছে সর্বজনস্বীকৃত। কোনো মাসআলায় দলিল প্রদানের সময় কুরআন থেকে আয়াত উপস্থাপনে তার এক আশ্চর্যজনক ক্ষমতা ছিল। যখন কোনো ক্বারি তাকে দেখতেন, তখন তিনি বিস্ময়াভিভূত হয়ে যেতেন।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١٧)
ولفرط إمامته في التفسير وعظم إطلاعه يبين خطأ كثير من أقوال المفسرين ويوهي أقوالاً عديدة وينصر قولاً واحدًا موافقاً لما دل عليه القرآن والحديث.

ويكتب في اليوم والليلة من التفسير أو من الفقه أو من الأصلين أو من الرد على الفلاسفة والأوائل نحوًا من أربعة كراريس أو أزيد، وما أبعد أن تصانيفه الآن تبلغ خمسمائة مجلدة، وله في غير مسألة مصنف مفرد في مجلد (1) .

شيوخه

بلغ عدد شيوخه أكثر من مائتي شيخ، من أبرزهم والده عبد الحليم بن عبد السلام بن تيمية (ت 682) ، والمحدث أبو العباس أحمد ابن عبد الدائم (ت668) ، وابن أبي اليسر، والشيخ شمس الدين عبد الرحمن المقدسي الحنبلي (ت689) ، وابن الظاهري الحافظ أبو العباس الحلبي الحنفي (ت690) .

تلاميذه

أَمَّا تلاميذه فلا يحصون كثرة، فمن تلاميذه البارزين والمبرزين:

1 - شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أبي بكر الزرعي ابن قيم الجوزية المتوفى سنة (751) .

--------------------------------------------

(1) العقود الدرية (ص 23 - 25) وقد ذكر بعض مؤلفاته وله ثناء عاطر على ابن تيمية في عدد من مؤلفاته ونقل العلماء عنه.

انظر: الشهادة الزكية (ص 38 - 44) والرد الوافر (ص 31 - 36) .
তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য এবং ব্যাপক অধ্যয়নের কারণে তিনি মুফাসসিরগণের অনেক মতের ভুল স্পষ্ট করে দেন এবং বহু মতকে দুর্বল সাব্যস্ত করেন; বিপরীতে কুরআন ও হাদীসের দলীল অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট মতকেই সমর্থন করেন।

তিনি দিনে ও রাতে তাফসীর, ফিকহ, উসুল কিংবা দার্শনিক ও প্রাচীনদের খণ্ডনে প্রায় চার দিস্তা বা তারও বেশি লিখতেন। বর্তমানে তাঁর রচনাবলী পাঁচশত খণ্ডে পৌঁছানো মোটেই অসম্ভব নয়। এমনকি এমন অনেক একক মাসআলা রয়েছে যে বিষয়ে তিনি স্বতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ এক খণ্ড গ্রন্থ রচনা করেছেন (১)।

তাঁর শিক্ষকগণ

তাঁর শিক্ষকগণের সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাঁর পিতা আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন তাইমিয়্যাহ (ওফাত ৬৮২ হি.), মুহাদ্দিস আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে আব্দুল দায়িম (ওফাত ৬৬৮ হি.), ইবনুল আবিল ইয়াসার, শায়খ শামসুদ্দীন আব্দুর রহমান আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী (ওফাত ৬৮৯ হি.) এবং ইবনুয যাহিরী আল-হাফিয আবুল আব্বাস আল-হালাবী আল-হানাফী (ওফাত ৬৯০ হি.)।

তাঁর ছাত্রগণ

তাঁর ছাত্রদের সংখ্যা এত বেশি যে তা গণনা করা অসম্ভব। তাঁদের মধ্যে প্রথিতযশা ও শ্রেষ্ঠ ছাত্রগণ হলেন:

১ - শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবী বকর আয-যুরঈ ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ, যিনি ৭৫১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

--------------------------------------------

(১) আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ২৩-২৫)। এতে তাঁর কিছু রচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং লেখক তাঁর বহু গ্রন্থে ইবনে তাইমিয়্যাহর সুগন্ধিময় প্রশংসা করেছেন এবং আলেমগণ তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

দেখুন: আশ-শাহাদাতুয যাকিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ৩৮-৪৪) এবং আর-রাদ্দুল ওয়াফির (পৃষ্ঠা ৩১-৩৬)।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١٨)
2 - والحافظ أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الهادي

(ت 744) .

3 - والحافظ أبو الحجاج يوسف بن الزكي عبد الرحمن المزي المتوفى (742) .

4 - والحافظ المؤرخ أبو عبد الله محمد بن عثمان الذهبي (ت748) .

5 - وأبو الفتح ابن سيد الناس محمد بن محمد اليعمري المصري (ت734) .

6 - والحافظ علم الدين القاسم بن محمد البرزالي (ت739) .

مؤلفاته:

إن مؤلفات هذا الإمام كثيرة جداً بحيث عجز تلاميذه ومحبوه عن إحصائها، قال تلميذه النجيب شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أبي بكر المشهور بابن القيم رحمه الله:

"أما بعد: فإن جماعة من محبي السنة والعلم سألني أن أذكر له ما ألفه الشيخ الإمام العلامة الحافظ أوحد زمانه، تقي الدين أبو العباس أحمد ابن تيمية رضي الله عنه فذكرت لهم أني عجزت عن حصرها وتعدادها لوجوه أبديتها لبعضهم وسأذكرها إن شاء الله فيما بعد … ".

ثم قال:

1 - "فمما رأيته في التفسير" فذكر اثنين وتسعين مؤلفا ما بين
২ - এবং হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল হাদি

(মৃত্যু ৭৪৪ হিজরি) ।

৩ - এবং হাফেজ আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আয-জাকি আব্দুর রহমান আল-মিযযি, মৃত্যু (৭৪২ হিজরি) ।

৪ - এবং হাফেজ ও ঐতিহাসিক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উসমান আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি) ।

৫ - এবং আবুল ফাতহ ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-ইয়ামুরি আল-মিসরি (মৃত্যু ৭৩৪ হিজরি) ।

৬ - এবং হাফেজ আলামুদ্দিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ আল-বারযালি (মৃত্যু ৭৩৯ হিজরি) ।

তাঁর রচনাবলি:

নিশ্চয়ই এই ইমামের রচনাবলি সংখ্যায় এতই অধিক যে, তাঁর ছাত্র ও অনুরাগীগণ সেগুলো গণনা করতে অক্ষম হয়েছেন। তাঁর মেধাবী ছাত্র শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর—যিনি ইবনুল কাইয়্যিম নামে সমধিক পরিচিত (রাহিমাহুল্লাহ)—বলেছেন:

"অতঃপর: সুন্নাহ ও ইলমের একদল অনুরাগী আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যেন আমি তাদের নিকট শাইখ, ইমাম, আল্লামা, হাফেজ এবং নিজ যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যা কিছু রচনা করেছেন তা উল্লেখ করি। আমি তাদের নিকট ব্যক্ত করেছি যে, আমি সেগুলো পরিবেষ্টন ও গণনা করতে অক্ষম হয়েছি। এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে যা আমি তাদের কয়েকজনের নিকট প্রকাশ করেছি এবং ইনশাআল্লাহ আমি অচিরেই সেগুলো উল্লেখ করব...।"

অতঃপর তিনি বলেন:

১ - "আমি তাফসিরের বিষয়ে যা দেখেছি", অতঃপর তিনি বিরানব্বইটি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে রয়েছে...
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ١٩)
رسالة وقاعدة (1) .

2 - قال: "ومما صنفه في الأصول مبتدئًا أو مجيباً لمعترض أو سائل" فذكر عشرين مؤلفاً ما بين كتاب ورسالة وقاعدة (2) .

3 - ثم قال: "قواعد وفتاوى" فذكر خمسة وأربعين ومائة ما بين كتاب وقاعدة ورسالة (3) .

4 - "الكتب الفقهية" وسرد خمسة وخمسين مؤلفاً ما بين كتاب ورسالة وقاعدة (4) .

5 - "وصايا وإجازات ورسائل تتضمن علوماً" بلغت اثنتين وعشرين (5) .

وذكر الحافظ ابن عبد الهادي كثيرًا من مؤلفات شيخ الإسلام مع ذكر نماذج لبعض المؤلفات والتنويه بمكانتها في كتابه العقود الدرية (6) من مناقب شيخ الإسلام ابن تيمية.

هذه لمحة خاطفة عن حياة هذا الإمام العظيم رحمه الله وأسكنه فسيح جناته.

--------------------------------------------

(1) أسماء مؤلفات ابن تيمية (ص 9 - 18) .

(2) أسماء مؤلفات ابن تيمية (ص 19) .

(3) أسماء مؤلفات ابن تيمية (ص 20-26) .

(4) أسماء مؤلفات ابن تيمية (27 - 29) .

(5) أسماء مؤلفات ابن تيمية (29 - 30) .

(6) العقود الدرية (ص 26 - 67) .
রিসালাহ এবং মূলনীতি (১) ।

২ - তিনি বলেন: "এবং যা তিনি উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রে প্রারম্ভিক হিসেবে অথবা কোনো প্রতিবাদকারী বা প্রশ্নকারীর জবাব হিসেবে রচনা করেছেন", এরপর তিনি বই, রিসালাহ এবং মূলনীতির মধ্যে বিশটি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন (২)।

৩ - তারপর তিনি বললেন: "কাওয়াইদ (মূলনীতিমালা) এবং ফাতাওয়া", এরপর তিনি বই, মূলনীতি এবং রিসালাহর মধ্যে একশত পঁয়তাল্লিশটি রচনার কথা উল্লেখ করেছেন (৩)।

৪ - "ফকিহী গ্রন্থসমূহ" এবং তিনি বই, রিসালাহ এবং মূলনীতির মধ্যে পঞ্চান্নটি রচনার তালিকা পেশ করেছেন (৪)।

৫ - "উপদেশমালা, ইজাজত (অনুমতিপত্র) এবং বিভিন্ন জ্ঞান সংবলিত রিসালাহসমূহ", যা বাইশটি পর্যন্ত পৌঁছেছে (৫)।

হাফেজ ইবনে আব্দুল হাদী শায়খুল ইসলামের বহু রচনার কথা উল্লেখ করেছেন, সাথে সাথে কিছু রচনার নমুনা পেশ করেছেন এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার মানাকিব (মর্যাদা) বিষয়ক তাঁর গ্রন্থ 'আল-উকুুদ আদ-দুররিয়্যাহ' (৬)-তে সেগুলোর উচ্চ মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন।

এটি এই মহান ইমামের জীবনী সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত, আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং তাঁকে জান্নাতের সুপ্রশান্ত স্থানে বসবাস করতে দিন।

--------------------------------------------

(১) আসমাউ মুআল্লাফাতি ইবনে তাইমিয়া (পৃষ্ঠা ৯ - ১৮) ।

(২) আসমাউ মুআল্লাফাতি ইবনে তাইমিয়া (পৃষ্ঠা ১৯) ।

(৩) আসমাউ মুআল্লাফাতি ইবনে তাইমিয়া (পৃষ্ঠা ২০-২৬) ।

(৪) আসমাউ মুআল্লাফাতি ইবনে তাইমিয়া (২৭ - ২৯) ।

(৫) আসমাউ মুআল্লাফাতি ইবনে তাইমিয়া (২৯ - ৩০) ।

(৬) আল-উকুুদ আদ-দুররিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ২৬ - ৬৭) ।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
‌‌موضوع كتاب التوسل والوسيلة

لعل أحسن العبارات التي تقال في موضوع هذا الكتاب هي عبارات شيخ الإسلام ابن تيمية نفسه.

قال رحمه الله في ص (244) من "التوسل" وفقرة (687) : "فإن هذه القواعد المتعلقة بتقرير التوحيد، وحسم مادة الشرك والغلو كلما تنوع بيانها ووضحت عباراتها، فإن ذلك نور على نور".

وقال رحمه الله وقد ذكر مصنفًا له ذكر فيه قواعد تتعلق بحكم الحكام.. "لإفراد الكلام في هذا الموضوع (يعني كتاب التوسل) على قواعد التوحيد ومتعلقاته". الفقرة (686) .

وقال في خاتمة ملحق هذا الكتاب فقرة (945) :

"فهذا آخر السؤال والجواب الذي أحببت إيراده هنا بألفاظه لما اشتمل عليه من المقاصد المهمة والقواعد النافعة في هذا الباب مع الاختصار، فإن التوحيد، هو سر القرآن ولب الإيمان، وتنويع العبارة بوجوه الدلالات من أهم الأمور وأنفعها للعباد في مصالح المعاش والمعاد".

فهذا هو موضوع الكتاب. وضع قواعد ترمي إلى أسمى الغايات وهي:

أولاً: تقرير التوحيد الذي أرسل الله من أجله تقريره جميع الرسل، وأنزل من أجله جميع الكتب.

ثانياً: حسم مادة الشرك، الذي جاءت كلُّ الرسالات لحسمه ومحوه وتطهير الأرض والقلوب والنفوس من أقذاره وأدرانه.
তওয়াসসুল ও ওয়াসিলা কিতাবের বিষয়বস্তু

সম্ভবত এই কিতাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তার মধ্যে সর্বোত্তম বক্তব্য হলো খোদ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর নিজের উক্তি।

তিনি (আল্লাহ তাকে রহম করুন) "তওয়াসসুল" কিতাবের ২৪৪ পৃষ্ঠায় এবং ৬৮৭ নং অনুচ্ছেদে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তাওহিদ প্রতিষ্ঠা এবং শিরক ও অতিরঞ্জনের মূল উৎপাটন সংশ্লিষ্ট এই মূলনীতিগুলোর বর্ণনা যত বৈচিত্র্যময় হবে এবং এর শব্দাবলি যত স্পষ্ট হবে, তা নূরের ওপর নূর হিসেবে গণ্য হবে।"

তিনি (আল্লাহ তাকে রহম করুন) তাঁর একটি রচনার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, যেখানে তিনি শাসকদের শাসন সংক্রান্ত কিছু মূলনীতি আলোচনা করেছেন— "যাতে এই বিষয়ে (অর্থাৎ তওয়াসসুল কিতাবে) তাওহিদের মূলনীতি এবং এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করা যায়।" অনুচ্ছেদ (৬৮৬)।

তিনি এই কিতাবের পরিশিষ্টের শেষে ৯৪৫ নং অনুচ্ছেদে বলেছেন:

"সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও এই অধ্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য এবং উপকারী মূলনীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে আমি এখানে প্রশ্ন ও উত্তরের এই শেষাংশটি তার মূল শব্দসহ উল্লেখ করা পছন্দ করেছি। কেননা তাওহিদ হলো কুরআনের রহস্য এবং ঈমানের নির্যাস। আর ইহকাল ও পরকালের কল্যাণের লক্ষ্যে বিভিন্ন দালিলিক পদ্ধতিতে এর বর্ণনা বৈচিত্র্যপূর্ণ করা বান্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।"

মূলত এটিই হলো এই কিতাবের বিষয়বস্তু। এমন কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করা যা সর্বোচ্চ লক্ষ্যসমূহ অর্জনে সহায়ক, আর সেগুলো হলো:

প্রথমত: তাওহিদ প্রতিষ্ঠা করা, যা প্রতিষ্ঠার জন্যই আল্লাহ সকল রাসূলকে প্রেরণ করেছেন এবং সকল কিতাব অবতীর্ণ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: শিরকের মূলোৎপাটন করা, যা নির্মূল করতে, মিটিয়ে দিতে এবং পৃথিবী, অন্তর ও আত্মাকে এর অপবিত্রতা ও কলুষতা থেকে পবিত্র করতে সকল আসমানি পয়গাম অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢١)
ثالثاً: حسم مادة الغلو في أي ناحية من نواحي الدين العقائدية والتشريعية. قال تعالى: {يا أهل الكتاب لا تغلو في دينكم ولا تقولوا على الله إلا الحق} سورة النساء، آية (171) . وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم إنما أنا عبد فقولوا عبد الله ورسوله" (1) .

آمن هذا الإمام - وهو الحق - "بأن التوحيد هو سر القرآن ولب الإيمان" فهو حري بأن توضح قواعده وأن تنوع فيه العبارات بوجوه الدلالات. حتى ترسخ عقيدة التوحيد واضحة جلية في نفوس وعقول الأمة الإسلامية، ويزول الغبش واللبس وتنقشع سحب الظلام التي تعكسها كتابات وأعمال ودعايات من لا يدري ما هو التوحيد، وما هو الشرك فلا يعرفون ذلك من الكتاب ولا من السنة ولا من واقع الصحابة والتابعين لهم بإحسان فهم أبعد الناس وأعجزهم عن استخراج القواعد والمقاصد، لأصل دين الله - توحيد الله وإخلاص العبادة له وتطهيره من شوائب الشرك والضلال.

انطلق شيخ الإسلام في هذا الكتاب وغيره من مصنفاته العظيمة لتحقيق هذه الغايات الكبيرة، وهي منطلق جميع الأنبياء لتقرير التوحيد بكل أنواعه وقواعده وكلياته وجزئياته، ولحسم مادة الشرك بكل أنواعه وأسبابه ووسائله، وسد أبواب الغلو وذرائعه.

وانطلق خصومه وخصوم دعوة الأنبياء من منطلق خصوم الأنبياء:

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري 6/478 حديث رقم (3445) .
তৃতীয়ত: আকীদাগত এবং বিধানগত দীনের যেকোনো ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন বা সীমালঙ্ঘনের মূল উপাদান নির্মূল করা। মহান আল্লাহ বলেন: {হে কিতাবধারীগণ, তোমরা তোমাদের দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর সম্বন্ধে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না} সূরা আন-নিসা, আয়াত (১৭১)। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার এমন প্রশংসা করো না যেমন খ্রিস্টানরা ইবনে মারইয়ামের (ঈসা আলাইহিস সালাম) অতি প্রশংসা করেছিল। আমি তো কেবল একজন বান্দা, সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" (১)

এই ইমাম বিশ্বাস করতেন - এবং এটিই সত্য - যে "তাওহিদ হলো কুরআনের রহস্য এবং ঈমানের নির্যাস।" তাই এর মূলনীতিসমূহ স্পষ্ট করা এবং বিভিন্ন দালিলিক দিক থেকে এর ভাষ্যে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। যেন তাওহিদের আকিদা মুসলিম উম্মাহর অন্তরে ও মস্তিষ্কে সুষ্পষ্ট ও উজ্জ্বল হয়ে বদ্ধমূল হয়, এবং সকল অস্পষ্টতা ও সংশয় দূর হয়ে যায়। সেই অন্ধকারের মেঘমালা যেন কেটে যায় যা তাদের লেখা, কাজ ও প্রচারণার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় যারা তাওহিদ কী এবং শিরক কী সে সম্পর্কে জানে না। তারা কিতাব, সুন্নাহ কিংবা সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের জীবন থেকে এ সম্পর্কে কিছুই জানে না। আল্লাহর দীনের মূলভিত্তি—অর্থাৎ আল্লাহর তাওহিদ, তাঁর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা এবং শিরক ও গোমরাহির পঙ্কিলতা থেকে একে পবিত্র করার ক্ষেত্রে মূলনীতি ও উদ্দেশ্যসমূহ আহরণ করতে তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দূরবর্তী ও অক্ষম।

শাইখুল ইসলাম এই কিতাবে এবং তাঁর অন্যান্য মহান গ্রন্থাবলিতে এই সুমহান লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য কাজ করেছেন, যা ছিল মূলত সকল নবী-রাসূলদের কর্মপন্থা; অর্থাৎ তাওহিদকে এর সকল প্রকার, মূলনীতি, সামগ্রিক ও আংশিক বিষয়সহ প্রতিষ্ঠিত করা এবং শিরকের সকল প্রকার, কারণ ও মাধ্যমকে সমূলে উৎপাটিত করা এবং সীমালঙ্ঘনের সকল পথ ও উপায় রুদ্ধ করে দেওয়া।

পক্ষান্তরে, তাঁর বিরোধীরা এবং নবীদের দাওয়াতের বিরোধীরা ঠিক নবী-রাসূলদের শত্রুদের পথেই পরিচালিত হয়েছে:

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন ৬/৪৭৮, হাদিস নম্বর (৩৪৪৫)।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
تغيظهم الدعوة إلى توحيد الله وإفراده سبحانه بالعبادة رغبة ورهبة وتوكلاً.

وتغيظهم الدعوة إلى وصف الله بما وصف به نفسه من صفات الكمال والجلال في كتابه ووصفه به رسوله في سنته وآمن به سادة هذه الأمة وخير قرونها الصحابة والتابعون لهم بإحسان.

وتغيظهم الدعوة إلى هدم الشرك وحسم مواده وسد أبوابه وذرائعه.

وتزعجهم الدعوة إلى حسم باب الغلو الذي أهلك الأمم قبلنا ليقودوا هذه الأمة بمقاوماتهم للحق في كل هذه الميادين من هلاك إلى هلاك ومن هزيمة إلى هزيمة ومن دمار إلى دمار في دينهم ودنياهم.

والفرق بين هذا الإمام الموحد المخلص وبين خصومه أنه رحمه الله يجعل من الكلام في التوسل والبحث فيه منطلقا إلى تحقيق التوحيد وإخلاصه لله وحده ودحض الشرك، والقضاء على وسائله وأسبابه. وخصومه يجعلون من التوسل منطلقاً إلى الشرك بالله وهدم قواعد التوحيد وتحريف نصوصه دفاعاً عن الشرك وذرائعه تحت ستار حب النبي صلى الله عليه وسلم والأولياء والصالحين، والدفاع في زعمهم عن مكانتهم التي زين لهم الشيطان أن الدعوة إلى توحيد الله وإلى إخلاص العبادة له والدعوة إلى محاربة الشرك في كل مظاهره تعني الحط من مكانة الأنبياء والأولياء.

ولكل قوم سلف فقد كان نوح يدعو إلى التوحيد ويحارب الشرك ولو كان بالصالحين كود وسواع ويغوث ويعوق وقد كان قومه الضالون يدافعون عن الشرك تحت شعار حب هؤلاء الصالحين ود
আল্লাহর তাওহিদ এবং আশা, ভয় ও ভরসার সাথে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার দাওয়াত তাদের ক্ষুব্ধ করে।

আর তাদের ক্ষুব্ধ করে আল্লাহকে সেই সকল পূর্ণতা ও মহিমার গুণাবলিতে গুণান্বিত করার দাওয়াত, যার মাধ্যমে তিনি স্বীয় কিতাবে নিজেকে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর রাসূল তাঁর সুন্নাহতে তাঁকে গুণান্বিত করেছেন এবং এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ তথা সাহাবী ও ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়িগণ যার ওপর ঈমান এনেছেন।

আর তাদের ক্ষুব্ধ করে শিরককে সমূলে বিনাশ করার, এর মূল উৎসসমূহ উচ্ছেদ করার এবং এর সকল পথ ও মাধ্যম বন্ধ করার দাওয়াত।

আর তাদের বিরক্ত করে সীমালঙ্ঘনের (গুলু) পথ রুদ্ধ করার দাওয়াত, যা আমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোকে ধ্বংস করেছিল; যেন তারা সত্যের এই সকল ক্ষেত্রে বিরোধিতার মাধ্যমে এই উম্মতকে এক ধ্বংস থেকে অন্য ধ্বংসের দিকে, এক পরাজয় থেকে অন্য পরাজয়ের দিকে এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার এক বিপর্যয় থেকে অন্য বিপর্যয়ের দিকে পরিচালিত করতে পারে।

আর এই নিষ্ঠাবান একত্ববাদী (মুওয়াহহিদ) ইমাম এবং তাঁর বিরোধীদের মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাওয়াসসুল বিষয়ক আলোচনা ও গবেষণাকে তাওহিদ প্রতিষ্ঠা, একমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে বিশুদ্ধ করা, শিরক খণ্ডন এবং শিরকের সকল উপায় ও উপকরণ নির্মূল করার প্রারম্ভিক বিন্দু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। পক্ষান্তরে তাঁর বিরোধীরা তাওয়াসসুলকে আল্লাহর সাথে শিরক করা, তাওহিদের মূলনীতিসমূহ চূর্ণ করা এবং শিরক ও এর মাধ্যমগুলোর প্রতিরক্ষায় দলিলসমূহের অপব্যাখ্যা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), ওলী এবং নেককারদের প্রতি ভালোবাসার আবরণে এসব করে। তাদের ধারণা অনুযায়ী তারা তাদের উচ্চ মর্যাদার প্রতিরক্ষা করছে, অথচ শয়তান তাদের নিকট এই বিষয়টিকে সুশোভিত করেছে যে, আল্লাহর তাওহিদের দিকে দাওয়াত দেওয়া, একমাত্র তাঁরই জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা এবং শিরকের সকল রূপের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার অর্থ হলো নবী ও ওলীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা।

আর প্রতিটি জাতিরই পূর্বসূরি থাকে; নূহ (আলাইহিস সালাম) তাওহিদের দাওয়াত দিতেন এবং শিরকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন, এমনকি তা যদি ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস এবং ইয়াউকের মতো নেককার ব্যক্তিদের কেন্দ্র করে শিরক হতো। আর তাঁর পথভ্রষ্ট কওম এই নেককার ব্যক্তিদের ভালোবাসার স্লোগান দিয়ে শিরকের পক্ষে প্রতিরক্ষা করত এবং...
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وسواع … إلخ ولقد قالوا في حماس: {وقالوا لا تذرن آلهتكم ولا تذرن ودًّا ولا سواعًا ولا يغوث ويعوق ونسرًا} سورة نوح، آية (23) .

إن هذا الإمام المجاهد المناضل عن التوحيد والحق قد وقف حياته للدعوة إلى الحق في ميادينه مدافعًا عنه بكل ما منحه الله من طاقات ومواهب، واضعًا نصب عينيه كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وما أُثِر عن السلف الصالح من الصحابة والتابعين لهم بإحسان في مجال العقيدة والعبادة والتشريع وسائر الميادين الإسلامية، وفي هذا الكتاب الجليل قد عالج القضايا الآتية:

1 - التوسل وأنواعه وأشياء تتعلق وترتبط به.

2 - الشفاعة بأنواعها وأشياء تجر إليها من لا يفهم.

3 - الدعاء بأنواعه.

مفرقاً فيها بين الحق والباطل والهدى والضلال بالأدلة الواضحة والحجج الساطعة.
এবং সুওয়া' … ইত্যাদি এবং তারা প্রবল উৎসাহের সাথে বলেছিল: {আর তারা বলল, 'তোমরা কখনো তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না; আর পরিত্যাগ করো না ওয়াদ, সুওয়া', ইয়াগুস, ইয়াঊক ও নাসরকে।'} সূরা নূহ, আয়াত (২৩)।

নিশ্চয়ই তাওহীদ ও হকের পক্ষে সংগ্রামকারী এই মুজাহিদ ইমাম তাঁর জীবনকে হকের পথে দাওয়াতের জন্য উৎসর্গ করেছেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সকল শক্তি ও মেধা দিয়ে এর প্রতিরক্ষা করেছেন। তিনি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে এবং আকীদা, ইবাদাত, শরীয়াহ ও ইসলামের অন্যান্য ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী সালাফে সালেহীন থেকে বর্ণিত বিষয়সমূহকে সর্বদা নিজের চোখের সামনে রেখেছেন। এই মহান গ্রন্থে তিনি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন:

১ - তাওয়াসসুল, এর প্রকারভেদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ও সম্পর্কযুক্ত বিষয়াদি।

২ - শাফায়াত বা সুপারিশের প্রকারভেদ এবং এমন কিছু বিষয় যা অজ্ঞ ব্যক্তিদের সেদিকে টেনে নিয়ে যায়।

৩ - দোয়ার প্রকারভেদ।

যেখানে তিনি সুস্পষ্ট প্রমাণ ও প্রোজ্জ্বল দলিলের মাধ্যমে হক ও বাতিল এবং হেদায়েত ও গোমরাহির মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
‌‌منهج شيخ الإسلام في هذا الكتاب

إن هذا الإمام واسع الاطلاع، طويل الباع، عميق الفهم فهو الإمام الفذ في التفسير وعلومه، والحافظ الناقد في الحديث وعلومه، وهو الفقيه المبرز والأصولي المتمكن، والمجتهد المطلق، والعالم بالملل والنحل، والمنطق والفلسفة والتصوف والكلام، والعارف بأباطيلها وزيفها وغشها وخداعها.

عرف العلوم المسماة بالعقلية أكثر من أهلها المختصين فيها وعرف عيوبها وزيفها وخطرها وما تؤدي إليه من ضلال وهلاك، فوجه ما حباه الله به من طاقات، فزلزل قواعدها، ودك معاقلها.

وعرف التصوف وما ينطوي عليه من شرور وخرافات وأباطيل واصطلاحات فاسدة ومغالطات تفسد وتدمر الدين والعقل، فثلَّ عروشه ودمر قواعده، وكشف تلك المغالطات بالحجج الواضحة والبراهين الساطعة.

وخرج من معاركه العلمية والجهادية ظافرًا منتصرًا انتصاراً حاسماً فلا ترى لخصومه إلى يومنا هذا إلا معارك فاشلة وحججاً متهاوية وكلاماً فارغاً إلا من المغالطات التي لا تنطلي إلا على الأغبياء.

ومن علامات هزائمهم أن كثيراً منهم يتظاهرون بمدحه واحترامه، ثم يكيدون لدعوته إلى التوحيد بنقل ما يزعمون أنه يؤيد باطلهم من كلامه بعد بتره وتشويهه.

هذا ما يقال بصفة إجمالية بالنسبة لجهوده في مؤلفاته الجليلة.
এই কিতাবে শাইখুল ইসলামের মানহাজ (পদ্ধতি)

নিশ্চয়ই এই ইমাম সুদূরপ্রসারী পাণ্ডিত্য, সুদীর্ঘ কর্মতৎপরতা এবং গভীর অনুধাবন ক্ষমতার অধিকারী। তিনি তাফসীর ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞানবিজ্ঞানে এক অনন্য ইমাম, হাদীস ও এর উলুমসমূহে একজন পারদর্শী সমালোচক হাফিয। তিনি একজন প্রথিতযশা ফকীহ, পারদর্শী উসূলবিদ এবং একজন মুজতাহিদে মুতলাক (স্বাধীন মুজতাহিদ)। তিনি বিভিন্ন ধর্ম ও উপদল, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন, তাসাউফ ও ইলমুল কালাম সম্পর্কে সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং এগুলোর অসারতা, কৃত্রিমতা, প্রবঞ্চনা ও প্রতারণা সম্পর্কে সম্যক অবগত।

তিনি তথাকথিত আকলী (বিবেচনাপ্রসূত) শাস্ত্রসমূহ সম্পর্কে সেই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের চেয়েও অধিক অবগত ছিলেন এবং এগুলোর ত্রুটি, অসারতা ও বিপদ সম্পর্কে জানতেন, যা মূলত পথভ্রষ্টতা ও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই আল্লাহ তাঁকে যে সক্ষমতা দান করেছিলেন, তা দিয়ে তিনি এগুলোর মূল ভিত্তিগুলোকে প্রকম্পিত করেছেন এবং এগুলোর দুর্গকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন।

তিনি তাসাউফ এবং এর অন্তর্ভুক্ত অনিষ্ট, কুসংস্কার, বাতিল বিষয়াদি, ভ্রান্ত পরিভাষা ও বিভ্রান্তি সম্পর্কে অবগত ছিলেন যা দীন ও বিবেককে কলুষিত ও ধ্বংস করে। ফলে তিনি এর সিংহাসনকে চূর্ণ করেছেন, এর ভিত্তি ধ্বংস করেছেন এবং সুস্পষ্ট দলিল ও উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে সেই বিভ্রান্তিগুলোকে উন্মোচিত করেছেন।

তিনি তাঁর ইলমী ও জিহাদী লড়াইসমূহ থেকে চূড়ান্তভাবে জয়ী ও বিজয়ী হয়ে বের হয়ে এসেছেন। তাই আজ পর্যন্ত তাঁর বিরোধীদের কেবল ব্যর্থ লড়াই, ভেঙে পড়া যুক্তি এবং বিভ্রান্তিপূর্ণ অন্তঃসারশূন্য কথাবার্তাই চোখে পড়ে, যা কেবল নির্বোধদের পক্ষেই গ্রহণ করা সম্ভব।

তাদের পরাজয়ের অন্যতম লক্ষণ হলো, তাদের অনেকে বাহ্যিকভাবে তাঁর প্রশংসা ও সম্মান প্রদর্শন করে, অতঃপর তাঁর বক্তব্যকে কর্তন ও বিকৃত করে তাদের বাতিল মতাদর্শের সপক্ষে ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁর তাওহীদের দাওয়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

তাঁর মহান গ্রন্থসমূহে তাঁর প্রচেষ্টার বিষয়ে এটিই হলো একটি সামগ্রিক সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
أَمَّا منهجه في هذا الكتاب فإنه يعرض القضية من القضايا ويدرسها من كل النواحي التي تتطلبها الدراسات العلمية؛ من الناحية اللغوية والتفسيرية والحديثية والتأريخية والأصولية والفقهية، ويضرب الأمثال، ويقرب النظير من الأمور إلى نظيره بطريقة فذة تدل على غزارة علمه وقوة استحضاره وقدرته على استحضار الأمثال والأشباه من المسائل وهذا شأنه في جميع مؤلفاته رحمه الله.

وإنني لأعترف أنني لم أوف هذا الكتاب حقه من الدراسة لأسباب منها؛ خوف الإطالة وضيق وقتي، فأجتزئ بنماذج من منهجه الفذ في هذا الكتاب القيم.

قال رحمه الله فيما يتعلق بلفظ التوسل فقرة (236) : "إذا عرف هذا فقد تبين أن لفظ الوسيلة والتوسل فيه إجمال واشتباه يجب أن تعرف معانيه ويعطى كل ذي حق حقه، فيعرف ما ورد به الكتاب والسنة من ذلك ومعناه، وما كان يتكلم به الصحابة، ويفعلونه ومعنى ذلك، ويعرف ما أحدثه المحدثون في هذا اللفظ ومعناه. فإن كثيراً من اضطراب الناس في هذا الباب هو بسبب ما وقع فيه من الإجمال والاشتراك في الألفاظ ومعانيها حتى تجد أكثرهم لا يعرف في هذا الباب فصل الخطاب".

ثم بين معاني التوسل والوسيلة في لغة القرآن والسنة وكلام الصحابة وأن من أعظم معاني التوسل التقرب إلى الله بالإيمان بالله ورسله وكتبه واليوم الآخر والقيام بكل واجب ومستحب أمر الله به ورسله، وطاعة الرسول في كل ما أمر به ونهى عنه، وأن من معانيه: التوسل إلى الله بدعائه وشفاعته في حياته في الدنيا وبدعائه وشفاعته في
এই কিতাবে তাঁর কর্মপদ্ধতির কথা বললে বলতে হয় যে, তিনি কোনো একটি বিষয় উত্থাপন করেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় সকল দিক থেকে তা পর্যালোচনা করেন; ভাষাগত, তাফসির সংক্রান্ত, হাদিস সংক্রান্ত, ঐতিহাসিক, মূলনীতি সংক্রান্ত এবং ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে। তিনি উদাহরণ পেশ করেন এবং অত্যন্ত অনন্য পদ্ধতিতে এক বিষয়ের সাথে অন্য সদৃশ বিষয়ের তুলনা করেন, যা তাঁর জ্ঞানের গভীরতা, প্রখর স্মৃতিশক্তি এবং মাসআলাসমূহের দৃষ্টান্ত ও সদৃশ বিষয়গুলো উপস্থিত করার ক্ষমতার প্রমাণ দেয়। তাঁর সকল রচনার ক্ষেত্রেই এটি তাঁর বৈশিষ্ট্য, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

আমি স্বীকার করছি যে, কয়েকটি কারণে আমি এই কিতাবটির পর্যালোচনার হক পুরোপুরি আদায় করতে পারিনি; যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার ভয় এবং সময়ের স্বল্পতা। তাই আমি এই মূল্যবান কিতাবটিতে তাঁর অনন্য কর্মপদ্ধতির কিছু নমুনা উপস্থাপন করেই ক্ষান্ত হচ্ছি।

তাওয়াসসুল শব্দ প্রসঙ্গে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ২৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলেন: "যখন এটি জানা গেল, তখন স্পষ্ট হলো যে, 'ওয়াসিলা' এবং 'তাওয়াসসুল' শব্দের মধ্যে অস্পষ্টতা ও সংশয় রয়েছে। তাই এগুলোর অর্থ জানা এবং প্রতিটি হকদারকে তার প্রাপ্য হক প্রদান করা আবশ্যক। কুরআন ও সুন্নাহতে এ ব্যাপারে কী বর্ণিত হয়েছে এবং তার অর্থ কী, আর সাহাবিগণ কী বলতেন ও কী করতেন এবং তার অর্থ কী—তা জানতে হবে। একইভাবে এই শব্দ ও অর্থের ক্ষেত্রে পরবর্তীকালের লোকেরা যে নতুনত্ব উদ্ভাবন করেছে তাও জানতে হবে। কেননা এই বিষয়ে মানুষের অধিকাংশ বিভ্রান্তির কারণ হলো শব্দের অর্থ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থবোধকতা। এমনকি আপনি তাদের অধিকাংশকেই দেখবেন যে তারা এই বিষয়ে সঠিক মীমাংসা জানে না।"

অতঃপর তিনি কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষা এবং সাহাবিদের বক্তব্যে তাওয়াসসুল ও ওয়াসিলার অর্থসমূহ বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাওয়াসসুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্থ হলো আল্লাহ, তাঁর রাসুলগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং পরকালের প্রতি ইমানের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণ যে সকল ওয়াজিব ও মুস্তাহাব কাজের নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করা। এছাড়া রাসুল যা কিছু নির্দেশ দিয়েছেন এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্য করা। এর আরও কিছু অর্থের মধ্যে রয়েছে: দুনিয়ার জীবনে তাঁর দুআ ও সুপারিশের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট তাওয়াসসুল করা এবং তাঁর দুআ ও সুপারিশের মাধ্যমে...
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الحياة الأخرى وأثبت له أنواعاً من الشفاعة منها الشفاعة العظمى، وأن الصحابة إذا أطلقوا لفظ التوسل إنما يريدون به هذا.

وأن التوسل في عرف كثير من المتأخرين يراد به الإقسام به، والسؤال به كما يقسمون ويسألون بغيره من الأنبياء والصالحين ومن يعتقدون فيه الصلاح.

وهذا هو التوسل المحدث المبتدع، والذي ليس له أصل في الكتاب والسنة ولا في عرف الصحابة ومن اتبعهم بإحسان وقد بين كل هذه الأنواع بياناً شافياً مفرقاً فيها بين الحق والباطل، هذه فكرة إجمالية عن موضوع الكتاب الأساسي.

وله جولات تتخلل بحوثه ومناقشاته العلمية؛ لغوية وتفسيرية وأصولية وفقهية وانتقادات حديثية وإلزامات جدلية يدعم بها وجهات نظره التي هداه الله إليها وسدد خطاه فيها.

قال رحمه الله وهو ينتقد قصة المنصور مع مالك:

1 - من جهة الإسناد:

فقرة (384) : "ثم ذكر حكاية - يعني القاضي عياضا - بإسناد غريب منقطع رواها عن غير واحد إجازة، ثم ذكر إسناده إلى محمد بن حميد الرازي وساق القصة إلى قوله: فقال - أي المنصور -: يا أبا عبد الله أستقبل القبلة وأدعوا أم أستقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم؟. فقال: ولم تصرف وجهك عنه؟ وهو وسيلتك ووسيلة أبيك آدم عليه السلام إلى الله يوم القيامة بل استقبله واستشفع به فيشفعك الله.
পরকালীন জীবন এবং তিনি তাঁর জন্য বিভিন্ন প্রকার সুপারিশ সাব্যস্ত করেছেন যার মধ্যে রয়েছে মহান সুপারিশ; আর সাহাবীগণ যখন তাওয়াসসুল শব্দটি প্রয়োগ করতেন, তখন তাঁরা এটিই বুঝাতেন।

আর পরবর্তী যুগের অনেকের পরিভাষায় তাওয়াসসুল বলতে তাঁর মাধ্যমে শপথ করা এবং তাঁর মাধ্যমে প্রার্থনা করা বুঝায়, যেমনভাবে তারা অন্য নবী, নেককার ব্যক্তি এবং যাদের তারা নেককার বলে বিশ্বাস করে তাদের মাধ্যমে শপথ করে ও প্রার্থনা করে থাকে।

আর এটিই হলো নব উদ্ভাবিত ও বিদআতী তাওয়াসসুল, যার কোনো ভিত্তি কিতাব ও সুন্নাহতে নেই এবং সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের পরিভাষাতেও নেই। তিনি এই সকল প্রকারকে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এগুলোর মধ্যে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। এটিই কিতাবটির মূল বিষয়ের একটি সামগ্রিক ধারণা।

তাঁর বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পর্যালোচনার মাঝে রয়েছে বিভিন্নমুখী বিচরণ; যা ভাষাগত, তাফসীর সংক্রান্ত, উসূল সংক্রান্ত, ফিকহ সংক্রান্ত, হাদীস বিষয়ক সমালোচনা এবং যুক্তিনির্ভর প্রমাণাদি সমৃদ্ধ, যার মাধ্যমে তিনি তাঁর সেই দৃষ্টিভঙ্গিগুলোকে সমর্থন করেছেন যেগুলোর প্রতি আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাঁর পদক্ষেপকে সঠিক করেছেন।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আল-মানসুরের সাথে ইমাম মালিকের ঘটনাটির সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন:

১ - সনদের দিক থেকে:

অনুচ্ছেদ (৩৮৪): "অতঃপর তিনি—অর্থাৎ কাজী আয়াজ—একটি বিরল ও বিচ্ছিন্ন সনদে একটি কাহিনী উল্লেখ করেছেন যা তিনি এজাযত সূত্রে অনেকের কাছ থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি মুহাম্মদ বিন হুমাইদ আর-রাযী পর্যন্ত তাঁর সনদটি উল্লেখ করেছেন এবং কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন এই পর্যন্ত যে: তিনি—অর্থাৎ আল-মানসুর—বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! আমি কি কিবলার দিকে মুখ করে দোয়া করব নাকি আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর দিকে মুখ করে? তিনি (ইমাম মালিক) বললেন: আপনি কেন আপনার মুখ তাঁর থেকে ফিরিয়ে নেবেন? অথচ তিনি আপনার এবং কিয়ামতের দিন আপনার পিতা আদম (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর আল্লাহর নিকট পৌঁছানোর মাধ্যম। বরং আপনি তাঁর দিকেই মুখ করুন এবং তাঁর নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করুন, তবে আল্লাহ আপনার জন্য তাঁর সুপারিশ কবুল করবেন।"
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
قال تعالى: {ولو أنهم إذ ظلموا أنفسهم جاؤوك فاستغفروا الله واستغفر لهم الرسول لوجدوا الله تواباً رحيما} سورة النساء، آية (64) .

قال شيخ الإسلام رحمه الله فقرة (385) : "قلت:

أ - وهذه الحكاية منقطعة فإن محمد بن حميد الرازي لم يدرك مالكاً، لا سيما في زمن أبي جعفر المنصور فإن أبا جعفر توفي بمكة سنة ثمان وخمسين ومائة وتوفي محمد بن حميد الرازي سنة ثمان وأربعين ومائتين.

ولم يخرج من بلده حتى رحل في طلب العلم إلا وهو كبير مع أبيه.

ب - وهو مع ذلك ضعيف عند أكثر أهل الحديث كذبه أبو زرعة وابن وارة.

وقال صالح بن محمد الأسدي: "ما رأيت أحدًا أجرأ على الله منه، وأحذق بالكذب منه".

وقال يعقوب بن شيبة: كثير المناكير.

وقال النسائي: ليس بثقة.

وقال ابن حبان: ينفرد عن الثقات بالمقلوبات.

ج - وفي الإسناد أيضاً من لا يعرف حاله.

د - وهذه الحكاية لم يذكرها أحد من أصحاب مالك المعروفين بالأخذ عنه.
মহান আল্লাহ বলেন: "আর তারা যখন নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল, তখন যদি তারা আপনার কাছে আসত এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত আর রসূলও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, তবে তারা অবশ্যই আল্লাহকে তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু হিসেবে পেত।" (সূরা আন-নিসা, আয়াত ৬৪)।

শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) অনুচ্ছেদ (৩৮৫)-এ বলেছেন: "আমি বলছি:

ক - এই বর্ণনাটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি'), কারণ মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আর-রাজি ইমাম মালিকের সাক্ষাৎ পাননি, বিশেষ করে আবু জাফর আল-মানসুরের সময়ে তো নয়ই। কারণ আবু জাফর একশ আটান্ন হিজরিতে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন এবং মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আর-রাজি দুইশ আটচল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে দেশভ্রমণের আগ পর্যন্ত তার শহর থেকে বের হননি, আর যখন বের হয়েছিলেন তখন তিনি তার পিতার সাথে প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।

খ - এর পাশাপাশি তিনি অধিকাংশ হাদীস বিশারদদের নিকট দুর্বল; আবু জুরআ এবং ইবনে ওয়ারা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন।

সালিহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আসাদি বলেছেন: "আমি আল্লাহর ব্যাপারে তার চেয়ে দুঃসাহসী এবং মিথ্যা বলায় তার চেয়ে পটু কাউকে দেখিনি।"

ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ বলেছেন: তার বর্ণিত অনেক হাদীস মুনকার (অগ্রহণযোগ্য)।

ইমাম নাসাঈ বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য নয়।

ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে উলটপালট (মাকলুব) বর্ণনায় একাকী হয়ে পড়ে।

গ - আর এই সনদে এমন ব্যক্তিও রয়েছে যার অবস্থা অজ্ঞাত।

ঘ - আর এই বর্ণনাটি ইমাম মালিকের কোনো প্রসিদ্ধ ছাত্র—যারা তাঁর থেকে জ্ঞান গ্রহণের জন্য সুপরিচিত—তাদের কেউ উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
ومحمد بن حميد ضعيف عند أهل الحديث إذا أسند فكيف إذا أرسل حكاية لا تعرف إلا من جهته".

هذه أربع علل تقدح في ثبوت هذه الحكاية من جهة الإسناد، كل واحدة منها كافية لردها:

الأولى: الانقطاع بين محمد بن حميد وبين مالك.

والثانية: الطعن في عدالته فهو ضعيف من جهة عدالته بل رمي بالكذب من أئمة معتبرين.

والثالثة: تفرد هذا الرجل المطعون في عدالته بهذه الحكاية عن أصحاب مالك على كثرة عددهم وعدالتهم وملازمتهم لمالك.

والرابعة: جهالة بعض رواة هذه القصة.

2 - ثم يردها من وجه آخر وهو طريقة أصحاب مالك وشروطهم في قبول المسائل الفقهية البحته فكيف بالمسائل الفقهية العقدية التي تناقض مذهبه مناقضة صريحة.

فقال: "وأصحاب مالك متفقون على أنه بمثل هذا النقل لا يثبت عن مالك قول له في مسألة في الفقه. بل إذا روى عنه الشاميون كالوليد ابن مسلم ومروان بن محمد الطاطري ضعفوا رواية هؤلاء، وإنما يعتمدون على رواية المدنيين والمصريين فكيف بحكاية تناقض مذهبه المعروف عنه من وجوه، رواها واحد من الخراسانيين لم يدركه، وهو ضعيف عند أهل الحديث" الفقرة (386) .

3 - ثم إن ما يتعلق به المجيزون للتوسل بالجاه وبالذوات لا دليل
"এবং মুহাম্মদ বিন হুমাইদ হাদিস বিশারদদের নিকট দুর্বল যখন তিনি সনদসহ বর্ণনা করেন, এমতাবস্থায় তিনি যখন এমন একটি কাহিনী বর্ণনা করেন যার কোনো সনদ নেই এবং যা কেবল তাঁর মাধ্যমেই পরিচিত, তখন তা কেমন হবে?"

সনদের দিক থেকে এই কাহিনীর নির্ভরযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এখানে চারটি ত্রুটি রয়েছে, যার প্রতিটিই এটি প্রত্যাখ্যান করার জন্য যথেষ্ট:

প্রথমত: মুহাম্মদ বিন হুমাইদ এবং মালিকের মধ্যে বর্ণনাসূত্রের বিচ্ছিন্নতা।

দ্বিতীয়ত: তাঁর ন্যায়নিষ্ঠার ব্যাপারে আপত্তি; তিনি তাঁর ন্যায়নিষ্ঠার দিক থেকে দুর্বল, এমনকি নির্ভরযোগ্য ইমামগণ তাঁকে মিথ্যাচারের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন।

তৃতীয়ত: ইমাম মালিকের অসংখ্য ন্যায়নিষ্ঠ এবং দীর্ঘকালীন সাহচর্য পাওয়া শিষ্যদের বাদ দিয়ে ন্যায়নিষ্ঠার ব্যাপারে বিতর্কিত এই ব্যক্তির একাকী এই কাহিনী বর্ণনা করা।

চতুর্থত: এই কাহিনীর কিছু বর্ণনাকারীর পরিচয় অজ্ঞাত থাকা।

২ - এরপর এটি অন্য একটি দিক থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়, আর তা হলো ইমাম মালিকের অনুসারীদের পদ্ধতি এবং বিশুদ্ধ ফিকহি মাসআলা গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের শর্তাবলি; তাহলে আকীদাহ সংক্রান্ত ফিকহি মাসআলার ক্ষেত্রে কী হবে যা তাঁর মাযহাবের স্পষ্ট বিরোধী?

তিনি বলেন: "আর মালিকের অনুসারীগণ একমত যে, এ জাতীয় বর্ণনার মাধ্যমে ফিকহের কোনো মাসআলায় মালিকের কোনো উক্তি প্রমাণিত হয় না। বরং যখন সিরীয় বর্ণনাকারীগণ যেমন ওয়ালীদ ইবনে মুসলিম এবং মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আত-তাতারি তাঁর থেকে বর্ণনা করেন, তখন তাঁরা তাঁদের বর্ণনাকেও দুর্বল গণ্য করেন; তাঁরা কেবল মদীনাবাসী ও মিশরীয়দের বর্ণনার ওপর নির্ভর করেন। তাহলে এমন একটি কাহিনীর ব্যাপারে কী হবে যা বিভিন্ন দিক থেকে তাঁর সুপরিচিত মাযহাবের বিরোধী, এবং যা খুরাসানীদের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যিনি তাঁর সাক্ষাৎ পাননি এবং যিনি হাদিস বিশারদদের নিকট দুর্বল।" অনুচ্ছেদ (৩৮৬) ।

৩ - অতঃপর মর্যাদা এবং সত্তার অসিলায় মাধ্যম গ্রহণ করার প্রবক্তারা যে বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করেন, তার কোনো দলিল নেই
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
لهم في هذه الحكاية التي تعلقوا بها، فيقول في الفقرة (387) (1) :

"مع أن قوله: وهو وسيلتك ووسيلة أبيك آدم عليه السلام يوم القيامة" إنما يدل على توسل آدم وذريته يوم القيامة، وهذا هو التوسل بشفاعته يوم القيامة وهذا حق كما جاءت به الأحاديث الصحيحة وساق حديثاً من أحاديث الشفاعة.

4 - مناقضتها لمذهب مالك المعروف عنه من وجوه أحدها: قوله: "أستقبل القبلة وأدعوا أم أستقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم وأدعو؟ ".

فقال: - أي مالك - "ولم تصرف وجهك عنه وهو وسيلتك ووسيلة آبيك آدم".

فإن المعروف عن مالك وغيره من الأئمة وسائر السلف من الصحابة والتابعين، أن الداعي إذا سلم على النبي صلى الله عليه وسلم، ثم أراد أن يدعو لنفسه فإنه يستقبل القبلة، ويدعو في مسجده، ولا يستقبل القبر ويدعو لنفسه بل إنما يستقبل القبر عند السلام على النبي صلى الله عليه وسلم والدعاء له.

هذا قول أكثر العلماء كمالك في إحدى الروايتين والشافعي وأحمد وغيرهم.

--------------------------------------------

(1) استمر هذا النقاش إلى مسافة طويلة إلى الفقرة (448) فاخترت بعض الفقرات نموذجاً لمعالجته القضايا التي يخالفه فيها خصومه، حيث يتعلقون بشبه واهية وحكايات باطلة، بينما هو يغترف من بحر من العلوم الإسلامية، فيدعم مذهبه بالكتاب، والسنة، والتاريخ، ومذاهب الصحابة والتابعين والأئمة، والقواعد الأصولية والحديثية واللغوية. ويؤيد كل ذلك بمناقضة ما يتعلقون به من شبهات وحكايات لمذاهب السلف من الصحابة فمن بعدهم خصوصاً الإمام مالك الذي نسبت إليه هذه الحكاية الباطلة.
এই কাহিনীতে তাদের জন্য যা রয়েছে যা তারা অবলম্বন করেছে, অতঃপর তিনি (৩৮৭) নং অনুচ্ছেদে (১) বলেন:

"যদিও তাঁর এই উক্তি: 'তিনি কিয়ামতের দিন আপনার এবং আপনার পিতা আদম আলাইহিস সালামের অসিলা' - এটি কেবল কিয়ামতের দিন আদম এবং তাঁর সন্তানদের অসিলা গ্রহণকেই নির্দেশ করে। আর এটি হলো কিয়ামতের দিন তাঁর সুপারিশের মাধ্যমে অসিলা গ্রহণ করা, যা সত্য এবং সহিহ হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। এরপর তিনি সুপারিশ সংক্রান্ত একটি হাদিস উল্লেখ করেন।"

৪ - এটি ইমাম মালিকের নিকট থেকে সুপরিচিত তাঁর মাজহাবের পরিপন্থী হওয়ার বিভিন্ন দিক রয়েছে, যার একটি হলো: তাঁর উক্তি: "আমি কি কিবলার দিকে মুখ করে দোয়া করব, নাকি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে মুখ করে দোয়া করব?"

তখন তিনি — অর্থাৎ মালিক — বললেন: "তুমি কেন তাঁর থেকে তোমার চেহারা ফিরিয়ে নেবে অথচ তিনি তোমার এবং তোমার পিতা আদমের অসিলা।"

কেননা মালিক এবং অন্যান্য ইমাম ও সাহাবী-তাবেয়ীদের মধ্য হতে সমস্ত সালাফের নিকট সুপরিচিত আমল হলো, দোয়াকারী যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাম পেশ করেন এবং এরপর নিজের জন্য দোয়া করতে চান, তখন তিনি কিবলার দিকে মুখ করেন এবং তাঁর মসজিদে দোয়া করেন। তিনি কবরের দিকে মুখ করে নিজের জন্য দোয়া করেন না, বরং কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর সালাম পেশ করা এবং তাঁর জন্য দোয়া করার সময় কবরের দিকে মুখ করেন।

এটিই অধিকাংশ আলিমের মত, যেমন মালিকের দুটি বর্ণনার একটিতে এবং শাফেয়ি, আহমাদ ও অন্যান্যদের মত।

--------------------------------------------

(১) এই আলোচনাটি (৪৪৮) নং অনুচ্ছেদ পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ ধরে চলেছে, তাই আমি তাঁর প্রতিপক্ষের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানের নমুনা হিসেবে কিছু অনুচ্ছেদ বেছে নিয়েছি। যেখানে তারা দুর্বল সংশয় এবং বাতিল কাহিনীর ওপর নির্ভর করে, সেখানে তিনি ইসলামি জ্ঞানের সমুদ্র থেকে আহরণ করেন এবং কুরআন, সুন্নাহ, ইতিহাস, সাহাবী, তাবেয়ী ও ইমামদের মাজহাব এবং উসুল, হাদিস ও ভাষার নিয়মাবলি দ্বারা তাঁর মাজহাবকে শক্তিশালী করেন। তিনি সাহাবী এবং পরবর্তী সালাফদের মাজহাবের সাথে তাদের সংশয় ও কাহিনীগুলোর বৈপরীত্য তুলে ধরে এই সবকিছুকে সমর্থন করেন, বিশেষ করে ইমাম মালিকের ক্ষেত্রে, যাঁর দিকে এই বাতিল কাহিনীটি সম্বন্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وعند أصحاب أبي حنيفة، لا يستقبل القبر - وقت السلام عليه - أيضاً، ثم منهم من قال: "يجعل الحجرة عن يساره، وقد رواه ابن وهب عن مالك".

ثم نقل الروايات عن مالك في هذه القضية عن القاضي عياض عن المبسوط في مذهب مالك وعن غيره ونقل أقوال أصحاب مالك رحمهم الله ونقل كلام الباجي وابن حبيب وغيرهما، واستدلالهم بالأحاديث وبفعل ابن عمر وبواقع التابعين.

5 - ثم انتهى إلى القول الآتي: "فدل ذلك على أن ما في الحكاية المنقطعة في قوله: "استقبله واستشفع به". كذبٌ على مالك مخالف لأقواله وأقوال أصحابه والتابعين وأفعالهم التي نقلها مالك وأصحابه، ونقلها سائر العلماء، إذ كان أحد منهم لم يستقبل القبر للدعاء لنفسه، فضلاً عن أن يستقبله ويستشفع به يقول له: يا رسول الله اشفع لي أو ادع لي أو يشتكي إليه المصائب في الدين والدنيا أو يطلب منه أو من غيره من الأموات من الأنبياء والصالحين، أو من الملائكة الذين لا يراهم، أن يشفعوا له أو يشتكي إليهم المصائب، فإن هذا كله من فعل النصارى وغيرهم من المشركين، ومن ضاهاهم من مبتدعي هذه الأمة ليس هذا من فعل السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان ولا مما أمر به أحد من أئمة المسلمين".

وهكذا يبطل هذه القصة من جهات عديدة: من جهة إسنادها ومتنها، ومن جهة مناقضتها للمعروف المشهور من مذهب الإمام مالك الذي نسبت إليه كذبا وبمناقضتها لمذاهب الأئمة وما كان عليه خير القرون من سلف هذه الأمة.
এবং আবু হানিফার অনুসারীদের নিকট সালাম পেশ করার সময়ও কবরের দিকে মুখ করা হবে না; অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: "হুজরা শরীফকে বাম পাশে রাখবে, আর ইবনে ওয়াহাব এটি মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন।"

এরপর তিনি এই বিষয়ে মালিক থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলো কাজী ইয়াজ-এর মাধ্যমে মালিকি মাযহাবের 'আল-মাবসুত' এবং অন্যান্য উৎস থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তিনি মালিকের অনুসারীদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) উক্তি এবং বাজি ও ইবনে হাবিবসহ অন্যদের বক্তব্যও বর্ণনা করেছেন। আর তিনি হাদিসসমূহ, ইবনে উমরের আমল এবং তাবেঈগণের বাস্তব কর্মপন্থার মাধ্যমে তাদের দলিলসমূহ তুলে ধরেছেন।

৫ - এরপর তিনি নিম্নোক্ত বক্তব্যে উপনীত হন: "এটি প্রমাণ করে যে, সেই বিচ্ছিন্ন বর্ণনায় বর্ণিত কথা—'তার দিকে মুখ করো এবং তার মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা করো'—তা ইমাম মালিকের ওপর এক মিথ্যা আরোপ, যা তাঁর নিজস্ব বক্তব্য এবং তাঁর অনুসারী ও তাবেঈগণের সেই সকল কথা ও কাজের পরিপন্থী যা মালিক নিজে এবং তাঁর অনুসারীরা বর্ণনা করেছেন, এমনকি অন্যান্য সকল আলেমও তা বর্ণনা করেছেন। কেননা তাঁদের মধ্য থেকে কেউই নিজের জন্য দুআ করার উদ্দেশ্যে কবরের দিকে মুখ করতেন না; সুতরাং তাঁর দিকে মুখ করা এবং তাঁর কাছে সুপারিশ প্রার্থনা করা তো অনেক দূরের কথা—যেমন তাঁকে বলা: 'হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য সুপারিশ করুন' অথবা 'আমার জন্য দুআ করুন', অথবা তাঁর কাছে দ্বীন ও দুনিয়ার বিপদ-আপদ নিয়ে অভিযোগ করা, অথবা তাঁর কাছে কিংবা অন্য কোনো মৃত নবী, সৎকর্মশীল ব্যক্তি বা অদৃশ্য ফেরেশতাদের কাছে সুপারিশ চাওয়া কিংবা তাঁদের কাছে বিপদ-আপদ নিয়ে অভিযোগ করা। কারণ এগুলোর সবই হলো খ্রিস্টান এবং অন্যান্য মুশরিকদের কাজ, এবং এই উম্মতের সেই বিদয়াতিদের কাজ যারা তাদের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে। এটি মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে সেই প্রথম অগ্রবর্তী ব্যক্তিবর্গ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের কাজ নয়, আর মুসলিম ইমামগণের কেউই এর নির্দেশ দেননি।"

আর এভাবেই তিনি বিভিন্ন দিক থেকে এই কাহিনীটিকে বাতিল সাব্যস্ত করেন: এর সনদ ও মতনের দিক থেকে, এবং ইমাম মালিকের মাযহাবের সেই সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ মতের সাথে বৈপরীত্যের দিক থেকে—যা মিথ্যাভাবে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছিল—এবং অন্যান্য ইমামগণের মাযহাব ও এই উম্মতের সালাফদের সেই সর্বোত্তম প্রজন্মের কর্মপন্থার সাথে এটি সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٣١)
6 - يؤكد على فساد معنى هذه الحكاية فيقول في الفقرة (432) :

"ومعلوم أن هذا لم يأمر به النبي صلى الله عليه وسلم، ولا سنه لأمته، ولا فعله أحد من الصحابة والتابعين لهم بإحسان ولا استحبه أحد من أئمة المسلمين، لا مالك ولا غيره من الأئمة فكيف يجوز أن ينسب إلى مالك مثل هذا الكلام الذي لا يقوله إلا جاهل لا يعرف الأدلة الشرعية ولا الأحكام المعلومة بأدلتها الشرعية، مع علو مالك، وعظم فضيلته وإمامته وتمام رغبته في اتباع السنة وذم البدع وأهلها وهل يأمر بهذا أو يشرعه إلا مبتدع، فلو لم يكن عن مالك قول يناقض هذا لعلم أنه لا يقوله".

7 - ثم يكر على الحكاية وعلى فساد معناها من حيث اللغة العربية فيقول في فقرة (433) : "ثم قال في الحكاية: "استقبله واستشفع به فيشفعك الله".

والاستشفاع به معناه في اللغة، أن يطلب منه الشفاعة كما يستشفع الناس به يوم القيامة، وكما كان أصحابه يستشفعون به … .

وإذا كان الاستشفاع منه طلب شفاعته، فإنما يقال في ذلك استشفع به فيشفعه الله فيك، لا يقال فيشفعك الله فيه، وهذا معروف في الكلام ولغة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وسائر العلماء.

يقال: شفع فلان في فلان فشفع فيه، فالمشفَّع الذي يشفِّعه المشفوع إليه هو الشفيع المستَشفَع به، لا السائل الطالب من غيره أن يشفع له.
৬ - তিনি এই কাহিনীর অর্থের অসারতাকে নিশ্চিত করে (৪৩২) অনুচ্ছেদে বলেন:

"আর এটি সুপরিচিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ দেননি, তাঁর উম্মতের জন্য একে সুন্নাত হিসেবেও নির্ধারণ করেননি, এবং সাহাবীগণ বা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণের কেউ এটি করেননি। মুসলিমদের ইমামগণের কেউই—না মালিক, না অন্য কোনো ইমাম—এটিকে মুস্তাহাব মনে করেননি। এমতাবস্থায় ইমাম মালিকের প্রতি এমন কথা কীভাবে আরোপ করা সম্ভব যা কেবল এমন এক জাহিলই বলতে পারে যে শরয়ী দলীল এবং সেসব দলীলের ভিত্তিতে পরিচিত আহকাম সম্পর্কে অবগত নয়? অথচ ইমাম মালিকের সুউচ্চ মর্যাদা, মহান ফযীলত ও ইমামত এবং সুন্নাহর অনুসরণে তাঁর ঐকান্তিক আগ্রহ ও বিদআত ও বিদআতিদের নিন্দায় তাঁর ভূমিকা সুবিদিত। একজন বিদআতি ছাড়া কি আর কেউ এর নির্দেশ দিতে পারে বা একে শরীয়তসম্মত করতে পারে? সুতরাং যদি ইমাম মালিক থেকে এর বিপরীত কোনো উক্তি বর্ণিত না-ও থাকতো, তবুও নিশ্চিতভাবে জানা যেত যে তিনি এমন কথা বলেননি।"

৭ - অতঃপর তিনি পুনরায় কাহিনীটির দিকে এবং আরবী ভাষার দিক থেকে এর অর্থের অসারতার দিকে ফিরে যান এবং (৪৩৩) অনুচ্ছেদে বলেন: "অতঃপর সেই কাহিনীতে বলা হয়েছে: 'তাঁর দিকে মুখ করুন এবং তাঁর মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করুন, তাহলে আল্লাহ আপনাকে সুপারিশকারী বানিয়ে দেবেন'।"

আর তাঁর মাধ্যমে শাফায়াত (সুপারিশ) কামনা করার ভাষাগত অর্থ হলো, তাঁর কাছে শাফায়াত প্রার্থনা করা, যেভাবে কিয়ামতের দিন মানুষ তাঁর কাছে শাফায়াত প্রার্থনা করবে এবং যেভাবে তাঁর সাহাবীগণ তাঁর কাছে শাফায়াত প্রার্থনা করতেন … ।

যেহেতু শাফায়াত কামনা করা মানে তাঁর কাছে শাফায়াত প্রার্থনা করা, তাই এ ক্ষেত্রে বলতে হয় 'তাঁর মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা করো তাহলে আল্লাহ তোমার ব্যাপারে তাঁর সুপারিশ কবুল করবেন', এ কথা বলা হয় না যে 'আল্লাহ তোমাকে তাঁর সুপারিশকারী বানিয়ে দেবেন'। আর এটিই সাধারণ কথাবার্তায় এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ ও অন্যান্য আলিমদের ভাষারীতিতে সুপরিচিত।

বলা হয়: অমুক ব্যক্তি অমুকের পক্ষে সুপারিশ করেছে এবং তার সুপারিশ কবুল করা হয়েছে। সুতরাং 'মুশাফফা' (যার সুপারিশ কবুল করা হয়) যাকে সুপারিশ গ্রহণকারী ব্যক্তি সুপারিশের অনুমতি দেন, তিনি হলেন সুপারিশকারী (শাফী) যার মাধ্যমে সুপারিশ চাওয়া হয়েছে; তিনি ওই সাহায্যপ্রার্থী নন যিনি অন্যের কাছে তাঁর জন্য সুপারিশ করার আবেদন করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাইদাতুন জালিলাহ ফিত তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলাহ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
8 - ويستمر في نقاش لغوي وشرعي إلى أن يقول في فقرة (441) : "ولكن هذا اللفظ الذي في الحكاية يشبه لفظ كثير من العامة الذين يستعملون لفظ الشفاعة في معنى التوسل فيقول أحدهم: اللهم إنا نستشفع إليك بفلان وفلان أي نتوسل به، ويقولون لمن توسل في دعائه بنبيٍّ أو غيره، قد تشفع به من غير أن يكون المستشفع به شفع له ولا دعا له بل وقد يكون غائباً لم يسمع كلامه ولا شفع له وهذا ليس هو لغة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وعلماء الأمة، بل ولا هو لغة العرب، فإن الاستشفاع طلب الشفاعة، والشافع هو الذي يشفع للسائل فيطلب له مايطلب من المسئول المدعو المشفوع إليه.

وأما الاستشفاع بمن لم يشفع للسائل ولا طلب له حاجة، بل وقد لا يعلم بسؤاله فليس هذا استشفاعاً لا في اللغة ولا في كلام من يدري ما يقول.

نعم هذا سؤال به.. لكن هؤلاء لما غيروا اللغة كما غيروا الشريعة وسموا هذا استشفاعًا أي سؤالا بالشافع صاروا يقولون: استشفع به فيشفعك أي يجيب سؤالك به، وهذا مما يبين أن هذه الحكاية وضعها جاهل بالشرع واللغة وأين لفظها من ألفاظ مالك.

9 - إلى أن يقول في فقرة (445) : ومن لم يعرف لغة الصحابة التي كانوا يتخاطبون بها ويخاطبهم بها النبي صلى الله عليه وسلم، وعادتهم في الكلام وإلاّ حرف الكلم عن مواضعه، فإن كثيراً من الناس ينشأ على اصطلاح قوم وعادتهم في الألفاظ، ثم يجد تلك الألفاظ في كلام الله ورسوله أو الصحابة، فيظن أن مراد الله أو رسوله أو الصحابة بتلك الألفاظ ما يريده بذلك أهل عادته واصطلاحه، ويكون مراد الله ورسوله والصحابة
8 - এবং তিনি ভাষাগত ও শরয়ি আলোচনা চালিয়ে যান যতক্ষণ না তিনি (৪৪১) অনুচ্ছেদে বলেন: "কিন্তু এই বর্ণনায় যে শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে তা সাধারণ জনগণের অনেকের শব্দের মতো, যারা শাফায়াত (সুপারিশ) শব্দটিকে তাওয়াসসুল (মাধ্যম ধরা)-এর অর্থে ব্যবহার করে। ফলে তাদের কেউ বলে: হে আল্লাহ, আমরা অমুক ও অমুকের মাধ্যমে আপনার কাছে শাফায়াত চাচ্ছি অর্থাৎ আমরা তার মাধ্যমে তাওয়াসসুল করছি। আর তারা এমন ব্যক্তিকে বলে যে তার দোয়ায় নবী বা অন্য কাউকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে যে, সে তার সুপারিশ গ্রহণ করেছে—অথচ যার সুপারিশ চাওয়া হচ্ছে সে না তার জন্য সুপারিশ করেছে, না তার জন্য দোয়া করেছে; বরং সে হয়তো অনুপস্থিত ছিল, তার কথা শোনেনি এবং তার জন্য সুপারিশও করেনি। আর এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং উম্মতের আলেমদের ভাষা নয়, এমনকি এটি আরবদের ভাষাও নয়। কেননা 'ইস্তিশফা' (সুপারিশ চাওয়া) হলো শাফায়াত বা সুপারিশ প্রার্থনা করা, আর 'শাফি' (সুপারিশকারী) হলো সেই ব্যক্তি যে আবেদনকারীর জন্য সুপারিশ করে, ফলে যার কাছে আবেদন করা হচ্ছে (যিনি আমন্ত্রিত ও যার কাছে সুপারিশ পেশ করা হচ্ছে) তার কাছে সে যা চাওয়ার তা চায়।

আর এমন ব্যক্তির মাধ্যমে সুপারিশ চাওয়া যে আবেদনকারীর জন্য সুপারিশ করেনি এবং তার কোনো প্রয়োজনে প্রার্থনা করেনি, বরং হতে পারে সে তার প্রার্থনা সম্পর্কে জানেও না—এটি ভাষাগতভাবেও 'ইস্তিশফা' বা সুপারিশ প্রার্থনা নয় এবং যারা কী বলছে তা জানে তাদের কথার মধ্যেও এটি পড়ে না।

হ্যাঁ, এটি তার মাধ্যমে চাওয়া... কিন্তু যখন তারা ভাষাকে পরিবর্তন করেছে যেভাবে তারা শরীয়তকে পরিবর্তন করেছে, এবং তারা একে 'ইস্তিশফা' বা সুপারিশ প্রার্থনা নাম দিয়েছে অর্থাৎ সুপারিশকারীর মাধ্যমে চাওয়া—তখন তারা বলতে শুরু করেছে: তার মাধ্যমে সুপারিশ চাও ফলে তিনি তোমাকে সুপারিশ করিয়ে দেবেন অর্থাৎ তার অসিলায় তোমার প্রার্থনা কবুল করবেন। আর এটিই স্পষ্ট করে যে, এই কাহিনীটি শরীয়ত ও ভাষা সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা রচিত হয়েছে, আর ইমাম মালিকের শব্দের সাথে এর শব্দের কতই না ব্যবধান!

9 - যতক্ষণ না তিনি (৪৪৫) অনুচ্ছেদে বলেন: আর যে ব্যক্তি সাহাবীদের ভাষা জানে না যার মাধ্যমে তারা একে অপরের সাথে কথা বলতেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সাথে কথা বলতেন, এবং তাদের কথাবার্তার ধরণ সম্পর্কে জানে না—তবে সে শব্দের অর্থকে তার সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করবে। কেননা অনেক মানুষ কোনো এক কওমের পরিভাষা এবং শব্দের ক্ষেত্রে তাদের অভ্যাসের ওপর বেড়ে ওঠে, এরপর সে আল্লাহর বাণী, তাঁর রাসূল বা সাহাবীদের কথায় সেই শব্দগুলো খুঁজে পায়। ফলে সে ধারণা করে যে, আল্লাহ, তাঁর রাসূল বা সাহাবীরা সেই শব্দগুলো দ্বারা সেটিই উদ্দেশ্য নিয়েছেন যা তার অভ্যস্ত সমাজ ও পরিভাষা দ্বারা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। অথচ আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও সাহাবীদের উদ্দেশ্য (হলো)