(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: -)
قاعدة تتضمن ذكر ملابس النبي وسلاحه ودوابه - القرمانية - جواب فتيا في لبس النبي القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: قاعدة تتضمن ذكر ملابس النبي صلى الله عليه وسلم وسلاحه ودوابه - القرمانية - جواب فتيا في لبس النبي صلى الله عليه وسلم
المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)
المحقق: أبو محمد أشرف بن عبد المقصود
الناشر: أضواء السلف
الطبعة: الطبعة الأولى 1422هـ - 2002م
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 69
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পোশাক, অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহন সংক্রান্ত নীতিমালা - আল-কারমানিয়্যাহ - নবীর পোশাক পরিধান সংক্রান্ত ফতোয়ার উত্তর বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
বই: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পোশাক, অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহন সংক্রান্ত নীতিমালা - আল-কারমানিয়্যাহ - নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পোশাক পরিধান সংক্রান্ত ফতোয়ার উত্তর
লেখক: তাকিউদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসেম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হাম্বলি আদ-দিমাশকি (ওফাত ৭২৮ হিজরি)
সম্পাদক: আবু মুহাম্মাদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩)
قاعدة
تتضمّن ذكر مَلَابِس النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَسِلَاحه ودَوَابّه
القَرْمَانِيَّة
جَوَابُ فُتيَا فِي لِبْس النَّبي صلى الله عليه وسلم
تأليف
شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن تيمية
المتوفى سنة 728 هـ رحمه الله تعالى
تحقيق وتعليق
أبي محمد أشرف بن عبد المقصود
أضواء السلف
নীতি
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোশাক-পরিচ্ছদ, অস্ত্রশস্ত্র এবং বাহনসমূহের আলোচনা সংবলিত
আল-কারমানিয়্যাহ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোশাক পরিধান সংক্রান্ত ফতোয়ার উত্তর
রচনা
শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে আবদুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ
মৃত্যু ৭২৮ হিজরী, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন
তাহকীক ও তালীক
আবু মুহাম্মদ আশরাফ বিন আবদুল মাকসুদ
আদওয়াউস সালাফ
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيقإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل الله ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد: فهذا سفر جديد ومؤلف نفيس ينشر لأول مرة، للعلامة القرآني والمجاهد الرباني، شيخ الإسلام والمسلمين أبي العباس أحمد بن تيمية رحمه الله، نقدمه للمسلمين في وقت قل فيه الاهتداء بهديه صلى الله عليه وسلم والتخلق بأخلاقه والاقتباس من نوره، {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً} [الأحزاب: 21] .
فما أحوجنا في هذه الأيام إلى معرفة سيرته صلى الله عليه وسلم العطرة في جميع شئون الحياة من طعام وشراب ولباس وغير ذلك مما يهم المسلم.
والحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من أمتع الأحاديث لا سيما إن كان من عارف بخبايا السنة النبوية كابن تيمية.
والذي يقرأ هذه الفتيا الجميلة يستطيع القول بأن شيخ الإسلام ابن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতঃপর: এটি একটি নতুন গ্রন্থ এবং এক মূল্যবান রচনা যা প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। এটি কুরআনের বিজ্ঞ পণ্ডিত ও রব্বানী মুজাহিদ, শাইখুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এক অনবদ্য সৃষ্টি। আমরা এটি মুসলিমদের নিকট এমন এক সময়ে পেশ করছি যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করা, তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া এবং তাঁর নূর থেকে আলো গ্রহণ করার প্রবণতা কমে গিয়েছে। {নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, ওই ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।} [আল-আহযাব: ২১]।
তাই বর্তমান দিনগুলোতে পানাহার, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং একজন মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুগন্ধিময় সীরাত বা জীবনচরিত জানার জন্য আমরা কতই না মুখাপেক্ষী।
আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে আলোচনা অত্যন্ত আনন্দদায়ক বিষয়, বিশেষ করে তা যদি সুন্নাহর নিগূঢ় রহস্য সম্পর্কে অবগত ইবনে তাইমিয়্যাহর মতো কোনো ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে হয়।
আর যে ব্যক্তি এই চমৎকার ফতোয়াটি পড়বে সে এই কথা বলতে সক্ষম হবে যে শাইখুল ইসলাম ইবনে
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৬)
تيمية لو أتيح له أن يصنف كتابا في سيرته صلى الله عليه وسلم لكان تصنيفا بديعا فريدا من أجمع وأصح ما ألف في السيرة النبوية.
ولعل هذا ما جعل العلامة ابن القيم يلخص جل كلماتها في بداية كتابه العظيم (زاد المعاد) ويزيد عليها، ويسير بعد ذلك على منوال الطريقة التي انتهجها شيخه في الكلام على سيرته وهديه صلى الله عليه وسلم.
وهذه القاعد اللطيفة في ذكر ملابس النبي صلى الله عليه وسلم وسلاحه ودوابه مع وجازتها جمعت الكثير من أصول المسائل الفقهية التي يحتاج إليها في باب اللباس والأطعمة الذي ضاع بين الإفراط والتفريط.
وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: "كلوا واشربوا وتصدقوا في غير مخيلة ولا سرف فإن الله يحب أن يرى أثر نعمته على عباده " (1) .
وأما
تحقيق نسبة الكتاب للمؤلف:فقد كتب في حياة المصنف رحمه الله؛ فالذي يقرأ صفحة العنوان للمخطوطة يتأكد من ذلك حيث كتب الناسخ ما يلي: "جواب فتيا في لبس النبي صلى الله عليه وسلم للشيخ الإمام العالم العامل تقي الدين أبي العباس أحمد ابن تيمية الحراني أمتع الله المسلمين ببقائه".
--------------------------------------------
ইবনে তাইমিয়্যাহ যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত বিষয়ে কোনো গ্রন্থ রচনার সুযোগ পেতেন, তবে তা সীরাত বিষয়ে সংকলিত গ্রন্থাবলির মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিশুদ্ধতম এক অনন্য ও অপূর্ব সংকলন হতো।
সম্ভবত এই কারণেই আল্লামা ইবনুল কায়্যিম তাঁর মহান গ্রন্থ (যাদুল মাআদ)-এর শুরুতে এর অধিকাংশ কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন এবং তাতে আরও কিছু যোগ করেছেন। এরপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত ও আদর্শের বর্ণনায় তাঁর শাইখের অনুসৃত পথ ও পদ্ধতির ওপরই চলেছেন।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পোশাক-পরিচ্ছদ, অস্ত্রশস্ত্র এবং সওয়ারী পশুর বর্ণনায় এই সূক্ষ্ম মূলনীতিটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এতে অনেক মৌলিক ফিকহী মাসআলা একত্রিত হয়েছে, যা পোশাক ও খাদ্যের অধ্যায়ে প্রয়োজন হয়; যে বিষয়টি বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির মাঝে হারিয়ে গিয়েছে।
আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা খাও, পান করো এবং দান করো অহংকার ও অপচয় ছাড়া; কেননা আল্লাহ তাঁর বান্দার ওপর তাঁর নিআমতের প্রভাব দেখতে পছন্দ করেন।" (১) ।
আর
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ বা নিসবতের নিশ্চয়তা যাচাইকরণ:এটি গ্রন্থকারের (রাহিমাহুল্লাহ) জীবদ্দশায়ই লিখিত হয়েছিল। পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পৃষ্ঠা যিনি পড়বেন, তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত হবেন; যেখানে লিপিকার নিচের কথাটি লিখেছেন: "শাইখ ইমাম, আলিম, আমলকারী তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী—আল্লাহ তাঁর দীর্ঘ হায়াতের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন—কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কিত ফতোয়ার উত্তর।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৭)
* وقد ذكر هذه القاعدة تلميذه العلامة ابن عبد الهادي رحمه الله بعنوان: "قاعد تتضمن ذكر ملابس النبي صلى الله عليه وسلم وسلاحه ودوابه وهي القرمانية (1) " (2) .
وقد جمعت بين هذه التسمية وما جاء بعنوان المخطوط.
* كما أن من يطالعها يجد فيها طريقة ونفس شيخ الإسلام، وكذا تلخيص تلميذه ابن القيم يؤكد لنا ذلك. وقد صرح بنقله لبعض عبارات عند ذكر (المنطقة) فقال: "وقال شيخ الإسلام: لم يبلغنا أن النبي صلى الله عليه وسلم شد على وسطه منطقة" (3) .
وصف النسخة:فقد اعتمدت على نسخة وحيدة، تقع ضمن (مجموع) يضم عدة مصنفات، وهو مقتنيات (مكتبة شهيد علي) الملحقة بـ (السليمانية) بتركيا وهي تحت رقم (2742) .
--------------------------------------------
* আর তাঁর ছাত্র আল্লামা ইবনে আবদিল হাদী (রাহিমাহুল্লাহ) এই মূলনীতিটি এই শিরোনামে উল্লেখ করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পোশাক-পরিচ্ছদ, অস্ত্রশস্ত্র ও পশুপাখি সংক্রান্ত আলোচনা সম্বলিত মূলনীতি এবং এটি কারমানিয়া নামে পরিচিত (১)" (২)।
আমি এই নাম এবং পাণ্ডুলিপির শিরোনামে যা এসেছে তার মধ্যে সমন্বয় করেছি।
* তাছাড়া যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে এতে শাইখুল ইসলামের পদ্ধতি ও স্বভাবের প্রতিফলন খুঁজে পাবে এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিমের করা সারসংক্ষেপও আমাদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তিনি 'কোমরবন্ধনী' (মানতাকাহ) উল্লেখ করার সময় কিছু উদ্ধৃতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "শাইখুল ইসলাম বলেন: আমাদের কাছে এমন কোনো বর্ণনা পৌঁছেনি যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোমরে কোনো কোমরবন্ধনী বেঁধেছেন" (৩)।
পাণ্ডুলিপির বর্ণনা:আমি একটি মাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা একাধিক গ্রন্থ সম্বলিত একটি (সংকলন)-এর অন্তর্ভুক্ত। এটি তুরস্কের (সুলাইমানিয়া) গ্রন্থাগারের সাথে সংযুক্ত (শহীদ আলী গ্রন্থাগার)-এর সংগ্রহভুক্ত এবং এর নম্বর হলো (২৭৪২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وتقع هذه النسخة في 12 ورقة، من هذا المجموع تمثل الورقات من (53و) إلى (64ظ) وكل صفحة بها 15 سطرا. وهي مكتوبة بخط نسخ جميل ومشكول، وقليلة الأخطاء وبآخرها ما يفيد أنها قوبلت، ولا يعرف ناسخها.
وأما
عملنا في التحقيق:* فقد اتخذت هذه النسخة أصلا.
* كما قمت بضبط فقرات الكتاب كلها، ونسقت عباراتها ورقمت فقراتها برقم مسلسل ووضعت لها عناوين جانبية.
* كما قمت بعزو الآيات ووضع العزو بجوار الآيات، وخرجت الأحاديث والآثار وبينت مرتبتها من حيث القبول والرد.
* كما وضعت بعض التعليقات المهمة وأكثرها من كلام شيخ الإسلام من كتبه الأخرى، وبعض المصادر من كتب الفقه.
* كما صنعت له فهارس للآيات والأحاديث والآثار والموضوعات.
والله تعالى أسأل أن يجعل عملي هذا خالصا لوجهه، وأن يرزقنا الهدى والتقى والعفاف والغنى إنه سميع مجيب.
الإسماعيلية في 11محرم 1422هـ
أبو محمد أشرف بن عبد المقصود
غفر الله له
এই পাণ্ডুলিপিটি ১২টি পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত, যা এই সংগ্রহের (৫৩-ক) থেকে (৬৪-খ) পৃষ্ঠা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ১৫টি করে লাইন রয়েছে। এটি সুন্দর এবং হরকতযুক্ত নাসখ লিপিতে লিখিত, এতে ভুল অত্যন্ত কম এবং এর শেষে একটি নোট রয়েছে যা নির্দেশ করে যে এটি মূল কপির সাথে মেলানো হয়েছে, তবে এর লিপিকারের পরিচয় জানা যায়নি।
আর আমাদের
সম্পাদনার কাজ:* এই পাণ্ডুলিপিটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
* পাশাপাশি আমি বইটির সমস্ত অনুচ্ছেদ বিন্যাস করেছি, এর বাক্যগুলো সাজিয়েছি, অনুচ্ছেদগুলোতে ক্রমানুসারে নম্বর প্রদান করেছি এবং এগুলোর জন্য পার্শ্ব-শিরোনাম যুক্ত করেছি।
* এছাড়াও আমি আয়াতগুলোর উদ্ধৃতি প্রদান করেছি এবং আয়াতগুলোর পাশেই সেই উদ্ধৃতিগুলো স্থাপন করেছি, হাদিস ও আসারগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি এবং গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের নিরিখে সেগুলোর মান স্পষ্ট করেছি।
* তদুপরি আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ টীকা যোগ করেছি, যার অধিকাংশই শায়খুল ইসলামের অন্যান্য গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত এবং কিছু উৎস ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে।
* সেই সাথে আমি এর জন্য আয়াত, হাদিস, আসার এবং বিষয়বস্তুর সূচিপত্র তৈরি করেছি।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের হিদায়েত, তাকওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা ও অমুখাপেক্ষিতা দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী।
ইসমাইলিয়া, ১১ মহররম ১৪২২ হিজরি
আবু মুহাম্মদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ
আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قاعدة
تتضمن ذكر مَلَابِس النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَسِلَاحه ودَوَابّه
القَرْمَانِيَّة
جَوَابُ فُتيَا فِي لِبْس النَّبي صلى الله عليه وسلم
تأليف
شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن تيمية
المتوفى سنة 728 هـ رحمه الله تعالى
تحقيق وتعليق
أبي محمد أشرف بن عبد المقصود
একটি বিশেষ প্রবন্ধ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোশাক-পরিচ্ছদ, অস্ত্রশস্ত্র এবং সওয়ারি সমূহের বর্ণনা সম্বলিত
আল-কারমানিয়্যাহ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পোশাক সম্পর্কে একটি ফতোয়ার উত্তর
রচনা
শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে আব্দুল হালিম ইবনে তাইমিয়্যাহ
মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন
তাহকিক ও টীকা
আবু মুহাম্মদ আশরাফ ইবনে আব্দুল মাকসুদ
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
رب يسر يا كريم
نص الأسئلة المقدمة للمصنفما يقول أئمة الدين علماء المسلمين في رجلين تكلما في:
* لبس رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
* وفي آلته؟ وفي آلة حَرْبِه مثل الحياصة (1) التي تحزم في الوسط والسيف والتركاش وهي الكنانة والقوس والنّشاب (2) والحمال والبغال والخيل والغنم؟
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে রব, সহজ করে দিন, হে দয়ালু।
গ্রন্থকারের নিকট পেশকৃত প্রশ্নের পাঠদীনের ইমাম ও মুসলিম আলেমগণ সেই দুই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন যারা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছে:
* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পোশাক সম্পর্কে?
* এবং তাঁর আসবাবপত্র সম্পর্কে? এবং তাঁর যুদ্ধের সরঞ্জাম যেমন হিয়াসাহ (১), যা কোমরে বাঁধা হয়, এবং তলোয়ার, তারকাশ তথা তূণ, ধনুক ও তির (২), মালবাহী পশু, খচ্চর, ঘোড়া এবং বকরি সম্পর্কে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
* وملابسه من القماش مثل الجوشن والخف والمهماز (1) وغيره من آلة الحرب هل كان يتخذ ذلك؟
* وهَل كان يجمع من ذلك شيئا كثيرًا؟
* وفي لباسة أصحابه أيضا؟
* ومَا يُبَاحُ ويحرم من ذلك؛ من الذهب والفضة والحرير؟
--------------------------------------------
* এবং কাপড়ের তৈরি তাঁর পোশাকসমূহ যেমন বর্ম, মোজা এবং কাঁটা (১) ও যুদ্ধের অন্যান্য সরঞ্জাম; তিনি কি তা ব্যবহার করতেন?
* এবং তিনি কি এগুলোর অনেক কিছু সংগ্রহ করে রাখতেন?
* এবং তাঁর সাহাবীদের পোশাকের ক্ষেত্রেও কি (একই বিধান প্রযোজ্য)?
* এবং সোনা, রুপা ও রেশমের মধ্য থেকে এগুলোর কোনটি বৈধ এবং কোনটি নিষিদ্ধ?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحمد لله وحده
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم
الحمد لله رب العالمين
ما كان يتخذه النبي صلى الله عليه وسلم من أسلحة للحرب1- كان النبي صلى الله عليه وسلم يَتَّخِذ:
(1) "السَّيف".
(2) و"الرُّمح".
(3) و"القَوس".
(4) و"الكنانة"؛ التي هي الجُعْبَة للنّشاب وهي من جُلُود.
ما كان يلبسه النبي صلى الله عليه وسلم في الحرب2- وكان يَلْبس على رَأْسِهِ:
- "البيضة" (1) ؛ التي هي الخوذة.
- و"المغْفَر" (2) .
--------------------------------------------
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
যুদ্ধবিগ্রহে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসকল অস্ত্র গ্রহণ করতেন১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রহণ করতেন:
(১) "তলোয়ার"।
(২) এবং "বর্শা"।
(৩) এবং "ধনুক"।
(৪) এবং "কীনানাহ" (তূণীর); যা তীরের আধার এবং এটি চামড়ার তৈরি।
যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা পরিধান করতেন২- তিনি তাঁর মাথায় পরিধান করতেন:
- "বাইদাহ" (১); যা হলো শিরস্ত্রাণ।
- এবং "মিগফার" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
3- وعلى بَدَنِهِ: "الدِّرع" التي يقال لها السّردية والزّردية (1) .
ما كان يلبسه النبي صلى الله عليه وسلم من أنواع اللباس4- ويلبس:
(1) "القميص".
(2) و"الجُبَّة" (2) .
(3) و"الفروج" (3) الذي هو نحو القباء، والفرجية.
5- ولَبِسَ: "القباء" أيضًا.
6- ولَبِسَ في السَّفَر: "جُبَّة" (4) ضَيِّقة الكُمَّين.
7- ولَبِسَ: "الإِزَار" و"الرِّداء".
8- واشترى: "رِجْل سَرَاوِيل" (5) .
--------------------------------------------
৩- এবং তাঁর শরীরে ছিল: "বর্ম", যাকে সারদিয়াহ এবং জারদিয়াহ বলা হয় (১)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল প্রকারের পোশাক পরিধান করতেন৪- এবং তিনি পরিধান করতেন:
(১) "কামিজ"।
(২) এবং "জুব্বা" (২)।
(৩) এবং "ফাররুজ" (৩), যা কাবা এবং ফারজিয়ার মতো পোশাক।
৫- এবং তিনি "কাবা" নামক পোশাকও পরিধান করেছেন।
৬- এবং তিনি সফরে সংকীর্ণ আস্তিনবিশিষ্ট "জুব্বা" (৪) পরিধান করেছেন।
৭- এবং তিনি "ইজার" ও "রিদা" পরিধান করেছেন।
৮- এবং তিনি একটি "পায়জামার পা" (৫) ক্রয় করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
9- وكانوا يلبسون: "السَّراويلات" أيضًا بإذنه.
10- وكان يَلْبَس: "الخُفَّين"، ويَمْسَح عليهما (1) .
11- ويَلْبَس: "النِّعال" التي تُسَمَّى: التَّواسم (2) .
ما كان يتخذه النبي صلى الله عليه وسلم من دواب للركوب وغيره12- وكان يَرْكَب:
(1) "الخيل".
(2) و"الإبل".
(3) و"الحمير".
13- وركب:
(4) "البغلة" أيضًا.
صفة ركوبه صلى الله عليه وسلم للدواب14- وكان يركب: "الفَرَس":
- تارةً عَرِيًّا (3) .
- وتارة مُسَرّجًا، ويطرده.
--------------------------------------------
৯- এবং তাঁরা তাঁর অনুমতিতে "পায়জামা"ও পরিধান করতেন।
১০- এবং তিনি "চামড়ার মোজা" পরিধান করতেন এবং তার ওপর মাসেহ করতেন (১)।
১১- এবং তিনি "জুতা" পরিধান করতেন যাকে বলা হতো: তাওয়াসিম (২)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওয়ারি ও অন্যান্য প্রয়োজনে যে সকল চতুষ্পদ জন্তু গ্রহণ করতেন১২- এবং তিনি আরোহণ করতেন:
(১) "ঘোড়া"।
(২) এবং "উট"।
(৩) এবং "গাধা"।
১৩- এবং তিনি আরোহণ করেছেন:
(৪) "খচ্চর"ও।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সওয়ারিতে আরোহণের পদ্ধতি১৪- এবং তিনি "ঘোড়ায়" আরোহণ করতেন:
- কখনো জীনবিহীন অবস্থায় (৩)।
- এবং কখনো জীনসহ, এবং তিনি তা দ্রুতগতিতে চালাতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
15- وكان:
- يُرْدف خَلْفَه.
- وتارة: يُرْدِف خَلْفَهُ وقُدَّامه؛ فيكونون ثلاثة على دابة (1) .
ما كان يملكه النبي من دواب وسلاح في حياته وبعد مماته16- وكان يتخذ: "الغَنَم" أيضًا.
17- وكان له: "الرَّقِيق" أيضًا.
18- ولم يكن يجتمع في مُلْكِه في الوَقت الواحد من هذه الأُمُور شيء كَثِير.
19- بل لمَّا مَات لم يكن عِنْدَهُ من ذلك إلا شيء يَسِير؛ خَلَّفَ دِرْعَه؛ وكانت مَرْهُونة عند يهودي على ثلاثين وَسَقًا من شعيرٍ ابتاعها لأَهْلِهِ.
--------------------------------------------
১৫- এবং তিনি ছিলেন:
- নিজের পেছনে আরোহী বসাতেন।
- এবং কখনো: নিজের পেছনে এবং সামনে আরোহী বসাতেন; ফলে পশুর পিঠে তারা তিনজন হতেন (১)।
নবী করীম (সা.) তাঁর জীবনে এবং মৃত্যুর পরে যে সকল পশু ও অস্ত্রশস্ত্রের মালিক ছিলেন১৬- এবং তিনি: "বকরি"ও লালন-পালন করতেন।
১৭- এবং তাঁর: "দাস-দাসী"ও ছিল।
১৮- আর তাঁর মালিকানায় একই সময়ে এসব জিনিসের খুব বেশি পরিমাণ একত্রিত হতো না।
১৯- বরং যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁর কাছে এসবের সামান্য কিছু ছাড়া আর কিছু ছিল না; তিনি তাঁর বর্মটি রেখে যান; যা তাঁর পরিবারের জন্য ক্রয়কৃত ত্রিশ ওয়াসাক যবের বিনিময়ে এক ইহুদির কাছে বন্ধক রাখা ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الأحاديث الواردة في ذلك20- وفي "صحيح البخاري" (1) عن عمرو بن الحارث -ختن رسول الله صلى الله عليه وسلم أخي جويرية بنت الحارث- قال:
"ما تَرَكَ رسول الله صلى الله عليه وسلم عند موته دينارًا ولا درهمًا، ولا عبدًا ولا أمةً، ولا شيئًا إلا بغلته البيضاء وسلاحه، وأرضًا جعلها صدقةً".
21- وفي "صحيح مسلم" (2) عن عائشة قالت: "ما ترك رسول الله صلى الله عليه وسلم دينارًا ولا درهمًا، ولا شاة ولا بعيرًا، ولا أوصى بشيء".
22- وعن ابن عباس: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مات ودرعه رهنٌ عند يهودي بثلاثين.
وروي: "بعشرين صاعًا من شعير؛ أخذه لأهله".
رواه أهل السنن، وقال الترمذي: "حديث حسن صحيح" (3) .
--------------------------------------------
এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহ২০- এবং "সহিহ বুখারি"তে (১) আমর ইবনে হারিস—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শ্যালক ও জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিসের ভাই—থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তেকালের সময় কোনো দিনার বা দিরহাম, কোনো দাস বা দাসী, কিংবা অন্য কোনো কিছু রেখে যাননি; কেবল তাঁর সাদা খচ্চরটি, তাঁর অস্ত্রশস্ত্র এবং একটি জমি যা তিনি সদকা হিসেবে দান করে গিয়েছিলেন।"
২১- এবং "সহিহ মুসলিম"-এ (২) আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো দিনার বা দিরহাম, কোনো ভেড়া বা উট রেখে যাননি এবং তিনি কোনো অসিয়ত করেননি।"
২২- এবং ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করেন এমতাবস্থায় যে, তাঁর লৌহবর্মটি তিরিশের (সা' যব) বিনিময়ে এক ইহুদির কাছে বন্ধক ছিল।
এবং বর্ণিত আছে: "বিশ সা' যবের বিনিময়ে; যা তিনি তাঁর পরিবারের জন্য গ্রহণ করেছিলেন।"
সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন: "হাদিসটি হাসান সহিহ" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
23- وفي الصحيحين (1) عن عائشة رضي الله عنها: أن النبي صلى الله عليه وسلم اشترى من يهودي طعامًا إلى أجل، ورهنه درعًا له من حديد.
24- وكذلك في البخاري (2) عن أنس بن مالك: قد رهن النبي صلى الله عليه وسلم درعه بشعير.
ما في الأحاديث من فوائد25- فهذه الأحاديث تبين:
أنه حين الموت لم يكن عنده خيل ولا إبل ولا غنم ولا رقيق وإنما ترك البغلة والسلاح وبعض السلاح مرهون.
26- ولكن ملك هذه الأمور في أوقات متفرقة.
27- والمعروف: أنه كان يكون عنده الواحد من ذلك، فيكون له فرس واحد، وناقة واحدة.
28- ولم يملك من "البغال" إلا بغلة واحدة، أهداها له بعض الملوك، ولم تكن البغال مشهورة بأرض العرب.
بل لما أهديت له البغلة، قيل له: ألا ننزي الخيل على الحمر؟
--------------------------------------------
২৩- এবং সহীহাইন (১)-এ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন ইহুদির কাছ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে বাকিতে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করেছিলেন এবং তাঁর একটি লোহার বর্ম তার কাছে বন্ধক রেখেছিলেন।
২৪- তদ্রূপ বুখারিতে (২) আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যবের বিনিময়ে নিজের বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।
হাদিসগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ২৫- এই হাদিসগুলো স্পষ্ট করে যে:
ইন্তেকালের সময় তাঁর নিকট কোনো ঘোড়া, উট, বকরি কিংবা ক্রীতদাস ছিল না। তিনি কেবল একটি খচ্চর ও কিছু যুদ্ধাস্ত্র রেখে গিয়েছিলেন এবং তাঁর কিছু যুদ্ধাস্ত্র বন্ধক রাখা ছিল।
২৬- তবে তিনি বিভিন্ন সময়ে এসব জিনিসের মালিক হয়েছিলেন।
২৭- এবং এটি সুপরিচিত যে: সচরাচর তাঁর কাছে এসবের একটি করে থাকত; যেমন তাঁর একটি ঘোড়া ও একটি উটনী ছিল।
২৮- আর তিনি 'খচ্চর'-এর মধ্যে কেবল একটি খচ্চরেরই মালিক ছিলেন, যা কোনো এক রাজা তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন। আরব ভূখণ্ডে খচ্চর খুব একটা পরিচিত ছিল না।
এমনকি যখন তাঁকে খচ্চরটি উপহার দেওয়া হলো, তখন তাঁকে বলা হয়েছিল: "আমরা কি গাধার সাথে ঘোড়ার প্রজনন করাব না?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فقال: "إنما يفعل ذلك الذين لا يعلمون" (1) .
29- وكذلك: آلات السلاح كـ:
"السيف" و"الرمح" و"القوس".
لم يذكر عنه أنه كان يقتني لنفسه أكثر من واحد.
30- وأما "الغنم":
فقد روي (2) : أنه اقتنى مائة شاة؛ وقال: "إن لنا مائة شاة، لا نريد أن تزيد، فكلما ولّد الراعي بهمة ذبحنا مكانها أخرى".
--------------------------------------------
তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই যারা জানে না তারা এরূপ করে" (১) ।
২৯- অনুরূপভাবে: অস্ত্রের সরঞ্জাম যেমন:
"তরবারি", "বল্লম" এবং "ধনুক"।
তাঁর সম্পর্কে এটি উল্লেখ করা হয়নি যে তিনি নিজের জন্য একটির বেশি সংগ্রহে রাখতেন।
৩০- আর "ছাগল-ভেড়া" সম্পর্কে:
বর্ণিত হয়েছে (২): তিনি একশটি বকরি সংগ্রহে রেখেছিলেন; এবং তিনি বলেছেন: "আমাদের একশটি বকরি রয়েছে, আমরা চাই না যে এটি বৃদ্ধি পাক; তাই যখনই রাখাল একটি শাবক প্রসব করায়, আমরা তার বদলে অন্য একটি জবেহ করি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
آلات الحرب في القرآن الكريم31- وقد ذكر الله تعالى: آلات الحرب في كتابه:
السيف32- فقال في "السيف":
{سَأُلْقِي فِي قُلُوبِ الَّذِينَ كَفَرُوا الرُّعْبَ فَاضْرِبُوا فَوْقَ الْأَعْنَاقِ وَاضْرِبُوا مِنْهُمْ كُلَّ بَنَانٍ} (الأنفال: من الآية12) .
33- وقال: {فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ} (محمد: من الآية4) . وهذا الضرب للأعناق وبنان الأصابع هو بـ"السيف".
القوس والنشاب34- وقال في "القوس والنشاب":
{وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ} (الأنفال: من الآية60) .
35- وفي "صحيح مسلم" (1) عن عقبة بن عامر: أن النبي صلى الله عليه وسلم قرأ وهو على المنبر: {وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ وَمِنْ رِبَاطِ الْخَيْلِ} (الأنفال: من الآية60) .
ثم قال: "ألا إن القوة الرمي، ألا إن القوة الرمي، ألا إن القوة الرمي".
--------------------------------------------
পবিত্র কুরআনে যুদ্ধের সরঞ্জামসমূহ৩১- আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে যুদ্ধের সরঞ্জামসমূহ উল্লেখ করেছেন:
তলোয়ার৩২- তিনি ‘তলোয়ার’ প্রসঙ্গে বলেছেন:
“আমি কাফিরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করব; সুতরাং তোমরা তাদের গর্দানের উপর আঘাত করো এবং আঘাত করো তাদের প্রতিটি আঙুলের ডগায়।” (আল-আনফাল: ১২ নং আয়াতের অংশ)।
৩৩- তিনি আরও বলেছেন: “সুতরাং যখন তোমরা কাফিরদের সাথে যুদ্ধে মোকাবিলা করো, তখন তাদের গর্দানে আঘাত করো।” (মুহাম্মদ: ৪ নং আয়াতের অংশ)। আর ঘাড় এবং আঙুলের ডগায় এই আঘাত করা হয় ‘তলোয়ার’ দিয়ে।
ধনুক ও তীর৩৪- তিনি ‘ধনুক ও তীর’ প্রসঙ্গে বলেছেন:
“আর তোমরা তাদের (মোকাবিলার) জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত করো।” (আল-আনফাল: ৬০ নং আয়াতের অংশ)।
৩৫- ‘সহীহ মুসলিম’-এ (১) উকবাহ ইবনে আমির থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরে দাঁড়িয়ে পাঠ করলেন: “আর তোমরা তাদের (মোকাবিলার) জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও যুদ্ধের ঘোড়া প্রস্তুত করো।” (আল-আনফাল: ৬০ নং আয়াতের অংশ)।
এরপর তিনি বললেন: “মনে রেখো, নিশ্চয়ই শক্তি হলো নিক্ষেপ (তীরন্দাজি), মনে রেখো, নিশ্চয়ই শক্তি হলো নিক্ষেপ, মনে রেখো, নিশ্চয়ই শক্তি হলো নিক্ষেপ।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
36- وفي "صحيح مسلم" (1) عنه أيضًا أنه قال: "ارموا واركبوا وأن ترموا أحب إلي من أن تركبوا، ومن تعلم الرمي ثم نسيه فليس منا".
وفي رواية: "فهي نعمة جحدها" (2) .
الرماح37- وكذلك "الرماح":
قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَيَبْلُوَنَّكُمُ اللَّهُ بِشَيْءٍ مِنَ الصَّيْدِ تَنَالُهُ أَيْدِيكُمْ وَرِمَاحُكُمْ} (المائدة: من الآية94) .
وقد فسرت بالرماح المتصلة باليد.
وفسرت بالنشاب أيضًا.
الدرع38- وكذلك "الدرع":
39- قال تعالى في قصة داود: {وَعَلَّمْنَاهُ صَنْعَةَ لَبُوسٍ لَكُمْ لِتُحْصِنَكُمْ مِنْ بَأْسِكُمْ} (الأنبياء: من الآية80) .
--------------------------------------------
৩৬- এবং "সহীহ মুসলিম"-এ (১) তার থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "তোমরা তীর নিক্ষেপ করো এবং আরোহণ করো, তবে তোমাদের তীর নিক্ষেপ করা আমার নিকট আরোহণের চেয়ে অধিক প্রিয়। আর যে ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ শিখল অতঃপর তা ভুলে গেল, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।"
এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: "তা হলো এমন এক নিয়ামত যা সে অস্বীকার করেছে" (২)।
বর্শাসমূহ৩৭- তদ্রূপ "বর্শাসমূহ":
আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! আল্লাহ অবশ্যই তোমাদেরকে শিকারের এমন কিছু বস্তু দ্বারা পরীক্ষা করবেন যা তোমাদের হাত ও তোমাদের বর্শার নাগালে আসবে} (আল-মায়িদাহ: আয়াত ৯৪-এর অংশ)।
এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে হাতের সাথে যুক্ত বর্শা দ্বারা।
এর ব্যাখ্যা বাণ (তীর) দ্বারাও করা হয়েছে।
বর্ম৩৮- তদ্রূপ "বর্ম":
৩৯- দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনীতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং আমি তাকে তোমাদের জন্য বর্ম নির্মাণ শিক্ষা দিয়েছিলাম, যাতে তা তোমাদের যুদ্ধে তোমাদের রক্ষা করে} (আল-আম্বিয়া: আয়াত ৮০-এর অংশ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
40- وقال: {وَلَقَدْ آتَيْنَا دَاوُدَ مِنَّا فَضْلاً، يَا جِبَالُ أَوِّبِي مَعَهُ وَالطَّيْرَ، وَأَلَنَّا لَهُ الْحَدِيدَ * أَنِ اعْمَلْ سَابِغَاتٍ وَقَدِّرْ فِي السَّرْدِ} (سبأ: 9، 10) .
فكان الحديد بيده بمنزلة العجين.
والسابغات: هي الدروع الكاملة التي تكون لها أيدي وأفخاذ.
41- وقال تعالى: {وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُمْ مِمَّا خَلَقَ ظِلالاً وَجَعَلَ لَكُمْ مِنَ الْجِبَالِ أَكْنَاناً وَجَعَلَ لَكُمْ سَرَابِيلَ تَقِيكُمُ الْحَرَّ وَسَرَابِيلَ تَقِيكُمْ بَأْسَكُمْ، كَذَلِكَ يُتِمُّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تُسْلِمُونَ} (النحل:81) .
৪০- এবং তিনি বলেছেন: "আর আমি অবশ্যই দাউদকে আমার পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম; (আমি আদেশ দিয়েছিলাম), হে পর্বতসমূহ! তোমরা তাঁর সাথে তাসবীহ পাঠে যোগ দাও এবং পাখিদেরকেও (অনুরূপ নির্দেশ দিয়েছিলাম)। আর আমি তাঁর জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলাম। (এই নির্দেশ দিয়ে যে,) তুমি পূর্ণাঙ্গ বর্ম তৈরি করো এবং বর্মের কড়া বিন্যাসে পরিমিতিবোধ বজায় রাখো।" (সাবা: ১০, ১১) ।
ফলে লোহা তাঁর হাতে আটার খামিরের ন্যায় হয়ে গিয়েছিল।
আর পূর্ণাঙ্গ বর্ম হলো সেই সকল সম্পূর্ণ বর্ম যাতে হাতা এবং ঊরুর অংশ বিদ্যমান থাকে।
৪১- এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি করা বস্তুসমূহ থেকে তোমাদের জন্য ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন এবং পাহাড়ের মধ্যে তোমাদের জন্য আশ্রয়স্থল বানিয়েছেন। তিনি তোমাদের জন্য এমন পোশাক তৈরি করেছেন যা তোমাদের তাপ থেকে রক্ষা করে এবং এমন পোশাক (বর্ম) তৈরি করেছেন যা তোমাদের যুদ্ধে রক্ষা করে। এভাবেই তিনি তোমাদের প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন, যাতে তোমরা আত্মসমর্পণ করো।" (আন-নাহল: ৮১) ।
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
آلات الحرب في السنة المطهرة42- وقد جاء ذكر هذه الأمور في الأحاديث عن النبي صلى الله عليه وسلم مفرقًا:
السيف43- فأما "السيف":
44- ففي "الصحيحين" (1) عن أنس قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم أحسن الناس، وأشجع الناس، وأجود الناس.
ولقد فزع أهل المدينة فزعًا ذات ليلة، فخرجوا نحو الصوت. فاستقبلهم النبي صلى الله عليه وسلم، وقد سبق الناس إلى الصوت، وقد استبرأ الخبر، وهو يقول: "لم تراعوا، لم تراعوا".
ثم قال: "إن وجدناه لبحرًا" أو قال: "إنه لبحر".
45- وعن ابن عباس: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم تنفّل سيفه "ذا الفقار" يوم بدر.
رواه الإمام أحمد، وابن ماجه والترمذي، وقال: "حديث حسن" (2) .
--------------------------------------------
পবিত্র সুন্নাহয় যুদ্ধের সরঞ্জামসমূহ৪২- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসসমূহে এই বিষয়গুলোর উল্লেখ পৃথক পৃথকভাবে এসেছে:
তরবারি৪৩- "তরবারি" প্রসঙ্গে:
৪৪- "সহীহাইন"-এ (১) আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, সবচেয়ে সাহসী এবং সবচেয়ে দানশীল।
এক রাতে মদিনাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ল, তারা শব্দের অভিমুখে বেরিয়ে পড়ল। পথিমধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সম্মুখীন হলেন, তিনি ইতিপূর্বেই শব্দের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং খবরাখবর যাচাই করে ফিরছিলেন। তিনি বলছিলেন: "তোমরা ভয় পেয়ো না, তোমরা ভয় পেয়ো না।"
এরপর তিনি বললেন: "আমরা একে (ঘোড়াটিকে) সমুদ্রের মতো সাবলীল পেয়েছি" অথবা তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এটি একটি সমুদ্র।"
৪৫- ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে তাঁর তরবারি "যুলফিকার" গনীমত হিসেবে লাভ করেছিলেন।
এটি ইমাম আহমাদ, ইবনে মাজাহ এবং তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: "হাদিসটি হাসান" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أشياء لا أصل لها بين الناس46- وأما ما يذكره بعض الناس:
- أن "ذا الفقار" (1) كان سيفًا منزلاً من السماء!
- وأنه كان لـ"علي"، وكان يطول إذا قاتل به!
فكل هذا كذب باتفاق أهل المعرفة بهذه الأمور.
47- وكذلك: ما يذكره بعض الناس من أنه كان للنبي صلى الله عليه وسلم سبعة أسياف؛ لا أصل له (2) .
--------------------------------------------
মানুষের মাঝে প্রচলিত ভিত্তিহীন বিষয়াবলি৪৬- আর কিছু মানুষ যা উল্লেখ করে থাকে:
- "যুল-ফিকার" (১) আসমান থেকে অবতীর্ণ হওয়া একটি তলোয়ার ছিল!
- আর এটি "আলী" এর ছিল এবং তিনি যখন এটি দিয়ে যুদ্ধ করতেন তখন এটি দীর্ঘ হয়ে যেত!
এসব বিষয়ে অভিজ্ঞদের ঐকমত্য অনুযায়ী এসবই মিথ্যা।
৪৭- অনুরূপভাবে: কিছু লোক যা উল্লেখ করে যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাতটি তলোয়ার ছিল; এর কোনো ভিত্তি নেই (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الرمح48- وأما "الرمح" (1) :
49- فقال البخاري في "صحيحه" (2) : ويذكر عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم: "جعل رزقي تحت ظل رمحي، وجعل الذلة والصغار على من خالف أمري".
50-[و] رواه الإمام أحمد (3) ، عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بعثت بين يدي الساعة بالسيف حتى يعبد الله تبارك وتعالى وحده لا شريك له، وجعل رزقي تحت ظل "رمحي"، وجعل الذلة والصغار على من خالف أمري، ومن تشبه بقوم فهو منهم".
51- وروى أبو داود بعضه (4) .
--------------------------------------------
বল্লম৪৮- আর "বল্লম" প্রসঙ্গে (১) :
৪৯- ইমাম বুখারী তাঁর "সহীহ"-তে (২) উল্লেখ করেছেন: ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার জীবিকা আমার বল্লমের ছায়ার নিচে রাখা হয়েছে এবং আমার আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ওপর লাঞ্ছনা ও অপমান চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।"
৫০- [এবং] ইমাম আহমাদ (৩) এটি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কেয়ামতের আগে আমাকে তরবারি দিয়ে পাঠানো হয়েছে, যতক্ষণ না একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা হয় যার কোনো শরিক নেই। আর আমার জীবিকা রাখা হয়েছে আমার বল্লমের ছায়ার নিচে, আর আমার আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারীদের জন্য রাখা হয়েছে লাঞ্ছনা ও অপমান। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।"
৫১- আবু দাউদ এর কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন (৪) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
حديث جامع في أسماء آلاته52- وقد روى الطبراني في "معجمه" (1) حديثًا جامعًا في: أسماء آلاته؛ عن ابن عباس قال:
كان لرسول الله صلى الله عليه وسلم سيف قائمته من فضة، وقبيعته من فضة وكان يسمى: "ذا الفقار".
وكان له قوس يسمى: "السداد".
وكانت له كنانة تسمى: "الجمع".
وكانت له درع موشحة بالنحاس تسمى: "ذات الفضول".
وكانت له حربة تسمى: "النبعاء" (2) .
وكان له مجن (أ) يسمى: "الدَّقَن" (ب) .
--------------------------------------------
তাঁর সরঞ্জামাদির নাম সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ হাদিস৫২- তাবারানি তাঁর "মু'জাম"-এ (১) তাঁর সরঞ্জামাদির নাম সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ হাদিস ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি তলোয়ার ছিল যার হাতল ছিল রূপার এবং এর অগ্রভাগ ছিল রূপার, আর সেটির নাম ছিল: "যুলফিকার"।
তাঁর একটি ধনুক ছিল যার নাম ছিল: "আস-সাদাদ"।
তাঁর একটি তূণীর (তীর রাখার পাত্র) ছিল যার নাম ছিল: "আল-জাম"।
তাঁর একটি তামার কারুকাজখচিত বর্ম ছিল যার নাম ছিল: "যাতুল ফুযুল"।
তাঁর একটি ছোট বল্লম ছিল যার নাম ছিল: "আন-নাবআ" (২)।
তাঁর একটি ঢাল (ক) ছিল যার নাম ছিল: "আদ-দাকান" (খ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكان له ترس أبيض يسمى: "الموجز".
وكان له فرس أدهم يسمى: "السكب".
وكان له سرج يسمى: "الداج" (أ) .
وكانت له بغلة شهباء يقال لها: "دُلْدُل".
وكانت له ناقة تسمى: "القَصْوَاء".
وكان له حمار يسمى: "يعفُور".
وكان له بساط يسمى: "الكر" (ب) .
وكانت له عَنَزَة (1) تسمى: "النمر" (ج) .
وكانت له ركوة تسمى: "الصادر".
وكانت له مرآة تسمى: "المرآة".
وكان له مقراض يسمى: "الجامع".
وكان له قضيب شوحط (2) يسمى: "المشوق".
--------------------------------------------
তাঁর একটি সাদা ঢাল ছিল যার নাম ছিল: "আল-মুজিজ"৷
তাঁর একটি কালো ঘোড়া ছিল যার নাম ছিল: "আস-সাকব"৷
তাঁর একটি জিন ছিল যার নাম ছিল: "আদ-দাজ" (ক)৷
তাঁর একটি ধূসর বর্ণের খচ্চর ছিল যাকে বলা হতো: "দুলদুল"৷
তাঁর একটি উষ্ট্রী ছিল যার নাম ছিল: "আল-কাসওয়া"৷
তাঁর একটি গাধা ছিল যার নাম ছিল: "ইয়াফুর"৷
তাঁর একটি গালিচা ছিল যার নাম ছিল: "আল-কার" (খ)৷
তাঁর একটি ছোট বর্শা (১) ছিল যার নাম ছিল: "আন-নামির" (গ)৷
তাঁর একটি পানির পাত্র ছিল যার নাম ছিল: "আস-সাদির"৷
তাঁর একটি আয়না ছিল যার নাম ছিল: "আল-মিরআহ"৷
তাঁর একটি কাঁচি ছিল যার নাম ছিল: "আল-জামি"৷
তাঁর একটি শাওহাত কাঠের ছড়ি (২) ছিল যার নাম ছিল: "আল-মাশওয়াক"৷
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الدرع53- وفي "صحيح البخاري" (1) عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم بدر وهو في قُبَّةٍ: "اللهم إني أنشدك عهدك ووعدك، اللهم إن شئت لم تُعْبَدْ بعد اليوم".
فأخذ أبو بكر بيده، فقال: حسبك يا رسول الله، فقد ألححت على ربك، وهو في "الدِّرْعِ".
فخرج وهو يقول: {سَيُهْزَمُ الْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ الدُّبُرَ * بَلِ السَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ} (القمر:45، 46) .
54- وروى "أهل السنن" (2) : أن النبي صلى الله عليه وسلم ظاهَرَ يوم أحد بين دِرْعَين.
55- وفي "الصحيحين" (3) عن سهل بن سعد (أ) أنه سئل عن جرح النبي صلى الله عليه وسلم يوم أحد؟ فقال: جرح وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم وكسرت رَبَاعِيَتُهُ، وهُشِمَتْ "الْبَيْضَةُ" على رأسه.
--------------------------------------------
বর্ম৫৩- "সহীহ বুখারী"-তে (১) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: বদরের দিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি তাঁবুর নিচে থাকা অবস্থায় বললেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি যদি চান তবে আজকের পর আর আপনার ইবাদত করা হবে না।"
অতঃপর আবু বকর তাঁর হাত ধরলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট, আপনি আপনার রবের নিকট অত্যন্ত আকুলভাবে প্রার্থনা করেছেন।" এমতাবস্থায় তিনি বর্ম পরিহিত ছিলেন।
অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করতে করতে বের হলেন: {শীঘ্রই এই দল পরাজিত হবে এবং তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে। বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময় এবং কিয়ামত হবে অধিকতর ভয়াবহ ও তিক্ত।} (আল-কামার: ৪৫, ৪৬)।
৫৪- "আহলুস সুনান" (২) বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদের দিন দুটি বর্মের একটির ওপর অন্যটি পরিধান করেছিলেন।
৫৫- "সহীহাইন"-এ (৩) সাহল বিন সাদ (ক) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে উহুদের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জখম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মোবারক জখম হয়েছিল, তাঁর সামনের দাঁত ভেঙে গিয়েছিল এবং তাঁর মাথার ওপর পরিহিত শিরস্ত্রাণটি চূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فكانت فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم تغسل الدم، وكان علي يَسْكُب عليها بالمِجَنِّ.
فلما رأت فاطمة أن الماء لا يزيد الدم إلا كثرة أخذت قطعة حصير، فأحرقته حتى صار رمادًا، ثم ألصقته بالجرح فاستمسك الدم. أخرجاه في "الصحيحين".
المغفر56- وعن أنس بن مالك: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل عام الفتح وعلى رأسه "المِغْفَرُ".
فلما نزعه، جاء رجل فقال: ابن خَطَلٍ متعلّق بأستار الكعبة؟! فقال: "اقتلوه". أخرجاه في "الصحيحين" (1) .
القميص57- وعن أم سلمة رضي الله عنها قالت: كان أحب الثياب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم: "القَمِيصُ". رواه أهل السنن، وقال الترمذي: "حديث حسن" (2) .
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমা রক্ত ধৌত করছিলেন এবং আলী একটি ঢাল দিয়ে তাঁর ওপর পানি ঢালছিলেন।
যখন ফাতিমা দেখলেন যে, পানি ঢালার কারণে রক্তক্ষরণ আরও বেড়ে যাচ্ছে, তখন তিনি চাটাইয়ের একটি টুকরো নিয়ে তা পোড়ালেন এবং সেটি ছাইয়ে পরিণত করলেন। এরপর তিনি তা ক্ষতের ওপর লাগিয়ে দিলেন, ফলে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল। তাঁরা উভয়ই (বুখারি ও মুসলিম) এটি 'সহীহাইন' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
শিরস্ত্রাণ৫৬- আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর যখন (মক্কায়) প্রবেশ করলেন, তখন তাঁর মাথায় ছিল 'শিরস্ত্রাণ'।
যখন তিনি তা খুললেন, তখন এক ব্যক্তি এসে বলল: ইবনে খাতাল কাবার পর্দার সাথে ঝুলে আছে?! তিনি বললেন: "তাকে হত্যা করো।" তাঁরা উভয়ই এটি 'সহীহাইন'-এ বর্ণনা করেছেন (১)।
জামা৫৭- উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল: 'জামা'। এটি সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে 'হাসান' হাদিস বলেছেন (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
58- وروى أهل السنن (1) أيضا عن أسماء بنت يزيد قالت: كان يَدُ كُمِّ قَمِيص رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الرسغ.
قال الترمذي: "حديث حسن".
القباء59- وفي "الصحيحين" (2) وغيرهما عن المسور بن مخرمة رضي الله عنه أنه قال:
قَسَمَ رسول الله صلى الله عليه وسلم "أَقْبِيَةً"، ولم يعط مخرمة شيئًا.
قال مخرمة: يا بني انطلق بنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فانطلقت معه.
قال: ادخل فادعه لي.
قال: فدعوته، فخرج إليه وعليه "قَبَاءٌ" منها.
فقال: خَبَأْت هذا لك.
قال: فنظر إليه.
قال: رضي مخرمة.
--------------------------------------------
৫৮- এবং সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ (১) আসমা বিনতে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামার আস্তিন কবজি পর্যন্ত ছিল।
তিরমিযী বলেন: "হাদীসটি হাসান।"
আল-ক্বাবা (এক প্রকার বহিঃপোশাক)৫৯- এবং "সহীহাইন" (২) ও অন্যান্য গ্রন্থে মিসওয়ার বিন মাখরামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু "ক্বাবা" বণ্টন করলেন এবং মাখরামাকে কিছুই দিলেন না।
মাখরামা বললেন: হে বৎস, আমাদের নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চল। আমি তাঁর সাথে গেলাম।
তিনি বললেন: ভেতরে প্রবেশ করো এবং তাঁকে আমার জন্য ডাকো।
তিনি বলেন: আমি তাঁকে ডাকলাম, তখন তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে একটি "ক্বাবা" পরিহিত অবস্থায় তাঁর নিকট বেরিয়ে আসলেন।
তিনি বললেন: আমি এটি তোমার জন্য লুকিয়ে রেখেছিলাম।
তিনি বলেন: মাখরামা সেটির দিকে তাকালেন।
তিনি বলেন: মাখরামা সন্তুষ্ট হলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الإزار والرداء والقميص60- وذكر: "الإزار والرداء" له في أحاديث كثيرة مشهورة. وكذلك ذكر "القميص" (1) .
61- مثل ما في "الصحيحين" (2) عن جابر بن عبد الله قال: "أتى النبي صلى الله عليه وسلم عبد الله بن أُبَيِّ، بعد ما أدخل قبره، فأمر به فأخرج ووضع على ركبتيه، ونفث عليه من ريقه وألبسه "قميصه". والله أعلم.
62- وفيهما (3) عن عبد الله بن عمر قال:
لما توفي عبد الله بن أبي؛ جاء ابنه إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! أعطني "قميصك" أكفنه فيه، وصل عليه، واستغفر له.
فأعطاه "قميصه" وقال: إذا فرغت فآذنا.
فلما فرغ آذنه به، فجاء ليصلي عليه.
فجذبه عمر فقال: أليس قد نهاك الله أن تصلي على المنافقين؟ فقال: {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً
--------------------------------------------
ইজার, রিদা এবং কামিস৬০- এবং বর্ণিত হয়েছে: তাঁর জন্য অনেক প্রসিদ্ধ হাদিসে "ইজার ও রিদা" (চাদর ও লুঙ্গি)-র উল্লেখ রয়েছে। অনুরূপভাবে "কামিস" (জামা) (১)-এরও উল্লেখ রয়েছে।
৬১- যেমনটি "সহীহাইন" (২)-এ জাবির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের নিকট আসলেন যখন তাকে তার কবরে প্রবেশ করানো হয়েছিল। অতঃপর তিনি তাকে বের করার আদেশ দিলেন এবং তাকে বের করা হলো ও তাঁর দুই হাঁটুর ওপর রাখা হলো। এরপর তিনি তার ওপর নিজের পবিত্র থুথু দিলেন এবং তাকে নিজের 'কামিস' পরিধান করালেন।" আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
৬২- এবং উক্ত গ্রন্থদ্বয়ে (৩) আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন:
যখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইন্তেকাল করল, তখন তার ছেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আপনার "কামিস" দিন যেন আমি তাকে তাতে কাফন দিতে পারি, আর আপনি তার জানাজা পড়ুন এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
অতঃপর তিনি তাকে নিজের "কামিস" দিয়ে দিলেন এবং বললেন: যখন তোমরা কাজ শেষ করবে তখন আমাকে জানিও।
যখন সে কাজ শেষ করল তখন তাঁকে জানাল, এরপর তিনি তার জানাজা পড়াতে আসলেন।
তখন উমর তাঁকে টেনে ধরলেন এবং বললেন: আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের জানাজা পড়তে নিষেধ করেননি? তিনি উত্তরে বললেন: {তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো; যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ} (أ) (التوبة: من الآية80) .
فنزلت: {وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَداً وَلا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ} (التوبة: من الآية84) ، فترك الصلاة عليهم.
الجبة الضيقة الكمين63- وأما "الجُبَّةُ الضَّيِّقَة الكُمَّين":
64- ففي "الصحيحين" (2) عن المغيرة بن شعبة قال: كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة في سفر، فقال أمعك ماء؟
قلت: نعم.
فنزل عن راحلته فمشى حتى توارى عني في سواد الليل.
ثم جاء، فأفرغت عليه الإداوة، فغسل وجهه ويديه وعليه جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ فلم يستطع أن يخرج ذراعيه منها.
وفي رواية (3) : جُبَّةٌ شَامِيَّةٌ - فذهب يخرج يديه من كميه فكانا ضيقين، فأخرج يديه من أسفل الجبة، فغسل ذراعيه ثم مسح برأسه، ثم أهويت لأنزع خُفَّيْهِ.
فقال: "دعهما فإني أدخلتهما طاهرتين" فمسح عليهما.
--------------------------------------------
{আল্লাহ কখনোই তাদেরকে ক্ষমা করবেন না} (ক) (আত-তাওবাহ: ৮০ আয়াতের অংশ)।
অতঃপর অবতীর্ণ হলো: {আর তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনোই তার ওপর জানাজার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না} (আত-তাওবাহ: ৮৪ আয়াতের অংশ), ফলে তিনি তাদের ওপর জানাজার সালাত ত্যাগ করলেন।
সংকীর্ণ হাতাবিশিষ্ট জুব্বা৬৩- আর "সংকীর্ণ হাতাবিশিষ্ট জুব্বা" প্রসঙ্গে:
৬৪- "সহীহাইন" (২)-এ মুগিরা ইবন শু'বা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি এক রাতে নবী (সা.)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। তিনি বললেন, "তোমার কাছে কি পানি আছে?"
আমি বললাম: "হ্যাঁ।"
অতঃপর তিনি তাঁর সওয়ারি থেকে নামলেন এবং হাঁটলেন যতক্ষণ না রাতের অন্ধকারে আমার চোখের আড়ালে চলে গেলেন।
তারপর তিনি ফিরে এলেন, আর আমি পাত্র থেকে তাঁর ওপর পানি ঢাললাম। তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও উভয় হাত ধৌত করলেন। তাঁর পরনে একটি পশমী জুব্বা ছিল, যেটির হাতা থেকে তিনি তাঁর উভয় হাত বের করতে পারছিলেন না।
অন্য এক বর্ণনায় (৩): এটি ছিল একটি শামী (সিরীয়) জুব্বা—তিনি জুব্বার হাতা দিয়ে তাঁর হাত বের করার চেষ্টা করলেন, কিন্তু হাতা দুটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ছিল। ফলে তিনি জুব্বার নিচ দিয়ে তাঁর হাত বের করলেন এবং তাঁর উভয় হাত ধৌত করলেন। এরপর তাঁর মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর আমি তাঁর চামড়ার মোজা (খুফ) খোলার জন্য নিচু হলাম।
তিনি বললেন: "ওগুলো থাকতে দাও, কারণ আমি ওগুলো পবিত্র অবস্থায় পরিধান করেছি।" অতঃপর তিনি সেগুলোর ওপর মাসাহ করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
কাইদাতুন তাতাদাম্মান যিকর মালাবিসিন নাবী ওয়া সিলাহিহ ওয়া দাওয়াব্বিহ - আল-কুরমানিয়্যাহ - জওয়াবু ফাতইয়া ফী লুবসিন নাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الفروج65- وأما "الفروج":
ففي "الصحيحين" (1) عن عقبة بن عامر أنه قال:
أهدي لرسول الله صلى الله عليه وسلم فَرُّوجُ حَرِيرٍ، فلبسه ثم صلى فيه. ثم انصرف فنزعه نزعًا شديدًا كالكاره له.
ثم قال: "لا ينبغي هذا للمتقين".
وإنما نزعه لكونه حريرًا.
قال البخاري: "الفروج هو القباء" (2) .
ويقال: هو الذي له شقّ من خلفه.
السراويل66- وأما "السراويل" وغيره:
ففي "الصحيحين" (3) عن ابن عمر قال:
سئل رسول الله: ما يلبس المحرم من الثياب؟
فقال: "لا يلبس القميص، ولا العمائم، ولا البرانس، ولا السراويلات، ولا الخفاف".
--------------------------------------------
আল-ফাররুজ৬৫- আর "ফাররুজ" প্রসঙ্গে:
সহীহাইন-এ (১) উকবাহ ইবনে আমির (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রেশমের তৈরি একটি ফাররুজ উপহার দেওয়া হয়েছিল, তিনি সেটি পরিধান করলেন এবং তাতে সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি ফিরে এসে অপছন্দকারীর ন্যায় অত্যন্ত সজোরে তা শরীর থেকে খুলে ফেললেন।
অতঃপর তিনি বললেন: "মুত্তাকীদের জন্য এটি শোভনীয় নয়।"
তিনি এটি রেশমের হওয়ার কারণেই খুলে ফেলেছিলেন।
ইমাম বুখারী বলেন: "ফাররুজ হলো কাবা (এক প্রকার আলখাল্লা)" (২)।
বলা হয়ে থাকে: এটি এমন পোশাক যার পেছনের দিকে চেরা বা কাটা অংশ থাকে।
সারাবীল (পায়জামা)৬৬- আর "সারাবীল" (পায়জামা) ও অন্যান্য পোশাক প্রসঙ্গে:
সহীহাইন-এ (৩) ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলো: ইহরাম গ্রহণকারী ব্যক্তি কোন ধরণের পোশাক পরিধান করবে?
তিনি বললেন: "সে জামা, পাগড়ি, টুপিযুক্ত জুব্বা, পায়জামা এবং মোজা পরিধান করবে না।"
--------------------------------------------