(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: -)
الزهد والرقائق للخطيب البغدادي القسم: كتب السنة
الكتاب : المنتخب من كتاب الزهد والرقائق
المؤلف : أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (المتوفى : 463هـ)
المحقق : د. عامر حسن صبري
الناشر : دار البشائر الإسلامية - بيروت / لبنان
الطبعة : الأولى ، 1420هـ - 2000م
عدد الصفحات: 140
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-খাতীব আল-বাগদাদী রচিত আয-যুহদ ওয়ার-রাকায়িক বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব : আল-মুনতাখাব মিন কিতাবিল আয-যুহদ ওয়ার-রাকায়িক
লেখক : আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত ইবনে আহমদ ইবনে মাহদী আল-খাতীব আল-বাগদাদী (মৃত্যু : ৪৬৩ হিজরি)
সম্পাদক : ড. আমির হাসান সাবরি
প্রকাশক : দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত / লেবানন
সংস্করণ : প্রথম , ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[المنتخب من كتاب الزهد والرقائق]ـ
المؤلف: أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت بن أحمد بن مهدي الخطيب البغدادي (المتوفى: 463هـ)
المحقق: د. عامر حسن صبري
الناشر: دار البشائر الإسلامية - بيروت / لبنان
الطبعة: الأولى، 1420هـ - 2000م
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[যুহদ (দুনিয়া-বিমুখতা) ও রাকায়েক (হৃদয় বিগলিতকারী বর্ণনা) গ্রন্থ থেকে সংকলিত]
লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত বিন আহমদ বিন মাহদী আল-খতিব আল-বাগদাদী (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি)
সম্পাদক: ড. আমির হাসান সাবরি
প্রকাশক: দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ - বৈরুত / লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
بسم الله الرحمن الرحيم
صلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم تسليما
أخبرنا الشيخ أبو محمد عبد العزيز بن معالي بن منينا البابصري، قال: قرئ على الشيخ القاضي أبي بكر محمد بن عبد الباقي بن محمد بن عبد الله الأنصاري - وأنا أسمع فأقر به - قال: حدثنا الشيخ أبو بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب الحافظ من لفظه، في المحرم من سنة سبع وأربعين وأربعمائة، قال:
حَدِيثٌ قُدُسِيٌّ 1 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُوسَى بْنِ هَارُونَ بْنِ الصَّلْتِ الْأَهْوَازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَاضِي أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْمَحَامِلِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جُنَادَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ حَيْثُ يَذْكُرُنِي، فَإِذَا ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ، ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَأٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَأٍ خَيْرٍ مِنْهُ، وَإِنِ اقْتَرَبَ إِلَيَّ شِبْرًا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও পূর্ণ মাত্রায় শান্তি বর্ষিত হোক।
শায়খ আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে মাআলী ইবনে মুনাইনা আল-বাবাসরি আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: শায়খ কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আবদুল বাকি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারির সামনে এটি পাঠ করা হয়েছে - আমি তা শুনছিলাম এবং তিনি এটি স্বীকার করেছেন - তিনি বলেন: হাফেজ শায়খ আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত আল-খতিব ৪৪৭ হিজরী সালের মহররম মাসে নিজ কণ্ঠে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
হাদিসে কুদসি ১ - আবুল হাসান আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুসা ইবনে হারুন ইবনে আস-সালত আল-আহওয়াজি আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: কাজী আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনে ইসমাইল আল-মাহামিলি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালম ইবনে জুনাদা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু মুয়াবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার জন্য তেমনই; এবং সে যখন আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথে থাকি। সুতরাং সে যদি আমাকে মনে মনে স্মরণ করে, আমিও তাকে আমার মনে স্মরণ করি; আর যদি সে আমাকে কোনো সমাবেশে স্মরণ করে, তবে আমি তাকে তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি। আর যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে..."
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
اقْتَرَبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنِ اقْتَرَبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا اقْتَرَبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً " قَالَ سَلْمٌ: حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ مِثْلَهُ
أَثَرٌ لِلزَّاهِدِ بَكْرِ بْنِ خُنَيْسٍ فِي عَذَابِ فَسَقَةِ حَمَلَةِ الْقُرْآنِ 2 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ الْبَزَّازُ، وَأَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدَّلُ، قَالَا: أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ، حَدَّثَنَا أَبُو يَحْيَى زَكَرِيَّا بْنُ يَحْيَى بْنِ أَسَدٍ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَعْرُوفٌ الْكَرْخِيُّ، قَالَ:
...আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হই। আর সে যদি আমার দিকে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হয়, তবে আমি তার দিকে দুই প্রসারিত হাতের দূরত্ব (বাআ) পরিমাণ নিকটবর্তী হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, তবে আমি তার কাছে দৌড়ে আসি।" সালম বলেন: ইবনে নুমাইর আমাদের কাছে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
কুরআন বহনকারী পাপাচারীদের শাস্তি সম্পর্কে যাহেদ বকর ইবনে খুনাইসের একটি বর্ণনা ২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিজক আল-বাযযায এবং আবুল হুসাইন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন বিশরান আল-মুআদ্দাল, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাঈল বিন মুহাম্মদ আস-সাফফার, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু ইয়াহইয়া যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া বিন আসাদ আল-মারওয়াযি, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মা’রুফ আল-কারখি, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
قالَ بَكْرُ بْنُ خُنَيْسٍ: " إِنَّ فِي جَهَنَّمَ لَوَادِيًا تَتَعَوَّذُ جَهَنَّمُ مِنْ ذَلِكَ الْوَادِي كُلَّ يَوْمٍ سَبْعَ مَرَّاتٍ، وَإِنَّ فِي الْوَادِي لَجُبًّا يَتَعَوَّذُ الْوَادِي، وَجَهَنَّمُ مِنْ ذَلِكَ الْجُبِّ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعَ مَرَّاتٍ، وَإِنَّ فِي الْجُبِّ لَحَيَّةً يَتَعَوَّذُ ذَلِكَ الْجُبُّ، وَالْوَادِي، وَجَهَنَّمُ مِنْ تِلْكَ الْحَيَّةِ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعَ مَرَّاتٍ، يُبْدَأُ بِفَسَقَةِ حَمَلَةِ الْقُرْآنِ، فَيَقُولُونَ: أَيْ رَبِّ، بُدِئَ بِنَا قَبْلَ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ، قِيلَ لَهُمْ: لَيْسَ مَنْ يَعْلَمُ كَمَنْ لَا يَعْلَمُ "
বকর ইবনে খুনাইস বলেন: "নিশ্চয়ই জাহান্নামে এমন একটি উপত্যকা রয়েছে, যা থেকে জাহান্নাম স্বয়ং প্রতিদিন সাতবার আশ্রয় প্রার্থনা করে। আর সেই উপত্যকায় এমন একটি কূয়া রয়েছে, যা থেকে সেই উপত্যকা ও জাহান্নাম প্রতিদিন সাতবার আশ্রয় প্রার্থনা করে। আর সেই কূয়ায় এমন একটি সাপ রয়েছে, যা থেকে সেই কূয়া, উপত্যকা ও জাহান্নাম প্রতিদিন সাতবার আশ্রয় প্রার্থনা করে। (শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে) কুরআনের পাপাচারী ধারকদের মাধ্যমে শুরু করা হবে। তখন তারা বলবে: 'হে আমাদের রব! মূর্তিপূজকদের আগেই আমাদের দিয়ে শুরু করা হলো?' তাদের বলা হবে: 'যে জানে সে ঐ ব্যক্তির মতো নয় যে জানে না'।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
مِنْ مَنَاقِبِ مَعْرُوفٍ الْكَرْخِيِّ 3 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْقَاسِمِ الْمَخْزُومِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو الْبَخْتَرِيُّ، إِمْلَاءً، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ إِسْمَاعِيلَ بْنَ شَدَّادٍ، قَالَ: قَالَ لَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَينَةَ: " مِنْ أَيْنَ أَنْتُمْ "؟ قُلْنَا: مِنْ أَهْلِ بَغْدَادَ، قَالَ: " مَا فَعَلَ ذَلِكَ الْحَبْرُ الَّذِي فِيكُمْ "؟ قُلْنَا: مَنْ هُوَ؟ قَالَ: " أَبُو مَحْفُوظٍ مَعْرُوفٌ "، قَالَ: قُلْنَا: بِخَيْرٍ قَالَ: " لَا يَزَالُ أَهْلُ تَلِكَ الْمَدِينَةِ بِخَيْرٍ مَا بَقِيَ فِيهِمْ "
মারূফ আল-কারখীর শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি থেকে ৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-মাখযুমি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আমর আল-বাখতারি শ্রুতলিপি হিসেবে, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব, তিনি বলেন: আমি ইসমাইল বিন শাদ্দাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের বললেন: "তোমরা কোথা থেকে এসেছ?" আমরা বললাম: "বাগদাদ থেকে।" তিনি বললেন: "তোমাদের মাঝে সেই মহান পণ্ডিতের কী খবর?" আমরা বললাম: "তিনি কে?" তিনি বললেন: "আবু মাহফূয মারূফ।" বর্ণনাকারী বলেন: আমরা বললাম: "তিনি ভালো আছেন।" তিনি বললেন: "ঐ শহরের অধিবাসীরা ততক্ষণ কল্যাণের ওপর থাকবে, যতক্ষণ তিনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
قَوْلُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ فِي سَبَبِ حَجْبِ الْقُلُوبِ عَنِ اللَّهِ عز وجل 4 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ، إِمْلَاءً، حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ الْخُلْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ الْمَنْصُورِيُّ مَوْلَى مَنْصُورِ بْنِ الْمَهْدِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ الصُّوفِيُّ الْخُرَاسَانِيُّ، خَادِمُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ قَالَ: وَقَفَ رَجُلٌ مرَّةً عَلَى إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ، فَقَالَ: يَا أَبَا إِسْحَاقَ، لِمَ حُجِبَتِ الْقُلُوبُ عَنِ اللَّهِ عز وجل؟ قَالَ: " لِأَنَّهَا أَحَبَّتْ مَا أَبْغَضَ اللَّهُ، أَحَبَّتِ الدَّنْيَا وَمَالَتْ إِلَى دَارِ الْغُرُورِ، وَاللَّهْوِ، وَاللَّعِبِ، فَتَرَكَتِ الْعَمَلَ لِدَارٍ فِيهَا حَيَاةُ الْأَبَدِ، فِي نَعِيمٍ لَا يَزُولُ وَلَا يَنْفُذُ، خَالِدٍ مُخَلَّدٍ، فِي مِلْكٍ سَرْمَدٍ لَا نِهَايةَ لَهُ، وَلَا انْقِطَاعَ "
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা থেকে অন্তরসমূহ পর্দাচ্ছন্ন হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইব্রাহিম ইবনে আদহামের উক্তি ৪ - আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে রিজক আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন, আবু মুহাম্মদ জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুসায়র আল-খুলদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে নাসর আল-মানসুরি—যিনি মনসুর ইবনুল মাহদির মুক্তদাস—তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইব্রাহিম ইবনে আদহামের খাদেম ইব্রাহিম ইবনে বাশশার আস-সুফি আল-খুরাসানি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একবার এক ব্যক্তি ইব্রাহিম ইবনে আদহামের নিকট এসে দাঁড়াল এবং বলল: হে আবু ইসহাক, কেন অন্তরসমূহ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা থেকে পর্দাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে? তিনি বললেন: "কারণ অন্তরসমূহ তা-ই ভালোবেসেছে যা আল্লাহ ঘৃণা করেন; তারা দুনিয়াকে ভালোবেসেছে এবং প্রতারণার আবাস, আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে তারা সেই আবাসের জন্য আমল করা ছেড়ে দিয়েছে যেখানে অনন্ত জীবন রয়েছে—এমন নিআমতের মাঝে যা কখনো বিলীন হয় না এবং শেষ হয় না; যা চিরস্থায়ী, এমন এক চিরন্তন রাজত্বে যার কোনো সমাপ্তি নেই এবং কোনো বিচ্ছেদ নেই।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
حَدِيثٌ لَا يَصِحُّ فِي الْحَثِّ عَلَى لِبَاسِ الصُّوفِ 5 - أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ الْأَخْرَمُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ عِيسَى بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ الطُّومَارِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ التَّمَّارُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " عَلَيْكُمْ بِلِبَاسِ الصُّوفِ، تَجِدُونَ حَلَاوَةَ الْإِيمَانِ فِي قُلُوبِكُمْ، وَعَلَيكُمْ بِلِبَاسِ الصُّوفِ تَجِدُونَ قِلَّةَ الْأَكْلِ، وَعَلَيْكُمْ بِلِبَاسِ الصُّوفِ تُعْرَفَونَ بِهِ فِي الْآخِرَةِ، وَإِنَّ لِبَاسَ الصُّوفِ يُورِثُ فِي الْقَلْبِ التَّفَكُّرَ، وَالتَّفَكُّرُ يُورِثُ الْحِكْمَةَ، وَالْحِكْمَةُ تَجْرِي فِي الْجَوْفِ مَجْرَى الدَّمِ، فَمَنْ كَثُرَ تَفَكُّرُهُ، قَلَّ طَعْمُهُ، وَكَلَّ لِسَانُهَ، وَمَنْ قَلَّ تَفَكُّرُهُ كَثُرَ طَعْمُهُ، وَعَظُمَ بَدَنُهُ، وَقَسَى قَلْبُهُ، وَالْقَلْبُ الْقَاسِي بَعِيدٌ مِنَ اللَّهِ، بَعِيدٌ مِنَ الْجَنَّةِ، قَرِيبٌ مِنَ النَّارِ "
পশমি পোশাক পরিধানের উৎসাহে একটি ভিত্তিহীন হাদীস ৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবন মুহাম্মদ ইবন আবু জাফর আল-আখরাম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ঈসা ইবন মুহাম্মদ ইবন আহমদ আত-তুুমারি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইউনুস, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবন দাউদ আত-তাম্মার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবন আইয়াশ, তিনি সাওব ইবন ইয়াযিদ থেকে, তিনি খালিদ ইবন মা'দান থেকে, তিনি আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা পশমি পোশাক পরিধান করো, এতে তোমরা তোমাদের অন্তরে ঈমানের মিষ্টতা খুঁজে পাবে। তোমরা পশমি পোশাক পরিধান করো, এতে তোমরা অল্প আহারের অভ্যাস খুঁজে পাবে। তোমরা পশমি পোশাক পরিধান করো, যার মাধ্যমে তোমরা পরকালে পরিচিতি লাভ করবে। নিশ্চয়ই পশমি পোশাক অন্তরে চিন্তাশীলতা উৎপন্ন করে, আর চিন্তাশীলতা প্রজ্ঞা উৎপন্ন করে। আর প্রজ্ঞা শরীরের অভ্যন্তরে রক্তের ন্যায় প্রবাহিত হয়। অতএব, যার চিন্তা বৃদ্ধি পায়, তার আহার কমে যায় এবং তার জিহ্বা ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আর যার চিন্তা কমে যায়, তার আহার বৃদ্ধি পায়, তার শরীর স্থূল হয় এবং তার অন্তর কঠিন হয়ে যায়। আর কঠিন অন্তর আল্লাহ থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে এবং জাহান্নামের নিকটবর্তী।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
تَفْسِيرٌ لِأَبِي بَكْرِ بْنِ طَاهِرٍ لِحَدِيثِ: الْمُؤْمِنُ يأكلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ 6 - أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ فَضَالَةَ النَّيْسَابُورِيُّ، بِالرَّيِّ، أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَاذَانَ الرَّازِيُّ الْمُذَكِّرُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ طَاهِرٍ، يَقُولُ فِي " مَعْنَى حَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: الْمُؤْمِنُ يَأْكلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ، وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعاءٍ، قَالَ: لِلْعَبْدِ
আবু বকর বিন তাহের কর্তৃক এই হাদিসের ব্যাখ্যা: মুমিন এক আঁতে আহার করে ৬ - আবু আলী আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ফাদালাহ আন-নিসাবুরী রায় শহরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন শাযান আর-রাজি আল-মুযাক্কির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর বিন তাহেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের অর্থ সম্পর্কে বলতে শুনেছি: "মুমিন এক আঁতে আহার করে এবং কাফির সাত আঁতে আহার করে", তিনি বলেন: বান্দার জন্য
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
سَبْعَةُ أَمْعَاءٍ، وَاحِدٌ مِنْهَا طَبْعٌ، وَسِتَّةٌ حِرْصٌ، فَالْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ بِمَعَاءِ الطَّبْعِ، وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ بِأَمْعَاءِ الْحِرْصِ وَالطَّمَعِ "
مِنْ وَصَايَا يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ 7 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ أَحْمَدَ الْأَهْوَازِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الدَّنِفَ الصُّوفِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ جَامِعَ بْنَ أَحْمَدَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مُعَاذٍ الرَّازِيَّ، يَقُولُ: " لِيَكُنْ بَيْتُكَ الْخِلْوَةَ، وَطَعَامُكَ الْجُوعَ، وحَدِيثُكَ الْمُنَاجَاةَ، فَإِمَّا أَنْ تَمُوتَ بِدَائِكَ، وَإِمَّا أَنْ تَصِلَ إِلَى دَوَائِكَ "
সাতটি নাড়ি রয়েছে, যার একটি হলো স্বভাবজাত আর ছয়টি হলো লোভ। মুমিন আহার করে স্বাভাবিক নাড়িতে, আর কাফির আহার করে লোভ ও লালসার নাড়িগুলোতে।
ইয়াহইয়া ইবনে মুআজের কিছু উপদেশমালা ৭ - মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আহমদ আল-আহওয়াজী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি আবু বকর আদ-দানিফ আস-সুফিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জামে‘ ইবনে আহমদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মুআজ আর-রাজিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "তোমার ঘর হোক নির্জনতা, তোমার আহার হোক ক্ষুধা এবং তোমার আলাপচারিতা হোক মুনাজাত; তবে হয় তুমি তোমার ব্যাধিতেই মৃত্যুবরণ করবে, নতুবা তোমার ওষুধের (আরোগ্যের) সন্ধান পাবে।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
فِي بَدْءِ يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ بِأُمُورِ الْعِبَادَةِ وَالسُّلُوكِ
8 - حَدَّثَنَا أَبُو طَالِبٍ يَحْيَى بْنُ عَلِيٍّ الطَّيِّبُ الْعِجْلِيُّ، بِحُلْوَانَ قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الدَّامَغَانِيَّ، بِهَا يَقُولُ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ سَلَّامٍ الْمَعْرُوفَ بِحَسَنِ بْنِ عَلُويَةَ الْوَاعِظِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا زَكَرِيَّا يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ الرَّازِيَّ، يَقُولُ: " بَدْءُ أَمْرِي فِي سِيَاحَتِي حَيْثُ خَرَجْتُ مِنَ الرَّيِّ، فَوَقَعَ فِي قَلْبِي شَأْنُ الْمَؤُنَةِ، وَالنَّفَقَةِ، فَتَفَكَّرْتُ فِي نَفْسِي، فَإِذَا بِهَاتِفٍ يَهْتِفُ فِي قَلْبِي: أَخْرِجْ مَا فِي الْجَيْبِ حَتَّى نُعْطِيَكَ مِنَ الْغَيْبِ "
قَوْلُ سَهْلٍ التُّسْتَريِّ فِي حَقِيقَةِ الْيَقِينِ 9 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُهْلُولٍ الْفَقِيهُ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ أَبِي حُمَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ سَهْلَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: " حَرَامٌ عَلَى قَلْبٍ أَنْ يَشُمَّ رَائِحَةَ الْيَقِينِ، وَفِيهِ سُكُونٌ إِلَى غَيْرِ اللَّهِ، وَحَرَامٌ عَلَى قَلْبٍ أَنْ يَدْخُلَهُ النُّورُ، وَفِيهِ شَيْءٌ مِمَّا يَكْرَهُ اللَّهُ عز وجل "
ইয়াহইয়া ইবনে মুআজের ইবাদত ও আধ্যাত্মিক আচরণের সূচনা প্রসঙ্গে
৮ - আবু তালিব ইয়াহইয়া ইবনে আলী আত-তাইয়িব আল-ইজলি আমাদের কাছে হুলওয়ানে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সেখানে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দামাগানিকে বলতে শুনেছি, তিনি সেখানে বলছিলেন: আমি হাসান ইবনে আলুওয়্যাহ ওয়ায়েজ নামে পরিচিত হাসান ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সালামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মুআজ আর-রাজিকে বলতে শুনেছি: "আমার ভ্রমণের শুরুর দিকে যখন আমি রায় শহর থেকে বের হলাম, তখন আমার অন্তরে জীবিকা ও ব্যয়ের চিন্তা উদয় হলো। আমি নিজের মনে চিন্তা করলাম, তখন হঠাৎ এক অদৃশ্য আহ্বানকারী আমার অন্তরে ডেকে বলল: পকেটে যা আছে তা বের করে দাও, যাতে আমরা তোমাকে গায়েব থেকে দান করি।"
ইয়াকিনের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে সাহল আত-তুস্তারির উক্তি ৯ - আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আন-নাইসাবুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বুহলুল আল-ফকিহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে আলী ইবনে আবি হুমাইরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাহল ইবনে আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: "এমন হৃদয়ের জন্য ইয়াকিনের ঘ্রাণ নেওয়া হারাম যাতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো প্রতি নির্ভরতা রয়েছে। আর এমন হৃদয়ে নূর প্রবেশ করা হারাম যাতে মহান আল্লাহ অপছন্দ করেন এমন কিছু বিদ্যমান রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬০)
خَبَرٌ عَنْ دَاوُدَ عليه الصلاة والسلام بِأَنْ لَا يَجْعَلَ فِي صِلَتِهِ بِاللَّهِ أَحَدًا غَيْرَهُ 10 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي الصَّلْتِ الْأَهْوَازِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ مَخْلدٍ الْعَطَّارُ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ نُعَيْمِ بْنِ هَيْصَمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ بِشْرَ هُوَ ابْنُ الْحَارِثِ، يَقُولُ: " أَوْحَى اللَّهُ تَعَالَى إِلَى دَاوُدَ: يَا دَاوُدُ، لَا تَجْعَلْ بَيْنِي وَبَيْنَكَ عَالِمًا مَفْتُونًا، فَيَصُدَّكَ بِسُكْرِهِ عَنْ طَرِيقِ مَحبَّتِي، أُولَئِكَ قُطَّاعُ طَرِيقِ عِبَادِي "
দাঊদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সম্পর্কে বর্ণিত সংবাদ যে, তিনি যেন আল্লাহর সাথে তাঁর সম্পর্কের মাঝে অন্য কাউকে স্থাপন না করেন ১০ - আবুল হাসান আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবিস সালত আল-আহওয়াযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু মাখলাদ আল-আত্তার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মূসা ইবনু হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ—অর্থাৎ ইবনু নুআইম ইবনু হাইসাম—আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বিশর—যিনি ইবনুল হারিস—তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ওহী প্রেরণ করেছেন: হে দাঊদ, আমার ও তোমার মাঝখানে এমন কোনো আলিমকে রেখো না যে ফিতনায় আচ্ছন্ন, ফলে সে তার মত্ততার দ্বারা তোমাকে আমার ভালোবাসার পথ থেকে বিচ্যুত করবে; এরাই হলো আমার বান্দাদের পথের ডাকাত।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬১)
قَوْلُ يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ فِي تَأْخِيرِ الْعَذَابِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ 11 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فَضَالَةَ بِالرَّيِّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ، بِبُخَارَى قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُطِيعٍ مَكْحُولُ بْنُ الْفَضْلِ النَّسَفِيُّ، قَالَ: قَالَ يَحْيَى بْنُ مُعَاذٍ الرَّازِيُّ: " مُصِيبَتَانِ لِلْعَبْدِ لَمْ يَسْمَعَ الْأَوَّلُونَ، وَالْآخِرُونَ بِمِثْلِهَا لَهُ فِي مَآلِهِ عِنْدَ مَوْتِهِ قِيلَ: وَمَا هُمَا؟ قَالَ: يُؤَخَّرُ مِنْهُ كُلُّهُ، وَيُسْأَلُ عَنْهُ كَلُّهُ "
تَصْوِيرُ أَبِي بَكْرٍ الشِّبْلِيِّ لِلدُّنْيَا 12 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْأَصْبَهَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَاتِمٍ الطَّبَرِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الشِّبْلِيَّ، يَقُولُ فِي وَصِيَّتِهِ: " إنْ أَرَدْتَ أنْ تَنْظُرَ إِلَى الدُّنْيَا بِحَذَافِيرِهَا، فَانْظُرْ إِلَى مَزْبَلَةٍ، فَهِيَ الدُّنْيَا، وَإِذَا أَرَدْتَ أَنْ تَنْظُرَ إِلَى
কিয়ামতের দিন পর্যন্ত শাস্তি বিলম্বিত করা সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে মুআযের উক্তি ১১ - আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ফাদালা রাই শহরে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বুখারায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুতী মাকহুল ইবনুল ফদল আন-নাসাফী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মুআয আর-রাযী বলেছেন: "বান্দার জন্য এমন দুটি বিপদ রয়েছে যার দৃষ্টান্ত পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কেউ কখনও শোনেনি, যা মৃত্যুর সময় তার পরিণতির ক্ষেত্রে ঘটে। জিজ্ঞেস করা হলো: সেই দুটি কী? তিনি বললেন: তার নিকট থেকে তার সবকিছু (সম্পদ) পেছনে রেখে যাওয়া হয় এবং তাকে তার সবকিছুর ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।"
আবু বকর আশ-শিবলীর দৃষ্টিতে দুনিয়ার চিত্র ১২ - মুহাম্মাদ ইবনে আলী আল-আসবাহানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু হাতিম আত-তাবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আশ-শিবলীকে তার ওসিয়তনামা বা উপদেশে বলতে শুনেছি: "যদি তুমি দুনিয়াকে তার আদ্যোপান্ত দেখতে চাও, তবে একটি আবর্জনার স্তূপের দিকে তাকাও; কারণ সেটিই হলো দুনিয়া। আর যদি তুমি দেখতে চাও..."
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬২)
نَفْسِكَ، فَخُذْ كَفًّا مِنْ تُرَابٍ، فَإِنَّكَ مِنْهَا خُلِقْتَ، وَفِيهَا تَعُودُ، وَمِنْهَا تَخْرُجُ، وَمَتَى أَرَدْتَ أَنْ تَنْظُرَ إِلَى مَا أَنْتَ، فَانْظُرْ إِلَى مَا يَخْرُجُ مِنْكَ فِي دُخُولِكَ الْخَلَاءَ، فَمَنْ كَانَ حَالُهُ كَذَلِكَ، فَلَا يَجُوزُ أَنْ يَتَطَاوَلَ، أَو يَتَكَبَّرَ عَلَى مَنْ هُوَ مِثْلُهُ "
قَوْلُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ فِي ذَمِّ الْحِرْصِ 13 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ رِزْقٍ التَّائِيُّ، وَأَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِئُ، قَالَا: أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُلْدِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: قُلْتُ لِإِبْرَاهِيمَ بْنِ أَدْهَمَ: أَمُرُّ الْيَوْمَ أَعْمَلُ فِي الطَّينِ فَقَالَ: " يَا ابْنَ بَشَّارٍ، إِنَّكَ طَالِبٌ، وَمَطْلُوبٌ، يَطْلُبُكَ مَنْ لَا تَفُوتُهُ، وَتَطْلُبُ مَا قَدْ كُفِيتَهُ، كَأَنَّكَ بِمَا قَدْ غَابَ عَنْكَ قَدْ كُشِفَ لَكَ، وَمَا كُنْتَ فِيهِ قَدْ نُقِلْتَ عَنْهُ، يَا ابْنَ بَشَّارٍ، كَأَنَّكَ لَمْ تَرَ حَرِيصًا مَحْرُومًا، وَلَا ذَا فَاقَةٍ مَرْزُوقًا " ثُمَّ قَالَ لِي: " مَا لَكَ حِيلَةٌ "؟ قُلْتُ: نَعَمْ، لِيَ عِنْدَ الْبَقَّالِ دَانِقٌ، فَقَالَ: " عَزَّ عَلَيَّ، تَمْلِكُ دَانِقًا وَتَطْلُبُ الْعَمَلَ "
আপনার নিজের সত্তা সম্পর্কে ভাবুন; এক মুষ্টি মাটি নিন, কেননা তা থেকেই আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতেই আপনি ফিরে যাবেন এবং তা থেকেই আপনাকে বের করা হবে। আর যখনই আপনি দেখতে চাইবেন যে আপনি আসলে কী, তখন শৌচাগারে প্রবেশের সময় আপনার শরীর থেকে যা নির্গত হয় তার দিকে তাকান। সুতরাং যার অবস্থা এমন, তার পক্ষে দম্ভ করা বা নিজের মতো অন্য কারো ওপর অহংকার করা সমীচীন নয়।
লোভের নিন্দায় ইবরাহীম ইবনে আদহামের বাণী ১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন রিযক আত-তাঈ এবং আবুল হাসান আলী বিন আহমদ বিন উমর আল-মুকরি, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর বিন মুহাম্মদ আল-খুলদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন নাসর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম বিন বাশার, তিনি বলেন: আমি ইবরাহীম বিন আদহামকে বললাম: আমি আজ কাদামাটির কাজ করতে যাচ্ছি। তখন তিনি বললেন: "হে ইবনে বাশার, নিশ্চয়ই তুমি অন্বেষণকারী এবং অন্বেষিত। তোমাকে এমন সত্তা অন্বেষণ করছেন যাঁর থেকে তুমি পালিয়ে বাঁচতে পারবে না, আর তুমি এমন জিনিসের অন্বেষণ করছ যা তোমার জন্য যথেষ্ট করা হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন যা তোমার থেকে অদৃশ্য ছিল তা তোমার কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে, আর যে অবস্থায় তুমি ছিলে তা থেকে তোমাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হে ইবনে বাশার, মনে হয় তুমি কখনো কোনো বঞ্চিত লোভীকে দেখনি, কিংবা কোনো অভাবগ্রস্তকে রিযকপ্রাপ্ত হতে দেখনি।" এরপর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার কি কোনো উপায় নেই?" আমি বললাম: "হ্যাঁ, মুদির কাছে আমার এক দানিক (মুদ্রার ক্ষুদ্র অংশ) পাওনা আছে।" তিনি বললেন: "আমার কাছে এটা গুরুতর মনে হচ্ছে যে, তুমি এক দানিকের মালিক হওয়া সত্ত্বেও কাজ খুঁজছ।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
مَوَاعِظٌ فِي الْقَنَاعَةِ وَغَيْرِهَا 14 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَرَّاجِ الْبَزَّازُ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْخُلْدِيُّ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيُّ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى حَجَرٍ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ: " رَأْسُ الْغِنَى الْقُنُوعُ، وَرَأْسُ الْفَقْرِ الْخُضُوعُ " وَقَالَ أَيْضًا: قَرَأْتُ عَلَى حَجَرٍ بِدِمَشْقَ: " كَلِّمْ مَنْ شِئْتَ فَأَنْتَ نَظِيرُهُ، وَاسْتَغْنِ عَمَّنْ شِئْتَ فَأَنْتَ أَمِيرُهُ، وَاخْضَعْ لِمَنْ شِئْتَ فَأَنْتَ أَسْيرُهُ " قَالَ: وَقَرَأْتُ عَلَى حَجَرٍ عِنْدَ جُبٍّ: " كَلُّ مَنْ أَحْوَجَكَ الدَّهْرُ إِلَيْهِ، فَتَعَرَّضْتَ لَهُ، هِنْتَ عَلَيْهِ "
شِعْرٌ لِأَبِي الْعَبَّاسِ أَحْمَدَ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مَسْرُوقٍ 15 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا جَعْفَرٌ، قَالَ: أَنْشَدَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَسْرُوقٍ:
" إِنْ كُنْتَ تُوقِنُ أَنَّ رَبَّكَ رَازِقٌ
… وَسَأَلْتَ مَخْلُوقًا فَلَسْتَ بِمُوقِنِ
أَوْ كُنْتَ فِي شَكٍّ مِنَ الرِّزْقِ الَّذِي
… كَفَلَ الْإِلَهُ بِهِ فَلَسْتَ بِمُؤْمِنِ "
رُؤْيَةُ أَبِي الْفَضْلِ الشِّكْلِيِّ لِشَابٍّ مُتَصَوِّفٍ 16 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عُمَرَ الْمُقْرِئُ، وَعَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ
অল্পে তুষ্টি ও অন্যান্য বিষয়ে উপদেশসমূহ ১৪ - মুহাম্মদ বিন আল-ফরাজ আল-বাজ্জাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর বিন মুহাম্মদ আল-খুলদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মাসরুক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আল-আনসারি আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আমি বায়তুল মাকদিসে একটি পাথরের গায়ে পড়েছি: "অভাবহীনতার মূল হলো অল্পে তুষ্টি, আর দারিদ্র্যের মূল হলো (মানুষের সামনে) মস্তক অবনত করা।" তিনি আরও বলেন: আমি দামেশকে একটি পাথরের গায়ে পড়েছি: "তুমি যার সাথে ইচ্ছা কথা বলো, তবে তুমি তার সমতুল্য; যার থেকে ইচ্ছা অমুখাপেক্ষী থাকো, তবে তুমি তার নেতা; আর যার প্রতি অবনত হবে, তুমি তার বন্দি।" তিনি বলেন: আমি একটি কূপের নিকটবর্তী পাথরে পড়েছি: "কালচক্র তোমাকে যার মুখাপেক্ষী করবে আর তুমি তার দ্বারস্থ হবে, তবে তুমি তার কাছে তুচ্ছ হয়ে পড়বে।"
আবু আব্বাস আহমদ বিন আহমদ বিন মাসরুকের কবিতা ১৫ - মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন মাসরুক আমাদের কবিতা শুনিয়েছেন:
"যদি তুমি এই নিশ্চিত বিশ্বাস রাখো যে তোমার রবই রিযিকদাতা
… আর (তা সত্ত্বেও) তুমি সৃষ্টির কাছে প্রার্থনা করো, তবে তুমি নিশ্চিত বিশ্বাসী নও।
অথবা যদি তুমি সেই রিযিকের ব্যাপারে সন্দেহে থাকো
… যার জিম্মাদারি আল্লাহ নিয়েছেন, তবে তুমি মুমিন নও।"
এক সুফি যুবক সম্পর্কে আবু ফজল আশ-শিকলির বর্ণনা ১৬ - আলী বিন আহমদ বিন ওমর আল-মুকরি এবং আব্দুল মালিক বিন... আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْوَاعِظُ، قَالَا: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ الْآجُرِّيُّ، بِمَكَّةَ قَالَ: حَدَّثَنِي بَعْضُ أصْحَابِنَا، عَنْ أَبِي فَضْلٍ الشِّكْلِيُّ، قَالَ: " رَأَيْتُ شَابًّا فِي بَعْضِ الطُّرُقِ، وَعَلَيْهِ خَلَقٌ، فَكَأَنِي لَمْ أَحْفلْ بِهِ، فَالْتَفَتَ إِلَيَّ، ثُمَّ قَالَ:
"لَا تَنْبُ عَنِّي بِأَنْ تَرَى خَلَقِي
… فِإِنَّمَا الدُّرُّ دَاخِلَ الصَّدَفِ
عِلْمِي جَدِيدٌ وَمَلْبَسِي خَلِقٌ
… وَمُنْتَهَى اللُّبْسِ مُنْتَهَى الصَّلَفِ"،
قَالَ: فَجَعَلْتُ أَلُوذُ بِهِ، وَأَنِسْتُ بِهِ
رُؤْيَةُ ذِي النُّونِ لِشَابٍّ عَلَيْهِ عَلَامَاتُ الصَّلَاحِ 17 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ النَّيْسَابُورِيُّ، بِالرَّيِّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَاذَانَ الْمُذَكِّرُ، قَالَ: سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنَ
মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বিশরান আল-ওয়ায়িজ, তাঁরা উভয়েই বলেছেন: মক্কায় মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন আল-আজুরি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমার জনৈক সাথী আবু ফজল আল-শিকলি থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমি কোনো এক পথে এক যুবককে দেখতে পেলাম, যার পরনে ছিল জীর্ণ পোশাক। আমি যেন তার প্রতি তেমন কোনো গুরুত্ব দিলাম না। তখন সে আমার দিকে ফিরে তাকাল, তারপর বলল:
"আমার জীর্ণ পোশাক দেখে আমাকে অবজ্ঞা করো না
… কারণ মুক্তা তো ঝিনুকের ভেতরেই থাকে।
আমার জ্ঞান সতেজ আর আমার পোশাক জীর্ণ
… আর পোশাকের আতিশয্য হলো দম্ভের চরম সীমা।"
তিনি বলেন: এরপর আমি তার নিকটবর্তী হতে লাগলাম এবং তার সাথে ঘনিষ্ঠ হলাম।
যুন-নুন কর্তৃক পুণ্য ও তাকওয়ার চিহ্নধারী এক যুবককে দর্শন ১৭ - রায় শহরে আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আন-নাইসাপুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শাযান আল-মুযাক্কির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আমি ইউসুফ ইবনে... কে বলতে শুনেছি।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
الْحُسَيْنِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ ذَا النُّونِ، يَقُولُ: " بَيْنَمَا أَنَا سَائِرٌ فِي بَعْضِ الطُّرُقِ، فَإِذَا فَتًى حَسَنُ الْوَجْهِ، أَثَرُ التَّهَجُّدِ بَيْنَ عَيْنَيهِ، فَقُلْتُ: حَبِيبِي، مِنْ أَينَ قَدِمْتَ؟ قَالَ: مِنْ عِنْدِهُ، فقُلْتُ: وَإِلَى أَيْنَ "؟ فَقَالَ: إِلَى عِنْدِهُ قَالَ: فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ النَّفَقَةَ، فَنَظَرَ إِلَيَّ مُغْضَبًا، ثُمَّ ولَّى وَأَنْشَأَ يَقُولُ:
وَكَافِرٌ بِاللَّهِ أَمْوَالُهُ
… تَزْدَادُ أَضْعَافًا عَلَى كُفْرِهِ
وَمُؤْمِنٌ لَيْسَ لَهُ دِرْهَمٌ
… يَزْدَادُ إِيمَانًا عَلَى فَقْرِهِ
لَا خَيْرَ فِيمَنْ لَمْ يَكُنْ عَاقِلًا
… يَمُدُّ رِجْلَيهِ عَلَى قَدْرِهِ "
شِعْرٌ لِأَبِي بَكْرٍ الْمُؤَدِّبِ 18 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَفْصٍ الْقَارِئُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ أَبُو بَكْرٍ، بِمَكَّةَ قَالَ: أَنْشَدَنِي أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُمَيْدٍ الْمُؤَدِّبُ:
"رُبَّ ذِي طِمْرَيْنِ نِضْوٍ
… يَأمَنُ الْعَالمُ شَرَّهْ
আল-হুসাইন বলেন: আমি যুন-নূনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "একদা আমি কোনো এক পথে পথচলছিলাম, তখন হঠাৎ সুন্দর চেহারার এক যুবককে দেখলাম যার দুই চোখের মাঝখানে তাহাজ্জুদের চিহ্ন বিদ্যমান। আমি বললাম: হে প্রিয়জন, আপনি কোথা থেকে এসেছেন? সে বলল: তাঁর নিকট থেকে। আমি বললাম: আর কোথায় যাবেন? সে বলল: তাঁরই অভিমুখে। তিনি (যুন-নূন) বলেন: এরপর আমি তাকে খরচের জন্য কিছু অর্থ দিতে চাইলাম, তখন সে ক্রুদ্ধ হয়ে আমার দিকে তাকাল, অতঃপর প্রস্থানকালে সে এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল:
আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী এমন ব্যক্তি যার ধন-সম্পদ
… তার কুফরির ওপর কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়
আর এমন মুমিন যার কাছে কোনো দিরহাম নেই
… সে তার দারিদ্র্যের মাঝেও ঈমানে বৃদ্ধি পায়
সেই ব্যক্তির মাঝে কোনো কল্যাণ নেই যে বুদ্ধিমান নয়
… যে তার সামর্থ্য অনুযায়ী পা বাড়ায় না।"
আবু বকর আল-মুয়াদ্দিব-এর কবিতা ১৮ - আলী ইবন আহমদ ইবন হাফস আল-কারী আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন আল-হুসাইন আবু বকর মক্কায় আমাদের অবহিত করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন হুমাইদ আল-মুয়াদ্দিব আমার নিকট আবৃত্তি করেছেন:
"কতই না জীর্ণবস্ত্র পরিহিত কৃশকায় ব্যক্তি রয়েছে
… যার অনিষ্ট হতে বিশ্ব নিরাপদ থাকে।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
لَا يُرَى إِلَّا غَنِيًّا
… وَهْوَ لَا يَمِلِكُ ذَرَّهْ
ثُمَّ لَوْ أَقْسَمَ فِي شَيْءٍ
… عَلَى اللَّهِ أَبَرَّهْ "
قَوْلُ أَبُيِ بَكْرٍ الشِّبْلِيِّ فِي حَقِيقَةِ التَّصَوُّفِ 19 - أَخْبَرَنَا أَبُو طَالِبٍ يَحْيَى بْنُ عَلِيٍّ الدَّسْكَرِيُّ، لَفْظًا، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بِنُ بُنْدَارٍ، قَالَ: سُئِلَ الشِّبْلِيُّ عَنِ التَّصَوُّفِ، فَقَالَ: " التَّصَوُّفُ عِنْدِي: تَرْوِيحُ الْقُلُوبِ بِمِرْوَاحِ الصَّفَاءِ، وَتَجْلِيلُ الْخَوَاطِرِ بِأَرْدِيَةِ الْوَفَاءِ، وَالتَّخَلُّقُ بِالسَّخَاءِ، وَالْبِشْرُ فِي اللِّقَاءِ "
شِعْرٌ لِأَبِي الْحُسَيْنِ الْمُخَرَّمِيِّ 20 - أَنْشَدَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْبَلْخِيُّ، قَالَ: أَنْشَدَنَا طَاهِرُ بْنُ الْحُسَيْنِ أَبُو الْحُسَيْنِ الْمُخَرَّمِيُّ، لِنَفْسِهِ: "
তাঁকে কেবল সচ্ছল হিসেবেই দেখা যায়
… অথচ তিনি একটি অণুপরিমাণ জিনিসেরও মালিক নন।
অতঃপর তিনি যদি কোনো বিষয়ে
… আল্লাহর নামে শপথ করেন, তবে আল্লাহ তা সত্যে পরিণত করেন। "
তাসাউফের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে আবু বকর আশ-শিবলীর উক্তি ১৯ - আবু তালিব ইয়াহইয়া ইবনে আলী আদ-দাসকারী মৌখিকভাবে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবনে বুন্দার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শিবলীকে তাসাউফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন: "আমার নিকট তাসাউফ হলো: স্বচ্ছতার ব্যজনী (পাখা) দ্বারা অন্তরসমূহকে প্রশান্তি প্রদান করা, বিশ্বস্ততার চাদর দ্বারা চিন্তা-চেতনাকে আবৃত করা, দানশীলতার স্বভাব অর্জন করা এবং সাক্ষাতের সময় প্রফুল্ল থাকা।"
আবু আল-হুসাইন আল-মুখাররামীর কবিতা ২০ - হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-বালখী আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: তাহির ইবনে আল-হুসাইন আবু আল-হুসাইন আল-মুখাররামী নিজের রচিত কবিতা আমাদের আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন: "
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
لَيْسَ التَّصَوُّفُ أَنْ يُلَاقِيكَ الْفَتَى
… وَعَلَيْهِ مِنْ نُسُجِ النُّحُوسِ مُرَقَّعُ
بِطَرَائِقَ سُودٍ وَبِيضٍ لُفِقَتْ
… فَكَأَنَّهُ فِيهَا غُرَابٌ أَبَقَعُ
إِنَّ التَّصَوُّفَ مَلْبَسٌ مُتَعَارَفٌ
… يَخْشَى الْفَتَى فِيهِ الْإِلَهَ وَيَخْشَعُ "
قَوْلِ يَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ فِي حَقِيقَةِ الْمَحَبَّةِ 21 - حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ نَعْمِ بْنِ الْجَارُودِ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْفِهْرِيَّ الْأَصْبَهَانِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْمَالِكِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مُعَاذٍ الرَّازِيَّ، يَقُولُ: " حَقِيقَةُ الْمَحَبَّةِ أَنَّهَا لَا تَزِيدُ بِالْبِرِّ، وَلَا تَنْقُصُ بِالْجَفَاءِ "
قَوْلٌ آخَرُ لَيَحْيَى فِي الْفِرَاسَةِ 22 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ الطَّيِّبِ الْعِجْلِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَمَّدٍ الدَّمْغَانِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الْحَسَنَ بْنَ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ سَلَّامٍ، يَقُولُ:
তাসাউফ এটি নয় যে এক যুবক তোমার সাথে সাক্ষাৎ করবে
… আর তার অঙ্গে থাকবে দুর্ভাগ্যের বুননে তৈরি তালিযুক্ত পোশাক।
যাতে কালো ও সাদা তালি জোড়া দেওয়া হয়েছে
… ফলে তাকে যেন সেখানে সাদা-কালো দাগওয়ালা কাকের মতো মনে হয়।
নিশ্চয়ই তাসাউফ হলো একটি সুপরিচিত পোশাক
… যার ভেতরে যুবক ইলাহকে ভয় করে এবং বিনয়ী হয়। "
ভালোবাসার হাকীকত সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে মুআযের উক্তি ২১ - আবু আল-হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে নাআম ইবনে আল-জারুদ আল-বাসরি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনে আহমদ ইবনে আবদুর রহমান আল-ফিহরি আল-আসবাহানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আহমদ ইবনে আবদুল জাব্বার আল-মালিকীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মুআয আর-রাজিকে বলতে শুনেছি: "ভালোবাসার হাকীকত হলো তা সদাচরণের কারণে বৃদ্ধি পায় না এবং দুর্ব্যবহারের কারণে হ্রাস পায় না।"
ফিরাসাত (অন্তর্দৃষ্টি) সম্পর্কে ইয়াহইয়ার অন্য একটি উক্তি ২২ - ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে আত-তয়্যিব আল-ইজলি আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আদ-দামাগানিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি হাসান ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সালামকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
قِيلَ لِيَحْيَى بْنِ مُعَاذٍ: يُرْوَى عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَهْلِ الْخَيْرِ، قَدْ كَانَ أَدْرَكَ الْأَوْزَاعِيَّ وسُفيَانَ أَنَّهُ سُئِلَ: مَتَى تَقَعُ الْفِرَاسَةُ عَلَى الْغَائِبِ؟ قَالَ: " إِذَا كَانَ مُحِبًّا لِمَا أَحَبَّ اللَّهُ، مُبْغِضًا لِمَا أَبْغَضَ اللَّهُ، وَقَعَتْ فِرَاسَتُهُ عَلَى الْغَائِبِ "، فَقَالَ يَحْيَى:
كَلُّ مَحْبُوبٍ سِوَى اللَّهِ سَرَفْ
… وَهُمُومٌ وغُمُومٌ وَأَسَفْ
كُلُّ مَحْبُوبٍ فَمِنْهُ خَلَفٌ
… مَا خَلَا الرَّحْمَنِ مَا مِنْهُ خَلَفْ
إِنَّ لِلْحُبِّ دَلَالَاتٍ إِذَا
… ظَهَرَتْ مِنْ صَاحِبِ الْحُبِّ عُرِفْ
صَاحِبُ الْحُبِّ حَزِينٌ قَلْبُهُ
… دَائِمُ الْغُصَّةِ مَحْزُونٌ دَنِفْ
مَنْ فِي اللَّهِ لَا مِنْ غَيرِهِ
… ذَاهِبُ الْعَقْلِ وَبِاللَّهِ كَلِفْ
أَشْعَثُ الرَّأْسِ خَمِيصٌ بَطْنُهُ
… أَصْفَرُ الْوَجْهِ وَالطَّرْفُ ذَرِفْ
دَائِمُ التَّذْكِيرِ مِنْ حُبِّ الَّذِي
… حُبُّهُ غَايَةُ غَايَاتِ الشَّرَفْ
فَإِذَا أَمْعَنَ فِي الْحُبِّ لَهُ
… وَعَلَاهُ الشَّوْقُ مِنْ دَاءٍ كَلِفْ
بَاشَرَ الْمِحْرَابَ يَشْكُو بَثَّهُ
… وأَمَامَ اللَّهِ مَوْلَاهُ وَقَفْ
قَائِمًا قِوَامُهُ مُنْتَصِبًا
… لَهِجًا يَتْلُو بِآيَاتِ الصُّحُفْ
ইয়াহইয়া বিন মুআযকে বলা হলো: নেককার লোকদের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তির কথা বর্ণিত হয়েছে, যিনি আওযায়ী এবং সুফিয়ানকে পেয়েছিলেন, তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল: অদৃশ্যের ব্যাপারে দূরদর্শিতা (ফিরাসা) কখন কার্যকর হয়? তিনি বললেন: "যখন সে আল্লাহ যা পছন্দ করেন তা পছন্দ করবে এবং আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা অপছন্দ করবে, তখন অদৃশ্যের ব্যাপারে তার দূরদর্শিতা কার্যকর হবে।" অতঃপর ইয়াহইয়া বললেন:
আল্লাহ ব্যতীত সকল প্রিয় বস্তু অপচয়
… এবং তা দুশ্চিন্তা, বিষাদ ও আক্ষেপ মাত্র
প্রতিটি প্রিয় বস্তুরই বিকল্প বা প্রতিস্থাপন আছে
… কেবল দয়াময় রহমান ব্যতীত, যাঁর কোনো বিকল্প নেই
নিশ্চয়ই ভালোবাসার কিছু নিদর্শন রয়েছে, যখন
… তা প্রেমিকের মাঝে প্রকাশ পায়, তখন তাকে চেনা যায়
প্রেমিকের অন্তর ব্যথিত
… সে সর্বদা উৎকণ্ঠায় থাকে, বিষাদগ্রস্ত ও শীর্ণকায়
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রেমে মগ্ন, অন্য কারো নয়
… সে আত্মহারা এবং আল্লাহর ভালোবাসায় বিভোর
তার মাথার চুল এলোমেলো, পেট ক্ষুধার্ত
… মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে এবং চোখ অশ্রুসজল
সে সর্বদাই তাঁর স্মরণে রত থাকে, যাঁর ভালোবাসা
… সকল মর্যাদার চূড়ান্ত লক্ষ্য
যখন সে তাঁর ভালোবাসায় গভীর নিমগ্ন হয়
… এবং ব্যাকুলতার প্রচণ্ডতা তার ওপর প্রবল হয়
সে মেহরাবে গিয়ে আপন দুঃখ নিবেদন করে
… এবং তার মনিব আল্লাহর সামনে গিয়ে দাঁড়ায়
সে সোজা হয়ে দণ্ডায়মান হয়
… এবং ব্যাকুল চিত্তে আসমানী কিতাবের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করে
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
رَاكِعًا طَوْرًا وَطَوْرًا سَاجِدًا
… بَاكِيًا والدَّمْعُ فِي الْأَرْضِ يَكِفْ
أَوْرَدَ الْقَلْبَ عَلَى الْحُبِّ الَّذِي
… فِيهِ حُبِّ اللَّهِ حَقًّا فَعَرَفْ
ثُمَّ جَالَتْ كَفُّهُ فِي شَجَرٍ
… يَنْبُتُ الْحَبَّ فَسَمَّى وَاقْتَطَفْ
إِنَّ ذَا الْحُبِّ لَمِنْ يُعْنَى لَهُ
… لَا لِدَارٍ ذَاتِ لَهْوٍ وَظُرَفْ
لَا وَلَا الْفِرْدَوْسَ لَا يَأْلَفُهَا
… لَا وَلَا الْحَوْرَاءِ مِنْ فَوْقِ غُرَفْ
قَوْلٌ لِيَحْيَى فِي أَنَّ الذِّكْرَ هُوَ ذِكْرُ الْقَلْبِ 23 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْفَتْحِ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي الْفَوَارِسِ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ الْوَرَّاقُ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ الرَّازِيَّ، قَالَ: سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ مُعَاذٍ الرَّازِيَّ، يَقُولُ: " كَمْ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ مَمْقُوتٍ، وَسَاكِتٍ مَرْحُومٍ قَالَ يَحْيَى: هَذَا الْمُسْتَغْفِرُ وَقَلْبُهُ فَاجِرٌ، وَهَذَا سَاكِتٌ، وَقَلْبُهُ ذَاكِرٌ "
কখনো রুকুকারী অবস্থায়, আবার কখনো সিজদাকারী অবস্থায়
… ক্রন্দনরত, আর অশ্রু জমিনে ঝরে পড়ছে।
সে অন্তরকে এমন ভালোবাসার ঘাটে উপস্থিত করেছে যাতে
… প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর ভালোবাসা বিদ্যমান, ফলে সে তা চিনতে পেরেছে।
অতঃপর তার হাত বিচরণ করল এমন এক বৃক্ষে
… যা দানা উৎপন্ন করে, অতঃপর সে আল্লাহর নাম নিল এবং তা আহরণ করল।
নিশ্চয়ই এই ভালোবাসা তাঁরই জন্য যাকে এটি নিবেদন করা হয়
… আমোদ-প্রমোদ ও বিলাসিতায় পূর্ণ কোনো আবাসের জন্য নয়।
না, এমনকি জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রতিও সে আসক্ত নয়
… না, এমনকি কক্ষসমূহের উপর অবস্থানরত হূরদের প্রতিও নয়।
যিকর মূলত অন্তরের যিকর হওয়া প্রসঙ্গে ইয়াহইয়া-এর একটি উক্তি ২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আবিল ফাওয়ারিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে সাহল আর-রাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি ইয়াহইয়া ইবনে মুআয আর-রাযীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলতেন: "এমন কত ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে যে ঘৃণিত, আর কত নীরব ব্যক্তি আছে যে রহমতপ্রাপ্ত। ইয়াহইয়া বলেন: এই ক্ষমা প্রার্থনাকারী এমন যার অন্তর পাপাচারী, আর এই নীরব ব্যক্তি এমন যার অন্তর যিকরকারী (আল্লাহর স্মরণে মগ্ন)।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৭০)
وَصِيَّةُ أَبِي جَعْفَرٍ الْمُحَوَّليِّ 24 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَخْلَدٍ الْبَزَّازُ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ نُصَيْرٍ، إِمْلَاءً، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التَّرْجُمَانِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ الْمُحَوَّلِيَّ، وَكَانَ عَالِمًا عَابِدًا، قَالَ: " حَرَامٌ عَلَى قَلْبِ مُحِبٍّ لِلدَّنْيَا أَنْ يَسْكُنَهُ الْوَرَعُ الْخَفِيُّ، وَحَرَامٌ عَلَى نَفْسٍ عَلَيْهَا رَبَّانِيَّةُ النَّاسِ أَنْ تَذُوقَ حَلَاوَةَ الْآخِرَةِ، وَحَرَامٌ عَلَى كُلِّ عَالِمٍ لَمْ يَعْمَلْ بِعِلْمِهِ أَنْ يتَّخِذَهُ الْمُتَّقُونَ إمَامًا "
আবু জাফর আল-মুহাওওয়ালীর উপদেশ ২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে মাখলাদ আল-বায্যায, আমাদের নিকট শ্রুতলিপি হিসেবে বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নুসায়র, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাসরুক, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আত-তারজুমানী, তিনি বলেন: আমি আবু জাফর আল-মুহাওওয়ালীকে বলতে শুনেছি—আর তিনি ছিলেন একজন আলেম ও ইবাদতগুজার ব্যক্তি—তিনি বলেছেন: "দুনিয়াপ্রেমী হৃদয়ে গোপন পরহেজগারিতা বসবাস করা হারাম, আর এমন নফসের জন্য আখিরাতের মিষ্টতা আস্বাদন করা হারাম যার ওপর মানুষের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্বের মোহ ছেয়ে আছে, এবং এমন প্রত্যেক আলেমের জন্য মুত্তাকীদের ইমাম হিসেবে গৃহীত হওয়া হারাম যে তার ইলম অনুযায়ী আমল করে না।"
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৭১)
قَوْلُ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الرُّوذَبَارِيِّ فِي أَنَّ طَالِبَ الْعِلْمِ عَلَيْهِ أَنْ يُخْلِصَ فِي طَلَبِهِ وَأَنْ يَعْمَلَ بِهِ 25 - أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ أَحْمَدَ الْوَاعِظُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنَ عَطَاءٍ الرُّوذَبَارِيَّ، يَقُولُ: " مَنْ خَرَجَ إِلَى الْعِلْمِ يُرِيدُ الْعِلْمَ، لَمْ يَنفَعْهُ الْعِلْمُ، وَمَنْ خَرَجَ إِلَى الْعِلْمِ يُرِيدُ الْعَمَلَ بِالْعِلْمِ، نَفَعَهُ قَلِيلُ الْعِلْمِ " قَالَ: وَسَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ: " الْعِلْمُ مَوْقُوفٌ عَلَى الْعَمَلِ بِهِ، وَالْعَمَلُ مَوْقُوفٌ عَلَى الْإِخْلَاصِ، وَالْإِخْلَاصُ لِلَّهِ يُورِثُ الْفَهْمَ عَنِ اللَّهِ عز وجل "
نَصِيحَةُ ذِي النُّونِ فِي مَنْ يُجَالَسُ 26 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ فَضَالَةَ النَّيْسَابُورِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَاذَانَ الرَّازِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ يُوسُفَ بْنَ الْحُسَيْنِ، يَقُولُ: قُلْتُ لِذِي النُّونِ فِي وَقْتِ مُفَارَقَتِي لَهُ: مَنْ أُجَالِسُ؟ فَقَالَ: " عَلَيْكَ
আবু আব্দুল্লাহ আর-রুজবারীর বক্তব্য যে, জ্ঞান অন্বেষণকারীর উচিত তার অন্বেষণে একনিষ্ঠ হওয়া এবং সেই অনুযায়ী আমল করা ২৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আহমাদ বিন আল-হুসাইন বিন আহমাদ আল-ওয়াইজ, তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন আতা আর-রুজবারীকে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি কেবল জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে জ্ঞানের সন্ধানে বের হয়, জ্ঞান তার কোনো উপকারে আসে না। আর যে ব্যক্তি জ্ঞানের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে জ্ঞানের সন্ধানে বের হয়, সামান্য জ্ঞানও তাকে উপকার দান করে।" তিনি বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে আরও বলতে শুনেছি: "জ্ঞান নির্ভর করে আমলের ওপর, আমল নির্ভর করে ইখলাসের (একনিষ্ঠতা) ওপর, আর আল্লাহর জন্য ইখলাস মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সঠিক বুঝ ও প্রজ্ঞা দান করে।"
কার সংশ্রবে থাকতে হবে সে বিষয়ে যুন-নুনের উপদেশ ২৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন ফাযালাহ আন-নাইসাবুরী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন শাযান আর-রাজি, তিনি বলেন: আমি ইউসুফ বিন আল-হুসাইনকে বলতে শুনেছি: আমি যুন-নুনকে তার থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বললাম: আমি কার সংশ্রবে থাকব? তিনি বললেন: "তোমার জন্য আবশ্যক হলো...
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৭২)
بمُجَالَسَةِ مَنْ يُذَكِّرُكَ اللَّهَ رُؤْيَتُهُ، وَتَقَعُ هَيْبَتُهُ عَلَى بَاطِنِكَ، وَيَزِيدُ فِي عِلْمِكَ مَنْطِقَهُ، وَيُزَهِّدُكَ فِي الدُّنْيَا عَمَلُهُ، وَلَا تَعْصِي اللَّهَ تَعَالَى مَا دُمْتَ فِي قُرْبِهِ، يَعِظُكَ بِلِسَانِ فِعْلِهِ، وَلَا يَعِظُكَ بِلِسَانِ قَوْلِهِ "
قَوْلٌ لِلْجُنَيْدِ فِيمَا يُصْلِحُ الْقَلْبَ وَيُفْسِدُهُ 27 - أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنِ السَّمَّاكِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا بَكْرِ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ يَعْقُوبَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ الْجُنَيْدَ، يَقُولُ وَسُئِلَ عَنِ الْقَلْبِ لِلْفَتَى مَا يُفْسِدُهَ؟ قَالَ: الطَّمَعُ قِيلَ: مَا يُصْلِحُهُ؟ قَالَ: الْوَرَعُ "
এমন ব্যক্তির সাহচর্যের মাধ্যমে যার দর্শন তোমাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, যার গাম্ভীর্য তোমার অন্তরে প্রভাব বিস্তার করে, যার বাকপটুতা তোমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে, যার কর্ম তোমাকে দুনিয়াবিমুখ করে এবং যতক্ষণ তুমি তার সান্নিধ্যে থাকো ততক্ষণ তুমি আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হও না; তিনি তার কর্মের ভাষায় তোমাকে উপদেশ প্রদান করেন, কেবল মুখের ভাষায় নয়।
অন্তর সংশোধন এবং তা কলুষিত হওয়া বিষয়ে জুনাইদ-এর উক্তি ২৭ - আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনুস সাম্মাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইবনু মুহাম্মদ ইবনু ইয়াকুবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি জুনাইদকে বলতে শুনেছি; তাকে যখন যুবকের অন্তরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, কী তাকে কলুষিত করে? তিনি বললেন: ‘লোভ’। জিজ্ঞাসা করা হলো: কী তাকে সংশোধন করে? তিনি বললেন: ‘ওয়ারআ’ (সন্দেহযুক্ত বিষয় বর্জন করা)।
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
تَحْذِيرُ مَالِكُ بْنُ دِينَارٍ أَمِيرًا كَانَ يَمْشِي مُتَكَبِّرًا 28 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُظَفَّرِ الْأَصْبَهَانِيُّ الْمُقْرِئُ، حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الشَّطَوِيُّ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ جَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي جَعْفرَ بْنَ سُلَيْمَانَ، يَقُولُ: مَرَّ وَالِي الْبَصْرَةِ بِمَالِكِ بْنِ دِينَارٍ يَرْفُلُ، فَصَاحَ بِهِ مَالِكٌ: " أَقِلَّ مِنْ مَشْيَتِكَ هَذِهِ " فَهَمَّ خَدَمُهُ بِهِ، فَقَالَ: دَعُوهُ، مَا أَرَاكَ تَعْرِفُنِي فَقَالَ لَهُ مَالِكٌ: " وَمَنْ أَعْرَفُ بِكَ مِنِّي أَمَّا أَوَّلُكَ فَنُطْفَةٌ مَذِرَةٌ، وَأَمَّا آخِرُكَ فَجِيفةٌ قَذِرَةٌ، ثُمَّ أَنْتَ بَيْنَ ذَلِكَ تَحْمِلُ الْعَذِرَةَ " فَنَكَّسَ الوَالِي رَأسَهُ وَمَشَى
قَوْلٌ لِلفُضَيْلِ فِي الْحَذَرِ مِنْ مَكْرِ اللَّهِ عز وجل 29 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْقَاسِمِ بْنِ الْحَسَنِ الشَّاهِدُ، بِالْبَصْرَةِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَادَرَائِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ بْنُ
অহংকারের সাথে পথ চলা এক আমীরকে মালিক ইবনে দীনারের সতর্কবাণী ২৮ - আলী ইবনুল মুজাফফর আল-আসবাহানী আল-মুকরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাবীব ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাতাওয়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে জাফর ইবনে সুলাইমান আদ-দুবায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতা জাফর ইবনে সুলাইমানকে বলতে শুনেছি: বসরার গভর্নর মালিক ইবনে দীনারের পাশ দিয়ে দম্ভভরে হেঁটে যাচ্ছিলেন। মালিক তাকে উচ্চস্বরে বললেন: "তোমার এই হাঁটার ভঙ্গি কমাও।" এতে গভর্নরের সেবকরা মালিকের প্রতি তেড়ে এলে তিনি (গভর্নর) বললেন: "ওকে ছেড়ে দাও।" এরপর তিনি মালিককে বললেন: "তুমি কি আমাকে চেনো না?" মালিক তাকে বললেন: "তোমার সম্পর্কে আমার চেয়ে ভালো আর কে চেনে? তোমার শুরু তো এক ঘৃণ্য বীর্যবিন্দু থেকে, আর তোমার শেষ হবে এক দুর্গন্ধময় লাশে, আর এই দুইয়ের মাঝখানে তুমি নিজের ভেতরে মল বহন করে বেড়াও।" তখন গভর্নর মাথা নিচু করলেন এবং প্রস্থান করলেন।
আল্লাহ তাআলার কৌশলের (মাকর) ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রসঙ্গে ফুদাইল ইবনে ইয়াজের উক্তি ২৯ - আলী ইবনুল কাসিম ইবনুল হাসান আশ-শাহিদ বসরার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে ইসহাক আল-মাদারায়ী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-মুফাদদাল ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الطَّبَرِيُّ، قَالَ: قَالَ الْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ، قَالَ اللَّهُ عز وجل: " يَا ابْنَ آدَمَ، إِذَا كُنْتُ أُقَلِّبُكَ فِي نِعْمَتِي وَأَنْتَ تَتَقَلَّبُ فِي مَعْصِيَتِي، فَاحْذَرْ لَا أَصْرَعُكَ بَيْنَ مَعَاصِيكَ، يَا ابْنَ آدَمَ، اتَّقِنِي وَنَمْ حَيْثُ شِئْتَ، إِنَّكَ إِنْ ذَكَرْتَنِي ذَكَرْتُكَ، وَإِنْ نَسِيتَنِي نَسِيتُكَ، وَالسَّاعَةُ الَّتِي لَا تَذْكُرُنِي فِيهَا عَلَيْكَ لَا لَكَ "
قِصَّةُ شَابٍّ كَانَ يَهْوَى جَارِيَةً 30 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ مُحَمَّدٍ النَّيْسَابُورِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَاذَانَ الرَّازِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيَّ، يَقُولُ: " كَانَ لِي جَارٌ شَابٌّ، وَكَانَ أَدِيبًا، وَكَانَ يَهْوَى جَارِيَةً أَدِيبَةً، فَنَظَرَ يَوْمًا إِلَى طَاقَاتِ شَعْرٍ بِيضٍ فِي صُدْغَيْهَا، فَوَقَعَ لَهُ شَيْءٌ مِنَ الْحَقِّ، فَهَجَرَهَا وَقَلَاهَا،
মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইসহাক ইবন ইবরাহিম আত-তাবারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফুযাইল ইবন ইয়াদ বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে আদম সন্তান! যখন আমি তোমাকে আমার নিআমতের মধ্যে আবর্তিত করি আর তুমি আমার নাফরমানিতে লিপ্ত থাকো, তখন সতর্ক হও যেন আমি তোমাকে তোমার পাপাচারের মধ্যেই নিপতিত না করি। হে আদম সন্তান! আমাকে ভয় করো এবং যেখানে ইচ্ছা ঘুমাও। নিশ্চয়ই তুমি যদি আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাকে স্মরণ করব; আর যদি তুমি আমাকে ভুলে যাও, তবে আমিও তোমাকে ভুলে যাব। আর যে মুহূর্তটিতে তুমি আমাকে স্মরণ করো না, তা তোমার বিপক্ষেই যাবে, তোমার পক্ষে নয়।"
এক যুবকের কাহিনী যে এক দাসীর প্রেমে আসক্ত ছিল ৩০ - আবদুর রহমান ইবন মুহাম্মদ আন-নিসাবুরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ ইবন শাযান আর-রাযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহ আল-কুরাশিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন: "আমার এক তরুণ প্রতিবেশী ছিল, যে ছিল সুশিক্ষিত ও মার্জিত। সে একজন সুশিক্ষিতা দাসীর প্রেমে মগ্ন ছিল। একদিন সে তার কপালে কয়েক গুচ্ছ সাদা চুল দেখতে পেল, তখন তার অন্তরে সত্যের এক উপলব্ধি জাগ্রত হলো। ফলে সে তাকে ত্যাগ করল এবং তার প্রতি বিমুখ হয়ে গেল, "
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
فَلَمَا نَظَرَتْ إِلَى هُجْرَانِهِ كَتَبَتْ إِلَيْهِ:
مَا لِي جُفِيتُ وَكُنْتُ لَا أُجْفَى
… وَدَلَائِلُ الْهِجْرَانِ لَا تَخْفَى
وَأَرَاكَ تَشْرَبُنِي فَتَمْزِجُنِي
… وَلَقَدْ عَهِدْتُكَ شَارِبِي صِرْفا
قَالَ: فَقَلَبَ الرُّقْعَةَ، وَكَتَبَ عَلَى ظَهْرِهَا:
التَّصَابِي مَعَ الشَّمَطِ
… سُمْتَنِي خُطَّةَ شَطَطْ
لَا تَلُمْنِي عَلَى جَفَاي
… فَحَسْبِي بِمَا فَرَطْ
أَنَا رَهْنٌ بِمَا جَنَيْتُ
… فَذَرْنِي مِنَ الْغَلَطْ
قَدْ رَأَيْنَا أَبَا الْخَلَائِقِ
… فِي زَلَّةٍ هَبَطْ "
شِعْرٌ لِمَحْمُودٍ الْوَرَّاقِ 31 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ الْمُعَدَّلُ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ صَفْوَانَ الْبَرْذَعِيُّ، قَالَ: أَنْشَدَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ
যখন সে তার বিমুখতা লক্ষ্য করল, তখন সে তার কাছে লিখল:
কেন আমার প্রতি রুক্ষতা প্রদর্শন করা হচ্ছে, অথচ আমি এমন ছিলাম না যার প্রতি রুক্ষতা করা হয়
… আর বিমুখতার নিদর্শনসমূহ তো গোপন থাকে না
আর আমি তোমাকে দেখছি যে তুমি আমাকে পান করছ এবং মিশ্রিত করছ
… অথচ আমি তোমাকে চিনেছিলাম আমার স্বচ্ছ পানকারী হিসেবে
তিনি বলেন: অতঃপর তিনি চিরকুটটি উল্টালেন এবং এর পৃষ্ঠদেশে লিখলেন:
বার্ধক্যের শুভ্রতার সাথে যৌবনের ন্যায় আচরণ করা
… তুমি আমাকে এক সীমালঙ্ঘনমূলক বিষয়ের দায়িত্ব দিয়েছ
আমার রূঢ়তার জন্য আমাকে ভর্ৎসনা করো না
… কারণ যা অতিবাহিত হয়েছে তা-ই আমার জন্য যথেষ্ট
আমি আমার কৃতকর্মের নিকট দায়বদ্ধ
… সুতরাং আমাকে ভুলভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে দাও
আমরা তো সৃষ্টির পিতাকে দেখেছি
… এক পদস্খলনের কারণে তিনি নিচে অবতরণ করেছিলেন "
মাহমুদ আল-ওয়াররাকের কবিতা ৩১ - আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে বিশরান আল-মুয়াদদাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আল-বারযাঈ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
أَبِي الدُّنْيَا، قَالَ: أَنْشَدَنَا مَحْمُودٌ الْوَرَّاقُ:
" يَا نَاظِرًا يَرْنُو بِعَيْنَيْ رافِدٍ
… وَمُشَاهِدًا لِلْأَمْرِ غَيْرَ مُشَاهِدِ
مَنَّيْتَ نَفسَكَ خِلَّةً وَأَبَحْتَهَا
… طُرْقَ الرَّجَا وَهُنَّ غَيْرُ قَوَاصِدِ
تَصِلُ الذُّنُوبَ إِلَى الذَّنُوبِ وَتَرْتَجِي
… دَرْكَ الْجِنَانِ بِهَا وَفَوْزَ الْعَابِدِ
وَنَسَيتَ أَنَّ اللَّهَ أَخْرَجَ آدَمًا
… مِنْهَا إِلَى الدُّنْيَا بِذَنْبٍ وَاحِدِ "
مِنْ نَصَائِحِ الْقَاسِمِ الْجُوَعِيُّ 32 - أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مَحْمُودِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الصُّوفِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحُسَيْنِ الْكِلَابِيُّ، بِدِمَشْقَ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ الْحَلَبِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ قَاسِمًا الْجُوَعِيَّ، يَقُولُ: " أَصْلُ الدِّينِ الْوَرَعُ، وَأَفْضَلُ الْعِبَادَةِ
আবু দুনইয়া বলেন: মাহমুদ আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট কবিতা আবৃত্তি করেছেন:
"হে দর্শক, যে সাহায্যকারীর দৃষ্টিতে তাকাচ্ছ
… এবং কোনো বিষয়ে এমন এক প্রত্যক্ষদর্শী যে আসলে কিছুই প্রত্যক্ষ করছে না।
তুমি তোমার নফসকে বন্ধুত্বের আকাঙ্ক্ষা দেখিয়েছ এবং তার জন্য আশার এমন পথ উন্মুক্ত করেছ
… যা সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোর নয়।
তুমি এক পাপের সাথে অন্য পাপের সংযোগ ঘটাচ্ছ, আর এর মাধ্যমেই
… জান্নাত লাভ ও ইবাদতকারীর ন্যায় সফল হওয়ার আশা করছ।
তুমি কি ভুলে গেছ যে, আল্লাহ আদমকে
… মাত্র একটি পাপের কারণে সেখান থেকে দুনিয়ায় বের করে দিয়েছিলেন।"
কাসেম আল-জুয়ায়ীর উপদেশসমূহ হতে ৩২ - আলী ইবনে মাহমুদ ইবনে ইব্রাহিম আস-সুফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, দামেস্কে আব্দুল ওয়াহাব ইবনুল হোসেন আল-কিলাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-হালাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কাসেম আল-জুয়ায়ীকে বলতে শুনেছি: "দীনের মূল হলো তাকওয়া (পরহেজগারি), আর শ্রেষ্ঠ ইবাদত হলো..."
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
مُكَابَدَةُ اللَّيْلِ، وَأَفْضَلُ طُرُقِ الْجَنَّةِ سَلَامَةُ الصَّدْرِ "
قَوْلٌ لِلْجُنَيْدِ فِي حَقِيقَةِ التَّصَوُّفِ 33 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْأَهْوَازِيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا حَاتِمٍ الطَّبَرِيَّ، يَقُولُ: سُئِلَ الْجُنَيْدُ رحمه الله عَنِ التَّصَوُّفِ؟ فَقَالَ: " اسْتِعْمَالُ كُلِّ خُلُقٍ سَنِيٍّ، وَتَرْكُ كُلِّ خُلُقٍ دَنِيٍّ "
حَدِيثُ لَا يَصِحُّ فِي الْقَنَاعَةِ وَفَضْلِ أَدَاءِ الْفَرَائِضِ، وَالصَّبْرِ عَلَى الْبَلَاءِ 34 - أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إِبْرَاهِيمُ بْنُ مَخْلَدِ بْنِ جَعْفَرٍ الْقَاضِي، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْحَكِيمِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا مَكَّيُّ بْنُ قُمَيْرٍ الْعِجْلِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ،
রাতের কষ্ট সহ্য করা, এবং জান্নাতের সর্বোত্তম পথ হলো অন্তরের পরিচ্ছন্নতা।
তাসাউফের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জুনাইদের একটি উক্তি ৩৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন হাসান আল-আহওয়াজী, তিনি বলেন: আমি আবু হাতিম আত-তাবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: জুনাইদ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে তাসাউফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: "প্রত্যেক মহৎ চরিত্রের অনুশীলন এবং প্রত্যেক হীন চরিত্র বর্জন করা।"
অল্পে তুষ্টি, ফরয আদায়ের ফযীলত এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ সম্পর্কে একটি অশুদ্ব হাদীস ৩৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মাখলাদ বিন জাফর আল-কাদি, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইব্রাহিম আল-হাকিমী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইউনুস, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মাক্কী বিন কুমাইর আল-ইজলী, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর বিন সুলায়মান,
(খণ্ড: ১)
আয-যুহদু ওয়ার রাকাইকু লিল-খাতীবিল বাগদাদী
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
عَنْ سَعْدِ بْنِ طُرَيْفٍ، عَنِ الْأَصْبَغِ بْنِ نُبَاتَةَ، قَالَ " دَخَلْنَا مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ عَلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلَيٍّ نَعُودُهُ، فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ: كَيْفَ أَصْبَحْتَ يَا ابْنَ رَسُولِ اللَّهِ؟ فَقَالَ: أَصْبَحْتُ بِحَمْدِ اللَّهِ بَارِئًا، قَالَ: كَذَاكَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ "، ثُمَّ قَالَ الْحَسَنُ: أَسْنِدُونِي أَسْنِدُونِي، فَأَسْنَدَهُ عَلِيٌ إِلَى صَدْرِهِ، فَقَالَ الْحَسَنُ: سَمِعْتُ جَدِّي صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ لِي يَوْمًا: " يَا بُنَيَّ، عَلَيْكَ بِالْقَنَاعَةِ تَكُنْ مِنْ أَغْنَى النَّاسِ، وأَدِّ الْفَرَائِضَ تَكُنْ مِنْ أعْبَدِ النَّاسِ، يَا بُنيَّ إنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يُقَالُ لَهَا شَجَرَةُ الْبَلْوَى، يُؤْتَى بِأَهلِ الْبَلَاءِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَلَا يُنْصَبُ لَهُمْ مِيَزَانٌ وَلَا يُنْشَرُ لَهُمْ دِيوَانٌ، يُصَبُّ عَلَيْهِمُ الْأَجْرُ صَبًّا "، وَقَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: {إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ}
نَصِيحَةٌ لِبِشْرٍ فِي السِّيَاحَةِ 35 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَخْلَدٍ
সা'দ ইবনে তুরাইফ থেকে বর্ণিত, আসবাগ ইবনে নুবাতাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা আলী ইবনে আবি তালিবের সাথে হাসান ইবনে আলীর অসুস্থতা দেখতে গেলাম। আলী তাকে বললেন: 'হে আল্লাহর রাসূলের সন্তান! আপনি কেমন আছেন?' তিনি উত্তর দিলেন: 'আল্লাহর প্রশংসায় আমি সুস্থ হয়েছি।' আলী বললেন: 'আল্লাহ চাইলে তেমনই হবে'।" অতঃপর হাসান বললেন: 'আমাকে হেলান দিয়ে বসিয়ে দাও, আমাকে হেলান দিয়ে বসিয়ে দাও।' তখন আলী তাকে নিজের বুকের সাথে হেলান দিয়ে ধরলেন। হাসান বললেন: 'আমি আমার দাদাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি, তিনি আমাকে একদিন বলেছিলেন: "হে বৎস! তুমি অল্পে তুষ্টি অবলম্বন করো, তবে তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হবে। আর ফরজ ইবাদতসমূহ আদায় করো, তবে তুমি মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ইবাদতকারী হবে। হে বৎস! জান্নাতে একটি গাছ আছে যাকে 'শাজারাতুল বালা' (বিপদের বৃক্ষ) বলা হয়; কিয়ামতের দিন বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিদের উপস্থিত করা হবে, তখন তাদের জন্য কোনো মিযান (দাড়িপাল্লা) স্থাপন করা হবে না এবং কোনো আমলনামাও খোলা হবে না, বরং তাদের ওপর অঝোরে প্রতিদান বর্ষণ করা হবে।" এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।}'
ভ্রমণ বা পর্যটন বিষয়ে বিশরকে নসিহত ৩৫ - মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।