(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: -)
شرح مشكل الآثار   (الطحاوي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: شرح مشكل الآثار

المؤلف: أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة بن عبد الملك بن سلمة الأزدي الحجري المصري المعروف بالطحاوي (ت 321 هـ)

تحقيق: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة

الطبعة: الأولى - 1415 هـ، 1494 م

عدد الأجزاء: 16 (15 وجزء للفهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শারহু মুশকিলিল আষার   (আত-তাহাবী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: শারহু মুশকিলিল আষার

লেখক: আবু জাফর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন সালামাহ বিন আব্দুল মালিক বিন সালামাহ আল-আযদি আল-হাজারি আল-মিসরি, যিনি তাহাবী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩২১ হিজরি)

তাহকীক: শুয়াইব আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরি]

প্রকাশক: মুওয়াসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৫ হিজরি, ১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১৬ (১৫ খণ্ড এবং একটি সূচিপত্র খণ্ড)

[কিতাবটির সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح مشكل الآثار]ـ

المؤلف: أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة بن عبد الملك بن سلمة الأزدي الحجري المصري المعروف بالطحاوي (المتوفى: 321هـ)

تحقيق: شعيب الأرنؤوط

الناشر: مؤسسة الرسالة

الطبعة: الأولى - 1415 هـ، 1494 م

عدد الأجزاء: 16 (15 وجزء للفهارس)

[ترقيم صفحات وأحاديث الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة تخريج الأحاديث]
শারহু মুশকিলিল আসার

লেখক: আবু জাফর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সালামাহ বিন আব্দুল মালিক বিন সালামাহ আল-আজদি আল-হাজরি আল-মিসরি, যিনি ইমাম তহাবি নামে পরিচিত (মৃত্যু: ৩২১ হিজরি)

তাহকীক: শুআইব আল-আরনাউত

প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ

সংস্করণ: প্রথম - ১৪১৫ হিজরি, ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ডের সংখ্যা: ১৬ (১৫ খণ্ড এবং একটি সূচিপত্র খণ্ড)

[বইটির পৃষ্ঠা এবং হাদিসের নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এবং এটি হাদিস তাখরীজ সেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

صَلَّى الله عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَسَلَم

قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَامَةَ بْنِ سَلَمَةَ الطَّحَاوِيُّ الْأَزْدِيُّ رحمه الله: " أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ اللهَ جَلَّ وَعَزَّ بَعَثَ نَبِيَّهُ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم خَاتِمًا لِأَنْبِيَائِهِ الَّذِينَ كَانَ بَعَثَهُمْ قَبْلَهُ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِ وَعَلَيْهِمْ وَسَلَامُهُ وَرَحْمَتُهُ وَبَرَكَاتُهُ، وَأَنْزَلَ عَلَيْهِ كِتَابًا خَاتِمًا لِكُتُبِهِ الَّتِي كَانَ أَنْزَلَهَا قَبْلَهُ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهَا وَمُصَدِّقًا لَهَا ، وَأَمَرَ فِيهَ مَنْ آمَنَ بِهِ بِتَرْكِ رَفْعِ أَصْوَاتِهِمْ فَوْقَ صَوْتِهِ ، وَتَرْكِ التَّقَدُّمِ بَيْنَ يَدَيْ أَمْرِهِ ، وَأَعْلَمَهُمْ أَنَّهُ قَدْ تَوَلَّاهُ فِيمَا يَنْطِقُ بِهِ بِقَوْلِهِ عز وجل: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إنْ هُوَ إلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [سورة: النجم، آية رقم: 4] وَأَمَرَهُمْ بِالْأَخْذِ بِمَا آتَاهُمْ بِهِ وَالِانْتِهَاءِ عَمَّا نَهَاهُمْ عَنْهُ بِقَوْلِهِ عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [سورة: الحشر، آية رقم: 7] وَنَهَاهُمْ أَنْ يَكُونُوا مَعَهُ كَبَعْضِهِمْ مَعَ بَعْضٍ بِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ} [سورة: الحجرات، آية رقم: 2] وَحَذَّرَهُمْ فِي فِعْلِهِمْ ذَلِكَ إنْ فَعَلُوهُ حُبُوطَ أَعْمَالِهِمْ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ ، وَحَذَّرَ مَعَ ذَلِكَ مَنْ خَالَفَ أَمْرَهُ بِقَوْلِهِ عز وجل: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [سورة: النور، آية رقم: 63] .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ ইবনে সালামাহ আত-তহাবী আল-আযদি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "অতঃপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ (মহা মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী) তাঁর নবী মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পূর্ববর্তী প্রেরিত নবীগণের সর্বশেষ হিসেবে পাঠিয়েছেন—তাঁর ওপর এবং তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। এবং তিনি তাঁর ওপর এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যা তাঁর পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবসমূহের সমাপ্তি ঘোষণা করে, সেগুলোর ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং সেগুলোর সত্যতা প্রত্যায়নকারী। আর তাতে (সেই কিতাবে) যারা তাঁর ওপর ঈমান এনেছে তাদেরকে তাঁর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উচ্চ না করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর আদেশের অগ্রবর্তী হওয়া ত্যাগ করতে বলেছেন। তিনি তাদেরকে অবহিত করেছেন যে, রাসূল যা কিছু ব্যক্ত করেন তার দায়িত্বভার তিনি (আল্লাহ) নিজেই গ্রহণ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না, এটি তো কেবল এক ওহি যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [সূরা: আন-নাজম, আয়াত নং: ৪]। এবং তিনি তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যা কিছু রাসূল তাদের নিকট নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করতে এবং যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকতে, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [সূরা: আল-হাশর, আয়াত নং: ৭]। আর তিনি তাদেরকে তাঁর সাথে এমন আচরণ করতে নিষেধ করেছেন যা তারা একে অপরের সাথে করে থাকে, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর তোমরা তাঁর সাথে উচ্চস্বরে কথা বলো না যেভাবে তোমরা একে অপরের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলে থাকো} [সূরা: আল-হুজুরাত, আয়াত নং: ২]। আর তিনি তাদেরকে এ কাজ করার ক্ষেত্রে সতর্ক করেছেন যে, যদি তারা তা করে তবে তাদের আমলসমূহ নষ্ট হয়ে যাবে অথচ তারা তা উপলব্ধিও করতে পারবে না। তদুপরি যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তাদেরকে সতর্ক করে আল্লাহ (মহা মহিমান্বিত ও পরাক্রমশালী) বলেছেন: {কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে কিংবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} [সূরা: আন-নূর, আয়াত নং: ৬৩]।"
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ৬)
قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَإِنِّي نَظَرْتُ فِي الْآثَارِ الْمَرْوِيَّةِ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم بِالْأَسَانِيدِ الْمَقْبُولَةِ الَّتِي نَقَلَهَا ذَوُو التَّثَبُّتِ فِيهَا وَالْأَمَانَةِ عَلَيْهَا ، وَحُسْنِ الْأَدَاءِ لَهَا ، فَوَجَدْتُ فِيهَا أَشْيَاءَ مِمَّا يَسْقُطُ مَعْرِفَتُهَا ، وَالْعِلْمُ بِمَا فِيهَا عَنْ أَكْثَرِ النَّاسِ فَمَالَ قَلْبِي إلَى تَأَمُّلِهَا وَتِبْيَانِ مَا قَدَرْتُ عَلَيْهِ مِنْ مُشْكِلِهَا وَمِنِ اسْتِخْرَاجِ الْأَحْكَامِ الَّتِي فِيهَا وَمِنْ نَفْيِ الْإِحَالِاتِ عَنْهَا ، وَأَنْ أَجْعَلَ ذَلِكَ أَبْوَابًا أَذْكُرُ فِي كُلِّ بَابٍ مِنْهَا مَا يَهَبُ اللهُ عز وجل لِي مِنْ ذَلِكَ مِنْهَا حَتَّى آتِيَ فِيمَا قَدَرْتُ عَلَيْهِ مِنْهَا كَذَلِكَ مُلْتَمِسًا ثَوَابَ اللهِ عز وجل عَلَيْهِ وَاللهَ أَسْأَلُهُ التَّوْفِيقَ لِذَلِكَ وَالْمَعُونَةَ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ جَوَّادٌ كَرِيمٌ وَهُوَ حَسْبِي وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

আবু জাফর বলেন: আমি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সেই সকল আসার (বাণী ও কর্ম) পর্যবেক্ষণ করেছি যা গ্রহণযোগ্য সনদসমূহের মাধ্যমে এবং নির্ভরযোগ্যতা, আমানতদারিতা ও উত্তম বর্ণনার অধিকারী ব্যক্তিদের দ্বারা বর্ণিত হয়েছে। আমি সেগুলোর মধ্যে এমন কিছু বিষয় পেয়েছি যেগুলোর জ্ঞান অধিকাংশ মানুষের অগোচরে রয়ে গেছে এবং সেগুলোর মর্ম সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষ অবগত নয়। তাই আমার অন্তর সেগুলোকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে, সেগুলোর জটিল বিষয়গুলো সাধ্যমতো ব্যাখ্যা করতে, সেগুলোর মধ্য থেকে শরয়ী বিধানসমূহ আহরণ করতে এবং সেগুলো থেকে অসংগত বিষয়গুলো দূর করতে ধাবিত হয়েছে। আমি এগুলোকে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করার সংকল্প করেছি এবং প্রতিটি অধ্যায়ে মহান আল্লাহ আমাকে যা দান করবেন তা উল্লেখ করব; এভাবে আমি আমার সাধ্যমতো কাজটির শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে চাই এবং এর বিনিময়ে আমি আল্লাহ আজ্জা ওয়া জালের নিকট সওয়াব কামনা করি। আমি আল্লাহর নিকট এর তাওফিক ও সাহায্য প্রার্থনা করছি, কেননা তিনি পরম দাতা ও মহানুভব। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ৬)
وَابْتَدَأْتُهُ بِمَا أَمَرَ صلى الله عليه وسلم بِابْتِدَاءِ الْحَاجَةِ بِهِ مِمَّا قَدْ رُوِيَ عَنْهُ بِأَسَانِيدَ أَنَا ذَاكِرُهَا بَعْدَ ذَلِكَ إنْ شَاءَ اللهُ وَهُوَ: " إنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا مَنْ يَهْدِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] ، {وَاتَّقُوا اللهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إنَّ اللهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] وَ {اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} [الأحزاب: 71] يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا " وَكَانَتِ الْأَسَانِيدُ الَّتِي رُوِيَتْ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم مَا قَدْ ذَكَرْنَا مِنْ خُطْبَةِ الْحَاجَةِ بِهَا

 

‌‌1 - مَا قَدْ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ نَصْرِ بْنِ الْمُعَارِكِ الْبَغْدَادِيُّ أَبُو عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ ‌‌⦗ص: 7⦘ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: عَلَّمَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خُطْبَةَ الْحَاجَةِ، فَذَكَرَ هَذَا الْكَلَامَ بِعَيْنِهِ.

 

‌‌2 - وَمَا قَدْ حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ، أَيْضًا حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، أَخْبَرَنَا الْمَسْعُودِيُّ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: عَلَّمَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ.

 

‌‌3 - وَمَا قَدْ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ سِنَانِ بْنِ يَزِيدَ الْبَصْرِيُّ أَبُو خَالِدٍ، ‌‌⦗ص: 8⦘ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ عُمَرَ الزَّهْرَانِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ، قَالَا: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ عليه السلام يُعَلِّمُنَا خُطْبَةَ الْحَاجَةِ، ثُمَّ ذَكَرَ هَذَا الْكَلَامَ بِعَيْنِهِ. وَزَادَ بِشْرٌ قَالَ شُعْبَةُ: وَقَدْ أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بِهَذَا الْحَدِيثِ ، وَأَنَّ هَذَا حَدِيثُ أَبِي عُبَيْدَةَ. قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَكَانَ هَذَا الَّذِي وَجَدْنَاهُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْمَعْنَى مِنْ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ مِمَّا يَدْخُلُ فِي هَذَا الْمَعْنَى أَيْضًا
আমি এটি শুরু করেছি সেই কথা দ্বারা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো প্রয়োজনের শুরুতে পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর থেকে সেই সম্পর্কে বিভিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে যা আমি ইনশাআল্লাহ পরে উল্লেখ করব। আর তা হলো: "নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শন করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২], {আর তোমরা ভয় করো সেই আল্লাহকে যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে কিছু চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধনকেও (ভয় করো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১] এবং {তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহাসাফল্য লাভ করে।} [আহজাব: ৭১]" আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খুতবাতুল হাজাহ সম্পর্কিত যে সমস্ত সনদ বর্ণিত হয়েছে তা আমরা নিচে উল্লেখ করেছি।

 

‌‌১ - আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন ইবনে নাসর ইবনে আল-মুআরিক আল-বাগদাদি আবু আলী, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে জিয়াদ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আল-মাসউদি, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘ আবু আল-আহওয়াস থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের খুতবাতুল হাজাহ শিক্ষা দিয়েছেন, এরপর তিনি হুবহু এই কথাগুলো উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌২ - এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হুসাইন, তিনি আরও বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শাবাবাহ ইবনে সাওয়ার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মাসউদি, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু আল-আহওয়াস থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৩ - এবং আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ ইবনে সিনান ইবনে ইয়াজিদ আল-বাসরি আবু খালিদ, ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে উমর আজ-জাহারানি এবং মুহাম্মদ ইবনে কাসির আল-আবদি, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শু'বাহ, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী আলাইহিস সালাম আমাদের খুতবাতুল হাজাহ শিক্ষা দিতেন, এরপর তিনি হুবহু এই কথাগুলো উল্লেখ করেছেন। আর বিশর আরও বর্ণনা করেছেন যে, শু'বাহ বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক, তিনি আবু আল-আহওয়াস থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি আবু উবাইদাহর হাদিস। আবু জাফর বলেন: এটিই আমরা ইবনে মাসউদের হাদিস থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এই মর্মে পেয়েছি। আর ইবনে আব্বাস থেকেও এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত বর্ণনা পাওয়া গিয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌4 - مَا قَدْ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ دَاوُدَ، وَفَهْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كَلَّمَ رَجُلٌ النَّبِيَّ عليه السلام فِي حَاجَةٍ، فَأَجَابَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " إنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ ، مَنْ يَهْدِهِ اللهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ ، وَمَنْ يُضْلِلْ ، فَلَا هَادِيَ لَهُ ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ، أَمَّا بَعْدُ " وَقَدْ رُوِيَ عَنْ نُبَيْطِ بْنِ شَرِيطٍ مَا يَدْخُلُ فِي هَذَا الْمَعْنَى أَيْضًا
৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আলী বিন দাউদ এবং ফাহদ বিন সুলাইমান, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আস-সলত আল-কুফী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া, তিনি দাউদ বিন আবি হিন্দ থেকে, তিনি আমর বিন সাঈদ থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি নবী (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে কোনো এক প্রয়োজনে কথা বললেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে উত্তর দিলেন: "নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি এবং তাঁরই নিকট সাহায্য চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। অতঃপর..."। আর নুবাইত বিন শারীত থেকেও এই একই অর্থের বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌5 - مَا حَدَّثَنَا فَهْدٌ ، حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ النَّهْدِيُّ ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَنْصَارِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو مَالِكٍ الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ نُبَيْطِ بْنِ شَرِيطٍ، قَالَ: كُنْتُ رَدِيفَ أَبِي عَلَى عَجُزِ الرَّاحِلَةِ ، ‌‌⦗ص: 9⦘ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ عِنْدَ جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ ، وَهُوَ يَقُولُ: " الْحَمْدُ لِلَّهِ ، نَسْتَعِينُهُ ، وَنَسْتَغْفِرُهُ ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللهُ ، وَأَنِّي عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " ثُمَّ قَالَ: " أُوصِيكُمْ بِتَقْوَى اللهِ " ثُمَّ قَالَ: فَمِمَّا أَنَا ذَاكِرُهُ مِنَ الْأَبْوَابِ الَّتِي أَنَا مُجْرِي كِتَابِي هَذَا عَلَى مِثْلِهِ إنْ شَاءَ اللهُ
৫ - ফাহদ আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছেন, আবু গাসসান আন-নাহদী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুসা ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু মালিক আল-আশজায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, নুবাইত ইবনে শারীত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতার পেছনে সওয়ারির পেছনের অংশে বসা ছিলাম, ⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘ আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জামরাতুল আকাবার নিকট ভাষণ দিচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং আমি তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।" অতঃপর তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বনের উপদেশ দিচ্ছি।" তারপর তিনি (গ্রন্থকার) বললেন: সুতরাং আমি যে সকল অধ্যায়সমূহ উল্লেখ করব যার ওপর ভিত্তি করে আমি আমার এই কিতাবটি বিন্যস্ত করছি, ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌بَابُ مَا قَدْ رُوِيَ عَنْ رَسُولِ اللهِ عليه السلام فِي أَشَدِّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচাইতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন যারা হবে, তাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌6 - وَهُوَ مَا قَدْ حَدَّثَنَا فَهْدٌ ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إسْمَاعِيلَ ، حَدَّثَنَا أَبَانُ بْنُ يَزِيدَ ، عَنْ عَاصِمٍ ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللهِ ، عَنْ نَبِيِّ اللهِ عليه السلام قَالَ: " إنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ قَتَلَ نَبِيًّا ، أَوْ قَتَلَهُ نَبِيٌّ ، وَإِمَامُ ضَلَالَةٍ ، وَمُمَثِّلٌ مِنَ الْمُمَثِّلِينَ ". قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَوَقَفْنَا بِهَذَا عَلَى أَشَدِّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنَّهُمْ أَهْلُ هَذِهِ الْأَصْنَافِ الثَّلَاثَةِ ، وَفِيهِ مَا يَنْتَفِي أَنْ يَكُونَ لَهُمْ يَوْمَئِذٍ مِثْلٌ مِنَ ‌‌⦗ص: 11⦘ الْمُعَذَّبِينَ سِوَاهُمْ ، غَيْرَ أَنَّا قَدْ وَجَدْنَا فِي حَدِيثٍ سِوَاهُ مَا يَجِبُ تَأَمُّلُهُ
৬ - আর এটিই সেই হাদিস যা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ফাহদ, তিনি বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে ইসমাঈল থেকে, তিনি বর্ণনা করেছেন আবান ইবনে ইয়াযীদ থেকে, আসেমের সূত্রে, আবু ওয়ায়েল থেকে, আব্দুল্লাহ থেকে, আল্লাহর নবী আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে সেই ব্যক্তির, যে কোনো নবীকে হত্যা করেছে অথবা যাকে কোনো নবী হত্যা করেছেন, এবং ভ্রষ্টতার নেতা, আর রূপদানকারীদের (চিত্রকর/মূর্তিনির্মাতা) মধ্য থেকে কোনো রূপদানকারী।" আবু জাফর বলেন: এর মাধ্যমে আমরা অবগত হলাম যে, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন আযাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলো এই তিন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, এবং এর মধ্যে এমন বক্তব্য রয়েছে যা নাকচ করে যে সেদিন আযাবপ্রাপ্তদের মধ্যে তারা ব্যতীত অন্য কেউ তাদের সমপর্যায়ভুক্ত হবে ⦗পৃষ্ঠা: ১১⦘, তবে আমরা এটি ব্যতীত অন্য হাদিসে এমন কিছু পেয়েছি যা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌7 - وَهُوَ مَا حَدَّثَنَا يُونُسُ ، عَنْ بِشْرِ بْنِ بَكْرٍ ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، أَخْبَرَنِي الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مُسْتَتِرَةٌ بِقِرَامٍ فِيهِ صُورَةٌ ، فَهَتَكَهُ ، ثُمَّ قَالَ: " إنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُشَبِّهُونَ بِخَلْقِ اللهِ عز وجل ". فَكَانَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنَّ الْجِنْسَ الْمَذْكُورَ فِيهِ هُوَ أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا. فَإِنْ كَانَ هَذَا ثَابِتًا، فَهُوَ مُخَالِفٌ لِلْأَوَّلِ ، وَحَاشَ لِلَّهِ أَنْ يَجْرِيَ عَلَى لِسَانِ رَسُولِهِ مَا هُوَ كَذَلِكَ ، فَتَأَمَّلْنَاهُ مِنْ غَيْرِ هَذِهِ الرِّوَايَةِ.

 

‌‌8 - فَوَجَدْنَا يُونُسَ قَدْ حَدَّثَنَا، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ عليه السلام قَالَ: " مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ. . . " وَذَكَرَهُ. فَوَقَفْنَا بِذَلِكَ عَلَى أَنَّ مَا كَانَ مِنْ رَسُولِ اللهِ عليه السلام فِي هَذَا ‌‌⦗ص: 12⦘ الْحَدِيثِ غَيْرُ مُخَالِفٍ لِمَا فِي الْحَدِيثِ الْأَوَّلِ ، إذْ كَانَ الْمُشَبِّهُ بِخَلْقِ اللهِ هُوَ الْمُمَثِّلُ بِخَلْقِ اللهِ ، وَأَنَّ الْجِنْسَ الْمَذْكُورَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ هُوَ مِنَ الْأَجْنَاسِ الثَّلَاثَةِ الْمَذْكُورِينَ فِي الْأَوَّلِ ، وَغَيْرَ أَنَّا وَجَدْنَا حَدِيثًا آخَرَ سِوَى ذَيْنَكَ
৭ - আর এটি আমাদের নিকট ইউনুস বর্ণনা করেছেন বিশর ইবনে বকর থেকে, তিনি আওযাঈ থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি বলেন: কাসেম ইবনে মুহাম্মদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আয়িশা (রা.) থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট প্রবেশ করলেন এমতাবস্থায় যে, আমি একটি নকশাযুক্ত পর্দা দিয়ে আবৃত ছিলাম যাতে ছবি ছিল। তিনি সেটি ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর আজাব হবে তাদের, যারা মহান আল্লাহর সৃষ্টির সাদৃশ্য তৈরি করে।" সুতরাং এই হাদিসে দেখা যাচ্ছে যে, এতে উল্লিখিত শ্রেণিটিই মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর আজাব ভোগকারী। যদি এটি সাব্যস্ত হয়, তবে তা প্রথম হাদিসের পরিপন্থী হয়। আর আল্লাহর রাসূলের জবান মুবারক থেকে এমন কিছু প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব যা এরূপ (পরস্পরবিরোধী)। তাই আমরা এই বর্ণনাটি ছাড়া অন্য বর্ণনা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করলাম।

 

৮ - অতঃপর আমরা পেলাম যে, ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইউনুস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি কাসেম থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে যে, আল্লাহর রাসূল আলাইহিস সালাম বলেছেন: "কঠোর আজাবপ্রাপ্ত মানুষদের অন্তর্ভুক্ত হলো..." এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন। এর মাধ্যমে আমরা অবগত হলাম যে, এই ⦗পৃষ্ঠা: ১২⦘ হাদিসে আল্লাহর রাসূল আলাইহিস সালাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা প্রথম হাদিসের পরিপন্থী নয়। কেননা আল্লাহর সৃষ্টির সাদৃশ্যকারী মূলত সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর সৃষ্টির প্রতিকৃতি তৈরি করে। আর এই হাদিসে উল্লিখিত শ্রেণিটি মূলত সেই তিন শ্রেণিরই অন্তর্ভুক্ত যা প্রথম হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আমরা এই দুটি হাদিস ছাড়াও আরও একটি হাদিস পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌9 - وَهُوَ مَا حَدَّثَنَا أَبُو أُمَيَّةَ ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى الْعَبْسِيُّ ، أَخْبَرَنَا شَيْبَانُ النَّحْوِيُّ ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ عليه السلام: " أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَجُلٌ هَجَا رَجُلًا ، فَهَجَا الْقَبِيلَةَ بِأَسْرِهَا " فَإِنْ كَانَ مَا فِي هَذَا كَمَا فِيهِ ، فَهُوَ مُخَالِفٌ لِلْأَوَّلِ ، وَحَاشَ ذَلِكَ أَنْ يَخْتَلِفَ قَوْلُ الرَّسُولِ فِي هَذَا ، أَوْ فِي غَيْرِهِ ، غَيْرَ أَنَّهُ قَدْ يَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ ‌‌⦗ص: 13⦘ مَا فِي هَذَا مِنْ تَقْصِيرِ بَعْضِ رُوَاتِهِ عَنْ حِفْظِ مَا كَانَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي ذَلِكَ ، فَالْتَمَسْنَاهُ فِي غَيْرِ هَذِهِ الرِّوَايَةِ
৯ - আর এটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু উমাইয়্যাহ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ বিন মুসা আল-আবসি, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়বান আন-নাহবি, আমাশ থেকে, তিনি আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি ইউসুফ বিন মাহাক থেকে, তিনি উবাইদ বিন উমাইর থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে সেই ব্যক্তি, যে কোনো ব্যক্তিকে বিদ্রূপ করে এবং এর মাধ্যমে তার পুরো গোত্রকেই বিদ্রূপ করে।" সুতরাং এই বর্ণনায় যা রয়েছে তা যদি তেমনই হয় যেমনটি এতে প্রতীয়মান হচ্ছে, তবে তা প্রথমোক্ত বর্ণনার বিরোধী। আর এটি অসম্ভব যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী এই বিষয়ে বা অন্য কোনো বিষয়ে পরস্পরবিরোধী হবে। তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে, ⦗পৃষ্ঠা: ১৩⦘ এই বর্ণনার ক্ষেত্রে কোনো কোনো বর্ণনাকারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা যথাযথভাবে মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে ত্রুটি করেছেন; তাই আমরা এটি এই বর্ণনা ব্যতীত অন্য সূত্রের বর্ণনায় অনুসন্ধান করেছি।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌10 - فَوَجَدْنَا إِسْحَاقَ بْنَ إبْرَاهِيمَ الْبَغْدَادِيَّ قَدْ حَدَّثَنَا ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا إبْرَاهِيمُ بْنُ أَحْمَدَ الْوَاسِطِيُّ ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي سَمِينَةَ ، قَالَا: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ ، عَنِ الْأَعْمَشِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ عليه السلام: " إنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ فِرْيَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ الرَّجُلُ يَهْجُو الْقَبِيلَةَ بِأَسْرِهَا ، أَوْ رَجُلٌ انْتَفَى مِنْ أَبِيهِ " فَوَقَفْنَا بِذَلِكَ عَلَى أَنَّ الَّذِي قَصَدَ إلَيْهِ رَسُولُ اللهِ عليه السلام فِي هَذَا الْحَدِيثِ هُوَ ذِكْرُ مَا كَانَ مِنْهُ الْهِجَاءُ لِعِظَمِ الْفِرْيَةِ عِنْدَ اللهِ ، لَا لِوَصْفِ عَذَابِ اللهِ إيَّاهُ عَلَى ذَلِكَ أَنَّهُ أَشَدُّ الْعَذَابِ ، أَوْ خِلَافُهُ مِنْ أَصْنَافِ الْعَذَابِ ، فَانْتَفَى أَنْ يَكُونَ فِيهِ خِلَافٌ لِشَيْءٍ مِمَّا فِي الْأَوَّلِ وَمِنْ ذَلِكَ
১০ - অতঃপর আমরা পেয়েছি যে, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-বাগদাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, (হাওলা) এবং আমাদের নিকট ইবরাহিম ইবনে আহমদ আল-ওয়াসিতি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইবনে আবি সামিনাহ বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট জারির বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মাহাক থেকে, তিনি উবাইদ ইবনে উমাইর থেকে এবং তিনি আয়িশাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা বড় মিথ্যাচারী হলো সেই ব্যক্তি, যে সমগ্র গোত্রকে ব্যঙ্গ করে কবিতা রচনা করে, অথবা সেই ব্যক্তি যে নিজের পিতাকে অস্বীকার করে।" এর মাধ্যমে আমরা এই বিষয়ে অবগত হলাম যে, এই হাদিসে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) যা উদ্দেশ্য করেছেন তা হলো আল্লাহর নিকট অপবাদের ভয়াবহতা বোঝানোর জন্য এই ব্যঙ্গ-কবিতার বিষয়টি উল্লেখ করা। এটি এই অপরাধের জন্য আল্লাহর শাস্তিকে 'কঠিনতম শাস্তি' হিসেবে বর্ণনা করা অথবা শাস্তির অন্যান্য প্রকারের সাথে তুলনা করার জন্য নয়। ফলে প্রথমোক্ত বিষয়গুলোর কোনো কিছুর সাথে এর বৈপরীত্য থাকার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে গেল। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো...
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌بَابُ بَيَانِ مَا أَشْكَلَ عَلَيْنَا مِمَّا قَدْ رُوِيَ عَنْهُ عليه السلام مِنَ الْعَشْرِ الْخَوَاتِمِ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ الَّتِي تَلَاهَا فِي لَيْلَةٍ عِنْدَ اسْتِيقَاظِهِ مِنْ نَوْمِهِ ، وَمَا رُوِيَ عَنْهُ فِي ذَلِكَ
পরিচ্ছেদ: সূরা আল-ইমরানের শেষ দশটি আয়াতের মধ্য হতে নাবী (আলাইহিস সালাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং আমাদের নিকট যা অস্পষ্ট মনে হয়েছে তার বর্ণনা; যা তিনি রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় পাঠ করেছিলেন এবং এ বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌11 - حَدَّثَنَا يُونُسُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَنَّ مَالِكًا أَخْبَرَهُ. . . وَمَا قَدْ حَدَّثَنَا إسْمَاعِيلُ الْمُزَنِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إدْرِيسَ الشَّافِعِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ: أَنَّهُ بَاتَ عِنْدَ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، وَهِيَ خَالَتُهُ ، قَالَ: فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ ، وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا ، فَنَامَ حَتَّى إذَا انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ ، أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ ، ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الْآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ، ثُمَّ قَامَ إلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ ، فَتَوَضَّأَ مِنْهَا ، فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ، ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: فَقُمْتُ ، فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ ، ثُمَّ ذَهَبْتُ ، فَقُمْتُ إلَى جَنْبِهِ ، فَوَضَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي ، وَأَخَذَ بِأُذُنِي يَفْتِلُهَا ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ أَوْتَرَ ، ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ، ثُمَّ خَرَجَ ، فَصَلَّى الصُّبْحَ " ‌‌⦗ص: 15⦘ فَلَمْ نَقِفْ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَلَى أَوَّلِ الْعَشْرِ الْآيَاتِ الَّتِي قَرَأَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فَاحْتَجْنَا إلَى الْوُقُوفِ عَلَى حَقِيقَتِهَا إذْ كَانَ الْقُرَّاءُ مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ ، وَمِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ يَذْهَبُونَ إلَى أَنَّ أَوَّلَهَا هُوَ قَوْلُهُ: {الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللهَ قِيَامًا وَقُعُودًا} [آل عمران: 191] ، وَإِذْ كَانَ الْقُرَّاءُ مِنْ أَهْلِ الشَّامِ يَعُدُّونَهَا {إنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [البقرة: 164]
‌‌১১ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব যে, মালিক তাকে সংবাদ দিয়েছেন। . . এবং যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল আল-মুযানী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফিঈ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মালিক, মাখরামা ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি কুরাইব থেকে, নিশ্চয়ই ইবনে আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী মায়মুনাহর নিকট রাত যাপন করেন, আর তিনি ছিলেন তাঁর খালা। তিনি বলেন: আমি বালিশের প্রস্থের দিকে শুয়ে পড়লাম, আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর স্ত্রী এর দৈর্ঘ্যের দিকে শুয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন মধ্যরাত হলো অথবা তার সামান্য আগে বা সামান্য পরে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জেগে উঠলেন। তিনি তাঁর মুখমণ্ডল থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে শুরু করলেন। এরপর তিনি সূরা আল-ইমরানের শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন। তারপর তিনি একটি ঝুলন্ত মশকের দিকে উঠে গেলেন এবং তা থেকে উযু করলেন। তিনি সুন্দরভাবে তাঁর উযু সম্পন্ন করলেন। এরপর তিনি সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। ইবনে আব্বাস বলেন: আমিও দাঁড়ালাম এবং তিনি যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম। তারপর আমি গিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ালাম। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাত আমার মাথার ওপর রাখলেন এবং আমার কান ধরে তা মর্দন করতে লাগলেন। অতঃপর তিনি দুই রাকাত, এরপর দুই রাকাত, এরপর দুই রাকাত, এরপর দুই রাকাত, এরপর দুই রাকাত, এরপর দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। তারপর তিনি বিতর আদায় করলেন। তারপর তিনি শুয়ে থাকলেন যতক্ষণ না মুয়াজ্জিন তাঁর নিকট আসলেন। তখন তিনি হালকা করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি বের হলেন এবং সুবহে (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৫⦘ এই হাদীসের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে দশটি আয়াত পাঠ করেছিলেন তার প্রারম্ভ কোনটি তা নিশ্চিতভাবে জানতে পারিনি। তাই আমাদের এর প্রকৃত অবস্থা জানার প্রয়োজন হলো; যেহেতু মদীনা ও কূফাবাসী কারীগণ মনে করেন যে, এর প্রথম আয়াত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে ও বসে} [আল-ইমরান: ১৯১], আর সিরিয়াবাসী কারীগণ এগুলোকে {নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে} [আল-বাকারা: ১৬৪] থেকে গণনা করেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৫)
فَالْتَمَسْنَا حَقِيقَةَ ذَلِكَ

‌‌12 - فَوَجَدْنَا بَكَّارَ بْنَ قُتَيْبَةَ قَدْ حَدَّثَنَا ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْأَسَدِيُّ ، وَوَجَدْنَا عَلِيَّ بْنَ مَعْبَدٍ قَدْ حَدَّثَنَا ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَبَابَةُ بْنُ سَوَّارٍ، وَوَجَدْنَا فَهْدًا قَدْ حَدَّثَنَا ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالُوا: حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَمَرَنِي الْعَبَّاسُ أَنْ أَبِيتَ بِآلِ رَسُولِ اللهِ اللَّيْلَةَ ، وَتَقَدَّمَ إلَيَّ أَنْ لَا تَنَامَ حَتَّى تَحْفَظَ لِي صَلَاةَ رَسُولِ اللهِ عليه السلام قَالَ: فَصَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ عليه السلام الْعِشَاءَ ، فَلَمَّا قَضَى صَلَاتَهُ ، وَانْصَرَفَ النَّاسُ ، فَلَمْ يَبْقَ فِي الْمَسْجِدِ أَحَدٌ غَيْرِي ، قَالَ النَّبِيُّ: " مَنْ هَذَا؟ " فَقَالَ: ‌‌⦗ص: 16⦘ " أَعَبْدُ اللهِ؟ " قُلْتُ: نَعَمْ ، قَالَ: " فَمَهْ؟ " قُلْتُ: أَمَرَنِي الْعَبَّاسُ أَنْ أَبِيتَ بِكُمُ اللَّيْلَةَ ، قَالَ: " فَالْحَقْ إذًا " قَالَ: فَدَخَلْتُ مَعَ النَّبِيِّ عليه السلام ، فَقَالَ: " افْرِشْ عَبْدَ اللهِ " فَأَتَيْتُ بِوِسَادَةٍ مِنْ مُسُوحٍ حَشْوُهَا لِيفٌ ، فَنَامَ حَتَّى سَمِعْتُ غَطِيطَهُ أَوْ خَطِيطَهُ ، ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى فِرَاشِهِ قَاعِدًا ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إلَى السَّمَاءِ ، وَقَالَ: " سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ " ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، وَقَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ مِنْ آخِرِ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ {إنَّ فِي خَلْقِ} [البقرة: 164] حَتَّى خَتَمَ السُّورَةَ
অতঃপর আমরা এর প্রকৃত অবস্থা অনুসন্ধান করলাম

‌‌১২ - অতঃপর আমরা পেলাম যে, বাক্কার বিন কুতাইবা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আহমাদ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; এবং আমরা পেলাম যে, আলী বিন মা’বাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাবাবাহ বিন সাওয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; এবং আমরা পেলাম যে, ফাহদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তাঁরা সকলে বললেন: ইউনুস বিন আবি ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মিনহাল বিন আমর থেকে, তিনি আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আব্বাস (রাযি.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন আমি আজ রাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরিবারের নিকট রাত্রিযাপন করি এবং তিনি আমাকে আগেভাগে বলে দিয়েছিলেন যেন আমি ঘুমিয়ে না পড়ি যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সালাত যথাযথভাবে লক্ষ্য করি। তিনি বলেন: অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে এশার সালাত আদায় করলাম। যখন তিনি তাঁর সালাত সম্পন্ন করলেন এবং লোকজন চলে গেল, তখন মসজিদে আমি ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট রইল না। নবী (সা.) বললেন: "এ কে?" অতঃপর বললেন: ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৬⦘ "তুমি কি আব্দুল্লাহ?" আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তবে কী প্রয়োজনে?" আমি বললাম: আব্বাস (রাযি.) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি আজ রাতে আপনাদের কাছে রাত্রিযাপন করি। তিনি বললেন: "তাহলে সাথে এসো।" তিনি বলেন: অতঃপর আমি নবী (সা.)-এর সাথে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন: "আব্দুল্লাহর জন্য বিছানা পেতে দাও।" অতঃপর আমার নিকট পশমি কাপড়ের একটি বালিশ আনা হলো যার ভেতরে খেজুর গাছের আঁশ ভরা ছিল। এরপর তিনি ঘুমালেন, এমনকি আমি তাঁর নাক ডাকার বা গভীর নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পেলাম। তারপর তিনি তাঁর বিছানায় বসে সোজা হয়ে উঠলেন, অতঃপর আকাশের দিকে মাথা তুললেন এবং তিনবার বললেন: "পবিত্র রাজাধিরাজ মহান পবিত্র।" এবং সূরা আলে ইমরানের শেষ দিককার এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {নিশ্চয় আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে...} [আল-বাকারা: ১৬৪] সূরা শেষ করা পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌13 - وَوَجَدْنَا أَحْمَدَ بْنَ دَاوُدَ الْبَصْرِيَّ قَدْ حَدَّثَنَا ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: بِتُّ عِنْدَ النَّبِيِّ عليه السلام ، فَقَامَ ، فَأَخَذَ سِوَاكَهُ ، ثُمَّ تَوَضَّأَ ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إلَى السَّمَاءِ وَهُوَ يَقُولُ: " {إنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ} ". . . الْآيَةَ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، فَأَطَالَ فِيهِمَا الْقِيَامَ وَالرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ ، ثُمَّ نَامَ حَتَّى نَفَخَ ، ثُمَّ قَامَ ، فَأَخَذَ السِّوَاكَ ، فَاسْتَاكَ ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ إلَى السَّمَاءِ ، فَقَالَ: " {إنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ} . . إلَى آخِرِ الْآيَةِ " فَفَعَلَ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، ثُمَّ قَامَ ، فَأَوْتَرَ بِثَلَاثِ رَكَعَاتٍ ".

 

‌‌14 - وَوَجَدْنَا صَالِحَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَنْصَارِيَّ قَدْ حَدَّثَنَا قَالَ: ‌‌⦗ص: 17⦘ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، ثُمَّ ذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ. فَوَقَفْنَا بِهَذَا الْحَدِيثِ عَلَى أَنَّ أَوَّلَ الْعَشْرِ الْآيَاتِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ، هُوَ كَمَا فِي عَدَدِ الشَّامِيِّينَ ، وَمُوَافَقَةُ ابْنِ عَبَّاسٍ إيَّاهُمْ عَلَى ذَلِكَ. ثُمَّ وَجَدْنَا فِي حَدِيثِ كُرَيْبٍ مِنْ رِوَايَةِ ابْنِ إِسْحَاقَ مُوَافَقَةَ مَا فِي حَدِيثِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ اللهِ
১৩ - এবং আমরা পেয়েছি যে, আহমদ বিন দাউদ আল-বসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-ওয়ালিদ আল-তায়ালিসী বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবু আওয়ানাহ বর্ণনা করেছেন, হুসাইন থেকে, তিনি হাবীব বিন আবি সাবিত থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলী থেকে, তিনি বলেন: আমাকে আমার পিতা সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, ইবনে আব্বাস বলেন: "আমি নবী (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট রাত যাপন করলাম। অতঃপর তিনি উঠলেন এবং তাঁর মিসওয়াক গ্রহণ করলেন, এরপর ওযু করলেন। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে তাঁর মাথা উত্তোলন করলেন এবং তিনি বলছিলেন: 'নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে...' (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। অতঃপর তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তাতে কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘ করলেন। এরপর তিনি নিদ্রা গেলেন এমনকি তাঁর নাক ডাকার শব্দ শোনা গেল। অতঃপর তিনি পুনরায় উঠলেন, মিসওয়াক গ্রহণ করলেন এবং মিসওয়াক করলেন। এরপর তিনি আকাশের দিকে তাঁর মাথা উত্তোলন করলেন এবং বললেন: 'নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে... আয়াতের শেষ পর্যন্ত'। তিনি এরূপে তিনবার করলেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং তিন রাকাত বিতর সালাত আদায় করলেন।"

 

১৪ - এবং আমরা পেয়েছি যে, সালিহ বিন আব্দুর রহমান আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ১৭⦘ আমাদের নিকট সাঈদ বিন মনসুর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হুসাইন সংবাদ দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তাঁর সনদে অনুরূপ হাদীস উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এই হাদীসের মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম যে, সূরা আলে ইমরানের শেষ দিকের দশটি আয়াতের সূচনা শামীদের (সিরিয়াবাসীদের) গণনা অনুযায়ী, এবং ইবনে আব্বাস এ ব্যাপারে তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন। এরপর আমরা ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় কুরাইবের হাদীসে আলী বিন আব্দুল্লাহর হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বর্ণনা পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌15 - كَمَا حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْبَغْدَادِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ الْإِمَامِ ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ سَعْدٍ الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَمِّي يَعْقُوبُ بْنُ إبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ نُوَيْفِعٍ مَوْلَى آلِ الزُّبَيْرِ ، كِلَاهُمَا حَدَّثَنِي عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: " بَعَثَنِي أَبِي الْعَبَّاسُ إلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْفَظُ لَهُ صَلَاتَهُ ، قَالَ: فَهَبَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ اللَّيْلِ ، فَتَعَارَّ بِبَصَرِهِ إلَى السَّمَاءِ ، ثُمَّ تَلَا هَؤُلَاءِ الْآيَاتِ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ: {إنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ. . .} حَتَّى انْتَهَى إلَى عَشْرٍ مِنْهَا ، ثُمَّ عَادَ لِمَضْجَعِهِ ، فَنَامَ ، ثُمَّ هَبَّ ، فَفَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ فِي الْمَرَّةِ الْأُولَى ، ثُمَّ ذَكَرَ بَقِيَّةَ الْحَدِيثِ. فَعَادَ مَا رَوَاهُ كُرَيْبٌ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ فِيمَا ذَكَرْنَا إلَى مُوَافَقَةِ مَا رَوَاهُ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَا وَصَفْنَاهُ ، وَاللهَ نَسْأَلُهُ التَّوْفِيقَ، وَمِنْ ذَلِكَ
১৫ - যেমনটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-বাগদাদি, যিনি ইবনুল ইমাম নামে পরিচিত; তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবায়দুল্লাহ ইবনে সাদ আল-জুহরি; তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার চাচা ইয়াকুব ইবনে ইব্রাহিম; তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমার পিতা; তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি সালামা ইবনে কুহাইল ও আলে যুবায়েরের মুক্তদাস মুহাম্মদ ইবনে ওয়ালিদ ইবনে নুওয়াইফি থেকে বর্ণনা করেন। তাঁরা উভয়ই আমার কাছে কুরাইব থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমার পিতা আব্বাস আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পাঠিয়েছিলেন যাতে আমি তাঁর সালাত সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ ও মুখস্থ রাখতে পারি।" তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে জাগ্রত হলেন এবং আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন। এরপর তিনি সূরা আল-ইমরানের এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই আসমানসমূহের সৃষ্টিতে...} এভাবে দশটি আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। এরপর তিনি পুনরায় তাঁর বিছানায় ফিরে গেলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। এরপর তিনি আবার জাগ্রত হলেন এবং প্রথমবার যা করেছিলেন ঠিক তেমনই করলেন।" এরপর তিনি হাদীসের বাকি অংশ উল্লেখ করলেন। সুতরাং কুরাইব ইবনে আব্বাস থেকে যা বর্ণনা করেছেন—যা আমরা উল্লেখ করেছি—তা আলী ইবনে আব্দুল্লাহ কর্তৃক ইবনে আব্বাস-এর সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো যা আমরা বর্ণনা করেছি। আমরা আল্লাহর কাছে তাওফিক প্রার্থনা করি। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো...
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌بَابُ بَيَانِ مُشْكِلِ مَا رُوِيَ عَنْهُ، فِيمَا يُقَالُ عِنْدَ الْمَسَاءِ مِمَّا لَا يَضُرُّ مَعَهُ قَائِلَهِ لَدْغَةُ حُمَةٍ حَتَّى يُصْبِحَ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: فَمِمَّا رُوِيَ فِي ذَلِكَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ الَّذِي رَوَاهُ عَنْهُ ابْنُهُ سُهَيْلٌ مِمَّا قَدِ اخْتُلِفَ عَلَيْهِ فِيمَنْ ذَكَرَهُ فِي إسْنَادِهِ بَعْدَ أَبِيهِ ، فَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْهُ أَنَّهُ أَبُو هُرَيْرَةَ
পরিচ্ছেদ: তাঁর থেকে বর্ণিত সেই সব জটিল বিষয়ের বর্ণনা, যা সন্ধ্যাবেলায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত পাঠকারীকে কোনো বিষাক্ত প্রাণীর দংশন ক্ষতি করতে পারে না। আবু জাফর বলেন: এই প্রসঙ্গে আবু সালেহ আস-সাম্মানের হাদিস থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, যা তাঁর থেকে তাঁর পুত্র সুহাইল বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর পিতার পর এর সনদে বর্ণনাকারীর বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি হলেন আবু হুরায়রা।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌16 - كَمَا حَدَّثَنَا يُونُسُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا، مِنْ أَسْلَمَ قَالَ: مَا نِمْتُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ، فَقَالَ النَّبِيُّ عليه السلام: " مِنْ أَيِّ شَيْءٍ؟ " فَقَالَ: لَدَغَتْنِي عَقْرَبٌ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " أَمَا إنَّكَ لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ، لَمْ يَضُرَّكَ إنْ شَاءَ اللهُ "
16 - যেমন ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মালিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি বললেন: আমি আজ রাতে ঘুমাতে পারিনি। তখন নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন: "কী কারণে?" তিনি বললেন: আমাকে একটি বিচ্ছু দংশন করেছে। তখন আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: "জেনে রেখো, তুমি যদি সন্ধ্যাবেলায় বলতে: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’, তবে ইনশাআল্লাহ তা তোমার কোনো ক্ষতি করত না।"
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌17 - وَمِنْ ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا إبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حُذَيْفَةَ، ‌‌⦗ص: 19⦘ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إلَى النَّبِيِّ عليه السلام ، فَقَالَ: إنِّي لُدِغْتُ الْبَارِحَةَ ، فَلَمْ أَنَمْ حَتَّى أَصْبَحْتُ ، فَقَالَ لَهُ: " أَمَا إنَّكَ لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ تَضُرَّ بِكَ لَدْغَةُ عَقْرَبٍ حَتَّى تُصْبِحَ " ‌‌⦗ص: 20⦘

 

‌‌18 - وَمِنْ ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ إبْرَاهِيمُ بْنُ أَبِي دَاوُدَ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ مِثْلَ حَدِيثِ يُونُسَ الَّذِي رُوِّينَاهُ فِي هَذَا الْبَابِ غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَقُلْ فِيهِ " إنْ شَاءَ اللهُ " وَمِثْلَ حَدِيثِ مَالِكٍ
‌১৭ - এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমাদের নিকট ইবরাহিম ইবনে মারজুক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু হুযাইফা বর্ণনা করেছেন, ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ১৯⦘ আমাদের নিকট সুফিয়ান আস-সাওরি বর্ণনা করেছেন সুহাইল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী (আলাইহিস সালাম)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: গত রাতে আমাকে দংশন করা হয়েছে, ফলে সকাল হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাতে পারিনি। তখন তিনি তাকে বললেন: "শোনো, তুমি যদি সন্ধ্যায় উপনীত হওয়ার সময় বলতে: 'আমি আল্লাহর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে তাঁর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি', তবে সকাল হওয়া পর্যন্ত বিচ্ছুর দংশন তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারত না।" ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ২০⦘

 

‌‌১৮ - এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমাদের নিকট আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে আবি দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল মিনহাল বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে জুরাই' বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট রাওহ ইবনুল কাসিম বর্ণনা করেছেন সুহাইল থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে ইউনুসের বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ যা আমরা এই অধ্যায়ে বর্ণনা করেছি; তবে পার্থক্য হলো তিনি এতে "ইনশাআল্লাহ" কথাটি উল্লেখ করেননি এবং তা মালিকের বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌19 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى لُوَيْنٍ ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ عليه السلام لُدِغَ ، فَبَلَغَ مِنْهُ مَا شَاءَ اللهُ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ فَقَالَ: " أَمَا إنَّهُ لَوْ قَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ثَلَاثًا لَمْ يَضُرَّهُ "
১৯ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে শুআইব আবু আব্দুর রহমান, তিনি বলেন: আমি লুওয়াইনের নিকট পাঠ করেছি, তিনি হাম্মাদ ইবনে যায়িদ থেকে, তিনি সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরাইরাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী আলাইহিস সালামের সাহাবীদের জনৈক ব্যক্তিকে দংশন করা হয়েছিল এবং তার অবস্থা আল্লাহ যা চেয়েছিলেন সে পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল। বিষয়টি যখন নবীর নিকট পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: "জেনে রেখো, সে যদি তিনবার বলত: 'আমি আল্লাহর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে তাঁর পরিপূর্ণ কালামসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি', তবে তা তাকে কোনো ক্ষতি করতে পারত না।"
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌20 - وَمِنْ ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا أَحْمَدُ أَيْضًا ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ ‌‌⦗ص: 21⦘ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " مَنْ قَالَ حِينَ يُمْسِي ثَلَاثَ مَرَّاتٍ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرَّهُ لَسْعَةٌ تِلْكَ اللَّيْلَةِ ".

 

‌‌21 - وَمِنْ ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا يُونُسُ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ مِثْلَهُ ، وَقَالَ فِيهِ: " ثَلَاثَ مَرَّاتٍ "
‌২০ - এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদও, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযিদ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম, সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে: 'আমি আল্লাহর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে তাঁর পরিপূর্ণ কালিমাগুলোর আশ্রয় প্রার্থনা করছি', সেই রাতে কোনো বিষধর প্রাণীর দংশন তার ক্ষতি করবে না।"

 

‌‌২১ - এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে ওয়াহাব, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জারীর ইবনে হাযিম, সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: "তিনবার"
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌22 - وَمِنْ ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُقَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى يَعْنِي السَّامِيَّ ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ تَغَيَّبَ عَنْهُ لَيْلَةً ، فَسَأَلَ عَنْهُ ، فَلَمَّا أَصْبَحَ أَتَى رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: " مَا حَبَسَكَ "؟ قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ ، لَدَغَتْنِي عَقْرَبٌ ، قَالَ: " لَوْ قُلْتَ حِينَ ‌‌⦗ص: 22⦘ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لَمْ يَضُرَّكَ "
২২ - এবং এর অন্তর্ভুক্ত সেই বর্ণনা যা আমাদের নিকট আহমাদ বিন শুআইব বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন উসমান আল-উকায়লী, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদ আল-আ’লা—অর্থাৎ আস-সামি—উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে, তিনি সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এক রাতে তাঁর নিকট থেকে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। অতঃপর যখন সকাল হলো, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমাকে কিসে আটকে রেখেছিল?" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে একটি বিচ্ছু দংশন করেছে। তিনি বললেন: "তুমি যদি ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ সন্ধ্যাবেলায় তিনবার বলতে: 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি', তবে তা তোমার কোনো ক্ষতি করত না।"
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌23 - وَمِنْ ذَلِكَ مَا حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنَا إبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا الْأَشْجَعِيُّ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَدَغَتْ رَجُلًا عَقْرَبٌ ، فَجَاءَ النَّبِيَّ ، فَأَخْبَرَهُ ، فَقَالَ لَهُ: " أَمَا إنَّكَ لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يُصِبْكَ شَيْءٌ " غَيْرَ أَنَّ الْأَشْجَعِيَّ قَدْ خُولِفَ عَنْ سُفْيَانَ فِي شَيْءٍ مِنْ إسْنَادِ هَذَا الْحَدِيثِ ، فَقِيلَ لَهُ مَكَانَ أَبِي هُرَيْرَةَ: عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ ، وَنَحْنُ ذَاكِرُوهُ فِي بَقِيَّةِ هَذَا الْبَابِ وَمِنْ ذَلِكَ مَنْ قَدْ رَوَى عَنْ سُهَيْلٍ هَذَا الْحَدِيثَ ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ
২৩ - এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে শুআইব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহীম ইবনে ইউসুফ আল-কুফী সংবাদ প্রদান করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আল-আশজাঈ বর্ণনা করেছেন সুহায়ল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তিকে একটি বিচ্ছু দংশন করলে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তা নিবেদন করলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: "জেনে রেখো! তুমি যদি সন্ধ্যা উপনীত হওয়ার সময় বলতে: 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি', তবে তোমার কোনো ক্ষতি হতো না।" তবে এই হাদিসের সনদের কিছু অংশে সুফিয়ান থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আল-আশজাঈর বিরোধিতা করা হয়েছে। সেখানে আবু হুরায়রার পরিবর্তে বলা হয়েছে: 'আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে'। এবং আমরা এই অধ্যায়ের অবশিষ্ট অংশে তা উল্লেখ করব। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যারা সুহায়ল থেকে এই হাদিসটি জনৈক আসলামী ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌24 - كَمَا قَدْ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ إبْرَاهِيمَ الْغَافِقِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سُهَيْلٍ، سَمِعَ أَبَاهُ يُخْبِرُهُ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ، فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ ، فَقَالَ: لُدِغْتُ الْبَارِحَةَ ، فَلَمْ أَنَمْ حَتَّى أَصْبَحْتُ ، ‌‌⦗ص: 23⦘ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " أَمَا إنَّكَ لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ، مَا ضَارَّكَ إنْ شَاءَ اللهُ "
২৪ - যেমনটি আমাদের কাছে ঈসা ইবনে ইবরাহীম আল-গাফেকী বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ বর্ণনা করেছেন, সুহাইল থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতাকে সংবাদ দিতে শুনেছেন, আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, তখন জনৈক আনসারী ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললেন: গত রাতে আমাকে দংশন করা হয়েছে, ফলে ভোর হওয়া পর্যন্ত আমি ঘুমাতে পারিনি। ⦗পৃষ্ঠা: ২৩⦘ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "জেনে রেখো, তুমি যদি সন্ধ্যা হওয়ার সময় বলতে: ‘আমি আল্লাহর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে তাঁর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’, তবে ইনশাআল্লাহ তা তোমার কোনো ক্ষতি করত না।"
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌25 - وَكَمَا حَدَّثَنَا إبْرَاهِيمُ بْنُ مَرْزُوقٍ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ ، عَنِ النَّبِيِّ عليه السلام أَنَّهُ قَالَ: " مَنْ قَالَ حِينَ يُمْسِي: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ، لَمْ يَضُرَّهُ حُمَّةٌ تِلْكَ اللَّيْلَةِ ".

 

‌‌26 - وَكَمَا قَدْ حَدَّثَنَا فَهْدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ عليه السلام ، فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ ، فَقَالَ: " لُدِغْتُ الْبَارِحَةَ " ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ.

 

‌‌27 - وَكَمَا قَدْ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ بَكَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ ، عَنِ النَّبِيِّ. . ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَهُ. ‌‌⦗ص: 24⦘ وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ، أَسَدُ بْنُ مُوسَى ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُهَيْلٍ، وَأَخِيهِ ، عَنْ أَبِيهِمَا، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ

 

‌‌28 - كَمَا حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ الْمُرَادِيُّ، حَدَّثَنَا أَسَدٌ، وَحَدَّثَنَا يُونُسُ، حَدَّثَنَا أَسَدٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سُهَيْلٍ، وَأَخِيهِ ، عَنْ أَبِيهِمَا، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ: أَنَّهُ لُدِغَ ، فَأَتَى النَّبِيَّ عليه السلام. . ثُمَّ ذَكَرَ مِثْلَهُ. وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سُهَيْلٍ وُهَيْبُ بْنُ خَالِدٍ ، فَخَالَفَهُمْ جَمِيعًا فِي إسْنَادِهِ.

 

‌‌29 - كَمَا قَدْ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا حِبَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ. . ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَهُ. قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: وَلَمَّا اخْتَلَفُوا عَلَيْنَا فِي إسْنَادِ هَذَا الْحَدِيثِ ، عَنْ سُهَيْلٍ كَمَا قَدْ رَوَيْنَاهُ مِنَ اخْتِلَافِهِمْ عَلَيْهِ فِي هَذَا الْبَابِ ، طَلَبْنَاهُ مِنْ غَيْرِ رِوَايَةِ سُهَيْلٍ ، مِنْ حَدِيثِ مَنْ رَوَاهُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ سِوَاهُ ، وَسِوَى أَخِيهِ ، لِنَقِفَ بِذَلِكَ عَلَى حَقِيقَتِهِ ، هَلْ هُوَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَوْ عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ؟
‌‌২৫ - এবং যেভাবে ইব্রাহিম ইবনে মারজুক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ওয়াহাব ইবনে জারির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শু'বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে তিনবার বলবে: 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি', সেই রাতে কোনো বিষধর প্রাণীর দংশন তার কোনো ক্ষতি করবে না।"

 

‌‌২৬ - এবং যেভাবে ফাহদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু গাসসান আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, জুহাইর ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নিকট বসা ছিলাম, তখন তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এসে বললেন: "গত রাতে আমাকে দংশন করা হয়েছে", অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেন।

 

‌‌২৭ - এবং যেভাবে আহমাদ ইবনে দাউদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাহল ইবনে বাককার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি নবী থেকে... অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন। ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ আসাদ ইবনে মুসা এই হাদিসটি শু'বা থেকে, তিনি সুহাইল ও তাঁর ভাই থেকে, তাঁরা তাঁদের পিতা থেকে, তিনি আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌২৮ - যেভাবে রাবি আল-মুরাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আসাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, এবং ইউনুস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আসাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শু'বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুহাইল ও তাঁর ভাই থেকে, তাঁরা তাঁদের পিতা থেকে, তাঁরা আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন: যে তাকে দংশন করা হয়েছিল, এরপর সে নবী (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নিকট আসল... অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন। এবং উহাইব ইবনে খালিদ এই হাদিসটি সুহাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি সনদের ক্ষেত্রে তাঁদের সকলের বিরোধিতা করেছেন।

 

‌‌২৯ - যেভাবে আহমাদ ইবনে শুআইব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইসহাক ইবনে মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হিব্বান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, উহাইব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে... অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন। আবু জাফর বলেন: যখন আমাদের সামনে সুহাইল হতে বর্ণিত এই হাদিসটির সনদের ক্ষেত্রে মতভেদ দেখা দিল—যেমনটি আমরা এই অনুচ্ছেদে তাঁর বর্ণনায় তাঁদের মতভেদ বর্ণনা করেছি—তখন আমরা সুহাইল ব্যতীত অন্য কারো বর্ণনায় তা অনুসন্ধান করলাম, যারা আবু সালিহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেন এর মাধ্যমে আমরা এর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে অবগত হতে পারি যে, এটি কি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত নাকি আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে?
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌30 - فَوَجَدْنَا يُونُسَ قَدْ حَدَّثَنَا ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِيهِ، وَيَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللهِ يَعْنِي ابْنَ الْأَشَجِّ ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، ‌‌⦗ص: 25⦘ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا لَقِيتُ مِنْ عَقْرَبٍ لَدَغَتْنِي الْبَارِحَةَ ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " أَمَا إنَّكَ لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ، لَمْ يَضُرَّكَ ".

 

‌‌31 - وَوَجَدْنَا بَحْرَ بْنَ نَصْرٍ قَدْ حَدَّثَنَا ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، مِثْلَهُ
‌৩০ - আমরা ইউনুসকে পেয়েছি যিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে আমর ইবনুল হারিস সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতার নিকট থেকে এবং ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, তিনি ইয়াকুব ইবনে আব্দুল্লাহ অর্থাৎ ইবনুল আশাজ্জ থেকে, তিনি ক্বাক্বা ইবনে হাকিম থেকে, তিনি যাকওয়ান আবু সালিহ থেকে, ‌‌⦗পৃষ্ঠা: ২৫⦘ আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! গত রাতে একটি বিচ্ছু আমাকে দংশন করায় আমি কতই না কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি! আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "শোনো, তুমি যদি সন্ধ্যায় উপনীত হওয়ার সময় বলতে: 'আমি আল্লাহর মাখলুকের (সৃষ্টির) অনিষ্ট হতে আল্লাহর কালামসমূহের আশ্রয় প্রার্থনা করছি', তবে তা তোমার কোনো ক্ষতি করত না।"

 

‌‌৩১ - আমরা বাহর ইবনে নাসরকে পেয়েছি যিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে ওয়াহাব এর অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌32 - وَوَجَدْنَا الرَّبِيعَ الْمُرَادِيَّ حَدَّثَنَا ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ اللَّيْثِ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ جَعْفَرٍ، عَنْ يَعْقُوبَ، أَنَّهُ ذُكِرَ لَهُ أَنَّ أَبَا صَالِحٍ، مَوْلَى غَطَفَانَ أَخْبَرَ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ رَجُلٌ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَدَغَتْنِي عَقْرَبٌ ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: " لَوْ أَنَّكَ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ يَضُرَّكَ ". فَنَسَبَ أَبَا صَالِحٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ فِي وَلَائِهِ إلَى غَطَفَانَ ، وَقَدْ خُولِفَ فِي ذَلِكَ. فَذَكَرَ مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ صَاحِبُ الْوَاقِدِيِّ فِي كِتَابِهِ فِي " الطَّبَقَاتِ " قَالَ: وَأَبُو صَالِحٍ السَّمَّانُ مَوْلَى جُوَيْرِيَةَ امْرَأَةٍ مِنْ قَيْسٍ. ‌‌⦗ص: 26⦘ قَالَ: وَقَدْ كُنَّا ذَكَرْنَا فِي هَذَا الْبَابِ أَنَّ الْأَشْجَعِيَّ قَدْ خُولِفَ عَنْ سُفْيَانَ فِي إسْنَادِهِ حَدِيثَ سُهَيْلٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ الَّذِي قَدْ رَوَيْنَاهُ فِيمَا تَقَدَّمَ ، وَالَّذِي خَالَفَهُ فِيهِ عَنْ سُفْيَانَ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ.

 

‌‌33 - كَمَا قَدْ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ شُعَيْبٍ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ ، ثُمَّ ذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ الْأَشْجَعِيِّ. وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَيْضًا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ غَيْرُ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ ، وَهُوَ طَارِقُ بْنُ مُخَاشِنٍ
৩২ - আমরা পেয়েছি যে, রাবী ইবনুল মুরাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শুআইব ইবনুল লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবীব থেকে, তিনি জাফর থেকে, তিনি ইয়াকুব থেকে যে, তাঁর নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে, গাতাফানের মুক্তদাস আবু সালিহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, "আমাকে একটি বিচ্ছু দংশন করেছে।" তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "তুমি যদি সন্ধ্যাবেলায় বলতে: ‘আমি আল্লাহর সৃষ্টিজগতের অনিষ্ট থেকে তাঁর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’, তবে তা তোমার কোনো ক্ষতি করত না।" এই হাদীসে আবু সালিহ-এর আনুগত্যের সম্পর্ক গাতাফানের দিকে করা হয়েছে, তবে এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করা হয়েছে। ওয়াকিদীর সহচর মুহাম্মদ ইবনে সা’দ তাঁর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেন: আবু সালিহ আস-সাম্মান কাইস গোত্রের জুওয়াইরিয়াহ নামক এক মহিলার মুক্তদাস। ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ তিনি বলেন: আমরা এই অধ্যায়ে উল্লেখ করেছিলাম যে, সুহাইল তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন—যা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি—তার সনদে সুফিয়ান থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে আশজাঈর বিরোধিতা করা হয়েছে। আর সুফিয়ান থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ।

 

‌৩৩ - যেমনটি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে শুআইব, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে মানসূর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ সুফিয়ান থেকে, তিনি সুহাইল থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে; অতঃপর তিনি আশজাঈর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবু সালিহ আস-সাম্মান ছাড়াও আবু হুরায়রা থেকে এই হাদীসটি তারিক ইবনে মুখাশিন বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌34 - كَمَا قَدْ حَدَّثَنَا فَهْدٌ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، حَدَّثَنِي الزُّبَيْدِيُّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ طَارِقِ بْنِ مُخَاشِنٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ عليه السلام: أَنَّهُ أُتِيَ بِلَدِيغٍ لَدَغَتْهُ عَقْرَبٌ ، فَقَالَ: " لَوْ قَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ، لَمْ يُلْدَغْ أَوْ لَمْ يَضُرَّهُ ". ‌‌⦗ص: 27⦘ وَلَمَّا وَجَدْنَاهُ مِنْ رِوَايَةِ الْقَعْقَاعِ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، لَا عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ ، قَوِيَ فِي قُلُوبِنَا أَنَّ أَصْلَ هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، لَا عَنْ رَجُلٍ مِنْ أَسْلَمَ ، وَكَانَ الَّذِينَ فِي هَذَا الْحَدِيثِ لَمَّا صُحِّحَتْ هَذِهِ الرِّوَايَاتُ فِيهِ يَرْجِعُ مَا فِيهِ إلَى أَنَّ قَائِلَ هَذِهِ الْكَلِمَاتِ الْمَحْفُوظَاتِ فِيهِ يَكُونُ بِقَوْلِهِ إيَّاهَا مَحْفُوظًا حَتَّى تَنْقَضِيَ تِلْكَ اللَّيْلَةُ الَّتِي قَالَهَا فِيهَا ، لَا زِيَادَةَ عَلَيْهَا ، غَيْرَ أَنَّا قَدْ وَجَدْنَا عَنْ رَسُولِ اللهِ عليه السلام مَا يَزِيدُ عَلَى مَا يَكُونُ قَائِلُهَا مَحْفُوظًا بِهَا مِنَ الزَّمَانِ عَلَى مَا فِي ذَلِكَ الْحَدِيثِ
৩৪ - যেমন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ফাহদ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনে আব্দুল্লাহ, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ, তিনি বলেন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আয-যুবাইদী, তিনি আয-যুহরী থেকে, তিনি তারিক ইবনে মুখাশিন থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে জনৈক দংশিত ব্যক্তিকে আনা হলো যাকে বিচ্ছু দংশন করেছিল। তখন তিনি বললেন: "যদি সে বলত: 'আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই', তবে তাকে দংশন করা হতো না অথবা তা তার ক্ষতি করত না।" ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘ যখন আমরা এই বর্ণনাটি আল-ক্বাক্বা-এর সূত্রে আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে পেয়েছি—আসলাম গোত্রের কোনো এক ব্যক্তি থেকে নয়—তখন আমাদের অন্তরে এই বিশ্বাস প্রবল হয়েছে যে, এই হাদিসটির মূল সূত্র হলো আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, আসলাম গোত্রের কোনো এক ব্যক্তি থেকে নয়। যখন এই হাদিসের এই বর্ণনাসমূহ সঠিক বলে প্রমাণিত হলো, তখন এর মর্মার্থ এই দাঁড়ায় যে, এই সংরক্ষিত বাক্যসমূহ পাঠকারী এগুলো পাঠ করার মাধ্যমে সেই রাত শেষ হওয়া পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে যে রাতে সে এগুলো পাঠ করেছে, এর অতিরিক্ত নয়। তবে আমরা রাসূলুল্লাহ (আলাইহিস সালাম) থেকে এমন বর্ণনাও পেয়েছি যা এই হাদিসে উল্লিখিত সময়ের চেয়েও অধিক সময় পর্যন্ত পাঠকারীর সুরক্ষিত থাকার বিষয়কে বর্ধিত করে।
(খণ্ড: ১) শারহু মুশকিলিল আছার (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌35 - وَهُوَ مَا حَدَّثَنَا يُونُسُ، وَبَحْرٌ ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، وَالْحَارِثِ بْنِ يَعْقُوبَ ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ خَوْلَةَ بِنْتِ حَكِيمٍ السُّلَمِيَّةِ، أَنَّهَا سَمِعَتْ رَسُولَ اللهِ عليه السلام يَقُولُ: " إذَا نَزَلَ أَحَدُكُمْ مَنْزِلًا ، فَلْيَقُلْ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ، فَإِنَّهُ لَا يَضُرُّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْهُ "
৩৫ - আর এটিই যা ইউনুস এবং বাহর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর বিন হারিস আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব ও হারিস বিন ইয়াকুব থেকে, তিনি ইয়াকুব বিন আব্দুল্লাহ আল-আশাজ থেকে, তিনি বুসর বিন সাঈদ থেকে, তিনি সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি খাওলা বিনতে হাকিম আস-সুলামিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক)-কে বলতে শুনেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন কোনো স্থানে অবতরণ করে, তখন সে যেন বলে: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি; তবে সেই স্থান থেকে প্রস্থান করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করবে না।"