(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: -)
الحق والثبات في الأسماء والصفات (عبد العزيز العتيبي)
القسم: العقيدة
الكتاب: الحق والثبات في الأسماء والصفات
إعداد: عبد العزيز العتيبي
الناشر: دار الصميعي للنشر والتوزيع
الطبعة: الأولى، 1442 هـ - 2021 م
عدد الصفحات: 56
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 جُمادَى الآخرة 1443
আসমা ও সিফাতের ক্ষেত্রে সত্য ও অবিচলতা (আব্দুল আজিজ আল-উতাইবি)
বিভাগ: আকিদা
বই: আসমা ও সিফাতের ক্ষেত্রে সত্য ও অবিচলতা
প্রস্তুতকারক: আব্দুল আজিজ আল-উতাইবি
প্রকাশক: দার আস-সুমাইয়ি প্রকাশনী ও বিতরণ কেন্দ্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪২ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم المقدمةبسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى صحبه أجمعين أما بعد:أقدم لكم هذا الكتاب عن أسماء الله وصفاته وقد سمَّيته " الحق والثبات في الأسماء والصفات"وهو كتاب مختصر لكي يسهل على الناس حفظه وفهم معانيه، ولا يخفى على أحد فضل العلم بأسماء الله وصفاته وأهميته في حياة المسلم فهو أشرف وأفضل العلوم التي يجب على المسلم معرفته لأن شرف العلم بشرف المعلوم وهو أحد أنواع التوحيد الثلاثة وهي:1 - توحيد الربوبية ومعناه " إفراد الله بأفعاله عَزَّوَجَلَّ كالخلق والملك والإحياء والإماتة والرزق ونحو ذلك".وهذا النوع يُقِرُّ به جميع الخلق حتى الكفار ولكن لا ينفعهم وحده، بل لابد من الإيمان بأنواع التوحيد الثلاثة لكي يدخلوا في الإسلام كما قال تعالى مخبراً عن المشركين{وَلَئِن سَأَلْتَهُم مَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ} [لقمان: 25].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ভূমিকাআল্লাহর নামে শুরু করছি, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সকল সঙ্গী-সাথীদের ওপর। অতঃপর:আমি আপনাদের সামনে আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ক এই বইটি পেশ করছি এবং আমি এর নামকরণ করেছি "আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর ক্ষেত্রে সত্য ও অবিচলতা"এটি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ যাতে মানুষের পক্ষে এটি মুখস্থ করা এবং এর অর্থসমূহ বোঝা সহজ হয়। আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ক জ্ঞানের ফযিলত এবং একজন মুসলিমের জীবনে এর গুরুত্ব কারো অজানা নয়। কারণ এটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম জ্ঞান যা একজন মুসলিমের জন্য জানা আবশ্যক, যেহেতু বিষয়ের মর্যাদার মাধ্যমেই জ্ঞানের মর্যাদা নির্ধারিত হয়। আর এটি তাওহীদের তিনটি প্রকারের মধ্যে অন্যতম, যা হলো:১ - তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ; এর অর্থ হলো "মহান আল্লাহর কার্যাবলীর ক্ষেত্রে তাঁকে একক হিসেবে গণ্য করা, যেমন সৃষ্টি করা, রাজত্ব, জীবন দান করা, মৃত্যু দান করা, রিযিক প্রদান করা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ"।আর তাওহীদের এই প্রকারটি সমস্ত সৃষ্টিই স্বীকার করে, এমনকি কাফেররাও; কিন্তু কেবল এটি তাদের কোনো উপকারে আসবে না। বরং ইসলামে প্রবেশের জন্য তাওহীদের তিনটি প্রকারের প্রতিই ঈমান আনা আবশ্যক, যেমনটি মহান আল্লাহ মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলেছেন:{আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, 'আল্লাহ'। বলুন, 'সকল প্রশংসা আল্লাহর'। বরং তাদের অধিকাংশই জানে না।} [লুকমান: ২৫]।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
إذاً لا ينفع المشركين توحيد الربوبية وحدة ما داموا لم يوحِّدُوا الله في ألوهيته " عبادته" وأسمائه وصفاته.2 - توحيد الألوهية ومعناه " إفراد الله بالعبادة مثل الصلاة والصوم والدعاء والنحر والاستغاثة والتوكُّل وغيرها من العبادات"فمن صرف أي نوع من أنواع العبادة لغير الله فقد أشرك وحبط عمله، وتوحيد الألوهية متضمن لتوحيد الربوبية بمعنى أن من عَبَدَ الله وحْدَه لابد أن يكون قد وحَّدَهُ في ربوبيته، لأنه قد عبد الله لاعتقاده أنه هو الخالق والرازق والملك وحْدَه.وتوحيد الربوبية مستلزم لتوحيد الألوهية بمعنى أن من وحَّد الله في ربوبيته واعتقد أن الله هو الرب والخالق فإن هذا الاعتقاد وهذا التوحيد يوجب له أن يوحِّد الله في ألوهيته.وتوحيد الأسماء والصفات يشمل النوعين لأن من أسماء الله (الخالق والرازق والملك والرب) وهذا هو توحيد الربوبية، ومن أسمائه أيضاً (الله والغفور والتواب) وهذا هو توحيد الألوهية.3 - توحيد الأسماء والصفات ومعناه " إفراد الله بأسمائه الحسنى وصفاته العلى الواردة في القرآن والسنة من غير تمثيل ولا تشبيه ولا تحريف ولا تعطيل ولا تكييف".
সুতরাং মুশরিকদের নিকট কেবল তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ কোনো উপকারে আসবে না যতক্ষণ না তারা আল্লাহকে তাঁর উলুহিয়্যাহ (ইবাদত) এবং তাঁর নাম ও গুণাবলীতে একত্ববাদী হিসেবে গ্রহণ করে।২ - তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, আর এর অর্থ হলো "ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক গণ্য করা, যেমন সালাত, সাওম, দুআ, কুরবানী, সাহায্য প্রার্থনা, তাওয়াক্কুল এবং অন্যান্য ইবাদতসমূহ।"অতএব যে ব্যক্তি ইবাদতের কোনো প্রকার আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য উৎসর্গ করল, সে শিরক করল এবং তার আমল বরবাদ হয়ে গেল। আর তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ তাওহীদে রুবুবিয়্যাহকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে, সে অবশ্যই তাঁকে তাঁর রুবুবিয়্যাহর ক্ষেত্রেও একত্ববাদী হিসেবে মেনে নিয়েছে। কারণ সে আল্লাহর ইবাদত করেছে এই বিশ্বাস থেকে যে, তিনিই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা ও অধিপতি।আর তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ তাওহীদুল উলুহিয়্যাহকে দাবি করে। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর রুবুবিয়্যাহর ক্ষেত্রে এক হিসেবে মানে এবং বিশ্বাস করে যে আল্লাহই হচ্ছেন রব ও সৃষ্টিকর্তা, তবে এই বিশ্বাস এবং এই তাওহীদ তার ওপর আবশ্যক করে দেয় যে সে যেন আল্লাহকে তাঁর উলুহিয়্যাহর ক্ষেত্রেও এক হিসেবে গণ্য করে।আর তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত (নাম ও গুণাবলীর তাওহীদ) উভয় প্রকারকে শামিল করে। কেননা আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো (আল-খালিক্ব, আর-রাযযাক্ব, আল-মালিক ও আর-রব), আর এটিই হলো তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ। আবার তাঁর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো (আল্লাহ, আল-গফুর ও আত-তাওয়াব), আর এটিই হলো তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ।৩ - তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত, আর এর অর্থ হলো "কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলীতে আল্লাহকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা; কোনো উদাহরণ দান, সাদৃশ্য প্রদান, বিকৃতি, অস্বীকার কিংবা ধরন নির্ধারণ ছাড়াই।"
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
فربنا تبارك وتعالى واحد في ربوبيته وألوهيته وأسمائه وصفاته لا شريك له، ولقد ضلَّ كثير من الناس في هذا الباب ولم يهتدوا إلى الصواب، فالحمد لله الذي هدى أهل السُّنَّة والجماعة إلى معرفة أسمائه وصفاته على الوجه الصحيح.• • •
সুতরাং আমাদের বরকতময় ও সুউচ্চ প্রতিপালক তাঁর রুবূবিয়্যাত, উলূহিয়্যাত এবং নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর নিশ্চিতভাবেই অনেক মানুষ এই বিষয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং তারা সঠিক পথের দিশা পায়নি। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতকে সঠিক পন্থায় তাঁর নাম ও গুণাবলি জানার হেদায়াত দান করেছেন।• • •
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
بعض قواعد الأسماء والصفات وليست جميعها* القاعدة الأولى: أسماء الله كلها حُسنى ومتضمنه لصفات كاملة كما قال تعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاء الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180].والحسنى " جمع الأحسن" أي أن فيها مبالغة في الحسن.* القاعدة الثانية: قال الشيخ ابن عثيمين في "القواعد المثلى": أسماء الله أعلام وأوصاف، أعلام باعتبار دلالتها على الذات وأوصاف باعتبار دلالتها على المعاني، وأما أسماء الناس فهي أعلام لأنها تدل على الذات فقط، فقد تجد من الناس من اسمه كريم وهو بخيل ومن اسمه عادل وهو ظالم، فأسماء الله سبحانه وتعالى وأسماء الرسول صلى الله عليه وسلم والقرآن الكريم واليوم الآخر متضمنه لأوصاف، فلا يوجد في أسماء الله أي اسم جامد " لا يدل على معنى" كالدَّهر مثلاً فهو ليس من أسماء الله، وقد ورد في الحديث القدسي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: قال الله عَزَّوَجَلَّ " يؤذيني بن آدم يسب الدهر، وأنا الدهر بيدي الأمر، أقلِّب الليل والنهار" رواه البخاري ومسلم.فالليل والنهار هما الدهر فكيف يكون المقلِّب بكسر اللام هو المقلَّب بفتحها "انتهى من كلامه".
আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর কিছু মূলনীতি, তবে এগুলোই সব নয়* প্রথম মূলনীতি: আল্লাহর সকল নামই অত্যন্ত সুন্দর এবং তা পূর্ণ গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্য রয়েছে উত্তম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো} [আরাফ: ১৮০]।আর 'আল-হুসনা' হলো 'আল-আহসান'-এর বহুবচন; অর্থাৎ এতে সৌন্দর্যের চূড়ান্ত আধিক্য রয়েছে।* দ্বিতীয় মূলনীতি: শায়খ ইবনে উসাইমীন "আল-কাওয়াইদুল মুসলা" গ্রন্থে বলেছেন: আল্লাহর নামসমূহ একাধারে পরিচয়জ্ঞাপক নাম এবং গুণ। সত্তার ওপর নির্দেশক হওয়ার দিক থেকে এগুলো নাম এবং অর্থের ওপর নির্দেশক হওয়ার দিক থেকে এগুলো গুণ। পক্ষান্তরে মানুষের নাম কেবলই পরিচয়জ্ঞাপক নাম, কারণ তা কেবল সত্তাকে নির্দেশ করে। কেননা আপনি এমন মানুষ পেতে পারেন যার নাম কারীম (দানশীল) কিন্তু সে কৃপণ, যার নাম আদিল (ন্যায়পরায়ণ) অথচ সে জালেম। সুতরাং মহান আল্লাহর নামসমূহ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামসমূহ, পবিত্র কুরআন এবং কিয়ামত দিবসের নামসমূহ গুণাগুণকে অন্তর্ভুক্ত করে। তাই আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে এমন কোনো অর্থহীন নাম নেই যা কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, যেমন উদাহরণস্বরূপ 'দাহর' (কাল বা সময়); এটি আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন, “আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়, সে কালকে গালি দেয়; অথচ আমিই কাল, আমার হাতেই সমস্ত বিষয়, আমিই রাত ও দিনকে আবর্তন করি।” (বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত)।সুতরাং রাত ও দিনই হলো কাল, এমতাবস্থায় আবর্তনকারী কীভাবে আবর্তিত বস্তু হতে পারে? (তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
قال الإمام النووي رحمه الله: " لأن العرب كانت تسب الدهر عند النوازل والمصائب التي تصيبها، والذي يدبر الأمور ويفعل النوازل والحوادث هو الله وليس الدهر فمن سَبَّ فاعل النوازل وقع هذا السَّب على الله ولا يقع على الدهر لأنه مخلوق" " شرح مسلم" (15/ 3).ومعلوم أن الدهر اسم للزمن والوقت.* القاعدة الثالثة: إحصاء أسماء الله من أسباب دخول الجنة لقول النبي عليه الصلاة والسلام: " إن لله تسعةً وتسعين اسماً مائة إلا واحداً من أحصاها دخل الجنة" رواه البخاري ومسلم.ومعنى كلمة إحصائها الواردة في الحديث يشمل:1 - حفظها.2 - معرفة معانيها.3 - دعاء الله بها كقولنا " يا الله - يا رحيم".4 - العمل بمقتضاها ومثال ذلك:إذا علمت أنه الأحد فلا تشرك معه غيره، وإذا علمت أنه الرحيم فاعمل الأعمال الصالحة التي تكون سبباً لرحمته لك لأن مقتضى الرحيم الرحمة.
ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "কারণ আরবরা তাদের ওপর আপতিত বিপদ-আপদ ও মুসিবতের সময় কালকে (আদ-দাহর) গালি দিত। অথচ যিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন এবং বিপদ ও ঘটনাবলি ঘটান তিনি হলেন আল্লাহ, কাল (আদ-দাহর) নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি বিপদ ঘটানো সত্তাকে গালি দিল, সেই গালি আল্লাহর ওপরই আপতিত হলো; কালের ওপর নয়, কারণ কাল তো একটি সৃষ্টি।" "শারহু মুসলিম" (১৫/৩)।আর এটি জানা কথা যে, 'দাহর' হলো কাল ও সময়ের একটি নাম।* তৃতীয় নীতি: আল্লাহর নামসমূহ গণনা করা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম কারণ। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশ; যে ব্যক্তি সেগুলো গণনা করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।হাদিসে বর্ণিত 'গণনা করা' (ইহসা) শব্দের অর্থের অন্তর্ভুক্ত হলো:১ - সেগুলো মুখস্থ করা।২ - সেগুলোর অর্থ জানা।৩ - সেই নামগুলোর মাধ্যমে আল্লাহকে ডাকা, যেমন আমাদের বলা: "হে আল্লাহ - হে পরম দয়ালু"।৪ - সেই নামগুলোর দাবি অনুযায়ী আমল করা। এর উদাহরণ হলো:যখন আপনি জানলেন যে তিনি একক (আল-আহাদ), তখন তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করবেন না। আর যখন জানলেন যে তিনি পরম দয়ালু (আর-রাহিম), তখন এমন সব নেক আমল করুন যা আপনার প্রতি তাঁর রহমতের কারণ হয়; কারণ 'রাহিম' নামের দাবি হলো রহমত বা দয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
* القاعدة الرابعة: هناك أسماء خاصة بالله لا يجوز أن يَتَسَمَّى بها غيره مثل:(الله، الإله، الرحمن، الواحد، الأحد، الرب، الخالق، القُدُّوس، السُّبُّوح، البارئ، الصمد، الرازق، الأول، الآخر، الظاهر، الباطن، القاهر، المتكبر، الجبار) فكل اسم من هذه الأسماء لا يجوز لأحدٍ غير الله التسمي به حتى لو كان غير مُحَلَّى بـ "ال" وأما غير هذه الأسماء فإذا كان الاسم مُحَلَّى بأل فلا يجوز أن يُسَمَّى به غير الله وإذا كان غير مُحَلَّى بـ "ال" وقُصِدَت الصفة فلا يجوز وأيضاً إذا لوحظ فيه إثبات ما تَضَمَّنَهُ من صفة فلا يجوز، أمَّا إذا قُصِدَ الاسم المُجَرَّد ولم تُقْصَد الصفة ولم يلاحَظ فيه إثبات ما تَضَمَّنَهُ من صفه فيجوز التَّسَمِّي به. * القاعدة الخامسة: وهناك صفات خاصة بالله لا تُطْلَق على غيره مثل:(فَعَّال لما يريد) (يحيي) (يميت) وغيرها. * القاعدة الخامسة: الاشتراك بين الخالق والمخلوق في الاسم والمعنى لا يدل على الاشتراك في الحقيقة والكيفية:فإن من أسماء الله العليم والحي ولكن ليس علم الخالق كعلم
* চতুর্থ নিয়ম: আল্লাহর জন্য কিছু নির্দিষ্ট নাম রয়েছে যা দ্বারা অন্য কারও নামকরণ করা জায়েয নয়, যেমন:(আল্লাহ, আল-ইলাহ, আর-রাহমান, আল-ওয়াহিদ, আল-আহাদ, আর-রাব্ব, আল-খালিক, আল-কুদ্দুস, আস-সুব্বুহ, আল-বারি, আস-সামাদ, আর-রাজ্জাক, আল-আউয়াল, আল-আখির, আজ-জাহির, আল-বাতিন, আল-কাহির, আল-মুতাকাব্বির, আল-জাব্বার) এই নামগুলোর প্রত্যেকটি এমন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য এই নাম গ্রহণ করা জায়েয নয়, এমনকি যদি তাতে "আল" যুক্ত না থাকে তবুও। আর এই নামগুলো ব্যতীত অন্যান্য নামের ক্ষেত্রে, যদি নামটি "আল" যুক্ত হয় তবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য তা ব্যবহার করা জায়েয নয়। আর যদি "আল" যুক্ত না থাকে কিন্তু এর দ্বারা গুণাবলী উদ্দেশ্য হয়, তবে তাও জায়েয নয়; একইভাবে যদি সেই নামের অন্তর্ভুক্ত গুণাবলীর সাব্যস্তকরণের বিষয়টি লক্ষ্য করা হয়, তবে সেটিও জায়েয হবে না। পক্ষান্তরে, যদি কেবল সাধারণ সত্তাগত নাম উদ্দেশ্য হয় এবং গুণাবলী উদ্দেশ্য না হয়, আর নামের অন্তর্ভুক্ত গুণের সাব্যস্তকরণও লক্ষ্য করা না হয়, তবে সেই নাম রাখা জায়েয। * পঞ্চম নিয়ম: আল্লাহর এমন কিছু গুণাবলী রয়েছে যা অন্য কারও ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় না, যেমন:(তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন), (তিনি জীবন দান করেন), (তিনি মৃত্যু দান করেন) এবং এই জাতীয় অন্যান্য। * পঞ্চম নিয়ম: সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টির মধ্যে নাম ও অর্থের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য থাকা তাদের হাকিকত (প্রকৃত স্বরূপ) ও কাইফিয়্যাতের (ধরণ) সাদৃশ্যকে নির্দেশ করে না:কেননা আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আল-আলিম এবং আল-হাই, কিন্তু সৃষ্টিকর্তার জ্ঞান সৃষ্টির জ্ঞানের মতো নয়...
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
المخلوق وليست حياة الخالق كحياة المخلوق لأن الله له الكمال المطلق في أسمائه وصفاته بخلاف المخلوق فإن أسماءه وصفاته ناقصة، فإذا كان نفي التشبيه بين صفات المخلوقات بعضها ببعض أمر معلوم فنفي تشبيه صفات الخالق بصفات الخلق من باب أولى.* القاعدة السادسة: أسماء الله وصفاته توقيفية: " يعني أن إثباتها متوقف على الأدلة الشرعية ولا مجال للعقل في إثباتها" لأن العقل لا يمكنه إدراك ما يستحقه الله من أسماء وصفات، فما أثبته الشرع أثبتناه وما نفاه الشرع نفيناه وما سكت عنه سكتنا عنه " القواعد المثلى لابن عثيمين".* القاعدة السابعة: أهل السنة والجماعة يثبتون أسماء الله وصفاته من غير تكييف ولا تحريف ولا تعطيل ولا تمثيل ولا تشبيه " تفسير ابن كثير سورة طه الآية 5"أما التكييف فلأنه لا يعلم كيفية صفات الله إلا هو سبحانه فمن ادَّعى أنه يعلم كيف يجيء الله يوم القيامة أو كيف يستوي على عرشه فهو كاذب، وأمَّا التعطيل فمعناه نفي أو جحد ألفاظ أو معاني الأسماء والصفات وهو باطل فكيف ننفي اسم أو صفة قد ثبتت في الشرع لله
সৃষ্টির মতো নয়; আর স্রষ্টার জীবন সৃষ্টির জীবনের মতো নয়, কারণ আল্লাহর জন্য তাঁর নাম ও গুণাবলিতে রয়েছে নিরঙ্কুশ পূর্ণতা, যা সৃষ্টির বিপরীত; কেননা সৃষ্টির নাম ও গুণাবলি অপূর্ণ। সুতরাং যদি সৃষ্টির গুণাবলির একটির সাথে অপরটির সাদৃশ্য অস্বীকার করা একটি সুবিদিত বিষয় হয়, তবে সৃষ্টির গুণাবলির সাথে স্রষ্টার গুণাবলির সাদৃশ্য অস্বীকার করা আরও বেশি অগ্রগণ্য।* ষষ্ঠ নিয়ম: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি তাওকিফিয়্যাহ (শরয়ি দলিলের ওপর নির্ভরশীল): "অর্থাৎ এগুলোর সাব্যস্তকরণ শরয়ি দলিলের ওপর নির্ভরশীল এবং এ ক্ষেত্রে যুক্তির কোনো অবকাশ নেই।" কারণ যুক্তি আল্লাহর প্রাপ্য নাম ও গুণাবলি উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়। অতএব শরয়ি দলিল যা সাব্যস্ত করেছে আমরা তা সাব্যস্ত করি, যা অস্বীকার করেছে আমরা তা অস্বীকার করি এবং যে বিষয়ে নীরব থেকেছে সে বিষয়ে আমরা নীরব থাকি। "ইবন উসাইমীনের আল-কাওয়াইদুল মুসলা"।* সপ্তম নিয়ম: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে কোনো প্রকার ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ), বিকৃতি (তাহরিফ), অস্বীকার (তাতিল), উদাহরণ প্রদান (তামসিল) ও সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) ছাড়াই সাব্যস্ত করে। "তাফসিরে ইবনে কাসির, সুরা ত্বা-হা, আয়াত ৫"পক্ষান্তরে ধরন নির্ধারণ প্রসঙ্গে কথা হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ছাড়া আর কেউ তাঁর গুণাবলির ধরন জানেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে জানে কিয়ামতের দিন আল্লাহ কীভাবে আসবেন অথবা তিনি কীভাবে তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন, সে মিথ্যাবাদী। আর অস্বীকার বা تعطيل (তাতিল) এর অর্থ হলো নাম ও গুণাবলির শব্দাবলি বা অর্থকে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করা, যা বাতিল। কেননা আমরা কীভাবে এমন কোনো নাম বা গুণকে অস্বীকার করতে পারি যা আল্লাহর জন্য শরয়ি দলিলে সাব্যস্ত হয়েছে?
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولم يَنْفِها عنه الرسول صلى الله عليه وسلم وهو أعلم بأسماء الله وصفاته مِنَّا، وأمَّا التحريف فهو تغيير ألفاظ أو معاني الأسماء والصفات فهو باطل أيضاً وكذب على الله وتعريفه هو " صرف اللفظ عن ظاهره المتبادر منه إلى غيره بغير دليل شرعي" ومن أمثلة التحريف قول الجُهَّال أن المراد بيد الله نعمته وقدرته وأن الاستواء على العرش بمعنى الاستيلاء،وأمَّا التمثيل والتشبيه فالله سبحانه منزه عن مماثلة أو مشابهة المخلوقين لقوله عَزَّوَجَلَّ {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} [الشورى: 11]فنحن نثبت أنَّ لله وجه ولكن ليس كوجوه المخلوقات وله سمع لا يماثل ولا يشابه سمع المخلوقات فهو يسمع كل شيء سبحانه أما المخلوق فسمعه لا يُدرِك كل الأصوات، وصفات الله لها الكمال المطلق أما صفات المخلوق فهي ناقصة.* القاعدة الثامنة: يجب إثبات أدلة الأسماء والصفات على ظاهرها وحقيقتها ولا نصرفها عن الظاهر ولا نُحَرِّف معناها " القواعد المثلى لابن عثيمين"، ونعني بالظاهر أنه " المتبادر من معنى الكلام إلى الذهن عند الإطلاق" فلابد من إثبات اللفظ وإثبات معناه الذي
এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর সত্তা থেকে এগুলো অস্বীকার করেননি, অথচ তিনি আমাদের চেয়ে আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত। আর তাহরিফ (বিকৃতি) হলো নাম ও গুণাবলীর শব্দ বা অর্থ পরিবর্তন করা; এটিও বাতিল এবং আল্লাহর ওপর মিথ্যাচার। এর সংজ্ঞা হলো: "কোনো শরয়ী দলিল ব্যতিরেকে শব্দকে তার আপাত ও স্বতঃস্ফূর্ত অর্থ থেকে অন্য অর্থের দিকে সরিয়ে নেওয়া।" তাহরিফের উদাহরণ হলো মূর্খদের এই দাবি যে, আল্লাহর হাত দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর নেয়ামত ও ক্ষমতা এবং আরশের উপর উঠাকে কর্তৃত্ব গ্রহণ অর্থে গ্রহণ করা।আর সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ও তুলনা (তাশবিহ) থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পবিত্র; সৃষ্টির সদৃশ বা তুল্য হওয়া থেকে তিনি মুক্ত। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: {তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} [আশ-শূরা: ১১]অতএব আমরা সাব্যস্ত করি যে আল্লাহর চেহারা রয়েছে, তবে তা সৃষ্টির চেহারার মতো নয়। তাঁর শ্রবণ রয়েছে যা সৃষ্টির শ্রবণের সদৃশ বা তুল্য নয়। তিনি পবিত্র, তিনি সবকিছু শোনেন; পক্ষান্তরে সৃষ্টির শ্রবণশক্তি সকল শব্দ উপলব্ধি করতে পারে না। আল্লাহর গুণাবলী হলো পরম পূর্ণতাময়, আর সৃষ্টির গুণাবলী হলো ত্রুটিপূর্ণ।* অষ্টম নীতি: আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর দলিলসমূহকে সেগুলোর বাহ্যিক ও প্রকৃত অর্থের ওপর সাব্যস্ত করা অপরিহার্য। আমরা সেগুলোকে বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে দেব না এবং এগুলোর অর্থ বিকৃত করব না (ইবনে উসাইমিন রচিত "আল-কাওয়াইদুল মুসলা")। আর বাহ্যিক অর্থ বলতে আমরা বুঝি: "সাধারণভাবে কোনো শব্দ প্রয়োগ করলে তা থেকে যে অর্থটি সরাসরি মনে উদিত হয়।" সুতরাং শব্দ সাব্যস্ত করা এবং তার সেই অর্থটি সাব্যস্ত করা আবশ্যক যা
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
دل عليه ثم تفويض علم الكيفية إلى الله سبحانه، قال الشيخ بن عثيمين رحمه الله: اشْتُهِر عن السلف كمالك بن أنس ومكحول والزهري وسفيان الثوري والليث بن سعد والأوزاعي قول: " أَمِرُّوها كما جاءت بلا كيف" ففي قولهم " أَمِرُّوها كما جاءت" رد على المعطلة وفي قولهم " بلا كيف" رد على الممثلة ولو كانوا لا يعتقدون لها معنى لقالوا: (أمروا لفظها ولاتتعرضوا لمعناها) " مجموع الفتاوى لابن عثيمين " واستمع لقول ربنا تبارك وتعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُواْ بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33].الشاهد قوله: {وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ}* القاعدة التاسعة: هناك أسماء ذُكِرَت مقرونه مع بعض في القرآن مثل:(العفو القدير) (العزيز الحكيم) (الغني الحميد) (السميع البصير) والفائدة من اقترانها أن كل اسم يتضمن صفة كمال فإذا جُمِعَت مع بعضها حصل كمال فوق كمال " القواعد المثلى لابن عثيمين".فمثلاً: (العفو القدير) فربنا يعفو عن قدرة وليس كعفو بعض
এটি তা নির্দেশ করে, তারপর এর ধরণ বা পদ্ধতির জ্ঞান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট সোপর্দ করা। শায়খ ইবনে উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: মালেক বিন আনাস, মাকহুল, যুহরি, সুফিয়ান সাওরি, লাইস বিন সাদ এবং আওযাঈর মতো সালাফদের থেকে এই উক্তিটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে: "এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিক্রম করতে দাও, কোনো ধরণ নির্ধারণ ছাড়াই।" তাঁদের কথা "এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিক্রম করতে দাও"-এর মধ্যে মুআত্তিলাদের (গুণ অস্বীকারকারী) প্রতিবাদ রয়েছে এবং তাঁদের কথা "কোনো ধরণ নির্ধারণ ছাড়াই"-এর মধ্যে মুমাসসিলাদের (সাদৃশ্য দানকারী) প্রতিবাদ রয়েছে। আর যদি তাঁরা এগুলোর কোনো অর্থে বিশ্বাস না করতেন, তবে তাঁরা বলতেন: (এর শব্দগুলো অতিক্রম করতে দাও এবং এর অর্থের ধারের কাছে যেও না)। "মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন"। আর আমাদের বরকতময় ও সুমহান রবের বাণী শ্রবণ করুন: {বলুন, আমার রব তো কেবল হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা, আর গুনাহ এবং অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন, আর আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যে সম্পর্কে তিনি কোনো দলিল নাজিল করেননি, এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।} [আল-আরাফ: ৩৩]।এখানে প্রমাণের বিষয় হলো তাঁর বাণী: {এবং আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না}* নবম নীতি: কুরআনে এমন কিছু নাম রয়েছে যা একে অপরের সাথে মিলিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন:(অতি ক্ষমাশীল, পরম ক্ষমতাধর) (মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়) (অভাবমুক্ত, প্রশংসিত) (সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা)। আর এগুলো একত্রে আসার উপকারিতা হলো এই যে, প্রতিটি নামই একটি পূর্ণতার গুণ অন্তর্ভুক্ত করে, ফলে যখন সেগুলো একত্রে যুক্ত হয়, তখন পূর্ণতার ওপর পূর্ণতা অর্জিত হয়। "ইবনে উসাইমীনের আল-কাওয়ায়িদুল মুসলা"।উদাহরণস্বরূপ: (অতি ক্ষমাশীল, পরম ক্ষমতাধর), সুতরাং আমাদের রব সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করেন, যা অনেকের ক্ষমার মতো নয়...
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الناس الذي قد يكون من ضعف وأيضاً يقدر على العفو سبحانه.(العزيز الحكيم) فعزته لا تقتضي ظُلماً وجوراً لأنها مقرونه بِحِكْمَه وأيضاً حكمته لا يعتريها ذل.(الغني الحميد) أي أنه يُحمد من الخلق بعد أن يُنْعِم عليهم، فليس كل غني يجود وينعم.(السميع البصير) وكثيرٌ ما يُجمع بين هذين الاسمين في القرآن لأن السمع والبصر فيهما معنى الإحاطة والعلم بالخلق.* القاعدة العاشرة: هناك عدة فروق بين الأسماء والصفات:جاء في فتاوى اللجنة الدائمة للإفتاء (أسماء الله كل ما دل على ذات الله مع صفات الكمال القائمة به مثل السميع والعليم والحكيم فإن هذه الأسماء دلت على ذات الله وعلى ما قام بها من السمع والعلم والحكمة، أما الصفات فهي نعوت الكمال القائمة بالذات كالعلم والحكمة والسمع والبصر، فالاسم دل على أمرين، والصفة دلت على أمر واحد، ويقال: الاسم متضمن للصفة والصفة مستلزمة للاسم).وأيضاً يُشتق من الأسماء صفات ولا يُشتق من الصفات أسماء فنشتق من اسم الرحيم صفة الرحمة ونشتق من اسم العليم صفة العلم،
মানুষের যা দুর্বলতা হতে পারে, আবার তিনি (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) ক্ষমা করতেও সক্ষম।(আল-আজিজ আল-হাকিম) তাঁর মহাপরাক্রম কোনো জুলুম ও অন্যায়ের অবকাশ রাখে না, কারণ তা প্রজ্ঞার সাথে যুক্ত; অনুরূপভাবে তাঁর প্রজ্ঞার মাঝে কোনো হীনতা স্পর্শ করে না।(আল-গণি আল-হামিদ) অর্থাৎ সৃষ্টির ওপর নিআমত বর্ষণ করার পর তিনি প্রশংসিত হন, কেননা প্রত্যেক সম্পদশালীই দানশীল ও নিআমতদানকারী হয় না।(আস-সামি‘ আল-বাসির) কুরআনে প্রায়ই এই নাম দুটিকে একত্রে উল্লেখ করা হয়, কারণ শ্রবণ ও দর্শনের মাঝে সৃষ্টির ওপর পরিবেষ্টন ও জ্ঞানের অর্থ নিহিত রয়েছে।* দশম নিয়ম: নাম (আসমা) ও গুণের (সিফাত) মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে:ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ লিল-ইফতা-তে এসেছে (আল্লাহর নামসমূহ হলো সেই সব শব্দ যা আল্লাহর সত্তা এবং তাঁর সত্তার সাথে বিদ্যমান পূর্ণতাজ্ঞাপক গুণাবলিকে নির্দেশ করে, যেমন: আস-সামি‘, আল-আলিম ও আল-হাকিম। কেননা এই নামগুলো আল্লাহর সত্তাকে এবং তাঁর মাঝে বিদ্যমান শ্রবণ, জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে নির্দেশ করে। আর গুণাবলি বা সিফাত হলো সেই সব পূর্ণতার বৈশিষ্ট্য যা সত্তার সাথে বিদ্যমান, যেমন: জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শ্রবণ ও দর্শন। সুতরাং নাম দুটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ বহন করে, আর গুণ একটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ বহন করে। আর বলা হয়: নাম গুণের অন্তর্ভুক্ত এবং গুণ নামের জন্য অপরিহার্য)।তদুপরি নামসমূহ হতে গুণাবলি নির্গত হয়, কিন্তু গুণাবলি হতে নাম গ্রহণ করা যায় না। যেমন আমরা ‘আর-রাহিম’ নাম থেকে ‘রহমত’ (দয়া) গুণটি গ্রহণ করি এবং ‘আল-আলিম’ নাম থেকে ‘ইলম’ (জ্ঞান) গুণটি গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لكن لا نشتق من صفات المجيء والمكر أسماء الجائي والماكر.والأسماء والصفات مشْتَرِكَة في جواز الاستعاذة والحلف بها فيجوز الحلف بالاسم كقولنا (والله).وتجوز الاستعاذة به كقولنا (أعوذ بالله).ويجوز الحلف بالصفة كقولنا (وعزة الله).وتجوز الاستعاذة بها كقولنا (أعوذ بعزة الله). أما التعبُّد والدعاء فهي خاصة بالأسماء فنقول عبد الكريم ولا نقول عبد الكرم وهذا من التعبُّد وندعو بالاسم ولا ندعو بالصفة فنقول يا رحيم ولا نقول يا رحمة الله لأن الصفة لا تدل على الذات أما الاسم فهو يدل على الذات.* القاعدة الحادي عشر: تنقسم الصفات من حيث الكمال والنقص إلى:أولاً: صفات كمال لا نقص فيها وهذه نثبتها لله كما ثبتت في الشرع كالعلم والسمع والرحمة.ثانياً: صفات نقص وهذه لا يوصف بها الله تعالى أبداً كالنوم والظُّلم وغيرها.
তবে আমরা আগমন এবং কৌশলের গুণাবলী থেকে ‘আগমনকারী’ ও ‘কৌশলী’ নামগুলো উদ্ভূত করি না।আল্লাহর নামসমূহ এবং গুণাবলী (সিফাত) উভয়ের মাধ্যমেই আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং কসম করা বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে অভিন্ন; সুতরাং নাম দ্বারা কসম করা জায়েজ, যেমন আমাদের বলা (আল্লাহর কসম)।এবং নামের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা জায়েজ, যেমন আমাদের বলা (আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)।এবং গুণের (সিফাত) মাধ্যমে কসম করাও জায়েজ, যেমন আমাদের বলা (আল্লাহর ইজ্জতের কসম)।এবং গুণের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করাও জায়েজ, যেমন আমাদের বলা (আমি আল্লাহর ইজ্জতের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি)। তবে দাসত্ব (নামকরণ) এবং দোয়ার বিষয়টি কেবল নামসমূহের সাথে সুনির্দিষ্ট। তাই আমরা বলি ‘আব্দুল কারীম’, কিন্তু ‘আব্দুল কারাম’ বলি না—আর এটি দাসত্ব সম্পর্কিত বিষয়। তদ্রূপ আমরা নামের মাধ্যমে দোয়া করি, গুণের মাধ্যমে দোয়া করি না; তাই আমরা বলি ‘হে দয়ালু’, কিন্তু ‘হে আল্লাহর রহমত’ বলি না। কারণ গুণ (সিফাত) সরাসরি সত্তাকে নির্দেশ করে না, পক্ষান্তরে নাম সরাসরি সত্তাকে নির্দেশ করে।* একাদশ মূলনীতি: পূর্ণতা ও অপূর্ণতার নিরিখে গুণাবলীসমূহ (সিফাত) নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত:প্রথমত: পূর্ণতার গুণাবলী যাতে কোনো ত্রুটি নেই; এগুলো আমরা আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করি যেভাবে শরীয়তে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন— জ্ঞান, শ্রবণ এবং রহমত।দ্বিতীয়ত: ত্রুটিপূর্ণ গুণাবলী; আল্লাহ তাআলাকে কখনোই এগুলোর মাধ্যমে বিশেষিত করা যাবে না, যেমন— নিদ্রা, জুলুম এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثالثاً: صفات يمكن أن تكون كمال ويمكن أن تكون نقص على حسب الحال والسياق التي تذكر فيه فهذه لا يوصف بها الله مطلقاً ولا تنفى عنه مطلقاً. فنقول: في الحال التي تكون كمال يوصف بها الله وفي الحال التي تكون نقص لا يوصف بها، مثل المكر والمخادعة والكيد والمِحَال والاستهزاء والسخرية فهي صفات كمال إذا كان المقصود بها هم أعداء الله الذين بدأوا بها وتدل على أن الله يقدر على مكرهم وهزيمتهم، ولم تذكر هذه الصفات لله في القرآن مُطْلَقاً بل ذكرت مقيدة بالكفار والمنافقين، فنقول: إن من صفات الله عَزَّوَجَلَّ أنه يمكر بمن بدأ بمكر الإسلام والمسلمين ويخادع من بدأ بمخادعته، وهكذا قولنا في سائر الصفات المقيدة بالكفار والمنافقين، فالمكر في محله كمال والمخادعة في محلها كمال " القواعد المثلى لابن عثيمين"* القاعدة الثاني عشر: أسماء الله إن دلت على وصف متعدي تضمنت ثلاثة أمور:أولاً: ثبوت ذلك الاسم.ثانياً: ثبوت الصفة التي تضمَّنها هذا الاسم.
তৃতীয়ত: এমন কিছু গুণাবলি যা অবস্থা এবং প্রসঙ্গের ভিত্তিতে পূর্ণতা হতে পারে আবার ত্রুটিও হতে পারে। এগুলো দ্বারা আল্লাহকে নিরঙ্কুশভাবে বিশেষায়িত করা যাবে না, আবার তাঁর থেকে নিরঙ্কুশভাবে অস্বীকারও করা যাবে না। সুতরাং আমরা বলি: যে অবস্থায় এগুলো পূর্ণতা হিসেবে গণ্য, সে অবস্থায় আল্লাহকে এগুলোর মাধ্যমে বিশেষায়িত করা হবে; আর যে অবস্থায় এগুলো ত্রুটি হিসেবে গণ্য, সে অবস্থায় তাঁকে এগুলোর মাধ্যমে বিশেষায়িত করা হবে না। যেমন: কৌশল, প্রতারণা, চক্রান্ত, কঠোরতা, উপহাস এবং বিদ্রূপ। এগুলো পূর্ণতার গুণ যখন এর দ্বারা আল্লাহর সেই শত্রুদের উদ্দেশ্য করা হয় যারা এগুলোর সূচনা করেছে, এবং এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাদের কৌশলের ওপর সক্ষম এবং তাদের পরাজিত করতে পারেন। কুরআনে এই গুণগুলো আল্লাহর জন্য নিরঙ্কুশভাবে উল্লেখ করা হয়নি, বরং কাফের ও মুনাফিকদের সাথে শর্তযুক্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আমরা বলি: মহান আল্লাহর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো তিনি তাদের সাথে কৌশল অবলম্বন করেন যারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করে এবং তিনি তাদের সাথে প্রতারণা করেন যারা তাঁর সাথে প্রতারণা শুরু করে। কাফের ও মুনাফিকদের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য গুণাবলির ক্ষেত্রেও আমাদের একই কথা। সুতরাং যথাযথ ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করা একটি পূর্ণতা এবং যথাযথ ক্ষেত্রে পাল্টা প্রতারণা করা একটি পূর্ণতা। "ইবনে উসাইমিনের আল-কাওয়ায়েদুল মুসলা"* দ্বাদশ নিয়ম: আল্লাহর নামসমূহ যদি কোনো সকর্মক গুণের ওপর নির্দেশ করে, তবে তা তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:প্রথমত: সেই নামটির সাব্যস্ত হওয়া।দ্বিতীয়ত: সেই নামটির অন্তর্ভুক্ত গুণের সাব্যস্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثالثاً: ثبوت حُكمها ومقتضاها.مثل السميع - نثبت اسم السّميع وصفه السمع ونثبت الحُكم والمُقْتَضَى " أن الله يسمع كل الأصوات".أما إذا دلت على وصف غير متعدي تضمنت أمرين فقط وهما:• ثبوت ذلك الاسم.• وثبوت الصفة التي تضمنها هذا الاسم.مثل الحي فهو يتضمن اسم الحي وصفة الحياة فقط. " القواعد المثلى لابن عثيمين".تنقسم صفات الله إلى أقسام باعتبارات مختلفة:القسم الأول: باعتبار الثبوت وعدمه وهي نوعان:ثبوتية: هي التي ثبتت في القرآن أو في الأحاديث الصحيحة كالحياة والعلم والاستواء على العرش فالواجب أن نثبتها على الوجه الذي يليق بالله سبحانه.سلبية (منفية): وهي التي نفاها الله عن نفسه أو نفاها النبي عليه الصلاة والسلام عن الله وهذه ننفيها ونثبت كمال ضدها، لأن النفي وحده ليس فيه كمال ومدح إلا إذا تضمن إثباتاً لكمال الضد ولا يمكن أن يَصِف الله نفسه إلا بالكمال فمثلا عندما تقول:
তৃতীয়ত: এর বিধান ও দাবি সাব্যস্ত হওয়া।যেমন: 'আস-সামি' - আমরা 'আস-সামি' নামটি সাব্যস্ত করি, তাঁর শ্রবণ গুণটি সাব্যস্ত করি এবং এর বিধান ও দাবি সাব্যস্ত করি যে, "আল্লাহ সকল শব্দ শোনেন।"পক্ষান্তরে, যদি সেটি এমন কোনো গুণের ওপর প্রমাণ করে যা সকর্মক নয়, তবে সেটি কেবল দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। সেগুলো হলো:• সেই নামটির সাব্যস্ত হওয়া।• এবং সেই নামের অন্তর্ভুক্ত গুণের সাব্যস্ত হওয়া।যেমন: 'আল-হাই'; এটি কেবল 'আল-হাই' নাম এবং জীবন গুণকে অন্তর্ভুক্ত করে। "ইবনে উসাইমিনের আল-কাওয়ায়িদুল মুসলা"।আল্লাহর গুণাবলি বিভিন্ন দিক বিবেচনায় কয়েক ভাগে বিভক্ত:প্রথম ভাগ: সাব্যস্ত হওয়া এবং না হওয়ার বিবেচনায়; আর তা দুই প্রকার:ইতিবাচক: এগুলো হলো সেই সব গুণ যা কুরআন বা সহীহ হাদীসসমূহে সাব্যস্ত হয়েছে, যেমন: জীবন, জ্ঞান এবং আরশের ওপর উঠা। সুতরাং কর্তব্য হলো এগুলোকে এমনভাবে সাব্যস্ত করা যা মহান আল্লাহর মর্যাদার সাথে সংগতিপূর্ণ।নেতিবাচক (অস্বীকৃত): এগুলো হলো সেই সব বিষয় যা আল্লাহ নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন অথবা নবী (সালাম) আল্লাহর জন্য অস্বীকার করেছেন। আর এগুলোকে আমরা অস্বীকার করি এবং এগুলোর বিপরীত গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত করি, কারণ কেবল অস্বীকার করার মধ্যে কোনো পূর্ণতা বা প্রশংসা নেই, যতক্ষণ না তা বিপরীত গুণের পূর্ণতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর আল্লাহ কেবল পূর্ণতার মাধ্যমেই নিজের গুণ বর্ণনা করেন। উদাহরণস্বরূপ, যখন আপনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يا فلان أنت لست جبان ولست بخيل فهذا ليس فيه ثناء ومدح، ومثال ذلك ننفي الظلم عن الله ونثبت كمال العدل لقوله عَزَّوَجَلَّ: {وَلا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا} [الكهف: 49]وقوله سبحانه: {لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ} [البقرة: 255]. ننفي السِّنَة والنوم عن الله ونثبت كمال حياته وقيُّوميتهوقوله عَزَّوَجَلَّ: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لا تَأْتِينَا السَّاعَةُ قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ عَالِمِ الْغَيْبِ لا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلا فِي الأَرْضِ وَلا أَصْغَرُ مِن ذَلِكَ وَلا أَكْبَرُ إِلاَّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ} [سبأ: 3].لا يعزب عنه شيء وذلك لكمال علمه ومعنى لا يعزب " لا يغيب" كما قال ابن كثير رحمه الله وتنطبق هذه القاعدة على جميع الصفات السلبية.القسم الثاني: باعتبار أدلة ثبوتها وهي نوعان:1 - صفات خبرية: وهي الصفات التي لا سبيل إلى إثباتها إلا السمع والخبر عن الله عز وجل أو عن رسوله صلى الله عليه وسلم وتسمى (صفات سمعية أو نقلية) وقد تكون ذاتية كالوجه واليدين وقد تكون فعلية كالفرح والضحك.2 - صفات سمعية عقلية: وهي الصفات التي يشترك في إثباتها
হে অমুক, আপনি কাপুরুষ নন এবং কৃপণ নন—এতে কোনো প্রশংসা বা স্তুতি নেই। এর উদাহরণ হলো, আমরা আল্লাহ থেকে জুলুমকে (অবিচার) অস্বীকার করি এবং তাঁর ইনসাফের (বিচারের) পূর্ণতা সাব্যস্ত করি। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনার প্রতিপালক কারও প্রতি জুলুম করেন না} [আল-কাহফ: ৪৯]এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না} [আল-বাকারাহ: ২৫৫]। আমরা আল্লাহ থেকে তন্দ্রা ও নিদ্রাকে অস্বীকার করি এবং তাঁর জীবন ও কাইয়ূমিয়্যাতের (নিত্যতা ও বিশ্ব-পরিচালনার) পূর্ণতাকে সাব্যস্ত করি।এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কাফিররা বলে, আমাদের নিকট কিয়ামত আসবে না। বলুন, অবশ্যই আসবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, আসমান ও যমীনে অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে থাকে না এবং তার চেয়ে ক্ষুদ্রতর বা বৃহত্তর কিছুই নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই} [সাবা: ৩]।কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে থাকে না এবং তা তাঁর জ্ঞানের পূর্ণতার কারণে। ‘অগোচরে না থাকা’র অর্থ হলো ‘গোপন না থাকা’—যেমনটি ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন। আর এই নিয়মটি সকল নেতিবাচক গুণাবলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।দ্বিতীয় অংশ: গুণাবলি সাব্যস্ত হওয়ার দলীলসমূহের বিচারে। আর এটি দুই প্রকার:১ - সিফাতে খবরিয়্যাহ (সংবাদলব্ধ গুণাবলি): এগুলো এমন গুণাবলি যা সাব্যস্ত করার একমাত্র পথ হলো শ্রবণ এবং মহান আল্লাহ অথবা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রাপ্ত সংবাদ। এগুলোকে (শ্রুতিলব্ধ বা বর্ণনাভিত্তিক গুণাবলি) বলা হয়। এগুলো কখনও সত্তাগত হতে পারে যেমন আল্লাহর চেহারা ও আল্লাহর হাত, আবার কখনও কর্মগত হতে পারে যেমন খুশি হওয়া ও হাসা।২ - শ্রুতিলব্ধ ও যৌক্তিক গুণাবলি: এগুলো এমন গুণাবলি যা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে উভয় দলীলই অংশীদার হয়...
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الدليل السمعي (النقلي) والدليل العقلي وقد تكون ذاتية كالحياة والعلم والقدرة وقد تكون فعلية كالخلق والإعطاء.القسم الثالث: باعتبار تعلقها بذات الله وأفعاله وهي نوعين:1 - صفات ذاتية: لم يزل ولا يزال الله متصف بها فهي لا تنفك ولا تنفصل عن ذات الله سبحانه مثل العلم والقدرة والحكمة والعَظَمَة واليدين والعينين والوجه.2 - صفات فعلية: وتسمى أيضاً صفات اختيارية،وهي التي تتعلق بمشيئة الله يفعلها إذا شاء سبحانه مثل الفرح والغضب والاستواء على العرش والنزول إلى السماء الدنيا في الثلث الآخر من الليل وغير ذلك، فالصفات الفعلية ذاتية باعتبار أصل قدرة الله عليها وفعلية باعتبار آحادها، فهي قديمة النوع حادثة الآحاد " موقع الإسلام سؤال وجواب".• • •
শ্রবণলব্ধ (নকলি) দলিল এবং যৌক্তিক দলিল; আর এগুলো কখনো সত্তাগত হতে পারে যেমন জীবন, জ্ঞান ও ক্ষমতা, আবার কখনো কর্মগত হতে পারে যেমন সৃষ্টি করা ও দান করা।তৃতীয় বিভাগ: আল্লাহর সত্তা ও কর্মের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিচারে; আর এটি দুই প্রকার:১ - সত্তাগত গুণাবলি: আল্লাহ অনাদিকাল থেকে এসকল গুণে গুণান্বিত এবং অনন্তকাল থাকবেন। এগুলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা হয় না; যেমন জ্ঞান, ক্ষমতা, প্রজ্ঞা, মহিমা, আল্লাহর দুই হাত, আল্লাহর দুই চোখ এবং আল্লাহর চেহারা।২ - কর্মগত গুণাবলি: এগুলোকে ঐচ্ছিক গুণাবলিও বলা হয়,যা আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট; তিনি চাইলে তা করেন, যেমন আনন্দিত হওয়া, রাগান্বিত হওয়া, আরশের উপর উঠা এবং রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসা ইত্যাদি। সুতরাং কর্মগত গুণাবলিগুলো আল্লাহর মূল ক্ষমতার বিচারে সত্তাগত, আর স্বতন্ত্র প্রতিটি কর্মের বিচারে তা কর্মগত। তাই এগুলো প্রকারগতভাবে অনাদি হলেও প্রতিটি স্বতন্ত্র কর্মের বিচারে নতুন। "ইসলাম সওয়াল ও জওয়াব ওয়েবসাইট"।• • •
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
بعض أسماء الله الحسنى من القرآن والسُّنَّة وليست جميعها1 - الله: المعبود بحق والمستحق للعبادة.وهذا الاسم دال على جميع الأسماء الحسنى والصفات العلى، ولهذا يضيف الله سائر الأسماء الحسنى إلى اسمه "الله" كقوله تعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاء الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180].2 - الإله: نفس معنى الله، ومعنى كلمة لا إله إلا الله " لا معبود بحق إلا الله" وكل معبود سوى الله فهو باطل، فهي مشتملة على إثبات ونفي، كلمة (لا إله) معناها نفي عبادة ما سوى الله، وكلمة (إلا الله) معناها إثبات العبادة لله وحده، فلا يَصِح إيمان المرء إلا إذا تبرأ من الشرك والمشركين.3 - المَلِك: الذي يملك جميع المخلوقات ويتصرف فيها وحده " تفسير بن كثير سورة الحشر آية 23".4 - المليك: يدل على كثرة مُلْكِه لأنه على وزن فعيل من صيغ المبالغة.5 - الرب: بمعنى المالك والسيد والمصلح لأحوال الخلق.6 - السيد: بمعنى المالك والرب والمولى
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আল্লাহর কিছু সুন্দর নাম, তবে এগুলো সব নয়১ - আল্লাহ: সত্য মাবুদ এবং ইবাদতের একমাত্র যোগ্য সত্তা।আর এই নামটি সকল সুন্দর নাম ও সুউচ্চ গুণাবলির পরিচায়ক। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা অন্যান্য সমস্ত সুন্দর নামকে তাঁর "আল্লাহ" নামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।} [আল-আরাফ: ১৮০]।২ - আল-ইলাহ: এটি 'আল্লাহ' নামের সমার্থবোধক। আর 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বাক্যের অর্থ হলো— "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই"। আল্লাহ ছাড়া ইবাদতকৃত অন্য সবকিছুই বাতিল। এটি স্বীকৃতি ও অস্বীকৃতির (না-বাচক ও হ্যাঁ-বাচক) সমন্বয়। 'লা ইলাহা' কথাটির অর্থ হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর ইবাদতকে অস্বীকার করা, আর 'ইল্লাল্লাহ' কথাটির অর্থ হলো ইবাদতকে একমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা। সুতরাং শিরক ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন না করা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির ঈমান সঠিক হবে না।৩ - আল-মালিক: যিনি সমস্ত সৃষ্টির মালিক এবং একাই সেগুলোর ওপর কর্তৃত্ব পরিচালনা করেন (তাফসীরে ইবনে কাসীর, সূরা আল-হাশর, আয়াত ২৩)।৪ - আল-মালীক: এটি তাঁর রাজত্বের আধিক্য ও বিশালতা নির্দেশ করে, কারণ এটি আধিক্যবোধক 'ফাইল' ছন্দে গঠিত।৫ - আর-রব: এর অর্থ হলো মালিক, সর্দার এবং সৃষ্টির অবস্থা সংশোধনকারী।৬ - আস-সাইয়্যিদ: এর অর্থ হলো মালিক, রব এবং অভিভাবক।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
7 - القادر: له القدرة الكاملة ولا يعجزه شيء سبحانه.8 - القدير: على وزن فعيل من صيغ المبالغة في القدرة.9 - المقتدر: نفس المعنى.10 - الفتَّاح: له عدة معاني:• الحاكم الذي يقضي بين عباده بالحق والعدل بأحكامه القدرية والشرعية.• الذي يفتح أبواب الرزق والرحمة للخلق.• الذي ينصر المؤمنين وينصر المظلومين.11 - القريب: قريب ممن يعبده ويدعوه من المؤمنين.12 - المجيب: الذي يجيب دعاء الداعين ويعطيهم أكثر مما يسألونه.13 - الخالق: الخلق هو التقدير.14 - الخَلاَّق: يدل على المبالغة في الخلق.15 - البارئ: البرء هو تنفيذ ما قدره وإظهاره إلى الوجود.16 - المُصَوِّر: صَوَّر المخلوقات على ما يريد من الصُّوَر فأعطى كل مخلوق صورة يتميز بها عن غيره.
7 - আল-কাদির: তাঁর রয়েছে পূর্ণ সক্ষমতা এবং কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না, তিনি মহাপবিত্র।8 - আল-কাদির: এটি সক্ষমতার আধিক্য বুঝাতে 'ফায়ীল' ছন্দের একটি শব্দ।9 - আল-মুকতাদির: একই অর্থ।10 - আল-ফাত্তাহ: এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে:• সেই বিচারক যিনি তাঁর বান্দাদের মাঝে তাঁর তাকদিরি ও শরিয়তি বিধানের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায়ের সাথে ফয়সালা করেন।• যিনি সৃষ্টির জন্য রিজিক ও রহমতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করেন।• যিনি মুমিনদের সাহায্য করেন এবং মজলুমদের সহায়তা করেন।11 - আল-কারিব: মুমিনদের মধ্য থেকে যারা তাঁর ইবাদত করে এবং তাঁকে ডাকে, তিনি তাদের নিকটবর্তী।12 - আল-মুজীব: যিনি আহ্বানকারীদের আহ্বানে সাড়া দেন এবং তারা যা প্রার্থনা করে তার চেয়েও বেশি তাদের দান করেন।13 - আল-খালিক: সৃষ্টি হলো কোনো কিছু নির্ধারণ বা পরিমাপ করা।14 - আল-খাল্লাক: এটি সৃষ্টির প্রাচুর্য বা আধিক্য নির্দেশ করে।15 - আল-বারি: ‘বারউ’ হলো যা তিনি নির্ধারণ করেছেন তা বাস্তবায়ন করা এবং তাকে অস্তিত্বে প্রকাশ করা।16 - আল-মুসাব্বির: তিনি সৃষ্টিজগতকে তাঁর ইচ্ছানুযায়ী বিভিন্ন আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর প্রতিটি সৃষ্টিকে এমন রূপ দিয়েছেন যার মাধ্যমে সে অন্যটি থেকে পৃথক ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
فهي مرتبه الخلق ثم البرء ثم التصوير يعني (التقدير ثم التنفيذ ثم التصوير)ينظر " تفسير بن كثير سورة الحشر الاية 2417 - الطَّيِّب: المُنَزَّه عن النقص والسوء لأنه متصف بالكمال.18 - الواسع: واسع في علمه، واسع في غناه وفي فضله على الخلق فهو يشمل جميع صفات الله.19 - الأول: قبل كل شيء بغير حد، لأنه كان ولا شيء موجوداً سواه.20 - الآخِر: بعد كل شيء بغير نهاية لأنه يبقى بعد فناء المخلوقات. فربنا تبارك وتعالى أزلي " ليس مسبوق بعدم ولا بداية له" وأبدي " لا نهاية له".21 - الظاهر: ظاهر وعالي فوق كل أحد وليس هناك من هو أظهر أو أعلى منه.22 - الباطن: لا أحد أقرب إلى أحد منه ولا يعلم بواطن الأمور مثله سبحانه، وقد بينها الرسول صلى الله عليه وسلم في الحديث " اللهم أنت الأول فليس قبلك شيء وأنت الآخر فليس بعدك شيء وأنت الظاهر فليس فوقك شيء وأنت الباطن فليس دونك شيء" رواه مسلم.
এটি হলো সৃষ্টির পর্যায়ক্রম, এরপর অস্তিত্ব দান, এরপর রূপদান অর্থাৎ (নির্ধারণ, এরপর বাস্তবায়ন, এরপর রূপদান)।দেখুন "তাফসীর ইবনে কাসীর সূরা আল-হাশর আয়াত ২৪"১৭ - আত-তায়্যিব: ত্রুটি ও মন্দ থেকে পবিত্র, কারণ তিনি পূর্ণতা দ্বারা গুণান্বিত।১৮ - আল-ওয়াসি: তিনি তাঁর জ্ঞানে প্রশস্ত, তাঁর ঐশ্বর্যে এবং সৃষ্টির প্রতি তাঁর অনুগ্রহে প্রশস্ত, তাই এটি আল্লাহর সকল গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।১৯ - আল-আউয়াল: কোনো সীমা ছাড়াই সবকিছুর আগে, কারণ তিনি বিদ্যমান ছিলেন এবং তিনি ছাড়া আর কিছুই বিদ্যমান ছিল না।২০ - আল-আখির: কোনো শেষ ছাড়াই সবকিছুর পরে, কারণ সৃষ্টির ধ্বংসের পরেও তিনি অবশিষ্ট থাকবেন। সুতরাং আমাদের বরকতময় ও সুউচ্চ রব অনাদি "যার পূর্বে অনস্তিত্ব ছিল না এবং যার কোনো শুরু নেই" এবং অনন্ত "যার কোনো শেষ নেই"।২১ - আজ-জাহির: তিনি প্রকাশ্য এবং সবার ঊর্ধ্বে সমুন্নত এবং তাঁর চেয়ে অধিক প্রকাশ্য বা সমুন্নত আর কেউ নেই।২২ - আল-বাতিন: তাঁর চেয়ে অধিক নিকটবর্তী কেউ নেই এবং তাঁর মতো গোপন বিষয়াবলী সম্পর্কে কেউ জানে না, তিনি মহাপবিত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীসে এটি বর্ণনা করেছেন: "হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম, আপনার পূর্বে কিছু নেই; আপনিই শেষ, আপনার পরে কিছু নেই; আপনিই প্রকাশ্য, আপনার উপরে কিছু নেই; এবং আপনিই গোপন, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই।" মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
23 - الرؤوف: الرأفة أعلى معاني الرحمة.24 - الغني: متصف بالغنى الكامل ومستغني عن غيره ومستغني عن الولد والصاحبة والشريك وكل الخلق محتاجون ومفتقرون إليه.25 - الرفيق: الرِّفق في اللغة هو اللِّين وهو ضد العُنف.26 - المنَّان: من المن وهو العطاء.27 - المُعْطِي: يعطي الخلق النعم كنعمة الهداية والعقل والغذاء وغيرها.28 - الجميل: جميل في ذاته وأسمائه وصفاته.29 - الحَيِي: يترك ما ليس يتناسب مع رحمته وكرمه.30 - السَّتِير: هو الذي يستر الناس ولا يفضحهم.31 - الوهاب: الذي أعطى عباده العقول والأرزاق وجميع النعم.32 - الحسيب: يشمل أمرين:أولاً: أنه يكفي المتوكلون عليه جميع ما أهمهم.ثانياً: يحفظ الأعمال ثم يجازي الناس بها.33 - الرازق: الذي رزق الخلق ما يحتاجون إليه وليس الرزق محصور في المال بل يشمل العقول والأولاد والزوجة وغير ذلك.
২৩ - আল-রাউফ: অতিশয় মমতা বা ‘রাফাত’ হলো দয়ার সর্বোচ্চ অর্থ।২৪ - আল-গণি: তিনি পূর্ণ অভাবহীনতায় গুণান্বিত, তিনি অন্য সবার থেকে অমুখাপেক্ষী এবং সন্তান, স্ত্রী ও অংশীদার থেকে মুক্ত; আর সমস্ত সৃষ্টি তাঁর মুখাপেক্ষী ও তাঁর প্রতি অভাবগ্রস্ত।২৫ - আর-রাফিক: অভিধানে 'রিফক' অর্থ হলো কোমলতা, যা কঠোরতার বিপরীত।২৬ - আল-মান্নান: এটি ‘মান্ন’ থেকে আগত, যার অর্থ হলো দান করা।২৭ - আল-মু'তি: তিনি সৃষ্টিজগতকে বিভিন্ন নেয়ামত দান করেন, যেমন হিদায়াত, বুদ্ধি, খাদ্য এবং অন্যান্য নেয়ামত।২৮ - আল-জামিল: তিনি তাঁর সত্তা, নামসমূহ এবং গুণাবলীতে সুন্দর।২৯ - আল-হাইয়ি: তাঁর দয়া ও মহানুভবতার সাথে যা অসংগতিপূর্ণ, তিনি তা পরিহার করেন।৩০ - আস-সাত্তির: তিনি সেই সত্তা যিনি মানুষের দোষ গোপন রাখেন এবং তাদের জনসমক্ষে লজ্জিত করেন না।৩১ - আল-ওয়াহহাব: যিনি তাঁর বান্দাদের বুদ্ধি, রিযিক এবং সমস্ত নেয়ামত দান করেছেন।৩২ - আল-হাসিব: এটি দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:প্রথমত: যারা তাঁর ওপর ভরসা করে, তাদের সকল উদ্বেগের বিষয়ে তিনিই যথেষ্ট।দ্বিতীয়ত: তিনি আমলসমূহ সংরক্ষণ করেন এবং সে অনুযায়ী মানুষকে প্রতিদান প্রদান করেন।৩৩ - আর-রাযিক: যিনি সৃষ্টিজগতকে তাদের প্রয়োজনীয় রিযিক দান করেন। আর রিযিক কেবল ধন-সম্পদের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বুদ্ধি, সন্তান-সন্ততি, স্ত্রী এবং অন্যান্য বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
34 - الرَّزَّاق: يدل على كثرة أرزاقه لأنه على وزن فعَّال من صيغ المبالغة.35 - السميع: سمعه أدرك كل شيء.36 - البصير: بصره أدرك كل شيء.37 - الحَكَم: حُكْم الله نوعان:أولاً: حُكم قدري وهو ما يجري على الناس من أقدار كالفقر والمرض والزواج وغير ذلك.وثانياً: حُكم شرعي مثل تحليل أمور وتحريم أمور أخرى.38 - الحكيم: الذي يضع الأمور في مواضعها الصحيحة وهو حكيم في أفعاله وأقواله.39 - الحق: المتصف بالوجود الدائم.40 - النصير: ينصر المسلمين على عدوهم.41 - الولي: النصير والذي تولى أمر المؤمنين.42 - المولى: هناك نوعان من الولاية:• ولاية عامة لكل الخلق: وهي بمعنى السيد والمالك والرب.• ولاية خاصة بالمسلمين: بمعنى النصير.
৩৪ - আর-রাজ্জাক: তাঁর রিযিকের আধিক্য নির্দেশ করে; কারণ এটি আধিক্যবোধক 'ফায়্যল' ওজনে গঠিত।৩৫ - আস-সামি: তাঁর শ্রবণ সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।৩৬ - আল-বাসির: তাঁর দৃষ্টি সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।৩৭ - আল-হাকাম: আল্লাহর হুকুম বা ফয়সালা দুই প্রকার:প্রথমত: তাকদিরি (সৃষ্টিগত) ফয়সালা; যা মানুষের ওপর তাদের ভাগ্য হিসেবে আপতিত হয়, যেমন অভাব-অনটন, অসুস্থতা, বিবাহ ইত্যাদি।দ্বিতীয়ত: শরয়ি (বিধানগত) ফয়সালা; যেমন কোনো বিষয়কে হালাল করা এবং অন্য কোনো বিষয়কে হারাম করা।৩৮ - আল-হাকিম: যিনি সকল বিষয়কে তাদের সঠিক স্থানে স্থাপন করেন। তিনি তাঁর সকল কার্যাবলি ও কথায় মহাপ্রজ্ঞাবান।৩৯ - আল-হাক্ক: যিনি চিরন্তন অস্তিত্বের গুণে গুণান্বিত।৪০ - আন-নাসির: তিনি মুসলিমদেরকে তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করেন।৪১ - আল-ওয়ালি: সাহায্যকারী এবং যিনি মুমিনদের বিষয়াবলির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।৪২ - আল-মাওলা: অভিভাবকত্ব দুই প্রকার:• সকল সৃষ্টির জন্য সাধারণ অভিভাবকত্ব: এটি প্রভু, মালিক ও প্রতিপালক অর্থে ব্যবহৃত হয়।• মুসলিমদের জন্য বিশেষ অভিভাবকত্ব: এটি সাহায্যকারী অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
43 - الهادي: الهداية أنواع:1 - هداية عامة لكل الخلق، فهو الذي هدى جميع الخلق إلى ما ينفعهم حتى الحيوانات عَلَّمَها كيف تكسب أرزاقها كما قال عَزَّوَجَلَّ: {قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَى كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَى} [طه: 50]2 - هداية الدلالة والإرشاد وهي لجميع الثقلين ومعناها التعريف بطريق الخير وطريق الشر فربنا قد أنزل الكتب وأرسل الرسل لهداية الإنس والجن وهي المقصودة في قوله سبحانه وتعالى: {وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ} [البلد: 10]وهذه يقدر عليها الأنبياء والدعاة والمصلحين كما أثبتها الله للرسول صلى الله عليه وسلم في قوله: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ} [الشورى: 52]3 - هداية التوفيق الخاصة بالمسلمين بأن وفقهم وجعلهم يقبلون الحق ويختارونه كما قال سبحانه: {فَمَن يُرِدِ اللَّهُ أَن يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ وَمَن يُرِدْ أَن يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ} [الأنعام: 125]
43 - আল-হাদী: হিদায়াত বা পথপ্রদর্শন কয়েক প্রকার:1 - সকল সৃষ্টির জন্য সাধারণ হিদায়াত: তিনি সেই সত্তা যিনি সকল সৃষ্টিকে তাদের যা উপকারে আসবে সেই দিকে পরিচালিত করেছেন, এমনকি পশু-পাখিদেরও তিনি শিখিয়েছেন কীভাবে তারা তাদের জীবনোপকরণ অন্বেষণ করবে; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তিনি বললেন, আমাদের প্রতিপালক তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার উপযুক্ত আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন।} [ত্বহা: ৫০]2 - দিকনির্দেশনা ও পথপ্রদর্শনের হিদায়াত: এটি সকল জিন ও মানুষের জন্য প্রযোজ্য এবং এর অর্থ হলো কল্যাণের পথ ও অকল্যাণের পথ চিনিয়ে দেওয়া। আমাদের প্রতিপালক কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন এবং রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন মানুষ ও জিনের হিদায়াতের জন্য। সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণীতে এটিই উদ্দেশ্য: {আর আমি তাকে দুটি পথ দেখিয়েছি।} [আল-বালাদ: ১০]আর এই হিদায়াত প্রদানের সক্ষমতা নবীগণ, দাঈগণ এবং সংস্কারকদের রয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাঁর এই বাণীতে সাব্যস্ত করেছেন: {আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।} [আশ-শুরা: ৫২]3 - তাওফীক বা সত্য গ্রহণের বিশেষ হিদায়াত যা মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট: আর তা হলো আল্লাহ তাদের তাওফীক দান করেছেন এবং তাদের এমন করেছেন যে তারা সত্যকে গ্রহণ করে ও তা বেছে নেয়; যেমন তিনি সুবহানাহু বলেছেন: {অতঃপর আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন। আর যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান, তার বক্ষকে অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সংকুচিত করে দেন, যেন সে আকাশে আরোহণ করছে।} [আল-আনআম: ১২৫]
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وهذه لا يقدر عليها إلا الله وحده كما قال سبحانه مخاطبا الرسول صلى الله عليه وسلم {إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَن يَشَاءُ} [القصص: 56]4 - الهداية إلى الجنة والنار: أما هداية المسلمين إلى الجنة فقد وردت في قوله سبحانه: {وَقَالُواْ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَىنَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَىنَا اللَّهُ}[الأعراف: 43]ووردت في قول الرسول صلى الله عليه وسلم: " فو الذي نفس محمد بيده لأحدهم أهدى بمنزله في الجنة منه بمنزله كان في الدنيا" رواه البخاري.يعني أنهم يعرفون بيوتهم في الجنة أكثر مما يعرفون بيوتهم في الدنيا، وهذه الهداية هي ثمرة الهداية الثالثة بمعنى أنه من حصلت له هداية التوفيق حصلت له الهداية إلى الجنة.وأما هداية الكفار إلى النار فقد وردت في قوله سبحانه: {احْشُرُواْ الَّذِينَ ظَلَمُواْ وَأَزْوَاجَهُمْ وَمَا كَانُواْ يَعْبُدُونَ (22) مِن دُونِ اللَّهِ فَاهْدُوهُمْ إِلَى صِرَاطِ الْجَحِيمِ (23)} [الصافات: 22 - 23]
আর এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেছেন: {নিশ্চয় আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হিদায়াত করতে পারবেন না; বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন} [আল-কাসাস: ৫৬]৪ - জান্নাত ও জাহান্নামের দিকে হিদায়াত: মুসলিমদের জান্নাতের দিকে হিদায়াত করার বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {এবং তারা বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন; আল্লাহ আমাদের হিদায়াত না দিলে আমরা কখনো হিদায়াত পেতাম না}[আল-আ’রাফ: ৪৩]এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীতেও বর্ণিত হয়েছে: "সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, জান্নাতে তাদের প্রত্যেকের জন্য তাদের আবাসস্থল দুনিয়ার আবাসস্থলের তুলনায় অধিক সুপরিচিত হবে।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।অর্থাৎ, তারা দুনিয়ার গৃহের তুলনায় জান্নাতে তাদের গৃহসমূহকে অধিক ভালোভাবে চিনতে পারবে। আর এই হিদায়াত হলো তৃতীয় প্রকার হিদায়াতের ফল; অর্থাৎ যাকে তাওফীক প্রদানের হিদায়াত দেওয়া হয়েছে, সে জান্নাতের হিদায়াতও লাভ করেছে।আর কাফিরদের জাহান্নামের দিকে হিদায়াত করার বিষয়টি মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {একত্রিত করো যালিমদের, তাদের সমমনাদের এবং যাদের তারা ইবাদাত করত (২২) আল্লাহ ব্যতীত; অতঃপর তাদের জাহান্নামের পথে পরিচালিত করো (২৩)} [আস-সাফফাত: ২২ - ২৩]
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
يعني دُلُّوهم إلى النار فهم يساقون إليها يوم القيامة، وهداية الله للمسلمين إلى الجنة بسبب فضله وهدايته للكفار إلى النار بسبب عدله.44 - الحميد: يُحمد ويُثنى عليه من خلقه ويستحق أن يُحمد " تفسير الطبري سورة البقرة آية 267".45 - المُبِين: المبَيِّن لعباده سبيل الرشاد والموضح لهم الأعمال الموجبة لثوابه والأعمال الموجبة لعقابه والبيِّن أمره في وحدانيته والذي لا يخفى على أحد.46 - الدَّيّان: يحاسب الخلق على أعمالهم ويجازيهم بها.47 - الكريم: يقول بن تيمية في تفسير سورة العلق في مجموع الفتاوى " لفظ الكرم لفظ جامع للمحاسن والمحامد، لا يراد به مجرد الإعطاء فالإعطاء من تمام معناه".48 - الأكرم: مبالغة في الكرم.49 - العظيم: ذاته وصفاته عظيمة ويُعظِّمُه خلقه.50 - المجيد: من المجد وهو الشرف الكثير والواسعوالعظيم والمجيد تدل على جملة أوصاف عديدة ولا تختص بصفة معينة " بدائع الفوائد لابن القيم".
অর্থাৎ তাদেরকে আগুনের দিকে পথ দেখিয়ে দাও, ফলে কিয়ামতের দিন তাদেরকে সেদিকেই হাঁকিয়ে নেওয়া হবে। আর মুসলমানদের জান্নাতের দিকে আল্লাহর হিদায়াত দান তাঁর অনুগ্রহের কারণে এবং কাফেরদেরকে আগুনের দিকে তাঁর হিদায়াত দান তাঁর ন্যায়বিচারের কারণে।৪৪ - আল-হামিদ: তাঁর সৃষ্টিজগত তাঁর প্রশংসা ও গুণগান করে এবং তিনি প্রশংসিত হওয়ার যোগ্য। "তাফসীরে তাবারী, সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৬৭"।৪৫ - আল-মুবীন: তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সঠিক পথ সুস্পষ্টকারী, তাঁর পুরস্কার লাভের কারণ ও শাস্তির কারণ হয় এমন আমলসমূহ তাদের নিকট বর্ণনাকারী এবং তাঁর একত্ববাদের বিষয়টি সুস্পষ্ট এবং তিনি কারো নিকট অস্পষ্ট নন।৪৬ - আদ-দাইইয়ান: তিনি সৃষ্টিজগতকে তাদের কর্মের হিসাব নেবেন এবং সেই অনুযায়ী তাদের প্রতিদান দেবেন।৪৭ - আল-কারীম: ইবনে তাইমিয়া মাজমুউল ফাতাওয়ায় সূরা আল-আলাকের তাফসীরে বলেন, "কারাম (উদারতা) শব্দটি সমস্ত সৌন্দর্য ও প্রশংসার এক সমষ্টিবাচক শব্দ; এটি দ্বারা কেবল দান করা উদ্দেশ্য নয়, বরং দান করা এই অর্থের পূর্ণতার অংশ।"৪৮ - আল-আকরাম: এটি উদারতার আধিক্য প্রকাশ করে।৪৯ - আল-আজীম: তাঁর সত্তা ও গুণাবলী মহান এবং তাঁর সৃষ্টিজগত তাঁর মহিমা ঘোষণা করে।৫০ - আল-মাজীদ: এটি 'মাজদ' শব্দ থেকে আগত যার অর্থ প্রচুর ও সুপ্রশস্ত মর্যাদা। আল-আজীম এবং আল-মাজীদ নাম দুটি বহুবিধ গুণের সমষ্টিকে নির্দেশ করে এবং কোনো নির্দিষ্ট গুণের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। "ইবনুল কাইয়্যিমের বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ"।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
51 - الصمد: الذي تَصْمُد " تلجأ" إليه مخلوقاته في حاجاتها.52 - الحي: متصف بالحياة التي لم يسبقها عدم ولا يلحقها فناء.53 - القَيُّوم: القائم بنفسه المقيم لغيره والذي قامت به المخلوقات والسموات والأرضين فلا قيام لغيره إلا بإقامته له أما هو فمستغني عن الخلق.54 - الواحد: يعني أن الله واحد في ربوبيته وألوهيته وأسمائه وصفاته ليس له شريك ولا مثيل ولا شبيه.55 - الأحد: نفس معنى الواحد ولكن بينهما عدة فروق:الأول: أن الواحد اسم لمفتتح العدد، فيقال: واحد واثنان وثلاثة أما أحد فينقطع معه العدد فلا يقال: أحد اثنان ثلاثة.الثاني: أن أحد في النفي أعم من الواحد فيقال: ما في الدار واحد، ويجوز أن يكون هناك اثنان أو ثلاثة أو أكثر أما لو قال: ما في الدار أحد فهو نفي وجود الجنس بالمرة، فليس فيها أحد ولا اثنان ولا ثلاثة ولا أكثر ولا أقل.الثالث: لفظ الواحد يمكن جعله وصفاً لأي شيء أريد، فيصح القول: رجل واحد، وثوب واحد، ولا يصح وصف شيء في جانب
৫১ - আস-সামাদ: যাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টিজগত তাদের প্রয়োজনে ধাবিত হয় (আশ্রয় নেয়)।৫২ - আল-হাইয়ু: এমন জীবনের অধিকারী যাঁর পূর্বে কোনো অনস্তিত্ব ছিল না এবং যাঁর পরে কোনো বিনাশ নেই।৫৩ - আল-কাইয়ূম: যিনি স্বয়ংপ্রতিষ্ঠিত এবং অন্যের ধারক; যাঁর মাধ্যমে সৃষ্টিজগত, আসমানসমূহ ও জমিনসমূহ প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। সুতরাং তাঁর প্রতিষ্ঠিত করা ব্যতীত অন্য কিছুর কোনো স্থিতি নেই, পক্ষান্তরে তিনি সৃষ্টিজগত থেকে অমুখাপেক্ষী।৫৪ - আল-ওয়াহিদ: অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত এবং নাম ও গুণাবলীতে এক; তাঁর কোনো শরীক, সমকক্ষ বা সদৃশ নেই।৫৫ - আল-আহাদ: আল-ওয়াহিদ-এর সমার্থক, তবে এ দুটির মাঝে কয়েকটি পার্থক্য রয়েছে:প্রথম: 'ওয়াহিদ' হলো সংখ্যার প্রারম্ভিক নাম, যেমন বলা হয়: এক, দুই, তিন। পক্ষান্তরে 'আহাদ'-এর ক্ষেত্রে সংখ্যা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাই 'আহাদ, দুই, তিন' বলা হয় না।দ্বিতীয়: না-বোধক বাক্যে 'আহাদ' শব্দটি 'ওয়াহিদ' অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। যেমন বলা হয়: 'বাড়িতে এক (ওয়াহিদ) নেই', তখন সেখানে দুইজন বা তিনজন বা তার বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু যদি বলা হয়: 'বাড়িতে কেউ (আহাদ) নেই', তবে তা সামগ্রিকভাবে ওই জাতীয় অস্তিত্বকে পুরোপুরি নাকচ করে; ফলে সেখানে একজন নেই, দুইজন নেই, তিনজন নেই এবং তার কম বা বেশি কেউই নেই।তৃতীয়: 'ওয়াহিদ' শব্দটিকে যেকোনো কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাই বলা সঠিক: একজন ব্যক্তি, একটি পোশাক। কিন্তু অন্য কোনো কিছুর বর্ণনায় এটি ব্যবহার করা সঠিক নয়...
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الإثبات بأحد إلا الله الأحد كماقال سبحانه {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}[الإخلاص: 1]فلا يقال: رجل أحد ولا ثوب أحد فكأن الله عَزَّوَجَلَّ استأثر بهذا النعت. [موقع الدرر السنية].56 - اللَّطِيف:- يعلم خفايا الأمور.- يُحسِن إلى عباده بطرق تخفى عليهم" تفسير أسماء الله للسعدي وتفسير أسماء الله للزجاج".57 - الحليم: الذي لا يعجل بالعقوبة على العاصي بل يمهله لكي يتوب.58 - الشَّاكر: الذي لا يضيع عمل العاملين بل يجازيهم بأعمالهم ومن صور ذلك أنه يجازي الحسنة بعشر أمثالها " الحق الواضح المبين لعبد الرحمن السعدي".59 - الشَّكور: يدل على كثرة شكره لأنه على وزن فعول من صيغ المبالغة.60 - الجواد: كثير العطاء.61 - الحافظ: يحفظ جميع الخلق من المصائب والمكروهات
'এক' হিসেবে সাব্যস্ত করা আল্লাহ ব্যতীত আর কারো ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যেমনটি মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন {বলুন, তিনি আল্লাহ, এক}[আল-ইখলাস: ১]সুতরাং বলা হয় না: এক পুরুষ বা এক পোশাক। যেন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এই বিশেষণটিকে নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। [দুরারুস সানিয়্যাহ ওয়েবসাইট]।৫৬ - আল-লাতিফ:- তিনি বিষয়াবলির সূক্ষ্ম ও গোপনীয় বিষয়সমূহ জানেন।- তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি এমন সব উপায়ে অনুগ্রহ করেন যা তাদের নিকট অগোচর থাকে।"সা'দীর আল্লাহর নামসমূহের তাফসীর এবং যাজ্জাজের আল্লাহর নামসমূহের তাফসীর"।৫৭ - আল-হালিম: যিনি অবাধ্য ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে ত্বরান্বিত করেন না, বরং তাকে তাওবা করার জন্য অবকাশ দেন।৫৮ - আশ-শাকির: যিনি আমলকারীদের আমল নষ্ট করেন না, বরং তাদের আমলের প্রতিদান দান করেন। এর একটি উদাহরণ হলো তিনি একটি নেকির বিনিময়ে দশ গুণ প্রতিদান দেন। "আব্দুর রহমান আল-সা'দীর আল-হাক্কুল ওয়াদিহুল মুবিন"।৫৯ - আশ-শাকুর: এটি তাঁর অধিক গুণগ্রাহিতার প্রমাণ দেয়, কারণ এটি আধিক্যবাচক শব্দ।৬০ - আল-জাওয়াদ: অত্যন্ত অধিক দানকারী।৬১ - আল-হাফিজ: তিনি সমস্ত সৃষ্টিকে বিপদ-আপদ ও অপ্রীতিকর বিষয় থেকে রক্ষা করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ويحفظ أعمالهم لكي يجازيهم بها يوم القيامة ويحفظ اولياؤه المؤمنين من الفتن والضلال62 - الحفيظ: يدل على كثرة حفظه لأنه على وزن فعيل من صيغ المبالغة.63 - الرقيب: يعلم بواطن الأمور مثل أعمال القلوب.64 - الشهيد: يعلم ظواهر الأمور مثل أعمال الجوارح.65 - العليم: متصف بالعلم الكامل الذي لم يُسبق بجهل ولا يلحقه نسيان "القواعد المثلى لابن عثيمين".66 - العالم: نفس المعنى.67 - الخبير: يعلم ظواهر الأمور وبواطنها.68 - العزيز: له عدة معاني:- قوي.- غالب فهو يغلب أعداءه.- ممتنع عن أذى أي أحد وهذا خاص بالله وحده فليس أحد غيره ممتنع عن الأذى حتى أقوى الناس معرض للأذى والظلم. " تفسير أسماء الله الحسنى للسعدي".69 - الجبار: له عدة معاني:
তিনি তাদের আমলসমূহ সংরক্ষণ করেন যাতে কিয়ামতের দিন তিনি তাদের সেগুলোর প্রতিদান দিতে পারেন এবং তিনি তাঁর মুমিন বন্ধুদের ফিতনা ও পথভ্রষ্টতা থেকে রক্ষা করেন।৬২ - আল-হাফিজ: এটি তাঁর সংরক্ষণের আধিক্য নির্দেশ করে, কারণ এটি অতিরঞ্জনবাচক রূপে (সিগাতুল মুবালাগা) গঠিত।৬৩ - আর-রাকিব: তিনি বিষয়াবলির অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্পর্কে অবগত, যেমন অন্তরের আমলসমূহ।৬৪ - আশ-শহিদ: তিনি বিষয়াবলির বাহ্যিক অবস্থা সম্পর্কে অবগত, যেমন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমলসমূহ।৬৫ - আল-আলিম: তিনি এমন পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের গুণে গুণান্বিত যার পূর্বে কোনো অজ্ঞতা ছিল না এবং যাকে বিস্মৃতি স্পর্শ করতে পারে না। "ইবনে উসাইমিনের আল-কাওয়ায়িদুল মুসলা"।৬৬ - আল-আলিম: একই অর্থ।৬৭ - আল-খাবির: তিনি বিষয়াবলির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।৬৮ - আল-আজিজ: এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে:- শক্তিশালী।- বিজয়ী, সুতরাং তিনি তাঁর শত্রুদের ওপর জয়লাভ করেন।- যে কারো পক্ষ থেকে কষ্ট পৌঁছানো বা অনিষ্ট করার ঊর্ধ্বে; আর এটি একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, কেননা তিনি ব্যতীত আর কেউ অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত নয়, এমনকি সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষও কষ্ট ও জুলুমের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। "আস-সাদির তাফসিরু আসমাইল্লাহিল হুসনা"।৬৯ - আল-জাব্বার: এর কয়েকটি অর্থ রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أولاً: جَبْر القوة أي أنه يُجبِر العباد على الأمر الذي يريده ويغلب الجبابرة.وثانياً: جَبْر الرحمة مأخوذ من الجَبْر وهو إصلاح الشيء فالله يَجْبُر الفقير بالغنى ويَجْبُر المريض بالشفاء.ثالثاً: جَبْر العلو فإنه سبحانه فوق مخلوقاته. " فتاوى العقيدة لابن عثيمين".70 - المتكبر: متعالي عن كل سوء. " ابن كثير سورة الحشر آية 23".71 - الكبير: هو الكبير في ذاته وقَدْرِه وكل شيء دونه صغير ولذلك نقول عند ذكره (الله أكبر).72 - القوي: صاحب القوة التي لا مثيل لها.73 - المتين: شديد القوة.74 - البَر: بفتح الباء وهو الذي توسع في فعل الخير للعباد.75 - المُحِيط: علمه أحاط بكل شيء وقدرته أحاطت بكل شيء.76 - الوَدُود: يحب رسله وعباده الصالحين، والوُد هو خالص الحُب وأرَقَّه.
প্রথমত: শক্তির জবর (জবরদস্তি), অর্থাৎ তিনি বান্দাদেরকে তাঁর ইচ্ছাধীন বিষয়ের ওপর বাধ্য করেন এবং প্রতাপশালীদের ওপর জয়লাভ করেন।দ্বিতীয়ত: রহমতের জবর, যা 'জবর' (মেরামত করা) শব্দ থেকে গৃহীত এবং এর অর্থ হলো কোনো কিছু সংশোধন করা; সুতরাং আল্লাহ অভাবী ব্যক্তিকে সচ্ছলতা প্রদানের মাধ্যমে এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে আরোগ্য প্রদানের মাধ্যমে অবস্থা সংশোধন করে দেন।তৃতীয়ত: উচ্চতার জবর, কেননা তিনি সুবহানাহু তাঁর সৃষ্টিজগতসমূহের ঊর্ধ্বে। "ফাতাওয়া আল-আকিদাহ, ইবনে উসাইমিন"।৭০ - আল-মুতাকাব্বির: সকল মন্দ থেকে পবিত্র ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভকারী। "ইবনে কাসীর, সূরা আল-হাশর, আয়াত ২৩"।৭১ - আল-কাবীর: তিনি স্বীয় সত্তা ও মর্যাদায় মহান এবং তিনি ব্যতীত সবকিছুই ক্ষুদ্র, আর একারণেই তাঁকে স্মরণের সময় আমরা বলি (আল্লাহু আকবার)।৭২ - আল-কাউয়্যি: এমন শক্তির অধিকারী যার কোনো উপমা নেই।৭৩ - আল-মাতীন: প্রবল শক্তির অধিকারী।৭৪ - আল-বার্র: 'বা' বর্ণের ফাতহাহ (যবর) সহকারে; এর অর্থ হলো তিনি যিনি বান্দাদের প্রতি কল্যাণ ও সদাচরণকে বিস্তৃত করেছেন।৭৫ - আল-মুহীত: তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে এবং তাঁর ক্ষমতা সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।৭৬ - আল-ওয়াদুদ: তিনি তাঁর রাসূলগণ ও নেককার বান্দাদের ভালোবাসেন; আর 'ওয়ুদ' হলো খাঁটি ও সুনিবিড় ভালোবাসা।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
77 - الرحمن:78 - الرحيم:الفرق بينهما أن الرحمن يدل على الرحمة العامة لكل الخلق في الدنيا وللمسلمين في الآخرة والرحيم يدل على الرحمة الخاصة بالمسلمين في الدنيا والآخرة.79 - الُّسبُّوح: المنّزَّه عن كل نقص وعيب المتصف بالكمال.80 - القُدُّوس: المنَزَّه عن كل نقص وعيب المتصف بالكمال.81 - السَّلام: الذي سَلِمَت ذاته وأسماؤه وصفاته من النقص لاتصافه بالكمال."القُدُّوس والسلام ينظر تفسير ابن كثير سورة الحشر".82 - المُؤمِن: الذي صدَّق أنبياءه بالمعجزات التي دلت على صدقهم وصدَّق المؤمنين بنصرهم وقبول إيمانهم وإثابتهم عليه.83 - العلي: يشمل ثلاثة أمور:- عُلُوّ الذات: لأنه فوق خلقه.- عُلُوّ القدر: لكمال صفاته.- عُلُوّ القهر: قَهَرَ الخلق بقوته. " شرح أسماء الله لسعيد علي القحطاني".
৭৭ - আর-রাহমান:৭৮ - আর-রাহীম:এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, 'আর-রাহমান' দুনিয়াতে সকল সৃষ্টির প্রতি এবং আখিরাতে মুসলিমদের প্রতি সাধারণ রহমতের প্রমাণ দেয়, আর 'আর-রাহীম' দুনিয়া ও আখিরাতে কেবল মুসলিমদের প্রতি বিশেষ রহমতের প্রমাণ দেয়।৭৯ - আস-সুব্বুহ: সকল ত্রুটি ও দোষ থেকে পবিত্র এবং পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত।৮০ - আল-কুদ্দুস: সকল ত্রুটি ও দোষ থেকে পবিত্র এবং পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত।৮১ - আস-সালাম: যাঁর সত্তা, নামসমূহ ও গুণাবলী সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত, কারণ তিনি পূর্ণতার গুণাবলীতে গুণান্বিত।"আল-কুদ্দুস ও আস-সালাম-এর ব্যাখ্যার জন্য তাফসীর ইবনে কাসীর, সূরা আল-হাশর দেখুন"।৮২ - আল-মুমিন: যিনি তাঁর নবীগণকে এমন সব মুজিযা দ্বারা সত্যায়ন করেছেন যা তাঁদের সত্যতাকে প্রমাণ করে এবং মুমিনদের সাহায্য প্রদান, তাঁদের ঈমান কবুল করা ও তার ওপর প্রতিদান প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের সত্যায়ন করেছেন।৮৩ - আল-আলী: এটি তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:- সত্তাগত উচ্চতা: কারণ তিনি তাঁর সৃষ্টির উপরে।- মর্যাদাগত উচ্চতা: তাঁর গুণাবলীর পূর্ণতার কারণে।- পরাক্রমের উচ্চতা: তিনি তাঁর শক্তি দ্বারা সৃষ্টিজগতকে পরাভূত করেছেন। "সাঈদ আলী আল-কাহলানী রচিত শারহ আসমাউল্লাহ"।
(খণ্ড: ১)
আল-হাক্কু ওয়াস সাবাতু ফিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
84 - الأعلى: مبالغة في العلو.85 - المُتَعَال: نفس المعنى.86 - الوِتْر: الواحد الذي لا شريك له في ربوبيته وألوهيته وأسمائه وصفاته.87 - المُقِيت: القدير.88 - المُهَيمِن: معناه الرقيب والشهيد.كما قال الزجاجي في "اشتقاق الأسماء".89 - الوكيل: له معنى عام لجميع الخلق: أي أن الله سبحانه الذي تولَّى تدبير أمور خلقهوله معنى خاص بمن توكَّلَ عليه من المسلمين أنه يحفظهم وينصرهم.90 - الشافي: الذي يشفي من أمراض الأبدان ويشفي من أمراض القلوب مثل الشرك والكفر والنفاق والحسد.91 - القاهر: الذي قهر الجبابرة من عتاة خلقه بالعقوبة وقهر كل الخلق بالموت" شأن الدعاء للخطابي".والذي قهر المخلوقات بسلطانه وقدرته وذلَّت له سبحانه.92 - القهَّار: مبالغة في القهر.
84 - আল-আ'লা: উচ্চতার অতিশয়তা বা পরম উচ্চ।85 - আল-মুতা'আল: একই অর্থ।86 - আল-উইতর: সেই একক সত্তা যার রুবুবিয়্যাত (প্রতিপালন), উলুহিয়্যাত (উপাসনা) এবং নাম ও গুণাবলিতে কোনো অংশীদার নেই।87 - আল-মুকিত: মহা শক্তিশালী।88 - আল-মুহাইমিন: এর অর্থ হলো রক্ষণাবেক্ষণকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী।যেমনটি আয-যাজ্জাজি 'ইশতিকাকুল আসমা' গ্রন্থে বলেছেন।89 - আল-ওয়াকিল: সকল সৃষ্টির জন্য এর একটি সাধারণ অর্থ রয়েছে: অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা, যিনি তাঁর সৃষ্টির সকল বিষয় পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।আর মুমিনদের মধ্য থেকে যারা তাঁর ওপর ভরসা করে, তাদের জন্য এর একটি বিশেষ অর্থ রয়েছে: অর্থাৎ তিনি তাদের হিফাজত করেন এবং তাদের সাহায্য করেন।90 - আশ-শাফি: যিনি শরীরের রোগসমূহ থেকে আরোগ্য দান করেন এবং অন্তরের ব্যাধি যেমন শিরক, কুফর, নিফাক ও হিংসা থেকে মুক্তি দান করেন।91 - আল-কাহির: যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে অবাধ্য ও উদ্ধত স্বৈরশাসকদের শাস্তির মাধ্যমে পরাভূত করেছেন এবং সকল সৃষ্টিকে মৃত্যুর মাধ্যমে পরাভূত করেছেন।"খাত্তাবির শা'নুদ দুয়া"।এবং যিনি তাঁর কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার মাধ্যমে সৃষ্টিজগতকে পরাভূত করেছেন এবং তাঁর সামনে সকল সৃষ্টিই নত ও বশীভূত।92 - আল-কাহ্হার: পরাভূত করার ক্ষেত্রে অতিশয়তা বা আধিক্য।