(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: -)
إسبال المطر على قصب السكر نظم نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر   (الصنعاني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: إسبال المطر على قصب السكر (نظم نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر)

المؤلف: محمد بن إسماعيل بن صلاح بن محمد الحسني، الكحلاني ثم الصنعاني، أبو إبراهيم، عز الدين، المعروف كأسلافه بالأمير (ت 1182هـ)

تحقيق وتعليق: عبد الحميد بن صالح بن قاسم آل أعوج سبر

الناشر: دار ابن حزم - بيروت

الطبعة: الأولى، 1427هـ - 2006م

عدد الصفحات: 410

أعده للشاملة: محمد يحيى، وأحمد عبد الله السني

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 1 رمضان 1432

ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কর: আহলুল আসারদের পরিভাষায় নুখবাতুল ফিকারের পদ্যানুবাদ   (আস-সানআনী)

বিভাগ: হাদীস শাস্ত্র


গ্রন্থ: ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কর (আহলুল আসারদের পরিভাষায় নুখবাতুল ফিকারের পদ্যানুবাদ)

লেখক: মুহাম্মাদ বিন ইসমাঈল বিন সালাহ বিন মুহাম্মাদ আল-হাসানী, আল-কাহলানী অতঃপর আস-সানআনী, আবু ইবরাহীম, ইযযুদ্দীন, যিনি তার পূর্বপুরুষদের ন্যায় আল-আমীর হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ১১৮২ হিজরি)

তাহকীক ও তালীক: আব্দুল হামীদ বিন সালেহ বিন কাসিম আল আউজ সাবর

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১০

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া, এবং আহমাদ আব্দুল্লাহ আস-সুন্নী

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১ রমজান ১৪৩২

(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: -)
ـ[إسبال المطر على قصب السكر (نظم نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر)]ـ

المؤلف: محمد بن إسماعيل بن صلاح بن محمد الحسني، الكحلاني ثم الصنعاني، أبو إبراهيم، عز الدين، المعروف كأسلافه بالأمير (المتوفى: 1182هـ)

تحقيق وتعليق: عبد الحميد بن صالح بن قاسم آل أعوج سبر

الناشر: دار ابن حزم - بيروت

الطبعة: الأولى، 1427هـ - 2006م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

--------------------------------------------

أعده للشاملة / أحمد عبد الله السني

أضاف المتن ووافقه للمطبوع وعرّف بالكتاب/ محمد يحيى
ইসবালুল মাতার আলা কসাবিস সুক্কার (আহলে আসারের পরিভাষা বিষয়ক 'নুখবাতুল ফিকার'-এর কাব্যরূপ)

লেখক: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সালাহ বিন মুহাম্মদ আল-হাসানি, আল-কাহলানি অতঃপর আস-সানআনি, আবু ইবরাহিম, ইজ্জুদ্দিন, তাঁর পূর্বপুরুষদের ন্যায় 'আল-আমির' হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু: ১১৮২ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা: আব্দুল হামিদ বিন সালেহ বিন কাসিম আল আওয়াজ সাবর

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

--------------------------------------------

আল-শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন / আহমদ আব্দুল্লাহ আস-সুন্নি

মূল পাঠ্য যুক্ত করেছেন, মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন এবং গ্রন্থ পরিচিতি দিয়েছেন / মুহাম্মদ ইয়াহইয়া
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
‌‌قصب السكر نظم نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر

تأليف الإمام محمد بن إسماعيل الأمير "الشهير بالصنعاني" (1099 - 1182 هـ)

تحقيق وتعليق: عبد الحميد بن صالح بن قاسم آل أعوج سبر

الناشر: دار ابن حزم - بيروت

الطبعة: الأولى 1427هـ - 2006م
কসাবুস সুক্কার: আসহাবে আসারের পরিভাষা সংক্রান্ত নুখবাতুল ফিকারের পদ্যানুবাদ

রচনায়: ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমীর, যিনি "আস-সানআনী" নামে প্রসিদ্ধ (১০৯৯ - ১১৮২ হিজরি)

তাহকিক ও টীকা: আবদুল হামিদ বিন সালিহ বিন কাসিম আল-আওয়াজ সাবর

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
‌‌المقدمة

1 - حمدًا لِمَنْ يُسندُ كُلُّ حَمْدِ … إليه مرفُوعًا بِغَيْرِ عَدِّ

2 - متصلٌ لَيْس لهُ انقطاعُ … مَا فِيْه كَذّابٌ وَلَا وضَّاعُ

3 - ثُمَّ صلاةُ اللهِ تَغْشَى أحْمَدَا … وآله وصَحَبَه أَهل الهُدَى

4 - وبَعدُ فَالنُّخْبة في عِلْم الأثرْ … مُخْتصرٌ يَا حَبَّذَا مِن مخْتصَرْ

5 - ألفها الحافِظُ في حَال السّفرْ … وهو الشّهابُ بْنُ علِّي بْنُ حجرْ

6 - طالعَتُها يوماً مِن الأيَّامِ … فاشْتقتُ أن أُودِعَها نِضَامِي

7 - فتمَّ من بكرةِ ذاكُ اليومِ … إِلى المسَا عِنْد وُفودَ النومِ

8 - مُشْتمِلاً عَلَى الَّذِي حَواهُ … فَالْحَمْدُ للرَّحْمن لَا سِوَاه

 

‌‌تقسيم الخبر إلى متواتر وآحاد

9 - وكلُّ ما يُروَى مِن الأخْبَارِ … إِمَّا بحَصْر أَوْ بِلَا انْحِصَارِ

10 - فَالأولُ المَروِي بفوقِ اثْنَيْنِ … أو بِهمَا أوْ واحدٍ فِي الْعَيْنِ

11 - ثَانِيْهِمَا يَدْعُونَه التّوَاتُرا … تَرَى بِه عِلْمَ الْيَقِينِ حَاضِرَا
ভূমিকা

১ - সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য, যাঁর পানে সকল প্রশংসা সমর্পিত হয় … অগণিতভাবে তাঁরই পানে তা উন্নীত হয়।

২ - যা নিরবচ্ছিন্ন, যার কোনো ছেদ নেই … যাতে কোনো মিথ্যাবাদী কিংবা জালকারীর স্থান নেই।

৩ - অতঃপর আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক আহমদের ওপর … এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও হিদায়াতের অনুসারী সাহাবীগণের ওপর।

৪ - অতঃপর, ইলমে আসার (হাদিস বিজ্ঞান) বিষয়ক ‘নুখবাহ’ … একটি সংক্ষিপ্তসার, কতই না চমৎকার এই সংক্ষিপ্তসার!

৫ - হাফেজ এটি সফর অবস্থায় রচনা করেছেন … আর তিনি হলেন শিহাব উদ্দিন বিন আলী বিন হাজার।

৬ - কোনো এক দিন আমি তা গভীর মনোযোগ দিয়ে পাঠ করলাম … তখন আমার মনে তা কাব্যিক ছন্দে বিন্যস্ত করার আকাঙ্ক্ষা জাগল।

৭ - অতঃপর সেই দিনের প্রত্যুষ থেকে শুরু করে … নিদ্রার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ সন্ধ্যা অবধি তা সম্পন্ন হলো।

৮ - মূল গ্রন্থে যা কিছু অন্তর্ভুক্ত ছিল, এটি তার সবটুকুই ধারণ করেছে … সুতরাং সকল প্রশংসা কেবল রহমানের জন্য, অন্য কারো জন্য নয়।

 

খবরকে মুতাওয়াতির ও আহাদ হিসেবে বিভক্তিকরণ

৯ - বর্ণনার সূত্রে প্রাপ্ত সকল সংবাদ (খবর) … হয় তা সংখ্যায় সীমাবদ্ধ, নতুবা সংখ্যাতাতীত।

১০ - প্রথম প্রকারটি (আহাদ) হলো যা দুইয়ের অধিক ব্যক্তি দ্বারা বর্ণিত … অথবা দুই জন কিংবা নির্দিষ্টভাবে একজন দ্বারা বর্ণিত।

১১ - তাদের দ্বিতীয় প্রকারটিকে তারা ‘মুতাওয়াতির’ বলেন … যার মাধ্যমে সুনিশ্চিত জ্ঞান (ইলমে ইয়াকিন) অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
‌‌تعريف خبر الواحد وأنواعه

12 - بِشَرْطِهِ وأولُ الأَقْسَامِ … سمَّوه مشهوراً وَفِي الأَعْلامِ

13 - مَنْ قَالَ هذَا مُستَفْيِضٌ اسْما … ثَانِيهُمَا لَهُ الْعَزيزُ وَسْمَاَ

14 - وَليسَ شَرطاً لِلصَّحِيْح فاعْلِم … وَقَدْ رُمِي مَنْ قَال بالتَّوهُّمِ

15 - ثَالثُها يَدْعُونه الغَريْبَا … وَالْكُلُّ آحادٌ تَرَى ضُروبا

 

‌‌تقسيم خبر الآحاد إلى مقبول ومردود

16 - فِيهَا أتَى الْمَقْبولُ والْمَرْدُودُ … إذْ هِيَ فِي اْلأحْكَام لَا تُفِيدُ

17 - حَتَّى يَتِمَّ الْبحْثُ عَنْ ثِقَاتِهَا … وَطْرحُ مَن ضُعِّفَ مِن رُوَاتِهَا

18 - وَقدْ يُفِيد العِلْمَ أَعْنِي النَّظَرِيْ … إِذَا أَتتْ قَرائِنٌ لِلْخَبرِ

 

تقسيم الغريب إلى مطلق ونسبي

 

19 - هَذَا علَى الْمُخْتَار والْغَرابَهْ … قِسْمَانِ فِيما قالَ ذُو الإِصَابَهْ

20 - الأولُ الحَاصِلُ فِي أَصْلِ السَّندْ … فسَمِّهِ الْمُطْلَقَ والثَّانِيْ وَرَدْ

21 - فيْما عَدَاه سمِّهِ بالنِّسْبِي … وَهْوُ قَلِيْلٌ ذِكرُه فِي الكُتْبِ

 

تقسيم الخبر المقبول إلى صحيح وحسن

 

22 - وَهْوَ بِنَقلِ الْعَدْل ذِي التَّمَامِ … فِيْ ضَبْطِ مَا يُروَى عن الأْعلامِ

23 - مُتَّصِلاً إسْنادُ مَا يَرْوِيْهِ … لَا عِلَّةٌ ولَا شُذُوْذٌ فِيه

24 - يُدْعَى الصَّحِيْحَ فِي الْعُلومِ عُرْفَا … لِذَاتِهِ وَإِنْ نَظَرْتَ الوَصْفَا
খবরুল ওয়াহিদের সংজ্ঞা ও তার প্রকারভেদ

১২ - তার শর্তানুসারে প্রকারসমূহের প্রথমটি … বিজ্ঞজনগণ তাকে মাশহুর হিসেবে নামকরণ করেছেন।

১৩ - কেউ কেউ একে মুস্তাফিয নামেও অভিহিত করেছেন … আর দ্বিতীয় প্রকারটি আযীয হিসেবে সুপরিচিত।

১৪ - জেনে রেখো, এটি সহীহ হওয়ার জন্য কোনো শর্ত নয় … আর যে ব্যক্তি একে শর্ত বলেছে তাকে ভ্রান্তির শিকার বলে গণ্য করা হয়েছে।

১৫ - তৃতীয় প্রকারকে তারা গরীব বলে অভিহিত করেন … আর এ সবই খবরুল ওয়াহিদের বিভিন্ন ধরন।

 

‌খবরুল আহাদকে মাকবুল ও মর্দুদ হিসেবে ভাগ করা

১৬ - এতে মাকবুল (গ্রহণযোগ্য) এবং মর্দুদ (বর্জনীয়) উভয় প্রকার রয়েছে … কারণ আহকামের ক্ষেত্রে তা (প্রাথমিকভাবে) অকাট্য জ্ঞান প্রদান করে না।

১৭ - যতক্ষণ না এর বিশ্বস্ত রাবীদের নিয়ে অনুসন্ধান সম্পন্ন হয় … এবং এর বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে যাদের দুর্বল বলা হয়েছে তাদের বর্জন না করা হয়।

১৮ - আর এটি কখনো 'নযরী' (পরোক্ষ অকাট্য) জ্ঞান প্রদান করে … যখন বর্ণনার সাথে বিভিন্ন সহায়ক আলামত পাওয়া যায়।

 

গরীব হাদিসকে মুতলাক ও নিসবী হিসেবে ভাগ করা

 

১৯ - এটি পছন্দনীয় মতের ভিত্তিতে, আর গরীব বর্ণনার … দুটি প্রকার রয়েছে যেমনটি সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বলেছেন।

২০ - প্রথমটি যা সনদের মূলে (সাহাবীর স্তরে) ঘটে থাকে … তাকে মুতলাক নামকরণ করো, আর দ্বিতীয় প্রকার যা।

২১ - যা এর অতিরিক্ত অন্য ক্ষেত্রে ঘটে তাকে নিসবী নামকরণ করো … কিতাবসমূহে এর উল্লেখ কম পাওয়া যায়।

 

মাকবুল খবরকে সহীহ ও হাসান হিসেবে ভাগ করা

 

২২ - আর তা হলো পূর্ণাঙ্গ যব্ত (স্মৃতিশক্তি) সম্পন্ন ন্যায়পরায়ণ রাবীর বর্ণনার মাধ্যমে … বরেণ্য ব্যক্তিদের থেকে যা বর্ণিত হয়।

২৩ - তার বর্ণিত সনদে যেন নিরবচ্ছিন্নতা বজায় থাকে … তাতে যেন কোনো ইল্লাত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) বা শুযূয (বিচ্যুতি) না থাকে।

২৪ - শাস্ত্রীয় পরিভাষায় একে সহীহ লি-যাতিহি বলা হয় … যদি তুমি এর বৈশিষ্ট্যাবলীর দিকে লক্ষ্য করো।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
25 - وجَدْتَ فِيه ثابِتًا وأَثْبتَا … لأجلِ هَذا قدَّمُوا مَا قَدْ أَتَى

26 - عَنِ الْبُخارِيْ مِن صَحِيْحٍ أَلَّفَا … وَبَعْدَهُ لِمُسْلمٍ مُصَنَّفَا

27 - وَبَعد ذَا شَرطُهما وإنَّ مَنْ … يَخِفُّ ضَبْطًا فَالذيْ يَروِي الحَسَنْ

28 - لِذاتِهِ وقَدْ يَصِحُّ إن أتَتْ … طُرقٌ له بِكَثْرةٍ تَعَدَّدَتْ

29 - وَإنْ تَرَ الرَّاوِيْ لَه قَدْ جَمَعَا … فِي الْوصْفِ بِالصّحَّةِ وَالْحُسْنِ مَعا

30 - فَإنَّه عِنْدَ انْفِراَدِ مَنْ رَوَى … تَردَّدَ الْعَالِمُ فِي هَذَا وَذا

31 - مَا لَمْ يكُنْ فوَصْفُه بِذَينِ … كَان اعْتِبَاراً مِنه لإِسْنادَينِ

 

‌‌حكم زيادة الثقة وتقسيم الحديث إلى محفوظ وشاذ ومعروف ومنكر

32 - وَإنْ أتَتْ زِيَادَةٌ لِلرَّاوِيةْ … فَإنَّهَا تُقْبلُ لا الْمُنافِيَة

33 - لأَوثقٍ مِنهْ وَمَهما خُولِفَا … بأَرجحٍ فَسمِّهِ مُعَرِّفَا

34 - بِلَفْظَةِ الْمَحْفُوظِ وَالْمُقَابِلَهْ … بِالشَّاذِّ والَمْحفوظُ إنْ يُقابِلهْ

35 - مَا ضعَّفُوا فَذلِكَ الْمَعروفُ … قابَلَهُ المنكرُ والضَّعِيْفُ

 

‌‌الاعتبار والتابع والشاهد

36 - والفردُ نِسْبيّاً إذَا مَا وَافَقَهْ … سِواه سُمِّىْ عِنْدَهُمْ مَا رافَقَهْ

37 - بَتابعٍ بَوَزْنِ لفظِ الوِاحِدِ … وَمتْنُ ما شَبَهه بِالشَّاهِدِ

38 - تَتَبُّعُ الطُرْقِ لِذيْنِ يُدْعَى … بِالاعتِبَارِ نِلْتَ مِنه نَفعا

39 - وَهذه الأقْسَامُ للِمَقْبُولِ … قَالَ بِها جَماعةُ الفُحولِ
২৫ - আপনি তাতে যা সাব্যস্ত এবং অধিকতর সুদৃঢ় পাবেন... এই কারণেই তাঁরা অগ্রাধিকার দিয়েছেন যা বর্ণিত হয়েছে।

২৬ - যা ইমাম বুখারী তাঁর সংকলিত সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; এবং এরপর ইমাম মুসলিমের সংকলন।

২৭ - এরপর সেই হাদিস যা তাঁদের উভয়ের শর্ত অনুযায়ী; আর যার মুখস্থশক্তির প্রখরতা কিছুটা কম, সে যা বর্ণনা করে তা ‘হাসান’ (হাদিস)।

২৮ - এটি স্বকীয়ভাবে হাসান (হাসান লি-জাতিহি); তবে তা ‘সহীহ’ হতে পারে যদি এর অনেকগুলো সূত্র বা পথ পাওয়া যায়।

২৯ - যদি দেখেন যে বর্ণনাকারী একই সাথে ‘সহীহ’ ও ‘হাসান’ উভয় বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন—

৩০ - তবে যদি বর্ণনাকারী বর্ণনার ক্ষেত্রে একাকী হন, তবে আলেম এই দুটির (সহীহ নাকি হাসান) মাঝে দ্বিধাবোধ করেছেন।

৩১ - আর যদি তা (একাকী বর্ণনা) না হয়, তবে এই উভয় পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছে দুই বা ততোধিক সনদের বিবেচনায়।

 

‌‌নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের হুকুম এবং হাদিসকে মাহফুজ, শায, মারুফ ও মুনকার—এই ভাগে বিভক্তিকরণ

৩২ - বর্ণনাকারী যদি কোনো অতিরিক্ত অংশ নিয়ে আসেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে, যদি না তা কোনো (অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনার) বিরোধী হয়।

৩৩ - তাঁর চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর পরিপন্থী হলে; আর যখনই কোনো অধিক অগ্রগণ্য বর্ণনার বিরোধিতা করা হবে, তখন আপনি সেটিকে সংজ্ঞায়িত করবেন—

৩৪ - ‘মাহফুজ’ শব্দ দ্বারা; আর এর বিপরীতে যা থাকে তাকে ‘শায’ বলা হয়। আর মাহফুজের বিপরীতে যদি এমন কিছু থাকে যা—

৩৫ - তাঁরা দুর্বল হিসেবে গণ্য করেছেন, তবে সেটি হবে ‘মারুফ’; আর এর বিপরীতে যা থাকে তাকে ‘মুনকার’ ও ‘যঈফ’ (দুর্বল) বলা হয়।

 

‌‌আল-ইতিবার (পর্যালোচনা), আত-তাবে (অনুসারী) এবং আশ-শাহেদ (সাক্ষ্য)

৩৬ - যখন কোনো ‘ফারদে নিসবী’ বা আপেক্ষিক একক হাদিসের সাথে অন্য কোনো বর্ণনা মিলে যায়, তখন সেই সহগামী বর্ণনাকে তাঁদের নিকট বলা হয়—

৩৭ - ‘তাবে’ বা অনুসারী; আর অনুরূপ মূলপাঠের হাদিসকে ‘শাহেদ’ বলা হয়।

৩৮ - এই দুটির জন্য বিভিন্ন সূত্র বা পথ অনুসন্ধান করাকে বলা হয় ‘ইতিবার’ (পর্যালোচনা); যা থেকে আপনি উপকৃত হতে পারবেন।

৩৯ - গ্রহণযোগ্য হাদিসের এই প্রকারভেদগুলোর কথা প্রাজ্ঞ আলেমগণের জামাত ব্যক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
40 - إنْ لَم يُعارَضْ سمِهِ بِالمُحكمِ … أو مثلُه عارَضَهَ فَلْتَعْلَمِ

41 - بِأنَّه إنْ أَمْكَنَ الجَمْعُ فقُل … مُختِلفُ الحَدِيث أَوْ لَا فَلْتَسَل

42 - عن الأخيرِ مِنْهما إنْ ثَبَتَا … كَانَ هُو النَّاسِخُ وَالثَّانِيْ أَتَى

43 - في رَسْمِه المَنْسوخُ أو لم يُعْرفِ … فَاِرجِعْ إِلَى التَّرجِيْح فِيه أَوْ قِفِ

 

‌‌الخبر المردود وأسباب رده وأقسامه

44 - ثُمَّ لِمَا قَابَلَه أقْسَامُ … أَكْثَرُ مِنْه عدَّهَا الأعْلامُ

45 - فَردُّه إمَّا لِسَقْطٍ فِي السَّندْ … أوْ كَانَ عَنْ طَعْنٍ فَقُلْ فِيْمَا وَرَدْ

*إنَّ السَّقُوطَ وَاضِحٌ وخَافِيْ … فَوَاضحٌ إنْ فُقِدَ التَلافِيْ

*ومِنْ هُنَا احْتِيجَ إلَى التَّارِيْخِ … مُعرِّفاً مَلَاقِيَ الشُّيُوخِ

46 - فَالسَّقْطُ إن كَان مِنَ المَبَادِي … مِنَ الذيْ صَنَّفَ بِالإِسْنَادِ

47 - فَإنَّهمْ يَدْعُونه مُعلَّقَا … أوْ كَانَ مِنْ آخرِهِ نِلْت التُّقَى

48 - وَكَان بَعْدَ التابِعِي فيُدْعَى … بالمُرْسَلِ المعروفِ أو كَان سِوى

49 - هَذَيْنِ فَانْظُرْ إنْ يكُنْ بِاثْنينِ … فَصَاعِدًا مَعَ الْوِلَا فِي ذَيْنِ

50 - فِإنَّه المُعْضَلُ ثُمّ الْمنقطِعْ … مَا لَا تَوَالَى فِي السُّقُوْطِ فَاسْتمِعْ

51 - إنَّ السَّقُوطَ وَاضِحٌ وخَافِيْ … فَوَاضحٌ إنْ فُقِدَ التَلافِيْ

52 - ومِنْ هُنَا احْتِيجَ إلَى التَّارِيْخِ … مُعرِّفاً مَلَاقِيَ الشُّيُوخِ

53 - وسمَّوُا الخَافي بالمُدَلَّسِ … وَرُبَّمَا يَأتِيكَ بِاْلمُلتَبِسِ

54 - كعَنْ وقال مِنْ كلاٍم يَحْتملْ … لِقاءَه لِنَاقِل عنه نَقَل

55 - والمُرسَلُ الخافِي مِنَ المُعاصِرِ … لمْ يَلْقَ مَنْ عَاصَره فَذاكِرِ

 

‌‌أنواع الخبر المردود بسبب الطعن في الراوي

56 - وَالطَّعْنُ إِمَّا أنْ يكون بالكَذِبْ … فسمِّهِ المَوْضوعَ والتَّركُ يَجِبْ

57 - أو تُهْمةٍ كانتْ بهِ لِمنْ رَوَى … فإنه المَتْروكُ اسماً لَا سِوَى

--------------------------------------------

* قال معد الكتاب للشاملة: هذين البيتين ليسا في المطبوع وهما في (الجوامع للمتون العلمية) للشمراني 1/ 478
40 - যদি কোনো বর্ণনা মুহকামের (সুদৃঢ়) বিরোধী না হয় … অথবা এর সমরূপ কোনো বর্ণনা এর বিরোধিতা করে, তবে জেনে রেখো—

41 - যে, যদি (উভয়ের মধ্যে) সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয় তবে বলো … এটি মুখতালিফুল হাদীস; অন্যথায় জিজ্ঞাসা করো—

42 - তাদের মধ্যে সর্বশেষটি সম্পর্কে যদি উভয়টিই সাব্যস্ত হয় … তবে সেটিই হবে নাসিখ (রহিতকারী) এবং দ্বিতীয়টি হলো—

43 - এর বর্ণনায় মানসূখ (রহিত), অথবা যদি (তারিখ) জানা না যায় … তবে সে ক্ষেত্রে তারজীহ (প্রাধান্য প্রদান)-এর দিকে ফিরে যাও অথবা বিরত থাকো।

 

‌‌প্রত্যাখ্যাত বর্ণনা, তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণসমূহ এবং এর প্রকারভেদ

44 - অতঃপর এর বিপরীতের (গৃহীত হাদীসের বিপরীত) অনেক প্রকার রয়েছে … প্রাজ্ঞ আলেমগণ তা এর চেয়েও অধিক বলে গণ্য করেছেন।

45 - সুতরাং এর প্রত্যাখ্যান হয় হয় সনদে বিচ্যুতির কারণে … অথবা বর্ণনার মাঝে কোনো ত্রুটি (তআন) থাকার কারণে; সুতরাং যা বর্ণিত হয়েছে সে বিষয়ে বলো—

*বিচ্যুতি দুই প্রকার—স্পষ্ট এবং গোপন … যদি সাক্ষাতের অভাব পরিলক্ষিত হয়, তবে তা স্পষ্ট বিচ্যুতি।

*আর এ কারণেই ইতিহাসের প্রয়োজন অনুভূত হয় … যা উস্তাদদের সাথে সাক্ষাৎকারীদের পরিচয় করিয়ে দেয়।

46 - সেই বিচ্যুতি যদি (সনদের) শুরুর দিকে হয় … অর্থাৎ যিনি সনদসহ বর্ণনাটি সংকলন করেছেন তার পক্ষ থেকে হয়—

47 - তবে তারা সেটিকে মুআল্লাক নামে অভিহিত করেন … আর যদি তা সনদের শেষ প্রান্ত থেকে হয়, তবে তুমি তাকওয়া অর্জন করো—

48 - এবং তা যদি তাবিঈর পর থেকে হয় তবে তাকে ডাকা হয় … প্রসিদ্ধ মুরসাল নামে; অথবা যদি এই—

49 - দুটি ছাড়া অন্য কিছু হয় তবে দেখো; যদি তা দুই বা ততোধিক বিচ্যুতি হয় … এবং তা যদি ধারাবাহিকভাবে হয়—

50 - তবে সেটি মুদাল; অতঃপর যা ধারাবাহিকভাবে বিচ্যুত নয় তাকে মুনকাতি' বলা হয় … সুতরাং মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করো।

51 - বিচ্যুতি দুই প্রকার—স্পষ্ট ও গোপন … যদি সাক্ষাতের অভাব পরিলক্ষিত হয় তবে তা স্পষ্ট বিচ্যুতি।

52 - আর এ কারণেই ইতিহাসের প্রয়োজন অনুভূত হয় … যা উস্তাদদের সাথে সাক্ষাৎকারীদের পরিচয় করিয়ে দেয়।

53 - আর তারা গোপন বিচ্যুতিকে মুদাল্লাস নামে নামকরণ করেছেন … এবং কখনও কখনও তা তোমার কাছে অস্পষ্টভাবে আসতে পারে।

54 - যেমন ‘আন’ (হতে) এবং ‘ক্বলা’ (বলেছেন) এর মতো শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে যা … বর্ণনাকারীর সাথে তার উস্তাদের সাক্ষাতের সম্ভাবনা রাখে।

55 - আর মুরসালে খাফী হলো সমসাময়িক ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন বর্ণনা … যে তার সমসাময়িক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেনি, সুতরাং এটি স্মরণ রেখো।

 

‌‌বর্ণনাকারীর ত্রুটির (তআন) কারণে প্রত্যাখ্যাত বর্ণনার প্রকারভেদ

56 - আর ত্রুটি (তআন) যদি মিথ্যার কারণে হয় … তবে তাকে মাওযূ' (জাল) বলো এবং তা বর্জন করা আবশ্যক।

57 - অথবা যদি বর্ণনাকারীর ওপর মিথ্যার অভিযোগ থাকে … তবে সেটি কেবল মাত্রূক (পরিত্যক্ত) নামেই অভিহিত হয়।

--------------------------------------------

* শামেলার জন্য কিতাব প্রস্তুতকারী বলেছেন: এই দুটি পঙক্তি মুদ্রিত কপিতে নেই, তবে এগুলো শামরানী রচিত 'আল-জাওয়ামি' লিল-মুতুন আল-ইলমিয়্যাহ' (১/৪৭৮) কিতাবে পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
58 - أو غَلطٍ فِيْه يَكُون فَاحِشاً … أو غَفْلَةٍ، أو يفعلُ الفَوَاحِشَا

59 - مما به يَفْسُقُ فادْعُ الكُلَاّ … بِمنكَرٍ أو وَهْمِهِ فِي الإِمْلا

60 - والوَهمُ إن عرِفَ بالقَرَائنِ … والجمْعَ للطُرْقِ مَعَ التبايُنِ

61 - فَسمِّهِ معلَّلاً وإنْ طُعِنْ … بأنه خَالَف مَوثوقاً أُمِنْ

62 - فَإنْ يَكُنْ غيَّرَ فِي السِّياقِ … فْمُدْرَجُ الإِسْنادِ باتِّفَاقِ

63 - أوْ أَدْمَجَ المَوْقوفَ بالمَرَفُوعِ … فُمْدرجُ المتن لَدى الجَمِيعِ

64 - أَو كاَن بالتَّقْديمِ وَالتَّأخِيْرِ … فإنه الْمَقْلُوبُ فِي المَأثورِ

*وَرُبَّما لِلامْتِحَانِ يُفْعَلُ … عَمْداً وَفيه قِصَّةٌ لا تُجهَلُ

65 - أوْ زِيدَ راوٍ سمِّهِ المَزيْدَ فِيْ … مُتَّصِلِ الإِسْنَادِ فِيْه واكْتفِي

56 - وَالطَّعْنُ إِمَّا أنْ يكون بالكَذِبْ … فسمِّهِ المَوْضوعَ والتَّركُ يَجِبْ

57 - أو تُهْمةٍ كانتْ بهِ لِمنْ رَوَى … فإنه المَتْروكُ اسماً لَا سِوَى

58 - أو غَلطٍ فِيْه يَكُون فَاحِشاً … أو غَفْلَةٍ، أو يفعلُ الفَوَاحِشَا

59 - مما به يَفْسُقُ فادْعُ الكُلَاّ … بِمنكَرٍ أو وَهْمِهِ فِي الإِمْلا

60 - والوَهمُ إن عرِفَ بالقَرَائنِ … والجمْعَ للطُرْقِ مَعَ التبايُنِ

61 - فَسمِّهِ معلَّلاً وإنْ طُعِنْ … بأنه خَالَف مَوثوقاً أُمِنْ

62 - فَإنْ يَكُنْ غيَّرَ فِي السِّياقِ … فْمُدْرَجُ الإِسْنادِ باتِّفَاقِ

63 - أوْ أَدْمَجَ المَوْقوفَ بالمَرَفُوعِ … فُمْدرجُ المتن لَدى الجَمِيعِ

64 - أَو كاَن بالتَّقْديمِ وَالتَّأخِيْرِ … فإنه الْمَقْلُوبُ فِي المَأثورِ

" … وَرُبَّما لِلامْتِحَانِ يُفْعَلُ … عَمْداً وَفيه قِصَّةٌ لا تُجهَلُ

65 - أوْ زِيدَ راوٍ سمِّهِ المَزيْدَ فِيْ … مُتَّصِلِ الإِسْنَادِ فِيْه واكْتفِي

66 - أوْ كاِنَ إبْدَالاً بِلا مرُجَّحِ … فسمِّهِ مُضْطَرِبًا واطَّرِحِ

67 - وربَّمَا للامتحان يُفْعَلُ … عمداً وَفيِهِ قصَّةٌ لا تٌجهَلُ

68 - أوْ كَان بالتَّغْيِيرِ لِلْحُرُوفِ … معَ بَقَا سِيَاقِهِ المَعْرُوفِ

69 - فسمِّهِ المُصحَّفَ الْمُحرَّفَا … هَذا وَحَرِّمْ مِنْهمُ التَّصَرُّفَا

70 - بِالَنّقْصِ والمُرادفِ الشَّهِيْرِ … لِلْمَتْنِ عَمْدًا فِيْهِ بِالتَّغْيِيْر

71 - إِلَاّ لِمَنْ يَعْلَمُ المَعَانِيْ … ومَا يُحِيْلُ اللَّفْظَ والمَبَانِيْ

72 - فإنْ خَفِي معَنْاهُ احْتِيْجَ إلَى … شَرْحِ غَرِيْبٍ مُوضِحٍ مَا أشْكَلَا

73 - أَوْ جَهْلُهُ لأَجْلِ نَعْتٍ يَكثُرُ … وجَاءَ بِالأْخَفْى وَمَا لا يَشْهَرُ

74 - وَصَنَّفُوا الْمُوضِحَ فِي ذَا الْمَعْنَى … أزَالَ مَا أشْكَلَ مِنه عَنَّا

75 - أو أَنَّه كَان مُقِلا ثمَّ لا … يكثُرُ عنه الآخِذُون النُبَلَا

76 - وَصنَّفُوا الوُحْدَانَ فِي هَذَا فَإنْ … لم يُذْكَرِ الاسِمُ اخْتِصارًا فاسْتَبِن

77 - وَالمُبْهمَاتُ صُنِّفتْ فِي هَذَا … وفِي سوِاهَا لَم نَجِدْ مَلَاذا

78 - والمُبهمُ الرَاويُّ فِي الْمَقْبُولِ … ولَوْ أَتَى بِلَفْظَةِ التَّعْدِيْلِ

79 - لا يُقْبلَنْ علَى الأصَحِّ حُكْمَا … وإنْ يكُنْ مَن قدْ رَوىَ مُسَمَّى

80 - فإِنْ تَرَا الآخِذَ عَنه واحِدَا … أو كانَ اثْنَيْنِ رَوَواْ فَصَاعِدَا

81 - فَالأَولُ الْمَجْهُولُ أعْنِي عَيْنَا … والثانِيُ المَجهُولُ حَالاً فِيْنَا

82 - وَهْوَ الذِي يَدْعُونَه الْمَسْتُورَا … إنْ لم يُوثَّقْ سَلْ به خَبِيْرَا

--------------------------------------------

* قال معد الكتاب للشاملة: هذا البيت ليس في المطبوع وهو في (الجوامع للمتون العلمية) للشمراني 1/ 478
৫৮ - অথবা তাতে এমন ভুল যা অত্যন্ত জঘন্য … অথবা গাফিলতি, কিংবা সে অশ্লীল কাজ করে

৫৯ - যার কারণে সে ফাসেক হয়ে যায়, তবে সবগুলোকে ডাকো … মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) নামে অথবা শ্রুতিলিখনে তার বিভ্রমের কারণে

৬০ - আর বিভ্রম (ওয়াহম) যদি বিভিন্ন আলামতের মাধ্যমে জানা যায় … এবং ভিন্নতা সত্ত্বেও সনদ বা সূত্রের সমাবেশ ঘটানো হয়

৬১ - তবে তাকে মুআল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) নামকরণ করো। আর যদি আপত্তি করা হয় … এই কারণে যে, সে কোনো নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত রাবীর বিরোধিতা করেছে

৬২ - অতঃপর যদি সে বাচনিক বিন্যাসে পরিবর্তন ঘটায় … তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা ‘মুদরাজুল ইসনাদ’ (সনদে অনুপ্রবিষ্ট)

৬৩ - অথবা যদি মাওকুফকে মারফু এর সাথে মিশিয়ে দেয় … তবে সকলের নিকট তা ‘মুদরাজুল মাতন’ (মূল পাঠে অনুপ্রবিষ্ট)

৬৪ - অথবা যদি আগে-পাছে করার মাধ্যমে হয় … তবে বর্ণিত রেওয়ায়েতে সেটি ‘মাকলুব’ (উল্টে দেওয়া)

*এবং কখনো কখনো পরীক্ষার জন্য এমনটি করা হয় … উদ্দেশ্যমূলকভাবে, আর এতে এমন এক কাহিনী রয়েছে যা অজানা নয়

৬৫ - অথবা যদি কোনো রাবীকে বৃদ্ধি করা হয়, তবে তাকে ‘মাজিদ ফী মুত্তাসিলিল আসানিদ’ (সংযুক্ত সনদে অতিরিক্ত) বলো এবং এতেই ক্ষান্ত হও

৫৬ - আর রাবীর প্রতি আপত্তি হয় মিথ্যারোপের কারণে হবে … তবে তাকে ‘মাওদু’ (জাল) বলো এবং তা বর্জন করা ওয়াজিব

৫৭ - অথবা রাবীর প্রতি মিথ্যার অপবাদ থাকার কারণে হবে … তবে নামগতভাবে সেটি কেবল ‘মাতরুক’ (পরিত্যক্ত)

৫৮ - অথবা তাতে এমন ভুল যা অত্যন্ত জঘন্য … অথবা গাফিলতি, কিংবা সে অশ্লীল কাজ করে

৫৯ - যার কারণে সে ফাসেক হয়ে যায়, তবে সবগুলোকে ডাকো … মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) নামে অথবা শ্রুতিলিখনে তার বিভ্রমের কারণে

৬০ - আর বিভ্রম (ওয়াহম) যদি বিভিন্ন আলামতের মাধ্যমে জানা যায় … এবং ভিন্নতা সত্ত্বেও সনদ বা সূত্রের সমাবেশ ঘটানো হয়

৬১ - তবে তাকে মুআল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) নামকরণ করো। আর যদি আপত্তি করা হয় … এই কারণে যে, সে কোনো নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত রাবীর বিরোধিতা করেছে

৬২ - অতঃপর যদি সে বাচনিক বিন্যাসে পরিবর্তন ঘটায় … তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা ‘মুদরাজুল ইসনাদ’ (সনদে অনুপ্রবিষ্ট)

৬৩ - অথবা যদি মাওকুফকে মারফু এর সাথে মিশিয়ে দেয় … তবে সকলের নিকট তা ‘মুদরাজুল মাতন’ (মূল পাঠে অনুপ্রবিষ্ট)

৬৪ - অথবা যদি আগে-পাছে করার মাধ্যমে হয় … তবে বর্ণিত রেওয়ায়েতে সেটি ‘মাকলুব’ (উল্টে দেওয়া)

" … এবং কখনো কখনো পরীক্ষার জন্য এমনটি করা হয় … উদ্দেশ্যমূলকভাবে, আর এতে এমন এক কাহিনী রয়েছে যা অজানা নয়

৬৫ - অথবা যদি কোনো রাবীকে বৃদ্ধি করা হয়, তবে তাকে ‘মাজিদ ফী মুত্তাসিলিল আসানিদ’ (সংযুক্ত সনদে অতিরিক্ত) বলো এবং এতেই ক্ষান্ত হও

৬৬ - অথবা যদি প্রাধান্য দেওয়ার মতো কোনো কারণ ছাড়াই রাবী বদল করা হয় … তবে তাকে ‘মুতরারিব’ (অস্থিতিশীল) বলো এবং তা প্রত্যাখ্যান করো

৬৭ - এবং কখনো কখনো পরীক্ষার জন্য এমনটি করা হয় … উদ্দেশ্যমূলকভাবে, আর এতে এমন এক কাহিনী রয়েছে যা অজানা নয়

৬৮ - অথবা যদি তা বর্ণের পরিবর্তনের মাধ্যমে হয় … তার পরিচিত বিন্যাস ঠিক থাকা সত্ত্বেও

৬৯ - তবে তাকে ‘মুসাহহাফ’ ও ‘মুহাররাফ’ নামকরণ করো … আর এদের জন্য (হাদিসের পাঠে) পরিবর্তন সাধন করাকে হারাম ঘোষণা করো

৭০ - কোনো অংশ কমিয়ে দিয়ে কিংবা অতি পরিচিত সমার্থক শব্দ দিয়ে … উদ্দেশ্যমূলকভাবে মূল পাঠে পরিবর্তনের মাধ্যমে

৭১ - কিন্তু তার জন্য বৈধ যে অর্থ সম্পর্কে অবগত … এবং যা শব্দ ও গঠনকে পরিবর্তন করে দেয় না (সে বিষয়েও জ্ঞান রাখে)

৭২ - অতঃপর যদি তার অর্থ অস্পষ্ট হয়, তবে প্রয়োজন হবে … ‘গারিব’ শব্দের ব্যাখ্যার যা অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করে দেয়

৭৩ - অথবা রাবী সম্পর্কে অজ্ঞতা তার অনেকগুলো গুণ থাকার কারণে হয় … আর সে এমন অপ্রসিদ্ধ ও অখ্যাত গুণাবলি নিয়ে আসে যা পরিচিত নয়

৭৪ - আর আলেমগণ এই বিষয়ে ‘আল-মুদিহ’ (স্পষ্টকারী) গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন … যা আমাদের নিকট থেকে জটিলতা দূর করে দিয়েছে

৭৫ - অথবা রাবী এমন হয় যে তার হাদিস বর্ণনার সংখ্যা খুব কম, ফলে … তার থেকে হাদিস গ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ আলেমদের সংখ্যাও অধিক নয়

৭৬ - আলেমগণ এই বিষয়ে ‘আল-উহদান’ (যাদের মাত্র একজন রাবী আছে) গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। অতঃপর যদি … সংক্ষিপ্ত করার জন্য নাম উল্লেখ না করা হয়, তবে তা অনুসন্ধান করো

৭৭ - আর ‘মুহামাত’ (অস্পষ্ট রাবীগণ) বিষয়ে কিতাব রচিত হয়েছে … এটি ছাড়া অন্য কোথাও আমরা কোনো আশ্রয় খুঁজে পাইনি

৭৮ - আর মাকবুল (গৃহীত) হাদিসের অস্পষ্ট রাবী … যদিও তাকে তা'দিল বা ন্যায়পরায়ণতার শব্দে ভূষিত করা হয়

৭৯ - বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী তাকে গ্রহণ করা হবে না … আর যদি বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়

৮০ - তবে যদি দেখ যে তার থেকে গ্রহণকারী মাত্র একজন … অথবা দুজন কিংবা তার বেশি রাবী বর্ণনা করেছেন

৮১ - তবে প্রথমজন হলো ‘মাজহুলুল আইন’ (যার পরিচয় অজ্ঞাত) … আর দ্বিতীয়জন আমাদের নিকট ‘মাজহুলুল হাল’ (যার অবস্থা অজ্ঞাত)

৮২ - আর সে হলো ওই ব্যক্তি যাকে আলেমগণ ‘মাস্তুর’ (গোপন) বলে ডাকেন … যদি তাকে নির্ভরযোগ্য বলে প্রত্যয়ন করা না হয়, তবে এ বিষয়ে কোনো বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞেস করো।

--------------------------------------------

* গ্রন্থের সংকলক শামেলার জন্য বলেছেন: এই কবিতাটি মুদ্রিত সংস্করণে নেই, তবে শমরানীর (আল-জাওয়ামি লিল-মুতুন আল-ইলমিয়া) গ্রন্থের ১/৪৭৮ পৃষ্ঠায় এটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭০)
83 - وَالابتداعُ بِالذِي يُكَفِّرُ … يُرَدُّ مَنْ لابَسه وَيُزْجَرُ

84 - لَا بِالذِيْ فُسِّقَ فَهو يُقْبَلُ … ما لم يَكُن دَاعِيةً ويَنْقُلُ

85 - رِوايَةً تُقوِّيْ ابِتدَاعَه … هَذا الذِي اخْتَارَه الجَماعَه

86 - صَرّحَ بِهْ شَيخُ الإِمَامِ النسَّائِيْ … الِجَوْزجَانِيْ ثُم خُذْ مِن نَبَائِيْ

87 - بانَّ سُوءَ الْحِفظِ فِي الرُّواةِ … قِسْمانِ فِي مَقَالَةِ الأَثْبَاتِ

88 - مُلَازِمٌ فَالشَّاذُ مَا يَرْوِيْهِ … فِي رَأي بَعْضٍ والذِيْ يَلِيْهِ

89 - طارٍ وَذَا مُخْتلِطٌ وِفَاقَا … وَكُلُّ مَا نَظْمِيْ لَه قد سَاقَا

90 - مِنْ سَيِّئ الْحِفْظِ ومِنْ مَستُورْ … وَمُرْسِلٍ مُدَلِّسٍ مَذكُورْ

91 - إنْ تُوبِعَتْ بِمَنْ يُرى مُعتَبَرا … حُسِّنَ مَجْمُوعُ الذِيْ قَد ذُكِرَا

 

‌‌تقسيم الخبر إلى مرفوع وموقوف ومقطوع

92 - وإنْ تَجِدْه يَنْتَهي الإِسنادُ … إلَى الرَّسُولِ خَيْرِ منَ قَد سَادُوا

93 - إمَّا صَريِحًا أو يَكُون حُكْما … مِنْ قَوْلِه أو أخَوَيْهِ جَزْما

94 - أَوْ يَنْتهِيَ إلَى الصَّحَابِيِّ الّذِي … باِلوصْفِ بِالإِيْمانِ قَد لَاقَى النَّبِيْ

95 - وَمَاتَ بَعدُ مُسلِماً وإنْ أتَى … بِرِدَّةٍ تخَلَّلَتْ أوِ انْتَهَى

96 - الِتابِعِيٍّ هو مَنْ يُلاقِيْ … أَيَّ صَحَابِيّ مَعَ الْوِفاَقِ

97 - واَلكلُّ بِالتَّصرِيْحِ أوْ بِالْحُكْمِ … كمَا تَقضَّى آنِفاً فِيْ نَظمِيْ

98 - فَالأَوَّلُ المَرْفُوعُ والمَوْقُوْفُ … يُدعَى بِهِ الثَّانِي وَالْمَعْرُوفُ

99 - تَسْمِيَةُ الثَّاِلثِ بِالْمَقْطُوْعِ … وَفِيْ سِوَاهُ لَيْس بِالْمَمْنُوْعِ

100 - وَقدْ يُسَمُّونَ الأخِيْرَيْنِ الأْثَرْ … وَالمُسنَدُ المَذكورُ فِيْ

96 - الِتابِعِيٍّ هو مَنْ يُلاقِيْ … أَيَّ صَحَابِيّ مَعَ الْوِفاَقِ

97 - واَلكلُّ بِالتَّصرِيْحِ أوْ بِالْحُكْمِ … كمَا تَقضَّى آنِفاً فِيْ نَظمِيْ (1)

98 - فَالأَوَّلُ المَرْفُوعُ والمَوْقُوْفُ … يُدعَى بِهِ الثَّانِي وَالْمَعْرُوفُ

99 - تَسْمِيَةُ الثَّاِلثِ بِالْمَقْطُوْعِ … وَفِيْ سِوَاهُ لَيْس بِالْمَمْنُوْعِ

100 - وَقدْ يُسَمُّونَ الأخِيْرَيْنِ الأْثَرْ … وَالمُسنَدُ المَذكورُ فِيْ نَوْع الخَبَرْ

--------------------------------------------

هذا البيت في مطبوعات هذه المنظومة وكذا في مطبوع شرحها رغم عدم وجوده في النسختين المعتمد عليهما في تحقيق هذه المنظومة، ويزداد الأمر غرابة كون إحدى هاتين النسختين راجعه المؤلف (الناظم) ابن الأمير رحمه الله!!
83 - আর সেই বিদআত যা কুফরের অন্তর্ভুক্ত... যে তাতে লিপ্ত থাকে তাকে প্রত্যাখ্যান ও তিরস্কার করা হয়।

84 - তবে সেই বিদআত নয় যার কারণে কেবল ফাসেক সাব্যস্ত করা হয়, এমতাবস্থায় তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে যতক্ষণ না সে সেই বিদআতের দিকে আহ্বানকারী হয় এবং বর্ণনা করে...

85 - এমন কোনো বর্ণনা যা তার বিদআতকে শক্তিশালী করে; এটিই জমহুর উলামাগণ মনোনীত করেছেন।

86 - এটি ইমাম নাসায়ীর উস্তাদ আল-জাওযাজানি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন; এরপর আমার বার্তা গ্রহণ করো।

87 - নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গের নিকট বর্ণনাকারীদের স্মৃতির দুর্বলতা দুই প্রকার।

88 - যা স্থায়ী, ফলে কারো কারো মতে তার বর্ণিত হাদিস 'শায' হিসেবে গণ্য হয়; এবং পরবর্তীটি...

89 - যা আকস্মিক, সর্বসম্মতভাবে একে 'মুখতালিত' বলা হয়। আর আমার কাব্য যা কিছু উপস্থাপন করেছে...

90 - দুর্বল স্মৃতিসম্পন্ন, মাসতূর, মুরসাল এবং উল্লিখিত মুদাল্লিস হতে।

91 - যদি এগুলো এমন কারো মাধ্যমে সমর্থিত হয় যাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে উল্লিখিত সবগুলোর সমষ্টি 'হাসান' স্তরে উন্নীত হবে।

 

‌‌খবরকে মারফূ, মাওকূফ ও মাকতূ-এ বিভক্তিকরণ

92 - যদি তুমি পাও যে সনদের সমাপ্তি রাসুল পর্যন্ত পৌঁছেছে, যিনি সকল নেতার মাঝে সর্বোত্তম।

93 - চাই তা স্পষ্টভাবে হোক অথবা হুকমান (পরোক্ষভাবে), তাঁর কথা থেকে হোক কিংবা নিশ্চিতভাবে তাঁর অন্য দুটি (কাজ ও মৌনসম্মতি) থেকে।

94 - অথবা যদি সনদের শেষ হয় সেই সাহাবী পর্যন্ত, যিনি ঈমানের বৈশিষ্ট্যের সাথে নবীজির সাক্ষাৎ লাভ করেছেন।

95 - এবং পরবর্তীতে মুসলিম হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন, যদিও মাঝখানে ধর্মত্যাগ ঘটে থাকে। অথবা যদি সনদ শেষ হয়...

96 - তাবিঈ পর্যন্ত; তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমানের সাথে যেকোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন।

97 - এর প্রতিটিই স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে হতে পারে অথবা হুকমান, যেমনটি পূর্বে আমার কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

98 - প্রথমটি 'মারফূ' এবং দ্বিতীয়টি 'মাওকূফ' নামে অভিহিত হয় এবং এটিই প্রসিদ্ধ।

99 - তৃতীয় প্রকারের নামকরণ হলো 'মাকতূ', এবং অন্য ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়।

100 - কখনো কখনো শেষোক্ত দুই প্রকারকে 'আসার' বলা হয়; আর উল্লিখিত 'মুসনাদ'...

96 - তাবিঈ পর্যন্ত; তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমানের সাথে যেকোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন।

97 - এর প্রতিটিই স্পষ্ট বক্তব্যের মাধ্যমে হতে পারে অথবা হুকমান, যেমনটি পূর্বে আমার কাব্যে বর্ণিত হয়েছে। (১)

98 - প্রথমটি 'মারফূ' এবং দ্বিতীয়টি 'মাওকূফ' নামে অভিহিত হয় এবং এটিই প্রসিদ্ধ।

99 - তৃতীয় প্রকারের নামকরণ হলো 'মাকতূ', এবং অন্য ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়।

100 - কখনো কখনো শেষোক্ত দুই প্রকারকে 'আসার' বলা হয়; আর সংবাদের প্রকারভেদে উল্লিখিত 'মুসনাদ'...

--------------------------------------------

এই পঙক্তিটি অত্র কাব্যগ্রন্থের মুদ্রিত কপিগুলোতে এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের মুদ্রিত কপিতে বিদ্যমান থাকলেও, কাব্যগ্রন্থটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে যে দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা হয়েছে তাতে এটি অনুপস্থিত। বিষয়টি আরও আশ্চর্যজনক এই কারণে যে, এই পাণ্ডুলিপি দুটির একটি স্বয়ং গ্রন্থকার (নাযিম) ইবনুল আমির রহ.-এর পর্যালোচিত ছিল!
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭১)
101 - ما كَانَ مرفُوعَ الصَّحَابِيِّ الذِيْ … فِيْهِ اتَّصَالٌ ظَاهِرٌ غَيْرُ خَفِيْ

 

‌‌العلو والنزول

102 - نَعمْ وإنْ قَلَّ الرُّوَاةُ عَدَدَا … ثُمّ انْتَهَى إلَى الرَّسُولِ أحْمَدَا

103 - فهُو الْعُلوُّ مُطْلقًا أو انْتَهَى … إلىَ فَتىً كَشُعْبةٍ فِي النُّبَهَا

104 - فَإنَّه النِّسْبِيْ وَفْيِه مَا تَرَى … مِنْ كْل قِسْمٍ بَيَّنتْهُ الْكُبَرَا

105 - أوَّلُهَا يَدْعُونَه المُوافَقَهْ … وَبَعْدَهَا اْلإِبْدَالُ فِيْمَا حَقَّقَهْ

106 - إذَا وَصَلَ الرَّاوِيْ إلى شَيْخ أحَدْ … مُصَنِّفِي الأْخْبَار لَكِنِ انْفَرَدْ

107 - بِطُرْقِهِ عَنْ طَريقِ الْمُصَنِّفِ … فهذِهِ الأُولى بِلا تَوقُّفِ

108 - ثَانِيُّهَا اْلإِبْدَالُ وَهْيَ مِثْلُه … لَكِن شَيْخَ الشَّيخِ كاَنَ وَصْلَه

109 - أو اْستَوَى الْعَدَدُ فِي الرُّواَةِ … مَعْ وَاحِد مُصَنِّفٍ وَيأتِيْ

110 - فَإنَّهَا معنى الْمُسَاوَاة وَمَا … يَتْبعُها مُصافَحَاتُ العُلَمَا

111 - وهِي الْمُسَاواةُ مَعْ تِلْمِيذِ مَنْ … صَنّفَ بالشَّرطِ فخُذْهَا واسْمَعَنْ

112 - مُقَابِلُ الْعُلُّوِ فِيْ أقْسَامِهْ … هُوَ النُّزولُ خُذْهُ مِنْ أحْكَامِهْ

 

‌‌الأقران والمدبّج

113 - إنْ شَارَك الرَّاوِيَّ مَنْ عَنْه رَوَى … في السِّنِ أوْ كَانَ اشْتِراكَاً فِي الِّلقَا

114 - فَسَمِّهِ اْلأقْرَانَ ثُم إنْ أتَى … يَرْوِيْهِ ذَا عَنْ ذَا وَهَذَا عَنْه ذَا

115 - فَإنَّه مُدبًجٌ هَذَا ومَنْ … يَرويْهِ عَمَّنْ دُونَه فلْتَعلَمَنْ

 

‌‌رواية الأكابر عن الأصاغر والعكس

116 - بِأَنَّه رِوايَةُ الأَكَابرِ … كَالأْبِ عَنْ ابْنٍ عَنْ الأْصَاغِرِ
101 - সাহাবীর মারফূ বর্ণনা যাতে... স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নিরবচ্ছিন্নতা বিদ্যমান।

 

‌‌উচ্চ ও নিম্ন সনদ

102 - হ্যাঁ, বর্ণনাকারীর সংখ্যা যদি কম হয়... অতঃপর তা রাসূল আহমাদ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে।

103 - তবে তা নিরঙ্কুশ উচ্চতা; অথবা তা যদি প্রাজ্ঞদের মধ্যে শু'বার মতো কোনো ব্যক্তিত্ব পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছে।

104 - তবে তা আপেক্ষিক উচ্চতা, এবং এতে আপনি এমন কিছু প্রকারভেদ দেখতে পাবেন যা বড় ইমামগণ বর্ণনা করেছেন।

105 - এর প্রথম প্রকারকে তারা 'সামঞ্জস্য' বলেন... এবং এরপর হলো 'বিনিময়', যা গবেষকগণ সাব্যস্ত করেছেন।

106 - যখন বর্ণনাকারী হাদীস সংকলকদের কোনো একজন উস্তাদ পর্যন্ত পৌঁছান... কিন্তু তিনি যদি সংকলকের সূত্রের বাইরে—

107 - অন্য সূত্রের মাধ্যমে পৌঁছাতে একক হয়ে যান; তবে এটিই প্রথম প্রকার, এতে কোনো দ্বিধা নেই।

108 - এর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো বিনিময়, যা পূর্বেরটির মতোই... তবে এক্ষেত্রে উস্তাদের উস্তাদ পর্যন্ত পৌঁছানোই সংযোগস্থল হয়।

109 - অথবা যদি কোনো সংকলকের সাথে বর্ণনাকারীর সংখ্যা সমান হয়ে যায় এবং তা সামনে আসে—

110 - তবে তা সমতা অর্থে ব্যবহৃত হয়; আর একে অনুসরণ করে আলেমগণের 'করমর্দন'।

111 - আর তা হলো শর্তসাপেক্ষে সংকলকের ছাত্রের সাথে সংখ্যার সমতা হওয়া; সুতরাং এটি গ্রহণ করুন এবং শ্রবণ করুন।

112 - উচ্চতার বিপরীত হলো নিম্নতা; এর বিধিবিধানসমূহ থেকে এটি জেনে নিন।

 

‌‌সমবয়স্ক ও মুদাব্বাজ

113 - বর্ণনাকারী যদি এমন কারো সাথে অংশীদার হন যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন—বয়সের ক্ষেত্রে অথবা সাক্ষাতের ক্ষেত্রে—

114 - তবে একে 'সমবয়স্ক' নামে অভিহিত করুন। অতঃপর যদি এমন হয় যে, এই ব্যক্তি ওই ব্যক্তির থেকে এবং ওই ব্যক্তি এই ব্যক্তির থেকে বর্ণনা করে—

115 - তবে তা হলো 'মুদাব্বাজ'। আর যে ব্যক্তি তার অপেক্ষাকৃত অনুজ কারো থেকে বর্ণনা করে, তা জেনে রাখুন—

 

‌‌ছোটদের থেকে বড়দের বর্ণনা এবং এর বিপরীত

116 - তা হলো বড়দের বর্ণনা... যেমন পিতা কর্তৃক পুত্রের তথা ছোটদের থেকে বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭২)
117 - وعَكْسُه هُوَ الطَّرِيْقُ الْغَالِبُ … أمْثَالَهُ بَحْرٌ فَلَا يُغَالَبُ

 

‌‌معرفة السابق واللاحق

118 - وَاثْنَانِ إنْ يَشْتَرِكَا عَن الرَّاوِيْ … ومَاتَ فَرْدٌ مِنْهُمَا فَالثَّاوِيْ

119 - إذَا رَوَى عَنْه فَهَذَا السَّابِقُ … فِيْ رَسمِه عِنْدَهُمو وَاللَاّحِقُ

 

‌‌معرفة المُهمل والفرق بينه وبين المُبهم

120 - وإَنْ روى عن رجُليَن اتَفقا … اسْماً ومَا مُيِّزَا مَا يَفْترِقا

121 - بِه فَباخْتِصَاصِه بِوَاحِد … تَبَيُّنُ الْمُهْمِلِ عِندَ النَّاقِدِ

 

‌‌من حَدَّثَ ونسِيْ

122 - وَالشَّيخُ إنْ أَنْكَرَ جَزْماً مَا رَوَى … رُدَّ عَلَى رَاوِيْهِ ما عَنهُ أَتَى

123 - أوِ احْتِمَالاً فَالأَصَحُّ أنَّهُ لَا … يُرَدُّ مَا يَرْويْهِ عَنْهُ نَقَلا

124 - وفِيْهِ مَنْ حَدَّثَ قَوْمُا وَنَسِيْ … هَذَا وَإنْ يَتَّفِقِ المُؤَدِّي

 

‌‌المُسَلْسَلُ

125 - مِمَّن رَوَوْا فِيْ صِيَغ من الأَدَا … أوْ غَيرِهَا مِنْ أيَّ حَالٍ أورَدَا

126 - فَإنَّهمُ يَدْعُونَه المُسَلْسَلَا … ولِلأدَا كَمْ صِيغَةٍ بَيْن الْمَلَا
১১৭ - এবং এর বিপরীতটিই হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুসৃত পথ … এর দৃষ্টান্তসমূহ এক সমুদ্রের মতো যা অতিক্রম করা যায় না।

 

‌‌সাবিক (পূর্ববর্তী) এবং লাহিক (পরবর্তী) সম্পর্কে জ্ঞান

১১৮ - আর দুইজন বর্ণনাকারী যদি একই রাবীর থেকে বর্ণনায় শরিক হন … অতঃপর তাদের একজন আগে মৃত্যুবরণ করেন, আর অপরজন দীর্ঘজীবী হন—

১১৯ - তবে যখন তিনি তার থেকে বর্ণনা করেন, তখন এটিই তাদের পরিভাষায় ‘সাবিক’ … এবং ‘লাহিক’ হিসেবে গণ্য।

 

‌‌মুহমাল (অনির্ধারিত) সম্পর্কে জ্ঞান এবং এর ও মুবহামের মধ্যকার পার্থক্য

১২০ - আর যদি কেউ এমন দুইজন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন যারা নামে এক … এবং তাদের পার্থক্য করা না যায়, তবে তারা পৃথক হবে না।

১২১ - বরং কোনো একজনের সাথে বিশেষ সম্পর্কের মাধ্যমেই … সমালোচকের নিকট ‘মুহমাল’ রাবীর পরিচয় স্পষ্ট হয়।

 

‌‌যিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন অতঃপর তা ভুলে গেছেন

১২২ - আর শায়খ যদি নিজের বর্ণিত হাদিসকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন … তবে তার থেকে যা এসেছে তা বর্ণনাকারীর ওপর প্রত্যাখ্যান করা হবে।

১২৩ - অথবা যদি কেবল সম্ভাবনার ভিত্তিতে (অস্বীকার করেন), তবে বিশুদ্ধতম মত হলো তা … প্রত্যাখ্যাত হবে না যা বর্ণনাকারী তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

১২৪ - আর যারা লোকদের নিকট হাদিস বর্ণনা করে তা ভুলে গেছেন তাদের বিষয়েও এই একই কথা … আর যদি বর্ণনাকারীগণ (পদ্ধতির ক্ষেত্রে) একমত হন—

 

‌‌মুসালসাল

১২৫ - বর্ণনাকারীগণ হাদিস বর্ণনার শব্দাবলির ক্ষেত্রে অথবা অন্য কোনো অবস্থায় … যেভাবে তারা বর্ণনা করেছেন (তা যদি ধারাবাহিকভাবে একই পদ্ধতিতে আসে),

১২৬ - তবে তারা একে ‘মুসালসাল’ নামে অভিহিত করেন … আর জনসমক্ষে হাদিস বর্ণনার কতই না শব্দাবলি ও পদ্ধতি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
‌‌صِيَغُ الأَدَاءِ وتحَمُّلِ الحَدِيثِ

127 - سَمِعْتُه حَدَثَّنِيْ لِمَنْ سَمِعْ … مِنْ لَفظ شَيْخٍ باِنْفرَادِ الْمُسْتَمِعْ

128 - حَدثنا لهُ أتَى مَع غَيرهِ … والأَول الأصَرحُ فِي تَعبِيرِهِ

129 - أرْفَعُهَا مَا كَانَ عِنْدَ اْلإِمْلَا … وَثَانِيُ اْلألْفَاظِ فِيْ حَالِ الأَدَا

130 - أخْبَرَنِيْ قَرأتُه هَذَا لِمَنْ … بِنَفْسِه أَمْلَى عَلَى مَنْ يَسْمَعَنْ

131 - فَإنْ جَمَعتَ فِي الضَّمِيْرِ كَانَا … [له مع الغير] عَلَيه وأنَا

132 - أسْمَعُ مِنْه ثُمَّ لَفْظُ أنْبَا … مِنْ صِيَغَ اْلأدَاء ثُم الإِنْبَا

133 - مراَدِفُ الإِخْبَارِ لَا فِي الْعُرفِ … فهو لِمَا أجَزْتَه فاسْتكْفِ

134 - بِه كَعَنْ إلَاّ مِنَ الْمُعاصِرِ … فَعَنَ لِمَا يُسْمعُ عِنْد النَّاضِرِ

135 - إلَاّ إذَا كَانَ مِنَ المُدَلِّسِ … فَلَا سَمَاعَ عِندَ ذَاكَ الْمُلْبِسِ

136 - وَقيل قَالُوا وهُوَ الْمُختَارُ … إنَّ اللِّقاَ شَرْطٌ لَه يُختَارُ

137 - وَلَوْ يَكُونُ مَرَّةً فِي الْعُمْرِ … وَفِيْه تَفصيلٌ لَدَيْنَا يَجرِيْ

138 - نَاوَلَنِيْ يُطلَقُ فِي الْمُنَاوَلَه … واَشتَرَطُوا الإِذْنَ لِمن قَدْ نَاوَلَه

139 - بِأنَّه يَروي وَتِي الإِجَازَه … أَرفَعُ أنْواعٍ لِمَا أجَازَه

140 - شَافَهَنِيْ تُطلَقُ فِي الإِجَازَة … بِاللَّفْظِ لَا فِي تِلْك بِالْكِتَابَة

141 - وَإنَّما فِيهَا يُقَالُ كَتَبَا … فَاحْفظْ هُدِيتَ مَا تَرى مُرتَّبَا

142 - هَذَا وَشَرْطُ الإذْنِ أيضاً لَازِمُ … فِيمَا أتَى مِمَّا يَرَاهُ الْعَالِمُ

143 - وِجَادَةً وَصِيَّتهْ إعْلَامَهْ … إلَاّ فَلَا كَمَنْ أجَازَ الْعَامَّهْ

144 - أَو كَان لِلمَجهولِ والمَعدومِ … هَذَا أصحُّ الْقَوْلِ فِيَ العُلُومِ

--------------------------------------------

(1) صورة ما بين الحاصرتين في مطبوعة المنظومة هي [ثُمّ قُرِي يَوْماً] والمثبت من أصل المخطوط
‌হাদিস গ্রহণের পদ্ধতি এবং বর্ণনার শব্দসমূহ

১২৭ - ‘আমি তাঁর থেকে শুনেছি’ এবং ‘তিনি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন’—এই শব্দসমূহ সেই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, যে উস্তাদের মুখনিঃসৃত বাণী একাকী শ্রবণ করেছে।

১২৮ - ‘তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় যখন অন্যের উপস্থিতিতে শ্রবণ ঘটে; আর প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রথমোক্ত শব্দ দুটিই অধিক স্পষ্ট।

১২৯ - এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হলো যা শ্রুতলিপির (ইমলা) মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বর্ণনার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পর্যায়ের শব্দসমূহ হলো—

১৩০ - ‘তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন’ এবং ‘আমি এটি পাঠ করেছি’। এটি তার জন্য প্রযোজ্য, যে নিজে উস্তাদের সামনে পাঠ করেছে এবং উস্তাদ তা শ্রবণ করেছেন।

১৩১ - যদি আপনি সর্বনামে বহুবচন ব্যবহার করেন (অর্থাৎ আমরা পাঠ করেছি বা তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন), তবে তা অন্যের উপস্থিতিতে উস্তাদের সামনে পাঠ করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

১৩২ - ‘আমি তাঁর থেকে শুনেছি’—অতঃপর বর্ণনার শব্দসমূহের মধ্যে ‘তিনি অবহিত করেছেন’ শব্দটির স্থান। এরপর আসে ‘সংবাদ প্রদান’ (ইনবা)—

১৩৩ - যা আভিধানিক অর্থে ‘ইখবার’ বা সংবাদ প্রদানের সমার্থক হলেও পরিভাষায় তা নয়। বরং এটি অনুমতির (ইজাজাহ) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তাই এটিকেই যথেষ্ট মনে করুন।

১৩৪ - এটি ‘থেকে’ (আন) শব্দের মতোই, তবে সমসাময়িক ব্যক্তির ক্ষেত্র ব্যতীত; কেননা গবেষকদের মতে ‘আন’ শব্দটি সরাসরি শ্রবণের অর্থ প্রদান করে।

১৩৫ - কিন্তু যদি বর্ণনাকারী ‘মুদাল্লিস’ (তথ্য গোপনকারী) হন, তবে সেই বিভ্রান্তিকারীর ক্ষেত্রে সরাসরি শ্রবণ প্রমাণিত হবে না।

১৩৬ - বলা হয়েছে এবং ইমামগণ বলেছেন—আর এটিই পছন্দনীয় মত—যে, বর্ণনাকারীদের পরস্পরের সাক্ষাৎ হওয়া একটি শর্ত হিসেবে গণ্য।

১৩৭ - এমনকি যদি তা জীবনে মাত্র একবারও হয়। আর এ বিষয়ে আমাদের নিকট বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিদ্যমান রয়েছে।

১৩৮ - ‘মুনাওয়ালাহ’ বা উস্তাদের পক্ষ থেকে কিতাব প্রদানের ক্ষেত্রে ‘তিনি আমাকে প্রদান করেছেন’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়; তবে আলেমগণ শর্ত দিয়েছেন যে, যাঁকে কিতাবটি প্রদান করা হয়েছে তাঁকে বর্ণনার অনুমতিও প্রদান করতে হবে—

১৩৯ - এই মর্মে যে, তিনি এটি বর্ণনা করতে পারবেন। আর এটি অনুমতির (ইজাজাহ) প্রকারভেদসমূহের মধ্যে উচ্চতর পর্যায়ের।

১৪০ - ‘তিনি আমাকে সরাসরি বলেছেন’—এই শব্দ কেবল মৌখিক অনুমতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, লিখিত অনুমতির ক্ষেত্রে নয়।

১৪১ - বরং লিখিত অনুমতির ক্ষেত্রে বলা হয় ‘তিনি লিখেছেন’। সুতরাং হে সুপথপ্রাপ্ত! ক্রমানুসারে যা দেখছেন তা যথাযথভাবে আয়ত্ত করে নিন।

১৪২ - এর সাথে বর্ণনার অনুমতির শর্তটিও আবশ্যক, যা বিশেষজ্ঞ আলেমগণ সঠিক বলে মনে করেন।

১৪৩ - ‘উইজাদাহ’ (খুঁজে পাওয়া), ‘ওসিয়্যাত’ (অসিয়ত করা) এবং ‘ইলাম’ (অবহিত করা) এর ক্ষেত্রেও একই বিধান। অন্যথায় তা গ্রহণযোগ্য নয়, যেমন কেউ যদি সর্বসাধারণকে ঢালাওভাবে অনুমতি প্রদান করে।

১৪৪ - অথবা যদি অনুমতিটি কোনো অজ্ঞাত কিংবা অস্তিত্বহীন ব্যক্তির জন্য হয়। ইলমে হাদিসের ক্ষেত্রে এটিই সর্বাধিক সঠিক মত।

--------------------------------------------

(১) কাব্যগ্রন্থের মুদ্রিত কপিতে বন্ধনীভুক্ত অংশটির পাঠ হলো [অতঃপর একদিন পাঠ করা হলো], তবে মূল পাণ্ডুলিপিতে যা প্রমাণিত আছে তা-ই এখানে বহাল রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
‌‌معرفة المتفق والمفترق والمؤتلف والمختلف

145 - ثُم أسَامِي مَنْ رَوَى إنَ تتَفِقْ … باسْم آبَاءٍ لَهُم فالمُتَّفِقْ

146 - يدْعُونَه فِيْ عُرفِهِمْ والمُفتَرِق … أوْ تَتَّفِق خَطّاً وَلَمَّا تَتَّفِق

147 - لَفْظاً فَهذَا سَمِّهِ بالمُؤتْلِف … فِيْ عُرفهِم أيْضاً وَضُمَّ الْمُخْتَلِف

 

‌‌معرفة المُتشابه

148 - هَذَا وَإنْ تَتَّفِقُ الأسْمَاءُ … واَخْتَلَفت فِي ذَلِك الآبَاءُ

149 - وَعكْسُهُ فَهوَ الذِيْ تَشَابَها … فِي عُرفِه فَافْهَمْهُ فْهماً نابِهَا

150 - وَإنْ تَجِدْ اسم الْبَنِيْنِ وَاْلأبِ … مُتَّفِقاً مُخْتَلِفاً فِي النَّسبِ

151 - فَإنَّه مِنْه وَمِنْهُ يُخرَجُ … مَع الَّذي مِنْ قَبْلِه تُستَخْرَجُ

152 - عِدَّةُ أنْواَعٍ عَلَى الْحُرُوفِ … تُبنَى وفِيهِ الْعَدُّ بالألُوْفِ

 

‌‌معرفة طبقات الرواة ووفياتهم ومواليدهم

وبلدانهم وأحوالهم جرحًا وتعديلاً

153 - خَاتِمَةٌ عَدَّوا مِنَ الْمُهِمّ … لِمَنْ له أنْسٌ بِهذَا الْفَنّ

154 - عِرفَانُ ما يُعْزَى إلَى الرُّواةِ … مَنْ طَبَقاتٍ وَكَذَا الْوفَاَةِ

155 - مَعَ الْمَوالِيْدِ مَعَ الْبُلْدَانِ … وَكُلُّ وَصْفٍ قَامَ بالإِنْسَانِ

156 - عَدَالَةً جَهَالَةً وَجَرْحًا … وَهْوَ عَلَى مَرَاتِبٍ وَأنْحَا

 

‌‌مَراتِبُ الْجَرْح

157 - أسْوَؤهَا الْوَصْفُ بِلَفْظ أفْعَلُ … كَأكْذَبِ النَّاسِ وهَذِّا الأَوَّلُ
‘মুত্তাফিক’ ও ‘মুফতারিক’ এবং ‘মু’তালিফ’ ও ‘মুখতালিফ’ সম্পর্কে জ্ঞান

১৪৫ - অতঃপর বর্ণনাকারীদের নাম যদি তাদের পিতার নামের সাথে (উচ্চারণ ও লেখায়) এক হয়ে যায়, তবে তাকে ‘মুত্তাফিক’ বলা হয়।

১৪৬ - তাদের পরিভাষায় একে তারা এই নামেই ডাকেন। আর ‘মুফতারিক’ হলো (নামে এক হলেও সত্তাগতভাবে) পৃথক। অথবা যদি নামগুলো লেখায় এক হয় কিন্তু...

১৪৭ - উচ্চারণে ভিন্ন হয়, তবে একে তাদের পরিভাষায় ‘মু’তালিফ’ নামে অভিহিত করো এবং এর সাথে ‘মুখতালিফ’-কেও যুক্ত করো।

 

‘মুতাশাবিহ’ (সদৃশ) সম্পর্কে জ্ঞান

১৪৮ - এটি হলো তখন, যখন (বর্ণনাকারীদের নিজেদের) নামসমূহ এক হয় কিন্তু তাদের পিতাদের নামে ভিন্নতা থাকে।

১৪৯ - আর এর বিপরীতটিও (পিতার নাম এক কিন্তু নিজের নাম ভিন্ন), যা তাদের পরিভাষায় ‘মুতাশাবিহ’; সুতরাং বিষয়টি প্রজ্ঞার সাথে অনুধাবন করো।

১৫০ - আর যদি তুমি পুত্র ও পিতার নাম এক পাও, কিন্তু তাদের বংশপরিচয়ে (নিসবাহ) ভিন্নতা পাও...

১৫১ - তবে এটিও সেই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমে এবং এর পূর্ববর্তী প্রকারের মাধ্যমে আরও অনেক প্রকার বের হয়ে আসে।

১৫২ - বর্ণমালার বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে এমন অনেক প্রকার রয়েছে যা সংখ্যায় হাজার হাজার পর্যন্ত হতে পারে।

 

বর্ণনাকারীদের স্তর, তাদের মৃত্যু, জন্ম, আবাসস্থল এবং জারহ (সমালোচনা) ও তা‘দীল (প্রশংসা) সংক্রান্ত অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান

১৫৩ - উপসংহার: যারা এই শিল্পের (ইলমে হাদিস) সাথে পরিচিত, তারা এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন।

১৫৪ - তা হলো বর্ণনাকারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানা; যেমন তাদের স্তর (তাবাকাত) এবং একইভাবে তাদের মৃত্যু।

১৫৫ - সাথে তাদের জন্মসাল, আবাসস্থল এবং একজন মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল (প্রাসঙ্গিক) বৈশিষ্ট্য।

১৫৬ - যেমন তাদের ন্যায়পরায়ণতা, অজ্ঞাত অবস্থা এবং সমালোচনা (জারহ); আর এর বিভিন্ন স্তর ও পদ্ধতি রয়েছে।

 

জারহ বা সমালোচনার স্তরসমূহ

১৫৭ - এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো এমন শব্দ দ্বারা বর্ণনা করা যা আধিক্য (আফআলু) প্রকাশ করে, যেমন ‘মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় মিথ্যাবাদী’; আর এটিই হলো প্রথম স্তর।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
158 - ثَانِيُّهَا دَجّالٌ أو وَضَّاعُ … وَمِثْلهُ الْكَذَّابُ قَدْ أضَاعُوا

159 - وَالأسْهَلُ الأدْوَنُ فِيْها لَيِّنٌ … أو سَيِّئُ الْحِفْظِ لِمَن لَا يُتْقِنُ

160 - أو فِيهْ أو فِيْمَا نَقَلُوا مَقَالُ … وَأرفَعُ التَّعْدِيْلِ فِيْما قَالُوا

 

‌‌مرَاتِبُ التَّعدِيل

161 - كَأوْثَق النَّاسِ وْبَعدَهَا مَا … كَرَّرَه لَفظاً أوِ الْتِزَامَا

162 - هَذَا وأدْنَاهَا الَّذِي قَدَ أشْعَرَا … بِالقُربِ مِن تَجْرِيْحِهم فِيْما تَرَى

163 - كَقَوْلِهم شَيْخٌ وكلُّ عَارِفٍ … يَقْبَلُ مَن زَكَّاه ذُو الْمَعَارِفِ

 

‌‌أحكام تتعلق بالجرح والتعديل

164 - وَلَو مِنَ الْوَاحِدِ فِي الأْصَحِّ … والَحُكْمُ إنْ يَخْتَلِفَا لِلْجَرْح

165 - فَإنَّه مُقَدّمٌ إذَا صدَر … مُبَيِّناً مِنْ عَارِفٍ وَافِي النَّظَرَ

166 - فَإنْ خَلَا الرَّاوِي عَنْ التَّعْدِيْلِ … فَالْجَرْحُ مَقْبولٌ بِلَا تَفْصِيْل

 

‌‌معرفة الأسماء والكُنى والأنساب والألقاب والموالي

167 - هَذا عَلَى المُختَارِ ثُم ههُنَا … مُهِمَّةٌ فَليَسْمَعَهَا مُتْقِنا

168 - مَعْرِفَةُ الأْسْمَاء وَأسْماءِ الْكُنَى … وَمَنْ سُمِّيْ بِهِ الذّي اكْتَنَى

169 - ومَنْ كُنَاه اختَلَفَتْ وَمَن غَدَتْ … كِثيْرة كُناه إذْ تَعَدَّدَتْ

170 - أو وافَقْت كُنيتَهُ اسْمَ الأبِ … أوَ عَكْسهُ أمثالُهُ فِي الكُتُبِ

--------------------------------------------

(1) صورة ما بين الحاصرتين في مطبوعة المنظومة هي [فَلتَسْمَعَنْهَا] والمثبت من أصل المخطوط
১৫৮ - এর দ্বিতীয় স্তর হলো দাজ্জাল (চরম প্রতারক) অথবা জালিয়াত … এবং তার সমরূপ হলো অতি মিথ্যাবাদী, যারা (হাদিসকে) বিনষ্ট করেছে।

১৫৯ - আর এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ ও নিম্নতম স্তর হলো শিথিল (লায়্যিন) … অথবা মন্দ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি যার কোনো নিখুঁত জ্ঞান নেই।

১৬০ - অথবা তার চরিত্রে বা তার বর্ণিত বিষয়ের মাঝে কোনো আপত্তি রয়েছে … আর তারা প্রশংসার (তা'দিল) ক্ষেত্রে যা বলেছেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো—

 

‌‌প্রশংসার (তা'দিল) স্তরসমূহ

১৬১ - যেমন 'মানুষের মধ্যে সর্বাধিক বিশ্বস্ত' এবং এর পরবর্তী স্তর হলো যা … শব্দগতভাবে বা অর্থগতভাবে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

১৬২ - এটি এবং এর মধ্যে নিম্নতম স্তর হলো যা ইঙ্গিত প্রদান করে … আপনার দৃষ্টিতে তাদের সমালোচনার (জারহ) নিকটবর্তী হওয়ার।

১৬৩ - যেমন তাদের উক্তি 'তিনি একজন শায়খ'; আর প্রত্যেক বিজ্ঞ ব্যক্তিই … তার বর্ণনা গ্রহণ করেন যাকে কোনো অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ নির্ভরযোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

 

‌‌সমালোচনা ও প্রশংসা সংক্রান্ত বিধানসমূহ

১৬৪ - বিশুদ্ধতম মতানুসারে তা একজনের পক্ষ থেকে হলেও (গ্রহণযোগ্য হবে) … আর যদি (প্রশংসা ও সমালোচনা) ভিন্ন হয় তবে ফয়সালা হবে সমালোচনার (জারহ) পক্ষে।

১৬৫ - কেননা সমালোচনাকে অগ্রগণ্য করা হয় যখন তা প্রকাশ পায় … কোনো বিজ্ঞ ও দূরদর্শী ব্যক্তি হতে সুস্পষ্ট কারণ বর্ণনাসহ।

১৬৬ - আর যদি বর্ণনাকারীর কোনো প্রশংসা বর্ণিত না থাকে … তবে বিস্তারিত কারণ দর্শানো ছাড়াই সমালোচনা গ্রহণযোগ্য।

 

‌‌নাম, উপনাম, বংশপরিচয়, উপাধি ও মুক্তদাসদের পরিচয় লাভ

১৬৭ - এটি হলো মনোনীত মতের উপর ভিত্তি করে, অতঃপর এখানে রয়েছে … কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অতএব তা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করুন।

১৬৮ - নামসমূহ এবং উপনামসমূহের (কুনিয়া) নাম জানা … এবং যার উপনামটিই তার নাম হিসেবে রাখা হয়েছে।

১৬৯ - এবং যার উপনামের ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে এবং যার উপনাম … সংখ্যায় অধিক হওয়ার কারণে অনেক হয়ে গিয়েছে।

১৭০ - অথবা যার উপনাম তার পিতার নামের সাথে মিলে গিয়েছে … অথবা তার বিপরীত হয়েছে, কিতাবসমূহে এর অনেক উদাহরণ বিদ্যমান।

--------------------------------------------

(১) কাব্যগ্রন্থের মুদ্রিত সংস্করণে বন্ধনীভুক্ত অংশের পাঠ হলো [অতএব আপনার এটি শোনা উচিত] এবং মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি সাব্যস্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
171 - أو كُنيةَ الزّوجَةِ أو كَان اسمُ مَن … عَنه رَوَى اسمِ أبِيه فَاسْمَعَنْ

172 - ومَنْ إلَى غَيرْ أبيِه نُسبَا … أو أُمّهِ فِيْ نِسْبَةٍ كَانَتْ أبَا

173 - أو غَيْر مَن فِي الفَهمِ مِنْه يَسْبِقُ … أو اسْمُّه وَأصْلُه يَتَّفِقُ

174 - أبوُه وَالجَدُّ وهَذَا كَالْحسَن … ابْنِ الْحَسَن ابْنِ الْحسَنْ فاسْتَخْبِرَنْ

175 - أو اسْمُهُ وشَيْخُهُ فَصَاعِدَا … أو شَيْخُهُ ومن إليْهِ أسْنَدَا

176 - وَلْتَعْرفِ الأْسْمَا الّتِيْ تَجَرَّدَا … كَذَا الْكُنَى تَعْرِفُهَا واَلمُفرَدَا

177 - وَمِثْلُهَا الأْلْقَابُ وَاْلأنْسَابُ … فِي كَثْرةٍ يَعْرِفُهَا الطُّلابُ

178 - إلَى الْبِلَادِ أوْ إلَى الْقَبَائِلِ … أوْ وَطَنٍ أو ضَيْعَةٍ فَسَائِلِ

179 - إلَى صَنْعَةٍ أَوْ حِرْفَة أو سِكَّةِ … أوْ غَيْرِهَا مِن صْاحِبٍ أو جِيْرَةِ

180 - وَرُبَّما فِيْهَا أتَى اتِّفَاقُ … أو اشْتِبَاهٌ فِيْه وَافْتِرَاقُ

181 - وَرُبَّما قَدْ وَقَعَتْ ألْقَابَا … واعْرِفْ لِكُلّ مَا تَرَى اْلأسْبَابَا

182 - ثُم الْمَوَالِيْ كُن بِهِم ذَا عُرْفِ … بِالرِّقِّ وَالإسلامِ أوْ بِالحِلْفِ

183 - مِن أسْفَلٍ وَأعْلَى وَكُنْ بِالإِخْوَةِ … وَالأخَواتِ عَارِفاً ذَا فِطْنَةٍ

 

‌‌آداب الشيخ والطالب

وصفة كتابة الحديث والتصنيف فيه

184 - كَذاكَ آدابُ شُيُوخ الْعِلْمِ … وَطَالِبِ الْعِلْم وَسَنِّ الْفَهْمِ

185 - لِلْحَمْلِ عَنه وَالأدَا وَلْتَعْرِفِ … كَتْب الْحَدِيْثِ مِثلُ كَتْبِ الْمُصْحَفِ

186 - ثم سَمَاعُ ما تَرَى سَمَاعَه … وعَرضَهُ إنْ شِئْتَ أو إسْمَاعَه

187 - وَرِحْلَةُ الطَّالِبِ وَالتَّصْنِيفَا … عَلَى الْمَسَانِيْدِ والتَّألِيفَا

 

‌‌أنواع المصنفات في الحديث

188 - فِيهِ عَلى الأبوابِ أو عَلَى العِلَل … وَإنْ يَشَأ تألَيِفَ اْلأطرافِ فَعَل

189 - وَتَعْرِف اْلأسْبَابَ لِلْحَدِيْثِ … فَإنَّه عَوْنُ عَلَى التَّحديْثِ
171 - অথবা স্ত্রীর উপনাম (কুনিয়া), অথবা যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তার নাম যদি তার পিতার নামের ন্যায় হয়, তবে তা মনোযোগ দিয়ে শোনো।

172 - এবং যাকে তার পিতা ব্যতীত অন্যের দিকে সম্পর্কিত করা হয়েছে, অথবা তার মায়ের দিকে সম্বন্ধ করার কারণে যিনি পরিচিতি লাভ করেছেন।

173 - অথবা (নামটি এমন) যা বুঝার ক্ষেত্রে সাধারণ ধারণা বহির্ভূত অন্য কেউ উদ্দেশ্য হয়, অথবা যার নাম ও মূল (বংশ) একই হয়ে থাকে।

174 - তার পিতা এবং দাদা; আর এটি হাসান ইবনে হাসান ইবনে হাসান-এর মতো, সুতরাং তুমি অনুসন্ধান করো।

175 - অথবা তার নিজের নাম ও তার উস্তাদের নাম এবং তার উপরের স্তরের (উস্তাদের উস্তাদ), অথবা তার উস্তাদ ও যার দিকে তিনি হাদিসটিকে ন্যস্ত করেছেন।

176 - আর তুমি সেই নামগুলো জানবে যা একক, একইভাবে উপনাম (কুনিয়া) এবং বিরল নামগুলোও জেনে নেবে।

177 - এবং তদ্রূপ উপাধি (লকব) ও সম্বন্ধ (নিসবত), যা আধিক্যের কারণে ইলম অন্বেষণকারীরা জানেন।

178 - দেশসমূহের দিকে অথবা গোত্রসমূহের দিকে, অথবা স্বদেশ বা গ্রামের দিকে; সুতরাং জিজ্ঞাসা করে জেনে নাও।

179 - কোনো শিল্প বা পেশার দিকে অথবা কোনো অলি-গলির দিকে, অথবা এগুলো ব্যতীত কোনো সঙ্গী বা প্রতিবেশীর দিকে।

180 - আর সম্ভবত তাতে অভিন্নতা পাওয়া যায়, অথবা তাতে সাদৃশ্য ও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

181 - আর সম্ভবত সেগুলো উপাধি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, আর তুমি যা কিছু দেখবে তার প্রত্যেকটির কারণ জেনে নাও।

182 - অতঃপর আযাদ করা দাসদের (মাওয়ালি) সম্পর্কে অবগত হও—দাসত্বের মাধ্যমে হোক, ইসলামের মাধ্যমে হোক অথবা মৈত্রীর মাধ্যমে হোক।

183 - নিচ থেকে হোক বা উপর থেকে হোক; আর ভাই ও বোনদের সম্পর্কে বিজ্ঞ ও বিচক্ষণতার সাথে জ্ঞান লাভ করো।

 

‌‌শায়খ ও ছাত্রের আদবসমূহ

এবং হাদিস লেখা ও তা সংকলন করার পদ্ধতি

184 - একইভাবে ইলমের শায়খদের আদব, ইলম অন্বেষণকারীর আদব এবং বুঝার উপযুক্ত বয়স সম্পর্কে জানো।

185 - উস্তাদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য; আর তুমি জেনে রেখো হাদিস লেখা মুসহাফ (কুরআন) লেখার মতোই।

186 - অতঃপর যা শ্রবণ করা প্রয়োজন তা শোনো, এবং তুমি চাইলে তা উস্তাদের নিকট পেশ করো অথবা অন্যকে শোনাও।

187 - আর ছাত্রের (ইলমের সন্ধানে) সফর করা এবং মুসনাদ গ্রন্থসমূহের বিন্যাসে ও অন্যান্য পদ্ধতিতে সংকলন করা।

 

‌‌হাদিস শাস্ত্রের সংকলনসমূহের প্রকারভেদ

188 - তাতে অধ্যায়ভিত্তিক অথবা হাদিসের ত্রুটি (ইল্লাত) ভিত্তিক; আর যদি কেউ আত্বরাফ (সূত্রের প্রথমাংশ) অনুযায়ী সংকলন করতে চায়, তবে সে তা করতে পারে।

189 - আর তুমি হাদিস বর্ণনার প্রেক্ষাপটসমূহ জেনে নাও; কেননা তা হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
190 - وغَالِبُ اْلأنْوَاعِ فِيْها ألَّفُوْا … وَالكُلُّ نَقْلٌ ظَاهِرُ مُعَرَّفُ

191 - لَيس بِمُحتَاجٍ إلَى التَّمْثِيْلِ … وَلَا إلَى التَّكْثِيْرِ وَالتطْوِيْلِ

 

‌‌خاتمة

192 - والَحَمْدُ لِلّهِ عَلَى مَا أنعَمَا … عَلَّمَنَا مَا لَم نَكُنِ لِنَعْلمَا

193 - أحْمدُهُ فَلَمْ يَزَلْ إلَينَا … موَاصِلاً أفضَالَه عَلَيْنَا

194 - عَلَّمَني وَكُنتُ قَبلُ جَاهِلَا … طَوَّقَنِيِ مِنه وَكُنْتُ عَاطِلَا

195 - كُنْتُ فقِيْراً فأتَانِي بِالغِنَى … أغْنَى وَأقْنَى فَلَهْ كُلُّ الثَّنا

196 - وَكُنتُ فَرداً فأتَانِي بِالْوَلَد … أسألُه صَلَاحَهم إلَى الأبَد

197 - عَلَّمَنِيْ سُنَّةَ خَيرِ الرُّسُلِ … المصطَفَى أصْلِيْ وَأصْلُ نَسْلِيْ

198 - وَذادَ عَنِّي كَيْدَ كُلّ كَائِدِ … وَرَدَّ شَرّ كُلِّ شَرِّ قَاصِدِ

199 - وَالمُرتْضَى جَدِّي وَلِي فِي مَدحِهِ … نَظْمٌ بَديْعٌ كَامِلٌ بِشَرْحِهِ

200 - بَيْنِيْ وبَيْنَ الْحَاسِدِ المَعَادُ … والَمُصطفَى والَمُرْتَضَى أشهَادُ

201 - فإنَّها تُبْلَى بِهِ السَّرائِرُ … وَيَبْرُزُ المَكْنُونُ وَالضَّمائِرُ

202 - ثُم صَلَاة الله والَسَّلَامُ … عَلَى الذِيْ لِلأنْبِيَا خِتَامُ

203 - وَآله وَأسْألُ الَّرحْمانَا … حُسْنَ خِتَامٍ يُدْخِلُ الْجِنَانَا

[تمت]

وبهذا أكون قد أكملت تحقيق هذه المنظومة العظيمة

، أسأل الله بمنه وكرمه أن يجعل ما بذلته من جهد في ميزان حسناتي وأن ينفع بهذه المنظومة.

وبالله التوفيق.
১৯০ - এর অধিকাংশ প্রকার নিয়ে তারা গ্রন্থ রচনা করেছেন … আর সবই সুস্পষ্ট এবং পরিচিত বর্ণনা।

১৯১ - এটি উদাহরণ পেশ করার মুখাপেক্ষী নয় … এবং বাহুল্য বা দীর্ঘায়নেরও প্রয়োজন নেই।

 

‌‌উপসংহার

১৯২ - সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি যা নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য … তিনি আমাদের তা শিখিয়েছেন যা আমরা জানতাম না।

১৯৩ - আমি তাঁর প্রশংসা করি, তিনি সর্বদা আমাদের প্রতি … তাঁর অনুগ্রহসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে দান করে চলেছেন।

১৯৪ - তিনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন যখন আমি ইতিপূর্বে অজ্ঞ ছিলাম … তিনি আমাকে সজ্জিত করেছেন অথচ আমি অলংকারহীন ছিলাম।

১৯৫ - আমি অভাবী ছিলাম, তিনি আমাকে সচ্ছলতা দান করেছেন … তিনি অভাবমুক্ত করেছেন ও তুষ্ট করেছেন, তাই সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই।

১৯৬ - আমি একাকী ছিলাম, তিনি আমাকে সন্তান দান করেছেন … আমি চিরকাল তাদের নেককার হওয়ার জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করি।

১৯৭ - তিনি আমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুলের সুন্নাহ শিক্ষা দিয়েছেন … সেই মুস্তফা (সা.) যিনি আমার এবং আমার বংশের মূল ভিত্তি।

১৯৮ - তিনি আমার থেকে প্রত্যেক ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছেন … এবং প্রত্যেক অনিষ্টকারীর অনিষ্টতা দূর করেছেন।

১৯৯ - আল-মুরতাজা আমার পূর্বপুরুষ, এবং তাঁর প্রশংসায় আমার রয়েছে … চমৎকার পদ্য যা ব্যাখ্যাসহ পূর্ণাঙ্গ।

২০০ - আমার এবং হিংসুকের মাঝে ফয়সালা হবে পুনরুত্থান দিবসে … আর মুস্তফা এবং মুরতাজা সেখানে সাক্ষী থাকবেন।

২০১ - কেননা সেদিন গোপন বিষয়সমূহ পরীক্ষা করা হবে … এবং অন্তরের লুক্কায়িত বিষয়সমূহ প্রকাশ পাবে।

২০২ - অতপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক … তাঁর ওপর যিনি নবীদের সমাপ্তি।

২০৩ - এবং তাঁর পরিবারের ওপর; আর আমি পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করি … সুন্দর সমাপ্তির যা জান্নাতে প্রবেশ করাবে।

[সমাপ্ত]

এর মাধ্যমে আমি এই মহান কাব্যগ্রন্থের তাহকীক সম্পন্ন করেছি

। আমি আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই শ্রমকে আমার নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন এবং এই কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে উপকার দান করেন।

আর আল্লাহর মাধ্যমেই তাওফীক অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
الكتاب:‌‌ إسبال المطر على قصب السكر (نظم نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر)

تأليف: الإمام محمد بن إسماعيل الأمير "الشهير بالصنعاني" (1099 - 1182 هـ)

تحقيق وتعليق: عبد الحميد بن صالح بن قاسم آل أعوج سبر

الناشر: دار ابن حزم - بيروت

الطبعة: الأولى 1427هـ - 2006م

عدد الأجزاء: [1]

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
গ্রন্থ:‌‌ ইসবালুল মাতার আলা কসাবিস সুক্কার (আহলুল আসার বা হাদিস বিশারদগণের পরিভাষায় নুখবাতুল ফিকারের পদ্যানুবাদ)

লেখক: ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-আমীর "আস-সানআনী নামে প্রসিদ্ধ" (১০৯৯ - ১১৮২ হিজরি)

তাহকীক ও তালীক: আব্দুল হামিদ বিন সালেহ বিন কাসিম আল-আওয়াজ সাবর

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: [১]

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮১)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين وصلى الله على سيدنا محمد [وآله] [الطاهرين].

وبعد:

فهذا شرح على منظومتنا "قصب السكر" نظم " نخبة الفكر " حل مبانيها وأبان معانيها مع اختصار واعتصار ووفاء ببيان القواعد (والمختار).

 

‌‌[المقدمة:]

(1)‌‌ حمدا لمن يسند كل حمد … إليه مرفوعا بغير عد

نصب على المصدرية بفعل واجب حذفه، لما تقرر من أن كل مصدر بين فاعله بالإضافة نحو: كتاب الله (و) صبغة الله، أو بين مفعول بها نحو: ضرب الرقاب، وسبحان الله، ومعاذ الله، أو بين فاعله بحرف الجر نحو (سحقا له أي: شدة) أو بين مفعوله بحرف الجر نحو شكرا لك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং [তাঁর] [পবিত্র] [পরিবারবর্গের] উপর।

অতঃপর:

এটি আমাদের কাব্যগ্রন্থ "কাসাবুস সুক্কার"-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা "নুখবাতুল ফিকার"-এর কাব্যানুবাদ; এটি তার শব্দকাঠামোকে বিশ্লেষণ করেছে এবং অর্থসমূহকে স্পষ্ট করেছে, সেই সাথে এটি সংক্ষিপ্ত, সারসংক্ষেপপূর্ণ এবং মূলনীতিসমূহ (ও পছন্দনীয় মত) বর্ণনায় অত্যন্ত সমৃদ্ধ।

 

‌‌[ভূমিকা:]

(১)‌‌ সমস্ত প্রশংসা তাঁরই জন্য, যাঁর দিকে প্রতিটি প্রশংসা সম্বন্ধিত হয়... কোনো গণনা ছাড়াই যা তাঁর দিকে উন্নীত।

এটি মাসদার হওয়ার কারণে 'নসব' প্রাপ্ত হয়েছে এমন একটি ক্রিয়াপদ দ্বারা যার বিলুপ্তি (উহ্য থাকা) আবশ্যিক। কারণ এটি নির্ধারিত যে, প্রত্যেক মাসদার যা ইযাফতের মাধ্যমে তার কর্তাকে স্পষ্ট করে, যেমন: আল্লাহর কিতাব (ও) আল্লাহর রং; অথবা যা তার কর্মকে স্পষ্ট করে, যেমন: গর্দান উড়ানো, আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা; অথবা হরফে জরের মাধ্যমে তার কর্তাকে স্পষ্ট করে, যেমন: (তার ধ্বংস হোক, অর্থাৎ: কঠোরতা) অথবা হরফে জরের মাধ্যমে তার কর্মকে স্পষ্ট করে, যেমন: আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮২)
وحمدا لك فإنه يحذف ناصبه قياسا كما قاله الفاضل الرضي (من) أن الضابط هاهنا، ما ذكرنا من ذكر الفاعل أو المفعول بعد المصدر، مضافا إليه، أو بحرف الجر (لا) لبيان النوع إلى آخر (ما ذكره). وهنا قد بين مفعول الحمد بالأم أي: حمدا مني. وقوله: "يسند" في القاموس: سند إليه سنودا، وساند: استند وفي الجبل صعد، كأسند وأسندته (انتهى). فالمراد: يصعد كل حمد إليه تعالى، من قوله (تعالى): (إليه يصعد الكلم الطيب) ولما كان الحمد له أفراد لا تنحصر باعتبار لفظه ومعناه وقائليه أتى بكلمة "كل " المفيدة للشمول، أما لفظه فالعبارات عنه واسعة جدا، بالجمل الاسمية: الحمد لله رب العالمين، الحمد لله الذي خلق السموات والأرض، وهي في أوائل خمس سور من القرآن بها، والفعلية: حمدت الله ونحمده وغير ذلك. وأما معناه: فإنه تابع لاختلاف ألفاظه. وأما القائلون: فرب العالمين يحمد نفسه: "أنت كما أثنيت على نفسك". وملائكته: (ونحن نسبح بحمدك ونقدس لك).

এবং আপনার প্রতি হামদ (প্রশংসা), কেননা এর নাসিব (কর্মকারক দানকারী আমেল) নিয়ম অনুযায়ী বিলুপ্ত হয়, যেমনটি ফাজেল আর-রাজি বলেছেন যে, এখানকার মূলনীতি হলো আমরা যা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ মাসদারের পরে ফায়েল (কর্তা) বা মাফউল (কর্ম) উল্লেখ করা, মুদাফ ইলাইহি হিসেবে অথবা হরফে জরের মাধ্যমে, প্রকার বর্ণনার জন্য নয় (তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত)। আর এখানে হামদের মাফউল 'লাম' এর মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে, অর্থাৎ: আমার পক্ষ থেকে প্রশংসা। আর তাঁর বক্তব্য: "ইউসনাদু" (সম্বন্ধ করা হয়) সম্পর্কে আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'সানাদা ইলাইহি সুনুদান' এবং 'সানা-দা' মানে 'ইস্তানা-দা' (ভর করা/সম্পৃক্ত হওয়া), আর পাহাড়ের ক্ষেত্রে এর অর্থ উপরে উঠা, যেমন 'আসনাদা' এবং 'আসনাদতুহু' (সমাপ্ত)। সুতরাং উদ্দেশ্য হলো: প্রতিটি প্রশংসা মহান আল্লাহর দিকেই উপরে উঠে, তাঁর এই বাণীর আলোকে: "পবিত্র বাক্যসমূহ তাঁর দিকেই উপরে উঠে"। যেহেতু প্রশংসার শব্দ, অর্থ এবং প্রশংসাকারীদের বিচারে এমন অসংখ্য প্রকার রয়েছে যা সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়, তাই তিনি ব্যাপকতা বুঝাতে "কুল" (প্রতিটি/সকল) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। শব্দগত দিক থেকে এর প্রকাশভঙ্গি অত্যন্ত প্রশস্ত; জুমলা ইসমিয়ার (নামবাচক বাক্য) মাধ্যমে, যেমন: "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জগতসমূহের রব", "সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন"—কুরআনের পাঁচটি সূরার শুরুতে এভাবে এসেছে। আর জুমলা ফে'লিয়ার (ক্রিয়াবাচক বাক্য) মাধ্যমে, যেমন: "আমি আল্লাহর প্রশংসা করেছি", "আমরা তাঁর প্রশংসা করি" ইত্যাদি। আর অর্থের বিষয়টি এর শব্দের ভিন্নতার ওপর নির্ভরশীল। আর প্রশংসাকারীদের ব্যাপারে বলা যায়: জগতসমূহের রব স্বয়ং নিজের প্রশংসা করেন: "আপনি তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন"। এবং তাঁর ফেরেশতারাও প্রশংসা করে: "আর আমরা আপনার প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার মহিমা বর্ণনা করি"।

(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮৩)
(وترى الملائكة حافين من حول العرش يسبحون بحمد ربهم) وأنبياءه: قال لنوح: (فقل الحمد لله الذي نجانا من القوم الظالمين)، وقال لرسوله صلى الله عليه وسلم (قل الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى) الآية، ومعلوم أن أنبياءه يقولون ما أمروا به. [وقال الخليل: (الحمد لله الذي وهب لي على الكبر إسماعيل وإسحاق) وسكان جنانه فيها: (وقالوا)] (الحمد لله الذي هدانا لهذا) وآخر دعواهم أن الحمد لله رب العالمين) (وقالوا الحمد لله الذي صدقنا وعده وأورثنا الأرض نتبوأ من الجنة حيث نشاء) أي: أرض الجنة. وإذا عرفت ذلك فكل حمد من أي قائل وبأي عبارة وفي أي مقام وفي أي دار دار الدنيا ودار الآخرة يسند إليه (تعالى)، لأنه الذي أمر به والذي علم عباده وهداهم و (لذا) قال الصحابي في حضرة المصطفى صلى الله عليه وسلم:

والله لولا الله ما اهتدينا … ولا تصدقنا ولا صلينا
(এবং আপনি ফেরেশতাদের দেখবেন তারা আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ঘোষণা করছে) এবং তাঁর নবীগণও: তিনি নূহকে বলেছিলেন: (সুতরাং বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জালেম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিয়েছেন), এবং তিনি তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদের তিনি মনোনীত করেছেন) - আয়াতাংশ; আর এটি সুবিদিত যে, তাঁর নবীগণ কেবল তা-ই বলেন যার জন্য তারা আদিষ্ট হন। [এবং খলীল বলেছিলেন: (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে বার্ধক্যে ইসমাইল ও ইসহাককে দান করেছেন) এবং জান্নাতসমূহের অধিবাসীরা সেখানে বলবে: (এবং তারা বলেছিল)] (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন) এবং তাদের শেষ প্রার্থনা হবে এই যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য) (এবং তারা বলবে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি সত্য করেছেন এবং আমাদের এই ভূমির উত্তরাধিকারী করেছেন, আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করব) অর্থাৎ: জান্নাতের ভূমি। আর আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন যেকোনো প্রশংসাকারীর পক্ষ থেকে যেকোনো শব্দে, যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো আবাসে—চাই তা ইহকাল হোক বা পরকাল—সকল প্রশংসা তাঁরই (তাআলা) প্রতি নিবেদিত হয়; কারণ তিনিই এর আদেশ দিয়েছেন এবং তিনিই তাঁর বান্দাদের এটি শিখিয়েছেন ও পরিচালিত করেছেন। আর (এই কারণেই) মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উপস্থিতিতে সাহাবী বলেছিলেন:

আল্লাহর শপথ! যদি আল্লাহ না থাকতেন তবে আমরা হিদায়াত পেতাম না … আর না আমরা দান-সদকা করতাম, না সালাত আদায় করতাম।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮৪)
وقلت من أبيات:

لك الحمد إذا علمتني الحمد والثناء … ولولاك لم أعرفه لفظا ولا معنى

ولي أبيات إلاهية:

فالكل يعجز عن ثنا ما ناله … بل شكرهم فيه لك النعماء

يثنى بجارحة وأنت وهبتها … وعبارة هي من يديك عطاء

لولاك ما نطق اللسان بلفظة … ولكان أفصحنا هم البكماء

ولنا من أبيات إلالهية:

فلله كل الحمد في كل حالة … ومن فضله إجراؤه الحمد في فينا

وقوله: "مرفوعا" في القاموس: رفعه كمنعه، ضد وضعه، فقوله: مرفوعا من قوله تعالى: (والعمل الصالح يرفعه)، فهو يصعد إليه تعالى. ومرفوعا منصوب على الحالية من فاعل يسند أي: يصعد إليه كل حمد حال كونه مرفوعا (و) قوله: ": بغير عد" متعلق به حال أيضا عنه أي: كل حمد يرفع حال كونه بغير عد يحصره، إذ لا يعلم عدة الحمد وعدة الحامدين إلا رب العالمين.

ويحتمل تعلقه بقوله: "حمدا" أي: أحمده حمدا بغير عد، (وهو أقرب ويحتمل التنازع فيه بينهما لقوله متصل كما يأتي) هذا والمسند من الحديث: ما أسند إلى قائله كما في القاموس، وفي تعريفات الشريف: المسند: خلاف المرسل وهو الذي اتصل إسناده إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
আমি কবিতার কয়েকটি পঙক্তিতে বলেছি:

আপনার জন্যই সকল প্রশংসা যেহেতু আপনি আমাকে প্রশংসা ও গুণগান শিখিয়েছেন … আপনি না থাকলে আমি শব্দে বা অর্থে এর কিছুই চিনতাম না

ইলাহি বিষয়াবলি নিয়ে আমার কিছু কবিতা রয়েছে:

যা তিনি লাভ করেছেন তার প্রশংসা করতে সকলেই অক্ষম … বরং তাতে তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আপনারই পক্ষ থেকে এক নেয়ামত

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে প্রশংসা করা হয় যা আপনিই দান করেছেন … আর সেই অভিব্যক্তিও আপনার হাত থেকে আসা একটি উপহার

আপনি না থাকলে জিহ্বা একটি শব্দও উচ্চারণ করত না … আর আমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে স্পষ্টভাষী সেও বোবা হয়ে থাকত

ইলাহি বিষয়াবলি নিয়ে আমাদের আরও কবিতা রয়েছে:

সুতরাং সকল অবস্থায় আল্লাহর জন্যই যাবতীয় প্রশংসা … এবং আমাদের মুখে প্রশংসার বাণী জারি করা তাঁরই অনুগ্রহের অংশ

এবং তাঁর বাণী: "উত্থিত" (মারফু'আন), আল-কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'রাফা'আ' শব্দটি 'মানা'আ' এর ওজনে, যা 'ওয়াদা'আ' (নিচু করা) এর বিপরীত। সুতরাং তাঁর বাণী "উত্থিত" মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: (এবং সৎকর্ম তাকে উন্নীত করে), সুতরাং তা মহান আল্লাহর দিকে আরোহণ করে। আর "উত্থিত" শব্দটি 'সম্বন্ধ করা হয়েছে' (ইউসনাদু) ক্রিয়ার কর্তার অবস্থা (হাল) হিসেবে নসব হয়েছে। অর্থাৎ: প্রতিটি প্রশংসা তাঁর দিকে আরোহণ করে এমতাবস্থায় যে তা উন্নীত বা উত্থিত। (এবং) তাঁর বাণী: "গণনা ব্যতীত" অংশটিও এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং এটিও একটি অবস্থা (হাল) বর্ণনা করছে। অর্থাৎ: প্রতিটি প্রশংসা উন্নীত হয় এমতাবস্থায় যে তা কোনো সীমাবদ্ধ গণনা ছাড়াই; কারণ প্রশংসার সংখ্যা এবং প্রশংসাকারীদের সংখ্যা রাব্বুল আলামীন ব্যতীত কেউ জানে না।

এবং এটি তাঁর "প্রশংসা" (হামদান) বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে। অর্থাৎ: আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা কোনো গণনা ছাড়াই, (এটিই অধিকতর নিকটবর্তী এবং পরবর্তী বর্ণনা অনুযায়ী এটি সংযুক্ত হওয়ার কারণে এই দুটির মধ্যে প্রয়োগগত প্রতিযোগিতার সম্ভাবনাও রয়েছে)। উল্লেখ্য যে, হাদীসের পরিভাষায় 'মুসনাদ' হলো: যা তার বক্তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে যেমনটি আল-কামুস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর আশ-শরীফের 'আত-তারিফাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: মুসনাদ হলো মুরসাল-এর বিপরীত, আর এটি হলো এমন হাদীস যার বর্ণনা পরম্পরা বা সনদ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮৫)
والمرفوع من الحديث النبوي ما أخبر به الصحابي من قول رسول الله صلى الله عليه وسلم ويراد - أو فعله أو تقريره أو وصفه أو همه (وفيهما) براعة استهلال. قال في التعريفات: براعة الاستهلال، هي: كون (ابتداء) الكلام مناسبا للمقصود وهي تقع في ديباجات الكتب كثيرا:

 

(2)‌‌ متصل ليس له انقطاع … ما فيه كذاب ولا ضاع

قوله: "متصل" خبر مبتدأ محذوف أي: هو، أي حمدا إلى آخره. متصل لا ينقطع ولذا كان بغير عد (والجملة مستأنفة استئنافا بيانيا كأنه قيل لم كان بغير عد) قال: لأنه متصل لا ينقطع (حتى ينفد كل معدود ومحدود). والاتصال ضد الانقطاع فقوله: "ليس له انقطاع "وصف تأكيدي مثل "نفخة واحدة"، وقوله " ما فيه كذاب " فعال صيغة مبالغة من الكذب، وحقيقته: الإخبار عن الشيء بخلاف ما هو عليه عمدا كان أو سهوا، واشترط المعتزلة "العمدية". وفي الحديث: "من كذب علي متعمدا "والمبالغة هنا أريد بها ما أريد بها في قوله تعالى: (وما ربك بظلام) (للعبيد) على أحد الوجوه: من أنه لو وقع كذب في الحمد وقصور لكان أبلغ الكذب، كما أنه لو وقع منه تعالى ظلم لكان أبلغ ظلم.
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের মধ্যে 'মারফু' হলো তা, যা কোনো সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা হিসেবে বর্ণনা করেছেন—অথবা তাঁর কাজ, মৌনসম্মতি, গুণাবলী বা ইচ্ছাকে বুঝানো হয়। (আর এই দুটির মধ্যে) 'বারাআতিল ইস্তিহলাল' (সূচনার চমৎকারিত্ব) বিদ্যমান। 'আত-তা'রিফাত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'বারাআতিল ইস্তিহলাল' হলো কথার (সূচনা) উদ্দেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া। এটি কিতাবের মুখবন্ধে প্রচুর দেখা যায়:

 

(২)‌‌ এটি নিরবচ্ছিন্ন, যার কোনো ইতি নেই … এতে কোনো মিথ্যাবাদী নেই এবং এটি বিলুপ্তও হবে না

তাঁর কথা: "মুত্তাসিল" (নিরবচ্ছিন্ন) শব্দটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর; অর্থাৎ: এটি—অর্থাৎ প্রশংসা—শেষ পর্যন্ত। এটি নিরবচ্ছিন্ন, যা বিচ্ছিন্ন হয় না এবং এই কারণেই এটি গণনার অতীত। (আর বাক্যটি একটি ব্যাখ্যামূলক প্রারম্ভ, যেন প্রশ্ন করা হয়েছে যে, কেন এটি গণনাহীন?) তিনি বললেন: কারণ এটি নিরবচ্ছিন্ন, এর কোনো ইতি নেই (এমনকি প্রতিটি গণনাকৃত ও সীমাবদ্ধ বিষয় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া পর্যন্ত)। আর নিরবচ্ছিন্নতা হলো বিচ্ছিন্নতার বিপরীত। সুতরাং তাঁর কথা: "যার কোনো ইতি নেই" হলো একটি তাকিদ বা গুরুত্বজ্ঞাপক বিশেষণ, যেমন "একবার ফুৎকার"। আর তাঁর কথা: "এতে কোনো মিথ্যাবাদী নেই", এখানে 'কায্যাব' শব্দটি মিথ্যা থেকে অতিশয়োক্তির রূপ। আর এর প্রকৃত অর্থ হলো: কোনো বিষয় সম্পর্কে বাস্তবতার বিপরীতে সংবাদ প্রদান করা, চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত। মুতাজিলাগণ "ইচ্ছাকৃত হওয়ার" শর্তারোপ করেছেন। হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল..."। আর এখানে অতিশয়োক্তি দ্বারা ওই অর্থই উদ্দেশ্য যা আল্লাহ তা'আলার এই বাণীতে উদ্দেশ্য: (আপনার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেও জুলুমকারী নন); এটি অন্যতম একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী: যে অর্থটি হলো—যদি এই প্রশংসার মধ্যে কোনো মিথ্যা বা ত্রুটি পাওয়া যেত, তবে তা হতো চরম পর্যায়ের মিথ্যা, যেমনটি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে যদি কোনো জুলুম সংঘটিত হতো (নাউযুবিল্লাহ), তবে তা হতো চরম পর্যায়ের জুলুম।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮৬)
وتحقيقه أن الحمد (لله) لا يتصور فيه جهة كذب أصلا لأنه دائما مطابق للواقع -"والوضاع" مثله في نكتة المبالغة وفي البيت، الإشارة إلى ما يتضمنه التأليف.

 

(3)‌‌ ثم صلاة الله تغشى أحمدا … وآله وصحبه أهل التقى

أردف الثناء على الله تعالى بالدعاء لرسوله صلى الله عليه وسلم وأتى بحرف الترتيب للإشارة إلى تقديم الحمد على ذلك، لأن المشروع البداية بالثناء على الله لحديث: "كل أمر ذي بال لا يبدأ فيه" الحديث. والعطف للجملة (الخبرية) الاسمية على الخبرية الفعلية وهما خبريتان لفظا إنشائيتان معنى كما قال القاضي زكريا: إن المقصود بها إيجاد الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم كما أن المقصود بالأولى إيجاد الثناء على الله تعالى. وفسر القاضي زكريا الصلاة بالرحمة وهو تابع لغيره ممن فسرها بذلك وقال ابن القيم: إنه ضعيف كالقول بأن صلاة الله مغفرته، وهو رواية عن الضحاك. (ووجه ضعفه) الأول: أنه تعالى عطف الرحمة على الصلاة في قوله: (ألئك عليهم صلوات من ربهم ورحمة) والأصل فيه المغايرة وإن وقع خلافه فنادر (شاذ) (و) لا يحمل عليه أفصح الكلام.
এর প্রকৃত রূপ হলো, (আল্লাহর জন্য) নির্ধারিত প্রশংসার ক্ষেত্রে মিথ্যার কোনো সম্ভাবনা কল্পনা করা যায় না, কারণ তা সর্বদা বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ। এবং "আল-ওয়াদ্দা" (অধিক প্রশংসাকারী) শব্দটিও অতিশয়োক্তির সূক্ষ্মতার দিক থেকে এর মতো। আর এই কবিতায় রচনার অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলির প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে।

 

(৩)‌‌ অতঃপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আহমাদের ওপর … এবং তাঁর পরিবার ও তাকওয়াধারী সাথীদের ওপর

তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসার পরপরই তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য দোয়ার অনুগমন করেছেন এবং অনুক্রমবাচক অব্যয় এনেছেন সেই বিষয়ের ওপর হামদকে (প্রশংসা) অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করতে। কারণ শরীয়ত অনুযায়ী আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করা বাঞ্ছনীয়, হাদিসের কারণে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা শুরু করা হয় না..." (সম্পূর্ণ হাদিস)। এখানে বর্ণনামূলক বিশেষ্যধর্মী বাক্যকে বর্ণনামূলক ক্রিয়াধর্মী বাক্যের ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে। শব্দগতভাবে বাক্য দুটি বর্ণনামূলক হলেও অর্থগতভাবে সেগুলো কামনামূলক (ইনশাইয়্যাহ); যেমনটি কাযী যাকারিয়া বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাঁর (রাসূলের) ওপর সালাত পেশ করা, ঠিক যেমন প্রথম বাক্যটির উদ্দেশ্য ছিল মহান আল্লাহর প্রশংসা করা। কাযী যাকারিয়া 'সালাত'-এর ব্যাখ্যা করেছেন 'রহমত' দ্বারা, এক্ষেত্রে তিনি অন্যদের অনুসারী যারা এর এরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। তবে ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: এই ব্যাখ্যাটি দুর্বল, যেমন আল্লাহর সালাতকে তাঁর 'ক্ষমা' বলা একটি দুর্বল মত; যা দাহহাক থেকে বর্ণিত হয়েছে। (এর দুর্বলতার দিকটি হলো) প্রথমত: মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে সালাতের ওপর রহমতকে সংযুক্ত (আতাফ) করেছেন: "তাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাত ও রহমত বর্ষিত হয়।" আর ব্যাকরণগত মূলনীতি হলো সংযুক্তি ভিন্নতা প্রকাশ করে। যদি এর ব্যতিক্রম ঘটে তবে তা অত্যন্ত বিরল (শায), আর সর্বাধিক অলঙ্কারপূর্ণ বাণীকে (কুরআনকে) বিরল নিয়মের ওপর প্রয়োগ করা যায় না।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮৭)
والثاني: أن صلاته تعالى خاصة بأنبيائه ورسله والمؤمنين وأما رحمته فوسعت كل شيء فليست مرادفة لها، لكن الرحمة من لوازم الصلاة وموجباتها وثمراتها فمن فسرها بالرحمة فهو: تفسير ببعض ثمراتها. (و) الثالث: أنه لا خلاف في جواز الترحم على المؤمنين بخلاف الصلاة على غير الأنبياء ففي جوازها خلاف على ثلاثة أقوال. الرابع: أنها لو كانت الرحمة بمعناها لقامت مقامها في امتثال الأمر وأسقطت الوجوب عند من قال بوجوبها، إذا قال: "اللهم ارحم محمدا " وليس كذلك وعد خمسة عشر وجها في رد القول: بأن الصلاة الرحمة هنا، واختار أنها ثناء الله على رسوله صلى الله عليه وسلم والعناية به، وإظهار شرفه، وفضله، وحرمته. وذكر البخاري في صحيحه عن أبي العالية قال: " صلاة الله على رسوله ثناءه عليه عند الملائكة". وقوله تغشى أحمدا هو اسم علم له صلى الله عليه وسلم كما قال عيسى - روح الله وكلمته - (ومبشرا برسول يأتي من بعدى اسمه أحمد) وكما ثبت في حديث جبير بن مطعم عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: " إن لي أسماء أنا محمد (وأنا) أحمد (وأنا) الماحي الذي يمحو الله بي الكفر"، إذا عرفت هذا فاسماه
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলার সালাত তাঁর নবী, রসূল এবং মুমিনদের জন্য সুনির্দিষ্ট, পক্ষান্তরে তাঁর রহমত প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তাই রহমত সালাতের সমার্থক শব্দ নয়। তবে রহমত হলো সালাতের অপরিহার্য অনুষঙ্গ, কারণ এবং তার ফলাফল। সুতরাং যারা সালাতের ব্যাখ্যা রহমত দিয়ে করেছেন, তা মূলত সালাতের কতিপয় ফলাফলের মাধ্যমে কৃত একটি ব্যাখ্যা। (এবং) তৃতীয়ত: মুমিনদের জন্য রহমতের দোয়া করার বৈধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই; কিন্তু নবীগণ ব্যতীত অন্যদের জন্য সালাত পাঠের বৈধতার বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে। চতুর্থত: সালাত যদি রহমতের অর্থেই হতো, তবে যারা সালাত পাঠ ওয়াজিব মনে করেন তাদের নিকট নির্দেশ পালনের ক্ষেত্রে তা রহমতের স্থলাভিষিক্ত হতো এবং "হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন" বললেই ওয়াজিব পালিত হয়ে যেত। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। তিনি সালাত অর্থ রহমত—এই উক্তিটি খণ্ডন করতে পনেরটি দিক উল্লেখ করেছেন এবং এই মতটি গ্রহণ করেছেন যে, সালাত হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা করা, তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন প্রদান করা এবং তাঁর সম্মান, মর্যাদা ও মাহাত্ম্য প্রকাশ করা। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবুল আলিয়াহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রসূলের ওপর সালাত হলো ফেরেশতাদের নিকট তাঁর প্রশংসা করা।" আর তাঁর উক্তি "আহমাদকে আচ্ছন্ন করুক" প্রসঙ্গে—আহমাদ হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি নাম, যেমনটি ঈসা—যিনি আল্লাহর রূহ ও তাঁর কালিমা—বলেছিলেন: (এবং এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা হিসেবে যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম হবে আহমাদ)। এবং যেমনটি জুবাইর ইবনে মুতয়িম বর্ণিত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমার বেশ কিছু নাম রয়েছে, আমি মুহাম্মাদ (এবং আমি) আহমাদ (এবং আমি) আল-মাহি, যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মিটিয়ে দেন।" যখন আপনি এটি জানলেন, তখন তাঁর নামসমূহ...
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮৮)
الأولان مشتقان من الحمد، والفرق بين محمد وأحمد من وجهين: الأول أن محمدا هو المحمود حمدا بعد حمد، فهو دال على كثرة حمد الحامدين له. وذلك مستلزم كثرة موجبات الحمد فيه وأحمد أفعل تفضيل من الحمد يدل على أن الحمد الذي يستحقه أفضل مما يستحقه غيره. فمحمد زيادة حمد في الكمية وأحمد زيادة (حمد) في الكيفية فيحمد أكثر حمد وأفضل حمد حمده البشر. (و) الثاني أن محمدا هو المحمود حمدا متكررا وأحمد هو الذي حمده لربه أفضل من حمد الحامدين غيره فدل محمد على كونه محمودا ودل أحمد على كونه أحمد الحامدين لربه تعالى. وقوله: "وآله" عطف على أحمد، أتى بهم لما ثبت في حديث الصحيحين في بيان كيفية الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم التي أمر الله تعالى بها عباده فإنه علمهم الكيفية بذكر الآل. لما قالوا له صلى الله عليه وسلم: كيف نصلي عليك، قال: "قولوا اللهم صل على محمد وعلى آل محمد " الحديث، فأمرهم بهذا اللفظ الشامل للآل. (و) أما من هم الآل ففيه أربعة أقوال: الأول من حرمت عليهم الصدقة وفيهم ثلاثة أقوال: الأول: بنو هاشم وبنو المطلب، والثاني: بنو هاشم خاصة، الثالث: بنو هاشم ومن فوقهم إلى غالب، فيدخل فيهم بنو المطلب وبنو أمية وبنو نوفل ومن فوقهم إلى غالب، الأول للشافعي ورواية عن أحمد، الثاني لأبي حنيفة ورواية أيضا عن أحمد، الثالث لأشهب من أصحاب مالك.
প্রথম নাম দুটি 'হামদ' (প্রশংসা) থেকে উদ্ভূত, এবং মুহাম্মদ ও আহমাদ-এর মধ্যে পার্থক্য দুটি দিক থেকে: প্রথমত, মুহাম্মদ হলেন তিনি যার প্রশংসা বারবার করা হয়; ফলে এটি তাঁর প্রশংসাকারীদের প্রশংসার আধিক্য নির্দেশ করে। এটি তাঁর মধ্যে প্রশংসার কারণসমূহের আধিক্যকে আবশ্যক করে। আর আহমাদ শব্দটি 'হামদ' থেকে আতিশয্যবাচক বিশেষ্য (ইসমে তাফযীল), যা নির্দেশ করে যে তিনি যে প্রশংসার যোগ্য তা অন্যের প্রাপ্য প্রশংসা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। সুতরাং মুহাম্মদ দ্বারা প্রশংসার পরিমাণগত আধিক্য এবং আহমাদ দ্বারা প্রশংসার গুণগত আধিক্য বুঝায়। অতএব, মানুষের করা প্রশংসার মধ্যে তাঁকে সর্বাধিক ও সর্বোত্তম প্রশংসা করা হয়। দ্বিতীয়ত, মুহাম্মদ হলেন তিনি যাঁর প্রশংসা বারবার করা হয়, আর আহমাদ হলেন তিনি যাঁর নিজ রবের প্রতি প্রশংসা অন্যান্য প্রশংসাকারীদের প্রশংসা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর। ফলে মুহাম্মদ তাঁর প্রশংসিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে এবং আহমাদ প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর মহান রবের সর্বাধিক প্রশংসাকারী। আর তাঁর উক্তি: "ও তাঁর পরিবারবর্গ" হলো আহমাদ-এর ওপর সংযোজন। তিনি তাঁদের উল্লেখ করেছেন কারণ সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদীসে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর দরুদ পড়ার পদ্ধতি বর্ণনায় এটি প্রমাণিত হয়েছে, যার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন; কেননা তিনি তাঁদেরকে পরিবারবর্গের উল্লেখের মাধ্যমে সেই পদ্ধতি শিখিয়েছেন। যখন তারা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞেস করেছিলেন: আমরা কীভাবে আপনার ওপর দরুদ পাঠ করব? তিনি বললেন: "তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করুন..." (হাদীস)। এভাবে তিনি তাঁদেরকে এমন শব্দ দ্বারা নির্দেশ দিয়েছেন যা পরিবারবর্গকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর এই পরিবারবর্গ কারা—এ বিষয়ে চারটি মত রয়েছে: প্রথম মত হলো, যাদের ওপর সদকা গ্রহণ হারাম। এ বিষয়ে আবার তিনটি অভিমত রয়েছে: প্রথমত, বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব। দ্বিতীয়ত, কেবল বনু হাশিম। তৃতীয়ত, বনু হাশিম এবং গালিব পর্যন্ত তাঁদের ঊর্ধ্বপুরুষগণ; ফলে এর মধ্যে বনু মুত্তালিব, বনু উমাইয়া, বনু নাওফাল এবং গালিব পর্যন্ত তাঁদের ঊর্ধ্বপুরুষগণ অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রথম মতটি শাফিঈর এবং আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত। দ্বিতীয়টি আবু হানিফার এবং আহমাদ থেকেও বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত। তৃতীয়টি মালিকের অনুসারী আশহাবের অভিমত।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৮৯)
الثاني: من الأربعة الأقوال أن (الآل) هم ذريته وأزواجه خاصة لحديث أبي حميد مرفوعا: "اللهم صل على محمد وأزواجه وذريته"، مع ثبوت رواية حديث "وآله" فدل هذا المفصل أنهم المرادون بالآل. الثالث منها: أنهم أتباعه صلى الله عليه وسلم إلى يوم القيامة حكاه ابن عبدالبر عن بعض أهل العلم وأقدم من روي عنه هذا القول جابر بن عبدالله ذكره البيهقي ورجحه النووي في شرح مسلم. الرابع منها: أن آله صلى الله عليه وسلم الأتقياء من أمته ودلائل الأقوال مبسوطة في محلها. وأقربها القول بأنهم من حرمت عليهم الصدقة لما رواه البخاري من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن أحد الحسنين أخذ تمرة من الصدقة فنظر إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأخرجها من فيه وقال: "أما علمت أن آل محمد لا يأكلون الصدقة ".
দ্বিতীয়: চারটি মতের মধ্যে একটি হলো (আল) বলতে বিশেষভাবে তাঁর বংশধর ও তাঁর সহধর্মিণীগণকে বোঝায়; আবু হুমাইদ থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসের কারণে: “হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ, তাঁর সহধর্মিণীগণ এবং তাঁর বংশধরদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন।” এর পাশাপাশি “তাঁর পরিবার” সংবলিত হাদিসের বর্ণনাটি সাব্যস্ত হওয়ায় এই বিশদ বর্ণনাটি নির্দেশ করে যে, ‘আল’ বলতে তাঁরাই উদ্দেশ্য। এর মধ্যে তৃতীয়টি হলো: তাঁরা হলেন কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুসারীবৃন্দ। ইবনে আব্দুল বার কতিপয় আহলে ইলম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। যাঁর থেকে এই মতটি সর্বপ্রথম বর্ণিত হয়েছে তিনি হলেন জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ; বাইহাকী এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম নববী শরহে মুসলিমে একে প্রাধান্য দিয়েছেন। এর মধ্যে চতুর্থটি হলো: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ‘আল’ হলেন তাঁর উম্মতের মুত্তাকী ব্যক্তিবর্গ। এই মতসমূহের প্রমাণাদি স্ব স্ব স্থানে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত রয়েছে। আর এগুলোর মধ্যে অধিক নিকটবর্তী মত হলো—তাঁরা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যাদের জন্য সদকা গ্রহণ করা হারাম। এর কারণ হলো ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, হাসান ও হুসাইনের মধ্যে একজন (হাসান অথবা হুসাইন) সদকার একটি খেজুর গ্রহণ করেছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দিকে তাকালেন এবং সেটি তাঁর মুখ থেকে বের করে দিলেন ও বললেন: “তুমি কি জানো না যে, মুহাম্মদের পরিবার সদকা ভক্ষণ করে না?”
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৯০)
ورواه مسلم بلفظ: "إنا لا تحل لنا الصدقة"، ولحديث مسلم أيضا عن زيد بن أرقم في قصة غدير خم، وفيه أنه [صلى الله عليه وسلم] قال: "أذكركم الله في أهل بيتي" كررها ثلاثاً. فقال حصين بن سبرة: ومن أهل بيته يا زيد؟ أليس نساءه من أهل بيته؟ قال: إن نساءه من أهل بيته، ولكن أهل بيته من حرم [عليهم] الصدقة بعده. قال: ومن هم؟ قال: آل علي وآل عقيل وآل جعفر وآل عباس. قال: أكل هؤلاء حرم عليهم الصدقة؟ … الحديث والصحابي أعرف بتفسير ما رواه. وقوله: وصحبه جمع صاحب، كما في القاموس حيث قال: وهم أصحاب وأصاحيب وصحبان، وصحاب وصحب انتهى ويأتي الخلاف في مسماه عرفاً، وهذا العطف مبني على جواز الصلاة على غير الأنبياء عليهم السلام تبعاً لهم.

 

(4)‌‌ وبعد فالنخبة في علم الأثر … مختصر يا حبذا من مختصر

بعد من الظروف الغايات، له ثلاث حالات، ذكر ما يضاف إليه فيعرب كسائر المعربات، وحذفه مع إرادته فيبنى على الضم وحذفه نسيا
এবং মুসলিম এটি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আমাদের জন্য সাদাকা হালাল নয়।" মুসলিমের আরেকটি হাদিস জায়েদ বিন আরকাম থেকে গাদীরে খুমের ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে, যাতে আছে যে তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে আমার পরিবারবর্গের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি" - এটি তিনি তিনবার বলেছেন। তখন হুসাইন বিন সাবরাহ বললেন: হে জায়েদ, তাঁর পরিবারবর্গ কারা? তাঁর স্ত্রীগণ কি তাঁর পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত নন? তিনি বললেন: তাঁর স্ত্রীগণ তাঁর পরিবারবর্গের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু (এখানে) তাঁর পরিবারবর্গ হলো তারা, যাদের জন্য তাঁর পরে সাদাকা হারাম করা হয়েছে। তিনি বললেন: তারা কারা? তিনি বললেন: আলীর বংশধর, আকীলের বংশধর, জাফরের বংশধর এবং আব্বাসের বংশধর। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এদের সবার জন্যই কি সাদাকা হারাম? ... হাদিসটি। আর সাহাবী যা বর্ণনা করেছেন তার ব্যাখ্যা সম্পর্কে তিনিই অধিক অবগত। এবং তাঁর উক্তি: "তাঁর সঙ্গীগণ" হলো 'সাহিব' শব্দের বহুবচন, যেমনটি 'আল-কামুস' গ্রন্থে বলা হয়েছে: তারা হলো আসহাব, আসাহিব, সুহবান, সিহাব এবং সাহব; সমাপ্ত। এর পারিভাষিক নামকরণের ক্ষেত্রে মতভেদ সামনে আসবে। আর এই সংযোজনটি নবিগণ (আলাইহিমুস সালাম)-এর অনুসরণে তাঁদের ব্যতীত অন্যদের ওপর সালাত পাঠের বৈধতার ওপর ভিত্তি করে।

 

(৪)‌‌ আর অতঃপর ইলমে আছারে 'নুখবাতুল ফিকার' ... এক চমৎকার সংক্ষিপ্তসার, এটি কতই না উত্তম সংক্ষিপ্তসার

'বাদু' (অতঃপর) শব্দটি গন্তব্যজ্ঞাপক অব্যয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত, এর তিনটি অবস্থা রয়েছে: যার প্রতি এটি সম্বন্ধযুক্ত হয় তা উল্লেখ করা, সেক্ষেত্রে এটি অন্যান্য পরিবর্তনশীল শব্দের ন্যায় পরিবর্তনশীল হয়; আর সম্বন্ধযুক্ত শব্দটি মনে রেখে তা উহ্য রাখা, সেক্ষেত্রে এটি পেশের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় হয়; আর সেটি সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হয়ে উহ্য রাখা।
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৯১)
فيعرب منوناً، كما عرف في النحو وهي هنا من القسم الثاني أي بعد الحمد والصلاة. والفاء في حيزها مبنية على توهم أما التي تلازمها غالباً والنخبة بالضم وكهمزة المختار. وانتخبه اختاره كما في القاموس، فهي علم نقل من ذلك. و"في علم الأثر" متعلق بها بتقدير "المؤلفة في علم الأثر" وفي نسخة "الخبر"وهو مبني على ترادفهما كترادف الحديث والخبر. وقيل: الأثر يطلق على ما كان موقوفاً على الصحابة فمن بعدهم والخبر يختص بما كان مأثوراً عن النبي صلى الله عليه وسلم. كما أنه قد قيل بالفرق بين الخبر والحديث أن الحديث ما جاء عنه صلى الله عليه وسلم والخبر ما جاء عن غيره وقوله جاء عنه صلى الله عليه وسلم أي من قول أو فعل أو تقدير أو همٍ أو صفة. واعلم أنه لا غنى عن معرفة رسمه وموضوعه وغايته وقد رسموه فقيل: إنه علم يبحث فيه عن سنة النبي صلى الله عليه وسلم إسناداً ومتناً لفظاً ومعنى من
সুতরাং এটি তানভীনসহ পঠিত হবে, যেমনটি নাহু শাস্ত্রের বিধানে পরিচিত। আর এটি এখানে দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ হামদ ও সালাতের পরবর্তী অংশ। এর পরবর্তী 'ফা' বর্ণটি মূলত 'আম্মা' শব্দের উহ্য উপস্থিতির ধারণার ওপর ভিত্তি করে এসেছে যা সাধারণত এর সাথে অবিচ্ছেদ্য থাকে। আর 'নুখবা' শব্দটি নূন বর্ণে পেশ যোগে পঠিত হয়, যেমন 'মুখতার' শব্দের হামজা। 'আল-কামুস' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, 'ইনতাখাবাহু' অর্থ হলো 'ইখতারাহু' (তিনি তা নির্বাচন করেছেন)। সুতরাং এটি সেখান থেকেই গৃহীত একটি পারিভাষিক নাম। এবং 'আসার শাস্ত্রের বিষয়ে' কথাটি এখানে 'আসার শাস্ত্রের বিষয়ে রচিত'—এরূপ উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট। কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'খাবার' শব্দটি এসেছে, যা 'হাদীস' ও 'খাবার' শব্দ দুটির সমার্থবোধক হওয়ার ওপর ভিত্তি করে। কেউ কেউ বলেছেন: 'আসার' শব্দটি সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তীগণের ওপর স্থগিত (মাওকুফ) বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর 'খাবার' শব্দটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিষয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট। তদ্রূপ খবর ও হাদীসের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়েও বলা হয়েছে যে, হাদীস হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এসেছে, আর খবর হলো যা অন্য কারো থেকে এসেছে। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হওয়া বলতে তাঁর কথা, কাজ, মৌন সম্মতি, সংকল্প কিংবা তাঁর বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়। জেনে রাখুন যে, এর সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা অপরিহার্য। একে সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে বলা হয়েছে: এটি এমন এক শাস্ত্র যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর সনদ ও মূল পাঠের শব্দ ও অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়...
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৯২)
حيث القبول والرد وما يتبع ذلك من كيفية تحمل الحديث وروايته وكيفية ضبطه وكتابته وأدب راويه وطالبيه. وقيل في رسمه ما هو أخصر وهو أنه علم يعرف به حال الراوي والمروي من جهة القبول والرد. وموضوعه: الراوي والمروي من هذه الجهة. وغايته معرفة ما يقبل وما يرد من ذلك، والمصنف ابن حجر رحمه الله [تعالى] يرى ترادف الخبر والأثر كما دل له تسمية كتابه [هذا] "نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر"فلذا جعلها الناظم نسختين. والاختصار [وهو] حذف الفضول من الشيء كما في القاموس. وقولنا: يا حبذا حذف المنادى: أي يا قوم - أو- يا علماء، وحبذا من أفعال المدح كما عرف في النحو.

 

(5)‌‌ ألفها الحافظ في حال السفر … وهو الشهاب بن علي بن حجر

ذكر الإمام العلامة محمد بن إبراهيم المعروف بابن الوزير، وكان معاصرا للحافظ ابن حجر: أن الحافظ كتب في سفره إلى مكة سنة سبع
যেখানে গ্রহণ ও বর্জন এবং এর অনুগামী বিষয়াবলি যেমন হাদিস গ্রহণ ও বর্ণনা করার পদ্ধতি, এর যথাযথ সংরক্ষণ ও লিখন পদ্ধতি এবং এর বর্ণনাকারী ও শিক্ষার্থীদের আদব বা শিষ্টাচার আলোচিত হয়। এর সংজ্ঞায় আরও সংক্ষিপ্তভাবে বলা হয়েছে যে, এটি এমন একটি জ্ঞান যার মাধ্যমে গ্রহণ ও বর্জনের দিক থেকে বর্ণনাকারী ও বর্ণিত বিষয়ের অবস্থা জানা যায়। এর আলোচ্য বিষয়: এই প্রেক্ষিত থেকে বর্ণনাকারী ও বর্ণিত বিষয়। এর উদ্দেশ্য হলো এর মধ্য থেকে কোনটি গ্রহণযোগ্য এবং কোনটি বর্জনীয় তা জানা। গ্রন্থকার ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) 'খবর' ও 'আসার' শব্দদ্বয়কে সমার্থক মনে করেন, যা তাঁর এই কিতাব "নখবাতুল ফিকর ফি মুসতালাহি আহলিল আসার" এর নামকরণ থেকে প্রমাণিত হয়। একারণেই ছন্দকার একে দুই সংস্করণ হিসেবে গণ্য করেছেন। আর সংক্ষিপ্তকরণ হলো কোনো বস্তু থেকে অতিরিক্ত অংশ বর্জন করা, যেমনটি 'কামুস' অভিধানে রয়েছে। আর আমাদের উক্তি: 'ইয়া হাব্বাযা', এখানে সম্বোধন পদ উহ্য রয়েছে: অর্থাৎ হে লোকসকল -অথবা- হে উলামায়ে কেরাম; আর 'হাব্বাযা' হলো প্রশংসাসূচক ক্রিয়াগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি ব্যাকরণশাস্ত্রে পরিচিত।

 

(৫)‌‌ হাফেজ এটি সফর অবস্থায় রচনা করেছেন … আর তিনি হলেন শিহাব বিন আলী বিন হাজার

ইমাম আল্লামা মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম, যিনি ইবনুল উযাইর নামে পরিচিত এবং হাফেজ ইবনে হাজারের সমসাময়িক ছিলেন, উল্লেখ করেছেন যে: হাফেজ (ইবনে হাজার) সাত সালে তাঁর মক্কা সফরের সময় (এটি) লিখেছেন...
(খণ্ড: ১) ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কার নাযমু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার (পৃষ্ঠা: ১৯৩)
عشرة وثمانمائة مختصرا بديعا في علوم الحديث قال: فوقفت عليه وقوف شحيح ضاع في التراب خاتمه فوجدته كما قيل:

أبلغ العلم وأشفاه … لأدواء الفؤاد

اختصار في جلاء … وبلوغ في مراد

(قلت): البيتان ينسبان إلى نشوان بن سعيد الحميري. قال السيد محمد: "لكنه بقي [عليه] فيه ما يقيه من العين ولا يشعر بمثله إلا في سواد العين) كفوقة الظفر لا يدري بموضعها ومثلها في سواد العين مشهور (قلت): الفوقة نقطة بيضاء تكون في الأظفار. قال: "وذلك لكثرة اشتغاله في أوان ارتحاله لا لقصور [في] عرفانه، فهو إمام زمانه فرأيت أن أقلل مما وقع نقدي عليه فأما الإحصاء فلا سبيل إليه، إذ السهو والخطأ والنسيان من صفة كل إنسان. وأتدلل (قلت: بالدال المهملة من الإدلال على من لك عنده منزلة) عليه بزيادة يسيرة أو تحرير عبارة عدلا لا عدوا لاعترافي أن الكتاب كتابه لفظا ومعنى ونصا لا فحوى، ليس لي فيه حق ولا رجوى ولا شبهة ولا دعوى إلا ما زدته عليه من الدلائل غيرة على دعاويه العواطل من مشابهتها للدعاوى البواطل " انتهى. وإنما نقلته بطوله لأني - إن شاء الله - سأذكر ما انتقده ذهنه الوقاد وحرره من الأدلة وزاد.
৮১০ হিজরিতে হাদীসশাস্ত্রে একটি চমৎকার সংক্ষিপ্তসার। তিনি বললেন: আমি এর ওপর এমনভাবে নিপতিত হলাম যেমন একজন কৃপণ ব্যক্তি ধুলোয় হারিয়ে যাওয়া আংটি খুঁজে পাওয়ার জন্য নিপতিত হয়। অতঃপর আমি এটিকে তেমনই পেলাম যেমন বলা হয়েছে:

হৃদয়ের ব্যাধিসমূহের জন্য … এটি সবচেয়ে প্রভাববিস্তারী এবং নিরাময় দানকারী ইলম

স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে একটি সারসংক্ষেপ … এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর মাধ্যম

(আমি বলছি): এই দুই পঙক্তি নাশিওয়ান বিন সাঈদ আল-হিমইয়ারীর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। সাইয়িদ মুহাম্মদ বলেছেন: "কিন্তু এতে এমন কিছু অবশিষ্ট ছিল যা একে বদনজর থেকে রক্ষা করে এবং চোখের মণির মতো সূক্ষ্ম না হলে এর উপস্থিতি টের পাওয়া যায় না।" নখের ওপরের সাদা বিন্দুর মতো যার অবস্থান জানা যায় না, অথচ চোখের মণির ওপর অনুরূপ দাগ অত্যন্ত পরিচিত (আমি বলছি): 'ফাউকাহ' হলো নখের ওপর থাকা সাদা বিন্দু। তিনি বললেন: "আর এটি তাঁর বিদায়লগ্নে অতি ব্যস্ততার কারণে হয়েছে, তাঁর জ্ঞানের কোনো ঘাটতির কারণে নয়; কেননা তিনি নিজ যুগের ইমাম। তাই আমি তাঁর ওপর আমার সমালোচনার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে সবগুলোকে গণনা করার কোনো পথ নেই, কারণ ভুল, বিচ্যুতি ও বিস্মৃতি প্রতিটি মানুষেরই বৈশিষ্ট্য। আর আমি তাঁর ওপর কিছুটা আবদার করছি (আমি বলছি: 'দাল' বর্ণের মাধ্যমে 'ইদলাল' শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো যার নিকট আপনার মর্যাদা আছে তার ওপর অধিকার খাটানো) সামান্য কিছু বৃদ্ধি বা কোনো ইবারত পরিমার্জনের মাধ্যমে; এটি ন্যায়বিচার হিসেবে, শত্রুতা হিসেবে নয়। কারণ আমার স্বীকৃতি রয়েছে যে, এই কিতাবটি শব্দে, অর্থে এবং মূল পাঠে তাঁরই, কেবল মর্মার্থে নয়। এতে আমার কোনো অধিকার, প্রত্যাশা, সন্দেহ বা দাবি নেই, কেবল আমি এতে যে প্রমাণাদি বৃদ্ধি করেছি তা ব্যতীত; আর তা করেছি তাঁর অসার দাবিগুলো যাতে বাতিল দাবিগুলোর সদৃশ না হয় সেই অদম্য আগ্রহ থেকে।" সমাপ্ত। আমি এটি দীর্ঘভাবে উদ্ধৃত করেছি কারণ ইনশাআল্লাহ আমি অচিরেই উল্লেখ করব যা তাঁর প্রখর মেধা সমালোচনা করেছে, দলীলসমূহ পরিমার্জন করেছে এবং অতিরিক্ত যোগ করেছে।