(খণ্ড: ১) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: -)
المعارضات الفكرية المعاصرة لأحاديث الصحيحين   (محمد بن فريد زريوح)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: المعارضات الفكرية المعاصرة لأحاديث الصحيحين -دراسة نقدية-

تأليف: د. محمد بن فريد زريوح

الناشر: تكوين للدراسات والأبحاث

الطبعة: الأولى، 1441 هـ - 2020 م

عدد الأجزاء: 3 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 رمضان 1442

সহীহাইন-এর হাদীসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক আপত্তি   (মুহাম্মদ বিন ফরীদ যেরইউহ)

বিভাগ: দল-উপদল এবং খণ্ডন


বই: সহীহাইন-এর হাদীসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক আপত্তি -একটি সমালোচনামূলক অধ্যয়ন-

লেখক: ড. মুহাম্মদ বিন ফরীদ যেরইউহ

প্রকাশক: তাকউইন ফর স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪১ হিজরী - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন)

[বইয়ের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৩ রমজান ১৪৪২

(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٥)
المعارضات الفكرية المعاصرة

 

لأحاديث الصحيحين

 

دراسة نقديَّة

 

د. محمد بن فريد زريوح

 

المجلد الأول
সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক আপত্তিগুলো

 

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদীসসমূহের ওপর

 

একটি সমালোচনামূলক পর্যালোচনা

 

ড. মুহাম্মদ বিন ফারিদ যারিউহ

 

প্রথম খণ্ড
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌مقدمة

أحْمَدُه -جَلَ ذِكْرُه- بجميعِ مَحامِدِه، وأُثْني عليه بتَواتُر فَواضِله ونِعَمِه، وأَستهديهِ سبيلَ الصَّواب في القولِ والعَمَلِ بمِنَنِه، وأُصلِّي على خيرِ خلقِه وأكْرمِ رُسلِه صلى الله عليه وسلم، وعلى أَصحابه وأهلِ بيتِه.

أمَّا بعدُ:

فإِنَّ مِن حِكْمةِ الله تعالى وجَسيمِ لُطفْهِ ورحمتِه بعِبادِه، أنْ ابْتعثَ إِليهم خيَر خَلْقهِ، وخاتَم رُسُلِهِ، محمَّدًا -صَلواتُ ربِّي وسلامُه عليه-، وجَعَله محْفوفًا ببُرهانِ الوحيِ، المُشتملِ على هدايةِ البَشريَّة مِن لُجَج الظُّنون، ونورًا للبَرِيَّةِ مِن مُدْلَهِمَّات الشُّبهات وغَسَقِ الفُتون، وافترضَ على العبادِ اتِّباعَ وَحْيِه كتابًا وحِكْمةً، تدَّفقت بها كلماتُه صلى الله عليه وسلم، واصطَبغت بها أفعالُه، فأَناطَ الفوزَ والسَّعادةَ الأبديَّة للمُتمسِّكين بها، الصَّادِرين عنها، المُدِيرين عليها أَقوالَهم وأَعمالَهم.

فكان أَسعدَ الخَلْقِ بهذا النُّورِ، وأَحقَّ النَّاس به، وأَعلاهُم به عَيْنًا، وأَشدَّهم تعظيمًا واتِّباعًا له: هم أَهلُ السُّنَّةِ والجماعةِ؛ لانطواءِ ضَمَائرِهِم على يَقينٍ كُلِّيٍّ بِصدْقِ ثلاثِ ضروراتٍ شرعيَّة:

الضَّرورة الأُولى: قيامُ التَّلازُم بين نورِ الوحيِ وبَصَرِ العقلِ، وتَعذُّر الانتفاعِ بأَحدِهما دون الآخر؛ فنورُ الوَحيِ بلا بَصرِ العقل لا تَتحصَّل الاستفادةُ منه، إذْ بالعقلِ عُلِم صِدقُ الوحي، وأنَّه مِن لَدُن حكيمٍ عليمٍ؛ وبَصَرُ العقلِ بلا نورِ الوحي قضاءٌ على العقلِ بالضَّياعِ في مَنَادِح الأَهواء، ومَسَارِب العَماية.
ভূমিকা

আমি তাঁর প্রশংসা করছি -তাঁর স্মরণ সমুন্নত হোক- তাঁর সকল প্রকার প্রশংসার মাধ্যমে, এবং তাঁর অব্যাহত অনুগ্রহ ও নিয়ামতসমূহের জন্য তাঁর গুণগান করছি। তাঁরই করুণায় আমি কথা ও কাজের সঠিক পথের হিদায়াত কামনা করছি। আর আমি দরুদ পাঠ করছি তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ ও রাসূলদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীদের ওপর।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার হিকমত এবং তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর বিশাল অনুগ্রহ ও দয়ার বহিঃপ্রকাশ হলো এই যে, তিনি তাদের নিকট তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আমার রবের রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁকে ওহীর প্রমাণাদি দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছেন, যা মানবজাতিকে সংশয়ের সমুদ্র থেকে হিদায়াতের পথ দেখায় এবং যা সৃষ্টির জন্য ঘোর সন্দেহ ও ফিতনার অন্ধকার থেকে এক উজ্জ্বল আলো। তিনি বান্দাদের ওপর কিতাব ও হিকমত স্বরূপ তাঁর ওহীর অনুসরণ করাকে অপরিহার্য করেছেন, যার মাধ্যমে তাঁর (রাসূলুল্লাহর) বাণীসমূহ প্রবাহিত হয়েছে এবং তাঁর কার্যাবলি রঞ্জিত হয়েছে। ফলে যারা একে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে, এর ওপর ভিত্তি করে চলে এবং এর আলোকেই নিজেদের কথা ও কাজ পরিচালিত করে, তাদের জন্য তিনি চিরস্থায়ী সাফল্য ও সৌভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।

এই আলোর মাধ্যমে সৃষ্টির মাঝে সর্বাধিক সৌভাগ্যবান, এর সবচেয়ে বেশি হকদার, এর মাধ্যমে সবচেয়ে উঁচু মর্যাদার অধিকারী এবং একে সম্মান প্রদর্শন ও অনুসরণে যারা সবচেয়ে অগ্রগামী, তারা হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। কারণ তাদের অন্তরাত্মা তিনটি শরয়ি অপরিহার্য বিষয়ের সত্যতার ওপর পূর্ণ ইয়াকিন পোষণ করে:

প্রথম অপরিহার্য বিষয়: ওহীর আলো ও বিবেকের দৃষ্টির মাঝে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা এবং একটি ছাড়া অপরটির মাধ্যমে উপকৃত হওয়া অসম্ভব হওয়া। কারণ বিবেকের দৃষ্টি ছাড়া ওহীর আলো থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়, যেহেতু বিবেকের মাধ্যমেই ওহীর সত্যতা জানা যায় এবং বুঝা যায় যে এটি একজন প্রজ্ঞাবান ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আবার ওহীর আলো ছাড়া বিবেকের দৃষ্টি মানে হলো প্রবৃত্তির প্রান্তর ও অন্ধকারের গলিপথসমূহে বিবেকের পথভ্রষ্ট হওয়া ও ধ্বংস হওয়া।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١٠)
والضَّرورة الثَّانية: امتناعُ جرَيَانِ التَّناقُضِ بين وَحْيِه تعالى المَشمولِ بالإِرادةِ الأَمريَّةِ الشَّرعيَّةِ، وبين العقلِ الَّذي تنتظِمُه إرادَةُ الربِّ الخَلقيَّة التَّكوينيَّة؛ ومَجْلى هذا الامتناع: أنَّ كِلا الوَحيِ والعقلِ مِن عند الله، فالأوَّل: أمرُه، والثَّاني: خَلْقُه؛ ولا تعارُضَ بين خَلْقِه وأمرِه، {أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} [الأعراف: 54].

والضَّرورة الثَّالثة: أنَّ هذا الوحيَ بهذه الصِّفةِ الهاديَةِ، محفوظٌ مِن الرَّب تبارك وتعالى إلى قيامِ السَّاعةِ، حفظًا لأحكامِه ومَعانيه، كما هو حفظ لحروفِه ومَبانيه؛ وقد أوكَلَ الله مُهمَّة تبيِينِ القرآن وتَفصيلِه لنبيِّه صلى الله عليه وسلم فقال: {وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44]؛ فإذا صحَّ المَنقول من سُنَّته صلى الله عليه وسلم عند حَمَلة شرعِه، انتظَمَه الوَعدُ بحفظِ الذِّكر لزامًا؛ لسَبْقِ القضاءِ الكَونيِّ بِحفظِ الأُمَّة مِن نُفوقِ الخطأِ عليها.

فهذه ثلاثُ ضروريَّاتٍ بُرهانيَّات، ينقشعُ بهنَّ عِثْيَرُ مُناقضةِ البراهين، ومُدافعة الدَّلائل بافتراعِ خُصومةٍ مُلدَّةٍ بين الدَّلائل الشَّرعية نَقْلِيِّها وعَقْلِيِّهِا؛ يتَوَلَّى كِبْرَ هذه الخصومةِ، ويَتقحَّمُ جراثيمَ هذه المُشاقَّةِ: طوائفُ في القديمِ والحديثِ، اجْتَوَت المنهلَ الرِّساليَّ الصَّافي بادِّعاءِ التَّعارُضِ بينها، وسَوْقِ أَوقارِ الشُّبُهاتِ في سُوقِ النِّكاية بالنُّصوصِ الشَّرعيَّةِ.

نَظَرتْ كلُّ فِرقةٍ منها إِلى تلك الدَّلائل نظْرةً مُبتَسرةً، تختزلُها في رؤيةٍ واحدةٍ تتَّسقُ مع أَصْلِها البِدْعيِّ الَّذي نصَّبَتْهُ مَركزًا تقْضي به على ما عَداه، كحالِ كثيرٍ من المدارسِ الكَلاميَّةِ المُتأخِّرة الَّتي استولَدت هذا النِّزاع، حتَّى انتهى الأمر بها إلى نَصْبِ نَزعاتها المُتمعقِلَة أصولًا يُقضَى بها على النَّقل، طَلبًا لتنزيهِ النَّقلِ عن مُناقضةِ العقل -زعمَت-، فكانوا كمَن ينقض رُكنًا في بيتِه، ليَرِمَّ صدْعًا في رُكنٍ آخرَ!

ولئِنْ كانت هذه الَمدارس قد قنِعت بأوَّلِيةِ العقلِ عند التَّعارض، فإِنَّ طوائفَ أخرى مِن أبناء عصرنا قد ألقَت هذا القَيدَ على عواهِنه، لتبلُغَ بهم الخصومة
দ্বিতীয় অপরিহার্য বিষয়টি হলো: মহান আল্লাহর ওহী—যা তাঁর শরয়ি নির্দেশমূলক ইচ্ছা (আল-ইরাদাতুশ শারইয়্যাহ আল-আমরিয়্যাহ)-র অন্তর্ভুক্ত—এবং আকল বা বুদ্ধি—যা রবের সৃষ্টিগত ও অস্তিত্বদানকারী ইচ্ছা (আল-ইরাদাতুল খালকিয়্যাহ আত-তাকওয়িনিয়্যাহ) দ্বারা সুসংগঠিত—এই উভয়ের মধ্যে কোনো প্রকার বৈপরীত্য থাকা অসম্ভব। এই অসম্ভাব্যতার প্রকাশ রূপ হলো: ওহী এবং আকল উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত। প্রথমটি হলো তাঁর নির্দেশ, আর দ্বিতীয়টি হলো তাঁর সৃষ্টি; আর তাঁর সৃষ্টি ও নির্দেশের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, {জেনে রেখো, সৃষ্টি এবং নির্দেশ তাঁরই; বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ বরকতময়} [আল-আরাফ: ৫৪]।

তৃতীয় অপরিহার্য বিষয়টি হলো: এই হিদায়াতকারী বৈশিষ্ট্যের ওহী মহান রবের পক্ষ থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষিত। এর বিধান ও অর্থ যেভাবে সংরক্ষিত, এর শব্দ ও গঠনশৈলীও ঠিক তেমনি সংরক্ষিত। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর কুরআন ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনার দায়িত্ব অর্পণ করে বলেছেন: {আমি তোমার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি যাতে তুমি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দাও যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে} [আন-নাহল: ৪৪]। সুতরাং শরীয়তের বাহকদের নিকট তাঁর সুন্নাহর যা কিছু সহিহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তা অনিবার্যভাবে 'যিকির' সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতির অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ উম্মতকে সামগ্রিকভাবে ভুলের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করার এক চিরন্তন ফয়সালা পূর্ব থেকেই নির্ধারিত হয়ে আছে।

এগুলো হলো তিনটি অকাট্য যৌক্তিক অপরিহার্যতা, যার মাধ্যমে প্রমাণের বৈপরীত্যের ধূলিজাল অপসারিত হয় এবং শরয়ি দলিলের বর্ণনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিকগুলোর মধ্যে এক কৃত্রিম বিবাদ সৃষ্টির মাধ্যমে দলিলসমূহকে প্রতিহত করার প্রবণতা দূর হয়। এই বিবাদের গুরুভার বহন করে এবং এই শত্রুতার পথে ধাবিত হয় প্রাচীন ও আধুনিককালের এমন কিছু গোষ্ঠী, যারা শরয়ি দলিলগুলোর মধ্যে বৈপরীত্যের দাবি তুলে ওহীর নির্মল প্রস্রবণকে অপছন্দ করেছে এবং শরয়ি নস বা পাঠগুলোকে ঘায়েল করার বাজারে সংশয়ের বোঝা বহন করে এনেছে।

তাদের প্রতিটি দলই সেই দলিলগুলোর প্রতি এক অপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়েছে, তারা এগুলোকে এমন এক একক দৃষ্টিভঙ্গিতে সংকুচিত করেছে যা তাদের সেই বিদয়াতি মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেটিকে তারা মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করিয়েছে এবং তার মাধ্যমেই অন্য সবকিছুর বিচার করে। এটি পরবর্তী যুগের অনেক কালামি (ধর্মতাত্ত্বিক) ঘরানার অবস্থা যারা এই বিবাদ উৎপন্ন করেছে। এমনকি শেষ পর্যন্ত বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ঝোঁকগুলোকে এমন মূলনীতি হিসেবে স্থাপন করেছে যার মাধ্যমে বর্ণনা (নকল)-এর বিচার করা হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা আকলের সাথে ওহীর বৈপরীত্য দূর করার মাধ্যমে ওহীর পবিত্রতা রক্ষা করতে চেয়েছিল—অথচ তারা ছিল সেই ব্যক্তির মতো যে তার ঘরের এক কোণের ফাটল মেরামত করতে গিয়ে অন্য কোণের ভিত্তিই ভেঙে ফেলে!

আর যদিও এই ঘরানাগুলো বৈপরীত্যের ক্ষেত্রে আকলের প্রাধান্য মেনে নিয়ে তুষ্ট ছিল, তবে আমাদের সমসাময়িক অন্য কিছু গোষ্ঠী এই লাগামহীন বিষয়টিকে আরও প্রসারিত করেছে, যাতে এই বিবাদ তাদের নিয়ে পৌঁছায়...
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١١)
أَقصى دَرَجاتِها؛ فقد أطْلَقُوا العقلَ في مَسَارِحَ تنبو عن مَدْرَكِه، وتميلُ عن مَعْيَهه، ليعود حسيرًا مَسْلوبًا.

ثمَّ جَروا بالأدلَّة النَّقليَّةِ ودَلالاتِها في مَهامِهِ التَّنكيرِ، والتَّحريفِ، والتَّفريغِ مِن مَضامينِها الحقَّةِ الَّتي رامَها الُمتكلِّمُ أوَّل مرَّة؛ مُسَلِّطةً عليها مَنَاهجَ استشراقِيَّةً كافرةً بالوَحيِ، تعامَلَت مع نصوصِه بحُسبانِها ظاهرةً تاريخيَّةً ماديَّةً خالصةً؛ مُتعامِيةً عن حقيقةِ مَصدرِها الإلهيِّ الَّذي لا يَتَطرَّق إليه باطلٌ.

هذا التَّعامي عن دلائل الشَّرعِ والإذعان لمَخابِرها الحقَّةِ، مَردُّه -في الغالب- إلى عَمى قلب النَّاظر؛ ذلك أنَّ النُّفوسَ إذا استقَرَّت على حُكمٍ تَهواه، تكلَّفت له دليلًا مِن العقلِ أو النَّقل لدفعِ ما يُناقِضُه مِن أخبار، وتأويل ما يُضادُّه من مُحكَمات، وتَعَلَّق بما يسنُده من مُتشابِهات.

فآلَت بذا الحالُ إِلى عَبَثيَّةٍ فكريَّةٍ مُمَزِّقةٍ، لا خلاصَ منها إلَّا بمنهجٍ يأبى الخصومةَ، ويكشِف عن الاتِّساق بين الدَّلائلِ النَّقليَّةِ والعقليَّةِ، ولا يَتَحقَّق ذلكَ إلا بلُزومِ سابِلةِ المنهجِ السُّنِّيِ المَعصومِ.

فأين هذا المَنهج؟ .. ومَن يدَعُنا لحالِنا نسلُكه؟! ..

لقد تَعرَّض أبناءُ هذا الجيلِ -ولا يزالون- لسَيْلٍ طاغٍ ومَوجاتٍ مُتلاحقة مِن التَّشكيكِ في دينِهم وتُراثِهم وأيَّامِهم؛ «فالشِّعرُ الجاهليُّ عندهم: غُموضٌ وانتحالٌ، وتفسيرُ القرآن: مَشحون بالإسرائيليَّات، والحديثُ النَّبوي: مَليءٌ بالوَضعِ والضَّعف، والنَّحو: تعقيدٌ وتأويلات، والتَّاريخ: صُنِع للحُكَّام والملوك، ولم يَرصُد نبضَ الشُّعوبِ وأشواقَها»(1).

يَسمعُ شبابُنا هذا كلَّه عالِيًا مُدوِّيًا، تَتَجاوَب أصداُؤه المُترنِّحة مِن أحْلاسِ المقَاهي، وصفحاتِ التَّواصلِ الاجتماعيِّ، إلى أروقةِ الثَّقافةِ، وقاعاتِ الدِّرسِ الجَامعيِّ، ولا يَستطيعُون لذلك دفعًا ولا رَدَّا؛ لغَرارَتِهم، وجَهلِهم، وقِلَّةِ حيلَتِهم.

--------------------------------------------

(1) «الموجَز» لمحمود الطَّناحي (ص/8).
এর সর্বোচ্চ পর্যায়; তারা বুদ্ধিকে এমন সব চারণভূমিতে বিচরণ করতে ছেড়ে দিয়েছে যা তার উপলব্ধির অতীত এবং তার পথ থেকে বিচ্যুত, ফলে তা ক্লান্ত ও রিক্ত হয়ে ফিরে আসে।

অতঃপর তারা উদ্ধৃতিমূলক দলীলসমূহ ও সেগুলোর অর্থবোধকতাকে অস্বীকৃতি, বিকৃতি এবং সেই সত্য মর্মার্থ থেকে শূন্য করার গোলকধাঁধায় টেনে নিয়ে গেছে যা বক্তা মূলত উদ্দেশ্য করেছিলেন। তারা এগুলোর উপর এমন এক ওহী-অবিশ্বাসী প্রাচ্যবাদী পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়েছে, যা এর পাঠ্যসমূহকে নিছক একটি বস্তুগত ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে; অথচ তারা এর সেই ঐশী উৎসের প্রকৃত সত্যের ব্যাপারে অন্ধ সেজে থাকে, যেখানে কোনো মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না।

শরীয়তের দলীলসমূহ থেকে এই অন্ধত্ব এবং এর প্রকৃত নিগূঢ় রহস্যের প্রতি আনুগত্যের অভাবের মূল কারণ—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—পর্যবেক্ষকের অন্তরের অন্ধত্ব। কারণ, মানুষের নফস যখন নিজের খেয়ালখুশি মাফিক কোনো সিদ্ধান্তের ওপর স্থির হয়, তখন তা সেই সিদ্ধান্তের স্বপক্ষে বুদ্ধি বা উদ্ধৃতি থেকে দলীল বের করার জন্য কষ্টসাধ্য চেষ্টা চালায়, যাতে তার বিপরীত সংবাদগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা যায়, এর বিরোধী সুস্পষ্ট আয়াতগুলোর অপব্যাখ্যা করা যায় এবং এর সমর্থক অস্পষ্ট আয়াতগুলোর আশ্রয় নেওয়া যায়।

এর ফলে পরিস্থিতি এক ছিন্নভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক অসারতার দিকে ধাবিত হয়েছে, যা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো এমন একটি পদ্ধতি যা বিবাদ-বিসংবাদকে প্রত্যাখ্যান করে এবং উদ্ধৃতিমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দলীলসমূহের মধ্যকার সামঞ্জস্য উন্মোচন করে। আর এটি সেই সুরক্ষিত সুন্নী পথ আঁকড়ে ধরা ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়।

তাহলে কোথায় সেই পদ্ধতি? আর কেই-বা আমাদের সেই পথে চলতে দেবে?!

বর্তমান প্রজন্মের সন্তানেরা তাদের দ্বীন, ঐতিহ্য এবং ইতিহাস সম্পর্কে এক প্রলয়ঙ্কারী প্রবাহ ও একের পর এক সংশয়ের ঢেউয়ের সম্মুখীন হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে; তাদের মতে: «জাহেলী যুগের কবিতা মানেই অস্পষ্টতা ও জালিয়াতি, কুরআনের তাফসীর ইসরাঈলী রেওয়ায়েতে ঠাসা, নববী হাদীস জাল ও দুর্বল বর্ণনায় পরিপূর্ণ, ব্যাকরণ হলো জটিলতা ও অপব্যাখ্যায় ভরা, আর ইতিহাস রচিত হয়েছে কেবল শাসক ও রাজাদের জন্য, সেখানে জনগণের নাড়িস্পন্দন ও তাদের আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি»(১)।

আমাদের যুবসমাজ এই সব কিছু অত্যন্ত উচ্চৈঃস্বরে শুনতে পায়, যার টালমাটাল প্রতিধ্বনি কফিশপের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতা হয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষ পর্যন্ত অনুরণিত হয়। কিন্তু তাদের অনভিজ্ঞতা, অজ্ঞতা এবং উপায়হীনতার কারণে তারা এর কোনো প্রতিবাদ বা উত্তর দিতে সক্ষম হয় না।

--------------------------------------------

(১) মাহমুদ আত-তানাহীর ‘আল-মুজায’ (পৃষ্ঠা: ৮)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١٢)
ولأنَّ كلَّ هذه السُّموم إنَّما تُساق في ثيابٍ مُزركشَةٍ، مِن مصطلحاتِ (المنهجيَّةِ)، و (المَوضوعيَّة)، و (التَّنوير)، و (التَّفكيرِ العقليِّ)، و (البحث العِلميِّ)، مَصبوغٍ ذلك بخِطابٍ أخَّاذ؛ فلا يَعرِفُ أثَرَ هذه الزَّخارفِ الخدَّاعةِ إلَّا مَن ابتُليَ بشَرِّها، وصَلَى جمْرَتَها؛ والنَّاس إذا كانوا في طَراوةِ الصِّبا وأوائلِ الشَّباب، تَسْتَهوِيهِم مثلُ هذه الأضاليل، وتَتلاعبُ بهم تَلاعُبِ جاريةٍ حسناءَ بذِي صَبْوةٍ.

وأحسبُ أنَّ كثيرًا مِن أبناءِ جيلي، قد وَقعوا في هذا المَهْوى السَّحيق.

وكنتُ أجدُ -ولازلتُ- أكثرَ تلك الأصواتِ دَويًّا، وأشدَّها فتكًا وأذيَّةً، تلك الصَّارخة في وجهِ السُنَّةِ الشَّريفة، مُشكِّكةً في ما توارثته الأمَّة مِن أخبارها، مُزريةً بجهودِ المُحدِّثين فيما أُودِعَتْه من أسْفارها.

وهذا أمر لا شكَّ جَلَل؛ فإنَّ تلك السُّنةَ وما تفتقِرُ إليه مِن معرفةِ أحوالِ رُواتها، ومَعرفةَ العربيَّة، وآثارَ الصَّحابةِ والتَّابعين في التَّفسير وغيره، وبيانَ معاني السُّنَن والأحكام وغيرها، والفقهَ نفسَه، إنَّما مَدارُ هذا كلِّه على النَّقلِ، ومَدارُ النَّقلِ على ما ارتضاه أولئك المُحدِّثون وأضرابُهم مِن مناهجَ في الرَّوايةِ والنَّقدِ والتَّوثيق.

فكان الطَّعنُ فيهم طعنًا في المَنقولِ كلِّه، بل في الدِّين مِن أصلِه(1)! «حتَّى تصيرَ دِيانةُ المسلمين إلى ما صارَت إليه ديانةُ اليهود والنَّصارى المَطعونِ في كُتبِهم، ويَصيروا يَطعنُون دينَهم بأيْدِيهم! وليس لذلك مِن فائدةٍ سِوى شِفاء صدورِ أعداءِهم، حتَّى صاروا يقولون لنا: نحن وإيَّاكم في الهَوَى سَوَا!»(2).

هذه -والله- الحقيقة المُرَّة الَّتي يَتكَشَّف عنها الزَّمان بين الفَينة والأخرى، يشهَدُ عليها مَن ذاقَ مَرارَتها، وعَلِمَ دَواخِل أصحابِها.

--------------------------------------------

(1) انظر «التنكيل» للمُعلِّمي (1/ 181).

(2) «الدِّفاع عن الصَّحيحين دفاع عن الإسلام» للحجوي الفاسي (ص/116) بتصرف يسير.
কারণ এই সমস্ত বিষাক্ত উপাদানগুলো ‘পদ্ধতিগত’, ‘বস্তুনিষ্ঠতা’, ‘আলোকায়ন’, ‘যুক্তিভিত্তিক চিন্তা’ এবং ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণা’-র মতো পরিভাষার সুসজ্জিত পোশাকে উপস্থাপন করা হয়, যা অত্যন্ত আকর্ষণীয় বাগ্মিতায় রঞ্জিত। এই চটকদার অলংকারের প্রভাব কেবল তারাই বোঝেন যারা এর অনিষ্টের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর প্রজ্বলিত অঙ্গারে দগ্ধ হয়েছেন। মানুষ যখন শৈশব ও কৈশোরের প্রারম্ভে থাকে, তখন এই ধরনের ভ্রষ্টতাগুলো তাদের মোহাবিষ্ট করে এবং এগুলো তাদের নিয়ে সেভাবেই খেলা করে যেভাবে একজন সুন্দরী তরুণী কোনো প্রণয়াসক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে খেলা করে।

আর আমি মনে করি যে, আমার প্রজন্মের অনেকেই এই সুগভীর গহ্বরে পতিত হয়েছেন।

আমি সবসময়ই দেখে আসছি—এবং এখনও দেখছি—সবচেয়ে উচ্চকিত এবং অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকারক আওয়াজ হলো সেই চিৎকারগুলো যা মহিমান্বিত সুন্নাহর বিরুদ্ধে করা হয়। যা উম্মাহর উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বর্ণনাগুলোর ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করে এবং মুহাদ্দিসগণ তাদের কিতাবসমূহে যে শ্রম বিনিয়োগ করেছেন সেগুলোকে তুচ্ছজ্ঞান করে।

আর এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুতর বিষয়; কারণ সুন্নাহ এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় রাবিদের অবস্থা জানা, আরবি ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, তাফসির ও অন্যান্য বিষয়ে সাহাবী ও তাবেয়ীদের আছারসমূহ অবগত হওয়া, সুন্নাহ ও আহকামের অর্থের বর্ণনা এবং খোদ ফিকহ—এই সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো ‘নকল’ বা বর্ণনার ওপর। আর বর্ণনার মূল ভিত্তি হলো সেই সমস্ত মানহাজ বা পদ্ধতির ওপর যা মুহাদ্দিসগণ এবং তাদের সমমনা ব্যক্তিগণ রেওয়ায়াত, সমালোচনা এবং নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গ্রহণ করেছেন।

তাই তাদের ওপর আক্রমণ করা মানে হলো সমস্ত বর্ণিত বিষয়ের ওপর আক্রমণ করা, বরং ধর্মের মূল ভিত্তির ওপরই আক্রমণ করা(১)! «যাতে মুসলমানদের দীনও ইহুদি ও নাসারাদের দীনের মতো হয়ে যায়, যাদের কিতাবগুলো বিকৃত হয়ে গেছে, আর তারা যেন নিজেদের হাতেই নিজেদের দীনকে আক্রমণ করে! আর এর দ্বারা তাদের শত্রুদের অন্তরের প্রশান্তি ছাড়া অন্য কোনো ফায়দা নেই; এমনকি তারা আমাদের বলতে শুরু করেছে: আমরা আর আপনারা এখন একই মোহে আচ্ছন্ন!»(২)।

আল্লাহর কসম, এটাই হলো সেই তিক্ত সত্য যা সময়ের ব্যবধানে মাঝেমধ্যেই উন্মোচিত হয়। যে ব্যক্তি এর তিক্ততা আস্বাদন করেছে এবং এদের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছে, সে এর সাক্ষ্য দেবে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-মুআল্লিমী রচিত «আত-তানকীল» (১/ ১৮১)।

(২) আল-হাজভী আল-ফাসী রচিত «আদ-দিফাউ আনিল সহীহাঈন দিফাউন আনিল ইসলাম» (পৃষ্ঠা/ ১১৬), সামান্য পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١٣)
يقول (لْيُوبلد فايْس)(1) إذ يبوح بنَوَايا قومِه مِن دندنتهم حول سُنَّة الإسلام:

«لقد كان مِن أقوى الأسبابِ الَّتي جَعَلت أحاديثَ النَّبي صلى الله عليه وسلم، وجَعَلَت جميعَ نظامِ السُّنةِ معها لا تجدُ قبولًا في يومِنا هذا: أنَّ السُّنةَ تُعارض الآراءَ الأساسيَّة الَّتي تقوم عليها المَدَنيَّة الغربيَّة مُعارَضةً صريحةً، حتَّى إنَّ أولئك الَّذين خَلَبَتهم لا يجدون مخرجًا مِن مَأزقِهم هذا إلَّا برفضِ السُّنةِ، على أنَّها غيرُ واجبةِ الاتِّباع على المسلمين، ذلك لكونِها قائمةً على أحاديث لا يُوثَق بها أصالةً ..

إنَّ العمَلَ بسُنَّةِ الرَّسول صلى الله عليه وسلم هو عَمَلٌ على حِفظِ كيانِ المسلمين، وعلى تَقَدُّمِهم، وإنَّ تركَ السُّنة هو انحلالٌ عن الإسلام؛ لقد كانت السُّنة الهيكلَ الحديديَّ الَّذي قام عليه صَرحُ الإسلام، وإنَّك إذا أزَلت هيكلَ بناءٍ ما، أفيُدهِشُكَ أن يتَقَوَّض ذلك البناءُ كأنَّه بيتٌ مِن وَرَقٍ؟!»(2).

فكلُّ ما تسمَعه الآن مِن جَلَبةٍ وضوضاءَ حول توثيقِ الأحاديثِ وغَربلةِ مُتونِها، إنَّما غَرضُ أهلها ما ذَكرتُه مِن أساسِ القَضيَّة: انتقاضُ جِدارِ السُّنة، ليَصيرَ حِمَى الأمَّةِ مُستباحًا لكلِّ طامِعٍ في تَذيِيلِها أو إذلالِها؛ وذلك أنَّ أهلَ السُّنةِ هم الأُمَّة، وهم نَقاوَتُها على وجهِ الحقيقة، والسُّنَّة الَّتي يَنتِسبُون إليها هي الاستحكاماتُ الخارجيَّة حول أسوارِ القرآن، فإذا تَمَّ تدميرُها، فدَوْرُ القرآنِ آتٍ بَعدها لا مَحالة! وذاك أمَلُ المُستشرقين والمُستغرِبين، وسائرِ أعداءِ الدِّين.

من شواهد هذه الحقيقة:

ما صدر بعد أحداث الحادي عشر من سبتمبر، من مجموع دراساتٍ أمريكيَّة أعَدَّتها مؤسسَّة رَاند للأبحاث والتَّطوير - «العقلُ الاستراتيجيُّ الأمريكي»، و «الذِّراعُ البحثيُّ للبانتاغون»! - من ضمنها تقريرٌ بعنوان: «الإسلام الدِّيمقراطي

--------------------------------------------

(1) مستشرق نمساوي أشهر إسلامه، وتسمَّى بـ (محمد أسد وايس)، وأنشأ بمعاونة (وِيليام بكتول) الإنجليزي -الذي أسلم هو الآخر- مجلة الثقافة الإسلامية في حيدر آباد سنة 1927 م، وكتب فيها كثيرا عن أخطاء المُستشرقين، من مؤلفاته: «أصول الفقه الإسلامي»، و «ترجمة صحيح البخاري»، انظر «المستشرقون» (2/ 291).

(2) «الإسلام على مفترق الطُّرق» لمحمد أسد (ص/74 - 75، 81).
(লিওপোল্ড ওয়াইস)(১) যখন ইসলামের সুন্নাহকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বজাতির গুঞ্জনের পেছনে থাকা অভিসন্ধিগুলো প্রকাশ করছিলেন, তখন তিনি বলেন:

«আজকের দিনে নবী (সা.)-এর হাদিসসমূহ এবং এর সাথে সুন্নাহর সামগ্রিক ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্যতা না পাওয়ার অন্যতম শক্তিশালী কারণ হলো: সুন্নাহ সেই মৌলিক মতাদর্শগুলোর সরাসরি বিরোধিতা করে যার ওপর পশ্চিমা সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে; এমনকি যারা এই সভ্যতার মোহে আচ্ছন্ন হয়েছে, তারা এই সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো পথ খুঁজে পায় না সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া; এই অজুহাতে যে, সুন্নাহর অনুসরণ করা মুসলমানদের জন্য আবশ্যক নয়, যেহেতু এটি মূলত অনির্ভরযোগ্য হাদিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত...

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা হলো মুসলমানদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং তাদের অগ্রগতির পথ। আর সুন্নাহ বর্জন করা হলো ইসলাম থেকে বিচ্যুতি। সুন্নাহ ছিল সেই লৌহকাঠামো যার ওপর ইসলামের প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে। আপনি যদি কোনো ইমারতের কাঠামোটিই সরিয়ে ফেলেন, তবে সেই ইমারতটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লে কি আপনি বিস্মিত হবেন?!»(২)।

সুতরাং হাদিসের প্রামাণিকতা এবং এর পাঠ্যসমূহ (মতন) যাচাই-বাছাই নিয়ে বর্তমানে যে হট্টগোল ও শোরগোল আপনি শুনছেন, তার প্রবক্তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো যা আমি সমস্যার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছি: সুন্নাহর প্রাচীর ভেঙে ফেলা, যাতে উম্মাহর এই সংরক্ষিত চত্বরটি তাকে অনুগামী করতে বা লাঞ্ছিত করতে ইচ্ছুক প্রত্যেক লোভীর জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। আর এর কারণ হলো, আহলুস সুন্নাহই হলো প্রকৃত উম্মাহ এবং তারাই প্রকৃতপক্ষে এর সারনির্যাস। আর তারা যে সুন্নাহর সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে, তা হলো কুরআনের প্রাচীরের চারপাশের সুদৃঢ় বহিঃপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সুতরাং যদি তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়, তবে এরপর কুরআনের ওপর আঘাত আসা অনিবার্য! আর এটাই হলো প্রাচ্যবিদ, পাশ্চাত্যঘেঁষা ব্যক্তি এবং দ্বীনের অন্যান্য সকল শত্রুর আশা।

এই বাস্তবতার কিছু প্রমাণ:

১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর র‍্যান্ড (RAND) কর্পোরেশন ফর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট—যাকে 'আমেরিকান কৌশলগত মস্তিষ্ক' এবং 'পেন্টাগনের গবেষণামূলক শাখা' বলা হয়—কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মার্কিন গবেষণাসমূহের একটি সমষ্টি থেকে যা প্রকাশিত হয়েছে; যার অন্তর্ভুক্ত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম হলো: «গণতান্ত্রিক ইসলাম

--------------------------------------------

(১) একজন অস্ট্রীয় প্রাচ্যবিদ যিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং (মুহাম্মদ আসাদ ওয়াইস) নাম গ্রহণ করেন। তিনি অপর একজন ইংরেজ নওমুসলিম—উইলিয়াম পিকথল—এর সহযোগিতায় ১৯২৭ সালে হায়দ্রাবাদে 'ইসলামিক কালচার' নামক সাময়িকী প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে প্রাচ্যবিদদের ভুলভ্রান্তি নিয়ে প্রচুর লিখেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'উসূলুল ফিকহ' এবং 'সহীহ বুখারীর অনুবাদ'। দেখুন 'আল-মুস্তাশরিকুন' (২/২৯১)।

(২) মুহাম্মদ আসাদের 'ইসলাম অ্যাট দ্য ক্রসরোডস' (পৃষ্ঠা: ৭৪-৭৫, ৮১)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١٤)
المَدنيُّ»، تضمَّن الخُطَّة الاستراتيجيَّة العامَّة الَّتي يَتعيَّن على الإرادة الأمريكيَّة تبنِّيها لأجل إعادة بناء الدِّين الإسلامي بما يَتوافق مع المَنظومة الفكريَّة الغربيَّة؛ خُطَّةً مَبنيَّةً أساسًا على «قطع مَوارد الأصوليِّين» -كما تُسمِّيهم- وإضعاف تأثيرِهم الدِّينيِّ في المُجتمعات الإسلاميَّة، ثمَّ «دعمِ الحَداثيِّين والعَلمانيِّين» مُقابل أولئك.

حوى هذا التَّقرير فصلًا كاملًا عن ضرورة هدم (المنظومة الحديثيَّة!) لدى المُسلمين، أو تطويعِها -على الأقلِّ- لتَتَماها مع الفكر الغربيِّ، ضمانًا لنجاح الخُطَّة المُقترحة لتحديث الإسلام وعَلْمَنته؛ عَنْوَنت هذا الفصلَ كاتبتُه(1) بقولِها المُستفزِّ: «حروب الحديث»!

فمِمَّا أثارَني فيه قولُها: «تتركَّز كثير من جهود إصلاح الإسلام حاليًا في الجدل الدَّائر حول أحكام وممارساتٍ معيَّنةٍ من صحيح الإسلام، والَّتي ينتقدها غير المسلمين، لكونها لم تعُد ملائمةً للعصر الحاضر؛ فالقرآن بوصفه الكتاب المُقدَّس -هو بوجه عامٍّ- .. فوق الانتقاد، لكنَّه مع ذلك قد ترك موضوعات كثيرةٍ لم يتناولها البتَّة، أو أشار إليها بشكلٍ مُجمل ..

فلذا دأَبَ أصحابُ الآراء المتعارضة -منذ الأيَّام الأولى لامتداد الإسلام- على صياغة أقوالهم وتفسيراتهم استنادًا للحديث النَّبوي في المقام الأوَّل .. وعِوَضًا عن آراء العلماء، ينبغي لجمهور النَّاس تمحيص أقوال العلماء وادِّعاءاتهم! ومعرفة مدى صحَّة استدلالهم بحديث من الأحاديث؛ .. إنَّه ينبغي تشكيل لجنة «نقض الحديث» [!]، لأجل مَن يطمحون لمجتمعات أكثر تسامحًا، تقوم على المساواة والدِّيمقراطيَّة»(2).

وقبل هذا التَّقرير بعقودٍ مَضَت وَصاةُ مُفكِّري فرنسا مِن بعضِ يَساريِّيها لحكوماتِهم بضرورة نقلِ حربهم للمُسلمين إلى إشعال فتيل حرب فكريَّة بينهم!

--------------------------------------------

(1) أعني بها شيريل بينارد، وهي كاتبة وباحثة نمساويَّة متخصصة في العلوم السياسية، مهتمة بالمشرق الإسلامي، كانت من أهم مُحلِّلي مؤسسة راند حتى عام 2007 م، ترجمتها في آخر كتابها «الإسلام الديمقراطي المدني».

(2) «الإسلام الديمقراطي المدني - سلسلة تقارير مؤسسة راند» لشيريل بينارد (ص/97، 105 - 106).
'সিভিল ডেমোক্রেটিক ইসলাম' নামক এই প্রতিবেদনটি একটি সাধারণ কৌশলগত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা পশ্চিমা চিন্তাধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইসলাম ধর্মকে পুনর্গঠনের জন্য আমেরিকান নীতিনির্ধারকদের গ্রহণ করা উচিত; এই পরিকল্পনাটি মূলত 'মৌলবাদীদের'—যেমনটি তারা তাদের অভিহিত করে—আর্থিক উৎসসমূহ বিচ্ছিন্ন করা এবং মুসলিম সমাজে তাদের ধর্মীয় প্রভাব দুর্বল করার, এবং এর বিপরীতে 'আধুনিকতাবাদী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের' সমর্থন প্রদানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

এই প্রতিবেদনে মুসলমানদের (হাদিস ব্যবস্থা!) ধ্বংস করার প্রয়োজনীয়তা, অথবা ইসলামকে আধুনিকীকরণ ও ধর্মনিরপেক্ষ করার প্রস্তাবিত পরিকল্পনার সাফল্য নিশ্চিত করতে অন্তত পশ্চিমা চিন্তাধারার সাথে একে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অধ্যায় রয়েছে; এই অধ্যায়টির লেখিকা(১) এর উস্কানিমূলক শিরোনাম দিয়েছেন: 'হাদিস যুদ্ধ'!

এতে যা আমাকে আলোড়িত করেছে তা হলো তার এই উক্তি: "বর্তমানে ইসলাম সংস্কারের অধিকাংশ প্রচেষ্টা ইসলামের সঠিক বিধান ও নির্দিষ্ট কিছু অনুশীলনের ওপর চলমান বিতর্কের ওপর নিবদ্ধ, যা অমুসলিমরা সমালোচনা করে থাকে কারণ সেগুলো বর্তমান যুগের জন্য আর উপযুক্ত নয়; কুরআন পবিত্র গ্রন্থ হিসেবে—সাধারণভাবে—সমালোচনার ঊর্ধ্বে, কিন্তু তবুও এটি এমন অনেক বিষয় ছেড়ে গেছে যা এটি মোটেও আলোচনা করেনি, অথবা সেগুলোর দিকে খুব সংক্ষিপ্তভাবে ইঙ্গিত করেছে...

তাই ইসলামের বিস্তারের প্রথম দিক থেকেই বিরোধী মতাবলম্বীরা প্রধানত নববী হাদিসের ওপর ভিত্তি করে তাদের বক্তব্য ও ব্যাখ্যাগুলো তৈরি করে আসছে... আলেমদের মতামতের পরিবর্তে সাধারণ মানুষের উচিত আলেমদের বক্তব্য ও দাবিগুলো যাচাই-বাছাই করা! এবং কোনো একটি হাদিস দিয়ে তাদের দলিল পেশ করার সঠিকতা কতটুকু তা জানা;... যারা সমতা ও গণতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে আরও সহনশীল সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা রাখেন, তাদের জন্য একটি 'হাদিস খণ্ডন' [!] কমিটি গঠন করা উচিত"(২)।

এবং এই প্রতিবেদনের কয়েক দশক আগে ফ্রান্সের কিছু বামপন্থী চিন্তাবিদ তাদের সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছিলেন যে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধকে তাদের নিজেদের মধ্যে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধের সূচনা করার দিকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন!

--------------------------------------------

(১) এর দ্বারা আমি শেরিল বেনার্ডকে বোঝাচ্ছি, যিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিশেষায়িত একজন অস্ট্রীয় লেখিকা ও গবেষিকা, তিনি ইসলামী প্রাচ্যের বিষয়ে আগ্রহী। তিনি ২০০৭ সাল পর্যন্ত র‍্যান্ড (RAND) কর্পোরেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষক ছিলেন, তার সংক্ষিপ্ত জীবনী তার 'সিভিল ডেমোক্রেটিক ইসলাম' বইয়ের শেষে বর্ণিত হয়েছে।

(২) 'সিভিল ডেমোক্রেটিক ইসলাম - র‍্যান্ড কর্পোরেশন রিপোর্ট সিরিজ', শেরিল বেনার্ড (পৃষ্ঠা/৯৭, ১০৫ - ১০৬)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١٥)
بتحويل المعركةِ إلى داخلِ التُّراثِ الإسلاميِّ ذاتِه(1)، على أيدي مَن ينَتسِب إلى الإسلامِ نفسِه! فإنَّ شبهاتِ ذوي الجِلدة الواحدة أوقعُ في آذانِ المُخاطَبين مِن كلامِ عَدُوِّهم، وأقربُ إلى تَقبُّلِ أفكارِهم.

اقرأ شاهدَ هذا المَكر الكُبَّار كيف اصبغت به كلماتٌ لـ (عابدٍ الجابريِّ)، يوصي فيها أرباب الحداثة بـ «إنَّ التَّجديدَ لا يُمكن أن يَتِمَّ إلَّا مِن داخلِ تُراثِنا، باستدعائِه واسترجاعِه استرجاعًا مُعاصرًا لنا؛ وفي الوقتِ ذاتِه، بالحفاظِ له على مُعاصَرتِه لنفسِه ولتارِيخيَّته، حتَّى نَتمَكَّن مِن تجاوزِه مع الاحتفاظِ به، وهذا هو التَّجاوز العلميُّ الجَدليُّ!»(2).

فعلى وِفق هذا الأسلوب صارَ الاتِّجاه السَّائد في الدِّراساتِ المُصادِمةِ للنَّصِ الشَّرعيِّ، يعتمِدُ على ذات النَّصِ للتَّخلُّصِ مِنه، يتظاهر تارةً بالشَّفقةِ مِن نسبتِه إلى الشَّارعِ لشناعتِه، وتارةً بلَيِّ معناه لعَصْرَنته؛ فأمَّا المُجاهرة برفضِ التَّحاكم إلى النُّصوصِ صراحةً، وإعلان المُحادَّاةِ التَّامةِ لأحكامِ الشَّريعةِ المُستخلصَةِ منها: فنهجٌ قد ضَعُف حضورُه كثيرًا في الآونةِ الأخيرة، لاستقباحِ العامَّةِ له، ومُصادمته المباشرة لفِطَرِهم.

هي إذن حَربٌ بالوَكالة!

قد نُصِبت فيها مَنابرُ مِن خُشُبِنا، يعتليها رجالٌ مِن جِلدتنا، يخطُبون بِأَلْسِنَتِنا، ويَهرفون في تُراثِنا بلُغةِ فُقهائِنا، هدمًا لدينِنا باسمِ دينِنا؛ وصدقًا قال عنهم ابن تيميَّة: «قد اتَّفق أهل العلم بالأحوال، أنَّ أعظمَ السُّيوف الَّتي سُلَّت على أهل القبلة: مِمَّن ينتسب إليها، وأعظمَ الفساد الَّذي جَرى على المسلمين مِمَّن ينتسب إلى أهل القبلة: إنَّما هو مِن الطَّوائف المُنتسبة إليهم! فهم أشدُّ ضررًا على الدِّين وأهله»(3).

--------------------------------------------

(1) انظر تفصيلَ الخبر في «تجديد الفكر الإسلامي» لجمال سلطان (ص/32).

(2) «مجلة المستقبل العربي»، العدد 278، لسنة 2002 م، حاوره عبد الإله بلقزيز.

(3) «مجموع الفتاوى» لابن تيمية (28/ 479).
যুদ্ধকে স্বয়ং ইসলামী ঐতিহ্যের অভ্যন্তরে স্থানান্তরিত করার মাধ্যমে(১), যারা স্বয়ং ইসলামের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করে তাদের হাতেই! কেননা, একই বর্ণের মানুষের সংশয়সমূহ সম্বোধিত ব্যক্তিদের কানে শত্রুর কথার চেয়ে বেশি কার্যকরভাবে প্রবেশ করে এবং তাদের চিন্তাধারা গ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকতর অনুকূল হয়।

এই বিশাল চাতুর্যের সাক্ষ্য পাঠ করুন, কীভাবে (আবিদ আল-জাবিরি)-এর কথাগুলো এতে রঞ্জিত হয়েছে, যেখানে তিনি আধুনিকতার ধারকদের পরামর্শ দিচ্ছেন যে: «আমাদের ঐতিহ্যের ভেতর থেকেই কেবল আধুনিকায়ন সম্ভব হতে পারে; একে আমাদের জন্য সমসাময়িকভাবে আহ্বান ও পুনরুদ্ধার করার মাধ্যমে। একইসাথে, ঐতিহ্যের নিজের জন্য এবং তার ঐতিহাসিকতার জন্য তার সমসাময়িকতা রক্ষা করতে হবে, যাতে আমরা একে ধারণ করেই অতিক্রম করতে পারি। আর এটাই হলো বৈজ্ঞানিক দ্বান্দ্বিক অতিক্রমণ!»(২)।

এই পদ্ধতি অনুযায়ী, শরয়ী দলিলের সাথে সাংঘর্ষিক গবেষণাসমূহে প্রচলিত ধারাটি দলিল থেকেই মুক্তি পাওয়ার জন্য খোদ দলিলের ওপরই নির্ভর করতে শুরু করেছে। কখনো কখনো দলিলের কঠোরতার কারণে তা শরীয়তদাতার পক্ষ থেকে সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে সহমর্মিতা প্রকাশের ভান করে, আবার কখনো আধুনিকায়নের স্বার্থে দলিলের অর্থের অপব্যাখ্যা করে। আর সরাসরি দলিলের বিচার মানতে অস্বীকার করা এবং তা থেকে নিঃসৃত শরয়ী বিধানের প্রতি পূর্ণ শত্রুতা ঘোষণা করার বিষয়টি—এমন একটি পথ যা সাম্প্রতিক সময়ে তার উপস্থিতি অনেকখানি হারিয়েছে; কারণ সাধারণ মানুষের নিকট এটি অত্যন্ত কদর্য এবং এটি তাদের ফিতরাতের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

এটি তাহলে একটি প্রক্সি যুদ্ধ বা পরোক্ষ যুদ্ধ!

এতে আমাদেরই কাষ্ঠনির্মিত মিম্বরসমূহ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে আমাদেরই স্বজাতীয় লোকেরা আরোহণ করে, তারা আমাদেরই ভাষায় কথা বলে এবং আমাদের ফকিহদের পরিভাষা ব্যবহার করে আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে প্রলাপ বকে; আমাদের ধর্মের নামেই আমাদের ধর্মকে ধ্বংস করার জন্য। তাদের সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়্যাহ যথার্থই বলেছেন: «অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ একমত হয়েছেন যে, আহলে কিবলার বিরুদ্ধে যে সমস্ত তলোয়ার কোষমুক্ত করা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় তলোয়ার তাদেরই পক্ষ থেকে যারা নিজেদের এর সাথে সম্পৃক্ত করে। আর আহলে কিবলার সাথে সম্পৃক্তদের পক্ষ থেকে মুসলমানদের ওপর যে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা মূলত তাদের মধ্যকারই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে! তারা দ্বীন এবং দ্বীনদারদের জন্য অধিক ক্ষতিকর»(৩)।

--------------------------------------------

(১) জামাল সুলতানের «তাজদীদুল ফিকরিল ইসলামী» (পৃ. ৩২) গ্রন্থে বিস্তারিত দেখুন।

(২) «মাজাল্লাতুল মুসতাকবাল আল-আরাবি», সংখ্যা ২৭৮, ২০০২ সাল, সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন আবদেল ইলাহ বেলকাজিজ।

(৩) ইবনে তাইমিয়্যাহর «মাজমুউল ফাতাওয়া» (২৮/ ৪৭৯)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١٦)
وطَعْنُ ذَوِي القُرْبَى أشَدُّ مَضرَّةً *** على الدِّينِ مِن حَربِ العُداةِ الأباعِدِ!

هذا هو حال الأنفس البَشريَّة في كلِّ زمانٍ، كامِنٌ فيها الشَّر لا محالة، سابحٌ بين جَنَباتِها هَواها كلٌّ منها بحسَبِه، يحبِسُها عن إظهارِه: الفِطرةُ، والدِّين، وخَشيةُ النَّاس؛ فإذا ما غَلَبها هَواها، وأمِنَت معه عقوبةَ السُّلطان: تَشَجَّعَت بالبَوْحِ بشرِّها الكامن، وجهرت بالدَّعوة إليه.

فلمثلِ هذه الحال النفسيَّة العجيبة الممزوجة بتخاليط الجهل ومُغالطات التَّفكير، يلتحقُ فِئامٌ مِن شبابنا بنابذي السُّنَن، مُناكفين لنَقَلتِها مِن أهلِ الفَضْلِ والمِنَنِ؛ «قد تَعالَوا علينا بضَخامةِ الألقابِ، مع فَراغ الوِطاب، يُوسِعون الدَّعاويَ العريضة، ويُجهِّلون العلماء الأُصَلاء، بآرائهم الهشَّةِ البتراء، وينصرون الأقوال الشَّاذة، لتَجانُسها مع عِلمِهم وفهمِهم، ويُناهِضون القواعدَ المُستقِرَّة، والأصولَ الرَّاسخة المُتوارَثة.

لم يقعُدوا مَقاعِدَ العِلمِ والعُلماء، ولم يَتَذوَّقوا بَصارَة التَّحصيلِ عند القُدماء، ولكنَّهم عند أنفسِهم أعلَمُ مِن السَّابقين»(1)، لظنِّهم أنَّهم مِن جُملةِ المُفَكِّرين!

فلقد جهِلَ المَساكينُ بأنَّ الثَّقافة والفِكرَ المُجرَّدَ لا يُخرِج الإنسانَ مِن الأُميَّةِ الشَّرعيَّة أبدًا؛ فإنَّما الفِكرُ تحليلُ المَعلوماتِ وتَقلِيبُها، فقليلُ العلمِ بمَ يُفكِّر أصلًا؟! وهل رزيَّتنا اليوم إلَّا مِن مُفكِّرٍ بلا عِلمٍ؟!

إنَّ مَن يَقرأْ تاريخَ المَذاهِب والنِّحَل قراءةَ مُقارِن، يُدرِكْ أنَّ كلَّ ضَلالةٍ هوَّشَ بها هؤلاء (المُفكِّرون) المُتأخِّرون، أصلُها أو مِثلُها كانت في السَّابقين؛ تَعَلَّقت بالإسلامِ كما يَتَعلَّق قَذَى الأرضِ بالعَجَلةِ، ثمَّ تَطويه بسَيْرِها.

لقد قَيَّد الشِّهرستانيُّ (ت 584 هـ)(2) لحْظَه لهذه العُلقةِ الفكريَّةِ قديمًا بين ما أُحدِث مِن مُعارَضاتٍ للنُّصوصِ الشَّرعيةِ في زَمنِه، وأصولِ المَقالاتِ المُبكِّرة في

--------------------------------------------

(1) «صفحات من صبر العلماء» لعبد الفتاح أبو غدَّة (ص/109).

(2) محمد بن عبد الكريم بن أحمد، أبو الفتح الشهرستاني: إمام في علم الكلام وأديان الأمم ومذاهب الفلاسفة، من أشهر كُتبه «الملل والنحل»، انظر «تاريخ الإسلام» (11/ 941).
নিকটজনদের আঘাত দ্বীনের জন্য দূরবর্তী শত্রুদের যুদ্ধের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর!

সর্বযুগের মানবাত্মার অবস্থা এমনই; এতে মন্দ অনিবার্যভাবে সুপ্ত থাকে, আর প্রতিটি আত্মার প্রবৃত্তি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিচরণ করে। একে প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখে: ফিতরাত (প্রকৃতি), দ্বীন এবং মানুষের ভয়। কিন্তু যখন প্রবৃত্তি জয়ী হয় এবং শাসকের শাস্তির ভয় থেকে নিশ্চিন্ত হয়, তখন সে তার সুপ্ত মন্দকে প্রকাশ করতে সাহসী হয়ে ওঠে এবং প্রকাশ্যে তার দিকে আহ্বান জানায়।

অজ্ঞতার মিশ্রণ এবং চিন্তাভ্রান্তি সংবলিত এই অদ্ভুত মানসিক অবস্থার কারণে আমাদের যুবকদের একটি দল সুন্নাহ বর্জনকারীদের সাথে যোগ দেয়। তারা শ্রেষ্ঠত্ব ও অনুগ্রহের অধিকারী সেই সব ব্যক্তিদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয় যারা সুন্নাহর বাহক। তারা আমাদের ওপর বড় বড় পদবীর আড়ালে দাম্ভিকতা দেখায়, অথচ তাদের ভাণ্ডার শূন্য। তারা বড় বড় দাবি উত্থাপন করে এবং মূলধারার বিজ্ঞ আলিমদের মূর্খ প্রতিপন্ন করে তাদের ভঙ্গুর ও অসম্পূর্ণ মতামতের মাধ্যমে। তারা বিচ্ছিন্ন মতগুলোকে সমর্থন করে, কারণ সেগুলো তাদের জ্ঞান ও উপলব্ধির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা প্রতিষ্ঠিত নিয়মাবলি এবং বংশপরম্পরায় চলে আসা সুদৃঢ় মূলনীতির বিরোধিতা করে।

তারা জ্ঞান বা আলিমদের মজলিসে বসেনি এবং পূর্বসূরীদের জ্ঞান অর্জনের গভীরতা আস্বাদন করেনি, অথচ তারা নিজেদের পূর্ববর্তীদের চেয়েও অধিক জ্ঞানী মনে করে(১), কারণ তারা মনে করে তারা চিন্তাবিদদের অন্তর্ভুক্ত!

এই বেচারাদের জানা নেই যে, নিছক সংস্কৃতি এবং বিমূর্ত চিন্তা মানুষকে কখনো শরয়ি মূর্খতা থেকে বের করতে পারে না। কেননা চিন্তা হলো তথ্যের বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা; এখন যার জ্ঞানই সামান্য, সে মূলত কী নিয়ে চিন্তা করবে? আজ কি আমাদের বিপদ জ্ঞানহীন চিন্তাবিদদের কারণেই নয়?

যারা মাযহাব এবং মতাদর্শের ইতিহাস তুলনামূলকভাবে অধ্যয়ন করেন, তারা উপলব্ধি করেন যে, এই পরবর্তীকালের (চিন্তাবিদরা) যে সকল বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তার মূল বা অনুরূপ কিছু পূর্ববর্তীদের মাঝেও বিদ্যমান ছিল। এগুলো ইসলামের সাথে তেমনিভাবে লেগে থাকে যেমনভাবে চাকার সাথে ধূলিকণা লেগে থাকে, তারপর চলার পথে তা দূর হয়ে যায়।

শাহরাস্তানি (মৃত্যু ৫৮৪ হি.)(২) তার সময়ে শরয়ি নসসমূহের (দলিল) বিরোধিতায় উদ্ভাবিত বিষয়াদি এবং প্রাচীন আকিদাগত মতবাদের মূলভিত্তির মধ্যে বিদ্যমান এই বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রচিত «সাফাহাতুম মিন সাবরিল উলামা» (পৃষ্ঠা/১০৯)।

(২) মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম বিন আহমদ, আবুল ফাতহ আশ-শাহরাস্তানি: ইলমুল কালাম, বিভিন্ন জাতির ধর্ম এবং দার্শনিক মতবাদের ইমাম। তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো «আল-মিলাল ওয়ান নিহাল», দেখুন «তারিখুল ইসলাম» (১১/ ৯৪১)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١٧)
الإسلام، منبِّهًا على أنَّ هذا التَّوارث لتحريفاتِ الضُّلَالِ عادة قديمةٌ قِدَم الأديان، فقال: «إنَّ الشُّبهات الَّتي وَقَعت في آخرِ الزَّمان، هي بعينِها تلك الشُّبهات الَّتي وَقَعت في أوَّل الزَّمان، كذلك يُمكن أن نُقرِّر في زمانِ كلِّ نبيٍّ، ودورِ صاحبِ كلِّ مِلَّة وشريعةٍ: أنَّ شُبهات أُمَّتِه في آخرِ زمانِه ناشئةٌ مِن شُبهاتِ خُصماء أوَّلِ زمانِه مِن الكُفَّار والمُلحِدِين، وأكثرُها مِن المُنافقين.

وإنْ خَفِيَ علينا ذلك في الأمَمِ السَّالفةِ لتَمادي الزَّمان، فلَمْ يخفَ في هذه الأمَّة أنَّ شُبهاتها نَشأت كلُّها مِن شُبهاتِ مُنافقي زمنِ النَّبي صلى الله عليه وسلم؛ إذْ لم يرضوا بحُكمِه فيما كان يأمرُ ويَنهى، وشَرعوا فيما لا مسرحَ للفكرِ فيه ولا مَسرى، وسألوا عمَّا مُنِعوا مِن الخوضِ فيه، والسُّؤالِ عنه، وجادلوا بالباطلِ فيما لا يجوز الجدال فيه»(1).

يُصدِّقُ هذا نصٌّ نفيس للشَّاطبيِّ (ت 790 هـ)(2)، ينعت فيه الزَّائغين القُدامىِ في «رَدِّهم للأحاديثِ الَّتي جاءت غيرَ مُوافقةٍ لأغراضِهم ومَذاهِبم، فيَدَّعون أنَّها مخالفةٌ للمَعقول، وغير جاريةٍ على مُقتضى الدَّليل، فيجب رَدُّها؛ كالمُنكرين لعذابِ القبر، والصراطِ، والميزان، ورؤيةِ الله عز وجل في الآخرةِ، وكذلك حديث الذُّبابِ ومَقْلِه، وأنَّ في أحدِ جَناحَيْه داءٌ وفي الآخرِ دَواءٌ، .. وحديث الَّذي أخذَ أخاه بَطنُه، فأمَرَه النَّبي صلى الله عليه وسلم بسَقْيِه العَسلَ، وما أشبهَ ذلك مِن الأحاديثِ الصَّحيحة المَنقولة نقلَ العُدولِ.

فربَّما قَدَحوا في الرُّواةِ مِن الصَّحابة والتَّابعين رضي الله عنهم، وحاشاهم، ومَن اتَّفق الأئِمَّة مِن المُحدِّثين على عدالتِهم وإمامتِهم، كلُّ ذلك ليردُّوا به على مَن خالَفهم في المذهبِ، وربُّما ردُّوا فتاوِيهم وقبَّحوها في أسماعِ العامَّة؛ ليُنفِّروا الأمَّةَ عن اتِّباعِ السُّنةِ وأهلِها»(3).

--------------------------------------------

(1) «الملل والنِّحَل» (1/ 19).

(2) إبراهيم بن موسى بن محمد أبو إسحاق: اللَّخمي الغرناطي المالكي، أصولي حافظ محدِّث، لغوي مفسر مع الصَّلاح والعفة، والورع واتباع السُّنة، من أشهر مؤلفاته «الاعتصام»، و «الموافقات»، انظر «شجرة النور الزكية» (1/ 332).

(3) «الاعتصام» للشَّاطبي (2/ 32).
ইসলাম এই মর্মে সতর্ক করছে যে, ভ্রান্তির এই বিকৃতিগুলোর উত্তরাধিকার ধর্মসমূহের মতোই এক প্রাচীন অভ্যাস। তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই শেষ যমানায় যে সকল সংশয় দেখা দিয়েছে, সেগুলো হুবহু সেই সংশয়সমূহ যা প্রথম যমানায় দেখা দিয়েছিল। একইভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর যমানায় এবং প্রত্যেক আদর্শ ও শরিয়তের প্রবর্তকের যুগে এটি সাব্যস্ত করতে পারি যে: তাঁর উম্মতের শেষ যমানার সংশয়গুলো তাঁর প্রথম যমানার কাফির ও নাস্তিক শত্রুদের সংশয় থেকেই উদ্ভূত, আর এর অধিকাংশই মুনাফিকদের পক্ষ থেকে।

দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার কারণে পূর্ববর্তী উম্মতদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আমাদের নিকট অস্পষ্ট থাকলেও, এই উম্মতের ক্ষেত্রে তা অস্পষ্ট নয় যে, এর সকল সংশয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের মুনাফিকদের সংশয় থেকেই উদ্ভূত হয়েছে; কেননা তারা তাঁর আদেশ ও নিষেধের ফয়সালায় সন্তুষ্ট ছিল না এবং তারা এমন সব বিষয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করেছিল যেখানে চিন্তাশক্তির কোনো সুযোগ বা বিচরণ নেই। তারা এমন বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিল যেগুলোতে নিমগ্ন হতে এবং প্রশ্ন করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল, আর তারা বাতিল পন্থায় এমন বিষয়ে বিবাদ করেছিল যাতে বিবাদ করা বৈধ নয়”(১)।

আশ-শাতিবি (মৃত্যু ৭৯০ হিজরি)(২)-এর একটি মূল্যবান বক্তব্য একে সমর্থন করে, যেখানে তিনি প্রাচীন পথভ্রষ্টদের বর্ণনা দিয়েছেন যে, ‘তারা সেই সব হাদিস প্রত্যাখ্যান করত যা তাদের উদ্দেশ্য ও মাযহাবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। তারা দাবি করত যে সেগুলো যুক্তিবিরোধী এবং দলিলের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে সেগুলো প্রত্যাখ্যান করা আবশ্যক; যেমন কবরের আজাব, পুলসিরাত, মিযান এবং পরকালে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিদার (দর্শন) অস্বীকারকারীরা। অনুরূপভাবে মাছির হাদিস ও তা (পানিতে) চুবিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত হাদিস—যার এক ডানায় রোগ ও অন্য ডানায় প্রতিষেধক রয়েছে; এবং সেই ব্যক্তির হাদিস যার ভাই পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মধু পান করানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন—এমন আরও অনেক সহিহ হাদিস যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে।

মাঝে মাঝে তারা সাহাবি ও তাবেয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)—আল্লাহ তাঁদের রক্ষা করুন—এবং যাদের ন্যায়পরায়ণতা ও ইমামতের বিষয়ে মুহাদ্দিস ইমামগণ একমত হয়েছেন, এমন বর্ণনাকারীদের সমালোচনা করে; এ সব কিছুই তারা করে তাদের মাযহাবের বিরোধিতাকারীদের জবাব দেওয়ার জন্য। আবার কখনো তারা তাদের ফতোয়াগুলো প্রত্যাখ্যান করে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তা কদর্যভাবে উপস্থাপন করে; যাতে উম্মতকে সুন্নাহ ও সুন্নাহর অনুসারীদের অনুসরণ থেকে বিমুখ করা যায়’(৩)।

--------------------------------------------

(১) «আল-মিলাল ওয়ান নিহাল» (১/ ১৯)।

(২) ইবরাহিম বিন মুসা বিন মুহাম্মদ আবু ইসহাক: আল-লাখমি আল-গারনাতি আল-মালিকি, উসূলবিদ, হাফিজ, মুহাদ্দিস, ভাষাবিদ ও মুফাসসির। তিনি ছিলেন অত্যন্ত নেককার, চারিত্রিক পবিত্রতা ও পরহেযগারির অধিকারী এবং সুন্নাহর অনুসারী। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আল-ইতিসাম’ এবং ‘আল-মুওয়াফাকাত’। দেখুন: ‘শাজারাতুন নূর আয-যাকিয়্যাহ’ (১/ ৩৩২)।

(৩) শাতিবি রচিত ‘আল-ইতিসাম’ (২/ ৩২)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١٨)
أفَلا تَرى أنَّ هذه المُناكفاتِ العِلميَّةِ للأخبارِ -مِمَّا ساق بعضَها الشَّاطبي- تَتكرَّر في زمانِنا هذا وزيادة، غير أنَّ أصحابَها يخدعون النَّاس بتجديدِ صِياغتِها وتجميلِ صُورَتِها في قَوالِب عَصريَّةٍ؟! وبنفسِ تلك الأساليب مِن الطَّعنِ في نَقَلَتِها ودَعاوي المُعارَضاتِ العقليَّة؟! ولِنَفسِ غَرَضِ النُّصرةِ للمَذهبِ أو الطَّائفةِ أوالتَّياراتِ الفِكريِّة؟!

إنَّ ما يقولُه هؤلاء المُعاصرون في الدِّين يكاد يرجعُ في أصولِه ومعناه إلى ما قال أولئك الأقدمون، «بفرقٍ واحدٍ فقط: أنَّ أولئك الأقدمين -زائغين كانوا أم مُلحِدين- كانوا عُلماءَ مُطَّلِعين، أكثرُهم مِمَّن أضَلَّه الله على عِلْمٍ؛ أمَّا هؤلاء المُعاصرون: فليس إلَّا الجهل والجُرأة! وامتِضاغُ ألفاظٍ يُحسنونها، يُقلِّدون في الكُفرِ، ثمَّ يَتَعالَوْن على كلِّ مَن حاوَلَ وضعَهم على الطَّريقِ القويم»(1).

وهذه حالُ مَن لا يفهمُ شأنَ السُّنةِ وتصاريفَ أخبارِها، مِمَّن لم يُوتَوا الآلةَ الَّتي بها يَفهَمُ ذلك؛ فإنَّما يكون البَلاء إذا ظَنَّ العادِمُ لها أنَّه أُوتِيَها، وأنَّه مِمَّن يَكمُل للحُكمِ على أسانيدِها، ويَصِحُّ منه القَضاء على مُتونِها، فجَعَل يَقولُ القولَ لو عَلِم غِبَّه لاسْتَحى منه! فأمَّا الَّذي يُحسِن بالنَّقصِ مِن نفسِه، ويَعلمُ أنَّه قد عُدِمَ عِلْمًا بالأخبارِ وحَلًّا لعَويصِها قد أوتِيَهما مَن سِواه، فهذا «نحن منه في راحةٍ، وهو رَجلٌ عاقلٌ، قد حمَاه عقلُه أن يَعدُوَ طَوْرَه، وأنْ يَتَكَلَّف ما ليس بأهلٍ له»(2).

فالدَّاءُ كلُّ الدَّاء من هؤلاءِ المُتَعالِمين المُحْدَثين، الَّذين أعْدَوا بأمراض عقولِهم ما يُلامسون مِن آراء؛ بهَوى مُعدٍ يتمدَّد في الأفكارِ كتمدُّد العِلَل في الأبدان، يصير به صاحبه مُضطرِبَ المنهجِ، مُختلِطَ الطَّريقة، كثيرَ التَّناقُضِ فيما يُقرِّر؛ حتَّى يُوبِقه اضطرابُه هذا في مَهاوي الرَّدَى، وترمي به جهالاته في أوديةِ الباطِل.

--------------------------------------------

(1) حاشية حمد شاكر على «مسند أحمد» (6/ 523).

(2) «دلائل الإعجاز» للجرجاني (1/ 549).
আপনি কি দেখছেন না যে হাদিসের বিরুদ্ধে এই ইলমি কলহগুলো—যার কিছু অংশ শাতবি বর্ণনা করেছেন—আমাদের এই যুগেও পুনরাবৃত্ত হচ্ছে এবং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে? তবে এর হোতারা একে আধুনিক ছাঁচে নতুনভাবে সাজিয়ে এবং এর বাহ্যিক রূপকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে। তারা ঠিক সেই একই পদ্ধতি অবলম্বন করছে—বর্ণনাকারীদের ওপর অপবাদ আরোপ করা এবং যুক্তিবাদী বিরোধিতার দাবি তোলা—আর এর উদ্দেশ্যও সেই একই, অর্থাৎ কোনো মাযহাব, দল বা নির্দিষ্ট চিন্তাধারার সমর্থন করা।

দ্বীন সম্পর্কে এই সমসাময়িকরা যা বলছে, তার মূল এবং অর্থ প্রায় সেই প্রাচীনপন্থীদের কথার দিকেই ফিরে যায়; কেবল একটি পার্থক্য ছাড়া: সেই প্রাচীনপন্থীরা—তারা বিপথগামী হোক কিংবা নাস্তিক—তারা অন্তত জ্ঞানবান ও সুক্ষ্মদর্শী ছিলেন, যাদের অধিকাংশকেই আল্লাহ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও বিভ্রান্ত করেছেন। পক্ষান্তরে এই সমসাময়িকদের মধ্যে অজ্ঞতা আর ধৃষ্টতা ছাড়া কিছুই নেই! তারা কেবল কিছু শব্দ আওড়ানোতে পারদর্শী, তারা কুফরিতে অন্ধ অনুকরণ করে, এরপর যারা তাদের সঠিক পথে আনার চেষ্টা করে তাদের ওপর নিজেদের বড়ত্ব জাহির করে(১)।

আর এটিই হলো সেই ব্যক্তির অবস্থা যে সুন্নাহর মর্যাদা এবং হাদিস বর্ণনার বিভিন্ন বৈচিত্র্য বোঝে না, যাদের সেই সক্ষমতা দেওয়া হয়নি যার মাধ্যমে এগুলো অনুধাবন করা যায়। প্রকৃত বিপদ তখনই ঘটে যখন এই যোগ্যতাহীন ব্যক্তিটি ধারণা করে বসে যে তাকে তা দেওয়া হয়েছে, এবং সে হাদিসের সনদগুলোর ওপর হুকুম প্রদান বা হাদিসের মতন (মূল পাঠ) সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়ার যোগ্য হয়ে উঠেছে। ফলে সে এমন সব কথা বলতে শুরু করে যেগুলোর পরিণাম যদি সে জানত তবে অবশ্যই লজ্জাবোধ করত! পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজের সীমাবদ্ধতা অনুভব করে এবং জানে যে হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান এবং এর জটিল বিষয়গুলোর সমাধান সম্পর্কে সে অবগত নয় বরং অন্য কাউকে তা দেওয়া হয়েছে, তার থেকে আমরা শান্তিতে আছি। সে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি, তার বিবেক তাকে তার সীমা অতিক্রম করা থেকে এবং যার জন্য সে যোগ্য নয় তাতে অনধিকার চর্চা করা থেকে রক্ষা করেছে(২)।

সমস্ত ব্যাধির মূলে রয়েছে আধুনিক কালের এই জ্ঞানের ভান করা অজ্ঞরা, যারা তাদের কলুষিত বুদ্ধিবৃত্তিক রোগের মাধ্যমে তাদের সংস্পর্শে আসা মতামতগুলোকে সংক্রামিত করে। এটি এমন এক সংক্রামক প্রবৃত্তির মাধ্যমে হয় যা চিন্তার জগতে সেভাবেই ছড়িয়ে পড়ে যেভাবে শরীরে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অসংলগ্ন মানহাজ ও বিশৃঙ্খল পদ্ধতির অনুসারী হয়ে পড়ে এবং সে যা নির্ধারণ করে তার মধ্যে প্রচুর স্ববিরোধিতা দেখা দেয়; অবশেষে এই অসংলগ্নতাই তাকে ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিপতিত করে এবং তার মূর্খতা তাকে বাতিলের উপত্যকায় নিক্ষেপ করে।

--------------------------------------------

(১) «মুসনাদে আহমাদ»-এর ওপর আহমাদ শাকিরের টীকা (৬/ ৫২৩)।

(২) জুরজানির «দালাইলুল ই’জায» (১/ ৫৪৯)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ١٩)
ومع ما تخبَّط به القوم في نقداتهم للتراث الشرعي، فلقد مَضَت تلك الأزمانُ الَّتي كان فيها كلامُهم في السُّنةِ سَبَهْلَلًا! يَرمون الأخبارَ على اختلافِ مَصادِرها ودَرَجاتِها كيفما اتَّفَق؛ فإنَّهم صاروا إلى قناعةٍ متجذِّرةٍ بأنَّ أصلَ السُّنةِ ورُوحَها، وأصَحَّ ما جُمِع مِن حديثِها مرقومٌ بين جنبات «الصَّحيحين»، بما تناهى إلى سمعهم من كونهما الدَّرجة الثَّانية صِحةً وتشريعًا بعد كتابِ الله تعالى، وأنَّ عمومَ الأمَّة قد تَلقَّتهما بكمالِ الثِّقة، واعتبَرتهما مَدار العقائد لديها، فلا يَتمُّ تشريعٌ لفَقيهٍ دونهما، لعُلوِّ شروطِ الصِّحةِ في انتقاءِ أخبارهما، وللثِّقة العامَّةِ الحاصِلة لمُصنِّفيهما.

هذان المَغبوطانِ اللَّذان بَذلا حياتَهما لخدمةِ سُنَّة نبيِّهما عليه السلام، واللَّذان تمنَّى ملوك الأرضِ وأشارف النَّاس التَّجمُّلَ بصِفاتهما، والتَّحلِّي بسِماتهما، وثنيَ الرُّكَب في مَجالِسِهما.

فأمَّا أبو عبد الله محمَّد بن إسماعيل البخاريُّ (ت 256 هـ)(1):

فالشَّمس تَلَأْلؤ في سَماءِ المَجد والشَّرف، العبقريُّ الآخذُ من كلِّ فضلٍ بطرفٍ، قد وَهَبه الله تعالى بصيرةً نافذةً تكاد تخترقُ حُجبَ الغيبِ، ونفسًا سَماويَّةً مَحَّصَتها الفضيلةُ، فلم تعلَق بها الرَّذائل، ولا طارَت حولَها المَفاسد والأطماع، وذِكرًا بعيدًا تُردِّدُه الأقطار، وتُغضي مِن مَهابتِه الأبصار، وجلالًا تُطأطئ له الهامات، وحُبًّا مُبرِحًا تنعقدُ عليه قلوب المَلايين مِن المسلمين في مَشارقِ الأرضِ ومَغارِبها.

توجَّه البخاريُّ إلى طلب العلومِ في بُكورِه، فبَدَت عليه علائم الذَّكاء والبراعةِ في حذق ما يتلقَّاه؛ حتَّى إذا أكملَ حفظَ القرآن تَوجَّه إلى السُّنة ومَرويَّاتها، فاستَوْفى حفظَ حديثِ شُيوخِه البُخاريِّين، ونَظَر في الرَّأي، وقَرأ كُتُبَ عبد الله بن المُبارك (ت 118 هـ)؛ كلُّ هذا ولم يُجاوز عُمره المُبارك

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في «تاريخ بغداد» للخطيب البغدادي (2/ 332)، و «تاريخ دمشق» لابن عساكر (52/ 50)، و «أعلام النبلاء» للذهبي (12/ 391).
শরয়ি ঐতিহ্যের (তুরাস) সমালোচনায় একদল লোক যে বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে, তা সত্ত্বেও সেই সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন সুন্নাহ সম্পর্কে তাদের কথাবার্তা ছিল লক্ষ্যহীন! তারা হাদিসগুলোকে সেগুলোর উৎস ও স্তরের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও নির্বিচারে যেখানে-সেখানে ছুড়ে মারত। তবে এখন তারা এই বদ্ধমূল বিশ্বাসে উপনীত হয়েছে যে, সুন্নাহর মূল ও প্রাণ এবং এর সংগৃহীত হাদিসসমূহের মধ্যে যা সবচেয়ে বিশুদ্ধ, তা «সহীহাইন»-এর পৃষ্ঠাসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে। কারণ তাদের কানে এই কথা পৌঁছেছে যে, বিশুদ্ধতা ও বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর কিতাবের পরেই এই দুই কিতাবের স্থান দ্বিতীয়। আর উম্মাহর সাধারণ মানুষ এই দুই কিতাবকে পূর্ণ আস্থার সাথে গ্রহণ করেছে এবং এগুলোকে তাদের আকিদার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য করেছে। তাই এই দুই কিতাব ছাড়া কোনো ফকিহর পক্ষেই বিধান প্রণয়ন করা সম্ভব নয়; কারণ এর হাদিসগুলো নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার শর্তাবলি অত্যন্ত উচ্চমানের এবং এর সংকলকদ্বয়ের প্রতি রয়েছে সর্বজনীন আস্থা।

এই সেই দুই ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, যারা তাদের জীবনকে তাদের নবী আলাইহিস সালামের সুন্নাহর সেবায় উৎসর্গ করেছেন। পৃথিবীর রাজা-বাদশাহ এবং উচ্চমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ যাদের গুণে গুণান্বিত হতে, যাদের বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে এবং যাদের মজলিসে হাঁটু গেড়ে বসতে আকাঙ্ক্ষা করতেন।

আর আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (মৃত্যু ২৫৬ হিজরি)(১):

তিনি গৌরব ও সম্মানের আকাশে প্রদীপ্ত সূর্য, এমন এক প্রতিভা যিনি প্রতিটি শ্রেষ্ঠত্বের অংশ লাভ করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে এমন এক তীক্ষ্ণ দূরদৃষ্টি দান করেছিলেন যা গায়েব বা অদৃশ্যের পর্দাগুলোকেও যেন ভেদ করে যায়। তিনি ছিলেন এক স্বর্গীয় আত্মার অধিকারী যাকে সচ্চরিত্রতা পরিশুদ্ধ করেছিল, ফলে কোনো প্রকার হীনতা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি এবং কোনো ফিতনা বা লোভ-লালসা তাঁর ধারেকাছেও ভিড়তে পারেনি। তাঁর সুখ্যাতি দিগন্তজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়, যাঁর গাম্ভীর্যে মানুষের দৃষ্টি নত হয়ে আসে এবং যাঁর মহত্ত্বের সামনে মস্তক অবনমিত হয়। পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে তাঁর প্রতি রয়েছে গভীর ভালোবাসা।

ইমাম বুখারি শৈশবেই জ্ঞান অন্বেষণে মনোনিবেশ করেন। যা কিছু তিনি অর্জন করতেন, তা আত্মস্থ করার ক্ষেত্রে তাঁর মধ্যে বুদ্ধিমত্তা ও পারদর্শিতার লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেতে থাকে। এমনকি যখন তিনি কুরআন হিফজ সম্পন্ন করলেন, তখন সুন্নাহ ও এর বর্ণনাগুলোর দিকে মনোনিবেশ করলেন। তিনি তাঁর বুখারি (শহরের) শায়খদের হাদিসগুলো পুরোপুরি মুখস্থ করেন, 'রায়' বা ফقهি মতামত নিয়ে গবেষণা করেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের (মৃত্যু ১১৮ হিজরি) কিতাবসমূহ পাঠ করেন। এই সবকিছুই তিনি সম্পন্ন করেছিলেন যখন তাঁর বরকতময় বয়স অতিক্রম করেনি

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন খতিব আল-বাগদাদির «তারিখু বাগদাদ» (২/ ৩৩২), ইবনে আসাকিরের «তারিখু দিমাস্ক» (৫২/ ৫০) এবং আয-যাহাবির «সিয়ারু আ’লামিন নুবালা» (১২/ ৩৯১)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
ستَ عشرة سنة! ليَرْحل بعدُ إلى مُحدِّثي الأمصار، تقيِيدًا للعلم عنهم بخُراسان والعراق والشَّام والحجاز ومصر وغيرها، فانكبَّ النَّاس يَسمعون منه، وليس في وجهِه شَعرة!

بدا له بعد سنين التَّحصيل والتَّحديث أن يجمع الصَّحيح من الأخبار النَّبويَّة، لكلماتٍ مُقلقاتٍ تَدفَّقنَ من صدر شيخِه ابن راهوُيَه (ت 237 هـ)، يقول فيهنَّ لتلاميذه: «لو جَمعتُم كِتابًا مُختصرًا لصحيحِ سُنَنِ النَّبي صلى الله عليه وسلم .. »(1).

هذه الحروف اليسيرات أوقعنَ في قلبِ البخاريِّ مِن الهِمَّة ما لأجلهنَّ صَنَّف كتابَه الأعجوبة «الجامعِ المُسندِ الصَّحيحِ المُختصر من أمورِ رسول الله صلى الله عليه وسلم وسُنَنِه وأيَّامه»، مُزيِّنًا له بأحسنِ المتون، مُتخيِّرًا له أضبطَ الرِّجالِ العدول، مَرفوعًا بذلك في مِعراجٍ لا يُلحَق؛ كيف لا، وقد وَصَله بالصِّلةِ الَّتي لا تُبلى: وهي الصَّلاة؟! فكان لا يَضعُ فيه حديثًا حتَّى يُصلِّي له ركعتين.

هذا؛ والعادة الغالبة جاريةٌ على أنَّ كلَّ مُصَنَّفٍ إذا كان الأوَّلَ في بابِه، جاء مَن بعده ليُصنِّفوا في ذاك الفنِّ، فيستدركوا ما أغفلَه الأوَّل، ويحسِّنوه، ويزيدوا عليه ما يُكمِل فائدتَه، حتَّى يكونَ أتَمَّ مِمَّا خَطَّه وأنفعَ؛ لكنَّ البخاريَّ -وإن كان أوَّلَ مَن صَنَّف الصَّحيحِ مُستقلًّا- لم يأتِ بعده مَن يُضاهيه، مع وَفرةِ مَن تَصدَّى لجمعِ الصَّحيحِ بعده.

يقول أبو الحسن النَّدوي (ت 1420 هـ): «لو زَعَم زاعم، أو ادَّعى مُدَّعٍ، أنَّه لم يُعتَنَ بكتابٍ بَشريٍّ في أيِّ مِلَّةٍ وديانةٍ، وفي أيِّ لُغةٍ وأدبٍ، وفي أيِّ مَوضوعٍ ومَقصدٍ، وفي أيِّ عصرٍ مِن العصور، مثل ما اعتُني بالجامعِ الصَّحيحِ للإمام البخاريِّ، لما كان مُجازفةً مِن القولِ، ولا مُبالغة في الدَّعوى، ولا إسرافًا في الحُكم، ولكن لهذا القول وَجاهةٌ علميَّةٌ، ودلائلُ تاريخيَّةٌ، قائمةٌ على استعراضٍ طويلٍ دقيقٍ مُحايدٍ أمينٍ للمكتبةِ العلميَّةِ العالميَّةِ، ونتاجِ العقولِ والأقلامِ، ومَحصول القرائحِ والهِمَم، مِن فجرِ التَّاريخ إلى يومِ النَّاس هذا»(2).

--------------------------------------------

(1) «تاريخ بغداد» (2/ 322)، و «تهذيب الكمال» (24/ 442).

(2) «نظرات على صحيح البخاري» لأبي الحسن النَّدوي (ص/7).
১৬ বছর বয়সে! এরপর তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের মুহাদ্দিসদের নিকট সফর করেন, খোরাসান, ইরাক, সিরিয়া, হিজাজ, মিশর এবং অন্যান্য স্থান থেকে ইলম সংগ্রহ করার জন্য। মানুষ তাঁর কাছে হাদিস শোনার জন্য ঝুঁকে পড়েছিল, অথচ তখনও তাঁর চেহারায় দাঁড়ি গজায়নি!

ইলম অর্জন ও হাদিস বর্ণনার দীর্ঘ কয়েক বছর পর, তাঁর মনে রাসুলের সহিহ হাদিসসমূহ সংকলন করার সংকল্প জাগ্রত হয়। এর মূলে ছিল তাঁর উস্তাদ ইবনে রাহওয়াইহ (মৃ. ২৩৭ হি.) এর অন্তর থেকে নিঃসৃত কিছু উদ্বেগজনক শব্দ, যা তিনি তাঁর ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: «তোমরা যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিহ সুন্নাহর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত কিতাব সংকলন করতে...!»(১)।

এই সামান্য শব্দগুলো ইমাম বুখারীর হৃদয়ে এমন এক সংকল্পের জন্ম দিল, যার কারণে তিনি তাঁর বিস্ময়কর গ্রন্থ ‘আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুখতাসার মিন উমুরি রাসুলিল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি’ সংকলন করেন। তিনি একে সর্বোত্তম মতন (হাদিসের মূল পাঠ) দ্বারা সুশোভিত করেন এবং এর জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীদের নির্বাচন করেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন এক উচ্চতায় আরোহণ করেন যা কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। কেনই বা হবে না, যখন তিনি একে এমন এক বন্ধনের সাথে যুক্ত করেছিলেন যা কখনো জীর্ণ হয় না: আর তা হলো নামাজ! তিনি এতে কোনো হাদিস স্থাপন করতেন না যতক্ষণ না তার জন্য দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন।

সাধারণত প্রচলিত নিয়ম হলো, কোনো বিষয়ের ওপর প্রথম কোনো গ্রন্থ রচিত হলে পরবর্তীতে যারা ওই বিষয়ে কাজ করেন, তারা প্রথম লেখকের ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করেন, মানোন্নয়ন করেন এবং আরও তথ্য যোগ করে সেটিকে আরও পূর্ণাঙ্গ ও উপকারী করে তোলেন। কিন্তু ইমাম বুখারি—যদিও তিনি স্বতন্ত্রভাবে সহিহ হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে প্রথম ছিলেন—তাঁর পরে এমন কেউ আসেননি যিনি তাঁর সমকক্ষ হতে পারেন, যদিও তাঁর পরে সহিহ হাদিস সংকলনের প্রচেষ্টাকারী অনেকেরই প্রাচুর্য ছিল।

আবুল হাসান আন-নাদভী (মৃ. ১৪২০ হি.) বলেন: «যদি কেউ এই দাবি করে যে, মানবজাতির ইতিহাসে কোনো ধর্ম বা মতাদর্শের কোনো কিতাবের প্রতি, কোনো ভাষা বা সাহিত্যের কোনো সৃষ্টির প্রতি, কোনো যুগে কোনো বিষয়ের ওপর কোনো গ্রন্থের প্রতি ততটুকু গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি যতটুকু ইমাম বুখারীর ‘জামে সহিহ’-এর প্রতি করা হয়েছে, তবে তা কোনো অতিরঞ্জিত উক্তি হবে না, দাবি করার ক্ষেত্রে কোনো বাড়াবাড়ি হবে না এবং বিচারে কোনো সীমা লঙ্ঘন হবে না। বরং এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতা এবং ঐতিহাসিক প্রমাণাদি, যা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত জ্ঞানভাণ্ডার, মেধা ও কলমের উৎপাদন এবং ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত মানুষের প্রতিভা ও প্রচেষ্টার দীর্ঘ, সূক্ষ্ম, নিরপেক্ষ ও বিশ্বস্ত পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত»(২)।

--------------------------------------------

(১) «তারিখু বাগদাদ» (২/ ৩২২), এবং «তাহজিবুল কামাল» (২৪/ ৪৪২)।

(২) আবুল হাসান আন-নাদভী রচিত «নাজরাত আলা সহিহিল বুখারি» (পৃ. ৭)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢١)
وأمَّا تلميذه أبو الحُسين مسلم بن الحجَّاج النَّيسابوريُّ (ت 261 هـ)(1):

فردفُ شيخه إمامًا في الحديث بلا مُدافعة، بالغًا فيه الذَّروة؛ قد كان أبو زرعة وأبو حاتم الرَّازيان -على جَلالةِ قدرِهما في الحديث وإمامتِهما في العِلَل- يُقدِّمانِه في معرفةِ الصَّحيح على مَشايِخِ عصرهِما(2)؛ يكفيك شاهدًا على هذه الجلالة كتابُه «المُسند الصَّحيح»(3)، حيث انتخب أحاديثَه مِن ثلاثمائةِ ألفِ حديثٍ مَسموعة لديه مُدَّة خمس عشرة سنة(4).

ومسلم -مع جلالته في هذا العلم- تلميذُ البخاريِّ وخرِّيجُه، قد كان يرفعُ شيخَه في هذا العلمِ على نفسِه؛ يُري النَّاسَ جِلسته «بين يَدَيْه كالصَّبيِ بين يَدَيْ مُعَلِّمِه»(5)؛ فلا غروَ أن يكون صحيح البخاريِّ مُقَدَّمًا على كتابِه، فإنَّما بنى مسلمٌ صحيحَه عليه، فعَمِل عليه شِبْهَ مُستَخرَجٍ، وزاد فيه زيادات(6).

ولقد سيقَ في الثَّناءِ على مسلمٍ وكتابِه جملةٌ صالحةٌ مِن مَدائح أهل العلم، «بحيث إذا قوبِلَت بما قيل في البخاريِّ وفي كتابِه، كانت مُكافِئةً لها، أو راجحة عليها»(7)! فلقد حصَل له «في كتابِه حَظٌّ عظيمٌ مُفرطٌ لم يحصل لأحدٍ مثلِه، بحيث أنَّ بعضَ النَّاسِ كان يُفضِّله على صحيح محمِّد بن إسماعيل .. وقد نَسَج على مِنوالِه خلقٌ مِن النيَّسابوريِّين، فلم يبلغوا شأوَه؛ فسبحان المُعطي الوَّهاب!»(8).

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في «تاريخ بغداد» (15/ 121)، و «تاريخ دمشق» (58/ 85)، و «أعلام النبلاء» (12/ 577).

(2) «تاريخ بغداد» (6/ 430)، و «تاريخ دمشق» (58/ 90).

(3) بهذا سمَّاه به صاحبه مسلم، كما نقله الخطيب في «تاريخ بغداد» (15/ 121)، وصرَّح به الغسَّاني في كتابه «تقييد المهمل وتمييز المشكل» (1/ 53)، وكذا ابن الصَّلاح في «صيانة صحيح مسلم» (ص/67)، وبه سمَّاه الحاكم في عدة مواضع من «مُستدركه»، انظر مثلًا (1/ 66، 1/ 162) منه.

(4) «تذكرة الحفاظ» للذهبي (2/ 126).

(5) «الأربعين المرتبة على طبقات الأربعين» لابن المفضل المقدسي (ص/290).

(6) نقله ابن حجر عن الدَّارقطني في «النكت على ابن الصلاح» (1/ 286).

(7) «المفهم لمِا أشكل من تلخيص كتاب مسلم» لأبي العبَّاس القرطبي (1/ 20).

(8) «تهذيب التهذيب» (10/ 127).
আর তাঁর ছাত্র আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-নাইসাবুরি (মৃত্যু: ২৬১ হিজরি)(১):

তিনি হাদীস শাস্ত্রে কোনো প্রকার দ্বিমত ছাড়াই তাঁর শিক্ষকের উত্তরসূরি এবং একজন ইমাম ছিলেন, যিনি এই শাস্ত্রে শিখরে পৌঁছেছিলেন। আবু জুরআহ এবং আবু হাতিম আল-রাজি —হাদীস শাস্ত্রে তাঁদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং ইলমে ইলাল (হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) বিষয়ে ইমাম হওয়া সত্ত্বেও— সহীহ হাদীস চেনার ক্ষেত্রে তাঁর যুগের অন্যান্য মাশায়েখদের তুলনায় তাঁকে প্রাধান্য দিতেন(২); এই সুউচ্চ মর্যাদার সাক্ষী হিসেবে তাঁর গ্রন্থ «আল-মুসনাদ আস-সহীহ»-ই যথেষ্ট(৩), যেখানে তিনি পনের বছর সময় ধরে তাঁর শ্রবণকৃত তিন লক্ষ হাদীস থেকে তাঁর গ্রন্থভুক্ত হাদীসগুলো নির্বাচন করেছেন(৪)।

ইমাম মুসলিম —এই ইলমে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও— ইমাম বুখারীর ছাত্র এবং তাঁরই সরাসরি শিষ্য ছিলেন। তিনি এই শাস্ত্রে নিজের তুলনায় তাঁর শিক্ষককে অধিক মর্যাদা দিতেন; তিনি মানুষের সামনে তাঁর বসার ধরনকে এমনভাবে উপস্থাপন করতেন যেন তিনি «তাঁর (বুখারীর) সামনে একজন বালক যেমন তার শিক্ষকের সামনে বসে থাকে»(৫); সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে সহীহ বুখারী তাঁর গ্রন্থের তুলনায় অগ্রগণ্য হবে, কারণ ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থটি এর ওপর ভিত্তি করেই গড়ে তুলেছিলেন এবং তিনি অনেকটা 'মুস্তাখরাজ' (অন্যের সনদে হাদীস বর্ণনা) এর ন্যায় কাজ করেছেন এবং এতে কিছু নতুন বিষয় সংযোজন করেছেন(৬)।

ইমাম মুসলিম এবং তাঁর গ্রন্থের প্রশংসায় আলেমদের পক্ষ থেকে এক বিশাল সংকলন বর্ণিত হয়েছে, «যা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যদি ইমাম বুখারী ও তাঁর গ্রন্থ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার সাথে একে তুলনা করা হয়, তবে তা এর সমতুল্য অথবা তার চেয়েও অগ্রগণ্য হবে»(৭)! তাঁর গ্রন্থের মাধ্যমে তিনি «অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের মহা-সৌভাগ্য লাভ করেছেন যা অন্য কারো ভাগ্যে জোটেনি, এমনকি কিছু লোক একে মুহাম্মদ বিন ইসমাইলের সহীহর ওপরও শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন... এবং নাইসাবুরের বহু লোক তাঁর পদ্ধতি অনুসরণ করে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু তাঁরা তাঁর মানে পৌঁছাতে পারেননি; সুতরাং পবিত্র সেই সত্তা যিনি অকাতরে দানকারী ও দাতা!»(৮)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন তাঁর জীবনী: «তারিখ বাগদাদ» (১৫/ ১২১), «তারিখ দামাস্কাস» (৫৮/ ৮৫), এবং «সিয়ারু আলামিন নুবালা» (১২/ ৫৭৭)।

(২) «তারিখ বাগদাদ» (৬/ ৪৩০), এবং «তারিখ দামাস্কাস» (৫৮/ ৯০)।

(৩) গ্রন্থকার মুসলিম স্বয়ং একে এই নামে অভিহিত করেছেন, যেমনটি খাতিব আল-বাগদাদি «তারিখ বাগদাদ» (১৫/ ১২১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এবং আল-গাসসানি তাঁর গ্রন্থ «তাকয়িদুল মুহমাল ওয়া তামিযুল মুশকাল» (১/ ৫৩)-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ইবনুস সালাহ তাঁর «সিয়ানাতু সহীহ মুসলিম» (পৃষ্ঠা: ৬৭) গ্রন্থে এবং আল-হাকিম তাঁর «মুস্তাদরাক»-এর বেশ কিছু স্থানে এই নামে ডেকেছেন, উদাহরণস্বরূপ দেখুন (১/ ৬৬, ১/ ১৬২)।

(৪) আয-যাহাবীর «তাযকিরাতুল হুফফাজ» (২/ ১২৬)।

(৫) ইবনুল মুফাদ্দাল আল-মাকদিসীর «আল-আরবাউন আল-মুরত্তাবাহ আলা তাবাকাতিল আরবাউন» (পৃষ্ঠা: ২৯০)।

(৬) ইবনে হাজার আল-আসকালানী আদ-দারাকুতনি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন «আন-নুকাত আলা ইবনিস সালাহ» (১/ ২৮৬) গ্রন্থে।

(৭) আবু আব্বাস আল-কুরতুবীর «আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম» (১/ ২০)।

(৮) «তাহযীবুত তাহযীব» (১০/ ১২৭)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
والَّذي تُحصِّله مِن جملة ما تطالعه من ترجمةِ هذين الإمامين: أنَّهما بحقٍّ في الحديثِ فَرَسا رِهانٍ، وأنْ ليس لأحدٍ بمُسابَقَتِهما ولا مُساوَقَتِهما يَدَان! قد تَمَّ لهما في كتابَيهما أوفرُ النَّصيبَيْن، وانعقدَ الإجماعُ على تَلقيبِهما بـ «الصَّحِيحَيْن»؛ فجزاهما الله عن الإسلام أفضلَ الجزاء، ووَفَّاهما مِن أجرِ مَن انتفَعَ بكِتابَيهما أفضلَ الإِجزاء.

فلمَّا كان للشَّيخينِ هذه القَدَم الرَّاسخة في التَّحديث، وكان لكِتابَيهما الحظوةُ العُظمى فوق كلِّ مُصَنَّف في الحديث، توجَّه إليهما بالعداوة مَن في صدرِه حرجٌ مِن السُّنَة، لعلمِهم بأنَّ نَقضَهما نَقضٌ لسَائِر دواوينِ الحديثِ تَبعًا، وأنَّ إسقاطَ المنهجِ النَّقديِّ الَّذي ابتنياه عليه إسقاطٌ لمنهج المُحدِّثين رأسًا.

فاسمع أحدَ أعدائِهما يُحرِّض عليهما الدَّهماءَ فيقول: «إنَّ استبعادَ أيَّ حديثٍ في البخاريِّ، يعني استبعادَ عشرة أحاديث موضوعةٍ موجودةٍ ومُثبتةٍ في كتبِ السُّنة الأخرى! وبعضها أسوأُ بكثيرٍ ممَّا جاء في البخاريِّ وأكثر انتشارًا؛ إنَّ استبعادنا لأحاديث أقوى منها، يستتبِعُ بالتَّبعيَّةِ استبعادَها، وسيُمهِّد عَمَلُنا هذا الطَّريقَ لأنْ يأتي بعدنا مَن يَتَقصَّى كتبَ السُّنة الأخرى، ويُجهز على البقيَّةِ الباقية»(1).

وأشاح آخرُ عن وجهِ تقصُّدِه لنقضِ صرحِ هذين الكِتابين، بأن قال: «أصبحَ صحيح البخاريِّ وصحيح مسلم مَدار العقائد عند أهل السُّنة، وهذه الأمور هي الَّتي دَعَتْنا إلى البحثِ والتَّنقيبِ في الصَّحيحين، وكشفِ حقيقتِهما وماهيَّتِهما»(2).

بل صرَّحَ رافضيٌّ آخرُ بنتيجةٍ أخطَر تَعقُب استهدافَ «الصَّحيحين»، حيث بَشَّرَ أهلَ مِلَّتِه «بأنَّ هذين الكِتابين إذا سَقَطا، لم يبقَ لأهلِ السُّنة إلَّا اتِّباعَ مَذهبِ الشِّيعةِ الإماميَّة»!(3)

--------------------------------------------

(1) «تجريد البخاري ومسلم من الأحاديث الَّتي لا تلزم» لجمال البنَّا (ص/13).

(2) «أضواء على الصَّحيحين» لصادق النَّجمي (ص/60 - 61).

(3) وهذه النَّتيجة الَّتي خَتَم بها محمَّد تقي الصَّادقي القسمَ العاشرَ من كتابه «الشِّيعة في ميزان صَحيحي أهل السُّنة»، طبع دار الصَّادقين للنَّشر - بيروت.
এই দুই ইমামের জীবনী যা কিছু আপনি অধ্যয়ন করবেন তা থেকে আপনি যা অর্জন করবেন তা হলো: হাদীসশাস্ত্রে তাঁরা প্রকৃতপক্ষে একে অপরের সমকক্ষ দুই তুখোড় ঘোড়সওয়ার, এবং তাঁদের সাথে প্রতিযোগিতা করা বা তাঁদের সমপর্যায়ে পৌঁছানোর সামর্থ্য কারো নেই! তাঁদের এই দুই কিতাব সর্বাধিক সৌভাগ্য লাভ করেছে এবং এই দুই গ্রন্থকে 'সহীহাইন' (দুইটি বিশুদ্ধ কিতাব) হিসেবে আখ্যায়িত করার ব্যাপারে উম্মাহর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; সুতরাং ইসলামের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং যাঁরা তাঁদের এই দুই কিতাব দ্বারা উপকৃত হয়েছেন তাঁদের বিনিময়ে তাঁদেরকে পূর্ণমাত্রায় প্রতিদান দান করুন।

যেহেতু হাদীসশাস্ত্রে এই দুই শাইখের এমন সুদৃঢ় অবস্থান ছিল এবং হাদীস বিষয়ক সকল সংকলনের উপর তাঁদের কিতাব দুটির এক মহান মর্যাদা ছিল, তাই তাঁদের প্রতি সেই ব্যক্তিরাই শত্রুতা পোষণ করেছে যাদের অন্তরে সুন্নাহর প্রতি সংকীর্ণতা রয়েছে। কারণ তারা জানত যে, এই দুই কিতাবকে খণ্ডন করার অর্থ হলো অনুগামী হিসেবে হাদীসের অন্যান্য সকল সংকলনকেও খণ্ডন করা। আর তাঁরা যে সমালোচনামূলক পদ্ধতি অবলম্বন করে এই কিতাব দুটি রচনা করেছেন, তা বাতিল করা মানে সরাসরি মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতিকেই সমূলে বিনাশ করা।

সুতরাং তাঁদের শত্রুদের মধ্যে একজনের কথা শুনুন যে সাধারণ মানুষকে তাঁদের বিরুদ্ধে প্ররোচিত করে বলছে: "বুখারী থেকে যেকোনো হাদীস বর্জন করার অর্থ হলো অন্যান্য সুন্নাহর কিতাবগুলোতে বিদ্যমান ও প্রমাণিত দশটি জাল হাদীসকে বর্জন করা! যার মধ্যে কয়েকটি বুখারীর বর্ণনার চেয়েও অনেক বেশি নিকৃষ্ট এবং অধিক প্রচলিত। আমাদের পক্ষ থেকে এই হাদীসগুলোর চেয়েও শক্তিশালী হাদীস বর্জন করার ফলে আনুষঙ্গিকভাবেই সেগুলোকে বর্জন করা জরুরি হয়ে পড়বে। আর আমাদের এই কাজ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ সুগম করবে যারা অন্যান্য সুন্নাহর কিতাবগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করবে এবং যা কিছু অবশিষ্ট আছে তাকে নির্মূল করবে।"(১)

অন্য একজন এই দুই কিতাবের ভিত্তি ধ্বংস করার ব্যাপারে তার অভিসন্ধির কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছে: "সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম আহলে সুন্নাহর নিকট আকীদার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আর এই বিষয়গুলোই আমাদের বাধ্য করেছে সহীহাইন সম্পর্কে অনুসন্ধান ও গবেষণা করতে এবং এর বাস্তবতা ও স্বরূপ উন্মোচন করতে।"(২)

এমনকি জনৈক রাফেযী 'সহীহাইন'কে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পরবর্তী আরও ভয়াবহ পরিণতির কথা স্পষ্টভাবে বলেছে, যেখানে সে তার ধর্মাবলম্বীদের সুসংবাদ দিয়ে বলেছে যে: "যদি এই দুই কিতাবকে পর্যুদস্ত করা যায়, তবে আহলে সুন্নাহর জন্য শিয়া ইমামিয়া মাযহাব অনুসরণ করা ছাড়া আর কোনো পথ অবশিষ্ট থাকবে না!"(৩)

--------------------------------------------

(১) জামাল আল-বান্না রচিত 'তাজরীদ আল-বুখারী ওয়া মুসলিম মিনাল আহাদিস আল্লাতী লা তালযাম' (পৃষ্ঠা ১৩)।

(২) সাদিক আন-নাজমী রচিত 'আদওয়া আলাস সহীহাইন' (পৃষ্ঠা ৬০-৬১)।

(৩) এটি সেই ফলাফল যা মুহাম্মদ তাকি আস-সাদিকি তাঁর 'আশ-শিয়া ফী মীযানি সহীহাই আহলিস সুন্নাহ' কিতাবের দশম খণ্ডের শেষে উল্লেখ করেছেন; দারুস সাদিকীন প্রকাশনী - বৈরুত।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وأمَّا عَلمانيُّو العَرب: فلأنَّهم جَهَلةٌ بدَقائقِ علمِ الحديث، وقواعدِ الجرحِ والتَّعديل، عَجَزةٌ عن فقهِ أسبابِ صحَّةِ الحديثِ أو ضعفِه، وسلوكِ مَضايقِ علومِ الإسناد، لم يَعُد لهم مِن خَيارٍ للخروج مِن هذه التَّراتيب المُعقَّدة إلَّا الولوغ في حِياضِ متونِ «الصَّحيحين»؛ وذلك -حسب ما يقولُ (عبد الجواد ياسين) - «لأنَّ البخاريَّ ومسلمًا يجُبَّان ما دونهما مِن الكُتب في مفهومِ أهل السُّنة، سوف نُحاول التَّركيز على مَرويَّاتهما فى هذا الصَّدد»(1).

والَّذي يظهر لكلِّ مَن تتبَّع إنتاجات هؤلاء في غارتهم على السُّنة، أنَّ اشتدادَ مُحاولاتِ التَّطويرِ واستهدافِ «الصَّحيحين» في ظروفِنا الرَّاهنةِ «يُمثِّل عَمَلًا مُنَظَّمًا تكمُن خلفَه قِوىً مُعيَّنة؛ فقد تَتابَعت المُؤلَّفات في هذا الموضوع»(2)، وتواترت المَرئيَّات فيه على وسائل التَّواصل الاجتماعيِّ.

فمن قريبٍ فوجِئنا بمُؤسَّسة أمريكيَّة رَسميَّة كبيرةٍ بحجمِ (الكونْغرس) تُهاجِم «صحيحَ البخاريَّ» عبر عُملائها العرب، في مَقطعٍ مَرئيٍّ صفيق أسمته «حقائق صادمة عن البخاريِّ»! مُنتِنٍ بالأغاليطِ الكاذبةِ عبر مِنْبرِها الإلكترونيِّ (أصوات مَغاربيَّة)(3).

وهي أيضًا مَن يدعمَ برنامجين تلفزيَّين على قناتِها (الحُرَّة)، أوَّلهما باسم «إسلام حرٌّ» لإسلام بحيري المصريِّ! الوالهِ بغمز البخاريِّ والطَّعن بأهل الحديث؛ وثانيهما «مُختلَف عليه»، يقدِّمه الإعلاميُّ إبراهيم عيسى! ليس له همٌّ فيه إلَّا إسقاط الرُّموز وتوهين الثَّوابت الإسلاميَّة؛ قد خصَّص منه حلقةً كاملةً للتَّشكيك في مصداقيَّة البخاريِّ وجدوى «صحيحِه».

--------------------------------------------

(1) «السلطة فى الإسلام» (ص/292)، وانظر «دين السلطان» لنيازي (ص/103 - 113).

(2) «مرويات السِّيرة» لأكرم العمري (ص/41).

(3) وهو موقع يُشرف عليه مجلس أمناء البثِّ الإذاعي والتلفزيوني BBG، وهي وكالة فيديراليَّة أمريكية مستقلة، بتمويل من الكونغرس الأمريكي، كما أنَّه تابع لشبكة الشرق الأوسط للإرسال MBN التي تُدير قناة (الحُرَّة)! والمَقطع المَرئي عن البخاريِّ نشرته على جميع منصَّاتها الإلكترونية، بتاريخ 31 يناير 2018 م.
আরব্য ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ক্ষেত্রে বলা যায় যে: যেহেতু তারা ইলমে হাদিসের সূক্ষ্ম বিষয়াবলী এবং ‘জারহ ওয়া তা’দীল’ (হাদিস বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণ)-এর মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞ, হাদিসের বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতার কারণসমূহ উপলব্ধি করতে অক্ষম এবং সনদ সংক্রান্ত বিজ্ঞানের জটিল পথসমূহ পাড়ি দিতে অপারগ, তাই এই জটিল বিন্যাস থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই, কেবল ‘সহীহাইন’ (বুখারি ও মুসলিম)-এর মূল পাঠের (মতন) জলাশয়ে হানা দেওয়া ছাড়া; আর তা—আব্দুল জাওয়াদ ইয়াসিনের ভাষ্যমতে—‘যেহেতু আহলে সুন্নাতের ধারণায় বুখারি ও মুসলিম তাদের পরবর্তী সকল কিতাবকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তাই আমরা এই বিষয়ে তাদের বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপর আলোকপাত করার চেষ্টা করব।’(১)

যারা সুন্নাহর ওপর তাদের এই অতর্কিত হামলার কাজগুলো অনুসরণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের কাছে এটি স্পষ্ট যে, আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘সহীহাইন’কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং উন্নয়নের নামে যে প্রচেষ্টাগুলো তীব্রতর হয়েছে, তা ‘একটি সংগঠিত কর্মতৎপরতা যার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু শক্তি সক্রিয় রয়েছে; কারণ এই বিষয়ে একের পর এক গ্রন্থ রচিত হয়েছে’(২) এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সংক্রান্ত ভিডিও ক্লিপগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

নিকট অতীতে আমরা বিস্মিত হয়েছি যখন কংগ্রেসের মতো একটি বড় এবং রাষ্ট্রীয় মার্কিন প্রতিষ্ঠান তাদের আরব্য দালালদের মাধ্যমে ‘সহীহ বুখারি’র ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, অত্যন্ত নির্লজ্জ এক ভিডিও চিত্রে যার শিরোনাম তারা দিয়েছে—‘বুখারি সম্পর্কে কিছু হতবাক করা সত্য’! যা তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘আসোয়াত মাগারিবিয়া’র মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিতে ভরপুর এক দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে।(৩)

উক্ত প্রতিষ্ঠানটিই তাদের ‘আল-হুররা’ চ্যানেলে দুটি টেলিভিশন প্রোগ্রাম পরিচালনা ও সমর্থন করে, যার প্রথমটির নাম ‘ইসলাম হুর’ (মুক্ত ইসলাম), যার সঞ্চালক মিশরের ইসলাম বুহাইরি! যে বুখারিকে নিয়ে উপহাস করতে এবং আহলে হাদিসদের প্রতি কটাক্ষ করতে উন্মাদ; আর দ্বিতীয়টি হলো ‘মুখতালাফ আলাইহি’ (বিতর্কিত), যা উপস্থাপনা করেন সংবাদকর্মী ইবরাহিম ঈসা! সেখানে ইসলামি ব্যক্তিত্বদের পতন ঘটানো এবং ইসলামের অকাট্য বিষয়গুলোকে দুর্বল করা ছাড়া তার আর কোনো উদ্দেশ্য নেই; এমনকি তিনি বুখারির নির্ভরযোগ্যতা এবং তার ‘সহীহ’ গ্রন্থের উপযোগিতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পর্ব বরাদ্দ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) «আস-সুলতাতু ফিল ইসলাম» (পৃষ্ঠা/২৯২), এবং দেখুন নিয়াজির রচিত «দীনুস সুলতান» (পৃষ্ঠা/১০৩-১১৩)।

(২) আকরাম আল-উমরির রচিত «মারউইয়াতুস সিরাহ» (পৃষ্ঠা/৪১)।

(৩) এটি একটি ওয়েবসাইট যা বিবিজি (BBG) নামক সম্প্রচার পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা তত্ত্বাবধান করা হয়, যা মার্কিন কংগ্রেসের অর্থায়নে পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র মার্কিন ফেডারেল সংস্থা। এটি মিডল ইস্ট ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্ক (MBN)-এরও অন্তর্ভুক্ত, যা ‘আল-হুররা’ চ্যানেলটি পরিচালনা করে! বুখারি সম্পর্কে উক্ত ভিডিও ক্লিপটি ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে তাদের সকল অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وتلك مَحكمةٌ رُوسِيَّةٌ تَتَريَّة، أصدرت قبل بضع سَنواتٍ حُكْمًا يُصنِّف «صحيح البخاريِّ» ضمنَ الكُتبِ المُتطرِّفة المَحظورة! بدعوى «أنَّ أحاديثَه مُثيرةٌ للكَراهيَّةِ العِرْقيَّةِ والدِّينيِّة، ومَنَعَت تَداوُلَه»(1).

بل والمَلاحِدة الصُّرحَاء! لم يتركوا «الصَّحيحين» لحالِهما شأنًا خاصًّا بالمُسلمين، حتَّى زاحموا مَن مَضى ذكرُهم على رَميِ سهامِ التَّشكيك صوبَهما؛ كحالِ (إسماعيل أدهم)(2) المُجاهر بإلحاده بعد إسلامه، حيث أطلق دعوى عريضةً في حقِّ الصَّحيحين، يتَّهم مرويَّاتهما بأنَّها «ليست ثابتةَ الأصولِ والدَّعائم، بل هي مَشكوك فيها، ويغلبُ عليها صِفةُ الوَضع!»(3).

الأعجبُ مِنه: غلامٌ مُلحد(4) يخرج مِن بَلدِ الأزهرِ في تسجيلٍ مَرئيٍّ، انتشرَ على وسائل التَّواصل الاجتماعيِّ انتشارَ النَّار في الهَشيم؛ يُبشِّر الغِرُّ فيه المُسلمين بانقضاءِ عهدِ البخاريِّ؛ فلقد حَشَر أنفَه فيما لا يفهَم، فأتى بطَوامٍ عن البخاريِّ وسيرتِه بما لم يُحسِن فيه نُطقَ اسمِه كاملًا نُطقًا سليمًا!

فوا أسَفي على كثرة مَن يغترُّ بمثل هذا الكذوب من مُراهقي الفكر في أيَّامنا النَّحسات؛ ترى أحدَهم مُتذبذبًا بين مواقع الشَّبكاتِ، فارغَ القلبِ، مهزوز النَّفس، قابلًا للتَّشكيكِ في ثوابتِ أمَّته، في علمِ الصَّحابةِ رضي الله عنهم وأئمَّةِ العلمِ، في نَسْفِ جهودِ الأمَّة عبر تاريخها المديد، لمُجردِّ دقائقِ معدودةٍ قضاها في استماعِ مثل هذا السَّفه!

--------------------------------------------

(1) انظر الخبر على جريدة «سَبْق» الإلكترونية السعودية، بتاريخ 18 ذو الحجة 1435 هـ.

(2) إسماعيل بن أحمد باشا أدهم: شُعوبيٌّ، عارف بالرياضيات، له اشتغال بالتاريخ، تركي الأصل، وأمه ألمانية، وُلد بالإسكندرية، وتعلم بها وبالأستانة، ثم أحرز (الدكتوراه) في العلوم من جامعة موسكو سنة 1931، وعاد إلى مصر سنة 1936 فنشر رسالة بالعربية «من مصادر التاريخ الإسلامي» صادرتها الحكومة، وكتابا وضعه في (الإلحاد)، وقد وُجد مُنتحرًا بالإسكندرية سنة 1940 م! انظر «الأعلام» للزركلي (1/ 310).

(3) نقله عنه د. محمود الطَّبلاوي في بحثه المُسمَّى «الدفاع عن السنة النبوية وطرق الاستدلال» ضمن «مجلة البحوث الإسلامية» (28/ 302)، وانظر «السنة ومكانتها في التشريع» لمصطفى السباعي (ص/237).

(4) يُدعَى (جابر شريف)، له قناة معروفة على موقع «اليوتيوب» باسمه.
সেটি ছিল একটি রুশ-তাতারি আদালত, যা কয়েক বছর আগে 'সহীহ আল-বুখারী'কে নিষিদ্ধ চরমপন্থী বইয়ের অন্তর্ভুক্ত করে একটি রায় প্রদান করেছিল! এই অজুহাতে যে, "এর হাদিসগুলো জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষ উসকে দেয় এবং তারা এর প্রচলন নিষিদ্ধ করেছিল"(১)।

এমনকি প্রকাশ্য নাস্তিকরাও! 'সহীহাইন'কে (বুখারী ও মুসলিম) মুসলমানদের একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে তাদের আপন অবস্থায় ছেড়ে দেয়নি, বরং তারা আগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সাথে পাল্লা দিয়ে এগুলোর দিকে সন্দেহের তীর নিক্ষেপ করেছে; যেমনটি ঘটেছে ইসলাম ত্যাগ করে নাস্তিক্যবাদ প্রচারকারী (ইসমাইল আদহাম)-এর ক্ষেত্রে। তিনি সহীহাইন সম্পর্কে এক বিশাল দাবি উত্থাপন করেছেন, যেখানে তিনি এগুলোর বর্ণনাগুলোকে অভিযুক্ত করেছেন এই বলে যে, "এগুলোর মূল ভিত্তি ও স্তম্ভগুলো সুদৃঢ় নয়, বরং এগুলো সন্দেহজনক এবং এগুলোর উপর জালিয়াতির বৈশিষ্ট্যই প্রবল!"(৩)।

এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো: আল-আজহারের দেশ থেকে এক নাস্তিক যুবক(৪) একটি ভিডিও রেকর্ডিংয়ে আবির্ভূত হয়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুকনো কাঠে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে; যেখানে সেই অপদার্থ যুবকটি মুসলমানদের বুখারীর যুগের অবসানের সুসংবাদ দেয়! সে এমন বিষয়ে নাক গলিয়েছে যা সে বোঝে না, ফলে বুখারী এবং তাঁর জীবনী সম্পর্কে এমন সব গুরুতর বিপর্যয়কর কথা বলেছে যেখানে সে এমনকি তাঁর পুরো নামটি পর্যন্ত সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে সক্ষম হয়নি!

আমাদের এই অশুভ দিনগুলোতে চিন্তাগত কিশোরদের মধ্যে এমন মিথ্যাবাদীর দ্বারা প্রতারিত হওয়া ব্যক্তির আধিক্য দেখে বড়ই আফসোস হয়; আপনি তাদের কাউকে দেখবেন নেটওয়ার্কের সাইটগুলোর মাঝে দোদুল্যমান, অন্তঃসারশূন্য হৃদয়ের অধিকারী, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, নিজ উম্মাহর অকাট্য বিষয়গুলোতে, সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইলমে এবং ইলমের ইমামগণের ক্ষেত্রে সন্দেহ পোষণ করতে প্রস্তুত। উম্মাহর দীর্ঘ ইতিহাসের প্রচেষ্টাকে ধূলিসাৎ করে দিতে উদ্যত, শুধুমাত্র এই ধরনের নির্বুদ্ধিতা শোনার পেছনে ব্যয় করা কয়েক মিনিটের কারণে!

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সৌদি ইলেকট্রনিক পত্রিকা 'সাবক'-এর সংবাদটি, তারিখ ১৮ জিলহজ ১৪৩৫ হিজরি।

(২) ইসমাইল বিন আহমাদ পাশা আদহাম: একজন শুউবি (আরব-বিদ্বেষী), গণিতবিদ, ইতিহাসের চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং তাঁর মা ছিলেন জার্মান। আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁর জন্ম এবং সেখানেই ও আস্তানায় (ইস্তাম্বুল) শিক্ষা লাভ করেন। এরপর ১৯৩১ সালে মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৩৬ সালে মিশরে ফিরে এসে আরবিতে 'ইসলামী ইতিহাসের উৎসসমূহ' শীর্ষক একটি রিসালাহ প্রকাশ করেন যা সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল, এবং নাস্তিকতা নিয়ে একটি বই রচনা করেন। ১৯৪০ সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় তাঁকে মৃত অবস্থায় (আত্মহত্যা) পাওয়া যায়! দেখুন: যিরিকলির 'আল-আলাম' (১/৩১০)।

(৩) এটি তাঁর থেকে ড. মাহমুদ আত-তাবলাওয়ী তাঁর 'আদ-দিফা আনিল সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ ওয়া তুরুকুল ইস্তিদলাল' নামক গবেষণাপত্রে উদ্ধৃত করেছেন, যা 'মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যাহ' (২৮/৩০২)-এ প্রকাশিত। আরও দেখুন: মুস্তফা আস-সিবায়ীর 'আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরী' (পৃ. ২৩৭)।

(৪) তাকে 'জাবির শরীফ' বলা হয়, ইউটিউবে তার নিজের নামে একটি পরিচিত চ্যানেল রয়েছে।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
أهذا إنسان يحترم عقْلَه؟! أمَا كان الأجدَرَ بمثلِه أن يخلعَ لبوسَ الغُرورِ والاعتداد بعقله قبل أن يَتعَلَّم -هذا إن تَواضَع وقَبِلَ التَّعلُّم-؟ فإنَّ هذا الغرورَ الَّذي فَشا في شَبابِنا اليوم، فأباحَ لهم الكلامَ في كلِّ شيءٍ، هو حقًّا كالخَمْرَةِ! قد غيَّبت عقولَهم عن رؤيةِ الحقائق والتَّريُّثِ في استصدارِ الأحكامِ.

لكنْ لا والله ما رأيت هؤلاء المَلاحِدة يتجرَّؤون على أن يَسخروا جِهارًا بالصَّحيحين، أو يَستَفِزُّوا المُسلمِين بشَتْمِ الشَّيخين كما رأيته من بعض مَن يَنسِب نفسَه إلى الإسلامِ، بل إلى العلمِ الشَّرعيِّ! خطيبِ مُعمَّمٍ يُلزقُ نفسَه الأمَّارةَ بالأزهر، يجهر بكلِّ قِحةٍ على قنواتِ الإفك بقوله: «إنَّ البخاريَّ مَسْخَرةٌ لا مَفْخَرة»(1)! لكن الأزاهِرةُ الشُّرفاء مِن مثل هذا الدَّعِيِّ بَراءٌ، بل والمِصْرِيُّون الأفاضل كلُّهم، فقد نَبَذوه بخِزْيٍ في آخرِه نَبْذَ الحِيَضِ(2).

الأدْوَى عندي مِمَّا مَضى؛ أن أرى عَدْوى الاستطالةِ على «الصَّحيحين» تفشو بين المُنتَسِبين للسُّنَّةِ أنفسِهم، تحت وَطْأةِ الضُّغوطِ النَّفسيَّة، والإِرجافِ الأَثيم الَّذي يُجابِهُ أَهل السُّنة، بوَصفِهم بِشِنَعِ التَّعيِير، وسَيِّئِ الألقابِ؛ من مثلِ رَمْيِهم بالتَّخلُّفِ، والرَّجعيَّة، وعبادةِ البخاريِّ، والبَداوَةِ الفكريَّةِ، والنُّصوصيَّةِ، والظَّلامِيَّةِ، والسَّلفَوِيَّة، والأصوليَّة .. إلخ تلك الشِّنَعِ الفَجَّةِ، والأَوصافِ الأثيمَةِ، التي أَجلبَ بها أَهلُ الأَهواء على السَّائرين على السَّنَنِ الأَبْينِ في الاعتقادِ والسُّلوك، ورَاوَدُوا بها أَهلَ الحقِّ عن اعتقادِهم المُنبعِثِ عن يقينٍ بصِحَّةِ أصولهِم.

فكان مِن جرَّاء هذه الوطأةِ الأثيمة، أَنْ وَقَعَ في شِراكِ إِجْلابهم فِئامٌ، وصُرِعَ في زَوْبعةِ خَوضِهم أَقوامٌ؛ اقتَضى بيانَ أنَّ ذلك الإِجلابَ إنَّما هو جَوْلةُ باطلٍ، متى لَقِيَ في طريقِه الحقائقَ تكتنفُها البراهين زالَ واضْمَحلَّ.

--------------------------------------------

(1) أعني به محمد عبد الله نصر، المعروف بالشَّيخ ميزو! انظر جريدة «اليوم السابع» المصرية، عدد: الأحد، 10 أغسطس 2014 م، و «جريدة الوفد» المصرية، عدد: الجمعة، 08 أغسطس 2014 م.

(2) حتَّى أعلن قريبًا في منشور له على (الفيسبوك) عن توبته من السَّير على نهج الحداثيِّين في تفريغ الدِّين من لُبابه، وأنَّ منظَّمات غربيَّة كبرى سَعَت في رشوته ليُكمل هدمَه للدِّين كما كان، لكنَّه رفض!
এই কি এমন এক মানুষ যে তার বিবেককে সম্মান করে?! তার মতো ব্যক্তির জন্য কি এটিই অধিক সমীচীন ছিল না যে, সে কোনো কিছু শেখার আগে—যদি সে বিনয়ী হতো এবং শিখতে রাজি হতো—অহংকার ও আত্মম্ভরিতার পোশাক খুলে ফেলবে? কারণ বর্তমানে আমাদের যুবসমাজের মধ্যে যে অহংকার ছড়িয়ে পড়েছে, যা তাদের প্রতিটি বিষয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা জোগায়, তা সত্যিই মদের মতো! এটি তাদের বিবেককে প্রকৃত সত্য দেখা এবং কোনো সিদ্ধান্ত প্রদানের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা থেকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে।

কিন্তু আল্লাহর কসম, আমি এই নাস্তিকদেরও এমন সাহস করতে দেখিনি যে তারা প্রকাশ্যে দুই সহীহ গ্রন্থ (বুখারী ও মুসলিম) নিয়ে উপহাস করবে, কিংবা দুই শায়খকে (আবু বকর ও উমর) গালি দিয়ে মুসলিমদের উত্তেজিত করবে, যা আমি এমন কিছু লোকের কাছ থেকে দেখেছি যারা নিজেদের ইসলামের দিকে, এমনকি শরয়ী ইলমের দিকেও সম্বন্ধযুক্ত করে! এক পাগড়িধারী বক্তা, যে তার কুপ্রবৃত্তি-তাড়িত সত্তাকে আজহারের সাথে জুড়ে দেয়, সে নির্লজ্জভাবে কুৎসা রটনাকারী চ্যানেলগুলোতে বলে বেড়ায়: “নিশ্চয়ই বুখারী এক উপহাসের বস্তু, কোনো গৌরবের বস্তু নয়”(১)! কিন্তু প্রকৃত আজহারীগণ এই নামধারী ব্যক্তির থেকে মুক্ত, বরং সকল সম্মানিত মিশরীয়রাই তাকে বর্জন করেছেন; তারা তাকে শেষ পর্যন্ত তুচ্ছ ও ঘৃণ্য ত্যাজ্য বস্তুর মতো ছুড়ে ফেলেছেন(২)।

এই পাপিষ্ঠ চাপের ফলে একদল লোক তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে এবং তাদের বিতর্কের ঝড়ে অনেকে কুপোকাত হয়েছে। তাই এটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, এই আস্ফালন কেবল বাতিলের একটি সাময়িক দাপট মাত্র; যখনই এটি তার পথে সুদৃঢ় প্রমাণাদি সম্বলিত সত্যের মুখোমুখি হবে, তখনই তা নিঃশেষ ও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

--------------------------------------------

(১) এখানে আমার উদ্দেশ্য হলো মুহাম্মদ আবদুল্লাহ নাসর, যিনি ‘শায়খ মিজো’ নামে পরিচিত! দেখুন মিশরীয় পত্রিকা ‘আল-ইউম আস-সাবি’, সংখ্যা: রবিবার, ১০ আগস্ট ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ; এবং ‘আল-ওয়াফদ’ পত্রিকা, সংখ্যা: শুক্রবার, ০৮ আগস্ট ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ।

(২) এমনকি সম্প্রতি সে তার ফেসবুকের এক পোস্টে আধুনিকতাবাদীদের পথ অনুসরণ করে দ্বীনকে এর মূল নির্যাস থেকে শূন্য করার পথ থেকে তওবা করার ঘোষণা দিয়েছে। সে দাবি করেছে যে, বড় বড় পশ্চিমা সংস্থাগুলো তাকে দিয়ে আগের মতোই দ্বীন ধ্বংস করার কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করেছে!
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ولولا أنَّ الحقَّ لله ورسولِه، وأنَّ كلَّ ما عَدا الله ورسوله فمَأخوذٌ مِن قولِه ومَتروك، وعُرضَةٌ للوَهمِ والخطأِ، لمَا اعترَضْتُ في هذا البحثِ على مَن لا ألحقُ غُبارَهم، ولا أجري معهم في مِضمارهم مِن بعضِ علماء عصرِنا ودُعاته الفُضلاء مِمَّن نَقَدْتُّهم في هذا البحث، فبيَّنتُ بعضَ خطلِهم في تعليلِ ما هو أصيلٌ في الصِّحة.

فوالله إنِّي لأتعقَّبهم في بعضِ تلك الهَنات، وإنِّي لأراهم فوقي في أعلى المَقاماتِ، ومَنازل السَّائرين كالنُّجومِ اللَّامِعات؛ فمعاذَ الله أن أسوِّيهم بالمُبتدعة الضُّلال المُناوئين للأحاديث النَّبويَّة! غير أنِّي رأيتُ القدحَ في الصِّحاحِ ليس أمرًا هَيِّنًا، والذَبَّ عنها لازِمًا مُتعيِّنًا؛ على سَنَن الحكماءِ في أنَّ «حِراسةَ العِلْمِ، أوْلى مِن حِراسةِ العالِم»(1).

فإنَّ في السُّكوتِ عن مثلِ أولئك الأفاضِل إجلالٌ، نعم؛ لكن خيانةٌ للعلم! فلم يكُن بدٌّ «مِن وجودِ نِيَّةِ تَتَبُّعِ السَّقْطاتِ والأخطاءِ في هذا المجالِ، بل لعلَّه مُثابٌ صاحبُه عليه، لأنَّه مُنافَحةٌ عن الحقِّ»(2).

أَهمية الموضوعِ، ودوافعُ اختيارِه:

فلأجل ما تَقَدَّم سَوقُه مِن مَخاطر تُحدق بالسُّنةِ عبر استهدافِ «الصَّحيحين»، رأيتُ مِن واجبِ الوقتِ، وحَقِّ الدِّيانةِ: النُّهودَ إلى مُراغَمَةِ تلك الأَهواءِ المُضَلِّلةِ، والفِتَنِ المُتماحِلةِ؛ بِنُصرةِ السُّنَن الهادِيات، ودفْعِ ما يُعارضُها مِن شُبَهِ المَعقولاتِ، وإِزهاقِ ما يُناقضها مِن أَغاليطِ السَّفسطات، وتقويم مَن زلَّ فيها مِن ذَوي الهَيئات.

فإنِّي لازلتُ -بفضلِ الله تعالى- مُذ قَرَّت عَيْني بسلوكِ طريقِ العلم ودُروبِ الإصلاح على ثَلَجٍ من أنَّ الفاشلَ في تأمينِ حدودِه الفكريَّة، هو لتأمينِ حدودِه الجُغرافيَّة أفشلُ! وأنَّ حمايةَ الثُّغورِ العَقَديَّةِ والفِكريَّةِ الَّتي يُحاصِرُها الأعداءُ، خَيرٌ

--------------------------------------------

(1) «البصائر والذخائر» لأبي حيَّان التَّوحيدي (9/ 20).

(2) «نُقل النَّديم» لمحمد الأمين بوخبزة (ص/6 مخطوط).
আর যদি সত্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য না হতো, এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ব্যতীত অন্য সকলের কথা গ্রহণীয় বা বর্জনীয় এবং ভুল-ভ্রান্তির শিকার না হতো, তবে আমি এই গবেষণায় এমন সব ব্যক্তিবর্গের সমালোচনা করতাম না যাদের পদধূলি স্পর্শ করার যোগ্যতাও আমার নেই এবং যাদের সাথে কোনো প্রতিযোগিতায় নামার সামর্থ্যও আমার নেই; তারা হলেন আমাদের যুগের কতিপয় ফযীলতপূর্ণ আলেম ও দাঈ যাদের সমালোচনা আমি এই গবেষণায় করেছি। ফলে আমি তাদের কিছু ভুলত্রুটি বর্ণনা করেছি যা সহীহ হাদীসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মৌলিক পর্যায়ের ভুল ছিল।

আল্লাহর কসম, আমি তাদের কিছু পদস্খলনের পিছু নিয়েছি অথচ আমি তাদের উচ্চ মাকামে এবং নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল অবস্থানে আমার উপরে আসীন দেখি। আল্লাহর নিকট পানাহ চাই যে, আমি তাদেরকে হাদীস বিরোধী পথভ্রষ্ট বিদআতিদের সমপর্যায়ে গণ্য করব! তবে আমি মনে করি যে, সহীহ হাদীসগ্রন্থসমূহের উপর অপবাদ আরোপ করা কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়, আর সেগুলোর প্রতিরক্ষা করা একটি অপরিহার্য কর্তব্য; যেমন বিজ্ঞজনদের নীতি হলো: «জ্ঞানের সুরক্ষা করা আলেমের সুরক্ষার চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য»(১)।

কেননা এই ধরণের মহৎ ব্যক্তিদের বিষয়ে নীরব থাকাটা সম্মানের পরিচায়ক বটে, কিন্তু তা হবে জ্ঞানের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা! তাই «এই ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ও ভুল-ভ্রান্তিগুলো অনুসন্ধানের নিয়ত করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না, বরং সম্ভবত এর লেখক এর জন্য সওয়াবপ্রাপ্ত হবেন, যেহেতু এটি সত্যের স্বপক্ষে এক লড়াই»(২)।

বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের প্রেক্ষাপট:

সুতরাং «সহীহাইন»-কে লক্ষ্যবস্তু বানানোর মাধ্যমে সুন্নাহর ওপর যে বিপদের ঘনঘটা ঘনিয়ে আসছে, সেই প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি সময়ের দাবি এবং দ্বীনের হক হলো: এই সকল বিভ্রান্তিকর প্রবৃত্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী ফিতনাগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো; হেদায়েতপূর্ণ সুন্নাহর সহযোগিতার মাধ্যমে, এর বিরোধী তথাকথিত যুক্তিবিদ্যার সংশয়সমূহ দূর করার মাধ্যমে, সুন্নাহ পরিপন্থী ভুল বিতণ্ডাগুলো বিলুপ্ত করার মাধ্যমে এবং এই পথে বিচ্যুত হওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংশোধনের মাধ্যমে।

কেননা আমি আল্লাহর অনুগ্রহে—যখন থেকে ইলমের পথে এবং সংশোধনের পথে পদচারণা করে আমার চক্ষু শীতল হয়েছে—এই দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর অটল আছি যে, যে ব্যক্তি তার বুদ্ধিবৃত্তিক সীমান্ত রক্ষায় ব্যর্থ, সে তার ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষায় আরও বেশি ব্যর্থ! আর শত্রুদের দ্বারা অবরুদ্ধ আকীদাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সীমান্ত রক্ষা করা অনেক উত্তম...

--------------------------------------------

(১) আবু হাইয়ান আত-তাওহীদী রচিত «আল-বাসায়ির ওয়াজ-যাখায়ির» (৯/২০)।

(২) মুহাম্মদ আল-আমীন বুখাবজাহ রচিত «নুকলাল নাদীম» (পৃষ্ঠা/৬ পাণ্ডুলিপি)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وأوجَبُ مِن تحقيقِ كثيرٍ من المسائل الخِلافيَّةِ الَّتي يَسوغُ فيها الاجتهادُ، وأهَمُّ مِن استغراقِ الأوقاتِ في دراسةِ جُزئيَّاتٍ ضَعيفةِ الثَّمرةِ في واقِعنا المَرير، لا يكادُ يُخرَجُ منها بجديدٍ مُبتَكَر، أو مُفيدٍ مُعتبَر، مِمَّا يَدخلُ أكثرُه في بابِ التَّرَفِ العِلميِّ.

واختيارُ المَرءِ دليلٌ على عقلِه، وأمارة على صائب نَظَرِه.

لكن الحالُ أنَّ الحروب الفكريَّة التَّي يُراد للشَّبابِ الغَيورِ خوضَها في هذا الزَّمانِ أكثرُها على مَن لا يختلِفون معهم في أصولِ مُعتَقدٍ، ولا كُلِيَّات منهجٍ؛ بل كثيرًا ما نَرى راياتِ الجهادِ بينهم تُقام على تفاريعَ لن يَزولَ الخلافُ عنها إلَّا بنزولِ المسيح عليه السلام! قد وَسَّعَ الله في أَخذ ما اطمأنَّت إليه النَّفسُ من غير عَصَبيَّةٍ تُفضي إلى ظُلمٍ أو خُصومةٍ.

أو نراهم يُطيلون في بحثِ موضوعاتٍ مَطروقةٍ حدَّ الإملال، لا تُعايش هموم زمانِنا، فيُعيدون مَسائلَها جَذَعَة، وهُم يَتغاضَون عن عشرات النَّوازل المُوَلَّدة المُهِمَّة، يتركونها تندبُ حَظَّها الذَّليل، غُفلًا عن التَّحقيقِ والتَّعليل.

ثمَّ بلَغَ الانحرافُ بسبيلِ الفكرِ والعلمِ مَداه حين صار التَّدابر بين المُتشَرِّعةِ والتَّرامي بينهم بالرُّدودِ لأجل وفاقِ شيخٍ أو خِلافِه! .. وهكذا فلْتُسنزفْ طاقاتُ شبابنا وأعمارُهم في المعركةِ الخطأ! مع العَدوِّ الخطأِ! في الوقتِ الَّذي نرى فيه عدوَّنا الحقيقيَّ الأكبرَ ينهَشُ جسَدَ أمَّتِنا مِن جميعِ أطرافِها وأطيافِها.

فلأجل ما آلمني من هذا المُصاب كلِّه: أتيتُ بهذا المَرقومِ تَأخِّيًا لتلك المَقاصِد الكُبرى، أتَغيَّا به لَبِنةً مُتواضِعةً مِن لَبِناتِ النِّزَالِ مع الباطل، وحَلْقةً تَتَّصِلُ أَسبابُها بأسبابِ تلك الصَّحائف المُباركةِ الَّتي خَطَّها أَئمَّةُ أهل السُّنَّة، باستحياءِ مَناهجِهم، وتوظيفِ كُلِّياتِ طَرائقِهم، قد وَسَمتُه بـ:

«المُعارضاتِ الفكريَّةِ المُعاصرةِ لأحاديثِ الصَّحيحين - دراسة نقديَّة».

رأيتُ أن أنقُدَ في طيَّاته ما يَزعُمه بعضُ أهلِ عصرنِا مِن تَوغُّلِ الكذبِ في هذين الثَّقَلَيْن، عَصَبيَّةً لهما لا تُخِلُّ بدينٍ ولا مُروءةٍ، وحَميَّةً لصاحِبيهما لا تُعَدُّ -بحمدِ الله- مِن حَميَّةِ الجاهليَّة.
আমাদের বর্তমান তিক্ত বাস্তবতায় অনেক মতভেদপূর্ণ মাসয়ালা—যাতে ইজতিহাদ করার সুযোগ রয়েছে—সেগুলোর তাহকীক করার চেয়েও বেশি আবশ্যক এবং ফলহীন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়াবলি নিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই বিষয়গুলো যা থেকে কোনো অভিনব নতুনত্ব বা গ্রহণযোগ্য ফায়দা অর্জিত হয় না এবং যার অধিকাংশই বুদ্ধিবৃত্তিক বিলাসিতার অন্তর্ভুক্ত।

মানুষের নির্বাচনই তার বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ এবং তার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির নিদর্শন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, বর্তমান সময়ে আত্মমর্যাদাশীল যুবকদের যে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার অধিকাংশ লড়াই তাদের বিরুদ্ধে যারা আকিদার মূলনীতি বা মানহাজের মৌলিক বিষয়ে তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে না; বরং আমরা প্রায়ই দেখি যে, তাদের মধ্যে লড়াইয়ের ঝাণ্ডা ওড়ানো হচ্ছে এমন সব শাখা-প্রশাখা নিয়ে যেগুলোর মতপার্থক্য মসীহ আলাইহিস সালামের অবতরণ ব্যতীত ঘুচবে না! অথচ আল্লাহ তাআলা কোনো প্রকার গোঁড়ামি ব্যতীত—যা জুলুম বা শত্রুতার দিকে ধাবিত করে—মনের প্রশান্তি অনুযায়ী মত গ্রহণের প্রশস্ততা দিয়েছেন।

অথবা দেখা যায় যে, তারা এমন সব আলোচিত বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করছেন যা একঘেয়েমি তৈরি করে এবং আমাদের বর্তমান সময়ের সংকটের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা পুরাতন মাসয়ালাগুলোকে নতুনের মতো করে সামনে আনেন, অথচ সমসাময়িক ডজন ডজন গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভূত সমস্যাকে (নাওয়াযিল) এড়িয়ে যান; সেগুলোকে অবহেলিত অবস্থায় ফেলে রাখেন এবং সেগুলোর তাহকীক ও কারণ উদ্ঘাটন থেকে গাফেল থাকেন।

অতঃপর চিন্তা ও ইলমের পথে বিচ্যুতি তার চরম সীমায় পৌঁছায় যখন শরীয়তপন্থীদের মধ্যে একে অপরের প্রতি বিমুখতা এবং রদ-প্রত্যাখ্যানের হিড়িক পড়ে যায় কেবল কোনো শায়খের সাথে একমত হওয়া বা দ্বিমত পোষণ করার কারণে! এভাবেই আমাদের যুবকদের শক্তি ও সময় অপচয় করা হচ্ছে ভুল ময়দানে! ভুল শত্রুর বিরুদ্ধে! অথচ এমন সময়ে যখন আমরা দেখছি যে, আমাদের প্রকৃত ও বড় শত্রু উম্মাহর দেহকে চারদিক থেকে এবং সর্বস্তরে খুবলে খাচ্ছে।

এই সামগ্রিক মুসিবত আমাকে ব্যথিত করার কারণেই আমি এই রচনাটি নিয়ে এসেছি সেই মহান মাকসাদগুলোর সহযাত্রী হিসেবে। এর মাধ্যমে আমি বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি সাধারণ ইটে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি এবং একে এমন একটি শৃঙ্খল হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছি যা আহলে সুন্নাহর ইমামগণের লিখিত সেই বরকতময় কিতাবগুলোর সাথে যুক্ত হবে; তাঁদের মানহাজকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং তাঁদের সামগ্রিক কর্মপন্থা প্রয়োগ করার মাধ্যমে। আমি এর নামকরণ করেছি:

«সহীহাইন-এর হাদিসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক আপত্তি: একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা»।

আমি এর ভেতরে আমাদের যুগের কিছু লোকের সেই দাবি খণ্ডন করা সমীচীন মনে করেছি, যারা এই দুই মহান কিতাবের মাঝে মিথ্যার অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে দাবি করে। এটি এই দুই কিতাবের প্রতি আমার এমন এক পক্ষাবলম্বন যা দ্বীন ও গায়রতের পরিপন্থী নয়, এবং এর সংকলকদ্বয়ের প্রতি এমন এক গভীর অনুরাগ যা আলহামদুলিল্লাহ জাহেলিয়াতের অন্ধ অনুরাগের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
فما عَليَّ مِن حَرجٍ في هذا المبدأِ أنْ استصحبه في ثنايا البحث، فإنَّ «الخُلوَّ مِن المُسلَّماتِ في أيِّ مَجالٍ أمرٌ مُتعذِّر»(1)، و «كلُّ العُلومِ لا بُدَّ للسَّالكِ فيها ابتداءً مِن مُصادراتٍ يأخذها مُسَلَّمةً، إلى أنْ تَتبَرْهنَ فيما بعدُ»(2).

وبِهذا الَّذي تَقدَّم جميعُه، أستطيع أن أُجلِيَّ أَهمِّيةَ الموضوعِ المَطروقِ في هذا البحث في الأمورِ التَّالية:

الأول: أنَّ في دراسةِ هذا الموضوعِ إعلاءً للسُّنَّةِ، وإحْلالًا للتَّعزيرِ لها والتَّعظيمِ مكانَ الرَّدِّ لها والتَّحطيم، ودَفْعًا في صدورِ الَّذين يَتناولون سُنَّة المُصطفى صلى الله عليه وسلم ومُصنَّفاتِها بِنَفَسٍ مَشُوبٍ بمَرضِ التَّجهيلِ والتَّعطيلِ.

فكان هذا البحث تحقيقًا لهذه النُّصرةِ، وحِياطةً لمَعاقِل الاعتقادِ ودلائل الشَّريعةِ مِن أنْ تُكَدَّر بما هو في حقيقتِه أَجنبيٌّ عنها، محبَّةً منِّي في مُعايشةِ السُّنةِ والتَّفيُّؤِ بظِلِّها الوارِف، والتَّشرُّفِ بالذَّودِ عنها، وسَوْءِ مَن أرادَ حدِيثَها بسُوءٍ، على قولِ الحُميديِّ -شيخِ البخاريِّ-: «والله لأَنْ أغزُوَ هؤلاء الَّذين يَردُّون حديثَ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، أحبُّ إليَّ مِن أنْ أغزُوَ عِدَّتَهم مِن الكُفَّار!»(3).

وفي هذا البحثِ مِن السَّابغاتِ الرَّادِعاتِ عن حِمى السُّنة، ما أرجو أن أبلُغَ به نزرًا يسيرًا من هِمَّةِ الحُمَيديِّ (ت 219 هـ)، يقينًا منِّي بـ «أنَّ بيانَ العِلمِ والدِّينِ عند الاشتباهِ والالتباسِ على النَّاسِ، أفضلُ ما عُبِدَ الله عز وجل به»(4).

الثاني: دَفْعُ عجَلةِ الرُّقيِّ الحضاريِّ للأُمَّةِ عامَّة؛ فإنَّه مَتى اطمأنَّت القلوبُ بسَلامةِ ما انعقَدَت عليه، انبعَثَتْ الجوارحُ إلى إِعمارِ الأَرضِ على وِفقِ ما يُرضِي الله تعالى؛ ذلك أنَّه «متى زاغَت العقائدُ، كانت أَعمالُ صاحبِها بمَنزلةِ مَن يَرْمي عن قَوسٍ مُعوَجَّةٍ، أو يَرمي برُمحٍ غيرِ مُستقيم»(5).

--------------------------------------------

(1) «بؤس الدَّهرانية» لطه عبد الرَّحمن (ص/32).

(2) «مجموع الفتاوى» لابن تيمية (2/ 69).

(3) «ذم الكلام وأهله» للهروي (2/ 71) بتصرف.

(4) «الرَّد على السُّبكي في مسألة تعليق الطَّلاق» لابن تيميَّة (2/ 678).

(5) «الدَّعوة إلى الإصلاح» لمحمد لخضر حسين (ص/121).
এই নীতিটি গবেষণার পরতে পরতে সঙ্গে রাখতে আমার কোনো দ্বিধা নেই; কেননা "যেকোনো ক্ষেত্রে স্বতঃসিদ্ধ ধারণা মুক্ত হওয়া একটি অসম্ভব বিষয়"(১), এবং "প্রত্যেকটি শাস্ত্রের পথচারীকে শুরুতেই কিছু বিষয়কে মৌলিক নীতি হিসেবে মেনে নিতে হয়, যতক্ষণ না পরবর্তীতে তা প্রমাণিত হয়"(২)।

উপরিউক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে আমি এই গবেষণায় আলোচিত বিষয়ের গুরুত্ব নিচের দিকগুলো দ্বারা স্পষ্ট করতে পারি:

প্রথমত: এই বিষয়টি অধ্যয়নের মাধ্যমে সুন্নাহর মর্যাদা সমুন্নত হয়, এবং সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান ও ধ্বংস করার পরিবর্তে তার সম্মান ও মর্যাদাবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি তাদের প্রতি একটি উপযুক্ত জবাব, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এবং এর কিতাবসমূহকে মূর্খতা ও অকার্যকর করার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে গ্রহণ করে।

সুতরাং এই গবেষণাটি সেই সাহায্যেরই একটি বাস্তবায়ন, এবং আকিদাহর দুর্গ ও শরিয়তের দলিলসমূহকে এমন কিছু দ্বারা কলুষিত হওয়া থেকে সুরক্ষা দান যা প্রকৃতপক্ষে এগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি সুন্নাহর সাথে জীবন যাপন করা, এর সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেওয়া এবং একে রক্ষা করার মাধ্যমে ধন্য হওয়ার ভালোবাসাস্বরূপ। আর এটি তাদের জন্য একটি মন্দ বিষয় যারা রাসুলের হাদিসের অনিষ্ট কামনা করে, যেমনটি বুখারীর উস্তাদ হুমায়দী বলেন: "আল্লাহর কসম! যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস প্রত্যাখ্যান করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আমার কাছে তাদের সমপরিমাণ কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার চেয়েও অধিক প্রিয়!"(৩)।

এই গবেষণায় সুন্নাহর সীমানা রক্ষায় এমন কিছু সুদৃঢ় প্রতিরোধমূলক আলোচনা রয়েছে, যার মাধ্যমে আমি হুমায়দী (মৃ. ২১৯ হি.)-এর হিম্মতের সামান্য অংশ লাভের আশা রাখি। আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত যে, "মানুষের নিকট দ্বীন ও ইলম যখন অস্পষ্ট ও জটিল হয়ে পড়ে, তখন তা বর্ণনা করাই হলো আল্লাহ তাআলার ইবাদতের সর্বোত্তম পন্থা"(৪)।

দ্বিতীয়ত: সামগ্রিকভাবে উম্মাহর সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা; কেননা যখন অন্তর তার বিশ্বাসের বিশুদ্ধতার ওপর শান্ত হয়, তখন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক পৃথিবী আবাদে সচেষ্ট হয়। কেননা, "যখন আকিদাহ বিচ্যুত হয়, তখন তার আমলসমূহ এমন ব্যক্তির ন্যায় হয় যে বাঁকা ধনুক দিয়ে তীর ছোড়ে অথবা বক্র বর্শা দিয়ে নিক্ষেপ করে"(৫)।

--------------------------------------------

(১) ত্বহা আব্দুর রহমান রচিত ‘বু’সুদ দাহরানিয়্যাহ’ (পৃ. ৩২)।

(২) ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’ (২/৬৯)।

(৩) হারাবীর ‘যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি’ (২/৭১), কিছুটা পরিবর্তিত রূপে।

(৪) ইবনে তাইমিয়্যাহর ‘আর-রদ্দু আলাস সুবকি ফি মাসআলাতি তালিহিত তালাক’ (২/৬৭৮)।

(৫) মুহাম্মদ আল-খিদর হুসাইন রচিত ‘আদ-দাওয়াতু ইলাল ইসলাহ’ (পৃ. ১২১)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وإذا كان في الأنابيبِ خُلفٌ *** وَقَعَ الطَّيشُ في صُدورِ الصِّعادِ

الثالث: أَنَّ فيه تجليةً للحقِّ، وإِمعانًا في تحقيقِ إحدى كُليَّاتِ الاعتقادِ الَّتي لَهَج أهلُ السُّنة بتقريرِها: مِنْ أنَّ الرُّسل قد تأتي بِمحاراتِ العقول لا بمُحالاتِها، وتوظيفًا للأُصولِ الرَّاسخةِ المُحْكَمةِ الَّتي قَرَّرها أئمَّةُ السَّلَف الصَّالحين رحمهم الله، وذلك بتخريجِ آحادِ وأعيانِ النُّصوصِ المُدَعَّى مُعارضُتها للضَّرورة العقليَّةِ أو العِلميَّة أو التَّاريخيَّة، على تلك القواعدِ والأُصول، وذلك مِن الأَهميَّة بمَكان! إذْ القواعدُ لا تُتَصَوَّرُ إلَّا في الأَذهانِ، وإِعمالُها على آحادِ النُّصوص هو المَقصود.

الرابع: بيانُ أنَّ حَظَّ أَهلِ السُّنة مِن مَوارِدِ العقولِ أَتَمُّ الحظِّ وأَعلاه، وأَنَّ مَن خَالَفَهم إِنَّما يرتكزُ على جَهالاتٍ يَظُنُّها مَعقولاتٍ، وشُبهات يَحسِبُها حقائقَ جليَّاتٍ، فدعوى مُعارضة الضَّرورة العقليَّةِ للدَّلائل النَّقلية أَشْبَهُ بالظَّرْف الخالي، كوَميضِ برْقٍ يخطِفُ أَبصارَ مَن أَراد اللهُ فِتنتَه؛ حتَّى إذا قَرَّت الأُمورُ قرارَها، وعَطفتِ الفروعُ على أُصولِها؛ أَلفَيْتَها مُطَّرَحةً مع نظائِرها مِن أَصنافِ الباطل؛ لنتيقَّن أنَّ كلَّ دَعيٍّ في هذا الدِّين مُفتضَح، والله لا يأتَمِن المُفلِسين على وَحْيِه.

الخامس: المُساهمة في حلِّ مشاكِلنا الفكريَّة الواقعيَّة، لا مشاكل افتراضيَّةً بعيدٌ زمانُها أو حصولها؛ فَوَا فَرَحي حين أرى «حُجَّةً تتبختَرُ اتِّضاحا، وشُبهةً تَتَضاءلُ افتِضاحًا»(1)؛ على أنِّي لا أدَّعي تقصُّدي فيه لرؤوسِ أهلِ الانحرافِ المعاصرين أصالةً، بقدرِ ما أحنو إلى تحصينِ أهلِ السُّنةِ أنفسِهم، واستتابةِ ذيولِ الباطلِ الوالِغة في الوَحيِ بجَهالةٍ وتقليدٍ، ونفضِ غُبارِ الشَّكِ والتَّردُّد عن بَصائرِ الحيارَى مِن شبابِ المُسلمين.

السادس: أنَّ تَعلُّم الأفكارِ الدَّخيلة في الدِّين، والأصول الهدَّامة له، مع علمٍ يُحصِّن مِن عَدواها: واجبٌ لحمايةِ العامَّة، فإنَّ أكثرَ النَّاس حصانةً في دينِه

--------------------------------------------

(1) «الكشَّاف» للزمخشري (1/ 37).
যখন বর্শার দণ্ডে বক্রতা থাকে, তখন বর্শার ফলকগুলো লক্ষ্যচ্যুত হয়।

তৃতীয়ত: এতে সত্যের উন্মোচন রয়েছে এবং আহলে সুন্নাতের সুপ্রতিষ্ঠিত আকিদার অন্যতম একটি মূলনীতিকে গভীরভাবে অনুধাবনের প্রয়াস রয়েছে যা তারা সর্বদা ব্যক্ত করে থাকেন; আর তা হলো—রাসূলগণ এমন বিষয় নিয়ে আসতে পারেন যা বিবেককে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেয়, কিন্তু যা বিবেকের কাছে অসম্ভব এমন কিছু নিয়ে আসেন না। এছাড়া সালাফে সালেহীন (রহিমাহুমুল্লাহ) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সুদৃঢ় ও অকাট্য মূলনীতিগুলোর প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে। আর তা হলো, যেসব একক ও নির্দিষ্ট নصوص (দলিল) বুদ্ধিগত, বৈজ্ঞানিক বা ঐতিহাসিক অনিবার্যতার বিরোধী বলে দাবি করা হয়, সেগুলোকে সেই সকল নিয়ম ও মূলনীতির আলোকে ব্যাখ্যা করা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ! কারণ মূলনীতিসমূহ কেবল মনের মাঝেই অবস্থান করে, আর নির্দিষ্ট দলিলের ওপর সেগুলোর প্রয়োগই হলো আসল উদ্দেশ্য।

চতুর্থত: এটি স্পষ্ট করা যে, বুদ্ধিগত উৎসের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের অংশই সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোচ্চ। আর যারা তাদের বিরোধিতা করে, তারা মূলত এমন কিছু অজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে চলে যেগুলোকে তারা যুক্তিগ্রাহ্য মনে করে এবং এমন সব সংশয়কে আঁকড়ে ধরে যেগুলোকে তারা সুস্পষ্ট সত্য বলে গণ্য করে। বুদ্ধিগত অনিবার্যতার সাথে বর্ণিত দলিলের বিরোধের দাবিটি মূলত একটি শূন্য পাত্রের মতো, অথবা বিদ্যুতের চমকের মতো যা আল্লাহ যার ফিতনা (বিপথগামিতা) চান তার দৃষ্টিকে অন্ধ করে দেয়। পরিশেষে যখন বিষয়সমূহ স্থিতিশীল হয় এবং শাখাগুলো তাদের মূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তখন আপনি সেগুলোকে অন্যান্য বাতিল বিষয়ের মতোই বর্জনীয় হিসেবে পাবেন; যাতে আমরা নিশ্চিত হতে পারি যে, এই দ্বীনের প্রতিটি ভণ্ডই অপদস্থ হবে। আর আল্লাহ দেউলিয়া ব্যক্তিদের নিকট তাঁর ওহির আমানত গচ্ছিত রাখেন না।

পঞ্চমত: আমাদের বাস্তব বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যাবলি সমাধানে অবদান রাখা, কোনো কাল্পনিক বা সুদূরপ্রাসঙ্গিক সমস্যা নয়। আমার আনন্দ তখনই হয় যখন আমি দেখি যে, ‘একটি দলিল স্পষ্টতার সাথে দম্ভভরে এগিয়ে আসছে এবং একটি সংশয় অপদস্থ হয়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে’(১); যদিও আমি মূলত বর্তমান যুগের বিচ্যুতদের লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করি না, বরং আমার আকাঙ্ক্ষা হলো আহলে সুন্নাতের সদস্যদের নিজেদের সুরক্ষা প্রদান করা, আর অজ্ঞতা ও অন্ধ অনুকরণের বশবর্তী হয়ে ওহির মধ্যে বিচরণকারী বাতিলের অনুসারীদের তওবা করানো এবং বিভ্রান্ত মুসলিম যুবকদের অন্তর থেকে সংশয় ও দ্বিধার ধূলিকণা ঝেড়ে ফেলা।

ষষ্ঠত: দ্বীনের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী চিন্তাধারা এবং এর ধ্বংসাত্মক মূলনীতিগুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা—সাথে এমন ইলম থাকা যা এর সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবে—সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য ওয়াজিব। কারণ যে ব্যক্তি তার দ্বীনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত...

--------------------------------------------

(১) যামাখশারী প্রণীত ‘আল-কাশশাফ’ (১/ ৩৭)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وفكرِه، مَن عَرف فِكرَ المُخالفين كما يعرفُ فِكرَ المُآلِفين، كي لا تشتبِه عليه السُّبُل.

فكذا كان الأمر معي! فإنَّ هذا البحثَ -بفضل الله- ممَّا قد زادَني الله به هُدًى وإيمانًا بصِحَّةِ أصولِ أهلِ السُّنةِ، إذ «أنَّ فسادَ المُعارِضِ مِمَّا يُؤيِّد معرفةَ الحقِّ ويُقوِّيه، وكلُّ مَن كان أعرفَ بفسادِ الباطلِ، كان أعرفَ بصِحَّةِ الحقِّ»(1).

السابع: التَّحذيرُ مِن أنَّ وقوعَ الطَّعنِ فيما هو في أَعلى مَراتبِ الصِّحةِ مِن الأخبارِ النَّبوية، مُمثَّلًا ذلك في «الصَّحِيحَين»، مُؤْذِنٌ بخَطَرٍ عظيمٍ على مَعاقِد الدِّين وأُصولِه، ودليلٌ على شِدَّةِ انحرافِ الخائِضين فيهما، وعدمِ مُبالاتهم بما هو في مَنأى عن الطُّعونِ عند علماءِ الأمَّة.

الثامن: وجودُ مَن يبعثُ الحياةَ في رُفاتِ هذه الوَساوِس على «الصَّحيحين» في عَقدِنا هذا؛ باتِّخاذِ قنواتٍ شَتَّى، ووسائلَ عديدةٍ؛ مِمَّن يَتربَّعون على كراسي التَّدريسِ في الجامعات، أو يتَصدَّرون برامجَ الإرشادِ في القَنوات بخاصَّة، ومِن أشدِّ ذلك كيْدًا: تَوافُر نَفَرٍ مِن الطَّاعنين على مَشَاريعَ تُبذَل فيها أَعمارُهم، وتُقضَى فيها أنفاسُهم، وتُحقَرُ فيها مَلذَّاتُ الدُّنيا في سبيلِ تفكيكِ الدِّين وهَدمِه.

الآلَم مِن ذلك: اتخاذُ الجامعاتِ مَسَاجدَ ضرارٍ لتفريغِ هذا الفِكر الماديِّ، مُتمثلًا ذلك بسِلسلةٍ مِن الأَطاريحِ الجامعيَّة الَّتي يُشرِف عليها أولئك المُستغرِبون، مُتناولةً السُّنةَ وعلومَها بأَقلامٍ حِدادٍ، حتَّى أضْحَت نَهْبًا لهذا الفريقِ المَسلوبِ، الخائضِ بهَوًى جامحٍ، وشَكٍّ مُغْرِقٍ.

ومع أنِّي قد ذكرتُ أنَّ كثيرًا مِن مُعارضاتِ المُعاصرين مسوخٌ عن شبهاتِ الأقدمين، لكنَّها تتجدَّد في هذه السَّنوات الخدَّاعات بتنوُّع مواردها في شتَّى الصُّور! حيث استدعى أصحابُ الغارة على السُّنة علومًا أخرى، كعلوم التَّاريخِ والطَّبيعة والطِّب والفَلَك، وسائرِ العلومِ الحديثة؛ فكان واجبًا على المُتِّبع المُنافح عن دينِه تجديد النَّظر في شُبهاتهم، لتجديد الرَّد عليها وبيانِ زيْفِها.

--------------------------------------------

(1) «درء تعارض العقل والنقل» لابن تيمية (5/ 258).
...এবং তার চিন্তা; যে ব্যক্তি বিরোধীদের চিন্তা সেভাবেই জানে যেভাবে সে একমত পোষণকারীদের চিন্তা জানে, যাতে তার কাছে পথগুলো অস্পষ্ট না হয়ে যায়।

আমার ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঠিক এমনই ছিল! কেননা আল্লাহর অনুগ্রহে এই গবেষণাটি আমার হিদায়াত বৃদ্ধি করেছে এবং আহলুস সুন্নাহর মূলনীতিসমূহের বিশুদ্ধতার প্রতি ঈমানকে সুদৃঢ় করেছে; কারণ «বিরোধীর (যুক্তির) অসারতা সত্যের জ্ঞানকে সমর্থন ও শক্তিশালী করে। আর যে ব্যক্তি বাতিলের অসারতা সম্পর্কে যত বেশি জানবে, সে সত্যের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে তত বেশি অবগত হবে»(১)।

সপ্তম: নবুওয়াতী সংবাদসমূহের মধ্যে যা বিশুদ্ধতার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে—যেমন ‘সহীহাইন’ (বুখারী ও মুসলিম)—সেগুলোর ওপর অপবাদ বা আক্রমণ করা যে দ্বীনের ভিত্তি ও মূলনীতিসমূহের জন্য এক মহা বিপদের সংকেত, সে বিষয়ে সতর্ক করা। এটি তাদের চরম বিচ্যুতির প্রমাণ যারা এগুলো নিয়ে বিরূপ আলোচনায় লিপ্ত এবং উম্মাহর আলেমদের নিকট যা সব ধরনের সমালোচনা থেকে মুক্ত, সে বিষয়ে তাদের ভ্রূক্ষেপহীনতারও পরিচায়ক।

অষ্টম: আমাদের এই দশকে ‘সহীহাইন’-এর বিরুদ্ধে এই পুরনো সংশয়গুলোর কঙ্কালে প্রাণ সঞ্চার করার মতো একদল লোকের অস্তিত্ব; যারা বিভিন্ন মাধ্যম ও নানা উপায় অবলম্বন করছে। তাদের মধ্যে কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার আসনে আসীন, আবার কেউ বিশেষ করে বিভিন্ন চ্যানেলের নির্দেশনামূলক অনুষ্ঠানের অগ্রভাগে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ষড়যন্ত্র হলো: একদল সমালোচকের এমন সব প্রকল্পের পেছনে নিয়োজিত থাকা, যেগুলোর জন্য তারা তাদের জীবন উৎসর্গ করছে, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ব্যয় করছে এবং দুনিয়াবী ভোগবিলাসকে তুচ্ছজ্ঞান করছে—একমাত্র দ্বীনকে খণ্ডিত ও ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে।

এর চেয়েও বেদনাদায়ক হলো: এই বস্তুবাদী চিন্তা উগরে দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘মসজিদে দিরার’-এর মতো ব্যবহার করা; যা সেইসব পাশ্চাত্যমনাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ধারাবাহিক কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থিসিসের মাধ্যমে পরিলক্ষিত হয়। এগুলো সুন্নাহ ও তার জ্ঞানসমূহকে তীক্ষ্ণ কলমের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করছে, এমনকি তা লক্ষ্যভ্রষ্ট ও লাগামহীন প্রবৃত্তির অনুসারী এবং চরম সংশয়ে নিমজ্জিত এই দলের লুণ্ঠনের বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

যদিও আমি উল্লেখ করেছি যে বর্তমান যুগের বিরোধিতাকারীদের অনেক কিছুই পূর্ববর্তীদের সংশয়ের বিকৃত রূপ মাত্র, তবুও এই প্রতারণাপূর্ণ বছরগুলোতে বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে নানা রূপে তা নতুন করে আবির্ভূত হচ্ছে! যেখানে সুন্নাহর ওপর আক্রমণকারীরা ইতিহাস, প্রকৃতিবিজ্ঞান, চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা এবং অন্যান্য আধুনিক বিজ্ঞানের দোহাই দিচ্ছে। তাই নিজ দ্বীনের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত অনুসারীদের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে তাদের সংশয়গুলোকে নতুন করে পর্যালোচনা করা, যাতে সেগুলোর উত্তর নবায়ন করা যায় এবং তাদের অসারতা স্পষ্ট করা যায়।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘দারউ তাআরুদিল আকল ওয়ান নাকল’ (৫/ ২৫৮)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٣١)
التاسع: أنَّ استعانةَ المُعترضين على السُّنَن بهذه العلومِ الحديثة، استدعى منِّي نَظرًا آخرَ يَنضافُ إلى ما سَبَق مِن أَنظارِ العلماءِ السَّالِفين، وتسلُّحًا بمُعطياتِ العلوم الإنسانيَّة والتَّجريبيَّة المختلفةِ، وفي هذا توسيعٌ لمَداركي المَعرفِيَّة الحديثة، بما يجعلُني مُواكبًا لعصري، فاهمًا لتَحدِّياتِه، حَلَّالًا لمُشكلاتِه.

فضلًا عن كونِ هذه المُعارضاتِ لأحاديث «الصَّحيحين» لا تتعلَّق بمَوضوعٍ محدودٍ بعَينِه، فرِماحُ شُبهاتِها مُسلطة على أحاديثِ التَّفسير، والعقيدة، والفقه، وغيرها مِن علوم الشَّريعة، مِمَّا تَطَّلب مِنِّي فهمًا جيدًا لهذه العلوم، وإلمامًا مَقبولًا بمُصَنَّافتِها، مَطبوعِها ومَخطوطِها.

فكان هذا النَّجيز -وإن بَدا للوهلةِ الأولى مُتخصِّصًا في الحديثِ وعلومِه- قد عالجتُ فيه لزامًا مِن علومِ الشَّريعةِ الأخرى وأصولِ فقهِها ولُغتِها، والعلومِ المنطقيَّة والتَّجريبيَّة، ما أمكنني به رَدّ الإشكالاتِ عن دَلائلِها.

وهذا مَكسبٌ لي أيّ مَكسب! فلقد حملني مِن مَضايِق التَّخصُّصاتِ الجُزئيَّة إلى فسيح المَعارِف الشُّموليَّة؛ ولا ريبَ «أنَّ الانتقال من فنٍّ إلى فنٍّ أقدر على البحث وأسلطُ، والانتقال من نوعٍ إلى نوعٍ أنشطُ للمُطالعة وأبسط، ولا يُصلح النَّفسَ إذا كانت مُدبرةً إلَّا التَّنقُّل من حالٍ إلى حالٍ»(1).

العاشر: ليس هُناك -بحسب اطِّلاعي- مَن قامَ بمُعالجةِ المُعارَضاتِ الفكريَّةِ المُدَّعَاة على أحاديثِ «الصَّحيحين» على جهةِ الخصوصِ، في دراسةٍ جامعةٍ مُتقنةٍ، تتَّسِم بالإيعابِ إلى حَدٍّ ما؛ فكلامُ أَهلِ العلمِ في هذا البابِ الخاصِّ بالكِتابينِ نُتَفٌ مُتفرِّقةٌ في مَنَاجِمِ زُبُرِهم، وأُمَّاتِ أَسفارِهم.

ومع تحقُّقي بما قرَّره الجُوينيُّ (ت 478 هـ) من أنَّ «على كلِّ مَن تَتَقاضاه قَريحتُه تأليفًا، وجمعًا، وتَرْصيفًا، أنْ يجعلَ مَضمونَ كتابِه أمرًا لا يُلْفى في مَجموعٍ، وغَرَضًا لا يُصادَف في تَصنيفٍ»(2).

--------------------------------------------

(1) «الضياء المعنوي على مقدمة الغزنوي» لابن ضياء الصاغاني (مخطوط ق 2 - أ/ب).

(2) «غياث الأمم» للجويني (ص/164).
নবম: সুন্নাহর বিরোধীদের এই আধুনিক বিজ্ঞানসমূহের সাহায্য গ্রহণ আমার পক্ষ থেকে এমন এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দাবি রাখে, যা পূর্ববর্তী আলিমগণের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে যুক্ত হবে। এটি আমাকে বিভিন্ন মানবিক ও পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের উপাত্ত দ্বারা সজ্জিত করবে। এর ফলে আমার আধুনিক জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিধি বিস্তৃত হবে, যা আমাকে সমসাময়িক যুগের সাথে তাল মেলাতে, এর চ্যালেঞ্জসমূহ বুঝতে এবং এর সমস্যাবলি সমাধানে সক্ষম করে তুলবে।

তাছাড়া 'সহীহাইন'-এর হাদীসসমূহের প্রতি এই আপত্তিগুলো কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়। বরং তাদের সংশয়ের তলোয়ারগুলো তাফসীর, আকীদা, ফিকহ এবং শরীয়াহর অন্যান্য বিজ্ঞানের হাদীসসমূহের দিকেও তাক করা হয়েছে। যার ফলে এই বিজ্ঞানগুলো সম্পর্কে আমার গভীর উপলব্ধি এবং এগুলোর মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান গ্রন্থাবলি সম্পর্কে সন্তোষজনক পরিচিতির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

ফলস্বরূপ এই কাজ—যা প্রথম দৃষ্টিতে হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রের উপর বিশেষায়িত মনে হলেও—তাতে আমাকে অবধারিতভাবে শরীয়াহর অন্যান্য শাখা, উসূলে ফিকহ, ভাষা, যুক্তিবিদ্যা এবং পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের সাহায্য নিতে হয়েছে, যাতে আমি এসবের দলিল-প্রমাণ হতে উদ্ভূত সংশয়সমূহ নিরসন করতে পারি।

এটি আমার জন্য এক বিরাট প্রাপ্তি! এটি আমাকে আংশিক বিশেষায়নের সংকীর্ণতা থেকে ব্যাপক ও সামগ্রিক জ্ঞানের প্রশস্ততার দিকে নিয়ে গেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, 'এক শিল্প থেকে অন্য শিল্পে বিচরণ গবেষণার ক্ষেত্রে অধিকতর সক্ষম ও শক্তিশালী করে তোলে; আর এক প্রকার থেকে অন্য প্রকারে রূপান্তর অধ্যয়নের জন্য অধিকতর চনমনে ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। বিমুখ আত্মাকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তর করা ব্যতীত সংশোধন করা সম্ভব নয়'(১)।

দশম: আমার জানামতে এমন কেউ নেই যিনি 'সহীহাইন'-এর হাদীসসমূহের ওপর উত্থাপিত বুদ্ধিবৃত্তিক আপত্তিগুলো নিরসনের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পূর্ণাঙ্গ ও সুশৃঙ্খল অধ্যয়ন সম্পন্ন করেছেন, যা একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত সামগ্রিকতা ধারণ করে। কেননা এই দুই কিতাব সংশ্লিষ্ট এই বিশেষ বিষয়ে আহলে ইলমদের কথাগুলো তাদের বিশাল গ্রন্থভাণ্ডার ও মৌলিক কিতাবসমূহের মাঝে বিচ্ছিন্ন টুকরো হিসেবে ছড়িয়ে আছে।

সাথে সাথে আল-জুওয়াইনী (মৃত ৪৭৮ হিজরি) যা সাব্যস্ত করেছেন সে বিষয়ে আমি সুনিশ্চিত হয়েছি যে, 'যার মেধা তাকে কোনো কিতাব রচনা, সংকলন ও বিন্যাসের দিকে তাড়িত করে, তার উচিত তার কিতাবের বিষয়বস্তুকে এমন কিছু করা যা অন্য কোনো সমষ্টির মধ্যে পাওয়া যায় না, এবং উদ্দেশ্যকে এমন রাখা যা অন্য কোনো রচনায় দেখা মেলে না'(২)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে দিয়া আল-সাগানি রচিত 'আদ-দিয়া আল-মানাউয়ি আলা মুকাদ্দিমাতিল গজনভি' (পাণ্ডুলিপি, ২/ক-খ)।

(২) জুওয়াইনী রচিত 'গিয়াসুল উমাম' (পৃষ্ঠা ১৬৪)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
إلَّا أنِّي بعد أن سَجَّلتُ عنوانَ بحثي أطروحةً للدُّكتوراه، وشَرَعتُ في تَلمُّسِ مَراجِعِه وتَتبُّعِ مُتعلِّقاته، علِمتُ ببَحثٍ للدُّكتوراه نوقِشَ قريبًا من ذلك سنةَ 1433 هـ 2013 م بجامعةِ الملك سعود بالرِّياض، بعنوان: «المَطاعن المُعاصرة في متون الصَّحيحين»؛ وهذا عنوان كان كفيلًا أن يُسيلَ لُعابي حينَ قرأتُه! إذْ له عُلقةٌ شديدةٌ ببحثي بل يكاد يُماثله.

فكان أن تَجشَّمتُ وسائلَ الحصول عليه، مُتلهِّفًا إلى النَّظر في مَكنوناتِه، حتَّى تَكرَّم عليَّ أحدُ مُدرِّسي هذه الجامعةِ المُوقَّرةِ بإرسالِه إليَّ مَشكورًا؛ فما أنْ وَقَفتُ عليه وتأمَّلتُ أوراقَه، تَحقَّقتُ قولَ العَربيِّ القديم: «تَسمَعَ بالمُعَيْديِّ خَيرٌ مِن أنْ تَراه»! ذلك أنَّ الضَّعفَ في الكتابِ ظاهرٌ للنَّاظر مِن حيث مَتانَتُه العِلميَّة، وتماسكه المَنهجيُّ، وصِياغتُه اللُّغويَّة.

فضلًا عن ضَعفِه في دَفعِ كثيرٍ مِن المُعارَضات نفسِها الَّتي تخيَّرَها للرَّد؛ يُقسِّم فيها جوابها على فقراتٍ قصيرةٍ، لا تجد أحيانًا بينها ذاك التَّرابط المَنطقيَّ الكافي لإظهارِها كُتلةً مُتماسكةً واحدة.

لكن البحث حَقًّا ما قام به بَلَديُّه (عيسى النُّعيمي) في رسالتِه الماجستير، المُناقشةِ بجامعةِ أمِّ القُرى بمكَّة سنة 1430 هـ 2009 م، بعنوان: «دفع دعوى المُعارض العقليِّ عن الأحاديث المُتعلِّقة بمسائل الاعتقاد، دراسة لِما في الصَّحيحين»، فلقد راقَني جهدُه جدًّا، حيث جمَّله بجودة السَّبك، وحُسن العرض، ومادة علميَّةٍ دسِمة، استفدتُ منه في مواضع كثيرةٍ؛ قبل أن يطبع من قريب سنة 2013 م.

إلَّا أنَّ راقِمَه قد حَصَرَه في أحاديثِ خاصَّة ببعض أُصول الإيمان وأَركانه، واستثنى أَحاديثِ الرُّبوبيَّة والأسماء والصِّفات؛ وكذا لم يُعرِّج على المَسائل الحديثيَّة الَّتي تنبني عليها أصول تلك المُعارَضات.

ثمَّ وقفتُ على مجموعةٍ مِن رسائل جامعيَّة قُدِّمت في الجامعة الأردنيَّة بعَمَّان، نوقِشت في هذه السَّنوات القريبة في شكلِ رسائل ماجستير، قُسِّمت عليها
তবে আমার পিএইচডি গবেষণার শিরোনাম নিবন্ধনের পর যখন আমি এর তথ্যসূত্র ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি অনুসন্ধান শুরু করি, তখন জানতে পারি যে, ১৪৩৩ হিজরি (২০১৩ খ্রিস্টাব্দ) নাগাদ রিয়াদের কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সংক্রান্ত একটি পিএইচডি গবেষণা থিসিস পেশ করা হয়েছে, যার শিরোনাম ছিল: ‘সহীহাইন-এর মতনসমূহের ওপর সমসাময়িক আপত্তি’; আমি যখন এটি পড়লাম, তখন এই শিরোনামটিই আমাকে আকৃষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ছিল! কারণ আমার গবেষণার সাথে এর নিবিড় সম্পর্ক ছিল, এমনকি তা প্রায় একই রকম ছিল।

ফলে এর অভ্যন্তরে কী আছে তা দেখার জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব হয়ে আমি এটি সংগ্রহের চেষ্টা করি। পরিশেষে এই সম্মানিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক অত্যন্ত সদয় হয়ে আমাকে এটি পাঠান, যার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কিন্তু যখন আমি এটি হাতে পেলাম এবং এর পৃষ্ঠাগুলো পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন আমার কাছে প্রাচীন আরবের সেই প্রবাদটি সত্য বলে প্রমাণিত হলো: ‘মুআইদীর নাম শোনা তাকে দেখার চেয়ে উত্তম’! কেননা গ্রন্থটির তাত্ত্বিক ভিত্তি, পদ্ধতিগত সংহতি এবং ভাষাগত বিন্যাসের দুর্বলতা যেকোনো পাঠকের কাছে স্পষ্ট ছিল।

তদুপরি, তিনি জবাব দেওয়ার জন্য যে আপত্তিগুলো নির্বাচন করেছিলেন, সেগুলো খণ্ডন করার ক্ষেত্রেও তার দুর্বলতা ছিল। তিনি তার জবাবগুলোকে এমন সব সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন, যার মধ্যে অনেক সময় কোনো যৌক্তিক সংহতি খুঁজে পাওয়া যায় না, যা একে একটি সুসংহত রূপ দিতে পারত।

তবে প্রকৃত গবেষণা ছিল সেটি, যা তার স্বদেশী (ঈসা আন-নুয়াইমী) তার মাস্টার্স থিসিসে করেছেন। ১৪৩০ হিজরি (২০০৯ খ্রিস্টাব্দ) নাগাদ মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি পেশ করা হয়েছিল, যার শিরোনাম ছিল: ‘আকীদা সংক্রান্ত হাদীসসমূহের ওপর বুদ্ধিভিত্তিক আপত্তির খণ্ডন: সহীহাইন-এ বর্ণিত হাদীসসমূহের আলোকে একটি গবেষণা’। তার এই প্রচেষ্টা আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে। এর চমৎকার বিন্যাস, সুন্দর উপস্থাপনা এবং সমৃদ্ধ তাত্ত্বিক উপাদানের কারণে আমি অনেক ক্ষেত্রে এ থেকে উপকৃত হয়েছি; এটি সম্প্রতি ২০১৩ সালে মুদ্রিত হওয়ার আগেই আমি এর দ্বারা উপকৃত হই।

কিন্তু এর লেখক বিষয়টিকে ঈমানের নির্দিষ্ট কিছু মূলনীতি ও রুকন সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন এবং রুবুবিয়্যাহ ও আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সংক্রান্ত হাদীসগুলোকে বাদ দিয়েছেন। তদ্রূপ, তিনি হাদীস শাস্ত্রীয় সেইসব মাসআলা নিয়েও আলোচনা করেননি, যার ওপর ভিত্তি করে ঐসব আপত্তির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে।

এরপর আমি আম্মানের জর্ডান ইউনিভার্সিটিতে উপস্থাপিত কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থিসিসের সন্ধান পাই, যেগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাস্টার্স থিসিস হিসেবে পেশ করা হয়েছে এবং যার মধ্যে বিষয়গুলোকে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে...
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٣٣)
مَواضيع الطُّعونِ على أحاديث «الصَّحيحين»؛ منهم مَن أخذَ -مثلًا- الأحاديث المُتعلِّقة بالجِّن، ومَن أخذَ المُتعلِّقة بالمرأة، ومن أخذَ المُتعلِّقة بأسباب النُّزول(1)، ومَن أخذ المُتعلِّقة بالعلوم الطَّبيعيَّة، وهكذا.

فكانت -في مُجملِها- جيَّدة من حيث المادَّة العلميَّة، مُتوسِّطة المُستوى مِن حيث التَّحقيق والتَّحرير تكتنفُها بعض العيوب الَّتي ذكرتها على البحثِ الأوَّل آنفًا.

ثمَّ صَدر جمعٌ مطبوعٌ لبحوث «مؤتمر الانتصار للصَّحيحين» الَّذي أقيم بعاصمة الأردن سنة 2010 م جزاهم الله خيرًا، خليطٌ بين الجيِّد والمُتوسِّط، لم يستوعب كثيرًا من مفاصل هذا الموضوع، بحكم طبيعة المؤتمرات وضِيق وقتِ عُروضِها.

فكانت الحاجةُ باقيةً إلى دراسةٍ جامعةٍ تُحقِّق قدْرًا مِن دراسة أهمِّ ما يكتنِف موضوعَ متونِ «الصَّحيحين» مِن مُشكلاتٍ مُتنوِّعاتٍ مُعاصرات، حتَّى تُدحَضَ أتَمَّ دحضٍ وأنسبَه وأشمَله، لتكون مَرجعًا يستجيرُ به القارئ من رمضاءِ الشُّبهات على السُّنة.

وبعدُ:

فلم أزل على بالٍ مُنذ خمَّرتُ فكرةَ البحثِ في ذِهني قبل أن أُقدِّمه مشروعًا واضحَ المَعالِم لجامِعَتي «ابن طُفيل» بالقُنيطرة -نفع الله بها-: أنَّ الزَّلَل إذا وقَع في ما تَقصَّدتُه مِن دفعِ هذه المُعارضاتِ المُناكِفةِ لـ «لصَّحيحين»، تكون فتنتُه على النُّفوسِ المَريضةِ أو الجاهلةِ، أشَدَّ مِمَّا لو تركتُ تجشُّمَ ذلك بالمرَّة، فرَكنتُ إلى السَّلامةِ.

ذلك أنَّ الإضرارَ بالحقِّ لا ينحصر في نَشرِ الباطلِ فحسب، ولكنْ بعَرضِ الحقِّ في صورةٍ ضعيفةٍ ناقصةٍ في أدلَّتِها، هزيلةٍ في أسلوبِها، وما أكثرَ أن تكون

--------------------------------------------

(1) وهذا البحث طُبع قريبًا -بعد تقديمي لرسالتي هذه- بدار المُقتبس اللُّبنانية، أواخر سنة 2018 م، بعنوان: «طعون المعاصرين في أحاديث الصَّحيحين الخاصَّة بأسباب النُّزول والتفسير بدعوى مخالفة القرآن» للباحث: علي صالح مصطفى.
সহীহাইন-এর (বুখারী ও মুসলিম) হাদীসসমূহের ওপর আপত্তির বিষয়সমূহ; তাদের মধ্যে কেউ—উদাহরণস্বরূপ—জিন সংক্রান্ত হাদীসগুলো গ্রহণ করেছেন, কেউ নারী সংক্রান্ত হাদীসগুলো গ্রহণ করেছেন, কেউ আসবাবুন নুযূল (নাযিলের প্রেক্ষাপট) সংক্রান্ত হাদীসগুলো গ্রহণ করেছেন(১), এবং কেউ প্রাকৃতিক বিজ্ঞান সংক্রান্ত হাদীসগুলো গ্রহণ করেছেন, এভাবেই অন্যান্য বিষয়।

এগুলো—সামগ্রিকভাবে—ইলমী উপাদানের দিক থেকে ভালো ছিল, তবে তাহকীক (গবেষণা) এবং লিখনশৈলীর দিক থেকে মাঝারি মানের ছিল, যার মধ্যে কিছু ত্রুটি বিদ্যমান যা আমি পূর্বে প্রথম গবেষণার আলোচনায় উল্লেখ করেছি।

অতঃপর ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জর্ডানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত 'সহীহাইন-এর প্রতিরক্ষায় সম্মেলন'-এর গবেষণাপত্রগুলোর একটি মুদ্রিত সংকলন প্রকাশিত হয়—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন। এটি উত্তম ও মাঝারি মানের একটি মিশ্রণ ছিল, যা এই বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনি, কারণ সম্মেলনের প্রকৃতি ও উপস্থাপনার সময়ের সংকীর্ণতা এমনই হয়ে থাকে।

ফলে একটি সমন্বিত গবেষণার প্রয়োজন বাকি থেকে গিয়েছিল, যা 'সহীহাইন'-এর মতন (মূল পাঠ) সংশ্লিষ্ট বিবিধ সমসাময়িক সমস্যাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনার সামর্থ্য রাখে, যাতে করে সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গ, উপযুক্ত এবং ব্যাপকভাবে খণ্ডন করা যায়; যেন এটি এমন একটি রেফারেন্স (উৎস) হিসেবে পরিগণিত হয় যার মাধ্যমে পাঠক সুন্নাহর ওপর আপতিত সংশয়ের দাবদাহ থেকে আশ্রয় পেতে পারে।

অতঃপর:

যখন থেকে এই গবেষণার ধারণাটি আমার মনে দানা বেঁধেছিল, কেনিত্রার 'ইবনে তুফায়েল' বিশ্ববিদ্যালয়ে—আল্লাহ এর দ্বারা উপকৃত করুন—একটি সুষ্পষ্ট রূপরেখা সম্বলিত প্রকল্প হিসেবে পেশ করার আগে থেকেই আমি এই চিন্তায় নিমগ্ন ছিলাম যে: 'সহীহাইন'-এর বিরুদ্ধে উত্থাপিত এই একগুঁয়ে বিরোধিতাসমূহ প্রতিহত করার যে সংকল্প আমি করেছি, তাতে যদি কোনো স্খলন ঘটে, তবে ব্যাধিগ্রস্ত বা অজ্ঞ হৃদয়ের ওপর তার ফিতনা (বিপথগামিতা) তার চেয়েও ভয়াবহ হবে যদি আমি এই কষ্টের কাজটুকু পুরোপুরি বর্জন করে নিরাপত্তার দিকে ঝুঁকে থাকতাম।

কারণ সত্যের ক্ষতি কেবল বাতিল প্রচারের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সত্যকে তার দলীল-প্রমাণের ক্ষেত্রে দুর্বল ও অপূর্ণাঙ্গরূপে এবং উপস্থাপনার শৈলীতে রুগ্নভাবে পেশ করার মাধ্যমেও হতে পারে; আর এমনটি কতই না ঘটে থাকে

--------------------------------------------

(১) এবং এই গবেষণাটি আমার এই অভিসন্দর্ভ পেশ করার পর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে লেবাননের দারুল মুকতাবাস থেকে প্রকাশিত হয়েছে, যার শিরোনাম হলো: «কুরআন বিরোধী হওয়ার অজুহাতে আসবাবুন নুযূল ও তাফসীর বিষয়ক সহীহাইন-এর হাদীসগুলোতে আধুনিকতাবাদীদের আপত্তি», গবেষক: আলী সালেহ মুস্তফা।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٣٤)
هذه الرَّزيَّة أشدَّ فتنةً وأكثرَ ضَررًا على أهلِ الحقِّ، وأعْوَنَ للمُبطلين على التَّمسُّكِ بباطِلهم!

فلطالَما رأيتُ مِن أهلِ السُّنةِ مَن يتَعنَّى هذا النَّوعَ مِن الجِهادِ العِلميِّ، ثمَّ تراه يُمَكِّن لأهلِ الباطلِ ويُحرِّضُ على التَّنفيرِ مِن أهلِ الحقِّ، مِن حيث أرادَ الحقَّ ونُصرةَ أهلِه! وهذا حالُ كلِّ مَن يدخُل غِمارَ مَعركةٍ لا يُحسِنُ نِزالَها، يَصِير فيها سيفُه نكالًا على المُسلمين! وهذه من البصائر الَّتي أُلهِمها الغزاليُّ (ت 505 هـ) في قوله: «ضرر الشَّرع مِمَّن ينصره لا بطريقه، أكثر من ضرره مِمَّن يطعن فيه بطريقه!»(1).

فكان لا بُدَّ للمُحامِي عن السُّنَنِ، الذَّابِ عن حِماها، أن يستحضرَ كونَه كالمجاهدِ في سبيلِ الله تعالى؛ فيُعِدَّ للجِهادِ ما اسْتطاعَ مِن الآلَاتِ، وَالْقُوَّة، والخُطَطِ المُحكمَةِ كي ينتصِر، امتثالًا لأمر ربِّه: {وَأَعِدُّوا لَهُم مَّا اسْتَطَعْتُم مِّن قُوَّةٍ} [الأنفال: 60].

فاللهَ أسألُ أن يُوفِّقني في بحثِي هذا لحُسْنِ النِّزالِ، ويَعقُب لي فيه حُسنَ المآل، إنَّه جوادٌ كريمٌ مُتَعالٍ.

--------------------------------------------

(1) «تهافت الفلاسفة» (ص/45).
এই বিপর্যয় সত্যপন্থীদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ফিতনা ও অধিক ক্ষতিকর এবং বাতিলপন্থীদের তাদের বাতিলের ওপর অবিচল থাকতে অধিক সাহায্যকারী!

আমি আহলে সুন্নাতের মধ্যে অনেককেই দেখেছি যারা এই ধরনের ইলমি জিহাদের কষ্ট স্বীকার করেন, কিন্তু এরপর দেখা যায় যে তিনি বাতিলপন্থীদের শক্তিশালী করছেন এবং সত্যপন্থীদের থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দিতে প্ররোচিত করছেন, অথচ তিনি সত্য এবং সত্যপন্থীদের সাহায্য করারই ইচ্ছা করেছিলেন! আর এটিই সেই ব্যক্তির অবস্থা, যে এমন এক যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে যার লড়াই সে ভালো করে জানে না; সেখানে তার তরবারি মুসলমানদের জন্যই মুসিবত হয়ে দাঁড়ায়! এটি ইমাম গাযালীর (ওফাত: ৫০৫ হি.) সেই প্রজ্ঞাপূর্ণ কথাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা তাঁকে ইলহাম করা হয়েছিল: "শরিয়তের ক্ষতি ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে বেশি হয় যে একে ভুল পথে সাহায্য করে, সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি যে নিয়মমাফিক একে আক্রমণ করে!"(১)।

সুতরাং সুন্নাহর রক্ষক ও এর পবিত্রতা হিফাজতকারীর জন্য এটি অপরিহার্য যে, সে নিজেকে মহান আল্লাহর পথের একজন মুজাহিদের ন্যায় গণ্য করবে; আর বিজয়ী হওয়ার জন্য সাধ্যমতো সরঞ্জাম, শক্তি ও সুদৃঢ় পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে, যেন তার রবের আদেশের অনুসরণ হয়: "আর তাদের মোকাবেলার জন্য তোমাদের সাধ্যানুযায়ী শক্তি প্রস্তুত করো" [আনফাল: ৬০]।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে আমার এই গবেষণায় উত্তম লড়াইয়ের তাওফিক দান করেন এবং এর পরিণাম আমার জন্য কল্যাণকর করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত দাতা, দয়ালু ও সুউচ্চ।

--------------------------------------------

(১) 'তাহাফুতুল ফালাসিফাহ' (পৃষ্ঠা: ৪৫)।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٣٥)
‌‌خُطَّة البحث

قد انطَوَت هذه الرِّسالةُ على تمهيدٍ، في تَضاعيفِه ثلاثةُ مَباحث، يتلوه ثلاثةُ أَبوابٍ، مَدارُ الأوَّلَيْن حول الجانبِ التَّأصيلي للبحث، حيث تطرَّقتُ إلى دراسة أصول الفِرق المُعاصرةِ في اعتراضِهم على أحاديث «الصَّحيحين».

فكان بدء توجُّهي إلى نقدِ كُليَّاتهم وبيان ما فيها مِن فسادٍ، ليبطُل معها تبعًا لها ما ابتُنِيَ عليها مِن جُزئيَّاتٍ تتعلَّق بأفراد الأحاديثِ المَردودة.

وأمَّا الباب الثَّالث: فمخصوصٌ للجانبِ التَّطبيقيِ، درستُ فيه اعتراضاتِهم الجُزئيَّة على آحادِ الأخبار في «الصَّحيحين»، تكملةً للجانب التَّأصيلي، وبرهنةً على صِحَّة ما كنتُ ضمَّنته مِن أحكام.

وفيما يلي بيان خُطَّة البحثِ -على وجهِ الإِجمال-:

* التَّمهيد:

ويندرج تحته ما يلي:

* المبحث الأوَّل: مفهوم مُفردات العنوان المُحدِّدَة لنطاقاتِ البحث.

* المبحث الثَّاني: إشكاليَّة الاستشكالِ المُعاصِر للأحاديثِ النَّبويَّة.

* المبحث الثَّالث: الأصل العقلي الجامعِ لمُخالفي أهلِ السُّنةِ في رَدِّهم للدَّلائلِ النَّقليَّة.

* الباب الأوَّل: الفِرَق المُعاصِرة الطَّاعِنة في أحاديثِ «الصَّحيحين»، ونقدُ أصولِها وأبرزِ كِتاباتِها في ذلك.

* الفصل الأوَّل: الشيعة الإماميَّة، ومَوقِفهم مِن «الصَّحيحين».

* الفصل الثَّاني: القرآنيُّون مُنكِرو السُّنة، ومَوقفهم مِن «الصَّحيحين».
গবেষণার রূপরেখা

এই গবেষণা প্রবন্ধটি একটি উপক্রমণিকা দ্বারা গঠিত, যার অন্তরালে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে। এরপর রয়েছে তিনটি অধ্যায়। প্রথম দুটি অধ্যায়ের মূল প্রতিপাদ্য হলো গবেষণার তাত্ত্বিক দিক, যেখানে আমি ‘সহীহাইন’ (বুখারি ও মুসলিম)-এর হাদীসসমূহের ওপর সমকালীন ফিরকা বা দলগুলোর আপত্তির মূলনীতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।

ফলে আমার যাত্রার শুরুতেই তাদের সামগ্রিক মূলনীতিগুলোর সমালোচনা এবং সেগুলোর অসারতা বর্ণনার প্রতি মনোনিবেশ করেছি, যাতে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে হাদীস প্রত্যাখ্যানের যে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো দাঁড়িয়েছে, সেগুলোও প্রাসঙ্গিকভাবে বাতিল হয়ে যায়।

আর তৃতীয় অধ্যায়টি প্রায়োগিক দিকের জন্য সুনির্দিষ্ট, যেখানে আমি ‘সহীহাইন’-এর একক হাদীসগুলোর ওপর তাদের আংশিক আপত্তিগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এটি মূলত তাত্ত্বিক দিকের পরিপূরক এবং আমি যে সকল সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করেছি সেগুলোর সত্যতার প্রমাণস্বরূপ।

নিম্নে গবেষণার রূপরেখা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

* উপক্রমণিকা:

এর অধীনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণার পরিধি নির্ধারণকারী শিরোনামের শব্দাবলির ধারণা।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নববী হাদীসসমূহের ক্ষেত্রে সমকালীন সংশয় উত্থাপনের সমস্যাবলি।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নকলি বা শ্রুতিনির্ভর দলিলসমূহ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর বিরোধীদের সর্বজনীন বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতি।

* প্রথম অধ্যায়: ‘সহীহাইন’-এর হাদীসসমূহের ওপর আক্রমণকারী সমকালীন ফিরকাগুলো এবং এ বিষয়ে তাদের মূলনীতি ও প্রধান রচনাবলির সমালোচনা।

* প্রথম পরিচ্ছেদ: শিয়া ইমামিয়া এবং ‘সহীহাইন’-এর ব্যাপারে তাদের অবস্থান।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অস্বীকারকারী আহলে কুরআন এবং ‘সহীহাইন’-এর ব্যাপারে তাদের অবস্থান।
(খণ্ড: ١) আল-মুআরাদাতুল ফিকরিইয়াতুল মুআসিরাহ লি-আহাদীসিস সাহীহাইন (পৃষ্ঠা: ٣٦)
* الفصل الثَّالث: العَلمانيُّون، ومَوقفهم من «الصَّحيحين».

* الفصل الرَّابع: العقلانيُّون الإسلاميُّون، ومَوقفهم مِن «الصَّحيحين».

* الباب الثَّاني: المُسوِّغات العلمية المُتوهَّمة عند المُعاصرين للطَّعنِ في أحاديث «الصَّحيحين».

* الفصل الأوَّل: دعواهم الخَلل التَّوثيقي في تَصنيفِ «الصَّحيحين» وتَناقُلِهما.

* الفصل الثَّاني: اعتقادهم بظنيَّة آحاد «الصَّحيحين» مطلقًا.

* الفصل الثَّالث: توهُّمهم إغفالَ الشَّيخين لنقدِ معاني المتونِ.

* الفصل الرَّابع: الاحتجاج بسَبْقِ نقد العلماءِ «للصَّحيحين» قديمًا وحديثًا.

* الباب الثَّالث: نقدُ دَعاوى المُعارضاتِ الفكريَّةِ المُعاصرةِ لأحاديث «الصَّحيحين».

وفيه ثمانية فصول:

* الفصل الأوَّل: نقدُ دَعاوى المُعارضاتِ الفكريَّةِ المُعاصرةِ للأحاديث المُتعلِّقة بالإلهيَّات.

* الفصل الثَّاني: نقدُ دَعاوى المُعارضاتِ الفكريَّةِ المُعاصرةِ للأحاديث المُتعلِّقة بالتَّفسير.

* الفصل الثَّالث: نقدُ دَعاوى المُعارضاتِ الفكريَّةِ المُعاصرةِ للأحاديث المُتعلِّقة بالغَيبيَّات.

* الفصل الرَّابع: نقدُ دَعاوى المُعارضاتِ الفكريَّةِ المُعاصرةِ للأحاديث المُتعلِّقة بالنَّبي صلى الله عليه وسلم.

* الفصل الخامس: نقدُ دَعاوى المُعارضاتِ الفكريَّةِ المُعاصرةِ للأحاديث المُتعلِّقة بباقي الأنبياء.

* الفصل السَّادس: نقدُ دَعاوى المُعارضاتِ الفكريَّةِ المُعاصرةِ للأحاديث المُتعلِّقة بالطَّبيعيَّات.
* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীগণ এবং 'সহীহাইন' সম্পর্কে তাদের অবস্থান।

* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইসলামি যুক্তিবাদীগণ এবং 'সহীহাইন' সম্পর্কে তাদের অবস্থান।

* দ্বিতীয় অধ্যায়: 'সহীহাইন'-এর হাদিসসমূহের সমালোচনা করার জন্য সমকালীনদের কল্পিত বৈজ্ঞানিক অজুহাতসমূহ।

* প্রথম পরিচ্ছেদ: 'সহীহাইন' সংকলন ও তা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নথিপত্রগত প্রামাণিকতায় ত্রুটির দাবি।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: 'সহীহাইন'-এর আহাদ হাদিসসমূহ নিরঙ্কুশভাবে ধারণাপ্রসূত হওয়ার ব্যাপারে তাদের বিশ্বাস।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: হাদিসের মূলপাঠের সমালোচনার ক্ষেত্রে শাইখাইনের উদাসীনতা সম্পর্কে তাদের ভ্রান্ত ধারণা।

* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: প্রাচীন ও আধুনিক যুগে আলেমদের দ্বারা 'সহীহাইন'-এর পূর্ববর্তী সমালোচনার নজিরকে অজুহাত হিসেবে পেশ করা।

* তৃতীয় অধ্যায়: 'সহীহাইন'-এর হাদিসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধিতার দাবিগুলোর খণ্ডন।

এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

* প্রথম পরিচ্ছেদ: ইলাহিয়াত সংক্রান্ত হাদিসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধিতার দাবিগুলোর খণ্ডন।

* দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসীর সংক্রান্ত হাদিসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধিতার দাবিগুলোর খণ্ডন।

* তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গায়েবি বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাদিসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধিতার দাবিগুলোর খণ্ডন।

* চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংক্রান্ত হাদিসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধিতার দাবিগুলোর খণ্ডন।

* পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অন্যান্য নবীগণ সংক্রান্ত হাদিসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধিতার দাবিগুলোর খণ্ডন।

* ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: প্রাকৃতিক বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাদিসসমূহের বিরুদ্ধে সমকালীন বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধিতার দাবিগুলোর খণ্ডন।