(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
مناظرة بين الإسلام والنصرانية   (مجموعة من المؤلفين)

القسم: الفرق والردود


الكتاب: مناظرة بين الإسلام والنصرانية

لمناقشة العقيدة الدينية بين مجموعة من رجال الفكر من الديانتين الإسلامية والنصرانية

المؤلف: مثل الجانب الإسلامي في المناظرة كل من الشيخ الدكتور محمد جميل غازي والأستاذ إبراهيم خليل أحمد واللواء المهندس أحمد عبد الوهاب

الناشر: الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1413 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 496

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে বিতর্ক   (একদল লেখক)

বিভাগ: ফিরকা ও খণ্ডন


গ্রন্থ: ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে বিতর্ক

ইসলাম ও খ্রিস্টধর্ম—এই দুই ধর্মের একদল চিন্তাবিদদের মধ্যে ধর্মীয় আকিদা ও বিশ্বাস নিয়ে আলোচনার নিমিত্তে

লেখক: বিতর্কে ইসলামি পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন যথাক্রমে শাইখ ডক্টর মুহাম্মদ জামিল গাজী, উস্তাদ ইব্রাহিম খলিল আহমদ এবং মেজর জেনারেল প্রকৌশলী আহমদ আব্দুল ওয়াহাব

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ এবং ইরশাদ বিষয়ক সাধারণ প্রেসিডেন্সি, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الناشر

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه.

وبعد:

الصراع بين الحق والباطل والكفر والإيمان سيظل قائما ما بقيت السماوات والأرض لا تهدأ معاركه، ولا تخبو جذوته، ولا تنتهي حوادثه، لكن مهما بلغت قوة الباطل وصولته، ومهما كانت دولته وكثرته فإن العاقبة ستكون بإذن الله دائما لأولياء الله المتقين ودعاته المخلصين، فحسب دعاة الحق أنهم يستمدون قوتهم من قوة الله، ويأخذون أدلتهم من كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.

أما دعاة الباطل فليس لهم إلا الحجج الواهية التي ترتكز على ضروب من الجهل والأوهام السخيفة.

والكتاب الذي نمهد له خير شاهد على ذلك.

فلقد قام نخبة من علماء المسلمين بدعوة من بعض قساوسة نصارى ومبشرين في الفترة من 23 / 1 / 1401هـ إلى 29 / 1 / 1401هـ، الموافق 1 / 12 / 1980م إلى 7 / 12 / 1980م، بالخرطوم. وقد مثل الجانب الإسلامي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌প্রকাশকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর।

অতঃপর:

সত্য ও মিথ্যা এবং কুফর ও ঈমানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আসমান ও জমিন বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে; এর লড়াই কখনো থামবে না, এর আগুনের শিখা নির্বাপিত হবে না এবং এর ঘটনাবলি শেষ হবে না। কিন্তু মিথ্যার শক্তি ও প্রতাপ যতই হোক না কেন, আর এর আধিপত্য ও সংখ্যাধিক্য যেমনই হোক, নিশ্চিতভাবে শুভ পরিণাম সর্বদা আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর মুত্তাকি বন্ধু এবং তাঁর একনিষ্ঠ দাঈদের (আহ্বায়ক) পক্ষেই হবে। সত্যের দাঈদের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তারা আল্লাহর শক্তি থেকে শক্তি আহরণ করেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ থেকে তাঁদের প্রমাণাদি গ্রহণ করেন।

পক্ষান্তরে মিথ্যার প্রচারকদের জন্য অসার যুক্তি ছাড়া আর কিছু নেই, যা বিভিন্ন প্রকার অজ্ঞতা ও অহেতুক বিভ্রমের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

আমরা যে বইটির ভূমিকা প্রদান করছি, তা এর সর্বোত্তম সাক্ষ্য।

কিছু খ্রিস্টান যাজক ও মিশনারিদের আমন্ত্রণে মুসলিম উলামাদের একটি বিজ্ঞ প্রতিনিধি দল ২৩/০১/১৪০১ হিজরি থেকে ২৯/০১/১৪০১ হিজরি পর্যন্ত, যা ইংরেজি ০১/১২/১৯৮০ থেকে ০৭/১২/১৯৮০ তারিখের সমসাময়িক, খার্তুমে একটি দাওয়াতি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে ইসলামি পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
كلا من الشيخ الدكتور محمد جميل غازي والأستاذ إبراهيم خليل أحمد واللواء المهندس أحمد عبد الوهاب.

وفي الجانب النصراني برئاسة البشير جيمس بخيت سليمان والأستاذ تيخا رمضان، قام هؤلاء باستعراض تفصيلي لحقيقة العقيدة النصرانية المسطرة في كتبهم ومناقشتها على ضوء ما يقرون به من معتقدات التثليث والصلب والفداء والأبوة والبنوة وعن الكتب المقدسة بعهديها القديم والجديد، وأماطوا اللثام عن هذا التعارض والتناقض الذي تحمله هذه الأناجيل.

ولا شك أن جدالا كهذا جدير بالاهتمام والاطلاع عليه لما فيه من حقائق عن النصرانية يجهلها كثير من الناس.

ولو لم يكن فيه من الفائدة إلا إعلان هؤلاء القساوسة دخولهم في الإسلام والتبرؤ من أفكار النصرانية المضللة بعد نقاش طويل واقتناع تام لكفى نصرا للإسلام والمسلمين.

فما أجدر المسلمين أن يقوموا بالدعوة إلى الله ونشر العقيدة الإسلامية في أرجاء العالم، وما أحراهم أن يتمسكوا بدينهم منهجا وسلوكا.

ونلفت النظر إلى أنه قد ورد ضمن هذا الكتاب بعض الألفاظ التي تعبر عن رأيِ قائليها مثل " المسيحية " و " المسيحي "، و " إخواننا المسيحيين "، ولا يخفى ما فيها من التجاوز، وقد آثرنا تركها على ما هي عليه لأنها حكاية قول ورد في هذه المناظرة.
তারা হলেন শেখ ডক্টর মুহাম্মদ জামিল গাজী, অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল আহমদ এবং মেজর জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আহমদ আব্দুল ওয়াহাব।

অন্যদিকে খ্রিস্টান পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন প্রচারক জেমস বখিত সুলাইমান এবং অধ্যাপক তিখা রমজান; তারা তাদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ খ্রিস্টধর্মীয় আকিদাহর প্রকৃত স্বরূপ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং তাদের স্বীকৃত বিশ্বাস—যেমন ত্রিত্ববাদ, ক্রুশবিদ্ধকরণ, প্রায়শ্চিত্ত, পিতৃত্ব ও পুত্রত্ব—এবং পবিত্র বাইবেলের পুরাতন ও নতুন নিয়মের আলোকে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা এই ইঞ্জিলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈপরীত্য ও অসংগতির রহস্য উন্মোচন করেছেন।

নিঃসন্দেহে এই ধরনের বিতর্ক অত্যন্ত গুরুত্বের দাবি রাখে এবং এটি পাঠ করা আবশ্যক, কারণ এতে খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কে এমন অনেক সত্য রয়েছে যা অনেক মানুষের কাছেই অজানা।

দীর্ঘ আলোচনা ও পূর্ণ বিশ্বাসের পর এই যাজকদের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা এবং খ্রিস্টধর্মের বিভ্রান্তিকর ধারণাগুলো থেকে দায়মুক্ত হওয়ার বিষয়টি ছাড়া যদি অন্য কোনো উপকার নাও থাকত, তবে এটিই ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয়ের জন্য যথেষ্ট হতো।

অতএব, মুসলিমদের জন্য আল্লাহর দিকে আহ্বান জানানো এবং বিশ্বের সর্বত্র ইসলামি আকিদাহ প্রচার করা কতই না সমীচীন! আর তাদের জন্য নিজেদের দ্বীনকে জীবনব্যবস্থা ও আচরণে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা কতই না জরুরি!

আমরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে, এই বইটিতে কিছু শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে যা বক্তাদের নিজস্ব মত প্রকাশ করে, যেমন "খ্রিস্টধর্ম", "খ্রিস্টান" এবং "আমাদের খ্রিস্টান ভাইয়েরা"; এগুলোর মধ্যে বিদ্যমান শাস্ত্রীয় বিচ্যুতির বিষয়টি কারো অজানা নয়। তবে যেহেতু এগুলো এই বিতর্কে বর্ণিত বক্তব্যের উদ্ধৃতি মাত্র, তাই আমরা সেগুলো যেমন আছে তেমনই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
هذا ويسر الرئاسة العامة لإدارات البحوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد - وهي حاملة لواء الدعوة الإسلامية في هذه البلاد الطيبة - أن تنشر هذا السفر الجليل على نفقتها وتوزعه مجانا مساهمة منها في محاربة الشرك والكفر والإلحاد، وبيانا لمن أراد الله هدايته.

وصلى الله على محمد وآله وصحبه وسلم.

الرياض في 22 / 2 / 1407 هـ.

الناشر

الرئاسة العامة لإدارات البعوث العلمية والإفتاء والدعوة والإرشاد
আর বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি—যা এই পুণ্যভূমিতে ইসলামি দাওয়াতের ঝাণ্ডাবাহী—নিজ ব্যয়ে এই মহান গ্রন্থটি প্রকাশ করতে এবং শিরক, কুফর ও নাস্তিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে অবদান রাখার পাশাপাশি আল্লাহ যাদের হেদায়েত দান করতে চান তাদের জন্য সুস্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে এটি বিনামূল্যে বিতরণ করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।

আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার এবং তাঁর সঙ্গীদের ওপর।

রিয়াদ, ২২ / ০২ / ১৪০৭ হিজরি।

প্রকাশক

বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌تمهيد

أعوذ بالله من الشيطان الرجيم

-1-

قال الله تعالى:

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} . (1)

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} . (2)

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} {يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} . (3)

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} . (4) .

{هَذَا بَيَانٌ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةٌ لِلْمُتَّقِينَ} . (5) .

{وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} . (6) .

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران، آية 1-2.

(2) سورة النساء، آية 1.

(3) سورة الأحزاب، الآيتان 70-71.

(4) سورة البقرة، آية 21.

(5) سورة آل عمران، آية 138.

(6) سورة آل عمران، آية 187.
ভূমিকা

বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি

-১-

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}। (১)

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে আবেদন করো এবং সতর্ক থাকো রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিদানকারী।}। (২)

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।} {তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করল।}। (৩)

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের ইবাদত করো যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।}। (৪)।

{এটি মানুষের জন্য এক স্পষ্ট বর্ণনা এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়েত ও উপদেশ।}। (৫)।

{আর স্মরণ করো যখন আল্লাহ ঐসব লোকদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল যে, তোমরা অবশ্যই তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।}। (৬)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১-২।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১।

(৩) সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৭০-৭১।

(৪) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২১।

(৫) সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৮।

(৬) সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৭।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الرَّسُولُ بِالْحَقِّ مِنْ رَبِّكُمْ فَآمِنُوا خَيْرًا لَكُمْ وَإِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} . (1) .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمْ بُرْهَانٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُبِينًا} . (2) .

{قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ فَمَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا وَمَا أَنَا عَلَيْكُمْ بِوَكِيلٍ} . (3) .

{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ} . (4) .

{قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ} . (5) .

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء، آية 170.

(2) سورة النساء، آية 174.

(3) سورة النساء، آية 108.

(4) سورة الحج، آية 8.

(5) سورة آل عمران، آية 64.
{হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট রাসূল সত্য নিয়ে এসেছেন; অতএব তোমরা ঈমান আনো, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আর যদি তোমরা কুফরি করো, তবে (জেনে রেখো) আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই।} . (১) .

{হে মানুষ, তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক অকাট্য দলিল এসে গেছে এবং আমি তোমাদের নিকট এক সুস্পষ্ট আলো অবতীর্ণ করেছি।} . (২) .

{বলুন: হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সত্য এসে গেছে; অতএব যে হেদায়েত গ্রহণ করবে সে নিজের কল্যাণের জন্যই তা করবে, আর যে পথভ্রষ্ট হবে সে নিজের ক্ষতির জন্যই পথভ্রষ্ট হবে। আর আমি তোমাদের ওপর কোনো কর্মবিধায়ক নই।} . (৩) .

{মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে জ্ঞান, পথনির্দেশ ও কোনো দীপ্তিময় কিতাব ছাড়াই।} . (৪) .

{বলুন: হে আহলে কিতাবগণ, এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো— আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং আমাদের কেউ আল্লাহকে ছাড়া একে অপরকে রব হিসেবে গ্রহণ করব না। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমরা বলো: তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম।} . (৫) .

অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বাপেক্ষা সত্যবাণী আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (শরীয়তে) নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ, আর প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৭০।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৭৪।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১০৮।

(৪) সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৮।

(৫) সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৬৪।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
-2- إن الإسلام دين مفتوح النوافذ على النور والخير. . . .

وإن حقائقه واضحة، ومعقولة، وصريحة، وهادية، وإنسانية، وعالمية، وخالدة. . . .

ولهذا، فإن الإسلام، وإن الدعاة المسلمين ليرحبون بكل حوار هادئ هادف. . يدعى إليه، أو يقوم بينهم وبين من عداهم من أهل سائر الملل والنحل. . .!

إن الدعاة المسلمين يعتبرونها فرصة سانحة لعرض دعوتهم على القلوب والعقول والضمائر. . .

وهم يعتقدون اعتقادا صادقا، أن دعوتهم حينما تصادف آذانا واعية، وقلوبا مخلصة، وعقولا فاهمة. . . فإنها ستجد القبول والإيمان والإذعان! وهذا ما حدث ويحدث في هذا الزمان، وفي كل زمان!

لقاءات فكرية هنا وهناك، في الشرق والغرب، في الماضي والحاضر. . .!

تبدأ في جو من الغموض والشكوك والتوجس يحيط برؤوس الذين لا يعرفون الإسلام ولا يفقهونه. . .

ثم تنتهي بالإيمان وتقدير وإعجاب بعد أن يزول الضباب، وتمحى الجهالات، ويظهر الحق لكل ذي عينين. . .!

إننا ندعو - بني الإنسان - حيث كانوا من أرض الله أن يقيموا جسورا للتفاهم. . بينهم وبين العقيدة الإسلامية الصحيحة. . .
-২- নিশ্চয়ই ইসলাম এমন এক দ্বীন, যার বাতায়নসমূহ আলো ও কল্যাণের দিকে উন্মুক্ত। . . .

আর এর সত্যসমূহ সুস্পষ্ট, যুক্তিনির্ভর, প্রাঞ্জল, হিদায়াতপূর্ণ, মানবিক, বিশ্বজনীন এবং শাশ্বত। . . .

এই কারণেই ইসলাম এবং মুসলিম দাঈগণ এমন প্রতিটি শান্ত ও উদ্দেশ্যপূর্ণ সংলাপকে স্বাগত জানান, যার প্রতি তাঁদের আহ্বান করা হয় অথবা যা তাঁদের এবং অন্যান্য ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীদের মধ্যে সংঘটিত হয়। . . .!

মুসলিম দাঈগণ একে অন্তর, বুদ্ধি ও বিবেকের নিকট তাঁদের দাওয়াত পেশ করার এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গণ্য করেন। . . .

তাঁরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, যখন তাঁদের দাওয়াত সচেতন কর্ণ, একনিষ্ঠ হৃদয় এবং সমঝদার বুদ্ধির সান্নিধ্য পায়, তখন তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্যতা, ঈমান ও আনুগত্য লাভ করে! আর এটাই অতীতে ঘটেছে এবং বর্তমানসহ সকল যুগে ঘটে চলেছে!

প্রাচ্যে ও প্রতীচ্যে, অতীতে ও বর্তমানে—এখানে সেখানে নানা বুদ্ধিবৃত্তিক সমাবেশ। . . .!

এগুলো এমন এক অস্পষ্টতা, সন্দেহ ও আশঙ্কার পরিবেশে শুরু হয়, যা ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ ও তা বুঝতে অক্ষম ব্যক্তিদের আচ্ছন্ন করে রাখে। . . .

অতঃপর কুয়াশাচ্ছন্নতা দূর হওয়ার পর, মূর্খতা বিলুপ্ত হলে এবং চক্ষুষ্মান ব্যক্তির নিকট সত্য প্রকাশিত হলে তা ঈমান, মূল্যায়ন ও মুগ্ধতার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। . . .!

আমরা মানবজাতিকে—আল্লাহর যমিনে তারা যেখানেই থাকুক না কেন—আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা নিজেদের এবং সঠিক ইসলামি আকিদার মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার সেতুবন্ধন তৈরি করে। . . .
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وعلى كل صاحب ملة ونحلة ألا يخاف ولا يجبن، فإنه في نهاية (اللقاءات العلمية المخلصة) لن يصح إلا الصحيح.

 

-3- كثيرة هي اللقاءات بين الإسلام والنصرانية، فكم من لقاءات تمت في الماضي، وكم من اللقاءات ينتظر أن تتم في المستقبل. . . ومن لقاءات الماضي نذكر بعضا منها مكتفين بما حدث في الماضي القريب.

1- في شهر رجب سنة 1270هـ - أي منذ حوالي 130 عاما- عقدت مناظرة في مدينة كلكتا بالهند بين نفر من علماء المسلمين ومبشري النصرانية الذين درجوا على الطعن في الإسلام واستدراج الجهلة من عوام الناس.

وتحددت لها موضوعات خمسة هي: التحريف.

والنسخ.

والتثليث.

وحقيقة القرآن.

ونبوة محمد صلى الله عليه وسلم.

وقد استطاع علماء المسلمين - بتوفيق من الله- إظهار الحق بمجرد مناقشة الموضوعين الأولين وهما التحريف والنسخ.

وآنذاك لم يملك مناظروهم من علماء النصارى سوى الانسحاب، اعترافا بإخفاقهم.

وقد شاع خبر هذه المناظرة في العالم الإسلامي الذي كان أغلبه يئن آنذاك تحت سطوة حكم الدول النصرانية، وطلب كثير من المسلمين الاطلاع على
প্রতিটি ধর্ম ও মতাদর্শের অনুসারীর উচিত ভীত না হওয়া এবং কাপুরুষতা প্রদর্শন না করা; কারণ পরিশেষে (নিষ্ঠাপূর্ণ জ্ঞানতাত্ত্বিক আলোচনার) শেষে কেবল সত্যই টিকে থাকে।

 

-৩- ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মধ্যে বহু সভা ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে; অতীতে কত সভাই না অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও কত সভা হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে... অতীতের সেই সভাগুলোর মধ্য থেকে আমরা নিকট অতীতে যা ঘটেছিল তার কিছু উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব।

১- ১২৭০ হিজরি সনের রজব মাসে—অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ১৩০ বছর পূর্বে—ভারতের কলকাতা শহরে একদল মুসলিম আলেম এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের মধ্যে একটি বিতর্ক সভা (মুনাজারা) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ঐ মিশনারিরা ইসলামকে আক্রমণ করতে এবং সাধারণ অজ্ঞ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে অভ্যস্ত ছিল।

সেটির জন্য পাঁচটি বিষয় নির্ধারিত হয়েছিল, সেগুলো হলো: বিকৃতি (তাহরিফ)।

রহিতকরণ (নাসখ)।

ত্রিত্ববাদ (তাসলিস)।

কুরআনের হাকিকত।

এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়ত।

আল্লাহর তওফিকে মুসলিম উলামাগণ কেবল প্রথম দুটি বিষয়—অর্থাৎ বিকৃতি ও রহিতকরণ—নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সত্য প্রকাশ করতে সক্ষম হন।

তখন তাদের প্রতিপক্ষ খ্রিস্টান পণ্ডিতগণ নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়ে পিছু হটা ছাড়া আর কোনো পথ খুঁজে পাননি।

এই বাহাসের সংবাদ সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল, যার অধিকাংশ অঞ্চল তখন খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলোর শাসনের প্রতাপে আর্তনাদ করছিল। ফলে অনেক মুসলিম এটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
ما دار في تلك المناظرة مما دعا شيخ علماء المسلمين فيها وهو: رحمة الله بن خليل الرحمن الهندي إلى إصدار كتابه النفيس " إظهار الحق " الذي لا يزال مرجعا فريدا في مجال المناظرة بين المسلمين والنصارى.

ب- بناء على الرغبة التي أبداها بعض كبار رجال القانون والفكر في أوروبا عن طريق السفارة السعودية في باريس للاجتماع بالعلماء في المملكة العربية السعودية للتعمق في مفاهيم حقوق الإنسان في الإسلام، فقد نظمت وزارة العدل السعودية ثلاث ندوات لهذا الغرض في الرياض ابتداء من يوم الأربعاء 7 من صفر سنة 1392هـ، الموافق 22 من مارس سنة 1972 م.

وعلى أثر ذلك تعاقب خطباء الوفد الأوروبي وفي مقدمتهم السيد " الأستاذ ماك برايد " الأستاذ في جامعة دبلن، ووزير خارجية أيرلندا السابق، والرئيس السابق لاتحاد المجلس الأوروبي، والسكرتير العام سابقا في اللجنة التشريعية الدولية، فقال: " من هنا ومن هذا البلد الإسلامي يجب أن تعلن حقوق الإنسان، لا من غيره من البلدان، وإنه يجب على العلماء المسلمين أن يعلنوا هذه الحقائق المجهولة على الرأي العام العالمي والتي كان الجهل بها سببا لتشويه سمعة الإسلام والمسلمين والحكم الإسلامي عن طريق إعلاء الإسلام والمسلمين ".

ج- في يونيه سنة 1976 م، عقد في جنيف بسويسرا مؤتمر بين المسلمين والنصارى دعا إليه مجلس الكنائس العالمي حول موضوع: " نظرة الأديان السماوية إلى الإنسان وإلى تطلعه نحو السلام ". وفي ذلك المؤتمر أبدى مجلس الكنائس العالمي أسفه الشديد، لأن الواقع أثبت أن إرساليات التبشير النصرانية في ديار المسلمين قد تسببت في إفساد الروابط بين المسلمين والنصارى، كما اعترف بأن تلك الإرساليات كان طابع نشاطاتها في خدمة الدول الأوروبية المستعمرة، وأنها كانت تستخدم التعليم وسيلة لإفساد عقائد المسلمين. وقد
সেই বিতর্কে যা কিছু ঘটেছিল, তা-ই মুসলিম উলামাদের তৎকালীন শ্রেষ্ঠ বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব রাহমাতুল্লাহ বিন খলিলুর রহমান আল-হিন্দিকে তাঁর অমূল্য গ্রন্থ "ইযহারুল হক" রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছিল, যা আজও মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যকার বিতর্ক শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এক অনন্য আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।

খ- ইসলামে মানবাধিকারের ধারণাসমূহ গভীরভাবে অনুধাবনের লক্ষ্যে সৌদি আরবের আলেমদের সাথে সাক্ষাতের জন্য ইউরোপের কতিপয় শীর্ষস্থানীয় আইনবিদ ও চিন্তাবিদ প্যারিসে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন, তার প্রেক্ষিতে সৌদি বিচার মন্ত্রণালয় রিয়াদে এ উদ্দেশ্যে তিনটি সেমিনারের আয়োজন করে। এই সেমিনারসমূহ ৭ সফর ১৩৯২ হিজরি, মোতাবেক ২২ মার্চ ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ রোজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছিল।

অতঃপর ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের বক্তাগণ একে একে বক্তব্য প্রদান করেন, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন ডাবলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, আয়ারল্যান্ডের প্রাক্তন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইউরোপীয় কাউন্সিল ইউনিয়নের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও আন্তর্জাতিক আইন কমিশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জনাব 'প্রফেসর ম্যাকব্রাইড'। তিনি বলেন: "এখান থেকেই, অর্থাৎ এই ইসলামি দেশ থেকেই মানবাধিকারের ঘোষণা হওয়া উচিত, অন্য কোনো দেশ থেকে নয়। মুসলিম আলেমদের কর্তব্য হলো বিশ্ব জনমতের সামনে এই অজ্ঞাত সত্যগুলো তুলে ধরা, যেসব বিষয়ে অজ্ঞতা ইসলাম, মুসলমান ও ইসলামি শাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার কারণ হয়েছিল; এর মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলমানদের মর্যাদা সমুন্নত করতে হবে।"

গ- ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় 'ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব চার্চেস'-এর আমন্ত্রণে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যার বিষয়বস্তু ছিল: "মানুষ এবং শান্তির প্রতি তার আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে আসমানি ধর্মসমূহের দৃষ্টিভঙ্গি"। সেই সম্মেলনে ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অব চার্চেস গভীর দুঃখ প্রকাশ করে; কারণ বাস্তবতা প্রমাণ করেছে যে, মুসলিম দেশগুলোতে খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করার কারণ হয়েছে। এছাড়াও সংস্থাটি স্বীকার করে যে, ঐ মিশনারিগুলোর কার্যক্রমের ধরন ছিল ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলোর সেবা করা এবং তারা শিক্ষাকে মুসলমানদের আকিদা-বিশ্বাস ধ্বংস করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। এবং...
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
تعهد الجانب النصراني في هذا المؤتمر بإيقاف جميع الخدمات التعليمية والصحية التي تستخدم لتنصير المسلمين.

د- في عام 1979 م، عقد في قرطبة بإسبانيا المؤتمر الثاني للمناظرة بين المسلمين والنصارى، وقد ألقى كلمة الافتتاح الكاردينال ترانكون رئيس أساقفة إسبانيا، فكان مما قاله: " إني كأسقف أود أن أنصح المؤمنين المسيحيين بنسيان الماضي، كما يريد المجمع البابوي منهم، وأن يعربوا عن احترامهم لنبي الإسلام. .

إن هذا شيء هام جدا بالنسبة للمسيحي، إذ كيف يستطيع أن يقدر الإسلام والمسلمين دون تقدير نبيهم والقيم التي بثها ولا يزال يبثها في حياة أتباعه؟

لن أحاول هنا تعداد قيم نبي الإسلام الرئيسية الدينية منها والإنسانية فليست هذه مهمتي، وسوف يلقيها عليكم الإخصائيون واللاهوتيون المسيحيون بالمؤتمر، غير أني أريد أن أبرز جانبين إيجابيين- ضمن جوانب أخرى عديدة - وهما إيمانه بتوحيد الله وانشغاله بالعدالة ".

وفي ذلك المؤتمر ألقى الدكتور يبحيل كروث بحثا عن " الجذور الاجتماعية والسياسية للصورة المزيفة التي كونتها المسيحية عن النبي محمد "، وقد جاء فيه قوله: " لا يوجد صاحب دعوة تعرض للتجريح والإهانة ظلما على مدى التاريخ مثل محمد. . ولقد سبق لي أن أكدت في مناسبة سابقة- وأظن أنني قد قررت ذلك عدة مرات- الاستحالة، من الوجهة التاريخية والنفسية، لفكرة النبي المزيف التي تنسب لمحمد ما لم نرفضها بالنسبة لإبراهيم وموسى وأصحاب النبوات الأخرى من العبرانيين، الذين اعتبروا أنبياء.

إنه لم يحدث أن قال نبي منهم بصورة بينة وقاطعة أن عالم النبوة قد
এই সম্মেলনে খ্রিষ্টান পক্ষ মুসলমানদের খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সমস্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

ঘ- ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনের কর্ডোভায় মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে দ্বিতীয় বিতর্ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্পেনের আর্চবিশপ কার্ডিনাল ট্রানকন উদ্বোধনী ভাষণ প্রদান করেন। তাঁর বক্তব্যের অংশবিশেষ ছিল নিম্নরূপ: "একজন বিশপ হিসেবে আমি খ্রিষ্টান বিশ্বাসীদের অতীত ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দিতে চাই, যেমনটি পোপীয় কাউন্সিল তাদের নিকট প্রত্যাশা করে; এবং তাঁরা যেন ইসলামের নবীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন...

একজন খ্রিষ্টানের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; কারণ, ইসলামের নবী এবং তিনি তাঁর অনুসারীদের জীবনে যে মূল্যবোধগুলো প্রচার করেছেন ও আজও করে চলেছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন না করে কেউ কীভাবে ইসলাম ও মুসলমানদের কদর করতে পারে?

আমি এখানে ইসলামের নবীর প্রধান ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধগুলোর তালিকা করার চেষ্টা করব না, কারণ এটি আমার কাজ নয়। সম্মেলনে উপস্থিত খ্রিষ্টান বিশেষজ্ঞ ও ধর্মতত্ত্ববিদগণ তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। তবে আমি আরও অনেক ইতিবাচক দিকের মধ্য থেকে দুটি দিক বিশেষভাবে ফুটিয়ে তুলতে চাই—আর তা হলো আল্লাহর একত্ববাদে তাঁর বিশ্বাস এবং ন্যায়বিচারের প্রতি তাঁর একাগ্রতা।"

উক্ত সম্মেলনে ড. ইবহিল ক্রুজ "নবী মুহাম্মাদ সম্পর্কে খ্রিষ্টধর্মের তৈরি করা মিথ্যা ভাবমূর্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট" শীর্ষক একটি গবেষণাপত্র পাঠ করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন: "ইতিহাসে মুহাম্মাদের ন্যায় এমন কোনো ধর্মপ্রচারক নেই যিনি অন্যায়ভাবে এতো বেশি বিদ্রূপ ও অপমানের শিকার হয়েছেন... আমি ইতিপূর্বেও একবার জোর দিয়ে বলেছি—এবং আমার মনে হয় আমি এটি বেশ কয়েকবার ব্যক্ত করেছি—ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুহাম্মাদের প্রতি আরোপিত 'ভণ্ড নবী' হওয়ার ধারণাটি অসম্ভব; যদি না আমরা ইবরাহিম, মুসা ও হিব্রু বংশীয় অন্যান্য নবীদের ক্ষেত্রেও সেই ধারণা পোষণ করি, যাঁদেরকে নবী হিসেবে গণ্য করা হয়।

তাঁদের মধ্য থেকে এমন কোনো নবীর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না যিনি স্পষ্টভাবে এবং চূড়ান্তভাবে বলেছিলেন যে নবুয়তের জগত...
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أغلق. . وفيما يتعلق بالشعب اليهودي فإن عالم النبوة ما يزال مفتوحا، ماداموا ينتظرون المسيح المخلص.

أما فيما يتعلق بالحركة المسيحية فإنه لا يوجد أي تأكيد قطعي يدل على انتهاء عالم النبوة ".

 

-4- ثم كان لقاء الخرطوم. . لقاء العائدين إلى الله بعد أن بحثوا عن الحق زمنا طويلًا وساروا في سراديب ودهاليز لا أول لها ولا آخر. . .

لعل فيه درسا للمبشرين بالكف عن إفساد عقائد المسلمين فإن الحق دائما غلاب.

لماذا كان المؤتمر؟

إن كثرة من أبنائنا العرب يقضون إجازاتهم في العواصم الأوروبية يدفعهم إلى ذلك قبل كل شيء رغبتهم في إتقان اللغات الأوروبية وهم لذلك يلتحقون أول ما يهبطون إلى البلد الذي يقصدونه بالمدارس الليلية والحرة، ويجدون في مكتباتها الكثير عن الإسلام، والكثير من تشويهه والطعن عليه.

ثم إن كثيرا من البلاد العربية الإسلامية قد وقعت زمنا طويلا تحت وطأة الاستعمار الصليبي، وما تزال تعتمد عليهم في مختلف مرافقها، وتنظر إليهم نظرة إكبار وتقدير، وتندفع بغير شعور منها، وبشعور أيضا إلى تقليدهم وتصغي باهتمام إلى آرائهم.

كل ذلك يمهد الطريق لكتب الغرب وآراء الغرب كي تنتشر بيننا.

وشيء آخر ذو أهمية.

إن كتب السيرة النبوية، وكتب التاريخ العربي، ما يزال أسلوبها صعبا على طلاب ودارسي الثقافة الإسلامية الناشئين، فقلما نجد من يرجع إلى سيرة
বন্ধ। ইহুদি জাতির ক্ষেত্রে নবুওয়াতের জগৎ এখনও উন্মুক্ত রয়ে গেছে, যতক্ষণ না তারা ত্রাণকর্তা মসীহের অপেক্ষায় রয়েছে।

আর খ্রিস্টান আন্দোলনের ক্ষেত্রে নবুওয়াতের জগতের সমাপ্তি নির্দেশকারী কোনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা নেই।

 

-৪- অতঃপর ছিল খার্তুমের সেই সম্মেলন (সাক্ষাৎ)। আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের এক মিলনমেলা, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সত্যের সন্ধান করেছেন এবং এমন সব অলিগলি ও গোলকধাঁধায় বিচরণ করেছেন যার কোনো শুরু বা শেষ নেই...

সম্ভবত এতে মিশনারিদের জন্য একটি শিক্ষা রয়েছে যে, তারা যেন মুসলমানদের আকিদা বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকে, কারণ সত্য সর্বদা বিজয়ী হয়।

কেন এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

আমাদের বহু আরব সন্তান তাদের অবকাশকালীন ছুটি ইউরোপের রাজধানীগুলোতে অতিবাহিত করে। এক্ষেত্রে সবকিছুর ঊর্ধ্বে যে বিষয়টি তাদের তাড়িত করে তা হলো ইউরোপীয় ভাষাগুলোতে দক্ষতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা। ফলে তারা তাদের উদ্দিষ্ট দেশগুলোতে পৌঁছানোর পরপরই নৈশকালীন এবং উন্মুক্ত বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হয় এবং সেখানকার পাঠাগারগুলোতে ইসলাম সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পায়, যার মধ্যে ইসলামের বিকৃতি এবং এর বিরুদ্ধে বিষোদগারও থাকে প্রচুর।

অধিকন্তু, অনেক আরব-মুসলিম দেশ দীর্ঘকাল ক্রুসেডার উপনিবেশবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিল এবং তারা এখনও তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাদের ওপর নির্ভরশীল। তারা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও মহত্ত্বের দৃষ্টিতে তাকায় এবং অবচেতনভাবে, এমনকি সজ্ঞানেও তাদের অনুকরণে প্রবৃত্ত হয় এবং তাদের মতামতের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে কর্ণপাত করে।

এই সবকিছুই আমাদের মাঝে পশ্চিমা গ্রন্থসমূহ এবং তাদের চিন্তাধারা ছড়িয়ে পড়ার পথ সুগম করে দেয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—

নিশ্চয়ই সীরাতে নববী এবং আরব ইতিহাসের গ্রন্থসমূহের রচনাশৈলী ইসলামি সংস্কৃতির নবীন শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নিকট এখনও বেশ জটিল, ফলে খুব কম লোককেই দেখা যায় যারা সীরাতগ্রন্থের মূল উৎসের দিকে ফিরে যায়...
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ابن هشام، أو السيرة الحلبية، أو نهاية الأرب، أو طبقات ابن سعد. . . بله تاريخ الطبري، والذهبي، وابن الأثير ونحوها. فربما وجدوا قراءة ما كتب المستشرقون أيسر وأجدى.

وهناك كتب كثيرة عن السيرة النبوية العطرة أخرجها كتاب معاصرون.

ولكن كثيرا من الكتب قد اهتم مؤلفوها بسرد حوادث السيرة، وتبسيطها، وقليلا منهم تعرض في مواقف قصيرة لآراء المستشرقين.

وأشهر الكتب التي أخرجت في العصر الحاضر عن السيرة النبوية هو كتاب " حياة محمد " للدكتور محمد حسين هيكل.

وقد عرض فيه لآراء المستشرقين أو لبعض آرائهم بوجه عام وخص بالذكر والأهمية اميل درمنجم المستشرق الفرنسي.

وقد يفهم من كلام الدكتور هيكل أن اميل درمنجم مسالم للإسلام.

خطورة الغزو الفكري:

إذن فقد عمت الترجمات، وشاع بين أبناء الإسلام ما كنا نحذر أن يشيع وإن دل هذا على شيء فإنما يدل على مؤشر خطير في الغزو الفكري عن فريق الاستشراق " البحث العلمي "، وعن طريق التبشير (الدعوة الدينية، استشرى مما ضايق الغيورين على الإسلام. فتعاونوا على دفع هذا الهجوم ودحض الافتراءات عن الإسلام ولكنهم قليل مضطهدون.

نصيحة مهتد للإسلام إلى بني قومه:

وإنه لمن الخير أن نقدم ما كتبه المسلم الفرنسي " ناصر الدين " في كتابه القيم (الشرق كما يراه الغرب) حيث قال: لقد أصاب الدكتور " سنوك هرغرنجه " في قوله: " إن سيرة محمد الحديثة تدل على أن البحوث التاريخية

ইবনে হিশাম, আস-সিরাত আল-হালাবিয়্যাহ, নিহায়াতুল আরাব কিংবা তাবাকাত ইবনে সাদ... এমনকি তারিখে তাবারী, আয-যাহাবী, ইবনুল আসীর ও তৎসদৃশ গ্রন্থসমূহ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও অনেকে হয়তো প্রাচ্যবিদদের রচিত সাহিত্য পাঠ করাকে অধিকতর সহজ ও ফলপ্রসূ মনে করেন।

সমসাময়িক লেখকদের কলমে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুগন্ধিময় সীরাত বা জীবনী নিয়ে রচিত আরও অনেক কিতাব প্রকাশিত হয়েছে।

তবে অনেক লেখকই সীরাতের ঘটনাবলী বর্ণনা ও তা সহজবোধ্য করার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে খুব কম সংখ্যকই সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রাচ্যবিদদের মতামতের বিচার-বিশ্লেষণ করেছেন।

বর্তমান যুগে সীরাতুন্নবী সম্পর্কে প্রকাশিত কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো ড. মুহাম্মদ হুসাইন হাইকাল রচিত "হায়াতে মুহাম্মদ" নামক গ্রন্থটি।

তিনি এতে প্রাচ্যবিদদের চিন্তাধারা বা সাধারণভাবে তাদের কতিপয় অভিমত তুলে ধরেছেন এবং ফরাসি প্রাচ্যবিদ এমিল ডারমেনগেমের নাম ও গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

ড. হাইকালের বক্তব্য থেকে এমনটা অনুধাবন করা যেতে পারে যে, এমিল ডারমেনগেম ইসলামের প্রতি সহনশীল ছিলেন।

বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ভয়াবহতা:

ফলশ্রুতিতে অনুবাদসমূহ ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মুসলিম সন্তানদের মাঝে এমন সব বিষয় প্রচারিত হয়েছে যা থেকে আমরা সতর্ক করে আসছিলাম। এটি যদি কোনো কিছুর ইঙ্গিত বহন করে, তবে তা প্রাচ্যতত্ত্ব বা "বৈজ্ঞানিক গবেষণা" নামক দল এবং মিশনারি তৎপরতার (ধর্মীয় প্রচারণা) মাধ্যমে পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের এক বিপজ্জনক সংকেত, যা প্রকট আকার ধারণ করে ইসলামের একনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষীদের ব্যথিত করেছে। ফলে তাঁরা এই আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অপবাদসমূহ খণ্ডন করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন; যদিও তাঁদের সংখ্যা অতি নগণ্য এবং তাঁরা নিগৃহীত।

স্বজাতির প্রতি একজন ইসলাম গ্রহণকারীর উপদেশ:

ফরাসি মুসলিম "নাসিরুদ্দিন" তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ "পাশ্চাত্যের দৃষ্টিতে প্রাচ্য"-এ যা লিখেছেন তা উপস্থাপন করা অত্যন্ত কল্যাণকর হবে; সেখানে তিনি বলেছেন: ড. "স্নুক হুরগ্রোনজে" তাঁর এই বক্তব্যে সঠিক ছিলেন যে: "মুহাম্মদের আধুনিক জীবনী নির্দেশ করে যে, ঐতিহাসিক গবেষণাসমূহ..."

(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
مقضي عليها بالعقم إذا سخرت لأية نظرية أو رأي سابق ".

وهذه حقيقة يجمل بمستشرقي وبمبشري العصر جميعا أن يضعوها نصب أعينهم، فإنها تشفيهم من داء الأحكام السابقة التي تكلفهم من الجهود ما يجاوز حد الطاقة فيصلون إلى نتائج لا شك خاطئة، فقد يحتاجون في تأييد رأي من الآراء إلى هدم بعض الأخبار وليس هذا بالأمر الهين، ثم إلى بناء أخبار تقوم مقام ما هدموا، وهذا أمر لا ريب مستحيل.

الرجوع إلى الحق فضيلة:

يحتاج المستشرق والمبشر في القرن العشرين إلى معرفة كثير من العوامل الجوهرية، كالزمن والبيئة، والإقليم، والعادات، والحاجات والمطامح والميول والأحقاد. . إلخ. . لا سيما إدراك تلك القوى الباطنة التي لا تقع تحت مقاييس العقول والتي يعمل بتأثيرها الأفراد والجماعات.

وفي نهاية الكتاب الذي ألفه ناصر الدين عن الرسول محمد صلى الله عليه وسلم قال عن:

وثبة الإسلام:

قال ش. شرفيس في كتابه " بونابرت والإسلام ". . (عندما رفع الله إليه مؤسس الإسلام العبقري كان هذا الدين القويم قد تم تنظيمه نهائيا، وبكل دقة، حتى في أقل تفاصيله شأنا. . .

وكانت جنود الله قد أخضعت بلاد العرب كلها، وبدأت في مهاجمة امبراطورية القياصرة الضخمة بالشام.

وقد أثار القلق الطبيعي المؤقت، عقب موت القائد الملهم بعض الفتن العارضة، إلا أن الإسلام كان قد بلغ من تماسك بنائه، ومن حرارة إيمان أهله، ما جعله يبهر العالم بوثبته الهائلة التي لا نظن أن لها في سجلات التاريخ مثيلا.
এটি বন্ধ্যাত্বের শিকার হতে বাধ্য যদি একে কোনো পূর্বনির্ধারিত তত্ত্ব বা মতাদর্শের অধীন করা হয়।

এটি এমন এক সত্য যা বর্তমান যুগের সকল প্রাচ্যবিদ এবং ধর্মপ্রচারকদের জন্য চোখের সামনে রাখা বাঞ্ছনীয়। কারণ, এটি তাদের সেই পূর্বধারণা বা পক্ষপাতদুষ্ট বিচারের ব্যাধি থেকে মুক্তি দেবে, যা তাদের সাধ্যাতীত পরিশ্রম করতে বাধ্য করে এবং যার ফলে তারা নিঃসন্দেহে ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হন। কোনো একটি মতকে সমর্থন করতে গিয়ে তাদের হয়তো কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা ধ্বংস করার প্রয়োজন পড়ে, যা মোটেও সহজ কাজ নয়। এরপর তারা যা ধ্বংস করেছেন তার স্থলাভিষিক্ত করার জন্য নতুন তথ্য বা সংবাদ তৈরির প্রয়োজন পড়ে, আর এটি নিঃসন্দেহে একটি অসম্ভব ব্যাপার।

সত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন একটি মহৎ গুণ:

বিংশ শতাব্দীর প্রাচ্যবিদ ও ধর্মপ্রচারকদের জন্য কাল, পরিবেশ, অঞ্চল, প্রথা, প্রয়োজন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রবণতা এবং বিদ্বেষের মতো অনেক মৌলিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক। বিশেষ করে সেই সব অন্তর্নিহিত শক্তিকে অনুধাবন করা জরুরি যা বুদ্ধিবৃত্তিক মাপকাঠির ঊর্ধ্বে এবং যার প্রভাবে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীসমূহ পরিচালিত হয়।

মহানবী মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে নাসিরুদ্দিন রচিত গ্রন্থের শেষে তিনি নিম্নোক্ত বিষয়ে বলেছেন:

ইসলামের উত্থান:

শ. শারভিস তার 'বোনাপার্ট ও ইসলাম' গ্রন্থে বলেছেন: (আল্লাহ যখন ইসলামের সেই মহাপ্রতিভাবান প্রতিষ্ঠাতাকে নিজের কাছে তুলে নিলেন, ততক্ষণে এই সুদৃঢ় ধর্মটি চূড়ান্তভাবে এবং অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে সুসংগঠিত হয়ে গিয়েছিল, এমনকি এর তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও...

তখন আল্লাহর বাহিনী সমগ্র আরব ভূখণ্ডকে অনুগত করে ফেলেছিল এবং শামে সিজারদের বিশাল সাম্রাজ্যের ওপর আক্রমণ শুরু করেছিল।

সেই অনুপ্রেরণাদায়ী নেতার ওফাতের পর সাময়িক ও স্বাভাবিক উদ্বেগের ফলে কিছু আকস্মিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, কিন্তু ইসলামের গাঠনিক সুদৃঢ়তা এবং এর অনুসারীদের ঈমানের তেজ তখন এমন পর্যায়ে ছিল যে, এটি তার অভাবনীয় উত্থানের মাধ্যমে বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। আমাদের মনে হয় না যে, ইতিহাসের পাতায় এর কোনো দ্বিতীয় নজির আছে।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ففي أقل من مائة عام، ورغم قلة عددهم، استطاع العرب الأمجاد، وقد اندفعوا- لأول مرة في تاريخهم- خارج حدود جزيرتهم المحرومة من مواهب النعم أن يستولوا على أغلب بقاع العالم المتحضر القديم، من الهند إلى الأندلس ".

وقد شغلت -في قوة- هذه القصة المجيدة تفكير أعظم عباقرة عصرنا هذا- أعنى نابليون بونابرت - الذي كان ينظر دائما إلى الإسلام باهتمام ومودة، فيقول عن نفسه في إحدى خطبه المشهورة بمصر، أنه " مسلم موحد ".

وقال لاس كازاس في كتابه " مذكرات سانت هيلين "، ج3، صفحة 183:

" ويذكر الإسلام في أواخر أيامه، فيرى أننا إذا طرحنا جانبا الظروف العرضية التي تأتي بالعجائب، فلا بد أن يكون في نشأة الإسلام سر لا نعلمه، وأن هناك علة أولى مجهولة، جعلت الإسلام ينتصر بشكل عجيب على النصرانية، وربما كانت هذه العلة المجهولة أن هؤلاء القوم، الذين وثبوا فجأة من أعماق الصحارى قد صهرتهم -قبل ذلك- حروب داخلية عنيفة طويلة، تكونت خلالها أخلاق قوية، ومواهب عبقرية، وحماس لا يقهر أو ريما كانت هذه العلة شيئا آخر من هذا القبيل ".

ومن هذا المنطلق كان لقاؤنا بالخرطوم في الفترة من 23 / 1 / 1401هـ، إلى 29 / 1 / 1401هـ، الموافق 1 / 12 / 1980، إلى 7 / 12 / 1980م، مع قادة الفكر النصراني وقادة الفكر الإسلامي وكان رجاؤنا أن يعي كل من المسلمين والمسيحيين على السواء هذه العبر ليضعوا المستشرقين والمبشرين في مكانهم الطبيعي وحجمهم الطبيعي.

وإزاء هذا لا ينبغي أن نتجاهل التيارات المعادية للإسلام ومن ورائها الغزو الفكري الصليبي والصهيوني والشيوعي تحت ستار الحضارة الحديثة الذي
একশ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, সংখ্যায় অল্প হওয়া সত্ত্বেও, মহিমান্বিত আরবরা তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নেয়ামতবঞ্চিত তাদের উপদ্বীপের সীমানা ছাড়িয়ে বেরিয়ে এসে প্রাচীন সভ্য বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল—ভারত থেকে আন্দালুস পর্যন্ত—দখল করতে সক্ষম হয়।

এই গৌরবময় ইতিহাস আমাদের বর্তমান যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মেধাবী ব্যক্তিত্ব—অর্থাৎ নেপোলিয়ন বোনাপার্টকে—প্রবলভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। তিনি ইসলামের প্রতি সর্বদা গুরুত্ব ও মমত্ববোধের সাথে দৃষ্টিপাত করতেন এবং মিশরে প্রদত্ত তাঁর এক বিখ্যাত ভাষণে নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন যে, তিনি একজন "একত্ববাদী মুসলিম"।

লাস কাসাস তাঁর "সেন্ট হেলেনার স্মৃতিচারণ" গ্রন্থের ৩য় খণ্ড, ১৮৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন:

"তিনি তাঁর শেষ দিনগুলোতে ইসলামের কথা স্মরণ করতেন। তিনি মনে করতেন যে, বিস্ময়কর ঘটনাবলি সৃষ্টিকারী বাহ্যিক পরিস্থিতিগুলোকে যদি আমরা বাদ দেই, তবে ইসলামের উত্থানের পেছনে অবশ্যই এমন কোনো রহস্য রয়েছে যা আমাদের অজানা। সেখানে কোনো এক অজ্ঞাত আদি কারণ বিদ্যমান, যা খ্রিস্টধর্মের ওপর ইসলামকে এক বিস্ময়কর বিজয় এনে দিয়েছিল। সম্ভবত সেই অজ্ঞাত কারণটি ছিল এই যে, মরুভূমির গভীর থেকে হঠাৎ জেগে ওঠা এই জাতিটি এর আগে দীর্ঘ ও ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের শাণিত করেছিল। সেই সংঘাতের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে সুদৃঢ় নৈতিকতা, অসাধারণ প্রতিভা এবং এক অজেয় উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল; অথবা হয়তো সেই কারণটি এই জাতীয় অন্য কিছু ছিল।"

এই প্রেক্ষাপট থেকেই ২৩/০১/১৪০১ হিজরি থেকে ২৯/০১/১৪০১ হিজরি, মোতাবেক ০১/১২/১৯৮০ থেকে ০৭/১২/১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খার্তুমে খ্রিস্টান ও মুসলিম চিন্তানায়কদের সাথে আমাদের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে, মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় পক্ষই সমানভাবে এই শিক্ষাগুলো উপলব্ধি করবে, যাতে তারা প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিদের তাদের প্রকৃত অবস্থান ও যথোচিত সীমার মধ্যে রাখতে পারে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে, ইসলামবিরোধী সেই নেতিবাচক স্রোতধারাগুলোকে আমাদের উপেক্ষা করা উচিত নয়, যার পেছনে আধুনিক সভ্যতার ছদ্মবেশে ক্রুসেডার, জায়নবাদী এবং সাম্যবাদী বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন সক্রিয় রয়েছে, যা...
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
يتسرب إلينا من خلال حملاتهم الإعلامية والدعائية المشبوهة. إن الواجب المقدس يحتم علينا- ونحن أعلم بحقائق ديننا- أن ندفع شبهات هؤلاء القوم وأن نبين وجه انحرافهم، وسبب هجومهم على الإسلام.

والحوار هو أحد الأساليب الناجحة لتنقية الرسالات السابقة من الشوائب في ضوء القرآن الكريم والسنة المطهرة.

‌‌[أعلام الفكر الإسلامي المشاركون في هذا اللقاء الكبير]

ولقد شارك في هذا اللقاء الكبير الخطير ثلاثة من أعلام الفكر الإسلامي- هم:

أولا:‌‌ الدكتور محمد جميل غازي، الذي قام بإدارة الحوار والمشاركة فيه.

- من مواليد يناير 1936- بكفر الجرايدة - كفر الشيخ.

- عالمية الأزهر الشريف من كلية اللغة العربية.

- دكتوراه في النقد الأدبي.

- رئيس المركز الإسلامي العام لدعاة التوحيد والسنة بالقاهرة.

- نائب الرئيس العام لجماعة أنصار السنة المحمدية.

- له كتابات في التفسير وعلوم الدين، مثل:

- من مفردات القرآن: 3 أجزاء.

- أصدق الحديث (في التفسير أيضا) صدرت منه بعض أجزاء.

- الصوفية الوجه الآخر.

- دموع قديمة.

- أسماء القرآن في القرآن - وغيرها.

- وله أعمال كثيرة في تحقيق التراث، وبخاصة تراث ابن تيمية وابن القيم.

- وقد حصل على الدكتوراه في تحقيقه لكتاب: (الأوائل لأبي هلال العسكري) .
তাদের সন্দেহজনক মিডিয়া ও প্রচার অভিযানের মাধ্যমে তা আমাদের মাঝে অনুপ্রবেশ করছে। পবিত্র দায়িত্ব আমাদের ওপর এটি আবশ্যক করে—যেহেতু আমরা আমাদের দ্বীনের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে সম্যক অবগত—যেন আমরা এই লোকদের সংশয়সমূহ প্রতিহত করি এবং তাদের বিচ্যুতি ও ইসলামের ওপর তাদের আক্রমণের কারণ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করি।

আল-কুরআনুল কারীম এবং সুন্নাতে মুতাহহারাহর আলোকে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহকে আবিলতা থেকে মুক্ত করার জন্য সংলাপ একটি সফল পদ্ধতি।

‌‌[এই মহতী সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ইসলামী চিন্তাধারার বরেণ্য ব্যক্তিত্বগণ]

এই গুরুত্বপূর্ণ ও মহতী সম্মেলনে ইসলামী চিন্তাধারার তিনজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অংশগ্রহণ করেছেন—তাঁরা হলেন:

প্রথমত:‌‌ ডক্টর মুহাম্মদ জামিল গাজী, যিনি এই সংলাপ পরিচালনা ও এতে অংশগ্রহণ করেছেন।

- জন্ম: জানুয়ারি ১৯৩৬; কাফরুল জারাইদাহ, কাফরুশ শাইখ।

- আল-আযহার আশ-শরীফের অ্যারাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ ফ্যাকাল্টি থেকে 'আলামিয়্যাহ' ডিগ্রি প্রাপ্ত।

- সাহিত্য সমালোচনায় পিএইচডি।

- কায়রোস্থ 'মারকাযুল ইসলামী আল-আম লি-দুআতিত তাওহীদ ওয়াস সুন্নাহ'র সভাপতি।

- 'জামায়াতে আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়া'র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি।

- তাফসীর ও উলূমুল দীন বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু রচনা রয়েছে, যেমন:

- মিন মুফরাদাতিল কুরআন: ৩ খণ্ড।

- আসদাকুল হাদীস (এটিও তাফসীর বিষয়ক), যার কিছু খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে।

- আস-সুফিয়্যাহ: আল-ওয়াজহুল আখার (সুফিবাদ: অন্য পিঠ)।

- দুমুউ কাদীমাহ (পুরানো অশ্রু)।

- আসমাউল কুরআন ফিল কুরআন - এবং অন্যান্য।

- ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় (তাহকীকুত তুরাছ) তাঁর অনেক কাজ রয়েছে, বিশেষ করে ইবনে তাইমিয়া ও ইবনুল কাইয়িমের রচনাবলীর ওপর।

- তিনি আবু হিলাল আল-আসকারীর 'আল-আওয়াইল' গ্রন্থটি সম্পাদনা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
- له نشاطه في الدعوة الإسلامية- عن طريق المحاضرات والندوات والمناقشات- في مصر وغيرها من بلاد العالم الإسلامي.

ثانيا:‌‌ الأستاذ إبراهيم خليل أحمد. نشأ نشأة مسيحية. ولد بمدينة الإسكندرية في 13 يناير عام 1919 م، واسمه إبراهيم خليل فيلبس، تدرج في مدارج العلم بمعاهد الإرسالية الأمريكية وحصل على دبلوم كلية أسيوط الثانوية عام 1942 م، وهو معادل للتوجيهية، ثم حصل على دبلوم كلية اللاهوت الإنجيلية بالقاهرة عام 1948 م، وعين قسا راعيا بكنيسة بافور الإنجيلية / محافظة أسيوط، وفي عام 1952 م، انتدب بالإضافة إلى عمله بالكنيسة قسا بكلية اللاهوت الإنجيلية الكندية بأسيوط، ثم رقي إلى قسيس مبشر بالإرسالية السويسرية الألمانية بأسوان. وشغل مراكز: عضو مجمع مشيخة أسيوط، وعضو سنودس النيل، وزميل للمرسلين الأمريكيين وضالع في المخطط التبشيري بين المسلمين مع المراسلين الأمريكيين والأوروبيين.

والأستاذ إبراهيم خليل أحمد لم يكن من رجال الأكليروس يتزيا بزي كهنوتي، بل كان يلبس الزي الإفرنجي المألوف الذي تسمح به طبيعة عمله بين المسلمين، فينجح ويأتي بثمار تبشيره.

لكن الله جلت حكمته ألقى به بين يدي قوله تعالى {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ} ، فثاب إلى رشده وأخذ في دراسة مقارنة من عام 1955 م، حتى 25 ديسمبر عام 1959 م، حتى أتاه اليقين فأعلن إسلامه وجاهد في سبيل الله، وله مؤلفات متداولة منها:

- محمد صلى الله عليه وسلم في التوراة والإنجيل والقرآن.

- المستشرقون والمبشرون في العالم العربي والإسلامي.
মিশর এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশে বক্তৃতা, সেমিনার এবং আলোচনার মাধ্যমে তার ইসলামি দাওয়া কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল।

দ্বিতীয়ত:‌‌ উস্তাদ ইবরাহিম খলিল আহমদ। তিনি খ্রিস্টীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জানুয়ারি আলেকজান্দ্রিয়া শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং তার নাম ছিল ইবরাহিম খলিল ফিলিপস। তিনি আমেরিকান মিশনারি ইনস্টিটিউটগুলোতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে আসিউত মাধ্যমিক কলেজ থেকে ডিপ্লোমা অর্জন করেন, যা উচ্চমাধ্যমিকের সমমান। এরপর ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে কায়রোর ইভানজেলিকাল থিওলজিক্যাল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা লাভ করেন। তিনি আসিউত প্রদেশের বাফুর ইভানজেলিকাল চার্চের একজন যাজক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে গির্জার দায়িত্বের পাশাপাশি আসিউতের কানাডিয়ান ইভানজেলিকাল থিওলজিক্যাল কলেজে যাজক হিসেবে নিয়োজিত হন। পরবর্তীতে তিনি আসওয়ানে সুইস-জার্মান মিশনারি সংস্থায় একজন ধর্মপ্রচারক যাজক হিসেবে পদোন্নতি পান। তিনি আসিউত প্রেসবাইটারি কাউন্সিলের সদস্য, সিনোড অব দ্য নাইল-এর সদস্য এবং আমেরিকান মিশনারিদের সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আমেরিকান ও ইউরোপীয় মিশনারিদের সাথে মুসলমানদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুপরিকল্পিত অভিযানে গভীরভাবে লিপ্ত ছিলেন।

উস্তাদ ইবরাহিম খলিল আহমদ গির্জার যাজকদের মতো প্রথাগত যাজকীয় পোশাক পরিধান করতেন না; বরং তিনি সাধারণ পশ্চিমা পোশাক পরতেন, যা মুসলমানদের মধ্যে তার কাজের প্রকৃতির জন্য উপযোগী ছিল। এর ফলে তিনি সফল হতেন এবং তার প্রচার কার্যক্রমের সুফল লাভ করতেন।

কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁর সুগভীর প্রজ্ঞায় তাঁকে তাঁর এই বাণীর সম্মুখীন করেন: "যারা অনুসরণ করে সেই রসূলের, যিনি উম্মি (নিরক্ষর) নবী, যাঁর কথা তারা তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়।" এর ফলে তিনি সত্যের দিশা খুঁজে পান এবং ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে নিমগ্ন থাকেন। পরিশেষে যখন তাঁর নিকট সত্য নিশ্চিতভাবে উদ্ভাসিত হলো, তখন তিনি ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিলেন এবং আল্লাহর পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা শুরু করলেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:

- তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।

- আরব ও মুসলিম বিশ্বে প্রাচ্যবিদ ও মিশনারিগণ।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
- إسرائيل فتنة الأجيال " العصور القديمة ".

- إسرائيل فتنة الأجيال " العصور الحديثة ".

- إسرائيل والتلمود " دراسة تحليلية ".

- الاستشراق والتبشير وصلتهما بالإمبريالية العالمية.

- هذا إلى جانب مؤلفات أخرى تحت الطبع، وهي:

- يسوع المسيح كلمة الله.

- العلم يهدي إلى الإيمان.

- مواجهة الإسلام لتحديات الاستشراق والتبشير.

- مواجهة الإسلام للتحدي الحضاري الحديث الفكري.

- آيات الله تتجلى في عصر العلم.

- حدود الله: التوارة والإنجيل والقرآن.

- الإسلام في التوراة والإنجيل والقرآن.

- المسيح في التوراة والإنجيل والقرآن.

فقبل الله عمله ونفع به أمة محمد صلى الله عليه وسلم.

وأما الرجل الثالث: فهو السيد‌‌ اللواء مهندس أحمد عبد الوهاب علي.

- ولد في مدينة فاقوس - محافظة الشرقية في أول يونيو (حزيران) عام 1930 م.

- حصل على بكالوريوس هندسة كهربائية، شعبة الاتصالات من جامعة القاهرة عام 1954 م.

- التحق بالقوات المسلحة وتدرج في مختلف الرتب حتى رتبة اللواء.

- شغل بمقارنة الأديان منذ أكثر من 25 عاما.
- ইসরায়েল: প্রজন্মের ফিতনা "প্রাচীন যুগ"।

- ইসরায়েল: প্রজন্মের ফিতনা "আধুনিক যুগ"।

- ইসরায়েল ও তালমুদ "একটি বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন"।

- প্রাচ্যতত্ত্ব ও মিশনারি কার্যক্রম এবং বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদের সাথে তাদের সম্পর্ক।

- এর পাশাপাশি অন্যান্য গ্রন্থসমূহ বর্তমানে মুদ্রণাধীন রয়েছে, সেগুলো হলো:

- ঈসা মসীহ আল্লাহর বাণী।

- বিজ্ঞান ঈমানের পথে পরিচালিত করে।

- প্রাচ্যতত্ত্ব ও মিশনারি কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলাম।

- আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও তামাদ্দুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসলাম।

- বিজ্ঞানের যুগে আল্লাহর নিদর্শনাদি উদ্ভাসিত।

- আল্লাহর বিধানসমূহ: তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআন।

- তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে ইসলাম।

- তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে মসীহ।

আল্লাহ তাঁর কর্ম কবুল করুন এবং এর মাধ্যমে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতকে উপকৃত করুন।

আর তৃতীয় ব্যক্তি হলেন: জনাব‌‌ মেজর জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আহমদ আব্দুল ওয়াহহাব আলী।

- ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১লা জুন শারকিয়া প্রদেশের ফাকুস শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (যোগাযোগ বিভাগ) বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

- তিনি সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দেন এবং বিভিন্ন পদমর্যাদা অতিক্রম করে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হন।

- তিনি ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত আছেন।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وهذه هي مؤلفات سيادته:

أولا: سلسلة دراسة في الأديان:

- الوحي والملائكة في اليهودية والمسيحية والإسلام.

- النبوة والأنبياء في اليهودية والمسيحية والإسلام.

- المسيح: في مصادر العقائد المسيحية.

ثانيا: دراسات أخرى:

- العلوم الذرية الحديثة في التراث الإسلامي.

- إعجاز النظام القرآني.

- حقيقة التبشير بين الماضي والحاضر.

لقد بدأ اللقاء بإخلاص وحب ورغبة أكيدة في الوصول إلى الهدى والرشاد. . وانتهى- بإحقاق ما هو حق، وإبطال ما هو باطل. . .! لقد آمن جميع المسيحيون المناظرون، ودخلوا في دين الله عن إيمان وإذعان. . .!

وقال قائلهم- كلمة عمر رضي الله عنه: والله لا يبقى مجلس جلست فيه بالكفر إلا جلست فيه بالإيمان. . .!

ثم استمروا في طريقهم. . يؤدون دورهم في الدعوة إلى الله،. . . فبلغ حتى الآن عدد الذين أسلموا بإسلامهم خمسمائة!! .

وما زالت الوفود تتوالى. . .

وصدق الله العظيم إذ يقول: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ} . (1) .

وإذ يقول: {وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا} . (2) .

--------------------------------------------

(1) سورة التوبة، آية 23 - الصف، آية 9.

(2) سورة الإسراء، آية 81.
এগুলো তাঁর সম্মানীয় গ্রন্থসমূহ:

প্রথমত: ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক অধ্যয়ন ধারাবাহিক:

- ইহুদিধর্ম, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামে ওহী (প্রত্যাদেশ) এবং ফেরেশতাকুল।

- ইহুদিধর্ম, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামে নবুওয়াত এবং নবীগণ।

- মসীহ: খ্রিস্টীয় আকিদাহর উৎসসমূহে।

দ্বিতীয়ত: অন্যান্য গবেষণাকর্ম:

- ইসলামি ঐতিহ্যে আধুনিক আণবিক বিজ্ঞান।

- কুরআনিক ব্যবস্থার অলৌকিকত্ব।

- অতীত ও বর্তমানের প্রেক্ষাপটে খ্রিস্টীয় মিশনারি তৎপরতার প্রকৃত রূপ।

এই সাক্ষাৎ বা বৈঠকটি শুরু হয়েছিল অত্যন্ত আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং সঠিক পথ ও হিদায়াত লাভের এক দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। আর এর সমাপ্তি ঘটে যা সত্য তাকে প্রতিষ্ঠিত করার এবং যা মিথ্যা তাকে বাতিল করার মাধ্যমে...! বিতর্কে অংশগ্রহণকারী সকল খ্রিস্টানই ঈমান আনয়ন করেন এবং পূর্ণ বিশ্বাস ও আনুগত্যের সাথে আল্লাহর দ্বীনে দাখিল হন...!

তাদের মধ্যে একজন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই প্রখ্যাত উক্তিটি উচ্চারণ করেন: আল্লাহর কসম! আমি কুফরি অবস্থায় যে সকল মজলিসে বসেছি, ঈমানসহকারেও সে সকল মজলিসে অবশ্যই বসব...!

অতঃপর তারা তাদের পথে এগিয়ে চলেন। আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে তারা তাদের ভূমিকা পালন করতে থাকেন। ফলে এখন পর্যন্ত তাদের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণকারীদের সংখ্যা পাঁচশতে পৌঁছেছে!!

আর এখনও প্রতিনিধি দলগুলোর আগমন অব্যাহত রয়েছে...

এবং মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন।}। (১)।

এবং তিনি আরও বলেন: {এবং আপনি বলুন: সত্য সমাগত এবং মিথ্যা অপসৃত হয়েছে; নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়।}। (২)।

--------------------------------------------

(১) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ২৩ - আস-সাফ, আয়াত ৯।

(২) সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৮১।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌كلمات الافتتاح للمشاركين

‌‌كلمة فضيلة الشيخ: طاهر أحمد طالبي الملحق الديني بسفارة المملكة العربية السعودية بالخرطوم.

كلمة فضيلة الشيخ: عوض الله صالح رئيس هيئة إحياء النشاط الإسلامي بالسودان.

كلمة تمهيدية للأستاذ: الدكتور محمد جميل غازي.

كلمات القس: جيمس بخيت، والسيد: تيخا رمضان.

كلمة افتتاحية للأستاذ الدكتور: محمد جميل غازي.
অংশগ্রহণকারীদের উদ্বোধনী ভাষণসমূহ

‌শ্রদ্ধেয় শায়খ তাহের আহমদ তালিবী-এর ভাষণ খার্তুমস্থ সৌদি আরব কিংডমের দূতাবাসের ধর্মীয় এটাশে।

সুদানের ইসলামি কর্মকাণ্ড পুনর্জাগরণ সংস্থার সভাপতি শ্রদ্ধেয় শায়খ আওয়াদুল্লাহ সলিহ-এর ভাষণ।

প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ জামিল গাজী-এর প্রারম্ভিক ভাষণ।

যাজক জেমস বাখিত এবং জনাব টিখা রমজানের ভাষণসমূহ।

প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ জামিল গাজী-এর উদ্বোধনী ভাষণ।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
كلمة الشيخ: طاهر أحمد طالبي

الملحق الديني بسفارة المملكة العربية السعودية بالخرطوم

بسم الله الرحمن الرحيم. وبحمده نستفتح، وصلاة وسلاما على خيرته من خلقه محمد صلى الله عليه وعلى آله وصحبه ومن دعا بدعوته واهتدى بهداه إلى يوم الدين وبعد:

إخوتي الأفاضل، مستمعين الأعزاء، إنه ليسعدني ويسعدكم أيضا مثل هذا اللقاء الإسلامي- النصراني الذي تم بناء على طلب مقدم من القس: جيمس بخيت سليمان، موجه لرئيس وأعضاء هيئة إحياء النشاط الإسلامي بالسودان وللملحق الديني بسفارة المملكة العربية السعودية بالخرطوم أيضا. وإنه ليسعدنا جميعا أن يكون مثل هذا اللقاء على الإخاء والمحبة لنعرف الحقيقة ولنعرف الحق من الباطل. والله نسأل أن يوفقنا للحق أينما كان، وحيثما كان، وأن يرزقنا اتباعه، كما نرجو أن تتكور مثل هذه اللقاءات في كل مكان وفي كل زمان، كما نرجو أن تثمر ويكون لها أثر ففال حتى يهدينا الله إلى طريق الحق والخير والسلام.

وبعد: فإنه ليسرني ويسركم أن يفتتح هذا اللقاء الأستاذ الفاضل والشيخ الكبير: عوض الله صالح الرئيس العام لهيئة إحياء النشاط الإسلامي في السودان، ومفتي جمهورية السودان سابقا، والعضو الحالي والمشارك في رابطة العالم الإسلامي في مكة المكرمة، فليتفضل جزاه الله خيرا عن الإسلام.
শায়খ তাহের আহমদ তালিবীর ভাষণ

খার্তুমস্থ সৌদি আরব দূতাবাসের ধর্মীয় উপদেষ্টা

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমরা তাঁর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করছি এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কিরাম ও কিয়ামত পর্যন্ত যাঁরা তাঁর দাওয়াত প্রচার করবেন ও তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর। অতপর:

আমার সম্মানিত ভ্রাতৃবৃন্দ ও প্রিয় শ্রোতাগণ! পাদ্রী জেমস বাখিত সুলাইমানের পক্ষ থেকে প্রেরিত একটি আবেদনের ভিত্তিতে আয়োজিত ইসলামি-খ্রিস্টীয় এই সম্মেলনে উপস্থিত হতে পেরে আমি এবং আপনারা সকলেই অত্যন্ত আনন্দিত। এই আবেদনটি সুদানের 'ইসলামি জাগরণ সংস্থা'র (হায়আতু ইহইয়াইন নাশতিল ইসলামি) সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ এবং খার্তুমস্থ সৌদি আরব দূতাবাসের ধর্মীয় উপদেষ্টার নিকট পেশ করা হয়েছিল। সত্য অন্বেষণ এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণের উদ্দেশ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার পরিবেশে এমন একটি সভার আয়োজন আমাদের সকলের জন্যই অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন সত্য যেখানেই থাকুক না কেন তা গ্রহণ করার তাওফিক আমাদের দান করেন এবং সত্যের অনুসরণের সৌভাগ্য নসিব করেন। আমরা আরও আশা করি যে, এই ধরনের সম্মেলন যেন সব স্থানে ও সব সময়ে অব্যাহত থাকে এবং এটি যেন ফলপ্রসূ ও কার্যকর হয়, যাতে আল্লাহ তাআলা আমাদের সত্য, কল্যাণ ও শান্তির পথে পরিচালিত করেন।

অতপর: আমি এবং আপনারা অত্যন্ত আনন্দিত যে, এই সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করছেন বিশিষ্ট পণ্ডিত ও প্রবীণ শায়খ আওয়াদুল্লাহ সালেহ—যিনি সুদানের ইসলামি জাগরণ সংস্থার মহাপরিচালক, সুদান প্রজাতন্ত্রের সাবেক মুফতি এবং মক্কা মুকাররামায় অবস্থিত 'রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামি'র (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ) বর্তমান সদস্য ও অংশগ্রহণকারী। ইসলামের পক্ষ থেকে আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন; এখন তাঁকে বক্তব্য প্রদানের জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌كلمة فضيلة الشيخ: عوض الله صالح

رئيس هيئة إحياء النشاط الإسلامي بالسودان

بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى جميع إخوانه من الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم أجمعين.

أما بعد: فإني سعيد بهذا اللقاء وأرحب بكم في هذه الدار نيابة عن الإخوة أعضاء هيئة إحياء النشاط الإسلامي.

ولقد حضرت قبل خمس سنوات حوارا يشبه هذه المناظرة في طرابلس بليبيا، ولقد كان أول ما يلاحظ على تلك الندوة أنها بعدت عن كل كلمة نابية، بل لم يذكر نبي من قبل المسلمين غير محمد صلوات الله عليه وسلامه: إلا ذكر بكلمات تعظيم وتقدير، ولم يذكر من المسيحيين غير عيسى عليه السلام أي نبي: إلا وكانت تحف كل كلمة حوله مظاهر التبجيل والإكرام، ولقد كانت تلك الندوة بحق ندوة بحث عن حقيقة.

إن في العالم أخطاء كثيرة. . .

إن بعض أفهام خاطئة عن الإسلام شائعة. . . وينبغي أن تصحح باللقاءات الهادفة والمناقشات الهادئة، وان بعض الأخطاء والانحرافات موجودة في تصورات من ينتمون إلى الإسلام وسلوكهم. . .

والدارس المنصف يقرر أن الإسلام شيء والمنتمين إليه شيء آخر. . .

فالإسلام- ككل ملة ونحلة- إنما يراجع في نقوله المقررة والمتفق عليها. . .

وما يقال عن الإسلام يقال عن المسيحية التي كانت أبعد عهدا من الإسلام. .
শ্রদ্ধেয় শায়খ আওয়াদুল্লাহ সালেহ-এর বক্তব্য

সুদানের ইসলামি কর্মকাণ্ড পুনর্জাগরণ কর্তৃপক্ষের সভাপতি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর ভ্রাতৃবৃন্দ সকল নবীগণের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: আমি এই সাক্ষাতে অত্যন্ত আনন্দিত এবং ইসলামি কর্মকাণ্ড পুনর্জাগরণ কর্তৃপক্ষের সদস্যবৃন্দের পক্ষ থেকে আপনাদের এই আবাসে স্বাগত জানাচ্ছি।

আমি পাঁচ বছর পূর্বে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে এই বিতর্কের অনুরূপ একটি সংলাপে উপস্থিত হয়েছিলাম। সেই সেমিনারের প্রথম লক্ষণীয় বিষয় ছিল এই যে, তা সকল প্রকার কুরুচিপূর্ণ শব্দ থেকে মুক্ত ছিল; বরং মুসলমানদের পক্ষ থেকে মুহাম্মদ (সা.) ব্যতীত অন্য কোনো নবীর উল্লেখ করার সময় অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদাপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে এবং খ্রিষ্টানদের পক্ষ থেকেও ঈসা (আ.) ব্যতীত অন্য যে কোনো নবীর নাম নেওয়ার সময় অত্যন্ত ভক্তি ও সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেই সেমিনারটি ছিল সত্য অন্বেষণের একটি সার্থক আসর।

পৃথিবীতে অসংখ্য ভুল-ভ্রান্তি বিদ্যমান...

ইসলাম সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত রয়েছে... যা গঠনমূলক সাক্ষাৎ এবং শান্ত আলোচনার মাধ্যমে সংশোধন করা উচিত। এছাড়া ইসলামের অনুসারীদের চিন্তা ও আচরণে কিছু ভুল-ভ্রান্তি ও বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হয়...

একজন ইনসাফপ্রিয় গবেষক এই সিদ্ধান্তই দেবেন যে, ইসলাম একটি স্বতন্ত্র বিষয় এবং এর অনুসারীদের কর্মকাণ্ড ভিন্ন বিষয়...

কেননা ইসলামকে—অন্যান্য সকল ধর্মাদর্শের ন্যায়—তার প্রমাণিত এবং সর্বসম্মত শাস্ত্রীয় ভাষ্যের মাধ্যমেই মূল্যায়ন করতে হবে...

ইসলাম সম্পর্কে যা বলা হলো, তা খ্রিষ্টধর্মের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যা সময়ের পরিক্রমায় ইসলামের চেয়েও প্রাচীন...
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
والدراسة المنصفة والنية الخالصة والرغبة الأكيدة في الوصول إلى الصراط المستقيم. . كل أولئك قادر على تصحيح الأخطاء وكشف الشبهات وتوضيح الغموض وإعادة الدين وجوهره إلى نقائه وصفاته.

إن كلمتي هذه ليست مشاركة في هذه الندوة، وإنما هي ترحيب فقط. . باسمي. . وباسم إخوتي أعضاء هيئة إحياء النشاط الإسلامي. .

ولا يفوتني بهذه المناسبة أن أذكر لكم لمحة عن ندوة سابقة أعجبتني. . وأنا على يقين أن هذه الندوة ستكون على مستواها من الموضوعية والإخلاص والالتزام. .

لقد اتفق المتحاورون من مسلمين ومسيحيين أن يقفوا بدعواتهم عند مناطقهم إسلامية كانت أو مسيحية.

أنا لا أعرف ماذا جرى من المسيحيين بعد هذا الاتفاق الذي فات عليه الآن أكثر من ست سنوات. ولكني أؤكد- وفي هذا البلد بالذات- أننا التزمنا من جانبنا بأننا لا نعمل إلا في جو المسلمين وأطفال المسلمين لنحتفظ بهم وبإسلامهم حتى لا ينجرفوا انجرافا لا يعجب الإسلام ولا المسيحية على السواء. وإني أرجو أن يكون من نتائج ذلك أيضا أن لا تذهب المسيحية إلى مواطن المسلمين لإغرائهم، وأكثر ما يغري الناس: الفقر والضعف الفكري، فيتحولون من عقيدة إلى عقيدة.

أخشى أن أكون قد أطلت عليكم، وأرحب بكم جميعا، وأتمنى أن تزيل هذه المناظرة اللثام عن الحق في مسألة من أهم المسائل المتعلقة بحياة الإنسان بل هي أعظمها؛ وهي الطريق القويم لعبادة الله العبادة الحقة، والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
নিরপেক্ষ অধ্যয়ন, বিশুদ্ধ সংকল্প এবং সরল পথে পৌঁছানোর সুদৃঢ় আকাঙ্ক্ষা—এসবই ভুল সংশোধনে, সংশয় নিরসনে, অস্পষ্টতা দূরীকরণে এবং ধর্ম ও এর সারসত্তাকে তার আদি বিশুদ্ধতা ও নির্মলতায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম।

আমার এই বক্তব্য এই সেমিনারে কোনো প্রথাগত অংশগ্রহণ নয়, বরং এটি কেবল একটি স্বাগত সম্ভাষণ—আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং 'ইসলামি তৎপরতা পুনর্জাগরণ সংস্থা'র আমার ভ্রাতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে।

এই উপলক্ষে আমি আপনাদের কাছে পূর্ববর্তী একটি সেমিনার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করতে চাই যা আমাকে মুগ্ধ করেছিল। আমি নিশ্চিত যে, বর্তমান এই সেমিনারটিও বস্তুনিষ্ঠতা, আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠার দিক থেকে সেই মানদণ্ড বজায় রাখবে।

মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় পক্ষের আলোচকগণ এই মর্মে একমত হয়েছিলেন যে, তারা তাদের ধর্মপ্রচারের কাজ নিজ নিজ গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ রাখবেন, তা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হোক বা খ্রিস্টান অধ্যুষিত।

এই চুক্তির পর ছয় বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে; এরপর খ্রিস্টানদের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই। তবে আমি নিশ্চিত করছি যে—বিশেষ করে এই দেশে—আমরা আমাদের পক্ষ থেকে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি যে, আমরা কেবল মুসলিম সমাজ ও মুসলিম শিশুদের মধ্যেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করব যাতে তাদের ঈমান ও ইসলাম রক্ষা পায় এবং তারা যেন এমন কোনো স্রোতে ভেসে না যায় যা ইসলাম বা খ্রিস্টধর্ম কোনোটিরই কাম্য নয়। আমি আরও আশা করি যে, এর ফলে খ্রিস্টান মিশনগুলোও মুসলিম জনপদে মুসলিমদের প্রলুব্ধ করতে যাবে না; কারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রলুব্ধ করে দারিদ্র্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতা, যার ফলে তারা এক আদর্শ থেকে অন্য আদর্শে ধর্মান্তরিত হয়।

আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে আমি আপনাদের অধিক সময় নিয়ে ফেললাম। আমি আপনাদের সকলকে আবারও স্বাগত জানাই এবং আশা করি এই বিতর্কটি মানুষের জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথা শ্রেষ্ঠতম একটি বিষয়ে সত্যের আবরণ উন্মোচন করবে; আর তা হলো মহান আল্লাহর যথাযথ উপাসনার সঠিক পথ। আপনাদের সকলের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর কল্যাণ বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌كلمة تمهيدية للأستاذ الدكتور:

محمد جميل غازي

بسم الله الرحمن الرحيم {وَقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ سَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ فَتَعْرِفُونَهَا وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} (1) . وصلى الله وسلم وبارك على محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.

في الأول نقدم لكم الأخ: جيمس بخيت ليتحدث معكم وقبل أن أقدمه إليكم لي رجاء أن أرى الابتسامة على وجوهكم. فأرجو أن نكون جميعا على تفاؤل كامل لأننا مقبلون ولله الحمد على عمل طيب وصالح. ونسأل الله أن يكون موفقا، لا عداء بيننا ولا كراهية وإنما هو الحب الذي جمعنا والحب هو الذي جعل كل واحد منا يتحدث إلى صاحبه. بالحب كله وبالتقدير كله فإنني أقدم إليكم الأخ جيمس بخيت، أو من يقدمه إليكم، وأرجو من خلال حديثه أن يشير إلى هذه الأسئلة التي قدمها إلى فضيلة الأخ الشيخ طاهر أحمد طالبي لتكون هي مجال المناظرة في هذه الندوة أو في هذا اللقاء الإسلامي النصراني والذي بدأ انعقاده هذه الليلة ولا يعلم إلا الله وحده كم يستمر من ليال وكم يستغرق من ساعات.

--------------------------------------------

(1) سورة النمل، آية 93.
প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ জামিল গাজীর প্রারম্ভিক ভাষণ:

মুহাম্মদ জামিল গাজী

পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। "এবং বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই। তিনি শীঘ্রই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখাবেন এবং তোমরা তা চিনতে পারবে। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে তোমার প্রতিপালক অনবহিত নন।" (১)। এবং আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

প্রথমেই আমি আপনাদের সামনে কথা বলার জন্য ভাই জেমস বাখিতকে উপস্থাপন করছি। তবে তাঁকে আপনাদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আগে আমার একটি বিনীত অনুরোধ হলো—আপনাদের সবার মুখে যেন হাসির রেখা দেখতে পাই। আমি আশা করি আমরা সবাই পূর্ণ আশাবাদী থাকব, কারণ আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া যে আমরা একটি নেক ও কল্যাণকর কাজের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এই উদ্যোগ সফল হয়। আমাদের মাঝে কোনো শত্রুতা বা বিদ্বেষ নেই; বরং ভালোবাসাই আমাদের একত্রিত করেছে এবং এই ভালোবাসাই আমাদের একে অপরকে কথা বলতে উদ্বুদ্ধ করেছে। পূর্ণ আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধার সাথে আমি আপনাদের সামনে ভাই জেমস বাখিতকে (অথবা যিনি তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেবেন) উপস্থাপন করছি। আমি আশা করি তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে সেই প্রশ্নগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করবেন যা তিনি শ্রদ্ধেয় ভাই শায়খ তাহের আহমদ তালিবীর নিকট পেশ করেছিলেন, যাতে সেগুলোই এই সেমিনারে বা এই মুসলিম-খ্রিস্টান সংলাপের আলোচনার মূল ক্ষেত্র হয়। আজ রাত থেকে এই অধিবেশন শুরু হলো এবং এটি আর কত রাত বা কত ঘণ্টা ধরে চলবে, তা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নামল, আয়াত ৯৩।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌كلمة السيد جيمس بخيت

وكلمة السيد تيخا رمضان

قال السيد جيمس بخيت:

أيها السادة: مساء الخير. يتحدث نيابة عني الأخ: تيخا رمضان.

ثم قال السيد: تيخا رمضان:

السادة أعضاء هيئة إحياء النشاط الإسلامي. السيد فضيلة الملحق الديني السعودي بالخرطوم. السلام عليكم ورحمة الله.

إنها بحق إِرادة الله الذي مهد لنا هذا الاجتماع الروحي لا للانتقاد أو الإدانة وإنما للاستفسار وتوضيح بعض المواضيع الدينية في الإسلام والمسيحية بالأدلة والبراهين، كما أنزله الله على رسله بعيدين عن أي تعصب ديني. آملين أن يهدينا الله جميعا لما فيه خير أمتنا.

السادة الكرام: نحن القادة المسيحيون في العاصمة المثلثة وجبال النوبة كنا مسلمين بالوراثة ولكننا لم نتعمق في تعلم الإسلام، وتعلمنا أيضا شيئا من الديانة المسيحية نتيجة للتبشير المكثف الذي تقوم به الطوائف المسيحية بالسودان.

سادتي: لقد أحدث هذا خلطا بين العقيدتين وشكوكا في نفوسنا مما أدى بنا إلى اللجوء إلى البشير: جيمس بخيت، بعد عودته من " الولايات المتحدة الأمريكية وكندا " بدعوة من إحدى الطوائف المسيحية هناك آملين أن نجد لديه المساعدة في هذا الشأن لإيجاد مخرج لنا، فإما آمنا بالإسلام أو بالمسيحية بعد معرفة الحقيقة.
জনাব জেমস বাখিত ও জনাব তিখা রমাদানের বক্তব্য

জনাব জেমস বাখিত বলেন:

সুধীবৃন্দ: শুভ সন্ধ্যা। আমার পক্ষ থেকে ভাই তিখা রমাদান বক্তব্য প্রদান করবেন।

অতঃপর জনাব তিখা রমাদান বলেন:

ইসলামি পুনর্জাগরণ সংস্থার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ। খার্তুমে নিযুক্ত সৌদি আরবের সম্মানীয় ধর্মীয় উপদেষ্টা। আপনাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

এটি প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহর ইচ্ছা যে তিনি আমাদের জন্য এই আধ্যাত্মিক সমাবেশের পথ সুগম করেছেন; এটি কোনো সমালোচনা বা নিন্দার জন্য নয়, বরং ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের কিছু ধর্মীয় বিষয়ে দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে জিজ্ঞাসা ও স্পষ্টীকরণের জন্য, যা আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের ওপর কোনো প্রকার ধর্মীয় গোঁড়ামি ব্যতিরেকে অবতীর্ণ করেছেন। আমরা আশা করি যে, আল্লাহ আমাদের সকলকে সেই দিকেই পরিচালিত করবেন যাতে আমাদের জাতির কল্যাণ নিহিত রয়েছে।

সম্মানিত সুধীবৃন্দ: আমরা সুদানের ত্রয়ী রাজধানী (খার্তুম এলাকা) ও নুবা পর্বতমালার খ্রিস্টান নেতৃবৃন্দ বংশগতভাবে মুসলিম ছিলাম, কিন্তু আমরা ইসলাম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারিনি। অন্যদিকে সুদানে খ্রিস্টান ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ব্যাপক প্রচারণার ফলে আমরা খ্রিস্টধর্ম সম্পর্কেও কিছু শিক্ষা লাভ করেছি।

সুধীগণ: এই পরিস্থিতি আমাদের মাঝে দুই বিশ্বাসের সংমিশ্রণ এবং মনে সন্দেহের উদ্রেক করেছে, যা আমাদের ধর্মপ্রচারক জেমস বাখিতের শরণাপন্ন হতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সফর শেষে ফিরে আসার পর আমরা এই বিষয়ে তাঁর কাছে সাহায্যের প্রত্যাশা করেছি যাতে আমরা একটি পথ খুঁজে পাই; যেন সত্য উন্মোচিত হওয়ার পর আমরা হয় ইসলামে অথবা খ্রিস্টধর্মে পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করতে পারি।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا وكان السبب الذي دعانا إلى اللجوء إلى البشير: جيمس، ما لمسناه من اقتداره في الناحية الدينية وإيمانا منه بحرية العبادة مع ملاحظة أنه رفض كل الطوائف المسيحية في السودان، ويسعى الآن لتأسيس طائفة مسيحية يقوم بإدارتها إخوة سودانيون.

لقد كان رد البشير: جيمس لنا أنه كما كفلت الثورة حرية العبادة للجمع فيجب علينا أيضا أن نساعد في تنفيذ هذا المبدأ مسلمين كنا أو مسيحيين على السواء، ونبعد التعصب الديني من أنفسنا، ونعطي كل فرد حريته في اختيار المذهب الذي يريده. وقد نصحنا البشير: جيمس، بعدم الانضمام لأي مذهب ديني حتى طائفته، رفض أيضا أن ننضم إليها إذا لم يكن ذلك بالاقتناع التام. وقد قام باختيار منازل بعض الإخوة كمراكز لتجمعات روحية فكان من نتاج تحركه واهتمامه بهذه المشكلة مولد اجتماع اليوم.

ولا يفوتنا أيضا أن نخص بالشكر الأستاذ: جويعد النفيعي الملحق الثقافي السعودي بالخرطوم لما بذله من جهود عظيمة لتحقًيق رغبة الإخوة للالتقاء بهيئة إحياء النشاط الإسلامي وفضيلة الشيخ طاهر أحمد طالبي الملحق الديني السعودي بالخرطوم.

وفي الختام أيها السادة نسأل الله الكريم أن يساعدنا ويهدينا إلى الطريق القويم ويظللنا ببركاته ويقوينا ويعطينا المقدرة لإتمام رسالته من أجل الخلاص الروحي.

والسلام عليكم ورحمة الله وركاته.
বাশির: জেমস-এর শরণাপন্ন হওয়ার পেছনে আমাদের যে কারণটি উদ্বুদ্ধ করেছিল তা হলো ধর্মীয় বিষয়ে তার প্রাজ্ঞতা এবং উপাসনার স্বাধীনতার প্রতি তার গভীর বিশ্বাস; উল্লেখ্য যে, তিনি সুদানের বর্তমান সকল খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বর্তমানে সুদানী ভাইদের দ্বারা পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র খ্রিস্টান সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠার প্রয়াস চালাচ্ছেন।

বাশির: জেমস আমাদের প্রতি যে উত্তর প্রদান করেছিলেন তা হলো এই যে, বিপ্লব যেহেতু সকলের জন্য উপাসনার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে, তাই মুসলিম কিংবা খ্রিস্টান নির্বিশেষে আমাদের সকলেরই উচিত এই মূলনীতি বাস্তবায়নে সহায়তা করা। আমাদের নিজেদের অন্তর থেকে ধর্মীয় গোঁড়ামি দূর করা প্রয়োজন এবং প্রতিটি মানুষকে তার পছন্দ অনুযায়ী ধর্মমত নির্বাচনের স্বাধীনতা দেওয়া উচিত। বাশির: জেমস আমাদের কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীতে—এমনকি তার নিজের গোষ্ঠীতেও—যোগদান না করার পরামর্শ দিয়েছেন; পূর্ণ প্রত্যয় ও সন্তুষ্টি ব্যতীত আমাদের সেখানে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি কতিপয় ভাইয়ের গৃহকে আধ্যাত্মিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবে মনোনীত করেছেন এবং তার এই তৎপরতা ও বিষয়ের প্রতি গভীর মনোযোগের সুফল হিসেবেই আজকের এই সমাবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

খার্তুমে নিযুক্ত সৌদি সাংস্কৃতিক অ্যাটাশে জনাব জুওয়াইয়িদ আল-নুফাইয়ির প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা আমরা অপরিহার্য মনে করছি, কারণ ইসলামি তৎপরতা পুনর্জাগরণ সংস্থার সাথে ভ্রাতৃবৃন্দের সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে তিনি অসামান্য প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন; একইসাথে খার্তুমে নিযুক্ত সৌদি ধর্মীয় অ্যাটাশে পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ তাহের আহমদ তালিবির প্রতিও আমরা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

পরিশেষে হে সুধীবৃন্দ, আমরা মহান করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সহায়তা করেন, আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন, তাঁর অফুরন্ত বরকত দিয়ে আমাদের ছায়াদান করেন এবং আমাদের শক্তিশালী করেন; আধ্যাত্মিক মুক্তির নিমিত্তে তাঁর বার্তা পূর্ণ করার সামর্থ্য আমাদের দান করেন।

আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الأسئلة التي تقدم بها الجانب المسيحي برئاسة البشير: جيمس بخيت لتكون موضوعا للمناظرة الإسلامية النصرانية.

بعد كلمة السيد: تيخا رمضان، وقف البشير: جيمس بخيت ليقرأ الأسئلة المقدمة لتكون موضوعا للمناظرة الإسلامية النصرانية وهي ذات شقين، يدور الأول منها حول الديانة المسيحية، ويدور الثاني حول الديانة الإسلامية.

وهذه الأسئلة هي:

1- الديانة المسيحية

1- هل يؤيد القرآن المسيح والإنجيل؟

2- النسخ والتحريف في الإنجيل كيف تم كما يزعم المسلمون؟ وهل يحتفظ المسلمون بأصل الإنجيل؟

3- الخمر محرم في القرآن ولكنه غير محرم في الإنجيل فكيف تفسرون ذلك؟ وهل هناك آية في القرآن الكريم تحرم الخمر؟

4- هل يؤمن المسلمون برسل المسيح الذين اختارهم وأوكل إليهم مهمة التبشير لجميع الأمم كما ذكر في الإنجيل؟

5- هل يؤيد القرآن الكريم الروح القدس؟

6- حسب ما جاء في الإنجيل أن المسيح عليه الصلاة والسلام صلب ومات ودفن ثم قام من بين الأموات في اليوم الثالث. فماذا جاء في القرآن فيما يختص بهذا القول؟

7- ورد في الإنجيل أن المسيح ابن الله. فما رأي القرآن؟

8- هل يؤيد القرآن الكريم الأقانيم الثلاثة: الأب والابن والروح القدس حسب ما جاء في الإنجيل؟

9- ما هي مكانة مريم العذراء لدى المسلمين كأم المسيح عليه الصلاة والسلام؟
খ্রিস্টান পক্ষের পক্ষ থেকে প্রচারক জেমস বাখিতের নেতৃত্বে ইসলামি-খ্রিস্টান বিতর্কের বিষয়বস্তু হিসেবে উপস্থাপিত প্রশ্নাবলি।

জনাব তিখা রমজানের বক্তব্যের পর, প্রচারক জেমস বাখিত ইসলামি-খ্রিস্টান বিতর্কের বিষয়বস্তু হিসেবে উপস্থাপিত প্রশ্নগুলো পাঠ করার জন্য দাঁড়ালেন। এই প্রশ্নগুলো দুটি ভাগে বিভক্ত; প্রথম ভাগটি খ্রিস্টধর্ম সংক্রান্ত এবং দ্বিতীয় ভাগটি ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত।

আর সেই প্রশ্নগুলো হলো:

১- খ্রিস্টধর্ম

১- কুরআন কি মসীহ এবং ইনজিলের সত্যতা নিশ্চিত করে?

২- মুসলমানদের দাবি অনুযায়ী ইনজিলে রহিতকরণ ও বিকৃতি কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে? আর মুসলমানদের কাছে কি মূল ইনজিল সংরক্ষিত আছে?

৩- কুরআনে মদ হারাম করা হয়েছে কিন্তু ইনজিলে তা হারাম নয়, আপনারা এর ব্যাখ্যা কীভাবে দেবেন? আর পবিত্র কুরআনে কি মদ হারাম করার মতো কোনো আয়াত আছে?

৪- ইনজিলে উল্লিখিত মসীহ কর্তৃক মনোনীত এবং সমস্ত জাতির নিকট সুসমাচার প্রচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেরিত পুরুষদের প্রতি কি মুসলমানরা ঈমান রাখে?

৫- পবিত্র কুরআন কি 'রূহুল কুদুস' বা পবিত্র আত্মাকে সমর্থন করে?

৬- ইনজিলে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী, মসীহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) ক্রুশবিদ্ধ হয়েছেন, মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সমাহিত হয়েছেন, অতঃপর তৃতীয় দিনে মৃতদের মধ্য থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কুরআনে কী বর্ণিত হয়েছে?

৭- ইনজিলে এসেছে যে মসীহ আল্লাহর পুত্র। এ ব্যাপারে কুরআনের অভিমত কী?

৮- পবিত্র কুরআন কি ইনজিলে বর্ণিত ত্রিত্ববাদ—পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মাকে সমর্থন করে?

৯- মসীহ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর মাতা হিসেবে কুমারী মারিয়ামের মর্যাদা মুসলমানদের নিকট কেমন?
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
2- الدين الإسلامي

1- محمد صلى الله عليه وسلم كيف كانت حياته ونزول القرآن عليه؟

2- كيف نقنع المتشككين بأنه خاتم الأنبياء كما جاء في القرآن فقط؟

3- هل استعمل السيف في فجر الإسلام لإخضاع الكفار للدخول في الإسلام؟ وهل كان ذلك في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم أم في عهد الخلفاء الراشدين؟

4- ما رأي المسلمين في إخوتهم العلماء الذين قاموا بتفسير القرآن حسب آرائهم مما أدى ذلك إلى تكوين طوائف مختلفة، وما حقيقة هذه الطوائف؟

5- يتزوج المسلمون بأكثر من امرأة. فهل هناك آية في القرآن توضح ذلك، وما هي الأسباب التي دعت النبي صلى الله عليه وسلم يتزوج بأكثر من أربع؟

6- لماذا يحرم القرآن لحم الخنزير؟ وهل هناك آية تحرم ذلك؟

7- هل يقلد القرآن أن المسيح عليه السلام مرسل لبني إسرائيل فقط؟

8- نلاحظ في القرآن أن هناك آيات تنسخ آيات، مثل:

{قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} {لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ} {وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ} {وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَا عَبَدْتُمْ} {وَلَا أَنْتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ} {لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ} (1) . في حين أن هناك آية أخرى تقول {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (2) .

فما رأي المسلمين في هذا التناقض؟

9- ما هي نظرة المسلم لغير المسلم فيما يختص بالمعاملات الاجتماعية المختلفة؟

10- لماذا تمنع السلطات السعودية دخول المسيحيين في الأماكن المقدسة في المملكة العربية السعودية؟

--------------------------------------------

(1) سورة الكافرون، الآيات 1-6.

(2) سورة المائدة، آية 3.
২- ইসলাম ধর্ম

১- মুহাম্মদ (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) এর জীবন কেমন ছিল এবং তাঁর ওপর কুরআন কীভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল?

২- কেবল কুরআনের বর্ণনার ভিত্তিতে তিনি যে সর্বশেষ নবী, সে বিষয়ে সংশয়বাদীদের আমরা কীভাবে আশ্বস্ত করতে পারি?

৩- ইসলামের ঊষালগ্নে কি অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করার জন্য তলোয়ার ব্যবহার করা হয়েছিল? এটি কি রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক)-এর যুগে হয়েছিল নাকি খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে?

৪- যে সকল আলেম নিজ মতানুসারে কুরআনের ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর ফলে বিভিন্ন উপদল বা ফিরকা সৃষ্টি হয়েছে, তাঁদের সম্পর্কে মুসলিমদের অভিমত কী? আর এই দলগুলোর প্রকৃত স্বরূপই বা কী?

৫- মুসলিমরা একাধিক বিবাহ করে থাকে। কুরআনে কি এমন কোনো আয়াত আছে যা এটি ব্যাখ্যা করে? আর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) কেন চারের অধিক বিবাহ করেছিলেন?

৬- কুরআন কেন শুকরের মাংস হারাম করেছে? এ বিষয়ে কি কোনো আয়াত আছে যা এটি নিষিদ্ধ করে?

৭- কুরআন কি এই কথা সমর্থন করে যে মসীহ (তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) কেবল বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন?

৮- আমরা কুরআনে লক্ষ্য করি যে কিছু আয়াত অন্য কিছু আয়াতকে রহিত করে, যেমন:

{বলুন, হে কাফিরগণ} {আমি তাঁর ইবাদত করি না যার ইবাদত তোমরা করো} {এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যার ইবাদত আমি করি} {আর আমি তাঁর ইবাদতকারী নই যার ইবাদত তোমরা করে আসছ} {এবং তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও যার ইবাদত আমি করি} {তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম এবং আমার জন্য আমার ধর্ম} (১)। অন্যদিকে আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (২)।

এই আপাত বৈপরীত্য সম্পর্কে মুসলিমদের অভিমত কী?

৯- বিভিন্ন সামাজিক লেনদেন ও আচরণের ক্ষেত্রে অমুসলিমদের প্রতি একজন মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন?

১০- কেন সৌদি কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোতে খ্রিস্টানদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে?

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-কাফিরুন, আয়াত ১-৬।

(২) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত ৩।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌كلمة افتتاحية للأستاذ الدكتور: محمد جميل غازي إذا كان من المقرر أن ألقي كلمة في أول هذا الاجتماع وفي افتتاحه فإن خير ما يمكن أن أقول هو أن أقرأ عليكم بعض آيات من القرآن الكريم.

يقول الله سبحانه وتعالى. أعوذ بالله من الشيطان الرجيم:

{وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} {رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِنْ ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُسْلِمَةً لَكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ} {رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} {وَمَنْ يَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَنْ سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ} {إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ} {وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} {أَمْ كُنْتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِنْ بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَهَكَ وَإِلَهَ

آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} {تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ} {وَقَالُوا كُونُوا هُودًا أَوْ نَصَارَى تَهْتَدُوا قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} {فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} {صِبْغَةَ اللَّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ}
অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ জামিল গাজীর উদ্বোধনী বক্তব্যএই সভার শুরুতে এবং এর উদ্বোধনে যদি আমাকে কিছু বলতে হয়, তবে আমার পক্ষ থেকে পঠিতব্য সর্বোত্তম বক্তব্য হলো পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত আপনাদের সামনে তিলাওয়াত করা।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন। আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি:

{আর স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল (তখন তারা দোয়া করছিল): হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন; নিশ্চয় আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} {হে আমাদের রব, আমাদের উভয়কে আপনার একান্ত অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধর থেকেও আপনার এক অনুগত উম্মত সৃষ্টি করুন; আমাদের ইবাদতের নিয়মাবলি আমাদের দেখিয়ে দিন এবং আমাদের ক্ষমা করুন; নিশ্চয় আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} {হে আমাদের রব, তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে এমন একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করবেন, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন; নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} {ইবরাহিমের আদর্শ থেকে সেই ব্যক্তিই মুখ ফিরিয়ে নেয় যে নিজেকে নির্বোধ বানিয়েছে। আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং পরকালেও সে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।} {যখন তার রব তাকে বললেন, 'আত্মসমর্পণ করো', সে বলল, 'আমি বিশ্বজাহানের রবের প্রতি আত্মসমর্পণ করলাম'।} {আর ইবরাহিম ও ইয়াকুব তাদের সন্তানদের এর অসিয়ত করে গিয়েছেন— হে আমার সন্তানেরা, আল্লাহ তোমাদের জন্য এই দ্বীনকে মনোনীত করেছেন; সুতরাং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} {ইয়াকুবের কাছে যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়েছিল, তোমরা কি তখন উপস্থিত ছিলে? যখন সে তার সন্তানদের বলেছিল, 'আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে?' তারা বলেছিল, 'আমরা আপনার ইলাহ এবং আপনার পিতৃপুরুষ

ইবরাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের ইলাহ—সেই অদ্বিতীয় ইলাহরই ইবাদত করব এবং আমরা তাঁরই অনুগত'।} {সেটি ছিল এক উম্মত যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্য, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য; তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে না।} {তারা বলে, 'তোমরা ইহুদি বা নাসারা হও, তবেই হিদায়াত পাবে।' বলুন, 'বরং আমরা ইবরাহিমের একনিষ্ঠ আদর্শ অনুসরণ করি এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না'।} {তোমরা বলো, 'আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর ওপর এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে তাতে, আর যা ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরদের ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল এবং যা মুসা ও ঈসাকে প্রদান করা হয়েছিল এবং যা অন্যান্য নবীগণকে তাঁদের রবের পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়েছিল। আমরা তাঁদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁরই অনুগত'।} {যদি তারা অনুরূপ ঈমান আনে যেমন তোমরা এনেছ, তবে অবশ্যই তারা হিদায়াত পাবে। আর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা কেবল বিরোধিতায় লিপ্ত রয়েছে। সুতরাং তাদের বিপরীতে আল্লাহই আপনার জন্য যথেষ্ট; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} {আল্লাহর রঙে রঞ্জিত হওয়া; আর আল্লাহর রঙের চেয়ে উত্তম রঙ আর কার হতে পারে?}
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً وَنَحْنُ لَهُ عَابِدُونَ} {قُلْ أَتُحَاجُّونَنَا فِي اللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ

} {تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ كَانُوا هُودًا أَوْ نَصَارَى قُلْ أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ كَتَمَ شَهَادَةً عِنْدَهُ مِنَ اللَّهِ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ} {تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُمْ مَا كَسَبْتُمْ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ} . (1) .

أتمنى أن أدير حديثي لا مع هؤلاء الأفاضل الطيبين ولكن معكم أنتم أيها المسلمون. بماذا تردون على هذه الكلمات الطيبة التي ألقاها في وجوهكم هذا الأخ الطيب حينما أعلنكم بهذه الحقائق المرة؟ هل فكرتم أنكم الجناة الحقيقيون؟ هل فكرتم أنكم ستدانون بين يدي الله لأنكم قصرتم في تبليغ كلمة الله، لم تعلنوها ولم تنطقوا بها؟ لقد استمرأتم الحياة الدنيا ورفاهيتها، وعشتم في أحضان الدعة والهدوء والاستقرار، وآثرتم الطريق الآمن والأسهل في الوقت الذي كان الأجانب يأتون فيه من آخر الدنيا يدكون حصونكم ويدقون أبوابكم دقا عنيفا، ويسرقون أولادكم وفلذات أكبادكم؟ هل فكرتم في هذه الكلمات الطيبة التي قالها الأخ الطيب ومزق بها كبدي؟ أرجو أن تعلموا أنها لكم. لا بد أنها تهز مضاجعكم حتى لا تهنأوا بمنام وحتى لا تستقر جنوبكم على الأرض فلا نامت أعين الجبناء.

وإنما عليكم أن تحرسوا بناء محمد ودعوة الأنبياء جميعا.

أما الأسئلة التي قرأها عليكم الأستاذ: جيمس، فلقد رأيت أن أعيد وضع خريطة لها لتكون هي الخريطة التي تؤدي بنا إلى مجموعة من الدراسات لأننا لسنا في حاجة إلى مواعظ، ولسنا في حاجة إلى خطب رنانة، وعلى جيوش الخطباء

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، الآيات 127-141.
{আল্লাহর দেয়া রঙ (দ্বীন); আর আমরা তাঁরই ইবাদতকারী।} {বলুন, তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করছ? অথচ তিনি আমাদের রব এবং তোমাদেরও রব; আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য; আর আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ।

} {নাকি তোমরা বলছ যে, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁর বংশধরগণ ইয়াহূদী বা নাসারা ছিল? বলুন, তোমরাই কি বেশি জান নাকি আল্লাহ? আর তার চেয়ে বড় যালিম কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে থাকা সাক্ষ্য গোপন করে? আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন।} {তারা ছিল এক উম্মত যারা গত হয়ে গিয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের। আর তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না।} । (১) ।

আমি আমার কথাগুলো এই সম্মানিত সজ্জনদের সাথে নয়, বরং আপনাদের সাথে বিনিময় করতে চাই, হে মুসলিম সমাজ! এই উত্তম ভ্রাতা যখন আপনাদের সামনে এই তিক্ত সত্যগুলো তুলে ধরেছেন, তখন তাঁর এই সুন্দর কথাগুলোর জবাবে আপনারা কী বলবেন? আপনারা কি ভেবে দেখেছেন যে প্রকৃত অপরাধী আপনারাই? আপনারা কি ভেবে দেখেছেন যে আল্লাহর দরবারে আপনারা অভিযুক্ত হবেন, কারণ আল্লাহর বাণী প্রচারে আপনারা অবহেলা করেছেন, আপনারা তা ঘোষণা করেননি এবং তা উচ্চারণও করেননি? আপনারা পার্থিব জীবন ও এর বিলাসিতাকে আস্বাদন করেছেন, আরাম-আয়েশ ও স্থৈর্যের কোলে বসবাস করেছেন এবং নিরাপদ ও সহজ পথটিকেই বেছে নিয়েছেন; অথচ সেই সময়ে বিজাতীয়রা পৃথিবীর প্রান্তসীমা থেকে এসে আপনাদের দুর্গগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল, আপনাদের দরজায় প্রচণ্ড আঘাত করছিল এবং আপনাদের সন্তানদের—আপনাদের কলিজার টুকরোগুলোকে—ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এই উত্তম ভ্রাতা যে কথাগুলো বলে আমার কলিজা বিদীর্ণ করেছেন, সে সম্পর্কে কি আপনারা চিন্তা করেছেন? আমি আশা করি আপনারা জানবেন যে এ কথাগুলো আপনাদের জন্যই। অবশ্যই এগুলো আপনাদের শয্যাকে প্রকম্পিত করবে যাতে আপনারা শান্তিতে ঘুমাতে না পারেন এবং আপনাদের দেহ জমিনে স্থির না হয়; ভীরুদের চোখে যেন কখনো ঘুম না আসে।

আপনাদের দায়িত্ব হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্মিত ইমারত এবং সকল নবীগণের দাওয়াতকে হেফাযত করা।

আর জনাব জেমস আপনাদের সামনে যে প্রশ্নগুলো পাঠ করেছেন, আমি সেগুলোর একটি নতুন রূপরেখা তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি, যাতে তা আমাদের একগুচ্ছ গবেষণার দিকে নিয়ে যায়। কারণ আমরা কেবল উপদেশের মুখাপেক্ষী নই, কিংবা আলঙ্কারিক বক্তৃতারও প্রয়োজন আমাদের নেই; আর এই যে বক্তাদের বাহিনী...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৭-১৪১।
(খণ্ড: ১) মুনাজারাতি বাইনাল ইসলামী ওয়ান নাসরানিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
أن يوفروا جهودهم. إننا في حاجة إلى دراسة علمية موضوعية هادئة وهادفة نعرف فيها الحق ونعرف فيها الطريق المستقيم حتى نسلكه جميعا صفا واحدا.

ولقد رأيت أن أعيد تنظيم الخريطة وأن أوزعها على الإخوة الأساتذة الذين سيتولون الحديث معكم لا في هذه الليلة فحسب، بل وفي ليال تالية إن شاء الله.

وعليكم أن تصبروا علينا لأن جهالات عصور كاملة ينبغي أن تمحى، وهي ليست متعة صيد أو فسحة، وإنما هي دراسة ديانات كاملة والديانات لا تدرس في رحلة ولا تدرس في جلسة واحدة، وإنما تدرس دراسات متأنية عبر النصوص المقدسة عند الطرفين. ولسوف يكون تنظيم خريطة العمل على الوجه التالي:

في هذه الليلة سوف يحدثكم الأخ الأستاذ: أحمد عبد الوهاب، حول قضية قانونية الأناجيل، ولقد جاء حولها أسئلة، منها السؤال القائل بالنسخ والتحريف في الإنجيل كيف تم كما يزعم المسلمون؟ وهل يحتفظ المسلمون بأصل الإنجيل؟

وقبل أن أقدم لكم الأستاذ: أحمد، أود أن أشير إلى نقطتين، الأولى:

أن نبدأ بالإجابة على الأسئلة النصرانية أولا، لأن دراسة النصرانية يجب أن تسبق دراسة الإسلام. وأما الثانية: فهي ألا يكتفي الأستاذ: أحمد بالإجابة على هذين السؤالين الخاصين بالنسخ والتحريف، وإنما هناك موضوعات أخرى مرتبطة بهما يجب الاهتمام بها، كقصة كتابة الأناجيل، وكيف قبل بعضها وصار قانونيا مثل الأناجيل الأربعة، وكيف رفض أكثريتها ولماذا؟ رما هي موضوعات التآلف أو الاختلافات بين هذه الأناجيل القانونية؟ ثم ما هو موقف بقية أسفار العهد الجديد وقيمتها العقائدية، وكيف تكون العهد الجديد القانوني؟
তারা যেন তাদের প্রচেষ্টাকে সার্থক করেন। আমাদের এমন একটি শান্ত, বস্তুনিষ্ঠ, সুপরিকল্পিত এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন, যার মাধ্যমে আমরা সত্য ও সরল পথকে চিনতে পারব, যাতে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই পথে চলতে পারি।

আমি কর্মপরিকল্পনাটি পুনর্গঠন করার এবং তা সেই বিদগ্ধ শিক্ষকদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা আপনাদের সাথে আলোচনা করবেন—কেবল আজ রাতেই নয়, বরং ইনশাআল্লাহ পরবর্তী রাতগুলোতেও।

আপনাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে, কারণ দীর্ঘ শতাব্দীর পুঞ্জীভূত অজ্ঞতাকে সমূলে উপড়ে ফেলা প্রয়োজন। এটি কোনো শিকারের আনন্দ বা নিছক বিনোদনের বিষয় নয়, বরং এটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মসমূহের তুলনামূলক অধ্যয়ন। আর ধর্মসমূহ কোনো ভ্রমণ বা একটি মাত্র অধিবেশনে অধ্যয়ন করা যায় না; বরং উভয় পক্ষের পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলোর নিবিড় পর্যালোচনার মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তা অধ্যয়ন করতে হয়। কর্মপরিকল্পনার রূপরেখাটি হবে নিম্নরূপ:

আজ রাতে আপনাদের সামনে অধ্যাপক আহমদ আবদুল ওয়াহাব ইঞ্জিলসমূহের প্রামাণিকতার (Canonicity) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। এই বিষয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: মুসলমানদের দাবি অনুযায়ী ইঞ্জিলে রহিতকরণ ও বিকৃতি কীভাবে ঘটেছে? আর মুসলমানরা কি ইঞ্জিলের মূল পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ করে?

অধ্যাপক আহমদকে আলোচনার জন্য আহ্বান করার আগে আমি দুটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। প্রথমটি হলো:

আমাদের খ্রিস্টধর্ম সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান দিয়েই শুরু করা উচিত, কারণ খ্রিস্টধর্মের অধ্যয়ন ইসলাম শিক্ষার পূর্ববর্তী হওয়া আবশ্যক। দ্বিতীয়ত, অধ্যাপক আহমদ কেবল রহিতকরণ ও বিকৃতি সংক্রান্ত এই দুটি প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতিও গুরুত্ব দেবেন। যেমন—ইঞ্জিলসমূহ রচনার ইতিহাস, কেন এবং কীভাবে চারটি ইঞ্জিল প্রামাণিক হিসেবে গৃহীত হলো এবং কেনই বা অধিকাংশ পুস্তক প্রত্যাখ্যাত হলো? এই প্রামাণিক ইঞ্জিলগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকগুলো কী কী? এছাড়া ‘নতুন নিয়ম’ (নিউ টেস্টামেন্ট)-এর অবশিষ্ট পুস্তকগুলোর অবস্থান ও সেগুলোর ধর্মতাত্ত্বিক গুরুত্ব কতটুকু এবং কীভাবে এই বিধিবদ্ধ ‘নতুন নিয়ম’ সংকলিত হলো?