(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
تيسير علم أصول الفقه (عبد الله الجديع)
القسم: أصول الفقه
الكتاب: تيسيرُ علم أصول الفقه
المؤلف: عبد الله بن يوسف بن عيسى بن يعقوب اليعقوب الجديع العنزي
الناشر: مؤسسة الريان للطباعة والنشر والتوزيع، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1997 م
عدد الصفحات: 396
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের সহজীকরণ (আব্দুল্লাহ আল-জুদাঈ)
বিভাগ: উসূলুল ফিকহ
গ্রন্থ: উসূলুল ফিকহ শাস্ত্রের সহজীকরণ
লেখক: আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন ঈসা বিন ইয়াকুব আল-ইয়াকুব আল-জুদাঈ আল-আনাযী
প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রাইয়ান প্রিন্টিং, পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরী - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: -)
تيسيرُعلم أصول الفقهتأليفعبد الله بن يوسف الجُديع
সহজীকরণইলম উসুলুল ফিকহরচনায়আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-জুদাঈ
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيمإنَّ الحمد لله؛ نحمدُه ونستعينه ونستغفره ونستهديه، ونعوذبالله من شرورِ أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهدِه الله فلا مضلَّ له، ومن يضلل فلا هاديَ له، وأشهدُ أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهدُ أنَّ محمَّدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وسلَّم تسليمًا كثيرًا.أما بعد:فإنَّ شرف العلمِ لا يخفى، وهو درجاتٌ ومنازلُ تعرفُ بما تتَّصلُ به، فسمُوُّها من سُمُوِّه، وقدْرها من قدْرهِ، فلذا كان أعلاها علومَ الدِّين التي تُدركُ بها معانيه وأسرارُه، وإنما شرُفتْ وعظُم قدْرُها لصِلتها بالله ربِّ العالمين، فهي العلومُ الموصلَةُ في الحقيقةِ إليهِ، وهذا معنى أكبرُ من علُوم الشَّريعةِ المقنَّنةِ بالاصطلاحِ، بل هو شاملٌ لما يُحقِّق من العلومِ أسبابَ الوُصولِ إلى الله عزَّوجلَّ، فيندرجُ تحتهُ كلُّ علمٍ أدَّى إلى هذه الحقيقةِ وإن أُلصِقَ بالدُّنيا في عرفِ النَّاسِ، لكن من العلمِ ما يصيرُ إلى هذه الحقيقةِ بالمقاصِدِ والنِّيَّات، ومنه ما هو من هذه الحقيقةِ بأصلهِ، كالعومِ التي يُدركُ بها مرادُالله ورسولهِ صلى الله عليه وسلم، فهذه علومٌ باقيةٌ كطريقٍ موصلٍ إلى الله وإن فسدتْ في طلبها النِّيَّاتُ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই, তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে হেদায়েত কামনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।অতঃপর:নিশ্চয়ই জ্ঞানের মর্যাদা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। জ্ঞানের বিভিন্ন স্তর ও মর্যাদা রয়েছে যা তার বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়; সুতরাং বিষয়ের উচ্চতা থেকেই জ্ঞানের উচ্চতা এবং বিষয়ের মাহাত্ম্য থেকেই জ্ঞানের মাহাত্ম্য প্রকাশ পায়। একারণেই ইলমের মধ্যে সর্বোচ্চ হলো দ্বীনী ইলম, যার মাধ্যমে দ্বীনের নিগূঢ় অর্থ ও রহস্যসমূহ অনুধাবন করা যায়। মূলত রাব্বুল আলামীন আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণেই দ্বীনী ইলমের মর্যাদা ও মহত্ব এত বৃদ্ধি পেয়েছে; কারণ প্রকৃতপক্ষে এগুলোই হচ্ছে সেই জ্ঞান যা আল্লাহর নৈকট্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আর এটি কেবল পারিভাষিক শরীয়া বিজ্ঞানের চেয়েও এক ব্যাপকতর অর্থ বহন করে; বরং এটি এমন সব জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে যা মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপায়সমূহকে নিশ্চিত করে। ফলে এমন প্রতিটি জ্ঞানই এর অন্তর্ভুক্ত হবে যা এই পরম সত্যের দিকে ধাবিত করে, যদিও মানুষের প্রচলিত প্রথায় তাকে পার্থিব জ্ঞান হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে জ্ঞানের কিছু অংশ উদ্দেশ্য ও নিয়তের মাধ্যমে এই সত্যে উপনীত হয়, আবার কিছু জ্ঞান তার মূল সত্তার দিক থেকেই এই সত্যের অন্তর্ভুক্ত; যেমন সেই জ্ঞান যার মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় অনুধাবন করা যায়। সুতরাং এগুলো আল্লাহর দিকে পৌঁছে দেওয়ার পথ হিসেবে চিরস্থায়ী জ্ঞান, যদিও তা অর্জনের ক্ষেত্রে নিয়ত কলুষিত হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
والمقاصدُ، على أنه ما من إنسانٍ يسعى لتحصيلهَا فيجدُ لذَّتَها عندَ الطَّلبِ إلَاّ وجرَّتْهُ بنفسهَا إلى الإخلاصِ، كما قال مجاهدٌ رحمه الله: طلبْنا هذا العلمَ، وما لنا فيه كبيرُ نيَّةٍ، ثمَّ رزقَ الله بعدُ فيهِ النيَّةَ [أخرجه الدَّارمي بسندٍ حسنٍٍ] .وأعظمُ العُلوم الَّتِي يُدْرِكُ بها مُرادُالله تعالى ورسولِهِ صلى الله عليه وسلم[علمُ أُصولِ الفقهِ] ، فإنَّ الله تعالى أمرَبتدبُّرِ خِطابِهِ فقالَ: {كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ مُبَارَكٌ لِيَدَّبَّرُوا آَيَاتِهِ وَلِيَتَذَكَّرَ أُولُو الْأَلْبَابِ} [ص:29] ، كما قال: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآَنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا} [محمد:24] ، وقال: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآَنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا} [النساء:82] ، وأعظم ما يؤتاه الإنسانُ من المعرفةِ فقهٌ في دينهِ يُعرِّفهُ بمعبودِهِ تبارك وتعالى ويوصلهُ به، وذلك لهُ من المغاليق التي لا تفتحُ إلا بالإخلاص وسؤال الله تعالى التَّوفيق مع بذلِ الجُهدِ في استعمالِ الآلةِ الَّتي هي مفاتيحُ ذلك، والفتحُ فيها علامةٌ على أنَّ الله تعالى أراد الخيرَ بصاحبهَا، كما قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم: ((من يُرِدِ اللهُ بهِ خيرًا يُفقِّهْهُ في الدِّينَ)) [متَّفقٌ عليهِ] .وتلك الآلةُ هي (أصول الفقهِ) ، فهي مفتاحُ الفقه في الدِّين، لكنْ أرأيتَ إن كان مفتاحُك لا أسنانَ لهُ، أوْ لَهُ أسنانٌ لكنَّهُ لمْ يُصْنعْ لهذا البابِ، أتظنُّ أنْ سيفتحُ لكَ؟ كذلك مفتاحُ الأصولِ، فإنه لا بدَّ له من أسنانٍ، ولا بُدَّ أن يكونَ للفِقْهِ، فإنْ خرَجَ عن هذا الوصفِ فليسَ علمًا
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ সম্পর্কে কথা হলো, এমন কোনো মানুষ নেই যে তা অর্জনের জন্য সচেষ্ট হয় এবং অন্বেষণকালে তার স্বাদ আস্বাদন করে, কিন্তু তা তাকে নিজ থেকেই ইখলাসের (একনিষ্ঠতার) দিকে টেনে নিয়ে যায়। যেমনটি মুজাহিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমরা এই ইলম অন্বেষণ করেছি অথচ তখন আমাদের তেমন কোনো নিয়ত ছিল না, অতঃপর আল্লাহ পরবর্তীতে এতে আমাদের নিয়ত নসিব করেছেন।" [দারেমি এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন]।আর মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য অনুধাবন করার সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম হলো [উসূলে ফিকহ]। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর কালাম নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।" [সোয়াদ: ২৯]। যেমনটি তিনি বলেছেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? নাকি তাদের অন্তরসমূহে তালা লাগানো রয়েছে?" [মুহাম্মাদ: ২৪]। তিনি আরও বলেছেন: "তবে কি তারা কুরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত।" [আন-নিসা: ৮২]। আর মানুষকে জ্ঞানের যা কিছু প্রদান করা হয় তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো দীনের ফিকহ (গভীর জ্ঞান), যা তাকে তার মাবুদ (বরকতময় ও মহান)-এর পরিচয় করিয়ে দেয় এবং তাঁর সাথে তাকে সম্পৃক্ত করে। আর এটি এমন কিছু তালাবদ্ধ বিষয়ের মতো যা ইখলাস এবং মহান আল্লাহর কাছে তাওফীক প্রার্থনা করা ছাড়া খুলে না, সাথে সাথে সেই যন্ত্র ব্যবহারের শ্রম ব্যয় করতে হয় যা এগুলোর চাবিকাঠি। আর এগুলোর দ্বার উন্মোচিত হওয়া এই সংকেত বহন করে যে, মহান আল্লাহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কল্যাণ চেয়েছেন। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের গভীর জ্ঞান (ফিকহ) দান করেন।" [মুত্তাফাকুন আলাইহি]।আর সেই যন্ত্রটি হলো (উসূলে ফিকহ)। এটিই দীনের ফিকহ অর্জনের চাবিকাঠি। কিন্তু আপনি কি ভেবে দেখেছেন, আপনার চাবিতে যদি দাঁত না থাকে, অথবা দাঁত আছে কিন্তু তা এই দরজার জন্য তৈরি করা হয়নি, তবে কি আপনি মনে করেন তা আপনার জন্য (দ্বার) খুলে দেবে? অনুরূপভাবে উসূলের চাবিকাঠি; অবশ্যই এতে দাঁত থাকতে হবে এবং অবশ্যই তা ফিকহ অর্জনের জন্য হতে হবে। যদি তা এই বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত হয়, তবে সেটি কোনো ইলম বা বিদ্যা নয়।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
لأصولِ الفقهِ، أُشيرُ بهذا إلى أنَّ التَّأصيلَ لهذا العِلمِ خرجَ به كثيرٌ من المنتسبين إليه عمَّا قُصِدَ بهِ، فجاءُوا ليضَعُوا القوانينَ لفقهِ الكتابِ والسُّنةِ، وجلُّهم لا يعلمُون مخارجَ السُّننِ وكثيرٍ من الكتابِ والسُّنةِ وهو ليسَ من أهلهما؟على أنَّ هذا العلمَ ابتدأ صناعتَهُ وتقنينَهُ على أقربِ صُورةٍ إلى الاستيعابِ والكمالِ الإمامُ أبوعبد الله الشَّافعيُّ المتوفَّى سنة (204هـ) في كتابهِ العظيمِ (الرِّسالة) ، بناهُ على دلائل الكتابِ والسُّنةِ، بعيدًا عن التكلُّفِ وما لا يترتَّبُ عليه فائدةٌ أو عملٌ، وكانتْ تلكَ الأصولُ منثورةً في طرقِ الأئمَّةِ في الفقهِ قبل الشَّافعيِّ فيها التَّجريدُ والاستدلالُ، فمنْ جاء بعدَهُ بقيتْ فيهم طائفةٌ قليلةٌ على أثرهِ من جميعِ الفُقهاءِ غيرِ الحنفيَّةُ فسلكُوا طريقًا أقربَ إلى الصَّوابِ من أولئكَ الَّذينَ جاءُوا بعدَ الشَّافعيِّ، فإنهمْ نظرُوا في فُروعِ المذهبِ المنقولةِ عن الإمامِ أبي حنيفة وأصحابهِ وتأمَّلُوا طريقةَ فقْهِهمْ، فاسْتَفَادُوا منها التَّأصيلَ، فجاءتْ كُتُبُ كثيرٍ من مُصنِّفيهِمْ في الأصُولِ نافعَةً، من أمثالِ الإمامِ أبي بكْرٍ
উসূলুল ফিকহ প্রসঙ্গে আমি এর মাধ্যমে ইঙ্গিত করছি যে, এই শাস্ত্রের মূলনীতি প্রণয়ন করতে গিয়ে এর সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তিই এর প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। ফলে তারা কুরআন ও সুন্নাহর ফিকহ বা প্রজ্ঞার জন্য এমন সব নিয়ম-কানুন প্রণয়ন করতে প্রয়াসী হয়েছেন, অথচ তাদের অধিকাংশেরই সুন্নাহর উৎসসমূহ এবং কুরআন ও সুন্নাহর বহু বিষয় সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান নেই এবং তারা এই দুই বিষয়ের যোগ্যও নন?
মূলত এই শাস্ত্রের শিল্পরূপ দান এবং একে বিধিবদ্ধ করার কাজটি পূর্ণতা ও ব্যাপকতার নিকটতম অবয়বে শুরু করেছিলেন ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ (মৃত্যু ২০৪ হি.) তাঁর সুমহান গ্রন্থ 'আর-রিসালা'-তে। তিনি এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন কুরআন ও সুন্নাহর দলীলসমূহের ওপর, যা ছিল অহেতুক কৃত্রিমতা এবং এমন সব বিষয় থেকে মুক্ত যার কোনো ব্যবহারিক ফায়দা বা আমলি প্রয়োগ নেই। শাফিঈর পূর্বে ফিকহের ক্ষেত্রে ইমামগণের কর্মপদ্ধতিতে এই উসূল বা মূলনীতিগুলো তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ও দলীল উপস্থাপনের আঙ্গিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। অতঃপর তাঁর পরে হানাফীগণ ব্যতীত সকল ফকীহদের মধ্যে কেবল একটি ক্ষুদ্র দল তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে অবশিষ্ট ছিলেন। তবে তাঁরা (হানাফীগণ) শাফিঈর পরবর্তী অন্যান্যদের তুলনায় অধিকতর সঠিক পথ অনুসরণ করেছিলেন; কেননা তাঁরা ইমাম আবু হানীফা ও তাঁর সাথীবর্গের নিকট থেকে বর্ণিত মাযহাবের শাখা-প্রশাখাগুলোর (ফুরু) প্রতি দৃষ্টিপাত করেছেন এবং তাঁদের ফিকহী পদ্ধতি নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করেছেন, ফলে সেখান থেকেই তাঁরা এই শাস্ত্রের মূলনীতিগুলো আহরণ করেছেন। একারণেই তাঁদের অনেক লেখকের উসূল বিষয়ক গ্রন্থগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে, যেমন ইমাম আবু বকর...
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
الجَصَّاصِ المتوفَّى سنةَ (370هـ) ، لكن دخلَ متأخِّروهمْ فيما دخلَ فيهِ غيرُهم، وهذا العلمُ لصِلتِهِ بالكتابِ والسُّنةِ يجبُ أن تُستفادَ أصولُهُ منهما، فلذا كان أحسنُ الطُّرُقِ في تقنينِهِ وتأصيلهِ طريقَةَ الشَّافعيِّ رحمه الله ومن جرى على مِنْهَاجِهِ.وهذَا الكتابُ الَّذِي بين يديكَ عوْدَةٌ بهذا العلمِ إلى ذلكَ المِنهاجِ، بأُسلوبِ مناسبٍ للعصرِ في الشَّرحِ والإيضاحِ، سلكْتُ فيه أسْلوبَ التَّقسيمِ والتَّنويعِ مع التَّمثيلِ بأدلَّةِ الشَّريعةِ للمسائلِ الأصوليَّة، وتمييزِ الصَّحيحِ منها بالأدلَّةِ، وأهمُّ خصلةٍ حرصتُ عليها فيه تجنُّبُ تلكَ المسائل الَّتي حُسبتْ على هذا العلمِ وليست منهُ، مع إسقاطِ التَّمثيلِ والاستدلالِ بما لا يثبُتُ من جهَةِ النَّقلِ كالأحاديثِ الضَّعيفةِ، واستدْراكِ قضايا أُصوليَّةٍ كثيرةٍ تفتقرُ إلى ذكرهَا أكثرُ كتُبِ الأصولِ وهي من صميمِ هذا العلمِ، أدَعُ تمييزهَا لمن شاء المُقارنَةَ لهذا الكتابِ بغيرهِ من كتُبِ الأصولِ، كما حرصتُ أن لا يفوتَ شيءٌ لهُ اتِّصَالٌ بهذا العلمِ مما يقعُ منثورًا في كتبِ الأصولِ المتفرقةِ ما جرى منها تصنيفهُ على طريقةِ الشَّافعيِّ أو الحنفيَّةِ أو أهلِ الكلامِ إلَاّ أوردُهُ في هذا الكتابِ، وشرطتُ أن لا أذكر فيه حديثًا أو أثرًا في موضعِ الاستدلالِ والاستشهادِ إلَاّ وهو ثابتٌ من جهةِ النَّقلِ، ولا أُقلِّدُ في عزْوِ الأخبارِ إلى كتبِ الحديثِ، بلْ أستخرجُها من أصُولهَا كالصَّحيحينِ والسُّنَنِ وغيرهَا، كما لا أُقلِّدُ في الحكمِ على إسنادٍ، بل
আল-জাসসাস (যিনি ৩৭০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন), তবে তাদের পরবর্তী আলেমগণ সেই সব বিষয়ে জড়িয়ে পড়েছেন যাতে অন্যরা জড়িয়েছিল। এই শাস্ত্রটি যেহেতু কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত, তাই এর মূলনীতিসমূহ এ দুটি উৎস থেকেই গ্রহণ করা আবশ্যক। এই কারণেই এই শাস্ত্রকে বিধিবদ্ধ করা এবং এর মূল ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে ইমাম শাফিঈ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং যারা তাঁর মানহাজ অনুসরণ করেছেন তাদের অনুসৃত পথই ছিল সর্বোত্তম।আপনার সামনে থাকা এই কিতাবটি হলো এই শাস্ত্রকে পুনরায় সেই মানহাজের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার একটি প্রয়াস, যা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বর্তমান যুগের উপযোগী একটি শৈলী। এতে আমি উসূলি মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে শরীয়তের দলীল দ্বারা উদাহরণ প্রদান এবং বিন্যাস ও বৈচিত্র্যায়নের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। পাশাপাশি দলীলের ভিত্তিতে সঠিক বিষয়টি পৃথক করেছি। এই কিতাবে আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি সেই সকল মাসআলা পরিহার করার প্রতি, যেগুলোকে এই শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত মনে করা হয় অথচ সেগুলো এর অংশ নয়। এর পাশাপাশি বর্ণনার দিক থেকে যা প্রমাণিত নয়—যেমন দুর্বল হাদিস—সেগুলোকে উদাহরণ বা দলীল হিসেবে পেশ করা বর্জন করেছি। এছাড়া আমি এমন অনেক উসূলি বিষয় সংযোজন করেছি যা অধিকাংশ উসূলের কিতাবে উল্লেখ করা হয়নি, অথচ সেগুলো এই শাস্ত্রের মৌলিক বিষয়। যারা এই কিতাবকে অন্যান্য উসূলের কিতাবের সাথে তুলনা করতে চান, তাদের ওপরই এর পার্থক্য নিরূপণের ভার ছেড়ে দিচ্ছি। আমি আরও সচেষ্ট ছিলাম যেন এই শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন কোনো বিষয় বাদ না পড়ে যা শাফিঈ, হানাফী বা মুতাকাল্লিমদের পদ্ধতিতে রচিত বিভিন্ন উসূলের কিতাবে বিক্ষিপ্তভাবে রয়েছে; আমি তা এই কিতাবে অবশ্যই নিয়ে এসেছি। আমি শর্তারোপ করেছি যে, দলীল ও উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে এমন কোনো হাদিস বা আছর উল্লেখ করব না যা বর্ণনার মানদণ্ডে প্রমাণিত নয়। হাদিসসমূহকে মূল কিতাবের দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে আমি অন্ধ অনুসরণ করি না, বরং সহীহাইন, সুনান ও অন্যান্য মূল উৎস থেকে সেগুলো সরাসরি বের করি। একইভাবে কোনো সনদের মান নিরূপণের ক্ষেত্রেও আমি অন্ধ অনুসরণ করি না, বরং...
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
هي نتيجةُ البحثِ والدِّراسةِ.ولا أدَّعي في هذا الجُهدِ الكمالَ، لكنِّي قصدْتُ إليه بما آتى الله عزَّوجلَّ من العلمِ والقوَّةِ، فإن كان مُحقِّقًا للغايةِ منهُ فهذا ما أرْجوهُ، وإن كان دُون ذلك فحسْبِي أن يكونَ مُشاركَةً ومُحاولَةً لتذليلِ صِعابِ هذا العلمِ وتيْسِيرِهِ، الأمْرُ الَّذي ليسَ لي فيهِ فضْلُ تفرُّدٍ أدَّعيهِ، بل قد سبقَ إليهِ علماءُ كِبارٌ لم نزَلْ نقْطِفُ من نِتاجِ علمِهم، وسنبقى إن شاء اللهُ، كالشَّيخِ عبد الوهَّاب خلَاّف رحمه الله، والعلَاّمةِ الفقيه عبد الكريم زيدان مدَّ الله بعُمرِهِ ونفعَ به في كتابيهِما في الأصولِ.وأُنبِّهكَ إلى أنِّي قصدتُ إلى تركِ إثقالِ الكتابِ بالحواشي في عزْوِ المسائل الأصولية إلى الكتبِ المختلفةِ إرادَةً للتَّخفيفِ، واكتفيتُ بذِكرِ أسماءِ المراجعِ آخرِ الكتابِن لأني لم أعمدْ إلى سياقِ الألفاظِ من تلكَ المراجع بحروفها لأكونَ مضطَرًّا إلى عزوِهَا في أصلِ الكتابِ، وما يكونُ من كثيرٍ من التَّعاريفِ والمصطلحاتِ والتَّقسيماتِ محكيًّا بألفاظه في كتبِ الأصولِ، فهذا النَّمطُ لم أرَ ضرورةً لعزوِهِ لأنَّ الأصوليِّين تواردوا على ذكرهِ، فتراهُ مكرَّرًا بحروفهِ في أكثرهَا من غيرِ عزوٍ لقائلٍ في الغالبِ، لأنها مصطلحات أشْبهَت التَّفسيراتِ اللُّغويَّة، وحسبُ الباحثِ أن يقول فيها: ((تفسير هذا اللَّفظِ في اللُّغة كذا)) ، فكذلك المُصطلحُ الأصوليُّ.
এটি গবেষণা ও অধ্যয়নেরই ফসল।আমি এই প্রচেষ্টায় পূর্ণতার দাবি করছি না, তবে মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ আমাকে যে জ্ঞান ও শক্তি দান করেছেন, তা দিয়েই আমি এটি সম্পন্ন করার সংকল্প করেছি। যদি এটি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণে সমর্থ হয়, তবে সেটিই আমার প্রত্যাশা। আর যদি তার কম কিছু হয়, তবে এই শাস্ত্রের জটিল বিষয়সমূহ সহজবোধ্য ও সাবলীল করার পথে এটি একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস ও অংশগ্রহণ হিসেবে গণ্য হওয়াই আমার জন্য যথেষ্ট। এ বিষয়ে আমার একক কোনো শ্রেষ্ঠত্বের দাবি নেই, বরং আমার পূর্বে বরেণ্য আলেমগণ এই পথ প্রশস্ত করে গেছেন, যাঁদের অর্জিত জ্ঞানের ফসল আমরা সর্বদা আহরণ করছি এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও করে যাবো। যেমন— শেখ আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এবং বিজ্ঞ ফকিহ আব্দুল কারিম যাইদান (আল্লাহ তাঁর আয়ু দীর্ঘ করুন এবং তাঁর মাধ্যমে কল্যাণ দান করুন), তাঁদের উসুল সংক্রান্ত গ্রন্থদ্বয়ে।আমি আপনাকে অবগত করছি যে, ভারমুক্ত ও সহজ করার লক্ষ্যে উসুলের মাসআলাগুলোকে বিভিন্ন কিতাবের উদ্ধৃতি দিয়ে পাদটীকায় ভারাক্রান্ত করা থেকে আমি বিরত থেকেছি। আমি বইয়ের শেষে কেবল তথ্যসূত্রগুলোর নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি; কেননা আমি সেই সকল উৎস থেকে হুবহু শব্দে উদ্ধৃতি প্রদান করিনি যে মূল গ্রন্থে তা সূত্রবদ্ধ করা আমার জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া উসুলের কিতাবগুলোতে এমন অনেক সংজ্ঞা, পরিভাষা ও শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে যা হুবহু ভাষায় বর্ণিত হয়। এ ধরনের বিষয়ে আমি সূত্র উল্লেখের প্রয়োজনীয়তা বোধ করিনি, কারণ উসুলবিদগণ সম্মিলিতভাবে এগুলো উল্লেখ করে আসছেন। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনি এগুলো কোনো নির্দিষ্ট প্রবক্তার নাম ছাড়াই হুবহু পুনরাবৃত্তি হতে দেখবেন, কারণ এই পরিভাষাগুলো অনেকটা আভিধানিক ব্যাখ্যার মতো হয়ে গিয়েছে। একজন গবেষকের জন্য যেমন কোনো শব্দের আভিধানিক অর্থ বর্ণনায় বলা যথেষ্ট যে: "অভিধানে এই শব্দের অর্থ এমন", উসুলের পরিভাষার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
ومن جملةِ ذلك تركي لتفصيلِ التَّخريجِ والتَّحقيقِ للأحاديث والآثارِ، فإنَّ هذا لو أوردتُه لصارَ الكتابُ ضِعفَ حَجْمِهِ، وليسَ إيرادُه من لوازمِ علم أُصولِ الفقهِ.وسمَّيتهُ (تيسيرُ علم أصول الفقه) على ما قصدتُ إليه فيهِ من تقريبِ هذا العلم وتيسيرهِ على طالبهِ، وتهيئةِ الأسبابِ الواجبِ تحصيلُها للمجتهدِ، ويأتي واحدًا من أهمِّ علومِ الآلةِ الَّتي أرجو أن تكون لي مشاركَةٌ في تسهيلِ عرضها، كما أنَّه يأتي باكورةَ إصداراتِ المركز الّضذي أنشأناهُ في أرضِ المهجرِ بريطانيا (مركز البحوث الإسلامية) ، والَّذي نطمعُ أن يُحقِّقَ المقصودَ به لخدمةِ العلومِ الإسلامية على أتمِّ وجهٍ وأكملهِ.والله عالى أسألُ التَّوفيقَ والسَّداد في القولِ والعمَلِ، وأن يجعلَ هذا الكتابَ قُرَّةَ عينٍ لأولي الألبابِ، وأن يغفر لي ما زلَّ به اللِّسانُ والقلَمُ، هو حسبِي ونِعمَ الوكيلُ، ولا حولَ ولا قوَّةَ إلَاّ بهِ.وكتبأبومحمَّدعبد الله بن يوسف الجُديعيوم عرفة ذ417هـ الموافقُ للسَّادس عشرَ من نيسان 1997مفي مدينة ليذز ـ بريطانيا ـ
আর এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো হাদীস ও আসারসমূহের বিস্তারিত তাখরীজ ও তাহকীক পরিহার করা। কারণ আমি যদি এগুলো উল্লেখ করতাম, তবে বইটি তার বর্তমান আকারের দ্বিগুণ হয়ে যেত; আর এগুলো উল্লেখ করা উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের আবশ্যিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়।আমি এর নামকরণ করেছি ‘তাইসীরু ইলমি উসূনিল ফিকহ’ (উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের সহজীকরণ), যা এই শাস্ত্রকে এর শিক্ষার্থীদের নিকট সহজবোধ্য ও নিকটবর্তী করা এবং একজন মুজতাহিদের জন্য অর্জন করা আবশ্যক এমন উপকরণসমূহ প্রস্তুত করার সংকল্পের সাথে সংগতিপূর্ণ। এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সহায়ক শাস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যার উপস্থাপনা সহজীকরণে আমার একটি ক্ষুদ্র অংশগ্রহণ থাকবে বলে আমি আশা রাখি। এর পাশাপাশি এটি আমাদের প্রবাসের ভূমি ব্রিটেনে প্রতিষ্ঠিত ‘ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার’ (মারকাযুল বুহুস আল-ইসলামিয়্যাহ)-এর প্রথম প্রকাশনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যার মাধ্যমে আমরা পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তমভাবে ইসলামী জ্ঞানসমূহের খিদমত করার লক্ষ্য পূরণের আশা রাখি।আর আমি মহান আল্লাহর নিকট কথা ও কাজে তাওফীক ও সঠিকতা প্রার্থনা করছি, এবং এই কিতাবকে জ্ঞানবানদের জন্য চক্ষুর শীতলতা বানানোর আবেদন করছি। আর জিহ্বা ও কলমের সকল বিচ্যুতির জন্য আমি তাঁর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর তাঁর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।লিখেছেনআবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন ইউসুফ আল-জুদী‘আরাফাহ দিবস, ১৪১৭ হিজরী, মোতাবেক ১৬ই এপ্রিল ১৯৯৭ ঈসায়ীলিডস শহর — ব্রিটেন —
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
أصول الفقه"تعريفه:"الأصولُ: جمعُ أصلٍ، وهو لُغةً: ما ينبني عليه غيرُهُ.واصطلاحًا: يُطلقُ (الأصلُ) على أمورٍ، منها:1-الدليلُ، ومنه: قولهمْ: (أصل هذه المسألةِ الكتابُ والسُّنة) .2-الرَّاجحُ، كقولهم: (الأصلُ في الكلامِ الحقيقة) أي لا المجازُ، لأنها أرجحُ منه.3-القاعدةُ، ومنهُ قولهُم: (الأصلُ أنَّ الفاعلَ مرفوعٌ) .4-الاستصحابُ، ومنه قولُهم: (الأصلُ في الأشياءِ الإباحَةُ) ، وسيأتي بيانُ معناهُ.والفقهُ؛ لغةً: الفهمُواصطلاحًا: العلمُ بالأحكامِ الشَّرعيَّة العمليَّة المُكتسبة من أدلَّتِها التَّفصيليَّة.تفسير التَّعريف:1-الأحكام: جمع حُكمٍ، وهو: إثباتُ شيءٍ لشيءٍ.2-الشَّرعيَّة: المستفادة من الشَّريعةِ، فتخرُج منها أحكامُ العقلِ
উসূলে ফিকহএর সংজ্ঞা:উসূল: এটি ‘আসল’ শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে: এটি এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে বা ভিত্তি লাভ করে।পারিভাষিক পরিভাষায়: ‘আসল’ শব্দটি কয়েকটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:১-দলিল (প্রমাণ), যেমন তাঁদের কথা: ‘এই মাসআলার আসল বা ভিত্তি হলো কিতাব ও সুন্নাহ’।২-প্রাধান্যপ্রাপ্ত বিষয়, যেমন তাঁদের কথা: ‘কথার ক্ষেত্রে আসল হলো হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ’, অর্থাৎ রূপক অর্থ নয়; কারণ এটিই অধিক প্রাধান্যযোগ্য।৩-মূলনীতি বা নিয়ম, যেমন তাঁদের কথা: ‘আসল বা নিয়ম হলো ফায়েল বা কর্তা মারফু (পেশযুক্ত) হওয়া’।৪-ইস্তিসহাব (পূর্বাবস্থা বহাল রাখা), যেমন তাঁদের কথা: ‘মূলত সব বস্তুই বৈধ’। এর অর্থ সামনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।আর ফিকহ; আভিধানিক অর্থে: বুঝ বা উপলব্ধি করা।পারিভাষিক অর্থে: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ থেকে অর্জিত শরীয়তের ব্যবহারিক বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান।সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:১-আহকাম: এটি ‘হুকুম’ শব্দের বহুবচন। আর হুকুম হলো: কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা।২-শরীয়তি: যা শরীয়ত থেকে গৃহীত হয়েছে। এর মাধ্যমে আকলি বা বুদ্ধিভিত্তিক বিধানগুলো বহির্ভূত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
المحضة.3-العمليَّة: المتعلقة بأفعالِ المكلَّفين، فيخرجُ منها الأحكامُ الاعتقاديَّة والسُّلوكيَّة.4-المكتسبة: المستفادة بطريقِ النَّظرِ والاستدلالِ، فيخرُجُ من الفقهِ نوعانِ من العلمِ:[1] علم الله تعالى أو رسولهِ صلى الله عليه وسلم، فأما علمُ الله تعالى فهو وصفٌ لازمٌ له علىوجه الكمالِ، ولو عُلِّق بالاستنباط لكانَ نقصًا يُنزَّه عنه سبحانه وتعالى، وأمَّا علمُ رسولهِ صلى الله عليه وسلم فمصدرهُ الوحيُ الَّذي هو من علمِ الله تعالى.[2] علمُ المقلَِّّد، فإنه لم يستفدْهُ بالنَّظر والاستنباطِ، إنما حملهُ عن غيرهِ.5-الأدلَّة: جمعُ (دليلٍ) وهو لغةً: الهادي.واصطلاحًا: ما يُستدل بالنَّظر الصَّحيح فيه على حكمٍ شرعيٍّ عمليٍّ على سبيل القطعِ أو الظَّنِّ.6-التَّفصيليَّة: الجزئيَّة أو الفرعيَّة.والأدلَّة التفصيليَّة، هي كلُّ دليلٍ يختصُّ بمسالةٍ معيَّنةٍ، كاختصاصِ قوله تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوا} [الإسراء:32] بحرمةِ الزِّنا، فهذه الآية دليلٌ تفصيليُّ يختصُّ بمسألةٍ معيَّنةٍ هي الزِّنا، وهو
বিশুদ্ধ।৩-ব্যবহারিক: যা মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর শরীয়তের বিধান কার্যকর হয়) কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট, ফলে এর দ্বারা বিশ্বাসগত এবং আচরণগত বিধানসমূহ বহির্ভূত হয়ে যায়।৪-অর্জিত: যা গবেষণা ও দলীল অন্বেষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত, ফলে ফিকহ থেকে দুই প্রকার জ্ঞান বহির্ভূত হয়ে যায়:[১] মহান আল্লাহ তাআলার জ্ঞান অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জ্ঞান। মহান আল্লাহ তাআলার জ্ঞান হলো তাঁর জন্য পূর্ণতার স্তরে একটি অপরিহার্য গুণ, আর যদি তা ইস্তিম্বাত বা গবেষণালব্ধ হতো তবে তা ত্রুটি হিসেবে গণ্য হতো যা থেকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র। আর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জ্ঞানের উৎস হলো ওহী, যা মহান আল্লাহ তাআলার জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত।[২] মুকাল্লিদ বা অনুসারীর জ্ঞান, কারণ সে এটি গবেষণা ও ইস্তিম্বাতের মাধ্যমে লাভ করেনি, বরং অন্যের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছে মাত্র।৫-দলিলসমূহ: এটি ‘দালিল’-এর বহুবচন, যার আভিধানিক অর্থ: পথপ্রদর্শক।পরিভাষায়: যাতে সঠিক পর্যালোচনার মাধ্যমে অকাট্যভাবে অথবা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে কোনো ব্যবহারিক শরয়ী বিধান লাভ করা যায়।৬-বিস্তারিত: আংশিক বা শাখাগত।আর বিস্তারিত দলিলসমূহ হলো এমন প্রত্যেকটি দলিল যা কোনো সুনির্দিষ্ট মাসআলার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা নিকটবর্তী হয়ো না} [আল-ইসরা: ৩২] ব্যভিচারের হারামের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া। সুতরাং এই আয়াতটি একটি বিস্তারিত দলিল যা একটি সুনির্দিষ্ট মাসআলা তথা ব্যভিচারের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো-
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
غيرُ قوله تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ} [الإسراء: 34] ، فهذا دليلٌ تفصيليُّ على مسألةٍ معيَّنةٍ أخرى هي حرمَةُ أكلِ مالِ اليتيمِ.وأصول الفقه:هي القواعد والأدلَّة العامَّةُ الَّتي يُتوصَّلُ بها إلى الفقهِ.من أمثلة القواعدِ:1-الأمر للوجوبِ حتَّى تصرفَهُ قرينةٌ عن ذلكَ.2-النَّهي للتَّحريمِ حتَّى تصرِفه قرينةٌ عن ذلك.3-العامُّ شاملٌ لجميعِ أفرادِهِ ما لم يرِدِ التَّخصيصُ.والأدلَّةُ هي مصادرُ التَّشريعِ، كـ: الكتابِ، والسُّنَّةِ، والإجماعِ، والقياسِ.الفرق بين القاعدة الأصولية والفقهية:القاعدةُ الأصوليَّةُ هي: دلالةٌ يهتدي بها المجتهدُ للتَّوصُّلِ إلى استخراجِ الأحكامِ الفقهيَّة، فهي آلتُهُ الَّتي يستعملُها لاستفادَةِ تلكَ الأحكامِ، كالقواعدِ الثَّلاثِ المتقدِّمة.أما القاعدةُ الفقهيَّةُ؛ فهيَ الجملةُ الجامعةُ من الفقهِ تندرجُ تحتهَا جزئياتٌ كثيرةٌ، بمنزلةِ النُّصوصِ الجوامعِ للمعاني، كالمُناسبةِ الَّتي تُلاحظها بين القاعدةِ الفقهيَّةِ: (الأمور بمقاصدها) ، وبين قوله صلى الله عليه وسلم:
আল্লাহ তাআলার এই বাণী ব্যতীত: {এবং তোমরা এতিমের সম্পদের নিকটবর্তী হয়ো না} [আল-ইসরা: ৩৪], কেননা এটি অন্য একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর বিস্তারিত দলিল, আর তা হলো এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা হারাম হওয়া।আর উসূলে ফিকহ হলো:এমন সব সাধারণ নিয়মাবলী ও প্রমাণাদি যার মাধ্যমে ফিকহ পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়।নিয়মাবলীর কিছু উদাহরণ:১-আদেশ ওয়াজিব হওয়ার বিধান দেয়, যতক্ষণ না কোনো লক্ষণ বা প্রমাণ তাকে অন্য দিকে সরিয়ে নেয়।২-নিষেধ হারাম হওয়ার বিধান দেয়, যতক্ষণ না কোনো লক্ষণ বা প্রমাণ তাকে অন্য দিকে সরিয়ে নেয়।৩-সাধারণ শব্দ তার সকল অন্তর্ভুক্ত বিষয়কে শামিল করে, যতক্ষণ না কোনো সুনির্দিষ্টকরণ বা বিশেষত্বমূলক প্রমাণ আসে।আর দলিলসমূহ হলো শরয়ি বিধানের উৎস, যেমন: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস।উসূলে ফিকহী এবং ফিকহী কায়দার মধ্যে পার্থক্য:উসূলে ফিকহী কায়দা হলো: এমন দিকনির্দেশনা যার মাধ্যমে মুজতাহিদ ফিকহী বিধানসমূহ আহরণ বা বের করার জন্য পথনির্দেশ লাভ করেন। সুতরাং এটি হলো তার সেই সরঞ্জাম যা তিনি ওইসব বিধান লাভের জন্য ব্যবহার করেন, যেমন পূর্বে উল্লেখিত তিনটি কায়দা।পক্ষান্তরে ফিকহী কায়দা হলো; ফিকহ শাস্ত্রের এমন একটি সংক্ষিপ্ত ও ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য যার অধীনে অনেক খুঁটিনাটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা ব্যাপক অর্থবোধক মূল পাঠের স্থলাভিষিক্ত। যেমন আপনি এই ফিকহী কায়দা: (কাজসমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর মধ্যে যে সামঞ্জস্য লক্ষ্য করেন:
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
((إنما الأعمال بالنِّيات)) أو بين القاعدةِ الفقهيَّةِ: (المشقَّةُ تجلِبُ التَّيسيرَ)) وقوله تعالى: {لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا} [البقرة: 286] ، فالقاعدة الفقهيَّةُ جملةٌ جامعةٌ لجزئيَّاتٍ كلُّهنَّ من بابها وموضوعها، بمنزلةِ المستفاد من آيةٍ جامعةٍ أو حديثٍ جامعٍ، كالمثاليين المذكورين.ولو تأمَّلتَ اعتبار جميع التصرفات بالمقاصد فكم تُرى يندرجُ تحت ذلك من المسائل الفرعيَّةِ في العبادات والمعاملاتِ والجناياتِ والعقوباتِ، فأفعال المصلِّي والمزكي والبائع والمشتري والنَّاكح والمُطلق والسَّارق والزَّاني والقاتل والحالفِ والقاضي، إلى غير ذلك ممَّا تعتبرُ فيه النِّياتُ والإراداتُ كلُّه مندرجٌ تحت هذه الجملةِ، فلمَّا جاءتْ على الاستيعاب للأمورِ الكثيرةِ سمِّيتْ (قاعدة) ، ولما كانتْ في المسائلِ الشَّرعيَّة العمليَّة سميَّتْ (فقهيَّة) ، وهذه بخلافِ (الأصوليَّة) فإنَّها لا تندرجُ تحتها الفروعُ العمليَّة، إنما هي أداةٌ لمعرفتها من الدَّليلِ الشَّرعِّ، ومن خلالِ دراسةِ قواعدِ الأصولِ في هذا الكتابِ ستعلمُ حقيقةَ المقصودِ بقولنا (أداة) أو (آلة) .
((নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল)) অথবা এই ফিকহি মূলনীতি: ((কষ্ট সহজীকরণ নিয়ে আসে)) এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না} [আল-বাকারাহ: ২৮৬] এর মধ্যে; সুতরাং ফিকহি মূলনীতি হলো এমন একটি ব্যাপক বাক্য যা তার সংশ্লিষ্ট অধ্যায় ও বিষয়বস্তুর অনেক খুঁটিনাটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি কোনো ব্যাপক অর্থবোধক আয়াত বা ব্যাপক অর্থবোধক হাদিস থেকে আহরিত সারমর্মের স্থলাভিষিক্ত, যেমন উল্লিখিত উদাহরণ দুটিতে দেখা গেছে।আর আপনি যদি সমস্ত কর্মকাণ্ডকে উদ্দেশ্যের আলোকে বিবেচনা করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন, তবে দেখবেন এর অধীনে ইবাদত, লেনদেন, অপরাধ এবং দণ্ডবিধি সংক্রান্ত কত অসংখ্য শাখা-প্রশাখা বিষয়ক মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেননা নামাজি, জাকাতদাতা, বিক্রেতা, ক্রেতা, বিবাহকারী, তালাক প্রদানকারী, চোর, ব্যভিচারী, হত্যাকারী, শপথকারী এবং বিচারকের কর্মকাণ্ড—সহ এমন আরও অনেক বিষয় যেখানে নিয়ত ও সংকল্প ধর্তব্য হয়—সবই এই ব্যাপক বাক্যের অধীনে অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু এটি বহুবিধ বিষয়কে সামগ্রিকভাবে শামিল করে, তাই একে 'কায়েদাহ' বা 'মূলনীতি' বলা হয়। আর যেহেতু এটি আমলযোগ্য শরিয়তি মাসআলা সংক্রান্ত, তাই একে 'ফিকহিয়্যাহ' বা 'ফিকহি' বলা হয়। আর এটি 'উসুলি' (মূলতাত্ত্বিক) বিষয়ের বিপরীত, কেননা উসুলি বিষয়ের অধীনে আমলযোগ্য শাখা মাসআলাসমূহ সরাসরি অন্তর্ভুক্ত হয় না; বরং এটি হলো শরিয়তি দলিল থেকে সেগুলো জানার একটি মাধ্যম। আর এই কিতাবে উসুলের মূলনীতিসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে আপনি আমাদের 'মাধ্যম' বা 'হাতিয়ার' বলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পারবেন।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
مباحث الأحكام
বিধানাবলির আলোচনা
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
1ـ معنى الحكم"تعريفه:هو: خطابُ الشَّارعُ المتعلِّق بأفعالِ المكلَّفين اقتضاءً أو تخييرًا أوْ وضعًا."شرح التعريف:خطابُ الشَّارعُ: هو خِطابُ الله تعالى المُباشرُ كالوحي بالقرآنِ والسُّنة، أو المبنيُّ على خطابه المُباشر كالإجماعِ والقياسِ.المتعلقُ بأفعالِ المكلفينَ: المراد بالأفعال ما هو آتٍ في التَّعريف، وأمَّا المكلفُ فسيأتي تعريفه في (المحكوم عليه) .اقتضاءً: أي: طلبًا، ويندرجُ تحتهُ: مطلوبُ الفعلِ، ومطلوبُ التَّركِ، وكلٌّ من المطلوبينَ ينقسمُ إلى: لازمٍ، وغير لازمٍ.تخييرًا: أي متساوٍ فعلُهُ وتركُهُ.وضعًا: ما جعلهُ الشَّارعُ سببًا لشيءٍ، كدُلوكِ الشَّمس لوجوبِ الصلاةِ، أو شرطًا لشيءٍ، كالوضوءِ لصحَّةِ الصَّلاةِ، أو مانعًا من شيءٍ، كالقتل مانعًا من الإرثِ، أو حكمُ الشَّارع بصحَّةِ شيءٍ أو فسادِه أو بُطلانهِ، أو شدَّتِهِ أو خِفَّتهِ.…
১- হুকুমের অর্থএর সংজ্ঞা:এটি হলো: দাবি, ইখতিয়ার অথবা পরিস্থিতি নির্ধারণ হিসেবে মুকাল্লাফদের (দায়িত্বশীলদের) কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ি বিধাতার সম্বোধন।সংজ্ঞার ব্যাখ্যা:শরয়ি বিধাতার সম্বোধন: এটি হলো মহান আল্লাহর প্রত্যক্ষ সম্বোধন যেমন কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে ওহী, অথবা তাঁর প্রত্যক্ষ সম্বোধনের ওপর ভিত্তি করে প্রাপ্ত সম্বোধন যেমন ইজমা এবং কিয়াস।মুকাল্লাফদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট: কার্যাবলী বলতে যা সংজ্ঞায় সামনে আসছে তাকে বোঝানো হয়েছে। আর মুকাল্লাফ বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির সংজ্ঞা সামনে 'মাহকুম আলাইহি' (যাদের ওপর বিধান কার্যকর হয়) পরিচ্ছেদে আসবে।দাবি হিসেবে: অর্থাৎ চাওয়ার প্রেক্ষিতে। এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: কোনো কাজ করার চাহিদা এবং কোনো কাজ বর্জনের চাহিদা। এই উভয় প্রকারের চাহিদাই আবশ্যিক এবং অনাবশ্যিক—এই দুই ভাগে বিভক্ত।ইখতিয়ার হিসেবে: অর্থাৎ যে কাজ করা এবং বর্জন করা সমান।পরিস্থিতি নির্ধারণ হিসেবে: যা শরয়ি বিধাতা কোনো কিছুর জন্য কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেমন নামায ওয়াজিব হওয়ার জন্য সূর্য ঢলে পড়া; অথবা কোনো কিছুর জন্য শর্ত হিসেবে, যেমন নামায সহীহ হওয়ার জন্য ওযু; অথবা কোনো কিছুর জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে, যেমন উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার জন্য হত্যা; অথবা কোনো বিষয়ের শুদ্ধতা, ত্রুটিযুক্ত হওয়া বা বাতিল হওয়া সম্পর্কে অথবা বিধানের কঠোরতা বা শিথিলতা সম্পর্কে শরয়ি বিধাতার নির্ধারণ।…
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
2ـ أقسام الحكمالحكم التكليفي"تعريفه:هو ما اقتضى طلبَ فعلٍ من المكلفِ، أو طلبَ كفٍّ، أوخيِّرَ فيه بين الفعلِ والتَّركِ.وسمِّي (تكليفيًّا) لأنه يقعُ بامتثالهِ كلفةٌ.وتسميتهُ (تكليفيًّا) جرى على التَّغليبِ، وإلَاّ فإن ما خيَّر فيه الشَّارع ليس فيه تكليفٌ في الحقيقة.أقسامه:يُلاحظُ من التَّعريف أن الحكم التَّكليفي يمكنُ أن يندر تحتهُ خمسةُ أقسامٍ، هي:1- الواجب*تعريفه:لغةً: السَّاقطُ والواقعُ، يقالُ: (وجبَ الحائطُ) إذا سقطَ، ومنه قوله تعالى في النُّسكِ: {فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا} [الحج: 36] أي: ذبِحتْ فسقطتْ ووقعتْ إلى الأرضِ.وفيه معنى الثبوتِ واللُّزومِ، فإنَّ ما يسقطُ يستقرُّ بسقوطهِ ويلزمُ
২. হুকুমের প্রকারভেদহুকুমুত তাকলিফিসংজ্ঞা:তা এমন বিষয় যা মুকাল্লাফ ব্যক্তির নিকট থেকে কোনো কাজ করার দাবি করে, অথবা তা থেকে বিরত থাকার দাবি করে, অথবা তাকে কাজ করা বা না করার ব্যাপারে স্বাধীনতা প্রদান করে।একে (তাকলিফি) বলা হয় কারণ এটি পালন করতে কষ্ট বা শ্রমের প্রয়োজন হয়।এর নামকরণ (তাকলিফি) প্রধানত প্রাধান্য দেওয়ার ভিত্তিতে করা হয়েছে, নতুবা শারিয়াত দাতা যে বিষয়ে স্বাধীনতা দিয়েছেন তাতে প্রকৃতপক্ষে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।প্রকারভেদ:সংজ্ঞা থেকে লক্ষ্য করা যায় যে, হুকুমুত তাকলিফি-র অধীনে পাঁচটি প্রকার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, সেগুলো হলো:১. ওয়াজিব*সংজ্ঞা:আভিধানিক অর্থে: পতিত হওয়া বা ঘটে যাওয়া। বলা হয়: ‘দেয়ালটি ওয়াজাবা’ যখন তা পড়ে যায়। এর থেকেই কুরবানির পশু সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর যখন তাদের পার্শ্বদেশ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে} [হজ: ৩৬], অর্থাৎ যবেহ করা হলো এবং তা মাটিতে পড়ে গেল।এতে স্থির হওয়া এবং আবশ্যক হওয়ার অর্থও রয়েছে। কেননা যা কিছু পতিত হয় তা পতনের মাধ্যমে স্থির হয়ে যায় এবং সেখানে অবস্থান করে।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الوضعَ الَّذي يسقطُ عليه، ومن ثمَّ قيلَ: (وجبَ البيعُ) أيْ: ثبتَ واستقرَّ ولزِمَ، وهذا أصلُ معنى الواجبِ في الاصطلاحِ.واصطلاحًا: هو ما طلبَ الشَّارعُ فعله على وجهِ اللُّزومِ، ورتَّب على امتثالهِ المدحَ والثَّوابَ، وعلى تركهِ مع القُدْرةِ الذَّم والعقابِ.صيغته:الصِّيغُ الدَّالة على إفادةِ الوجوبِ في نصوصِ الكتابِ والسُّنةِ كثيرةٌ أهمُّها:1-صيغة الأمرِ بلفظِ الإنشاءِ، بفعلِ الأمرِ (افْعَلْ) كقوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} [الأنعام: 72] ، أو المضارعُ المجزومِ بلامِ الأمرِ كقوله تعالى: {فَلْيَتَّقُوا اللَّهَ وَلْيَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} [النساء: 9] ، أو اسمِ فعلِ الأمر كقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لَا يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} [المائدة: 105] ، أو المصدر النَّائب عن فعلِ الأمرِ، كقوله تعالى: {فَإِذَا لَقِيتُمُ الَّذِينَ كَفَرُوا فَضَرْبَ الرِّقَابِ} [محمد:4] .وسيأتي في مبحث (الأمر) في (قواعد الاستنباط) بيانُ دلالة هذه الصِّيغة على الوُجوبِ.2-صيغةُ (أمرَ) وما يتصرَّفُ عنها، كقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى} [النحل:90] ، وقوله: {إِنَّ
যে অবস্থায় তা পতিত হয়, আর সেখান থেকেই বলা হয়েছে: (বিক্রয় ওয়াজিব হয়েছে) অর্থাৎ: তা সাব্যস্ত হয়েছে, স্থিতিশীল হয়েছে এবং আবশ্যক হয়েছে; আর এটিই পরিভাষায় ওয়াজিবের মূল অর্থ।আর পরিভাষায়: এটি এমন বিষয় যা শারঈ বিধানদাতা আবশ্যকতা স্বরূপ পালন করার দাবি জানিয়েছেন, এবং যা পালনের ওপর প্রশংসা ও সওয়াব নির্ধারণ করেছেন, আর সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা বর্জনের ওপর নিন্দা ও শাস্তির বিধান রেখেছেন।এর রূপসমূহ:কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যে ওয়াজিব হওয়ার অর্থ প্রদানকারী রূপগুলো অনেক, যার মধ্যে প্রধানগুলো হলো:১-ইনশা বা প্রবর্তক শব্দে আদেশের রূপ, আদেশসূচক ক্রিয়ার মাধ্যমে (করো), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা সালাত কায়েম করো} [আল-আনআম: ৭২], অথবা আদেশসূচক ‘লাম’ যুক্ত মুজারি ক্রিয়া, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তারা যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং সঠিক কথা বলে} [আন-নিসা: ৯], অথবা আদেশসূচক ক্রিয়ার বিশেষ্য, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদের নিজেদেরই ওপর। তোমরা যখন সৎপথে আছো তখন যে পথভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না} [আল-মায়িদাহ: ১০৫], অথবা আদেশসূচক ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত ক্রিয়ামূল, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তোমরা কাফেরদের মোকাবিলা করবে, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত করো} [মুহাম্মদ: ৪]।আর 'কাওয়ায়েদুল ইস্তিনবাত' (বিধান উদ্ঘাটনের নিয়মাবলী) এর ‘আমর’ (আদেশ) পরিচ্ছেদে এই রূপটি ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ নির্দেশ করার বিষয়টি বিস্তারিত আসবে।২-‘আদেশ করেছেন’ শব্দ এবং তা থেকে রূপান্তর হওয়া শব্দাবলি, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করার আদেশ দিচ্ছেন} [আন-নাহল: ৯০], এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} [النساء: 58] ، وقوله صلى الله عليه وسلم: ((وأنا آمركمْ بخمسٍ الله أمرني بهنَّ: السَّمعِ والطَّاعةِ، والجهادِ، والهجرةِ، والجماعةِ)) ، (جزءٌ من حديثٍ صحيحٍ أخرجه التِّرمذِيُّ وغيرهُ) .3-صيغة (كتبَ) و (كُتِبَ) ، كقوله تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ} [البقرة:216] ، وقوله صلى الله عليه وسلم: ((إنَّ الله كتبَ الإحسانَ على كلِّ شيءٍ، فإذا قتلتُمْ فأحسنُوا القِتلَةَ، وإذا ذبحتُم فأحسنُوا الذِّبح، وليُحِدَّ أحدُكمْ شفْرَتَهُ فليُرِحْ ذبِيحتَهُ)) [أخرجه مسلمٌ من حديثِ شدَّاد بنِ أوسٍ] .4-صيغةُ (فرضَ) وما يتصرَّفُ عنها، كقوله تعالى: {سُورَةٌ أَنْزَلْنَاهَا وَفَرَضْنَاهَا} [النور:1] أي: أوجبنا العمل بها.وعن عبد الله بن عباسٍ رضي الله عنهما: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم لمَّا بعثَ معاذً إلى اليمنِ قال: ((إنكَ تقدُمُ على قومٍ أهلِ كتابٍ، فليكُن أوَّل ما تدعوهمْ إليهِ عبادَةُ الله عزَّوجلَّ، فإذا عرفُوا الله فأخبرهم أنَّ الله فرض عليهمْ خمسَ صلواتٍ في يومهم وليلتهم، فإذا فعلوا فأخبرْهُم أنَّ الله قد فرض عيهم زكاةً تُؤخذُ من أغنيائهم فترَدُّ على فُقرائهِم، فإن أطاعُوا بها فخذْ منهمْ وتوقَّ كرائمَ أموالهِم)) [متفق عليه] .5-صيغة (لهُ عليك فِعلُ كذا) كقوله تعالى: {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ
"আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও" [আন-নিসা: ৫৮], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আর আমি তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি যেগুলোর নির্দেশ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন: শ্রবণ ও আনুগত্য, জিহাদ, হিজরত এবং জামাআত" (তিরমিজি ও অন্যান্য কর্তৃক সংকলিত একটি সহীহ হাদিসের অংশ)।৩-'নির্ধারণ করেছেন' এবং 'নির্ধারিত হয়েছে' শব্দরূপ। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের ওপর যুদ্ধের বিধান নির্ধারিত করা হয়েছে, যদিও তা তোমাদের নিকট অপছন্দনীয়" [আল-বাকারাহ: ২১৬]। এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের ওপর ইহসান (উত্তম আচরণ) করা আবশ্যক করেছেন। সুতরাং যখন তোমরা হত্যা করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে হত্যা করো; আর যখন তোমরা জবেহ করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবেহ করো। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবেহকৃত প্রাণীকে আরাম দেয়" [শাদ্দাদ বিন আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি মুসলিম সংকলন করেছেন]।৪-'ফরজ করেছেন' শব্দরূপ এবং তা থেকে যা কিছু নির্গত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এটি একটি সূরা যা আমরা অবতীর্ণ করেছি এবং একে ফরজ করেছি" [আন-নূর: ১] অর্থাৎ: এর ওপর আমল করা আমরা আবশ্যক করেছি।আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন তখন বলেছিলেন: "নিশ্চয় তুমি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের নিকট যাচ্ছ। সুতরাং তুমি তাদের সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে আহ্বান করবে তা যেন হয় আল্লাহর ইবাদত। তারা যখন আল্লাহকে চিনতে পারবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তারা যখন তা পালন করবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন যা তাদের ধনীদের থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেয়া হবে। তারা যদি এ বিষয়ে আনুগত্য করে, তবে তাদের থেকে জাকাত গ্রহণ করো এবং তাদের সর্বোত্তম মাল গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থেকো" [মুত্তাফাকুন আলাইহি]।৫-'কারও ওপর কোনো কিছু করার আবশ্যকতা' নির্দেশক শব্দরূপ। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং মানুষের ওপর আল্লাহর প্রাপ্য এই যে..."
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا} [آل عمران: 97] ، وقوله صلى الله عليه وسلم في حقِّ الرَّجل على امرأته: ((ولكم عليهنَّ أن لا يوطئنَ فُرشَكُمْ أحدًا تكرهُونهُ، فإنْ فعلنَ ذلكَ فاضْرِبُوهنَّ ضربًا غير مُبرِّحٍ)) [أخرجه مسلمٌ من حديث جابربن عبدِالله] ، ومنه قوله تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} [البقرة: 234] .6ـ صيغةُ الخبر الَّتي فيها تنزيل المطلوب منزلةَ التَّامِّ الحاصل تأكيدًا للأمر به، كقوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا} [البقرة: 234] .7ـ ما ورد فيه ترتيبُ المؤاخذة على تركِ الامتثالِ، كقوله تعالى: {فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} [البقرة: 279] ، وقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((من لا يرحمُ لا يُرحمُ)) [متفقٌ عليه من حديث جريرِ بن عبد الله وأبي هريرة] .8ـ وصفُ تركِ الامتثالِ بالمخالفةِ، كحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: ((شرُّ الطَّعام طعامُ الوليمةِ، يُدعى لها الأغنياءُ ويُتركُ الفقراءُ، ومن تركَ الدَّعوةَ فقد عصَى الله ورسولَهُ)) [متفق عليه] ، وقوله تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [الحجرات: 11] .9ـ ما رُتِّب على تركه عدمُ الاعتدادِ بالعملِ، كقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا صلاةَ لمن لم يقرأْ بفاتحةِ الكتابِ)) [متفقٌ عليه من حديث عُبادة بنِ
{মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেই ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক} [আল ইমরান: ৯৭], এবং স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকারের বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: ((তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের এই অধিকার রয়েছে যে, তারা যেন তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে পদার্পণ করতে না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ করো। যদি তারা এমনটি করে, তবে তোমরা তাদের এমনভাবে প্রহার করো যা গুরুতর নয়)) [জাবির বিন আব্দুল্লাহর বর্ণিত হাদিস থেকে মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন], এবং এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {আর নারীদের তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের ওপর পুরুষদের অধিকার রয়েছে} [আল-বাকারাহ: ২৩৪] ।৬ـ সংবাদের এমন রূপ যাতে কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি ইতিপূর্বে পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার স্থলাভিষিক্ত করা হয়, এর মাধ্যমে উক্ত নির্দেশের গুরুত্বারোপ করা উদ্দেশ্য হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা (স্ত্রীরা) চার মাস দশ দিন নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে} [আল-বাকারাহ: ২৩৪] ।৭ـ যাতে নির্দেশ পালনে অবহেলা বা বর্জনের ওপর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা জেনে নাও} [আল-বাকারাহ: ২৭৯], এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: ((যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না)) [জারির বিন আব্দুল্লাহ ও আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণিত হাদিস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি] ।৮ـ নির্দেশ বর্জনকে অবাধ্যতা বা নাফরমানি হিসেবে বর্ণনা করা। যেমন আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: ((নিকৃষ্টতম খাবার হলো সেই ওলিমার খাবার, যেখানে ধনীদের দাওয়াত দেওয়া হয় আর দরিদ্রদের বর্জন করা হয়। আর যে দাওয়াত বর্জন করল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হলো)) [মুত্তাফাকুন আলাইহি], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা তওবা করে না, তারাই জালেম} [আল-হুজুরাত: ১১] ।৯ـ যা বর্জন করার কারণে আমলটি ধর্তব্য বা গ্রহণযোগ্য না হওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: ((যে ব্যক্তি সুরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার সালাত হবে না)) [উবাদাহ বিন সামিত বর্ণিত হাদিস থেকে মুত্তাফাকুন আলাইহি...]
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
الصَّامت] ، وقوله صلى الله عليه وسلم: ((لا نكاحَ إلَاّ بوليٍّ)) [حديث صحيحٌ أخرجه أصحابُ السُّننِ وغيرهُمْ] ."مسائل:1ـ الفعل النَّبويُّ إذا جاء تفسيرًا لواجبٍ مجملٍ كقوله صلى الله عليه وسلم: ((صلُّوا كما رأيتمُوني أصلِّي)) [أخرجه البخاريُّ من حديث مالك بن الحُويرِثِ] ، وقد صلَّى بفعلهِ، وقوله صلى الله عليه وسلم: ((لِتأخُذُوا مناسِككُمْ)) [أخرجه مسلمٌ من حديث جابر بن عبد الله] ، وقد حجَّ بفعلهِ، هلْ يكونُ ذلكَ الفعلُ واجبًا؟التَّحقيقُ الَّذي عليه أكثرُ أهلِ العلمِ أنَّ البيانَ بالفعلِ واقعٌ على ما هوَ واجبٌ كالرُّكوعِ والسُّجودِ في الصَّلاةِ، وعلى ما هو مندُوبٌ كرفعِ اليدينِ وصفِّ القدمينِ ووضعِ اليُمنى على اليسرَى، فمجرَّدُ الفعلِ النَّبويِّ لم يُحل المندوبَ منها واجبًا، وذلك لوْ صحَّ فإنَّهُ يعني أنَّ المندوباتِ في حقِّه صلى الله عليه وسلم انقلبتْ واجباتٍ بفعلهِ في حقِّ أمَّتهِ، وهذا معنى لا يُتصورُ، فالتكليفُ في حقِّه صلى الله عليه وسلم مقطوعٌ بأنهُ آكدٌ منهُ فبي حقِّ أمَّتِهِ.فلا يصلُحُ إذًا إطلاقُ أنَّ فعل النبي صلى الله عليه وسلم إذا كان بيانًا لواجبٍ فكلُّ أجزاءِ ذلك الفعلِ واجبةٌ على أمَّتهِ، وإنما يُستفادُ وجوبُها من غير ذاتِ الفعلِ، وتبقى مشروعيَّةُ المتابعةِ للنَّبي صلى الله عليه وسلم واجبةً في الواجبِ، ومندوبةً في المندوبِ.
আস-সামিত], এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: ((অভিভাবক ব্যতীত কোনো বিবাহ নেই)) [এটি একটি সহীহ হাদীস যা সুনান গ্রন্থকারগণ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন]।"মাসআলাসমূহ:১- নববী কর্ম যদি কোনো সংক্ষিপ্ত ওয়াজিবের ব্যাখ্যা হিসেবে আসে, যেমন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: ((তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ)) [বুখারী এটি মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন], এবং তিনি কর্মের মাধ্যমে সালাত আদায় করে দেখিয়েছেন; এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: ((তোমরা তোমাদের হজের নিয়মাবলী গ্রহণ করো)) [মুসলিম এটি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন], এবং তিনি কর্মের মাধ্যমে হজ পালন করেছেন—এমতাবস্থায় সেই কর্মটি কি ওয়াজিব হবে?অধিকাংশ আলিমের নিকট তাহকীক বা সঠিক বিশ্লেষণ হলো এই যে, কর্মের মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদানের বিষয়টি যেমন ওয়াজিবের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে—যেমন সালাতে রুকু ও সিজদা করা; তেমনিভাবে মুস্তাহাব বা মানদুব বিষয়ের ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে—যেমন হাত তোলা, পাগুলো সারিবদ্ধ করা এবং বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা। সুতরাং কেবল নববী কর্ম সেগুলোর মধ্য থেকে মুস্তাহাবকে ওয়াজিবে পরিণত করে না। কারণ এটি যদি সঠিক হতো, তবে এর অর্থ হতো যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্ষেত্রে যা মুস্তাহাব ছিল, তাঁর কর্মের কারণে তাঁর উম্মতের জন্য তা ওয়াজিবে পরিণত হয়ে গেছে। আর এটি এমন এক অর্থ যা কল্পনা করা যায় না। কেননা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর অর্পিত দায়িত্ব বা তাকলীফ উম্মতের ওপর অর্পিত দায়িত্বের তুলনায় সুনিশ্চিতভাবেই অধিক গুরুত্ববহ ও জোরালো।অতএব, ঢালাওভাবে এমনটি বলা সঠিক নয় যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্ম যদি কোনো ওয়াজিবের ব্যাখ্যা হয়, তবে সেই কর্মের প্রতিটি অংশই তাঁর উম্মতের ওপর ওয়াজিব। বরং সেগুলোর ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি স্বয়ং কর্মের সত্তা ব্যতীত অন্য কোনো দলিল থেকে গৃহীত হয়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের বিধান ওয়াজিবের ক্ষেত্রে ওয়াজিব এবং মুস্তাহাবের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হিসেবেই বহাল থাকে।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
2ـ (الفَرْضُ) هوَ (الواجبُ) عند جمهورِ الفُقهاءِ، فيقولونَ: (صومُ رمضانَ واجبٌ) كما يقولونَ: (فرضٌ) ، ويقولونَ: (زكاةُ الفِطرِ فرضٌ) كما يقولونَ: (واجبةٌ) .وخالفهم في ذلكَ الحنفيَّةُ ـ وهو رِوايةٌ عن الإمامِ أحمد ـ ففرَّقوا بينَ (الفرضِ) و (الواجبِ) لا من جهَّة التَّعريفِ المتقدِّم، وإنما من جهةِ طريقِ ورودِ الدَّليل الدَّال على الوجوبِ أو الفرضيَّةِ، فكان عندهم ما وردَ الدَّليل الدَّالِّ على الوجوبِ أو الفرضيَّةِ، فكان عندهُم ما وردَ بدليلٍ قطعيِّ الورودِ كالقرآن والحديثِ المتواترِ فهو فرضٌ، وما وردَ بدليلٍ ظنِّيِّ الوُرودِ كحديثِ الآحادِ الصَّحيحِ فهو واجبٌ، وعليه فـ (الواجبُ) أدنَى في الحتميَّةِ عندهُم من (الفرضِ) بهذهِ الحيثيَّةِ.ومذهبُ الجمهورِ أصحُّ وأرجَحُ، لرُجحانِ وجوبِ العملِ بحديثِ الآحادِ الصَّحيحِ، كما سيأتي بيانُهُ في الكلامِ على (دليلِ السُّنَّة) في أدلَّةِ الأحكامِ، لكن يُستفادُ من هذا مُراعاةُ طريقةِ الحنفيَّةِ عندَ النَّظرِ في كتُبِهِم في الفُروعِ.3ـ مسألةُ (ما لا يتِمُّ الوَاجبُ إلَاّ بهِ فهوَ واجِبٌ) :ما يتوقَّفُ عليه الإتيانُ بالواجبِ، وهوَ مقدِّمتُهُ الَّتي ينبنِي عليها تحصلُهُ، يرجعُ إلى ثلاثةِ أقسامٍ:[1] ما لا يدخُلُ تحتَ قُدرةِ العبدِ.
২ـ জমহুর ফুকাহাদের (অধিকাংশ ফকিহদের) নিকট (ফরজ) হলো (ওয়াজিব)। তারা বলেন: (রমজানের রোজা ওয়াজিব) যেমন তারা বলেন: (ফরজ), এবং তারা বলেন: (যাকাতুল ফিতর ফরজ) যেমন তারা বলেন: (ওয়াজিব)।এ ক্ষেত্রে হানাফিগণ তাদের বিরোধিতা করেছেন—যা ইমাম আহমাদ থেকেও একটি বর্ণনা—ফলে তারা (ফরজ) এবং (ওয়াজিব)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। এটি পূর্বোক্ত সংজ্ঞার দিক থেকে নয়, বরং ওয়াজিব বা ফরজ হওয়ার নির্দেশ প্রদানকারী দলিলের আগমনের উৎসের দিক থেকে। তাদের নিকট যা সুনিশ্চিত দলিল (দলিল ক্বাতয়্যি) দ্বারা প্রমাণিত, যেমন কুরআন এবং মুতাওয়াতির হাদিস, তা হলো ফরজ। আর যা ধারণাপ্রসূত দলিল (দলিল যন্নি) দ্বারা প্রমাণিত, যেমন সহিহ আহাদ হাদিস, তা হলো ওয়াজিব। সেই অনুযায়ী, এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের নিকট (ওয়াজিব) অবধারিত হওয়ার দিক থেকে (ফরজ)-এর চেয়ে নিম্নস্তরের।জমহুরের মাযহাবই অধিক বিশুদ্ধ ও অগ্রাধিকারযোগ্য, যেহেতু সহিহ আহাদ হাদিস অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা অগ্রগণ্য, যেমনটি আহকামের দলিলসমূহের মধ্যে (সুন্নাহর দলিল) বিষয়ক আলোচনায় স্পষ্টভাবে আসবে। তবে হানাফিদের ফিকহি শাখা-প্রশাখার কিতাবসমূহ পাঠের সময় তাদের এই পদ্ধতিটি খেয়াল রাখা উপকারী।৩ـ মাসআলা: (যা ছাড়া ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, তা-ও ওয়াজিব):ওয়াজিব আদায় করা যার ওপর নির্ভরশীল এবং যা এমন একটি ভূমিকা যার ওপর ভিত্তি করে ওয়াজিবটি অর্জিত হয়, তা তিন ভাগে বিভক্ত:[১] যা বান্দার ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
مثلُ: زوالِ الشًّمسِ لوجوبِ صلاةِ الظُّهرِ، فهذهِ مقدِّمةٌ لا تَتِمُّ صلاةُ الظُّهرِ إلَاّ بها لكنَّها ليستْ تحتَ قُدرَةِ المُكلَّفِ.فهذا القِسمُ لا يندرجُ تحتَ المسألةِ المذكورةِ.[2] ما يدخُلُ تحتَ قُدرةِ المكلَّفِ لكنَّهُ غيرُ مأمورٍ بتحصِيلِهِ.مثلُ: بُلوغِ النِّصابِ لوجوبِ الزَّكاةِ، والاستطاعَةِ لوُجوبِ الحجِّ، فإنَّه تحتَ قُدرتِه أن يجمعَ النِّصابَ، وأن يكتسِب لِيُحقِّق الاستِطاعةَ للحجِّ، لكنَّ ذلكَ لا يجبُ عليهِ.فهذا لا يدخلُ أيضًا تحتَ المسألةِ المذكورَةِ.[3] ما يدخُل أيضًا تحتَ قُدرَةِ المكلَّفِ وهو مأمورٌ بتحصِيلِهِ.مثلُ: الطَّهارةِ للصَّلَاةِ، والسَّعيِ للجُمُعَةِ، فهذا يجبُ عليهِ الإتيانُ بهِ، وهو المقصودُ بالقاعدَةِ.ومن هذا التقسيمِ يُلاحظُ أنَّ هذهِ المسألةِ ليستْ قاعدَةً لإثباتِ وُجوبِ ما لم يرِدْ بِوُجوبهِ دليلٌ، إنما هي مسألةٌ قُسِّمتْ عليهَا مقدِّماتُ الوَاجبِ، أمَّا أن يُقالَ: تثبُتُ بها واجباتٌ لا دليلَ عليها إلَاّ هذه الجُملةِ فهذا ما لا وجودَ لهُ على التَّحقيقِ، وسيأتِي في (قواعِدِ الاستنباطِ) في مبحثِ (إشارَةِ النَّصِّ) ما يُبيِّنُ أنَّ مقدِّماتِ الواجبِ واجبةٌ بنفسِ دليلِ ذلكَ الواجبِ.4ـ لم يرِدِ استعمالُ لفظِ (واجب) في نُصوصِ الكتابِ والسُّنَّةِ
যেমন: জোহরের নামায ওয়াজিব হওয়ার জন্য সূর্য ঢলে পড়া; এটি এমন একটি ভূমিকা যা ছাড়া জোহরের নামায সম্পন্ন হয় না, কিন্তু এটি মুকাল্লাফের (বিধানভুক্ত ব্যক্তির) সক্ষমতার আওতাধীন নয়।সুতরাং এই প্রকারটি আলোচিত মাসআলার অন্তর্ভুক্ত হবে না।[২] যা মুকাল্লাফের সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তা অর্জন করার জন্য সে আদিষ্ট নয়।যেমন: যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ মালের অধিকারী হওয়া এবং হজ ওয়াজিব হওয়ার জন্য সক্ষমতা অর্জন করা। কেননা নিসাব পরিমাণ সম্পদ সংগ্রহ করা এবং হজের সামর্থ্য অর্জনের জন্য উপার্জন করা তার সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তা করা তার ওপর ওয়াজিব নয়।সুতরাং এটিও আলোচিত মাসআলার অন্তর্ভুক্ত নয়।[৩] যা মুকাল্লাফের সক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত এবং সে তা অর্জন করতে আদিষ্ট।যেমন: নামাযের জন্য পবিত্রতা অর্জন করা এবং জুমুআর জন্য গমন করা। এগুলো সম্পন্ন করা তার ওপর ওয়াজিব এবং এটিই এই মূলনীতির উদ্দেশ্য।এই বিভাজন থেকে লক্ষ্য করা যায় যে, এই মাসআলাটি এমন কোনো মূলনীতি নয় যার মাধ্যমে এমন কিছু ওয়াজিব সাব্যস্ত করা হবে যার স্বপক্ষে কোনো দলিল বর্ণিত হয়নি। বরং এটি এমন একটি মাসআলা যার অধীনে ওয়াজিবের ভূমিকাগুলোকে (মুকাদ্দিমা) বিন্যস্ত করা হয়েছে। আর যদি বলা হয়: এর মাধ্যমে এমন কিছু ওয়াজিব সাব্যস্ত হয় যার স্বপক্ষে এই বাক্যটি ছাড়া আর কোনো দলিল নেই, তবে গবেষণালব্ধ প্রকৃত বিচারে এর কোনো ভিত্তি নেই। অচিরেই 'ইস্তিম্বাতের (বিধান আহরণের) নিয়মাবলী' অধ্যায়ের 'নসের ইঙ্গিত (ইশারাতুন নাস)' পরিচ্ছেদে এমন আলোচনা আসবে যা স্পষ্ট করবে যে, ওয়াজিবের ভূমিকাগুলো সেই নির্দিষ্ট ওয়াজিবটির নিজস্ব দলিলের মাধ্যমেই ওয়াজিব হিসেবে গণ্য হয়।৪ـ কুরআন ও সুন্নাহর নস বা ভাষ্যে 'ওয়াজিব' শব্দটির ব্যবহার পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
بمعناهُ الاصطلاحِيِّ، ولذا أخطأَ من استدلَّ بظاهرِ قولهِ صلى الله عليه وسلم: ((غُسلُ يومِ الجُمُعةِ واجبٌ على كلِّ مُحتلِمٍ)) [متَّفقٌ عليه من حديثِ أبي سعيدٍ الخُدرِيِّ] على فرضِ غُسلِ الجُمُعةِ بناءً على معنَى (الواجبِ) في الاصطلاحِ، وقدْ ثبتتْ الأدلَّةُ مفسِّرَةً لهذا الحُكمِ أنَّ الغُسْلَ يومَ الجُمُعةِ ليس بفرضٍ، إنَّما هو سُنَّةٌ مُؤكَّدةٌ، فكان تأويلُ لفظةِ (واجبٍ) في هذا الحديثِ على ما ذكرهُ بعضُ أهلِ العلمِ: للتَّوكيدِ في النَّدْبِ، وهوَ بِمنزلَةِ قولِ الرَّجلِ: (حقُّكَ عليَّ واجبٌ) ."أقسامه:للواجبِ أقسامٌ باعتبارَاتٍ متعدِّدَةٍ، هي:1ـ باعتبارِ وقتِ أدائهِ، قسمانِ:[1] واجبٌ مُطلقٌ أو مُوسَّع، وهوَ ما طلبَ الشَّارِعُ فعلَهُ من غيرِ تقيِيدٍ لأدائِه بزَمَنٍ مُعيَّنٍ.مثلُ: قضاء ما أفطرَهُ الإنسانُ بعُذرٍ من رمضانَ، فإنَّ الله تعالى قال: {فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} [البقرة: 184] ، فهي فُسحةٌ بعدَ رمضانَ في أيِّ وقتٍ شاءَ من عامِهِ، لا يلزمُهُ التَّعجيلُ ولا يأثَمُ بالتَّأخيرِ، وإن كانت المُسارعَةُ أبرأ للذِّمةِ خشيةَ أي يُحالَ بينهُ وبين القضاءِ، وكذا الصَّلواتُ الخمسُ فيما بينَ الوَقتينِ.[2] واجبٌ مقيَّدٌ أو مُضيَّقٌ، وهو ما طلبَ الشَّارعُ فعلَهُ مقيَّدًا
thought) for Allah as "উঠা" (not "সমাসীন" or "অধিষ্ঠিত").
- Hand/Foot (اليد/الرجل/القدم) as "আল্লাহর হাত/পা" (not metaphorical).
- No Arabic in output.
- Output: Raw HTML only, no Markdown.
- Preserve structure.
- Language: Formal, scholarly Bangla.
* *Text 1:* "بمعناهُ الاصطلاحِيِّ، ولذا أخطأَ من استدلَّ بظاهرِ قولهِ صلى الله عليه وسلم: ((غُسلُ يومِ الجُمُعةِ واجبٌ على كلِّ مُحتلِمٍ)) [متَّفقٌ عليه من حديثِ أبي سعيدٍ الخُدرِيِّ] على فرضِ غُسلِ الجُمُعةِ بناءً على معنَى (الواجبِ) في الاصطلاحِ..."
* *Translation:* এর পারিভাষিক অর্থ অনুসারে। এই কারণে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য জুমার দিনে গোসল করা ওয়াজিব" [আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসটি বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমতে বর্ণিত] -এর বাহ্যিক শব্দ থেকে পরিভাষায় 'ওয়াজিব' (আবশ্যক) অর্থের ওপর ভিত্তি করে জুমার গোসল ফরজ হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন, তারা ভুল করেছেন...
* *Text 2:* "...وقدْ ثبتتْ الأدلَّةُ مفسِّرَةً لهذا الحُكمِ أنَّ الغُسْلَ يومَ الجُمُعةِ ليس بفرضٍ، إنَّما هو سُنَّةٌ مُؤكَّدةٌ، فكان تأويلُ لفظةِ (واجبٍ) في هذا الحديثِ على ما ذكرهُ بعضُ أهلِ العلمِ: للتَّوكيدِ في النَّدْبِ، وهوَ بِمنزلَةِ قولِ الرَّجلِ: (حقُّكَ عليَّ واجبٌ) ."
* *Translation:* ...অথচ এই বিধানের ব্যাখ্যায় এমন দলিলসমূহ সাব্যস্ত হয়েছে যা প্রমাণ করে যে, জুমার দিনের গোসল ফরজ নয়, বরং এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তাই কোনো কোনো আলেম যা উল্লেখ করেছেন সেই অনুযায়ী এই হাদিসে ব্যবহৃত 'ওয়াজিব' শব্দের ব্যাখ্যা হবে: এটি মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপের জন্য। এটি কোনো ব্যক্তির এই কথার মতো যে, "তোমার হক আমার ওপর ওয়াজিব।"
* *Heading:* "أقسامه:" (এর প্রকারভেদ:)
* *Text 3:* "للواجبِ أقسامٌ باعتبارَاتٍ متعدِّدَةٍ، هي:" (বিভিন্ন বিবেচনার ভিত্তিতে ওয়াজিবের প্রকারভেদ রয়েছে, সেগুলো হলো:)
* *Text 4:* "1ـ باعتبارِ وقتِ أدائهِ، قسمانِ:" (১. আদায়ের সময়ের বিবেচনায় এটি দুই প্রকার:)
* *Text 5:* "[1] واجبٌ مُطلقٌ أو مُوسَّع، وهوَ ما طلبَ الشَّارِعُ فعلَهُ من غيرِ تقيِيدٍ لأدائِه بزَمَنٍ مُعيَّنٍ."
* *Translation:* [১] ওয়াজিবুত তলাক বা ওয়াজিবে মুওয়াসসা (অবারিত ওয়াজিব), যা পালনের জন্য শরিয়ত প্রণেতা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ না করে তা করার দাবি জানিয়েছেন।
* *Text 6:* "مثلُ: قضاء ما أفطرَهُ الإنسانُ بعُذرٍ من رمضانَ، فإنَّ الله تعالى قال: {فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ} [البقرة: 184] ، فهي فُسحةٌ بعدَ رمضانَ في أيِّ وقتٍ شاءَ من عامِهِ، لا يلزمُهُ التَّعجيلُ ولا يأثَمُ بالتَّأخيرِ، وإن كانت المُسارعَةُ أبرأ للذِّمةِ خشيةَ أي يُحالَ بينهُ وبين القضاءِ، وكذا الصَّلواتُ الخمسُ فيما بينَ الوَقتينِ."
* *Translation:* যেমন: রমজানের যে রোজাগুলো কোনো ওজরের কারণে মানুষ ভঙ্গ করেছে তার কাজা আদায় করা। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অন্য দিনগুলোতে সেই সংখ্যা পূরণ করতে হবে} [বাকারা: ১৮৪]। সুতরাং রমজানের পর বছরের যেকোনো সময় তার সুযোগ রয়েছে। তার জন্য দ্রুত করা আবশ্যক নয় এবং দেরি করার কারণে সে গুনাহগারও হবে না, যদিও দ্রুত আদায় করা দায়মুক্তির জন্য অধিকতর উত্তম এই ভয়ে যে, কাজা আদায়ের পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তদ্রূপ দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়।
* *Text 7:* "[2] واجبٌ مقيَّدٌ أو مُضيَّقٌ، وهو ما طلبَ الشَّارعُ فعلَهُ مقيَّدًا"
* *Translation:* [২] ওয়াজিবে মুকাইয়্যাদ বা ওয়াজিবে মুদাইয়্যাক (সংকীর্ণ বা সীমাবদ্ধ ওয়াজিব), যা পালনের জন্য শরিয়ত প্রণেতা সময়কে সীমাবদ্ধ করে দাবি জানিয়েছেন...
* No Arabic? Checked.
* Pure translation? Checked.
* Output raw HTML? Checked.
* Preserve structure? Checked.
* Istiwa/Attributes terms? Not present in this specific snippet, but rules noted.
* Scholarly Bangla? Checked.
এর পারিভাষিক অর্থ অনুসারে; আর এই কারণেই যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য জুমার দিনে গোসল করা ওয়াজিব" [আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করা হয়েছে] এর বাহ্যিক শব্দের ওপর ভিত্তি করে পরিভাষায় 'ওয়াজিব' (আবশ্যক) অর্থের নিরিখে জুমার গোসল ফরজ হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন, তারা ভুল করেছেন। অথচ এই বিধানের ব্যাখ্যায় দলিলসমূহ সাব্যস্ত হয়েছে যে, জুমার দিনের গোসল ফরজ নয়, বরং এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। তাই এই হাদিসে 'ওয়াজিব' শব্দের ব্যাখ্যা কোনো কোনো আলেম যা উল্লেখ করেছেন তা-ই হবে: অর্থাৎ এটি মুস্তাহাব হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপের জন্য। এটি কোনো ব্যক্তির এই উক্তির মতো যে: "তোমার পাওনা আমার ওপর ওয়াজিব (অবশ্যই পূরণীয়)।"এর প্রকারভেদ:বিভিন্ন বিবেচনার ভিত্তিতে ওয়াজিবের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, সেগুলো হলো:১. আদায়ের সময়ের বিবেচনায় এটি দুই প্রকার:[১] মুতলাক ওয়াজিব বা মুওয়াসসা ওয়াজিব (অবারিত ওয়াজিব): এটি হলো এমন কাজ যা পালনের জন্য শরিয়ত প্রণেতা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ না করেই তা করার দাবি জানিয়েছেন।যেমন: রমজানে কোনো ওজরের কারণে ভঙ্গ করা রোজার কাজা আদায় করা। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করতে হবে} [আল-বাকারা: ১৮৪]। সুতরাং রমজানের পর বছরের যেকোনো সময়ে তা আদায়ের অবকাশ রয়েছে; এটি দ্রুত সম্পন্ন করা তার জন্য অপরিহার্য নয় এবং বিলম্ব করার কারণে সে গুনাহগারও হবে না, যদিও দ্রুত সম্পাদন করা দায়মুক্তির জন্য অধিক উত্তম এই আশঙ্কায় যে, পাছে কাজা আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে যায়। তদ্রূপ দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ের ভেতরে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করাও এর অন্তর্ভুক্ত।[২] মুকাইয়্যাদ ওয়াজিব বা মুদাইয়্যাক ওয়াজিব (সীমাবদ্ধ ওয়াজিব): এটি হলো এমন কাজ যা পালনের জন্য শরিয়ত প্রণেতা সময়কে সীমাবদ্ধ করে দাবি জানিয়েছেন...
*Self-Correction on "مُحتلِمٍ":* Literally "one who has a wet dream", but in legal context, it means "pubescent/adult". In Bengali religious texts, "প্রাপ্তবয়স্ক" is the standard scholarly term.
*Self-Correction on "واجبٌ":* While translating the word *Wajib*, since it's a technical term widely used in Bengali, I'll use "ওয়াজিব" and explain contextually where necessary to fit the scholarly tone.
*Self-Correction on "أهلِ العلمِ":* Translated as "আলেম সমাজ" or "আলেমগণ".
*Self-Correction on "متَّفقٌ عليه":* Translated as "ঐক্যমতে বর্ণিত" or "বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত".
*Wait, the prompt says NO ARABIC IN OUTPUT.*
So, words like "ওয়াজিব", "সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ", "মুস্তাহাব" are technically loanwords in Bengali Islamic terminology. I will use them as they are the standard Bangla scholarly vocabulary for these concepts, but avoid the Arabic script entirely.
"حقُّكَ عليَّ واجبٌ" -> "তোমার হক আমার ওপর ওয়াজিব" or "তোমার পাওনা আমার ওপর আবশ্যক"। I will use "ওয়াজিব" in the context of the sentence to show the comparison intended by the author.
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
بزمنٍ معيَّنٍ.مثلُ: صومِ رمضانَ لمنْ شهِدَ الشَّهرَ ولا عُذْرَ لهُ بتأخيرِ الصَّومِ، كما قال تعالى: {فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ} [البقرة: 285] .وهذا لا تبرأُ الذِّمةُ إلَاّ بأدائهِ في وقتِهِ المحدَّد.2ـ باعتبارِ تقديره وحدِّه، قسمانِ:[1] واجبٌ مقدَّرٌ (محدَّد) ، وهو ما عيَّن الشَّارِعُ له حدًّا محدُودًا، فيلزَمُ الوقوفَ عندَهُ.مثلُ: أنصبَةِ الزَّكاةِ ومقدَارِ الواجبِ فيها.وحكمُ هذا النَّوعِ أنهُ يلزمُ المكلَّفَ، ولا تبرأُ ذمَّتُهُ له حدًّا.مثلُ: مقدارِ النَّفقةِ الواجبةِ على الزَّوجِ لزوجتِه، التَّعاوُن على البِرِّ والتَّقوى، الإحسانِ إلى النَّاسِ، فإنهُ ليس لهذهِ الواجباتِ تقديراتٌ شرعيَّةٌ، وإنَّما يعودُ تقديرُها إلى الظَّرفِ وإدراكِ المكلَّفِ، أو إلى العُرفِ أو قضاءِ القاضي كما في المسألةِ الأولى.3ـ باعتبارِ تعيينهِ بذاتِهِ أو عدم تعيينِهِ، قسمانِ:[1] واجبٌ معيَّنٌ، وهو ما تحتَّم على المكلَّفِ أن يوقعَه بعينِه من
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মাধ্যমে।উদাহরণস্বরূপ: রমজানের রোজা রাখা সেই ব্যক্তির জন্য যে মাসটি পেয়েছে এবং রোজা বিলম্বিত করার মতো কোনো ওজর যার নেই, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে} [আল-বাকারাহ: ২৮৫]।আর এটি নির্ধারিত সময়ে আদায় করা ব্যতীত দায়মুক্তি ঘটে না।২- এর পরিমাণ ও সীমার বিবেচনায় এটি দুই প্রকার:[১] নির্ধারিত ওয়াজিব (মুকাদ্বার), আর তা হলো যার জন্য শরিয়ত প্রণেতা একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, ফলে সেই সীমার ওপরই স্থির থাকা আবশ্যক হয়।উদাহরণস্বরূপ: জাকাতের নিসাবসমূহ এবং তাতে ওয়াজিবের পরিমাণ।এই প্রকারের বিধান হলো এটি মুকাল্লাফের ওপর আবশ্যক হয় এবং নির্দিষ্ট সীমা অনুযায়ী তা আদায় ছাড়া তার দায়মুক্তি ঘটে না।উদাহরণস্বরূপ: স্বামীর ওপর স্ত্রীর জন্য ওয়াজিব ভরণপোষণের পরিমাণ, নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পর সহযোগিতা করা, মানুষের প্রতি ইহসান বা সদাচরণ করা; কেননা এই ওয়াজিব কাজগুলোর জন্য কোনো নির্ধারিত শরয়ি পরিমাণ নেই, বরং এগুলোর নির্ধারণ পরিস্থিতির ওপর ও মুকাল্লাফের উপলব্ধির ওপর, অথবা প্রচলিত প্রথা বা বিচারকের মীমাংসার ওপর নির্ভর করে যেমনটি প্রথম মাসআলার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।৩- ওয়াজিবের সত্তাগতভাবে নির্দিষ্ট হওয়া বা না হওয়ার বিবেচনায় এটি দুই প্রকার:[১] নির্দিষ্ট ওয়াজিব (মুআয়্যান), আর তা হলো যা মুকাল্লাফের ওপর অবধারিত করা হয়েছে যে সে যেন নির্দিষ্টভাবে তা-ই সম্পাদন করে...
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
غير أن يكون له فيه اختيارٌ آخر.مثلُ: صيامِ شهرِ رمضانَ، فإنَّ المكلَّفَ ليس مخيَّرًا بين الصِّيامِ والفِطر، بلْ تعيَّنَ عليه الصِّيامُ وليس ثمَّةَ بديلٌ عنه ما كانتْ له قدرَةٌ عليه.[2] واجبٌ غيرُ معيَّن، وهو ما تحتَّم على المكلَّفِ أن يوقِعه، لكنْ باختيارِ موسَّعٍ بين أصنافٍ من الأفعالِ يتحقَّقُ الواجبُ بفعلِ أحدِهَا.مثلُ: كفَّارةِ اليمينِ، فإنَّها واجبةٌ، لكنَّها تتحقَّقُ بواحدٍ من ثلاثةِ أشياءَ: إطعامُ عشرةِ مساكينَ، أو كِسوتُهُمْ، أو عتقُ رقبةٍ، أيَّ ذلكَ فعلتَ أسقطَ عنكَ الوجوبَ، فهوَ غيرُ معيَّنٍ في أحدِهَا.4ـ باعتبارِ المُطالبِ بهِ، قسمان:[1] واجبٌ عينيٌّ، أو: (فرضُ عينٍ) ، وهو ما توجَّه فيه الطَّلبُ الَّلازمُ إلى كلِّ مكلَّفٍ، فلا يُسقطُ قيامُ البعضِ به المؤاخذَةَ عن الباقينَ.مثلُ: الصَّلواتِ الخمسِ، وحجِّ البيتِ، وصلةِ الأرحامِ.[2] واجبٌ كِفائِيٌّ، أو (فرضُ كِفايَةٍ) ، وهو ما طلبَ الشَّارِعُ حصولَه من جماعةِ المكلَّفينَ، بِحيثُ لوْ قامَ بعضُهُم برِئتْ ذِمَّةُ سائرِهِمْ.مثلُ: الجهادِ في سبيلِ اللهِ، والأمرُ بالمعروفِ والنَّهيِ عن المنكَرِ، وتحصيلِ الأسبابِ لحفظِ الضَّروراتِ الخمسِ: الدِّينِ، والنَّفسِ،
অন্য কোনো বিকল্প থাকা ব্যতিরেকে।যেমন: রমজান মাসের রোজা; কেননা মুকাল্লাফ (বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তি) রোজা রাখা এবং না রাখার মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পায় না, বরং তার ওপর রোজাই নির্ধারিত এবং সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত এর কোনো বিকল্প নেই।[২] অনির্ধারিত ওয়াজিব: আর তা হলো এমন কাজ যা সম্পাদন করা মুকাল্লাফের ওপর আবশ্যক, কিন্তু কয়েকটি বিষয়ের মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে, যার মধ্য হতে যেকোনো একটি পালনের মাধ্যমে ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়।যেমন: কসমের কাফফারা; যা আদায় করা ওয়াজিব, কিন্তু তা তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে আদায় হয়: দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো, অথবা তাদের পোশাক দান করা, অথবা একজন দাস মুক্ত করা। এগুলোর মধ্যে আপনি যা-ই করবেন, আপনার ওপর থেকে ওয়াজিবের দায়িত্ব রহিত হয়ে যাবে। সুতরাং এটি কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।৪. যা তলব করা হয়েছে তার বিবেচনায় ওয়াজিব দুই প্রকার:[১] ওয়াজিব আইনি বা (ফরজে আইন): এটি হলো সেই কাজ যা পালন করার আবশ্যকীয় নির্দেশ প্রত্যেক মুকাল্লাফের প্রতি দেওয়া হয়েছে; সুতরাং একদল লোক তা সম্পাদন করলে অবশিষ্টদের ওপর থেকে জবাবদিহিতা রহিত হয় না।যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, বাইতুল্লাহর হজ এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।[২] ওয়াজিব কিফায়ি বা (ফরজে কিফায়া): এটি হলো এমন কাজ যা শরীয়ত প্রণেতা সামগ্রিকভাবে মুকাল্লাফদের নিকট হতে দাবি করেছেন; এমনভাবে যে যদি তাদের একাংশ তা সম্পাদন করে, তবে বাকি সবার দায় মুক্তি ঘটে।যেমন: আল্লাহর পথে জিহাদ করা, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং পাঁচটি মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয় (দ্বীন ও জীবন) রক্ষার উপায়-উপকরণ সংগ্রহ করা।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
والمالِ، والعِرضِ، والعقلِ، كالتَّفرُّغِ للعُلومِ المتخصِّصَةِ في الشَّريعَةِ والحياةِ، وإدارةِ شؤونِ الحُكمِ والقضاءِ والسِّياسَةِ.واجتمَاعُ النَّاسِ على التَّفريطِ بِهذا الواجبِ اجتِماعٌ على الإثمِ، ولا تبرأُ ذِمَمُهُمْ حتَّى يوجدَ فيهِمْ من يُحقِّقُ الكفايَةَ لسائِرِ المسلمينَ بتحصيلِ ذلكَ الواجِبِ.2ـ المندوب"تعريفه:لغةً: يُقالُ: (ندَبَ القومَ إلى الأمرِ) أيْ: دعاهُمْ وحثَّهُم إليهِ، فالنَّدْبُ: الدَّعوةُ إلى الشَّيءِ والحثُّ عليهِ، و (المندُوبُ) المدْعوُّ إليهِ.واصطلاحًا: ما طلبَ الشَّارعُ فعلُهُ من غير إلزامٍ، ورتَّب على امتثالهِ المدحَ والثَّوابَ، وليسَ على تركِهِ الذَّمُّ والعقابُ."صيغته:1ـ كلُّ صيغَةِ أمرٍ قامَ بُرهانٌ على عدَمِ الإلزامِ بها، لأنَّهُ كما تقدَّم في (الواجبِ) أنَّ صيغَةَ (افْعَلْ) دالَّةٌ على الوجوبِ بأصلِ وضعِهَا على أصحِّ المذاهبِ وأقواهَا دليلاً، فإذا قامَ بُرهانٌ على إرادَةِ مجرَّدِ النَّدبِ صُرِفتْ دلالَةُ تلكَ الصِّيغَةِ إلى النَّدْبِ.
এবং সম্পদ, সম্মান ও বুদ্ধিবৃত্তি; যেমন শরীয়ত ও জীবন সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনে আত্মনিয়োগ করা এবং শাসনকার্য, বিচারব্যবস্থা ও রাজনীতি পরিচালনা করা।এই ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্যের ক্ষেত্রে মানুষের সমষ্টিগত অবহেলা হলো পাপের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আর তাদের জিম্মাদারি ততক্ষণ পর্যন্ত শেষ হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে এমন কেউ তৈরি হয় যে এই ওয়াজিব পালনের মাধ্যমে অবশিষ্ট মুসলিমদের জন্য পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করবে।২. মানদুবএর সংজ্ঞা:শাব্দিক অর্থ: বলা হয়: (তিনি সম্প্রদায়কে কোনো কাজের দিকে আহ্বান করেছেন) অর্থাৎ: তিনি তাদের দাওয়াত দিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন। সুতরাং 'নদব' অর্থ হলো কোনো কিছুর দিকে আহ্বান করা ও উৎসাহিত করা, আর 'মানদুব' হলো যাকে আহ্বান করা হয়েছে।পারিভাষিক অর্থ: শারী' (বিধানদাতা) যা করার জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই দাবি জানিয়েছেন, এবং যার আনুগত্যের ওপর প্রশংসা ও সওয়াব অর্পণ করেছেন, কিন্তু তা বর্জনের ওপর কোনো নিন্দা ও শাস্তি রাখেননি।এর রূপ বা গঠন:১. আদেশের প্রতিটি শব্দরূপ যেখানে তা বাধ্যতামূলক না হওয়ার কোনো প্রমাণ বিদ্যমান। কারণ 'ওয়াজিব' অধ্যায়ে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, সর্বাধিক বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী মতানুসারে 'ইফআল' (করো) রূপটি তার মূল ভাষাগত গঠনের দিক থেকে ওয়াজিব বা আবশ্যিক হওয়ার অর্থ প্রকাশ করে। সুতরাং যখন নিছক 'নদব' বা পছন্দনীয়তা বুঝানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তখন সেই শব্দরূপের অর্থকে 'নদব'-এর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
مثلُ قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِذَا تَدَايَنْتُمْ بِدَيْنٍ إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى فَاكْتُبُوهُ} [البقرة: 282] ، فقولُهُ: {فَاكْتُبُوهُ} صيغةُ أمرٍ أصلُ دلالتِها على الوجوبِ، لكنَّ الحُكمَ معقولُ المعنى يتعلَّقُ بحُقوقِ الخلقِ، فإذا وجدُوا استغناءً عن الكتابةِ بالثِّقةِ والتَّراضِي فهي حقوقُهم وهُم أصحابُها، وما يقعُ من الضَّرَرِ فهم يحتمِلوهُ، فلِذا قال من بعْدُ: {فَإِنْ أَمِنَ بَعْضُكُمْ بَعْضًا فَلْيُؤَدِّ الَّذِي اؤْتُمِنَ أَمَانَتَهُ} [البقرة: 283] ، فكان الأمرُ بالكتابةِ على سبيلِ النَّدبِ والحثِّ والإرشادِ لمصلحتِهِمْ.2ـ كلُّ صيغةٍ خبريَّةٍ تضمَّنتِ الحثَّ وليسَتْ مؤوَّلةً بالأمرِ، كصِيغِ التَّرغيبِ بأذكارٍ أو تطوُّعاتٍ مخصوصةٍ، كأنْ يجيءَ: (مَن قالَ كذا فلهُ كذَا وكذا) ، أو: (مَن صلَّى كذا فلهُ كذا) .3ـ كلُّ فِعلٍ نبويٍّ قُصِدَ به التَّشريعُ على ما سيأتِي بيانُهُ في (دليلِ السُّنَّةِ) ، كصلاةِ الرَّواتبِ، وصيامِ التَّطوُّعِ.* ألقابه:يُسمَّى (المَنْدُوبُ) :1ـ السُّنَّة. 2ـ النَّافلَةَ. 3ـ المُسْتَحَبَّ.4ـ التَّطوُّعَ. 5ـ الفضيلةَ.ومن العُلماءِ من يقولُ: يُسمَّى (مندُوبًا) إذا كانتْ مصلَحتُهُ أُخرويَّة، و (إرشادًا) إذا كانتْ مصلَحَتُهُ دُنيَويَّة.
যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণের আদান-প্রদান করো, তখন তা লিখে রাখো} [আল-বাকারা: ২৮২]। এখানে {তা লিখে রাখো} কথাটি একটি আদেশবাচক শব্দ, যার মূল অর্থ আবশ্যকতা (ওয়াজিব) বোঝানো; কিন্তু এই বিধানটি যুক্তিগ্রাহ্য অর্থের অধিকারী যা মানুষের অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং তারা যদি পারস্পরিক আস্থা ও সম্মতির ভিত্তিতে লিখে রাখা ছাড়াই লেনদেন করতে চায়, তবে তা তাদেরই অধিকার এবং তারা এর মালিক। আর এর ফলে কোনো ক্ষতি সাধিত হলে তারাই তা বহন করবে। একারণেই আল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে বলেছেন: {অতঃপর তোমাদের কেউ যদি অপরকে বিশ্বস্ত মনে করে, তবে যাকে আমানত প্রদান করা হয়েছে সে যেন তার আমানত আদায় করে} [আল-বাকারা: ২৮৩]। সুতরাং লিখে রাখার নির্দেশটি তাদের উপকারের স্বার্থে মুস্তাহাব, উৎসাহদান এবং দিকনির্দেশনা হিসেবে গণ্য।২- এমন প্রতিটি বর্ণনামূলক বাক্য যা কার্যের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে এবং যাকে সরাসরি আদেশের অর্থে রূপান্তর করা হয়নি; যেমন বিশেষ জিকির বা নফল ইবাদতের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিকারী বাক্যসমূহ। যেমন: (যে ব্যক্তি অমুক বাক্য পাঠ করবে তার জন্য অমুক প্রতিদান রয়েছে), অথবা: (যে ব্যক্তি এই সালাত আদায় করবে তার জন্য এই প্রতিদান রয়েছে)।৩- নববী সুন্নাহর এমন প্রতিটি কর্ম যার মাধ্যমে শরীয়তের বিধান প্রবর্তন করা উদ্দেশ্য—যেমনটি সামনে (সুন্নাহর দলিল) পরিচ্ছেদে বর্ণিত হবে—যেমন সুন্নাতে রাওয়াতীব এবং নফল রোজা।* এর নামসমূহ:(মানদুব)-কে নিম্নোক্ত নামেও অভিহিত করা হয়:১- সুন্নাহ। ২- নফল। ৩- মুস্তাহাব।৪- তাতাউ (স্বেচ্ছাধীন ইবাদত)। ৫- ফযীলত।আলেমদের কেউ কেউ বলেন: যদি এর ফায়দা পরকালীন হয় তবে তাকে (মানদুব) বলা হয়, আর যদি এর ফায়দা পার্থিব হয় তবে তাকে (ইরশাদ) বা পথনির্দেশনা বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
"درجاته:ليسَتِ المندُوباتُ على درجَةٍ واحدَةٍ من جهةِ النَّدبِ إليهَا، بلْ متفاوتَةٌ باعتباراتٍ:1ـ سُنَّة مُؤكَّدة:وهي ما داوَمَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم على امتثَالِهِ، وربَّما معَ اقترَانِه بالحثِّ عليهِ قولاً، مثلُ: صلاة ركعتَي التَّطوعِ قبل صلَاةِ الصُّبحِ، فقدْ صحَّ عن عائشةَ رضي الله عنها قالتْ: ((ما رأيتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم في شيءٍ من النَّوافِلِ أسرعَ منه إلى الرَّكعتينِ قبلَ الفجرِ)) [متَّفقٌ عليه، واللَّفظُ لمسلمٍ] ، وقال صلى الله عليه وسلم: ((ركْعتَا الفجرِ خيرٌ من الدُّنيا وما فيها)) [رواهُ مسلم]2ـ سُنَّةٌ غيرُ مؤكَّدةٍ:وهي ما كان من السُّنَن ممَّا لم يُواظِبْ عليه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم كصيامِ التَّطوُّع، فإنَّه صلى الله عليه وسلم كان يصومُ حتَّى يُقالَ لا يُفطِرُ، ويُفطرُ حتَّى يقالَ لا يصومُ، وكصلاةِ أربعِ ركعاتٍ قبلَ العصرِ، فقدْ حثَّ عليها صلى الله عليه وسلم من غيرِ مواظبةٍ على فعلِهَا.ويندرجُ تحتَ هذا البابِ جميعُ ما حثَّ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم عليه بالقولِ من التَّطوُّعاتِ، ولم يُنقلُ عنه المُواظبَةُ عليه بالفِعلِ، كقولهِ صلى الله عليه وسلم: ((تَابِعُوا بين الحجِّ والعُمرَةِ، فإنَّهُمَا ينفيَانِ الفقْرَ والذُّنوبَ كما ينفي الكِيرُ خبَثَ
এর স্তরসমূহ:পছন্দনীয় কাজসমূহ (মানদুবাত) উৎসাহিত করার দিক থেকে একই স্তরের নয়, বরং বিভিন্ন বিবেচনার ভিত্তিতে এগুলোর মধ্যে তারতম্য রয়েছে:১- সুন্নাহ মুয়াক্কাদাহ (তাকিদপূর্ণ সুন্নাত):এটি এমন বিষয় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত পালন করেছেন এবং সম্ভবত এর সাথে মৌখিকভাবে সেটির প্রতি উৎসাহ প্রদানও যুক্ত ছিল। যেমন: ফজরের সালাতের পূর্বের দুই রাকাত নফল সালাত। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে সহিহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ফজরের পূর্বের দুই রাকাতের ন্যায় অন্য কোনো নফল সালাতের প্রতি অধিক তৎপর হতে দেখিনি।" [মুত্তাফাকুন আলাইহি, শব্দগুলো মুসলিমের]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন: "ফজরের দুই রাকাত দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম।" [মুসলিম বর্ণনা করেছেন]২- সুন্নাহ গায়র মুয়াক্কাদাহ (তাকিদহীন সুন্নাত):এটি হচ্ছে সেই সব সুন্নাত যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিত পালন করেননি। যেমন: নফল সিয়াম; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিয়াম পালন করতেন এমনকি বলা হতো যে তিনি বিরতি দেবেন না, আবার তিনি বিরতি দিতেন এমনকি বলা হতো যে তিনি সিয়াম পালন করবেন না। আবার যেমন আসরের পূর্বে চার রাকাত সালাত; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে নিয়মিত আমল করা ছাড়াই এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করেছেন।এই অধ্যায়ের অধীনে ঐ সমস্ত নফল কাজ অন্তর্ভুক্ত হবে যার প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৌখিকভাবে উৎসাহ প্রদান করেছেন কিন্তু কার্যের মাধ্যমে তাঁর থেকে সেটি নিয়মিত পালনের কথা বর্ণিত হয়নি। যেমন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: "তোমরা হজ ও উমরাহ একটির পর একটি সম্পাদন করো, কেননা এই দুটি দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে বিদূরিত করে যেমন হাপর ময়লা..."
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الحديدِ والذَّهبِ والفِضَّةِ، وليسَ للحجَّةِ المبرورَةِ ثوابٌ إلَاّ الجنَّة)) [حديث صحيحٌ رواهُ التِّرمذِيُّ وغيرُهُ] ، وحثَّ على العُمرَةِ في رمضانَ، ومعَ ذلكَ فما اعتمرَ صلى الله عليه وسلم في حياتِهِ إلَاّ أربعَ عُمر، وحجَّ حجَّةً واحدَةً.3ـ فضيلةٌ وأدَبٌ:وتُسمَّى كذلكَ بـ (سُنَّةِ الزَّوائد) ، و (سنَّة العادَةِ) ، وهي الأفعالُ النَّبويَّةُ في غيرِ أمرِ التَّعبُّدِ، كصفةِ أكلِهِ وشُربِهِ ونوْمِهِ ولِبَاسِهِ ومَشْيِهِ ورُكوبِهِ، ونحوَ ذلكَ، فإنَّ الاقتداءَ بالنًَّبيِّ صلى الله عليه وسلم فيها فضيلَةٌ، فذلكَ من بابِ التَّشبُّه بهِ، وهو ممدُوحٌ، ما لمْ يُعارضْ مصلحةً أرجَح.وهذا بابٌ جرى فيه الحالُ النَّبويُّ على مُقتضى الطَّبع البَشرِيِّ، أو على مجارَاةِ العُرفِ الَّذي لم يُخالفُ الدِّين، فما كان منه بمقتضى الطَّبعِ فالسُّنَّةُ فيه أن يُجاريَ الإنسانُ طبعَ نفسِهِ ما دامَ لا يُخالفُ الشَّريعة، وبذلك يحقِّقُ الاقتداءَ بأتمِّ من تحقيقهِ له لو تكلَّف وتصنَّع بخلافِ طبعِهِ ليُوافقَ المِشْيَةَ النَّبويَّة أو القِعدَة النَّبويَّة، وإن كان جاريًا على موافقِةِ العُرفِ كلُبسِ الإزارِ والقميصِ الطَّويلِ، فإنَّ السُّنَّةَ الَّتي ينبغي المتابعةُ فيها هي أن يُجاريَ المُسلمُ عرفَ بيئتِهِ وزمانِهِ في ذلك ما دامَ لم يُخالفْ شرعًا في نوعِ لباسِهِم وهيئتهِم، ويكونُ قَدْ خالفَ
লোহা, সোনা এবং রুপা; আর মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়)) [এটি তিরমিজি ও অন্যান্যদের বর্ণিত একটি সহিহ হাদিস], তিনি রমজানে ওমরাহ পালনে উৎসাহিত করেছেন, তবে এতদসত্ত্বেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনে মাত্র চারটি ওমরাহ করেছেন এবং একবার হজ করেছেন।৩- ফজিলাত ও আদব:একে 'সুন্নাহ যাওয়াইদ' (অতিরিক্ত সুন্নাহ) এবং 'সুন্নাহ আদাহ' (অভ্যাসগত সুন্নাহ) নামেও অভিহিত করা হয়। এগুলো ইবাদতের উদ্দেশ্য ব্যতীত নবিজির সাধারণ কার্যাবলী, যেমন তাঁর পানাহার, নিদ্রা, পোশাক, চলাফেরা, আরোহণ এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহের ধরন। এসব ক্ষেত্রে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ করা একটি ফজিলাত বা মর্যাদাপূর্ণ কাজ, কারণ এটি তাঁর সাদৃশ্য অবলম্বনের অন্তর্ভুক্ত, যা প্রশংসনীয়; যতক্ষণ না তা কোনো অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ বা কল্যাণের পরিপন্থী হয়।এটি এমন একটি বিষয় যেখানে নবিজির অবস্থা মানবীয় স্বভাবজাত দাবি অনুযায়ী অথবা দ্বীনের পরিপন্থী নয় এমন সামাজিক রীতির অনুসরণে পরিচালিত হয়েছে। সুতরাং যা কিছু তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের কারণে ছিল, সেক্ষেত্রে সুন্নাহ হলো মানুষ তার নিজের স্বভাবের অনুসরণ করবে যতক্ষণ না তা শরিয়ত বিরোধী হয়। এর মাধ্যমেই সে অনুসরণের বিষয়টি সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিকতর পূর্ণাঙ্গরূপে অর্জন করবে, যে ব্যক্তি কৃত্রিমভাবে কষ্ট করে নবিজির হাঁটার ভঙ্গি বা বসার ভঙ্গির সাথে মিল রাখার জন্য নিজের স্বভাবের বিরুদ্ধাচরণ করে। আর যদি বিষয়টি প্রচলিত সামাজিক প্রথার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, যেমন লুঙ্গি এবং লম্বা কামিস পরিধান করা, তবে এক্ষেত্রে যে সুন্নাহ অনুসরণ করা উচিত তা হলো একজন মুসলিম তার পরিবেশ এবং সময়ের প্রচলিত রীতি মেনে চলবে, যতক্ষণ না তাদের পোশাকের ধরন ও অবয়বে শরিয়তের কোনো লঙ্ঘন হয়। অন্যথায় সে বিরুদ্ধাচরণ করল...
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
الاقتداءَ بمخالفةِ العرفِ، لأنَّ الكونَ في المجتمعِ والنَّاسِ على سبيل الموافقةِ لا المخالفَةِ مقصودٌ لئلَاّ يقعَ التَّميُّزُ ومن ثمَّ الارتفاعُ على الخلقِ والتَّزكيةُ للذَّواتِ، وإنَّما يدعُ المسلمُ من العُرفِ ما خالفَ الشَّرعَ في أمرٍ أو نهيٍ.وبعدَ هذا فيبقى من (سنن العادةِ) ما لا ينتدرجُ تحتَ طبعٍِ ولا عُرفٍ، ممَّا لا يخلو في أكثرِ الأحيانِ من معانٍ شرعيَّة ٍ أو صحيَّةٍ أو غير ذلك، يجدُهَا المتأمِّلُ لوْ أمعنّ النَّظرَ، وهذا كصِفَةِ جلُوسهِ صلى الله عليه وسلم للأكلِ، فإنَّه قال: ((لا آكُلُ متَّكئًا)) ، وفيه معنى شرعيٌّ دينيٌّ ومعنى صحِّيٌّ، فالمعنى الشَّرعيٌّ الدِّينيُّ بيَّنه النَّبي صلى الله عليه وسلم بقولهِ في حديثٍ آخر: ((آكُلُ كما يأكُلُ العبدُ، وأجلسُ كما يجلسُ العبدُ)) ، [حديثٌ حسنٌ رواهُ ابنُ سعدٍ وأحمدُ في ((الزُّهدِ)) وغيرهما] ، وهذا معنى تواضعٍ وانكِسارٍ، وأمَّا المعنى الصحِيُّ فإنَّ الاتِّكاءَ فُسِّرَ بالتَّربُّعِ، كما فُسِّر بالجُلوسِ معتمدًا على شيءٍ، وعلى أيِّ التَّفسيرِينِ فهيَ هيئةُ تمكُّنٍ تدفَعُ إلى الإقبالِ على الطَّعامِ بنِهمةٍ مع استعدادِ البطنِ للامتلاءِ، فقد استرخَتِ المفاصلُ وارتفعتِ القيودُ، بخلافِ جِلسَةِ العبدِ المُقلقةِ الَّتي صورتُها صورةُ جلسَةِ العَجلانِ الَّذي ينتظرُ متَى يفرُغُ من طعامِه، وقد قال النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: ((ما ملأ آدَميٌّ وعاءً شرًّا من بطنٍ، بِحَسبِ ابنِ آدَمَ أكلاتٌ يُقمنَ صُلبَهُ، فإنْ كانَ لا محَالَةَ فثُلُثٌ لطعامِهِ وثُلثٌ لشرابِهِ وثُلثٌ لنَفسِهِ)) [حديثٌ صحيحٌ رواهُ التِّرمذِيُّ وغيرُهُ] .
প্রথা বা রীতির বিরোধিতা করার মাধ্যমে অনুসরণের বিষয়টি কাম্য নয়, কারণ সমাজ ও মানুষের মাঝে বিরোধিতার পরিবর্তে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সহাবস্থান করাই উদ্দেশ্য, যাতে সবার থেকে পৃথক হওয়া এবং এর ফলে সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করা ও নিজের আত্ম-প্রশংসার অবকাশ না থাকে। একজন মুসলিম সামাজিক প্রথা থেকে কেবল সেটুকুই বর্জন করে যা কোনো আদেশ বা নিষেধের ক্ষেত্রে শরিয়ত পরিপন্থী।এর পরে এমন কিছু ‘অভ্যাসগত সুন্নাত’ অবশিষ্ট থাকে যা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বা সামাজিক রীতির অন্তর্ভুক্ত নয়, যেগুলোর মাঝে অধিকাংশ সময়েই শরয়ী, স্বাস্থ্যগত অথবা অন্য কোনো নিহিত অর্থ থাকে, যা কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে খুঁজে পাবেন। এটি যেমন আহারের সময় তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসার ভঙ্গি; কেননা তিনি বলেছেন: “আমি হেলান দিয়ে আহার করি না।” এর মধ্যে একটি শরয়ী-দ্বীনি অর্থ এবং একটি স্বাস্থ্যগত অর্থ রয়েছে। শরয়ী-দ্বীনি অর্থটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্য একটি হাদীসে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: “আমি আহার করি যেভাবে একজন দাস আহার করে এবং আমি বসি যেভাবে একজন দাস বসে।” [এটি একটি হাসান হাদীস, যা ইবনে সা’দ এবং আহমদ ‘আয-যুহদ’ গ্রন্থে ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন]। এটি হলো বিনয় ও নম্রতার প্রকাশ। আর স্বাস্থ্যগত অর্থের ক্ষেত্রে ‘হেলান দেওয়া’ বলতে পাল্টি গেড়ে বসাকে বোঝানো হয়েছে, আবার কোনো কিছুর ওপর ভর দিয়ে বসাকেও বোঝানো হয়েছে। এই দুই ব্যাখ্যার যেটাই গ্রহণ করা হোক না কেন, এটি হলো জাঁকিয়ে বসার এমন এক ভঙ্গি যা পেট পূর্ণ করার প্রস্তুতিসহ অধিক খাবারের প্রতি প্রলুব্ধ করে, কারণ এতে শরীরের জোড়াগুলো শিথিল হয়ে যায় এবং শরীরের জড়তা দূর হয়। এটি দাসের ন্যায় সেই তটস্থ হয়ে বসার বিপরীত, যার রূপ হলো এমন এক দ্রুত আহারকারীর বসার মতো যে প্রতীক্ষা করে কখন সে আহার শেষ করবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “আদম সন্তান তার পেটের চেয়ে মন্দ আর কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। আদম সন্তানের জন্য তার মেরুদণ্ড সোজা রাখার মতো সামান্য কয়েক লোকমা খাবারই যথেষ্ট। যদি একান্তই প্রয়োজন হয়, তবে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ তার শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য।” [এটি একটি সহীহ হাদীস, যা তিরমিযী ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন]।
(খণ্ড: ১)
তাইসীরু ইলমি উসূলিল ফিকহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
المندُوبُ تكليف اختياري لمصلحة المكلف:إنَّ الله عزَّوجلَّ جعلَ في المستحبَّات رحمةً للعبادِ تصلُ بهِمْ إلى المقاماتِ العليَّةِ، ففي الحديثِ القُدسِيِّ: ((ولا يزالُ عبْدِي يتقرَّبُ إليَّ بالنَّوافِلِ حتَّى أُحبَّهُ)) ، كما جعل فيها عوضًا لهم عمَّا يقعُ من تقصيرٍ في الفرائضِ فتجبُرُ نقصَهَا، كما صحَّ عن أبي هريرةَ رضي الله عنه عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: ((إنَّ أوَّل ما يُحاسبُ النَّاسُ به يومَ القيامَةِ من أعمالِهِمُ الصَّلاةُ، قال: يقولُ ربُّنا جلَّ وعزَّ لملائكتهِ وهوَ أعلمُ: انظُرُوا في صلاةِ عبدِي أتمَّها أم نقصَهَا، فإن كانتْ تامَّةً كُتِبتْ لهُ تَامَّةً، وإن كانتْ انتقصَ منها شيئًا قال: انظرُوا، هلْ لعبْدِي من تطوُّعٍ؟ فإنْ كانَ لهُ تطوُّعٌ قالَ: أتمُّوا لعبدِي فريضتَهُ من تطوُّعِهِ، ثمَّ تُؤخذُ الأعمالُ على ذَاكُمْ)) [أخرجه أصحابُ السُّنن] .ولو أيقنَ العبدُ أنَّهُ أتمَّ الفرائضَ وما انتقصَ منهاَ شيئًا كانتْ نافلتُهُ زيادةً في درجتهِ، وإن تركَ التَّطوُّعاتِ حينئذٍ فليسَ عليهِ من مأثمٍ، دليلُ ذلكَ ما أخرجهُ الشَّيخانِ من حديثِ طلحةَ بنِ عُبيدِالله رضي الله عنه قال: جاءَ رجلٌ إلى رسولِ الله صلى الله عليه وسلم من أهلِ نجدٍ ثائرَ الرَّأسِ يُسمعُ دويُّ صوتِهِ ولا يُفقَهُ ما يقولُ، حتَّى دنَا، فإذا هُوَ يسألُ عن الإسلامِ، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((خمسُ صلواتٍ في اليومِ واللَّيلةِ)) فقال: هلْ عليَّ غيرهَا؟ قالَ: ((لا، إلَاّ أن تطوَّعَ)) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((وصيامُ رمضَانَ)) قال: هلْ عليَّ غيرُهُ؟ قال: ((لَا، إلَاّ أن تطوَّعَ)) قال:
মানদুব (পছন্দনীয় কাজ) হলো মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) কল্যাণের জন্য একটি ঐচ্ছিক দায়বদ্ধতা:
নিশ্চয়ই মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ মুস্তাহাব আমলসমূহের মধ্যে বান্দাদের জন্য রহমত রেখেছেন যা তাদের উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দেয়। হাদীসে কুদসীতে এসেছে: "আর আমার বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে সর্বদা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে যতক্ষণ না আমি তাকে ভালোবাসি।" তেমনিভাবে তিনি এতে ফরয আমলগুলোতে ঘটে যাওয়া ত্রুটির বিনিময় রেখেছেন যা ফরযের ঘাটতিগুলো পূরণ করে। যেমন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহীহ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কিয়ামতের দিন মানুষের আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। তিনি বলেন: আমাদের মহান ও মহিমান্বিত রব তাঁর ফেরেশতাদের বলবেন—অথচ তিনি এ বিষয়ে অধিক অবগত—: তোমরা আমার বান্দার সালাত দেখো, সে কি তা পূর্ণ করেছে নাকি তাতে কমতি করেছে? যদি তা পূর্ণ থাকে তবে তার জন্য তা পূর্ণ হিসেবেই লেখা হবে। আর যদি তাতে কিছু ঘাটতি থাকে তবে তিনি বলবেন: দেখো, আমার বান্দার কোনো নফল ইবাদত আছে কি না? যদি তার নফল আমল থাকে তবে তিনি বলবেন: আমার বান্দার ফরযের ঘাটতি তার নফল আমল থেকে পূর্ণ করে দাও। অতঃপর অবশিষ্ট আমলগুলোও একইভাবে গ্রহণ করা হবে।" [সুনান গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন]।
যদি কোনো বান্দা নিশ্চিত হয় যে সে ফরযসমূহ পূর্ণ করেছে এবং তাতে কোনো ঘাটতি করেনি, তবে তার নফল আমলগুলো তার মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হবে। আর তখন যদি সে নফল ইবাদতগুলো বর্জনও করে তবে তার কোনো গুনাহ হবে না। এর দলীল হলো যা শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: নজদবাসীদের মধ্য থেকে উস্কোখুস্কো চুলের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলো। দূর থেকে তার কণ্ঠের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল কিন্তু সে কী বলছিল তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না, যতক্ষণ না সে নিকটে আসলো। দেখা গেল সে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত।" সে বলল: আমার ওপর কি এছাড়া অন্য কিছু আবশ্যক? তিনি বললেন: "না, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু করো।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "আর রমযানের সিয়াম।" সে বলল: আমার ওপর কি এছাড়া অন্য কিছু আবশ্যক? তিনি বললেন: "না, তবে তুমি যদি নফল হিসেবে কিছু করো।" তিনি বললেন: