(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: -)
الشافية في علم التصريف - معها الوافية نظم الشافية   (ابن الحاجب)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: الشافية في علم التصريف

المؤلف: جمال الدين، أبو عَمْرو، عثمان بن عمر الدَويني النحوي، المعروف بابن الحاجب (ت 646 هـ)

ويليها: «الوافية نظم الشافية» للنيساري (أتمها سنة 1133 هـ)

المحقق: حسن أحمد العثمان

الناشر: المكتبة المكية - مكة

الطبعة: الأولى، 1415 هـ 1995 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আশ-শাফিয়া ফি ইলমিত তাসরীফ - সাথে রয়েছে আল-ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া   (ইবনুল হাজিব)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: আশ-শাফিয়া ফি ইলমিত তাসরীফ

লেখক: জামালুদ্দীন, আবু আমর, উসমান বিন উমর আদ-দুওয়াইনী আন-নাহবী, যিনি ইবনুল হাজিব নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪৬ হি.)

এবং এর সাথে রয়েছে: «আল-ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া» নিসারীর রচিত (এটি ১১৩৩ হিজরিতে সমাপ্ত হয়েছে)

সম্পাদক: হাসান আহমাদ আল-উসমান

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল মাক্কিয়্যাহ - মক্কা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হি. ১৯৯৫ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم رب تمم بِالْخَيرِ

الْحَمد لله رب الْعَالمين وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد خَاتم النَّبِيين وعَلى آله وَصَحبه أَجْمَعِينَ

سَأَلَني من لَا يسعني مُخَالفَته أَن ألحق بمقدمتي فِي الْإِعْرَاب مُقَدّمَة فِي التصريف على نَحْوهَا ومقدمة فِي الْخط فأجبته سَائِلًا متضرعا أَن ينفع بهما كَمَا نفع بأختهما وَالله الْمُوفق
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে প্রতিপালক, কল্যাণের সাথে সুসম্পন্ন করুন।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

যাঁর অনুরোধ উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, এমন এক ব্যক্তি আমাকে আবেদন করেছেন যেন আমি আমার ‘ইরাব’ (বাক্য বিশ্লেষণ) বিষয়ক ভূমিকাটির সাথে তদ্রূপ একটি ‘তাসরিফ’ (শব্দ রূপান্তর) বিষয়ক ভূমিকা এবং একটি ‘খত’ (লিখনরীতি) বিষয়ক ভূমিকা সংযুক্ত করি। আমি বিনীত প্রার্থনা ও আরজি পেশ করার মাধ্যমে তাঁর সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছি যে, আল্লাহ যেন এই উভয়টি দ্বারা তেমনই কল্যাণ দান করেন যেমনটি তিনি এদের ভগ্নীতুল্য (পূর্ববর্তী) গ্রন্থটির মাধ্যমে করেছেন। আর আল্লাহই একমাত্র তৌফিকদাতা।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌تَعْرِيف التصريف

 

التصريف علم بأصول يعرف بهَا أَحْوَال أبنية الْكَلم الَّتِي لَيست بإعراب

 

‌‌أَنْوَاع الْأَبْنِيَة

 

وأبنية الِاسْم الْأُصُول ثلاثية ورباعية وخماسية

وأبنية الْفِعْل ثلاثية ورباعية

 

‌‌الْمِيزَان الصرفي

 

ويعبر عَنْهَا بِالْفَاءِ وَالْعين وَاللَّام وَمَا زَاد بلام ثَانِيَة وثالثة ويعبر عَن الزَّائِد بِلَفْظِهِ إِلَّا الْمُبدل من تَاء الافتعال فَإِنَّهُ بِالتَّاءِ وَإِلَّا المكرر للإلحاق أَو لغيره فَإِنَّهُ بِمَا تقدمه وَإِن كَانَ من حُرُوف الزِّيَادَة إِلَّا بثبت وَمن ثمَّ كَانَ حلتيت فعليلا لَا فعليتا وَسَحْنُون وعثنون فعلولا لَا فعلونا لذَلِك ولعدمه وَسَحْنُون إِن صَحَّ الْفَتْح ففعلون
তাসরীফের সংজ্ঞা

 

তাসরীফ হলো এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে শব্দের গঠনশৈলীর ঐ সকল অবস্থা সম্পর্কে জানা যায় যা ইরাব (তথা বাক্যস্থিত শেষাক্ষরের পরিবর্তন) নয়।

 

‌গঠনশৈলীর প্রকারভেদ

 

বিশেষ্যের (ইসিম) মৌলিক গঠনশৈলী তিন প্রকার: তিন বর্ণবিশিষ্ট, চার বর্ণবিশিষ্ট এবং পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট।

ক্রিয়ার (ফেল) গঠনশৈলী দুই প্রকার: তিন বর্ণবিশিষ্ট এবং চার বর্ণবিশিষ্ট।

 

‌সরফী মীযান (রূপান্তরবিদ্যার মাপকাঠি)

 

এগুলোকে (মৌলিক অক্ষরসমূহকে) 'ফা', 'আইন' ও 'লাম' বর্ণ দ্বারা প্রকাশ করা হয়; আর বর্ণ যদি (মৌলিক বর্ণে) বৃদ্ধি পায়, তবে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় 'লাম' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। অতিরিক্ত বর্ণকে তার নিজস্ব মূল উচ্চারণে প্রকাশ করা হয়; তবে 'ইফতিআল' এর 'তা' থেকে যা পরিবর্তিত হয়েছে তা এর ব্যতিক্রম, কারণ তাকে 'তা' দ্বারাই প্রকাশ করা হয়। তদ্রূপ 'ইলহাক' (যুক্তকরণ) বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পুনরাবৃত্ত বর্ণও এর ব্যতিক্রম, কারণ তাকে তার পূর্ববর্তী বর্ণ দ্বারাই প্রকাশ করা হয়, যদিও তা বৃদ্ধির বর্ণসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়; তবে 'সাবত' শব্দটির ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। এই কারণেই 'হিলতীত' শব্দটি 'ফাইলীল' ওজনের, 'ফাইলীতা' ওজনের নয়। আর 'সাহনূন' এবং 'উছনূন' হলো 'ফু’লূল' ওজনের, 'ফু’লূন' ওজনের নয়—ঐ কারণে এবং তার অভাবের কারণে। আর 'সাহনূন' শব্দটিতে যদি যবর হওয়া শুদ্ধ হয়, তবে তা 'ফালূন' ওজনের হবে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ৭)
لَا فعلول كحمدون وَهُوَ مُخْتَصّ بِالْعلمِ لندور فعلول وَهُوَ صعفوق وخرنوب ضَعِيف وسمنان فعلان
'হামদুন'-এর মতো 'ফু'লুল' ওজনের কোনো রূপ নেই; এটি কেবল সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের (আলম) সঙ্গেই নির্দিষ্ট, কারণ 'ফু'লুল' ওজনের ব্যবহার বিরল। আর তা হলো 'সা'ফুক'; এবং 'খারনুব' শব্দটি দুর্বল। আর 'সামনান' হলো 'ফা'লান' ওজন।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ৮)
وخزعال نَادِر وبطنان فعلان وَقِرْطَاس ضَعِيف مَعَ أَنه نقيض ظهران

ثمَّ إِن كَانَ قلب فِي الْمَوْزُون قلبت الزنة مثله كَقَوْلِك فِي آدر أعفل

 

‌‌الْقلب المكاني

 

وَيعرف الْقلب بِأَصْلِهِ كناء يناء مَعَ النأي وبأمثلة اشتقاقه
এবং খুয'আল বিরল, বুতনান হলো ফালান ওজনের এবং কিরতাস দুর্বল যদিও এটি যাহরান-এর বিপরীত।

অতঃপর যদি ওজনকৃত শব্দের মধ্যে কোনো পরিবর্তন ঘটে, তবে ওজনের মাপকাঠিকেও তার অনুরূপ পরিবর্তন করতে হবে; যেমন আদর শব্দের ক্ষেত্রে আপনার আফল বলা।

 

‌‌স্থানিক রূপান্তর

 

আর এই রূপান্তর বা পরিবর্তন তার মূল ব্যুৎপত্তির মাধ্যমে চেনা যায়; যেমন নাঈ শব্দমূলের সাথে না-আ ও ইয়ানা-আ এবং এর বিভিন্ন ব্যুৎপত্তিগত উদাহরণের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ৯)
كالجاه وَالْحَادِي والقسي وبصحته كأيس وبقلة اسْتِعْمَاله كآرام وآدر وبأداء تَركه إِلَى همزتين عِنْد الْخَلِيل نَحْو جَاءَ أَو إِلَى منع الصّرْف بِغَيْر عِلّة على الْأَصَح نَحْو أَشْيَاء فَإِنَّهَا لفعاء وَقَالَ الْكسَائي أَفعَال وَقَالَ الْفراء أفعاء وَأَصلهَا أفعلاء

وَكَذَلِكَ الْحَذف كَقَوْلِك فِي قَاض فاع إِلَّا أَن يبين فيهمَا

 

‌‌الصَّحِيح والمعتل

 

وتنقسم إِلَى صَحِيح ومعتل فالمعتل مَا فِيهِ حرف عِلّة وَالصَّحِيح بِخِلَافِهِ فالمعتل بِالْفَاءِ مِثَال وبالعين أجوف وَذُو الثَّلَاثَة وباللام مَنْقُوص وَذُو الْأَرْبَعَة وبالفاء وَالْعين أَو بِالْعينِ وَاللَّام لفيف مقرون وبالفاء وَاللَّام لفيف مفروق

 

‌‌أبنية الِاسْم الثلاثي الْمُجَرّد

 

وللاسم الثلاثي الْمُجَرّد عشرَة أبنية وَالْقِسْمَة تَقْتَضِي اثْنَي عشر سقط مِنْهَا فعل وَفعل استثقالا وَجعل الدئل مَنْقُولًا والحبك إِن ثَبت
যেমটি 'জাহ', 'হাদি' ও 'কুসি' শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছে; এবং এর বিশুদ্ধতার মাধ্যমে যেমন 'আইসা' শব্দে; এবং ব্যবহারের স্বল্পতার কারণে যেমন 'আরাম' ও 'আদুর' শব্দে; এবং খলিল (রহ.)-এর নিকট তা পরিহার করলে দুটি হামযাহ একত্রিত হয়ে যাওয়ার ভয়ে যেমন 'জা-আ' শব্দে; অথবা বিশুদ্ধ মতানুসারে কোনো প্রকাশ্য কারণ ছাড়াই শব্দ বিবর্তিত হওয়া থেকে বাধা দেওয়ার জন্য যেমন 'আশইয়া' শব্দে, কেননা এটি 'লাফ'আ' ওজনে। ইমাম কিসায়ি বলেন এটি 'আফ'আল' ওজনে এবং ইমাম ফাররা বলেন এটি 'আফ'আ' ওজনে যার মূল ছিল 'আফ'িলা'।

অনুরূপভাবে বিলুপ্তি (হযফ), যেমন 'কাদি' শব্দের ক্ষেত্রে তোমার বলা 'ফা-ইন' ওজনে, তবে শর্ত হলো এই উভয় ক্ষেত্রে তা স্পষ্ট হতে হবে।

 

‌‌সহিহ ও মু'তাল

 

এটি সহিহ ও মু'তাল—এই দুই ভাগে বিভক্ত। মু'তাল হলো ওই শব্দ যাতে হরফে ইল্লত (দুর্বল বর্ণ) থাকে, আর সহিহ এর বিপরীত। সুতরাং ফা-কালিমায় হরফে ইল্লত থাকলে তাকে 'মিসাল', আইন-কালিমায় থাকলে 'আজওয়াফ' ও 'যুস সালাসা' এবং লাম-কালিমায় থাকলে 'মানকুস' ও 'যুল আরবা'আ' বলা হয়। আর যদি ফা ও আইন কালিমায় অথবা আইন ও লাম কালিমায় হরফে ইল্লত থাকে তবে তাকে 'লাফিফে মাকরুন' বলা হয় এবং ফা ও লাম কালিমায় থাকলে তাকে 'লাফিফে মাফরুক' বলা হয়।

 

‌‌সুলাসি মুজাররাদ ইসমের গঠনসমূহ

 

সুলাসি মুজাররাদ (তিন বর্ণবিশিষ্ট মৌলিক) ইসমের দশটি গঠন বা ওজন রয়েছে। যদিও গাণিতিক বিভাজন বারোটি ওজনের দাবি রাখে, কিন্তু উচ্চারণগত কাঠিন্যের কারণে সেখান থেকে 'ফুয়িল' ও 'ফি'উল' ওজন দুটি বাদ পড়েছে। আর 'দুয়িল' শব্দটিকে (অন্য শব্দ থেকে) স্থানান্তরিত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং 'হুবুক' শব্দটিও যদি প্রমাণিত হয় (তবে তাও অনুরূপ হবে)।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১০)
فعلى تدَاخل اللغتين فِي حرفي الْكَلِمَة وَهِي فلس وَفرس
সুতরাং শব্দের বর্ণদ্বয়ের ক্ষেত্রে দুই ভাষার সংমিশ্রণ অনুযায়ী, যা হলো 'ফালস' এবং 'ফারাস'।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১১)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১২)
وكتف وعضد وَحبر وعنب وإبل وقفل وصرد وعنق

 

‌‌رد بعض الْأَبْنِيَة إِلَى بعض

 

وَقد يرد بعض إِلَى بعض فَفعل مِمَّا ثَانِيه حرف حلق كفخذ يجوز فِيهِ فَخذ وفخذ وفخذ وَكَذَلِكَ الْفِعْل كشهد وَنَحْو كتف
কাঁধ, বাহু, কালি, আঙুর, উট, তালা, সরাদ পাখি এবং ঘাড়

 

‌‌কিছু গঠনশৈলীকে অন্যটির দিকে প্রত্যাবর্তন করা

 

এবং কখনও কখনও কিছু শব্দরূপকে অন্য শব্দরূপের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সুতরাং 'ফা-ইল' (Fa'il) ওজনের এমন শব্দ যার দ্বিতীয় অক্ষরটি কণ্ঠনালীর বর্ণ, যেমন 'ফখিজ' (ঊরু); এতে 'ফখিজ', 'ফখজ' এবং 'ফিখজ' উচ্চারণ করা বৈধ। অনুরূপভাবে ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও, যেমন 'শাহিদা' এবং 'কাতিফ' এর ন্যায় শব্দসমূহ।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১৩)
يجوز فِيهِ كتف وكتف وَنَحْو عضد يجوز فِيهِ عضد وَنَحْو عنق يجوز فِيهِ عنق وَنَحْو إبل وبلز يجوز فيهمَا إبل وبلز وَلَا ثَالِث لَهما وَنَحْو قفل يجوز فِيهِ قفل على رَأْي لمجيء عسر وَيسر
এতে ‘কাতিফ’ ও ‘কাতফ’ উভয়ই জায়েয। অনুরূপভাবে ‘আদুদ’-এর মতো শব্দে ‘আদুদ’ (ও ‘আদ্দ’) জায়েয। ‘উনুক’-এর মতো শব্দে ‘উনুক’ (ও ‘উন্‌ক’) জায়েয। ‘ইবিল’ ও ‘বিলয’-এর ক্ষেত্রে উভয় রূপই জায়েয এবং এ জাতীয় তৃতীয় কোনো শব্দ নেই। ‘কুফল’-এর মতো শব্দে এক মতানুসারে ‘কুফুল’ জায়েয, যেহেতু ‘উসর’ ও ‘ইউসর’ শব্দদ্বয় এসেছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌أبنية الِاسْم الرباعي الْمُجَرّد

 

وللرباعي الْمُجَرّد خَمْسَة جَعْفَر وزبرج وبرثن وَدِرْهَم وقمطر

وَزَاد الْأَخْفَش نَحْو جخدب

وَأما جندل وعلبط فتوالي الحركات حملهما على بَاب جنادل وعلابط

 

‌‌أبنية الِاسْم الخماسي الْمُجَرّد

 

وللخماسي الْمُجَرّد أَرْبَعَة سفرجل وقرطعب وجحمرش وقذعمل
চার অক্ষরবিশিষ্ট (রুবায়ী) মুজাররাদ বিশেষ্যের গঠনসমূহ

 

চার অক্ষরবিশিষ্ট মুজাররাদের জন্য পাঁচটি ওজন বা গঠন রয়েছে: জা'ফার, জিবরিজ, বুরথুন, দিরহাম এবং কিমাত্র।

আল-আখফাশ 'জাখদাব'-এর ন্যায় আরও একটি ওজন বৃদ্ধি করেছেন।

আর 'জানদাল' এবং 'ইলাবিত'-এর ক্ষেত্রে স্বরচিহ্নের (হরকতের) ধারাবাহিকতা তাদের 'জানাদিল' এবং 'আলাবিত'-এর বিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত করেছে।

 

পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট (খুমাসী) মুজাররাদ বিশেষ্যের গঠনসমূহ

 

পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট মুজাররাদের জন্য চারটি ওজন বা গঠন রয়েছে: সাফারজাল, কিরতা'ব, জাহমারিশ এবং কিদ'আমল।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌أبنية الِاسْم الْمَزِيد فِيهِ

 

وللمزيد فِيهِ أبنية كَثِيرَة وَلم يَجِيء فِي الخماسي إِلَّا عضرفوط وخزعبيل وقرطبوس وقبعثرى وخندريس على الْأَكْثَر

 

‌‌أَحْوَال الْأَبْنِيَة

 

وأحوال الْأَبْنِيَة قد تكون للْحَاجة كالماضي والمضارع وَالْأَمر وَاسم الْفَاعِل وَاسم الْمَفْعُول وَالصّفة المشبهة وَافْعل التَّفْضِيل والمصدر واسمي الزَّمَان وَالْمَكَان والآلة والمصغر والمنسوب وَالْجمع والتقاء الساكنين والابتداء وَالْوَقْف وَقد تكون للتوسع كالمقصور والممدود وَذي الزِّيَادَة وَقد تكون للمجانسة
মাযীদ ফীহ ইসিমের গঠনসমূহ

 

মাযীদ ফীহ শব্দের জন্য অনেকগুলো গঠন রয়েছে। আর অধিকাংশ ভাষাবিদদের মতে, পঞ্চাক্ষরবিশিষ্ট (খুমাসী) শব্দের ক্ষেত্রে কেবল আজরাফুত, খুযআবীল, কুরতুবুস, কুবা'সারা এবং খিনদারীস শব্দগুলোই এসেছে।

 

গঠনসমূহের অবস্থাসমূহ

 

গঠনসমূহের অবস্থা কখনও প্রয়োজনের খাতিরে হয়, যেমন: অতীতকাল (মাদী), বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল (মুদারে), আদেশসূচক ক্রিয়া (আমর), কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসমুল ফাঈল), কর্মবাচক বিশেষ্য (ইসমুল মাফউল), সিফাতে মুশাব্বাহা, ইসমে তাফদীল, ক্রিয়ামূল (মাসদার), কালবাচক ও স্থানবাচক বিশেষ্য (ইসমুয যামান ও মাকান), যন্ত্রবাচক বিশেষ্য (ইসমুল আলাহ), ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ (মুসাগগার), সম্বন্ধবাচক রূপ (মানসুব), বহুবচন (জমআ), দুই সুকুন বিশিষ্ট অক্ষরের মিলন (ইলতিকাউস সাকিনাইন), প্রারম্ভ (ইবতিদা) এবং বিরতি (ওয়াকফ)। আবার কখনও তা প্রসারণের জন্য হয়, যেমন: মাকসুর, মামদুদ এবং অতিরিক্ত অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ। আবার কখনও তা সামঞ্জস্য বিধানের (মুজানাসাহ) জন্য হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১৬)
كالإمالة وَقد تكون للاستثقال كتخفيف الْهمزَة والإعلال والإبدال والإدغام والحذف
যেমন ইমালাহ; আর তা কখনও উচ্চারণের গুরুভার লাঘব করার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, যেমন হামযাহ-র সহজিকরণ, ইল্লাল, ইবদাল, ইদগাম এবং হাজফ।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الْمَاضِي

 

للثلاثي الْمُجَرّد ثَلَاثَة أبنية فعل وَفعل وَفعل نَحْو ضربه وَقَتله وَجلسَ وَقعد وشربه وومقه وَفَرح ووثق وكرم

وللمزيد فِيهِ خَمْسَة وَعِشْرُونَ

مُلْحق بدحرج نَحْو شملل وحوقل وبيطر وجهور وقلنس وقلسى

وَتكلم مُلْحق بتدحرج نَحْو تجلبب وتجورب وتشيطن وترهوك وتمسكن وتغافل وَتكلم

وملحق باحرنجم نَحْو اقعنسس واسلنقى

وَغير مُلْحق نَحْو أخرج وجرب وَقَاتل وَانْطَلق واقتدر واستخرج واشهاب واشهب واغدودن واعلوط
অতীতকালীন ক্রিয়া

 

ত্রিঅক্ষরবিশিষ্ট মূল (ছুলাছি মুজাররাদ) ক্রিয়ার তিনটি গঠনরীতি রয়েছে: ফায়া-লা, ফায়ি-লা এবং ফাউ-লা; যেমন: সে তাকে প্রহার করল, সে তাকে হত্যা করল, সে বসল, সে উপবেশন করল, সে তা পান করল, সে তাকে ভালোবাসল, সে আনন্দিত হলো, সে আশ্বস্ত হলো এবং সে সম্মানিত হলো।

আর বর্ধিত (মাজিদ ফিহ) ক্রিয়ার জন্য পঁচিশটি গঠনরীতি রয়েছে।

'দাহরাজা'-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) রূপসমূহ যেমন: শামলালা, হাওকালা, বাইতারা, জাহওয়ারা, কালনাসা এবং কালসা।

আর 'তাদাহরাজা'-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) যেমন: তাজালবাবা, তাজাওরাবা, তাশায়তানা, তারাহওয়াকা, তামাকানা, তাগাফালা এবং তাকাল্লামা।

এবং 'ইহরানজামা'-এর সাথে সংযুক্ত (মুলহাক) যেমন: ইকনাসাসা এবং ইসলানকা।

আর অ-সংযুক্ত (গাইরে মুলহাক) যেমন: আখরাজা, জাররাবা, কাতালা, ইনতালাকা, ইকদাদারা, ইস্তাকরাজা, ইশহাব্বা, ইশহাব্বা, ইগদাওদানা এবং ই'লাওয়াতা।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১৮)
واستكان قيل افتعل من السّكُون فالمد شَاذ وَقيل استفعل من كَانَ فالمد قياسي

فَفعل لمعان كَثِيرَة وَبَاب المغالبة يبْنى على فعلته أَفعلهُ بِالضَّمِّ نَحْو كارمني فكرمته أكْرمه إِلَّا بَاب وعدت وبعت ورميت فَإِنَّهُ أَفعلهُ بِالْكَسْرِ وَعَن الْكسَائي فِي نَحْو شاعرته فشعرته أشعره بِالْفَتْح
এবং ‘ইসতাকানা’ (বিনীত হওয়া) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি ‘সুকুন’ (স্থিরতা) শব্দমূল থেকে ‘ইফতাআলা’ ওজনের অন্তর্ভুক্ত, এমতাবস্থায় এর দীর্ঘস্বর (মদ্দ) হওয়াটি শায বা অনিয়মিত। আবার বলা হয়েছে যে, এটি ‘কানা’ (হওয়া) থেকে ‘ইসতাফআলা’ ওজনের, সেক্ষেত্রে দীর্ঘস্বর হওয়াটি নিয়মসিদ্ধ বা কিয়াসী।

অতঃপর ‘ফাআলা’ রূপটি অনেক অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়। আর ‘মুগালাবাহ’ (পরস্পর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন) এর পরিচ্ছেদটি ‘ফাআলতুহু আফউলুহু’ অর্থাৎ পেশ (যাম্মাহ) সহযোগে গঠিত হয়; যেমন: সে আমার সাথে দানে প্রতিযোগিতা করল আর আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলাম, আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হই। তবে ‘ওয়াআদতু’ (আমি প্রতিজ্ঞা করলাম), ‘বি’তু’ (আমি বিক্রয় করলাম) এবং ‘রামাইতু’ (আমি নিক্ষেপ করলাম) এর পরিচ্ছেদসমূহ এর ব্যতিক্রম, কেননা এগুলোর বর্তমানকালীন রূপটি ‘আফইলুহু’ অর্থাৎ যের (কাসরাহ) সহযোগে হয়। আর ইমাম কিসাঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, ‘শাআরতুহু ফা-শাআরতুহু আশআরুহু’ (আমি তার সাথে কাব্য চর্চায় প্রতিযোগিতা করলাম এবং তাকে হারিয়ে দিলাম) এর ন্যায় শব্দগুলোতে যবর (ফাতহাহ) দিয়ে পঠিত হয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَفعل يكثر فِيهِ الْعِلَل وَالْأَحْزَان وأضدادها كسقم وَمرض وبريء وحزن وَفَرح

وتجيء الألوان والعيوب والحلي كلهَا عَلَيْهِ وَقد جَاءَ أَدَم وَسمر وعجف وحمق وخرق وعجم ورعن بِالْكَسْرِ وَالضَّم

وَفعل لافعال الطبائع وَنَحْوهَا كحسن وقبح وَكبر وَصغر فَمن ثمَّ كَانَ لَازِما

وشذ رحبتك الدَّار أَي رَحبَتْ بك

وَأما بَاب سدته فَالصَّحِيح أَن الضَّم لبَيَان بَنَات الْوَاو لَا للنَّقْل وَكَذَلِكَ بَاب بِعته وراعوا فِي بَاب خفت بَيَان البنية

وأفعل للتعدية غَالِبا نَحْو أجلسته وللتعريض نَحْو أبعته ولصيرورته ذَا كَذَا نَحْو أغد الْبَعِير وَمِنْه أحصد الزَّرْع ولوجوده على صفة نَحْو أحمدته وأبخلته وللسلب نَحْو أشكيته وَبِمَعْنى فعل نَحْو قلته وأقلته

وَفعل للتكثير غَالِبا نَحْو غلقت وَقطعت وجولت وطوفت
ফায়িলা ওজনে এমন ক্রিয়া বেশি আসে যা রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-বেদনা এবং এগুলোর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে; যেমন—অসুস্থ হওয়া, রুগ্ন হওয়া, রোগমুক্ত হওয়া, দুঃখিত হওয়া এবং আনন্দিত হওয়া।

রং, শারীরিক খুঁত এবং অলংকার বা ভূষণ সংক্রান্ত সকল শব্দ এই ওজনেই আসে। এছাড়া আদাউমা/আদিমা (শ্যামবর্ণ হওয়া), সামুরা/সামিরা (বাদামী হওয়া), আজুফা/াজিফা (শীর্ণ হওয়া), হামুক্বা/হামিক্বা (নির্বোধ হওয়া), খাকুরা/খাক্বিরা (অজ্ঞ হওয়া), আজুমা/আজিমা (অস্পষ্টভাষী হওয়া) এবং রাউনা/রাইনা (শিথিল হওয়া)—এই শব্দগুলো আইন বর্ণে কাসরা (যের) এবং জাম্মা (পেশ) উভয় ভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

আর ফাউলা ওজনটি স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য এবং তদ্রূপ অর্থ প্রকাশের জন্য আসে; যেমন—সুন্দর হওয়া, কুৎসিত হওয়া, বড় হওয়া এবং ছোট হওয়া। এ কারণেই এই ওজনের ক্রিয়াগুলো অকর্মক (লাযিম) হয়ে থাকে।

তবে ‘রাহুবাতকা আদ-দারু’ (অর্থাৎ ঘরটি তোমার জন্য প্রশস্ত হয়েছে) বাক্যটি ব্যতিক্রম হিসেবে বর্ণিত হয়েছে; যার অর্থ মূলত ‘রাহুবাত বিকা’।

আর ‘সুদতুহু’ (আমি তার নেতৃত্ব দিয়েছি) পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ মত হলো—এখানে পেশ দেওয়া হয়েছে শব্দটি যে ‘ওয়াও’ মূলবর্ণ বিশিষ্ট তা স্পষ্ট করার জন্য, হরকত পরিবর্তনের জন্য নয়। ‘বি’তুহু’ (আমি তা বিক্রয় করেছি) পরিচ্ছেদের বিধানও তদ্রূপ। আর ‘খিফতু’ (আমি ভয় পেয়েছি) পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তারা মূল গঠন প্রকৃতি স্পষ্ট করার বিষয়টি বিবেচনা করেছেন।

আফআলা ওজনটি সাধারণত সকর্মক করার জন্য আসে; যেমন—‘আজলাস্তুহু’ (আমি তাকে বসিয়েছি)। কখনো এটি বিক্রয়ের প্রস্তাব করা বা পেশ করা বুঝাতে আসে; যেমন—‘আবা’তুহু’ (আমি এটি বিক্রয়ের জন্য পেশ করেছি)। কখনো কোনো কিছুর অধিকারী হওয়া বা কোনো অবস্থায় উপনীত হওয়া বুঝাতে আসে; যেমন—‘আগাদাল বাঈরু’ (উটটি গ্রন্থি-রোগে আক্রান্ত হয়েছে), আর এ অর্থ থেকেই এসেছে ‘আহসাদায যারউ’ (শস্য কাটার উপযুক্ত হয়েছে)। এছাড়া কোনো বস্তুকে নির্দিষ্ট কোনো গুণসম্পন্ন পাওয়া বুঝাতেও এটি ব্যবহৃত হয়; যেমন—‘আহমাত্তুহু’ (আমি তাকে প্রশংসনীয় পেয়েছি) এবং ‘আবখালতুহু’ (আমি তাকে কৃপণ পেয়েছি)। আবার কোনো গুণ বা অবস্থা দূর করা বুঝাতেও এটি আসে; যেমন—‘আশাইতুহু’ (আমি তার অভিযোগ বা কষ্ট দূর করেছি)। কখনো এটি সাধারণ ত্রি-অক্ষর বিশিষ্ট ক্রিয়ার অর্থেই ব্যবহৃত হয়; যেমন—‘ক্বলতুহু’ ও ‘আক্বলতুহু’।

ফায়্যালা ওজনটি সাধারণত কাজের আধিক্য বা ব্যাপকতা বুঝাতে আসে; যেমন—‘গাল্লাক্বতু’ (আমি অনেকগুলো দরজা বন্ধ করেছি), ‘ক্বাত্ত্বাতু’ (আমি অনেক টুকরো করেছি), ‘জাওয়ালতু’ এবং ‘ত্বাওওয়াফতু’ (অধিক পরিভ্রমণ বা তাওয়াফ করা)।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২০)
وَمَوْت المَال أَو للتعدية نَحْو فرحته وَمِنْه فسقته وللسلب نَحْو جلدت الْبَعِير وقردته وَبِمَعْنى فعل نَحْو زلته وزيلته

وفاعل لنسبة أَصله إِلَى أحد الْأَمريْنِ مُتَعَلقا بِالْآخرِ للمشاركة صَرِيحًا فَيَجِيء الْعَكْس ضمنا نَحْو ضاربته وشاركته وَمن ثمَّ جَاءَ غير الْمُتَعَدِّي مُتَعَدِّيا نَحْو كارمته وشاعرته والمتعدي إِلَى وَاحِد مُغَاير للمفاعل مُتَعَدِّيا إِلَى اثْنَيْنِ نَحْو جاذبته الثَّوْب بِخِلَاف شاتمته وَبِمَعْنى فعل نَحْو ضاعفت وَبِمَعْنى فعل نَحْو سَافَرت

وتفاعل لمشاركة أَمريْن فَصَاعِدا فِي اصله صَرِيحًا نَحْو تشاركا وَمن ثمَّ نقص مَفْعُولا عَن فَاعل وليدل على أَن الْفَاعِل أظهر أَن أَصله حَاصِل لَهُ وَهُوَ مُنْتَفٍ نَحْو تجاهل وتغافل وَبِمَعْنى فعل نَحْو توانيت ومطاوع فَاعل نَحْو باعدته فتباعد

وَتفعل لمطاوعة فعل نَحْو كَسرته فتكسر وللتكلف نَحْو تشجع وتحلم وللاتخاذ نَحْو توسد وللتجنب نَحْو تأثم
এবং সম্পদের বিনাশ বুঝাতে কিংবা সকর্মক করার উদ্দেশ্যে আসে, যেমন: ‘আমি তাকে আনন্দিত করেছি’। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: ‘আমি তাকে পাপাচারী বলেছি’। এছাড়া কোনো কিছু ছিনিয়ে নেওয়া বা রহিতকরণের (সালব) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘আমি উটের চামড়া ছাড়িয়েছি’ এবং ‘আমি তার পোকা পরিষ্কার করেছি’। এটি সাধারণ ক্রিয়া বা ‘ফা’আলা’ এর অর্থও প্রদান করে, যেমন: ‘আমি তাকে সরিয়ে দিয়েছি’ এবং ‘আমি তাকে পৃথক করেছি’।

‘ফা’আলা’ গঠনটি মূল ধাতুর সম্বন্ধকে দুই পক্ষের একজনের দিকে অন্য পক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট রেখে প্রকাশ্য অংশীদারিত্বের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর ফলে বিপরীত পক্ষটি তাতে পরোক্ষভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যেমন: ‘আমি তার সাথে লড়াই করেছি’ এবং ‘আমি তার অংশীদার হয়েছি’। এই কারণে অকর্মক ক্রিয়া সকর্মক হয়ে যায়, যেমন: ‘আমি তার সাথে মহানুভবতায় প্রতিযোগিতা করেছি’ এবং ‘আমি তার সাথে কবিত্বে পাল্লা দিয়েছি’। আর যা ইতিমধ্যে একটি কর্মের (মাফ’উল) দিকে সকর্মক এবং যা মুফা’আলা থেকে ভিন্ন, তা দুটি কর্মের প্রতি সকর্মক হয়, যেমন: ‘আমি তার সাথে কাপড়টি নিয়ে টানাটানি করেছি’; তবে ‘আমি তাকে গালি দিয়েছি’ এর বিষয়টি ভিন্ন। এছাড়া এটি ‘ফা’আল্লা’ এর অর্থেও আসে, যেমন: ‘আমি দ্বিগুণ করেছি’। আবার এটি ‘ফা’আলা’ এর অর্থও প্রদান করে, যেমন: ‘আমি সফর করেছি’।

‘তাফা’আলা’ গঠনটি দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে মূল বিষয়ে প্রকাশ্য অংশীদারিত্বের জন্য আসে, যেমন: ‘তারা পরস্পর অংশীদার হয়েছে’। এই কারণে এটি ‘ফা’আলা’ কাঠামোর তুলনায় একটি কর্ম কম গ্রহণ করে। এছাড়া এটি এই অর্থ প্রদানের জন্য আসে যে, কর্তা এমন কিছু প্রকাশ করছে যা বাস্তবে তার মধ্যে নেই (ভান করা), যেমন: ‘সে অজ্ঞতার ভান করেছে’ এবং ‘সে উদাসীনতার ভান করেছে’। এটি ‘ফা’আলা’ এর অর্থও দেয়, যেমন: ‘আমি অলসতা করেছি’। আর এটি ‘ফা’আলা’ এর অনুগামী (মুতায়া’আ) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘আমি তাকে দূরে সরিয়েছি, ফলে সে দূরে সরে গেছে’।

‘তাফা’আল্লা’ গঠনটি ‘ফা’আল্লা’ এর অনুগামী (মুতায়া’আ) হওয়ার জন্য আসে, যেমন: ‘আমি এটি ভেঙেছি, ফলে এটি ভেঙে গেছে’। এটি কোনো গুণের কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টা (তাকাল্লুফ) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘সে বীরত্ব প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে’ এবং ‘সে সহনশীল হওয়ার চেষ্টা করেছে’। এটি কোনো কিছু হিসেবে গ্রহণ করার (ইত্তিখায) অর্থে আসে, যেমন: ‘সে বালিশ গ্রহণ করেছে’। এছাড়া কোনো কিছু বর্জন বা বেঁচে থাকার (তাজান্নুব) জন্য আসে, যেমন: ‘সে পাপ থেকে বেঁচে থেকেছে’।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২১)
وتحرج وللعمل المتكرر فِي مهلة نَحْو تجرعته وَمِنْه تفهم وَبِمَعْنى استفعل نَحْو تكبر وتعظم

وانفعل لَازم مُطَاوع فعل نَحْو كَسرته فانكسر وَقد جَاءَ مُطَاوع افْعَل محو اسفقته فانسفق وأزعجته فانزعج قَلِيلا وَيخْتَص بالعلاج والتأثير وَمن ثمَّ قيل انْعَدم خطأ

وافتعل للمطاوعة غَالِبا نَحْو غممته فَاغْتَمَّ وللاتخاذ نَحْو اشتوى وللمفاعلة نَحْو اجتوروا واختصموا وللتصرف نَحْو اكْتسب

واستفعل للسؤال غَالِبا إِمَّا صَرِيحًا نَحْو استكتبته أَو تَقْديرا نَحْو استخرجته وللتحول نَحْو استحجر الطين

و (إِن البغاث بأرضنا تستنسر … )

وَبِمَعْنى فعل نَحْو قر وَاسْتقر
এটি কাঠিন্য দূর করা এবং বিরতি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে কোনো কাজ সম্পাদনের অর্থ প্রদান করে, যেমন: 'আমি তা অল্প অল্প করে পান করেছি'। এ থেকেই 'ধীরে ধীরে অনুধাবন করা' শব্দটি এসেছে। এটি 'ইস্তাফআলা' এর অর্থও প্রকাশ করে, যেমন: 'নিজেকে বড় মনে করা' এবং 'গরিমা প্রকাশ করা'।

'ইনফাআলা' রূপটি 'ফাআলা' এর অনুগামী অকর্মক রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'আমি এটি ভেঙেছি ফলে তা ভেঙে গেছে'। কখনো কখনো এটি 'আফআলা' এর অনুগামী হিসেবেও আসে, যেমন: 'আমি তা বন্ধ করেছি ফলে তা বন্ধ হয়েছে' এবং 'আমি তাকে বিচলিত করেছি ফলে সে বিচলিত হয়েছে' (এর ব্যবহার খুব কম)। এটি কেবল বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ ও তার প্রভাবের সাথে নির্দিষ্ট। আর এই কারণেই বলা হয় যে, 'অস্তিত্বহীন হওয়া' শব্দটি ব্যবহার করা ব্যাকরণগতভাবে ভুল।

'ইফতাআলা' রূপটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনুগামী হওয়ার অর্থে আসে, যেমন: 'আমি তাকে ব্যথিত করেছি ফলে সে ব্যথিত হয়েছে'। এছাড়া এটি কোনো কিছু গ্রহণ করার অর্থে আসে, যেমন: 'সে নিজের জন্য গোশত ঝলসালো'। এটি পারস্পরিক ক্রিয়ার অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'তারা পরস্পর প্রতিবেশী হলো' এবং 'তারা বিবাদে লিপ্ত হলো'। আবার কোনো প্রচেষ্টা বা উপার্জনের অর্থেও আসে, যেমন: 'সে উপার্জন করলো'।

'ইস্তাফআলা' রূপটি সাধারণত কোনো কিছু চাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়; তা স্পষ্টভাবে হতে পারে, যেমন: 'আমি তাকে লিখতে বললাম', অথবা উহ্যভাবে হতে পারে, যেমন: 'আমি তা বের করার চেষ্টা করলাম'। এটি রূপান্তরের অর্থেও আসে, যেমন: 'কাদা পাথরে পরিণত হলো'।

এবং (নিশ্চয়ই আমাদের ভূমিতে দুর্বল পাখিও শিকারি পাখির ন্যায় রূপ ধারণ করে...)

এটি মূল ক্রিয়ার রূপের অর্থও প্রদান করে, যেমন: 'স্থির হওয়া' এবং 'স্থির থাকা'।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌بِنَاء الْفِعْل الرباعي

 

وللرباعي الْمُجَرّد بِنَاء وَاحِد نَحْو دحرجته ودربخ أَي ذل

وللمزيد فِيهِ ثَلَاثَة نَحْو تدحرج واحرنجم واقشعر وَهِي لَازِمَة
রুবায়ী (চার অক্ষরবিশিষ্ট) ক্রিয়ার গঠন

 

রুবায়ী মুজাররাদের (অতিরিক্ত অক্ষরহীন চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া) জন্য একটি মাত্র গঠন রয়েছে; যেমন—দাহরাজতুহু (আমি তাকে গড়িয়ে দিয়েছি) এবং দারবাখা অর্থাৎ সে অনুগত বা বিনীত হয়েছে।

আর রুবায়ী মাযীদ ফী-র (অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত চার অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া) জন্য তিনটি গঠন রয়েছে; যেমন—তাদাহরাজা, ইহরাঞ্জামা এবং ইকশা'আররা; আর এই সবগুলোই অকর্মক ক্রিয়া।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الْمُضَارع

 

الْمُضَارع بِزِيَادَة حرف المضارعة على الْمَاضِي

فَإِن كَانَ مُجَردا على فعل كسرت عينه أَو ضمت أَو فتحت إِن كَانَ الْعين أَو اللَّام حرف حلق غير ألف وشذ أبي يَأْبَى وَأما قلى يقلى فعامرية وركن يركن من التَّدَاخُل ولزموا الضَّم فِي الأجوف بِالْوَاو والمنقوص بهَا وَالْكَسْر فيهمَا بِالْيَاءِ وَمن قَالَ طوحت وأطوح وتوهت وأتوه فطاح يطيح وتاه يتيه شَاذ عِنْده أَو من التَّدَاخُل وَلم يضموا فِي الْمِثَال وَوجد يجد ضَعِيف ولرموا الضَّم فِي المضاعف الْمُتَعَدِّي نَحْو يشد ويمد وَجَاء بِالْكَسْرِ فِي يشده ويعله وينمه ويبته ولزموه فِي حبه يُحِبهُ وَهُوَ قَلِيل

وَإِن كَانَ على فعل فتحت عينه أَو كسرت إِن كَانَ مِثَالا وطيئ
মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল)

 

মাজি-র (অতীতকাল) শুরুতে মুদারে-র হরফ যুক্ত করার মাধ্যমে মুদারে গঠিত হয়।

যদি মাজি-র রূপটি অতিরিক্ত বর্ণহীন (মুজাররাদ) হয়ে ‘ফায়ালা’ ওজনে হয়, তবে তার আইন কালিমা (দ্বিতীয় মূলবর্ণ) কাসরা (জের) যুক্ত, অথবা দম্মা (পেশ) যুক্ত অথবা ফাতহা (জবর) যুক্ত হবে যদি তার আইন কালিমা বা লাম কালিমা (তৃতীয় মূলবর্ণ) আলিফ ব্যতীত হলকী হরফ (কণ্ঠনালীয় বর্ণ) হয়। ‘আবা-ইয়াবআ’ শব্দটি নিয়মের ব্যতিক্রম। আর ‘কালা-ইয়াকলা’ রূপটি বনু আমিরের উপভাষা এবং ‘রাকানা-ইয়ারকানু’ রূপটি বিভিন্ন উপভাষার সংমিশ্রণ (তাদাখুল) থেকে উদ্ভূত। তারা ওয়াও-যুক্ত আজওয়াফ (মধ্যবর্ণ অসুস্থ) এবং ওয়াও-যুক্ত নাকেস (শেষবর্ণ অসুস্থ) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে দম্মা ব্যবহার করাকে আবশ্যক করেছে এবং এ দুই প্রকারের ক্রিয়া যদি ইয়া-যুক্ত হয় তবে কাসরা ব্যবহারকে আবশ্যক করেছে। যারা ‘তাউওয়াহতু-আতাউওয়াহু’ এবং ‘তাউওয়াহতু-আতাউওয়াহু’ বলে, তাদের মতে ‘ত্বহা-ইয়াত্বিহু’ এবং ‘তাহা-ইয়াতিহু’ শব্দ দুটি হয় ব্যতিক্রম (শায) অথবা উপভাষার সংমিশ্রণ (তাদাখুল)। তারা মেসাল (প্রথম বর্ণ অসুস্থ) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে দম্মা ব্যবহার করেনি, তাই ‘ওয়াজাদা-ইয়াজুদু’ (পেশসহ) বলা দুর্বল বলে গণ্য। তারা সকর্মক দ্বিত্ব-বর্ণের ক্রিয়ার (মুদাআফ মুতাআদ্দি) ক্ষেত্রে দম্মা ব্যবহারকে আবশ্যক করেছে, যেমন: ‘ইয়াশুদ্দu’ এবং ‘ইয়ামুদ্দু’। তবে ‘ইয়াশিদ্দুহু’, ‘ইয়া-ইল্লুহু’, ‘ইয়ানিম্মুহু’ এবং ‘ইয়াবিত্তুহু’ শব্দগুলোতে কাসরা-র ব্যবহার বর্ণিত হয়েছে। তারা ‘হাব্বা-ইউহিব্বু’ শব্দটিতেও কাসরা আবশ্যক করেছে, যদিও এর ব্যবহার অল্প।

যদি মাজি-র রূপটি ‘ফায়িলা’ ওজনে হয়, তবে তার আইন কালিমা ফাতহা যুক্ত হবে অথবা কাসরা যুক্ত হবে যদি তা মেসাল হয় এবং ওতীউ ওজনে হয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২৪)
تَقول فِي بَاب بَقِي يبْقى بقى يبْقى وَأما فضل يفضل وَنعم ينعم فَمن التَّدَاخُل

وَإِن كَانَ على فعل ضمت عينه

وَإِن كَانَ غير ذَلِك كسر مَا قبل الآخر مَا لم يكن أول ماضيه تَاء زَائِدَة نَحْو تعلم وتجاهل فَلَا يُغير أَو لم تكن اللَّام مكررة نَحْو احمر واحمار فتدغم وَمن ثمَّ كَانَ أصل مضارع أفعل يؤفعل إِلَّا أَنه رفض لما لزم من توالي همزتين فِي الْمُتَكَلّم فَخفف الْجَمِيع وَقَوله

(فَإِنَّهُ أهل لِأَن يؤكرما … )

شَاذ

وَالْأَمر وَاسم الْفَاعِل وَاسم الْمَفْعُول وأفعل التَّفْضِيل تقدّمت
আপনি বাকিয়া-ইয়াবকা এবং বাকা-ইয়াবকা পরিচ্ছেদে বলবেন, আর ফাদুলা-ইয়াফদুলু এবং নাঈমা-ইয়ানআমু এর বিষয়টি তداخل (সংমিশ্রণ) থেকে উদ্ভূত।

আর যদি তা ফুয়িলা ওজনের হয়, তবে তার আইন বর্ণটি পেশযুক্ত হবে।

আর যদি তা ভিন্ন কিছু হয়, তবে শেষ বর্ণের পূর্ববর্তী বর্ণে জের প্রদান করা হবে, যতক্ষণ না তার মাজীর (অতীতকাল) শুরুতে অতিরিক্ত 'তা' থাকে, যেমন—তাআল্লামা এবং তাজাহালা; সেক্ষেত্রে তা পরিবর্তন করা হবে না। অথবা যদি শেষ বর্ণটি (লাম) দ্বিত্ব না হয়, যেমন—ইহমাররা এবং ইহমাররা; সেক্ষেত্রে ইদগাম (সন্ধি) হবে। আর এ কারণেই আফআলা-এর মুজারি (বর্তমান কাল)-এর মূল রূপ ছিল ইউআফইলু, কিন্তু উত্তম পুরুষে (মুতাকাল্লিম) পরপর দুটি হামযাহ আসার বাধ্যবাধকতার কারণে তা বর্জন করা হয়েছে এবং সব ক্ষেত্রেই সহজীকরণ করা হয়েছে। আর কবির এই উক্তি:

(নিশ্চয় সে সম্মানিত হওয়ার যোগ্য … )

এটি ব্যতিক্রমধর্মী (শায)।

আর আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া), ইসমে ফায়িল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), ইসমে মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য) এবং আফআলুত তাফদীল (আতিশয্যবাচক বিশেষ্য)-এর আলোচনা ইতিপূর্বেই অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الصّفة المشبهة

 

من نَحْو فَرح على فَرح غَالِبا وَقد جَاءَ مَعَه فِي بَعْضهَا الضَّم نَحْو ندس وحذر وَعجل وَجَاءَت على سليم وشكس وحر وصفر وغيور وَمن الألوان والعيوب والحلي على أفعل

وَمن نَحْو كرم على كريم غَالِبا وَجَاءَت على خشن وَحسن وصعب وصلب وجبان وشجاع ووقور وجنب

وَهِي من فعل قَليلَة وَقد جَاءَ نَحْو حَرِيص وأشيب وضيق

وتجيء من الْجَمِيع بِمَعْنى الْجُوع والعطش وضدهما على فعلان نَحْو جوعان وشبعان وعطشان وريان
সিফাতে মুশাব্বাহা (কর্তৃবাচ্যের সদৃশ বিশেষণ)

 

এটি সাধারণত ‘ফারিহা’ (মধ্যাক্ষরে ফাতহা বিশিষ্ট) ধাতু থেকে ‘ফারিহ’ ওজনে আসে। কখনও কখনও এর মধ্যাক্ষরে যম্মাহ বা পেশযোগেও ব্যবহার পাওয়া যায়, যেমন—নাদুসুন, হাযুরুন এবং আজুলুন। এ ছাড়াও এটি সালিম, শাকিস, হুররুন, সিফরুন এবং গাইয়ুর ওজনেও ব্যবহৃত হয়। আর রং, শারীরিক খুঁত এবং সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে এটি ‘আফআ’লু’ ওজনে আসে।

এটি ‘কারুমা’ (মধ্যাক্ষরে যম্মাহ বিশিষ্ট) ধাতু থেকে সাধারণত ‘কারিম’ ওজনে আসে। এ ছাড়াও এটি খাশিন, হাসান, সা’ব, সুলব, জাবান, শুজা’, ওয়াকুর এবং জুনুব ওজনেও ব্যবহৃত হয়েছে।

‘ফা-আ-লা’ (মধ্যাক্ষরে ফাতহা বিশিষ্ট ক্রিয়া) থেকে এর প্রয়োগ অত্যন্ত কম। তবে হারীস, আশইয়াব এবং দাইয়্যিক-এর মতো কিছু উদাহরণ পাওয়া যায়।

সকল প্রকার ধাতু থেকে ক্ষুধা, পিপাসা এবং এগুলোর বিপরীত অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি ‘ফাউলানু’ ওজনে আসে। যেমন—জাওয়ান (ক্ষুধার্ত), শাবআন (তৃপ্ত), আতশান (তৃষ্ণার্ত) এবং রাইয়ান (তৃষ্ণা নিবারিত)।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الْمصدر

 

أبنية الثلاثي الْمُجَرّد كَثِيرَة نَحْو

قتل وَفسق وشغل وَرَحْمَة ونشدة وكدرة وَدَعوى وذكرى وبشرى وليان وحرمان وغفران ونزوان وَطلب وخنق وَصغر وَهدى وَغَلَبَة وسرقة وَذَهَاب وصراف وسؤال وزهادة ودراية وَدخُول وَقبُول ووجيف وصهوبة ومدخل ومرجع ومسعاة ومحمدة وبغاية وكراهية

إِلَّا أَن الْغَالِب فِي فعل اللَّازِم نَحْو ركع على رُكُوع وَفِي الْمُتَعَدِّي نَحْو ضرب على ضرب وَفِي الصَّنَائِع وَنَحْوهَا نَحْو كتب على كِتَابَة وَفِي الِاضْطِرَاب نَحْو خَفق على خفقان وَفِي الْأَصْوَات نَحْو صرخَ على صُرَاخ

وَقَالَ الْفراء إِذا جَاءَك فعل مِمَّا لم يسمع مصدره فاجعله فعلا للحجاز وفعولا لنجد وَنَحْو هدى وقرى مُخْتَصّ بالمنقوص
ক্রিয়ামূল

 

সুলাসি মুজাররাদ (তিন অক্ষরবিশিষ্ট মৌলিক ধাতু)-এর গঠনসমূহ অনেক, যেমন:

হত্যা, পাপাচার, ব্যস্ততা, দয়া, অনুসন্ধান, ঘোলাটে ভাব, দাবি, উপদেশ, সুসংবাদ, নমনীয়তা, বঞ্চিত হওয়া, ক্ষমা, উত্তেজনা, অনুসন্ধান, শ্বাসরোধ, ক্ষুদ্রতা, পথপ্রদর্শন, বিজয়, চুরি, প্রস্থান, বিনিময়, জিজ্ঞাসা, অনাশক্তি, জ্ঞান, প্রবেশ, গ্রহণ, দ্রুত গতি, পিঙ্গল বর্ণ, প্রবেশস্থল, প্রত্যাবর্তনস্থল, প্রচেষ্টা, প্রশংসা, আকাঙ্ক্ষা এবং অপছন্দনীয়তা।

তবে অকর্মক ‘ফা-আ-লা’ ওজনের ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত ‘ফু-ঊল’ ওজনে মাসদার আসে, যেমন: ‘রুকু’উন’। সকর্মক ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত ‘ফালান’ ওজনে আসে, যেমন: ‘দারবান’। পেশা বা এ জাতীয় কার্যের ক্ষেত্রে ‘ফি-আ-লাহ’ ওজনে আসে, যেমন: ‘কিতাবাহ’। অস্থিরতা বা কম্পন বুঝাতে ‘ফা-লা-লান’ ওজনে আসে, যেমন: ‘খফাকান’। আর শব্দের ক্ষেত্রে ‘ফু-আল’ ওজনে আসে, যেমন: ‘সুরাখ’।

আল-ফাররা বলেন: যদি তোমার কাছে এমন কোনো ক্রিয়া আসে যার মাসদার (শোনা কথা হিসেবে) প্রচলিত নয়, তবে হিজাযবাসীদের রীতি অনুযায়ী তাকে ‘ফালান’ এবং নজদবাসীদের রীতি অনুযায়ী ‘ফু-ঊল’ ওজনে গঠন করো। আর ‘হুদা’ ও ‘কুরা’ এর মতো রূপগুলো মানকুস (দুর্বল শেষ বর্ণবিশিষ্ট) শব্দের জন্য নির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَنَحْو طلب مُخْتَصّ بيفعل إِلَّا جلب الْجرْح والغلب

وَفعل اللَّازِم نَحْو فَرح على فَرح والمتعدي نَحْو جهل على جهل وَفِي الألوان والعيوب نَحْو سمر وأدم على سَمُرَة وأدمة

وَفعل نَحْو كرم على كَرَامَة غَالِبا وَعظم كثيرا وكرم نَحوه

والمزيد فِيهِ والرباعي قِيَاس فنحو أكْرم على إكرام وَنَحْو كرم على تكريم وتكرمة وَجَاء كَذَّاب وَكَذَّاب والتزموا الْحَذف والتعويض فِي نَحْو تَعْزِيَة وإجازة واستجازة وَنَحْو ضَارب على مُضَارَبَة وضراب ومراء شَاذ وَجَاء قيتال وَنَحْو تكرم على تكرم وَجَاء تملاق وَالْبَاقِي وَاضح وَنَحْو الترداد والتجوال والحثيثى والرميا للتكثير
এবং 'তালাব' এর অনুরূপ ওজন 'ইয়াফআলু' এর সাথে নির্দিষ্ট, তবে 'জালব' (আহরণ), 'জুরহ' (আঘাত) এবং 'গালব' (বিজয়) এর ক্ষেত্র ব্যতীত।

এবং অকর্মক 'ফা-ইলা' এর রূপ যেমন 'ফারিহা' থেকে 'ফারাহ' (আনন্দ), আর সকর্মক 'ফা-ইলা' যেমন 'জাহিলা' থেকে 'জাহল' (অজ্ঞতা); আর রং ও শারীরিক খুঁত বোঝাতে যেমন 'সামুরা' ও 'আদুমা' থেকে 'সুমরাহ' ও 'উদমাহ' (শ্যামবর্ণ ও গোধূলি বর্ণ) হয়ে থাকে।

এবং 'ফা-উলা' রূপ যেমন 'কারুমা' থেকে সাধারণত 'কারামাহ' (মর্যাদা), 'আজুমা' থেকে অনেক ক্ষেত্রে 'আজামাহ' (মহত্ত্ব) এবং 'কারুমা' এর সদৃশ শব্দগুলোও অনুরূপ।

আর অতিরিক্ত অক্ষরবিশিষ্ট (মাজিদ ফিহি) এবং চতুর্মূলীয় (রুবায়ি) ক্রিয়াগুলো নিয়মানুগ; যেমন 'আকরামা' থেকে 'ইকরাম', এবং 'কাররামা' থেকে 'তাকরীম' ও 'তাকরীমাহ'। আবার 'কাযযাব' ও 'কিযযাব' রূপেও শব্দ এসেছে। তারা 'তা'যিয়াহ' (শোকপ্রকাশ), 'ইজাজাহ' (অনুমতি) ও 'ইসতিজাজাহ' (অনুমতি প্রার্থনা) এর মতো শব্দগুলোতে বিলোপ ও প্রতিস্থাপনকে আবশ্যক করেছেন। আর 'দারাবা' থেকে 'মুদারাবাহ' ও 'দিরাব', এবং 'মিরা' শব্দটি বিরল। 'কীতাল' রূপটিও এসেছে। 'তাকাররামা' থেকে 'তাকাররুম' এবং 'তিমলাক' (চাটুকারিতা) ও এসেছে। বাকিগুলো স্পষ্ট। আর 'তারদাদ' (বারবার ফিরে আসা), 'তাজওয়াল' (পরিভ্রমণ), 'হাছীছা' (দ্রুতগতি) ও 'রামিয়া' (নিক্ষেপ) এর মতো ওজনগুলো আধিক্য বা পৌনঃপুনিকতা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الْمصدر الميمي

وَيَجِيء الْمصدر من الثلاثي الْمُجَرّد أَيْضا على مفعل قِيَاسا مطردا ك مقتل ومضرب وَأما مكرم ومعون وَلَا غَيرهمَا فنادران حَتَّى جَعلهمَا الْفراء جمعا لمكرمة ومعونة
মীমি মাসদার

সুলাসী মুজাররাদ থেকেও মাসদার একটি নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ী ‘মাফ‘আল’ ওজনে আসে, যেমন— মাকতাল এবং মাদরাব। তবে মাকরাম ও মা‘উন ব্যতীত অন্য শব্দসমূহ বিরল, এমনকি আল-ফাররা এ দুটিকে মাকরামাহ ও মা‘উনাহ-এর বহুবচন হিসেবে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَمن غَيره جَاءَ على زنة الْمَفْعُول ك مخرج ومستخرج وَكَذَلِكَ الْبَاقِي

وَأما مَا جَاءَ على مفعول ك الميسور والمعسور والمجلود والمفتون فقليل وفاعلة ك الْعَافِيَة وَالْعَاقبَة والباقية والكاذبة أقل

وَنَحْو دحرج على دحرجة ودرحاج بِالْكَسْرِ وَنَحْو زلزل على زلزال بِالْفَتْح وَالْكَسْر

‌‌اسْم الْمرة

 

والمرة من الثلاثي الْمُجَرّد مِمَّا لَا تَاء فِيهِ على فعلة نَحْو ضَرْبَة وقتلة وَمَا عداهُ على الْمصدر الْمُسْتَعْمل نَحْو إناخة فَإِن لم تكن تَاء زدتها

(وأتيته إتيانة ولقيته لقاءة شَاذ … )
এবং এটি (ত্রিপদী মূল) ব্যতীত অন্যগুলো মাফঊল-এর ওজনে আসে, যেমন— মুখরাজ এবং মুস্তাখরাজ, আর অবশিষ্টগুলোও অনুরূপ।

আর যা মাফঊল ওজনে আসে যেমন— আল-মাইসূর, আল-মাসূর, আল-মাজলূদ এবং আল-মাফতূন, তা অত্যন্ত নগণ্য। আর ফায়িলাহ ওজনে যেমন— আল-আফিয়াহ, আল-আকিবাহ, আল-বাকিয়াহ এবং আল-কাযিবাহ, তা আরও কম।

এবং দাহরাজা-এর অনুরূপ শব্দগুলো দাহরাজাহ এবং কাসরা (জের) যোগে দিহরাজ ওজনে আসে। আর যালযালা-এর অনুরূপ শব্দগুলো ফাতহা (যবর) ও কাসরা (জের) যোগে যালযাল ও যিলযাল ওজনে আসে।

‌‌ইসমুল মাররাহ (একবার সংঘটিত হওয়ার বিশেষ্য)

 

তিন অক্ষরবিশিষ্ট সুলাসী মুজাররাদ বা মূলক্রিয়া যাতে ‘তা’ নেই, তার ‘মাররাহ’ (একবার হওয়া বুঝাতে) ‘ফায়লাহ’ ওজনে আসে, যেমন— দারবাহ এবং কাতলাহ। আর এটি ব্যতীত অন্যগুলো প্রচলিত মাসদার বা ক্রিয়ামূলের ওজনে আসে, যেমন— ইনাক্বাহ; এমতাবস্থায় যদি তাতে ‘তা’ না থাকে, তবে আপনি একটি ‘তা’ যুক্ত করবেন।

(এবং ‘আতাইতুহু ইতায়ানাতান’ ও ‘লাক্বিতুহু লিকাআতান’ শব্দগুলো নিয়মবহির্ভূত বা বিরল … )
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌أَسمَاء الزَّمَان وَالْمَكَان

 

أَسمَاء الزَّمَان وَالْمَكَان مِمَّا مضارعه مَفْتُوح الْعين أَو مضمومها وَمن المنقوص على مفعل نَحْو مشرب ومقتل ومرمى وَمن مكسورها والمثال على مفعل نَحْو مضرب وموعد

وَجَاء المنسك والمجزر والمنبت والمطلع والمشرق وَالْمغْرب والمفرق والمسقط والمسكن والمرفق وَالْمَسْجِد والمنخر

وَأما منخر ففرع ك منتن وَلَا غَيرهمَا

وَنَحْو المظنة والمقبرة فتحا وضما لَيْسَ بِقِيَاس

وَمَا عداهُ فعلى لفظ الْمَفْعُول
কাল ও স্থানবাচক বিশেষ্যসমূহ

 

কাল ও স্থানবাচক বিশেষ্যসমূহ—যেসব ক্রিয়ার মুদারে-এর আইন কালিমা যবর বা পেশযুক্ত এবং যেগুলো নাকিস (শেষ বর্ণ দুর্বল ক্রিয়া), সেগুলো ‘মাফআল’ ওজনে গঠিত হয়; যেমন: মাশরাব (পান করার স্থান), মাকতাল (হত্যার স্থান) এবং মারমা (নিক্ষেপ করার স্থান)। আর যেসব ক্রিয়ার আইন কালিমা মুদারেতে যেরযুক্ত এবং যেগুলো মিসাল (প্রথম বর্ণ দুর্বল ক্রিয়া), সেগুলো ‘মাফইল’ ওজনে হয়; যেমন: মাদরিব (আঘাত করার স্থান) এবং মাউইদ (ওয়াদার স্থান বা সময়)।

আর (নিয়ম বহির্ভূতভাবে যের যোগে) এসেছে: মানসিক, মাজযির, মানবিত, মাতলি‘, মাশরিক, মাগরিব, মাফরিক, মাসকিত, মাসকিন, মারফিক, মাসজিদ এবং মানখির।

তবে ‘মানখির’ শব্দটি ‘মুনতিন’ এর মতোই একটি শাখা রূপ (মূল নিয়ম থেকে বিচ্যুত); এই দুটি ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ এমন নেই।

এবং ‘মাযিননাহ’ ও ‘মাকবারাহ’ এর মতো শব্দগুলোতে (আইন কালিমায়) যবর বা পেশ হওয়া নিয়মিত ব্যাকরণিক কিয়াসের অন্তর্ভুক্ত নয়।

এছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে (সুলাসি মুজাররাদ বা তিন অক্ষর বিশিষ্ট মূল ক্রিয়ার অতিরিক্ত হলে) এগুলো ইসমে মাফউলের ওজনে গঠিত হয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌اسْم الالة

 

الْآلَة على مفعل ومفعال ومفعلة ك المحلب والمفتاح والمكسحة

وَنَحْو المسعط والمنخل والمدق والمدهن والمكحلة والمحرضة لَيْسَ بِقِيَاس
যন্ত্রবাচক বিশেষ্য

 

যন্ত্রবাচক বিশেষ্য মিফ‘আল, মিফ‘আল এবং মিফ‘আলাহ ওজনে হয়ে থাকে; যেমন: দোহনপাত্র, চাবি এবং ঝাড়ু।

আর নাস্যদানী, চালুনী, মুগুর, তেলদানি, সুরমাদানি এবং ক্ষারপাত্রের মতো শব্দগুলো কিয়াস বা নিয়মসিদ্ধ নয়।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌التصغير

 

المصغر الْمَزِيد فِيهِ ليدل على تقليل فالمتمكن يضم أَوله وَيفتح ثَانِيَة وبعدهما يَاء سَاكِنة وَيكسر مَا بعْدهَا فِي الْأَرْبَعَة إِلَّا فِي تَاء التَّأْنِيث وَألْفي التَّأْنِيث وَالْألف وَالنُّون المشبهتين بهما وَألف أَفعَال جمعا

وَلَا يُزَاد على أَرْبَعَة فَلذَلِك لم يَجِيء فِي غَيرهَا إِلَّا فعيل وفعيعل وفعيعيل وَإِذا صغر الخماسي على ضعفه فَالْأولى حذف الْخَامِس وَقيل مَا أشبه الزَّائِد وَسمع الْأَخْفَش سفيرجل

وَيرد نَحْو بَاب وناب وميزان وموقظ إِلَى أَصله لذهاب الْمُقْتَضِي بِخِلَاف قَائِم وتراث وأدد وَقَالُوا عييد لقَولهم أعياد
তাসগির (ক্ষুদ্রত্ববাচক রূপ)

 

মুসাগগার (ক্ষুদ্রত্ববাচক বিশেষ্য) হলো এমন শব্দ যাতে স্বল্পতা বা ক্ষুদ্রত্ব প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত অক্ষর যোগ করা হয়। এক্ষেত্রে মুতামাক্কিন (রূপান্তরযোগ্য) শব্দের প্রথম অক্ষরে পেশ (যম্মাহ) এবং দ্বিতীয় অক্ষরে জবর (ফাতহাহ) দিতে হয় এবং উভয়ের পরে একটি সাকিন ‘ইয়া’ যুক্ত করতে হয়। চার অক্ষরের শব্দের ক্ষেত্রে ‘ইয়া’-এর পরবর্তী অক্ষরে জের (কাসরাহ) দিতে হয়; তবে স্ত্রীবাচক ‘তা’ (তা-উত তানিছ), স্ত্রীবাচক দুই আলিফ (আলিফে মাকসুরা ও মামদুদা), এই দুইয়ের সদৃশ আলিফ ও নুন, এবং জমা মুকাস্সারের ‘আফ-আল’ ওজনের আলিফ এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

তাসগিরের ওজন চার অক্ষরের অধিক হয় না; একারণে এটি কেবল ‘ফুআইল’, ‘ফুআইয়িল’ এবং ‘ফুআইয়ীল’ এই ওজনসমূহেই আসে। যখন কোনো পাঁচ অক্ষরের মূল শব্দের তাসগির করা হয়, তখন শব্দের দীর্ঘতার কারণে উত্তম হলো এর পঞ্চম অক্ষরটি বিলুপ্ত করা। কেউ কেউ বলেছেন, যা অতিরিক্ত অক্ষরের সদৃশ তা-ই বিলুপ্ত করা হবে। আল-আখফাশ ‘সাফারজাল’-এর তাসগির হিসেবে ‘সুফাইরিজাল’ শুনেছেন।

‘বাব’ (দরজা), ‘নাব’ (দন্ত), ‘মিজান’ (তুলাদণ্ড) এবং ‘মুকিজ’ (জাগ্রতকারী)-এর মতো শব্দগুলোকে তাসগিরের সময় এদের মূলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, কারণ পরিবর্তনের কারণটি তখন আর বিদ্যমান থাকে না। তবে ‘কায়িম’, ‘তুরাছ’ এবং ‘আদাদ’-এর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ভাষাবিদগণ ‘ঈদ’-এর তাসগির হিসেবে ‘উইয়াইদ’ বলেছেন, কারণ তারা এর বহুবচন হিসেবে ‘আইয়াদ’ বলে থাকেন।
(খণ্ড: ১) আশ-শাফিয়া ফী ইলমিত তাসরীফ - মাআহাল ওয়াফিয়া নাযমুশ শাফিয়া (পৃষ্ঠা: ৩৩)
فَإِن كَانَت مُدَّة ثَانِيَة فالواو نَحْو ضويرب فِي ضَارب وضويريب فِي ضيراب

وَالِاسْم على حرفين يرد محذوفة تَقول فِي عدَّة وكل اسْما وعيدة وأكيل وَفِي سه ومذ اسْما ستيهة ومنيذ

وَفِي دم وحر دمي وحريح وَكَذَلِكَ بَاب ابْن وَاسم وَأُخْت وَبنت وهنت بِخِلَاف بَاب ميت وهار وناس

وَإِذا ولي يَاء التصغير وَاو أَو ألف منقلبة أَو زَائِدَة قلبت يَاء وَكَذَلِكَ الْهمزَة المنقلبة بعْدهَا نَحْو عرية وَعصيَّة ورسيلة وتصحيحه فِي بَاب أسيد وجديل قَلِيل فَإِن اتّفق اجْتِمَاع ثَلَاث ياءات حذفت الْأَخِيرَة نسيا على الْأَفْصَح كَقَوْلِك فِي عَطاء وإداوة وغاوية وَمُعَاوِيَة عطي وأدية وغوية ومعية وَقِيَاس أحوى أَحَي غير منصرف وَعِيسَى يصرفهُ وَقَالَ أَبُو عَمْرو أَحَي وعَلى قِيَاس أسيود أحيو
যদি (শব্দের) দ্বিতীয় অক্ষরটি 'মদ্দ' (দীর্ঘ স্বরবর্ণ) হয়, তবে তা 'ওয়াও' দ্বারা পরিবর্তিত হবে। যেমন: 'দারিব' শব্দের ক্ষেত্রে 'দুওয়াইরিব' এবং 'দিরাব' শব্দের ক্ষেত্রে 'দুওয়াইরীব'।

এবং যে বিশেষ্য দুই অক্ষরের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, তার বিলুপ্ত অক্ষরটি ফিরিয়ে আনা হবে। আপনি 'ইদ্দাহ' এবং 'কুল' শব্দ দুটি যখন নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন বলবেন: 'উয়াইদাহ' এবং 'উয়াইকিল'। আর 'সাহ' ও 'মুয' শব্দ দুটি নাম হিসেবে ব্যবহৃত হলে (বলবেন): 'সুতাইহাহ' এবং 'মুনাইয'।

এবং 'দাম' ও 'হুর' এর ক্ষেত্রে বলবেন 'দুমাই' এবং 'হুরাইহ'। অনুরূপভাবে 'ইবন', 'ইসম', 'উখত', 'বিনত' এবং 'হানাত' এর পরিচ্ছেদটিও এমন। তবে 'মাইয়্যিত', 'হার' এবং 'নাস' এর পরিচ্ছেদ এর ব্যতিক্রম।

আর যখন তাসগিরের 'ইয়া'-এর পরে 'ওয়াও' অথবা রূপান্তরিত কিংবা অতিরিক্ত 'আলিফ' আসে, তখন তা 'ইয়া' তে রূপান্তরিত হয়। অনুরূপভাবে এর পরবর্তী রূপান্তরিত হামযাহ-এর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। যেমন: 'উরাইয়্যাহ', 'উসাইয়্যাহ' এবং 'রুসাইয়্যাহ'। আর 'উসাইয়্যিদ' এবং 'জুদাইয়্যিল' এর পরিচ্ছেদে এর মূল রূপে রাখা বিরল। অতঃপর যদি তিনটি 'ইয়া' একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে বিশুদ্ধতম মতানুসারে শেষ 'ইয়া'-টি সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা হবে। যেমন: 'আতা', 'ইদাওয়াহ', 'গাউয়িয়াহ' এবং 'মুয়াবিয়াহ' এর ক্ষেত্রে আপনার উক্তি হবে: 'উতায়ি', 'উদাইয়্যাহ', 'গুইয়াইয়্যাহ' এবং 'মুয়াইয়্যাহ'। আর 'আহওয়া' এর নিয়মসিদ্ধ রূপ হলো 'উহাইয়ি' যা রূপান্তরহীন (গাইরে মুনসারিফ), কিন্তু 'ঈসা' এর ক্ষেত্রে রূপান্তর (সরফ) করা হয়। আবু আমর বলেছেন 'উহাইয়ি', আর 'উসাইওয়িদ' এর নিয়মানুযায়ী এটি হবে 'উহাইয়িওয়'।