(খণ্ড: ১)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: -)
جامع بيان العلم وفضله (ابن عبد البر)
القسم: كتب السنة
الكتاب: جامع بيان العلم وفضله
المؤلف: أبو عمر يوسف بن عبد البر (ت 463 هـ)
المحقق: أبو الأشبال الزهيري
الناشر: دار ابن الجوزي - السعودية
الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1994 م
عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জ্ঞানের বর্ণনা ও তার শ্রেষ্ঠত্বের বিশদ সংকলন (ইবন আব্দুল বার)
বিভাগ: সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: জ্ঞানের বর্ণনা ও তার শ্রেষ্ঠত্বের বিশদ সংকলন
লেখক: আবু উমর ইউসুফ বিন আব্দুল বার (মৃত্যু: ৪৬৩ হিজরি)
মুহাক্কিক: আবু আল-আশবাল আল-জুহাইরি
প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ١)
جَامِعُ بَيَانِ الْعِلْمِبسم الله الرحمن الرحيموَبِهِ نَسْتَعِينُقَالَ الْأَدِيبُ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْأُشَيْرِيُّ: أَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ الْجُذَامِيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو عُمَرَ يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْبَرِّ النَّمَرِيُّ الْحَافِظُ قَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الْمُبْتَدِئِ بِالنِّعَمِ، بَارِئِ النَّسَمِ، وَمُنْشِرِ الرِّمَمِ، وَرَازِقِ الْأُمَمِ الَّذِي عَلَّمَنَا مَا لَمْ نَكُنْ نَعْلَمُ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ، وَعَلَى آلِهِ الطِّيبِينَ، وَالْحَمْدُ لِلِّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّكَ سَأَلْتَنِي رَحِمَكَ اللَّهُ عَنْ مَعْنَى الْعِلْمِ، وَفَضْلِ طَلَبِهِ، وَحَمْدِ السَّعْىِ فِيهِ، وَالْعِنَايَةِ بِهِ، وَعَنْ تَثْبِيتِ الْحِجَاجِ بِالْعِلْمِ، وَتَبْيِينِ فَسَادِ الْقَوْلِ فِي دِينِ اللَّهِ بِغَيْرِ فَهْمٍ وَتَحْرِيمِ الْحُكْمِ بِغَيْرِ حُجَّةٍ، وَمَا الَّذِي أُجِيزَ مِنَ الِاحْتِجَاجِ وَالْجَدَلِ؟ وَمَا الَّذِي كُرِهَ مِنْهُ؟ وَمَا الَّذِي ذُمَّ مِنَ الرَّأْيِ؟ وَمَا حُمِدَ مِنْهُ؟ وَمَا جُوِّزَ مِنَ التَّقْلِيدِ وَمَا ذُمَّ مِنْهُ؟
ইলমের বর্ণনা সম্বলিত সংকলনপরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছিএবং আমরা তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছিসাহিত্যিক আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-উশাইরী বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন আবদুল্লাহ বিন মাওহাব আল-জুজামী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফেজ আবু ওমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল বার আল-নামারী। তিনি বলেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিআমতসমূহের সূচনা করেন, প্রাণকূলের স্রষ্টা, জীর্ণ হাড়ের পুনরুত্থানকারী এবং জাতিসমূহের রিযিকদাতা; যিনি আমাদের তা শিখিয়েছেন যা আমরা জানতাম না। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক আমাদের নেতা নবীগণের সমাপ্তিকারী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিজনদের ওপর। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। অতঃপর, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, নিশ্চয়ই আপনি আমাকে ইলমের মর্মার্থ, ইলম অন্বেষণের মর্যাদা, ইলম অর্জনে প্রচেষ্টার প্রশংসা ও এর প্রতি গুরুত্বারোপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। আরও জানতে চেয়েছেন ইলমের সাহায্যে দলীল প্রতিষ্ঠা করা, সঠিক অনুধাবন ব্যতীত আল্লাহর দ্বীনে কোনো মত ব্যক্ত করার অসারতা স্পষ্ট করা এবং প্রমাণ ছাড়া বিধান প্রদানের নিষিদ্ধতা সম্পর্কে। এছাড়া বিতর্ক ও বাদানুবাদের ক্ষেত্রে কোনটি অনুমোদিত? এর মধ্যে কোনটি অপছন্দনীয়? রায়ের (ব্যক্তিগত অভিমত) ক্ষেত্রে কোনটি নিন্দনীয় এবং কোনটি প্রশংসনীয়? আর তাকলীদের (অন্ধ অনুসরণ) ক্ষেত্রে কোনটি বৈধ এবং কোনটি নিন্দনীয়—তাও জানতে চেয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٢)
وَرَغِبْتُ أَنْ أُقَدِّمَ لَكَ قَبْلَ هَذَا مِنْ آدَابِ التَّعَلُّمِ وَمَا يَلْزَمُ الْعَالِمَ وَالْمُتَعَلِّمَ التَّخَلُّقُ بِهِ، وَالْمُوَاظَبَةُ عَلَيْهِ، وَكَيْفَ وَجْهُ الطَّلَبِ، وَمَا حُمِدَ وَمُدِحَ مِنْهُ مِنَ الِاجْتِهَادِ وَالنَّصَبِ إِلَى سَائِرِ أَنْوَاعِ التَّعَلُّمِ وَفَضْلُ ذَلِكَ، وَتَلْخِيصُهُ بَابًا بَابًا مِمَّا رُوِيَ عَنْ سَلَفِ هَذِهِ الْأُمَّةِ رضي الله عنهم أَجْمَعِينَ لِتَتْبَعَ هَدْيَهُمْ، وَتَسْلُكَ سَبِيلَهُمْ، وَتَعْرِفَ مَا اعْتَمَدُوا عَلَيْهِ مِنْ ذَلِكَ مُجْتَمِعِينَ أَوْ مُخْتَلِفِينَ فِي الْمَعْنَى مِنْهُ، فَأَجَبْتُكَ إِلَى مَا رَغِبْتَ، وَسَارَعْتُ فِيمَا طَلَبْتَ رَجَاءَ عَظِيمِ الثَّوَابِ، وَطَمَعًا فِي الزُّلْفَى يَوْمَ الْمَآبِ، وَلِمَا أَخَذَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى الْمَسْئُولِ الْعَالِمِ بِمَا سُئِلَ عَنْهُ مِنْ بَيَانِ مَا طُلِبَ مَنْهُ، وَتَرْكِ الْكِتْمَانِ لِمَا عَلِمَهُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَتُبَيِّنُنَّهُ لِلنَّاسِ وَلَا تَكْتُمُونَهُ} [سورة: آل عمران، آية رقم: 187] وَقَالَ صلى الله عليه وسلم «مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَجَّمًا بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ» .
আর আমি আপনার নিকট এর পূর্বে জ্ঞানার্জনের আদবসমূহ এবং আলেম ও তালেবে ইলমের জন্য যেসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করা ও যার ওপর অবিচল থাকা আবশ্যক, তা উপস্থাপন করতে চেয়েছি; এবং জ্ঞান অন্বেষণের পদ্ধতি কেমন হবে, আর জ্ঞানার্জনের অন্যান্য প্রকারসহ এতে প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের যে প্রশংসা ও গুণগান করা হয়েছে এবং তার ফযীলত সম্পর্কেও [বলতে চেয়েছি]। আর এই উম্মতের সালাফদের (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা অধ্যায় অনুযায়ী সংক্ষেপে সাজিয়েছি, যাতে আপনি তাঁদের হিদায়াত অনুসরণ করতে পারেন, তাঁদের পথে চলতে পারেন এবং তাঁরা যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছেন—চাই তা সর্বসম্মত হোক বা অর্থের ক্ষেত্রে ভিন্নমত—তা জানতে পারেন। সুতরাং আপনি যা চেয়েছেন আমি তাতে সাড়া দিয়েছি এবং মহান প্রতিদানের আশায় ও পরকালে নৈকট্য লাভের লালসায় আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগী হয়েছি। আর আল্লাহ তাআলা কোনো আলেমকে তাঁর নিকট জানা কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তা বর্ণনা করার এবং জ্ঞান গোপন না করার যে অঙ্গীকার নিয়েছেন, সেই কারণেই আমি তা করেছি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যখন আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, তোমরা তা মানুষের কাছে অবশ্যই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।} [সূরা: আলে ইমরান, আয়াত নং: ১৮৭]। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যাকে কোনো ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো আর সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে।”
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٢)
1 - قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ الْوَارِثِ بْنِ سُفْيَانَ، أَنَّ قَاسِمَ بْنَ أَصْبَغَ، حَدَّثَهُمْ قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ حَمَّادٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ نا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ ، عَنْ رَجُلٍ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، ⦗ص: 3⦘ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ عَلِمَهُ فَكَتَمَهُ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ لِجَامٌ مِنْ نَارٍ» قَالَ أَبُو عُمَرَ: " الرَّجُلُ الَّذِي يَرْوِيهِ عَنْ عَطَاءٍ يَقُولُونَ: إِنَّهُ الْحَجَّاجُّ بْنُ أَرْطَاةَ وَلَيْسَ عِنْدِي كَذَلِكَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ، وَالْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ مَشْهُورٌ أَيْضًا بِالتَّدْلِيسِ عِنْدَهُمْ ⦗ص: 4⦘ 2 - حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ سَعِيدُ بْنُ نَصْرٍ حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي الْعَوَّامِ أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ يَعْلَمُهُ فَكَتَمَهُ» ، فَذَكَرَ نَحْوَهُ
১ - আমি আবদুর ওয়ারিস ইবন সুফইয়ানের নিকট পাঠ করেছি যে, কাসিম ইবন আসবাগ তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বকর ইবন হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মুসাদ্দাদ বর্ণনা করেছেন, আবদুর ওয়ারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল হাকাম থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আতা ইবন আবী রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, ⦗পৃষ্ঠা: ৩⦘ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: «যাকে এমন কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা সে জানে, অথচ সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন তার মুখে আগুনের লাগাম পরানো হবে» আবু উমর বলেছেন: "আতা থেকে যিনি এটি বর্ণনা করেছেন তার সম্পর্কে তারা বলেন: তিনি হলেন হাজ্জাজ ইবন আরতাহ। তবে আমার নিকট বিষয়টি তেমন নয় এবং আল্লাহই ভালো জানেন। আর হাজ্জাজ ইবন আরতাহ তাদের নিকট তাদলীসকারী হিসেবেও প্রসিদ্ধ।" ⦗পৃষ্ঠা: ৪⦘ ২ - আমাদের নিকট আবু উসমান সাঈদ ইবন নাসর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট কাসিম ইবন আসবাগ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবন আবিল আওয়াম বর্ণনা করেছেন, ইয়াযীদ ইবন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: হাজ্জাজ ইবন আরতাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যাকে এমন কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যা সে জানে, অথচ সে তা গোপন করল», এরপর তিনি অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٥)
3 - وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ ، عَنْ عَطَاءٍ ، لَمْ يَقُلْ: عَنْ رَجُلٍ ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ نا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ نا أَبُو دَاوُدَ نا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَكَمِ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سُئِلَ عَنْ عِلْمٍ فَكَتَمَهُ أَلْجَمَهُ اللَّهُ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
৩ - এবং এটি বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আলি ইবনে আল-হাকাম থেকে, আতা থেকে; তিনি ‘জনৈক ব্যক্তি থেকে’—এই কথাটি বলেননি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে বকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে আল-হাকাম, আতা থেকে, আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যাকে কোনো জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় আর সে তা গোপন করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।»
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٦)
4 - وَكَذَلِكَ رَوَاهُ عُمَارَةُ الصَّيْدَلَانِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ رَجُلٍ حَفِظَ عِلْمًا فَسُئِلَ عَنْهُ فَكَتَمَهُ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَجَّمًا بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ» ⦗ص: 7⦘ 5- حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ نَصْرٍ نا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ نا مُحَمَّدُ بْنُ وَضَّاحٍ نا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ثنا أَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ زَاذَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَكَمِ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَهُ، ⦗ص: 8⦘ 6 - وَرَوَاهُ لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ عَطَاءٍ، حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ جَعْفَرٍ نا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ الْوَلِيدِ الْكِلَابِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ خُرَيْمِ بْنِ مَرْوَانَ الْعُقَيْلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ أَبِي الْجَوْنِ قَالَ: حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَتَمَ عِلْمًا عِنْدَهُ» ، فَذَكَرَ مَعْنَاهُ وَرَوَاهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم أَيْضًا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ كَمَا رَوَاهُ أَبُو هُرَيْرَةَ "
৪ - অনুরূপভাবে এটি বর্ণনা করেছেন উমারা আস-সাইদালানি, তিনি আলী ইবনুল হাকাম থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে; তিনি বলেছেন: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে কোনো ইলম (জ্ঞান) মুখস্থ করল, অতঃপর তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে তা গোপন করল, কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে ছাড়া (অর্থাৎ তাকে অবশ্যই আগুনের লাগাম পরানো হবে)» ⦗পৃষ্ঠা: ৭⦘ ৫- সাঈদ ইবনে নাসর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াদদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আসওয়াদ ইবনে আমির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উমারা ইবনে জাযান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনুল হাকাম আমাদের নিকট আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি তা (পূর্বোক্ত হাদিসটি) উল্লেখ করেছেন, ⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘ ৬ - আর লাইস ইবনে আবি সুলাইম এটি আতা থেকে বর্ণনা করেছেন। খালাফ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনুল হাসান ইবনুল ওয়ালিদ আল-কিলাবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে খুরইম ইবনে মারওয়ান আল-উকাইলি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান ইবনে সুলাইমান ইবনে আবিল জাওন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস ইবনে আবি সুলাইম আমাদের নিকট আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি তার নিকট থাকা কোনো ইলম (জ্ঞান) গোপন করল», অতঃপর তিনি এর অর্থ উল্লেখ করেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-ও বর্ণনা করেছেন যেমনটি আবু হুরায়রা বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٩)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَحْيَى نا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْرُورٍ نا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ ، ثنا سُحْنُونُ بْنُ سَعِيدٍ ثنا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَيَّاشٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رضي الله عنهما، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ كَتَمَ عِلْمًا أَلْجَمَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ» ⦗ص: 10⦘ 8 - وَهَذَا الْحَدِيثُ رَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ بِإِسْنَادِهِ هَذَا مِثْلَهُ وَهَذَا يُخَرَّجُ فِي رِوَايَةِ النَّظِيرِ عَنِ النَّظِيرِ ، وَالصَّغِيرِ عَنِ الْكَبِيرِ. حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ قَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، ثنا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، نا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ ، نا ابْنُ الْمُبَارَكِ ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَيَّاشٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَتَمَ عِلْمًا» ، فَذَكَرَهُ
৭ - আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাসরুর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুহনুন ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান গোপন করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরিয়ে দেবেন।" ⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘ ৮ - এবং এই হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে তাঁর এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর এটি সমপর্যায়ের রাবি কর্তৃক সমপর্যায়ের রাবি থেকে এবং ছোট কর্তৃক বড় থেকে বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। আহমদ ইবনে কাসিম ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান গোপন করবে...", অতঃপর তিনি পুরো হাদিসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ١١)
9 - وَرَوَاهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وآله وسلم عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ مِنْ حَدِيثِ سَوَّارِ بْنِ مُصْعَبٍ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَتَمَ عِلْمًا يُنْتَفَعُ بِهِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَجَّمًا بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ»
৯ - এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি সাওয়ার ইবনে মুসআব-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিস, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো জ্ঞান গোপন করবে যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, কিয়ামতের দিন সে আগুনের লাগাম পরিহিত অবস্থায় উপস্থিত হবে»।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ١٨)
10 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، نا أَحْمَدُ بْنُ مُطَرِّفٍ قَالَ: أنا سَعِيدُ بْنُ عُثْمَانَ، وَسَعِيدُ بْنُ خُمَيْرٍ قَالَا: أنا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةِ قَالَ: قَالَ الْحَسَنُ: " دَخَلْنَا فَاغْتَمَمْنَا وَخَرَجْنَا فَلَمْ نَزْدَدْ إِلَّا غَمًّا: اللَّهُمَّ إِلَيْكَ نَشْكُو هَذَا الْغُثَاءَ الَّذِي كُنَّا نُحَدِّثُ عَنْهُ، إِنْ أَجَبْنَاهُمْ لَمْ يَفْقَهُوا وَإِنْ سَكَتْنَا عَنْهُمْ وَكَلْنَاهُمْ إِلَى عِيٍّ شَدِيدٍ، وَاللَّهِ لَوْلَا مَا أَخَذَ اللَّهُ عَلَى الْعُلَمَاءِ فِي عِلْمِهِمْ مَا أَنْبَأْنَاهُمْ بِشَيْءٍ أَبَدًا "
১০ - আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম বর্ণনা করেছেন, আহমাদ বিন মুতাররিফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ বিন উসমান এবং সাঈদ বিন খুমাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: ইউনুস বিন আব্দুল আ’লা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাসান বলেছেন: "আমরা প্রবেশ করলাম এবং ব্যথিত হলাম, আর বের হলাম এবং আমাদের কেবল দুঃখই বৃদ্ধি পেল। হে আল্লাহ, আমরা আপনার নিকট এই অসার জনতা সম্পর্কে অভিযোগ করছি যাদের সম্পর্কে আমাদের কাছে ইতিপূর্বে বর্ণনা করা হতো। যদি আমরা তাদের উত্তর প্রদান করি, তবে তারা তা অনুধাবন করে না; আর যদি আমরা তাদের ব্যাপারে নীরবতা পালন করি, তবে আমরা তাদের চরম অজ্ঞতার ওপর ছেড়ে দেই। আল্লাহর কসম, যদি আল্লাহ আলেমদের নিকট থেকে তাঁদের ইলমের ব্যাপারে (তা প্রচার করার) অঙ্গীকার গ্রহণ না করতেন, তবে আমরা তাঁদের কখনো কোনো কিছু জানাতাম না।"
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ١٩)
11 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ أنا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ نا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسْمَاءَ، أَخْبَرَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " لَوْلَا آيَتَانِ فِي كِتَابِ اللَّهِ عز وجل مَا حَدَّثْتُكُمْ شَيْئًا، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ {إِنَّ الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى} [البقرة: 159] هَذِهِ الْآيَةَ وَالَّتِي تَلِيهَا ثُمَّ قَالَ: إِنَّ النَّاسَ يَقُولُونَ: أَكْثَرَ أَبُو هُرَيْرَةَ "، وَذَكَرَ الْحَدِيثَ
১১ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাসিম বিন আসবাগ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন জুহাইর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আসমা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জুওয়াইরিয়া বিন আসমা, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি জুহরি থেকে, তিনি আব্দুর রহমান আল-আ’রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: "মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর কিতাবে যদি দুটি আয়াত না থাকত, তবে আমি তোমাদের কাছে কিছুই বর্ণনা করতাম না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই যারা গোপন করে আমরা যা অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট প্রমাণ ও হিদায়াত থেকে} [বাকারা: ১৫৯]—এই আয়াত এবং এর পরবর্তী আয়াতটি। অতঃপর তিনি বলেন: নিশ্চয়ই লোকেরা বলে যে, আবু হুরায়রা অনেক বেশি (হাদিস) বর্ণনা করে।" এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
12 - حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ، نا خَالِدُ بْنُ سَعْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سِنْجَرٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ قَالَ: حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ ثنا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ قَالَ: كَتَبَ نَجْدَةُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنْ خَمْسِ خِلَالٍ، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: " إِنَّ النَّاسَ ⦗ص: 21⦘ يَقُولُونَ: إِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ يُكَاتِبُ الْحَرُورِيَّةَ وَلَوْلَا أَنِّي أَخَافُ أَنْ أَكْتُمَ عِلْمًا مَا كَتَبْتُ إِلَيْهِ «وَذَكَرَ الْحَدِيثَ» 13 - وَقَالَتِ الْحُكَمَاءُ: مَنْ كَتَمَ عِلْمًا فَكَأَنَّهُ جَاهِلُهُ، وَقَدْ جَمَعَ أَقْوَامٌ فِي مِثْلِ مَا سُئِلْنَا عَنْهُ وَذَكَرْنَاهُ فِي كِتَابِنَا هَذَا أَبْوَابًا لَوْ رَأَيْتُهَا كَافِيَةً دَلَّلْتُ عَلَيْهَا وَلَكِنِّي رَأَيْتُ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ جَمَعَ مَا حَضَرَهُ وَحَفِظَهُ وَمَا خَشِيَ التَّفَلُّتَ عَلَيْهِ وَأَحَبَّ أَنْ يَنْظُرَ الْمُسْتَرْشِدُ إِلَيْهِ وَلَوْ أَغْفَلَ الْعُلَمَاءُ جَمْعَ الْأَخْبَارِ وَتَمْيِيزَ الْآثَارِ وَتَرَكُوا ضَمَّ كُلِّ نَوْعٍ إِلَى بَابِهِ وَكُلِّ شَكْلٍ مِنَ الْعِلْمِ إِلَى شَكْلِهِ لَبَطَلَتِ الْحِكْمَةُ وَضَاعَ الْعِلْمُ وَدَرَسَ وَإِنْ كَانَ لَعَمْرِي قَدْ دَرَسَ مِنْهُ الْكَثِيرُ لِعَدَمِ الْعِنَايَةِ وَقِلَّةِ الرِّعَايَةِ وَالِاشْتِغَالِ بِالدُّنْيَا، وَالْكَلَبِ عَلَيْهَا، وَلَكِنَّ اللَّهَ عز وجل يُبْقِي لِهَذَا الْعِلْمِ قَوْمًا وَإِنْ قَلُّوا يَحْفَظُونَ عَلَى الْأُمَّةِ أُصُولَهُ وَيُمَيِّزُونَ فُرُوعَهُ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَنِعْمَةً، وَلَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا بَقِيَ الْأَوَّلُ حَتَّى يَتَعَلَّمَ مِنْهُ الْآخِرُ ، ⦗ص: 22⦘ 14 - فَإِنَّ ذَهَابَ الْعِلْمِ بِذَهَابِ الْعُلَمَاءِ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَسَتَرَى هَذَا الْمَعْنَى وَشِبْهَهُ فِي كِتَابِنَا هَذَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ فَالْحَوْلُ وَالْقُوَّةُ لِلَّهِ وَهُوَ حَسْبِي وَنِعْمَ الْوَكِيلُ "
১২ - কাসিম ইবন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবন সা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আহমদ ইবন আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মদ ইবন সিনজার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: খালিদ ইবন মাখলাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: সুলাইমান ইবন বিলাল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবন মুহাম্মদ তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইয়াজিদ ইবন হুরমুজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাজদাহ ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নিকট পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে পত্র লিখলেন। তখন ইবন আব্বাস বললেন: "লোকেরা ⦗পৃষ্ঠা: ২১⦘ বলছে যে, ইবন আব্বাস হারুরিয়াদের নিকট পত্র লিখছেন। যদি আমি জ্ঞান গোপন করার ভয় না করতাম, তবে আমি তাঁর নিকট লিখতাম না।" (এরপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন)। ১৩ - প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিগণ বলেছেন: যে ব্যক্তি জ্ঞান গোপন করল, সে যেন তা জানেই না। আমরা যা জিজ্ঞাসিত হয়েছি এবং আমাদের এই কিতাবে যা উল্লেখ করেছি, এই জাতীয় বিষয়ে অনেক সম্প্রদায় বিভিন্ন অধ্যায় সংকলন করেছেন। আমি যদি সেগুলোকে যথেষ্ট মনে করতাম তবে সেগুলোর দিকেই দিকনির্দেশনা দিতাম। কিন্তু আমি দেখেছি যে, তাদের প্রত্যেকেই যা তাঁর কাছে উপস্থিত ছিল, যা তিনি মুখস্থ রেখেছিলেন এবং যা হারিয়ে যাওয়ার ভয় করেছিলেন, তা-ই সংকলন করেছেন এবং চেয়েছেন যেন কোনো পথপ্রদর্শক তা প্রত্যক্ষ করে। আলেমগণ যদি সংবাদসমূহ সংগ্রহ করা ও আসার (বর্ণনা) সমূহ পৃথক করা থেকে বিমুখ হতেন এবং জ্ঞানের প্রতিটি প্রকারকে তার নির্দিষ্ট অধ্যায়ে ও প্রতিটি রূপকে তার সদৃশ বিষয়ের সাথে একত্রিত করা ছেড়ে দিতেন, তবে হিকমত বাতিল হয়ে যেত, ইলম ধ্বংস হয়ে যেত এবং বিলুপ্ত হয়ে যেত। যদিও আমার জীবনের শপথ, ইলমের এক বিরাট অংশ যত্নের অভাব, রক্ষণাবেক্ষণের স্বল্পতা এবং দুনিয়ার কাজে মগ্ন থাকা ও তার পেছনে হন্যে হয়ে ছুটে চলার কারণে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এই ইলমের জন্য এমন একদল লোক অবশিষ্ট রাখেন, যদিও তারা সংখ্যায় কম, যারা উম্মতের নিকট এর মূলনীতিসমূহ রক্ষা করেন এবং এর শাখা-প্রশাখাসমূহকে পৃথক করেন; যা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও নেয়ামত স্বরূপ। মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের ওপর থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ববর্তীরা অবশিষ্ট থাকবে, যাতে তাদের থেকে পরবর্তীরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। ⦗পৃষ্ঠা: ২২⦘ ১৪ - নিশ্চয়ই আলেমদের বিদায় নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম উঠে যাবে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। আপনি ইনশাআল্লাহ আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে আমাদের এই কিতাবে এই অর্থ ও এই জাতীয় বিষয়াবলী দেখতে পাবেন। কারণ যাবতীয় ক্ষমতা ও শক্তি একমাত্র আল্লাহরই, আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
بَابُ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» قَالَ أَبُو عُمَرَ: هَذَا حَدِيثٌ يُرْوَى عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ وُجُوهٍ كَثِيرَةٍ ، كُلَّهَا مَعْلُولَةٌ ، لَا حُجَّةَ فِي شَيْءٍ مِنْهَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ مِنْ جِهَةِ الْإِسْنَادِ
পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ»। আবু উমর বলেন: এই হাদিসটি আনাস ইবনে মালিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে অনেকগুলো মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে, যার সবকটিই ত্রুটিপূর্ণ; হাদিস বিশারদদের নিকট সনদের দিক থেকে এগুলোর কোনোটির মধ্যেই দলিল হওয়ার মতো কিছু নেই।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
15 - قَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْقَاسِمِ خَلَفِ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ سَهْلٍ الْحَافِظِ، أَنَّ أَحْمَدَ بْنَ صَالِحِ بْنِ عُمَرَ الْمَغْرِبِيَّ حَدَّثَهُمْ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ الْأَشْعَثِ، ح وَأنا خَلَفُ بْنُ الْقَاسِمِ، ثنا أَبُو صَالِحٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ صَالِحٍ بِمِصْرَ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ أَحْمَدَ السَّمَرْقَنْدِيُّ قَالَا جَمِيعًا: أنا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ التِّنِّيسِيُّ قَالَ: أنا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ قَرْمٍ الضَّبِّيُّ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» ⦗ص: 24⦘ 16 - وَحَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ قَالَ: حَدَّثَنَا مَسْلَمَةُ بْنُ الْقَاسِمِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ عَلَّانُ قَالَ: حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُسَافِرٍ التِّنِّيسِيُّ فَذَكَرَ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
১৫ - আমি হাফেজ আবুল কাসিম খালাফ ইবনে কাসিম ইবনে সাহলের নিকট পাঠ করেছি যে, আহমাদ ইবনে সালিহ ইবনে উমর আল-মাগরিবি তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে সুলাইমান ইবনুল আশআস। (হাদীসের সূত্র পরিবর্তন) এবং আমাকে খালাফ ইবনে কাসিম অবহিত করেছেন, মিসরে আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু সালিহ আহমাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সালিহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল জাব্বার ইবনে আহমাদ আস-সামারকান্দি। তারা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর ইবনে মুসাফির আত-তিন্নিসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া ইবনে হাসসান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে কারম আদ-দাব্বি, সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ» ⦗পৃষ্ঠা: ২৪⦘ ১৬ - এবং আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মাসলামা ইবনে কাসিম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আলী ইবনে হাসান আল্লান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন জাফর ইবনে মুসাফির আত-তিন্নিসি, অতঃপর তিনি তার সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
17 - وَأَخْبَرَنَا خَلَفُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: أنا أَبُو الْحُسَيْنِ عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَسَنِ الْكِلَابِيُّ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ الْكُوفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ الْفَلَّاسُ، ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ بَكْرٍ الْقُرَشِيُّ، ثنا حَسَّانُ بْنُ سِيَاهٍ، عَنْ ثَابِتٍ الْبُنانِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ، وَطَالِبُ الْعِلْمِ يَسْتَغْفِرُ لَهُ كُلُّ شَيْءٍ حَتَّى الْحِيتَانُ فِي الْبَحْرِ» ⦗ص: 26⦘ 18 - حَدَّثَ بِهِ ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ عَنْ كَيْلَجَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ ، ثنا حَسَّانُ بْنُ سِيَاهٍ ، عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» فَذَكَرَهُ بِإِسْنَادِهِ
১৭ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালাফ ইবনে জাফর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আল-হাসান আল-কিলাবি আদ-দিমাশকি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে ইসমাইল আল-কুফি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে হারুন আল-ফাল্লাস, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে বাকর আল-কুরাশি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসসান ইবনে সিয়াহ, সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ, এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য প্রতিটি বস্তু ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমনকি সমুদ্রের মাছ পর্যন্তও» ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ ১৮ - এটি বর্ণনা করেছেন ইবনুল আরাবি কাইলাজাহ থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হারমালাহ, ইবনে ওয়াহাব থেকে, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাসসান ইবনে সিয়াহ, সাবিত থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ» অতঃপর তিনি এটি তার সনদসহ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
19 - وَأَخْبَرَنَا خَلَفُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ الْحَسَنِ بِدِمَشْقَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ أَحْمَدُ بْنُ عُمَيْرِ بْنِ يُوسُفَ، ثنا أَبُو التَّقِيِّ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ، نا الْمُعَافَى بْنُ عِمْرَانَ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ قَالَ: حَدَّثَنِي حُسَامُ بْنُ مِصَكٍّ، عَنْ مُسْلِمٍ الْأَعْوَرِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
১৯ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালাফ বিন জাফর, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়াহহাব বিন আল-হাসান দামেস্কে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবুল হাসান আহমদ বিন উমাইর বিন ইউসুফ, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আল-তাকি হিশাম বিন আবদুল মালিক, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আল-মুয়াফা বিন ইমরান, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইসমাইল বিন আইয়াশ, তিনি বলেন: আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুসাম বিন মিসাক, মুসলিম আল-আওয়ার থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ (অবশ্যকর্তব্য)।’»
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
20 - وَقَرَأْتُ عَلَى أَبِي الْقَاسِمِ خَلَفِ بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ سَهْلٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدَ بْنَ الْعَبَّاسِ بْنِ وَصِيفٍ الْأَبْزَارِيَّ حَدَّثَهُ بِغَزَّةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، نا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ، ثنا طَرِيفُ بْنُ سُلَيْمَانَ أَبُو عَاتِكَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اطْلُبُوا الْعِلْمَ وَلَوْ بِالصِّينِ فَإِنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» ⦗ص: 29⦘ 21 - وَرَوَاهُ ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ ، عَنْ عَبَّاسِ الدُّورِيِّ وَالْحَسَنِ بْنِ عَلَّانِ قَالَا: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي عَاتِكَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مِثْلَهُ وَزَادَ: «إِنَّ الْمَلَائِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضًا بِمَا يَطْلَبُ»
২০ - এবং আমি আবুল কাসিম খালাফ ইবনে কাসিম ইবনে সাহল-এর নিকট পাঠ করেছি যে, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে ওয়াসিফ আল-আবজারি গাজ্জায় তাঁর নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে কুতাইবা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তারিফ ইবনে সুলাইমান আবু আতিকা আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা জ্ঞান অন্বেষণ করো, যদিও তা চীনে হয়; কারণ জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ (অবশ্য কর্তব্য)» ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘ ২১ - আর এটি ইবনুল আরাবি বর্ণনা করেছেন আব্বাস আদ-দুরি এবং হাসান ইবনে আল্লান থেকে, তাঁরা বলেন: হাসান ইবনে আতিয়্যাহ আমাদের নিকট আবু আতিকা থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করেন এবং আরও বর্ণনা করেন: «নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর জন্য তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়, সে যা অন্বেষণ করছে তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে»।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
22 - وَأَخْبَرَنَا يَعِيشُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ مُحَمَّدٍ أَبُو الْقَاسِمِ الْوَرَّاقُ قَالَ: حَدَّثَنَا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ التَّمْتَامُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَطِيَّةَ الْبَزَّازُ بِالْكُوفَةِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو عَاتِكَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «اطْلُبُوا الْعِلْمَ وَلَوْ بِالصِّينِ فَإِنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
২২ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়ায়িশ ইবনে সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ আবু আল-কাসেম আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাসেম ইবনে আসবাগ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে গালিব আত-তামতাম, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কুফায় হাসান ইবনে আতিয়্যাহ আল-বাজজাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আতিকাহ আমার নিকট আনাস ইবনে মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «তোমরা জ্ঞান অন্বেষণ করো যদিও তা চীনে হয়, কেননা জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ (অবশ্য কর্তব্য)»
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٣١)
23 - وَحَدَّثَنَا يَعِيشُ نا قَاسِمٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ التَّمْتَامُ قَالَ: أنا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ السُّكَّرِيُّ أَبُو أَحْمَدَ، ثنا زِيَادُ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ، وَاللَّهُ يُحِبُّ إِغَاثَةَ اللَّهْفَانِ»
২৩ - ইয়ায়িশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবন গালিব আত-তামতাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবন মুহাম্মদ আস-সুক্কারি আবু আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, যিয়াদ ইবন মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস ইবন মালিক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ, এবং আল্লাহ আর্তপীড়িতের সাহায্য করা পছন্দ করেন।»
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
24 - وَأَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ، نا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ قَالَ: نا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ قَالَ: نا خَلَفُ بْنُ الْوَلِيدِ قَالَ: حَدَّثَنَا سَلَّامٌ الطَّوِيلُ قَالَ: أنا زِيَادُ بْنُ مَيْمُونٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
24 - এবং আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান, তিনি বলেন: আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন কাসিম বিন আসবাগ, তিনি বলেন: আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন জুহাইর, তিনি বলেন: আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন খালাফ বিন আল-ওয়ালিদ, তিনি বলেন: আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন সাল্লাম আত-তাবীল, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যিয়াদ বিন মাইমুন, আনাস বিন মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ (অবশ্যকর্তব্য)»।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
25 - وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، نا مَسْلَمَةُ بْنُ الْقَاسِمِ، نا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ حَجَرٍ الْعَسْقَلَانِيِّ، ثنا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ أُبَيٍّ السَّرِيُّ الْعَسْقَلَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ قَالَ: ثنا عَبْدُ الْقُدُّوسِ الْوُحَاظِيُّ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: مَا سَمِعْتُ مِنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ إِلَّا حَدِيثًا وَاحِدًا سَمِعْتُهُ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» ⦗ص: 34⦘ 26 - وَرَوَاهُ ابْنُ الْأَعْرَابِيِّ ثنا عَبَّاسٌ نا رَوَّادُ بْنُ الْجَرَّاحِ نا عَبْدُ الْقُدُّوسِ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ مِثْلَهُ سَوَاءً
২৫ - এবং আহমদ বিন আবদুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মাসলামাহ বিন আল-কাসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইয়াকুব বিন ইসহাক যিনি ইবনে হাজার আল-আসকালানি নামে পরিচিত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল জাব্বার বিন উবাই আস-সারী আল-আসকালানি আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: রাওয়াদ বিন আল-জাররাহ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন: আবদুল কুদ্দুস আল-উহাজি হাম্মাদ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আনাস বিন মালিক থেকে কেবল একটি হাদিস ছাড়া আর কিছু শুনিনি, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ» ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘ ২৬ - এবং ইবনুল আরাবি এটি বর্ণনা করেছেন, আব্বাস আমাদের বলেছেন, রাওয়াদ বিন আল-জাররাহ আমাদের বলেছেন, আবদুল কুদ্দুস হাম্মাদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে অবিকল অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
27 - وَذَكَرَ أَبُو عَرُوبَةَ الْحُسَيْنُ بْنُ أَبِي مَعْشَرٍ الْحَرَّانِيُّ، ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ سَلَمَةَ الْخَبَائِرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ، نا الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» وَهَذَا الْحَدِيثُ لَمْ يَرْوِهِ عَنْ بَقِيَّةَ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ إِلَّا الْخَبَائِرِيُّ وَهُوَ سُلَيْمَانُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْخَبَائِرِيُّ الْحِمْصِيُّ ابْنُ أَخِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْخَبَائِرِيُّ وَلَيْسَ سُلَيْمَانُ هَذَا عِنْدَهُمْ بِالْقَوِيِّ وَأَكْثَرُ الرُّوَاةِ عَنْ بَقِيَّةَ يَرْوُونَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ بَقِيَّةَ، عَنْ حَفْصِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ شِنْظِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسٍ، وَيَرْوُونَهُ عَنْ بَقِيَّةَ أَيْضًا، عَنْ أَبِي عَبْدِ السَّلَامِ الْوُحَاظِيِّ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ وَلَا يُعْرَفُ مِنْ حَدِيثِ الْأَوْزَاعِيِّ إِلَّا مِنْ رِوَايَةِ سُلَيْمَانَ بْنِ سَلَمَةَ الْخَبَائِرِيِّ، عَنْ بَقِيَّةَ بْنِ الْوَلِيدِ، عَلَى أَنَّ سُلَيْمَانَ الْخَبَائِرِيَّ قَدْ جَمَعَ هَذِهِ الْأَسَانِيدَ كُلَّهَا فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنْ بَقِيَّةَ "
২৭ - এবং আবু আরুবাহ আল-হুসাইন বিন আবি মাশার আল-হাররানি উল্লেখ করেছেন, আমাদের নিকট সুলাইমান বিন সালামাহ আল-খাবাইরি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-আওজায়ি বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ।" আর এই হাদিসটি বাকিয়্যাহ-র সূত্রে আল-আওজায়ি থেকে একমাত্র আল-খাবাইরি ব্যতীত আর কেউ বর্ণনা করেননি; তিনি হলেন সুলাইমান বিন সালামাহ বিন আবদিল জাব্বার আল-খাবাইরি আল-হিমসি, যিনি আবদুল্লাহ বিন আবদিল জাব্বার আল-খাবাইরির ভ্রাতুষ্পুত্র। আর এই সুলাইমান তাঁদের (মুহাদ্দিসগণের) নিকট শক্তিশালী (বর্ণনাকারী) নন। বাকিয়্যাহ থেকে অধিকাংশ বর্ণনাকারী এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ থেকে, তিনি হাফস বিন সুলাইমান থেকে, তিনি কাসির বিন শিনজির থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন সিরিন থেকে, আর তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। তাঁরা এটি বাকিয়্যাহ থেকে আরও বর্ণনা করেন আবু আবদিস সালাম আল-উহাজি থেকে, তিনি ইসহাক বিন আবদুল্লাহ বিন আবি তালহা থেকে, আর তিনি আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। আল-আওজায়ির হাদিস হিসেবে এটি সুলাইমান বিন সালামাহ আল-খাবাইরির বর্ণনা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে পরিচিত নয়, যিনি এটি বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন; যদিও সুলাইমান আল-খাবাইরি বাকিয়্যাহ থেকে এই হাদিসের বর্ণনায় এই সকল সনদগুলো একত্রে একত্রিত করেছেন।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
28 - وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقَاضِي بِالْقُلْزُمِ إِمْلَاءً، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ أَيُّوبَ بْنِ أَبِي يَحْيَى الْقُلْزُمِيُّ، ثنا عِمْرَانُ بْنُ هَارُونَ قَالَ: أنا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ نا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ الْخِرِّيتِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
২৮ - এবং আবু আব্দুল্লাহ উবাইদ বিন মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কুলজুমের বিচারক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ শ্রুতলিপি প্রদানের মাধ্যমে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আইয়ুব বিন আবি ইয়াহইয়া আল-কুলজুমি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমরান বিন হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, জারীর বিন হাজিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুবাইর বিন আল-খিররীত থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর আবশ্যক»
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
29 - وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ نا مَسْلَمَةُ، نا يَعْقُوبُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ الْعَسْقَلَانِيُّ، ثنا يُوسُفُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْفِرْيَابِيُّ بِبَيْتِ الْمَقْدِسِ ثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اطْلُبُوا الْعِلْمَ وَلَوْ بِالصِّينِ فَإِنَّ طَلَبَ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
২৯ - এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমদ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মাসলামাহ, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আল-আসকালানি, তিনি বলেন বাইতুল মাকদিসে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফিরইয়াবি, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা জ্ঞান অন্বেষণ করো, এমনকি তা চীনে হলেও; কারণ নিশ্চয়ই জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ (অবশ্য কর্তব্য)»।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٣٨)
30 - حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الْقَاسِمِ أنا الْحَسَنُ بْنُ رَشِيقٍ، نا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ يُونُسَ، ثنا جَعْفَرُ بْنُ حُمَيْدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ شِنْظِيرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ»
৩০ - খালাফ ইবনুল কাসিম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-হাসান ইবনু রাশিক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম ইবনু ইউনুস আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, জা’ফর ইবনু হুমাইদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাফস ইবনু সুলাইমান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন কাসীর ইবনু শিনজীর হতে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন হতে, তিনি আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ।»
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٥٢)
31 - وَأَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ وَعُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَا: نا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ سَلَمَةَ بْنِ سَلْمُونَ، ثنا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْجَارُودِ، ثنا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ الْكَوْسَجُ قَالَ: سَمِعْتُ إِسْحَاقَ بْنَ رَاهَوَيْهِ يَقُولُ: " طَلَبُ الْعِلْمِ وَاجِبٌ وَلَمْ يَصِحَّ فِيهِ الْخَبَرُ إِلَّا أَنَّ مَعْنَاهُ أَنْ يَلْزَمَهُ طَلَبُ عِلْمِ مَا يَحْتَاجُ إِلَيْهِ مِنْ وُضُوئِهِ وَصَلَاتِهِ وَزَكَاتِهِ إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ وَكَذَلِكَ الْحَجُّ وَغَيْرُهُ، قَالَ: وَمَا وَجَبَ عَلَيْهِ مِنْ ذَلِكَ لَمْ يَسْتَأْذِنْ أَبَوَيْهِ فِي الْخُرُوجِ إِلَيْهِ وَمَا كَانَ مِنْهُ فَضِيلَةً لَمْ يَخْرُجْ إِلَى طَلَبِهِ حَتَّى يَسْتَأْذِنَ أَبَوَيْهِ ⦗ص: 53⦘ قَالَ أَبُو عُمَرَ: «يُرِيدُ إِسْحَاقُ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ، أَنَّ الْحَدِيثَ فِي وُجُوبُ طَلَبُ الْعِلْمُ فِي أَسَانِيدِهِ مَقَالٌ لِأَهْلِ الْعِلْمِ بِالنَّقْلِ وَلَكِنَّ مَعْنَاهُ صَحِيحٌ عِنْدَهُمْ وَإِنْ كَانُوا قَدِ اخْتَلَفُوا فِيهِ اخْتِلَافًا مُتَقَارِبًا عَلَى مَا نَذْكُرُهُ هَا هُنَا إِنْ شَاءَ اللَّهُ»
৩১ - আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ এবং উবাইদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ, তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু আলী আল-হাসান বিন সালামাহ বিন সালমুন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন আল-জারুদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন মানসুর আল-কাওসাজ, তিনি বলেন: আমি ইসহাক বিন রাহওয়াইহ-কে বলতে শুনেছি: "জ্ঞান অন্বেষণ করা আবশ্যক (ফরয), তবে এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসটি (সূত্রের দিক থেকে) বিশুদ্ধ নয়। তবে এর মর্মার্থ হলো—ব্যক্তির জন্য ঐসব বিষয়ের জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক যা তার ওযু, নামায এবং যাকাত (যদি তার সম্পদ থাকে) আদায়ের জন্য প্রয়োজন হয়। একইভাবে হজ ও অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই বিধান।" তিনি বলেন: "আর এসব বিষয়ের মধ্যে যা তার ওপর ফরয, তা অর্জনের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার জন্য সে তার পিতামাতার অনুমতি প্রার্থনা করবে না। কিন্তু যা অতিরিক্ত ফযীলতের বিষয়, সেটির জ্ঞান অর্জনের জন্য পিতামাতার অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত বের হবে না।" ⦗পৃষ্ঠা: ৫৩⦘ আবু উমর বলেন: "ইসহাক এর দ্বারা বুঝিয়েছেন—আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন—জ্ঞান অন্বেষণ ফরয হওয়া সংক্রান্ত হাদীসটির সনদসমূহের ব্যাপারে হাদীস বিশারদদের নিকট আপত্তি রয়েছে, কিন্তু তাঁদের নিকট এর মর্মার্থ সঠিক; যদিও তাঁরা এই বিষয়ে কাছাকাছি ধরনের কিছু মতভেদ করেছেন, যা আমরা ইনশাআল্লাহ এখানে উল্লেখ করব।"
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
32 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَسَدٍ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ جَامِعٍ بِمِصْرَ نا الْمِقْدَامُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ تَلِيدٍ، نا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ قَالَ: سُئِلَ مَالِكٌ عَنْ طَلَبِ الْعِلْمِ أَهُوَ فَرِيضَةٌ عَلَى النَّاسِ؟ فَقَالَ: «لَا، وَاللَّهِ وَلَكِنْ يَطْلُبُ مِنْهُ الْمَرْءُ مَا يَنْتَفِعُ بِهِ فِي دِينِهِ»
৩২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আসাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আহমাদ বিন ইবরাহীম বিন জামি‘ মিসরে, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মিকদাম বিন দাউদ বিন তালীদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম, ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইমাম মালিককে জ্ঞান অর্জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তা কি মানুষের ওপর ফরজ? তিনি বললেন: «না, আল্লাহর কসম; বরং মানুষ তা থেকে ততটুকু অন্বেষণ করবে যা তার দ্বীনের ক্ষেত্রে উপকারে আসে»
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٥٣)
33 - وَرُوِّينَا عَنِ الْحَسَنِ بْنِ الرَّبِيعِ قَالَ: سَأَلْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ عَنْ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» قَالَ: لَيْسَ هُوَ الَّذِي يَطْلُبُونَهُ وَلَكِنْ فَرِيضَةٌ عَلَى مَنْ وَقَعَ فِي شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ دِينِهِ أَنْ يَسْأَلَ عَنْهُ حَتَّى يَعْلَمَهُ "
৩৩ - এবং আমরা হাসান ইবনুর রবী' থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: "জ্ঞান অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ।" তিনি বললেন: এটি তা নয় যা তারা অন্বেষণ করে, বরং এটি তার উপর ফরজ যে তার দ্বীনি বিষয়ের কোনো কিছুর সম্মুখীন হয়েছে, যেন সে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যতক্ষণ না সে তা জানতে পারে।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
34 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، نا قَاسِمٌ، نا ابْنُ وَضَّاحٍ، نا مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْحَضْرَمِيُّ قَالَ: سُئِلَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنِ الْحَدِيثِ الَّذِي يُذْكَرُ فِيهِ «طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ» فَقَالَ: مَا أَحْسَنَ طَلَبَ الْعِلْمِ وَلَكِنْ فَرِيضَةً فَلَا "
৩৪ - আমাদের নিকট আব্দুল ওয়ারিস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট কাসিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে ওয়াদদাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মাদ বিন মুয়াবিয়া আল-হাদরামি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মালিক ইবনে আনাসকে সেই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাতে উল্লেখ আছে যে, 'ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ', আর আমি তা শুনছিলাম। তখন তিনি বললেন: ইলম অন্বেষণ করা কতই না উত্তম! তবে এটি ফরজ নয়।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٥٤)
35 - وَذَكَرَ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ الْمَاجِشُونِ قَالَ: سَمِعْتُ مَالِكًا، وَسُئِلَ عَنْ طَلَبِ الْعِلْمِ أَوَاجِبٌ؟ فَقَالَ: «أَمَّا مَعْرِفَةُ شَرَائِعِهِ وَسُنَنِهِ وَفِقْهِهِ الظَّاهِرِ فَوَاجِبٌ، وَغَيْرُ ذَلِكَ مِنْهُ لِمَنْ ضَعُفَ عَنْهُ فَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ» هَكَذَا ذَكَرَ ابْنُ حَبِيبٍ وَلَا يُشْبِهُ هَذَا لَفْظُ مَالِكٍ وَلَا مَعْنَى قَوْلِهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ "
৩৫ - আবদুল মালিক ইবনে হাবিব বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আবদুল মালিক ইবনুল মাজিশুনকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আমি মালিককে বলতে শুনেছি—তাঁকে ইলম বা জ্ঞান অর্জন করা ওয়াজিব কি না সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন: “এর শরয়ি বিধানাবলি, সুন্নতসমূহ এবং এর প্রকাশ্য ফিকহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা ওয়াজিব। আর এছাড়া ইলমের অন্য বিষয়গুলো সম্পর্কে কারো অক্ষমতা থাকলে তার ওপর কোনো দায় নেই।” ইবনে হাবিব এভাবেই উল্লেখ করেছেন; তবে এটি ইমাম মালিকের শব্দাবলির অনুরূপ নয় এবং তাঁর বক্তব্যের মর্মের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ١)
জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি
(পৃষ্ঠা: ٥٥)
36 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سُفْيَانَ ثنا قَاسِمُ بْنُ أَصْبَغَ، نا أَحْمَدُ بْنُ زُهَيْرٍ نا أَبُو الْفَتْحِ نَصْرُ بْنُ الْمُغِيرَةِ، قَالَ قَالَ سُفْيَانُ يَعْنِي ابْنَ عُيَيْنَةَ: «طَلَبُ الْعِلْمِ وَالْجِهَادِ فَرِيضَةٌ عَلَى جَمَاعَتِهِمْ وَيُجْزِئُ فِيهِ بَعْضُهُمْ عَنْ بَعْضٍ» وَقَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ {فَلَوْلَا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلْيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ} [التوبة: 122]
৩৬ - আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, কাসিম ইবনে আসবাগ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে জুহাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবুল ফাতহ নাসর ইবনুল মুগীরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সুফিয়ান অর্থাৎ ইবনে উয়াইনা বলেছেন: "ইলম অন্বেষণ এবং জিহাদ করা তাদের সমষ্টির ওপর একটি আবশ্যিক কর্তব্য; এতে তাদের একাংশ অপরাংশের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়।" এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {অতঃপর তাদের প্রত্যেকটি দল থেকে কেন একটি অংশ বের হয় না, যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের সম্প্রদায়ের নিকট যখন তারা ফিরে আসবে তখন যেন তাদের সতর্ক করতে পারে?} [আত-তাওবাহ: ১২২]