(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: -)
النكت شرح زيادات الزيادات للسرخسي - وشرح العتابي القسم: الفقه الحنفي
الكتاب: النكت
المؤلف: شمس الأئمة السرخسي (ت 490 هـ)
وهو شرح لـ: «زيادات الزيادات» لمحمد بن الحسن الشيباني
ويليه بذيل الصفحات: «شرح زيادات الزيادات» أيضا، لأبي نصر، أحمد بن محمد العتابي البخاري (ت 586 هـ)
عُني بتحقيق أصولهما: أبو الوفا الأفغاني [ت 1395 هـ]
الناشر: عالم الكتب - بيروت
الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 180
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আন-নুকাাত শারহু জিয়াদাতিল জিয়াদাত লিস-সারখাসি - ওয়া শারহুল ইতাবী বিভাগ: হানাফী ফিকহ
কিতাব: আন-নুকাাত
লেখক: শামসুল আইম্মাহ আস-সারখাসি (মৃত্যু ৪৯০ হিজরি)
এটি একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ: মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী রচিত «জিয়াদাত আল-জিয়াদাত»-এর
এবং এর সাথে পৃষ্ঠার পাদদেশে রয়েছে: আবু নাসর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ইতাবী আল-বুখারী (মৃত্যু ৫৮৬ হিজরি) রচিত «শারহু জিয়াদাত আল-জিয়াদাত» ও,
এগুলোর মূল পাঠ্য সম্পাদনা করেছেন: আবুল ওয়াফা আল-আফগানী [মৃত্যু ১৩৯৫ হিজরি]
প্রকাশক: আলমুল কুতুব - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮০
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
بَاب طَلَاق السّنة الَّذِي بِالْوكَالَةِ وبالجعل وَغَيرهقَالَ الشَّيْخ الإِمَام الْأَجَل الزَّاهِد شمس الْأَئِمَّة أَبُو بكر مُحَمَّد بن
ــ
[الشرح] بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
الْحَمد لله حق حَمده وَالصَّلَاة على رَسُوله مُحَمَّد عَبده وَخير وفده
بَاب من طَلَاق السّنة بالجعل وَغَيرهبناه على أَن الْوَكِيل بالتنجيز لَا يملك التَّعْلِيق لِأَنَّهُمَا ضدان والتطليق
ওকালত, বিনিময় এবং অন্যান্যের মাধ্যমে সুন্নাহ সম্মত তালাকের অধ্যায়মহান ইমাম, বরেণ্য আলেম, যাহেদ, শামসুল আইম্মাহ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে
—
[ব্যাখ্যা]পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা তাঁর প্রাপ্য প্রশংসা; এবং দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর রাসুল মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি তাঁর বান্দা ও তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি।
বিনিময় ও অন্যান্যের মাধ্যমে সুন্নাহ সম্মত তালাকের অধ্যায়তিনি এটি এই ভিত্তির ওপর গড়েছেন যে, তাৎক্ষণিক তালাক কার্যকর করার উকিল (প্রতিনিধি) তালাককে শর্তযুক্ত করার অধিকার রাখেন না; কারণ এই দুটি একে অপরের বিপরীত, এবং তালাক প্রদান করা...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২০)
أبي سهل السَّرخسِيّ رحمه الله املاء ابتدأت املآء نكت زيادات الزِّيَادَات بِالْحَمْد لله ولي الْحَمد ومستحقه ثمَّ بِالصَّلَاةِ على خير مَوْلُود دَعَا إِلَى خير معبود ثمَّ بالإقتداء بالسلف رحمهم الله فِي الِاكْتِفَاء بِذكر المؤثرات من النكات مَعَ ترك التَّطْوِيل بِكَثْرَة الْعبارَة كَمَا هُوَ طَريقَة الماضين من عُلَمَاء الدّين رحمهم الله فَنَقُول بَدَأَ مُحَمَّد رحمه الله هَذَا الْبَاب بِمَا بَدَأَ بِهِ كتاب الطَّلَاق من بَيَان طَلَاق السّنة فِي حق الْمَدْخُول بهَا فَقَالَ (طَلَاق سنتها أَن يطلقهَا تَطْلِيقَة إِذا طهرت من حَيْضهَا قبل أَن يُجَامِعهَا) لقَوْل رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لِابْنِ عمر رَضِي
ــ
[الشرح] بِالسنةِ فِي وَقت السّنة تَنْجِيز وَفِي غير وقته تَعْلِيق فَأَما الزَّوْج يملكهُ تنجيزا وتعليقا لِأَنَّهُ يتَصَرَّف فِي ملكه وَأَن الْوَكِيل مَتى عجز عَن الْإِتْيَان بالمأمور بِهِ يَنْعَزِل حكما قَالَ مُحَمَّد رضي الله عنه إِذا قَالَ لرجل طلق امْرَأَتي تطليقا للسّنة فَقَالَ لَهَا الْوَكِيل أَنْت طَالِق للسّنة فَإِن كَانَ فِي طهر خَال عَن الطَّلَاق
আবু সাহল আস-সারাকসী (রহিমাহুল্লাহ)-এর শ্রুতিলিখন। আমি প্রশংসা ও স্তুতির মালিক এবং একমাত্র যোগ্য সত্তা আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে ‘নুকাতে যিয়াদাতিল যিয়াদাত’-এর শ্রুতিলিখন শুরু করছি; অতঃপর সর্বোত্তম সৃষ্টির ওপর সালাত পাঠের মাধ্যমে, যিনি সর্বোত্তম মাবুদের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন; অতঃপর সালাফগণের (রহিমাহুমুল্লাহ) অনুসরণে—অতিরিক্ত বাক্যব্যয়ের মাধ্যমে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে শুধুমাত্র সারগর্ভ সূক্ষ্ম আলোচনা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে—যেমনটি দ্বীনের বিগত আলিমগণের (রহিমাহুমুল্লাহ) পদ্ধতি ছিল। সুতরাং আমরা বলছি: ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুল্লাহ) এই অধ্যায়টি সেই বিষয় দ্বারা শুরু করেছেন যা দিয়ে তিনি ‘কিতাবুত তালাক’ শুরু করেছিলেন, অর্থাৎ যার সাথে সহবাস সম্পন্ন হয়েছে এমন মহিলার ক্ষেত্রে ‘তালাক-এ সুন্নাহ’-এর বর্ণনা। তিনি বলেছেন, (তার জন্য সুন্নাহসম্মত তালাক হলো তাকে এক তালাক প্রদান করা যখন সে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হবে এবং তার সাথে সহবাস করার পূর্বে); কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন
—
[ব্যাখ্যা] সুন্নাহসম্মত সময়ে সুন্নাহ অনুযায়ী তালাক দেওয়া হলো তাৎক্ষণিক কার্যকর করা (তানজিয), আর এর বাইরে অন্য সময়ে প্রদান করা হলো স্থগিত রাখা (তালিক)। স্বামী তাৎক্ষণিক কার্যকর এবং স্থগিত—উভয় প্রকার তালাকেরই মালিকানা রাখেন, কারণ তিনি তার নিজ মালিকানাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। আর প্রতিনিধি (ওয়াকিল) যখন আদিষ্ট বিষয় পালনে অক্ষম হন, তখন বিধানগতভাবে তিনি বরখাস্ত হয়ে যান। ইমাম মুহাম্মদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: যদি কেউ কোনো ব্যক্তিকে বলে, ‘আমার স্ত্রীকে সুন্নাহ তরিকায় তালাক দাও’, অতঃপর সেই প্রতিনিধি তাকে বলে, ‘তুমি সুন্নাহ অনুযায়ী তালাকপ্রাপ্তা’, এমতাবস্থায় স্ত্রী যদি তালাক-মুক্ত পবিত্র অবস্থায় থাকে।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الله عَنْهُمَا إِنَّمَا السّنة أَن تسْتَقْبل الطُّهْر اسْتِقْبَالًا فَتُطَلِّقهَا لكل قرء تَطْلِيقَة فَتلك الْعدة الَّتِي أَمر الله تَعَالَى أَن تطلق لَهَا النِّسَاء وَهُوَ إِشَارَة إِلَى قَوْله تَعَالَى {فطلقوهن لعدتهن} وَلِأَن الطَّلَاق مُبَاح مبغض شرعا قَالَ عليه الصلاة والسلام إِن أبْغض الْمُبَاحَات إِلَى الله عز وجل الطَّلَاق وَإِبَاحَة الْإِيقَاع للْحَاجة إِلَيْهِ عِنْد عدم مُوَافقَة الْأَخْلَاق فَكَانَ مُخْتَصًّا بِزَمَان توفر الدَّوَاعِي إِلَيْهَا وَذَلِكَ طهر لما يُجَامِعهَا فِيهِ لِأَنَّهُ زمَان رغبته فِيهَا طبعا وتمكنه من غشيانها شرعا فَلَا يخْتَار فراقها على صحبتهَا فِي هَذَا
ــ
[الشرح] وَالْجِمَاع عقيب حيض خَال عَن الطَّلَاق وَالْجِمَاع يَقع لِأَنَّهُ وَقت السّنة فَيكون تنجيزا وَإِن كَانَ فِي الْحيض أَو فِي طهر جَامعهَا أَو طَلقهَا الزَّوْج فِيهِ لم يَقع بِهِ شَيْء أبدا لِأَنَّهُ تَعْلِيق وَلم يَأْمُرهُ بِهِ أَلا ترى أَنه لَو قَالَ طلق امراتي إِذا حَاضَت وطهرت فَقَالَ إِذا حِضْت وطهرت فَأَنت طَالِق فَحَاضَت وطهرت لَا يَقع شَيْء أَو قَالَ طلق امْرَأَتي غَدا فَقَالَ أَنْت طَالِق غَدا فجَاء غَد لَا يَقع شَيْء لِأَنَّهُ مَأْمُور بالتنجيز لَا بِالْإِضَافَة وَالتَّعْلِيق وَلَو قَالَ لَهُ طلق امْرَأَتي ثَلَاثًا للسّنة فَقَالَ لَهَا فِي الطُّهْر أَنْت طَالِق ثَلَاثًا للسّنة تقع وَاحِدَة لِأَن هَذَا الْكَلَام فِي حق الْوَاحِدَة تَنْجِيز وَفِي حق الثَّانِيَة وَالثَّالِثَة تَعْلِيق بِخِلَاف قَوْله طَلقهَا وَاحِدَة فَطلقهَا ثَلَاثًا حَيْثُ لَا يَقع شَيْء عِنْد أبي حنيفَة رضي الله عنه لِأَنَّهُ تَنْجِيز فِي حق الثَّلَاث وَلِأَن الِاعْتِبَار فِي التَّوْكِيل هُوَ الْمُوَافقَة من حَيْثُ
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। সুন্নত হলো পবিত্রাবস্থার জন্য অপেক্ষা করা এবং প্রত্যেক পবিত্রাবস্থায় একটি করে তালাক প্রদান করা। এটিই হলো সেই ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে আল্লাহ তাআলা নারীদের তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত: "তোমরা তাদেরকে তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দাও।" এবং তালাক যেহেতু শরিয়ত অনুসারে একটি বৈধ অথচ অপছন্দনীয় বিষয়, তাই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ মহীয়ান ও গরীয়ানের নিকট বৈধ কাজসমূহের মধ্যে সর্বাধিক ঘৃণিত হলো তালাক।" আর চরিত্রের মিল না হওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের তাগিদে তালাক প্রদান বৈধ করা হয়েছে। তাই এটি সেই সময়ের সাথে নির্দিষ্ট যখন এর প্রয়োজনীয়তা প্রবল হয়। আর সেটি হলো এমন পবিত্রাবস্থা যেখানে স্বামী স্ত্রীর সাথে সহবাস করেনি। কারণ এটি হলো স্ত্রীর প্রতি তার স্বভাবজাত আগ্রহ এবং শরিয়তসম্মতভাবে তার সাথে মিলিত হওয়ার সক্ষমতার সময়। সুতরাং স্বামী এই অবস্থায় সাহচর্যের বিপরীতে বিচ্ছেদকে বেছে নেবে না।
—
[ব্যাখ্যা] ঋতুস্রাবের অব্যবহিত পরবর্তী পবিত্রাবস্থায় যেখানে তালাক ও সহবাস ঘটেনি, সেখানে তালাক কার্যকর হবে। কারণ এটি সুন্নতের সময়, তাই এটি তাৎক্ষণিক কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি ঋতুস্রাব অবস্থায় হয় কিংবা এমন পবিত্রাবস্থায় হয় যাতে স্বামী সহবাস করেছে অথবা তালাক দিয়েছে, তবে তাতে কখনোই কিছু কার্যকর হবে না। কারণ এটি তালাককে শর্তযুক্ত করা, অথচ তাকে এর নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আপনি কি দেখেন না যে, যদি কেউ বলে "আমার স্ত্রীকে তালাক দাও যখন সে ঋতুবতী হবে ও পবিত্র হবে", অতঃপর সে প্রতিনিধি বলল "যখন তুমি ঋতুবতী হবে ও পবিত্র হবে তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তারপর সে ঋতুবতী হলো ও পবিত্র হলো, তবে কিছুই কার্যকর হবে না। অথবা যদি বলে "আগামীকাল আমার স্ত্রীকে তালাক দাও", আর সে বলল "আগামীকাল তুমি তালাকপ্রাপ্তা", অতঃপর আগামীকাল আসলেও কিছুই কার্যকর হবে না। কারণ তাকে তাৎক্ষণিক তালাক প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতের দিকে সম্বন্ধ করা বা শর্তযুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আর যদি সে তাকে বলে "আমার স্ত্রীকে সুন্নাহ অনুযায়ী তিন তালাক দাও", অতঃপর সে পবিত্রাবস্থায় তাকে বলল "সুন্নাহ অনুযায়ী তোমার ওপর তিন তালাক", তবে একটি তালাক পতিত হবে। কারণ এই বাক্যটি একটির ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রয়োগ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত করা। এটি "তাকে একটি তালাক দাও" বলার পর তার তিন তালাক দেওয়ার বিপরীত; যেখানে ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মতে কিছুই কার্যকর হবে না। কারণ এটি তিন তালাকের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক প্রয়োগ, আর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হলো নির্দেশের সাথে সংগতি রক্ষা করা...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২২)
الزَّمَان إِلَّا لعدم مُوَافقَة الْأَخْلَاق (فَإِن قَالَ لغيره طَلقهَا تَطْلِيقَة للسّنة فَقَالَ لَهَا أَنْت طَالِق للسّنة فَإِن كَانَ فِي طهر لم يُجَامِعهَا فِيهِ طلقت) لِأَن إِيقَاع الْوَكِيل كإيقاع المؤكل وَإِن كَانَت حَائِضًا أَو فِي طهر قد جَامعهَا فِيهِ لم يَقع عَلَيْهَا شَيْء فِي الْحَال وَلَا إِذا جَاءَ وَقت السّنة بِخِلَاف الْمُوكل إِذا قَالَ ذَلِك بِنَفسِهِ لِأَن تصرف الْمُوكل بِحكم الْملك وَهُوَ يملك التَّنْجِيز وَالتَّعْلِيق وَالْإِضَافَة بِحكم الْملك فَإِن صَادف كَلَامه زمَان الطُّهْر كَانَ تنجيزا وَإِلَّا كَانَ إِضَافَة إِلَى وَقت السّنة فَأَما الْوَكِيل نَائِب يتَصَرَّف بِالْأَمر وَالْأَمر يتَقَيَّد بالتقييد فَإِذا كَانَ مَأْمُورا بالتنجيز تلغو مِنْهُ
ــ
[الشرح] اللَّفْظ أَلا ترى أَنه لَو قَالَ لَهُ طلق امْرَأَتي نصف تَطْلِيقَة فَطلقهَا تَطْلِيقَة لَا تقع وَإِن كَانَا فِي الحكم سَوَاء وَكَذَلِكَ لَو قَالَ طَلقهَا ألفا فَطلقهَا ثَلَاثًا لَا يَقع وَإِن كَانَا فِي الحكم سَوَاء وَإِن طلق فِي كل طهر خَال عَن الطَّلَاق وَالْجِمَاع وَاحِدَة تقع لِأَن تطليق الثَّلَاث بِالسنةِ تنجيزا لَا يكون إِلَّا هَكَذَا وَلَو قَالَ الزَّوْج لامْرَأَته أَنْت طَالِق ثَلَاثًا للسّنة بِأَلف دِرْهَم فَقبلت فَإِن كَانَت طَاهِرَة من غير جماع وَطَلَاق تقع وَاحِدَة بِثلث الْألف وَبَانَتْ لِأَنَّهُ قَابل الْألف بِالثلَاثِ فيقابل كل وَاحِدَة بِثلث الْألف وَالزَّوْج رَضِي بِهِ حَيْثُ يعلم أَن الطُّهْر الْوَاحِد لَا
সময়, তবে চরিত্রের অমিলের কারণে ব্যতীত। (যদি সে অন্য কাউকে বলে: তাকে সুন্নাহ মোতাবেক এক তালাক দাও, আর সে তাকে বলে: তুমি সুন্নাহ মোতাবেক তালাকপ্রাপ্তা; তবে সে যদি এমন পবিত্র অবস্থায় (তুহর) থাকে যাতে সে তার সাথে সহবাস করেনি, তবে তালাক কার্যকর হবে।) কারণ প্রতিনিধির (ওয়াকিল) তালাক প্রদান মূল আদিষ্ট ব্যক্তির (মুওয়াক্কিল) তালাক প্রদানের মতোই। আর যদি সে ঋতুবতী হয় অথবা এমন পবিত্র অবস্থায় থাকে যাতে সে তার সাথে সহবাস করেছে, তবে তৎক্ষণাৎ তার ওপর কোনো তালাক পতিত হবে না এবং সুন্নাহর সময় এলেও হবে না; যা মূল আদিষ্ট ব্যক্তির (মুওয়াক্কিল) বিপরীত যখন সে নিজেই তা বলে। কারণ মুওয়াক্কিলের পদক্ষেপ মালিকানা স্বত্বের হুকুমে হয়ে থাকে এবং সে মালিকানা স্বত্বের কারণে তালাক তাৎক্ষণিক কার্যকর করা (তাঞ্জিজ), ঝুলিয়ে রাখা (তালিক) এবং ভবিষ্যতের সময়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার (ইদাফাত) ইখতিয়ার রাখে। সুতরাং তার বক্তব্য যদি পবিত্রতার (তুহর) সময়ের সাথে মিলে যায় তবে তা তাৎক্ষণিক কার্যকর হবে, অন্যথায় তা সুন্নাহর সময়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবে। কিন্তু প্রতিনিধি (ওয়াকিল) হলো একজন স্থলাভিষিক্ত যে আদেশের ভিত্তিতে কাজ করে এবং আদেশ শর্তের দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। সুতরাং তাকে যদি তাৎক্ষণিক তালাকের আদেশ দেওয়া হয়, তবে তার পক্ষ থেকে শব্দগুলো নিরর্থক হয়ে যাবে
—
[ব্যাখ্যা] শব্দ। আপনি কি দেখছেন না যে, যদি সে তাকে বলে: আমার স্ত্রীকে অর্ধেক তালাক দাও, আর সে তাকে এক তালাক দেয়, তবে তা কার্যকর হবে না, যদিও বিধানের দিক থেকে উভয়টি সমান। অনুরূপভাবে যদি সে বলে: তাকে এক হাজার তালাক দাও, আর সে তাকে তিন তালাক দেয়, তবে তা কার্যকর হবে না যদিও বিধানের দিক থেকে উভয়টি সমান। আর যদি তালাক ও সহবাস মুক্ত প্রতি পবিত্র অবস্থায় (তুহর) একটি করে তালাক দেয় তবে তা কার্যকর হবে, কারণ সুন্নাহ মোতাবেক তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রদান কেবল এভাবেই হয়ে থাকে। আর যদি স্বামী তার স্ত্রীকে বলে: তুমি এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে সুন্নাহ মোতাবেক তিন তালাকপ্রাপ্তা, আর স্ত্রী তা গ্রহণ করে; তবে সে যদি সহবাস ও তালাক মুক্ত পবিত্র অবস্থায় থাকে তবে এক হাজার দিরহামের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে এক তালাক কার্যকর হবে এবং সে বায়ন (বিচ্ছিন্ন) হয়ে যাবে। কেননা সে এক হাজারকে তিনটির বিপরীতে সাব্যস্ত করেছে, তাই প্রতিটি তালাক এক হাজার দিরহামের এক-তৃতীয়াংশের বিপরীতে গণ্য হবে। আর স্বামী এতে সন্তুষ্ট হয়েছে যেহেতু সে জানে যে, একটি তুহর বা পবিত্রতা কখনো তিন তালাকের স্থান হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْإِضَافَة وَالتَّعْلِيق فَلهَذَا لايقع بمجيء وَقت السّنة شَيْء أَلا ترى أَنه لَو قَالَ للْوَكِيل طَلقهَا إِذا حَاضَت وطهرت فَقَالَ لَهَا الْوَكِيل إِذا حِضْت وطهرت فَأَنت طَالِق أَو قَالَ لَهُ طَلقهَا غَدا فَقَالَ لَهَا الْوَكِيل أَنْت طَالِق غَدا لم يَقع عَلَيْهَا بِهَذَا الْكَلَام شَيْء لِأَنَّهُ أَتَى بِغَيْر مَا أَمر بِهِ فَهَذَا قِيَاسه وَلَو قَالَ طَلقهَا ثَلَاثًا للسّنة فَقَالَ لَهَا الْوَكِيل فِي طهر لم يُجَامِعهَا فِيهِ الزَّوْج أَنْت طَالِق ثَلَاثًا للسّنة وَقعت تَطْلِيقَة وَاحِدَة للسّنة فَفِي حق الْوَاحِدَة منجز كَمَا أَمر بِهِ وَفِي الثَّانِيَة وَالثَّالِثَة مضيف إِلَى وَقت السّنة وَذَلِكَ لَغْو
ــ
[الشرح] يسع فِيهِ إِلَّا وَاحِدَة بِثلث الْألف فَإِذا حَاضَت وطهرت تقع أُخْرَى بِغَيْر شَيْء لِأَن شَرط وجوب المَال حُصُول الْبَيْنُونَة لَهَا بِمُقَابلَة المَال وَلم تحصل لحصولها بِالْأولَى وَالزَّوْج رَضِي بِهِ حَيْثُ يعلم أَن الثَّانِيَة تقع فِي الطُّهْر الثَّانِي بِغَيْر شَيْء إِلَّا إِذا تزَوجهَا قبل مَجِيء الطُّهْر الثَّانِي فَحِينَئِذٍ تقع الثَّانِيَة بِثلث الأف لوُجُود شَرطه وَكَذَا الثَّالِثَة على هَذَا وَلَو قَالَ لرجل طلق امْرَأَتي ثَلَاثًا للسّنة بِأَلف دِرْهَم فَطلقهَا للسّنة ثَلَاثًا بِأَلف أَو وَاحِدَة بِثلث الْألف فِي غير وَقت السّنة فَهُوَ بَاطِل لما مر أَنه أَتَى بِالتَّعْلِيقِ وَقد أَمر بالتنجيز وَإِن طَلقهَا
অর্পণ এবং শর্তযুক্ত করা, এই কারণেই সুন্নাহর সময় উপস্থিত হওয়ার মাধ্যমে কোনো কিছু কার্যকর হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, সে যদি প্রতিনিধিকে বলে "তাকে তালাক দাও যখন সে ঋতুবতী হবে এবং পবিত্র হবে", আর প্রতিনিধি তাকে বলল "যখন তুমি ঋতুবতী হবে এবং পবিত্র হবে তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা", অথবা সে তাকে বলল "তাকে আগামীকাল তালাক দাও", আর প্রতিনিধি তাকে বলল "তুমি আগামীকাল তালাকপ্রাপ্তা", তবে এই কথার মাধ্যমে তার ওপর কিছুই কার্যকর হবে না; কারণ সে যা আদিষ্ট হয়েছিল তার বিপরীত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। এটিই এর নীতিগত সাদৃশ্য। আর যদি সে বলে "তাকে সুন্নাহ অনুযায়ী তিন তালাক দাও", আর প্রতিনিধি এমন এক পবিত্রাবস্থায় তাকে বলল যাতে স্বামী তার সাথে সহবাস করেনি: "তুমি সুন্নাহ অনুযায়ী তিন তালাকপ্রাপ্তা", তবে সুন্নাহ অনুযায়ী একটি তালাক কার্যকর হবে। সুতরাং একটির ক্ষেত্রে এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর যেমনটি সে আদিষ্ট হয়েছিল, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির ক্ষেত্রে সেটিকে সুন্নাহর সময়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে আর তা অর্থহীন।
--
[ব্যাখ্যা] এতে এক-তৃতীয়াংশ হাজারের বিনিময়ে কেবল একটিরই অবকাশ আছে। সুতরাং যখন সে ঋতুবতী হবে এবং পবিত্র হবে, তখন অন্যটি কোনো বিনিময় ছাড়াই কার্যকর হবে; কারণ অর্থ আবশ্যক হওয়ার শর্ত হলো অর্থের বিনিময়ে তার চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটা, অথচ প্রথমটির মাধ্যমেই বিচ্ছেদ ঘটে যাওয়ায় তা অর্জিত হয়নি। আর স্বামী এতে সন্তুষ্ট ছিল যেহেতু সে জানে যে দ্বিতীয়টি দ্বিতীয় পবিত্রতার সময় কোনো বিনিময় ছাড়াই কার্যকর হবে। তবে যদি দ্বিতীয় পবিত্রতা আসার আগে সে তাকে বিবাহ করে, তবে শর্ত বিদ্যমান থাকার কারণে দ্বিতীয়টি এক-তৃতীয়াংশ হাজারের বিনিময়ে কার্যকর হবে। আর তৃতীয়টিও একইভাবে এর ওপর ভিত্তি করে হবে। আর যদি সে কোনো ব্যক্তিকে বলে "আমার স্ত্রীকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে সুন্নাহ অনুযায়ী তিন তালাক দাও", আর সে তাকে সুন্নাহ অনুযায়ী তিন তালাক দিল এক হাজারের বিনিময়ে অথবা সুন্নাহর সময় ব্যতীত অন্য সময়ে এক-তৃতীয়াংশ হাজারের বিনিময়ে একটি তালাক দিল, তবে তা বাতিল হবে; কারণ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে সে বিষয়টিকে শর্তযুক্ত করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছে অথচ সে তাৎক্ষণিক কার্যকর করার আদিষ্ট হয়েছিল। আর যদি সে তাকে তালাক দেয়...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مِنْهُ بِخِلَاف الْمُوكل بِنَفسِهِ لَو قَالَ لَهَا ذَلِك طلقت فِي كل طهر وَاحِدَة لِأَن الْإِضَافَة مِنْهُ صَحِيحَة بِحكم الْملك كالتنجيز قيل هَذَا قَول أبي يُوسُف وَمُحَمّد أما عِنْد أبي حنيفَة رحمه الله يَنْبَغِي أَن لَا يَقع عَلَيْهَا شَيْء لِأَنَّهُ مَأْمُور بإيقاع الْوَاحِدَة فِي هَذَا الْفَصْل وَمن أصل أبي حنيفَة أَن الْمَأْمُور بإيقاع الْوَاحِدَة إِذا أوقع ثَلَاثًا لم يَقع شَيْء وَالأَصَح أَن هَذَا
ــ
[الشرح] وَاحِدَة بِثلث الْألف أَو ثَلَاثًا بِأَلف فِي وَقت السّنة فَقبلت تقع وَاحِدَة بِثلث الْألف وَبَانَتْ لما مر أَن هَذَا الْكَلَام فِي حق الْوَاحِدَة تَنْجِيز وَفِي حق الثَّانِيَة وَالثَّالِثَة تَعْلِيق فَإِذا حَاضَت وطهرت وَطَلقهَا وَاحِدَة بِثلث آخر فَقبلت تقع بِغَيْر شَيْء لفقد شَرطه وَكَانَ يَنْبَغِي أَن لَا تقع لِأَن الزَّوْج أمره بِطَلَاق بِبَدَل لَكِن يُقَال لَهُ إِنَّه طلق بِبَدَل لَكِن لم يجب المَال لفقد شَرطه وَالزَّوْج رَضِي بِهِ حَيْثُ علم أَن الثَّانِيَة تقع بِغَيْر بدل كَمَا إِذا أَبَانهَا الزَّوْج ثمَّ قَالَ طلق امْرَأَتي
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজেই নিজেকে উকিল (প্রতিনিধি) নিয়োগ করেছে, সে যদি তাকে (স্ত্রীকে) তা বলে, তবে প্রতি পবিত্র অবস্থায় (তুহর) একটি করে তালাক পতিত হবে। কারণ তার পক্ষ থেকে এই সম্বন্ধকরণ মালিকানার ভিত্তিতে সহীহ, যেমনটি তাৎক্ষণিক কার্যকর করার (তানজীয) ক্ষেত্রে হয়। বলা হয়েছে যে, এটি ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মত। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, তার ওপর কিছুই পতিত হওয়া উচিত নয়। কারণ তাকে এই পরিচ্ছেদে একটি তালাক প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর ইমাম আবু হানিফার মূলনীতি হলো, যাকে একটি তালাক প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সে যদি তিনটি প্রদান করে, তবে কিছুই পতিত হয় না। আর অধিকতর বিশুদ্ধ মত হলো এটিই
—
[ব্যাখ্যা] এক হাজার দিরহামের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে একটি, অথবা সুন্নাহসম্মত সময়ে এক হাজারের বিনিময়ে তিনটি তালাক; অতঃপর সে (স্ত্রী) কবুল করলে এক-তৃতীয়াংশ হাজারের বিনিময়ে একটি পতিত হবে এবং সে 'বায়েন' (বিচ্ছিন্ন) হয়ে যাবে। কারণ পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, এই কথাটি একটি তালাকের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কার্যকর (তানজীয) এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়টির ক্ষেত্রে শর্তযুক্ত (তা’লীক)। অতঃপর যখন সে ঋতুবতী হবে এবং পবিত্র হবে, আর সে (উকিল) তাকে অন্য এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে একটি তালাক দিবে এবং সে তা কবুল করবে, তখন তা কোনো বিনিময় ছাড়াই পতিত হবে, যেহেতু তার শর্ত অনুপস্থিত। আর মূলত এটি পতিত না হওয়া উচিত ছিল কারণ স্বামী তাকে বিনিময়ের শর্তে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তাকে বলা হবে যে, সে বিনিময়ের শর্তেই তালাক দিয়েছে, কিন্তু শর্ত অনুপস্থিত থাকায় মাল (বিনিময়) ওয়াজিব হয়নি। আর স্বামী এতে সন্তুষ্ট ছিলেন যেহেতু তিনি জানতেন যে দ্বিতীয়টি বিনিময় ছাড়াই পতিত হবে, যেমন স্বামী তাকে বায়েন তালাক দেওয়ার পর বললেন ‘আমার স্ত্রীকে তালাক দাও’।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قَوْلهم جَمِيعًا لِأَن أَبَا حنيفَة يعْتَبر مُوَافقَة الْوَكِيل لفظا حَتَّى قَالَ إِذا قَالَ الزَّوْج للْوَكِيل طَلقهَا نصف تَطْلِيقَة فَطلقهَا الْوَكِيل تَطْلِيقَة لَا يَقع شَيْء لمُخَالفَته فِي اللَّفْظ وَلَو قَالَ طَلقهَا ثَلَاثًا فَطلقهَا ألفا لم يَقع شَيْء وَلَو قَالَ طَلقهَا ألفا فَطلقهَا ألفا يَقع ثَلَاث للموافقة لفظا وَهنا الْوَكِيل وَافق أَمر الْآمِر لفظا فَلهَذَا وَقعت الْوَاحِدَة وَبِهَذَا الْفَصْل تبين الْفرق بَين إِيقَاع الْوَكِيل وَبَين إِيقَاع الْمُوكل بِنَفسِهِ فَإِن الْمُوكل لَو طلق امْرَأَته ألفا يَقع ثَلَاث لِأَن تصرفه بِحكم الْملك فبقدر مَا وجد الْملك عمل الْإِيقَاع والمأمور بإيقاع الثَّلَاث إِذا أوقع ألفا لم يَقع شَيْء لِأَنَّهُ متصرف بِحكم الْأَمر وَقد خَالف أَمر الْآمِر قَالَ قَالَ رجل لامْرَأَته أَنْت طَالِق ثَلَاثًا للسّنة بِأَلف دِرْهَم فَقبلت الْمَرْأَة ذَلِك فَإِن كَانَ فِي طهر لَا جماع فِيهِ وَقعت تَطْلِيقَة بِثلث الْألف لِأَن الطُّهْر الْوَاحِد كَمَا لَا يَقع فِيهِ إِلَّا تَطْلِيقَة وَاحِدَة للسّنة بِغَيْر جعل فَكَذَلِك بالجعل ثمَّ الْألف مَذْكُور بَدَلا عَن التطليقات الثَّلَاث لِأَن حرف الْبَاء تصْحَب الْإِبْدَال فَيكون بِمُقَابلَة كل تَطْلِيقَة ثلث الْألف فَإِذا وَقعت الْوَاحِدَة بقبولها وَجب عَلَيْهَا ثلث الْألف وَالطَّلَاق بِجعْل لايكون إِلَّا بَائِنا فَإِذا حَاضَت وطهرت وَقعت تَطْلِيقَة أُخْرَى بِغَيْر
ــ
[الشرح] بِأَلف فَقَالَ طَلقتك بِأَلف وَقبلت يَقع الطَّلَاق وَلَا يجب المَال أَلا ترى أَنه إِذا أمره ان يَبِيع عَبده بِأَلف وَقِيمَته خمس مائَة فَبَاعَهُ بيعا فَاسِدا بِأَلف وَسلمهُ وَمَات لَا يجب إِلَّا خمس مائَة وَلَا يصير بِهِ مُخَالفا فَإِن تزَوجهَا ثمَّ طَلقهَا الْوَكِيل أُخْرَى بِثلث الْألف فِي وَقت السّنة وَقبلت تقع أُخْرَى بِثلث الْألف وَكَذَا الثَّالِثَة وَلَو قَالَ لَهُ طلق امْرَأَتي بِأَلف وَهِي منكوحته فَأَبَانَهَا الزَّوْج أَو طَلقهَا
তাদের সকলের বক্তব্য হলো যে, ইমাম আবু হানিফা (র.) প্রতিনিধির কার্যের ক্ষেত্রে আদেশদাতার শব্দের সাথে সঙ্গতি থাকাকে ধর্তব্য গণ্য করেন। এমনকি তিনি বলেছেন, যদি স্বামী প্রতিনিধিকে বলে, "তাকে অর্ধেক তালাক দাও", আর প্রতিনিধি তাকে এক তালাক প্রদান করে, তবে শব্দের ভিন্নতার কারণে কিছুই পতিত হবে না। আর যদি স্বামী বলে, "তাকে তিন তালাক দাও", আর প্রতিনিধি তাকে এক হাজার তালাক দেয়, তবে কিছুই পতিত হবে না। কিন্তু স্বামী যদি বলে, "তাকে এক হাজার তালাক দাও", আর প্রতিনিধি তাকে এক হাজার তালাকই প্রদান করে, তবে শব্দগত মিল থাকার কারণে তিন তালাক পতিত হবে। আর এখানে প্রতিনিধি আদেশদাতার শব্দের সাথে মিল রেখেছেন, তাই একটি তালাক পতিত হয়েছে। এই পরিচ্ছেদের মাধ্যমেই প্রতিনিধির মাধ্যমে তালাক কার্যকর করা এবং স্বামী নিজে তালাক কার্যকর করার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। কেননা স্বামী যদি নিজে তার স্ত্রীকে এক হাজার তালাক প্রদান করে, তবে তিন তালাক পতিত হবে; কারণ তার এই পদক্ষেপ মালিকানার ভিত্তিতে হয়ে থাকে, তাই মালিকানা যতটুকু বিদ্যমান আছে সে অনুপাতে তালাক কার্যকর হয়। পক্ষান্তরে যাকে তিন তালাক প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সে যদি এক হাজার তালাক প্রদান করে তবে কিছুই পতিত হবে না, কারণ সে আদেশের ভিত্তিতে কাজ করছে এবং সে আদেশদাতার নির্দেশের পরিপন্থী কাজ করেছে। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, "সুন্নত তরীকা অনুযায়ী এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তুমি তিন তালাকপ্রাপ্তা", আর স্ত্রী তা গ্রহণ করল; তবে তা যদি এমন পবিত্র অবস্থায় (তুহর) হয় যাতে সহবাস করা হয়নি, তবে এক হাজার দিরহামের এক তৃতীয়াংশের বিনিময়ে একটি তালাক পতিত হবে। কেননা বিনিময়হীন সুন্নাহ তালাকের ক্ষেত্রে যেমন এক তুহরে একটির বেশি তালাক পতিত হয় না, বিনিময়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। অতঃপর, এক হাজার দিরহামকে তিন তালাকের বিনিময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ 'বা' বর্ণটি বিনিময়ের অনুষঙ্গ হিসেবে আসে; ফলে প্রতিটি তালাকের বিপরীতে এক হাজারের এক তৃতীয়াংশ ধার্য হবে। সুতরাং যখন স্ত্রীর গ্রহণের মাধ্যমে একটি তালাক পতিত হলো, তখন তার ওপর এক হাজারের এক তৃতীয়াংশ প্রদান করা আবশ্যক হলো। আর বিনিময়ের মাধ্যমে প্রদত্ত তালাক সর্বদা বা-য়েন (বিচ্ছেদকারী) হয়। অতঃপর যখন সে ঋতুবতী হওয়ার পর পুনরায় পবিত্র হবে, তখন অন্য একটি তালাক পতিত হবে বিনিময় ছাড়াই
—
[ব্যাখ্যা] এক হাজারের বিনিময়ে। অতঃপর সে বলল, "আমি তোমাকে এক হাজারের বিনিময়ে তালাক দিলাম" এবং স্ত্রী তা কবুল করল, তবে তালাক পতিত হবে কিন্তু অর্থ আবশ্যক হবে না। আপনি কি দেখেন না যে, যদি সে তাকে তার দাসটি এক হাজার দিরহামে বিক্রয় করার নির্দেশ দেয় যার মূল্য ছিল পাঁচশ দিরহাম, অতঃপর সে দাসটিকে এক হাজার দিরহামে 'ফাসিদ' (ত্রুটিপূর্ণ) বিক্রয় করে এবং হস্তান্তর করার পর দাসটি মারা যায়, তবে পাঁচশ দিরহামের বেশি আবশ্যক হয় না এবং এর দ্বারা সে আদেশ লঙ্ঘনকারীও হয় না। অতঃপর যদি সে তাকে পুনরায় বিবাহ করে এবং প্রতিনিধি পুনরায় সুন্নাহসম্মত সময়ে এক হাজারের এক তৃতীয়াংশের বিনিময়ে তাকে তালাক দেয় এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে, তবে এক তৃতীয়াংশের বিনিময়ে আরেকটি তালাক পতিত হবে। তৃতীয় তালাকের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। আর যদি স্বামী তাকে বলে, "আমার স্ত্রীকে এক হাজারের বিনিময়ে তালাক দাও" এমতাবস্থায় যে সে তার বিবাহধীনে আছে, অতঃপর স্বামী তাকে বা-য়েন তালাক প্রদান করল অথবা তাকে তালাক দিল...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
شَيْء لِأَن الزَّوْج فِي حق الثَّانِيَة وَالثَّالِثَة كَانَ مضيفا إِلَى وَقت السّنة فقد وجد وَشرط وُقُوع الطَّلَاق بِجعْل وجود الْقبُول لَا وجوب المقبول كَمَا لَو طلق الصَّغِيرَة بِمَال فَقبلت أَو طلق المبانة بِمَال فَقبلت أَو أكرهت على قبُول الْجعل وَقع الطَّلَاق وَإِن لم يجب الْجعل وَإِنَّمَا امْتنع وجوب الْجعل هُنَا لِأَن الزَّوْج إِنَّمَا يملك المَال عوضا فَلَا بُد أَن يَزُول عَن ملكه بمقابلته شَيْء وبوقوع الثَّانِيَة لم يزل عَن ملكه شَيْء لِأَن زَوَال الْملك قد تمّ بِالْأولَى فَإِن قيل المَال فِي بَاب الطَّلَاق إِمَّا أَن يكون عوضا وبدلا عَن الطَّلَاق عَن الْبَيْنُونَة فَإِن كَانَ بَدَلا
ــ
[الشرح] بِهن حَتَّى بَانَتْ انْعَزل الْوَكِيل حكما علم بِهِ أَو لم يعلم لِأَنَّهُ أمره بِطَلَاق بِبَدَل فِي حَال أمكن أَن يجب فِيهِ الْبَدَل ويوقعه بِحَيْثُ يجب بِهِ الْبَدَل فَانْصَرف إِلَيْهِ فَإِذا عجز عَنهُ بإبانة الزَّوْج انْعَزل حَتَّى لَو تزَوجهَا الزَّوْج ثمَّ طَلقهَا الْوَكِيل بِأَلف وَقبلت لَا يَقع شَيْء لِأَن هَذَا ملك آخر وَقد أمره بِإِزَالَة ذَلِك الْملك وَلَو أَبَانهَا الزَّوْج ثمَّ أمره بِأَن يطلقهَا بِأَلف فَطلقهَا فِي الْعدة بِأَلف
কিছুই নয়; কারণ স্বামী দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাকের ক্ষেত্রে একে সুন্নাহর সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করেছিলেন, ফলে তা সংঘটিত হয়েছে। বিনিময়ের মাধ্যমে তালাক কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো কবুল বা গ্রহণের অস্তিত্ব থাকা, গ্রহণকৃত বস্তু ওয়াজিব হওয়া নয়। যেমন যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাকে অর্থের বিনিময়ে তালাক দেওয়া হয় এবং সে তা গ্রহণ করে, অথবা কোনো বায়েন (বিচ্ছিন্ন) নারীকে অর্থের বিনিময়ে তালাক দেওয়া হয় এবং সে তা গ্রহণ করে, কিংবা যদি বিনিময় গ্রহণে তাকে বাধ্য করা হয়, তবে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে—যদিও বিনিময় প্রদান ওয়াজিব হবে না। এখানে বিনিময় ওয়াজিব হওয়া এই কারণে রহিত হয়েছে যে, স্বামী কেবলমাত্র মালের মালিক হন বিনিময়ের মাধ্যমে, সুতরাং এর বিপরীতে তার মালিকানা থেকে কোনো কিছু অপসারিত হওয়া আবশ্যক। কিন্তু দ্বিতীয় তালাক পতনের মাধ্যমে তার মালিকানা থেকে নতুন কিছু অপসারিত হয়নি, কেননা মালিকানার অপসারণ তো প্রথম তালাকের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে গেছে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, তালাকের অধ্যায়ে মাল হয় তালাকের বিনিময় অথবা বায়েন বা বিচ্ছেদের বিনিময়; যদি তা বিনিময় হয়—
—
[ব্যাখ্যা] তাদের মাধ্যমে যতক্ষণ না তিনি বিচ্ছিন্ন হলেন, তখন উকিল বা প্রতিনিধি হুকুমগতভাবে বরখাস্ত হয়ে যাবেন, চাই তিনি তা জানুন বা না জানুন। কারণ তিনি তাকে বিনিময়যুক্ত তালাকের আদেশ দিয়েছিলেন এমন অবস্থায় যখন বিনিময় ওয়াজিব হওয়া সম্ভব ছিল, এবং এমনভাবে তা কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিলেন যাতে বিনিময় ওয়াজিব হয়; ফলে বিষয়টি সেদিকেই ধাবিত হবে। অতঃপর যখন স্বামীর পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্নকরণের কারণে তিনি তা করতে অক্ষম হলেন, তখন তিনি বরখাস্ত হয়ে গেলেন। এমনকি স্বামী যদি তাকে পুনরায় বিবাহ করেন এবং এরপর উকিল এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তাকে তালাক দেন আর স্ত্রী তা গ্রহণ করেন, তবে কিছুই কার্যকর হবে না। কারণ এটি অন্য মালিকানা, অথচ তিনি তাকে আদেশ দিয়েছিলেন ওই মালিকানা অপসারিত করার জন্য। আর স্বামী যদি তাকে বায়েন তালাক দেন, তারপর তাকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তালাক দিতে আদেশ করেন, আর তিনি ইদ্দত চলাকালীন এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তাকে তালাক দেন—
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
عَن الطَّلَاق فَيَنْبَغِي أَن يجب بِوُقُوع الثَّانِيَة ثلثا الْألف وَإِن كَانَ بَدَلا عَن الْبَيْنُونَة فَيَنْبَغِي أَن يجب جَمِيع الْألف بِوُقُوع الأولى لحُصُول الْبَيْنُونَة قُلْنَا المَال عوض عَن الطَّلَاق كَمَا سَمَّاهُ الزَّوْج لَكِن شَرط اسْتِحْقَاقه إِزَالَة ملكه عَنْهَا أَو صيرورتها أَحَق بِنَفسِهَا ليجب عَلَيْهَا الْعِوَض وَذَلِكَ غير حَاصِل عِنْد وُقُوع الثَّانِيَة وَالثَّالِثَة فَلهَذَا لم يجب المَال فَإِن تزَوجهَا بعد وُقُوع التطليقة الأولى عَلَيْهَا ثمَّ حَاضَت وطهرت وَقعت الثَّانِيَة عَلَيْهَا بثلت الْألف لِأَن مَا هُوَ شَرط وجوب الْعِوَض وَهُوَ زَوَال ملك الزَّوْج عَنْهَا عِنْد وُقُوع كل تَطْلِيقَة مَوْجُود وَهُوَ إِنَّمَا أوقع كل تَطْلِيقَة بِثلث الْألف وَهَذَا الْجَواب بِنَاء على الرِّوَايَات الظَّاهِرَة فَأَما على مَا رُوِيَ عَن
ــ
[الشرح] فَقبلت يَقع الطَّلَاق وَلَا يجب المَال لِأَنَّهُ رَضِي بِهِ حَيْثُ يعلم أَنه لَا يجب المَال فَيكون مَأْمُورا بِالطَّلَاق بِبَدَل لفظا وَقد أَتَى بِهِ إِلَّا إِذا تزَوجهَا الزَّوْج فِي الْعدة قبل أَن يطلقهَا الْوَكِيل ثمَّ طَلقهَا بِأَلف فَقبلت يَقع بِالْألف لِأَنَّهُ طَلقهَا بِأَلف فِي هَذَا الْملك قبل انْقِضَاء الْعدة فَإِن انْقَضتْ عدتهَا ثمَّ تزَوجهَا الزَّوْج ثمَّ طَلقهَا الْوَكِيل بِأَلف لَا يَقع لِأَنَّهُ ملك آخر وَقد انْعَزل حكما بِانْقِضَاء الْعدة وَلَو وكل رجلَيْنِ كل وَاحِد أَن يُطلق امْرَأَته للسّنة فطلقاها للسّنة فِي الطُّهْر
তালাক সম্পর্কে বক্তব্য হলো, দ্বিতীয় তালাক পতিত হওয়ার মাধ্যমে হাজারের দুই-তৃতীয়াংশ ওয়াজিব হওয়া উচিত। আর যদি তা বৈনূনত (বিচ্ছেদ)-এর বিনিময় হয়, তবে প্রথম তালাক পতিত হওয়ার মাধ্যমেই সম্পূর্ণ হাজার ওয়াজিব হওয়া উচিত; যেহেতু এর মাধ্যমেই বৈনূনত অর্জিত হয়ে যায়। আমরা বলি: অর্থ হলো তালাকের বিনিময়, যেমনটি স্বামী নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এর হকদার হওয়ার শর্ত হলো স্ত্রীর ওপর থেকে স্বামীর মালিকানা দূরীভূত হওয়া অথবা স্ত্রীর নিজ সত্তার ওপর নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া, যাতে করে তার ওপর বিনিময় ওয়াজিব হয়। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাক পতিত হওয়ার সময় সেটি অর্জিত হয় না, এ কারণেই তখন অর্থ ওয়াজিব হয়নি। অতঃপর স্বামী যদি প্রথম তালাক পতিত হওয়ার পর তাকে পুনরায় বিবাহ করে, এরপর স্ত্রী ঋতুবতী হয় ও পবিত্র হয়, তবে তার ওপর দ্বিতীয় তালাক হাজারের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে পতিত হবে। কারণ বিনিময় ওয়াজিব হওয়ার জন্য যা শর্ত—অর্থাৎ প্রতিটি তালাক পতিত হওয়ার সময় স্বামীর মালিকানা বিলুপ্ত হওয়া—তা এখানে বিদ্যমান। আর স্বামী তো প্রতিটি তালাককে হাজারের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়েই কার্যকর করেছে। এই উত্তরটি যাহিরুর রিওয়ায়াত বা প্রসিদ্ধ বর্ণনাগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে। তবে যা বর্ণিত হয়েছে...
—
[ব্যাখ্যা]অতঃপর সে কবুল করল, তবে তালাক পতিত হবে কিন্তু অর্থ ওয়াজিব হবে না। কারণ স্বামী এতে সন্তুষ্ট ছিল এই জেনে যে, অর্থ ওয়াজিব হবে না। ফলে সে শাব্দিকভাবে বিনিময়ের বিনিময়ে তালাক দেওয়ার জন্য আদিষ্ট ছিল এবং সে তা সম্পন্ন করেছে। তবে যদি প্রতিনিধি তালাক দেওয়ার পূর্বে ইদ্দত চলাকালীন স্বামী তাকে বিবাহ করে, অতঃপর সে তাকে হাজারের বিনিময়ে তালাক দেয় এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করে, তবে তা হাজারের বিনিময়েই পতিত হবে। কারণ সে ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে এই মালিকানার অধীনেই তাকে হাজারের বিনিময়ে তালাক দিয়েছে। কিন্তু যদি তার ইদ্দত শেষ হয়ে যায়, তারপর স্বামী তাকে বিবাহ করে এবং এরপর প্রতিনিধি তাকে হাজারের বিনিময়ে তালাক দেয়, তবে তা পতিত হবে না। কারণ এটি অন্য মালিকানা (নতুন বিবাহ) এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার মাধ্যমে প্রতিনিধি শরয়ীভাবে অপসারিত হয়ে গেছে। আর যদি স্বামী দুইজন ব্যক্তিকে প্রতিনিধি নিয়োগ করে যে, তাদের প্রত্যেকেই তার স্ত্রীকে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে তালাক দেবে, এবং তারা উভয়েই পবিত্রতার সময় সুন্নাহসম্মত উপায়ে তাকে তালাক দেয়।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أبي حنيفَة رحمه الله إِذا تخَلّل بَين كل طلاقين رَجْعَة أَو نِكَاح فالطهر الْوَاحِد يكون محلا لوُقُوع الثَّلَاث على وَجه السّنة فَكَمَا تزَوجهَا هَا هُنَا يَقع عَلَيْهَا الطَّلَاق قبل الْحيض وَكَذَلِكَ إِذا تزَوجهَا ثَالِثا وَقعت التطليقة الثَّالِثَة كَمَا تزَوجهَا وَلَو قَالَ لرجل طَلقهَا ثَلَاثًا للسّنة بِأَلف دِرْهَم فَقَالَ لَهَا الْوَكِيل فِي حَيْضهَا أَنْت طَالِق ثَلَاثًا للسّنة بِأَلف دِرْهَم فَقبلت الْمَرْأَة لم يَقع عَلَيْهَا شَيْء لِأَن كَلَام الْوَكِيل لَيْسَ بتنجيز لما مر لَكِن بِهَذَا الْكَلَام لايصير رادا لِلْأَمْرِ وَمَعَ بَقَاء الْأَمر لايخرج عَن عهدته إِلَّا بالامتثال فَإِذا طهرت فَقَالَ لَهَا أَنْت طَالِق ثَلَاثًا للسّنة بِأَلف دِرْهَم فَقبلت ذَلِك طلقت وَاحِدَة بِثلث الْألف لِأَن كَلَامه فِي حق الْوَاحِدَة تَنْجِيز وَالْألف مَذْكُور عوضا عَن الثَّلَاث فَيكون بِمُقَابلَة كل وَاحِدَة ثلث الْألف وَكَذَلِكَ لَو قَالَ لَهَا حِين طهرت أَنْت طَالِق وَاحِدَة بِثلث الْألف فَقبلت وَقعت وَاحِدَة بَائِنَة بِثلث الْألف لِأَن بالْكلَام الأول وَإِن كَانَ مُخَالفا لما أَمر بِهِ لم يخرج الْأَمر من يَده فَإِذا امتثل بعد ذَلِك نفذ تصرفه كَالْوَكِيلِ بِالْبيعِ بِأَلف دِرْهَم
ــ
[الشرح] فَإِن طلق أَحدهمَا ثمَّ الآخر فالواقع طَلَاقه وَكَلَام الآخر لَغْو لِأَنَّهُ يكون تَعْلِيق وَهُوَ على وكَالَته حَتَّى لَو طَلقهَا فِي الطُّهْر الثَّانِي يَقع وَلَو طلقاها مَعًا يَقع طَلَاق أَحدهمَا لِأَن الطُّهْر الْوَاحِد لَا يسع للسّنة أَكثر من وَاحِد وَلَيْسَ
ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট, যদি প্রতি দুই তালাকের মাঝে একটি রজআত (প্রত্যাবর্তন) অথবা নিকাহ (বিবাহ) সংঘটিত হয়, তবে একটি পবিত্রতা (তুহর) সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে তিন তালাক পতিত হওয়ার ক্ষেত্র হতে পারে। যেমন এখানে তার সাথে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার কারণে ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পূর্বেই তার ওপর তালাক পতিত হবে। একইভাবে, যখন সে তাকে তৃতীয়বার বিবাহ করবে, তখন তৃতীয় তালাকটি পতিত হবে যেমনিভাবে সে তাকে বিবাহ করেছে। আর যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো লোককে বলে যে, 'তাকে সুন্নাহ মোতাবেক এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তিন তালাক দাও', অতঃপর সেই উকিল (প্রতিনিধি) স্ত্রীর ঋতুস্রাব চলাকালীন তাকে বলে, 'তোমাকে সুন্নাহ মোতাবেক এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তিন তালাক দেওয়া হলো', আর স্ত্রী তা গ্রহণ করে, তবে তার ওপর কোনো তালাক পতিত হবে না। কারণ উকিলের কথাটি সরাসরি কার্যকর (তানজিজ) হওয়ার পর্যায়ে পড়ে না যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে এই কথার দ্বারা সে অর্পিত দায়িত্ব প্রত্যাখ্যানকারী হিসেবে গণ্য হবে না। আর আদেশটি বহাল থাকা অবস্থায় সে তা যথাযথ পালন করা ব্যতীত দায়িত্বমুক্ত হবে না। অতঃপর স্ত্রী যখন পবিত্র হবে এবং সে (উকিল) তাকে বলবে, 'তোমাকে সুন্নাহ মোতাবেক এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তিন তালাক দেওয়া হলো', আর সে তা গ্রহণ করবে, তবে এক হাজার দিরহামের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে একটি তালাক পতিত হবে। কারণ একটি তালাকের ক্ষেত্রে তার কথাটি সরাসরি কার্যকর (তানজিজ), আর যেহেতু এক হাজার দিরহাম তিন তালাকের বিনিময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই প্রতিটি তালাকের বিপরীতে এক হাজার দিরহামের এক-তৃতীয়াংশ ধার্য হবে। একইভাবে, স্ত্রী যখন পবিত্র হলো তখন যদি সে তাকে বলে, 'এক হাজার দিরহামের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে তোমার ওপর এক তালাক', আর সে তা গ্রহণ করে, তবে এক হাজার দিরহামের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে একটি বাঈন তালাক পতিত হবে। কারণ প্রথম কথার দ্বারা, যদিও তা আদেশের পরিপন্থী ছিল, আদেশটি তার হাত থেকে চলে যায়নি। অতঃপর সে যখন পরবর্তীতে তা পালন করল, তখন তার এই পদক্ষেপ কার্যকর হবে; যেমন এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে বিক্রয় করার প্রতিনিধির ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
ــ
[ব্যাখ্যা] যদি তাদের একজন তালাক দেয়, অতঃপর অন্যজন দেয়, তবে প্রথমজনের তালাকই পতিত হবে এবং অন্যজনের কথাটি নিরর্থক হিসেবে গণ্য হবে। কারণ তা স্থগিত রাখা (তালিক) হিসেবে গণ্য হবে এবং সে তার প্রতিনিধিত্বের (ওকালত) ওপর বহাল থাকবে, এমনকি সে যদি দ্বিতীয় পবিত্রতায় (তুহর) তাকে তালাক দেয় তবে তা পতিত হবে। আর যদি তারা উভয়ে একসাথে তাকে তালাক দেয়, তবে একজনের তালাক পতিত হবে। কারণ একটি পবিত্রতা (তুহর) সুন্নাহ মোতাবেক একের অধিক তালাক ধারণ করার অবকাশ রাখে না এবং তা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
إِذا بَاعَ بِخَمْسِمِائَة ثمَّ اسْتردَّ الْمَبِيع وَبَاعه بِأَلف فَإِن تَركهَا حَتَّى حَاضَت أُخْرَى وطهرت ثمَّ قَالَ لَهَا أَنْت طَالِق بِثلث الْألف فَقبلت وَقعت تَطْلِيقَة بِغَيْر شَيْء لِأَنَّهُ ممتثل لِلْأَمْرِ فَإِنَّهُ مَأْمُور بتنجيز الْوَاحِدَة فِي كل طهر بعوض وَقد فعل وَالطَّلَاق بِجعْل يعْهَد وجود الْقبُول لَا وجوب المقبول وَلم يُوجد مَا هُوَ شَرط وجوب الْبَدَل عِنْد وُقُوع الثَّانِيَة وَهُوَ زَوَال ملك الزَّوْج عَنْهَا وَكَذَلِكَ لَو قَالَ لَهَا مثل ذَلِك فِي الطُّهْر الثَّالِث
ــ
[الشرح] للزَّوْج خِيَار التَّعْيِين لعدم الْفَائِدَة فَلَو حَاضَت وطهرت وَطَلقهَا للسّنة أحد الوكيلين لَا يَقع لِأَنَّهُ إِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاقه لَا يَقع الثَّانِي لِأَنَّهُ انْعَزل فَلَا يَقع بِالشَّكِّ فَإِن قيل صَار فِي تعْيين الأول فَائِدَة لِأَنَّهُ رُبمَا يعين الأول غير الَّذِي أوقع فِي الثَّانِي فَتَقَع الثَّانِيَة كَرجل لَهُ ثَلَاثَة أعبد دخل عَلَيْهِ اثْنَان فَقَالَ أَحَدكُمَا حر فَخرج أَحدهمَا وَدخل آخر فَقَالَ أَحَدكُمَا حر حَيْثُ يُخَيّر فِي الْإِيجَاب الأول لِأَنَّهُ رُبمَا يعين الْخَارِج فِي الأول فَيصح الْإِيجَاب الثَّانِي قيل لَهُ ثمَّة الْإِيجَاب وَقع لَازِما وَقد تعلق ثمه بِهِ حق الْعَبْدَيْنِ
যদি সে পাঁচশতে বিক্রি করে অতঃপর বিক্রিত বস্তু ফেরত নেয় এবং এক হাজারে বিক্রি করে, আর সে তাকে (স্ত্রীকে) ছেড়ে দেয় এমনকি সে পুনরায় ঋতুবতী হয় ও পবিত্র হয়, তারপর তাকে বলে: "তুমি এক হাজারের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে তালাকপ্রাপ্তা", আর সে তা কবুল করে, তবে কোনো বিনিময় ছাড়াই এক তালাক পতিত হবে। কারণ সে আদেশ পালনকারী; কেননা তাকে প্রতিটি পবিত্র অবস্থায় বিনিময়ের মাধ্যমে একটি করে তালাক কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং সে তা করেছে। আর বিনিময়ের বিনিময়ে তালাকের ক্ষেত্রে কবুলের অস্তিত্বই গণ্য হয়, বিনিময়ের আবশ্যকতা নয়। আর দ্বিতীয় তালাকটি ঘটার সময় বিনিময়ের আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার যে শর্ত অর্থাৎ স্ত্রীর ওপর থেকে স্বামীর মালিকানা চলে যাওয়া, তা পাওয়া যায়নি। অনুরূপভাবে যদি সে তাকে তৃতীয় পবিত্র অবস্থায় একই কথা বলে।
—
[ব্যাখ্যা] কোনো ফায়দা না থাকার কারণে স্বামীর জন্য নির্দিষ্ট করার এখতিয়ার রয়েছে। অতএব যদি সে ঋতুবতী হয় ও পবিত্র হয় এবং দুই উকিলের মধ্যে একজন তাকে সুন্নাত অনুযায়ী তালাক দেয়, তবে তা পতিত হবে না। কারণ যদি প্রথম পবিত্র অবস্থায় তালাকটি তার পক্ষ থেকে পতিত হয়ে থাকে, তবে দ্বিতীয়টি পতিত হবে না কারণ সে বরখাস্ত হয়ে গেছে, সুতরাং সন্দেহের ভিত্তিতে তা পতিত হবে না। যদি বলা হয় যে, প্রথমটি নির্দিষ্ট করার মধ্যে ফায়দা রয়েছে, কারণ সম্ভবত সে প্রথমটিকে এমনভাবে নির্দিষ্ট করবে যা দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তালাক প্রদানকারীর চেয়ে ভিন্ন হবে, ফলে দ্বিতীয় তালাকটি পতিত হবে। যেমন এমন এক ব্যক্তি যার তিনজন দাস রয়েছে, তার কাছে দুইজন প্রবেশ করল এবং সে বলল: "তোমাদের একজন স্বাধীন।" এরপর তাদের একজন বের হয়ে গেল এবং অন্য একজন প্রবেশ করল, তখন সে বলল: "তোমাদের একজন স্বাধীন।" এখানে তাকে প্রথম প্রস্তাবের ক্ষেত্রে এখতিয়ার দেওয়া হয় কারণ সম্ভবত সে প্রথম ক্ষেত্রে বহির্গত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করবে যার ফলে দ্বিতীয় প্রস্তাবটি সঠিক হবে। এর উত্তরে তাকে বলা হবে: সেখানে প্রস্তাবটি আবশ্যকীয় হিসেবে কার্যকর হয়েছে এবং সেখানে দুই দাসের অধিকার তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فَقبلت طلقت تَطْلِيقَة ثَالِثَة بِغَيْر شَيْء فَإِن قيل كَيفَ يكون ممتثلا لِلْأَمْرِ وَهُوَ إِنَّمَا أمره بالأيقاع بعوض وَالثَّانيَِة وَالثَّالِثَة هُنَا تقع بِغَيْر عوض قُلْنَا هُوَ موقع بعوض كَمَا أمره وَإِنَّمَا امْتنع وجوب الْعِوَض حكما لِانْعِدَامِ شَرطه فَلَا يصير بِهِ مُخَالفا كَالْوَكِيلِ يَبِيع مَا يُسَاوِي خَمْسمِائَة بِأَلف دِرْهَم إِذا بَاعه بيعا فَاسِدا بِأَلف لم يكن مُخَالفا وَإِن كَانَ الْمَبِيع يصير مَضْمُونا على المُشْتَرِي بِخَمْسِمِائَة لِأَنَّهُ سمى الْألف كَمَا أَمر وَإِنَّمَا امْتنع وُجُوبه حكما فَلَا يصير الْوَكِيل بِهِ مُخَالفا ثمَّ الزَّوْج لما أمره بِهَذَا مَعَ علمه أَن الثَّلَاث للسّنة لَا تقع جملَة وَإِن بعد حُصُول الْبَيْنُونَة بِوُقُوع الأولى لَا يجب عِنْد وُقُوع الثَّانِيَة وَالثَّالِثَة شَيْء صَار رَاضِيا بِمَا فعله الْوَكِيل فَإِن كَانَ الزَّوْج تزَوجهَا بعد وُقُوع الأولى فَطلقهَا الْوَكِيل الثَّانِيَة فِي طهرهَا
ــ
[الشرح] فَيُؤْمَر بِالْبَيَانِ أما هُنَا الْوكَالَة لَيست بلازمة فَإِنَّهُ يتَمَكَّن من عزل الوكيلين بعد الْإِيجَاب الأول فَلم يكن هَذَا الْحق لَازِما فَلَا يجْبر على الْبَيَان فَلَو طَلقهَا الْوَكِيل الآخر أَيْضا فِي الطُّهْر الثَّانِي تقع أُخْرَى لأَنا تَيَقنا بِوُقُوعِهِ بِكَلَام أَحدهمَا وَلَو وكل رجلا بِأَن يُطلق امْرَأَته للسّنة فَطلقهَا الْوَكِيل وَالزَّوْج للسّنة فَإِن سبق الزَّوْج فالواقع طَلَاقه وَكَلَام الْوَكِيل لَغْو لِأَنَّهُ يكون تَعْلِيقا إِلَّا إِذا طَلقهَا الْوَكِيل فِي الطُّهْر الثَّانِي فَيَقَع وَإِن كَانَ السَّابِق هُوَ الْوَكِيل وَقع طَلَاقه
সুতরাং সে যদি গ্রহণ করে, তবে কোনো বিনিময় ছাড়াই তৃতীয় তালাক পতিত হবে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, সে কীভাবে আদেশের অনুসারী হবে অথচ তাকে তো বিনিময়ের মাধ্যমে তালাক দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, আর এখানে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাক বিনিময় ছাড়াই পতিত হচ্ছে? আমরা বলব, সে আদেশ অনুযায়ী বিনিময়ের মাধ্যমেই তালাক প্রদানকারী। কিন্তু শর্তের অনুপস্থিতির কারণে শরয়ী বিধান অনুযায়ী বিনিময় ওয়াজিব হওয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে; ফলে এর দ্বারা সে আদেশ লঙ্ঘনকারী হবে না। যেমন কোনো প্রতিনিধিকে (উকিল) পাঁচশ দিরহাম মূল্যের কোনো বস্তু এক হাজার দিরহামে বিক্রয় করতে বলা হলো; সে যদি তা এক হাজার দিরহামে ‘অশুদ্ধ বিক্রয়’ (বায়’ ফাসিদ) হিসেবে বিক্রয় করে, তবে সে আদেশ লঙ্ঘনকারী হবে না। যদিও বিক্রিত বস্তুটি ক্রেতার নিকট পাঁচশ দিরহামের জন্য দায়বদ্ধ (মাজমুন) হবে, কারণ প্রতিনিধি আদেশ অনুযায়ী এক হাজার দিরহামেরই উল্লেখ করেছে; কেবল শরয়ী বিধান অনুযায়ী তা ওয়াজিব হওয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সুতরাং এর মাধ্যমে প্রতিনিধি আদেশ লঙ্ঘনকারী হবে না। অতঃপর স্বামী যখন তাকে এই আদেশ দিয়েছে—এই জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যে সুন্নাহ অনুযায়ী তিন তালাক একত্রে পতিত হয় না, এবং প্রথম তালাকের মাধ্যমে বিচ্ছেদ (বায়নুনাত) অর্জিত হওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাক পতিত হওয়ার সময় কোনো বিনিময় ওয়াজিব হয় না—তখন সে প্রতিনিধির কৃতকর্মের প্রতি সন্তুষ্ট বলে গণ্য হবে। যদি স্বামী প্রথম তালাক পতিত হওয়ার পর তাকে পুনরায় বিবাহ করে এবং প্রতিনিধি তাকে তার পবিত্রাবস্থায় দ্বিতীয় তালাক প্রদান করে...
—
[ব্যাখ্যা] তাকে বিষয়টি স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে এখানে প্রতিনিধিত্ব (ওকালত) বাধ্যতামূলক নয়; কেননা সে প্রথম প্রস্তাবের (ইজাব) পর উভয় প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করতে সক্ষম। সুতরাং এই অধিকারটি অপরিহার্য ছিল না, তাই তাকে স্পষ্টীকরণে বাধ্য করা হবে না। যদি অন্য প্রতিনিধিও দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় তাকে তালাক দেয়, তবে অন্য একটি তালাক পতিত হবে; কারণ আমরা তাদের যেকোনো একজনের বক্তব্যের মাধ্যমে তালাক পতিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। আর যদি কেউ কোনো ব্যক্তিকে তার স্ত্রীকে সুন্নাহ অনুযায়ী তালাক দেওয়ার জন্য প্রতিনিধি নিযুক্ত করে, অতঃপর প্রতিনিধি ও স্বামী উভয়েই সুন্নাহ অনুযায়ী তালাক প্রদান করে, তবে স্বামী যদি আগে তালাক দিয়ে থাকে তবে স্বামীর তালাকই কার্যকর হবে এবং প্রতিনিধির বক্তব্য নিরর্থক হবে; কারণ তা ‘ঝুলন্ত বক্তব্য’ (তালীক) হিসেবে গণ্য হবে। তবে প্রতিনিধি যদি দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় তালাক দেয় তবে তা পতিত হবে। আর যদি প্রতিনিধি আগে তালাক দিয়ে থাকে, তবে তারই তালাক কার্যকর হবে।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بِثلث الْألف فَقبلت وَقعت بِثلث الْألف وَكَذَلِكَ لَو تزَوجهَا ثَانِيًا ثمَّ أوقع الثَّالِثَة فِي الطُّهْر الثَّالِث لِأَن شَرط وجوب الْبَدَل قد وجد عِنْد وُقُوع كل تَطْلِيقَة فَإِن قيل هُوَ مَأْمُور بِإِزَالَة الْملك الأول دون الْملك الثَّانِي الَّذِي يحدث للزَّوْج فَيَنْبَغِي أَن لايقع عَلَيْهَا فِي الْملك الثَّانِي بإيقاع الْوَكِيل شَيْء قُلْنَا الزَّوْج لما أمره بإيقاع كل تَطْلِيقَة بِثلث الْألف مَعَ علمه أَنه لَا يجب كل الْبَدَل بِمُقَابلَة كل تَطْلِيقَة إِلَّا بتخلل العقد بَين التطليقتين فقد صَار رَاضِيا بِزَوَال ملكه عَنْهَا عِنْد إِيقَاع كل تَطْلِيقَة بِثلث الْألف وَلَو قَالَ لرجل طَلقهَا تَطْلِيقَة بِأَلف دِرْهَم فَلم يفعل الْوَكِيل ذَلِك حَتَّى طَلقهَا الزَّوْج تَطْلِيقَة بِأَلف دِرْهَم فَقبلت ثمَّ إِن الْوَكِيل طَلقهَا فِي الْعدة تَطْلِيقَة بِأَلف دِرْهَم كَمَا أمره الزَّوْج فَقبلت لم يَقع عَلَيْهَا طَلَاق بذلك لِأَن الزَّوْج حِين أمره كَانَ مَالِكًا للاعتياض عَن طَلاقهَا فَينفذ إِيقَاع الْوَكِيل بِمَا يسْتَحق الزَّوْج الْعِوَض بمقابلته وَذَلِكَ لايحصل بعد الْبَيْنُونَة فَكَانَ إبانة الزَّوْج إِيَّاهَا عزلا مِنْهُ للْوَكِيل عَن الْإِيقَاع فانعزل الْوَكِيل بِهِ علم بإيقاع الْمُوكل أَو لم يعلم لِأَنَّهُ عزل حكمي كَمَا لَو وَكله
ــ
[الشرح] وانعزل وَطَلَاق الزَّوْج يتَوَقَّف إِلَى أَن يَجِيء الطُّهْر الثَّانِي لِأَنَّهُ يملكهُ تَعْلِيقا وَإِن طلقاها مَعًا تقع طَلْقَة بِيَقِين ثمَّ فِي الطُّهْر الثَّانِي لَا يَقع شَيْء لاحْتِمَال أَن الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق الزَّوْج فَإِن طَلقهَا الْوَكِيل فِي الطُّهْر الثَّانِي
এক হাজার দিরহামের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে। অতঃপর সে তা গ্রহণ করল, ফলে এক হাজারের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে তালাক কার্যকর হলো। অনুরূপভাবে, যদি সে তাকে পুনরায় বিবাহ করে এরপর তৃতীয় পবিত্রতায় (তুহর) তৃতীয় তালাক প্রদান করে, তবে তাও কার্যকর হবে। কারণ প্রতিটি তালাক পতিত হওয়ার সময় বিনিময় (বদল) ওয়াজিব হওয়ার শর্ত বিদ্যমান পাওয়া গেছে। যদি প্রশ্ন করা হয় যে, তাকে তো প্রথম মালিকানা অপসারণের আদেশ দেওয়া হয়েছিল, সেই দ্বিতীয় মালিকানা নয় যা স্বামীর জন্য পুনরায় সৃষ্টি হয়েছে, অতএব প্রতিনিধির তালাক প্রদানের মাধ্যমে দ্বিতীয় মালিকানার অধীনে তার ওপর কোনো তালাক পতিত হওয়া উচিত নয়। আমরা বলি, স্বামী যখন তাকে প্রতিটি তালাক এক হাজারের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে প্রদানের আদেশ দিয়েছিলেন—অথচ তিনি জানতেন যে প্রতিটি তালাকের বিপরীতে সম্পূর্ণ বিনিময় ওয়াজিব হয় না যতক্ষণ না দুই তালাকের মাঝে নতুন করে নিকাহর চুক্তি সম্পন্ন হয়—তখন তিনি এক হাজার দিরহামের এক-তৃতীয়াংশের বিনিময়ে প্রতিটি তালাক প্রদানের মাধ্যমে নিজের মালিকানা বিলুপ্তিতে সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর যদি সে কোনো ব্যক্তিকে বলে, 'তাকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে এক তালাক দাও', কিন্তু প্রতিনিধি তা করেনি যতক্ষণ না স্বামী নিজেই তাকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে এক তালাক প্রদান করল এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করল; অতঃপর প্রতিনিধি ইদ্দত চলাকালীন তাকে স্বামীর নির্দেশ অনুযায়ী এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে এক তালাক দিল এবং স্ত্রী তা গ্রহণ করল, তবে এর মাধ্যমে তার ওপর কোনো তালাক পতিত হবে না। কারণ স্বামী যখন তাকে আদেশ দিয়েছিলেন, তখন তিনি তার তালাকের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ গ্রহণের মালিক ছিলেন। সুতরাং প্রতিনিধির তালাক প্রদান তখনই কার্যকর হবে যখন স্বামী তার বিনিময়ে অর্থ বা প্রতিদান পাওয়ার অধিকারী হবেন। আর বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার (বায়নুনাহ) পর তা অর্জিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন (বায়েন তালাক) করে দেওয়াটা ছিল মূলত প্রতিনিধির তালাক প্রদানের ক্ষমতা থেকে তাকে বরখাস্ত করার শামিল। ফলে প্রতিনিধি এর মাধ্যমে বরখাস্ত হয়ে যাবে, চাই সে নিয়োগদাতার (মুয়াক্কিল) তালাক প্রদানের কথা জানুক বা না জানুক। কারণ এটি একটি বিধানগত (হুকমি) বরখাস্তকরণ, যেমনটি ঘটে থাকে যদি সে তাকে প্রতিনিধি নিয়োগ করত।
—
[ব্যাখ্যা] এবং সে বরখাস্ত হয়ে যাবে। আর স্বামীর তালাক প্রদান দ্বিতীয় পবিত্রতা আসা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে, কারণ তিনি তা ঝুলন্ত বা শর্তযুক্ত করার (তালিক) অধিকার রাখেন। আর যদি তারা উভয়ই একসাথে তালাক দেয়, তবে নিশ্চিতভাবে এক তালাক পতিত হবে। অতঃপর দ্বিতীয় পবিত্রতায় কোনো কিছুই পতিত হবে না, কারণ এই সম্ভাবনা রয়েছে যে প্রথম পবিত্রতায় পতিত তালাকটি ছিল মূলত স্বামীর তালাক। অতএব যদি প্রতিনিধি দ্বিতীয় পবিত্রতায় তাকে তালাক দেয়।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بِأَن يُزَوجهُ امْرَأَة بِعَينهَا ثمَّ تزوج أُخْتهَا كَانَ عزلا للْوَكِيل حكما فَإِن لم يُوقع الْوَكِيل عَلَيْهَا شَيْئا حَتَّى تزَوجهَا الزَّوْج ثَانِيًا ثمَّ طَلقهَا الْوَكِيل تَطْلِيقَة بِأَلف لم يَقع عَلَيْهَا شَيْء لِأَنَّهُ قد انْعَزل الْوَكِيل بِمَا صنعه الْمُوكل فَلَا يعود وَكيلا إِلَّا بتوكيل مُسْتَقْبل وَلِأَنَّهُ أمره بِإِزَالَة الْملك الْمَوْجُود وَقت التَّوْكِيل وَهَذَا ملك متجدد سوى ذَلِك الْملك فَلَا يملك إِزَالَته بذلك الْأَمر كَالْوَكِيلِ بِالْبيعِ إِذا بَاعَ الْمُوكل بِنَفسِهِ مَا وَكله بِبيعِهِ ثمَّ اشْتَرَاهُ فَبَاعَهُ الْوَكِيل لم ينفذ بَيْعه وَلَو طلق امْرَأَته تَطْلِيقَة بَائِنَة ثمَّ قَالَ
ــ
[الشرح] يَقع لِأَن الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول إِن كَانَ طَلَاق الزَّوْج بَقِي الْوَكِيل على وكَالَته فَيصح إِيقَاعه فِي الطُّهْر الثَّانِي وَإِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق الْوَكِيل بَقِي طَلَاق الزَّوْج مُعَلّقا بمجيء الطُّهْر الثَّانِي فَيَقَع فَإِن قيل يَنْبَغِي أَن يكون الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق الزَّوْج عِنْد مُحَمَّد رضي الله عنه لِأَنَّهُ يرجح
যেমন তাকে একটি নির্দিষ্ট মহিলার সাথে বিবাহ দেওয়ার জন্য উকিল নিযুক্ত করার পর সে (মুয়াক্কিল) তার বোনকে বিবাহ করল, তবে তা হুকমান (আইনত) উকিলকে বরখাস্ত করা বলে গণ্য হবে। সুতরাং উকিল যদি তার ওপর কোনো কিছু (তালাক) প্রয়োগ না করে যতক্ষণ না স্বামী তাকে দ্বিতীয়বার বিবাহ করে, এরপর উকিল তাকে এক হাজারের বিনিময়ে এক তালাক প্রদান করে, তবে তার ওপর কিছুই পতিত হবে না। কারণ মুয়াক্কিলের কাজের ফলে উকিল ইতিপূর্বেই বরখাস্ত হয়ে গেছে, সুতরাং নতুনভাবে ওকালাত প্রদান ব্যতীত সে পুনরায় উকিল হবে না। আর একারণে যে, মুয়াক্কিল তাকে ওকালাত প্রদানের সময় বিদ্যমান মালিকানাটি দূর করার আদেশ দিয়েছিল, আর এটি ওই মালিকানা ব্যতীত একটি নবসৃষ্ট মালিকানা, তাই সে পূর্বের আদেশের মাধ্যমে এটি দূর করার অধিকার রাখে না। যেমন বিক্রয়ের উকিলের ন্যায়; যখন মুয়াক্কিল স্বয়ং সেই বস্তু বিক্রয় করে দেয় যা বিক্রির জন্য সে উকিল নিয়োগ করেছিল, অতঃপর সে তা পুনরায় ক্রয় করে এবং উকিল তা বিক্রয় করে দেয়, তবে তার সেই বিক্রয় কার্যকর হবে না। আর যদি সে তার স্ত্রীকে এক তালাক বায়েন প্রদান করে, এরপর বলে...
—
[ব্যাখ্যা]তা পতিত হবে, কারণ প্রথম তুহুরে (পবিত্রতায়) যা পতিত হয়েছে তা যদি স্বামীর তালাক হয়, তবে উকিল তার ওকালাতের ওপর বহাল থাকে, ফলে দ্বিতীয় তুহুরে তার তালাক প্রদান করা সঠিক হবে। আর যদি প্রথম তুহুরে পতিত তালাকটি উকিলের হয়, তবে স্বামীর তালাকটি দ্বিতীয় তুহুর আসার সাথে স্থগিত থাকে, ফলে তা পতিত হবে। যদি বলা হয় যে, ইমাম মুহাম্মদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট প্রথম তুহুরে স্বামীর তালাকই পতিত হওয়া উচিত, কারণ তিনি প্রাধান্য দেন...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
لغيره طَلقهَا بِأَلف دِرْهَم فَفعل وَقبلت الْمَرْأَة وَقع عَلَيْهَا تَطْلِيقَة بِغَيْر شَيْء لِأَن الْمَأْمُور هُنَا وَكيل بالإيقاع بِذكر الْعِوَض دون وجوب الْعِوَض فَإِن عِنْد التَّوْكِيل هِيَ مبانة وَلَا يسْتَحق الزَّوْج الْعِوَض على طَلَاق المبانة فَكَانَ الْوَكِيل متمثلا أمره وَصَارَ إيقاعة كإيقاع الْمُوكل بِنَفسِهِ بِخِلَاف الأول فَإِن عِنْد التَّوْكِيل هُنَاكَ كَانَ الزَّوْج مَالِكًا للاعتياض عَن طَلاقهَا فَإِن قيل يَنْبَغِي فِي هَذَا الْفَصْل أَن يتَوَقَّف التَّوْكِيل على أَن يَتَزَوَّجهَا الْمُوكل ثمَّ يطلقهَا الْوَكِيل بِأَلف ليجب الْعِوَض بِمُقَابلَة الطَّلَاق كَمَا لَو وكل رجلا بِأَن يُزَوجهُ امْرَأَة وَتَحْته أَربع نسْوَة توقفت الْوكَالَة على أَن يُفَارق وَاحِدَة مِنْهُنَّ ليزوجه الْوَكِيل بعد ذَلِك قُلْنَا هُنَاكَ الْمُوكل لَيْسَ
ــ
[الشرح] جَانب الْأَصَالَة على جَانب النِّيَابَة قيل لَهُ نعم فِي مَوضِع تكون الْعهْدَة على الْوَكِيل كَمَا فِي البيع أما هُنَا هُوَ سفير مَحْض فَصَارَت عِبَارَته كعبارة الْمُوكل فاستويا فَإِن لم يطلقهَا الْوَكِيل فِي الطُّهْر الثَّانِي لَكِن قَالَ الزَّوْج أَنْت طَالِق للسّنة يَقع وَهَذَا ظَاهر فَإِذا حَاضَت وطهرت لَا يَقع لِأَنَّهُ يحْتَمل أَن الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول وَالثَّانِي طَلَاق الزَّوْج إِلَّا أَن يطلقهَا أَحدهمَا على مَا مر وَلَو
অন্যের প্রতি আদেশ: তাকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তালাক দাও। অতঃপর সে তা করল এবং নারী তা গ্রহণ করল, তবে কোনো বিনিময় ছাড়াই তার ওপর এক তালাক পতিত হবে। কারণ এখানে আদিষ্ট ব্যক্তিটি কেবল বিনিময় উল্লেখপূর্বক তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি (ওয়াকিল), বিনিময় ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে নয়। কেননা প্রতিনিধিত্ব প্রদানের সময় সে (স্ত্রী) মুবানাহ (তালাকপ্রাপ্তা) ছিল, আর মুবানাহ নারীর তালাকের ওপর স্বামী বিনিময়ের অধিকারী হয় না। ফলে প্রতিনিধি তার আদেশের অনুসারী হয়েছে এবং তার তালাক প্রদান করাটি মুওয়াক্কিলের (মূল আদিষ্টকারী) নিজের তালাক প্রদানের মতো হয়েছে। এটি প্রথম সুরতের বিপরীত; কেননা সেখানে প্রতিনিধিত্ব প্রদানের সময় স্বামী তার তালাকের বিনিময়ে সম্পদ গ্রহণের মালিক ছিল। যদি বলা হয় যে, এই পরিচ্ছেদে প্রতিনিধিত্ব এই বিষয়ের ওপর স্থগিত থাকা উচিত যে, মুওয়াক্কিল প্রথমে তাকে পুনরায় বিয়ে করবে, অতঃপর প্রতিনিধি তাকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তালাক দেবে, যাতে তালাকের বিপরীতে বিনিময় ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হয়; যেমন যদি কেউ কোনো ব্যক্তিকে এই মর্মে প্রতিনিধি নিয়োগ করে যে সে তাকে কোনো নারীর সাথে বিয়ে দেবে, অথচ তার অধীনে ইতোমধ্যে চারজন স্ত্রী রয়েছে, তবে ওকালতি (প্রতিনিধিত্ব) এই বিষয়ের ওপর স্থগিত থাকে যে সে তাদের একজনকে পৃথক করবে, যাতে প্রতিনিধি এরপর তাকে বিয়ে দিতে পারে। আমরা বলি, সেখানে মুওয়াক্কিল এমন নয় যে...
—
[ব্যাখ্যা] প্রতিনিধিত্বের দিকের ওপর মূল হওয়ার (আসালত) দিক। তাকে বলা হয়েছে, হ্যাঁ, এমন ক্ষেত্রে যেখানে দায়িত্ব প্রতিনিধির ওপর থাকে যেমন কেনা-বেচার ক্ষেত্রে। কিন্তু এখানে সে কেবল একজন দূত (সাফির), ফলে তার বক্তব্য মুওয়াক্কিলের বক্তব্যের ন্যায় হয়ে গেছে এবং তারা উভয়ে সমান হয়ে গেছে। যদি প্রতিনিধি দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় (তুহর) তাকে তালাক না দেয়, বরং স্বামী বলে, "তুমি সুন্নাত অনুযায়ী তালাকপ্রাপ্তা," তবে তা পতিত হবে এবং এটি সুস্পষ্ট। সুতরাং যখন সে ঋতুবতী হবে এবং পুনরায় পবিত্র হবে, তখন তালাক পতিত হবে না; কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে প্রথম ও দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় যা পতিত হয়েছে তা স্বামীর তালাক, যদি না তাদের মধ্যে কেউ একজন ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী তালাক প্রদান করে। আর যদি...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
بِأَهْل لما أَمر بِهِ للْحَال فَإِن حلّه لايسع إِلَّا بِأَرْبَع نسْوَة فلانعدام الْمَحَلِّيَّة توقفت الْوكَالَة على ظُهُور الْمحل ضَرُورَة أما هَا هُنَا هُوَ مُمكن من إِيقَاع مَا أَمر بِهِ للْحَال لِأَنَّهُ لَو طَلقهَا بِنَفسِهِ تَطْلِيقَة بِأَلف وَقعت تَطْلِيقَة بِغَيْر شَيْء إِذا قبلت فَلَا حَاجَة بِنَا إِلَى أَن نجْعَل الْوكَالَة مَوْقُوفَة على أَمر موهوم وَهُوَ تَجْدِيد العقد فَصَارَ هَذَا نَظِير مَا لَو وكل وَكيلا بِالْبيعِ فجن الْوَكِيل جنونا يعقل فِيهِ البيع والشرى ثمَّ بَاعه لَا ينفذ بَيْعه وَلَو كَانَ مَجْنُونا بِهَذِهِ الصّفة حِين وَكله نفذ بَيْعه لِأَنَّهُ إِذا كَانَ صَحِيحا وَقت التَّوْكِيل فَإِنَّمَا أمره بِعقد يلْزم الْوَكِيل الْعهْدَة بِحكم ذَلِك العقد وَذَلِكَ لَا يكون بعد جُنُونه وَإِذا كَانَ مَجْنُونا وَقت التَّوْكِيل فَإِنَّمَا أمره بالعبارة دون إِلْزَام الْعهْدَة فَكَذَلِك إِذا كَانَ الْأَمر فِي حَال قيام النِّكَاح يَنْعَزِل الْوَكِيل بِوُقُوع الْبَيْنُونَة وَإِذا جعل الْأَمر للْوَكِيل وَهِي مبانة
ــ
[الشرح] قَالَ الزَّوْج لامْرَأَته وَقد دخل بهَا أَنْت طَالِق بَائِن للسّنة يَقع فِي وَقت السّنة فقد جعل الْبَائِن سنيا فِي رِوَايَة هَذَا الْكتاب وَفِي الأَصْل ذكر انه أَخطَأ السّنة لِأَن الْحَاجة تنْدَفع بِالطَّلَاق الرَّجْعِيّ فَصَارَ ضم صفة الْبَيْنُونَة كضم طَلَاق آخر وَجه الرِّوَايَة هُنَا أَن الْبَائِن قد يحْتَاج إِلَيْهِ حَتَّى لَا يَقع فِي ورطها بالرجعة
তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশিত বিষয়ের যোগ্য হিসেবে, কারণ তার ক্ষেত্র কেবল চারজন নারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সুতরাং বিষয়বস্তুর (মহল) অনুপস্থিতির কারণে অনিবার্যভাবেই প্রতিনিধিত্ব (ওকালাত) বিষয়বস্তুর আত্মপ্রকাশের ওপর স্থগিত থাকবে। তবে এখানে নির্দেশিত বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব। কারণ তিনি যদি নিজে তাকে এক হাজার মুদ্রার বিনিময়ে এক তালাক প্রদান করেন, তবে তা গ্রহণ করা হলে কোনো বিনিময় ছাড়াই এক তালাক পতিত হবে। সুতরাং আমাদের ওকালাতকে কোনো কাল্পনিক বিষয় অর্থাৎ নতুন করে বিবাহ চুক্তির ওপর স্থগিত রাখার প্রয়োজন নেই। ফলে এটি সেই বিষয়ের সদৃশ হলো, যেমন কেউ কাউকে বিক্রয়ের প্রতিনিধি নিযুক্ত করল, অতঃপর প্রতিনিধি এমন উন্মাদনায় আক্রান্ত হলো যাতে সে ক্রয়-বিক্রয় বুঝতে সক্ষম, এরপর সে বিক্রয় করলে তার বিক্রয় কার্যকর হবে না। কিন্তু প্রতিনিধি নিযুক্ত করার সময় যদি সে এই প্রকৃতির উন্মাদ থাকে, তবে তার বিক্রয় কার্যকর হবে। কারণ প্রতিনিধি নিযুক্ত করার সময় সে সুস্থ থাকলে তাকে এমন একটি চুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যার দায়ভার (উহদাহ) ওই চুক্তির বিধান অনুযায়ী প্রতিনিধির ওপর বর্তাবে, যা তার উন্মাদ হওয়ার পর সম্ভব নয়। আর যদি প্রতিনিধি নিযুক্ত করার সময় সে উন্মাদ থাকে, তবে তাকে কেবল বাচনভঙ্গি বা অভিব্যক্তির (ইবারাত) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দায়ভার অর্পণের জন্য নয়। তদ্রূপ বিবাহ বহাল থাকাবস্থায় যদি দায়িত্ব প্রদান করা হয়, তবে বৈবাহিক বিচ্ছিন্নতা (বাইনুনাহ) ঘটার সাথে সাথে প্রতিনিধি অপসারিত হয়ে যাবে। আর যখন স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দায়িত্ব প্রদান করা হয়—
—
ব্যাখ্যা
স্বামী তার সহবাসকৃত স্ত্রীকে বলল, "তুমি সুন্নাহ অনুযায়ী বাইন (বিচ্ছিন্ন) তালাকপ্রাপ্তা।" এটি সুন্নাহর সময়েই পতিত হবে। এই কিতাবের বর্ণনায় 'বাইন' তালাককে 'সুন্নী' হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তবে 'আসল' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সে সুন্নাহর ক্ষেত্রে ভুল করেছে; কারণ সাধারণ তালাক (রাজয়ি)-এর মাধ্যমেই প্রয়োজন পূরণ হয়ে যায়। সুতরাং তালাকের সাথে 'বাইনুনাহ' বা বিচ্ছিন্নতার গুণ যুক্ত করা অন্য একটি তালাক যুক্ত করার মতোই। এখানে বর্ণনার প্রেক্ষাপট হলো, কখনো বাইন বা বিচ্ছিন্ন তালাকের প্রয়োজন অনুভূত হয় যাতে স্বামী স্ত্রীকে পুনরায় ফিরিয়ে নেওয়ার (রাজআত) জটিলতায় নিপতিত না হয়।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
صَحَّ التَّوْكِيل على أَن يُوقع فِي الْعدة بِجعْل سَوَاء وَجب الْجعل أَو لم يجب فَإِن لم يطلقهَا الْوَكِيل فِي الْفَصْل الثَّانِي حَتَّى تزَوجهَا الزَّوْج فِي الْعدة ثمَّ طَلقهَا الْوَكِيل بِأَلف دِرْهَم فَقبلت وَقع الطَّلَاق بِأَلف لِأَن الْوَكِيل كَانَ مَالِكًا للإيقاع عَلَيْهَا فِي الْعدة فِي وَقت لَا يجب عَلَيْهَا الْعِوَض بمقابلته فلَان يبْقى مَالِكًا للإيقاع فِي وَقت يجب عَلَيْهَا الْعِوَض بمقابلته كَانَ أولى لما فِيهِ من زِيَادَة الْمَنْفَعَة للزَّوْج فَإِن لم يَتَزَوَّجهَا حَتَّى انْقَضتْ عدتهَا ثمَّ تزَوجهَا فَطلقهَا الْوَكِيل بِأَلف دِرْهَم فَقبلت لم يَقع عَلَيْهَا شَيْء لِأَنَّهُ حِين انْقَضتْ عدتهَا فقد خرجت من أَن تكون محلا لوُقُوع الطَّلَاق عَلَيْهَا فانعزل الْوَكِيل حكما لفَوَات
ــ
[الشرح] وَصَارَ كَالطَّلَاقِ قبل الدُّخُول بَائِنا وَكَانَ سنيا وَكَذَا الْخلْع مُبَاح لقَوْله تَعَالَى {فَلَا جنَاح عَلَيْهِمَا فِيمَا افتدت بِهِ} وَإِن كَانَ بَائِنا وَذكر هُنَا أَن الْخلْع فِي
ইদ্দত চলাকালীন বিনিময় ধার্য করার মাধ্যমে তালাক কার্যকর করার জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা বৈধ, চাই সেই বিনিময় প্রদান করা ওয়াজিব হোক বা না হোক। যদি প্রতিনিধি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে তাকে তালাক না দেয়, এমনকি স্বামী ইদ্দত চলাকালেই তাকে পুনরায় বিবাহ করে নেয়, অতঃপর প্রতিনিধি তাকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তালাক দেয় এবং সে তা গ্রহণ করে, তবে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। কারণ, প্রতিনিধি ইদ্দত চলাকালীন এমন এক সময়ে তালাক কার্যকর করার অধিকারী ছিল যখন এর বিনিময়ে কোনো প্রতিদান আবশ্যক ছিল না; সুতরাং এমন সময়ে তালাক কার্যকর করার অধিকার থাকা যেখানে বিনিময় আবশ্যক হয়, তা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত, যেহেতু এতে স্বামীর জন্য অতিরিক্ত উপকার রয়েছে। কিন্তু স্বামী যদি তার ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকে বিবাহ না করে, অতঃপর তাকে বিবাহ করে এবং প্রতিনিধি এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তাকে তালাক দেয় ও সে তা গ্রহণ করে, তবে তার ওপর কোনো তালাক পতিত হবে না। কারণ, যখন তার ইদ্দত শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখন সে তালাক কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্র থেকে বহির্ভূত হয়ে গিয়েছিল, ফলে তালাকের ক্ষেত্র বিলুপ্ত হওয়ার কারণে প্রতিনিধি হুকুমগতভাবে বরখাস্ত হয়ে গেছে।
--
[ব্যাখ্যা]আর তা সহবাসের পূর্বে প্রদত্ত বায়েন তালাকের ন্যায় হয়ে গেল এবং তা ছিল সুন্নাহসম্মত। তদ্রূপ খোলা তালাক দেওয়াও বৈধ, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: "তাদের উভয়ের ওপর কোনো গুনাহ নেই সে বিষয়ে, যার বিনিময়ে স্ত্রী মুক্তি লাভ করে।" যদিও তা বায়েন তালাক হয়। আর এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খোলার ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الْمحل فَلَا يعود بعد ذَلِك وَكيلا إِلَّا بتوكيل مُسْتَقْبل بِخِلَاف الأول فَإِن هُنَاكَ النِّكَاح حصل فِي الْعدة وببقاء الْعدة بقيت محلا لوُقُوع الطَّلَاق عَلَيْهَا قَالَ وَلَو وكل رجلَيْنِ كل وَاحِد مِنْهُمَا بِأَن يطلقهَا تَطْلِيقَة للسّنة فَلَمَّا طهرت قَالَ لَهَا كل وَاحِد مِنْهُمَا أَنْت طَالِق تَطْلِيقَة للسّنة فَإِن سبق أَحدهمَا بالْكلَام وَقع طلاقة لمصادفة إِيقَاعه وَقت السّنة ثمَّ لَا تقع الثَّانِيَة فِي الْحَال لِأَنَّهُ بِوُقُوع الأولى خرج هَذَا الطُّهْر من أَن يكون محلا للتطليقة الْأُخْرَى للسّنة وَلَا يَصح الْإِيقَاع من الْوَكِيل إِلَّا تنجيزا كَمَا بَينا فَلم يَقع عَلَيْهَا شَيْء وَإِن حَاضَت وطهرت فَإِن خرج الْكَلَام من الوكيلين
ــ
[الشرح] الْحيض وَفِي طهر جَامعهَا فِيهِ مَكْرُوه لِأَنَّهُ لَيْسَ وَقت للسّنة وَرُوِيَ فِي غير رِوَايَة الْأُصُول أَنه غير مَكْرُوه لِأَن الْخلْع إِنَّمَا يكون بعد النُّشُوز مِنْهَا وَذَلِكَ دَلِيل التنافر فَلَا يكره وَلَو وكل رجلا بِأَن يُطلق امْرَأَته تَطْلِيقَة للسّنة بِأَلف دِرْهَم ووكل آخر بِأَن يطلقهَا تَطْلِيقَة للسّنة بِمِائَة دِينَار فَإِن طَلقهَا فِي غير وَقت السّنة فكله بَاطِل لِأَنَّهُ تَعْلِيق وَإِن طلقاها مَعًا فِي الطُّهْر فقلبت طلاقهما وَقعت تَطْلِيقَة وَاحِدَة ولزمها أحد الْمَالَيْنِ وَخيَار التَّعْيِين إِلَيْهَا لِأَن التَّعْيِين إِلَى من عَلَيْهِ المَال فَإِن اخْتَارَتْ الدَّرَاهِم ثمَّ حَاضَت وطهرت ثمَّ طَلقهَا الْوَكِيل بِالدَّنَانِيرِ لم تقع أُخْرَى لِأَن اخْتِيَارهَا الدَّرَاهِم فِي الطُّهْر الأول لم يَصح فِي حق تعْيين الطَّلَاق لِأَن التَّعْيِين إِلَى الزَّوْج لَا إِلَيْهَا وَتَعْيِين الطَّلَاق غير صَحِيح على مَا ذكرنَا وَكَذَا إِذا طَلقهَا فِي الطُّهْر الثَّانِي لَا يَقع لِأَن الَّذِي وَقع
স্থান, সুতরাং এরপর নতুন করে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা ছাড়া সে পুনরায় প্রতিনিধি হবে না। প্রথম বিষয়ের বিপরীত, কেননা সেখানে ইদ্দতের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল এবং ইদ্দত অবশিষ্ট থাকার কারণে সে তালাক পতিত হওয়ার স্থান হিসেবে অবশিষ্ট ছিল। তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি দু’জনকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে যে, তাদের প্রত্যেকে যেন তাকে সুন্নাহ মোতাবেক এক তালাক প্রদান করে, অতঃপর যখন সে পবিত্র হলো, তখন তাদের প্রত্যেকেই তাকে বলল, ‘তোমাকে সুন্নাহ অনুযায়ী এক তালাক দেওয়া হলো’। এমতাবস্থায় যদি তাদের একজন আগে কথা বলে, তবে সুন্নাহর সময়ে তালাক পতিত হওয়ার কারণে তার তালাক কার্যকর হবে। অতঃপর তাৎক্ষণিকভাবে দ্বিতীয় তালাকটি পতিত হবে না, কারণ প্রথমটি পতিত হওয়ার কারণে এই পবিত্রতা (তুহর) কালটি সুন্নাহ মোতাবেক অন্য একটি তালাক প্রদানের স্থান হওয়া থেকে বের হয়ে গেছে। আর আমরা যেমন বর্ণনা করেছি, প্রতিনিধির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কার্যকর করা ছাড়া তালাক প্রদান করা সঠিক নয়; সুতরাং তার ওপর আর কিছু পতিত হবে না। আর যদি সে ঋতুবতী হয় এবং পুনরায় পবিত্র হয়, আর যদি দুই প্রতিনিধির কথা নির্গত হয়...
—
[ব্যাখ্যা] ঋতু চলাকালীন এবং এমন পবিত্রতা কালে যাতে সে সহবাস করেছে, তাতে তালাক দেওয়া মাকরূহ; কেননা তা সুন্নাহর সময় নয়। উসুল ব্যতীত অন্যান্য বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে যে, এটি মাকরূহ নয়; কারণ খুলা কেবল তার পক্ষ থেকে অবাধ্যতা প্রকাশের পরেই হয়, আর তা হলো বিমুখতার প্রমাণ, তাই এটি মাকরূহ হবে না। আর যদি কেউ একজনকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে তার স্ত্রীকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে সুন্নাহ অনুযায়ী এক তালাক দিতে, এবং অন্য একজনকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করে একশ দীনারের বিনিময়ে সুন্নাহ অনুযায়ী এক তালাক দিতে; এমতাবস্থায় সে যদি তাকে সুন্নাহর সময় ব্যতীত তালাক দেয়, তবে তা সম্পূর্ণ বাতিল হবে, কারণ এটি একটি শর্তযুক্ত করা (তালিক)। আর যদি তারা উভয়ে পবিত্রতা কালে একসাথেই তাকে তালাক দেয় এবং সে তাদের তালাক গ্রহণ করে, তবে একটি তালাক পতিত হবে এবং তার ওপর দুই প্রকার মালের যেকোনো একটি প্রদান করা আবশ্যক হবে; আর তা নির্ধারণ করার ইখতিয়ার তার (স্ত্রীর) থাকবে, কারণ নির্ধারণের দায়িত্ব তার ওপর যার ওপর মাল পরিশোধ করা ওয়াজিব। অতঃপর যদি সে দিরহাম পছন্দ করে, তারপর সে ঋতুবতী হয় ও পুনরায় পবিত্র হয় এবং তখন দীনারের প্রতিনিধি তাকে তালাক দেয়, তবে অন্য কোনো তালাক পতিত হবে না; কারণ প্রথম পবিত্রতা কালে তার দিরহাম পছন্দ করা তালাক নির্ধারণের ক্ষেত্রে সঠিক হয়নি, কেননা নির্ধারণ করার অধিকার স্বামীর, স্ত্রীর নয়। আর আমরা যেমন উল্লেখ করেছি, তালাক নির্ধারণ করা সঠিক নয়। অনুরূপভাবে, যদি সে দ্বিতীয় পবিত্রতা কালেও তাকে তালাক দেয়, তবে তা পতিত হবে না; কারণ যা পতিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مَعًا وَقعت تَطْلِيقَة وَاحِدَة لِأَن فِي حق الْوَاحِدَة صَادف الْإِيقَاع وَقت السّنة فنتيقن بِوُقُوع الْوَاحِدَة عَلَيْهَا وَلَا خِيَار للزَّوْج فِي تعْيين طَلَاق أحد الوكيلين لِأَن الْخِيَار لَا يثبت شرعا إِلَّا لفائدة وَلَا فَائِدَة فِي هَذَا الْخِيَار فَإِن حكم الطلاقين فِي حَقه وَاحِد فَإِن حَاضَت وطهرت لم يَقع عَلَيْهَا شَيْء بذلك الْإِيقَاع لِأَن أحد الوكيلين منجز وَالْآخر مضيف إِلَى وَقت السّنة وَلَكِن الْإِضَافَة من الْوَكِيل بالتنجيز لَغْو فَإِن قَالَ لَهَا أحد الوكيلين فِي الطُّهْر الثَّانِي أَنْت طَالِق للسّنة لم يَقع عَلَيْهَا بِهَذَا شَيْء أَيْضا لِأَنَّهُ إِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق هَذَا الْوَكِيل لم يَقع بإيقاعه فِي الطُّهْر الثَّانِي شَيْء لِأَنَّهُ انْتَهَت وكَالَته وَإِن كَانَ الْوَاقِع طَلَاق الْوَكِيل الآخر وَقع بإيقاعه فِي هَذَا الطُّهْر أُخْرَى وَلَكِن الطَّلَاق بِالشَّكِّ لَا
ــ
[الشرح] طَلَاقه فِي الطُّهْر الأول انْعَزل وَكَذَا الآخر انْعَزل أَيْضا بالبينونة لِأَنَّهُ وَكله بِطَلَاق يجب بِهِ الْبَدَل فِي حَال أمكن أَن يجب بِهِ الْبَدَل فَإِذا صَارَت بِحَال لَا يجب بِهِ الْبَدَل انْعَزل وَكَذَا لَو تزَوجهَا الزَّوْج ثمَّ طلقاها فِي الطُّهْر الثَّانِي لِأَن هَذَا ملك آخر وَالتَّوْكِيل بِالطَّلَاق كَانَ لإِزَالَة ذَلِك الْملك وَلَو قَالَ الزَّوْج لرجل طلق امْرَأَتي وَاحِدَة بِأَلف دِرْهَم للسّنة فَطلقهَا الْوَكِيل فِي الطُّهْر بِأَلف للسّنة وَطَلقهَا الزَّوْج بِمِائَة دِينَار للسّنة وَقبلت الْكل وَقعت طَلْقَة وَاحِدَة لِأَنَّهُ لَا يسع
একত্রে একটি তালাক কার্যকর হবে; কারণ একটি তালাকের ক্ষেত্রে তালাক প্রদানের সময়টি সুন্নাহসম্মত সময়ের অনুকূলে হয়েছে, তাই তার ওপর একটি তালাক কার্যকর হওয়ার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হব। আর দুই প্রতিনিধির মধ্যে কার তালাকটি কার্যকর হবে তা নির্ধারণ করার ব্যাপারে স্বামীর কোনো ইখতিয়ার (পছন্দ করার অধিকার) থাকবে না। কারণ শরিয়তসম্মতভাবে কোনো উপকার বা ফায়দা ব্যতীত ইখতিয়ার সাব্যস্ত হয় না; আর এই ইখতিয়ারের মধ্যে কোনো ফায়দা নেই, কারণ স্বামীর ক্ষেত্রে উভয় তালাকের বিধান অভিন্ন। সুতরাং যদি স্ত্রী ঋতুবতী হয় এবং পুনরায় পবিত্র হয়, তবে সেই তালাক প্রদানের দ্বারা তার ওপর নতুন কোনো তালাক কার্যকর হবে না। কারণ প্রতিনিধিদের একজন ছিল তাৎক্ষণিকভাবে তালাক প্রদানকারী এবং অন্যজন ছিল সুন্নাহসম্মত সময়ের দিকে সম্বন্ধকারী। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে তালাক প্রদানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধির পক্ষ থেকে সময়ের দিকে সম্বন্ধ করা নিরর্থক। অতঃপর দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় (তুহর) যদি দুই প্রতিনিধির একজন তাকে বলে, "সুন্নাহ অনুযায়ী তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে এর দ্বারাও তার ওপর কিছুই কার্যকর হবে না। কারণ প্রথম পবিত্রাবস্থায় যদি এই প্রতিনিধির তালাকই কার্যকর হয়ে থাকে, তবে দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় তার তালাক প্রদানের দ্বারা কোনো কিছু কার্যকর হবে না; কেননা তার প্রতিনিধিত্বের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর যদি অন্য প্রতিনিধির তালাক কার্যকর হয়ে থাকে, তবে এই পবিত্রাবস্থায় তার তালাক প্রদানের মাধ্যমে অপর একটি তালাক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক কার্যকর হয় না।
ــ
[ব্যাখ্যা] প্রথম পবিত্রাবস্থায় তার তালাক প্রদানের ফলে সে (প্রতিনিধিত্ব থেকে) অপসারিত হয়ে গেছে। অনুরূপভাবে তালাক বায়েন (বিচ্ছেদ) হয়ে যাওয়ার কারণে অন্যজনও অপসারিত হয়েছে। কারণ স্বামী তাকে এমন তালাক প্রদানের জন্য প্রতিনিধি বানিয়েছিল যার দ্বারা বিনিময় (বদল) ওয়াজিব হওয়া সম্ভব। অতঃপর স্ত্রী যদি এমন অবস্থায় উপনীত হয় যেখানে বিনিময় ওয়াজিব হওয়া সম্ভব নয়, তবে সে অপসারিত হয়ে যায়। অনুরূপ অবস্থা হবে যদি স্বামী পুনরায় তাকে বিবাহ করে এবং এরপর তারা (প্রতিনিধিরা) দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় তাকে তালাক দেয়; কারণ এটি একটি ভিন্ন মালিকানা, আর তালাকের প্রতিনিধিত্ব ছিল পূর্ববর্তী মালিকানা বিলুপ্ত করার জন্য। যদি স্বামী কোনো ব্যক্তিকে বলে, "আমার স্ত্রীকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে সুন্নাহ অনুযায়ী একটি তালাক দাও", অতঃপর প্রতিনিধি সেই পবিত্রাবস্থায় এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে সুন্নাহ অনুযায়ী তাকে তালাক দিল এবং স্বামী নিজেও একশত দিনারের বিনিময়ে সুন্নাহ অনুযায়ী তাকে তালাক দিল এবং স্ত্রী সব গ্রহণ করল, তবে একটি তালাকই কার্যকর হবে; কারণ এটি সম্ভব নয়...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
يَقع وَلَا يُخَيّر الزَّوْج هُنَا أَيْضا حَتَّى إِن اخْتَار طَلَاق الْوَكِيل الآخر لَا يَقع هَذِه التطليقة الثَّانِيَة لِأَن عِنْد الْإِيقَاع لم يثبت لَهُ الْخِيَار فَلَا يثبت بعد ذَلِك فَإِن قيل إِنَّمَا لم يثبت الْخِيَار عِنْد الْإِيقَاع لِأَنَّهُ لم يكن مُفِيدا والآن قد صَار مُفِيدا فَيَنْبَغِي أَن يُخَيّر كمن لَهُ ثَلَاثَة أعبد دخل عَلَيْهِ اثْنَان فَقَالَ أَحَدكُمَا حر فَخرج أَحدهمَا وَدخل الآخر فَقَالَ أَحَدكُمَا حر يُخَيّر فِي الْكَلَام الأول حَتَّى إِذا اخْتَار الْخَارِج حِينَئِذٍ يثبت لَهُ الْخِيَار بِحكم الْكَلَام الثَّانِي قُلْنَا هُنَاكَ الْكَلَام الأول يلْزم إِيَّاه وَثُبُوت الْخِيَار يبْنى على مَا يكون ملزما فِي حَقه فَأَما هُنَا بعد الْإِيقَاع فِي الطُّهْر الأول كَانَ هُوَ مُتَمَكنًا من عزل الوكيلين عَن الْإِيقَاع فَلم يكن التَّخْيِير هَاهُنَا مُفِيدا فَلهَذَا لَا يثبت لَهُ الْخِيَار وَلَكِن إِن قَالَ الْوَكِيل الآخر
ــ
[الشرح] فِيهِ للسّنة إِلَّا وَاحِدَة ولزمها أحد الْمَالَيْنِ وَالتَّعْيِين إِلَيْهَا لما مر وَصَارَ كَقَوْل الزَّوْج أَنْت طَالِق بِأَلف دِرْهَم أَو بِمِائَة دِينَار فَقبلت لَزِمَهَا أحد الْمَالَيْنِ فَإِذا حَاضَت وطهرت لَا يَقع وَكَذَا إِذا قَالَ لَهَا الْوَكِيل فِي الطُّهْر الثَّانِي أَنْت طَالِق بِأَلف دِرْهَم فَقبلت لَا يَقع لِأَن الْوَكِيل انْعَزل أما إِذا كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاقه فَظَاهر وَكَذَا إِذا كَانَ الْوَاقِع طَلَاق الزَّوْج لِأَنَّهُ عجز عَن طَلَاق
এটি পতিত হবে এবং এখানেও স্বামীকে ইখতিয়ার (পছন্দ করার অধিকার) দেওয়া হবে না। এমনকি তিনি যদি অপর উকীলের (প্রতিনিধির) তালাককে পছন্দ করে নেন, তবে এই দ্বিতীয় তালাকটি পতিত হবে না। কারণ তালাক পতিত হওয়ার সময় তার জন্য ইখতিয়ার সাব্যস্ত ছিল না, তাই পরবর্তীতেও তা সাব্যস্ত হবে না। যদি বলা হয় যে, তালাক পতিত হওয়ার সময় ইখতিয়ার সাব্যস্ত না হওয়ার কারণ ছিল এটি ফলপ্রসূ ছিল না, কিন্তু এখন যেহেতু তা ফলপ্রসূ হয়েছে, তাই তাকে ইখতিয়ার দেওয়া উচিত; যেমন এমন এক ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার তিনটি দাস আছে এবং তাদের মধ্য থেকে দুইজন তার কাছে প্রবেশ করলে সে বলল, 'তোমাদের একজন মুক্ত'। এরপর তাদের একজন বেরিয়ে গেল এবং অন্যজন প্রবেশ করল, তখন সে বলল 'তোমাদের একজন মুক্ত'। এক্ষেত্রে প্রথম কথার ভিত্তিতে তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হবে, এমনকি সে যদি প্রস্থানকারীকে পছন্দ করে নেয় তবে দ্বিতীয় কথার ভিত্তিতে তার জন্য ইখতিয়ার সাব্যস্ত হবে। আমরা উত্তরে বলব: সেখানে প্রথম কথাটি তার ওপর অবধারিত ছিল এবং ইখতিয়ার সাব্যস্ত হওয়া নির্ভর করে ঐ বিষয়ের ওপর যা তার ক্ষেত্রে অবধারিত হয়। কিন্তু এখানে প্রথম পবিত্র অবস্থায় (তুহর) তালাক পতিত হওয়ার পর তিনি উকীলদ্বয়কে তালাক প্রদান থেকে বরখাস্ত করার সামর্থ্য রাখতেন, তাই এখানে ইখতিয়ার প্রদান করা ফলপ্রসূ ছিল না। একারণে তার জন্য ইখতিয়ার সাব্যস্ত হবে না। তবে যদি অপর উকীল বলে...
—
[ব্যাখ্যা] এতে সুন্নাহ অনুযায়ী একটি ব্যতীত (কিছু নেই) এবং তার ওপর দুই প্রকার মালের যেকোনো একটি অবধারিত হবে এবং এর নির্ধারণ তার (স্ত্রীর) ওপর ন্যস্ত হবে যা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এটি স্বামীর এই উক্তির ন্যায় হবে— 'তোমাকে এক হাজার দিরহাম অথবা একশত দিনারের বিনিময়ে তালাক দিলাম', আর সে (স্ত্রী) তা কবুল করে নিল; তবে তার ওপর যেকোনো একটি মাল অবধারিত হবে। এরপর যখন সে ঋতুবতী হবে এবং পবিত্র হবে, তখন আর (তালাক) পতিত হবে না। অনুরূপভাবে যদি উকীল দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় তাকে বলে, 'তোমাকে এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তালাক দিলাম' এবং সে তা কবুল করে নেয়, তবে তা পতিত হবে না; কারণ উকীল বরখাস্ত হয়ে গিয়েছে। আর যদি প্রথম পবিত্র অবস্থায় যা পতিত হয়েছিল তা উকীলের তালাক হয়ে থাকে, তবে তা সুস্পষ্ট। অনুরূপভাবে যদি যা পতিত হয়েছিল তা স্বামীর তালাক হয়ে থাকে, কারণ তিনি তালাক প্রদানে অক্ষম ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
أَيْضا فِي الطُّهْر الثَّانِي أَنْت طَالِق للسّنة وَقعت تَطْلِيقَة ثَانِيَة لأَنا تَيَقنا بِوُجُود الْإِيقَاع فِي الطُّهْر الثَّانِي مِمَّن هُوَ بَاقٍ مِنْهُمَا على الْوكَالَة فَلهَذَا طلقت تَطْلِيقَتَيْنِ وَلَو قَالَ لرجل وَاحِد طَلقهَا تَطْلِيقَة للسّنة فَلَمَّا طهرت طَلقهَا الْوَكِيل وَالْمُوكل فَإِن كَانَ الْوَكِيل هُوَ الَّذِي بَدَأَ وَقع طَلَاقه لمصادفة الْإِيقَاع وَقت السّنة ثمَّ إِذا حَاضَت وطهرت وَقعت أُخْرَى لِأَن كَلَام الْمُوكل كَانَ إِضَافَة للطَّلَاق إِلَى وَقت السّنة وَهُوَ مَالك لذَلِك وَإِن كَانَ الزَّوْج هُوَ الَّذِي بَدَأَ لم يَقع بإيقاع الْوَكِيل شَيْء لِأَنَّهُ لَا يُمكن جعل كَلَامه تنجيزا بَعْدَمَا أوقع الزَّوْج فِي هَذَا الطُّهْر وَاحِدَة وَلَا تصح مِنْهُ الْإِضَافَة فَلَا تقع عَلَيْهَا الثَّانِيَة إِلَّا أَن يطلقهَا الْوَكِيل فِي الطُّهْر الثَّانِي تَطْلِيقَة مُسْتَقْبلَة لِأَنَّهُ لم يَنْعَزِل بإيقاع الْمُوكل التطليقة الْوَاحِدَة وَلَا بالإيقاع الأول من الْوَكِيل فَإِنَّهُ عير ممتثل لأَمره فِي ذَلِك وَإِنَّمَا يخرج من الْأَمر بالامتثال وَلَو خرج الْكَلَام من الْوَكِيل
ــ
[الشرح] يجب بِهِ الْبَدَل للبينونة وَلَو طَلقهَا الْوَكِيل فِي الطُّهْر الأول للسّنة بِأَلف دِرْهَم وَقَالَ الزَّوْج أَنْت طَالِق بِمِائَة دِينَار وَلم يقل للسّنة فَقبلت الْكل وَقع طَلَاق
একইভাবে দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় ‘তুমি সুন্নাহ অনুযায়ী তালাকপ্রাপ্তা’—এ কথার মাধ্যমে দ্বিতীয় তালাক পতিত হবে। কারণ আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় এমন এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে তালাক প্রদান সংঘটিত হয়েছে যার প্রতিনিধিত্ব (ওকালাত) বহাল ছিল। এ কারণেই দুই তালাক পতিত হয়েছে। আর যদি স্বামী জনৈক ব্যক্তিকে বলে, "তাকে সুন্নাহ অনুযায়ী এক তালাক দাও", অতঃপর স্ত্রী যখন পবিত্র হলো তখন উকিল (প্রতিনিধি) ও মুওয়াক্কিল (স্বামী) উভয়েই তাকে তালাক দিল; এমতাবস্থায় যদি উকিল আগে শুরু করে থাকে, তবে তার তালাকটিই পতিত হবে। কারণ তালাক প্রদানের বিষয়টি সুন্নাহর সময়ের সাথে মিলেছে। অতঃপর যখন তার মাসিক হবে এবং সে পুনরায় পবিত্র হবে, তখন আরেকটি তালাক পতিত হবে। কারণ মুওয়াক্কিলের বক্তব্যটি ছিল সুন্নাহর সময়ের দিকে তালাককে সম্বন্ধযুক্ত করা, আর তিনি এর পূর্ণ অধিকার রাখেন। কিন্তু স্বামী যদি আগে শুরু করেন, তবে উকিলের তালাক প্রদানের মাধ্যমে কিছুই পতিত হবে না। কারণ স্বামী এই পবিত্রাবস্থায় এক তালাক প্রদানের পর উকিলের বক্তব্যকে তাৎক্ষণিক কার্যকর হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয় এবং তার পক্ষ থেকে তালাককে ভবিষ্যতের দিকে সম্বন্ধ করাও সহীহ নয়। ফলে দ্বিতীয় তালাকটি তার ওপর পতিত হবে না, যতক্ষণ না উকিল দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় তাকে নতুনভাবে তালাক প্রদান করেন। কারণ মুওয়াক্কিল কর্তৃক এক তালাক প্রদানের মাধ্যমে যেমন উকিল পদচ্যুত হয় না, তেমনি উকিলের পক্ষ থেকে প্রথমবার তালাক প্রদানের মাধ্যমেও সে পদচ্যুত হয় না; যেহেতু সে ক্ষেত্রে সে নির্দেশ পালন করেনি। আর আদেশের দায়িত্ব থেকে কেবল তখনই অব্যাহতি পাওয়া যায় যখন তা যথাযথভাবে পালন করা হয়। এমনকি যদি উকিলের পক্ষ থেকে বাক্যটি উচ্চারিত হয়...
—
[ব্যাখ্যা] এর মাধ্যমে বৈবাহিক বিচ্ছেদের বিনিময় ওয়াজিব হয়। আর যদি উকিল প্রথম পবিত্রাবস্থায় সুন্নাহ অনুযায়ী এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তাকে তালাক দেয় এবং স্বামী বলে, "তুমি একশ দীনারের বিনিময়ে তালাকপ্রাপ্তা" এবং সে "সুন্নাহ অনুযায়ী" কথাটি না বলে, অতঃপর স্ত্রী যদি সব গ্রহণ করে নেয়, তবে তালাক পতিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وَالْمُوكل مَعًا طلقت تَطْلِيقَة وَاحِدَة لوُجُود وَقت السّنة فِي حق الْوَاحِدَة وَلَا يتَعَيَّن طَلَاق الْوَكِيل وَلَا طَلَاق الْمُوكل كَمَا فِي الْفَصْل الأول إِذا أوقع الوكيلان مَعًا وَهُوَ سُؤال أبي يُوسُف رحمه الله على مُحَمَّد رحمه الله فِي مسئلة الْوَكِيل بالشرى إِذا لم تحضره الْبَيِّنَة عِنْد الشرى أَنه يصير مُشْتَريا لنَفسِهِ عِنْد مُحَمَّد رحمه الله لِأَن التَّصَرُّف بِحكم الْملك أقوى فَلَا يُعَارضهُ التَّصَرُّف بِحكم النِّيَابَة فَإِن هُنَا الْمُوكل يتَصَرَّف بِحكم الْملك أقوى فَلَا يُعَارضهُ التَّصَرُّف بِحكم النِّيَابَة فَإِن هُنَا الْمُوكل يتَصَرَّف بِحكم الْملك ثمَّ لم يتَعَيَّن طَلَاقه للوقوع وَلَكِن عِنْد مُحَمَّد أَن الْوَكِيل هَهُنَا سفير مَحْض لَا يتَعَلَّق بِهِ شَيْء من الْعهْدَة فَاسْتَوَى إِيقَاعه وإيقاع الْمُوكل وَهُنَاكَ الْوَكِيل يلْتَزم الْعهْدَة بمباشرته العقد لغيره والتزام الْعهْدَة بمباشرته العقد لنَفسِهِ أقوى فَلهَذَا ترجح جَانب الْملك على جَانب الْوكَالَة فَإِن طهرت من الْحَيْضَة الثَّانِيَة لم تقع عَلَيْهَا تَطْلِيقَة أُخْرَى لِأَنَّهُ إِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الاول طَلَاق الْوَكِيل وَقعت أُخْرَى فِي الطُّهْر الثَّانِي بإيقاع الزَّوْج وَإِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق الْمُوكل لم يَقع فِي الطُّهْر الثَّانِي
ــ
[الشرح] الزَّوْج عَلَيْهَا بِمِائَة دِينَار لِأَن طَلَاق الزَّوْج لَيْسَ بسني فَيَقَع تقدم أَو تَأَخّر وَطَلَاق الْوَكِيل للسّنة لَا يَقع إِلَّا إِذا تقدم والأقوى أولى وَالْوَكِيل انْعَزل بالبينونة وَلَا يَقع طَلَاقه أبدا سَوَاء تزَوجهَا بعد ذَلِك أَو لم يَتَزَوَّجهَا وَلَو قَالَ لَهُ طلق امْرَأَتي للسّنة وَلم يذكر المَال فَطلقهَا الْوَكِيل للسّنة فِي الطُّهْر وَقَالَ الزَّوْج أَنْت طَالِق وَلم يقل للسّنة وَخرج كَلَامهمَا مَعًا يَقع طَلَاق الزَّوْج
এবং মুয়াক্কিল (নিয়োগদাতা) একত্রে হলে একটি তালাক পতিত হবে, কারণ একজনের ক্ষেত্রে সুন্নাতী সময় বিদ্যমান রয়েছে। এক্ষেত্রে উকিলের (প্রতিনিধি) তালাক কিংবা মুয়াক্কিলের তালাক কোনোটিই নির্দিষ্ট হবে না, যেমনটি প্রথম পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যখন দুইজন উকিল একত্রে তালাক প্রদান করে। আর এটি ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর নিকট ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর সেই প্রশ্ন যা ক্রয়ের উকিল সংক্রান্ত মাসআলায় ছিল; যখন ক্রয়ের সময় তার কাছে কোনো সাক্ষ্য উপস্থিত থাকে না, তখন ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর নিকট সে নিজের জন্যই ক্রেতা বলে গণ্য হয়। কারণ মালিকানা সত্ত্বে হস্তক্ষেপ করা অধিক শক্তিশালী, তাই প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে হস্তক্ষেপ করা এর মোকাবিলা করতে পারে না। কেননা এখানে মুয়াক্কিল মালিকানা সত্ত্বে হস্তক্ষেপ করছেন। এরপরও পতিত হওয়ার ক্ষেত্রে তার তালাকটি নির্দিষ্ট হয়নি। তবে ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর নিকট এখানে উকিল নিছক একজন দূত মাত্র, তার সাথে দায়-দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে তার তালাক প্রদান এবং মুয়াক্কিলের তালাক প্রদান সমান হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে সেখানে (ক্রয়ের মাসআলায়) উকিল অন্যের জন্য চুক্তি সম্পাদন করার মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করে, আর নিজের জন্য চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করা অধিক শক্তিশালী; একারণেই সেখানে ওকালতের দিকের চেয়ে মালিকানার দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। সুতরাং যদি সে দ্বিতীয় ঋতু (হায়েজ) থেকে পবিত্র হয়, তবে তার ওপর অন্য কোনো তালাক পতিত হবে না। কারণ যদি প্রথম পবিত্রাবস্থায় (তুহর) পতিত তালাকটি উকিলের তালাক হয়ে থাকে, তবে দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় স্বামীর তালাক প্রদানের কারণে অন্য একটি তালাক পতিত হবে। আর যদি প্রথম পবিত্রাবস্থায় পতিত তালাকটি মুয়াক্কিলের তালাক হয়ে থাকে, তবে দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় কোনো তালাক পতিত হবে না।
—
[ব্যাখ্যা] স্বামীর পক্ষ থেকে তার ওপর একশ দীনারের বিনিময়ে; কারণ স্বামীর তালাক সুন্নাতী হওয়া আবশ্যক নয়, তাই তা আগে বা পরে সব অবস্থাতেই পতিত হয়। আর উকিলের সুন্নাতী তালাক কেবল তখনই পতিত হয় যখন তা আগে ঘটে, আর শক্তিশালী বিষয়টিই অধিকতর অগ্রগণ্য। বায়ন তালাক (বিচ্ছেদ) হয়ে যাওয়ার কারণে উকিল বরখাস্ত হয়ে যায়, ফলে তার তালাক আর কখনোই পতিত হবে না; চাই স্বামী তাকে পুনরায় বিয়ে করুক বা না করুক। আর যদি সে (স্বামী) তাকে বলে: 'আমার স্ত্রীকে সুন্নাত অনুযায়ী তালাক দাও' এবং মালের (অর্থের) কথা উল্লেখ না করে, অতঃপর উকিল তাকে পবিত্রাবস্থায় সুন্নাত অনুযায়ী তালাক দেয় এবং স্বামীও বলে 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা' কিন্তু সুন্নাতের কথা উল্লেখ না করে, আর তাদের উভয়ের কথা একসাথে প্রকাশিত হয়, তবে স্বামীর তালাকই পতিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
شَيْء وَالطَّلَاق بِالشَّكِّ لَا يَقع فَإِن قَالَ لَهَا الْوَكِيل فِي الطُّهْر الثَّانِي أَنْت طَالِق تقع تَطْلِيقَة أُخْرَى لأَنا نتيقن بِوُقُوع الثَّانِيَة الْآن فَإِن الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول إِن كَانَ طَلَاق الْمُوكل يَقع فِي الطُّهْر الثَّانِي بإيقاع الْوَكِيل وَإِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق الْوَكِيل يَقع طَلَاق الْمُوكل كَمَا طهرت فَلهَذَا طلقت ثِنْتَيْنِ وَلَو لم يطلقهَا الْوَكِيل فِي الطُّهْر الثَّانِي وَلَكِن الزَّوْج قَالَ لَهَا فِي الطُّهْر الثَّانِي أَنْت طَالِق تَطْلِيقَة للسّنة وَقعت عَلَيْهَا تَطْلِيقَة أُخْرَى لِأَنَّهُ إِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول
ــ
[الشرح] وَهَذَا ظَاهر لَكِن هُنَا لَا يَنْعَزِل الْوَكِيل لعدم الْبَيْنُونَة حَتَّى لَو أوقعهَا فِي الطُّهْر الثَّانِي للسّنة يَقع وَكَذَا لَو سبق الزَّوْج بالإيقاع فَأَما لَو سبق الْوَكِيل ثمَّ طَلقهَا الزَّوْج لغير السّنة تقع طَلْقَتَانِ لِأَن وُقُوع الأول لَا يمْنَع وُقُوع الْأُخْرَى إِذا لم تتقيد بِالسنةِ وَلَو وكل رجلا بِأَن يطلقهَا تَطْلِيقَة بَائِنَة للسّنة
কিছু এবং সন্দেহের মাধ্যমে তালাক পতিত হয় না। সুতরাং যদি উকিল দ্বিতীয় তুহরে তাকে বলে, "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে অন্য একটি তালাক পতিত হবে। কারণ আমরা এখন দ্বিতীয় তালাকটি পতিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত। কেননা প্রথম তুহরে যা পতিত হয়েছিল তা যদি মুওয়াক্কিলের (মূল স্বামী) তালাক হয়ে থাকে, তবে উকিলের তালাক প্রদানের মাধ্যমে দ্বিতীয় তুহরে তালাক পতিত হবে। আর যদি প্রথম তুহরে উকিলের তালাক পতিত হয়ে থাকে, তবে সে পবিত্র হওয়ার সাথে সাথে মুওয়াক্কিলের তালাক পতিত হবে। একারণেই দুই তালাক পতিত হবে। আর যদি উকিল দ্বিতীয় তুহরে তাকে তালাক না দেয়, কিন্তু স্বামী তাকে দ্বিতীয় তুহরে বলে, "সুন্নাহ অনুযায়ী তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে তার ওপর অন্য একটি তালাক পতিত হবে। কারণ যদি প্রথম তুহরে যা পতিত হয়েছিল—
—
[ব্যাখ্যা] এবং এটি স্পষ্ট, তবে এখানে বাইনুনাত (বিচ্ছেদ) না হওয়ার কারণে উকিল বরখাস্ত হবে না; এমনকি সে যদি সুন্নাহ অনুযায়ী দ্বিতীয় তুহরে তালাক পতিত করে তবে তা পতিত হবে। অনুরূপভাবে যদি স্বামী তালাক প্রদানে অগ্রগামী হয় (তবে তা পতিত হবে)। পক্ষান্তরে যদি উকিল অগ্রগামী হয় এবং এরপর স্বামী তাকে সুন্নাহ বহির্ভূতভাবে তালাক দেয়, তবে দুই তালাক পতিত হবে। কারণ প্রথমটি পতিত হওয়া অন্যটি পতিত হওয়াকে বাধা দেয় না যখন তা সুন্নাহর সাথে সীমাবদ্ধ থাকে না। আর যদি কোনো ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে সুন্নাহ অনুযায়ী তাকে এক তালাক-ই-বাইন দেওয়ার জন্য উকিল নিযুক্ত করে—
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৪২)
طَلَاق الْمُوكل وَقعت الثَّانِيَة بإيقاعه الْآن وَأَن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق الْوَكِيل وَقع طَلَاق الْمُوكل كَمَا طهرت فَلَا تقع الثَّانِيَة بِهَذَا الْإِيقَاع من الزَّوْج لِأَنَّهُ لم يُصَادف وَقت السّنة فَلهَذَا لَا يَقع الاثنتين فَإِن طهرت من الْحَيْضَة الْأُخْرَى لم تقع عَلَيْهَا الثَّالِثَة لِأَن إِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطهرين مَا أوقعه الزَّوْج لم تقع الثَّالِثَة فِي الطُّهْر الثَّالِث وَالطَّلَاق بِالشَّكِّ لايقع فَلهَذَا لم تطلق الثَّالِثَة إِلَّا أَن يوقعها الْوَكِيل فِي هَذَا الطُّهْر أَو الزَّوْج فَحِينَئِذٍ نتيقن بِوُقُوع الثَّالِثَة فَيصير مُطلقًا ثَلَاثًا
قَالَ رجل قَالَ لامْرَأَته وَقد دخل بهَا أَنْت طَالِق تَطْلِيقَة بَائِنَة للسّنة طلقت بَائِنَة حِين تطهر من حَيْضهَا لِأَن قَوْله للسّنة مَعْنَاهُ لوقت السّنة والتطليقة البائنة للسّنة تكون على رِوَايَة هَذَا الْكتاب بخلاق مَا قَالَ فِي الأَصْل إِن من طلق امْرَأَته تَطْلِيقَة بَائِنَة فقد أَخطَأ السّنة وَوجه تِلْكَ الرِّوَايَة أَن إِبَاحَة الطَّلَاق لأجل الْحَاجة وَلَا حَاجَة إِلَى إِيقَاع صفة
ــ
[الشرح] وَالْآخر أَن يطلقهَا رَجْعِيَّة للسّنة فطلقاها مَعًا فِي الطُّهْر كِلَاهُمَا بَائِنا أَو كِلَاهُمَا رَجْعِيًا أَو أَحدهمَا بَائِنا وَالْآخر رجيعا تقع طَلْقَة وَاحِد للسّنة لِأَن
মক্কেলের তালাক প্রদানের মাধ্যমে এখন দ্বিতীয় তালাকটি পতিত হয়েছে। আর যদি প্রথম পবিত্র অবস্থায় (তুহর) প্রতিনিধির তালাক পতিত হয়ে থাকে, তবে মক্কেলের তালাকটি স্ত্রী পুনরায় পবিত্র হওয়ার সময় পতিত হবে। এমতাবস্থায় স্বামীর এই তালাক প্রদানের মাধ্যমে দ্বিতীয় তালাকটি পতিত হবে না, কারণ তা সুন্নাহ সম্মত সময়ের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়নি। একারণে এখানে দুই তালাক পতিত হবে না। অতঃপর সে যদি পরবর্তী ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হয়, তবে তার ওপর তৃতীয় তালাক পতিত হবে না। কারণ, দুই পবিত্র অবস্থায় যা পতিত হয়েছে তা যদি স্বামীর তালাক হয়ে থাকে, তবে তৃতীয় পবিত্র অবস্থায় তৃতীয় তালাক পতিত হবে না। আর সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক পতিত হয় না। একারণে তৃতীয় তালাক পতিত হবে না, যতক্ষণ না প্রতিনিধি এই পবিত্র অবস্থায় তা প্রদান করে অথবা স্বামী নিজে প্রদান করে। তখন আমরা তৃতীয় তালাক পতিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হব এবং সে তিন তালাকপ্রাপ্তা হিসেবে গণ্য হবে।
এক ব্যক্তি তার সহবাসকৃত স্ত্রীকে বলল, "তোমাকে সুন্নাহ অনুযায়ী এক বায়েন তালাক দিলাম।" সেক্ষেত্রে সে যখন ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হবে তখন এক বায়েন তালাক পতিত হবে। কারণ, তার "সুন্নাহ অনুযায়ী" কথাটির অর্থ হলো "সুন্নাহ সম্মত সময়ের জন্য"। আর এই কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী সুন্নাহ মোতাবেক বায়েন তালাক হওয়া সম্ভব, যা 'আল-আসল' কিতাবের বর্ণনার বিপরীত। সেখানে বলা হয়েছে যে, কেউ যদি স্ত্রীকে এক বায়েন তালাক দেয়, তবে সে সুন্নাহর ক্ষেত্রে ভুল করল। ওই বর্ণনার প্রেক্ষাপট হলো, তালাকের বৈধতা কেবল প্রয়োজনের খাতিরে দেওয়া হয়েছে, আর তালাকের অতিরিক্ত কোনো বৈশিষ্ট্য (বায়েন হওয়া) আরোপ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
--
[ব্যাখ্যা] এবং অপরটি হলো তাকে সুন্নাহ অনুযায়ী রাজয়ী তালাক প্রদান করা। অতঃপর তারা উভয়ে পবিত্র অবস্থায় তাকে একসাথে তালাক প্রদান করল—উভয়েই বায়েন তালাক দিল অথবা উভয়েই রাজয়ী তালাক দিল অথবা একজন বায়েন ও অন্যজন রাজয়ী তালাক দিল—তবে সুন্নাহ অনুযায়ী একটি তালাকই পতিত হবে, কারণ
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
الْبَيْنُونَة فَكَانَت زِيَادَة هَذِه الصّفة كزيادة تَطْلِيقَة أُخْرَى بل أَكثر لِأَن زِيَادَة هَذِه الصّفة تزيل الْملك وَضم الثَّانِيَة إِلَى الأولى لَا يزِيل الْملك وَوجه هَذِه الرِّوَايَة أَن الصّفة تتبع الأَصْل لِأَنَّهَا لَا تقوم بِنَفسِهَا فثبوت الْإِبَاحَة فِي الأَصْل يَقْتَضِي ثُبُوت الْإِبَاحَة فِي التبع أَلا ترى أَن إِيقَاع الطَّلَاق قبل الدُّخُول بهَا مُبَاح وَلَا يتَوَقَّف الْإِبَاحَة على وجود الدُّخُول ليَكُون الْوَاقِع بعده رَجْعِيًا وَكَذَلِكَ الْخلْع مُبَاح بقضية النَّص وَهُوَ قَوْله تَعَالَى {فَلَا جنَاح عَلَيْهِمَا فِيمَا افتدت بِهِ} وَالْوَاقِع بِالْخلْعِ تَطْلِيقَة بَائِنَة فَدلَّ أَن البائنة تكون للسّنة وَذكر فِي الْكتاب أَن الْخلْع فِي حَالَة الْحيض وَفِي طهر قد جَامعهَا فِيهِ مَكْرُوه اعْتِبَارا للطَّلَاق بعوض بِالطَّلَاق بِغَيْر عوض وَعَن أبي حنيفَة فِي غير رِوَايَة الْأُصُول أَنه لَا يكون مَكْرُوها لِأَن الْخلْع لَا
ــ
[الشرح] الطَّلَاق يَقع على الصّفة الَّتِي أَمر بهَا الزَّوْج لَكِن شككنا فِي كَون الْوَاقِع رجععيا أَو بَائِنا وَالتَّعْيِين إِلَى الزَّوْج لِأَن التَّعْيِين مُفِيد وَصَارَ كَقَوْل الزَّوْج أَنْت طَالِق بَائِن أَو رَجْعِيّ فَإِذا حَاضَت وطهرت فَقَالَ لَهَا الْوَكِيل بالبائن أَنْت طَالِق بَائِن بَانَتْ بِيَقِين وَلَا رَجْعَة للزَّوْج لِأَن الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول إِن كَانَ طَلَاقه
বিচ্ছেদ (বাইনুনাত); সুতরাং এই বৈশিষ্ট্যের আধিক্য অন্য একটি তালাক বৃদ্ধির মতো, বরং তার চেয়েও বেশি। কারণ এই বৈশিষ্ট্যের আধিক্য মালিকানা বিলুপ্ত করে দেয়, অথচ প্রথমটির সাথে দ্বিতীয়টিকে যুক্ত করা মালিকানা বিলুপ্ত করে না। এই বর্ণনার যৌক্তিক দিক হলো, বৈশিষ্ট্য মূলের অনুগামী হয়, কারণ তা নিজে নিজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। সুতরাং মূলে বৈধতা সাব্যস্ত হওয়া অনুগামী বিষয়েও বৈধতা সাব্যস্ত হওয়ার দাবি রাখে। আপনি কি দেখেন না যে, সহবাসের পূর্বে তালাক প্রদান বৈধ? আর এই বৈধতা সহবাসের অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল নয় যাতে পরবর্তীতে তা রাজঈ তালাক হিসেবে গণ্য হয়। অনুরূপভাবে খুলা-ও শরয়ী দলিলের (নস) ভিত্তিতে বৈধ, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তবে স্ত্রী যা দিয়ে নিজেকে মুক্ত করে নেয় (বিনিময় দেয়), তাতে তাদের উভয়ের কোনো পাপ নেই}। আর খুলার মাধ্যমে যা সংঘটিত হয় তা হলো এক 'বাইন' তালাক; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, বাইন তালাক সুন্নাহ মোতাবেক হতে পারে। কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঋতুকালীন অবস্থায় এবং এমন পবিত্র অবস্থায় যাতে স্বামী তার সাথে সহবাস করেছে—তাতে খুলা করা মাকরূহ; বিনিময়যুক্ত তালাককে বিনিময়হীন তালাকের সাথে তুলনা করার কারণে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে 'রিওয়ায়াতে উসুল' (মূল বর্ণনা) এর বাইরে বর্ণিত আছে যে, তা মাকরূহ হবে না, কারণ খুলা তো...
—
[ব্যাখ্যা] তালাক সেই বৈশিষ্ট্যের ওপর পতিত হবে যা স্বামী নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু পতিত তালাকটি রাজঈ নাকি বাইন—সে বিষয়ে আমাদের মাঝে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আর বিষয়টি নির্ধারণ করার এখতিয়ার স্বামীর, কারণ নির্ধারণ করা ফলপ্রসূ। এটি স্বামীর এই উক্তির মতো হয়ে গেল যে: "তুমি বাইন অথবা রাজঈ তালাকপ্রাপ্তা।" সুতরাং সে ঋতুবতী হওয়ার পর যখন পবিত্র হলো, তখন বাইন তালাকের উকিল (প্রতিনিধি) তাকে যদি বলে: "তুমি বাইন তালাকপ্রাপ্তা", তবে সে নিশ্চিতভাবে বিচ্ছিন্ন (বাইন) হয়ে যাবে এবং স্বামীর জন্য কোনো প্রত্যাবর্তনের সুযোগ (রজআত) থাকবে না। কারণ প্রথম পবিত্র অবস্থায় যদি তার তালাক পতিত হয়ে থাকে...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
يكون إِلَّا عِنْد النُّشُوز وَالْحَاجة وَاعْتِبَار زمَان الطُّهْر إِنَّمَا يكون ليَكُون دَلِيلا على عدم مُوَافقَة الْأَخْلَاق وَالْخلْع يَكْفِي دَلِيلا عَلَيْهِ فالطهر وَالْحيض فِيهِ سَوَاء
وَلَو قَالَ لرجل طلق امْرَأَتي وَاحِدَة للسّنة بِأَلف دِرْهَم وَقَالَ لآخر طَلقهَا وَاحِدَة للسّنة بِمِائَة دِينَار فَطلقهَا كل وَاحِد مِنْهُمَا مَعًا فِي وَقت السّنة وَقبلت هِيَ مِنْهُمَا وَقعت عَلَيْهَا تَطْلِيقَة وَاحِدَة لما بَينا أَن الطُّهْر الْوَاحِد لايكون محلا لأكْثر من طَلَاق وَاحِد للسّنة وإيقاع الوكيلين فِيمَا يتنجز فِي هَذَا الطُّهْر كإيقاع الْمُوكل بِنَفسِهِ وَإِذا وَقع عَلَيْهَا أحد التطليقتين لَزِمَهَا أحد الْمَالَيْنِ وَلَا خِيَار فِي تَعْيِينه إِلَى الوكيلين لِأَنَّهُمَا كَانَا سفيرين خرجا من الْوسط بالإيقاع وَلَا خِيَار للزَّوْج أَيْضا لِأَن فِي جَانِبه إِيقَاع الطَّلَاق فَأَي الطلاقين وَقع فَالْحكم فِي جَانِبه سَوَاء فَلَا خِيَار لَهُ كَمَا لَو كَانَا بِغَيْر عوض وَإِنَّمَا الْخِيَار للْمَرْأَة لِأَن المَال يجب عَلَيْهَا
ــ
[الشرح] فقد بَانَتْ وَإِن كَانَ الْوَاقِع طَلَاق صَاحبه بَقِي هُوَ وَكيلا فَتَصِح إبانته فِي الطُّهْر الثَّانِي لَكِن لَا تقع طَلْقَة أُخْرَى لوُقُوع الشَّك فِيهَا وَلَو كَانَ الْوَكِيل بالرجعي هُوَ الَّذِي ثنى فِي الطُّهْر الثَّانِي فَللزَّوْج الرّجْعَة لوُقُوع الشَّك فِي صفة الْبَيْنُونَة
এটি অবাধ্যতা ও প্রয়োজনীয়তা ছাড়া হয় না। আর পবিত্রতার সময়কে (তুহর) বিবেচনায় নেওয়া কেবল এজন্য হয় যাতে এটি স্বভাবগত অমিলের দলিল হতে পারে। অথচ খোলা (খুলআ) নিজেই এর জন্য দলিল হিসেবে যথেষ্ট। অতএব, এতে (খুলআর ক্ষেত্রে) পবিত্রতার সময় এবং ঋতুস্রাবের সময় উভয়ই সমান।
যদি স্বামী এক ব্যক্তিকে বলে: "আমার স্ত্রীকে সুন্নাহ অনুযায়ী এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে এক তালাক দাও", আর অন্য ব্যক্তিকে বলে: "তাকে সুন্নাহ অনুযায়ী একশত দিনারের বিনিময়ে এক তালাক দাও"; অতঃপর তাদের প্রত্যেকেই সুন্নাহর সময়ে তাকে একসাথে তালাক প্রদান করে এবং স্ত্রী তাদের উভয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করে নেয়, তবে তার ওপর একটি তালাকই কার্যকর হবে। কারণ আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে, সুন্নাহ তালাকের ক্ষেত্রে একটি পবিত্র সময় (তুহর) একাধিক তালাকের ক্ষেত্র হতে পারে না। আর এই পবিত্র সময়ে দুই উকিলের তালাক কার্যকর করার বিষয়টি স্বয়ং মুওয়াক্কিল (স্বামী) কর্তৃক তালাক দেওয়ার মতোই। আর যখন তার ওপর দুই তালাকের মধ্যে একটি কার্যকর হলো, তখন তার ওপর দুটি মালের (বিনিময়ের) যেকোনো একটি প্রদান করা আবশ্যক হবে। আর এই মাল নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে দুই উকিলের কোনো ইখতিয়ার (পছন্দ করার ক্ষমতা) থাকবে না, কারণ তারা ছিল কেবল প্রতিনিধি যারা তালাক কার্যকর করার মাধ্যমে মধ্যস্থতা থেকে বেরিয়ে গেছে। স্বামীরও কোনো ইখতিয়ার থাকবে না, কারণ তার পক্ষ থেকে তালাক কার্যকর হয়ে গেছে, সুতরাং যে তালাকই কার্যকর হোক না কেন তার ক্ষেত্রে হুকুম সমান; তাই তার কোনো ইখতিয়ার নেই যেমনটি বিনিময়হীন তালাকের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। মূলত ইখতিয়ার থাকবে স্ত্রীর জন্য, কারণ মাল (বিনিময়) প্রদান করা তার ওপরই আবশ্যক।
──
[ব্যাখ্যা] অতঃপর সে বায়েন (বিচ্ছিন্ন) হয়ে যাবে। আর যদি তার সঙ্গীর প্রদানকৃত তালাকটি কার্যকর হয়ে থাকে, তবে সে উকিল হিসেবেই বহাল থাকবে এবং দ্বিতীয় তুহরে তার তালাক প্রদান করা সহীহ হবে; কিন্তু সন্দেহের উদ্রেক হওয়ার কারণে দ্বিতীয় কোনো তালাক কার্যকর হবে না। আর রাজয়ী (প্রত্যাবর্তনযোগ্য) তালাকের উকিল যদি দ্বিতীয় তুহরে পুনরায় তালাক দেয়, তবে তালাকটি বায়েন হওয়ার প্রকৃতির ক্ষেত্রে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ার কারণে স্বামীর জন্য রাজআত (প্রত্যাবর্তনের) সুযোগ থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
فلهَا أَن تعين مَا التزمت من المَال فَإِن اخْتَارَتْ الدَّرَاهِم ثمَّ طهرت من الْحَيْضَة الثَّانِيَة فَطلقهَا الْوَكِيل بِالطَّلَاق بِالدَّنَانِيرِ فَقبلت أَو طَلقهَا الْوَكِيل الآخر أَو طلقاها جَمِيعًا مَعًا فَذَلِك كُله بَاطِل لِأَن من وَقع الطَّلَاق مِنْهُ فِي الطُّهْر الأول لَا يَقع مِنْهُ فِي الطُّهْر الثَّانِي شَيْء وَقد انْعَزل الْوَكِيل الآخر بِوُقُوع الْبَيْنُونَة لِأَن عِنْد التَّوْكِيل كَانَت مَنْكُوحَة وَقد بَينا أَن الْوَكِيل بِالْخلْعِ يَنْعَزِل بِوُقُوع الْفرْقَة بعد التَّوْكِيل لِأَنَّهُ لَو وَقع الطَّلَاق بإيقاعه وَقع بِغَيْر جعل وَالزَّوْج لم يرض بذلك فَلهَذَا لم يَقع عَلَيْهَا فِي الطُّهْر الثَّانِي شَيْء وَكَذَلِكَ إِن تزَوجهَا ثمَّ طَلقهَا أَحدهمَا أَو طلقاها لِأَن الْوَكِيل قد انْعَزل كَمَا بَينا فَلَا يعود وَكيلا إِلَّا بنجديد عقد الْوكَالَة وَإِنَّمَا كَانَ وَكيلا بِإِزَالَة الْملك الأول وَهَذَا ملك متجدد سوى الأول
وَلَو قَالَ لوكيل وَاحِد طَلقهَا وَاحِدَة للسّنة بِأَلف دِرْهَم فَفعل
ــ
[الشرح] وَالْخيَار بِحَالهِ فَإِن اخْتَار الزَّوْج للبائن فِي الطُّهْر الأول يَقع الثَّانِي فِي الطُّهْر الثَّانِي بإيقاع الْوَكِيل بالرجعي لِأَنَّهُ بَقِي وَكيلا والصريح يلْحق الْبَائِن وَإِن اخْتَار الرَّجْعِيّ فِي الطُّهْر الأول لَا يَقع غَيره لِأَن الْوَكِيل بالرجعي انْتهى وكَالَته فَلَا يَصح إِيقَاعه فِي الطُّهْر الثَّانِي وَإِن أوقعا فِي الطُّهْر الثَّانِي مَعًا أَو على
সে যে পরিমাণ অর্থ প্রদানের অঙ্গীকার করেছে তা নির্ধারণ করার অধিকার তার রয়েছে। সুতরাং সে যদি দিরহাম বেছে নেয়, এরপর দ্বিতীয় ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হয় এবং এমতাবস্থায় দিনারের বিনিময়ে তালাক প্রদানের প্রতিনিধি তাকে তালাক দেয় ও সে তা কবুল করে, অথবা অন্য প্রতিনিধি তাকে তালাক দেয়, কিংবা তারা উভয়ে মিলে তাকে তালাক দেয়—তবে এর সবই বাতিল বলে গণ্য হবে। কারণ, যার মাধ্যমে প্রথম পবিত্রাবস্থায় তালাক পতিত হয়েছে, দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় তার মাধ্যমে আর কিছুই পতিত হবে না। আর বায়িন তালাক পতিত হওয়ার মাধ্যমে অন্য প্রতিনিধি পদচ্যুত হয়ে গেছে। কেননা প্রতিনিধিত্ব প্রদানের সময় সে বিবাহিতা ছিল। আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে, খুল’ এর প্রতিনিধি প্রতিনিধিত্ব প্রদানের পর বিচ্ছেদ ঘটে গেলে পদচ্যুত হয়ে যায়। কারণ তার তালাক প্রদানের মাধ্যমে যদি তালাক পতিত হয়, তবে তা বিনিময় ছাড়াই পতিত হবে, অথচ স্বামী তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। এই কারণেই দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় তার ওপর আর কোনো তালাক পতিত হবে না। অনুরূপভাবে স্বামী যদি তাকে পুনরায় বিবাহ করে এবং এরপর তাদের কোনো একজন বা উভয়ই তাকে তালাক দেয় (তবে তাও কার্যকর হবে না); কারণ প্রতিনিধি যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি পদচ্যুত হয়ে গেছে, তাই নতুনভাবে প্রতিনিধিত্বের চুক্তি ছাড়া সে পুনরায় প্রতিনিধি হবে না। সে কেবল প্রথম দাম্পত্য অধিকার বিলুপ্ত করার প্রতিনিধি ছিল, আর এটি প্রথমটি বাদে এক নতুন মালিকানা।
আর স্বামী যদি একজন প্রতিনিধিকে বলে, তাকে সুন্নাত অনুযায়ী এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে এক তালাক দাও, এবং সে তা করল।
--
[ব্যাখ্যা]
পছন্দ করার অধিকার বহাল থাকবে। স্বামী যদি প্রথম পবিত্রাবস্থায় বায়িন তালাকদাতার বিষয়টি পছন্দ করে, তবে দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় রাজয়ী তালাকদাতার তালাক প্রদানের মাধ্যমে দ্বিতীয় তালাক পতিত হবে। কারণ সে প্রতিনিধি হিসেবে বহাল রয়েছে এবং স্পষ্ট তালাক বায়িন তালাকের অনুগামী হয়। আর স্বামী যদি প্রথম পবিত্রাবস্থায় রাজয়ী তালাকদাতার বিষয়টি পছন্দ করে, তবে অন্য কোনো তালাক পতিত হবে না। কারণ রাজয়ী তালাকদাতার প্রতিনিধিত্ব শেষ হয়ে গেছে, তাই দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় তার তালাক প্রদান সঠিক হবে না। আর যদি তারা উভয়ে দ্বিতীয় পবিত্রাবস্থায় একসঙ্গে তালাক দেয় অথবা...
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
الْوَكِيل ذَلِك وَطَلقهَا الزَّوْج وَاحِدَة للسّنة بِمِائَة دِينَار فَقبلت ذَلِك كُله وَقد خرج الكلامان مَعًا طلقت وَاحِدَة لما بَينا وَعَلَيْهَا أحد الْمَالَيْنِ لِأَن الْوَاقِع إِحْدَى التطليقتين بِغَيْر عينهَا فَإِنَّهُ لَيْسَ طَلَاق الْمُوكل بأقوى من طَلَاق الْوَكِيل كَمَا لَو كَانَا بِغَيْر عوض وَالْخيَار إِلَيْهَا تعطيه أَي الْمَالَيْنِ شَاءَت بِمَنْزِلَة مَا لَو كَانَ الزَّوْج قَالَ لَهَا أَنْت طَالِق بِأَلف دِرْهَم أَو بِمِائَة دِينَار فَقبلت كَانَ الْخِيَار إِلَيْهَا تعطيه أَي الْمَالَيْنِ شَاءَت وَالطَّلَاق الْوَاقِع بَائِن لِأَنَّهُ وَقع بحعل فَإِن طهرت من الْحَيْضَة الثَّانِيَة لم يَقع عَلَيْهَا شَيْء آخر لِأَنَّهُ إِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق الزَّوْج لَغَا إِيقَاع الْوَكِيل وَالطَّلَاق بِالشَّكِّ لَا يَقع فَإِن قَالَ لَهَا الْوَكِيل حِين طهرت من الْحَيْضَة الثَّانِيَة أَنْت طَالِق للسّنة بألق دِرْهَم فَقبلت لم يَقع عَلَيْهَا شَيْء آخر أَيْضا لِأَنَّهُ إِن كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق الْوَكِيل لم يَقع بإيقاعه فِي الطُّهْر الثَّانِي شَيْء وَلَو كَانَ الْوَاقِع فِي الطُّهْر الأول طَلَاق
ــ
[الشرح]48 - التَّعَاقُب وَقع تَطْلِيقَتَانِ وَبَانَتْ بِالْأولِ أَو بِالثَّانِي وَلَو أمره بَان يطلقهَا بَائِنَة للسّنة فَفعل الْوَكِيل ذَلِك فِي الطُّهْر وَقَالَ الزَّوْج أَنْت طَالِق تَطْلِيقَة رَجْعِيَّة للسّنة
ওকিল তা করল এবং স্বামী তাকে সুন্নাহ মোতাবেক একশত দিনারের বিনিময়ে এক তালাক দিল। অতঃপর স্ত্রী এই সবকিছুই কবুল করল। যেহেতু উভয় কথা একসাথে উচ্চারিত হয়েছে, তাই আমাদের পূর্বে বর্ণিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী একটি তালাক পতিত হবে এবং স্ত্রীর জিম্মায় দুই প্রকার মালের (অর্থের) যেকোনো একটি প্রদান করা আবশ্যক হবে। কারণ দুই তালাকের মধ্য হতে অনির্দিষ্টভাবে একটি কার্যকর হয়েছে। কেননা মুয়াক্কিল (স্বামী)-এর তালাক ওকিল (প্রতিনিধি)-এর তালাকের চেয়ে অধিক শক্তিশালী নয়, যেমনটি হতো যদি তা কোনো বিনিময় ছাড়া হতো। আর ইখতিয়ার বা পছন্দ করার অধিকার স্ত্রীর থাকবে; সে দুই মালের মধ্য থেকে যা ইচ্ছা তা প্রদান করবে। এটি ঐ মাসআলার মতো, যদি স্বামী তাকে বলত: "তোমাকে এক হাজার দিরহাম অথবা একশ দিনারের বিনিময়ে তালাক দিলাম," আর সে তা কবুল করল। সেক্ষেত্রে পছন্দ করার অধিকার স্ত্রীরই থাকে, সে দুই মালের মধ্য হতে যা ইচ্ছা তা প্রদান করবে। আর পতিত তালাকটি 'বায়েন' বা বিচ্ছেদকারী হবে, কারণ তা বিনিময়ের মাধ্যমে ঘটেছে। অতঃপর স্ত্রী যদি দ্বিতীয় ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হয়, তবে তার ওপর আর কোনো তালাক পতিত হবে না। কারণ প্রথম পবিত্র অবস্থায় (তুহুর) যদি স্বামীর তালাকটি পতিত হয়ে থাকে, তবে ওকিলের তালাক প্রদান করাটি নিরর্থক বলে গণ্য হবে, আর সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক পতিত হয় না। অতঃপর স্ত্রী যখন দ্বিতীয় ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হলো, তখন যদি ওকিল তাকে বলে: "তোমাকে সুন্নাহ মোতাবেক এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে তালাক দিলাম" এবং সে তা কবুল করে, তবে তার ওপর পুনরায় আর কোনো তালাক পতিত হবে না। কারণ যদি প্রথম পবিত্র অবস্থায় ওকিলের তালাকটি কার্যকর হয়ে থাকে, তবে দ্বিতীয় পবিত্র অবস্থায় তার পুনরায় তালাক প্রদানের মাধ্যমে নতুন কিছু ঘটবে না। আর যদি প্রথম পবিত্র অবস্থায় পতিত তালাকটি...
--
[ব্যাখ্যা]48 - পর্যায়ক্রমিক বা ধারাবাহিকভাবে তালাক দিলে দুটি তালাকই পতিত হবে এবং প্রথমটি বা দ্বিতীয়টির মাধ্যমে স্ত্রী বায়েন (বিচ্ছিন্ন) হয়ে যাবে। আর যদি স্বামী তাকে (ওকিলকে) নির্দেশ দেয় যে সে যেন তাকে সুন্নাহ অনুযায়ী 'বায়েন' তালাক দেয়, অতঃপর ওকিল পবিত্র অবস্থায় তা করল এবং স্বামী বলল: "তোমাকে সুন্নাহ মোতাবেক এক তালাক 'রাজয়ি' প্রদান করলাম।"
(খণ্ড: ১)
আন নুকাত শারহু যিয়াদাতিল যিয়াদাতি লিস সারাখসি - ওয়া শারহুল ইতাবী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْمُوكل فقد انْعَزل الْوَكِيل لِأَنَّهَا قد بَانَتْ بإيقاع الْمُوكل فَلهَذَا لَا يَقع شَيْء وَاخْتِيَار الْمَرْأَة أَدَاء الْألف لَا يكون دَلِيلا على أَن الْوَاقِع طَلَاق الْوَكِيل وَكَذَلِكَ اخْتِيَارهَا أَدَاء الدَّنَانِير لَا يكون دَلِيلا على أَن الْوَاقِع طَلَاق الْمُوكل لِأَن المَال ينْفَصل عَن الطَّلَاق أَدَاء كَمَا ينْفَصل وجوبا على مَا بَينا أَنه لَو طلق المبانة بِمَال وَقع الطَّلَاق وَلَا يجب المَال وَلِأَن المَال تكْثر أَسبَاب وُجُوبه فِي الْجُمْلَة وَولَايَة التَّعْيِين لَهَا فِي المَال دون الطَّلَاق فَلَا يكون تَعْيِينهَا المَال مُوجبا تعْيين الطَّلَاق أَلا ترى أَنه لَو كَانَ اُحْدُ الْمَالَيْنِ ألف دِرْهَم وَالْآخر ألفي دِرْهَم يلْزمهَا أقل الْمَالَيْنِ لكَونه متيقنا بِهِ وَلَا يكون ذَلِك دَلِيلا على أَن الْوَاقِع هُوَ الطَّلَاق الَّذِي قوبل بِأَقَلّ الْمَالَيْنِ فَكَذَا إِذا تعين أحد الْمَالَيْنِ بتعيينها وَلَو كَانَ الْوَكِيل قَالَ لَهَا حِين طهرت أَنْت طَالِق وَاحِدَة للسّنة بِأَلف دِرْهَم وَقَالَ لَهَا الزَّوْج أَنْت طَالِق
ــ
[الشرح]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
মুওয়াক্কিল (নিয়োগদাতা), তবে উকিল (প্রতিনিধি) অপসারিত হয়ে গেছে; কেননা মুওয়াক্কিলের তালাক প্রদানের মাধ্যমেই সে (স্ত্রী) বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই কারণে (উকিলের কাজের মাধ্যমে) কিছুই পতিত হবে না। আর মহিলার এক হাজার (দিরহাম) প্রদান করাকে গ্রহণ করা এই কথার দলিল হবে না যে, পতিত তালাকটি উকিলের তালাক। অনুরূপভাবে, তার দিনার প্রদান করাকে গ্রহণ করা এই কথার দলিল হবে না যে, পতিত তালাকটি মুওয়াক্কিলের তালাক। কারণ সম্পদ পরিশোধের ক্ষেত্রে তালাক থেকে পৃথক হয়ে থাকে, যেমনটি ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রেও পৃথক থাকে; যা আমরা বর্ণনা করেছি যে, যদি কেউ বায়েন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে সম্পদের বিনিময়ে তালাক দেয়, তবে তালাক পতিত হবে কিন্তু সম্পদ ওয়াজিব হবে না। আর যেহেতু সাধারণভাবে সম্পদ ওয়াজিব হওয়ার কারণসমূহ অনেক হয়ে থাকে এবং তালাকের পরিবর্তে সম্পদের ক্ষেত্রে তার (মহিলার) নির্ধারণ করার অধিকার থাকে, তাই তার সম্পদ নির্ধারণ করা তালাক নির্ধারিত হওয়ার কারণ হবে না। আপনি কি দেখেন না যে, যদি দুটি সম্পদের একটি এক হাজার দিরহাম এবং অন্যটি দুই হাজার দিরহাম হয়, তবে তার ওপর দুটি মালের মধ্যে ন্যূনতমটি আবশ্যক হবে; কেননা তা সুনিশ্চিত। আর এটি এই কথার দলিল হবে না যে, পতিত তালাকটি সেই তালাক যার বিপরীতে ন্যূনতম মাল ছিল। সুতরাং অনুরূপভাবে যখন তার নির্ধারণের মাধ্যমে দুটি মালের একটি নির্ধারিত হয়। আর যদি উকিল তাকে পবিত্র হওয়ার সময় বলে যে, "এক হাজার দিরহামের বিনিময়ে সুন্নাহ অনুযায়ী তুমি এক তালাক," এবং স্বামী তাকে বলে যে, "তুমি তালাক..."
--
[ব্যাখ্যা]. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .