(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: -)
القناعة والتعفف   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: القناعة والتعفف

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

دراسة وتحقيق: مصطفى عبد القادر عطا

الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1413 هـ - 1993 م

عدد الصفحات: 80

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

অল্পেতুষ্টি ও চারিত্রিক পবিত্রতা   (ইবন আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


গ্রন্থ: অল্পেতুষ্টি ও চারিত্রিক পবিত্রতা (আল-কানাআত ওয়াল-তাআফফুফ)

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে কাইস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবন আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু: ২৮১ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: মুস্তফা আব্দুল কাদির আতা

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৩ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ١٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌بَابُ ذَمِّ الْمَسْأَلَةِ وَالزَّجْرِ عَنْهَا وَالْفَضْلِ فِي التَّعَفُّفِ عَنْهَا

1 - عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يَتَقَبَّلْ لِي بِوَاحِدَةٍ أَتَقَبَّلْ لَهُ بِالْجَنَّةِ» .

قَالَ ثَوْبَانُ: أَنَا، قَالَ: «لا تَسْأَلِ النَّاسَ شَيْئًا» .

قَالَ: فَكَانَ ثَوْبَانُ تَسْقُطُ عُلاقَةُ سَوْطِهِ فَلا يَأْمُرُ أَحَدًا أَنْ يُنَاوِلَهُ، وَيَنْزِلُ هُوَ فَيَأْخُذُهَا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌যাচ্ঞা বা অন্যের কাছে চাওয়ার নিন্দা ও বারণ এবং তা থেকে বিরত থাকার মর্যাদা বিষয়ক অধ্যায়

১ - সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার কাছে একটি বিষয়ের নিশ্চয়তা দিবে, আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব»।

সাওবান বললেন: আমি। তিনি বললেন: «তুমি মানুষের কাছে কোনো কিছু চাইবে না»।

বর্ণনাকারী বলেন: এরপর অবস্থা এমন ছিল যে, সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহুর চাবুকের রশি নিচে পড়ে গেলেও তিনি কাউকে তা তুলে দিতে বলতেন না, বরং তিনি নিজেই বাহন থেকে নেমে তা তুলে নিতেন।
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ١٨)
2 - وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: أَوْصَانِي خَلِيلِي صلى الله عليه وسلم أَنْ لا أَسْأَلَ أَحَدًا شَيْئًا، قَالَ: فَكَانَ يَقَعُ السَّوْطُ مِنْ يَدِهِ، فَيَنْزِلُ فَيَأْخُذُهُ

 

‌‌هَلْ لَكَ فِي بَيْعَةٍ وَلَكَ الْجَنَّةُ؟

3 - عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: دَعَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «هَلْ لَكَ فِي بَيْعَةٍ وَلَكَ الْجَنَّةُ؟» ، قُلْتُ: نَعَمْ، فَبَسَطْتُ يَدِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ يَشْتَرِطُ عَلَيَّ: «لا تَسْأَلِ النَّاسَ شَيْئًا» ، قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «وَلا سَوْطَكَ إِنْ سَقَطَ مِنْكَ، حَتَّى تَنْزِلَ فَتَأْخُذَهُ»

4 - عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَلا تُبَايِعُونِي؟» يُرَدِّدُهَا ثَلاثَ مَرَّاتٍ، فَرَفَعْنَا أَيْدِيَنَا، فَبَايَعَنَا، قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَدْ بَايَعْنَاكَ، فَعَلامَ؟ قَالَ: أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ، وَلا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَالصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ «وَأَسَرَّ كَلِمَةً خَفِيَّةً» وَأَنْ لا تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا ".

قَالَ: فَلَقَدْ رَأَيْتُ بَعْضَ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُهُ، فَمَا يَسْأَلُ أَحَدًا يُنَاوِلَهُ

5 - عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ أَنَّهُ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَمَّا يُدْخِلُ الْجَنَّةَ، قَالَ: «لا
২ - আবু যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে উপদেশ দিয়েছেন যেন আমি কারো কাছে কিছু না চাই। বর্ণনাকারী বলেন: এমনকি তাঁর হাত থেকে চাবুক পড়ে গেলে তিনি (বাহন থেকে) নিচে নামতেন এবং তা তুলে নিতেন।

 

‌‌তোমার কি বায়আত হওয়ার এবং জান্নাত পাওয়ার ইচ্ছা আছে?

৩ - আবু যার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডাকলেন এবং বললেন: "তোমার কি বায়আত হওয়ার এবং জান্নাত পাওয়ার ইচ্ছা আছে?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তখন আমি আমার হাত বাড়িয়ে দিলাম। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার ওপর শর্ত আরোপ করে বললেন: "তুমি মানুষের কাছে কোনো কিছু চাইবে না।" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "এমনকি তোমার চাবুকও যদি তোমার থেকে পড়ে যায়, তবুও তুমি নিজে নিচে নেমে তা গ্রহণ করবে।"

৪ - আউফ বিন মালিক আল-আশজায়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, তখন তিনি বললেন: "তোমরা কি আমার কাছে বায়আত হবে না?" তিনি কথাটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। তখন আমরা আমাদের হাত তুললাম এবং তাঁর কাছে বায়আত হলাম। আমরা বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল, আমরা আপনার কাছে বায়আত হলাম, কিন্তু কিসের ভিত্তিতে?" তিনি বললেন: "যেন তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক না করো, আর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করো।" অতঃপর তিনি নিভৃতে একটি গোপন কথা বললেন: "আর তোমরা মানুষের কাছে কোনো কিছু চাইবে না।" বর্ণনাকারী বলেন: আমি সেই দলের কোনো কোনো ব্যক্তিকে দেখেছি যাদের চাবুক নিচে পড়ে যেত, কিন্তু তারা সেটি তুলে দেওয়ার জন্য কাউকে অনুরোধ করত না।

৫ - হাকিম বিন হিযাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যা জান্নাতে প্রবেশ করায়। তিনি বললেন: "না...
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ١٩)
تَسْأَلْ أَحَدًا شَيْئًا» .

فَكَانَ حَكِيمٌ لا يَسْأَلُ خَادِمَهُ أَنْ يَسْقِيَهُ مَاءً، وَلا يُنَاوِلَهُ مَا يَتَوَضَّأُ بِهِ

6 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لأَنْ يَحْتَطِبَ أَحَدُكُمْ عَلَى ظَهْرِهِ، فَيَقِي بِهِ وَجْهَهُ، خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ رَجُلا أَعْطَاهُ أَوْ مَنَعَهُ»

 

‌‌الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى

7 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: «لأَنْ يَأْخُذَ الرَّجُلُ حَبْلا فَيَأْتِيَ رَأْسَ جَبَلٍ فَيَحْتَطِبَ، ثُمَّ يَحْمِلَهُ فَيَبِيعَهُ، فَيَسْتَعِفَّ بِهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ أَعْطَوْهُ أَوْ مَنَعُوهُ، وَذَلِكَ بِأَنَّ الْيَدَ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى»

8 - عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ هَذَا الْمَالِ، فَقَالَ: «مَا أَنْكَرَ مَسْأَلَتَكَ يَا حَكِيمُ، إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرٌ حُلْوٌ، وَإِنَّهُ أَوْسَاخُ أَيْدِي النَّاسِ، وَإِنَّ يَدَ اللَّهِ فَوْقَ يَدِ الْمُعْطِي، وَيَدَ الْمُعْطِي فَوْقَ يَدَيِ الْمُعْطَى، وَيَدَ الْمُعْطَى أَسْفَلُ الأَيْدِي»
কারো কাছে কিছু প্রার্থনা করো না»।

অতঃপর হাকীম এমন ছিলেন যে, তিনি তার খাদেমের কাছেও পানি পান করার জন্য চাইতেন না এবং ওযুর পানি এগিয়ে দেওয়ার জন্যও তাকে বলতেন না।

৬ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কারো পিঠে কাঠের বোঝা বহন করা এবং এর মাধ্যমে নিজের সম্মান রক্ষা করা, তার জন্য কোনো ব্যক্তির কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম, চাই সে তাকে দান করুক বা বিমুখ করুক।»

 

‌‌উঁচু হাত নিচু হাতের চেয়ে উত্তম

৭ - আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «কোনো ব্যক্তি রশি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় যাওয়া এবং সেখান থেকে কাঠের বোঝা সংগ্রহ করা, অতঃপর তা বহন করে এনে বিক্রি করা এবং এর মাধ্যমে আত্মমর্যাদা রক্ষা করা তার জন্য মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম, চাই তারা তাকে দান করুক বা বিমুখ করুক। আর তা এই জন্য যে, উঁচু হাত নিচু হাতের চেয়ে উত্তম।»

৮ - হাকীম বিন হিযাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এই সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তিনি বললেন: «হে হাকীম! আমি তোমার চাওয়াতে আপত্তি করি না; নিশ্চয়ই এই সম্পদ সুস্বাদু ও আকর্ষণীয়, আর তা মানুষের হাতের ময়লা স্বরূপ। নিশ্চয়ই আল্লাহর হাত দাতার হাতের উপরে, আর দাতার হাত গ্রহীতার হাতের উপরে, আর গ্রহীতার হাত হলো সবার নিচের হাত।»
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
9 - عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَي» ، فَمَا سَأَلَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بَعْدُ شَيْئًا، فَمَنْ سِوَاهُ

10 - عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ، قَالَ: بَعَثَ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مَرْوَانَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنِ ارْفَعْ إِلَيَّ حَاجَتَكَ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِنَّ الْيَدَ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى»
9 - ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: «উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম», এরপর উমর ইবনুল খাত্তাব আর কখনো কিছু প্রার্থনা করেননি এবং তাঁর পর অন্য কেউও নয়।

10 - আল-কাক্কা ইবনে হাকিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবদুল আজিজ ইবনে মারওয়ান আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট এই মর্মে বার্তা পাঠালেন যে, আপনার প্রয়োজনের কথা আমার নিকট পেশ করুন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে উমর তাকে লিখে পাঠালেন: নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয় উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম»
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢١)
فَلَسْتُ أَسْأَلُكَ شَيْئًا، وَلا أَرُدُّ رِزْقًا رَزَقَنِيهِ اللَّهُ تَعَالَى

 

‌‌لا تَرُدَّ مَا رَزَقَكَ اللَّهُ

11 - عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ الْمُخْتَارَ بْنَ أَبِي عُبَيْدٍ كَانَ يُرْسِلُ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بِالْمَالِ فَيَقْبَلُهُ، وَيَقُولُ: لا أَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا، وَلا أَرُدُّ مَا رَزَقَنِي اللَّهُ تَعَالَى

12 - عَنِ الْمُطَّلِبِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْطَبٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَامِرٍ أَرْسَلَ إِلَى عَائِشَةَ بِنَفَقَةٍ وَكِسْوَةٍ، فَقَالَتْ لِلرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم: إِنِّي لا أَقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ شَيْئًا، فَلَمَّا خَرَجَ الرَّسُولُ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ: رُدُّوهُ، إِنِّي ذَكَرْتُ شَيْئًا، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَا عَائِشَةُ مَنْ أَعْطَاكِ عَطَاءً مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ فَاقْبَلِيهِ، فَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ عَرَضَهُ اللَّهُ
আমি তোমার কাছে কিছুই যাচনা করি না, এবং আল্লাহ তাআলা আমাকে যে রিযিক দান করেছেন তা আমি ফিরিয়ে দিই না।

 

‌‌আল্লাহ তোমাকে যা রিযিক দিয়েছেন তা ফিরিয়ে দিও না

১১ - নাফে থেকে বর্ণিত যে, মুখতার ইবনে আবি উবায়দ আবদুল্লাহ ইবনে উমরের নিকট ধন-সম্পদ পাঠাতেন, আর তিনি তা গ্রহণ করতেন এবং বলতেন: আমি কারো নিকট কিছু চাই না, আর আল্লাহ তাআলা আমাকে যে রিযিক দান করেছেন তা আমি প্রত্যাখ্যান করি না।

১২ - মুত্তালিব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হানতাব থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে আমির আয়েশার নিকট ভরণপোষণ ও পোশাক-পরিচ্ছদ পাঠালেন। তিনি বার্তাবাহককে বললেন: আমি কারো নিকট থেকে কিছু গ্রহণ করি না। যখন বার্তাবাহক চলে গেলেন, তিনি বললেন: তাকে ফিরিয়ে আনো, আমার একটি কথা মনে পড়েছে; নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে আয়েশা, যে ব্যক্তি তোমাকে কোনো কিছু না চাওয়া সত্ত্বেও দান করে, তা তুমি গ্রহণ করো; কারণ তা হলো রিযিক যা আল্লাহ তোমার নিকট পেশ করেছেন।»
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢٢)
لَكِ»

 

‌‌مَا هُوَ قَدْرُ الْغِنَى؟

13 - عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي وَجْهِهِ كُدُوحٌ، أَوْ خُمُوشٌ، أَوْ خُدُوشٌ» .

قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا الْغِنَى؟ قَالَ: «خَمْسُونَ دِرْهَمًا، أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذَّهَبِ»

14 - عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَسْأَلَةُ الْغَنِيِّ شَيْنٌ فِي وَجْهِهِ»

15 - عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سُؤَالُ الْفَقِيرِ شَيْنٌ فِي وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَسُؤَالُ الْغَنِيِّ نَارٌ فِي وَجْهِهِ، إِنْ أُعْطِيَ قَلِيلا فَقَلِيلٌ ، وَإِنْ أُعْطِيَ كَثِيرًا فَكَثِيرٌ»
তোমার জন্য»

 

‌‌সচ্ছলতার পরিমাণ কতটুকু?

১৩ - ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছে যাঞ্চা করবে, কিয়ামতের দিন সে তার চেহারায় জখম, আঁচড় বা ক্ষতচিহ্ন নিয়ে উপস্থিত হবে।»

বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! সচ্ছলতা কী? তিনি বললেন: «পঞ্চাশ দিরহাম অথবা তার সমমূল্যের স্বর্ণ।»

১৪ - ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «সচ্ছল ব্যক্তির যাঞ্চা তার চেহারার জন্য একটি কলঙ্ক।»

১৫ - ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «(অপ্রয়োজনে) অভাবী ব্যক্তির যাঞ্চা কিয়ামতের দিন তার চেহারায় কলঙ্ক হবে, আর সচ্ছল ব্যক্তির যাঞ্চা তার চেহারার জন্য আগুন হবে; তাকে যদি অল্প দেওয়া হয় তবে তা অল্প (আগুন), আর যদি বেশি দেওয়া হয় তবে তা বেশি (আগুন)।»
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌الْمَسْأَلَةُ دَاءٌ فِي الْبَطْنِ وَصُدَاعٌ فِي الرَّأْسِ

16 - عَنْ زِيَادِ بْنِ الْحَارِثِ الصُّدَائِيِّ، صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: أَتَى رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلَهُ، فَقَالَ لَهُ: «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى، فَإِنَّمَا هُوَ دَاءٌ فِي الْبَطْنِ، وَصُدَاعٌ فِي الرَّأْسِ»

17 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ مَسْأَلَةً، وَهُوَ عَنْهَا غَنِيٌّ كَانَتْ شَيْنًا فِي وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

 

‌‌جَزَاءُ مَنْ سَأَلَ النَّاسَ مِنْ غَيْرِ حَاجَةٍ

18 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ مِنْ غَيْرِ فَاقَةٍ نَزَلَتْ بِهِ، أَوْ عِيَالٍ لا يَطِيقُهُمْ، جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِوَجْهٍ لَيْسَ لَهُ لَحْمٌ»

19 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَأَلَ النَّاسَ تَكَثُّرًا، فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرًا، إِنْ شَاءَ فَلْيُقِلَّ، وَإِنْ شَاءَ فَلْيُكْثِرْ»
মানুষের কাছে যাঞ্চা করা পেটের রোগ ও মাথার ব্যথাস্বরূপ

১৬ - আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী জিয়াদ ইবনুল হারিস আস-সুদায়ী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে কিছু চাইল। তিনি তাকে বললেন: "যে ব্যক্তি সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছে যাঞ্চা করে, তা মূলত পেটের রোগ এবং মাথার ব্যথাস্বরূপ।"

১৭ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও মানুষের কাছে কিছু চাইল, কিয়ামতের দিন তা তার চেহারায় একটি খুঁত হয়ে থাকবে।"

 

‌‌প্রয়োজন ব্যতীত যাঞ্চাকারীর পরিণাম

১৮ - ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার ওপর আপতিত কোনো চরম দারিদ্র্য কিংবা পরিবারের অসহনীয় ভরণপোষণের চাপ ব্যতীত মানুষের কাছে হাত পাতল, সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে তার চেহারায় কোনো গোশত থাকবে না।"

১৯ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে যাঞ্চা করে, সে মূলত আগুনের অঙ্গার যাঞ্চা করে। এখন তার ইচ্ছা, সে তা অল্প গ্রহণ করুক বা অধিক।"
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
20 - عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ هَذِهِ الْمَسَائِلَ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ، فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ، وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلا أَنْ يَسْأَلَ الرَّجُلُ ذَا السُّلْطَانِ فِي أَمْرٍ لا يَجِدُ مِنْهُ بُدًّا»

21 - عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ، قَالَ: قَالَ لَهُ الْحَجَّاجُ: مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْأَلَنِي؟ فَقَالَ: قَالَ سَمُرَةُ بْنُ جُنْدُبٍ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ هَذِهِ الْمَسَائِلَ كَدٌّ يَكُدُّ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ، وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ، إِلا أَنْ يَسْأَلَ ذَا سُلْطَانٍ أَوْ يَنْزِلَ بِهِ أَمْرٌ لا يَجِدُ مِنْهُ بُدًّا» ، قَالَ: فَإِنِّي ذُو سُلْطَانٍ، فَهَلُمَّ حَاجَتَكَ، قَالَ: وُلِدَ لِي اللَّيْلَةَ غُلامٌ! قَالَ: أَعْطُوهُ أَلْفَ دِرْهَمٍ
২০ - সামুরা বিন জুনদুব (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই যাচনা (চাওয়া) হলো এক প্রকার ক্ষত, যা দ্বারা ব্যক্তি তার মুখমণ্ডলকে ক্ষতবিক্ষত করে। সুতরাং যে চায় সে তার মুখমণ্ডলের মর্যাদা রক্ষা করুক, আর যে চায় সে তা বিসর্জন দিক। তবে যদি মানুষ শাসকের নিকট কোনো প্রয়োজনে প্রার্থনা করে অথবা এমন কোনো বিষয়ে যা ছাড়া তার কোনো গত্যন্তর নেই।»

২১ - যায়েদ বিন উকবাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: হাজ্জাজ তাকে বললেন: "তোমাকে আমার নিকট প্রার্থনা করতে কিসে বাধা দিল?" তখন তিনি বললেন: সামুরা বিন জুনদুব (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই এই যাচনা হলো এক প্রকার ক্ষত, যা দ্বারা ব্যক্তি তার মুখমণ্ডলকে ক্ষতবিক্ষত করে। সুতরাং যে চায় সে তার মুখমণ্ডলের মর্যাদা রক্ষা করুক, আর যে চায় সে তা বিসর্জন দিক। তবে যদি সে শাসকের নিকট প্রার্থনা করে অথবা তার নিকট এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয় যা থেকে তার কোনো গত্যন্তর নেই।» হাজ্জাজ বললেন: "আমি তো একজন শাসক, সুতরাং তোমার প্রয়োজনের কথা পেশ করো।" তিনি বললেন: "আজ রাতে আমার একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে!" হাজ্জাজ বললেন: "তাকে এক হাজার দিরহাম প্রদান করো।"
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
‌‌ثَلاثٌ يَجُوزُ لَهُمُ السُّؤَالُ

22 - عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ، قَالَ: تَحَمَّلْتُ بِحِمَالَةٍ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَسْأَلُهُ فِيهَا، فَقَالَ: " نُؤَدِّيهَا عَنْكَ إِذَا جَاءَتْ نِعَمُ الصَّدَقَةِ، يَا قَبيِصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ حَرُمَتْ إِلا فِي ثَلاثٍ: رَجُلٌ تَحَمَّلَ حِمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ حَتَّى يُؤَدِّيَهَا، ثُمَّ يُمْسِكُ، وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ اجْتَاحَتْ مَالَهُ، فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ سَدَادًا مِنْ عَيْشٍ، أَوْ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، ثُمَّ يُمْسِكَ، وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ حَاجَةٌ أَوْ فَاقَةٌ حَتَّى تَكَلَّمَ ثَلاثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ، فَيَسْأَلُ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ، ثُمَّ يُمْسِكُ، وَمَا سِوَى ذَلِكَ فَهُوَ سُحْتٌ "

23 - عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: " إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لا تَصْلُحُ إِلا فِي ثَلاثٍ: فَقْرٌ مُدْقِعٌ، أَوْ دَيْنٌ مُوجِعٌ، أَوْ غُرْمٌ مُفْظِعٌ "

24 - وَقَالَ الزُّبَيْرُ: لا يَحِلُّ لأَحَدٍ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ مِنْ أَمْوَالِهِمْ شَيْئًا إِلا عَارِيَةً، أَوْ
তিন ব্যক্তি যাদের জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ

২২ - ক্ববীসা ইবনে মুখারিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি একটি জামানতের (দুই পক্ষের বিবাদ মেটানোর দায়) ভার গ্রহণ করেছিলাম, অতঃপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সে বিষয়ে সাহায্য চাইতে আসলাম। তিনি বললেন: "হে ক্ববীসা, আমাদের নিকট সদকার মাল আসলে আমরা তোমার পক্ষ থেকে তা আদায় করে দেব। হে ক্ববীসা, নিশ্চয়ই সাহায্য চাওয়া হারাম, কেবল তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত: ১. এমন ব্যক্তি যে কোনো জামানতের ভার গ্রহণ করেছে, তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ যতক্ষণ না সে তা পরিশোধ করে, এরপর সে বিরত থাকবে। ২. এমন ব্যক্তি যার ধন-সম্পদ কোনো দুর্যোগে পতিত হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে, তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ যতক্ষণ না সে জীবন ধারণের জন্য ন্যূনতম সংস্থান বা পাথেয় লাভ করে, এরপর সে বিরত থাকবে। ৩. এমন ব্যক্তি যে অভাব বা দারিদ্র্যে পতিত হয়েছে, এমনকি তার গোত্রের তিনজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, অমুক ব্যক্তি অভাবে পড়েছে; তার জন্য সাহায্য চাওয়া বৈধ যতক্ষণ না সে জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্থান লাভ করে, এরপর সে বিরত থাকবে। এছাড়া যা কিছু রয়েছে তা অবৈধ সম্পদ।"

২৩ - আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সাহায্য চাওয়া কেবল তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত সংগত নয়: চরম দারিদ্র্য, অথবা মर्माঘাতী ঋণ, অথবা অসহনীয় জামানত (রক্তপণ বা দায়)।"

২৪ - আর যুবাইর বলেন: কারো জন্য মানুষের ধন-সম্পদ থেকে কোনো কিছু চাওয়া বৈধ নয়, কেবল ধার হিসেবে চাওয়া ব্যতীত, অথবা
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
ذَا حَاجَةٍ

25 - عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ، أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى» ، قُلْتُ: وَمِنْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «وَمِنِّي» .

قُلْتُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ ، لا آخُذُ مِنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ عَطِيَّةً.

قَالَ: «وَلْيَبْدَأْ أَحَدُكُمْ بِمَنْ يَعُولُ، وَخَيْرُ الصَّدَقَةِ مَا كَانَ عَنْ ظَهْرِ غِنًى، وَمَنْ يَسْتَعِفَّ يُعِفَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ» .

قَالَ: قُلْتُ: وَمِنْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «وَمِنِّي» .

قُلْتُ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لا تَكُونُ يَدِي تَحْتَ يَدِ رَجُلٍ مِنَ الْعَرَبِ بَعْدَكَ مَا حَيِيتُ أَبَدًا.

قَالَ: فَمَا رَزَأَ مِنَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ تَعَالَى إِلَيْهِ، وَلا مِنْ أَبِي بَكْرٍ، وَلا عُمَرَ، وَلا عُثْمَانَ حَتَّى مَاتَ رضي الله عنه

 

‌‌مِنْ فَضَائِلِ الْمَالِ

26 - عَنْ حَكِيمِ بْنِ قَيْسِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَوْصَى بَنِيهِ، قَالَ:
প্রয়োজনগ্রস্ত ব্যক্তি

২৫ - হাকিম ইবনে হিযাম (রাযি.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "উপরিভাগস্থ হাত (দাতা) নিম্নভাগস্থ হাত (গ্রহীতা) অপেক্ষা উত্তম।" আমি বললাম: আপনার হাত থেকেও হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: "আমার হাত থেকেও।"

আমি বললাম: সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আপনার পর আমি কারো থেকে কোনো দান গ্রহণ করব না।

তিনি বললেন: "তোমাদের কেউ যেন দান করা শুরু করে তার থেকে যার ভরণপোষণ তার দায়িত্বে। আর শ্রেষ্ঠ সদকা হলো তা যা সচ্ছলতা বজায় রেখে প্রদান করা হয়। যে ব্যক্তি পবিত্র থাকতে চায় (মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বিরত থাকতে চায়), আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন; আর যে ব্যক্তি অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করে দেন।"

তিনি (হাকিম) বলেন: আমি বললাম: আপনার হাত থেকেও হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: "আমার হাত থেকেও।"

আমি বললাম: সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আপনার পর আমৃত্যু আমার হাত কোনো আরব ব্যক্তির হাতের নিচে থাকবে না।

বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর থেকে কিছু গ্রহণ করেননি যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজের সান্নিধ্যে নিয়ে গেলেন। এরপর আবু বকর, উমর বা উসমান (রাযি.)—কারো থেকেই তিনি আমৃত্যু কিছু গ্রহণ করেননি।

 

‌‌সম্পদের ফযিলতসমূহ

২৬ - হাকিম ইবনে কায়স ইবনে আসিম (রাহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর সন্তানদের প্রতি ওসিয়ত করে বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
عَلَيْكُمْ بِالْمَالِ وَاصْطِنَاعِهِ، فَإِنَّهُ مَنْبَهَةٌ لِلْكَرِيمِ، وَيُسْتَغْنَى بِهِ عَنِ اللَّئِيمِ، وَإِيَّاكُمْ وَمَسْأَلَةَ النَّاسِ، فَإِنَّهُ آخِرُ كَسْبِ الرَّجُلِ

27 - عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: «مَا فَتَحَ رَجُلٌ عَلَى نَفْسِهِ بَابَ مَسْأَلَةٍ إِلا فَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ بَابَ فَقْرٍ فَاسْتَعِفُّوا»

28 - عَنْ مُجَاهِدٍ ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ عليهما السلام فَسَأَلَهُمَا، فَقَالا لَهُ: " إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لا تَصْلُحُ إِلا لِثَلاثَةٍ: لِحَاجَةٍ مُجْحِفَةٍ، أَوْ لِحِمَالَةٍ شَاقَّةٍ، أَوْ دَيْنٍ فَادِحٍ، وَأَعْطَيَاهُ، ثُمَّ أَتَى ابْنَ عُمَرَ فَأَعْطَاهُ، وَلَمْ يَسْأَلْهُ عَنْ شَيْءٍ، فَقَالَ: أَتَيْتُ ابْنَيْ عَلِيٍّ، وَهُمَا أَصْغَرُ مِنْكَ سِنًّا فَسَأَلانِي، وَقَالا لِي، وَأَنْتَ لَمْ تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ؟! ، فَقَالَ: جَدُّهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّمَا كَانَا يَغُرَّانِ الْعِلْمَ غَرًّا

29 - عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَخِي يُحَدِّثُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তোমরা সম্পদ অর্জন ও তা সংরক্ষণের প্রতি যত্নবান হও, কারণ এটি মহানুভব ব্যক্তির জন্য সম্মানের মাধ্যম এবং এর দ্বারা হীন ব্যক্তির মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে বেঁচে থাকা যায়। আর তোমরা মানুষের নিকট হাত পাতা হতে সতর্ক থাকো, কারণ এটি একজন পুরুষের নিকৃষ্টতম উপার্জন।

২৭ - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "কোনো ব্যক্তি নিজের ওপর যাচ্ঞার দরজা উন্মুক্ত করে না, তবে আল্লাহ তার ওপর দারিদ্র্যের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। অতএব তোমরা পবিত্রতা বা অমুখাপেক্ষিতা অবলম্বন করো।"

২৮ - মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি হাসান ও হুসাইন (আলাইহিমাস সালাম)-এর নিকট এসে কিছু যাচ্ঞা করল। তাঁরা তাকে বললেন: "যাচ্ঞা করা কেবল তিন ব্যক্তির জন্য সংগত: চরম বিপর্যয় সৃষ্টিকারী অভাবের ক্ষেত্রে, অথবা দুঃসাধ্য কোনো রক্তপণের ভার বহনের ক্ষেত্রে, অথবা অত্যন্ত ভারী ঋণের ক্ষেত্রে।" অতঃপর তাঁরা তাকে দান করলেন। এরপর সে ইবনে উমরের কাছে এল এবং তিনি তাকে দান করলেন, কিন্তু তাকে কোনো কিছুই জিজ্ঞেস করলেন না। তখন সে বলল: আমি আলীর দুই পুত্রের কাছে গিয়েছিলাম, তাঁরা বয়সে আপনার চেয়ে ছোট হওয়া সত্ত্বেও আমাকে প্রশ্ন করেছেন এবং এসব কথা বলেছেন, কিন্তু আপনি আমাকে কোনো কিছুই জিজ্ঞেস করলেন না? তিনি বললেন: তাঁদের দাদা হলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁরা মূলত জ্ঞানকে পরিপূর্ণরূপে আত্মস্থ করেছেন।

২৯ - ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার ভাইকে মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)...
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
قَالَ: «لا تُلْحِفُوا فِي الْمَسْأَلَةِ، فَإِنَّهُ لا يَسْأَلُنِي إِنْسَانٌ، فَتُخْرِجُ لَهُ مِنِّي الْمَسْأَلَةُ شَيْئًا، وَأَنَا كَارِهٌ، لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ»

30 - عَنِ ابْنِ الْفِرَاسِيِّ، أَنَّ الْفِرَاسِيَّ، قَالَ: أَسْأَلُكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «لا، وَإِنْ كُنْتَ لا بُدَّ سَائِلا فَسَلِ الصَّالِحِينَ»

- عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ خَلِيفَةَ، قَالَ: قَالَ مُوسَى عليه الصلاة والسلام: " يَا رَبِّ إِنْ نَزَلَتْ بِي حَاجَةٌ فَإِلَى مَنْ؟ قَالَ: إِلَى النُّجَبَاءِ مِنْ خَلْقِي "

32 - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِذَا
তিনি বললেন: "তোমরা চাওয়ার ক্ষেত্রে পিড়াপিড়ি করো না। কেননা, কোনো মানুষ যদি আমার কাছে কিছু চায় এবং তার যাচ্ঞার কারণে আমার কাছ থেকে তার জন্য কোনো কিছু বের হয়ে আসে অথচ আমি তা অপছন্দ করি, তবে তাতে তার জন্য বরকত দেওয়া হবে না।"

৩০ - ইবনুল ফিরাসি থেকে বর্ণিত যে, ফিরাসি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনার কাছে চাব? তিনি বললেন: "না, আর যদি তোমাকে চাইতেই হয়, তবে নেককার লোকদের কাছে চাও।"

- মিনহাল ইবনে খলিফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বললেন: "হে আমার রব! যদি আমার কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে আমি কার কাছে যাব?" তিনি বললেন: "আমার সৃষ্টির মাঝে যারা শ্রেষ্ঠ তাদের কাছে।"

৩২ - উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন...
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
أُعْطِيتَ شَيْئًا مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْأَلَ، فَكُلْ وَتَصَدَّقْ»

- عَنْ وَاصِلٍ مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ، أَنَّ أَبَا الدَّرْدَاءِ، قَالَ: مَا أَتَاكَ مِنْ هَذَا الْمَالِ مِنْ غَيْرِ إِسْرَافٍ وَلا مَسْأَلَةٍ فَكُلْهُ وَتَمَوَّلْهُ "

34 - عَنْ سَهْلٍ ابْنِ الْحَنْظَلِيَّةِ الأَنْصَارِيِّ صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَأَلَ وَعِنْدَهُ مَا يُغْنِيهِ فَإِنَّمَا يَسْتَكْثِرُ مِنْ جَهَنَّمَ» ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا يُغْنِيهِ؟ قَالَ: «مَا يُغَدِّيهِ، أَوْ مَا يُعَشِّيهِ»
"তোমাকে না চাইতেই যদি কিছু প্রদান করা হয়, তবে তা ভক্ষণ করো এবং সদকা করো।"

- আবু উয়াইনার আযাদকৃত গোলাম ওয়াসিল হতে বর্ণিত যে, আবু দারদা (রা.) বলেন: "এই সম্পদ থেকে যা কিছু তোমার নিকট অতি-আকাঙ্ক্ষা এবং যাচনা ব্যতিরেকে আসে, তা তুমি ভক্ষণ করো এবং সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করো।"

৩৪ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী সাহল ইবনুল হানযালিয়্যাহ আল-আনসারী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার নিকট প্রয়োজন মেটানোর মতো যথেষ্ট সম্পদ থাকা সত্ত্বেও যাচনা করে, সে তো মূলত জাহান্নামের আগুনই বৃদ্ধি করে।" তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! প্রয়োজন মেটানোর মতো যথেষ্ট সম্পদের পরিমাণ কী? তিনি বললেন: "যা তার দুপুরের আহার অথবা রাতের আহার নিশ্চিত করে।"
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
35 - عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ سَأَلَ مَسْأَلَةً وَهُوَ عَنْهَا غَنِيٌّ كَانَتْ شَيْنًا فِي وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»

36 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى»

37 - عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ إِلَيْهِ بِشَيْءٍ فَرَدَّهُ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «لِمَ رَدَدْتَهُ؟» ، قَالَ: قُلْتُ: لِمَا حَدَّثْتَنِي، قَالَ: «إِنَّمَا ذَاكَ عَنْ مَسْأَلَةٍ، وَهَذَا عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ» ، ثُمَّ قَالَ: إِذَا أَتَاكَ شَيْءٌ عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ، فَإِنَّمَا هُوَ رِزْقٌ رَزَقَكَهُ اللَّهُ تَعَالَى "، فَقَالَ عُمَرُ: لا يَجِيئُنِي شَيْءٌ عَنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ فَأَرُدُّهُ، وَلا أَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا

38 - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلا فَيَحْتَطِبَ عَلَى رَأْسِهِ، فَيَبِيعَ، وَيَأْكُلَ، وَيَتَصَدَّقَ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ»

39 - عَنْ عَائِذِ بْنِ عَمْرٍو الْمُزَنِيِّ، قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ مَعَ نَبِيِّنَا صلى الله عليه وسلم إِذَا أَعْرَابِيٌّ قَدْ أَلَحَّ عَلَيْهِ فِي الْمَسْأَلَةِ، يَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَطْعِمْنِي، فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَخَذَ بِعُضَادَتَيِ الْحُجْرَةِ، وَأَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، فَقَالَ: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، لَوْ تَعْلَمُونَ مِنَ الْمَسْأَلَةِ
৩৫ - সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি অভাবমুক্ত থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছে কিছু যাঞ্চা করে, কিয়ামতের দিন তা তার চেহারায় একটি কলঙ্ক হয়ে দেখা দেবে।"

৩৬ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "উঁচু হাত (দাতা) নিচু হাত (গ্রহীতা) অপেক্ষা উত্তম।"

৩৭ - উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট কোনো বস্তু পাঠালেন কিন্তু তিনি তা ফেরত দিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: "তুমি কেন তা ফেরত দিলে?" তিনি বললেন: আমি আপনার বলা পূর্বের কথার প্রেক্ষিতেই তা করেছি। তিনি বললেন: "তা তো ছিল যাঞ্চার (চেয়ে নেওয়া) ক্ষেত্রে, আর এটি হচ্ছে যাঞ্চা ব্যতিরেকে প্রাপ্তি।" অতঃপর তিনি বললেন: "যখন তোমার কাছে চাওয়া ছাড়াই কোনো কিছু আসে, তবে তা রিযিক যা মহান আল্লাহ তোমাকে দান করেছেন।" তখন উমর (রা.) বললেন: "যাঞ্চা করা ছাড়া আমার নিকট যা কিছু আসবে আমি তা আর ফেরত দেব না এবং আমি কারো কাছে কিছু চাইবও না।"

৩৮ - আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে মাথায় বয়ে এনে তা বিক্রি করা, অতঃপর তা থেকে আহার করা ও সদকা করা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে অনেক উত্তম।"

৩৯ - আয়িয ইবনে আমর আল-মুজানী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে থাকাকালীন এক বেদুইন এসে তাঁর কাছে চাওয়ার ব্যাপারে নাছোড়বান্দা হয়ে পড়ল। সে বলছিল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আহার করান। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাঁড়িয়ে হুজরার দরজার দুই পাশ ধরলেন এবং আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: "সেই সত্তার কসম যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! তোমরা যদি যাঞ্চার বিষয় সম্পর্কে জানতে..."
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣١)
مَا أَعْلَمُ، مَا سَأَلَ رَجُلٌ رَجُلا وَهُوَ يَجِدُ لَيْلَةً تُبِيتُهُ» ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِطَعَامٍ

40 - عَنْ عَائِذِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَسَأَلَهُ، فَلَمَّا وَلَّى، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ تَعْلَمُونَ مَا فِي الْمَسْأَلَةِ مَا مَشَى أَحَدٌ إِلَى أَحَدٍ يَسْأَلُهُ شَيْئًا»

 

‌‌قَضَاءُ الْحَوَائِجِ بِالْكِتَابِ

- عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، أَنَّهُ قَالَ لِصَاحِبٍ لَهُ: «إِذَا كَانَتْ لَكَ إِلَيَّ حَاجَةٌ فَلا تُكَلِّمْنِي فِيهَا، وَلَكِنِ اكْتُبْهَا فِي رُقْعَةٍ، ثُمَّ ارْفَعْهَا إِلَيَّ، فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أَرَى فِي وَجْهِكَ ذُلَّ الْمَسْأَلَةِ»

- شِعْرٌ:

لا تَحْسَبَنَّ الْمَوْتَ مَوْتَ الْبِلَى … فَإِنَّمَا الْمَوْتُ سُؤَالُ الرِّجَالِ

كِلاهُمَا مَوْتٌ وَلَكِنَّ ذَا … أَشَدُّ مِنْ ذَاكَ لِذُلِّ السُّؤَالِ

- وَعَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ: قَالَ لِي إِبْرَاهِيمُ: اقْعُدْ أُحَدِّثْكَ مَا كَتَبَ إِلَيَّ
আমি জানি না; এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে অন্য কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছে অথচ তার কাছে রাত যাপন করার মতো সংস্থান রয়েছে।" এরপর তিনি তার জন্য খাবারের নির্দেশ দিলেন।

৪০ - আইয ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে কিছু চাইল। যখন সে চলে গেল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "যদি তোমরা জানতে যাচ্ঞা করার মধ্যে কী (পরিণতি) রয়েছে, তবে কেউ কারও কাছে কোনো কিছু চাওয়ার জন্য হেঁটে যেত না।"

 

‌‌লিখিত আবেদনের মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ করা

- মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে শিখখীর থেকে বর্ণিত, তিনি তার এক সঙ্গীকে বলেছিলেন: "যখন আমার কাছে তোমার কোনো প্রয়োজন থাকবে, তখন তুমি সে বিষয়ে আমার সাথে কথা বলো না। বরং সেটি একটি কাগজে লিখে আমার কাছে পেশ করো। কারণ আমি তোমার চেহারায় যাচ্ঞার হীনতা দেখতে অপছন্দ করি।"

- কবিতা:

মৃত্যুকে কেবল পচে গলে যাওয়ার মৃত্যু মনে করো না … প্রকৃত মৃত্যু হলো মানুষের কাছে হাত পাতা

উভয়ই মৃত্যু, তবে এটি … ওইটির চেয়েও কঠিন যাচ্ঞার হীনতার কারণে

- আমাশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইব্রাহিম আমাকে বললেন: বসো, তিনি আমাকে যা লিখে পাঠিয়েছেন তা আমি তোমাকে বর্ণনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
خَيْثَمَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «يَا أَبَا عِمْرَانَ، إِذَا كَانَتْ لَكَ حَاجَةٌ فَارْفَعْ إِلَيَّ، وَلا تَسْأَلْنِي، فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أَرَى فِي وَجْهِكَ ذُلَّ الْمَسْأَلَةِ»

- وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْعَاصِ لابْنِهِ: يَا بُنَيَّ! أَقْبَحَ اللَّهُ الْمَعْرُوفَ، إِذَا لَمْ يَكُنِ ابْتِدَاءً مِنْ غَيْرِ مَسْأَلَةٍ، فَأَمَّا إِذَا أَتَاكَ تَرَى دَمَهُ فِي وَجْهِهِ، وَمُخَاطِرًا، لا يَدْرِي أَتُعْطِيهِ، أَمْ تَمْنَعُهُ، فَوَاللَّهِ ، لَوْ خَرَّجْتَ لَهُ مِنْ جَمِيعِ مَالِكَ مَا كَافَأْتَهُ

- وَعَنْ رَجُلٍ مِنْ فَزَارَةَ، قَالَ: قَالَ لِي أَسْمَاءُ بْنُ خَارِجَةَ: «مَا بَذَلَ إِلَيَّ رَجُلٌ
খাইসামা ইবনে আবদুর রহমান: «হে আবু ইমরান, যখন তোমার কোনো প্রয়োজন দেখা দেয় তখন তা আমার কাছে পেশ করো এবং আমার কাছে ভিক্ষা করো না; কারণ আমি তোমার চেহারায় যাচ্ঞার হীনতা দেখতে অপছন্দ করি»

- এবং সাঈদ ইবনুল আস তার পুত্রকে বললেন: হে বৎস! আল্লাহ সেই অনুগ্রহকে কদর্য করুন যা যাচ্ঞা করা ব্যতিরেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুরু হয় না। পক্ষান্তরে যখন সে (সাহায্যপ্রার্থী) তোমার কাছে আসে তখন তুমি তার চেহারায় তার রক্ত দেখতে পাও এবং সে এক চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকে, সে জানে না যে তুমি তাকে দান করবে নাকি ফিরিয়ে দেবে। আল্লাহর কসম, তুমি যদি তাকে তোমার সমস্ত সম্পদও দিয়ে দাও তবুও তুমি তার সমতুল্য প্রতিদান দিতে পারবে না।

- এবং ফাজারা গোত্রের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আসমা ইবনে খারিজা আমাকে বলেছেন: «কোনো ব্যক্তি আমার নিকট কিছু পেশ করেনি...»
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣٣)
قَطُّ وَجْهَهُ فَرَأَيْتُ شَيْئًا مِنَ الدُّنْيَا وَإِنْ عَظُمَ لَوَجَدْتُهُ عِوَضًا لِبَذْلِ وَجْهِهِ إِلَيَّ»

- سَأَلَ رَجُلٌ مُحَمَّدَ بْنَ سُوقَةَ حَاجَةً، فَقَالَ: فَهَلا كَتَبْتَهَا؟!!

- كَانَ سَلَمُ بْنُ قَانِعٍ يَقُولُ فِي دُعَائِهِ: «اللَّهُمَّ ارْزُقْنَا رِزْقًا حَلالا مِنْ غَيْرِ كَدٍّ، وَلا كِبْرٍ، وَلا مَنٍّ مِنْ أَحَدٍ، وَلا عَارٍ فِي الدُّنْيَا، وَلا مَنْقَصَةٍ فِي الآخِرَةِ»

- وَقَالَ الْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ: قَالَ لِي سُفْيَانُ: قَالَ لِي مَنْصُورٌ: «إِنَّ الرَّجُلَ
...কখনোই তার মুখমণ্ডল (অসম্মানিত হতে দেখিনি), ফলে আমি দুনিয়ার কোনো বস্তুকেই—তা যত বড়ই হোক না কেন—আমার নিকট তার হাত পাতার বিনিময় হিসেবেই গণ্য করতাম।

- এক ব্যক্তি মুহাম্মদ ইবনে সুকাহর কাছে একটি প্রয়োজনের কথা জানালেন। তখন তিনি বললেন: তুমি কি তা লিখে আনতে পারতে না?!!

- সালাম ইবনে কানি' তার দোয়ায় বলতেন: «হে আল্লাহ! আমাদের ক্লান্তিহীন, অহংকারহীন, কারো অনুগ্রহহীন, দুনিয়াতে অপমানহীন এবং আখিরাতে কোনো ঘাটতিহীন হালাল রিজিক দান করুন।»

- ফুদাইল ইবনে ইয়াদ বলেন: সুফিয়ান আমাকে বলেছেন: মানসুর আমাকে বলেছেন: «নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣٤)
لَيَسْقِينِي الشَّرْبَةَ مِنَ الْمَاءِ فَيَدُقُّ بِهَا ضِلْعًا مِنْ أَضْلاعِي»

- وَأَنْشَدُوا:

لَبُوسُ ثَوْبَيْنِ بَالِيَيْنِ … وَطَيُّ يَوْمٍ وَلَيْلَتَيْنِ

أَهْوَنُ مِنْ مِنَّةٍ لِقَوْمٍ … أَغُضُّ مِنْهَا جُفُونَ عَيْنِي

وَإِنِّي وَإِنْ كُنْتُ ذَا عِيَالٍ … قَلِيلَ مَالٍ كَثِيرَ دَيْنِ

لَمُسْتَعِفٌّ بِرِزْقِ رَبِّي … حَوَائِجِي بَيْنَهُ وَبَيْنِي

نَقْلُ الصُّخُورِ مِنَ الْجِبَالِ أَخَفُّ مِنَ السُّؤَالِ

- غَيْرُهُ:

وَنَقْلُ الصَّخْرِ مِنْ تِلْكَ الْجِبَالِ … أَخَفُّ عَلَيَّ مِنْ مِنَنِ الرِّجَالِ

يَقُولُ النَّاسُ كَسْبٌ فِيهِ عَارٌ … فَقُلْتُ: الْعَارُ فِي ذُلِّ السُّؤَالِ

- كَانَ أَبُو خِرَاشٍ الْهُذَلِيُّ مِنْ رِجَالِ قَوْمِهِ، فَخَرَجَ فِي سَفَرٍ لَهُ، فَمَرَّ بِامْرَأَةٍ مِنَ الْعَرَبِ، وَلَمْ يُصِبْ طَعَامًا قَبْلَ ذَلِكَ بِثَلاثٍ أَوْ أَرْبَعٍ، فَقَالَ: يَا رَبَّةَ الْبَيْتِ، هَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ طَعَامٍ؟ قَالَتْ: نَعَمْ، فَجَاءَتْ بِعُمْرُوسٍ، يَعْنِي حِمْلا مِنَ الْغَنَمِ، وَقَالَتِ: اذْبَحْهُ، فَذَبَحَهُ، ثُمَّ سَلَخَهُ، ثُمَّ حَشَّهُ، ثُمَّ أَقْبَلَ بِهِ، وَلَمَّا وَجَدَ رِيحَ الشِّوَاءِ قَرْقَرَ بَطْنُهُ، قَالَ: وَإِنَّكَ لَتُقَرْقِرُ مِنْ رَائِحَةِ الطَّعَامِ، يَا رَبَّةَ الْبَيْتِ: هَلْ عِنْدَكُمْ مِنْ صَبْرٍ، قَالَتْ: نَعَمْ، وَمَا تَصْنَعُ بِهِ؟ قَالَ: شَيْءٌ أَجِدُهُ فِي بَطْنِي، فَأَتَتْهُ بِصَبْرٍ، فَمَلأَ رَاحَتَهُ، ثُمَّ قَالَ: إِنَّ بَطْنِي تُقَرْقِرُ إِذَا وَجَدَتْ رَائِحَةَ الطَّعَامِ، ثُمَّ ارْتَحَلَ، فَقَالَتْ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، هَلْ رَأَيْتَ قَبِيحًا؟ قَالَ: لا وَاللَّهِ، وَلا سُوءًا، ثُمَّ أَنْشَأَ يَقُولُ:

وَإِنِّي لأُثْوِي الْجُوعَ حَتَّى يَمَلَّنِي … حَيَاءً وَلَمْ تَدْنَسْ ثِيَابِي وَلا جِرْمِي
নিশ্চয়ই তিনি আমাকে এক ঢোক পানি পান করাবেন যার দ্বারা তিনি আমার পাঁজরের একটি হাড় ভেঙে চুরমার করে দেবেন।»

- এবং তাঁরা আবৃত্তি করেছেন:

দুটি জীর্ণ পোশাক পরিধান করা … এবং এক দিন ও দুই রাত অনাহারে কাটানো

মানুষের করুণার বোঝা বহন করার চেয়েও সহজ … যার কারণে আমাকে লজ্জায় চোখের পাতা নামিয়ে রাখতে হয়

আর আমি যদিও পরিবার-পরিজন পরিবৃত … স্বল্প সম্পদ ও প্রচুর ঋণের অধিকারী

তবুও আমি আমার রবের দেওয়া রিজিকে পবিত্রতা অবলম্বন করি (কারো কাছে হাত পাতি না) … আমার যাবতীয় প্রয়োজন কেবল তাঁর এবং আমার মাঝেই সীমাবদ্ধ

পাহাড় থেকে পাথর সরিয়ে নেওয়া মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়ার চেয়েও সহজ

- অন্য একজন বলেছেন:

ঐ সকল পাহাড় থেকে পাথর সরিয়ে আনা … মানুষের করুণা গ্রহণ করার চেয়েও আমার কাছে সহজ

মানুষ বলে যে উপার্জনের পরিশ্রমে লজ্জা আছে … আমি বললাম: আসল লজ্জা তো যাচনা করার লাঞ্ছনায়

- আবু খিরাশ আল-হুজালি তাঁর সম্প্রদায়ের একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন। তিনি তাঁর এক সফরে বের হলেন এবং জনৈক আরব নারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। ইতিপূর্বে তিন বা চার দিন তিনি কোনো খাবার পাননি। তিনি বললেন: হে গৃহকর্ত্রী, আপনাদের কাছে কি কোনো খাবার আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর তিনি একটি মেষশাবক নিয়ে আসলেন এবং বললেন: এটি জবাই করুন। তিনি সেটি জবাই করলেন, তারপর চামড়া ছাড়ালেন, এরপর সেটি প্রস্তুত করে নিয়ে আসলেন। যখন তিনি ঝলসানো মাংসের সুঘ্রাণ পেলেন, তখন ক্ষুধার তাড়নায় তাঁর পেট শব্দ করে উঠল। তিনি বললেন: তুমি কি খাবারের ঘ্রাণে শব্দ করছ? (অতঃপর বললেন) হে গৃহকর্ত্রী: আপনাদের কাছে কি সবর (এক প্রকার তিতা ওষধি) আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আপনি তা দিয়ে কী করবেন? তিনি বললেন: আমার পেটে কিছু একটা অনুভব করছি। অতঃপর মহিলাটি তাঁকে সবর এনে দিলেন, যা দিয়ে তিনি তাঁর হাতের তালু পূর্ণ করলেন (এবং খেয়ে নিলেন)। এরপর তিনি বললেন: খাবারের ঘ্রাণ পেলেই আমার পেট শব্দ করতে থাকে। তারপর তিনি রওয়ানা হলেন। তখন মহিলাটি বললেন: হে আল্লাহর বান্দা, আপনি কি কোনো অপ্রীতিকর কিছু দেখেছেন? তিনি বললেন: না, আল্লাহর শপথ, কোনো মন্দ কিছু দেখিনি। অতঃপর তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন:

নিশ্চয়ই আমি ক্ষুধাকে ততক্ষণ পর্যন্ত লালন করি যতক্ষণ না সে আমার ওপর ক্লান্ত হয়ে পড়ে … কেবল লজ্জাবোধের কারণে, অথচ আমার পোশাক বা শরীর কখনও কলঙ্কিত হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣٥)
وَأَصْطَبِحُ الْمَاءَ الْقَرَاحَ وَأَلْتَقِي … إِذَا الزَّادُ أَمْسَى لِلْمُزَلَّجِ ذَا طُعْمِ

أَرُدُّ شُجَاعَ الْجُوعِ كَيْ تَعْلَمِينَهُ … وَأُوثِرُ غَيْرِي مِنْ عِيَالِكِ بِالأُدْمِ

مَخَافَةَ أَنْ أَحْيَا بِرَغْمٍ وَذِلَّةٍ … وَلَلْمَوْتُ خَيْرٌ مِنْ حَيَاةٍ عَلَى رَغْمِ

 

‌‌رَجُلٌ يَأْبَى الدَّنِيَّةَ

- قَالَ الأَصْمَعِيُّ: أَضَافَ أَعْرَابِيٌّ قَوْمًا، فَحَلَبَ إِبِلَهُ، وَجَعَلَ يَبْدَأُ يَسْقِي الأَغْنِيَاءَ مِنْهُمْ فِي صَحْنٍ لَهُ أَوَّلا، فَأَوَّلا، حَتَّى وَصَلَ إِلَى آخِرِ الْقَوْمِ رَجُلٌ عَلَيْهِ أَطْمَارٌ لَهُ، فَضَرَبَ الصَّحْنَ بِظَهْرِ كَفِّهِ، ثُمَّ أَنْشَأَ يَقُولُ:

إِنْ رَأَيْتَ رَدِيَّ الثَّوْبَ مُنْطَرِحًا … بَالِي الثِّيَابِ عَرَاهُ الْهَمُّ وَالْعُدْمُ

ضَرْبُ صَحْنِكَ إِزْرَاءً بِهَيْئَتِهِ … وَاللَّهُ يَعْلَمُ أَنِّي حَيْثُمَا اقْتَحَمُوا

أُبْدِي وَأُظْهِرُ نَارًا عِنْدَ مَكْرُمَةٍ … جُنْحَ الْعِشَاءِ إِذَا مَا أَقْبَلَ الْقَتَمُ

فَاصْرِفْ إِنَاءَكَ عَنِّي إِنَّنِي رَجُلٌ … يَأْبَى الدَّنِيَّةَ مِنِّي الْعِزُّ وَالْكَرَمُ

قَالَ: فَبَاتَ طَاوِيًا، حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ رَحَلَ

- كَانَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْقُرَشِيُّ يُنْشِدُ:

أَأُخَيَّ إِنَّ الْحَادِثَاتِ … عَرَكْنَنِي عَرْكَ الأَدِيمِ

لا تَجْزَعَنْ مِنْ أَنْ رَأَيْتَ … أَخَاكَ فِي ثَوْبٍ قَدِيمِ

إِذْ كُنَّ أَثْوَابِي بَلِينَ … وَإِنَّهُنَّ عَلَى كَرِيمِ

 

‌‌مَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا

54 - عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، قَالَ: أَتَى رَجُلٌ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: إِنَّ بَنِي فُلانٍ أَغَارُوا
আমি সকালে স্বচ্ছ নির্মল পানি পান করি এবং মোকাবিলা করি … যখন কোনো অপদার্থ ব্যক্তির নিকট খাদ্য সুস্বাদু হয়ে ওঠে।

আমি ক্ষুধার বিক্রমকে প্রতিহত করি যাতে তুমি জানতে পারো … এবং আমি তোমার পরিজনদের মধ্য থেকে অন্যকে ব্যঞ্জনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিই।

এই ভয়ে যে আমি লাঞ্ছনা ও অপমানের সাথে বেঁচে থাকব … আর অপমানের জীবনের চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়।

 

যে ব্যক্তি হীনতা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়

আসমাঈ (রহ.) বলেন: এক বেদুইন একদল লোককে মেহমানদারি করল। সে তার উটগুলো দোহন করল এবং তার একটি বড় পেয়ালায় প্রথমে ধনীদের একে একে পান করাতে শুরু করল। পরিশেষে যখন সে সবশেষ ব্যক্তির নিকট পৌঁছাল, যার গায়ে ছিল জরাজীর্ণ বস্ত্র, তখন সে ব্যক্তি তার হাতের পিঠ দিয়ে পেয়ালাটিতে আঘাত করল, তারপর সে কবিতা আবৃত্তি করতে লাগল:

যদি তুমি কাউকে নিম্নমানের পোশাকে অবহেলিত অবস্থায় দেখো … জীর্ণবস্ত্র পরিহিত, যাকে দুশ্চিন্তা ও অভাব ঘিরে ধরেছে;

তার বাহ্যিক অবস্থাকে তুচ্ছজ্ঞান করে তোমার পেয়ালা দিয়ে আঘাত করা (অগ্রহণযোগ্য) … অথচ আল্লাহ জানেন যে, বীরেরা যেখানেই ঝাঁপিয়ে পড়ে (আমি সেখানে থাকি)।

আভিজাত্যের পরিচয় দিতে আমি মেহমানের জন্য আগুন প্রজ্বলিত করি … সন্ধ্যার অন্ধকারে যখন ঘোর অন্ধকার ঘনিয়ে আসে।

সুতরাং তোমার পাত্রটি আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও, কারণ আমি এমন এক ব্যক্তি … যার আত্মসম্মান ও মর্যাদা হীনতা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।

বর্ণনাকারী বলেন: সে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটাল, অবশেষে সকাল হলে সে প্রস্থান করল।

আবু আব্দুর রহমান আল-কুরাশী (রহ.) আবৃত্তি করতেন:

হে আমার ভাই! নিশ্চয়ই বিপদ-আপদসমূহ … আমাকে চামড়া মর্দনের মতো মর্দন করেছে।

তুমি তোমার ভাইকে পুরাতন পোশাকে দেখে … মোটেও বিচলিত হয়ো না।

যদিও আমার পোশাকগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে … তথাপি সেগুলো এক মর্যাদাবান ব্যক্তির দেহেই রয়েছে।

 

যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দেন

৫৪ - আবু উবাইদাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: নিশ্চয়ই অমুক গোত্র আক্রমণ চালিয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣٦)
عَلَيَّ، فَذَهَبُوا بِإِبِلِي، وَابْنِي، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ آلَ مُحَمَّدٍ لَكَذَا وَكَذَا أَهْلُ بَيْتٍ، مَا فِيهِمْ مُدٌّ مِنْ طَعَامٍ، أَوْ صَاعٌ مِنْ طَعَامٍ فَسَلِ اللَّهَ تَعَالَى» .

فَرَجَعَ إِلَى امْرَأَتِهِ، فَقَالَتْ: مَا قَالَ لَكَ؟ فَأَخْبَرَهَا، فَقَالَتْ: نِعْمَ مَا رَدَّكَ إِلَيْهِ، فَمَا لَبِثَ أَنْ رَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ إِبِلَهُ، وَابْنَهُ أَوْفَرَ مَا كَانَتْ، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ، فَصَعِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَأَمَرَ النَّاسَ بِمَسْأَلَةِ اللَّهِ وَالرَّغْبَةِ إِلَيْهِ، وَقَرَأَ عَلَيْهِمْ: {وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا، وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ الطلاق 2 - 3}

- وَعَنْ عَطَاءٍ قَالَ: جَاءَنِي طَاوُسٌ الْيَمَانِيُّ بِكَلامٍ مُحَبَّرٍ مِنَ الْقَوْلِ،
...আমার ওপর, ফলে তারা আমার উট এবং আমার পুত্রকে নিয়ে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "নিশ্চয় মুহাম্মাদের পরিবার এমন এক ঘরানার লোক যাদের নিকট এক মুদ পরিমাণ খাদ্যও নেই, কিংবা এক সা' পরিমাণ খাদ্যও নেই। অতএব, তুমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করো।"

অতঃপর সে তার স্ত্রীর নিকট ফিরে গেল। তখন সে (স্ত্রী) বলল: "তিনি আপনাকে কী বলেছেন?" সে তাকে অবহিত করল। তখন স্ত্রী বলল: "তিনি আপনাকে যার দিকে পথপ্রদর্শন করেছেন তা কতই না উত্তম!" এরপর বিলম্ব হলো না যে আল্লাহ তার উট এবং তার পুত্রকে পূর্বের চেয়েও সমৃদ্ধ অবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। তখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে উঠলেন, অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং মানুষকে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করার ও তাঁর প্রতি অনুরাগী হওয়ার নির্দেশ দিলেন। আর তিনি তাদের সামনে পাঠ করলেন: "আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" [সূরা আত-তালাক: ২-৩]

- আর আতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাউস আল-ইয়ামানি আমার নিকট অত্যন্ত চমৎকার ও অলংকৃত কিছু বক্তব্য নিয়ে আসলেন,
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣٧)
قَالَ: يَا عَطَاءُ ، لا تُنْزِلَنَّ حَاجَتَكَ بِمَنْ أَغْلَقَ دُونَكَ أَبْوَابَهُ، وَجَعَلَ عَلَيْهَا حُجَّابَهُ، وَلَكِنْ أَنْزِلْهَا بِمَنْ بَابُهُ لَكَ مَفْتُوحٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، أَمَرَكَ أَنْ تَدْعُوَهُ، وَضَمِنَ لَكَ أَنْ يَسْتَجِيبَ لَكَ

তিনি বললেন: হে আতা, তোমার প্রয়োজন এমন কারো কাছে পেশ করো না, যে তোমার সামনে তার দরজাগুলো বন্ধ করে রেখেছে এবং সেখানে দারোয়ানদের নিয়োজিত করেছে। বরং তা এমন সত্তার নিকট পেশ করো, যাঁর দরজা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তোমার জন্য উন্মুক্ত। তিনি তোমাকে তাঁর নিকট প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তোমার প্রার্থনায় সাড়া দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣٨)
‌‌بَابُ الإِجْمَالِ بِالطَّلَبِ وَالرِّضَى بِالْقَسْمِ

56 - عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَجْمِلُوا الطَّلَبَ فِي الدُّنْيَا فَكُلّ ؤ اللَّه عز وجل لَهُ مِنْهَا»

57 - عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ شَيْءٍ يُقَرِّبُكُمْ فِي الْجَنَّةِ، وَيُبَاعِدُكُمْ مِنَ النَّارِ إِلا وَقَدْ أَمَرْتُكُمْ بِهِ، وَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ شَيْءٍ يُقَرِّبُكُمْ مِنَ النَّارِ، وَيُبَاعِدُكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ، إِلا وَقَدْ نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ، وَإِنَّ الرُّوحَ الأَمِينَ نَفَثَ فِي رُوعِي أَنَّهُ لَيْسَ مِنْ نَفْسٍ تَمُوتُ حَتَّى تُسْتَوْفَى رِزْقَهَا، فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ وَلا يَحْمِلْكُمُ اسْتِبْطَاءُ الرِّزْقِ أَنْ تَطْلُبُوهُ بِمَعَاصِي اللَّهِ، فَإِنَّهُ لا يُدْرَكُ مَا عِنْدَ اللَّهِ إِلا بِطَاعَتِهِ»

58 - عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَوْ فَرَّ أَحَدُكُمْ مِنْ رِزْقِهِ
অন্বেষণে পরিমিতিবোধ এবং বণ্টনে সন্তুষ্টির অধ্যায়

৫৬ - আবু হুমাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা দুনিয়া অন্বেষণে পরিমিতিবোধ অবলম্বন করো; কেননা মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ যার জন্য যা লিখে রেখেছেন, তা সে লাভ করবেই।»

৫৭ - ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «হে লোকসকল! এমন কোনো কিছু নেই যা তোমাদের জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে, যা আমি তোমাদের নির্দেশ দিইনি। আর এমন কোনো কিছু নেই যা তোমাদের জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে এবং জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দেবে, যা থেকে আমি তোমাদের নিষেধ করিনি। আর রূহুল আমীন (জিবরাঈল আলাইহিস সালাম) আমার হৃদয়ে এই বার্তা ফুঁকে দিয়েছেন যে, কোনো প্রাণীই তার নির্ধারিত রিযিক পূর্ণরূপে গ্রহণ না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং রিযিক অন্বেষণে পরিমিতিবোধ অবলম্বন করো। রিযিক পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়া যেন তোমাদের আল্লাহর নাফরমানির মাধ্যমে তা অন্বেষণ করতে প্ররোচিত না করে। কেননা, আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা তাঁর আনুগত্য ব্যতীত লাভ করা যায় না।»

৫৮ - আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যদি তোমাদের কেউ তার রিযিক থেকে পালিয়ে যায়...
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٣٩)
لأَدْرَكَهُ كَمَا يُدْرِكُهُ الْمَوْتُ»

59 - وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه، أَنَّهُ قَالَ: «مَا مِنِ امْرِئٍ إِلا وَلَهُ أَثَرٌ هُوَ وَاطِؤهُ، وَرِزْقٌ هُوَ آكِلُهُ، وَأَجَلٌ هُوَ بَالِغُهُ، وَحَتْفٌ هُوَ قَاتِلُهُ، حَتَّى لَوْ أَنَّ رَجُلا هَرَبَ مِنْ رِزْقِهِ لاتَّبَعَهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ، كَمَا أَنَّ الْمَوْتَ مُدْرِكٌ مَنْ هَرَبَ مِنْهُ»

60 - وَقَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: أَمَّا بَعْدُ …

فَإِنَّ الأَمْرَ يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الأَرْضِ كَقَطَرَاتِ الْمَطَرِ إِلَى كُلِّ نَفْسٍ بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَهَا مِنْ زِيَادَةٍ أَوْ نُقْصَانٍ، فِي نَفْسٍ أَوْ أَهْلٍ أَوْ مَالٍ ، فَمَنْ رَأَى نَقْصًا فِي أَهْلِهِ أَوْ نَفْسِهِ أَوْ مَالِهِ، وَرَأَى لِغَيْرِهِ غَفِيرَةً فَلا تَكُونَنَّ لَهُ فِتْنَةً، فَإِنَّ الْمُسْلِمَ مَا لَمْ يَغْشَ دَنَاءَةً تَظْهَرُ فَيَخْشَعُ لَهَا إِذَا ذُكِرَتْ، وَيُعَزِّي بِهَا لِئَامَ النَّاسِ كَانَ كَالْفَالِجِ الْيَاسِرِ، الَّذِي يَنْتَظِرُ أَوَّلَ فَوْرَةٍ مِنْ قَدَاحَةٍ تُوجِبُ لَهُ الْمَغْنَمَ، وَتَدْفَعُ عَنْهُ الْمَغْرَمَ، وَكَذَلِكَ الْمَرْءُ الْمُسْلِمُ الْبَرِيءُ مِنَ الْخِيَانَةِ يَنْتَظِرُ مِنَ اللَّهِ إِحْدَى الْحُسَنْيَيْنِ، إِمَّا دَاعِي اللَّهِ، فَمَا عِنْدَ اللَّهِ خَيْرٌ لَهُ، وَإِمَّا أَنْ يَرْزُقَهُ اللَّهُ تَعَالَى، فَإِذَا هُوَ ذُو أَهْلٍ وَمَالٍ وَمَعَهُ حَسَبُهُ وَدِينُهُ: الْحَرْثُ حَرْثَانِ، فَحَرْثُ الدُّنْيَا: الْمَالُ وَالْبَنُونُ، وَحَرْثُ الآخِرَةِ الْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ، وَقَدْ يَجْمَعُهُمَا اللَّهُ تَعَالَى لأَقْوَامٍ، قَالَ سُفْيَانُ: وَمَنْ ذَا يَتَكَلَّمُ بِهَذَا الْكَلامِ إِلَى عَلِيٍّ!!.

 

‌‌كُلُّ لُقْمَةٍ مُقَدَّرَةٌ لِصَاحِبِهَا

- وَعَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَرْوَانَ، قَالَ: كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ مُعَاوِيَةَ فَأُتِيَ بِطَعَامِهِ،
তা তাকে অবশ্যই পেয়ে যাবে যেমন মৃত্যু তাকে পেয়ে যায়।»

৫৯ - এবং উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «এমন কোনো মানুষ নেই যার জন্য একটি চিহ্ন নেই যা সে মাড়ায়, একটি রিযিক নেই যা সে ভক্ষণ করে, একটি নির্ধারিত সময়কাল নেই যেখানে সে পৌঁছায় এবং একটি মৃত্যু নেই যা তাকে সংহার করে। এমনকি কোনো ব্যক্তি যদি তার রিযিক থেকে পালিয়ে যায়, তবে তা তাকে অনুসরণ করবে যতক্ষণ না তাকে ধরে ফেলে, যেমনভাবে মৃত্যু তাকে ধরে ফেলে যে তা থেকে পালিয়ে যায়।»

৬০ - এবং আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: অতঃপর …

নিশ্চয়ই আকাশ থেকে জমিনে প্রতিটি প্রাণের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বৃদ্ধি বা হ্রাস অনুযায়ী নির্দেশ বৃষ্টির ফোঁটার ন্যায় নাযিল হয়; তা সে ব্যক্তির নিজের ক্ষেত্রে হোক, বা পরিবার কিংবা সম্পদের ক্ষেত্রে। সুতরাং যে ব্যক্তি তার পরিবার, নিজ সত্তা বা সম্পদের মাঝে কোনো কমতি দেখে এবং অন্যের মাঝে প্রাচুর্য দেখে, তবে তা যেন তার জন্য ফিতনা (পরীক্ষা) না হয়। কেননা একজন মুসলিম যতক্ষণ পর্যন্ত এমন কোনো প্রকাশ্য হীন কাজে লিপ্ত না হয় যা উল্লেখ করা হলে সে লজ্জিত হয় এবং যার কারণে নিচ প্রকৃতির লোক তাকে সান্ত্বনা দেয়, ততক্ষণ সে সেই সফল জুয়াড়ির ন্যায় যে তার তীরের প্রথম সাফল্যের প্রতীক্ষায় থাকে যা তার জন্য লাভ বয়ে আনে এবং ক্ষতি দূর করে। তদ্রূপ খিয়ানত থেকে মুক্ত মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে দুটি কল্যাণের যেকোনো একটির প্রতীক্ষায় থাকে: হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে আহ্বানকারী (মৃত্যু), আর আল্লাহর কাছে যা রয়েছে তা-ই তার জন্য উত্তম; অথবা আল্লাহ তাআলা তাকে রিযিক দান করবেন, ফলে সে পরিবার ও সম্পদের অধিকারী হবে এবং তার সাথে থাকবে তার মর্যাদা ও দ্বীন। ফসল দুই প্রকার: দুনিয়ার ফসল হলো সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি, আর আখিরাতের ফসল হলো অবশিষ্ট নেক আমলসমূহ। আর আল্লাহ তাআলা কখনো কোনো কোনো কওমের জন্য এ উভয়টিই একত্রিত করে দেন। সুফিয়ান বলেন: আলী ছাড়া আর কে এমন কথা বলতে পারে!!।

 

‌‌প্রত্যেকটি লোকমা তার অধিকারীর জন্য নির্ধারিত

- এবং আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় তার কাছে খাবার আনা হলো,
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٤٠)
فَأَخَذَ لُقْمَةً فَرَفَعَهَا إِلَى فِيهِ، ثُمَّ حَدَّثَ نَفْسَهُ، ثُمَّ أَخَذَهَا فَرَفَعَهَا إِلَى فِيهِ، ثُمَّ حَدَّثَ نَفْسَهُ، فَوَضَعَهَا فَطَلَبَهَا فَلَمْ يَجِدْهَا، فَخَطَبَ النَّاسَ فِيهَا، فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ ، اتَّقُوا اللَّهَ فَإِنَّهُ مَا لامْرِئٍ مِنْكُمْ إِلا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ، وَوَاللَّهِ ، إِنَّ أَحَدَكُمْ لَيَرْفَعُ اللُّقْمَةَ إِلَى فِيهِ مَرَّةً وَمَرَّتَيْنِ ثُمَّ تُقْضَى لِغَيْرِهِ

 

‌‌يَقْسِمُ اللَّهُ الْقُوتَ كُلَّ صَبَاحٍ

62 - وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " مَا خَلَقَ اللَّهُ فَلْقَ صَبَاحٍ بِعِلْمِ مَلَكٍ مُقَرَّبٍ، وَلا نَبِيٍّ مُرْسَلٍ مَا يَكُونُ فِي آخِرِ ذَلِكَ الْيَوْمِ، فَيَقْسِمُ اللَّهُ فِيهِ قُوتَ كُلِّ دَابَّةٍ، حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ لَيَجِيءُ مِنْ أَقْصَى الأَرْضِ، وَقَدْ حَمَلَ قُوتَهُ عَلَى عَاتِقِهِ، وَإِنَّ الشَّيْطَانَ بَيْنَ عَاتِقَيْهِ يَقُولُ لَهُ: اكْذِبِ افْجُرْ، فَمِنْهُمْ مَنْ يَأْخُذُ رِزْقَهُ ذَلِكَ بِكَذِبٍ وَفُجُورٍ، وَمِنْهُمْ مَنْ يَأْخُذُهُ بِبِرٍّ، وَتَقْوَى فَذَلِكَ الَّذِي عَزَمَ اللَّهُ عَلَى رُشْدِهِ "

63 - وَعَنْ جَابِرٍ، وَأَبِي سَعِيدٍ، قَالا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ اللَّهَ لَيَتَّجِرُ لِعَبْدِهِ مِنْ وَرَاءِ كُلِّ تِجَارَةٍ حَتَّى يَأْتِيَهُ بِرِزْقِهِ أَنَّى يَكُونُ» فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَإِنْ كَانَ مِنَ الأَسْنَابِ؟ قَالَ: «وَإِنْ كَانَ مِنَ الأَسْنَابِ»

- وَعَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، أَنَّهُ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي
অতঃপর তিনি এক গ্রাস খাদ্য নিলেন এবং তা তাঁর মুখের দিকে তুললেন, এরপর তিনি মনে মনে কথা বললেন। পুনরায় তিনি তা নিলেন এবং তাঁর মুখের দিকে তুললেন, এরপরও তিনি মনে মনে কথা বললেন। অতঃপর তিনি তা রেখে দিলেন এবং পরে তা তালাশ করলেন কিন্তু পেলেন না। তখন তিনি লোকজনের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: হে লোকসকল, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তোমাদের প্রত্যেকের জন্য তা-ই নির্ধারিত যা আল্লাহ তার জন্য লিখে রেখেছেন। আল্লাহর শপথ, তোমাদের কেউ এক গ্রাস খাবার একবার বা দুইবার তার মুখের কাছে তোলে, অতঃপর তা অন্য কারো জন্য বরাদ্দ হয়ে যায়।

 

‌‌আল্লাহ প্রতিদিন সকালে খাদ্য বণ্টন করেন

৬২ - আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ কোনো নিকটবর্তী ফেরেশতা কিংবা কোনো প্রেরিত নবীর অবগতিতে ভোরের আলো সৃষ্টি করেননি যে সেই দিনের শেষে কী ঘটবে; বরং আল্লাহ তাতে প্রতিটি প্রাণীর আহার্য বণ্টন করেন। এমনকি কোনো ব্যক্তি পৃথিবীর দূরতম প্রান্ত থেকে আসে এমতাবস্থায় যে সে তার আহার নিজের কাঁধে বহন করে নিয়ে আসে; আর শয়তান তার দুই কাঁধের মাঝখানে থেকে তাকে বলতে থাকে: মিথ্যা বলো, পাপাচার করো। ফলে তাদের মধ্যে কেউ সেই রিযিক মিথ্যা ও পাপাচারের মাধ্যমে গ্রহণ করে, আবার কেউ তা পুণ্য ও তাকওয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করে। আর তারাই হলো সেই সব লোক যাদের সুপথ প্রাপ্তির ব্যাপারে আল্লাহ সংকল্প করেছেন।"

৬৩ - জাবির ও আবু সাঈদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দার জন্য প্রতিটি ব্যবসার নেপথ্যে ব্যবসা পরিচালনা করেন যতক্ষণ না তার রিযিক তার কাছে পৌঁছে যায় সে যেখানেই থাকুক না কেন।" এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, যদি তা আসনাব (সুদূর প্রান্ত) থেকেও হয়? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, যদি তা আসনাব থেকেও হয়।"

- উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: হে লোকসকল, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং রিযিক অন্বেষণে উত্তম পন্থা অবলম্বন করো...
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٤١)
الطَّلَبِ فَلَوْ كَانَ رِزْقُ أَحَدِكُمْ فِي قُلَّةِ جَبَلٍ، أَوْ فِي حَضِيضِ أَرْضٍ لأَكَلَ رِزْقَهُ، فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَجْمِلُوا فِي الطَّلَبِ

 

‌‌اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ

- وَعَنِ ابْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَرَدْتُ أَنْ أَخْرُجَ فِي وَجْهٍ فَبَيْنَا أَنَا فِي الطَّرِيقِ، إِذْ قَالَ رَجُلٌ: هَذَا أَبُوكَ خَلَفَكَ حَتَّى لَحِقَنِي، فَقَالَ: يَا بُنَيَّ اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ، وَاعْلَمْ أَنَّ لَكَ رِزْقًا لَنْ تَعْدُوَهُ، فَاطْلُبْهُ مِنْ حِلِّهِ، فَإِنَّكَ إِنْ طَلَبْتَهُ مِنْ حِلِّهِ، رَزَقَكَ اللَّهُ طَيِّبًا، وَاسْتَعْمَلَكَ صَالِحًا، وَأَسْتَوْدِعُكَ اللَّهَ، وَالسَّلامُ عَلَيْكَ

 

‌‌الْحَرِيصُ الْجَاهِلُ وَالْقَانِعُ الزَّاهِدُ

- وَقَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ: الْحَرِيصُ الْجَاهِلُ، وَالْقَانِعُ الزَّاهِدُ كُلٌّ مُسْتَوْفٍ أَكْلَهُ مُسْتَوْفٍ رِزْقَهُ، فَعَلامَ التَّهَافُتُ فِي النَّارِ؟

- حُكِيَ أَنَّ رَجُلا كَتَبَ إِلَى ابْنٍ لَهُ: إِنَّكَ لَمْ تَبْلُغْ أَمَلَكَ، وَلَنْ تَعْدُوَ أَجَلَكَ ، فَأَجْمِلْ فِي الطَّلَبِ …

الْكَسْب، وَإِنَّهُ رُبَّ طَالِبٍ قَدْ جُرَّ إِلَى حَزَنٍ، فَأَكْرِمْ نَفْسَكَ عَنْ
অন্বেষণের ক্ষেত্রে; তোমাদের কারো রিজিক যদি কোনো পাহাড়ের চূড়ায় অথবা জমিনের অতল গহ্বরেও থাকে, তবে সে অবশ্যই তার রিজিক ভক্ষণ করবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং অন্বেষণের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো।

 

‌‌তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো

- ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এক দিকে বের হতে চেয়েছিলাম। পথিমধ্যে থাকাকালীন এক ব্যক্তি বলল: এই যে তোমার পিতা তোমার পেছনে আসছেন, যতক্ষণ না তিনি আমার কাছে পৌঁছালেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে বৎস! তুমি যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করো। জেনে রেখো, তোমার জন্য নির্ধারিত এমন এক রিজিক রয়েছে যা তুমি অতিক্রম করতে পারবে না। সুতরাং তা হালাল পন্থায় অন্বেষণ করো। কেননা তুমি যদি তা হালাল পন্থায় অন্বেষণ করো, তবে আল্লাহ তোমাকে পবিত্র রিজিক দান করবেন এবং তোমাকে সৎকাজে নিয়োজিত করবেন। আমি তোমাকে আল্লাহর আশ্রয়ে সপে দিচ্ছি, আর তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

 

‌‌অজ্ঞ লোভী এবং অল্পে তুষ্ট জাহিদ

- হাসান বসরী (রহ.) বলেন: অজ্ঞ লোভী এবং অল্পে তুষ্ট জাহিদ—উভয়েই তাদের নির্ধারিত খাদ্য ও রিজিক পূর্ণরূপে গ্রহণ করবে; তবে কেন আগুনের দিকে এই হিতাহিতজ্ঞানহীন ধাবমান হওয়া?

- বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি তার পুত্রের কাছে লিখেছিলেন: নিশ্চয়ই তুমি তোমার আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছাতে পারবে না এবং তোমার নির্ধারিত আয়ুষ্কালকে অতিক্রম করতে পারবে না। সুতরাং অন্বেষণের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো ...

উপার্জন; আর নিশ্চয়ই অনেক অন্বেষণকারী দুঃখের দিকে চালিত হয়। সুতরাং তুমি তোমার নফসকে রক্ষা করো...
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٤٢)
دُنْيَا دَنِيَّةٍ، وَشَهْوَةٍ رَدِيَّةٍ، فَإِنَّكَ لا تَعْتَاضُ مَا تَبْذِلُ مِنْ نَفْسِكَ عِوَضًا، وَلا تَأْمَنُ مِنْ خِدَعِ الشَّيْطَانِ أَنْ يَقُولَ: مَتَى مَا أَرَى مَا أكرم نَزَعت، فَإِنَّهُ هَكَذَا أَهْلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكَ!.

- قَالَ رَجُلٌ مِنْ عَبْدِ الْقَيْسِ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ ذكر عَنْهُ فضيلا:

أُثَامِنُ بِالنَّفْسِ النَّفِيسَةِ رَبَّهَا … فَلَيْسَ لَهَا فِي النَّاسِ كُلِّهِمُ ثَمَنُ

بِهَا تُشْتَرَى الْجَنَّاتُ إِذَا بِعْتَهَا … بِشَيْءٍ سِوَاهَا إِنَّ ذَلِكَ غَبْنُ

لَئِنْ ذَهَبَتْ نَفْسِي بِدُنْيَا أَصَبْتُهَا … فَقَدْ ذَهَبَتِ الدُّنْيَا وَقَدْ ذَهَبَ الثَّمَنُ

- غَيْرُهُ:

وَمُنْتَظِرٍ سُؤَالَكَ بِالْعَطَايَا … وَأَفْضَلُ مِنْ عَطَايَاهُ السُّؤَالُ

إِذَا لَمْ يَأْتِكَ الْمَعْرُوفُ عَفْوًا … فَدَعْهُ فَالتَّنَزُّهُ عَنْهُ مَالُ

وَكَيْفَ يَلَذُّ ذُو أَدَبٍ نَوَالا … وَمِنْهُ لِوَجْهِهِ فِيهِ ابْتِذَالُ

إِذَا كَانَ السُّؤَالُ بِذُلِّ وَجْهٍ … وَإِلْحَاحٍ فَلا كَانَ النَّوَالُ

- غَيْرُهُ:

مَا اعْتَاضَ بَاذِلُ وَجْهِهِ بِسُؤَالِهِ … عِوَضًا وَلَوْ كَانَ الْغِنَى بِسُؤَالِ

وَإِذَا السُّؤَالُ مَعَ النَّوَالِ وَزَنْتَهُ … رَجَحَ السُّؤَالُ وَخَفَّ كُلُّ نَوَالِ

- غَيْرُهُ:

لَيْسَ يَعْتَاضُ بَاذِلُ الْوَجْهِ فِي … الْحَاجَةِ مِنْ بَذْلِ وَجْهِهِ عِوَضًا

فَكَيْفَ يَعْتَاضُ مَنْ أَتَاكَ وَقَدْ … صَيَّرَ لِلذُّلِّ وَجْهَهُ غَرَضَا
তুচ্ছ দুনিয়া এবং মন্দ কামনা; নিশ্চয়ই আপনি নিজের প্রাণের বিনিময়ে যা উৎসর্গ করবেন, তার কোনো বিকল্প পাবেন না। আর শয়তানের প্রতারণা থেকে আপনি নিরাপদ থাকবেন না যে সে বলবে: যখনই আমি সম্মানজনক কিছু দেখব, তা ছিনিয়ে নেব। এভাবেই সে আপনার পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছিল!

- বসরা নিবাসী আব্দুল কায়েস গোত্রের এক ব্যক্তি বলেছেন, যাঁর সম্পর্কে ফুদাইল বর্ণনা করেছেন:

আমি এই মূল্যবান প্রাণের বিনিময়ে এর রবের সাথে সওদা করি … সমস্ত মানুষের মাঝে এর কোনো মূল্য নেই

এর বিনিময়ে জান্নাতসমূহ কেনা যায় যখন আপনি তা বিক্রি করবেন … এটি ছাড়া অন্য কিছুর বিনিময়ে তা বিক্রি করা কেবলই লোকসান

যদি আমার প্রাণ আমার অর্জিত দুনিয়ার মোহে নিঃশেষ হয়ে যায় … তবে দুনিয়াও শেষ হয়ে গেল এবং তার মূল্যও হারিয়ে গেল

- অন্যজন:

কেউ আপনার প্রার্থনার অপেক্ষায় থাকে দান করার জন্য … অথচ তার দানের চেয়ে আপনার প্রার্থনাই অধিক শ্রেষ্ঠ

যদি কোনো সদয় আচরণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার কাছে না আসে … তবে তা বর্জন করুন, কারণ তা থেকে পবিত্র থাকাই হলো সম্পদ

একজন শিষ্টাচারসম্পন্ন ব্যক্তি কীভাবে সেই দান আস্বাদন করবে … যার মধ্যে তার সম্মানের অবমাননা রয়েছে?

যদি প্রার্থনা হয় চেহারার লাঞ্ছনা এবং … অনুনয়-বিনয়ের মাধ্যমে, তবে এমন দানের প্রয়োজন নেই

- অন্যজন:

যে ব্যক্তি প্রার্থনার মাধ্যমে নিজের সম্মান বিলিয়ে দেয়, সে কোনো বিনিময়ই লাভ করেনি … যদিও প্রার্থনার মাধ্যমে প্রাচুর্য অর্জিত হয়

আর আপনি যদি দানের সাথে প্রার্থনার ওজন করেন … তবে প্রার্থনার পাল্লাই ভারী হবে এবং প্রতিটি দানই হালকা হয়ে যাবে

- অন্যজন:

প্রয়োজনে যে নিজের সম্মান বিসর্জন দেয়, সে তার সম্মান … বিসর্জনের কোনো বিনিময় পায় না

সুতরাং সে কীভাবে বিনিময় পাবে, যে আপনার কাছে এসেছে এবং … নিজের চেহারাকে লাঞ্ছনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে?
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٤٣)
- وَقَالَ ابْنُ السَّمَّاكِ لِلْفَضْلِ بْنِ يَحْيَى، وَقَدْ رَدَّ رَجُلا عَنْ حَاجَةٍ لَهُ: إِنَّ هَذَا لَمْ يَصُدَّ وَجْهَهُ عَنْ مَسْأَلَتِكَ، وَأَكْرَمَ وَجْهَكَ عَنْ رَدِّكَ أَنْ تَقْضِيَ حَاجَتَهُ

- سَأَلَ ابْنُ أَخٍ لِمُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ مُحَمَّدًا، فَجَعَلَ مُحَمَّدٌ يَبْكِي، فَقَالَ لَهُ ابْنُ أَخِيهِ: يَا عَمُّ، لَوْ عَلِمْتَ أَنَّ مَسْأَلَتِي تَبْلُغُ هَذَا مِنْكَ مَا سَأَلْتُكَ، قَالَ: يَابْنَ أَخِي لَمْ أَبْكِ مِنْ مَسْأَلَتِكَ إِيَّايَ، إِنَّمَا بَكَيْتُ مِنْ تَرْكِي ابْتِدَاءَكَ قَبْلَ أَنْ تَسْأَلَنِي

 

‌‌مِنَ الْحِكَمِ الْمَأْثُورَةِ

- وَقِيلَ: مَكْتُوبٌ فِي الْكُتُبِ: يَا عَبْدِي إِنْ كُنْتَ لا بُدَّ طَالِبَ حَاجَةٍ مِنْ عِبَادِي، فَاطْلُبْهَا مِنْ مَعَادِنِ أَهْلِ الْخَيْرِ فَتَرْجِعَ مَغْبُوطًا مَسْرُورًا وَلا تَطْلُبْهَا مِنْ مَعَادِنِ أَهْلِ الشَّرِّ فَتَرْجِعَ غَضْبَانَ مَحْسُورًا
- ইবনুস সাম্মাক ফাদল বিন ইয়াহইয়াকে বললেন, যখন তিনি এক ব্যক্তিকে তার প্রয়োজন পূরণ না করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন: নিশ্চয়ই এই ব্যক্তি আপনার কাছে প্রার্থনা করা থেকে নিজের মুখ ফিরিয়ে নেয়নি, এবং সে আপনার সম্মানকে আপনার প্রত্যাখানের মাধ্যমে ক্ষুণ্ণ হওয়া থেকে রক্ষা করেছে যাতে আপনি তার প্রয়োজন পূরণ করেন।

- মুহাম্মদ বিন সুকাহর এক ভ্রাতুষ্পুত্র তাঁর কাছে কিছু চাইল, তখন মুহাম্মদ কাঁদতে শুরু করলেন। তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র তাকে বলল: হে চাচা, যদি আমি জানতাম যে আমার চাওয়া আপনার ওপর এমন প্রভাব ফেলবে, তবে আমি আপনার কাছে চাইতাম না। তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি তোমার চাওয়ার কারণে কাঁদছি না, বরং আমি কাঁদছি এজন্য যে, তুমি চাওয়ার আগেই তোমাকে সাহায্য করার বিষয়টি আমি বাদ দিয়েছিলাম।

 

‌‌বর্ণিত প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীসমূহ থেকে

- এবং বলা হয়েছে: কিতাবসমূহে লিখিত আছে: হে আমার বান্দা, যদি তোমাকে আমার বান্দাদের নিকট কোনো প্রয়োজনে চাইতেই হয়, তবে তা কল্যাণবান ব্যক্তিদের উৎস থেকে অন্বেষণ করো, তবে তুমি ঈর্ষণীয় ও আনন্দিত অবস্থায় ফিরবে। আর অকল্যাণকর ব্যক্তিদের উৎস থেকে তা চেয়ো না, অন্যথায় তুমি রাগান্বিত ও অনুতপ্ত অবস্থায় ফিরবে।
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٤٤)
‌‌بَابُ إِنْزَالِ الْحَاجَةِ بِاللَّهِ تَعَالَى وَالاسْتِعْفَافِ عَنِ الْمَسْأَلَةِ

75 - عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ نَزَلَتْ بِهِ حَاجَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِاللَّهِ عز وجل أَوْشَكَ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْغِنَى إِمَّا عَاجِلا أَوْ آجِلا»

76 - وَقَالَ هِلالُ بْنُ حِصْنٍ: أَتَيْتُ الْمَدِينَةَ فَنَزَلْتُ دَارَ أَبِي سَعِيدٍ فَضَمَّنِي وَإِيَّاهُ الْمَجْلِسُ، فَحَدَّثَ أَنَّهُ أَصْبَحَ ذَاتَ يَوْمٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ طَعَامٌ، وَأَصْبَحَ قَدْ عَصَبَ عَلَى بَطْنِهِ حَجَرًا مِنَ الْجُوعِ، قَالَ: فَقَالَتِ امْرَأَتِي: ائْتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَلْهُ، فَقَدْ أَتَاهُ فُلانٌ فَأَعْطَاهُ، وَأَتَاهُ فُلانٌ فَأَعْطَاهُ، فَأَبَيْتُ، وَقُلْتُ: حَتَّى أَلْتَمِسَ شَيْئًا فَذَهَبْتُ أَطْلُبُ فَانْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَخْطُبُ وَيَقُولُ: «مَنْ يَسْتَعِفَّ يُعِفَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ سَأَلَنَا شَيْئًا فَوَجَدْنَاهُ أَعْطَيْنَاهُ، وَوَاسَيْنَاهُ، وَمَنِ اسْتَعَفَّ عَنَّا، وَاسْتَغْنَى فَهُوَ أَحَبُّ إِلَيْنَا مِمَّنْ سَأَلَنَا» ، قَالَ: فَرَجَعْتُ وَمَا سَأَلْتُ شَيْئًا فَرَزَقَنَا اللَّهُ تَعَالَى، حَتَّى مَا أَعْلَمَ أَهْلَ بَيْتٍ مِنَ الأَنْصَارِ أَكْثَرَ أَمْوَالا مِنَّا

 

‌‌جَزَاءُ مَنِ انْقَطَعَ إِلَى اللَّهِ

77 - وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنِ انْقَطَعَ إِلَى اللَّهِ كَفَاهُ اللَّهُ كُلَّ مُؤْنَةٍ، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لا يَحْتَسِبُ، وَمَنِ انْقَطَعَ إِلَى الدُّنْيَا وَكَلَهُ اللَّهُ
আল্লাহ তাআলার নিকট প্রয়োজন পেশ করা এবং যাচনা থেকে বিরত থাকার অধ্যায়

৭৫ - ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যার কোনো অভাব বা প্রয়োজন দেখা দিল এবং সে তা মহান আল্লাহর নিকট পেশ করল, তবে শীঘ্রই আল্লাহ তাকে সচ্ছলতা দান করবেন—চাই তা দ্রুত হোক বা বিলম্বে।"

৭৬ - হিলাল ইবনে হিসন বলেন: আমি মদিনায় এলাম এবং আবু সাঈদ (রা.)-এর ঘরে অবস্থান করলাম। এক মজলিসে আমি ও তিনি একত্রিত হলাম। তিনি বর্ণনা করলেন যে, একদিন সকালে তাঁর নিকট কোনো খাবার ছিল না এবং ক্ষুধার তীব্রতায় তিনি পেটে পাথর বেঁধেছিলেন। তিনি বললেন: তখন আমার স্ত্রী বলল: আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট যান এবং তাঁর কাছে কিছু চান; কেননা অমুক ব্যক্তি তাঁর কাছে গিয়েছিল এবং তিনি তাকে দান করেছেন, আবার অমুক ব্যক্তিও গিয়েছিল এবং তিনি তাকেও দান করেছেন। কিন্তু আমি তা অস্বীকার করলাম এবং বললাম: যতক্ষণ না আমি নিজে কিছু তালাশ করি। অতঃপর আমি অন্বেষণে বের হলাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছলাম। তিনি তখন খুতবা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: "যে ব্যক্তি যাচনা থেকে বিরত থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে স্বাবলম্বী করে দেন। আর যে আমাদের নিকট কিছু প্রার্থনা করে এবং তা আমাদের নিকট বিদ্যমান থাকে, আমরা তাকে তা দান করি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করি। তবে যে আমাদের নিকট যাচনা থেকে বিরত থাকে এবং অমুখাপেক্ষিতা অবলম্বন করে, সে আমাদের নিকট ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক প্রিয় যে আমাদের কাছে সওয়াল করে।" তিনি (আবু সাঈদ) বলেন: এরপর আমি ফিরে এলাম এবং কিছুই চাইলাম না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাদের এমন রিযিক দান করলেন যে, আনসারদের কোনো পরিবারই আমাদের চেয়ে অধিক সম্পদশালী ছিল বলে আমার জানা নেই।

 

আল্লাহর প্রতি একাগ্রচিত্ত হওয়ার প্রতিদান

৭৭ - ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহর প্রতি একাগ্রচিত্ত হয়, আল্লাহ তার সকল দায়-ভার বহনের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে ব্যক্তি কেবল দুনিয়ার প্রতি মগ্ন হয়, আল্লাহ তাকে দুনিয়ার হাতেই সোপর্দ করে দেন।"
(খণ্ড: ১) আল কানাতু ওয়াত তাআফফুফ (পৃষ্ঠা: ٤٥)
إِلَيْهَا»

 

‌‌أَفْضَلُ الْعِبَادَةِ انْتِظَارُ الْفَرَجِ

78 - وَرُوِيَ أَنَّ نَاسًا مِنَ الأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمْ يَسْأَلْهُ أَحَدٌ مِنْهُمْ إِلا أَعْطَاهُ، حَتَّى نَفِدَ كُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ، قَالَ: «مَا يَكُنْ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ، وَأَنَّهُ مَنْ يَسْتَعِفَّ يُعِفَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهِ، وَلَنْ تُعْطَوْا عَطَاءً خَيْرًا، وَلا أَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ»

79 - وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «سَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ، وَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ أَنْ يُسْأَلَ، وَإِنَّ مِنْ أَفْضَلِ الْعِبَادَةِ انْتِظَارَ الْفَرَجِ»

80 - وَعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ نَزَلَتْ بِهِ حَاجَةٌ، وَأَنْزَلَهَا النَّاسَ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ، فَإِنْ أَنْزَلَهَا بِاللَّهِ أَوْشَكَ اللَّهُ بِآجِلٍ حَاضِرٍ، أَوْ رِزْقٍ عَاجِلٍ»

 

‌‌مَنْ عَرَفَ اللَّهَ اسْتَغْنَى

- وَقَالَ أَبُو الْجَلْدِ: كَانَ لَنَا جَارٌ، وَكَانَ أَثَرُ الْفَاقَةِ وَالْمَسْكَنَةِ عَلَيْهِ، فَقُلْتُ لَهُ: لَوْ عَالَجْتَ شَيْئًا، لَوْ طَلَبْتَ شَيْئًا؟ قَالَ: يَا أَبَا الْجَلْدِ، وَأَنْتَ تَقُولُ هَذَا؟ مَنْ عَرَفَ رَبَّهُ فَلَمْ يَسْتَغْنِ فَلا أَغْنَاهُ اللَّهُ
তার দিকে।»

 

‌‌সর্বোত্তম ইবাদত হলো সংকট মুক্তির অপেক্ষা করা

৭৮ - বর্ণিত আছে যে, আনসারদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চাইলেন। তাদের মধ্যে যে কেউ চাইল তিনি তাকে দান করলেন, এমনকি তাঁর কাছে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেল। তিনি বললেন: «আমার কাছে যে সম্পদ থাকে, তা আমি তোমাদের না দিয়ে জমা করে রাখব না। আর যে ব্যক্তি পবিত্রতা (অভাবমুক্ত থাকা) কামনা করে, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন; আর যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করে দেন। তোমাদেরকে ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত আর কোনো দান করা হয়নি।»

৭৯ - ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে তাঁর কাছে প্রার্থনা করো, কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন যে তাঁর কাছে চাওয়া হোক। আর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম ইবাদত হলো সংকট মুক্তির অপেক্ষা করা।»

৮০ - ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যার কোনো প্রয়োজন দেখা দিল এবং সে তা মানুষের কাছে পেশ করল, তার অভাব দূর হবে না। আর যে ব্যক্তি তা আল্লাহর কাছে পেশ করল, আল্লাহ তাকে দ্রুত কোনো রিযিক অথবা আসন্ন কোনো নিষ্কৃতি দান করবেন।»

 

‌‌যে আল্লাহকে চিনেছে সে অমুখাপেক্ষী হয়েছে

- আবুল জালদ বলেন: আমাদের এক প্রতিবেশী ছিল যার ওপর অভাব ও দারিদ্র্যের ছাপ ছিল। আমি তাকে বললাম: "আপনি যদি কিছু একটা করার চেষ্টা করতেন অথবা কিছু চাইতেন?" তিনি বললেন: "হে আবুল জালদ! আপনিও কি এই কথা বলছেন? যে ব্যক্তি তার রবকে চিনেছে অথচ সে অমুখাপেক্ষী হয়নি, আল্লাহ তাকে কখনো অভাবমুক্ত না করুন।"