(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: -)
العقد التمام فيمن زوجه النبي عليه الصلاة والسلام القسم: كتب السنة
الكتاب: العقد التمام فيمن زوجه النبي عليه الصلاة والسلام
المؤلف: يوسف بن حسن بن أحمد بن حسن ابن عبد الهادي الصالحي، جمال الدين، ابن ابن المِبْرَد الحنبلي (ت 909هـ)
تحقيق: أبي إسماعيل هشام بن إسماعيل السقا
مراجعة: أبي عبد الله محمود بن محمد الحداد
الناشر: دار عالم الكتب للنشر والتوزيع، الرياض
عام النشر: 1405 هـ - 1985 م
عدد الصفحات: 31
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইকদুত তামাম ফিমান যাউওয়াজাহুন নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-ইকদুত তামাম ফিমান যাউওয়াজাহুন নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
লেখক: ইউসুফ বিন হাসান বিন আহমাদ বিন হাসান ইবনে আব্দুল হাদী আস-সালিহী, জামালুদ্দীন, ইবনুল মুবাররাদ আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৯০৯ হিজরি)
সম্পাদনা: আবু ইসমাঈল হিশাম বিন ইসমাঈল আস-সাক্কা
পর্যবেক্ষণ: আবু আব্দুল্লাহ মাহমুদ বিন মুহাম্মাদ আল-হাদ্দাদ
প্রকাশক: দারু আলমিল কুতুব লিন-নাশর ওয়াত-তাওযি, রিয়াদ
প্রকাশকাল: ১৪০৫ হিজরি - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ وَسَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ وَبَعْدُ:
فَهَذَا كِتَابٌ أَذْكُرُ فِيهِ مَنْ زَوَّجَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، سَمَّيْتُهُ: «الْعِقْدُ التَّمَامُ فِيمَنْ زَوَّجَهُ النَّبِيُّ عليه الصلاة والسلام» ، وَاللَّهَ أَسْأَلُ أَنْ يَجْعَلَهُ خَالِصًا لِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.
1 - أَخْبَرَنَا جَمَاعَةٌ؛ مِنْهُمُ: ابْنُ السّليمِيِّ، وَابْنُ الْبقسماطِيِّ، وَابْنُ الصّمودِيِّ، وَغَيْرُهُمْ، قَالُوا: أنا ابْنُ الرّعبوبِ، وَمِنْهُمُ: ابْنُ زَيْدٍ،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের প্রতি, যিনি নবীগণের মোহর ও রাসূলগণের সর্দার, এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের প্রতি। অতঃপর:
এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমি তাদের কথা উল্লেখ করব যাদের বিবাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পন্ন করিয়েছেন। আমি এর নামকরণ করেছি: ‘আল-ইকদুত তামামু ফীমান যাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম’ (নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম যাদের বিবাহ সম্পন্ন করিয়েছেন তাদের বর্ণনায় পূর্ণাঙ্গ হার)। আল্লাহর নিকট আমি প্রার্থনা করি যেন তিনি একে তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
১ - আমাদের নিকট একদল বর্ণনা করেছেন; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুস সুলাইমী, ইবনুল বাকসামাতি, ইবনুস সামূদী এবং অন্যান্যরা। তাঁরা বলেছেন: ইবনুর রা’বূব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনু যায়িদ।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَابْنُ الصَّفِيِّ، وَاللُّؤْلُئِيُّونَ، وَغَيْرُهُمْ، أَنْبَأَتْنَا عَائِشَةُ بِنْتُ عَبْدِ الْهَادِي، وَمِنْهُمُ: ابْنُ الصَّدْرِ، وَابْنُ الصّمودِيِّ، غَيْرُ الأَوَّلِ، وَغَيْرُهُمَا، أنا ابْنُ الْيُونَانِيَّةِ، وَمِنْهُمُ: الْفُولاذِيُّ، وَغَيْرُهُ، أنا ابْنُ الأماسِيِّ، وَمِنْهُمُ: أَبُو الْفَرَجِ بْنُ الْخبانِ، وَالْعانوِيُّ، وَغَيْرُهُمَا، أنا ابْنُ نَاصِرِ الدِّينِ، وَغَيْرُهُ، أنا ابْنُ الأماسِيِّ، وَوَكِيلُ بَيْتِ الْمَالِ، وَعَائِشَةُ، وَفَاطِمَةُ ابْنَتَا مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْهَادِي، قَالُوا كُلُّهُمْ: أنا الْحَجَّارُ، أنا ابْنُ الزُّبَيْدِيِّ، سَمَاعًا، وَابْنُ اللَّيْثِيِّ، وَالْقَطِيفِيُّ، وَالْفَارُوثِيُّ، إِجَازَةً، أنا أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الأَوَّلِ بْنُ عِيسَى السِّجْزِيُّ، أنا الدَّاوُدِيُّ، وثنا السَّرْخَسِيُّ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَطَرٍ الْفَرَبْرِيُّ، أنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، ثنا قُتَيْبَةُ، ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جِئْتُ أَهَبُ لَكَ نَفْسِي فَنَظَرَ إِلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَصَعَّدَ النَّظَرَ فِيهَا وَصَوَّبَهُ ثُمَّ طَأْطَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، رَأْسَهُ فَلَمَّا رَأَتِ الْمَرْأَةُ أَنَّهُ لَمْ يَقْضِ فِيهَا شَيْئًا جَلَسَتْ، فَقَامَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ فَزَوِّجْنِيهَا، فَقَالَ: وَهَلْ عِنْدَكَ مِنْ شَيْءٍ؟ قَالَ: لا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: اذْهَبْ إِلَى أَهْلِكَ فَانْظُرْ هَلْ تَجِدُ شَيْئًا، فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ: لا وَاللَّهِ مَا وَجَدْتُ شَيْئًا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: انْظُرْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ، فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ، فَقَالَ: لا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلا خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ وَلَكِنْ هَذَا إِزَارِي.
قَالَ سَهْلٌ: مَا لَهُ رِدَاءٌ، فَلَهَا نِصْفُهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: مَا تَصْنَعُ بِإِزَارِكَ إِنْ لَبِسَتْهُ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهَا مِنْهُ شَيْءٌ وَإِنْ لَبِسْتَهُ لَمْ يَكُنْ عَلَيْكَ مِنْهُ شَيْءٌ، فَجَلَسَ الرَّجُلُ حَتَّى إِذَا طَالَ مَجْلِسُهُ قَامَ، فَرَآهُ
ইবনে আস-সাফি, আল-লু’লু’ইয়ুন এবং অন্যান্যরা আমাদের জানিয়েছেন; আয়েশা বিনতে আবদুল হাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনুস সদর, ইবনুস সামুদি (যিনি প্রথম ব্যক্তি নন) এবং আরও অনেকে। ইবনুল ইউনানিয়্যাহ আমাদের জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আল-ফুলাদি এবং অন্যান্যরা। ইবনুল আমাসি আমাদের জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন: আবুল ফারাজ ইবনুল খাব্বান, আল-আনাওয়ি এবং আরও অনেকে। ইবনু নাসিরুদ্দিন এবং অন্যরা আমাদের জানিয়েছেন। ইবনুল আমাসি, বায়তুল মালের প্রতিনিধি, আয়েশা এবং ফাতিমা (মুহাম্মদ ইবনে আবদুল হাদির দুই কন্যা) আমাদের জানিয়েছেন। তাঁরা সকলেই বলেছেন: আল-হাজ্জার আমাদের জানিয়েছেন। ইবনুয যুবায়দী শ্রবণ করার মাধ্যমে এবং ইবনুল লায়ছি, আল-কাতিফি ও আল-ফারুছি অনুমতির (ইজাযাহ) মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছেন। আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আওয়াল ইবনে ঈসা আস-সিজজি আমাদের জানিয়েছেন। আদ-দাউদি আমাদের জানিয়েছেন। আস-সারখাসি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মাতার আল-ফারাবরি আমাদের জানিয়েছেন। আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আমাদের জানিয়েছেন। কুতায়বাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। আবদুল আজিজ ইবনে আবি হাযিম তাঁর পিতা থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা’দ আস-সা’ইদি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি নিজেকে আপনার কাছে সমর্পণ (হেবা) করার জন্য এসেছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিকে তাকালেন এবং দৃষ্টি উপরে উঠিয়ে ও নিচে নামিয়ে তাঁকে পর্যবেক্ষণ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা নিচু করলেন। মহিলাটি যখন দেখলেন যে তিনি তাঁর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দিলেন না, তখন তিনি বসে পড়লেন। এরপর তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনার যদি তাঁর প্রয়োজন না থাকে, তবে তাঁর সাথে আমার বিয়ে দিন। তিনি বললেন: তোমার কাছে কি (মোহর দেওয়ার মতো) কিছু আছে? তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ না, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: তোমার পরিবারের কাছে যাও এবং দেখ কিছু পাও কি না। এরপর তিনি গেলেন এবং ফিরে এসে বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি কিছুই পাইনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তালাশ করো, যদিও তা একটি লোহার আংটিও হয়। এরপর তিনি গেলেন এবং ফিরে এসে বললেন: আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসূল, লোহার একটি আংটিও নেই; তবে আমার এই লুঙ্গিটি (ইজার) আছে।
সাহল বলেন: তাঁর কোনো চাদর ছিল না, তাই তাঁর লুঙ্গির অর্ধেকটা হবে মহিলার জন্য। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি তোমার লুঙ্গি দিয়ে কী করবে? যদি সে এটি পরিধান করে, তবে তোমার ওপর এর কিছু থাকবে না; আর যদি তুমি এটি পরিধান করো, তবে তাঁর ওপর এর কিছু থাকবে না। এরপর লোকটি বসে পড়লেন এবং তাঁর দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা হয়ে গেলে তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন, তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ) তাকে দেখতে পেলেন।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، مُولِّيًا فَأَمَرَ بِهِ فَدُعِيَ فَلَمَّا جَاءَ قَالَ:
مَاذَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ؟ قَالَ: مَعِي سُورَةُ كَذَا وَسُورَةُ كَذَا عَدَّدَهَا، قَالَ: تَقْرَؤُهُنَّ عَنْ ظَهْرِ قَلْبِكَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «اذْهَبْ فَقَدْ مَلَّكْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ» .
رَوَاهُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْبُخَارِيُّ مِنْ طُرُقٍ عَدِيدَةٍ فِي أَبْوَابٍ كَثِيرَةٍ، وَهُوَ حَدِيثٌ صَحِيحٌ، وَهُوَ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي الْبَابِ، وَهَذَا الطَّرِيقُ أَتَمُّ طُرُقِهِ.
وَقَدْ رَوَيْنَاهُ فِي صَحِيحِ مُسْلِمٍ مِنْ طُرُقٍ، وَرَوَيْنَاهُ فِي جَامِعِ التِّرْمِذِيِّ، وَمُسْنَدِ الإِمَامِ أَحْمَدَ، وَغَيْرِهِمَا مِنْ طُرُقٍ، وَرَوَيْنَاهُ فِي سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ
لَكِنْ فِي (سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ) رِوَايَةٌ أُخْرَى لَعَلَّهَا لِرَجُلٍ آخَرَ غَيْرِهِ.
2 - أَخْبَرَنَا جَمَاعَةٌ مِنْ شُيُوخِنَا، أنا ابْنُ الْمُحِبِّ، وَابْنُ الْبَالِسِيِّ، أنا الْمِزِّيُّ، أنا ابْنُ الْبُخَارِيِّ ح.
وَأنا جَدِّي، إِجَازَةً، أنا الصَّلاحُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، أنا الْفَخْرُ بْنُ الْبُخَارِيِّ، أنا ابْنُ طَبَرْزَدَ، أنا أَبُو الْفَتْحِ الْمَيْدُومِيُّ، أنا أَبُو بَكْرٍ الْخَطِيبُ، أنا أَبُو عُمَرَ الْهَاشِمِيُّ، أنا أَبُو عَلِيٍّ اللُّؤْلُئِيُّ، أنا أَبُو دَاوُدَ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنِي أَبُو حَفْصِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ الْحَجَّاجِ الْبَاهِلِيِّ، عَنْ عِسْلٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ফিরে যেতে দেখে তাকে ডাকার নির্দেশ দিলেন। তাকে ডাকা হলে তিনি যখন আসলেন, তখন তিনি (রাসূল) বললেন:
"তোমার সাথে কুরআনের কী (অংশ) আছে?" তিনি বললেন: "আমার সাথে অমুক সূরা এবং অমুক সূরা আছে," তিনি সেগুলো গণনা করলেন। তিনি (রাসূল) বললেন: "তুমি কি সেগুলো মুখস্থ পড়তে পারো?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।", তিনি বললেন: "যাও, তোমার সাথে থাকা কুরআনের বিনিময়ে আমি তাকে তোমার মালিকানাধীন (বিবাহিত) করে দিলাম।"
এটি আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী অনেকগুলো সূত্রে বিভিন্ন অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। এটি একটি সহীহ হাদীস এবং এই বিষয়ের সবচেয়ে বিশুদ্ধতম বর্ণনা। আর এই সূত্রটি এর বর্ণনাসূত্রসমূহের মধ্যে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ।
আমরা এটি সহীহ মুসলিমে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছি এবং জামিআত তিরমিযী, মুসনাদে ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য গ্রন্থেও বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছি। এছাড়াও আমরা এটি সুনানে আবু দাউদে বর্ণনা করেছি।
তবে (সুনানে আবু দাউদে) অন্য একটি বর্ণনা রয়েছে যা সম্ভবত অন্য কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে।
২ - আমাদের একদল শায়খ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মুহিব্ব ও ইবনুল বালিসী আমাদের জানিয়েছেন, আল-মিযযী আমাদের জানিয়েছেন, ইবনুল বুখারী আমাদের জানিয়েছেন (হ)।
এবং আমার দাদা ইজাজতসূত্রে আমাদের জানিয়েছেন, আস-সালাহ ইবনে আবি উমর আমাদের জানিয়েছেন, আল-ফখর ইবনুল বুখারী আমাদের জানিয়েছেন, ইবনু তাবারযাদ আমাদের জানিয়েছেন, আবু আল-ফাতহ আল-মাইদুমি আমাদের জানিয়েছেন, আবু বকর আল-খাতিব আমাদের জানিয়েছেন, আবু উমর আল-হাশেমি আমাদের জানিয়েছেন, আবু আলী আল-লুলুই আমাদের জানিয়েছেন, আবু দাউদ আমাদের জানিয়েছেন, আহমদ ইবনে হাফস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাফস ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে তাহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হাজ্জাজ ইবনে হাজ্জাজ আল-বাহিলি থেকে, তিনি ইজল থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি থেকে।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ نَحْوَ الْقِصَّةِ، وَلَمْ يَذْكُرِ الإِزَارَ وَالْخَاتَمَ، وَقَالَ:
مَا تَحْفَظُ مِنَ الْقُرْآنِ؟ قَالَ: سُورَةَ الْبَقَرَةِ، أَوِ الَّتِي تَلِيهَا، قَالَ: قُمْ فَعَلِّمْهَا عِشْرِينَ آيَةً وَهِيَ امْرَأَتُكَ
وَقَدْ رَوَيْنَاهُ مِنْ حَدِيثِ الدَّارِمِيِّ مِنْ طُرُقٍ، وَفِيهِ طَرِيقٌ يُشْعِرُ بِأَنَّهُ غَيْرُ الأَوَّلِ أَيْضًا.
3 - أَخْبَرَنَا ابْنُ السّليمِيِّ، وَغَيْرُهُ، أنا ابْنُ الرّعبوبِ، أنا الْحَجَّارُ، أنا ابْنُ اللَّتِّيِّ، أنا السِّجْزِيُّ، أنا الدَّاوُدِيُّ، أنا السَّرْخَسِيُّ، أنا أَبُو عِمْرَانَ السَّمَرْقَنْدِيُّ، أنا أَبُو مُحَمَّدٍ الدَّارِمِيُّ، ثنا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ هَارُونَ، ثنا سُلَيْمَانُ، ثنا بِشْرٌ، ثنا بَكَّارٌ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ:
زَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، رَجُلا مِنْ أَصْحَابِهِ عَلَى سُوَرٍ مِنَ الْمُفَصَّلِ جَعَلَهُ مَهْرَهَا وَأَدْخَلَهَا عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: عَلِّمْهَا، قَالَ: وَزَوَّجَ أُخْرَى عَلَى الْمُفَصَّلِ
4 - أَخْبَرَنَا ابْنُ السّليمِيِّ، وَالشَّيْخُ عُمَرَ اللُّؤْلُئِيُّ، قَالَ الأَوَّلُ: أنا ابْنُ الرّعبوبِ، وَقَالَ الثَّانِي: أَخْبَرَتْنَا عَائِشَةُ بِنْتُ عَبْدِ الْهَادِي، قَالا: أنا الْحَجَّارُ، أنا ابْنُ اللَّتِّيِّ، أنا السِّجْزِيُّ، أنا الدَّاوُدِيُّ، أنا السَّرْخَسِيُّ، أنا الشَّاشِيُّ، أنا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، ثنا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ هَارُونَ الْوَاسِطِيُّ، ثنا فَائِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى، قَالَ:
রাবাহ থেকে, আবু হুরাইরা (রা.)-এর সূত্রে অনুরূপ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, তবে তিনি লুঙ্গি ও আংটির কথা উল্লেখ করেননি। তিনি বললেন:
"তোমার কুরআনের কী মুখস্থ আছে?" তিনি বললেন: "সূরা আল-বাকারাহ অথবা এর পরবর্তীটি।" তিনি বললেন: "দাঁড়াও এবং তাকে বিশটি আয়াত শিক্ষা দাও, আর সে-ই তোমার স্ত্রী।"
আর আমরা এটি দারেমীর হাদীস থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছি, যার মধ্যে এমন একটি সূত্র রয়েছে যা ইঙ্গিত দেয় যে এটি প্রথমটির চেয়ে ভিন্নও হতে পারে।
3 - ইবনুল সুলিমি এবং অন্যরা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তারা বলেন: ইবনুর র’বুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাজ্জার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল লাত্তি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সিজজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: দাউদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সারখাসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইমরান সামারকান্দি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আদ-দারেমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হারুন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: সুলাইমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: বিশর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: বাক্কার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মাকহুল থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জনৈক সাহাবীকে মুফাসসাল সূরার বিনিময়ে বিয়ে দেন, যা তিনি তার মোহর হিসেবে নির্ধারণ করেন এবং তাকে তার নিকট প্রবেশ করান, এরপর বললেন: "তাকে শিক্ষা দাও।" তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তিনি অন্য আরেকজনকেও মুফাসসাল সূরার বিনিময়ে বিয়ে দেন।
4 - ইবনুল সুলিমি এবং শেখ ওমর আল-লুলুই আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; প্রথমজন বলেন: ইবনুর র’বুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং দ্বিতীয়জন বলেন: আয়েশা বিনতে আব্দুল হাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তারা উভয়ে বলেন: হাজ্জার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল লাত্তি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সিজজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: দাউদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সারখাসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শাশী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দ ইবনে হুমাইদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহিম ইবনে হারুন আল-ওয়াসিতি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ফায়েদ ইবনে আব্দুর রহমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা থেকে, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وَاللَّهِ إِنَّا لَجُلُوسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِذْ جَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَهْلَكَنِي الشَّبَقُ وَالْجُوعُ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: يَا أَعْرَابِيُّ، الشَّبَقُ وَالْجُوعُ! فَقَالَ: هُوَ ذَاكَ، قَالَ: اذْهَبْ فَأَوَّلُ امْرَأَةٍ تَلْقَاهَا لَيْسَ لَهَا زَوْجٌ فَهِيَ امْرَأَتُكَ، قَالَ الأَعْرَابِيُّ: فَدَخَلْتُ نَخْلَ بَنِي النَّجَّارِ وَإِذَا جَارِيَةٌ تَخْتَرِفُ فِي زَبِيلٍ، فَقُلْتُ لَهَا: يَا ذَاتَ الزَّبِيلِ، هَلْ لَكِ زَوْجٌ؟ قَالَتْ: لا، قُلْتُ: انْزِلِي فَقَدْ زَوَّجَنِيكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَنَزَلَتْ فَانْطَلَقْتُ مَعَهَا إِلَى مَنْزِلِهَا، فَقَالَتْ لأَبِيهَا: إِنَّ هَذَا الأَعْرَابِيَّ أَتَانَا، وَأَنَا أَخْتَرِفُ فِي الزَّبِيلِ فَسَأَلَنِي: هَلْ لَكِ زَوْجٌ؟ فَقُلْتُ: لا، فَقَالَ: انْزِلِي فَقَدْ زَوَّجَنِيكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَخَرَجَ أَبُو الْجَارِيَةِ إِلَى الأَعْرَابِيِّ، فَقَالَ لَهُ الأَعْرَابِيُّ: مَا ذَاتُ الزَّبِيلِ مِنْكَ؟ قَالَ: ابْنَتِي.
قَالَ:
هَلْ لَهَا زَوْجٌ؟ قَالَ: لا.
قَالَ: فَقَدْ زَوَّجَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَانْطَلَقَتِ الْجَارِيَةُ وَأَبُو الْجَارِيَةِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرَاهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: هَلْ لَهَا زَوْجٌ؟ قَالَ: لا.
قَالَ: اذْهَبْ فَأَحْسِنْ جَهَازَهَا ثُمَّ ابْعَثْ بِهَا إِلَيْهِ، فَانْطَلَقَ أَبُو الْجَارِيَةِ فَجَهَّزَ ابْنَتَهُ وَأَحْسَنَ الْقِيَامَ عَلَيْهَا ثُمَّ بَعَثَ مَعَهَا بِتَمْرٍ وَلَبَنٍ فَجَاءَتْ بِهِ إِلَى بَيْتِ الأَعْرَابِيِّ، وَانْصَرَفَ الأَعْرَابِيُّ إِلَى بَيْتِهِ فَرَأَى جَارِيَةً مُصَنَّعَةً وَرَأى تَمْرًا وَلَبَنًا فَقَامَ إِلَى الصَّلاةِ، فَلَمَّا طَلَعَ الْفَجْرُ غَدَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَغَدَا أَبُو الْجَارِيَةِ عَلَى ابْنَتِهِ، فَقَالَتْ: وَاللَّهِ مَا قَرُبَنَا وَلا قَرُبَ تَمْرَنَا وَلا لَبَنَنَا، قَالَ: فَانْطَلَقَ أَبُو الْجَارِيَةِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخْبَرَهُ فَدَعَا الأَعْرَابِيَّ فَقَالَ: يَا أَعْرَابِيُّ، مَا مَنَعَكَ أَنْ تَكُونَ أَلْمَمْتَ بِأَهْلِكَ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، انْصَرَفْتُ مِنْ عِنْدِكَ وَدَخَلْتُ الْمَنْزِلَ وَإِذَا بِجَارِيَةٍ مُصَنَّعَةٍ وَرَأَيْتُ تَمْرًا وَلَبَنًا فَكَانَ يَجِبُ لِلَّهِ عَلَيَّ أَنْ أُحْيِيَ لَيْلَتِي إِلَى الصُّبْحِ، فَقَالَ: «يَا أَعْرَابِيُّ، اذْهَبْ فَأَلِمَّ بِأَهْلِكَ»
আল্লাহর কসম, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপবিষ্ট ছিলাম, এমন সময় এক গ্রাম্য লোক তাঁর নিকট এল এবং বলল: হে আল্লাহর রাসূল, তীব্র কামভাব এবং ক্ষুধা আমাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে গ্রাম্য লোক, কামভাব এবং ক্ষুধা! সে বলল: বিষয়টি তেমনই। তিনি বললেন: যাও, প্রথম যে নারীর দেখা পাবে যার কোনো স্বামী নেই, সেই তোমার স্ত্রী। গ্রাম্য লোকটি বলল: এরপর আমি বনু নাজ্জারের একটি খেজুর বাগানে প্রবেশ করলাম এবং দেখলাম একজন কিশোরী ঝুড়িতে ফল সংগ্রহ করছে। আমি তাকে বললাম: হে ঝুড়িবালী, তোমার কি কোনো স্বামী আছে? সে বলল: না। আমি বললাম: নিচে নেমে এসো, কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার সাথে আমার বিবাহ সম্পন্ন করেছেন। সে বলল: এরপর সে নিচে নামল এবং আমি তাকে নিয়ে তার বাড়িতে গেলাম। সে তার পিতাকে বলল: এই গ্রাম্য লোকটি আমাদের নিকট এসেছে যখন আমি ঝুড়িতে ফল সংগ্রহ করছিলাম। সে আমাকে জিজ্ঞেস করল: তোমার কি কোনো স্বামী আছে? আমি বললাম: না। তখন সে বলল: নিচে নেমে এসো, কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার সাথে আমার বিবাহ দিয়েছেন। তখন কিশোরীর পিতা গ্রাম্য লোকটির নিকট বেরিয়ে এলেন। গ্রাম্য লোকটি তাকে বলল: এই ঝুড়িবালী আপনার কে হন? তিনি বললেন: আমার কন্যা।
সে বলল:
তার কি কোনো স্বামী আছে? তিনি বললেন: না.
সে বলল: তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আমার সাথে বিবাহ দিয়েছেন। এরপর কিশোরী ও তার পিতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তার কি কোনো স্বামী আছে? তিনি বললেন: না।
তিনি বললেন: যাও এবং তার বিবাহের সরঞ্জামাদি উত্তমভাবে প্রস্তুত করো, অতঃপর তাকে তার নিকট পাঠিয়ে দাও। এরপর কিশোরীর পিতা প্রস্থান করলেন এবং তার কন্যার প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র প্রস্তুত করলেন ও তার উত্তম তদারকি করলেন। অতঃপর তিনি তার সাথে কিছু খেজুর ও দুধ পাঠিয়ে দিলেন এবং সে সেগুলো নিয়ে গ্রাম্য লোকটির ঘরে পৌঁছাল। গ্রাম্য লোকটি তার ঘরে ফিরে সু সজ্জিত এক কিশোরী এবং খেজুর ও দুধ দেখতে পেল। সে তখন সালাতে দাঁড়িয়ে গেল। যখন ফজর উদিত হলো, সে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেল। আর কিশোরীর পিতা তার কন্যার নিকট গেলেন। মেয়েটি বলল: আল্লাহর কসম, তিনি আমার নিকটবর্তী হননি এবং আমাদের খেজুর ও দুধের ধারেকাছেও আসেননি। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর কিশোরীর পিতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গিয়ে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলেন। তিনি গ্রাম্য লোকটিকে ডেকে বললেন: হে গ্রাম্য লোক, তোমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনার নিকট থেকে ফিরে ঘরে প্রবেশ করলাম এবং সুসজ্জিত এক কিশোরী ও খেজুর এবং দুধ দেখতে পেলাম। তখন আল্লাহর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ ভোর পর্যন্ত রাতটি ইবাদতে সজাগ রাখা আমার ওপর কর্তব্য হয়ে পড়ল। তিনি বললেন: "হে গ্রাম্য লোক, যাও এবং তোমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হও।"
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
5 - أَخْبَرَنَا الْجَمَاعَةُ، أنا ابْنُ الرّعبوبِ، أنا الْحَجَّارُ، أنا ابْنُ الزُّبَيْدِيِّ، أنا السِّجْزِيُّ، أنا الدَّاوُدِيُّ، أنا السَّرْخَسِيُّ، أنا الْفَرَبْرِيُّ، أنا الْبُخَارِيُّ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، ثنا إِسْرَائِيلُ، ثنا أَبُو الْجُوَيْرِيَةِ، أَنَّ مَعْنَ بْنَ يَزِيدَ حَدَّثَهُ، قَالَ: بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَنَا وَأَبِي وَجَدِّي
وَخَطَبَ عَلَيَّ فَأَنْكَحَنِي، وَخَاصَمْتُ إِلَيْهِ؛ كَانَ أَبِي يَزِيدُ أَخْرَجَ دَنَانِيرَ يَتَصَدَّقُ بِهَا فَوَضَعَهَا عِنْدَ رَجُلٍ فِي الْمَسْجِدِ فَجِئْتُ فَأَخَذْتُهَا فَأَتَيْتُهُ بِهَا، فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا إِيَّاكَ أَرَدْتُ، فَخَاصَمْتُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «لَكَ مَا نَوَيْتَ يَا يَزِيدُ، وَلَكَ مَا أَخَذْتَ يَا مَعْنُ»
6 - أَخْبَرَنَا جَدِّي، وَغَيْرُهُ، أنا الصَّلاحُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، أنا الْفَخْرُ بْنُ الْبُخَارِيِّ، أنا ابْنُ الْجَوْزِيِّ، قَالَ فِي عُثْمَانَ:
زَوَّجَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، أُمَّ كُلْثُومٍ بَعْدَ رُقَيَّةَ، وَقَالَ: لَوْ كَانَ عِنْدِي ثَالِثَةٌ لَزَوَّجْتُهَا عُثْمَانَ
ـ وَقَالَ فِي مَنَاقِبِ زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ: زَوَّجَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، زَيْنَبَ بِنْتَ جَحْشٍ.
৫ - আমাদের নিকট একদল রাবী বর্ণনা করেছেন, তাঁরা ইবনুর রু’বূব থেকে, তিনি হাজ্জার থেকে, তিনি ইবনুয যুবাইদী থেকে, তিনি সিজযী থেকে, তিনি দাউদী থেকে, তিনি সারাখসী থেকে, তিনি ফারাবরী থেকে, তিনি বুখারী থেকে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু জুওয়াইরিয়্যাহ থেকে; মা’ন ইবনে ইয়াযীদ তাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি, আমার পিতা এবং আমার দাদা—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট বায়আত গ্রহণ করেছিলাম।
তিনি আমার বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং আমার বিবাহ সম্পন্ন করিয়েছিলেন। আমি একদা একটি বিষয়ে তাঁর কাছে বিচার নিয়ে গেলাম; আমার পিতা ইয়াযীদ কিছু দীনার দান করার জন্য বের করেছিলেন এবং সেগুলো এক ব্যক্তির নিকট রেখেছিলেন মসজিদে। অতঃপর আমি গিয়ে সেগুলো নিয়ে নিলাম এবং তাঁর কাছে নিয়ে আসলাম। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে দেওয়ার ইচ্ছা করিনি। ফলে আমি বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে বিচার নিয়ে গেলাম। তখন তিনি বললেন: "হে ইয়াযীদ! তুমি যা নিয়ত করেছ তা তুমি পাবে, আর হে মা’ন! তুমি যা নিয়েছ তা তোমারই।"
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা এবং অন্যান্যরা, তাঁরা সালাহ ইবনে আবু উমর থেকে, তিনি ফখর ইবনুল বুখারী থেকে, তিনি ইবনুল জাওযী থেকে; তিনি উসমান রাযিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে বলেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রুকাইয়্যাহর পর উম্মু কুলসুমকে তাঁর সাথে বিবাহ দেন এবং তিনি বলেন: যদি আমার কাছে তৃতীয় কোনো কন্যা থাকত তবে আমি তাকেও বিবাহ দিতাম উসমানের সাথে।
— এবং তিনি যায়িদ ইবনে হারিসাহর মর্যাদা প্রসঙ্গে বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাথে যায়নাব বিনতে জাহশকে বিবাহ দেন।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
7 - وَبِهِ إِلَى ابْنِ الْجَوْزِيِّ، أنا هِبَةُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحُصَيْنِ، ح وأنا جَدِّي، أنا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، أنا الْفَخْرُ بْنُ الْبُخَارِيِّ، أنا حَنْبَلٌ الرُّصَافِيُّ، أنا ابْنُ الْحُصَيْنِ، أنا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُذْهِبُ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ثنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثنا عَفَّانُ ح.
قَالَ ابْنُ الْجَوْزِيِّ: أنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي طَاهِرٍ، وَاللَّفْظُ لَهُ، أنا الْجَوْهَرِيُّ، ثنا أَبُو عُمَرَ بْنُ حَيُّوَيْهِ، ثنا أَحْمَدُ بْنُ مَعْرُوفٍ، ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَهْمِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ، ثنا عَارِمٌ، قَالَ هُوَ وَعَفَّانُ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، ثنا ثَابِتٌ، عَنْ كِنَانَةَ بْنِ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيِّ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، أَنَّ جُلَيْبِيبًا كَانَ امْرَأً مِنَ الأَنْصَارِ، وَكَانَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، إِذَا كَانَ لأَحَدِهِمْ أَيِّمٌ لَمْ يُزَوِّجْهَا حَتَّى يُعْلِمَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، هَلْ لَهُ فِيهَا حَاجَةٌ أَمْ لا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ذَاتَ يَوْمٍ لِرَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ: يَا فُلانُ، زَوِّجْنِي ابْنَتَكَ، قَالَ: نَعَمْ، وَنُعْمَةَ عَيْنٍ، قَالَ: إِنِّي لَسْتُ لِنَفْسِي أُرِيدُهَا، قَالَ: فَلِمَنْ؟ قَالَ: لِجُلَيْبِيبٍ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، حَتَّى أَسْتَأْمِرَ أُمَّهَا، فَأَتَاهَا فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، يَخْطُبُ ابْنَتَكِ، قَالَتْ: نَعَمْ، وَنُعْمَةَ عَيْنٍ، زَوِّجْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: إِنَّهُ لَيْسَ لِنَفْسِهِ يُرِيدُهَا، قَالَتْ: فَلِمَنْ؟ قَالَ: لِجُلَيْبِيبٍ، قَالَتْ: حَلْقَى أَلِجُلَيْبِيبٍ؟ لا لَعَمْرُو اللَّهِ لا أُزَوِّجُ جُلَيْبِيبًا، فَلَمَّا قَامَ أَبُوهَا لِيَأْتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، قَالَتِ الْفَتَاةُ مِنْ خِدْرِهَا لأَبَوَيْهَا:
مَنْ خَطَبَنِي إِلَيْكُمَا، قَالا: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَتْ: أَفَتَرُدُّونَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَمْرَهُ ادْفَعُونِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَإِنَّهُ لَنْ يُضَيِّعَنِي، فَذَهَبَ أَبُوهَا إِلَى النَّبِيِّ، فَقَالَ: شَأْنُكَ بِهَا، فَزَوَّجْهَا
৭ - এবং তাঁর মাধ্যমে ইবনুল জাওযী পর্যন্ত পৌঁছেছেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন, (হ) এবং আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন ইবনে আবু উমর, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আল-ফখর ইবনুল বুখারী, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন হাম্বল আর-রুসাফী, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল হুসাইন, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে আলী আল-মুযহিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনে জাফর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান (হ)।
ইবনুল জাওযী বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবু তাহের—এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই—আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আল-জাওহারী, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর ইবনে হাইয়ুওয়াইহ, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আহমদ ইবনে মা'রুফ, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবনুল ফাহম, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে সাদ, আমাদের নিকট সংবাদ দিয়েছেন আরিম, তিনি এবং আফফান বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সাবিত, কিনানাহ ইবনে নুআইম আল-আদাবী থেকে, তিনি আবু বারযাহ আল-আসলামী থেকে বর্ণনা করেন যে, জুলাইবীব ছিলেন আনসারদের একজন ব্যক্তি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে কারো কোনো অবিবাহিতা কন্যা থাকলে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবহিত না করা পর্যন্ত তাকে বিবাহ দিতেন না, যাতে তিনি জানতে পারেন যে তাঁর নিজের তার প্রতি কোনো প্রয়োজন আছে কি না। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের এক ব্যক্তিকে বললেন: "হে অমুক, তোমার কন্যাকে আমার সাথে বিবাহ দাও।" সে বলল: "হ্যাঁ, এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ এবং আমার চোখ জুড়িয়ে গেল।" তিনি বললেন: "আমি নিজের জন্য তাকে চাচ্ছি না।" সে বলল: "তবে কার জন্য?" তিনি বললেন: "জুলাইবীবের জন্য।" সে বলল: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি তার মায়ের সাথে পরামর্শ করি।" অতঃপর সে তার নিকট এসে বলল: "নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার কন্যার বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন।" সে বলল: "হ্যাঁ, অত্যন্ত আনন্দের সাথে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বিবাহ দাও।" সে বলল: "তিনি তো তাকে নিজের জন্য চাচ্ছেন না।" সে জিজ্ঞেস করল: "তবে কার জন্য?" সে বলল: "জুলাইবীবের জন্য।" সে বলল: "কি দুর্ভাগ্য! জুলাইবীবের জন্য? না, আল্লাহর কসম, আমি জুলাইবীবের সাথে বিবাহ দেব না।" যখন তার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন, তখন সেই যুবতী তার পর্দার আড়াল থেকে তার পিতামাতাকে বলল:
"কে আমার জন্য তোমাদের নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন?" তারা বলল: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।" সে বলল: "আপনারা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করছেন? আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সমর্পণ করুন, কারণ তিনি কখনোই আমাকে ধ্বংস করবেন না।" অতঃপর তার পিতা নবীর নিকট গিয়ে বললেন: "আপনার ইচ্ছাই শিরোধার্য (আপনি যা ভালো মনে করেন)।" অতঃপর তিনি তার বিবাহ সম্পন্ন করলেন।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
جُلَيْبِيبًا.
قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ لِثَابِتٍ: أَتَدْرِي مَا دَعَا لَهَا بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم؟ قَالَ: وَمَا دَعَا لَهَا بِهِ؟ قَالَ: قَالَ: «اللَّهُمَّ صُبَّ عَلَيْهَا الْخَيْرَ صَبًّا صَبًّا، وَلا تَجْعَلْ عَيَشْهَا كَدًّا كَدًّا» .
قَالَ ثَابِتٌ: فَزَوَّجَهَا إِيَّاهُ، فَبَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فِي مَغْزًى لَهُ، قَالَ: هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ؟ قَالُوا: نَفْقِدُ فُلانًا وَنَفْقِدُ فُلانًا وَنَفْقِدُ فُلانًا، ثُمَّ قَالَ: هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ؟ قَالُوا: نَفْقِدُ فُلانًا وَنَفْقِدُ فُلانًا، ثُمَّ قَالَ: هَلْ تَفْقِدُونَ مِنْ أَحَدٍ؟ قَالُوا: لا، قَالَ: لَكِنِّي أَفْقِدُ جُلَيْبِيبًا فَاطْلُبُوهُ فِي الْقَتْلَى فَنَظَرُوا فَوَجَدُوهُ إِلَى جَنْبِ سَبْعَةٍ قَدْ قَتَلَهُمْ ثُمَّ قَتَلُوهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ، أَقَتَلَ سَبْعَةً ثُمَّ قَتَلُوهُ؟! أَقَتَلَ سَبْعَةً ثُمَّ قَتَلُوهُ؟! هَذَا مِنِّي وَأَنَا مِنْهُ، فَوَضَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، عَلَى سَاعِدَيْهِ، ثُمَّ حَفَرُوا لَهُ، مَا لَهُ سَرِيرٌ إِلا سَاعِدَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى وَضَعَهُ فِي قَبْرِهِ، قَالَ ثَابِتٌ: فَمَا كَانَ فِي الأَنْصَارِ أَيِّمٌ أَنْفَقَ مِنْهَا.
قَالَ ابْنُ سَعْدٍ: وَسَمِعْتُ مَنْ يَذْكُرُ أَنَّ جُلَيْبِيبًا كَانَ رَجُلا مِنْ بَنِي ثَعْلَبَةَ حَلِيفًا مِنَ الأَنْصَارِ وَالْمَرْأَةُ الَّتِي زَوَّجَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، إِيَّاهُ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ
وَبَنَاتُهُ كُلُّهُنَّ زَوَّجَهُنَّ صلى الله عليه وسلم
9 ـ أَمَّا زَيْنَبُ فَزَوَّجَهَا مِنْ أَبِي الْعَاصِ بْنِ الرَّبِيعِ.
10 ـ وَأَمَّا رُقَيَّةُ فَزَوَّجَهَا أَوَّلا لابْنِ عَمِّهَا عُقْبَةَ بْنِ أَبِي لَهَبٍ، وَزَوَّجَ أُمَّ كُلْثُومٍ عُتْبَةَ بْنَ أَبِي لَهَبٍ، ثُمَّ طَلَّقَاهُمَا قَبْلَ الدُّخُولِ بِهِمَا بُغْضَةً فِي رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
জুলাইবিব।
ইসহাক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি তালহা সাবিতকে বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার জন্য কী দোয়া করেছিলেন তা কি আপনি জানেন? তিনি বললেন: তিনি তার জন্য কী দোয়া করেছিলেন? তিনি বললেন: তিনি বলেছিলেন: «হে আল্লাহ! তার ওপর অঝোর ধারায় কল্যাণ বর্ষণ করুন এবং তার জীবনকে অত্যন্ত কষ্টকর করবেন না»।
সাবিত বলেন: অতঃপর তিনি তার সাথে তাকে বিবাহ দিলেন। একদা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক যুদ্ধে থাকাকালীন বললেন: তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? তারা বললেন: আমরা অমুককে হারিয়েছি, অমুককে হারিয়েছি এবং অমুককে হারিয়েছি। অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? তারা বললেন: আমরা অমুককে হারিয়েছি এবং অমুককে হারিয়েছি। পুনরায় তিনি বললেন: তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ? তারা বললেন: না। তিনি বললেন: কিন্তু আমি জুলাইবিবকে হারিয়েছি, তাই তাকে নিহতদের মধ্যে তালাশ করো। তারা তালাশ করল এবং তাকে সাতজনের মরদেহের পাশে পেল যাদের সে হত্যা করেছিল, অতঃপর তারা তাকে হত্যা করেছে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: এ আমার থেকে এবং আমি তার থেকে। সে সাতজনকে হত্যা করেছে তারপর তারা তাকে হত্যা করেছে?! সে সাতজনকে হত্যা করেছে তারপর তারা তাকে হত্যা করেছে?! এ আমার থেকে এবং আমি তার থেকে। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে নিজের দুই বাহুর ওপর রাখলেন। তারপর তারা তার জন্য কবর খনন করল। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দুই বাহু ছাড়া তার জন্য কোনো খাটিয়া ছিল না, যতক্ষণ না তিনি তাকে কবরে স্থাপন করলেন। সাবিত বলেন: আনসারদের মধ্যে সেই মহিলার চেয়ে অধিক দানশীল কোনো বিধবা ছিল না।
ইবনে সাদ বলেন: আমি কাউকে উল্লেখ করতে শুনেছি যে, জুলাইবিব বনু ছালাবা গোত্রের একজন লোক ছিলেন এবং আনসারদের মিত্র ছিলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে যে মহিলার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন, সে ছিল বনু হারিস ইবনুল খাজরাজ গোত্রের।
আর তাঁর সকল কন্যাকে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিবাহ দিয়েছিলেন।
৯ — জায়নাবের বিষয় হলো, তিনি তাঁকে আবুল আস ইবনুর রবির সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন।
১০ — রুকাইয়্যাহর বিষয় হলো, তিনি তাঁকে প্রথমে তাঁর চাচাতো ভাই উকবা ইবনে আবি লাহাবের সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন এবং উম্মে কুলসুমকে উতবা ইবনে আবি লাহাবের সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি বিদ্বেষবশত বাসর হওয়ার পূর্বেই তারা তাঁদের তালাক দিয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
ـ ثُمَّ زَوَّجَ عُثْمَانَ رُقَيَّةَ وَتُوُفِّيَتْ عِنْدَهُ، ثُمَّ زَوَّجَهُ صلى الله عليه وسلم، بِأُخْتِهَا أُمِّ كُلْثُومٍ وَمَاتَتْ عِنْدَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: لَوْ كَانَتْ عِنْدِي ثَالِثَةٌ لَزَوَّجْتُهَا عُثْمَانَ، وَفِي رِوَايَةٍ: أَنَّهُ لَوْ كُنَّ عَشْرًا لَزَوَّجْتُهُنَّ عُثْمَانَ.
وَأَمَّا فَاطِمَةُ فَزَوَّجَهَا مِنَ ابْنِ عَمِّهَا عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ.
8 - أنا جَدِّي، وَغَيْرُهُ، أنا الصَّلاحُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، أنا الْفَخْرُ بْنُ الْبُخَارِيِّ، أنا ابْنُ الْجَوْزِيِّ، أنا ابْنُ الْحُصَيْنِ، أنا ابْنُ الْمُذْهِبِ.
ح وَأَخْبَرَنَا جَدِّي،
এরপর তিনি উসমানের সাথে রুকাইয়্যাহর বিবাহ দেন এবং তিনি তাঁর নিকট থাকাবস্থায় ইন্তেকাল করেন। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উসমানের নিকট তাঁর বোন উম্মে কুলসুমের বিবাহ দেন এবং তিনিও তাঁর নিকট থাকাবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যদি আমার নিকট তৃতীয় জন থাকত, তবে আমি তাকেও উসমানের সাথে বিবাহ দিতাম।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "যদি তারা দশজন হতো, তবে আমি তাদের সকলকেই উসমানের সাথে বিবাহ দিতাম।"
আর ফাতিমার বিষয়টি হলো, তিনি তাঁকে তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইবনে আবী তালিবের সাথে বিবাহ দেন।
৮ - আমার দাদা এবং অন্যগণ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-সালাহ ইবনে আবী উমার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আল-ফাখর ইবনে আল-বুখারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল জাওযী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল মুযহিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
হ (তহাউইল) এবং আমার দাদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন,
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَغَيْرُهُ، أنا الصَّلاحُ بْنُ أَبِي عُمَيْرَةَ، أنا الْفَخْرُ بْنُ الْبُخَارِيِّ، أنا حَنْبَلٌ الرُّصَافِيُّ، أنا ابْنُ الْحُصَيْنِ، أنا ابْنُ الْمُذْهِبِ، أنا أَبُو بَكْرٍ الْقَطِيعِيُّ، أنا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ، ثنا أَبِي، ثنا عَفَّانُ، ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، أنا عَطَاءُ بْنُ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، زَوَّجَهُ فَاطِمَةَ بَعَثَ مَعَهَا بِخَمِيلَةٍ وَوِسَادَةِ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ وَرِحَائَيْنِ وَسِقَاءٍ وَجَرَّتَيْنِ، فَقَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه، لِفَاطِمَةَ ذَاتَ يَوْمٍ: وَاللَّهِ، لَقَدْ سَنَوْتُ حَتَّى اشْتَكَيْتُ صَدْرِي، وَقَدْ جَاءَ اللَّهُ أَبَاكِ بِسَبْيٍ فَاذْهَبِي فَاسْتَخْدِمِيهِ، فَقَالَتْ: وَأَنَا وَاللَّهِ قَدْ طَحَنْتُ حَتَّى مَجِلَتْ يَدَايَ، فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: مَا جَاءَ بِكِ، أَيْ بُنَيَّةُ؟ قَالَتْ: جِئْتُ لأُسَلِّمَ عَلَيْكَ وَاسْتَحْيَتْ أَنْ تَسْأَلَهُ، وَرَجَعَتْ فَقَالَ: مَا فَعَلْتِ؟ قَالَتْ: اسْتَحْيَيْتُ فَأَتَيَاهُ جَمِيعًا، فَقَالَ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَقَدْ سَنَوْتُ حَتَّى اشْتَكَيْتُ صَدْرِي، وَقَالَتْ فَاطِمَةُ: قَدْ طَحَنْتُ حَتَّى مَجِلَتْ يَدَايَ وَقَدْ جَاءَكَ اللَّهُ بِسَبْيٍ وَسَعَةٍ فَأَخْدِمْنَا، فَقَالَ: وَاللَّهِ لا أُعْطِيكُمَا وَأَدَعُ أَهْلَ الصُّفَّةِ تَطْوِي بُطُونُهُمْ لا أَجِدُ مَا أُنْفِقُ عَلَيْهِمْ، وَلَكِنِّي أَبِيعُهُمْ وَأُنْفِقُ عَلَيْهِمْ أَثْمَانَهُمْ، فَرَجَعَا فَأَتَاهُمَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، وَقَدْ دَخَلا فِي قَطِيفَتِهِمَا، إِذَا غَطَّيَا رُءُوسَهُمَا تَكَشَّفَتْ
এবং অন্যান্যরা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সালাহ ইবনে আবি উমাইরাহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ফখর ইবনে আল-বুখারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হানবাল আর-রুসাফি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল হুসাইন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনুল মুযহিব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আল-কাতিয়ি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আতা ইবনে সাইব তার পিতা থেকে এবং তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ফাতিমার সাথে তার বিবাহ সম্পন্ন করলেন, তখন ফাতিমার সাথে একটি মখমলের চাদর, চামড়ার একটি বালিশ যার ভেতরে ছিল খেজুর গাছের আঁশ, দুটি যাঁতা, একটি মশক এবং দুটি কলস পাঠিয়েছিলেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একদিন ফাতিমাকে বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি পানি টানতে টানতে আমার বুকে ব্যথা হয়ে গেছে। আল্লাহ তোমার পিতার নিকট কিছু যুদ্ধবন্দী পাঠিয়েছেন, সুতরাং তুমি তাঁর কাছে গিয়ে একজন খাদেম বা সেবক চাও।" ফাতিমা বললেন: "আল্লাহর কসম, আমিও যাঁতা ঘুরাতে ঘুরাতে আমার হাতে কড়া ফেলে দিয়েছি।" অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন: "হে বৎস, তুমি কী উদ্দেশ্যে এসেছ?" ফাতিমা বললেন: "আমি আপনাকে সালাম দিতে এসেছি।" তিনি লজ্জায় তাঁর কাছে কিছু চাইলেন না এবং ফিরে আসলেন। আলী জিজ্ঞাসা করলেন: "তুমি কী করলে?" তিনি বললেন: "আমি লজ্জা পেয়েছি।" অতঃপর তারা উভয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন। আলী বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আমি পানি টানতে টানতে আমার বুকে ব্যথা হয়ে গেছে।" এবং ফাতিমা বললেন: "আমি যাঁতা ঘুরাতে ঘুরাতে হাতে কড়া ফেলে দিয়েছি। আল্লাহ আপনার নিকট যুদ্ধবন্দী ও প্রাচুর্য পাঠিয়েছেন, সুতরাং আমাদের একজন সেবক দান করুন।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে দেব না এবং আহলুশ-সুফফাদের এমন অবস্থায় ছেড়ে দেব না যে ক্ষুধায় তাদের পেট সংকুচিত হয়ে থাকবে, অথচ তাদের জন্য ব্যয় করার মতো কিছুই আমার কাছে নেই। বরং আমি তাদেরকে (বন্দীদের) বিক্রয় করব এবং তাদের মূল্য আহলুশ-সুফফাদের কল্যাণে ব্যয় করব।" অতঃপর তারা ফিরে আসলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের নিকট আসলেন যখন তাঁরা চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়েছিলেন। যখন তাঁরা চাদর দিয়ে মাথা ঢাকছিলেন, তখন তাঁদের পা উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছিল...
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أَقْدَامُهُمَا، وَإِذَا غَطَّيَا أَقْدَامَهُمَا تَكَشَّفَتْ رُءُوسُهُمَا، فَثَارَا، فَقَالَ: مَكَانَكُمَا، ثُمَّ قَالَ: أَلا أُخْبِرُكُمَا بِخَيْرٍ مِمَّا سَأَلْتُمَانِي، قَالا: بَلَى، قَالَ: كَلِمَاتٌ عَلَّمَنِيهِنَّ جِبْرِيلُ:
تُسَبِّحَانِ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاةٍ عَشْرًا، وَتَحْمَدَانِ عَشْرًا، وَتُكَبِّرَانِ عَشْرًا، فَإِذَا أَوَيْتُمَا إِلَى فِرَاشِكُمَا فَسَبِّحَا ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، وَاحْمَدَا ثَلاثًا وَثَلاثِينَ، وَكَبِّرَا أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ.
قَالَ عَلِيٌّ، رضي الله عنه: فَوَاللَّهِ مَا تَرَكْتُهُنَّ مُنْذُ عَلَّمَنِيهِنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.
قَالَ: فَقَالَ لَهُ ابْنُ الْكَوَّاءِ: وَلا لَيْلَةَ صِفِّينَ، فَقَالَ: قَاتَلَكُمُ اللَّهُ يَا أَهْلَ الْعِرَاقِ، نَعَمْ وَلا لَيْلَةَ صِفِّينَ
9 - وَبِهِ إِلَى ابْنِ الْجَوْزِيِّ، أنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي طَاهِرٍ، أنا الْجَوْهَرِيُّ، أنا ابْنُ حَيُّوَيْهِ، أنا ابْنُ مَعْرُوفٍ، أنا الْحُسَيْنُ بْنُ الْفَهْمِ، ثنا مُحَمَّدُ بْنُ سَعْدٍ، أنا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: لَقَدْ
تَزَوَّجْتُ فَاطِمَةَ وَمَا لِي وَلَهَا فِرَاشٌ غَيْرُ جِلْدِ كَبْشٍ نَنَامُ عَلَيْهِ بِاللَّيْلِ وَنُعَلِّقُ عَلَيْهِ النَّاضِحَ بِالنَّهَارِ وَمَا لِي وَلَهَا خَادِمٌ غَيْرَهَا
وَبِهِ إِلَى ابْنِ الْجَوْزِيِّ، قَالَ: تَزَوَّجَ عَلِيٌّ، رضي الله عنه فَاطِمَةَ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ مِنَ الْهِجْرَةِ فِي رَمَضَانَ، وَبَنَى بِهَا فِي ذِي الْحِجَّةِ.
...তাদের পা; আর তারা যখন তাদের পা ঢাকত তখন তাদের মাথা উন্মুক্ত হয়ে যেত। ফলে তারা নড়ে উঠলেন। তখন তিনি বললেন: তোমরা নিজ নিজ স্থানেই থাকো। এরপর তিনি বললেন: তোমরা আমার কাছে যা চেয়েছ, আমি কি তোমাদের তার চেয়ে উত্তম কিছুর সংবাদ দেব না? তারা বললেন: অবশ্যই। তিনি বললেন: এগুলো এমন কিছু বাক্য যা জিবরাঈল আমাকে শিখিয়েছেন:
তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর দশবার তাসবিহ পাঠ করবে, দশবার তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করবে এবং দশবার তাকবির পাঠ করবে। আর যখন তোমরা বিছানায় যাবে তখন তেত্রিশবার তাসবিহ পাঠ করবে, তেত্রিশবার তাহমিদ পাঠ করবে এবং চৌত্রিশবার তাকবির পাঠ করবে।
আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এগুলো শিখিয়ে দেওয়ার পর থেকে আমি কখনো তা পরিত্যাগ করিনি।
বর্ণনাকারী বলেন: তখন ইবনুল কাওয়া তাঁকে বললেন: সিফফীনের রাতেও কি নয়? তিনি বললেন: হে ইরাকবাসী, আল্লাহ তোমাদের ধ্বংস করুন! হ্যাঁ, সিফফীনের রাতেও (আমি তা ছাড়িনি)।
৯ - এবং একই সূত্রে ইবনুল জাওযী পর্যন্ত; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আবি তাহির, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জওহারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনু হাইয়ুবাইহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে মারুফ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন ইবনুল ফাহম, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সাদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসামাহ, মুজালিদ থেকে, তিনি আমির থেকে বর্ণনা করেন যে, আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন:
আমি যখন ফাতিমাকে বিয়ে করলাম, তখন আমার ও তার জন্য একটি ভেড়ার চামড়া ছাড়া আর কোনো বিছানা ছিল না; যার ওপর আমরা রাতে ঘুমাতাম এবং দিনে তার ওপর পানি বহনকারী উটকে ঘাস-পানি দিতাম। আর আমি ও তার জন্য তিনি (ফাতিমা) ছাড়া আর কোনো সেবক ছিল না।
এবং একই সূত্রে ইবনুল জাওযী পর্যন্ত; তিনি বলেন: আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষের রমজান মাসে ফাতিমাকে বিবাহ করেন এবং জিলহজ মাসে তাদের বাসর সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَقِيلَ: تَزَوَّجَهَا فِي رَجَبٍ، وَقِيلَ: فِي صَفَرٍ عَلَى بُدْنٍ مِنْ حَدِيدٍ، رضي الله عنهما.
ـ وَأُمُّ أَيْمَنَ مَوْلاةُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَرِثَهَا مِنْ أَبِيهِ فَأَعْتَقَهَا حِينَ تَزَوَّجَ خَدِيجَةَ، وَزَوَّجَهَا عُبَيْدَ بْنَ زَيْدٍ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ، ثُمَّ زَوَّجَهَا بَعْدَهُ بِزَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ.
ـ وَذَكَرَ ابْنُ عَسَاكِرَ فِي إِسْلامِ عُثْمَانَ خَبَرًا عَجِيبًا؛ مُلَخَّصُهُ: أَنَّهُ لَمَّا بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، تَأَيَّمَتِ ابْنَتُهُ رُقَيَّةُ، وَكَانَتْ ذَاتَ جَمَالٍ، مِنَ ابْنِ عَمِّهَا عُتْبَةَ بْنِ أَبِي لَهَبٍ؛ تَأَسَّفَ إِذْ لَمْ يَكُنْ تَزَوَّجَهَا! وَدَخَلَ عَلَى أَهْلِهِ مَهْمُومًا فَوَجَدَ عِنْدَهُمْ خَالَتَهُ سُعْدَى بِنْتَ كُرَيْزٍ، وَكَانَتْ كَاهِنَةً، فَقَالَتْ لَهُ: أَبْشِرْ وَحُيِّيتَ ثَلاثًا تَتْرَى
… ثُمَّ ثَلاثًا وَثَلاثًا أُخْرَى
ثُمَّ بِأُخْرَى كَيْ تَتِمَّ عَشْرَا
… وَأَتَاكَ خَيْرٌ ووُقِيتَ شَرَّا
أَنْكَحْتَ وَاللَّهِ
বলা হয়েছে: তিনি তাঁকে রজব মাসে বিবাহ করেছেন; আবার বলা হয়েছে: সফর মাসে, লোহার একটি বর্মের বিনিময়ে, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
— এবং উম্মু আইমান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাসী; তিনি তাঁকে তাঁর পিতার নিকট থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন, অতঃপর খাদিজাকে বিবাহ করার সময় তাঁকে মুক্ত করে দেন। তিনি তাঁকে বনু হারিস গোত্রের উবাইদ ইবনে যাইদ-এর সাথে বিবাহ দেন, অতঃপর তাঁর পরে যাইদ ইবনে হারিসার সাথে তাঁকে বিবাহ দেন।
— এবং ইবনে আসাকির উসমানের ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে একটি বিস্ময়কর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন; যার সারসংক্ষেপ হলো: যখন তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছাল যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা রুকাইয়্যাহ—যিনি ছিলেন অত্যন্ত রূপবতী—তাঁর চাচাতো ভাই উতবা ইবনে আবি লাহাবের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বামীহীনা হয়ে পড়েছেন, তখন তিনি আক্ষেপ করলেন যে কেন তিনি তাঁকে বিবাহ করলেন না! তিনি বিষণ্ণ চিত্তে নিজ পরিবারের নিকট প্রবেশ করলেন এবং সেখানে তাঁর খালা সু’দা বিনতে কুরাইযকে পেলেন, যিনি একজন গণক ছিলেন। তিনি তাঁকে বললেন: সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং অভিবাদিত হও উপর্যুপরি তিনবার
... অতঃপর আরও তিনবার এবং আরও তিনবার।
অতঃপর আরও একটির মাধ্যমে যেন দশ পূর্ণ হয়
... তোমার নিকট কল্যাণ এসেছে এবং তুমি অনিষ্ট হতে রক্ষা পেয়েছ।
আল্লাহর শপথ, তুমি বিবাহ করতে যাচ্ছ।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
حَصَانًا زَهْرَا
… وَأَنْتَ بِكْرٌ وَلَقِيتَ بِكْرَا
وَأُمُّهَا بِنْتُ عَظِيمٍ قَدْرَا
… بِنْتُ الَّذِي لَقَدْ أَشَادَ ذِكْرَا
قَالَ عُثْمَانُ: فَعَجِبْتُ مِنْ قَوْلِهَا، بَشَّرَتْنِي بِامْرَأَةٍ قَدْ تَزَوَّجَتْ بِغَيْرِي، فَقُلْتُ: يَا خَالَةُ، مَا تَقُولِينَ؟ فَقَالَتْ: عُثْمَانُ
لَكَ الْجَمَالُ وَلَكَ اللِّسَانُ
… هَذَا نَبِيٌّ مَعَهُ الْبُرْهَانُ
أَرْسَلَهُ بِحَقِّهِ الدَّيَّانُ
… وَجَاءَهُ التَّنْزِيلُ وَالْفُرْقَانُ
فَاتْبَعْهُ لا تَبْقَى لَكَ الأَوْثَانُ فَقُلْتُ: إِنَّكِ لَتَذْكُرِينَ أَمْرًا مَا وَقَعَ بِبَلَدِنَا، فَقَالَتْ: مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ رَسُولٌ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ جَاءَ بِتَنْزِيلِ اللَّهِ يَدْعُو بِهِ إِلَى اللَّهِ، ثُمَّ قَالَتْ: مِصْبَاحُهُ صَبَاحٌ، وَذَكَرَ كَلامًا قَالَتْهُ لَهُ مِنْ هَذَا الْبَابِ، فَخَرَجَ مُفَكِّرًا، فَلَقِيَهُ أَبُو بَكْرٍ فَحَرَّضَهُ عَلَى الإِسْلامِ، فَأَسْلَمَ، قَالَ: ثُمَّ لَمْ أَلْبَثْ أَنْ تَزَوَّجْتُ رُقَيَّةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَكَانَ يُقَالُ: أَحْسَنُ زَوْجٍ رَآهُ إِنْسَانٌ رُقَيَّةُ وَزَوْجُهَا عُثْمَانُ.
وَقَالَتْ فِيهِمَا سُعْدَى بِنْتُ كُرَيْزٍ:
فَأَنْكَحَهُ الْمَبْعُوثُ بِالْحَقِّ بِنْتَهُ
… فَكَانَا كَبَدْرٍ مَازَجَ الشَّمْسَ فِي الأُفُقْ
ـ وَقَالَ ابْنُ كَثِيرٍ فِي (تَارِيخِهِ) : لَمَّا مَاتَتْ رُقَيَّةُ بِنْتُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، تَزَوَّجَ بِأُخْتِهَا أُمِّ كُلْثُومٍ.
সতী-সাধ্বী ও উজ্জ্বল
… আর আপনি কুমার এবং এক কুমারীকে লাভ করেছেন।
আর তাঁর মা সুউচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এক মহান ব্যক্তির কন্যা
… সেই ব্যক্তির কন্যা যিনি সুখ্যাতি ও মর্যাদা সমুন্নত করেছেন।
উসমান (রা.) বর্ণনা করেন: আমি তাঁর বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করলাম; তিনি আমাকে এমন এক নারীর সুসংবাদ দিচ্ছিলেন যিনি ইতিপূর্বে অন্যের সাথে বিবাহিতা ছিলেন। আমি বললাম: হে খালা, আপনি কী বলছেন? তখন তিনি বললেন: হে উসমান!
আপনার রয়েছে সৌন্দর্য এবং আপনার রয়েছে বাগ্মিতা
… ইনি একজন নবী যাঁর নিকট রয়েছে অকাট্য প্রমাণ।
দাইয়ান (প্রতিদানকারী আল্লাহ) তাঁকে তাঁর সত্যসহ প্রেরণ করেছেন
… আর তাঁর নিকট অবতীর্ণ হয়েছে ওহী ও ফুরকান।
সুতরাং আপনি তাঁর অনুসরণ করুন, তবে আপনার নিকট আর মূর্তিপূজা অবশিষ্ট থাকবে না। আমি বললাম: আপনি এমন এক বিষয়ের অবতারণা করছেন যা আমাদের শহরে কখনো ঘটেনি। তিনি বললেন: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রসূল, তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ কিতাব নিয়ে এসেছেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর দিকে আহ্বান করছেন। অতঃপর তিনি বললেন: তাঁর প্রদীপ হলো প্রভাত—আর তিনি এ প্রসঙ্গে তাঁর উদ্দেশ্যে বলা আরও কিছু কথা উল্লেখ করলেন। অতঃপর তিনি (উসমান) চিন্তিত অবস্থায় বের হলেন এবং আবু বকর (রা.)-এর দেখা পেলেন। আবু বকর (রা.) তাঁকে ইসলামের প্রতি উৎসাহিত করলেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন। তিনি (উসমান) বলেন: এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা রুকাইয়্যাহকে বিবাহ করলাম। আর বলা হতো: কোনো মানুষ এ পর্যন্ত যত শ্রেষ্ঠ দম্পতি দেখেছে, তা হলো রুকাইয়্যাহ এবং তাঁর স্বামী উসমান।
তাঁদের সম্পর্কে সু’দা বিনতে কুরাইজ বলেছেন:
অতঃপর সত্যসহ প্রেরিত সত্তা তাঁর কন্যার সাথে তাঁর বিবাহ দিলেন
… ফলে তাঁরা যেন দিগন্তে সূর্যের সাথে মিলিত হওয়া পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় হয়ে গেলেন।
— এবং ইবনে কাসীর তাঁর (ইতিহাস গ্রন্থে) বলেছেন: যখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যা রুকাইয়্যাহ ইন্তেকাল করলেন, তখন তিনি তাঁর বোন উম্মু কুলসুমকে বিবাহ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ـ وَرَوَيْنَا فِي (مُسْنَدِ الرُّويَانِيِّ) ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ نَفَرٌ مِنَ الأَنْصَارِ لِعَلِيٍّ: عَلَيْكَ فَاطِمَةُ، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: مَا حَاجَةُ ابْنِ أَبِي طَالِبٍ؟ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ذَكَرْتُ فَاطِمَةَ بِنْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: مَرْحَبًا وَأَهْلا لَمْ يَزِدْهُ عَلَيْهِمَا فَخَرَجَ عَلِيٌّ عَلَى أُولَئِكَ الرَّهْطِ مِنَ الأَنْصَارِ يَنْتَظِرُونَهُ، فَقَالُوا: مَا وَرَاءَكَ؟ قَالَ: مَا أَدْرِي غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ لِي: مَرْحَبًا وَأَهْلا، قَالُوا: تَكْفِيكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِحْدَاهُمَا، أَعْطَاكَ
ـ এবং আমরা (মুসনাদে আর-রুয়ানি)-তে ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আনসারদের একদল লোক আলীকে বললেন: আপনি ফাতিমার প্রস্তাব দিন। অতঃপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আবু তালিবের পুত্রের কী প্রয়োজন? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমার কথা উল্লেখ করেছি। তখন তিনি বললেন: মারহাবা ও আহলান। তিনি এ দুটির অতিরিক্ত আর কিছু বলেননি। অতঃপর আলী আনসারদের সেই দলটির নিকট ফিরে আসলেন যারা তাঁর অপেক্ষায় ছিল। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: আপনার খবর কী? তিনি বললেন: আমি জানি না, তবে তিনি আমাকে শুধু এটুকুই বলেছেন: ‘মারহাবা ও আহলান’। তাঁরা বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এ দুটির যেকোনো একটিই আপনার জন্য যথেষ্ট ছিল; তিনি আপনাকে দান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الأَهْلَ وَأَعْطَاكَ الْمَرْحَبَ، فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ بَعْدَ مَا زَوَّجَهُ، قَالَ: يَا عَلِيُّ، إِنَّهُ لا بُدَّ لِلْعَرُوسِ مِنْ وَلِيمَةٍ، فَقَالَ سَعْدٌ: عِنْدِي كَبْشٌ وَجَمَعَ لَهُ رَهْطٌ مِنَ الأَنْصَارِ آصُعًا مِنْ ذُرَةٍ، فَلَمَّا كَانَ لَيْلَةُ الْبِنَاءِ؛ قَالَ: لا تُحْدِثْ شَيْئًا حَتَّى تَلْقَانِي فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ ثُمَّ أَفْرَغَهُ عَلَى عَلِيٍّ فَقَالَ: اللَّهُمَّ بَارِكْ فِيهِمَا وَبَارِكْ عَلَيْهِمَا وَبَارِكْ لَهُمَا فِي نَسْلِهِمَا.
وَذَكَرَ ابْنُ كَثِيرٍ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَمِعَ رَجُلٌ عَلِيًّا عَلَى مِنْبَرِ الْكُوفَةِ يَقُولُ: أَرَدْتُ أَنْ أَخْطُبَ فَاطِمَةَ ابْنَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، إِلَيْهِ ثُمَّ ذَكَرْتُ أَنِّي لا شَيْءَ لِي، ثُمَّ ذَكَرْتُ عَايِدَتَهُ وَصِلَتَهُ فَخَطَبْتُهَا، فَقَالَ: هَلْ عِنْدَكَ شَيْءٌ؟ قُلْتُ: لا، قَالَ: فَأَيْنَ دِرْعُكَ الْحُطَمِيَّةُ الَّتِي أَعْطَيْتُكَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا؟ قُلْتُ: عِنْدِي، قَالَ: فَأَعْطِهَا، فَزَوَّجَنِي، فَلَمَّا كَانَ لَيْلَةُ دَخَلْتُ عَلَيْهَا، قَالَ: لا تُحْدِثَا شَيْئًا حَتَّى آتِيَكُمَا، قَالَ: فَأَتَانَا وَعَلَيْنَا قَطِيفَةٌ أَوْ كِسَاءٌ فَتَنَحَّيْنَا لَهُ، فَقَالَ: مَكَانَكُمَا ثُمَّ دَعَا بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ فَدَعَا فِيهِ ثُمَّ رَشَّهُ عَلَيْنَا،
পরিবার ও স্বাগতম জানানো হলো। অতঃপর বিয়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি বললেন: হে আলী, বরের জন্য অবশ্যই একটি ওয়ালীমার (ভোজের) প্রয়োজন। সাদ (রা.) বললেন: আমার কাছে একটি দুম্বা আছে। আর আনসারদের একটি দল তার জন্য কয়েক সা’ ভুট্টা সংগ্রহ করলেন। যখন বাসর রাত এল, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমার সাথে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত তোমরা নতুন কিছু করো না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি চাইলেন এবং তা দিয়ে অজু করলেন, তারপর সেই পানি আলীর ওপর ঢেলে দিলেন। এরপর তিনি দোয়া করলেন: হে আল্লাহ, আপনি তাদের উভয়ের মধ্যে বরকত দান করুন, তাদের ওপর বরকত নাজিল করুন এবং তাদের বংশধরদের মধ্যে বরকত দান করুন।
ইবনে কাসীর, সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজীহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কুফার মিম্বারে আলীকে (রা.) বলতে শুনেছেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তাঁর কন্যা ফাতিমার বিয়ের প্রস্তাব দিতে চাইলাম, কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো যে আমার কাছে তো কিছুই নেই। অতঃপর আমি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কথা স্মরণ করে প্রস্তাব পেশ করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কাছে কি কিছু আছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তোমার সেই হুতামিয়া বর্মটি কোথায়, যা আমি তোমাকে অমুক অমুক দিনে দিয়েছিলাম? আমি বললাম: সেটি আমার কাছেই আছে। তিনি বললেন: তবে সেটি দিয়ে দাও। অতঃপর তিনি আমার সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করলেন। যখন বাসর রাত এল এবং আমি তাঁর ঘরে প্রবেশ করলাম, তিনি বললেন: আমি তোমাদের কাছে না আসা পর্যন্ত তোমরা কোনো কিছু করো না। আলী (রা.) বলেন: এরপর তিনি আমাদের কাছে এলেন, তখন আমাদের ওপর একটি মখমলের চাদর বা কম্বল ছিল। আমরা তাঁর সম্মানে সরে যেতে চাইলাম। তিনি বললেন: তোমরা স্ব-স্ব স্থানেই থাকো। অতঃপর তিনি এক পেয়ালা পানি চাইলেন, তাতে দোয়া করলেন এবং তা আমাদের ওপর ছিটিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنَا أَحَبُّ إِلَيْكَ أَمْ هِيَ؟ قَالَ: هِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ وَأَنْتَ أَعَزُّ عَلَيَّ مِنْهَا.
وَقَدْ رَوَاهُ النَّسَائِيُّ، مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ سَلِيطٍ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، فَذَكَرَهُ بِأَبْسَطَ مِنْ هَذَا: وَفِيهِ أَنَّهُ أَوْلَمَ عَلَيْهَا بِكَبْشٍ مِنْ عِنْدِ سَعْدٍ وَآصُعٍ مِنَ الذُّرَةِ مِنْ عِنْدِ جَمَاعَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ وَأَنَّهُ دَعَا لَهُمَا بَعْدَ مَا صَبَّ عَلَيْهِمَا الْمَاءَ، فَقَالَ: اللَّهُ بَارَكَ لَهُمَا فِي شَمْلِهِمَا؛ يَعْنِي: الْجِمَاعَ.
ـ وَرَوَى مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَمَّا خَطَبَ عَلِيٌّ، رضي الله عنه، فَاطِمَةَ، رضي الله عنها، دَخَلَ عَلَيْهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهَا: أَيْ بُنَيَّةُ، إِنَّ ابْنَ عَمِّكِ قَدْ خَطَبَكِ، فَمَاذَا تَقُولِينَ؟ فَبَكَتْ، ثُمَّ قَالَتْ: كَأَنَّكَ إِنَّمَا ادَّخَرْتَنِي لِفَقِيرِ قُرَيْشٍ، فَقَالَ: وَالَّذِي بَعَثَنِي بِالْحَقِّ، مَا تَكَلَّمْتُ فِي هَذَا حَتَّى أَذِنَ اللَّهُ فِيهِ مِنَ السَّمَاءِ، فَقَالَتْ: رَضِيتُ بِمَا رَضِيَ اللَّهُ لِي وَرَسُولُهُ، ثُمَّ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا وَاجْتَمَعَ الْمُسْلِمُونَ، ثُمَّ قَالَ: يَا عَلِيُّ، اخْطُبْ لِنَفْسِكَ، فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لا يَمُوتُ وَهَذَا مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ زَوَّجَنِي ابْنَتَهُ فَاطِمَةَ عَلَى صَدَاقٍ مَبْلَغُهُ أَرْبَعُ مِائَةٍ، فَاسْمَعُوا مَا
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি আপনার নিকট অধিক প্রিয় নাকি তিনি? তিনি বললেন: তিনি আমার নিকট অধিক প্রিয় এবং আপনি আমার নিকট তাঁর চেয়ে অধিক সম্মানিত।
ইমাম নাসাঈ এটি আব্দুল কারীম বিন সালীতের সূত্রে ইবনে বুরাইদাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এটি এর চেয়েও বিস্তৃতভাবে উল্লেখ করেছেন: সেখানে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর বিবাহের অলিমা সম্পন্ন করেছিলেন সা’দের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত একটি দুম্বা এবং আনসারদের একটি দলের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কয়েক সা’ ভুট্টা দিয়ে। আর তিনি তাঁদের উভয়ের ওপর পানি ছিটানোর পর তাঁদের জন্য দোয়া করেছিলেন এবং বলেছিলেন: আল্লাহ তাঁদের দাম্পত্য মিলনে বরকত দান করুন; অর্থাৎ: সহবাসে।
মুহাম্মদ বিন কাসীর আওযাঈ থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবু কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন ফাতিমাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাতিমাহর নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে বললেন: হে আমার প্রিয় কন্যা, তোমার চাচাতো ভাই তোমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছে, এ বিষয়ে তুমি কী বলো? তখন ফাতিমাহ কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: আপনি কি আমাকে কুরাইশের এক দরিদ্র ব্যক্তির নিকট বিবাহ দেওয়ার জন্য জমিয়ে রেখেছিলেন? তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যিনি আমাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি এ বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো কথা বলিনি যতক্ষণ না আল্লাহ আসমান থেকে এ ব্যাপারে অনুমতি প্রদান করেছেন। তখন ফাতিমাহ বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমার জন্য যা পছন্দ করেছেন, আমি তাতে সন্তুষ্ট। অতঃপর নবীজি তাঁর নিকট থেকে বের হলেন এবং মুসলিমগণ সমবেত হলেন। এরপর তিনি বললেন: হে আলী, তুমি নিজে বিবাহের খুতবা প্রদান করো। তখন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মৃত্যুবরণ করেন না। আর ইনি মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তিনি চারশ (দিরহাম) মোহরানার বিনিময়ে তাঁর কন্যা ফাতিমাহকে আমার নিকট বিবাহ দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা শোনো যা...
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يَقُولُ وَاشْهَدُوا، قَالُوا: مَا تَقُولُ، يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ زَوَّجْتُهُ.
رَوَاهُ ابْنُ عَسَاكِرَ، وَهُوَ حَدِيثٌ مُنْكَرٌ.
وَقَدْ وَرَدَ فِي هَذَا الْبَابِ أَحَادِيثُ مُنْكَرَةٌ مَوْضُوعَةٌ، وَقَدْ أَوْرَدَ مِنْهَا ابْنُ عَسَاكِرَ طَرِيقًا جَيِّدًا فِي (تَارِيخِهِ) مَعَ ضَعْفِهَا وَوَضْعِهَا.
وَقَدِ اخْتَلَفُوا فِي مَهْرِهِ إِيَّاهُ؛ فَقِيلَ: دِرْعُهُ، وَأَنَّهُ لَمْ يَمْلِكْ ذَلِكَ الْوَقْتَ صَفْرَاءَ وَلا بَيْضَاءَ، وَقِيلَ: تَزَوَّجَ عَلَى أَرْبَعِ مِائَةٍ وَثَمَانِينَ دِرْهَمًا، فَجَعَلَ لَهَا ثُلُثَهَا فِي الطِّيبِ.
ـ وَرَوَيْنَا فِي (الُمْسَنِد) ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَجُلٍ سَمِعَ عَلِيًّا، يَقُولُ: أَرَدْتُ أَنْ أَخْطُبَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ابْنَتَهُ، فَقُلْتُ: مَا لِي مِنْ
তিনি বললেন, "তোমরা সাক্ষী থাকো।" তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কী বলছেন?" তিনি বললেন, "আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি তার সাথে তার বিবাহ সম্পন্ন করেছি।"
এটি ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) হাদিস।
এই অধ্যায়ে বেশ কিছু মুনকার ও মাওজু (জাল) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আসাকির তাঁর 'তারিখ' গ্রন্থে এগুলোর মধ্য থেকে একটি তুলনামূলক ভালো সূত্র উল্লেখ করেছেন, যদিও সেগুলো দুর্বলতা ও জাল হওয়ার দোষ থেকে মুক্ত নয়।
তারা তার মোহরের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন; বলা হয়েছে: তার বর্মটি ছিল মোহর, এবং সেই সময় তার মালিকানায় কোনো স্বর্ণ বা রৌপ্য ছিল না। আবার বলা হয়েছে: তিনি চারশ আশি দিরহামের বিনিময়ে বিবাহ করেছিলেন এবং তার এক-তৃতীয়াংশ সুগন্ধির জন্য নির্ধারণ করেছিলেন।
— আমরা 'মুসনাদ'-এ ইবনে আবু নাজিহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি এমন এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছি যিনি আলী (রা.)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর কন্যার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা করলাম। তখন আমি মনে মনে বললাম: আমার কাছে তো এমন কিছু নেই যা..."
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
شَيْءٍ ثُمَّ ذَكَرْتُ عَائِدَتَهُ وَصِلَتَهُ فَخَطَبْتُهَا إِلَيْهِ، فَقَالَ: هَلْ لَكَ مِنْ شَيْءٍ؟ فَقُلْتُ: لا، فَقَالَ: فَأَيْنَ دِرْعُكَ الْحُطَمِيَّةُ الَّتِي أَعْطَيْتُكَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا؟ قَالَ: هِيَ عِنْدِي، قَالَ: فَأَعْطِهَا فَأَعْطَيْتُهَا إِيَّاهُ.
ـ وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ: جَهَّزَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَاطِمَةَ فِي خَمِيلٍ وَقِرْبَةٍ وَوِسَادَةِ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفُ إِذْخِرٍ.
وَفِي رِوَايَةٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، لَمَّا زَوَّجَهُ فَاطِمَةَ بَعَثَ مَعَهَا بِخَمِيلَةٍ وَوِسَادَةٍ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ وَرَحَاءَيْنِ وَسِقَاءٍ وَجَرَّتَيْنِ.
آخِرُهُ
...কিছু একটা, অতঃপর আমি তাঁর অনুগ্রহ ও মহানুভবতার কথা স্মরণ করলাম এবং তাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পেশ করলাম। তিনি বললেন: তোমার কাছে কি (মহর হিসেবে দেওয়ার মতো) কোনো কিছু আছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তোমার সেই হুতামিয়া বর্মটি কোথায় যা আমি তোমাকে অমুক অমুক দিনে দিয়েছিলাম? তিনি (আলী) বললেন: সেটি আমার কাছেই আছে। তিনি বললেন: তবে সেটিই দাও। অতঃপর আমি সেটি তাঁকে দিয়ে দিলাম।
এবং আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে একটি পশমি চাদর, একটি পানির মশক এবং চামড়ার একটি বালিশ দিয়ে বিদায় দিয়েছিলেন যার ভেতরে ইযখির ঘাসের আঁশ ভরা ছিল।
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আলীর সাথে ফাতিমার বিয়ে দিলেন, তখন তাঁর সাথে একটি পশমি চাদর, চামড়ার একটি বালিশ যার ভেতরে আঁশ ভরা ছিল, দুটি যাঁতা, একটি পানির পাত্র ও দুটি মাটির কলস পাঠিয়েছিলেন।
সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১)
আল আকদুত তামাম ফীমান জাওয়াজাহুন নাবিয়্যু আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ.
وَفَرَغَ مِنْهُ مُؤَلِّفُهُ يُوسُفُ بْنُ حَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْهَادِي يَوْمَ الْجُمُعَةِ حَادِي عَشَرَ شَهْرِ رَمَضَانَ سَنَةَ ثَمَانٍ وَسَبْعِينَ وَثَمَانِ مِائَةٍ بِمَدْرَسَةِ شَيْخِ الإِسْلامِ أَبِي عُمَرَ بِصَالِحِيَّةِ دِمَشْقَ الْمَحْرُوسَةِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَحْدَهُ وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ.
সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর এবং আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর।
এর লেখক ইউসুফ বিন হাসান বিন আব্দুল হাদি এটি সমাপ্ত করেছেন আটশত আটাত্তর হিজরি সনের এগারো রমজান, জুমাবারে; সুরক্ষিত দামেস্কের সালিহিয়্যাহর শায়খুল ইসলাম আবু উমরের মাদরাসায়। এবং সমস্ত প্রশংসা কেবল আল্লাহর এবং আল্লাহ রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর।