(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: -)
اعتقاد الأئمة الأربعة   (محمد بن عبد الرحمن الخميس)

القسم: العقيدة


الكتاب: اعتقاد الأئمة الأربعة

المؤلف: محمد بن عبد الرحمن الخميس

الناشر: دار العاصمة - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1992 م

عدد الصفحات: 95

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 ربيع الآخر 1432

চার ইমামের আকিদা   (মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস)

বিভাগ: আকিদা


বই: চার ইমামের আকিদা

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস

প্রকাশক: দারুল আসিমা - সৌদি আরব কিংডম

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৫

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২১ রবিউস সানি ১৪৩২

(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الكتاب: اعتقاد الأئمة الأربعة]ـ

المؤلف: محمد بن عبد الرحمن الخميس

الناشر: دار العاصمة - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 1992 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
[গ্রন্থ: চার ইমামের আকিদা]

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস

প্রকাশক: দারুল আসিমাহ - সৌদি আরব কিংডম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71].

أما بعد فقد قمت ببحث موسع لنيل درجة الدكتوراه في
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট হিদায়াত কামনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আল ইমরান: ১০২]।

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় হতে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন (বিচ্ছিন্ন করা) হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন নিসা: ১]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল} [আল আহজাব: ৭০, ৭১]।

অতঃপর, আমি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের উদ্দেশ্যে একটি বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনা করেছি...
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
أصول الدين عند الإمام أبي حنيفة - رحمه الله تعالى - وقد ضمنت المقدمة تلخيص عقيدة الأئمة الثلاثة مالك والشافعي وأحمد، وقد طلب مني بعض الفضلاء إفراد عقيدة هؤلاء الأئمة الثلاثة، ولاستكمال ذكر عقيدة الأئمة الأربعة، رأيت أن أضم إلى ما ذكرته في مقدمة بحثي تلخيص ما بسطته عن عقيدة الإمام أبي حنيفة رحمه الله في التوحيد والقدر والإيمان والصحابة وموقفه من علم الكلام.

والله أسأل أن يكون هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم وأن يوفقنا جميعًا لهدي كتابه والسير على سُنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم، والله من وراء القصد وهو حسبنا ونعم الوكيل.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

 

محمد بن عبد الرحمن الخميس
ইমাম আবু হানিফা -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- এর নিকট দ্বীনের মূলনীতিসমূহ। আমি আমার এই মুখবন্ধে তিন ইমাম—মালেক, শাফেয়ী ও আহমাদ এর আকিদার সারসংক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করেছি। কতিপয় গুণী ব্যক্তি আমার কাছে এই তিন ইমামের আকিদা স্বতন্ত্রভাবে পেশ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আর চার ইমামের আকিদা বর্ণনার পূর্ণতা দানকল্পে আমি সংগত মনে করেছি যে, আমার গবেষণার মুখবন্ধে যা উল্লেখ করেছি তার সাথে ইমাম আবু হানিফা -রহিমাহুল্লাহ- এর তাওহিদ, তাকদির, ঈমান ও সাহাবীগণের বিষয়ে এবং ইলমুল কালামের প্রতি তাঁর অবস্থান সম্পর্কে আমি যা বিস্তারিত আলোচনা করেছি, তার সারসংক্ষেপটিও যুক্ত করে দেব।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এই আমলটি কেবল তাঁরই মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ হয় এবং তিনি আমাদের সকলকে তাঁর কিতাবের হেদায়েত ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর ওপর চলার তাওফিক দান করেন। আল্লাহই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-খুমাইস
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الأول

بيان أن اعتقاد الأئمة الأربعة واحد في مسائل أصول الدين

ما عدا مسألة الإيمان

اعتقاد الأئمة الأربعة - أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد رحمهم الله هو ما نطق به الكتاب والسُّنَّة وما كان عليه الصحابة والتابعون لهم بإحسان وليس بين هؤلاء الأئمة ولله الحمد نزاع في أصول الدين بل هم متفقون على الإيمان بصفات الرب وأن القرآن كلام الله غير مخلوق، وأن الإيمان لا بد فيه من تصديق القلب واللسان، بل كانوا ينكرون على أهل الكلام من جهمية وغيرهم ممن تأثروا بالفلسفة اليونانية والمذاهب الكلامية … يقول شيخ الإسلام ابن تيمية:

« … ولكن من رحمة الله بعباده أن الأئمة الذين لهم في الأمة لسان صدق كالأئمة الأربعة وغيرهم … كانوا ينكرون على أهل الكلام من الجهمية قولهم في القرآن والإيمان وصفات الرب، وكانوا متفقين على ما كان عليه السلف من أن الله يرى في الآخرة وأن القرآن كلام الله غير مخلوق، وأن الإيمان لا بد فيه من
প্রথম পরিচ্ছেদ

দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে চার ইমামের আকিদা যে অভিন্ন, তার বর্ণনা

ইমানের মাসআলা ব্যতীত

চার ইমাম—আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ী ও আহমাদ (আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন)-এর আকিদা হলো তা-ই, যা কিতাব ও সুন্নাহ ব্যক্ত করেছে এবং সাহাবী ও উত্তমভাবে তাদের অনুসারী তাবেয়ীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। সকল প্রশংসা আল্লাহর, দ্বীনের মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে এই ইমামগণের মাঝে কোনো বিরোধ নেই। বরং তারা রবের গুণাবলির প্রতি ইমান রাখা এবং কুরআন যে আল্লাহর কালাম, মাখলুক (সৃষ্টি) নয়—এ ব্যাপারে একমত। আর ইমানের ক্ষেত্রে অবশ্যই অন্তরের সত্যায়ন ও জিহ্বার স্বীকৃতির প্রয়োজন। বরং তারা গ্রিক দর্শন ও কালাম শাস্ত্রীয় মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত জাহমিয়া ও অন্যদের মতো কালাম শাস্ত্রবিদদের ঘোর বিরোধিতা করতেন … শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন:

« … কিন্তু তাঁর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত এই যে, উম্মতের মাঝে যাদের সত্যবাদিতার সুখ্যাতি রয়েছে—যেমন চার ইমাম ও অন্যান্যগণ … তারা জাহমিয়াদের মধ্য হতে কালাম শাস্ত্রবিদদের কুরআন, ইমান ও রবের গুণাবলি সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ করতেন। আর তারা সালাফগণ যে বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, সেই ব্যাপারে একমত ছিলেন যে, পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে, কুরআন আল্লাহর কালাম—মাখলুক নয় এবং ইমানের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজন
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
تصديق القلب واللسان … » (1).

وقال: «إن الأئمة المشهورين كلهم يثبتون الصفات لله تعالى ويقولون: إن القرآن كلام الله ليس بمخلوق ويقولون: إن الله يرى في الآخرة، هذا مذهب الصحابة والتابعين لهم بإحسان من أهل البيت وغيرهم وهذا مذهب الأئمة المتبوعين مثل مالك بن أنس والثوري والليث بن سعد، والأوزاعي، وأبي حنيفة، والشافعي، وأحمد … » (2).

وسُئل شيخ الإسلام ابن تيمية عن اعتقاد الشافعي فأجاب بقوله:

«اعتقاد الشافعي رضي الله عنه واعتقاد سلف الأمة كمالك والثوري والأوزاعي وابن المبارك وأحمد بن حنبل وإسحاق بن راهويه هو اعتقاد المشايخ المقتدى بهم كالفضيل بن عياض وأبي سليمان الداراني وسهل بن عبد الله التستري وغيرهم، فإنه ليس بين هؤلاء الأئمة وأمثالهم نزاع في أصول الدين.

وكذلك أبو حنيفة رحمه الله فإن الاعتقاد الثابت عنه في التوحيد والقدر

--------------------------------------------

(1) كتاب الإيمان ص350، 351 دار الطباعة المحمدية، تعليق محمد الهراس.

(2) منهاج السنة (2/ 106).
অন্তর ও জিহ্বার সত্যায়ন … » (১)।

এবং তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই প্রখ্যাত ইমামগণ সকলেই মহান আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্ত করেন এবং তাঁরা বলেন: নিশ্চয়ই কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়। তাঁরা আরও বলেন: নিশ্চয়ই পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে। এটিই সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণকারী তাবেয়ীগণের—যাঁদের মধ্যে আহলে বাইত ও অন্যরা অন্তর্ভুক্ত—মাযহাব। আর এটিই মালেক বিন আনাস, সাওরী, লাইস বিন সাদ, আওযাঈ, আবু হানীফা, শাফেয়ী এবং আহমদের মতো অনুসৃত ইমামগণের মাযহাব … » (২)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে শাফেয়ীর আকিদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন:

«শাফেয়ী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর আকিদা এবং উম্মতের সালাফগণের আকিদা—যেমন মালেক, সাওরী, আওযাঈ, ইবনুল মুবারক, আহমদ বিন হাম্বল এবং ইসহাক বিন রাহওয়াইহ—তা মূলত সেইসব অনুসরণীয় মাশায়েখদেরই আকিদা যাঁদের অনুসরণ করা হয়, যেমন ফুযাইল বিন ইয়ায, আবু সুলায়মান আদ-দারানি, সাহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি এবং অন্যান্যরা। কেননা এসব ইমাম এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের মাঝে দীনের মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ নেই।

অনুরূপভাবে আবু হানীফা (রাহিমাহুল্লাহ), তাঁর থেকে তাওহীদ ও তাকদীরের বিষয়ে যে আকিদা প্রমাণিত আছে তা হলো—

--------------------------------------------

(১) কিতাবুল ঈমান, পৃষ্ঠা ৩৫০, ৩৫১, দারুত তিবায়াতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ, মুহাম্মাদ আল-হাররাসের টীকা।

(২) মিনহাজুস সুন্নাহ (২/ ১০৬)।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ونحو ذلك موافق لاعتقاد هؤلاء واعتقاد هؤلاء هو ما كان عليه الصحابة والتابعون لهم بإحسان وهو ما نطق به الكتاب والسُّنَّة» (1).

وهذا ما اختاره العلاّمة صديق حسن خان حيث يقول:

«فمذهبنا مذهب السلف إثبات بلا تشبيه وتنزيه بلا تعطيل وهو مذهب أئمة الإسلام كمالك والشافعي والثوري وابن المبارك والإمام أحمد … وغيرهم فإنه ليس بين هؤلاء الأئمة نزاع في أصول الدين وكذلك أبو حنيفة رضي الله عنه فإن الاعتقاد الثابت عنه موافق لاعتقاد هؤلاء وهو الذي نطق به الكتاب والسنة … » (2).

وهاك طائفة من أقوال الأئمة الأربعة المتبوعين أبي حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد، فيما يعتقدونه في مسائل أصول الدين مع بيان موقفهم من علم الكلام.

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (5/ 256).

(2) قطف الثمر ص (47، 48).
...এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো তাঁদের আকিদার অনুকূল। আর তাঁদের আকিদাই হলো সেই আকিদা, যার ওপর সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীগণ বিদ্যমান ছিলেন এবং এটিই কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্য। (১)।

আর আল্লামা সিদ্দিক হাসান খান এটিকেই গ্রহণ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:

«আমাদের মাযহাব হলো সালাফদের মাযহাব—সাদৃশ্য প্রদান ব্যতিরেকে (গুনাবলি) সাব্যস্ত করা এবং অকার্যকর করা ব্যতিরেকে পবিত্রতা বর্ণনা করা। এটিই ইসলামের ইমামগণের মাযহাব, যেমন মালিক, শাফেয়ী, সাওরী, ইবনুল মুবারক এবং ইমাম আহমাদ … ও অন্যান্য। কেননা এই ইমামদের মধ্যে দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে কোনো বিরোধ নেই। অনুরূপভাবে আবু হানীফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রেও তাঁর থেকে প্রমাণিত আকিদা এঁদের আকিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সেটিই কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্য … » (২)।

এখানে চারজন অনুসৃত ইমাম—আবু হানীফা, মালিক, শাফেয়ী এবং আহমাদ—দ্বীনের মৌলিক মাসআলাসমূহের ক্ষেত্রে যা বিশ্বাস করতেন, সে বিষয়ে তাঁদের একগুচ্ছ বাণী এবং ইলমুল কালাম সম্পর্কে তাঁদের অবস্থানের বর্ণনা দেওয়া হলো।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (৫/ ২৫৬)।

(২) কুতফুল সামার পৃষ্ঠা (৪৭, ৪৮)।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الثاني

عقيدة الإمام أبي حنيفة رحمه الله

‌‌أ- أقوال الإمام أبي حنيفة رحمه الله في التوحيد:

 

‌‌أولاً: عقيدته في توحيد الله وبيان التوسل الشرعي وإبطال التوسل البدعي:

(1) قال أبو حنيفة رحمه الله: «لا ينبغي لأحد أن يدعو الله إلا به والدعاء المأذون فيه المأمور به ما استفيد من قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 180] … » (1).

(2) قال أبو حنيفة رحمه الله: «يكره أن يقول الداعي أسألك بحق فلان أو بحق أنبيائك ورسلك وبحق البيت الحرام والمشعر الحرام» (2).

(3) وقال أبو حنيفة: «لا ينبغي لأحد أن يدعو الله إلا به وأكره

--------------------------------------------

(1) الدر المختار مع حاشية رد المحتار (6/ 396 - 397).

(2) شرح العقيدة الطحاوية ص234، واتحاف السادة المتقين (2/ 285)، وشرح الفقه الأكبر للقاري ص198.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির আকীদা

‌‌ক- তাওহীদ প্রসঙ্গে ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহির বাণীসমূহ:

 

‌‌প্রথমত: আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে তাঁর আকীদা, শরীয়তসম্মত উসীলার বর্ণনা এবং বিদআতি উসীলার অসারতা:

(১) ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: «কারো জন্য উচিত নয় আল্লাহকে ডাকা কেবল তাঁর (নাম ও গুণাবলীর) মাধ্যমেই। আর অনুমোদিত ও নির্দেশিত দোয়া হলো তা-ই যা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত হয়েছে: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো এবং তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়। অচিরেই তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে} [সূরা আল-আরাফ: ১৮০] ... » (১)।

(২) ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: «দোয়াকারীর জন্য এটি অপছন্দনীয় যে সে বলবে—আমি আপনার কাছে অমুকের হক উসীলায় বা আপনার নবী ও রাসূলগণের হক উসীলায় অথবা বায়তুল হারাম ও মাশয়ারুল হারামের হক উসীলায় প্রার্থনা করছি» (২)।

(৩) ইমাম আবু হানিফা বলেন: «কারো জন্য উচিত নয় আল্লাহকে ডাকা কেবল তাঁর মাধ্যমেই, আর আমি অপছন্দ করি

--------------------------------------------

(১) আদ-দুররুল মুখতার সাথে হাশিয়াতু রদ্দুল মুহতার (৬/ ৩৯৬ - ৩৯৭)।

(২) শারহুল আকীদাহ আত-ত্বহাবিইয়াহ, পৃষ্ঠা ২৩৪, এবং ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন (২/ ২৮৫), এবং কারীর শারহুল ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ১৯৮।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أن يقول بمعاقد العز من عرشك (1)، أو بحق خلقك» (2).

 

‌‌ثانيًا: قوله في إثبات الصفات والرد على الجهمية:

(4) وقال: «لا يوصف الله تعالى بصفات المخلوقين، وغضبه ورضاه صفتان من صفاته بلا كيف، وهو قول أهل السُّنَّة

--------------------------------------------

(1) كره الإمام أبو حنيفة ومحمد بن الحسن أن يقول الرجل في دعائه: «اللهم إني أسألك بمعاقد العزّ من عرشك» لعدم وجود النص في الأذن به، وأما أبو يوسف فقد جوزه لوقوفه على نص من السنة، وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم، كان من دعائه: «اللهم إني أسألك بمعاقد العزّ من عرشك ومنتهى الرحمة من كتابك» … وهذا الحديث أخرجه البيهقي في كتاب الدعوات الكبيرة كما في البناية 9/ 382، ونصب الراية (4/ 272)، وفي إسناده ثلاثة أمور قادحة:

1 - عدم سماع داود بن أبي عاصم لابن مسعود.

2 - عبد الملك بن جريج مدلس ويرسل.

3 - عمر بن هارون متهم بالكذب من أجل ذلك قال ابن الجوزي كما في البناية (9/ 382)، (هذا حديث موضوع بلا شك وإسناده محبط كما ترى).

انظر تهذيب التهذيب (3/ 189)، (6/ 405)، (7/ 501)، وتقريب التهذيب (1/ 520).

(2) التوسل والوسيلة، ص82، وانظر شرح الفقه الأكبر ص198.
«আপনার আরশের সম্মানের উচ্চতম মর্যাদার ওসিলায় (১), অথবা আপনার সৃষ্টির হকের মাধ্যমে (২)» বলা।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: সিফাত (গুণাবলি) সাব্যস্তকরণ এবং জাহমিয়াদের খণ্ডন প্রসঙ্গে তাঁর উক্তি:

(৪) এবং তিনি বলেছেন: «আল্লাহ তাআলাকে সৃষ্টির গুণাবলীতে বিশেষিত করা যাবে না। তাঁর রাগ এবং তাঁর সন্তুষ্টি তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত দুটি গুণ যার কোনো ধরণ বা প্রকৃতি নেই; আর এটিই হলো আহলে সুন্নাতের বক্তব্য।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আবু হানিফা এবং মুহাম্মদ ইবনুল হাসান কোনো ব্যক্তির দুআয় এটি বলা অপছন্দ করেছেন যে: «হে আল্লাহ! আমি আপনার আরশের সম্মানের উচ্চতম মর্যাদার ওসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি», কারণ এর অনুমতির ব্যাপারে কোনো দলিলের অনুপস্থিতি। পক্ষান্তরে আবু ইউসুফ একে বৈধ বলেছেন কারণ তিনি সুন্নাহর একটি দলিলের বিষয়ে অবগত হয়েছিলেন। তাতে উল্লেখ আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যতম দুআ ছিল: «হে আল্লাহ! আমি আপনার আরশের সম্মানের উচ্চতম মর্যাদার ওসিলায় এবং আপনার কিতাবের করুণার চূড়ান্ত সীমার ওসিলায় আপনার কাছে প্রার্থনা করছি» … এই হাদিসটি বাইহাকি 'কিতাবুদ দাওয়াতুল কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আল-বিনায়া ৯/৩৮২ এবং নাসবুর রায়াহ (৪/২৭২)-তে রয়েছে। তবে এর সনদে (বর্ণনাসূত্র) তিনটি ত্রুটিপূর্ণ বিষয় রয়েছে:

১ - দাউদ ইবনে আবি আসিম ইবনে মাসউদ থেকে হাদিসটি শ্রবণ করেননি।

২ - আব্দুল মালিক ইবনে জুরাইজ একজন মুদাল্লিস এবং তিনি মুরসাল বর্ণনা করেন।

৩ - উমর ইবনে হারুন মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত; এ কারণে ইবনুল জাওযি যেমনটি আল-বিনায়া (৯/৩৮২)-তে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: (এটি নিঃসন্দেহে একটি জাল হাদিস এবং এর সনদটি যেমন দেখছেন অসার)।

দেখুন: তাহযীবুত তাহযীব (৩/১৮৯), (৬/৪০৫), (৭/৫০১) এবং তাকরীবুত তাহযীব (১/৫২০)।

(২) আত-তাওয়াসসুল ওয়াল ওয়াসিলা, পৃষ্ঠা ৮২; এবং দেখুন: শারহুল ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ১৯৮।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والجماعة وهو يغضب ويرضى ولا يقال: غضبه عقوبته ورضاه ثوابه، ونصفه كما وصف نفسه أحدٌ صمد لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفوًا أحد، حيٌّ قادر سميع بصير عالم، يد الله فوق أيديهم ليست كأيدي خلقه ووجهه ليس كوجوه خلقه» (1).

(5) وقال: «وله يد ووجه ونفس، كما ذكره الله تعالى في القرآن، فما ذكره الله تعالى في القرآن من ذكر الوجه واليد والنفس، فهو له صفات بلا كيف ولا يقال إن يده قدرته أو نعمته، لأن فيه إبطال الصفة وهو قول أهل القدر والاعتزال» (2).

(6) وقال: «لا ينبغي لأحد أن ينطق في ذات الله بشيء بل يصفه بما وصف به نفسه ولا يقول فيه برأيه شيئًا تبارك الله وتعالى رب العالمين» (3).

(7) ولما سُئل عن النزول الإلهي قال: «ينزل بلا كيف» (4).

--------------------------------------------

(1) الفقه الأبسط ص56.

(2) الفقه الأكبر ص302.

(3) شرح العقيدة الطحاوية (2/ 427)، تحقيق د. التركي، جلاء العينين ص368.

(4) عقيدة السلف أصحاب الحديث ص42، ط دار السلفية، الأسماء والصفات للبيهقي ص456، وسكت عليه الكوثري، وشرح العقيدة الطحاوية ص245، تخريج الألباني، وشرح الفقه الأكبر للقاري ص60.
...এবং জামাআত। তিনি রাগান্বিত হন এবং সন্তুষ্ট হন; আর এ কথা বলা যাবে না যে: তাঁর রাগ মানে হলো তাঁর শাস্তি এবং তাঁর সন্তুষ্টি মানে হলো তাঁর সওয়াব। আমরা তাঁর বর্ণনা সেভাবেই দেব যেভাবে তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন—তিনি একক, অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে, যা তাঁর সৃষ্টির হাতের মতো নয় এবং তাঁর চেহারা তাঁর সৃষ্টির চেহারার মতো নয়» (১)।

(৫) তিনি আরও বলেছেন: «তাঁর হাত, চেহারা এবং সত্তা রয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা কুরআনে চেহারা, হাত ও সত্তার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা হলো তাঁর গুণাবলি—কোনো ধরন নির্ধারণ ছাড়াই। এ কথা বলা যাবে না যে তাঁর হাত হলো তাঁর ক্ষমতা বা তাঁর নেয়ামত; কারণ এতে সিফাত বা গুণকে অস্বীকার করা হয়, যা কদরিয়া ও মুতাজিলা সম্প্রদায়ের মত» (২)।

(৬) তিনি আরও বলেছেন: «কারো জন্য আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কিছু বলা সমীচীন নয়, বরং তিনি নিজেকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন সেভাবেই তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করতে হবে এবং এ বিষয়ে নিজের রায় বা ব্যক্তিগত মতামত থেকে কিছু বলা যাবে না। বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ, যিনি বিশ্বজগতের রব» (৩)।

(৭) যখন তাঁকে আল্লাহর অবতরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: «তিনি কোনো ধরন ছাড়াই অবতরণ করেন» (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫৬।

(২) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(৩) শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ (২/ ৪২৭), ড. তুর্কির তাহকিক; জালাউল আইনাইন, পৃষ্ঠা ৩৬৮।

(৪) আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস, পৃষ্ঠা ৪২, দারুস সালাফিয়্যাহ সংস্করণ; আল-আসমা ওয়াস-সিফাত লিল বায়হাকি, পৃষ্ঠা ৪৫৬, যার ওপর কাওসারি নীরব থেকেছেন; শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৪৫, আলবানি কর্তৃক তাখরিজকৃত; এবং আল-কারি রচিত শারহুল ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৬০।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
(8) وقال أبو حنيفة: «والله تعالى يدعى من أعلى لا من أسفل لأن الأسفل ليس من وصف الربوبية والألوهية في شيء» (1).

(9) وقال: «وهو يغضب ويرضى ولا يقال غضبه عقوبته ورضاه ثوابه» (2).

(10) وقال: «ولا يشبه شيئًا من الأشياء من خلقه ولا يشبه من خلقه لم يزل ولا يزال بأسمائه وصفاته» (3).

(11) وقال: «وصفاته بخلاف صفات المخلوقين يعلم لا كعلمنا، ويقدر لا كقدرتنا، ويرى لا كرؤيتنا، ويسمع لا كسمعنا، ويتكلم لا ككلامنا» (4).

(12) وقال: «لا يوصف الله تعالى بصفات المخلوقين» (5).

--------------------------------------------

(1) الفقه الأبسط ص51.

(2) الفقه الأبسط ص56، وسكت عليه محقق الكتاب الكوثري.

(3) الفقه الأكبر ص301.

(4) الفقه الأكبر ص302.

(5) الفقه الأبسط ص56.
(৮) এবং আবু হানিফা বলেন: «আল্লাহ তাআলাকে ওপর থেকে ডাকা হয়, নিচ থেকে নয়; কারণ নিচ হওয়া রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) ও উলুহিয়্যাতের (উপাস্য হওয়ার) গুণাবলির কোনো অংশ নয়» (১)।

(৯) তিনি বলেন: «তিনি রাগান্বিত হন এবং সন্তুষ্ট হন; তবে এ কথা বলা যাবে না যে, তাঁর রাগ হলো তাঁর শাস্তি এবং তাঁর সন্তুষ্টি হলো তাঁর সওয়াব» (২)।

(১০) তিনি বলেন: «তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সদৃশ নন এবং তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছু তাঁর সদৃশ নয়। তিনি তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি নিয়ে অনাদি ও অনন্তকাল ধরে আছেন ও থাকবেন» (৩)।

(১১) তিনি বলেন: «তাঁর গুণাবলি সৃষ্টির গুণাবলির বিপরীত। তিনি জানেন কিন্তু আমাদের জানার মতো নয়; তিনি ক্ষমতা রাখেন কিন্তু আমাদের ক্ষমতার মতো নয়; তিনি দেখেন কিন্তু আমাদের দেখার মতো নয়; তিনি শোনেন কিন্তু আমাদের শোনার মতো নয়; এবং তিনি কথা বলেন কিন্তু আমাদের কথা বলার মতো নয়» (৪)।

(১২) তিনি বলেন: «আল্লাহ তাআলাকে মাখলুকাতের (সৃষ্টির) গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করা যাবে না» (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫১।

(২) আল-ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫৬; কিতাবের মুহাক্কিক কাওসারী এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন।

(৩) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০১।

(৪) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(৫) আল-ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫৬।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
(13) وقال: «ومن وصف الله بمعنى من معاني البشر فقد كفر» (1).

(14) وقال: «وصفاته الذاتية والفعلية، أما الذاتية فالحياة والقدرة والعلم والكلام والسمع والبصر والإرادة، وأما الفعلية فالتخليق والترزيق والإنشاء والإبداع والصنع وغير ذلك من صفات الفعل لم يزل ولا يزال بأسمائه وصفاته» (2).

(15) وقال: «ولم يزل فاعلاً بفعله والفعل صفة في الأزل والفاعل هو الله تعالى والفعل صفة في الأزل والمفعول مخلوق وفعل الله تعالى غير مخلوق» (3).

(16) وقال: «من قال لا أعرف ربي في السماء أم في الأرض فقد كفر، وكذا من قال إنه على العرش ولا أدري العرش أفي السماء أم في الأرض» (4).

--------------------------------------------

(1) العقيدة الطحاوية بتعليق الألباني ص25.

(2) الفقه الأكبر 301.

(3) الفقه الأكبر 301.

(4) الفقه الأبسط ص46، ونقل نحو هذا اللفظ شيخ الإسلام ابن تيمية في مجموع الفتاوى (5/ 48)، وابن القيم في اجتماع الجيوش الإسلامية ص139، والذهبي في العلو ص101 - 102، وابن قدامة في العلو ص116، وابن أبي العزّ في شرح الطحاوية ص301.
(13) এবং তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি মানুষের বৈশিষ্ট্যসমূহের কোনো একটির মাধ্যমে আল্লাহর গুণ বর্ণনা করল, সে কুফরী করল» (১)।

(14) এবং তিনি বলেছেন: «তাঁর গুণাবলি সত্তাগত ও কর্মগত; সত্তাগত গুণাবলি হলো জীবন, ক্ষমতা, জ্ঞান, কথা বলা, শ্রবণ, দর্শন ও ইচ্ছা। আর কর্মগত গুণাবলি হলো সৃষ্টি করা, রিযিক দান করা, অস্তিত্বদান করা, নব উদ্ভাবন করা, নির্মাণ করা এবং কর্মগত অন্যান্য গুণাবলি; তিনি তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি সহকারে অনাদি-অনন্তকাল ধরে আছেন ও থাকবেন» (২)।

(15) এবং তিনি বলেছেন: «তিনি অনাদি কাল থেকেই তাঁর কর্মের মাধ্যমে কর্তা হিসেবে আছেন এবং কর্ম অনাদিতে বিদ্যমান একটি গুণ; আর কর্তা হলেন মহান আল্লাহ তাআলা এবং কর্ম অনাদিতে একটি গুণ, আর যা সৃষ্টি করা হয়েছে তা সৃষ্ট, কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার কর্ম সৃষ্টি নয়» (৩)।

(16) এবং তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলল, আমি জানি না আমার রব আকাশে নাকি জমিনে, সে কুফরী করল। তদ্রূপ যে বলল যে, তিনি আরশের উপর আছেন, কিন্তু আমি জানি না আরশ কি আকাশে নাকি জমিনে (সেও কুফরী করল)» (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, আলবানীর টীকা সহ, পৃষ্ঠা ২৫।

(২) আল-ফিকহুল আকবার ৩০১।

(৩) আল-ফিকহুল আকবার ৩০১।

(৪) আল-ফিকহুল আবসাত পৃষ্ঠা ৪৬; এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মাজমুউল ফাতাওয়া (৫/৪৮)-এ, ইবনুল কায়্যিম ইজতিমাউল জুয়ুশ আল-ইসলামিয়্যাহ পৃষ্ঠা ১৩৯-এ, আয-যাহাবী আল-উলুউ পৃষ্ঠা ১০১-১০২-এ, ইবনে কুদামা আল-উলুউ পৃষ্ঠা ১১৬-এ এবং ইবনে আবিল ইযয শারহুত তাহাবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩০১-এ অনুরূপ শব্দাবলি উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
(17) وقال للمرأة التي سألته أين إلهك الذي تعبده قال: «إن الله سبحانه وتعالى في السماء دون الأرض، فقال له رجل: أرأيت قول الله تعالى: {وَهُوَ مَعَكُمْ} [الحديد: 4] قال: هو كما تكتب للرجل إني معك وأنت غائب عنه» (1).

(18) وقال كذلك: «يد الله فوق أيديهم ليست كأيدي خلقه» (2).

(19) وقال: «إن الله سبحانه وتعالى في السماء دون الأرض، فقال له رجل: أرأيت قول الله تعالى: {وَهُوَ مَعَكُمْ} [الحديد: 4]، قال: هو كما تكتب لرجل إني معك وأنت غائب عنه» (3).

(20) وقال: «قد كان متكلمًا ولم يكن كلم موسى عليه السلام» (4).

(21) وقال: «ومتكلمًا بكلامه والكلام صفة في الأزل» (5).

--------------------------------------------

(1) الأسماء والصفات ص429.

(2) الفقه الأبسط ص56.

(3) الأسماء والصفات (2/ 170).

(4) الفقه الأكبر ص302.

(5) الفقه الأكبر ص301.
(১৭) এবং তিনি সেই মহিলাকে বললেন, যে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে আপনার ইলাহ (উপাস্য) কোথায় যাঁর আপনি ইবাদত করেন? তিনি বললেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আকাশে রয়েছেন, জমিনে নয়। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী: {আর তিনি তোমাদের সাথেই আছেন} [আল-হাদীদ: ৪]? তিনি বললেন: এটি তেমন যেমন তুমি কোনো ব্যক্তিকে লিখে থাকো যে 'আমি তোমার সাথেই আছি' অথচ তুমি তার থেকে অনুপস্থিত» (১)।

(১৮) এবং তিনি একইভাবে বলেছেন: «আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে, যা তাঁর সৃষ্টির হাতের মতো নয়» (২)।

(১৯) এবং তিনি বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আকাশে রয়েছেন, জমিনে নয়। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললেন: আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী: {আর তিনি তোমাদের সাথেই আছেন} [আল-হাদীদ: ৪]? তিনি বললেন: এটি তেমন যেমন তুমি কোনো ব্যক্তিকে লিখে থাকো যে 'আমি তোমার সাথেই আছি' অথচ তুমি তার থেকে অনুপস্থিত» (৩)।

(২০) এবং তিনি বলেছেন: «তিনি অনাদি কাল থেকেই কথা বলতেন (মুতাকাল্লিম ছিলেন) এমতাবস্থায় যে তিনি তখনও মূসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেননি» (৪)।

(২১) এবং তিনি বলেছেন: «এবং তিনি তাঁর বাণীর মাধ্যমে কথা বলতেন আর কথা বলা (কালাম) হচ্ছে একটি অনাদি গুণ» (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত, পৃষ্ঠা ৪২৯।

(২) আল-ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৫৬।

(৩) আল-আসমা ওয়াস-সিফাত (২/ ১৭০)।

(৪) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(৫) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০১।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
(22) وقال: «ويتكلم لا ككلامنا» (1).

(23) وقال: «وسمع موسى عليه السلام كلام الله تعالى كما قال الله تعالى: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا} [النساء: 164]، وقد كان الله تعالى متكلمًا ولم يكن كلم موسى عليه السلام» (2).

(24) وقال: «والقرآن كلام الله في المصاحف مكتوب وفي القلوب محفوظ، وعلى الألسن مقروء، وعلى النبي صلى الله عليه وسلم، أنزل» (3).

(25) وقال: «والقرآن غير مخلوق» (4).

--------------------------------------------

(1) الفقه الأكبر ص302.

(2) الفقه الأكبر ص302.

(3) الفقه الأكبر ص301.

(4) الفقه الأكبر ص301.
(22) এবং তিনি বলেছেন: «আর তিনি কথা বলেন, তবে আমাদের কথা বলার মতো নয়» (১)।

(23) এবং তিনি বলেছেন: «আর মূসা আলাইহিস সালাম মহান আল্লাহর কালাম শুনেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন} [আন-নিসা: ১৬৪]। আর মহান আল্লাহ মুতাকাল্লিম (কথা বলেন এমন) হিসেবেই ছিলেন তখনও, যখন তিনি মূসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেননি» (২)।

(24) এবং তিনি বলেছেন: «আর কুরআন হলো আল্লাহর কালাম, যা মাসহাফসমূহে লিখিত, অন্তরসমূহে সংরক্ষিত, জিহ্বাগুলোতে পঠিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ» (৩)।

(25) এবং তিনি বলেছেন: «আর কুরআন সৃষ্টি নয়» (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(২) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(৩) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০১।

(৪) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০১।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌ب- أقوال الإمام أبي حنيفة

في القدر

1 - جاء رجل إلى الإمام أبي حنيفة يجادله في القدر فقال له: «أما علمت أن الناظر في القدر كالناظر في عيني الشمس كلما ازداد نظرًا ازداد تحيرًا» (1).

2 - يقول الإمام أبو حنيفة: «وكان الله تعالى عالمًا في الأزل بالأشياء قبل كونها» (2).

3 - وقال: «يعلم الله تعالى المعدوم في حالة عدمه معدومًا ويعلم أنه كيف يكون إذا أوجده، ويعلم الله تعالى الموجود في حال وجوده موجودًا ويعلم كيف يكون فناؤه» (3).

4 - يقول الإمام أبو حنيفة: «وقدره في اللوح المحفوظ» (4).

5 - وقال: «ونقر بأن الله تعالى أمر بالقلم أن يكتب فقال القلم، ماذا أكتب يا رب؟ فقال الله تعالى: اكتب ما هو

--------------------------------------------

(1) قلائد عقود العقيان (ق - 77 - ب).

(2) الفقه الأكبر ص302، 303.

(3) الفقه الأكبر ص302، 303.

(4) الفقه الأكبر ص302.
খ- ইমাম আবু হানিফার উক্তিসমূহ

তকদীর প্রসঙ্গে

১ - জনৈক ব্যক্তি ইমাম আবু হানিফার নিকট তকদীর নিয়ে বিতর্ক করতে এলে তিনি তাকে বললেন: «তুমি কি জান না যে, তকদীরের দিকে দৃষ্টিপাতকারী ব্যক্তি সূর্যের চোখের দিকে তাকানো ব্যক্তির ন্যায়; সে যতই অধিক দৃষ্টিপাত করে, ততই তার বিভ্রান্তি বৃদ্ধি পায়» (১)।

২ - ইমাম আবু হানিফা বলেন: «আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই বস্তুসমূহ সৃষ্টির পূর্বেই সেগুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন» (২)।

৩ - তিনি বলেন: «আল্লাহ তাআলা অবিদ্যমান বিষয়কে তার অবিদ্যমান অবস্থায় অবিদ্যমান হিসেবে জানেন এবং তিনি তাকে অস্তিত্ব দান করলে সেটি কেমন হবে তাও জানেন। আর আল্লাহ তাআলা বিদ্যমান বিষয়কে তার বিদ্যমান অবস্থায় বিদ্যমান হিসেবে জানেন এবং তার বিনাশ কীভাবে হবে তাও জানেন» (৩)।

৪ - ইমাম আবু হানিফা বলেন: «আর তিনি তা লাওহে মাহফুজে নির্ধারণ করেছেন» (৪)।

৫ - তিনি বলেন: «আমরা স্বীকার করি যে আল্লাহ তাআলা কলমকে লেখার নির্দেশ দিয়েছেন। তখন কলম বলল: হে আমার রব, আমি কী লিখব? আল্লাহ তাআলা বললেন: যা ঘটবে তা লেখ...

--------------------------------------------

(১) কালাইদু উকুদিল উকিয়ান (পৃষ্ঠা - ৭৭ - খ)।

(২) আল-ফিকহুল আকবার, পৃ. ৩০২, ৩০৩।

(৩) আল-ফিকহুল আকবার, পৃ. ৩০২, ৩০৩।

(৪) আল-ফিকহুল আকবার, পৃ. ৩০২।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
كائن إلى يوم القيامة لقوله تعالى: {وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ فِي الزُّبُرِ * وَكُلُّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ مُسْتَطَرٌ} [القمر: 52 - 53]» (1).

6 - وقال الإمام أبو حنيفة: «ولا يكون في الدنيا ولا في الآخرة شيء إلا بمشيئته» (2).

7 - ويقول الإمام أبو حنيفة: «خلق الله الأشياء لا من شيء» (3).

8 - وقال: «وكان الله تعالى خالقًا قبل أن يخلق» (4).

9 - وقال: «نقر بأن العبد مع أعماله وإقراره ومعرفته مخلوق، فلما كان الفاعل مخلوقًا فأفعاله أولى أن تكون مخلوقة» (5).

10 - وقال: «جميع أفعال العباد من الحركة والسكون كسبهم والله تعالى خالقها وهي كلها بمشيئته وعلمه وقضائه وقدره» (6).

11 - قال الإمام أبو حنيفة: «وجميع أفعال العباد من الحركة والسكون كسبهم على الحقيقة والله تعالى خلقها وهي كلها بمشيئته وعلمه وقضائه وقدره، والطاعات كلها كانت واجبة بأمر الله تعالى وبمحبته وبرضاه وعلمه ومشيئته وقضائه وتقديره، والمعاصي كلها بعلمه وقضائه وتقديره ومشيئته لا بمحبته ولا برضائه ولا بأمره» (7).

12 - وقال: «خلق الله تعالى الخلق سليمًا من الكفر والإيمان (8) ثم خاطبهم وأمرهم ونهاهم، فكفر من كفر بفعله وإنكاره وجحوده الحق بخذلان الله تعالى إياه، وآمن من آمن بفعله وإقراره وتصديقه بتوفيق الله تعالى ونصرته له» (9).

13 - وقال: «وأخرج ذرية آدم من صلبه على صور الذر، فجعلهم عقلاء فخاطبهم وأمرهم بالإيمان ونهاهم عن الكفر، فأقروا له بالربوبية فكان ذلك منها إيمانًا فهم

--------------------------------------------

(1) الوصية مع شرحها ص21.

(2) الفقه الأكبر ص302.

(3) الفقه الأكبر ص302.

(4) الفقه الأكبر ص304.

(5) الوصية مع شرحها ص14.

(6) الفقه الأكبر ص303.

(7) الفقه الأكبر ص303.

(8) الصواب: خلق الله تعالى الخلق على فطرة الإسلام كما سيبينه أبو حنيفة في قوله الآتي.

(9) الفقه الأكبر ص302 - 303.
কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা (লিপিবদ্ধ আছে), কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তারা যা কিছু করেছে তা আমলনামায় লিপিবদ্ধ আছে। এবং ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সমস্ত কিছুই লিখিত।} [আল-কামার: ৫২ - ৫৩]» (১)।

৬ - এবং ইমাম আবু হানিফা বলেন: «দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই ঘটে না» (২)।

৭ - ইমাম আবু হানিফা বলেন: «আল্লাহ কোনো কিছু ছাড়াই বস্তুসমূহ সৃষ্টি করেছেন» (৩)।

৮ - তিনি বলেন: «সৃষ্টি করার পূর্বেও আল্লাহ তাআলা স্রষ্টা ছিলেন» (৪)।

৯ - তিনি বলেন: «আমরা স্বীকার করি যে, বান্দা তার আমলসমূহ, তার স্বীকৃতি এবং তার মারেফত (পরিচয় লাভ) সহ মাখলুক (সৃষ্ট), সুতরাং কর্তা যখন মাখলুক, তখন তার কাজসমূহ মাখলুক হওয়ার অধিক দাবিদার» (৫)।

১০ - তিনি বলেন: «নড়াচড়া ও স্থির থাকা সহ বান্দাদের সকল কাজই তাদের অর্জন (কাসব), আর আল্লাহ তাআলা সেগুলোর স্রষ্টা এবং এগুলো সবই তাঁর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা এবং তকদির অনুযায়ী সম্পন্ন হয়» (৬)।

১১ - ইমাম আবু হানিফা বলেন: «নড়াচড়া ও স্থির থাকা সহ বান্দাদের সকল কাজই প্রকৃতপক্ষে তাদের অর্জন, আর আল্লাহ তাআলা সেগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলো সবই তাঁর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও তকদির অনুযায়ী হয়। সমস্ত আনুগত্যের কাজ মহান আল্লাহর নির্দেশে, তাঁর ভালোবাসায়, তাঁর সন্তুষ্টিতে, তাঁর জ্ঞানে, তাঁর ইচ্ছায় এবং তাঁর ফয়সালা ও তকদির অনুযায়ী ওয়াজিব হয়েছে। আর সমস্ত গুনাহের কাজ তাঁর জ্ঞানে, ফয়সালায়, তকদিরে এবং ইচ্ছায় (হয়), তবে তাঁর ভালোবাসায়, সন্তুষ্টিতে কিংবা তাঁর নির্দেশে নয়» (৭)।

১২ - তিনি বলেন: «আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে কুফর ও ঈমান হতে মুক্ত অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন (৮), অতঃপর তিনি তাদের সম্বোধন করেছেন এবং তাদের আদেশ ও নিষেধ করেছেন। ফলে যে কুফরি করেছে সে নিজের কর্ম, অস্বীকার এবং সত্য প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমেই কুফরি করেছে, যা আল্লাহ তাআলার তাকে সাহায্য না করার (পরিত্যাগ করার) কারণে হয়েছে। আর যে ঈমান এনেছে সে নিজের কর্ম, স্বীকৃতি এবং সত্যায়নের মাধ্যমে ঈমান এনেছে, যা আল্লাহ তাআলার তাকে তৌফিক প্রদান এবং সাহায্যের কারণে হয়েছে» (৯)।

১৩ - তিনি বলেন: «আর তিনি আদমের সন্তানদের তাঁর পিঠ থেকে ক্ষুদ্র অণু সদৃশ বের করেছেন এবং তাদের বুদ্ধিমান করেছেন, অতঃপর তাদের সম্বোধন করেছেন এবং তাদের ঈমানের নির্দেশ দিয়েছেন ও কুফরি করতে নিষেধ করেছেন। তারা তাঁর রবুবিয়্যাতের স্বীকৃতি প্রদান করেছিল, যা ছিল তাদের পক্ষ থেকে ঈমান, সুতরাং তারা...

--------------------------------------------

(১) আল-ওসিয়্যাহ মা’আ শারহিহা, পৃষ্ঠা ২১।

(২) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(৩) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(৪) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০৪।

(৫) আল-ওসিয়্যাহ মা’আ শারহিহা, পৃষ্ঠা ১৪।

(৬) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০৩।

(৭) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০৩।

(৮) সঠিক হলো: আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে ইসলামের ফিতরাতের (সহজাত স্বভাব) ওপর সৃষ্টি করেছেন, যেমনটি ইমাম আবু হানিফা তাঁর পরবর্তী বক্তব্যে বর্ণনা করবেন।

(৯) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২ - ৩০৩।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
يولدون على تلك الفطرة، ومن كفر بعد ذلك فقد بدّل وغيّر، ومن آمن وصدق فقد ثبت عليه وداوم» (1).

14 - وقال: «وهو الذي قدر الأشياء وقضاها ولا يكون في الدنيا ولا في الآخرة شيء إلا بمشيئته وعلمه وقضائه وقدره، وكتبه في اللوح المحفوظ» (2).

15 - وقال: «لم يجبر أحدًا من خلقه على الكفر ولا على الإيمان، ولكن خلقهم أشخاصًا والإيمان والكفر فعل العباد، ويعلم تعالى من يكفر في حال كفره كافرًا، فإذا آمن بعد ذلك فإذا علمه مؤمنًا أحبه من غير أن يتغير علمه» (3).

--------------------------------------------

(1) الفقه الأكبر ص302.

(2) الفقه الأكبر ص302.

(3) الفقه الأكبر ص303.
তারা সেই ফিতরাতের ওপর জন্মগ্রহণ করে; অতঃপর যে ব্যক্তি এরপর কুফরি করল, সে মূলত তা পরিবর্তন ও রূপান্তর করল। আর যে ঈমান আনল ও সত্যায়ন করল, সে তার ওপর অটল থাকল এবং তা অব্যাহত রাখল (১)।

১৪ - এবং তিনি বলেছেন: "তিনিই সকল বস্তু নির্ধারণ করেছেন এবং তার ফয়সালা দিয়েছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও তাকদির ব্যতীত কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না। তিনি তা লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন" (২)।

১৫ - এবং তিনি বলেছেন: "তিনি তাঁর সৃষ্টির কাউকেই কুফরি বা ঈমানের জন্য বাধ্য করেননি। বরং তিনি তাদেরকে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং ঈমান ও কুফর হলো বান্দাদের কাজ। মহান আল্লাহ যখন কেউ কুফরি করে তখন তাকে কাফির হিসেবেই জানেন; এরপর সে যদি ঈমান আনে তবে তিনি তাকে মুমিন হিসেবে জানেন এবং তাকে ভালোবাসেন, এমতাবস্থায় তাঁর জ্ঞানের কোনো পরিবর্তন হয় না" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(২) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(৩) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০৩।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌ج- أقوال الإمام أبي حنيفة

في الإيمان

1 - قال: «والإيمان هو الإقرار والتصديق» (1).

2 - وقال: «الإيمان إقرار باللسان وتصديق بالجنان والإقرار وحده لا يكون إيمانًا» (2). ونقله الطحاوي عن أبي حنيفة وصاحبيه (3).

3 - وقال أبو حنيفة: «والإيمان لا يزيد ولا ينقص» (4).

قلت: قوله في عدم زيادة الإيمان ونقصانه وقوله في مسمى الإيمان وأنه تصديق بالجنان وإقرار باللسان وأن العمل خارج عن حقيقة الإيمان. قوله هذا هو الفارق بين عقيدة الإمام أبي حنيفة في الإيمان وبين عقيدة سائر أئمة الإسلام مالك والشافعي وأحمد وإسحاق والبخاري

--------------------------------------------

(1) الفقه الأكبر ص304.

(2) كتاب الوصية مع شرحها ص2.

(3) الطحاوية مع شرحها ص360.

(4) كتاب الوصية مع شرحها ص3.
গ- ঈমান সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফার

উক্তি

১ - তিনি বলেছেন: «আর ঈমান হলো স্বীকৃতি এবং সত্যয়ন» (১)।

২ - তিনি আরও বলেছেন: «ঈমান হলো জিহ্বা দ্বারা স্বীকৃতি এবং অন্তর দ্বারা সত্যয়ন, আর কেবল স্বীকৃতি প্রদান ঈমান হিসেবে গণ্য হয় না» (২)। ইমাম ত্বহাবী এটি ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর দুই সাথী থেকে বর্ণনা করেছেন (৩)।

৩ - ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: «আর ঈমান বৃদ্ধি পায় না এবং হ্রাসও পায় না» (৪)।

আমি বলি: ঈমান বৃদ্ধি বা হ্রাস না হওয়া সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য এবং ঈমানের সংজ্ঞায় তাঁর অভিমত যে এটি অন্তরে সত্যয়ন ও মুখে স্বীকৃতি এবং আমল ঈমানের হাকিকতের বহির্ভূত—তাঁর এই বক্তব্যই হলো ঈমান প্রসঙ্গে ইমাম আবু হানিফার আকিদা এবং ইসলামের অন্যান্য ইমাম যেমন মালেক, শাফেয়ী, আহমদ, ইসহাক ও বুখারীর আকিদার মধ্যকার পার্থক্যকারী বিষয়।

--------------------------------------------

(১) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০৪।

(২) কিতাবুল ওয়াসিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যা, পৃষ্ঠা ২।

(৩) আত-ত্বহাবিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যা, পৃষ্ঠা ৩৬০।

(৪) কিতাবুল ওয়াসিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যা, পৃষ্ঠা ৩।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وغيرهم والحق معهم.

وقول أبي حنيفة مجانب للصواب وهو مأجور في الحالين، وقد ذكر ابن عبد البر وابن أبي العزّ ما يشعر أن أبا حنيفة رجع عن قوله والله أعلم (1).

--------------------------------------------

(1) التمهيد لابن عبد البر 9/ 247، شرح العقيدة الطحاوية ص395.
এবং অন্যান্যরা এবং সত্য তাদের সাথেই রয়েছে।

আর ইমাম আবু হানিফার উক্তিটি সঠিকতা থেকে বিচ্যুত এবং তিনি উভয় অবস্থাতেই সওয়াবপ্রাপ্ত। ইবন আবদিল বার এবং ইবন আবিল ইযয এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা ইঙ্গিত দেয় যে আবু হানিফা তাঁর উক্তি থেকে ফিরে এসেছিলেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন (১)।

--------------------------------------------

(১) ইবন আবদিল বার রচিত আত-তামহীদ ৯/ ২৪৭, শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ পৃষ্ঠা ৩৯৫।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌د- قول الإمام أبي حنيفة

في الصحابة

1 - قال الإمام أبو حنيفة: «ولا نذكر أحدًا من صحابة رسول الله إلا بخير» (1).

2 - وقال: «ولا نتبرأ من أحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا نوالي أحدًا دون أحد» (2).

3 - ويقول: «مقام أحدهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ساعة واحدة خير من عمل أحدنا جميع عمره وإن طال» (3).

4 - وقال: «ونقر بأن أفضل هذه الأمة بعد نبينا محمد صلى الله عليه وسلم: أبو بكر الصديق ثم عمر ثم عثمان ثم علي رضوان الله عليهم أجمعين» (4).

5 - وقال: «أفضل الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم: أبو بكر وعمر وعثمان وعلي، ثم نكف عن جميع أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلا بذكر جميل» (5).

--------------------------------------------

(1) الفقه الأكبر ص304.

(2) الفقه الأبسط ص40.

(3) مناقب أبي حنيفة للمكي ص76.

(4) الوصية مع شرحها ص14.

(5) كما في النور اللامع (ق119 - ب) عنه.
‌ঘ- সাহাবীগণের ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফার উক্তি

১ - ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: «আমরা রাসূলুল্লাহর সাহাবীগণের কাউকে কল্যাণ (প্রশংসা) ব্যতীত স্মরণ করি না» (১)।

২ - তিনি আরো বলেছেন: «আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের কারো সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি না এবং একজনকে বাদ দিয়ে অন্য কারো প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য পোষণ করি না (বরং সকলের প্রতিই অনুগত থাকি)» (২)।

৩ - তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁদের কারো এক মুহূর্তের অবস্থান আমাদের কারো সারা জীবনের আমল অপেক্ষা উত্তম, যদিও সেই জীবন দীর্ঘ হয়» (৩)।

৪ - তিনি বলেছেন: «আমরা এই মর্মে স্বীকৃতি দিচ্ছি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন: আবু বকর সিদ্দিক, অতঃপর ওমর, অতঃপর ওসমান, অতঃপর আলী—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন» (৪)।

৫ - তিনি বলেছেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন: আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলী। অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সাহাবীর ব্যাপারে (বিরূপ মন্তব্য থেকে) বিরত থাকি এবং তাঁদের কেবল সুখ্যাতির সাথেই স্মরণ করি» (৫)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফিকহুল আকবার, পৃষ্ঠা ৩০৪।

(২) আল-ফিকহুল আবসাত, পৃষ্ঠা ৪০।

(৩) মাক্কি রচিত মানাকিবে আবু হানিফা, পৃষ্ঠা ৭৬।

(৪) আল-ওয়াসিয়্যাহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, পৃষ্ঠা ১৪।

(৫) যেমনটি তাঁর থেকে আন-নূরুল লামি' (১১৯-খ) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌هـ- نهيه عن الكلام والخصومات في الدين

1 - قال الإمام أبو حنيفة: «أصحاب الأهواء في البصرة كثير، ودخلتها عشرين مرة ونيفًا وربما أقمت بها سنة أو أكثر أو أقل ظانًّا أن علم الكلام أجل العلوم» (1).

2 - وقال: «كنت أنظر في الكلام حتى بلغت مبلغًا يشار إلي فيه بالأصابع، وكنا نجلس بالقرب من حلقة حماد بن أبي سليمان فجاءتني امرأة فقالت: رجل له امرأة أمة أراد أن يطلقها للسنة كم يطلقها؟.

فلم أدر ما أقول فأمرتها أن تسأل حمادًا ثم ترجع فتخبرني فسألت حمادًا فقال: يطلقها وهي طاهر من الحيض والجماع تطليقة ثم يتركها حتى تحيض حيضتين فإذا اغتسلت فقد حلّت للأزواج، فرجعت فأخبرتني فقلت: لا حاجة لي في الكلام وأخذت نعلي فجلست إلى حماد» (2).

3 - وقال: «لعن الله عمرو بن عبيد فإنه فتح للناس الطريق إلى الكلام فيما لا ينفعهم فيه الكلام» (3).

--------------------------------------------

(1) مناقب أبي حنيفة للكردي ص137.

(2) تاريخ بغداد 13/ 333.

(3) ذم الكلام للهروي ص28 - 31.
৫- দ্বীনের মধ্যে ইলমুল কালাম (তর্কশাস্ত্র) এবং ঝগড়া-বিবাদ থেকে তাঁর নিষেধ করা

১ - ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: «বসরায় প্রবৃত্তি পূজারীদের (বিদয়াতিদের) সংখ্যা অনেক। আমি সেখানে বিশবারেরও বেশি গিয়েছি। কখনও আমি সেখানে এক বছর বা তার কমবেশি সময় অবস্থান করেছি এই ধারণায় যে, ইলমুল কালামই হলো শ্রেষ্ঠতম ইলম» (১)।

২ - তিনি আরও বলেছেন: «আমি কালাম শাস্ত্র নিয়ে গবেষণা করতাম, এমনকি আমি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিলাম যে মানুষ আঙ্গুল দিয়ে আমাকে ইশারা করত (অর্থাৎ আমি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলাম)। আমরা হাম্মাদ বিন আবি সুলায়মানের পাঠচক্রের কাছে বসতাম। একদা এক মহিলা আমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী হলো একজন দাসী; সে তাকে সুন্নাহ মোতাবেক তালাক দিতে চায়, সে তাকে কয়টি তালাক দেবে? আমি কী উত্তর দেব তা বুঝতে পারলাম না। তাই আমি তাকে নির্দেশ দিলাম যেন সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করে এবং ফিরে এসে আমাকে জানায়। সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: সে তাকে এমন অবস্থায় একটি তালাক দেবে যখন সে ঋতুস্রাব ও সহবাস থেকে পবিত্র থাকবে। এরপর তাকে ছেড়ে দেবে যতক্ষণ না সে দুইবার ঋতুবতী হয়। যখন সে গোসল করবে, তখন সে অন্য স্বামীদের জন্য হালাল হয়ে যাবে। মহিলাটি ফিরে এসে আমাকে সংবাদটি জানাল। তখন আমি মনে মনে বললাম: কালাম শাস্ত্রের আমার কোনো প্রয়োজন নেই। এরপর আমি আমার জুতো জোড়া নিলাম এবং হাম্মাদের মজলিসে গিয়ে বসলাম» (২)।

৩ - তিনি বলেছেন: «আল্লাহ আমর বিন উবাইদকে অভিশাপ দিন; কারণ সে মানুষের জন্য এমন বিষয়ে কালাম চর্চার পথ খুলে দিয়েছে যাতে তাদের কোনো উপকার নেই» (৩)।

--------------------------------------------

(১) মানাকিব আবি হানিফা, আল-কুরদি, পৃষ্ঠা ১৩৭।

(২) তারিখ বাগদাদ, ১৩/ ৩৩৩।

(৩) যম্মুল কালাম, আল-হারাবি, পৃষ্ঠা ২৮ - ৩১।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وسأله رجل وقال: «ما تقول فيما أحدثه الناس في الكلام في الأعراض والأجسام، فقال: (مقالات الفلاسفة عليك بالأثر وطريق السلف، وإياك وكل محدثة فإنها بدعة)» (1).

4 - قال حماد ابن أبي حنيفة: «دخل عليّ أبي رحمه الله يومًا وعندي جماعة من أصحاب الكلام ونحن نتناظر في باب، قد علت أصواتنا فلما سمعت حسَّه في الدار خرجت إليه فقال لي يا حماد من عندك؟ قلت؛ فلان وفلان وفلان، سميت من كان عندي، قال: وفيم أنتم؟. قلت: في باب كذا وكذا، فقال لي: يا حماد دع الكلام.

قال: ولم أعهد أبي صاحب تخليط ولا ممن يأمر بالشيء ثم ينهي عنه. فقلت له: يا أبت ألست كنت تأمرني به، قال: بلى يا بني وأنا اليوم أنهاك عنه، قلت: ولم ذاك، فقال: يا بني إن هؤلاء المختلفين في أبواب من الكلام ممن ترى كانوا على قول واحد ودين واحد حتى نزغ الشيطان بينهم فألقى بينهم العداوة والاختلاف فتباينوا … » (2).

--------------------------------------------

(1) ذم الكلام للهروي (194/ب).

(2) مناقب أبي حنيفة للمكي ص183 - 184.
এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল এবং বলল: «মানুষেরা ‘আরায’ (আকস্মিক গুণাবলি) এবং ‘আদসাম’ (বস্তুগত দেহ) সম্পর্কে কালামশাস্ত্রে যে নতুন বিষয়গুলো উদ্ভাবন করেছে সে বিষয়ে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: (এগুলো দার্শনিকদের উক্তি; তুমি আসার (বর্ণনা) এবং সালাফদের পথ আঁকড়ে ধরো, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকো, কারণ নিশ্চয়ই তা বিদআত)» (১)।

৪ - হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা বলেন: «একদিন আমার পিতা (রহিমাহুল্লাহ) আমার কাছে প্রবেশ করলেন, তখন আমার কাছে একদল কালামশাস্ত্রবিদ উপস্থিত ছিল এবং আমরা একটি বিষয়ে বিতর্ক করছিলাম। আমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু হয়ে গিয়েছিল। যখন আমি বাড়িতে তাঁর উপস্থিতির শব্দ শুনতে পেলাম, তখন তাঁর দিকে বেরিয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, 'হে হাম্মাদ, তোমার কাছে কারা আছে?' আমি বললাম; অমুক, অমুক এবং অমুক, আমার কাছে যারা ছিল তাদের নাম বললাম। তিনি বললেন: 'তোমরা কী বিষয়ে লিপ্ত?' আমি বললাম: 'অমুক অমুক বিষয়ে।' তখন তিনি আমাকে বললেন: 'হে হাম্মাদ, কালাম (তাত্ত্বিক বিতর্ক) বর্জন করো।'

তিনি (হাম্মাদ) বললেন: আমি আমার পিতাকে কখনো স্ববিরোধী আচরণকারী হিসেবে দেখিনি এবং এমন লোক হিসেবেও দেখিনি যিনি কোনো কাজের আদেশ দিয়ে আবার তা নিষেধ করেন। তাই আমি তাঁকে বললাম: 'হে আব্বাজান, আপনি কি আমাকে এ কাজের আদেশ দিতেন না?' তিনি বললেন: 'হ্যাঁ বৎস, তবে আজ আমি তোমাকে তা নিষেধ করছি।' আমি বললাম: 'তা কেন?' তিনি বললেন: 'হে বৎস, কালামশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে এই যে মতভেদকারীদের তুমি দেখছ, তারা একই কথা এবং একই দ্বীনের ওপর ছিল, যতক্ষণ না শয়তান তাদের মাঝে প্ররোচনা দিল এবং তাদের মধ্যে শত্রুতা ও মতভেদ সৃষ্টি করল, ফলে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল …'» (২)।

--------------------------------------------

(১) যাম্মুল কালাম—হেরাভী (১৯৪/খ)।

(২) মানাকিবু আবি হানিফা—মাক্কী, পৃষ্ঠা ১৮৩-১৮৪।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
5 - وقال أبو حنيفة لأبي يوسف: «إياك أن تكلم العامة في أصول الدين من الكلام فإنهم قوم يقلدونك فيشتغلون بذلك» (1).

هذه طائفة من أقواله رحمه الله وما يعتقده في مسائل أصول الدين وموقفه من الكلام والمتكلمين.

--------------------------------------------

(1) مناقب أبي حنيفة للمكي ص373.
৫ - এবং ইমাম আবু হানিফা ইমাম আবু ইউসুফকে বলেছেন: «সাবধান! সাধারণ মানুষের সামনে ইলমুল কালামের মাধ্যমে দ্বীনের মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করো না; কারণ তারা তোমাকে অনুসরণ করে এবং এর ফলে তারা এসব নিয়ে লিপ্ত হয়ে পড়বে» (১)।

এগুলো হলো তাঁর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বাণীসমূহের একটি অংশ এবং দ্বীনের মূলনীতিসমূহের বিষয়ে তাঁর আকিদা তথা বিশ্বাস এবং ইলমুল কালাম ও কালাম শাস্ত্রবিদদের বিষয়ে তাঁর অবস্থান।

--------------------------------------------

(১) আল-মাক্কী রচিত মানাকিবে আবু হানিফা, পৃষ্ঠা ৩৭৩।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الثالث

عقيدة الإمام مالك بن أنس

‌‌أ- قوله في التوحيد:

1 - أخرج الهروي عن الشافعي قال: سُئل مالك عن الكلام والتوحيد، فقال مالك: «محال أن يظن بالنبي صلى الله عليه وسلم، أنه علَّم أمته الاستنجاء ولم يعلمهم التوحيد، والتوحيد ما قاله النبي صلى الله عليه وسلم: «أُمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله» (1) فما عصم به المال والدم حقيقة التوحيد» (2).

2 - وأخرج الدارقطني عن الوليد بن مسلم قال: «سألت مالكًا والثوري والأوزاعي والليث بن سعد عن الأخبار في الصفات فقالوا أمروها فجاءت» (3).

3 - وقال ابن عبد البر: «سُئل مالك أيُرى الله يوم القيامة؟ فقال: نعم يقول الله عز وجل: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} [القيامة: 22]. وقال لقوم آخرين: {كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} [المطففين: 15]» (4).

وأورد القاضي عياض في ترتيب المدارك (5) عن ابن نافع (6)

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري كتاب الزكاة باب وجوب الزكاة (3/ 262) ح (1399)، ومسلم كتاب الإيمان باب الأمر بقتال الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله محمد رسول الله (1/ 51) ح (324)، والنسائي كتاب الزكاة باب منع الزكاة (5/ 14) ح (2443)، جميعهم من طريق عبيد الله بن عبيد اللجن عتبة بن مسعود عن أبي هريرة وأخرجه أبو داود كتاب الجهاد باب على ما يقاتل المشركون (3/ 101) ح (2640) من طريق أبي صالح عن أبي هريرة.

(2) ذم الكلام (ق - 210).

(3) أخرج هذا الأثر الدارقطني في الصفات ص75، والآجري في الشريعة ص314، والبيهقي في الاعتقاد ص118، وابن عبد البر في التمهيد (7/ 149).

(4) (2/ 42).

(5) الذي يروي عن الإمام مالك باسم ابن نافع رجلان، أما الأول فهو عبد الله بن نافع بن ثابت الزبيري أبو بكر المدني قال عنه ابن حجر: «صدوق مات سنة 216هـ»، وأما الثاني فهو عبد الله بن نافع بن أبي نافع المخزومي مولاهم أبو محمد المدني قال عنه ابن حجر: «ثقة صحيح الكتاب في حفظه لين مات سنة 206هـ وقيل بعدها»، تقريب التهذيب (1/ 455 - 456)، وتهذيب التهذيب (6/ 50 - 51).

(6) هو أشهب بن عبد العزيز داود القيسي أبو عمر المصري قال عنه ابن حجر: «ثقة ففيه مات سنة 204هـ»، تقريب التهذيب (1/ 80)، وانظر ترجمته في تهذيب التهذيب (1/ 359).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ

ইমাম মালিক ইবনে আনাস-এর আকিদাহ

ক- তাওহীদ সম্পর্কে তাঁর উক্তি:

১ - আল-হারাবি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম মালিককে ইলমুল কালাম এবং তাওহীদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। মালিক উত্তরে বললেন: «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এমন ধারণা করা অসম্ভব যে, তিনি তাঁর উম্মতকে ইসতিনজা (শৌচকার্য) শিক্ষা দিয়েছেন অথচ তাঁদেরকে তাওহীদ শিক্ষা দেননি। আর তাওহীদ হলো তা-ই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমাকে মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই» (১)। সুতরাং যা সম্পদ ও রক্তকে নিরাপদ করে, তা-ই তাওহীদের প্রকৃত রূপ» (২)।

২ - আদ-দারাকুতনি ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি মালিক, সাওরি, আওযায়ি এবং লাইস ইবনে সা'দকে আল্লাহর সিফাত (গুণাবলী) বিষয়ক বর্ণনাগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তাঁরা বলেছিলেন: সেগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই বহাল রাখো (অপরিবর্তিত অবস্থায় অতিক্রম করতে দাও)» (৩)।

৩ - ইবনে আব্দুল বার বলেন: «মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কিয়ামতের দিন কি আল্লাহকে দেখা যাবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {সেদিন কতগুলো মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল। তাদের পালনকর্তার দিকে তারা তাকিয়ে থাকবে।} [আল-কিয়ামাহ: ২২]। আর অন্য একদল সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {কখনোই না, নিশ্চয় তারা সেদিন তাদের পালনকর্তার (দর্শন) থেকে পর্দার আড়ালে বা বঞ্চিত থাকবে।} [আল-মুতাফফিফিন: ১৫]» (৪)।

আর কাজী আইয়াজ 'তারতিবুল মাদারিক' গ্রন্থে (৫) ইবনে নাফে' থেকে (৬) উল্লেখ করেছেন

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন যাকাত অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: যাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে (৩/ ২৬২) হাদিস নং (১৩৯৯); মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: মানুষের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ যতক্ষণ না তারা বলে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (১/ ৫১) হাদিস নং (৩২); এবং নাসায়ী যাকাত অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: যাকাত প্রদানে অস্বীকার করা প্রসঙ্গে (৫/ ১৪) হাদিস নং (২৪৪৩)। তাঁরা সকলেই উবাইদুল্লাহ ইবনে উবাইদিল্লাহ ইবনে উতবাহ ইবনে মাসউদ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং আবু দাউদ এটি জিহাদ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: কিসের ভিত্তিতে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করা হবে (৩/ ১০১) হাদিস নং (২৬৪০), আবু সালেহ-এর সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে।

(২) যম্মুল কালাম (পৃষ্ঠা ২১০)।

(৩) আদ-দারাকুতনি এই বর্ণনাটি 'আস-সিফাত' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৭৫), আল-আজুরি 'আশ-শরিয়াহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩১৪), আল-বাইহাকি 'আল-ইতিকাদ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১১৮) এবং ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে (৭/ ১৪৯) উল্লেখ করেছেন।

(৪) (২/ ৪২)।

(৫) ইমাম মালিক থেকে ইবনে নাফে' নামে দুইজন ব্যক্তি বর্ণনা করেন; প্রথমজন হলেন— আবদুল্লাহ ইবনে নাফে' ইবনে সাবিত আল-যুবাইরি আবু বকর আল-মাদানি। ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি সদুক (সত্যবাদী), ২১৬ হিজরিতে মারা যান।» আর দ্বিতীয়জন হলেন— আবদুল্লাহ ইবনে নাফে' ইবনে আবি নাফে' আল-মাখজুমি তাঁদের মুক্তদাস, আবু মুহাম্মদ আল-মাদানি। ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য), তাঁর কিতাব নির্ভুল, তবে হেফযের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে, ২০৬ হিজরিতে বা তার পরে মারা যান।» তাকরিবুত তাহজিব (১/ ৪৫৫ - ৪৫৬), এবং তাহজিবুত তাহজিব (৬/ ৫০ - ৫১)।

(৬) তিনি হলেন আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ দাউদ আল-কায়সি আবু উমর আল-মিসরি। ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি সিকাহ (নির্ভরযোগ্য) ফকিহ, ২০৪ হিজরিতে মারা যান।» তাকরিবুত তাহজিব (১/ ৮০), এবং তাঁর জীবনী দেখুন তাহজিবুত তাহজিব (১/ ৩৫৯) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأشهب (1) قالا: وأحدهم يزيد على الآخر يا أبا عبد الله: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} ينظرون إلى الله؟ قال: نعم بأعينهم هاتين؛ فقلت له: فإن قومًا يقولون لا ينظر إلى الله، إن ناظرة بمعنى منتظرة إلى الثواب قال: كذبوا بل ينظر إلى الله، أما سمعت قول موسى عليه السلام: {رَبِّ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ} [الأعراف: 143]، أفترى موسى سأله ربه محالاً؟ فقال الله: {لَنْ تَرَانِي} [الأعراف: 143] أي في الدنيا لأنها دار فناء، ولا ينظر ما يبقى بما يفنى، فإذا صاروا إلى دار البقاء نظروا بما يبقى إلى ما يبقى وقال الله: {كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} [المطففين: 15].

--------------------------------------------

(1) هو أشهب بن عبد العزيز بن داود القيسي أبو عمر المصري قال عنه ابن حجر: «ثقة فقيه مات سنة 204هـ»، تقريب التهذيب (1/ 80)، وانظر ترجمته في تهذيب التهذيب (1/ 359).
এবং আশহাব (১) তাঁরা উভয়েই বললেন, আর তাঁদের একজন অন্যজনের চেয়ে বর্ণনায় কিছুটা বাড়িয়ে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল হবে উজ্জ্বল, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে}—তারা কি আল্লাহর দিকে তাকাবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাদের এই দুই চোখের সাহায্যে। তখন আমি তাঁকে বললাম: নিশ্চয়ই একদল লোক বলে থাকে যে, আল্লাহর দিকে তাকানো হবে না; (তাদের মতে) ‘তাকানো’ অর্থ হলো সওয়াবের জন্য ‘অপেক্ষা করা’। তিনি বললেন: তারা মিথ্যা বলেছে, বরং আল্লাহর দিকে অবশ্যই তাকানো হবে। তুমি কি মুসা আলাইহিস সালামের কথা শোনোনি: {হে আমার রব! আমাকে দর্শন দিন, আমি আপনাকে দেখব}। তুমি কি মনে করো যে মুসা তাঁর রবের কাছে অসম্ভব কোনো কিছু চেয়েছিলেন? তখন আল্লাহ বললেন: {তুমি আমাকে দেখতে পাবে না} অর্থাৎ এই দুনিয়াতে, কারণ এটি হলো নশ্বর জগত, আর যা নশ্বর তা দিয়ে অবিনশ্বর সত্তাকে দেখা যায় না। কিন্তু যখন তারা অবিনশ্বর জগতে পৌঁছাবে, তখন তারা অবিনশ্বর মাধ্যম দিয়ে অবিনশ্বর সত্তার দিকে তাকাবে। এবং আল্লাহ বলেছেন: {কখনোই নয়, নিশ্চয়ই তারা সেদিন তাদের রব থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে}।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আশহাব বিন আব্দুল আযীয বিন দাউদ আল-কাইসী আবু উমর আল-মিসরী। ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «নির্ভরযোগ্য ফকীহ, ২০৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন», তাকরীবুত তাহযীব (১/ ৮০), এবং তাঁর জীবনী দেখুন তাহযীবুত তাহযীব (১/ ৩৫৯)।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
4 - وأخرج أبو نعيم عن جعفر بن عبد الله قال: «كنا عند مالك بن أنس فجاءه رجل فقال: يا أبا عبد الله، الرحمن على العرش استوى، كيف استوى؟.

فما وجد (1) مالك من شيء ما وجد من مسألته. فنظر إلى الأرض وجعل ينكت بعود في يده حتى علاه الرحضاء - يعني العرق - ثم رفع رأسه ورمى بالعود وقال: الكيف غير معقول، والاستواء منه غير مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة وأظنك صاحب بدعة وأمر به فأخرج» (2).

--------------------------------------------

(1) جاء في لسان العرب (3/ 446) (وجد عليه في الغضب يجد ويجد وجدًا موجدة ووجدانًا غضب وفي حديث الإيمان أني سائلك فلا تجد علي، أي لا تغضب من سؤالي).

(2) الحلية (6/ 325، 326) وأخرجه أيضًا الصابوني في عقيدة السلف أصحاب الحديث ص17 - 18، من طريق جعفر بن عبد الله عن مالك وابن عبد البر في التمهيد (7/ 151) من طريق عبد الله بن نافع عن مالك والبيهقي في الأسماء والصفات ص408. من طريق عبد الله بن وهب عن مالك قال الحافظ بن حجر في الفتح (13/ 406، 407) إسناده جيد وصححه الذهبي في العلو ص103.
৪ - আবু নুয়াইম জাফর ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা মালিক ইবনে আনাসের নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আবু আবদুল্লাহ, পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন, তিনি কীভাবে উঠেছেন?।

মালিক তার এই প্রশ্নের মতো অন্য কোনো কিছুতে এতোটা রাগান্বিত (১) হননি। তিনি মাটির দিকে তাকিয়ে তাঁর হাতে থাকা একটি কাঠি দিয়ে মাটি খুঁটতে লাগলেন, এমনকি তিনি ঘর্মাক্ত হয়ে পড়লেন। তারপর তিনি মাথা তুললেন এবং কাঠিটি ফেলে দিয়ে বললেন: "কীভাবে (কৈফিয়ত) তা বুদ্ধিগম্য নয়, আর তাঁর 'উঠা' বিষয়টি অজানা নয়, এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত। আমি মনে করি তুমি একজন বিদআতী।" এরপর তিনি তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন» (২)।

--------------------------------------------

(১) 'লিসানুল আরব' (৩/৪৪৬) গ্রন্থে এসেছে: (ক্রোধের ক্ষেত্রে 'ওয়াজাদা আলাইহি' অর্থ সে রাগান্বিত হয়েছে। ঈমান বিষয়ক হাদিসে এসেছে—আমি আপনাকে প্রশ্ন করব, আপনি আমার ওপর রাগান্বিত হবেন না, অর্থাৎ আমার প্রশ্নে রাগ করবেন না)।

(২) আল-হিলইয়াহ (৬/৩২৫, ৩২৬); আস-সাবুনী এটি বর্ণনা করেছেন 'আকিদাতুস সালাফ আসহাবুল হাদিস' (পৃষ্ঠা ১৭-১৮) গ্রন্থে জাফর ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে মালিক থেকে; ইবনে আবদিল বার এটি বর্ণনা করেছেন 'আত-তামহিদ' (৭/১৫১) গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে নাফি-এর সূত্রে মালিক থেকে; এবং বায়হাকী এটি বর্ণনা করেছেন 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' (পৃষ্ঠা ৪০৮) গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব-এর সূত্রে মালিক থেকে। হাফেজ ইবনে হাজার 'আল-ফাতহ' (১৩/৪০৬, ৪০৭) গ্রন্থে বলেছেন এর সনদ উত্তম এবং জাহাবী 'আল-উলু' (পৃষ্ঠা ১০৩) গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
5 - وأخرج أبو نعيم عن يحيى بن الربيع قال: «كنت عند مالك بن أنس ودخل عليه رجل فقال يا أبا عبد الله، ما تقول فيمن يقول القرآن مخلوق؟

فقال مالك: زنديق (1) فاقتلوه، فقال: يا أبا عبد الله إنما أحكي كلامًا سمعته، فقال: لم أسمعه من أحد إنما سمعته منك، وعظم هذا القول» (2).

6 - وأخرج ابن عبد البر عن عبد الله بن نافع قال: «كان مالك بن أنس يقول من قال القرآن مخلوق يوجع ضربًا

--------------------------------------------

(1) الزنديق: كلمة معربة عن الفارسية استعملها المسلمون أولاً في الدلالة على القائلين بالأصلين النور والظلمة على مذهب المانوية وغيرهم ثم اتسع معناها عندهم فشمل الدهريين والملحدين وسائر أصحاب المعتقدات الضالة بل أطلق على المتشككين وكل متحرر عن أحكام الدين فكرًا وعملاً.

انظر الموسوعة المُيسرة (1/ 929) وتاريخ الإلحاد لعبد الرحمن بدوي ص14 - 32.

(2) الحلية (6/ 325) وأخرجه اللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السٌّنة والجماعة (1/ 249) من طريق أبي محمد يحيى بن خلف عن مالك، وأورده القاضي عياض في ترتيب المدارك (2/ 44).
৫ - আবু নুআইম ইয়াহইয়া ইবনে রবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি মালিক ইবনে আনাসের নিকট ছিলাম এবং তাঁর নিকট এক ব্যক্তি প্রবেশ করে বলল, হে আবু আব্দুল্লাহ, যে ব্যক্তি বলে কুরআন সৃষ্ট, তার সম্পর্কে আপনি কী বলেন?

মালিক বললেন: সে একজন যিনদিক (১), তাকে হত্যা করো। তখন লোকটি বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি কেবল শোনা একটি কথা বর্ণনা করছি। তিনি বললেন: আমি এটি কারো কাছ থেকে শুনিনি, এটি কেবল তোমার থেকেই শুনলাম। এবং তিনি এই কথাটিকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করলেন» (২)।

৬ - ইবনে আব্দুল বার আব্দুল্লাহ ইবনে নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «মালিক ইবনে আনাস বলতেন, যে ব্যক্তি কুরআনকে সৃষ্ট বলে তাকে কঠোরভাবে প্রহার করা হবে।

--------------------------------------------

(১) যিনদিক: এটি ফারসি থেকে আরবীকরণকৃত একটি শব্দ যা মুসলমানরা প্রথমে মানিবাদ ও অন্যদের মতানুসারে আলো এবং অন্ধকার এই দুই মূলনীতিতে বিশ্বাসীদের নির্দেশ করতে ব্যবহার করতেন। পরবর্তীতে তাদের নিকট এর অর্থ বিস্তৃত হয় এবং এটি দাহরি (বস্তুবাদী), নাস্তিক এবং অন্যান্য সকল ভ্রান্ত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত করে। এমনকি এটি সংশয়বাদী এবং চিন্তা ও কর্মে দ্বীনের বিধান থেকে মুক্ত প্রত্যেকের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়।

দেখুন: আল-মাওসুআ আল-মুয়াসসারা (১/৯২৯) এবং আব্দুর রহমান বাদাবীর ‘তারিখুল ইলহাদ’, পৃষ্ঠা ১৪-৩২।

(২) আল-হিলইয়াহ (৬/৩২৫) এবং আল-লালকাঈ এটি ‘শারহু উসুল ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআ’ (১/২৪৯) গ্রন্থে আবু মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া ইবনে খালাফ-এর সূত্রে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন এবং কাজী আইয়াজ ‘তারতীবুল মাদারিক’ (২/৪৪) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويحبس حتى يتوب» (1).

7 - وأخرج أبو داود عن عبد الله بن نافع قال: «قال مالك: الله في السماء وعلمه في كل مكان» (2).

 

‌‌ب- قوله في القدر:

1 - أخرج أبو نعيم عن ابن وهب (3) قال: «سمعت مالكًا يقول لرجل: سألتني أمس عن القدر؟ قال: نعم، قال: إن الله تعالى يقول: {وَلَوْ شِئْنَا لَآَتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} [السجدة: 13].

فلا بد أن يكون ما قال الله تعالى» (4).

--------------------------------------------

(1) الانتقاء ص35.

(2) رواه أبو داود في مسائل الإمام أحمد ص263، وأخرجه عبد الله بن أحمد في السُّنَّة ص11، الطبعة القديمة، وابن عبد البر في التمهيد (7/ 138).

(3) هو عبد الله بن وهب القرشي مولاهم المصري قال عنه ابن حجر: «الفقيه ثقة حافظ عابد مات سنة 197هـ»، تقريب التهذيب (1/ 460).

(4) الحلية (6/ 326).
এবং তাকে তাওবা করা পর্যন্ত বন্দী রাখা হবে।’ (১)।

৭ - আবু দাউদ আবদুল্লাহ বিন নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ‘মালিক বলেছেন: আল্লাহ আসমানে আছেন এবং তাঁর জ্ঞান সর্বস্থানে রয়েছে।’ (২)।

 

‌‌খ- তাকদীর প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য:

১ - আবু নুআইম ইবনে ওয়াহাব (৩) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ‘আমি মালিককে এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি: তুমি কি গতকাল আমাকে তাকদীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলে? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার সঠিক পথ প্রদর্শন করতাম, কিন্তু আমার এই কথা সত্য হয়েছে যে, আমি জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব} [আস-সাজদাহ: ১৩]।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন তা অবশ্যই কার্যকর হবে।’ (৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইনতিকা, পৃষ্ঠা ৩৫।

(২) আবু দাউদ এটি মাসাইলুল ইমাম আহমাদ, পৃষ্ঠা ২৬৩-এ বর্ণনা করেছেন, এবং আবদুল্লাহ ইবনুল আহমাদ এটি আস-সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ১১ (পুরাতন সংস্করণ) এবং ইবনে আব্দুল বার এটি আত-তামহীদ (৭/১৩৮) গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

(৩) তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আল-কুরাশি আল-মিসরি। তাঁর সম্পর্কে ইবনে হাজার বলেন: ‘তিনি একজন ফকীহ, বিশ্বস্ত, হাফেজ ও ইবাদতগুজার ছিলেন, তিনি ১৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন’, তাকরীবুত তাহযীব (১/৪৬০)।

(৪) আল-হিলইয়াহ (৬/৩২৬)।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
2 - وقال القاضي عياض: «سُئل الإمام مالك عن القدرية: مَن هم؟ قال: من قال: ما خلق المعاصي، وسُئل كذلك عن القدرية؟ قال: هم الذين يقولون إن الاستطاعة إليهم إن شاءوا أطاعوا وإن شاءوا عصوا» (1).

3 - وأخرج ابن أبي عاصم عن سعيد بن عبد الجبار قال: «سمعت مالك بن أنس يقول: رأيي فيهم أن يستتابوا فإن تابوا وإلا قتلوا - يعني القدرية -» (2).

4 - وقال ابن عبد البر: «قال مالك: ما رأيت أحدًا من أهل القدر إلا أهل سخافة وطيش وخفة» (3).

5 - وأخرج ابن أبي عاصم عن مروان بن محمد الطاطري قال: (سمعت مالك بن أنس يسأل عن تزويج القدري؟ فقرأ: {وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ} [البقرة: 221] … » (4).

--------------------------------------------

(1) ترتيب المدارك (2/ 48)، وانظر شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة (2/ 701).

(2) السُّنَّة لابن أبي عاصم (1/ 87، 88)، وأخرجه أيضًا أبو نعيم في الحلية (6/ 326).

(3) الانتقاء ص34.

(4) السُّنَّة لابن أبي عاصم (1/ 88) الحلية (6/ 326).
২ - কাজি আয়ায বলেন: «ইমাম মালিককে কাদারিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: তারা কারা? তিনি বললেন: যারা বলে যে, আল্লাহ পাপাচার সৃষ্টি করেননি। তাঁকে পুনরায় কাদারিয়াদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বললেন: তারা হলো সেই সব লোক যারা বলে যে, কাজ করার সক্ষমতা তাদের নিজেদের ইখতিয়ারে, তারা চাইলে আনুগত্য করে আর চাইলে অবাধ্য হয়» (১)।

৩ - ইবনুল আবি আসিম সাঈদ ইবনে আব্দুল জাব্বার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: তাদের (কাদারিয়াদের) ব্যাপারে আমার অভিমত হলো, তাদের তওবা করতে বলা হবে; যদি তারা তওবা করে (তবে ভালো), অন্যথায় তাদের হত্যা করা হবে» (২)।

৪ - ইবনে আব্দুল বার বলেন: «মালিক বলেছেন: আমি কাদারিয়াদের মাঝে নির্বুদ্ধিতা, চপলতা ও লঘুতা ছাড়া আর কিছুই দেখিনি» (৩)।

৫ - ইবনুল আবি আসিম মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ আত-তাতারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আমি মালিক ইবনে আনাসকে কাদারিয়া মতাবলম্বীদের সাথে বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হতে শুনেছি; তখন তিনি পাঠ করলেন: {আর অবশ্যই একজন মুমিন দাস একজন মুশরিকের চেয়েও উত্তম} [সূরা আল-বাকারা: ২২১] … » (৪)।

--------------------------------------------

(১) তারতিবুল মাদারিক (২/৪৮), এবং দেখুন: শারহু উসুল ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (২/৭০১)।

(২) আস-সুন্নাহ, ইবনুল আবি আসিম (১/৮৭, ৮৮), আবু নুয়াইমও এটি আল-হিলইয়াহ (৬/৩২৬)-তে বর্ণনা করেছেন।

(৩) আল-ইনতিকা, পৃষ্ঠা ৩৪।

(৪) আস-সুন্নাহ, ইবনুল আবি আসিম (১/৮৮), আল-হিলইয়াহ (৬/৩২৬)।
(খণ্ড: ১) ইতিকাদুল আইম্মাতিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
6 - وقال القاضي عياض: «قال مالك: لا تجوز شهادة القدري الذي يدعو (1)، ولا الخارجي والرافضي» (2).

7 - وقال القاضي عياض: «سُئل مالك عن أهل القدر أنكف عن كلامهم؟ قال: نعم إذا كان عارفًا بما هو عليه، وفي رواية أخرى قال: لا يصلي خلفهم ولا يقبل عنهم الحديث وإن وافيتموهم في ثغر فأخرجوهم منه» (3).

 

‌‌جـ- قوله في الإيمان:

1 - أخرج ابن عبد البر عن عبد الرزاق بن همام قال: «سمعت ابن جريج (4) وسفيان الثوري ومعمر بن راشد وسفيان بن عيينة ومالك بن أنس يقولون: الإيمان قول وعمل يزيد وينقص» (5).

--------------------------------------------

(1) يدعو إلى بدعته.

(2) ترتيب المدارك (2/ 47).

(3) ترتيب المدارك (2/ 47).

(4) هو عبد الله الملك بن عبد العزيز بن جريج الرومي الأموي مولاهم المكي، قال عنه الذهبي: «الإمام الحافظ فقيه الحرم أبو الوليد» مات سنة 150هـ، تذكرة الحفاظ (1/ 169)، وانظر ترجمته في تاريخ بغداد (10/ 400).

(5) الانتفاء ص34.
৬ - কাজি ইয়াদ বলেন: «মালিক বলেছেন: যে কাদারি (তাকদির অস্বীকারকারী) দাওয়াত দেয় (১), তার সাক্ষ্য বৈধ নয়; আর না খারেজি এবং রাফেজির সাক্ষ্য» (২)।

৭ - কাজি ইয়াদ বলেন: «মালিককে আহলুল কদর (তাকদির অস্বীকারকারী) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমি কি তাদের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যদি সে যে ভ্রান্ত মতবাদে আছে সে সম্পর্কে অবগত থাকে। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: তাদের পেছনে সালাত আদায় করা যাবে না এবং তাদের থেকে হাদিস গ্রহণ করা হবে না; আর তোমরা যদি কোনো সীমান্ত দুর্গে তাদের দেখা পাও, তবে সেখান থেকে তাদের বের করে দাও» (৩)।

 

‌‌গ- ঈমান সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য:

১ - ইবনে আব্দুল বার আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমি ইবনে জুরাইজ (৪), সুফিয়ান আস-সাওরি, মা’মার ইবনে রাশিদ, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা এবং মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছি: ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়» (৫)।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ যে তার বিদআতের দিকে দাওয়াত দেয়।

(২) তারতিবুল মাদারিক (২/ ৪৭)।

(৩) তারতিবুল মাদারিক (২/ ৪৭)।

(৪) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনে জুরাইজ আর-রুমি আল-উমায়ি, তাদের মুক্তদাস, মক্কি। ইমাম যাহাবি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «ইমাম, হাফেজ, হারামের ফকিহ আবু আল-ওয়ালিদ»। তিনি ১৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাজকিরাতুল হাফপজ (১/ ১৬৯); এবং তাঁর জীবনী দেখুন তারিখু বাগদাদ (১০/ ৪০০)-এ।

(৫) আল-ইনতিকা, পৃষ্ঠা ৩৪।