(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: -)
الناسخ والمنسوخ - ابن حزم   (ابن حزم)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الناسخ والمنسوخ في القرآن الكريم

المؤلف: أبو محمد علي بن أحمد بن سعيد بن حزم الأندلسي القرطبي الظاهري (ت 456هـ)

المحقق: د. عبد الغفار سليمان البنداري

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت، لبنان

الطبعة: الأولى، 1406 هـ - 1986 م

عدد الصفحات: 67

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাজম   (ইবনে হাজম)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং তাফসিরের মূলনীতি


গ্রন্থ: কুরআনুল কারীমে আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ

লেখক: আবু মুহাম্মদ আলী ইবনে আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে হাজম আল-আন্দালুসি আল-কুরতুবি আজ-জাহিরি (মৃ. ৪৫৬ হিজরি)

তাহকিককারী: ড. আব্দুল গাফফার সুলাইমান আল-বানদারি

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত, লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৭

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

* ‌‌(تقديم) *

الحمد لله المعبود وحده، واشهد أن لا إله غيره وأن محمد رسوله وعبده، بلغ الرساله وأدى الأمانة، نزل على قلبه الروح الأمين بكلام الله العليم الحكيم فكان هدى الله لعباده في الأرض وكان معجزة نبيه الخالدة في الدنيا إلى يوم القيامة،

أما بعد كان من ابرز سمات القرآن وآياته التي جعلها الله تعالى من حكمته وبعلمه أن أوجد سبحانه في هذا الكتاب ناسخا وفيه منسوخا والحكمة منه أن البشر بطبائعهم وخاصة كلما تقارب الزمان ودنت الساعة ضعفاء لهم طاقة محدودو وأن الله تعلى أراد أن يرحم أمة نبيه محمد عليه الصلاة والسلام فأنزل شريعة خالدة متكيفة مع طالقات البشر على اخاتلاف قدراتهم فشرع سبحانه ثم ابتلى وخصص أو قيد أو نسخ جزئيا أو كليا حتى تبقى لنا شريعة محكمة تامة قال تعالى * (اليوم اكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الأسلام دينا) * [3 مدنية / المائدة / 5] ، لقد نبغ في فن الناسخ والمنسوخ أئمة وحفاظ من قديم جمعوا وصنفوا ودونوا ولكن كان أكثر علومهم في مجال السنة وعلم الحديث مثل الحازمي وغيره، غير أن الله تعالى قيض لكتابه من نبغ في كشف أسراره والتفنن في علومه وكان منهم الامام أبو عبد الله محمد بن حزم إذ ألف في ناسخ القرآن ومنسوخه هذا الكتاب القيم الجامع فيه كل آي القرآن دراسة وتفصيلا وستقراءا ولقد اشتمل منهجه على تفسير الناسخ من القرآن والمنسوخ منه وبيان تاريخ النسخ مركزا على التوقيت المكي والمدني كأصل وقد أجاد وأصاب إذ جعل
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

* ‌‌(উপস্থাপনা) *

সকল প্রশংসা একমাত্র উপাস্য আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল ও তাঁর বান্দা। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমানত আদায় করেছেন। সর্বজ্ঞাতা ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কালাম নিয়ে রূহুল আমিন তাঁর অন্তরে অবতীর্ণ হয়েছেন, যা ছিল জমিনে আল্লাহর বান্দাদের জন্য হিদায়াত এবং কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে তাঁর নবীর এক চিরন্তন মুজিজা।

অতঃপর, আল-কুরআনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ও নিদর্শন—যা মহান আল্লাহ তাঁর প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন—তাহলো তিনি এই কিতাবে রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) বিষয়ের অবতারণা করেছেন। এর হিকমত হলো, মানুষ স্বভাবগতভাবেই দুর্বল এবং তাদের সামর্থ্য সীমিত, বিশেষ করে সময় যত অতিবাহিত হচ্ছে এবং কিয়ামত ঘনিয়ে আসছে। আর মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের ওপর রহম করতে চেয়েছেন, তাই তিনি মানুষের সক্ষমতার ভিন্নতা অনুযায়ী একটি চিরন্তন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ শরিয়ত নাযিল করেছেন। অতঃপর আল্লাহ বিধান প্রবর্তন করেছেন, এরপর পরীক্ষা করেছেন এবং বিশেষায়িত (خصص) বা শর্তযুক্ত (قيد) করেছেন অথবা আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে রহিত (نسخ) করেছেন, যাতে আমাদের জন্য একটি সুদৃঢ় ও পূর্ণাঙ্গ শরিয়ত অবশিষ্ট থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম" [৫:৩]। প্রাচীনকাল থেকেই রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিদ্যায় অনেক ইমাম ও হাফিজ (حفاظ) খ্যাতি অর্জন করেছেন, যারা এই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ, শ্রেণিবিন্যাস ও সংকলন করেছেন। তবে তাদের অধিকাংশ জ্ঞান ছিল সুন্নাহ ও হাদিস বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, যেমন আল-হাজমি ও অন্যান্যরা। তবে মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবের রহস্য উন্মোচন ও এর বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী এমন ব্যক্তিদের নিয়োজিত করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হাজম। তিনি কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ে এই মূল্যবান গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যেখানে তিনি কুরআনের সকল আয়াতের ওপর বিস্তারিত গবেষণা, বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেছেন। তাঁর পদ্ধতিতে কুরআনের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ)-এর ব্যাখ্যা এবং রহিতকরণের (نسخ) ইতিহাসের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে তিনি মক্কি ও মাদানি সময়কালকে মূল ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত নিপুণ ও সঠিক কাজ করেছেন যখন তিনি...
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৪)
محور التفريق هو التوقيت المكي والمدني - ونظرا لأهمية هذا الكتاب فقد أفردته بالتصنيف والتخريج واضافة فوائد هامة جدا عليه الحقتها في حواشي الكتاب وآثرت أن تثرى به المكتبة الاسلامية كمرجع ضروري في علوم التفسير وفي فن الناسخ والمنسوخ ولقد طبع هذا الكتاب في عام (1303) على هامش تفسير الجلالين في المطبعة الأزهرية منذ قرن من الزمان أو يزيد وهذه طبعة أخرى جديدة محققة ومصنفة ومخرجة
পার্থক্যের মূল মাপকাঠি হলো মক্কি ও মাদানি সময়কাল। এই গ্রন্থটির গুরুত্বের প্রতি লক্ষ্য রেখে আমি একে বিন্যাস (تصنيف) ও হাদিসের উৎস নির্দেশ (تخريج)-এর মাধ্যমে বিশিষ্টতা দান করেছি এবং এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তাত্ত্বিক ফায়দা বা টীকা যুক্ত করেছি যা গ্রন্থের পরিশিষ্টে সন্নিবেশিত হয়েছে। আমার উদ্দেশ্য ছিল এর মাধ্যমে ইসলামি গ্রন্থাগারকে এমন একটি প্রয়োজনীয় রেফারেন্স দ্বারা সমৃদ্ধ করা, যা তাফসির শাস্ত্র এবং রহিতকারী ও রহিত (الناسخ والمنسوخ) বিদ্যায় সহায়ক হবে। এই গ্রন্থটি আজ থেকে এক শতাব্দী বা তারও আগে ১৩০৩ হিজরিতে আল-আজহারিয়া প্রেসে তাফসির আল-জালালাইন-এর পার্শ্বটিকায় মুদ্রিত হয়েছিল। আর এটি হচ্ছে গ্রন্থটির একটি নতুন সংস্করণ যা সম্পাদিত (محقق), বিন্যস্ত (مصنف) এবং হাদিসের উৎস নির্দেশিত (مخرج)।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ الإمام العلم جامع الفنون أبو عبد الله محمد بن حزم رحمه الله الحمد لله العزيز الجبار الملك القهار العظيم الغفار الحليم الستار وسلاته وسلامه على نبيه محمد نور الأنوار وقائد الغر المحجلين إلى دار القرار وعلى آله الأخيار وصحبه الأبرار (ثم أعلم) أن هذا الفن من العلم من تتمات الاجتهاد إذ الركن الأعظم في باب الاجتهاد معرفة النقل ومن فوائد النقل معرفة الناسخ والمنسوخ إذ الخطب في ظواهر الأخبار يسير وتحمل كلفها غير عسير وإنما الاشكال في الأمرين وآخرهما إلى غير ذلك من المعاني

 

‌‌1 -[باب]

- عن أبي عبد الرحمن قال مر علي رضي الله عنه على قاض فقال له أتعرف الناسخ من المنسوخ قال لا قال هلكت وأهلكت - وعن سعيد ين أبي الحسن أنه لقي أبا يحيى المعرف فقال له أعرفوني أعرفوني يا سعيد أني أنا هو قال ما عرفت أنك هو قال فإني أنا هو مر بي علي رضي الله عنه وأنا أقض بالكوفة فقال لي من من أنت قلت أنا أبو يحيى فقال لست
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, বহুশাস্ত্রবিশারদ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন হাজম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেছেন: সকল প্রশংসা মহান পরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অধিপতি, সর্বজয়ী, মহান, পরম ক্ষমাশীল, সহনশীল ও দোষত্রুটি গোপনকারী আল্লাহর জন্য। আর তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবি মুহাম্মাদের ওপর, যিনি সকল জ্যোতির জ্যোতি এবং শুভ্র জ্যোতির্ময় ব্যক্তিদের চিরস্থায়ী নিবাসের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথপ্রদর্শক; আর তাঁর উত্তম পরিবারবর্গ এবং পুণ্যবান সাহাবিদের ওপর। (অতঃপর জেনে রাখুন) ইলমের এই শাখাটি ইজতিহাদের (اجتهاد) পূর্ণতাদানকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা ইজতিহাদের (اجتهاد) ক্ষেত্রে মহান স্তম্ভ (الركن) হলো বর্ণনা (النقل) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর বর্ণনার (النقل) অন্যতম উপকারিতা হলো রহিতকারী (الناسخ) এবং রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জানা। কারণ বর্ণনাসমূহের (الأخبار) বাহ্যিক অর্থের বিষয়টি সহজ এবং এর দায়ভার গ্রহণ করা কঠিন নয়; বরং জটিলতা হলো উক্ত দুই বিষয়ে এবং এই দুটির মধ্যে কোনটি পরবর্তী—তা নির্ধারণে, এছাড়াও অন্যান্য অর্থগত বিষয়ে।

 

‌‌১ - [পরিচ্ছেদ]

- আবু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) এক বিচারকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি রহিতকারী (الناسخ) এবং রহিত (المنسوخ) চেনো?" সে বলল, "না।" তিনি বললেন, "তুমি নিজেও ধ্বংস হয়েছ এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছ।" - সাঈদ ইবনে আবিল হাসান থেকে বর্ণিত যে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-মুআররিফের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি (আবু ইয়াহইয়া) তাকে বললেন, "হে সাঈদ, আমাকে চিনে নিন, আমাকে চিনে নিন, আমিই সেই ব্যক্তি।" সাঈদ বললেন, "আমি জানতাম না যে আপনিই সেই ব্যক্তি।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমিই সেই ব্যক্তি। আলী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) কুফায় থাকাকালীন আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন আমি বিচারকার্য পরিচালনা করছিলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কে?' আমি বললাম, 'আমি আবু ইয়াহইয়া।' তিনি বললেন, 'তুমি নও (অর্থাৎ তুমি প্রকৃত বিচারক হওয়ার যোগ্য নও)।'"
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৬)
بأبي يحيى ولكنك تقول أعرفوني أعرفوني ثم قال هل علمت بالناسخ من المنسوخ قلت لا قال هلكت وأهلكت فما عدت بعد ذلك أقض على أحد أنافعك ذلك يا سعيد؟ ! - عن أبي جرير قال سئل حذيفة عن شئ فقال إنما يفتي أحد ثلاثة من عرف الناسخ والمنسوخ قالوا ومن ثعرف ذلك قال عمر أو سلطان فلا يجد من ذلك بدا أو رجل متكلف - عن الضحاك بن مزاحم قال مر ابن عباس رضي الله عنهما بقاض يقضي فركضه برجله قال أتدري ما الناسخ من المنسوخ قال ومن يعرف النسخ من المنسوخ قال وما تدري ما الناسخ من المنسوخ؟ قال لا قال هلكت وأهلكت والآثار في هذا الباب تكثر جدا، وإنما أوردنا نبذة قاليلة ليعلم منها شدة اعتناء الصحابة رضي الله عنهم بالناسخ والمنسوخ في كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ شأنهما واحد - عن المقداد بن معد يكرب قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه (ثلاثا) ألا يوشك رجل يجلس على أريكته - أي على سريره - يقول عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه وقبل الشروع في المقصود لا بد من ذكر مقدمة تكون مدخلا إلى معرفة المطلوب يذكر فيه حقيقة النسخ ولوازمه وتوابعه اعلم أن النسخ له اشتقاق عند أرباب اللسان وحد عند أصحاب المعاني وشرائط عند العالمين بالأحكام، أما أصله فالنسخ في اللغة عبارة عن إبطال شئ وإقامة آخر مقامة وقال أبو حاتم الأصل في النسخ هو أن يحول العسل في خلية والنحل في أخرى، ومنه نسخ الكتاب وفي الحديث ما من نبوة إلا وتنسخها فترة ثم إن النسخ في اللغة موضوع بإزاء معنين أحدهما الزوال على جهة الانعدام، والثاني على جهة الانتقال

আবু ইয়াহইয়া! কিন্তু আপনি বলছেন, 'আমাকে চিনুন, আমাকে চিনুন'। এরপর তিনি বললেন, "আপনি কি রহিতকারী (الناسخ) এবং রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জানেন?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "আপনি নিজেও ধ্বংস হয়েছেন এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছেন।" এরপর আমি আর কখনো কারো বিচার করিনি। হে সাঈদ, এটি কি আপনার উপকারে এসেছে?

আবু জারির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হুজাইফাকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "কেবল তিন শ্রেণির মানুষের পক্ষে ফতোয়া দেওয়া সাজে: যে ব্যক্তি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে অবগত। তারা জিজ্ঞেস করল, 'কে তা জানে?' তিনি বললেন, 'উমর, অথবা এমন কোনো শাসক যার এটি না জেনে উপায় নেই, অথবা এমন এক ব্যক্তি যে অহেতুক কষ্টকারী (متكلف)'।"

দাহহাক ইবনে মুজাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) জনৈক বিচারকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যিনি বিচারকার্য পরিচালনা করছিলেন। তিনি তাকে পা দিয়ে আঘাত করে বললেন, "আপনি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জানেন?" সে বলল, "রহিতকরণ (النسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে কে জানে?" তিনি বললেন, "আপনি কি রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) সম্পর্কে জানেন না?" সে বলল, "না।" তিনি বললেন, "আপনি নিজেও ধ্বংস হয়েছেন এবং অন্যকেও ধ্বংস করেছেন।" এই পরিচ্ছেদে বর্ণিত এমন আসার (الآثار) এর সংখ্যা অনেক। আমি কেবল সামান্য কিছু নমুনা উল্লেখ করেছি যাতে আল্লাহর কিতাব ও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة)-এর ক্ষেত্রে রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ে সাহাবীগণের (الصحابة) অতিশয় গুরুত্ব প্রদানের বিষয়টি অনুধাবন করা যায়। কেননা উভয়টির গুরুত্ব অভিন্ন।

মিকদাদ ইবনে মাদিকারিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছু প্রদান করা হয়েছে (তিনবার)। সাবধান! অচিরেই এমন এক সময় আসবে যখন কোনো ব্যক্তি তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে বলবে, 'তোমরা কেবল এই কুরআনকেই আঁকড়ে ধরো; এতে যা হালাল (حلال) পাবে তা-ই হালাল মনে করো আর যা হারাম (حرام) পাবে তা-ই হারাম মনে করো'।"

মূল আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে একটি ভূমিকা উল্লেখ করা প্রয়োজন যা কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি অনুধাবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে। এতে রহিতকরণ (النسخ) এর হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ, এর অপরিহার্য বিষয়াবলি এবং আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ আলোচনা করা হবে। জেনে রাখুন, রহিতকরণ (النسخ) শব্দটির ভাষাবিদদের নিকট একটি ব্যুৎপত্তিগত অর্থ রয়েছে, অর্থ বিশারদদের নিকট একটি সংজ্ঞা (حد) রয়েছে এবং বিধান বিশেষজ্ঞদের নিকট কিছু শর্তাবলি (شرائط) রয়েছে। এর মূল বা আভিধানিক অর্থ হলো কোনো কিছু বাতিল করা এবং তার স্থলে অন্য কিছু স্থলাভিষিক্ত করা। আবু হাতিম বলেন, রহিতকরণ (النسخ)-এর মূল অর্থ হলো এক মৌচাকের মধু ও মৌমাছিকে অন্য মৌচাকে স্থানান্তরিত করা। কিতাব প্রতিলিপি করার ক্ষেত্রেও 'নাসখ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়। হাদিসে এসেছে: "এমন কোনো নবুওয়াত (نبوة) নেই যার পর ফাতরাহ (فترة) বা বিরতিকাল আসেনি।" পরিশেষে, আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রহিতকরণ (النسخ) শব্দটির দুটি অর্থ রয়েছে: একটি হলো অস্তিত্বহীন করার মাধ্যমে বিলুপ্তি ঘটানো এবং দ্বিতীয়টি হলো স্থানান্তরের অর্থে ব্যবহার হওয়া।

(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৭)
أما الناسخ بمعنى الإزالة فهو أيضا على نسخ إلى بدل نحو قولهم نسخ الشيب الشباب، ونسخت الشمس الظل أي أذهبته وحلت محله، ونسخ إلى غير بدل، ورفع الحكم وإطاله من غير أن يقيم له بدلا يقال نسخت الريح الديار أي أبطلتها وأزالتها وأما النسخ بمعنى النقل فهو من قولك نسخت الكتاب ما فيه وليس المراد به إعدام ما فيه ومنه قوله تعلى * (إنا كنا نستنيخ ما كنتم تعملون) * [29 مكية / 45 الجاثية] يريد نقاله إلى الصحف أو من الصحف إلى غيرها غير أن المعروف من النسخ في القرآن هو إبطال الحكم مع إثبات الخط وكذلك هو في السنة أو في الكتاب أن تكون الآية الناسخة والمنسوخة ثابتتين في التلاوة إلا أن المنسوخة لا يعمل بها مثل عدة المتوفى عنها زوجها كانت سنة لقوله * (يتربصن بأنفسهن أربعة أشهر وعشرا) * [234 / 2 البقرة] وأما حده فمنهم من قال أنه بيان انتهاء مدة العبادة وقيل انقضاء العبادة التي ظاهرها الدوام وقال بعضهم أنه رفع الحكم بعد ثبوته وأما شرائطه فما دارك معرفتها محصورة (1) منها أن يكون النسخ بخطاب اأنه بموت المكلف ينقطع الحكم والموت مزيل للحكم لا ناسخ له (2) ومنها أن يكون المنسوخ أيضا حكما شرعيا لأن الأمور العقلية التي مسندها البراءة الأهلية لم تنسخ وإنما ارتفعت بإيجاب العبادات (3) ومنها أن لا يكون الحكم السابق مقيدا بزمان مخصوص نحو قوله عليه الصلاة والسلام لا صلاة في الصبح حتى تطلع الشمس ولا صلاة بعد العصر حتى تغرب الشمس، فإن الوقت الذي يجوز فيه أداء النوافل التي لا سبب لها مؤقتة فلا يكون نهيه عن هذه النوافل في الوقت المخصوص لما قبل ذلك من الجواز لأن التوقيت يمنع النسخ (4) ومنها أن يكون الناسخ متراخيا عن المنسوخ وبيان النسخ منتهى

রহিতকারী (ناسخ) বলতে যখন দূর করা বা অপসারিত করা বোঝায়, তখন সেটি কোনো একটি জিনিসের বদলে অপরটিকে স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমেও হতে পারে। যেমন তারা বলে থাকে, 'বার্ধক্য যৌবনকে রহিত (نسخ) করেছে', অথবা 'সূর্য ছায়াকে রহিত (نسখ) করেছে' অর্থাৎ সূর্য ছায়াকে দূর করে দিয়েছে এবং তার স্থান দখল করেছে। আবার বদল বা বিকল্প ছাড়াই রহিতকরণ (نسخ) হতে পারে; যেখানে কোনো বিকল্প স্থাপন না করেই বিধানকে (حكم) তুলে নেয়া হয় এবং তার কার্যকারিতা সমাপ্ত করা হয়। যেমন বলা হয়, 'বাতাস ঘরবাড়িকে রহিত (نسخ) করেছে', অর্থাৎ তা ধূলিসাৎ ও অপসারিত করেছে। আর যদি রহিতকরণ (نسخ) শব্দটি স্থানান্তর বা অনুলিপি করার অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা 'আমি বইটি থেকে যা আছে তা অনুলিপি (نسخت) করেছি' বলার মতো। এক্ষেত্রে মূলের বিলুপ্তি উদ্দেশ্য নয়। মহান আল্লাহর এই বাণীটি সেই অর্থেই: "তোমরা যা করতে, আমরা অবশ্যই তা লিপিবদ্ধ (نستنسخ) করতাম" [৪৫ আল-জাসিয়া: ২৯]। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেগুলোকে আমলনামায় বা এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে স্থানান্তর করা। তবে কুরআনের ক্ষেত্রে রহিতকরণ (نسخ) বলতে যা সুপরিচিত, তা হলো বিধান বাতিলকরণ (إبطال الحكم) কিন্তু তার লিপির স্থায়িত্ব বজায় রাখা। একইভাবে সুন্নাহ বা কিতাবের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য যে, রহিতকারী (ناسخ) আয়াত এবং রহিত (منسوخ) আয়াত—উভয়টিই তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকে, কিন্তু রহিত (منسوخ) আয়াতটির ওপর আর আমল করা হয় না। যেমন মৃত স্বামীর স্ত্রীর ইদ্দত পালনের সময়সীমা ছিল এক বছর, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন: "তারা চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে" [২ আল-বাকারাহ: ২৩৪] (অর্থাৎ এই আয়াতের মাধ্যমে পূর্বের বিধান রহিত হয়েছে)। এর সংজ্ঞা সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছেন, এটি ইবাদতের সময়সীমা শেষ হওয়ার বর্ণনা। আবার বলা হয়েছে, এটি এমন কোনো ইবাদতের সমাপ্তি যা বাহ্যত স্থায়ী বলে মনে হতো। কেউ কেউ বলেছেন, বিধান সাব্যস্ত হওয়ার পর তা তুলে নেওয়াই হলো রহিতকরণ (نسخ)। আর এর শর্তাবলি (شرائط) যা জানা প্রয়োজন তা সীমাবদ্ধ: (১) রহিতকরণ (نسخ) অবশ্যই কোনো সম্বোধন বা বাণীর মাধ্যমে হতে হবে। কারণ শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির (مكلف) মৃত্যুর মাধ্যমে বিধানটি স্থগিত হয়ে যায়, আর মৃত্যু বিধানের অবসানকারী হলেও তা রহিতকারী (ناسخ) নয়। (২) রহিত (منسوخ) বিষয়টি অবশ্যই একটি শরয়ি বিধান (حكم شرعي) হতে হবে। কারণ বিচারবুদ্ধি প্রসূত বিষয়সমূহ, যার ভিত্তি হলো মূলগত দায়মুক্তি, তা রহিত (نسخ) হয় না; বরং ইবাদত ফরজ করার মাধ্যমেই কেবল তা অপসারিত হয়। (৩) পূর্ববর্তী বিধানটি নির্দিষ্ট কোনো সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ হতে পারবে না। যেমন নবি করিম (সা.)-এর বাণী: "সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত ফজরের পর কোনো সালাত নেই এবং সূর্য অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত আসরের পর কোনো সালাত নেই।" কারণ কোনো কারণ ছাড়াই নফল সালাত আদায় করার যে সময় তা যদি নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে, তবে সেই নির্দিষ্ট সময়ে তা আদায় করতে নিষেধ করা আগের বৈধতাকে রহিতকরণ (نسخ) হিসেবে গণ্য হবে না; কারণ সময় নির্দিষ্টকরণ রহিতকরণকে (النسخ) বাধা দেয়। (৪) রহিতকারী (ناسخ) দলিলটি অবশ্যই রহিত (منسوخ) দলিলের পরবর্তী সময়ে অবতীর্ণ হতে হবে এবং রহিতকরণের (النسخ) বর্ণনাটিও চূড়ান্ত হতে হবে।

(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৮)
الحكم لتبدل المصلحة على اختلاف الأزمنة كالطبيب ينهى عن الشئ في الصيف ثم يأمر به في الشتاء، وذلك كالتوجه إلى بيت المقدس بمكة وهو اختيار اليهود، وكإيجاب التصدق بالفضل عن الحاجة في الابتداء لنشاط القوم في الصفاء والوفاء وكتقدير الواجب بربع العشر الفاضل إلى الانتهاء تيسيرا للاداء وصيانة لأهل النسخ من الاباء

1 - فصل أنكر اليهود النسخ وقالوا إنه يؤذن بالغلط والبراء وهم قد غلطوا لأن النسخ رفع عبادة قد علم الآمر أن بها خيرا ثم أن للتكليف بها غاية ينتهي إليها ثم يرفع الإيجاب والبراء هو الانتقال عن المأمور به بأمر حادث لا يعلم سابق ولا يمنع جواز النسخ عقلا لوجهين أحدهما لأن للآمر أن يأمر بما شاء وثانيهما أن النفس إذا مرنت على أمر ألفته فإذا نقلت عنه إلى غيره شق عليها لمكان الاعتياد المألوف فظهر منها بإذعان إلإنقياد لطاعة الأمر وقد وقع النسخ شرعا لأنه ثبت أن من دين آدم عليه السلام في طائفة من أولاده جواز نكاح الأخوات وذوات المحارم والعمل في يوم السبت ثم نسخ ذلك في شريعة الإسلام

2 - فصل والنسخ إنما يقع في الأمر والنهي ولا يجوز أن يقع في الأخبار المحضة، والاستثناء ليس بنسخ إنما يقع في الأمر من بعد بخلاف وقوع النسخ في الخبر المحض وسمى بعضهم الاستثناء، والتخصيص نسخا والفقهاء على خلاف ذلك
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে জনকল্যাণের (المصلحة) পরিবর্তনের কারণে বিধিবিধান বা হুকুম পরিবর্তিত হয়, যেমন একজন চিকিৎসক গ্রীষ্মকালে কোনো বিষয়ে নিষেধ করেন এবং পুনরায় শীতকালে সেই বিষয়েরই নির্দেশ দেন। এটি মক্কায় থাকাকালীন বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করার মতো, যা ছিল ইহুদিদের পছন্দ। তদ্রূপ, ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষের কর্মতৎপরতা, স্বচ্ছতা ও আনুগত্যের কারণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ সদকা করা ওয়াজিব ছিল। পরবর্তীতে তা আদায় সহজতর করার জন্য এবং যারা রহিতকরণ (النسخ) অস্বীকার করে তাদের থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে পরিসমাপ্তি পর্যন্ত উদ্বৃত্ত সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ (রুবউ আল-উশর) নির্ধারণ করা হয়েছে।

1 - পরিচ্ছেদ: ইহুদিরা রহিতকরণ (النسخ) অস্বীকার করেছে এবং তারা দাবি করেছে যে এটি ভুল বা মত পরিবর্তনের (البراء) ইঙ্গিত দেয়। প্রকৃতপক্ষে তারাই ভুল করেছে; কারণ রহিতকরণ (النسخ) হলো এমন এক ইবাদত তুলে নেওয়া যার কল্যাণ সম্পর্কে আদেশদাতা পূর্বেই অবগত ছিলেন, আর সেই বিধান পালনের (التكليف) একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে যেখানে গিয়ে তা শেষ হয় এবং এরপর সেই ওয়াজিব হওয়া বা আবশ্যকতা (الإيجاب) তুলে নেওয়া হয়। পক্ষান্তরে, মত পরিবর্তন (البراء) হলো নতুন কোনো বিষয়ের কারণে পূর্বের নির্দেশ থেকে সরে আসা যা আগে জানা ছিল না। যুক্তির নিরিখে রহিতকরণ (النسخ) জায়েজ হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি কারণে কোনো বাধা নেই। প্রথমত, আদেশদাতার অধিকার রয়েছে তিনি যা ইচ্ছা আদেশ করার। দ্বিতীয়ত, মানবাত্মা যখন কোনো কাজে অভ্যস্ত হয়ে যায় তখন সেটি তার কাছে সহজ হয়ে যায়; ফলে যখন তাকে সেই পরিচিত কাজ থেকে অন্য দিকে সরিয়ে নেওয়া হয় তখন অভ্যাসের কারণে তা তার ওপর কঠিন হয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমেই আদেশদাতার আনুগত্যে তার আত্মসমর্পণ ও বশ্যতা প্রকাশ পায়। শরয়িভাবে রহিতকরণ (النسخ) সংঘটিত হয়েছে; কারণ এটি প্রমাণিত যে আদম (আলাইহিস সালাম)-এর শরিয়তে তাঁর সন্তানদের একটি দলের জন্য বোন ও মাহরামদের সাথে বিবাহ এবং শনিবারের দিন আমল করা বৈধ ছিল, যা পরবর্তীতে ইসলামি শরিয়তে রহিত (النسخ) করা হয়েছে।

2 - পরিচ্ছেদ: রহিতকরণ (النسخ) কেবল আদেশ (الأمر) ও নিষেধের (النهي) ক্ষেত্রে ঘটে, নিছক সংবাদ বা তথ্যের (الأخبار المحضة) ক্ষেত্রে এটি জায়েজ নয়। আর ব্যতিক্রম (الاستثناء) করা রহিতকরণ (النسخ) নয়, এটি কেবল আদেশের পরবর্তীতে ঘটে থাকে, যা নিছক সংবাদের ক্ষেত্রে রহিতকরণ (النسخ) ঘটার বিপরীত। কেউ কেউ ব্যতিক্রম (الاستثناء) ও নির্দিষ্টকরণকে (التخصيص) রহিতকরণ (النسخ) হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে ফকিহগণ এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৯)
3 - فصل وهو على ثلاثة أنواع

1 - نسخ الخط والحكم * عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال كنا نقرأ سورة تعدل سورة التوبة ما احفظ منها إلا هذه الآية * (لو كان لابن آدم واديان من ذهب لابتغى إليهما ثالثا ولو أن له ثالثا لابتغى إليه رابعا ولا يملأ جوف ابن آدم إلا التراب ويتوب الله على من تاب) *

2 - والثاني نسخ الخط دون الحكم * عن عمر رضي الله عنه قال كنا نقرأ * (ألا ترغبوا الرغبة عنهما) * بمعنى الإعراض عن آبائكم، ومن ذلك * (الشيخ والشيخة إذا زنيا فرجموهما البتة نكالا من الله والله عزيز حكيم) * معناه المحصن والمحصنة

3 - والثالث نسخ الحكم دون الخط أوله أمر القبلة بأن المصلي يتوجه حيث شاء لقوله تعالى عز وجل * (فأينما تولوا فثم وجه الله) * [115 مدنية / البقرة / 2] فنسخ ذلك والتوجه إلى بيت المقدس بقوله عز وجال * (فول وجهك شطر المسجد الحرام) * [144 مكية / البقرة / 2] ونظارها كثيرة سيأتي ذكرها في موضعه إن شاء الله
৩ - পরিচ্ছেদ: এটি তিন প্রকারের।

১ - পাঠ (الخط) ও বিধান (الحكم) উভয়ই রহিতকরণ (نسخ) * আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এমন একটি সূরা পাঠ করতাম যা সূরা আত-তাওবার সমতুল্য ছিল। আমি তা থেকে কেবল এই আয়াতটিই মুখস্থ রেখেছি: (যদি আদম সন্তানের স্বর্ণের দুটি উপত্যকা থাকত, তবে সে অবশ্যই তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করত। আর যদি তার তৃতীয়টি থাকত, তবে সে চতুর্থটির আকাঙ্ক্ষা করত। আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া আর কিছুই দিয়ে পূর্ণ হবে না; আর আল্লাহ সেই ব্যক্তির তওবা কবুল করেন যে তওবা করে।) *

২ - দ্বিতীয় প্রকার হলো বিধান (الحكم) বহাল রেখে কেবল পাঠ (الخط) রহিতকরণ (نسخ) * উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা পাঠ করতাম * (তোমরা তোমাদের পিতাদের থেকে বিমুখ হয়ো না) * অর্থাৎ তোমাদের পিতাদের পরিচয় থেকে বিমুখ হওয়া। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: * (বিবাহিত বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা যখন ব্যভিচার করে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে তোমরা অবশ্যই তাদের পাথর ছুড়ে হত্যা করো। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।) * এর অর্থ হলো বিবাহিত পুরুষ (المحصن) ও বিবাহিত নারী (المحصنة)।

৩ - তৃতীয় প্রকার হলো পাঠ (الخط) বহাল রেখে বিধান (الحكم) রহিতকরণ (نسخ)। এর প্রথমটি হলো কিবলার নির্দেশ; যেখানে মুসল্লি যেদিকে ইচ্ছা মুখ ফেরাতে পারত মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: * (তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা [অর্থাৎ সন্তুষ্টির দিক] বিদ্যমান।) * [১১৫ মাদানি (مدنية) / আল-বাকারাহ / ২]। অতঃপর এটি এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ ফেরানোর নির্দেশটি মহান আল্লাহর এই বাণীর দ্বারা রহিত (نسخ) করা হয়েছে: * (তুমি তোমার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও।) * [১৪৪ মক্কি (مكية) / আল-বাকারাহ / ২]। এর সদৃশ দৃষ্টান্ত আরও অনেক রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ১০)
4 - فصل السور التي لم يدخلها ناسخ ومنسوخ هي ثلاث وأربعون سورة منها (أم الكتاب) ، و (يوسف) عليه السلام و (يس) و (الحجرات) وسورة (الرحمن) و (الحديد) والصف) و (الجمعة) و (والتحريم) و (الملك)
4 - পরিচ্ছেদ: যেসব সূরার মধ্যে কোনো রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) বিষয় প্রবেশ করেনি, সেগুলো সংখ্যায় তেতাল্লিশটি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে (উম্মুল কিতাব), (ইউসুফ) আলাইহিস সালাম, (ইয়াসিন), (আল-হুজরাত), সূরা (আর-রহমান), (আল-হাদিদ), (আস-সাফ), (আল-জুমুআহ), (আত-তাহরিম) এবং (আল-মুলক)।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ১১)
و (الحاقة) ، و (نوح) عليه السلام و (والجن) و (المرسلات) و (النبأ) و (النازعات) و (الانفطار) و (المطففين) و (الايشقاق) و (البروج) و (الفجر) و (البلد) و (الشمس) و (الليل) و (الضحى) و (ألم نشرح) و (التين) و (القلم) و (القدر) و (لم يكن) و (الزلزلة) و (العاديات) و (القارعة) والتكاثر) و (الهمزة) و (قريش) و (الماعون) و (الكوثر) و (والنصر) و (تبت) و (والإخلاص) و (الفلق) و (الناس)
এবং (আল-হাক্কাহ), এবং নূহ আলাইহিস সালাম, এবং (আল-জিন), এবং (আল-মুরসালাত), এবং (আন-নাবা), এবং (আন-নাযিআত), এবং (আল-ইনফিতার), এবং (আল-মুতাফফিফিন), এবং (আল-ইনশিকাক), এবং (আল-বুরুজ), এবং (আল-ফজর), এবং (আল-বালাদ), এবং (আশ-শামস), এবং (আল-লাইল), এবং (আদ-দুহা), এবং (আলাম নাশরাহ), এবং (আত-তিন), এবং (আল-কালাম), এবং (আল-কদর), এবং (লাম ইয়াকুন), এবং (আয-যালযালাহ), এবং (আল-আদিয়াত), এবং (আল-কারিআহ), (আত-তাকাসুর), এবং (আল-হুমাজাহ), এবং (কুরাইশ), এবং (আল-মাউন), এবং (আল-কাউসার), এবং (আন-নাসর), এবং (তাব্বাত), এবং (আল-ইখলাস), এবং (আল-ফালাক) ও (আন-নাস)
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌2 - باب قسمة السور التي فيها ناسخ وليس فيها منسوخ

وعددها أربعون سورة (40) (الأنعام) و (الاعراف) و (يونس) و (وهود) و (الرعد) و (الحجر) و (النحل) و (بنو إسرائيل) و (الكهف) و (طه) و (المؤمنون) و (النمل) و (القصص) و (العنكبوت) و (الروم) و (لقمان) و (الضاجع) و (الملائكة) و (الصافات) و (ص) و (الزمر) و (فصلت) و (الزخرف) و (الدخان) و (الجاثية) و (الأحقاف) و (محمد) عليه السلام، و (ق) و (النجم) و (القمر) و (الامتحان) و (ن) و (المعارج) و (القيامة) و (الانسان) و (عبس) و (الطارق) و (الغاشية) و (التين) و (الكافرون)

 

‌‌3 - باب قسمة السور التي داخلها الناسخ والمنسوخ

وعددها خمس وعشرون سورة (25) أولها (البقرة) و (آل عمران) و (النساء) و (المائدة) و (الأنفال) و (التوبة) و (ابراهيم) عليه السلام و (مريم) و (الأنبياء) و (الحج) و (النور) و (الفرقان) و (الشعراء) و (الأحزاب) و (المؤمن) و (الشورى) و (الذاريات) و (الطور) و (الواقعة) و (المجادلة) و (المزمل) و (المدثر) و (التكوير) و (العصر)

 

‌‌4 - باب الإعراض عن المشركين

في مائة وأربع عشرة آية (114) هن في ثمان وأربعين (48) سورة أولها:

1 - البقرة: * (وقولوا للناس حسنا) * نسخ عمومها (لنا أعمالنا)
২ - সেই সকল সূরার শ্রেণিবিভাগ যাতে রহিতকারী (ناسخ) বিদ্যমান কিন্তু কোনো রহিত (منسوخ) আয়াত নেই

এগুলোর সংখ্যা চল্লিশটি (৪০) সূরা: (আল-আনআম), (আল-আরাফ), (ইউনুস), (হুদ), (আর-রাদ), (আল-হিজর), (আন-নাহল), (বনু ইসরাঈল), (আল-কাহাফ), (ত্বহা), (আল-মুমিনুন), (আন-নামল), (আল-কাসাস), (আল-আনকাবুত), (আর-রুম), (লোকমান), (আদ-দাজি), (আল-মালাইকাহ), (আস-সাফফাত), (সাদ), (আজ-জুমার), (ফুসসিলাত), (আজ-জুখরুফ), (আদ-দুখান), (আল-জাথিয়াহ), (আল-আহকাফ), মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম, (কাফ), (আন-নাজম), (আল-কামার), (আল-ইমতিহান), (নুন), (আল-মাআরিজ), (আল-কিয়ামাহ), (আল-ইনসান), (আবাসা), (আত-তারিক), (আল-গাশিয়াহ), (আত-তীন) এবং (আল-কাফিরুন)

 

৩ - সেই সকল সূরার শ্রেণিবিভাগ যার অভ্যন্তরে রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) উভয়ই বিদ্যমান

এগুলোর সংখ্যা পঁচিশটি (২৫) সূরা: প্রথমটি (আল-বাকারা), (আল-ইমরান), (আন-নিসা), (আল-মায়েদাহ), (আল-আনফাল), (আত-তাওবাহ), ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, (মারয়াম), (আল-আম্বিয়া), (আল-হাজ্জ), (আন-নূর), (আল-ফুরকান), (আশ-শুআরা), (আল-আহজাব), (আল-মুমিন), (আশ-শূরা), (আদ-ধারিয়াত), (আত-তূর), (আল-ওয়াকিআহ), (আল-মুজাদিলাহ), (আল-মুযযাম্মিল), (আল-মুদ্দাসসির), (আত-তাকভীর) এবং (আল-আসর)

 

৪ - মুশরিকদের (مشركين) থেকে বিমুখ হওয়া বিষয়ক অধ্যায়

এটি একশত চৌদ্দটি (১১৪) আয়াতের মধ্যে যা আটচল্লিশটি (৪৮) সূরায় বিদ্যমান, তার মধ্যে প্রথমটি হলো:

১ - আল-বাকারা: * (এবং মানুষের সাথে সদালাপ করো) * এর সাধারণত্ব (عموم) রহিত (نسخ) হয়েছে (আমাদের জন্য আমাদের আমল) আয়াত দ্বারা।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ১৪)
(فإن انتهوا) نسخ معنى لأن تحته الأمر بالصفح (قل قتال) (لا إكراه)

2 - آل عمران: * (فإنما عليك البلاغ) * (منهم تقاة)
(যদি তারা বিরত থাকে) এটি অর্থগতভাবে রহিত (نسخ), কারণ এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ক্ষমা করার নির্দেশ (বলুন যুদ্ধ) (দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই)

২ - আলে ইমরান: * (আপনার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া) * (তাদের পক্ষ থেকে আত্মরক্ষা (تقاة))
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ১৬)
3 - النساء: (فاعرض عنهم) في موضعين (وما أرسلناك عليهم حفيظا) (لا تكلف إلا نفسك) (إلا الذين يصلون)

4 - المائدة: [ولا آمين] [على رسولنا البلاغ] [عليكم أنفسكم إذا اهتديتم] أي أمرتم ونهيتم

5 - الأنعام: [قل لست عليكم بوكيل] [ثم ذرهم] [وما أنا عليكم بحفيظ] [واعرض] [وما أرسلناك عليهم حفيظا] [ولا تسبوا] [فذرهم] في موضعين [ويا قوم اعملوا على مكانتكم] [قل انتظروا] [لست منهم في شئ]

6 - الأعراف: (وأعرض) (وأملي)

7 - الأنفال: (وإن استنصروكم) يعني المعاهدين

8 - التوبة: (فاستقيموا لهم)

9 - يونس: (فانتظروا) (فقل لي عملي) (وإما نرينك) (أفأنت تكره) (فمن اهتدى) معنى الإمهال والصبر

10 - هود: (إنما أنت نذير) معنى أي تنذر (ويا قوم اعملوا على مكانتكم) (وانتظروا)
৩ - আন-নিসা: (তাদের এড়িয়ে চলুন) দুই স্থানে (আর আমি আপনাকে তাদের উপর রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে পাঠাইনি) (আপনাকে কেবল আপনার নিজের জন্য দায়বদ্ধ করা হবে) (তবে তারা ব্যতীত যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয়)

৪ - আল-মায়িদাহ: [এবং যারা (পবিত্র ঘরের) অভিমুখী তাদের ক্ষেত্রে নয়] [আমাদের রাসূলের দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া] [তোমাদের নিজেদের সংশোধন করাই তোমাদের কর্তব্য, যখন তোমরা সৎপথ প্রাপ্ত হয়েছ] অর্থাৎ তোমাদের আদেশ ও নিষেধ করা হয়েছে।

৫ - আল-আনআম: [বলুন, আমি তোমাদের ওপর কর্মবিধায়ক নই] [অতঃপর তাদের ছেড়ে দিন] [এবং আমি তোমাদের ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী নই] [এবং এড়িয়ে চলুন] [আর আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে পাঠাইনি] [এবং তোমরা গালি দিও না] [অতঃপর তাদের ছেড়ে দিন] দুই স্থানে [হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের অবস্থানে কাজ করে যাও] [বলুন, তোমরা অপেক্ষা করো] [আপনার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই]

৬ - আল-আরাফ: (এবং এড়িয়ে চলুন) (এবং আমি অবকাশ দিই)

৭ - আল-আনফাল: (আর যদি তারা তোমাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে) অর্থাৎ চুক্তিবদ্ধ (معاهدين) ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।

৮ - আত-তাওবাহ: (সুতরাং তোমরা তাদের প্রতি সত্যনিষ্ঠ বা অবিচল থাকো)

৯ - ইউনুস: (সুতরাং তোমরা অপেক্ষা করো) (অতঃপর বলুন, আমার আমল আমার জন্য) (আর আমি যদি আপনাকে প্রত্যক্ষ করাই) (তবে কি আপনি বাধ্য করবেন) (অতঃপর যে সৎপথ অবলম্বন করল) অবকাশ প্রদান ও ধৈর্যের অর্থে।

১০ - হুদ: (আপনি তো কেবল একজন সতর্ককারী) অর্থাৎ আপনি সতর্ক করেন (হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের অবস্থানে কাজ করে যাও) (এবং তোমরা অপেক্ষা করো)
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ১৭)
11 - الرعد: (عليك البلاغ)

12 - الحجر: (ذرهم) (فاصفح) (ولا تمدن) (أنا النذير) (وأعرض)

13 - النحل: (فإنما عليك البلاغ) (وجادلهم) (واصبر) مختلف فيه

14 - بني إسرائيل: (ربكم أعلم بكم)

15 - مريم: عليها السلام (وأنذرهم) معنى: فليمدد (فلا تعجل)

16 - طه: (فاصبر) (قل كل)

17 - الحج: (وإن جادلوك)

18 - المؤمنون: (فذرهم) (ادفع)

19 - النور: (فإن تولوا)

20 - النمل: (فمن اهتدى) معنى

21 - القصص: (لنا أعمالنا)

22 - العنكبوت: (وإنما أنا نذير) معنى

23 - الروم: (فاصبر)

24 - لقمان: (ومن كفر) .

25 - السجدة: (وانتظر) .

26 - الأحزاب: (ودع أذاهم) .

27 - سبأ: (قل لا تسألون) .

28 - فاطر: (إن أنت إلا نذير) .

29 - يس: (فلا يحزنك) مختلف فيه.

30 - الصافات: (فتول) و (تول) (وما بينهما) .

31 - ص: (فاصبر) (إنما أنا منذر) معنى.

32 - الزمر: (إن الله يحكم بينهم) معنى (فاعبدوا ما شئتم) (يا قوم اعملوا) (من يأتيه) (فمن اهتدى) معنى (أنت تحكم) معنى لأنه تفويض.

33 - المؤمن: (فاصبر) في موضعين.
১১ - আর-রাদ: (আপনার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া)

১২ - আল-হিজর: (তাদের ছেড়ে দিন) (সুতরাং ক্ষমা করুন) (আপনি দৃষ্টি প্রসারিত করবেন না) (আমি সতর্ককারী) (এবং বিমুখ থাকুন)

১৩ - আন-নাহল: (আপনার দায়িত্ব তো কেবল পৌঁছে দেওয়া) (এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন) (এবং ধৈর্য ধারণ করুন) মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه)

১৪ - বনী ইসরাইল: (তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সম্পর্কে অধিক অবগত)

১৫ - মারইয়াম: আলাইহাস সালাম (তাদের সতর্ক করুন) অর্থ: তবে সে যেন অবকাশ দেয় (সুতরাং তাড়াহুড়ো করবেন না)

১৬ - ত্ব-হা: (সুতরাং ধৈর্য ধারণ করুন) (বলুন, প্রত্যেকেই)

১৭ - আল-হাজ্জ: (আর তারা যদি আপনার সাথে বিতর্ক করে)

১৮ - আল-মুমিনুন: (সুতরাং তাদের ছেড়ে দিন) (প্রতিহত করুন)

১৯ - আন-নূর: (অতঃপর যদি তারা বিমুখ হয়)

২০ - আন-নামল: (অতঃপর যে হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে) অর্থগতভাবে

২১ - আল-কাসাস: (আমাদের আমল আমাদের জন্য)

২২ - আল-আনকাবুত: (আর আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী) অর্থগতভাবে

২৩ - আর-রূম: (সুতরাং সবর করুন)

২৪ - লুকমান: (এবং যে কুফরি করে) ।

২৫ - আস-সাজদাহ: (এবং অপেক্ষা করুন) ।

২৬ - আল-আহযাব: (এবং তাদের কষ্ট দেওয়া উপেক্ষা করুন) ।

২৭ - সাবা: (বলুন, তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না) ।

২৮ - ফাতির: (আপনি তো কেবল একজন সতর্ককারী) ।

২৯ - ইয়াসীন: (সুতরাং তাদের কথা আপনাকে ব্যথিত না করুক) মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه)।

৩০ - আস-সাফফাত: (সুতরাং বিমুখ থাকুন) এবং (বিমুখ থাকুন) (এবং এই দুইয়ের মাঝে যা রয়েছে) ।

৩১ - সোয়াদ: (সুতরাং ধৈর্য ধারণ করুন) (আমি তো কেবল একজন সতর্ককারী) অর্থগতভাবে।

৩২ - আয-যুমার: (নিশ্চয় আল্লাহ তাদের মধ্যে বিচার করবেন) অর্থগতভাবে (সুতরাং তোমরা যা ইচ্ছা ইবাদত করো) (হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আমল করো) (কার কাছে আজাব আসবে) (অতঃপর যে হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে) অর্থগতভাবে (আপনি বিচার করবেন) অর্থগতভাবে, কারণ এটি দায়িত্ব অর্পণ (تفويض)।

৩৩ - আল-মুমিন: (সুতরাং ধৈর্য ধারণ করুন) দুই স্থানে।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ১৮)
34 - السجدة: (ارفع) .

35 - حمعس ق: (وما أنت عليهم بوكيل) (لنا أعمالنا) (فإن أعرضوا) .

36 - الزخرف: (فذرهم) (فاصفح) .

37 - الدخان: (فارتقب) .

38 - الجاثية: (يغفر) .

39 - الاحقاف: (فاصبر) .

40 - محمد عليه السلام: (فأمامنا) .

41 - ق: (فاصبر) (فذكر) .

42 - المزمل: (واهجرهم) (وذرني) .

43 - الإنسان: (فاصبر) .

44 - الطارق: (فهل) .

45 - الغاشية: (لست عليهم بمسيطر) .

46 - والتين: (أليس الله بأحكم الحاكمين) معنى.

47 - الكافرون: (لكم دينكم) .

48 - نسخ الكل بقوله عز وجل: * (فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم) *. في سورة التوبة.

وسنذكرها في مواضعها آية آية إن شاء الله تعالى.
34 - আস-সাজদাহ: (উপেক্ষা করুন)।

35 - হা-মীম-আইন-সীন-ক্বাফ (আশ-শুরা): (এবং আপনি তাদের ওপর কর্মবিধায়ক নন) (আমাদের আমল আমাদের জন্য) (অতঃপর তারা যদি বিমুখ হয়)।

36 - আয-যুখরুফ: (অতএব আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন) (সুতরাং আপনি ক্ষমা করুন)।

37 - আদ-দুখান: (অতএব আপনি অপেক্ষা করুন)।

38 - আল-জাসিয়াহ: (ক্ষমা করে দিন)।

39 - আল-আহক্বাফ: (সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন)।

40 - মুহাম্মদ আলাইহিস সালাম: (হয়তো অনুগ্রহ স্বরূপ)।

41 - ক্বাফ: (সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন) (অতএব আপনি উপদেশ দিন)।

42 - আল-মুযযাম্মিল: (এবং আপনি তাদেরকে সুন্দরভাবে বর্জন করুন) (এবং আমাকে ছেড়ে দিন)।

43 - আল-ইনসান: (সুতরাং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন)।

44 - আত-তারিক্ব: (সুতরাং আপনি অবকাশ দিন)।

45 - আল-গাশিয়াহ: (আপনি তাদের ওপর কোনো জোরজবরদস্তিকারী নন)।

46 - আত-তীন: (আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন?) অর্থগতভাবে (معنى)।

47 - আল-কাফিরুন: (তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন)।

48 - সুরা আত-তাওবার মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সবকিছুর রহিতকরণ (نسخ) হয়েছে: "অতঃপর মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো"।

আর আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা প্রতিটি আয়াত যথাস্থানে বিস্তারিত আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌5 - باب الناسخ والمنسوخ على نظم القرآن

اعلم أن نزول المنسوخ بمكة كثير ونزول الناسخ بالمدينة كثير وليس في أم الكتاب شئ منهما فأما

 

‌‌1 -سورة البقرة: وهي مدنية ففيها ستة وعشرون موضعا (26) .

فأول ذلك قوله: 1 - * (إن الذين آمنوا والذين هادوا … ) * الآية [26 مدنية / البقرة] منسوخة وناسخة قوله تعالى: * (ومن يبتغ غير الإسلام دينا فلن يقبل منه) * [85 مدنية / آل عمران / 3] .
৫ - কুরআনের বিন্যাস অনুযায়ী রহিতকারী (الناسخ) ও রহিত (المنسوخ) বিষয়ক অধ্যায়

জেনে রাখুন যে, মক্কায় রহিত (المنسوخ) আয়াতের অবতরণ অধিক এবং মদিনায় রহিতকারী (الناسخ) আয়াতের অবতরণ অধিক। উম্মুল কিতাবে (সূরা ফাতিহা) এর কোনোটিই নেই। তবে...

 

১ - সূরা আল-বাকারা: এটি মাদানি, এতে ছাব্বিশটি (২৬) স্থান রয়েছে।

তার মধ্যে প্রথমটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: ১ - * (নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে … ) * আয়াতটি [২৬ মাদানি / আল-বাকারা] রহিত (منسوخة) এবং এর রহিতকারী (ناسخة) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (আর যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম অনুসরণ করতে চায়, তবে তার পক্ষ থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না) * [৮৫ মাদানি / আল ইমরান / ৩]।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২০)
2 - الآية الثانية: قوله تعالى: * (وقولوا للناس … حسنا الآية) * [83 /
২ - দ্বিতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (এবং মানুষের সাথে উত্তমভাবে কথা বলো … আয়াতটির শেষ পর্যন্ত) * [৮৩ /
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২১)
البقرة] منسوخة وناسخة (آية السيف) قوله تعالى: * (فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم … ) * [5 مدنية / التوبة / 9] .

3 - الآية الثالثة: قوله تعالى: * (فاعفوا واصفحوا حتى يأتي الله بأمره … ) * الآية [109 / البقرة / 2] منسوخة وناسخها قوله تعالى: * (قاتلوا الذين لا يؤمنون بالله ولا باليوم الآخر … ) * إلى قوله تعالى: * (حتى بعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون) * [29 مدنية / التوبة / 9] .

4 - الآية الرابعة: قوله تعالى: * (ولله الشرق والمغرب … ) * [115
[আল-বাকারা] রহিত (منسوخة) এবং রহিতকারী (ناسخة) (তরবারির আয়াত (آية السيف)) মহান আল্লাহর বাণী: * (অতঃপর মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো … ) * [৫ মাদানি / আত-তাওবাহ / ৯] ।

৩ - তৃতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (সুতরাং তোমরা ক্ষমা করো এবং মার্জনা করো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসেন … ) * আয়াতটি [১০৯ / আল-বাকারা / ২] রহিত (منسوخة) এবং এর রহিতকারী (ناسخها) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (তোমরা যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না … ) * মহান আল্লাহর বাণী পর্যন্ত: * (যতক্ষণ না তারা নত হয়ে নিজ হাতে জিজিয়া দেয়) * [২৯ মাদানি / আত-তাওবাহ / ৯] ।

৪ - চতুর্থ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই … ) * [১১৫]
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২২)
مدنية / البقرة / 2] هذا محكم والمسوخ منها قوله: * (فأينما تولوا فثم وجه الله) * الآية [115 / البقرة] منسوخة وناسخة قوله تعالى: * (وحيث ما كنتم فولوا وجوهكم شطره) * [144 مدنية / البقرة / 2] .

5 - الآية الخامسة: قوله تعالى: * (إن الذين تكتمون ما أنزلنا من
মাদানী (مدنية) / আল-বাকারাহ / ২] এটি সুস্পষ্ট (محكم) এবং এর মধ্য থেকে রহিত (منسوخ) হওয়া অংশ হলো তাঁর এই বাণী: * (অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেখানেই আল্লাহর অভিমুখ বিদ্যমান) * [১১৫ / আল-বাকারাহ] আয়াতটি রহিত (منسوخ) এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (এবং তোমরা যেখানেই থাকো, তোমাদের মুখ সেদিকেই ফেরাও) * [১৪৪ মাদানী (مدنية) / আল-বাকারাহ / ২]।

৫ - পঞ্চম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (নিশ্চয়ই যারা গোপন করে যা আমরা অবতীর্ণ করেছি...
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২৩)
البينات والهدى) * الآية [159 / مدنية / البقرة / 2] نسخها الله تعالى بالاستثناء فقال: * (إلا الذين تابوا وأصلحوا وبينوا) * [159 / البقرة] .

6 - الآية السادسة: قوله تعالى: * (إنما حرم عليكم الميتة والدم … ) * الآية [173 مدنية / البقرة / 2] فنسخ بالسنة بعض الميتة وبعض الدم بقوله (ص) أحلت لنا ميتتان ودمان: السمك والجراد والكبد والطحال وقال سبحانه: * (وما أهل به لغير الله) * ثم رخص للمضطر إذ كان غير باغ ولا عاد بقوله تعالى: * (فلا إثم عليه) *.

7 - الآية السابعة: قوله تعالى: * (كتب عليكم القصاص في القتلى الحر
(স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ ও হেদায়াত) * আয়াত [১৫৯ / মাদানি / আল-বাকারা / ২] আল্লাহ তাআলা একে ব্যতিক্রমের মাধ্যমে রহিত (نسخ) করেছেন এবং বলেছেন: * (তবে তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে, নিজেদের সংশোধন করেছে এবং সত্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে) * [১৫৯ / আল-বাকারা] ।

৬ - ষষ্ঠ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের ওপর কেবল মৃত জন্তু ও রক্ত হারাম করেছেন … ) * আয়াত [১৭৩ মাদানি / আল-বাকারা / ২]। এখানে সুন্নাহ (سنة) দ্বারা কিছু মৃত প্রাণী ও কিছু রক্ত রহিত (نسخ) করা হয়েছে নবী (সা.)-এর এই বাণীর মাধ্যমে: “আমাদের জন্য দুই প্রকারের মৃত প্রাণী ও দুই প্রকারের রক্ত হালাল করা হয়েছে: মাছ ও পঙ্গপাল এবং কলিজা ও প্লীহা।” সুবহানাহু ওয়া তাআলা আরও বলেছেন: * (এবং যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে) *। অতঃপর তিনি নিরুপায় ব্যক্তির জন্য অনুমতি প্রদান করেছেন যদি সে অবাধ্য বা সীমা লঙ্ঘনকারী না হয়, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: * (তার ওপর কোনো পাপ নেই) * ।

৭ - সপ্তম আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (নিহতদের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কিসাস (قصاص) বা সমপ্রতিশোধ গ্রহণ বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; স্বাধীন ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২৪)
بالحر والعبد بالعبد واأنثى بالأنثى) * [178 / البقرة] وها هنا موضع النسخ من الآية الأنثى وباقيها محكم وناسخها قوله تعالى: * (وكتبنا عليهم فيها أن النفس بالنفس) * الآية [45 / المائدة] وقيل ناسخها قوله في سورة بني إسرائيل * (ومن قتل مظلوما فقد جعلنا لوليه سلطانا فلا يسرف في القتل) * [33 مدنية / الإسراء / 17] وقتل الحر بالعبد إسراف وكذلك قتل المسلم بالكافر.

8 - الآية الثامنة: قوله تعالى: * (كتب عليكم إذا حضر أحدكم الموت
স্বাধীনের বদলে স্বাধীন, দাসের বদলে দাস এবং নারীর বদলে নারী)" [১৭৮ / আল-বাকারাহ]। এখানে আয়াতের 'নারী' অংশটি রহিতকরণের (النسخ) ক্ষেত্র, আর এর অবশিষ্টাংশ সুদৃঢ় (محكم)। এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আমি তাদের জন্য এতে বিধান দিয়েছি যে, প্রাণের বদলে প্রাণ" [৪৫ / আল-মায়িদাহ]। আরও বলা হয়েছে যে, এর রহিতকারী (ناسخ) হলো সুরা বনী ইসরাঈলে বর্ণিত মহান আল্লাহর বাণী: "যাকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি তার অভিভাবককে কর্তৃত্ব দান করেছি; সুতরাং সে যেন হত্যায় সীমা লঙ্ঘন না করে" [৩৩ মাদানিয়া / আল-ইসরা / ১৭]। আর দাসের বদলে স্বাধীন ব্যক্তিকে হত্যা করা হলো সীমা লঙ্ঘন, একইভাবে কাফিরের বদলে মুসলিমকে হত্যা করাও।

৮ - অষ্টম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের কারো নিকট যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তোমাদের জন্য বিধান দেওয়া হয়েছে..."
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২৫)
إن ترك خيرا الوصية للوالدين والأقربين) * [180 مدنية / البقرة / 2] هذه الآية منسوخة وناسخها قوله تعالى: * (يوصيكم الله في أولادكم للذكر مثل حظ الأنثيين) * [11 مدنية / النساء / 4] .

9 - الآية التاسعة: قوله تعالى: * (يا أيها الذين آمنوا كتب عليكم الصيام كما كتب على الذين من قبلكم) * الآية [183 مدنية / البقرة / 2] منسوخة وذلك أنهم كانوا إذا فطروا أكلوا وشربوا وجامعوا النساء ما لم
(যদি সে কোনো সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতামাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ওসিয়ত করা) * [১৮০ মাদানি / আল-বাকারাহ / ২] এই আয়াতটি রহিত (منسوخة) এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান) * [১১ মাদানি / আন-নিসা / ৪] ।

৯ - নবম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম বা রোজা পালন বিধিবদ্ধ করা হয়েছে, যেমন বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর) * আয়াত [১৮৩ মাদানি / আল-বাকারাহ / ২] রহিত (منسوخة)। আর তা এ কারণে যে, তারা যখন ইফতার করতেন তখন তারা পানাহার করতেন ও স্ত্রী সহবাস করতেন যতক্ষণ না
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২৬)
يصلوا العشاء الاخيرة وناموا قبل ذلك ثم نسخ الله ذلك بقوله تعالى: * (أحل لكم ليلة الصيام الرفث إلى نسائكم) * … إلى قوله: * (وابتغوا ما كتب الله لكم) * [187 / البقرة] في شأن عمر رضي الله عنه والأنصاري لأنهما جامعا معا ومزل في صرفه * (وكلوا واشربوا حتى يتبين لكم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر) * [187 مدنية / البقرة / 2] .

10 - الآية العاشرة: قوله تعالى: * (وعلى الذين يطيقونه فدية طعام مسكين) * [184 مدنية / البقرة / 2] هذه الآية نصفها منسوخ وناسخها قوله تعالى: * (فمن شهد منكم الشهر فليصمه) * [185 / البقرة] يعني فمن شهد منكم الشهر حيا بالغا صحيحا عاقلا فليصمه.
তারা শেষ ইশার সালাত আদায় করত এবং তার আগেই ঘুমিয়ে পড়ত। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করলেন: * (সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস বৈধ করা হয়েছে) * … তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: * (এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো) * [১৮৭ / বাকারা]। এটি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং একজন আনসারী সাহাবীর প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে, কেননা তাঁরা উভয়েই সহবাসে লিপ্ত হয়েছিলেন। আর এর ধারাবাহিকতায় অবতীর্ণ হয়: * (আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায়) * [১৮৭ মদিনীয় / বাকারা / ২] ।

১০ - দশম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (আর যাদের জন্য রোজা রাখা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদইয়া হিসেবে একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করা) * [১৮৪ মদিনীয় / বাকারা / ২]। এই আয়াতের অর্ধেক অংশ রহিত (منسوخ) এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে) * [১৮৫ / বাকারা]। অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জীবিত, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও বিবেকসম্পন্ন অবস্থায় এই মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২৭)
11 - الآية الحادية عشرة: قوله تعالى: * (وقاتلوا في سبيل الله الذين تقاتلونكم ولا تعتدوا إن الله لا يحب المعتدين) * [190 مدنية / البقرة / 2] هذه جميعا محكمة إلا قوله تعالى: * (ولا تقاتلوهم عند المسجد الحرام حتى يقتلوكم فيه … ) * الآية [191 مدينة / البقرة / 2] منسوخة وناسخها قوله تعالى: * (فإن قاتلوكم فاقتلوهم) * [191 مدنية 2 البقرة / 2] .

13 - الآية الثالثة عشرة: قوله تعالى: * (فإن انتهوا فإن الله غفور رحيم) * [192 / البقرة] وهذا من الأخبار التي معناها الأمر تأويله فاغفروا لهم واعفوا عنهم ثم أخبار العفو منسوخة بآية السيف قال تعالى: * (فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم … ) * الآية [5 مدنية / التوبة / 9] .
11 - একাদশ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: "আর যারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, তোমরাও আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ করো এবং সীমালঙ্ঘন করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না" [১৯০ মাদানি / আল-বাকারাহ / ২]। এই সবটুকু আয়াতই সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم), তবে মহান আল্লাহর এই বাণীটি ব্যতীত: "আর তোমরা মসজিদুল হারামের নিকট তাদের সাথে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে..." [১৯১ মাদানি / আল-বাকারাহ / ২] আয়াতাংশটি রহিত (منسوخ) এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে, তবে তোমরা তাদের হত্যা করো" [১৯১ মাদানি / আল-বাকারাহ / ২]।

13 - ত্রয়োদশ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তারা যদি বিরত থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু" [১৯২ / আল-বাকারাহ]। এটি ঐ সকল সংবাদের (خبر) অন্তর্ভুক্ত যার অর্থ হলো আদেশ; এর ব্যাখ্যা হলো: 'তোমরা তাদের ক্ষমা করো এবং মার্জনা করো'। অতঃপর ক্ষমার সংবাদসমূহ তলোয়ারের আয়াত (আয়াতুস সাইফ) দ্বারা রহিত (منسوخ) হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা করো..." আয়াত [৫ মাদানি / আত-তাওবাহ / ৯]।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২৮)
14 - الآية الرابعة عشرة: قوله تعالى: * (ولا تحلقوا رؤوسكم حتى يبلغ

الهدي محله … ) * الآية [196 مدنية / البقرة / 2] نسخت تلاستثناء بقوله تعالى: * (فمن كان منكم مريضا أو به أذى من رأسه ففدية من صيام أو صدقة أو نسك … ) * الآية [196 مدنية / البقرة / 2] .

15 - الآية الخامسة عشرة: قوله تعالى: * (يسألونك ماذا ينفقون قل ما أنفقتم من خير فللوالدين والأقربين … ) * الآية [215 مدنية / البقرة / 2] منسوخة وناسخها قوله تعالى: * (إنما الصدقات للفقراء والمساكين … ) * الآية [60 مدنية / التوبة / 9] .

16 - الآية السادسة عشرة: قوله تعالى: * (يسألونك عن الشهر الحرام قتال فيه … ) * الآية [217 / البقرة] منسوخة وناسخها قوله تعالى: * (فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم … ) * الآية [5 مدنية / التوبة / 9] .

17 - الآية السابعة عشرة: قوله تعالى: * (يسئلونك عن الخمر والميسر … ) * الآية [219 مدنية / البقرة / 2] منسوخة نسخها آية منها قوله تعالى: * (وإثمهما أكبر من نفعهما) * [219 / البقرة] فلما نزلت هذه الآية امتنع قوم عن شربها وبقي قوم، ثم أنزل الله تعالى: * (يا أيها الذين آمنوا لا تقربوا الصلاة وأنتم سكارى حتى تعلموا ما تقولون) * [43 / النساء / 4] وكانوا يشربون بعد العشاء الآخرة ثم يرقدون ثم يقومون من غد وقد صحوا ثم يشربونها بعد الفجر إن شاءوا فإذا جاء وقت الظهر لا يشربونها البتة ثم أنزل الله تعالى: * (فاجتنبوه) * [90 مدنية / المائدة / 5] فاتركوه واختلف العلماء على التحريم ههنا.

أو قوله تعالى: * (فهل أنتم منهون) * [91 مدنية / المائدة / 5] لأن المعنى انتهوا - كما قال في سورة الفرقان * (أتصبرون) * [20 مكية / الفرقان / 25] الشعراء * ( … قوم فرعون ألا يتقون) * [11 مكية / الشعراء / 26] المعنى اتقوا.

18 - الآية الثامنة عشرة: قوله تعالى: * (ويسئلونك ماذا ينفقون قل العفو) * [219 مدنية / البقرة / 2] يعني الفضل من أموالكم الآية منسوخة
14 - চতুর্দশ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (আর তোমরা তোমাদের মাথা মুণ্ডন করো না যে পর্যন্ত কুরবানির পশু তার নির্দিষ্ট স্থানে না পৌঁছে … ) * আয়াত [১৯৬ মাদানি / আল-বাকারা / ২]। এটি একটি ব্যতিক্রম (استثناء) দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে: * (সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ কিংবা তার মাথায় কোনো কষ্ট থাকে, তবে সে সিয়াম কিংবা সদকা কিংবা কুরবানি দ্বারা ফিদয়া প্রদান করবে … ) * আয়াত [১৯৬ মাদানি / আল-বাকারা / ২]।

15 - পঞ্চদশ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন, তোমরা যে উত্তম সম্পদ ব্যয় করো, তা পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য … ) * আয়াত [২১৫ মাদানি / আল-বাকারা / ২]। এটি রহিত (منسوخة) এবং এর রহিতকারী (ناسخها) হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: * (নিশ্চয়ই সদকা তো কেবল ফকির ও মিসকিনদের জন্য … ) * আয়াত [৬০ মাদানি / আত-তাওবাহ / ৯]।

16 - ষোড়শ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (তারা আপনাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে … ) * আয়াত [২১৭ / আল-বাকারা]। এটি রহিত (منسوخة) এবং এর রহিতকারী (ناسخها) হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: * (অতঃপর মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো … ) * আয়াত [৫ মাদানি / আত-তাওবাহ / ৯]।

17 - সপ্তদশ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে … ) * আয়াত [২১৯ মাদানি / আল-বাকারা / ২]। এটি রহিত (منسوخة); একে রহিত করেছে উক্ত আয়াতেরই একটি অংশ, তা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: * (আর এ দুটির পাপ তাদের উপকারের চেয়ে বড়) * [২১৯ / আল-বাকারা]। যখন এই আয়াতটি নাজিল হলো, তখন একদল লোক মদ পান থেকে বিরত রইল এবং অন্য একদল পান করতে থাকল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন: * (হে মুমিনগণ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না যে পর্যন্ত না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পার) * [৪৩ / আন-নিসা / ৪]। তারা এশার সালাতের পর পান করত, তারপর ঘুমাত, তারপর পরদিন সকালে উঠত যখন তারা নেশামুক্ত হতো। তারা চাইলে ফজরের পর পান করত, কিন্তু যোহরের সময় হলে তারা আর একেবারেই পান করত না। এরপর আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন: * (অতএব তোমরা তা বর্জন করো) * [৯০ মাদানি / আল-মায়িদাহ / ৫]। অর্থাৎ তা ত্যাগ করো। আর এখানে নিষিদ্ধকরণের (التحريم) ব্যাপারে আলেমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন।

অথবা আল্লাহ তাআলার বাণী: * (সুতরাং তোমরা কি বিরত হবে?) * [৯১ মাদানি / আল-মায়িদাহ / ৫]। কারণ এর অর্থ হলো 'তোমরা বিরত হও' - যেমনটি সূরা আল-ফুরকানে বলা হয়েছে: * (তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে?) * [২০ মাক্কি / আল-ফুরকান / ২৫] এবং সূরা আশ-শুআরায়: * ( … ফেরাউন সম্প্রদায়; তারা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?) * [১১ মাক্কি / আশ-শুআরা / ২৬]। এর অর্থ হলো 'তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো'।

18 - অষ্টাদশ আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (আর তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন, যা অতিরিক্ত) * [২১৯ মাদানি / আল-বাকারা / ২]। অর্থাৎ তোমাদের সম্পদের অতিরিক্ত অংশ; আয়াতটি রহিত (منسوخة)।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ২৯)
وناسخها قوله تعالى: * (خذ من أموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم … ) * الآية [103 مدنية / التوبة / 9] .

19 - الآية التاسعة عشرة: قوله تعالى: * (ولا تنكحوا المشركات حتى يؤمن) * [231 / البقرة] وليس في هذه شئ منسوخ إلا بعض حكم المشركات وجميعها محكم وذلك أن المشركات يعم الكتابيات والوثنيات ثم استثنى من جميع المشركات الكتابيات فقط وناسخها قوله تعالى: * (والمحصنات من المؤمنات والمحصنات من الذين أوتوا الكتاب من قبلكم … ) * [5 مدنية / المائدة / 5] يعني بذلك اليهوديات والنصرانيات ثم مع الإباحة عفتهن فإن كن عواهر لم يجز 20 - الآية العشرون: قوله تعالى: * (والمطلقات يتربصن بأنفسهن ثلاثة قروء) * [228 مدنية / البقرة / 2] هذه الآية جميعها محكم إلا كلاما في وسطها وهو قوله تعالى: * (وبعولتهن أحق بردهن في ذلك) * الآية [228 مدنية / البقرة / 2] وناسخها قوله تعالى: * (الطلاق مرتان فإمساك بمعروف أو تسريح بإحسان … ) * الآية [229 مدنية / البقرة / 2] .

21 - الآية الحادية والعشرون: قوله تعالى في آية الخلع: * (ولا يحل لكم أن تأخذوا مما آتيتموهن شيئا) * [229 مدنية / البقرة / 2] ثم نسخها بالاستثناء وهو قوله تعالى: * (إلا أن يخافا ألا يقيما حدود الله) * [229 مدنية / البقرة / 2] .

22 - الآية الثانية والعشرون: قوله تعالى: * (والوالدات يرضعن أولادهن

حولين كاملين … ) * الآية [233 / البقرة] نسخت بالاستثناء بقوله: * (فإن أرادا فصالا عن تراض منهما وتشاور فلا جناح عليهما) * [233 / البقرة / 2] فصارت هذه الإرادة بالاتفاق ناسخة لحولين كاملين.

23 - الآية الثالثة والعشرون: قوله تعالى: * (والذين يتوفون منكم ويذرون أزواجا وصية لأزواجهم … ) * الآية [240 / البقرة] منسوخة
এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (তাদের ধন-সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যা তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে … ) * আয়াত [১০৩ মাদানি / আত-তাওবাহ / ৯]।

১৯ - উনবিংশতম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে) * [২৩১ / আল-বাকারা]। এই আয়াতের কোনো কিছুই রহিত (منسوخ) নয়, তবে মুশরিক নারীদের কিছু বিধান ব্যতীত এবং এর সবটুকুই সুসংহত (محكم)। আর তা এই কারণে যে, 'মুশরিক নারী' শব্দটি আহলে কিতাব ও মূর্তিপূজক উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে; অতঃপর সমস্ত মুশরিক নারীদের মধ্য থেকে কেবল আহলে কিতাব নারীদের স্বতন্ত্র করা হয়েছে এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীরাও তোমাদের জন্য বৈধ … ) * [৫ মাদানি / আল-মায়িদা / ৫]। এর দ্বারা ইহুদি ও খ্রিস্টান নারীদের বোঝানো হয়েছে। তবে এই বৈধতার শর্ত হলো তাদের সতীত্ব, যদি তারা ব্যভিচারিণী হয় তবে তা বৈধ হবে না। ২০ - বিংশতম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (আর তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের অপেক্ষায় রাখবে) * [২২৮ মাদানি / আল-বাকারা / ২]। এই আয়াতের পুরোটাই সুসংহত (محكم), কেবল এর মধ্যবর্তী একটি বক্তব্য ব্যতীত, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (আর তাদের স্বামীরা এই সময়ের মধ্যে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার অধিক হকদার) * আয়াত [২২৮ মাদানি / আল-বাকারা / ২]। এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (তালাক দুইবার, তারপর হয় সদ্ভাবের সাথে রাখা, না হয় দয়ার সাথে বিদায় দেওয়া … ) * আয়াত [২২৯ মাদানি / আল-বাকারা / ২]।

২১ - একুশতম আয়াত: খুলআ সংক্রান্ত আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: * (তোমরা তাদের যা দিয়েছ তা থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা তোমাদের জন্য হালাল নয়) * [২২৯ মাদানি / আল-বাকারা / ২]। অতঃপর তা ব্যতিক্রমের মাধ্যমে রহিত (نسخ) করা হয়েছে, যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (তবে যদি তারা উভয়ে আশঙ্কা করে যে তারা আল্লাহর বিধান রক্ষা করতে পারবে না) * [২২৯ মাদানি / আল-বাকারা / ২]।

২২ - বাইশতম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (আর মায়েরা তাদের সন্তানদের দুধ পান করাবে

পূর্ণ দুই বছর … ) * আয়াত [২৩৩ / আল-বাকারা]। এটি ব্যতিক্রমের দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: * (অতঃপর যদি তারা উভয়ে পারস্পরিক সন্তুষ্টি ও পরামর্শের মাধ্যমে দুধ ছাড়াতে চায়, তবে তাদের কোনো গুনাহ নেই) * [২৩৩ / আল-বাকারা / ২]। ফলে এই পারস্পরিক সম্মতির বিষয়টি ঐকমত্যের ভিত্তিতে 'পূর্ণ দুই বছর'-এর বিধানের জন্য রহিতকারী (ناسخة) হয়েছে।

২৩ - তেইশতম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রী রেখে যাবে, তাদের স্ত্রীদের জন্য অসিয়ত … ) * আয়াত [২৪০ / আল-বাকারা]। এটি রহিত (منسوخة)।
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৩০)
وناسخها قوله تعالى: * (والذين يتوفون منكم ويذرون أزواجا يتربصن بأنفسهن أربعة أشهر وعشرا) * [234 / البقرة] وليس في كتاب الله آية تقدم ناسخها على منسوخها وآية أخرى في الأحزاب * (يا أيها النبي إنا أحللنا لك أزواجك) * [50 مدنية / الأحزاب / 33] هذه الناسخة والمنسوخة * (لا يحل لك النساء من بعد … ) * الآية [52 مدنية / الأحزاب / 33] .

24 - الآية الرابعة والعشرون: قوله تعالى: * (لا إكراه في الدين … ) * الآية [256 / البقرة / 2] منسوخة وناسخها قوله تعالى: * (فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم … ) * الآية [5 مدنية / التوبة / 9] .

25 - الآية الخامسة والعشرون: قوله تعالى: * (وأشهدوا إذا تبايعتم … ) * الآية [282 / البقرة] منسوخة وناسخها قوله تعالى: * (فأن أمن بعضكم تعضا فليؤد الذي اؤتمن أمانته) * [283 مدنية / البقرة / 2] .

26 - الآية السادسة والعشرون: قوله تعالى: * (لله ما في السموات وما في الأرض) * هذا محكم ثم قال: * (وإن تبدوا ما في أنفسكم أو تخفوه يحاسبكم به الله) * [284 مدنية / البقرة / 2] فشق مزولها عليهم فقال النبي (ص) لا تقولوا كما قالت اليهنود سمعنا وعصينا ولكن قولوا سمعنا وأطعنا فلما علم الله تسليمهم لأمره أنزل ناسخ هذه بقوله تعالى: * (لا يكلف الله نفسا إلا وسعها) *

[286 مدنية / البقرة / 2] وخفف من الوسع بقول تعالى: * (يريد الله بكم اليسر ولا يريد بكم العسر) * [185 مدنية / البقرة / 2] .

 

‌‌3 - آل عمران: وهي مدنية فيها خمس آيات منسوخة:

1 - فأولى ذلك: قوله تعالى: * (فإن تولوا فإنما عليك البلاغ) * الآية [20 مدنية / آل عمران / 3] منسوخة، وناسخها آية السيف وهي قوله تعالى:
এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা নিজেদের ব্যাপারে চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে) * [সূরা আল-বাকারাহ: ২৩৪]। আল্লাহর কিতাবে এমন কোনো আয়াত নেই যেখানে রহিতকারী (ناسخ) আয়াতটি রহিত (منسوخ) আয়াতের আগে এসেছে (এটি ব্যতীত)। আর আল-আহজাব সূরার অন্য একটি আয়াত হলো: * (হে নবী! আমি আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে বৈধ করেছি) * [সূরা আল-আহজাব: ৫০, মাদানি]। এটি রহিতকারী (ناسخ) এবং রহিত (منسوخ) আয়াতটি হলো: * (এরপর আপনার জন্য আর কোনো নারী বৈধ নয় ... ) * [সূরা আল-আহজাব: ৫২, মাদানি]।

২৪ - চব্বিশতম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই ... ) * [সূরা আল-বাকারাহ: ২৫৬] আয়াতটি রহিত (منسوخ) এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (অতঃপর মুশরিকদের হত্যা করো যেখানেই তাদের পাও ... ) * [সূরা আত-তাওবাহ: ৫, মাদানি]।

২৫ - পঁচিশতম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (এবং যখন তোমরা পরস্পর কেনাবেচা করো, তখন সাক্ষী রাখো ... ) * [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮২] আয়াতটি রহিত (منسوخ) এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (যদি তোমাদের একজন অন্যজনকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়েছে সে যেন তার আমানত আদায় করে) * [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৩, মাদানি]।

২৬ - ছাব্বিশতম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব আল্লাহরই) * এটি সুদৃঢ় (محكم), এরপর তিনি বলেছেন: * (তোমাদের মনে যা আছে তা তোমরা প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, আল্লাহ তোমাদের থেকে তার হিসাব নেবেন) * [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৪, মাদানি]। এর মর্মার্থ সাহাবীদের নিকট অত্যন্ত কঠিন মনে হলো, তখন নবী (সা.) বললেন: তোমরা ইয়াহুদিদের মতো বলো না যে, 'আমরা শুনলাম ও অমান্য করলাম', বরং তোমরা বলো, 'আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম'। যখন আল্লাহ তাঁর নির্দেশের প্রতি তাদের আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন এর রহিতকারী (ناسخ) হিসেবে অবতীর্ণ করলেন মহান আল্লাহর বাণী: * (আল্লাহ কোনো সত্তার ওপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না) *

[সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬, মাদানি] এবং সামর্থ্যের এই বিষয়টিকে আরও সহজ করেছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: * (আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তোমাদের জন্য কোনো কাঠিন্য চান না) * [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫, মাদানি]।

 

‌‌৩ - আল-ইমরান: এটি মাদানি সূরা, এতে পাঁচটি রহিত (منسوخ) আয়াত রয়েছে:

১ - প্রথমটি হলো: মহান আল্লাহর বাণী: * (যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেয়া) * [সূরা আল-ইমরান: ২০, মাদানি] আয়াতটি রহিত (منسوخ), এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো তলোয়ারের আয়াত (آية السيف), যা হলো মহান আল্লাহর বাণী:
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৩১)
* (فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم) * [5 مدنية / التوبة / 9] .

2 - الآية الثانية: قوله تعالى: * (كيف يهدي الله قوما كفروا بعد إيمانهم) * إلى قوله: * (ولا هم ينظرون) * [86 مدنية / آل عمران / 3] .

3 - 4 فهذه ثلاث تصير مع الأولى أربع آيات نزلت في ستة رهط ارتدوا عن الإسلام بعد أن أظهروا الإيمان ثم استثنى واحدا من الستة وهو سويد بن الصامت فقال تعالى: * (إلا الذين تابوا من بعد ذلك وأصلحوا) * [89 / آل عمران] فهذه الآية ناسخة لها.

5 - الآية الخامسة: قوله تعالى: * (يا أيها الذين آمنوا اتقوا اللهحق تقاته) * [102 / آل عمران 3] لما نزلت لم يعلم ما تأويلها فقالوا يا رسول الله ما حق تقاته فقال عليه السلام: حق تقاته أن يطاع فلا يعصى وأن يذكر فلا ينسى وأن يشكر فلا يكفر فقالوا يا رسول اللله ومن يطيق ذل: فانزعجوا لنزولها انزعاجا عظيما ثم أنزل الله لعد مدة يسيرة آية توكد حكمها وهي قوله تعالى: * (وجاهدوا في الله حق جهاده) * [78 مدنية / الجح / 22] فكان هذا عليهم اعظم من الأول ومعناها اعملوا لله حق عمله فكادت عقولهم تذهل فلما علم الله ما قد نزل بهم في هذا الأمر العسير خفف فنسخها بالآية التي في التغابن

وهي قوله عالى: * (فاتقوا الله ما استطعتم) * [16 مدنية / التغابن / 64] فكان هذا تيسرا من التعسير الأول وتخفيفا من التشديد الأول.

 

‌‌4 - سورة النساء: وهي مدنية تحتوي على أربع وعشرين آية منسوخة

أولاهما: قوله تعالى: * (وإذا حضر القسمة أولوا القربى واليتامى والمساكين) * [8 مدنية / النساء / 4] ثم نسخت بآية المواريث وهي قوله تعالى: * (يوصيكم الله في أولادكم للذكر مثل حظ الأنثيين … ) * الآية [11 مدنية / النساء / 4] .

الآية الثانية: قوله تعالى: * (وليخش الذين لو تركوا من خلفهم ذرية ضعافا خافوا عليهم … ) * الآية [9 / النساء / 4] ثم نسخت بقوله: * (فمن خاف من
* (অতঃপর মুশরিকদের যেখানে পাও হত্যা কর) * [৫ মাদানি (مدنية) / আত-তাওবাহ / ৯] ।

২ - দ্বিতীয় আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (আল্লাহ কীভাবে সেই সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেবেন, যারা ঈমান আনার পর কুফরি করেছে) * থেকে তাঁর বাণী: * (এবং তাদের বিরতি দেওয়া হবে না) * পর্যন্ত [৮৬ মাদানি (مدنية) / আল-ইমরান / ৩] ।

৩ - ৪ সুতরাং এই তিনটি আয়াত প্রথমটির সাথে মিলে মোট চারটি আয়াত হয়েছে, যা এমন ছয় ব্যক্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যারা ঈমান প্রকাশ করার পর ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগ (ارتدوا) করেছিল। অতঃপর আল্লাহ তাদের ছয়জনের মধ্যে একজনকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন, আর তিনি হলেন সুয়াইদ ইবনুল সামিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: * (কিন্তু যারা এরপর তওবা করেছে এবং সংশোধন হয়েছে) * [৮৯ / আল-ইমরান]। সুতরাং এই আয়াতটি পূর্ববর্তী আয়াতের রহিতকারী (ناسخة)।

৫ - পঞ্চম আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় কর) * [১০২ / আল-ইমরান ৩]। যখন এটি অবতীর্ণ হলো, তখন এর ব্যাখ্যা (تأويلها) কী তা জানা ছিল না। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! 'যথাযথ ভয়' বলতে কী বোঝায়? তিনি আলাইহিস সালাম বললেন: 'যথাযথ ভয় হলো তাঁর আনুগত্য করা হবে, অবাধ্য হওয়া হবে না; তাঁকে স্মরণ করা হবে, ভুলে যাওয়া হবে না; এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করা হবে, অকৃতজ্ঞ হওয়া হবে না।' তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কার এমন সামর্থ্য আছে? এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণে তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। অতঃপর অল্পকাল পরেই আল্লাহ একটি আয়াত নাজিল করেন যা এই বিধানকে আরও সুদৃঢ় করে, আর তা হলো আল্লাহর বাণী: * (এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করো যেভাবে জিহাদ করা উচিত) * [৭৮ মাদানি (مدنية) / আল-হজ্জ / ২২]। এটি তাদের ওপর প্রথমটির চেয়েও কঠিন মনে হলো এবং এর অর্থ হলো—আল্লাহর জন্য যথাযথ আমল করো। ফলে তাদের বুদ্ধি প্রায় দিশেহারা হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। অতঃপর আল্লাহ যখন তাদের এই কঠিন অবস্থার কথা জানলেন, তখন তিনি সহজ করে দিলেন এবং সূরা আত-তাগাবুনের আয়াত দ্বারা এটি রহিত (نسخ) করলেন।

যা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: * (অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো তোমাদের সাধ্য অনুযায়ী) * [১৬ মাদানি (مدنية) / আত-তাগাবুন / ৬৪]। এটি ছিল প্রথম কঠিন ব্যবস্থার তুলনায় সহজীকরণ এবং প্রথম কঠোরতার তুলনায় লাঘব স্বরূপ।

 

‌‌৪ - সূরা আন-নিসা: এটি মাদানি (مدنية) সূরা, যাতে চব্বিশটি রহিতকৃত (منسوخة) আয়াত রয়েছে।

প্রথমটি হলো: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (আর যখন বণ্টনের সময় আত্মীয়স্বজন, এতিম ও মিসকিনরা উপস্থিত হয়) * [৮ মাদানি (مدنية) / আন-নিসা / ৪]। অতঃপর এটি উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে, যা হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: * (আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান … ) * আয়াত পর্যন্ত [১১ মাদানি (مدنية) / আন-নিসা / ৪]।

দ্বিতীয় আয়াত: আল্লাহ তাআলার বাণী: * (আর তাদের ভয় করা উচিত, যারা নিজেদের পেছনে অসহায় সন্তানসন্ততি রেখে গেলে তাদের জন্য শঙ্কিত হতো … ) * আয়াত পর্যন্ত [৯ / আন-নিসা / ৪]। এরপর এটি তাঁর এই বাণী দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে: * (অতঃপর যে ব্যক্তি আশঙ্কা করে...
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৩২)
موص جنفا أو إثما فأصلح بينهم فلا إثم عليه … ) * الآية [182 مدنية / البقرة / 2] .

الآية الثالثة: قوله تعالى: * (إن الذين يأكلون أموال اليتامى ظلما … ) * [10 مدنية / النساء / 4] وذلك أنه لما نزلت هذه الآية امتنعوا من أموال اليتامى وعذلوهم فدخل الضرر على الأيتام ثم أنزل الله تعالى: * (ويسألونك عن اليتامى قل إصلاح لهم خير) * [220 / البقرة] من المخالطة من ركوب الدابة وشرب اللبن فرخص في المخالطة ولم يرخص في أكل الأموال بالظلم ثم قال عز وجل: * (ومن كان غنيا فليستعفف ومن كان فقيرا فليأكل بالمعروف) * [6 / النساء / 4] فهذه الآية نسخت الأولى والمعروف القرض ههنا فإذا أيسر رده فإن مات قبل ذلك فلا شئ عليه.

الآية الرابعة: قوله تعالى: * (واللاتي يأتين الفاحشة من نسائكم … ) * الآية [15 مدنية / النساء / 4] كانت المرأة إذا زنت وهي محصنة حبست في بيت

فلا تخرج منه حتى تموت، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: خذوا عني قد جعل لهن السبيل الثيب بالثيب الرجم، والبكر جلد مائة، وتغريب عام.

فهذه الآية منسوخة بعضها بالكتاب بقوله تعالى: * (أو يجعل الله لهن سبيلا) * [15 مدنية / النساء / 4] وبعضها بالسنة، وكنى فيها بذكر النساء عن ذكر النساء والرجال.

الآية الخامسة: قوله تعالى: * (واللذان يأتيانها منكم فآذوهما) * [16 مدنية / النساء / 4] كان البكران إذا زنيا عيرا وشتما فنسخ الله ذلك بالآية التي في سورة النور قوله: * (الزانية والزاني فاجلدوا كل واحد منهما مائة جلدة … ) * [2 مدنية / النور / 24] .

الآية السادسة: قوله تعالى: * (إنما التوبة على الله للذين يعملون السوء بجهالة ثم يتوبون من قريب … ) * الآية [17 مدنية / النساء / 4] وذلك أن الله تعالى ضمن لأهل التوحيد أن يقبل أن يغرغروا وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم كل من
...কোনো অসিয়তকারী (অসিয়ত করার সময়) পক্ষপাতিত্ব কিংবা অন্যায়ের আশঙ্কা করে, অতঃপর সে তাদের মধ্যে আপোস করে দেয়, তবে তার কোনো গুনাহ নেই … ) * আয়াত [১৮২ মাদানী / আল-বাকারাহ / ২] ।

তৃতীয় আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (নিশ্চয় যারা এতিমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে … ) * [১০ মাদানী / আন-নিসা / ৪]। আর তা এই কারণে যে, যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন তারা এতিমদের ধন-সম্পদ থেকে বিরত থাকল এবং তাদের পৃথক করে দিল, ফলে এতিমদের জন্য ক্ষতি দেখা দিল। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: * (তারা আপনার কাছে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে; বলুন, তাদের সংশোধন করা উত্তম) * [২২০ / আল-বাকারাহ]। এটি একত্রে মেলামেশা যেমন সওয়ারিতে আরোহণ এবং দুধ পান করার ক্ষেত্রে; ফলে আল্লাহ একত্রে মেলামেশার অনুমতি দিলেন, কিন্তু অন্যায়ভাবে সম্পদ ভক্ষণ করার অনুমতি দেননি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বললেন: * (আর যে ব্যক্তি অভাবমুক্ত সে যেন বিরত থাকে, আর যে অভাবগ্রস্ত সে যেন সংগত পরিমাণ ভোগ করে) * [৬ / আন-নিসা / ৪]। সুতরাং এই আয়াতটি প্রথম আয়াতটিকে রহিত (منسوخة) করেছে। আর এখানে 'সংগত পরিমাণ' বলতে ঋণ বুঝানো হয়েছে; সুতরাং যখন সে সচ্ছল হবে তখন তা ফিরিয়ে দেবে, আর যদি তার আগেই সে মারা যায় তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।

চতুর্থ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (আর তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে … ) * আয়াত [১৫ মাদানী / আন-নিসা / ৪]। শুরুতে নিয়ম ছিল, কোনো নারী যদি ব্যভিচার করত এবং সে বিবাহিত হতো, তবে তাকে ঘরে বন্দি করে রাখা হতো

সেখান থেকে সে মৃত্যু পর্যন্ত বের হতে পারত না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তোমরা আমার নিকট থেকে গ্রহণ করো, আল্লাহ তাদের জন্য পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। বিবাহিত ব্যক্তির সাথে বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচারের শাস্তি হলো পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড, আর অবিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে একশ চাবুক এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন।'

সুতরাং এই আয়াতটির কিছু অংশ আল্লাহর কিতাবের বাণী: * (অথবা আল্লাহ তাদের জন্য কোনো পথ করে দেন) * [১৫ মাদানী / আন-নিসা / ৪] দ্বারা রহিত (منسوخة) হয়েছে এবং কিছু অংশ সুন্নাহ (سنة) দ্বারা রহিত হয়েছে। আর এখানে 'নারীদের' উল্লেখের মাধ্যমে নারী ও পুরুষ উভয়কেই বোঝানো হয়েছে।

পঞ্চম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (তোমাদের মধ্য থেকে যে দুইজন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তোমরা তাদের উভয়কে শাস্তি দাও) * [১৬ মাদানী / আন-নিসা / ৪]। অবিবাহিত দুইজন যখন ব্যভিচার করত, তখন তাদের তিরস্কার ও গালিগালাজ করা হতো। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সূরা আন-নূরের আয়াত দ্বারা তা রহিত (نسخ) করে দেন, যেখানে বলা হয়েছে: * (ব্যভিচারিণী নারী ও ব্যভিচারী পুরুষ, তাদের প্রত্যেককে একশটি করে চাবুক মারো … ) * [২ মাদানী / আন-নূর / ২৪] ।

ষষ্ঠ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (অবশ্যই আল্লাহ সেই সব লোকের তওবা কবুল করবেন, যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে এবং দ্রুত তওবা করে … ) * আয়াত [১৭ মাদানী / আন-নিসা / ৪]। আর তা এজন্য যে, আল্লাহ তাআলা একত্ববাদে বিশ্বাসীদের জন্য গ্যারান্টি দিয়েছেন যে, প্রাণ কণ্ঠাগত হওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি তওবা কবুল করবেন। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'প্রত্যেক ব্যক্তিই যারা...'
(খণ্ড: ১) আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ - ইবনে হাযম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
كان قبل الموت ثم استثنى في الآية الأخرى بقوله تعالى: * (إلا ما قد سلف) * فصارت ناسخة لبعض حكمها لأهل الشرك ثم قال: * (وليست التوبة للذين يعملون السيئات … ) * إلى آخرها [18 / النساء / 4] .

الآية السابعة: قوله تعالى: * (يا أيها الذين آمنوا لا يحل لكم أن ترثوا النساء كرها) * إلى قوله: * (ببعض ما آتيتموهن … ) * [19 / النساء / 4] ثم نسخت بالاستثناء بقوله تعالى: * (إلا أن يأتين بفاحشة مبينة … ) * [19 / النساء / 4] .

الآية الثامنة: قوله تعالى: * (ولا تنكحواما نكح آباؤكم) * ثم نسخت بالاستثناء بقوله تعالى: * (إلا ما قد سلف) * [23 / النساء / 4] أي من أفعالهم فقد عفوت عنه.

الآية التاسعة: قوله تعالى: * (وأن تجمعوا بين الأختين) * [23 /

النساء / 4] نسخت بالاستثناء بقوله: * (إلا ما قد سلف) * [23 / النساء / 4] يني عفوت عنه.

الآية العاشرة: قوله تعالى: * (فما استمتعتم به منهن فآتوهن أجورهن فريضة) * [24 / النساء / 4] فنسخت بقوله صلى الله عليه وسلم إني كنت أحللت هذه المتعة ألا وإن الله ورسوله قد حرماها ألا فليبلغ الشاهد الغائب.

ووقع ناسخها من القرآن موضع ذكر ميراث الزوجة الثمن والربع فلم يكن لها في ذلك نصيب.

وقال محمد بن إدريس الشافعي رحمة الله عليه موضع تحريمها في سورة المؤمن وناسخها قوله تعالى: * (والذين هم لفوجهم حافظون إلا على أزواجهم أو ما ملكت أيمانهم … ) * [5 مكية / المؤمن / 23] وأجمعوا على أنها ليست بزوجة ولا ملك يمين فنسخها الله بهذه الآية.

الآية الحادية عشرة: قوله تعالى: * (يا أيها الذين آمنوا لا تأكلوا أموالكم بينكم بالباطل … ) * الآية [29 مدنية / النساء / 4] نسخت بقوله تعالى في سورة النور: * (ليس على الأعمى حرج ولا على الأعرج حرج ولا على المريض
এটি মৃত্যুর আগে ছিল, অতঃপর তিনি অন্য আয়াতে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে ব্যতিক্রম প্রদান করেছেন: * (ইতোপূর্বে যা গত হয়েছে তা ব্যতীত) *। ফলে এটি শিরককারীদের জন্য এর বিধানের অংশবিশেষের রহিতকারী (ناسخة) সাব্যস্ত হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেছেন: * (আর তওবা তাদের জন্য নয় যারা মন্দ কাজ করে... ) * শেষ পর্যন্ত [১৮ / আন-নিসা / ৪]।

সপ্তম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে) * থেকে তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: * (তোমরা তাদেরকে যা প্রদান করেছ তার কিছু অংশ … ) * [১৯ / আন-নিসা / ৪]। অতঃপর এটি মহান আল্লাহর বাণী: * (যদি না তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় … ) * [১৯ / আন-নিসা / ৪] -এর ব্যতিক্রম দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে।

অষ্টম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (তোমাদের পিতারা যাদের বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না) *। অতঃপর এটি মহান আল্লাহর বাণী: * (ইতোপূর্বে যা গত হয়েছে তা ব্যতীত) * [২৩ / আন-নিসা / ৪] -এর ব্যতিক্রম দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের কর্মসমূহের মধ্যে যা গত হয়েছে, আমি তা ক্ষমা করে দিয়েছি।

নবম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা) * [২৩ /

আন-নিসা / ৪]। এটি তাঁর এই বাণীর ব্যতিক্রম দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে: * (ইতোপূর্বে যা গত হয়েছে তা ব্যতীত) * [২৩ / আন-নিসা / ৪]; অর্থাৎ আমি তা ক্ষমা করে দিয়েছি।

দশম আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (অতঃপর তাদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা উপভোগ করেছ, তাদেরকে তাদের নির্ধারিত মোহর প্রদান করো) * [২৪ / আন-নিসা / ৪]। এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে: "আমি তোমাদের জন্য এই মুতআ (সাময়িক বিবাহ) বৈধ করেছিলাম; জেনে রাখো, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এটি হারাম করেছেন। সুতরাং উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তিকে এটি পৌঁছে দেয়।"

আর কুরআনে এর রহিতকারী (ناسخ) বিষয়টি স্ত্রীর উত্তরাধিকারের আট ভাগের এক ভাগ এবং চার ভাগের এক ভাগ বর্ণনার স্থলে এসেছে, ফলে তাতে (মুতআর ক্ষেত্রে) তার কোনো অংশ সাব্যস্ত হয়নি।

মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস আশ-শাফিঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: এর নিষিদ্ধতার বিষয়টি সূরা আল-মু'মিন-এ রয়েছে এবং এর রহিতকারী (ناسخ) হলো মহান আল্লাহর বাণী: * (এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে হেফাজত করে, তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে তারা ব্যতীত … ) * [৫ মক্কী / আল-মু'মিন / ২৩]। উলামায়ে কেরাম ঐক্যমত (أجمعوا) পোষণ করেছেন যে, সে (মুতআর নারী) স্ত্রী নয় এবং দক্ষিণ হস্তের মালিকানাধীন (দাসী)ও নয়; ফলে আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে তা রহিত (نسخ) করেছেন।

একাদশ আয়াত: মহান আল্লাহর বাণী: * (হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না … ) * আয়াত [২৯ মাদানী / আন-নিসা / ৪]। এটি সূরা আন-নূরে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা রহিত (نسخت) হয়েছে: * (অন্ধের জন্য কোনো দোষ নেই, পঙ্গুর জন্য কোনো দোষ নেই এবং রুগ্ণ ব্যক্তির জন্য কোনো দোষ নেই) *