القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: الفروق = أنوار البروق في أنواء الفروق
المؤلف: أبو العباس شهاب الدين أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن المالكي الشهير بالقرافي (ت 684هـ)
الناشر: عالم الكتب
الطبعة: بدون طبعة وبدون تاريخ
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
- بأعلى الصفحة: كتاب «الفروق = أنوار البروق في أنواء الفروق» للقرافي
- بعده (مفصولا بفاصل) : «إدرار الشروق على أنوار الفروق» وهو حاشية الشيخ قاسم بن عبد الله المعروف بابن الشاط (723هـ) لتصحيح بعض الأحكام وتنقيح بعض المسائل
- بعده (مفصولا بفاصل) : «تهذيب الفروق والقواعد السنية في الأسرار الفقهية» للشيخ محمد بن علي بن حسين مفتى المالكية بمكة المكرمة (1367هـ) ، وفيها اختصر الفروق ولخصه وهذبه ووضح بعض معانيه
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতি
গ্রন্থ: আল-ফুরুক = আনওয়ারুল বুরুক ফি আনওয়াইল ফুরুক
লেখক: আবু আব্বাস শিহাবুদ্দিন আহমদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে আব্দুর রহমান আল-মালিকি, যিনি আল-কারাফি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৮৪ হি.)
প্রকাশক: আলমুল কুতুব
সংস্করণ: সংস্করণ নম্বর ও তারিখ বিহীন
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
- পৃষ্ঠার উপরিভাগে: আল-কারাফি রচিত «আল-ফুরুক = আনওয়ারুল বুরুক ফি আনওয়াইল ফুরুক» গ্রন্থটি রয়েছে
- এর পরে (বিভাজক দ্বারা পৃথক করা) : «ইদরারুশ শুরূক আলা আনওয়ারিল ফুরুক» যা শায়খ কাসিম ইবনে আব্দুল্লাহর একটি টীকা, যিনি ইবনে শাত (৭২৩ হি.) নামে পরিচিত; এটি কিছু বিধানের সংশোধন ও কিছু মাসআলার পরিমার্জনের জন্য রচিত
- এর পরে (বিভাজক দ্বারা পৃথক করা) : «তাহযিবুল ফুরুক ওয়াল কাওয়ায়িদেস সুন্নিয়্যাহ ফিল আসরারিল ফিকহিয়্যাহ» যা মক্কার মালিকি মুফতি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন (১৩৬৭ হি.) এর রচিত; এতে তিনি 'আল-ফুরুক' গ্রন্থটিকে সংক্ষেপ করেছেন, এর সারসংক্ষেপ করেছেন, পরিমার্জন করেছেন এবং এর কিছু অর্থ স্পষ্ট করেছেন
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
সংবাদ তিন প্রকার: নিরেট বর্ণনা (রিওয়ায়াত), যেমন নবীজির হাদিসসমূহ; নিরেট সাক্ষ্য (শাহাদাত), যেমন বিচারকের কাছে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কে সাক্ষীদের সংবাদ প্রদান; এবং সাক্ষ্য ও বর্ণনার সমন্বিত রূপ। এর কয়েকটি রূপ রয়েছে, যার একটি হলো রমজানের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত সংবাদ প্রদান। এটি একদিক থেকে বর্ণনা বা রিওয়ায়াত, কারণ রোজা রাখা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে খাস নয়, বরং পুরো শহর বা দূর-দূরান্তের সকল মানুষের জন্য ব্যাপক। তবে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য তাদের নিজস্ব চাঁদ দেখা শর্ত কি না, সে বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সুতরাং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে খাস না হওয়া এবং বিধানটি ব্যাপক হওয়ার দিক থেকে এটি বর্ণনা বা রিওয়ায়াত। আবার এটি এমন একটি বিধান যা পূর্বের বা পরের বছরের সাথে নয়, বরং এই বছরের সাথে খাস এবং পরবর্তী বা পূর্ববর্তী প্রজন্মের সাথে নয়, বরং এই প্রজন্মের মানুষের সাথে খাস হওয়ার দিক থেকে এতে এক প্রকার নির্দিষ্টতা বা অ-ব্যাপকতা তৈরি হয়েছে, যা একে সাক্ষ্য বা শাহাদাতের সদৃশ করে তুলেছে।
এভাবে দুটি বিষয়ের সাথেই সাদৃশ্য তৈরি হওয়ায় এখানে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং এক সাদৃশ্যকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব হয়েছে। উভয় মাযহাবেই ফিকহী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে। যদি কোনো হাদিস বা কিয়াস (সাদৃশ্য) এই দুই সাদৃশ্যের কোনো একটিকে সমর্থন করে, তবে সেটিই গ্রহণ করা আবশ্যক হবে।
দ্বিতীয়টি হলো শারীরিক গঠন দেখে বংশধারা নির্ণয়কারী ব্যক্তি (কাইফ)। বংশধারা প্রমাণের ক্ষেত্রে তার জন্য কি নির্দিষ্ট সংখ্যা (একাধিক ব্যক্তি হওয়া) শর্ত কি না, সে বিষয়ে দুটি মত রয়েছে। কারণ এখানেও দুটি সাদৃশ্য বিদ্যমান। একদিক থেকে সে সংবাদ দিচ্ছে যে, যায়িদ হলো উমরের পুত্র, খালিদের পুত্র নয়; আর এটি এমন একটি বিধান যা নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর বর্তায় এবং অন্য কারো দিকে অতিক্রম করে না, ফলে এটি সাক্ষ্য বা শাহাদাতের সদৃশ হয় এবং সংখ্যা (একাধিক সাক্ষী) শর্ত হওয়া আবশ্যক হয়। অন্যদিকে, যেহেতু বংশধারা নির্ণয়কারী ব্যক্তি সকল মানুষের জন্য সাধারণভাবে নিয়োজিত, তাই এটি বর্ণনা বা রিওয়ায়াতের সদৃশ হয় এবং একজনের সংবাদই যথেষ্ট হয়। তবে এখানে সাক্ষ্যের সাদৃশ্যই অধিক শক্তিশালী; কারণ এটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফয়সালা প্রদান এবং এতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি শত্রুতা বা অপবাদের আশঙ্কা থাকে। আর তার সাধারণভাবে নিয়োজিত হওয়া বিষয়টি তার এবং সাক্ষীর মধ্যে সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য, কারণ সাক্ষীও যার প্রয়োজন পড়ে তার জন্যই নিয়োজিত থাকে।
--[ইবনুল শাত-এর টীকা = ইদরারুশ শুরূক আলা আনওয়াইল ফুরূক]তার প্রথম কথাটি সঠিক এবং কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র, যেমনটি নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, বরং এটি অধিকতর প্রযোজ্য। আর দ্বিতীয় কথাটি দাসের সাক্ষ্য গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে একটি স্বতন্ত্র কারণ হতে পারে। আবার এটি স্বতন্ত্র না হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে এই দিক থেকে যে, শত্রুতার সম্ভাবনা থাকা স্বাধীন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ না করার কারণ হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি। কেউ বলতে পারেন যে, স্বাধীন ব্যক্তি ও দাসের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে শত্রুতার কেবল একটি সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু দাসের ক্ষেত্রে শত্রুতার কারণটি নিশ্চিতভাবে বিদ্যমান। আর আল্লাহই ভালো জানেন।শিহাব উদ্দিন (কারাফি) বলেছেন: (সংবাদ তিন প্রকার... তার একটি হলো রমজানের চাঁদ দেখা সংক্রান্ত সংবাদ প্রদান। এরপর তিনি এর অর্থ বর্ণনা করেছেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সাথে খাস না হওয়ার দিক থেকে রিওয়ায়াত বা বর্ণনা, এবং এই বছর ও এই প্রজন্মের সাথে খাস হওয়ার দিক থেকে এটি শাহাদাত বা সাক্ষ্য)। আমি বলি: এটি যে বর্ণনা বা রিওয়ায়াত—এ কথা দ্বারা তিনি যদি বুঝিয়ে থাকেন যে এর বিধানটি বর্ণনার বিধানের মতো, অর্থাৎ যারা একজনের সংবাদ যথেষ্ট মনে করেন তাদের নিকট এটি বর্ণনার সমতুল্য, তবে তা সঠিক। কিন্তু তিনি যদি এটি প্রকৃত অর্থেই রিওয়ায়াত বা বর্ণনা বলে উদ্দেশ্য করেন, তবে তা সঠিক নয়; কারণ আমার জানা মতে পরিভাষাগতভাবে কেউ একে রিওয়ায়াত বলেননি।আর তার এই কথা যে, এটি সাক্ষ্য বা শাহাদাত—এখানেও যদি তিনি উদ্দেশ্য করেন যে কিছু আলিমের মতে সংখ্যা শর্ত হওয়ার দিক থেকে এর বিধান সাক্ষ্যের বিধানের মতো, তবে তা সঠিক। কিন্তু এটি প্রকৃতপক্ষেই সাক্ষ্য বা শাহাদাত নয়। কারণ ফকিহ এবং উসুলবিদদের পরিভাষায় 'শাহাদাত' বা সাক্ষ্য শব্দটি প্রকৃত অর্থে কেবল সেই সংবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার মাধ্যমে কোনো বিচারিক ফয়সালা বা হুকুম কার্যকর করা উদ্দেশ্য হয়। আমি বলি: অধিকতর শক্তিশালী মত এই যে, চাঁদ দেখার বিষয়টি একজনের সংবাদ যথেষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে বর্ণনার বিধানের অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি প্রকৃত অর্থে বর্ণনাও নয় এবং সাক্ষ্যও নয়। বরং এটি সংবাদের অন্য একটি প্রকার, যা হলো শরয়ি বিধানের কারণ (সাবাব) বিদ্যমান থাকার সংবাদ দেওয়া। আর এতে পার্থিব বিচারিক ফয়সালার মতো শত্রুতার আশঙ্কাজনিত সম্ভাবনাগুলো যে নেই, তা অত্যন্ত স্পষ্ট।শিহাব উদ্দিন বলেছেন: (দ্বিতীয়টি হলো বংশধারা নির্ণয়কারী বা কাইফ, এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে)। আমি বলি: তিনি এখানে সাক্ষ্যের সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যা পূর্বে নির্ধারিত আলোচনা অনুযায়ী স্পষ্টভাবেই সাক্ষ্যের একটি প্রকার। আর তিনি বর্ণনার সাদৃশ্যের কথা উল্লেখ করেছেন যা স্পষ্টতই দুর্বল। তিনি যে প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন তাও দুর্বল এবং এর যে উত্তর তিনি দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে সঠিক।--[তহযীবুল ফুরূক ওয়াল কাওয়াইদ আস-সুন্নিয়াহ ফিল আসরারিল ফিকহিয়্যাহ]এবং নিষেধাজ্ঞা বলতে হারাম বা মাকরুহ বুঝায়।আর যৌগিক শব্দের ক্ষেত্রে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে তারা ব্যতীত যারা তওবা করেছে} [বাকারা: ১৬০], এটি কেবল পাপাচারী (ফাসিক) ব্যক্তির দিকে ফিরতে পারে অথবা পাপাচারী ও সাক্ষী উভয়ের দিকেই ফিরতে পারে। সেক্ষেত্রে তওবা পাপাচার দূর করবে এবং অপবাদদাতার সাক্ষ্য প্রদানকে বৈধ করবে। তৃতীয় হলো ইরাব বা ব্যাকরণগত পরিবর্তনের ভিন্নতা। চতুর্থ হলো শব্দটি প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হবে নাকি রূপক (মাজায) অর্থের কোনো প্রকারে ব্যবহৃত হবে তা নিয়ে দ্বিধা; রূপক অর্থ হতে পারে বিলোপ (হাফয), সংযোজন (যিয়াদাহ), পশ্চাদ্বর্তিতা (তাখীর), অগ্রবর্তিতা (তাকদীম) অথবা শব্দটি প্রকৃত ও রূপক ব্যবহারের মধ্যে দোদুল্যমান হওয়া। পঞ্চম হলো শব্দের ব্যবহার কখনো নিঃশর্ত (মুতলাক) হওয়া এবং কখনো শর্তযুক্ত (মু্কাইয়্যাদ) হওয়া; যেমন দাস মুক্তির ক্ষেত্রে কখনো কেবল 'ঘাড়' বা দাসের কথা নিঃশর্তভাবে বলা হয়েছে, আবার কখনো তাকে 'ঈমানদার' হওয়ার শর্তে যুক্ত করা হয়েছে। ষষ্ঠ হলো শব্দের সেই সকল প্রকারের মধ্যে পারস্পরিক বৈপরীত্য যেখান থেকে শরয়ি বিধান গ্রহণ করা হয় এবং কোনো বিশেষ শব্দ ব্যাপক অর্থ (উমুম) প্রদানের জন্য হওয়া বা অনুরূপ বিষয়াদি। এই পদ্ধতি অর্থাৎ কেবল আরবি শব্দের ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত নিয়মাবলির বাইরে কেবল 'কিয়াস' বা সাদৃশ্য বিধানই সেই বিষয়গুলোতে দলিল হিসেবে গণ্য হয় যে বিষয়ে শরীয়ত প্রণেতা নীরব থেকেছেন, যেমনটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের অভিমত।কিয়াসের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে আকলি বা যুক্তিনির্ভর দলিল সাক্ষ্য দেয়; আর তা হলো মানুষের মধ্যকার ঘটনাবলি অসীম, অথচ শরয়ি পাঠ (নস), কর্ম এবং মৌন সম্মতিসমূহ সসীম। সসীম দিয়ে অসীমকে মোকাবিলা করা অসম্ভব। ফলে যাহিরিপন্থীদের এই কথা বাতিল হয়ে যায় যে: শরীয়তে কিয়াস বা সাদৃশ্য বিধান ভিত্তিহীন, আর যে বিষয়ে শরীয়ত প্রণেতা নীরব থেকেছেন তার কোনো বিধান নেই। শরয়ি কিয়াস হলো, শরীয়ত কর্তৃক কোনো বিষয়ের জন্য নির্ধারিত বিধানকে এমন একটি নীরব বিষয়ের সাথে যুক্ত করা যা ওই বিষয়ের সদৃশ, যার জন্য শরীয়ত বিধানটি আবশ্যক করেছে; অথবা উভয়ের মধ্যে একটি অভিন্ন কারণ (ইল্লত) বিদ্যমান থাকা। এটি দুই প্রকার: কিয়াসে শাবাহ (সাদৃশ্যমূলক কিয়াস) এবং কিয়াসে ইল্লত (কারণমূলক কিয়াস)। কিয়াস যদিও নির্দিষ্ট শব্দের মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ বুঝানোর ক্ষেত্রে নীরব বিষয়কে ব্যক্ত বিষয়ের সাথে যুক্ত করার সাদৃশ্য রাখে, তবুও এটি ভিন্ন। কারণ কিয়াসের ক্ষেত্রে এই সংযুক্তি ঘটে উভয়ের মধ্যকার সাদৃশ্যের ভিত্তিতে, শব্দের দালালাত বা নির্দেশনার ভিত্তিতে নয়। আর নির্দিষ্ট শব্দ দিয়ে ব্যাপক অর্থ বুঝানোর ক্ষেত্রে তা শব্দের নির্দেশনার ভিত্তিতেই হয়। কিয়াসের নিজেদের মধ্যে বৈপরীত্য এবং তিনটি পদ্ধতির সাথে বৈপরীত্য—অর্থাৎ কিয়াসের সাথে কথা (কাওল), কাজ (ফিল) বা মৌন সম্মতির (ইকরার) বৈপরীত্য—এই চার পদ্ধতির মাধ্যমে বিধান আহরণের ক্ষেত্রে মতভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।আর খবরুল ওয়াহিদ বা একজনের সংবাদ ততক্ষণ পর্যন্ত দলিল হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না তা আমল বা প্রয়োগের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করে; এটি তাদের মতে যারা একক সূত্রে বর্ণিত সংবাদের ক্ষেত্রে আমলের প্রসিদ্ধি শর্ত করেন, বিশেষ করে মদিনাবাসীদের আমলের ক্ষেত্রে, যা মাযহাবের পরিচিত নিয়ম।কুরাইব থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল ফাদল বিনতে আল-হারিস তাকে সিরিয়ায় মুয়াবিয়ার কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় পৌঁছালাম এবং তাঁর প্রয়োজন পূরণ করলাম। আমি সিরিয়ায় থাকাবস্থায় রমজানের চাঁদ দেখা দিল। আমি জুমার রাতে চাঁদ দেখলাম। অতঃপর মাসের শেষে মদিনায় ফিরে এলাম। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাকে চাঁদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, তোমরা কবে চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমরা জুমার রাতে চাঁদ দেখেছি। তিনি বললেন, তুমি নিজে কি দেখেছ? আমি বললাম—
আমাদের বক্তব্য হলো, এটি এমন কথা যার মাধ্যমে [উদ্দিষ্ট বিষয়] বিদ্যমান হয়। আর আমরা 'অনিবার্য হয়' বলিনি যেন নির্বোধ বা যোগ্যতাহীন ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিঃসৃত সৃজনমূলক (ইনশা) বাক্যগুলো থেকে বেঁচে থাকা যায়। কারণ সেই অবস্থায় সেই বাক্যের ওপর তার নির্দেশিত অর্থ কার্যকর হয় না এবং তা কোনো বিধানকে অনিবার্য করে না; তবে এটি তার বহির্ভূত কোনো কারণের জন্য ঘটে। কিন্তু বাহ্যিক বিষয়গুলো বাদ দিয়ে যদি বাক্যটির সত্তার দিকে লক্ষ করা হয়, তবে তার নির্দেশিত অর্থ বিদ্যমান হয়। এজন্যই আমরা বলেছি 'যার মাধ্যমে বিদ্যমান হয়', অর্থাৎ তার বৈশিষ্ট্যই এমন যতক্ষণ না কোনো প্রতিবন্ধক বাধা দেয় বা কোনো বিরোধিতাকারী বিরোধিতা করে। আর আমাদের 'প্রকৃত অবস্থার প্রেক্ষাপটে' (নাফসুল আমর) কথাটি তথ্যমূলক বাক্য (খবর) থেকে বেঁচে থাকার জন্য। কারণ তথ্যমূলক বাক্য কেবল শ্রোতার বিশ্বাসের মধ্যে তার নির্দেশিত অর্থকে অনিবার্য করে। যেমন কোনো বক্তা যখন বলে 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে', তখন এই কথাটি আমাদের মধ্যে সে দাঁড়িয়েছে বলে একটি বিশ্বাসের জন্ম দেয়, কিন্তু এই কথাটি প্রকৃত অবস্থায় (বাস্তব ক্ষেত্রে) তার দাঁড়ানোকে সৃষ্টি করে না। সৃজনমূলক (ইনশা) বাক্যের বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ তা প্রকৃত অবস্থায় এবং শ্রোতার বিশ্বাসে—উভয় ক্ষেত্রেই তার নির্দেশিত অর্থ প্রদান করে। ফলে প্রকৃত অবস্থায় অর্থ প্রদান করাই হলো এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আর শ্রোতার বিশ্বাসের বিষয়টি সৃজনমূলক বাক্য ও তথ্যমূলক বাক্যের মধ্যে সাধারণ বিষয়, যা দ্বারা উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব নয়। আর আমাদের 'অথবা তার সংশ্লিষ্ট বিষয়' বলা হয়েছে যাতে মানসিক কথোপকথনের (কালামে নাফসি) মাধ্যমে সৃষ্ট বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হয়। কারণ মানসিক কথোপকথনে কোনো বাচনিক নির্দেশনা বা নির্দেশিত অর্থ থাকে না, বরং তাতে কেবল সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বিশেষ সংশ্লিষ্টতা থাকে। সৃজনমূলক বাক্যের মাসআলাগুলোতে এর বর্ণনা সামনে আসবে। ফলে এই বর্ণনার ভিত্তিতে তথ্যমূলক বাক্য ও সৃজনমূলক বাক্যের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়।
—[ইবনে আশ-শাত-এর টীকা = ইদরারুশ শুরূক আলা আনওয়ায়িল ফুরুক] যদি এর সাথে নিয়ত যুক্ত না থাকে, তবে অবশ্যই নিয়ত থাকতে হবে। অন্যথায় কোনো ব্যক্তি যদি ভুলবশত তার স্ত্রীকে 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা' বলে ফেলে, অথচ সে তাকে বলতে চেয়েছিল 'তুমি ঋতুমতী', তবে ফতোয়া অনুযায়ী এর দ্বারা তার ওপর তালাক বর্তাবে না। একইভাবে যদি সে স্ত্রীকে 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা' বলে এই সংবাদ দেওয়ার জন্য যে সে বর্তমানে ইদ্দত পালনরত (রজয়ী তালাকের ক্ষেত্রে)।আর লেখকের বক্তব্য 'এবং শারীআতের পক্ষ থেকে অন্য কোনো বিষয় নয়', যদি তিনি এর দ্বারা চুক্তিসমূহ পূর্ণ করার নির্দেশ এবং তার আবশ্যকতা পালন করাকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে তা সঠিক। অন্যথায় তিনি এর দ্বারা কী বুঝিয়েছেন তা আমি জানি না। তিনি বলেছেন, 'আমাদের বক্তব্য হলো এটি এমন কথা যার মাধ্যমে বিদ্যমান হয় এবং আমরা অনিবার্য হয় বলিনি যেন নির্বোধ বা যোগ্যতাহীন ব্যক্তির সৃজনমূলক বাক্য থেকে বেঁচে থাকা যায়... তবে তা তার সত্তার দিকে লক্ষ করলে নির্দেশিত অর্থকে অনিবার্য করে, এজন্যই আমরা বলেছি যার মাধ্যমে বিদ্যমান হয় অর্থাৎ তার অবস্থা এমনই যতক্ষণ কোনো প্রতিবন্ধক বাধা না দেয়'। আমি বলি, তাঁর এই বক্তব্য একথাই শামিল করে যে, এই বাক্যগুলোর মাধ্যমে তার নির্দেশিত অর্থগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই বিদ্যমান হয় যতক্ষণ না কোনো প্রতিবন্ধক বাধা দেয়। অথচ যা সত্তাগত (জাতী), তাকে কোনো প্রতিবন্ধক বাধা দিতে পারে না। তাই তাঁর এই বক্তব্য দুর্বল। বরং উত্তম হতো যদি তিনি এই বাক্যগুলো যোগ্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিঃসৃত হওয়ার শর্ত উল্লেখ করে সতর্কতা অবলম্বন করতেন। শিহাবউদ্দিন (আল-কারাফি) বলেছেন:(এবং আমাদের 'প্রকৃত অবস্থার প্রেক্ষাপটে' বলাটি তথ্যমূলক বাক্য থেকে বেঁচে থাকার জন্য, কারণ তা শ্রোতার বিশ্বাসে তা অনিবার্য করে। যেমন বক্তা যখন বলে 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে', তখন তা আমাদের মাঝে তার দাঁড়ানোর বিশ্বাস তৈরি করে কিন্তু বাস্তবে তা দাঁড়ানোকে সৃষ্টি করে না। সৃজনমূলক বাক্যের বিষয়টি ভিন্ন... ফলে প্রকৃত অবস্থায় অর্থ প্রদান করাই এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আর শ্রোতার বিশ্বাসের বিষয়টি সাধারণ বিষয় যা দ্বারা পার্থক্য হয় না)। আমি বলি, এই সতর্কতা সঠিক এবং এই পরিচ্ছেদে তিনি যা বলেছেন তা যথাযথ; কেবল তথ্যমূলক বাক্যের ক্ষেত্রে তাঁর এই বক্তব্য ছাড়া যে 'তা শ্রোতার বিশ্বাসে তার অর্থকে অনিবার্য করে'। কারণ এটি কেবল তখনই আবশ্যক হয় যখন শ্রোতা সংবাদদাতার সত্যবাদিতায় বিশ্বাসী হয়।কিন্তু যখন সে তাকে মিথ্যাবাদী মনে করে, তখন তা অনিবার্য হয় না। তিনি (কারাফি) বলেছেন, 'এবং আমাদের অথবা তার সংশ্লিষ্ট বিষয় বলাটি মানসিক সৃজনমূলক বাক্যগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য...' শেষ পর্যন্ত। আমি বলি, তাঁর এই বক্তব্য থেকে এটি লাজিম আসে যে, তিনি সংজ্ঞার মধ্যে দুটি ভিন্ন বাস্তবতাকে একত্র করেছেন—একটি হলো জবান বা বাচনিক কথা এবং অন্যটি হলো মানসিক কথা। আর এটি সংজ্ঞার ক্ষেত্রে একটি ত্রুটি। তিনি বলেছেন: (ফলে এই বর্ণনার ভিত্তিতে তথ্যমূলক বাক্য ও সৃজনমূলক বাক্যের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়।)—[তাহযীবুল ফুরুক ওয়া কাওয়াইদুন সানিয়্যাহ ফীল আসরারিল ফিকহিয়্যাহ] এবং এতে কাফেরের কথাও গ্রহণযোগ্য, কারণ মানুষের প্রয়োজনীয়তা একে জায়েজ করার দিকে ঠেলে দেয়। আর এই প্রয়োজনের সাথে বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক আলামতও যুক্ত থাকে, যেমন পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতি এবং এ জাতীয় বিষয়ে প্রতারণা বা ভুলের বিরলতা। বিশেষ করে যেখানে বিষয়টি প্রসিদ্ধ এবং এতে শিথিলতার সুযোগ নেই, যেমনটি ইতিপূর্বে অনুমতি প্রার্থনা এবং উপহারের ক্ষেত্রে অতিবাহিত হয়েছে।১১তম উদাহরণ: জবাইয়ের বিষয়ে কসাইয়ের খবর প্রদান বর্ণনার (রিওয়ায়াত) পর্যায়ভুক্ত। কারণ এর দ্বারা বিচারিক ফয়সালা উদ্দেশ্য নয়। ইমাম মালিক কিতাবীর (আহলে কিতাব) সংবাদ গ্রহণ করা জায়েজ করেছেন। ইবনুল কাসসারের বর্ণনায় ইমাম মালিক বলেন: 'জবাইয়ের বিষয়ে কসাইয়ের কথা গ্রহণযোগ্য হবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, মুসলিম হোক বা কিতাবী, যে ব্যক্তি জবাই করার যোগ্য।' প্রয়োজনীয়তার তাগিদে এটি গ্রহণ করা হয়, কারণ এটি গ্রহণ না করলে অনেক কষ্ট ও জটিলতা সৃষ্টি হবে। তাছাড়া এক্ষেত্রে প্রবল ধারণা সৃষ্টিকারী আলামত ছাড়া হওয়ার বিষয়টি বিরল, যেমনটি এর আগের দুটি মাসআলায় অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং এই মাসআলার উদ্দেশ্য কসাইয়ের অধীনে থাকা সম্পদের মালিকানার দাবিকে ছেড়ে দেওয়া নয় যে এটি 'প্রত্যেক ব্যক্তি তার দাবির ক্ষেত্রে আমানতদার'—এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত হবে। ফলে কোনো কাফের যদি বলে 'এটি আমার সম্পদ' বা 'এই গোলামটি আমার দাস', তবে তার সব কথাই সত্য বলে গণ্য হবে; যেমন কোনো মুসলিম যদি বলে 'এটি আমার মালিকানাধীন' বা 'এই দাসীটি আমার', তবে আমরা তাকে শরয়ি বিধানের বর্ণনাকারী (রাবী) হিসেবে গণ্য করি না (অন্যথায় তার মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা বা আদলাত শর্ত হতো), আবার তাকে সাক্ষী হিসেবেও ধরি না। বরং আমরা তার কথা গ্রহণ করি যদিও সে সবচেয়ে বড় পাপিষ্ঠ হয়। বরং এখানে উদ্দেশ্য হলো, কসাইয়ের জবাই করার খবরের ওপর ভিত্তি করে সেই মাংস খাওয়া হালাল হবে কি না। বিষয়টি অনুধাবন করুন। আমি বলি, জবাইয়ের বিষয়ে কসাইয়ের বক্তব্যের মতোই হলো জাহাজের কাপ্তান বা চালকের বক্তব্য, যখন তিনি হাজীদের শরয়ি মিকাত অতিক্রমের কথা জানান। এমতাবস্থায় অন্য কাউকে পাওয়া না গেলে তাঁর কথা অনুযায়ী ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব হবে, যদিও তিনি কাফের হন। কারণ প্রয়োজনীয়তা একে অনিবার্য করে তোলে। যদিও আমি কাউকে বিশেষভাবে এই নসটি উল্লেখ করতে দেখিনি, তবে বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য। ১২তম উদাহরণ: কোনো ভূমি যুদ্ধের মাধ্যমে (আনওয়াতান) অর্জিত হওয়া বা সন্ধির মাধ্যমে (সুলহান) অর্জিত হওয়ার সংবাদ। এর ওপর ভিত্তি করে সন্ধির বিধানাবলি বা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হওয়ার বিধানাবলি কার্যকর হবে—তা কি কিয়ামত পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে নাকি কিয়ামত পর্যন্ত ওয়াকফ হিসেবে থাকবে, যেমনটি ইমাম মালিক বলেছেন। স্পষ্ট বিষয় হলো, এতে বর্ণনার (রিওয়ায়াত) সাদৃশ্য রয়েছে, সাক্ষ্যের (শাহাদাত) সাদৃশ্য নেই। কারণ এটি শরয়ি বিধানের কারণসমূহের কোনো একটি কারণ ঘটার সংবাদ মাত্র। আর এক্ষেত্রে একজনের সংবাদই যথেষ্ট। (পরিশিষ্ট) : দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে(প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়) : যখন সাক্ষ্যের ক্ষেত্রে প্রমাণাদিতে পরস্পর বিরোধিতা দেখা দেয়, তখন ন্যায়পরায়ণতার (আদালত) ভিত্তিতে কোনো এক পক্ষকে প্রাধান্য দেওয়া কি নিঃশর্তভাবে গ্রহণযোগ্য? এ বিষয়ে আমাদের মালেকী ইমামগণ ও অন্যান্য আলেমদের তিনটি মত রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষ করে সম্পদের বিধানাবলির ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হওয়াটি প্রসিদ্ধ। আর প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী সাক্ষীর সংখ্যার আধিক্যের কারণে কোনো পক্ষকে প্রাধান্য দেওয়া হবে না।আর পার্থক্য হলো এই যে,