(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: -)
الحبائك في أخبار الملائك   (الجلال السيوطي)

القسم: العقيدة


الكتاب: الحبائك في أخبار الملائك

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

تحقيق: خادم السنة المطهرة أبو هاجر محمد السعيد بن بسيوني زغلول

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফিরিশতাদের সংবাদ বিষয়ক বর্ণনা (আল-হাবায়িক ফি আখবারিল মালায়িক)   (আল-জালাল আস-সুয়ূতী)

বিভাগ: আকিদাহ


কিতাব: ফিরিশতাদের সংবাদ বিষয়ক বর্ণনা (আল-হাবায়িক ফি আখবারিল মালায়িক)

লেখক: আবদুর রহমান বিন আবি বকর، জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরী)

তাহকীক: খাদিমুস সুন্নাহ আল-মুতাহহারাহ আবু হাজার মুহাম্মদ আস-সাঈদ বিন বাসইউনী যাগলুল

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৫ হিজরী - ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[কিতাবটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة

الحمد لله (جاعِلِ المَلائكَةِ رُسلاً أُولي أَجنِحَةٍ مَثنى، وَثلاث، وَرُباع)) فاطر:1 (والصلاة والسلام على سيدنا محمد، والآل، والصحب، والأتباع فهذا تأليف لطيف جمعته في أخبار الملائكة الأبرار، استوعبت فيه ما وردت به الأحاديث، والآثار، وختمته بفوائد يبتهج بها أولو الأبصار، وسميته) الحبائك في أخبار الملائك (والله المستعان، وعليه التكلان.

 

‌‌ذكر وجوب الإيمان بالملائكة

قال الله تعالى: (آمَنَ الرَسولُ بِما أُنزِل إِليهِ مِن رَبِهِ وَالمُؤمِنونَ كُلٌ آَمَنَ بِاللَهِ وَمَلائِكَتِهِ)) البقرة: 258 (قال البيهقى في شعب الإيمان: والإيمان بالملائكة ينتظم في معانٍ:

والثاني: إنزالهم منازلهم، وإثبات أنهم عباد الله وخلقه كالإنس والجن، مأمورون مكلفون لا يقدرون إلا قدرهم الله عليه، والموت عليهم جائز، ولكن الله تعالى جعل لهم أمداً بعيداً. فلا يتوفاهم حتى يبلغوه، ولا يوصفون بشىء يؤدي وصفهم به إلى إشراكهم بالله تعالى جده، ولا يدعون آلهة كما دعتهم الأوائل.

والثالث: الإعتراف بأن منهم رسول الله يرسلهم إلى من يشاء من
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর, (যিনি ফেরেশতাদের বার্তাবাহকরূপে নিয়োগ করেছেন, যারা দুই দুই, তিন তিন ও চার চার পাখা বিশিষ্ট) [ফাতির: ১]। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং অনুসারীদের ওপর। এটি একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন যা আমি পুণ্যবান ফেরেশতাদের সংবাদ সম্পর্কে সংগ্রহ করেছি। এতে আমি হাদীস এবং আসার (বর্ণনা) সমূহে যা বর্ণিত হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি। আমি এটি এমন কিছু ফায়দা (উপকারিতা) দিয়ে সমাপ্ত করেছি যাতে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিগণ আনন্দিত হবেন। আর আমি এর নামকরণ করেছি 'আল-হাবাইক ফি আখবারিল মালাইক' (ফেরেশতাদের সংবাদে বুননকৃত রশি)। এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি, আর তাঁর ওপরই সকল নির্ভরতা।

 

‌‌ফেরেশতাদের ওপর ঈমান আনার আবশ্যকতা সংক্রান্ত বর্ণনা

মহান আল্লাহ বলেন: (রাসূল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা সকলে আল্লাহর ওপর এবং তাঁর ফেরেশতাদের ওপর ঈমান এনেছে) [বাকারা: ২৫৮]। বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে বলেছেন: ফেরেশতাদের ওপর ঈমান আনা কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে:

দ্বিতীয়ত: তাদেরকে তাদের যথাযথ মর্যাদায় আসীন করা এবং এটি সাব্যস্ত করা যে, তারা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর সৃষ্টি—যেমন মানুষ ও জিন। তারা নির্দেশপ্রাপ্ত ও দায়বদ্ধ; আল্লাহ তাদের যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন তার বাইরে তারা সক্ষম নয়। তাদের মৃত্যু ঘটা সম্ভব, কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য সুদীর্ঘ আয়ু নির্ধারণ করেছেন। ফলে তিনি তাদের মৃত্যু দান করেন না যতক্ষণ না তারা নির্ধারিত সময়ে পৌঁছায়। তাদের এমন কোনো গুণে গুণান্বিত করা যাবে না যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্বের বিষয়টি চলে আসে, এবং প্রাচীন জাতিগুলোর মতো তাদেরকে উপাস্য হিসেবেও ডাকা যাবে না।

তৃতীয়ত: এটি স্বীকার করা যে, তাদের মধ্যে আল্লাহর প্রেরিত দূত রয়েছে, যাদেরকে তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাঁর কাছে ইচ্ছা প্রেরণ করেন...
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١٠)
البشر، وقد يجوز أن يرسل بعضهم إلى بعض، ويتبع ذلك الإعتراف بأن منهم حملة العرش، ومنهم الصافون، ومنهم خزنة الجنة، ومنهم خزنة النار، ومنهم كتبة الأعمال، ومنهم الذين يسوقون السحاب، وقد ورد القرآن بذلك كله أو بأكثره.

وروينا عن ابن عمر عن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم حين سئل عن الإيمان فقال) أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله (.

 

‌‌مبدأ خلق الملائكة والدلالة على أنهم أجسام خلافا للفلاسفة

أخرج مسلم عن عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) خلقت الملائكة من نور، وخلق الجان من مارج من نار، وخلق آدم مما وصف لكم
মানুষ, এবং তাদের কাউকে কারও কাছে পাঠানো বৈধ হতে পারে। এর সাথে এই স্বীকৃতিও যুক্ত হবে যে, তাদের মধ্যে রয়েছে আরশ বহনকারীগণ, সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মানগণ, জান্নাতের রক্ষীবাহিনী, জাহান্নামের রক্ষীবাহিনী, আমলনামা লেখকগণ এবং যারা মেঘমালা পরিচালনা করেন। কুরআনে এই সবকিছুর বর্ণনা অথবা এর অধিকাংশের কথা এসেছে।

আমরা ইবনে উমর থেকে, তিনি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছি যে, যখন তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: (ঈমান হলো) তুমি আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করবে।

 

‌‌ফিরিশতা সৃষ্টির সূচনা এবং তাঁরা যে দেহবিশিষ্ট—দার্শনিকদের মতের বিপরীতে তার প্রমাণ

ইমাম মুসলিম আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ফিরিশতাদের নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা থেকে এবং আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা থেকে, যার বর্ণনা তোমাদের দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١١)
(.

وأخرج أبو الشيخ في كتاب العظمة عن ابن عمرو قال: خلق الله الملائكة من نور.

وأخرج أبو الشيخ عن عكرمة قال: خلقت الملائكة من نور العزة.

وأخرج أبو الشيخ عن يزيد بن رومان: أنه بلغه أن الملائكة خلقت من روح الله.

 

‌‌كثرة الملائكة جدا

قال الله تعالى: (وَما يَعلَمُ جُنودَ رَبِك إِلاّ هُو)) المدثر: 31 (.

وأخرج البزار، وأبو الشيخ، وابن منده في كتاب) الرد على الجهمية (عن ابن عمرو قال:) خلق الله الملائكة من نور وينفخ في ذلك ثم يقول: ليكن منكم ألف ألفين فإن من الملائكة خلقا أصغر من الذباب وليس شىء أكثر من الملائكة (.

وأخرج البيهقى في الشعب عن ابن مسعود قال: إن في السموات لسماء ما فيها موضع شبر إلا وعليها جبهة ملك أو قدماه ثم قرأ (وَإِنا لَنَحنُ الصافون)) الصافات: 165 (.

وأخرج أبو الشيخ عن سعيد بن جبير قال: ما في السماء موضع إلا عليه ملك إما ساجد وإما قائم حتى تقوم الساعة.

وأخرج أحمد، والترمذى، وابن ماجه، والحاكم عن أبى ذر قال:

আবুশ শেখ ‘কিতাবুল আজমা’ গ্রন্থে ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ ফেরেশতাদের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন।

আবুশ শেখ ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফেরেশতাদের সম্মানের নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

আবুশ শেখ ইয়াজিদ ইবনে রুমান থেকে বর্ণনা করেছেন: তাঁর নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, ফেরেশতাদের আল্লাহর রূহ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

‌‌ফেরেশতাদের অত্যধিক সংখ্যা

মহান আল্লাহ বলেন: (আপনার রবের বাহিনী সম্পর্কে তিনি ব্যতীত অন্য কেউ জানে না) [আল-মুদ্দাসসির: ৩১]।

বাজ্জার, আবুশ শেখ এবং ইবনে মানদাহ ‘আর-রাদ্দু আলাল জাহমিয়্যাহ’ গ্রন্থে ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ ফেরেশতাদের নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে ফুঁ দিয়েছেন, অতঃপর বলেন: তোমরা বিশ লক্ষ হয়ে যাও; কেননা ফেরেশতাদের মধ্যে এমন মাখলুক রয়েছে যারা মাছির চেয়েও ছোট এবং ফেরেশতাদের চেয়ে অধিক সংখ্যার আর কোনো সৃষ্টি নেই।

বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’ গ্রন্থে ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসমানসমূহের মধ্যে এমন কোনো আসমান নেই যেখানে এক বিঘত পরিমাণ জায়গাও খালি আছে, বরং সেখানে কোনো ফেরেশতার কপাল অথবা তার পা রয়েছে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: (এবং আমরা তো অবশ্যই সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান) [আস-সাফফাত: ১৬৫]।

আবুশ শেখ সাঈদ ইবনে জুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসমানে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা নেই; তারা কিয়ামত পর্যন্ত হয় সিজদাবনত নতুবা দণ্ডায়মান অবস্থায় রয়েছেন।

আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং হাকেম আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١٢)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) أطت السماء وحق لها أن تئط ما منها موضع أربع أصابع إلا وعليه ملك واضع جبهته (.

وأخرج أبو الشيخ عن عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) ما في السماء الدنيا موضع قدم إلا عليه ملك ساجد أو قائم) فذلك قوله: (وَما مِنا إِلاّ لَهُ مَقامٌ مَعلوم، وَإِنا لَنَحنُ الصافون) .

وأخرج ابن أبى حاتم، والطبرانى، والضياء في المختارة، وأبو الشيخ عن حكيم بن حزام قال: بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم مع أصحابه فقال لهم:)
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (আসমান মড়মড় শব্দ করছে এবং তার জন্য মড়মড় শব্দ করা সংগতই বটে; কারণ সেখানে চার আঙুল পরিমাণ এমন কোনো স্থান নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা তার কপাল অবনত করে নেই।)

আবুশ শায়খ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (দুনিয়ার আসমানে এক পা রাখার মতো এমন কোনো স্থান নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা সিজদারত অথবা দণ্ডায়মান অবস্থায় নেই।) আর এটিই তাঁর বাণী: (আমাদের মধ্যে প্রত্যেকেরই একটি নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে এবং অবশ্যই আমরা সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান।)

ইবনে আবি হাতিম, তাবারানি, যিয়া আল-মাকদিসি 'আল-মুখতারা' গ্রন্থে এবং আবুশ শায়খ হাকিম ইবনে হিযাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাঁর সাহাবীদের সাথে ছিলেন, তখন তিনি তাঁদেরকে বললেন:
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١٣)
هل تسمعون ما أسمع؟ قالوا: ما نسمع من شىء قال:) إني لأسمع أطيط السماء - وما تلام أن تئط - ما فيها موضع قدم إلا عليه ملك ساجد أو قائم (.

وأخرج الطبرانى عن جابر بن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) ما في السموات السبع موضع قدم ولا شبر ولا كف إلا وفيه ملك قائم أو ملك ساجد فإذا كان يوم القيامة قالوا جميعاً: سبحانك ما عبدناك حق عبادتك إلا أنا لم نشرك بك شيئا (.

وأخرج الدينورى في المجالسة عن عبد الرحمن بن زيد بن أسلم قال: ليس من خلق الله شىء أكثر من الملائكة ليس من بني آدم أحد إلا ومعه ملكان سائق يسوقه وشاهد يشهد عليه فهذا ضعف بني آدم ثم بد ذلك السموات والأرض مكبوسات ومن فوق السموات بعد، الذين حول العرش أكثر مما في السموات.

وأخرج أبو الشيخ عن أبى سعيد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:) إن في الجنة لنهرا ما يدخله جبريل عليه السلام من دخلة فيخرج فينتفض؛ إلا خلق الله من كل قطرة تقطر منه ملكا (.

وأخرج أبو اليخ عن وهب بن منبه: إن لله نهرا في الهواء سعة الأرضين كلها سبع مرات، ينزل على ذلك النهر ملك من السماء فيملؤه ويسد ما بين أطرافه، ثم يغتسل منه، فإذا خرج قطرت منه قطرات من نور، فيخرج من كل قطرة منها ملك يسبح الله بجميع تسبيح الخلائق كلهم.
তোমরা কি তা শুনতে পাচ্ছ যা আমি শুনতে পাচ্ছি? তারা বলল: আমরা কিছুই শুনতে পাচ্ছি না। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি আসমানের মড়মড় শব্দ শুনতে পাচ্ছি - আর আসমান মড়মড় শব্দ করারই যোগ্য - তাতে এক পা রাখার জায়গাও নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা সিজদাবনত অথবা দণ্ডায়মান অবস্থায় নেই।

তাবারানি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: সাত আসমানে এক পা, এক বিঘত বা এক হাতের তালু পরিমাণ জায়গাও নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা দণ্ডায়মান অথবা কোনো ফেরেশতা সিজদাবনত অবস্থায় নেই। অতঃপর যখন কিয়ামত দিবস উপস্থিত হবে, তারা সকলে বলবে: আপনি পবিত্র! আমরা আপনার যথাযথ ইবাদত করতে পারিনি, তবে আমরা আপনার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করিনি।

দাইনুুরি 'আল-মুজালাসা' গ্রন্থে আব্দুর রহমান ইবনে যাইদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে ফেরেশতাদের চেয়ে অধিক সংখক আর কিছু নেই। আদম সন্তানদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার সাথে দুজন ফেরেশতা নেই—একজন চালক যে তাকে চালিয়ে নিয়ে যায় এবং একজন সাক্ষী যে তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। এটি আদম সন্তানদের সংখ্যার দ্বিগুণ। অতঃপর আসমানসমূহ ও জমিনসমূহ ফেরেশতাদের দ্বারা পূর্ণ, আর আসমানসমূহের উপরে যারা আরশের চারপাশে রয়েছে তাদের সংখ্যা আসমানসমূহে অবস্থানকারীদের চেয়েও বেশি।

আবুশ শাইখ আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: জান্নাতে এমন একটি নদী আছে যাতে জিবরাইল (আলাইহিস সালাম) যখনই প্রবেশ করেন এবং বের হয়ে শরীর ঝাড়া দেন, তখন তা থেকে ঝরে পড়া প্রতিটি ফোঁটা থেকে আল্লাহ একজন করে ফেরেশতা সৃষ্টি করেন।

আবুশ শাইখ ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন: নিশ্চয়ই শূন্যজগতে আল্লাহর এমন একটি নদী রয়েছে যার প্রশস্ততা সমস্ত জমিনের সাত গুণের সমান। আসমান থেকে একজন ফেরেশতা সেই নদীতে অবতরণ করেন এবং তিনি সেটি পূর্ণ করে দেন ও তার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থান ঢেকে দেন। অতঃপর তিনি তাতে গোসল করেন। যখন তিনি বের হন, তখন তার শরীর থেকে নূরের ফোঁটা ঝরতে থাকে। সেই প্রতিটি ফোঁটা থেকে একজন করে ফেরেশতা সৃষ্টি হয়, যারা সমস্ত সৃষ্টির তাসবিহ পাঠের ন্যায় আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে।
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١٤)
وأخرج أبو الشيخ عن الأوزاعى قال: قال موسى عليه السلام: يا رب من معك في السماء؟ قال: ملائكتي قال: وكم هم يا رب؟ قال: اثنا عشر سبطا قال: وكم عدد كل سبط؟ قال: عدد التراب.

وأخرج أبو الشيخ عن كعب قال: لا تقطر عين ملك منهم إلا كانت ملكا يطير من خشية الله.

وأخرج أبو الشيخ عن العلاء بن هارون قال: لجبريل في كل يوم اغتماسة في الكوثر ثم ينتفض فكل قطرة يخلق منها ملك.

وأخرج أبو الشيخ من طريق مجاهد عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) ليس من خلق الله أكثر من الملائكة، ما من شىء ينبت إلا وملك موكل به (.

وأخرج أبو الشيخ عن الحكم قال: بلغني أنه ينزل مع المطر من الملائكة أكثر من ولد آدم إبليس يحصون كل قطرة، وأين تقع، ومن يرزق من ذلك النبات.

وأخرج أبو الشيخ عن وهب قال: إن السموات السبع محوشة من الملائكة لو قيست شعرة ما انقاست، منهم الراكد، والراكع، والساجد، ترعد فرائصهم وتضطرب أجنحتهم خوفا من الله ولم يعصوه طرفة عين (.

أخرج ابن أبى حاتم عن كعب قال: ما من موضع خرم إبرة من الأرض إلا وملك موكل بها يرفع علم ذلك إلى الله تعالى فإن ملائكة السماء أكثر من عدد التراب وإن حملة العرش ما بين كعب أحدهم إلى مخه مسيرة مائة عام.

وأخرج ابن المنذر في تفسيره عن عبد الله بن عمرو يرفعه
আবুশ শায়খ আওযাঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: মূসা আলাইহিস সালাম বললেন: হে রব! আসমানে আপনার সাথে কে আছে? তিনি বললেন: আমার ফেরেশতারা। তিনি বললেন: হে রব! তারা কতজন? তিনি বললেন: বারোটি গোষ্ঠী। তিনি বললেন: প্রতি গোষ্ঠীর সংখ্যা কত? তিনি বললেন: মাটির ধূলিকণার সমপরিমাণ।

আবুশ শায়খ কা’ব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তাদের মধ্য থেকে কোনো ফেরেশতার চোখের পানি যখনই ফোঁটা হয়ে ঝরে, তখন তা আল্লাহর ভয়ে উড়ন্ত এক ফেরেশতায় রূপান্তরিত হয়।

আবুশ শায়খ আলা ইবনে হারুন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: জিবরাঈল প্রতিদিন কাওসারে একবার ডুব দেন, এরপর শরীর ঝাড়া দেন, তখন প্রতিটি ফোঁটা থেকে একজন করে ফেরেশতা সৃষ্টি করা হয়।

আবুশ শায়খ মুজাহিদের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে ফেরেশতাদের চেয়ে অধিক সংখ্যায় আর কিছুই নেই; যা কিছু অঙ্কুরিত হয় তার সাথেই একজন ফেরেশতা নিয়োজিত থাকে।

আবুশ শায়খ হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমার কাছে এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, বৃষ্টির সাথে আদমের সন্তান ও ইবলিসের বংশধরদের চেয়েও বেশি সংখ্যক ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়; তারা প্রতিটি ফোঁটা গণনা করে, তা কোথায় পড়ে এবং সেই উদ্ভিদের মাধ্যমে কে রিযিকপ্রাপ্ত হবে তার হিসাব রাখে।

আবুশ শায়খ ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই সাত আসমান ফেরেশতাদের দ্বারা এমনভাবে পূর্ণ যে, সেখানে যদি একটি চুলের মাপ নেওয়া হতো তবে (জায়গার অভাবে) তা মাপা যেত না। তাদের মধ্যে কেউ স্থির দাঁড়িয়ে আছে, কেউ রুকুতে এবং কেউ সিজদায় অবনত; আল্লাহর ভয়ে তাদের কাঁধ কাঁপতে থাকে এবং তাদের ডানাগুলো আন্দোলিত হয়, তারা এক পলকের জন্যও তাঁর অবাধ্য হয় না।

ইবনে আবি হাতিম কা’ব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: যমীনে সূঁচের ছিদ্র পরিমাণ এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে একজন ফেরেশতা নিয়োজিত নেই, যে সেই বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ তাআলার কাছে উত্তোলন করে। নিশ্চয়ই আসমানের ফেরেশতাদের সংখ্যা মাটির ধূলিকণার চেয়েও বেশি। আর আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের একজনের পায়ের গোড়ালি থেকে মগজ পর্যন্ত দূরত্ব একশ বছরের পথ।

ইবনুল মুনযির তার তাফসীরে আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি মারফু হিসেবে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত) বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١٥)
قال:) الملائكة عشرة أجزاء تسعة أجزاء الكروبيون الذين يسبحون الليل والنهار لا يفترون، وجزء قد وكلوا بخزانة كل شىء، وما من السماء موضع إلا فيه ملك ساجد، أو ملك راكع، وإن الحرم بحيال العرش وعن البيت المعمور لبحيال الكعبة لو سقط لسقط عليها، يصلي فيه كل يوم سبعون ألف ملك ثم لا يعودون إليه (.

وأخرج ابن المنذر عن عمرو البكالى قال: إن الله تعالى جزأ الملائكة عشرة أجزاءك تسعة أجزاء منهم الكروبيون وهم الملائكة الذين يحملون العرش، وهم أيضا الذين يسبحون بالليل والنهار لا يفترون قال: ومن بقى من الملائكة لأمر الله ورسالاته.

وأخرج ابن أبى حاتم من طريق حبيب بن عبد الرحمن بن سلمان أبى الأعيس عن أبيه قال: الإنس والجن عشرة أجزاء، فالإنس من ذلك جزء، والجن تسعة أجزاء، والجن والملائكة عشرة أجزاء، فالجن جزء، والملائكة جزء، والملائكة والروح عشرة أجزاء، فالملائكة جزء، والروح تسعة، والروح والكروبيون عشرة أجزاء، فالروح من ذلك جزء، والكروبيون تسعة أجزاء.

وأخرج أبو الشيخ، والبيهقى في شعب الإيمان، والخطيب، وابن عساكر من طريق عباد من منصور من عدي بن أرطأة عن رجل من
(তিনি) বললেন: ফেরেশতারা দশটি অংশে বিভক্ত; এর নয়টি অংশ হলো কারুবিয়ুন, যারা রাত-দিন তাসবিহ পাঠ করে এবং তারা কখনো ক্লান্ত হয় না। আর একটি অংশকে প্রতিটি জিনিসের ভাণ্ডারের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে। আসমানে এমন কোনো স্থান নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা সিজদাবনত অথবা রুকু অবস্থায় নেই। আর আরশের সমান্তরালে হারাম অবস্থিত এবং কাবার সমান্তরালে বায়তুল মামুর অবস্থিত, যা যদি নিচে পড়ে যেত তবে কাবার উপরেই পড়ত। প্রতিদিন সেখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা সালাত আদায় করেন এবং এরপর তারা সেখানে আর কখনো ফিরে আসেন না।

ইবনুল মুনযির আমর আল-বুকালি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের দশটি অংশে বিভক্ত করেছেন; তাদের নয়টি অংশ হলো কারুবিয়ুন এবং তারা হলো সেই সব ফেরেশতা যারা আরশ বহন করে। আর তারাই সেই সব ফেরেশতা যারা রাত-দিন ক্লান্তিহীনভাবে তাসবিহ পাঠ করে। তিনি বলেন: আর অবশিষ্ট ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশ ও বার্তা বহনের কাজে নিয়োজিত।

ইবনু আবি হাতিম হাবীব ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সালমান আবু আল-আঈস-এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মানুষ ও জিন হলো দশটি অংশ; তার মধ্যে মানুষ হলো এক অংশ এবং জিন নয় অংশ। জিন ও ফেরেশতা হলো দশটি অংশ; সেখানে জিন হলো এক অংশ এবং ফেরেশতা এক অংশ। ফেরেশতা ও রূহ হলো দশটি অংশ; সেখানে ফেরেশতা হলো এক অংশ এবং রূহ নয় অংশ। রূহ ও কারুবিয়ুন হলো দশটি অংশ; সেখান রূহ হলো এক অংশ এবং কারুবিয়ুন নয় অংশ।

আবুশ শাইখ, বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান'-এ, আল-খাতিব এবং ইবনে আসাকির আব্বাদ ইবনে মনসুর-এর সূত্রে আদী ইবনে আরতাহ থেকে জনৈক ব্যক্তির বরাতে বর্ণনা করেছেন—
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١٦)
الصحابة سماه - قال عباد فنسيت اسمه - عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:) إن لله ملائكة ترعد فرائصهم من مخافته، ما منهم ملك تقطر من عينيه دمعة إلا وقعت ملكا قائما يسبح الله تعالى، وملائكة سجودا منذ خلق الله السموات والأرض لم يرفعوا رؤوسهم ولا يرفعونها إلى يوم القيامة، وملائكة ركوعا لم يرفعوا رءوسهم ولا يرفعونها إلى يوم القيامة، وصفوفا لم ينصرفوا عن مصافهم ولا ينصرفون عنها إلى يوم القيامة، فإذا كان يوم القيامة تجلى لهم ربهم عز وجل فنظروا إليه وقالوا: سبحانك ما عبدناك كما ينبغى لك (.

وأخرج ابن منده في المعرفة، وابن عساكر عن عبد الرحمن بن العلاء من بنى ساعدة عن أبيه العلاء بن سعد وكان ممن بايع يوم الفتح أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) أطت السماء وحق لها أن تئط، ليس منها موضع قدم إلا وعليه ملك قائم، أو راكع، أو ساجد (ثم قرأ (وَإِنا لَنَحنُ المُسَبِحون)) الصافات: 166 (.

وأخرج ابن جرير عن الربيع بن أنس في قوله (وَعَلَم آَدَمَ الأَسماءَ كُلَها)) البقرة: 31 (قال أسماء الملائكة.

 

‌‌رؤوس الملائكة الأربعة الذين يدبرون أمر الدنيا

أخرج ابن أبى شيبة وابن أبى حاتم، وأبو الشيخ في العظمة، والبيهقى في الشعب، عن ابن سابط قال: يدبر أمر الدنيا أربعة: جبريل، وميكائيل، وملك الموت، وإسرافيل، فأما جبريل: فموكل بالرياح، والجنود، وأما ميكائيل: فموكل بالقطر، والنبات، وأما ملك الموت: فموكل بقبض الأرواح، وأما إسرافيل: فهو ينزل بالأمر عليهم.

وأخرج أبو الشيخ عن ابن سابط قال: في أم الكتاب كل شىء هو كائن إلى يوم القيامة، ووكل ثلاثة من الملائكة أن يحفظوه، فوكل
জনৈক সাহাবী তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন—আব্বাদ বলেন, আমি তাঁর নাম ভুলে গিয়েছি—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর এমন কিছু ফেরেশতা রয়েছেন যাদের কাঁধের মাংসপেশি তাঁর ভয়ে কাঁপতে থাকে। তাঁদের মধ্যে এমন কোনো ফেরেশতা নেই যার চোখ থেকে এক ফোঁটা অশ্রু ঝরলে তা দাঁড়িয়ে আল্লাহর তাসবীহ পাঠকারী একজন ফেরেশতায় পরিণত হয় না। কিছু ফেরেশতা এমন যারা আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে সিজদায় অবনত আছেন, তাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত মাথা তুলবেন না। কিছু ফেরেশতা রুকু অবস্থায় আছেন, তাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত মাথা তুলবেন না। আর কিছু ফেরেশতা সারিবদ্ধ হয়ে আছেন, তাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের কাতার ত্যাগ করবেন না। অতঃপর যখন কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে, তাঁদের মহান রব তাঁদের সামনে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং তাঁরা তাঁর দিকে তাকাবেন এবং বলবেন: আপনি পবিত্র, আমরা আপনার তেমন ইবাদত করতে পারিনি যেমনটি আপনার জন্য উপযুক্ত ছিল।"

ইবনু মানদাহ 'আল-মা’রিফাহ' গ্রন্থে এবং ইবনু আসাকির বনু সাঈদার আবদুর রহমান ইবনুল আ’লা থেকে, তিনি তাঁর পিতা আ’লা ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি মক্কা বিজয়ের দিন বায়আত গ্রহণ করেছিলেন—যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আসমান মড়মড় শব্দ করছে এবং তার জন্য মড়মড় শব্দ করাই সমীচীন। সেখানে আল্লাহর পায়ের পাতার সমান জায়গাও খালি নেই যেখানে কোনো ফেরেশতা দাঁড়িয়ে, রুকুতে অথবা সিজদায় রত নেই।" তারপর তিনি পাঠ করলেন: (এবং নিশ্চয়ই আমরা তাসবীহ পাঠকারী) [আস-সাফফাত: ১৬৬]।

ইবনু জারীর রাবী ইবনে আনাস থেকে আল্লাহর বাণী (এবং তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন) [আল-বাকারা: ৩১] এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এগুলো ছিল ফেরেশতাদের নাম।

 

‌‌দুনিয়ার বিষয়াবলি পরিচালনাকারী চার প্রধান ফেরেশতা

ইবনু আবী শায়বাহ, ইবনু আবী হাতিম, আবুশ শায়খ 'আল-আযামাহ' গ্রন্থে এবং বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে ইবনু সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দুনিয়ার বিষয়াবলি চারজন পরিচালনা করেন: জিবরাঈল, মিকাঈল, মালাকুল মাউত এবং ইসরাফীল। জিবরাঈল বায়ু ও সৈন্যবাহিনীর দায়িত্বে নিয়োজিত। মিকাঈল বৃষ্টি ও উদ্ভিদের দায়িত্বে নিয়োজিত। মালাকুল মাউত রূহ কবজ করার দায়িত্বে নিয়োজিত। আর ইসরাফীল তাঁদের কাছে আদেশ নিয়ে অবতরণ করেন।

আবুশ শায়খ ইবনু সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: উম্মুল কিতাবে কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার সবকিছু রয়েছে। আর তা সংরক্ষণের জন্য তিন জন ফেরেশতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অতঃপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١٧)
جبريل بالكتاب أن ينزل به إلى الرسل، ووكل جبريل أيضا بالهلكات إذا أراد الله أن يهلك قوما، ووكله بالنصر عند القتال، ووكل ميكائيل بالحفظ والقطر ونبات الأرض، ووكل ملك الموت بقبض الأنفس، فإذا ذهبت الدنيا جمع من حفظهم وقابل أم الكتاب فيجدونه سواء. رواه ابن أبى شيبة.

وأخرج البيهقى، والطبرانى، وأبو الشيخ عن ابن عباس قال: بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم ومعه جبريل يناجيه إذا انشق أفق السماء، فأقبل جبريل يتضاءل ويدخل بعضه في بعض ويدنو من الأرض، فإذا ملك قد مثل بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا محمد، إن ربك يقرئك السلام ويخيرك بين أن تكون نبيا ملكا، أو نبيا عبدا، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) فأشار جبريل إلىَّ بيده أن تواضع فعرفت أنه لي ناصح فقلت: نبيا عبدا، فعرج ذلك الملك إلى السماء فقلت: يا جبريل، قد كنت أردت أن أسألك عن هذا فرأيت من حالك ما شغلني عن المسألة فمن هذا يا جبريل؟ (.

قال: هذا إسرافيل خلقه الله يوم خلقه بين يديه صافا قدميه لا يرفع طرفه، بينه وبين الرب سبعون نورا، ما منها نور يدنو منه إلا احترق، بين يديه اللوح المحفوظ، فإذا أذن الله بشىء في السماء أو في الأرض ارتفع ذلك اللوح فضرب جبهته فينظر فيه: فإن كان من عملي أمرني به، وإن كان من عمل ميكائيل أمره به، وإن كان من عمل ملك الموت أمره به، قلت:) يا جبريل، على أي شىء أنت؟ (قال: على الرياح، والجنود قلت:) على أي شىء ميكائيل؟ قال: على النبات والقطر، قلت: على أي شىء ملك الموت؟ قال: على قبض الأنفس، وما ظننت انه هبط إلا بقيام الساعة وما ذاك الذي رأيت مني إلا خوفا من قيام الساعة.

وأخرج أبو الشيخ في العظمة عن جابر بن عبد الله قال:
জিবরাঈলকে কিতাব নিয়ে রাসুলগণের নিকট অবতীর্ণ হওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে ধ্বংস করতে চান, তখন জিবরাঈলকে সেই ধ্বংসের দায়িত্বও দেওয়া হয়। যুদ্ধের সময় সাহায্যের দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়েছে। আর মিকাইলকে রক্ষণাবেক্ষণ, বৃষ্টি এবং জমিনের উদ্ভিদরাজির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মালাকুল মাউতকে প্রাণ হরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যখন দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে, তখন তিনি যাদের হেফাজত করেছিলেন তাদের একত্রিত করবেন এবং উম্মুল কিতাবের (মূল কিতাব) সাথে মিলিয়ে দেখবেন, যা তারা সমান দেখতে পাবে। এটি ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন।

বায়হাকি, তাবারানি এবং আবুশ শাইখ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং জিবরাঈল পরস্পর নিভৃতে কথা বলছিলেন, এমন সময় আকাশের দিগন্ত বিদীর্ণ হলো। তখন জিবরাঈল সঙ্কুচিত হতে থাকলেন এবং নিজের শরীরের একাংশ অন্য অংশের ভেতর ঢুকিয়ে মাটির কাছাকাছি হতে লাগলেন। এমতাবস্থায় একজন ফেরেশতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দৃশ্যমান হলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনার রব আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনাকে রাজকীয় নবী হওয়া অথবা দাস নবী হওয়ার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তখন জিবরাঈল তাঁর হাত দিয়ে আমাকে বিনয়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিলেন, ফলে আমি বুঝলাম তিনি আমার হিতাকাঙ্ক্ষী। তখন আমি বললাম: দাস নবী। অতঃপর সেই ফেরেশতা আকাশের দিকে উঠে গেলেন। আমি বললাম: হে জিবরাঈল! আমি আপনাকে এই ফেরেশতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আপনার অবস্থা দেখে আমি প্রশ্ন করা থেকে বিরত ছিলাম। হে জিবরাঈল, ইনি কে?

তিনি বললেন: ইনি ইসরাফিল। আল্লাহ যেদিন তাঁকে সৃষ্টি করেছেন, সেদিন থেকেই তিনি আল্লাহর সামনে তাঁর দুই পা সোজা করে দাঁড়িয়ে আছেন এবং তাঁর দৃষ্টি উত্তোলন করেন না। তাঁর এবং রবের মাঝে সত্তরটি নূর রয়েছে। এমন কোনো নূর নেই যার কাছে তিনি গেলে পুড়ে যাবেন না। তাঁর সামনে লাওহে মাহফুজ রয়েছে। যখন আল্লাহ আসমান বা জমিনের কোনো বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেন, তখন সেই লাওহ উপরে উঠে তাঁর কপালে আঘাত করে, তখন তিনি তাতে দৃষ্টিপাত করেন। যদি তা আমার কাজের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তিনি আমাকে তার নির্দেশ দেন। যদি তা মিকাইলের কাজের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তাঁকে তার নির্দেশ দেন। আর যদি তা মালাকুল মাউতের কাজের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তাঁকে তার নির্দেশ দেন। আমি বললাম: হে জিবরাঈল! আপনি কোন বিষয়ের দায়িত্বে আছেন? তিনি বললেন: বায়ু এবং সৈন্যবাহিনীর দায়িত্বে। আমি বললাম: মিকাইল কোন বিষয়ের দায়িত্বে? তিনি বললেন: উদ্ভিদ এবং বৃষ্টির দায়িত্বে। আমি বললাম: মালাকুল মাউত কোন বিষয়ের দায়িত্বে? তিনি বললেন: প্রাণ হরণের দায়িত্বে। আর তিনি যখন অবতরণ করছিলেন তখন আমি ভেবেছিলাম কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে কি না। আর আপনি আমার মধ্যে যে অবস্থা দেখেছিলেন তা ছিল কিয়ামতের ভয়ে।

আবুশ শাইখ ‘আল-আযামাহ’ গ্রন্থে জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١٨)
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) إن أقر الخلق من الله جبرائيل، وميكائيل، وإسرافيل، وإنهم من الله لمسيرة خمسين ألف سنة، جبرائيل عن يمينه، وميكائيل عن الأخرى، وإسرافيل بينهما (.

وأخرج أبو الشيخ عن وهب قال: هؤلاء الأربعة أملاك: جبريل، وميكائيل، وإسرافيل، وملك الموت، أول من خلقهم الله من الخلق، وآخر من يميتهم، وأول من يحييهم، هم المدبرات أمرا والمقسمات أمرا (.

وأخرج أبو الشيخ عن خالد بن أبى عمران قال: جبريل أمين الله إلى رسله، وميكائيل يتلقى الكتب التي ترفع من أعمال الناس، وإسرافيل بمنزلة الحاجب (.

وأخرج أبو الشيخ عن عكرمة بن خالد أن رجلا قال: يا رسول الله أي الملائكة أكرم على الله؟ قال: لا أدري فعرج جبريل ثم هبط فقال: جبريل، وميكائيل، وإسرافيل، وملك الموت، فأما جبريل فصاحب الحرب، وصاحب المرسلين، وأما ميكائيل: فصاحب كل قطرة تسقط، وكل ورقة تنبت، وكل ورقة تسقط، وأما ملك الموت: فهو موكل بقبض روح كل عبد في بر، أو بحر، وأما إسرافيل: فأمين الله بينه وبينهم.

وأخرج الطبرانى، والحاكم عن أبى المليح عن أبيه أنه صلى مع النبي صلى الله عليه وسلم ركعتي الفجر فصلى قريبا منه، فصلى النبي صلى الله عليه وسلم ركعتين خفيفتين فسمعته يقول) اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل ومحمد أعوذ بك من النار (ثلاث مرات.
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সৃষ্টির মধ্যে জিবরাঈল, মিকাঈল এবং ইসরাফীল আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। আর তারা আল্লাহ থেকে পঞ্চাশ হাজার বছরের দূরত্বের পথ হিসেবে অবস্থানে রয়েছেন; জিবরাঈল তাঁর ডানে, মিকাঈল অন্য পাশে এবং ইসরাফীল তাঁদের মাঝখানে।"

আবুশ শাইখ ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এই চারজন ফেরেশতা—জিবরাঈল, মিকাঈল, ইসরাফীল এবং মালাকুল মউত—আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে তাঁদেরকে সর্বপ্রথমে সৃষ্টি করেছেন, তাঁদেরকেই সবার শেষে মৃত্যু দেবেন এবং তাঁদেরকেই সর্বপ্রথম পুনর্জীবিত করবেন। তাঁরাই বিষয়ের পরিচালক এবং বন্টনকারী।

আবুশ শাইখ খালিদ ইবনে আবি ইমরান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল হলেন তাঁর রাসূলগণের নিকট আল্লাহর বিশ্বস্ত বার্তাবাহক, মিকাঈল মানুষের আমল থেকে যা উপরে তোলা হয় সেই দফতরগুলো গ্রহণ করেন এবং ইসরাফীল হলেন দ্বাররক্ষীর মর্যাদায়।

আবুশ শাইখ ইকরিমাহ ইবনে খালিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর নিকট কোন ফেরেশতাগণ সবচেয়ে সম্মানিত? তিনি বললেন: আমি জানি না। অতঃপর জিবরাঈল উপরে আরোহণ করলেন এবং পরে নিচে নেমে এসে বললেন: জিবরাঈল, মিকাঈল, ইসরাফীল এবং মালাকুল মউত। জিবরাঈল হলেন যুদ্ধের এবং রাসূলগণের দায়িত্বশীল; মিকাঈল হলেন প্রতিটি বৃষ্টির ফোঁটা যা পতিত হয়, প্রতিটি পাতা যা অঙ্কুরিত হয় এবং প্রতিটি পাতা যা ঝরে পড়ে সেগুলোর দায়িত্বশীল; আর মালাকুল মউত স্থলে বা জলে প্রতিটি বান্দার প্রাণ হরণ করার জন্য নিযুক্ত; আর ইসরাফীল হলেন আল্লাহর এবং তাঁদের মধ্যবর্তী বিশ্বস্ত দূত।

তাবারানি ও হাকেম আবুল মালিহ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ফজরের দুই রাকাত সালাত আদায় করেছেন এবং তাঁর অতি নিকটে সালাত পড়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং আমি তাঁকে তিনবার বলতে শুনলাম: "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল, ইসরাফীল এবং মুহাম্মাদ-এর রব! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ١٩)
وأخرج أحمد في الزهد عن عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم أغمى عليه ورأسه في حجرها، فجعلت تمسح وجهه وتدعو له بالشفاء، فلما أفاق قال:) لا بل اسألي الله الرفيق الأعلى مع جبريل، وميكائيل، وإسرافيل عليهم السلام (.

 

‌‌ما جاء في جبريل عليه السلام

أخرج ابن جرير، وأبو الشيخ عن علي بن حسين قال: اسم جبريل عبد الله، واسم ميكائيل عبيد الله، وإسرافيل عبد الرحمن، وكل شىء رجع إلى " إيل " فهو معبد لله عز وجل.

وأخرج ابن جرير عن ابن عباس قال: جبريل عبد الله، وميكائيل عبيد الله، وكل اسم فيه " إيل " فهو معبد لله.

وأخرج ابن أبى حاتم، وأبو الشيخ عن عبد العزيز بن عمير قال: اسم جبريل في الملائكة خادم ربه عز وجل.

وأخرج أبو الشيخ عن أبى موسى بن أبى عائشة قال: بلغني أن جبريل إمام أهل السماء.

وأخرج الطبرانى عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) ألا أخبركم بأفضل الملائكة؟ جبريل (.

وأخرج مسلم عن ابن مسعود قال: رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل في حلة خضراء قد ملأ ما بين السماء والأرض.

وأخرج عن ابن مسعود قال: رأى جبريل في صورته له ستمائة جناح.

وأخرج أبو الشيخ عن عائشة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:) رأيت جبريل منهبطا قد ملأ ما بين الخافقين عليه ثياب سندس معلق بها اللؤلؤ والياقوت (.

وأخرج أبو الشيخ عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) وددت لو رأيتك في صورتك قال: وتحب ذلك؟ قال: نعم. قال: موعدك كذا وكذا من الليل بقيع الغرقد، فلقيه موعده، فنشر جناحا من أجنحته فسد أفق السماء حتى ما يرى من السماء شىء (.

وأخرج أبو الشيخ عن ابن مسعود في قوله: (وَلَقَد رَآهُ نَزلة أخرى)) النجم: 13 (قال: رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم
ইমাম আহমাদ ‘আয-যুহদ’ গ্রন্থে আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূর্ছা গিয়েছিলেন যখন তাঁর মাথা আয়েশার কোলে ছিল। তখন আয়েশা তাঁর মুখমণ্ডল মুছে দিচ্ছিলেন এবং তাঁর আরোগ্যের জন্য দোয়া করছিলেন। যখন তিনি সচেতন হলেন, তখন তিনি বললেন: "না, বরং তুমি আল্লাহর কাছে জিবরাঈল, মিকাঈল এবং ইসরাফীল আলাইহিমুস সালাম-এর সাথে উচ্চতম বন্ধুর সাহচর্য (রফিক আল-আ'লা) প্রার্থনা করো।"

 

‌‌জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

ইবনে জারীর এবং আবুশ শাইখ আলী বিন হুসাইন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল-এর অর্থ আল্লাহর বান্দা, মিকাঈল-এর অর্থ আল্লাহর ছোট বান্দা এবং ইসরাফীল-এর অর্থ পরম করুণাময়ের বান্দা। আর যে সব নামের শেষে "ঈল" যুক্ত আছে, তার অর্থ হলো মহান আল্লাহর ইবাদতকারী বা দাস।

ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল হলো আল্লাহর বান্দা, মিকাঈল হলো আল্লাহর ছোট বান্দা, এবং যে নামের মধ্যে "ঈল" আছে, তার অর্থ হলো আল্লাহর ইবাদতকারী।

ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শাইখ আব্দুল আজিজ বিন উমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফেরেশতাদের মাঝে জিবরাঈলের নামের অর্থ হলো তাঁর মহান রবের সেবক।

আবুশ শাইখ আবু মুসা বিন আবি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, জিবরাঈল হলেন আসমানবাসীর ইমাম।

তাবারানি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কি তোমাদেরকে ফেরেশতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তিনি হলেন জিবরাঈল।"

মুসলিম ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলকে একটি সবুজ পোশাকে দেখেছিলেন, যা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে ফেলেছিল।

তিনি ইবনে মাসউদ থেকে আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি জিবরাঈলকে তাঁর আদি রূপে দেখেছিলেন, তাঁর ছয়শটি ডানা ছিল।

আবুশ শাইখ আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি জিবরাঈলকে অবতরণরত অবস্থায় দেখেছি, তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দিগন্ত পূর্ণ করে ফেলেছিলেন। তাঁর পরনে ছিল রেশমি বস্ত্র, যাতে মুক্তা ও ইয়াকুত ঝুলছিল।"

আবুশ শাইখ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলকে বললেন: "আমি যদি আপনাকে আপনার প্রকৃত রূপে দেখতে পেতাম!" তিনি বললেন: "আপনি কি তা পছন্দ করেন?" নবীজি বললেন: "হ্যাঁ।" জিবরাঈল বললেন: "আপনার সাথে অমুক অমুক রাতে বাক্বী আল-গারক্বাদে সাক্ষাতের সময় রইল।" অতঃপর নির্ধারিত সময়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হলো। তখন জিবরাঈল তাঁর ডানাগুলোর মধ্য থেকে একটি ডানা বিস্তার করলেন, যা আসমানের দিগন্তকে ঢেকে ফেলল, এমনকি আসমানের আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

আবুশ শাইখ ইবনে মাসউদ থেকে আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই তিনি তাঁকে আরেকবার দেখেছিলেন" (সূরা আন-নাজম: ১৩) প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখেছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢٠)
جبريل معلقا رجليه، عليها الدر كأنه قطر المطر على البقل.

وأخرج الطبرانى عن ابن عباس، عن ورقة الأنصاري قال: قلت: يا محمد كيف يأتيك الذي يأتيك يعني جبريل؟ قال:) يأتيني من السماء، جناحاه لؤلؤ، وباطن قدميه أخضر (.

وأخرج أبو الشيخ وابن مردويه عن أنس قال: قال رسول
জিবরীল তাঁর দুই পা ঝুলিয়ে রেখেছেন, যার ওপর মুক্তা রয়েছে যেন তা শাক-সবজির ওপর বৃষ্টির ফোঁটা।

এবং তাবারানি ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি ওরাকা আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে মুহাম্মদ! আপনার নিকট যিনি আসেন তিনি কীভাবে আসেন? অর্থাৎ জিবরীল। তিনি বললেন: তিনি আসমান থেকে আমার নিকট আসেন, তাঁর ডানা দুটি মুক্তার এবং তাঁর পায়ের তালু সবুজ।

এবং আবুশ শাইখ ও ইবনে মারদুওয়াইহ আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল বলেছেন
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢١)
الله صلى الله عليه وسلم لجبريل:) هل ترى ربك؟ قال: إن بيني وبينه لسبعين حجابا من نار، ونور، لو رأيت أدناها لاحترقت (.

وأخرج أبو الشيخ عن شريح بن عبيد الله: أن النبي صلى الله عليه وسلم لما صعد إلى السماء، رأى جبريل في خلقته منظوم أجنحته بالزبرجد، واللؤلؤ، والياقوت، قال:) فخيل لي أن ما بين عينيه قد سد الأفق، وكنت أراه قبل ذلك على صور مختلفة، وأكثر ما كنت أراه على صورة دحية الكلبي، وكنت أحيانا أراه كما يرى الرجل صاحبه من وراء الغربال (.

وأخرج أحمد، وابن أبى حاتم، وأبو الشيخ عن ابن مسعود: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم ير جبريل في صورته إلا مرتين، أما واحدة فإنه سأله أني ريه نفسه، فأراه نفسه فسد الأفق، وأما الأخرى، فليلة الإسراء عند السدرة.

وأخرج أبو الشيخ من طريق عطاء، عن ابن مسعود عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) ما بين منكبي جبريل مسيرة خمسمائة عام للطائر السريع الطيران (.

وأخرج أبو الشيخ من طريق إسحاق الهاشمي عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) جبريل له ستمائة جناح من لؤلؤ قد نشرها مثل ريش الطواويس (.

واخرج ابن جرير عن حذيفة، وابن جريج وقتادة دخل حديث بعضهم في بعض لجبريل جناحان وعليه وشاح من در منظوم وهو براق الثنايا أجلى الجبين ورأسه حبك حبك مثل المرجان وهو اللؤلؤ كأنه الثلج وقدماه إلى الخضرة (.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি আপনার রবকে দেখেন?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার ও তাঁর মাঝে আগুন ও নূরের সত্তরটি পর্দা রয়েছে; আমি যদি সেগুলোর সর্বনিম্ন স্তরটিও দেখতাম, তবে পুড়ে ছাই হয়ে যেতাম।"

আবুশ শাইখ শুরাইহ ইবনে উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আকাশে আরোহণ করলেন, তখন তিনি জিবরাঈলকে তাঁর প্রকৃত সৃষ্টিগত আকৃতিতে দেখলেন; তাঁর পাখাগুলো জবরজদ, মুক্তা ও ইয়াকুত পাথর দিয়ে গাঁথা ছিল। তিনি (নবী) বললেন: "আমার মনে হলো তাঁর দুই চোখের মধ্যবর্তী স্থান দিগন্তকে রুদ্ধ করে দিয়েছে। এর আগে আমি তাঁকে বিভিন্ন রূপে দেখেছি; আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি তাঁকে দিহইয়া আল-কালবীর রূপে দেখতাম। আবার কখনো কখনো তাঁকে সেভাবে দেখতাম যেভাবে একজন মানুষ চালুনির আড়াল থেকে তার সঙ্গীকে দেখে।"

আহমাদ, ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শাইখ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিবরাঈলকে তাঁর আসল আকৃতিতে মাত্র দুইবার দেখেছেন। প্রথমবার তিনি জিবরাঈলের কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি নিজেকে তাঁকে দেখান; অতঃপর তিনি নিজেকে দেখালেন এবং দিগন্তকে আবৃত করে ফেললেন। আর দ্বিতীয়বার ছিল মিরাজের রাতে সিদরাতুল মুনতাহার নিকটে।

আবুশ শাইখ আতা-এর সূত্রে ইবনে মাসউদ থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "জিবরাঈলের দুই কাঁধের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো দ্রুতগামী পাখির পাঁচশত বছরের পথ।"

আবুশ শাইখ ইসহাক আল-হাশিমীর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "জিবরাঈলের মুক্তার তৈরি ছয়শত ডানা রয়েছে, যা তিনি ময়ূরের পেখমের ন্যায় ছড়িয়ে রেখেছেন।"

ইবনে জারির হুজাইফা, ইবনে জুরাইজ ও কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন—যাদের বর্ণনা একে অপরের সাথে মিশ্রিত হয়েছে—জিবরাঈলের দুটি ডানা রয়েছে এবং তাঁর ওপর সুবিন্যস্ত মুক্তার তৈরি একটি অলঙ্কার রয়েছে; তাঁর সামনের দাঁতগুলো অত্যন্ত উজ্জ্বল, কপাল প্রশস্ত, তাঁর মাথার চুলগুলো প্রবালের ন্যায় সুবিন্যস্ত এবং তা বরফের ন্যায় শুভ্র মুক্তাসদৃশ, আর তাঁর দুই পা সবুজাভ বর্ণের।
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وأخرج أبو الشيخ عن وهب بن منبه: أنه سئل عن خلق جبريل فذكر أن ما بين منكبيه من ذا إلى ذا خفق الطير سبعمائة عام.

وأخرج ابن سعد، والبيهقى في الدلائل عن عمار بن أبى عمار: أن حمزة ابن عبد المطلب قال: يار سول الله أرني جبريل في صورته قال: إنك لا تستطيع أن تراه قال: بلى فأرنيه قال: فاقعد، فقعد جبريل على خشبة كانت في الكعبة فقال النبي صلى الله عليه وسلم:) ارفع طرفك فانظر، فرفع طرفه فرأى قدميه مثل الزبرجد الأخضر فخر مغشيا عليه (.

وأخرج ابن المبارك في الزهد عن ابن شهاب أن رسول صلى الله عليه وسلم: سأل جبريل أن يتراءى له في صورته فقال جبريل: إنك لن تطيق ذلك قال: إني احب أن تفعل، فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى المصلى في ليلة مقمرة فأتاه جبريل في صورته فغشى على رسول الله صلى الله عليه وسلم حين رآه ثم أفاق وجبريل مسنده وواضع إحدى يديه على صدره، والأخرى بين كتفيه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) ما كنت أرى أن شيئا من الخلق هكذا فقال جبريل: فكيف لو رأيت إسرافيل، إن له لإثنى عشر جناحا، منها جناح في المشرق، وجناح في المغرب، وإن العرش على كاهله، وإنه ليتضاءل الأحيان لعظمة الله حتى يصير مثل الوصع حتى ما يحمل عرشه إلا عظمته (.

وأخرج ابن مردويه عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) إن
আবুশ শাইখ ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে জিবরাঈলের সৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর এক কাঁধ থেকে অন্য কাঁধের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো উড্ডয়নরত পাখির সাতশ বছরের পথ।

ইবনে সাদ এবং বায়হাকি ‘দালায়িল’ গ্রন্থে আম্মার ইবনে আবু আম্মার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হামযাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে জিবরাঈলকে তাঁর আসল রূপে দেখান। তিনি বললেন: আপনি তাঁকে দেখতে সক্ষম হবেন না। তিনি বললেন: অবশ্যই, আমাকে দেখান। তিনি বললেন: তবে বসুন। জিবরাঈল কাবার একটি কাঠের ওপর বসলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আপনার দৃষ্টি ওপরে তুলুন এবং দেখুন। তিনি দৃষ্টি তুললেন এবং তাঁর পা দুটি সবুজ যবোরজদের মতো দেখলেন, ফলে তিনি অচেতন হয়ে পড়ে গেলেন।

ইবনুল মুবারক ‘যুহদ’ গ্রন্থে ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলকে তাঁর কাছে তাঁর আসল রূপে আত্মপ্রকাশ করার অনুরোধ জানালেন। জিবরাঈল বললেন: আপনি তা সহ্য করতে পারবেন না। তিনি বললেন: আমি পছন্দ করি যে আপনি তা করুন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক জোছনা রাতে ঈদগাহের দিকে বের হলেন এবং জিবরাঈল তাঁর আসল রূপে তাঁর কাছে আসলেন। তাঁকে দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অচেতন হয়ে পড়লেন। অতঃপর যখন তাঁর জ্ঞান ফিরল, জিবরাঈল তাঁকে ঠেস দিয়ে ধরে ছিলেন এবং তাঁর এক হাত তাঁর বুকের ওপর এবং অন্য হাত তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে রেখেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি মনে করতাম না যে সৃষ্টির কোনো কিছু এমন হতে পারে। তখন জিবরাঈল বললেন: তবে আপনি যদি ইসরাফিলকে দেখতেন! তাঁর বারোটি ডানা রয়েছে, যার একটি ডানা প্রাচ্যে এবং একটি ডানা প্রতীচ্যে। আরশ তাঁর কাঁধের ওপর অবস্থিত। আল্লাহর মাহাত্ম্যের কারণে তিনি কখনো কখনো এতোটা সংকুচিত হয়ে যান যে চড়ুই পাখির মতো হয়ে যান, এমনকি কেবল আল্লাহর মাহাত্ম্যই তাঁর আরশকে বহন করে।

ইবনে মারদুওয়াইহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নিশ্চয়ই
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢٣)
جبريل ليأتيني كما يأتي الرجل صاحبه في ثياب بيض مكفوفة باللؤلؤ والياقوت، رأسه كالجبل، وشعره كالمرجان، ولونه كالثلج، أجلى الجبين، براق الثنايا، عليه وشاحان من در منظوم، وجناحاه أخضران، ورجلاه مغموستان في الخضرة، وصورته التي صور عليها تملأ ما بين الأفقين (وقد قال صلى الله عليه وسلم:) أشتهى أن أراك في صورتك يا روح الله (فتحول له، فسد ما بين الأفقين.

وأخرج ابن عساكر بسند ضعيف عن عائشة قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) خلق الله تعالى جمجمة جبريل على قدر الغوطة (.

وأخرج الطبرانى عن ابن عباس قال:) عاد رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا من الأنصار، فلما استأذن عليه دخل عليه فلم ير أحدا فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: سمعتك تكلم غيرك قال: يا رسول الله لقد دخل علىّ داخل ما رأيت رجلا قط بعدك أكرم مجلسا، ولا أحسن حديثا منه قال:) ذاك جبريل، وإن منكم لرجالا لو أن أحدهم يقسم على الله لأبره (.

وأخرج أبو نعيم في الحلية عن عكرمة قال: قال جبريل عليه السلام: إن ربي عز وجل ليبعثني إلى الشىء لأمضيه فأجد الكون قد سبقني إليه.

وأخرج الطبرانى عن ميمونة بنت سعد قالت: قلت: يا رسول الله هل يرقد الجنب؟ قال:) ما أحب أن يرقد حتى يتوضأ، فإني أخاف أن يتوفى فلا يحضره جبريل (.
জিবরীল আমার নিকট আসেন যেভাবে কোনো ব্যক্তি তার বন্ধুর নিকট আসে; মুক্তা ও ইয়াকূত খচিত ধবধবে সাদা পোশাকে। তার মাথা পাহাড়ের ন্যায়, চুল প্রবালের ন্যায় এবং গায়ের রঙ বরফের মতো। উজ্জ্বল ললাট, ঝকঝকে দন্তরাজি; তার অঙ্গে মণি-মুক্তাখচিত দু’টি চাদর রয়েছে। তার ডানা দু’টি সবুজ এবং তার পা দু’টি সবুজের মাঝে নিমজ্জিত। তাকে যে আদি আকৃতিতে সৃষ্টি করা হয়েছে তা দুই দিগন্তের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে দেয়। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন:) হে রূহুল্লাহ! আমি আপনাকে আপনার নিজস্ব আকৃতিতে দেখতে আকাঙ্ক্ষা করি। (অতঃপর তিনি তার সামনে আত্মপ্রকাশ করলেন এবং দিগন্তের মধ্যবর্তী সকল স্থান রুদ্ধ করে দিলেন।)

ইবনে আসাকির একটি দুর্বল সনদে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তাআলা জিবরীলের মাথার খুলি গূতা-র (একটি সুবিশাল উপত্যকা) সমপরিমাণ সৃষ্টি করেছেন।

তাবারানি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারী সাহাবীকে দেখতে গেলেন। যখন তিনি অনুমতি প্রার্থনা করে ভেতরে প্রবেশ করলেন, তখন কাউকে দেখতে পেলেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: আমি আপনাকে অন্য কারও সাথে কথা বলতে শুনলাম। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে এমন এক আগন্তুক প্রবেশ করেছিলেন যে আপনার পরে আমি তার চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ মজলিস এবং তার চেয়ে সুন্দর কথা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট দেখিনি। তিনি বললেন: তিনি জিবরীল ছিলেন; আর তোমাদের মাঝে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আল্লাহর নামে কসম করলে আল্লাহ তা অবশ্যই পূর্ণ করেন।

আবু নুআইম হিলইয়া গ্রন্থে ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরীল আলাইহিস সালাম বলেছেন: আমার মহান প্রভু যখন আমাকে কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য পাঠান, তখন আমি দেখতে পাই যে মহাজাগতিক ফয়সালা আমার পূর্বেই সেখানে পৌঁছে গেছে।

তাবারানি মায়মুনা বিনতে সা'দ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি জিজ্ঞাসা করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! অপবিত্র অবস্থায় কি ঘুমানো যাবে? তিনি বললেন: ওযু না করা পর্যন্ত সে ঘুমাক তা আমি পছন্দ করি না, কারণ আমি ভয় পাই যে যদি সে মৃত্যুবরণ করে তবে জিবরীল তার নিকট উপস্থিত হবেন না।
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وأخرج أبو الشيخ عن ابن مسعود قال: جاء جبريل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال:) يا جبريل إني لأحسب أن لى عندك منزلة (قال: أجل والذي بعثك بالحق، ما بعثت إلى نبي قط أحب إلى منك، قال:) فإني أحب أن تعلمني منزلتى (قال: إن قدرت على ذلك قال: والذي بعثك بالحق لقد دنوت فيها من ربي دنوا ما دنوت مثله قط، وإن كان قدر دنوى منه مسيرة خمسمائة سنة، وإن أقرب الخلق من الله عز وجل: إسرافيل، وإن قدر دنوه منه مسيرة سبعين عاما فيهن سبعون نورا، إن أدناها ليغشى الأبصار، فكيف بالعلم فيها وراء ذلك، ولكن يعرض له بلوح ثم يدعونا فيبعثنا.

وأخرج أحمد في الزهد عن رباح قال: حدثت أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لجبريل:) لم تأتينى إلا وأنت صار بين عينيك؟؟ قال: إنى لم أضحك منذ خلقت النار.

وأخرج أبو الشيخ عن وهب قال: إن أدنى الملائكة من الله جبريل، ثم ميكائيل، فإذا ذكر الله عبدا بأحسن عمله قال: فلان ابن فلان عمل كذا وكذا من طاعتى صلواتى عليه، ثم يسأل ميكائيل جبريل: ما أحدث ربنا؟ فيقول: فلان ابن فلان ذكر بأحسن عمله، فصلى عليه، صلوات الله عليه، ثم يسأل ميكائيل من يراه من أهل السماء فيقولون: ماذا أحدث ربنا؟ فيقول: ذكر فلان ابن فلان بأحسن عمله فصلى عليه، صلوات الله عليه، فلا يزال يقع من سماء إلى سماء حتى يقع إلى الأرض، وإذا ذكر عبدا بأسوأ عمله قال: عبدي فلان ابن فلان عمل كذا وكذا من معصيتى فلعنتى عليه، ثم يسال ميكائيل جبريل ماذا أحدث ربنا؟ فيقول: ذكر فلان ابن فلان بأسوأ عمله فعليه لعنة الله فلا يزال يقع من سماء إلى سماء حتى يقع إلى الأرض.

وأخرج الصابوني في المائتين، والبيهقى في شعب الإيمان عن جابر بن عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:) إن جبريل موكل بحاجات العباد، فإذا دعا المؤمن قال الله: يا جبريل، احبس حاجة عبدي فإني أحبه وأحب صوته، وإذا دعا الكافر قال الله: يا جبريل، اقض حاجة عبدى فإنى أبغضه وأبغض صوته (.

وأخرج البيهقى عن ثابت قال: بلغنا أن الله تعالى وكل جبريل عليه السلام بحوائج الناس، فإذا دعا المؤمن قال يا جبريل: احبس حاجته فإنى أحب دعاءه، وإذا دعا الكافر قال يا جبريل: اقض حاجته فإنى أبغض دعاءه. قال البيهقى: هذا هو المحفوظ.

وأخرج ابن أبى شيبة من طريق ثابت عن عبد الله بن عمير قال: إن جبريل موكل بالحوائج، فإذا سأل المؤمن ربه قال: احبس
আবুশ শাইখ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন, তখন তিনি (নবী) বললেন: "হে জিবরাঈল, আমি মনে করি যে আপনার নিকট আমার একটি বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি আপনার চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো নবীর নিকট কখনো প্রেরিত হইনি।" তিনি (নবী) বললেন: "আমি চাই আপনি আমাকে আমার মর্যাদা সম্পর্কে জানান।" তিনি বললেন: "আমি যদি তা করতে সক্ষম হই।" এরপর তিনি বললেন: "সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি সেখানে আমার রবের এত নিকটবর্তী হয়েছিলাম যা ইতিপূর্বে আর কখনো হইনি; যদিও তাঁর থেকে আমার সেই নৈকট্যের দূরত্ব ছিল পাঁচশ বছরের পথ। আর সৃষ্টি জগতের মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হলেন ইসরাফিল, এবং তাঁর থেকে তাঁর (ইসরাফিলের) নৈকট্যের দূরত্ব হলো সত্তর বছরের পথ, যার মাঝে সত্তরটি নূর রয়েছে, যার মধ্যে সর্বনিম্নটিই দৃষ্টিশক্তিকে আচ্ছন্ন করে দেয়। তবে এর বাইরের জ্ঞান সম্পর্কে কী-ই বা বলা যায়! বরং তাঁর সামনে লওহ পেশ করা হয়, অতঃপর তিনি আমাদের ডাকেন এবং আমাদের প্রেরণ করেন।"

আহমাদ 'যুহদ' গ্রন্থে রাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে বর্ণনা করা হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলকে বললেন: "আপনি যখনই আমার নিকট আসেন, তখনই আপনার দুই ভ্রুর মাঝখানে কেন গম্ভীর ভাব থাকে?" তিনি বললেন: "জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে আমি কখনো হাসিনি।"

আবুশ শাইখ ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ফেরেশতাদের মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হলেন জিবরাঈল, অতঃপর মিকাইল। যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে তার সর্বোত্তম আমলের মাধ্যমে স্মরণ করেন, তখন তিনি বলেন: "অমুকের পুত্র অমুক আমার আনুগত্যে অমুক অমুক কাজ করেছে, তার ওপর আমার রহমত বর্ষিত হোক।" তখন মিকাইল জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করেন: "আমাদের রব নতুন কী নির্দেশ দিয়েছেন?" তিনি বলেন: "অমুকের পুত্র অমুককে তার সর্বোত্তম আমলের জন্য স্মরণ করা হয়েছে এবং তার ওপর রহমত বর্ষণ করা হয়েছে; আল্লাহর রহমত তার ওপর বর্ষিত হোক।" এরপর মিকাইল আসমানবাসীদের মধ্যে যাঁদের দেখেন তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন, তাঁরা বলেন: "আমাদের রব নতুন কী আদেশ দিয়েছেন?" তিনি বলেন: "অমুকের পুত্র অমুককে তার সর্বোত্তম আমলের জন্য স্মরণ করা হয়েছে এবং তার ওপর রহমত বর্ষণ করা হয়েছে; তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।" এভাবে তা এক আসমান থেকে অন্য আসমানে পৌঁছাতে থাকে যতক্ষণ না তা যমীনে পৌঁছে। আর যখন তিনি কোনো বান্দাকে তার নিকৃষ্ট আমলের মাধ্যমে স্মরণ করেন, তখন তিনি বলেন: "আমার বান্দা অমুকের পুত্র অমুক আমার অবাধ্যতায় অমুক অমুক কাজ করেছে, তাই তার ওপর আমার অভিশাপ।" তখন মিকাইল জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করেন: "আমাদের রব নতুন কী জানিয়েছেন?" তিনি বলেন: "অমুকের পুত্র অমুককে তার নিকৃষ্ট আমলের কারণে স্মরণ করা হয়েছে, সুতরাং তার ওপর আল্লাহর লানত।" এভাবে তা এক আসমান থেকে অন্য আসমানে নামতে থাকে যতক্ষণ না তা যমীনে পৌঁছে যায়।

আস-সাবুনী 'আল-মায়াতাইন' গ্রন্থে এবং বায়হাকী 'শুআবুল ঈমান'-এ জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয় জিবরাঈল বান্দাদের প্রয়োজন পূরণে নিয়োজিত। যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ বলেন: 'হে জিবরাঈল, আমার বান্দার প্রয়োজন পূরণ স্থগিত রাখো, কারণ আমি তাকে এবং তার কণ্ঠস্বর শুনতে ভালোবাসি।' আর যখন কোনো কাফের ব্যক্তি প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ বলেন: 'হে জিবরাঈল, আমার বান্দার প্রয়োজন পূর্ণ করে দাও, কারণ আমি তাকে এবং তার কণ্ঠস্বর শুনতে ঘৃণা করি'।"

বায়হাকী সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহ তাআলা জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে মানুষের হাজত বা প্রয়োজন পূরণের দায়িত্ব দিয়েছেন। যখন কোনো মুমিন দোয়া করে, তখন তিনি বলেন: "হে জিবরাঈল, তার প্রয়োজন স্থগিত রাখো, কারণ আমি তার প্রার্থনা ভালোবাসি।" আর যখন কোনো কাফের দোয়া করে, তখন তিনি বলেন: "হে জিবরাঈল, তার প্রয়োজন পূরণ করে দাও, কারণ আমি তার প্রার্থনা অপছন্দ করি।" বায়হাকী বলেন: এটিই সংরক্ষিত বর্ণনা।

ইবনে আবি শায়বা সাবিতের সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে উমাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নিশ্চয় জিবরাঈল মানুষের প্রয়োজনসমূহ পূরণে নিয়োজিত। যখন কোনো মুমিন ব্যক্তি তার রবের নিকট প্রার্থনা করে, তখন তিনি বলেন: "স্থগিত রাখো..."
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢٥)
احبس حبا لدعائه أن يزداد، وإذا سأل الكافر قال: أعطه أعطه بغضا لدعائه.

وأخرج الحكيم الترمذى عن أبى ذر قال: إن الله يقول: يا جبريل انسخ من قلب عبدى المؤمن الحلاوة التي كان يجدها لي قال: فيصير العبد المؤمن والها طالباً للذى كان يعهد في نفسه، نزلت به مصيبة لم ينزل به مثلها قط، فإذا نظر الله إليه على تلك الحال قال: يا جبريل رد إلى قلب عبدى ما نسخت منه فقد ابتليته فوجدته صادقا، وسأمده من قبلى بزيادة.

وأخرج أبو الشيخ عن عمرو بن مرة قال: جبريل على ريح الجنوب.

وأخرج ابن عساكر في تاريخه عن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) ما شئت أن أرى جبريل عليه السلام متعلقا بأستار الكعبة وهو يقول: يا واجد، يا ماجد، لا تزل عنى نعمة أنعمت بها على؛ إلا رأيته (.

وأخرج أبو الشيخ عن عبد العزيز بن أبى رواد قال: نظر الله إلى جبريل، وميكائيل، وهما يبكيان فقال الله: ما يبكيكما وقد علمتما أنى لا أجور؟ فقالا: يا رب إنا لا نأمن مكرك قال: هكذا فافعلا، فإنه لا يأمن من مكرى إلا كل خاسر.

وأخرج الإمام أحمد في الزهد عن أبى عمران الجونى أنه بلغه أن جبريل أتى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يبكى فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما يبكيك؟ قال: وما لى لا أبكى، فو الله ما جفت لي عين منذ خلق الله النار مخافة أن أعصيه فيقذفني فيها.
(আল্লাহ বলেন:) তাঁর দুআ যেন বৃদ্ধি পায় সেজন্য তাঁর দুআকে (কবুল করা থেকে) স্থগিত রাখো ভালোবাসা স্বরূপ। আর যখন কোনো কাফের প্রার্থনা করে, তখন তিনি বলেন: তাকে দিয়ে দাও, তাকে দিয়ে দাও, তার দুআর প্রতি ঘৃণা স্বরূপ।

আল-হাকিম আত-তিরমিযী আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা বলেন: হে জিবরাঈল! আমার মুমিন বান্দার অন্তর থেকে সেই মিষ্টতা বিলীন করে দাও যা সে আমার প্রতি অনুভব করত। তিনি বলেন: তখন মুমিন বান্দা ব্যাকুল হয়ে সেই জিনিসের অনুসন্ধান করতে থাকে যা সে নিজের মধ্যে পেত; তার ওপর এমন বিপদ আপতিত হয় যার মতো বিপদ তার ওপর আর কখনো আসেনি। অতঃপর আল্লাহ যখন তাকে সেই অবস্থায় দেখেন তখন বলেন: হে জিবরাঈল! আমার বান্দার অন্তরে তা ফিরিয়ে দাও যা আমি তা থেকে বিলীন করেছিলাম, কারণ আমি তাকে পরীক্ষা করেছি এবং তাকে সত্যবাদী পেয়েছি। আর আমি আমার পক্ষ থেকে তাকে আরও বেশি দান করব।

আবুশ শায়খ আমর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল দক্ষিণা বাতাসের দায়িত্বে নিয়োজিত।

ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে আলী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি যখনই জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে কাবার পর্দার সাথে ঝুলে থাকা অবস্থায় এবং এই বলতে দেখতে চেয়েছি যে: হে প্রাপক, হে মহান, আপনি আমাকে যে নেয়ামত দান করেছেন তা আমার থেকে ছিনিয়ে নেবেন না; তখনই আমি তাঁকে সেই অবস্থায় দেখেছি।"

আবুশ শায়খ আব্দুল আজিজ ইবনে আবি রাওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা জিবরাঈল ও মিকাইলের দিকে তাকালেন যখন তাঁরা উভয়ে কাঁদছিলেন। তখন আল্লাহ বললেন: তোমাদের কিসে কাঁদাচ্ছে অথচ তোমরা জানো যে আমি অবিচার করি না? তাঁরা বললেন: হে রব! আমরা আপনার কৌশল থেকে নিরাপদ বোধ করছি না। তিনি বললেন: তোমরা এভাবেই ভীত থাকো, কেননা ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর কৌশল থেকে নিরাপদ বোধ করে না।

ইমাম আহমাদ তাঁর 'যুহদ' গ্রন্থে আবু ইমরান আল-জাওনি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে জিবরাঈল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ক্রন্দনরত অবস্থায় আসলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন: আপনাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: আমার কেন কাঁদা উচিত নয়? আল্লাহর কসম! আল্লাহ যখন থেকে জাহান্নাম সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে আমার চোখ কখনো শুকায়নি এই ভয়ে যে, পাছে আমি তাঁর অবাধ্য হয়ে যাই আর তিনি আমাকে তাতে নিক্ষেপ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وأخرج البيهقى في شعب الإيمان أنبأنا أبو محمد عبد الله بن يوسف الأصبهانى أنبأنا أبو بكر أحمد بن سعيد بن فرضخ الأخميمى بمكة حدثنا الوليد بن حماد حدثنا أبو محمد عبد الله بن الفضل بن عاصم بن عمر بن قتادة بن النعمان الأنصاري حدثني أبى الفضل عن أبيه عاصم عن أبيه عمر عن قتادة بن النعمان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) أنزل الله جبريل عليه السلام في أحسن ما كان يأتينى في صورة فقال: إن الله يقرئك السلام يا محمد ويقول لك: إني قد أوحيت إلى الدنيا أن تمررى، وتكدرى، وتضيقى، وتشددى على أوليائى كي يحبوا لقائى، وتسهلى، وتوسعى، وتطيبى لأعدائى حتى يكرهوا لقائى، فإني قد خلقتها سجنا لأوليائى، وجنة لأعدائي (، قال البيهقى: لم نكتبه إلا بهذا الإسناد وفيهم مجاهيل.

وأخرج ابن عساكر عن واثلة بن الأسقع قال: أتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل من أهل اليمن أكشف، أحول، أوقص، أحنف، أصمخ، أعسر، أرسح، أفحج فقال: يار سول الله، أخبرنى بما فرض الله علىَّ، فلما أخبره قال: إنى أعاهد الله أن لا أزيد على فريضته قال: ولم ذاك؟ قال: لأنه خلقنى فشوه خلقى، ثم أدبر فأتاه جبريل فقا: يا محمد أين العاتب؟ إنه عاتب ربا كريما فأعتبه قال: قل له ألا يرضى أن يبعثه الله في صورة جبريل يوم القيامة؟ فقال له، فقال: بلى يا رسول الله، فإني أعاهد الله أن لا يقوى جسدى على شىء من مرضاة الله إلا عملته. فيه العلاء بن كثير قال البخاري: منكر الحديث.

وأخرج أبو الشيخ عن سعيد بن جبير في قوله (إلاّ مَن
বায়হাকী ‘শুআবুল ঈমান’-এ বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ আল-আসবাহানী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ বিন সাঈদ বিন ফারযাখ আল-আখমীমি মক্কায়, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওয়ালীদ বিন হাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ বিন আল-ফাদল বিন আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ বিন আন-নুমান আল-আনসারী, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা আল-ফাদল, তিনি তাঁর পিতা আসিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা উমর থেকে, তিনি কাতাদাহ বিন আন-নুমান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ তাআলা জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে তাঁর নিকট আসার সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে অবতরণ করালেন। অতঃপর তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! আল্লাহ আপনাকে সালাম জানাচ্ছেন এবং আপনার উদ্দেশ্যে বলছেন: নিশ্চয়ই আমি দুনিয়াকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছি যে, তুমি আমার বন্ধুদের জন্য তিক্ত হও, ঘোলাটে হও, সংকীর্ণ হও এবং কঠোর হও, যাতে তারা আমার সাথে সাক্ষাতকে ভালোবাসে; আর তুমি আমার শত্রুদের জন্য সহজ হও, প্রশস্ত হও এবং সুখময় হও, যাতে তারা আমার সাথে সাক্ষাতকে অপছন্দ করে। কেননা আমি দুনিয়াকে আমার বন্ধুদের জন্য কারাগার এবং আমার শত্রুদের জন্য জান্নাত হিসেবে সৃষ্টি করেছি।” বায়হাকী বলেন: আমরা এই হাদীসটি কেবল এই ইসনাদেই লিখেছি এবং তাদের মধ্যে অজ্ঞাত বর্ণনাকারী রয়েছে।

ইবনে আসাকির ওয়াছিলা বিন আল-আসকা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়ামেনবাসীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসল যার মাথার সম্মুখভাগ ছিল কেশহীন, সে ছিল টেরা চোখ বিশিষ্ট, ছোট ঘাড় বিশিষ্ট, পা বাঁকা, বধির, বামহাতি, শীর্ণ নিতম্ব এবং ধনুকের মতো বাঁকা পা বিশিষ্ট। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ আমার ওপর যা ফরজ করেছেন সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। যখন তিনি তাকে অবহিত করলেন, সে বলল: আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করছি যে, আমি তাঁর ফরজের ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: কেন এমন? সে বলল: কারণ তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমার অবয়বকে বিকৃত করেছেন। অতঃপর সে যখন ফিরে গেল, তখন জিবরাঈল (আ.) এসে বললেন: হে মুহাম্মাদ! সেই অভিযোগকারী কোথায়? সে এক দয়ালু রবের নিকট অভিযোগ করেছে, অতঃপর তিনি তাকে সন্তুষ্ট করেছেন। তাকে বলুন, সে কি এতে সন্তুষ্ট নয় যে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে জিবরাঈলের আকৃতিতে পুনরুত্থিত করবেন? রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে তা বললেন, সে বলল: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করছি যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির কোনো কাজে আমার শরীরের সামর্থ্য থাকা অবস্থায় আমি তা অবশ্যই করব। এই বর্ণনায় আল-আলা বিন কাসীর রয়েছেন, ইমাম বুখারী যার সম্পর্কে বলেছেন: সে মুনকারুল হাদীস।

আবুশ শাইখ সাঈদ বিন জুবাইর থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: “ব্যতীত সেই ব্যক্তি যে...”
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢٧)
اِرتَضى مِن رَسولٍ فَغِنهُ يَسللُك من بينِ يَدِيهِ وَمِن خَلفِهِ رَصَداً)) الجن: 27 (قال: ما نزل جبريل بشىء من الوحي إلا ومعه أربعة حفظة من الملائكة.

وأخرج الطبرانى بسند رجاله ثقات عن أم سلمة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن في السماء ملكين أحدهما يأمر بالشدة، والآخر يأمر باللين، وكل مصيب: جبريل وميكائيل، ونبيان أحدهما يأمر باللين والآخر يأمر بالشدة وكل مصيب، وذكر إبراهيم ونوحا، ولي صاحبان أحدهما يأمر باللين والآخر بالشدة وكل مصيب وذكر أبا بكر وعمر (.
"...তবে তাঁর মনোনীত কোনো রাসূল ব্যতীত; সেক্ষেত্রে তিনি তাঁর সামনে ও পেছনে প্রহরী নিযুক্ত করেন।" (আল-জিন: ২৭)। (তিনি বলেন: জিবরাঈল ওহীর কোনো কিছু নিয়ে অবতীর্ণ হননি এমন অবস্থায় যে তাঁর সাথে ফেরেশতাদের মধ্য থেকে চারজন রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রহরী ছিলেন না।

তাবারানি এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, উম্মে সালামাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আসমানে দুইজন ফেরেশতা রয়েছেন, তাঁদের একজন কঠোরতার নির্দেশ দেন এবং অন্যজন কোমলতার নির্দেশ দেন, আর উভয়েই সঠিক: তাঁরা হলেন জিবরাঈল ও মিকাইল। আর দুইজন নবী রয়েছেন যাদের একজন কোমলতার নির্দেশ দেন এবং অন্যজন কঠোরতার নির্দেশ দেন, আর উভয়েই সঠিক; এবং তিনি ইব্রাহিম ও নূহ (আলাইহিমাস সালাম)-এর নাম উল্লেখ করেন। আর আমার দুইজন সঙ্গী রয়েছেন যাদের একজন কোমলতার নির্দেশ দেন এবং অন্যজন কঠোরতার নির্দেশ দেন, আর উভয়েই সঠিক; এবং তিনি আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর নাম উল্লেখ করেন।"
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وأخرج الفريابى، وابن مردويه عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (ونفخ في الصور فصعق من في السموات ومن في الأرض إلا من شاء الله)) الزمر: 68 (قالوا: يا رسول الله من هؤلاء الذين استثنى عز وجل؟ قال: جبريل، وميكائيل، وملك الموت، وإسرافيل، وحملة العرش، فإذا قبض الله أرواح الخلائق قال لملك الموت: من بقى؟ فيقول: سبحانك ربى تباركت وتعاليت ذا الجلال والإكرام بقى جبريل، وميكائيل، وإسرافيل، وملك الموت، فيقول: خذ نفس إسرافيل، فيأخذ نفس إسرافيل فيقول الله لملك الموت: من بقى؟ فيقول: سبحانك تباركت ربى وتعاليت ذا الجلال والإكرام بقى جبريل، وميكائيل، ومن أهل الأرض: أبو بكر، وعمر (.
আল-ফিরইয়াবি এবং ইবনে মারদুওয়াহ আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "(আর যখন) শিঙায় ফুঁৎকার দেওয়া হবে, তখন আসমানসমূহে যারা আছে এবং জমিনে যারা আছে তারা সকলে বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তবে আল্লাহ যাদের ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত।" (সূরা আয-যুমার: ৬৮)। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহ যাদের ব্যতিক্রম করেছেন তারা কারা? তিনি বললেন: জিবরাঈল, মিকাঈল, মালাকুল মাউত, ইসরাফিল এবং আরশ বহনকারী ফেরেশতাগণ। অতঃপর যখন আল্লাহ সৃষ্টির প্রাণসমূহ কবজ করবেন, তখন মালাকুল মাউতকে বলবেন: আর কে বাকি আছে? তখন তিনি বলবেন: আপনি পবিত্র হে আমার রব, আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ, মহিমাময় ও মহানুভব; জিবরাঈল, মিকাঈল, ইসরাফিল এবং মালাকুল মাউত বাকি আছে। তখন তিনি বলবেন: ইসরাফিলের প্রাণ কবজ করো। অতঃপর তিনি ইসরাফিলের প্রাণ কবজ করবেন। এরপর আল্লাহ মালাকুল মাউতকে বলবেন: আর কে বাকি আছে? তখন তিনি বলবেন: আপনি পবিত্র হে আমার রব, আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ, মহিমাময় ও মহানুভব; জিবরাঈল ও মিকাঈল বাকি আছে এবং জমিনবাসীদের মধ্যে আবু বকর ও উমর বাকি আছে।
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وأخرج الحاكم عن أبى سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) وزيراى من أهل السماء: جبريل، وميكائيل، ومن أهل الأرض: أبو بكر، وعمر (.

ইমাম আল-হাকিম আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আসমানবাসীদের মধ্য থেকে আমার দুই উজির হলেন জিবরাঈল ও মিকাঈল, আর যমীনবাসীদের মধ্য থেকে আবু বকর ও উমর।

(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وأخرج البزار والطبرانى وأبو نعيم في الحلية عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) إن الله أيدني بأربعة وزراء: اثنين من أهل السماء: جبريل، وميكائيل، واثنين من أهل الأرض: أبى بكر، وعمر (.

وأخرج الديلمي من طريق السرى بن عبد الله السلمى عن عبد الحميد ابن كنانة عن أبى أمامة عن علي بن أبى طالب رفعه:) مؤذن أهل السموات: جبريل، وإمامهم: ميكائيل، يؤم بهم عند بيت المعمور، فتجتمع ملائكة السموات، فيطوفون بالبيت المعمور، وتصلى وتستغفر، فيجعل الله ثوابهم واستغفارهم وتسبيحهم لأمة محمد صلى الله عليه وسلم (.

وأخرج ابن النجار في تاريخه قال: أشهد بالله، لقد أخبرنى أبو عبد الله الأديب مشافهة بأصبهان عن أبى طاهر بن أبى نصر التاجر أن عبد الرحمن بن محمد ابن إسحاق بن منده أخبره قال: أشهد بالله لقد أنبأنا أبو عبد الله الحسين بن محمد ابن الحسين الدينورى قال: أشهد بالله لقد أنبأنا أبو القاسم عبد الله بن إبراهيم الجرجانى قال: أشهد بالله لقد أخبرني أبو الحسن محمد بن علي بن الحسين بن القاسم بن الحسن ابن
আর আল-বাজার, আত-তাবারানি এবং আবু নুআইম আল-হিলয়া গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে চারজন উজির (মন্ত্রী) দ্বারা শক্তিশালী করেছেন: দুইজন আসমানবাসীদের মধ্য থেকে— জিবরাঈল ও মিকাঈল; আর দুইজন জমিনবাসীদের মধ্য থেকে— আবু বকর ও উমর।”

আর আদ-দাইলামি আস-সাররি বিন আব্দুল্লাহ আস-সুলামির সূত্রে আব্দুল হামিদ ইবনে কিনানাহ থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে এবং তিনি আলি ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, যা মারফু হিসেবে বর্ণিত (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে): “আসমানবাসীদের মুয়াজ্জিন হলেন জিবরাঈল এবং তাদের ইমাম হলেন মিকাঈল। তিনি বাইতুল মামুরে তাদের নিয়ে ইমামতি করেন। অতঃপর আসমানসমূহের ফেরেশতারা সমবেত হন এবং তারা বাইতুল মামুর তাওয়াফ করেন, সালাত আদায় করেন ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অতঃপর আল্লাহ তাদের এই সওয়াব, ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাসবিহ-কে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য নির্ধারণ করে দেন।”

ইবনুন নাজ্জার তার ইতিহাসে (তারিখ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি, আবু আব্দুল্লাহ আল-আদিব ইসফাহানে সরাসরি মৌখিকভাবে আমাকে অবহিত করেছেন আবু তাহির বিন আবি নাসর আত-তাজির থেকে যে, আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মানদাহ তাকে অবহিত করেছেন এবং বলেছেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মাদ ইবনে আল-হুসাইন আদ-দিনাওয়ারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং বলেছেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি, আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন ইব্রাহিম আল-জুরজানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং বলেছেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি, আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আল-হুসাইন বিন আল-কাসিম বিন আল-হাসান বিন...
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٣١)
زيد بن علي بن الحسين بن علي بن أبى طالب قال: أشهد بالله لقد حدثني أحمد ابن عبد الله الشعبي البغدادى قال: أشهد بالله لقد حدثنى الحسن بن علي العسكرى قال: أشهد بالله لقد حدثنى أبى علي بن محمد قال: أشهد بالله لقد حدثنى أبى محمد ابن علي بن موسى قال: أشهد بالله لقد حدثنى أبى علي بن موسى قال: أشهد بالله لقد حدثنى أبى موسى بن جعفر قال: أشهد بالله لقد حدثنى أبى جعفر بن محمد قال: أشهد بالله لقد حدثنى أبى محمد بن علي قال: أشهد بالله لقد حدثنى أبى علي بن الحسين قال: أشهد بالله لقد حدثنى أبى الحسين بن علي قال: أشهد بالله لقد حدثنى أبى على ابن أبى طالب قال: أشهد بالله لقد حدثني محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال:) أشهد بالله لقد حدثنى ميكائيل وقال: أشهد بالله لقد حدثنى إسرافيل عن اللوح المحفوظ أنه يقول الله تبارك وتعالى: شارب الخمر كعابد وثن (قال الحافظ ابن حجر في لسان الميزان هذا المتن بالسند المذكور إلى عل بن موسى أخرجه أبو نعيم في الحلية بسند له فيه من لا يعرف حاله إلى الحسن العسكرى أيضا، لكن لم يذكر فيه إلا جبريل قال: يا محمد إن مدمن الخمر كعابد وثن، والمتن أورده ابن حبان في صحيحه من حديث ابن عباس.

 

‌‌ما جاء في إسرافيل عليه السلام

أخرج أبو الشيخ عن وهب قال: خلق الله تعالى الصور لؤلؤة بيضاء في صفاء الزجاج ثم قال للعرض: خذ الصور فتعلق به ثم قال: كن فكان إسرافيل، فأمره أن يأخذ الصور فأخذه وبه ثقب بعدد كل روح مخلوقة، ونفس منفوسة، لا تخرج روحان من ثقب واحد، وفي وسط الصور كوة كاستدارة السماء والأرض، وإسرافيل واضع فمه على تلك الكوة ثم قال له الرب: قد وكلتك بالصور فأنت للنفخة، وللصيحة، فدخل إسرافيل في مقدم العرش فأدخل رجله اليمنى تحت العرش وقدم اليسرى،
যায়িদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবু তালিব বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-শাবি আল-বাগদাদি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল-হাসান ইবনে আলী আল-আসকারি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা আলী ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা আলী ইবনে মুসা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা মুসা ইবনে জাফর আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা জাফর ইবনে মুহাম্মদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা মুহাম্মদ ইবনে আলী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা আলী ইবনে আল-হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা আল-হুসাইন ইবনে আলী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমার পিতা আলী ইবনে আবু তালিব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মিকাইল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ইসরাফিল সংরক্ষিত ফলক থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: মদ্যপায়ী ব্যক্তি মূর্তি পূজারীর ন্যায়। (হাফেজ ইবনে হাজার লিসান আল-মিজান গ্রন্থে বলেন: আলী ইবনে মুসা পর্যন্ত উল্লিখিত সনদে এই পাঠটি আবু নুয়াইম হিলইয়াহ গ্রন্থে তার এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে এমন ব্যক্তি রয়েছে যার অবস্থা অজ্ঞাত, হাসান আল-আসকারি পর্যন্তও অনুরূপ। তবে সেখানে সেখানে শুধু জিবরাইলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যে: হে মুহাম্মদ! নিশ্চয়ই মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তি মূর্তি পূজারীর ন্যায়। আর এই মূল পাঠটি ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে উদ্ধৃত করেছেন।)

 

‌‌ইসরাফিল (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

আবু আল-শাইখ ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ তায়ালা শিংগাটিকে কাঁচের স্বচ্ছতার ন্যায় একটি শ্বেত মুক্তা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশকে বললেন: শিংগাটি গ্রহণ করো, ফলে তা আরশের সাথে ঝুলে থাকল। তারপর তিনি বললেন: "হও", ফলে ইসরাফিল সৃষ্টি হলেন। এরপর তিনি তাকে শিংগাটি গ্রহণ করার নির্দেশ দিলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। তাতে প্রতিটি সৃষ্টি জীবের রূহ এবং প্রতিটি প্রাণের সংখ্যা অনুযায়ী ছিদ্র রয়েছে। একটি ছিদ্র দিয়ে দুটি রূহ বের হয় না। শিংগার মাঝখানে আসমান ও যমীনের পরিধির ন্যায় একটি গর্ত রয়েছে এবং ইসরাফিল ওই গর্তের ওপর তার মুখ রেখেছেন। অতঃপর প্রভু তাকে বললেন: আমি তোমাকে শিংগার দায়িত্ব দিয়েছি, সুতরাং তুমি ফুৎকার ও মহানাদের জন্য নির্ধারিত। এরপর ইসরাফিল আরশের সম্মুখভাগে প্রবেশ করলেন এবং আরশের নিচে তার ডান পা রাখলেন ও বাম পা অগ্রসর করলেন।
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٣٢)
ولم يطرف منذ خلقه الله لينتظر ما يؤمر به.

وأخرج الترمذى وحسنه، والحاكم والبيهقى في البعث عن أبى سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) كيف أنعم وصاحب الصور قد التقم القرن وحنى جبهته وأصغى سمعه ينتظر متى يؤمر به فينفخ (قالوا: فما نقول يا رسول الله؟ قال: قولوا:) حسبنا الله ونعم الوكيل على الله توكلنا (.

وأخرج الحاكم وصححه، وأبو الشيخ، وأبو مردويه عن أبى هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) إن طرف صاحب الصور مذ وكل به مستعد ينظر حول العرش مخافة أن يؤمر بالصيحة قبل أن يرتد إليه طرفه كأن عينيه كوكبان دريان (.

وأخرج ابن أبى حاتم عن أبى سعيد الخدري قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) مازال صاحبا الصور ممسكين بالصور ينتظران متى يؤمران (.

وأخرج الديلمي عن أبى أمامة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
এবং আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করার পর থেকে তিনি পলক ফেলেননি, তাকে কী নির্দেশ প্রদান করা হয় সেই প্রতীক্ষায়।

তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন, আর হাকীম ও বায়হাকি 'আল-বাস' গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি কীভাবে স্বস্তিতে থাকি, অথচ শিঙ্গাধারী (ফেরেশতা) শিঙ্গা মুখে নিয়েছেন, ললাট অবনত করেছেন এবং কান পেতে আছেন এই অপেক্ষায় যে, কখন তাকে নির্দেশ দেওয়া হবে আর তিনি ফুঁ দেবেন।" তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, তবে আমরা কী বলব?" তিনি বললেন: "তোমরা বলো: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক, আল্লাহর ওপরই আমরা ভরসা করলাম।"

হাকীম এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন, আর আবুশ শাইখ ও ইবনে মারদুওয়াই আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "শিঙ্গাধারীর দৃষ্টি যখন থেকে তাকে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে তখন থেকেই প্রস্তুত রয়েছে; তিনি আরশের চারদিকে তাকিয়ে থাকেন এই ভয়ে যে, তার নিজের দিকে পলক ফিরে আসার আগেই হয়তো তাকে ফুঁ দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হবে। তার চোখ দুটি যেন দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র।"

ইবনে আবি হাতিম আবু সাঈদ খুদরি (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "দুই শিঙ্গাধারী সর্বদা শিঙ্গা ধরে আছেন এবং অপেক্ষায় আছেন কখন তাদের নির্দেশ প্রদান করা হবে।"

দায়লামি আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٣٣)
) اسم جبريل عبد الله، واسم ميكائيل عبيد الله، واسم إسرافيل عبد الرحمن (.

وأخرج الطبرانى، وأبو نعيم في الحلية، وابن مردويه عن أبى هريرة: أن رجلا من اليهود قال: يا رسول الله أخبرنى عن ملك الله الذي يليه قال:) إن الملك الذي يليه: إسرافيل، ثم جبريل، ثم ميكائيل، ثم ملك الموت عليه السلام (.

وأخرج أحمد والحاكم وابن مردويه عن أبى سعيد قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:) إسرافيل صاحب الصور، وجبريل عن يمينه، وميكائيل عن يساره (.

وأخرج أبو الشيخ عن أبى بكر الهذلي قال: ليس شىء من الخلق أقرب إلى الله من إسرافيل، وبينه وبين الله سبعة حجب، وله جناح بالمشرق، وجناح بالمغرب، وجناح في الأرض السابعة، وجناح عند رأسه، وهو واضع رأسه بين جناحيه، فإذا أمر الله بالأمر تدلت الألواح على إسرافيل بما فيها من أمر الله فينظر فيها إسرافيل ثم ينادى جبريل فيجيبه فلا يسمع صوته أحد من الملائكة إلا صعق فإذا أفاقوا قالوا: ماذا قال ربكم؟ قالوا: الحق وهو العلي الكبير، وإن ملك الصور الذي وكل به إن إحدى قدميه لفي الأرض السابعة وهو جاث على ركبتيه شاخص بصره إلى إسرافيل ما طرف منذ خلقه الله ينظر متى يشير إليه فينفخ في الصور.

وأخرج ابن أبى زمنين في السنة عن كعب قال: إن أقرب
(জিবরীলের নাম আব্দুল্লাহ, মিকাঈলের নাম উবাইদুল্লাহ এবং ইসরাফীলের নাম আব্দুর রহমান।)

তাবারানী, হিলইয়াহ গ্রন্থে আবু নুআইম এবং ইবনে মারদুওয়াই আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহুদিদের এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আল্লাহর সেই ফেরেশতা সম্পর্কে সংবাদ দিন যিনি তাঁর সবচেয়ে নিকটে। তিনি বললেন: (নিশ্চয়ই যে ফেরেশতা তাঁর সবচেয়ে নিকটে তিনি হলেন ইসরাফীল, এরপর জিবরীল, এরপর মিকাঈল এবং এরপর মালাকুল মাউত আলাইহিস সালাম।)

আহমাদ, হাকেম এবং ইবনে মারদুওয়াই আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: (ইসরাফীল হলেন সূর ফুঁৎকারকারী, জিবরীল তাঁর ডান দিকে এবং মিকাঈল তাঁর বাম দিকে।)

আবুশ শায়খ আবু বকর আল-হুযালী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সৃষ্টিজগতের কোনো কিছুই ইসরাফীলের চেয়ে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী নয়। তাঁর ও আল্লাহর মাঝে সাতটি পর্দা রয়েছে। তাঁর একটি ডানা প্রাচ্যে, একটি ডানা প্রতীচ্যে, একটি ডানা সপ্তম জমিনে এবং একটি ডানা তাঁর মাথার কাছে। তিনি তাঁর মাথাটি দুই ডানার মাঝখানে রেখে দেন। যখন আল্লাহ কোনো বিষয়ে নির্দেশ দেন, তখন আল্লাহর নির্দেশ সম্বলিত লওহসমূহ ইসরাফীলের উপর ঝুঁকে পড়ে। ইসরাফীল সেগুলোর দিকে তাকান, এরপর তিনি জিবরীলকে ডাকেন এবং তিনি সাড়া দেন। ফেরেশতাদের মধ্যে কেউই তাঁর কণ্ঠস্বর শোনে না তবে তারা মূর্ছিত হয়ে পড়ে। যখন তারা সচেতন হয়, তখন তারা বলে: তোমাদের রব কী বলেছেন? তারা বলে: সত্য বলেছেন এবং তিনি সমুন্নত, সুমহান। আর সূরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যে ফেরেশতা, তাঁর একটি পা তো সপ্তম জমিনে। তিনি তাঁর দুই হাঁটু গেড়ে বসে আছেন এবং তাঁর দৃষ্টি ইসরাফীলের দিকে নিবদ্ধ। আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করার পর থেকে তিনি পলক ফেলেননি, এই অপেক্ষায় যে কখন তাকে ইশারা করা হবে আর তিনি সূরে ফুঁ দেবেন।

ইবনে আবি যামানাইন আস-সুন্নাহ গ্রন্থে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নিশ্চয়ই সবচেয়ে নিকটবর্তী
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٣٤)
الملائكة إلى الله إسرافيل، وله أربعة أجنحة: جناح بالمشرق، وجناح بالمغرب، وقد تسرول بالثالث، والرابع بينه وبين اللوح المحفوظ، فإذا أراد الله أن يوحى أمراً جاء اللوح المحفوظ حتى يصفق جبهة إسرافيل فيرفع رأسه فينظر فإذا الأمر مكتوب فينادي جبريل فيلبيه فيقول: أمرت بكذا، أمرت بكذا، فلا يهبط جبريل من سماء إلى سماء إلا فزع أهلها مخافة الساعة حتى يقول جبريل: الحق من عند الحق، فيهبط على النبي فيوحى إليه.

وأخرج أبو الشيخ عن عبد الله بن الحارث قال: كنت عند عائشة وعندها كعب فقالت: يا كعب حدثنا عن إسرافيل فقال: هو ملك الله ليس دونه شىء، جناح له بالمشرق، وجناح له بالمغرب، وجناح على كاهله، والعرش على كاهله فقالت عائشة: هكذا سمعت النبي صلى الله عليه وسلم قال كعب: واللوح على جبهته وإذا أراد الله أمرا أثبته في اللوح.

وأخرج أبو الشيخ عن عبد الله بن رباح أن كعبا قال لعائشة: هل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول في إسرافيل شيئا؟ قالت؟ نعم سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:) له أربعة أجنحة منها: جناحان أحدهما بالمشرق، والآخر بالمغرب، واللوح بين عينيه، فإذا أراد الله أن يكتب الوحى ينقر بين جبهته (.
আল্লাহর নৈকট্যশীল ফেরেশতাদের অন্যতম হলেন ইসরাফিল। তাঁর চারটি ডানা রয়েছে: একটি ডানা প্রাচ্যে, একটি ডানা প্রতীচ্যে, তৃতীয়টি দিয়ে তিনি নিজেকে আবৃত করে রেখেছেন এবং চতুর্থটি তাঁর ও লাওহে মাহফুজের মাঝে অবস্থিত। যখন আল্লাহ কোনো বিষয়ে ওহি প্রদানের ইচ্ছা করেন, তখন লাওহে মাহফুজ এসে ইসরাফিলের কপালে করাঘাত করে। ফলে তিনি মস্তক উত্তোলন করেন এবং দেখেন যে নির্দেশটি সেখানে লিখিত রয়েছে। অতঃপর তিনি জিবরাইলকে আহ্বান করেন এবং জিবরাইল তাঁর ডাকে সাড়া দেন। তিনি বলেন: আমাকে অমুক অমুক নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। জিবরাইল এক আসমান থেকে অন্য আসমানে অবতরণের সময় কিয়ামতের আশঙ্কায় আসমানবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, যতক্ষণ না জিবরাইল বলেন: সত্য এসেছে পরম সত্যময়ের পক্ষ থেকে। অতঃপর তিনি নবীর নিকট অবতরণ করেন এবং তাঁর কাছে ওহি পৌঁছে দেন।

আবুশ শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আয়িশার নিকট উপস্থিত ছিলাম এবং তাঁর কাছে কাব অবস্থান করছিলেন। আয়িশা বললেন: হে কাব, আমাদের নিকট ইসরাফিল সম্পর্কে আলোচনা করো। তিনি বললেন: তিনি আল্লাহর এমন একজন ফেরেশতা যাঁর ঊর্ধ্বে আর কিছু নেই। তাঁর একটি ডানা প্রাচ্যে এবং একটি ডানা প্রতীচ্যে, আর একটি ডানা তাঁর কাঁধের ওপর এবং আরশ তাঁর কাঁধের ওপর অবস্থিত। আয়িশা বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেও এভাবেই বলতে শুনেছি। কাব বললেন: আর লাওহ বা ফলকটি তাঁর ললাটে অবস্থিত এবং যখন আল্লাহ কোনো বিষয়ের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তা লাওহে লিপিবদ্ধ করেন।

আবুশ শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনে রাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কাব আয়িশাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আপনি কি ইসরাফিল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: তাঁর চারটি ডানা রয়েছে; যার মধ্যে একটি ডানা প্রাচ্যে এবং অন্যটি প্রতীচ্যে, আর লাওহ তাঁর দুই চক্ষুর মাঝখানে অবস্থিত। যখন আল্লাহ ওহি লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা করেন, তখন তা তাঁর ললাটের মাঝখানে করাঘাত করে।
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٣٥)
وأخرج أبو الشيخ، وأبو نعيم في الحلية عن ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:) قلت لجبريل: يا جبريل مالى لا أرى إسرافيل يضحك ولم يأتني أحد من الملائكة إلا رأيته يضحك؟ قال جبريل: ما رأينا ذلك الملك ضاحكا منذ خلقت النار.

وأخرج أبو الشيخ عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: سمع النبي صلى الله عليه وسلم هّدة فقال: با جبريل أقامت الساعة؟ قال: لا هذا إسرافيل هبط إلى الأرض.

وأخرج عبد بن حميد، والطبرانى في الأوسط، وأبو الشيخ عن عبد الله ابن الحارث قال: كنت عند عائشة وعندها كعب الحبر فذكر إسرافيل فقالت عائشة: أخبرنى عن إسرافيل فقال كعب: عندكم العلم؟ قالت: أجل، فأخبرني قال: له أربعة أجنحة: جناحان في الهواء، وجناح قد تسربل به، وجناح على كاهله، والقلم على أذنه، فإذا نزل الوحي كتب القلم ثم درست الملائكة، وملك الصور أسفل منه جاث على ركبتيه وقد نصب الأخرى فالتقم الصور، محنى ظهره، وطرفه إلى إسرافيل، وقد أمر إذا رأى إسرافيل، وقد أمر إذا رأى إسرافيل قد ضم جناحيه أن ينفخ في الصور فقالت عائشة: هكذا سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وأخرج أبو الشيخ عن الأوزاعى قال: إذا سبح إسرافيل قطع على كل ملك في السماء صلاته استماعا له.

وأخرج عنه أيضا قال: ليس أحد من خلق الله أحسن صوتا من إسرافيل، فإذا أخذ في التسبيح قطع على أهل سبع سموات صلاتهم وتسبيحهم.

وأخرج من طريق الليث حدثنى خالد بن سعيد قال: بلغنا أن إسرافيل مؤذن أهل السماء، فيؤذن لاثنتى عشرة ساعة من النهار، ولاثنتى عشرة ساعة من الليل، لكل ساعة تأذين يسمع تأذينه من في السموات
আবুশ শাইখ এবং 'হিলইয়াহ' গ্রন্থে আবু নুআইম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আমি জিবরীলকে বললাম, "হে জিবরীল! কী হলো যে আমি ইসরাফীলকে কখনো হাসতে দেখি না? অথচ আমার কাছে আসা ফিরিশতাদের মধ্যে এমন কাউকেও দেখিনি যাকে আমি হাসতে দেখিনি।" জিবরীল বললেন, "জাহান্নাম সৃষ্টির পর থেকে আমরা সেই ফিরিশতাকে কখনো হাসতে দেখিনি।"

আবুশ শাইখ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একটি বিকট শব্দ শুনলেন এবং বললেন, "হে জিবরীল! কিয়ামত কি কায়েম হয়ে গেছে?" তিনি বললেন, "না, এটি ইসরাফীল, তিনি যমীনে অবতরণ করেছেন।"

আবদ বিন হুমাইদ, আল-আওসাত গ্রন্থে তাবারানি এবং আবুশ শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আয়িশার নিকট ছিলাম এবং তাঁর কাছে কাব আল-আহবার উপস্থিত ছিলেন। তখন ইসরাফীল সম্পর্কে আলোচনা হলো। আয়িশা বললেন, "আমাকে ইসরাফীল সম্পর্কে কিছু বলুন।" কাব বললেন, "আপনাদের কাছে কি এ বিষয়ে ইলম নেই?" তিনি বললেন, "অবশ্যই আছে, তবুও আমাকে বলুন।" তিনি বললেন, "তাঁর চারটি ডানা রয়েছে: দুটি ডানা মহাশূন্যে, একটি ডানা দিয়ে তিনি নিজেকে আবৃত করে রেখেছেন এবং একটি ডানা তাঁর কাঁধের ওপর রয়েছে। কলম তাঁর কানের ওপর থাকে। যখন ওহী নাজিল হয়, তখন কলম তা লিখে নেয় এবং ফিরিশতারা তা পাঠ করেন। আর সিঙ্গাধারী ফিরিশতা তাঁর নিচে দুই হাঁটু গেড়ে বসে আছেন এবং অন্য পা খাড়া করে রেখেছেন। তিনি সিঙ্গাকে মুখে নিয়েছেন, তাঁর পিঠ বাঁকানো এবং তাঁর দৃষ্টি ইসরাফীলের দিকে নিবদ্ধ। তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যখনই তিনি দেখবেন যে ইসরাফীল তাঁর ডানা দুটি গুটিয়ে নিয়েছেন, তখনই যেন তিনি সিঙ্গায় ফুঁ দেন।" তখন আয়িশা বললেন, "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এভাবেই বলতে শুনেছি।"

আবুশ শাইখ আওযায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন ইসরাফীল তাসবীহ পাঠ করেন, তখন আসমানের প্রত্যেক ফিরিশতা তাঁর তাসবীহ শোনার জন্য নিজ নিজ সালাত বন্ধ করে দেন।

তিনি আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে ইসরাফীলের চেয়ে অধিক সুকণ্ঠী আর কেউ নেই। যখন তিনি তাসবীহ পাঠ শুরু করেন, তখন সাত আসমানের অধিবাসীরা তাদের সালাত ও তাসবীহ বন্ধ করে দেয়।

লাইসের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, খালিদ বিন সাঈদ আমাকে বলেছেন: আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইসরাফীল হলেন আসমানবাসীদের মুয়াজ্জিন। তিনি দিনের বারো ঘণ্টায় এবং রাতের বারো ঘণ্টায় আযান দেন। প্রতিটি ঘণ্টার জন্য একটি আযান রয়েছে, যা আসমানসমূহের সকল অধিবাসী শুনতে পায়।
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٣٦)
السبع ومن في الأرضين السبع إلا الجن والإنس، ثم يتقدم منهم عظيم الملائكة فيصلى بهم، قال وبلغنا أن ميكائيل يؤم الملائكة في البيت المعمور.

وأخرج ابن المبارك في الزهد عن ابن أبى جبلة بسنده قال: أول من يدعى يوم القيامة إسرافيل فيقول الله: هل بلغت عهدى؟ فيقول: نعم يارب قد بلغته جبريل فيدعى جبريل فيقال: هل بلغك إسرافيل عهدى؟ فيقول: نعم فيخلى عن إسرافيل فيقول لجبريل: ما صنعت في عهدى فيقول: يا رب بلغت الرسل فيدعى الرسل فيقال لهم: هل بلغكم جبريل عهدي؟ فيقولون: نعم فيخلى عن جبريل.

وأخرج أبو الشيخ عن أبى سنان قال: أقرب الخلق من الله اللوح وهو معلق بالعرش فإذا أراد الله أن يوحى بشىء كتب في اللوح فيجىء اللوح حتى يقرع جبهة إسرافيل وإسرافيل قد غطى رأسه بجناحه لا يرفع بصره إعظاماً لله فينظر فيه فإن كان إلى أهل السماء دفعه إلى ميكائيل، وإن كان إلى أهل الأرض دفعه إلى جبريل، فأول ما يحاسب يوم القيامة اللوح يدعى به ترتعد فرائصه فيقال له: هل بلغت؟ فيقول: نعم فيقال: من يشهد لك؟ فيقول: إسرافيل، فيدعى إسرافيل ترعد فرائصه فيقال له: هل بلغك اللوح؟ فإذا قال نعم قال اللوح: الحمد لله الذي نجاني من سوء الحساب.

وأخرج ابن حاتم وأبو الشيخ عن ضمرة قال: بلغني أن أول من سجد لآدم عليه السلام إسرافيل فأثابه الله أن كتب القرآن في جبهته.

وأخرج الطبرانى في الأوسط والبيهقى في الأسماء والصفات والبزار عن ابن عمرو قال: جاء فئام من الناس إلى رسول
সাত আকাশ এবং সাত জমিনে যারা আছে জিন ও মানুষ ব্যতীত, তারপর তাদের মধ্য থেকে ফেরেশতাদের প্রধান অগ্রগামী হবেন এবং তাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করবেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে মিকাইল বাইতুল মামুরে ফেরেশতাদের ইমামতি করেন।

ইবনুল মুবারক 'আয-যুহদ' গ্রন্থে ইবনে আবি জাবালাহ থেকে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম ইসরাফিলকে ডাকা হবে। তখন আল্লাহ বলবেন: তুমি কি আমার অঙ্গীকার পৌঁছে দিয়েছ? তিনি বলবেন: হ্যাঁ হে আমার প্রতিপালক, আমি তা জিবরাঈলের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তখন জিবরাঈলকে ডাকা হবে এবং বলা হবে: ইসরাফিল কি তোমার কাছে আমার অঙ্গীকার পৌঁছে দিয়েছে? তিনি বলবেন: হ্যাঁ। তখন ইসরাফিলকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এরপর জিবরাঈলকে বলা হবে: তুমি আমার অঙ্গীকারের ব্যাপারে কী করেছ? তিনি বলবেন: হে আমার প্রতিপালক, আমি তা রাসুলদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। তখন রাসুলদের ডাকা হবে এবং তাদের বলা হবে: জিবরাঈল কি তোমাদের কাছে আমার অঙ্গীকার পৌঁছে দিয়েছেন? তারা বলবেন: হ্যাঁ। তখন জিবরাঈলকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

আবুশ শাইখ আবু সিনান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হলো লাওহ, যা আরশের সাথে ঝুলন্ত। আল্লাহ যখন কোনো কিছু ওহি করার ইচ্ছা করেন, তখন তা লাওহে লেখা হয়। এরপর লাওহ এসে ইসরাফিলের কপালে করাঘাত করে। এমতাবস্থায় ইসরাফিল আল্লাহর মহত্ত্বের কারণে তাঁর দৃষ্টি উপরে না তুলে নিজের ডানা দিয়ে মাথা ঢেকে রাখেন। এরপর তিনি তাতে দেখেন; যদি তা আসমানবাসীদের জন্য হয় তবে তিনি তা মিকাইলের কাছে সমর্পণ করেন, আর যদি জমিনবাসীদের জন্য হয় তবে তা জিবরাঈলের কাছে সমর্পণ করেন। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম লাওহের হিসাব নেওয়া হবে। তাকে ডাকা হবে এমতাবস্থায় যে তার ঘাড়ের মাংসপেশি কাঁপতে থাকবে। তাকে বলা হবে: তুমি কি পৌঁছে দিয়েছ? সে বলবে: হ্যাঁ। তখন বলা হবে: তোমার পক্ষে কে সাক্ষ্য দিবে? সে বলবে: ইসরাফিল। তখন ইসরাফিলকে ডাকা হবে এমতাবস্থায় যে তার ঘাড়ের মাংসপেশি কাঁপতে থাকবে। তাকে বলা হবে: লাওহ কি তোমার কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছে? যখন তিনি বলবেন হ্যাঁ, তখন লাওহ বলবে: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে কঠিন হিসাব থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

ইবনে হাতেম এবং আবুশ শাইখ দামরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আদম আলাইহিস সালামকে সর্বপ্রথম যিনি সেজদা করেছিলেন তিনি হলেন ইসরাফিল। ফলে আল্লাহ তাকে এই প্রতিদান দিলেন যে তাঁর কপালে কুরআন লিখে দিলেন।

তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে, বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' গ্রন্থে এবং বাজজার ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদল লোক রাসুলুল্লাহর কাছে আসল...
(খণ্ড: ১) আল-হাবায়িক ফী আখবারিল মালায়িক (পৃষ্ঠা: ٣٧)
الله صلى الله عليه وسلم فقالوا: يا رسول الله زعم أبو بكر أن الحسنات من الله والسيئات من العباد وقال عمر: الحسنات والسيئات من الله فتابع هذا قوم، وهذا قوم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لأقضين بينكما بقضاء إسرافيل بين جبريل وميكائيل، إن ميكائيل قال بقول أبى بكر، وقال جبريل بقول عمر فقال جبريل لميكائيل: إنا متى يختلف أه السماء يختلف أهل الأرض فلنتحاكم إلى إسرافيل فتحاكما إليه، فقضى بينهما بحقيقة القدر خيره وشره وحلوه ومره كله من الله ثم قال: يا أبا بكر إن الله لو أراد أن لا يعصى لم يخلق إبليس فقال أبو بكر: صدق الله ورسوله.

 

‌‌ما جاء في ملك الموت عليه السلام

أخرج سعيد بن منصور، وابن المنذر، وابن أبى حاتم عن أبى هريرة قال: لما أراد الله عز وجل أن يخلق آدم، بعث ملكا من حملة العرش يأتي بتراب من الأرض، فلما هوى ليأخذ قالت الأرض: أسألك بالذى أرسلك أن لا تأخذ منى اليوم شيئا يكون للنار منه نصيب غدا فتركها، فلما رفع إلى ربه قال: ما منعك أن تأتي بما أمرتك؟ قال: سألتنى بك فعظمت أن أرد شيئا سألنى بك فأرسل لها آخر فقال مثل ذلك حتى أرسلهم كلهم، فأرسل ملك الموت فقالت له مثل ذلك فقال: إن الذي أرسلنى أحق بالطاعة منك، فأخذ من وجه الأرض كلها من طيبها وخبيثها، فجاء به إلى ربه، فصب عليه من ماء الجنة، فصار حما مسنونا، فخلق منه آدم.

وأخرج ابن جرير، والبيهقى في الأسماء والصفات، وابن عساكر من طريق السدى عن أبى مالك، وعن أبى صالح عن ابن عباس، وعن مرة عن ابن مسعود وناس من الصحابة قالوا: بعث الله جبريل إلى الأرض ليأتيه بطين منها فقالت الأرض: أعوذ بالله منك أن تنقص منى،
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট লোকেরা এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আবু বকর দাবি করেছেন যে পুণ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং পাপ বান্দাদের পক্ষ থেকে। আর উমর বলেছেন: পুণ্য ও পাপ উভয়ই আল্লাহর পক্ষ থেকে। ফলে একদল এই মত অনুসরণ করছে এবং অন্য দল ওই মত। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আমি তোমাদের মাঝে সেই ফয়সালা করব যা ইসরাফীল (আলাইহিস সালাম) জিবরাঈল ও মিকাঈলের মাঝে করেছিলেন। মিকাঈল আবু বকরের মত পোষণ করেছিলেন এবং জিবরাঈল উমরের মত পোষণ করেছিলেন। অতঃপর জিবরাঈল মিকাঈলকে বললেন: যখন আসমানবাসীরা মতভেদ করে তখন জমিনবাসীরাও মতভেদ করে, সুতরাং চলুন আমরা ইসরাফীলের কাছে ফয়সালা চাই। তারা তাঁর কাছে ফয়সালা চাইলেন। তিনি তাঁদের মাঝে তাকদিরের প্রকৃত হাকিকত অনুযায়ী ফয়সালা দিলেন যে—এর ভালো-মন্দ এবং মিষ্টি ও তিক্ত সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে। এরপর তিনি বললেন: হে আবু বকর, আল্লাহ যদি চাইতেন যে তাঁর অবাধ্যতা করা না হোক, তবে তিনি ইবলিসকে সৃষ্টি করতেন না। তখন আবু বকর বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্য বলেছেন।

 

‌মালাকুল মাউত (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

সাঈদ ইবনে মানসুর, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতিম আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতাকে পাঠালেন জমিন থেকে মাটি নিয়ে আসার জন্য। যখন তিনি মাটি নিতে উদ্যত হলেন, তখন জমিন বলল: আমি তোমার কাছে সেই সত্তার দোহাই দিয়ে আবেদন করছি যিনি তোমাকে পাঠিয়েছেন, যেন আজ তুমি আমার থেকে এমন কিছু গ্রহণ না করো যার অংশ আগামীকাল জাহান্নামে থাকবে। ফলে তিনি তা ছেড়ে দিলেন। যখন তিনি তাঁর রবের কাছে ফিরে গেলেন, তখন আল্লাহ বললেন: আমি তোমাকে যা আদেশ করেছিলাম তা নিয়ে আসতে কিসে তোমাকে বাধা দিল? তিনি বললেন: জমিন আপনার দোহাই দিয়ে আমার কাছে আবেদন করেছে, তাই আপনার দোহাই দিয়ে যা চাওয়া হয়েছে তা প্রত্যাখ্যান করাকে আমি অত্যন্ত গুরুতর মনে করেছি। এরপর আল্লাহ জমিনের কাছে অন্য একজন ফেরেশতা পাঠালেন, জমিন তাকেও অনুরূপ বলল। এভাবে তিনি তাদের সকলকেই পাঠালেন, অতঃপর তিনি মালাকুল মাউতকে পাঠালেন। জমিন তাকেও অনুরূপ কথা বলল। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন তিনি তোমার চেয়ে অধিক আনুগত্যের দাবিদার। এরপর তিনি জমিনের উপরিভাগের সমস্ত জায়গা থেকে ভালো ও মন্দ উভয় প্রকারের মাটি গ্রহণ করলেন এবং তা নিয়ে তাঁর রবের নিকট উপস্থিত হলেন। অতঃপর তাতে জান্নাতের পানি ঢালা হলো এবং তা পরিবর্তিত পচা কাদায় পরিণত হলো, আর তা থেকেই আদমকে সৃষ্টি করা হলো।

ইবনে জারীর, বায়হাকী তাঁর 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' গ্রন্থে এবং ইবনে আসাকির সুদ্দীর সূত্রে আবু মালিক থেকে, এবং আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে, এবং মুররাহ থেকে, তিনি ইবনে মাসউদ ও একদল সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আল্লাহ জিবরাঈলকে জমিনে পাঠালেন যেন তিনি সেখান থেকে কিছু মাটি নিয়ে আসেন। তখন জমিন বলল: আমি তোমার থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যেন তুমি আমার থেকে কিছু হ্রাস না করো,