(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شروط النهضة القسم: كتب عامة
الكتاب: شروط النهضة
المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)
المحقق: (إشراف ندوة مالك بن نبي)
الناشر: دار الفكر-دمشق سورية
عام النشر: 1986م
عدد الصفحات: 160
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রেনেসাঁর শর্তাবলী (শুরুত আন-নাহদাহ) বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: রেনেসাঁর শর্তাবলী (শুরুত আন-নাহদাহ)
গ্রন্থকার: মালেক বিন আল-হাজ উমর বিন আল-খিজর বিন নবী (মৃ. ১৩৯৩ হিজরি)
গবেষক/সম্পাদক: (নাদওয়াতু মালেক বিন নবী-এর তত্ত্বাবধানে)
প্রকাশক: দারুল ফিকর-দামেস্ক, সিরিয়া
প্রকাশের বছর: ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০
শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي
شروط النهضة
ترجمة عبد الصبور شاهين
بإشراف ندوة مالك بن نبي
دار الفكر
মালেক বিন নবী
রেনেসাঁ বা নবজাগরণের শর্তাবলি
অনুবাদ: আব্দুস সবুর শাহীন
মালেক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে
দারুল ফিকর
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
شروط النهضة
ترجمة: - عمر كامل مسقاوي - عبد الصبور شاهين
إصدار ندوة مالك بن نبي
মালিক বিন নবী
সভ্যতার সংকটসমূহ
নবজাগরণের শর্তাবলি
অনুবাদ: - ওমর কামেল মেসকাউই - আব্দুস সবুর শাহীন
মালিক বিন নবী সেমিনার কর্তৃক প্রকাশিত
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
تصوير 1406هـ-1986م
جميع الحقوق محفوظة
মুদ্রণ: ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
في عام 1971، ترك أستاذنا مالك بن نبي، رحمه الله، في المحكمة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 67/ 275 في 16 ربيع الثاني 1391
الموافق 10 حزيران 1971، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والمادية.
وتحملاً مني لهذه الرسالة، ووفاءً لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذاً لوصية المؤلف بـ "ندوة مالك بن نبي".
والتسمية هذه، دعوة إلى أصدقاء مالك بن نبي وقارئيه، ليواصلوا نهجاً في دراسة المشكلات، كان قد بدأه.
وهي مشروع نطرحه كنواة لعلاقات فكرية، كان رحمه الله يرغب في توثيقها.
وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية أو الفرنسية مترجماً من قبل المترجمين أو غير مترجم.
فقد حمّلني، رحمه الله، مسؤولية حفظ هذه الحقوق، والإذن بنشر كتبه. فإنوجدت طبعات لم تذكر فيها إشارة إلى إذن صادر من قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.
طرابلس لبنان
18 ربيع الأول 1399
15 شباط (فبراير) 1979
عمر مسقاوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
১৯৭১ সালে আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী (রহিমাহুল্লাহ), লেবাননের ত্রিপোলির শরীয়াহ (شرعية) আদালতে একটি অসিয়তনামা (وصية) রেখে যান, যা ১৩৯১ হিজরির ১৬ই রবিউস সানি মোতাবেক ১৯৭১ সালের ১০ই জুন ২৭৫/৬৭ নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছিল। এতে তিনি আমাকে তাঁর বইপত্রের নৈতিক ও বৈষয়িক দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
এই আমানতের বোঝা বহন করে এবং সেই সেমিনারগুলোর প্রতি আনুগত্য স্বরূপ যা আমাদের পিপাসার্ত হৃদয়ে স্বচ্ছ দূরদর্শিতার সঞ্চার করেছিল, আমি লেখকের অসিয়তনামা (وصية) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যা কিছু প্রকাশিত হবে তার নাম "নাদওয়াতু মালিক বিন নবী" রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এই নামকরণটি মালিক বিন নবীর বন্ধু ও পাঠকদের প্রতি একটি আহ্বান, যেন তারা সমস্যা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর শুরু করা পদ্ধতিটি অব্যাহত রাখেন।
এটি এমন একটি প্রকল্প যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করছি, যা তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।
আমি মালিকের বন্ধু ও পাঠকদের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন আরবি বা ফরাসি ভাষায় অনুবাদক কর্তৃক অনূদিত বা সরাসরি প্রকাশিত সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে লেখকের অধিকার (حقوق) রক্ষায় আমাদের সহায়তা করেন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আমাকে এই অধিকার (حقوق) সংরক্ষণের এবং তাঁর বই প্রকাশের অনুমোদনের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। অতএব, যদি এমন কোনো সংস্করণ পাওয়া যায় যেখানে আমাদের পক্ষ থেকে অনুমোদনের কোনো উল্লেখ নেই, তবে সেগুলো অবৈধ সংস্করণ হিসেবে গণ্য হবে এবং আমরা অনুরোধ করছি যেন আমাদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়।
ত্রিপোলি, লেবানন
১৮ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯
১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯
ওমর মিসকাউয়ি
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدِّمَةُ الطَّبْعَةِ الْفِرَنْسِيَّةِبِقَلم الدكتور عَبْد العَزِيز الخَالِدي
لكي أقوم بتقديم هذه الدراسة أجد بين يدي سيرة عاصفة مؤثرة أعرفها في الجزائر، ولكني ملزم بأن أدع الحديث عنها، لأن المؤلف قد منعني صراحة من مجرد الإشارة إليها، وأحتفط مع ذلك بحقي في الحديث عن العمل الذي تحتل فيه هذه الدراسة مكانا هاما، منتهيا إلى بيان الطابع الخاص، والقيمة الاجتماعية التي نجدها حتى في كتابه (لبيك) (1) الذي اعتبره بعض القراء غريبا عن الأفق الوضاء الذي خطه كتاب (الظاهرة القرآنية).
ويلفت انتباهنا في كتاب (الظاهرة) هذا، ذلك الحشد من المشاكل التي يثيرها مدخله، وطريقته الجديدة التي طبقها المؤلف للمرة الأولى على تفسير القرآن.
وأيا ما كان، فلقد تأثر المؤلف في كتاب (الظاهرة) بمشهد شباب الإسلام الذين استهوتهم المناقشة الخطيرة بين العلم والدين، فاستخلص من هذه المناقشات نتائج وثيقة أراد تبليغها للضمائر الأخرى.
ولكن دقة النقد، وعمق التحليل، وصرامة المنطق الذي يقود إلى هذه النتيجة، كل هذه الأمور ثانوية في عمل ينبع تأليفه والهدف منه من المغزى الدرامي للمشكلة أكثر من أن ينشأ عن المغزى العقلي.
وبن نبي في الواقع ليس كاتبا محترفا، أو عاملا في مكتب مكبا على أشياء
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ফরাসি সংস্করণের ভূমিকাডক্টর আবদুল আজিজ আল-খালিদির কলমে
এই গবেষণাটি উপস্থাপনের জন্য আমি আলজেরিয়ার একটি ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ও প্রভাববিস্তারকারী জীবনী আমার সামনে দেখতে পাচ্ছি যা আমি জানি, কিন্তু আমি এটি নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ লেখক আমাকে স্পষ্টভাবে এর প্রতি সামান্য ইঙ্গিত দিতেও নিষেধ করেছেন। তা সত্ত্বেও আমি সেই কাজ সম্পর্কে আলোচনা করার অধিকার রাখছি যেখানে এই গবেষণাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে; পরিশেষে আমি তার বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং সেই সামাজিক মূল্যবোধ বর্ণনা করব যা আমরা এমনকি তার 'লাব্বাইক' (১) বইতেও খুঁজে পাই, যেটিকে কিছু পাঠক 'কুরআনিক ফেনোমেনন' (আজ-জাহিরাতুল কুরআনিয়া) বইটির অঙ্কিত উজ্জ্বল দিগন্ত থেকে ভিন্ন বলে মনে করেছিলেন।
এই 'জাহিরা' (ফেনোমেনন) বইটিতে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর উপক্রমণিকায় উত্থাপিত সেই অসংখ্য সমস্যা এবং লেখকের সেই নতুন পদ্ধতি যা তিনি প্রথমবারের মতো কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন।
যাই হোক না কেন, লেখক 'জাহিরা' বইটিতে মুসলিম তরুণদের সেই দৃশ্যপটের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন যারা বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। ফলে তিনি এই আলোচনাগুলো থেকে সুদৃঢ় কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যা তিনি অন্যান্য বিবেকের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।
কিন্তু সমালোচনার সূক্ষ্মতা, বিশ্লেষণের গভীরতা এবং যুক্তির কঠোরতা যা এই পরিণতির দিকে নিয়ে যায়—এই সমস্ত বিষয় এমন একটি কাজের ক্ষেত্রে গৌণ, যার রচনা ও লক্ষ্য বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থের চেয়ে সমস্যার নাটকীয় তাৎপর্য থেকেই বেশি উৎসারিত হয়েছে।
আর বিন নবী প্রকৃতপক্ষে কোনো পেশাদার লেখক নন, কিংবা কোনো দপ্তরের কর্মী নন যিনি কেবল কিছু বিষয়ের ওপর ঝুঁকে থাকেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
خامدة من الورق والكلمات، ولكنه رجل شعر في حياته الخاصة بمعنى الإنسان في صورتيه الخلقية والاجتماعية. وتلك هي المأساة التي شعر بها بن نبي بكل ما فيها من شدة، وبكل ما صادف في تجاربه الشخصية النادرة من قساوة. وهي التي تقدم المادة الأساسية لمؤلفاته سواء (الظاهرة القرآنية) أو الدراسة التي يقدمها اليوم كأنشودة بهيجة يحي بها (كوكب المثالية) الذي يسجل فجر الحضارات منذ العصور المظلمة.
ولكن هذه الأنشودة ثمرة عقل يحاول فتح آفاق عملية للنهضة العربية والإسلامية، التي يطالبنا بها في الجزائر، وهو يكشف لنا عن مفهومها الأليم.
فإذا كان دقيقاً حساسا إلى هذه الدرجة، فليس معنى ذلك أنه رجل عقل مغرم بالتجريد، أو أنه أديب فنان مولع بصور الجمال، فإن الذي يأسره ويستولي عليه إنما هو الرعشة الإنسانية
… الألم
… الجوع
… الأسمال
… الجهل
…فهل من يفكر من أول وهلة في مواجهة هذه المشكلات يكون غير فقيه؟
لقد عاش بن نبي هذه المشكلات تماما كالآخرين الذين اتخذوا منها معارج انتخابية، يتحدثون منها عن البؤس حتى درجة الإشباع التي تناسب جميع صنوف الدجل والاستغلال، ونحن نعلم اليوم ما يؤدي إليه مثل هذه الحالة من الاختلال والقحط والفوضى.
ولكن التجربة الشخصية تعني عند بن نبي شيئا آخر: فهي سبب لتأمل في الدواء، ومن هذا التأمل تبدأ المأساة في أن تصبح عنده مشكلة فنية، فهو يقودنا بتحليله الدقيق الوثيق في أركان التاريخ لكي يكشف لنا عن (الدورة الخالدة) التي ألهمته الأنشودة الجميلة التي صدّر بها هذه الدراسة.
ولكن قبل اقتراح الحل. يجب أن تزول تماما الأنقاض من الفناء الغاص ببقايا انحطاطنا. ورواسب الفوضى التي عشنا فيها سنين عديدة.
وهذا الكتاب قد استطاع في فصوله الأولى أن يلقي الضوء على تلك الحقبة
কাগজ ও শব্দের নিস্প্রভ কোনো সত্তা নয়, বরং তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি তার ব্যক্তিগত জীবনে মানুষের নৈতিক ও সামাজিক উভয় রূপের তাৎপর্য অনুভব করেছেন। এটিই সেই ট্র্যাজেডি যা বিন নবী তার সমস্ত তীব্রতা এবং তার বিরল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় যে কঠোরতার সম্মুখীন হয়েছেন তা দিয়ে অনুভব করেছেন। এটিই তাঁর রচনার মৌলিক উপাদান সরবরাহ করে, হোক তা 'আল-জাহিরাতুল কুরআনিয়া' কিংবা সেই গবেষণা যা তিনি আজ একটি আনন্দময় সঙ্গীত হিসেবে পেশ করছেন, যার মাধ্যমে তিনি সেই 'আদর্শবাদের নক্ষত্র'-কে আবাহন করছেন যা অন্ধকার যুগ থেকে সভ্যতার ঊষালগ্নকে লিপিবদ্ধ করে।
কিন্তু এই সঙ্গীত এমন এক মেধার ফসল যা আরব ও ইসলামি রেনেসাঁ বা জাগরণের জন্য বাস্তব দিগন্ত উন্মোচনের চেষ্টা করছে, যার জন্য তিনি আলজেরিয়ায় আমাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন এবং তিনি আমাদের কাছে এর যন্ত্রণাদায়ক স্বরূপ উন্মোচন করছেন।
তিনি যদি এই মাত্রায় সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল হয়ে থাকেন, তবে তার অর্থ এই নয় যে তিনি কেবল বিমূর্ত তত্ত্বে মগ্ন একজন চিন্তাবিদ, অথবা সৌন্দর্যের রূপমুগ্ধ কোনো সাহিত্যিক বা শিল্পী; বরং যা তাকে আচ্ছন্ন করে রাখে তা হলো মানবিক শিহরন
… বেদনা
… ক্ষুধা
… জরাজীর্ণ পোশাক
… অজ্ঞতা
…সুতরাং প্রথম দৃষ্টিতেই যিনি এই সমস্যাগুলোর মোকাবিলা করার চিন্তা করেন, তিনি কি একজন ফকিহ (فقيه) ব্যতীত অন্য কিছু হতে পারেন?
বিন নবী এই সমস্যাগুলোর মধ্য দিয়েই জীবন অতিবাহিত করেছেন ঠিক তাদের মতো যারা একে নির্বাচনের সিঁড়ি হিসেবে গ্রহণ করেছে; তারা চরম বিমূর্ত দুর্দশা নিয়ে এমনভাবে কথা বলে যা সব ধরনের প্রতারণা ও শোষণের অনুকূল হয়। আর আমরা আজ জানি যে, এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে বিশৃঙ্খলা, অভাব ও অরাজকতার দিকে নিয়ে যায়।
কিন্তু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিন নবীর কাছে ভিন্ন কিছু অর্থ বহন করে: এটি প্রতিকার নিয়ে গভীর ভাবনার এক কারণ, আর এই ভাবনা থেকেই ট্র্যাজেডি তার কাছে একটি শৈল্পিক সমস্যায় রূপ নিতে শুরু করে। তিনি ইতিহাসের স্তম্ভগুলোর সূক্ষ্ম ও সুদৃঢ় বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমাদের সেই 'শাশ্বত আবর্তন'-এর দিকে নিয়ে যান, যা তাকে এই চমৎকার সঙ্গীতের প্রেরণা দিয়েছে যার মাধ্যমে তিনি এই গবেষণার সূচনা করেছেন।
কিন্তু সমাধান প্রস্তাবের আগে, আমাদের অধঃপতনের অবশিষ্টাংশ এবং দীর্ঘ বহু বছর ধরে আমরা যে বিশৃঙ্খলার মধ্যে বাস করছি তার তলানিতে ঠাসা প্রাঙ্গণ থেকে ধ্বংসাবশেষগুলো সম্পূর্ণ নির্মূল করতে হবে।
এবং এই বইটি তার প্রথম অধ্যায়গুলোতে সেই যুগের ওপর আলোকপাত করতে সক্ষম হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الهامدة، والتي حركتها بصعوبة (التقاليد البطولية) ثم أعقبتها مرحلة (الفكرة).
ولكن تراثا وثنيا قد تبقى في أعماق الضمير الشعبي الذي شكلته القرون المليئة بخرافات الدراويش.
فإذا كان غول الدراويش قد صرعه الإصلاح، فإن غولا جديدا يمكن أن يظهر أيضا. وهو لا يشترط وجود أولياء أو أحجبة وحروز، ولكن أوثان سياسية، وبطاقات للتصويت.
هذا هو الصراع بين الفكرة والوثن، الذي أصبح طابعا جديدا للمأساة الجزائرية، وبدهي أن الإدارة الاستعمارية لم تكن غافلة وهي تعرف كيف تستغل هذا الوضع لكي يتفرق الشعب الجزائري، وتتبعثر قواه. وأكثر من ذلك فإن المشكلة التي نحن بصددها قد أسيء تكييفها سواء عند دعاة الإصلاح أو رجال السياسة.
إن الاستعمار ليس مجرد عارض، بل هو نتيجة حتمية لانحطاطنا: هذه هي المشكلة، ولا جدوى من فكرة لا تسلم بهذا المسلّم الأساسي الذي يبرزه بن نبي وهو يؤكد أنه " لكيلا نكون مستعمَرين يجب أن نتخلص من القابلية للاستعمار" هذه الجملة البسيطة هي، فيما أعتقد، الإشعاع النوراني الأول، الذي استرسل لينير حلبة الصراع لنا، ولقد أضاءها من قبل نور تلك الآية المذكورة هنا كأساس للنظرية كلها {إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ}.
ومع ذلك فإن المؤلف يرى من المفيد أن يقدم أيضا التبرير التاريخي، والنقدي، والعقلي، لهذا الأساس الرباني، الذي قد يفزع العقل الديكارتي.
وهو يعتبر هذا التبرير- الذي يكشف في بعض الصفحات عن أصول فلسفته- من القوانين التي تحكم أطراد الحضارات، وهنا ينبثق حل المشكلة كنتيجة حتمية لهذا الدرس التاريخي.
নিস্প্রাণ বিষয়সমূহ, যেগুলোকে (বীরত্বগাথা ঐতিহ্য) অতি কষ্টে গতিশীল করেছিল, অতঃপর (চিন্তাধারা)-র পর্যায়টি সেটির স্থলাভিষিক্ত হলো।
কিন্তু জনমানসের গভীরে একটি পৌত্তলিক ঐতিহ্য অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছিল, যা দরবেশদের কুসংস্কারে পরিপূর্ণ শতাব্দীগুলোর মাধ্যমে রূপ লাভ করেছিল।
সুতরাং যদি দরবেশদের দৈত্যকে সংস্কার (الإصلاح) পরাস্ত করে থাকে, তবে একটি নতুন দৈত্যের আবির্ভাব ঘটাও সম্ভব। আর এর জন্য ওলি (أولياء) বা তাবীজ ও রক্ষাকবচের অস্তিত্ব শর্ত নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিমা এবং ভোটাধিকারের কার্ডই যথেষ্ট।
এটি হলো চিন্তা ও প্রতিমার মধ্যকার দ্বন্দ্ব, যা আলজেরীয় ট্র্যাজেডির একটি নতুন বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, ঔপনিবেশিক প্রশাসন এ বিষয়ে উদাসীন ছিল না; তারা জানত কীভাবে এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আলজেরীয় জনগণকে বিভক্ত করতে হয় এবং তাদের শক্তিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে হয়। এর চেয়েও বড় কথা হলো, আমরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, সংস্কারের দাওয়াতদানকারী (دعاة الإصلاح) বা রাজনীতিবিদ—উভয় পক্ষই তার ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
নিশ্চয়ই উপনিবেশবাদ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি আমাদের অধঃপতনের এক অনিবার্য পরিণতি। এটিই মূল সমস্যা। আর এমন কোনো চিন্তাধারার সার্থকতা নেই যা এই মৌলিক বিষয়টিকে স্বীকার করে না, যেটিকে বিন নবী অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন: "উপনিবেশিত না হওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই উপনিবেশিত হওয়ার মানসিকতা থেকে মুক্তি পেতে হবে।" আমার বিশ্বাস, এই সাধারণ বাক্যটিই হলো প্রথম আলোকচ্ছটা, যা আমাদের জন্য সংগ্রামের ময়দানকে আলোকিত করতে শুরু করেছে। ইতিপূর্বে এই পুরো তত্ত্বের ভিত্তি হিসেবে উল্লিখিত সেই আয়াতের (آية) নূর একে আলোকিত করেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে।"
তা সত্ত্বেও লেখক মনে করেন যে, এই ঐশ্বরিক ভিত্তির ঐতিহাসিক, সমালোচনামূলক এবং যৌক্তিক ন্যায্যতা প্রদান করা উপকারী হবে, যা হয়তো দেকার্তীয় যুক্তিবাদকে শঙ্কিত করতে পারে।
তিনি এই ন্যায্যতাকে—যা কিছু পৃষ্ঠায় তাঁর দর্শনের মূলনীতিগুলোকে উন্মোচিত করে—সভ্যতার ক্রমবিকাশ নিয়ন্ত্রণকারী নিয়মাবলির অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেন। আর এখান থেকেই এই ঐতিহাসিক পাঠের এক অনিবার্য পরিণতি হিসেবে সমস্যার সমাধানটি বেরিয়ে আসে।
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
والنظرية تتكون جزءا فجزءا، بطريقة منطقية، طبقا للتكوين الأساسي لكل حضارة، حيث تتكون من الإنسان والتراب والوقت.
فإذا طبقت هذه النظرية على بلاد العروبة مثلا، فإنها تستوجب تكييفا للانسان الأمي، والتراب البائر، والوقت الضائع.
والمؤلف يبدأ نظريته هذه في ذلك الرمز الذي صدر به الباب الثاني والذي صاغه في كناية بارعة، وجمال أدبي فذ، وإلهام اجتماعي عميق.
وخطوة خطوة يكشف لنا عن العناصر التي تبدو في نظرنا ثانوية لا تستحق التفكير، والتي تنال هنا اهتماما رئيسيا، لأن اتصالها الحقيقي بتطورنا وحياتنا يظهر أمامنا فجأة، ولقد قال فاليري: " كل سياسة تقتضي (وهي عموما تجهل أنها تقتضي) فكرة معينة للإنسان ورأيا عن مصير النوع الإنساني، فكرة غيبية تذهب من المادة البحتة إلى التصوف الشاطح ".
فهل فكر أحد في مشكلة الرجل والتراب والوقت والمرأة والزي والتكيف والثقافة، التي هي جوهر المشكلة الإنسانية كلها؟
وتكوين المؤلف كمهندس قد ساعده دون شك في التصوير الفني للأشياء، ولكن ثقافته المزدوجة تسمح له بأن يصل هذا التصور بالخطة الإنسانية، بنفس الثقة التي تطبع خاتمته المؤثرة. ونضيف هنا أن الأمر لا يتعلق بعمل مفيد للجزائر فحسب، لأن هذه الدراسة تتعدى بعبقريتها حدود الجزائر، لكي تضم مجال العالم الإسلامي كله، حيث أنها تتضمن المشكلة الإنسانية في سائر عناصرها.
ونظريه بن نبي تلقي ضوءا على التجديد الإسلامي الذي يتجلى فيه قطبا النهضة: الروح والفن.
وهو حين يقدم في النطاق العقلي والخلقي مثله الباهر، فإنما يعطي لهذين القطبين منتهى الوضوح.
তাত্ত্বিক কাঠামোটি অংশ অংশ করে, যৌক্তিক পদ্ধতিতে এবং প্রতিটি সভ্যতার মৌলিক গঠনের সাথে সংগতি রেখে গড়ে ওঠে, যা মানুষ, মাটি এবং সময়ের সমন্বয়ে গঠিত।
উদাহরণস্বরূপ, এই তত্ত্বটি যদি আরব ভূখণ্ডে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা নিরক্ষর মানুষের সংস্কার, অনাবাদী ভূমির উর্বরকরণ এবং অপচয় হওয়া সময়ের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি রাখে।
লেখক তার এই তত্ত্বটি সেই প্রতীকের মাধ্যমে শুরু করেছেন যা তিনি দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রারম্ভে উল্লেখ করেছেন এবং যা তিনি অত্যন্ত নিপুণ রূপক, অনন্য সাহিত্যিক সৌন্দর্য এবং গভীর সামাজিক অনুপ্রেরণায় রূপদান করেছেন।
ধাপে ধাপে তিনি আমাদের সামনে এমন সব উপাদান উন্মোচন করেন যা আমাদের দৃষ্টিতে গৌণ এবং চিন্তার অযোগ্য বলে মনে হয়, অথচ এখানে সেগুলোকে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে; কারণ আমাদের উন্নয়ন ও জীবনের সাথে এগুলোর প্রকৃত যোগসূত্র হঠাৎ করেই আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়। ভ্যালেরি বলেছিলেন: "প্রতিটি রাজনীতির জন্য প্রয়োজন হয় (যদিও সাধারণত তা এই প্রয়োজনের বিষয়ে অজ্ঞাত থাকে) মানুষ সম্পর্কে একটি বিশেষ ধারণা এবং মানবজাতির ভাগ্য সম্পর্কে একটি অভিমত—যা নিছক জড়বাদ থেকে শুরু করে চরম আধ্যাত্মবাদ পর্যন্ত বিস্তৃত এক আধিভৌতিক ধারণা।"
মানুষ, মাটি, সময়, নারী, পোশাক, অভিযোজন এবং সংস্কৃতির সংকট নিয়ে কি কেউ ভেবেছে, যা কি না সামগ্রিক মানবীয় সমস্যার মূল নির্যাস?
একজন প্রকৌশলী হিসেবে লেখকের গঠনশৈলী নিঃসন্দেহে বিষয়বস্তুর শৈল্পিক চিত্রায়নে তাকে সহায়তা করেছে, তবে তার দ্বিমুখী পাণ্ডিত্য তাকে এই ধারণাকে মানবিক মহাপরিকল্পনার সাথে এমন দৃঢ়তার সাথে সংযুক্ত করার সুযোগ করে দিয়েছে যা তার প্রভাবশালী উপসংহারে সুস্পষ্ট। আমরা এখানে আরও যোগ করতে চাই যে, এই বিষয়টি কেবল আলজেরিয়ার জন্য কোনো উপকারী কাজ নয়, কারণ এই গবেষণা তার মেধার গুণে আলজেরিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে শামিল করেছে, যেহেতু এটি তার সকল উপাদানে মানবীয় সংকটকে অন্তর্ভুক্ত করে।
বিন নবীর তত্ত্বটি ইসলামি পুনর্জাগরণের ওপর আলোকপাত করে, যেখানে নবজাগরণের দুটি মেরু প্রকাশিত হয়: আধ্যাত্মিকতা ও শিল্প।
যখন তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক পরিমণ্ডলে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন, তখন তিনি এই দুই মেরুর সর্বোচ্চ স্পষ্টতা দান করেন।
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ونحن نأمل أن تخدم هذه الدراسة سير النهضة في العالم العربي وفي العالم الإسلامي، اللذين يجب أن تتوافق صحوة ضميرهما مع ضابط النغم في الضمير العالمي، الذي يبحث بصورة مؤثرة عن وسائل طمأنينته في طريق السلام والديمقراطية.
ونحن نريد أيضا أن تتقبل الدول الكبرى هذه الصحوة لا " كخطر إسلامي"، ولكن كنهضة لمئات الملايين من الناس الذين جاؤوا بدورهم ليساهموا في الجهود الخلقية والعقلية للإنسانية.
فهل تستطيع الشبيبة العربية والإسلامية التي وجدت في ظروف مواتية أن تحرك هذه النهضة، التي يعتبر بن نبي داعيا وحاديها؟
وأنا لا أريد هنا أن أخالفه، فأبدي له تقديري الشخصي كأخ لي وكأستاذ.
نوفمبر 1948
دكتور عبد العزيز الخالدي
আমরা আশা করি যে এই অধ্যয়নটি আরব বিশ্ব এবং মুসলিম বিশ্বের নবজাগরণের ধারাকে ত্বরান্বিত করবে; যাদের বিবেকের জাগরণকে অবশ্যই বিশ্ব-বিবেকের ছন্দের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে, যা শান্তি ও গণতন্ত্রের পথে অত্যন্ত কার্যকরভাবে স্বীয় প্রশান্তির উপায় অনুসন্ধান করছে।
আমরা আরও চাই যে বৃহৎ শক্তিবর্গ এই জাগরণকে "ইসলামি হুমকি" হিসেবে নয়, বরং কোটি কোটি মানুষের এক নবজাগরণ হিসেবে গ্রহণ করুক, যারা মানবতার নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে তাদের নিজ নিজ ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছে।
অনুকূল পরিবেশে থাকা আরব ও মুসলিম যুবসমাজ কি পারবে এই নবজাগরণকে গতিশীল করতে, যার আহ্বানকারী এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে বিন নবী গণ্য হন?
আমি এখানে তাঁর বিরোধিতা করতে চাই না, বরং আমার এক ভাই ও উস্তাদ হিসেবে তাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
নভেম্বর ১৯৪৮
ডক্টর আব্দুল আজিজ আল-খালিদি
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
مُقَدِّمَةُ الطَّبْعَةِ الْعَرَبِيَّةِإن نشر الطبعة الأولى لهذا الكتاب، باللغة العربية، قد أظهر الاهتمام المتزايد الذي تحظى به في البلاد العربية والإسلامية بوجه عام المشكلات التي تمت إلى علم الاجتماع.
فالجيل الحاضر، يبدي أكثر فأكثر، رغبته في تفهم الوقائع الاجتماعية وآليتها.
لذلك فقد كان طبيعيا أن يبدي بعض قراء الطبعة الأولى رأيهم في الكيفية التي عالجت فيها بعض الوقائع.
ولقد لمست من خلال مناقشاتي مع هؤلاء القراء أن بعض التفسيرات التي قدمتها لهم عن تلك الوقائع لم تعطهم كل ما كنت أتمناه من التوضيح؟
وإن من هذه النقط التي تبين لي اكتنافها بشيء من الإبهام رغم ما أردت لها من الوضوح تلك التي تتصل بدور الفكرة الدينية كعامل اجتماعي يؤثر في توجيه التاريخ.
ولعلي لم أكن فيما عرضت لهذه النقطة في الطبعة السابقة قد أوفيتها حقها من التفصيل، وذلك لاقتناعي بالتفسير المختصر للدور الذي تقوم به الفكرة الدينية في التاريخ، ولما اعتمدت عليه من آراء لكسر لنج H.Kesserling في الموضوع، أعني تلك الآراء التي استخلصها من دور الفكرة المسيحية (1) في تركيب الحضارة الغربية.
وهكذا اتفقت آراء القراء على غموض هذه النقطة بالذات واقترحوا أن
--------------------------------------------
আরবি সংস্করণের ভূমিকাআরবি ভাষায় এই গ্রন্থের প্রথম সংস্করণ প্রকাশের মাধ্যমে এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, আরব ও ইসলামি দেশগুলোতে সাধারণভাবে সমাজবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট সমস্যাবলির প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান প্রজন্ম সামাজিক বাস্তবতা এবং এর কার্যপ্রণালি অনুধাবনের ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর অধিক আগ্রহ প্রকাশ করছে।
তাই প্রথম সংস্করণের কিছু পাঠক নির্দিষ্ট কিছু বাস্তবতাকে যেভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে তাদের অভিমত ব্যক্ত করাটাই ছিল স্বাভাবিক।
এসব পাঠকের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি বুঝতে পেরেছি যে, উক্ত ঘটনাবলি সম্পর্কে আমি তাদের নিকট যে ব্যাখ্যাগুলো উপস্থাপন করেছি, তা আমার প্রত্যাশা অনুযায়ী পুরোপুরি স্পষ্টতা প্রদান করতে সক্ষম হয়নি।
আর যেসব বিষয়ে আমি স্পষ্ট করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত কিছুটা অস্পষ্টতা থেকে গেছে বলে আমার নিকট প্রতীয়মান হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ইতিহাসের দিকনির্দেশনায় প্রভাব বিস্তারকারী একটি সামাজিক নিয়ামক হিসেবে ধর্মীয় চিন্তার ভূমিকা।
সম্ভবত পূর্ববর্তী সংস্করণে এই বিষয়টি আলোচনার ক্ষেত্রে আমি এর বিস্তারিত বিবরণের যথাযথ হক আদায় করতে পারিনি। এর কারণ ছিল ইতিহাসে ধর্মীয় চিন্তার ভূমিকার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার প্রতি আমার অতি-নির্ভরতা এবং এ বিষয়ে এইচ. কাইসারলিং (H. Kesserling)-এর মতামতের ওপর আমার আস্থা; অর্থাৎ পাশ্চাত্য সভ্যতার কাঠামো নির্মাণে খ্রিস্টীয় চিন্তার (১) ভূমিকা থেকে তিনি যে নির্যাস গ্রহণ করেছিলেন।
এভাবে পাঠকদের মতামত এই নির্দিষ্ট পয়েন্টের অস্পষ্টতার বিষয়ে একমত হয়েছে এবং তারা প্রস্তাব করেছেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بعقد فصل كامل في هذا الكتاب لتوضيح دور الفكرة الدينية في التاريخ. وحيث لا يسعني هنا إلا أن أؤيد هذه الملاحظات اعترافا مني بجدارتها.
فقد وددت أن أستغل فرصة الطبعة الثانية للكتاب لأضيف إليه فصلا يعالج بالخصوص أثر الفكرة الدينية في الدورة الحضارية معتمدا هذه المرة على الاعتبارات النفسية الاجتماعية بالإضافة إلى الاعتبارات التاريخية التي اقتنعنا بها في الطبعة السابقة.
ونحن حينما نتناول الأشياء على هذه الصورة، إنما نعطي للقارىء فرصة يلمس فيها بنفسه التأثير المباشر للفكرة الدينية في الوقائع النفسية الاجتماعية التي تكون ظاهرة التاريخ، فعندما نقول في فصل "من التكديس إلى البناء" إن الفكرة الدينية تتدخل كـ" مركب" ( Cataliseur) ، في تركيب عناصر التاريخ فنحن في هذا نقرر حقيقة يؤيدها تاريخ الحضارات غير أن هذا التأييد سوف يأتي على صورة "شهادة" عن هذه الظاهرة وليس في صورة "تفسير" مقبول لها.
ومن هنا كان للقارىء بعض الحق في أن لا يقتنع بهذه " الشهادة" أي أن لا يقتنع بما يقول المؤرخ وحده دونما مزيد من التفاصيل عن الفكرة الدينية في عملها المباشر في صياغة النفوس التي تحرك التاريخ بما يختلج فيها.
من أجل ذلك فقد شعرت أن القارىء ينتظر في هذا الموضوع أكثر من شهادة التاريخ: إنه ينتظر وصفا تحليليا يجد فيه المعلومات التي تقدمها الدراسات الموضوعية لهذه الظاهرة. أعني الدراسة التي تتناول الأشياء في كنهها لا في مظهرها.
ولقد حاولت تلبية هذه الرغبة المحقة فخصصت في هذه الطبعة فصل " أثر الفكرة الدينية في مركب الحضارة". سالكا هذه المرة مسلك التحليل النفساني الذي يبين بوضوح أكبر جانب من " الظاهرة" في هذا المركب، إذ يكشف لنا عن التأثير المباشر للفكرة الدينية في خصائص الفرد النفسية.
وأنا في هذا لا أدعي أن هذه الطريقة تعطي للقارىء " معرفة رياضية" في
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় চিন্তাধারার ভূমিকা স্পষ্ট করার লক্ষ্যে এই গ্রন্থে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচ্ছেদ সন্নিবেশিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমার পক্ষে কেবল এই পর্যবেক্ষণগুলোর যথার্থতা স্বীকার করে তা সমর্থন করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।
আমি গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের সুযোগটি গ্রহণ করতে চেয়েছি যাতে বিশেষত সভ্যতা-চক্রের ওপর ধর্মীয় চিন্তাধারার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে এমন একটি পরিচ্ছেদ সংযোজন করা যায়। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সংস্করণে আমাদের অনুসৃত ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি এবার মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বিবেচনার ওপরও নির্ভর করা হয়েছে।
আমরা যখন বিষয়গুলোকে এইভাবে গ্রহণ করি, তখন মূলত পাঠককে ইতিহাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক ঘটনাপ্রবাহের ওপর ধর্মীয় চিন্তাধারার প্রত্যক্ষ প্রভাব অনুধাবনের সুযোগ করে দিই। সুতরাং যখন আমরা "স্তূপীকরণ থেকে নির্মাণ" পরিচ্ছেদে বলি যে, ইতিহাসের উপাদানসমূহের সংমিশ্রণে ধর্মীয় চিন্তাধারা একটি "সংশ্লেষক" (مركب) হিসেবে কাজ করে, তখন আমরা মূলত এমন একটি সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করি যা সভ্যতার ইতিহাস দ্বারা সমর্থিত। তবে এই সমর্থনটি এই প্রপঞ্চের স্বপক্ষে একটি "সাক্ষ্য" (شهادة) হিসেবে উপস্থাপিত হবে, এর কোনো গ্রহণযোগ্য "ব্যাখ্যা" হিসেবে নয়।
আর এখান থেকেই পাঠকের এই "সাক্ষ্যের" (شهادة) ব্যাপারে পুরোপুরি আশ্বস্ত না হওয়ার কিছুটা অধিকার জন্মে। অর্থাৎ, মানুষের অন্তরের যে আবেগ-উচ্ছ্বাস ইতিহাসকে চালিত করে, সেই অন্তর গঠনে ধর্মীয় চিন্তাধারার প্রত্যক্ষ তৎপরতা সম্পর্কে বিশদ বিবরণ ব্যতিরেকে কেবল ঐতিহাসিকের বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হওয়া।
এ কারণেই আমি অনুভব করেছি যে, পাঠক এই বিষয়ে ইতিহাসের সাক্ষ্যের চেয়েও অধিক কিছু প্রত্যাশা করেন। তিনি একটি বিশ্লেষণাত্মক বর্ণনা প্রত্যাশা করেন, যেখানে এই প্রপঞ্চের ওপর পরিচালিত বস্তুনিষ্ঠ গবেষণালব্ধ তথ্য বিদ্যমান থাকবে। আমি এমন গবেষণার কথা বলছি যা বিষয়গুলোকে তাদের বাহ্যিক অবয়বের পরিবর্তে প্রকৃত সারবত্তার নিরিখে বিচার করে।
আমি এই ন্যায়সংগত আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করেছি এবং এই সংস্করণে "সভ্যতার সংশ্লেণে ধর্মীয় চিন্তাধারার প্রভাব" শীর্ষক একটি পরিচ্ছেদ নির্দিষ্ট করেছি। এবার আমি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের পথ অবলম্বন করেছি যা এই "সংশ্লেষে" (مركب) বিদ্যমান "প্রপঞ্চের" দিকটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে; কেননা এটি ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ধর্মীয় চিন্তাধারার প্রত্যক্ষ প্রভাব উন্মোচিত করে।
এক্ষেত্রে আমি এমন দাবি করছি না যে, এই পদ্ধতি পাঠককে কোনো "গাণিতিক জ্ঞান" প্রদান করবে...
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الموضوع، لأن هذا الموضوع لا مجال فيه للرياضيات حيث يتصل بعالم النفوس، وهو عالم يقصر العقل التجريدي عن أن يكشف سره تماما. غير أنه يمكننا القول بأن هذه الطريقة التي اتبعناها تعطي على الأقل للقارىء فرصة يتتبع فيها كيف تحدث عملية التركيب بتأثير الفكرة الدينية، وذلك بنظرة مباشرة تختلف عن نظرة التاريخ غير المباشرة.
ومما تنبغي الإشارة إليه هنا أن الفصل الذي تحدثنا فيه عن هذا الموضوع قد كتبناه في الحالة التي يكون فيها عالم الاجتماع الذي يحاول توضيح دور الفكرة الدينية في تكوين وتطوير الواقع الاجتماعي. مع العلم أن هذا الدور ليس هو كل شيء بالنسبة للفكرة الدينية. ذلك أننا قبل أن نشرع في البحث عن صلاتها بعالم الشهادة، قد تقبلنا أولا صلتها بعالم الغيب، وبعبارة أدق فإن الفكرة الدينية لا تقوم بدورها الاجتماعي إلا بقدر ما تكون متمسكة بقيمتها الغيبية في نظرنا، أي بقدر ما تكون معبرة عن نظرتنا إلى ما بعد الأشياء الأرضية. غير أن هذه النظرة ليست موضوع هذا البحث. فنحن قد خصصنا لها دراسة أخرى (1) ولذلك فإن بحثنا هنا سوف يقتصر على الجانب الاجتماعي.
ومن ناحية أخرى فإن القارىء سوف يجد في هذه الطبعة فصلا عقدناه لتوضيح العلاقة بين المبدأ الأخلاقي وذوق الجمال. وذلك لإظهار أثره الكبير كعامل يحدد اتجاه الحضارة ورسالتها في التاريخ. وأظن أن هذا الفصل هو أول بحث تناول العلاقة بين المبدأ الأخلاقي وذوق الجمال باعتبارها مقياسا من أهم مقاييس علم الاجتماع.
وبهذا فإننا نكون قد حققنا على قدر ما نستطيع إرادة القارىء في هذه الطبعة. ونحن نأمل أن نكون، فيما أضفناه من جديد، قد أشبعنا رغبات القراء التي تعتبر أحسن مسوغ لجهود المؤلف.
المعادي 30/ 10/ 1960
م. ب. ن.
--------------------------------------------
আলোচ্য বিষয়, কারণ এই বিষয়টিতে গাণিতিক বিশ্লেষণের কোনো সুযোগ নেই; যেহেতু এটি রূহ বা আত্মার জগতের সাথে সম্পৃক্ত, যা এমন এক জগত যেখানে বিমূর্ত বুদ্ধিবৃত্তি তার রহস্য পুরোপুরি উন্মোচন করতে অক্ষম। তবে আমরা বলতে পারি যে, আমাদের অনুসৃত এই পদ্ধতি পাঠককে অন্তত এই সুযোগ করে দেবে যে, ধর্মীয় ভাবাদর্শের প্রভাবে কীভাবে একটি সমন্বিত রূপ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তা তিনি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন; আর এটি ইতিহাসের পরোক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির চেয়ে ভিন্ন এক প্রত্যক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি।
এখানে আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমরা এই বিষয়ে যে অধ্যায়ে আলোচনা করেছি তা এমন এক প্রেক্ষাপটে লিখেছি যেখানে একজন সমাজবিজ্ঞানী সামাজিক বাস্তবতার গঠন ও বিবর্তনে ধর্মীয় ভাবাদর্শের ভূমিকা স্পষ্ট করার প্রয়াস পান। তবে মনে রাখতে হবে যে, ধর্মীয় ভাবাদর্শের ক্ষেত্রে এই ভূমিকাই শেষ কথা নয়। কারণ, দৃশ্যমান জগতের (عالم الشهادة) সাথে এর সম্পর্কের বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হওয়ার আগে আমরা প্রথমে অদৃশ্য জগতের (عالم الغيب) সাথে এর সম্পর্কের বিষয়টি গ্রহণ করে নিয়েছি। আরও সূক্ষ্মভাবে বলতে গেলে, ধর্মীয় ভাবাদর্শ তার সামাজিক ভূমিকা কেবল ততক্ষণই পালন করতে পারে যতক্ষণ সেটি আমাদের দৃষ্টিতে তার অদৃশ্যের (غيبية) মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখে, অর্থাৎ যতক্ষণ সেটি পার্থিব জগতের ঊর্ধ্বে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রকাশ করে। তবে এই দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য নয়। আমরা এর জন্য একটি স্বতন্ত্র গবেষণা (১) নির্দিষ্ট করেছি এবং ফলস্বরূপ আমাদের বর্তমান আলোচনা কেবল সামাজিক দিকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
অন্যদিকে, পাঠক এই সংস্করণে একটি অধ্যায় পাবেন যা আমরা নৈতিক নীতি ও নান্দনিক রুচির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট করার জন্য সন্নিবেশিত করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো সভ্যতার দিকনির্দেশনা ও ইতিহাসে এর লক্ষ্য নির্ধারণকারী একটি প্রভাবক হিসেবে এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব তুলে ধরা। আমার ধারণা, সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে নৈতিক নীতি ও নান্দনিক রুচির মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে এটিই প্রথম গবেষণা।
এর মাধ্যমে আমরা এই সংস্করণে পাঠকের আকাঙ্ক্ষা যথাসম্ভব পূরণ করতে পেরেছি বলে মনে করি। আমরা আশা করি যে, নতুন যা কিছু আমরা সংযোজন করেছি তা পাঠকদের চাহিদাকে তৃপ্ত করবে, যা একজন লেখকের প্রচেষ্টার সার্থকতার সর্বোত্তম মাপকাঠি।
আল-মাআদি ৩০/১০/১৯৬০
এম. বি. এন.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الْبَابُ الْأَوَّلُالْحَاضِرُ وَالتَّارِيخُ
প্রথম অধ্যায়বর্তমান ও ইতিহাস
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أُنْشُوْدَةٌ رَمَزَيَّةٌأي صديقي:
* لقد حانت الساعة التي ينساب فيها شعاح الفجر الشاحب بين نجوم الشرق.
* وكل من سيستيقظ بدأ يتحرك وينتفض في خدر النوم وملابسه الرثة.
* ستشرق شمس المثالية على كفاحك الذي استأنفته، هنالك في السهل، حيث المدينة التي نامت منذ أمس ما زالت مخدرة.
* ستحمل اشعاعات الصباح الجديد، ظل جهدك البارك، في السهل الذي تبذر فيه، بعيدا عن خطواتك.
* وسيحمل النسيم الذي يمر الآن البذور التي تنثرها يداك
… بعيدأ عن ظلك.
* ابذر يا أخي الزارع. من أجل أن تذهب بذورك بعيدا عن حقلك، في الخطوط التي تتناءى عنك
… في عمق المستقبل.
* ها هي بعض الأصوات تهتف. الأصوات التي أيقظتها خطواتك في المدينة، وأنت منقلب إلى كفاحك الصباحي. وهؤلاء الذين استيقظوا بدورهم، سيلتئم شملهم معك بعدحين.
* غنِّ! يا أخي الزارع! لكي تهدي بصوتك هذه الخطوات التي جاءت في عتمة الفجر، نحو الخط الذي يأتي من بعيد.
* وليدوِّ غناؤك البهيج. كما دوّى من قبل غناء الأنبياء، في فجر آخر، في الساعات التي ولدت فيها الحضارات.
প্রতীকী সংগীতহে বন্ধু:
* এখন সেই মুহূর্ত উপস্থিত, যখন পূর্বাকাশের নক্ষত্ররাজির মধ্য দিয়ে ভোরের ম্লান আভা প্রবাহিত হচ্ছে।
* যারা শীঘ্রই জাগ্রত হবে, তারা তাদের জীর্ণ পোশাকে সুপ্তির আচ্ছন্নতা ভেঙে নড়াচড়া ও স্পন্দিত হতে শুরু করেছে।
* তোমার পুনরায় শুরু করা সংগ্রামের ওপর আদর্শবাদের সূর্য উদিত হবে; ঐ সমতলভূমিতে, যেখানে গতকাল থেকে ঘুমিয়ে থাকা শহরটি এখনও তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে আছে।
* নতুন প্রভাতের রশ্মি তোমার বরকতময় প্রচেষ্টার ছায়াকে বহন করে নিয়ে যাবে সেই প্রান্তরে যেখানে তুমি বীজ বপন করছ, তোমার পদচিহ্ন থেকে বহুদূরে।
* আর এখন যে সমীরণ বয়ে যাচ্ছে, তা তোমার হাতে ছিটানো বীজগুলোকে বহন করে নিয়ে যাবে... তোমার ছায়ার সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূরে।
* হে বপনকারী ভাই, তুমি বীজ বপন করো। যাতে তোমার বীজ তোমার ফসলি জমি ছাড়িয়ে বহুদূরে চলে যায়, তোমার থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাওয়া রেখাগুলোতে... ভবিষ্যতের গভীর গহ্বরে।
* এই তো কিছু কণ্ঠস্বর উচ্চকিত হচ্ছে। সেই সব কণ্ঠস্বর, যা তোমার পদধ্বনি শহরের বুকে জাগিয়ে তুলেছে যখন তুমি তোমার সকালের সংগ্রামের দিকে ধাবিত হচ্ছিলে। আর যারা জাগ্রত হয়েছে, শীঘ্রই তোমার সাথে তাদের মিলন ঘটবে।
* গাও! হে বপনকারী ভাই! যাতে ভোরের অন্ধকারে ধাবমান এই পদচিহ্নগুলোকে তোমার কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে সেই রেখার দিকে পথ দেখাতে পারো যা অনেক দূর থেকে আসছে।
* তোমার আনন্দঘন গান ধ্বনিত হোক; যেমনটি অতীতে অন্য এক ভোরে নবীদের গান ধ্বনিত হয়েছিল, সেই সব মুহূর্তে যখন সভ্যতাগুলোর জন্ম হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
* وليملأ غناؤك أسماع الدنيا، أعنف وأقوى من هذه الجوقات الصاخبة التي قامت هنالك.
* ها هم ينصبون الآن على باب المدينة التي تستيقظ، السوق وملاهيه، لكي يميلوا هؤلاء الذين جاؤوا على إثرك، ويُلهوهم عن ندائك.
* وها هم قد أقاموا المسارح والمنابر للمهرجين والبهلوانات، لكي تغطي الضجة على نبرات صوتك.
* وها هم قد أشعلوا المصابيح الكاذبة لكي يحجبوا ضوء النهار. ولكي يطمسوا بالظلام شبحك، في السهل الذي أنت ذاهب إليه.
* وها هم قد جملوا الأصنام ليلحقوا الهوان بالفكرة.
* ولكن شمس المثالية ستتابع سيرها دون تراجع، وستعلن قريبا انتصار الفكرة، وانهيار الأصنام، كما حدث يوم تحطّم "هُبل" في الكعبة.
* তোমার সংগীত যেন ধরণীর কর্ণকুহর পূর্ণ করে দেয়, যা সেখানে সমবেত এই শোরগোলপূর্ণ বাদ্যদলের চেয়েও অধিক প্রখর ও শক্তিশালী।
* দেখো, তারা এখন জাগ্রত নগরের দ্বারে বাজার ও প্রমোদশালার পত্তন করেছে, যেন তোমার অনুগামীদের সত্যচ্যুত করতে পারে এবং তোমার আহ্বান থেকে তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
* তারা সং ও ভাঁড়দের জন্য রঙ্গমঞ্চ ও মিম্বর স্থাপন করেছে, যেন তাদের হৈচৈ তোমার কণ্ঠস্বরের ঝংকারকে স্তিমিত করে দেয়।
* তারা মিথ্যার দীপশিখা প্রজ্বলিত করেছে দিবালোককে আড়াল করতে এবং তুমি যে ময়দানের দিকে ধাবিত হচ্ছ, সেখানে অন্ধকারের ঘনঘটায় তোমার অস্তিত্বকে বিলীন করে দিতে।
* তারা মূর্তিসমূহকে সুসজ্জিত করেছে যেন সুমহান আদর্শকে হীন প্রতিপন্ন করতে পারে।
* কিন্তু আদর্শবাদের সূর্য আপন গতিতে অবিচল থাকবে, আর অচিরেই সেই আদর্শের বিজয় ও মূর্তিসমূহের পতন ঘোষিত হবে; ঠিক যেমনটি ঘটেছিল কাবার অভ্যন্তরে 'হুবাল' চূর্ণ হওয়ার দিনে।
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
دَوْرُ الْأَبْطَالِإن عهود الملاحم كالأوديسة والألياذة ليست هي العهود التي توجه فيها الشعوب طاقتها الاجتماعية نحو أهدافها الواقعية، سواء أكانت هذه الأهداف بعيدة أم قريبة.
بل هي تصرف في مثل هذه العهود طاقتها تسلية واشباعا لخيالاتها. وما جهود الأبطال الذين يقومون بأدوارهم في تلكم الملاحم إلا جهود من أجل الطموح واكتساب المجد أو إرضاء العقيدة، فهم لا يقاتلون مدركين أن نصرهم قريب، وأن طريقهم إلى تخليص مجتمعهم محدد واضح. فمجدهم هذا أقرب إلى الأسطورة منه إلى التاريخ.
ولو أننا سألنا أحدهم عن بواعث كفاحه، فإنه لا يستطيع أن يجد بكل وضوح المبررات التي تتصل عادة بالأعمال التاريخية، فهو يعلم أن مجهوداته كلها تذهب هباء، غير أن دوافعه الدينية وشرفه الإنساني قد حتما عليه مثل هذا السير.
ولقد كان دور الشعوب الإسلامية أمام الزحف الاستعماري خلال القرن الماضي وحتى الربع الأول من هذا القرن دورا بطوليا فقط. ومن طبيعة هذا الدور أنه لا يلتفت إلى حل المشاكل التي مهدت للاستعمار وتغلغله داخل البلاد.
إن مشكلة كل شعب هي في جوهرها مشكلة حضارته، ولا يمكن لشعب أن يفهم أو يحل مشكلته ما لم يرتفع بفكرته إلى الأحداث الإنسانية، وما لم يتعمق في فهم العوامل التي تبني الحضارات أو تهدمها
… وما الحضارات المعاصرة، والحضارات أو تهدمها
… وما الحضارات المعاصرة، والحضارات الضاربة في ظلام الماضي، والحضارات المستقبلة إلا عناصر للملحمة الإنسانية منذ
বীরত্বপূর্ণ ভূমিকানিশ্চয়ই ওডিসি ও ইলিয়াডের মতো মহাকাব্যিক যুগগুলো এমন কোনো যুগ নয় যাতে জাতিসমূহ তাদের সামাজিক শক্তিকে বাস্তবমুখী লক্ষ্যসমূহের দিকে পরিচালিত করে, চাই সেই লক্ষ্যগুলো দূরবর্তী হোক বা নিকটবর্তী।
বরং তারা এ জাতীয় যুগে নিজেদের শক্তিকে বিনোদনের খোরাক এবং কল্পনার পরিতৃপ্তি হিসেবে ব্যয় করে। এই মহাকাব্যগুলোতে যারা বীরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তাদের প্রচেষ্টাসমূহ কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষা, মর্যাদা অর্জন অথবা আকিদা (عقيدة) বা বিশ্বাসের তুষ্টির জন্য। তারা এই চেতনা নিয়ে লড়াই করে না যে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত, কিংবা সমাজকে মুক্ত করার পথ সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট। তাই তাদের এই গৌরব ইতিহাসের চেয়ে উপাখ্যানের নিকটবর্তী।
আমরা যদি তাদের কাউকে সংগ্রামের প্রেরণা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি, তবে সে স্পষ্টভাবে এমন কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাবে না যা সাধারণত ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত। সে জানে যে তার সকল প্রচেষ্টা বিফলে যেতে পারে, তবুও তার ধর্মীয় প্রেরণা এবং মানবিক সম্মানবোধ তাকে এমন পথে চলতে বাধ্য করেছে।
গত শতাব্দী থেকে এই শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশ পর্যন্ত ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের মুখে মুসলিম জাতিগুলোর ভূমিকা ছিল নিছক বীরত্বপূর্ণ। আর এই ধরনের ভূমিকার প্রকৃতি হলো, এটি সেই সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে না যা উপনিবেশবাদ এবং দেশের অভ্যন্তরে তার অনুপ্রবেশের পথ সুগম করেছিল।
মূলত প্রতিটি জাতির সমস্যা হলো তার সভ্যতার সমস্যা। কোনো জাতির পক্ষেই তার সমস্যা অনুধাবন করা বা সমাধান করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে তার চিন্তাধারাকে মানবিক ঘটনাবলির স্তরে উন্নীত করে এবং সভ্যতা বিনির্মাণ বা ধ্বংসকারী উপাদানসমূহ অনুধাবনের গভীরে প্রবেশ না করে
… আর সমসাময়িক সভ্যতা, এবং সভ্যতাগুলো অথবা সেগুলোর ধ্বংসসাধন
… আর সমসাময়িক সভ্যতা, অতীতের অন্ধকারে নিমজ্জিত সভ্যতা এবং ভবিষ্যৎ সভ্যতাগুলো সেই আদি থেকে চলে আসা মানবিক মহাকাব্যের উপাদান বৈ কিছু নয়।
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فجر القرون إلى نهاية الزمن، فهي حلقات لسلسلة واحدة تؤلف الملحمة البشرية منذ أن هبط آدم على الأرض إلى آخر وريث له فيها، ويا لها سلسلة من النور! .. تتمثل فيها جهود الأجيال المتعاقبة في خطواتها، المتصلة في سبيل الرقي والتقدم.
هكذا تلعب الشعوب دورها، وكل واحد منها يُبعث ليكوّن حلقته في سلسلة الحضارات، حينما تدق ساعة البعث معلنة قيام حضارة جديدة، ومؤذنة بزوال أخرى.
وما أجلّ هذه الساعة!. حينما تؤذن بفجر جديد من المدنية، وما أهولها من ساعة حينما تعلن غروب أخرى!. وهكذا كان شأن الجزائر عام 1830، فقد مضى على أفول شمسها زمن بعيد، وقضت في ليلها وقتا ليس بالقصير، ومن عادة التاريخ ألا يلتفت للأمم التي تغط في نومها، وإِنما يتركها لأحلامها التي تطربها حينا، وتزعجها حينا آخر؛ تطربها إذ ترى في منامها أبطالها الخالدين وقد أدوا رسالتهم، وتزعجها حينما تدخل صاغرة في سلطة جبار عنيد.
فعندما برق في أفقنا فرس الأمير (عبد القادر) في وثبته الرائعة كان الليل قد انتصف منذ وقت طويل ثم اختفى سريعا شبح البطل الأسطوري كأنه حلم طواه النوم.
ثم توالت أشباح أخرى في موجة من الأحلام. تستمد مغزاها الأليم من تقاليد شعب بطل، أحب دائما الفرس والبارود، وكان تتابعها على الأخص في البوادي، حيث الخيل المسومة، والمجال الفسيح متوفران لدى القبائل.
فالرابطة القبلية قد ظلت وحدها الرابطة الوثيقة التي توحد بعض الرجال فيما يشبه وحدة رسالة، غير أن هذه الرابطة لم تكن بكافية لتأهيل شعب ليؤدي رسالة تاريخية، وإن كانت أهلته للقيام برواية حماسية رائعة، ولكن التاريخ يقرر أن الشعب الذي لم يقم برسالته، أي بدوره في تلك السلسلة، ما عليه إلا أن يخضع ويذل.
যুগের সূচনালগ্ন থেকে কালের শেষ অবধি, এগুলি একটি অখণ্ড ধারাক্রমের (سلسلة) এক একটি কড়া যা আদম পৃথিবীতে অবতরণ করার পর থেকে তার শেষ উত্তরাধিকারী পর্যন্ত মানব মহাকাব্যকে গড়ে তুলেছে। কী চমৎকার এক নূরের ধারাক্রম (سلسلة)! এতে উত্তরসূরি প্রজন্মের প্রচেষ্টাগুলো তাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে অবিচ্ছিন্ন (متصلة) পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।
জাতিসমূহ এভাবেই তাদের ভূমিকা পালন করে এবং তাদের প্রত্যেকেই সভ্যতার এই ধারাক্রমে (سلسلة) নিজ নিজ অংশ গঠনের জন্য পুনর্জাগরিত হয়, যখন জাগরণের ঘণ্টা বেজে নতুন এক সভ্যতার উত্থান ঘোষণা করে এবং অন্য এক সভ্যতার পতনের বার্তা দেয়।
এই মুহূর্তটি কতই না মহিমান্বিত! যখন এটি নতুন এক সভ্যতার উষালগ্ন ঘোষণা করে, আর কতই না ভয়াবহ যখন এটি অন্য একটির সূর্যাস্ত ঘোষণা করে! ১৮৩০ সালে আলজেরিয়ার অবস্থাও এমনই ছিল। তার সূর্যের অস্তগমনের পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হয়েছিল এবং তার রাতটি খুব একটা ছোট ছিল না। আর ইতিহাসের স্বভাব হলো—যেসব জাতি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকে তাদের প্রতি সে ফিরেও তাকায় না; বরং তাদের স্বপ্নের ঘোরেই ছেড়ে দেয় যা কখনো তাদের আনন্দিত করে, আবার কখনো করে ব্যথিত। যখন তারা স্বপ্নে তাদের চিরঞ্জীব বীরদের নিজ নিজ অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে দেখে তখন তারা আনন্দিত হয়, আর যখন তারা কোনো একগুঁয়ে প্রতাপশালী শাসকের অধীনে হীন অবস্থায় প্রবেশ করে তখন তারা ব্যথিত হয়।
যখন আমীর আব্দুল কাদিরের ঘোড়া তার চমৎকার লম্ফন নিয়ে আমাদের দিগন্তে চমকিয়ে উঠেছিল, তখন অনেক আগেই রাত অর্ধেকে পৌঁছে গিয়েছিল; তারপর সেই পৌরাণিক বীরের ছায়া দ্রুতই অদৃশ্য হয়ে গেল যেন ঘুমের মাঝে হারিয়ে যাওয়া এক স্বপ্ন।
এরপর স্বপ্নের জোয়ারে আরও কিছু ছায়ার আগমন ঘটল। যা তার বেদনাদায়ক তাৎপর্য লাভ করেছে এক বীর জাতির ঐতিহ্য থেকে, যারা সর্বদা ঘোড়া এবং বারুদকে ভালোবেসেছে। বিশেষ করে মরুপ্রান্তরগুলোতে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল, যেখানে গোত্রগুলোর কাছে চিহ্নিত ঘোড়া এবং বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তর বিদ্যমান ছিল।
সুতরাং গোত্রীয় বন্ধনই একমাত্র শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে টিকে ছিল যা একদল মানুষকে একটি অভিন্ন লক্ষ্যের একতায় ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তবে একটি জাতিকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের যোগ্য করে তোলার জন্য এই বন্ধন যথেষ্ট ছিল না, যদিও এটি তাদের একটি চমৎকার বীরত্বপূর্ণ বর্ণনা (رواية) উপস্থাপনে সক্ষম করেছিল। কিন্তু ইতিহাস এই সিদ্ধান্ত দেয় যে, যে জাতি তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে না, অর্থাৎ সেই ধারাক্রমে (سلسلة) তার যথাযথ ভূমিকা পালন করে না, লাঞ্ছনা ও পরাজয় বরণ করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকে না।
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولم يكن هناك في الحقيقة من يسجل هذه الحقبة من كفاح الشعوب ضد الاستعمار سوى هؤلاء المجاهدين من رجال القبائل، ولقد كان الأمير (عبد الكريم الخطابي) آخر من ارتشف من كأس البطولة الموروثة عن أجدادنا الأول، ولم يبق بعده باق ممن يهبون للنضال ضد المستعمر، من أجل البطولة المجردة، في سبيل الخلود، على سنة الذين عقدوا ألويتهم للكفاح، فقد كانت القبائل العربية البربرية تقاتل معه لا من أجل البقاء، ولكن في سبيل الخلود، ولقد كتب لها الخلود بما أوتيت من روح رفعتها فوق الهاوية، حيث هوى الآخرون، من الشعوب التي غمرتها موجة الاستعمار. فليسأل السائل عن مصير القبائل الأمريكية قبل كريستوف كولومب، أين هي؟ لقد أصبحت أحاديث وتمزقت كل ممزق، ودفنها التاريخ في طياته، حيث استقرت في ضميره نسيا منسيا، ونحن نرى في زوالها وانحلالها خير شاهد على أن الإسلام بما انطوى عليه من قوة روحية، كان للذين يتمسكون به درعا من أن تحطمهم الأيام، أو يذوبوا في بوتقة المستعمِر، يتقمصون شخصيته.
ولكن شمس المثالية ما تزال تواصل سيرها، وسرعان ما انبلج الفجر في الأفق الذي يدعو فيه المؤذن إلى الفلاح، كل صباح، ففي هدأة الليل، وفي سبات الأمة الإسلامية العميق، انبعث من بلاد الأفغان صوت ينادي بفجر جديد، صوت ينادي: حيَّ على الفلاح! فكان رجعه في كل مكان، إنه صوت (جمال الدين الأفغاني) موقظ هذه الأمة إلى نهضة جديدة، ويوم جديد.
***
प्रকৃতপক্ষে ঔপনিবেশিকতাবাদের বিরুদ্ধে গণমানুষের সংগ্রামের এই অধ্যায়টি লিপিবদ্ধ করার মতো এই গোত্রীয় মুজাহিদগণ ব্যতীত আর কেউ ছিল না। আমির (আব্দুল করিম আল-খাত্তাবি) ছিলেন আমাদের আদি পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বীরত্বের সুধা পানকারী সর্বশেষ ব্যক্তি। তাঁর পরে এমন কেউ অবশিষ্ট নেই যারা নিছক বীরত্বের তরে এবং অমরত্বের পথে সেই সকল ব্যক্তিদের আদর্শানুসারে (سنة) ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বে, যারা লড়াইয়ের ঝাণ্ডা উড্ডীন করেছিলেন। কেননা আরব-বার্বার গোত্রগুলো তাঁর সাথে কেবল টিকে থাকার জন্য নয়, বরং অবিনশ্বরতার পথে লড়াই করছিল। তাদের জন্য অমরত্ব অবধারিত হয়েছিল সেই রূহের কারণে যা তাদেরকে অতল গহ্বর থেকে ঊর্ধ্বে তুলেছিল; যেখানে ঔপনিবেশিকতার জোয়ারে প্লাবিত অন্যান্য জাতিসমূহ নিমজ্জিত হয়েছিল। জিজ্ঞাসু ব্যক্তি যেন ক্রিস্টোফার কলম্বাসের পূর্ববর্তী আমেরিকার আদিবাসী গোত্রগুলোর পরিণতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে—তারা আজ কোথায়? তারা আজ কেবল হাদিস বা উপাখ্যানে পরিণত হয়েছে এবং পুরোপুরি ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে; ইতিহাস তাদের আপন ভাঁজে সমাহিত করেছে, যেখানে তারা চিরতরে বিস্মৃত হয়ে অবস্থান করছে। আমরা তাদের এই বিলুপ্তি ও পতনের মাঝে এই বিষয়ের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ দেখতে পাই যে, ইসলাম তার অন্তর্নিহিত আধ্যাত্মিক শক্তির কারণে সেই সকল মানুষের জন্য এক মজবুত বর্ম ছিল যারা একে আঁকড়ে ধরেছিল; যাতে কালপ্রবাহ তাদের চূর্ণ করতে না পারে অথবা তারা যেন ঔপনিবেশিক শক্তির ছাঁচে বিলীন হয়ে তাদের ব্যক্তিত্ব ধারণ না করে।
কিন্তু আদর্শবাদের সূর্য তার গতিপথ অব্যাহত রেখেছে; শীঘ্রই সেই দিগন্তে সুবেহ সাদিক উদিত হলো যেখানে মুয়াজ্জিন প্রতি ভোরে কল্যাণের দিকে আহ্বান জানায়। রজনীর নিস্তব্ধতায় এবং মুসলিম উম্মাহর গভীর তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় আফগান ভূখণ্ড থেকে একটি ধ্বনি উত্থিত হলো যা নতুন ভোরের ডাক দিচ্ছিল; একটি আওয়াজ যা ঘোষণা করছিল: হাইয়্যা আলাল ফালাহ! সেই ধ্বনি সর্বত্র প্রতিধ্বনিত হলো; তা ছিল এই উম্মাহকে এক নতুন জাগরণ ও নতুন দিবসের আহ্বানে জাগ্রতকারী (জামালুদ্দিন আল-আফগানি)-র কণ্ঠস্বর।
***
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
دَوْرُ السِّيَاسَةِ وَالْفِكْرَةِإن الكلمة لَمِن روح القدس، إنها تساهم إِلى حد بعيد في خلق الظاهرة الاجتماعية، فهي ذات وقع في ضمير الفرد شديد، إذ تدخل إِلى سويداء قلبه، فتستقر معانيها فيه، لتحوله إلى إنسان ذي مبدأ ورسالة.
فالكلمة يطلقها إنسان، تستطيع أن تكون عاملاً من العوامل الاجتماعية حين تثير عواصف في النفوس تغير الأوضاع العالمية.
وهكذا كانت كلمة جمال الدين، فقد شقت كالمحراث في الجموع النائمة طريقها، فأحيت مواتها، ثم ألقت وراءها بذورا لفكرة بسيطة: فكرة النهوض، فسرعان ما آتت أكلها في الضمير الإسلامي ضعفين، وأصبحت قوية فعالة، بل غيرت ما بأنفس الناس من تقاليد، وبعثتم إلى أسلوب في الحياة جديد.
وكان من آثار هذه الكلمة أن بعثت الحركة في كل مكان، وكشفت عن الشعوب الإسلامية غطاءها، ودفعتها إلى نبذ ما كانت عليه من أوضاع ومناظر، فانكرت من أمرها ما كانت تستحسن، واتخذت مظاهر جديدة لا تتلاءم حتى مع ثيابها التي كانت تلبسها، فنبذت النرجيلة والطربوش والحرز والزردة (1). ولقد يلغ تأثير تلك القوة الفعالة الجزائر فأخذت منها بنصيب.
فمأساة الجزائر مثلاً حتى سنة 1918 لم تكن إلا رواية صامتة، أر أثرا من الآثار التاريخية وضع في متحف، أي في صدور قوم صامتين يعلمون السر الخفي للمأساة، حتى أرّقت ضمائرهم، واحتوته أيضا ملفات الحكومة التي كانت تعلم من أمرها ما تعلم، حتى إذا ظهرت الفكرة الإصلاحية حوالي سنة 1925 تحركت المشكلة الجزائرية، وقد أوتيت لسانا ينطق، وفكرة تنير لها الطريق.
--------------------------------------------
রাজনীতি ও চিন্তাদর্শের ভূমিকাশব্দ বা বাণী হলো পবিত্র আত্মার (রুহুল কুদুস) পক্ষ থেকে এক বিশেষ অবদান; এটি সামাজিক পরিস্থিতি বা প্রপঞ্চ বিনির্মাণে বহুল অংশে ভূমিকা রাখে। ব্যক্তির অন্তরাত্মায় এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর, কারণ তা হৃদয়ের গহীনে প্রবেশ করে এবং এর অর্থ সেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, যা তাকে এক সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্যসম্পন্ন মানুষে রূপান্তরিত করে।
মানুষের মুখনিঃসৃত একটি বাণীও সামাজিক উপাদানগুলোর অন্যতম একটি হয়ে উঠতে পারে, যখন তা মানুষের আত্মায় এমন এক প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করে যা বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে দেয়।
জামালুদ্দীনের বাণীটি ঠিক এমনই ছিল; এটি ঘুমন্ত জনসমষ্টির মাঝে লাঙ্গলের ফলার মতো নিজের পথ তৈরি করে নিয়েছিল এবং তাদের মৃতপ্রায় অবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করেছিল। অতঃপর এটি নিজের পেছনে একটি সরল চিন্তার বীজ বপন করে গিয়েছিল: আর তা হলো ‘জাগরণের চিন্তা’। এই চিন্তা দ্রুতই মুসলিম মানসপটে দ্বিগুণ সুফল বয়ে আনল এবং এক শক্তিশালী ও কার্যকর শক্তিতে পরিণত হলো। এমনকি এটি মানুষের মজ্জাগত প্রথা ও ঐতিহ্যকেও বদলে দিল এবং তাদেরকে জীবনের এক নতুন পদ্ধতির দিকে ধাবিত করল।
এই বাণীর অন্যতম প্রভাব ছিল এই যে, এটি সর্বত্র এক আন্দোলনের সঞ্চার করেছিল এবং মুসলিম জাতিগুলোর ওপর থেকে স্থবিরতার আবরণ উন্মোচন করে তাদের পূর্বের জরাজীর্ণ অবস্থা ও দৃশ্যপটকে বর্জন করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। ফলে তারা ইতিপূর্বে যা ভালো মনে করত, তা প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করল এবং এমন সব নতুন আঙ্গিক গ্রহণ করল যা এমনকি তাদের পরিহিত চিরাচরিত পোশাকের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। তারা হুকা, তারবুশ (টুপি বিশেষ), তাবিজ এবং জর্দা (১) বর্জন করল। এই প্রভাবশালী শক্তির ছোঁয়া আলজেরিয়াতেও পৌঁছেছিল এবং তারা তা থেকে নিজেদের অংশ লাভ করেছিল।
উদাহরণস্বরূপ, ১৯১৮ সাল পর্যন্ত আলজেরিয়ার ট্র্যাজেডি ছিল কেবল একটি নির্বাক নাটক কিংবা জাদুঘরে সংরক্ষিত কোনো ঐতিহাসিক নিদর্শনের মতো; অর্থাৎ এক নীরব জাতির হৃদয়ে গুমরে মরা গোপন যাতনা, যা তাদের বিবেককে অস্থির করে তুলেছিল। এমনকি এটি সরকারের নথিপত্রেও সীমাবদ্ধ ছিল, যারা এ সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিল। অবশেষে ১৯২৫ সালের দিকে যখন সংস্কারবাদী চিন্তাধারার উদ্ভব হলো, তখন আলজেরিয়ার সমস্যাটি সচল হলো। এটি তখন এক বাকশক্তি এবং পথপ্রদর্শক চিন্তাদর্শ লাভ করল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والذين أدركوا شبابم في تلكم الأيام يتذكرون تلكم الخواطر التي كانت تمر بهم.
وليس من شك في أن التاريخ يرى في مثل هذه الظواهر خير شاهد على رجوع الحاسة الاجتماعية إلى الجزائر، بمعنى أنها قد عادت إلى الحياة التي يستأنف فيها كل شعب رسالته، ويبدأ تاريخه.
أما في الماضي فقد كانت البطولات تتمثل في جرأة فرد، لا في ثورة شعب، وفي قوة رجل، لا في تكاتف مجتمع، فلم تكن حوادثها تاريخا، بل كانت قصصا ممتعة، ولم تكن صيحاتها صيحات شعب بأكمله، وإنما كانت مناجاة ضمير لصاحبه، لا يصل صداه إلى الضمائر الأخرى، فيوقظها من نومها العميق.
وإنه لمن الواجب علينا أن ننوه ببعض ما كان من أمر مناجاة الشيخ (صالح بن مهنة) الضميرية الفردية- إن صح التعبير- فإن صوت مناجاته كاد يوقظ أهل قسنطينة كلها حوالي سنة 1898.
والحق أن هذا الشيخ الوقور كان في طليعة المصلحين، إذ أنه قام قومة مباركة ضد الخرافيين (الدراويش)، غير أن الحكومة الساهرة على الهدوء، كيلا يستيقد النائمون، عملت على إبعاده وعاقبته بمصادرة مكتبته الثمينة، وفرقت أمثاله من (مقلقي النوم العام) في نظر الاستعمار، فحولت الشيخ (عبد القادر المجاوي) من منصبه بمدرسة قسنطينة، إلى مدرسة العاصمة، وهكذا استطاع النوم أن يشد بالأجفان من جديد، بعد أن حاولت تفلتا من قيوده، ومضت هذه الأصوات التي كادت أن تلفت إليها الأذهان، وتجمع حولها الناس، وكأنها شجار حدث في وسط ليل: لم ينتبه إليه نائم.
ولكن شعاع الفجر قد بدأ ينساب بين نجوم الليل، من قمة الجبل. فلم يلبث أن محت آياته الظلمة من سماء الجزائر. فحوالي عام 1922، بدأت في الأرض هينمة وحركة، وكان ذلك إعلانا لنهار جديد، وبعثا لحياة جديدة. فكأنما
যাঁরা সেই দিনগুলিতে তাঁদের যৌবন অতিবাহিত করেছেন, তাঁরা সেই সকল চিন্তাভাবনা স্মরণ করেন যা তাঁদের মনে দোলা দিত।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইতিহাস এ জাতীয় নিদর্শনগুলোকে আলজেরিয়ায় সামাজিক চেতনার প্রত্যাবর্তনের শ্রেষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে গণ্য করে; অর্থাৎ সমাজটি এমন এক জীবনের দিকে ফিরে এসেছে যেখানে প্রতিটি জাতি তার লক্ষ্য ও মিশন পুনরায় শুরু করে এবং নিজের ইতিহাস আরম্ভ করে।
পক্ষান্তরে অতীতে বীরত্ব ছিল কেবল ব্যক্তির সাহসিকতায় প্রতিফলিত, কোনো জাতির বিপ্লবে নয়; তা ছিল একজন মানুষের শক্তিতে, সমাজের পারস্পরিক সংহতিতে নয়। ফলে তখনকার ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাস হয়ে ওঠেনি, বরং তা ছিল নিছক চিত্তাকর্ষক কাহিনী। সেই সময়কার আওয়াজগুলো ছিল না সমগ্র জাতির সম্মিলিত চিৎকার, বরং তা ছিল কোনো ব্যক্তির নিজ বিবেকের সাথে একাকী আলাপচারিতা, যার প্রতিধ্বনি অন্য কোনো বিবেক পর্যন্ত পৌঁছাত না, ফলে তা তাদেরকে গভীর নিদ্রা থেকে জাগিয়ে তুলতে পারত না।
আমাদের ওপর এটি আবশ্যক যে, আমরা শায়খ (সালেহ বিন মুহান্না)-এর সেই ব্যক্তিগত ও আত্মিক কথোপকথনের—যদি এই প্রকাশটি সঠিক হয়—কিয়দাংশ তুলে ধরি। কেননা তাঁর সেই আহ্বানের সুর ১৮৯৮ সালের দিকে প্রায় সমগ্র কনস্টানটাইনবাসীকে জাগ্রত করার উপক্রম করেছিল।
বস্তুত এই শ্রদ্ধেয় শায়খ সংস্কারকদের অগ্রভাগে ছিলেন; কেননা তিনি কুসংস্কারাচ্ছন্ন (الخرافيين) বা দরবেশদের বিরুদ্ধে এক বরকতময় আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কিন্তু সরকার, যারা শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় সদা তৎপর ছিল যাতে ঘুমন্ত জনতা জেগে না ওঠে, তারা তাঁকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে এবং তাঁর মূল্যবান লাইব্রেরি বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে তাঁকে শাস্তি প্রদান করে। উপনিবেশবাদের দৃষ্টিতে তাঁর মতো যারা ‘জনসাধারণের ঘুমের ব্যাঘাতকারী’ ছিল, সরকার তাঁদেরকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় তারা শায়খ (আবদুল কাদির আল-মাজাওয়ি)-কে কনস্টানটাইনের মাদ্রাসার পদ থেকে সরিয়ে রাজধানীর মাদ্রাসায় বদলি করে দেয়। এভাবেই ঘুম পুনরায় চোখের পাতাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, যদিও সেই চোখগুলো ঘুমের বন্ধন ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল। আর সেই কণ্ঠস্বরগুলো বিলীন হয়ে যায়, যা কি না মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করার ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উপক্রম হয়েছিল; যেন তা ছিল মাঝরাতে ঘটে যাওয়া কোনো কলহ, যার কথা কোনো ঘুমন্ত ব্যক্তি টেরও পায়নি।
কিন্তু পাহাড়ের চূড়া থেকে রাতের নক্ষত্ররাজির বুক চিরে ঊষার আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত হতে শুরু করে। বিলম্ব না করেই সেই আলোর নিদর্শনসমূহ আলজেরিয়ার আকাশ থেকে অন্ধকারকে ধুয়ে মুছে দেয়। প্রায় ১৯২২ সালের দিকে ভূখণ্ডটিতে এক মৃদু গুঞ্জন ও চঞ্চলতা শুরু হয়, যা ছিল এক নতুন প্রভাতের ঘোষণা এবং এক নবতর জীবনের পুনর্জাগরণ। যেন...
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هذه الأصوات استمدت من صوت جمال الدين قوتها الباعثة، بل كأنها صدى لصوته البعيد، لقد بدأت معجزة البعث تتدفق من كلمات (بن باديس) (1) فكانت تلك ساعة اليقظة، وبدأ الشعب الجزائري المخدر يتحرك، ويا لها من يقظة جميلة مباركة، يقظة شعب ما زالت مقلتاه مشحونتين بالنوم، فتحولت المناجاة إلى خطب ومحادثات ومناقشات وجدل، وهكذا استيقظ المعنى الجماعي؛ وتحولت مناجاة الفرد إلى حديث الشعب، فتساءل الناس: كيف نمنا طويلاً؟ وهل استيقظنا حقا؟ وماذا يجب أن نفعل الآن! ولقد كانت هذه الأسئلة على شفاه قوم غمرتهم الدهشة، وما زالوا يتقلبون في خدر النوم، يتلمسون منه فكاكا.
كانت الحكومة في شك من أمرها، ومن المفيد أن نذكر كم كانت بطيئة في تكيفها مع الظروف الجديدة، فبعد عشر سنوات، أي حوالي عام 1933، لم تكن هذه الحكومة قد تفهمت تلك الظروف، إذ نجد أن حاكم الجزائر- وقد أصدر لائحته المشهورة التي حرمت المساجد على العلماء المصلحين- نجده يصفه الشعب الجزائري بأنه " شعب خامل"!!.
ومن الواجب أن نذكر أن هذا الخمول الذي لم يكن إلا في الإدارة الاستعمارية الشائخة هو السبب الأساسي للبلاء، بينما البلاد قد شاعت فيها الحيوية، وامتلأت بالغليان والثورة.
لقد انطلقت الأفكار، ثم تلاقت وتصارعت، فكانت أحيانا تنفجر شأن فقاقيع الهواء على سطح (الغلاية)، وأحيانا أخرى تتحول مباشرة من حالة الجمود إلى حالة التبخر والشيوع، في صورة مدرسة، أو مسجد، أو مؤسسة إصلاحية، وظهرت النظريات الاجتماعية التي كانت يومئذ رائجة في سوق الأفكار، ظهرت هذه النظريات في أفكار الشباب المتطلعين إلى كل تجديد، فهذا يرنو إلى المذهب الكمالي، وذاك يأخذ بالمذهب الوهابي، وذلك ينزع إلى التمدن الغربي، ومنهم من انحدر بفكره إلى مذهب المادة، وكل واحد من هؤلاء وأولنك
--------------------------------------------
এই কণ্ঠস্বরগুলো জামাল উদ্দিনের কণ্ঠ থেকে তাদের প্রেরণাদায়ী শক্তি আহরণ করেছিল, বরং এগুলো ছিল যেন তাঁর সুদূরপ্রসারী কণ্ঠের এক প্রতিধ্বনি। ইবনে বাদিসের (১) শব্দমালা থেকে নবজাগরণের এক অলৌকিক ধারা প্রবাহিত হতে শুরু করেছিল, আর সেটিই ছিল জাগরণের লগ্ন। তন্দ্রাচ্ছন্ন আলজেরীয় জনগণ নড়েচড়ে উঠতে শুরু করল; ওহ, কী চমৎকার এবং বরকতময় এক জাগরণ! এমন এক জাতির জাগরণ, যাদের চক্ষুদ্বয় তখনও তন্দ্রাভিভূত ছিল। ফলে নিভৃত সংলাপগুলো রূপান্তরিত হলো বক্তৃতা, কথোপকথন, আলোচনা এবং বিতর্কে। এভাবেই সামষ্টিক চেতনার উদয় হলো; ব্যক্তির নিভৃত আলাপচারিতা পরিণত হলো জনগণের হাদিসে। মানুষ প্রশ্ন করতে শুরু করল: আমরা কেন এত দীর্ঘকাল নিদ্রামগ্ন ছিলাম? আমরা কি সত্যিই জাগ্রত হয়েছি? এখন আমাদের কী করা উচিত! বিস্ময়ে অভিভূত এক জাতির অধরে এই প্রশ্নগুলো প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, যারা তখনও নিদ্রার আচ্ছন্নতায় এপাশ-ওপাশ করছিল এবং তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পথ খুঁজছিল।
সরকার তার নিজের অবস্থা নিয়ে সংশয়ে ছিল। এটি উল্লেখ করা সমীচীন হবে যে, নতুন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে তারা কতটা মন্থর ছিল। দশ বছর পর, অর্থাৎ ১৯৩৩ সালের দিকেও এই সরকার পরিস্থিতি অনুধাবন করতে সক্ষম হয়নি। এমনকি আলজেরিয়ার তৎকালীন গভর্নর—যিনি সংস্কারবাদী আলেমদের জন্য মসজিদসমূহ নিষিদ্ধ করে তার সেই কুখ্যাত অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন—তাকে দেখা যায় আলজেরীয় জনগণকে "অলস জাতি" হিসেবে বর্ণনা করতে!!
এটি বলা আবশ্যক যে, এই জড়তা আসলে ছিল কেবল জরাজীর্ণ ঔপনিবেশিক প্রশাসনেরই বৈশিষ্ট্য, যা ছিল সকল সংকটের মূল কারণ। অথচ দেশটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে তখন প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছিল এবং দেশ তখন গণজাগরণ ও বিপ্লবের উত্তাপে টালমাটাল ছিল।
চিন্তা ও ধারণাগুলো শৃঙ্খলমুক্ত হয়ে গিয়েছিল, এরপর সেগুলো একে অপরের সাথে মিলিত ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। কখনও কখনও সেগুলো বয়লারের উপরিভাগে বায়ু বুদবুদের ন্যায় ফেটে যাচ্ছিল। আবার কখনও কখনও সরাসরি স্থবির অবস্থা থেকে বাষ্পীভূত হয়ে ব্যাপকতা লাভ করছিল—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ কিংবা কোনো সংস্কারবাদী প্রতিষ্ঠানের রূপ ধারণ করে। সেই সময়কার চিন্তার বাজারে প্রচলিত সামাজিক মতবাদগুলো আত্মপ্রকাশ করল। এই মতবাদগুলো সেই সব তরুণদের ভাবনায় ফুটে উঠল যারা সকল ক্ষেত্রে নতুনত্বের সন্ধানী ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কামালবাদী মতাদর্শের প্রতি অনুরাগী ছিল, কেউ ওয়াহাবি মতাদর্শ অনুসরণ করছিল, আবার কেউবা পাশ্চাত্য সভ্যতার দিকে ঝুঁকেছিল। আবার তাদের কেউ কেউ তাদের চিন্তাধারাকে বস্তুবাদী দর্শনের দিকে ধাবিত করেছিল; তাদের প্রত্যেকেই এবং ওই ব্যক্তিবর্গ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يتخذ ملبسا يعبر عن نزعة تفكيره، فهذا يلبس القبعة ليشعرنا بأنه يقفو أثر مصطفى كمال، وأنه تزعم تحرير النساء، وأنه يريد أن ينشر في البلاد التدريس المدني (اللاديني)، وأنه يريد أن يبدل مكان الشريعة القانون الوضعي.
ونرى من بين هؤلاء وأولئك عمائم الإصلاح، تدلنا على منهاج آخر يقوم على عقيدة صحيحة، ورجوع إلى السلف الصالح، وتغيير ما بالنفس من آثار الانحطاط.
ولكنا نرى أن هذه القيادات والاتجاهات- رغم تباينها واختلافها- كانت متفقة على نقطة هي: إرادة الحركة والتجديد والفرار من الزوايا الخرافية إلى المكاتب العلمية، ومن الخمارات الحقيرة إلى مواطن أكثر طهارة وفائدة.
ولقد كانت حركة الاصلاح التي قام بها العلماء الجزائريون أقرب هذه الحركات إلى النفوس، وأدخلها في القلوب، إذ كان أساس منهاجهم الأكمل قوله تعالى: (إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ).
فأصبحت هذه الآية شعار كل من ينطرح في سلك الإصلاح في مدرسة (بن باديس) وكانت أساسا لكل تفكير. فظهرت آثارها في كل خطوة، وفي كل مقال، حتى أشرب الشعب في قلبه نزعة التغيير فأصبحت أحاديثه تتخدها شرعة ومنهاجا، فهذا يقول: لا بد من تبليغ الإسلام إلى المسلمين، وذاك يعظ: فلنترك البدع الشنيعة البالية التي لطخت الدين، ولنترك هذه الأوثان. وذلك يلح: يجب أن نعمل، يجب أن نتعلم، يجب أن نجدد صلتنا بالسلف الصالح، ونحيي شعائر المجتمع الإسلامي الأول.
وإنه لتفكير سديد؛ ذلك الذي يرى أن تكوين الحضارة كظاهرة اجتماعية إنما يكون في نفس الظروف والشروط التي ولدت فيها الحضارة الأولى، كان هذا صادرا عن عقيدة قوية، ولسان يستمد من سحر القرآن تأثيره، ليذكر الناس بحضارة الإسلام في عصوره الزاهرة.
তিনি এমন পোশাক পরিধান করেন যা তার চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটায়। কেউ হ্যাট পরিধান করেন আমাদের এটা বোঝাতে যে, তিনি মোস্তফা কামালের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন, তিনি নারী স্বাধীনতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং তিনি দেশে সেকুলার বা ধর্মহীন (اللاديني) শিক্ষা প্রচার করতে চান। অধিকন্তু, তিনি শরীয়াহর স্থলে মানব রচিত আইন (القانون الوضعي) প্রতিস্থাপন করতে চান।
আবার আমরা এদের মাঝে সংস্কারক আলেমদের পাগড়ি দেখতে পাই, যারা আমাদের এমন এক কর্মপদ্ধতির দিকে পরিচালিত করেন যা সঠিক আকিদা (عقيدة صحيحة), সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) এর পদাঙ্ক অনুসরণ এবং আত্মার অবক্ষয়ের চিহ্নগুলো পরিবর্তনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
কিন্তু আমরা লক্ষ্য করি যে, এই নেতৃত্ব ও আদর্শিক ধারাগুলো—তাদের মধ্যকার বৈচিত্র্য ও মতভেদ সত্ত্বেও—একটি বিন্দুতে একমত ছিল: আর তা হলো আন্দোলনের সংকল্প, সংস্কার (تجديد) এবং কাল্পনিক কুসংস্কারাচ্ছন্ন আস্তানা থেকে জ্ঞানকেন্দ্রিক দপ্তরের দিকে ধাবিত হওয়া, আর নিকৃষ্ট পানশালা থেকে পবিত্রতর ও কল্যাণকর স্থানের দিকে প্রত্যাবর্তন করা।
আলজেরীয় আলেমদের সূচিত সংস্কার আন্দোলন ছিল মানুষের আত্মার সবচেয়ে নিকটবর্তী এবং হৃদয়ে গভীর প্রভাব বিস্তারকারী। কারণ তাদের পূর্ণাঙ্গ কর্মপদ্ধতির মূল ভিত্তি ছিল মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।"
ফলে এই আয়াতটি 'বিন বাদিস' স্কুলের সংস্কার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত প্রত্যেকের মূলমন্ত্রে পরিণত হয়েছিল এবং তা ছিল প্রতিটি চিন্তার ভিত্তি। এর প্রভাব প্রতিটি পদক্ষেপে এবং প্রতিটি প্রবন্ধে ফুটে ওঠে; এমনকি জনগণের হৃদয়ে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এমনভাবে গেঁথে যায় যে, তাদের কথোপকথনগুলো একেই জীবনপদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করে। কেউ বলত: 'মুসলিমদের নিকট ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো অপরিহার্য', কেউ নসিহত করত: 'আমাদের উচিত দ্বীনকে কলুষিতকারী জঘন্য ও জীর্ণ বিদআতসমূহ (بدع) বর্জন করা এবং এই মূর্তিসমূহ ত্যাগ করা'। আবার কেউ তাগিদ দিত: 'আমাদের কাজ করতে হবে, আমাদের শিখতে হবে, আমাদের সালাফে সালেহীন (السلف الصالح) এর সাথে সম্পর্ক নবায়ন করতে হবে এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের সমাজের নিদর্শনসমূহ পুনর্জীবিত করতে হবে।'
এটি সত্যিই এক সঠিক চিন্তা; যা মনে করে যে, একটি সামাজিক প্রেক্ষাপট হিসেবে সভ্যতার বিনির্মাণ ঠিক সেই একই পরিস্থিতি ও শর্তাবলীতে সম্ভব হয়, যার মাধ্যমে প্রথম সভ্যতা জন্ম নিয়েছিল। এটি উৎসারিত হয়েছিল এক সুদৃঢ় আকিদা (عقيدة) এবং এমন এক বাগ্মিতা থেকে যা কুরআনের অলৌকিক প্রভাব থেকে শক্তি সঞ্চয় করে, যাতে মানুষকে ইসলামের সেই সোনালী যুগের সভ্যতার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والشعب المتدين الطروب كان مصغيا
… ولكن المستقبل هدف بعيد، فلا بد من طرق واضحة ودفعات قوية لكي يدرك هدفه. وإذن فيجب أن تحدد الكلمات معالم هذه الطرق، وأن تحتوي على الخمائر المباركة لهذه الدفعات.
وعلى الرغم من قوة عبارات الإصلاحيين الجزائريين، فإن هذه الكلمات قد انحرفت- أحيانا وبكل أسف- عن أهدافها، لأسباب تضاد المنهج، فلقد كان النوم يحذرهم عن أن ينشروا وعيهم وجهدهم باستمرار، فكانت النتيجة انحرافا. ولا نتيجة، لأن الحكمة قد تركت مكانها للانتهازية السياسية.
ولكن مهما كان شأن جمعية العلماء إزاء ذلك الانحراف، ومهما كان ركونها أحيانا إلى التفكير غير المنهجي، فإنها لا تزال في طليعة النهضة الجزائرية الصحيحة، ومن أقوى محركاتها.
على أن من الممكن أن يتحول هذا النوع من التفكير غير المنهجي إلى انتهازية خطيرة (1)، وبخاصة في العصور المضطربة عندما تؤدي كل خطوة خاطئة إلى الموت أحيانا.
فليس للانحراف طرق مرسومة نظريا، ولكن له دروبا مظلمة يتعثر فيها السائر في كل خطوة.
وهنا يظهر السبب الذي دعا العلماء إلى أن يسيروا عام 1936 في القافلة السياسية التي ذهبت إلى باريس كأكبر سبب جرَّ الحركة الإصلاحية الحزائرية إلى أول انحرافها.
فبأي غنيمة أرادوا أن يرجعوا من هناك، وهم يعلمون أن مفتاح القضية في روح الأمة لا في مكان آخر؟
وبأي شيء في الحقيقة قد رجعوا؟ ألم يرجعوا باخفاق المؤتمر الجزائري
--------------------------------------------
ধর্মপ্রাণ ও আবেগতাড়িত জনতা শ্রবণরত ছিল
… তবে ভবিষ্যৎ এক দূরবর্তী লক্ষ্য, তাই সেই লক্ষ্য অর্জনে সুনির্দিষ্ট পথ ও শক্তিশালী উদ্দীপনা থাকা অপরিহার্য। সুতরাং, শব্দসমূহকে অবশ্যই এই পথগুলোর বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করতে হবে এবং এই উদ্দীপনাগুলোর জন্য বরকতময় প্রভাবকসমূহ ধারণ করতে হবে।
আলজেরীয় সংস্কারকদের বক্তব্যের জোরালো প্রভাব থাকা সত্ত্বেও, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, পদ্ধতিগত (منهج) বিরোধিতার কারণে এই শব্দগুলো মাঝেমধ্যে তাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। তন্দ্রা বা অসতর্কতা তাদের সচেতনতা ও প্রচেষ্টাকে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচার করতে বাধা দিচ্ছিল, যার ফলে বিচ্যুতি দেখা দিয়েছিল। আর কোনো কার্যকর ফলাফল অর্জিত হয়নি, কারণ প্রজ্ঞা রাজনৈতিক সুবিধাবাদের কাছে স্থানচ্যুত হয়েছিল।
তবে সেই বিচ্যুতির বিপরীতে ওলামা পরিষদের ভূমিকা যাই হোক না কেন, এবং মাঝেমধ্যে অপদ্ধতিগত চিন্তাধারার প্রতি তাদের ঝুঁকে পড়া সত্ত্বেও, তারা এখনো বিশুদ্ধ বা সহীহ (صحيح) আলজেরীয় নবজাগরণের অগ্রভাগে রয়েছে এবং এর অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তি।
তবে এই ধরনের অপদ্ধতিগত চিন্তাধারা বিপদজনক সুবিধাবাদে (১) রূপান্তর হওয়া সম্ভব, বিশেষ করে অস্থির বা মুজতারিব (مضطرب) যুগে, যখন প্রতিটি ভুল পদক্ষেপ মাঝেমধ্যে মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিচ্যুতির কোনো তাত্ত্বিকভাবে অঙ্কিত পথ নেই, বরং এর রয়েছে অন্ধকার অলিগলি যেখানে পথচারী প্রতি পদক্ষেপে হোঁচট খায়।
এখানেই সেই কারণটি উন্মোচিত হয় যা ওলামাদের ১৯৩৬ সালে প্যারিসে গমনকারী রাজনৈতিক কাফেলায় শরিক হতে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যা আলজেরীয় সংস্কারবাদী আন্দোলনকে তার প্রথম বিচ্যুতির দিকে টেনে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
তারা সেখান থেকে কোন গনীমত নিয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন, অথচ তারা জানতেন যে সমস্যার চাবিকাঠি জাতির আত্মার মধ্যে নিহিত, অন্য কোথাও নয়?
বাস্তবে তারা কী নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন? তারা কি আলজেরীয় সম্মেলনের ব্যর্থতা নিয়ে ফেরেননি?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وبتشتيت جمعيتهم نفسها؟ فلقد ساد الرأي الانتخابي، وأصبح قائدا بدلاً من أن يكون مقودا، وهكذا انقلبت الحركة الاصلاحية على عقبها، وأصبحت تمشي على قمة رأسها، لا على قدميها وما كان الأمر خاصا بالجزائر، بل كان العالم الإسلامي مصابا بمثل ما أصاب الجزائر، فقد نشأت فيه التيارات الحزبية، وانعكست فيه روح السمو وقوة الصعود والنهوض، إلى عاطفة سفلية، وجاذبية سطحية.
وربما كان عام 1936 في الجزائر هو القمة التي بلغها روح الكفاح والاصلاح الاجتماعي، وهي نفسها القمة التي هبط منها الاصلاح إلى هاوية لا قرار لها.
وكان ذلك قبيل حرب عام 1939، عندما أوعدت سحبها السوداء في أفق العالم.
ومن المحزن حقا أن العالم الاسلامي- إبان هذه الحقبة- قد استسلم لرقاد طويل، فلم يفطن لساعات التاريخ الفاصلة، ولم يحاول انتهاز فرصتها السانحة، ليتخلص من الاستعمار.
***
এবং তাদের নিজেদের ঐক্যকে কি ছিন্নভিন্ন করার মাধ্যমে? প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনী চিন্তাধারা প্রাধান্য লাভ করেছে এবং তা পরিচালিত হওয়ার পরিবর্তে পরিচালকে পরিণত হয়েছে। এভাবেই সংস্কারবাদী আন্দোলন সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী হয়ে পড়েছে এবং তা পায়ের বদলে মাথার ওপর ভর করে চলতে শুরু করেছে। আর এই বিষয়টি কেবল আলজেরিয়ার জন্য নির্দিষ্ট ছিল না, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বই আলজেরিয়ার মতো একই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিল। সেখানে দলীয় স্রোতধারা তৈরি হয়েছিল এবং সুউচ্চ চেতনা ও জাগরণের শক্তি একটি নিম্নমুখী আবেগ ও ভাসা-ভাসা আকর্ষণে পর্যবসিত হয়েছিল।
সম্ভবত আলজেরিয়াতে ১৯৩৬ সাল ছিল সেই শিখর, যেখানে সংগ্রাম ও সামাজিক সংস্কারের চেতনা পৌঁছেছিল; এবং এটিই ছিল সেই শিখর যেখান থেকে সংস্কার একটি অতল গহ্বরে পতিত হয়েছিল।
আর এটি ছিল ১৯৩৯ সালের যুদ্ধের ঠিক পূর্বমুহূর্তে, যখন বিশ্বের দিগন্তে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল।
এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে, এই কালপর্বে মুসলিম বিশ্ব এক দীর্ঘ তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। তারা ইতিহাসের সেই চূড়ান্ত মুহূর্তগুলো অনুধাবন করতে পারেনি এবং উপনিবেশবাদ থেকে মুক্তি লাভের জন্য সেই সুবর্ণ সুযোগগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টাও করেনি।
***
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
دَوْرُ الْوَثَنِيَّةِ
((إذا فصلت السياسة عن الدين فقدت معناها .. كل طفل فى مدرستنا يدري الأنظمة السياسية في الهند، ويعرف كيف أن بلاده تتقد بإحساسات جديدة وبآمال جديدة، ولكننا أيضاً في حاجة إلى الضوء الثابت المستقر. ضوء الأيمان الديني))
((غاندي)).
من المعرو ف أن القرآن الكريم قد أطلق اسم الجاهلية على الفترة التي كانت قبل الإسلام، ولم يشفع لهم شعر رائع، وأدب فذ، من أن يصفهم القرآن بهذا الوصف، لأن التراث الثقافي العربي لم يكن يحوي سوى الديباجة المشرقة، الخالية من كل عنصر "خلاق" أو فكر عميق. وإذا كانت الوثنية في نظر الإسلام جاهلية، فإن الجهل في حقيقته وثنية، لأنه لا يغرس أفكارا، بل ينصب أصناما، وهذا هو شأن الجاهلية، فلم يكن من باب الصدفة المحضة أن تكون الشعوب البدائية وثنية ساذجة، ولم يكن عجيبا أيضا أن مر الشعب العربي بتلك المرحلة، حين شيد معبدا للأقطاب (الدراويش) المتصرفين في الكون، ومن سنن الله في خلقه أنه عندما تغرب الفكرة يبزغ الصنم، والعكس صحيح أحيانا.
وهكذا كان شأن الجزائر فإنها كانت حتى عام 1925 - على الرغم من إسلامها- تدين بالوثنية، التي قامت نصبها في الزوايا، هنالك كانت تذهب الارواح الكاسدة لالتماس البركات، ولاقتناء الحروز ذات الخوارق والمعجزات، غير أنه ما إن سطع نور الفكرة الإصلاحية حتى تحطم ذلك المعبد، فخرت الأوثان مع أسف عماتنا وخالاتنا اللاتي أدهشهن ما رأين.
وبالفعل فقد خمدت نيران أهل الزردة (الفتَّة)، وزالت عن البلاد حمى الدراويش، وتخلصت منها الجماهير بعد أن ظلت طوال خمسة قرون ترقص على دقات البنادير، وتبتلع العقارب والمسامير مع الخرافات والأوهام.
পৌত্তলিকতার ভূমিকা
((যদি রাজনীতিকে ধর্ম থেকে পৃথক করা হয়, তবে তা তার অর্থ হারিয়ে ফেলে... আমাদের বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিশু ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত, এবং তারা জানে কীভাবে তাদের দেশ নতুন অনুভূতি ও নতুন আশায় প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে, কিন্তু আমাদের একটি স্থির ও সুপ্রতিষ্ঠিত আলোরও প্রয়োজন। আর তা হলো ধর্মীয় বিশ্বাসের আলো।))
((গান্ধী))
এটি সর্বজনবিদিত যে, পবিত্র কুরআন ইসলামের পূর্ববর্তী সময়কালকে জাহিলিয়াত (جاهلية) হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের চমৎকার কবিতা ও অনন্য সাহিত্য তাদেরকে এই বিশেষণে বিশেষিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেনি। কারণ আরব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তখন কেবল উজ্জ্বল বাহ্যিক অলঙ্করণেই সীমাবদ্ধ ছিল, যা ছিল যেকোনো "সৃজনশীল" উপাদান বা গভীর চিন্তাধারা বর্জিত। ইসলামের দৃষ্টিতে যদি পৌত্তলিকতা (وثنية) জাহিলিয়াত (جاهلية) হয়ে থাকে, তবে অজ্ঞতা (جهل) তার প্রকৃত হাকীকতে পৌত্তলিকতা (وثنية); কেননা তা কোনো চিন্তাধারা রোপণ করে না, বরং মূর্তি স্থাপন করে। আর এটিই হলো জাহিলিয়াতের (جاهلية) বৈশিষ্ট্য। এটি নিছক কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না যে, আদিম জাতিগুলো সরলমনা পৌত্তলিক (وثنية) ছিল। এটিও বিস্ময়কর ছিল না যে, আরব জাতি এমন এক সময়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছিল যখন তারা মহাবিশ্বের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কথিত কুতুব বা দরবেশদের (دراويش) জন্য উপাসনালয় নির্মাণ করেছিল। সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর একটি অমোঘ নিয়ম (سنن الله) এই যে, যখন চিন্তাধারার সূর্য অস্তমিত হয়, তখন মূর্তির উদয় ঘটে; এবং কখনও কখনও এর বিপরীতটিও সত্য হয়।
আলজেরিয়ার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা ছিল। ১৯২৫ সাল পর্যন্ত—মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও—দেশটি পৌত্তলিকতায় (وثنية) আচ্ছন্ন ছিল, যার মূর্তিসমূহ খানকাহগুলোতে (الزوايا) প্রতিষ্ঠিত ছিল। সেখানে হতোদ্যম আত্মারা বরকত (بركات) লাভের প্রত্যাশায় এবং অলৌকিক ও কারামাত (معجزات) সম্পন্ন তাবীজ-কবজ (حروز) সংগ্রহের জন্য যেত। কিন্তু যখনই সংস্কারবাদী চিন্তার আলোকচ্ছটা উদ্ভাসিত হলো, তখনই সেই উপাসনালয় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। ফলে আমাদের ফুফু ও খালাদের আফসোসের মাঝেই মূর্তিগুলো ভূপাতিত হলো, যারা তাদের দেখা চাক্ষুষ ঘটনায় বিস্ময়াভিভূত হয়েছিলেন।
প্রকৃতপক্ষে যরদা (الزردة) বা ওরস পন্থীদের আগুন নির্বাপিত হয়েছে, দেশ থেকে দরবেশদের (دراويش) উন্মাদনা বিলুপ্ত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের থেকে মুক্তি পেয়েছে; দীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী ধরে দফ (البنادير) বা ঢাকের তালে নেচে এবং কুসংস্কার ও অলীক বিশ্বাসের সাথে বিচ্ছু ও পেরেক গিলে খাওয়ার পর।
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ولقد ذهبت بذهابهم تلك الجنة التي وُعِدها المريدون بلا كد ولا عمل، إلا ما يتلمسون من رضا الشيخ ودعواته، وحلت مكانها جنة الله التي وَعدَها المتقين العاملين.
وهكذا أتيح (للإصلاح) أن يمسك مقاليد النهضة الجزائرية، وأمكنه أن يبعثها خلقا آخر بالروح الإسلامية التي تخلصت من كابوس الأوثان، وكأني بالفكرة الإصلاحية قد بلغت أوجها وانتصرت يوم افتتاح المؤتمر الجزائري عام 1936، مما جعلنا نتساءل: هل سوف نمضي هكذا حتى النهاية؟
لقد كان ذلك ممكنا، لو لم يشعر العلماء المصلحون- بكل أسف- بمركب النقص إزاء قادة السياسة في ذلك العهد (1)، فمالؤوهم وسايروهم، ظنا منهم أنهم سوف يذودون عنهم نوائب الحكومة، ولقد كان ذلك ممكنا لو لم يكونوا على استعداد للعودة إلى فكرة الزوايا ذات الطابع السياسي، والأصنام المزوقة بأسماء جديدة.
لقد كانوا يستطيعون أن يبلغوا ذلك، لو أن أوراق الحروز التي نبذها الشعب لم ترجع إليه باسم أوراق الانتخابات، ولو أن العقول التي كانت تصدق بالمعجزات الكاذبة، لم تعد مرة أخرى تصدق بمعجزات صناديق الانتخابات، ولو أن الزردة التي كانت تقام في ساحات المشايخ لم تعقبها الزردة التي تقام في الميدان السياسي، والتي أصبحت تقدم فيها الأمة قربانها من حين إلى حين.
لقد كان من واجبنا أن ننتبه فلا نلدغ من حجر مرتين، غير أننا لم نكن في الواقع قد تخلصنا من الأسلوب الخرافي، ذلك الأسلوب الطفولي الذي نتجت عنه قصة ألف ليلة وليلة. تلك القصة الذي استطبنا مذاقها في عصور انحطاطنا، وكان لها تأثيرها في جونا الخلقي والاجتماعي.
ولقد كان حقيقا بنا أن نوصد مرة واحدة في عام 1936 باب التيه، فلا ندع أرواحنا تسبح في متاهات لا حد لها. ولو اننا احتطنا لأنفسنا بمثل هذه
--------------------------------------------
তাদের প্রস্থান করার সাথে সাথে সেই জান্নাতও বিদায় নিয়েছে, যার প্রতিশ্রুতি মুরিদদেরকে কোনো শ্রম বা সাধনা ছাড়াই দেওয়া হয়েছিল—কেবল শায়খের সন্তুষ্টি এবং দোয়ার অন্বেষণের বিনিময়ে। আর তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে আল্লাহর সেই জান্নাত, যার প্রতিশ্রুতি তিনি কর্মতৎপর মুত্তাকী (متقين) বান্দাদের দিয়েছেন।
এভাবেই (সংস্কারের) পক্ষে সম্ভব হয়েছিল আলজেরীয় জাগরণের বাগডোর ধারণ করা এবং মূর্তিপূজার দুঃস্বপ্ন থেকে মুক্ত ইসলামি রুহের মাধ্যমে একে এক নবজীবন দান করা। আমার মনে হয়, সংস্কারবাদী চিন্তা তার পূর্ণতা লাভ করেছিল এবং ১৯৩৬ সালে আলজেরীয় কংগ্রেসের উদ্বোধনের দিন বিজয় অর্জন করেছিল; যা আমাদের এই প্রশ্নের সম্মুখীন করেছিল: আমরা কি এভাবেই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যাব?
এটি সম্ভব হতো, যদি—দুর্ভাগ্যবশত—সংস্কারক আলেমগণ সেই যুগের রাজনৈতিক নেতাদের সামনে হীনম্মন্যতায় না ভুগতেন (১); ফলে তারা তাদের সাথে আপস করেছেন এবং তাদের অনুগামী হয়েছেন এই ধারণায় যে, তারা সরকারের পক্ষ থেকে আসা বিপদ-আপদ থেকে তাদের রক্ষা করবেন। এটি সম্ভব হতো যদি তারা রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ‘জাউইয়া’ (খানকাহ) এবং নতুন নামে সুসজ্জিত মূর্তিপূজার ধারণায় ফিরে যেতে উদ্যত না হতেন।
তারা এটি অর্জন করতে পারতেন, যদি জনগণ কর্তৃক বর্জিত সেই কবজ বা তাবিজের কাগজগুলো নির্বাচনী ব্যালট পেপার হিসেবে পুনরায় তাদের কাছে ফিরে না আসত; এবং যদি সেই মস্তিষ্কগুলো, যা মিথ্যা (كاذبة) অলৌকিকতায় বিশ্বাস করত, পুনরায় নির্বাচনী বাক্সের অলৌকিকতায় বিশ্বাস স্থাপন না করত। আর যদি শায়খদের আঙিনায় আয়োজিত ‘জারদা’ (ভোজ) রাজনৈতিক ময়দানের ‘জারদা’র স্থলাভিষিক্ত না হতো, যেখানে উম্মাহ সময়ে সময়ে নিজেদের কুরবানি পেশ করে চলেছে।
আমাদের কর্তব্য ছিল সতর্ক হওয়া যাতে আমরা এক গর্ত থেকে দুবার দংশিত না হই; কিন্তু বাস্তবে আমরা সেই অলীক বা কুসংস্কারাচ্ছন্ন পদ্ধতি থেকে মুক্ত হতে পারিনি—সেই শিশুতোষ পদ্ধতি যা থেকে ‘আলিফ লায়লা ওয়া লায়লা’ বা এক হাজার এক রজনীর গল্পের জন্ম হয়েছিল। আমাদের অধঃপতনের যুগে সেই গল্পের স্বাদ আমরা আস্বাদন করেছিলাম এবং আমাদের নৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে এর গভীর প্রভাব ছিল।
আমাদের জন্য উচিত ছিল ১৯৩৬ সালেই বিভ্রান্তির দ্বার চিরতরে রুদ্ধ করে দেওয়া, যাতে আমাদের আত্মা সীমাহীন গোলকধাঁধায় দিশেহারা না হয়। আর আমরা যদি নিজেদের জন্য এমন সতর্কতা অবলম্বন করতাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الاحتياطات البسيطة لاستطعنا منذ ذلك التاريخ أن نواجه الواقع. وأن نحل مشكلتنا بأيدينا حلا واقعيا علميا.
فلقد كان على الحركة الاصلاحية أن تبقى متعالية على أوحال السياسة والمعامع الانتخابية، ومعارك الاوثان. ولكن العلماء آنذاك قد وقعوا في الوحل - حيث تلطخت ثيابهم البيضاء، وهبطت معهم الفكرة الاصلاحية فجرت في المجرى الذي تجري فيه (الشامبانيا) في الأعراس الانتخابية، الممزوجة أحيانا بدم تريقه اليد السوداء لاغتيال الاصلاح (1).
ولئن كان هنالك شيء يؤسف له منذ عام 1925، فإن أكبر أسفنا على زلة العلماء، التي كانت زلة نزيهة، لما توفر فيها من النية الطاهرة، والقصد البريء.
ومع ذلك فإنه يجب أن لا يغرب عن بالنا أن الحكومة الاستعمارية كانت هي السبب الخارجي لتلك الخطوة المشؤومة التي خطاها العلماء نحو السراب السياسي، وكان ذلك حينما تكونت في فرنسا الجبهة الشعبية التي بذلت الوعود بغير حساب.
ولكن ألم تكن المعجزة الحقة في تحويل الأمة وتقدمها شيئا أغلى من هذا السراب؟
ألم يكن موطن المعجزة هو ما دل عليه القرآن، أي في النفس ذاتها؟
أوَ لم يكن العلماء أنفسم ينهلون من ذلك الينبوع معجزتهم من عام 1925 حتى عام 1936، إذ كانوا يغيرون ما بنفس الفرد، ذلك التغيير الذي هو الشرط الجوهري لكل تحول اجتماعي رشيد؟
وإذن فلا يجوز لنا أن نغفل الحقائق، فالحكومة مهما كانت ما هي إلا آلة اجتماعية تتغير تبعا للوسط الذي تعيش فيه وتتنوع معه، فإذا كان الوسط نظيفا حرا، فما تستطيع الحكومة أن تواجهه بما ليس فيه، وإذا الوسط كان متسما بالقابلية إلى الاستعمار فلا بد من أن تكون حكومته استعمارية.
--------------------------------------------
সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করলে সেই সময় থেকেই আমরা বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারতাম এবং আমাদের সমস্যাগুলো বাস্তবসম্মত ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে নিজেদের হাতেই সমাধান করতে পারতাম।
কেননা সংস্কারবাদী আন্দোলনের উচিত ছিল রাজনীতির পঙ্কিলতা, নির্বাচনের হট্টগোল এবং মূর্তিপূজার লড়াই থেকে ঊর্ধ্বে থাকা। কিন্তু তৎকালীন উলামাগণ সেই পঙ্কিলতায় নিপতিত হয়েছিলেন—যার ফলে তাঁদের শুভ্র বসন কলঙ্কিত হয়েছিল এবং তাঁদের সাথে সাথে সংস্কারবাদী চিন্তাধারারও অধঃপতন ঘটেছিল; ফলে তা নির্বাচনী উৎসবের সেই স্রোতধারায় মিশে গিয়েছিল যেখানে শ্যাম্পেন প্রবাহিত হয় এবং যা কখনো কখনো সংস্কারকে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অশুভ শক্তির ঝরানো রক্তে রঞ্জিত থাকে (১)।
১৯২৫ সাল থেকে যদি কোনো বিষয়ে আক্ষেপ করার থাকে, তবে আমাদের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হলো উলামাগণের সেই পদস্খলন নিয়ে, যা ছিল এক স্বচ্ছ পদস্খলন; কারণ তাতে পবিত্র নিয়ত এবং নিষ্পাপ উদ্দেশ্য বিদ্যমান ছিল।
তা সত্ত্বেও আমাদের এটি ভুলে যাওয়া চলবে না যে, উলামাগণ রাজনৈতিক মরীচিকার দিকে যে অশুভ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার বাহ্যিক কারণ ছিল ঔপনিবেশিক সরকার। আর এটি ঘটেছিল তখন, যখন ফ্রান্সে 'পপুলার ফ্রন্ট' গঠিত হয়েছিল যা অঢেল প্রতিশ্রুতি বিলিয়েছিল।
কিন্তু জাতির রূপান্তর ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রকৃত অলৌকিকতা কি এই মরীচিকার চেয়েও মূল্যবান কিছু ছিল না?
অলৌকিকতার উৎস কি তা ছিল না যা কুরআন নির্দেশ করেছে, অর্থাৎ স্বয়ং মানুষের অন্তরাত্মার মাঝে?
অথবা উলামাগণ কি ১৯২৫ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত সেই উৎস থেকেই তাঁদের অলৌকিক প্রেরণা গ্রহণ করছিলেন না? যখন তাঁরা ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন সাধন করছিলেন; যে পরিবর্তন হলো প্রতিটি সঠিক সামাজিক রূপান্তরের মৌলিক শর্ত।
সুতরাং আমাদের জন্য বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা সমীচীন নয়; কেননা সরকার তা যা-ই হোক না কেন, তা কেবল একটি সামাজিক যন্ত্র যা তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অনুযায়ী পরিবর্তিত ও বৈচিত্র্যময় হয়। যদি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাধীন হয়, তবে সরকার তার বাইরে গিয়ে কিছু করার সামর্থ্য রাখে না। আর যদি পরিবেশ ঔপনিবেশিক মানসিকতার শিকার হয়, তবে তার সরকারও অনিবার্যভাবে ঔপনিবেশিক হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
هذه الملاحظة الاجتماعية تدعونا لأن نقرر أن الاستعمار ليس من عبث السياسيين، ولا من أفعالهم، بل هو من النفس ذاتها، التي تقبل ذل الاستعمار، والتي تمكن له في أرضها.
وليس ينجو شعب من الاستعمار وأجناده، إلا إذا نجت نفسه من أن تتسع لذل مستعمر، وتخلصت من تلك الروح التي تؤهله للاستعمار.
ولا يذهب كابوسه عن الشعب- كما يتصور البعض- بكلمات أدبية أو خطابية، وإنما بتحول نفسي، يصبح معه الفرد شيئا فشيئا قادرا على القيام بوظيفته الاجتماعية، جديرا بأن تُحترم كرامتُه، وحينئذ يرتفع عنه طابع "القابلية للاستعمار"، وبالتالي لن يقبل حكومة استعمارية تنهب ماله، وتمتص دمه، فكأنه بتغيير نفسه قد غير وضع حاكميه تلقائيا إلى الوضع الذي يرتضيه (1).
ولا شك في أن يلازمة السياسية الراهنة تعود في تعقدها إلى أننا نجهل أو نتجاهل القوانين الأساسية التي تقوم عليها الظاهرة السياسية والتي تقتضينا أن ندخل في اعتبارنا دائما صلة الحكومة بالوسط الاجتماعي، كآلة مسيرة له، وتتأثر به في وقت واحد، وفي هذا دلالة على ما بين تغيير النفس وتغير الوسط الاجتماعي من علاقات متينة، ولقد قال الكاتب الاجتماعي (بورك): " إن الدولة التي لا تملك الوسائل لمسايرة التغيرات الاجتماعية لا تستطيع أن تحتفط ببقائها" (2).
ومن الواضح أن السياسة، التي تجهل قواعد الاجتماع وأسسه لا تستطيع إلا أن تكوّن دولة تقوم على العاطفة في تدبير شؤونها، وتستعين بالكلمات الجوفاء في تأسيس سلطانها، ولن نستطيع فهم هذه الملاحظات الاجتماعية إلا إذا فهمنا الآية الكريمة التي اتخذها العلماء شعارا لهم في تأسيس دعوتهم: {إِنَّ اللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ}. وما بقي الاصلاح متمسكا بأهداب
--------------------------------------------
এই সামাজিক পর্যবেক্ষণটি আমাদের এ সিদ্ধান্তে উপনীত হতে বাধ্য করে যে, উপনিবেশবাদ কোনো রাজনীতিবিদের খেয়ালখুশি বা তাদের কর্মকাণ্ডের ফসল নয়, বরং এটি খোদ সেই আত্মারই বহিঃপ্রকাশ যা উপনিবেশবাদের লাঞ্ছনা মেনে নেয় এবং নিজ ভূমিতে তার ভিত্তি স্থাপনের সুযোগ করে দেয়।
কোনো জাতিই উপনিবেশবাদ এবং তার সেনাবাহিনী থেকে মুক্তি পায় না, যতক্ষণ না তার আত্মা কোনো ঔপনিবেশিক শক্তির অবমাননা সহ্য করার মানসিকতা থেকে মুক্তি লাভ করে এবং সেই মানসিকতা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারে যা তাকে উপনিবেশবাদের যোগ্য করে তোলে।
কারো কারো ধারণা অনুযায়ী—কেবল সাহিত্যিক বা আলঙ্কারিক শব্দমালার মাধ্যমে জাতির ওপর থেকে এর দুঃস্বপ্ন অপসারিত হয় না, বরং তা হয় এক মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে, যার ফলে ব্যক্তি ধীরে ধীরে তার সামাজিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়ে ওঠে এবং তার মর্যাদা সম্মানের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। আর তখনই তার ওপর থেকে "উপনিবেশিত হওয়ার প্রবণতার" ছাপটি মুছে যায়। ফলস্বরূপ, সে আর এমন কোনো ঔপনিবেশিক সরকারকে মেনে নেবে না যারা তার সম্পদ লুণ্ঠন করে এবং রক্ত চোষে। বস্তুত, নিজের পরিবর্তনের মাধ্যমে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার শাসকদের অবস্থাকে সেই অবস্থায় পরিবর্তিত করে দেয় যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে (১)।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের জটিলতার মূলে রয়েছে সেই সব মৌলিক নিয়মাবলি সম্পর্কে আমাদের অজ্ঞতা বা উদাসীনতা, যার ওপর রাজনৈতিক পরিমণ্ডল দাঁড়িয়ে আছে। এই নিয়মগুলো আমাদের সর্বদা সমাজ ব্যবস্থার সাথে সরকারের সম্পর্ককে একটি চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে শেখায়, যা একই সাথে সমাজকে প্রভাবিত করে এবং সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হয়। এটি আত্মার পরিবর্তন এবং সামাজিক পরিবেশের পরিবর্তনের মাঝে বিদ্যমান সুদৃঢ় সম্পর্কেরই প্রমাণ বহন করে। সমাজতাত্ত্বিক লেখক বার্ক বলেছেন: "যে রাষ্ট্র সামাজিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মাধ্যমগুলো হারিয়ে ফেলে, সে তার অস্তিত্ব রক্ষা করতে পারে না" (২)।
এটি স্পষ্ট যে, যে রাজনীতি সমাজবিজ্ঞানের নিয়ম ও ভিত্তি সম্পর্কে অজ্ঞ, তার পক্ষে কেবল এমন এক রাষ্ট্রই গঠন করা সম্ভব যা রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগের ওপর নির্ভর করে এবং স্বীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় অন্তঃসারশূন্য বুলির সাহায্য নেয়। আমরা এই সামাজিক পর্যবেক্ষণগুলো ততক্ষণ উপলব্ধি করতে পারব না, যতক্ষণ না আমরা সেই পবিত্র আয়াতটি বুঝতে সক্ষম হব যাকে বিদ্বানগণ তাদের দাওয়াতের মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।" আর যতক্ষণ পর্যন্ত সংস্কার কেবল বাহ্যিক দিকগুলো আঁকড়ে ধরে রাখবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শুরুতুন নাহদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
هذه الآية فلن يستطيع درويش جديد أن يهدد البلاد بخطر خرافته، ولكن زلة العلماء عام 1936 كان لها أكبر الأثر في عودة البلاد إلى الأفكار الوثنية؛ فقد كان من آثار هذه النكسة تلك الزردة الكبرى التي أقامتها (النخبة) من رجال السياسة في بلدة (سطيف)، حيث أمسكت بكلتا يديها المبخرة، ثم ألقت فيها العود الأخير من " الجاوي " المبارك الذي كان السدنة يعطرون به زواياهم.
وما كانت تلك الزردة إلا ابتداء لدروشة جديدة، تذهب معها جهود الاصلاح هباء، وكأنها لم تكن؛ دروشة لا تختلف عن سابقتها إلا بأنها تبيع بدل الحروز والتمائم حروزاً في شكل آخر، هي أوراق الانتخابات، والحقوق السياسية، والأماني السابحة في الخيال.
ومع ما استجلبناه من مصر (الفاروقية) من الاسطوانات والأشرطة السينمائية المجافية للفن والأخلاق، فإِننا قد استجلبنا منها أيضاً أسساً لسياستنا تقوم على أفكار تضلل العقول البسيطة، كان لها أسوأ تأثير في حياتنا، حيث اتخذتها (الدروشة السياسية) شعاراً لها ومبدأ، وكررتها على مسمع من الشعب، حيث رددها معها سنين طويلة، صباح مساء: (إن الحقوق تؤخذ ولا تعطى)! لحاها الله كلمة تطرب وتغري، فالحق ليس هدية تعطى، ولا غنيمة تغتصب، وإنما هو نتيجة حتمية للقيام بالواجب، فهما متلازمان، والشعب لا ينشئ دستور حقوقه إلا إذا عدل وضعه الاجتماعي، المرتبط بسلوكه النفسي.
وإنها لشرعة السماء: غير نفسك، تغير التاريخ!
وعلى هدى هذه الكليمة بدأ الإصلاح الجزائري من النفس- هادفا في جوهره إلى تغيير الإنسان، فبعث فيه روحا وثابة، أشرقت معها بوادر النهضة الكبرى، وكان الانطلاق الرائع للضمير الشعبي فيما قبل عام 1936 في انسجامه، واطراده، وحماسه، هو ملحمة الفكرة الاصلاحية التي توَّجها المؤتمر الإسلامي المنعقد في ذلك العام.
وخلال العصر الذهبي الذي بدأ عام 1925، واستمر حتى زوال المؤتمر
এই আয়াতের প্রভাবে কোনো নতুন দরবেশ তার কুসংস্কারের বিপদ দিয়ে দেশটিকে আর হুমকি দিতে পারবে না। কিন্তু ১৯৩৬ সালে ওলামাদের পদস্খলন দেশটির পৌত্তলিক চিন্তাধারায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। এই বিপর্যয়ের অন্যতম ফল ছিল সেই মহান 'যারদা' (ভোজসভা), যা রাজনীতিকদের একটি (অভিজাত গোষ্ঠী) 'সেতিফ' শহরে আয়োজন করেছিল। সেখানে তারা তাদের দুই হাত দিয়ে ধূপদানিটি শক্ত করে ধরেছিল এবং তাতে সেই বরকতময় "জাভি" (লোবান) কাঠের শেষ অংশটি নিক্ষেপ করেছিল, যা দিয়ে খাদেমরা তাদের খানকাহগুলোকে সুগন্ধযুক্ত করত।
আর সেই 'যারদা' ছিল এক নতুন দরবেশতন্ত্রের সূচনা মাত্র, যার ফলে সংস্কারের প্রচেষ্টাগুলো ধূলিসাৎ হয়ে যায়, যেন সেগুলোর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এই দরবেশতন্ত্র তার পূর্ববর্তীদের থেকে খুব একটা ভিন্ন ছিল না; পার্থক্য শুধু এই যে, এটি তাবীজ ও কবজের পরিবর্তে অন্য রূপের কবজ বিক্রি করছিল—যা ছিল নির্বাচনের ব্যালট পেপার, রাজনৈতিক অধিকার এবং কল্পনায় ভেসে বেড়ানো সব আকাঙ্ক্ষা।
(ফারুকী আমলের) মিসর থেকে শিল্প ও নৈতিকতা বিরোধী যে সব রেকর্ড এবং সিনেমার ফিতা আমরা আমদানি করেছিলাম, তার সাথে সাথে আমরা সেখান থেকে আমাদের রাজনীতির এমন কিছু ভিত্তিও এনেছিলাম যা সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিকে বিভ্রান্ত করে এমন সব চিন্তার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আমাদের জীবনে এর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, কারণ (রাজনৈতিক দরবেশতন্ত্র) একে তাদের স্লোগান ও আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং জনগণের সামনে তা বারবার উচ্চারণ করেছিল। জনগণও বহু বছর ধরে সকাল-সন্ধ্যায় তা আবৃত্তি করেছে: "নিশ্চয়ই অধিকার আদায় করে নিতে হয়, তা দেওয়া হয় না!" আল্লাহ এই কথাটিকে ধ্বংস করুন, যা বিনোদিত করে এবং প্রলুব্ধ করে। মূলত অধিকার কোনো প্রদত্ত উপহার নয়, আর না তা কোনো লুণ্ঠিত সম্পদ যা ছিনিয়ে নেওয়া হবে; বরং এটি তো দায়িত্ব পালনের এক অনিবার্য ফলাফল। উভয়টি একে অপরের পরিপূরক। আর কোনো জাতি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের অধিকারের সনদ তৈরি করতে পারে না, যতক্ষণ না তারা তাদের মনস্তাত্ত্বিক আচরণের সাথে সংশ্লিষ্ট সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।
আর এটিই আসমানি বিধান: নিজেকে পরিবর্তন করো, তবেই ইতিহাসের পরিবর্তন ঘটবে!
এই বাণীর আলোকেই আলজেরীয় সংস্কার আন্দোলন ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি থেকে শুরু হয়েছিল—যার মূলে ছিল মানুষের পরিবর্তন সাধন। এর ফলে মানুষের মধ্যে এক উদ্দীপ্ত প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল, যার সাথে মহান জাগরণের শুভ সূচনা হয়েছিল। ১৯৩৬ সালের পূর্ব পর্যন্ত জনমানসের সেই চমৎকার স্বতঃস্ফূর্ততা—তার সংহতি, ধারাবাহিকতা এবং উদ্দীপনা ছিল সংস্কারবাদী চিন্তাধারার এক মহাকাব্য, যা সেই বছর অনুষ্ঠিত 'ইসলামিক কনফারেন্স'-এর মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছিল।
১৯২৫ সালে শুরু হওয়া সেই স্বর্ণযুগের সময়কালে, যা সেই কনফারেন্সের বিলুপ্তি পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল...