(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: -)
دور المسلم ورسالته في الثلث الأخير من القرن العشرين   (مالك بن نبي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: دَوْرُ الْمُسْلِمِ وَرِسَالَتُهُ فِي الثُّلُثِ الْأَخِيرِ مِنَ الْقَرْنِ الْعِشْرِيْن

المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)

الناشر: دار الفكر- دمشق سورية / دار الفكر - الجزائر

الطبعة: الأولى، 1412هـ - 1991م

عدد الصفحات: 64

أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

২০ শতকের শেষ তৃতীয়াংশে মুসলিমের ভূমিকা ও তার মিশন   (মালেক বিন নবী)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: ২০ শতকের শেষ তৃতীয়াংশে মুসলিমের ভূমিকা ও তার মিশন

লেখক: মালেক বিন আল-হাজ উমর বিন আল-খিজির বিন নবী (মৃত্যু ১৩৯৩ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ফিকর- দামেস্ক সিরিয়া / দারুল ফিকর - আলজেরিয়া

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৪

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আবু ইয়াসির আল-জাযাইরি

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي

 

دَوْرُ الْمُسْلِمِ وَرِسَالَتُهُ فِي الثُّلُثِ الْأَخِيرِ مِنَ الْقَرْنِ الْعِشْرِيْن

 

دار الفكر الجزائر

دار الفكر دمشق - سورية
মালিক বিন নবী

 

বিংশ শতাব্দীর শেষ এক-তৃতীয়াংশে মুসলিমের ভূমিকা ও তার লক্ষ্য

 

দার আল-ফিকর, আলজেরিয়া

দার আল-ফিকর, দামেস্ক - সিরিয়া
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

دَوْرُ الْمُسْلِمِ وَرِسَالَتُهُ فِي الثُّلُثِ الْأَخِيرِ مِنَ الْقَرْنِ الْعِشْرِيْن
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

বিংশ শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশে মুসলিমের ভূমিকা ও তাঁর পয়গাম।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ৪)
الطبعة الأولى 1412هـ - 1991م
প্রথম সংস্করণ ১৪১২ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

يتضمن هذا الكتاب نص المحاضرة الأولى، التي ألقاها المؤلف- رحمه الله في رابطة الحقوقيين بتاريخ 23 صفر 1392 للهجرة، الموافق 28 آذار (مارس) 1972 للميلاد، في مدينة دمشق، تحت عنوان (دور المسلم في الثلث الأخير من القرن العشرين).

ونص المحاضرة الثانية التي ألقاها في مسجد المرابط، في مدينة دمشق بتاريخ 19 ربيع الثاني 1392هـ الموافق 22 أيار (مايو) 1972م، تحت عنوان (رسالة المسلم في الثلث الأخير من القرن العشرين).
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

এই গ্রন্থটি প্রথম বক্তৃতার মূল পাঠকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা লেখক—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন—দামেস্ক শহরের 'রাবিতাতুল হুকুকিয়্যীন' (আইনজীবী সমিতি)-এ ২৩ সফর ১৩৯২ হিজরি, মোতাবেক ২৮ মার্চ ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে "বিংশ শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশে মুসলিমদের ভূমিকা" শিরোনামে প্রদান করেছিলেন।

এবং দ্বিতীয় বক্তৃতার মূল পাঠ, যা তিনি দামেস্ক শহরের আল-মুরাবিত মসজিদে ১৯ রবিউস সানি ১৩৯২ হিজরি, মোতাবেক ২২ মে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে "বিংশ শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশে মুসলিমদের বার্তা" শিরোনামে প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ৬)
تقديم

 

(دَوْرُ الْمُسْلِمِ وَرِسَالَتُهُ فِي الثُّلُثِ الْأَخِيرِ مِنَ الْقَرْنِ الْعِشْرِيْن)

هاتان محاضرتان من نفحات دمشق.

نفحات طالما استفاض بها فكر المرحوم مالك بن نبي، وهو في زيارة هذا البلد العزيز، فأعطى الكثير، وأضاء من جوانب فكره ما حمل المزيد من المؤلفات.

ففي عام 1959م زار الأستاذ مالك دمشق لأول مرة، فأحب فيها شغفاً إلى الجديد من الفكر، واهتماماً بما سبقه إليها من عطاء أعطاه في القاهرة، في (شروط النهضة) و (الظاهرة القرآنية) و (الفكرة الإفريقية الآسيوية) … وهكذا تتابعت أفكار بن نبي كتاباً إثر كتاب، وتتابع الاهتمام بها سحابة من الزمن غير يسيرة.
উপস্থাপনা

 

(বিংশ শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশে মুসলিমের ভূমিকা ও তার দাওয়াতী মিশন)

এই দুটি প্রবন্ধ দামেস্কের পুণ্যস্মৃতি ও জ্ঞানতাত্ত্বিক সৌরভের অংশ।

এমন এক সৌরভ যা মরহুম মালিক বিন নবীর চিন্তাধারাকে দীর্ঘকাল সমৃদ্ধ করেছে যখন তিনি এই প্রিয় দেশ সফর করছিলেন। তিনি অকাতরে জ্ঞান বিলিয়েছেন এবং তাঁর চিন্তার এমন সব দিক উন্মোচিত করেছেন যা বহু গ্রন্থ রচনার ভিত্তি তৈরি করেছে।

১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে উস্তাদ মালিক প্রথমবারের মতো দামেস্ক সফর করেন। সেখানে তিনি নতুন চিন্তার প্রতি এক গভীর অনুরাগ এবং কায়রোতে তাঁর পূর্ববর্তী জ্ঞানতাত্ত্বিক অবদানের প্রতি বিশেষ আগ্রহ প্রত্যক্ষ করেন। তাঁর সেই অবদানগুলো ছিল (রেনেসাঁর শর্তাবলী), (কুরআনিক প্রপঞ্চ) এবং (আফ্রো-এশীয় চিন্তা) গ্রন্থে … এভাবেই বিন নবীর চিন্তাধারা একের পর এক গ্রন্থের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে থাকে এবং দীর্ঘ সময় ধরে তা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদগ্ধ সমাজের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ৭)
وفي بداية السبعينات، أحس كأنما أوشكت مسيرته

على طريق الرسالة تبلغ الأجل الذي أجله الله لها، فمرَّ ببيروت عام 1971م، ثم بطرابلس لبنان، وأودعني رحمه الله وصية سجلها في 16 ربيع الثاني 1391هـ الموافق 10 حزيران (يونيو) 1971م في المحكمة الشرعية في طرابلس، حملني فيها مسؤولية الحفاظ على أفكاره والإذن بنشر كتبه.

ثم عاد في العام التالي عام 1972م، فمرَّ بدمشق

وهو قافل من رحلة الحج الأخيرة، ليقف على منبرها الفكري، ويلقي وصيته الأخيرة في رحاب مسجد المرابط، وفي هذا ما فيه من دلالة جغرافية وفكرية معاً. أما الجغرافية فلأنه كان يشعر بأهمية دمشق وسورية على وجه العموم بصفتها موقعاً جغرافياً ملائماً، مارس دوره التاريخي في نشر الأفكار، التي أثرت في مسيرة الأمة العربية منذ بداية هذا القرن. وأما الدلالة الفكرية الخاصة، فلأن الحديث عن رسالة المسلم في الثلث الأخير من القرن، قد استلهم روحه في بيت من
সত্তরের দশকের শুরুতে তিনি অনুভব করেছিলেন যে, তাঁর পথচলা যেন

দাওয়াতের পথে আল্লাহ নির্ধারিত মেয়াদের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তিনি ১৯৭১ সালে বৈরুত হয়ে লেবাননের ত্রিপোলিতে আসেন। মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই জুন (১৬ই রবিউস সানি ১৩৯১ হিজরি) ত্রিপোলির শরীয়াহ আদালতে নিবন্ধিত একটি অসিয়তনামা আমার নিকট গচ্ছিত রাখেন। এতে তিনি তাঁর চিন্তাধারা সংরক্ষণ এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ প্রকাশের অনুমতি প্রদানের দায়িত্বভার আমার ওপর অর্পণ করেন।

অতঃপর পরের বছর ১৯৭২ সালে তিনি তাঁর শেষ হজ সফর থেকে ফেরার পথে দামেস্কে আসেন

যাতে তিনি এর বুদ্ধিবৃত্তিক মিম্বরে দাঁড়িয়ে 'আল-মুরাবিত' মসজিদের প্রাঙ্গণে তাঁর শেষ অসিয়ত প্রদান করতে পারেন। এর মধ্যে ভৌগোলিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উভয় প্রকার তাৎপর্যই নিহিত রয়েছে। ভৌগোলিক দিকটি এই কারণে যে, তিনি দামেস্ক এবং সামগ্রিকভাবে সিরিয়ার গুরুত্ব অনুভব করেছিলেন; কারণ এটি একটি উপযুক্ত ভৌগোলিক অবস্থান হিসেবে এই শতাব্দীর শুরু থেকে আরব উম্মাহর পথচলাকে প্রভাবিত করা চিন্তাধারা প্রসারে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। আর বিশেষ বুদ্ধিবৃত্তিক তাৎপর্যটি হলো, শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশে একজন মুসলিমের মিশন সম্পর্কে যে আলোচনা (হাদিস), তা এর মূল প্রেরণা গ্রহণ করেছে এমন এক গৃহে যা
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ৮)
بيوت الله اتخذ اسم المرابط، ذلك التعبير الإسلامي الذي يحمل قيمة الإنسان، في أرفع حالات التأهب النفسي للدفاع عن الرسالة والقيم.

فالأستاذ مالك يربط بين الفكر والفعالية، فالفكر

بغير فعالية إنما هو ترف لا يزن شيئاً في موازين التاريخ، والفعالية بغير فكر طريقٌ أعمى لا يدفع المجتمع في سبيل التقدم.

هذه وصية تركها مالك بن نبي في ضمير أجيال، تتلمس الخروج من أزمتها الراهنة، وما نقول فيها ونحن نبلغها إلا كما قال الرسول صلى الله عليه وسلم: «رُبَّ مُبَلَّغٍ أَوْعَى مِنْ سَامِعٍ» (1).

 

في دمشق

8 شوال 1398 هـ

10 أيلول (سبتمبر) 1978م

عمر مسقاوي

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري والترمذي والدارمي وابن ماجه وأحمد، مع اختلاف في الروايات.
আল্লাহর ঘরসমূহের মাঝে তিনি 'মুরাবিত' নামটি গ্রহণ করেছিলেন; এটি এমন এক ইসলামি পরিভাষা যা মানুষের মূল্য ও মর্যাদাকে ধারণ করে এবং দ্বীনি দাওয়াত ও মূল্যবোধের প্রতিরক্ষায় মানসিক প্রস্তুতির সর্বোচ্চ স্তরের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

উস্তাদ মালিক চিন্তা ও কার্যকারিতার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেছেন। কেননা, চিন্তা

কার্যকারিতাহীন হলে তা কেবল একটি বিলাসিতা মাত্র, যা ইতিহাসের নিক্তিতে কোনো ওজন রাখে না। আর চিন্তাহীন কার্যকারিতা একটি অন্ধ পথ, যা সমাজকে অগ্রগতির পথে ধাবিত করতে পারে না।

এটি মালিক বিন নবীর রেখে যাওয়া এমন এক অসিয়ত যা বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ অন্বেষণকারী প্রজন্মের বিবেকের প্রতি নিবেদিত। আমরা এটি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল তা-ই বলছি যা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "সম্ভবত যাকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে (مبلغ), সে শ্রবণকারীর (سامع) চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী (أوعى)।" (১)।

 

দামেস্কে

৮ শাওয়াল ১৩৯৮ হিজরি

১০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ

উমর মিসকাউয়ি

--------------------------------------------

(১) বুখারি, তিরমিজি, দারিমি, ইবনে মাজাহ ও আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন, যদিও বর্ণনাগুলোর (روايات) মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌دَوْرُ الْمُسْلِمِ فِي الثُّلُثِ الْأَخِيرِ مِنَ الْقَرْنِ الْعِشْرِيْن

محاضرة الأستاذ مالك بن نبي

في رابطة الحقوقيين في دمشق

23/ 2/ 1392هـ = 28/ 3/ 1972م
বিংশ শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশে মুসলিমের ভূমিকা

উস্তাদ মালেক বিন নবীর ভাষণ

দামেস্কের আইনজীবী সমিতিতে

২৩/ ০২/ ১৩৯২ হিজরি = ২৮/ ০৩/ ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم

وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلَى خَيْرِ الْمُرْسَلِينَ.

 

أيها السادة الكرام، الأبناء والطلبة الأعزاء!

إنني لا أستطيع أن أقدر هذه اللحظة حق قدرها في سجل حياتي مع أن اللحظات واللقاءات تتكرر. إنني أشعر بمزيد من السرور والفرح إذ أتحدث مع هذه الطائفة من الشباب المسلم في هذه الأصقاع من البلاد الشقيقة، سورية العزيزة، وفي معقل من معاقل الإسلام، المعقل العريق دمشق. ويجب علي أن أتوجه بالشكر لإخواننا الحقوقيين الذين أفسحوا لنا المجال وقدموا لنا هذا المكان، لنعرض ما استطعنا دور المسلم في الثلث الأخير من القرن العشرين في رأينا.

لو حاولنا تحديد دور المسلم عامة ما كان لنا أن نختار سوى ما اختاره الله له دوراً في التاريخ. يقول عزَّ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলের প্রতি দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

 

হে সম্মানিত সুধীবৃন্দ, প্রিয় সন্তান ও ছাত্রবৃন্দ!

আমার জীবন-পঞ্জিকায় এই মুহূর্তটির সঠিক মূল্যায়ন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, যদিও বিবিধ মুহূর্ত ও সাক্ষাতের পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকে। আমি অত্যন্ত আনন্দ ও প্রফুল্লতা অনুভব করছি যে, আমি ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র প্রিয় সিরিয়ার এই অঞ্চলে এবং ইসলামের অন্যতম এক দুর্ভেদ্য দুর্গ—ঐতিহ্যবাহী দুর্গ দামেস্কে একদল মুসলিম যুবকের সামনে কথা বলছি। আমি সেই সকল আইনবিদ ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আবশ্যক মনে করছি, যারা আমাদের এই সুযোগ করে দিয়েছেন এবং এই স্থানটি প্রদান করেছেন, যাতে আমরা বিংশ শতাব্দীর শেষ তৃতীয়াংশে মুসলিমের ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যা সম্ভব তা উপস্থাপন করতে পারি।

আমরা যদি সাধারণভাবে একজন মুসলিমের ভূমিকা নির্ধারণের প্রয়াস চালাই, তবে ইতিহাসে আল্লাহ তার জন্য যে ভূমিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, তা ব্যতীত অন্য কিছু নির্বাচন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। মহান আল্লাহ বলেন...
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১১)
وجلَّ: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143/ 2]. هكذا يحدد الله دور المسلم بصورة عامة، وليس لنا أن نختار له دوراً أشرف وأفضل منه، وإنما نلفت النظر إلى خطورة هذا الدور وإلى مقتضياته، التي هي من اختصاص الفقهاء ومن اختصاص الحقوقيين، لأنهم يعرفون شروط تزكية الشهادة، والشاهد من الناحية العقلية ومن الناحية الأخلاقية معاً.

لكن لماذا أفردنا وتعمدنا إفراد فترة معينة من هذا القرن؟

أولاً: لطبيعة القرن العشرين التي يتميز بها عن القرون الأخرى كلها، لأنه القرن الذي تحققت فيه تغيرات جذرية، بدت وكأنها ترسم للإنسانية نقطة اللارجوع على محور الزمن، فهو القرن الذي هبت فيه أكبر عواصف التاريخ على مصير الإنسانية.

ثانياً: لأنه القرن الذي سجل الأحداث الكبرى،
মহান আল্লাহ বলেন: {আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী (وسطاً) উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছি, যাতে তোমরা মানবজাতির ওপর সাক্ষী হও এবং রাসুল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন} [আল-বাক্বারাহ: ১৪৩]। এভাবেই আল্লাহ সাধারণভাবে একজন মুসলমানের ভূমিকা নির্ধারণ করেছেন এবং আমাদের পক্ষে তার জন্য এর চেয়ে অধিক সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ কোনো ভূমিকা বেছে নেওয়া সম্ভব নয়। বরং আমরা এই ভূমিকার গুরুত্ব ও এর দাবিসমূহ বা আবশ্যকতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যা ফকীহ (الفقهاء) এবং আইন বিশেষজ্ঞদের বিশেষ ক্ষেত্র; কারণ তারা সাক্ষ্য (الشهادة) গ্রহণযোগ্য করার বা বিশুদ্ধকরণের (تزكية) শর্তাবলি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক—উভয় দিক থেকে সাক্ষীর (الشاهد) যোগ্যতার মানদণ্ড সম্পর্কে জানেন।

কিন্তু কেন আমরা এই শতাব্দীর একটি বিশেষ সময়কালকে আলাদা করার সংকল্প করেছি?

প্রথমত: বিংশ শতাব্দীর প্রকৃতির কারণে, যা একে অন্য সকল শতাব্দী থেকে স্বতন্ত্র করেছে। কেননা এটি এমন এক শতাব্দী যাতে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, যা দেখে মনে হয় যেন তা সময়ের আবর্তে মানবতার জন্য এক প্রত্যাবর্তনহীন বিন্দু নির্দেশ করছে। এটি সেই শতাব্দী, যাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঝড়গুলো মানবজাতির ভাগ্যের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে।

দ্বিতীয়ত: কারণ এটি এমন এক শতাব্দী যা বড় বড় ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেছে,
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১২)
سواء في مجال العلم، أو -كما سنرى- في المجال النفسي، أو في المجال الأخلاقي والديني. ففي كل هذه المجالات هبت عواصف كبرى يبدو أنها غيرت معالم الطريق. وعلى أية حال فهي قد غيرت ملامح الزمن والمجتمعات الإنسانية. هذه التغيرات تحققت من خلال أحداث كبرى، خاصة منها الحربين العالميتين اللتين هزتا العالم مرتين في ظرف أربعين سنة، وشملتا للمرة الأولى في التاريخ سائر أنحائه. ولوقع هذه الأحداث نتائج لا مناص منها، بعضها دخل سجل التاريخ وتسجل في حافظة الإنسانية وفي كتبها، وبعضها دخل عالم النفوس، سواء استطعنا قراءته أم لم نستطع،. وبعضها لازال توقعات في ضمير الغيب نرى من خلالها أحداثاً كبرى مطلة على زماننا.

فهذه الأسباب تجعلنا نرى في هذا الثلث الأخير من

القرن العشرين، كأنه النهر قرب شاطئ البحر وقد بلغ المصب، بعد أن تجمعت فيه جميع روافده من المياه، التي انحدرت من أعالي الجبال في أقصى داخل البلاد. فالثلث الأخير يبدو هكذا تلك الفترة من التاريخ التي
বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে হোক, অথবা—যেমন আমরা দেখব—মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে, কিংবা নৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে। এই সকল ক্ষেত্রেই এমন সব প্রলয়ঙ্করী ঝঞ্ঝাবাত বয়ে গেছে যা স্পষ্টতই পথের দিকচিহ্নগুলো বদলে দিয়েছে। যা-ই হোক, এটি কাল এবং মানব সমাজের অবয়ব পরিবর্তন করে দিয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো বিশাল সব ঘটনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, বিশেষত সেই দুটি বিশ্বযুদ্ধ যা চল্লিশ বছরের ব্যবধানে বিশ্বকে দুইবার প্রকম্পিত করেছিল এবং ইতিহাসের প্রথমবারের মতো যা বিশ্বের সমস্ত প্রান্তে পরিব্যাপ্ত হয়েছিল। এই ঘটনাগুলোর প্রভাবের এমন কিছু অনিবার্য ফলাফল রয়েছে, যার কিছু ইতিহাসের নথিপত্রে স্থান পেয়েছে এবং মানবতার স্মৃতিতে ও গ্রন্থাবলীতে লিপিবদ্ধ হয়েছে; আর কিছু মানুষের অন্তর্জগতে প্রবেশ করেছে—আমরা তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হই বা না হই। আবার এর কিছু অংশ এখনো অদৃশ্যের অন্তরালে কেবল সম্ভাবনা হিসেবে বিদ্যমান, যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সময়ের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী বড় বড় ঘটনাগুলোকে অবলোকন করি।

এই কারণগুলোই আমাদের বিংশ শতাব্দীর এই শেষ এক-তৃতীয়াংশকে এমনভাবে দেখতে বাধ্য করে, যেন এটি সমুদ্রতীরবর্তী কোনো এক নদী যা মোহনায় পৌঁছেছে; দেশের সুদূর অভ্যন্তরের সুউচ্চ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা তার সমস্ত উপনদীগুলোর প্রবাহ একীভূত হওয়ার পর। সুতরাং, শেষ এক-তৃতীয়াংশ ইতিহাসের সেই সময়কাল হিসেবে প্রতীয়মান হয় যা
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
تتجمع فيها كل روافد التاريخ، بكل نتائجها النفسية والاجتماعية والسياسية والعلمية، وكل التغيرات المترتبة على هذه النتائج. وعليه فإن هذه المسوغات تكفي لتسويغ اختيارنا له بصفته حقبة زمنية استثنائية في التاريخ، يكون دور المسلم فيها شيئاً استثنائياً أيضاً، يجب إدراجه بطريقة خاصة في الدور العام الذي حدده له القرآن الكريم بوصفه شاهداً، وذلك أمر يجب أن يدخل في اعتبارنا ويجب أن نقدره بقدر ما يمكننا من الواقعية، حتى نقدم لشبابنا الصورة الموضوعية، التي يرى من خلالها دوره هو ودور إخوانه الآخرين فيه، لأن رسالة الجيل الناشئ ستحقق على أية حال إما سلبية أو إيجابية فيه، فهو ثلث تحقق رسالته.

ولكي نتبين طبيعة هذا الدور، الذي يجب على الشباب المسلم أن يتصدى- منذ الآن- للاضطلاع به في هذه الحقبة المواجهة له، المنفتحة أمامه، يجب أن نراجع بعض السمات التي يتميز بها هذا الثلث الأخير في العالم المتحضر، لأن مركز الفكر العالمي اليوم يوجد على محور
ইতিহাসের সকল উৎসধারা এখানে পুঞ্জীভূত হয়েছে, যেখানে এর যাবতীয় মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক ফলাফল এবং এসব ফলাফলের অনিবার্য সকল পরিবর্তন বিদ্যমান। এর পরিপ্রেক্ষিতে, এই সময়কালকে ইতিহাসের একটি ব্যতিক্রমী যুগ হিসেবে নির্বাচন করার স্বপক্ষে বর্ণিত যুক্তিগুলো যথেষ্ট, যেখানে একজন মুসলিমের ভূমিকাও হবে অনন্য। আল-কুরআনুল কারীম মুসলিমদের জন্য সাক্ষী (شاهد) হিসেবে যে সাধারণ ভূমিকা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তাকে একটি বিশেষ পদ্ধতিতে এই সামষ্টিক ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা এবং যথাসম্ভব বাস্তবসম্মতভাবে এর মূল্যায়ন করা উচিত, যাতে আমরা আমাদের তরুণ প্রজন্মের সামনে একটি বস্তুনিষ্ঠ চিত্র উপস্থাপন করতে পারি; যার মাধ্যমে তারা এই যুগে নিজের এবং অন্যান্য ভাইদের ভূমিকা অনুধাবন করতে পারে। কারণ উদীয়মান প্রজন্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক—যেভাবেই হোক না কেন—তা এই যুগে বাস্তবায়িত হবেই; আর এটিই তাদের লক্ষ্যপূরণের এক-তৃতীয়াংশ।

আর মুসলিম তরুণ সমাজকে তাদের সম্মুখবর্তী এই উন্মুক্ত যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকে যে ভূমিকা পালনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে, তার স্বরূপ স্পষ্ট করার জন্য সভ্য বিশ্বের এই শেষ এক-তৃতীয়াংশের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা করা আমাদের জন্য আবশ্যক। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক চিন্তাধারার কেন্দ্রবিন্দু এখন একটি অক্ষের ওপর অবস্থান করছে।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
سبق أن سميناه، في كتاب سبق نشره (1)، محور (واشنطن- موسكو)، محور القوة، محور العلم، محور الحضارة.

يجب إذن أن نلتفت إلى هذا المحور، مركز الثقل الذي تطبع عليه الأحداث كل أبعادها العالمية، ونتساءل ما الذي طرأ على هذا المحور؟ ماذا حدث فيه خلال القرن العشرين؟ ما هي التسجيلات الخاصة - وهذا ما يهمنا- في العالم الثقافي وفي العالم النفسي عليه؟

إن الأجيال في هذا المجتمع المتحضر عاشت على رصيد

ثقافي ورثته من الأجيال السابقة، أعني أنها عاشت على رصيد المسوّغات التي دفعت عجلة التاريخ في القرون الماضية، وخصوصاً في القرن التاسع عشر والقرن العشرين. والذي يبدو- خاصة إذا رجعنا إلى فترة ما بعد الحربين العالميتين- أن هذا الرصيد من المسوّغات الضرورية لتحمّل أعباء الحياة، بدأ ينفد، وبدأت

--------------------------------------------

(1) الفكرة الإفريقية الآسيوية.
ইতিপূর্বে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে (১) আমরা একে (ওয়াশিংটন-মস্কো) অক্ষ হিসেবে অভিহিত করেছি; যা শক্তির অক্ষ, জ্ঞানের অক্ষ এবং সভ্যতার অক্ষ।

অতএব, আমাদের এই অক্ষের প্রতি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যা এমন এক গুরুত্বের কেন্দ্রস্থল যেখানে ঘটনাবলি তাদের সমস্ত বৈশ্বিক মাত্রায় ছাপ ফেলে। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে, এই অক্ষে কী পরিবর্তন এসেছে? বিংশ শতাব্দীতে সেখানে কী ঘটেছিল? সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক জগতে এর ওপর বিশেষ কী কী প্রভাব বা রেকর্ড রয়েছে—যা আমাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ?

নিশ্চয়ই এই সভ্য সমাজের প্রজন্মগুলো একটি সাংস্কৃতিক

পুঁজির ওপর ভিত্তি করে জীবন অতিবাহিত করেছে যা তারা পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। অর্থাৎ তারা এমন এক যৌক্তিক প্রেরণার ওপর নির্ভর করে টিকে ছিল, যা বিগত শতাব্দীগুলোতে, বিশেষ করে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে ইতিহাসের চাকাকে সচল রেখেছিল। যা দৃশ্যমান হচ্ছে—বিশেষত যদি আমরা দুই বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের দিকে ফিরে তাকাই—তা হলো জীবনের ঘানি টানার জন্য প্রয়োজনীয় সেই যৌক্তিক প্রেরণার পুঁজি শেষ হয়ে আসতে শুরু করেছে, এবং শুরু হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আফ্রো-এশীয় ধারণা।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
الشعوب التي تعيش على محور (واشنطن- موسكو)، الشعوب المتحضرة، بدأت تشعر جميعها بنفاد رصيدها الثقافي، رصيد مسوّغات حياتها التقليدية الموروثة عن أجدادها، وبدأت فعلاً تجري عمليات تعويض في شتى الميادين، حتى في ميدان الأدب حيث نرى لوناً جديداً يظهر تحت اسم (الوجودية).

وإذا كان من حق أصحاب هذا اللون من الأدب أن يحللوا القضية من الناحية الأدبية، كما يفعل (كير كجارد وهايدجر وسارتر)، في كل من الدانمرك أو ألمانيا أو فرنسا، فإن من حقنا نحن أن نحلله من ناحية أخرى. فنرى فيه رد فعل أدبي على شعور غامض لفقدان المسوغات في المجال النفسي.

والسؤال الآن كيف فقدت هذه المسوغات، التي تحركت ودارت عليها عجلة التاريخ طيلة القرون الماضية في أوربة؟

لنتصور كيف كان ينشأ الطفل في زمان (كيبلنج) مثلاً أو في زمان (أرنست رنان) مثلاً.
(ওয়াশিংটন-মস্কো) অক্ষের ওপর বসবাসকারী জাতিসমূহ, অর্থাৎ সভ্য জাতিগোষ্ঠী, তারা সকলেই অনুভব করতে শুরু করেছে যে তাদের সাংস্কৃতিক সঞ্চয় ফুরিয়ে আসছে; তাদের সেই প্রথাগত জীবন-দর্শনের যৌক্তিক ভিত্তিও নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে যা তারা পূর্বপুরুষদের থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল। তারা এখন জীবনের নানাবিধ ক্ষেত্রে এর বিকল্প বা ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, এমনকি সাহিত্যের জগতেও আমরা ‘অস্তিত্ববাদ’ নামে একটি নতুন ধারার উন্মেষ ঘটতে দেখছি।

যদি এই সাহিত্যধারার অনুসারীদের সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করার অধিকার থাকে—যেমনটি ডেনমার্ক, জার্মানি বা ফ্রান্সে কিয়ের্কেগার্ড, হাইডেগার এবং সার্ত্রে করছেন—তবে আমাদেরও অধিকার আছে বিষয়টিকে ভিন্ন এক দিক থেকে বিশ্লেষণ করার। আমরা একে মনস্তাত্ত্বিক পরিমণ্ডলে জীবনের যৌক্তিক ভিত্তি হারানোর এক অস্পষ্ট অনুভূতির সাহিত্যিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখি।

এখন প্রশ্ন হলো, ইউরোপের বিগত শতাব্দীগুলোতে ইতিহাসের চাকা যে জীবন-দর্শনের ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়েছিল, সেই যৌক্তিক ভিত্তিগুলো কীভাবে বিলুপ্ত হলো?

কল্পনা করা যাক, উদাহরণস্বরূপ (কিপলিং) অথবা (আর্নেস্ট রেনাঁ)-এর যুগে একটি শিশু কীভাবে বেড়ে উঠত।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
كيف كان ينشأ في بيته؟ ثم كيف يتعلم في مدرسته؟ ثم كيف كان يتوجه في عمله بعد التخرج من الجامعة، أو عندما يبلغ أشده ويتوجه إلى الحياة العملية جندياً في تلك الجيوش التي تفتح البلدان التي تسمى المستعمرات.

كان الطفل في ذلك الوقت ينشأ وحوله جو من الأفكار منبتها الاستعمار، أي المناخ الاستعماري الذي تكوَّن في أوربة وفي أمريكة على حدٍّ سواء، وفي الاتحاد السوفييتي قبل الثورة أيضاً. هذا المناخ الاستعماري هو الذي كان ينشأ فيه الطفل منذ ولادته، نشأة لا يبدو معها غريبا في هذا المناخ الذي كان يسود العالم المتحضر " أن يقوم من فرنسا كاتب قصصيى كبير في أواخر القرن الماضيى هو (جلفرن)، ليكتب عن ملحمة لا تمت بصلة إلى بطولة الفرنسيين أو بطولة الجيش الفرذسي، هي ملحمة عنوانها (ميشال ستروجوف)، بل تتصل بفتح روسيا للبلاد الإسلامية في بخارى.

وكانت قصة غريبة فعلاً، إن دلت على شيء فإنما تدل على سيادة المناخ الاستعماري شرق البلاد وغربها، ذلك
তিনি তাঁর নিজ গৃহে কীভাবে বেড়ে উঠতেন? এরপর তাঁর বিদ্যালয়ে কীভাবে শিক্ষালাভ করতেন? অত:পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি কীভাবে কর্মজীবনের পথে পা বাড়াতেন, অথবা যখন তিনি পূর্ণ যৌবনে পদার্পণ করে সেই সকল সেনাবাহিনীর সৈনিক হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশ করতেন যারা ‘উপনিবেশ’ হিসেবে পরিচিত দেশগুলো জয় করত?

সেই সময়ে একটি শিশু এমন এক চিন্তাগত পরিবেশে লালিত-পালিত হতো যার মূল উৎস ছিল উপনিবেশবাদ; অর্থাৎ সেই ঔপনিবেশিক আবহাওয়া যা ইউরোপ এবং আমেরিকা উভয় স্থানেই সমভাবে গড়ে উঠেছিল, এমনকি বিপ্লবের পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নেও। এই ঔপনিবেশিক আবহাওয়ার মাঝেই একটি শিশু তার জন্মলগ্ন থেকে বেড়ে উঠত। এই বেড়ে ওঠা এমন ছিল যে, তৎকালীন সভ্য বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারকারী এই পরিবেশে এটি মোটেও অস্বাভাবিক মনে হতো না যে, বিগত শতাব্দীর শেষভাগে ফ্রান্সের একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ‘জুল ভার্ন’ এমন এক মহাকাব্য রচনা করবেন যার সাথে ফরাসিদের শৌর্য-বীর্য বা ফরাসি সেনাবাহিনীর বীরত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। সেই মহাকাব্যের শিরোনাম ছিল ‘মাইকেল স্ট্রোগফ’, যা মূলত বোখারার মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে রাশিয়ার বিজয় অভিযানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল।

এটি প্রকৃতপক্ষে একটি বিস্ময়কর কাহিনী ছিল। এটি যদি কোনো বিষয়ের প্রমাণ দেয়, তবে তা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের দেশগুলোতে সেই ঔপনিবেশিক আবহাওয়ার আধিপত্যেরই প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
المناخ الذي سيتم فيه إبرام الميثاق الاستعماري في مؤتمر برلين 1881م، حيث كان الضمير الأوربي، الضمير المتحضر يعيش هذه الملحمة المتفقة مع روح ذلك الميثاق، فلا نستغرب معه استعمال تسميات الاكتشافات الاستعمارية والفتوحاف الاستعمارية. لكن الشيء الذي يهمنا نحن من جانب التحليل اليوم- كي نعود إلى موضوعنا- هو كيف فقدت المسوغات؟

كان الطفل يشبع جانب تعطشه للأشياء الغريبة والقصص النادرة وقصص البطولات، في جو الاستعمار وفي ملحمة الفكرة الاستعمارية نفسها، لذلك لا نستغرب أن نرى رجلاً كـ (ستانلي) في أواخر القرن الماضي، نشأ في هذا الجو وتكونت عنده فكرة الاكتشافات وفكرة الفتوحات، نراه يغادر وطنه وينزل إلى إفريقية الوسطى فيحتل قطاعا ًكبيراً منها. لقد كان يرى ما يراه على الخريطة قطعة بيضاء فراودته الفكرة أن يلونها بلون ما، وكان اللون الأحمر على الخرائط المستعملة في أواخر القرن الماضي مخصصاً لتلوين
১৮৮১ সালের বার্লিন সম্মেলনে যে পরিবেশে ঔপনিবেশিক চুক্তিটি সম্পাদিত হতে যাচ্ছিল, সেখানে ইউরোপীয় বিবেক—তথা সেই সভ্য বিবেক—এই মহাকাব্যিক আবহের মধ্যেই নিমজ্জিত ছিল যা উক্ত চুক্তির চেতনার সাথে সংগতিপূর্ণ ছিল। তাই আমরা এক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক আবিষ্কার এবং ঔপনিবেশিক বিজয়ের মতো পরিভাষাগুলোর ব্যবহারে বিস্মিত হই না। কিন্তু আজ বিশ্লেষণের দিক থেকে আমাদের কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ—যাতে আমরা আমাদের মূল বিষয়ে ফিরে যেতে পারি—তাহলো কীভাবে এই যৌক্তিক ভিত্তিগুলো হারিয়ে গেল?

ঔপনিবেশিক পরিবেশ এবং খোদ ঔপনিবেশিক চিন্তাধারার মহাকাব্যিক আবহের মধ্যে একটি শিশু অদ্ভুত সব বিষয়, বিরল কাহিনী এবং বীরত্বগাঁথার প্রতি তার তৃষ্ণা নিবারণ করত। তাই গত শতাব্দীর শেষভাগে আমরা যখন স্ট্যানলির মতো একজন মানুষকে দেখি—যিনি এই পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন এবং যাঁর মধ্যে আবিষ্কার ও বিজয়ের ধারণা তৈরি হয়েছিল—তখন আমরা অবাক হই না। আমরা তাঁকে দেখি যে তিনি নিজ দেশ ত্যাগ করে মধ্য আফ্রিকায় অবতরণ করছেন এবং সেখানকার একটি বিশাল এলাকা দখল করে নিচ্ছেন। তিনি মানচিত্রে যা দেখতেন তা ছিল স্রেফ একটি সাদা অংশ, ফলে তাঁর মনে এই চিন্তার উদয় হলো যে সেটিকে কোনো একটি রঙে রাঙাতে হবে। গত শতাব্দীর শেষভাগে ব্যবহৃত মানচিত্রগুলোতে লাল রঙটি রাঙানোর জন্য নির্দিষ্ট ছিল...
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
المستعمرات الفرنسية، واللون الأخضر لتلوين المستعمرات الإنجليزية، واللون البني لتلوين المستعمرات البرتغالية، واللون الأصفر لتلوين المستعمرات الهولندية إلخ … فأراد (ستانلي) أن يلون قطعة ما من إفريقية بلون يخول هذه القطعة أن تكون هدية لأوربة بصفتها مستعمرة، وقد أهداها فعلاً لما تمَّ وضع اليد عليها- على الكونغو-، إلى تاج بلجيكا وكأنها ملك أجداده أو قطعة من تَرِكَتهم يقدمها إلى ملك أو ملكة بروكسل.

أما إذا كان هذا الأوربي جندياً فإن نشأته في هذا الجو، تصور له أن المجال لأداء واجباته الوطنية وواجباته العسكرية، هو قطاع من قطاعات إفريقية وآسية.

هكذا كانت الأمور تسير، وهكذاكانت تتفتح نفوس الأطفال في أوربة. يضاف إلى ذلك تدخل بعض الأشياء ذات الجانب الخفي، الجانب الذي يتصل بما نسميه الصراع الفكري؛ الأشياء التي تصور لهذا الطفل
ফরাসি উপনিবেশসমূহ, ইংরেজি উপনিবেশগুলো চিহ্নিত করার জন্য সবুজ রঙ, পর্তুগিজ উপনিবেশগুলোর জন্য বাদামী রঙ এবং ওলন্দাজ উপনিবেশগুলোর জন্য হলুদ রঙ ইত্যাদি … ফলে (স্ট্যানলি) আফ্রিকার একটি নির্দিষ্ট অংশকে এমন এক রঙের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলেন যা সেই ভূখণ্ডকে একটি উপনিবেশ হিসেবে ইউরোপের নিকট উপহার হওয়ার যোগ্যতা দান করে। কঙ্গোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি প্রকৃতপক্ষে তা বেলজিয়ামের রাজমুকুটকে উপহার দিয়েছিলেন; যেন এটি তাঁর পূর্বপুরুষদের কোনো সম্পত্তি কিংবা তাঁদের উত্তরাধিকারের অংশ যা তিনি ব্রাসেলসের রাজা বা রানীর নিকট পেশ করছেন।

পক্ষান্তরে, এই ইউরোপীয় ব্যক্তিটি যদি একজন সৈনিক হন, তবে এই পরিবেশে তাঁর বেড়ে ওঠা তাঁর সামনে এই ধারণা চিত্রায়িত করে যে, তাঁর জাতীয় ও সামরিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র হলো আফ্রিকা ও এশিয়ার কোনো একটি অঞ্চল।

এভাবেই বিষয়গুলো পরিচালিত হচ্ছিল এবং এভাবেই ইউরোপের শিশুদের মন-মানসিকতা বিকশিত হচ্ছিল। এর সাথে যুক্ত হয়েছিল প্রচ্ছন্ন প্রভাবসম্পন্ন এমন কিছু বিষয়, যা আমাদের কথিত ‘বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই’-এর সাথে সম্পৃক্ত; এমন সব বিষয় যা এই শিশুর সামনে চিত্রায়িত করে...
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
الناشئ حتى قبل دخوله إلى المدرسة الابتدائية أو قبل خروجه منها- في مجلات متخصصة للأطفال- تصور له آيات البطولة في إفريقية على حساب أولئك البرابرة من السود أو من الصفر، مما يجعله يعتقد عندما ينزل بلاداً مثل (شنكهاي) في أواخر القرن الماضي، أنه هو رب الصين. فيضع لافتة على باب الحديقة- رأيناها نحن عندما زرنا الصين، لأن الحكومة الصينية تركتها كما هي بعد خروج الاستعمار منها- كتب عليها ((لا يدخل هذه الحديقة الكلاب ولا الصينيون))، بعض الكلاب طبعاً. لقد كان ترتيب الكلمتين الكلاب أولاً والصينيون ثانياً.

هذا هو المناخ الذي كانت تتكون فيه نفوس الأطفال ونفوس الشبان ونفوس الرجال، وهذا هو المناخ الذي كانت تنطلق فيه الطاقات- طاقات لا نحتقرها فعلاً- كتلك الطاقة الجبارة التي نتصورها في شخص مثل الأب (دوفوكو)، الذي تطوع أن يذهب في سنة 1908م على الأقدام، من مدينة في جنوب
শৈশবকাল থেকেই, এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের আগে বা তা শেষ করার পূর্বেই—শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সাময়িকীগুলোতে—আফ্রিকায় বীরত্বের এমন সব রূপকল্প তাদের সামনে চিত্রায়িত করা হয় যা ওইসব কৃষ্ণাঙ্গ বা পীতবর্ণের ‘বর্বরদের’ তুচ্ছজ্ঞান করার বিনিময়ে অর্জিত। এটি তাকে এমন এক বিশ্বাসে উপনীত করে যে, যখন সে গত শতাব্দীর শেষভাগে সাংহাইয়ের মতো কোনো দেশে পদার্পণ করে, তখন সে নিজেকে চীনের অধিপতি মনে করতে শুরু করে। সে উদ্যানের প্রবেশদ্বারে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়—যা আমরা চীন সফরের সময় দেখেছি, কারণ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর চীনা সরকার এটিকে অপরিবর্তিত রেখে দিয়েছে—তাতে লেখা ছিল: "এই উদ্যানে কুকুর এবং চীনারা প্রবেশ করতে পারবে না", অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট কুকুরের কথা সেখানে বলা হয়েছিল। শব্দ দুটির বিন্যাস ছিল প্রথমে কুকুর এবং দ্বিতীয়ত চীনারা।

এটিই ছিল সেই মনস্তাত্ত্বিক পরিবেশ যেখানে শিশু, যুবক এবং পূর্ণবয়স্কদের মানসপট গঠিত হতো। এটিই ছিল সেই পরিবেশ যেখানে কর্মশক্তিগুলো উৎসারিত হতো—এমন শক্তি যাকে আমরা প্রকৃতপক্ষে অবজ্ঞা করি না—যেমন ফাদার (ডি ফুকো)-র মতো ব্যক্তির মাঝে আমরা যে প্রবল প্রাণশক্তির কল্পনা করি, যিনি ১৯০৮ সালে দক্ষিণ প্রান্তের একটি শহর থেকে পায়ে হেঁটে যাওয়ার সংকল্প করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২০)
الجزائر، لفتح القطاع الصحراوي حتى حدود ما يسمى بالسودان الغربي. فهذه الأشياء كانت تغمر الحياة الأوربية بفيض من المسوغات. وربما كانت هناك منابع أخرى لهذه المسوغات فقدت أو جَفّ نبعها بعد الحرب العالمية الأولي والثانية، بسبب تطورات تتصل بما حدث مثلاً بشأن الروابط الخفية أو الظاهرة بين مجالي العلم والنفس.

فبقدر ما كانت تتحقق اكتشافات علمية كبرى في أوربة، بقدر ما كانت تترك صداها على المجال النفسي، وأثرها الكبير في التطور الروحي، حتى بدأت تفتر بعض المسوغات الروحية لأسباب لا نطيل عندها الوقوف، حتى لا نتعدى بعض الحدود من اللياقة.

هكذا فقدت المسوغات الروحية، وفقدت حتى المسوغات التي نسميها المسوغات الاجتماعية، المسوغات الموضوعية .. وإذا أردنا أن نعرف المسوغات الموضوعية نذكر على سبيل المثال، ما كان لهم من ثقة بكلمتي العلم والحضارة، فقد كانت هذه الثقة هي منطلق الأفكار
আলজেরিয়া; তথাকথিত পশ্চিম সুদানের সীমানা পর্যন্ত সাহারা অঞ্চলকে উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে। এই বিষয়গুলো ইউরোপীয় জীবনকে যৌক্তিকতার এক বিশাল প্রাচুর্যে প্লাবিত করেছিল। সম্ভবত এই যৌক্তিকতার আরও কিছু উৎস বিদ্যমান ছিল যা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিলুপ্ত হয়েছে অথবা যার উৎসধারা শুকিয়ে গেছে। এর কারণ ছিল বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রদ্বয়ের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংঘটিত বিবিধ বিবর্তন।

ইউরোপে বিজ্ঞানজগতে যত বড় বড় আবিষ্কার সাধিত হয়েছে, মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও তার ততটাই সুদূরপ্রসারী প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হয়েছিল এবং আধ্যাত্মিক বিকাশের ক্ষেত্রেও তার ব্যাপক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছিল। পরিশেষে কতিপয় আধ্যাত্মিক যৌক্তিকতা ম্লান হতে শুরু করে; যার কারণসমূহের ওপর আমরা দীর্ঘ আলোকপাত করব না, যাতে শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘিত না হয়।

এভাবেই আধ্যাত্মিক যৌক্তিকতাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেল, এমনকি যেগুলোকে আমরা সামাজিক ও বস্তুনিষ্ঠ যৌক্তিকতা বলে অভিহিত করি তাও গুরুত্ব হারাল। আমরা যদি বস্তুনিষ্ঠ যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাই, তবে উদাহরণস্বরূপ বিজ্ঞান ও সভ্যতা—এই শব্দদ্বয়ের প্রতি তাদের যে গভীর আস্থা (ثقة) ছিল তার কথা উল্লেখ করতে পারি। মূলত এই আস্থাই (ثقة) ছিল সকল চিন্তাধারার মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২১)
الأوربية في القرن التاسع عشر، وفي بداية القرن العشرين، خصوصاً قبل الحرب العالمية الأولى.

والصلة بين هذين الجانبين واضحة. فحينما تفقد

حياة ما أو مجتمع ما مسوغاته، لابدَّ أن يقوم بعمليات تعويض: يستبدل بمسوغات قديمة أو تقادمت، أو فقدت تأثيرها في الحياة الاجتماعية، بصفتها دوافع قوية للحياة الفكرية والعلمية والعسكرية والاقتصادية، يستبدل بها مسوغات جديدة.

فإذا لم تأت عملية التعويض كما ينتظر منها بالمسوغات الجديدة فماذا يحدث عندئذ؟

تحدث الأزمة الخطيرة التي يعيشها العالم المتحضر اليوم.

فالعالم المتحصر اليوم، يبدو أنه قد أخفق في عملية التعويض، سواء من الجانب الأدبي كمحاولة الوجودية مثلاً، أو من الجانب السياسي كمحاولة الرجوع لأصله الأوربي، بحثاً عن منطلقات جديدة لأفكاره ولنشاطاته
উনবিংশ শতাব্দীতে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপীয় প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে।

এই উভয় দিকের মধ্যবর্তী সম্পর্কটি অত্যন্ত স্পষ্ট। যখন কোনো

জীবন বা সমাজ তার অস্তিত্বের যৌক্তিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলে, তখন তাকে অবশ্যই বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়: সে তার পুরাতন বা সেকেলে হয়ে যাওয়া যুক্তিসমূহকে—যা বুদ্ধিবৃত্তিক, বৈজ্ঞানিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক জীবনের শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে সামাজিক জীবনে প্রভাব হারিয়েছে—নতুন যুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করে।

যদি এই বিকল্প ব্যবস্থা প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন যৌক্তিক ভিত্তি আনয়ন করতে না পারে, তবে তখন কী ঘটে?

তখন সেই ভয়াবহ সংকটের সৃষ্টি হয়, যার মধ্য দিয়ে বর্তমানের সভ্য বিশ্ব অতিবাহিত হচ্ছে।

বর্তমান সভ্য বিশ্ব যেন এই বিকল্প ব্যবস্থার প্রক্রিয়ায় ব্যর্থ হয়েছে; তা সাহিত্যের দিক থেকে অস্তিত্ববাদের প্রচেষ্টাই হোক, কিংবা রাজনীতির দিক থেকে তার চিন্তা ও কর্মকাণ্ডের জন্য নতুন কোনো প্রারম্ভিক বিন্দুর সন্ধানে ইউরোপীয় মূলে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টাই হোক।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২২)
الاقتصادية، فكأنما تقطعت أنفاسه، ولم تعد في متداوله تلك الأشياء المتينة التي كان يرتكز عليها في القرن الماضي وبداية هذا القرن.

وعندها فإن من الطبيعي أن من لا يجد سنداً في مسيرته التاريخية سيقع في حيرة وتيه وقلق. وهذا ما يفسرلنا ما نراه اليوم، من حيرة قائمة فعلاً في العقول والنفوس والأرواح. فإذا ما اجتمعت هذه الأشياء فعلاً في نفس بشرية، فعندها يمكن أن نتصور ما تولده من دوافع سلبية. فإذا ما فقد مجتمع ما مسوغاته ولم يستطع تعويضها بالطرق المشروعة في محاولات مبذولة، عندها يعتريه القلق ويعتريه التيه وتعتريه الحيرة …

 

فماذا يترتب على هذا من تصرفات؟

يترتب عليها التصرفات التى نراها في أوربة وأمريكة اليوم.

يترتب على هذا مثلاً: أن نجد البلد الذي حقق الضمانات الاجتماعية إلى أقصى حد مثل السويد، يتميز
অর্থনৈতিক দিক দিয়ে, যেন তার শ্বাস রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং গত শতাব্দীতে বা এই শতাব্দীর শুরুতে যে সুদৃঢ় বিষয়গুলোর ওপর সে নির্ভর করত, সেগুলো আর তার নাগালে নেই।

এমতাবস্থায় এটিই স্বাভাবিক যে, যে ব্যক্তি তার ঐতিহাসিক পথচলায় কোনো সনদ (سند) খুঁজে পায় না, সে বিভ্রান্তি, পথহীনতা ও অস্থিরতায় নিপতিত হবে। আর এটিই আমাদের সামনে ব্যাখ্যা করে যা আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি—মস্তিষ্ক, হৃদয় ও আত্মার মধ্যে বিদ্যমান এক প্রকৃত বিভ্রান্তি। যখন এই বিষয়গুলো কোনো মানবসত্তায় একত্রিত হয়, তখন সেগুলো থেকে কী ধরনের নেতিবাচক প্রেষণা তৈরি হতে পারে, তা আমরা কল্পনা করতে পারি। যদি কোনো সমাজ তার অস্তিত্বের যৌক্তিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলে এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৈধ উপায়ে তার ক্ষতিপূরণ করতে না পারে, তখন তাকে অস্থিরতা, দিশাহীনতা এবং বিভ্রান্তি গ্রাস করে নেয় …

 

তাহলে এর ফলে কী ধরনের আচরণ প্রকাশ পায়?

এর ফলে সেই আচরণগুলোই প্রকাশ পায় যা আজ আমরা ইউরোপ ও আমেরিকায় দেখতে পাচ্ছি।

এর ফলে দেখা যায় যে, উদাহরণস্বরূপ: সুইডেনের মতো দেশ—যেটি সামাজিক নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করেছে—সেখানেও বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিলক্ষিত হয়...
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
بشيء خطير وهو أنه يتصدر رأس القائمة في (إحصائية الانتحار العالمية). فظاهرة الانتحار في العالم، يشغل فيها المكان الأول، البلد الاكثر تقدماً نسبياً من حيث الضمانات الاجتماعية.

وهذا إن عنى شيئاً فإنما يعني أن البطون إذا امتلأت لا تغني النفوس ولا تشبعها.

إذا شبعت البطون قد تبقى الأرواح متعطشة،

تبقى الأرواح متطلعة. وحين لا تجد وجهة تتطلع إليها تفضل الاستقالة من الحياة. هذا إذن ما يحدث، وقد يحدث في بلاد أخرى أكثر من هذا في صورة ما؛ ويبدو أن هناك صوراً أخرى للاستقالة من الحياة، هي في الحقيقة أشنع من الناحية الأخلاقية، ولا أقول من الناحية الدينية. فهي أشنع لأن كل صور خيبة الأمل تتجلى فيها، مع شيء من العجز حتى عن القيام بهذه المحاولة لإعدام النفس. وذلك أن هذه المحاولة تتطلب شيئاً من الشجاعة. ولأن الإنسان فقد مروءته إلى درجة الفشل، حتى في التخلص من الحياة بالطرق غير
একটি গুরুতর বিষয় হলো এটি (বিশ্ব আত্মহত্যার পরিসংখ্যানে) তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। বিশ্বে আত্মহত্যার প্রবণতায় সামাজিক নিরাপত্তার দিক থেকে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে উন্নত দেশগুলো প্রথম স্থান দখল করে আছে।

আর এটি যদি কোনো কিছুর ইঙ্গিত দেয়, তবে তা এই যে— পেট পূর্ণ হলেও তা আত্মাকে অভাবমুক্ত করে না কিংবা তৃপ্ত করে না।

পেট ভরে গেলেও আত্মা হয়তো তৃষ্ণার্থ থেকে যায়,

আত্মা আকাঙ্ক্ষী হয়ে থাকে। আর যখন সে কোনো গন্তব্য খুঁজে পায় না, তখন সে জীবন থেকে ইস্তফা দেওয়াকেই শ্রেয় মনে করে। এভাবেই এটি ঘটছে, এবং অন্যান্য দেশেও হয়তো কোনো না কোনোভাবে এর চেয়েও ভয়াবহ রূপে এটি ঘটতে পারে; আর এটি প্রতীয়মান হয় যে, জীবন থেকে ইস্তফা দেওয়ার আরও কিছু রূপ রয়েছে, যা বাস্তবপক্ষে নৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত জঘন্য—আমি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলছি না। কারণ এটি অত্যন্ত জঘন্য, যেহেতু এতে চরম হতাশার সকল রূপ প্রকাশ পায় এবং নিজের জীবন শেষ করার এই প্রচেষ্টাটুকু করার ক্ষেত্রেও এক ধরণের অক্ষমতা প্রকাশ পায়। কারণ এই প্রচেষ্টার জন্যও কিছুটা সাহসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু মানুষ যখন তার মর্যাদাবোধ (مروءة) হারিয়ে এমন ব্যর্থতার স্তরে পৌঁছে যায়, এমনকি অস্বাভাবিক উপায়ে জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রেও...
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
المشروعة، فإنه يفر منها عن طريق الموبقات، عن طريق التدهور الأخلاقي، عن طريق الإدمان على المخدرات، فيصبح المجتمع مهدداً بالخراب، لأن قاعدته الاجتماعية تنهار، أي شبابه ينهار.

إن بعض الإحصائيات الأخيرة، التي وقعت بين يدي عن إدمان المخدرات في محافظة باريس، والتي نشرتها مصلحة الأمن في هذه المحافظة، في تقرير رسمي صادر عن مجلة تصدرها تلك المصلحة، تفيد أن نسبة المدمنين بين الشباب لِلمخدرات، تضاعف بنسبة عشرين في المئة في السنتين الأخيرتين، فبإمكانكم إذن أن تتصوروا ماذا سيكون معدل ارتفاع النسبة خلال السنوات العشر المقبلة. ويمكن، إن جرت المسائل كما تجري الآن، أن يعم الإدمان الشباب كله في باريس.

وأظن أن الأمور تجري على الوتيرة نفسها في سائر أنحاء فرنسا.

يبدو أن الشباب الفرنسي سوف ينهار، وسوف يحاول الانفلات من حياة فقدت مسوغاتها، عن طريق
বৈধ পথসমূহ হতে বিচ্যুত হয়ে, সে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড, নৈতিক অবক্ষয় এবং মাদকাসক্তির মাধ্যমে তা থেকে পলায়ন করে। এর ফলে সমাজ ধ্বংসের হুমকির সম্মুখীন হয়, কেননা এর সামাজিক ভিত্তি ধসে পড়ছে, অর্থাৎ এর যুবসমাজ ধসে পড়ছে।

প্যারিস প্রদেশের মাদকাসক্তি বিষয়ে সাম্প্রতিক কিছু পরিসংখ্যান আমার হস্তগত হয়েছে, যা উক্ত প্রদেশের নিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত একটি সাময়িকীর সরকারি প্রতিবেদনে প্রচার করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত দুই বছরে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির হার বিশ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং, আপনারা কল্পনা করতে পারেন যে আগামী দশ বছরে এই হার বৃদ্ধির মাত্রা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। আর বিষয়গুলো যদি বর্তমান ধারাতেই চলতে থাকে, তবে প্যারিসের সমগ্র যুবসমাজ মাদকাসক্তিতে নিমজ্জিত হতে পারে।

আর আমি মনে করি, সমগ্র ফ্রান্সের অন্যান্য অঞ্চলেও বিষয়গুলো একই গতিতে অগ্রসর হচ্ছে।

প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ফরাসি যুবসমাজ ধসে পড়বে এবং তারা এমন এক জীবন থেকে পলায়নের চেষ্টা করবে যা তার যৌক্তিকতা হারিয়েছে, ... এর মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
المخذرات. إن دلَّ هذا على شيء، فهو يدل على أن المجتمع يفقد الآن قاعدته الاجتماعية المتينة وهي شبابه، يضيعه إما في المتاهات، أو في الخمارات، أو في المخدرات أو في المقابر، عندما ينتحر.

وهذا ما يدعونا بالطبع إلى أن نحلل هذه الأشياء.

ماذا تعني هذه الأشياء؟ ماذا تعني هذه اللوحة القاتمة التي قدمناها بخطوط سريعة، بعبارات فجة ملتقطة يميناً وشمالاً؟

إذا مضينا قليلاً في حلِّ الأزمة خصوصاً في أمريكة، يبدو لنا أن المجتمع الأمريكي يعاني ظاهرة تضخم من ناحية وتناقص من ناحية أخرى. تضخم الإمكان الحضاري وتضاؤل الإرادة الحضارية. أي تناقض بين الإرادة الحضارية والإمكان الحضاري.

إذا أردنا توضيحاً أكثر، نقول: إن الهوة أصبحت تتسع بين الواقع الطبيعي الإنساني الذي ورثه وورث مسوغاته التقليدية وبين واقعه الثقافي اليوم.
মাদকদ্রব্য। এটি যদি কোনো কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করে, তবে তা এই যে, সমাজ এখন তার সুদৃঢ় সামাজিক ভিত্তি অর্থাৎ তার যুবসমাজকে হারিয়ে ফেলছে; যারা হয় বিভ্রান্তির গোলকধাঁধায়, নয়তো মদের আড্ডায়, মাদকাসক্তিতে অথবা আত্মহত্যার মাধ্যমে কবরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

আর এটিই স্বাভাবিকভাবে আমাদের এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করার প্রতি আহ্বান জানায়।

এই বিষয়গুলোর তাৎপর্য কী? ক্ষিপ্র অঙ্কনে এবং যত্রতত্র থেকে সংগৃহীত রুক্ষ শব্দাবলিতে আমরা যে অন্ধকারাচ্ছন্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছি, তা আসলে কী বোঝাতে চায়?

সংকট নিরসনে বিশেষত আমেরিকার প্রেক্ষাপটে আমরা যদি কিছুটা অগ্রসর হই, তবে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, আমেরিকান সমাজ একদিকে অতিবৃদ্ধি এবং অন্যদিকে ক্ষয়িষ্ণুতার সমস্যায় ভুগছে। অর্থাৎ সভ্যতার সক্ষমতার স্ফীতি এবং সভ্যতার ইচ্ছাশক্তির হ্রাস। এটি মূলত সভ্যতার ইচ্ছা ও সক্ষমতার মধ্যকার এক বৈপরীত্য।

আমরা যদি আরও বিশদ ব্যাখ্যা করতে চাই, তবে বলব: মানুষ যে সহজাত মানবিক বাস্তবতা এবং তার ঐতিহ্যগত যৌক্তিক ভিত্তি উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছে, তার সাথে বর্তমান সাংস্কৃতিক বাস্তবতার ব্যবধান ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
فالهوة بدأت تتسع، والإنسان أصبح يتمزق -خاصة الشباب- بين فكرة لا يستطيع التخلص منها تماماً لأنها مسجلة في طينته البشرية، تلك الطينة التي كرمها الله، وبين واقع ثقافي لا يقدم له مسوغات ولا يعطيه بديلاً عن مسوغاته التقليدية المفقودة.

هذه هي الصورة التي نستطيع تقديمها في خطوط عريضة، عن الحياة في المجتمع المتحضر وعلى محور (واشنطن- موسكو). وإذا تساءلنا الآن هل ظاهرة التدهور والانحلال .. هذه فاقدة المعنى بالنسبة للمؤرخ، الذي يريد أن يفيد حتى من التجارب الشاذة المؤلمة؟.

نستطيع أن نقدم افتراضاً احتمالياً فنقول: لعلَّ الله يريد شيئاً من وراء هذا كله. كأنما هذا استدراج، تسوق الأقدار فيه هذا المجتمع المتحضر إلى طريق، حيث تنتهي فيه أخطاؤه، ليفسح مجالاً لتجربة أخرى بعد إخفاق التجارب السابقة، ونحن نري فعلاً أن التجارب الأساسية في التاريخ لن تبدأ حتى تخفق قبلها كل التجارب السابقة التي فقدت أسسها التاريخية.
ব্যবধানটি প্রশস্ত হতে শুরু করেছে এবং মানুষ—বিশেষ করে যুবসমাজ—এমন একটি চিন্তার মাঝে দ্বিখণ্ডিত হচ্ছে যা থেকে সে পুরোপুরি মুক্তি পেতে পারছে না, কারণ এটি তার সৃষ্টিগত স্বভাবের মাঝে খোদিত রয়েছে; সেই সত্তা যাকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন। একই সাথে সে এমন এক সাংস্কৃতিক বাস্তবতার মুখোমুখি যা তাকে কোনো যৌক্তিক ভিত্তি প্রদান করে না এবং তার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যগত যুক্তির কোনো বিকল্পও দেয় না।

এটিই সেই চিত্র যা আমরা স্থূলভাবে তুলে ধরতে পারি সেই সভ্য সমাজের জীবন সম্পর্কে, যা (ওয়াশিংটন-মস্কো) অক্ষকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এখন যদি আমরা প্রশ্ন করি যে, এই অবক্ষয় ও পতনের ঘটনাটি কি সেই ঐতিহাসিকের নিকট অর্থহীন, যিনি এমনকি অস্বাভাবিক (شاذة) এবং বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাগুলো থেকেও শিক্ষা নিতে চান?

আমরা একটি সম্ভাব্য অনুমিতি পেশ করে বলতে পারি: সম্ভবত আল্লাহ এসবের নেপথ্যে কোনো কিছু নিহিত রেখেছেন। এটি যেন এক প্রকার ক্রমে অবকাশ প্রদান (استدراج), যেখানে নিয়তি (أقدار) এই সভ্য সমাজকে এমন এক পথে চালিত করছে যেখানে তার ভুলগুলোর পরিসমাপ্তি ঘটবে, যাতে পূর্ববর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যর্থতার পর নতুন কোনো অভিজ্ঞতার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। আমরা প্রকৃতপক্ষে দেখতে পাচ্ছি যে, ইতিহাসের মৌলিক অভিজ্ঞতাসমূহ ততক্ষণ শুরু হয় না যতক্ষণ না তার পূর্ববর্তী সেই সব অভিজ্ঞতা ব্যর্থ হয় যা তাদের ঐতিহাসিক ভিত্তি হারিয়েছে।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
يجب أن ينتهي التاريخ في نقطة ما كي يتجدد التاريخ من نقطة جديدة.

يجب أن يكون هذا مفهوماً وخاصة لدى الشباب. يجب أن يخفق التاريخ، يجب أن يفلس التاريخ. وأحياناً يجب أن نعلن الإفلاس كي نشعر الناس وخصوصاً الشباب بأن هذا الإفلاس هو طريق البداية. فلعلَّ هذا الذي نراه على ذلك المحور استدراج لشيء ربما تعبر عنه الآية الكريمة: {هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ}، [الصف: 9/ 61]. ربما هذا هو القطب الذي يتجه إليه مجرى التاريخ في هذا الثلث الأخير من القرن العشرين. وعلينا أن نتأكد بقدر إمكاننا من هذا، وليس لنا أن نقرر ونبتّ في شيء قبل انقضائه، فلكم أنتم أيها الشباب بعد ثلاثين سنة أن تروا الحقيقة سافرة كما هي. أما نحن في جيلنا فلا نرى إلا توقعات، ونحاول أن نرى من خلال هذه التوقعات جانباً من مصير الإنسانية.

يجب علينا أن نقوم بعمليتين: أن نرسم خريطة،
ইতিহাসকে কোনো একটি বিন্দুতে অবশ্যই শেষ হতে হবে যাতে নতুন কোনো বিন্দু থেকে ইতিহাসের নবযাত্রা শুরু হতে পারে।

বিষয়টি অনুধাবন করা জরুরি, বিশেষ করে যুবসমাজের কাছে। ইতিহাসকে ব্যর্থ হতে হবে, ইতিহাসকে দেউলিয়া হতে হবে। এবং কখনো কখনো আমাদের দেউলিয়া হওয়ার ঘোষণা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে মানুষকে এবং বিশেষ করে যুবকদের আমরা অনুভব করাতে পারি যে, এই দেউলিয়া অবস্থাই হলো সূচনার পথ। সম্ভবত এই অক্ষের ওপর আমরা যা দেখছি, তা এমন কোনো কিছুর দিকে ধাবিত হওয়া যা পবিত্র আয়াতের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে: "তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন যাতে তিনি একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন", [আস-সাফ: ৯/৬১]। সম্ভবত এটাই সেই কেন্দ্রবিন্দু যার দিকে বিংশ শতাব্দীর শেষ এক-তৃতীয়াংশে ইতিহাসের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। আমাদের সাধ্যমতো এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিত, এবং কোনো বিষয় শেষ হওয়ার আগে আমাদের পক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বা ফয়সালা করা সম্ভব নয়; হে যুবক সমাজ, ত্রিশ বছর পর তোমরাই সত্যকে তার প্রকৃত রূপে উন্মোচিত হতে দেখবে। কিন্তু আমাদের প্রজন্মের মানুষ আমরা কেবল সম্ভাবনা দেখতে পাই, এবং এই সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে আমরা মানবজাতির পরিণতির একটি দিক দেখার চেষ্টা করি।

আমাদের ওপর দুটি কাজ করা আবশ্যক: একটি মানচিত্র অঙ্কন করা,
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
الخريطة (الأيديولوجية) كما يقولون اليوم أو خريطة الأديان كما نقول نحن، في العصر الذي تنزلت فيه هذه الآية، وهذه الآية فما أظن آية مكية (1) أعني في البداية، أعني في نقطة الصفر.

لو كان لنا أن نرسم الخريطة فعلاً في وقت تنزلها

- تنزيل الآية- لوضعنا على الخريطة نقطة من لون معين يعبر عن رقعة الإسلام في العالم وهي مكة، فنلونها بلون ما. هذا اللون الإسلامي. لا يعدو أن يكون نقطة في الكون …

بينما تتنزل هذه الآية كأنها تحدٍّ لهذا الواقع، كأنها

تحد لا يتصوره العقل تصوراً لو كنا معه نحن معشر عباد القرن العشرين، بعقلانيتنا وعلميتنا نعيش في وقت التنزيل لقلنا هذه خرافة. ما هي هذه الخرافة؟ إن هذه الآية تتحدى .. !! تتحدى الإمبراطوريتين والحضارتين القديمتين الكبيرتين: إمبراطورية وحضارة فارس من ناحية، وإمبراطورية وحضارة بيزنطة

--------------------------------------------

(1) نزلت الآية في الحديبية سنة 6 هـ (المصحح).
(মতাদর্শিক) মানচিত্র যেমনটা তারা আজ বলে থাকে, অথবা ধর্মের মানচিত্র যেমনটা আমরা বলে থাকি, সেই যুগে যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল। আর এই আয়াতটি সম্পর্কে আমি মনে করি না এটি মক্কী (مكية) (১) আয়াত; অর্থাৎ একদম শুরুতে, শূন্য বিন্দুতে থাকা অবস্থায়।

যদি আমরা এর অবতীর্ণ হওয়ার সময়ে—আয়াতটি নাজিল হওয়ার মুহূর্তে—প্রকৃতপক্ষে একটি মানচিত্র অঙ্কন করতাম, তবে আমরা সেই মানচিত্রে একটি নির্দিষ্ট রঙের বিন্দু বসাতাম যা বিশ্বে ইসলামের পরিধিকে প্রকাশ করত, আর সেটি হলো মক্কা। আমরা একে একটি নির্দিষ্ট রঙে রাঙাতাম। এই ইসলামি রঙটি মহাবিশ্বে একটি বিন্দুর চেয়ে বেশি কিছু ছিল না …

অথচ এই আয়াতটি যখন অবতীর্ণ হচ্ছিল, তখন এটি যেন এই বাস্তবতার প্রতি একটি চ্যালেঞ্জ স্বরূপ ছিল। এটি এমন এক চ্যালেঞ্জ যা মানুষের বিবেক কল্পনাও করতে পারে না; আমরা বিংশ শতাব্দীর একদল মানুষ যদি আমাদের যুক্তিবাদিতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা নিয়ে সেই ওহী অবতীর্ণ হওয়ার যুগে বেঁচে থাকতাম, তবে বলতাম এটি একটি অলীক কল্পনা। সেই অলীক কল্পনাটি কী? নিশ্চয়ই এই আয়াতটি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে..!! এটি তৎকালীন দুটি বৃহৎ প্রাচীন সাম্রাজ্য ও সভ্যতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে: একদিকে পারস্য সাম্রাজ্য ও সভ্যতা, অন্যদিকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ও সভ্যতা।

--------------------------------------------

(১) আয়াতটি ৬ হিজরি সনে হুদাইবিয়ায় অবতীর্ণ হয়েছে (সংশোধনকারী)।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
والبحر الأبيض على العموم من ناحية أخرى، فهذا التحدي هو من أقسى معجزات القرآن في الحقيقة، وذلك عندما نتصوره في وقت التنزيل، لأننا إذا رسمنا الخريطة الأيديولوجية آنذاك فماذا نجد عليها؟

إننا نجد عليها لون المجوسية أو لون الديانة الفارسية، ولون البوذية، ولون البرهمية أو لون الهندوكية كما يقولون، ولون المسيحية، ولون اليهودية … ونقطة مغمورة في الكون هي مكة نقطة الإسلام.

فلو أردنا ونحن في ذؤابة القرن العشرين، الثلث الأخير منه، رسم خريطة جديدة للأديان اليوم، في عام 1972م فماذا نجد؟

نجد أن البوذية قد شطب عليها قلم السيد (ماوتسي تونغ) فمحاها من الوجود. وأما المجوسية فقد محاها عمر يوم القادسية. وأما البرهمية فقد محتها ظروفها الخاصة بوصفها ديناً لا بوصفها ثقافة، فهي بوصفها تراثاً تقافياً ستبقى إلى أجل لا ندري مداه
অন্য দিকে সাধারণভাবে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল; এই চ্যালেঞ্জটি প্রকৃতপক্ষে কুরআনের অন্যতম কঠিন অলৌকিক নিদর্শন। এটি তখনই কল্পনা করা যায় যখন আমরা ওহী নাযিলের সময়ের কথা চিন্তা করি। কারণ আমরা যদি তৎকালীন আদর্শিক মানচিত্র অঙ্কন করি, তবে সেখানে আমরা কী দেখতে পাব?

আমরা সেখানে অগ্নিপূজকবাদ বা পারসিক ধর্মের বর্ণ, বৌদ্ধধর্মের বর্ণ, ব্রাহ্মণ্যবাদ বা তারা যাকে হিন্দুধর্ম বলে তার বর্ণ, খ্রিস্টধর্মের বর্ণ এবং ইহুদিধর্মের বর্ণ দেখতে পাব … আর মহাবিশ্বের এক অখ্যাত বিন্দু হলো মক্কা, যা ইসলামের সূচনাবিন্দু।

এখন আমরা যদি বিংশ শতাব্দীর শেষ এক-তৃতীয়াংশের শিখরে দাঁড়িয়ে ১৯৭২ সালে ধর্মের একটি নতুন মানচিত্র অঙ্কন করতে চাই, তবে আমরা কী দেখতে পাব?

আমরা দেখতে পাব যে, বৌদ্ধধর্মকে জনাব (মাও সে তুং)-এর কলম অস্তিত্বহীন করে দিয়েছে এবং তিনি একে পৃথিবী থেকে মুছে দিয়েছেন। আর অগ্নিপূজকবাদকে উমর (রা.) কাদিসিয়ার যুদ্ধের দিন মিটিয়ে দিয়েছেন। আর ব্রাহ্মণ্যবাদ তার নিজস্ব পরিস্থিতির কারণে একটি ধর্ম হিসেবে বিলুপ্ত হয়েছে, সংস্কৃতি হিসেবে নয়; কারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে এটি কতকাল টিকে থাকবে তা আমাদের জানা নেই।
(খণ্ড: ১) দাওরুল মুসলিম ওয়া রিসালাতুহু ফিস সুলুসিল আখীরি মিনাল কারনিল ইশরীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
- نتجنب التكهنات- أما بوصفها ديناً فقد انتهت وانتهى دورها، لقد فشلت في أبسط مهماتها خاصة بعد استقلال الهند، فقد سجلت الهند في السطور الأولى من دستورها عام 1948م-، أنها- سوف تقضي على حالة المنبوذ، وكان من سجل هذا إنما سجله تحت إملاء الروح الكبير كما يقولون أي (مهاتما غاندي)، وقد سجل هذا البند في أحسن ظروف تطبيقه بعد الخلاص من محنة الاستعمار، وبعد فرج الاستقلال وفرحة الاستقلال.

واليوم إذا راجع الهندوكي أو راجعنا نحن القضية

بعد عشرين سنة نراها قد فشلت فشلاً ذريعاً. وهي قضية لا تتصل بمصير عشرة آلاف مثلاً بل تتصل بمصير ثمانين مليوناً من البشر تقريباً، وهذا ليس بالشيء الهين. لقدفشلت لأنها لم تستطع حل المشكلات الاجتماعية، وهذا يعني كأنما قد قدمت استقالتها من التاريخ.

أما المسيحية فقد حدثت لها أيضا في الفترة الأخيرة تطورات غريبة عبر عنها ذلك المجمع المسكوني الأخير،
- আমরা অনুমান পরিহার করি— তবে একটি ধর্ম হিসেবে এটি শেষ হয়ে গেছে এবং এর ভূমিকাও সমাপ্ত হয়েছে। এটি তার সাধারণতম লক্ষ্যগুলো অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, বিশেষ করে ভারতের স্বাধীনতার পর। ভারত ১৯৪৮ সালে তার সংবিধানের প্রথম পঙ্ক্তিগুলোতে লিপিবদ্ধ করেছিল যে—তারা ‘অস্পৃশ্যতা’ অবস্থার অবসান ঘটাবে। যারা এটি লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তারা তথাকথিত ‘মহামানব’ (মহাত্মা গান্ধী)-এর নির্দেশনায় তা করেছিলেন। এই ধারাটি ঔপনিবেশিক যাতনা থেকে মুক্তি এবং স্বাধীনতার স্বস্তি ও আনন্দের পর তার প্রয়োগের সর্বোত্তম পরিবেশে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

আজ যদি কোনো হিন্দু অথবা আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করি

বিশ বছর পর আমরা দেখতে পাই যে এটি শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা কেবল দশ হাজার মানুষের ভাগ্য সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নয়, বরং এটি প্রায় আট কোটি মানুষের ভাগ্যের সাথে জড়িত; আর এটি কোনো সামান্য বিষয় নয়। এটি ব্যর্থ হয়েছে কারণ এটি সামাজিক সমস্যাসমূহ সমাধান করতে পারেনি, আর এর অর্থ হলো এটি যেন ইতিহাস থেকে পদত্যাগ করেছে।

অন্যদিকে খ্রিস্টধর্মের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অদ্ভুত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, যা সর্বশেষ বিশ্বজনীন ধর্মসভা (ইকিউমেনিকাল কাউন্সিল)-এর মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।