(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: -)
مختصر أحكام الأضحية والذكاة   (ابن عثيمين)

القسم: الفقه العام


الكتاب: مختصر أحكام الأضحية والذكاة

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)

عدد الصفحات: 29

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কুরবানি ও জবেহ সংক্রান্ত বিধিবিধানের সারসংক্ষেপ   (ইবনে উসাইমিন)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ শাস্ত্র


গ্রন্থ: কুরবানি ও জবেহ সংক্রান্ত বিধিবিধানের সারসংক্ষেপ

গ্রন্থকার: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১)
المقدمة

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان وسلم تسليماً كثيراً.

 

أما بعد:

 

فقد كنت كتبت كتاباً في أحكام الأضحية والذكاة مطولاً يقع في 93 صفحة وفيه ذكر بعض الخلاف والمناقشات التي تطول على القارىء، فرأيت أن أكتب تلخيصاً لذلك الكتاب حاذفاً ما لا تدعو الحاجة إليه، زائداً ما تدعو الحاجة إليه.

 

والله أسأل أن يجعل عملنا في ذلك كله خالصاً لله تعالى، مبيناً لشريعته، نافعاً لنا وللمسلمين إنه جواد كريم.

 

وهذا التلخيص يشتمل على الفصول التالية:

 

‌‌الفصل الأول: في تعريف الأضحية وحكمها.

 

الفصل الثاني: في شروط الأضحية.

 

الفصل الثالث: في الأفضل من الأضاحي جنساً أو صفة، والمكروه منها.

 

الفصل الرابع: فيمن تجزئ عنه الأضحية.

 

الفصل الخامس: فيما تتعين به الأضحية وأحكامه.

 

الفصل السادس: فيما يؤكل من الأضحية ويفرق.

 

الفصل السابع: فيما يجتنبه من أراد الأضحية.

 

الفصل الثامن: في الذكاة وشروطها.

 

الفصل التاسع: في آداب الذكاة.

 

الفصل العاشر: مكروهات الذكاة.

 

الفصل الأول: في تعريف الأضحية وحكمها

الأضحية: ما يذبح من بهيمة الأنعام أيام عيد الأضحى بسبب العيد تقرباً إلى الله عز وجل، وهي من شعائر الإسلام المشروعة بكتاب الله تعالى، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وإجماع المسلمين.
ভূমিকা

 

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ ও যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের ওপর অজস্র দরুদ ও শান্তি বর্ষণ করুন।

 

অতঃপর:

 

আমি কোরবানি ও জবেহ করার বিধান সম্পর্কে একটি বিস্তারিত বই লিখেছিলাম যা ৯৩ পৃষ্ঠা সম্বলিত ছিল। সেখানে এমন কিছু মতভেদ ও আলোচনা ছিল যা পাঠকের কাছে দীর্ঘ মনে হতে পারে। তাই আমি বইটির একটি সারসংক্ষেপ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম; যেখানে অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যুক্ত করেছি।

 

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই আমলকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, একে তাঁর শরিয়তের স্পষ্ট বর্ণনাকারী বানান এবং আমাদের ও সকল মুসলিমের জন্য উপকারী করেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও দয়ালু।

 

এই সারসংক্ষেপটি নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদসমূহ নিয়ে গঠিত:

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: কোরবানির পরিচয় ও এর বিধান প্রসঙ্গে।

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কোরবানির শর্তাবলি প্রসঙ্গে।

 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রকার বা গুণের বিচারে সর্বোত্তম কোরবানি এবং অপছন্দনীয় (مكروه) কোরবানি প্রসঙ্গে।

 

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যার পক্ষ থেকে কোরবানি করা যথেষ্ট হয়।

 

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে কোরবানি নির্ধারিত হয় এবং এর বিধানসমূহ।

 

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কোরবানির গোশত খাওয়া ও বণ্টন প্রসঙ্গে।

 

সপ্তম পরিচ্ছেদ: যিনি কোরবানি করার ইচ্ছা করেন তাঁর বর্জনীয় কার্যাবলি প্রসঙ্গে।

 

অষ্টম পরিচ্ছেদ: জবেহ এবং এর শর্তাবলি প্রসঙ্গে।

 

নবম পরিচ্ছেদ: জবেহ করার আদব বা শিষ্টাচার প্রসঙ্গে।

 

দশম পরিচ্ছেদ: জবেহ করার অপছন্দনীয় (مكروه) বিষয়সমূহ।

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: কোরবানির পরিচয় ও এর বিধান প্রসঙ্গে

কোরবানি: মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ঈদুল আজহার দিনগুলোতে ঈদ উপলক্ষে জবেহকৃত গবাদি পশু। এটি আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) এবং মুসলিমদের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা সাব্যস্ত ইসলামের অন্যতম একটি নিদর্শন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২)
قال الله تعالى: {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} وقال تعالى: {قُلْ إِنَّ صَلَاتِى وَنُسُكِى وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِى للَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ * لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَاْ أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ} . والنسك الذبح، قاله سعيد بن جبير، وقيل جميع العبادات ومنها الذبح، وهو أشمل. وقال تعالى: {وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِّيَذْكُرُواْ اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِّن بَهِيمَةِ الَاْنْعَمِ فَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُواْ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ} .

 

وفي صحيح البخاري ومسلم عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: «ضحى النبي صلى الله عليه وسلم بكبشين أملحين ذبحهما بيده وسمى وكبر، وضع رجله على صفاحهما» . وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: «أقام النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة عشر سنين يضحي» . رواه أحمد والترمذي، وقال حديث حسن.

 

وعن عقبة بن عامر رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قسم بين أصحابه ضحايا فصارت لعقبة جذعة فقال: يا رسول الله صارت لي جذعة فقال: «ضح بها» رواه البخاري ومسلم.

 

وعن البراء بن عازب رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من ذبح بعد الصلاة فقد تم نسكه وأصاب سنة المسلمين» . رواه البخاري ومسلم.

 

فقد ضحى صلى الله عليه وسلم وضحى أصحابه رضي الله عنهم، وأخبر أن الأضحية سنة المسلمين يعني طريقتهم، ولهذا أجمع المسلمون على مشروعيتها، كما نقله غير واحد من أهل العلم. واختلفوا هل هي سنة مؤكدة، أو واجبة لا يجوز تركها؟

 

فذهب جمهور العلماء إلى أنها سنة مؤكدة، وهو مذهب الشافعي، ومالك، وأحمد في المشهور عنهما.
আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কোরবানি করুন।} এবং তিনি আরও বলেন: {বলুন, আমার সালাত, আমার কোরবানি (نسك), আমার জীবন ও আমার মরণ সবকিছুই সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য। তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি এরই জন্য আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই মুসলিমদের মধ্যে প্রথম।} আর 'নুসুক' (النسك) অর্থ হলো জবেহ করা, এটি সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন; আবার কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ সকল ইবাদত, যার মধ্যে জবেহও অন্তর্ভুক্ত, আর এটাই অধিকতর ব্যাপক। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির নিয়ম করে দিয়েছি, যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ করে। তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ, সুতরাং তোমরা তাঁরই অনুগত হও এবং সুসংবাদ দিন বিনীতদের।}

 

সহিহ বুখারি ও মুসলিমে আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুটি সাদা-কালো শিংওয়ালা মেষ কোরবানি করেছেন। তিনি সেগুলো নিজ হাতে জবেহ করেছেন এবং বিসমিল্লাহ ও তাকবির পাঠ করেছেন। তিনি জন্তু দুটির পার্শ্বদেশে পা রেখেছিলেন।" আর আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেছেন এবং তিনি কোরবানি করতেন।" এটি আহমাদ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটিকে হাসান (حسن) হাদিস বলেছেন।

 

উকবা ইবনে আমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবিদের মধ্যে কোরবানির পশু বণ্টন করে দিলেন। উকবার ভাগে একটি ছয় মাস বয়সী ছাগলছানা (جذعة) পড়ল। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমার ভাগে তো একটি ছয় মাস বয়সী ছাগলছানা (جذعة) পড়েছে। তিনি বললেন: "তুমি এটিই কোরবানি করো।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাতের পর জবেহ করল, তার কোরবানি (نسك) পূর্ণ হলো এবং সে মুসলিমদের রীতিনীতি অনুসরণ করল।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোরবানি করেছেন এবং তাঁর সাহাবিগণও (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কোরবানি করেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, কোরবানি হলো মুসলিমদের সুন্নাহ অর্থাৎ তাদের ত্বরিকা বা পথ। এই কারণেই মুসলিমগণ এর বৈধতার (مشروعية) বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, যেমনটি একাধিক আলেম বর্ণনা করেছেন। তবে এটি সুন্নাতুল মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة), নাকি ওয়াজিব (واجبة) যা ত্যাগ করা জায়েজ নয় - এ বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন।

 

অধিকাংশ (جمهور) আলেম মত প্রকাশ করেছেন যে এটি সুন্নাতুল মুয়াক্কাদাহ (سنة مؤكدة); আর এটিই ইমাম শাফেয়ি, মালিক এবং ইমাম আহমাদের প্রসিদ্ধ অভিমত।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
وذهب آخرون إلى أنها واجبة، وهو مذهب أبي حنيفة وإحدى الروايتين عن أحمد، واختاره شيخ الإسلام ابن تيمية وقال: هو أحد القولين في مذهب مالك، أو ظاهر مذهب مالك (1) .

 

وذبح الأضحية أفضل من الصدقة بثمنها؛ لأن ذلك عمل النبي صلى الله عليه وسلم والمسلمين معه؛ ولأن الذبح من شعائر الله تعالى، فلو عدل الناس عنه إلى الصدقة لتعطلت تلك الشعيرة. ولو كانت الصدقة بثمن الأضحية أفضل من ذبح الأضحية لبينه النبي صلى الله عليه وسلم لأمته بقوله أو فعله، لأنه لم يكن يدع بيان الخير للأمة، بل لو كانت الصدقة مساوية للأضحية لبينه أيضاً لأنه أسهل من عناء الأضحية ولم يكن صلى الله عليه وسلم ليدع بيان الأسهل لأمته مع مساواته للأصعب، ولقد أصاب الناس مجاعة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم فقال: «من ضحى منكم فلا يصبحن بعد ثالثة في بيته شيء» . فلما كان العام المقبل قالوا يا رسول الله نفعل كما فعلنا في العام الماضي فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «كلوا واطعموا وادخروا فإن ذلك العام كان في الناس جهد فأردت أن تعينوا فيها» . متفق عليه.

 

قال ابن القيم رحمه الله: الذبح في موضعه أفضل من الصدقة بثمنه. قال: ولهذا لو تصدق عن دم المتعة والقِرَان بأضعاف أضعاف القيمة لم يقم مقامه وكذلك الأضحية. انتهى كلامه (2) .

 

فصل

 

والأصل في الأضحية أنها مشروعة في حق الأحياء كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه يضحون عن أنفسهم وأهليهم، وأما ما يظنه بعض العامة من اختصاص الأضحية بالأموات فلا أصل له.

 

والأضحية عن الأموات ثلاثة أقسام:

--------------------------------------------

(1) انظر أدلة الفريقين ومناقشتها في الأصل ص 7 - 13.

(2) انظر الأصل ص 14- 16.
অন্যান্য উলামাগণ একে আবশ্যক (واجبة) মনে করেছেন, এটিই ইমাম আবু হানিফার মাযহাব এবং ইমাম আহমদের বর্ণিত দুটি মতের একটি। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া একেই গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: এটি ইমাম মালিকের মাযহাবের দুটি মতের একটি অথবা মালিকি মাযহাবের প্রকাশ্য (ظاهر) মত (১)।

 

কুরবানির পশু জবাই করা এর মূল্যের সদকা করার চেয়ে উত্তম; কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাথে থাকা মুসলিমদের আমল ছিল; আর পশু জবাই করা আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন (شعائر), তাই মানুষ যদি তা ছেড়ে দিয়ে সদকার দিকে ঝুঁকে পড়ে তবে এই নিদর্শনটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। যদি কুরবানির মূল্যের সদকা পশু জবাইয়ের চেয়ে উত্তম হতো তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কথা বা কাজের মাধ্যমে তা উম্মতের কাছে স্পষ্ট করে দিতেন, কারণ তিনি উম্মতের জন্য কোনো কল্যাণকর বিষয়ের বর্ণনা করতে ছাড়েননি। এমনকি সদকা যদি কুরবানির সমতুল্যও হতো তবুও তিনি তা স্পষ্ট করতেন, কারণ কুরবানির কষ্টের চেয়ে সদকা করা সহজ, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো বিষয় সহজ হওয়া সত্ত্বেও সমমর্যাদার কঠিন বিষয়টি উম্মতের জন্য বর্ণনা না করে ছেড়ে দিতেন না। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হলে তিনি বলেছিলেন: "তোমাদের মধ্যে যে কুরবানি দেবে, সে যেন তৃতীয় দিনের পর তার ঘরে কুরবানির গোশতের কিছু অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় সকাল না করে।" পরবর্তী বছর এলে তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি গত বছরের মতো করব? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তোমরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখো; কেননা গত বছর মানুষের মাঝে অভাব-অনটন ছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম তোমরা তাদের সাহায্য করো।" হাদিসটি সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত (متفق عليه)।

 

ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: যথাস্থানে পশু জবাই করা এর মূল্যের সদকা করার চেয়ে উত্তম। তিনি আরও বলেন: এ কারণেই যদি তামাত্তু ও কিরান হজের দমের বিনিময়ে মূল্যের কয়েক গুণও সদকা করা হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে না; কুরবানির বিষয়টিও তেমনই। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত (২)।

 

পরিচ্ছেদ

 

কুরবানির মূল ভিত্তি হলো, এটি জীবিতদের পক্ষ থেকে বিধানসম্মত (مشروعة), যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ নিজেদের ও তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি দিতেন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ কেউ যা ধারণা করে যে কুরবানি কেবল মৃতদের জন্য নির্দিষ্ট, তার কোনো ভিত্তি (أصل) নেই।

 

মৃতদের পক্ষ থেকে কুরবানি তিন প্রকার:

--------------------------------------------

(১) মূল গ্রন্থের ৭-১৩ পৃষ্ঠায় উভয় পক্ষের দলীল এবং এর পর্যালোচনা দেখুন।

(২) মূল গ্রন্থের ১৪-১৬ পৃষ্ঠা দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
الأول: أن يضحي عنهم تبعاً للأحياء مثل أن يضحي الرجل عنه وعن أهل بيته وينوي بهم الأحياء والأموات، وأصل هذا تضحية النبي صلى الله عليه وسلم عنه وعن أهل بيته وفيهم من قد مات من قبل.

 

الثاني: أن يضحي عن الأموات بمقتضى وصاياهم تنفيذاً لها وأصل هذا قوله تعالى: {فَمَن بَدَّلَهُ بَعْدَمَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَآ إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} .

 

الثالث: أن يضحي عن الأموات تبرعاً مستقلين عن الأحياء فهذه جائزة، وقد نص فقهاء الحنابلة على أن ثوابها يصل إلى الميت وينتفع به قياساً على الصدقة عنه، ولكن لا نرى أن تخصيص الميت بالأضحية من السنة؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يضح عن أحد من أمواته بخصوصه، فلم يضح عن عمه حمزة وهو من أعز أقاربه عنده، ولا عن أولاده الذين ماتوا في حياته، وهم ثلاث بنات متزوجات، وثلاثة أبناء صغار، ولا عن زوجته خديجة وهي من أحب نسائه إليه، ولم يرد عن أصحابه في عهده أن أحداً منهم ضحى عن أحد من أمواته.

 

ونرى أيضاً من الخطأ ما يفعله بعض من الناس يضحون عن الميت أول سنة يموت أضحية يسمونها (أضحية الحفرة) ويعتقدون أنه لا يجوز أن يشرك معه في ثوابها أحد، أو يضحون عن أمواتهم تبرعاً، أو بمقتضى وصاياهم ولا يضحون عن أنفسهم وأهليهم، ولو علموا أن الرجل إذا ضحى من ماله عن نفسه وأهله شمل أهله الأحياء والأموات لما عدلوا عنه إلى عملهم ذلك.

 

‌‌الفصل الثاني: في شروط الأضحية

يشترط للأضحية ستة شروط:
প্রথমত: জীবিতদের সাথে আনুষঙ্গিকভাবে মৃতদের পক্ষ থেকে কুরবানি করা। যেমন কোনো ব্যক্তি নিজের ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করল এবং এর মাধ্যমে জীবিত ও মৃত সকলের নিয়ত করল। এর মূল ভিত্তি (أصل) হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিজের ও নিজের পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করা, যাদের মধ্যে ইতিপূর্বেই মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

 

দ্বিতীয়ত: মৃত ব্যক্তিদের অসিয়ত (وصايا) বা অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাদের পক্ষ থেকে কুরবানি করা। এর মূল ভিত্তি (أصل) হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যে ব্যক্তি তা শোনার পর পরিবর্তন করবে, তবে তার গুনাহ তাদের উপরেই যারা তা পরিবর্তন করবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।"

 

তৃতীয়ত: জীবিতদের সম্পৃক্ততা ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে মৃতদের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় (تبرعاً) কুরবানি করা। এটি বৈধ (جائزة); হাম্বলি ফকিহগণ (فقهاء) সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন (نص) যে, এর সওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছায় এবং সদকার সাথে কিয়াস (قياس) করার ভিত্তিতে মৃত ব্যক্তি এর দ্বারা উপকৃত হয়। তবে আমরা মৃত ব্যক্তির জন্য কুরবানি নির্দিষ্ট করাকে সুন্নাহ (سنة) এর অন্তর্ভুক্ত মনে করি না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ইন্তেকালপ্রাপ্ত কোনো আত্মীয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে কুরবানি করেননি। তিনি তাঁর চাচা হামজা—যিনি তাঁর নিকট অত্যন্ত প্রিয় আত্মীয় ছিলেন—তাঁর পক্ষ থেকে এককভাবে কুরবানি করেননি। তাঁর জীবদ্দশায় ইন্তেকালকারী তাঁর তিন বিবাহিতা কন্যা ও তিন ছোট পুত্রের পক্ষ থেকেও তিনি করেননি। এমনকি তাঁর অত্যন্ত প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজার পক্ষ থেকেও তিনি করেননি। তাঁর যুগে সাহাবায়ে কেরাম থেকেও এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়নি যে, তাঁদের কেউ তাঁদের মৃতদের কারো পক্ষ থেকে এককভাবে কুরবানি করেছেন।

 

আমরা আরও মনে করি যে, কিছু মানুষ যা করে তা ভুল; তারা কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার প্রথম বছর মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে একটি কুরবানি দেয় যেটিকে তারা 'কবরের কুরবানি' (أضحية الحفرة) বলে নামকরণ করে। তারা বিশ্বাস করে যে, এর সওয়াবে অন্য কাউকে শরিক করা বৈধ (جائز) নয়। অথবা তারা তাদের মৃতদের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় (تبرعاً) কিংবা অসিয়ত (وصايا) অনুযায়ী কুরবানি করে, অথচ তারা নিজেদের ও নিজেদের পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করে না। যদি তারা জানত যে, কোনো ব্যক্তি যখন নিজের সম্পদ থেকে নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে কুরবানি করে, তখন তা পরিবারের জীবিত ও মৃত উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তারা তাদের বর্তমান আমলটি করার জন্য ওই নিয়মটি বর্জন করত না।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরবানির শর্তাবলী প্রসঙ্গে

কুরবানির জন্য ছয়টি শর্ত রয়েছে:
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
أحدها: أن تكون من بهيمة الأنعام وهي الإبل والبقر والغنم ضأنها ومعزها لقوله تعالى: {وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِّيَذْكُرُواْ اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُمْ مِّن بَهِيمَةِ الَاْنْعَمِ فَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَحِدٌ فَلَهُ أَسْلِمُواْ وَبَشِّرِ الْمُخْبِتِينَ} وبهيمة الأنعام هي الإبل، والبقر، والغنم هذا هو المعروف عند العرب، وقاله الحسن وقتادة وغير واحد.

 

الثاني: أن تبلغ السن المحدود شرعاً بأن تكون جذعة من الضأن، أو ثنية من غيره لقوله صلى الله عليه وسلم: «لا تذبحوا إلا مسنة إلا أن تعسر عليكم فتذبحوا جذعة من الضأن» . رواه مسلم.

 

والمسنة: الثنية فما فوقها، والجذعة ما دون ذلك. فالثني من الإبل: ما تم له خمس سنين، والثني من البقر: ما تم له سنتان. والثني من الغنم ما تم له سنة، والجذع: ما تم له نصف سنة، فلا تصح التضحية بما دون الثني من الإبل والبقر والمعز، ولا بما دون الجذع من الضأن (1) .

 

الثالث: أن تكون خالية من العيوب المانعة من الإجزاء وهي أربعة:

 

1 ـ العور البين: وهو الذي تنخسف به العين، أو تبرز حتى تكون كالزر، أو تبيض ابيضاضاً يدل دلالة بينة على عورها.

 

2 ـ المرض البين: وهو الذي تظهر أعراضه على البهيمة كالحمى التي تقعدها عن المرعى وتمنع شهيتها، والجرب الظاهر المفسد للحمها أو المؤثر في صحته، والجرح العميق المؤثر عليها في صحتها ونحوه.

 

3 ـ العرج البين: وهو الذي يمنع البهيمة من مسايرة السليمة في ممشاها.

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 32- 36.
প্রথমটি: (কুরবানির পশু) চতুষ্পদ গবাদি পশু (بهيمة الأنعام) হতে হবে; আর সেগুলো হলো উট, গরু এবং ছাগল-ভেড়া। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানির বিধান দিয়েছি, যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ গবাদি পশুর (بهيمة الأنعام) ওপর আল্লাহর নাম স্মরণ করে। তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ, সুতরাং তোমরা তাঁরই অনুগত হও এবং সুসংবাদ দাও বিনীতদের।" আর চতুষ্পদ গবাদি পশু বলতে উট, গরু ও ছাগল-ভেড়াকেই বোঝায়; আরবদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ এবং হাসান, কাতাদাহসহ আরও অনেকে একথাই বলেছেন।

 

দ্বিতীয়টি: শরিয়ত নির্ধারিত নির্দিষ্ট বয়সে পৌঁছানো। অর্থাৎ ভেড়ার ক্ষেত্রে জাযআহ (جذعة) এবং অন্যগুলোর ক্ষেত্রে সানিয়্যাহ (ثنية) হওয়া। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা মুসিন্নাহ (مسنة) ছাড়া জবেহ করো না; তবে যদি তোমাদের জন্য কষ্টকর হয় তবে ভেড়ার মধ্য থেকে জাযআহ (جذعة) জবেহ করো।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

আর মুসিন্নাহ (مسنة) হলো সানিয়্যাহ (ثنية) বা তার বেশি বয়সী পশু, আর জাযআহ (جذعة) হলো তার চেয়ে কম বয়সী। উটের ক্ষেত্রে সানি (ثني) হলো যার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। গরুর ক্ষেত্রে সানি (ثني) হলো যার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। ছাগলের ক্ষেত্রে সানি (ثني) হলো যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। আর জাযআ (جذع) হলো যার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। সুতরাং উট, গরু ও ছাগলের ক্ষেত্রে সানি (ثني)-এর কম বয়সী পশুর কুরবানি সহিহ (صحيح) হবে না, তেমনি ভেড়ার ক্ষেত্রে জাযআ (جذع)-এর কম বয়সী পশুর কুরবানিও হবে না (১)।

 

তৃতীয়টি: কুরবানি পর্যাপ্ত হওয়ার পথে প্রতিবন্ধক এমন সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া। আর এমন ত্রুটি চারটি:

 

১. স্পষ্ট অন্ধত্ব (العور البين): যার চোখ কোটরাগত হয়ে গেছে অথবা চোখের মণি বোতামের মতো বের হয়ে এসেছে, অথবা চোখে এমন শুভ্রতা দেখা দেয় যা তার অন্ধত্বকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

 

২. স্পষ্ট অসুস্থতা (المرض البين): যার লক্ষণসমূহ পশুর দেহে প্রকাশ পায়; যেমন এমন জ্বর যা তাকে চারণভূমি থেকে বসিয়ে দেয় এবং তার রুচি নষ্ট করে দেয়। আর এমন চর্মরোগ যা মাংস নষ্ট করে ফেলে বা স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এবং গভীর ক্ষত যা তার স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে অথবা এজাতীয় অন্য কিছু।

 

৩. স্পষ্ট খোঁড়া হওয়া (العرج البين): যা পশুকে সুস্থ পশুর সাথে চলতে বাধা দেয়।

--------------------------------------------

(১) মূল কিতাব পৃষ্ঠা ৩২-৩৬ দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
4 ـ الهزال المزيل للمخ: لقول النبي صلى الله عليه وسلم حين سئل ماذا يتقي من الضحايا فأشار بيده وقال: «أربعاً: العرجاء البين ضلعها، والعوراء البين عورها، والمريضة البين مرضها، والعجفاء التي لا تنقى» . رواه مالك في الموطأ من حديث البراء بن عازب، وفي رواية في السنن عنه رضي الله عنه قال: قام فينا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: «أربع لا تجوز في الأضاحي» وذكر نحوه.

 

فهذه العيوب الأربعة مانعة من إجزاء الأضحية بما تعيب بها، ويلحق بها ما كان مثلها أو أشد، فلا تجزىء الأضحية بما يأتي:

 

1 ـ العمياء التي لا تبصر بعينيها.

 

2 ـ المبشومة حتى تثلط ويزول عنها الخطر.

 

3 ـ المتولدة إذا تعسرت ولادتها حتى يزول عنها الخطر.

 

4 ـ المصاب بما يميتها من خنق وسقوط من علو ونحوه حتى يزول عنها الخطر.

 

5 ـ الزمنى وهي العاجزة عن المشي لعاهة.

 

6 ـ مقطوعة إحدى اليدين أو الرجلين.

 

فإذا ضممت ذلك إلى العيوب الأربعة المنصوص عليها صار ما لا يضحى به عشرة. هذه الستة وما تعيب بالعيوب الأربعة السابقة (1) .

 

الشرط الرابع: أن تكون ملكاً للمضحي، أو مأذوناً له فيها من قبل الشرع، أو من قبل المالك فلا تصح التضحية بما لا يملكه كالمغصوب والمسروق والمأخوذ بدعوى باطلة ونحوه؛ لأنه لا يصح التقرب إلى الله بمعصيته. وتصح تضحية ولي اليتيم له من ماله إذا جرت به العادة وكان ينكسر قلبه بعدم الأضحية.

 

وتصح تضحية الوكيل من مال موكله بإذنه.

 

الشرط الخامس: أن لا يتعلق بها حق للغير فلا تصح التضحية بالمرهون (2) .

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 32 - 36.

(2) هذه الشروط الخمسة في الأضحية، وفي كل ذبح مشروع كهدي التمتع والقران والعقيقة.
৪ ـ এমন শীর্ণতা যা মজ্জা নষ্ট করে দেয়: কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে কোরবানির পশুর মধ্যে কোনগুলো বর্জনীয়, তখন তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন: «চারটি: স্পষ্ট খোড়া যার খোড়ানো প্রকাশ্য, স্পষ্ট কানা যার অন্ধত্ব প্রকাশ্য, স্পষ্ট অসুস্থ যার অসুস্থতা প্রকাশ্য এবং এমন শীর্ণকায় পশু যার হাড়ে মজ্জা অবশিষ্ট নেই»। মালেক মুওয়াত্তা-তে বারা ইবনে আযিব-এর হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত তাঁর অন্য এক বর্ণনা (رواية)-তে রয়েছে, তিনি (রা.) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন: «কোরবানির ক্ষেত্রে চারটি পশু বৈধ নয়», এরপর তিনি অনুরূপ উল্লেখ করলেন।

 

সুতরাং এই চারটি ত্রুটি কোরবানির পশু যথেষ্ট হওয়ার পথে অন্তরায়, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হবে ওই সকল ত্রুটি যা এর সমপর্যায়ভুক্ত বা এর চেয়েও গুরুতর। অতএব, নিচের ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কোরবানি যথেষ্ট হবে না:

 

১ ـ অন্ধ যা উভয় চোখে দেখতে পায় না।

 

২ ـ অতিভোজনের কারণে পেট ফাঁপা বা বদহজমে আক্রান্ত পশু, যতক্ষণ না তা মলত্যাগ করে এবং বিপদমুক্ত হয়।

 

৩ ـ প্রসবকালীন কষ্টে থাকা পশু, যতক্ষণ না তার বিপদ কেটে যায়।

 

৪ ـ এমন বিপদে আক্রান্ত পশু যা তাকে মেরে ফেলতে পারে, যেমন: শ্বাসরোধ হওয়া, উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া ইত্যাদি, যতক্ষণ না তার বিপদ কেটে যায়।

 

৫ ـ পঙ্গু পশু, যা শারীরিক অক্ষমতার কারণে হাঁটতে অসমর্থ।

 

৬ ـ এক হাত বা এক পা কাটা পশু।

 

সুতরাং আপনি যদি এইগুলো দলীলে উল্লিখিত চারটি ত্রুটির সাথে যুক্ত করেন, তবে যেসব পশু দ্বারা কোরবানি করা যায় না তার সংখ্যা দাঁড়ায় দশটি। এই ছয়টি এবং পূর্বে বর্ণিত চারটি ত্রুটিযুক্ত পশু (১)।

 

চতুর্থ শর্ত: পশুটি কোরবানিদাতার মালিকানাধীন হতে হবে, অথবা শরিয়ত বা মালিকের পক্ষ থেকে তাকে অনুমতি প্রাপ্ত হতে হবে। সুতরাং নিজের মালিকানায় নেই এমন পশু দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ হবে না, যেমন: জবরদখল করা, চুরি করা বা মিথ্যা দাবির মাধ্যমে সংগৃহীত পশু ইত্যাদি; কারণ আল্লাহর নাফরমানির মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করা শুদ্ধ নয়। এতিমের অভিভাবক এতিমের সম্পদ থেকে তার পক্ষ থেকে কোরবানি করতে পারেন যদি এটি একটি প্রচলিত প্রথা হয় এবং কোরবানি না দিলে এতিম মর্মাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

 

প্রতিনিধি তার মক্কেলের অনুমতি সাপেক্ষে মক্কেলের অর্থ দ্বারা কোরবানি করতে পারেন।

 

পঞ্চম শর্ত: পশুর সাথে অন্যের কোনো অধিকার সংশ্লিষ্ট থাকা চলবে না। সুতরাং বন্ধক রাখা পশু দ্বারা কোরবানি শুদ্ধ নয় (২)।

--------------------------------------------

(১) মূল কিতাবের ৩২ - ৩৬ পৃষ্ঠা দেখুন।

(২) এই পাঁচটি শর্ত কোরবানির ক্ষেত্রে এবং সকল শরিয়তসম্মত জবাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমন: তামাত্তু ও কিরান হজের হাদয় এবং আকিকা।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
الشرط السادس: أن يضحى بها في الوقت المحدود شرعاً وهو من بعد صلاة العيد يوم النحر إلى غروب الشمس من آخر يوم من أيام التشريق وهو اليوم الثالث عشر من ذي الحجة، فتكون أيام الذبح أربعة: يوم العيد بعد الصلاة، وثلاثة أيام بعده، فمن ذبح قبل فراغ صلاة العيد، أو بعد غروب الشمس يوم الثالث عشر لم تصح أضحيته لما روى البخاري عن البراء بن عازب رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من ذبح قبل الصلاة فإنما هو لحم قدمه لأهله وليس من النسك في شيء» . وروى عن جندب بن سفيان البجلي رضي الله عنه قال: شهدت النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من ذبح قبل أن يصلي فليعد مكانها أخرى» . وعن نبيشة الهذلي رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أيام التشريق أيام أكل وشرب وذكر لله عز وجل» . رواه مسلم. لكن لو حصل له عذر بالتأخير عن أيام التشريق مثل أن تهرب الأضحية بغير تفريط منه فلم يجدها إلا بعد فوات الوقت، أو يوكل من يذبحها فينسى الوكيل حتى يخرج الوقت فلا بأس أن تذبح بعد خروج الوقت للعذر، وقياساً على من نام عن صلاة أو نسيها فإنه يصليها إذا استيقظ أو ذكرها.

 

ويجوز ذبح الأضحية في الوقت ليلاً ونهاراً، والذبح في النهار أولى، ويوم العيد بعد الخطبتين أفضل، وكل يوم أفضل مما يليه؛ لما فيه من المبادرة إلى فعل الخير (1) .

 

‌‌الفصل الثالث: في الأفضل من الأضاحي جنساً أو صفة والمكروه منها

الأفضل من الأضاحي جنساً: الإبل، ثم البقر إن ضحى بها كاملة، ثم الضأن، ثم المعز، ثم سبع البدنة ثم سبع البقرة.

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 20 - 23.
ষষ্ঠ শর্ত: শরিয়ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কুরবানি করা। আর তা হলো কুরবানির দিন (নহরের দিন) ঈদের নামাজের পর থেকে আইয়ামে তাশরিকের শেষ দিন অর্থাৎ জিলহজ মাসের তেরো তারিখের সূর্যাস্ত পর্যন্ত। সুতরাং জবেহ করার দিন হলো চারটি: ঈদের দিন নামাজের পর এবং তার পরবর্তী তিন দিন। অতএব, যে ব্যক্তি ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার আগে কিংবা তেরো তারিখ সূর্যাস্তের পর জবেহ করবে, তার কুরবানি সঠিক (صحيح) হবে না। কারণ বুখারি বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি নামাজের আগে জবেহ করল, সে মূলত তার পরিবারের জন্য গোশতের ব্যবস্থা করল, এটি ইবাদতের কোনো অংশ নয়»। আর জানদাব বিন সুফিয়ান আল-বাজালি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «যে ব্যক্তি নামাজের আগে জবেহ করল, সে যেন তার স্থলে অন্য একটি পশু জবেহ করে»। আর নুবাইশাহ আল-হুজালি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আইয়ামে তাশরিক হলো পানাহার ও মহান আল্লাহর জিকিরের দিন»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। তবে যদি আইয়ামে তাশরিকের পরে বিলম্ব করার পিছনে কোনো ওজর বা যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে, যেমন—কুরবানির পশুটি কোনো অবহেলা ছাড়াই পালিয়ে গেল এবং সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর সেটি পাওয়া গেল, অথবা কাউকে জবেহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে ভুলবশত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মনে করল, তবে ওজরের কারণে সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর জবেহ করাতে কোনো সমস্যা নেই। এটি ওই ব্যক্তির অবস্থার সাথে কিয়াস বা তুলনা করে যার ঘুমের কারণে নামাজ ছুটে গেছে অথবা যে তা ভুলে গেছে, কারণ সে যখনই জাগ্রত হবে বা স্মরণে আসবে তখনই তা আদায় করে নেবে।

 

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাতে বা দিনে যেকোনো সময় কুরবানি করা জায়েজ, তবে দিনের বেলায় জবেহ করা উত্তম। ঈদের দিন দুই খুতবার পর কুরবানি করা শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিটি দিন তার পরবর্তী দিনের চেয়ে উত্তম; কেননা এতে নেক কাজে দ্রুত ধাবিত হওয়ার বিষয়টি রয়েছে (১)।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: প্রজাতির দিক থেকে কিংবা গুণের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ কুরবানি এবং মাকরুহ কুরবানি প্রসঙ্গে

প্রজাতির দিক থেকে উত্তম কুরবানি হলো: উট, এরপর গরু—যদি পূর্ণ একটি গরু কুরবানি করা হয়, এরপর ভেড়া বা দুম্বা, এরপর ছাগল, এরপর উটের সাত ভাগের এক ভাগ, এরপর গরুর সাত ভাগের এক ভাগ।

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: মূল কিতাব, পৃষ্ঠা ২০ - ২৩।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
والأفضل منها صفة: الأسمن الأكثر لحماً الأكمل خلقة الأحسن منظراً. وفي صحيح البخاري عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يضحي بكبشين أقرنين أملحين. والكبش: العظيم من الضأن. والأملح ما خالط بياضه سواد فهو أبيض في سواد. وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: ضحى النبي صلى الله عليه وسلم بكبش أقرن فحيل يأكل في سواد، وينظر في سواد ويمشي في سواد. أخرجه الأربعة، وقال الترمذي: حسن صحيح. والفحيل: الفحل، ومعنى يأكل في سواد إلى آخره أن شعر فمه وعينيه وأطرافه أسود. وعن أبي رافع مولى النبي صلى الله عليه وسلم قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا ضحى اشترى كبشين سمينين وفي لفظ: موجوءين. رواه أحمد.

 

السمين: كثير الشحم واللحم. والموجوء: الخصي وهو أكمل من الفحل من حيث طيب اللحم غالباً. والفحل أكمل من حيث تمام الخلقة والأعضاء.

 

هذا هو الأفضل من الأضاحي جنساً وصفة.

 

وأما المكروه منها فهي:

 

1 ـ العضباء: وهي ما قطع من أذنها أو قرنها النصف فأكثر.

 

2 ـ المقابلة ـ بفتح الباء ـ: وهي التي شقت أذنها عرضاً من الأمام.

 

3 ـ المدابرة ـ بفتح الباء ـ: وهي التي شقت أذنها عرضاً من الخلف.

 

4 ـ الشرقاء: وهي التي شقت أذنها طولاً.

 

5 ـ الخرقاء: وهي التي خرقت أذنها.

 

6 ـ المصفرة ـ بضم الميم وسكون الصاد وفتح الفاء والراء ـ: وهي التي قطعت أذنها حتى ظهر صماخها، وقيل المهزولة إذا لم تصل إلى حد تفقد فيه المخ.

 

7 ـ المستأصلة ـ بفتح الصاد ـ: وهي التي ذهب قرنها كله.

 

8 ـ البخقاء: وهي التي بخقت عينها فذهب بصرها وبقيت العين بحالها.
গুণের দিক থেকে এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো: যা অধিক হৃষ্টপুষ্ট, অধিক মাংসল, দৈহিকভাবে পূর্ণাঙ্গ এবং দেখতে সুন্দর। সহীহ বুখারীতে আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সা.) দুটি শিংওয়ালা এবং সাদা-কালো মিশ্রিত বর্ণের ভেড়া কুরবানী করতেন। 'কাবশ' হলো ভেড়া জাতীয় পশুর মধ্যে যা আকারে বড়। 'আমলাহ' হলো এমন বর্ণ যেখানে সাদার সাথে কালোর মিশ্রণ থাকে, অর্থাৎ মূলত কালোর মাঝে সাদা। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী করীম (সা.) একটি শিংওয়ালা শক্তিশালী প্রজননক্ষম ভেড়া কুরবানী করেছিলেন যা কালোয় মুখ দেয়, কালোয় দৃষ্টিপাত করে এবং কালোয় চলাফেরা করে। এটি চারজন (সুনান গ্রন্থকার) বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান সহীহ (حسن صحيح) বলেছেন। 'ফাহীল' অর্থ হলো শক্তিশালী প্রজননক্ষম পুং-পশু; আর 'কালোয় মুখ দেয়' ইত্যাদির অর্থ হলো তার মুখ, চোখ এবং হাত-পায়ের পশম ছিল কালো। নবী করীম (সা.)-এর আযাদকৃত দাস আবু রাফে (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী করীম (সা.) যখন কুরবানী করতেন, তখন দুটি হৃষ্টপুষ্ট ভেড়া ক্রয় করতেন; অন্য বর্ণনায় 'খাসিকৃত' শব্দটি এসেছে। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

 

হৃষ্টপুষ্ট বলতে প্রচুর চর্বি ও মাংসযুক্ত পশুকে বোঝায়। আর 'মাজউ' হলো খাসিকৃত পশু; মাংসের স্বাদের দিক থেকে এটি সাধারণত প্রজননক্ষম পুং-পশু অপেক্ষা উত্তম হয়ে থাকে। তবে দৈহিক পূর্ণতা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের বলিষ্ঠতার দিক থেকে প্রজননক্ষম পুং-পশুই অধিক পূর্ণাঙ্গ।

 

প্রকার ও গুণের দিক থেকে এগুলোই কুরবানীর পশুর মধ্যে সর্বোত্তম।

 

আর যে পশুগুলো কুরবানী করা মাকরূহ সেগুলো হলো:

 

১. আদবা: যার কান অথবা শিংয়ের অর্ধেক বা তার বেশি অংশ কাটা।

 

২. মুক্বাবালাহ —'বা' বর্ণে যবর সহকারে—: যার কান সামনের দিক থেকে আড়াআড়িভাবে চেরা হয়েছে।

 

৩. মুদাবারাহ —'বা' বর্ণে যবর সহকারে—: যার কান পেছনের দিক থেকে আড়াআড়িভাবে চেরা হয়েছে।

 

৪. শারক্বাহ: যার কান লম্বালম্বিভাবে চেরা হয়েছে।

 

৫. খারক্বাহ: যার কান ফুটো করা হয়েছে।

 

৬. মুসাফফারাহ —'মীম' বর্ণে পেশ, 'সাদ' বর্ণে সুকুন এবং 'ফা' ও 'রা' বর্ণে যবর সহকারে—: যার কান এমনভাবে কাটা হয়েছে যে কানের ছিদ্র প্রকাশ হয়ে পড়েছে; কারো মতে এটি এমন জীর্ণশীর্ণ পশু যা মজ্জা হারিয়ে ফেলার পর্যায়ে পৌঁছেনি।

 

৭. মুসতাসিলাহ —'সাদ' বর্ণে যবর সহকারে—: যার পুরো শিং উপড়ে ফেলা হয়েছে বা ভেঙে গেছে।

 

৮. বাখক্বাহ: যার চোখ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ফলে দৃষ্টিশক্তি চলে গেছে, কিন্তু চোখের মণি স্বস্থানে রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
9 ـ المشيعة ـ بفتح الياء المشددة ـ: وهي التي لا تتبع الغنم لضعفها إلا بمن يشيعها فيسوقها لتلحق. ويصح كسر الياء المشددة. وهي التي تتأخر خلف الغنم لضعفها فتكون كالمشيعة لهن.

 

هذه هي المكروهات التي وردت الأحاديث بالنهي عن التضحية بما تعيب بها أو الأمر باجتنابها (1) ، وحمل ذلك على الكراهة للجمع بينها وبين حديث البراء بن عازب رضي الله عنه السابق في الشرط الثالث من شروط الأضحية.

 

ويلحق بهذه المكروهات ما كان مثلها فتكره التضحية بما يأتي (2) :

 

1 ـ البتراء من الإبل والبقر والمعز وهي التي قطع نصف ذنبها فأكثر.

 

2 ـ ما قطع من أليته أقل من النصف. فإن قطع النصف فأكثر فقال جمهور أهل العلم: لا تجزىء. فأما مفقودة الألية بأصل الخلقة فلا بأس بها.

 

3 ـ ما قطع ذكره.

 

4 ـ ما سقط بعض أسنانها ولو كانت الثنايا أو الرباعيات. فإن فقد بأصل الخلقة لم تكره.

 

5 ـ ما قطع شيء من حلمات ثديها. فإن فقد بأصل الخلقة لم تكره. وإن توقف لبنها مع سلامة ثديها فلا بأس بها.

 

فإذا ضممت هذه المكروهات الخمس إلى التسع السابقة صارت المكروهات أربع عشرة.

 

‌‌الفصل الرابع: فيمن تجزىء عنه الأضحية (3)

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 37 - 40.

(2) انظر الأصل ص 40 - 41.

(3) انظر الأصل ص 25 - 30.
৯ — আল-মুশায়্যিআহ (المشيعة) — দ্বিত্বযুক্ত ‘ইয়া’ বর্ণে ফাতহ (জবর) সহকারে: এটি এমন এক পশু যা দুর্বলতার কারণে পালের সাথে চলতে পারে না, যতক্ষণ না কেউ তাকে পেছনে থেকে তাড়িয়ে নিয়ে পালের সাথে মিলিয়ে দেয়। দ্বিত্বযুক্ত ‘ইয়া’ বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে পড়াও শুদ্ধ; এর অর্থ হলো এমন পশু যা দুর্বলতার কারণে পালের পেছনে পড়ে থাকে, ফলে সেগুলোর অনুগমনকারীর মতো হয়।

 

এগুলো হলো অপছন্দনীয় (المكروهات) বিষয়সমূহ, যেগুলোর ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানি করা থেকে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে অথবা এগুলো বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (১)। কোরবানির শর্তাবলির তৃতীয় শর্তে পূর্বে উল্লেখিত বারা ইবনে আযিব (রা.)-এর হাদিস এবং এগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার জন্য এই নিষেধাজ্ঞাকে অপছন্দনীয় (الكراهة) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

 

এই অপছন্দনীয় বিষয়গুলোর সাথে তদ্রূপ অন্যান্য বিষয়ও যুক্ত হবে, ফলে নিম্নোক্ত পশুগুলো দ্বারা কোরবানি করা অপছন্দনীয় (تكره) হবে (২):

 

১ — লেজকাটা (البتراء) উট, গরু বা ছাগল; অর্থাৎ যার লেজের অর্ধেক বা তার বেশি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে।

 

২ — যার পুচ্ছদেশ বা পাছার চর্বিযুক্ত অংশের (ألية) অর্ধেকের কম অংশ কাটা হয়েছে। যদি অর্ধেক বা তার বেশি কাটা হয়, তবে অধিকাংশ (جمهور) আলেম বলেছেন: তা যথেষ্ট হবে না। তবে যদি জন্মগতভাবেই কারো চর্বিযুক্ত পুচ্ছদেশ না থাকে, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

 

৩ — যার পুরুষাঙ্গ কাটা।

 

৪ — যার কিছু দাঁত পড়ে গেছে, এমনকি তা সামনের দাঁত বা তার পাশের দাঁত হলেও। তবে যদি জন্মগতভাবে দাঁত না থাকে, তবে তা অপছন্দনীয় (لم تكره) নয়।

 

৫ — যার স্তনের বোঁটার কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। যদি জন্মগতভাবে না থাকে, তবে তা অপছন্দনীয় (لم تكره) নয়। আর স্তন অক্ষত থাকা সত্ত্বেও যদি দুধ বন্ধ হয়ে যায়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

 

যদি আপনি এই পাঁচটি অপছন্দনীয় বিষয়কে পূর্বের নয়টির সাথে যুক্ত করেন, তবে অপছন্দনীয় (المكروهات) বিষয়ের মোট সংখ্যা চৌদ্দটি হবে।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যার পক্ষ থেকে কোরবানি যথেষ্ট হবে (৩)

--------------------------------------------

(১) মূল গ্রন্থ পৃষ্ঠা ৩৭ - ৪০ দেখুন।

(২) মূল গ্রন্থ পৃষ্ঠা ৪০ - ৪১ দেখুন।

(৩) মূল গ্রন্থ পৃষ্ঠা ২৫ - ৩০ দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
تجزىء الأضحية الواحدة من الغنم عن الرجل وأهل بيته ومن شاء من المسلمين؛ لحديث عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بكبش أقرن يطأ في سواد، ويبرك في سواد، وينظر في سواد فأتي به ليضحي به فقال لها: «يا عائشة هلمي المدية (أي أعطيني السكين) ففعلت ثم أخذها وأخذ الكبش فأضجعه ثم ذبحه (أي أخذ يستعد لذبحه) ثم قال: بسم الله، اللهم تقبل من محمد، وآل محمد، ومن أمة محمد ثم ضحى به» . رواه مسلم، وما بين القوسين تفسير وليس من أصل الحديث. وعن أبي رافع رضي الله عنه «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يضحي بكبشين أحدهما عنه وعن آله، والاخر عن أمته جميعاً» ، رواه أحمد. وعن أبي أيوب الأنصاري رضي الله عنه قال: «كان الرجل في عهد النبي صلى الله عليه وسلم يضحي بالشاة عنه وعن أهل بيته، فيأكلون ويطعمون» . رواه ابن ماجه والترمذي وصححه.

 

فإذا ضحى الرجل بالواحدة من الغنم الضأن أو المعز عنه وعن أهل بيته أجزأ عن كل من نواه من أهل بيته من حي وميت، فإن لم ينو شيئاً يعم أو يخص دخل في أهل بيته كل من يشمله هذا اللفظ عرفاً أو لغة، وهو في العرف لمن يعولهم من زوجات وأولاد وأقارب، وفي اللغة: لكل قريب له من ذريته وذرية أبيه وذرية جده وذرية جد أبيه.

 

ويجزىء سبع البعير أو سبع البقر عما تجزىء عنه الواحدة من الغنم، فلو ضحى الرجل بسبع بعير أو بقرة عنه وعن أهل بيته أجزأه ذلك؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم جعل سبع البدنة والبقرة قائماً مقام الشاة في الهدي فكذلك يكون في الأضحية لعدم الفرق بينها وبين الهدي في هذا.
একটি ভেড়া বা ছাগল একজন ব্যক্তি, তার পরিবারের সদস্য এবং মুসলিমদের মধ্যে সে যাদের চায় তাদের পক্ষ থেকে কুরবানি হিসেবে যথেষ্ট হয়; এর স্বপক্ষে দলিল হলো আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবি (সা.) একটি শিংবিশিষ্ট দুম্বা নিয়ে আসার নির্দেশ দেন যা কালোর মধ্যে হাঁটে, কালোর মধ্যে বসে এবং কালোর মধ্যে দেখে। অতঃপর কুরবানি করার জন্য সেটি নিয়ে আসা হলে তিনি তাঁকে বললেন: «হে আয়েশা, ছুরিটি নিয়ে এসো (অর্থাৎ আমাকে ছুরিটি দাও)»। তিনি তা করলেন। এরপর তিনি সেটি নিলেন এবং দুম্বাটিকে ধরে শুইয়ে দিলেন, তারপর জবেহ করলেন (অর্থাৎ জবেহ করার প্রস্তুতি নিলেন)। অতঃপর বললেন: «বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ, মুহাম্মাদের পরিবার এবং মুহাম্মাদের উম্মতের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন। এরপর তিনি সেটি কুরবানি করলেন»। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর বন্ধনীভুক্ত অংশগুলো ব্যাখ্যা মাত্র, যা মূল হাদিসের অংশ নয়। আবু রাফে (রা.) থেকে বর্ণিত যে, «নবি (সা.) দুটি দুম্বা কুরবানি করতেন; একটি নিজের ও নিজের পরিবারের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি তাঁর পুরো উম্মতের পক্ষ থেকে»। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «নবি (সা.)-এর যুগে এক ব্যক্তি নিজের ও নিজের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বকরি কুরবানি করত, অতঃপর তারা নিজেরা খেত এবং অন্যদের খাওয়াত»। এটি ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি নিজের এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ভেড়া বা ছাগল কুরবানি করে, তবে তার পরিবারের সদস্য যাদের জন্য সে নিয়ত করেছে তারা জীবিত হোক বা মৃত—সবার পক্ষ থেকে তা যথেষ্ট হবে। যদি সে সুনির্দিষ্ট বা সাধারণ কোনো নিয়ত না করে, তবে তার 'পরিবার' শব্দের অধীনে আভিধানিক বা প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী যারা পড়ে তারা সবাই এর অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রচলিত প্রথা (উর্ফ) অনুযায়ী এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো স্ত্রী, সন্তান এবং নিকটাত্মীয় যারা তার ভরণপোষণে রয়েছে। আর আভিধানিক অর্থে: তার বংশধর, তার পিতার বংশধর, তার দাদার বংশধর এবং তার প্রপিতামহের বংশধরদের মধ্যে যারা তার নিকটাত্মীয় তারা সবাই এর অন্তর্ভুক্ত।

 

একটি উট বা গরুর এক-সপ্তমাংশ সেই সব ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয় যে ক্ষেত্রে একটি ভেড়া বা ছাগল যথেষ্ট। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি নিজের এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি উট বা গরুর সাত ভাগের এক ভাগ কুরবানি করে, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে; কারণ নবি (সা.) হাদি-র ক্ষেত্রে উট বা গরুর এক-সপ্তমাংশকে একটি বকরির স্থলাভিষিক্ত করেছেন। কুরবানির ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই হবে, কারণ এ বিষয়ে কুরবানি ও হাদি-র মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ولا تجزىء الواحدة من الغنم عن شخصين فأكثر يشتريانها فيضحيان بها؛ لعدم ورود ذلك في الكتاب والسنة، كما لا يجزىء أن يشترك ثمانية فأكثر في بعير أو بقرة؛ لأن العبادات توقيفية لا يجوز فيها تعدي المحدود كمية وكيفية، وهذا في غير الاشتراك في الثواب، فقد ورد التشريك فيه بدون حصر كما سبق.

 

وعلى هذا فإذا وجدت وصايا لجماعة كل واحد موص بأضحية من ريع وقف مثلاً، ولم يكف ريع كل وصية لها فإنه لا يجوز جمع هذه الوصايا في أضحية واحدة، لما عرفت من أن الواحدة من الغنم لا تجزىء عن شخصين فأكثر في غير الثواب، وعلى هذا فيجمع الريع حتى يبلغ ثمن الأضحية، فإن كان ضئيلاً لا يجتمع إلا بعد سنوات تصدق به في عشر ذي الحجة.

 

أما لو كان الموصي واحداً أوصى بعدة ضحايا فلم يكف الريع لجميعها فإن شاء الوصي جمع الضحايا في أضحية واحدة لأن الموصي واحد، وإن شاء ضحى أضحية في سنة، وأضحية في سنى أخرى والأولى أولى.

 

(تنبيه هام) : يقدر بعض الموصين قيمة الأضحية من الريع لقصد المبالغة في غلائها استبعاداً منه أن تبلغ ما قدر فيقول يضحي عني ولو بلغت الأضحية ريالاً؛ لأنها كانت في وقته أرخص بكثير فيعمد بعض الأوصياء الذين لا يخافون الله فيعطل الأضحية بحجة أن الموصي قدر قيمتها بريال ولا توجد أضحية بريال، مع أن الريع كثير وهذا حرام عليه وهو آثم بذلك، وعليه أن يضحي ولو بلغت الأضحية آلاف الريالات مادام الريع يكفي لذلك؛ لأن مقصود الموصي من التقدير المبالغة في قيمة الأضحية لا تحديدها بهذا المقدار.

 

‌‌الفصل الخامس: فيما تتعين به الأضحية وأحكامه

تتعين الأضحية بواحد من أمرين:

এবং একটি ছাগল দুই বা ততোধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয় না যারা এটি ক্রয় করে কুরবানি করে; কারণ কুরআন ও সুন্নাহতে এর কোনো ভিত্তি নেই। একইভাবে একটি উট বা গরুর ক্ষেত্রে আট বা ততোধিক ব্যক্তি অংশীদার হওয়া যথেষ্ট নয়; কেননা ইবাদতসমূহ বিধানবদ্ধ (توقيفية), যেখানে পরিমাণ ও পদ্ধতির নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করা জায়েজ নয়। তবে এটি সওয়াবে অংশীদার হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ সওয়াবে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই অংশীদারিত্বের বিষয়টি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

 

অতএব, যদি একদল ব্যক্তির পক্ষ থেকে এমন কোনো অসিয়ত থাকে যেখানে প্রত্যেকে ওয়াকফকৃত সম্পত্তির আয় থেকে কুরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রত্যেক অসিয়তের জন্য বরাদ্দকৃত আয় কুরবানির জন্য পর্যাপ্ত না হয়, তবে এই অসিয়তগুলোকে একত্রিত করে একটি কুরবানি করা জায়েজ হবে না। কারণ ইতিপূর্বে জানা গেছে যে, সওয়াব ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে একটি ছাগল দুই বা ততোধিক ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয় না। এমতাবস্থায়, আয় জমা করতে হবে যতক্ষণ না তা কুরবানির মূল্যে পৌঁছায়। আর যদি আয় অত্যন্ত সামান্য হয় এবং কয়েক বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তা একত্রিত না হয়, তবে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে তা সদকা করে দিতে হবে।

 

কিন্তু যদি অসিয়তকারী একজন হন যিনি একাধিক কুরবানির অসিয়ত করেছেন, অথচ আয় সবগুলোর জন্য যথেষ্ট নয়, তবে অসিয়ত পালনকারী চাইলে কুরবানিগুলোকে একটি কুরবানিতে একত্রিত করতে পারেন; যেহেতু অসিয়তকারী একজনই। আবার তিনি চাইলে এক বছর একটি কুরবানি এবং অন্য বছর আরেকটি কুরবানি করতে পারেন, তবে প্রথম পদ্ধতিটিই উত্তম।

 

(গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা): কিছু অসিয়তকারী উচ্চমূল্যের প্রতি আধিক্য বোঝানোর উদ্দেশ্যে আয়ের একটি অংশ থেকে কুরবানির মূল্য নির্ধারণ করেন এই ধারণায় যে, মূল্য হয়তো সেই নির্ধারিত সীমায় পৌঁছাবে না। ফলে তিনি বলেন: 'আমার পক্ষ থেকে কুরবানি করা হোক যদিও কুরবানির মূল্য এক রিয়াল হয়'; কারণ তার সময়ে এর দাম অনেক কম ছিল। কিন্তু আল্লাহকে ভয় করে না এমন কিছু অসিয়ত পালনকারী এই অজুহাতে কুরবানি বন্ধ করে দেয় যে, অসিয়তকারী মূল্য এক রিয়াল নির্ধারণ করেছেন অথচ এক রিয়ালে কোনো কুরবানি পাওয়া যায় না। অথচ হাতে প্রচুর আয় রয়েছে। তার জন্য এমনটি করা হারাম এবং এর মাধ্যমে সে গুনাহগার হবে। তার ওপর আবশ্যক হলো কুরবানি করা, যদিও কুরবানির মূল্য কয়েক হাজার রিয়াল হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত আয় তা সংকুলান করে। কেননা অসিয়তকারীর মূল্য নির্ধারণের উদ্দেশ্য ছিল কুরবানির মূল্যের আধিক্য বোঝানো, এই নির্দিষ্ট পরিমাণে সীমাবদ্ধ করা নয়।

 

‌‌পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যা দ্বারা কুরবানি নির্দিষ্ট (تتعين) হয় এবং এর বিধানাবলী

কুরবানি দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট (تتعين) হয়:
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
أحدهما: اللفظ بأن يقول: هذه أضحية. قاصداً إنشاء تعيينها، فأما إن قصد الإخبار عما يريد بها في المستقبل فإنها لا تتعين بذلك؛ لأن المقصود به الإخبار عما سيفعل بها في المستقبل لا إنشاء تعيينها.

 

الثاني: الفعل وهو نوعان:

 

أحدهما: ذبحها بنية الأضحية، فمتى ذبحها بهذه النية ثبت لها حكم الأضحية.

 

ثانيهما: شراؤها بنية الأضحية إذا كانت بدلاً عن معينة، مثل أن يعين أضحية فتتلف بتفريط منه فيشتري أخرى بنية أنها بدل عن التي تلفت فهذه تكون أضحية بمجرد الشراء بهذه النية؛ لأنها بدل عن معينة، والبدل له حكم المبدل. أما إذا لم تكن بدلاً عن معينة فإنها لا تتعين بالشراء بنية الأضحية، كما لو اشترى عبداً يريد أن يعتقه فإنه لا يصير عتيقاً بمجرد الشراء، أو اشترى شيئاً ليجعله وقفاً فإنه لا يصير وقفاً بمجرد الشراء، فكذلك إذا اشترى بهيمة بنية أنها أضحية فلا تكون أضحية بمجرد ذلك.

 

وإذا تعينت الأضحية تعلق بها أحكام (1) :

 

الأول: أنه لا يجوز التصرف بها بما يمنع التضحية بها من بيع وهبة ورهن وغيرها إلا أن يبدلها بخير منها لمصلحة الأضحية، لا لغرض في نفسه، فلو عين شاة أضحية ثم تعلقت بها نفسه لغرض من الأغراض فندم وأبدلها بخير منها ليستبقيها لم يجز له ذلك؛ لأنه رجوع فيما أخرجه لله تعالى لحظ نفسه لا لمصلحة الأضحية.

 

الثاني: أنه إذا مات بعد تعيينها لزم الورثة تنفيذها، وإن مات قبل التعيين فهي ملكهم يتصرفون فيها بما شاءوا.

--------------------------------------------

(1) حكم الهدي في هذه الأحكام كحكم الأضحية.
أحدهما: এর মধ্যে একটি হলো: শব্দ বা মৌখিক অভিব্যক্তি। যেমন কোনো ব্যক্তি যদি বলে: "এটি কুরবানির পশু (أضحية)"। এখানে তার উদ্দেশ্য হলো পশুটিকে নির্দিষ্ট (تعيين) করা। তবে সে যদি ভবিষ্যতে যা করতে চায় সে সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলে, তবে এর মাধ্যমে তা নির্দিষ্ট হবে না; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে পশুর সাথে সে কী করবে তা জানানো, পশুটিকে নির্দিষ্ট (تعيين) করা নয়।

 

الثاني: দ্বিতীয়ত: কাজ বা কর্ম, যা দুই প্রকার:

 

أحدهما: প্রথমটি হলো: কুরবানির (أضحية) নিয়তে তা জবেহ করা। যখনই সে এই নিয়তে জবেহ করবে, তখন তার জন্য কুরবানির (أضحية) বিধান সাব্যস্ত হবে।

 

ثانيهما: দ্বিতীয়টি হলো: নির্দিষ্ট কোনো পশুর স্থলাভিষিক্ত (بدل) হিসেবে কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করা। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ একটি কুরবানির পশু নির্দিষ্ট করে এবং পরবর্তীতে তার অবহেলার কারণে সেটি বিনষ্ট হয়ে যায়, অতঃপর সে এই নিয়তে অন্য একটি পশু ক্রয় করে যে এটি পূর্বের নষ্ট হওয়া পশুর স্থলাভিষিক্ত (بدل), তবে এই নিয়তে ক্রয় করার মাধ্যমেই এটি কুরবানির পশু (أضحية) হিসেবে নির্দিষ্ট হয়ে যাবে; কারণ এটি নির্দিষ্ট পশুর স্থলাভিষিক্ত (بدل), আর স্থলাভিষিক্তের (بدل) বিধান মূল পশুর (مبدل) বিধানের মতোই। পক্ষান্তরে, যদি তা নির্দিষ্ট কোনো পশুর স্থলাভিষিক্ত (بدل) না হয়, তবে কেবল কুরবানির নিয়তে ক্রয় করার মাধ্যমে তা নির্দিষ্ট হবে না। যেমন, কেউ যদি কোনো ক্রীতদাসকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ক্রয় করে, তবে কেবল ক্রয়ের মাধ্যমেই সে মুক্ত হয়ে যায় না। অথবা যদি কোনো বস্তু ওয়াকফ (وقف) করার জন্য ক্রয় করে, তবে কেবল ক্রয়ের মাধ্যমেই তা ওয়াকফ (وقف) হিসেবে গণ্য হয় না। অনুরূপভাবে যদি কেউ কুরবানির নিয়তে কোনো চতুষ্পদ জন্তু ক্রয় করে, তবে শুধুমাত্র ক্রয়ের কারণে তা কুরবানির পশু (أضحية) হিসেবে নির্দিষ্ট হয়ে যায় না।

 

আর যখন কুরবানির পশু (أضحية) নির্দিষ্ট হয়ে যায়, তখন তার সাথে কিছু বিধান (১) সংশ্লিষ্ট হয়:

 

الأول: প্রথমত: এমন কোনো উপায়ে সেই পশুটি ব্যবহার বা লেনদেন করা বৈধ নয় যা কুরবানি (تضحية) করার পথে বাধা সৃষ্টি করে—যেমন বিক্রি করা, দান (هبة) করা, বন্ধক (رهن) রাখা ইত্যাদি। তবে কুরবানির বৃহত্তর স্বার্থে—ব্যক্তিগত কোনো উদ্দেশ্যে নয়—যদি তার চেয়ে উত্তম পশুর মাধ্যমে তা পরিবর্তন (بدل) করা হয়, তবে তা বৈধ। কিন্তু যদি কেউ একটি ছাগলকে কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট করে এবং পরবর্তীতে কোনো বিশেষ কারণে নিজের প্রয়োজনে সেটি রেখে দিতে চায় এবং অনুতপ্ত হয়ে তার চেয়ে উত্তম আরেকটি পশুর সাথে তা পরিবর্তন করে, তবে তা জায়েজ হবে না। কারণ এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা উৎসর্গ করা হয়েছে তা থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ফিরে আসা, কুরবানির স্বার্থে নয়।

 

الثاني: দ্বিতীয়ত: পশুটি নির্দিষ্ট করার পর যদি ব্যক্তি মারা যান, তবে উত্তরাধিকারীদের (ورثة) ওপর তা কার্যকর করা আবশ্যক। কিন্তু যদি নির্দিষ্ট করার আগেই তিনি মারা যান, তবে তা তাদের মালিকানাধীন সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে এবং তারা তাদের ইচ্ছামতো তা ব্যবহার করতে পারবে।

--------------------------------------------

(১) এই বিধানসমূহের ক্ষেত্রে হাদয়ি (هدي) এর বিধান কুরবানির (أضحية) বিধানের মতোই।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الثالث: أنه لا يستغل شيئاً من منافعها فلا يستعملها في حرث ونحوه، ولا يركبها إلا إذا كان لحاجة وليس عليها ضرر، ولا يحلب من لبنها ما ينقصها أو يحتاجه ولدها المتعين معها، ولا يجز شيئاً من صوفها ونحوه إلا أن يكون أنفع لها فيجزه ويتصدق به أو يهديه أو ينتفع به ولا يبيعه.

 

الرابع: أنها إذا تعيبت عيباً يمنع من الإجزاء مثل أن يشتري شاة فيعينها فتبخق عينها حتى تكون عوراء بينة العور فلها حالان:

 

إحداهما: أن يكون ذلك بفعله أو تفريطه فيجب عليه إبدالها بمثلها على صفتها أو أكمل؛ لأن تعيبها بسببه فلزمه ضمانها بمثلها يذبحه بدلاً عنها، وتكون المعيبة ملكاً له على القول الصحيح يصنع فيها ما شاء من بيع وغيره.

 

الثانية: أن يكون تعيبها بدون فعل منه ولا تفريط فيذبحها وتجزئه إلا أن تكون واجبة في ذمته قبل التعيين لأنها أمانة عنده وقد تعيبت بدون فعل منه ولا تفريط فلا حرج عليه ولا ضمان.

 

فإن كانت واجبة في ذمته قبل التعيين وجب عليه إبدالها بسليمة تجزىء عما في ذمته، مثل أن يقول لله علي نذر أن أضحي هذا العام فيشتري أضحية فيعينها عما نذر ثم تصاب بعيب يمنع من الإجزاء فيلزمه أن يبدلها بسليمة تجزىء في الأضحية، وتكون المعيبة له، لكن إن كانت أعلى من البدل لزمه أن يتصدق بالأرش وهو فرق ما بين القيمتين.

 

الخامس: أنها إذا ضاعت أو سرقت فلها حالان أيضاً:

 

إحداهما: أن يكون ذلك بتفريط منه مثل أن يضعها في مكان غير محرز فتهرب أو تسرق فيجب عليه إبدالها بمثلها على صفتها أو أكمل يذبحه بدلاً عنها، وتكون الضائعة أو المسروقة ملكاً له يصنع فيها إذا حصل عليها ما شاء من بيع وغيره.
তৃতীয়: তিনি এর কোনো উপকারিতা ভোগ করবেন না, তাই তিনি এটিকে হালচাষ বা অনুরূপ কাজে ব্যবহার করবেন না এবং বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এবং এতে কোনো ক্ষতি না হলে আরোহণ করবেন না। এর দুধ দোহন করবেন না যা এর ক্ষতি করে অথবা এর সাথে থাকা বাচ্চার প্রয়োজন হয়। এর পশম বা অনুরূপ কিছু কাটবেন না, যদি না তা এর জন্য বেশি উপকারী হয়; তবে তা কেটে দান করবেন অথবা হাদিয়া দেবেন অথবা নিজে উপকৃত হবেন, কিন্তু তা বিক্রি করবেন না।

 

চতুর্থ: যদি এটি এমন ত্রুটিযুক্ত হয়ে পড়ে যা এর পর্যাপ্ততা (إجزاء) বাধাগ্রস্ত করে, যেমন একটি ভেড়া ক্রয় করে তা নির্দিষ্ট করার পর তার চোখ নষ্ট হয়ে গেল এবং তা স্পষ্টত অন্ধ হয়ে গেল, তবে এর দুটি অবস্থা রয়েছে:

 

প্রথমটি: যদি এটি তার কৃতকর্ম বা অবহেলার কারণে হয়, তবে তার ওপর আবশ্যিক হবে সেটির অনুরূপ বা তার চেয়ে উত্তম গুণসম্পন্ন পশু দিয়ে তা পরিবর্তন করা; কারণ ত্রুটিটি তার কারণেই হয়েছে। ফলে তার জন্য সেটির সমপর্যায়ের দ্বারা ক্ষতিপূরণ প্রদান বাধ্যতামূলক হলো যা সে জবেহ করবে। আর সহিহ (صحيح) মত অনুযায়ী ত্রুটিযুক্ত পশুটি তার মালিকানাধীন থাকবে এবং সেটি বিক্রি বা অন্য যা ইচ্ছা তা করতে পারবে।

 

দ্বিতীয়টি: যদি ত্রুটিটি তার কর্ম বা অবহেলা ব্যতিরেকেই ঘটে থাকে, তবে তিনি সেটি জবেহ করবেন এবং তা পর্যাপ্ত (تجزئه) বলে গণ্য হবে; তবে যদি তা নির্দিষ্ট করার আগেই তার জিম্মায় ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে ভিন্ন কথা। কারণ এটি তার কাছে আমানতস্বরূপ ছিল এবং তা কোনো অবহেলা বা কাজ ছাড়াই ত্রুটিযুক্ত হয়েছে, তাই তার ওপর কোনো গুনাহ বা ক্ষতিপূরণ নেই।

 

যদি নির্দিষ্ট করার পূর্বেই তা তার জিম্মায় ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে তার জিম্মায় যা রয়েছে তা আদায়ের জন্য একটি সুস্থ পশু দিয়ে তা পরিবর্তন করা ওয়াজিব। যেমন কেউ বলল: আল্লাহর জন্য মানত করছি যে আমি এই বছর কুরবানি দেব, এরপর সে কুরবানির পশু ক্রয় করে মানত হিসেবে নির্দিষ্ট করল, অতঃপর সেটি এমন ত্রুটির সম্মুখীন হয় যা এর পর্যাপ্ততা (إجزاء) বাধাগ্রস্ত করে, তবে তার ওপর আবশ্যক হলো সেটি পরিবর্তন করে একটি সুস্থ পশু দেওয়া যা কুরবানি হিসেবে পর্যাপ্ত (تجزئه) হবে। আর ত্রুটিযুক্ত পশুটি তার থাকবে। কিন্তু যদি সেটি বিনিময়কৃত পশুর চেয়ে দামী হয়, তবে তার ওপর 'আরশ' অর্থাৎ উভয় মূল্যের পার্থক্যটুকু দান করা আবশ্যক।

 

পঞ্চমত: যদি এটি হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায়, তবে এরও দুটি অবস্থা রয়েছে:

 

প্রথমটি: যদি এটি তার অবহেলার কারণে হয়, যেমন কোনো সুরক্ষিত নয় এমন স্থানে এটি রাখা এবং সেটি পালিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়া। এমতাবস্থায় তার ওপর এর সমপর্যায়ের বা তার চেয়ে উত্তম গুণসম্পন্ন পশু দ্বারা তা পরিবর্তন করা ওয়াজিব যা সে তার পরিবর্তে জবেহ করবে। আর হারানো বা চুরি হওয়া পশুটি ফিরে পেলে তা তার মালিকানাধীন থাকবে এবং সেটি দ্বারা সে যা ইচ্ছা তা করতে পারবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الثانية: أن يكون ذلك بدون تفريط منه فلا ضمان عليه إلا أن تكون واجبة في ذمته قبل التعيين لأنها أمانة عنده ولا ضمان على الأمين إذا لم يفرط، لكن متى حصل عليها وجب عليه التضحية بها ولو بعد فوات وقت الذبح، وكذا لو غرمها السارق فيجب التضحية بما غرمه لصاحبها على صفتها بدون نقص.

 

فإن كانت واجبة في ذمته قبل التعيين وجب عليه أن يذبح بدلها ما يجزىء عما في ذمته، ومتى حصل عليها فهي له يصنع فيها ما شاء من بيع وغيره، لكن إن كان البدل الذي ذبحه عنها أنقص منها وجب عليه أن يتصدق بأرش النقص وهو فرق ما بين القيمتين (1) .

 

السادس: أنها إذا أتلفت فلها ثلاث حالات:

 

إحداها: أن يكون تلفها بأمر لا صنع للادمي فيه كالمرض والافة السماوية والفعل الذي تفعله هي فتموت به فلا ضمان عليه، إلا أن تكون واجبة في ذمته قبل التعيين؛ لأنها أمانة عنده تلفت بسبب لا يمكن التضمين فيه فلم يكن عليه ضمان.

 

فإن كانت واجبة في ذمته قبل التعيين وجب عليه أن يذبح بدلها ما يجزىء عما في ذمته.

 

الثانية: أن يكون تلفها بفعل مالكها فيجب عليه أن يذبح بدلها على صفتها أو أكمل؛ لوجوب ضمانها حينئذ.

 

الحال الثالثة: أن يكون تلفها بفعل آدمي غير مالكها فإن كان لا يمكن تضمينه كقطاع الطرق فحكمها حكم ما تلفت بأمر لا صنع للادمي فيه على ما سبق في الحال الأولى. وإن كان يمكن تضمينه كشخص معين ذبحها فأكلها أو قتلها ونحوه فإنه يجب عليه ضمانها بمثلها يدفعه إلى صاحبها ليضحي به إلا أن يبرئه صاحبها من ذلك ويقوم بما يجب من ضمانها.

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 43- 45.
দ্বিতীয়ত: এটি যেন তার পক্ষ থেকে কোনো প্রকার অবহেলা (تفريط) ছাড়াই ঘটে; এমতাবস্থায় তার ওপর কোনো দায়বদ্ধতা (ضمان) থাকবে না, যদি না নির্দিষ্ট করার পূর্বেই তা তার জিম্মায় আবশ্যক (واجبة) হয়ে থাকে। কারণ এটি তার নিকট আমানত (أمانة) স্বরূপ, আর আমানতদার (الأمين) যদি অবহেলা না করেন তবে তার ওপর কোনো দায়বদ্ধতা (ضمان) নেই। তবে যখনই সে এটি ফিরে পাবে, তখন তার জন্য এটি কুরবানি করা ওয়াজিব হবে, এমনকি জবেহ করার সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও। তদ্রূপ যদি চোর এর জরিমানা প্রদান করে, তবে মালিককে যা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে তা দিয়েই তার গুণাগুণ বজায় রেখে কোনো প্রকার ঘাটতি ছাড়াই কুরবানি করা আবশ্যক হবে।

 

যদি তা নির্দিষ্ট করার পূর্বেই তার জিম্মায় আবশ্যক (واجبة) থেকে থাকে, তবে তার পরিবর্তে এমন কিছু জবেহ করা তার ওপর ওয়াজিব যা তার জিম্মায় থাকা পশুর পক্ষ থেকে যথেষ্ট (يُجزئ) হয়। আর যখনই সে (হারানো পশুটি) ফিরে পাবে, তখন তা তার মালিকানাধীন হবে এবং সে তা বিক্রয় বা অন্য যা ইচ্ছা তা করতে পারবে। কিন্তু তার পরিবর্তে যা জবেহ করা হয়েছে তা যদি মূল পশুটি থেকে নিম্নমানের হয়, তবে মূল্যের যে ঘাটতি বা ক্ষতিপূরণ (أرش النقص) রয়েছে তা সদকা করা তার ওপর আবশ্যক হবে; আর তা হলো উভয় মূল্যের মধ্যবর্তী ব্যবধান (১)।

 

ষষ্ঠত: পশুটি যদি বিনষ্ট হয়ে যায়, তবে তার তিনটি অবস্থা রয়েছে:

 

প্রথমত: পশুর বিনাশ যদি এমন কোনো কারণে হয় যাতে মানুষের কোনো হাত নেই, যেমন: রোগ-ব্যাধি, আসমানি আপদ (الافة السماوية) কিংবা পশুর নিজস্ব কোনো কাজ যার ফলে সে মারা যায়; তবে তার ওপর কোনো দায়বদ্ধতা (ضمان) থাকবে না, যদি না নির্দিষ্ট করার পূর্বে তা তার জিম্মায় ওয়াজিব হয়ে থাকে। কারণ এটি তার কাছে আমানত (أمانة) হিসেবে ছিল যা এমন কারণে বিনষ্ট হয়েছে যার দায়ভার চাপানো সম্ভব নয়, ফলে তার ওপর কোনো দায়বদ্ধতা বর্তাবে না।

 

আর যদি নির্দিষ্ট করার পূর্বেই তা তার জিম্মায় ওয়াজিব থেকে থাকে, তবে তার পরিবর্তে এমন কিছু জবেহ করা তার ওপর ওয়াজিব যা তার জিম্মায় থাকা পশুর পক্ষ থেকে যথেষ্ট (يُجزئ) হবে।

 

দ্বিতীয়ত: যদি মালিকের নিজের কাজের কারণে সেটি বিনষ্ট হয়, তবে তার পরিবর্তে অনুরূপ গুণসম্পন্ন বা তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ পশু জবেহ করা তার ওপর ওয়াজিব; কারণ সেই ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা (ضمان) নিশ্চিত হয়েছে।

 

তৃতীয় অবস্থা: যদি মালিক ব্যতীত অন্য কোনো মানুষের কারণে তা বিনষ্ট হয়—যদি তাকে দায়ী করা (تضمينه) অসম্ভব হয়, যেমন ডাকাত দল (قطاع الطرق)—তবে এর বিধান প্রথম অবস্থায় বর্ণিত বিধানের অনুরূপ হবে, যেখানে মানুষের কোনো হাত থাকে না। আর যদি তাকে দায়ী করা সম্ভব হয়, যেমন নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি সেটি জবেহ করে খেয়ে ফেলেছে কিংবা মেরে ফেলেছে বা এই জাতীয় কিছু করে, তবে তার ওপর ওয়াজিব হলো অনুরূপ একটি পশুর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ (ضمان) প্রদান করা যা সে মালিককে হস্তান্তর করবে যাতে মালিক তা দিয়ে কুরবানি করতে পারে; যদি না মালিক তাকে তা থেকে দায়মুক্ত করে দেয় এবং নিজেই ওয়াজিব হওয়া সেই দায়বদ্ধতা পূরণ করে।

--------------------------------------------

(১) মূল গ্রন্থ দেখুন, পৃষ্ঠা: ৪৩-৪৫।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الحكم السابع: أنها إذا ذبحت قبل وقت الذبح ولو بنية الأضحية فالحكم فيها كالحكم فيما كما إذا أتلفت على ما سبق. وإن ذبحت في وقت الذبح فإن كان الذابح صاحبها أو وكيله فقد وقعت موقعها وإن كان الذابح غير صاحبها ولا وكيله فلها ثلاث حالات:

 

إحداها: أن ينويها عن صاحبها فإن رضي صاحبها بذلك أجزأت، وإن لم يرض بذلك لم تجزىء على الصحيح، ويجب على الذابح ضمانها بمثله يدفعه إلى صاحبها ليضحي به إلا أن يبرئه صاحبها من ذلك ويقوم بما يجب من ضمانها. وقيل: تجزىء وإن لم يرض بذلك وهو المشهور من مذهب أحمد، والشافعي، وأبي حنيفة رحمهم الله.

 

الثانية: أن ينويها عن نفسه لا عن صاحبها. فإن كان يعلم أنها لغيره لم تجز عنه ولا عن غيره ويجب عليه ضمانها بمثلها يدفعه إلى صاحبها ليضحي به إلا أن يبرئه صاحبها من ذلك ويقوم بما يجب من ضمانها، وقيل: تجزىء عن صاحبها وعليه ضمان ما فرق من اللحم. وإن كان لا يعلم أنها لغيره أجزأت عن صاحبها فإن كان ذابحها قد فرق لحمها وجب عليه ضمانه بمثله لصاحبها إلا أن يرضى بتفريقه إياه.

 

الثالثة: أن لا ينويها عن أحد فلا تجزىء عن واحد منهما لعدم النية، وقيل: تجزىء عن صاحبها ومتى أجزأت عن صاحبها في حال من الأحوال السابقة فإن كان اللحم باقياً أخذه صاحبها ليفرقه تفريق أضحية، وإن كان الذابح قد فرقه تفريق أضحية ورضي بذلك صاحبها فلا ضمان على الذابح وإلا ضمنه لصاحبها ليفرقه تفريق أضحية.

 

فائدتان:

 

الأولى: إذا تلفت الأضحية بعد الذبح أو سرقت أو أخذها من لا تمكن مطالبته ولم يفرط صاحبها فلا ضمان على صاحبها، وإن فرط ضمن ما يجب به الصدقة فتصدق به.
সপ্তম বিধান: কুরবানির পশু যদি জবেহ করার সময়ের আগে জবেহ করা হয়, যদিও তা কুরবানির নিয়তে হয়ে থাকে, তবে এর বিধান পূর্বোক্ত নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিধানের মতোই হবে। আর যদি জবেহ করার সময়ের মধ্যে জবেহ করা হয় এবং জবেহকারী যদি মালিক নিজে বা তার প্রতিনিধি হয়, তবে তা যথানিয়মে আদায় হবে। কিন্তু জবেহকারী যদি মালিক বা তার প্রতিনিধি না হয়, তবে এর তিনটি অবস্থা রয়েছে:

 

প্রথমত: জবেহকারী যদি মালিকের পক্ষ থেকে নিয়ত করে, এমতাবস্থায় মালিক যদি তাতে সন্তুষ্ট হয় তবে তা যথেষ্ট হবে। আর যদি সে সন্তুষ্ট না হয়, তবে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত অনুযায়ী তা যথেষ্ট হবে না। এমতাবস্থায় জবেহকারীর ওপর এর অনুরূপ পশুর ক্ষতিপূরণ প্রদান করা ওয়াজিব, যা সে মালিককে প্রদান করবে যাতে মালিক তা দ্বারা কুরবানি দিতে পারে; অবশ্য মালিক যদি তাকে দায়মুক্ত করে দেয় এবং নিজেই ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে তবে ভিন্ন কথা। কেউ কেউ বলেছেন: মালিক সন্তুষ্ট না হলেও তা যথেষ্ট হবে; আর এটিই ইমাম আহমদ, শাফেয়ী এবং আবু হানিফা (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন)-এর মাযহাবের প্রসিদ্ধ (المشهور) মত।

 

দ্বিতীয়ত: জবেহকারী যদি মালিকের পক্ষ থেকে নয় বরং নিজের পক্ষ থেকে নিয়ত করে। এক্ষেত্রে সে যদি জানে যে পশুটি অন্যের, তবে তা তার নিজের পক্ষ থেকে বা অন্য কারো পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে না। তার ওপর এর অনুরূপ পশুর ক্ষতিপূরণ প্রদান করা ওয়াজিব, যা সে মালিককে প্রদান করবে যাতে মালিক তা দিয়ে কুরবানি করতে পারে; তবে মালিক তাকে দায়মুক্ত করলে এবং নিজেই ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নিলে ভিন্ন কথা। কেউ কেউ বলেছেন: এটি মালিকের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে এবং জবেহকারী যে গোশত বণ্টন করেছে তার জরিমানা প্রদান করবে। আর যদি সে না জানে যে পশুটি অন্যের, তবে তা মালিকের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে জবেহকারী যদি এর গোশত বণ্টন করে ফেলে থাকে, তবে মালিকের নিকট তার অনুরূপ জরিমানা প্রদান করা ওয়াজিব, যতক্ষণ না মালিক তার এই বণ্টনে সন্তুষ্ট হয়।

 

তৃতীয়ত: জবেহকারী যদি কারো পক্ষ থেকেই নিয়ত না করে, তবে নিয়তের অভাবে তা কারো পক্ষ থেকেই যথেষ্ট হবে না। কেউ কেউ বলেছেন: এটি মালিকের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। আর যখনই পূর্বোক্ত কোনো অবস্থায় তা মালিকের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে, তখন যদি গোশত অবশিষ্ট থাকে তবে মালিক তা গ্রহণ করবেন যাতে তিনি তা কুরবানির গোশতের ন্যায় বণ্টন করতে পারেন। আর যদি জবেহকারী তা কুরবানির গোশতের ন্যায় বণ্টন করে ফেলে থাকে এবং মালিক তাতে সন্তুষ্ট থাকে, তবে জবেহকারীর ওপর কোনো জরিমানা থাকবে না। অন্যথায়, সে মালিকের কাছে এর জরিমানা প্রদান করবে যাতে মালিক তা কুরবানির গোশতের ন্যায় বণ্টন করতে পারেন।

 

দুটি জ্ঞাতব্য বিষয়:

 

প্রথম: যদি জবেহ করার পর কুরবানির পশু নষ্ট হয়ে যায়, চুরি হয়ে যায় অথবা এমন কেউ নিয়ে যায় যার থেকে তা দাবি করা বা উদ্ধার করা সম্ভব নয়, এবং এতে মালিকের কোনো অবহেলা না থাকে, তবে মালিকের ওপর কোনো দায়বদ্ধতা নেই। আর যদি মালিকের অবহেলা থাকে, তবে যে পরিমাণ সদকা করা ওয়াজিব ছিল তার জরিমানা তিনি দিবেন এবং তা সদকা করবেন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الثانية: إذا ولدت الأضحية بعد التعيين فحكم ولدها حكمها في جميع ما سبق، وإن ولدت قبل التعيين فهو مستقل في حكم نفسه فلا يتبع أمه في كونه أضحية لأنها لم تكن أضحية إلا بعد انفصاله منها.

 

‌‌الفصل السادس: فيما يؤكل ويفرق من الأضحية

يشرع للمضحي أن يأكل من أضحيته، ويهدي، ويتصدق لقوله تعالى: {فَكُلُواْ مِنْهَا وَأَطْعِمُواْ الْبَآئِسَ الْفَقِيرَ} . وقوله تعالى: {فَكُلُواْ مِنْهَا وَأَطْعِمُواْ الْقَنِعَ وَالْمُعْتَرَّ كَذلِكَ سَخَّرْنَهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} . فالقانع السائل المتذلل، والمعتر المتعرض للعطية بدون سؤال، وعن سلمة بن الأكوع رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كلوا وأطعموا وادخروا» . رواه البخاري والإطعام يشمل الهدية للأغنياء والصدقة على الفقراء، وعن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «كلوا وادخروا وتصدقوا» . رواه مسلم.

 

وقد اختلف العلماء رحمهم الله تعالى في مقدار ما يأكل ويهدي ويتصدق، والأمر في ذلك واسع، والمختار أن يأكل ثلثاً، ويهدي ثلثاً، ويتصدق بثلث، وما جاز أكله منها جاز ادخاره ولو بقي مدة طويلة إذا لم يصل إلى حد يضر أكله إلا أن يكون عام مجاعة فلا يجوز الادخار فوق ثلاثة أيام لحديث سلمة بن الأكوع رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من ضحى منكم فلا يصبحن بعد ثالثة وفي بيته منه شيء» . فلما كان العام المقبل قالوا: يا رسول الله نفعل كما فعلنا في العام الماضي، فقال صلى الله عليه وسلم: «كلوا واطعموا وادخروا فإن ذلك العام كان في الناس جهد فأردت أن تعينوا فيها» . متفق عليه.
দ্বিতীয়ত: যদি কুরবানীর পশুটি নির্দিষ্ট করার পর সন্তান প্রসব করে, তবে তার সন্তানের বিধান পূর্বোক্ত সকল বিষয়ে মায়ের বিধানের মতোই হবে। আর যদি পশুটি নির্দিষ্ট করার পূর্বেই প্রসব করে, তবে সেটির বিধান স্বতন্ত্র; কুরবানী হওয়ার ক্ষেত্রে তা তার মায়ের অনুগামী হবে না, কারণ সন্তানটি মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেই কেবল সেটি কুরবানীর পশু হিসেবে গণ্য হয়েছে।

 

‌‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কুরবানীর পশুর যা খাওয়া যাবে এবং যা বণ্টন করা হবে

কুরবানীদাতার জন্য তার কুরবানীর গোশত থেকে নিজে খাওয়া, উপহার দেওয়া এবং দান করা শরিয়তসম্মত। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং অভাবী-দরিদ্রকে আহার করাও।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং অল্পে তুষ্ট ও যাঞ্চাকারীকে আহার করাও; এভাবেই আমি এগুলোকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।" এখানে 'কানে' (القانع) হলো সেই যাঞ্চাকারী যে বিনীতভাবে চায়, আর 'মু'তার' (المعتر) হলো সেই ব্যক্তি যে না চেয়েও পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সামনে আসে। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা খাও, অন্যকে আহার করাও এবং জমা করে রাখো।" এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। এখানে আহার করানো শব্দটি ধনীদের উপহার প্রদান এবং দরিদ্রদের সদকা প্রদান উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা খাও, জমা করে রাখো এবং সদকা করো।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

আলেমগণ (রাহিমাহুল্লাহ) কুরবানীর পশুর কতটুকু অংশ খাওয়া হবে, উপহার দেওয়া হবে এবং দান করা হবে—এর পরিমাণের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। এ বিষয়টি প্রশস্ত (সহজ)। তবে গ্রহণযোগ্য মত হলো—এক-তৃতীয়াংশ আহার করবে, এক-তৃতীয়াংশ উপহার দিবে এবং এক-তৃতীয়াংশ দান করবে। কুরবানীর পশুর যে অংশ খাওয়া জায়েজ, তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত জমা করে রাখাও জায়েজ, যতক্ষণ না তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে দুর্ভিক্ষের বছর হলে তিন দিনের বেশি জমা করে রাখা জায়েজ নয়। সালামা ইবনুল আকওয়া (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিনের পর এমন অবস্থায় ভোরে উপনীত না হয় যে তার ঘরে কুরবানীর গোশতের কিছু অবশিষ্ট থাকে।" পরবর্তী বছর আসলে সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি গত বছরের মতো করব? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা খাও, অন্যকে আহার করাও এবং জমা করে রাখো; কেননা গত বছর মানুষ চরম সংকটে ছিল, তাই আমি চেয়েছিলাম তোমরা তাদের সাহায্য করো।" এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا فرق في جواز الأكل والإهداء من الأضحية بين أن تكون تطوعاً أو واجبة، ولا بين أن تكون عن حي أو ميت أو عن وصية؛ لأن الوصي يقوم مقام الموصي، والموصى يأكل ويهدي ويتصدق؛ ولأن هذا هو العرف الجاري بين الناس، والجاري عرفاً كالمنطوق لفظاً.

 

فأما الوكيل فإن أذن له الموكل في الأكل والإهداء والصدقة أو دلت القرينة أو العرف على ذلك فله فعله وإلا سلمها للموكل وكان توزيعها إليه.

 

ويحرم أن يبيع شيئاً من الأضحية لا لحماً ولا غيره حتى الجلد، ولا يعطي الجازر شيئاً منها في مقابلة الأجرة أو بعضها لأن ذلك بمعنى البيع.

 

فأما من أهدي إليه شيء منها أو تصدق به عليه فله التصرف فيه بما شاء من بيع وغيره، غير أنه لا يبيعه على من أهداه أو تصدق به (1) .

 

‌‌الفصل السابع: فيما يجتنبه من أراد الأضحية

إذا أراد أحد أن يضحي ودخل شهر ذي الحجة إما برؤية هلاله، أو إكمال ذي القعدة ثلاثين يوماً فإنه يحرم عليه أن يأخذ شيئاً من شعره، أو أظفاره أو جلده حتى يذبح أضحيته لحديث أم سلمة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إذا رأيتم هلال ذي الحجة، وفي لفظ: «إذا دخلت العشر وأراد أحدكم أن يضحي فليمسك عن شعره وأظفاره» . رواه أحمد ومسلم، وفي لفظ: «فلا يأخذ من شعره وأظفاره شيئاً حتى يضحي» ، وفي لفظ: «فلا يمس من شعره ولا بشره شيئاً» . وإذا نوى الأضحية أثناء العشر أمسك عن ذلك من حين نيته ولا إثم عليه فيما أخذه قبل النية.

 

والحكمة في هذا النهي أن المضحي لما شارك الحاج في بعض أعمال النسك وهو التقرب إلى الله تعالى بذبح القربان شاركه في بعض خصائص الإحرام من الإمساك عن الشعر ونحوه.

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 51 - 52.
কুরবানির পশু থেকে আহার করা এবং উপহার দেওয়ার বৈধতার ক্ষেত্রে কুরবানিটি নফল হোক বা ওয়াজিব—তাতে কোনো পার্থক্য নেই। তেমনিভাবে তা জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হোক, মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে হোক কিংবা অসিয়তের মাধ্যমে হোক—তাতেও কোনো প্রভেদ নেই; কারণ অসিয়ত পালনকারী ব্যক্তি অসিয়তকারীর স্থলাভিষিক্ত হন। আর যাঁর অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে তিনি তা থেকে আহার করবেন, উপহার দেবেন এবং দান করবেন। কারণ মানুষের মাঝে এটিই প্রচলিত প্রথা, আর প্রচলিত প্রথা মৌখিক নির্দেশের মতোই গণ্য হয়।

 

তবে প্রতিনিধির বিষয়টি হলো, যদি মূল মালিক তাকে আহার করা, উপহার দেওয়া বা দান করার অনুমতি প্রদান করেন অথবা যদি কোনো আলামত বা প্রচলিত প্রথা এর ওপর প্রমাণ বহন করে, তবেই তিনি তা করতে পারবেন। অন্যথায় তিনি তা মূল মালিকের নিকট সমর্পণ করবেন এবং তা বণ্টনের দায়িত্ব মালিকেরই থাকবে।

 

কুরবানির কোনো কিছু বিক্রি করা হারাম, তা গোশত হোক কিংবা অন্য কিছু, এমনকি চামড়াও বিক্রি করা যাবে না। কসাইকে তার পারিশ্রমিক হিসেবে বা পারিশ্রমিকের অংশ হিসেবে কুরবানির পশুর কোনো কিছু দেওয়া যাবে না, কারণ তা বিক্রির পর্যায়ভুক্ত।

 

তবে যাকে কুরবানির কোনো কিছু উপহার দেওয়া হয়েছে বা সদকা হিসেবে দেওয়া হয়েছে, তিনি তার ইচ্ছানুযায়ী তা বিক্রি বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে শর্ত হলো, তিনি তা সেই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করবেন না যিনি তাকে এটি উপহার দিয়েছিলেন বা দান করেছিলেন (১)।

 

‌‌সপ্তম পরিচ্ছেদ: কুরবানিদাতার জন্য বর্জনীয় বিষয়সমূহ

যখন কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে এবং জিলহজ মাস শুরু হয়—চাই তা চাঁদ দেখার মাধ্যমে হোক অথবা জিলকদ মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে হোক—তবে কুরবানি না করা পর্যন্ত তার জন্য নিজের চুল, নখ বা চামড়ার কোনো অংশ কাটা হারাম। উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যখন তোমরা জিলহজ মাসের চাঁদ দেখবে», এবং অন্য একটি শব্দে (لفظ): «যখন (জিলহজের) দশ দিন শুরু হয় এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, সে যেন তার চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে»। এটি আহমাদ ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। অন্য একটি শব্দে (لفظ): «সে যেন কুরবানি না করা পর্যন্ত তার চুল ও নখের কোনো কিছু না কাটে», এবং অন্য একটি শব্দে (لفظ): «সে যেন তার চুল ও চামড়ার কোনো কিছু স্পর্শ না করে»। আর যদি কেউ জিলহজ মাসের দশ দিন চলাকালীন সময়ে কুরবানির নিয়ত করে, তবে নিয়ত করার সময় থেকেই তাকে এসব থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিয়ত করার আগে যা কিছু সে কেটেছে তাতে কোনো গুনাহ হবে না।

 

এই নিষেধাজ্ঞার হিকমত বা রহস্য হলো, কুরবানিদাতা যখন হজের কিছু ইবাদতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কাজ অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে পশু জবেহ করার কাজে অংশগ্রহণ করে, তখন সে ইহরামের কিছু বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেও (যেমন চুল ও নখ না কাটা ইত্যাদি) হাজিদের সাথে শরিক হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মূল গ্রন্থ, পৃষ্ঠা ৫১-৫২।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وهذا حكم خاص بمن يضحي، أما من يضحى عنه فلا يتعلق به؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «وأراد أحدكم أن يضحي» ولم يقل أو يضحى عنه؛ ولأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يضحي عن أهل بيته ولم ينقل عنه أنه أمرهم بالإمساك عن ذلك.

 

وعلى هذا فيجوز لأهل المضحي أن يأخذوا في أيام العشر من الشعر والظفر والبشرة.

 

وإذا أخذ من يريد الأضحية شيئاً من شعره أو ظفره أو بشرته فعليه أن يتوب إلى الله تعالى ولا يعود، ولا كفارة عليه، ولا يمنعه ذلك عن الأضحية كما يظن بعض العوام. وإذا أخذ شيئاً من ذلك ناسياً أو جاهلاً، أو سقط الشعر بلا قصد فلا إثم عليه، وإن احتاج إلى أخذه فله أخذه ولا شيء عليه مثل أن ينكسر ظفره فيؤذيه فيقصه، أو ينزل الشعر في عينيه فيزيله، أو يحتاج إلى قصه لمداواة جرح ونحوه (1) .

 

‌‌الفصل الثامن: في الذكاة وشروطها

الذكاة: فعل ما يحل به الحيوان الذي لا يحل إلا بها من نحر، أو ذبح، أو جرح.

 

فالنحر للإبل: والذبح لغيرها. والجرح لما لا يقدر عليه إلا به.

 

ويشترط للذكاة شروط تسعة:

 

الشرط الأول: أن يكون المذكي عاقلاً مميزاً، فلا يحل ما ذكاه مجنون، أو سكران، أو صغير لم يميز، أو كبير ذهب تمييزه ونحوهم.

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 53 - 55.
এই বিধানটি (حكم) কেবল কোরবানিদাতার (المضحي) জন্য নির্দিষ্ট; আর যার পক্ষ থেকে কোরবানি করা হয় তার সাথে এটি সংশ্লিষ্ট নয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কেউ কোরবানি করার ইচ্ছা করলে...» এবং তিনি বলেননি যে, «অথবা যার পক্ষ থেকে কোরবানি করা হয়»; তদুপরি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে কোরবানি করতেন এবং তাঁদেরকে এ থেকে বিরত (الإمساك) থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে কোনো বর্ণনা (نقل) পাওয়া যায় না।

 

এই ভিত্তিতে কোরবানিদাতার পরিবারের সদস্যদের জন্য যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে চুল, নখ ও চামড়ার অংশ কাটা বৈধ (جائز)।

 

যদি কোরবানি করার ইচ্ছাকারী ব্যক্তি তার চুল, নখ অথবা চামড়ার কিছু অংশ কেটে ফেলে, তবে তাকে আল্লাহর নিকট তাওবা (توبة) করতে হবে এবং পুনরায় এমনটি করা যাবে না। তার ওপর কোনো কাফফারা (كفارة) নেই এবং সাধারণ মানুষের ধারণা অনুযায়ী এটি তাকে কোরবানি করা থেকে বিরত রাখে না। আর যদি কেউ ভুলবশত (ناسياً), অজ্ঞতাবশত (جاهلاً) অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে চুল পড়ে যায়, তবে তার কোনো গুনাহ (إثم) হবে না। আর যদি তা কাটার প্রয়োজন হয়, তবে সে কাটতে পারবে এবং তার ওপর কোনো দায় থাকবে না; যেমন নখ ভেঙে কষ্ট দিলে তা কেটে ফেলা, চোখের ওপর চুল এসে পড়লে তা সরিয়ে ফেলা অথবা ক্ষতস্থানের চিকিৎসার প্রয়োজনে চুল কাটার প্রয়োজন হওয়া (১)।

 

‌‌অষ্টম পরিচ্ছেদ: জবাই (الذكاة) এবং এর শর্তাবলি (شروط) প্রসঙ্গে

জবাই (الذكاة): এমন কাজ করা যার মাধ্যমে ঐ পশুকে হালাল (حلال) করা হয় যা জবাই (الذكاة) ছাড়া হালাল হয় না; যেমন নহর (نحر), জবেহ (ذبح) কিংবা জখম (جرح) করা।

 

উটের জন্য নহর (النحر) এবং অন্যান্য পশুর জন্য জবেহ (الذبح) করা হয়। আর যা কাবু করা যায় না, সে ক্ষেত্রে জখম (الجرح) করতে হয়।

 

জবাইয়ের (الذكاة) জন্য নয়টি শর্ত (شروط) রয়েছে:

 

প্রথম শর্ত: জবাইকারীকে (المذكي) সুস্থ মস্তিস্কসম্পন্ন ও সমঝদার (مميز) হতে হবে। সুতরাং কোনো পাগল (مجنون), মাতাল (سكران), অসমঝদার শিশু কিংবা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলা বৃদ্ধ প্রমুখের জবেহকৃত পশু হালাল (حلال) হবে না।

--------------------------------------------

(১) মূল গ্রন্থ দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা ৫৩ - ৫৫।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الشرط الثاني: أن يكون المذكي مسلماً، أو كتابياً وهو من ينتسب إلى دين اليهود أو النصارى. فأما المسلم فيحل ما ذكاه سواء كان ذكراً أم أنثى، عدلاً أم فاسقاً، طاهراً أم محدثاً. وأما الكتابي فيحل ما ذكاه سواء كان أبوه وأمه كتابيين أم لا. وقد أجمع المسلمون على حل ما ذكاه الكتابي لقوله تعالى: {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَبَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَّهُمْ وَالْمُحْصَنَتُ مِنَ الْمُؤْمِنَتِ وَالْمُحْصَنَتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَبَ مِن قَبْلِكُمْ إِذَآءَاتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِى أَخْدَانٍ وَمَن يَكْفُرْ بِالإِيمَنِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِى الَاْخِرَةِ مِنَ الْخَسِرِينَ} . ولأن النبي صلى الله عليه وسلم أكل من شاة أهدتها له امرأة يهودية، وأكل من خبز شعير وإهالة سنخة دعاه إليهما يهودي (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 56 - 59.
দ্বিতীয় শর্ত: যবেহকারী (مذكي) হতে হবে একজন মুসলিম অথবা কিতাবি (كتابي); আর কিতাবি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ইহুদি বা খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। মুসলিমের ক্ষেত্রে, তার যবেহকৃত পশু হালাল, তিনি পুরুষ হোন বা নারী, ন্যায়পরায়ণ (عدل) হোন বা পাপাচারী (فاسق), পবিত্র (طاهر) হোন বা অপবিত্র/অজুহীন (محدث)। আর কিতাবির ক্ষেত্রে, তার যবেহকৃত পশু হালাল, তার পিতা ও মাতা উভয়ই কিতাবি হোন বা না হোন। কিতাবিদের যবেহকৃত পশুর বৈধতার বিষয়ে মুসলিমগণ ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আজ তোমাদের জন্য সমস্ত পবিত্র বস্তু হালাল করা হলো। যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। আর মুমিনদের সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারী (তোমাদের জন্য বৈধ), যখন তোমরা তাদেরকে তাদের মোহর প্রদান করবে বিবাহ করার জন্য, ব্যভিচার করার জন্য নয় এবং গোপনে উপপত্নী গ্রহণ করার জন্যও নয়। আর যে ব্যক্তি ঈমানকে অস্বীকার করবে, তার আমল অবশ্যই বিনষ্ট হবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" আর একারণেও যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ইহুদি মহিলার উপহার দেওয়া বকরির গোশত খেয়েছিলেন এবং একজন ইহুদির আমন্ত্রণে যবের রুটি ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করেছিলেন (১)।

--------------------------------------------

(১) মূল উৎস দেখুন, পৃষ্ঠা ৫৬ - ৫৯।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وأما سائر الكفار غير أهل الكتاب فلا يحل ما ذكوه لمفهوم قوله تعالى: {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَبَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَّهُمْ وَالْمُحْصَنَتُ مِنَ الْمُؤْمِنَتِ وَالْمُحْصَنَتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَبَ مِن قَبْلِكُمْ إِذَآءَاتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِى أَخْدَانٍ وَمَن يَكْفُرْ بِالإِيمَنِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِى الَاْخِرَةِ مِنَ الْخَسِرِينَ} فإن (الذين أوتوا الكتاب) اسم موصول وصلته وهما بمنزلة المشتق المتضمن لصفة معنوية يثبت الحكم بوجودها وينتفي بعدمها، قال الإمام أحمد: لا أعلم أحداً قال بخلافه إلا أن يكون صاحب بدعة، ونقل الإجماع عليه الخازن في تفسيره. وعلى هذا فلا يحل ما ذبحه الشيوعيون والمشركون سواء كان شركهم بالفعل كمن يسجدون للأصنام، أو بالقول كمن يدعون غير الله، ولا يحل ما ذبحه تارك الصلاة؛ لأنه كافر على القول الراجح سواء تركها تهاوناً، أو جحداً لوجوبها. ولا يحل ما ذبحه جاحد وجوب الصلوات الخمس ولو صلى إلا أن يكون ممن يجهل ذلك لكونه حديث عهد بإسلام ونحوه.

 

ولا يلزم السؤال عما ذبحه المسلم أو الكتابي كيف ذبحه، وهل سمى عليه أو لا، بل ولا ينبغي لأن ذلك من التنطع في الدين، والنبي صلى الله عليه وسلم أكل مما ذبحه اليهود ولم يسألهم. وفي صحيح البخاري وغيره عن عائشة رضي الله عنها أن قوماً قالوا للنبي صلى الله عليه وسلم: إن قوماً يأتوننا بلحم لا ندري أذكروا اسم الله عليه أم لا، فقال: «سموا عليه أنتم وكلوه» قالت: وكانوا حديثي عهد بكفر، فأمرهم النبي صلى الله عليه وسلم بأكله دون أن يسألوا مع أن الآتين به قد تخفي عليهم أحكام الإسلام، لكونهم حديثي عهد بكفر.

আহলে কিতাব (أهل الكتاب) ব্যতীত অন্যান্য অবিশ্বাসী (كفار) যে পশু জবাই করে তা হালাল নয়, যা মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্মার্থ (مفهوم) থেকে প্রতীয়মান হয়: {যাদের কিতাব প্রদান করা হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল। আর মুমিন সচ্চরিত্রা নারী এবং তোমাদের পূর্বে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারীরাও (তোমাদের জন্য বৈধ), যখন তোমরা তাদের মোহরানা প্রদান করবে বিবাহের মাধ্যমে, ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে নয় কিংবা উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করার জন্যও নয়। আর যে ঈমানের সাথে কুফরি করবে তার আমল বিফলে যাবে এবং পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।}। বস্তুত (الذين أوتوا الكتاب) অংশটি একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسم موصول) এবং এর পরবর্তী অংশটি তার সম্পূরক বাক্য (صلة), যা এমন একটি অর্থগত গুণের ধারক উদ্ভূত শব্দের (مشتق) সমপর্যায়ভুক্ত যে গুণের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিধানটি সাব্যস্ত হয় এবং গুণের অনুপস্থিতিতে তা রহিত হয়ে যায়। ইমাম আহমদ বলেন: আমি এমন কাউকে জানি না যে এর বিপরীতে মত দিয়েছে, তবে সে বিদআতপন্থী (صاحب بدعة) হতে পারে। আল-খাজিন তার তাফসিরে এ বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। এই নীতি অনুযায়ী, সাম্যবাদী (কমিউনিস্ট) এবং মুশরিক (مشركون) ব্যক্তিদের জবাই করা পশু হালাল নয়—চাই তাদের শিরক কর্মের মাধ্যমে হোক যেমন মূর্তিকে সেজদা করা, কিংবা কথার মাধ্যমে হোক যেমন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে ডাকা। তেমনি সালাত পরিত্যাগকারীর (تارك الصلاة) জবাই করা পশুও হালাল নয়; কারণ অধিকতর বিশুদ্ধ মত (القول الراجح) অনুযায়ী সে কাফের (كافر), চাই সে অবহেলাবশত সালাত ত্যাগ করুক কিংবা এর আবশ্যকতাকে অস্বীকার করুক। এমনকি পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আবশ্যকতা অস্বীকারকারী ব্যক্তি যদি সালাত আদায়ও করে, তবুও তার জবাই করা পশু হালাল নয়; তবে যদি সে এমন ব্যক্তি হয় যে এ বিষয়ে অজ্ঞ হওয়ার কারণে তা করেছে, যেমন ইসলামে নবাগত (حديث عهد بإسلام) বা অনুরূপ কেউ।

 

কোনো মুসলিম বা কিতাবধারী (كتابي) ব্যক্তি পশু কীভাবে জবাই করেছে এবং তাতে আল্লাহর নাম নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই। বরং এরূপ প্রশ্ন করা অনুচিত, কেননা এটি দ্বীনের ব্যাপারে অতিরঞ্জন (التنطع في الدين) করার অন্তর্ভুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদের জবাই করা খাদ্য খেয়েছেন এবং তাদের কোনো প্রশ্ন করেননি। সহিহ বুখারি ও অন্যান্য কিতাবে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কিছু লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন: কিছু লোক আমাদের নিকট গোশত নিয়ে আসে, আমরা জানি না তারা তার ওপর আল্লাহর নাম নিয়েছে কি না। তিনি বললেন: «তোমরা তার ওপর আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) পাঠ করো এবং তা ভক্ষণ করো।» তিনি (আয়েশা) বলেন: তারা ছিল কুফরি থেকে সদ্য ফিরে আসা (حديثي عهد بكفر) লোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কোনো প্রশ্ন না করেই তা খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যদিও যারা গোশত নিয়ে এসেছিল তারা কুফরি থেকে সদ্য ফিরে আসা (حديثي عهد بكفر) হওয়ার কারণে ইসলামের বিধানাবলি সম্পর্কে সম্ভবত অবগত ছিল না।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الشرط الثالث: أن يقصد التذكية لقوله تعالى: {إِلَاّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُواْ بِالَاْزْلَامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلَامَ دِيناً فَمَنِ اضْطُرَّ فِى مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} والتذكية فعل خاص يحتاج إلى نية، فإن لم يقصد التذكية لم تحل الذبيحة، مثل أن تصول عليه بهيمة فيذبحها للدفاع عن نفسه فقط.
তৃতীয় শর্ত: জবেহ করার (تذكية) সংকল্প করা। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {ব্যতীত যা তোমরা জবেহ (تذكية) করেছ এবং যা মূর্তিপূজার বেদীর ওপর বলি দেওয়া হয়েছে এবং যা তোমরা ভাগ্য-নির্ধারক তীরের মাধ্যমে বণ্টন কর; এসব কাজ পাপাচার। আজ কাফিররা তোমাদের দীনের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে; কাজেই তাদেরকে ভয় করো না, কেবল আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে মনোনীত করলাম। তবে যদি কেউ ক্ষুধার তাড়নায় বাধ্য হয় এবং কোনো পাপের দিকে না ঝুঁকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} আর জবেহ (تذكية) হলো একটি বিশেষ কাজ যা নিয়ত বা সংকল্পের (نية) মুখাপেক্ষী। সুতরাং যদি জবেহ (تذكية) করার সংকল্প না থাকে, তবে জবেহকৃত পশুটি হালাল হবে না; যেমন- কোনো পশু যদি কারও ওপর আক্রমণ করে আর সে কেবল আত্মরক্ষার তাগিদে সেটিকে জবেহ করে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
الشرط الرابع: أن لا يكون الذبح لغير الله، فإن كان لغير الله لم تحل الذبيحة، كالذي يذبح تعظيماً لصنم، أو صاحب قبر، أو ملك، أو والد ونحوهم لقوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَآ أَكَلَ السَّبُعُ إِلَاّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُواْ بِالَاْزْلَامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلَامَ دِيناً فَمَنِ اضْطُرَّ فِى مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} إلى قوله: {وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُواْ بِالَاْزْلَامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلَامَ دِيناً فَمَنِ اضْطُرَّ فِى مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} .

চতুর্থ শর্ত: জবেহ যেন আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে না হয়। কারণ, যদি তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে হয়, তবে জবেহকৃত পশু হালাল হবে না; যেমন কোনো প্রতিমা, কবরের অধিপতি (মাজার), ফেরেশতা, অথবা পিতা ও তাদের ন্যায় কারো সম্মানে জবেহ করা। মহান আল্লাহর বাণী এর প্রমাণ: {তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত পশু, রক্ত, শুকরের মাংস, যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, শ্বাসরোধে মৃত পশু, প্রহারে মৃত পশু, ওপর থেকে পড়ে মৃত পশু, অন্য পশুর শিং-এর আঘাতে মৃত পশু এবং যা হিংস্র পশু খেয়েছে; তবে যা তোমরা জবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া। আর যা মূর্তিপূজার বেদীর ওপর জবেহ করা হয় এবং জুয়ার তীর দিয়ে তোমাদের ভাগ্য নির্ণয় করা—এই সব হচ্ছে পাপাচার (فسق)...} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {আর যা মূর্তিপূজার বেদীর ওপর জবেহ করা হয় এবং জুয়ার তীর দিয়ে তোমাদের ভাগ্য নির্ণয় করা—এই সব হচ্ছে পাপাচার (فسق)। আজ কাফিররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। তবে যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে কিন্তু পাপের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা ছাড়া (হারাম কিছু খেতে বাধ্য হয়), তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الشرط الخامس: أن لا يسمي عليها اسم غير الله مثل أن يقول باسم النبي، أو جبريل، أو فلان، فإن سمى عليها اسم غير الله لم تحل وإن ذكر اسم الله معه لقوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَآ أَكَلَ السَّبُعُ إِلَاّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُواْ بِالَاْزْلَامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلَامَ دِيناً فَمَنِ اضْطُرَّ فِى مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} إلى قوله: {وَمَآ أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَآ أَكَلَ السَّبُعُ إِلَاّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُواْ بِالَاْزْلَامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلَامَ دِيناً فَمَنِ اضْطُرَّ فِى مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} . وفي الحديث الصحيح القدسي قال الله تعالى: «من عمل عملاً أشرك فيه معي غيري تركته وشركه» .

পঞ্চম শর্ত: যবেহ করার সময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নাম উচ্চারণ না করা। যেমন—নবীর নামে, অথবা জিবরীলের নামে কিংবা অমুকের নামে বলা। যদি পশুর ওপর আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নাম উচ্চারণ করা হয়, তবে তা হালাল হবে না; যদিও তার সাথে আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের জন্য মৃত পশু, রক্ত, শূকরের মাংস এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে উৎসর্গকৃত পশু হারাম করা হয়েছে, আর শ্বাসরোধে মৃত, আঘাতে মৃত, ওপর থেকে পড়ে মৃত, অন্য পশুর শিংয়ের আঘাতে মৃত এবং হিংস্র পশুর খাওয়া জানোয়ার—তবে যা তোমরা (প্রাণ থাকতে) যবেহ করেছ—এবং যা মূর্তিপূজার বেদিতে যবেহ করা হয়েছে এবং ভাগ্য নির্ধারক তিরের মাধ্যমে বণ্টন করা; এসবই পাপাচার। আজ কাফিররা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে, সুতরাং তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। তবে যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় (নিষিদ্ধ কিছু খেতে) বাধ্য হয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য কোনো পাপ নয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, শ্বাসরোধে মৃত, আঘাতে মৃত, ওপর থেকে পড়ে মৃত, অন্য পশুর শিংয়ের আঘাতে মৃত এবং হিংস্র পশুর খাওয়া জানোয়ার—তবে যা তোমরা যবেহ করেছ—এবং যা মূর্তিপূজার বেদিতে যবেহ করা হয়েছে এবং ভাগ্য নির্ধারক তিরের মাধ্যমে বণ্টন করা; এসবই পাপাচার। আজ কাফিররা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছে, সুতরাং তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। তবে যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় বাধ্য হয় কিন্তু তার উদ্দেশ্য কোনো পাপ নয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।}। এবং সহিহ (صحيح) হাদিসে কুদসিতে (قدسي) মহান আল্লাহ বলেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তাকে এবং তার শিরককে বর্জন করি»।

(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
الشرط السادس: أن يذكر اسم الله تعالى عليها فيقول عند تذكيتها باسم الله لقوله تعالى: {فَكُلُواْ مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كُنتُم بِآيَتِهِ مُؤْمِنِينَ} . وقول النبي صلى الله عليه وسلم: «ما أنهر الدم وذكر اسم الله عليه فكلوا» . رواه البخاري وغيره، فإن لم يذكر اسم الله تعالى عليها لم تحل لقوله تعالى: {وَلَا تَأْكُلُواْ مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ وَإِنَّ الشَّيَطِينَ لَيُوحُونَ إِلَى أَوْلِيَآئِهِمْ لِيُجَدِلُوكُمْ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ} . ولا فرق بين أن يترك اسم الله عليها عمداً مع العلم أو نسياناً أو جهلاً (1) لعموم هذه الاية، ولأن النبي صلى الله عليه وسلم جعل التسمية شرطاً في الحل، والشرط لا يسقط بالنسيان والجهل، ولأنه لو أزهق روحها بغير إنهار الدم ناسياً أو جاهلاً لم تحل فكذلك إذا ترك التسمية؛ لأن الكلام فيهما واحد من متكلم واحد فلا يتجه التفريق.

 

وإذا كان المذكي أخرس لا يستطيع النطق بالتسمية كفته الإشارة الدالة لقوله تعالى: {فَاتَّقُواْ اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُواْ وَأَطِيعُواْ وَأَنْفِقُواْ خَيْراً لَاِنفُسِكُمْ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} .

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 72 - 70.
ষষ্ঠ শর্ত: পশুর ওপর মহান আল্লাহর নাম উল্লেখ করা; অর্থাৎ যবেহ করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "সুতরাং যে পশুর ওপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে তা থেকে ভক্ষণ করো, যদি তোমরা তাঁর নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাসী হও।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার ওপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে, তা তোমরা ভক্ষণ করো।" এটি বুখারি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। যদি তার ওপর আল্লাহর নাম না নেয়া হয়, তবে তা হালাল হবে না; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যে পশুর ওপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়নি তা থেকে ভক্ষণ করো না, আর নিশ্চয়ই এটি একটি পাপাচার (فسق); আর শয়তানরা তাদের বন্ধুদের প্ররোচিত করে যাতে তারা তোমাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়। যদি তোমরা তাদের অনুসরণ করো, তবে নিশ্চয়ই তোমরা মুশরিক হয়ে যাবে।" জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর নাম বাদ দেওয়া অথবা ভুলে যাওয়া কিংবা না জানার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই (১), এই আয়াতের ব্যাপকতার কারণে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাসমিয়াকে হালাল হওয়ার জন্য শর্ত (شرط) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আর শর্ত ভুলে যাওয়ার কারণে বা না জানার কারণে রহিত হয় না। এছাড়া যদি কেউ ভুলে অথবা না জেনে রক্ত প্রবাহিত করা ছাড়াই পশুর প্রাণ হরণ করে, তবে তা হালাল হয় না; তাসমিয়া ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও তদ্রূপ। কেননা উভয় বিষয়ে একই বক্তার পক্ষ থেকে নির্দেশ অভিন্ন, তাই এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করার কোনো অবকাশ নেই।

 

আর যদি যবেহকারী বোবা হয় এবং তাসমিয়া উচ্চারণ করতে সক্ষম না হয়, তবে নির্দেশক ইশারাই তার জন্য যথেষ্ট হবে; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতএব তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো, শোনো, আনুগত্য করো এবং নিজেদের কল্যাণে ব্যয় করো। যারা নিজেদের মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত থাকে, তারাই সফলকাম।"

--------------------------------------------

(১) মূল কিতাব পৃষ্ঠা ৭০-৭২ দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الشرط السابع: أن تكون الذكاة بمحدد ينهر الدم من حديد أو أحجار أو زجاج أو غيرها لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «ما أنهر الدم وذكر اسم الله عليه فكلوا، ما لم يكن سنّاً أو ظفراً وسأحدثكم عن ذلك: أما السن فعظم، وأما الظفر فمدى الحبشة» . رواه الجماعة. وللبخاري في رواية «غير السن والظفر فإن السن عظم، والظفر مدى الحبشة» (1) ، وفي الصحيحين أن جارية لكعب بن مالك رضي الله عنه كانت ترعى غنماً له بسلع فأبصرت بشاة من الغنم موتاً فكسرت حجراً فذبحتها به فذكروا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فأمرهم بأكلها.

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 70 - 72.

সপ্তম শর্ত: জবেহ এমন কোনো ধারালো বস্তু দিয়ে হতে হবে যা রক্ত প্রবাহিত করে; চাই তা লোহা, পাথর, কাঁচ বা অন্য কিছু হোক না কেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, তা তোমরা খাও; যতক্ষণ না তা দাঁত বা নখ হয়। আমি তোমাদের এর কারণ বলছি: দাঁত হলো হাড়, আর নখ হলো হাবশীদের ছুরি।» এটি জামাআত (الجماعة) কর্তৃক বর্ণিত। বুখারিতে একটি বর্ণনা (رواية)-য় রয়েছে: «দাঁত ও নখ ব্যতীত; কেননা দাঁত হলো হাড় এবং নখ হলো হাবশীদের ছুরি» (১)। এবং সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে যে, কাব ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর এক দাসী 'সালা' নামক স্থানে তাঁর ছাগল চরাতেন। অতঃপর তিনি একটি ছাগলকে মৃতপ্রায় দেখে একটি পাথর ভেঙে তা দিয়ে সেটিকে জবেহ করেন। তারা বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি তাদের তা খাওয়ার নির্দেশ দেন।

--------------------------------------------

(১) মূলগ্রন্থের ৭০ - ৭২ পৃষ্ঠা দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فإن أزهق روحها بغير محدد لم تحل مثل أن يخنقها أو يصعقها بالكهرباء ونحوه حتى تموت، فإن فعل بها ذلك حتى ذهب إحساسها ثم ذكاها تذكية شرعية وفيها حياة مستقرة حلت لقوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَآ أَكَلَ السَّبُعُ إِلَاّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُواْ بِالَاْزْلَامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلَامَ دِيناً فَمَنِ اضْطُرَّ فِى مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} إلى قوله: {وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَآ أَكَلَ السَّبُعُ إِلَاّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَنْ تَسْتَقْسِمُواْ بِالَاْزْلَامِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلَامَ دِيناً فَمَنِ اضْطُرَّ فِى مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لإِثْمٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ} .

 

وللحياة المستقرة علامتان:

 

إحداهما: أن تتحرك.

 

الثانية: أن يجري منها الدم الأحمر بقوة (1) .

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 79 - 81.
যদি কোনো ধারালো বস্তু ব্যতিরেকে পশুর প্রাণনাশ করা হয়, তবে তা হালাল হবে না; যেমন- শ্বাসরোধ করা অথবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা বা অনুরূপ কোনো উপায়ে মৃত্যু ঘটানো। কিন্তু যদি পশুকে এমন কোনো আঘাত করা হয় যাতে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং তার মধ্যে স্থিতিশীল জীবন (حياة مستقرة) থাকা অবস্থায় শরয়ি পদ্ধতিতে জবাই করা হয়, তবে তা হালাল হবে। এর কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত পশু, রক্ত, শূকরের গোশত, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে উৎসর্গকৃত পশু, শ্বাসরোধে মৃত পশু, প্রহারে মৃত পশু, উপর থেকে পতনজনিত কারণে মৃত পশু, শিংয়ের আঘাতে মৃত পশু এবং হিংস্র পশুর খাওয়া পশু; তবে যাকে তোমরা জবাই (ذكيتم) করতে পেরেছ। আর যা মূর্তিপূজার বেদিতে বলি দেওয়া হয় এবং লটারির তীরের মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করাও তোমাদের জন্য হারাম। এসব ফাসেকী কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে; সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। তবে যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় নিরুপায় হয়ে পড়ে কিন্তু গুনাহের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু} আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং শ্বাসরোধে মৃত পশু, প্রহারে মৃত পশু, উপর থেকে পতনজনিত কারণে মৃত পশু, শিংয়ের আঘাতে মৃত পশু এবং হিংস্র পশুর খাওয়া পশু; তবে যাকে তোমরা জবাই (ذكيتم) করতে পেরেছ। আর যা মূর্তিপূজার বেদিতে বলি দেওয়া হয় এবং লটারির তীরের মাধ্যমে ভাগ্য পরীক্ষা করাও তোমাদের জন্য হারাম। এসব ফাসেকী কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে; সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো। আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। তবে যে ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় নিরুপায় হয়ে পড়ে কিন্তু গুনাহের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু}।

 

আর স্থিতিশীল জীবনের (حياة مستقرة) দুটি লক্ষণ রয়েছে:

 

প্রথমটি: নড়াচড়া করা।

 

দ্বিতীয়টি: তা থেকে লাল রক্ত সজোরে প্রবাহিত হওয়া (১)।

--------------------------------------------

(১) মূল গ্রন্থ দেখুন, পৃষ্ঠা ৭৯ - ৮১।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الشرط الثامن: إنهار الدم أي إجراؤه بالتذكية، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «ما أنهر الدم وذكر اسم الله عليه فكلوه» . ثم إن كان الحيوان غير مقدور عليه كالشارد والواقع في بئر أو مغارة ونحوه كفى إنهار الدم في أي موضع كان في بدنه، والأولى أن يتحرى ما كان أسرع إزهاقاً لروحه؛ لأنه أريح للحيوان وأقل عذاباً.

 

وإن كان الحيوان مقدوراً عليه فلابد أن يكون إنهار الدم من الرقبة من أسفلها إلى اللحيين، بحيث يقطع الودجين وهما عرقان غليظان محيطان بالحلقوم وتمام ذلك أن يقطع معهما الحلقوم ـ وهو مجرى النفس ـ والمريء ـ وهو مجرى الطعام والشراب ـ ليذهب بذلك مادة بقاء الحيوان وهو الدم وطريق ذلك وهو الحلقوم والمريء، وإن اقتصر على قطع الودجين حلت الذكية (1) .

 

الشرط التاسع: أن يكون المذكى مأذوناً في ذكاته شرعاً، فأما غير المأذون فيه فنوعان:

 

أحدهما: ما حرم لحق الله تعالى كصيد الحرم والإحرام فلا يحل وإن ذكي لقوله تعالى: {أُحِلَّتْ لَكُمْ بَهِيمَةُ الَاْنْعَامِ إِلَاّ مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّى الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ} . وقوله: {أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ مَتَعاً لَّكُمْ وَلِلسَّيَّارَةِ وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُماً وَاتَّقُواْ اللَّهَ الَّذِى إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ} .

 

النوع الثاني: ما حرم لحق المخلوق كالمغصوب والمسروق يذبحه الغاصب أو السارق ففي حله قولان لأهل العلم انظرهما ودليلهما في الأصل ص 82 ـ 85.

 

‌‌الفصل التاسع: في آداب الذكاة

للذكاة آداب ينبغي مراعاتها ولا تشترط في حل الذكية بل تحل بدونها فمنها:

 

1 ـ استقبال القبلة بالذكية حين تذكيتها.

--------------------------------------------

(1) انظر الأصل ص 72 - 79.
অষ্টম শর্ত: রক্ত প্রবাহিত করা অর্থাৎ জবেহ করার মাধ্যমে তা বের করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: «যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার ওপর আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে, তা তোমরা ভক্ষণ করো»। অতঃপর যদি প্রাণীটি আয়ত্তের বাইরে হয়, যেমন পলায়নপর বা কূপে অথবা গুহায় কিংবা এই জাতীয় স্থানে পতিত প্রাণী, তবে তার শরীরের যেকোনো স্থানে রক্ত প্রবাহিত করাই যথেষ্ট হবে। আর উত্তম হলো এমন স্থান অনুসন্ধান করা যা দ্রুত প্রাণ সংহার করে; কারণ এটি প্রাণীর জন্য অধিক আরামদায়ক এবং এতে কষ্ট কম হয়।

 

আর যদি প্রাণীটি আয়ত্তাধীন হয়, তবে অবশ্যই গর্দান থেকে তথা গলার নিচ থেকে চোয়ালের দুই হাড়ের নিচ পর্যন্ত রক্ত প্রবাহিত করতে হবে, এমনভাবে যেন কণ্ঠনালীর দুই পাশের দুটি মোটা শিরা কেটে যায়, যা কণ্ঠনালীকে পরিবেষ্টন করে থাকে। আর এর পূর্ণতা হলো এ দুটির সাথে কণ্ঠনালী — যা শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ — এবং খাদ্যনালী — যা খাদ্য ও পানীয়র পথ — কেটে ফেলা, যাতে প্রাণীর বেঁচে থাকার উপকরণ অর্থাৎ রক্ত এবং তার প্রবাহ পথ তথা কণ্ঠনালী ও খাদ্যনালী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে যদি কেবল কণ্ঠনালীর দুই পাশের শিরা দুটি কাটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবুও জবেহকৃত প্রাণীটি হালাল হবে (১)।

 

নবম শর্ত: জবেহকারী ব্যক্তি শরীয়তসম্মতভাবে জবেহ করার জন্য অনুমোদিত হওয়া। আর যা অনুমোদিত নয় তা দুই প্রকার:

 

প্রথমটি: যা আল্লাহ তাআলার হকের কারণে হারাম করা হয়েছে, যেমন হারামের সীমানার শিকার এবং ইহরাম অবস্থায় শিকার করা। সুতরাং তা জবেহ করা হলেও হালাল হবে না, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে, যা তোমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়েছে তা ব্যতীত; তবে ইহরাম অবস্থায় শিকারকে হালাল মনে করবে না। নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা-ই আদেশ দেন।}। এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের জন্য সমুদ্রের শিকার ও তা ভক্ষণ করা হালাল করা হয়েছে তোমাদের এবং পর্যটকদের উপকারের জন্য। আর তোমাদের ওপর স্থলের শিকার হারাম করা হয়েছে যতক্ষণ তোমরা ইহরাম অবস্থায় থাক। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।}।

 

দ্বিতীয় প্রকার: যা সৃষ্টির হকের কারণে হারাম করা হয়েছে, যেমন জবরদখলকৃত বা চুরি করা পশু যা জবরদখলকারী বা চোর জবেহ করে। এর বৈধতার ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের দুটি মত রয়েছে, মূল গ্রন্থের ৮২-৮৫ পৃষ্ঠায় সেগুলো ও সেগুলোর দলিল দেখে নিন।

 

‌‌নবম অধ্যায়: জবেহ করার আদবসমূহ প্রসঙ্গে

জবেহ করার কিছু আদব রয়েছে যা লক্ষ্য রাখা উচিত, তবে জবেহকৃত পশু হালাল হওয়ার জন্য এগুলো শর্ত নয়, বরং এগুলো ছাড়াও তা হালাল হয়ে যায়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

 

১ — জবেহ করার সময় পশুকে কিবলামুখী করা।

--------------------------------------------

(১) মূল গ্রন্থের ৭২-৭৯ পৃষ্ঠা দেখুন।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
2 ـ الإحسان في تذكيتها بحيث تكون بآلة حادة يمرها على محل الذكاة بقوة وسرعة.

 

وقيل: هذا من الاداب الواجبة لظاهر قول النبي صلى الله عليه وسلم: «إن الله كتب الإحسان على كل شيء، فإذا قتلتم فأحسنوا القتلة، وإذا ذبحتم فأحسنوا الذبحة، وليحد أحدكم شفرته، وليرح ذبيحته» . رواه مسلم. وهذا القول هو الصحيح.

 

3 ـ أن تكون الذكاة في الإبل نحراً، وفي غيرها ذبحاً فينحر الإبل قائمة معقولة يدها اليسرى، فإن صعب عليه ذلك نحرها باركة. ويذبح غيرها على جنبها الأيسر، فإن كان الذابح أعسر يعمل بيده اليسرى ذبحها على الجنب الأيمن إن كان أريح للذبيحة وأمكن له. ويسن أن يضع رجله على عنقها ليتمكن منها.

 

وأما البروك عليها والإمساك بقوائمها فلا أصل له من السنة، وقد ذكر بعض العلماء أن من فوائد ترك الإمساك بالقوائم زيادة إنهار الدم بالحركة والاضطراب.

 

4 ـ قطع الحلقوم والمريء زيادة على قطع الودجين. وانظر الشرط الثامن من شروط الذكاة.

 

5 ـ أن يستر السكين عن البهيمة عند حدها فلا تراها إلا عند الذبح.

 

6 ـ أن يكبر الله تعالى بعد التسمية.

 

7 ـ أن يسمي عن ذبح الأضحية أو العقيقة من هي له بعد التسمية والتكبير، ويسأل الله قبولها فيقول: بسم الله والله أكبر، اللهم منك ولك عني إن كانت له، أو عن فلان إن كانت لغيره. اللهم تقبل مني إن كانت له، أو من فلان إن كانت لغيره.

 

‌‌الفصل العاشر: في مكروهات الذكاة

للذكاة مكروهات ينبغي اجتنابها فمنها:

 

1 ـ أن تكون بآلة كآلة، أي غير حادة، وقيل: يحرم ذلك، وهو الصحيح.

 

2 ـ أن يحد آلة الذكاة والبهيمة تنظر.

 

3 ـ أن يذكي البهيمة والأخرى تنظر إليها.
২ ـ পশুকে উত্তম পন্থায় জবেহ করা, যেন এটি একটি ধারালো অস্ত্র দ্বারা সম্পন্ন করা হয় যা জবেহ করার স্থানে সবলে ও দ্রুততার সাথে চালানো হবে।

 

বলা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর বাহ্যিক অর্থের কারণে এটি ওয়াজিব আদবসমূহের অন্তর্ভুক্ত: «নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের ওপর ইহসান (উত্তম আচরণ) অবধারিত করেছেন। সুতরাং যখন তোমরা হত্যা করবে তখন উত্তম পন্থায় হত্যা করো, আর যখন জবেহ করবে তখন উত্তম পন্থায় জবেহ করো। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবেহকৃত পশুকে আরাম দেয়।» মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। আর এই মতটিই সঠিক (الصحيح)।

 

৩ ـ উটের ক্ষেত্রে নহর (বক্ষস্থলের উপরিভাগে বিদ্ধ করা) এবং অন্যান্য পশুর ক্ষেত্রে জবেহ করা। সুতরাং উটকে তার বাম পা বাঁধা অবস্থায় দণ্ডায়মান রেখে নহর করা হবে। যদি তা কষ্টসাধ্য হয়, তবে বসা অবস্থায় নহর করবে। আর অন্যান্য পশুকে তাদের বাম পার্শ্বে শায়িত করে জবেহ করবে। যদি জবেহকারী বামহাতি হয় এবং ডান পার্শ্বে শায়িত করে জবেহ করা পশুর জন্য অধিক আরামদায়ক ও জবেহকারীর জন্য সহজতর হয়, তবে সে ডান পার্শ্বে জবেহ করতে পারে। জবেহ করার সময় পশুর ঘাড়ের ওপর পা রাখা সুন্নাত, যাতে পশুকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

 

আর পশুর ওপর উপুড় হয়ে বসা বা তার পাগুলো চেপে ধরার কোনো ভিত্তি সুন্নাহতে নেই। কোনো কোনো আলেম উল্লেখ করেছেন যে, পাগুলো চেপে না ধরার একটি উপকারিতা হলো পশুর নড়াচড়া ও ছটফটানির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত হওয়া।

 

৪ ـ শ্বাসনালী ও খাদ্যনালী কাটা, যা দুটি রক্তবাহী রগ (জুগলার ভেইন) কাটার অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য। জবেহ করার শর্তাবলির মধ্যে অষ্টম শর্তটি দেখুন।

 

৫ ـ ছুরি ধার করার সময় পশুর সামনে থেকে তা আড়ালে রাখা, যেন জবেহ করার মুহূর্ত ছাড়া পশুটি তা দেখতে না পায়।

 

৬ ـ বিসমিল্লাহ বলার পর আল্লাহ তাআলার তাকবির (আল্লাহু আকবার) পাঠ করা।

 

৭ ـ কুরবানি বা আকিকার পশু জবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ ও তাকবিরের পর পশুটি যার পক্ষ থেকে উৎসর্গ করা হচ্ছে তার নাম উল্লেখ করা এবং আল্লাহর কাছে তা কবুলের প্রার্থনা করা। এভাবে বলবে: 'বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার (আল্লাহর নামে, আর আল্লাহ মহান), হে আল্লাহ! এটি আপনার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এবং আপনারই জন্য নিবেদিত; এটি আমার পক্ষ থেকে' (যদি নিজের হয়), অথবা 'অমুকের পক্ষ থেকে' (যদি অন্যের পক্ষ থেকে হয়)। 'হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন' (যদি নিজের হয়), অথবা 'অমুকের পক্ষ থেকে' (যদি অন্যের হয়)।

 

‌‌দশম পরিচ্ছেদ: জবেহ করার মাকরূহ বা অপছন্দনীয় বিষয়সমূহ

জবেহ করার ক্ষেত্রে কিছু মাকরূহ বিষয় রয়েছে যা পরিহার করা বাঞ্ছনীয়। তন্মধ্যে রয়েছে:

 

১ ـ ভোঁতা বা ধারহীন অস্ত্র দিয়ে জবেহ করা। বলা হয়েছে যে এটি হারাম (নিষিদ্ধ), আর এটিই সঠিক (الصحيح) মত।

 

২ ـ পশুর উপস্থিতিতে জবেহ করার অস্ত্র ধারালো করা।

 

৩ ـ এক পশুর সামনে অন্য পশুকে জবেহ করা।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারু আহকামিল উদহিয়্যাতি ওয়াজ জাকাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
4 ـ أن يفعل بعد التذكية ما يؤلمها قبل زهوق نفسها، مثل أن يكسر عنقها، أو يسلخها، أو يقطع شيئاً من أعضائها قبل أن تموت، وقيل: يحرم ذلك، وهو الصحيح.

 

وإلى هنا انتهى ما أردنا تلخيصه من كتاب (أحكام الأضحية والذكاة) نسأل الله تعالى أن ينفع به وبأصله، وكان الفراغ منه عصر يوم الأربعاء الموافق 13 من ذي الحجة سنة 1400هـ أربعمائة وألف.

 

والحمد لله رب العالمين وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
৪ ـ জবেহ করার পর এবং প্রাণ বায়ু নির্গত হওয়ার পূর্বে পশুকে কষ্ট দেয় এমন কিছু করা, যেমন তার ঘাড় মটকানো, অথবা চামড়া ছাড়ানো, অথবা মৃত্যু হওয়ার পূর্বে তার কোনো অঙ্গ কেটে ফেলা; কেউ কেউ বলেছেন: এটি হারাম, আর এটিই সঠিক (الصحيح)।

 

‘আহকামুল উজহিয়্যাহ ওয়াজ জাকাত’ নামক গ্রন্থ থেকে যা আমরা সংক্ষেপ করতে চেয়েছিলাম তা এখানেই সমাপ্ত হলো। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এবং এর মূল গ্রন্থের মাধ্যমে উপকার দান করেন। এটি সমাপ্ত হয়েছে ১৪০০ হিজরি সনের ১৩ই জিলহজ, বুধবার আসরের সময়।

 

যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।