(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: -)
فصول في الصيام والتراويح والزكاة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: فصول في الصيام والتراويح والزكاة
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
عدد الصفحات: 20
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সিয়াম, তারাবিহ ও জাকাত বিষয়ক অধ্যায়সমূহ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: সিয়াম, তারাবিহ ও জাকাত বিষয়ক অধ্যায়সমূহ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালেহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হি.)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলাহ-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمةبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وسلم، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين وسلم تسليماً.
أما بعد: فإنه بمناسبة حلول شهر رمضان المبارك فإننا نقدم إلى إخواننا المسلمين الفصول التالية سائلين الله تعالى أن يجعل عملنا خالصاً لله موافقاً لشريعته نافعاً لخلقه إنه جواد كريم
الفصل الأول: في حكم الصيام.
الفصل الثاني: في حِكَمه وفوائده.
الفصل الثالث: في حكم صيام المريض والمسافر.
الفصل الرابع: في مفسدات الصوم وهي المفطرات.
الفصل الخامس: في التروايح.
الفصل السادس: في الزكاة وفوائدها.
الفصل السابع: في أهل الزكاة.
الفصل الثامن: في زكاة الفطر.
الفصل الأول في حكم الصيام
উপস্থাপনাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের কুপ্রবৃত্তি ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতঃপর: পবিত্র রমজান মাস আগমন উপলক্ষে আমরা আমাদের মুসলিম ভাইদের খেদমতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলো পেশ করছি। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের এই কাজকে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, তাঁর শরীয়তসম্মত করেন এবং তাঁর সৃষ্টির জন্য কল্যাণকর করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অতি দয়ালু।
প্রথম অধ্যায়: সিয়ামের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে.
দ্বিতীয় অধ্যায়: এর হিকমত ও উপকারিতা প্রসঙ্গে।
তৃতীয় অধ্যায়: অসুস্থ ও মুসাফিরের সিয়ামের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে।
চতুর্থ অধ্যায়: সিয়াম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ তথা সিয়াম ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ প্রসঙ্গে।
পঞ্চম অধ্যায়: তারাবিহ প্রসঙ্গে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: জাকাত ও এর উপকারিতা প্রসঙ্গে।
সপ্তম অধ্যায়: জাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিবর্গ প্রসঙ্গে।
অষ্টম অধ্যায়: জাকাতুল ফিতর প্রসঙ্গে।
প্রথম অধ্যায়: সিয়ামের বিধান (حكم) প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ২)
صيام رمضان فريضة ثابتة بكتاب الله تعالى وسُنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم، وإجماع المسلمين؛ قال الله تعالى ـ: {يأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ * أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ وَأَن تَصُومُواْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ * شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِى أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ} {البقرة 183-185} .
وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «بُني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وحج البيت، وصوم رمضان» . متفق عليه (1) . وفي رواية لمسلم: «وصوم رمضان، وحج البيت» (2) .
وأجمع المسلمون على فريضة صوم رمضان، فمن أنكر فريضة صوم رمضان فهو مرتد كافر، يُستتاب فإن تاب وأقر بفريضته فذاك وإلا قُتِل كافراً.
وفُرض صومُ رمضان في السنة الثانية من الهجرة، فصام رسول الله صلى الله عليه وسلم، تسع رمضانات، والصوم فريضة على كل مسلم بالغ عاقل.
--------------------------------------------
রমজানের রোজা মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ এবং মুসলিমদের ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি আবশ্যিক বিধান। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজার বিধান দেওয়া হলো, যেমন বিধান দেওয়া হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো। নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনের জন্য। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে কিংবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আর যাদের জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর, তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদইয়া প্রদান করা অর্থাৎ একজন মিসকিনকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকাজ করে, তবে তা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি তোমরা রোজা রাখো, তবে তা তোমাদের জন্য অধিকতর উত্তম, যদি তোমরা জানতে। রমজান মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়েতের জন্য এবং সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের মানদণ্ড হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পায়, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকে কিংবা সফরে থাকে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না। আর যাতে তোমরা এই সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং তোমাদেরকে যে হেদায়েত দেওয়া হয়েছে, তার জন্য আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।} {আল-বাকারা ১৮৩-১৮৫}।
নবী (সা.) বলেছেন: «ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি স্তম্ভের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা»। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) (১)। মুসলিম-এর এক বর্ণনা (رواية)-য় এসেছে: «রমজানের রোজা রাখা এবং বাইতুল্লাহর হজ করা» (২)।
রমজানের রোজার আবশ্যিকতার বিষয়ে মুসলিমগণ ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি রমজানের রোজার আবশ্যিকতাকে অস্বীকার করবে, সে ধর্মত্যাগী (مرتد) কাফির (كافر)। তাকে তওবা করতে বলা হবে; যদি সে তওবা করে এবং এর আবশ্যিকতা স্বীকার করে নেয় তবে ভালো, অন্যথায় কাফির (كافر) হিসেবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) নয়টি রমজান রোজা রেখেছেন। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিমান মুসলিমের ওপর রোজা রাখা ফরজ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
فلا يجب الصوم على الكافر، ولا يُقبَل منه حتى يُسلِم، ولا يجب الصوم على الصغير حتى يبلغ، ويحصل بلوغه بتمام خمس عشرة سنة، أو نبات عانته، أو نزول المني منه بالاحتلام أو غيره، وتزيد الأنثى بالحيض، فمتى حصل للصغير أحد هذه الأشياء فقد بلغ لكن يؤمر الصغير بالصوم إذا أطاق بلا ضرر عليه ليعتاده ويألفه. ولا يجب الصوم على فاقد العقل بجنون أو تغير دماغ أو نحوه، وعلى هذا فإذا كان الإنسان كبيراً يهذي ولا يميز فلا صيام عليه ولا إطعام.
الفصل الثاني في حِكَم الصيام وفوائدهمن أسماء الله تعالى: «الحكيم» والحكيم مَن اتَّصف بالحكمة، والحكمة: إتقان الأمور ووضعها في مواضعها، ومقتضى هذا الاسم من أسمائه تعالى أن كل ما خلقه الله تعالى أو شرعه فهو لحكمة بالغة علمها من علمها وجهلها من جهلها.
وللصيام الذي شرعه الله وفرضه على عباده حِكَمٌ عظيمة وفوائد جمَّة:
* فمن حِكَم الصيام: أنه عبادة يَتَقَرَّب بها العبد إلى ربه بترك محبوباته المجبول على محبَّتها من طعام وشراب ونكاح، لينال بذلك رضا ربه والفوز بدار كرامته، فيتبين بذلك إيثاره لمحبوبات ربه على محبوبات نفسه وللدار الآخرة على الدنيا.
কাফিরের ওপর রোজা ফরজ নয় এবং ইসলাম গ্রহণ না করা পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে তা কবুলও করা হবে না। ছোট শিশুর ওপর রোজা ফরজ নয় যতক্ষণ না সে সাবালক হয়। পনের বছর পূর্ণ হওয়া, নাভির নিচের পশম গজানো অথবা স্বপ্নদোষ বা অন্য কোনো উপায়ে বীর্যপাতের মাধ্যমে সাবালকত্ব অর্জিত হয়। আর মেয়েদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত একটি লক্ষণ যুক্ত হয়। সুতরাং যখনই কোনো শিশুর মাঝে এসব চিহ্নের কোনো একটি প্রকাশ পাবে, সে সাবালক বলে গণ্য হবে। তবে শিশু যদি শারীরিক ক্ষতি ছাড়াই রোজা পালনে সক্ষম হয়, তবে তাকে রোজার নির্দেশ দেওয়া হবে যাতে সে এতে অভ্যস্ত ও পরিচিত হতে পারে। মস্তিষ্ক বিকৃতি, উন্মাদনা বা অনুরূপ কারণে হিতাহিত জ্ঞান হারানো ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ নয়। এর ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি যদি অতি বৃদ্ধ হওয়ার কারণে প্রলাপ বকেন এবং ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে না পারেন, তবে তার ওপর রোজা রাখা কিংবা ফিদিয়া স্বরূপ খাবার খাওয়ানোর কোনো আবশ্যকতা নেই।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রোজার হিকমত ও উপকারিতা প্রসঙ্গেআল্লাহ তাআলার একটি নাম হলো: ‘আল-হাকিম’। ‘আল-হাকিম’ হলেন তিনি, যিনি হিকমত (প্রজ্ঞা) গুণে গুণান্বিত। আর হিকমত হলো বিষয়াদিকে সুনিপুণ করা এবং সেগুলোকে তাদের যথাযথ স্থানে স্থাপন করা। আল্লাহ তাআলার এই নামের দাবি হলো যে, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন বা শরয়ি বিধান দিয়েছেন, তা এক সুমহান হিকমতের ওপর প্রতিষ্ঠিত; যা কেউ অবগত হয়েছে, আবার কেউ তা জানতে পারেনি।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর যে রোজা বিধিবদ্ধ ও ফরজ করেছেন, তার মধ্যে সুমহান হিকমত ও প্রচুর উপকারিতা নিহিত রয়েছে:
* রোজার অন্যতম হিকমত হলো: এটি এমন একটি ইবাদত যার মাধ্যমে বান্দা তার রবের নৈকট্য অর্জন করে তার স্বভাবজাত প্রিয় বস্তু যেমন—খাবার, পানীয় ও দাম্পত্য মিলন ত্যাগ করার মাধ্যমে; যাতে সে এর দ্বারা তার রবের সন্তুষ্টি এবং তাঁর মর্যাদাপূর্ণ আবাসে সফলতা লাভ করতে পারে। এর মাধ্যমে বান্দার নিজের নফসের প্রিয় বিষয়ের ওপর রবের প্রিয় বিষয়কে এবং ইহকালের ওপর পরকালকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ৪)
* ومن حكم الصيام: أنه سبب للتقوى إذا قام الصائم بواجب صيامه، قال الله تعالى: {يأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} {البقرة 183} . فالصائم مأمور بتقوى الله عز وجل وهي امتثال أمره، واجتناب نهيه، وذلك هو المقصود الأعظم بالصيام، وليس المقصود تعذيب الصائم بترك الأكل والشرب والنكاح؛ قال النبي صلى الله عليه وسلم: «مَن لم يَدَعْ قول الزور والعمل به والجهل فليس لله حاجة في أن يَدَعَ طعامه وشرابه» . رواه البخاري (1) ، قول الزور: كل مُحَرَّم من الكذب والغيبة والشتم، وغيرها من الأعمال المحرَّمة. والعمل بالزور: العمل بكل فعل مُحَرَّم من العدوان على الناس، بخيانة، وغش، وضرب الأبدان، وأخذ الأموال، ونحوها، ويدخل فيه الاستماع إلى ما يحرم الاستماع إليه من الأغاني المحرَّمة، والمعازف: وهي آلات اللهو. والجهل: هو السفه، وهو مجانبة الرشد في القول والعمل، فإذا تمشَّى الصائم بمقتضى هذه الآية والحديث كان الصيام تربية نفسه، وتهذيب أخلاقه، واستقامة سلوكه، ولم يخرج شهر رمضان إلا وقد تأثَّر تأثُّراً بالغاً يظهر في نفسه وأخلاقه وسلوكه.
* ومن حِكَم الصيام: أن الغني يعرف قدر نعمة الله عليه بالغِنى حيث إن الله ـ تعالى ـ قد يسَّر له الحصول على ما يشتهي، من طعام، وشراب، ونكاح مما أباح الله شرعاً، ويسَّره له قدراً، فيشكر ربه على هذه النعمة، ويذكر أخاه الفقير الذي لا يتيسر له الحصول على ذلك، فيجود عليه بالصدقة والإحسان.
--------------------------------------------
* সিয়ামের অন্যতম প্রজ্ঞা (হিকমত) হলো: এটি তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম, যদি রোজাদার তার সিয়ামের আবশ্যিক দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালন করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর তা ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো} {আল-বাকারা ১৮৩}। সুতরাং রোজাদার আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র তাকওয়া অবলম্বন করতে আদিষ্ট, যা হলো তাঁর আদেশসমূহ পালন করা এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করা; আর এটাই সিয়ামের মহান উদ্দেশ্য। সিয়ামের উদ্দেশ্য পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস ত্যাগের মাধ্যমে রোজাদারকে কেবল কষ্ট দেওয়া নয়; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা, তদনুযায়ী আমল এবং মূর্খতা বর্জন করল না, তার পানাহার ত্যাগের মধ্যে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। 'মিথ্যা কথা' বলতে মিথ্যাচার, গিবত ও গালিগালাজসহ সব ধরনের হারাম কথাকে বোঝায়। 'মিথ্যার ওপর আমল' হলো সব ধরনের হারাম কর্মকাণ্ড, যেমন—মানুষের ওপর সীমালঙ্ঘন, খিয়ানত, প্রতারণা, শারীরিক আঘাত ও সম্পদ আত্মসাৎ ইত্যাদি। এমনকি বাদ্যযন্ত্র বা হারাম সংগীত শ্রবণও এর অন্তর্ভুক্ত। আর 'মূর্খতা' বলতে নির্বুদ্ধিতা এবং কথা ও কাজে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়াকে বোঝায়। সুতরাং রোজাদার যদি এই আয়াত ও হাদিসের দাবি অনুযায়ী পরিচালিত হয়, তবে সিয়াম হবে তার নফসের জন্য এক বিশেষ প্রশিক্ষণ, চরিত্রের পরিশুদ্ধি এবং আচরণের সঠিক পথের দিশারি। ফলে রমজান মাস অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই তার সত্তা, চরিত্র ও আচরণে এক গভীর ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে।
* সিয়ামের অন্যতম প্রজ্ঞা (হিকমত) হলো: এর মাধ্যমে ধনী ব্যক্তি তার প্রতি আল্লাহর ধনাঢ্যতার নেয়ামতের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। যেহেতু আল্লাহ তাআলা তার জন্য শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ পানাহার ও দাম্পত্য সুখ লাভ সহজ করে দিয়েছেন এবং তার তকদিরেও তা সহজলভ্য করেছেন। ফলে সে এই নেয়ামতের জন্য তার রবের শুকরিয়া আদায় করে এবং তার অভাবী ভাইয়ের কথা স্মরণ করে যার পক্ষে এগুলো সংগ্রহ করা সহজ নয়; তখন সে দান-সদকা ও ইহসানের মাধ্যমে তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
* ومن حِكَم الصيام: التمرُّن على ضبط النفس والسيطرة عليها حتى يتمكَّن من قيادتها لما فيه خيرها وسعادتها في الدنيا والآخرة، ويبتعد عن أن يكون إنساناً بهيميًّا لا يتمكن من منع نفسه عن لذَّتها وشهواتها، لما فيه مصلحتها.
* ومن حِكَم الصيام: ما يحصل من الفوائد الصحيَّة الناتجة عن تقليل الطعام وإراحة الجهاز الهضمي فترة معيَّنة وترسُّب بعض الفضلات والرطوبات الضارة بالجسم وغير ذلك.
الفصل الثالث في حُكم صيام المريض والمسافرقال الله تعالى: {وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} {سورة البقرة 185} .
والمريض على قسمين:
أحدهما: مَن كان مرضه لازماً مستمرًّا لا يرجى زواله كالسرطان فلا يلزمه الصوم؛ لأنه ليس له حال يُرجى فيها أن يقدر عليه، ولكن يُطعِم عن صيام كل يوم مسكيناً، إما بأن يجمع مساكين بعدد الأيام فيعشِّيهم أو يُغديهم كما كان أنس بن مالك رضي الله عنه يفعله حين كبر، وإما بأن يفرق طعاماً على مساكين بعدد الأيام لكل مسكين ربع صاع نبوي، أي مايزن نصف كيلو وعشرة غرامات من البُر الجيِّد، ويحسن أن يجعل معه ما يأدمه من لحم أو دهن، ومثل ذلك الكبير العاجز عن الصوم، فيطعم عن كل يوم مسكيناً.
الثاني: مَن كان مرضه طارئاً غير ميؤوس من زواله كالحُمَّى وشبهها وله ثلاث حالات:
الحال الأولى: أن لا يشق عليه الصوم ولا يضره فيجب عليه الصوم؛ لأنه لا عذر له.
الحال الثانية: أن يشق عليه الصوم ولا يضره فيكره له الصوم لِمَا فيه من العدول عن رخصة الله تعالى مع الإشقاق على نفسه.
* রোযার হিকমতসমূহের মধ্যে রয়েছে: আত্মসংযম এবং নফসের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অনুশীলন করা, যাতে ব্যক্তি ইহকাল ও পরকালে তার কল্যাণ ও সৌভাগ্যের পথে নফসকে পরিচালিত করতে সক্ষম হয়; এবং সে যেন এমন পশুতুল্য মানুষে পরিণত হওয়া থেকে দূরে থাকে, যে নিজের কল্যাণের খাতিরে নিজের স্বাদ ও লালসা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে না।
* রোযার হিকমতসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে: খাদ্য পরিমিতকরণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রামের সুযোগ দেওয়ার ফলে যে সকল স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অর্জিত হয় এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকর বর্জ্য ও আর্দ্রতা দূর হয় ইত্যাদি।
তৃতীয় অধ্যায়: অসুস্থ ব্যক্তি ও মুসাফিরের রোযার বিধান প্রসঙ্গেআল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না} {সূরা আল-বাকারাহ ১৮৫}।
অসুস্থ ব্যক্তি দুই প্রকার:
প্রথমত: যার অসুস্থতা স্থায়ী ও নিরবচ্ছিন্ন এবং তা থেকে আরোগ্যের আশা নেই, যেমন ক্যান্সার; তার ওপর রোযা রাখা আবশ্যক নয়। কারণ তার এমন কোনো অবস্থা আসার সম্ভাবনা নেই যখন সে এটি পালনে সক্ষম হবে। তবে সে প্রতিটি রোযার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে অন্নদান করবে। হয় সে রোযার দিনগুলোর সমপরিমাণ মিসকিন একত্র করে তাদের রাতের বা দুপুরের খাবার খাওয়াবে, যেমনটি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বার্ধক্যে উপনীত হলে করতেন। অথবা সে দিনগুলোর সংখ্যা অনুযায়ী মিসকিনদের মাঝে খাদ্য বণ্টন করে দেবে; প্রত্যেক মিসকিনকে এক নববী সা’-এর চার ভাগের এক ভাগ (রুবউ সা’), অর্থাৎ উন্নত মানের গমের ওজনে যা প্রায় পাঁচশত দশ গ্রাম সমপরিমাণ। আর সেই খাদ্যের সাথে তরকারি হিসেবে গোশত বা চর্বি জাতীয় কিছু যুক্ত করা উত্তম। অনুরূপভাবে, যে অতি বৃদ্ধ রোযা রাখতে অক্ষম, সেও প্রতিদিনের পরিবর্তে একজন মিসকিনকে অন্নদান করবে।
দ্বিতীয়ত: যার অসুস্থতা সাময়িক এবং যা থেকে আরোগ্যের আশা আছে, যেমন জ্বর বা এই জাতীয় কিছু। তার ক্ষেত্রে তিনটি অবস্থা হতে পারে:
প্রথম অবস্থা: যদি তার জন্য রোযা রাখা কষ্টসাধ্য না হয় এবং ক্ষতির কারণ না হয়, তবে তার ওপর রোযা রাখা আবশ্যক (واجب); কারণ তার জন্য কোনো ওজর (عذر) নেই।
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি রোযা রাখা তার জন্য কষ্টকর হয় কিন্তু ক্ষতিকর না হয়, তবে তার জন্য রোযা রাখা অপছন্দনীয় (مكروه); কারণ এতে নিজের ওপর কষ্টারোপ করে আল্লাহ তাআলার দেওয়া বিশেষ সুযোগ বা রুখসত (رخصة) বর্জন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحال الثالثة: أن يضره الصوم فيحرم عليه أن يصوم لِمَا فيه من جلب الضرر على نفسه، وقد قال ـ تعالى ـ: {وَلَا تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيماً} {سورة النساء 29} . وقال: {وَلَا تُلْقُواْ بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} {سورة البقرة 159} . وفي الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا ضَرَرَ ولا ضِرَارَ» أخرجه ابن ماجه، والحاكم (1) ، قال النووي: وله طرق يقوي بعضها بعضاً، ويعرف ضرر الصوم على المريض إما بإحساسه بالضرر بنفسه، وإما بخبر طبيب موثوق به. ومتى أفطر المريض في هذا القسم فإنه يقضي عدد الأيام التي أفطرها إذا عوفي، فإن مات قبل معافاته سقط عنه لقضاء المريض لأن فرضه أن يصوم عدة من أيام أُخر ولم يدركها.
والمسافر على قسمين:
أحدهما: مَن يقصد بسفره التحيل على الفطر، فلا يجوز له الفطر؛ لأن التحيل على فرائض الله لا يسقطها.
الثاني: مَن لا يقصد ذلك فله ثلاث حالات:
الحال الأولى: أن يشق عليه الصوم مشقة شديدة فيحرم عليه أن يصوم؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم «كان في غزوة الفتح صائماً فبلغه أن الناس قد شقَّ عليهم الصيام، وأنهم ينظرون فيما فعل فدعا بقدح من ماء بعد العصر فشربه، والناس ينظرون، فقيل له: إن بعض الناس قد صاموا، فقال: «أولئك العُصاة، أولئك العُصاة» رواه مسلم (2) .
الحال الثانية: أن يشق عليه الصوم مشقة غير شديدة فيكره له الصوم لِما فيه من العدول عن رخصة الله ـ تعالى ـ مع الإشقاق على نفسه.
--------------------------------------------
তৃতীয় অবস্থা: সিয়াম পালন যদি তার জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে তার জন্য সিয়াম পালন করা হারাম (محرم); কারণ এতে নিজের ওপর ক্ষতি বয়ে আনা হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।" {সূরা আন-নিসা: ২৯}। তিনি আরও বলেন: "আর তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না।" {সূরা আল-বাকারাহ: ১৫৯}। হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না।" এটি ইবনে মাজাহ এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী বলেন: এর এমন কিছু সূত্র (طرق) রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে (يقوي بعضها بعضاً)। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য সিয়ামের ক্ষতি সম্পর্কে জানা যায় হয় নিজের অনুভূতির মাধ্যমে, অথবা কোনো নির্ভরযোগ্য (موثوق به) চিকিৎসকের তথ্যের ভিত্তিতে। এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত কোনো অসুস্থ ব্যক্তি যদি সিয়াম ভঙ্গ করে, তবে সে সুস্থ হওয়ার পর সমসংখ্যক দিনের কাজা (قضاء) আদায় করবে। যদি সে সুস্থ হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সেই অসুস্থ ব্যক্তির ওপর থেকে কাজা (قضاء) করার দায়ভার রহিত হয়ে যাবে; কারণ তার ওপর বিধান ছিল অন্য দিনগুলোতে সিয়াম পালন করা, যা সে লাভ করতে পারেনি।
মুসাফির (ভ্রমণকারী) দুই প্রকার:
প্রথমত: যে ব্যক্তি তার সফরের মাধ্যমে সিয়াম ভঙ্গের অপকৌশল অবলম্বন করার ইচ্ছা পোষণ করে; তার জন্য সিয়াম ভঙ্গ করা বৈধ নয়। কারণ আল্লাহর ফরজ (فرائض) বিধানের ওপর অপকৌশল অবলম্বন করলে তা রহিত হয়ে যায় না।
দ্বিতীয়ত: যার এমন কোনো উদ্দেশ্য নেই; তার জন্য তিনটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথম অবস্থা: যদি সিয়াম পালন করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়, তবে সিয়াম পালন করা তার জন্য হারাম (محرم); কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের অভিযানে (গজওয়ায়ে ফাতহ) সিয়াম অবস্থায় ছিলেন। যখন তিনি জানতে পারলেন যে মানুষের জন্য সিয়াম পালন কষ্টকর হয়ে পড়েছে এবং তারা লক্ষ্য করছে তিনি কী করেন, তখন তিনি আসরের পর এক পেয়ালা পানি আনিয়ে তা পান করলেন এবং মানুষ তা দেখছিল। এরপর তাঁকে বলা হলো যে, কিছু মানুষ তবুও সিয়াম পালন করছে, তখন তিনি বললেন: "তারাই অবাধ্য (عصاة), তারাই অবাধ্য (عصاة)।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি সিয়াম পালন করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর না হয়ে কিছুটা কষ্টকর হয়, তবে তার জন্য সিয়াম পালন করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয় (مكروه); কারণ এতে নিজের ওপর কষ্টারোপ করার মাধ্যমে আল্লাহর দেওয়া সহজ সুযোগ বা রুকসত (رخصة) থেকে বিমুখ হওয়া প্রকাশ পায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
الحال الثالثة: أن لا يشق عليه الصوم فيفعل الأيسر عليه من الصوم والفطر، لقوله ـ تعالى ـ: {يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ} {سورة البقرة 185} . والإرادة هنا بمعنى المحبة، فإن تساويا فالصوم أفضل؛ لأنه فِعْل النبي صلى الله عليه وسلم.
كما في صحيح مسلم عن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: «خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في رمضان في حر شديد حتى إن كان أحدنا ليضع يده على رأسه من شدة الحر وما فينا صائم إلا رسول الله صلى الله عليه وسلم وعبد الله بن رواحة» (1) .
والمسافر على سفر من حين يخرج من بلده حتى يرجع إليها، ولو أقام في البلد التي سافر إليها مدة فهو على سفر مادام على نيَّة أنه لن يقيم فيها بعد انتهاء غرضه الذي سافر إليها من أجله، فيترخص برخص السفر، ولو طالت مدة إقامته لأنه لم يرد عن النبي صلى الله عليه وسلم تحديد مدة ينقطع بها السفر، والأصل بقاء السفر وثبوت أحكامه حتى يقوم دليل على انقطاعه وانتفاء أحكامه.
ولا فرق في السفر الذي يترخّص فيه بين السفر العارض كحج وعمرة وزيارة قريب وتجارة ونحوه، وبين السفر المستمر كسفر أصحاب سيارات الأجرة (التكاسي) أو غيرها من السيارات الكبيرة فإنهم متى خرجوا من بلدهم فهم مسافرون يجوز لهم ما يجوز للمسافرين الآخرين من الفطر في رمضان وقصر الصلاة الرباعية إلى ركعتين، والجمع عند الحاجة إليه بين الظهر والعصر، وبين المغرب والعشاء، والفطر أفضل لهم من الصيام، إذا كان أسهل لهم ويقضونه في أيام الشتاء، لأن أصحاب هذه السيارات لهم بلد ينتمون إليها، فمتى كانوا في بلدهم فهم مقيمون، لهم ما للمقيمين وعليهم ما عليهم، ومتى سافروا فهم مسافرون، لهم ما للمسافرين وعليهم ما على المسافرين.
--------------------------------------------
তৃতীয় অবস্থা: যদি রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর না হয়, তবে রোজা রাখা বা না রাখার মধ্যে যা তার জন্য সহজ তা-ই সে করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজতা চান এবং তিনি তোমাদের জন্য কঠিন কিছু চান না" [সুরা আল-বাকারাহ: ১৮৫]। এখানে 'ইচ্ছা' বলতে 'ভালোবাসা' বুঝানো হয়েছে। আর যদি উভয়টি (রোজা রাখা ও না রাখা) সমান হয়, তবে রোজা রাখাই উত্তম; কারণ এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম ছিল।
যেমনটি সহিহ মুসলিম-এ আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমরা রমজান মাসে প্রচণ্ড গরমে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সফরে বের হয়েছিলাম। গরম এতটাই তীব্র ছিল যে, আমাদের কেউ কেউ তীব্র গরমের কারণে নিজের হাত মাথায় রাখছিল। আমাদের মধ্যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ছাড়া আর কেউ রোজা অবস্থায় ছিলেন না" (১)।
একজন মুসাফির তার নিজ এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় থেকে সেখানে ফিরে আসা পর্যন্ত সফরে গণ্য হবেন। এমনকি তিনি যে দেশে সফর করেছেন সেখানে যদি নির্দিষ্ট মেয়াদে অবস্থানও করেন, তবুও যতক্ষণ পর্যন্ত তার এই নিয়ত থাকে যে তার উদ্দেশ্য পূরণ হওয়ার পর তিনি সেখানে আর অবস্থান করবেন না, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি মুসাফির হিসেবেই গণ্য হবেন। ফলে তিনি সফরের বিধানের শিথিলতা (رخصة) সমূহ গ্রহণ করতে পারবেন, যদিও তার অবস্থানের মেয়াদ দীর্ঘ হয়। কারণ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সফর সমাপ্ত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বর্ণিত হয়নি। আর মূলনীতি (الأصل) হলো সফর অব্যাহত থাকা এবং এর বিধানসমূহ সাব্যস্ত থাকা, যতক্ষণ না সফর শেষ হওয়া এবং এর বিধানসমূহ রহিত হওয়ার কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
যে সফরে বিধানের শিথিলতা (رخصة) গ্রহণ করা যায়, সেক্ষেত্রে আকস্মিক সফর যেমন—হজ, উমরাহ, আত্মীয়র সাথে সাক্ষাৎ বা ব্যবসা ইত্যাদি এবং নিরন্তর সফর যেমন—ভাড়ায় চালিত ট্যাক্সি বা অন্য বড় গাড়ির চালকদের সফরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা যখনই তাদের এলাকা থেকে বের হবেন, তখনই তারা মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন। অন্যান্য মুসাফিরদের জন্য যা বৈধ, তাদের জন্যও তা বৈধ হবে। যেমন—রমজানে রোজা ভঙ্গ করা, চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ সংক্ষিপ্ত (قصر) করে দুই রাকাত পড়া এবং প্রয়োজনের সময় জোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে (جمع) পড়া। যদি তাদের জন্য সহজ হয়, তবে রোজা না রেখে পরবর্তী সময়ে শীতের দিনে তা কাজা করে নেওয়া তাদের জন্য উত্তম। কেননা এই গাড়িচালকদের একটি নির্দিষ্ট দেশ বা এলাকা রয়েছে যেখানে তারা বসবাস করেন; সুতরাং যখন তারা নিজেদের এলাকায় থাকবেন তখন তারা স্থানীয় বাসিন্দা (مقيم) হিসেবে গণ্য হবেন এবং মুকিমদের জন্য যা প্রযোজ্য তাদের জন্যও তা-ই প্রযোজ্য হবে। আর যখন তারা সফরে বের হবেন, তখন তারা মুসাফির হিসেবে গণ্য হবেন এবং মুসাফিরদের জন্য নির্ধারিত বিধানাবলি তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الرابع في مفسدات الصوم وهي المفطراتمفسدات الصوم سبعة:
أحدها: الجماع، وهو إيلاج الذكر في الفرج، فمتى جامع الصائم فسد صومه، ثم إن كان في نهار رمضان والصوم واجب عليه لزمته الكفَّارة المغلَّظة لفُحش فعله، وهي عتق رقبة، فإن لم يجد فصيام شهرين متتابعين، فإن لم يستطع فإطعام ستين مسكيناً، فإن كان الصوم غير واجب عليه كالمسافر يجامع زوجته وهو صائم فعليه القضاء دون الكفَّارة.
الثاني: إنزال المني بمباشرة أو تقبيل أو ضم أو نحوها، فإن قبَّل ولم ينزل فلا شيء عليه.
الثالث: الأكل والشرب، وهو إيصال الطعام أو الشراب إلى الجوف سواء كان عن طريق الفم أو عن طريق الأنف، أيًّا كان نوع المطعوم، أو المشروب، ولا يجوز للصائم أن يستنشق دخان البخور بحيث يصل إلى جوفه؛ لأن الدخان جرم، وأما شم الروائح الطيبة فلا بأس به.
الرابع: ما كان بمعنى الأكل أو الشرب، مثل الإبر المغذية التي يستغنى بها عن الأكل والشرب، فأما غير المغذية فلا تفطر سواء كانت عن طريق العرق أو العضل.
الخامس: إخراج الدم بالحجامة وعلى قياسه إخراجه بالفصد، ونحوه مما يؤثِّر على البدن كتأثير الحجامة، فأما إخراج الدم اليسير للفحص ونحوه، فلا يفطر لأنه لا يؤثِّر، على البدن من الضعف تأثير الحجامة.
السادس: التقيؤ عمداً، وهو إخراج ما في المعدة من طعام أو شراب.
السابع: خروج دم الحيض والنفاس.
وهذه المفسدات لا تفطر الصائم إلا بثلاثة شروط:
أحدها: أن يكون عالماً بالحكم وعالماً بالوقت.
الثاني: أن يكون ذاكراً.
الثالث: أن يكون مختاراً.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: রোজা বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ (مفسدات) তথা রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (المفطرات)রোজা বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ সাতটি:
প্রথমটি: সহবাস (الجماع), আর তা হলো যৌনাঙ্গে পুংলিঙ্গ প্রবেশ করানো। সুতরাং যখনই কোনো রোজাদার সহবাস করবে, তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। অতঃপর যদি তা রমজানের দিনের বেলা হয় এবং রোজা রাখা তার ওপর আবশ্যক (واجب) হয়, তবে তার কার্যের জঘন্যতার কারণে তার ওপর কঠোর কাফফারা (الكفَّارة المغلَّظة) আবশ্যক হবে। আর তা হলো একজন দাস মুক্ত করা; যদি তা লাভে সক্ষম না হয় তবে দুই মাস একনাগাড়ে রোজা রাখা, আর যদি তাতেও সমর্থ না হয় তবে ষাটজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানো। কিন্তু যদি রোজা রাখা তার ওপর আবশ্যক (واجب) না হয়, যেমন মুসাফির যদি রোজা থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে, তবে তার ওপর কেবল কাজা (القضاء) করা আবশ্যক হবে, কাফফারা (الكفَّارة) নয়।
দ্বিতীয়টি: সরাসরি স্পর্শ, চুম্বন, আলিঙ্গন বা এ জাতীয় কোনো উপায়ে বীর্যপাত (إنزال المني) ঘটানো। তবে যদি কেউ চুম্বন করে এবং বীর্যপাত না ঘটে, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।
তৃতীয়টি: পানাহার করা; আর তা হলো খাদ্য বা পানীয় পাকস্থলীতে পৌঁছানো, চাই তা মুখের মাধ্যমে হোক অথবা নাকের মাধ্যমে, খাদ্যের ধরন বা পানীয় যা-ই হোক না কেন। রোজাদারের জন্য ধূপের ধোঁয়া এমনভাবে গ্রহণ করা বৈধ নয় যা তার উদর পর্যন্ত পৌঁছে যায়; কারণ ধোঁয়া একটি বস্তু (جرم)। তবে সুগন্ধি ঘ্রাণ নেওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই।
চতুর্থটি: যা পানাহারের সমার্থবোধক, যেমন পুষ্টিবর্ধক ইনজেকশন যার মাধ্যমে পানাহার থেকে বিমুখ থাকা সম্ভব হয়। তবে পুষ্টিহীন ইনজেকশন রোজা ভঙ্গ করে না, চাই তা শিরার মাধ্যমে হোক বা মাংসপেশির মাধ্যমে।
পঞ্চমটি: হিজামা বা সিঙা (الحجامة) ব্যবহারের মাধ্যমে রক্ত বের করা এবং একই নিয়মে ফাসদ বা রগ কাটার (الفصد) মাধ্যমে রক্ত বের করা এবং এ জাতীয় যা শরীরে হিজামার মতো প্রভাব ফেলে। তবে পরীক্ষার জন্য সামান্য রক্ত বের করা বা এ জাতীয় কিছু রোজা ভঙ্গ করে না, কারণ এটি শরীরে হিজামার মতো দুর্বলতার প্রভাব ফেলে না।
ষষ্ঠটি: ইচ্ছাকৃত বমি (التقيؤ) করা; আর তা হলো পাকস্থলীতে থাকা খাদ্য বা পানীয় বের করে দেওয়া।
সপ্তমটি: ঋতুস্রাব (حيض) ও নিফাস (نفাস) তথা প্রসব পরবর্তী রক্ত নির্গত হওয়া।
আর এই রোজা বিনষ্টকারী বিষয়গুলো কেবল তিনটি শর্তে রোজা ভঙ্গ করে:
প্রথমটি: বিধান সম্পর্কে এবং সময় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা।
দ্বিতীয়টি: বিষয়টি স্মরণ থাকা।
তৃতীয়টি: স্বেচ্ছায় বা সজ্ঞানে করা।
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
فلو احتجم يظن أن الحجامة لا تفطر فصومه صحيح لأنه جاهل بالحكم، وقد قال الله تعالى: {وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَآ أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِن مَّا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ} {سورة الأحزاب 5} . وقال ـ تعالى ـ: {رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَآ إِن نَّسِينَآ أَوْ أَخْطَأْنَا} {سورة البقرة 286} . فقال الله: «قد فعلت» ، وفي الصحيحين عن عدي بن حاتم رضي الله عنه أنه جعل عقالين أسود وأبيض تحت وسادته فجعل يأكل وينظر إليهما فلمَّا تبيَّن أحدهما من الآخر، أمسك عن الأكل يظن أن ذلك معنى قوله تعالى: {حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ} {سورة البقرة 187} .
ثم أخبر النبي صلى الله عليه وسلم، فقال له صلى الله عليه وسلم: «إنَّما ذلك بياضُ النهار وسوادُ الليل» (1) . ولم يأمره بالإعادة.
--------------------------------------------
সুতরাং কেউ যদি সিঙা লাগায় এই মনে করে যে সিঙা লাগানো রোজা ভঙ্গ করে না, তবে তার রোজা সঠিক (صحيح); কারণ সে বিধানটি সম্পর্কে অজ্ঞ। আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তোমরা যে বিষয়ে ভুল করো তাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই, তবে তোমাদের অন্তর যা সংকল্প করে (তাতে গুনাহ হবে)} {সূরা আল-আহযাব: ৫}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না} {সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬}। তখন আল্লাহ বললেন: 'আমি তা করলাম (অর্থাৎ প্রার্থনা কবুল করলাম)'। আর সহীহাইন-এ আদি ইবন হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর বালিশের নিচে একটি কালো ও একটি সাদা সুতা রাখলেন এবং তিনি আহার করতে থাকলেন ও সেগুলোর দিকে তাকাতে থাকলেন। যখন একটি অপরটি থেকে স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল, তখন তিনি আহার থেকে বিরত হলেন। তিনি মনে করেছিলেন যে, এটিই আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অর্থ: {যতক্ষণ না সাদা সুতা কালো সুতা থেকে তোমাদের নিকট স্পষ্ট হয়ে যায়} {সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৭}।
অতঃপর তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিষয়টি অবহিত করলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: 'তা তো কেবল দিনের শুভ্রতা এবং রাতের অন্ধকার'। তিনি তাঁকে রোজা পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولو أكل يظن أن الفجر لم يطلع أو أن الشمس قد غربت ثم تبيَّن خلاف ظنه فصومه صحيح؛ لأنه جاهل بالوقت، وفي صحيح البخاري عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما قالت: أفطرنا في عهد النبي صلى الله عليه وسلم، في يوم غيم ثم طلعت الشمس (1) . ولو كان القضاء واجباً لبيَّنه صلى الله عليه وسلم؛ لأن الله أكمل به الدين، ولو بيَّنه صلى الله عليه وسلم لنقله الصحابة؛ لأن الله تكفَّل بحفظ الدين، فلما لم ينقله الصحابة علمنا أنه ليس بواجب، ولأنه مما توفر الدواعي على نقله لأهميته، فلا يمكن إغفاله، ولو أكل ناسياً أنه صائم لم يفطر، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «مَن نسي وهو صائم فأكل أو شرب فليتم صومه فإنما أطعمه الله وسقاه» . متفق عليه (2) . ولو أكره على الأكل، أو تمضمض فتهرَّب الماء إلى بطنه أو قطر في عينه، فتهرَّب القطور إلى جوفه، أو احتلم فأنزل منيًّا فصومه صحيح في ذلك كله لأنه بغير اختياره.
ولا يفطر الصائم بالسواك بل هو سُنَّة له ولغيره في كل وقت في أول النهار وآخره، ويجوز للصائم أن يفعل ما يخفف عنه شدة الحر والعطش كالتبرد بالماء ونحوه، فإن النبي صلى الله عليه وسلم «كان يصب الماء على رأسه وهو صائم من العطش» (3) . وبَلَّ ابن عمر رضي الله عنهما ثوباً فألقاه على نفسه وهو صائم (4) ، وهذا من اليُسر الذي كان الله يريده بنا ولله الحمد والمِنَّة على نعمته وتيسيره.
الفصل الخامس في التراويح--------------------------------------------
আর যদি কেউ এই মনে করে আহার করে যে ফজর উদিত হয়নি অথবা সূর্য অস্তমিত হয়েছে, তারপর তার ধারণার বিপরীত বিষয়টি প্রকাশ পায়, তবে তার রোজা সঠিক (صحيح); কেননা সে সময় সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল। আর সহীহ বুখারীতে আসমা বিনতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক মেঘলা দিনে ইফতার করলাম, অতঃপর সূর্য দেখা গেল (১)। যদি কাজা ওয়াজিব হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অবশ্যই বর্ণনা করতেন; কারণ আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তা বর্ণনা করতেন, তবে সাহাবীগণ অবশ্যই তা বর্ণনা করতেন; কারণ আল্লাহ দ্বীন সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। যেহেতু সাহাবীগণ তা বর্ণনা করেননি, তাই আমরা জানতে পারলাম যে এটি ওয়াজিব নয়। তদুপরি এটি এমন একটি বিষয় যার গুরুত্বের কারণে বর্ণনা করার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি ছিল, তাই এটি উপেক্ষা করা অসম্ভব। আর যদি রোজা রাখার কথা ভুলে গিয়ে কেউ আহার করে, তবে তার রোজা ভঙ্গ হবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: «যে ব্যক্তি রোজা থাকা অবস্থায় ভুলে গেল এবং পানাহার করল, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে, কারণ আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন»। এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) (২)। আর যদি কাউকে আহার করতে বাধ্য করা হয়, অথবা কুলি করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে পানি পেটে চলে যায়, অথবা চোখে ড্রপ দেওয়ার ফলে সেই ড্রপ কণ্ঠনালীতে পৌঁছে যায়, অথবা স্বপ্নদোষের ফলে বীর্যপাত ঘটে, তবে এই সব ক্ষেত্রেই তার রোজা সঠিক (صحيح); কারণ এটি তার ইচ্ছাধীন ছিল না।
মিসওয়াক করার মাধ্যমে রোজাদারের রোজা ভঙ্গ হয় না, বরং এটি তার জন্য এবং অন্যদের জন্য দিনের শুরুতে এবং শেষে সর্বদাই সুন্নাহ (سنة)। রোজাদারের জন্য এমন কাজ করা বৈধ যা তার প্রচণ্ড গরম ও তৃষ্ণা লাঘব করে, যেমন পানির মাধ্যমে শীতলতা গ্রহণ করা এবং অনুরূপ কাজ। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম «তৃষ্ণার কারণে রোজা থাকা অবস্থায় নিজের মাথায় পানি ঢালতেন» (৩)। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) একটি কাপড় ভিজিয়ে নিজের গায়ের ওপর রেখেছিলেন যখন তিনি রোজাদার ছিলেন (৪)। এটি সেই সহজসাধ্যতার অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ আমাদের জন্য চেয়েছেন। আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা এবং অনুগ্রহ তাঁর নেয়ামত ও সহজীকরণের ওপর।
পঞ্চম অধ্যায়: তারাবিহ প্রসঙ্গে--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
التراويح: قيام الليل جماعة في رمضان، ووقتها من بعد العشاء إلى طلوع الفجر، وقد رغَّب النبي صلى الله عليه وسلم في قيام رمضان حيث قال: «من قام رمضان إيماناً واحتساباً غفر له ما تقدم من ذنبه» (1) . وفي صحيح البخاري عن عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قام ذات ليلة في المسجد فصلى بصلاته ناس، ثم صلى من القابلة فكثر الناس ثم اجتمعوا من الليلة الثالثة أو الرابعة فلم يخرج إليهم، فلمَّا أصبح قال: «قد رأيت ما صنعتم فلم يمنعني من الخروج إليكم إلا أني خشيت أن تُفرَض عليكم» (2) . وذلك في رمضان.
والسُّنَّة أن يقتصر على إحدى عشرة ركعة، يسلِّم من كل ركعتين؛ لأن عائشة رضي الله عنها سئلت كيف كانت صلاة النبي صلى الله عليه وسلم في رمضان؟ فقالت: «ما كان يزيد في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة» متفق عليه (3) . وفي الموطأ عن محمد بن يوسف ـ وهو ثقة ثبت ـ عن السائب بن يزيد ـ وهو صحابي ـ أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أمر أُبي بن كعب وتميماً الداري أن يقوما للناس بإحدى عشرة ركعة (4) .
وإن زاد على إحدى عشرة ركعة فلا حرج؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم سُئِل عن قيام الليل فقال: «مثنى مثنى فإذا خشي أحدكم الصبح صلَّى ركعة واحدة توتر له ما قد صلَّى» أخرجاه في الصحيحين (5) ، لكن المحافظة على العدد الذي جاءت به السُّنَّة مع التأنِّي والتطويل الذي لا يشق على الناس أفضل وأكمل.
--------------------------------------------
তারাবিহ: রমজানে জামাতের সাথে রাতের কিয়াম (সালাত আদায়), এবং এর সময় হলো ইশা সালাতের পর থেকে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রমজানের কিয়ামের প্রতি উৎসাহিত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে কিয়াম করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে» (১)। এবং সহিহ বুখারিতে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক রাতে মসজিদে সালাত আদায় করলেন, তখন কিছু লোক তাঁর সাথে সালাত আদায় করল। এরপর তিনি পরবর্তী রাতেও সালাত আদায় করলেন এবং লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পেল। এরপর তারা তৃতীয় বা চতুর্থ রাতে একত্রিত হলেন, কিন্তু তিনি তাদের নিকট বের হলেন না। যখন ভোর হলো তখন তিনি বললেন: «তোমরা যা করেছ আমি তা দেখেছি, তোমাদের নিকট আমার বের হতে বাধা ছিল না কেবল এই আশঙ্কা ব্যতীত যে, তা তোমাদের ওপর ফরজ করে দেওয়া হতে পারে» (২)। আর তা ছিল রমজানে।
এবং সুন্নাত হলো এগারো রাকাতে সীমাবদ্ধ থাকা, প্রতি দুই রাকাত অন্তর সালাম ফিরানো; কারণ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রমজানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সালাত কেমন ছিল? তিনি বললেন: «তিনি রমজানে অথবা রমজান ছাড়া অন্য সময়ে এগারো রাকাতের বেশি বৃদ্ধি করতেন না» সর্বসম্মত (متفق عليه) (৩)। এবং মুওয়াত্তায় মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ থেকে বর্ণিত —যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুদৃঢ় (ثبت)— সায়েব ইবনে ইয়াজিদ থেকে —যিনি একজন সাহাবি (صحابي)— যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উবাই ইবনে কাব এবং তামিমেদারিকে লোকদের নিয়ে এগারো রাকাত কিয়াম আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন (৪)।
আর যদি কেউ এগারো রাকাতের বেশি বৃদ্ধি করে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাতের কিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «দুই দুই (রাকাত করে), অতঃপর তোমাদের কেউ যদি ফজর হওয়ার আশঙ্কা করে, তবে সে এক রাকাত সালাত আদায় করবে, যা তার ইতিপূর্বে আদায়কৃত সালাতকে বিতর (বিজোড়) করে দিবে» তারা উভয়ে এটি সহিহাইন (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)-এ সংকলন করেছেন (৫), তবে সুন্নাহ অনুযায়ী নির্ধারিত সংখ্যার ওপর যত্নবান হওয়া এবং মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য নয় এমন ধীরস্থিরতা ও দীর্ঘ করার সাথে তা সম্পাদন করা উত্তম ও পূর্ণাঙ্গ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأما ما يفعل بعض الناس من الإسراع المفرط فإنه خلاف المشروع، فإن أدَّى إلى الإخلال بواجب أو ركن كان مبطلاً للصلاة.
وكثير من الأئمة: لا يتأنَّى في صلاة التراويح وهذا خطأ منهم، فإن الإمام لا يصلي لنفسه فقط، وإنما يصلي لنفسه ولغيره، فهو كالولي يجب عليه فعل الأصلح، وقد ذكر أهل العلم أنه يكره للإمام أن يسرع سرعة تمنع المأمومين فعل ما يجب.
وينبغي للناس أن يحرصوا على إقامة هذه التراويح، وأن لا يضيِّعوها بالذهاب من مسجد إلى مسجد، فإن مَن قام مع الإمام حتى ينصرف كُتب له قيام ليلة وإن نام بعد على فراشه.
ولا بأس بحضور النساء صلاة التراويح إذا أمنت الفتنة، بشرط أن يخرجن محتشمات غير متبرجات بزينة ولا متطيبات.
الفصل السادس في الزكاة وفوائدها
আর কিছু মানুষ যে চরম দ্রুতগতি অবলম্বন করে, তা শরিয়ত নির্দেশিত পদ্ধতির পরিপন্থী। যদি এই দ্রুতগতি কোনো ওয়াজিব (واجب) বা রুকন (ركن) লঙ্ঘনের পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তবে তা সালাত বাতিলকারী হিসেবে গণ্য হবে।
অনেক ইমাম তারাবিহ সালাতে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করেন না, যা তাদের একটি ভুল। কেননা ইমাম কেবল নিজের জন্য সালাত আদায় করেন না, বরং তিনি নিজের ও অন্যদের জন্য সালাত আদায় করেন। ফলে তিনি একজন অভিভাবকের মতো, যার ওপর অধিকতর কল্যাণকর কাজটি করা আবশ্যক। আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইমামের জন্য এমন দ্রুতগতি অবলম্বন করা অপছন্দনীয় বা মাকরূহ (يكره), যা মুক্তাদিদের জন্য ওয়াজিব (واجب) পালন করতে বাধা সৃষ্টি করে।
মানুষের উচিত এই তারাবিহ আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া এবং এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে যাওয়ার মাধ্যমে তা নষ্ট না করা। কেননা যে ব্যক্তি ইমামের সাথে শেষ পর্যন্ত সালাতে দাঁড়িয়ে থাকে, তার জন্য পূর্ণ রাত কিয়ামের সওয়াব লিখে দেওয়া হয়, যদিও এরপর সে তার বিছানায় ঘুমিয়ে থাকে।
নারীদের তারাবিহ সালাতে উপস্থিত হতে কোনো বাধা নেই যদি ফিতনার আশঙ্কা না থাকে, তবে শর্ত হলো তাদের শালীনভাবে বের হতে হবে; সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী হিসেবে নয় এবং সুগন্ধি ব্যবহার না করে।
ষষ্ঠ অধ্যায়: জাকাত ও এর উপকারিতা প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الزكاة فريضة من فرائض الإسلام، وهي أحد أركانه وأهمها بعد الشهادتين والصلاة، وقد دلَّ على وجوبها كتاب الله ـ تعالى ـ وسُنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم، وإجماع المسلمين، فمن أنكر وجوبها فهو كافر مرتد عن الإسلام يستتاب، فإن تاب وإلا قُتِل، ومن بخل بها أو انتقص منها شيئاً فهو من الظالمين، المستحقين لعقوبة الله ـ تعالى ـ قال الله ـ تعالى: ـ: {وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُونَ بِمَآءَاتَهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ هُوَ خَيْراً لَّهُمْ بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُواْ بِهِ يَوْمَ الْقِيَمَةِ وَللَّهِ مِيرَاثُ السَّمَوَتِ وَالَاْرْضِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} {سورة آل عمران 180} . وفي صحيح البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَن آتاه الله مالاً فلم يؤدِّ زكاته مُثِّلَ له يوم القيامة شجاعاً أقرع له زَبيبتان يُطوقه يوم القيامة ثم يأخذ بلهزمتيه ـ يعني شدقيه ـ يقول: أنا مَالُكَ أنا كنزُك» (1) . الشجاع: ذَكَرُ الحيَّات، والأقرع: الذي تمعط فروة رأسه لكثرة سُمِّه، وقال تعالى: {وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُمْ بِعَذَابٍ أَلِيمٍ * يَوْمَ يُحْمَى عَلَيْهَا فِى نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَى بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ هَذَا مَا كَنَزْتُمْ لأَنفُسِكُمْ فَذُوقُواْ مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ} {سورة التوبة 34-35} .
--------------------------------------------
জাকাত ইসলামের অন্যতম একটি ফরজ বিধান এবং শাহাদাতাইন (দুটি সাক্ষ্য) ও সালাতের পর এটি ইসলামের অন্যতম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ এবং মুসলিমদের ঐকমত্য এর আবশ্যকতা প্রমাণ করে। অতএব, যে ব্যক্তি এর আবশ্যকতা অস্বীকার করবে সে কাফির এবং ইসলাম থেকে বিচ্যুত মুরতাদ হিসেবে গণ্য হবে; তাকে তওবা করার আহ্বান জানানো হবে, সে তওবা করলে ভালো, অন্যথায় তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি এতে কার্পণ্য করবে কিংবা এর থেকে কোনো অংশ কমিয়ে দেবে, সে জালিমদের অন্তর্ভুক্ত এবং মহান আল্লাহর শাস্তির উপযুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাঁদের যা দান করেছেন তাতে যারা কার্পণ্য করে, তারা যেন মনে না করে যে এটি তাদের জন্য কল্যাণকর; বরং এটি তাদের জন্য অমঙ্গল। তারা যাতে কার্পণ্য করেছে কিয়ামতের দিন তা তাদের গলায় বেড়ি হিসেবে পরানো হবে। আর আসমান ও জমিনের মিরাস আল্লাহরই। আর তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।} {সুরা আল-ইমরান ১৮০}। সহিহ বুখারিতে আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: «আল্লাহ যাকে সম্পদ দান করেছেন কিন্তু সে তার জাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে দুই কালো বিন্দু বিশিষ্ট একটি বিষধর টেকো সাপের রূপ দান করা হবে, যা কিয়ামতের দিন তার গলায় বেড়ি হিসেবে জড়িয়ে দেওয়া হবে। এরপর সাপটি তার দুই কষ—অর্থাৎ গালের দুই পাশ কামড়ে ধরবে এবং বলবে: আমি তোমার সম্পদ, আমি তোমার সঞ্চিত ধন» (১)। শুজা হলো পুরুষ সাপ এবং আকরা হলো এমন সাপ যার মাথার চামড়া বিষের তীব্রতায় ঝরে গেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যারা স্বর্ণ ও রৌপ্য পুঞ্জীভূত করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, আপনি তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপাল, পার্শ্বদেশ ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে (আর বলা হবে), এটিই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য সঞ্চয় করেছিলে। সুতরাং তোমরা যা সঞ্চয় করতে তার স্বাদ গ্রহণ করো।} {সুরা আত-তাওবা ৩৪-৩৫}।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وفي صحيح مسلم عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ما من صاحب ذهب ولا فضة لا يؤدِّي منها حقَّها إلا إذا كان يوم القيامة صُفِّحت له صفائح من نار فأحمي عليها في نار جهنم فيكوى بها جنبهُ وجبينه وظهرهُ كلما بردت أُعيدت في يوم كان مقدارهُ خمسين ألف سنة حتى يقضى بين العباد» (1) .
وللزكاة فوائد دينية وخلقية واجتماعية كثيرة، نذكر منها ما يأتي:
فمن فوائدها الدينية:
1 ـ أنها قيام بركن من أركان الإسلام الذي عليه مدار سعادة العبد في دنياه وأخراه.
2 ـ أنها تقرب العبد إلى ربه وتزيد في إيمانه، شأنها في ذلك شأن جميع الطاعات.
3 ـ ما يترتب على أدائها من الأجر العظيم، قال الله ـ تعالى ـ: {يَمْحَقُ اللَّهُ الْرِّبَواْ وَيُرْبِى الصَّدَقَاتِ} {سورة البقرة 276} . وقال ـ تعالى ـ: {وَمَآءَاتَيْتُمْ مِّن رِّباً لِّيَرْبُوَاْ فِى أَمْوَالِ النَّاسِ فَلَا يَرْبُواْ عِندَ اللَّهِ وَمَآ ءاتَيْتُمْ مِّن زَكَوةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ} {سورة الروم 39} . وقال النبي صلى الله عليه وسلم: «مَن تصدَّق بعدل تمرة ـ أي: ما يعادل تمرة ـ من كسب طيب، ولا يقبل الله إلا الطيب، فإن الله يأخذها بيمينه ثم يربيها لصاحبها كما يربي أحدكم فُلُوَّه حتى تكون مثل الجبل» رواه البخاري ومسلم (2) .
4 ـ أن الله يمحو بها الخطايا كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: «والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار» (3) . والمراد بالصدقة هنا الزكاة وصدقة التطوع جميعاً.
--------------------------------------------
সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যাদের কাছে সোনা বা রূপা রয়েছে কিন্তু তারা তার হক (যাকাত) আদায় করে না, কিয়ামতের দিন তাদের জন্য আগুনের পাত তৈরি করা হবে এবং সেগুলোকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে তাদের পাঁজরে, কপালে এবং পিঠে দাগ দেওয়া হবে। যখনই তা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে, পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে; এমন এক দিনে যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর, যতক্ষণ না বান্দাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা সম্পন্ন হয়» (১)।
যাকাতের অনেক ধর্মীয়, চারিত্রিক ও সামাজিক উপকারিতা রয়েছে, যা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
এর ধর্মীয় উপকারিতাসমূহ:
১- এটি ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পালন করা, যার ওপর দুনিয়া ও আখিরাতে বান্দার সৌভাগ্য নির্ভরশীল।
২- এটি বান্দাকে তার রবের নিকটবর্তী করে এবং তার ঈমান বৃদ্ধি করে, যেমনটি অন্যান্য সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
৩- এটি আদায়ের মাধ্যমে অর্জিত মহান প্রতিদান। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান-সদাকাকে বর্ধিত করেন} {সূরা আল-বাকারা ২৭৬}। তিনি আরও বলেন: {মানুষের ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তোমরা যে যাকাত দাও, তারাই হচ্ছে বহুগুণ বৃদ্ধিপ্রাপ্তকারী} {সূরা আর-রুম ৩৯}। এবং নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি বৈধ উপার্জন থেকে একটি খেজুর সমপরিমাণ দান করে—আর আল্লাহ পবিত্র ছাড়া অন্য কিছু কবুল করেন না—আল্লাহ তা তাঁর ডান হাতে গ্রহণ করেন। এরপর তিনি তা দানকারীর জন্য লালন-পালন করেন, যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন-পালন করে, এমনকি তা পাহাড়ের সমান হয়ে যায়» এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২)।
৪- এর মাধ্যমে আল্লাহ পাপসমূহ মিটিয়ে দেন, যেমন নবী (সা.) বলেছেন: «সদাকা পাপকে মিটিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়» (৩)। এখানে সদাকা বলতে যাকাত এবং নফল দান (صدقة التطوع) উভয়কেই বোঝানো হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن فوائدها الخلقية:
1 ـ أنها تُلْحِق المزكي بركب الكرماء ذوي السماحة والسخاء.
2 ـ أن الزكاة تستوجب اتصاف المزكي بالرحمة والعطف على إخوانه المعدمين، والراحمون يرحمهم الله.
3 ـ أنه من المشاهد أن بذل النفع المالي والبدني للمسلمين يشرح الصدر ويبسط النفس ويوجب أن يكون الإنسان محبوباً مكرماً بحسب ما يبذل من النفع لإخوانه.
4 ـ أن في الزكاة تطهيراً لأخلاق باذلها من البخل والشح كما قال ـ تعالى ـ: {خُذْ مِنْ أَمْوَلِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا} {سورة التوبة 103} .
ومن فوائدها الاجتماعية:
1 ـ أن فيها دفعاً لحاجة الفقراء الذين هم السواد الأعظم في غالب البلاد.
2 ـ أن في الزكاة تقوية للمسلمين ورفعاً من شأنهم، ولذلك كان أحد جهات الزكاة الجهاد في سبيل الله كما سنذكره إن شاء الله تعالى.
3 ـ أن فيها إزالة للأحقاد والضغائن التي تكون في صدور الفقراء والمعوزين، فإن الفقراء إذا رأوا تَمَتُّع الأغنياء بالأموال وعدم انتفاعهم بشيء منها، لا بقليل ولا بكثير فربما يحملون عداوة وحقداً على الأغنياء حيث لم يراعوا لهم حقوقاً، ولم يدفعوا لهم حاجة، فإذا صرف الأغنياء لهم شيئاً من أموالهم على رأس كل حول زالت هذه الأمور وحصلت المودة والوئام.
4 ـ أن فيها تنمية للأموال وتكثيراً لبركتها، كما جاء في الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «ما نقصت صدقة من مال» (1) . أي إن نقصت الصدقة المال عدديًّا فإنها لن تنقصه بركة وزيادة في المستقبل بل يخلف الله بدلها ويبارك له في ماله.
--------------------------------------------
এর চারিত্রিক উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. এটি জাকাতদাতাকে মহানুভব, উদার ও দানশীল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে।
২. জাকাত আদায় জাকাতদাতার জন্য তার নিঃস্ব ভাইদের প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার গুণ অর্জন করা আবশ্যক করে দেয়; আর দয়াশীলদের ওপর আল্লাহ তায়ালা দয়া করেন।
৩. এটি দৃশ্যমান যে, মুসলমানদের আর্থিক ও শারীরিক উপকার সাধন অন্তরকে প্রশস্ত করে, মনকে প্রফুল্ল করে এবং এটি একজন মানুষকে তার ভাইদের জন্য কৃত উপকারের পরিমাণ অনুযায়ী সবার কাছে প্রিয় ও সম্মানিত করে তোলে।
৪. জাকাত প্রদানকারীর চরিত্রকে কৃপণতা ও সংকীর্ণতা থেকে পবিত্র করে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "আপনি তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন, যার মাধ্যমে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং তাদের পরিশুদ্ধ করবেন।" (সূরা আত-তাওবা: ১০৩)।
এর সামাজিক উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. এতে অভাবী ও দরিদ্রদের প্রয়োজন পূরণ হয়, যারা অধিকাংশ দেশে জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ।
২. জাকাতের মাধ্যমে মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তাদের মর্যাদা উন্নত হয়; একারণেই জাকাত ব্যয়ের অন্যতম একটি খাত হলো আল্লাহর পথে জিহাদ, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে উল্লেখ করব।
৩. এতে দরিদ্র ও অভাবীদের অন্তরে থাকা ঘৃণা ও বিদ্বেষ দূর হয়। কারণ দরিদ্ররা যখন দেখে যে ধনীরা সম্পদ ভোগ করছে অথচ তারা তার সামান্য অংশ থেকেও উপকৃত হচ্ছে না, তখন সম্ভবত তারা ধনীদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে; যেহেতু তারা তাদের অধিকার রক্ষা করেনি এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করেনি। কিন্তু যখন ধনীরা প্রতি বছর শেষে তাদের সম্পদের একটি অংশ তাদের জন্য ব্যয় করে, তখন এই বিষয়গুলো দূর হয়ে যায় এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি অর্জিত হয়।
৪. এতে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং এর বরকত বৃদ্ধি পায়, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: "সদকা করলে সম্পদ কমে না।" অর্থাৎ, সদকা যদি সংখ্যাগতভাবে সম্পদ কমিয়েও দেয়, তবুও এটি ভবিষ্যতে বরকত ও প্রবৃদ্ধি কমাতে পারে না; বরং আল্লাহ এর বিকল্প দান করেন এবং তার সম্পদে বরকত দান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
5 ـ أن له فيها توسعة وبسطاً للأموال، فإن الأموال إذا صرف منها شيء اتسعت دائرتها وانتفع بها كثير من الناس، بخلاف إذا كانت دولة بين الأغنياء لا يحصل الفقراء على شيء منها.
فهذه الفوائد كلها في الزكاة تدل على أن الزكاة أمر ضروري لإصلاح الفرد والمجتمع، وسبحان الله العليم الحكيم.
والزكاة تجب في أموال مخصوصة منها: الذهب والفضة بشرط بلوغ النصاب، وهو في الذهب أحد عشر جنيهاً سعوديًّا وثلاثة أسباع الجنيه. وفي الفضة ستة وخمسون ريالاً سعوديًّا من الفضة أو ما يعادلها من الأوراق النقدية، والواجب فيها ربع العشر، ولا فرق بين أن يكون الذهب والفضة نقوداً أم تبراً أو حليًّا، وعلى هذا فتجب الزكاة في حُليّ المرأة من الذهب والفضة إذا بلغ نصاباً، ولو كانت تلبسه أو تعيره، لعموم الأدلة الموجبة لزكاة الذهب والفضة بدون تفصيل، ولأنه وردت أحاديث خاصة تدل على وجوب الزكاة في الحُلي وإن كان يلبس، مثل ما رواه عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن امرأة أتت النبي صلى الله عليه وسلم وفي يد ابنتها مسكتان من ذهب، فقال: «أتعطين زكاة هذا؟» قالت: لا. قال: «أَيسُرُّك أن يُسوِّرك الله بهما سوارين من نار؟» فألقتهما وقالت: هما لله ورسوله (1) . قال في «بلوغ المرام» : رواه الثلاثة وإسناده قوي، ولأنه أحوط وما كان أحوط فهو أولى.
--------------------------------------------
৫ ـ এতে সম্পদের প্রশস্ততা ও বিস্তার ঘটে; কারণ সম্পদ থেকে যখন কিছু ব্যয় করা হয়, তখন এর পরিধি বিস্তৃত হয় এবং অনেক মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হয়। এটি সেই অবস্থার বিপরীত যেখানে সম্পদ কেবল ধনীদের মধ্যে আবর্তিত হয় এবং দরিদ্ররা তা থেকে কিছুই পায় না।
জাকাতের এই সমস্ত উপকারিতা প্রমাণ করে যে, ব্যক্তি ও সমাজের সংশোধনের জন্য জাকাত একটি অপরিহার্য বিষয়। মহিমান্বিত সেই আল্লাহ, যিনি সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।
নির্দিষ্ট কিছু সম্পদে জাকাত আবশ্যক হয়, যার মধ্যে রয়েছে: সোনা ও রুপা, তবে শর্ত হলো তা নিসাব (نصاب) পরিমাণ হতে হবে। সোনার ক্ষেত্রে নিসাব হলো ১১ সৌদি জুনাইহ (পাউন্ড) এবং এক পাউন্ডের সাত ভাগের তিন ভাগ। আর রুপার ক্ষেত্রে ছাপ্পান্ন সৌদি রিয়াল অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ। এতে প্রদেয় অংশ হলো দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ (ربع العشر)। সোনা ও রুপা মুদ্রা হিসেবে থাক কিংবা পিণ্ডাকারে অথবা অলঙ্কার হিসেবে—এতে কোনো পার্থক্য নেই। এই ভিত্তিতে, নারীর স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তবে তার ওপর জাকাত আবশ্যক হবে, যদিও সে তা পরিধান করে অথবা অন্যকে ধার দেয়। কারণ সোনা ও রুপার জাকাত আবশ্যক হওয়ার দলিলগুলো সাধারণ এবং এতে কোনো বিশেষ পার্থক্য করা হয়নি। এছাড়া অলঙ্কার পরিহিত অবস্থায় থাকলেও তাতে জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে বিশেষ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এলেন, তাঁর মেয়ের হাতে সোনার দুটি মোটা বালা ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «তুমি কি এর জাকাত দাও?» সে বলল: না। তিনি বললেন: «তুমি কি এটা পছন্দ করো যে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তোমাকে আগুনের দুটি বালা পরিয়ে দেবেন?» তখন সে সেগুলো খুলে ফেলল এবং বলল: এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য (১)। ‘বুলুগুল মারাম’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি তিন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ শক্তিশালী (إسناده قوي); আর এটিই অধিক সতর্কতামূলক পন্থা, আর যা অধিক সতর্কতামূলক তাই অধিকতর উত্তম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومن الأموال التي تجب فيها الزكاة: عروض التجارة، وهي كل ما أعد للتجارة من عقار وسيارات ومواشي وأقمشة وغيرها من أصناف المال، والواجب فيها ربع العُشر فيقومها على رأس الحول بما تساوي ويخرج ربع عشره، سواء كان أقل مما اشتراها به أم أكثر أم مساوياً. فأما ما أعدَّه لحاجته أو تأجيره من العقارات والسيارات والمعدات ونحوها فلا زكاة فيه لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «ليس على المسلم في عبده ولا فرسه صدقة» (1) ، لكن تجب في الأجرة إذا تم حولها وفي حليّ الذهب والفضة لما سبق.
الفصل السابع في أهل الزكاةأهل الزكاة هم الجهات التي تصرف إليها الزكاة، وقد تولَّى الله تعالى بيانها بنفسه فقال: {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَآءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِى الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِى سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} {سورة التوبة 60} .
فهؤلاء ثمانية أصناف:
الأول: الفقراء، وهم الذين لا يجدون من كفايتهم إلا شيئاً قليلاً دون النصف، فإذا كان الإنسان لا يجد ما ينفق على نفسه وعائلته نصف سنة فهو فقير فيعطى ما يكفيه وعائلته سنة.
الثاني: المساكين، وهم الذين يجدون من كفايتهم النصف فأكثر ولكن لا يجدون ما يكفيهم سنةً كاملة فيكمل لهم نفقة السنة.. وإذا كان الرجل ليس عنده نقود ولكن عنده مورد آخر من حرفة أو راتب أو استغلال يقوم بكفايته فإنه لا يعطى من الزكاة لقول النبي صلى الله عليه وسلم: «لا حظَّ فيها لغني ولا لقوي مكتسب» (2) .
--------------------------------------------
যে সকল সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো: ব্যবসার পণ্য (عروض التجارة); আর তা হলো স্থাবর সম্পত্তি, গাড়ি, গবাদি পশু, কাপড় এবং অন্যান্য সকল প্রকার সম্পদ যা ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর ওপর ওয়াজিব হলো এক দশমাংশের এক চতুর্থাংশ (ربع العشر)। অতএব, বছর (حول) শেষে এর বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করে তার চল্লিশ ভাগের এক ভাগ জাকাত প্রদান করতে হবে; চাই তা ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম হোক, বেশি হোক বা সমান হোক। আর যে সকল স্থাবর সম্পত্তি, গাড়ি, যন্ত্রপাতি ও অনুরূপ বস্তু নিজের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য অথবা ভাড়ায় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, সেগুলোর ওপর কোনো জাকাত নেই। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুসলমানের ওপর তার দাস ও ঘোড়ার জন্য কোনো দান (صدقة) নেই" (১)। তবে ভাড়ার টাকার ওপর যদি বছর (حول) পূর্ণ হয় এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কারের ক্ষেত্রেও পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে জাকাত ওয়াজিব হবে।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: জাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিবর্গ প্রসঙ্গেজাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তি (أهل الزكاة) হলেন তারা যাদেরকে জাকাত প্রদান করা হয়। মহান আল্লাহ নিজেই তাদের বিবরণ দিয়ে বলেছেন: {নিশ্চয়ই সদকা (জাকাত) হলো কেবল দরিদ্র (الفقراء), অভাবী (المساكين), জাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের অন্তর জয় করা উদ্দেশ্য, দাসমুক্তিতে, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এক আবশ্যিক বিধান। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} (সুরা আত-তাওবাহ: ৬০)।
এরা হলো আটটি শ্রেণি:
প্রথম: দরিদ্র (الفقراء), তারা হলেন এমন ব্যক্তি যারা তাদের প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম পায়। যদি কোনো ব্যক্তি নিজের এবং পরিবারের জন্য ছয় মাসের খরচ নির্বাহ করার মতো সম্পদ না পায়, তবে তিনি দরিদ্র (فقير) হিসেবে গণ্য হবেন। তাকে নিজের ও পরিবারের সারা বছরের পর্যাপ্ত ব্যয় মেটানোর মতো জাকাত প্রদান করা হবে।
দ্বিতীয়: অভাবী (المساكين), তারা হলেন এমন ব্যক্তি যারা তাদের প্রয়োজনের অর্ধেক বা তার বেশি জোগাড় করতে পারেন, কিন্তু পূর্ণ এক বছরের ব্যয় নির্বাহে সক্ষম নন। তাদের জন্য বছরের অবশিষ্ট খরচ পূর্ণ করে দেওয়া হবে। যদি কোনো ব্যক্তির কাছে নগদ অর্থ না থাকে কিন্তু তার উপার্জনের অন্য কোনো মাধ্যম থাকে, যেমন কোনো পেশা, বেতন বা বিনিয়োগ যা দিয়ে তার প্রয়োজন পূরণ হয়, তবে তাকে জাকাত দেওয়া হবে না। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এতে (জাকাতের অর্থে) কোনো অংশ নেই কোনো সমৃদ্ধ (غني) ব্যক্তির জন্য এবং উপার্জন করতে সক্ষম শক্তিশালী (قوي مكتسب) ব্যক্তির জন্য" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الثالث: العاملون عليها، وهم الذين يوكلهم الحاكم العام للدولة بجبايتها من أهلها، وتصريفها إلى مستحقيها، وحفظها ونحو ذلك من الولاية عليها، فيعطون من الزكاة بقدر عملهم وإن كانوا أغنياء.
الرابع: المؤلفة قلوبهم وهم رؤساء العشائر الذين ليس في إيمانهم قوة، فيعطون من الزكاة ليقوى إيمانهم، فيكونوا دُعاة للإسلام وقدوة صالحة، وإذا كان الإنسان ضعيف الإسلام ولكنه ليس من الرؤساء المطاعين بل هو من عامة الناس فهل يعطى من الزكاة ليقوى إيمانه؟
يرى بعض العلماء أنه يعطى لأن مصلحة الدين أعظم من مصلحة البدن، وها هو إذا كان فقيراً يعطى لغذاء بدنه، فغذاء قلبه بالإيمان أشد وأعظم نفعاً، ويرى بعض العلماء أنه لا يعطى لأن المصلحة من قوة إيمانه مصلحة فردية خاصة به.
الخامس: الرِّقاب، ويدخل فيها شراء الرقيق من الزكاة وإعتاقه ومعاونة المكاتبين وفكُّ الأسرى من المسلمين.
السادس: الغارمون، وهم المدينون إذا لم يكن لهم ما يمكن أن يوفوا منه ديونهم، فهؤلاء يعطَون ما يوفون به ديونهم قليلة كانت أم كثيرة، وإن كانوا أغنياء من جهة القوت، فإذا قدر أن هناك رجلاً له مورد يكفي لقوته وقوت عائلته، إلا أن عليه ديناً لا يستطيع وفاءه، فإنه يعطى من الزكاة ما يوفي به دينه، ولا يجوز أن يسقط الدين عن مدينه الفقير وينويه من الزكاة.
واختلف العلماء فيما إذا كان المدين والداً أو ولداً، فهل يعطى من الزكاة لوفاء دينه، والصحيح الجواز.
ويجوز لصاحب الزكاة أن يذهب إلى صاحب الحق ويعطيه حقَّه وإن لم يعلم المدين بذلك، إذا كان صاحب الزكاة يعرف أن المدين لا يستطيع الوفاء.
السابع: في سبيل الله، وهو الجهاد في سبيل الله فيعطَى المجاهدون من الزكاة ما يكفيهم لجهادهم، ويشترى من الزكاة آلات للجهاد في سبيل الله.
তৃতীয়: জাকাত আদায়কারী (العاملون عليها), তারা হলেন এমন ব্যক্তিবর্গ যাদেরকে রাষ্ট্রের সাধারণ শাসক মানুষের কাছ থেকে জাকাত সংগ্রহ করার, তা হকদারদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার, তা সংরক্ষণ করার এবং এই সংক্রান্ত অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য নিযুক্ত করেন। তাদের কাজের পরিমাণ অনুযায়ী জাকাত থেকে প্রদান করা হবে, যদিও তারা সম্পদশালী হন।
চতুর্থ: যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য (المؤلفة قلوبهم), তারা হলেন গোত্রপ্রধানগণ যাদের ঈমানে দৃঢ়তা নেই। তাদেরকে জাকাত থেকে প্রদান করা হয় যাতে তাদের ঈমান শক্তিশালী হয়, ফলে তারা ইসলামের প্রচারক এবং উত্তম আদর্শ হতে পারেন। আর যদি কোনো ব্যক্তি ইসলামে দুর্বল (ضعيف) হন কিন্তু তিনি অনুগত নেতাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে সাধারণ মানুষের অন্তর্ভুক্ত হন, তবে কি তার ঈমান শক্তিশালী করার জন্য তাকে জাকাত দেওয়া যাবে?
কোনো কোনো আলেম মনে করেন যে তাকে দেওয়া যাবে, কারণ দ্বীনের স্বার্থ শরীরের স্বার্থের চেয়ে বড়। আর ওই ব্যক্তি দরিদ্র হলে তার শরীরের পুষ্টির জন্য তাকে যেমন দেওয়া হয়, তেমনি তার অন্তরের ঈমানি খোরাক যোগানো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও অধিকতর উপকারী। আবার কোনো কোনো আলেম মনে করেন তাকে দেওয়া হবে না, কারণ তার ঈমান শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।
পঞ্চম: দাসমুক্তি (الرقاب), এর অন্তর্ভুক্ত হলো জাকাতের অর্থ দিয়ে ক্রীতদাস ক্রয় করে মুক্ত করা, চুক্তিবদ্ধ দাসদের (المكاتبين) সহায়তা করা এবং মুসলিম বন্দীদের মুক্ত করা।
ষষ্ঠ: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (الغارمون), তারা হলেন এমন ঋণী ব্যক্তি যাদের কাছে ঋণ পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। তাদের ঋণ অল্প হোক বা বেশি, তা পরিশোধের জন্য তাদেরকে জাকাত থেকে প্রদান করা হবে; যদিও তারা জীবনধারণের উপকরণের দিক থেকে সচ্ছল হন। যদি কোনো ব্যক্তির এমন আয় থাকে যা তার ও তার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু তার এমন ঋণ থাকে যা সে পরিশোধ করতে সক্ষম নয়, তবে তাকে ঋণ পরিশোধের জন্য জাকাত থেকে প্রদান করা হবে। আর পাওনাদারের জন্য দরিদ্র ঋণী ব্যক্তির ঋণ মওকুফ করে দিয়ে তা জাকাত হিসেবে গণ্য করা জায়েজ নেই।
ঋণী ব্যক্তি যদি পিতা বা সন্তান হয়, তবে ঋণ পরিশোধের জন্য তাকে জাকাত দেওয়া যাবে কি না সে বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তবে এক্ষেত্রে বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো এটি জায়েজ।
জাকাতদাতার জন্য পাওনাদারের কাছে গিয়ে তার পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া জায়েজ, যদিও ঋণী ব্যক্তি সে সম্পর্কে না জানে; শর্ত হলো জাকাতদাতা যদি জানেন যে ঋণী ব্যক্তি তা পরিশোধ করতে সক্ষম নয়।
সপ্তম: আল্লাহর পথে (في سبيل الله), আর এটি হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। সুতরাং মুজাহিদদের জিহাদের প্রয়োজনীয় ব্যয়নির্বাহের জন্য জাকাত থেকে প্রদান করা হবে এবং জাকাতের অর্থ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদের সরঞ্জামাদি ক্রয় করা হবে।
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن سبيل الله العلم الشرعي، فيعطى طالب العلم الشرعي ما يتمكن به من طلب العلم من الكُتُب وغيرها، إلا أن يكون له مال يمكنه من تحصيل ذلك به.
الثامن: ابن السبيل، وهو المسافر الذي انقطع به السفر فيعطى من الزكاة ما يوصله لبلده.
فهؤلاء هم أهل الزكاة الذين ذكرهم الله ـ تعالى ـ في كتابه وأخبر بأن ذلك فريضة منه صادرة عن علم وحكمة والله عليم حكيم.
ولا يجوز صرفها في غيرها كبناء المساجد، وإصلاح الطرق، لأن الله ذكر مستحقيها على سبيل الحصر، والحصر يفيد نفي الحكم عن غير المحصور فيه.
وإذا تأملنا هذه الجهات عرفنا أن منهم مَن يحتاج إلى الزكاة بنفسه ومنهم من يحتاج المسلمون إليه، وبهذا نعرف مدى الحكمة في إيجاب الزكاة، وأن الحكمة منه بناء مجتمع صالح متكامل متكافئ بقدر الإمكان، وأن الإسلام لم يهمل الأموال ولا المصالح التي يمكن أن تبنى على المال، ولم يترك للنفوس الجشعةِ الشحيحةِ الحريةَ في شُحِّها وهواها، بل هو أعظم موجِّهٍ للخير ومصلح للأُمم، والحمد لله رب العالمين.
الفصل الثامن في زكاة الفطرزكاة الفطر فريضة فرضها رسول الله صلى الله عليه وسلم، عند الفطر من رمضان. قال عبد الله بن عمر رضي الله عنهما: «فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم الفطر من رمضان على العبد والحر والذَكر والأُنثى والصغير والكبير من المسلمين» متفق عليه (1) .
--------------------------------------------
আর আল্লাহর পথের (سبيل الله) অন্তর্ভুক্ত হলো শরয়ি জ্ঞান। সুতরাং শরয়ি জ্ঞানের শিক্ষার্থীকে তার জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় বইপুস্তক ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য জাকাত থেকে ততটুকু প্রদান করা হবে যা দ্বারা সে জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হয়, তবে তার যদি এমন অর্থ থাকে যা দিয়ে সে তা সংগ্রহ করতে পারে, তবে ভিন্ন কথা।
অষ্টম: মুসাফির (ابن السبيل), তিনি হলেন সেই পর্যটক যার সফরের মাঝে পাথেয় শেষ হয়ে গেছে। তাকে জাকাতের অর্থ থেকে ততটুকু প্রদান করা হবে যা তাকে নিজ দেশে পৌঁছে দেয়।
এরাই হলেন জাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তি যাদের কথা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং সংবাদ দিয়েছেন যে, এটি তাঁর পক্ষ থেকে একটি নির্ধারিত বিধান যা জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে উৎসারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
জাকাত এই খাতগুলো ছাড়া অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা জায়েজ নয়, যেমন—মসজিদ নির্মাণ বা রাস্তা সংস্কার; কারণ আল্লাহ জাকাত গ্রহণের যোগ্যদের কথা সীমাবদ্ধভাবে (حصر) উল্লেখ করেছেন। আর সীমাবদ্ধতা (حصر) নির্দেশ করে যে, যাদের কথা এর ভেতর উল্লেখ করা হয়নি তাদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
আমরা যদি এই খাতগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি তবে দেখব যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে জাকাতের মুখাপেক্ষী, আবার কারো প্রতি মুসলিম জাতি মুখাপেক্ষী। এর মাধ্যমে আমরা জাকাত ফরজ করার প্রজ্ঞার গভীরতা জানতে পারি এবং বুঝতে পারি যে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো যথাসম্ভব একটি সৎ, সুসংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠন করা। ইসলাম সম্পদ বা সম্পদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা জনস্বার্থকে অবহেলা করেনি এবং লোভী ও কৃপণ প্রবৃত্তিকে তার কৃপণতা ও খেয়ালখুশির জন্য স্বাধীন ছেড়ে দেয়নি; বরং ইসলাম হলো কল্যাণের মহান দিশারি এবং জাতিসমূহের সংস্কারক। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: জাকাতুল ফিতর প্রসঙ্গেজাকাতুল ফিতর একটি ফরজ বিধান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের রোজা শেষে ফিতর উপলক্ষে ফরজ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমদের মধ্যে ক্রীতদাস ও স্বাধীন, পুরুষ ও নারী এবং ছোট ও বড়—সকলের ওপর রমজানের ফিতরা ফরজ করেছেন।” এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) হাদিস (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফুসুলুন ফিস সিয়ামি ওয়াত তারাউয়ীহি ওয়াজ জাকাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
وهي صاع من طعام مما يقتاته الآدميون، قال أبوسعيد الخدري رضي الله عنه: «كنا نخرج يوم الفطر في عهد النبي صلى الله عليه وسلم صاعاً من طعام، وكان طعامنا الشعير والزبيب والأقط والتمر» . رواه البخاري (1) . فلا تجزئ من الدراهم والفرش واللباس وأقوات البهائم والأمتعة وغيرها؛ لأن ذلك خلاف ما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد» (2) . أي مردود عليه. ومقدار الصاع كيلوان وأربعون غراماً من البُر الجيِّد، هذا هو مقدار الصاع النبوي الذي قدر به النبي صلى الله عليه وسلم الفطرة.
ويجب إخراج الفطرة قبل صلاة العيد والأفضل إخراجها يوم العيد قبل الصلاة، وتجزئ قبله بيوم أو يومين فقط، ولا تجزئ بعد صلاة العيد؛ لحديث ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم: «فرض زكاة الفطر طُهرة للصائم من اللغو والرفث وطعمة للمساكين، فمن أدَّاها قبل الصلاة فهي زكاة مقبولة، ومَن أدَّاها بعد الصلاة فهي صدقة من الصدقات» . رواه أبوداود وابن ماجه (3) . ولكن لو لم يعلم بالعيد إلا بعد الصلاة أو كان وقت إخراجها في برّ أو بلد ليس فيه مستحق أجزأ إخراجها بعد الصلاة عند تمكنه من إخراجها. والله أعلم وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه.
--------------------------------------------
এটি হচ্ছে মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এমন দ্রব্য থেকে এক ‘সা’। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেন: «আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ঈদুল ফিতরের দিন এক ‘সা’ পরিমাণ খাদ্য বের করতাম; আর আমাদের খাদ্য ছিল যব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর»। এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন (১)। সুতরাং দিরহাম (টাকা-পয়সা), আসবাবপত্র, পোশাক-পরিচ্ছদ, গবাদি পশুর খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দ্বারা এটি আদায় করা যথেষ্ট হবে না; কারণ তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের পরিপন্থী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)» (২)। অর্থাৎ তা অগ্রাহ্য। আর এক ‘সা’-এর পরিমাণ হলো দুই কেজি চল্লিশ গ্রাম উন্নত মানের গম; এটিই হচ্ছে সেই ‘নববী সা’-এর পরিমাণ যার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিতরা নির্ধারণ করেছিলেন।
ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা বের করা ওয়াজিব এবং উত্তম হলো ঈদের দিন নামাজের আগে তা আদায় করা। এটি ঈদের একদিন বা দুদিন আগে আদায় করলেও যথেষ্ট হবে, কিন্তু ঈদের নামাজের পরে আদায় করা যথেষ্ট হবে না; ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম: «রোজা পালনকারীকে অনর্থক কথা ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্র করার জন্য এবং অভাবী লোকদের খাবারের সংস্থানের জন্য জাকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজের আগে এটি আদায় করবে, তা একটি গ্রহণযোগ্য (مقبولة) জাকাত হিসেবে গণ্য হবে; আর যে ব্যক্তি নামাজের পরে তা আদায় করবে, তা সাধারণ দান বা সাদাকা-সমূহের একটি হিসেবে গণ্য হবে»। এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন (৩)। তবে যদি কেউ ঈদের কথা নামাজের পরেই জানতে পারে অথবা এমন কোনো প্রান্তর বা জনপদে থাকে যেখানে কোনো হকদার নেই, তবে সামর্থ্য হওয়া মাত্র নামাজের পরে তা আদায় করলেও যথেষ্ট হবে। আল্লাহই ভালো জানেন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------