(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: -)
صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم - العثيمين القسم: الفقه العام
الكتاب: صفة صلاة النبي - صلى الله عليه وسلم -
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
عدد الصفحات: 14
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায়ের পদ্ধতি - আল-উসাইমিন বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: রাসূলুল্লাহ - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি
গ্রন্থকার: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
صفة صلاة النبي
أولاً: أعتقد أنك إذا قمت إلى الصلاة فإنما تقوم بين يدي الله عز وجل الذي يعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور، ويعلم ما توسوس به نفسك، وحينئذٍ حافظ على أن يكون قلبك مشغولاً بصلاتك، كما أن جسمك مشغول بصلاتك، جسمك متجه إلى القبلة إلى الجهة التي أمرك الله عز وجل فليكن قلبك أيضاً متجهاً إلى الله. أما أن يتجه الجسم إلى ما أمر الله بالتوجه إليه ولكن القلب ضائع فهذا نقص كبير، حتى إن بعض العلماء يقول: إذا غلب الوسواس ـ أي الهواجس ـ على أكثر الصلاة فإنها تبطل، والأمر شديد.
فإذا أقبلت إلى الصلاة فاعتقد أنك مقبل على الله عز وجل.
وإذا وقفت تصلى فاعتقد أنك تناجي الله عز وجل، كما قال ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إذا قام أحدكم يصلي، فإنه يناجي ربه)) رواه البخاري.
وإذا وقفت في الصلاة فاعتقد أن الله عز وجل قبل وجهك، ليس في الأرض التي أنت فيها، ولكنه قبل وجهك وهو على عرشه عز وجل، وما ذلك على الله بعسير، فإن الله ليس كمثله شيء في جميع صفاته، فهو فوق عرشه، وهو قبل وجه المصلي إذا صلى، وحينئذٍ تدخل وقلبك مملوء بتعظيم الله عز وجل، ومحبته، والتقرب إليه.
فتكبر وتقول: الله أكبر.
ومع هذا التكبير ترفع يديك حذو منكبيك، أو إلى فروع أذنيك.
ثم تضع يدك اليمنى على يدك اليسرى، على الذراع، كما صح ذلك في البخاري من حديث سهل بن سعد رضي الله عنه قال: ((كان الناس يؤمرون أن يضع الرجل يده اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة)) رواه البخاري.
ثم تخفض رأسك فلا ترفعه إلى السماء لأن النبي صلى الله عليه وسلم " نهى عن رفع البصر إلى السماء في الصلاة " رواه البخاري.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
নবী (সা.)-এর সালাতের পদ্ধতি
প্রথমত: আমি বিশ্বাস করি যে, আপনি যখন সালাতে দাঁড়ান, তখন আপনি মহিমান্বিত ও মহান আল্লাহর সামনেই দাঁড়ান, যিনি চোখের খিয়ানত এবং অন্তরের লুকায়িত বিষয় সম্পর্কে অবগত। তিনি আপনার মনে সৃষ্টি হওয়া কুমন্ত্রণা সম্পর্কেও জানেন। এমতাবস্থায় আপনার শরীর যেমন সালাতে ব্যস্ত থাকে, তেমনি আপনার অন্তরকেও সালাতে নিবিষ্ট রাখতে সচেষ্ট হোন। আপনার শরীর কিবলার দিকে তথা মহিমান্বিত ও মহান আল্লাহ যে দিকে মুখ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেদিকে মুখ করে আছে, সুতরাং আপনার অন্তরকেও যেন আল্লাহর দিকেই নিবিষ্ট থাকে। শরীরের অভিমুখ আল্লাহর নির্দেশিত দিকে থাকলেও যদি অন্তর লক্ষ্যহীন থাকে, তবে তা এক বড় ধরনের বিচ্যুতি। এমনকি কোনো কোনো আলেম বলেন: যদি সালাতের অধিকাংশ সময় কুমন্ত্রণা তথা নানাবিধ চিন্তা প্রবল থাকে, তবে তা বাতিল হয়ে যায়; এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।
সালাতের উদ্দেশ্যে যখন অগ্রসর হবেন, তখন বিশ্বাস রাখবেন যে আপনি মহিমান্বিত ও মহান আল্লাহর দিকেই অগ্রসর হচ্ছেন।
যখন সালাতে দাঁড়াবেন, তখন বিশ্বাস করবেন যে আপনি মহিমান্বিত ও মহান আল্লাহর সাথে একান্তে কথোপকথন করছেন, যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ সালাতে দাঁড়ায়, সে মূলত তার রবের সাথে একান্তে কথোপকথন করে।" (বর্ণনা করেছেন বুখারি)।
সালাতে যখন দাঁড়াবেন, তখন বিশ্বাস রাখবেন যে মহিমান্বিত ও মহান আল্লাহ আপনার সম্মুখভাগে রয়েছেন। তিনি আপনার অবস্থানের জমিনে নন, বরং তিনি আপনার সম্মুখভাগে রয়েছেন অথচ তিনি তাঁর আরশের ওপর সমাসীন। এটি আল্লাহর জন্য মোটেই কঠিন নয়, কারণ আল্লাহর কোনো গুণাবলিরই কোনো সদৃশ নেই। তিনি তাঁর আরশের উপরে, আবার মুসাল্লি যখন সালাত আদায় করে তখন তিনি তার সম্মুখভাগেও থাকেন। এমতাবস্থায় আপনি মহিমান্বিত ও মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, তাঁর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর নৈকট্য লাভের আকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ হৃদয়ে সালাতে প্রবেশ করবেন।
অতঃপর তাকবির দেবেন এবং বলবেন: আল্লাহু আকবার.
এই তাকবিরের সময় আপনি আপনার দুই হাত কাঁধ বরাবর অথবা কানের লতি পর্যন্ত উত্তোলন করবেন।
এরপর আপনার ডান হাত বাম হাতের ওপর, অর্থাৎ বাহুর ওপর রাখবেন, যেমনটি বুখারি-তে সাহল ইবনে সা'দ (রা.)-এর হাদিস থেকে সহিহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন: "মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হতো যেন সালাতে ব্যক্তি তার ডান হাত বাম বাহুর ওপর রাখে।" (বর্ণনা করেছেন বুখারি)।
অতঃপর আপনার মাথা নিচু করে রাখবেন, আকাশের দিকে উত্তোলন করবেন না। কারণ নবী (সা.) "সালাতের মধ্যে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করতে নিষেধ করেছেন।" (বর্ণনা করেছেন বুখারি)।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২)
واشتد قوله في ذلك حتى قال: ((لينتهين أقوام يرفعون أبصارهم إلى السماء في الصلاة أو لا ترجع إليهم)) رواه البخاري ومسلم.
ولهذا ذهب من ذهب من أهل العلم إلى تحريم رفع المصلي بصره إلى السماء، وهو قول وجيه جداً لأنه لا وعيد على شيء إلا وهو محرم.
فتخفض بصرك وتطأطيء رأسك لكن كما قال العلماء: لا يضع ذقنه على صدره ـ أي لا يخفضه كثيراً ـ حتى يقع الذقن وهو مجمع اللحيين على الصدر بل يخفضه مع فاصل يسير عن صدره.
وسيتفتح ويقول: ((اللهم باعد بيني وبين خطاياي كما باعدت بين المشرق والمغرب، اللهم نقني من الخطايا كما ينقى الثوب الأبيض من الدنس، اللهم اغسلني ن خطاياي بالماء والثلج والبرد)) رواه أبو داود، وهذا هو الاستفتاح الذي سأل أبو هريرة النبي صلى الله عليه وسلم حين قال: يا رسول الله أرأيت سكوتك بين التكبير والقراءة ما تقول؟ فذكر له الحديث.
وله أن يستفتح بغير ذلك وهو: ((سبحانك اللهم وبحمدك، وتبارك اسمك وتعالى جدك، ولا إله غيرك)) رواه أبو داود.
ويستفتح صلاة الليل بما كان الرسول صلى الله عليه وسلم يستفتح به وهو: ((اللهم رب جبرائيل وميكائيل واسرافيل، فاطر السموات والأرض، عالم الغيب والشهادة، أنت تحكم بين عبادك فيما كان فيه يختلفون، اهدني لما اختلف فيه من الحق باذنك، إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم)) رواه مسلم.
ولكن لا يجمع بين هذه الاستفتاحات، بل يقول هذه مرة وهذه مرة ليأتي بالسنة على جميع وجوهها.
ثم يقول (بسم الله الرحمن الرحيم) بعد التعوذ.
এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত কঠোর ছিল, এমনকি তিনি বলেছেন: “লোকেরা সালাতে আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকবে, নতুবা তাদের দৃষ্টি আর তাদের নিকট ফিরে আসবে না।” এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম।
এই কারণেই আলেমদের মধ্য থেকে কেউ কেউ সালাত আদায়কারীর আকাশের দিকে দৃষ্টিপাত করাকে হারাম (محرم) বা নিষিদ্ধ হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মত, কারণ কোনো কাজের ওপর ধমক বা সতর্কবাণী (وعيد) কেবল তখনই আসে যখন সেটি নিষিদ্ধ বা হারাম (محرم) হয়ে থাকে।
সুতরাং আপনি আপনার দৃষ্টি অবনত রাখবেন এবং মাথা নিচু করবেন। তবে আলেমগণ যেমনটি বলেছেন: সালাত আদায়কারী তার চিবুক বুকের সাথে লেপ্টে দেবে না—অর্থাৎ সে মাথাকে খুব বেশি নিচু করবে না—যাতে চিবুক তথা দুই চোয়ালের মিলনস্থল বুকের ওপর ঠেকে যায়; বরং বুক থেকে সামান্য ব্যবধান রেখে মাথা নিচু করবে।
অতঃপর তিনি ছানা বা প্রারম্ভিক দোয়া (استفتاح) পাঠ করবেন এবং বলবেন: “হে আল্লাহ! আমার এবং আমার পাপসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন দূরত্ব আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে পাপ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। হে আল্লাহ! আমার পাপসমূহকে পানি, বরফ ও শিলাখণ্ড দিয়ে ধুয়ে দিন।” এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। এটি সেই প্রারম্ভিক দোয়া (استفتاح) যে সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করেছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন: 'হে আল্লাহর রাসুল! তাকবির এবং কিরাআতের মধ্যবর্তী সময়ে আপনার নীরবতা সম্পর্কে বলুন, আপনি তখন কী পাঠ করেন?' তখন তিনি তাঁর কাছে এই হাদিসটি উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি অন্য দোয়া দিয়েও প্রারম্ভ (استفتاح) করতে পারেন, তা হলো: “হে আল্লাহ! আমরা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা সুউচ্চ এবং আপনি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই।” এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
আর রাতের সালাতে তিনি সেই দোয়া দিয়ে প্রারম্ভ (استفتاح) করবেন যা দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুরু করতেন, আর তা হলো: “হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাইল ও ইসরাফিলের রব, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত; আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে আপনি সে বিষয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। যে সত্য বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে, আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সেই সত্যের দিকে পরিচালিত করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের (صراط مستقيم) দিকে পরিচালিত করেন।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
তবে এই প্রারম্ভিক দোয়াগুলোর (استفتاحات) সবগুলোকে একত্রে পাঠ করবেন না, বরং কখনো এটি আবার কখনো ওটি পাঠ করবেন, যাতে সুন্নাহর সকল পদ্ধতি পালিত হয়।
এরপর তিনি আশ্রয় প্রার্থনা বা আউযুবিল্লাহ (تعوذ) পাঠ করার পর ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ বলবেন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
ويقرأ الفاتحة، والفاتحة سبع آيات أولها (الحمد لله رب العالمين) ، وآخرها (غير المغضوب عليهم ولا الضالين) ، ودليل ذلك حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: " قال الله تبارك وتعالى ((قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين فنصفها لي ونصفها لعبدي ولعبدي ما سأل، يقول العبد: (الحمد الله رب العالمين) يقول الله تعالى: حمدني عبدي ويقول العبد: (الرحمن الرحيم) قال الله: أثني على عبدي. ويقول العبد: (مالك يوم الدين) يقول الله تعالى: مجدني عبدي. فإذا قال: - (إياك نعبد وإياك نستعين) قال الله: هذا بيني وبين عبدي ولعبدي ما سأل. فإذا قال: (أهدنا الصراط المستقيم......... الآية) قال هذا لعبدي ولعبدي ما سأل " رواه مسلم، فتبين بهذا الحديث أن أول الفاتحة (الحمد لله رب العالمين) .
أما البسملة فهي آية في كتاب الله، ولكنها ليست آية من كل سورة، بل هي أية مستقلة يؤتى بها في كل سورة سوى سورة براءة فإنه ليس فيها بسملة، وليس فيها بدل، خلافاً لم يوجد في بعض المصاحف، يكتب على الهامش عند ابتداء براءة، "أعوذ بالله من النار، ومن كيد الفجار، ومن غضب الجبار، والعزة لله ولرسوله وللمؤمنين" وهذا خطأ ليس بصواب، فهي ليس فيها بسملة وليس فيها شيء يدل على البسملة.
فإذا انتهى من الفاتحة يقول: (آمين) ومعاناها: اللهم استجب، فهي اسم فعل آمر بمعنى استجب.
ثم يقرأ بعد ذلك سورة ينبغي أن تكون:
في المغرب غالباً بقصار المفصّل.
وفي الفجر بطوال المفصّل.
وفي الباقي بأوساطه.
والمفصل أوله (ق) وآخره (قل أعوذ برب الناس) ، وسمي مفصلاً لكثرة فواصله.
وطوال المفصل من (ق) إلى (عم) ، وأوساطه من (عم) إلى (الضحى) .
وقصاره من (الضحى) إلى آخر القرآن.
এবং তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করবেন। আর ফাতিহা হলো সাতটি আয়াত, যার প্রথমটি হলো (আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন) এবং শেষটি হলো (গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ-দাল্লিন)। এর প্রমাণ হলো আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেছেন: ‘আমি সালাতকে আমার এবং আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি। এর অর্ধেক আমার জন্য এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য; আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করে তা সে পাবে। বান্দা যখন বলে: (আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন), আল্লাহ তা'আলা বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। বান্দা যখন বলে: (আর-রাহমানির রাহিম), আল্লাহ বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান বর্ণনা করেছে। বান্দা যখন বলে: (মালিকি ইয়াওমিদ্দিন), আল্লাহ তা'আলা বলেন: আমার বান্দা আমার মর্যাদা বর্ণনা করেছে। আর যখন সে বলে: (ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়িন), আল্লাহ বলেন: এটি আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার বিষয়, আর আমার বান্দা যা প্রার্থনা করে তা সে পাবে। অতঃপর যখন সে বলে: (ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম... আয়াতের শেষ পর্যন্ত), তিনি বলেন: এটি আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চেয়েছে তা সে পাবে’।" মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এই হাদিসের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াত হলো (আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন)।
আর বিসমিল্লাহ হলো আল্লাহর কিতাবের একটি আয়াত, তবে এটি প্রতিটি সূরার অন্তর্ভুক্ত কোনো আয়াত নয়। বরং এটি একটি স্বতন্ত্র আয়াত যা সূরা বারাআত ব্যতীত প্রতিটি সূরার শুরুতে পাঠ করা হয়। কেননা তাতে কোনো বিসমিল্লাহ নেই এবং এর কোনো বিকল্পও নেই। এটি ঐ বিষয়ের বিপরীত যা কিছু মুসহাফে পাওয়া যায়, যেখানে বারাআতের শুরুতে মার্জিনে লেখা থাকে: "আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের আগুন থেকে, পাপাচারীদের চক্রান্ত থেকে, প্রতাপশালী আল্লাহর ক্রোধ থেকে; আর মর্যাদা তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনদের জন্য।" এটি ভুল এবং সঠিক নয়। কারণ এতে কোনো বিসমিল্লাহ নেই এবং বিসমিল্লাহ নির্দেশক কোনো কিছুও নেই।
অতঃপর যখন ফাতিহা শেষ হবে তখন তিনি বলবেন: (আমীন)। এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ, আপনি কবুল করুন। এটি মূলত একটি আদেশসূচক ক্রিয়ামূলক বিশেষ্য যার অর্থ 'কবুল করুন'।
এরপর তিনি একটি সূরা পাঠ করবেন যা হওয়া উচিত:
মাগরিবের সালাতে সাধারণত মুফাসসাল অংশের ছোট সূরাসমূহ থেকে।
ফজরের সালাতে মুফাসসাল অংশের দীর্ঘ সূরাসমূহ থেকে।
এবং অবশিষ্ট সালাতগুলোতে এর মধ্যম সূরাসমূহ থেকে।
আর মুফাসসাল অংশের শুরু হলো (ক্বাফ) এবং শেষ হলো (কুল আউযু বিরাব্বিন নাস)। বিচ্ছেদের আধিক্যের কারণে একে মুফাসসাল নামকরণ করা হয়েছে।
মুফাসসালের দীর্ঘ অংশ হলো (ক্বাফ) থেকে (আম্মা) পর্যন্ত, এবং এর মধ্যম অংশ হলো (আম্মা) থেকে (আদ-দুহা) পর্যন্ত।
আর এর ছোট অংশ হলো (আদ-দুহা) থেকে কুরআনের শেষ পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
ولا بأس بل من السنة أن يقرأ الإنسان بطوال المفصل، فقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قرأ في المغرب بـ (الطور) و (المرسلات) رواه البخاري ومسلم.
وبعد أن يقرأ السورة مع الفاتحة.
[[الركوع]]يرفع يديه مكبراً ليركع ويضع اليدين على الركبتين، مفرجتي الأصابع، ويجافي عضديه عن جانبيه، ويسوي ظهره برأسه فلا يقوسه، قالت عائشة رضي الله عنها: " كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا ركع لم يشخص رأسه ولم يصوبه ولكن بين ذلك" رواه أحمد ومسلم وأبو داود.
ويقول: "سبحان ربي العظيم" رواه أحمد وأبو داود يكررها ثلاث مرات.
ويقول أيضاً: ((سبحانك اللهم ربنا وبحمدك اللهم اغفر لّي)) رواه البخاري.
ويقول أيضاً: ((سبوح قدوس رب الملائكة والروح)) ) رواه أحمد ومسلم وأبو داود والنسائي.
ويكثر من تعظيم الله سبحانه وتعالى في حال الركوع.
ثم يرفع رأسه قائلاً: " سمع الله لمن حمده" رواه البخاري ومسلم. رافعاً يديه إلى حذو منكبيه، أو إلى فروع أذنيه.
ويضع يده اليمنى على ذراعه اليسرى في هذا القيام لقول سهل بن سعد: ((كان الناس يؤمرون أن يضع الرجل يده اليمنى على ذراعه اليسرى في الصلاة")) رواه أحمد والبخاري.
وهذا عام يستثنى منه السجود والجلوس والركوع:
لأن السجود توضع فيه اليد على الأرض
والجلوس على الفخذين.
والركوع على الركبتين.
فيبقى القيام الذي قبل الركوع والذي بعده داخلاً في عموم قوله: (في الصلاة) .
ويقول بعد رفعه: (ربنا لك الحمد) رواه البخاري ومسلم.
أو (ربنا ولك الحمد) رواه البخاري ومسلم.
أو (اللهم ربنا لك الحمد) رواه البخاري ومسلم أو (اللهم ربنا ولك الحمد) رواه مسلم.
فهذه أربع صفات ولكن لا يقولها في آن واحد بل يقول هذا مرة وهذا مرة.
দীর্ঘ মুফাসসাল সূরাসমূহ পাঠ করা দূষণীয় নয়, বরং এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি বিশুদ্ধ (صحيح) ভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মাগরিবের সালাতে সূরা আত-তুর এবং সূরা আল-মুরসালাত পাঠ করেছেন। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম।
আর সূরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা পাঠ করার পর।
[[রুকু]]তিনি রুকুতে যাওয়ার জন্য তাকবির বলে হাত উঠাবেন এবং হাতের আঙুলগুলো প্রসারিত করে দুই হাঁটুতে রাখবেন। বাহুদ্বয়কে পার্শ্বদেশ থেকে আলাদা রাখবেন এবং পিঠ ও মাথা সমান রাখবেন, পিঠ বাঁকাবেন না। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন রুকু করতেন, তখন মাথা উঁচু করে রাখতেন না আবার নিচু করেও রাখতেন না, বরং এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থায় রাখতেন।” এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, মুসলিম ও আবু দাউদ।
আর তিনি বলবেন: "সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম" (আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি)। এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ও আবু দাউদ। তিনি এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করবেন।
আরও বলবেন: "সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফির লি" (হে আল্লাহ, হে আমাদের রব! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন)। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি।
আরও বলবেন: "সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ" (তিনি অতি পবিত্র ও মহিমান্বিত, ফেরেশতাকুল ও রূহ-এর রব)। এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈ।
রুকু অবস্থায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার মহিমা বেশি বেশি বর্ণনা করবেন।
তারপর "সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ" (যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তা শোনেন) বলে মাথা উঠাবেন। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম। এ সময় তিনি তাঁর হাত দুই কাঁধ বরাবর অথবা দুই কানের লতি পর্যন্ত উঠাবেন।
এই দণ্ডায়মান অবস্থায় তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের কবজির ওপর রাখবেন; কেননা সাহল বিন সাদ বলেন: “মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হতো যেন সালাতে প্রত্যেকে তার ডান হাত বাম হাতের কবজির ওপর রাখে।” এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ও বুখারি।
আর এটি একটি সাধারণ (عام) নির্দেশ, যা থেকে সিজদা, বৈঠক ও রুকু স্বতন্ত্র:
কারণ সিজদায় হাত মাটিতে রাখা হয়
বৈঠকে উরুর ওপর রাখা হয়
এবং রুকুতে হাঁটুর ওপর রাখা হয়
ফলে রুকুর পূর্বের ও পরের দণ্ডায়মান অবস্থা "সালাতের মধ্যে" এই বাক্যটির সাধারণ (عموم) অর্থের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মাথা উঠানোর পর তিনি বলবেন: (রাব্বানা লাকাল হামদ)। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম।
অথবা (রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ)। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম।
অথবা (আল্লাহুম্মা রাব্বানা লাকাল হামদ)। এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম অথবা (আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ)। এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম।
এগুলো হলো চারটি পদ্ধতি, তবে সবগুলো একসাথে বলবেন না, বরং একেক সময় একেকটি বলবেন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
وهذه قاعدة ينبغي لطالب العلم أن يفهمها: أن العبادات إذا وردت على وجوه متنوعة فإنها تفعل على هذه الوجوه، على هذه مرة، وعلى هذه مرة، وفي ذلك ثلاث فوائد:
الفائدة الأولى: الإتيان بالسنة على جميع وجوهها.
الفائدة الثانية: حفظ السنة، لأنك لو أهملت إحدى الصفتين نُسيت ولم تحفظ.
الفائدة الثالثة: ألا يكون فعل الإنسان لهذه السنة على سبيل العادة، لأن كثيراً من الناس إذا أخذ بسنة واحدة صار يفعلها على سبيل العادة ولا يستحضرها، ولكن إذا كان يعودّ نفسه أن يقول هذا مرة وهذا مرة صار متنبهاً للسنة.
وإذا كان الإنسان مأموماً فإنه لا يقول (سمع الله لمن حمده) لقول النبي صلى الله عليه وسلم " وإذا قال - إي الإمام - سمع الله لمن حمده فقولوا: ((اللهم ربنا ولك الحمد)) رواه مسلم ويكون هذا في حال رفعه من الركوع قبل أن يستقم قائماً.
وبعد أن يقول (ربنا ولك الحمد) بصفتها الأربع، يقول: ((ملء السموات وملء الأرض وملء ما بينهما وملء ما شئت من شيء بعده، أهل الثناء والمجد، أحق ما قال العبد وكلنا لك عبد، لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد)) رواه مسلم والنسائي.
[[السجود]]ثم يكبر للسجود بدون رفع اليدين، لقول ابن عمر: " وكان لا يفعل ذلك في السجود".
এটি এমন একটি মূলনীতি যা একজন ইলম অন্বেষণকারীর অনুধাবন করা উচিত: ইবাদতসমূহ যখন বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়, তখন তা সেই বিবিধ পদ্ধতি অনুযায়ীই পালন করা সমীচীন; কখনো এই পদ্ধতিতে, আবার কখনো অন্য পদ্ধতিতে। আর এর মধ্যে তিনটি উপকারিতা নিহিত রয়েছে:
প্রথম উপকারিতা: সুন্নাহর সকল পদ্ধতির ওপর আমল করা।
দ্বিতীয় উপকারিতা: সুন্নাহর সংরক্ষণ; কারণ আপনি যদি দুই পদ্ধতির কোনো একটি পরিহার করেন, তবে তা বিস্মৃত হয়ে যাবে এবং সংরক্ষিত থাকবে না।
তৃতীয় উপকারিতা: মানুষের এই সুন্নাহ পালন যেন কেবল অভ্যাসবশত না হয়; কারণ অনেক মানুষ যখন কেবল একটি সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে, তখন তা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয় এবং তারা তা সচেতনভাবে পালন করে না। কিন্তু যদি সে নিজেকে অভ্যস্ত করে যে কখনো এটি বলবে আর কখনো সেটি, তবে সে সুন্নাহর প্রতি সজাগ থাকবে।
আর ব্যক্তি যখন মুক্তাদি হয়, তখন সে 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে না; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আর যখন সে—অর্থাৎ ইমাম—বলবে 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ', তখন তোমরা বলো: 'আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ'।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর এটি রুকু থেকে উঠার সময় সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পূর্ব মুহূর্তে বলতে হবে।
আর 'রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ' এর চারটি রূপের যেকোনোটি বলার পর সে বলবে: "আকাশমন্ডলী পূর্ণ করে, পৃথিবী পূর্ণ করে, উভয়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা কিছু চান তা পূর্ণ করে (প্রশংসা আপনারই)। হে প্রশংসা ও মহত্ত্বের অধিকারী! বান্দা যা বলে তার মধ্যে সবচেয়ে ধ্রুব সত্য হলো—আর আমরা সবাই আপনারই বান্দা—আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার পাকড়াও থেকে তাকে রক্ষা করতে পারবে না।" এটি মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
[[সিজদাহ]]অতঃপর হাত উত্তোলন না করে সিজদাহর জন্য তাকবির দিবে; কারণ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর উক্তি: "তিনি সিজদাহর সময় এমনটি করতেন না।"
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
ويخرُّ على الركبتين لا على يديه لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((إذا سجد أحدكم فلا يبرك كما يبرك البعير)) رواه البخاري والبعير عند بروكه يقدم اليدين فيخرّ البعير لوجهه، فنهى النبي صلى الله عليه وسلم أن يخرّ الإنسان في سجوده على يديه، لأنه إذا فعل ذلك برك كما يبرك البعير، هذا ما يدل عليه الحديث خلافاً لمن قال: إنه يدل على أنك تقدم يديك ولا تخرّ على ركبتيك لأن البعير عند البروك يخرّ على ركبتيه، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم لم يقل فلا يبرك على ما يبرك عليه البعير.... فلو قال ذلك، لقلنا نعم إذن لا تبرك على الركبتين، لأن البعير يبرك على ركبتيه، لكنه قال: " فلا يبرك كما يبرك البعير" فالنهي إذن عن الصفة لا عن العضو الذي يسجد عليه الإنسان ويخر عليه، والأمر في هذا واضح جداً لمن تأمله، فلا حاجة إلى أن نتعب أنفسنا وأن نحاول أن نقول: إن ركبتي البعير في يديه، وأنه يبرك عليهما، لأننا في غنى عن هذا الجدل، حيث إن النهي ظاهر الصفة لا عن العضو الذي يسجد عليه.
ولهذا قال ابن القيم رحمه الله في زاد المعاد: إن قوله في آخر الحديث: " وليضع يديه قبل ركبتيه" منقلب على الراوي لأنه لا يطابق مع أول الحديث، وإذا كان الأمر كذلك فإننا نأخذ بالأصل لا بالمثال فإنه قوله: " وليضع يديه قبل ركبتيه " هذا على سبيل التمثيل، وحينئذٍ إذا أردنا أن نرده إلى أصل الحديث صار صوابه: " وليضع ركبتيه قبل يديه".
إذاً يخرّ على ركبتيه، ثم يديه، ثم جبهته وأنفه.
ويسجد على سبعة أعضاء لقول النبي صلى الله عليه وسلم:: ((أمرنا أن نسجد على سبعة أعظم" ثم فصلها النبي صلى الله عليه وسلم: " على الجبهة، والكفين، والركبتين، وأطراف القدمين)) رواه البخاري ومسلم فيسجد الإنسان على هذه الأعضاء.
এবং তিনি হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে অবনমিত হবেন, হাতের ওপর নয়। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((তোমাদের কেউ যখন সিজদা করে, তখন সে যেন উটের মতো না বসে)) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। উট বসার সময় তার সামনের পা দুটি আগে রাখে, ফলে উট তার সম্মুখভাগের ওপর ভর দিয়ে পড়ে যায়। তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সিজদায় যাওয়ার সময় মানুষকে হাতের ওপর ভর দিয়ে পড়তে নিষেধ করেছেন। কারণ সে যদি এমনটি করে, তবে সে উটের বসার পদ্ধতির মতোই বসল। হাদিসটি একথাই প্রমাণ করে, তাদের মতের বিপরীতে যারা বলেন যে: এটি নির্দেশ করে যে আপনি আপনার হাত আগে রাখবেন এবং হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে অবনমিত হবেন না, কারণ উট বসার সময় তার হাঁটুর ওপর ভর দেয়। কেননা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনটি বলেননি যে—উট যার ওপর ভর দিয়ে বসে তোমরা তার ওপর ভর দিয়ে বসো না... তিনি যদি এমনটি বলতেন, তবে আমরা বলতাম হ্যাঁ, তবে তো হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসা যাবে না, কারণ উট তার হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বসে। কিন্তু তিনি বলেছেন: "সে যেন উটের মতো না বসে।" সুতরাং নিষেধটি পদ্ধতির (الصفة) ক্ষেত্রে, সিজদাকারী যে অঙ্গের ওপর ভর দিয়ে সিজদা করে বা অবনমিত হয় তার ক্ষেত্রে নয়। বিষয়টি চিন্তা করলে অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে যায়। তাই আমাদের নিজেদের কষ্ট দেওয়ার এবং উটের হাঁটু তার হাতে থাকে আর সে তার ওপর ভর দিয়ে বসে—এমন কথা বলার চেষ্টার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ আমরা এই বিতর্ক থেকে মুক্ত, কেননা নিষেধটি স্পষ্টত পদ্ধতির (الصفة) ব্যাপারে, সিজদার অঙ্গের ব্যাপারে নয়।
একারণেই ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) ‘যাদুল মাআদ’ গ্রন্থে বলেছেন: হাদিসের শেষাংশে বর্ণিত কথাটি: "এবং সে যেন তার হাত দুটি তার দুই হাঁটুর আগে রাখে"—এটি বর্ণনাকারীর (الراوي) পক্ষ থেকে উল্টে যাওয়া (منقلب) ভুল। কারণ এটি হাদিসের প্রথমাংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে আমরা মূলনীতির (الأصل) ওপর আমল করব, উদাহরণের ওপর নয়। কেননা তাঁর উক্তি: "সে যেন তার হাত দুটি তার দুই হাঁটুর আগে রাখে" এটি দৃষ্টান্তস্বরূপ এসেছে। এমতাবস্থায় যদি আমরা একে হাদিসের মূলনীতির দিকে ফিরিয়ে নেই, তবে এর সঠিক রূপ হবে: "সে যেন তার হাঁটু দুটি তার দুই হাতের আগে রাখে"৷
সুতরাং তিনি প্রথমে হাঁটুর ওপর, এরপর হাতের ওপর এবং এরপর কপাল ও নাকের ওপর ভর দিয়ে অবনমিত হবেন।
আর তিনি সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করবেন। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ((আমাদেরকে সাতটি হাড়ের ওপর সিজদা করার আদেশ দেওয়া হয়েছে)) এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন: "কপাল, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু এবং দুই পায়ের অগ্রভাগ"৷ এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মানুষ এই অঙ্গগুলোর ওপর সিজদা করবে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
وينصب ذراعيه فلا يضعهما على الأرض ولا على ركبتيه.
ويجافي عضديه عن جنبيه وبطنه عن فخذيه فيكون الظهر مرفوعاً.
ولا يمد ظهره كما يفعله بعض الناس، تجده يمد ظهره حتى إنك تقول: أمنبطح هو أم ساجد؟ فالسجود ليس فيه مد ظهر، بل يرفع ويعلو حتى يتجاف عن الفخذين، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: " اعتدلوا في السجود " وهذا الامتداد الذي يفعله بعض الناس في السجود يظن أنه السنة، هو مخالف للسنة، وفيه مشقة على الإنسان شديدة؛ لأنه إذا امتد تحمل نقل البدن على الجبهة، وانخنعت رقبته، وشق عليه ذلك كثيراً، وعلى كل حال لو كان هذا هو السنة لتحمل الإنسان ولكنه ليس هو السنة.
وفي حال السجود يقول: ((سبحان ربي الأعلى ثلاثة مرات)) رواه أحمد وأبو داود وابن ماجة.
((سبحانك اللهم ربنا وبحمدك، اللهم اغفر لي)) رواه البخاري ومسلم.
((سبوح قدوس)) رواه مسلم.
ويكثر في السجود عن الدعاء لقول النبي صلى الله عليه وسلم: ((ألا وإني نهيت أن أقرأ القرآن راكعاً أو ساجداً، فأما الركوع فعظموا فيه الرب، وأما السجود فاكثروا فيه من الدعاء فقمن أن يستجاب لكم)) رواه مسلم. أي حري أن يستجاب لكم، وذلك لأنه أقرب ما يكون من ربه في هذا الحال، كما قال النبي صلى الله عليه وسلم ((أقرب ما يكون العبد من ربه وهو ساجد)) رواه البخاري. ولكن لاحظ أنك إذا كنت مع الإمام فالمشروع في حقك متابعة الإمام فلا تمكث في السجود لتدعو، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم يقول: ((إذا سجد فاسجدوا وإذا ركع فاركعوا)) رواه البخاري فأمرنا أن نتابع الإمام وألا نتأخر عنه.
ثم ينهض من السجود مكبراً.
[[بين السجدتين]]ويجلس بين السجدتين مفترشاً وكيفيته: أن يجعل الرجل اليسرى فراشاً له، وينصب الرجل اليمنى من الجانب الأيمن.
আর তিনি তাঁর দুই বাহুকে খাড়া রাখবেন এবং সেগুলোকে মাটিতে বা নিজের হাঁটুর উপরে রাখবেন না।
আর তিনি তাঁর দুই বাহুর উপরিভাগকে পার্শ্বদেশ থেকে এবং পেটকে উরু থেকে পৃথক রাখবেন, ফলে পিঠ উপরিভাগে (উঁচু হয়ে) থাকবে।
আর তিনি তাঁর পিঠকে সেভাবে প্রসারিত করবেন না যেভাবে কিছু মানুষ করে থাকে; আপনি তাকে পিঠ প্রসারিত করতে দেখবেন এমনকি আপনার মনে হবে: সে কি উপুড় হয়ে শুয়ে আছে নাকি সিজদা করছে? বস্তুত সিজদাতে পিঠ প্রসারিত করার নিয়ম নেই, বরং তা উঁচু ও উত্তোলিত থাকবে যাতে উরু থেকে পৃথক থাকে। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা সিজদায় ভারসাম্য বজায় রাখো।" সিজদায় এই যে পিঠ প্রসারিত করা যা কিছু মানুষ করে থাকে এবং তারা মনে করে যে এটি সুন্নাহ, আসলে তা সুন্নাহ পরিপন্থী। এতে মানুষের ওপর প্রচণ্ড কষ্ট হয়; কারণ যখন সে শরীর প্রসারিত করে তখন শরীরের ভার কপালে এসে পড়ে, তার ঘাড় নুয়ে যায় এবং তার জন্য তা অত্যন্ত কষ্টকর হয়। যাই হোক, যদি এটি সুন্নাহ হতো তবে মানুষ তা সহ্য করে নিত, কিন্তু এটি সুন্নাহ নয়।
আর সিজদারত অবস্থায় বলবেন: "সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা" (আমার সুউচ্চ প্রতিপালক অতি পবিত্র) তিনবার। এটি আহমাদ, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
"সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলী" (হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন)। এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
"সুব্বুহুন কুদ্দুসুন" (অত্যন্ত পবিত্র, অতি মহিমান্বিত)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আর সিজদায় অধিক পরিমাণে দোয়া করবেন, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জেনে রেখো, রুকু অথবা সিজদাবনত অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করতে আমাকে নিষেধ করা হয়েছে। রুকুতে তোমরা প্রতিপালকের মহিমা বর্ণনা করো, আর সিজদায় তোমরা অধিক পরিমাণে দোয়া করো, কেননা তা কবুল হওয়ার অধিক উপযুক্ত।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ তোমাদের দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ এই অবস্থায় বান্দা তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "বান্দা যখন সিজদারত থাকে তখন সে তার প্রতিপালকের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। তবে লক্ষ্য রাখবেন যে, আপনি যখন ইমামের পেছনে থাকবেন তখন আপনার জন্য শরীয়তসম্মত বিধান হলো ইমামের অনুসরণ করা। সুতরাং দোয়া করার জন্য সিজদায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করবেন না, কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইমাম যখন সিজদা করেন তখন তোমরাও সিজদা করো এবং তিনি যখন রুকু করেন তখন তোমরাও রুকু করো।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ তিনি আমাদের ইমামের অনুসরণ করতে এবং তার থেকে পিছিয়ে না থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।
অতঃপর তিনি তাকবির বলতে বলতে সিজদা থেকে মাথা উঠাবেন।
[[দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক]]আর তিনি দুই সিজদার মাঝখানে ইফতিরাশ (পা বিছিয়ে বসা) পদ্ধতিতে বসবেন এবং তার নিয়ম হলো: বাম পা বিছিয়ে তার ওপর বসা এবং ডান পা ডান দিক দিয়ে খাড়া রাখা।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما اليدان فيضع يده اليمين على فخذه اليمنى أو على رأس الركبة، ويده اليسرى على فخذه اليسرى أو يلقمها الركبة، فلتاهما صفات واردتان عن النبي صلى الله عليه وسلم.
لكن اليد اليمنى يضم منها الخنصر والبنصر والوسطى والإبهام، أو تحلق الإبهام على الوسط وأما السبابة فتبقى مفتوحة غير مضمومة، ويحركها عند الدعاء فقط فمثلاً إذا قال: " ربي اغفر لي " يرفعها، " وأرحمني " يرفعها، وهكذا في كل جملة دعائية يرفعها. أما اليد اليسرى فانها مبسوطة. ولم يرد عن النبي صلى الله عليه وسلم فيما أعلم - أن اليد اليمنى تكون مبسوطة وإنما ورد أنه يقبض منها الخنصر والبنصر، ففي بعض ألفاظ حديث ابن عمر رضي الله عنهما: ((كان إذا قعد في الصلاة)) رواه مسلم. وفي بعضها " إذا قعد في التشهد" رواه أحمد، وتقييد ذلك بالتشهد لا يعني أنه لا يعم جميع الصلاة لأن الراجح من أقوال الأصوليين أنه إذا ذكر العموم ثم ذكر أحد أفراده بحكم يطابقه فإن ذلك لا يقتضي التخصيص.
فمثلاً إذا قلت أكرم الطلبة، ثم قلت أكرم فلاناً - وهو من الطلبة - فهل ذكر فلان في هذه الحال يقتضي تخصيص الإكرام به؟ كلا كما أنه لما قال الله تعالى (تنزل الملائكة والروح فيها) لم يكن ذكر الروح مخرجاً لبقية الملائكة، والمهم أن ذكر بعض أفراد العام بحكم يوافق العام لا يقتضي التخصيص ولكن يكون تخصيص هذا الفرد بالذكر لسبب يقتضيه، إما للعناية به أو لغير ذلك.
দুই হাতের ক্ষেত্রে, তিনি তাঁর ডান হাত ডান উরুর ওপর অথবা হাঁটুর মাথার ওপর রাখতেন এবং তাঁর বাম হাত বাম উরুর ওপর রাখতেন অথবা সেটি দিয়ে হাঁটু আঁকড়ে ধরতেন। এই উভয় পদ্ধতিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত (واردتان) হয়েছে।
তবে ডান হাতের কনিষ্ঠা, অনামিকা, মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি তিনি গুটিয়ে রাখতেন অথবা বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমার ওপর বৃত্ত তৈরি করতেন। আর তর্জনীটি খোলা রাখতেন (মুষ্টিবদ্ধ না করে), এবং শুধুমাত্র দোয়ার সময় সেটি নাড়াতেন। উদাহরণস্বরূপ, যখন তিনি বলতেন: "হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন" তখন সেটি উত্তোলন করতেন, "আমার ওপর দয়া করুন" বলার সময় সেটি উত্তোলন করতেন। এভাবে প্রতিটি দোয়ার বাক্যে তিনি তা উত্তোলন করতেন। আর বাম হাতটি প্রসারিত থাকত। আমার জানামতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এমন কোনো বর্ণনা নেই যে ডান হাত প্রসারিত থাকবে; বরং বর্ণিত হয়েছে যে তিনি কনিষ্ঠা ও অনামিকা গুটিয়ে রাখতেন। ইবনে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসের কিছু শব্দে এসেছে: "তিনি যখন সালাতে বসতেন" (এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন)। এবং কিছু বর্ণনায় রয়েছে: "যখন তিনি তাশাহহুদে বসতেন" (এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন)। একে তাশাহহুদের সাথে সীমাবদ্ধ করার অর্থ এই নয় যে এটি পুরো সালাতকে শামিল করবে না। কেননা উসুলবিদদের (الأصوليين) নিকট শক্তিশালী (الراجح) মত হলো, যখন কোনো ব্যাপক (العموم) বিষয় উল্লেখ করা হয় এবং পরবর্তীতে তার কোনো একটি অন্তর্ভুক্ত অংশ (أفراده) এমন বিধানের সাথে উল্লেখ করা হয় যা পূর্বোক্ত ব্যাপক বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে তা নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) বোঝায় না।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি বলেন "ছাত্রদের সম্মান করো", এরপর বলেন "অমুককে সম্মান করো" - অথচ সে ছাত্রদেরই একজন - তবে এক্ষেত্রে কি অমুকের নাম উল্লেখ করা কেবল তাকেই সম্মান করার জন্য নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) বোঝাবে? মোটেও না। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরাঈল) অবতীর্ণ হয়", এখানে রূহ-এর উল্লেখ অন্যান্য ফেরেশতাদের বাদ দেওয়া বোঝায় না। মূল বিষয় হলো, ব্যাপক (العام) বিষয়ের কোনো অন্তর্ভুক্ত অংশকে সেই ব্যাপকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো বিধানের সাথে উল্লেখ করলে তা নির্দিষ্টকরণ (التخصيص) দাবি করে না। বরং কোনো বিশেষ কারণে সেই অংশটিকে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়; হতে পারে সেটি তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের জন্য কিংবা অন্য কোনো কারণে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
المهم أنني - إلى ساعتي هذه - لا أعلم أنه ورد أن اليد اليمنى تبسط على الفخذ اليمنى حال الجلوس بين السجدتين، والذي ذكر فيها أنها تكون مقبوضة الخنصر والبنصر والإبهام مع الوسطى، وقد ورد ذلك صريحاً في حديث وائل بن حجر في مسند الإمام أحمد الذي قال عنه بعض أهل العلم إن إسناده جيد، وبعضهم نازع فيه ولكن نحن في غنى عنه في الواقع، لأنه يكفي أن نقول: إن الصفة التي وردت بالنسبة لليد اليمنى هو هذا القبض، ولم يرد أنها تبسط فتبقى على هذه الصفة حتى يتبين لنا من السنة أنها تبسط في الجلوس بين السجدتين.
وفي هذا الجلوس يقول: ((رب اغفر لي وارحمني واهدني، واجبرني وعافني وارزقني)) رواه الترمذي وأبو داود، سواء كان إماماً أو مأموماً أو مفرداً.
فإن قلت كيف يفرد الإمام الضمير وقد روى عن النبي صلى الله عليه وسلم في الرجل إذا كان إماماً وخص نفسه بالدعاء، "فقد خان المأمومين "؟ .
فالجواب على ذلك: أن هذا في دعاء يؤمن عليه المأموم، فإن الإمام إذا أفرده يكون قد خان المأمومين مثل دعاء القنوت، علمه النبي صلى الله عليه وسلم الحسن بن علي بصيغة الإفراد " ((اللهم اهدني فيمن هديت....)) رواه أبو داود والترمذي وأحمد فلو قال الإمام: اللهم اهدني فيمن هديت يكون هذا خيانة، لأن المأموم سيقول: آمين، والإمام قد دعا لنفسه وترك المأمومين، إذاً فليقل: " اللهم اهدنا فيمن هديت "، فلا يخص نفسه بالدعاء دون المأمومين في دعاء يؤمن عليه المأموم لأن ذلك خيانة للمأموم.
ثم يسجد للسجدة الثانية كالسجدة الأولى في الكيفية وفيما يقال فيها.
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই যে—বর্তমান সময় পর্যন্ত—আমি জানি না এমন কোনো বর্ণনা এসেছে কি না যেখানে বলা হয়েছে যে দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে ডান হাত ডান উরুর ওপর বিছিয়ে রাখা হবে। বরং এতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো কনিষ্ঠা, অনামিকা এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি মধ্যমার সাথে মুষ্টিবদ্ধ রাখা হবে। ওয়াইল বিন হুজর (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে এটি স্পষ্টভাবে এসেছে যা মুসনাদ ইমাম আহমাদে সংকলিত হয়েছে। উক্ত হাদিসটি সম্পর্কে কোনো কোনো জ্ঞানবান আলেম বলেছেন যে এর সনদ (إسناد) উত্তম (جيد), আবার কেউ কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তবে প্রকৃতপক্ষে আমাদের এর খুব বেশি প্রয়োজন নেই, কারণ এটি বলাই যথেষ্ট যে: ডান হাতের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতির বর্ণনা এসেছে তা হলো এই মুষ্টিবদ্ধ রাখা। এটি বিছিয়ে রাখার ব্যাপারে কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না, তাই হাত এই অবস্থাতেই থাকবে যতক্ষণ না সুন্নাহ থেকে আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হয় যে দুই সিজদার মাঝে বসা অবস্থায় হাত বিছিয়ে রাখতে হবে।
এবং এই বৈঠকে তিনি বলবেন: "হে রব! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর দয়া করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমার ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমাকে সুস্থতা দিন এবং আমাকে রিজক দান করুন।" এটি তিরমিজি ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন; চাই তিনি ইমাম হোন, মুক্তাদি হোন কিংবা একাকী সালাত আদায়কারী হোন।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন, ইমাম কীভাবে একবচনের সর্বনাম ব্যবহার করবেন, অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, সে যদি ইমাম হয় এবং কেবল নিজের জন্য দোয়া নির্দিষ্ট করে তবে "সে মুক্তাদিদের সাথে খেয়ানত করল"?
এর উত্তর হলো: এটি এমন দোয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে মুক্তাদিগণ 'আমিন' বলেন। ইমাম যদি সেই দোয়া কেবল নিজের জন্য একবচনে করেন তবে তিনি মুক্তাদিদের সাথে খেয়ানতকারী হবেন, যেমন কুনুতের দোয়া; যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান বিন আলীকে একবচনের শব্দে শিখিয়েছেন: "হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে হেদায়েত করেছেন তাদের সাথে আমাকেও হেদায়েত দিন...।" এটি আবু দাউদ, তিরমিজি ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন। সুতরাং ইমাম যদি বলেন: "হে আল্লাহ! আমাকে হেদায়েত দিন", তবে এটি খেয়ানত হবে। কারণ মুক্তাদি 'আমিন' বলবে, অথচ ইমাম কেবল নিজের জন্য দোয়া করলেন এবং মুক্তাদিদের বাদ দিলেন। অতএব তিনি বলবেন: "হে আল্লাহ! আমাদের হেদায়েত দিন"। সুতরাং যে দোয়ায় মুক্তাদিগণ 'আমিন' বলেন, সেখানে তিনি মুক্তাদিদের বাদ দিয়ে কেবল নিজেকে দোয়ার জন্য নির্দিষ্ট করবেন না, কারণ তা মুক্তাদিদের প্রতি খেয়ানত।
অতঃপর তিনি দ্বিতীয় সিজদা করবেন, যা পদ্ধতি এবং পঠিত দোয়ার ক্ষেত্রে প্রথম সিজদার মতোই হবে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثم ينهض للركعة الثانية مكبراً معتمداً على ركبتيه قائماً بدون جلوس، وهذا هو المشهور من مذهب الإمام أحمد. وقيل بل يجلس ثم يقوم معتمداً على يديه، كما هو المشهور من مذهب الشافعي، وهذه الجلسة مشهورة عند العلماء باسم
جلسة الاستراحة.
وقد اختلف العلماء رحمهم الله في مشروعيتها فقال بعضهم: فإذا قمت إلى الثانية أو إلى الرابعة فاجلس ثم انهض معتمداً على يديك إما على صفة العاجن - إن صح الحديث في ذلك أو على غير هذه الصفة عند من يرى أن حديث العجن ضعيف المهم أنهم اختلفوا في هذه الجلسة، فمنهم من يرى أنها مستحبة مطلقاً، ومنهم من يرى أنها غير مستحبة على سبيل الإطلاق، ومنهم من يفصل ويقول: إن احتجت إليها لضعف، أو كبر، أو مرض، أو ما أشبه ذلك فإنك تجلس ثم تنهض، وأما إذا لم تحتج إليها فلا تجلس، واستدل لذلك أن هذه الجلسة ليس لها دعاء، وليس لها تكبير عند الانتقال منها، بل التكبير واحد من السجود للقيام، فلما كان الأمر كذلك دل على أنها غير مقصودة في ذاتها لأن كل ركن مقصود لذاته في الصلاة لابد فيه من ذكر مشروع، وتكبير سابق، وتكبير لاحق قالوا: ويدل لذلك أيضاً أن في حديث مالك ابن الحويرث: " أنه يعتمد على يديه " والاعتماد على اليدين لا يكون غالباً إلا من حاجة وثقل بالجسم لا يتمكن من النهوض.
فلهذا نقول: إن احتجت إليها فلا تكلف نفسك في النهوض من السجود إلى القيام رأساً، وإن لم تحتج فالأولى أن تنهض من السجود إلى القيام رأساً، وهذا هو ما اختاره صاحب المغنى - ابن قدامة المعروف بالموفق رحمه الله وهو من أكابر أصحاب الإمام أحمد، وأظنه اختيار ابن القيم في زاد المعاد أيضاً.
ويقول صاحب المغنى: إن هذا هو الذي تجتمع في الأدلة - أي التي فيها إثبات هذه الجلسة ونفيها.
এরপর তিনি তাকবির পাঠরত অবস্থায় বসা ব্যতিরেকে সরাসরি তাঁর হাঁটুতে ভর দিয়ে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়াবেন; এটিই ইমাম আহমাদ-এর মাযহাবে প্রসিদ্ধ মত। আবার কেউ বলেছেন যে, বরং তিনি বসবেন এবং হাত দুটির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াবেন, যেমনটি ইমাম শাফেঈ-এর মাযহাবে প্রসিদ্ধ। আর আলেমগণের নিকট এই বসাটি
জালসাতুল ইস্তিরাহাহ (বিশ্রামের বৈঠক) নামে সুপরিচিত।
উলামায়ে কেরাম (রহিমাহুমুল্লাহ) এর বিধিবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: যখন আপনি দ্বিতীয় বা চতুর্থ রাকাতের জন্য দাঁড়াবেন, তখন বসবেন এবং এরপর আপনার হাতের ওপর ভর দিয়ে উঠবেন—তা আটা খামিরকারীর ভঙ্গিতে হোক (যদি এ বিষয়ে হাদিসটি সহিহ (صحيح) হয়) অথবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে—যাঁদের মতে খামিরকারীর ভঙ্গিতে দাঁড়ানোর হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। মূল কথা হলো, তাঁরা এই বসার বিষয়ে মতভেদ করেছেন; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন এটি সাধারণভাবে মুস্তাহাব, আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি সাধারণভাবে মুস্তাহাব নয়। আবার কেউ কেউ এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন: যদি আপনার দুর্বলতা, বার্ধক্য, অসুস্থতা বা অনুরূপ কোনো কারণে এর প্রয়োজন হয়, তবে আপনি বসবেন এবং এরপর উঠে দাঁড়াবেন। পক্ষান্তরে যদি আপনার এর প্রয়োজন না হয়, তবে আপনি বসবেন না। এর সপক্ষে দলিল হিসেবে বলা হয়েছে যে, এই বসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট দোয়া নেই এবং এটি থেকে পরবর্তী অবস্থানে যাওয়ার জন্য কোনো তাকবিরও নেই; বরং সেজদা থেকে উঠে দাঁড়ানোর তাকবিরটি একটিই। বিষয়টি যখন এমন, তখন এটি নির্দেশ করে যে এই বসাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সালাতের কোনো মূল উদ্দেশ্য নয়। কারণ সালাতের প্রতিটি রুকন যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে পালিত হয়, তাতে অবশ্যই শরয়ি জিকির, পূর্ববর্তী তাকবির এবং পরবর্তী তাকবির থাকা আবশ্যক। তাঁরা আরও বলেন: মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস-এর হাদিসটিও এর প্রমাণ বহন করে যে, "তিনি তাঁর হাত দুটির ওপর ভর দিতেন"। আর হাতের ওপর ভর দেওয়া সাধারণত শারীরিক অক্ষমতা কিংবা দেহের ভারের কারণে হয়ে থাকে, যার ফলে সরাসরি উঠে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না।
এই কারণে আমরা বলি: যদি আপনার এর প্রয়োজন হয়, তবে সেজদা থেকে সরাসরি দাঁড়ানোর জন্য নিজেকে কষ্ট দেবেন না। আর যদি প্রয়োজন না থাকে, তবে সরাসরি সেজদা থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়াই উত্তম। এটিই আল-মুগনি গ্রন্থের লেখক—আল-মুয়াফফাক নামে পরিচিত ইবনে কুদামা (রহ.) পছন্দ করেছেন, যিনি ইমাম আহমাদ-এর প্রখ্যাত অনুসারীদের একজন। আমার ধারণা, ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর যাদুল মাআদ গ্রন্থেও এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।
আল-মুগনি প্রণেতা বলেন: এর মাধ্যমেই দলিলসমূহের মাঝে সমন্বয় সম্ভব—অর্থাৎ যেসব দলিলে এই বসার প্রমাণ রয়েছে এবং যেগুলোতে এটি অস্বীকার করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
والتفصيل هنا - عندي - أرجح من الإطلاق، وإن كان رجاحته - عندي - ليس بذلك الرجحان الجيد، لأنه لا يتعارض في فهمي مع الجلسة فالمراتب عندي ثلاث:
أولاً: مشروعية هذه الجلسة عند الحاجة إليها، وهذا لا إشكال فيه.
ثانياً: مشروعيتها مطلقاً، وليس بعيداً عنه في الرجحان.
ثالثا: أنها لا تشرع مطلقاً، وهذا عندي ضعيف، لأن الأحاديث فيها ثابتة، لكن هل هي ثابتة عند الحاجة أو مطلقاً؟ هذا محل الإشكال، والذي يترجح عندي يسيراً أنها تشرع للحاجة فقط
وفي الركعة الثانية، يفعل كما يفعل في الركعة الأولى، إلا في شيء واحد وهو الاستفتاح، فانه لا يستفتح، وأما التعوذ ففيه خلاف بني العلماء منهم من يرى أنه يتعوذ في كل ركعة، ومنهم من يرى أنه لا يتعوذ إلا في الركعة الأولى.
فإذا صلى الركعة الثانية جلس للتشهد كجلوسه بين السجدتين في كيفية الرجلين، وفي كيفية اليدين.
ويقرأ
التشهد وقد ورد فيه صفات متعددة وقولنا فيه كقولنا في دعاء الاستفتاح، أي أن الإنسان ينبغي له أن يأتي مرة بتشهد ابن عباس ومرة بتشهد ابن مسعود، ومرة بما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم من غير هاتي الصفتين فيقول: ((التحيات لله والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله)) رواه البخاري.
وإن كان في ثلاثية أو رباعية قام بعد التشهد الأول رافعاً يده كما رفعها عند تكبيرة الإحرام، وصلى بقية الصلاة وتكون بالفاتحة فقط فلا يقرأ معها سورة أخرى، وإن قرأ أحياناً فلا بأس لوروده في ظاهر حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه.
আমার মতে, এখানে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করাই সাধারণীকরণের চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য, যদিও এই অগ্রাধিকারটি আমার নিকট অতটা জোরালো নয়। কারণ আমার অনুধাবন অনুযায়ী এটি বসার পদ্ধতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়। সুতরাং আমার নিকট এর স্তর তিনটি:
প্রথমত: প্রয়োজনে এই বৈঠকের বৈধতা, আর এতে কোনো সংশয় নেই।
দ্বিতীয়ত: এটি সাধারণভাবে বৈধ হওয়া, যা অগ্রগণ্য হওয়ার দিক থেকে পূর্বেরটি থেকে খুব বেশি দূরে নয়।
তৃতীয়ত: এটি সাধারণভাবে বিধেয় নয়। আমার নিকট এই মতটি দুর্বল (ضعيف), কারণ এই বিষয়ক হাদিসসমূহ সাব্যস্ত (ثابتة)। তবে প্রশ্ন হলো, এগুলো কি প্রয়োজনে সাব্যস্ত (ثابتة) নাকি সাধারণভাবে? এটিই সংশয়ের ক্ষেত্র। আর আমার কাছে সামান্য অগ্রগণ্য মনে হয় যে, এটি কেবল প্রয়োজনেই বিধেয় হবে।
দ্বিতীয় রাকাতে ব্যক্তি ঠিক তেমনি করবে যেমনটি সে প্রথম রাকাতে করেছিল, তবে একটি বিষয় ব্যতিত; আর তা হলো ইস্তিফতাহ (ছানা পাঠ)। কারণ সে দ্বিতীয় রাকাতে ইস্তিফতাহ পড়বে না। আর তাআউয (আউযুবিল্লাহ) পাঠের ব্যাপারে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে প্রতি রাকাতেই তাআউয পাঠ করতে হবে, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে কেবল প্রথম রাকাতেই তা পাঠ করতে হবে।
অতঃপর যখন সে দ্বিতীয় রাকাত সম্পন্ন করবে, তখন দুই পা ও দুই হাতের অবস্থানের ক্ষেত্রে দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠকের ন্যায় তাশাহহুদের জন্য বসবে।
এবং সে পাঠ করবে
তাশাহহুদ। এক্ষেত্রে এর একাধিক রূপ বর্ণিত হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য ঠিক ইস্তিফতাহ বা ছানার দুআর বর্ণনার মতোই; অর্থাৎ মানুষের উচিত কখনও ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণিত তাশাহহুদ পাঠ করা, কখনও ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত তাশাহহুদ পাঠ করা, আবার কখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই দুই পদ্ধতি ব্যতিত অন্য কোনো পদ্ধতি পাঠ করা। সে বলবে: ((আত্তাহিইয়াতু লিল্লাহি ওয়াস-সালাওয়াতু ওয়াত-তাইয়্যিবাতু, আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন, أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله)) এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।
আর যদি নামাজ তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট হয়, তবে প্রথম তাশাহহুদের পর তাকবিরে তাহরিমার সময়ের ন্যায় হাত উত্তোলন করে দাঁড়াবে এবং নামাজের অবশিষ্ট অংশ আদায় করবে। এই রাকাতগুলোতে কেবল সুরা ফাতিহা পড়বে, এর সাথে অন্য কোনো সুরা পাঠ করবে না। তবে মাঝে মাঝে পাঠ করলে কোনো অসুবিধা নেই, কারণ আবু সাঈদ খুদরি (রা.)-এর হাদিসের বাহ্যিক বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত হয়।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثم يجلس إذا كان في ثلاثية أو رباعية للتشهد الثاني، وهذا التشهد يختلف عن التشهد الأول وفي كيفية الجلوس لأنه يجلس متوركاً والتورك له ثلاثة صفات:
الصفة الأولى: أن ينصب الرجل اليمنى ويخرج الرجل اليسرى من تحت الساق، ويجلس بإِلييتيه على الأرض.
والصفة الثانية: أن يفرش رجليه جميعاً ويخرجها من الجانب الأيمن، وتكون الرجل اليسرى تحت ساق اليمنى.
والصفة الثالثة: أن يفرش الرجل اليمنى ويجعل الرجل اليسرى بين الفخذ والساق.
فهذه ثلاثة صفات للتورك ينبغي أن يفعل هذا تارة، وأن يفعل هذا تارة أخرى.
ثم يقرأ التشهد الأخير ويضيف على التشهد الأول: ((اللهم صل على محمد، وعلى آل محمد، كما صليت على إبراهيم، وعلى آل إبراهيم، إنك حميد مجيد. اللهم بارك على محمد، وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم، إنك حميد مجيد)) رواه البخاري ومسلم.
ويقول: ((أعوذ بالله من عذاب جهنم ومن عذاب القبر ومن فتنة المحيا والممات ومن فتنة المسيح الدجال)) رواه مسلم.
ويدعو بما أحب من خير الدنيا والآخرة.
এরপর তিন বা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ হলে দ্বিতীয় তাশাহহুদের (تشهد) জন্য বসবেন। এই তাশাহহুদটি (تشهد) প্রথম তাশাহহুদ (تشهد) থেকে ভিন্ন এবং বসার পদ্ধতির দিক থেকেও আলাদা; কেননা মুসাল্লি এখানে তাওয়াররুক (تورك) অবস্থায় বসবেন এবং তাওয়াররুকের (تورك) তিনটি পদ্ধতি রয়েছে:
প্রথম পদ্ধতি: ডান পা খাড়া রাখা এবং বাম পা-টি ডান নলার নিচ দিয়ে বের করে দেওয়া এবং নিতম্বের ওপর ভর করে মাটিতে বসা।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: উভয় পা বিছিয়ে দেওয়া এবং সেগুলোকে ডান দিক দিয়ে বের করে দেওয়া, আর বাম পা থাকবে ডান নলার নিচে।
তৃতীয় পদ্ধতি: ডান পা বিছিয়ে দেওয়া এবং বাম পা উরু ও নলার মাঝখানে রাখা।
এগুলো হলো তাওয়াররুকের (تورك) তিনটি পদ্ধতি; মুসাল্লির উচিত কখনও এটি করা, আবার কখনও অন্যটি করা।
এরপর শেষ তাশাহহুদ (تشهد) পাঠ করবেন এবং প্রথম তাশাহহুদের (تشهد) সাথে অতিরিক্ত যোগ করবেন: "হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত ও অত্যন্ত মর্যাদাবান। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত ও অত্যন্ত মর্যাদাবান।" এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
এবং বলবেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আজাব, কবরের আজাব, জীবন ও মরণের ফিতনা এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ থেকে নিজের পছন্দমতো দোয়া করবেন।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
والتعوذ بالله من هذه الأربع في التشهد الأخير أمر به النبي صلى الله عليه وسلم، كما ثبت ذلك في صحيح مسلم، وقد ذهب بعض العلماء إلى وجوب التعوذ من هذه الأربع في التشهد الأخير وقال: لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر به، وكثير من الناس اليوم لا يبالي بها، تجده إذا صلى على النبي صلى الله عليه وسلم سَلّم مع أن الرسول صلى الله عليه وسلم أمر بأن نستعيذ بالله من هذه الأربع، وكان طاوس رحمه الله وهو من التابعين يأمر من لم يتعوذ بالله من هذه الأربع باعادة الصلاة، كما أمر ابنه بذلك، فالذي ينبغي يلك أن لا تدع التعوذ بالله من هذه الأربع لما في النجاة منها من السعادة في الدنيا والآخرة وبعد ذلك تسلم " السلام عليكم ورحمة الله "، وعن يسارك " السلام عليكم ورحمة الله ".
وبهذا تنتهي الصلاة.
وينبغي للإنسان أن كان يحب أن يدعو الله عز وجل أن يجعل دعاءه قبل أن يسلم أي بعد أن يكمل التشهد، وما أمر به النبي صلى الله عليه وسلم من التعوذ، يدعو بما شاء من خيري الدنيا والآخرة، ومن قال من أهل العلم إنه لا يدعو بأمر يتعلق بالدنيا، فقوله ضعيف، لأنه يخالف عموم قول الرسول صلى الله عليه وسلم " ثم ليتخير من الدعاء ما شاء " رواه البخاري ومسلم فأنت إذا كنت تريد الدعاء فادع الله قبل أن تسلّم وبذلك نعرف أن ما اعتاده كثير من الناس اليوم كلما سلّم من التطوع ذهب يدعو الله عز وجل حتى يجعله من الأمور الراتبة والسنن اللازمة فهذا أمر لا دليل عليه والسنة إنما جاءت بالدعاء قبل السلام.
هذه صفة الصلاة فيما نعلمه من سنة الرسول صلى الله عليه وسلم، فينبغي للإنسان أن يحرص على تطبيق ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم في تطبيق كيفية الصلاة ليكون ممتثلاً لقوله: ((صلوا كما رأيتموني أصلي)) رواه البخاري وأحمد.
শেষ তাশাহহুদ (تشهد)-এ এই চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিয়েছেন, যেমনটি সহীহ মুসলিমে প্রমাণিত হয়েছে। কিছু আলেম শেষ তাশাহহুদ (تشهد)-এ এই চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করাকে ওয়াজিব হওয়া (وجوب) বলে অভিমত দিয়েছেন এবং বলেছেন: কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে না; দেখা যায় তারা নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি দরুদ পাঠ করার পরেই সালাম ফিরিয়ে ফেলে, অথচ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দিয়েছেন। তাবেয়ীদের (تابعين) অন্তর্ভুক্ত তাউস (রহিমাহুল্লাহ) সেই ব্যক্তিকে সালাত পুনরায় আদায়ের নির্দেশ দিতেন, যে ব্যক্তি এই চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করত না; যেমনটি তিনি তার পুত্রকেও নির্দেশ দিয়েছিলেন। সুতরাং আপনার জন্য উচিত হলো এই চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা বর্জন না করা, কারণ এর থেকে মুক্তি পাওয়ার মধ্যেই ইহকাল ও পরকালের সুখ নিহিত রয়েছে। এরপর আপনি ডানে "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ" এবং আপনার বামে "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ" বলে সালাম ফিরাবেন।
এর মাধ্যমেই সালাত সমাপ্ত হবে।
কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর কাছে দুআ করতে চায়, তবে তার উচিত সালাম ফেরানোর আগে অর্থাৎ তাশাহহুদ (تشهد) ও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক নির্দেশিত আশ্রয় প্রার্থনা সমাপ্ত করার পর দুআ করা। সে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণকর যা ইচ্ছা প্রার্থনা করতে পারে। আলেমদের মধ্যে যারা বলেন যে, দুনিয়া সম্পর্কিত বিষয়ে দুআ করা যাবে না, তাদের সেই বক্তব্যটি দুর্বল (ضعيف); কারণ এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ব্যাপক (عام) নির্দেশের পরিপন্থী, যেখানে তিনি বলেছেন: "অতঃপর সে দুআর মধ্য থেকে যা ইচ্ছা বেছে নিক" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। সুতরাং আপনি যদি দুআ করতে চান, তবে সালাম ফেরানোর আগেই আল্লাহর কাছে দুআ করুন। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, বর্তমানে অনেক মানুষের যা অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে—অর্থাৎ নফল (تطوع) সালাতের সালাম ফেরানোর পর প্রতিবারই আল্লাহর কাছে দুআ করতে বসা এবং একে নিয়মিত বিষয় ও অবধারিত সুন্নতে পরিণত করা—এই কাজের কোনো দলিল নেই। বরং সুন্নত কেবল সালাম ফেরানোর আগে দুআ করার ব্যাপারেই এসেছে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে সালাতের যে পদ্ধতি আমরা জানি, এটিই হলো তার বিবরণ। সুতরাং মানুষের উচিত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সালাতের পদ্ধতির ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে, তার প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব প্রদান করা; যাতে সে তাঁর এই বাণীর অনুসারী হতে পারে: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো, যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ" (সহীহ বুখারী ও মুসনাদে আহমাদ)।
(খণ্ড: ১)
সিফাতু সালাতিন নাবিয়্যি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - আল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأهم شيء بالنسبة للصلاة بعد أن يُجري الإنسان أفعاله على السنة فيما أراه: هو حضور القلب، لأن كثيراً من الناس الآن لا تتسلط عليه الهواجس والوساوس إلا إذا دخل في الصلاة، وبمجرد ما ينتهي من صلاته تطير عنه هذه الهواجس والوساوس.
والله أعلم وصلى الله على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
আমার মতে, সুন্নাহ (السنة) অনুযায়ী সালাতের কার্যাবলি সম্পাদন করার পর সালাতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো: অন্তরের উপস্থিতি; কারণ বর্তমানে অনেক মানুষের ওপর অলীক চিন্তা ও কুমন্ত্রণা কেবল তখনই চেপে বসে যখন তারা সালাতে প্রবেশ করে, আর সালাত শেষ করার সাথে সাথেই এই সব কুমন্ত্রণা ও চিন্তা তাদের থেকে দূর হয়ে যায়।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ। আর আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।