(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الأربعين النووية للعثيمين القسم: شروح الحديث
الكتاب: شرح الأربعين النووية
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: دار الثريا للنشر
عدد الصفحات: 405
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উসাইমীন কর্তৃক আরবাঈন আন-নববীর ব্যাখ্যা বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাসমূহ
বই: আরবাঈন আন-নববীর ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মাদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মাদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু: ১৪২১ হি.)
প্রকাশক: দার আস-সুরাইয়া পাবলিশিং
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৫
[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الشارحإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
الحافظ النووي: رحمه الله من أصحاب الشافعي المعتبرة أقواله، ومن أشدّ الشّافعية حرصاً على التأليف، فقد ألّف في فنونٍ شتّى، في الحديث وعلومه، وألّف في علم اللغة كتاب تهذيب الأسماء واللغات، وهو في الحقيقة من أعلم الناس، والظاهر - والله أعلم - أنه من أخلص الناس في التأليف، لأن تأليفاته رحمه الله انتشرت في العالم الإسلامي، فلا تكاد تجد مسجداً إلا ويقرأ فيه كتاب (رياض الصالحين) ، وكتبه مشهورة مبثوثة في العالم مما يدل على صحة نيته، فإن قبول الناس للمؤلفات من الأدلة على إخلاص النية.
وهو رحمه الله مجتهدٌ، والمجتهد يخطئ ويصيب، وقد أخطأ رحمه الله في مسائل الأسماء والصفات، فكان يؤول فيها لكنه لاينكرها، فمثلاً: (استوى على العرش) يقول أهل التأويل معناها: استولى على العرش، لكن لاينكرون: (استوى) لأنهم لو أنكروا الاستواء تكذيباً لكفروا، أما من ينكر إنكار تأويل وهو لايجحدها فإن كان لتأويله مساغ في اللغة العربية فإنه لايكفر، أما إذا لم يكن له مسوّغ في اللغة العربية فهذا موجب الكفر. مثل أن يقول: ليس لله يدٌ حقيقة، ولا بمعنى النعمة، أو القوة، فهذا
ব্যাখ্যাকারকের ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সাহাবীবর্গের ওপর সালাত ও প্রচুর সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
হাফেজ নববী (রহিমাহুল্লাহ) শাফেয়ী মাযহাবের এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর বক্তব্যসমূহ গ্রহণযোগ্য। তিনি শাফেয়ী আলেমদের মধ্যে গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন; তিনি হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ভাষা বিজ্ঞানে 'তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত' নামক গ্রন্থটি লিখেছেন। তিনি মূলত মানুষের মধ্যে অন্যতম বিজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন। বাহ্যত—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তিনি গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ছিলেন। কারণ তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) রচনাবলি মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। আপনি এমন কোনো মসজিদ খুব কমই পাবেন যেখানে 'রিয়াদুস সালেহীন' কিতাবটি পাঠ করা হয় না। সারা বিশ্বে তাঁর গ্রন্থসমূহের সুখ্যাতি ও বিস্তৃতি তাঁর নিয়তের বিশুদ্ধতারই প্রমাণ বহন করে। কেননা মানুষের কাছে কোনো রচনার গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া নিয়তের ইখলাসের অন্যতম নিদর্শন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) একজন মুজতাহিদ ছিলেন, আর মুজতাহিদ ভুলও করেন আবার সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীতও হন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর নাম ও গুণাবলির (আসমা ওয়া সিফাত) মাসআলায় ভুল করেছেন। তিনি এগুলোতে তাবিল বা ব্যাখ্যা করতেন, তবে তিনি এগুলোকে অস্বীকার করতেন না। উদাহরণস্বরূপ: (তিনি আরশের উপর উঠেছেন) এর ক্ষেত্রে তাবিলকারীরা বলেন এর অর্থ: আরশের ওপর কর্তৃত্ব বা আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু তারা 'উঠা' বা ইস্তাওয়া গুণটিকে সরাসরি অস্বীকার করেন না; কারণ তারা যদি সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ইস্তাওয়াকে অস্বীকার করতেন তবে তারা কাফের হয়ে যেতেন। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি সরাসরি অস্বীকার না করে কেবল তাবিল করে, যদি তার সেই তাবিলের কোনো অবকাশ আরবি ভাষায় থাকে, তবে সে কাফের হবে না। কিন্তু যদি আরবি ভাষায় এর কোনো অবকাশ না থাকে, তবে তা কুফরির কারণ হবে। যেমন কেউ যদি বলে: আল্লাহর প্রকৃতপক্ষে কোনো হাত নেই, এমনকি এর অর্থ নিয়ামত বা শক্তিও নয়, তবে এটি...
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
كافر؛ لأنه نفاها نفياً مطلقاً (1) . فهم يصدقون به ولكن يحرفونه.
ومثلُ هذه المسائل التي وقع منه رحمه الله خطأ في تأويل بعض نصوص الصفات إنه لمغمور بما له من فضائل ومنافع جمّة، ولانظن أن ماوقع منه إلا صادر عن اجتهاد وتأويل سائغ - ولو في رأيه - وأرجو أن يكون من الخطأ المغفور، وأن يكون ماقدّمه من الخير والنّفع من السعي المشكور، وأن يصدق عليه قول الله تعالى: (إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ) (هود: الآية114) (2)
فالنووي نشهد له فيما نعلم من حاله بالصلاح، وأنه مجتهد، وأن كل مجتهد قد يصيب وقد يخطئ، إن أخطأ فله أجر واحد، وإن أصاب فله أجران. وقد ألف مؤلفات كثيرة من أحسنها هذا الكتاب: الأربعون النووية، وهي ليست أربعين، بل هي اثنان وأربعون، لكن العرب يحذفون الكسر في الأعداد فيقولون: أربعون. وإن زاد واحداً أو اثنين، أونقص واحداً أواثنين.
هذه الأربعون ينبغي لطالب العلم أن يحفظها، لأنها منتخبة من أحاديث عديدة. وفي أبواب متفرقة، بخلاف غيرها من المؤلفات فلو نظرنا إلى عمدة الأحكام لوجدناها منتخبة؛ لكنها في باب واحد وهو باب الفقه، أما الأربعون النووية فهي في أبواب متفرقة متنوعة. ونحن نستعين بالله تعالى في التعليق عليها. والله الموفّق.
--------------------------------------------
কাফির; কারণ সে তা পরিপূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে (১)। সুতরাং তারা তা বিশ্বাস করে তবে তাতে বিকৃতি সাধন করে।
আর এ জাতীয় বিষয়সমূহ যাতে তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) পক্ষ থেকে সিফাত সংক্রান্ত কিছু নসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভুল হয়েছে, তা তাঁর অগণিত মর্যাদা ও ব্যাপক উপকারের তুলনায় অতি নগণ্য। আমরা মনে করি না যে তাঁর পক্ষ থেকে যা সংঘটিত হয়েছে তা ইজতিহাদ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা—অন্তত তাঁর দৃষ্টিতে—ব্যতীত অন্য কিছু থেকে উৎসারিত হয়েছে। আমি আশা করি এটি ক্ষমাযোগ্য ভুল হিসেবে গণ্য হবে এবং তিনি কল্যাণ ও উপকারের যা কিছু পেশ করেছেন তা প্রশংসিত প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে। আর তাঁর ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার এই বাণী সত্য হোক: (নিশ্চয়ই নেক আমলসমূহ গুনাহসমূহকে দূর করে দেয়) (হূদ: আয়াত ১১৪) (২)
ইমাম নববী সম্পর্কে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে আমাদের জানামতে আমরা তাঁর নেককার হওয়ার সাক্ষ্য দিই। তিনি একজন মুজতাহিদ ছিলেন, আর প্রত্যেক মুজতাহিদ কখনও সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান আবার কখনও ভুল করেন। যদি তিনি ভুল করেন তবে তাঁর জন্য একটি সওয়াব রয়েছে, আর যদি তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান তবে তাঁর জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হলো এই গ্রন্থটি: আরবাউন নববী। এটি মূলত চল্লিশটি হাদিস নয়, বরং বিয়াল্লিশটি। তবে আরবরা সংখ্যার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশ বাদ দিয়ে কথা বলে, তাই তারা এক বা দুই বেশি হলেও কিংবা এক বা দুই কম হলেও 'চল্লিশ' বলে থাকে।
এই চল্লিশটি হাদিস তালিবে ইলমদের (জ্ঞান অন্বেষণকারী) মুখস্থ করা উচিত, কারণ এগুলো অসংখ্য হাদিস থেকে বাছাই করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত। এটি অন্যান্য গ্রন্থের বিপরীত; যেমন আমরা যদি 'উমদাতুল আহকাম'-এর দিকে তাকাই তবে দেখব সেটিও বাছাইকৃত হাদিসের সংকলন, তবে তা কেবল একটি বিষয়ে—আর তা হলো ফিকহ। অন্যদিকে 'আরবাউন নববী' বিভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ওপর সংকলিত। আমরা এর ওপর ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার সাহায্য কামনা করছি। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
الحديث الأول(عَنْ أَمِيرِ المُؤمِنينَ أَبي حَفْصٍ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضيَ اللهُ تعالى عنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ يَقُولُ: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلى اللهِ وَرَسُوله فَهِجْرَتُهُ إلى اللهِ وَرَسُوله، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيْبُهَا، أَو امْرأَة يَنْكِحُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ) (1)
رواه إماما المحدثين أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بَرْدِزْبَهْ البخاري، وأبو الحسين مسلم بن الحجَّاج بن مسلم القشيري النيسابوري، في صحيحيهما اللَذين هما أصح الكتب المصنفة.
الشرحعَنْ أَمِيرِ المُؤمِنينَ وهو أبو حفص عمر بن الخطاب رضي الله عنه، آلت إليه الخلافة بتعيين أبي بكر الصديق رضي الله عنه له، فهو حسنة من حسنات أبي بكر، ونصبه في الخلافة شرعي، لأن الذي عينه أبو بكر، وأبو بكر تعين بمبايعة الصحابة له في السقيفة، فخلافته شرعية كخلافة أبي بكر، ولقد أحسن أبو بكر اختياراً حيث اختار عمر بن الخطاب رضي الله عنه. وفي قوله سَمِعْتُ دليل على أنه أخذه من النبي صلى الله عليه وسلم بلا واسطة. والعجب أن هذا الحديث لم يروه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلا عمر رضي الله عنه
--------------------------------------------
প্রথম হাদিস(আমিরুল মুমিনীন আবু হাফস ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুলকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে। সুতরাং যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।) (১)
এটি বর্ণনা করেছেন হাদিস শাস্ত্রের দুই ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন মুগিরা বিন বারদিজবাহ বুখারি এবং আবু হুসাইন মুসলিম বিন হাজ্জাজ বিন মুসলিম কুশাইরি নিশাপুরি, তাঁদের নিজ নিজ সহিহ গ্রন্থে, যা সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ।
ব্যাখ্যাআমিরুল মুমিনীন থেকে বর্ণিত, তিনি হলেন আবু হাফস ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে নিযুক্ত করার মাধ্যমে খিলাফত তাঁর নিকট হস্তান্তরিত হয়। সুতরাং তিনি আবু বকরের সৎকাজসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি সৎকাজ। তাঁর খিলাফত নিয়োগ শরয়ি (বৈধ), কারণ আবু বকর তাকে নিযুক্ত করেছেন। আর আবু বকর সকিফায় সাহাবিদের আনুগত্যের শপথ (বায়াত) প্রদানের মাধ্যমে নিযুক্ত হয়েছিলেন। সুতরাং তাঁর খিলাফত আবু বকরের খিলাফতের মতোই শরয়ি। ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে নির্বাচন করে আবু বকর অত্যন্ত উত্তম কাজ করেছেন। তাঁর বক্তব্য "আমি শুনেছি" একথার মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি এটি কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হাদিসটি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
مع أهميته، لكن له شواهد في القرآن والسنة. ففي القرآن يقول الله تعالى: (وَمَا تُنْفِقُونَ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ) (البقرة: الآية272) فهذه نية، وقوله تعالى: (مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً) (الفتح: الآية29) وهذه نيّة. وقال النبي صلى الله عليه وسلم لسعد بن أبي وقاص رضي الله عنه: وَاعْلَمْ أَنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِيْ بِهَا وَجْهَ اللهِ إِلا أُجِرْتَ عَلَيْهَا حَتَّى مَا تَجْعَلَهُ فِي فِيّ امْرَأَتِك (1) فقوله: تَبْتَغِي بِها وَجْهَ اللهِ فهذه نية، فالمهم أن معنى الحديث ثابت بالقرآن والسنة. ولفظ الحديث انفرد به عمر رضي الله عنه، لكن تلقته الأمة بالقبول التام، حتى إن البخاري رحمه الله صدر كتابه الصحيح بهذا الحديث.
قوله: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى لهذه الجملة من حيث البحث جهتان: نتكلم أولاً على مافيه من البلاغة:
فقوله: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ فيه من أوجه البلاغة الحصر، وهو: إثبات الحكم في المذكور ونفيه عما سواه، وطريق الحصر: إِنَّمَا لأن (إنما) تفيد الحصر، فإذا قلت: زيد قائم فهذا ليس فيه حصر، وإذا قلت: إنما زيد قائم، فهذا فيه حصر وأنه ليس إلا قائماً. وكذلك قوله صلى الله عليه وسلم: وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى.
وفي قوله صلى الله عليه وسلم: وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيْبُهَا أو امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيهِ من البلاغة: إخفاء نية من هاجر للدنيا، لقوله: فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ ولم يقل: إلى دنيا يصيبها، والفائدة البلاغية في ذلك هي: تحقير ماهاجر إليه هذا الرجل، أي ليس أهلاً لأن يُذكر، بل يُكنّى عنه بقوله: إلى ماهاجر إليه.
وقوله: مَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهِ الجواب: فَهِجْرَتُهُ إلَى اللهِ وَرَسُولِهِ فذكره تنويهاً بفضله، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيْبُهَا أو امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا
--------------------------------------------
এর গুরুত্বের সাথে সাথে কুরআন ও সুন্নাহতে এর প্রমাণাদি রয়েছে। কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন: (তোমরা কেবল আল্লাহর চেহারা কামনায় ব্যয় করো) (আল-বাকারা: আয়াত ২৭২)। এটিই হলো নিয়ত। আর মহান আল্লাহর বাণী: (মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল; এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে দয়ালু; তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখতে পাবে, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে) (আল-ফাতহ: আয়াত ২৯)। এটিও নিয়ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছেন: জেনে রেখো, আল্লাহর চেহারা কামনায় তুমি যা কিছু ব্যয় করবে, তোমাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও তার জন্যও (১)। অতএব তাঁর বাণী: আল্লাহর চেহারা কামনা করা—এটিই নিয়ত। মূল কথা হলো, হাদিসটির অর্থ কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। হাদিসটির শব্দাবলি বর্ণনায় কেবল উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একক ছিলেন, কিন্তু উম্মত এটি পূর্ণাঙ্গভাবে গ্রহণ করে নিয়েছে, এমনকি ইমাম বুখারি রহিমাহুল্লাহ তাঁর সহিহ গ্রন্থটি এই হাদিস দিয়ে শুরু করেছেন।
তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করে) এই বাক্যটির গবেষণার ক্ষেত্রে দুটি দিক রয়েছে: আমরা প্রথমে এর অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) নিয়ে আলোচনা করব:
তাঁর বাণী: (নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল) এর মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের দিক থেকে 'হসর' (সীমাবদ্ধকরণ) রয়েছে। আর তা হলো: উল্লিখিত বিষয়ের জন্য বিধান সাব্যস্ত করা এবং তা ছাড়া অন্য কিছু থেকে তা নাকচ করা। হসর করার একটি পদ্ধতি হলো: 'ইন্নামা' (নিশ্চয়ই কেবল), কারণ 'ইন্নামা' সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে। যেমন আপনি যদি বলেন: 'যায়েদ দাঁড়িয়ে আছে', তবে এতে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। কিন্তু আপনি যদি বলেন: 'নিশ্চয়ই যায়েদ কেবল দাঁড়িয়েই আছে', তবে এতে সীমাবদ্ধতা পাওয়া যায় যে সে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কিছু নয়। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: (আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য কেবল তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করে)।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: (যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য, তবে তার হিজরত সেদিকেই হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে) এর মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের দিকটি হলো: যে ব্যক্তি দুনিয়ার জন্য হিজরত করেছে তার নিয়তকে অস্পষ্ট রাখা। কারণ তিনি বলেছেন: (তার হিজরত সেদিকেই হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে), তিনি (দুনিয়া অর্জনের জন্য) পুনরায় বলেননি। এর অলঙ্কারিক উপকারিতা হলো: এই ব্যক্তি যার জন্য হিজরত করেছে তাকে তুচ্ছজ্ঞান করা, অর্থাৎ সেটি উল্লেখ করার মতো যোগ্য নয়, বরং ইশারা করে বলা হয়েছে "যার জন্য সে হিজরত করেছে" বলে।
এবং তাঁর বাণী: (যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকে হবে) এর উত্তর হলো: (তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দিকেই হবে)। এখানে এর মর্যাদা প্রকাশের জন্য তা পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য হবে, তবে তার হিজরত সেদিকেই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
هَاجَرَ إِلَيهِ ولم يقل: إلى دنيا يصيبها أو امرأة ينكحها، لأن فيه تحقيراً لشأن ما هاجر إليه وهي: الدنياأو المرأة.
* أما من جهة الإعراب، وهو البحث الثاني:
فقوله صلى الله عليه وسلم: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بالنِّيَّاتِ مبتدأ وخبر، الأعمال: مبتدأ، والنيات: خبره.
وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى أيضاً مبتدأ وخبر، لكن قُدِّم الخبر علىالمبتدأ؛ لأن المبتدأ في قوله: وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى هو: مانوى متأخر.
فمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهِ فَهِجْرَتُهُ إلَى اللهِ وَرَسُولِهِ هذه جملة شرطية، أداة الشرط فيها: مَنْ، وفعل الشرط: كانت، وجواب الشرط: فهجرته إلى الله ورسوله.
وهكذا نقول في إعراب قوله: وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيْبُهَا.
أما في اللغة فنقول:
الأعمال جمع عمل، ويشمل أعمال القلوب وأعمال النطق، وأعمال الجوارح، فتشمل هذه الجملة الأعمال بأنواعها.
فالأعمال القلبية: مافي القلب من الأعمال: كالتوكل على الله، والإنابة إليه، والخشية منه وما أشبه ذلك.
والأعمال النطقية: ماينطق به اللسان، وما أكثر أقوال اللسان، ولاأعلم شيئاً من الجوارح أكثر عملاً من اللسان، اللهم إلا أن تكون العين أو الأذن.
والأعمال الجوارحية: أعمال اليدين والرجلين وما أشبه ذلك.
الأعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ النيات: جمع نية وهي: القصد. وشرعاً: العزم على فعل العبادة تقرّباً إلى الله تعالى، ومحلها القلب، فهي عمل قلبي ولاتعلق للجوارح بها.
وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ أي لكل إنسانٍ مَا نَوَى أي ما نواه.
তাঁর পানে হিজরত করেছেন—এ কথাটি বলেছেন, কিন্তু ‘দুনিয়ার উদ্দেশ্যে যা সে লাভ করবে অথবা নারীর উদ্দেশ্যে যাকে সে বিয়ে করবে’—এ কথা বলেননি; কারণ এতে হিজরতের উদ্দেশ্যের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ পায়, আর তা হলো: দুনিয়া অথবা নারী।
* আর বাক্যতত্ত্ব বা ইরাবের দিক থেকে, যা দ্বিতীয় আলোচনা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তসমূহের ওপর নির্ভরশীল" এখানে মুক্তাদা ও খবর রয়েছে। ‘আমলসমূহ’ হলো মুক্তাদা এবং ‘নিয়তসমূহ’ হলো তার খবর।
"আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তা-ই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে" এটিও মুক্তাদা ও খবর। তবে এখানে খবরকে মুক্তাদার আগে আনা হয়েছে; কারণ "আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তা-ই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে" বাণীতে মুক্তাদা হলো: "যা সে নিয়ত করেছে", যা বিলম্বে এসেছে।
"সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হবে" এটি একটি শর্তবাচক বাক্য। এতে শর্তের অব্যয় হলো: "যে", শর্তের ক্রিয়া হলো: "হবে", এবং শর্তের উত্তর হলো: "তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই"।
অনুরূপভাবে আমরা তাঁর এই বাণীর ইরাব বা বাক্যতত্ত্ব বলব: "আর যার হিজরত দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে হবে যা সে অর্জন করবে..."।
আর ভাষাগত দিক থেকে আমরা বলব:
‘আমাল’ শব্দটি ‘আমল’-এর বহুবচন। এটি অন্তরের আমল, উচ্চারণের আমল এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং এই বাক্যটি সকল প্রকার আমলকে শামিল করে।
অন্তরের আমলসমূহ হলো: অন্তরের মধ্যকার কার্যাবলি, যেমন: আল্লাহর ওপর ভরসা করা, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করা, তাঁকে ভয় পাওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
উচ্চারণমূলক আমলসমূহ হলো: জিহ্বা যা উচ্চারণ করে। জিহ্বার কথা কতই না বেশি! আমি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে জিহ্বার চেয়ে বেশি আমলকারী অন্য কিছু জানি না, তবে চোখ বা কান এর ব্যতিক্রম হতে পারে।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলসমূহ হলো: হাত ও পা এর কাজ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।
"আমলসমূহ নিয়তসমূহের ওপর নির্ভরশীল" - নিয়তসমূহ হলো ‘নিয়ত’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ: সংকল্প বা উদ্দেশ্য। আর শরীয়তের পরিভাষায়: আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদত করার দৃঢ় সংকল্প। এর স্থান হলো অন্তর। সুতরাং এটি একটি অন্তরের আমল এবং এর সাথে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বাহ্যিক কোনো সম্পর্ক নেই।
"আর প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য" অর্থাৎ প্রত্যেক মানুষের জন্য "তা-ই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে" অর্থাৎ সে যা নিয়ত করেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
وهنا مسألة: هل هاتان الجملتان بمعنى واحد، أو مختلفتان؟
الجواب: يجب أن نعلم أن الأصل في الكلام التأسيس دون التوكيد، ومعنى التأسيس: أن الثانية لها معنى مستقل. ومعنى التوكيد: أن الثانية بمعنى الأولى. وللعلماء رحمهم الله في هذه المسألة رأيان، يقول أولهما: إن الجملتان بمعنى واحد، فقد قال النبي صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا الأَعْمَالُ بالنِّيَّاتِ وأكد ذلك بقوله: وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى.
والرأي الثاني يقول: إن الثانية غير الأولى، فالكلام من باب التأسيس لامن باب التوكيد.
* والقاعدة: أنه إذا دار الأمر بين كون الكلام تأسيساً أو توكيداً فإننا نجعله تأسيساً، وأن نجعل الثاني غير الأول، لأنك لو جعلت الثاني هو الأول صار في ذلك تكرار يحتاج إلى أن نعرف السبب.
* والصواب: أن الثانية غير الأولى، فالأولى باعتبار المنوي وهو العمل. والثانية باعتبار المنوي له وهو المعمول له، هل أنت عملت لله أو عملت للدنيا. ويدل لهذا مافرعه عليه النبي صلى الله عليه وسلم في قوله: فمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهِ فَهِجْرَتُهُ إلَى اللهِ وَرَسُولِهِ وعلى هذه فيبقى الكلام لاتكرار فيه.
والمقصود من هذه النية تمييز العادات من العبادات، وتمييز العبادات بعضها من بعض.
* وتمييز العادات من العبادات مثاله:
- أولاً: الرجل يأكل الطعام شهوة فقط، والرجل الآخر يأكل الطعام امتثالاً لأمر الله عز وجل في قوله: (وَكُلُوا وَاشْرَبُوا) (الأعراف: الآية31) فصار أكل الثاني عبادة، وأكل الأول عادة
- ثانياً: الرجل يغتسل بالماء تبرداً، والثاني يغتسل بالماء من الجنابة، فالأول عادة،
এখানে একটি মাসয়ালা: এই বাক্য দুটি কি একই অর্থের, নাকি ভিন্ন?
উত্তর: আমাদের জানা উচিত যে, কথার ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো 'তাসিস' (নতুন অর্থ প্রদান), 'তাওকিদ' (দৃঢ়তা প্রদান) নয়। তাসিস-এর অর্থ হলো: দ্বিতীয় বাক্যটির একটি স্বতন্ত্র অর্থ থাকবে। আর তাওকিদ-এর অর্থ হলো: দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথমটির অর্থেই হবে। এই মাসয়ালায় আলেমগণের (রহিমাহুমুল্লাহ) দুটি মত রয়েছে। প্রথম মতটি হলো: বাক্য দুটি একই অর্থের। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" এবং তিনি তাঁর এই কথার মাধ্যমে এটিকে সুদৃঢ় করেছেন যে, "প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যার সে নিয়ত করেছে।"
দ্বিতীয় মতটি হলো: দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথমটির থেকে ভিন্ন। সুতরাং এখানে বক্তব্যটি তাসিস-এর পর্যায়ভুক্ত, তাওকিদ-এর পর্যায়ভুক্ত নয়।
* নীতি হলো: যখন কোনো কথা তাসিস নাকি তাওকিদ—এই নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়, তখন আমরা একে তাসিস হিসেবেই গণ্য করি এবং দ্বিতীয়টিকে প্রথমটি থেকে ভিন্ন মনে করি। কারণ আপনি যদি দ্বিতীয়টিকে প্রথমটির অনুরূপ ধরেন, তবে সেখানে একটি পুনরাবৃত্তি ঘটে যার কারণ জানা প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
* সঠিক মত হলো: দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথমটি থেকে ভিন্ন। প্রথমটি 'মানউই' বা যা সংকল্প করা হয়েছে (অর্থাৎ আমল) তার বিবেচনায়। আর দ্বিতীয়টি 'মানউই লাহূ' বা যার উদ্দেশ্যে সংকল্প করা হয়েছে (অর্থাৎ যার জন্য আমলটি করা হয়েছে) তার বিবেচনায়; আপনি কি আল্লাহর জন্য আমল করেছেন নাকি দুনিয়ার জন্য করেছেন? এর প্রমাণ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরবর্তী বক্তব্য: "অতএব যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকেই গণ্য হবে।" এই হিসেবে বক্তব্যে আর কোনো পুনরাবৃত্তি থাকে না।
এই নিয়তের উদ্দেশ্য হলো অভ্যাসকে ইবাদত থেকে পৃথক করা এবং এক ইবাদতকে অন্য ইবাদত থেকে পৃথক করা।
* অভ্যাসকে ইবাদত থেকে পৃথক করার উদাহরণ হলো:
- প্রথমত: একজন ব্যক্তি কেবল প্রবৃত্তির তাড়নায় খাবার খায়, আর অন্য একজন ব্যক্তি মহান আল্লাহর নির্দেশের অনুগত হয়ে খাবার খায়, যেমনটি তিনি বলেছেন: "তোমরা খাও ও পান করো" (সূরা আল-আরাফ: আয়াত ৩১)। ফলে দ্বিতীয় ব্যক্তির আহার ইবাদতে পরিণত হলো এবং প্রথম ব্যক্তির আহার অভ্যাস হিসেবে গণ্য হলো।
- দ্বিতীয়ত: একজন ব্যক্তি শরীর ঠান্ডা করার জন্য পানি দিয়ে গোসল করে, আর দ্বিতীয় ব্যক্তি নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করে। এক্ষেত্রে প্রথমটি অভ্যাস,
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
والثاني: عبادة، ولهذا لوكان على الإنسان جنابة ثم انغمس في البحر للتبرد ثم صلى فلا يجزئه ذلك، لأنه لابد من النية، وهو لم ينو التعبّد وإنما نوى التبرّد.
ولهذا قال بعض أهل العلم: عبادات أهل الغفلة عادات، وعادات أهل اليقظة عبادات. عبادات أهل الغفلة عادات مثاله: من يقوم ويتوضأ ويصلي ويذهب على العادة. وعادات أهل اليقظة عبادات مثاله: من يأكل امتثالاً لأمر الله، يريد إبقاء نفسه، ويريد التكفف عن الناس، فيكون ذلك عبادة. ورجل آخر لبس ثوباً جديداً يريد أن يترفّع بثيابه، فهذا لايؤجر، وآخرلبس ثوباً جديداً يريد أن يعرف الناس قدر نعمة الله عليه وأنه غني، فهذا يؤجر. ورجل آخر لبس يوم الجمعة أحسن ثيابه لأنه يوم جمعة، والثاني لبس أحسن ثيابه تأسياً بالنبي صلى الله عليه وسلم، فهو عبادة.
* تمييز العبادات بعضها من بعض مثاله:
رجل يصلي ركعتين ينوي بذلك التطوع، وآخر يصلي ركعتين ينوي بذلك الفريضة، فالعملان تميزا بالنية، هذا نفل وهذا واجب، وعلى هذا فَقِسْ.
* إذاً المقصود بالنيّة: تمييز العبادات بعضها من بعض كالنفل مع الفريضة، أوتمييز العبادات عن العادات.
واعلم أن النية محلها القلب، ولايُنْطَقُ بها إطلاقاً، لأنك تتعبّد لمن يعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور، والله تعالى عليم بما في قلوب عباده، ولست تريد أن تقوم بين يدي من لايعلم حتى تقول أتكلم بما أنوي ليعلم به، إنما تريد أن تقف بين يدي من يعلم ماتوسوس به نفسك ويعلم متقلّبك وماضيك، وحاضرك. ولهذا لم يَرِدْ عن رسول الله ولاعن أصحابه رضوان الله عليهم أنهم كانوا يتلفّظون بالنيّة ولهذا فالنّطق بها بدعة يُنهى عنه سرّاً أو جهراً، خلافاً لمن قال من أهل العلم: إنه ينطق بها جهراً، وبعضهم قال: ينطق بها سرّاً، وعللوا ذلك من أجل أن يطابق القلب اللسان.
দ্বিতীয়ত: ইবাদত; একারণেই যদি কোনো ব্যক্তির ওপর জানাবাত (অপবিত্রতা) থাকে এবং সে শরীর শীতল করার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে ডুব দেয়, তারপর সালাত আদায় করে, তবে তা যথেষ্ট হবে না। কারণ নিয়ত করা অপরিহার্য, আর সে ইবাদতের নিয়ত করেনি বরং কেবল শীতল হওয়ার নিয়ত করেছে।
একারণেই কোনো কোনো আলিম বলেছেন: অমনোযোগীদের ইবাদত হলো অভ্যাস, আর সচেতন ব্যক্তিদের অভ্যাস হলো ইবাদত। অমনোযোগীদের ইবাদত অভ্যাসে পরিণত হওয়ার উদাহরণ হলো: যে ব্যক্তি ঘুম থেকে ওঠে, অজু করে এবং অভ্যাসবশত সালাত আদায় করতে চলে যায়। আর সচেতন ব্যক্তিদের অভ্যাস ইবাদতে পরিণত হওয়ার উদাহরণ হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে আহার করে—উদ্দেশ্য হলো নিজের জীবন রক্ষা করা এবং মানুষের কাছে হাত পাতা থেকে বেঁচে থাকা—তবে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। আবার অন্য এক ব্যক্তি নতুন পোশাক পরিধান করল পোশাকের মাধ্যমে নিজের বড়ত্ব জাহির করার জন্য, তবে সে সওয়াব পাবে না; কিন্তু অন্য এক ব্যক্তি নতুন পোশাক পরল যেন মানুষ তার ওপর আল্লাহর নিআমতের মর্যাদা বুঝতে পারে এবং জানতে পারে যে সে অভাবমুক্ত, তবে সে সওয়াব পাবে। আর এক ব্যক্তি জুমার দিনে তার সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করল কেবল দিনটি জুমার দিন বলে, কিন্তু দ্বিতীয় এক ব্যক্তি তার সর্বোত্তম পোশাক পরিধান করল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণে, সুতরাং এটি ইবাদত।
* ইবাদতসমূহকে একে অপর থেকে পৃথক করা, এর উদাহরণ:
এক ব্যক্তি দুই রাকাত সালাত আদায় করছে যার মাধ্যমে সে নফলের নিয়ত করেছে, আর অন্য এক ব্যক্তি দুই রাকাত সালাত আদায় করছে যার মাধ্যমে সে ফরজের নিয়ত করেছে। সুতরাং কাজ দুটি নিয়তের মাধ্যমে পৃথক হয়ে গেল—এটি নফল আর ওটি ফরজ। এভাবে অন্যান্য বিষয়গুলোও এর ওপর অনুমান করে নিন।
* অতএব নিয়তের উদ্দেশ্য হলো: ইবাদতসমূহকে একে অপর থেকে পৃথক করা যেমন ফরজের সাথে নফলকে পৃথক করা, অথবা ইবাদতকে অভ্যাস থেকে পৃথক করা।
জেনে রাখুন যে, নিয়তের স্থান হলো অন্তর; এটি মোটেও মুখে উচ্চারণ করা যাবে না। কেননা আপনি এমন সত্তার ইবাদত করছেন যিনি চোখের খেয়ানত এবং অন্তরে যা গোপন থাকে তা জানেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত। আপনি এমন কারো সামনে দাঁড়াচ্ছেন না যে আপনার মনের খবর জানে না, যার ফলে আপনি যা নিয়ত করেছেন তা মুখে বলে তাকে জানাতে হবে। বরং আপনি এমন সত্তার সামনে দাঁড়াতে চাচ্ছেন যিনি আপনার মনে যা উদিত হয় তা জানেন এবং আপনার বিচরণস্থল, আপনার অতীত ও বর্তমান সম্পর্কেও জানেন। একারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা তাঁর সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না। তাই নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা একটি বিদআত, যা থেকে গোপনে বা প্রকাশ্যে নিষেধ করা হয়। যদিও কোনো কোনো আলিম বলেছেন যে এটি প্রকাশ্যে উচ্চারণ করা যাবে এবং কেউ কেউ বলেছেন গোপনে উচ্চারণ করা যাবে; তারা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যেন অন্তরের সাথে জিহ্বার মিল থাকে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
ياسبحان الله، أين رسول الله صلى الله عليه وسلم عن هذا؟ لوكان هذا من شرع الرسول صلى الله عليه وسلم لفعله هو وبيّنه للناس، يُذكر أن عاميّاً من أهل نجد كان في المسجد الحرام أراد أن يصلي صلاة الظهر وإلى جانبه رجل لايعرف إلاالجهر بالنيّة، ولما أقيمت صلاة الظهر قال الرجل الذي كان ينطق بالنية: اللهم إني نويت أن أصلي صلاة الظهر، أربع ركعات لله تعالى، خلف إمام المسجد الحرام، ولما أراد أن يكبّر قال له العامي: اصبر يارجل، بقي عليك التاريخ واليوم والشهر والسنة، فتعجّب الرجل.
وهنا مسألة: إذا قال قائل: قول المُلَبِّي: لبّيك اللهم عمرة، ولبيك حجّاً، ولبّيك اللهم عمرة وحجّاً، أليس هذا نطقاً بالنّية؟
فالجواب: لا، هذا من إظهار شعيرة النُّسك، ولهذا قال بعض العلماء: إن التلبية في النسك كتكبيرة الإحرام في الصلاة، فإذا لم تلبِّ لم ينعقد الإحرام، كما أنه لولم تكبر تكبيرة الإحرام للصلاة ما انعقدت صلاتك. ولهذا ليس من السنّة أن نقول ما قاله بعضهم: اللهم إني أريد نسك العمرة، أو أريد الحج فيسّره لي، لأن هذا ذكر يحتاج إلى دليل ولادليل. إذاً أنكر على من نطق بها، ولكن بهدوء بأن أقول له: يا أخي هذه ما قالها النبي صلى الله عليه وسلم ولا أصحابه، فدعْها.
فإذا قال: قالها فلانٌ في كتابهِ الفلاني؟ .
فقل له: القول ما قال الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم.
وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى هذه هي نيّة المعمول له، والناس يتفاوتون فيها تفاوتاً عظيماً، حيث تجد رجلين يصلّيان بينهما أبعد مما بين المشرق والمغرب أو مما بين السماء والأرض في الثواب، لأن أحدهما مخلص والثاني غير مخلص.
وتجد شخصين يطلبان العلم في التّوحيد، أو الفقه، أو التّفسير، أو الحديث، أحدهما بعيد من الجنّة والثاني قريب منها، وهما يقرآن في كتاب واحد وعلى مدرّسٍ واحد.
সুবহানাল্লাহ! এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোথায় ছিলেন? যদি এটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তিনি নিজেই তা করতেন এবং মানুষের নিকট তা স্পষ্ট করতেন। উল্লেখ করা হয় যে, নজদ অঞ্চলের এক সাধারণ মানুষ মসজিদুল হারামে ছিলেন। তিনি যোহরের সালাত আদায় করতে চাইলেন এবং তাঁর পাশে এমন এক ব্যক্তি ছিল যে উচ্চস্বরে নিয়ত উচ্চারণ করা ছাড়া আর কিছু জানত না। যখন যোহরের সালাতের ইকামত দেওয়া হলো, তখন সেই নিয়ত উচ্চারণকারী ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ! আমি মসজিদুল হারামের ইমামের পিছনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য চার রাকাত যোহরের সালাত আদায়ের নিয়ত করছি। যখন সে তাকবীর দিতে চাইল, তখন সেই সাধারণ মানুষটি তাকে বলল: হে লোক, সবুর করুন! আপনার তো তারিখ, দিন, মাস এবং বছর বলা বাকিই রয়ে গেল। এতে লোকটি আশ্চর্যান্বিত হলো।
এখানে একটি মাসআলা: যদি কেউ বলে: তালবিয়া পাঠকারীর বক্তব্য—'আমি উমরার জন্য উপস্থিত হে আল্লাহ', 'আমি হজ্জের জন্য উপস্থিত', 'আমি উমরা ও হজ্জের জন্য উপস্থিত হে আল্লাহ'—এটি কি নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা নয়?
উত্তর হলো: না, এটি হজ্জ-উমরার ইবাদতের নিদর্শনের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। একারণেই কোনো কোনো আলিম বলেছেন: হজ্জ-উমরায় তালবিয়া পাঠ করা সালাতের তাহরীমা তাকবীরের মতো। সুতরাং আপনি যদি তালবিয়া পাঠ না করেন তবে ইহরাম সংঘটিত হবে না, যেমনটি সালাতে তাহরীমা তাকবীর না বললে আপনার সালাত শুরু হয় না। আর একারণেই এটি সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয় যে আমরা তা বলব যা কেউ কেউ বলে থাকে: হে আল্লাহ! আমি উমরার ইবাদত করতে চাই, অথবা আমি হজ্জ করতে চাই, সুতরাং তা আমার জন্য সহজ করে দিন। কারণ এটি এমন এক যিকর যার জন্য দলীলের প্রয়োজন, অথচ এর কোনো দলীল নেই। অতএব, যে ব্যক্তি এটি মুখে উচ্চারণ করবে তাকে বাধা প্রদান করুন, তবে তা নম্রতার সাথে; তাকে বলুন: হে আমার ভাই, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেননি এবং তাঁর সাহাবীগণও বলেননি, সুতরাং এটি ছেড়ে দিন।
যদি সে বলে: অমুক ব্যক্তি তার অমুক কিতাবে এটি লিখেছেন?।
তবে তাকে বলুন: গ্রহণযোগ্য কথা হলো যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।
'আর নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পায় যা সে নিয়ত করে'—এটি হলো যার উদ্দেশ্যে আমল করা হয় তার নিয়ত। আর মানুষের মধ্যে এ ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়; আপনি দেখবেন দুইজন ব্যক্তি সালাত আদায় করছে অথচ সওয়াবের ক্ষেত্রে তাদের উভয়ের মাঝে ব্যবধান পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের চেয়েও বেশি অথবা আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী দূরত্বের চেয়েও বেশি। কারণ তাদের একজন একনিষ্ঠ এবং অন্যজন একনিষ্ঠ নয়।
আপনি এমন দুইজন ব্যক্তিকে পাবেন যারা তাওহীদ, ফিকহ, তাফসীর অথবা হাদীসের জ্ঞান অর্জন করছে; অথচ তাদের একজন জান্নাত থেকে অনেক দূরে এবং অন্যজন জান্নাতের খুব নিকটে। অথচ তারা একই কিতাব পড়ছে এবং একই শিক্ষকের নিকট পড়ছে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
فهذا رجل طلب دراسة الفقه من أجل أن يكون قاضياً والقاضي له راتبٌ رفيعٌ ومرتبة ٌرفيعة، والثاني درس الفقه من أجل أن يكون عالماً معلّماً لأمة محمدٍ صلى الله عليه وسلم، فبينهما فرق عظيم. قال النبي صلى الله عليه وسلم مَنْ طَلَبَ عِلْمَاً وَهُوَ مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللهِ لا يُرِيْدُ إِلاِّ أَنْ يَنَالَ عَرَضَاً مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يَرِحْ رَائِحَةَ الجَنَّةِ (1) ، أخلص النية لله عز وجل.
* ثم ضرب النبي صلى الله عليه وسلم مثلاً بالمهاجر فقال:
فَمَنْ كَانَتْ هِجرَتُهُ الهجرة في اللغة: مأخوذة من الهجر وهو التّرك.
وأما في الشرع فهي: الانتقال من بلد الكفر إلى بلد الإسلام.
وهنا مسألة: هل الهجرة واجبة أو سنة؟
والجواب: أن الهجرة واجبة على كل مؤمن لايستطيع إظهار دينه في بلد الكفر، فلايتم إسلامه إذا كان لايستطيع إظهاره إلا بالهجرة، وما لايتم الواجب إلا به فهوواجب. كهجرة المسلمين من مكّة إلى الحبشة، أو من مكّة إلى المدينة.
فمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ وَرَسُوْلِهِ فَهِجْرَتُهُ إلَى اللهِ وَرَسُولِهِ كرجل انتقل من مكة قبل الفتح إلى المدينة يريد الله ورسوله، أي: يريد ثواب الله، ويريد الوصول إلى الله كقوله تعالى: (وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ) (الأحزاب: الآية29) إذاً يريد الله: أي يريد وجه الله ونصرة دين الله، وهذه إرادة حسنة.
ويريد رسول الله: ليفوز بصحبته ويعمل بسنته ويدافع عنها ويدعو إليها والذبّ عنه، ونشر دينه، فهذا هجرته إلى الله ورسوله، والله تعالى يقول في الحديث القدسي مَنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ شِبْرَاً تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعَاً (2) فإذا أراد الله، فإن الله تعالى يكافئه على ذلك
--------------------------------------------
সুতরাং এই ব্যক্তি কাযী (বিচারক) হওয়ার উদ্দেশ্যে ফিকহ চর্চা করেছে, আর কাযীর বেতন অনেক উচ্চ এবং পদমর্যাদাও অত্যন্ত উচ্চ। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি ফিকহ অধ্যয়ন করেছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের জন্য একজন আলিম ও শিক্ষক হওয়ার উদ্দেশ্যে; সুতরাং উভয়ের মধ্যে এক বিশাল পার্থক্য রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন ইলম বা জ্ঞান অর্জন করল যার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয়, কিন্তু সে তা কেবল দুনিয়ার কোনো সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যেই অর্জন করেছে, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না" (১)। আপনি মহান আল্লাহর জন্য আপনার নিয়তকে খাঁটি করুন।
* অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজিরের (হিজরতকারী) একটি উদাহরণ পেশ করে বললেন:
অতঃপর যার হিজরত ছিল—আভিধানিক অর্থে হিজরত: 'হজর' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ পরিত্যাগ করা।
আর শরীয়তের পরিভাষায় হিজরত হলো: কুফরি ভূখণ্ড থেকে ইসলামি ভূখণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়া।
এখানে একটি মাসআলা রয়েছে: হিজরত কি ওয়াজিব (আবশ্যক) নাকি সুন্নাত?
উত্তর হলো: যে মুমিন কুফরি রাষ্ট্রে তার দীন প্রকাশ করতে সক্ষম নয়, তার জন্য হিজরত করা ওয়াজিব। কারণ যদি হিজরত ছাড়া সে তার দীন প্রকাশ করতে না পারে তবে তার ইসলাম পূর্ণ হয় না। আর যা ব্যতীত কোনো ওয়াজিব পূর্ণ হয় না, সেই মাধ্যমটিও ওয়াজিব। যেমন মুসলমানদের মক্কা থেকে হাবাশায় (আবিসিনিয়ায়) হিজরত অথবা মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত।
সুতরাং যার হিজরত ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে—যেমন কোনো ব্যক্তি মক্কা বিজয়ের পূর্বে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে চেয়ে, অর্থাৎ: সে আল্লাহর সওয়াব কামনা করে এবং আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে চায়; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে চাও" (সূরা আল-আহযাব: আয়াত ২৯)। সুতরাং আল্লাহকে চাওয়া অর্থ হলো: আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আল্লাহর দীনের বিজয় কামনা করা, আর এটি একটি উত্তম সংকল্প।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে চাওয়া: যাতে তাঁর সাহচর্য লাভে ধন্য হওয়া যায়, তাঁর সুন্নাত অনুযায়ী আমল করা যায়, তাঁর সুন্নাতকে রক্ষা করা যায়, সেই সুন্নাতের দিকে মানুষকে আহ্বান জানানো যায়, তাঁকে (নবীকে) প্রতিরক্ষা করা যায় এবং তাঁর দীনকে প্রচার করা যায়। সুতরাং এটিই হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত। আর আল্লাহ তাআলা হাদীসে কুদসীতে বলেন: "যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই" (২)। অতএব যখন সে আল্লাহকে পাওয়ার ইচ্ছা করবে, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে এর যথাযথ প্রতিদান দান করবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
بأعظم مما عمل.
* وهنا مسألة: بعد موت الرسول صلى الله عليه وسلم هل يمكن أن نهاجر إليه عليه الصلاة والسلام؟
والجواب: أما إلى شخصه فلا، ولذلك لايُهاجر إلى المدينة من أجل شخص الرسول صلى الله عليه وسلم، لأنه تحت الثرى، وأما الهجرة إلى سنّته وشرعه صلى الله عليه وسلم فهذا مما جاء الحث عليه وذلك مثل: الذهاب إلى بلدٍ لنصرة شريعة الرسول والذود عنها. فالهجرة إلى الله في كل وقت وحين، والهجرة إلى رسول الله لشخصه وشريعته حال حياته، وبعد مماته إلى شريعته فقط.
نظير هذا قوله تعالى: (فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرسول صلى الله عليه وسلم ِ) (النساء: الآية59) إلى الله دائماً، وإلى الرسول صلى الله عليه وسلم نفسه في حياته، وإلى سنّته بعد وفاته. فمن ذهب من بلدٍ إلى بلد ليتعلم الحديث، فهذا هجرته إلى الله ورسوله، ومن هاجر من بلد إلى بلد لامرأة يتزوّجها، بأن خطبها وقالت لاأتزوجك إلا إذا حضرت إلى بلدي فهجرته إلى ماهاجر إليه. فمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيْبُهَا بأن علم أن في البلد الفلاني تجارة رابحة فذهب إليها من أجل أن يربح، فهذا هجرته إلى دنيا يصيبها، وليس له إلا ما أراد. وإذا أراد الله عز وجل ألا يحصل على شيء لم يحصل على شيء.
قوله رحمه الله: (رواه إماما المحدّثين أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبه البخاري من بخارى وهو إمام المحدّثين ومسلم بن الحجّاج بن مسلم القشيري النيسابوري في صحيحيهما اللذين هما أصحّ الكتب المصنّفة أي صحيح البخاري وصحيح مسلم وهما أصحّ الكتب المصنّفة في علم الحديث، ولهذا قال بعض المحدّثين: إن ما اتفقا عليه لايفيد الظن فقط بل يفيد العلم.
وصحيح البخاري أصحّ من صحيح مسلم، لأن البخاري رحمه الله يشترط في الرواية أن يكون الراوي قد لقي من روى عنه، وأما مسلم- رحمه الله فيكتفي بمطلق
তার আমল বা কর্মের চেয়ে মহত্তর কিছুর মাধ্যমে।
* এখানে একটি মাসআলা বা প্রশ্ন হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মৃত্যুর পর কি তাঁর দিকে হিজরত করা সম্ভব?
উত্তর হলো: তাঁর ব্যক্তি সত্তার দিকে হিজরত করা সম্ভব নয়। আর এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ব্যক্তি সত্তার উদ্দেশ্যে মদিনায় হিজরত করা হবে না, কারণ তিনি এখন মাটির নিচে কবরে শায়িত। তবে তাঁর সুন্নাহ এবং শরীয়তের দিকে হিজরত করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। যেমন: রাসূলের শরীয়তকে সাহায্য করতে এবং তা রক্ষা করতে কোনো ভূখণ্ডের দিকে গমন করা। সুতরাং আল্লাহর দিকে হিজরত সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য। আর রাসূলুল্লাহর দিকে হিজরত তাঁর জীবদ্দশায় ছিল তাঁর ব্যক্তি সত্তা ও শরীয়ত উভয়ের দিকে, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তা কেবল তাঁর শরীয়তের দিকেই সীমাবদ্ধ।
এর সদৃশ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও) (সূরা আন-নিসা: আয়াত ৫৯)। আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন সর্বদা, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দিকে প্রত্যাবর্তন হলো তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর নিজের কাছে এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সুন্নাহর দিকে। অতএব, যে ব্যক্তি হাদীস শিক্ষার উদ্দেশ্যে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায়, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে। আর যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিবাহ করার জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে হিজরত করে—যেমন সে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল এবং নারীটি বলল যে তুমি আমার দেশে না আসা পর্যন্ত আমি তোমাকে বিয়ে করব না—তবে তার হিজরত হবে সেই উদ্দেশ্যেই যার জন্য সে হিজরত করেছে। সুতরাং যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য—যেমন সে জানতে পারল যে অমুক দেশে লাভজনক ব্যবসা রয়েছে এবং সে লাভের আশায় সেখানে গেল—তবে এটি পার্থিব সম্পদ অর্জনের হিজরত এবং সে যা ইচ্ছা করেছে তা ছাড়া তার জন্য আর কিছুই নেই। আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যদি চান যে সে কিছুই পাবে না, তবে সে কিছুই পাবে না।
তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্য: (মুহাদ্দিসগণের দুই ইমাম—বুখারার অধিবাসী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল ইবন ইবরাহিম ইবনুল মুগীরা ইবন বারদিজবাহ আল-বুখারী, যিনি মুহাদ্দিসগণের ইমাম, এবং মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবন মুসলিম আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী—তাঁদের নিজ নিজ 'সহীহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, যা সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ। অর্থাৎ সহীহ আল-বুখারী এবং সহীহ মুসলিম। হাদীসশাস্ত্রে সংকলিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এই দুটিই সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ। এই কারণেই কোনো কোনো মুহাদ্দিস বলেছেন: তাঁরা যে বিষয়ে একমত হয়েছেন, তা কেবল প্রবল ধারণা দেয় না, বরং তা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে।
আর সহীহ আল-বুখারী সহীহ মুসলিমের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ; কারণ বুখারী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনার ক্ষেত্রে শর্তারোপ করেছেন যে, বর্ণনাকারী যার থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর সাথে অবশ্যই সাক্ষাৎ হতে হবে। পক্ষান্তরে মুসলিম রহিমাহুল্লাহ কেবল সমসাময়িক হওয়া বা সাক্ষাতের সম্ভাবনাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المعاصرة مع إمكان اللقيّ وإن لم يثبت لقيه، وقد أنكر على من يشترط اللقاء في أول الصحيح إنكاراً عجيباً، فالصواب ما ذكره البخاري رحمه الله أنه لابد من ثبوت اللقي. لكن ذكر العلماء أن سياق مسلم رحمه الله أحسن من سياق البخاري، لأنه رحمه الله يذكر الحديث ثم يذكر شواهده وتوابعه في مكان واحد، والبخاري رحمه الله يفرِّق، ففي الصناعة صحيح مسلم أفضل، وأما في الرواية والصحة فصحيح البخاري أفضل.
تشاجر قومٌ في البخاري ومسلم
وقالوا: أيّ زين تقدّم
فقلت: لقد فاق البخاري صحة لديّ
كما فاق في حسن الصناعة مسلم
قال بعض أهل العلم: ولولا البخاري ما ذهب مسلم ولا راح، لأنه شيخه.
فالحديث إذاً صحيح يفيد العلم اليقيني، لكنه ليس يقينياً بالعقل وإنما هو يقيني بالنظر لثبوته عن النبي صلى الله عليه وسلم.
من فوائد هذا الحديث: . 1هذا الحديث أحد الأحاديث التي عليها مدار الإسلام، ولهذا قال العلماء: مدار الإسلام على حديثين: هما هذا الحديث، وحديث عائشة: مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلِيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدّ (1) فهذا الحديث عمدة أعمال القلوب، فهو ميزان الأعمال الباطنة، وحديث عائشة: عمدة أعمال الجوارح، مثاله:
رجل مخلص غاية الإخلاص، يريد ثواب الله عز وجل ودار كرامته، لكنه وقع في بدع كثيرة. فبالنظر إلى نيّته: نجد أنها نيّة حسنة. وبالنظر إلى عمله: نجد أنه عمل سيء مردود، لعدم موافقة الشريعة.
--------------------------------------------
সমসাময়িক হওয়া এবং সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকা, যদিও তার সাথে সাক্ষাৎ প্রমাণিত না হয়। আর তিনি তাঁর সহীহ গ্রন্থের শুরুতে যারা সাক্ষাতের শর্তারোপ করেন তাদের ওপর বিস্ময়করভাবে আপত্তি জানিয়েছেন। সুতরাং সঠিক মত হলো ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি যা উল্লেখ করেছেন যে, সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়া আবশ্যক। তবে ওলামায়ে কিরাম উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহির বিন্যাস ইমাম বুখারীর বিন্যাসের চেয়ে উত্তম। কেননা তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি হাদীসটি উল্লেখ করেন এবং এরপর তার শাহিদ ও তাওয়াবি বর্ণনাগুলো একই স্থানে উল্লেখ করেন, আর ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তা পৃথক করে উল্লেখ করেন। অতএব সংকলন শৈলীর দিক থেকে সহীহ মুসলিম শ্রেষ্ঠ, আর বর্ণনা ও বিশুদ্ধতার দিক থেকে সহীহ বুখারী শ্রেষ্ঠ।
একদল লোক বুখারী ও মুসলিমকে নিয়ে তর্কে লিপ্ত হলো
এবং তারা বলল: শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে কোনটি অগ্রগামী?
আমি বললাম: বিশুদ্ধতার দিক থেকে বুখারী আমার নিকট শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে
যেমন সংকলন শৈলীর সৌন্দর্যের দিক থেকে মুসলিম শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে
কতিপয় ইলম অন্বেষী আলিম বলেছেন: ইমাম বুখারী না থাকলে ইমাম মুসলিমের কোনো অস্তিত্বই থাকত না, কারণ তিনি ছিলেন তাঁর উস্তাদ।
সুতরাং এই হাদীসটি বিশুদ্ধ যা সুনিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। তবে এটি আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুনিশ্চিত নয়, বরং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হওয়ার দিক থেকে সুনিশ্চিত।
এই হাদীসের কিছু শিক্ষা: . ১ এই হাদীসটি সেই সব হাদীসগুলোর অন্যতম যার ওপর ইসলামের ভিত্তি। এই কারণেই ওলামায়ে কিরাম বলেছেন: ইসলামের ভিত্তি দুটি হাদীসের ওপর: তা হলো এই হাদীসটি এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণিত হাদীস: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের এই দ্বীনের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" (১) সুতরাং এই হাদীসটি অন্তরের আমলসমূহের মূল স্তম্ভ, যা অভ্যন্তরীণ কার্যাবলীর মাপকাঠি। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসটি হলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমলসমূহের মূল স্তম্ভ। উদাহরণস্বরূপ:
একজন ব্যক্তি যে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, সে মহান আল্লাহর নিকট থেকে প্রতিদান ও তাঁর জান্নাত কামনা করে, কিন্তু সে অনেক বিদআতে লিপ্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় তার নিয়তের দিকে দৃষ্টি দিলে আমরা দেখব যে এটি একটি উত্তম নিয়ত। কিন্তু তার আমলের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যাবে যে এটি একটি মন্দ ও প্রত্যাখ্যাত আমল, কারণ তা শরীয়তের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومثال آخر: رجلٌ قام يصلّي على أتمّ وجه، لكن يرائي والده خشية منه، فهذا فقد الإخلاص، فلا يُثاب على ذلك إلا إذا كان أراد أن يصلي خوفاً أن يضربه على ترك الصلاة فيكون متعبّداً لله تعالى بالصلاة.
. 2من فوائد الحديث: أنه يجب تمييز العبادات بعضها عن بعض، والعبادات عن المعاملات لقول النبي صلى الله عليه وسلم: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ ولنضرب مثلاً بالصلاة، رجل أراد أن يصلي الظهر، فيجب أن ينوي الظهر حتى تتميز عن غيرها. وإذا كان عليه ظُهْرَان، فيجب أن يميز ظهر أمس عن ظهر اليوم، لأن كل صلاة لها نية.
ولوخرج شخصٌ بعد زوال الشمس من بيته متطهراً ودخل المسجد وليس في قلبه أنها صلاة الظهر، ولاصلاة العصر، ولا صلاة العشاء، ولكن نوى بذلك فرض الوقت، فهل تجزئ أو لاتجزئ؟
الجواب: على القاعدة التي ذكرناها سابقاً: لاتجزئ؛ لأنه لم يعين الظهر، وهذا مذهب الحنابلة.
وقيل تجزئ: ولايشترط تعيين المعيّنة، فيكفي أن ينوي الصلاة وتتعين الصلاة بتعيين الوقت. وهذه رواية عن الإمام أحمد -رحمه الله تعالى- فإذا نوى فرض الوقت كفى، وهذا القول هو الصحيح الذي لايسع الناس العمل إلا به، لأنه أحياناً يأتي إنسان مع العجلة فيكبر ويدخل مع الإمام بدون أن يقع في ذهنه أنها صلاة الظهر، لكن قد وقع في ذهنه أنها هي فرض الوقت ولم يأتِ من بيته إلا لهذا، فعلى المذهب نقول: أعدها، وعلى القول الصحيح نقول: لاتعدها، وهذا يريح القلب، لأن هذا يقع كثيراً، حتى الإمام أحياناً يسهو ويكبر على أن هذا فرض الوقت، فهذا على المذهب لابد أن يعيد الصلاة، وعلى القول الرّاجح لايعيد.
. 3من فوائد الحديث: الحثّ على الإخلاص لله عز وجل، لأن النبي صلى الله عليه وسلم قسّم الناس إلى قسمين:
قسم: أراد بعمله وجه الله والدار الآخرة.
وقسم: بالعكس، وهذا يعني الحث على الإخلاص لله عز وجل.
আর একটি উদাহরণ: এক ব্যক্তি সর্বোত্তম পন্থায় সালাত আদায় করতে দাঁড়াল, কিন্তু সে তার পিতার ভয়ে তাকে দেখানোর জন্য এটি করছে; তাহলে সে ইখলাস বা আন্তরিকতা হারিয়েছে। ফলে এর জন্য সে সওয়াব পাবে না, তবে যদি সে সালাত ত্যাগের কারণে পিতার প্রহারের ভয়ে সালাত আদায় করতে চায়, তবে সে সালাতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদতকারী হিসেবে গণ্য হবে।
. ২. হাদীসের শিক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: ইবাদতসমূহকে একে অপরের থেকে এবং ইবাদতকে লৌকিক কার্যাবলি থেকে পৃথক করা ওয়াজিব। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" সালাতের উদাহরণ দেওয়া যাক, এক ব্যক্তি যোহরের সালাত আদায় করতে চাইল, তবে তাকে অবশ্যই যোহরের নিয়ত করতে হবে যাতে এটি অন্য সালাত থেকে পৃথক হয়। আর যদি তার ওপর দুটি যোহর কাজা থাকে, তবে তাকে অবশ্যই গতকালের যোহরকে আজকের যোহর থেকে পৃথক করতে হবে, কারণ প্রতিটি সালাতের জন্য পৃথক নিয়ত রয়েছে।
যদি কোনো ব্যক্তি সূর্য ঢলে পড়ার পর পবিত্রতা অর্জন করে বাড়ি থেকে বের হয় এবং মসজিদে প্রবেশ করে, অথচ তার অন্তরে এটি যে যোহরের সালাত, আসরের সালাত বা এশার সালাত—তার কোনোটিই নেই, বরং সে কেবল বর্তমান সময়ের ফরজের নিয়ত করেছে, তবে কি তা যথেষ্ট হবে নাকি হবে না?
উত্তর: পূর্বে উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী: এটি যথেষ্ট হবে না; কারণ সে যোহরকে নির্দিষ্ট করেনি। এটি হাম্বলী মাযহাবের অভিমত।
আবার বলা হয়েছে যে, এটি যথেষ্ট হবে। নির্দিষ্ট সালাতকে নির্দিষ্ট করা শর্ত নয়, বরং সালাতের নিয়ত করাই যথেষ্ট এবং ওয়াক্ত নির্দিষ্ট হওয়ার মাধ্যমেই সালাত নির্ধারিত হয়ে যায়। এটি ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি বর্ণনা। সুতরাং যদি সে ওয়াক্তের ফরজের নিয়ত করে তবে তা যথেষ্ট। আর এই মতটিই সঠিক যা আমল করা ব্যতীত মানুষের জন্য অন্য কোনো উপায় নেই। কারণ অনেক সময় মানুষ তাড়াহুড়ো করে আসে এবং তাকবীর বলে ইমামের সাথে সালাতে শরিক হয় অথচ তার মনে এটি যোহরের সালাত কি না তা উদিত হয় না। কিন্তু তার মনে এটি উদিত হয় যে এটি বর্তমান সময়ের ফরজ এবং সে কেবল এ জন্যই বাড়ি থেকে এসেছে। সুতরাং মাযহাব অনুযায়ী আমরা বলব: সালাতটি পুনরায় আদায় করো। আর সঠিক মত অনুযায়ী আমরা বলব: তা পুনরায় আদায় করতে হবে না। এটি অন্তরকে প্রশান্তি দেয়, কারণ এমনটি অহরহ ঘটে থাকে। এমনকি ইমামও কখনো কখনো ভুলবশত কেবল সময়ের ফরজের নিয়তে তাকবীর দেন। মাযহাব অনুযায়ী তাকে সালাতটি পুনরায় আদায় করতে হবে, কিন্তু বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী পুনরায় আদায় করতে হবে না।
. ৩. হাদীসের শিক্ষাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: মহান আল্লাহর প্রতি ইখলাস বা একনিষ্ঠতার উৎসাহ প্রদান করা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:
এক দল: যারা তাদের আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকাল কামনা করে।
আর অন্য দল: এর বিপরীত। আর এটি মহান আল্লাহর প্রতি ইখলাস বা একনিষ্ঠতার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
والإخلاص يجب العناية به والحث عليه، لأنه هو الركيزة الأولى الهامة التي خلق الناس من أجلها، قال تعالى: (وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ) (الذاريات: 56)
. 4ومن فوائد الحديث: حسن تعليم النبي صلى الله عليه وسلم وذلك بتنويع الكلام وتقسيم الكلام، لأنه قال: إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ وهذا للعمل وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى وهذا للمعمول له.
ثانيهما: تقسيم الهجرة إلى قسمين: شرعية وغير شرعية، وهذا من حسن التعليم، ولذلك ينبغي للمعلم أن لايسرد المسائل على الطالب سرداً لأن هذا يُنْسِي، بل يجعل أصولاً، وقواعد وتقييدات، لأن ذلك أقرب لثبوت العلم في قلبه، أما أن تسرد عليه المسائل فما أسرع أن ينساها..
5من فوائد الحديث: قرن الرسول صلى الله عليه وسلم مع الله تعالى بالواو حيث قال: إلى الله ورسوله ولم يقل: ثم رسوله، مع أن رجلاً قال للرسول صلى الله عليه وسلم: مَا شَاءَ اللهُ وَشِئْتَ، فَقَالَ: بَلْ مَاشَاءَ اللهُ وَحْدَه (1) فما الفرق؟
والجواب: أما ما يتعلّق بالشريعة فيعبر عنه بالواو، لأن ماصدر عن النبي صلى الله عليه وسلم من الشرع كالذي صدر من الله تعالى كما قال: (مَنْ يُطِعِ الرسول صلى الله عليه وسلم فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ) (النساء: الآية80)
وأما الأمور الكونية: فلا يجوز أن يُقرن مع الله أحدٌ بالواو أبداً، لأن كل شيئ تحت إرادة الله تعالى ومشيئته.
فإذا قال قائلٌ: هل ينزل المطر غداً؟
فقيل: الله ورسوله أعلم، فهذا خطأ، لأن الرسول صلى الله عليه وسلم ليس عنده علم بهذا.
مسألة: وإذا قال: هل هذا حرامٌ أم حلال؟
قيل في الجواب: الله ورسوله أعلم، فهذا صحيح، لأن حكم الرسول صلى الله عليه وسلم في الأمور
--------------------------------------------
ইখলাস বা একনিষ্ঠতার প্রতি যত্নবান হওয়া এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা আবশ্যক। কেননা এটিই হলো সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ভিত্তি যার জন্য মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: (আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি) (আদ-ধারিয়াত: ৫৬)
. ৪. হাদীসের অন্যতম শিক্ষা হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষাদানের উত্তম পদ্ধতি। আর তা হলো কথাকে বৈচিত্র্যময় করা এবং বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করা। কারণ তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" - এটি আমলের ক্ষেত্রে, এবং "প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে" - এটি যার জন্য আমল করা হয়েছে তার ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয়ত: হিজরতকে দুই ভাগে বিভক্ত করা—শরয়ী এবং অ-শরয়ী। এটিও উত্তম শিক্ষাদানের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই শিক্ষকের উচিত নয় ছাত্রের সামনে মাসআলাগুলো একনাগাড়ে বর্ণনা করে যাওয়া, কারণ এতে ছাত্র ভুলে যায়। বরং তার উচিত মূলনীতি, নিয়ম এবং সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করে দেওয়া। কারণ এটি তার হৃদয়ে ইলম বা জ্ঞান সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য অধিক সহায়ক। আর যদি আপনি তার সামনে মাসআলাগুলো শুধু একনাগাড়ে বর্ণনা করে যান, তবে সে কত দ্রুতই না তা ভুলে যাবে।
৫. হাদীসের আরেকটি শিক্ষা: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'ওয়াও' (এবং) অব্যয়ের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সাথে যুক্ত করা। যেহেতু তিনি বলেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে," তিনি "অতঃপর তাঁর রাসূলের দিকে" বলেননি। অথচ এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিল: "আল্লাহ যা চান এবং আপনি যা চান," তখন তিনি বলেছিলেন: "বরং কেবল আল্লাহ যা চান।" (১) তবে পার্থক্য কী?
উত্তর হলো: শরীয়ত সংক্রান্ত বিষয়ে 'ওয়াও' (এবং) দিয়ে প্রকাশ করা যায়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শরীয়তের যা কিছু প্রকাশ পেয়েছে, তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আসার মতোই। যেমনটি তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: (যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল) (আন-নিসা: ৮০)
আর জাগতিক বা সৃষ্টিগত বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে: 'ওয়াও' (এবং) দিয়ে আল্লাহর সাথে কাউকে যুক্ত করা কক্ষনোই জায়েজ নয়। কারণ প্রতিটি জিনিস আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও মশিয়াতের অধীন।
সুতরাং যদি কেউ বলে: "আগামীকাল কি বৃষ্টি হবে?"
আর উত্তরে বলা হয়: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন," তবে এটি ভুল। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ বিষয়ে জ্ঞান নেই।
মাসআলা: আর যদি কেউ বলে: "এটি কি হারাম নাকি হালাল?"
উত্তরে বলা হয়: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন," তবে এটি সঠিক। কারণ বিষয়াবলীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিধান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الشرعية حكم الله تعالى كما قال عز وجل: (مَنْ يُطِعِ الرسول صلى الله عليه وسلم فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ) (النساء: الآية80)
مسألة: أيهما أفضل العلم أم الجهاد في سبيل الله؟
والجواب: العلم من حيث هو علم أفضل من الجهاد في سبيل الله، لأن الناس كلهم محتاجون إلى العلم، وقد قال الإمام أحمد: العلم لايعدله شيئ لمن صحّت نيّته. ولايمكن أبداً أن يكون الجهاد فرض عين لقول الله تعالى: (وَمَا كَانَ الْمُؤْمِنُونَ لِيَنْفِرُوا كَافَّةً) (التوبة: 122)
فلوكان فرض عين لوجب على جميع المسلمين: (فَلَوْلا نَفَرَ مِنْ كُلِّ فِرْقَةٍ مِنْهُمْ طَائِفَةٌ) (التوبة: 122) أي وقعدت طائفة: (لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ وَلِيُنْذِرُوا قَوْمَهُمْ إِذَا رَجَعُوا إِلَيْهِمْ لَعَلَّهُمْ يَحْذَرُونَ) (التوبة: 122) ولكن باختلاف الفاعل واختلاف الزمن، فقد نقول لشخص: الأفضل في حقّك الجهاد، والآخر الأفضل في حقك العلم، فإذا كان شجاعاً قوياً نشيطاً وليس بذاك الذكي فالأفضل له الجهاد؛ لأنه أليَق به، وإذا كان ذكيّاً حافظاً قوي الحجة فالأفضل له العلم وهذا باعتبار الفاعل. أما باعتبار الزمن فإننا إذا كنّا في زمن كثر فيه العلماء واحتاجت الثغور إلى مرابطين فالأفضل الجهاد، وإن كنّا في زمن تفشّى فيه الجهل وبدأت البدع تظهر في المجتمع وتنتشر فالعلم أفضل، وهناك ثلاثة أمور تحتّم على طلب العلم:
. 1بدع بدأت تظهر شرورها.
. 2الإفتاء بغير علم.
. 3جدل كثير في مسائل بغير علم.
وإذا لم يكن مرجّحاً فالأفضل العلم
. 6ومن فوائد الحديث: أن الهجرة هي من الأعمال الصالحة لأنها يقصد بها الله ورسوله، وكل عمل يقصد به الله ورسوله فإنه من الأعمال الصالحة لأنك قصدت التقرّب إلى الله والتقرب إلى الله هو العبادة.
مسألة: هل الهجرة واجبة أم مستحبة؟
শরীয়তের বিধান হলো মহান আল্লাহর বিধান, যেমনটি তিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত বলেছেন: (যে ব্যক্তি রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল) (আন-নিসা: আয়াত ৮০)
মাসআলা: ইলম (জ্ঞান) এবং আল্লাহর পথে জিহাদের মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ?
উত্তর: ইলম তার স্বকীয় সত্তার দিক থেকে আল্লাহর পথে জিহাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ সকল মানুষ ইলমের মুখাপেক্ষী। ইমাম আহমাদ বলেছেন: যার নিয়ত বিশুদ্ধ হয়েছে তার জন্য ইলমের সমতুল্য আর কিছু নেই। আর জিহাদ কখনোই ফরজে আইন হতে পারে না, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: (আর মুমিনদের সকলের একসাথে বের হওয়া সংগত নয়) (আত-তাওবাহ: ১২২)
যদি এটি ফরজে আইন হতো, তবে সকল মুসলিমের ওপর তা আবশ্যক হতো: (অতএব তাদের প্রত্যেক দলের একটি অংশ কেন বের হলো না?) (আত-তাওবাহ: ১২২) অর্থাৎ এবং একদল বসে থাকল: (যাতে তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং তাদের স্বজাতির কাছে যখন ফিরে আসবে তখন তাদের সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে) (আত-তাওবাহ: ১২২) তবে ব্যক্তি ও সময়ের ভিন্নতার নিরিখে (বিধান ভিন্ন হতে পারে)। আমরা হয়তো একজনকে বলব: আপনার ক্ষেত্রে জিহাদই শ্রেষ্ঠ, আর অন্যজনকে বলব: আপনার ক্ষেত্রে ইলম শ্রেষ্ঠ। যদি কেউ সাহসী, শক্তিশালী ও উদ্যমী হয় কিন্তু তেমন মেধাবী না হয়, তবে তার জন্য জিহাদই শ্রেষ্ঠ; কারণ তা তার জন্য অধিক উপযোগী। আর যদি সে মেধাবী, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী এবং শক্তিশালী দলীল উপস্থাপনকারী হয়, তবে তার জন্য ইলম অর্জনই শ্রেষ্ঠ; এটি ব্যক্তির বিবেচনার ভিত্তিতে। তবে সময়ের বিবেচনার বিষয়টি হলো, আমরা যদি এমন যুগে বাস করি যেখানে আলেমদের সংখ্যা অনেক এবং সীমান্ত এলাকাগুলোতে প্রহরীদের প্রয়োজন বেশি, তবে জিহাদই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু আমরা যদি এমন সময়ে থাকি যেখানে অজ্ঞতা ছেয়ে গেছে এবং সমাজে বিদআত আত্মপ্রকাশ ও বিস্তার লাভ করতে শুরু করেছে, তবে ইলম শ্রেষ্ঠ। তিনটি বিষয় রয়েছে যা ইলম অর্জন করাকে অপরিহার্য করে তোলে:
. ১ এমন বিদআত যার অনিষ্টসমূহ প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
. ২ ইলম ব্যতীত ফতোয়া প্রদান।
. ৩ জ্ঞানহীনভাবে বিভিন্ন মাসআলায় অত্যধিক বিতর্ক।
আর যদি অন্য কোনো অগ্রাধিকারমূলক কারণ না থাকে, তবে ইলমই শ্রেষ্ঠ
. ৬ এই হাদিসের শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটি হলো: হিজরত সৎ আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কারণ এর মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করা হয়। আর প্রতিটি আমল যার দ্বারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ্য করা হয়, তা সৎ আমলের অন্তর্ভুক্ত; কারণ আপনি আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করেছেন, আর আল্লাহর নৈকট্য লাভই হলো ইবাদত।
মাসআলা: হিজরত কি ওয়াজিব নাকি মুস্তাহাব?
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الجواب: فيه تفصيل، إذا كان الإنسان يستطيع أن يظهر دينه وأن يعلنه ولايجد من يمنعه في ذلك، فالهجرة هنا مستحبة. وإن كان لايستطيع فالهجرة واجبة وهذا هو الضابط للمستحبّ والواجب. وهذا يكون في البلاد الكافرة، أما في البلاد الفاسقة -وهي التي تعلن الفسق وتظهره- فإنا نقول: إن خاف الإنسان على نفسه من أن ينزلق فيما انزلق فيه أهل البلد فهنا الهجرة واجبة، وإن لا، فتكون غير واجبة. بل نقول إن كان في بقائه إصلاح، فبقاؤه واجب لحاجة البلد إليه في الإصلاح والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر. والغريب أن بعضهم يهاجر من بلد الإسلام إلى بلد الكفر لأنه إذا هاجر أهل الإصلاح من هذا البلد، من الذي يبقى لأهل الفساد، وربما تنحدر البلاد أكثر بسبب قلة أهل الإصلاح وكثرة أهل الفساد والفسق.
لكن إذا بقي ودعا إلى الله بحسب الحال فسوف يصلح غيره، وغيره، يصلح غيره حتى يكون هؤلاء على أيديهم صلاح البلد، وإذا صلح عامة الناس فإن الغالب أن من بيده الحكم سيصلح، ولو عن طريق الضغط، ولكن الذي يفسد هذا - للأسف - الصالحون أنفسهم، فتجد هؤلاء الصالحين يتحزبون ويتفرقون وتختلف كلمتهم من أجل الخلاف في مسألة من مسائل الدين التي يغتفر فيها الخلاف، هذا هو الواقع، لاسيما في البلاد التي لم يثبت فيها الإسلام تماماً، فربما يتعادون ويتباغضون ويتناحرون من أجل مسألة رفع اليدين في الصلاة، وأقرأ عليكم قصة وقعت لي شخصياً في منى، في يوم من الأيام أتى لي مدير التوعية بطائفتين من إفريقيا تكفّر إحداهما الأخرى، على ماذا؟؟ قال: إحداهما تقول: السنة في القيام أن يضع المصلي يديه على صدره، والأخرى تقول السنة أن يُطلق اليدين، وهذه المسألة فرعية سهلة ليست من الأصول والفروع، قالوا: لا، النبي صلى الله عليه وسلم يقول مَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِيْ فَلَيْسَ مِنِّيْ (1) وهذا كفر تبرّأ منه الرسول صلى الله عليه وسلم فبناء على هذا الفهم الفاسد كفّرت إحداهما الأخرى.
فالمهم: أن بعض أهل الإصلاح في البلاد التي ليست مما قوي فيها الإسلام يبدع ويفسق بعضهم بعضاً، ولو أنهم اتفقوا وإذا اختلفوا اتسعت صدورهم في الخلاف الذي يسوغ فيه الخلاف وكانوا يداً واحدة، لصلحت الأمة، ولكن إذا رأت الأمة أن
--------------------------------------------
উত্তর: এতে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে; যদি কোনো ব্যক্তি তার দ্বীন প্রকাশ ও প্রচার করতে সক্ষম হয় এবং তাকে বাধা দেওয়ার মতো কাউকে না পায়, তবে তার জন্য হিজরত করা মুস্তাহাব। আর যদি সে সক্ষম না হয়, তবে হিজরত করা ওয়াজিব; আর এটিই হলো মুস্তাহাব ও ওয়াজিবের মানদণ্ড। এটি কাফির দেশসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে পাপাচারী (ফাসিক) দেশসমূহের ক্ষেত্রে—অর্থাৎ যেখানে পাপাচার প্রকাশ্যে করা হয়—আমরা বলি: যদি মানুষ নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা করে যে সেও সেই পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়বে যাতে সেই দেশের মানুষ লিপ্ত হয়েছে, তবে এখানে হিজরত ওয়াজিব। আর যদি তেমন আশঙ্কা না থাকে, তবে হিজরত ওয়াজিব হবে না। বরং আমরা বলি, যদি সেখানে তার অবস্থান সংশোধনের কারণ হয়, তবে তার অবস্থান করা ওয়াজিব; কারণ সংশোধনের কাজে এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের জন্য দেশ তার মুখাপেক্ষী। আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, কেউ কেউ ইসলামের দেশ থেকে কুফরি দেশে হিজরত করে। অথচ যদি এই দেশ থেকে সংশোধনকামী ব্যক্তিরা হিজরত করে চলে যায়, তবে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের জন্য কে অবশিষ্ট থাকবে? আর সম্ভবত সংশোধনকামী মানুষের স্বল্পতা এবং ফাসাদ ও ফাসিকিতে লিপ্ত মানুষের আধিক্যের কারণে দেশটি আরও বেশি অবনতির দিকে ধাবিত হবে।
কিন্তু যদি সে সেখানে অবস্থান করে এবং অবস্থা অনুযায়ী আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, তবে সে অন্যদের সংশোধন করবে, আর সেই ব্যক্তি আবার অন্যকে সংশোধন করবে, যতক্ষণ না তাদের মাধ্যমে দেশের সংশোধন সম্পন্ন হয়। আর যদি সাধারণ মানুষ সংশোধিত হয়ে যায়, তবে প্রবল ধারণা এই যে, যার হাতে শাসনক্ষমতা রয়েছে সেও সংশোধিত হবে, এমনকি তা চাপের মুখে হলেও। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, নেককার লোকেরাই এটি নষ্ট করে ফেলে। আপনি দেখবেন এই নেককার লোকেরা দলাদলি ও বিভেদ সৃষ্টি করে এবং দ্বীনের এমন সব বিষয়ে মতবিরোধের কারণে তাদের ঐক্য নষ্ট করে ফেলে যেসব ক্ষেত্রে মতবিরোধ ক্ষমাযোগ্য। এটিই বাস্তবতা, বিশেষ করে সেই সব দেশে যেখানে ইসলাম পূর্ণরূপে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারা হয়তো সালাতে হাত তোলার (রাফউল ইয়াদাইন) মতো একটি মাসআলার কারণে একে অপরের সাথে শত্রুতা, ঘৃণা ও বিবাদে লিপ্ত হয়। আমি আপনাদের কাছে একটি গল্প বলি যা ব্যক্তিগতভাবে মিনা’তে আমার সাথে ঘটেছিল: একদিন দাওয়াহ ও সচেতনতা বিষয়ক পরিচালক আফ্রিকার দুটি দল নিয়ে আমার কাছে এলেন, যারা একে অপরকে কাফির বলছিল। কিসের ওপর ভিত্তি করে? তিনি বললেন: এক দল বলছে, সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত বুকের ওপর রাখা সুন্নাত, আর অন্য দল বলছে হাত ছেড়ে রাখা সুন্নাত। অথচ এটি একটি সহজ গৌণ মাসআলা, যা মূলনীতি বা গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা বলল: না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে বিমুখ হবে, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয় (১)।" আর এটি এমন কুফরি যেখান থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দায়মুক্তি ঘোষণা করেছেন। ফলে এই ভ্রান্ত বুঝের ওপর ভিত্তি করে এক দল অন্য দলকে কাফির সাব্যস্ত করল।
সারকথা হলো: যেসব দেশে ইসলাম শক্তিশালী নয়, সেখানে সংশোধনকামী একদল অন্য দলকে বিদআতি বা ফাসিক সাব্যস্ত করে। অথচ তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হতো এবং মতবিরোধের ক্ষেত্রে—যেখানে মতবিরোধের অবকাশ রয়েছে—উদারতা প্রদর্শন করত এবং একতাবদ্ধ থাকত, তবে উম্মাহর সংশোধন হতো। কিন্তু উম্মাহ যখন দেখে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أهل الصلاح والاستقامة بينهم هذا الحقد والخلاف في مسائل الدين، فستضرب صفحاً عنهم وعما عندهم من خير وهدى، بل يمكن أن يحدث ركوس ونكوس وهذا ماحدث والعياذ بالله، فترى الشاب يدخل في الاستقامة على أن الدين خير وهدى وانشراح صدر وقلب مطمئن ثم يرى مايرى من المستقيمين من خلاف حاد وشحناء وبغضاء فيترك الاستقامة لأنه ماوجد ماطلبه، والحاصل أن الهجرة من بلاد الكفر ليست كالهجرة من بلاد الفسق، فيقال للإنسان: اصبر واحتسب ولاسيما إن كنت مصلحاً، بل قد يقال: إن الهجرة في حقك حرام.
নেককার ও দ্বীনের পথে অবিচল ব্যক্তিবর্গের মাঝে দ্বীনি বিষয়ে যখন এই বিদ্বেষ ও মতবিরোধ দেখা দেয়, তখন আপনি তাদের থেকে এবং তাদের নিকট বিদ্যমান কল্যাণ ও হিদায়াত থেকে বিমুখ হয়ে পড়বেন। বরং এর ফলে দ্বীন থেকে বিচ্যুতি ও পশ্চাদপসরণ ঘটাও সম্ভব, আর আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই—বাস্তবে এমনটিই ঘটেছে। আপনি দেখবেন একজন যুবক এই বিশ্বাস নিয়ে দ্বীনের পথে অবিচল হতে আসে যে, দ্বীন হলো কল্যাণ, হিদায়াত, চিত্তের প্রশস্ততা ও প্রশান্ত হৃদয়ের উৎস। অতঃপর সে যখন দ্বীনদারদের মাঝে তীব্র মতবিরোধ, রেষারেষি ও বিদ্বেষ দেখতে পায়, তখন সে দ্বীনের পথ ত্যাগ করে; কারণ সে যা অনুসন্ধান করেছিল তা পায়নি। সারকথা হলো, কুফরি রাষ্ট্র থেকে হিজরত করা আর ফাসেক (পাপাচারী) রাষ্ট্র থেকে হিজরত করা এক নয়। এমতাবস্থায় ব্যক্তিকে বলা হয়: আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং সওয়াবের আশা রাখুন, বিশেষ করে আপনি যদি একজন সংস্কারক হন। এমনকি এমনও বলা হতে পারে যে, আপনার ক্ষেত্রে হিজরত করা হারাম।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحديث الثانيعَنْ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ أَيضاً قَال: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوْسٌ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيْدُ بَيَاضِ الثِّيَاب شَدِيْدُ سَوَادِ الشَّعْرِ لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النبي صلى الله عليه وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلَام، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: (الإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدَاً رَسُولُ الله، وَتُقِيْمَ الصَّلَاة، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَصُوْمَ رَمَضَانَ، وَتَحُجَّ البيْتَ إِنِ اِسْتَطَعتَ إِليْهِ سَبِيْلاً قَالَ: صَدَقْتَ.
فَعَجِبْنَا لَهُ يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقُهُ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِيْ عَنِ الإِيْمَانِ، قَالَ: أَنْ تُؤْمِنَ بِالله، وَمَلائِكَتِه، وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الآَخِر، وَتُؤْمِنَ بِالقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِيْ عَنِ الإِحْسَانِ، قَالَ: أَنْ تَعْبُدَ اللهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ، قَالَ: مَا الْمَسئُوُلُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ قَالَ: فَأَخْبِرْنِيْ عَنْ أَمَارَاتِها، قَالَ: أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا، وَأَنْ تَرى الْحُفَاةَ العُرَاةَ العَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُوْنَ فِي البُنْيَانِ ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثَ مَلِيَّاً ثُمَّ قَالَ: يَا عُمَرُ أتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟ قُلْتُ: اللهُ وَرَسُوله أَعْلَمُ، قَالَ: فَإِنَّهُ جِبْرِيْلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِيْنَكُمْ) (1)
الشرح قوله: بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ بينما هي (بينا) ولكن زيدت (ما) فيها والأصل: بين
--------------------------------------------
দ্বিতীয় হাদিসওমর রাযিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে আরও বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: একদিন আমরা যখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় আমাদের সামনে এমন একজন লোক উপস্থিত হলেন যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা এবং চুল ছিল কুচকুচে কালো। তার মাঝে সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাকে চিনতও না। শেষ পর্যন্ত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট বসলেন এবং তাঁর নিজের দুই হাঁটু নবীজির দুই হাঁটুর সাথে মিলিয়ে দিলেন এবং নিজের দুই হাতের তালু তাঁর উরুর ওপর রাখলেন। তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে বলুন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ইসলাম হলো তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ পালন করবে। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন।
আমরা তাঁর বিষয়ে বিস্মিত হলাম যে, তিনি নিজেই প্রশ্ন করছেন আবার নিজেই তা সত্যায়ন করছেন। তিনি বললেন: তবে আমাকে ইমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলদের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো-মন্দের প্রতি। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। তিনি বললেন: তবে আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে যেন তুমি তাঁকে দেখছ; আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন। তিনি বললেন: আমাকে কিয়ামত সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে অধিক কিছু জানেন না। তিনি বললেন: তবে আমাকে এর আলামতগুলো সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: দাসী যখন তার মালিককে প্রসব করবে এবং যখন দেখবে যে নগ্নপদ, বস্ত্রহীন, নিঃস্ব মেষপালকরা সুউচ্চ অট্টালিকা তৈরিতে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করছে। এরপর তিনি চলে গেলেন এবং আমি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলাম। তখন তিনি বললেন: হে ওমর! তুমি কি জানো প্রশ্নকারী কে ছিলেন? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: ইনি ছিলেন জিবরাইল, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন। (১)
ব্যাখ্যা তাঁর বাণী: "আমরা যখন বসা ছিলাম"—এখানে 'বাইনামা' শব্দটি মূলত 'বাইনা', তবে এর সাথে 'মা' অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে এবং এর মূল হলো 'বাইন'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
نحن، فـ: (ما) زيدت للتوكيد.
و: جُلُوسٌ مبتدأ، وخبره: عِنْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
و: ذَاتَ يَوْمٍ ذات هنا تفيد النكرة، أي في يوم من الأيام.
وتستعمل في اللغة على وجوه متعددة، فتارة تكون بمعنى:
. 1صاحبة: مثل ذات النطاقين أي صاحبة النطاقين.
. 2وتارة تكون اسماً موصولاً: كما في لغة طي، وهم قوم من العرب يستعملون: ذات بمعنى التي، كما قال ابن مالك رحمه الله: (وكالتي أيضاً لديهم ذات) فمثلاً يقول: بعت عليك بيتي ذات اشتريت، أي التي اشتريت..
3وتارة تكون بمعنى النكرة الدالة على العموم: كما في جملة الحديث ذات يوم.. وهذا أغلب ما تستعمل.
إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ الرجل هنا مبهم، وهو رجل في شكله لكن حقيقته أنه مَلَك.
شَدِيْدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ أي عليه ثياب.
شَدِيْدُ سَوَادِ الشَّعْرِ أي أنه شاب.
لايُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ لأن ثيابه بيضاء وشعره أسود ليس فيه غبار ولاشعث السفر، ولهذا قال: لايُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ لأن المسافر في ذلك الوقت يُرى عليه أثر السفر، فيكون أشعث الرأس، مغبرّاً، ثيابه غير ثياب الحضر، لكن لايرى عليه أثر السفر.
وَلايَعْرِفْهُ مِنَّا أَحَدٌ أي وليس من أهل المدينة المعروفين، فهوغريب.
حَتَّى جَلَسَ إِلىَ النبي صلى الله عليه وسلم ولم يقل عنده ليفيد الغاية، أي أن جلوسه كان ملاصقاً للنبي صلى الله عليه وسلم.
ولهذا قال: أَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلىَ رُكْبَتَيْهِ، وَوَضَعَ كَفَّيْهِ أي كفي هذا الرجل عَلَىَ
আমরা, এখানে: (মা) তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
এবং: ‘বসা’ (জুলুসুন) শব্দটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য), আর এর খবর (বিধেয়) হলো: ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট’।
এবং: ‘কোনো একদিন’ (দাতা ইয়াওমিন)—এখানে ‘দাতা’ শব্দটি অনির্দিষ্টতা বুঝাচ্ছে, অর্থাৎ দিনগুলোর মধ্য থেকে কোনো এক দিনে।
এটি ভাষায় বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়; কখনো তা এই অর্থে আসে:
১. অধিকারিণী: যেমন ‘জাতুন নিতাকাইন’ অর্থাৎ দুই কোমরবন্ধের অধিকারিণী।
২. কখনো এটি ইসমে মাওসুল (সংযোজক সর্বনাম) হিসেবে ব্যবহৃত হয়: যেমন তায় গোত্রের ভাষায়। তারা আরবদের এমন একটি কওম যারা ‘জাত’ শব্দটিকে ‘আল্লাতি’ (যা/যিনি) অর্থে ব্যবহার করে; যেমন ইবনে মালিক রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: (তাদের নিকট ‘জাত’ শব্দটিও ‘আল্লাতি’ এর মতো)। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: ‘আমি আপনার কাছে আমার সেই ঘরটি বিক্রি করেছি যা আমি কিনেছিলাম’, অর্থাৎ যা আমি কিনেছিলাম।
৩. কখনো এটি ব্যাপকতা নির্দেশক অনির্দিষ্ট (নাকেরা) অর্থে ব্যবহৃত হয়: যেমন হাদিসের বাক্য ‘কোনো একদিন’ (দাতা ইয়াওমিন)-এ এসেছে। আর এটিই এর ব্যবহারের অধিকাংশ ক্ষেত্র।
হঠাৎ আমাদের সামনে এক ব্যক্তি উপস্থিত হলেন—এখানে ব্যক্তিটি অস্পষ্ট, তিনি আকৃতিতে মানুষ হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন ফেরেশতা।
ধবধবে সাদা পোশাক পরিহিত—অর্থাৎ তার পরনে কাপড় ছিল।
কুচকুচে কালো চুল বিশিষ্ট—অর্থাৎ তিনি একজন যুবক।
তার ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না—কারণ তার পোশাক ছিল সাদা এবং চুল ছিল কালো, যাতে সফরের কোনো ধুলোবালি বা উস্কোখুস্কো ভাব ছিল না। এই কারণেই তিনি বলেছেন: ‘তার ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না’। কেননা সেই সময়ে মুসাফিরের ওপর সফরের চিহ্ন পরিলক্ষিত হতো; তার মাথার চুল উস্কোখুস্কো থাকতো, সে ধুলোবালিময় থাকতো এবং তার পোশাক লোকালয়ের পোশাকের মতো হতো না। কিন্তু তার ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না।
আমাদের মধ্যে কেউ তাকে চিনত না—অর্থাৎ তিনি মদিনার পরিচিত অধিবাসীদের কেউ ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন অপরিচিত ব্যক্তি।
অবশেষে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বসলেন—এখানে ‘নিকটে’ (ইনদা) না বলে ‘ঘেঁষে/পর্যন্ত’ (ইলা) বলা হয়েছে প্রান্তসীমা বুঝানোর জন্য; অর্থাৎ তার বসাটা ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একেবারে সংলগ্ন অবস্থায়।
এই কারণেই তিনি বলেছেন: তিনি তার দুই হাঁটু নবীজীর দুই হাঁটুর সাথে ঠেকিয়ে দিলেন এবং তার দুই হাত অর্থাৎ এই লোকটির দুই হাত রাখলেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
فَخِذَيْهِ أي فخذي هذا الرجل، وليس على فخذي النبي صلى الله عليه وسلم، وهذا من شدة الاحترام.
وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ ولم يقل: يا رسول الله ليوهم أنه أعرابي، لأن الأعراب ينادون النبي صلى الله عليه وسلم باسمه العلم، وأما أهل الحضر فينادونه بوصف النبوة أو الرسالة عليه الصلاة والسلام.
أَخْبِرْنيِ عَنِ الإِسْلامِ أي ماهو الإسلام؟ أخبرني عنه.
فَقَالَ: الإسْلامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لا إِلَهَ إِلَاّ الله وَأَنَّ مُحَمَّدَاً رَسُولُ اللهِ تشهد أي تقرّ وتعترف بلسانك وقلبك، فلا يكفي اللسان، بل لابد من اللسان والقلب، قال الله عز وجل: (إِلَاّ مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ) (الزخرف: الآية86)
وإعراب لَا إِلَهَ إَلَاّ اللهُ:
لا إله إلا الله: هذه جملة اسمية منفية بـ (لا) التي لنفي الجنس، ونفي الجنس أعم النفي، واسمها: (إله) وخبرها: محذوف والتقدير حقٌ، وقوله: (إلا) أداة حصر، والاسم الكريم لفظ الجلالة بدل من خبر: (لا) المحذوف وليس خبرها لأن: (لا) النافية للجنس لا تعمل إلافي النكرات.
فصارت الجملة فيها شيء محذوف وهو الخبر وتقديره: حق، أي: لا إله حق إلا الله عز وجل، وهناك آلهة لكنها آلهة باطلة ليست آلهة حقّة، وليس لها من حق الألوهية شيء، ويدل لذلك قوله تعالى: (ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ) (الحج: 62)
وَأَنَّ مُحَمَّدَاً رَسُولُ اللهِ أي وتشهد أن محمداً رسول الله، ولم يقل: إني رسول الله مع أن السياق يقتضيه لأنه يخاطبه، لكن إظهاره باسمه العلم أوكد وأشد تعظيماً. وقوله: مُحَمَّداً هو محمد بن عبد الله الهاشمي القرشي من ذرية إسماعيل، وليس من ذرية إسماعيل رسول سواه، وهو المعني بقول الله تعالى عن إبراهيم وإسماعيل: (رَبَّنَا
তার উরুদ্বয় অর্থাৎ এই লোকটির উরুদ্বয়, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উরুদ্বয়ের ওপর নয়, আর এটি ছিল অত্যন্ত আদব বা সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
এবং তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ। তিনি 'হে আল্লাহর রাসূল' বলেননি যাতে ধারণা হয় যে তিনি একজন মরুবাসী আরব (বেদুইন), কারণ মরুবাসীরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর মূল নামে ডাকতেন, আর শহরবাসীরা তাঁকে নবুওয়াত বা রিসালাতের গুণবাচক নামে ডাকতেন (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)।
আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন অর্থাৎ ইসলাম কী? আমাকে সে সম্পর্কে জানান।
অতঃপর তিনি বললেন: ইসলাম হলো আপনি এই সাক্ষ্য দেবেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। সাক্ষ্য দেবেন অর্থাৎ আপনি আপনার জিহ্বা এবং অন্তরের মাধ্যমে স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তি দেবেন। কেবল জিহ্বা যথেষ্ট নয়, বরং জিহ্বা এবং অন্তর উভয়টিই আবশ্যক। মহান আল্লাহ বলেন: (তবে তারা ছাড়া যারা সত্যের সাক্ষ্য দেয় এবং তারা জানে) (সূরা আয-জুখরুফ: আয়াত ৮৬)।
এবং 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (ই'রাব):
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: এটি একটি জুমলা ইসমিয়া (বিশেষ্যমূলক বাক্য) যা 'লা' (না-বাচক অব্যয়) দ্বারা নেতিবাচক করা হয়েছে যা মূলত 'নাফিয়ে জিনস' (পুরো জাতি বা শ্রেণীকে অস্বীকারকারী)। আর 'নাফিয়ে জিনস' হলো সবচেয়ে ব্যাপক নেতিবাচকতা। এর 'ইসিম' (বিশেষ্য) হলো: 'ইলাহ' এবং এর 'খবর' (বিধেয়) উহ্য রয়েছে যার মূল রূপ হলো 'হাক্কুন' (সত্য)। আর 'ইল্লা' শব্দটি হলো সীমাবদ্ধকরণ বা বর্জনবাচক অব্যয় (আদাতুল হাসর)। আর সম্মানিত নাম 'আল্লাহ' (লফযুল জালালাহ) হলো 'লা'-এর উহ্য খবরের বদল (বিকল্প), এটি তার খবর নয়, কারণ 'লা নাফিয়ে জিনস' কেবল অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকীরাহ) ক্ষেত্রেই আমল বা কাজ করে থাকে।
ফলে বাক্যটিতে একটি বিষয় উহ্য থাকল আর তা হলো 'খবর', যার মূল রূপ হলো: 'হাক্ক' (সত্য)। অর্থাৎ: মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। সেখানে অনেক ইলাহ (উপাস্য) রয়েছে কিন্তু সেগুলো বাতিল ইলাহ, সেগুলো সত্য ইলাহ নয় এবং তাদের মধ্যে উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার কোনো অধিকার নেই। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: (তা একারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল) (সূরা আল-হজ্জ: ৬২)।
এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল অর্থাৎ আপনি সাক্ষ্য দেবেন যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। তিনি বলেননি যে, 'আমি আল্লাহর রাসূল' যদিও প্রসঙ্গের দাবি অনুযায়ী তা হওয়ার কথা ছিল কারণ তিনি তাঁর সাথে কথা বলছিলেন। কিন্তু তাঁর মূল নাম প্রকাশ করা অধিক জোরালো এবং অধিক সম্মানসূচক। আর তাঁর কথা: মুহাম্মাদ—তিনি হলেন ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশোদ্ভূত মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ হাশেমী কুরাইশী। আর ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশে তিনি ছাড়া অন্য কোনো রাসূল নেই। আর ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম) সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণীতে এটিই উদ্দেশ্য: (হে আমাদের রব...
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ) (البقرة: الآية129)
رَسُولُ اللهِ رسول بمعنى مرسل، والرسول هو من أوحى الله إليه بشرع وأمر بتبليغه والعمل به.
َتُقِيْمَ الصَّلاةَ أي تأتي بها قائمة تامة معتدلة.
وكلمة: الصَّلاةَ تشمل الفريضة والنافلة.
وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ تؤتي بمعنى تعطي، والزكاة هي المال الواجب بذله لمستحقه من الأموال الزكوية تعبداً لله، وهي الذهب والفضة والماشية والخارج من الأرض وعروض التجارة.
وَتَصُوْمَ رَمَضَانَ أي تمسك عن المفطرات تعبداً لله تعالى من طلوع الفجر إلى غروب الشمس.
وأصل الصيام في اللغة: الإمساك.
ورمضان هو الشهر المعروف مابين شعبان وشوال.
وَتَحُجَّ البَيْتَ أي تقصد البيت لأداء النسك في وقت مخصوص تعبداً لله تعالى.
إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلِيْهِ سَبِيْلا قَالَ: صَدَقْتَ القائل صدقت: جبريل عليه السلام وهو السائل، فكيف يقول: صدقت وهو السائل؟ لأن الذي يقول: صدقت للمتكلم يعني أن عنده علماً سابقاً علم بأن هذا الرجل أصابه، وهو محل عجب، ولهذا تعجب الصحابة كيف يسأله ويصدقه، لكن سيأتي إن شاء الله بيان هذا.
شرح هذه الأركان الخمسة:
-الركن الأول: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله. وهنا مسألة: لماذا جُعِلَ هذان ركناً واحداً، ولم يجعلا ركنين؟.
(এবং তাদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করুন, যিনি তাদের কাছে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন) (আল-বাকারা: আয়াত ১২৯)
আল্লাহর রাসূল: রাসূল অর্থ প্রেরিত ব্যক্তি। আর রাসূল হলেন তিনি, যাঁর প্রতি আল্লাহ কোনো শরীয়ত অবতীর্ণ করেছেন এবং তা প্রচার করার ও সে অনুযায়ী আমল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সালাত কায়েম করা: অর্থাৎ তা যথাযথভাবে, পূর্ণাঙ্গরূপে ও সঠিকভাবে সম্পাদন করা।
সালাত শব্দটি ফরয ও নফল—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
যাকাত প্রদান করা: প্রদান করা অর্থ দান করা। আর যাকাত হলো আল্লাহর ইবাদতস্বরূপ যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে এর হকদারদের জন্য নির্দিষ্ট সেই মাল যা প্রদান করা ওয়াজিব। আর তা হলো সোনা, রুপা, গবাদি পশু, ভূমি থেকে উৎপাদিত ফসল এবং ব্যবসায়ের পণ্য।
রমাদানের সিয়াম পালন করা: অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত হিসেবে পানাহার ও রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা।
আর অভিধানে সিয়ামের মূল অর্থ হলো: বিরত থাকা।
আর রমাদান হলো শাবান ও শাওয়াল মাসের মধ্যবর্তী সুপরিচিত মাস।
বায়তুল্লাহর হজ করা: অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদত হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ে হজের কার্যাদি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কাবা ঘরের সংকল্প করা।
যদি সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য থাকে। তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। 'আপনি সত্য বলেছেন' কথাটি জিবরাঈল আলাইহিস সালাম বলেছেন, অথচ তিনি ছিলেন প্রশ্নকর্তা। তাহলে তিনি প্রশ্নকর্তা হয়েও কীভাবে 'আপনি সত্য বলেছেন' বললেন? কারণ, যে ব্যক্তি বক্তাকে বলে 'আপনি সত্য বলেছেন', এর অর্থ হলো তার কাছে এ বিষয়ে পূর্বজ্ঞান রয়েছে এবং তিনি জানেন যে ব্যক্তিটি সঠিক বলেছেন। এটি একটি আশ্চর্যের বিষয়, আর একারণেই সাহাবীগণ বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন যে, কীভাবে তিনি তাঁকে প্রশ্ন করছেন আবার তাঁর কথার সত্যায়নও করছেন। তবে ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে ব্যাখ্যা সামনে আসবে।
এই পাঁচটি স্তম্ভের ব্যাখ্যা:
-প্রথম স্তম্ভ: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। এখানে একটি মাসআলা বা প্রশ্ন হলো: কেন এই দুই বিষয়কে একটি স্তম্ভ করা হয়েছে, কেন দুটি আলাদা স্তম্ভ করা হয়নি?
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والجواب: أن الشهادة بهذين تبنى عليها صحة الأعمال كلها، لأن شهادة ألا إله إلا الله تستلزم الإخلاص، وشهادة أن محمداً رسول الله تستلزم الاتباع، وكل عمل يتقرب به إلى الله لا يقبل إلا بهذين الشرطين: الإخلاص لله، والمتابعة لرسول الله.
ومعنى أن تشهد أن لا إله إلا الله، أي: أن يعترف الإنسان بلسانه وقلبه بأنه لامعبود حق إلا الله عز وجل. وأَشْهَدُ بمعنى: أقر بقلبي ناطقاً بلساني؛ لأن الشهادة نطق وإخبار عما في القلب. وإذا كان الشاهد بقلبه أخرس لا يستطيع النطق فإنه يكفي للعجز.
والشهادة باللسان لاتكفي بدليل أن المنافقين يشهدون لله عز وجل بالوحدانية ولكنهم يشهدون بألسنتهم، فيقولون بألسنتهم ما ليس في قلوبهم، فلا ينفعهم، وهم يأتون إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يؤكدون له أنهم يشهدون أنه رسول الله، والله يعلم أنه رسول الله، ولكنه سبحانه يشهد أن المنافقين لكاذبون.
ولَا إِلَهَ إِلَاّ الله أي: لا معبود حق إلا الله وبتقديرنا الخبر بهذه الكلمة حق يتبين الجواب عن الإشكال التالي: وهو كيف يُقال لا إله إلا الله مع أن هناك آلهة تعبد من دون الله، وقد سماها الله آلهة وسماها عابدوها آلهة، قال الله تعالى: (فَمَا أَغْنَتْ عَنْهُمْ آلِهَتُهُمُ الَّتِي يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ) (هود: الآية101) وقال تعالى: (أَمْ لَهُمْ آلِهَةٌ تَمْنَعُهُمْ مِنْ دُونِنَا لا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَ أَنْفُسِهِمْ وَلا هُمْ مِنَّا يُصْحَبُونَ) (الانبياء: 43)
وقال تعالى: (وَلا تَدْعُ مَعَ اللَّهِ إِلَهاً آخَرَ) (القصص: الآية88)
بتقدير الخبر في لا إله إلا الله فنقول: هذه الآلهة التي تعبد من دون الله هي آلهة لكنها باطلة، ليست آلهة حقّة، وليس لها حق الألوهية من شيء، ويدل لذلك قول الله عز وجل: (ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ) (الحج: 62)
فإذا جاء مشركٌ إلى تمثالٍ يعبده بأن يركع له، ويسجد وينتحب ويخشع وربما يغمى عليه، فعبادته باطلة، ومعبوده باطل أيضاً.
إِلَاّ اللهُ الله: علم على الرب عز وجل لايسمى به غيره، وهو أصل الأسماء،
উত্তর হলো: এই দুই সাক্ষ্যের ওপরই সকল আমলের শুদ্ধতা নির্ভরশীল। কারণ ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই’ এই সাক্ষ্যটি ইখলাস বা একনিষ্ঠতাকে দাবি করে এবং ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ এই সাক্ষ্যটি অনুসরণের দাবি করে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য কৃত কোনো আমলই এই দুই শর্ত ব্যতীত কবুল হবে না: আল্লাহর জন্য ইখলাস এবং আল্লাহর রাসূলের অনুসরণ।
আর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্য দেওয়ার অর্থ হলো: মানুষ তার জিহ্বা ও অন্তরের মাধ্যমে স্বীকার করবে যে, মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ বা উপাস্য নেই। আর ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি’ এর অর্থ হলো: আমি আমার জিহ্বার মাধ্যমে উচ্চারণ করে অন্তরের বিশ্বাসকে স্বীকার করছি; কারণ সাক্ষ্য দেওয়া হলো অন্তরে যা আছে তা মুখে প্রকাশ করা এবং সংবাদ দেওয়া। যদি সাক্ষ্য প্রদানকারী অন্তরের বিশ্বাসের পর বাকশক্তিহীন হওয়ার কারণে কথা বলতে না পারে, তবে তার অপারগতার কারণে সেটিই যথেষ্ট হবে।
শুধু মৌখিক সাক্ষ্য যথেষ্ট নয়, যার প্রমাণ হলো মুনাফিকরা মহান আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করে কিন্তু তারা তা কেবল তাদের জিহ্বা দ্বারা করে; তারা মুখে এমন কিছু বলে যা তাদের অন্তরে নেই। ফলে এটি তাদের কোনো উপকারে আসে না। তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে দৃঢ়ভাবে বলে যে তারা সাক্ষ্য দেয় তিনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ জানেন যে তিনি তাঁর রাসূল, কিন্তু পবিত্র সত্তা আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ অর্থাৎ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবুদ নেই। এই বাক্যের উহ্য ‘খবর’ হিসেবে ‘সত্য’ শব্দটি নির্ধারণ করলে নিচের আপত্তির সমাধান পাওয়া যায়। আপত্তিটি হলো: কীভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা হয়, অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য অনেক উপাস্যের ইবাদত করা হয়? এমনকি আল্লাহ নিজেও সেগুলোকে উপাস্য নামে অভিহিত করেছেন এবং সেগুলোর উপাসকরাও সেগুলোকে উপাস্য বলে থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তাদের সেই উপাস্যগুলো কোনো কাজে আসেনি যাদেরকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে ডাকত।” (হুদ: আয়াত ১০১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “তবে কি আমাদের পরিবর্তে তাদের এমন কোনো উপাস্য আছে যারা তাদেরকে রক্ষা করবে? তারা তো নিজেদেরই সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং আমাদের পক্ষ থেকেও তাদেরকে রক্ষা করা হবে না।” (আল-আম্বিয়া: ৪৩)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: “তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডেকো না।” (আল-কাসাস: আয়াত ৮৮)
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বাক্যে উহ্য খবরটি নির্ধারণ করে আমরা বলি: আল্লাহ ব্যতীত যেসব উপাস্যের ইবাদত করা হয় সেগুলোও উপাস্য, তবে তা বাতিল; সেগুলো সত্য উপাস্য নয় এবং সেগুলোর উপাস্য হওয়ার বিন্দুমাত্র অধিকার নেই। এর প্রমাণ হলো আল্লাহর এই বাণী: “এটি এই কারণে যে, আল্লাহই হলেন ধ্রুব সত্য, আর তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল এবং আল্লাহই সমুচ্চ ও মহান।” (আল-হজ: ৬২)
সুতরাং যদি কোনো মুশরিক কোনো মূর্তির কাছে এসে তার ইবাদত করে, তার সামনে রুকু করে, সাজদাহ করে, বিলাপ করে, বিনয় প্রকাশ করে এবং এমনকি সম্ভবত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে—তবে তার এই ইবাদত বাতিল এবং তার উপাস্যটিও বাতিল।
‘ইল্লাল্লাহ’ এখানে ‘আল্লাহ’ হলো মহান রবের বিশেষ নাম, যা অন্য কাউকে দেওয়া হয় না এবং এটিই সকল নামের মূল।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ولهذا تأتي الأسماء تابعة له، ولايأتي تابعاً للأسماء إلا في آية واحدة، وهي قول الله تعالى: (إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ * اللَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ) (إبراهيم: 1-2) لكن لفظ الاسم الكريم هنا بدل من العزيز، وليست صفة، لأن جميع الأسماء إنما تكون تابعة لهذا الاسم العظيم.
مسألة: هل هذه الشهادة تُدخِل الإنسان في الإسلام؟
والجواب: نعم تدخله في الإسلام حتى لو ظننا أنه قالها تعوّذاً، فإننا نعصم دمه وماله؛ ولو ظننا أنه قالها كاذباً، ودليل ذلك قصة المشرك الذي أدركه أسامة بن زيد رضي الله عنهما حين هرب المشرك، فلما أدركه أسامة بالسيف قال: لا إله إلا الله، فقتله أسامة ظنّاً أنه قالها تعوّذاً من القتل، أي قالها لئلا يقتل فقتله، فلما أخبر بذلك النبي صلى الله عليه وسلم جعل يردد: أَقَتَلتَهُ بَعْدَ أَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلا الله؟ قَالَ: يَارَسُوْلَ اللهِ إِنَّمَا قَالَهَا تَعَوُّذَاً (1) فجعل يردد: أقتلته بعد أن قال لا إله إلا الله؟ قال أسامة: فتمنيت أنني لم أكن أسلمت بعد، من شدة ماوجد رضي الله عنه.
إذاً نحن ليس لنا إلا الظاهر حتى لو غلب على ظننا أنه قالها تعوذاً عصمته، نعم لو ارتد بعد ذلك قتلناه، وهذا يوجد من جنود الكفر إذا أسرهم المسلمون قالوا: أسلمنا. من أجل أن يعصموا أنفسهم من القتل، فيسأل المجاهدون ويقولون: هل نقتل هؤلاء بعد أن قالوا: لاإله إلاالله أم لا؟
نقول: حديث أسامة يدلّ على أنهم لايقتلون ولكن يراقبون، فإذا ظهر منهم ردة قتلوا، لأنهم بشهادة أن لاإله إلا الله تُلزمهم أحكام الإسلام. فإن كان الكافر يقول: لا إله إلا الله لكن لايشهد أن محمداً رسول الله، فلا يكفيه ذلك حتى يقول: أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمداً رسول الله، وعلى هذا فالكافر يدخل في الإسلام بمجرّد أن
--------------------------------------------
এই কারণেই নামগুলো তাঁর নামের অনুগামী হয়ে আসে, আর তিনি কোনো নামের অনুগামী হয়ে আসেন না কেবল একটি আয়াত ছাড়া। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: (পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে। আল্লাহ, যাঁর জন্য রয়েছে যা কিছু আসমানে আছে এবং যা কিছু যমীনে আছে) (ইবরাহীম: ১-২)। তবে এখানে সম্মানিত এই নামটি 'আল-আজিজ'-এর বদল (বিকল্প), বিশেষণ নয়; কারণ সকল নামই মূলত এই মহান নামের অনুগামী হয়ে থাকে।
মাসআলা: এই শাহাদাহ (সাক্ষ্য) কি একজন মানুষকে ইসলামে প্রবেশ করায়?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি তাকে ইসলামে প্রবেশ করায়, এমনকি যদি আমরা মনে করি যে সে কেবল আত্মরক্ষার্থে এটি বলেছে, তবুও আমরা তার রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ রাখব। আর যদিও আমরা মনে করি যে সে এটি মিথ্যা বলছে, (তবুও)। এর প্রমাণ হলো সেই মুশরিকের ঘটনা, যাকে উসামাহ ইবনে যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) পাকড়াও করেছিলেন যখন সেই মুশরিক পালিয়ে যাচ্ছিল। যখন উসামাহ তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করতে উদ্যত হলেন, তখন সে বলল: 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'। তখন উসামাহ তাকে হত্যা করলেন এই মনে করে যে, সে কেবল হত্যার হাত থেকে বাঁচতে এটি বলেছে। অর্থাৎ সে এটি বলেছে যাতে তাকে হত্যা না করা হয়, তাই তিনি তাকে হত্যা করেন। এরপর যখন বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানানো হলো, তখন তিনি বারবার বলতে থাকলেন: সে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলার পর কি তুমি তাকে হত্যা করলে? উসামাহ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সে তো কেবল আত্মরক্ষার্থে এটি বলেছিল (১)। তখন তিনি বারবার বলতে থাকলেন: সে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলার পর কি তুমি তাকে হত্যা করলে? উসামাহ বললেন: নবীজির তীব্র মনঃকষ্ট দেখে আমি কামনা করলাম যে, হায়! যদি আমি এর পরেই ইসলাম গ্রহণ করতাম (যাতে আগের এই গুনাহ মিটে যেত)।
সুতরাং, আমাদের জন্য বাহ্যিক বিষয় ছাড়া আর কিছু নেই; এমনকি যদি আমাদের প্রবল ধারণা হয় যে সে কেবল আত্মরক্ষার্থে এটি বলেছে, তবুও তার নিরাপত্তা বজায় থাকবে। হ্যাঁ, যদি এরপর সে ধর্মত্যাগ করে তবে আমরা তাকে হত্যা করব। কুফরি বাহিনীর সৈন্যদের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে থাকে যে, যখন মুসলিমরা তাদের বন্দী করে তখন তারা বলে: আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি। কেবল হত্যার হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য তারা এটি করে। তখন মুজাহিদগণ জিজ্ঞাসা করেন: তারা 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলার পর কি আমরা তাদের হত্যা করব নাকি করব না?
আমরা বলব: উসামাহর হাদিস প্রমাণ করে যে, তাদের হত্যা করা যাবে না বরং পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি তাদের পক্ষ থেকে ধর্মত্যাগ প্রকাশ পায় তবেই তাদের হত্যা করা হবে। কারণ 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে ইসলামের বিধানসমূহ তাদের ওপর আবশ্যক হয়ে যায়। আর যদি কাফির ব্যক্তি কেবল 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' বলে কিন্তু 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল'—এই সাক্ষ্য না দেয়, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না যতক্ষণ না সে বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল'। এমতাবস্থায় কাফির ব্যক্তি ইসলামে প্রবেশ করে কেবল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يقول: لا إله إلا الله، فإذا كان يقولها لكنه ينكر رسالة النبي صلى الله عليه وسلم فلابد أن يضيف إليها شهادة أن محمداً رسول الله، وفي الحديث الشريف: اُدْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَاّ الله وَأَنَّيْ رَسُوْلُ الله (1) قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله وقد عُلم بالاضطرار من دين الرسول صلى الله عليه وسلم واتفقت عليه الأمة: أن أول ما تؤمر به الخلق شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله فبذلك يصير الكافر مسلماً (2) وإذا كان مسلماً وشهد أن لا إله إلا الله ومات على ذلك فإنه يكفي لقول النبي صلى الله عليه وسلم: مَنْ كَانَ آخِرُ كَلامِهِ مِنَ الدُّنْيَا لَا إِلَهَ إِلَاّ الله دَخَلَ الجَنَّة (3)
وإنما اكتفي بلا إله إلا الله لأن هذا الميت يقر بأن محمداً رسول الله وليس عنده فيها إشكال.
شهادة أن لا إله إلا الله تستلزم إخلاص العبادة لله، ويسمى هذا النوع من التوحيد توحيد الألوهية، ويسمّى توحيد العبادة، لأن معنى لاإله إلا الله أي لا معبود حقّ إلا الله، إذا لا تعبد غير الله، فمن قال: لاإله إلا الله وعبد غير الله فهو كاذب، إذْ إن هذه الشهادة تستلزم إخلاص العبادة لله عز وجل وطرد الرياء والفخر وما أشبه ذلك.
وقوله: أنَّ مُحَمَّدَاً رَسُوْلُ الله فلابد أن تشهد أنه رسول الله، أي مرسلِهُ إلى الخلق، والرسول هو من أوحى إليه الله بشرعٍ وأمره بتبليغه، وكان الناس قبل نوح على ملة واحدة لم يحتاجوا إلى رسول، ثم كثروا واختلفوا، فكانت حاجتهم إلى الرسل، فأرسل الله تعالى الرسل، قال الله عز وجل: (كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النبيين مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ) (البقرة: الآية213)
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। যদি কেউ এটি বলে কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রিসালাতকে অস্বীকার করে, তবে অবশ্যই এর সাথে এই সাক্ষ্য যোগ করতে হবে যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। হাদীস শরীফে এসেছে: "তুমি তাদেরকে এই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান করো যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল।" (১) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীন থেকে অকাট্যভাবে জানা গেছে এবং উম্মত এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, সৃষ্টিজগতকে প্রথম যে বিষয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা হলো— আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদান করা। এর মাধ্যমেই একজন কাফির মুসলিমে পরিণত হয়। (২) আর যদি কেউ মুসলিম হয় এবং সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং এর ওপর মৃত্যুবরণ করে, তবে এটিই যথেষ্ট হবে। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "দুনিয়াতে যার শেষ কথা হবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (৩)
কেবল 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই'—এটুকুই যথেষ্ট হওয়ার কারণ হলো এই মৃত ব্যক্তি স্বীকার করে যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং এ ব্যাপারে তার কোনো সংশয় নেই।
এই সাক্ষ্য দেওয়া যে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই' আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠতাকে আবশ্যক করে। তাওহীদের এই প্রকারকে 'তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ' বলা হয় এবং একে 'তাওহীদুল ইবাদাহ'ও বলা হয়। কারণ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ হলো 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মা'বূদ নেই'। অতএব তুমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না। সুতরাং যে ব্যক্তি বলল যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করল, সে মিথ্যাবাদী। কারণ এই সাক্ষ্য মহান আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করা এবং লোকদেখানো আমল, অহংকার ও এই জাতীয় বিষয়সমূহ বর্জন করাকে আবশ্যক করে।
আর তাঁর বাণী: 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল'—এর অর্থ হলো আপনাকে অবশ্যই সাক্ষ্য দিতে হবে যে তিনি আল্লাহর রাসূল, অর্থাৎ আল্লাহ তাঁকে সৃষ্টিজগতের নিকট প্রেরণ করেছেন। রাসূল হলেন তিনি যাঁর নিকট আল্লাহ কোনো শরীআত ওহী করেছেন এবং তা প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন। নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পূর্বে মানুষ একই মিল্লাত বা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাদের কোনো রাসূলের প্রয়োজন ছিল না। অতঃপর তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পেল এবং মতবিরোধে লিপ্ত হলো, ফলে তাদের জন্য রাসূলগণের প্রয়োজন দেখা দিল। তখন আল্লাহ তাআলা রাসূলগণকে প্রেরণ করলেন। মহান আল্লাহ বলেন: "মানুষ ছিল এক উম্মতভুক্ত। অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীগণকে প্রেরণ করলেন এবং মানুষের মধ্যে যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল তার মীমাংসার জন্য তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন।" (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فالرسل إنما بعثت حين اختلف الناس ليحكموا بينهم بالحق، ولهذا كان أول الرسل نوحاً عليه السلام، وآخرهم محمد صلى الله عليه وسلم. فلابد من الإيمان بأن محمداً رسول الله، ولابد أن نؤمن بأنه خاتم النبيين.
ومماسبق يُعلم خطأ المؤرّخين الذين قالوا: إن هناك رسولاً أو أكثر قبل نوح، فليس قبل نوح عليه السلام رسول بدليل قول الله تعالى: () إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنبي صلى الله عليه وسلم ينَ مِنْ بَعْدِهِ) (النساء: الآية163) وقال الله عز وجل: (وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحاً وَإِبْرَاهِيمَ وَجَعَلْنَا فِي ذُرِّيَّتِهِمَا النُّبُوَّةَ وَالْكِتَاب) (الحديد: الآية26) أي في ذريتهم خاصة.
ومن السنة في قصة الشفاعة أن الناس يأتون إلى نوح فيقولون له: أَنْتَ أَوَّلُ رَسُوْلٍ أَرْسَلَهُ اللهُ إِلَى أَهْلِ الأَرْضِ (1) فعقيدتنا أن أول الرسل نوحٌ عليه السلام، وآخرهم: محمد صلى الله عليه وسلم. فمن ادعى النبوة بعد محمد فحكمه أنه كافر، لقول الله تعالى: (وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النبيينَ) (الأحزاب: الآية40) ولم يقلْ سبحانه وخاتم الرسل، مع أنه قال رسول الله بالأول، لأنه إذا كان خاتم النبيين فهو خاتم الرسل، إذ لارسالة إلا بعد النبوة، فإذا انتفت النبوة من بعده فالرسالة من باب أولى.
شهادة أن محمداً رسول الله تستلزم أموراً منها:
الأول: تصديقه صلى الله عليه وسلم فيما أخبر، بحيث لايكون عند الإنسان تردد فيما أخبر به صلى الله عليه وسلم، بل يكون في قلبه أشد مما نطق، كما قال عز وجل في القرآن: (إِنَّهُ لَحَقٌّ مِثْلَ مَا أَنَّكُمْ تَنْطِقُونَ) (الذريات: الآية23) فالإنسان لايشك فيما ينطق به، كذلك ماينطق به رسول الله صلى الله عليه وسلم لانشك فيه، ونعلم أنه الحق، لكن بيننا وبينه مفاوز وهو السند، لأن النبي صلى الله عليه وسلم ليس أمامنا لكن إذا ثبت الحديث عن الرسول صلى الله عليه وسلم وجب علينا تصديقه، سواء علمنا وجهه أم لم نعلمه، أحياناً تأتي أحاديث نعرف المعنى لكن لانعرف وجهها، فالواجب علينا التصديق.
--------------------------------------------
মূলত রসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন যখন মানুষ মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছিল, যাতে তারা তাদের মধ্যে সত্যের মাধ্যমে ফয়সালা করতে পারেন। আর একারণেই প্রথম রসূল ছিলেন নূহ (আলাইহিস সালাম) এবং সর্বশেষ হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। সুতরাং মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল—এ বিষয়ে ঈমান আনা আবশ্যক, এবং আমাদের অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে তিনি হলেন নবীদের সমাপ্তকারী (খাতামুন নবীন)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে সেইসব ইতিহাসবিদদের ভুল স্পষ্ট হয় যারা বলেন যে, নূহের পূর্বে এক বা একাধিক রসূল ছিলেন। অথচ নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর পূর্বে কোনো রসূল ছিলেন না, যার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট ওহী পাঠিয়েছি যেমন ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তাঁর পরবর্তী নবীদের নিকট) (নিসা: আয়াত ১৬৩)। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল আরও বলেছেন: (আর অবশ্যই আমি নূহ ও ইব্রাহিমকে পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের উভয়ের বংশধরদের মধ্যেই নবুওয়াত ও কিতাব প্রদান করেছি) (হাদীদ: আয়াত ২৬); অর্থাৎ বিশেষভাবে তাদের বংশধরদের মধ্যেই।
সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত শাফায়াতের বর্ণনায় এসেছে যে, মানুষ নূহের নিকট এসে বলবে: "আপনিই প্রথম রসূল যাকে আল্লাহ জমিনবাসীদের নিকট পাঠিয়েছেন" (১)। অতএব আমাদের আকীদা হলো, প্রথম রসূল হলেন নূহ (আলাইহিস সালাম) এবং সর্বশেষ হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। সুতরাং যে ব্যক্তি মুহাম্মদের পর নবুওয়াতের দাবি করবে, তার বিধান হলো সে কাফির। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: (বরং তিনি আল্লাহর রসূল এবং নবীদের সমাপ্তকারী) (আহযাব: আয়াত ৪০)। মহান আল্লাহ এখানে 'রসূলদের সমাপ্তকারী' বলেননি যদিও বাক্যের শুরুতে 'আল্লাহর রসূল' বলেছেন; কারণ যদি কেউ নবীদের সমাপ্তকারী হন তবে তিনি অবশ্যই রসূলদেরও সমাপ্তকারী হবেন। কেননা নবুওয়াত ছাড়া রিসালাত সম্ভব নয়। সুতরাং তাঁর পরে যদি নবুওয়াতই রহিত হয়ে যায়, তবে রিসালাত রহিত হওয়া তো আরও বেশি নিশ্চিত।
মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল—এই সাক্ষ্য দেওয়ার কিছু দাবি রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রথমত: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, যাতে রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা সংবাদ দিয়েছেন সে বিষয়ে মানুষের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে; বরং তা তার অন্তরে তার উচ্চারিত কথার চেয়েও বেশি সুদৃঢ় হয়। যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল কুরআনে বলেছেন: (নিশ্চয়ই এটি সত্য, যেমন সত্য তোমরা কথা বলো) (যারিয়াত: আয়াত ২৩)। মানুষ নিজে যা উচ্চারণ করে সে বিষয়ে যেমন কোনো সন্দেহ পোষণ করে না, তেমনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা বলেছেন সে বিষয়েও আমরা কোনো সন্দেহ করব না এবং আমরা জানব যে তা ধ্রুব সত্য। তবে আমাদের ও তাঁর মাঝে ব্যবধান হলো 'সনদ' (সূত্র), কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সশরীরে আমাদের সামনে নেই। কিন্তু যখন রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদীস প্রমাণিত হয়ে যাবে, তখন তা সত্য বলে বিশ্বাস করা আমাদের জন্য ওয়াজিব হবে, চাই আমরা তার গূঢ় রহস্য জানি কিংবা না জানি। কখনো কখনো এমন হাদীস আসে যার অর্থ আমরা অনুধাবন করি কিন্তু তার রহস্য বা পদ্ধতি বুঝে আসে না, সেক্ষেত্রেও আমাদের কর্তব্য হলো তা সত্য বলে বিশ্বাস করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الثاني: امتثال أمره صلى الله عليه وسلم ولانتردد فيه لقول الله تعالى: (وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ) (الأحزاب: الآية36) ولهذا أقول: من الخطأ قول بعضهم: إنه إذا جاءنا الأمر من الله ورسوله بدأ يتساءل فيقول: هل الأمر للوجوب أو للاستحباب؟ كمايقوله كثير من الناس اليوم، وهذا السؤال يجب طرحه وأن لايورد؛ لأن الصحابة رضي الله عنهم إذا أمرهم النبي صلى الله عليه وسلم لم يكونوا يقولون يارسول الله: هل الأمر للوجوب أو الأمر للاستحباب أو غير ذلك؟ بل كانوا يمتثلون ويصدقون بدون أن يسألوا. نقول: لاتسأل وعليك بالامتثال، أنت تشهد أن محمداً رسول الله فافعل ما أمرك به.
وفي حالة ما إذا وقع الإنسان في مسألة وخالف الأمر، فهنا له الحق أن يسأل هل هو للوجوب أو لغير الوجوب، لأنه إذا كان للوجوب وجب عليه أن يتوب منه لأنه خالف، وإذا كان لغير الوجوب فأمره سهل.
ثالثاً: أن يجتنب ما نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عنه بدون تردد، لايَقُلْ: هذا ليس في القرآن فيهلك، لأننا نقول: ما جاء في السنة فقد أمر القرآن باتباعه. ولقد حذّر النبي صلى الله عليه وسلم من هذا وأمثاله الذي يقول هذا ليس في القرآن فقال: لَا ألْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ عَلَى أَرِيْكَتِه أي جالساً متبختراً متعاظماً يَأْتِيْهِ الأَمْرُ مِنْ عِنْدِيْ فَيَقُولُ مَا أَدْرِيْ، مَا كَانَ فِيْ كِتَابِ اللهِ اِتَّبَعْنَاهُ (1) أي وما لم يكن لانتبعه، مع أننا نقول: كل ما جاء عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد جاء في القرآن، لأن الله تعالى قال: (وَاتَّبِعُوهُ) (الأعراف: الآية158) وهو عام في كل ماقال.
رابعاً: أن لايقدم قول أحدٍ من البشر على قول النبي صلى الله عليه وسلم، وعلىهذا لايجوز أن تقدم قول فلان - الإمام من أئمة المسلمين - على قول الرسول صلى الله عليه وسلم لأنك أنت والإمام يلزمكما اتباع الرسول صلى الله عليه وسلم. وماأعظم قول من إذا حاججته وقلت: قال
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশের আনুগত্য করা এবং এতে কোনো দ্বিধাবোধ না করা। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ের ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকবে না) (আল-আহযাব: আয়াত ৩৬)। একারণেই আমি বলি: কারো কারো এই কথাটি ভুল যে, যখন আমাদের কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশ আসে, তখন সে প্রশ্ন করতে শুরু করে যে: এই নির্দেশটি কি ওয়াজিবের জন্য নাকি মুস্তাহাবের জন্য? বর্তমান যুগে অনেক মানুষ যেমনটি বলে থাকে। অথচ এই প্রশ্নটি বর্জন করা উচিত এবং তা উত্থাপন করা ঠিক নয়; কারণ সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-কে যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোনো নির্দেশ দিতেন, তখন তাঁরা বলতেন না যে, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই নির্দেশটি কি ওয়াজিবের জন্য, নাকি মুস্তাহাবের জন্য, নাকি অন্য কিছুর জন্য?’ বরং তাঁরা প্রশ্ন করা ছাড়াই আনুগত্য করতেন এবং তা সত্য বলে গ্রহণ করতেন। আমরা বলি: আপনি প্রশ্ন করবেন না, বরং আপনার কাজ হলো আনুগত্য করা। আপনি তো সাক্ষ্য দেন যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সুতরাং তিনি আপনাকে যা আদেশ করেছেন তা পালন করুন।
আর যখন কোনো মানুষ কোনো বিষয়ে লিপ্ত হয় এবং নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে ফেলে, তখন তার জানার অধিকার আছে যে তা ওয়াজিব ছিল নাকি ওয়াজিব নয়। কারণ যদি তা ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে বিরুদ্ধাচরণ করার কারণে তার ওপর তওবা করা আবশ্যক হবে। আর যদি তা ওয়াজিব না হয়, তবে বিষয়টি সহজ।
তৃতীয়ত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা নিষেধ করেছেন তা কোনো দ্বিধা ছাড়াই বর্জন করা। সে যেন এ কথা না বলে যে: ‘এটি কুরআনে নেই’, অন্যথায় সে ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ আমরা বলি: সুন্নাহতে যা এসেছে, কুরআন তার অনুসরণেরই নির্দেশ দিয়েছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ধরনের লোক এবং এর সদৃশ ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক করেছেন যারা বলে যে ‘এটি কুরআনে নেই’। তিনি বলেছেন: আমি যেন তোমাদের কাউকে তার সুসজ্জিত আসনে (অর্থাৎ দম্ভ ও অহংকারের সাথে বসা অবস্থায়) হেলান দিয়ে থাকা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসার পর সে বলে যে, ‘আমি জানি না; আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি আমরা কেবল তারই অনুসরণ করেছি’ (১) অর্থাৎ যা নেই তা আমরা অনুসরণ করব না। অথচ আমরা বলি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা কিছু এসেছে তা মূলত কুরআনেই এসেছে। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন: (এবং তোমরা তাঁর অনুসরণ করো) (আল-আরাফ: আয়াত ১৫৮)। আর এটি তাঁর বলা প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক।
চতুর্থত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর ওপর অন্য কোনো মানুষের কথাকে প্রাধান্য না দেওয়া। এ ভিত্তিতে অমুক ব্যক্তির কথা—যিনি মুসলিমদের ইমামদের মধ্যে একজন ইমাম—তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর ওপর প্রাধান্য দেওয়া জায়েয নয়। কারণ আপনি এবং সেই ইমাম—উভয়ের জন্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণ করা আবশ্যক। আর সেই ব্যক্তির কথা কতই না মহান যখন আপনি তার সাথে বিতর্ক করবেন এবং বলবেন: রাসূল বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
رسول الله، قال: لكن الإمام فلان قال كذا وكذا، فهذه عظيمة جداً، إذ لايحل لأحد أن يعارض قول النبي صلى الله عليه وسلم بقول أحد من المخلوقين كائناً من كان حتى إنه ذُكِر عن عبد الله بن عباس رضي الله عنهما أنه قال: يُوْشكُ أَن تنزل عليكم حجارة من السماء أقول قال رسول الله وتقولون قال أبوبكر وعمر (1) ومن إمام هذا الرجل المجادل بالنسبة إلى أبي بكر وعمر رضي الله عنهما.
خامساً: أن لايبتدع في دين الله مالم يأتِ به الرسول صلى الله عليه وسلم، سواء عقيدة، أو قولاً، أو فعلاً، وعلى هذا فجميع المبتدعين لم يحققوا شهادة أن محمداً رسول الله، لأنهم زادوا في شرعه ماليس منه، ولم يتأدبوا مع الرسول صلى الله عليه وسلم.
سادساً: أن لايبتدع في حقه ماليس منه، وعلى هذا فالذين يبتدعون الاحتفال بالمولد ناقصون في تحقيق شهادة أن محمداً رسول الله، لأن تحقيقها يستلزم أن لاتزيد في شريعته ماليس منه.
سابعاً: أن تعتقد بأن النبي صلى الله عليه وسلم ليس له شيء من الربوبية، أي أنه لايُدعى، ولايُستغاث به إلا في حياته فيما يقدر عليه، فهو عبد الله ورسوله: (قُلْ لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعاً وَلا ضَرّاً إِلَاّ مَا شَاءَ اللَّهُ) (الأعراف: الآية188) وبهذا نعرف ضلال من يدعون رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأنهم ضالون في دينهم، سفهاء في عقولهم، إذ إن النبي صلى الله عليه وسلم لايملك لنفسه نفعاً ولاضراً فكيف يملك لغيره؟ ولهذا أمره الله أن يقول: (قُلْ إِنِّي لا أَمْلِكُ لَكُمْ ضَرّاً وَلا رَشَداً * قُلْ إِنِّي لَنْ يُجِيرَنِي مِنَ اللَّهِ أَحَدٌ وَلَنْ أَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَداً) (الجن: 21-22) أي أنه هو عليه الصلاة والسلام لو أراد الله به ما يريد ما استطاع أحد من الناس أن يمنع إرادة الله فيه. إذا كان كذلك فمن الضلال البيّن أن يستغيث أحدٌ برسول الله صلى الله عليه وسلم، بل هذا من الشرك، فلو جاء إنسان مهموم مغموم إلى قبر النبي صلى الله عليه وسلم وقال: يارسول الله أغثني فإني مهموم مغموم، فيكون هذا مشركاً شركاً أكبر، لأنه دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم،
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অথচ বলা হয়: কিন্তু অমুক ইমাম এমন এমন কথা বলেছেন—এটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কেননা, কোনো সৃষ্টির কথা দিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর বিরোধিতা করা কারো জন্যই বৈধ নয়, তিনি যেই হোন না কেন। এমনকি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "শীঘ্রই তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হবে; আমি বলছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তোমরা বলছ আবু বকর ও ওমর বলেছেন।" (১) আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমার তুলনায় এই বিতর্ককারী ব্যক্তির ইমামের মর্যাদা আর কতটুকুই বা?
পঞ্চম: আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন না করা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়ে আসেননি—তা বিশ্বাস (আকিদা), কথা কিংবা কাজ যাই হোক না কেন। এর ভিত্তিতে, সকল বিদআতী ব্যক্তিই 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল' এই সাক্ষ্যটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি; কারণ তারা তাঁর শরীয়তে এমন কিছু সংযোজন করেছে যা এর অংশ নয় এবং তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যথাযথ শিষ্টাচার প্রদর্শন করেনি।
ষষ্ঠ: তাঁর হকের ব্যাপারে এমন কিছু উদ্ভাবন না করা যা তাঁর শানে নেই। এর ভিত্তিতে, যারা মীলাদ বা জন্মবার্ষিকী পালনের বিদআত তৈরি করে, তারা 'মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল' এই সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অপূর্ণাঙ্গ। কারণ এই সাক্ষ্যের দাবি হলো তাঁর শরীয়তে এমন কিছু বৃদ্ধি না করা যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়।
সপ্তম: এই বিশ্বাস রাখা যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের কোনো গুণের অধিকারী নন। অর্থাৎ তাঁকে ডাকা যাবে না এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) করা যাবে না; তবে তাঁর জীবদ্দশায় যে বিষয়ে তিনি সক্ষম ছিলেন, তাতে সাহায্য চাওয়া যেত। তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল: (বলুন: আল্লাহ যা চান তা ছাড়া আমি নিজের কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণের মালিক নই) (আল-আরাফ: ১৮৮)। এর মাধ্যমেই আমরা তাদের ভ্রষ্টতা সম্পর্কে জানতে পারি যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে দুআ করে; তারা তাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট এবং তাদের বুদ্ধিতে নির্বোধ। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নিজের জন্যই কোনো লাভ বা ক্ষতির মালিক নন, তখন তিনি অন্যের জন্য তা কীভাবে করবেন? এজন্যই আল্লাহ তাঁকে এই কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন: (বলুন: আমি তোমাদের কোনো ক্ষতি বা কোনো সুপথ দান করার ক্ষমতা রাখি না। বলুন: নিশ্চয়ই আল্লাহর পাকড়াও থেকে আমাকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং তাঁকে ছাড়া আমি কখনোই কোনো আশ্রয়স্থল খুঁজে পাব না) (আল-জিন: ২১-২২)। অর্থাৎ নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের ব্যাপারে আল্লাহ যদি কোনো ইচ্ছা করেন, তবে কোনো মানুষই আল্লাহর সেই ইচ্ছাকে প্রতিহত করতে পারবে না। যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতা, বরং এটি শিরক। সুতরাং যদি কোনো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও ব্যথিত ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের কাছে এসে বলে: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সাহায্য করুন, আমি অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও ব্যথিত", তবে সে বড় শিরকে (শিরকে আকবর) লিপ্ত হবে। কারণ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রার্থনা করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ودعوة الميت أن يغيثك أو يعينك شرك، لأنه غير قادر، فهو جسد وإن كانت الروح قد تتصل بالجسد في القبر لكن هو جسد، وهذا لاينافي أن يكون حياً في قبره حياة برزخية لاتشبه حياة الدنيا.
ثامناً: احترام أقواله، بمعنى أن يحترم أقوال النبي صلى الله عليه وسلم فلاتضع أحاديثه عليه الصلاة والسلام في أماكن غير لائقة، لأن هذا نوع من الامتهان، ومن ذلك: أن لا ترفع صوتك عند قبره، وقد سمع أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه رجلين قدما من الطائف فجعلا يرفعان أصواتهما في مسجد النبي صلى الله عليه وسلم فقال: لَوْلَا أَنَّكُمَا مِنْ أَهْلِ الطَّائِفِ لأَوْجَعْتُكُمَا ضَرْبَاً (1) لأن الله تعالى يقول: (يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النبي صلى الله عليه وسلم وَلا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لا تَشْعُرُونَ) (الحجرات: 2) .
ولماَ نزلت هذه الآية كان رجل من الصحابة يقال له: ثابت بن قيس رضي الله عنه ممن يخطب بين يدي النبي صلى الله عليه وسلم، وكان جهوري الصوت، فلما نزلت هذه الآية بقي في بيته يبكي ليلاً ونهاراً رضي الله عنه هؤلاء الذين يعلمون قدر القرآن الكريم، ففقده النبي صلى الله عليه وسلم لأن من عادة الرسول صلى الله عليه وسلم أن يتفقّد أصحابه، وهذا من حسن رعايته صلى الله عليه وسلم فسأل عنه فقالوا: يارسول الله إن الرجل منذ أنزل الله تعالى هذه الآية وهو في بيته يبكي ليلاً ونهاراً، فقال صلى الله عليه وسلم: (اِذْهَبْ فَادْعُهُ لِي فأتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال له: مَايُبْكِيْكَ يَاثَابِتُ فقال: أنا صيّت وأتخوّف أن تكون هذه الآية نزلت فيّ.، لأن الله تعالى يقول: (أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لا تَشْعُرُونَ) (الحجرات: 2) فقال له الرسول صلى الله عليه وسلم: أَمَا تَرْضَى أَنْ تَعِيْشَ حَمَيدَاً، وَتُقْتَلَ شَهِيْدَاً، وَتَدْخُلَ الجَنَّة (2) ، الله أكبر، كل من خاف من الله أمن،
--------------------------------------------
মৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে বা সাহায্য করতে ডাকা শিরক, কারণ সে সক্ষম নয়। সে মূলত একটি দেহ, যদিও কবরে রুহ বা আত্মার সাথে দেহের যোগাযোগ হতে পারে, তবে তা মূলত একটি দেহই। এটি তাঁর কবরে বরজখী জীবনে জীবিত থাকার পরিপন্থী নয়, যে জীবন দুনিয়ার জীবনের মতো নয়।
অষ্টম: তাঁর বাণীর সম্মান করা। অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীসমূহের সম্মান করা; তাই তাঁর হাদিসসমূহকে কোনো অনুপযুক্ত স্থানে না রাখা, কারণ এটি এক ধরনের অবমাননা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: তাঁর কবরের পাশে আওয়াজ উঁচু না করা। আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তায়েফ থেকে আসা দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করলেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলছিল। তিনি বললেন: যদি তোমরা তায়েফবাসী না হতে, তবে আমি তোমাদের কঠোরভাবে প্রহার করতাম (১)। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: (হে মুমিনগণ, তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো তাঁর সাথে সেভাবে উচ্চস্বরে কথা বলো না, পাছে তোমাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যায় অথচ তোমরা বুঝতেও পারবে না) (আল-হুজুরাত: ২)।
যখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো, তখন সাহাবীদের মধ্যে ছাবিত বিন কায়েস রাদিয়াল্লাহু আনহু নামে এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে ভাষণ দিতেন। তাঁর কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত উচ্চ। এই আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর তিনি দিবা-রাত্রি নিজের ঘরে বসে কাঁদতে থাকলেন। রাদিয়াল্লাহু আনহু—এঁরাই তো তারা যারা কুরআনুল কারিমের মর্যাদা অনুধাবন করেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ নিলেন, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভ্যাস ছিল সাহাবীদের খোঁজখবর রাখা। এটি ছিল তাঁর চমৎকার অভিভাবকসুলভ আচরণের অংশ। তিনি তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে লোকেরা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করার পর থেকে ওই ব্যক্তি ঘরে বসে রাত-দিন কাঁদছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: (যাও, তাকে আমার কাছে ডেকে আনো)। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলে নবীজি তাঁকে বললেন: হে ছাবিত, কিসে তোমাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: আমার কণ্ঠস্বর অনেক উচ্চ, আর আমি ভয় পাচ্ছি যে এই আয়াতটি হয়তো আমার ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (যাতে তোমাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যায় অথচ তোমরা বুঝতেও পারবে না) (আল-হুজুরাত: ২)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি প্রশংসিত অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করবে, শহীদ হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করবে (২)? আল্লাহু আকবার, যে আল্লাহকে ভয় করে সে নিরাপদ থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فهو بقي في بيته خائفاً من الله عز وجل ولكن أمَّنه الله، ولهذا يجب علينا وجوباً أن نشهد أن ثابت بن قيس رضي الله عنه من أهل الجنة، لأن النبي صلى الله عليه وسلم أخبر بهذا. فبقي الرجل حميداً في حياته وشارك المسلمين في قتال مسيلمة الكذاب، وغزوة مسيلمة الكذاب معروفة ومشهورة في التاريخ، وقتل رضي الله عنه شهيداً، ويدخل الجنة، اللهم اجعلنا من أهل الجنة يارب العالمين.
وقع في قصته رضي الله عنه أيضاً مسألة غريبة: مر به أحد الجنود وهو ميت وعلى ثابت رضي الله عنه درع جيد، فأخذ الجندي الدرع منه ثم ذهب به إلى رحله وجعل عليه برمة - والبرمة قدر من الخزف - وفي الليل رأى أحد أصحاب ثابت ثابتاً رضي الله عنه في المنام وأخبره الخبر وقال له: مر بي رجل من الجند وأخذ درعي ووضعه تحت برمة في طرف العسكر وحوله فرس تستن، أي رافعة إحدى قوائمها، فلما أصبح الرجل الذي رأى هذه الرؤيا أخبر بها القائد خالد بن الوليد رضي الله عنه فأرسله إلى المكان، ولما أرسله إلى المكان وجد الأمر كما قال ثابت - فسبحان الله العظيم - ما الذي أعلم ثابتاً وهو ميت، لكن الرؤيا الصالحة جزء من ستة وأربعين جزءاً من النبوة، فأخذ الدرع.
كما أن ثابتاً رضي الله عنه أوصى بوصية بعد موته، وأُبلِغَت أبا بكر رضي الله عنه فنفذ الوصية، قالوا: ولايوجد أحد نفذت وصيته التي أوصى بها بعد موته إلا ثابت بن قيس رضي الله عنه، لكن يشكل على هذا كيف نعتبر الرؤيا في تنفيذ الوصية؟
والجواب: أنه إذا دلت القرائن على صدق الرؤيا نُفذت الوصية ولاحرج. ولقد حدثني رجل أثق به يقول: إنه مات أبوه وكان قد استأجر البيت الذي تركه بعد موته لمدة كذا سنة، فلما مات أتى أهل البيت الذين يملكون رقبة البيت وقالوا للورثة: اخرجوا عن البيت، البيت بيتنا، فقالوا: لن نخرج، بين مورّثنا وبينكم عقد لم ينتهِ بعد، فقالوا: بل انتهى العقد، ففزع الورثة من هذه الدعوى وضاقت بهم الأرض، يقول: فلما كان ذات ليلة رأيت في المنام أن أبي أطل علينا من فرجة المجلس وقال لهم: العقد
তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ভয়ে নিজের ঘরে অবস্থান করতে থাকেন, তবে আল্লাহ তাকে অভয় দান করেন। এই কারণে আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো সাক্ষ্য দেওয়া যে, সাবিত ইবন কায়স (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত, কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। অতঃপর এই ব্যক্তি অত্যন্ত প্রশংসিত অবস্থায় জীবন যাপন করেন এবং মুসাইলামাতুল কাযযাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মুসলিমদের সাথে অংশগ্রহণ করেন। মুসাইলামাতুল কাযযাবের সেই যুদ্ধ ইতিহাসে অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শহীদ হিসেবে নিহত হন এবং জান্নাতে প্রবেশ করবেন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জান্নাতিদের অন্তর্ভুক্ত করুন, হে রব্বুল আলামীন।
তার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ঘটনায় একটি আশ্চর্যজনক বিষয়ও ঘটেছিল: তিনি যখন মৃত অবস্থায় ছিলেন, তখন এক সৈন্য তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় দেখল যে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর গায়ে একটি উন্নত মানের বর্ম রয়েছে। সেই সৈন্যটি তার কাছ থেকে বর্মটি নিয়ে নিল এবং তা নিয়ে নিজের তাবু বা বিশ্রামের স্থানে গেল এবং তার ওপর একটি মাটির পাতিল উল্টিয়ে রাখল। রাতে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এক সাথী স্বপ্নে তাকে দেখতে পেলেন। সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে পুরো ঘটনাটি জানিয়ে বললেন: "এক সৈন্য আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে এবং আমার বর্মটি নিয়ে নিয়েছে। সে সেটি লস্করের এক প্রান্তে একটি মাটির পাতিলের নিচে রেখে দিয়েছে এবং তার আশেপাশে একটি ঘোড়া পা ছুড়ছিল (অর্থাৎ তার একটি পা উপরে তুলে রেখেছিল)।" যখন সেই স্বপ্নদ্রষ্টা ব্যক্তি সকালে সেনাপতি খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিষয়টি জানালেন, তখন তিনি তাকে সেই স্থানে পাঠালেন। যখন তিনি তাকে সেই স্থানে পাঠালেন, তিনি সবকিছু ঠিক তেমনটাই পেলেন যেমনটা সাবিত বলেছিলেন। সুবহানাল্লাহিল আযীম! মৃত অবস্থায় সাবিতকে কে এ সংবাদ জানাল? তবে সত্য স্বপ্ন নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। অতঃপর বর্মটি উদ্ধার করা হলো।
একইভাবে সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার মৃত্যুর পর একটি ওসিয়ত করেছিলেন, যা আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট পৌঁছানো হলে তিনি তা কার্যকর করেছিলেন। তারা বলেন: সাবিত ইবন কায়স (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছাড়া এমন আর কেউ নেই যার মৃত্যুর পর করা ওসিয়ত কার্যকর করা হয়েছে। তবে এখানে একটি প্রশ্ন জাগে যে, ওসিয়ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে আমরা স্বপ্নকে কীভাবে গণ্য করব?
উত্তর হলো: যদি স্বপ্ন সত্য হওয়ার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণাদি পাওয়া যায়, তবে ওসিয়ত কার্যকর করা হবে এবং এতে কোনো দোষ নেই। আমার কাছে একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, তার বাবা মারা গিয়েছিলেন এবং তিনি যে বাড়িটি রেখে গিয়েছিলেন তা মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট বছরের জন্য ভাড়ায় নিয়েছিলেন। যখন তিনি মারা গেলেন, তখন বাড়ির মালিকরা ওয়ারিশদের কাছে এসে বলল: "বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও, এটি আমাদের বাড়ি।" ওয়ারিশরা বলল: "আমরা বের হব না, আমাদের মৃত ব্যক্তি এবং আপনাদের মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে যা এখনও শেষ হয়নি।" তারা বলল: "না, বরং চুক্তি শেষ হয়ে গেছে।" ওয়ারিশরা এই দাবিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ল এবং তাদের কাছে পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে এল। বর্ণনাকারী বলেন: একদিন রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমার বাবা মজলিসের একটি ছিদ্র বা ফাঁকা জায়গা থেকে আমাদের দিকে উঁকি দিচ্ছেন এবং তাদের বলছেন: "চুক্তিটি..."
(খণ্ড: ১)
শারহুল আরবাঈন আন-নাওয়াবিয়্যাহ লিল-উছাইমীন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
في أول صفحة من الدفتر لكنه لاصق في جلدة الدفتر، فلما أصبح وفتح أول صفحة وجد العقد.
سبحان الله، فالله تعالى قد يخبر بعض الموتى ببعض ما يحصل على أهله، لكن هذه مسائل ليست لكل أحد.
وتقيم الصلاة أي تأتي بها قويمة، ولاتكون قويمة إلا بفعل شروطها وأركانها وواجباتها - وهذا لابد منه - وبمكملاتها، فهذا يكون أكمل.
ولاحاجة لشرح هذه لأنها معروفة في كتب الفقه (1)
وقوله الصّلاةَ يشمل كل الصلاة: الفريضة والنافلة، وهل تدخل صلاة الجنازة أو لا؟
يحتمل هذا وهذا، إذا نظرنا إلى عموم اللفظ قلنا: إنها داخلة لأنها صلاة، كما قال الله عز وجل: (وَلا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَداً) (التوبة: الآية84) ' وإن نظرنا إلى أن صلاة الجنازة صلاة طارئة حادثة يقصد بها الشفاعة للميت قلنا: لاتدخل في هذا الحديث، لكن تدخل في عموم الأمر بإحسان.
وَتُؤْتي الزَّكَاةَ تؤتي بمعنى تعطي، والزكاة هي: المال الواجب في الأموال الزكوية، فيعطيه الإنسان مستحقه تعبّداً لله عز وجل ورجاءً لثوابه.
مثال ذلك: الدراهم والدنانير فيهما زكاة، وهي ربع العشر، أي تأخذ ربع العشر وهو واحد من أربعين وتعطيه المستحق.
وقد بيّن الله عز وجل أهل الزكاة في سورة التوبة أنهم ثمانية أصناف فقال عز وجل: (إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ) (التوبة: الآية60) أي فرضها الله علينا أن نعطيها هؤلاء ولا نعطي غيرهم: (وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ)
--------------------------------------------
ডায়েরির প্রথম পৃষ্ঠায়, তবে তা ডায়েরির মলাটের সাথে লেগে ছিল। যখন সকাল হলো এবং তিনি প্রথম পৃষ্ঠা খুললেন, তখন তিনি চুক্তিপত্রটি খুঁজে পেলেন।
সুবহানাল্লাহ, মহান আল্লাহ হয়তো কোনো কোনো মৃত ব্যক্তিকে তাদের পরিবারের সাথে যা ঘটছে তার কিছু অংশ জানান, তবে এই বিষয়গুলো সবার জন্য নয়।
আর সালাত কায়েম করবে, অর্থাৎ তা যথাযথভাবে সম্পাদন করবে। আর সালাত ততক্ষণ যথাযথ হবে না যতক্ষণ না এর শর্তসমূহ, রোকনসমূহ এবং ওয়াজিবসমূহ আদায় করা হবে—যা অবশ্যই করণীয়—এবং এর পরিপূরক বিষয়সমূহ পালন করা হবে; তবেই তা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হবে।
এগুলো ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই, কারণ ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে এগুলো সুপরিচিত (১)
আর তাঁর কথা 'সালাত' সকল প্রকার সালাতকে অন্তর্ভুক্ত করে: ফরজ এবং নফল। তবে জানাযার সালাত এর অন্তর্ভুক্ত হবে কি না?
এতে উভয় সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যদি শব্দের ব্যাপকতার দিকে তাকাই, তবে বলব: এটি অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটিও সালাত। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (এবং তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনোই তার ওপর সালাত আদায় করবেন না) (আত-তাওবাহ: আয়াত ৮৪)। আর যদি আমরা এ বিবেচনায় দেখি যে, জানাযার সালাত একটি আপৎকালীন ও তাৎক্ষণিক সালাত যার উদ্দেশ্য হলো মৃত ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করা, তবে আমরা বলব: এটি এই হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নয়; তবে এটি ইহসান বা সদাচরণের নির্দেশের সাধারণ ব্যাপকতায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
আর তুমি যাকাত প্রদান করবে—এখানে প্রদান করা অর্থ দেওয়া। আর যাকাত হলো: যাকাতযোগ্য সম্পদে যে পরিমাণ অর্থ ওয়াজিব হয়; যা মানুষ মহান আল্লাহর ইবাদত হিসেবে এবং তাঁর সওয়াবের আশায় হকদারকে দিয়ে থাকে।
এর উদাহরণ: দিরহাম ও দিনারের ওপর যাকাত রয়েছে, আর তা হলো এক-দশমাংশের এক-চতুর্থাংশ; অর্থাৎ আপনি এক-দশমাংশের চার ভাগের এক ভাগ গ্রহণ করবেন যা হলো চল্লিশ ভাগের এক ভাগ, এবং তা হকদারকে প্রদান করবেন।
আর মহান আল্লাহ সূরা আত-তাওবায় যাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণনা করেছেন যে, তারা আটটি শ্রেণি। মহান আল্লাহ বলেছেন: (সদকা তো কেবল ফকির, মিসকিন ও সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, যাদের মন জয় করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাসমুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে এবং মুসাফিরদের জন্য; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এক বিধান) (আত-তাওবাহ: আয়াত ৬০)। অর্থাৎ আল্লাহ আমাদের ওপর এটি ফরজ করেছেন যে, আমরা এদেরকেই দেব এবং অন্য কাউকে দেব না: (আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়)।
--------------------------------------------