(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: -)
رسالة الحجاب   (ابن عثيمين)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: رسالة الحجاب (مطبوع مع رسالة الدماء الطبيعية للنساء)

المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)

الناشر: بدون

عدد الصفحات: 36

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রিসালাতুল হিজাব   (ইবনে উসাইমীন)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: রিসালাতুল হিজাব (নারীদের স্বভাবজাত রক্তস্রাব বিষয়ক পুস্তিকার সাথে মুদ্রিত)

লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)

প্রকাশক: উল্লেখ নেই

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ به من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له. ونشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان وسلم تسليماً كثيراً.

 

أما بعد، فلقد بعث الله تعالى محمداً صلى الله عليه وسلم، بالهدى ودين الحق ليخرج الناس من الظلمات إلى النور بإذن ربهم إلى صراط العزيز الحميد، بعثه الله لتحقيق عبادة الله تعالى، وذلك بتمام الذل والخضوع له تبارك وتعالى بامتثال أوامره واجتناب نواهيه وتقديم ذلك على هوى النفس وشهواتها. وبعثه الله متمماً لمكارم الأخلاق داعياً إليها بكل وسيلة، وهادماً لمساوىء الأخلاق محذراً

 

عنها بكل وسيلة، فجاءت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

অতঃপর, মহান আল্লাহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে হেদায়েত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি মানুষকে তাঁদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে তথা মহাপরাক্রমশালী ও প্রশংসিত সত্তার পথের দিকে বের করে আনেন। আল্লাহ তাঁকে প্রেরণ করেছেন মহান আল্লাহর ইবাদতকে বাস্তবায়নের জন্য, আর তা হলো তাঁর আদেশসমূহ পালন এবং নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে বরকতময় ও সুমহান আল্লাহর সামনে পূর্ণ বিনয় ও বশ্যতা স্বীকার করা এবং নফসের প্রবৃত্তি ও কামনা-বাসনার ঊর্ধ্বে তাঁর আনুগত্যকে অগ্রাধিকার প্রদান করা। আর আল্লাহ তাঁকে পাঠিয়েছেন সচ্চরিত্রের পূর্ণতা দানকারী ও প্রতিটি উপায়ে তার দিকে আহ্বানকারী হিসেবে, এবং মন্দ চরিত্রের বিনাশকারী ও প্রতিটি উপায়ে তা থেকে সতর্ককারী হিসেবে। ফলে

 

তা থেকে প্রতিটি উপায়ে (সতর্ক করেছেন), অতঃপর এসেছে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৭)
شريعته، صلى الله عليه وسلم، كاملة من جميع الوجوه. لا تحتاج إلى مخلوق في تكميلها أو تنظيمها، فإنها من لدن حكيم خبير، عليم بما يصلح عباده رحيم بهم.

 

وإن من مكارم الأخلاق التي بعث بها محمد صلى الله عليه وسلم، ذلك الخلق الكريم، خلق الحياء الذي جعله النبي صلى الله عليه وسلم من الإيمان، وشعبة من شعبه، ولا ينكر أحد أن من الحياء المأمور به شرعاً وعُرفاً احتشام المرأة وتخلقها بالأخلاق التي تبعدها عن مواقع الفتن ومواضع الريب. وإن مما لا شك فيه أن احتجابها بتغطية وجهها ومواضع الفتنة منها لهو من أكبر احتشام تفعله وتتحلى به لما فيه من صونها وإبعادها عن الفتنة.

ولقد كان الناس في هذه البلاد المباركة بلاد الوحي والرسالة والحياء والحشمة كانوا على طريق الاستقامة في ذلك فكان النساء يخرجن متحجبات متجلببات بالعباءة أو نحوها بعيدات عن مخالطة الرجال الأجانب، ولا تزال الحال كذلك في كثير من بلدان المملكة ولله الحمد. لكن لما حصل ما حصل من الكلام حول الحجاب

 

ورؤية من لا يفعلونه ولا يرون بأساً بالسفور صار عند بعض الناس شك في الحجاب وتغطية الوجه هل هو واجب أو مستحب؟ أو شيء يتبع العادات والتقاليد ولا يحكم عليه بوجوب ولا استحباب في حد ذاته؟ ولإزالة هذا الشك وجلاء حقيقة الأمر أحببت أن أكتب ما تيسر لبيان حكمه، راجياً من الله
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শরিয়ত সকল দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ। এর পূর্ণতা বা বিন্যাসের জন্য কোনো সৃষ্টির মুখাপেক্ষী নয়, কেননা এটি প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কোনটি কল্যাণকর তা সম্যক অবগত এবং তাদের প্রতি পরম দয়ালু।

 

মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেসব উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, তার মধ্যে অন্যতম মহৎ গুণ হলো লজ্জাশীলতা (الحياء), যাকে নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈমানের অংশ এবং এর শাখাগুলোর (شعبة) একটি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। আর শরিয়ত ও প্রথাগতভাবে নির্দেশিত লজ্জাশীলতার অন্তর্ভুক্ত হলো নারীর শালীনতা বজায় রাখা এবং এমন চরিত্রে অলঙ্কৃত হওয়া যা তাকে ফিতনা (الفتنة) ও সন্দেহের স্থানসমূহ থেকে দূরে রাখে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুখমণ্ডল ও ফিতনার (الفتنة) উদ্রেককারী অঙ্গসমূহ আবৃত করার মাধ্যমে পর্দা করা তার পালনকৃত অন্যতম শ্রেষ্ঠ শালীনতা ও ভূষণ, যা তাকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং ফিতনা (الفتنة) থেকে দূরে রাখে।

ওহি, রিসালাত, লজ্জা ও শালীনতার এই বরকতময় ভূখণ্ডের মানুষ এ বিষয়ে সঠিক পথে অটল ছিল। নারীরা পর্দা ও বড় চাদর বা অনুরূপ আবরণে আবৃত হয়ে বের হতেন এবং পরপুরুষের সাথে মেলামেশা থেকে দূরে থাকতেন। আল্লাহর প্রশংসায় রাজ্যের অনেক শহরেই অবস্থা এখনো তেমন রয়েছে। কিন্তু যখন হিজাব বা পর্দার বিষয়ে নানা আলোচনা শুরু হলো

 

এবং এমন লোকদের দেখা গেল যারা পর্দা করে না এবং চেহারা উন্মুক্ত রাখাকে (السفور) দোষণীয় মনে করে না, তখন কিছু মানুষের মনে হিজাব ও মুখমণ্ডল আবৃত করার বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি হলো—তা কি ওয়াজিব (واجب) নাকি মুস্তাহাব (مستحب)? নাকি এটি নিছক প্রথা ও সংস্কৃতির অনুগামী বিষয়, যার নিজস্ব কোনো ওয়াজিব (واجب) বা মুস্তাহাব (مستحب) হওয়ার হুকুম নেই? এই সংশয় নিরসন এবং প্রকৃত সত্য উন্মোচনের লক্ষ্যে আমি এর বিধান স্পষ্ট করার জন্য যা সহজসাধ্য তা লেখার ইচ্ছা পোষণ করেছি, আল্লাহর কাছে তাওফিক কামনা করে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৮)
تعالى أن يتضح به الحق، وأن يجعلنا من الهداة المهتدين الذين رأوا الحق حقّاً واتبعوه ورأوا الباطل باطلاً فاجتنبوه فأقول وبالله التوفيق:
আল্লাহ তাআলা যেন এর মাধ্যমে সত্য সুস্পষ্ট করেন এবং আমাদের সেই সকল পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা সত্যকে সত্য হিসেবে প্রত্যক্ষ করে তার অনুসরণ করেছে এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে প্রত্যক্ষ করে তা বর্জন করেছে। অতঃপর আমি বলছি, আর আল্লাহর তাওফীকেই সকল কাজ সম্পন্ন হয়:
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌أدلة وجوب الحجاب

اعلم أيها المسلم أن احتجاب المرأة عن الرجال الأجانب وتغطية وجهها أمر واجب دل على وجوبه كتاب ربك تعالى، وسنة نبيك محمد صلى الله عليه وسلم، والاعتبار الصحيح، والقياس المطرد:

 

‌‌أولا: أدلة القرآن

فمن أدلة القرآن:

* الدليل الأول: قوله تعالى: {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْءَابَآئِهِنَّ أَوْءَابَآءِ بُعُولَتِهِنَّ
হিজাব ওয়াজিব (واجب) হওয়ার দলিলসমূহ

হে মুসলিম! জেনে রাখুন যে, পরপুরুষ থেকে নারীর পর্দা করা এবং তার মুখমণ্ডল আবৃত রাখা একটি ওয়াজিব (واجب) বিষয়; যার আবশ্যকতা নির্দেশ করেছে আপনার মহান রবের কিতাব, আপনার নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (سنة), সঠিক বিবেচনা (الاعتبار الصحيح) এবং সুসংগত কিয়াস (القياس المطرد):

 

প্রথমত: কুরআনের দলিলসমূহ

কুরআনের দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে:

* প্রথম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া। আর তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে তাদের বক্ষদেশ আবৃত করে রাখে। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের স্বামী, তাদের পিতা, তাদের শ্বশুরদের নিকট ব্যতীত...}
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১০)
أَوْ أَبْنَآئِهِنَّ أَوْ أَبْنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَتِهِنَّ أَوْ نِسَآئِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِى الإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُواْ عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَآءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُواْ إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} . (النور: 31) .

 

وبيان دلالة هذه الاية على وجوب الحجاب على المرأة عن الرجال الأجانب وجوه:

 

1 ـ أن الله تعالى أمر المؤمنات بحفظ فروجهن والأمر بحفظ الفرج أمر به وبما يكون وسيلة إليه، ولا يرتاب عاقل أن من وسائله تغطية الوجه؛ لأن كشفه سبب للنظر إليها وتأمل محاسنها والتلذذ بذلك، وبالتالي إلى الوصول والاتصال. وفي الحديث: «العينان تزنيان وزناهما النظر» . إلى أن قال: «والفرج يصدق ذلك أو يكذبه» (1) . فإذا كان تغطية الوجه من وسائل حفظ الفرج كان مأموراً به؛ لأن الوسائل لها أحكام المقاصد.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري كتاب الاستئذان باب زنا الجوارح دون الفرج 6243 مسلم كتاب القدر باب قدر على ابن آدم حظه من الزنا 2657.
...অথবা তাদের পুত্রদের, অথবা তাদের স্বামীদের পুত্রদের, অথবা তাদের ভাইদের, অথবা তাদের ভ্রাতুষ্পুত্রদের, অথবা তাদের ভগিনীপুত্রদের, অথবা তাদের নারীদের, অথবা তাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়েছে, অথবা যৌনকামনাহীন অনুগত পুরুষ পরিচারকদের, অথবা সেই সব শিশুদের যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে এখনো সচেতন হয়নি; আর তারা যেন তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে নিজেদের পদযুগল দ্বারা সজোরে আঘাত না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো। (আন-নূর: ৩১)।

 

অপরিচিত পুরুষদের থেকে নারীর পর্দা অবলম্বন করা আবশ্যক হওয়ার বিষয়ে এই আয়াতের নির্দেশনার দিকগুলো হলো:

 

১. মহান আল্লাহ মুমিন নারীদেরকে তাদের লজ্জাস্থান হিফাযত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর লজ্জাস্থান হিফাযত করার নির্দেশ মূলত লজ্জাস্থান হিফাযত এবং যা এর মাধ্যম বা উপায় হয় তারও নির্দেশ। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এতে সন্দেহ পোষণ করবেন না যে, মুখমণ্ডল আবৃত রাখা এর অন্যতম প্রধান মাধ্যম; কারণ মুখমণ্ডল খোলা রাখা তার দিকে দৃষ্টিপাত করা, তার সৌন্দর্যের প্রতি লক্ষ্য করা এবং তা থেকে তৃপ্তি অর্জনের কারণ হয়ে থাকে, যা পরিণামে নিষিদ্ধ মিলন ও সংযোগ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। আর হাদিসে এসেছে: "চক্ষুদ্বয় ব্যভিচার করে এবং তাদের ব্যভিচার হলো দৃষ্টিপাত করা।" কথাটির সূত্র ধরে তিনি বলেন: "আর লজ্জাস্থান তাকে সত্য প্রমাণিত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে।" (১)। সুতরাং মুখমণ্ডল আবৃত করা যদি লজ্জাস্থান হিফাযতের মাধ্যম হয়, তবে তা নির্দেশিত বিষয়েরই অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ মাধ্যমসমূহ তার মূল উদ্দেশ্যের বিধানেরই অনুগামী হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারী এটি উদ্ধৃত করেছেন, অনুমতি গ্রহণ অধ্যায়, লজ্জাস্থান ব্যতীত অন্যান্য অঙ্গের ব্যভিচার পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৬২৪৩; এবং ইমাম মুসলিম, তকদীর অধ্যায়, আদম সন্তানের ব্যভিচারের অংশ নির্ধারিত থাকা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ২৬৫৭।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১১)
2 ـ قوله تعالى: {وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ} . فإن الخمار ما تخمر به المرأة رأسها وتغطيه به كالغدفة فإذا كانت مأمورة بأن تضرب بالخمار على جيبها كانت مأمورة بستر وجهها، إما لأنه من لازم ذلك، أو بالقياس فإنه إذا وجب ستر النحر والصدر كان وجوب ستر الوجه من باب أولى؛ لأنه موضع الجمال والفتنة. فإن الناس الذين يتطلبون جمال الصورة لا يسألون إلا عن الوجه، فإذا كان جميلاً لم ينظروا إلى ما سواه نظراً ذا أهمية. ولذلك إذا قالوا فلانة جميلة لم يفهم من هذا الكلام إلا جمال الوجه فتبين أن الوجه هو موضع الجمال طلباً وخبراً، فإذا كان كذلك فكيف يفهم أن هذه الشريعة الحكيمة تأمر بستر الصدر والنحر ثم ترخص في كشف الوجه.

 

3 ـ أن الله تعالى نهى عن إبداء الزينة مطلقاً إلا ما ظهر منها، وهي التي لابد أن تظهر كظاهر الثياب ولذلك قال: {إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} لم يقل إلا ما أظهرن منها، ثم نهى مرة أخرى عن إبداء الزينة إلا لمن استثناهم، فدل هذا على أن الزينة الثانية غير الزينة الأولى. فالزينة الأولى هي الزينة الظاهرة التي تظهر لكل أحد ولا يمكن إخفاؤها، والزينة الثانية هي الزينة الباطنة التي يتزين بها، ولو كانت هذه الزينة جائزة لكل أحد لم يكن للتعميم في الأولى والاستثناء في الثانية فائدة معلومة.
2 ـ মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে তাদের বক্ষদেশ আবৃত রাখে}। নিশ্চয়ই 'খিমার' হলো তা, যা দ্বারা নারী তার মাথা আবৃত করে এবং ঢেকে রাখে, যেমনটা চাদর বা ওড়না। সুতরাং নারী যখন তার ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছে, তখন সে তার মুখমণ্ডল আবৃত করার জন্যও আদিষ্ট হয়েছে; হয় একারণে যে এটি তার অপরিহার্য অংশ, অথবা কিয়াসের (قياس) ভিত্তিতে। কেননা যখন গলা ও বক্ষদেশ আবৃত করা ওয়াজিব (واجب) হয়, তখন মুখমণ্ডল আবৃত করার আবশ্যকতা (وجوب) অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য; কারণ এটি সৌন্দর্য ও ফিতনার (فتنة) মূল কেন্দ্র। বস্তুত যারা দৈহিক সৌন্দর্য অন্বেষণ করে, তারা কেবল মুখমণ্ডল সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করে। সুতরাং যদি তা সুন্দর হয়, তবে তারা অন্য কিছুর প্রতি গুরুত্বের সাথে দৃষ্টিপাত করে না। আর এই কারণেই যখন বলা হয় ‘অমুক নারী সুন্দরী’, তখন এই কথা দ্বারা কেবল মুখমণ্ডলের সৌন্দর্যই বোঝা যায়। ফলে প্রমাণিত হয় যে, মুখমণ্ডলই হলো অন্বেষণ ও বিবৃত সৌন্দর্যের মূল স্থান। এমতাবস্থায়, কীভাবে এটি বোধগম্য হতে পারে যে, এই হিকমতপূর্ণ শরয়ি বিধান বক্ষ ও গলা আবৃত করার নির্দেশ দিবে আর মুখমণ্ডল খোলা রাখার অনুমতি (ترخيص) প্রদান করবে?

 

3 ـ মহান আল্লাহ সাধারণভাবে সৌন্দর্য প্রদর্শন করতে নিষেধ করেছেন, কেবল তা ব্যতীত যা আপনা-আপনি প্রকাশ পায়; আর তা হলো যা প্রকাশ হওয়া অনিবার্য যেমন পোশাকের বহির্ভাগ। এই কারণেই তিনি বলেছেন: {যা আপনা-আপনি প্রকাশ পায় তা ব্যতীত}। তিনি এ কথা বলেননি যে, ‘যা তারা প্রকাশ করে তা ব্যতীত’। অতঃপর তিনি দ্বিতীয়বার সৌন্দর্য প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন তাদের ব্যতীত যাদের তিনি ব্যতিক্রমভুক্ত করেছেন। এটি একথারই প্রমাণ বহন করে যে, দ্বিতীয় প্রকারের সৌন্দর্য প্রথম প্রকারের সৌন্দর্য থেকে ভিন্ন। সুতরাং প্রথম প্রকারের সৌন্দর্য হলো প্রকাশ্য সৌন্দর্য যা প্রত্যেকের নিকট প্রকাশিত হয় এবং যা গোপন করা সম্ভব নয়। আর দ্বিতীয় প্রকারের সৌন্দর্য হলো অভ্যন্তরীণ বা কৃত্রিম সৌন্দর্য যা দ্বারা নারী নিজেকে সজ্জিত করে। যদি এই সৌন্দর্য সবার জন্য বৈধ (جائز) হতো, তবে প্রথম ক্ষেত্রে সাধারণীকরণ এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করার কোনো সুস্পষ্ট ফায়দা (فائدة) থাকত না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১২)
4 ـ أن الله تعالى يرخص بإبداء الزينة الباطنة للتابعين غير أولي الإربة من الرجال وهم الخدم الذين لا شهوة لهم، وللطفل الصغير الذي لم يبلغ الشهوة ولم يطلع على عورات النساء فدل هذا على أمرين:

 

أحدهما: أن إبداء الزينة الباطنة لا يحل لأحد من الأجانب إلا لهذين الصنفين.

الثاني: أن علة الحكم ومداره على خوف الفتنة بالمرأة والتعلق بها، ولا ريب أن الوجه مجمع الحسن وموضع الفتنة فيكون ستره واجباً لئلا يفتتن به أولو الإربة من الرجال.

 

5 ـ قوله تعالى: {وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ} .

 

يعني لا تضرب المرأة برجلها فيعلم ما تخفيه من الخلاخيل ونحوها مما تتحلى به للرجل، فإذا كانت المرأة منهية عن الضرب بالأرجل خوفاً من افتتان الرجل بما يسمع من صوت خلخالها ونحوه فكيف بكشف الوجه.

 

فأيما أعظم فتنة أن يسمع الرجل خلخالاً بقدم امرأة لا يدري ما هي وما جمالها؟! لا يدري أشابة هي أم عجوز؟! ولا يدري أشوهاء هي أم حسناء؟! أيما أعظم فتنة هذا أو أن ينظر إلى وجه سافر جميل ممتلىء شباباً ونضارة وحسناً وجمالاً وتجميلاً بما يجلب الفتنة ويدعو إلى النظر
৪ — মহান আল্লাহ পুরুষদের মধ্যে যারা কামনাহীন অনুগামী, অর্থাৎ এমন সেবক যাদের কোনো কামস্পৃহা নেই এবং এমন ছোট শিশু যারা এখনো কামনার স্তরে পৌঁছায়নি এবং নারীদের গোপন অঙ্গসমূহ সম্পর্কে অবহিত নয়, তাদের সামনে অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। এটি দুটি বিষয়ের ওপর প্রমাণ পেশ করে:

 

প্রথমত: এই দুই প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোনো পরপুরুষের জন্য অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য প্রকাশ করা বৈধ নয়।

দ্বিতীয়ত: বিধানটির কারণ এবং এর মূল ভিত্তি হলো নারীর মাধ্যমে ফিতনা সৃষ্টি হওয়া এবং তার প্রতি আসক্ত হওয়ার আশঙ্কা। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুখমণ্ডল হলো সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দু এবং ফিতনার স্থান; সুতরাং তা আবৃত রাখা আবশ্যক, যাতে কামনাসম্পন্ন পুরুষগণ এর দ্বারা ফিতনায় নিপতিত না হয়।

 

৫ — মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা যেন তাদের পদচারণা এমনভাবে না করে যাতে তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ পেয়ে যায়}।

 

অর্থাৎ নারী যেন তার পায়ে সজোরে আঘাত না করে যাতে তার গোপনকৃত নূপুর বা এ জাতীয় অলঙ্কার সম্পর্কে পুরুষ জানতে পারে। সুতরাং নারীকে যদি নূপুরের আওয়াজ শুনে পুরুষের ফিতনায় পড়ার আশঙ্কায় পায়ে আঘাত করতে নিষেধ করা হয়, তবে মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি কেমন হবে?

 

কোনটি অধিকতর ফিতনা—একজন পুরুষ কোনো নারীর পায়ের নূপুরের শব্দ শুনবে অথচ সে জানে না সে নারীটি কে বা তার সৌন্দর্য কেমন?! সে জানে না সে কি যুবতী নাকি বৃদ্ধা?! সে জানে না সে কি কদাকার নাকি সুন্দরী?! কোনটি অধিকতর ফিতনা—এটি, নাকি এমন এক উন্মুক্ত সুন্দর চেহারার দিকে তাকানো যা তারুণ্য, লাবণ্য ও সৌন্দর্যে ভরপুর এবং যা ফিতনা সৃষ্টি করে ও দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে?
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
إليها؟! إن كل إنسان له إربة في النساء ليعلم أي الفتنتين أعظم وأحق بالستر والإخفاء.

 

* الدليل الثاني: قوله تعالى: {وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَآءِ الَّلَتِى لَا يَرْجُونَ نِكَاحاً فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتِ بِزِينَةٍ وَأَن يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَّهُنَّ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عِلِيمٌ} . (النور: 60) .

وجه الدلالة من هذه الاية الكريمة أن الله تعالى نفى الجناح وهو الإثم عن القواعد وهن العواجز اللاتي لا يرجون نكاحاً لعدم رغبة الرجال بهن لكبر سنهن. نفى الله الجناح عن هذه العجائز في وضع ثيابهن بشرط أن لا يكون الغرض من ذلك التبرج بالزينة. ومن المعلوم بالبداهة أنه ليس المراد بوضع الثياب أن يبقين عاريات، وإنما المراد وضع الثياب التي تكون فوق الدرع ونحوه مما لا يستر ما يظهر غالباً كالوجه والكفين فالثياب المذكورة المرخص لهذه العجائز في وضعها هي الثياب السابقة التي
তার দিকে?! নিশ্চয়ই প্রত্যেক মানুষের নারীর প্রতি আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, যাতে সে জানতে পারে কোন ফিতনাটি বৃহত্তর এবং কোনটি গোপন ও আবৃত রাখার অধিক উপযোগী।

 

* দ্বিতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {আর বৃদ্ধা নারী যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য কোনো গুনাহ নেই যদি তারা তাদের পোশাক সরিয়ে রাখে এমনভাবে যে তারা সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী হবে না। তবে তাদের সংযম অবলম্বন করাই তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।}। (আন-নূর: ৬০) ।

এই মহিমান্বিত আয়াত থেকে প্রমাণের দিকটি হলো, আল্লাহ তাআলা বৃদ্ধাদের থেকে গুনাহ তথা অপরাধ নাকচ করেছেন; তারা হলেন সেই সব অতি বৃদ্ধা নারী যারা বার্ধক্যের কারণে পুরুষদের নিকট আকাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় বিবাহের আশা রাখেন না। আল্লাহ এই বৃদ্ধাদের জন্য তাদের পোশাক সরিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুনাহ নাকচ করেছেন, তবে শর্ত হলো এর উদ্দেশ্য যেন সৌন্দর্য প্রদর্শন না হয়। আর স্বতসিদ্ধভাবেই জানা যে, পোশাক সরিয়ে রাখার অর্থ এই নয় যে তারা নগ্ন হয়ে থাকবে; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই পোশাক সরিয়ে রাখা যা কামিজ বা অনুরূপ পোশাকের উপরে পরিধান করা হয় এবং যা সাধারণত মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজির মতো অঙ্গসমূহ—যা অধিকাংশ সময় প্রকাশ পায়—তা আবৃত করে না। সুতরাং উল্লেখিত পোশাক যা এই বৃদ্ধাদের সরিয়ে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা হলো পূর্ববর্তী সেই পোশাক যা
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
تستر جميع البدن وتخصيص الحكم بهؤلاء العجائز دليل على أن الشواب اللاتي يرجون النكاح يخالفنهن في الحكم، ولو كان الحكم شاملاً للجميع في جواز وضع الثياب ولبس درع ونحوه لم يكن لتخصيص القواعد فائدة.

 

وفي قوله تعالى: {غَيْرَ مُتَبَرِّجَتِ بِزِينَةٍ} . دليل آخر على وجوب الحجاب على الشابة التي ترجو النكاح؛ لأن الغالب عليها إذا كشفت وجهها أن تريد التبرج بالزينة وإظهار جمالها وتطلع الرجال لها ومدحهم إياها ونحو ذلك، ومن سوى هذه نادرة والنادر لا حكم له.

 

* الدليل الثالث: قوله تعالى: {يأَيُّهَا النَّبِىُّ قُل لَاِزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَّحِيماً} . (الأحزاب: 59) .

قال ابن عباس رضي الله عنهما: «أمر الله نساء المؤمنين إذا خرجن من بيوتهن في حاجة أن يغطين وجوههن من
সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা এবং এই বৃদ্ধাদের জন্য বিধান (حكم) নির্দিষ্ট করা এই কথার দলিল (دليل) যে, যেসব যুবতী বিবাহের আশা রাখে, বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে তারা এদের থেকে ভিন্ন হবে। আর যদি পোশাক সরিয়ে রাখা এবং কামিজ বা অনুরূপ বস্ত্র পরিধানের বৈধতার বিধান (حكم) সবার জন্য ব্যাপক হতো, তবে বৃদ্ধা নারীদের (القواعد) জন্য বিধানটি নির্দিষ্ট করার কোনো সার্থকতা থাকত না।

 

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সাজসজ্জা প্রদর্শন না করে}। এটি সেই যুবতীর জন্য হিজাব ওয়াজিব (واجب) হওয়ার অন্য একটি দলিল (دليل) যে বিবাহের আশা রাখে; কারণ সাধারণত সে যদি তার মুখমণ্ডল উন্মুক্ত করে, তবে সে সৌন্দর্য প্রদর্শন (تبرج), নিজের রূপ-লাবণ্য প্রকাশ করা এবং পুরুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ও তাদের প্রশংসা লাভ করা ইত্যাদি আকাঙ্ক্ষা করে। এর ব্যতিক্রম যারা, তারা বিরল (نادر), আর বিরল (نادر) বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো সাধারণ বিধান (حكم) প্রযোজ্য হয় না।

 

* তৃতীয় দলিল (دليل): মহান আল্লাহর বাণী: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} (আল-আহযাব: ৫৯)।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: «আল্লাহ মুমিন নারীদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা যখন কোনো প্রয়োজনে তাদের ঘর থেকে বের হবে, তখন তারা যেন তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে রাখে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
فوق رؤوسهن بالجلابيب ويبدين عيناً واحدة» (1) . وتفسير الصحابي حجة، بل قال بعض العلماء إنه في حكم المرفوع إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وقوله رضي الله عنه «ويبدين عيناً واحدة» إنما رخص في ذلك لأجل الضرورة والحاجة إلى نظر الطريق فأما إذا لم يكن حاجة فلا موجب لكشف العين.

 

والجلباب هو الرداء فوق الخمار بمنزلة العباءة. قالت أم سلمة رضي الله عنها لما نزلت هذه الاية: «خرج نساء الأنصار كأن على رؤوسهن الغربان من السكينة وعليهن أكسية سود يلبسنها» (2) . وقد ذكر عبيدة السلماني وغيره أن نساء المؤمنين كن يدنين عليهن الجلابيب من فوق رؤوسهن حتى لا يظهر إلا عيونهن من أجل رؤية الطريق.

 

* الدليل الرابع: قوله تعالى: {لَاّ جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِىءَابَآئِهِنَّ وَلَا أَبْنَآئِهِنَّ وَلَا إِخْواَنِهِنَّ وَلَا أَبْنَآءِ إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَآءِ أَخَوَاتِهِنَّ وَلَا نِسَآئِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ وَاتَّقِينَ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ شَهِيداً} . (الأحزاب: 55) .

--------------------------------------------

(1) ذكره ابن كثير في التفسير 3/569.

(2) رواه ابن أبي حاتم كما في تفسير ابن كثير 2/569.
তাদের মাথার ওপর জিলবাব দ্বারা এবং তারা কেবল একটি চোখ প্রকাশ করবে» (১)। আর সাহাবীর (صحابي) ব্যাখ্যা হলো দলীল (حجة), বরং কোনো কোনো আলেম বলেছেন যে, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মারফু (مرفوع) হওয়ার বিধানভুক্ত। আর তাঁর—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন—উক্তি «তারা কেবল একটি চোখ প্রকাশ করবে» মূলত অনন্যোপায় অবস্থা এবং পথ দেখার প্রয়োজনে অনুমতি দেওয়া হয়েছে; সুতরাং যখন প্রয়োজন থাকবে না, তখন চোখ উন্মুক্ত করার কোনো আবশ্যকতা নেই।

 

জিলবাব হলো খিমারের ওপর পরিধেয় এমন একটি চাদর যা আবায়ার সমতুল্য। উম্মে সালামাহ—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন—বলেন, যখন এই আয়াত নাজিল হলো: «আনসারী মহিলারা এমনভাবে বের হলেন যেন গাম্ভীর্যের কারণে তাদের মাথায় কাক বসে আছে এবং তাদের পরিধানে কালো রঙের চাদর ছিল যা তারা পরিধান করতেন» (২)। উবাইদাহ আস-সালমানী এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, মুমিন মহিলারা তাদের মাথার ওপর থেকে তাদের জিলবাবগুলো ঝুলিয়ে দিতেন যাতে পথ দেখার প্রয়োজনে চোখ ছাড়া আর কিছুই প্রকাশ না পায়।

 

* চতুর্থ দলীল: মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের জন্য কোনো অপরাধ নেই তাদের পিতাদের ক্ষেত্রে, তাদের পুত্রদের ক্ষেত্রে, তাদের ভাইদের ক্ষেত্রে, তাদের ভ্রাতুষ্পুত্রদের ক্ষেত্রে, তাদের ভাগ্নেদের ক্ষেত্রে, তাদের নারীদের ক্ষেত্রে এবং তাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের ক্ষেত্রে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী}। (আল-আহযাব: ৫৫)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসীর তাঁর তাফসিরে ৩/৫৬৯-এ এটি উল্লেখ করেছেন।

(২) এটি ইবনে আবি হাতেম বর্ণনা করেছেন (رواه), যেমনটি ইবনে কাসীরের তাফসিরে ২/৫৬৯-এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
قال ابن كثير رحمه الله: لما أمر الله النساء بالحجاب عن الأجانب بيّن أن هؤلاء الأقارب لا يجب الاحتجاب عنهم كما استثناهم في سورة النور عند قوله تعالى: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ لِبُعُولَتِهِنَّ} . الاية.

 

فهذه أربعة أدلة من القرآن الكريم تفيد وجوب احتجاب المرأة عن الرجال الأجانب، والاية الأولى تضمنت الدلالة عن ذلك من خمسة أوجه.
ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা যখন নারীদেরকে গায়রে-মাহরাম (أجانب) পুরুষদের থেকে পর্দা করার নির্দেশ প্রদান করলেন, তখন তিনি স্পষ্ট করলেন যে এই সকল নিকটাত্মীয়দের থেকে পর্দা করা ওয়াজিব (واجب) নয়, যেমনটি তিনি সূরা আন-নূরে মহান আল্লাহর এই বাণীতে তাদের ব্যতিক্রম করেছেন: {তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তাদের স্বামীরা ব্যতীত...}। আয়াতাংশ।

 

সুতরাং এগুলো কুরআনুল কারীম থেকে চারটি দলিল (أدلة) যা গায়রে-মাহরাম (أجانب) পুরুষদের থেকে নারীর পর্দা করার আবশ্যকতা (وجوب) প্রমাণ করে। আর প্রথম আয়াতটি এ বিষয়ে পাঁচটি দিক (أوجه) থেকে প্রমাণ (دلالة) বহন করছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌ثانياً: أدلة السنة

وأما أدلة السنة فمنها:

الدليل الأول: قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا خطب أحدكم امرأة فلا جناح عليه أن ينظر منها إذا كان إنما ينظر إليها لخطبة وإن كانت لا تعلم» (1) . رواه أحمد.

 

قال في مجمع الزوائد: رجاله رجال الصحيح. وجه الدلالة منه أن النبي صلى الله عليه وسلم، نفى الجناح وهو الإثم عن الخاطب خاصة إذا نظر من مخطوبته بشرط أن يكون نظره للخطبة، فدل هذا على أن غير الخاطب آثم بالنظر إلى الأجنبية بكل حال، وكذلك الخاطب إذا نظر لغير الخطبة مثل أن يكون غرضه بالنظر التلذذ والتمتع به نحو ذلك.

 

فإن قيل: ليس في الحديث بيان ما ينظر إليه. فقد يكون المراد بذلك نظر الصدر والنحر فالجواب أن كل أحد يعلم أن مقصود الخاطب المريد للجمال إنما هو جمال الوجه وما سواه تبع لا يقصد غالباً. فالخاطب إنما ينظر إلى الوجه لأنه المقصود بالذات لمريد الجمال بلا ريب.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الإمام أحمد 24000
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহর দলিলসমূহ

সুন্নাহর দলিলসমূহের মধ্যে রয়েছে:

প্রথম দলিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: «তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন সে যদি তার দিকে বিয়ের প্রস্তাবের উদ্দেশ্যে তাকায়, তবে তার জন্য তার (নারীর) দিকে তাকালে কোনো গুনাহ নেই, যদিও সে (নারীটি) তা না জানে» (১)। এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

 

মাজমাউজ যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলা হয়েছে: এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ (صحيح) গ্রন্থের বর্ণনাকারীগণের অনুরূপ। এ থেকে দালিলিক তাৎপর্য হলো এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্তাবকারীর ওপর থেকে গুনাহ বা পাপ অপসারণ করেছেন বিশেষভাবে যখন সে তার হবু স্ত্রীর দিকে তাকায়, এই শর্তে যে তার এই দৃষ্টি হবে বিয়ের প্রস্তাবের উদ্দেশ্যে। এটি প্রমাণ করে যে, প্রস্তাবকারী ব্যতীত অন্য ব্যক্তি সব অবস্থাতেই বেগানা নারীর দিকে তাকালে পাপী হবে। তদ্রূপ প্রস্তাবকারীও যদি বিয়ের প্রস্তাব ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তাকায়, যেমন তার দৃষ্টির উদ্দেশ্য হয় স্বাদ গ্রহণ করা বা উপভোগ করা অথবা এই জাতীয় কিছু, তবে সেও পাপী হবে।

 

যদি বলা হয়: এই হাদিসে কোন অঙ্গের দিকে তাকাতে হবে তার কোনো বর্ণনা নেই, সুতরাং এর দ্বারা উদ্দেশ্য বুক বা ঘাড়ের দিকে তাকানোও হতে পারে। এর উত্তর হলো, প্রত্যেকেই জানে যে সৌন্দর্য প্রত্যাশী একজন প্রস্তাবকারীর মূল লক্ষ্য হলো চেহারার সৌন্দর্য, আর চেহারা ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা মূলত তার অনুগামী এবং সাধারণত তা উদ্দেশ্য হয় না। সুতরাং প্রস্তাবকারী মূলত চেহারার দিকেই তাকাবে, কারণ সৌন্দর্য অন্বেষণকারীর নিকট নিঃসন্দেহে এটিই হলো মূল লক্ষ্যবস্তু।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ২৪০০০।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
الدليل الثاني: أن النبي صلى الله عليه وسلم لما أمر بإخراج النساء إلى مصلى العيد قلن: يا رسول الله إحدانا لا يكون لها جلباب فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لتلبسها أختها من جلبابها» (1) . رواه البخاري ومسلم وغيرهما. فهذا الحديث يدل على أن المعتاد عند نساء الصحابة أن لا تخرج المرأة إلا بجلباب، وأنها عند عدمه لا يمكن أن تخرج. ولذلك ذكرن رضي الله عنهن هذا المانع لرسول الله صلى الله عليه وسلم، حينما أمرهن بالخروج إلى مصلى العيد فبين النبي صلى الله عليه وسلم، لهن حل هذا الإشكال بأن تلبسها أختها من جلبابها ولم يأذن لهن بالخروج بغير جلباب، مع أن الخروج إلى مصلى العيد مشروع مأمور به للرجال والنساء، فإذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم، لم يأذن لهن بالخروج بغير جلباب فيما هو مأمور به فكيف يرخص لهن في ترك الجلباب لخروج غير مأمور به ولا محتاج إليه؟! بل هو التجول في الأسواق والاختلاط بالرجال والتفرج الذي لا فائدة منه. وفي الأمر بلبس الجلباب دليل على أنه لابد من التستر. والله أعلم.

الدليل الثالث: ما ثبت في الصحيحين عن عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم، يصلي الفجر فيشهد معه نساء من المؤمنات متلفعات بمروطهن ثم يرجعن إلى بيوتهن ما يعرفهن أحد من الغلس (2) . وقالت: لو رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم، من النساء ما رأينا لمنعهن من المساجد كما منعت بنو إسرائيل نساءها. وقد روى نحو

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري كتاب الحيض باب شهود الحائض العيدين 324 ومسلم كتاب صلاة العيدين باب ذكر إباحة خروج النساء في العيدين إلى المصلى 890.

(2) أخرجه البخاري كتاب الصلاة باب في كم تصلي المرأة من الثياب 372 ومسلم كتاب المساجد باب استحباب التكبير بالصبح 645.
দ্বিতীয় দলিল: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন নারীদের ঈদের মাঠে বের হওয়ার নির্দেশ দিলেন, তখন তাঁরা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কারো কারো জিলবাব (চাদর) নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «তার বোন যেন তাকে নিজের জিলবাব থেকে পরিধান করিয়ে দেয়» (১)। এটি বুখারি, মুসলিম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা (روى) করেছেন। এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, সাহাবী নারীদের মাঝে এটিই প্রচলিত রীতি ছিল যে, কোনো নারী জিলবাব ছাড়া বাইরে বের হতেন না এবং জিলবাব না থাকলে তাঁদের পক্ষে বের হওয়া সম্ভব ছিল না। এই কারণেই তাঁরা (রাযিয়াল্লাহু আনহুন্না) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এই প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করেছিলেন যখন তিনি তাঁদের ঈদের মাঠে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদের এই সমস্যার সমাধান দিয়ে বললেন যে, তার বোন যেন তাকে নিজের জিলবাব পরিয়ে দেয়। তিনি তাঁদের জিলবাব ছাড়া বের হওয়ার অনুমতি দেননি, যদিও ঈদের মাঠে যাওয়া পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য শরয়িভাবে নির্দেশিত কাজ। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেখানে একটি নির্দেশিত কাজের জন্য জিলবাব ছাড়া বের হওয়ার অনুমতি দেননি, সেখানে কীভাবে এমন উদ্দেশ্যে জিলবাব ত্যাগের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে যা নির্দেশিত নয় এবং যার প্রয়োজনও নেই?! বরং তা হলো বাজারে উদ্দেশ্যহীন ভ্রমণ, পুরুষদের সাথে মেলামেশা এবং অনর্থক দৃশ্য দর্শন যাতে কোনো কল্যাণ নেই। আর জিলবাব পরিধানের নির্দেশের মাঝে এই দলিল রয়েছে যে, নিজেকে আবৃত রাখা বা পর্দা করা আবশ্যক। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

তৃতীয় দলিল: যা সহীহাইন-এ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজরের সালাত আদায় করতেন, তখন মুমিন নারীরা নিজেদের চাদরে আবৃত হয়ে তাঁর সাথে সালাতে উপস্থিত হতেন, অতঃপর তাঁরা যখন নিজ নিজ ঘরে ফিরে যেতেন, অন্ধকারের কারণে তাঁদের কেউ চিনতে পারত না (২)। তিনি আরও বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীদের বর্তমান অবস্থা যদি দেখতেন যা আমরা দেখছি, তবে তিনি অবশ্যই তাঁদের মসজিদে আসা নিষেধ করতেন, যেমন বনী ইসরাঈল তাঁদের নারীদের নিষেধ করেছিল। আর এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি ‘হায়েয অধ্যায়’, ‘ঋতুবতী নারীর দুই ঈদে উপস্থিত হওয়া অনুচ্ছেদ’, হাদিস নং ৩২৪; এবং মুসলিম ‘দুই ঈদের সালাত অধ্যায়’, ‘নারীদের ঈদের মাঠে বের হওয়ার বৈধতা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ’, হাদিস নং ৮৯০-এ বর্ণনা (أخرج) করেছেন।

(২) এটি বুখারি ‘সালাত অধ্যায়’, ‘নারী কতটি কাপড়ে সালাত আদায় করবে অনুচ্ছেদ’, হাদিস নং ৩৭২; এবং মুসলিম ‘মসজিদসমূহ অধ্যায়’, ‘ভোরে ফজরের সালাত আদায় করা মুস্তাহাব হওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ’, হাদিস নং ৬৪৫-এ বর্ণনা (أخرج) করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
هذا عبد الله بن مسعود رضي الله عنه. والدلالة في هذا الحديث من وجهين:

 

أحدهما: أن الحجاب والتستر كان من عادة نساء الصحابة الذين هم خير القرون، وأكرمها على الله عز وجل، وأعلاها أخلاقاً وآداباً، وأكملها إيماناً، وأصلحها عملاً فهم القدوة الذين رضي الله عنهم وعمن اتبعوهم بإحسان، كما قال تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الَاْوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِىَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَآ أَبَداً ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} . (التوبة: 100) . فإذا كانت تلك طريقة نساء الصحابة فكيف يليق بنا أن نحيد عن تلك الطريقة التي في اتباعها بإحسان رضى الله تعالى عمن سلكها واتبعها، وقد قال الله تعالى: {وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَآءَتْ مَصِيراً} . (النساء: 115) .

الثاني: أن عائشة أم المؤمنين وعبد الله بن مسعود رضي الله عنهما وناهيك بهما علماً وفقهاً وبصيرة في دين الله ونصحاً لعباد الله أخبرا بأن رسول الله صلى الله عليه وسلم، لو رأى من النساء ما رأياه لمنعهن من المساجد، وهذا في زمان القرون المفضلة تغيرت الحال عما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم، إلى حد يقتضي منعهن من المساجد. فكيف بزماننا هذا بعد نحو
ইনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। আর এই হাদিসের মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশনাটি দুই দিক থেকে:

 

প্রথমত: পর্দা এবং নিজেকে আবৃত রাখা সাহাবীগণের নারীদের রীতি ছিল, যারা ছিলেন শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক সম্মানিত, উন্নত চরিত্র ও শিষ্টাচারের অধিকারী, ঈমানের দিক থেকে পূর্ণতম এবং আমলের দিক থেকে সর্বাধিক সৎকর্মশীল। তাঁরাই হলেন সেই আদর্শ যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে তাদের প্রতিও তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন; আর তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।} (আত-তাওবাহ: ১০০)। সুতরাং, এটি যদি সাহাবীগণের নারীদের পথ হয়ে থাকে, তবে আমাদের জন্য সেই পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া কীভাবে সমীচীন হতে পারে, যে পথ নিষ্ঠার সাথে অনুসরণের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয়? অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথের অনুসরণ করবে, তাকে আমি সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর তা অত্যন্ত মন্দ আবাস।} (আন-নিসা: ১১৫)।

দ্বিতীয়ত: উম্মুল মুমিনীন আয়েশা এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)—যাঁদের ইলম, ফিকহ, আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি এবং আল্লাহর বান্দাদের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষার বিষয়টি আপনার জন্য যথেষ্ট—তাঁরা সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের অবস্থা যা তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন তা যদি দেখতেন, তবে অবশ্যই তাঁদের মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। এটি ছিল সেই শ্রেষ্ঠ যুগগুলোর সময়ের কথা, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের তুলনায় পরিস্থিতির পরিবর্তন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যা তাঁদের মসজিদে আসা থেকে বারণ করাকে আবশ্যক করে তুলেছিল। তবে প্রায় কয়েক শতাব্দী অতিবাহিত হওয়ার পর আমাদের এই বর্তমান সময়ের অবস্থা কী হতে পারে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২০)
ثلاثة عشر قرناً وقد اتسع الأمر وقل الحياء وضعف الدين في قلوب كثير من الناس؟!

 

وعائشة وابن مسعود رضي الله عنهما فهما ما شهدت به نصوص الشريعة الكاملة من أن كل أمر يترتب عليه محذور فهو محظور.

 

الدليل الرابع: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «من جر ثوبه خيلاء لم ينظر الله إليه يوم القيامة» . فقالت أم سلمة فكيف يصنع النساء بذيولهن؟ قال: «يرخينه شبراً» . قالت إذن تنكشف أقدامهن. قال: «يرخينه ذراعاً ولا يزدن عليه» (1) . ففي هذا الحديث دليل على وجوب ستر قدم المرأة وأنه أمر معلوم عند نساء الصحابة رضي الله عنهم، والقدم أقل فتنة من الوجه والكفين بلا ريب. فالتنبيه بالأدنى تنبيه على ما فوقه وما هو أولى منه بالحكم، وحكمة الشرع تأبى أن يجب ستر ما هو أقل فتنة ويرخص في كشف ما هو أعظم منه فتنة، فإن هذا من التناقض المستحيل على حكمة الله وشرعه.

الدليل الخامس: قوله صلى الله عليه وسلم: «إذا كان لإحداكن مكاتب وكان عنده ما يؤدي فلتحتجب منه» . رواه الخمسة إلا النسائي وصححه الترمذي (2) . وجه الدلالة من هذا الحديث أنه يقتضي أن كشف السيدة وجهها لعبدها جائز مادام في

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي أبواب اللباس باب ما جاء في ذيول النساء 1731 والنسائي كتاب الزينة ذيول النساء 5338 وقال الترمذي حسن صحيح.

(2) أخرجه الإمام أحمد 27006 وأبو داوود كتاب العتق باب في المكاتب يؤدي بعض كتابه فيعجز أو يموت 3928 والترمذي أبواب البيوع باب ما جاء في المكاتب إذا كان عنده ما يؤدي 1261 وابن ماجة أبواب العتق باب المكاتب 2520.
তেরোটি শতাব্দী অতিক্রান্ত হয়েছে, অথচ বিষয়টি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে, লজ্জা কমে গেছে এবং বহু মানুষের অন্তরে দ্বীনের প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়েছে?!

 

আয়েশা ও ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) উভয়েই পূর্ণাঙ্গ শরীয়তের সেই সব দলীলসমূহ থেকে এটিই অনুধাবন করেছিলেন যে, যে কাজের পরিণতিতে কোনো নিষিদ্ধ (محذور) বিষয় জন্ম নেয়, তা নিষিদ্ধ (محظور)।

 

চতুর্থ প্রমাণ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি অহংকারবশত তার কাপড় মাটির সাথে টেনে চলবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না»। তখন উম্মে সালামাহ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, মহিলারা তাদের কাপড়ের ঝুলের ক্ষেত্রে কী করবে? তিনি বললেন: «তারা এক বিঘত ঝুলিয়ে রাখবে»। উম্মে সালামাহ (রা.) বললেন, তবে তো তাদের পা অনাবৃত হয়ে পড়বে। তিনি বললেন: «তারা এক হাত ঝুলিয়ে রাখবে এবং এর বেশি বাড়াবে না» (১)। সুতরাং এই হাদিসটির মধ্যে নারীর পা আবৃত রাখা ওয়াজিব (واجب) হওয়ার দলীল রয়েছে এবং এটি সাহাবী (রা.)-দের নারীদের কাছে একটি সুপরিচিত বিষয় ছিল। আর নিঃসন্দেহে পা মুখমন্ডল ও কব্জিদ্বয়ের চেয়ে কম ফিতনাহ সৃষ্টিকারী। সুতরাং নিম্নতর বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করা মূলত উচ্চতর এবং বিধানের ক্ষেত্রে যা অধিকতর অগ্রগণ্য তার প্রতি নির্দেশ করার নামান্তর। শরীয়তের হিকমত বা প্রজ্ঞা এটি অস্বীকার করে যে, যা কম ফিতনাহ সৃষ্টিকারী তা ঢাকা ওয়াজিব (واجب) হবে আর যা অধিকতর ফিতনাহ সৃষ্টিকারী তা উন্মুক্ত রাখার অনুমতি (رخصة) দেওয়া হবে। কারণ এটি এমন এক বৈপরীত্য যা আল্লাহর হিকমত ও তাঁর শরীয়তের ক্ষেত্রে অসম্ভব।

পঞ্চম প্রমাণ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী: «তোমাদের কারো যদি এমন কোনো মুকাতাব (مكاتب) থাকে যার নিকট (মুক্তির জন্য) আদায় করার মতো সম্পদ রয়েছে, তবে সে যেন তার থেকে পর্দা (حجاب) করে»। এটি নাসায়ি ব্যতীত পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযি এটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন (২)। এই হাদিস থেকে দলীল গ্রহণের দিকটি হলো, এটি দাবি করে যে কর্ত্রীর জন্য তার দাসের সামনে মুখমন্ডল খোলা রাখা জায়েজ (جائز) যতক্ষণ না সে...

--------------------------------------------

(১) তিরমিযি এটি পোশাক অধ্যায়, নারীদের কাপড়ের ঝুল পরিচ্ছেদ, ১৭৩১ এবং নাসায়ি এটি সৌন্দর্য অধ্যায়, নারীদের কাপড়ের ঝুল, ৫৩৩৮-এ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযি বলেছেন এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)।

(২) ইমাম আহমাদ ২৭০০৬, আবু দাউদ, দাসমুক্তি অধ্যায়, মুকাতাব যে তার চুক্তির কিছু অংশ আদায় করে অতঃপর অপারগ হয়ে যায় বা মারা যায় পরিচ্ছেদ, ৩৯২৮, তিরমিযি, ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়, মুকাতাবের নিকট যখন আদায়ের মতো কিছু থাকে পরিচ্ছেদ, ১২৬১ এবং ইবনে মাজাহ, দাসমুক্তি অধ্যায়, মুকাতাব পরিচ্ছেদ, ২৫২০-এ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২১)
ملكها فإذا خرج منه وجب عليها الاحتجاب لأنه صار أجنبياً فدل على وجوب احتجاب المرأة عن الرجل الأجنبي.

الدليل السادس: عن عائشة رضي الله عنها قالت: «كان الركبان يمرون بنا ونحن محرمات مع الرسول صلى الله عليه وسلم، فإذا حاذونا سدلت إحدانا جلبابها على وجهها من رأسها. (1) فإذا جاوزونا كشفناه» ، رواه أحمد وأبو داود وابن ماجه. ففي قولها: «فإذا جاوزونا» تعني الركبان «سدلت إحدانا جلبابها على وجهها» دليل على وجوب ستر الوجه لأن المشروع في الإحرام كشفه، فلولا وجود مانع قوي من كشفه حينئذ لوجب بقاؤه مكشوفاً. وبيان ذلك أن كشف الوجه في الإحرام واجب على النساء عند الأكثر من أهل العلم والواجب لا يعارضه إلا ما هو واجب، فلولا وجوب الاحتجاب وتغطية الوجه عن الأجانب ما ساغ ترك الواجب من كشفه حال الإحرام، وقد ثبت في الصحيحين وغيرها أن المرأة المحرمة تنهى عن النقاب والقفازين. قال شيخ الإسلام ابن تيمية: وهذا مما يدل على أن النقاب والقفازين كانا معروفين في النساء اللاتي لم يحرمن وذلك يقتضي ستر وجوههن وأيديهن. فهذه ستة أدلة من السنة على وجوب احتجاب المرأة وتغطية وجهها عن الرجال الأجانب أضف إليها أدلة القرآن الأربعة تكن عشرة أدلة من الكتاب والسنة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الإمام أحمد 24522 وأبو داوود كتاب المناسك باب في المحرمة تغطي وجهها 1833.
তার মালিকানাধীন থাকা অবস্থায়; অতঃপর যখন সে মালিকানা থেকে বের হয়ে যায়, তখন তার ওপর পর্দা করা ওয়াজিব (واجب) হয়ে যায়। কারণ সে তখন পরপুরুষ (أجنبي) হয়ে যায়। এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, পরপুরুষের (أجنبي) সামনে নারীর পর্দা করা ওয়াজিব (واجب)।

ষষ্ঠ দলিল: আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইহরাম অবস্থায় আমরা যখন পথ চলতাম, তখন আরোহী দল আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করত। তারা যখন আমাদের মুখোমুখি হতো, তখন আমাদের প্রত্যেকেই তার মাথার জিলবাব বা চাদরটি মুখমণ্ডলের ওপর ঝুলিয়ে দিতাম। (১) তারা যখন আমাদের অতিক্রম করে চলে যেত, তখন আমরা তা সরিয়ে নিতাম।" এটি আহমদ, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। তাঁর এই উক্তি—"যখন তারা আমাদের মুখোমুখি হতো" অর্থাৎ আরোহী দল, "তখন আমাদের প্রত্যেকেই তার জিলবাব দিয়ে মুখমণ্ডল ঢেকে নিত"—এটি মুখমণ্ডল আবৃত করা ওয়াজিব (واجب) হওয়ার দলিল। কারণ ইহরাম অবস্থায় মুখমণ্ডল খোলা রাখা শরিয়তসম্মত (مشروع); সুতরাং তখন মুখ খোলা রাখার ক্ষেত্রে যদি কোনো শক্তিশালী প্রতিবন্ধক না থাকত, তবে তা খোলা রাখাই ওয়াজিব (واجب) হতো। এর ব্যাখ্যা হলো, অধিকাংশ আলেমগণের (أهل العلم) মতে ইহরাম অবস্থায় নারীর জন্য মুখমণ্ডল খোলা রাখা ওয়াজিব (واجب), আর একটি ওয়াজিবের (واجب) সাথে অপর একটি ওয়াজিব (واجب) ছাড়া অন্য কিছু সাংঘর্ষিক হতে পারে না। সুতরাং পরপুরুষদের (أجانب) সামনে পর্দা করা এবং মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা যদি ওয়াজিব (واجب) না হতো, তবে ইহরাম অবস্থায় মুখ খোলা রাখার মতো একটি ওয়াজিব (واجب) বর্জন করা বৈধ হতো না। তাছাড়া সহীহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে প্রমাণিত আছে যে, ইহরামকারী নারীকে নিকাব ও হাতমোজা পরতে নিষেধ করা হয়েছে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "এটি প্রমাণ করে যে, যেসব নারী ইহরাম অবস্থায় ছিল না, তাদের মধ্যে নিকাব ও হাতমোজা ব্যবহারের প্রচলন ছিল। আর এটি তাদের মুখমণ্ডল ও হাত আবৃত রাখাকেই আবশ্যক করে।" এগুলো হলো পরপুরুষদের (أجانب) সামনে নারীর পর্দা করা এবং মুখমণ্ডল আবৃত রাখার বিষয়ে সুন্নাহ থেকে ছয়টি দলিল। এর সাথে কুরআনের চারটি দলিল যুক্ত করলে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে মোট দশটি দলিল পূর্ণ হয়।

--------------------------------------------

(১) এটি ইমাম আহমদ (২৪৫২২) এবং আবু দাউদ 'কিতাবুল মানাসিক'-এর 'ইহরামকারী নারীর মুখমণ্ডল আবৃত করা' অধ্যায়ে (১৮৩৩) বর্ণনা করেছেন (أخرجه)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ثالثاً: أدلة القياس

الدليل الحادي عشر: الاعتبار الصحيح والقياس المطرد الذي جاءت به هذه الشريعة الكاملة وهو إقرار المصالح ووسائلها والحث عليها، وإنكار المفاسد ووسائلها والزجر عنها. فكل ما كانت مصلحته خالصة أو راجحة على مفسدته فهو مأمور به أمر إيجاب أو أمر استحباب. وكل ما كانت مفسدته خالصة أو راجحة على مصلحة فهو نهي تحريم أو نهي تنزيه. وإذا تأملنا السفور وكشف المرأة وجهها للرجال الأجانب وجدناه يشتمل على مفاسد كثيرة وإن قدر فيه مصلحة فهي يسيرة منغمرة في جانب المفاسد. فمن مفاسده:

 

1 ـ الفتنة، فإن المرأة تفتن نفسها بفعل ما يجمل وجهها ويبهيه ويظهره بالمظهر الفاتن. وهذا من أكبر دواعي الشر والفساد.

 

2 ـ زوال الحياء عن المرأة الذي هو من الإيمان ومن مقتضيات فطرتها. فقد كانت المرأة مضرب المثل في
তৃতীয়ত: অনুমানের (قياس) দলীলসমূহ

একাদশতম দলীল: সঠিক (صحيح) বিবেচনা এবং সুশৃঙ্খল অনুমান (القياس المطرد) যা এই পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহ (شريعة) নিয়ে এসেছে; আর তা হলো জনকল্যাণ (المصالح) ও তার মাধ্যমসমূহকে স্বীকৃতি প্রদান ও তাতে উৎসাহিত করা এবং অনিষ্ট (المفاسد) ও তার মাধ্যমসমূহকে প্রত্যাখ্যান করা ও তা থেকে সতর্ক করা। সুতরাং যে বিষয়ের কল্যাণ বিশুদ্ধ (خالصة) অথবা তার অনিষ্টের তুলনায় প্রবল (راجحة), সেটি আদিষ্ট বিষয়—চাই তা আবশ্যিক (إيجاب) হোক বা পছন্দনীয় (استحباب)। আর যে বিষয়ের অনিষ্ট বিশুদ্ধ (خالصة) অথবা তার কল্যাণের তুলনায় প্রবল (راجحة), সেটি নিষিদ্ধ বিষয়—চাই তা হারাম (تحريم) হোক বা অপছন্দনীয় (تنزيه)। আমরা যদি বেপর্দা (سفور) হওয়া এবং পরপুরুষের (أجانب) নিকট নারীর মুখমণ্ডল উন্মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করি, তবে দেখতে পাই যে এটি বহু অনিষ্ট (مفاسد) সমৃদ্ধ। যদি এতে কোনো কল্যাণ ধরেও নেওয়া হয়, তবে তা অত্যন্ত নগণ্য যা অনিষ্টের ভিড়ে নিমজ্জিত। এর অনিষ্টসমূহের মধ্যে রয়েছে:

 

১ — ফিতনা (الفتنة); কেননা নারী তার মুখমণ্ডলকে সৌন্দর্যমণ্ডিত ও উজ্জ্বল করার মাধ্যমে এবং আকর্ষণীয় রূপে প্রকাশের মাধ্যমে নিজেকে ফিতনার (فتنة) শিকারে পরিণত করে। আর এটি মন্দ ও ফাসাদের (فساد) অন্যতম প্রধান কারণ।

 

২ — নারীর মধ্য থেকে লজ্জা (الحياء) বিলুপ্ত হওয়া, যা ঈমানের (إيمان) অংশ এবং তার স্বভাবজাত প্রকৃতির (فطرة) অন্যতম দাবি। নারী তো এক সময় উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হতো...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
الحياء. «أحيا من العذراء في خدرها» ، وزوال الحياء عن المرأة نقص في إيمانها، وخروج عن الفطرة التي خلقت عليها.

 

3 ـ افتتان الرجال بها لاسيما إذا كانت جميلة وحصل منها تملق وضحك ومداعبة في كثير من السافرات وقد قيل «نظرة فسلام، فكلام، فموعد فلقاء» .

 

والشيطان يجري من ابن آدم مجرى الدم. فكم من كلام وضحك وفرح أوجب تعلق قلب الرجل بالمرأة، وقلب المرأة بالرجل فحصل بذلك من الشر ما لا يمكن دفعه نسأل الله السلامة.

4 ـ اختلاط النساء بالرجال، فإن المرأة إذا رأت نفسها مساوية للرجل في كشف الوجه والتجول سافرة لم يحصل منها حياء ولا خجل من مزاحمة، وفي ذلك فتنة كبيرة وفساد عريض. وقد خرج النبي صلى الله عليه وسلم، ذات يوم من المسجد وقد اختلط النساء مع الرجال في الطريق فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «استأخرن فإنه ليس لكن أن تحتضن الطريق. عليكن بحافات الطريق» (1) . فكانت المرأة تلصق بالجدار حتى إن ثوبها ليتعلق به من لصوقها. ذكره ابن كثير عند تفسير قوله تعالى: {وَقُل لِّلْمُؤْمِنَتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَرِهِنَّ} .

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داوود أبواب السلام باب في مشي النساء مع الرجال في الطريق 5272.
লজ্জা। "পর্দার অন্তরালে থাকা কুমারী কন্যার চেয়েও বেশি লাজুক।" আর নারীর মধ্য থেকে লজ্জা চলে যাওয়া তার ঈমানের ঘাটতি এবং সেই ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির পরিপন্থী যার ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

 

৩- পুরুষদের তার প্রতি প্রলুব্ধ হওয়া, বিশেষ করে যদি সে সুন্দরী হয় এবং অনেক পর্দাহীন নারীর ন্যায় তার পক্ষ থেকে তোষামোদপূর্ণ আচরণ, হাসি ও ঠাট্টা-তামাশা প্রকাশ পায়। প্রবাদে বলা হয়ে থাকে— "প্রথমে দৃষ্টিপাত, তারপর সালাম, তারপর কথা, তারপর সাক্ষাতের প্রতিশ্রুতি এবং সবশেষে সাক্ষাৎ।"

 

আর শয়তান আদম সন্তানের রক্ত প্রবাহের ন্যায় শরীরে চলাচল করে। কতই না কথা, হাসি ও আনন্দ পুরুষের মনকে নারীর প্রতি এবং নারীর মনকে পুরুষের প্রতি আসক্ত করেছে, যার ফলে এমন অনিষ্ট সাধিত হয়েছে যা প্রতিহত করা সম্ভব নয়। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।

৪- পুরুষদের সাথে নারীদের অবাধ মেলামেশা। কেননা নারী যখন মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখা এবং বেপর্দা অবস্থায় চলাফেরার ক্ষেত্রে নিজেকে পুরুষের সমতুল্য মনে করে, তখন ভিড়ের মধ্যে মেলামেশা করতে তার মাঝে কোনো লজ্জা বা সংকোচ কাজ করে না। আর এতে রয়েছে বড় ধরনের ফেতনা ও ব্যাপক বিপর্যয়। একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হলেন এবং দেখলেন যে রাস্তায় নারী ও পুরুষরা মিলেমিশে গেছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমরা পিছিয়ে চলো, কারণ রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলা তোমাদের জন্য সমীচীন নয়। তোমরা রাস্তার পাশ দিয়ে চলো।" (১)। তখন মহিলারা দেয়ালের সাথে এমনভাবে ঘেঁষে চলতেন যে, দেয়ালের সাথে লেগে থাকার কারণে তাদের কাপড় সেখানে আটকে যেত। ইবনে কাসীর মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসীরে এটি উল্লেখ করেছেন: "আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে।"

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি সংকলন করেছেন (أخرجه), সালাম অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: রাস্তায় পুরুষদের সাথে নারীদের চলাফেরা প্রসঙ্গে, ৫২৭২।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقد نص شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله على وجوب احتجاب المرأة عن الرجال الأجانب، فقال في الفتاوى المطبوعة أخيراً ص 110 ج 2 من الفقه و22 من المجموع: (وحقيقة الأمر أن الله جعل الزينة زينتين: زينة ظاهرة، وزينة غير ظاهرة، ويجوز لها إبداء زينتها الظاهرة لغير الزوج وذوات المحارم، وكانوا قبل أن تنزل آية الحجاب كان النساء يخرجن بلا جلباب يرى الرجل وجهها ويديها وكان إذ ذاك يجوز لها أن تظهر الوجه والكفين، وكان حينئذ يجوز النظر إليها لأنه يجوز لها إظهاره. ثم لما أنزل الله آية الحجاب بقوله: {يأَيُّهَا النَّبِىُّ قُل لَاِزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ} (حجب النساء عن الرجال) . ثم قال: (والجلباب هو الملاءة وهو الذي يسميه ابن مسعود وغيره الرداء وتسميه العامة الإزار وهو الإزار الكبير الذي يغطي رأسها وسائر بدنها، ثم يقال: فإذا كن مأمورات بالجلباب لئلا يعرفن وهو ستر الوجه أو ستر الوجه بالنقاب كان الوجه واليدان من الزينة التي أمرت أن لا تظهرها للأجانب، فما بقي يحل للأجانب النظر إلى الثياب الظاهرة فابن مسعود ذكر آخر الأمرين، وابن عباس ذكر أول الأمرين) إلى أن قال: (وعكس ذلك الوجه واليدان والقدمان ليس لها أن تبدي ذلك للأجانب على أصح القولين بخلاف ما كان قبل النسخ بل لا تبدي إلا الثياب) . وفي ص 117، 118 من الجزء المذكور (وأما وجهها ويداها وقدماها فهي إنما

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) পরপুরুষদের (الأجانب) নিকট থেকে মহিলার পর্দা করার আবশ্যকতা (وجوب) সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি সম্প্রতি মুদ্রিত ফাতওয়ার ফিকহ অংশের ২য় খণ্ডের ১১০ পৃষ্ঠা এবং 'মজমুউল ফাতাওয়া'-র ২২তম খণ্ডে বলেছেন: (প্রকৃত বিষয়টি হলো, আল্লাহ সৌন্দর্যকে (زينة) দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রকাশ্য সৌন্দর্য (زينة ظاهرة) এবং অপ্রকাশ্য সৌন্দর্য (زينة غير ظاهرة)। স্বামী এবং মাহরাম (المحارم) ব্যক্তিদের ব্যতীত অন্যদের সামনে মহিলার জন্য তার প্রকাশ্য সৌন্দর্য (زينة ظاهرة) প্রকাশ করা জায়েজ (يجوز)। পর্দার আয়াত নাজিল হওয়ার পূর্বে মহিলারা জিলবাব (جلباب) ছাড়াই বাইরে বের হতেন, ফলে পুরুষরা তাদের মুখমণ্ডল ও হাত দেখতে পেত। সেই সময় মহিলার জন্য মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত হাত প্রদর্শন করা জায়েজ (يجوز) ছিল এবং তখন তাদের দিকে তাকানোও জায়েজ (يجوز) ছিল; কারণ তখন তা প্রদর্শন করা বৈধ ছিল। অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা এই বাণীর মাধ্যমে পর্দার আয়াত নাজিল করলেন: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}, এর মাধ্যমে নারীদের পুরুষদের থেকে পর্দার আড়ালে (حجب) নেওয়া হয়।)

এরপর তিনি বলেন: (আর জিলবাব (جلباب) হলো চাদর, যাকে ইবনে মাসউদ এবং অন্যান্যরা 'রিদা' (الرداء) বলতেন এবং সাধারণ মানুষ একে 'ইজার' (الإزار) বলত। এটি এমন এক বিশাল চাদর যা মহিলার মাথা এবং পুরো শরীর ঢেকে রাখে। অতঃপর বলা হয়: যদি তারা জিলবাব (جلباب) পরিধানের জন্য আদিষ্ট হয়ে থাকে যাতে তাদের চেনা না যায়—আর তা হলো মুখমণ্ডল ঢাকা অথবা নেকাবের (النقاب) মাধ্যমে মুখমণ্ডল আবৃত করা—তবে মুখমণ্ডল ও হাত সেই সৌন্দর্যের (زينة) অন্তর্ভুক্ত যা পরপুরুষদের (الأجانب) সামনে প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুতরাং পরপুরুষদের (الأجانب) জন্য কেবল ওপরের পোশাকের দিকে তাকানো বৈধ (يحل) হিসেবে অবশিষ্ট থাকল। ইবনে মাসউদ (রা.) শেষোক্ত বিধানটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আব্বাস (রা.) প্রথমদিকের বিধানটি উল্লেখ করেছেন।)

পরবর্তীতে তিনি বলেন: (এর বিপরীত হলো মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা; দুটি মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মত (أصح القولين) অনুযায়ী পরপুরুষদের (الأجانب) সামনে তা প্রকাশ করা তার জন্য বৈধ নয়, যা রহিতকরণের (النسخ) পূর্ববর্তী বিধানের বিপরীত। বরং সে ওপরের পোশাক ব্যতীত অন্য কিছু প্রকাশ করবে না।)

উক্ত খণ্ডের ১১৭ ও ১১৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে: (আর তার মুখমণ্ডল, দুই হাত ও দুই পা কেবল...

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
نهيت عن إبداء ذلك للأجانب لم تنه عن إبدائه للنساء ولا لذوي المحارم) وفي ص 152 من هذا الجزء قال: (وأصل هذا أن تعلم أن الشارع له مقصودان: أحدهما الفرق بين الرجال والنساء. الثاني: احتجاب النساء) .

هذا كلام شيخ الإسلام، وأما كلام غيره من فقهاء أصحاب الإمام أحمد فأذكر المذهب عند المتأخرين قال في المنتهى (ويحرم نظر خصي ومجبوب إلى أجنبية) وفي موضع آخر من الإقناع (ولا يجوز النظر إلى الحرة الأجنبية قصداً ويحرم نظر شعرها) وقال في متن الدليل: (والنظر ثمانية أقسام … ) .

 

الأول: نظر الرجل البالغ ولو مجبوباً للحرة البالغة الأجنبية لغير حاجة فلا يجوز له نظر شيء منها حتى شعرها المتصل أ. هـ

 

وأما كلام الشافعية فقالوا إن كان النظر لشهوة أو خيفت الفتنة به فحرام قطعاً بلا خلاف، وإن كان النظر بلا شهوة ولا خوف فتنة ففيه قولان حكاهما في شرح الإقناع لهم وقال: (الصحيح يحرم كما في المنهاج كأصله ووجه الإمام باتفاق المسلمين على منع النساء من الخروج سافرات الوجوه وبأن النظر مظنة للفتنة ومحرك للشهوة) .

 

وقد قال الله تعالى: {قُلْ لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنْ أَبْصَرِهِمْ} . واللائق بمحاسن الشريعة سد الباب
(আপনি পরপুরুষের সামনে তা প্রকাশ করতে নিষিদ্ধ হলেও নারী বা মাহরামদের সামনে তা প্রকাশ করতে নিষিদ্ধ নন।) এবং এই খণ্ডের ১৫২ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন: (এর মূল ভিত্তি হলো এটি জানা যে, শরিয়ত প্রণেতার দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে: একটি হলো পুরুষ ও নারীর মধ্যে পার্থক্য বিধান করা। দ্বিতীয়টি হলো নারীদের পর্দা।)

এগুলো শায়খুল ইসলামের বক্তব্য। আর ইমাম আহমদের অনুসারী অন্যান্য ফকিহগণের বক্তব্য সম্পর্কে আমি পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট মাযহাবের সিদ্ধান্ত উল্লেখ করছি। আল-মুনতাহা গ্রন্থে বলা হয়েছে: (একজন নপুংসক বা লিঙ্গহীন ব্যক্তির জন্যও পরনারীর দিকে তাকানো হারাম)। আল-ইকনা গ্রন্থের অন্য এক স্থানে বলা হয়েছে: (ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্বাধীন পরনারীর দিকে তাকানো জায়েজ নয় এবং তার চুলের দিকে তাকানো হারাম)। মাতনুদ দালিল গ্রন্থে বলা হয়েছে: (দৃষ্টিপাত আট প্রকার … )।

 

প্রথম: প্রয়োজন ব্যতীত প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীন পরনারীর প্রতি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দৃষ্টিপাত, যদিও সে লিঙ্গহীন হয়। তার দেহের কোনো অংশের দিকে তাকানো তার জন্য জায়েজ নয়, এমনকি তার মাথার সংযুক্ত চুলের দিকেও। সমাপ্ত।

 

আর শাফেয়ীগণের বক্তব্যের ক্ষেত্রে তারা বলেছেন, যদি দৃষ্টিপাত লালসা বা ফিতনার আশঙ্কায় হয়, তবে তা কোনো মতভেদ ছাড়াই অকাট্যভাবে হারাম। আর যদি লালসা বা ফিতনার আশঙ্কা ছাড়াই হয়, তবে সেক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে যা তাদের আল-ইকনা-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: (সঠিক (الصحيح) মতানুযায়ী এটি হারাম, যেমনটি আল-মিনহাজ ও তার মূল গ্রন্থে রয়েছে। ইমাম মুসলিমদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এটি ব্যক্ত করেছেন যে, নারীদের চেহারা খোলা রেখে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত রাখা হবে এবং দৃষ্টিপাত হলো ফিতনার ক্ষেত্র ও লালসা উদ্রেককারী)।

 

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {মুমিনদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি নিচু রাখে}। আর শরিয়তের সৌন্দর্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কাজ হলো পাপাচারের পথ বন্ধ করে দেওয়া।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
والإعراض عن تفاصيل الأحوال ا. هـ. كلامه. وفي نيل الأوطار وشرح المنتقى (ذكر اتفاق المسلمين على منع النساء أن يخرجن سافرات الوجوه لاسيما عند كثرة الفساق) .

এবং অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ থেকে বিমুখতা অবলম্বন করা। তাঁর বক্তব্যের ইতি। আর নায়লুল আওতার ও শারহুল মুনতাকা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: (নারীদের অনাবৃত মুখে বের হওয়া থেকে বারণ করার ব্যাপারে মুসলমানদের ঐক্যমত (اتفاق) উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ করে যখন পাপাচারীদের (فساق) আধিক্য দেখা দেয়)।

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌رابعاً أدلة المبيحين لكشف الوجه

ولا أعلم لمن أجاز نظر الوجه والكفين من الأجنبية دليلاً من الكتاب والسنة سوى ما يأتي:

 

الأول: قوله تعالى: {وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} حيث قال ابن عباس رضي الله عنهما: «هي وجهها وكفاها والخاتم» . قال الأعمش عن سعيد بن جبير عنه. وتفسير الصحابي حجة كما تقدم.

الثاني: ما رواه أبو داود في «سننه» عن عائشة رضي الله عنها أن أسماء بنت أبي بكر دخلت على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وعليها ثياب رقاق فأعرض عنها وقال: «يا أسماء إن المرأة إذا بلغت سن المحيض لم يصلح أن يرى منها إلا هذا وهذا» . وأشار إلى وجهه وكفيه (1) .

 

الثالث: ما رواه البخاري وغيره عن ابن عباس رضي الله عنهما أن أخاه الفضل كان رديفاً للنبي صلى الله عليه وسلم، في حجة الوداع فجاءت امرأة من خثعم فجعل الفضل ينظر إليها

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داوود كتاب اللباس، باب فيما تبدي المرأة من زينتها (4104) .
চতুর্থত: মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার প্রবক্তাদের দলিলসমূহ

পরনারী বা অজনবিয়া নারীর মুখমণ্ডল এবং হাতের তালু দেখার অনুমতি যারা দিয়েছেন, তাদের সপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নিম্নবর্ণিত প্রমাণগুলো ছাড়া অন্য কোনো দলিল আমার জানা নেই:

 

প্রথম: আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তবে যা এমনিতেই প্রকাশ পায় তা ব্যতীত}। যেখানে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন: "তা হলো তার মুখমণ্ডল, দুই হাতের তালু এবং আংটি।" আল-আ'মাশ সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর সাহাবীর তাফসির বা ব্যাখ্যা হলো দলিল (حجة), যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে।

দ্বিতীয়: আবু দাউদ তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় তাঁর পরনে পাতলা কাপড় ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: "হে আসমা! নারী যখন ঋতুবতী হওয়ার বয়সে পৌঁছায়, তখন তার শরীরের এই এবং এই অংশ ছাড়া অন্য কিছু দেখা যাওয়া সমীচীন নয়।" আর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালুর দিকে ইশারা করলেন (১)।

 

তৃতীয়: বুখারি এবং অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর ভাই ফজল বিদায় হজের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে সওয়ার ছিলেন। এমতাবস্থায় খাশ’আম গোত্রের এক মহিলা আসলেন এবং ফজল তাঁর দিকে তাকাতে লাগলেন।

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন (أخرجه), কিতাবুল লিবাস (পোশাক অধ্যায়), 'নারী তার সৌন্দর্যের যা প্রকাশ করবে' বিষয়ক পরিচ্ছেদ (৪১০৪)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
وتنظر إليه فجعل النبي صلى الله عليه وسلم، يصرف وجه الفضل إلى الشق الاخر، (1) ففي هذا دليل على أن هذه المرأة كاشفة وجهها.

 

الرابع: ما أخرجه البخاري وغيره من حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه في صلاة النبي صلى الله عليه وسلم، بالناس صلاة العيد ثم وعظ الناس وذكرهم ثم مضى حتى أتى النساء فوعظهن وذكرهن وقال: «يا معشر النساء تصدقن فإنكن أكثر حطب جهنم» . فقامت امرأة من سطة النساء سعفاء الخدين. الحديث، (2) ولولا أن وجهها مكشوفاً ما عرف أنها سعفاء الخدين.

 

هذا ما أعرفه من الأدلة التي يمكن أن يستدل بها على جواز كشف الوجه للأجانب من المرأة.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري، كتاب الحج، باب وجوب الحج (1513) ، ومسلم، باب الحج عن العاجز (1334) .

(2) أخرجه مسلم، كتاب صلاة العيدين، باب صلاة العيدين (885) (4) .
এবং সে তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল, ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাদল-এর চেহারা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছিলেন, (১) এতে এই প্রমাণ রয়েছে যে সেই নারীটি তাঁর মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রেখেছিলেন।

 

চতুর্থ দলিল: যা বুখারি ও অন্যান্যরা জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন (أخرجه)। তাতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের নিয়ে ঈদের সালাত আদায় করলেন, এরপর লোকদের নসিহত করলেন ও উপদেশ দিলেন। অতঃপর তিনি নারীদের নিকট গিয়ে তাদের নসিহত করলেন ও উপদেশ দিলেন এবং বললেন: «হে নারী জাতি! তোমরা সদকা করো, কেননা তোমরা জাহান্নামের অধিকাংশ জ্বালানি হবে»। তখন নারীদের মাঝখান থেকে গালে কালচে দাগ বিশিষ্ট এক নারী দাঁড়িয়ে গেল। হাদিসটি (২), আর তার মুখমণ্ডল যদি খোলা না থাকত তবে সে যে গালে কালচে দাগ বিশিষ্ট ছিল তা জানা যেত না।

 

পরপুরুষের সামনে নারীর মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রাখার বৈধতার স্বপক্ষে যেসকল দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করা সম্ভব, সেগুলোর মধ্যে আমি এগুলোই জানি।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) বুখারি, হাজ্জ অধ্যায়, হাজ্জ ফরয হওয়া সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (১৫১৩); এবং মুসলিম, অক্ষম ব্যক্তির পক্ষ থেকে হাজ্জ সম্পাদন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (১৩৩৪)।

(২) এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) মুসলিম, দুই ঈদের সালাত অধ্যায়, দুই ঈদের সালাত সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ (৮৮৫) (৪)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌خامساً: الجواب عن هذه الأدلة

ولكن هذه الأدلة لا تعارض ما سبق من أدلة وجوب ستره وذلك لوجهين:

أحدهما: أن أدلة وجوب ستره ناقلة عن الأصل، وأدلة جواز كشفه مبقية على الأصل، والناقل عن الأصل مقدم كما هو معروف عند الأصوليين. وذلك لأن الأصل بقاء الشيء على ما كان عليه. فإذا وجد الدليل الناقل عن الأصل دل ذلك على طروء الحكم على الأصل وتغييره له. ولذلك نقول إن مع الناقل زيادة علم. وهو إثبات تغيير الحكم الأصلي والمثبت مقدم على النافي. وهذا الوجه إجمالي ثابت حتى على تقدير تكافؤ الأدلة ثبوتاً ودلالة.

 

الثاني: إننا إذا تأملنا أدلة جواز كشفه وجدناها لا تكافىء أدلة المنع ويتضح ذلك بالجواب عن كل واحد منها بما يلي:

 

1 ـ عن تفسير ابن عباس ثلاثة أوجه:

 

أحدهما: محتمل أن مراده أول الأمرين قبل نزول آية
পঞ্চম: এই দলিলসমূহের উত্তর

কিন্তু এই দলিলসমূহ (মুখমণ্ডল) আবৃত করা ওয়াজিব হওয়ার পূর্বোক্ত দলিলসমূহের সাথে বৈপরীত্য সৃষ্টি করে না, আর তা দুটি কারণে:

এক: (মুখমণ্ডল) আবৃত করা ওয়াজিব হওয়ার দলিলসমূহ মূল অবস্থা (الأصل) থেকে পরিবর্তনকারী (ناقل), আর (মুখমণ্ডল) খোলা রাখার বৈধতার দলিলসমূহ মূল অবস্থার ওপর বহাল রাখছে। আর মূল অবস্থা থেকে পরিবর্তনকারী (ناقل) অগ্রগণ্য হয়, যেমনটি উসুলবিদদের নিকট সুপরিচিত। এর কারণ হলো, মূল বিধান (الأصل) হলো কোনো বিষয় যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় থাকা। সুতরাং যখন মূল অবস্থা থেকে পরিবর্তনকারী (ناقل) কোনো দলিল পাওয়া যায়, তখন তা মূল বিধানের ওপর নতুন বিধানের আপতন এবং তা পরিবর্তনের প্রমাণ দেয়। এই কারণেই আমরা বলি যে, পরিবর্তনকারীর (ناقل) নিকট অতিরিক্ত জ্ঞান রয়েছে। আর তা হলো মূল বিধান পরিবর্তনের বিষয়টি সাব্যস্ত করা; আর সাব্যস্তকারী (مثبت) অস্বীকারকারীর (نافي) ওপর অগ্রগণ্য। এই দিকটি সামগ্রিকভাবে প্রমাণিত, এমনকি দলিলসমূহ প্রামাণিকতা (ثبوتاً) ও অর্থের পরিস্ফুটনের (دلالة) দিক থেকে সমপর্যায়ের হলেও।

 

দুই: আমরা যদি (মুখমণ্ডল) উন্মুক্ত রাখার বৈধতার দলিলসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি, তবে দেখব যে সেগুলো নিষিদ্ধ হওয়ার দলিলসমূহের সমকক্ষ নয়। নিচের উত্তরগুলোর মাধ্যমে প্রতিটি দলিলের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে:

 

১- ইবনে আব্বাসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তিনটি উত্তর রয়েছে:

 

প্রথমটি: সম্ভাবনা রয়েছে যে, তাঁর উদ্দেশ্য হলো পর্দার আয়াত নাজিল হওয়ার আগের প্রাথমিক অবস্থা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
الحجاب كما ذكره شيخ الإسلام ونقلنا كلامه آنفاً.

 

الثاني: يحتمل أن مراده الزينة التي نهى عن إبدائها كما ذكره ابن كثير في تفسيره ويؤيد هذين الاحتمالين تفسيره رضي الله عنه لقوله تعالى: {يأَيُّهَا النَّبِىُّ قُل لَاِزْوَجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ} . كما سبق في الدليل الثالث من أدلة القرآن.

 

الثالث: إذا لم نسلم أن مراده أحد هذين الاحتمالين فإن تفسيره لا يكون حجة يجب قبولها إلا إذا لم يعارضه صحابي آخر. فإن عارضه صحابي آخر أخذ بما ترجحه الأدلة الأخرى، وابن عباس رضي الله عنهما قد عارض تفسيره ابن مسعود رضي الله عنه حيث فسر قوله: {إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا} . بالرداء والثياب وما لابد من ظهوره فوجب طلب الترجيح والعمل بما كان راجحاً في تفسيريهما.

 

2 ـ وعن حديث عائشة بأنه ضعيف من وجهين:

 

أحدهما: الانقطاع بين عائشة وخالد بن دريك الذي رواه عنها كما أعله بذلك أبو داود نفسه حيث قال: خالد بن دريك لم يسمع من عائشة وكذلك أعله أبو حاتم الرازي.

الثاني: أن في إسناده سعيد بن بشير النصري نزيل دمشق تركه ابن مهدي، وضعفه أحمد وابن معين وابن المديني والنسائي وعلى هذا فالحديث ضعيف لا يقاوم ما تقدم من الأحاديث الصحيحة الدالة على وجوب
পর্দা (الحجاب) সংক্রান্ত আলোচনা, যেমনটি শাইখুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন এবং আমরা ইতোপূর্বে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি।

 

দ্বিতীয়ত: এটি সম্ভব যে, তাঁর উদ্দেশ্য হলো সেই সৌন্দর্য (الزينة) যা প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে, যেমনটি ইবনে কাসীর তাঁর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন। কুরআনের দলীলসমূহের মধ্য থেকে তৃতীয় দলীলে ইতঃপূর্বে যেমনটি বর্ণিত হয়েছে, মহান আল্লাহর বাণী: {হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের একাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়}- এর ব্যাপারে তাঁর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাফসির এই দুটি সম্ভাবনাকে সমর্থন করে।

 

তৃতীয়ত: আমরা যদি এই দুই সম্ভাবনার কোনোটিই স্বীকার না করি, তবে তাঁর ব্যাখ্যা এমন কোনো দলিল (حجة) হবে না যা গ্রহণ করা অপরিহার্য, যতক্ষণ না অন্য কোনো সাহাবী (صحابي) এর বিরোধিতা করেন। যদি অন্য কোনো সাহাবী (صحابي) এর বিরোধিতা করেন, তবে অন্যান্য দলীলের আলোকে যা অগ্রগণ্য হবে তা গ্রহণ করা হবে। আর ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর তাফসিরের বিরোধিতা করেছেন ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), যেখানে তিনি "যা সাধারণত প্রকাশ পায়" এর ব্যাখ্যায় চাদর ও পোশাক এবং যা প্রকাশ পাওয়া অনিবার্য তার কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং উভয়ের তাফসিরের মধ্যে যেটি অগ্রগণ্য (راجحاً) তা অন্বেষণ ও তার ওপর আমল করা ওয়াজিব।

 

২ — আর আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসটি দুই কারণে দুর্বল (ضعيف):

 

প্রথমটি: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) এবং তাঁর থেকে বর্ণনাকারী খালিদ বিন দুরাইকের মাঝে বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع); যে কারণে আবু দাউদ স্বয়ং একে ত্রুটিযুক্ত (أعله) সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: "খালিদ বিন দুরাইক আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে হাদিস শ্রবণ করেননি।" তদ্রূপ আবু হাতিম আল-রাজি একে ত্রুটিযুক্ত (أعله) বলেছেন।

দ্বিতীয়টি: এর সনদে (إسناده) দামেস্ক নিবাসী সাঈদ বিন বাশীর আল-নাসরি রয়েছেন; ইবনে মাহদী তাকে বর্জন (تركه) করেছেন এবং আহমদ, ইবনে মাঈন, ইবনুল মাদিনী ও নাসাঈ তাকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন। এমতাবস্থায় হাদিসটি দুর্বল (ضعيف), যা ওয়াজিব হওয়ার ওপর নির্দেশকারী ইতঃপূর্বে বর্ণিত বিশুদ্ধ (الصحيحة) হাদিসগুলোর মোকাবিলা করার সমতুল্য নয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الحجاب. وأيضاً فإن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها كان لها حين هجرة النبي صلى الله عليه وسلم، سبع وعشرون سنة. فهي كبيرة السن فيبعد أن تدخل على النبي صلى الله عليه وسلم، وعليها ثياب رقاق تصف منها ما سوى الوجه والكفين والله أعلم، ثم على تقدير الصحة يحمل على ما قبل الحجاب لأن نصوص الحجاب ناقلة عن الأصل فتقدم عليه.

 

3 ـ وعن حديث ابن عباس بأنه لا دليل فيه على جواز النظر إلى الأجنبية لأن النبي صلى الله عليه وسلم، لم يقر الفضل على ذلك بل حرف وجهه إلى الشق الاخر ولذلك ذكر النووي في شرح صحيح مسلم بأن من فوائد هذا الحديث تحريم نظر الأجنبية، وقال الحافظ ابن حجر في فتح الباري في فوائد هذا الحديث: وفيه منع النظر إلى الأجنبيات وغض البصر، قال عياض وزعم بعضهم أنه غير واجب إلا عند خشية الفتنة قال: وعندي أن فعله صلى الله عليه وسلم، إذا غطى وجه الفضل كما في الرواية. فإن قيل: فلماذا لم يأمر النبي صلى الله عليه وسلم، المرأة بتغطية وجهها فالجواب أن الظاهر أنها كانت محرمة والمشروع في حقها أن لا تغطي وجهها إذا لم يكن أحد ينظر إليها من الأجانب، أو يقال لعل النبي صلى الله عليه وسلم، أمرها بعد ذلك. فإن عدم نقل أمره بذلك لا يدل على عدم الأمر. إذ عدم النقل ليس نقلاً للعدم. وروى مسلم وأبو داود عن جرير بن عبد الله البجلي رضي الله عنه قال: سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم، عن نظرة الفجاءة فقال: «اصرف بصرك» أو قال: فأمرني أن أصرف بصري (1) .

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم كتاب الآداب باب نظر الفجاءة (2159) (45) .
পর্দা (হিজাব)। এছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের সময় আসমা বিনতে আবি বকর রাদিয়াল্লাহু আনহার বয়স ছিল সাতাশ বছর। তিনি তখন বয়স্কা ছিলেন; তাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার এমন পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় প্রবেশ করা সুদূরপরাহত, যা মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি ব্যতীত শরীরের অন্যান্য অংশ ফুটিয়ে তোলে, আর আল্লাহই ভালো জানেন। অতঃপর, এর বিশুদ্ধতা (صحة) ধরে নিলেও তা পর্দা সংক্রান্ত বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে। কারণ পর্দা সংক্রান্ত সুস্পষ্ট ভাষ্যসমূহ (نصوص) মূল বিধানের পরিবর্তনকারী, তাই তা অগ্রাধিকার পাবে।

 

৩- ইবনে আব্বাসের বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে বক্তব্য হলো, এতে পরনারীর দিকে তাকানোর বৈধতার কোনো দলিল নেই। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজলকে সেই কাজে বহাল রাখেননি, বরং তার মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। এই কারণেই ইমাম নববী শারহু সহিহ মুসলিম-এ উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিসের একটি শিক্ষা হলো পরনারীর দিকে তাকানো হারাম। হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারী-তে এই হাদিসের শিক্ষা প্রসঙ্গে বলেন: এতে পরনারীদের দিকে তাকাতে নিষেধ করা হয়েছে এবং দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ রয়েছে। কাজি ইয়াজ বলেন, কেউ কেউ ধারণা করেছেন এটি ফিতনার আশঙ্কা ছাড়া ওয়াজিব নয়। তিনি বলেন: আমার মতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমলই প্রমাণ, যখন তিনি বর্ণনায় (رواية) বর্ণিত পদ্ধতিতে ফজলের মুখ ঢেকে দিয়েছিলেন। যদি প্রশ্ন করা হয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন সেই মহিলাকে তার মুখ ঢাকার নির্দেশ দেননি? তবে এর উত্তর হলো, সম্ভবত তিনি ইহরাম অবস্থায় ছিলেন এবং তার ক্ষেত্রে শরয়ি বিধান হলো মুখ না ঢাকা যদি না কোনো পরপুরুষ তার দিকে তাকায়। অথবা বলা যায়, সম্ভবত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এরপরে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ তার আদেশের বিষয়টি বর্ণিত (نقل) না হওয়া সেই আদেশ না থাকার দলিল নয়। যেহেতু বর্ণনার (نقل) অভাব মানেই বিষয়ের অস্তিত্বহীনতা নয়। মুসলিম ও আবু দাউদ জুরির ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাজালি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হঠাৎ দৃষ্টি পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "তোমার দৃষ্টি সরিয়ে নাও" অথবা বলেছিলেন যে, তিনি আমাকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে আদেশ করলেন (১)।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আদব অধ্যায়, হঠাৎ দৃষ্টি পড়া পরিচ্ছেদ (২১৫৯) (৪৫)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
4 ـ وعن حديث جابر بأن لم يذكر متى كان ذلك فإما أن تكون هذه المرأة من القواعد اللاتي لا يرجون نكاحاً فكشف وجهها مباح، ولا يمنع وجوب الحجاب على غيرها، أو يكون قبل نزول آية الحجاب فإنها كانت في سورة الأحزاب سنة خمس أو ست من الهجرة، وصلاة العيد شرعت في السنة الثانية من الهجرة.

 

واعلم أننا إنما بسطنا الكلام في ذلك لحاجة الناس إلى معرفة الحكم في هذه المسألة الاجتماعية الكبيرة التي تناولها كثير ممن يريدون السفور. فلم يعطوها حقها من البحث والنظر، مع أن الواجب على كل باحث يتحرى العدل والإنصاف وأن لا يتكلم قبل أن يتعلم. وأن يقف بين أدلة الخلاف موقف الحاكم من الخصمين فينظر بعين العدل، ويحكم بطريق العلم، فلا يرجح أحد الطرفين بلا مرجح، بل ينظر في الأدلة من جميع النواحي، ولا يحمله اعتقاد أحد القولين على المبالغة والغلو في إثبات حججه والتقصير والإهمال لأدلة خصمه. ولذلك قال العلماء: «ينبغي أن يستدل قبل أن يعتقد» ليكون اعتقاده تابعاً للدليل لا متبوعاً له؛ لأن من اعتقد قبل أن يستدل قد يحمله اعتقاده على رد النصوص المخالفة لاعتقاده أو تحريفها إذا لم يمكنه ردها. ولقد رأينا ورأى غيرنا ضرر استتباع الاستدلال للاعتقاد حيث حمل صاحبه على تصحيح أحاديث ضعيفة. أو تحميل نصوص صحيحة ما لا تتحمله من الدلالة تثبيتاً لقوله واحتجاجاً له. فلقد قرأت مقالاً لكاتب حول عدم وجوب الحجاب
৪ ـ জাবির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে কথা হলো যে, এতে এই ঘটনাটি কখন ঘটেছিল তা উল্লেখ করা হয়নি। সুতরাং হতে পারে যে, এই নারী সেই বয়োবৃদ্ধাদের (القواعد) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের বিবাহের আকাঙ্ক্ষা নেই; ফলে তার চেহারা উন্মোচন করা বৈধ (مباح)। তবে এটি অন্যদের ক্ষেত্রে হিজাব ওয়াজিব (وجوب) হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে না। অথবা এটি হতে পারে হিজাবের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বের ঘটনা, কারণ হিজাবের আয়াত সূরা আল-আহজাবে হিজরির পঞ্চম বা ষষ্ঠ বর্ষে অবতীর্ণ হয়েছে, আর ঈদের সালাত হিজরির দ্বিতীয় বর্ষে প্রবর্তিত হয়েছে।

 

জেনে রাখুন যে, আমরা এই বিষয়ে আলোচনা বিস্তারিত করেছি কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মাসআলার বিধান সম্পর্কে মানুষের জানার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে, যা নিয়ে অনেক বেপর্দা (السفور) হওয়ার সমর্থক ব্যক্তি আলোচনা করেছেন। তারা এই বিষয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনার যথাযথ হক আদায় করেননি, অথচ প্রত্যেক গবেষকের দায়িত্ব হলো ন্যায়নিষ্ঠতা অনুসন্ধান করা এবং কোনো কিছু শেখার আগে কথা না বলা। মতপার্থক্যপূর্ণ দলিলসমূহের (أدلة الخلاف) ক্ষেত্রে তাকে এমন অবস্থান নিতে হবে যেমন একজন বিচারক বিবাদমান দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান করেন। সুতরাং তিনি ন্যায়ের দৃষ্টিতে দেখবেন এবং ইলমের ভিত্তিতে ফয়সালা করবেন। কোনো প্রাধান্যদানকারী প্রমাণ (مرجح) ব্যতীত এক পক্ষকে অন্য পক্ষের ওপর প্রাধান্য দেবেন না। বরং সকল দিক থেকে দলিলসমূহ (الأدلة) পর্যালোচনা করবেন। কোনো একটি মতের প্রতি তার বিশ্বাস যেন তাকে নিজের সপক্ষে প্রমাণ (حجج) উপস্থাপনে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি (الغلو) করতে অথবা প্রতিপক্ষের দলিলের ক্ষেত্রে অবহেলা ও উপেক্ষা করতে প্ররোচিত না করে। এজন্যই উলামায়ে কেরাম বলেছেন: «আগে দলিল (يستدل) তালাশ করা উচিত, এরপর বিশ্বাস (يعتقد) পোষণ করা উচিত», যাতে তার বিশ্বাস দলিলের অনুসারী হয়, দলিল যেন বিশ্বাসের অনুসারী না হয়। কারণ, যে ব্যক্তি দলিল তালাশ করার পূর্বেই বিশ্বাস পোষণ করে, তার এই বিশ্বাস তাকে তার বিশ্বাসের বিরোধী উৎস-পাঠসমূহ (النصوص) প্রত্যাখ্যান করতে অথবা তা প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব না হলে বিকৃতি (تحريف) করতে প্ররোচিত করতে পারে। আমরা এবং আমাদের ব্যতীত অন্যরাও বিশ্বাসের অনুগামী দলিল অন্বেষণের ক্ষতিকর দিকগুলো দেখেছি, যেখানে এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দুর্বল (ضعيفة) হাদিসসমূহকে সহিহ সাব্যস্ত (تصحيح) করতে প্ররোচিত করেছে। অথবা সহিহ (صحيحة) উৎস-পাঠসমূহের (نصوص) ওপর এমন অর্থ চাপিয়ে দিতে বাধ্য করেছে যা সেই দালিলিক নির্দেশনার (الدلالة) ভার বহন করে না, কেবল নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত ও এর সপক্ষে দলিল (احتجاجاً) উপস্থাপনের জন্য। আমি পর্দা ওয়াজিব (وجوب) না হওয়া সম্পর্কে একজন লেখকের একটি নিবন্ধ পড়েছি...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
احتج بحديث عائشة الذي رواه أبو داود في قصة دخول أسماء بنت أبي بكر على النبي صلى الله عليه وسلم، وقوله لها: «إن المرأة إذا بلغت سن المحيض لم يصلح أن يرى منها إلا هذا وهذا» .

وأشار إلى وجهه وكفيه وذكر هذا الكاتب أنه حديث صحيح متفق عليه، وأن العلماء متفقون على صحته، والأمر ليس كذلك أيضاً وكيف يتفقون على صحته وأبو داود راويه أعله بالإرسال، وأحد رواته ضعفه الإمام أحمد وغيره من أئمة الحديث، ولكن التعصب والجهل يحمل صاحبه على البلاء والهلاك. قال ابن القيم:

 

وتعر من ثوبين من يلبسهما … يلقى الردى بمذلة وهوان

 

ثوب من الجهل المركب فوقه … ثوب التعصب بئست الثوبان

 

وتحل بالانصاف أفخر حلة … زينت بها الأعطاف والكتفان

 

وليحذر الكاتب والمؤلف من التقصير في طلب الأدلة وتمحيصها والتسرع إلى القول بلا علم فيكون ممن قال الله فيهم: {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّلِمِينَ} . (الأنعام: 144) .
তিনি আয়েশার (রা.) সেই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, যেখানে নবী (সা.)-এর নিকট আসমা বিনতে আবি বকর (রা.)-এর প্রবেশের ঘটনার কথা রয়েছে। নবী (সা.) তাকে বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই নারী যখন ঋতুস্রাবের বয়সে পৌঁছায়, তখন তার শরীরের এই এবং এই অংশ ব্যতীত অন্য কিছু দেখা যাওয়া বৈধ নয়»।

এবং তিনি তাঁর চেহারা ও দুই হাতের কব্জির দিকে ইশারা করলেন। এই লেখক উল্লেখ করেছেন যে এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস যার ওপর ঐকমত্য (متفق عليه) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এবং ওলামায়ে কেরাম এর বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে একমত। অথচ বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। তারা কীভাবে এর বিশুদ্ধতার (صحة) ব্যাপারে একমত হতে পারেন যেখানে এর বর্ণনাকারী আবু দাউদ নিজেই একে মুরসাল (إرسال) হওয়ার ত্রুটিযুক্ত (أعله) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন? অধিকন্তু এর অন্যতম বর্ণনাকারীকে ইমাম আহমাদ ও হাদিসের অন্যান্য ইমামগণ দুর্বল (ضعفه) বলে গণ্য করেছেন। কিন্তু গোঁড়ামি ও অজ্ঞতা তার অধিকারীকে বিপদ ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:

 

নিজেকে মুক্ত করো সেই দুটি পোশাক থেকে, যে তা পরিধান করে … সে অপমান ও লাঞ্ছনার সাথে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়।

 

যার ওপর রয়েছে একটি জটিল অজ্ঞতার (الجهل المركب) পোশাক … আর অন্যটি গোঁড়ামির (التعصب) পোশাক; এই দুটি কতই না নিকৃষ্ট পোশাক!

 

আর ইনসাফের (الإنصاف) সর্বোত্তম অলঙ্কারে সজ্জিত হও … যা দ্বারা ঘাড় ও কাঁধসমূহ সুশোভিত হয়।

 

আর লেখক ও গ্রন্থকারের উচিত দলিল অনুসন্ধান ও তা যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন এবং জ্ঞানহীন কথা বলার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করা থেকে সতর্ক থাকা। নতুবা তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {তবে তার চেয়ে বড় জালেম আর কে আছে, যে মানুষকে ইলম ছাড়াই গোমরাহ করার জন্য আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে? নিশ্চয় আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।} (আল-আনআম: ১৪৪)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল হিজাব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أو يجمع بين التقصير في طلب الدليل والتكذيب بما قام عليه الدليل فيكون منه شر على شر ويدخل في قوله تعالى: {فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَبَ علَى اللَّهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَآءَهُ أَلَيْسَ فِى جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكَفِرِينَ} . (الزمر: 32) .

 

نسأل الله تعالى أن يرينا الحق حقّاً ويوفقنا لاتباعه، ويرينا الباطل باطلاً ويوفقنا لاجتنابه ويهدينا صراطه المستقيم إنه جواد كريم، وصلى الله وسلم وبارك على نبيه وعلى آله وأصحابه، وأتباعه أجمعين.
অথবা সে প্রমাণ (الدليل) অনুসন্ধানে শিথিলতা এবং যা প্রমাণের (الدليل) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে তাকে অস্বীকার করার সমন্বয় ঘটায়। ফলে তার পক্ষ থেকে অমঙ্গলের ওপর অমঙ্গল প্রকাশ পায় এবং সে মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়: "অতঃপর তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে এবং তার কাছে সত্য আসার পর তা অস্বীকার করে? কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?" (যুমার: ৩২)।

 

আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাদের নিকট সত্যকে সত্য রূপে প্রতিভাত করেন এবং তা অনুসরণের তাওফিক দান করেন, আর মিথ্যাকে মিথ্যা রূপে প্রতিভাত করেন এবং তা বর্জনের তাওফিক দান করেন। তিনি আমাদের সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন; নিশ্চয়ই তিনি পরম করুণাময় ও মহানুভব। আর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর নবী, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং তাঁদের সকল অনুসারীদের ওপর।