(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: -)
جامع المسانيد والسنن   (ابن كثير)

القسم: كتب السنة

الكتاب: جامع المسانيد والسُّنَن الهادي لأقوم سَنَن

المؤلف: أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي البصري ثم الدمشقي (ت 774هـ)

المحقق: د عبد الملك بن عبد الله الدهيش

الناشر: دار خضر للطباعة والنشر والتوزيع بيروت - لبنان، طبع على نفقة المحقق ويطلب من مكتبة النهضة الحديثة - مكة المكرمة

الطبعة: الثانية، 1419 هـ - 1998 م

عدد الأجزاء: 10

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জামিউল মাসানিদ ওয়াস সুনান   (ইবনে কাসীর)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: জামিউল মাসানিদ ওয়াস সুনান আল-হাদী লি-আকওয়াম সানান

লেখক: আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন উমর বিন কাসীর আল-কুরাশী আল-বাসরী অতঃপর আদ-দিমাশকী (মৃ. ৭৭৪ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ আদ-দেহীশ

প্রকাশক: দার খিজর মুদ্রণ, প্রকাশনা এবং বিতরণ, বৈরুত - লেবানন, সম্পাদকের অর্থায়নে মুদ্রিত এবং মাকতাবাতুন নাহদাহ আল-হাদিসাহ - মক্কা মুকাররমা থেকে সংগ্রহযোগ্য

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১০

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৫৫)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

قال (1) والدي رحمه الله ومن خطه نقلت:

الحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب والحكمة، وأرسله للعالمين رحمة، فمن قبلها فيالها من نعمة، ومن ردها وبدلها صارت الرحمة نقمة، أحمده على أن جعلنا من خُدام السُنة، القائدة لخادمها إلى سبيل الجنة، حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه باقيًا على الدوام، ما تعاقبت الليالي والجُمعُ والشهور والأعوام.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، ولا ولد له ولا صاحبة من الأنام، صلاة مُبوئة قائلها - مخلصاً - دار السلام ومزحزحةً. معتقدها عن النار ذات الآلام، ومبيضة وجه قائلها يوم تبيضُّ وجوه المؤمنين وتسود وجوه الكافرين اللئام.

وأشهد أن محمداً عبده ورسوله وحبيبه وخليله سيد ولد آدم في الدارين، ورسول الله إلى الثقلين، المبعوث من الحرمين إلى مَنْ بين الخافقين، خاتم النبيين، وإمام المتقين، ومختار رب العالمين، وسيد المرسلين، الذي لا نبي بعده ولا رسول، الدائم الشريعة، فلا تحول ولا تزول، فصلوات الله تعالى وسلامه الأتمان الأكملان الأدْوَمان المستمران إلى يوم نصب الميزان، وبروز النيران، وتزخرف الجنان، على سيدنا محمد النبي الأمي العربي القرشي الهاشمي المكي الأبْطحي (2)

ثم المدني،

--------------------------------------------

(1) قال ذلك هو محمد بن إسماعيل بن عمر بن كثير وهو ابن مؤلف الكتاب ويرجع إلى ما كتبناه عنه مما قدمناه من ترجمة والده رحمه الله تعالى.

‌‌(2) الأبطحي: نسبة إلى بطحاء مكة وهو مسيل واديها، وهو مابين مكة ومنى، ومبتدؤه المحصب والمراد أنه عليه الصلاة والسلام من أكرم بطون قريش. فقد كانت قريش قسمين: قريش البطاح الذين ينزلون أباطح مكة وبطحاءها. وقريش الظواهر الذين ينزلون حول مكة. قال الشاعر:

… فلو شهدتني من قريش عصابة … قريش البطاح لا قريش الظواهر

 

قال ابن الأعرابي: قريش البطاح هم الذين ينزلون الشعب بين أخشبي مكة. وقريش الظواهر الذين ينزلون خارج الشعب وأكرمهما قريش البطاح. سبل الهدى والرشاد 1/516.
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমার পিতা (১) —আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন— বলেছেন এবং তাঁর পাণ্ডুলিপি থেকেই আমি এটি অনুলিপি করেছি:<

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন এবং তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি তা গ্রহণ করল, তার জন্য এটি কতই না বড় নেয়ামত! আর যে ব্যক্তি তা প্রত্যাখ্যান করল ও পরিবর্তন করল, সেই রহমতই তার জন্য আজাবে পরিণত হলো। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এই জন্য যে, তিনি আমাদের সুন্নাহর সেবকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা তার সেবককে জান্নাতের পথের দিকে নিয়ে যায়। এমন প্রশংসা যা প্রচুর, পবিত্র, বরকতময় এবং সর্বদা অবশিষ্ট থাকবে, যতদিন রাত-দিন, জুমা, মাস ও বছরের আবর্তন চলতে থাকবে।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁর কোনো সন্তান নেই এবং সৃষ্টিজগতের মধ্য থেকে তাঁর কোনো সঙ্গিনী নেই। এমন এক সাক্ষ্য যা তার পাঠকারীকে —নিষ্ঠার সাথে— শান্তির আবাসে (জান্নাতে) আসীন করে এবং তার বিশ্বাসীকে যন্ত্রণাদায়ক আগুন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়; আর তা পাঠকারীর চেহারাকে সেই দিন উজ্জ্বল করবে যেদিন মুমিনদের চেহারা উজ্জ্বল হবে এবং হীন কাফেরদের চেহারা কালো হয়ে যাবে।

আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসুল, তাঁর প্রিয়তম ও তাঁর বন্ধু; তিনি ইহকাল ও পরকালে আদম সন্তানদের সরদার এবং জিন ও মানবজাতির প্রতি আল্লাহর রাসুল। তিনি দুই হারাম থেকে পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের মধ্যবর্তী সকল স্থানে প্রেরিত হয়েছেন। তিনি নবীদের মোহর (সর্বশেষ নবী), মুত্তাকিদের ইমাম, বিশ্বজগতের রবের মনোনীত বান্দা এবং রাসুলগণের সরদার; যাঁর পর আর কোনো নবী বা রাসুল নেই। তাঁর আনীত শরীয়ত চিরস্থায়ী, যা কখনো পরিবর্তিত হবে না এবং বিলুপ্ত হবে না। সুতরাং আল্লাহর পূর্ণাঙ্গতম, পরিপূর্ণতম, সর্বাধিক স্থায়ী ও অবিরাম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের সরদার মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি উম্মি নবী, আরবি, কুরাইশি, হাশেমি, মাক্কি, আবতাহী (২) —আমল মাপার দাড়ি-পাল্লা স্থাপন, জাহান্নাম প্রকাশ এবং জান্নাত সুসজ্জিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।

অতঃপর মাদানী,

--------------------------------------------

(১) এ কথা বলেছেন মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসীর, আর তিনি হচ্ছেন এই কিতাবের লেখকের পুত্র। তাঁর সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমরা তাঁর পিতার জীবনী আলোচনা করার সময় যা লিখেছি, তার প্রতি প্রত্যাবর্তন করা যেতে পারে—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

‌‌(২) আল-আবতাহী: এটি মক্কার 'বাতহা' নামক স্থানের দিকে সম্পৃক্ত। বাতহা হলো মক্কার সেই উপত্যকা যেখানে পানি প্রবাহিত হয়, যা মক্কা ও মিনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং এর শুরু হয় 'মুহাসসাব' থেকে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরাইশদের শ্রেষ্ঠ বংশোদ্ভূত। কারণ কুরাইশ ছিল দুই ভাগে বিভক্ত: 'কুরাইশে বিতাহ' যারা মক্কার নিচু ভূমিতে (বাতহা) বসবাস করত, আর 'কুরাইশে জাওয়াহির' যারা মক্কার চারপাশে বসবাস করত। জনৈক কবি বলেছেন:

… যদি কুরাইশের কোনো দল আমাকে প্রত্যক্ষ করত, তবে তারা যেন কুরাইশে বিতাহ হয়, কুরাইশে জাওয়াহির নয়।

 

ইবনুল আরাবী বলেন: কুরাইশে বিতাহ তারা যারা মক্কার দুই পাহাড়ের (আখশাবাইন) মধ্যবর্তী গিরিপথে বসবাস করত। আর কুরাইশে জাওয়াহির তারা যারা গিরিপথের বাইরে বসবাস করত। আর এই দুই দলের মধ্যে কুরাইশে বিতাহ অধিক মর্যাদাবান। [সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১/৫১৬]।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৫৬)
نبي التوبة، ونبي الرحمة، ونبي الملحمة (1) ، والعاقب والماحي، والخاتم لجميع الأنبياء والمرسلين، الذي جمع فيه محاسن من كان قبله، واختُص بفضائل لم تكن في غيره. فلهذا نسخ الله بما شرع له جميع الشرائع المتقدمة، ولم يقبل بعد بعثته من أحد من سائر الأديان عملاً إلا على ما جاء به محمد من الدين القويم، والشرع العظيم. قال الله تعالى في كتابه المبين: {وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا/ أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنْ الشَّاهِدِينَ} (2) قال ابن عباس رضي الله عنه: (ما بعث الله نبياً إلا أخذ عليه الميثاق لئن بُعثَ محمد وهو حي ليؤمنن به ولينصرنه، وأمره بأخذ العهد على أمته لئن بعث محمد وهم أحياء ليؤمنن به ولينصرنه) رواه البخاري (3) ، إمام المحدثين.

وقال الله تعالى وهو أصدق القائلين: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الآخِرَةِ مِنْ الْخَاسِرِينَ} (4) .

ولما كان صلوات الله وسلامُه عليه في غاية الكمال خلقاً وخُلقاً وشرعاً، وأُنزل عليه الكتاب الكريم وهو القرآن العظيم، الذي هو أعظم

--------------------------------------------

(1) الملحمة: الحرب والقتال مأخوذ من اشتباك الناس واختلاطهم فيها كاختلاط لحمة الثوب بالسدى. والعاقب الذي ليس بعده نبي. والماحي الذي يمحو الله به الكفر. كما جاء في حديث مسلم 2/336 ويراجع سبل الهدى والرشاد 1/494، 655.

‌‌(2) آية (81) آل عمران.

‌‌(3) أسنده ابن جرير في تفسيره 6/556.

‌‌(4) آية (85) آل عمران.
তওবার নবী, রহমতের নবী, মহাসমরের নবী (১), আল-আকিব ও আল-মাহি, এবং সকল নবী ও রাসূলগণের সর্বশেষজন; যাঁর মধ্যে তাঁর পূর্ববর্তীদের সকল সৌন্দর্য একত্রিত করা হয়েছে এবং তাঁকে এমন সব ফযিলত দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে যা অন্য কারো মাঝে ছিল না। এই কারণেই আল্লাহ তাঁর জন্য যা শরীয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তার মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল শরীয়তকে রহিত করেছেন। তাঁর প্রেরণের পর অন্যান্য সকল ধর্মের অনুসারীদের কারো কাছ থেকেই কোনো আমল কবুল করা হবে না, যতক্ষণ না তা মুহাম্মদ যে সঠিক দ্বীন ও মহান শরীয়ত নিয়ে এসেছেন সে অনুযায়ী হয়। মহান আল্লাহ তাঁর সুস্পষ্ট কিতাবে বলেছেন: {আর স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দিয়েছি, তারপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে যখন একজন রাসূল আসবেন, তখন তোমরা অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনবে এবং অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করলে? আর এই শর্তে কি আমার অঙ্গীকার গ্রহণ করলে?’ তারা বলল, ‘আমরা স্বীকার করলাম।’ তিনি বললেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাকো এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।'} (২) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আল্লাহ যে নবীকেই পাঠিয়েছেন, তাঁর কাছ থেকেই এই অঙ্গীকার নিয়েছেন যে, যদি তাঁর জীবদ্দশায় মুহাম্মদ প্রেরিত হন, তবে তিনি যেন অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনেন এবং তাঁকে সাহায্য করেন। আর তিনি তাঁকে তাঁর উম্মতের কাছ থেকেও এই অঙ্গীকার গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন যে, যদি তাদের জীবদ্দশায় মুহাম্মদ প্রেরিত হন, তবে তারা যেন অবশ্যই তাঁর ওপর ঈমান আনে এবং তাঁকে সাহায্য করে।" এটি মুহাদ্দিসগণের ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন (৩)।

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন—যিনি সকল কথা বর্ণনাকারীর চেয়ে বেশি সত্যবাদী: {আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন তালাশ করবে, তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} (৪)।

যেহেতু তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—তিনি সৃষ্টিগত গঠন, চরিত্র এবং শরীয়তের দিক থেকে পূর্ণতার চূড়ান্ত শিখরে ছিলেন এবং তাঁর ওপর নাযিল করা হয়েছে সম্মানিত কিতাব যা হলো মহান কুরআন—যা সর্বশ্রেষ্ঠ...

--------------------------------------------

(১) আল-মালহামাহ: যুদ্ধ ও লড়াই। এটি মানুষের একে অপরের সাথে এমনভাবে মিশে যাওয়া ও সংমিশ্রণ থেকে নেওয়া হয়েছে যেমন কাপড়ের সুতার টানা ও পোড়েন একে অপরের সাথে মিশে থাকে। আল-আকিব হলেন তিনি যাঁর পর আর কোনো নবী নেই। আল-মাহি হলেন তিনি যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মিটিয়ে দেন। যেমনটি মুসলিমের হাদীসে ২/৩৩৬ এসেছে। আরও দেখুন: সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ১/৪৯৪, ৬৫৫।

‌‌(২) আয়াত (৮১), আলে ইমরান।

‌‌(৩) ইবনে জারীর তাঁর তাফসীরে ৬/৫৫৬ এর সনদ উল্লেখ করেছেন।

‌‌(৪) আয়াত (৮৫), আলে ইমরান।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৫৭)
البراهين، إذ كان تنزيل العزيز الرحيم، وأنطقه الله بما أفهمهُ منه من الحكمة، وهي السنة المأثورة قولاً منه وعملاً، وتقريراً وفعلاً، غير أنها لا تتلى (1) ، ولكن تُحفظ وتروى، كما ضبطها المحفوظون من أصحابه سفراً وحضراً، ليلاً ونهاراً، سراً وجهاراً، وسألوا أزواجه - أمهات المؤمنين - عما كان يعانيه عندهن من أمور الدين، وعن صلواته في خلواته وعن قيامه في الليل البهيم، فبين ذلك للأمة أتم تبيين، وضبطن ذلك أتم ضبطٍ وحفظٍ متين، ولا سيما الصديقة بنت الصديق حبيبة حبيب الله، المبرأة من فوق سبع سماوات عائشة أم المؤمنين، كما بسطنا ذلك في مسندها رضي الله عنها وعنهن وعنهم أجمعين، ولهذا لم تحتج أمته إلى نبي بعده، كما كانت الأمم قبلها لا يخلو زمان عن نبي أو أكثر يسدون (2) أحكام كتابهم، ويرشدونهم إلى ما ينفعهم في معاشهم في هذه الدنيا ويوم مآبهم.

قال الله تعالى - وبه يؤمن المؤمنون -: {إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاءَ فَلَا تَخْشَوْا النَّاسَ وَاخْشَوْنِي وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلاً وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُوْلَئِكَ هُمْ الْكَافِرُونَ} (3) فقال {بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ} فوكل حفظ التوراة إليهم، فلذا دخلها بعد أنبيائهم التحريف والتبديل والتأويل/ ثم أضيف إلى ذلك كله النسخُ، ولا يجوز الحكم بها، ولا التحاكم إليها، ولا الاعتماد عليها، بعد نزول القرآن العظيم المهيمن عليها وعلى ما قبلها وبعدها من الكتب السماوية، الناسخ لما فيها إلَاّ ما قُرِّرَ منها فإن الصحيح (أن شرع من

--------------------------------------------

(1) في الأصل (تبلى) وما أثبتناه هو الموافق للسياق.

‌‌(2) يسدون: يوثقون. يقال سد الأمر وسدده أوثقه. وتراجع المادة في اللسان 3/1968.

‌‌(3) آية (44) المائدة.
প্রমাণসমূহ, যেহেতু এটি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আল্লাহ তাঁকে (রাসূলকে) সেই হিকমত বা প্রজ্ঞার মাধ্যমে কথা বলিয়েছেন যা তিনি তাঁকে শিখিয়েছেন, আর তা হলো তাঁর কথা, কাজ, সমর্থন ও আচরণের মাধ্যমে বর্ণিত সুন্নাহ। তবে তা তিলাওয়াত করা হয় না (১), কিন্তু তা সংরক্ষণ ও বর্ণনা করা হয়; যেমনটি তাঁর সাহাবীগণ সফর ও অবস্থানকালে, রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে যথাযথভাবে আয়ত্ত করেছেন। তাঁরা তাঁর পত্নীগণ—মুমিনদের জননীগণের—নিকট দ্বীনি বিষয়ে তিনি তাঁদের নিকট থাকাকালীন যা সম্পাদন করতেন সে সম্পর্কে এবং নির্জনে তাঁর সালাত ও ঘোর অন্ধকারের রাতে তাঁর দীর্ঘ ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। ফলে তাঁরা (উম্মুল মুমিনীনগণ) উম্মতের জন্য তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা তা যথাযথভাবে আয়ত্ত করেছেন ও সুদৃঢ়ভাবে সংরক্ষণ করেছেন। বিশেষ করে সিদ্দীকের কন্যা সিদ্দীকাহ, আল্লাহর প্রিয়তমের প্রিয়তমা, যাঁকে সাত আসমানের উপর থেকে পুত-পবিত্র ঘোষণা করা হয়েছে—আয়েশা মুমিনদের জননী। যেমনটি আমরা তাঁর মুসনাদে বিস্তারিত আলোচনা করেছি—আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন। এই কারণেই তাঁর উম্মতের তাঁর পর আর কোনো নবীর প্রয়োজন হয়নি, যেমনটি পূর্ববর্তী উম্মতদের ক্ষেত্রে হতো যে, কোনো যুগই একজন বা একাধিক নবী ব্যতিরেকে অতিবাহিত হতো না, যাঁরা তাঁদের কিতাবের বিধানসমূহ সুদৃঢ় করতেন (২) এবং তাঁদের এই দুনিয়ার জীবন ও পরকালের কল্যাণকর বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করতেন।

মহান আল্লাহ বলেন—এবং মুমিনগণ তাঁর প্রতিই ঈমান রাখে—: {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম, যাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো। আত্মসমর্পণকারী নবীগণ ইয়াহুদীদের জন্য সেই অনুযায়ী ফয়সালা দিতেন, এবং রাব্বানী ও আলিমগণও (ফয়সালা দিতেন), কারণ তাঁদেরকে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর ওপর সাক্ষী ছিলেন। সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো এবং আমার আয়াতসমূহকে সামান্য মূল্যে বিক্রয় করো না। আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সেই অনুযায়ী যারা ফয়সালা দেয় না, তারাই কাফির।} (৩) তিনি বলেছেন {কারণ তাঁদেরকে আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল}, ফলে তাওরাত সংরক্ষণের ভার তাঁদের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল। এ কারণেই তাঁদের নবীদের পরে তাতে বিকৃতি, পরিবর্তন ও অপব্যাখ্যা প্রবেশ করেছে। এরপর এই সবকিছুর সাথে রহিতকরণ (নাসখ) যুক্ত হয়েছে। মহান কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পর সে অনুযায়ী ফয়সালা করা, বিচার চাওয়া বা এর ওপর নির্ভর করা বৈধ নয়; যে কুরআন এই তাওরাত এবং এর পূর্বের ও পরের সকল আসমানী কিতাবের ওপর তদারককারী ও রক্ষক। এটি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের বিষয়গুলোকে রহিতকারী, তবে যে বিষয়গুলো এতে বহাল রাখা হয়েছে সেগুলো ব্যতীত। কেননা সঠিক মত হলো (পূর্ববর্তী নবীগণের শরীয়ত...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে (تبلى) রয়েছে, তবে আমরা যা এখানে উল্লেখ করেছি তা প্রসঙ্গের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

‌‌(২) ইয়াসুদ্দুন: তারা সুদৃঢ় করতেন। বলা হয় 'সাদ্দা আল-আমরু' বা 'সাদ্দাদাহু' অর্থাৎ সেটিকে সুদৃঢ় করেছে। লিসানুল আরব ৩/১৯৬৮ দ্রষ্টব্য।

‌‌(৩) সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৪৪।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৫৮)
قبلنا شَرْعٌ لنا ما لم ينسخ) كما هو المنصوص في الأصول، وكما تقرر بالمنقول والمعقول (1) .

وقال الله تعالى - وهو الذي يفرده بالعبادة الموحدُون -: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (2) فتكفل تعالى بحفظ كتابه العزيز، فلهذا لم يُهمل منه كلمةٌ بل حفظه الصحابة رضي الله عنهم من الرسول حرفاً حرفاً فيما يجهر فيه من الصلوات وما يُخفى، ومن خطبه ومواعظه المكررة [مئيناً ألفاً] (3) ، فكان منهم من جمعه كله في حياة النبي صلى الله عليه وسلم من أنصارى ومهاجري، ومنهم من قرأ أكثره، وأقل من ذلك كُلٌّ بحسبه، فكان منهم من أودعه صدره، ومنهم من ضبطه بكتبه، وقد ورد في حديث: (من كتب عني شيئاً غير القرآن فليمحه) (4) خشية أن يذهب شئ من القرآن أو يختلط بغيره بحسب أن ذلك جائز.

ثم لما قاتل الصحابة أهل الردة، وأصحاب مسيلمة، وقُتِلَ منهم نحو الخمسمائة، أشار الفاروق على الصديق بجمع القرآن خشية أن يذهب شئ من القرآن بقتل بعض القراء، فأمر زيد بن ثابت الأنصاري، فتتبع القرآن يجمعه من صدور الرجال، ومن الجريد واللخاف (5) ، وألواح الأكتاف (6) ، فلم يترك منه آية إلا جمعها، ولا شاذة ولا فاذة إلا ارتجعها، فكان ذلك في صُحفٍ مطهرةٍ، مكرمة معظمة، أيامى الصديق والفاروق. فلما كان عثمان

--------------------------------------------

(1) في الأصل المخطوط [بالمنقول والمنقول] والصواب ما أثبتناه.

‌‌(2) آية (9) الحجر.

‌‌(3) في الأصل كلمة غير واضحة المعنى، ولعلها (مئينا ألفاً) .

‌‌(4) أخرجه مسلم: كتاب الزهد والرقائق. باب التثبت في الحديث وحكم كتابة العلم، عن أبي سعيد الخدري 4/2298 ط الحلبي.

‌‌(5) اللخاف: هي جمع لخفة، وهي حجارة بيض رقاق النهاية 4/244. مادة (لخف) .

‌‌(6) الكتف: عظم عريض يكون في أصل كتف الحيوان، كانوا يكتبون عليه. أهـ. النهاية 4/150.
আমাদের পূর্ববর্তীদের শরীয়ত আমাদের জন্যও শরীয়ত (যতক্ষণ না তা রহিত হয়), যেমনটি উসূলের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে এবং দলীল ও যুক্তির মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে (১)।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন—যাঁকে একত্ববাদীরা ইবাদতের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করেন—: {নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই এর সংরক্ষক} (২)। ফলে আল্লাহ তাআলা স্বয়ং তাঁর সম্মানিত কিতাব সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন। এ কারণে এর একটি শব্দও অবহেলিত হয়নি, বরং সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি অক্ষরে অক্ষরে মুখস্থ করেছেন; সশব্দে পঠিত সালাতসমূহ থেকে এবং যা নিঃশব্দে পঠিত হয় তা থেকে, এবং তাঁর বারবার প্রদত্ত শত-সহস্র (৩) খুতবা ও ওয়াজ-নসীহত থেকে। আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে এমন অনেকে ছিলেন যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশাতেই এর পুরোটা সংগ্রহ করেছিলেন। কেউ এর অধিকাংশ পাঠ করেছিলেন, আবার কেউ এর চেয়ে কম, প্রত্যেকেই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী। তাদের কেউ এটি নিজের হৃদয়ে গেঁথে নিয়েছিলেন, আবার কেউ লিখনীর মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করেছিলেন। একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: (কুরআন ব্যতীত কেউ যদি আমার পক্ষ থেকে কিছু লিখে থাকে, তবে সে যেন তা মুছে ফেলে) (৪); যাতে কুরআনের কোনো অংশ হারিয়ে না যায় অথবা অন্য কিছুর সাথে মিশে না যায়, যেহেতু সেটি ঘটা সম্ভব ছিল।

অতঃপর সাহাবীগণ যখন মুরতাদ ও মুসাইলামার অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন এবং তাদের মধ্য থেকে প্রায় পাঁচশত জন শহীদ হলেন, তখন ফারুক (ওমর রা.) সিদ্দিক (আবু বকর রা.)-কে কুরআন সংকলনের পরামর্শ দেন এই আশঙ্কায় যে, ক্বারীগণের শাহাদাতের ফলে কুরআনের কিছু অংশ হারিয়ে যেতে পারে। অতঃপর তিনি যায়েদ ইবনে সাবিত আনসারী (রা.)-কে নির্দেশ দিলেন। তিনি মানুষের অন্তর, খেজুরের ডাল, পাতলা পাথর (৫) এবং পশুর কাঁধের হাড় (৬) থেকে খুঁজে খুঁজে কুরআন সংগ্রহ করলেন। তিনি এর একটি আয়াতও সংগ্রহ করা ছাড়া ছাড়েননি এবং এর কোনো বিরল বা একক বর্ণনাও বাদ দেননি। ফলে তা পবিত্র, সম্মানিত ও সুমহান পাণ্ডুলিপিসমূহে সংরক্ষিত হলো সিদ্দিক ও ফারুকের শাসনকালে। অতঃপর যখন উসমান...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে [দলীল ও দলীল] রয়েছে, তবে আমরা যা লিখেছি তা-ই সঠিক।

‌‌(২) সূরা আল-হিজর, আয়াত ৯।

‌‌(৩) মূলে একটি অস্পষ্ট শব্দ রয়েছে, সম্ভবত তা হলো (শত-সহস্র)।

‌‌(৪) এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন: কিতাবুয যুহদ ওয়ার রাকা্ইক। হাদীস বর্ণনায় সতর্কতা ও ইলম লিপিবদ্ধ করার হুকুম পরিচ্ছেদ, আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৯৮, হালাবী সংস্করণ।

‌‌(৫) লিখাফ: এটি লিখফাহ্-এর বহুবচন, যা হলো পাতলা সাদা পাথর। আন-নিহায়া ৪/২৪৪, 'লা-খা-ফা' মূলশব্দ।

‌‌(৬) কাঁধ: এটি প্রাণীর কাঁধের গোড়ার একটি চওড়া হাড়, তারা এর ওপর লিখতেন। সমাপ্ত। আন-নিহায়া ৪/১৫০।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৫৯)
بن عفان استدعي بتلك الصحف من عند أم المؤمنين حفصة، ورتب سورها على العرضة الأخيرة التي عرضها رسول الله صلى الله عليه وسلم على جبريل في آخر سنيه السنية، فإنه كان يُعارضه بما أوحاه إليه في كل رمضان مرة، فلما كان آخر رمضان صامه، الذي أنزل عليه فيه القرآن، عارضه مرتين (1) فكان ذلك إشارة إلى انقضاء عمر سيد الثقلين، / فكتبه أمير المؤمنين عثمان بن عفان على العرضة الأخيرة منهما، وألزم الناس أن يقرءوا على رسم ما رسمه في المصحف الإمام، وأنْفَذَ به نُسخاً إلى بقية الأمصار الكبار، ليقتدي بها الأنامُ ما بقيت الأيام.

فقابلت الأمة ذلك بالسمع والطاعة، وحرقوا عن أمره بقية المصاحف المخالفة لتلاوة الجماعة، وكانوا قد تآلبت (2) تلاوتهم، وخطاً بعضهم بعضاً، حتى كثرت القالة والشناعة، فأشار حذيفة بن اليمان على عثمان بما اعتمده من هذا الصنيع الذي لم يسبق إليه ولا يُلحق فيه، وقد أمر بمتابعته والاقتداء به صاحب الشفاعة. وودَّ علي بن أبي طالب في أيامه أن لو كان صاحب ذلك لو قُدِّر له أو قَدَر عليه، وقد بسط بفضل عثمان كف الضراعة (3) وقد أخذ التابعون لهم بإحسان عنهم تلاوة القرآن قَرْنًا بعد قرن، وجيلاً بعد جيل، وخلفاً عن سلفٍ إلى هذا الأوان.

--------------------------------------------

(1) يشير بذلك إلى حديث معارضة جبريل للنبي بالقرآن في رمضان الأخير مرتين، عن عائشة عن فاطمة عليهما السلام قالت: (أسر إلى النبي صلى الله عليه وسلم أن جبريل يعارضني بالقرآن كل سنة، وإنه عارضني العام مرتين، ولا أراه إلا حضر أجلى) ، صحيح البخاري كتاب التفسير: فضائل القرآن: 9/43.

‌‌(2) يعني تمسك كل فريق بما يظنه صواباً ولو كان باطلاً، انظر لسان العرب 1/215، يشير بذلك إلى حديث حذيفة بن اليمان حين قدم على عثمان لما أفزعه اختلافهم في القراءة، فأشار على عثمان أن يجمعهم على قراءة واحدة ثابتة، انظر الحديث في صحيح البخاري في كتاب التفسير باب جمع القرآن: 9/10.

‌‌(3) يقصد بذلك ما ورد من ثناء أمير المؤمنين علي، على أمير المؤمنين عثمان رضي الله عنهما وتمنيه أن لو فعل في المصاحف مثله، فقد ورد عنه أنه قال: (لو كنت الوالي وقت عثمان لفعلت بالمصاحف مثل الذي فعل عثمان) وقال أيضاً: (لا تقولوا في عثمان إلا خيراً. فوالله ما فعل الذي فعل في المصاحف إلا على ملامنا) … الخبر انظر فتح الباري جـ19 صـ 21 - 24. والإتقان في علوم القرآن للسيوطي جـ 1 صـ 240، والبرهان للزركشي جـ 1 صـ 240.
বিন আফফান উম্মুল মুমিনীন হাফসার নিকট থেকে সেই পাণ্ডুলিপিগুলো আনিয়ে নিলেন এবং এর সূরাগুলোকে সেই শেষ পেশকৃত পাঠের (আরদাহ আল-আখিরাহ) বিন্যাস অনুযায়ী সাজালেন, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবনের শেষ বছরে জিবরীলের নিকট পেশ করেছিলেন। কারণ তিনি প্রতি রমজানে একবার তাঁর নিকট যা ওহী নাযিল করা হয়েছে তা পাঠ করে শোনাতেন। যখন তাঁর সিয়াম পালনকৃত শেষ রমজান আসলো, যাতে তাঁর ওপর কুরআন নাযিল হয়েছিল, তখন তিনি তা দুবার পেশ করলেন (১)। এটি ছিল উভয় কুলের সরদারের জীবনকাল সমাপ্ত হওয়ার একটি ইঙ্গিত। অতঃপর আমীরুল মুমিনীন উসমান বিন আফফান সেই দুইবারের শেষবারের পেশকৃত পাঠ অনুযায়ী তা লিপিবদ্ধ করলেন এবং লোকজনকে 'মুসহাফে ইমাম'-এর লিপিরীতি অনুযায়ী তিলাওয়াত করতে বাধ্য করলেন। তিনি এর অনুলিপিগুলো অন্যান্য বড় বড় শহরগুলোতে পাঠিয়ে দিলেন, যাতে দিনকাল যতদিন বিদ্যমান থাকে ততদিন মানুষ এর অনুসরণ করতে পারে।

উম্মাহ তা শ্রবণ ও আনুগত্যের মাধ্যমে গ্রহণ করল এবং তাঁর নির্দেশে জামাআতের তিলাওয়াতের পরিপন্থী অবশিষ্ট মুসহাফগুলো জ্বালিয়ে ফেলল। তাদের তিলাওয়াত নিয়ে দলাদলি (২) তৈরি হয়েছিল এবং তারা একে অপরকে ভুল বলছিল, এমনকি এ নিয়ে বিতর্ক ও নিন্দনীয় কথা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় হুযায়ফা বিন আল-ইয়ামান উসমানকে এই কাজের পরামর্শ দিলেন যা তিনি সম্পাদন করেছেন, যার দৃষ্টান্ত পূর্বে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও কেউ এর সমকক্ষ হতে পারবে না। আর শাফাআতের অধিকারী ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অনুসরণ ও ইক্তিদা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আলী বিন আবি তালিবও তাঁর খেলাফতকালে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন যে, যদি তাঁর সামর্থ্য থাকত বা তাঁর জন্য এটি নির্ধারিত হতো তবে তিনিও এমনটিই করতেন। তিনি উসমানের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায় বিনয়ের হাত প্রসারিত করেছেন (৩)। তাঁদেরকে নিষ্ঠার সাথে অনুসরণকারী তাবিঈগণ তাঁদের নিকট থেকে যুগ যুগ ধরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এবং উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের নিকট থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত কুরআনের এই তিলাওয়াত গ্রহণ করে চলেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি শেষ রমজানে জিবরীলের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দুইবার কুরআন পেশ করার হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করছে। আয়েশা ও ফাতিমা আলাইহিমাস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে গোপন কথা বললেন যে, জিবরীল প্রতি বছর আমার সাথে কুরআন মুকাবালা (পাঠ) করেন, আর এ বছর তিনি আমার সাথে দুইবার মুকাবালা করেছেন। আমি মনে করছি আমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর: ফাযাইলুল কুরআন: ৯/৪৩।

‌‌(২) অর্থাৎ প্রত্যেক দল যা সঠিক মনে করত তা আঁকড়ে ধরেছিল, যদিও তা ভুল ছিল। দেখুন লিসানুল আরব ১/২১৫। এটি হুযায়ফা বিন আল-ইয়ামানের হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করছে যখন তিনি উসমানের নিকট আসলেন, কারণ কিরাআতের বিষয়ে তাদের মতভেদ তাঁকে আতঙ্কিত করেছিল। তখন তিনি উসমানকে পরামর্শ দিলেন যেন তিনি তাদের একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কিরাআতের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেন। হাদীসটি দেখুন সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, কুরআন সংকলন অধ্যায়: ৯/১০।

‌‌(৩) এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আমীরুল মুমিনীন আলী কর্তৃক আমীরুল মুমিনীন উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর সেই প্রশংসা এবং তাঁর আকাঙ্ক্ষা যে, যদি তিনি হতেন তবে তিনিও মুসহাফের ব্যাপারে এমনই করতেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেন: ‘আমি যদি উসমানের সময় ওয়ালী (শাসক) হতাম, তবে মুসহাফের ব্যাপারে উসমান যা করেছেন আমিও তাই করতাম।’ তিনি আরও বলেন: ‘উসমানের ব্যাপারে তোমরা কল্যাণ ছাড়া অন্য কিছু বলো না। আল্লাহর কসম! তিনি মুসহাফের ব্যাপারে যা করেছেন তা আমাদের পরামর্শক্রমেই করেছেন’... সংবাদটি দেখুন ফাতহুল বারী ১৯তম খণ্ড, ২১-২৪ পৃষ্ঠা। আস-সুয়ূতী কৃত আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন ১ম খণ্ড, ২৪০ পৃষ্ঠা এবং আয-যারকাশী কৃত আল-বুরহান ১ম খণ্ড, ২৪০ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬০)
وقد تكلمنا على ما يتعلق بالقراءات السبع في أوائل كل سورة وجزء وسُبع في أوائل كتابنا (التفسير) بما فيه كفاية لكل فاضل نحرير، ولا تزال طائفة من أمته ظاهرين بالحجة على سائل الخلق بالحق متمسكين بسنته الواردة عنه المتلقاة منه، حافظين لها، مُعولين عليها، حافظين لأسانيدها وألفاظ متون سُننها ومسانيدها، عالمين بأحوال رجالها، من ثقاتها وضعفائها، ومن يُنسب منهم إلى بدعة جرحة (1) ، أو سوء حفظ، أو عدم ضبط، أو تغفل، أو كذب، أو وضع، أو زندقة، أو انحلال، أو متأول في كذبه بنوع قُربةٍ وهو مخطئ في ذلك، كما هو مبسوط في كتب الأسماء والرجال، والتواريخ وأيام الناس.

وقد جمعتُ في ذلك كتاباً حافلاً كافياً كافلا كاملاً لأشتات ما تفرق في غيره، وسميته (بالتكميل في معرفة الثقات والضغفاء والمجاهيل) (2) / في عدة عشر مجلدات، هو كالمقدمة بين يدي كتابي هذا، الذي قد جمعته أيضاً من كتب الإسلام المعتمدة في الأحاديث الواردة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم. ومن ذلك الكتب الستة، وهي: الصحيحان: البخاري ومسلم، والسنن الأربع: لأبي (3) داود، والترمذي، والنسائي، وابن ماجه، ومن ذلك مسند الإمام أحمد، ومسند أبي بكر البزار، ومسند الحافظ أبي يعلى الموصلي، والمعجم الكبير للطبراني (4) رحمهم الله. فهذه عشرة كاملة.

وأذكر في كتابي هذا مجموع ما في هذه العشرة، وربما زدْتُ عليها من غيرها، وقل ما يخرج عنها من الأحاديث مما يحتاج إليه في الدين.

--------------------------------------------

(1) يعني جارحة.

‌‌(2) قد أشرنا في الكلام عن مؤلفاته أن هذا الكتاب لا يوجد منه سوى الجزء التاسع فقط، وهو بدار الكتب المصرية تحت رقم (24227) رمز (ب) .

‌‌(3) في الأصل المخطوط [ابن داود] ، والصواب: ما أثبتناه.

‌‌(4) هذا نص صريح يرد على من ذكر أن من أصوله ابن أبي شيبة مكان المعجم الكبير للطبراني ممن ترجم لابن كثير، كما سبقت الإشارة إليه.
আমরা আমাদের (তাফসীর) গ্রন্থের শুরুতে প্রতিটি সূরা, পারা এবং সপ্তাংশের শুরুতে সাত কিরাআত সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে এমনভাবে আলোচনা করেছি যা প্রত্যেক বিজ্ঞ ও সূক্ষ্মদর্শী পণ্ডিতের জন্য পর্যাপ্ত। আর তাঁর উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে অন্য সকল সৃষ্টির ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাঁর থেকে প্রাপ্ত ও বর্ণিত সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখবে, তা সংরক্ষণ করবে এবং তার ওপর নির্ভর করবে। তারা সুন্নাহ ও মুসনাদসমূহের সনদ (সূত্র) এবং মতনসমূহের (মূল পাঠ) শব্দাবলি সংরক্ষণকারী হবে। তারা এর বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত থাকবে—তাদের মধ্যে কারা নির্ভরযোগ্য আর কারা দুর্বল। এবং তাদের মধ্য হতে যাদেরকে দোষণীয় বিদআত (১), মুখস্থ করার দুর্বলতা, অনবধানতা, অসতর্কতা, গাফিলতি, মিথ্যাচার, জালিয়াতি, জিন্দিকতা (ধর্মহীনতা), নৈতিক শিথিলতা কিংবা যারা নেকির আশায় মিথ্যাচারে লিপ্ত হওয়ার মতো ভুল ব্যাখ্যা প্রদানকারী (যদিও তারা তাতে ভুলকারী)—এসকল বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে তাদের সম্পর্কেও তারা জানবে। যেমনটি আসমাউর রিজাল (বর্ণনাকারীদের পরিচয়), ইতিহাস এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।

আমি এ বিষয়ে একটি সমৃদ্ধ, পর্যাপ্ত, ব্যাপক এবং পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ সংকলন করেছি যা অন্যান্য গ্রন্থে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছে। আমি এর নামকরণ করেছি 'আত-তাকমীল ফী মা'রিফাতিস সিকাত ওয়াদ দু'য়াফা ওয়াল মাজাহীল' (২), যা দশটিরও অধিক খণ্ডে সমাপ্ত। এটি আমার বর্তমান এই গ্রন্থের জন্য ভূমিকার স্বরূপ, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের ব্যাপারে ইসলামের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ থেকে সংকলন করেছি। এর মধ্যে রয়েছে 'কুতুবে সিত্তা' (ছয়টি গ্রন্থ), যথা: সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং সুনানে আরবাআ (আবু দাউদ (৩), তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)। এছাড়াও রয়েছে ইমাম আহমাদের মুসনাদ, আবু বকর আল-বাযযারের মুসনাদ, হাফেজ আবু ইয়ালা আল-মাওসিলীর মুসনাদ এবং তাবারানীর আল-মু'জামুল কাবীর (৪), আল্লাহ তাদের সকলের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। এই হলো পূর্ণ দশটি গ্রন্থ।

আমি আমার এই গ্রন্থে উক্ত দশটি গ্রন্থের সংকলিত রূপ উল্লেখ করব এবং সম্ভবত অন্যান্য গ্রন্থ থেকেও কিছু অতিরিক্ত বিষয় যোগ করব। দ্বীনের প্রয়োজনে দরকার হয় এমন খুব অল্প হাদীসই এই সংগ্রহের বাইরে থাকবে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ জারহ বা দোষযুক্ত।

‌‌(২) আমরা লেখকের রচনাবলী সম্পর্কে আলোচনার সময় ইঙ্গিত দিয়েছি যে, এই গ্রন্থটির শুধুমাত্র নবম খণ্ডটিই বর্তমানে পাওয়া যায়, যা মিশরের 'দারুল কুতুব'-এ ২৪২২৭ নম্বর এবং 'বা' প্রতীকের অধীনে সংরক্ষিত আছে।

‌‌(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে [ইবনে দাউদ] রয়েছে, তবে আমরা যা লিখেছি সেটিই সঠিক।

‌‌(৪) এটি তাদের বক্তব্যের একটি স্পষ্ট খণ্ডন, যারা ইবনে কাসীরের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তাবারানীর 'আল-মু'জামুল কাবীর'-এর পরিবর্তে তার অন্যতম মূল উৎস হলো 'ইবনে আবি শাইবা', যেমনটি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬১)
وهذه الكتب العشرة تشتمل على أوفي من مائة ألف حديث بالمكررة. وفيها الصحيح والحسن، والضعيف والموضوع أيضاً. وتشتمل على أحاديث كثيرة في الأحكام، وفي التفسير، وفي التواريخ، والرقائق، والفضائل، وغير ذلك من فنون العلم، كما قد نبه على ذلك الإمام البخاري في كتابه الجامع، وفتح أبواب الهدى وأرشد إلى مسالك النجاة وترجم كتباً وأبواباً دلت على فقه نفيس عظيم، وعلى همةٍ سامية شاهقة إلى نيل المعالي في سائر العلوم الشرعية، وعلى اطلاع عظيم من السنة النبوية والأحاديث المصطفوية، فرحمه الله من إمام، كما جعل له لسان صدق في هذه الأمة الأنام. ولكن قل ما يدخل في مصنفه من هذه الأحاديث لما شرطه في صحيحه من الشرط الذي ضاق. وتوسع مُسلم بن الحجاج بعده في الشرط، وبالغ في المناظرة والحجاج، ومع هذا بقي عليه أحاديث أخر لم يطلع عليها، وهي على شرطه، كما ستراها في هذا الكتاب إن شاء الله تعالى.

وقد وضعت كُل حديث مما يتعلق بالأحكام، والتفسير، والتاريخ، في كتبنا الثلاثة ولله الحمد والمنة. وما كان فيه وهن شديد بينته، وموضع تحرير (1) ذلك وتقريره، والتفسير عنه في كتابي (الأحكام الكبرى) .

وسميت كتابي هذا (جامع المسانيد والسنن الهادي لأقوم سنن) وهو المسند الكبير.

وشرطي فيه أني أترجم كل صحابي له رواية عن رسول الله/ صلى الله عليه وسلم مرتباً على حروف المعجم، وأوردُ له جميع ما وقع له في الكتب وما تيسر لي من غيرها، وبالله أستعين، وعليه أتوكل، وإليه أنيب.

--------------------------------------------

(1) في الأصل المخطوط (تحريم) والسياق يقتضي ما أثبتناه.
এবং এই দশটি গ্রন্থ পুনরাবৃত্তিসহ এক লক্ষেরও বেশি হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে সহিহ, হাসান এবং যয়িফ ও মাওজু হাদিসও রয়েছে। এতে বিধান (আহকাম), তাফসির, ইতিহাস, হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা (রাক্কায়িক), ফাদায়িল এবং ইলমের অন্যান্য শাখা সম্পর্কে অনেক হাদিস রয়েছে; যেমনটি ইমাম বুখারি তাঁর ‘আল-জামি’ গ্রন্থে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং হিদায়াতের দ্বার উন্মোচন করেছেন ও নাজাতের পথের দিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি এমন সব গ্রন্থ ও অধ্যায় শিরোনাম বিন্যস্ত করেছেন যা এক মহান ও সূক্ষ্ম ফিকহকে নির্দেশ করে, এবং সকল শরয়ী ইলমে উচ্চ মর্যাদা লাভের সুউচ্চ হিম্মত এবং সুন্নাহে নববী ও আহাদিসে মুস্তফায়ি সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। আল্লাহ এই ইমামের প্রতি রহম করুন, যেমন তিনি তাঁকে এই উম্মতের মধ্যে এক সত্যবাদী জবান দান করেছেন। কিন্তু তাঁর সংকলনে এই হাদিসগুলোর খুব সামান্যই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাঁর ‘সহিহ’ গ্রন্থের সেই কঠোর শর্তের কারণে। আর মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁর পরবর্তীতে শর্তের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রশস্ততা অবলম্বন করেছেন এবং দলিল ও যুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাপকতা এনেছেন। তা সত্ত্বেও এমন অনেক হাদিস রয়ে গেছে যা তিনি অবগত হননি, অথচ সেগুলো তাঁর শর্তানুসারে সহিহ; যা ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি এই কিতাবে দেখতে পাবেন।

আর আমি বিধান, তাফসির এবং ইতিহাস সংশ্লিষ্ট প্রতিটি হাদিস আমার তিনটি গ্রন্থে উল্লেখ করেছি, আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা। আর যে হাদিসে গুরুতর দুর্বলতা ছিল তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি; আর এগুলোর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, স্থায়ীকরণ এবং ব্যাখ্যা রয়েছে আমার ‘আল-আহকামুল কুবরা’ গ্রন্থে।

আমি আমার এই কিতাবটির নামকরণ করেছি ‘জামিুল মাসানিদি ওয়াস সুনান আল-হাদি লি-আকওয়ামি সুনান’ এবং এটি একটি বিশাল মুসনাদ গ্রন্থ।

এতে আমার শর্ত হলো এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদিস রয়েছে এমন প্রত্যেক সাহাবীর শিরোনাম বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি এবং কিতাবসমূহে ও এর বাইরে আমার কাছে যা সহজলভ্য হয়েছে তাঁর বর্ণিত সেই সকল হাদিস উল্লেখ করেছি। আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি, তাঁরই ওপর ভরসা করছি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে ‘তাহরিম’ ছিল, তবে প্রসঙ্গের প্রয়োজনে আমরা যা স্থির করেছি তাই সঙ্গত।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌حرف الألف

من اسمه آبي. وأبان. وأبجر. وإبراهيم. وأبزى. وأبيض. وأُبيٌّ من الصحابة رضي الله عنهم.
আলিফ বর্ণ

সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মধ্য হতে যাঁদের নাম আবী, আবান, আবজার, ইবরাহীম, আবযা, আবয়াদ এবং উবাই।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌1 - (آبي اللحم الغفاري) (1)

قيل اسمه حُويرث، وقيل: خلف، وقيل: عبد الله بن عبد الملك بن عبد الله ابن حارثة بن غفار بن (مُليل) (2) بن ضمرة بن بكر بن عبد مَناة ابن كنانة بن خُزيمة ابن مُدركة بن نِزَار بن إلياس بن معد بن عدنان.

وهو صحابي قديم الإسلام. وإنما لُقب بـ (آبي اللحم) لأنه كان لا يأكل اللحم ويأبى منه. وقيل كان لا يأكل ما ذبح على النُّصبِ، له حديث واحد.

‌‌1 - قال الإمام أحمد، وأبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي، وأبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي في (كتاب الصلاة) من سننهما (3) :

حدثنا قُتيبة بن سعيد، حدثنا الليث، - هو ابن سعد - عن خالد بن يزيد، عن سعيد بن أبي هلال، عن يزيد بن عبد الله، عن عمير - مولى

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في الإصابة في تمييز الصحابة 1/13 ط: المثنى بلبنان الأولى سنة 1328هـ، وأسد الغابة في معرفة الصحابة 1/45 باب الهمزة مع الألف.

‌‌(2) في الأصل (مليك) بالكاف، والتصويب من أسد الغابة.

‌‌(3) مسند أحمد بن حنبل 5/223 دار الفكر، وسنن الترمذي: كتاب الصلاة باب ماجاء في صلاة الاستسقاء: 2/34 وسنن النسائي: كتاب الاستسقاء: باب: كيف يرفع يديه: 3/159. والحديث أخرجه الحاكم في المستدرك 1/327 وقال: هذا سند صحيح الإسناد، ولم يخرجاه، ووافقه الذهبي. وزاد السيوطي في الجامع الكبير 2/229 نسبته للبغوي والبارودي وأبي نعيم وسمويه في فوائده.
‌১ - (আবি আল-লাহম আল-গিফারি) (১)

বলা হয় তাঁর নাম হুয়াইরিস, আবার বলা হয়: খালাফ, আবার বলা হয়: আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল মালিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হারিসাহ ইবনে গিফার ইবনে (মুলায়ল) (২) ইবনে দামরাহ ইবনে বকর ইবনে আবদে মানাত ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজায়মাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে নিযার ইবনে ইলিয়াস ইবনে মাদ ইবনে আদনান।

তিনি ইসলামের প্রথম যুগের একজন সাহাবী। তাঁকে (আবি আল-লাহম) উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি গোশত খেতেন না এবং তা থেকে বিরত থাকতেন। বলা হয়, তিনি মূর্তির বেদীতে জবেহ করা পশুর গোশত খেতেন না। তাঁর থেকে বর্ণিত একটি মাত্র হাদিস রয়েছে।

‌‌১ - ইমাম আহমদ, আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সূরাহ আত-তিরমিযী এবং আবু আবদির রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ী তাঁদের ‘সুনান’ গ্রন্থের (সালাত অধ্যায়ে) বলেছেন (৩):

কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, লাইস —তিনি ইবনে সা’দ— আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, খালিদ ইবনে ইয়াযীদ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আবি হিলাল থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি উমাইর থেকে —যিনি... এর মুক্তদাস—

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আল-ইসাবাহ ফি তাময়ীযিস সাহাবাহ ১/১৩, তবা: আল-মুসান্না, লেবানন, প্রথম মুদ্রণ ১৩২৮ হি., এবং আসাদুল গাবাহ ফি মা’রিফাতিস সাহাবাহ ১/৪৫, আলিফ ও হামযাহ পরিচ্ছেদ।

‌‌(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে ‘কাফ’ সহ (মালিক) রয়েছে, আর আসাদুল গাবাহ থেকে এটি (মুলায়ল) হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে।

‌‌(৩) মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল ৫/২২৩, দারুল ফিকর; সুনানে তিরমিযী: সালাত অধ্যায়, ইস্তিসকার সালাত বিষয়ক পরিচ্ছেদ: ২/৩৪; এবং সুনানে নাসায়ী: ইস্তিসকা অধ্যায়, হাত তোলার নিয়ম বিষয়ক পরিচ্ছেদ: ৩/১৫৯। হাদিসটি হাকিম আল-মুস্তাদরাক ১/৩২৭-এ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি বিশুদ্ধ সূত্রের হাদিস, তবে তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি এবং যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। সুয়ূতী আল-জামি আল-কাবীর ২/২২৯-এ বাগাবী, বারুদী, আবু নুআইম এবং সামওয়াইহের ‘ফাওয়াইদ’ গ্রন্থের তথ্য যোগ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৪)
آبي اللحم - عن آبي اللحم (أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم يستسقى عند أحجاز الزيت (1) وهو مقنع (2) يديه يدعو) .

قال الترمذي: كذا قال قتيبة في هذا الحديث: عن آبي اللحم، ولا نعرف له عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا هذا الحديث.

وقد رواه [عمر بن] (3) مالك وغيره عن يزيد بن عبد الله بن الهاد عن محمد ابن إبراهيم التَّيْمي عن عُمير مولى آبي اللحم عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يقل: عن آبي اللحم، وكلاهما له صحبة. ورواه عبد ربه بن سعيد عن محمد بن إبراهيم قال: أخبرني من رأى النبي صلى الله عليه وسلم ولم يُسمِّهِ.

قلت: وسيأتي كل منهما في موضعه، فقد رواه أبو داود (4) من حديث عمر ابن مالك، ومن حديث عبد ربه، كما رمزنا عنهما.

--------------------------------------------

(1) موضع قريب من الزوراء بالمدينة المنورة. معجم البلدان 1/109.

‌‌(2) مقنع يديه: أي رافع يديه انظر جامع الأصول 6/209.

‌‌(3) في الموضعين (مالك) والزيادة في سنن أبي داود.

‌‌(4) أخرجه أبو داود: في كتاب الصلاة: باب رفع اليدين في الاستسقاء: 1/266 عن عمير مولى بني آبي اللحم.
আবি আল-লাহাম - আবি আল-লাহাম হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আহজার আল-জাইত নামক স্থানে বৃষ্টির প্রার্থনা (ইসতিসকা) করতে দেখেছেন (১) এবং এমতাবস্থায় তিনি দোয়ার জন্য তাঁর হাত দুটি উপরে তুলে ধরেছিলেন (২)।

ইমাম তিরমিযী বলেন: কুতায়বা এই হাদিসে এভাবেই বর্ণনা করেছেন: 'আবি আল-লাহাম হতে'; আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে তাঁর বর্ণিত এই হাদিসটি ছাড়া অন্য কোনো হাদিস আমাদের জানা নেই।

উমর ইবনে মালিক এবং অন্যান্যেরা ইয়াজিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-হাদ হতে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি হতে, তিনি আবি আল-লাহামের মুক্ত দাস উমাইর হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে সেখানে তিনি 'আবি আল-লাহাম হতে' বলেননি, যদিও তারা উভয়েই সাহাবী ছিলেন। আবদে রাব্বিহি ইবনে সাঈদ এটি মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে এমন একজন ব্যক্তি সংবাদ দিয়েছেন যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, তবে তিনি তাঁর নাম উল্লেখ করেননি।

আমি বলছি: এগুলোর প্রত্যেকটি নিজ নিজ স্থানে আসবে; কেননা আবু দাউদ (৪) উমর ইবনে মালিকের হাদিস হতে এবং আবদে রাব্বিহির হাদিস হতে তা বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমরা তাদের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত করেছি।

--------------------------------------------

(১) মদিনা মুনাওয়ারার আজ-জাওরা নামক স্থানের নিকটবর্তী একটি জায়গা। মুজামুল বুলদান ১/১০৯।

‌‌(২) হাত উপরে তোলা: অর্থাৎ তাঁর হাত দুটি উত্তোলিত করা, দেখুন জামেউল উসুল ৬/২০৯।

‌‌(৩) উভয় স্থানে (মালিক) রয়েছে এবং অতিরিক্ত অংশটি সুনানে আবু দাউদ থেকে নেওয়া।

‌‌(৪) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন: কিতাবুস সালাত: বৃষ্টির প্রার্থনায় হাত তোলার অধ্যায়: ১/২৬৬, বনু আবি আল-লাহামের মুক্ত দাস উমাইর হতে।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৪)
‌‌2 - (أبان بن سعيد) (1)

أبان بن سعيد بن العاص بن أمية بن عبد شمس بن عبد مناف بن قُصي. وأمه هند، ويُقال: صفية بنت المغيرة بن عبد الله بن عمرو بن مخزوم، عمة خالد بن الوليد. كان من وجوه قريش من بني أمية. / وكان هو الذي أجار عثمان بن عفان يوم بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم في الرسالة إلى قريش يوم الحديبية، وأركبه فرسه، وقال: سر آمنًا حيث شئت. ثم أسلم بعد الحديبية، وشهد فتح خيبر، وقد كان في سريةٍ بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم فيها

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في الإصابة لابن حجر 1/13، وأسد الغابة باب الهمزة والباء وما يثلثهما: 1/46.
২ - (আবান ইবন সাঈদ) (১)

আবান ইবন সাঈদ ইবন আল-আস ইবন উমাইয়্যাহ ইবন আবদ শামস ইবন আবদ মানাফ ইবন কুসাই। আর তার মা ছিলেন হিন্দ, এবং বলা হয়: সাফিয়্যাহ বিনত আল-মুগীরাহ ইবন আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন মাখজুম, যিনি খালিদ ইবন আল-ওয়ালিদ-এর ফুফু ছিলেন। তিনি বনু উমাইয়্যাহর কুরাইশ বংশীয় অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। / আর তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি হুদায়বিয়ার দিনে উসমান ইবন আফফানকে আশ্রয় দিয়েছিলেন যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুরাইশদের নিকট বার্তার উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাকে নিজের ঘোড়ায় আরোহণ করিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "আপনি যেখানে ইচ্ছা নিরাপদে ভ্রমণ করুন।" এরপর তিনি হুদায়বিয়ার পরে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং খায়বার বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে একটি বিশেষ সেনাদলে (সারিয়্যাহ) প্রেরণ করেছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দেখুন ইবন হাজারের 'আল-ইসাবাহ' ১/১৩ এবং 'উসদ আল-গাবাহ' আল-হামজাহ ও আল-বা এবং তার পরবর্তী বর্ণ-অনুচ্ছেদ: ১/৪৬-এ।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৫)
أميراً. وشهد فتح دمشق، فقيل: إنه قتل يوم مرج الصفر (1) بعدها بقليل. وقيل: يوم اليرموك سنة خمس عشرة، وقيل: يوم أجْنادين (2) قبيلهما. وقيل: إنه تأخر إلى أيام عثمان، فكان ممن يُمْلى المصحف على زيد بن ثابت بأمر عثمان، فالله أعلم.

--------------------------------------------

(1) (مَرْج الصُّفر) موضع بغوطة دمشق كان به وقعة للمسلمين مع الروم وكانت سنة أربع عشرة. النهاية 3/37.

‌‌(2) كانت أجنادين سنة اثنتي عشرة، وقيل: ثلاث عشرة. أسد الغابة 1/47.
আমির হিসেবে। তিনি দামেস্ক বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। বলা হয়েছে যে, এর অল্পকাল পরেই তিনি মারজ আস-সুফ্ফার (১) যুদ্ধে নিহত হন। আবার বলা হয়েছে: পনেরো হিজরি সনে ইয়ারমুকের যুদ্ধে, আবার কেউ বলেছেন: এই দুই যুদ্ধের পূর্বে আজন্যাদাইনের (২) যুদ্ধে। আরও বলা হয়েছে যে, তিনি উসমানের সময়কাল পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা উসমানের নির্দেশে যায়িদ ইবনে সাবিতের নিকট মুসহাফ শ্রুতলিখন করাতেন। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) (মারজ আস-সুফ্ফার) দামেস্কের ঘুতায় অবস্থিত একটি স্থান যেখানে রোমানদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ হয়েছিল এবং এটি চৌদ্দ হিজরি সনের ঘটনা। আন-নিহায়াহ ৩/৩৭।

‌‌(২) আজন্যাদাইন বারো হিজরি সনে হয়েছিল, মতান্তরে তেরো হিজরিতে। উসদুল গাবাহ ১/৪৭।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌2 - قال الحافظ أبو بكر أحمد بن عمرو بن عبد الخالق البزار في مسنده: حدثنا إبراهيم بن عبد الله، حدثنا إبراهيم بن ناصح، حدثنا محمد بن الحسن، حدثني سليمان بن وهب، حدثني النعمان بن برزج (1) - وكان قد أدرك الجاهلية - قال: بعث أبو بكر أبان بن سعيد إلى اليمن، وكلمه رجل في دَمٍ، فقال أبان: (إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد وضع كل دمٍ كان في الجاهلية) (2) .

وكذلك رواه الطبراني في المعجم الكبير عن علي بن المبارك الصنعاني، عن زيد بن المبارك، عن محمد بن الحسن بن أتش، عن سليمان بن وهب الجندي، عن النعمان، عن أبان، أنه خطب فقال: (إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد وضع كل دمٍ كان في الجاهلية) (3) .

--------------------------------------------

(1) بُرزْج: بفتح الباء وضم الراء وسكون الزاي. أسد الغابة 5/326، الإصابة 3/585.

‌‌(2) انظر كشف الأستار 2/215، وانظر مجمع الزوائد 6/293 حيث قال: وإسناد البزار ضعيف.

‌‌(3) معجم الطبراني 1/202، والجامع الكبير للسيوطي 2/229، فقد زاد إسناده للبخاري في الكبير وابن أبي داود، والبغوي وابن قانع، وغيرهم.
২ - হাফেজ আবু বকর আহমদ ইবনে আমর ইবনে আব্দুল খালিক আল-বাজার তাঁর মুসনাদে বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে নাসিহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হাসান, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে ওয়াহাব, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন নুমান ইবনে বারযাজ (১) - এবং তিনি জাহেলিয়াতের যুগ পেয়েছিলেন - তিনি বলেন: আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু আবান ইবনে সাঈদকে ইয়েমেনে প্রেরণ করেন, এবং এক ব্যক্তি তাঁর সাথে খুনের বদলা (রক্তপণ) সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেন। তখন আবান বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়াতের যুগের সমস্ত রক্তের দাবি রহিত করে দিয়েছেন) (২)।

অনুরূপভাবে তাবারানি তাঁর মুজামুল কুবিরে আলী ইবনে মুবারক আল-সানআনি থেকে, তিনি যায়েদ ইবনে মুবারক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে আতাস থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে ওয়াহাব আল-জুনদি থেকে, তিনি নুমান থেকে এবং তিনি আবান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি খুতবা প্রদান করেন এবং বলেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহেলিয়াতের যুগের সমস্ত রক্তের দাবি রহিত করে দিয়েছেন) (৩)।

--------------------------------------------

(১) বারযাজ: বা-এর উপর ফাতহ (যবর), রা-এর উপর যম্মাহ (পেশ) এবং যা-এর উপর সুকুন। উসদুল গাবাহ ৫/৩২৬, আল-ইসাবাহ ৩/৫৮৫।

(২) দেখুন: কাশফুল আস্তার ২/২১৫, এবং মাজমাউয যাওয়াইদ ৬/২৯৩ যেখানে তিনি বলেছেন: আল-বাজারের সনদটি দুর্বল।

(৩) মুজামে তাবারানি ১/২০২, এবং সুয়ুতির আল-জামি আল-কাবির ২/২২৯; তিনি এতে আল-বুখারির 'আল-কাবির', ইবনে আবি দাউদ, বাগাওয়ি, ইবনে কানি এবং অন্যদের উদ্ধৃতি দিয়ে এর সনদ বৃদ্ধি করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৬)
‌‌3 - (أبان المحاربي، وهو العبدي أيضاً) (1)

‌‌3 - قال الطبراني: حدثنا محمد بن العباس الأخرم الأصبهاني، حدثنا أسيد ابن عاصم، حدثنا سعيد بن عامر، عن أبان بن أبي عياش، عن الحكم بن حيان، [عن أبان] (2) المحاربي - وكان من الوفد الذين وفدوا على رسول الله صلى الله عليه وسلم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: (مامن عبد مسلم يقول إذا أصبح: الحمد لله لا أشرك به شيئاً، وأشهد أن لا إله إلا الله، إلا ظلَّ تُغفر له ذنوبه حتى يُمسي، فإن قالها إذا أمسى ظل تُغفر له ذنوبه حتى يُصبح) (3) .

رواه البزار، عن محمد بن السكن الأيلي، عن سعيد بن عامر، عن أبان بن أبي عياش، وكان من العُباد فكثرت المناكير في حديثه فأبوا حفظه (4) .

 

‌‌4 - (إبراهيم بن الحارث)

إبراهيم بن الحارث بن خالد بن الحارث بن عامر بن كعب بن سعد بن.... ابن كعب (5) / قال أحمد بن حنبل والبخاري: كان من المهاجرين. قال البخاري: هاجر مع أبيه وقال موسى بن عبيدة: حدثني محمد بن إبراهيم بن الحارث وكان جده من المهاجرين الأولين.

--------------------------------------------

(1) هو أبان المحاربي من بني محارب بن عمرو بن وديعة بن لكيز، ويقال له العبدي أيضاً فهو عبدي محاربي، ومحارب بطن من عبد القيس. الإصابة 1/15، أسد الغابة 1/48.

‌‌(2) الزيادة التي بين القوسين ليستقيم المعنى وبعد الرجوع إلى معجم الطبراني 1/202.

‌‌(3) الخبر في المعجم الكبير للطبراني 1/202، وهو عند ابن سعد 7/88.

‌‌(4) أورده الهيثمي في مجمع الزوائد 10/116، وقال: رواه البزار، وفيه أبان بن أبي عياش وهو متروك.

‌‌(5) هكذا بياض في الأصل. وصحة نسبه: إبراهيم بن الحارث بن خالد بن صخر بن عامر بن كعب ابن سعد بن تيم بن مرة التيمي القرشي.

التاريخ الكبير 1/22، الإصابة 1/15، أسد الغابة 1/51.
৩ - (আবান আল-মুহারিবি, যিনি আল-আবদি নামেও পরিচিত)(১)

৩ - তাবারানি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস আল-আখরাম আল-আসবাহানি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উসাইদ ইবনে আসিম বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট সাঈদ ইবনে আমির বর্ণনা করেছেন, আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে, তিনি আল-হাকাম ইবনে হাইয়ান থেকে, [আবান] (২) আল-মুহারিবি থেকে—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসা প্রতিনিধি দলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: (এমন কোনো মুসলিম বান্দা নেই যে সকালে উপনীত হয়ে বলে: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমি তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করি না, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তবে সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হতে থাকে; আর যদি সে সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এটি বলে, তবে সকাল হওয়া পর্যন্ত তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হতে থাকে) (৩)।

এটি আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনুস সাকান আল-আইলি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে আমির থেকে, তিনি আবান ইবনে আবি আইয়াশ থেকে। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ছিলেন, কিন্তু তাঁর বর্ণিত হাদিসে 'মুনকার' বা অগ্রহণযোগ্য বর্ণনার আধিক্য ঘটায় তারা (মুহাদ্দিসগণ) তা সংরক্ষণ করতে অস্বীকৃতি জানান (৪)।

 

৪ - (ইব্রাহিম ইবনুল হারিস)

ইব্রাহিম ইবনুল হারিস ইবনে খালিদ ইবনুল হারিস ইবনে আমির ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে.... ইবনে কাব (৫) / আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং বুখারি বলেছেন: তিনি মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বুখারি বলেছেন: তিনি তাঁর পিতার সাথে হিজরত করেছিলেন। মুসা ইবনে উবাইদাহ বলেন: আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল হারিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর দাদা প্রথম যুগের মুহাজিরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন বনু মুহারিব ইবনে আমর ইবনে ওয়াদিয়া ইবনে লাকিয গোত্রের আবান আল-মুহারিবি। তাঁকে আল-আবদিও বলা হয়, সুতরাং তিনি আবদি মুহারিবি; আর মুহারিব হলো আবদ আল-কায়স গোত্রের একটি শাখা। আল-ইসাবাহ ১/১৫, আসাদুল গাবাহ ১/৪৮।

(২) অর্থ সুসংগত করার জন্য এবং তাবারানির মুজাম ১/২০২ এর বরাতে বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু যোগ করা হয়েছে।

(৩) বর্ণনাটি তাবারানির আল-মুজামুল কাবির ১/২০২-এ রয়েছে এবং এটি ইবনে সা'দ ৭/৮৮-এ রয়েছে।

(৪) হাইসামি এটি মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১১৬-এ উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এটি আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন, আর এতে আবান ইবনে আবি আইয়াশ রয়েছেন যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই শূন্যস্থান রয়েছে। তাঁর বংশপরম্পরার সঠিক রূপ হলো: ইব্রাহিম ইবনুল হারিস ইবনে খালিদ ইবনে সাখর ইবনে আমির ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তাইম ইবনে মুররাহ আত-তাইমি আল-কুরাশি।

আত-তারিখুল কাবির ১/২২, আল-ইসাবাহ ১/১৫, আসাদুল গাবাহ ১/৫১।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৭)
‌‌4 - قال أبو نعيم: حدثنا أبو أحمد (الغطريفي) (1) ، حدثنا (الساجي) (2) ، حدثنا يزيد بن يوسف، عن عمرو، حدثنا خالد بن نزار، حدثنا سفيان بن عيينة،

عن محمد بن المنكدر، عن محمد بن إبراهيم بن الحارث التيمي، عن أبيه،

قال: (وجهنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في سرية وأمرنا أن نقول إذا نحن أمسينا

وأصبحنا: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثَاً وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لا تُرْجَعُونَ} (3) فقرأناها

فغنمنا وسلمنا) .

 

‌‌5 - (إبراهيم بن خَلاد بن سُويد الخزرجي وقيل أشهلىٌّ) (4) .

‌‌5 - روى أبو نعيم من طريق محمد بن إسحاق، حدثني عبد الله بن أبي لبيد، عن المطلب بن عبد الله بن حنطب المخزومي، عن إبراهيم بن خلاد قال: (دخل جبريل على رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا محمد كن عجاجاً ثجَّاجا) (5) .

 

‌‌6 - (إبراهيم بن عبد الرحمن العُذْرى) (6)

ذكره الحسن بن عرفة، عن إسماعيل بن عياش، عن مُعان بن رفاعة،

--------------------------------------------

(1) في الأصل (الطريفي) والتصويب من الأنساب 10/56.

‌‌(2) في الأصل (الديباجي) والتصويب في المصدر السابق.

‌‌(3) الآية (115) المؤمنون، وقال الحافظ ابن حجر في ترجمته في الإصابة: الحديث أخرجه ابن منده من طريق لا بأس بها. وفي أسد الغابة أخرجه ابن منده وأبو نعيم.

‌‌(4) قال ابن الأثير في أسد الغابة: ذكر أبو نعيم أنه خزرجي، وجعله ابن منده أشهلياً، وهما متناقضان، فإن عبد الأشهل قبيلة مشهورة من الأوس، إلا إن أراد نسبه إلى عبد الأشهل ابن دينار بن النجار فهو من الخزرج والصحيح: أنه خزرجي أهـ 1/52 باب الهمزة مع الباء وما يثلثهما، الإصابة 1/95.

‌‌(5) العج: رفع الصوت بالتلبية، والثج: إسالة دماء الهدي والأضاحي، النهاية 1/125، 3/69 والحديث أخرجه الطبراني في الكبير 1/314.

‌‌(6) انظر ترجمته في أسد الغابة، باب الهمزة مع الهاء وما يثلثهما 1/52، وقد جزم الحافظ ابن حجر أنه تابعي وحديثه مرسل. الإصابة 1/117.
৪ - আবু নুআইম বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আহমাদ (আল-গাতরিফি) (১), আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন (আস-সাজি) (২), আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াযিদ ইবনে ইউসুফ, আমর থেকে, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবনে নিযার, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ,

মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনুল হারিস আত-তাইমি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন,

তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে একটি ক্ষুদ্র যুদ্ধাভিযানে প্রেরণ করলেন এবং আদেশ দিলেন যে, আমরা যখন সন্ধ্যায় ও সকালে উপনীত হব তখন যেন বলি: {তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে কেবল অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?} (৩)। অতঃপর আমরা তা পাঠ করলাম এবং আমরা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গণিমত) লাভ করলাম ও নিরাপদ থাকলাম)।

 

৫ - (ইবরাহিম ইবনে খাল্লাদ ইবনে সুওয়াইদ আল-খাযরাজি, মতান্তরে আশহালি) (৪) ।

৫ - আবু নুআইম মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি লাবিদ, আল-মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হানতাব আল-মাখযুমি থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনে খাল্লাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (জিবরাইল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মাদ! আপনি আজ্জাজ ও সজ্জাজ [উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠকারী ও কুরবানীর রক্ত প্রবাহিতকারী] হোন) (৫) ।

 

৬ - (ইবরাহিম ইবনে আব্দুর রহমান আল-উযরি) (৬)

একে হাসান ইবনে আরাফাহ উল্লেখ করেছেন ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি মুআন ইবনে রিফায়া থেকে,

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে (আত-তরিফি) রয়েছে এবং আল-আনসাব ১০/৫৬ অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে (আদ-দিবাজি) রয়েছে এবং পূর্বোক্ত উৎস অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে।

(৩) সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত (১১৫)। হাফেজ ইবনে হাজার আল-ইসাবাহ গ্রন্থে তার জীবনীতে বলেছেন: হাদীসটি ইবনে মানদাহ এমন এক সূত্রে বর্ণনা করেছেন যাতে কোনো সমস্যা নেই। উসদুল গাবাহ গ্রন্থে ইবনে মানদাহ ও আবু নুআইম এটি বর্ণনা করেছেন।

(৪) ইবনুল আসির উসদুল গাবাহ গ্রন্থে বলেন: আবু নুআইম উল্লেখ করেছেন যে তিনি খাযরাজি, আর ইবনে মানদাহ তাকে আশহালি হিসেবে গণ্য করেছেন। এ দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী, কারণ আবদিল আশহাল হলো আওস গোত্রের একটি প্রসিদ্ধ গোত্র, তবে তিনি যদি আবদিল আশহাল ইবনে দীনার ইবনে নাজ্জারের বংশধর উদ্দেশ্য করে থাকেন তবে তিনি খাযরাজ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর সঠিক হলো: তিনি খাযরাজি। সমাপ্ত ১/৫২, আল-ইসাবাহ ১/৯৫।

(৫) 'আজ' অর্থ তালবিয়ার সময় আওয়াজ উঁচু করা, এবং 'সাজ' অর্থ হাদি ও কুরবানীর পশুর রক্ত প্রবাহিত করা। আন-নিহায়াহ ১/১২৫, ৩/৬৯। হাদীসটি তাবারানি আল-কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ১/৩১৪।

(৬) উসদুল গাবাহ গ্রন্থে তার জীবনী দেখুন ১/৫২। হাফেজ ইবনে হাজার নিশ্চিত করে বলেছেন যে তিনি একজন তাবিঈ এবং তার বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল। আল-ইসাবাহ ১/১১৭।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৮)
عن إبراهيم قال: وكان من الصحابة. قال أبو نعيم: فزاد: (وكان من الصحابة) ولم يتابع عليه.
ইবরাহিম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আর তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আবু নুয়াইম বলেন: তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: (আর তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন), তবে এই বর্ণনায় তার অনুসরণ করা হয়নি।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৮)
‌‌6 - ثم قال أبو نعيم: حدثنا محمد بن حميد، ومحمد بن إبراهيم بن علي، قالا: حدثنا أحمد بن الحسن بن عبد الجبار، حدثنا أبو الربيع الزهراني، حدثنا حماد بن زيد، عن بقية بن الوليد، عن مُعان بن رفاعة، عن إبراهيم بن عبد الرحمن العذري، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (يَحمِل هذا العلم من كُلِّ خلفٍ عُدُوله ينفون عنه تحريف الغالين وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين) . ثم قال: كذا رواه الوليد بن مسلم وإسماعيل بن عياش عن مُعانٍ.

ورواه عمرُو بن هاشم عن محمد بن سليمان بن أبي كريمة عن معان عن أبي عثمان النهدي عن أسامة بن زيد.

ورواهُ بقية/ أيضاً عن مسلمة بن علي عن أبي محمد السلامي عن عطاء بن يسار عن أبي هريرة. قال: وكُلها مضطربة غير مستقيمة (1) .

 

‌‌7 - إبراهيم: والد عطاء الطائفي (2)

‌‌7 - قال أبو نعيم: حدثنا عبد الله بن محمد، حدثنا أبو بكر بن أبي عاصم، حدثنا الحسن بن علي، حدثنا أبو عاصم، حدثنا عبد الله بن مسلم بن هرمز، عن يحيى بن عطاء بن إبراهيم عن أبيه عن جده - رجل من

--------------------------------------------

(1) القائل هو: أبو نعيم. وانظر كامل ابن عدي 1/190، وضعفاء العقيلي 4/456، وكذا قال ابن الأثير في أسد الغابة، وقال ابن حجر في الإصابة أورد ابن عدي هذا الحديث من طرق كثيرة كلها ضعيفة. وانظر التمهيد لابن عبد البر 1/58.

‌‌(2) إبراهيم: أبو عطاء الثقفي الطائفي قال أبو عمر: لم يرو عنه غير ابنه عطاء. وإسناد حديثه ليس بالقائم، ولا يحتج به ولا يصح عندي ذكره في الصحابة وحديثه عندي مرسل. أسد الغابة 1/54. وانظر الإصابة.
6 - এরপর আবু নুয়াইম বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ এবং মুহাম্মাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আহমাদ ইবনুল হাসান ইবনে আব্দুল জাব্বার আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবুুর রাবী' আল-যাহরানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ থেকে, তিনি মুআন ইবনে রিফাআহ থেকে, তিনি ইব্রাহিম ইবনে আব্দুর রহমান আল-উযরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (প্রতিটি পরবর্তী প্রজন্মের বিশ্বস্ত ব্যক্তিগণ এই জ্ঞান বহন করবেন; তাঁরা একে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ এবং জ্ঞানহীনদের অপব্যাখ্যা থেকে রক্ষা করবেন)। এরপর তিনি বললেন: ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম এবং ইসমাইল ইবনে আইয়াশ মুআন থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।

আর আমর ইবনে হাশেম এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমান ইবনে আবি কারিমাহ থেকে, তিনি মুআন থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে, তিনি উসামাহ ইবনে যাইদ থেকে।

আর বাকিয়্যাহ এটি মাসলামাহ ইবনে আলী থেকেও বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু মুহাম্মাদ আস-সালামি থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে। তিনি (আবু নুয়াইম) বলেছেন: এই সবকটি বর্ণনাই ওলটপালট (মুজতারিব) এবং সঠিক নয় (১)।

 

7 - ইব্রাহিম: আতা আত-তায়েফির পিতা (২)

7 - আবু নুয়াইম বলেছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি আসিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আলী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আসিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে হুরমুয আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে আতা ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে - যিনি একজন...

--------------------------------------------

(১) মন্তব্যকারী হলেন: আবু নুয়াইম। দেখুন ইবনে আদির 'আল-কামিল' ১/১৯০, উকাইলির 'আয-যুয়াফা' ৪/৪৫৬, অনুরূপ কথা ইবনুল আসির 'উসদুল গাবাহ' গ্রন্থে বলেছেন, এবং ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে বলেছেন যে ইবনে আদি এই হাদিসটি অনেকগুলো সূত্রে উল্লেখ করেছেন যেগুলোর সবই দুর্বল। দেখুন ইবনে আব্দুল বার-এর 'আত-তামহিদ' ১/৫৮।

(২) ইব্রাহিম: আবু আতা আস-সাকাফি আত-তায়েফি। আবু উমর বলেছেন: তাঁর পুত্র আতা ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি। তাঁর হাদিসের সনদ সুদৃঢ় নয়, এটি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমার মতে সাহাবীদের মধ্যে তাঁর উল্লেখ করা সঠিক নয়; বরং তাঁর হাদিস আমার নিকট মুরসাল। 'উসদুল গাবাহ' ১/৫৪। আরও দেখুন 'আল-ইসাবাহ'।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৯)
الطائف - أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يكلم الناس حسنا، وسمعته يقول: (قابلوا النعال) (1) .

قال أبو نعيم: يُقال إن أبا عاصم كان يَهِم في هذا فيُقدم عطاء على إبراهيم ابن عطاء عن أبيه عن جده.

فأما إبراهيم مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم فسيأتي في الكنى. وقد قال له الرسول صلى الله عليه وسلم: (يا أبا رافع، إن مولى القوم من أنفسهم، وإنا لا تحل لنا الصدقة) (2) .

وأما:

--------------------------------------------

(1) قابلوا النعال: اجعلوا لها قبالا. والقبال زمام النعل، وهو السير الذي يكون بين الأصبعين. النهاية لابن الأثير 3/225 والحديث أخرجه الطبراني 1/135، وفي 17/170 لكنه قال هنا: يحيى بن عبيد بن عطاء عن أبيه عن جده. وانظر مجمع الزوائد 5/138. والجامع الكبير للسيوطي 1/593.

‌‌(2) أخرجه الترمذي في سننه 2/84، وقال: هذا حديث حسن صحيح وأخرجه النسائي 5/80، والحاكم في المستدرك 1/404 وقال: هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه. ووافقه الذهبي.
আত-ত্বায়িফ - তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলতে শুনেছেন এবং আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: (তোমরা জুতায় ফিতা লাগাও) (১)।

আবু নুআইম বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, আবু আসিম এতে ভুল করতেন এবং তিনি ইবরাহিম ইবনে আতা-এর পূর্বে আতা-কে উল্লেখ করতেন, যা তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্ত দাস ইবরাহিম সম্পর্কে সামনে 'কুনিয়া' (উপনাম) অধ্যায়ে আলোচনা আসবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: (হে আবু রাফি! কোনো কওমের মুক্ত দাস তাদের নিজেদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবেই গণ্য হয়, আর আমাদের জন্য সদকা বা দান গ্রহণ করা বৈধ নয়) (২)।

আর:

--------------------------------------------

(১) জুতায় ফিতা লাগাও: অর্থাৎ এতে ফিতা বা বন্ধনী যুক্ত করো। আর 'ক্বিবাল' হলো জুতায় ব্যবহৃত সেই ফিতা যা দুই আঙুলের মাঝখানে থাকে। আন-নিহায়াহ লি ইবনিল আসির ৩/২২৫। হাদিসটি তাবারানি ১/১৩৫ এবং ১৭/১৭০-এ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি এখানে বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে উবায়েদ ইবনে আতা, তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে। দেখুন মাজমাউজ যাওয়াইদ ৫/১৩৮ এবং সুয়ুতির আল-জামি' আল-কাবির ১/৫৯৩।

‌‌(২) তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে ২/৮৪ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস। নাসাঈ ৫/৮০ এবং হাকিম আল-মুস্তাদরাক ১/৪০৪-এ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্ত অনুযায়ী সহিহ হাদিস, কিন্তু তাঁরা এটি বর্ণনা করেননি। আর যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৬৯)
‌‌8 - (إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف) (1)

فقيل: إنه ولد عام الهجرة، أو قبلها بسنة، وله إدراك جيد، ولكن لم أر له رواية. ومثله:

 

‌‌9 - (إبراهيم بن أبي موسى الأشعري) (2)

ولد في حياة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحنكهُ، وسماهُ إبراهيم (3) . ولا رواية له. وكذا:

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في الإصابة 1/95، وأسد الغابة 1/53.

‌‌(2) انظر ترجمته في الإصابة 1/96، وأسد الغابة 1/53.

‌‌(3) انظر صحيح البخاري 3/215.
‌৮ - (ইবরাহিম বিন আবদুর রহমান বিন আউফ) (১)

বলা হয়েছে যে: তিনি হিজরতের বছর অথবা তার এক বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন। তাঁর উত্তম বোধশক্তি ছিল, কিন্তু আমি তাঁর কোনো বর্ণনা দেখিনি। তাঁর মতোই:

 

‌‌৯ - (ইবরাহিম বিন আবি মুসা আল-আশআরি) (২)

তিনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেছেন। রাসুল তাঁর তাহনিক করেছেন এবং তাঁর নাম রেখেছেন ইবরাহিম (৩)। তাঁর কোনো বর্ণনা নেই। অনুরূপভাবে:

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন আল-ইসাবাহ ১/৯৫ এবং উসদুল গাবাহ ১/৫৩।

‌‌(২) তাঁর জীবনী দেখুন আল-ইসাবাহ ১/৯৬ এবং উসদুল গাবাহ ১/৫৩।

‌‌(৩) দেখুন সহিহ আল-বুখারি ৩/২১৫।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭০)
‌‌10 - (إبراهيم النجار) (1)

الذي صنع المنبر النبوي. لا رواية له. وكذا:

 

‌‌11 - (إبراهيم بن النحام) (2)

الذي باع النبي صلى الله عليه وسلم مدبره بثمانمائة وأرسل بثمنه إليه لدين كان عليه. لارواية له، (وقد ورد ذكره في رواية أبي نضرة عن جابر في حنين الجذع) (3) .

 

‌‌12 - (إبراهيم بن رسول الله صلى الله عليه وسلم -) (4)

وأما السيد الشريف الحسيب النسيب الحبيب الكريم إبراهيم بن

رسول الله صلى الله عليه وسلم، فمات قبل أبيه عليهما الصلاة والسلام بسنةٍ، يوم كُسفت الشمس، وله من العمر ستة عشر شهراً وقيل ثمانية عشر شهراً وقيل سنة وعشرة أشهر، ولهذا جاء في الحديث: (إن ابني مات في الثدي لم يتم رضاعة وإن له

مُرضعاً في الجنة) .

رواه الثوري، عن فراسٍ، عن الشعبي، عن البراء.

ورواه أحمد، عن إسماعيل، عن أيوب، عن عمرو بن سعيد، عن أنسٍ (5) . وقال الثوري: عن السدي، عن أنس، فذكره، وزاد: قال أنس: (ولو عاش لكان نبياً صديقاً) (6) /.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في الإصابة 1/16، وأسد الغابة 1/55.

‌‌(2) النحام: يقال له نحم ينحم بالكسر نحما ونحيما ونحمانا فهو نحام والنحيم الزحير والتنحنح. وفي الحديث: دخلت الجنة فسمعت نحمة من نعيم.

وقد اقترن اسم إبراهيم النحام بخير العبد المدبر وأما خبر حنين الجذع فمتعلق بإبراهيم النجار الذي صنع منبره عليه الصلاة والسلام وبذلك وردت رواية أبي نضرة عن جابر عند ابن الأثير. الإصابة 1/96، أسد الغابة 1/55، لسان العرب 6/4370.

‌‌(3) هذه العبارة - والله أعلم - محلها في الترجمة السابقة، لأن الذي ورد ذكره في رواية أبي نضرة عن جابر في حنين الجذع هو: إبراهيم النجار، لا النحام، كما يتضح في الهامش السابق.

‌‌(4) انظر ترجمته في الإصابة 1/93، وأسد الغابة 1/49.

‌‌(5) مسند أحمد 3/112، وأخرجه مسلم أيضاً 4/1808.

‌‌(6) مسند أحمد 3/133، وطبقات ابن سعد 1/140.
‌‌১০ - (ইব্রাহিম আল-নাজ্জার) (১)

যিনি নববী মিম্বর তৈরি করেছিলেন। তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা নেই। এবং তেমনি:

 

‌‌১১ - (ইব্রাহিম বিন আল-নাহহাম) (২)

যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাঁর মুদাব্বার (চুক্তিভুক্ত দাস) আটশত মুদ্রায় বিক্রি করেছিলেন এবং তিনি তাঁর একটি ঋণের কারণে সেই অর্থ তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তাঁর কোনো বর্ণনা নেই, (তবে জাবির থেকে আবু নাদরার বর্ণনায় খেজুর গাছের গুঁড়ির ক্রন্দনের ঘটনায় তাঁর উল্লেখ এসেছে) (৩) ।

 

‌‌১২ - (আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইব্রাহিম -) (৪)

আর সম্মানিত, সুজাত, বংশমর্যাদাবান, প্রিয় ও মহৎ ব্যক্তিত্ব আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র ইব্রাহিম; তিনি তাঁর পিতার (তাঁদের উভয়ের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ইন্তেকালের এক বছর আগে সূর্যগ্রহণের দিনে মৃত্যুবরণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ষোল মাস, কারো মতে আঠারো মাস, আবার কারো মতে এক বছর দশ মাস। এই কারণেই হাদিসে এসেছে: (নিশ্চয়ই আমার এই পুত্রটি দুগ্ধপোষ্য অবস্থায় মারা গেছে, সে তার দুধপানের মেয়াদ পূর্ণ করেনি, জান্নাতে তার জন্য একজন দুধমাতা রয়েছে) ।

এটি সাওরি বর্ণনা করেছেন ফিরাস থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি বারা থেকে।

এবং আহমদ বর্ণনা করেছেন ইসমাইল থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি আমর বিন সাঈদ থেকে, তিনি আনাস থেকে (৫) । সাওরি বলেন: সুদ্দি থেকে, তিনি আনাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বর্ধিত অংশে বলেছেন: আনাস বলেছেন: (সে যদি বেঁচে থাকত তবে সত্যবাদী নবী হতো) (৬) ।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন আল-ইসাবাহ ১/১৬ এবং আসাদুল গাবাহ ১/৫৫-তে।

‌‌(২) আল-নাহহাম: বলা হয় নাহামা-ইয়ানহিমু (জের দিয়ে), এর মাসদার হলো নাহমান ও নাহিমান। এর অর্থ হলো দীর্ঘশ্বাস বা গলা পরিষ্কার করা। হাদিসে এসেছে: আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম এবং নুআইম-এর কাশির শব্দ শুনতে পেলাম।

ইব্রাহিম আল-নাহহামের নাম মুদাব্বার দাসের প্রসঙ্গের সাথে যুক্ত। আর খেজুর গাছের গুঁড়ির ক্রন্দনের ঘটনাটি ইব্রাহিম আল-নাজ্জারের সাথে সম্পর্কিত যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বর তৈরি করেছিলেন। ইবনে আল-আছিরের কাছে জাবির থেকে আবু নাদরার বর্ণনায় এভাবেই এসেছে। আল-ইসাবাহ ১/৯৬, আসাদুল গাবাহ ১/৫৫, লিসানুল আরব ৬/৪৩৭০।

‌‌(৩) এই বাক্যটি—আল্লাহই ভালো জানেন—পূর্ববর্তী জীবনীতে থাকা উচিত ছিল; কারণ জাবির থেকে আবু নাদরার বর্ণনায় খেজুর গাছের গুঁড়ির ক্রন্দনের ক্ষেত্রে যার নাম এসেছে তিনি হলেন ইব্রাহিম আল-নাজ্জার, আল-নাহহাম নন, যেমনটি পূর্ববর্তী টীকা থেকে স্পষ্ট হয়।

‌‌(৪) তাঁর জীবনী দেখুন আল-ইসাবাহ ১/৯৩ এবং আসাদুল গাবাহ ১/৪৯-তে।

‌‌(৫) মুসনাদে আহমদ ৩/১১২, এবং মুসলিমও এটি বর্ণনা করেছেন ৪/১৮০৮।

‌‌(৬) মুসনাদে আহমদ ৩/১৩৩ এবং তাবাকাত ইবনে সাদ ১/১৪০।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭১)
ورواه كذلك إسماعيل بن أبي خالد عن عبد الله بن أبي أوفى، وقال: (لو عاش لكان نبياً) (1) .

وستأتي كلها في مواضعها في هذا الكتاب إن شاء الله تعالى.

وأمهُ مارية القبطية من كورة أنْصِنا (2) أهداها له المقوقس صاحب إسكندرية، مع أختها سيرين وطواشٍ (3)

اسمه مأبور.

--------------------------------------------

(1) الخبر أخرجه البارودي عن أنس. وابن عساكر عن جابر وعن ابن عباس وعن ابن أبي أوفى، ورمز له السيوطي بالضعف. وعقب عليه المناوي فقال:

وقضية كلام المصنف أن هذا لم يتعرض له أحد من الستة لتخريجه وإلا لما عدل إلى هذين، وهو عجب فقد رواه ابن ماجه بزيادة ولفظه (لو عاش إبراهيم لكان صديقاً نبياً ولو عاش لأعتقت أخواله من القبطه وما استرق قبطي) ورواه أحمد باللفظ الأول. قال الهيثمي: رجاله رجال الصحيح.

ولكن ابن حجر وهن طريق ابن ماجه في الإصابة كما ساق عدة طرق أخرى للخبر

ووهنها.

أَمَّا ابن الأثير فقد عقب على الروايات التي أوردها في أسد الغابة برأي نقله عن أبي عمر هو: قال أبو عمر: لا أدري ما هذا القول؟ فقد ولد نوح غير نبي، ولو لم يلد النبي إلا نبياً لكان كل أحد نبياً لأنهم من ولد نوح عليه السلام.

راجع الجامع الصغير بشرح فيض القدير 5/320.

‌‌(2) انصنا بلدة قديمة على ضفة النيل الشرقية قبالة الأشمونين كان بها مقياس للنيل بعضه باق إلى الآن. معجم البلدان 1/165، محمد رسول الله للأستاذ محمد رضا 270.

ابن دقماق 5/18، التحفة السنية بأسماء البلاد المصرية لابن الجيعان ص 177.

‌‌(3) طواش: يعني خادم خصى. وأما مارية فهي بنت شمعون من فواضل نساء عصرها. وكانت أمها

 

رومية، وكانت مارية بيضاء جعدة جميلة أهداها المقوقس سنة سبع للنبي صلى الله عليه وسلم، فأسلمت

واستولدها ابنه إبراهيم، وتوفيت في خلافة عمر سنة 16هـ فحشد عمر الناس لشهود جنازتها ودفنت بالبقيع.

طبقات ابن سعد 8/212. أعلام النساء 5/10.
অনুরূপভাবে ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: (সে জীবিত থাকলে নবী হতো) (১)।

এবং ইনশাআল্লাহ এই কিতাবের নির্দিষ্ট স্থানে এগুলি সব আসবে।

তার মাতা মারিয়া আল-কিবতিয়্যাহ ছিলেন আনসিনা (২) অঞ্চলের অধিবাসী। আলেকজান্ট্রিয়ার অধিপতি মুকাউকিস তাকে তার বোন সিরিন এবং মাবুর নামক একজন খোজা ভৃত্যসহ (৩)

উপহার দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) সংবাদটি বারুদী আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং ইবনে আসাকির জাবির, ইবনে আব্বাস ও ইবনে আবি আওফা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সুয়ূতী একে দুর্বল বলে চিহ্নিত করেছেন। এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে মুনাবি বলেন:

গ্রন্থকারের বক্তব্যের দাবি হলো যে, সিত্তাহর (প্রধান ছয়টি হাদিস গ্রন্থ) কেউ এটি বর্ণনা করেননি, অন্যথায় তিনি এই দুইজনের দিকে যেতেন না। এটি বিস্ময়কর, কারণ ইবনে মাজাহ এটি অতিরিক্ত শব্দসহ বর্ণনা করেছেন যার পাঠ হলো: (ইব্রাহিম বেঁচে থাকলে তিনি একজন সিদ্দীক নবী হতেন, এবং তিনি জীবিত থাকলে কিবতিদের মধ্য থেকে তার মামাদের মুক্ত করে দেওয়া হতো এবং কোনো কিবতিকে দাস বানানো হতো না)। আহমদ এটি প্রথম পাঠ অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন। হাইসামি বলেছেন: এর বর্ণনাকারীরা সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।

কিন্তু ইবনে হাজার আল-ইসাবাহ গ্রন্থে ইবনে মাজাহর বর্ণনা পদ্ধতিকে দুর্বল বলেছেন এবং তিনি এই সংবাদের আরও কয়েকটি সূত্র উল্লেখ করেছেন

এবং সেগুলোকে দুর্বল বলেছেন।

অন্যদিকে ইবনে আসির উসদুল গাবাহ গ্রন্থে উল্লিখিত বর্ণনাসমূহের ওপর আবু উমরের একটি অভিমত উদ্ধৃত করেছেন, যা হলো: আবু উমর বলেছেন: আমি জানি না এটি কেমন কথা? নূহের ঘরে এমন সন্তান জন্মেছে যে নবী ছিল না, আর যদি নবীর সন্তান কেবল নবীই হতো তবে প্রত্যেকেই নবী হতো কারণ তারা নূহের (আলাইহিস সালাম) বংশধর।

দেখুন: ফয়দুল কদিরের ব্যাখ্যাসহ আল-জামি আস-সগির ৫/৩২০।

‌‌(২) আনসিনা হলো নীল নদের পূর্ব তীরে আশমুনাইনের বিপরীতে অবস্থিত একটি প্রাচীন শহর, সেখানে নীল নদের পানি পরিমাপের একটি যন্ত্র ছিল যার কিছু অংশ এখনো অবশিষ্ট রয়েছে। মুজামুল বুলদান ১/১৬৫, উস্তাদ মুহাম্মদ রেজা রচিত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ ২৭০।

ইবনে দুকমাক ৫/১৮, ইবনুল জিয়ান রচিত আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ বি আসমাউল বিলাদিল মিসরিয়্যাহ পৃ. ১৭৭।

‌‌(৩) তাওয়াশ: অর্থাৎ খোজা ভৃত্য। আর মারিয়া ছিলেন শামউনের কন্যা, তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ নারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর মা ছিলেন

 

রোমান। মারিয়া ছিলেন শ্বেতবর্ণা, কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট ও সুন্দরী। মুকাউকিস সপ্তম হিজরিতে তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উপহার হিসেবে পাঠান। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন

এবং তাঁর গর্ভে নবীর পুত্র ইব্রাহিম জন্মগ্রহণ করেন। তিনি উমরের খিলাফতকালে ১৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। উমর তাঁর জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য লোকদের সমবেত করেছিলেন এবং তাঁকে বাকিতে দাফন করা হয়।

তাবাকাতে ইবনে সাদ ৮/২১২। আলামুন নিসা ৫/১০।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌8 - فروى أبو نعيم من حديث قتيبة عن حاتم بن إسماعيل عن جعفر بن محمد عن أبيه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (لو عاش إبراهيم لوضعت الجزية عن كل قبطي) (1) .

--------------------------------------------

(1) الخبر أخرجه ابن سعد 1/144 عن الزهري مرسلاً ورمز له السيوطي بالضعف وقد سبق لفظه جزءاً من حديث ابن ماجه.

الجامع الصغير بشرح فيض القدير 5/321.
8 - আবু নুআইম কুতায়বাহ-এর হাদিস থেকে হাতিম ইবনে ইসমাঈল, তিনি জাফর ইবনে মুহাম্মদ এবং তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ইব্রাহিম যদি জীবিত থাকত, তবে আমি প্রত্যেক কিবতির (কপ্ট) ওপর থেকে জিযিয়া তুলে নিতাম।" (১)।

--------------------------------------------

(১) বর্ণনাটি ইবনে সাদ ১/১৪৪ পৃষ্ঠায় যুহরী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সুয়ূতী একে দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; ইতিপূর্বে এর শব্দাবলি ইবনে মাজাহ-এর হাদিসের অংশ হিসেবে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আল-জামি আস-সগির বি-শারহি ফায়দুল কাদির ৫/৩২১।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭২)
قال أبو نعيم: وقد رواه أبو شيبة عن الحكم عن مقسم عن ابن عباس قال: لما مات إبراهيم صلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن له لمرضِعاً ترضعهُ في الجنة) وقال: (لو عاش لعتقت أخواله القِبط فما استرق قبطيٌّ) (1) .

قلت: روينا عن معاوية بن أبي سفيان أن الحسن بن علي قال لهُ ما أسديت إلى أهل كُورَةِ أنصنا؟ فقال: سامحتهم بالجزية إكراماً لإبراهيم ابن رسول

الله صلى الله عليه وسلم (2) .

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن ماجه 1/484.

‌‌(2) أورده ابن الأثير في النهاية، وياقوت الحموي في معجم البلدان 2/276.
আবু নুয়াইম বলেন: আবু শাইবাহ এটি হাকাম থেকে, তিনি মিকসাম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন ইবরাহিম ইন্তেকাল করলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর জানাজা পড়লেন এবং বললেন: (নিশ্চয়ই জান্নাতে তাঁর জন্য একজন স্তন্যদাত্রী রয়েছে যে তাঁকে দুধ পান করাবে) এবং তিনি বললেন: (সে যদি বেঁচে থাকত, তবে তাঁর কিবতি মামারা মুক্ত হয়ে যেত এবং কোনো কিবতিকে দাসে পরিণত করা হতো না) (১) ।

আমি বলছি: আমরা মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেছি যে, হাসান ইবনে আলী তাঁকে বললেন: আপনি আনসিনা অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রতি কী অনুগ্রহ করেছেন? তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পুত্র ইবরাহিমের সম্মানে আমি তাঁদের জিজিয়া মাফ করে দিয়েছি (২) ।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন ১/৪৮৪।

‌‌(২) ইবনুল আসির এটি আন-নিহায়াহ গ্রন্থে এবং ইয়াকুত আল-হামাভি মুজামুল বুলদান ২/২৭৬ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭২)
‌‌13 - (أبجر بن غالب) (1)

‌‌9 - قال البزار: حدثنا عبد الرحمن بن الأسود، حدثنا معتمر بن سليمان، حدثنا عبد الله بن بشر، أن عتبة بن عبد الله بن عتبة بن عبد الله بن مسعود حدثه، عن عُبيد بن الحسن عن عبد الرحمن بن معقل (2) عن أبجر بن غالب، قال: أتيتُ رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلت: يارسول الله أصابتنا سنة فنفد المال إلا الحُمُر أنأكل منها فقال: (كل وأطعم عيالك فإنما كرهت عام خيبر جوال (3) القرية) .

وهكذا رواه أبو داود الطيالسي، عن شعبة، عن عبيد بن الحسن

--------------------------------------------

(1) له ترجمة في الإصابة 1/117 وأسد الغابة 1/48.

‌‌(2) في المخطوطة (عبد الرحمن بن مغفل) والصواب ما أثبتناه وهو عبد الرحمن بن معقل بن مقرن المزني الكوفي أخو عبد الله الآتي بعد. روى عن علي وابن عباس وغالب بن أبجر.

تهذيب التهذيب 6/273 التاريخ الكبير للبخاري 5/349.

‌‌(3) جوال القرية: جوال جمع جالة كسامة وسوام وهي التي تأكل العذرة. النهارية 1/172.
১৩ - (আবজার ইবনে গালিব) (১)

৯ - আল-বাযযার বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবনে আল-আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মু'তামির ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে বিশর বর্ণনা করেছেন যে, উতবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি উবায়েদ ইবনুল হাসান থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মাকাল (২) থেকে, তিনি আবজার ইবনে গালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছি, ফলে গাধা ব্যতীত আমাদের সমস্ত সম্পদ শেষ হয়ে গেছে; আমরা কি সেগুলো খেতে পারি? তিনি বললেন: (তুমি খাও এবং তোমার পরিবারকেও খাওয়াও। আমি খায়বারের বছর কেবল গ্রামের আবর্জনা ও নাপাকি ভক্ষণকারী প্রাণীদের (৩) অপছন্দ করেছিলাম)।

এভাবেই আবু দাউদ আত-তায়ালিসি শু'বা থেকে, তিনি উবায়েদ ইবনুল হাসান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-ইসাবা ১/১১৭ এবং আসাদুল গাবাহ ১/৪৮-এ তাঁর জীবনী রয়েছে।

(২) পাণ্ডুলিপিতে 'আব্দুর রহমান ইবনে মুগাফফাল' রয়েছে, তবে সঠিক হলো যা আমরা মূল পাঠে সাব্যস্ত করেছি। তিনি হলেন আব্দুর রহমান ইবনে মাকাল ইবনে মুকাররিন আল-মুযানী আল-কুফি, যিনি এর পরে উল্লিখিত আব্দুল্লাহর ভাই। তিনি আলী, ইবনে আব্বাস এবং গালিব ইবনে আবজার থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাহযীবুত তাহযীব ৬/২৭৩; ইমাম বুখারীর আত-তারীখুল কাবীর ৫/৩৪৯।

(৩) জাওয়ালুল কারইয়াহ: 'জাওয়াল' হলো 'জালাহ'-এর বহুবচন, যেমন সাম্মাহ ও সাওয়াম। এটি ঐ সমস্ত প্রাণী যারা মানুষের বিষ্ঠা বা নাপাকি ভক্ষণ করে। আন-নিহারিয়্যাহ ১/১৭২।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭৩)
عن عبد الله ابن معقل (1) عن عبد الله (2) بن بشر، عن ناسٍ من مزينة (3) ، عن سيدهم أبجر، أو ابن أبجر فذكره (4) .

ورواه أحمد (5) عن غُنْدر عن شُعبة به وقال: قال غالب بن أبجر فذكره. وسيأتي في غالب بن أبجر إن شاء الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) عبد الله بن معقل: كانت في المخطوطة (مغفل) وهو سهو من الناسخ وقد ورد كما

أثبتناه في مسند الطيالسي ومسند أحمد وهو أخو عبد الرحمن. التاريخ الكبير للبخاري

5/195.

‌‌(2) في مسندي أحمد والطيالسي (عبد الرحمن) والأشبه أن يكون عبد الله إذ أن عبد الله بن بشر كوفي وابني معقل كوفيان أيضاً. تهذيب التهذيب 5/160.

‌‌(3) في المخطوط (ياسر بن مزينة) والصواب (ناس من مزينة) .

‌‌(4) مسند الطيالسي ص 184.

‌‌(5) لم نجده عند أحمد. ويراجع الخبر في أسد الغابة.
আব্দুল্লাহ ইবনে মা'কিল (১) থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (২) ইবনে বিশর থেকে, তিনি মুযাইনা গোত্রের (৩) একদল লোক থেকে, তারা তাদের নেতা আবজার বা ইবনে আবজার থেকে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন (৪)।

আর আহমাদ (৫) এটি গুন্দার থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: গালিব ইবনে আবজার বলেছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। আর গালিব ইবনে আবজারের আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।

--------------------------------------------

(১) আব্দুল্লাহ ইবনে মা'কিল: পাণ্ডুলিপিতে (মুগফাল) ছিল, যা লিপিকারের একটি অসতর্কতা। আমরা যেভাবে এটি সাব্যস্ত করেছি, মুসনাদ আত-তায়ালিসি এবং মুসনাদ আহমাদেও ঠিক সেভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তিনি আব্দুর রহমানের ভাই। ইমাম বুখারীর আত-তারীখুল কাবীর ৫/১৯৫।

‌‌(২) মুসনাদ আহমাদ এবং মুসনাদ আত-তায়ালিসিতে (আব্দুর রহমান) রয়েছে। তবে আব্দুল্লাহ হওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত, কেননা আব্দুল্লাহ ইবনে বিশর কুফী এবং মা'কিলের দুই ছেলেও কুফী। তাহযীবুত তাহযীব ৫/১৬০।

‌‌(৩) পাণ্ডুলিপিতে (ইয়াসির ইবনে মুযাইনা) ছিল, তবে সঠিক হলো (মুযাইনা গোত্রের একদল লোক)।

‌‌(৪) মুসনাদ আত-তায়ালিসি পৃষ্ঠা ১৮৪।

‌‌(৫) আমরা এটি আহমাদে পাইনি। এই সংবাদটি উসদুল গাবাহ গ্রন্থে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭৩)
‌‌14 - (أبزَى والد عبد الرحمن بن أبزى الخُزَاعي) (1)

قيل: له ولابنه صحبة، وقيل لابنه فقط. وهذا غريب.

‌‌10 - وقد روى ابن منده من طريق بُكير بن/ معروف، عن مقاتل بن حيان، عن أبي سلمة (2) ، عن عبد الرحمن بن أبزى، عن أبيه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خطب الناس فقال: (ما بال أقوام لا يعلمون جيرانهم ولا يفقهونهم ولا يأمرونهم ولا ينهونهم؟ وما لأقوام لا يتعلمون من جيرانهم ولا يتفقهون ولا يتعظون، والذي نفسي بيده ليفعلُن ذلك أو لأعاجلنهم العقوبة) ثم نزل فدخل بيته، الحديث. وقد رواه البخاري في الوحدان من طريق بكير بن معروف به (3) .

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في الإصابة 1/17 وأسد الغابة 1/56.

‌‌(2) هو ابن عبد الرحمن.

‌‌(3) قال ابن السكن: إسناده صالح، انظر الإصابة وراجع مجمع الزوائد 1/164 فقد رواه بأطول من هذا.
‌১৪ - (আবযা, আবদুর রহমান ইবনে আবযার পিতা, আল-খুযাঈ) (১)

বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর এবং তাঁর পুত্রের উভয়েরই সাহচর্য (সাহাবী হওয়া) প্রমাণিত, আবার বলা হয়ে থাকে যে কেবল তাঁর পুত্রেরই। আর এটি একটি বিরল মত।

‌‌১০ - ইবনে মানদাহ বুকাইর বিন মা'রুফের সূত্রে, মুকাতিল বিন হাইয়্যান থেকে, আবু সালামাহ (২) থেকে, আবদুর রহমান বিন আবযা থেকে, তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: "সেই সব সম্প্রদায়ের কী হলো যারা তাদের প্রতিবেশীদের শিক্ষা দেয় না, তাদের দ্বীনের বুঝ দান করে না, তাদের সৎকাজের আদেশ দেয় না এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে না? আর সেই সব সম্প্রদায়েরই বা কী হলো যারা তাদের প্রতিবেশীদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না, দ্বীনের বুঝ অর্জন করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না? সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তারা অবশ্যই তা করবে নতুবা আমি অবশ্যই তাদের নিকট দ্রুত শাস্তি পাঠাব।" এরপর তিনি মিম্বর থেকে নামলেন এবং তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন— (হাদীসের অবশিষ্টাংশ)। ইমাম বুখারী 'আল-উহদান' গ্রন্থে বুকাইর বিন মা'রুফের সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-ইসাবাহ ১/১৭ এবং উসদুল গাবাহ ১/৫৬-তে তাঁর জীবনী দেখুন।

‌‌(২) তিনি হলেন ইবনে আবদুর রহমান।

‌‌(৩) ইবনে আস-সাকান বলেছেন: এর সনদ নির্ভরযোগ্য (সালিহ)। আল-ইসাবাহ দেখুন এবং মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৬৪ পর্যালোচনা করুন, কারণ তিনি এটি এর চেয়েও দীর্ঘ বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭৪)
ورواه إسحاق بن راهوية عن محمد بن أبي سهل عن بكير عن مقاتل عن علقمة بن عبد الرحمن بن أبزى عن أبيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم به.

ورواه أبو نعيم عن الطبراني عن محمد بن إسحاق بن راهويه [عن أبيه] (1) ، عن محمد بن أبي سهل، عن بُكير عن مقاتل، عن علقمة بن سعيد بن عبد الرحمن بن أبزى، عن أبيه، عن جده، عن النبي صلى الله عليه وسلم فذكره، ثم قال: هذا هو الصواب، وليس لأبزى صحبة، ولا رواية، ووافقه أبو عُمر، وابن الأثير.

--------------------------------------------

(1) سقطت من المخطوط. وانظر أسد الغابة 1/56، وما قاله ابن حجر في الإصابة عن هذه الرواية. وراجع الجامع الكبير للسيوطي 2/230.
এবং এটি বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, মুহাম্মাদ ইবনে আবি সাহল থেকে, তিনি বুকায়র থেকে, তিনি মুকাতিল থেকে, তিনি আলকামাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবযা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং আবু নুয়াইম এটি বর্ণনা করেছেন তাবারানি থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে [তাঁর পিতা থেকে] (১), তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আবি সাহল থেকে, তিনি বুকায়র থেকে, তিনি মুকাতিল থেকে, তিনি আলকামাহ ইবনে সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবযা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে—অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন। তারপর তিনি বলেন: "এটিই সঠিক, আর আবযার কোনো সাহচর্য (সাহাবিত্ব) নেই এবং কোনো বর্ণনাও নেই।" আবু উমর এবং ইবনুল আসির তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এটি পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে। দেখুন আসাদুল গাবাহ ১/৫৬, এবং এই বর্ণনা সম্পর্কে ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে যা বলেছেন। আরও দেখুন সুয়ুতির 'আল-জামিউল কাবীর' ২/২৩০।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭৪)
‌‌15 - (أبيض بن حَمَّال) (1)

أبيض بن حمَّال بن مرثد بن ذي لحيان بن سعد بن عَوِف بن عدي بنت مالك بن زيد بن سُدَد بن زرعة بن سبأ الأصغر السَبئي المأربي. وفد إلى النبي صلى الله عليه وسلم واستقطعُه (مَاء) بِمَأرب وعاد إليها.

‌‌11 - قال أبو داود في كتاب الخراج (2) : حدثنا قتيبة بن سَعِيد (3) ، ومحمد ابن المتوكل العسقلاني - المعنى واحد - أنَّ محمد بن يحيى بن قيس المأربي حدثهم قال: أخبرني: أبي، عن ثمامة بن شراحيل، عن سُميذ بن قيس، عن شُمير. قال ابن المتوكل: ابن عبد المَدانِ، عن أبيض بن حَمَّال: أنه وفد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستقطعه الملح. قال ابن المتوكل: الذي بِمأْرِب، فقطعه له، فلما أن وَلىّ قال رجل (4) من المجلس: أتدري ما قطعت له؟ إنما

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في الإصابة 1/17. وأسد الغابة 1/57.

‌‌(2) سنن أبي داود (كتاب الخراج - باب إقطاع الأرضين) 2/155 وأخرجه أيضاً الترمذي 2/420 والنسائي في الكبرى، كما في تحفة الأشراف 1/7، وابن ماجه 2/827. وآخرون.

‌‌(3) في المخطوطة: (قتيبة بن سعد) والصواب ما أثبتناه.

‌‌(4) هو: الأقرع بن حابس التميمي، كما صرحت به رواية ابن ماجه.
১৫ - (আবইয়াদ বিন হাম্মাল) (১)

আবইয়াদ বিন হাম্মাল বিন মারসাদ বিন যিল লিহইয়ান বিন সা'দ বিন আওফ বিন আদি বিনতে মালিক বিন যাইদ বিন সুদাদ বিন জুরআহ বিন সাবা আল-আসগর আস-সাবায়ি আল-মারিবি। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে আগমন করেন এবং মারিব নামক স্থানে তাঁর নিকট একটি (জলাশয়/লবণের খনি) জায়গির হিসেবে প্রদানের আবেদন করেন এবং সেখানে ফিরে যান।

‌১১ - আবু দাউদ 'কিতাবুল খারাজ'-এ (২) বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কুতাইবা বিন সাঈদ (৩) এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুতাওয়াক্কিল আল-আসকালানি—উভয়ের অর্থের মর্ম এক—যে মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন কায়স আল-মারিবি তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আমার পিতা, তিনি সুমামাহ বিন শুরাহিল থেকে, তিনি সুমাইয বিন কায়স থেকে, তিনি শুমাইর থেকে। ইবনুল মুতাওয়াক্কিল বলেছেন: ইবনে আবদিল মাদান থেকে, তিনি আবইয়াদ বিন হাম্মাল থেকে বর্ণনা করেন যে: তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি হয়ে আসেন এবং তাঁর কাছে লবণের খনি জায়গির হিসেবে দেওয়ার প্রার্থনা করেন। ইবনুল মুতাওয়াক্কিল বলেছেন: যা মারিবে অবস্থিত। এরপর তিনি তাকে সেটি প্রদান করেন। যখন তিনি ফিরে যেতে লাগলেন, মজলিসের এক ব্যক্তি (৪) বললেন: আপনি কি জানেন আপনি তাকে কী প্রদান করেছেন? নিশ্চয় তা তো...

--------------------------------------------

(১) আল-ইসাবাহ ১/১৭ এবং আসাদুল গাবাহ ১/৫৭-এ তাঁর জীবনী দেখুন।

‌(২) সুনানে আবু দাউদ (কিতাবুল খারাজ - ভূমি বরাদ্দ অধ্যায়) ২/১৫৫; এটি আরও বর্ণনা করেছেন তিরমিজি ২/৪২০ এবং নাসায়ি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে—যেমনটি তুহফাতুল আশরাফ ১/৭-এ বর্ণিত হয়েছে, এবং ইবনে মাজাহ ২/৮২৭। এছাড়া আরও অনেকে।

‌(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: (কুতাইবা বিন সা'দ), তবে সঠিক হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি (কুতাইবা বিন সাঈদ)।

‌(৪) তিনি হলেন: আকরা বিন হাবিস আত-তামিমি, যেমনটি ইবনে মাজাহ-র বর্ণনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জামিউল মাসানিদি ওয়াস সুনান (পৃষ্ঠা: ৭৫)
قطعت له الماء الْعِدّ (1) . قال: فانتزعه منه. قال: وسألَهُ عمَّا يُحمَى من الأَرَاك؟ قال: ما لم تنله خِفاف (2) الإبل. قال ابن المتوكلُ: أخفاف الإبلْ.

ثم قال أبو داود: حدثنا هارون بن عبد الله عن محمد بن الحسن المخزومي قال: معنى قوله أخفاف الإبل: تأكل منها برءُوسها ويحمى ما فوقه.

ورواه/ الترمذي في الأحكام (3)

عن قتيبة، ومحمد بن يحيى بن أبي عُمر، وكلاهما عن محمد بن يحيى بن قيس.

ورواه النسائي في إحياء الموات (4) عن إبراهيم بن هارون عن محمد بن يحيى ابن قيس به. ومن حديث بقية عن ابن المبارك وسفيان عن معمر عن يحيى بن قيس المأربيّ عن أبيض بن حَمَّال به قال سفيان: وحدثني ابن الأبيض بن حمَّال، عن أبيه به مثله. ومن حديث إسماعيل بن عياش، وسفيان بن عيينة، عن عمرو بن يحيى بن قيس عن أبيه عن أبيض به نحوه.

ورواه ابن ماجه في الأحكام (5) أيضاً عن محمد بن يحيى بن أبي عمر عن فرج بن سعيد بن علقمة بن سعيد بن أبيض بن حمّال، عن عمه ثابت بن سعيد، عن أبيه سعيد عن أبيه أبيض به نحوه.

--------------------------------------------

(1) الماء العد: الدائم الذي لا انقطاع لمادته وجمعه أعداد. النهاية 3/71.

‌‌(2) في النهاية: معناه أن الإبل تأكل منتهى ما تصل إليه أفواهها لأنها إنما تصل إليه بمشيها على أخفافها فيحمى ما فوق ذلك، وقيل أراد أنه يحمي من الأراك ما بعد عن العمارة ولم تبلغه الإبل السارحة إذا أرسلت إلى المراعي. النهاية 1/263.

‌‌(3) قال الترمذي: حديث أبيض بن حمال حديث غريب. والعمل على هذا عند أهل العلم من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم وغيرهم في القطائع يرون جائزاً أن يقطع الإمام لمن رأى ذلك.

 

الترمذي أبواب الأحكام - باب ماجاء في القطائع 2/420.

‌‌(4) انظر تحفة الأشراف 1/7.

‌‌(5) أخرجه ابن ماجه في (كتاب الرهون - باب إقطاع الأنهار والعيون) 2/827 ولفظ الخبر عنده أتم وأوضح. وانظر سنن الدارقطني 4/221، والدارمي 2/181.
আমি তাকে প্রবাহমান পানি দান করলাম (১)। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা তার থেকে তুলে নিলেন। তিনি বলেন: এবং তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, 'আরাক' গাছের কোন অংশ সংরক্ষিত রাখা হবে? তিনি বললেন: যা উটের খুর পৌঁছাতে পারে না। ইবনুল মুতাওয়াক্কিল বলেন: উটের খুরসমূহ।

অতঃপর আবু দাউদ বলেন: হারুন ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-মাখজুমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তার বক্তব্য 'উটের খুর'-এর অর্থ হলো: উট তার মাথা দিয়ে যা খেতে পারে, এবং তার উপরের অংশ সংরক্ষিত রাখা হবে।

এবং এটি তিরমিজি 'আল-আহকাম' অধ্যায়ে (৩) কুতাইবা এবং মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়ে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি নাসাঈ 'ইহয়াউল মাওয়াত' অধ্যায়ে (৪) ইব্রাহিম ইবনে হারুন থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে কায়স থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এবং এটি বাকিয়াহর সূত্রে ইবনুল মুবারক ও সুফিয়ান থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে কায়স আল-মারিবি থেকে, তিনি আবিয়াদ ইবনে হাম্মাল থেকে এই সূত্রে বর্ণিত। সুফিয়ান বলেন: আবিয়াদ ইবনে হাম্মালের পুত্র আমাকে তার পিতার সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এবং ইসমাইল ইবনে আইয়াশ ও সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার সূত্রে আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে কায়স থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে আবিয়াদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এবং এটি ইবনে মাজাহ 'আল-আহকাম' অধ্যায়ে (৫) ও মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবি উমর থেকে, তিনি ফারাজ ইবনে সাঈদ ইবনে আলকামা ইবনে সাঈদ ইবনে আবিয়াদ ইবনে হাম্মাল থেকে, তিনি তার চাচা সাবিত ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি তার পিতা সাঈদ থেকে, তিনি তার পিতা আবিয়াদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আল-মাউল 'ইদ্দ: স্থায়ী পানি যার উৎস কখনো ফুরিয়ে যায় না। এর বহুবচন হলো আদাদ। আন-নিহায়া ৩/৭১।

‌‌(২) আন-নিহায়াতে আছে: এর অর্থ হলো উট তার মুখ দিয়ে যতটুকু উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে তা সে খেয়ে ফেলে, কারণ সে তার খুরের ওপর ভর দিয়ে চলাচল করে সেখানে পৌঁছায়, তাই এর উপরের অংশ সংরক্ষিত রাখা হবে। আবার বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জনবসতি থেকে দূরে অবস্থিত আরাক গাছসমূহকে সংরক্ষিত রাখা, যেখানে চারণভূমিতে ছেড়ে দেওয়া উটগুলো পৌঁছাতে পারে না। আন-নিহায়া ১/২৬৩।

‌‌(৩) তিরমিজি বলেন: আবিয়াদ ইবনে হাম্মালের হাদিসটি গারিব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ এবং অন্যান্য আলেমদের নিকট ভূমি বরাদ্দের বিষয়ে এর ওপর আমল বিদ্যমান; তারা মনে করেন যে, ইমাম যাকে উপযুক্ত মনে করবেন তাকে ভূমি বরাদ্দ দিতে পারেন।

 

তিরমিজি, আহকাম অধ্যায় - ভূমি বরাদ্দ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ২/৪২০।

‌‌(৪) দেখুন তুহফাতুল আশরাফ ১/৭।

‌‌(৫) ইবনে মাজাহ এটি (বন্ধক অধ্যায় - নদী ও ঝর্ণা বরাদ্দ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ) ২/৮২৭-এ বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে বর্ণনার শব্দগুলো অধিক পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট। আরও দেখুন সুনানে দারাকুতনি ৪/২২১ এবং দারেমি ২/১৮১।