(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: -)
تعاون الدعاة وأثره في المجتمع القسم: كتب عامة
الكتاب: تعاون الدعاة وأثره في المجتمع
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
عدد الصفحات: 37
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দাঈদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমাজে এর প্রভাব বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: দাঈদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমাজে এর প্রভাব
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃ. ১৪২১ হিজরি)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত করা হয়েছে যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: -)
تعاون الدعاة وأثره في المجتمع
لفضيلة الشيخ العلامة
محمد بن صالح العثيمين
غفر الله له ولوالديه وللمسلمين
দাঈগণের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমাজে এর প্রভাব
পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ আল-আল্লামা
মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন
আল্লাহ তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمةالحمد لله رب العالمين، نحمده ونستعينه، ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله، فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أرسله الله ـ تعالى ـ بالهدى ودين الحق، فبلغ الرسالة، وأدَّى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده، فصلوات الله وسلامه عليه، وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.. أما بعد..
موضوع الرسالةأيها الإخوة: فإنه يسرّني في هذه الليلة.. ليلة الثلاثاء الموافق الثاني من شهر ربيع الثاني عام عشرة وأربعمائة وألف، أن أحضر إلى هذا المكان.. إلى صالة كليّة أصول الدين في الرياض التابعة لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، وأسأل الله ـ تعالى ـ أن يجعل هذا الحضور وهذا اللقاء مباركًا نافعًا..
أيها الإخوة: إن موضوع الرسالة، كما هو معلوم للجميع أو لأكثرهم هو: «تعاون الدعاة وأثره في المجتمع» ولا شكَّ أن الدعوة إلى الله لها مرتبة عظيمة في شريعة الله، فإنَّ الله سبحانه وتعالى قال في كتابه لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم قولاً أمره أن يبلغه إلى الأمة أمرًا خاصًّا، فقال: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَآ أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف: 108] .
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাযাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁর নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন; অতঃপর তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদের প্রকৃত হক আদায় করেছেন। সুতরাং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর...
আলোচনার বিষয়বস্তুহে ভ্রাতৃমণ্ডলী! আজ মঙ্গলবার রাতে—যা ১৪১০ হিজরির ২রা রবিউস সানি—আমার জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে, আমি এই স্থানে—রিয়াদে অবস্থিত ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দীন অনুষদের মিলনায়তনে উপস্থিত হতে পেরেছি। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই উপস্থিতি ও এই মজলিসকে বরকতময় ও ফলপ্রসূ করেন।
হে ভাইয়েরা! আলোচনার বিষয়বস্তু—যেমনটি সবার বা অধিকাংশের নিকট পরিচিত—তাহলো: "দাঈদের পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমাজে এর প্রভাব"। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়টি আল্লাহর শরিয়তে এক মহান মর্যাদার অধিকারী। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন এক কথা বলেছেন, যা তিনি তাঁকে বিশেষভাবে উম্মতের নিকট পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই সুনিশ্চিত জ্ঞান ও দূরদর্শিতার সাথে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮]।
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২)
والنبي صلى الله عليه وسلم مأمور أن يقول بكل القرآن، أن يبلغ كلام الله إلى عباد الله، ولكن إذا كان الأمر ذا أهمية، فإن الله ـ تعالى ـ يوجه أمرًا خاصًّا إلى رسوله صلى الله عليه وسلم ليقوم بتبليغه إلى الأمة، ولهذا أمثلة في كتاب الله مثل هذه الاية التي تلوت، ومثل قوله ـ تعالى ـ: {قُلْ لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُواْ فُرُوجَهُمْ ذلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ …
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমগ্র কুরআনের বাণী প্রচার করতে আদিষ্ট হয়েছেন, অর্থাৎ আল্লাহর কালাম তাঁর বান্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। তবে যখন কোনো বিষয় বিশেষ গুরুত্ববহ হয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একটি বিশেষ নির্দেশ প্রদান করেন যাতে তিনি তা উম্মতের কাছে পৌঁছে দেন। মহান আল্লাহর কিতাবে এর অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেমন এই আয়াতটি যা আমি তিলাওয়াত করেছি এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। এটা তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত …
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৩)
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَاّ لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَآئِهِنَّ أَوْ آبَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَآئِهِنَّ أَوْ أَبْنَآءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَآئِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُواْ عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَآءِ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُواْ إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} ومثل قوله تعالى: {قُل لَاّ أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَآئِنُ اللَّهِ وَلا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَاّ مَا يُوحَى إِلَيَّ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ} وغير هذه الايات كثير، لكن المهم أنه ينبغي أن نعلم أن الله إذا صدّر الأمر بالقول إلى محمدٍ رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فإن ذلك يقتضي عناية خاصة فيما وقع فيه هذا القول …
আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে; তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে—তবে যা সাধারণত প্রকাশ পেয়ে যায় তা ব্যতীত। তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে টেনে দেয়। তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে—তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজেদের নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যারা যৌনকামনা রহিত এবং এমন শিশু যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে এখনও সচেতন হয়নি—তাদের ব্যতীত। আর তারা যেন নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তওবা করো, যেন তোমরা সফলকাম হতে পারো।} এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর ন্যায়: {বলুন, আমি তোমাদের বলি না যে, আমার নিকট আল্লাহর ধনভাণ্ডার রয়েছে এবং আমি অদৃশ্যের খবরও জানি না। আমি তোমাদের এ-ও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমার প্রতি যে ওহী নাজিল করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। বলুন, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে? তবে কি তোমরা চিন্তা করবে না?} আর এ জাতীয় আরও বহু আয়াত রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের এটি জানা আবশ্যক যে, আল্লাহ যখন আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি কোনো নির্দেশের শুরুতে ‘বলুন’ শব্দটির অবতারণা করেন, তখন সেই বক্তব্যটির (قول) প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে …
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৪)
يقول الله ـ تعالى ـ لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَآ أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} والمشار إليه هو المستفاد من قوله: {أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَآ أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} فالنبي صلى الله عليه وسلم، كإخوانه من سائر النبيين والمرسلين، تبوؤا هذا المقام العالي العظيم، وهو مقام الدعوة إلى الله.. لكنها دعوة على بصيرة فيما يدعون إليه.. وعلى بصيرة في حال من يدعونهم.. وعلى بصيرة في أسلوب الدعوة.. لابد من هذه البصائر الثلاث.
البصيرة فيما يدعون إليه، والبصيرة في حال المدعو.
والبصيرة في أسلوب الدعوة، وإذا تمت هذه الأمور الثلاثة؛ صارت الدعوة دعوة محمد صلى الله عليه وسلم، وإذا اختل منها واحد؛ نقص من كمالها بقدر ما اختل من هذه الأمور الثلاثة يقول الله ـ تعالى ـ في هذه الاية: {عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَاْ وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَآ أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} .
خصائص الداعية
আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ; আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আমরা সুস্পষ্ট জ্ঞানের (بصيرة) ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} আর এখানে নির্দেশিত বিষয়টি তাঁর এই বাণী থেকেই সংগৃহীত হয়েছে: {আমি সুস্পষ্ট জ্ঞানের (بصيرة) ভিত্তিতে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে, আর আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অন্যান্য নবী ও রাসূলগণের (المرسلين) ন্যায় এই সুউচ্চ ও মহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন, আর তা হলো আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদানের মর্যাদা। তবে এই দাওয়াত হতে হবে যা দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞানের (بصيرة) ভিত্তিতে, যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের অবস্থার বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞানের (بصيرة) ভিত্তিতে এবং দাওয়াতের পদ্ধতির বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞানের (بصيرة) ভিত্তিতে। এই তিন প্রকার সুস্পষ্ট জ্ঞানের (البصائر) উপস্থিতি অপরিহার্য।
যেই বিষয়ে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান (البصيرة) এবং যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তার অবস্থা (حال المدعو) সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান (البصيرة)।
এবং দাওয়াতের পদ্ধতির বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান (البصيرة); যখন এই তিনটি বিষয় পূর্ণ হবে, তখন সেই দাওয়াত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাওয়াতের রূপ পরিগ্রহ করবে। আর যদি এর কোনো একটিতে ঘাটতি থাকে, তবে এই তিন বিষয়ের ত্রুটির মাত্রা অনুযায়ী এর পূর্ণতায় ঘাটতি আসবে। আল্লাহ তাআলা এই আয়াতে বলেন: {সুস্পষ্ট জ্ঞানের (بصيرة) ভিত্তিতে আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে। আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।}।
দাঈর বৈশিষ্ট্যসমূহ
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৫)
فكل من اتبع النبي صلى الله عليه وسلم فإنه لا يُكتفى باتباعه، أن يقوم بالعبادات الخاصة. من صلاة، وزكاة، وصيام، وحج وبر والدين، وصلة رحم، بل لابد أن يكون داعية إلى الله سبحانه وتعالى بحاله ومقاله.. ولابُدَّ أن يكون أيضًا داعية إلى الله على بصيرة.. بحال من يدعوهم..؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم لمّا بعث معاذًا إلى اليمن، قال له: «إنك ستأتي قومًا أهل كتاب..» (1) وأخبره بحالهم؛ ليكون مستعدًّا لملاقاتهم.. حتى ينزل كل إنسان منزلته، ولا ريب أنَّ كل إنسان عاقل.. يعلم الفرق بين دعوة الإنسان الجاهل، ودعوة الإنسان المعاند المكابر، ولهذا قال الله ـ تعالى ـ {وَلَا تُجَادِلُواْ أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَاّ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِلَاّ الَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنْهُمْ وَقُولُواْ آمَنَّا بِالَّذِي أُنزِلَ إِلَيْنَا وَأُنزِلَ إِلَيْكُمْ وَإِلَهُنَا وَإِلَهُكُمْ وَاحِدٌ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ} [العنكبوت: 46] ، فالذين ظلموا لا نجادلهم بالتي هي أحسن، وإنما نجادلهم بما يليق بحالهم، وظلمهم، ولابُدَّ أن يكون الداعية عالمًا بأسلوب الدعوة.. وكيف يدعو الناس.. وهذا أمرٌ مهم جدًّا، بالنسبة للدُّعاة..
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রত্যেক অনুসারীর জন্য কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতসমূহ—যেমন সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ, পিতামাতার প্রতি সদাচরণ এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা—পালন করাই যথেষ্ট নয়। বরং তাকে তার অবস্থা ও কথা উভয় মাধ্যমেই মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী হতে হবে। পাশাপাশি তাকে অবশ্যই সুনিশ্চিত প্রজ্ঞার ভিত্তিতে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিতে হবে, যাদের দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে তাদের অবস্থা বিবেচনা করে। কারণ, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াজকে ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই তুমি কিতাবধারী একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ...» (১)। তিনি তাঁকে তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন যাতে তিনি তাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে পারেন এবং প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার উপযুক্ত মর্যাদা প্রদান করতে পারেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি একজন অজ্ঞ মানুষকে দাওয়াত দেওয়া এবং একজন একগুঁয়ে ও অহঙ্কারী মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য অনুধাবন করেন। এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা কিতাবধারীদের সাথে সর্বোত্তম পন্থা ব্যতীত বিতর্ক করো না, তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করে তাদের কথা ভিন্ন। আর তোমরা বলো, আমাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে এবং তোমাদের প্রতি যা নাজিল করা হয়েছে তাতে আমরা ঈমান এনেছি। আমাদের ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ তো অভিন্ন, আর আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত।} [আল-আনকাবুত: ৪৬]। সুতরাং যারা জুলুম করেছে তাদের সাথে আমরা উত্তম পন্থায় বিতর্ক করব না, বরং আমরা তাদের সাথে তাদের অবস্থা ও জুলুমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পন্থায় বিতর্ক করব। একজন দাওয়াতদানকারীকে অবশ্যই দাওয়াতের পদ্ধতি এবং মানুষকে কীভাবে আহ্বান করতে হয় সে সম্পর্কে সুনিপুণ জ্ঞান থাকতে হবে। দাওয়াতদানকারীদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৬)
كيف يدعون الناس؟ هل يدعون الناس بالعنف، والشدِّة، والقدح فيما هم عليه، وسب ما ينتهجونه؟! أو يدعون الناس باللين والرفق، وتحسين ما يدعونهم إليه دون أن يقبوحهم فيما هم عليه من منهج وسلوك؟ نستمع يقول الله ـ تعالى ـ لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم بل لعباده، لجميع المؤمنين: {وَلَا تَسُبُّواْ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّواْ اللَّهَ عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ كَذَلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ مَّرْجِعُهُمْ فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ} [الأنعام: 108] .
نحن نعلم جميعًا أن سب آلهة المشركين أمرٌ مطلوب؛ لأنها آلهة باطلة، كما قال الله ـ تعالى ـ: {ذلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ} [الحج: 62] .
তারা মানুষকে কীভাবে আহ্বান করবে? তারা কি মানুষকে উগ্রতা, কঠোরতা, তাদের বর্তমান অবস্থার নিন্দা এবং তাদের অনুসৃত পথকে গালি দেওয়ার মাধ্যমে আহ্বান করবে?! নাকি তারা মানুষকে নম্রতা ও কোমলতার সাথে এবং তারা যার প্রতি আহ্বান করছে তার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে দাওয়াত দেবে, তারা যে পদ্ধতি (منهج) ও আচরণ (سلوك) এর ওপর রয়েছে সে ব্যাপারে তাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য না করেই? আমরা শুনি মহান আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে বরং তাঁর বান্দাদের, তথা সকল মুমিনদের উদ্দেশ্য করে বলছেন: {আর তোমরা তাদেরকে গালি দিও না, যাদেরকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে ডাকে; ফলে তারা অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহকেই গালি দেবে। এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের আমলকে সুশোভিত করেছি; অতঃপর তাদের রবের নিকটেই তাদের প্রত্যাবর্তন হবে, এরপর তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সংবাদ দেবেন} [আল-আন’আম: ১০৮]।
আমরা সকলেই জানি যে, মুশরিকদের উপাস্যদের গালি দেওয়া একটি কাম্য বিষয়; কারণ তারা হচ্ছে বাতিল উপাস্য। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {এটি একারণে যে, আল্লাহই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে তা বাতিল এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ সমূন্নত, মহান} [হজ্জ: ৬২]।
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وسبّ الباطل، وبيان منزلته للناس أمرٌ مطلوب لابد منه.. ولكن إذا كان يترتب على ذلك مفسدة أكبر، مع إمكان زوال الباطل بدون هذه المفسدة.. فإن الله يقول: {وَلَا تَسُبُّواْ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّواْ اللَّهَ عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ كَذَلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ مَّرْجِعُهُمْ فَيُنَبِّئُهُمْ بِمَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ} ومعلوم أنهم إذا سبُّوا الله فإنهم يسبونه عدوًا بغير علم، بل نعلم أن الله عز وجل منزه عن كل عيب، ونحن إذا سببنا آلهتهم، فقد سببناها بحق، ومع ذلك نهى الله عز وجل عن هذا الحقِّ خوفًا من هذا الباطل العادي؛ لأنه شر، وبناءً على ذلك فإذا رأى الداعية شخصًا على أمرٍ يرى هذا الداعية أنه باطل، وصاحبه يرى أنه حق، فليس من طريق الدعوة التي أرشد الله إليها نبيه محمدًا صلى الله عليه وسلم أن يقدح فيما هو عليه، من مذهب أو نحلة؛ لأن ذلك ينفره، وربما يؤدي إلى أن يسب ما أنت عليه من الحق؛ لأنك سببت ما هو عليه من الباطل الذي يعتقده حقًّا، ولكن الطريق: أن أبين له الحق، وأشرحه له؛ لأن كثيرًا من الناس، ولا سيما المقلدون، قد يخفى عليهم نور الحق.. بما غشيهم من الهوى والتقليد، لذلك أقول: يبين الحق ويوضح، ولا شك أن الحق تقبله الفطر السليمة؛ لأنه دين الله وشرعه.. فلابد أن يؤثر هذا الحق … أن يؤثر في المدعو.. لا أقول: إنه يؤثر في الحال؛ لأن هذا قد يكون من الأمور الصعبة.. لكن قد يؤثر ولو بعد حين.. قد يفكر هذا المدعو فيما دُعِيَ إليه، مرةً بعد أخرى حتى يتبين له الحق، فالمهم أن الداعية لابد أن يكون ذا بصيرة بما يدعو إليه في الأسلوب الذي يدعو إليه الناس؛ لأن هذا أمر مهم بالنسبة لقبول الدعوة ورفضها..
মিথ্যাকে মন্দ বলা এবং মানুষের কাছে এর হীন অবস্থা বর্ণনা করা একটি কাম্য ও অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু যদি এর ফলে আরও বড় কোনো অনিষ্ট (مفسدة) সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেখানে এই অনিষ্ট ছাড়াই মিথ্যাকে দূর করা সম্ভব হয়... তবে আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের ডাকে তোমরা তাদের গালমন্দ করো না, নতুবা তারা অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করে আল্লাহকে গালমন্দ করবে। এভাবেই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে তাদের কর্মকে শোভনীয় করে দিয়েছি। অতঃপর তাদের রবের কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন, তখন তিনি তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন}। এটি সর্বজনবিদিত যে, তারা যদি আল্লাহকে গালমন্দ করে, তবে তারা অজ্ঞতাবশত সীমালঙ্ঘন করেই তা করবে। বরং আমরা জানি যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সকল ত্রুটি থেকে পবিত্র। আর আমরা যদি তাদের উপাস্যদের গালমন্দ করি, তবে তা হকের ভিত্তিতেই করি। তা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা এই সত্য কাজ থেকে বারণ করেছেন সেই অনর্থক মিথ্যার আশঙ্কায়; কারণ তা ক্ষতিকর। এর ওপর ভিত্তি করে, কোনো দাঈ যদি কাউকে এমন কোনো বিষয়ে লিপ্ত দেখেন যাকে সেই দাঈ বাতিল মনে করেন, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেটিকে সত্য মনে করেন, তবে আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাওয়াতের যে পথের দিশা দিয়েছেন তাতে উক্ত ব্যক্তির অনুসৃত মাযহাব বা মতাদর্শকে তুচ্ছজ্ঞান করা কোনো পদ্ধতি নয়। কারণ এটি তাকে বিতশ্রদ্ধ করে তোলে এবং সম্ভবত এটি তাকে আপনার ওপর প্রতিষ্ঠিত সত্যকেও গালমন্দ করতে প্ররোচিত করতে পারে; কারণ আপনি তার ধারণাকৃত সত্য তথা বাতিলের নিন্দা করেছেন। বরং সঠিক পথ হলো: তার কাছে সত্যকে বর্ণনা করা এবং তা ব্যাখ্যা করা। কারণ অনেক মানুষ, বিশেষ করে অন্ধ অনুসারীরা (مقلدون), প্রবৃত্তি ও অন্ধ অনুকরণের (تقليد) আচ্ছন্নতায় পড়ে যাওয়ার কারণে তাদের কাছে সত্যের আলো অস্পষ্ট থাকতে পারে। তাই আমি বলি: সত্যকে বর্ণনা ও সুস্পষ্ট করতে হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (الفطر السليمة) সত্যকে গ্রহণ করে; কারণ এটি আল্লাহর দ্বীন ও তাঁর শরিয়ত। সুতরাং অবশ্যই এই সত্য … দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর প্রভাব ফেলবে। আমি বলছি না যে এটি তৎক্ষণাৎ প্রভাব ফেলবে; কারণ এটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে। তবে হয়তো কিছুকাল পর প্রভাব ফেলবে। সেই দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাকে যেদিকে আহ্বান করা হয়েছে তা নিয়ে বারবার চিন্তা করবে, যতক্ষণ না তার কাছে সত্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। মূল কথা হলো, একজন দাঈকে তার দাওয়াতের বিষয়বস্তু ও মানুষের কাছে দাওয়াতের পদ্ধতির ব্যাপারে অবশ্যই গভীর জ্ঞান (بصيرة) সম্পন্ন হতে হবে; কারণ দাওয়াত গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولا يخفى علينا جميعًا ما وقع للنبي صلى الله عليه وسلم في كيفية الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى بالتي هي أحسن، لا يخفى علينا قصة الأعرابي الذي جاء فبال في طائفة من المسجد ـ فزجره الناس وأنكروا عليه، ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم قال: «دعوه ولا تزرموه
… » (1)
فلما فرغ من بوله.. أمر النبي صلى الله عليه وسلم بما تزول به هذه المفسدة، وهي أن يصب عليه ذنوبٌ من ماء، أي: دلو أو شبهه، ثم دعا الأعرابيّ، وقال له: «إن هذه المساجد، لا تصلح لشيء من هذا البول، ولا القذر، إنما هي لذكر الله عز وجل والصلاة، وقراءة القرآن (2) » أو كما قال صلى الله عليه وسلم. فتأمل هذه الدعوة إلى الحق بهذا الأسلوب.. ماذا تتصور من حال هذا الأعرابي الذي دعاه الرسول عليه الصلاة والسلام إلى تعظيم المساجد.. بهذا الأسلوب الليّن السهل، إنك لن تتصور إلَاّ أن هذا الأعرابي سيقبل وسيطمئن وسيرتاح، وسيجد الفرق بين ما قام به الصحابةـ رضي الله عنهم من الزجر، وما قام به النبي صلى الله عليه وسلم من التعليم الهادئ، الذي ينشرح فيه الصدر، ويطمئن به القلب..
تخلق الداعية بما يدعو إلية--------------------------------------------
আমাদের সকলের কাছেই এটি অস্পষ্ট নয় যে, মহান আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি কেমন ছিল, যা ছিল সর্বোত্তম পন্থায়। সেই গ্রাম্য ব্যক্তির ঘটনাটিও আমাদের অজানা নয়, যে এসে মসজিদের এক অংশে প্রস্রাব করে দিয়েছিল—ফলে উপস্থিত লোকেরা তাকে ধমক দিল এবং তার এই কাজের প্রতিবাদ করল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাব মাঝপথে বন্ধ করো না
… » (১)
যখন সে প্রস্রাব শেষ করল... তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই অনিষ্ট দূর করার নির্দেশ দিলেন, আর তা হলো তার ওপর এক বালতি বা অনুরূপ পাত্রে পানি ঢেলে দেওয়া। এরপর তিনি সেই গ্রাম্য ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং তাকে বললেন: «এই মসজিদসমূহ প্রস্রাব বা অন্য কোনো ময়লা-আবর্জনার জন্য উপযুক্ত নয়; এগুলো তো কেবল মহান আল্লাহর জিকির, নামাজ এবং কুরআন তিলাওয়াতের জন্য (২)» অথবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছিলেন। সত্যের দিকে ডাকার এই কৌশলটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন... সেই গ্রাম্য ব্যক্তির অবস্থার কথা আপনি কী কল্পনা করতে পারেন, যাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদের মর্যাদা রক্ষার প্রতি এমন কোমল ও সহজ পন্থায় আহ্বান জানিয়েছিলেন? আপনি কেবল এটাই কল্পনা করতে পারবেন যে, সেই গ্রাম্য ব্যক্তি তা সানন্দে গ্রহণ করবে, আশ্বস্ত হবে এবং প্রশান্তি লাভ করবে। সে সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ধমক এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শান্তভাবে শিক্ষা প্রদানের মধ্যে এক বিশাল পার্থক্য দেখতে পাবে, যা অন্তরকে বিকশিত করে এবং হৃদয়কে আশ্বস্ত করে...
দাঈর সেই গুণাবলী অর্জন করা যার দিকে তিনি আহ্বান জানান--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ৯)
إنه يجب على الداعية أيضًا أن يكون هو أول من يتخلق بما يدعو إليه.. لأنه إذا كان يدعو إلى حق، فإن من الحمق البالغ أن يخالف ذلك الحق، وإن كان يدعو إلى باطل، فإن ذلك أشد وأقبح، أن يدعو الناس إلى الضلال، وإلى الشر، فحال الداعية إذا كانت مخالفة لدعوته، لا شكَّ أنه مؤثر في دعوته في ألَاّ تقبل، فإن الناس ينظرون إلى الدعاة غير نظرهم إلى سائر الناس، إذا رأوا الداعية يدعو إلى شيء، ولكنه لا يقوم به، فسيكون عندهم شك فيما دعا إليه، أهو حق أو باطل؟! لأنه سيقول المدعو: إذا كان حقًّا فلماذا لا يفعله.. وحينئذٍ يقل قبول الناس له.. مع ما يلحقه من الإثم العظيم في كونه يدعو ولكنه لا يفعل، يقول الله ـ تعالى ـ منكرًا على بني إسرائيل: {أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ وَأَنْتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلَا تَعْقِلُونَ} [البقرة: 44] .
إذن.. فليس من العقل أن يأمر الإنسان غيره بالبر وينسى نفسه.. لأنه إذا كان برًّا، فليكن هو أول من يدعو إليه، هو أول من ينفذه، هو أول من يقوم به، حتى يكون داعية للناس بمقاله وبحاله..
أن يكون بصيرا بما يدعو اليهومما يجب على الداعية أن يكون بصيرًا بما يدعو إليه، فلا يتكلم إلَاّ بما يعلم أنه الحق، أو بما يغلب على ظنه أنه الحق، إذا كان هذا الشيء الذي يدعو إليه مما يسوغ فيه الظن، أما أن يدعو بجهل؛ فإنه يهدم أكثر مما يبني، مع أنه آثم إثمًا كبيرًا، يقول الله سبحانه وتعالى: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً مَسْؤُولاً} [الإسراء: 36] .
নিশ্চয়ই একজন দাঈর জন্য এটিও আবশ্যক যে, তিনি যা দাওয়াত দেন, সর্বপ্রথম তিনি নিজেই তা অনুসরণ করবেন। কারণ তিনি যদি সত্যের (حق) দিকে আহ্বান জানান, তবে সেই সত্যের (حق) বিরোধিতা করা চরম মূর্খতা। আর যদি তিনি মিথ্যার (باطل) দিকে আহ্বান জানান, তবে তা আরও গুরুতর ও জঘন্য; অর্থাৎ মানুষকে পথভ্রষ্টতা ও মন্দের দিকে আহ্বান করা। দাঈর অবস্থা যদি তাঁর দাওয়াতের বিপরীত হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা দাওয়াত কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কেননা মানুষ সাধারণ মানুষের চেয়ে দাঈদের ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখে। তারা যখন দেখে যে দাঈ কোনো বিষয়ের দাওয়াত দিচ্ছেন অথচ তিনি নিজে তা পালন করছেন না, তখন তিনি যেদিকে আহ্বান করছেন সে বিষয়ে তাদের মনে সংশয় সৃষ্টি হবে—এটি কি সত্য (حق) নাকি মিথ্যা (باطل)? তখন দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলবে: 'যদি এটি সত্যই (حق) হতো তবে তিনি কেন তা করছেন না?' এমতাবস্থায় মানুষের নিকট তাঁর গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাবে। এর পাশাপাশি দাওয়াত দেওয়া সত্ত্বেও নিজে আমল না করার কারণে তিনি মহাপাপের অধিকারী হবেন। আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলদের প্রতি নিন্দা জানিয়ে ইরশাদ করেন: {তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের (البر) নির্দেশ দাও আর নিজেদের কথা ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ করো। তবে কি তোমরা অনুধাবন করো না?} [সূরা আল-বাকারাহ: ৪৪]।
অতএব, অন্যকে সৎকর্মের (البر) আদেশ করা এবং নিজেকে ভুলে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ যদি বিষয়টি পুণ্যময় (البر) হয়, তবে দাঈর উচিত হবে সর্বপ্রথম সেটির দিকে আহ্বান করা, সর্বপ্রথম তা বাস্তবায়ন করা এবং সর্বপ্রথম তা পালন করা; যাতে তিনি তাঁর কথা ও অবস্থার মাধ্যমে মানুষের নিকট দাঈ হতে পারেন।
দাওয়াতকৃত বিষয় সম্পর্কে সুগভীর জ্ঞান বা অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) থাকাদাঈর জন্য যা আবশ্যক তা হলো, তিনি যে বিষয়ে দাওয়াত দিচ্ছেন সে সম্পর্কে তাঁর সুগভীর জ্ঞান বা অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) থাকতে হবে। সুতরাং যা সত্য (حق) বলে তিনি জানেন অথবা যা সত্য (حق) বলে তাঁর প্রবল ধারণা (غلبة الظن) রয়েছে—যদি বিষয়টি এমন হয় যেখানে ধারণা পোষণ করা বৈধ—তা ব্যতিরেকে তিনি কোনো কথা বলবেন না। আর অজ্ঞতার সাথে দাওয়াত দিলে তা গড়ার চেয়ে ধ্বংসই বেশি করে, উপরন্তু এতে রয়েছে মহাপাপ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন: {যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কেই কৈফিয়ত তলব করা হবে।} [সূরা আল-ইসরা: ৩৬]।
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১০)
لا تتبع شيئًا لا علم لك به؛ لأنك مسؤول.. ويقول عز وجل: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُواْ بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَاناً وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [الأعراف: 33] .
ونحن نسمع عن بعض الدعاة، أنهم يدعون إلى أمر يجانبون فيه الصواب.. ونعلم أو يغلب على ظنناـ أنهم لم يدعو إلى هذا الشيء عن علم واختيار منهم له.. ولكنه عن جهل.. فيحصل بذلك مفسدتان عظيمتان..
المفسدة الأولى: قبول هذا الباطل الذي دعا إليه هذا الداعية، عن غير علم.
المفسدة الثانية: رد الحق المبني على العلم، كما نشاهد أو نسمع عن بعض الناس في تحريم أشياء ليس لديهم برهان من الله على تحريمها، أو إيجاب أشياء ليس عندهم فيها برهان من الله على إيجابها، فإذا سمع العامّة هذا الداعية يقول بهذا وهم يحسنون الظن به.. رَدّوا الحق الذي عند غيره، وقبلوا هذا الباطل، وعلى سبيل المثال لا الحصر، نسمع من يقول: إنه لا يجوز استعمال آلات التسجيل، ولماذا؟ قال: لأن هذا ليس موجودًا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم فهل هذا الدليل الذي استدل به، هل له وجه في استدلاله به؟
যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না; কারণ তুমি (সে বিষয়ে) জিজ্ঞাসিত হবে। আর মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমার প্রতিপালক কেবল অশ্লীল কাজসমূহ হারাম করেছেন—তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন—এবং হারাম করেছেন পাপ ও অন্যায় বিদ্রোহ, আর আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।} [আল-আরাফ: ৩৩] ।
আমরা কিছু দাঈ (আহ্বানকারী) সম্পর্কে শুনে থাকি যে, তারা এমন বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেন যাতে তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হন। আমরা জানি—অথবা আমাদের প্রবল ধারণা (يغلب على ظننا) হয়—যে, তারা জ্ঞান ও বিচার-বুদ্ধির ভিত্তিতে এই বিষয়ের দিকে আহ্বান করেননি; বরং এটি অজ্ঞতাবশত হয়েছে। এর ফলে দুটি বড় অনিষ্ট (مفسدة) সৃষ্টি হয়...
প্রথম অনিষ্ট (مفسدة): জ্ঞান ছাড়াই এই বাতিল (باطل) বিষয়টিকে গ্রহণ করে নেওয়া, যার দিকে ওই দাঈ আহ্বান করেছেন।
দ্বিতীয় অনিষ্ট (مفسدة): জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা। যেমনটি আমরা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ করি বা শুনি যে, তারা এমন কিছু বিষয় হারাম করা (تحريم) প্রসঙ্গে কথা বলেন যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে হারামের কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই, অথবা এমন কিছু বিষয় ওয়াজিব করা (إيجاب) প্রসঙ্গে বলেন যেগুলোর ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো দলিল নেই। যখন সাধারণ মানুষ এই দাঈকে এমন কথা বলতে শোনে এবং তারা তার প্রতি সুধারণা রাখে, তখন তারা অন্যের কাছে থাকা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে এবং এই বাতিল (باطل) বিষয়টিকে গ্রহণ করে নেয়। উদাহরণস্বরূপ—এটি কোনো সীমাবদ্ধ তালিকা নয়—আমরা কাউকে বলতে শুনি যে: রেকর্ডার ব্যবহার করা জায়েজ নয়। কেন? তিনি বলেন: কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল না। এখন প্রশ্ন হলো, তিনি যে দলিল (دليل) দিয়ে যুক্তি প্রদান করেছেন, তার প্রয়োগের (استدلال) কি কোনো যৌক্তিক ভিত্তি আছে?
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১১)
الجواب عليه: ليس له وجه، وذلك لأن هذا ليس من الأمور التعبدية.. حتى نقول إنه إذا لم يثبت شرعيته فهو مردود، بل هو من أمور الوسائل المباحة على الأصل؛ لأن الأصل فيما عدا العبادات الأصل فيه الإباحة. والأصل في الأشياء حل وامنِع عبادةً إلَاّ بإذن الشارع الأصل فيما عدا العبادات هو الحل، ثم هذا الشيء الذي حكمنا بحله.. قد يكون وسيلة إلى أمر مطلوب فيكون مطلوبًا، وقد يكون وسيلة إلى أمر منكر فيكون منكرًا، فآلات التسجيل مثلاً، إذا سجل فيها الخير، فلا شك أنها خير، وفي عهد الرسول عليه الصلاة والسلام كانوا يسجلون القرآن بالكتابة.. وهذه وسيلة، أما الان فنسجل بالكتابة، ونسجل بالصوت، وهذه وسيلة.
من نعم الله علينا (فيما أرى) ، كم حفظ فيها من العلم، وكم استفاد منها السامع، فكيف يمكن لداعية أن يقوم ويقول للناس: إنّ هذا أمرٌ منكر، هذا أمر بدعة، هذا أمر لم يكن على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، لو أننا سلكنا هذا المسلك؛ لألغينا كثيرًا من الأمور التي فيها مصالح ظاهرة للمسلمين، أمثال ذلك كثير، ولا أحب أن أطيل بها، لكن الذي أريد أن أؤكد عليه، هو أنه يجب على الداعية أن يكون بصيرًا في دين الله عز وجل، حتى لا يدعو إلى منكر وهو لا يعلم، أو لا يحذّر من معروف وهو لا يعلم، والحمد لله الشيء الذي لا تدعو إليه اليوم وتؤجله إلى الغد بعد أن تتأمل في النصوص والأدلة خيرٌ لك من أن تتعجل وتقول فيما لا تعلم، هذه مسائل عامة بالنسبة للداعية أن يكون على بصيرة فيما يدعو إليه، وفي حال من يدعوهم، وفي أساليب الدعوة.
أن يكون صبورا
এর উত্তর হলো: এর কোনো ভিত্তি নেই, আর তা এজন্য যে এটি ইবাদত সংক্রান্ত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়... যাতে আমরা বলতে পারি যে এটি যদি শরয়িভাবে সাব্যস্ত না হয় তবে তা প্রত্যাখ্যাত (مردود)। বরং এটি মূলগতভাবে বৈধ (مباح) উপকরণের অন্তর্ভুক্ত; কারণ ইবাদত ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো বৈধতা। বস্তুর ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো হালাল হওয়া, আর ইবাদতের ক্ষেত্রে বিধানদাতার অনুমতি ব্যতীত তা নিষিদ্ধ। ইবাদত ব্যতীত অন্য সবকিছুর ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তা হালাল। অতঃপর, যে বিষয়টিকে আমরা হালাল হওয়ার হুকুম দিয়েছি... তা কখনো কোনো কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের মাধ্যম হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে তা কাম্য হবে, আবার কখনো তা কোনো গর্হিত (منكر) বিষয়ের মাধ্যম হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে তা গর্হিত (منكر) হবে। উদাহরণস্বরূপ রেকর্ডিং যন্ত্রের কথা বলা যায়; যদি এতে কল্যাণকর কিছু রেকর্ড করা হয়, তবে নিঃসন্দেহে তা কল্যাণকর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে তাঁরা লেখার মাধ্যমে কুরআন লিপিবদ্ধ করতেন... আর এটি ছিল একটি মাধ্যম। পক্ষান্তরে বর্তমানে আমরা লেখার মাধ্যমে রেকর্ড করি এবং কণ্ঠস্বরের মাধ্যমেও রেকর্ড করি, আর এটিও একটি মাধ্যম।
(আমার দৃষ্টিতে) এটি আমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত; এর মাধ্যমে কত ইলম সংরক্ষিত হয়েছে এবং শ্রোতারা এর দ্বারা কতই না উপকৃত হয়েছে। এমতাবস্থায় একজন দাঈর পক্ষে কীভাবে সম্ভব মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বলা যে: এটি একটি গর্হিত (منكر) বিষয়, এটি একটি বিদআত (بدعة), এটি এমন বিষয় যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে ছিল না। আমরা যদি এই পথ অবলম্বন করি, তবে আমরা এমন অনেক বিষয়কে বিলুপ্ত করে দেব যাতে মুসলিমদের জন্য সুস্পষ্ট জনকল্যাণ রয়েছে। এ ধরনের উদাহরণ অনেক, আমি কথা দীর্ঘ করতে চাই না। তবে আমি যে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতে চাই তা হলো, একজন দাঈর জন্য আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে দূরদর্শী হওয়া আবশ্যক, যাতে তিনি না জেনে কোনো গর্হিত (منكر) কাজের দিকে আহ্বান না করেন অথবা না জেনে কোনো ভালো কাজ থেকে নিষেধ না করেন। আলহামদুলিল্লাহ, যে বিষয়ে আপনি আজ দাওয়াত দিচ্ছেন না এবং নস ও দলিলসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করার পর আগামীকালের জন্য স্থগিত রাখছেন, তা আপনার জন্য তাড়াহুড়ো করে না জেনে কথা বলার চেয়ে উত্তম। দাঈর জন্য এটি একটি সাধারণ মূলনীতি যে, তিনি যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন, যাদের নিকট দাওয়াত দিচ্ছেন এবং দাওয়াতের পদ্ধতির ব্যাপারে দূরদর্শী হবেন।
ধৈর্যশীল হওয়া
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومما يجب أن يكون عليه أيضًا الداعية أن يكون صبورًا على ما يناله من أذًى قولي أو فعلي؛ لأن الداعية إلى الخير، لابد أن يكون له أضداد، يكرهون ما يدعو إليه، كما قال الله ـ تعالى ـ: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوّاً مِّنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِياً وَنَصِيراً الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِياً وَنَصِيراً} [الفرقان: 31] ، كل نبي له عدو من المجرمين، لا من أجل شخصه، ولكن من أجل نبوته، ولهذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يبعث ويرسل، كان عند قريش الصادق الأمين، ولمّا بعث بشريعة الله؛ صار عندهم الكذَّاب، الساحر، الشاعر، الكاهن، المجنون، إلى آخر ما يلقبونه به من ألقاب السوء، يقول الله عز وجل: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوّاً مِّنَ الْمُجْرِمِينَ وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِياً وَنَصِيراً} [الفرقان: 31] ، لماذا لشخصه، أو لنبوته؟ لنبوته فكل من أخذ بمنهاج النبي؛ فلابد أن يكون له عدو من المجرمين، وإذا كان له عدو، فلابد أن يحرص هذا العدوّ على إيذائه بكل ما يستطيع، من قول أو فعل، ولكن على الداعية أن يصبر، ويحتسب، ويؤمل ويرجو نصر الله عز وجل والعاقبة الحميدة.
لا ينبغي أن يكون داعية لشخص
দ্বীনের দাওয়াত প্রদানকারীর (দাঈর) জন্য আরও যা আবশ্যক তা হলো তার ওপর আপতিত বাচনিক বা শারীরিক যে কোনো কষ্ট ও নিপীড়নের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করা; কারণ কল্যাণের দিকে আহ্বানকারীর জন্য অবশ্যই কিছু বিরোধী পক্ষ থাকবে, যারা তার দাওয়াতের বিষয়বস্তুকে অপছন্দ করবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি এবং আপনার প্রতিপালকই পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট; অপরাধীদের মধ্য থেকে এবং আপনার প্রতিপালকই পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট।} [আল-ফুরকান: ৩১]। প্রত্যেক নবীরই অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু ছিল; তা তাঁর ব্যক্তিগত সত্তার কারণে নয়, বরং তাঁর নবুওয়াতের কারণে। এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াত ও রিসালাত লাভের পূর্বে কুরাইশদের নিকট সত্যবাদী (الصادق) ও বিশ্বস্ত (الأمين) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি আল্লাহর শরীয়ত নিয়ে প্রেরিত হলেন, তখন তাদের নিকট তিনি মহামিথ্যাবাদী (الكذاب), জাদুকর, কবি, গণক, পাগল—এমনকি সব ধরনের মন্দ উপাধিতে আখ্যায়িত হতে শুরু করলেন। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য অপরাধীদের মধ্য থেকে শত্রু বানিয়েছি। আর পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে আপনার প্রতিপালকই যথেষ্ট।} [আল-ফুরকান: ৩১]। এটা কেন হয়েছিল? তাঁর ব্যক্তিগত সত্তার কারণে, নাকি তাঁর নবুওয়াতের কারণে? উত্তর হলো তাঁর নবুওয়াতের কারণে। সুতরাং যে ব্যক্তিই নবীর পদ্ধতি অনুসরণ করবে, অপরাধীদের মধ্য থেকে অবশ্যই তার শত্রু থাকবে। আর যখন তার শত্রু থাকবে, তখন সেই শত্রু তাকে কথা বা কাজের মাধ্যমে সাধ্যমতো কষ্ট দিতে সচেষ্ট হবে। তবে দাওয়াত প্রদানকারীর উচিত ধৈর্য ধারণ করা, সওয়াবের আশা রাখা এবং মহান আল্লাহর সাহায্য ও শুভ পরিণামের প্রত্যাশা করা।
কারো ব্যক্তিগত প্রচারক হওয়া অনুচিত
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم إن الداعية لا ينبغي أن يكون داعية لشخصه، بل يجب أن يكون داعية إلى الله، بمعنى أنه لا يهمه أن ينتصر أو أن يقبل قوله في حياته، أو بعد مماته، المهم أن ما يدعو إليه من الحق يكون مقبولاً لدى الناس، سواء في حياته أو بعد موته، صحيح أن الإنسان يُسر وينشط إذا قبل الحق الذي يدعو إليه في حياته، لكن إذا قُدِّر أن الله سبحانه وتعالى ابتلاه ليعلم صبره من عدم الصبر، ابتلاه بعدم القبول المباشر أو السريع، فليصبر وليحتسب، وما دام يعلم أنه على الحق، فليثبت عليه، وتكون العاقبة له، خلافًا لبعض الدعاة، الذين إذا سمعوا قولاً يؤذيهم، أو فُعِلَ فيهم فِعْلٌ يؤذيهم، نكصوا أو ترددوا أو شكّوا فيما هم عليه، وقد قال الله ـ تعالى ـ لنبيه محمد صلى الله عليه وسلم: {فَإِن كُنتَ فِي شَكٍّ مِّمَّآ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ فَاسْأَلِ الَّذِينَ يَقْرَءُونَ الْكِتَابَ مِن قَبْلِكَ لَقَدْ جَآءَكَ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ} [يونس: 94] .
الإنسان الداعية إذا لم يجد قبولاً حاضرًا ربما ينكص على عقبيه، أو يتشكك ويتردد، هل هو على حق أو ليس على حق؟! ولكن الله سبحانه وتعالى قد بيَّن الحق، وجعل للحق منارًا معلومًا، فإذا علمت أنك على حق فاثبت، وإن سمعت ما تكره، أو رأيت ما تكره، فاصبر فإن العاقبة للمتقين..
من آداب الدعاة
এরপর নিশ্চয়ই একজন আহ্বানকারীর নিজের সত্তার দিকে আহ্বান করা সমীচীন নয়, বরং তার কর্তব্য হলো আল্লাহর দিকে আহ্বান করা। এর অর্থ হলো, তার নিকট নিজের বিজয় লাভ করা কিংবা তার জীবদ্দশায় অথবা মৃত্যুর পর তার কথা গৃহীত হওয়া মুখ্য বিষয় হবে না। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সে যে সত্যের দিকে দাওয়াত দিচ্ছে তা যেন মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্য হয়, চাই তা তার জীবদ্দশায় হোক অথবা মৃত্যুর পরে। এটি সত্য যে, মানুষ আনন্দিত ও উৎসাহিত হয় যখন তার দাওয়াতকৃত সত্য বিষয় তার জীবদ্দশায় গৃহীত হয়। কিন্তু যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে পরীক্ষা করার জন্য—তার ধৈর্য ও অধৈর্য পরখ করার জন্য—তাৎক্ষণিক বা দ্রুত কবুল না হওয়ার মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলেন, তবে তার উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং সওয়াবের প্রত্যাশা করা। আর যতক্ষণ সে জানে যে সে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, ততক্ষণ তার উচিত তার ওপর অটল থাকা; এবং শুভ পরিণাম তার পক্ষেই যাবে। সে ঐসব আহ্বানকারীদের মতো হবে না, যারা কোনো কষ্টদায়ক কথা শুনলে বা তাদের সাথে কোনো অপ্রীতিকর আচরণ করা হলে পিছু হটে যায়, দ্বিধাগ্রস্ত হয় অথবা তারা যে আদর্শের ওপর রয়েছে সে বিষয়ে সংশয়ে নিপতিত হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: {অতএব আপনি যদি সে বিষয়ে সন্দেহে থাকেন যা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, তবে তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন যারা আপনার পূর্ববর্তী কিতাব পাঠ করে। অবশ্যই আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার নিকট সত্য এসেছে। অতএব আপনি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।} [ইউনুস: ৯৪] ।
একজন আহ্বানকারী যদি তাৎক্ষণিক কোনো গ্রহণযোগ্যতা না পায়, তবে সম্ভবত সে পশ্চাদপসরণ করে, অথবা সে সন্দেহ ও দ্বিধায় ভোগে যে, সে কি সত্যের ওপর আছে নাকি নেই?! কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সত্যকে সুস্পষ্ট করেছেন এবং সত্যের জন্য সুনির্দিষ্ট নিদর্শন রেখেছেন। সুতরাং আপনি যখন জানবেন যে আপনি সত্যের ওপর আছেন, তখন অটল থাকুন। যদিও আপনি অপ্রীতিকর কিছু শুনেন বা দেখেন, তবুও ধৈর্য ধরুন; কেননা শুভ পরিণাম কেবল মুত্তাকীদের জন্যই নির্দিষ্ট..
আহ্বানকারীদের কিছু শিষ্টাচার
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن آداب الدُّعاة التي يجب أن يكونوا عليها هو تعاونهم، تعاونهم فيما بينهم، لا يكن همّ الواحد منهم أن يقبل قوله ويُقدم على غيره، بل يكن همّ الداعية أن تُقبل الدعوة، سواء صدرت منه أو صدرت من غيره، ما دُمتَ تريد أن تعلو كلمة الله، فلا يهمنك أن تكون من قِبَلكِ أو من قِبَلِ غيرك، صحيح أن الإنسان يحب أن يكون الخير على يده، لكن لا يكره أن يكون الخير على يد غيره، بل يجب أن يحب أن تعلو كلمة الله، سواء على يده أو يد غيره، وإذا بنى اتجاهه على هذا؛ فسوف يعاون غيره في الدعوة إلى
… الله، وإن تقدَّم قَبُول الناس لغيره على قبولهم إياه.
الواجب على الدعاة أن يكونوا يدًا واحدة، يتساعدون، ويتعاونون، ويتشاورون فيما بينهم، وينطلقون انطلاقًا واحدًا، ويقومون لله مثنى وثلاث ورباع {قُلْ إِنَّمَآ أَعِظُكُمْ بِوَاحِدَةٍ أَن تَقُومُواْ لِلَّهِ مَثْنَى وَفُرَادَى ثُمَّ تَتَفَكَّرُواْ مَا بِصَاحِبِكُمْ مِّن جِنَّةٍ إِنْ هُوَ إِلَاّ نَذِيرٌ لَّكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيدٍ} [سبأ: 46] .
وإذا كنَّا نرى أن دعاة الشرّ والسوء يجتمعون ويتحدون ويخططون، فلماذا لا يعمل الدعاة هذا العمل، حتى يرشد بعضهم بعضًا فيما يخطئ فيه الآخر من علم أو وسيلة دعوة أو ما أشبهه ذلك؟! ونحن إذا نظرنا إلى نصوص الكتاب والسنة؛ وجدنا أنَّ الله ـ تعالى ـ وصف المؤمنين بأوصاف تدل على أنهم متحدون متعاونون، قال الله ـ تعالى ـ: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَآءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُوْلَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ} [التوبة: 71] .
দাওয়াত দানকারীদের শিষ্টাচারসমূহের মধ্যে একটি হলো তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা, যা তাদের মধ্যে থাকা আবশ্যক। তাদের মধ্যে কারো লক্ষ্য যেন এমন না হয় যে, কেবল তার কথাই গৃহীত হবে এবং তাকেই অন্যদের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে; বরং একজন দাঈর লক্ষ্য হওয়া উচিত দাওয়াত গৃহীত হওয়া, চাই তা তার পক্ষ থেকে সম্পাদিত হোক বা অন্যের পক্ষ থেকে। যতক্ষণ আপনি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করতে চাইবেন, ততক্ষণ তা আপনার মাধ্যমে হলো নাকি অন্যের মাধ্যমে—তা আপনাকে উদ্বিগ্ন করবে না। এটা সত্য যে, মানুষ তার নিজের হাতে কল্যাণ সাধিত হওয়াকে পছন্দ করে, তবে অন্যের মাধ্যমে কল্যাণ সাধিত হওয়াকে সে অপছন্দ করে না। বরং তার উচিত আল্লাহর বাণী সমুন্নত হওয়াকে ভালোবাসা, চাই তা নিজের হাতে হোক কিংবা অন্যের মাধ্যমে। আর যদি সে তার দৃষ্টিভঙ্গিকে এর ওপর প্রতিষ্ঠিত করে, তবে সে আল্লাহর
… দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্যদের সহযোগিতা করবে, যদিও তার তুলনায় অন্য কাউকে মানুষ বেশি গ্রহণ করে থাকে।
দাঈদের ওপর আবশ্যক হলো একতাবদ্ধ হওয়া, একে অপরকে সাহায্য ও সহযোগিতা করা এবং নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করা। তারা একযোগে অগ্রসর হবে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে দুই, তিন বা চার জন করে দণ্ডায়মান হবে। {বলুন, আমি তোমাদের একটি বিষয়ে নসিহত করছি: তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দুই-দুই জন করে অথবা একে একে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা করে দেখ—তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো উন্মাদনা নেই। তিনি তো কেবল এক কঠোর শাস্তির প্রাক্কালে তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী।} [সাবা: ৪৬]।
আমরা যখন দেখছি যে অনিষ্ট ও মন্দের দিকে আহ্বানকারীরা একত্রিত হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং পরিকল্পনা করছে, তবে কেন দাঈরা এমনটি করবে না, যাতে তাদের কেউ ইলম, দাওয়াতের পদ্ধতি বা এই জাতীয় কোনো বিষয়ে ভুল করলে অন্যজন তাকে সঠিক পথপ্রদর্শন করতে পারে?! আমরা যদি কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ (نصوص) এর দিকে দৃষ্টিপাত করি, তবে দেখতে পাই যে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের এমন সব বৈশিষ্ট্যে ভূষিত করেছেন যা তাদের ঐক্যবদ্ধ ও সহযোগী হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু; তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে, সালাত কায়েম করে ও জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে। এদেরকেই আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} [তওবা: ৭১]।
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال ـ تعالى ـ: {وَلْتَكُن مِّنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ * وَلَا تَكُونُواْ كَالَّذِينَ تَفَرَّقُواْ وَاخْتَلَفُواْ مِن بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} [آل عمران: 104، 105] .
إنَّ الشيطان يلقي في قلب الداعية شيئًا من كراهة داعية مثله إذا نجح في دعوته، لا يحب أن يكون مثله في نجاح الدعوة، بل يكره أن يتقدم هذا في النجاح، وقبول الناس له، ولهذا قال شيخ الإسلام رحمه الله في تفسير الحسد: إنَّ الحسد أن تكره نعمة الله على غيرك، وإن كان معروفًا عند العلماء أن الحسد تمني زوال النعمة عن الغير، بل نقول: الحسد كراهة نعمة الله تعالى على غيرك، سواء تمنيت زوالها أم لم تتمنَ، فأنت أيها الإنسان يجب عليك أن تعاون أخاك الداعية في دعوته، حتى وإن تقدم عليك ونجح في دعوته، ما دمت تريد أن تكون كلمة الله هي العُليا، واعلموا أيها الإخوة أن دُعاة السوء والشر يحبون أن يتفرق دُعاة الخير؛ لأنهم يعلمون أن اتحادهم وتعاونهم سبب لنجاحهم، وأن تفرقهم سبب لفشلهم، قال الله ـ تعالى ـ: {وَلَا تَنَازَعُواْ فَتَفْشَلُواْ وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُواْ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [الأنفال: 46] .
এবং মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সৎকাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে; আর তারাই হলো সফলকাম। আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং মতভেদে লিপ্ত হয়েছে; আর তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি} [আলে ইমরান: ১০৪, ১০৫]।
নিশ্চয় শয়তান একজন দাঈর অন্তরে তার সমপর্যায়ের অন্য দাঈর প্রতি কিছুটা বিদ্বেষ ও ঘৃণা ঢেলে দেয় যখন সে তার দাওয়াতের কাজে সফল হয়। সে চায় না যে ওই ব্যক্তি দাওয়াতের সফলতায় তার মতো হোক, বরং সে অপছন্দ করে যে এই ব্যক্তি সফলতায় এবং মানুষের নিকট গ্রহণযোগ্যতায় অগ্রগামী হয়ে যাক। এই কারণেই শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) হিংসার ব্যাখ্যায় বলেছেন: হিংসা হলো অন্যের উপর আল্লাহর নেয়ামতকে অপছন্দ করা; যদিও আলেমদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, হিংসা হলো অন্যের নেয়ামত চলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করা। বরং আমরা বলি: হিংসা হলো অন্যের ওপর মহান আল্লাহর নেয়ামতকে অপছন্দ করা, চাই আপনি তা চলে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করুন বা না করুন। অতএব হে মানুষ, আপনার ওপর আবশ্যক হলো আপনার দাঈ ভাইকে তার দাওয়াতের কাজে সহযোগিতা করা, এমনকি সে যদি আপনার চেয়ে এগিয়ে যায় এবং তার দাওয়াতের কাজে সফল হয় তবুও; যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি চান যে আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ থাকুক। আর হে ভাইয়েরা, আপনারা জেনে রাখুন যে, মন্দ ও অকল্যাণের আহ্বানকারীরা পছন্দ করে যে কল্যাণের দাঈরা যেন বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে; কারণ তারা জানে যে তাদের ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা তাদের সফলতার চাবিকাঠি, আর তাদের বিভেদ তাদের ব্যর্থতার কারণ। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং তোমরা নিজেদের মধ্যে বিবাদ করো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হবে; আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন} [আনফাল: ৪৬]।
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولا ريب أن كل واحدٍ منا معرّض للخطأ، فإذا رأينا من أحدنا خطأً؛ فلنتعاون على إزالة هذا الخطأ بالاتصال به، وبيان هذا الخطأ، وقد يكون الخطأ خطأً في ظننا، ولكنه في الواقع ليس بخطأ، فيبين لنا هذا خطأنا في ظننا أنه خطأ، أما أن نأخذ من خطئه سببًا للقدح فيه، والتنفير عنه، فإن هذا ليس من سمات المؤمنين، فضلاً عن كونه من سمات الدعاة إلى الله عز وجل، ولا أحد يشك أننا في هذه السنوات القريبة بدأ الشباب ـ ولله الحمد ـ ينطلق منطلقًا سليمًا للدعوة إلى الله عز وجل، ولكن حصل فيه شيءٌ من الخطأ، في أنَّ بعض الشباب الآن صار ينطلق من منطلق وحده، ولا يبالي برأي غيره، بل هو معجبٌ بما عنده من العلم والفكر، وإن كان على جانب كبير من الجهل بعلمه، والخطأ في فكره، فتجده يحتقر غيره، ولا ينصاع لما معه من الحق، حتى لو ذُكر له إمامٌ من أئمة المسلمين المشهود لهم بالعلم والدين والأمانة، قال: ومن هذا، أليس رجلاً وأنا رجل؟! مع العلم بأن ما ذهب إليه مما ادَّعى أنه من رجولته مبني على قلة البصيرة والعلم، فتجده لا يجمع بين أطراف الأدلة مثلاً: يأخذ بدليل، ولا سيما إذا كان هذا الدليل يدل على حكم غريب، يأخذ به، ويدع ما سواه، ولا يرعوي أو ينصاع إذا قيل له فكّر في الأمر، انظر في الأدلة، انظر إلى خلاف جمهور العلماء مثلاً، ولكنه لا يفكّر، وهو أيضًا يعامل إخوانه الدعاة هذه المعاملة، يجد أن غيره إذا خالفه، فهو على باطل، وهو الذي على الحق، كأنما يوحى إليه.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমাদের প্রত্যেকেই ভুলের সম্মুখীন হতে পারে। সুতরাং, যদি আমরা আমাদের কারো মধ্যে কোনো ভুল দেখতে পাই, তবে তার সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যমে এবং সেই ভুলটি স্পষ্ট করে দেওয়ার মাধ্যমে তা নিরসনে আমাদের পরস্পরকে সহযোগিতা করা উচিত। হতে পারে সেই বিষয়টি আমাদের ধারণামতে ভুল, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ভুল নয়। এমতাবস্থায় তিনি আমাদের ধারণার সেই ভুলটি আমাদের কাছে স্পষ্ট করে দেবেন। কিন্তু কারো ভুলকে তাকে নিন্দা (قدح) করার এবং তার থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য নয়, আল্লাহর পথে আহ্বানকারীদের বৈশিষ্ট্য হওয়া তো দূরের কথা। এতে কারও সন্দেহ নেই যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুবসমাজ—সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে একটি সঠিক অভিমুখে অগ্রসর হতে শুরু করেছে। তবে এতে কিছু ভুলভ্রান্তিও পরিলক্ষিত হয়েছে; আর তা হলো বর্তমানে কিছু যুবক সম্পূর্ণ নিজস্ব পন্থায় চলতে শুরু করেছে এবং অন্যের মতামতের কোনো তোয়াক্কা করছে না। বরং সে নিজের কাছে থাকা ইলম ও চিন্তাধারা নিয়ে আত্মমুগ্ধ, যদিও সে তার ইলমের ক্ষেত্রে চরম অজ্ঞতা এবং চিন্তার ক্ষেত্রে ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত। ফলে দেখা যায় যে সে অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করে এবং তার কাছে থাকা সত্যকে গ্রহণ করে না। এমনকি যদি তার সামনে ইলম, দ্বীন ও বিশ্বস্ততার (أمانة) জন্য স্বীকৃত মুসলিম ইমামদের মধ্য থেকে কোনো ইমামের কথাও উল্লেখ করা হয়, তবে সে বলে: "তিনি কে? তিনিও একজন মানুষ, আর আমিও একজন মানুষ!" অথচ এটি সবারই জানা যে, সে তার ব্যক্তিত্বের অংশ হিসেবে যা দাবি করছে, তা মূলত দূরদর্শিতা ও ইলমের স্বল্পতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ফলে দেখা যায় সে দালিলিক প্রমাণের (أدلة) বিভিন্ন দিককে একত্রে সমন্বয় করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ: সে একটি দলিল (دليل) গ্রহণ করে, বিশেষ করে যদি সেই দলিলটি কোনো বিরল (غريب) বিধানের নির্দেশ করে, তবে সে সেটিই গ্রহণ করে এবং অন্য সবকিছু বর্জন করে। তাকে যদি বলা হয় যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করো, প্রমাণাদি (أدلة) পর্যবেক্ষণ করো এবং সংখ্যাগুরু (جمهور) আলেমদের মতপার্থক্যগুলো দেখো, তবুও সে তাতে কর্ণপাত করে না। সে তার সহকর্মী দায়ী ভাইদের সাথেও অনুরূপ আচরণ করে; সে মনে করে যে কেউ তার বিরোধিতা করলে সে ভ্রান্তির ওপর আছে, আর কেবল সেই সত্যের ওপর রয়েছে—যেন তার ওপর ওহী নাযিল হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولا شكَّ أن هذا المنهج منهجٌ غير سديد، فلا يجوز للإنسان أن يعتقد خطأ غيره، وأنَّ الصواب معه في أمورٍ تقبل الاجتهاد؛ لأنه إذا اعتقد ذلك فكأنما تنصّب منصب النبوة والرسالة والعصمة، فالخطأ جائز على غيرك، هو جائز عليك، والصواب الذي تدّعيه لنفسك يدّعيه غيرك، وقد يكون الصواب مع غيرك، والخطأ معك، ومن ثَمَّ صار بعض الشباب الان ينتمي إلى طائفةٍ معيَّنة، أو إلى عالمٍ معيّن ينتصر له، ويأخذ بقوله، سواء كان صوابًا أم خطأً، وهذا في الواقع مما يشتت الأمة، ويضعف العزيمة، ويجعل هؤلاء الشباب المقبل على الله محلّ هزء وسخرية لأهل الشر والسوء.
فالواجب علينا أن نكون كما أمر الله، بل أن نكون كما وصفنا الله {وَإِنَّ هَذِهِ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَأَنَاْ رَبُّكُمْ فَاتَّقُونِ} وأن تكون كلمتنا واحدة، ولست أقول: إنه يجب أن يكون قولنا واحدًا بمعنى ألَاّ يقع بيننا خلاف فيما يسوغ فيه الخلاف؛ لأن هذا أمرٌ لا يمكن، لكن أقول: إنه إذا وقع بيننا خلافٌ فيما يسوغ فيه الخلاف، يجب ألَاّ يؤدي هنا إلى اختلاف القلوب، بل تكون القلوب واحدة، والموالاة بيننا قائمة، والمحبة ثابتة، ولو اختلفنا فيما يسوغ فيه الاجتهاد.
নিঃসন্দেহে এই পদ্ধতি (منهج) সঠিক কোনো পদ্ধতি নয়। সুতরাং কোনো ব্যক্তির জন্য এটি বৈধ নয় যে, সে অন্যের ভুল হওয়া এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) গ্রহণ করে এমন বিষয়ে নিজের সঠিক হওয়ার ব্যাপারে একগুঁয়ে বিশ্বাস পোষণ করবে; কারণ সে যদি এরূপ বিশ্বাস করে তবে সে যেন নিজেকে নবুওয়াত, রিসালাত এবং নিষ্পাপতা (عصمة) বা অভ্রান্ততার আসনে সমাসীন করল। অথচ অন্যের যেমন ভুল হওয়া সম্ভব, আপনার ক্ষেত্রেও তা সম্ভব। আর আপনি নিজের জন্য যে সঠিক হওয়ার দাবি করছেন, অন্যজনও নিজের জন্য সেই একই দাবি করছে। অনেক সময় সত্য হয়তো অন্যের সাথেই থাকে আর ভুল থাকে আপনার সাথে। এর ফলেই বর্তমানে কিছু যুবক সুনির্দিষ্ট কোনো দল বা কোনো বিশেষ আলিমের অন্ধ অনুসারী হয়ে পড়ছে, তাঁরই পক্ষাবলম্বন করছে এবং তাঁর বক্তব্যই গ্রহণ করছে—তা সঠিক হোক কিংবা ভুল। প্রকৃতপক্ষে এটি উম্মাহকে বিচ্ছিন্ন করে, মনোবলকে দুর্বল করে এবং আল্লাহর পথে অগ্রসরমান এসকল যুবককে পাপাচারী ও মন্দ লোকদের নিকট উপহাস ও ঠাট্টার পাত্রে পরিণত করে।
অতএব আমাদের জন্য কর্তব্য হলো আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে চলা, বরং আল্লাহ আমাদের যেভাবে গুণান্বিত করেছেন তেমন হওয়া: {আর তোমাদের এই উম্মাহ তো এক অভিন্ন উম্মাহ এবং আমিই তোমাদের প্রতিপালক, অতএব আমাকেই ভয় করো}। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। আমি এটি বলছি না যে, আমাদের বক্তব্য অভিন্ন হতে হবে—অর্থাৎ যেসব বিষয়ে মতভেদ (خلاف) গ্রহণযোগ্য সেখানে কোনো মতভেদই হবে না; কারণ এটি অসম্ভব। তবে আমি বলছি যে, যখন আমাদের মাঝে বৈধ মতভেদের ক্ষেত্রগুলোতে ভিন্নমত পরিলক্ষিত হবে, তখন যেন তা অন্তরের বিভেদ সৃষ্টি না করে। বরং অন্তরগুলো যেন এক থাকে, আমাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য (موالاة) বিদ্যমান থাকে এবং ভালোবাসা অটুট থাকে—যদিও আমরা ইজতিহাদ (اجتهاد) যোগ্য বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করি।
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأضرب لهذا مثلاً، في مسألة تعتبر يسيرة بالنسبة للمهمات من الإسلام، كمسألة الجلوس في الصلاة عند القيام إلى الركعة الثانية، أو القيام إلى الركعة الرابعة، فإنَّ من أهل العلم من يرى أنه سنة، ومن العلماء من يرى أنه ليس بسنة، ومن العلماء من يفصّل، والخلاف في هذا مشهور، لكن إذا كان صاحبي ومشاركي في الدعوة، إذا كان يرى أن الجلوس سنة، وأنا لا أرى أنَّه سنة، وجلس ولم أجلس أنا، فهل يسوغ لنا أن نجعل من هذا الخلاف سببًا لكراهة بعضنا بعضًا؟! أو للتشهير أو للتشنيع؟ لا والله لا يسوغ، وإذا كان الصحابة رضي الله عنهم اختلفوا في أمرٍ أكبر من هذا، وأهمّ وأعظم، ولم ينفّر بعضهم عن بعض، ولم يكره بعضهم بعضًا.. فما بالنا نحن، يكره بعضنا بعضًا من أجل هذه المسائل اليسيرة، بالنسبة لما هو أهمّ منها في الدين، ألم يعلم الكثير منَّا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما رجع من غزوة الأحزاب، وجاءه جبريل، وأمره أن يخرج إلى بني قريظة، لنقضهم العهد، ندب أصحابه صلى الله عليه وسلم إلى الخروج إلى بني قريظة، وقال: «لا يصلينَّ أحدٌ العصر إلَاّ في بني قريظة (1) »
--------------------------------------------
আমি এর একটি উদাহরণ দিচ্ছি, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর তুলনায় একটি অতি সহজ বিষয়ের ক্ষেত্রে, যেমন দ্বিতীয় রাকাতে ওঠার সময় বা চতুর্থ রাকাতে ওঠার সময় নামাজে বসার বিষয়টি। আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন এটি সুন্নাহ (سنة), আবার আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন এটি সুন্নাহ (سنة) নয়। আবার কিছু আলেম এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। এ বিষয়ে মতভেদ সুপ্রসিদ্ধ। কিন্তু দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমার কোনো সাথী ও সহযোগী যদি মনে করেন যে এই উপবেশন সুন্নাহ (سنة), আর আমি যদি মনে করি এটি সুন্নাহ (سنة) নয়, এবং তিনি যদি বসেন কিন্তু আমি না বসি—তবে এই মতভেদকে কেন্দ্র করে কি আমাদের একে অপরকে ঘৃণা করা সমীচীন হবে? অথবা জনসমক্ষে নিন্দা কিংবা কটু সমালোচনা করা কি বৈধ হবে? না, আল্লাহর কসম, এটি কক্ষনোই সমীচীন নয়। অথচ সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এর চেয়েও বড়, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মহান বিষয়ে মতভেদ করেছেন, তবুও তাঁরা একে অপরকে দূরে ঠেলে দেননি এবং একে অপরকে ঘৃণাও করেননি। তবে আমাদের কী হলো যে, দ্বীনের অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর তুলনায় এই সাধারণ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা একে অপরকে ঘৃণা করছি? আমাদের অনেকেরই কি জানা নেই যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আহযাবের যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন এবং জিবরাঈল তাঁর নিকট আসলেন ও বনু কুরাইজা গোত্রের সন্ধি ভঙ্গের কারণে তাদের দিকে অভিযানের নির্দেশ দিলেন, তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণকে বনু কুরাইজার দিকে বের হওয়ার আহ্বান জানালেন এবং বললেন: «তোমাদের কেউ যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে আসরের নামাজ আদায় না করে (১)»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فخرجوا من المدينة، فأدركتهم الصلاة، فمنهم من قال: لا نصلي إلَاّ في بني قريظة، وأخّروا الصلاة حتى خرج الوقت، ومنهم من قال: نصلي العصر في وقتها، وإن لم نصل إلى بني قريظة، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم، فلم يُعنف أحدًا من الطائفتين، وهم بأنفسهم لم يكن في قلوب بعضهم على بعض شيءٌ من الكراهة أو العداوة مع أنَّ الخلاف هذا أشدّ من الاختلاف في الجلوس، عند القيام للركعة الثانية أو الرابعة، يعني هذا خلاف في إخراج الصلاة عن وقتها، أو الصلاة في وقتها، فالذي أرجوه من إخوتي الدعاة ألَاّ يجعلوا هذه الأمور التي يقع فيها الاختلاف السائغ الذي يُسوِّغه الاجتهاد، ألَاّ يجعلوها سببًا للفرقة والتحزب وتضليل بعضهم بعضًا؛ لأن ذلك مما يضعف منصبهم أمام أعدائهم، وأنتم تعلمون أن هناك أعداءً يتربصون الدوائر بالدعاة إلى الخير، ولكن من كان الله معه؛ فله العاقبة، وهو المنصور في الدنيا والاخرة، كما قال الله ـ تعالى ـ: {إِنَّا لَنَنصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِينَ آمَنُواْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ يَقُومُ الأَشْهَادُ} [غافر: 51] .
أسأل الله سبحانه وتعالى أن يجعلني وإياكم من أنصار دينه، والدعاة إليه على بصيرة، وأن يهب لنا منه رحمة إنه هو الوهاب، وأسأل الله ـ تعالى ـ أن يجزي إخواننا الذين هيئوا لنا هذا اللقاء، أن يجزيهم خيرًا، وأن يجعلهم ـ دائمًا ـ من هداة الخير.
أسئلة
অতঃপর তারা মদিনা থেকে বের হলেন এবং পথিমধ্যে নামাজের সময় হলো। তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বললেন: "আমরা বনু কুরাইজায় না পৌঁছানো পর্যন্ত নামাজ পড়ব না।" ফলে তারা নামাজের সময় পার হয়ে যাওয়া পর্যন্ত নামাজ বিলম্বিত করলেন। আবার তাদের মধ্যে অন্য এক দল বললেন: "আমরা ওয়াক্ত থাকতেই আসরের নামাজ পড়ে নেব, যদিও আমরা বনু কুরাইজায় না পৌঁছাই।" এই সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পৌঁছালে তিনি উভয় দলের কাউকেই তিরস্কার করেননি। এমনকি তাদের নিজেদের মনেও একে অপরের প্রতি কোনো ঘৃণা বা শত্রুতা ছিল না; যদিও এই মতভেদটি (দ্বিতীয় বা চতুর্থ রাকাতে) দাঁড়ানোর সময় বসা নিয়ে মতভেদের চেয়েও গুরুতর ছিল। অর্থাৎ এটি ছিল নামাজের ওয়াক্ত পার করে দেওয়া বা ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করা সংক্রান্ত মতভেদ। তাই আমার দাঈ ভাইদের নিকট অনুরোধ, যেসব বিষয়ে গ্রহণযোগ্য মতভেদ (اختلاف سائغ) বিদ্যমান এবং যে ক্ষেত্রে ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর অবকাশ রয়েছে, সেগুলোকে যেন তারা দলাদলি, বিভেদ এবং একে অপরকে ভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য না করেন। কারণ এটি শত্রুদের সামনে তাদের অবস্থানকে দুর্বল করে দেয়। আপনারা অবগত আছেন যে, সেখানে এমন সব শত্রু রয়েছে যারা কল্যাণের পথে আহ্বানকারী দাঈদের বিপদের অপেক্ষায় ওত পেতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ যার সহায় হন, শেষ পরিণাম তারই অনুকূলে থাকে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তিনিই সাহায্যপ্রাপ্ত হন; যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয় আমি আমার রাসূলগণকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের পার্থিব জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীগণ দণ্ডায়মান হবে সেদিন সাহায্য করব।" [গাফির: ৫১]।
আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে ও আপনাদেরকে তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী এবং দূরদর্শিতার সাথে তাঁর পথে আহ্বানকারী দাঈদের অন্তর্ভুক্ত করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করেন, নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা। আমি মহান আল্লাহর নিকট আরও প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সেই ভাইদের উত্তম প্রতিদান দান করেন যারা এই আলোচনার আয়োজন করেছেন এবং তাদের সর্বদা কল্যাণের পথপ্রদর্শক হিসেবে কবুল করেন।
প্রশ্নসমূহ
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২০)
إن مما وقع فيه الخلاف بين الدعاة إلى الله عز وجل أمر وسائل الدعوة، فمنهم من يجعله عبادةً توقيفية، وبالتالي ينكر على من يقيمون الأنشطة المتنوعة، الثقافية أو الرياضية، أو المسرحية، كوسائل لجذب الشباب ودعوتهم، ومنهم من يرى أن الوسائل تتجدد بتجدد الزمان، وللدعاة أن يستخدموا كل وسيلة مباحة في الدعوة إلى الله عز وجل.. نرجو من فضيلتكم بيان الصواب في ذلك، والله يحفظكم؟.
আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা-র পথে দাওয়াত প্রদানকারীগণের মাঝে যে সকল বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো দাওয়াতের মাধ্যমসমূহের বিষয়টি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে ওহী-নির্ভর (توقيفية) ইবাদত হিসেবে গণ্য করেন; ফলে তারা যুবকদের আকৃষ্ট করার ও তাদের দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে যারা বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া বা নাটকীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন, তাদের নিন্দা করেন। আবার তাদের মধ্যে এমনও কেউ আছেন যারা মনে করেন যে, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাধ্যমগুলোও পরিবর্তিত হয় এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে দাঈদের জন্য সকল বৈধ (مباحة) মাধ্যম ব্যবহার করার অবকাশ রয়েছে। আমরা আপনার নিকট এই বিষয়ে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করার বিনীত অনুরোধ করছি। আল্লাহ আপনাকে হিফাজত করুন।
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২১)
ج1: الحمد رب العالمين
… لا شكَّ أن الدعوة إلى الله سبحانه وتعالى عبادة.. كما أمر الله بها في قوله {ادْعُ إِلِى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} [النحل: 521] ، والإنسان الداعي إلى الله يشعر وهو يدعو إلى الله عز وجل أنه ممتثل لأمر الله، متقرب إليه به، ولا شك أيضًا أن أحسن ما يُدعى به هو كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم؛ فإن كتاب الله سبحانه وتعالى هو أعظم واعظ للبشرية {يأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَآءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ} [يونس: 57] ، والنبي صلى الله عليه وسلم كذلك، قوله أبلغ الأقوال موعظة، فقد كان يعظ أصحابه أحيانًا موعظة يصفونها بأنها وجلت منها القلوب، وذرفت منها العيون، فإذا تمكن الإنسان من أن تكون عظته بهذه الوسيلة؛ فلا شك أن هذه خير وسيلة، أي بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وإذا رأى أن يضيف إلى ذلك أحيانًا وسائل مما أباحه الله، فلا بأس بهذا، لا بأس بذلك، ولكن بشرط أن تكون هذه الوسائل لا تشتمل على شيء محرّم كالكذب، أو تمثيل دور الكافر مثلاً في التمثيليات، أو تمثيل الصحابة رضي الله عنهم، أو أئمة المسلمين من بعد الصحابة، أو ما أشبه ذلك، مما يُخشى منه أن يُزْدَرى، أو أن يزدري أحدٌ من الناس هؤلاء الأئمة الفضلاء، وكذلك أيضًا لا تشتمل التمثيلية على تشبه رجلٍ بامرأة، أو بالعكس؛ لأن هذا مما ثبت فيه اللعن عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ فإنه لعن المتشبهات من النساء بالرجال، والمتشبهين من الرجال بالنساء (1) ،
--------------------------------------------
উত্তর ১: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য
… এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করা একটি ইবাদত.. যেমনটি আল্লাহ তাঁর বাণীতে নির্দেশ দিয়েছেন: {আপনি আপনার প্রতিপালকের পথের দিকে হিকমত ও সদুপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়। নিশ্চয় আপনার প্রতিপালকই ভালো জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।} [আন-নাহল: ১২৫] , আল্লাহর পথে আহ্বানকারী ব্যক্তি যখন মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করেন, তখন তিনি অনুভব করেন যে তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালন করছেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য অর্জন করছেন। এতেও কোনো সন্দেহ নেই যে, আহ্বানের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ; কারণ মহান আল্লাহর কিতাব হলো মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ উপদেশদাতা {হে মানুষ! তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য, আর মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত।} [ইউনুস: ৫৭] , তেমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীও উপদেশের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী। তিনি মাঝে মাঝে তাঁর সাহাবীগণকে এমন উপদেশ দিতেন যা সম্পর্কে তাঁরা বর্ণনা করেছেন যে, তাতে অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হতো এবং চক্ষুসমূহ অশ্রুসিক্ত হতো। সুতরাং কোনো মানুষ যদি এই উপায়ে উপদেশ প্রদানে সক্ষম হয়, তবে কোনো সন্দেহ নেই যে এটিই সর্বোত্তম উপায়; অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মাধ্যমে। আর যদি কেউ মনে করে যে এর সাথে মাঝে মাঝে আল্লাহ কর্তৃক বৈধকৃত অন্যান্য মাধ্যম যুক্ত করবে, তবে এতে কোনো দোষ নেই, এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে শর্ত হলো এই মাধ্যমগুলো যেন কোনো হারাম বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত না করে; যেমন—মিথ্যা বলা, কিংবা নাটিকায় কাফেরের চরিত্রে অভিনয় করা, অথবা সাহাবী (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) বা সাহাবীদের পরবর্তী মুসলিম ইমামগণের চরিত্রে অভিনয় করা, অথবা এই জাতীয় বিষয়াদি যা থেকে অবমাননার আশঙ্কা থাকে বা যার ফলে মানুষ এই সম্মানিত ইমামদের তুচ্ছজ্ঞান করতে পারে। একইভাবে নাটিকাটিতে কোনো পুরুষের নারীর বেশ ধারণ বা নারীর পুরুষের বেশ ধারণও অন্তর্ভুক্ত থাকা চলবে না; কারণ এটি এমন বিষয় যার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অভিশাপ প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে; কেননা তিনি পুরুষের বেশধারী নারীদের এবং নারীর বেশধারী পুরুষদের অভিশাপ দিয়েছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২২)
المهم أنه إذا فُعِلَ شيء من هذه الوسائل أحيانًا من أجل التأليف ولم تشتمل على شيء محرّم، فلا أرى بها بأسًا، أمَّا الإكثار منها وجعلها هي الوسيلة في الدعوة إلى الله، والإعراض عن الدعوة بكتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم بحيث لا يتأثر المدعو إلَاّ بمثل هذه الوسائل، فلا أرى ذلك، بل أرى أنه محرّم؛ لأنَّ توجيه الناس إلى غير الكتاب والسنة فيما يتعلق بالدعوة إلى الله أمر منكر، لكن فعل ذلك أحيانًا لا أرى فيه بأسًا إذا لم يشتمل على شيء محرّم.
: هل الدعوة إلى الله واجبة على كل مسلم ومسلمة، أم تقتصر على العلماء وطلاب العلم فقط؟
মূল কথা হলো, যদি মানুষের অন্তর জয় করার উদ্দেশ্যে মাঝে মাঝে এই মাধ্যমগুলোর কোনোটি গ্রহণ করা হয় এবং তাতে নিষিদ্ধ কিছু না থাকে, তবে আমি এতে কোনো দোষ দেখি না। কিন্তু এর আধিক্য এবং একেই আল্লাহর পথে দাওয়াতের মূল মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা এবং আল্লাহর কিতাব ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়া থেকে বিমুখ হওয়া—যাতে করে যাকে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে সে এই জাতীয় মাধ্যম ছাড়া প্রভাবিতই না হয়—তবে আমি তা সমর্থন করি না; বরং আমি একে নিষিদ্ধ মনে করি। কারণ আল্লাহর দিকে দাওয়াতের ক্ষেত্রে মানুষকে কিতাব ও সুন্নাহর পরিবর্তে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত করা একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) বিষয়। তবে এতে যদি কোনো নিষিদ্ধ বিষয় না থাকে, তবে মাঝে মাঝে তা করাতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।
: আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া কি প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর আবশ্যক, নাকি তা কেবল আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ج2: إذا كان الإنسان على بصيرة فيما يدعو إليه، فلا فرق بين أن يكون عالمًا كبيرًا يُشار إليه، أو طالب علمٍ مجدًّا في طلبه، أو عاميًّا لكنه علم المسألة علمًا يقينيًّا، فإن الرسول صلى الله عليه وسلم يقول: «بلِّغوا عنِّي ولو آية» (1) ولا يشترط في الداعية أن يبلغ مبلغًا كبيرًا في العلم، لكن يشترط أن يكون عالمًا بما يدعو إليه، أما أن يقوم عن جهل ويدعو بناءً على عاطفةٍ عنده، فإنَّ هذا لا يجوز، ولهذا نجد من الإخوة الذين يدعون إلى الله، وهم ليس عندهم من العلم إلَاّ القليل، نجدهم لقوة عاطفتهم يحرّمون ما لم يحرّمه الله، ويوجبون ما لم يوجبه الله على عباده، وهذا أمرٌ خطير جدًّا؛ لأن تحريم ما أحل الله كتحليل ما حرَّم الله، فهم مثلاً إذا أنكروا على غيرهم تحليل هذا الشيء، فغيرهم ينكر عليهم تحريمه أيضًا؛ لأن الله جعل الأمرين سواء فقال: {وَلَا تَقُولُواْ لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَذَا حَلَالٌ وَهَذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُواْ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ * مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النحل: 116، 117] .
: هل يجوز للداعية أن يدعو الناس وهم على منكراتهم، كإتيانهم وهم على الأرصفة في معازفهم ولهوهم؟.. وهل تجوز الزيارات بغرض الدعوة لبيوت العُصاة؟ وما هو الأسلوب المناسب في ذلك؟
--------------------------------------------
উত্তর ২: যদি কোনো ব্যক্তি যে বিষয়ে দাওয়াত দিচ্ছে সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান (بصيرة) রাখে, তবে সে বড় কোনো প্রখ্যাত আলেম হোক, কিংবা ইলম অর্জনে সচেষ্ট কোনো ইলম অন্বেষী (طالب علم), অথবা কোনো সাধারণ ব্যক্তি হোক যে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقيني) রাখে—এদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও» (১)। দাওয়াত প্রদানকারীর (داعية) জন্য ইলমের সুউচ্চ স্তরে পৌঁছানো শর্ত নয়, তবে সে যা দাওয়াত দিচ্ছে সে বিষয়ে তাকে জ্ঞানী (عالم) হতে হবে। কিন্তু অজ্ঞতাবশত আবেগের বশবর্তী হয়ে দাওয়াত দেওয়া জায়েজ নয়। একারণেই আমরা দ্বীনের দাওয়াত প্রদানকারী এমন অনেক ভাইকে দেখি যাদের ইলম সামান্যই, কিন্তু প্রবল আবেগের কারণে তারা আল্লাহ যা হারাম করেননি তাকে হারাম করে দেয় এবং যা তিনি বান্দাদের ওপর ওয়াজিব করেননি তাকে ওয়াজিব করে দেয়। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়; কারণ আল্লাহর হালালকৃত বিষয়কে হারাম করা ঠিক তেমন, যেমন আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালাল করা। উদাহরণস্বরূপ, তারা যদি অন্যের কোনো বিষয়কে হালাল বলাকে অস্বীকার করে, তবে অন্যরা তাদের সেই বিষয়কে হারাম বলাকেও অস্বীকার করবে। কারণ আল্লাহ উভয় বিষয়কে সমান ঘোষণা করে বলেছেন: {আর তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা আরোপ করে যা বর্ণনা করে, সে সম্পর্কে তোমরা বলো না যে, ‘এটি হালাল এবং এটি হারাম’; আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করার জন্য। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যারোপ করে, তারা সফলকাম হবে না। (এটি) অতি সামান্য ভোগ; আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।} [আন-নাহল: ১১৬, ১১৭]।
প্রশ্ন: একজন দায়ী (داعية) কি মানুষের কাছে দাওয়াত নিয়ে যেতে পারেন যখন তারা কোনো অপকর্মে (منكرات) লিপ্ত থাকে? যেমন ফুটপাতে বসে বাদ্যযন্ত্র (معازف) ও আমোদ-প্রমোদে (لهو) রত থাকা অবস্থায় কি তাদের কাছে যাওয়া যাবে? আর পাপাচারীদের (عصاة) বাড়িতে দাওয়াতের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করা কি বৈধ? এ ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি (أسلوب) কী?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ج3: الدعوة تكون بالحكمة.. كما أمر الله عز وجل فإذا رأى الإنسان أنّ دعوتهم في هذا المحل، أو في هذا الوقت مناسبة ومثمرة؛ فليتقدم إليهم حتى وإن جاء العُصاة في أماكنهم، وقد ذكر المؤرخون أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يأتي الناس في الموسم، موسم الحج في منازلهم ويدعوهم إلى الله عز وجل، وكذلك يدعوهم وإن كانوا على الأرصفة وفي لهوهم إذا رأى في ذلك مصلحة، وإذا كان لا يرى مصلحة في دعوتهم جميعًا فبإمكانه أن يأخذهم واحدًا واحدًا، وليحرص على زعمائهم، والكبراء منهم؛ لأن الزعماء والكبراء إذا صلحوا؛ صلح الأتباع، فليحرص مثلاً إذا كان لا يتمكن أو لم ير مصلحة في الدعوة العامة على الكبراء والزعماء، ويتقدم إليهم إمَّا في بيوتهم أو في مكان آخر أنسب ويدعوهم.
المهم أنَّ الإنسان إذا التزم ما أرشد الله إليه، وأمر به من الحكمة؛ صار على خير كثير {يُؤّتِي الْحِكْمَةَ مَن يَشَآءُ وَمَن يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْراً كَثِيراً وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَاّ أُوْلُواْ الأَلْبَابِ} [البقرة: 269] .
: ما رأيك يا فضيلة الشيخ في بعض الشباب، بل ومنهم بعض طلبة العلم الذي صار ديدنهم التجريح في بعضهم البعض، وتنفير الناس عنهم والتحذير منهم، هل هذا عملٌ شرعي، يثاب عليه أو يعاقب عليه؟
উত্তর ৩: দাওয়াত হিকমতের (প্রজ্ঞা) মাধ্যমেই হতে হবে.. যেমনটি মহান আল্লাহ আদেশ করেছেন। সুতরাং কোনো ব্যক্তি যদি দেখেন যে, কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বা নির্দিষ্ট সময়ে তাদের দাওয়াত দেওয়া উপযুক্ত ও ফলপ্রসূ, তবে তিনি তাদের নিকট এগিয়ে যাবেন, এমনকি পাপাচারীরা তাদের নিজ অবস্থানে থাকলেও। ঐতিহাসিকগণ উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হজের মৌসুমে মানুষের আবাসস্থলে গিয়ে তাদের নিকট উপস্থিত হতেন এবং তাদের মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাতেন। একইভাবে তিনি তাদের দাওয়াত দিতেন এমনকি তারা ফুটপাতে বা তাদের খেল-তামাশায় মগ্ন থাকলেও, যদি তিনি তাতে কোনো কল্যাণ দেখতে পেতেন। আর যদি তিনি তাদের সকলকে একসাথে দাওয়াত দেওয়ার মাঝে কোনো কল্যাণ না দেখেন, তবে তিনি তাদের একে একে দাওয়াত দিতে পারেন। তিনি যেন তাদের নেতৃস্থানীয় ও প্রভাবশালীদের ব্যাপারে আগ্রহী হন; কারণ নেতৃস্থানীয় ও প্রভাবশালীরা যদি সংশোধিত হন, তবে অনুসারীরাও সংশোধিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, তিনি যদি সাধারণ দাওয়াত প্রদানে সক্ষম না হন বা তাতে কোনো কল্যাণ না দেখেন, তবে তিনি যেন প্রভাবশালী ও নেতৃস্থানীয়দের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং তাদের বাড়িতে বা অন্য কোনো অধিকতর উপযুক্ত স্থানে গিয়ে তাদের দাওয়াত প্রদান করেন।
মূল কথা হলো, কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর নির্দেশিত ও আদেশকৃত হিকমতের বিষয়টি অনুসরণ করেন, তবে তিনি প্রভূত কল্যাণের ওপর থাকবেন। "তিনি যাকে ইচ্ছা হিকমত (প্রজ্ঞা) দান করেন; আর যাকে হিকমত দান করা হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে। আর কেবল বোধসম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।" [বাকারাহ: ২৬৯]
প্রশ্ন: হে সম্মানিত শাইখ! আপনি সেই সব যুবক, বরং তাদের মধ্যে এমন কিছু ইলম অন্বেষণকারীর সম্পর্কে কী মনে করেন, যাদের নিয়মিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে একে অপরের সমালোচনা বা ত্রুটি বর্ণনা (تجريح) করা, মানুষকে তাদের থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং তাদের ব্যাপারে সতর্ক করা? এটি কি কোনো শরয়ী কাজ যার জন্য সওয়াব পাওয়া যাবে, নাকি এর জন্য শাস্তি পেতে হবে?
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ج4: الذي أرى أنَّ هذا عمل محرَّم، وإذا كان الإنسان لا يجوز أن يغتاب أخاه المؤمن، وإن لم يكن عالمًا، فكيف يسوغ له أن يغتاب إخوانه العلماء من المؤمنين، والواجب على الإنسان المؤمن أن يَكُفَّ لسانه عن الغيبة في إخوانه المؤمنين، قال ـ تعالى ـ: {يأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اجْتَنِبُواْ كَثِيراً مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ وَلَا تَجَسَّسُواْ وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضاً أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَن يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتاً فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُواْ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ} [الحجرات: 12] ، وليعلم هذا الذي ابتلي بهذه البلوى، أنَّه إذا جرح العالم، فسيكون سببًا في رد ما يقوله هذا العالم من الحق، فيكون وبال رد الحق وإثمه على هذا الذي جرح العالم؛ لأن جرح العالِم في الواقع ليس جرحًا شخصيًّا، بل هو جرح لإرث محمد صلى الله عليه وسلم؛ فإن العلماء ورثة الأنبياء، فإذا جُرِّح العلماء وقدح فيهم، لم يثق الناس في العلم الذي عندهم، وهو موروث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وحينئذٍ لا يثقون بشيء من الشريعة التي يأتي بها هذا العالِم الذي جُرح، ولست أقول: إن كل عالِم معصوم، بل كل إنسان معرّض للخطأ، وأنت إذا رأيت من عالمٍ خطأ فيما تعتقده فاتصل به وتفاهم معه، فإن تبين لك أن الحق معه؛ وجب عليك اتباعه، وإن لم يتبين لك، ولكن وجدت لقوله مساغًا؛ وجبَ عليك الكفّ عنه، وإن لم تجد لقوله مساغًا، فحذّر عن قوله؛ لأن الإقرار على الخطأ لا يجوز، لكن لا تجرحه وهو رجل عالم معروف بحسن النية، ولو أردنا أن نجرح العلماء المعروفين بحسن النية لخطأ وقعوا فيه من مسائل الدين، لجرحنا علماءً كبارًا، ولكن الواجب هو ما ذكرت، إذا رأيت من عالم خطأً فناقشه وتكلم معه فإما أن يتبين لك أن الصواب
জ৪: আমি মনে করি এটি একটি হারাম (محرم) কাজ। যদি একজন মানুষের জন্য তার মুমিন ভাইয়ের গিবত করা জায়েজ না হয়, যদিও তিনি আলেম না হন, তবে তার জন্য মুমিন আলেম ভাইদের গিবত করা কীভাবে বৈধ হতে পারে? মুমিন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো তার মুমিন ভাইদের গিবত করা থেকে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখা। মহান আল্লাহ বলেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো; কারণ কোনো কোনো ধারণা পাপ। আর তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করবে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।} [আল-হুজুরাত: ১২]। আর এই মুসিবতে আক্রান্ত ব্যক্তির জানা উচিত যে, সে যখন কোনো আলেমকে সমালোচিত (جرح) করবে, তখন তা সেই আলেম কর্তৃক বর্ণিত সত্য প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হবে। ফলে সেই সত্য প্রত্যাখ্যানের দায়ভার ও পাপ ওই ব্যক্তির ওপরই বর্তাবে যে আলেমকে সমালোচিত (جرح) করেছে। কারণ বাস্তবে কোনো আলেমের সমালোচনা (جرح) কেবল ব্যক্তিগত সমালোচনা নয়, বরং এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তরাধিকারের ওপর আঘাত (جرح); কেননা আলেমগণ হলেন নবীদের উত্তরাধিকারী। যখন আলেমদের সমালোচিত (جرح) করা হয় এবং তাঁদের নিন্দা করা হয়, তখন তাঁদের নিকট বিদ্যমান ইলমের ওপর মানুষের আস্থা থাকে না, অথচ তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত উত্তরাধিকার। এমতাবস্থায় তারা এই সমালোচিত (جرح) আলেমের উপস্থাপিত শরীয়তের কোনো বিষয়ের ওপরই আস্থা রাখতে পারে না। আমি এ কথা বলছি না যে প্রত্যেক আলেমই নিষ্পাপ (معصوم), বরং প্রত্যেক মানুষই ভুল করতে পারে। আপনি যখন কোনো আলেমের মাঝে আপনার বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো ভুল দেখতে পান, তখন তাঁর সাথে যোগাযোগ করুন এবং তাঁর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন। যদি আপনার কাছে স্পষ্ট হয় যে সত্য তাঁর সাথেই আছে, তবে তাঁর অনুসরণ করা আপনার ওপর ওয়াজিব। আর যদি তা আপনার কাছে স্পষ্ট না হয়, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কোনো অবকাশ বা ভিত্তি খুঁজে পান, তবে তাঁর সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকা আপনার ওপর ওয়াজিব। আর যদি তাঁর বক্তব্যের কোনো ভিত্তি খুঁজে না পান, তবে তাঁর সেই বক্তব্য সম্পর্কে সতর্ক করুন; কারণ ভুলের ওপর মৌন সম্মতি দেওয়া জায়েজ নয়। কিন্তু আপনি তাঁকে সমালোচিত (جرح) করবেন না, অথচ তিনি একজন আলেম এবং সৎ নিয়তের জন্য সুপরিচিত। আমরা যদি দ্বীনি মাসআলাসমূহে কোনো ভুলের কারণে সৎ নিয়তের জন্য সুপরিচিত আলেমদের সমালোচিত (جرح) করতে চাইতাম, তবে আমাদের বড় বড় আলেমদেরকেও সমালোচিত (جرح) করতে হতো। কিন্তু প্রকৃত কর্তব্য হলো যা আমি উল্লেখ করেছি; আপনি যদি কোনো আলেমের ভুল দেখেন, তবে তাঁর সাথে আলোচনা করুন এবং কথা বলুন, হয় আপনার কাছে এটি স্পষ্ট হবে যে সঠিক বিষয়টি...
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
معه فتتبعه، أو أن الصواب معك فيتبعك، أو لا يتبين الأمر ويكون الخلاف من الخلاف السائغ. وحينئذ يجب عليك الكف عنه، وليقل هو ما يقول، وأنت تقول ما تقول.
والحمد لله الخلاف ليس في هذا العصر فقط. الخلاف من عهد الصحابة إلى يومنا
… وأما إذا تبين الخطأ ولكنه أصر انتصارًا لقوله؛ وجب عليك أن تبين الخطأ، وتنفر من الخطأ، لكن على أساس القدح في هذا الرجل وإرادة الانتقام منه؛ لأن هذا الرجل قد يقول قولاً حقًّا في غير ما جادلته فيه المهم أني أنصح إخواني بالابتعاد عن هذا البلاء وهذا المرض، وأسأل الله لي ولهم الشفاء من كل ما يعيبنا أو يضرنا في ديننا ودنيانا.
: قلتم في كتابكم: «زاد الداعية إلى الله عز وجل» ما نصّه: «أما التفرق والتحزب، فإنَّ هذا لا تقر به عين أحد. إلَاّ من كان عدوًّا للإسلام والمسلمين» والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: «اختلاف أمتي رحمة (1) » فما المراد بهذا الخلاف الذي هو الرحمة، وما التفرق المقصود في كلامكم؟ حفظكم الله.
--------------------------------------------
সত্য যদি তাঁর সাথে থাকে তবে আপনি তাঁর অনুসরণ করবেন, অথবা সত্য যদি আপনার সাথে থাকে তবে তিনি আপনার অনুসরণ করবেন, অথবা বিষয়টি স্পষ্ট হবে না এবং মতভেদটি অনুমোদিত মতভেদের (الخلاف السائغ) অন্তর্ভুক্ত হবে। এমতাবস্থায় আপনার জন্য কর্তব্য হলো তাঁর বিরুদ্ধাচরণ হতে বিরত থাকা; তিনি যা বলেন তা তাঁকে বলতে দিন এবং আপনি যা বলেন তা আপনি বলুন।
আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, মতভেদ কেবল এই যুগেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং সাহাবীগণের যুগ থেকে আমাদের বর্তমান দিন পর্যন্ত মতভেদ চলে আসছে … পক্ষান্তরে যখন ভুল স্পষ্ট হয়ে যায় কিন্তু সে নিজের মতকে বিজয়ী করার জন্য জেদ ধরে থাকে, তখন আপনার জন্য সেই ভুলটি স্পষ্ট করে দেওয়া এবং ভুলটি থেকে সতর্ক করা আবশ্যক; তবে তা যেন এই ব্যক্তির সমালোচনা (القدح) করা কিংবা তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে না হয়। কারণ হতে পারে এই ব্যক্তিটি যে বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্ক করছে তা ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে সত্য কথা বলছে। সারকথা হলো, আমি আমার ভাইদেরকে এই মুসিবত ও ব্যাধি থেকে দূরে থাকার উপদেশ দিচ্ছি। আর আমি আমার এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট এমন সকল বিষয় থেকে আরোগ্য প্রার্থনা করছি যা আমাদের দ্বীন ও দুনিয়ার ক্ষেত্রে দোষণীয় কিংবা ক্ষতিকর।
প্রশ্ন: আপনি আপনার ‘যাদুদ দায়ী ইলাল্লাহি আযযা ওয়া জাল্লা’ নামক গ্রন্থে বলেছেন: "বিচ্ছিন্নতা (التفرق) এবং দলাদলি (التحزب) এমন বিষয় যা ইসলাম ও মুসলিমদের শত্রু ছাড়া অন্য কারো চোখকে শীতল করে না।" অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের মতভেদ (اختلاف) রহমত (১)"। সুতরাং এই মতভেদ (اختلاف) দ্বারা কী উদ্দেশ্য যা রহমত হিসেবে গণ্য, আর আপনার বক্তব্যে বিভক্তি (التفرق) বলতে কী বোঝানো হয়েছে? আল্লাহ আপনাকে হিফাযত করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ج5: أمَّا الحديث الذي ذكره السائل، فهو حديث ضعيف ولا يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن الله يقول {وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ * إِلَاّ مَن رَّحِمَ رَبُّكَ وَلِذلِكَ خَلَقَهُمْ} [هود: 118، 119] ، فجعل الله ـ تعالى ـ الاختلاف من صفة غير المرحومين، فالأمة لا يمكن أن تختلف، بل رحمة الله بها ألَاّ تختلف، لا أقول: لا تختلف أقوالها، فإن الأقوال قد تختلف، لكن لا تختلف قلوبها.. وعلى تقدير أن يكون الحديث صحيحًا، أو حجة، فإن معناه: أن الخلاف الواقع بين الأمة في آرائهم داخلٌ تحت رحمة الله، أي: أن الله تعالى يرحم المجتهد منهم، وإن وقع بينهم خلاف في اجتهادهم، بمعنى أن الله لا يعاقب من جَانَبَ الصواب، وقد اجتهد فيه كما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «إذا حكم الحاكم فاجتهد فأصاب فله أجران، وإن أخطأ فله أجر» (1) هذا معنى الحديث إن كان حجة، وإلَاّ فالصحيح أن الحديث ضعيف، وليس ثابتًا عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبناءً على ذلك لا يقع خلاف بين ما ذكر في «زاد الداعية» وبين هذا الذي قيل إنه حديث.
: فضيلة الشيخ: لا شكَّ أن التعاون بين الدعاة أمرٌ محتم لنجاح دعوتهم، وقبول الناس لها، والسؤال: الساحة الإسلامية تحفل بكثير من الدعاة، ولكل منهم أسلوبه وطريقته، لكن مع ذلك، قد يكون هناك خلافٌ في مسائل مهمة كالعقيدة، فما هي الضوابط التي ترونها للعمل والتعاون مع هؤلاء وغيرهم، والدعاة بحاجة إلى توجيهكم في هذه المسألة.. وفقكم الله.
--------------------------------------------
উত্তর ৫: প্রশ্নকর্তা যে হাদিসের কথা উল্লেখ করেছেন, তা একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস এবং এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ (يصح) নয়; কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা সর্বদা মতভেদ করতেই থাকবে। তবে তোমার প্রতিপালক যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ব্যতীত; আর তিনি তাদের এ জন্যই সৃষ্টি করেছেন} [হুদ: ১১৮, ১১৯]। সুতরাং আল্লাহ তাআলা মতভেদকে দয়াবঞ্চিতদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। অতএব, উম্মতের মধ্যে (মৌলিক বিষয়ে) মতভেদ হওয়া সম্ভব নয়, বরং উম্মতের প্রতি আল্লাহর রহমত হলো তারা যেন মতভেদ না করে। আমি এ কথা বলছি না যে, তাদের বক্তব্য বা মতামতে ভিন্নতা থাকবে না, কেননা মতামতে ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ যেন ভিন্ন না হয়। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে হাদিসটি সহিহ (صحيح) বা দলীলযোগ্য (حجة), তবে তার অর্থ হবে: উম্মতের মাঝে তাদের মতামতের ক্ষেত্রে যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয় তা আল্লাহর রহমতের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা তাদের মধ্য থেকে মুজতাহিদকে (গবেষক) দয়া করেন, যদিও তাদের ইজতিহাদের ক্ষেত্রে মতভেদ ঘটে থাকে। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্যুত হয়েছে অথচ সে ইজতিহাদ করেছে, আল্লাহ তাকে শাস্তি প্রদান করবেন না। যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক বিচারকার্য পরিচালনা করেন এবং ইজতিহাদ করেন, অতঃপর সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তার জন্য রয়েছে দুটি সওয়াব। আর যদি তিনি ভুল করেন, তবে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।" (১) হাদিসটি যদি দলীলযোগ্য (حجة) হতো তবে এটাই ছিল তার অর্থ, অন্যথায় বিশুদ্ধ (الصحيح) কথা এই যে, হাদিসটি দুর্বল (ضعيف) এবং এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت) নয়। সেই অনুযায়ী, 'যাদুদ দায়িয়া' গ্রন্থে যা উল্লেখ করা হয়েছে এবং যাকে হাদিস বলে দাবি করা হয়েছে তার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
: মাননীয় শায়খ: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দাঈদের দাওয়াতের সফলতা এবং মানুষের নিকট তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা একটি অবধারিত বিষয়। প্রশ্ন হলো: ইসলামি অঙ্গন অনেক দাঈর পদচারণায় মুখরিত এবং তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব শৈলী ও পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও, আকিদার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও অনেক সময় মতভেদ দেখা যায়। এমতাবস্থায় তাদের সাথে এবং অন্যদের সাথে কাজ করার ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে আপনার দৃষ্টিতে নীতিমালাগুলো কী কী? এ বিষয়ে দাঈরা আপনার নির্দেশনার মুখাপেক্ষী। আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাআউনুদ দুআতি ওয়া আছারুহু ফিল মুজতামা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ج6: لا شك أن الضوابط لهذا الخلاف هو الرجوع إلى ما أرشد الله إليه في قوله ـ تعالى ـ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ أَطِيعُواْ اللَّهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِي الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء: 59] ، وفي قوله ـ تعالى ـ: {وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللَّهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبِّي عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} [الشورى: 10] ، فالواجب على من خرج عن الصواب في العقيدة أو في العمل أي في الأمور العلمية والعملية ـ الواجب أن يُبين له الحق ويُوضح، فإن رجع فذلك من نعمة الله عليه، وإن لم يرجع فهو ابتلاء من الله سبحانه وتعالى له، وعلينا أن نبيِّن الخطأ الذي هو واقع فيه، وعلينا أن نبيِّن الخطأ وأن نحذِّر من هذا الخطأ بقدر الاستطاعة، ومع هذا لا نيأس، فإن الله ـ تعالى ـ رد أقوامًا من بدع عظيمة حتى صاروا من أهل السنة، ولا يخفى على كثير منا ما اشتهر عن أبي الحسن الأشعري رحمه الله أنه بقي في طائفة الاعتزال مدة أربعين سنة من عمره، ثم اعتدل بعض الشيء لمدة، ثم هداه الله عز وجل إلى السبيل الأقوام، إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله الذي هو مذهب أهل السنة والجماعة، فالحاصل أن مسائل العقيدة مهمة، ويجب التناصح فيها، كما يجب التناصح أيضًا في الأمور العملية، وإن كانت دائرة الخلاف بين أهل العلم في المسائل العملية أوسع وأكثر، إذ إن المسائل العلمية العقدية لم يحصل فيها اختلاف في الجملة، وإن كان بعضها قد وقع فيه بعض الخلاف، كمسألة فناء النار، ومسألة عذاب البرزخ، ومسألة الموازين، ومسألة
উত্তর ৬: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হলো মহান আল্লাহ তাঁর বাণীতে যে নির্দেশ দিয়েছেন তার দিকে ফিরে যাওয়া; আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের)। যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর} [সূরা আন-নিসা: ৫৯], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ করো না কেন, তার ফয়সালা আল্লাহর নিকট। তিনিই আল্লাহ, আমার প্রতিপালক; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হই} [সূরা আশ-শুরা: ১০]। সুতরাং আকিদা (عقيدة) কিংবা আমল—অর্থাৎ তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় বিষয়েই যারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তাদের সামনে সত্য বর্ণনা করা এবং তা স্পষ্ট করে দেওয়া ওয়াজিব। যদি সে ফিরে আসে তবে তা তার ওপর আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ; আর যদি সে ফিরে না আসে তবে তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার জন্য এক পরীক্ষা। আমাদের কর্তব্য হলো সে যে ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত আছে তা বর্ণনা করা এবং সাধ্যানুযায়ী সেই ভুলটি স্পষ্ট করে সে সম্পর্কে সতর্ক করা। এতদসত্ত্বেও আমরা নিরাশ হব না; কেননা মহান আল্লাহ অনেক সম্প্রদায়কে বড় বড় বিদআত (بدعة) থেকে সত্যের পথে ফিরিয়ে এনেছেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তারা আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আমাদের অনেকের কাছেই ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরি (রহিমাহুল্লাহ) সম্পর্কে যা প্রসিদ্ধ তা অজানা নয় যে, তিনি তাঁর জীবনের চল্লিশ বছর মুতাজিলা (اعتزال) মতবাদে নিমগ্ন ছিলেন। অতঃপর কিছুকাল তিনি একটি মধ্যবর্তী অবস্থায় অতিবাহিত করেন এবং পরিশেষে আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুদৃঢ় পথের দিশা দান করেন, যা হলো ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব এবং যা মূলত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতেরই মাযহাব। সারকথা হলো, আকিদা (عقيدة) সংক্রান্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ ক্ষেত্রে একে অপরকে নসিহত করা আবশ্যক, যেমনটি আমলি বা ব্যবহারিক বিষয়েও নসিহত করা আবশ্যক। যদিও আলেমদের মধ্যে ব্যবহারিক মাসআলাসমূহে মতপার্থক্যের পরিধি অনেক বেশি প্রশস্ত ও ব্যাপক; কারণ তাত্ত্বিক ও আকিদা (عقيدة) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে সাধারণত মৌলিক কোনো মতভেদ ঘটেনি। যদিও এর কোনো কোনোটিতে কিছু মতভেদ পরিলক্ষিত হয়েছে, যেমন—জাহান্নাম নিঃশেষ হওয়ার মাসআলা, বরজখের (برزخ) আজাব সংক্রান্ত মাসআলা, মিজানের (موازين) মাসআলা এবং মাসআলা...