(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: -)
المنتقى من فرائد الفوائد القسم: الفقه العام
الكتاب: المنتقى من فرائد الفوائد
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: دار الوطن للنشر، الرياض
عام النشر: 1424 هـ
عدد الصفحات: 248
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
গ্রন্থ: আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃত্যু: ১৪২১ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল ওয়াতান পাবলিশিং, রিয়াদ
প্রকাশকাল: ১৪২৪ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلفالحمد لله رب العالمين، حمداً كثيراً طيباً مباركاً فيه كما يحب ربنا ويرضى، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الحمد في الآخرة والأولى، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله المصطفى، وخليله المجتبى، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن بهداهم اهتدى، وسلم تسليماً كثيراً.
أما بعد:
فقد كنت أقيد بعض المسائل الهامة التي تمر بي، حرصاً على حفظها، وعدم نسيانها، في دفتر وسميتها: ((فرائد الفوائد)) .
وقد انتقيت منها ما رأيته أكثر فائدة، وأعظم أهمية، وسميت ذلك: ((المنتقى من فرائد الفوائد)) .
أسال الله تعالى أن ينفع به، وأن يجعل لطلبة العلم فيه أسوة، ومن سن في الإسلام سنة حسنة، فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة.
المؤلف
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
লেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য; প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা, যেমনটি আমাদের প্রতিপালক পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। ইহকাল ও পরকালে সকল প্রশংসা কেবল তাঁরই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা, তাঁর মনোনীত রাসূল এবং তাঁর নির্বাচিত বন্ধু। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা তাঁদের প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেছেন তাঁদের ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
আমি আমার নিকট আসা কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা বা বিষয়াবলি সংরক্ষণের জন্য এবং সেগুলো যেন বিস্মৃত না হই সে লক্ষ্যে একটি খাতায় লিখে রাখতাম। আমি এর নাম দিয়েছিলাম: 'ফারায়িদুল ফাওয়াইদ'।
অতঃপর সেখান থেকে আমি সেই অংশগুলো নির্বাচন করেছি যেগুলো আমার নিকট অধিক উপকারী এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। আমি এর নাম দিয়েছি: 'আল-মুন্তাকা মিন ফারায়িদিল ফাওয়াইদ'।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং একে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য একটি পাথেয় বানান। যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম আদর্শ বা রীতির (سنة) সূচনা করে, তার জন্য রয়েছে এর সওয়াব এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা সেই অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে লাভ করবে।
লেখক
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
فوائد من كلام شيخ الإسلام ابن تيمية من ((كتاب الإيمان))فائدة
الإسلام: هو الاستسلام لله وحده بشهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وحج البيت؛ فهو الخضوع لله تعالى، والعبودية له وحده، فمن استكبر عن عبادته وأشرك معه غيره، فغير مسلم.
فإن قيل: ((ما أوجبه الله تعالى من الأعمال أكثر من الخمسة المذكورة التي جعلها النبي صلى الله عليه وسلم هي أركان الإسلام، أو هي الإسلام)) :
فالجواب هو: أن ما ذكره النبي صلى الله عليه وسلم هو الذي يجب على كل مكلف بلا قيد، وأما ما سواه: فإما أنه يجب على الكفاية؛ كالأمر بالمعروف، والنهي عن المنكر، ونحوه، أو لأسباب؛ كصلة الرحم؛ إذ ليس كل أحد له قرابة تجب صلتهم.
كذا ذكر الشيخ الجواب؛ لكن يرد على هذا: الزكاة، والحج؛ إذ ليس كل أحد عنده مال حتى تجب عليه الزكاة والحج، ولعل الجواب: أن هذه الخمس المذكورة هي أكبر أجناس الأعمال؛ فإن الأعمال على ثلاثة أقسام:
قسم: أعمال بدنية ظاهرة، كالصلاة، وباطنة، كالشهادتين، وهما أيضاً من الأقوال.
وقسم: أعمال مالية، كالزكاة.
وقسم: مركب من النوعين؛ كالحج.
فذكر النبي صلى الله عليه وسلم الأصول، وأن المرء إذا قام بأصل من هذه الأجناس، فهو مسلم.
وأيضاً: فإن صلة الرحم قد يكون الداعي فيها قوياً ليس من جهة الشرع، بل من جهة الإنسانية، بخلاف الزكاة والحج!!
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর ‘কিতাবুল ইমান’ থেকে সংগৃহীত কিছু ফায়দাফায়দা
ইসলাম হলো: একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে আত্মসমর্পণ করা—এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আর সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং বাইতুল্লাহর হজ পালন করা। সুতরাং এটি হলো মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন এবং একমাত্র তাঁরই দাসত্ব করা। অতএব, যে ব্যক্তি তাঁর ইবাদত থেকে অহংকারবশত বিমুখ থাকে এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক করে, সে মুসলিম নয়।
যদি বলা হয়: "আল্লাহ তাআলা যেসব আমল আবশ্যক (واجب) করেছেন তার সংখ্যা উল্লেখিত এই পাঁচটি বিষয়ের চেয়ে অনেক বেশি, যেগুলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসলামের রুকন (أركان) বা ইসলাম হিসেবে গণ্য করেছেন।"
এর উত্তর হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা উল্লেখ করেছেন তা কোনো শর্ত ছাড়াই প্রত্যেক মুকাল্লাফ (مكلف) ব্যক্তির ওপর আবশ্যক। আর এর বাইরে যা রয়েছে, তা হয় ফরজে কিফায়া (فرض كفاية); যেমন—সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো; অথবা কোনো বিশেষ কারণবশত আবশ্যক হয়; যেমন—আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা (صلة الرحম); যেহেতু প্রত্যেকের এমন নিকটাত্মীয় থাকে না যাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করা আবশ্যক হয়।
শায়খ এভাবেই উত্তরটি উল্লেখ করেছেন; তবে এর বিপরীতে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে: জাকাত এবং হজ নিয়ে; কেননা প্রত্যেকের তো এমন সম্পদ থাকে না যার ফলে তার ওপর জাকাত ও হজ ফরজ (فرض) হয়। সম্ভবত সঠিক উত্তরটি হলো: এই উল্লেখিত পাঁচটি বিষয় হলো আমলের প্রধান প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আমলসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত:
এক প্রকার: বাহ্যিক শারীরিক আমল, যেমন—সালাত; এবং অভ্যন্তরীণ আমল, যেমন—শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্যবাণী), যা আবার বাচনিক আমলেরও অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় প্রকার: আর্থিক আমল, যেমন—জাকাত।
তৃতীয় প্রকার: উভয় প্রকারের সমন্বয়ে গঠিত; যেমন—হজ।
সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলনীতিসমূহ (أصول) উল্লেখ করেছেন এবং বুঝিয়েছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি এই প্রকারগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি মূল বিষয় (أصل) পালন করে, তবে সে মুসলিম।
তাছাড়া, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার (صلة الرحম) পেছনে অনেক সময় কেবল শরয়ি দৃষ্টিকোণ নয়, বরং মানবিক তাড়নাও অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে থাকে, যা জাকাত এবং হজের ক্ষেত্রে ভিন্ন!!
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
فائدة
الناس في تفاضل الإيمان وتبعضه على قولين:
أحدهما: إثبات ذلك، وهو الصواب الذي تدل عليه الأدلة العقلية والنقلية وهو قول المحققين من أهل السنه، وتفاضله بأمرين:
الأول: من جهة العامل؛ وذلك نوعان:
النوع الأول: في الاعتقاد ومعرفة الله تعالى، فإن كل أحد يعرف تفاضل يقينه في معلوماته، بل في المعلوم الواحد وقتاً يري يقينه فيه أكمل من الوقت الآخر.
النوع الثاني: في القيام بالأعمال الظاهرة، كالصلاة، والحج، والتعليم، وإنفاق المال، والناس في هذا على قسمين:
أحدهما: الكامل، وهم الذين أتوا به على الوجه المطلوب شرعاً.
الثاني: ناقصون، وهم نوعان:
النوع الأول: ملامون، وهم من ترك شيئاً منه مع القدرة وقيام أمر الشارع، لكنهم إن تركوا واجباً، أو فعلوا محرماً، فهم آثمون، وإن فعلوا مكروها، أو تركوا مستحباً، فلا إثم.
النوع الثاني: ناقصون غير ملامين، وهم نوعان:
الأول: من عجز عنه حساً؛ كالعاجز عن الصلاة قائماً.
الثاني: العاجزون شرعاً مع القدرة عليه حساً، كالحائض تمتنع من الصلاة، فإن هذه قادرة عليه، لكن لم يقم عليها أمر الشارع؛ ولذلك جعلها النبي صلى الله عليه وسلم ناقصة الإيمان بذلك؛ فإن من لم يفعل المأمور ليس كفاعله.
ومثل ذلك: من أسلم ثم مات قبل أن يصلي لكون الوقت لم يدخل؛
বিশেষ জ্ঞাতব্য
ঈমানের শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য (تفاضل الإيمان) এবং এর বিভাজ্যতা (تبعضه) সম্পর্কে মানুষের মধ্যে দুটি অভিমত রয়েছে:
প্রথমটি হলো: এটি সাব্যস্ত করা (إثبات); আর এটিই সঠিক মত যা যৌক্তিক ও বর্ণনাভিত্তিক প্রমাণ (الأدلة العقلية والنقلية) দ্বারা সমর্থিত এবং এটিই আহলুস সুন্নাহর গবেষক আলেমদের (المحققين) অভিমত। এই শ্রেষ্ঠত্বের তারতম্য দুটি বিষয়ের ভিত্তিতে হয়:
প্রথমত: আমলকারীর (العامل) দিক থেকে; এটি আবার দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: বিশ্বাস (الاعتقاد) এবং আল্লাহ তাআলার পরিচয় বা জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তিই তার অর্জিত তথ্যের ক্ষেত্রে তার দৃঢ় বিশ্বাসের (يقين) তারতম্য অনুভব করে। এমনকি একই বিষয়ের ক্ষেত্রেও কোনো এক সময় তার দৃঢ় বিশ্বাস অন্য সময়ের তুলনায় অধিক পূর্ণাঙ্গ বলে মনে হয়।
দ্বিতীয় প্রকার: বাহ্যিক আমলসমূহ (الأعمال الظاهرة) পালনের ক্ষেত্রে; যেমন—সালাত, হজ, শিক্ষা প্রদান এবং অর্থ ব্যয় করা। এই ক্ষেত্রে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত:
এক: পূর্ণাঙ্গ (الكامل), তারা হলো ঐ সকল ব্যক্তি যারা শরিয়াহ নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে আমলসমূহ সম্পাদন করেছে।
দুই: ত্রুটিপূর্ণ (ناقصون), তারা আবার দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: তিরস্কারযোগ্য (ملامون), তারা হলো ঐ সকল ব্যক্তি যারা সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এবং বিধানদাতার (الشارع) নির্দেশ বলবৎ থাকা সত্ত্বেও আমলের কোনো অংশ বর্জন করেছে। তবে তারা যদি কোনো ওয়াজিব (واجب) বর্জন করে অথবা কোনো হারাম (محرم) কাজে লিপ্ত হয়, তবে তারা গুনাহগার হবে। আর যদি তারা মাকরূহ (مكروه) কাজ করে অথবা মুস্তাহাব (مستحب) আমল বর্জন করে, তবে কোনো গুনাহ নেই।
দ্বিতীয় প্রকার: ত্রুটিপূর্ণ কিন্তু তিরস্কারযোগ্য নয়, তারা আবার দুই প্রকার:
এক: যারা দৈহিকভাবে তা করতে অক্ষম (عجز عنه حساً); যেমন—দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ে অক্ষম ব্যক্তি।
দুই: যারা দৈহিকভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও শরয়ী কারণে অক্ষম (العاجزون شرعاً); যেমন—ঋতুবতী নারী (الحائض), যে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকে। সে দৈহিকভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তার ওপর বিধানদাতার (الشارع) নির্দেশ কার্যকর হয় না। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফলে তাদেরকে ঈমানে ত্রুটিপূর্ণ (ناقصة الإيمان) বলে অভিহিত করেছেন; কেননা আদিষ্ট বিষয় (المأمور) পালন না করা ব্যক্তি আমলকারীর সমান নয়।
এর উদাহরণ হলো: যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করল অতঃপর সালাতের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করল;
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فإن ذلك كامل الإيمان، لكنه من جهة أخرى ناقص، ولا يكون كمن فعل الصلاة وشرائع الإسلام، ومن ذلك: قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((خيركم من طال عمره وحسن عمله)) (1)
الأمر الثاني: من جهة العمل؛ فكلما كان العمل أفضل، كانت زيادة الإيمان به أكثر.
القول الثاني: نفي التفاضل والتبعّض، وانقسم أصحاب هذا القول إلى طائفتين:
إحداهما: قالت: إن من فعل محرماً، أو ترك واجباً فهو مخلد في النار، وهؤلاء هم المعتزلة، وقالوا: هو لا مسلم ولا كافر، منزلة بين المنزلتين. وأما الخوارج فكفروه.
الطائفة الثانية: مقابلة لهذه، قالت: كل موحد لا يخلد في النار، والناس في الإيمان سواء؛ وهم المرجئة، وهم ثلاثة أصناف:
صنف قالوا: الإيمان مجرّد ما في القلب، وهم نوعان:
الأول: من يدخل أعمال القلوب، وهم أكثر فرق المرجئة.
والثاني: من لا يدخلها، وهم الجهمية وأتباعهم؛ كالأشعري، لكن الأشعري يثبت الشفاعة في أهل الكبائر.
والصنف الثاني قالوا: الإيمان مجرد قول اللسان، وهم الكرامية، ولا يعرف لأحد قبلهم، وهؤلاء يقولون: إن المنافق مؤمن، ولكنه مخلد في النار.
الصنف الثالث قالوا: إنه تصديق القلب وقول اللسان، وهم أهل الفقه والعبادة من المرجئة، ومنهم أبو حنيفة وأصحابه.
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই সে ঈমানে পূর্ণ, কিন্তু অন্য দিক থেকে সে ত্রুটিপূর্ণ। আর সে ঐ ব্যক্তির মতো নয় যে সালাত ও ইসলামের বিধানাবলি পালন করেছে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যার হায়াত দীর্ঘ হয়েছে এবং আমল সুন্দর হয়েছে।" (১)
দ্বিতীয় বিষয়: আমলের দিক থেকে; আমল যত উত্তম হবে, এর দ্বারা ঈমানের বৃদ্ধিও তত বেশি হবে।
দ্বিতীয় অভিমত: (ঈমানের) হ্রাস-বৃদ্ধি ও অংশ হওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করা। এই মতের অনুসারীরা দুই দলে বিভক্ত:
একদল বলেছে: যে ব্যক্তি কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হয় অথবা কোনো ওয়াজিব বর্জন করে, সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। এরা হলো মুতাজিলা। তারা বলে, সে মুসলিমও নয় আবার কাফেরও নয়, বরং দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী এক অবস্থানে রয়েছে। আর খারেজিরা তাকে কাফের বলে গণ্য করেছে।
দ্বিতীয় দল: এরা প্রথমোক্ত দলের বিপরীত। তারা বলে, প্রত্যেক তাওহিদপন্থী ব্যক্তি জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে না এবং ঈমানের ক্ষেত্রে সকল মানুষ সমান। এরা হলো মুরজিয়া এবং তারা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত:
এক শ্রেণি বলে: ঈমান হলো কেবল অন্তরের বিষয়ের নাম। তারা আবার দুই প্রকার:
প্রথমত: যারা অন্তরের আমলসমূহকেও এর অন্তর্ভুক্ত করে; তারা মুরজিয়াদের অধিকাংশ দল।
দ্বিতীয়ত: যারা এগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে না। তারা হলো জাহমিয়া ও তাদের অনুসারী, যেমন আশআরি। তবে আশআরি কবিরা গুনাহগারদের জন্য সুপারিশের বিষয়টি সাব্যস্ত করেন।
দ্বিতীয় শ্রেণি বলে: ঈমান হলো কেবল মৌখিক স্বীকৃতির নাম। তারা হলো কাররামিয়া। তাদের পূর্বে এমন কথা আর কেউ বলেনি। তারা বলে, মুনাফিক হলো মুমিন, তবে সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে।
তৃতীয় শ্রেণি বলে: এটি হলো অন্তরের বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতি। তারা মুরজিয়াদের অন্তর্ভুক্ত ফিকহ ও ইবাদতগুজার লোক এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীরা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
فائدة
مراد النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: ((وليس وراء ذلك من الإيمان حبة خردل)) (1) : أنه لم يبق بعد هذا الإنكار ما يدخل في الإيمان حتى يفعله المؤمن، لا أن من لم ينكر ذلك بقلبه، لم يكن معه من الإيمان حبة خردل.
قلت: ومن رضي بالذنب، واطمأن إليه، فهو كفاعله؛ لا سيما مع فعل ما يوصل إليه وعجز، وقد قال الشيخ- رحمه الله: _ ((إن من ترك إنكار كل منكر بقلبه، فهو كافر)) .
فائدة
الإسلام: عبادة الله وحده، فيتناول من أظهره ولم يكن معه إيمان، وهو المنافق، ومن أظهره وصدق تصديقاً مجملاً، وهو الفاسق، فالأحكام الدنيوية معلقة بظاهر الإيمان لا يمكن تعليقها بباطنه لعسره أو تعذره؛ ولذلك ترك النبي صلى الله عليه وسلم عقاب أناس منافقين مع علمه بهم؛ لأن الذنب لم يكن ظاهراً.
اهـ. ما أردنا نقله من ((كتاب الإيمان)) على نوع من التصرف لا يخل بالمعنى.
ومن كلامه في ((شرح عقيدة الأصفهاني)) فائدة
الله- جل جلاله لا يدعى إلا بأسمائه الحسنىِ خاصة، فلا يدعي ولا يسمي بالمريد والمتكلم، وإن كان معناهما حقاً؛ فإنه يوصف بأنه مريد متكلم، ولا يسمى بهما؛ لأنهما ليسا من الأسماء الحسني؛ فإن من الكلام ما هو محمود ومذموم؛ كالصدق والكذب، ومن الإرادة كذلك، كإرادة
--------------------------------------------
শিক্ষণীয় বিষয় (فائدة)
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "এর বাইরে সরিষার দানা পরিমাণও ইমান নেই" (১)-এর উদ্দেশ্য হলো: এই প্রতিবাদ বা অস্বীকৃতির পরে ইমানের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু অবশিষ্ট নেই যা একজন মুমিন সম্পাদন করবে। এর অর্থ এই নয় যে, যে ব্যক্তি অন্তরে তা অস্বীকার করল না, তার কাছে সরিষার দানা পরিমাণও ইমান নেই।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: যে ব্যক্তি পাপে সন্তুষ্ট থাকে এবং তাতে স্বস্তি বোধ করে, সে উক্ত পাপ সম্পাদনকারীর ন্যায়; বিশেষ করে যদি সে পাপের পথে পরিচালিত হয় এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিরত না থাকে। শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি প্রতিটি মন্দ কাজ (منكر) অন্তরে অস্বীকার করা বর্জন করল, সে কাফির (كافر)।"
শিক্ষণীয় বিষয় (فائدة)
ইসলাম হলো: কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করা। এটি এমন ব্যক্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করে যে বাহ্যিকভাবে তা প্রকাশ করে অথচ তার সাথে ইমান নেই, আর সে হলো মুনাফিক (منافق); এবং এমন ব্যক্তিকেও যে তা প্রকাশ করে এবং সামগ্রিকভাবে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আর সে হলো ফাসিক (فاسق)। পার্থিব বিধিবিধানসমূহ ইমানের বাহ্যিক অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট, অভ্যন্তরীণ অবস্থার সাথে তা সংশ্লিষ্ট করা সম্ভব নয়, কারণ তা দুঃসাধ্য বা অসম্ভব। এই কারণেই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল মুনাফিক (منافق) সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তাদের শাস্তি প্রদান থেকে বিরত ছিলেন; কারণ তাদের পাপ প্রকাশ্য ছিল না।
সমাপ্ত। কিতাবুল ইমান থেকে আমরা যা উদ্ধৃত করতে চেয়েছিলাম, এখানে অর্থের কোনো ব্যাঘাত না ঘটিয়ে কিছুটা পরিমার্জিত আকারে তা পেশ করা হলো।
'শারহু আকিদাহ আল-আসফাহানি' গ্রন্থে তাঁর বক্তব্য থেকে: শিক্ষণীয় বিষয় (فائدة)
আল্লাহ জাল্লা জালালুহু-কে কেবল তাঁর আসমাউল হুসনা (সুন্দরতম নামসমূহ) দ্বারাই আহ্বান করা হবে। তাঁকে 'মুরিদ' (ইচ্ছাকারী) বা 'মুতাকাল্লিম' (বক্তা) নামে আহ্বান করা বা নামকরণ করা যাবে না, যদিও এ দুটির অর্থ সত্য। তাঁকে 'ইচ্ছাকারী' ও 'বক্তা' হিসেবে গুণান্বিত (صفة) করা যাবে, কিন্তু এ নামে অভিহিত করা যাবে না; কারণ এগুলো আসমাউল হুসনার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা কথার মধ্যে প্রশংসনীয় ও নিন্দনীয় উভয়ই বিদ্যমান, যেমন সত্য ও মিথ্যা; ইচ্ছার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ, যেমন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
العدل والظلم.
فائدة
كل صفة لا بد لها من محل تقوم به، وإذا قامت الصفة بمحل، فإنه يلزم منها أمران:
الأول: عود حكمها على ذلك المحل دون غيره.
الثاني: أن يشتق منها لذلك المحل اسم دون غيره.
مثال ذلك: الكلام؛ فإنه يلزم مَن أثبت كونه من صفات الله تعالى أن يشتق لله منه اسماً دون غيره، لكن لا يلزم من ذلك أن يثبت له اسماً بأنه متكلم كما سبق، ويلزم أن لا يجعله مخلوقاً في غيره، خلافاً للجهمية: حيث زعموا أنهم أثبتوا الكلام، وجعلوه مخلوقاً، فإنه يلزم من كلامهم نفي الكلام عن الله، كما نفاه متقدموهم.
فائدة
قال في ((ص138)) : فالتزموا- أي المعتزلة- لذلك: أن لا يكون لله علم، ولا قدرة، وأن لا يكون متكلماً قام به الكلام، بل يكون القرآن وغيره من كلامه تعالى مخلوقاً خلقه في غيره، ولا يجوز أن يرى لا في الدنيا ولا في الآخرة، ولا هو مباين للعالم، ولا محايثه، ولا داخل فيه، ولا خارج عنه، ثم قالوا أيضاً: لا يجوز أن يشاء خلاف ما أمَرَ به، ولا أن يخلق أفعال عباده، ولا يقدر أن يهدي ضالاً، أو يضل مهتدياً؛ لأنه لو كان قادراً على ذلك وقد أمر به، ولم يُعن عليه، لكان قبيحاً منه، فركبوا عن هذا الأصل التكذيب بالصفات والقدرة.
إلى أن قال: وأصل ضلالهم في القدر: أنهم شبهوا الخالق بالمخلوق؛ فهم مشبهة الأفعال.
وأما أصل ضلالهم في الصفات: فظنهم أن الموصوف الذي تقوم به
ন্যায়বিচার এবং অন্যায় (ظلم)।
বিশেষ জ্ঞাতব্য
প্রতিটি বৈশিষ্ট্য (صفة)-এর জন্য একটি আধার থাকা আবশ্যক যাতে তা অবস্থান করে। আর যখন কোনো বৈশিষ্ট্য (صفة) কোনো আধারে অবস্থান করে, তখন সেখান থেকে দুটি বিষয় অবধারিত হয়:
প্রথমত: তার বিধান কেবল সেই আধারের ওপরই বর্তাবে, অন্য কিছুর ওপর নয়।
দ্বিতীয়ত: সেই আধারটির জন্য কেবল ওই বৈশিষ্ট্য (صفة) থেকেই একটি নাম ব্যুৎপত্তি লাভ করবে, অন্য কিছু থেকে নয়।
এর উদাহরণ হলো: কথা বা বাণী (كلام); কেননা যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর জন্য এটি গুণ (صفة) হিসেবে সাব্যস্ত করেন, তার জন্য এটি অবধারিত হয় যে তিনি এ থেকে আল্লাহর জন্য একটি নাম ব্যুৎপত্তি করবেন, অন্য কিছু থেকে নয়। তবে এর থেকে আল্লাহকে কথা বলনেওয়ালা (متكلم) হিসেবে নাম প্রদান করা সাব্যস্ত হওয়া জরুরি নয় যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এটিও আবশ্যক যে তিনি একে অন্য কিছুর মধ্যে সৃষ্টি (مخلوق) হিসেবে গণ্য করবেন না, যা জাহমিয়্যাহদের মতবাদের পরিপন্থী। কারণ তারা দাবি করে যে তারা বাণী (كلام) সাব্যস্ত করেছে কিন্তু তারা একে সৃষ্টি (مخلوق) হিসেবে গণ্য করেছে। মূলত তাদের বক্তব্য থেকে আল্লাহর বাণী হওয়াকেই অস্বীকার (نفي) করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যেমনটি তাদের পূর্বসূরিরা অস্বীকার করেছিল।
বিশেষ জ্ঞাতব্য
তিনি (১৩৮ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: তাই তারা—অর্থাৎ মুতাজিলারা—এই বাধ্যবাধকতা মেনে নিয়েছে যে: আল্লাহর কোনো জ্ঞান (علم) থাকবে না, কোনো সক্ষমতা (قدرة) থাকবে না এবং তিনি এমন কোনো কথা বলবেন না যার বাণী (كلام) তাঁর সত্তায় বিদ্যমান থাকে। বরং কুরআন এবং তাঁর অন্যান্য বাণীসমূহ হবে সৃষ্টি (مخلوق) যা তিনি অন্য কিছুর মধ্যে সৃষ্টি করেছেন। আর তাঁকে দুনিয়া বা আখিরাত কোনোখানেই দেখা সম্ভব নয়। তিনি সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক (مباين) নন, আবার জগতের সাথে সংলগ্ন (محايث) নন; তিনি জগতের ভেতরেও নন, আবার এর বাইরেও নন। অতঃপর তারা আরও বলেছে: তিনি যা আদেশ করেছেন তার বিপরীত কিছু তিনি ইচ্ছা করতে পারেন না, আর তিনি তাঁর বান্দাদের কর্মসমূহ সৃষ্টি করতে পারেন না। তিনি কোনো পথভ্রষ্টকে হেদায়েত দিতে বা কোনো হেদায়েতপ্রাপ্তকে পথভ্রষ্ট করতে সক্ষম (يقدر) নন; কারণ যদি তিনি তাতে সক্ষম হতেন এবং সেই আদেশ দিতেন কিন্তু তাতে সাহায্য না করতেন, তবে তা তাঁর পক্ষ থেকে অনুচিত বা মন্দ কাজ হতো। ফলে তারা এই মূলনীতির ভিত্তিতে গুণাবলি (صفات) এবং সক্ষমতা (قدرة)-কে অস্বীকার করার পথ বেছে নিয়েছে।
পরিশেষে তিনি বলেন: ভাগ্যের (قدر) ব্যাপারে তাদের ভ্রষ্টতার মূল কারণ হলো: তারা স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করেছে; ফলে তারা কার্যাবলীর ক্ষেত্রে সাদৃশ্যদানকারী (مشبهة) হিসেবে গণ্য হয়েছে।
আর গুণাবলির (صفات) ক্ষেত্রে তাদের ভ্রষ্টতার মূল কারণ হলো: তাদের এই ধারণা যে, যে সত্তা বিশেষিত (موصوف) এবং যাতে বৈশিষ্ট্য অবস্থান করে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
الصفات لا يكون إلا محدثاً، وقولهم من أبطل الباطل، فإنهم يسلمون أن الله حي عليم قدير، ومن المعلوم: أن حياً بلا حياة، وعليماً بلا علم، وقديراً بلا قدرة، مثل متحرك بلا حركة، وأبيض بلا بياض، وأسود بلا سواد، وطويل بلا طول، وقصير بلا قصر، ونحو ذلك من الأسماء المشتقة التي يدعي فيها نفي المشتق منه؛ وهذا مكابرة للعقل، والشرع، واللغة.
فائدة
ليس ما عُلِمَ إمكانه جُوِّزَ وقوعه، فإنا نعلم قدرة الله على قلب الجبال ذهباً ونحو ذلك، لكن نعلم أنه لا يفعله، إلى غير ذلك من الأمثلة.
فائدة
دليل النبوة يحصل بالمعجزات، وقيل: باستواء ما يدعو إليه وصحته وسلامته من التناقض، وقيل: لا يحصل بهما، والأصح: أن المعجزة دليل، وثَمَّ دليل غيرها؛ فإن للصدق علامات، وللكذب علامات.
فمن العلامات -سوى المعجزة: - النظر إلى نوع ما يدعو إليه، بأن يكون من نوع شرع الرسول قبله، فإن الرسالة من لدن آدم إلى وقتنا هذا لم تزل آثارها باقية
… وذكر منها علامات كثيرة، يرحمه الله رحمةً واسعةً والمسلمين.
فائدة
إذا وجب عليه الإيمان فآمن، ولم يدرك أن يأتي بشرائع الإيمان، كان كامل الإيمان، بالنسبة إلي الواجب عليه، وإن كان ناقصاً بالنسبة لمن هو أعلى منه.
مثاله: من آمن فمات قبل الزوال مثلاً، مات مؤمناً كامل الإيمان الواجب عليه، لكن من دخلت عليه الأوقات وصلى أكمل إيماناً منه.
গুণাবলি (صفات) কেবল সৃষ্ট (محدث) হওয়াই সম্ভব - তাদের এই বক্তব্য চরম মিথ্যা ও বাতুলতার অন্তর্ভুক্ত। কারণ তারা স্বীকার করে যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব, সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান। অথচ এটি সুস্পষ্ট যে, জীবন ব্যতীত জীবন্ত, জ্ঞান ব্যতীত জ্ঞানী এবং ক্ষমতা ব্যতীত ক্ষমতাধর হওয়া ঠিক তেমনি, যেমন গতি ব্যতীত গতিশীল, শুভ্রতা ব্যতীত শুভ্র, কৃষ্ণতা ব্যতীত কৃষ্ণ, দৈর্ঘ্য ব্যতীত দীর্ঘ এবং হ্রস্বতা ব্যতীত খাটো হওয়া। এজাতীয় উদ্ভূত বিশেষ্যগুলোর ক্ষেত্রে মূল উৎসকে অস্বীকার করা বিবেক, শরিয়ত এবং ভাষা - সবকিছুর সাথেই হঠকারিতা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
কোনো কিছু সম্ভব হওয়া জানা মানেই তা সংঘটিত হওয়া আবশ্যক নয়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা জানি যে পাহাড়কে স্বর্ণে রূপান্তরিত করার বিষয়ে আল্লাহর ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু আমরা এও জানি যে তিনি তা করেন না। এই ধরনের আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
নবুয়তের প্রমাণ অলৌকিক নিদর্শনসমূহ (معجزات)-এর মাধ্যমে অর্জিত হয়। কেউ কেউ বলেন: যে বিষয়ের দিকে তিনি আহ্বান জানান তার ভারসাম্যপূর্ণতা, সঠিকতা এবং বৈপরীত্য থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমেও তা প্রমাণিত হয়। আবার বলা হয়েছে: এ দুটোর মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয় না। তবে সবচেয়ে সঠিক (الأصح) মত হলো: অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) একটি প্রমাণ, তবে এটি ছাড়াও আরও প্রমাণ রয়েছে; কেননা সত্যের যেমন কিছু আলামত রয়েছে, মিথ্যারও তেমনি কিছু আলামত রয়েছে।
অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) ছাড়াও অন্যান্য আলামতের মধ্যে একটি হলো: তিনি কিসের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন সেদিকে লক্ষ্য করা। অর্থাৎ তা যেন তাঁর পূর্ববর্তী রাসুলের শরিয়তের অনুরূপ হয়। কারণ আদম (আ.) থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রিসালতের প্রভাবসমূহ অবশিষ্ট রয়েছে
… তিনি এ সম্পর্কিত আরও অনেক আলামত উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি এবং সকল মুসলিমের প্রতি ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
যখন কারো ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব হয় এবং সে ঈমান আনল, কিন্তু ঈমানের বিধানগুলো পালনের সময় পেল না, তখন তার ওপর যা ওয়াজিব ছিল সে হিসেবে সে পূর্ণ ঈমানদার গণ্য হবে; যদিও তার চেয়ে উচ্চস্তরের মুমিনের তুলনায় সে অপূর্ণ।
উদাহরণস্বরূপ: যে ব্যক্তি ঈমান আনল এবং ধরা যাক সূর্য ঢলে পড়ার (জোহর) আগেই মারা গেল, সে তার ওপর ওয়াজিব হওয়া ঈমানের ক্ষেত্রে পূর্ণ ঈমানদার হিসেবেই মারা গেল। কিন্তু যার ওপর সালাতের সময়গুলো অতিবাহিত হয়েছে এবং সে সালাত আদায় করেছে, সে তার তুলনায় অধিকতর পূর্ণ ঈমানদার।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
فمن ذلك: عُلم أن نقصان الإيمان على نوعين:
أحدهما: ما يلام عليه.
الثاني: ما لالوم فيه؛ كهذا المثال.
قلت: وأما من عجز عن إكمال عمل بعد أن أتى بما قدَرَ عليه منه، فالظاهر أنه كمن فعله لقوله صلى الله عليه وسلم ((من مرض أو سافر، كتب له ما كان يعمل صحيحاً مقيماً)) (1) ، وأما إن عجز عنه أصلاً، فيحتمل أن يكون له أجر فاعله؛ لقصة الفقير الذي قال: لو أن عندي مال فلان، لعملت فيه مثل عمله، وكان يصرفه في مرضاة الله؛ قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((فهما في الأجر سواء)) (2) ، ويحتمل عكسه؛ لأن فقراء الصحابة-رضي الله عنهم لما قالوا للنبي صلى الله عليه وسلم: ((ذهب أهل الدثور بالأجور)) (3) ، لم يقل لهم: إن نيتكم تبلغكم ذلك فتمنوا، وإنما أخبرهم بعمل بدله. ولكن يقال: إن الذي لا يقدر على عمل معين: إما أن يكون لذلك العمل بدل يقدر عليه، فهذا لا يثاب على العمل إذا لم يأت ببدله؛ لأنه لو كان صحيح النية، لعمل ذلك البدل؛ فعلى هذا: يكون حصول الأجر مشروطاً بعدم وجود بدله المقدور عليه؛ على أنا نقول: إن من نفع الناس بماله، فله أجران:
الأول: بحسب ما قام بقلبه من محبة الله ومحبة ما يقرب إليه؛ فهذا الأجر يشركه الفقير إذا نوي نية صحيحة.
والأجر الثاني: دفع حاجة المدفوع له؛ فهذا لا يحصل للفقير، والله أعلم.
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে জানা গেল যে, ঈমানের হ্রাস দুই প্রকার:
প্রথমত: যার জন্য তিরস্কার করা হয়।
দ্বিতীয়ত: যাতে কোনো তিরস্কার নেই; যেমন এই উদাহরণটি।
আমি বলছি: আর যে ব্যক্তি কোনো আমল করার সামর্থ্য অনুযায়ী কতকাংশ আদায় করার পর অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে প্রকাশ্যত সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে তা পূর্ণরূপে সম্পাদন করেছে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো বান্দা অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে, তখন তার জন্য আমলনামায় তা-ই লেখা হয় যা সে সুস্থ ও মুকিম অবস্থায় করত।" (১), আর যদি কেউ মূল আমলটি করতেই অক্ষম হয়, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে সে আমলকারীর সমান সওয়াব পাবে; যেমন সেই দরিদ্র ব্যক্তির ঘটনা, যে বলেছিল: যদি আমার কাছে অমুক ব্যক্তির মতো সম্পদ থাকত, তবে আমি তার মতোই আমল করতাম; আর ঐ ব্যক্তি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করছিল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "সওয়াবের ক্ষেত্রে তারা উভয়েই সমান।" (২), এর বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাও আছে; কারণ দরিদ্র সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছিলেন: "অধিক সম্পদের অধিকারীরা সওয়াব নিয়ে চলে গেল" (৩), তখন তিনি তাঁদেরকে বলেননি যে, তোমাদের নিয়ত তোমাদেরকে সেই সওয়াব পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেবে তাই তোমরা শুধু তামান্না করো; বরং তিনি তাঁদেরকে তার বিকল্প আমলের কথা জানিয়েছিলেন। তবে বলা যায়: যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো আমল করতে অক্ষম, হয় সেই আমলের কোনো বিকল্প রয়েছে যা করার সামর্থ্য তার আছে—এমতাবস্থায় সে যদি বিকল্পটি আদায় না করে তবে সেই মূল আমলের সওয়াব পাবে না; কারণ তার নিয়ত সঠিক হলে সে অবশ্যই সেই বিকল্পটি আমল করত। সুতরাং সওয়াব প্রাপ্তি সামর্থ্যভুক্ত বিকল্প আমল না থাকার ওপর শর্তযুক্ত। তদুপরি আমরা বলি: যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ দিয়ে মানুষের উপকার করে, তার জন্য দু’টি সওয়াব রয়েছে:
প্রথমত: তার অন্তরে আল্লাহর প্রতি যে ভালোবাসা এবং তাঁর নৈকট্য দানকারী আমলের প্রতি যে অনুরাগ রয়েছে সেই অনুযায়ী; এই সওয়াবের ক্ষেত্রে দরিদ্র ব্যক্তিও অংশীদার হবে যদি সে সঠিক নিয়ত করে।
দ্বিতীয় সওয়াব: যাকে প্রদান করা হয়েছে তার প্রয়োজন পূরণ করা; এটি দরিদ্র ব্যক্তির পক্ষে অর্জন করা সম্ভব হয় না। আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وبذلك انتهى ما أردنا نقله من شرح الشيخ- رحمه الله على ((عقيدة الأصفهاني)) .
فائدة
من الجزء الأول
من ((بدائع الفوائد)) لابن القيم (ص159) ما ملخصه:
ما يجري صفة أو خبراً عن الرب تعالى أقسام:
الأول: ما يرجع إلي الذات نفسها؛ كالشيء، والموجود.
الثاني: ما يرجع لصفات معنوية، كالسميع العليم.
الثالث: يرجع إلي أفعاله، كالخالق.
الرابع: يرجع للتنزيه المحض المتضمن ثبوتاً؛ إذ لا كمال في العدم المحض؛ كالقدوس والسلام.
الخامس: الاسم الدال على أوصاف عديدة؛ كالمجيد الصمد.
السادس: ما يحصل باقتران الاسمين أو الوصفين؛ كالغني الحميد، فإن الغني صفة مدح، وكذلك الحمد، فله ثناء من غناه، وثناء من حمده، وثناء منهما.
ويجب أن تعلم هنا أمور:
الأول: ما يدخل في باب الإخبار أوسع مما في أسمائه وصفاته، فيخبر عنه بالموجود والشيء، ولا يسمى به (قلت: وقد تقدم في كلام الشيخ تقي الدين معنى ذلك) .
الثاني: الصفة إذا انقسمت إلى كمال ونقص، فلا تدخل بمطلقها في أسمائه، كالصانع والمريد ونحوهما، فلذا لم يطلق على نفسه من هذا إلا أكمله فعلاً وخبراً؛ كقوله (فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ) (هود: 107) .
الثالث: لا يلزم من الإخبار عنه بفعل مقيد أن يُشتق له منها اسم؛
এর মাধ্যমেই শাইখ -রহিমাহুল্লাহ- এর ‘আকিদাহ আল-আস্ফাহানি’-র ব্যাখ্যা থেকে আমরা যা উদ্ধৃত করতে চেয়েছিলাম তার সমাপ্তি হলো।
উপকারিতা
ইবনুল কাইয়্যিম-এর
‘বাদাইউল ফাওয়াইদ’ (পৃ. ১৫৯)-এর প্রথম খণ্ড থেকে সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ:
রব তা‘আলা সম্পর্কে যা কিছু গুণ (صفة) অথবা সংবাদ (خبر) হিসেবে গণ্য হয়, তা কয়েক প্রকার:
প্রথম: যা খোদ সত্তার (الذات) দিকেই ফিরে যায়; যেমন: ‘বস্তু’ (شيء) এবং ‘বিদ্যমান’ (موجود)।
দ্বিতীয়: যা অর্থগত গুণাবলির (صفات معنوية) দিকে ফিরে যায়; যেমন: সর্বশ্রোতা (আস-সামি‘), সর্বজ্ঞ (আল-‘আলিম)।
তৃতীয়: যা তাঁর কর্মসমূহের (أفعاله) দিকে ফিরে যায়; যেমন: সৃষ্টিকর্তা (আল-খালিক)।
চতুর্থ: যা এমন বিশুদ্ধ পবিত্রতা ঘোষণার (تنزيه) দিকে ফিরে যায় যা ইতিবাচক সাব্যস্তকরণকে (ثبوت) অন্তর্ভুক্ত করে; কেননা নিছক অনস্তিত্বের মধ্যে কোনো পূর্ণতা নেই; যেমন: অতি পবিত্র (আল-কুদ্দুস) এবং শান্তিদাতা (আস-সালাম)।
পঞ্চম: এমন নাম (الاسم) যা একাধিক গুণের (أوصاف) ওপর প্রমাণ পেশ করে; যেমন: মহিমান্বিত (আল-মাজিদ), অমুখাপেক্ষী (আস-সামাদ)।
ষষ্ঠ: যা দুটি নাম (الاسمين) অথবা দুটি গুণের (الوصفين) সমন্বয়ে অর্জিত হয়; যেমন: অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত (আল-গানিউল হামিদ)। কেননা ‘অভাবমুক্ততা’ একটি প্রশংসনীয় গুণ, অনুরূপভাবে ‘প্রশংসা’-ও একটি গুণ। সুতরাং তাঁর জন্য প্রশংসা রয়েছে তাঁর অভাবমুক্ততা থেকে, প্রশংসা রয়েছে তাঁর প্রশংসিত হওয়া থেকে এবং প্রশংসা রয়েছে এই উভয়ের মিলনস্থল থেকে।
এখানে আপনার কয়েকটি বিষয় জানা আবশ্যক:
প্রথম: সংবাদ প্রদানের (الإخبار) বিষয়টি তাঁর নাম ও গুণাবলির প্রসঙ্গের চেয়েও অধিক ব্যাপক। তাই তাঁর সম্পর্কে ‘বিদ্যমান’ এবং ‘বস্তু’ বলে সংবাদ (خبر) দেওয়া যায়, কিন্তু তাঁকে এসব নামে নামকরণ করা হয় না। (আমি বলছি: শাইখ তাকিউদ্দীন-এর বক্তব্যে ইতিপূর্বে এর অর্থ অতিক্রান্ত হয়েছে)।
দ্বিতীয়: কোনো গুণ (الصفة) যখন পূর্ণতা ও অপূর্ণতা—উভয় দিকেই বিভক্ত হয়, তখন তার নিরঙ্কুশ রূপটি আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয় না; যেমন: কারিগর (আস-সানি‘) এবং ইচ্ছাকারী (আল-মুরিদ) ও অনুরূপ শব্দাবলি। একারণেই তিনি নিজের ক্ষেত্রে এ জাতীয় শব্দগুলোর মধ্য থেকে কেবল কর্ম ও সংবাদ হিসেবে যা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ সেটিই প্রয়োগ করেছেন; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই করেন” (সূরা হুদ: ১০৭)।
তৃতীয়: কোনো সীমাবদ্ধ বা শর্তযুক্ত কর্ম (فعل مقيد) দ্বারা তাঁর সম্পর্কে সংবাদ প্রদানের কারণে তা থেকে তাঁর জন্য কোনো নাম (اسم) গঠন করা আবশ্যক হয় না;
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولذا غلط من سماه بالماكر، والفاتن، والمستهزئ، ونحو ذلك.
السابع: أن ما أطلق عليه في باب الأسماء والصفات توفيقي، دون ما يطلق من الأخبار.
الثامن: الاسم إذا أطلق عليه، جاز أن يشتق منه المصدر والفعل إن كان متعدياً؛ كالسميع والعليم، وإلا فلا، كالحي.
الحادي عشر: أسماؤه كلها حسنى، وأفعاله صادرة عنها، فالشر ليس إليه فعلاً ولا وصفاً، وإنما يدخل في مفعولاته البائنة عنه دون فعله الذي هو وصفه.
الثاني عشر: إحصاء أسماء الله تعالى مراتب:
الأولى: إحصاء ألفاظها وعددها.
الثانية: فهم معانيها ومدلولها.
الثالثة: دعاؤه بها، وهو مرتبتان:
الأولى: دعاء مسألة، فلا يسأل إلا بها، ولا يجوز: يا شيء، يا موجود، ونحوهما.
الثانية: دعاء ثناءٍ وعبادةٍ؛ فلا يكون إلا بها.
السادس عشر: أسماء الله الحسني لا تدخل تحت حصر ولا عد؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: ((أسألك بكل اسم هو لك سميت به نفسك
… إلخ)) (1) فجعل أسماءه ثلاثة أقسام: ما سمى به نفسه، فأظهره لمن شاء من ملائكته وغيرهم، وما أنزل به كتابه، وما استأثر به تبارك وتعالى.
--------------------------------------------
এজন্য যে ব্যক্তি তাঁকে চক্রান্তকারী (الماكر), পরীক্ষক (الفاتن), উপহাসকারী (المستهزئ) এবং এ জাতীয় নামে অভিহিত করেছেন, তিনি ভুল করেছেন।
সপ্তম: নাম ও গুণের (الأسماء والصفات) অধ্যায়ে তাঁর ওপর যা কিছু প্রয়োগ করা হয় তা ওহী নির্ভর (توفيقي), তবে সংবাদের (الأخبار) ক্ষেত্রে যা প্রয়োগ করা হয় তা এমন নয়।
অষ্টম: যখন তাঁর প্রতি কোনো নাম প্রয়োগ করা হয়, তখন তা থেকে ক্রিয়ামূল (المصدر) ও ক্রিয়া (الفعل) গঠন করা বৈধ যদি তা সকর্মক (متعدياً) হয়; যেমন সর্বশ্রোতা (السميع) ও সর্বজ্ঞ (العليم)। অন্যথায় তা বৈধ নয়, যেমন চিরঞ্জীব (الحي)।
একাদশ: তাঁর সকল নামই অতি উত্তম (حسنى), আর তাঁর কার্যাবলি (أفعاله) সেগুলো থেকেই উৎসারিত। সুতরাং মন্দ (الشر) তাঁর কাজের ক্ষেত্রে কিংবা গুণের (وصفاً) ক্ষেত্রে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত নয়। বরং তা তাঁর থেকে পৃথক সৃষ্টিরাজির (مفعولاته) অন্তর্ভুক্ত, তাঁর কর্মের (فعله) অন্তর্ভুক্ত নয় যা তাঁর গুণ (وصفه)।
দ্বাদশ: আল্লাহ তাআলার নামসমূহ আয়ত্ত করার কয়েকটি স্তর (مراتب) রয়েছে:
প্রথম: এগুলোর শব্দ ও সংখ্যা গণনা করা।
দ্বিতীয়: এগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য (مدلولها) অনুধাবন করা।
তৃতীয়: এগুলোর মাধ্যমে তাঁকে ডাকা বা দোয়া করা, আর এর দুটি পর্যায় (مرتبتان) রয়েছে:
প্রথম: যাচনা বা প্রার্থনামূলক দোয়া (دعاء مسألة), সুতরাং কেবল এগুলোর মাধ্যমেই চাইতে হবে। 'হে বস্তু' (يا شيء), 'হে বিদ্যমান' (يا موجود) এবং এই জাতীয় শব্দ বলে চাওয়া জায়েজ নেই।
দ্বিতীয়: প্রশংসা ও ইবাদতমূলক দোয়া (دعاء ثناءٍ وعبادةٍ); এটিও কেবল এগুলোর মাধ্যমেই হতে হবে।
ষোড়শ: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সীমা বা সংখ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমি আপনার নিকট আপনার ঐ প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন ... ইত্যাদি)) (১)। ফলে তিনি তাঁর নামসমূহকে তিনটি ভাগে (أقسام) বিভক্ত করেছেন: যা দ্বারা তিনি নিজের নামকরণ করেছেন এবং তাঁর ফেরেশতাকুল (ملائكته) ও অন্যদের মধ্য থেকে যার জন্য ইচ্ছা তা প্রকাশ করেছেন, যা তিনি তাঁর কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন এবং যা তিনি বরকতময় ও মহান আল্লাহ নিজের কাছেই গোপন রেখেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
السابع عشر: من أسمائه: ما يطلق عليه مفرداً ومقترناً بغيره، وهو غالبها؛ كالسميع، والبصير، ونحوهما؛ فيسوغ أن يدعى ويثنى عليه ويخبر عنه مفرداً ومقروناً.
ومنها: ما لا يطلق إلا مقروناً بغيره؛ لكون الكمال لا يحصل إلا به؛ كالضار، والمنتقم، والمانع، فلا تطلق إلا مقرونة بمقابلها؛ كالضار النافع، والمنتقم العفو، والمانع المعطي؛ إذ كمال التصرف لا يحصل إلا به.
قلت: لكن لو أُطلق عليه من ذلك اسم مدح، لم يمتنع؛ فيسوغ أن يقال: العفو من دون المنتقم؛ كما ورد في القرآن الكريم، ومثله: النافع والمعطي؛ فإن هذه الأسماء تستلزم المدح والثناء المطلق؛ بخلاف المانع والمنتقم والضار، على أن شيخ الإسلام- رحمه الله ينكر تسمية الله بالمنتقم، ويقول: إن هذا لم يرد إلا مقيداً؛ كقوله تعالى: (إِنَّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ مُنْتَقِمُونَ) (السجدة: 22) ، (فَانْتَقَمْنَا مِنْهُمْ) (الزخرف: 25) (وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ) (آل عمران: 4) (1)
الثامن عشر: الصفات أنواع: صفات كمال، وصفات نقص، وصفات لا تقتضي واحداً منهما، وصفات تقتضيهما باعتبارين، والرب تعالى منزه عن هذه الثلاثة، موصوف بالأول، وهكذا أسماؤه أسماء كمال؛ فلا يقوم غيرها مقامها؛ فله من صفات الإدراكات؛ العليم الخبير دون العاقل الفقيه، والسميع البصير دون السامع والباصر والناظر، ومن صفات الإحسان: البرّ الرحيم الودود دون الرفيق والشفيق ونحوهما،،، وهكذا سائر الأسماء الحسنى.
--------------------------------------------
সতেরো: তাঁর নামসমূহ এমন: যার কোনোটি এককভাবে এবং কোনোটি অন্যটির সাথে যুক্ত অবস্থায় প্রয়োগ করা হয় এবং তাঁর অধিকাংশ নামই এই প্রকারের; যেমন: সর্বশ্রোতা (السميع), সর্বদ্রষ্টা (البصير) এবং এই জাতীয় নামসমূহ। সুতরাং এককভাবে অথবা অন্যটির সাথে যুক্ত অবস্থায় তাঁকে এ নামে ডাকা, তাঁর প্রশংসা করা এবং তাঁর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া বৈধ।
আর কিছু নাম এমন যা কেবল অন্যটির সাথে যুক্ত হওয়া ছাড়া ব্যবহৃত হয় না; কারণ এর মাধ্যমে অর্জিত পূর্ণতা (كمال) কেবল সেই সংযোগের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। যেমন: অনিষ্টকারী (الضار), প্রতিশোধ গ্রহণকারী (المنتقم) এবং প্রতিরোধকারী (المانع)। সুতরাং এগুলোকে তাদের বিপরীত শব্দের সাথে যুক্ত করা ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না; যেমন: অনিষ্টকারী ও কল্যাণকারী (الضار النافع), প্রতিশোধ গ্রহণকারী ও ক্ষমাশীল (المنتقم العفو), এবং প্রতিরোধকারী ও দানকারী (المانع المعطي); যেহেতু কার্যাবলীর পূর্ণতা (كمال) কেবল এর মাধ্যমেই সাধিত হয়।
আমি বলি: তবে যদি এগুলোর মধ্য থেকে প্রশংসামূলক কোনো নাম এককভাবে আল্লাহর জন্য প্রয়োগ করা হয়, তবে তা নিষিদ্ধ নয়। সুতরাং 'প্রতিশোধ গ্রহণকারী' (المنتقم) উল্লেখ না করেই কেবল 'ক্ষমাশীল' (العفو) বলা বৈধ; যেমনটি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে: কল্যাণকারী (النافع) এবং দানকারী (المعطي); কারণ এই নামগুলো নিরঙ্কুশ প্রশংসা ও গুণকীর্তন দাবি করে। এর বিপরীত হলো প্রতিরোধকারী (المانع), প্রতিশোধ গ্রহণকারী (المنتقم) এবং অনিষ্টকারী (الضار)। তবে শাইখুল ইসলাম—রাহিমাহুল্লাহ—আল্লাহর নাম হিসেবে 'প্রতিশোধ গ্রহণকারী' (المنتقم) হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং তিনি বলেন: এটি কেবল সীমাবদ্ধ (مقيداً) রূপেই বর্ণিত হয়েছে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয় আমি অপরাধীদের নিকট থেকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী” (আস-সাজদাহ: ২২), “অতঃপর আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম” (আয-যুখরুফ: ২৫), “এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী” (আলি ইমরান: ৪) (১)
আঠারো: গুণাবলি (صفات) কয়েক প্রকারের: পূর্ণতার গুণাবলি (صفات كمال), ত্রুটিপূর্ণ গুণাবলি (صفات نقص), এমন কিছু গুণ যা এর কোনোটিই দাবি করে না এবং এমন কিছু গুণ যা দুই প্রেক্ষাপটে উভয়টিই দাবি করে। মহান রব এই শেষোক্ত তিনটি থেকে পবিত্র এবং তিনি প্রথম প্রকারের গুণে গুণান্বিত। অনুরূপভাবে তাঁর নামসমূহও পূর্ণতার নাম (أسماء كمال); তাই অন্য কোনো শব্দ সেগুলোর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। উপলব্ধি সংক্রান্ত গুণাবলির (صفات الإدراكات) ক্ষেত্রে তাঁর জন্য রয়েছে: সর্বজ্ঞ (العليم) ও সম্যক পরিজ্ঞাত (الخبير)—কিন্তু 'বুদ্ধিমান' (العاقل) বা 'বিচক্ষণ' (الفقيه) নয়। তদ্রূপ সর্বশ্রোতা (السميع) ও সর্বদ্রষ্টা (البصير)—কিন্তু 'শ্রবণকারী' (السامع), 'দর্শনকারী' (الباصر) বা 'পর্যবেক্ষণকারী' (الناظر) নয়। অনুগ্রহমূলক গুণাবলির ক্ষেত্রে: পরম সদাশয় (البرّ), পরম দয়ালু (الرحيم) ও পরম স্নেহময় (الودود)—কিন্তু 'সহচর' (الرفيق) বা 'মমতাময়' (الشفيق) বা এই জাতীয় অন্য কিছু নয়; এভাবে অন্যান্য আসমাউল হুসনার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
العشرون: الإلحاد في أسمائه أنواع:
الأول: أن يسمى به غيره من الأصنام.
الثاني: أن يسمى بما لا يليق بجلاله كتسميته أبا أو علةً فاعلة، (قلت: ومنه أن يسمى بغير ما سمى به نفسه) .
الثالث: وصفه بما ينزه عنه؛ كقول أخبث اليهود: إنه فقير.
الرابع: تعطيلها عن معانيها، وجحد حقائقها؛ كقول الجهمية: إنها ألفاظ مجردة لا تدل على أوصاف: سميع بلا سمع، بصير بلا بصر،،، وهكذا.
الخامس: تشبيه صفاته بصفات خلقه، تعالى الله عما يقول الملحدون علواً كبيراً.
فائدةمن إملاء الشيخ محمد الأمين الشنقيطيالمدرس بالمعهد العلمي في الرياض
كل معقولين لابد فيهما من إحدى نسب أربع:
المساواة.
المباينة.
(ج) العموم والخصوص المطلق.
(د) العموم والخصوص من وجه.
وبرهان ذلك الحصر: أن المعقولين من حيث هما: إما أن لا يجتمعا ألبتة، أو لا يفترقا
ألبتة، أو يجتمعا تارة ويفترقا أخري:
فإن كانا لا يفترقان: فهما المتساويان، والنسبة بينهما المساواة كالإنسان والبشر؛ فإن
كل ذات تثبت لها الإنسانية تثبت لها البشرية كالعكس.
বিংশতম: তাঁর নামসমূহের ক্ষেত্রে বিকৃতি (الإلحاد) কয়েক প্রকার:
প্রথম: তাঁর নাম দ্বারা অন্যান্য প্রতিমাকে নামকরণ করা।
দ্বিতীয়: তাঁকে এমন সব নামে অভিহিত করা যা তাঁর মহিমার জন্য শোভনীয় নয়, যেমন তাঁকে 'পিতা' বা 'কার্যকরী কারণ' বলা (আমি বলছি: এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁকে এমন নামে অভিহিত করা যা তিনি নিজের জন্য নামকরণ করেননি)।
তৃতীয়: তাঁকে এমন সব গুণে গুণান্বিত করা যা থেকে তিনি পবিত্র; যেমন অতি নিকৃষ্ট ইহুদিদের উক্তি: 'নিশ্চয়ই তিনি দরিদ্র'।
চতুর্থ: এ নামগুলোকে অর্থহীন (تعطيل) করা এবং এগুলোর হাকিকত বা বাস্তবতা অস্বীকার করা; যেমন জাহমিয়াদের উক্তি: এগুলো কেবল নিছক শব্দ মাত্র যা কোনো গুণাবলি নির্দেশ করে না: শ্রবণ ছাড়াই শ্রবণকারী (سميع), দৃষ্টি ছাড়াই দ্রষ্টা (بصير)... এবং এভাবেই।
পঞ্চম: তাঁর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করা (تشبيه), আল্লাহ তাআলা বিকৃতিকারীরা (الملحدون) যা বলে তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
শিক্ষা (فائدة)রিয়াদের আল-মা'হাদ আল-ইলমি-এর শিক্ষক শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী-এর শ্রুতিলিপি থেকেরিয়াদের আল-মা'হাদ আল-ইলমি-এর শিক্ষক
যে কোনো দুটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ের (معقول) মধ্যে অবশ্যই চারটি সম্পর্কের (نسب) একটি বিদ্যমান থাকবে:
সমতা (المساواة)।
বৈপরীত্য বা ভিন্নতা (المباينة)।
(গ) নিরঙ্কুশ সাধারণ ও বিশেষ (العموم والخصوص المطلق)।
(ঘ) কোনো এক দিক থেকে সাধারণ ও বিশেষ (العموم والخصوص من وجه)।
এ সীমাবদ্ধতার (الحصر) প্রমাণ হলো: দুটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় তাদের নিজস্ব সত্তার বিচারে: হয় তারা কখনোই একত্রিত হবে না, অথবা কখনোই পৃথক হবে না, অথবা কখনো একত্রিত হবে এবং কখনো পৃথক হবে:
যদি তারা পৃথক না হয়: তবে তারা সমান (المتساويان), এবং তাদের মধ্যবর্তী সম্পর্ক হলো সমতা (المساواة), যেমন ‘ইনসান’ ও ‘বাশার’ (মানুষ); কেননা যে সত্তার জন্য মনুষ্যত্ব সাব্যস্ত হবে তার জন্য মানবত্বও সাব্যস্ত হবে, এর বিপরীতটিও তেমনি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وإن كانا لا يجتمعان: فهما المتباينان، والنسبة بينهما التباين؛ كالإنسان والحجر؛ فإن
كل ذات تثبت لها الإنسانية انتفت عنها الحجرية؛ كالعكس.
وإن كانا يجتمعان تارة، ويفترقان أخري: فلهما حالتان:
الأولي: أن يكون الافتراق من الطرفين.
الثانية: أن يكون الافتراق من طرف واحد.
فإن كان من طرف واحد؛ بأن كان أحدهما يفارق صاحبه، والثاني لا يفارق: فالنسبة
بينهما العموم والخصوص المطلق، فالذي يفارق أعم مطلقاً، والذي لا يفارق أخص مطلقاً، كالإنسان والحيوان: فالإنسان لا يفارق الحيوان؛ لأن كل إنسان حيوان؛ فهو أخصّ مطلقاً، والحيوان لا يفارق الإنسان؛ لوجوده في الفرس مثلاً؛ فهو أعم مطلقاً.
وإن كان الافتراق من الطرفين: فالنسبة بينهما العموم والخصوص من وجه؛ كالإنسان
والأبيض: فإنهما يجتمعان في العربي والرمي؛ فهو إنسان أبيض، وينفرد الإنسان عن الأبيض في الإنسان الأسود؛ كالحبشى، وينفرد الأبيض عن الإنسان في الثلج والعاج ونحو ذلك، مما هو أبيض غير إنسان.
فإن كانت النسبة بين طرفي القضية المساواة: صدق الإيجابان، وكذب السلبان؛ (فتقول: كل إنسان بشر، وكل بشر إنسان، بعض الإنسان بشر، وبعض البشر إنسان، فقد صدقت إيجاباً كليا وجزئياً، ولا يصح أن تقول: لا شيء من البشر بإنسان، ولا شيء من الإنسان ببشر، ولا بعض البشر ليس بإنسان، ولا بعض الإنسان ليس ببشر) .
وإن كانت المباينة: فالعكس، (أي: يكذب الإيجابان، ويصدق السلبان، كلية كانت القضية أو جزئية؛ فلا يصح أن تقول: كل حجر إنسان،
আর যদি তারা একত্রিত না হয়, তবে তারা হলো পরস্পর বিপ্রতীপ (المتباينان), এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্ক হলো বৈপরীত্য (التباين); যেমন—মানুষ ও পাথর। কারণ,
যে সত্তার মধ্যে মনুষ্যত্ব সাব্যস্ত হবে, তার থেকে পাথর হওয়ার গুণটি বিলুপ্ত হবে; এবং এর বিপরীতটাও সত্য।
আর যদি তারা কখনো একত্রিত হয় এবং কখনো পৃথক হয়ে যায়, তবে সেক্ষেত্রে দুটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথমত: উভয় দিক থেকেই পৃথক হওয়া।
দ্বিতীয়ত: কেবল এক দিক থেকে পৃথক হওয়া।
যদি এক দিক থেকে হয়; অর্থাৎ তাদের একজন অপরজনকে ত্যাগ করে (পৃথক হয়), কিন্তু দ্বিতীয়জন তাকে ত্যাগ করে না; তবে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক হলো
পূর্ণ সাধারণ ও বিশেষের সম্পর্ক (العموم والخصوص المطلق)। সুতরাং যে পৃথক হতে পারে তা হলো পূর্ণ সাধারণ (أعم مطلقاً), আর যা পৃথক হতে পারে না তা হলো পূর্ণ বিশেষ (أخصّ مطلقاً)। যেমন—মানুষ ও প্রাণী: মানুষ প্রাণী থেকে পৃথক হয় না, কারণ প্রত্যেক মানুষই প্রাণী; তাই মানুষ হলো পূর্ণ বিশেষ (أخصّ مطلقاً), এবং প্রাণী মানুষ থেকে পৃথক হয়; যেমন—ঘোড়ার ক্ষেত্রে এর উপস্থিতি; তাই এটি হলো পূর্ণ সাধারণ (أعم مطلقاً)।
আর যদি বিচ্ছেদ বা পৃথক হওয়া উভয় দিক থেকে হয়, তবে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক হলো একদিক থেকে সাধারণ ও বিশেষের সম্পর্ক (العموم والخصوص من وجه); যেমন—মানুষ
ও সাদা বর্ণ: তারা উভয়ই একজন আরব বা রোমান ব্যক্তির মধ্যে একত্রিত হয়; কারণ সে একজন সাদা বর্ণের মানুষ। আবার সাদা বর্ণ ব্যতিরেকেও মানুষের অস্তিত্ব থাকে, যেমন—কৃষ্ণবর্ণের মানুষ বা হাবশী। আবার মানুষ ব্যতিরেকেও সাদা বর্ণের অস্তিত্ব থাকে, যেমন—বরফ ও হাতির দাঁত এবং এই জাতীয় অন্যান্য বস্তু যা সাদা কিন্তু মানুষ নয়।
পক্ষান্তরে যদি প্রসঙ্গের উভয় দিকের সম্পর্কটি সমতা (المساواة) হয়, তবে উভয় হাঁ-বাচক উক্তি সত্য হবে এবং উভয় না-বাচক উক্তি মিথ্যা প্রতিপন্ন হবে; (আপনি বলবেন: প্রত্যেক মানুষই মানব, এবং প্রত্যেক মানবই মানুষ, কোনো কোনো মানুষ হলো মানব, এবং কোনো কোনো মানব হলো মানুষ। এখানে সামগ্রিক ও আংশিক—উভয় প্রকারের হাঁ-বাচক উক্তি সত্য হয়েছে। কিন্তু আপনার জন্য এটি বলা সঠিক হবে না যে: কোনো মানবই মানুষ নয়, অথবা কোনো মানুষই মানব নয়, কিংবা কিছু কিছু মানব মানুষ নয়, অথবা কিছু কিছু মানুষ মানব নয়)।
আর যদি বিপ্রতীপতা (المباينة) হয়, তবে এর বিপরীত হবে; (অর্থাৎ: উভয় হাঁ-বাচক উক্তি মিথ্যা হবে এবং উভয় না-বাচক উক্তি সত্য হবে, চাই প্রসঙ্গটি সামগ্রিক হোক বা আংশিক। সুতরাং আপনার জন্য এটি বলা সঠিক হবে না যে: প্রত্যেক পাথরই মানুষ,
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولا كل إنسان حجر، ولا بعض الحجر إنسان، ولا بعض الإنسان حجر) .
وإن كانت النسبة العموم والخصوص من وجه: صدقت الجزئيتان، وكذبت الكليتان، (أي: سواء كانت القضية إيجاباً أو سلباً، فإذا قلت: بعض الأبيض إنسان، أو بعض الإنسان أبيض، ليس بعض الأبيض بإنسان، ليس بعض الإنسان بأبيض، كان ذلك صدقاً، وإن قلت: كل الأبيض إنسان، أو كل الأسود ليس بإنسان، أو قلت: كل إنسان أبيض، أو لا شيء من الإنسان بأبيض، كان ذلك كذباً) .
وإن كانت النسبة العموم والخصوص المطلق:
فإن كان المحكوم عليه هو الأخص: فكالمساواة، (أي: تصدق القضية إيجاباً، كلية كانت أو جزئية، وتكذب سالبة، كلية كانت أو جزئية؛ فلو قلت: كل إنسان حيوان، أو بعض الإنسان حيوان، كان ذلك صدقاً، ولو قلت: ليس الإنسان بحيوان، أو ليس بعض الإنسان بحيوان، كان كذباً) .
وإن كان المحكوم عليه هو الأعم: فكالعموم والخصوص من وجه، (أي: تصدق القضية جزئية، سالبة كانت أو موجبة، وتكذب كلية كذلك، فلو قلت: بعض الحيوان إنسان، أو ليس بعض الحيوان بإنسان، صار ذلك صدقاً، وإن قلت: كل الحيوان إنسان، أو لا شيء من الحيوان بإنسان، كان ذلك كذباً) .
التباين قسمان: تباين تخالف، وتباين تقابل:
أما تباين التخالف: فهو أن تكون الحقيقتان متابينتين في حد ذاتيهما، إلا أنهما يجوز تواردهما على ذات أخرى، بأن تتصف بهما معاً في وقت واحد؛ كالسواد والحلاوة، والقيام والكلام؛ فحقيقة السواد مباينة لحقيقة الحلاوة، مع أنهما يجوز اجتماعهما في شيء واحد؛ كالتمر الأسود، فهو
এবং সকল মানুষ পাথর নয়, আবার পাথরের কোনো অংশ মানুষ নয় এবং মানুষের কোনো অংশ পাথর নয়।
আর যদি এদের মধ্যকার সম্পর্ক আংশিক সাধারণ এবং আংশিক বিশেষ (العموم والخصوص من وجه) হয়, তবে আংশিক বিষয়দ্বয় (الجزئيتان) সত্য প্রমাণিত হবে এবং সামগ্রিক বিষয়দ্বয় (الكليتان) মিথ্যা সাব্যস্ত হবে (অর্থাৎ: বিষয়টি ইতিবাচক (إيجاباً) হোক বা নেতিবাচক (سلباً); সুতরাং আপনি যদি বলেন: 'কিছু সাদা বস্তু হলো মানুষ' অথবা 'কিছু মানুষ হলো সাদা', আবার 'কিছু সাদা বস্তু মানুষ নয়' অথবা 'কিছু মানুষ সাদা নয়'—তবে এগুলো সত্য (صدقاً) বলে গণ্য হবে। কিন্তু আপনি যদি বলেন: 'সকল সাদা বস্তুই মানুষ' অথবা 'সকল কালো বস্তুই মানুষ নয়' অথবা 'সকল মানুষই সাদা' অথবা 'মানুষের কোনো কিছুই সাদা নয়'—তবে তা মিথ্যা (كذباً) সাব্যস্ত হবে)।
আর যদি সম্পর্কটি নিরঙ্কুশ সাধারণ এবং বিশেষ (العموم والخصوص المطلق) হয়:
তবে যার ওপর বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে (المحكوم عليه) সেটি যদি অধিকতর বিশেষ (الأخص) হয়, তবে তা সমতা (المساواة)-এর বিধানের মতো হবে (অর্থাৎ: বিষয়টি ইতিবাচক (إيجاباً) হলে তা সত্য হবে, চাই তা সামগ্রিক (كلية) হোক বা আংশিক (جزئية); আর নেতিবাচক (سالبة) হলে তা মিথ্যা হবে, চাই তা সামগ্রিক (كلية) হোক বা আংশিক (جزئية)। যেমন আপনি যদি বলেন: 'সকল মানুষই প্রাণী' অথবা 'কিছু মানুষ হলো প্রাণী'—তবে তা সত্য (صدقاً) হবে। আর আপনি যদি বলেন: 'মানুষ প্রাণী নয়' অথবা 'মানুষের কিছু অংশ প্রাণী নয়'—তবে তা মিথ্যা (كذباً) হবে)।
আর যার ওপর বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে (المحكوم عليه) সেটি যদি অধিকতর সাধারণ (الأعم) হয়, তবে তা আংশিক সাধারণ এবং আংশিক বিশেষ (العموم والخصوص من وجه)-এর মতো হবে (অর্থাৎ: আংশিক (جزئية) বিষয়টি সত্য হবে, চাই তা নেতিবাচক (سالبة) হোক বা ইতিবাচক (موجبة); আর সামগ্রিক (كلية) বিষয়টি একইভাবে মিথ্যা হবে। যেমন আপনি যদি বলেন: 'কিছু প্রাণী হলো মানুষ' অথবা 'কিছু প্রাণী মানুষ নয়'—তবে তা সত্য (صدقاً) হবে। আর যদি বলেন: 'সকল প্রাণীই মানুষ' অথবা 'প্রাণীর কোনো কিছুই মানুষ নয়'—তবে তা মিথ্যা (كذباً) হবে)।
বৈপরীত্য (التباين) দুই প্রকার: ভিন্নতাগত বৈপরীত্য (تباين تخالف) এবং সরাসরি বৈপরীত্য (تباين تقابل):
ভিন্নতাগত বৈপরীত্য (تباين تخالف) হলো: দুটি সত্তা (حقيقتان) তাদের নিজস্ব সত্তার দিক থেকে বিপরীতধর্মী (متابينتين) হওয়া, তবে একই সঙ্গে অন্য একটি সত্তার ওপর তাদের আপতিত হওয়া বৈধ, যাতে তারা একই সময়ে দুটি গুণের মাধ্যমেই বিশেষিত হতে পারে; যেমন কালো বর্ণ ও মিষ্টতা, এবং দণ্ডায়মান হওয়া ও কথা বলা। কালো বর্ণের সত্তা মিষ্টতার সত্তা থেকে ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও একটি বস্তুর মধ্যে উভয়ের একত্রিত হওয়া বৈধ; যেমন কালো খেজুর, এটি-
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أسود حلو.
وأما تباين المقابلة: فهو أن يكون بين الحقيقتين غاية المنافاة حتى يستحيل اجتماعهما في محل واحد في وقت واحد، وهو أربعة أقسام:
الأول: تقابل النقيضين.
الثاني: تقابل الضدين.
الثالث: تقابل المتضايفين.
الرابع: تقابل العدم والملكة.
أما تقابل النقيضين: فهو تقابل السلب والإيجاب، أعني: النفي والإثبات؛ فالنقيضان أبداً أحدهما وجودي، والآخر عدمي، واجتماعهما مستحيل، وارتفاعهما مستحيل، ومثاله: الحركة والسكون، والضلال والهدى؛ (فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلا الضَّلالُ) (يونس: 32) .
وأما تقابل الضدين: فهو التقابل بين أمرين وجوديين بينهما غاية المنافاة، لا يتوقف إدراك أحدهما على إدراك الآخر، واجتماعهما مستحيل، وارتفاعهما جائز؛ كالسواد والبياض: فإنه يستحيل أن تكون النقطة الواحدة من اللون بيضاء سوداء في وقت واحد، ويجوز ارتفاعهما عنها بأن تكون خضراء أو حمراء.
وأما تقابل المتضايفين: فهو التقابل بين أمرين وجوديين بينهما غاية المنافاة، لا يمكن إدراك أحدهما إلا بإضافة الآخر إليه؛ كالأبوة والبنوة، والفوق والتحت، والقبل والبعد، فإن كل ذات تثبت لها الأبوة لذات، استحالت عليها البنوة لتلك الذات التي هي أب لها؛ كاستحالة اجتماع السواد والبياض؛ فكون ولدك أباك مستحيل، ولا تدرك الأبوة إلا بإضافة البنوة إليها، كالعكس، وبهذا القيد حصل الفرق بين المتضايفين وبين الضدين.
কালো মিষ্টি।
আর বৈপরীত্যমূলক পার্থক্য (تباين المقابلة) সম্পর্কে বলতে গেলে: তা হলো দুটি বাস্তব সত্তার মধ্যে এমন চূড়ান্ত পর্যায়ের বিরোধ থাকা যাতে একই সময়ে একই স্থানে উভয়ের একত্র হওয়া অসম্ভব হয়। আর এটি চার প্রকার:
প্রথম: পরস্পরবিরোধী বিষয়ের বৈপরীত্য (تقابل النقيضين)।
দ্বিতীয়: পরস্পর বিপরীতধর্মী বিষয়ের বৈপরীত্য (تقابل الضدين)।
তৃতীয়: আপেক্ষিক বিষয়ের বৈপরীত্য (تقابل المتضايفين)।
চতুর্থ: অভাব ও গুণের বৈপরীত্য (تقابل العدم والملكة)।
পরস্পরবিরোধী বিষয়ের বৈপরীত্য (تقابل النقيضين) প্রসঙ্গে: তা হলো নেতিবাচক ও ইতিবাচক বিষয়ের বৈপরীত্য, অর্থাৎ: অস্বীকার (النفي) ও সাব্যস্তকরণ (الإثبات)। সুতরাং পরস্পরবিরোধী বিষয় দুটির মধ্যে একটি সর্বদা অস্তিত্বশীল (وجودي) এবং অন্যটি অনস্তিত্বশীল (عدمي)। এ দুটির একত্র হওয়া অসম্ভব এবং উভয়ের অনুপস্থিত হওয়াও অসম্ভব। এর উদাহরণ হলো: গতি ও স্থিতি, পথভ্রষ্টতা ও হিদায়াত; (আর সত্যের পর পথভ্রষ্টতা ছাড়া আর কী থাকে?) (ইউনুস: ৩২)।
আর পরস্পর বিপরীতধর্মী বিষয়ের বৈপরীত্য (تقابل الضدين): তা হলো দুটি অস্তিত্বশীল (وجودي) বিষয়ের মধ্যবর্তী বৈপরীত্য যাদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের বিরোধ বিদ্যমান, যেখানে একটির উপলব্ধি অন্যটির উপলব্ধির ওপর নির্ভর করে না। এ দুটির একত্র হওয়া অসম্ভব, তবে উভয়ের অনুপস্থিত হওয়া সম্ভব; যেমন: কালো ও সাদা। কারণ একই সময়ে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর রঙ একই সাথে সাদা ও কালো হওয়া অসম্ভব, তবে উভয়ের অনুপস্থিত হওয়া সম্ভব এই অর্থে যে তা সবুজ বা লাল হতে পারে।
আর আপেক্ষিক বিষয়ের বৈপরীত্য (تقابل المتضايفين): তা হলো দুটি অস্তিত্বশীল (وجودي) বিষয়ের মধ্যবর্তী বৈপরীত্য যাদের মধ্যে চূড়ান্ত পর্যায়ের বিরোধ রয়েছে এবং একটিকে অপরটির সাথে সম্পৃক্ত করা ছাড়া উপলব্ধি করা সম্ভব নয়; যেমন: পিতৃত্ব ও পুত্রত্ব, ওপর ও নিচ, আগে ও পরে। কেননা যে সত্তার জন্য অন্য কোনো সত্তার বিপরীতে পিতৃত্ব সাব্যস্ত হয়, সেই সত্তার জন্য ওই ব্যক্তির বিপরীতে পুত্রত্ব সাব্যস্ত হওয়া অসম্ভব যার সে পিতা; যেমনটি কালো ও সাদার একত্র হওয়া অসম্ভব। সুতরাং আপনার সন্তান আপনার পিতা হওয়া অসম্ভব। আর পুত্রত্বের সম্পৃক্ততা ছাড়া পিতৃত্ব উপলব্ধি করা যায় না, এবং এর বিপরীতটিও সত্য। এই শর্তের মাধ্যমেই আপেক্ষিক বিষয় (المتضايفين) এবং বিপরীতধর্মী বিষয়ের (الضدين) মধ্যে পার্থক্য নিরূপিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وأما تقابل العدم والملكة: فهو التقابل بين أمرين أحدهما وجودي، والآخر عدمي، والطرف العدمي سلب للطرف الوجودي عن المحل الذي شأنه أن يتصف به؛ كالعمى والبصر، فالبصر - وهو الملكة- أمر وجودي، والعمى- وهو العدم- أمر عدمي، وهذا الطرف العدمي- الذي هو العمى-سلْب للطرف الوجودي - الذي هو ملكة البصر- عن المحل الذي من شأنه الاتصاف به؛ كسائر الحيوانات.
فلا تتوارد الملكة والعدم إلا على ما يتصف بالملكة؛ ولذا لا يسمى في الاصطلاح الحائط ولا الحجر أعمي ولا بصيراً؛ وبهذا القيد حصل الفرق بين العدم والملكة، وبين النقيضين. أهـ. ما أملاه الأستاذ، ولكن ما كان بين قوسين، فهو من عندي، والله أعلم.
فائدةمن ((الهدْي)) لابن القيم في قوله: فصل: ثم كان يكبر ويخر ساجداً.
انقلب على بعضهم حديث ابن عمر: ((إن بلالاً يؤذن بليل
… )) الحديث (1) ؛ فرواه: ((إن ابن أم مكتوم يؤذن؛ فكلوا واشربوا حتى يؤذن بلال)) ؛ ومثله حديث: ((لا يزال يلقى في النار وتقول: هل من مزيد؟!)) إلى أن قال: ((وأما الجنة، فينشيء الله لها خلقاً يسكنهم إياها)) (2) ؛ فقلبه؛ وقال: ((وأما النار، فينشئ الله لها خلقا يسكنهم إياها)) ، وكان يقع لي أن حديث أبي هريرة: ((إذا سجد أحدكم، فلا يبرك كما يبرك البعير، وليضع يديه قبل ركبتيه)) (3) منقلب على بعض الرواة، ولعله: ((وليضع ركبتيه قبل
--------------------------------------------
আর অভাব (عدم) ও সামর্থ্যের (ملكة) মধ্যকার বৈপরীত্য হলো: এটি এমন দুটি বিষয়ের মধ্যকার বৈপরীত্য যার একটি অস্তিত্বশীল (وجودي) এবং অন্যটি অভাবসূচক (عدمي)। এই অভাবসূচক দিকটি হলো এমন কোনো আধার থেকে অস্তিত্বশীল গুণটির অনুপস্থিতি, যা স্বভাবগতভাবে ঐ গুণের অধিকারী হওয়ার যোগ্য; যেমন অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তি। এখানে দৃষ্টিশক্তি—যা হলো সামর্থ্য (ملكة)—একটি অস্তিত্বশীল (وجودي) বিষয়, আর অন্ধত্ব—যা হলো অভাব (عدم)—একটি অভাবসূচক (عدمي) বিষয়। এই অভাবসূচক দিকটি—যা হলো অন্ধত্ব—অস্তিত্বশীল গুণের—যা হলো দৃষ্টিশক্তির সামর্থ্য (ملكة)—এমন আধার থেকে অনুপস্থিত থাকা যা স্বভাবগতভাবে ঐ গুণের অধিকারী হওয়ার যোগ্য; যেমন সকল প্রাণী।
সুতরাং সামর্থ্য (ملكة) ও অভাব (عدম) কেবল এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয় যা সামর্থ্য (ملكة) রাখার যোগ্যতা রাখে; এই কারণে পারিভাষিক পরিভাষায় দেওয়াল বা পাথরকে অন্ধ বা চক্ষুষ্মান বলা হয় না। এই শর্তের মাধ্যমেই অভাব (عدم) ও সামর্থ্য (ملكة) এবং বিরুদ্ধদ্বয়ের (النقيضين) মধ্যে পার্থক্য নিরূপিত হয়। উস্তাদ যা যা শ্রুতলিপি দিয়েছেন তা এখানেই শেষ। তবে বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু আমার পক্ষ থেকে যোগ করা হয়েছে, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
উপকারিতাইবনুল কাইয়্যিম-এর আল-হাদয়ি থেকে সংগৃহীত তাঁর এই বক্তব্যে: অনুচ্ছেদ: এরপর তিনি তাকবীর বলতেন এবং সিজদায় অবনত হতেন।
ইবনে উমরের হাদিসটি কোনো কোনো বর্ণনাকারীর নিকট শব্দগতভাবে উল্টে (منقلب) গিয়েছে: "নিশ্চয় বিলাল রাতে আজান দেয়..." হাদিস (১); তিনি এটি এভাবে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয় ইবনে উম্মে মাকতুম আজান দেয়; সুতরাং তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না বিলাল আজান দেয়"। এর অনুরূপ হলো সেই হাদিস: "জাহান্নামে অনবরত নিক্ষিপ্ত হতে থাকবে আর সে বলতে থাকবে: আরও কি আছে?!" কথাটি এই পর্যন্ত যে: "আর জান্নাতের কথা হলো, আল্লাহ তার জন্য নতুন সৃষ্টি তৈরি করবেন যারা সেখানে বসবাস করবে" (২); কিন্তু তিনি এটি উল্টে (قلب) ফেলেছেন এবং বলেছেন: "আর জাহান্নামের জন্য আল্লাহ নতুন সৃষ্টি তৈরি করবেন যারা সেখানে বসবাস করবে"। আমার কাছেও মনে হতো যে, আবু হুরাইরার হাদিসটি: "যখন তোমাদের কেউ সিজদা করে, তখন সে যেন উটের মতো না বসে, বরং সে যেন তার হাঁটুর আগে হাত রাখে" (৩) কোনো কোনো বর্ণনাকারীর নিকট উল্টে (منقلب) গিয়েছে, সম্ভবত সেটি হবে: "আর সে যেন তার হাতের আগে হাঁটু রাখে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يديه)) ؛ حتى رأيت أبا بكر بن أبي شيبه رواه كذلك، عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: ((إذا سجد أحدكم، فليبدأ بركبتيه قبل يديه، ولا يبرك كما يبرك الفحل)) (1) ، ورواه الأثرم في ((سننه)) أيضاً عن أبي بكر كذلك، والله أعلم.
فائدةقال الشيخ تقي الدين في الجزء الأول من ((الرسائل)) (ص59)
وأصل ذلك: أن المقالة التي هي كفر بالكتاب أو السنة أو الإجماع يقال: ((هي كفر)) قولاً يطلق؛ كما دل على ذلك الدليل الشرعي؛ فإن الإيمان من الأحكام المتلقاة عن الله ورسوله؛ ليس ذلك مما يحكم فيه الناس بظنونهم وأهوائهم، ولا يجب أن يحكم في كل شخص قال ذلك بأنه كافر، حتى يثبت في حقه شروط التكفير، وتنتفي موانعه؛ مثل من قال: ((إن الخمر أو الربا حلال لقرب عهده بالإسلام، أو لنشوئه في بادية بعيدة، أو سمع كلاماً أنكره ولم يعتقد أنه من أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ كما كان بعض السلف ينكر أشياء حتى يثبت عنده أن النبي صلى الله عليه وسلم قال ذلك، وكما كان الصحابة يشكون في أشياء؛ مثل رؤية الله، وغير ذلك؛ حتى يسألوا عن ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومثل الذي قال: ((إذا أنا مت، فاسحقوني وذروني في اليم؛ لعلي أضل عن الله تعالى)) (2) ونحو ذلك، فإنهم لا يكفرون حتى تقوم عليهم الحجة بالرسالة؛ كما قال تعالى: (لِئَلا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ) (النساء: 165) ، وقد عفا الله لهذه الأمة عن الخطأ والنسيان، رحمة كبيرة.
--------------------------------------------
হাতদ্বয়)); এমনকি আমি আবু বকর ইবনে আবি শায়বাকে তা এভাবে বর্ণনা (رواه) করতে দেখেছি, যা তিনি আবু হুরায়রা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা (رواه) করেছেন। তিনি বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ সিজদা করবে, তখন সে যেন তার হাতদ্বয়ের পূর্বে হাঁটু দিয়ে শুরু করে এবং সে যেন উটের মতো বসে না পড়ে।" (১), আল-আছরামও তাঁর সুনান-এ একইভাবে আবু বকর থেকে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
উপকারিতা (فائدة)শায়খ তাকিউদ্দীন 'আল-রাসায়িল'-এর প্রথম খণ্ডে বলেছেন (পৃ. ৫৯)
এর মূলনীতি হলো: কিতাব, সুন্নাহ বা ঐক্যমত্যের (إجماع) পরিপন্থী যে বক্তব্য কুফর (كفر), তাকে সাধারণভাবে "কুফর" (كفر) বলা হয়; যেমনটি শরয়ি দলিল দ্বারা প্রমাণিত। কেননা ঈমান হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বিধানসমূহের অন্তর্ভুক্ত; এটি এমন কোনো বিষয় নয় যেখানে মানুষ তাদের ধারণা ও প্রবৃত্তির মাধ্যমে ফয়সালা দিবে। আর যে ব্যক্তি এমন কথা বলে, তার ওপর তাকফির (تكفير)-এর শর্তাবলি (شروط) সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং এর অন্তরায়সমূহ (موانع) দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত তাকে ব্যক্তিগতভাবে কাফির (كافر) হিসেবে গণ্য করা আবশ্যক নয়। যেমন কেউ বলল: "মদ বা সুদ হালাল", কারণ সে নতুন ইসলাম গ্রহণ করেছে অথবা সে কোনো দূরবর্তী মরুঅঞ্চলে বেড়ে উঠেছে; অথবা সে এমন কোনো কথা শুনেছে যা সে অস্বীকার করেছে এবং তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস বলে বিশ্বাস করেনি। যেমনটি পূর্বসূরিদের (سلف) কেউ কেউ কিছু বিষয় অস্বীকার করতেন যতক্ষণ না তাদের কাছে সাব্যস্ত হতো যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা বলেছেন। এবং যেমন সাহাবীগণ (صحابة) বিভিন্ন বিষয়ে সংশয় পোষণ করতেন—যেমন আল্লাহকে দেখা বা অন্য কিছু—যতক্ষণ না তারা এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করতেন। আবার যেমন সেই ব্যক্তির ঘটনা যে বলেছিল: "আমি যখন মারা যাব, তখন আমাকে পিষে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দিও; সম্ভবত আমি আল্লাহ তা'আলার পাকড়াও থেকে বেঁচে যাব" (২) এবং এই ধরণের ঘটনা। এই ধরণের ব্যক্তিদের কাফির (كافر) বলা হবে না যতক্ষণ না তাদের নিকট রিসালাতের প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয়; যেমনটি আল্লাহ তা'আলা বলেছেন: "যাতে রাসূলগণের পরে আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো প্রমাণ (حجة) না থাকে" (সূরা আন-নিসা: ১৬৫)। আর আল্লাহ অত্যন্ত দয়াপরবশ হয়ে এই উম্মতের ভুল ও বিস্মৃতি ক্ষমা করে দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فائدة
شروط الاستجمار تسعة
تنقسم إلى ثلاثة أقسام:
الأول: شروط للمستجمَر فيه، وهو أن يكون فرجاً، وأن يكون أصلياً.
القسم الثاني: للمستجمَر عنه، وهو أن لا يجاوز محل العادة، وأن لا يجف قبل الاستجمار.
القسم الثالث: للمستجمَر به، وهو خمسة:
طهارته.
وإباحته؛ فلا يجزئ بمحرم لحقّ الله؛ كمطعوم، وكتب محترمة، أو لحق آدمي؛ كمغصوب.
وإنقاؤه؛ بحيث يعود آخر مسحة خالياً؛ فلا يجزئ بغيره؛ كزجاج ورطب، ويجزئ بتراب.
وأن لا يسبقه استجمار بمحرم.
وتكريره ثلاثاً؛ فلو أنقى بأقل، وجب إكمال مسحه ثلاثاً.
فائدة
الأشياء النجسة أقسام
القسم الأول: ما ليس بحيوان ولا منفصل منه، وهو الخمر والعصير إذا أتى عليه ثلاثة أيام أو غلا، وفي هذا القسم خلاف صحيح قوي جداً.
الثاني: الحيوان، وله حالتان:
الحال الأولى: حياة، والحيوان فيها قسمان:
الأول: ما كان محرم الأكل، وخلقته أكبر من الهر، فهو نجس إلا الآدمي.
الثاني: الطاهر، وهو ما سوى ذلك.
বিশেষ দ্রষ্টব্য
ইস্তিঝমারের (পাথর বা সমজাতীয় বস্তু দিয়ে শৌচকার্য) শর্তাবলি নয়টি
এগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
প্রথমত: যে স্থানে ইস্তিঝমার করা হচ্ছে তার শর্তাবলি; তা হলো স্থানটি মলদ্বার বা মূত্রদ্বার হওয়া এবং তা মূল অঙ্গ হওয়া।
দ্বিতীয় ভাগ: যা থেকে ইস্তিঝমার করা হচ্ছে তার শর্তাবলি; তা হলো যা নির্গত হয়েছে তা স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম না করা এবং ইস্তিঝমার করার আগেই তা শুকিয়ে না যাওয়া।
তৃতীয় ভাগ: যা দ্বারা ইস্তিঝমার করা হচ্ছে তার শর্তাবলি, যা পাঁচটি:
তার পবিত্র (طاهر) হওয়া।
এবং তার বৈধ (مباح) হওয়া; সুতরাং আল্লাহর হকের কারণে যা হারাম তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন যথেষ্ট হবে না; যেমন- খাদ্যদ্রব্য ও সম্মানজনক গ্রন্থসমূহ। অথবা মানুষের হকের কারণে যা হারাম; যেমন- জবরদখলকৃত বস্তু।
এবং তার পরিষ্কার করার সক্ষমতা থাকা; যেন শেষবার মোছার পর স্থানটি পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সুতরাং যা পরিষ্কার করে না তা যথেষ্ট হবে না; যেমন- কাঁচ ও আর্দ্র বস্তু। তবে মাটি দ্বারা যথেষ্ট হবে।
এবং এর পূর্বে যেন কোনো হারাম বস্তু দিয়ে ইস্তিঝমার করা না হয়ে থাকে।
এবং তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করা; যদি এর চেয়ে কম সময়ে পরিষ্কার হয়ে যায়, তবুও তিনবার মোছা পূর্ণ করা ওয়াজিব (واجب)।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
অপবিত্র (نجس) বস্তুসমূহ কয়েক প্রকার
প্রথম ভাগ: যা প্রাণী নয় এবং প্রাণীর কোনো বিচ্ছিন্ন অংশও নয়; তা হলো মদ ও ফলের রস যখন তিন দিন অতিবাহিত হয় বা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আর এই ভাগে অত্যন্ত শক্তিশালী সহিহ (صحيح) মতপার্থক্য রয়েছে।
দ্বিতীয়: প্রাণী; এর দুটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথম অবস্থা: জীবদ্দশা; এতে প্রাণী দুই প্রকার:
প্রথম: যার গোশত খাওয়া হারাম এবং যার শারীরিক গঠন বিড়ালের চেয়ে বড়; সেটি অপবিত্র (نجس), তবে মানুষ ব্যতীত।
দ্বিতীয়: পবিত্র (طاهر), যা এর বাইরে অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الحال الثانية: موت، فهو فيها ثلاثة أقسام:
الأول: الآدمي، وحيوان البحر المباح، وما لا يسيل دمه إذا تولد من طاهر.
الثاني: ما كان نجساً في حال حياته؛ فهو نجس بعد مماته.
الثالث: ما كان طاهراً في الحياة؛ فهو نجس؛ سوى أنه يباح الانتفاع بجلده في يابس بعد دبغه، وشعره ونحوه طاهر.
فصار هذا القسم ثلاثة أنواع:
نجس: لا يباح الانتفاع به، وهو ما سوى الجلد والشعر.
ونجس: يباح الانتفاع به، وهو الجلد، والمصران، والكرش إذا جعلا وتراً.
وطاهر: وهو الشعر، ونحوه.
القسم الثالث من أنواع النجس: الخارج من الحيوان، وهو نوعان:
الأول: أن يكون من نجس في الحياة؛ فجميع ما يخرج منه نجس.
الثاني: أن يكون من طاهر في الحياة؛ فهذا ثلاثة أقسام:
الأول: العرق، والريق، والخارج من الأنف؛ فطاهر.
الثاني: الدم وما تولد منه من قيح ونحوه:
فإن كان مما ميتته طاهرة، أو بقي بعد الذبح في العروق: فطاهر إلا من الآدمي.
وإن كان مما سوى ذلك، أو آدمي: فنجس، يعفى عن يسيره في غير مائع ومطعوم.
الثالث: ما خرج من جوفه من بول، وروث، ولبن، ونحوها؛ فإن كان من مباح الأكل: فطاهر، وإلا فنجس إلا مني الآدمي ولبنه.
القسم الرابع من أنواع النجس: ما أُبِين من حي؛ فهو كميتته سوى
দ্বিতীয় অবস্থা: মৃত্যু; যা তিনটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথম: মানুষ, সমুদ্রের বৈধ (مباح) প্রাণী এবং যার রক্ত প্রবাহিত হয় না যদি তা পবিত্র (طاهر) উৎস হতে উদ্ভূত হয়।
দ্বিতীয়: যা জীবিত অবস্থায় অপবিত্র (نجس) ছিল; তা মৃত্যুর পরও অপবিত্র (نجس)।
তৃতীয়: যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র (طاهر) ছিল; তা (মৃত্যুর পর) অপবিত্র (نجس); তবে প্রক্রিয়াজাত করার পর তার চামড়া শুষ্ক অবস্থায় ব্যবহার করা বৈধ (مباح) এবং তার পশম ও অনুরূপ অংশগুলো পবিত্র (طاهر)।
সুতরাং এই বিভাগটি তিন প্রকারের হয়:
অপবিত্র (نجس): যা ব্যবহার করা বৈধ (مباح) নয়; আর তা হলো চামড়া ও পশম ব্যতীত অবশিষ্ট অংশ।
অপবিত্র (نجس): যা ব্যবহার করা বৈধ (مباح); আর তা হলো চামড়া, নাড়িভুঁড়ি ও পাকস্থলী যখন সেগুলোকে তন্তু বা রশি হিসেবে তৈরি করা হয়।
পবিত্র (طاهر): আর তা হলো পশম ও অনুরূপ বস্তু।
অপবিত্র (نجس) প্রকারভেদের মধ্যে তৃতীয় প্রকার: প্রাণী থেকে নির্গত বস্তু, যা দুই প্রকার:
প্রথম: যদি তা জীবিত অবস্থায় অপবিত্র (نجس) এমন প্রাণী থেকে হয়; তবে তা থেকে নির্গত সকল বস্তু অপবিত্র (نجس)।
দ্বিতীয়: যদি তা জীবিত অবস্থায় পবিত্র (طاهر) এমন প্রাণী থেকে হয়; তবে তা তিনটি ভাগে বিভক্ত:
প্রথম: ঘাম, লালা এবং নাক থেকে নির্গত শ্লেষ্মা; যা পবিত্র (طاهر)।
দ্বিতীয়: রক্ত এবং তা থেকে সৃষ্ট পুঁজ ও অনুরূপ বস্তু:
যদি তা এমন প্রাণীর হয় যার মৃতদেহ (ميتة) পবিত্র (طاهر), অথবা জবেহ করার পর রগের ভেতরে রক্ত অবশিষ্ট থাকে: তবে তা পবিত্র (طاهر); কিন্তু মানুষের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম।
আর যদি তা এছাড়া অন্য কোনো প্রাণীর হয় অথবা মানুষের হয়: তবে তা অপবিত্র (نجس), যা তরল ও খাদ্যদ্রব্য ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে সামান্য পরিমাণ ক্ষমার যোগ্য।
তৃতীয়: প্রাণীর উদর থেকে নির্গত প্রস্রাব, বিষ্ঠা, দুধ ও অনুরূপ বস্তুসমূহ; যদি তা ভক্ষণযোগ্য বৈধ (مباح) প্রাণী থেকে হয়: তবে তা পবিত্র (طاهر), অন্যথায় তা অপবিত্র (نجس); তবে মানুষের বীর্য ও দুধ এর ব্যতিক্রম।
অপবিত্র (نجس) প্রকারভেদের মধ্যে চতুর্থ প্রকার: জীবিত প্রাণী থেকে যা বিচ্ছিন্ন (أبين) করা হয়েছে; তা তার মৃতদেহের (ميتة) অনুরূপ, তবে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
المسك، وفأرته، والطريدة.
فائدة
النفاس يفارق الحيض في سبعة أشياء
الأول: أنه لا يحصل به البلوغ.
الثاني: لا تحتسب مدته على المُولي.
الثالث: أنه يكره الوطء في مدته بعد الطهر.
الرابع: أنه إذا عاد بعد انقطاعه في مدته، فمشكوك فيه.
الخامس: أنه لا يحتسب به في العدة.
السادس: أنه لا حد لأقله.
السابع: ليس له سن معينة.
কস্তুরী, এর মৃগনাভি এবং শিকারকৃত পশু।
বিশেষ জ্ঞাতব্য (فائدة)
নেফাস (نفاس) সাতটি বিষয়ে হায়েজ (حيض) থেকে ভিন্ন
প্রথম: এর মাধ্যমে বালেগ হওয়া (بلوغ) সাব্যস্ত হয় না।
দ্বিতীয়: ঈলাকারী (مولي)-র মেয়াদের ক্ষেত্রে এর সময়কাল গণনা করা হয় না।
তৃতীয়: পবিত্রতা অর্জনের পর এর মেয়াদের মধ্যে সহবাস (وطء) করা অপছন্দনীয় (يكره)।
চতুর্থ: যদি এর মেয়াদের মধ্যে রক্ত বন্ধ হওয়ার পর পুনরায় ফিরে আসে, তবে তা সন্দেহপূর্ণ (مشكوك فيه)।
পঞ্চম: ইদ্দত (عدة)-এর ক্ষেত্রে এটি গণ্য করা হয় না।
ষষ্ঠ: এর সর্বনিম্ন মেয়াদের কোনো সীমা নেই।
সপ্তম: এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারিত নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فائدة
الناس في الجمعة أربعة أقسام
الأول: من تلزمه بنفسه، وهو كل ذكر، مكلف، مسلم، حر، مقيم ببلد أقيمت فيه إقامة استيطان.
الثاني: من تلزمه بغيره، وهو كل مسافر لا يقصر، ومن خارج البلد وبينه وبين موضعها فرسخ فأقل، وحكمه كالأول إلا أنها لا تنعقد به، ولا يصح أن يؤمّ فيها.
القسم الثالث: من يلزمه فعلها إن حضرها وهو من تلزمه بنفسه أو بغيره إذا قام به عذر يمنع وجوبها.
الرابع: من لا تلزمه بنفسه، ولا بغيره، وهم من سوى هؤلاء.
فائدة
الدَّيْن المضاف إلى العبد أنواع
الأول: ما تعلق بذمته، وهو ما أقر به ولم يصدقه السيد، فيطالب به بعد العتق.
ومن ذلك: ما إذا غرّ برقيقة تزوجها ظاناً أو شارطاً حريتها؛ فولدت منه؛ فولده حر يفديه بقيمته يوم ولادتها إذا عتق؛ لتعلقه بذمته؛ كما صرحوا به في الشروط في النكاح.
ومن ذلك أيضاً: ما إذا زوّج عبده بأمته؛ فإن للسيد المهر يؤديه إذا عتق على المذهب، وعنه: لا مهر، وعنه: يجب، ويسقط، ذكروا ذلك في الصداق.
الثاني: ما تعلق بذمة سيده، وهو ما استدانه بإذنه أو صدّقه فيه؛ فيطالَب به السيد.
الثالث: ما تعلق برقبة العبد، وهو ما استدانه بلا إذن سيده، أو لزمه
বিশেষ জ্ঞাতব্য
জুমুআর ক্ষেত্রে মানুষ চার প্রকার
প্রথম প্রকার: যার ওপর সরাসরি ওয়াজিব হয়। তিনি হলেন প্রত্যেক পুরুষ, শরয়ি দায়িত্বশীল (مكلف), মুসলিম, স্বাধীন এবং এমন জনপদে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী (مقيم) যেখানে স্থায়ী আবাসের উদ্দেশ্যে জুমুআ কায়েম করা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রকার: যার ওপর অন্যের কারণে ওয়াজিব হয়। তিনি হলেন এমন মুসাফির (مسافر) যিনি কসর করেন না, এবং লোকালয়ের বাইরের এমন ব্যক্তি যার ও জুমুআর স্থানের মাঝে দূরত্ব এক ফারসাখ (فرسخ) বা তার কম। তার বিধান প্রথম প্রকারের ব্যক্তির মতোই, তবে তার উপস্থিতির দ্বারা জুমুআ সংঘটিত হবে না এবং তিনি সেখানে ইমামতি করতে পারবেন না।
তৃতীয় প্রকার: যদি উপস্থিত হন তবে যার ওপর জুমুআ আদায় করা আবশ্যক হয়ে যায়। তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যার ওপর সরাসরি বা অন্যের কারণে জুমুআ ওয়াজিব ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তার মাঝে এমন কোনো ওজর দেখা দিয়েছে যা জুমুআ ওয়াজিব হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
চতুর্থ প্রকার: যার ওপর সরাসরি বা অন্যের কারণে জুমুআ ওয়াজিব নয়। তারা হলেন উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়া বাকি সকলে।
বিশেষ জ্ঞাতব্য
দাসের সাথে সংশ্লিষ্ট ঋণ কয়েক প্রকার
প্রথম প্রকার: যা তার জিম্মায় (ذمة) সংশ্লিষ্ট। এটি এমন ঋণ যা সে স্বীকার করেছে কিন্তু তার মনিব তাকে সত্যায়ন করেনি। এমতাবস্থায় দাসত্বমুক্ত হওয়ার পর তার কাছে এই ঋণ দাবি করা হবে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যদি কোনো ব্যক্তি কোনো দাসীর দ্বারা প্রতারিত হয়ে তাকে স্বাধীন মনে করে বা স্বাধীনতার শর্তে বিয়ে করে এবং তাদের সন্তান জন্ম নেয়; তবে সেই সন্তান স্বাধীন হবে। সে (পিতা) দাসত্বমুক্ত হওয়ার পর সন্তানের জন্মের দিনের মূল্য দিয়ে তার মুক্তিপণ পরিশোধ করবে; কারণ এটি তার জিম্মায় (ذمة) সাব্যস্ত হয়েছে; যেমনটি ফকিহগণ নিকাহের শর্তাবলি অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো: যদি কোনো মনিব তার দাসের সাথে নিজের দাসীর বিয়ে দেন; তবে মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী দাসের মুক্তির পর মনিবকে মোহর (مهر) আদায় করতে হবে। ইমাম থেকে অন্য বর্ণনামতে: কোনো মোহর নেই। আবার অন্য বর্ণনামতে: মোহর ওয়াজিব হবে এবং পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে যাবে। তাঁরা এটি মোহর (صداق) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয় প্রকার: যা তার মনিবের জিম্মায় (ذمة) সংশ্লিষ্ট। এটি এমন ঋণ যা সে মনিবের অনুমতি নিয়ে গ্রহণ করেছে অথবা মনিব তাকে ঋণের ব্যাপারে সত্যায়ন করেছে। এটি মনিবের কাছে দাবি করা হবে।
তৃতীয় প্রকার: যা দাসের সত্তার (رقبة) সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি এমন ঋণ যা সে মনিবের অনুমতি ব্যতীত গ্রহণ করেছে অথবা যা তার ওপর অবধারিত হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بجناية؛ فهذا النوع يخير فيه السيد بين ثلاثة أمور:
الأول: أن يبيعه ويسلّم الثمن صاحب الدين.
الثاني: أن يفديه بأقل الأمرين من قيمته وجنايته.
الثالث: أن يسلّمه إلى ولي الجناية؛ فيملكه.
النوع الرابع: ما تعلق بكسبه، وذكروه في جناية الموقوف على غير معين خطأ.
الخامس: ما لا يجب في شيء من ذلك؛ بل في أمر خارج، وهو جناية المغصوب؛ فإنها تلزم الغاصب.
السادس: أن تكون هدراً، وهي جناية المغصوب على مال غاصبه أو نفسه في غير قوَدٍ.
فائدة
السائمة تفارق غيرها في أمور
الأول: تقدير أنصبائها ابتداء وانتهاء، ويتفرع على ذلك.
الثاني: أنه لاشيء في الوقص، وهو ما بين الفرضين، ويسمي العفو.
الثالث: أنه إذا فرقها مسافة قصر ولا فرار، فلكل مكان حكم منفرد: فلو فرق مائة وعشرين شاة في أربعة مواضع، بين كل واحد منها المسافة، فلا زكاة فيها. وإن فرقها في ثلاثةٍ كذلك: ففيها ثلاث شياه، وإن لم يفرقها كذلك كذلك: ففيها شاة واحدة.
الرابع: أن الخلطة تؤثر فيها، بخلاف غيرها.
فائدة
يختص كل نوع من أنواع السائمة بخصيصة
أما الإبل: فتختص بالجبران، وهو ما يدفع جبراً لنقصان السن عن الواجب إذا لم يكن في ماله، أو يؤخذ في مقابلة زيادة سن.
অপরাধের কারণে; এই প্রকারের ক্ষেত্রে মালিককে তিনটি বিষয়ের মধ্যে ইখতিয়ার বা পছন্দ করার সুযোগ দেওয়া হয়:
প্রথমত: সেটিকে (দাসকে) বিক্রয় করা এবং বিক্রয়লব্ধ মূল্য পাওনাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া।
দ্বিতীয়ত: তার মূল্য এবং অপরাধের ক্ষতিপূরণ—এই দুটির মধ্যে যেটি কম, তা প্রদান করে তাকে মুক্ত করা।
তৃতীয়ত: তাকে অপরাধের শিকার ব্যক্তির উত্তরাধিকারীর কাছে সোপর্দ করা; ফলে সে তার মালিকানায় চলে যাবে।
চতুর্থ প্রকার: যা দাসের উপার্জনের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর ফকীহগণ অনির্দিষ্ট ব্যক্তির অনুকূলে ওয়াকফকৃত দাসের অনিচ্ছাকৃত (خطأ) অপরাধের বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন।
পঞ্চম প্রকার: যাতে উপরোক্ত কোনো কিছুই আবশ্যক হয় না; বরং তা একটি স্বতন্ত্র বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো আত্মসাৎকৃত (مغصوب) সম্পদের অপরাধ; কারণ এর দায়ভার আত্মসাৎকারীর ওপর বর্তায়।
ষষ্ঠ প্রকার: যা বৃথা (هدر) হিসেবে গণ্য হয়, আর তা হলো কিসাস (قود) ব্যতিরেকে আত্মসাৎকৃত বস্তু কর্তৃক খোদ আত্মসাৎকারীর সম্পদ বা জীবনের ওপর কৃত অপরাধ।
জ্ঞাতব্য বিষয় (فائدة)
চারণভূমিতে বিচরণকারী গবাদি পশু (سائمة) কয়েকটি বিষয়ে অন্য পশু থেকে ভিন্নতর:
প্রথমত: শুরু এবং শেষ উভয় দিক থেকে এগুলোর নিসাব (أنصباء) নির্ধারণের ক্ষেত্রে, এবং এর থেকেই অন্যান্য আনুষঙ্গিক মাসআলা উৎসারিত হয়।
দ্বিতীয়ত: 'ওয়াকস' (وقص)-এর ক্ষেত্রে কোনো জাকাত নেই; আর তা হলো দুটি নির্ধারিত সীমার মধ্যবর্তী অংশ, যাকে অতিরিক্ত (عفو) বলা হয়।
তৃতীয়ত: যদি সেগুলোকে সফরের দূরত্বের (مسافة قصر) ব্যবধানে পৃথক রাখা হয় এবং জাকাত থেকে পলায়নের উদ্দেশ্য না থাকে, তবে প্রতিটি স্থানের জন্য স্বতন্ত্র বিধান প্রযোজ্য হবে: যেমন যদি একশ বিশটি ছাগলকে চারটি স্থানে পৃথক করে রাখা হয় এবং প্রত্যেকটির মাঝে উক্ত দূরত্ব বজায় থাকে, তবে তাতে কোনো জাকাত নেই। আর যদি একইভাবে তিনটি স্থানে পৃথক করা হয়, তবে তাতে তিনটি ছাগল জাকাত দিতে হবে। আর যদি সেভাবে পৃথক করা না হয়, তবে তাতে একটি ছাগল ওয়াজিব হবে।
চতুর্থত: এতে মিশ্রণ (خلطة) প্রভাব ফেলে, যা অন্য পশুর ক্ষেত্রে হয় না।
জ্ঞাতব্য বিষয় (فائدة)
চারণভূমিতে বিচরণকারী (سائمة) পশুর প্রত্যেকটি প্রকার বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
উটের ক্ষেত্রে: এটি ক্ষতিপূরণ (جبران)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট; আর তা হলো সেই বিনিময় যা ওয়াজিব হওয়া বয়সের চেয়ে কম বয়সের পশু দেওয়ার কারণে ঘাটতি পূরণে প্রদান করা হয়—যখন তার সম্পদের মধ্যে নির্দিষ্ট বয়সের পশু থাকে না; অথবা যা বয়সের আধিক্যের বিনিময়ে গ্রহণ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فلو دفع عن بنت مخاض بنت لبون: فله الجبران. وإن كان بالعكس: دفها ودفع الجبران، لكن لو دفع عما عليه سنا لا يجب مثله في الزكاة، كما لو دفع ثنية عن جذعة: فلا جبران.
وأما البقر: فتختص بإجزاء الذكر فيها في الثلاثين وما تكرر منها، ولو مع وجود الأنثى وأما الغنم: فتختص بأجزاء الصغار منها إذا كان النصاب كله صغاراً، أما الإبل والبقر: فقد قدر الشارع فيها أسنان الواجب، فلا نتعداه.
فائدة
الخلطة نوعان
الأول: خلطة أعيان؛ بأن تكون السائمة لاثنين فأكثر على وجه الشيوع.
الثاني: خلطة أوصاف، بأن يتميز ما لكل واحد، ويشتركان في خمسة أمور جمعت في قوله:
إن اتفاق فحل مسرح ومرعى ومحلب المراح خلْط قطعا
الأول: الاشتراك في الفحل بأن لا يختص بطرق أحد المالين إذا كانا من نوع.
الثاني: المسرح، وهو ما تجتمع فيه للذهاب إلى المرعى.
الثالث: المرعى، وهو موضع الرعي ووقته.
الرابع: المحلب، وهو موضع الحلب.
الخامس: المَراح، وهو المبيت والمأوى.
فائدة
شروط الخلطة نوعان
عامة، وخاصة:
فالعامة ستة:
যদি কেউ বিনতে মাখাদের (بنت مخاض) পরিবর্তে বিনতে লাবুন (بنت لبون) প্রদান করে, তবে সে ক্ষতিপূরণ (جبران) পাবে। আর যদি এর উল্টোটা হয়, তবে সে তা প্রদান করবে এবং সাথে ক্ষতিপূরণ (جبرান) প্রদান করবে। কিন্তু তার ওপর ওয়াজিব বয়সের চেয়ে এমন বয়সের পশু প্রদান করে যা জাকাতের ক্ষেত্রে সমপর্যায়ের হিসেবে ওয়াজিব নয়, যেমন জাযা’আ-র (جذعة) পরিবর্তে সানিয়্যাহ (ثنية) প্রদান করা, তবে কোনো ক্ষতিপূরণ (جبران) নেই।
আর গরুর ক্ষেত্রে বিশেষত্ব হলো, ৩০টি এবং এর গুণিতক সংখ্যার ক্ষেত্রে মদ্দা পশু প্রদান যথেষ্ট হবে, যদিও মাদী পশু বিদ্যমান থাকে। আর বকরির ক্ষেত্রে বিশেষত্ব হলো, যদি নিসাবভুক্ত (نصاب) সকল পশু ছোট হয়, তবে ছোটগুলো প্রদান করা যথেষ্ট হবে। কিন্তু উট ও গরুর ক্ষেত্রে শারী’আত প্রণেতা (الشارع) প্রদানের ওয়াজিব বয়স নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সুতরাং আমরা তা অতিক্রম করব না।
ফায়দা (فائدة)
সংমিশ্রণ (خلطة) দুই প্রকার
প্রথমত: স্বত্বগত সংমিশ্রণ (خلطة أعيান); অর্থাৎ চারণভূমিতে বিচরণকারী পশু (سائمة) দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মালিকানায় অবিভক্তভাবে (على وجه الشيوع) থাকা।
দ্বিতীয়ত: গুণগত সংমিশ্রণ (خلطة أوصاف); যাতে প্রত্যেকের মালিকানা পৃথক থাকে, কিন্তু পাঁচটি বিষয়ে তারা অংশীদার হয়, যা নিম্নোক্ত পঙক্তিতে একত্রিত করা হয়েছে:
নিশ্চয়ই প্রজননকারী মদ্দা পশু, পশু বের হওয়ার স্থান, চারণভূমি, দোহনস্থল এবং রাত্রিযাপনের স্থানের ঐক্য নিশ্চিতভাবেই সংমিশ্রণ (خلطة) বলে গণ্য।
প্রথম: প্রজননকারী মদ্দা পশুর (فحل) ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব; অর্থাৎ পশুগুলো একই প্রজাতির হলে প্রজননকারী মদ্দা পশুটি কোনো একজনের মালের জন্য নির্দিষ্ট হবে না।
দ্বিতীয়: পশু বের হওয়ার স্থান (مسرح), যেখানে পশুগুলো চারণভূমিতে যাওয়ার জন্য একত্রিত হয়।
তৃতীয়: চারণভূমি (مرعى), যা পশু চরাবার স্থান ও সময়।
চতুর্থ: দোহনস্থল (محلب), যা দুধ দোহন করার স্থান।
পঞ্চম: রাত্রিযাপনের স্থান (مراح), যা পশুদের রাত কাটানোর স্থান ও আশ্রয়স্থল।
ফায়দা (فائدة)
সংমিশ্রণের (خلطة) শর্তাবলি দুই প্রকার
সাধারণ এবং বিশেষ:
সাধারণ শর্তাবলি ছয়টি:
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الأول: أن تكون في ماشية؛ فلا أثر لها في غيرها على المذهب، ورجح الشيخ عبد العزيز بن باز تأثيرها في غيرها، قلت: وهذا أظهر؛ ولكن في الأموال الظاهرة فقط.
الثاني: أن يبلغ المجموع نصاباً.
الثالث: أن يكون الخلط بفعل مالك، وظاهر كلامهم: ولو مكرهاً، وقد صرحوا بصحته ولو مع جهل المالك، كما لو اختلطت بفعل راع ولم يعلم المالك.
الرابع: أن يستمر الخلط جميع الحول، فلو ثبت لأحدهما حكم الانفراد ولو في بعض الحول، انقطعت الخلطة، فلو مات الخليط في أثناء الحول، ابتدأ حولاً جديداً في الخلطة، فإذا تم حولها الأول، زكاها زكاة انفراد.
الخامس: أن يكون الخليطان من أهل وجوب الزكاة.
السادس: أن لا يكون فراراً.
أما الشروط الخاصة: فهي شروط خلطة الأوصاف، وقد تقدمت.
فائدة
أما نصاب الحبوب والثمار: فإنه أربعمائة وزنة، وإحدى وستين وزنة، ونصف وزنة، ووزن ريالين من الفرانسا، ويعتبر هذا الوزن بالبر الرزين؛ فيُجعل أوعيةً تسَع هذا المقدار، ثم يكيل بها.
وأما نصاب العسل: فست وأربعون وزنة، ووزن ثمانية أرْيِل فرانسية.
وأما نصاب الذهب: فإنه أحد عشر جنيهاً عربياً وثلاثة أسباع جنيه، أو
প্রথম: এটি গবাদি পশুর ক্ষেত্রে হতে হবে; মাযহাব (المذهب) অনুযায়ী অন্য কিছুর ক্ষেত্রে এর কোনো প্রভাব নেই। শেখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ অন্য কিছুর ক্ষেত্রেও এর প্রভাবকে অগ্রাধিকার (رجح) দিয়েছেন। আমি বলি: এটিই অধিকতর স্পষ্ট (أظهر); তবে তা শুধুমাত্র প্রকাশ্য সম্পদের (الأموال الظاهرة) ক্ষেত্রে।
দ্বিতীয়: মোট পরিমাণ নিসাব (نصاباً) পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে।
তৃতীয়: মিশ্রণটি (الخلط) মালিকের কাজের মাধ্যমে হতে হবে। তাদের বক্তব্যের বাহ্যিক মর্ম হলো: এমনকি বাধ্য (مكرهاً) করা হলেও তা কার্যকর হবে। তারা এর শুদ্ধতা (صحته) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন মালিকের অজ্ঞতা (جهل) সত্ত্বেও, যেমনটি ঘটে যদি কোনো রাখালের কাজের মাধ্যমে মিশ্রণ ঘটে এবং মালিক তা জানতে না পারে।
চতুর্থ: পূর্ণ বছর (الحول) জুড়ে মিশ্রণটি অব্যাহত থাকতে হবে। যদি বছরের কিছু অংশের জন্যও কোনো একজনের ক্ষেত্রে পৃথকত্বের (الانفراد) বিধান সাব্যস্ত হয়, তবে মিশ্রণটি (الخلطة) বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। যদি বছরের মাঝামাঝি সময়ে কোনো অংশীদার (الخليط) মারা যায়, তবে মিশ্রণের ক্ষেত্রে নতুন বছর (حولاً) শুরু হবে। যখন তার প্রথম বছর পূর্ণ হবে, তখন সে একক বা পৃথকভাবে যাকাত প্রদান করবে।
পঞ্চম: উভয় অংশীদার (الخليطان) যাকাত ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার যোগ্য হতে হবে।
ষষ্ঠ: এটি যেন যাকাত থেকে পলায়ন বা ফাঁকি দেওয়ার (فراراً) উদ্দেশ্যে না হয়।
বিশেষ শর্তাবলি সম্পর্কে: এগুলো হলো গুণগত মিশ্রণের (خلطة الأوصاف) শর্তাবলি, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
ফায়দা (فائدة)
শস্য ও ফলের নিসাব (نصاب) সম্পর্কে: এটি চারশত একষট্টি এবং অর্ধেক ওজন (وزنة), এবং দুই ফরাসি রিয়ালের ওজনের সমান। এই ওজনের ক্ষেত্রে ভারী মানের গম বিবেচনা করা হয়; এরপর এই পরিমাণ ধারণ করতে পারে এমন পাত্র তৈরি করা হয় এবং তা দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
আর মধুর নিসাবের (نصاب) ক্ষেত্রে: এটি ছেচল্লিশ ওজন (وزنة) এবং আট ফরাসি রিয়ালের ওজন।
আর স্বর্ণের নিসাব (نصاب) সম্পর্কে: এটি এগারো এবং সাত ভাগের তিন ভাগ সৌদি গিনি, অথবা
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وزن ذلك؛ فإن زنة الجنيه الواحد مثقالان إلا ربعاً (1) ، ولا غش فيه على ما ذكره الشيخ ابن باز نقلاً عن الخبراء بذلك.
وقيل: بل فيه غش ومقدار هذا المبلغ في الدراهم زنة ثمانية أريل عرية.
وأما نصاب الفضة: فهو من الفرانسي ثمانية وعشرون، ومن العربي اثنان وستون ريالاً وتُسْع ريال، لأن مقدار الغش في الأول: سدس، وفي الثاني: عشر، وزنة الأول بغشه: ستة مثاقيل، والثاني بغشه: مثقالان ونصف (2) .
فائدة
الحبوب إذا تلفت فلها ثلاث حالات
الأولى: أن يكون قبل وقت الوجوب؛ فلا زكاة فيها إلا أن تكون من فعل المالك فراراً.
الثانية: أن يكون بعد وقت الوجوب؛ وقبل الاستقرار، فإن كان بتفريطه، لزمته الزكاة؛ وإلا فلا.
الثالثة: أن يكون بعد الاستقرار؛ فلا تسقط الزكاة بحال.
فائدة
من الفروق بين الركاز وغيره
(أ) لا يشترط لوجوبه الإسلام؛ فيجب على الذمي إخراج ما وجب
--------------------------------------------
এর ওজন; কারণ একটি স্বর্ণমুদ্রার (জিনিহ) ওজন হলো পৌনে দুই মিসকাল (مثقال) (১), এবং বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ ইবনে বাজ যা উল্লেখ করেছেন সে অনুযায়ী এতে কোনো খাদ নেই।
আর বলা হয়েছে: বরং এতে খাদ রয়েছে এবং দিরহামের হিসেবে এই অর্থের পরিমাণ হলো আট ‘আরিয়াহ’ রিয়ালের ওজনের সমান।
আর রুপার নিসাব (نصاب) হলো: ফরাসি মুদ্রার হিসেবে আটাশ রিয়াল এবং আরবি মুদ্রার হিসেবে বাষট্টি এবং এক-নবমাংশ রিয়াল। কারণ প্রথমটিতে খাদের পরিমাণ হলো এক-ষষ্ঠাংশ এবং দ্বিতীয়টিতে এক-দশমাংশ। খাদসহ প্রথমটির ওজন হলো ছয় মিসকাল (مثقال) এবং খাদসহ দ্বিতীয়টির ওজন হলো আড়াই মিসকাল (مثقال) (২)।
জ্ঞাতব্য (فائدة)
শস্যদানা যদি নষ্ট হয়ে যায়, তবে তার তিনটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথম: ওয়াজিব (واجب) হওয়ার সময়ের আগে হওয়া; এমতাবস্থায় তাতে কোনো যাকাত নেই, যদি না মালিক যাকাত থেকে পলায়নের উদ্দেশ্যে এমনটি করে থাকে।
দ্বিতীয়: ওয়াজিব (واجب) হওয়ার সময়ের পরে কিন্তু (হক) সাব্যস্ত হওয়ার আগে হওয়া; এমতাবস্থায় যদি মালিকের অবহেলার কারণে হয়, তবে তার ওপর যাকাত আবশ্যক হবে; অন্যথায় নয়।
তৃতীয়: (হক) সাব্যস্ত হওয়ার পরে হওয়া; এমতাবস্থায় কোনোভাবেই যাকাত রহিত হবে না।
জ্ঞাতব্য (فائدة)
রিকাজ (ركاز) এবং অন্যান্যের মধ্যকার কিছু পার্থক্য:
(ক) এটি ওয়াজিব (واجب) হওয়ার জন্য ইসলাম (মুসলমান হওয়া) শর্ত নয়; সুতরাং যিম্মি (ذمي) ব্যক্তির ওপরও যা ওয়াজিব (واجب) হয় তা আদায় করা আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فيه.
(ب) لا يشترط فيه الحرية، فيجب على المكاتَب.
(ج) لا يشترط بلوغه نصاباً.
(د) أن الدّيْن لا يؤثر فيه ولو كان مستغرقاً.
(هـ) أنه يصرف في المصالح ما وجب فيه.
(و) أنه عام في جميع الأموال؛ وهذا فيه نظر؛ فإن المعدن مثله.
فائدة
الناس في صيام رمضان أقسام
الأول: من يلزمه أداءً، وهو المسلم، المكلف، القادر شرعاً وحساً.
الثاني: من يلزمه القضاء، وهو من قام به عجز حسي؛ كمرض، أو شرعي، كحيض، ونفاس، ومن مظنة الحسي السفر.
الثالث: من يلزمه الإطعام فقط، وهو الكبير، ومن به عجز لا يُرجى زواله.
الرابع: من يلزمه الإطعام والقضاء؛ وذلك في صورتين:
الأولى: إذا أفطرت الحامل أو المرضع خوفاً على الولد فقط؛ فعليهما القضاء، وعلى من يمون الولدَ الإطعامُ.
الثانية: إذا أخر قضاء رمضان إلى ما بعد رمضان آخر بلا عذر، فإن مات في هذه الحال، لم يلزم إلا إطعام واحد فقط على المذهب.
الخامس: من لا يلزمه شيء، وذلك إذا سافر أهل القسم الثالث؛ قاله الأصحاب؛ وفيه نظر ظاهر، وهو مخالف للكتاب والسنة، والصواب في ذلك: أن عليهم الإطعام فقط؛ كما لو لم يسافروا؛ هذا هو الحق بلا ريب، والله أعلم.
(খ) এতে স্বাধীন হওয়া শর্ত নয়, তাই মুকাতাব (المكاتب) অর্থাৎ মুক্তিপণ চুক্তিতে আবদ্ধ দাসের ওপরও এটি ওয়াজিব।
(গ) এটি নিসাব (نصاباً) পরিমাণ হওয়া শর্ত নয়।
(ঘ) ঋণ এতে কোনো প্রভাব ফেলবে না, যদিও তা সমুদয় সম্পদকে বেষ্টন করে থাকে।
(ঙ) এতে যা ওয়াজিব হয় তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
(চ) এটি সকল প্রকার সম্পদের ক্ষেত্রে সাধারণ বা ব্যাপক; তবে এ বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কেননা খনিজ সম্পদও (المعدن) এর অনুরূপ।
বিশেষ জ্ঞাতব্য
রমজানের সিয়াম পালনের ক্ষেত্রে মানুষ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত:
প্রথম: যাদের ওপর সিয়াম আদায় করা আবশ্যক; তারা হলেন—মুসলিম, শরয়ি দায়বদ্ধতাসম্পন্ন (المكلف) ব্যক্তি এবং শরিয়ত ও শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী সক্ষম ব্যক্তি।
দ্বিতীয়: যাদের ওপর কাজা (قضاء) করা আবশ্যক; তারা হলেন ওইসব ব্যক্তি যারা শারীরিক অক্ষমতার সম্মুখীন হন, যেমন—অসুস্থতা; অথবা শরিয়তগত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, যেমন—মাসিক (حيض) ও প্রসবোত্তর স্রাব (نفاس)। আর শারীরিক অক্ষমতার সম্ভাবনার আওতায় সফরও অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয়: যাদের ওপর কেবল খাদ্য প্রদান (إطعام) আবশ্যক; তারা হলেন—অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং এমন অক্ষম ব্যক্তি যার আরোগ্য লাভের আশা নেই।
চতুর্থ: যাদের ওপর খাদ্য প্রদান (إطعام) ও কাজা (قضاء) উভয়ই আবশ্যক; এটি দুটি অবস্থায় প্রযোজ্য:
প্রথম অবস্থা: গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী নারী যদি কেবল সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কায় সিয়াম ভঙ্গ করেন; তবে তাদের ওপর কাজা (قضاء) করা আবশ্যক এবং সন্তানের লালন-পালনের ব্যয় নির্বাহকারীর ওপর খাদ্য প্রদান করা আবশ্যক।
দ্বিতীয় অবস্থা: যদি কেউ কোনো ওজর ছাড়া রমজানের কাজা (قضاء) পরবর্তী রমজান পর্যন্ত বিলম্বিত করে এবং এই অবস্থায় মারা যায়; তবে মাযহাব অনুযায়ী কেবল খাদ্য প্রদানই আবশ্যক হবে।
পঞ্চম: যাদের ওপর কোনো কিছুই আবশ্যক নয়; সেটি হলো যখন তৃতীয় শ্রেণির ব্যক্তিগণ সফরে বের হন; ফকিহগণ এমনটিই বলেছেন। তবে এতে স্পষ্ট পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে এবং এটি কুরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী। এ ক্ষেত্রে সঠিক অভিমত হলো—তাদের ওপর কেবল খাদ্য প্রদান (إطعام) করা আবশ্যক; যেমনটি হতো যদি তারা সফর না করতেন। নিঃসন্দেহে এটিই সঠিক। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فائدة
فيمن ترك طوافاً واجباً
وتحت هذا صورتان:
الأولى: طواف الزيارة ولا يمكن سقوطه إلا لعذر مع شرط، وعلى من تركه الرجوع مطلقاً؛ وإلا لم يتم حجه.
ثم إن رجع قبل مسافة القصر، فلا شيء عليه، وإن رجع بعدها، لزمه أن يحرم بعمرة، فإذا فرغ منها، أتى به.
فإن قيل: كيف تصح العمرة مع أن بواقي الإحرام بالحج موجودة، كالمنع من النساء؟
قيل: إما أن تكون هذه مستثناة من كلامهم، وإما أن يقال- وهو الأحسن-: إنه الآن في إحرام ناقص، والممنوع إدخال العمرة على الحج إذا كان إحرامه كاملاً لم يحل من شيء، أما الآن: فقد تحلل التحلل الأول (1) ، وهذا الإيراد مبني على مقدمتين:
الأولى: أنه لا يصح إدخال العمرة على الحج.
الثانية: أنه بعد التحلل الأول يحرم.
وفي كل منها خلاف، ولكن المذهب التسليم فيهما؛ وعليه فيتوجه هذا الإيراد، والله أعلم.
الصورة الثانية: في طواف الوداع، وهو في لزوم الإحرام بالعمرة وعدمه؛ كطواف الزيارة: إن بلغ مسافة القصر ورجع، لزمه؛ وإلا فلا؛ كما صرح به في حاشيتي ((المنتقى)) .
أما في لزوم الرجوع: فإن كان قبل بلوغ المسافة، لزمه إن لم يشق،
--------------------------------------------
উপকারিতা
ওয়াজিব তাওয়াফ পরিত্যাগকারীর বিধান প্রসঙ্গে
এর অধীনে দুটি সুরত (অবস্থা) রয়েছে:
প্রথম: তাওয়াফে জিয়ারাহ; এবং শর্তসাপেক্ষে কোনো ওজর ব্যতীত এটি রহিত হওয়া সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি এটি পরিত্যাগ করবে, তার ওপর নিঃশর্তভাবে (মক্কায়) ফিরে আসা আবশ্যক; অন্যথায় তার হজ পূর্ণ হবে না।
অতঃপর সে যদি কসর (নামাজ সংক্ষেপ করার) দূরত্বের পূর্ব থেকে ফিরে আসে, তবে তার ওপর কোনো দায়ভার নেই। আর যদি সে উক্ত দূরত্বের পর থেকে ফিরে আসে, তবে তার জন্য উমরার ইহরাম বাঁধা আবশ্যক। অতঃপর তা থেকে ফারিগ (মুক্ত) হয়ে এই তাওয়াফটি আদায় করবে।
যদি প্রশ্ন করা হয়: হজের ইহরামের অবশিষ্টাংশ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও—যেমন স্ত্রীদের সাথে মেলামেশার নিষেধাজ্ঞা—উমরা কীভাবে সহিহ (صحيح) হতে পারে?
উত্তরে বলা হয়: হয় এটি ফকিহগণের সাধারণ বক্তব্যের একটি ব্যতিক্রম, অথবা বলা যেতে পারে—যা অধিকতর উত্তম—যে সে এখন একটি অসম্পূর্ণ ইহরাম অবস্থায় রয়েছে। আর হজের ওপর উমরা দাখিল করা তখনই নিষিদ্ধ যখন ইহরাম পূর্ণাঙ্গ থাকে এবং কোনো কিছু থেকেই হালাল হওয়া না ঘটে। কিন্তু বর্তমান ক্ষেত্রে, সে প্রথম তাহাল্লুল সম্পন্ন করেছে (১)। আর এই আপত্তিটি দুটি মুকাদ্দামা (প্রস্তাবনা)-র ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে:
প্রথম: হজের ওপর উমরা দাখিল করা সহিহ (صحيح) নয়।
দ্বিতীয়: প্রথম তাহাল্লুলের পর সে ইহরাম অবস্থাতেই থাকে।
এগুলোর প্রতিটিতেই মতভেদ রয়েছে, তবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত হলো উভয়টি মেনে নেওয়া; এর ওপর ভিত্তি করেই এই আপত্তিটি উত্থাপিত হয়। আল্লাহু আলাম (আল্লাহই সর্বজ্ঞ)।
দ্বিতীয় সুরত: তাওয়াফে বিদা প্রসঙ্গে; উমরার ইহরাম আবশ্যক হওয়া বা না হওয়ার ক্ষেত্রে এটি তাওয়াফে জিয়ারাহর মতোই: যদি সে কসর দূরত্বে পৌঁছে ফিরে আসে, তবে ইহরাম আবশ্যক হবে; অন্যথায় নয়; যেমনটি আল-মুনতাকা-র দুই হাশিয়া-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর ফিরে আসার আবশ্যকতা প্রসঙ্গে: যদি সে (কসর) দূরত্বে পৌঁছানোর আগে থাকে, তবে কষ্টসাধ্য না হলে ফিরে আসা তার ওপর আবশ্যক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فإن شق ولم يرجع، أو بلغ المسافة، فعليه دم، ولا يلزمه الرجوع.
فائدة
رجل نذر إن قدم فلان لأ تصدقن على بكر بدراهم، فقدم فلان، وأمهل الناذر حتى مات بكر قبل أن يعطيه الدراهم، فهل وجبت لورثته أو لا؟ وعلى الأول: هل يكفّر لفوات المحل أو لا؟ محل احتمال في الكل.
والذي يظهر لي- والله أعلم: أن الناذر:
إما أن يقصد نفع بكر المعين فقط: ففي هذه الحالة يكفر كفارة يمين فقط؛ لفوات المحل، ولا يعطي الورثة شيئاً لأنه لا يملكها بكر إلا بالقبض، وبعد ملكه لها تنقل للورثة ولم يحصل القبض، ويحتمل: أن يكفّر ويتصدق بها عنه إن قصد مطلق نفعه.
والحالة الثانية: أن يقصد التصدق بالدراهم المذكورة، إلا أنه ذكر بكراً على سبيل المثال، ففي هذه الحالة: يجب أن يعطي المبلغ أي إنسان كان بصفة بكر، وفي وجوب التكفير احتمالان عندي، والله أعلم.
فائدة
أحكام الصيد في الإحرام خمسة
الأولى: تملكه؛ فلا يصح إلا بإرثٍ ونحوه؛ كتنصّف صداق.
الثاني: قتله؛ فيحرُم إلا الصائل.
الثالث: ضمانه، فيجب حيث حرم قتله، إلا إذا تلف بفعل مصلحة فيه، كتخليصه من شبكة ونحوها فيموت، وهو ثلاثة أنواع:
الأول: ما يلزم ضمانه كاملاً، وله صورتان:
الأولى: أن ينفرد بقتله.
الثانية: أن يشاركه من لا ضمان عليه؛ كحلال.
النوع الثاني: ضمانُ مشاعٍ منه؛ وذلك فيما إذا شاركه من يلزمه
যদি তা কষ্টসাধ্য হয় এবং সে ফিরে না আসে, অথবা (নির্দিষ্ট) দূরত্ব অতিক্রম করে ফেলে, তবে তার ওপর দণ্ড বা দম (دم) আবশ্যক হবে, এবং তার জন্য ফিরে আসা বাধ্যতামূলক নয়।
ফায়দা
এক ব্যক্তি মানত (نذر) করল যে, যদি অমুক ব্যক্তি আসে তবে সে অবশ্যই বকরকে কিছু দিরহাম দান (تصدق) করবে। এরপর অমুক ব্যক্তি আসল, কিন্তু মানতকারী বিলম্ব করল যতক্ষণ না বকর তাকে দিরহাম দেওয়ার পূর্বেই মারা গেল। এখন প্রশ্ন হলো, এটি কি তার উত্তরাধিকারীদের জন্য ওয়াজিব হবে কি না? প্রথম সূরতের ক্ষেত্রে: প্রাপক না থাকার কারণে সে কি কাফফারা (كفارة) আদায় করবে কি না? সব ক্ষেত্রেই সম্ভাব্যতা বিদ্যমান।
আর আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয়—এবং আল্লাহই ভালো জানেন—নিশ্চয়ই মানতকারী:
হয় সে কেবল নির্দিষ্ট বকরের উপকারের ইচ্ছা করেছে: এই অবস্থায় সে প্রাপক না থাকার কারণে কেবল শপথের কাফফারা (كفارة يمين) প্রদান করবে। আর সে উত্তরাধিকারীদের কিছুই দিবে না; কারণ বকর কবজ (قبض) বা হস্তগত করা ছাড়া সেটির মালিক হতে পারে না। আর তার মালিকানা লাভের পরেই তা উত্তরাধিকারীদের নিকট স্থানান্তরিত হয়, অথচ এখানে কবজ সম্পন্ন হয়নি। তবে এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে: সে কাফফারা আদায় করবে এবং তার পক্ষ থেকে দান করবে যদি সে সাধারণ উপকারের উদ্দেশ্য করে থাকে।
আর দ্বিতীয় অবস্থা: সে উল্লিখিত দিরহামগুলো দান (تصدق) করার ইচ্ছা করেছে, কিন্তু বকরের নাম কেবল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই অবস্থায়: বকরের গুণসম্পন্ন যেকোনো মানুষকে উক্ত পরিমাণ অর্থ প্রদান করা ওয়াজিব। আর কাফফারা (تكفير) ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে আমার নিকট দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।
ফায়দা
ইহরাম অবস্থায় শিকার সংক্রান্ত বিধান পাঁচটি
প্রথমত: এর মালিকানা লাভ করা; যা উত্তরাধিকার বা অনুরূপ বিষয় যেমন মোহরানার অর্ধাংশ ব্যতীত বৈধ নয়।
দ্বিতীয়ত: তা হত্যা করা; যা হারাম (حرام), তবে আক্রমণকারী পশু ব্যতীত।
তৃতীয়ত: এর জরিমানা বা দামান (ضمان); যা হত্যা করা হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াজিব হয়। তবে যদি পশুর কল্যাণার্থে কোনো কাজ করতে গিয়ে তা ধ্বংস বা মারা যায়, যেমন জাল থেকে মুক্ত করতে গিয়ে মারা যাওয়া। এটি তিন প্রকার:
প্রথম প্রকার: যার পূর্ণ জরিমানা (ضمان) প্রদান করা আবশ্যক হয়। এর দুটি অবস্থা রয়েছে:
প্রথম অবস্থা: সে একাকী তা হত্যা করে।
দ্বিতীয় অবস্থা: তার সাথে এমন কেউ অংশগ্রহণ করে যার ওপর কোনো জরিমানা (ضمان) নেই; যেমন হালাল (حلال) ব্যক্তি।
দ্বিতীয় প্রকার: এর অবিভাজ্য অংশ বা অংশীদারিত্বমূলক জরিমানা (ضمان); আর তা হচ্ছে যখন তার সাথে এমন কেউ অংশগ্রহণ করে যার ওপরও তা আবশ্যক হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুনতাকা মিন ফারাইদিল ফাওয়াইদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الضمان، فالجزاء بحسب رؤوسهم، ومنه ما لو دلَّ واحدٌ وقتل آخر.
النوع الثالث: ضمانُ معينٍ منه، وهو فيما إذا صيد وذُبح لأجله، فيلزمه ضمان ما أكل منه فقط.
الحكم الرابع: في الأكل منه، وهو ثلاثة أنواع:
أولها: ما يحرُم الأكل منه مطلقاً، وهو ما باشر المحرِم قتله.
ثانيها: ما يحرُم على معين، وهو ما ذبح أو صيد للمحرِم، أو كان له أثر في صيده، فيحرم عليه دون غيره من المحلين والمحرمين.
ثالثها: ما يباح مطلقاً، وهو ما سوى ذلك.
الحكم الخامس: في ثبوت اليد عليه؛ فثبت يد المحرم الحُكمية وأما المشاهدة، فتجب إزالتها بإرساله.
فائدة
الأشياء التي يفرق بين ابتدائها واستدامتها في الإحرام خمسة
الأول: الطيب؛ فيستحب عند الإحرام في بدنه، ويكره في ثوبه، ويحرم بعده فيهما.
الثاني: خضاب الأنثى يستحب عند الإحرام، ويكره بعده.
الثالث: عقد النكاح محرَّم بعده دون الرجعة؛ لأنها استدامة نكاح.
الرابع: الصيد ابتداءُ تملّكه محرم في غير الإرث ونحوه، واستدامته جائزة.
الخامس: الكحل بالأسود وبالإثمد للزينة مكروهة بعد الإحرام، دون استدامتها، والله أعلم.
فائدة
الفدية نوعان
أحدهما: فدية ترتيب، ولا إطعام فيها، وهي سبعة أنواع:
দায়বদ্ধতা (ضمان), এক্ষেত্রে বিনিময় হবে তাদের ব্যক্তির সংখ্যা অনুযায়ী। এর অন্তর্ভুক্ত ঐ বিষয়, যেখানে একজন পথপ্রদর্শন করেছে এবং অন্যজন শিকার হত্যা করেছে।
তৃতীয় প্রকার: নির্দিষ্ট বিষয়ের দায়বদ্ধতা (ضمان), আর এটি ঐ ক্ষেত্রে যখন কোনো পশু মুহরিমের জন্য শিকার ও জবেহ করা হয়; এমতাবস্থায় তার ওপর কেবল ঐটুকুর দায়বদ্ধতা (ضمان) আবশ্যক হবে যা থেকে সে আহার করেছে।
চতুর্থ বিধান: তা থেকে আহার করা প্রসঙ্গে, আর এটি তিন প্রকার:
প্রথমত: যা থেকে আহার করা সাধারণভাবে নিষিদ্ধ (محرم), আর তা হলো ঐ শিকার যা মুহরিম নিজে সরাসরি হত্যা করেছে।
দ্বিতীয়ত: যা নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য নিষিদ্ধ (محرم), আর তা হলো যা মুহরিমের জন্য জবেহ বা শিকার করা হয়েছে, অথবা শিকারের ক্ষেত্রে যার কোনো ভূমিকা ছিল; এমতাবস্থায় এটি কেবল তার জন্যই নিষিদ্ধ (محرم), অন্য কোনো হালাল ব্যক্তি বা অন্যান্য মুহরিমদের জন্য নয়।
তৃতীয়ত: যা সাধারণভাবে বৈধ (مباح), আর তা হলো উপরোক্ত বিষয়গুলো ব্যতীত অন্য সব।
পঞ্চম বিধান: শিকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা অধিকার সাব্যস্ত হওয়া প্রসঙ্গে; মুহরিমের জন্য হুকমি (আইনগত) নিয়ন্ত্রণ সাব্যস্ত হয়, তবে চাক্ষুষ বা প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শিকারটিকে মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে তা দূর করা আবশ্যক।
ফায়দা (فائدة)
ইহরামের ক্ষেত্রে শুরু করা এবং অব্যাহত রাখার মধ্যে পার্থক্য করা হয় এমন বিষয় পাঁচটি:
প্রথম: সুগন্ধি; ইহরামের সময় শরীরে ব্যবহার করা মুস্তাহাব (مستحب), কাপড়ে ব্যবহার করা মাকরুহ (مكروه), আর ইহরাম গ্রহণের পর শরীর ও কাপড় উভয় ক্ষেত্রেই তা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ (محرم)।
দ্বিতীয়: নারীর জন্য খিযাব (মেহেদি বা রঙ) ব্যবহার করা ইহরামের সময় মুস্তাহাব (مستحب) এবং ইহরামের পর মাকরুহ (مكروه)।
তৃতীয়: বিয়ের আকদ করা ইহরামের পর নিষিদ্ধ (محرم), তবে রাজআত (তালাকের পর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা) নিষিদ্ধ নয়; কারণ এটি বিদ্যমান বিবাহকে অব্যাহত রাখার অন্তর্ভুক্ত।
চতুর্থ: শিকার; উত্তরাধিকার বা এই জাতীয় ক্ষেত্র ব্যতীত নতুন করে শিকারের মালিকানা গ্রহণ করা নিষিদ্ধ (محرم), তবে পূর্বের মালিকানা অব্যাহত রাখা বৈধ (جائز)।
পঞ্চম: সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে কালো সুরমা বা ইসমিদ সুরমা ব্যবহার করা ইহরামের পর মাকরুহ (مكروه), তবে তা অব্যাহত রাখা (আগে থেকে লাগানো থাকলে) মাকরুহ নয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
ফায়দা (فائدة)
ফিদইয়া দুই প্রকার:
একটি হলো: ক্রমবিন্যাসযোগ্য ফিদইয়া, যাতে খাদ্য প্রদানের বিধান নেই এবং এটি সাত প্রকার: