(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: -)
الإبداع في بيان كمال الشرع وخطر الابتداع القسم: كتب عامة
الكتاب: الإبداع في بيان كمال الشرع وخطر الابتداع
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: طبع على نفقة فاعل خير، بموجب تصريح من وزارة الإعلام بجدة
عام النشر: 1410 هـ
عدد الصفحات: 26
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শরীয়তের পূর্ণতা এবং নব উদ্ভাবনের (الابتداع) ভয়াবহতা বর্ণনায় চমৎকারিত্ব বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি
গ্রন্থ: শরীয়তের পূর্ণতা এবং নব উদ্ভাবনের (الابتداع) ভয়াবহতা বর্ণনায় চমৎকারিত্ব
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালিহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমিন (মৃত ১৪২১ হি.)
প্রকাশক: একজন কল্যাণকামীর অর্থায়নে মুদ্রিত, জেদ্দার তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র অনুযায়ী
প্রকাশকাল: ১৪১০ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ করা হয়েছে]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أرسله الله تعالى بالهدى ودين الحق فبلغ الرسالة وأدى الأمانة، ونصح الأمة وجاهد في الله حق جهاده حتى أتاه اليقين، وترك أمته على محجة بيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك؛ بيّن فيها ما تحتاجه الأمة في جميع شئونها حتى قال أبو ذر رضي الله عنه: «ما ترك النبي صلى الله عليه وسلم طائراً يقلب جناحيه في السماء إلا ذكر لنا منه علماً» (1) . وقال رجل من المشركين لسلمان الفارسي رضي الله عنه: علمكم نبيكم حتى الخراة ـ آداب قضاء الحاجة ـ قال: «نعم، لقد نهانا أن نستقبل القبلة بغائط أو بول أو أن نستنجي بأقل من ثلاثة أحجار، أو أن نستنجي باليمين أو أن نستنجي برجيع أو عظم» (2) .
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তাওবা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল। আল্লাহ তাআলা তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন; অতঃপর তিনি রিসালাত (الرسالة) পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত (الأمانة) আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন যতক্ষণ না তাঁর নিকট সুনিশ্চিত মৃত্যু (اليقين) এসেছে। তিনি তাঁর উম্মতকে এক শুভ্র উজ্জ্বল পথের (محجة بيضاء) ওপর রেখে গেছেন যার রাতও দিনের মতো উজ্জ্বল; ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। তিনি এতে উম্মতের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, এমনকি আবু যার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশে ডানা ঝাপটানো এমন কোনো পাখিও বাদ দেননি যার সম্পর্কে তিনি আমাদের নিকট কোনো জ্ঞান (علماً) বর্ণনা করেননি।" (১)। জনৈক মুশরিক সালমান আল-ফারসি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিল: "তোমাদের নবী তোমাদের সব কিছু শিখিয়েছেন, এমনকি মলত্যাগের (الخراة) — অর্থাৎ শৌচকার্যের — আদব পর্যন্ত।" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তিনি আমাদের মলত্যাগ বা প্রস্রাবের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করেছেন, অথবা তিনটির কম পাথর দিয়ে শৌচকার্য করতে, অথবা ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য করতে, অথবা গোবর বা হাড় দিয়ে শৌচকার্য করতে নিষেধ করেছেন।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ৫)
* وإنك لترى هذا القرآن العظيم قد بين الله تعالى فيه أصول الدين وفروع الدين فبين التوحيد بجيمع أنواعه، وبين حتى آداب المجالس والاستئذان، قال تعالى: {يأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ إِذَا قِيلَ لَكُمْ تَفَسَّحُواْ في الْمَجَالِسِ فَافْسَحُواْ يَفْسَحِ اللَّهُ لَكُمْ} (المجادلة 11) . وقال تعالى: {يأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ لَا تَدْخُلُواْ بُيُوتاً غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَى أَهْلِهَا ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ * فَإِن لَّمْ تَجِدُواْ فِيهَآ أَحَداً فَلَا تَدْخُلُوهَا حَتَّى يُؤْذَنَ لَكُمُ وَإِن قِيلَ لَكُمْ ارْجِعُواْ فَارْجِعُواْ هُوَ أَزْكَى لَكُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} (النور 27-28) . حتى آداب اللباس قال الله تعالى: {وَالْقَوَاعِدُ مِنَ النِّسَآءِ الَّلَاتِى لَا يَرْجُونَ نِكَاحاً فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَن يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتِ بِزِينَةٍ} (النور 60) .
* নিশ্চয়ই আপনি দেখবেন যে, এই মহান কুরআনে আল্লাহ তাআলা দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) এবং দ্বীনের শাখা-প্রশাখা (فروع الدين) বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে তাওহিদ (التوحيد)-এর সকল প্রকার বর্ণনা করেছেন, এমনকি মজলিসের আদব ও অনুমতি গ্রহণের (استئذان) শিষ্টাচারও বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের বলা হয়, ‘মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও’, তখন তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দিও; আল্লাহ তোমাদের জন্য প্রশস্ত করে দেবেন} (আল-মুজাদালা ১১) । আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কোনো ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি গ্রহণ করো এবং এর বাসিন্দাদের সালাম দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। আর যদি তোমরা সেখানে কাউকে না পাও, তবে তাতে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না তোমাদের অনুমতি দেওয়া হয়। আর যদি তোমাদের বলা হয়, ‘ফিরে যাও’, তবে তোমরা ফিরে যাবে; এটা তোমাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সর্বজ্ঞ} (আন-নূর ২৭-২৮) । এমনকি পোশাক-পরিচ্ছদের আদব সম্পর্কেও আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর অতি বৃদ্ধা নারী যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য নিজেদের (অতিরিক্ত) বস্ত্র সরিয়ে রাখলে কোনো গুনাহ নেই, তবে শর্ত হলো তারা যেন সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে} (আন-নূর ৬০) ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ৬)
{يأَيُّهَا النَّبِىُّ قُل لَاِزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَآءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ ذلِكَ أَدْنَى أَن يُعْرَفْنَ فَلَا يُؤْذَيْنَ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوراً رَّحِيماً} (الاحزاب 59) . {وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ} (النور 31) .
{وَلَيْسَ الْبِرُّ بِأَن تَأْتُواْ الْبُيُوتَ مِن ظُهُورِهَا وَلَكِنَّ الْبِرَّ مَنِ اتَّقَى وَأْتُواْ الْبُيُوتَ مِنْ أَبْوَابِهَا} (البقرة 189) إلى غير ذلك من الايات الكثيرة التي يتبين بها أن هذا الدين شامل كامل لا يحتاج إلى زيادة كما أنه لا يجوز فيه النقص، ولهذا قال الله تعالى في وصف القرآن: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَبَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شيء} (النحل 89) ، فما من شيء يحتاج الناس إليه في معادهم ومعاشهم إلا بينه الله تعالى في كتابه إما نصّاً أو إيماء وإما منطوقاً وإما مفهوماً.
{হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এটিই অধিকতর উপযোগী যে তাদের চেনা যাবে, ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} (আল-আহযাব ৫৯)। {আর তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদবিক্ষেপ না করে।} (আন-নূর ৩১)।
{আর ঘরের পিছন দিক দিয়ে তোমাদের প্রবেশ করায় কোনো পুণ্য নেই; বরং পুণ্য হলো যে তাকওয়া অবলম্বন করে। আর তোমরা ঘরে তার দরজা দিয়ে প্রবেশ করো।} (আল-বাকারাহ ১৮৯) —এমন আরও বহু আয়াত রয়েছে যার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই দ্বীন সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ; এতে কোনো নতুন সংযোজনের প্রয়োজন নেই, যেমন এতে কোনো বিয়োজনও বৈধ নয়। আর এই কারণেই মহান আল্লাহ কুরআনের বর্ণনায় বলেছেন: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি সবকিছু সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য।} (আন-নাহল ৮৯)। সুতরাং মানুষের পরকাল ও ইহকালের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে তা বর্ণনা করেছেন—তা সুস্পষ্ট পাঠ (نصاً) বা ইঙ্গিত (إيماء) আকারে হোক, কিংবা সরাসরি বক্তব্য (منطوقاً) বা উদ্দিষ্ট মর্ম (مفهوماً) আকারে হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ৭)
* أيها الأخوة: إن بعض الناس يفسر قول الله تعالى: {وَمَا مِن دَآبَّةٍ في الَاْرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَاّ أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ مَّا فَرَّطْنَا في الكِتَبِ مِن شيء} (الأنعام 38) . يفسر قوله: {مَّا فَرَّطْنَا في الكِتَابِ مِن شيء} على أن الكتاب القرآن، والصواب أن المراد بالكتاب هنا اللوح المحفوظ. وأما القرآن فإن الله تعالى وصفه بأبلغ من النفي وهو قوله: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَبَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شيء} فهذا أبلغ وأبين من قوله: {مَّا فَرَّطْنَا في الكِتَابِ مِن شيء ثُمَّ إِلَى رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ} . ولعل قائلاً يقول أين نجد أعداد الصلوات الخمس في القرآن؟ وعدد كل صلاة في القرآن؟ وكيف يستقيم أننا لا نجد في القرآن بيان أعداد ركعات كل صلاة والله يقول: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَبَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شيء} ؟
والجواب على ذلك أن الله تعالى بين لنا في كتابه أنه من الواجب علينا أن نأخذ بما قاله الرسول صلى الله عليه وسلم وبما
হে ভ্রাতৃবৃন্দ! নিশ্চয়ই কিছু মানুষ মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যা করে: {আর জমিনে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই এবং এমন কোনো পাখি নেই যা তার দুই ডানা দিয়ে ওড়ে, যারা তোমাদের মতো উম্মত নয়। আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি} (আল-আনআম ৩৮)। তারা তাঁর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি}-এর ব্যাখ্যায় বলে যে, এখানে ‘কিতাব’ দ্বারা কুরআনকে বোঝানো হয়েছে। অথচ সঠিক বিষয় হলো, এখানে ‘কিতাব’ দ্বারা ‘লওহে মাহফুজ’ উদ্দেশ্য। আর কুরআনের বর্ণনায় মহান আল্লাহ একে না-বোধক বাক্যের চেয়েও অধিকতর অলঙ্কারপূর্ণ বিশেষণে বিশেষিত করেছেন, যা হলো তাঁর বাণী: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা।} সুতরাং এটি তাঁর বাণী: {আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি, অতঃপর তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের নিকট সমবেত করা হবে}-এর চেয়েও অধিকতর প্রাঞ্জল ও সুস্পষ্ট। হয়তো কোনো প্রশ্নকারী বলতে পারেন, আমরা কুরআনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সংখ্যা কোথায় পাব? এবং প্রতিটি সালাতের রাকাত সংখ্যার বিবরণ কুরআনের কোথায়? কুরআনে যখন প্রতিটি সালাতের রাকাত সংখ্যার বর্ণনা পাওয়া যায় না, তখন বিষয়টি কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যেখানে আল্লাহ তাআলা বলছেন: {আর আমি আপনার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা}?
এর উত্তর হলো, মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন এবং যা... তা গ্রহণ করা আমাদের জন্য ওয়াজিব (واجب)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ৮)
دلنا عليه {مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَن تَوَلَّى فَمَآ أَرْسَلْنَكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظاً} (النساء 80) ، {وَمَآءَاتَكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُواْ وَاتَّقُواْ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} (الحشر 7) ، فما بينته السنة فإن القرآن قد دل عليه لأن السنة أحد قسمي الوحي الذي أنزله الله على رسوله وعلّمه إياه كما قال الله تعالى: {وَأَنزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيماً} (النساء 113) ، وعلى هذا فما جاء في السنة فقد جاء في كتاب الله عز وجل.
* أيها الأخوة: إذا تقرر ذلك عندكم فهل النبي صلى الله عليه وسلم توفي وقد بقي شيء من الدين المقرب إلى الله تعالى لم يبيّنه؟
أبداً فالنبي عليه الصلاة والسلام بين كل الدِّين إما بقوله، وإما بفعله، وإما بإقراره إما ابتداءاً أو جواباً عن سؤال، وأحياناً يبعث الله أعرابياً من أقصى البادية
আল্লাহ তাআলা আমাদের এর প্রতি পথনির্দেশ করেছেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হলো, আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে প্রেরণ করিনি} (নিসা ৮০), {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ শাস্তিদানে অত্যন্ত কঠোর} (হাশর ৭)। সুতরাং সুন্নাহ যা বর্ণনা করেছে, কুরআন মূলত সেদিকেই নির্দেশ করেছে। কারণ সুন্নাহ হলো ওহীর দুই প্রকারের মধ্যে একটি, যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের ওপর অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আর আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান} (নিসা ১১৩)। এ হিসেবে সুন্নাহতে যা এসেছে, তা মূলত মহান আল্লাহর কিতাবেই এসেছে।
* হে ভ্রাতৃবৃন্দ: যদি বিষয়টি আপনাদের নিকট সুনিশ্চিত হয়ে থাকে, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি এমন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন যে, আল্লাহর নৈকট্যদানকারী দ্বীনের কোনো বিষয় তিনি বর্ণনা করা বাকি রেখেছেন?
কখনোই নয়; বরং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সমগ্র দ্বীনকে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন—হয় তাঁর বাণী (قول), না হয় তাঁর কর্ম (فعل), আর না হয় তাঁর মৌনসম্মতি (إقرار)-এর মাধ্যমে; চাই তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হোক কিংবা কোনো প্রশ্নের জবাবে। কখনো কখনো আল্লাহ তাআলা মরুভূমির দূরপ্রান্ত থেকে কোনো এক গ্রাম্য বেদুইনকে পাঠিয়ে দিতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ৯)
ليأتي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يسأله عن شيء من أمور الدين لا يسأله عنه الصحابة الملازمون لرسول الله صلى الله عليه وسلم ولهذا كانوا يفرحون أن يأتي أعرابي يسأل النبي صلى الله عليه وسلم عن بعض المسائل. ويدلك على أن النبي صلى الله عليه وسلم ما ترك شيئاً مما يحتاجه الناس في عبادتهم ومعاملتهم وعيشهم إلا بينه يدلك على ذلك قوله تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نعمتي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسلام دِيناً} (المائدة 3) .
* إذا تقرر ذلك عندك أيها المسلم فاعلم أن كل من ابتدع شريعة في دين الله ولو بقصد حسن فإن بدعته هذه مع كونها ضلالة تعتبر طعناً في دين الله عز وجل، تعتبر تكذيباً لله تعالى في قوله: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} لأن هذا المبتدع الذي ابتدع شريعة في دين الله تعالى وليست في دين الله تعالى كأنه يقول بلسان الحال إن الدين لم يكمل لأنه قد بقي عليه هذه
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট দ্বীনের এমন কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করার জন্য (লোকেরা) আসত, যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সার্বক্ষণিক সঙ্গী সাহাবীগণ (الصحابة) তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন না। এই কারণে তাঁরা (সাহাবীগণ) আনন্দিত হতেন যে, কোনো গ্রাম্য লোক এসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কিছু বিষয়ে প্রশ্ন করুক। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের ইবাদত, পারস্পরিক লেনদেন এবং জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় এমন কোনো বিষয়ই স্পষ্টভাবে বর্ণনা না করে বাদ দেননি—এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (আল-মায়িদাহ: ৩)।
* হে মুসলিম! এই বিষয়টি যখন আপনার নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, তখন জেনে রাখুন যে, যে ব্যক্তিই আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে নতুন কোনো শরীয়ত (شريعة) উদ্ভাবন (بدعة) করবে—যদিও তা ভালো উদ্দেশ্যে হয়—তবে তার এই উদ্ভাবনটি (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة) হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র দ্বীনের ওপর একটি অপবাদ হিসেবে গণ্য হবে। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি মিথ্যা প্রতিপন্ন করার শামিল যেখানে তিনি বলেছেন: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম”। কারণ, এই উদ্ভাবনকারী ব্যক্তি যে আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এমন এক বিধান উদ্ভাবন করল যা আল্লাহর দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, সে যেন তার অবস্থার দ্বারা এই কথাই বলছে যে—দ্বীন পূর্ণাঙ্গ হয়নি, কারণ এতে এখনও এমন কিছু বিষয় বাকি রয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১০)
الشريعة التي ابتدعها يتقرب بها إلى الله عز وجل. ومن عجب أن يبتدع الإنسان بدعة تتعلق بذات الله عز وجل وأسمائه وصفاته ثم يقول إنه في ذلك معظم لربه، إنه في ذلك منزه لربه، إنه في ذلك ممتثل لقوله تعالى: {فَلَا تَجْعَلُواْ للَّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ} (البقرة 22) ، إنك لتعجب من هذا أن يبتدع هذه البدعة في دين الله المتعلقة بذات الله التي ليس عليها سلف الأمة ولا أئمتها ثم يقول إنه هو المنزه لله وإنه هو المعظم لله وإنه هو الممتثل لقول الله تعالى: {فَلَا تَجْعَلُواْ للَّهِ أَندَاداً} وأن من خالف ذلك فهو ممثل مشبه أو نحو ذلك من ألقاب السوء.
كما أنك لتعجب من قوم يبتدعون في دين الله ما ليس منه فيما يتعلق برسول الله صلى الله عليه وسلم ويدعون بذلك أنهم هم المحبون لرسول الله صلى الله عليه وسلم وأنهم المعظمون لرسول الله صلى الله عليه وسلم وأن من لم يوافقهم في بدعتهم هذه فإنه مبغض لرسول الله صلى الله عليه وسلم إلى غير ذلك من ألقاب
সেই শরিয়ত যা সে উদ্ভাবন করেছে যার মাধ্যমে সে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায়। আর এটি বড়ই বিস্ময়কর যে, মানুষ আল্লাহর সত্তা, তাঁর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলি সংক্রান্ত কোনো বিদআত (بدعة) উদ্ভাবন করে আর দাবি করে যে এর মাধ্যমে সে তার প্রতিপালককে সম্মান প্রদর্শন করছে, তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছে এবং আল্লাহর এই বাণীর প্রতি সে অনুগত: {অতএব তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ নির্ধারণ করো না} (আল-বাকারাহ: ২২)। আপনি এতে অবশ্যই বিস্মিত হবেন যে, আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে আল্লাহর সত্তা সম্পর্কিত এমন এক বিদআত (بدعة) সে উদ্ভাবন করে যার ওপর এই উম্মতের পূর্বসূরি (سلف) ও ইমামগণ ছিলেন না, অথচ সে বলে যে সে-ই আল্লাহকে পবিত্রকারী, সে-ই আল্লাহকে সম্মানকারী এবং সে-ই আল্লাহর এই বাণীর অনুসারী: {অতএব তোমরা আল্লাহর জন্য কোনো সমকক্ষ স্থির করো না}। পক্ষান্তরে যারা এর বিরোধিতা করে, তাদের সে উপমাকারী (ممثل), সাদৃশ্যদানকারী (مشبه) বা এ জাতীয় বিভিন্ন মন্দ উপাধিতে ভূষিত করে।
অনুরূপভাবে আপনি এমন এক সম্প্রদায়ের প্রতি বিস্মিত হবেন যারা আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কিত এমন সব বিষয় উদ্ভাবন করে যা দ্বীনের অংশ নয়, অথচ তারা এর মাধ্যমে দাবি করে যে তারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রকৃত প্রেমিক এবং তারাই তাঁর প্রকৃত সম্মানকারী। আর যে ব্যক্তি তাদের এই বিদআতের (بدعة) সাথে একমত হয় না, তাকে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীসহ বিভিন্ন মন্দ উপাধিতে ভূষিত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১১)
السوء التي يلقبون بها من لم يوافقهم على بدعتهم فيما يتعلق برسول الله صلى الله عليه وسلم.
ومن العجب أن مثل هؤلاء يقولون نحن المعظمون لله ولرسوله، وهم إذا ابتدعوا في دين الله وفي شريعته التي جاء بها رسوله صلى الله عليه وسلم ما ليس منها فإنهم بلا شك متقدمون بين يدي الله ورسوله وقد قال الله تعالى: {يأَيُّهَا الَّذِينَءَامَنُواْ لَا تُقَدِّمُواْ بَيْنَ يدي اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَاتَّقُواْ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ} (الحجرات 10) .
* أيها الأخوة: إني سائلكم ومناشدكم بالله عز وجل وأريد منكم أن يكون الجواب من ضمائركم لا من عواطفكم، من مقتضى دينكم لا من مقتضى تقليدكم. ما تقولون فيمن يبتدعون في دين الله ما ليس منه سواء فيما يتعلق بذات الله وصفات الله وأسماء الله، أو فيما يتعلق برسول الله صلى الله عليه وسلم ثم يقولون نحن المعظمون لله ولرسول الله أهؤلاء أحق بأن يكونوا معظمين لله ولرسول الله؟ أم أولئك القوم الذين لا
...সেই মন্দ উপাধিগুলো, যার মাধ্যমে তারা ঐ ব্যক্তিকে ভূষিত করে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সংশ্লিষ্ট তাদের নব-উদ্ভাবিত বিষয়ে (بدعة) তাদের সাথে একমত হয় না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই শ্রেণির লোকেরা বলে যে আমরাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রকৃত সম্মানকারী। অথচ তারা যখন আল্লাহর দ্বীনে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনীত শরীয়তের মধ্যে এমন বিষয়ের উদ্ভাবন (ابتدعوا) করে যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তখন নিঃসন্দেহে তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হয়ে যায়। অথচ মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অগ্রবর্তী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।} (আল-হুজুরাত ১০)।
* হে ভ্রাতৃমণ্ডলী: আমি আপনাদের নিকট জিজ্ঞাসা করছি এবং মহান আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আমি চাই আপনাদের উত্তর যেন আপনাদের বিবেক থেকে আসে, আবেগ থেকে নয়; আপনাদের দ্বীনের দাবি অনুযায়ী হোক, অন্ধ অনুকরণের (تقليد) বশবর্তী হয়ে নয়। যারা আল্লাহর দ্বীনে এমন সব বিষয়ের উদ্ভাবন (يبتدعون) করে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়—চাই তা আল্লাহর সত্তা, আল্লাহর গুণাবলি (صفات) ও নামসমূহ (أسماء) সংক্রান্ত হোক অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হোক—অতঃপর তারা বলে যে আমরাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সম্মানকারী; তাদের ব্যাপারে আপনাদের অভিমত কী? এরাই কি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকারী হওয়ার অধিক যোগ্য? নাকি ঐ সকল লোক যারা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১২)
يحيدون قيد أنملة عن شريعة الله، يقولون فيما جاء من الشريعة آمنا وصدقنا فيما أخبرنا به وسمعنا وأطعنا فيما أمرنا به أو نهينا عنه، ويقولون فيما لم تأت به الشريعة أحجمنا وانتهينا وليس لنا أن نتقدم بين يدي الله ورسوله، وليس لنا أن نقول في دين الله ما ليس منه. أيهما أحق أن يكون محبّاً لله ورسوله ومعظماً لله ورسوله؟ لا شك أن الذين قالوا آمنا وصدقنا فيما أخبرنا به وسمعنا وأطعنا فيما أمرنا به، وقالوا كففنا وانتهينا عما لم نؤمر به، وقالوا نحن أقل قدراً في نفوسنا من أن نجعل في شريعة الله ما ليس منها، أو أن نبتدع في دين الله ما ليس منه؛ لا شك أن هؤلاء هم الذين عرفوا قدر أنفسهم وعرفوا قدر خالقهم، هؤلاء هم الذين عظموا الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم وهم الذين أظهروا صدق محبتهم لله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم.
لا أولئك الذين يبتدعون في دين الله ما ليس منه في العقيدة أو القول أو العمل، وإنك لتعجب من قوم يعرفون قول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إياكم ومحدثات الأمور
তারা আল্লাহর শরীয়ত থেকে এক চুল পরিমাণও বিচ্যুত হয় না। শরীয়তের যেসব বিষয় এসেছে সেগুলোর ব্যাপারে তারা বলে, 'আমরা ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে তা সত্য বলে মেনে নিয়েছি, আর যা আমাদের আদেশ করা হয়েছে বা যা থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে তা আমরা শুনেছি ও আনুগত্য করেছি।' আর শরীয়ত যা নিয়ে আসেনি সে বিষয়ে তারা বলে, 'আমরা বিরত থেকেছি ও নিবৃত্ত হয়েছি; আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তের আগে অগ্রবর্তী হওয়া আমাদের সাজে না, আর আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু বলা আমাদের জন্য সমীচীন নয় যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়।' আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা এবং সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এই দুই দলের মধ্যে কারা অধিক হকদার? কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা বলেছে, 'আমরা ঈমান এনেছি এবং যা আমাদের সংবাদ দেওয়া হয়েছে তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছি এবং যা আমাদের আদেশ করা হয়েছে তা শুনেছি ও আনুগত্য করেছি'; এবং তারা বলেছে, 'যা আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়নি তা থেকে আমরা নিবৃত্ত থেকেছি ও ক্ষান্ত হয়েছি'; এবং তারা বলেছে, 'আমরা নিজেদের দৃষ্টিতে এতটাই নগণ্য যে আল্লাহর শরীয়তের মধ্যে এমন কিছু সাব্যস্ত করব না যা তার অংশ নয়, অথবা আল্লাহর দ্বীনে এমন কিছুর উদ্ভাবন (بدعة) করব না যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়'; কোনো সন্দেহ নেই যে, এরাই তারা যারা নিজেদের মর্যাদা চিনেছে এবং তাদের স্রষ্টার মর্যাদা অনুধাবন করেছে। এরাই আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেছে এবং তারাই আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাদের ভালোবাসার সত্যতা প্রকাশ করেছে।
পক্ষান্তরে তারা নয় যারা আকিদা (عقيدة), কথা বা কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর দ্বীনে এমন কিছুর উদ্ভাবন (بدعة) করে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়। আপনি এমন সম্প্রদায়ের প্রতি বিস্মিত হবেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সম্পর্কে অবগত: "তোমরা দ্বীনের মধ্যে নবউদ্ভাবিত বিষয় (محدثات الأمور) থেকে বেঁচে থাকো..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار» (1) . ويعلمون أن قوله «كل بدعة» كلية عامة شاملة مسورة بأقوى أدوات الشمول والعموم «كل» والذي نطق بهذه الكلية صلوات الله وسلامه عليه يعلم مدلول هذا اللفظ وهو أفصح الخلق، وأنصح الخلق للخلق لا يتلفظ إلا بشيء يقصد معناه. إذن فالنبي صلى الله عليه وسلم حينما قال: «كل بدعة ضلالة» كان يدري ما يقول، وكان يدري معنى ما يقول، وقد صدر هذا القول منه عن كمال نصح للأمة.
وإذا تم في الكلام هذه الأمور الثلاثة ـ كمال النصح، والإرادة، وكمال البيان والفصاحة وكمال العلم والمعرفة، دل ذلك على أن الكلام يراد به ما يدل عليه من المعنى أفبعد هذه الكلية يصح أن نقسم البدعة إلى أقسام ثلاثة، أو إلى أقسام خمسة؟ أبداً هذا لا يصح، وما ادعاه بعض العلماء من أن هناك بدعة حسنة. فلا تخلوا من حالين:
1 ـ أن لا تكون بدعة لكن يظنها بدعة.
2 ـ أن تكون بدعة فهي سيئة لكن
--------------------------------------------
“নিশ্চয়ই প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة), এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামের আগুনে।” (১)। তাঁরা জানেন যে, তাঁর উক্তি “প্রতিটি বিদআত” একটি পূর্ণাঙ্গ, সাধারণ ও সর্বব্যাপী মূলনীতি (كلية عامة), যা ব্যাপকতা ও সাধারণত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শব্দ “সব” বা “প্রতিটি” (كل) দ্বারা পরিবেষ্টিত। আর যিনি এই পূর্ণাঙ্গ মূলনীতিটি (كلية) উচ্চারণ করেছেন—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—তিনি এই শব্দের মর্মার্থ সম্পর্কে সম্যক অবগত। তিনি সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রাঞ্জল ভাষী এবং সৃষ্টির জন্য সবচেয়ে বড় হিতাকাঙ্ক্ষী; তিনি এমন কোনো শব্দ উচ্চারণ করেন না যার অর্থ তিনি উদ্দেশ্য করেন না। অতএব, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বলেছেন: “প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)”, তখন তিনি কী বলছেন তা জানতেন এবং তিনি যা বলছেন তার অর্থও জানতেন। আর এই উক্তিটি উম্মাহর প্রতি তাঁর পূর্ণাঙ্গ কল্যাণকামিতা থেকেই প্রকাশ পেয়েছে।
যখন কোনো কথার মধ্যে এই তিনটি বিষয় পূর্ণতা পায়—পূর্ণাঙ্গ হিতাকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা, বর্ণনা ও প্রাঞ্জলতার পূর্ণতা এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পূর্ণতা—তখন তা একথাই প্রমাণ করে যে, কথাটি দ্বারা সেই অর্থই উদ্দেশ্য যা এটি নির্দেশ করে। এই পূর্ণাঙ্গ মূলনীতির (كلية) পর কি বিদআতকে (بدعة) তিন ভাগে বা পাঁচ ভাগে বিভক্ত করা সঠিক হতে পারে? কখনোই না, এটি সঠিক নয়। আর কোনো কোনো আলেম যে দাবি করেছেন যে ‘উত্তম বিদআত’ (بدعة حسنة) রয়েছে, তা দুটি অবস্থার বাইরে নয়:
১ — সেটি মূলত বিদআত (بدعة) নয়, কিন্তু তিনি সেটিকে বিদআত (بدعة) মনে করেছেন।
২ — সেটি বিদআত (بدعة), ফলে তা মন্দ (سيئة) কিন্তু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لا يعلم عن سوئها.
فكل ما ادُعي أنه بدعة حسنة فالجواب عنه بهذا. وعلى هذا فلا مدخل لأهل البدع في أن يجعلوا من بدعهم بدعة حسنة وفي يدنا هذا
السيف الصارم من رسول الله صلى الله عليه وسلم «كل بدعة ضلالة» . إن هذا السيف الصارم إنما صنع في مصانع النبوة والرسالة، إنه لم يصنع في مصانع مضطربة، لكنه صنع في مصانع النبوة وصاغه النبي صلى الله عليه وسلم هذه الصياغة البليغة فلا يمكن لمن بيده مثل هذا السيف الصارم أن يقابله أحد ببدعة يقول إنها حسنة ورسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «كل بدعة ضلالة» .
وكأني أحس أن في نفوسكم دبيباً يقول ما تقول في أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه الموفق للصواب حينما أمر أبي ابن كعب وتميماً الداري أن يقوما بالناس في رمضان فخرج والناس على إمامهم مجتمعون فقال: «نعمت البدعة هذه والتي ينامون عنها أفضل من التي يقومون» (1) .
--------------------------------------------
তার মন্দ দিক সম্পর্কে জানা যায় না।
সুতরাং যা কিছুকে উত্তম উদ্ভাবন (بدعة حسنة) বলে দাবি করা হয়, তার উত্তর হলো এটিই। এর ভিত্তিতে বিদআতপন্থীদের (أهل البدع) জন্য তাদের কোনো উদ্ভাবনকে উত্তম উদ্ভাবন (بدعة حسنة) হিসেবে সাব্যস্ত করার কোনো অবকাশ নেই। কারণ আমাদের হাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত এই
ধারালো তলোয়ার রয়েছে: "প্রত্যেক উদ্ভাবনই (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)"। নিশ্চয়ই এই ধারালো তলোয়ার নবুওয়াত ও রিসালাতের কারখানায় তৈরি হয়েছে। এটি কোনো অস্থির কারখানায় তৈরি হয়নি, বরং তা নবুওয়াতের কারখানায় তৈরি হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত প্রাঞ্জলভাবে একে এই রূপ দান করেছেন। সুতরাং যাঁর হাতে এমন ধারালো তলোয়ার রয়েছে, তাঁর মোকাবিলায় কেউ কোনো উদ্ভাবনকে উত্তম (حسنة) বলে দাবি করতে পারে না, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন: "প্রত্যেক উদ্ভাবনই (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)"।
আমার যেন মনে হচ্ছে আপনাদের মনে একটি সংশয় জাগছে যা বলছে—আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার তাওফিকপ্রাপ্ত ছিলেন, তাঁর সম্পর্কে আপনি কী বলবেন? যখন তিনি উবাই ইবনে কাব এবং তামীম আদ-দারিকে রমজানে লোকদের নিয়ে সালাত কায়েম করার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বের হলেন এবং দেখলেন মানুষ তাদের ইমামের পেছনে একত্রিত হয়ে সালাত আদায় করছে। তখন তিনি বললেন: "এই নতুন পদ্ধতিটি (بدعة) কতই না চমৎকার! তবে তারা রাতের যে অংশে ঘুমিয়ে থাকে, তা এই কিয়াম (সালাত) অপেক্ষা উত্তম" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فالجواب عن ذلك من وجهين:
الوجه الأول: أنه لا يجوز لأحد من الناس أن يعارض كلام الرسول صلى الله عليه وسلم بأي كلام لا بكلام أبي بكر الذي هو أفضل الأمة بعد نبيها، ولا بكلام عمر الذي هو ثاني هذه الأمة بعد نبيها، ولا بكلام عثمان الذي هو ثالث هذه الأمة بعد نبيها، ولا بكلام علي الذي هو رابع هذه الأمة بعد نبيها، ولا بكلام أحد غيرهم لأن الله تعالى يقول: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَلِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (النور 63) ، قال الإمام أحمد رحمه الله «أتدري ما الفتنة؟ الفتنة الشرك لعله إذا رد بعض قول النبي صلى الله عليه وسلم أن يقع في قلبه شيء من الزيغ فيهلك» . اهـ.
وقال ابن عباس رضي الله عنهما: «يوشك أن تنزل عليكم حجارة من السماء أقول قال رسول الله صلى الله عليه وسلم وتقولون قال أبو بكر وعمر» .
الوجه الثاني: إننا نعلم علم اليقين أن أمير المؤمنين
এর উত্তর হলো দুটি দিক থেকে:
প্রথম দিক: কোনো ব্যক্তির জন্যই এটি বৈধ নয় যে, সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর বিপরীতে অন্য কারো কথা দাঁড় করাবে; চাই তা নবীর পরে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি আবু বকরের কথা হোক, কিংবা এই উম্মতের দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি উমরের কথা হোক, অথবা এই উম্মতের তৃতীয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি উসমানের কথা হোক, কিংবা এই উম্মতের চতুর্থ শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি আলীর কথা হোক, অথবা তাদের ব্যতীত অন্য কারো কথা হোক। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} (আন-নূর: ৬৩)। ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “তুমি কি জানো ফিতনা কী? ফিতনা হলো শিরক; সম্ভবত যখন কেউ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো বাণী প্রত্যাখ্যান করবে, তখন তার অন্তরে কিছুটা বক্রতা সৃষ্টি হতে পারে, ফলে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।” সমাপ্ত।
ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: “অচিরেই তোমাদের ওপর আসমান থেকে পাথর বর্ষিত হবে! আমি বলছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আর তোমরা বলছো আবু বকর ও উমর বলেছেন।”
দ্বিতীয় দিক: আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, আমিরুল মুমিনীন
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
عمر بن الخطاب رضي الله عنه من أشد الناس تعظيماً لكلام الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم وكان مشهوراً بالوقوف على حدود الله تعالى حتى كان يوصف بأنه كان وقافاً عند كلام الله تعالى. وما قصة المرأة التي عارضته ـ إن صحت القصة ـ في تحديد المهور بمجهولة عند الكثير حيث عارضته بقوله تعالى: {وَكَيْفَ تَأْخُذُونَهُ وَقَدْ أَفْضَى بَعْضُكُمْ إِلَى بَعْضٍ وَأَخَذْنَ مِنكُم مِّيثَقاً غَلِيظاً} (النساء 21) فانتهى عمر عما أراد من تحديد المهور. لكن هذه القصة في صحتها نظر. لكن المراد بيان أن عمر كان وقافاً عند حدود الله تعالى لا يتعداها، فلا يليق بعمر- رضي الله عنه وهو من هو أن يخالف كلام سيد البشر محمد صلى الله عليه وسلم وأن يقول عن بدعة «نعمة البدعة» .
وتكون هذه البدعة هي التي أرادها رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: «كل بدعة ضلالة» بل لابد أن تنزل البدعة التي قال عنها عمر إنها «نعمت البدعة» على بدعة لا تكون داخلة تحت مراد النبي صلى الله عليه وسلم في قوله: «كل بدعة ضلالة» فعمر رضي الله عنه يشير بقوله «نعمت
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুলের (সা.) বাণীর প্রতি সর্বাধিক সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনকারী ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। তিনি আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত সীমারেখায় স্থির থাকার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, এমনকি তাঁকে আল্লাহ তাআলার বাণীর সামনে সর্বদা মস্তক অবনতকারী হিসেবে বর্ণনা করা হতো। মোহরানা নির্ধারণের বিষয়ে জনৈক মহিলার তাঁর বিরোধিতা করার ঘটনাটি—যদি কাহিনীটি সহিহ (صحيح) হয়ে থাকে—অনেকের কাছেই অজানা নয়, যেখানে সেই নারী মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন: {আর তোমরা কীভাবে তা গ্রহণ করবে, যখন তোমরা একে অপরের সাথে সংগত হয়েছ এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে?} (আন-নিসা: ২১)। অতঃপর উমর (রা.) মোহরানা নির্দিষ্টকরণের যে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন তা থেকে নিবৃত্ত হন। তবে এই কাহিনীটির বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে পর্যালোচনা (نظر) রয়েছে। কিন্তু এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, উমর (রা.) আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখায় থমকে যেতেন এবং তা লঙ্ঘন করতেন না। সুতরাং উমর (রা.)-এর মতো মহান ব্যক্তিত্ব—যিনি অনন্য মর্যাদার অধিকারী ছিলেন—তাঁর পক্ষে এটি কোনোভাবেই সমীচীন নয় যে, তিনি মানবকুলের সর্দার মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর বিরোধিতা করবেন এবং কোনো বিদআত (بدعة) সম্পর্কে বলবেন, "এটি কতই না চমৎকার বিদআত (بدعة)"।
এবং এই বিদআত (بدعة)-টি যেন এমন হয় যা রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উদ্দেশ্য করেছেন: "প্রত্যেক বিদআত (بدعة)-ই ভ্রষ্টতা (ضلالة)"; বরং উমর (রা.) যে বিদআত (بدعة) সম্পর্কে বলেছেন যে "এটি কতই না চমৎকার বিদআত (بدعة)", তাকে অবশ্যই এমন বিদআতের (بدعة) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে যা নবী (সা.)-এর "প্রত্যেক বিদআত (بدعة)-ই ভ্রষ্টতা (ضلالة)" বাণীর উদ্দেশ্যের আওতাভুক্ত নয়। সুতরাং উমর (রা.) তাঁর "কতই না চমৎকার" উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
البدعة هذه» إلى جمع الناس على إمام واحد بعد أن كانوا متفرقين، وكان أصل قيام رمضان من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد ثبت في الصحيحين من حديث عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قام في الناس ثلاث ليال وتأخر عنهم في الليلة الرابعة وقال: «إني خشيت أن تفرض عليكم فتعجزوا عنها» (1) . فقيام الليل في رمضان جماعة من سنة الرسول عليه الصلاة والسلام، وسماها عمر رضي الله عنه بدعة باعتبار أن النبي صلى الله عليه وسلم لما ترك القيام صار الناس متفرقين يقوم الرجل لنفسه ويقوم الرجل ومعه الرجل والرجل ومعه الرجلان والرهط والنفر في المسجد فرأى أمير المؤمنين عمر رضي الله عنه برأيه السديد الصائب أن يجمع الناس على إمام واحد فكان هذا الفعل بالنسبة لتفرق الناس من قبل بدعة فهي بدعة اعتبارية إضافية وليست بدعة مطلقة إنشائية أنشأها عمر رضي الله عنه؛ لأن هذه السنة كانت موجودة في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم فهي سنة لكنها تركت منذ عهد الرسول عليه الصلاة والسلام حتى أعادها عمر
--------------------------------------------
এই 'বিদআত (بدعة)' বলতে লোকজনকে একজন ইমামের (إمام) পেছনে একত্রিত করাকে বোঝানো হয়েছে, যখন তারা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল। মূলত রমজানের কিয়ামের ভিত্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেই এসেছে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস থেকে সহিহাইন-এ এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাত লোকজনকে নিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন এবং চতুর্থ রাতে তিনি আর আসেননি। তিনি বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই আমি আশঙ্কা করেছি যে এটি তোমাদের ওপর ফরজ (فرض) করে দেওয়া হবে এবং তোমরা তা পালনে অক্ষম হয়ে পড়বে» (১)। সুতরাং রমজানে জামাতের (جماعة) সাথে কিয়ামুল লাইল আদায় করা রাসূল আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের সুন্নাহ (سنة)। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একে বিদআত (بدعة) হিসেবে অভিহিত করেছেন এই বিবেচনায় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই কিয়াম ছেড়ে দিয়েছিলেন, তখন মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মসজিদে কেউ একা সালাত আদায় করত, কেউ একজনের সাথে, কেউ দুজনের সাথে, আবার কেউ ছোট দল বা গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে সালাত আদায় করত। অতঃপর আমিরুল মুমিনীন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর সঠিক ও সুনিপুণ প্রজ্ঞার মাধ্যমে লোকজনকে একজন ইমামের (إمام) অধীনে একত্রিত করাকে যথাযথ মনে করেন। লোকজনের পূর্ববর্তী বিচ্ছিন্ন অবস্থার প্রেক্ষাপটে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই কাজটি ছিল একটি আপেক্ষিক ও বিবেচনাপ্রসূত বিদআত (بدعة إضافية), কোনো নিরঙ্কুশ বা মৌলিক নতুন উদ্ভাবিত বিদআত (بدعة مطلقة) নয় যা তিনি প্রবর্তন করেছেন। কেননা এই সুন্নাহ (سنة) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে বিদ্যমান ছিল। সুতরাং এটি সুন্নাহ (سنة), তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর থেকে এটি এক প্রকার পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল, যতক্ষণ না উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একে পুনরায় চালু করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
-رضي الله عنه، وبهذا التقعيد لا يمكن أبداً أن يجد أهل البدع من قول عمر هذا منفذاً لما استحسنوه من بدعهم.
* وقد يقول قائل: هناك أشياء مبتدعة قبلها المسلمون وعملوا بها وهي لم تكن معروفة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم كالمدارس وتصنيف الكتب، وما أشبه ذلك وهذه البدعة استحسنها المسلمون وعملوا بها ورأوا أنها من خيار العمل فكيف تجمع بين هذا الذي يكاد أن يكون مجمعاً عليه بين المسلمين وبين قول قائد المسلمين ونبي المسلمين ورسول رب العالمين صلى الله عليه وسلم: «كل بدعة ضلالة» .
فالجواب: أن نقول هذا في الواقع ليس ببدعة بل هذا وسيلة إلى مشروع، والوسائل تختلف باختلاف الأمكنة والأزمنة، ومن القواعد المقررة أن الوسائل لها أحكام المقاصد فوسائل المشروع مشروعة، ووسائل غير المشروع غير مشروعة، بل وسائل المحرم حرام. والخير إذا كان وسيلة للشر كان شرّاً ممنوعاً واستمع إلى الله عز
-আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন। এই নীতিমালার মাধ্যমে বিদআতপন্থীরা উমর (রা.)-এর এই উক্তি থেকে তাদের পছন্দনীয় উদ্ভাবনগুলোর (بدعة) স্বপক্ষে কোনো ছিদ্রপথ বা সুযোগ খুঁজে পাওয়া কখনোই সম্ভব নয়।
* আর কোনো প্রশ্নকারী হয়তো বলতে পারেন: এমন কিছু উদ্ভাবিত (مبتدعة) বিষয় রয়েছে যা মুসলিমরা গ্রহণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন, অথচ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সেগুলো পরিচিত ছিল না; যেমন—মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও কিতাব সংকলন করা এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। এই নব-উদ্ভাবনকে (بدعة) মুসলিমরা উত্তম মনে করেছেন, এর ওপর আমল করেছেন এবং একে সর্বোত্তম আমল হিসেবে গণ্য করেছেন। এমতাবস্থায় মুসলিমদের মাঝে যা প্রায় ঐক্যমত (إجماع) হিসেবে পরিগণিত, তার সাথে মুসলিমদের নেতা, মুসলিমদের নবি এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালকের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কীভাবে সমন্বয় করবেন যে: «প্রত্যেকটি নব-উদ্ভাবনই (بدعة) ভ্রষ্টতা (ضلالة)»।
এর উত্তর হলো: আমরা বলব যে, এটি বাস্তবে কোনো নব-উদ্ভাবন (بدعة) নয়, বরং এটি একটি অনুমোদিত বিষয়ের মাধ্যম মাত্র। আর স্থান ও কাল ভেদে মাধ্যমসমূহ পরিবর্তিত হয়। সুপ্রতিষ্ঠিত মূলনীতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো—'মাধ্যমসমূহ উদ্দেশ্যের বিধান লাভ করে'। সুতরাং অনুমোদিত বিষয়ের মাধ্যমসমূহ অনুমোদিত, আর যা অনুমোদিত নয় তার মাধ্যমগুলোও অনুমোদিত নয়; বরং নিষিদ্ধ (حرام) বিষয়ের মাধ্যমও নিষিদ্ধ (حرام)। কোনো কল্যাণকর বিষয় যদি মন্দের মাধ্যম হয়, তবে তাও নিষিদ্ধ মন্দ হিসেবে গণ্য হবে। মহান আল্লাহ তাআলার বাণী শ্রবণ করুন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وجل يقول: {وَلَا تَسُبُّواْ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّواْ اللَّهَ عَدْواً بِغَيْرِ عِلْمٍ} (الأنعام 108) ، وسب آلهة المشركين ليس عدواً بل حق وفي محله لكن سب رب العالمين عدو وفي غير محله وعدوان وظلم، ولهذا لما كان سب آلهة المشركين المحمود سبباً مفضياً إلى سب الله كان محرماً ممنوعاً، سقت هذا دليلاً على أن الوسائل لها أحكام المقاصد فالمدارس وتصنيف العلم وتأليف الكتب وإن كان بدعة لم يوجد في عهد النبي صلى الله عليه وسلم على هذا الوجه إلا أنه ليس مقصداً بل هو وسيلة والوسائل لها أحكام المقاصد. ولهذا لو بنى شخص مدرسة لتعليم علم محرم كان البناء حراماً ولو بنى مدرسة لتعليم علم شرعي كان البناء مشروعاً.
* فإن قال قائل: كيف تجيب عن قول النبي صلى الله عليه وسلم: «من سن في الإسلام سنةً حسنةً فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة» (1) . وسن بمعنى «شرع» .
* فالجواب: أن من قال «من سن في الإسلام سنةً
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তাদেরকে গালি দিও না, যাদেরকে তারা আল্লাহর পরিবর্তে ডাকে; তাহলে তারা না বুঝে শত্রুতা বশত আল্লাহকেও গালি দেবে} (আল-আনআম ১০৮)। আর মুশরিকদের উপাস্যদের গালি দেওয়া কোনো শত্রুতা নয় বরং তা সত্য ও যথাযথ; কিন্তু বিশ্বজগতের প্রতিপালককে গালি দেওয়া হলো শত্রুতা, অন্যায্য এবং জুলুম। এই কারণেই মুশরিকদের উপাস্যদের গালি দেওয়া প্রশংসনীয় কাজ হওয়া সত্ত্বেও যখন তা আল্লাহকে গালি দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা হারাম (محرم) ও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। আমি এটি দলিল হিসেবে পেশ করেছি যে, মাধ্যমের বিধান লক্ষ্যের বিধানের অনুরূপ হয় (الوسائل لها أحكام المقاصد)। সুতরাং মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, জ্ঞানকে শ্রেণিবিন্যস্ত করা এবং কিতাব রচনা করা যদিও নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (بدعة), যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এই রূপে বিদ্যমান ছিল না, তবে এটি কোনো মূল লক্ষ্য নয় বরং একটি মাধ্যম। আর মাধ্যমের বিধান লক্ষ্যের বিধানের অনুসারী হয়ে থাকে। এই কারণেই যদি কোনো ব্যক্তি হারাম (محرم) জ্ঞান শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদরাসা নির্মাণ করে, তবে সেই নির্মাণকাজও হারাম (حرام) হবে। আর যদি শরয়ি জ্ঞান শিক্ষার জন্য মাদরাসা নির্মাণ করে, তবে সেই নির্মাণকাজ বিধিসম্মত হবে।
* যদি কেউ প্রশ্ন করেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর উত্তর আপনি কীভাবে দেবেন: «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করল, তার জন্য এর সওয়াব রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে» (১)। এখানে ‘সান্না’ (প্রবর্তন করা) অর্থ হলো ‘বিধান প্রবর্তন করা (شرع)’।
* উত্তর হলো: যে ব্যক্তি বলেছেন «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো পদ্ধতি (سنة) প্রবর্তন করল...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ২০)
حسنةً» هو القائل: «كل بدعة ضلالة» ولا يمكن أن يصدر عن الصادق المصدوق قول يكذب له قولاً آخر، ولا يمكن أن يتناقض كلام رسول الله صلى الله عليه وسلم أبداً، ولا يمكن أن يرد على معنى واحد مع التناقض أبداً، ومن ظن أن كلام الله تعالى أو كلام رسوله صلى الله عليه وسلم متناقض فليعد النظر، فإن هذا الظن صادر إما عن قصور منه، وإما عن تقصير. ولا يمكن أن يوجد في كلام الله تعالى أو كلام رسوله صلى الله عليه وسلم تناقض أبداً.
وإذا كان كذلك فبيان عدم مناقضة حديث «كل بدعة ضلالة» لحديث «من سن في الإسلام سنة حسنة» أن النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «من سن في الإسلام» والبدع ليست من الإسلام، ويقول «حسنة» والبدعة ليست بحسنة، وفرق بين السن والتبديع.
* وهناك جواب لا بأس به: أن معنى «من سن» من أحيا سنة كانت موجودة فعدمت فأحياها، وعلى هذا فيكون «السن» إضافياً نسبيّاً كما تكون البدعة إضافية نسبية لمن أحيا سنة بعد أن تركت.
উত্তম রীতি (سنة حسنة)»—তিনিই সেই সত্তা যিনি বলেছেন: «প্রত্যেক বিদআত (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)»। সত্যবাদী (صادق) ও সত্যনিষ্ঠ (مصدوق) রাসূলের পক্ষ থেকে এমন কোনো কথা আসা সম্ভব নয় যা তাঁর অন্য কোনো কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে কখনো কোনো বৈপরীত্য থাকা সম্ভব নয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বৈপরীত্যসহ তাঁর কথা আসা মোটেও সম্ভব নয়। আর যে ব্যক্তি মনে করে যে আল্লাহর কালাম কিংবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কালামে বৈপরীত্য রয়েছে, সে যেন পুনরায় বিবেচনা করে দেখে। কেননা এই ধারণা হয় তার প্রজ্ঞার স্বল্পতা থেকে উদ্ভূত, অথবা তার অবহেলার ফসল। আল্লাহর কালাম কিংবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কালামে কখনো কোনো বৈপরীত্য বিদ্যমান থাকা সম্ভব নয়।
বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে «প্রত্যেক বিদআত (بدعة) পথভ্রষ্টতা (ضلالة)» হাদিসটির সাথে «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির (سنة حسنة) প্রচলন করল» হাদিসটির বৈপরীত্য না থাকার ব্যাখ্যা হলো— নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইসলামে প্রচলন করল»; অথচ বিদআত (بدعة) ইসলামের অংশ নয়। আর তিনি বলেছেন: «উত্তম (حسنة)»; অথচ বিদআত (بدعة) কখনো উত্তম হয় না। আর কোনো সুন্নাহ (سنة) এর প্রচলন করা এবং বিদআত (بدعة) উদ্ভাবনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
* আর এখানে একটি গ্রহণযোগ্য জবাব রয়েছে: «যে ব্যক্তি প্রচলন করল (من سن)» এর অর্থ হলো— যে ব্যক্তি এমন কোনো সুন্নাহ (سنة) জীবিত করল যা বিদ্যমান ছিল কিন্তু পরবর্তীতে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, অতঃপর সে তা পুনরুজ্জীবিত করল। এমতাবস্থায় এই ‘প্রচলন করা’ বিষয়টি হবে আপেক্ষিক বা পরোক্ষ (إضافياً نسبيّاً), ঠিক যেমন পরিত্যক্ত হওয়ার পর কোনো সুন্নাহ (سنة) পুনরুজ্জীবিতকারীর ক্ষেত্রে বিদআতও (بدعة) আপেক্ষিক বা পরোক্ষ (إضافية نسبية) হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ২১)
* وهناك جواب ثالث يدل له سبب الحديث وهو قصة النفر الذين وفدوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم وكانوا في حالة شديدة من الضيق، فدعا النبي صلى الله عليه وسلم إلى التبرع لهم فجاء رجل من الأنصار بيده صرة من فضة كادت تثقل يده فوضعها بين يدي الرسول صلى الله عليه وسلم فجعل وجه النبي عليه الصلاة والسلام يتهلل من الفرح والسرور وقال: «من سن في الإسلام سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها إلى يوم القيامة» فهنا يكون معنى «السن» سن العمل تنفيذاً وليس سن العمل تشريعاً، فصار معنى «من سن في الإسلام سنة حسنة» من عمل بها تنفيذاً لا تشريعاً لأن التشريع ممنوع «كل بدعة ضلالة» .
* وليعلم أيها الأخوة أن المتابعة لا تتحقق إلا إذا كان العمل موافقاً للشريعة في أمور ستة:
* الأول: السبب فإذا تعبد الإنسان لله عبادة مقرونة بسبب ليس شرعيّاً فهي بدعة مردودة على صاحبها، مثال ذلك أن بعض الناس يحيي ليلة السابع
* আর এখানে একটি তৃতীয় উত্তর রয়েছে যা হাদিসের প্রেক্ষাপট (سبب الحديث) দ্বারা নির্দেশিত হয়। আর তা হলো সেই একদল লোকের ঘটনা যারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসেছিলেন এবং তারা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের জন্য দান করার আহ্বান জানালেন। ফলে আনসারদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি রূপার একটি থলি নিয়ে আসলেন যা তার হাতকে প্রায় ভারাক্রান্ত করে তুলেছিল এবং তিনি তা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে রাখলেন। এতে নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর চেহারা আনন্দ ও খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল এবং তিনি বললেন: «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির (سنة حسنة) সূচনা করবে, তার জন্য এর সওয়াব এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা এর ওপর আমল করবে তাদের সওয়াব নির্ধারিত থাকবে»। সুতরাং এখানে ‘সূচনা’ অর্থ হবে আমলটি বাস্তবায়ন করা, শরীয়ত প্রবর্তন (تشريع) করা নয়। ফলে «যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির (سنة حسنة) সূচনা করবে»—এর অর্থ দাঁড়ায়: যে ব্যক্তি এটি শরীয়ত প্রবর্তন (تشريع) হিসেবে নয় বরং বাস্তবায়নকারী হিসেবে আমল করবে; কারণ শরীয়ত প্রবর্তন (تشريع) করা নিষিদ্ধ, «প্রত্যেক বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة)»।
* হে ভ্রাতৃবৃন্দ, জেনে রাখা উচিত যে, অনুসরণ (المتابعة) ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জিত হয় না যতক্ষণ না আমলটি ছয়টি বিষয়ে শরীয়তের অনুকূল হয়:
* প্রথমত: কারণ (السبب); সুতরাং কোনো মানুষ যদি এমন কোনো কারণের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে যা শরীয়তসম্মত নয়, তবে তা একটি বিদআত (بدعة) যা তার কর্তার ওপরই প্রত্যাখ্যাত (مردودة)। উদাহরণস্বরূপ: কিছু মানুষ সাতাশতম রাতকে পুনরুজ্জীবিত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ২২)
والعشرين من رجب بحجة أنها الليلة التي عرج فيها برسول الله صلى الله عليه وسلم فالتهجد عبادة ولكن لما قرن بهذا السبب كان بدعة؛ لأنه بنى هذه العبادة على سبب لم يثبت شرعاً. وهذا الوصف ـ موافقة العبادة للشريعة في السبب ـ أمر مهم يتبين به ابتداع كثير مما يظن أنه من السنة وليس من السنة.
* الثاني: الجنس فلابد أن تكون العبادة موافقة للشرع في جنسها فلو تعبد إنسان لله بعبادة لم يشرع جنسها فهي غير مقبولة، مثال ذلك أن يضحي رجل بفرس، فلا يصح أضحية؛ لأنه خالف الشريعة في الجنس، فالأضاحي لا تكون إلا من بهيمة الأنعام، الإبل، البقر، الغنم.
* الثالث: القدر فلو أراد إنسان أن يزيد صلاة على أنها فريضة فنقول: هذه بدعة غير مقبولة لأنها مخالفة للشرع في القدر، ومن باب أولى لو أن الإنسان صلى الظهر مثلاً خمساً فإن صلاته لا تصح بالاتفاق.
...এবং সাতাশে রজব এই যুক্তিতে যে, এটি সেই রাত যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মেরাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সুতরাং তাহাজ্জুদ একটি ইবাদত, কিন্তু যখন একে এই কারণের সাথে সম্পৃক্ত করা হলো, তখন তা নব উদ্ভাবন (بدعة) হিসেবে গণ্য হলো; কারণ তিনি এই ইবাদতকে এমন একটি কারণের (سبب) ওপর ভিত্তি করেছেন যা শরিয়তগতভাবে প্রমাণিত (ثابت) নয়। আর এই বৈশিষ্ট্যটি—অর্থাৎ ইবাদত কারণের (سبب) দিক থেকে শরিয়তের অনুসারী হওয়া—একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার মাধ্যমে এমন অনেক বিষয়ের নব উদ্ভাবন (بدعة) স্পষ্ট হয় যা সুন্নাহ (سنة) মনে করা হলেও মূলত তা সুন্নাহ (سنة) নয়।
* দ্বিতীয়: প্রকার (الجنس); ইবাদতকে অবশ্যই তার প্রকারের দিক থেকে শরিয়তসম্মত হতে হবে। যদি কোনো ব্যক্তি এমন কোনো ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করতে চায় যার প্রকারটি শরিয়তসম্মত নয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি যদি ঘোড়া কুরবানি করে, তবে তা কুরবানি হিসেবে শুদ্ধ হবে না; কারণ সে প্রকারের (الجنس) দিক থেকে শরিয়তের খেলাফ কাজ করেছে। কেননা কুরবানি কেবল গবাদি পশু, অর্থাৎ উট, গরু এবং ছাগল-ভেড়া থেকেই হতে হয়।
* তৃতীয়: পরিমাণ (القدر); যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নামাজকে ফরজ মনে করে তাতে রাকাত সংখ্যা বৃদ্ধি করতে চায়, তবে আমরা বলব: এটি একটি অগ্রহণযোগ্য নব উদ্ভাবন (بدعة), কারণ এটি পরিমাণের (القدر) দিক থেকে শরিয়তের পরিপন্থী। আর স্বাভাবিকভাবেই, যদি কোনো ব্যক্তি জোহরের নামাজ উদাহরণস্বরূপ পাঁচ রাকাত পড়ে, তবে সর্বসম্মতভাবে (بالاتفاق) তার নামাজ শুদ্ধ হবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
* الرابع: الكيفية فلو أن رجلاً توضأ فبدأ بغسل رجليه، ثم مسح رأسه، ثم غسل يديه، ثم وجهه فنقول: وضوءه باطل؛ لأنه مخالف للشرع في الكيفية.
* الخامس: الزمان فلو أن رجلاً ضحى في أول أيام ذي الحجة فلا تقبل الأضحية لمخالفة الشرع في الزمان. وسمعت أن بعض الناس في شهر رمضان يذبحون الغنم تقرباً لله تعالى بالذبح وهذا العمل بدعة على هذا الوجه لأنه ليس هناك شيء يتقرب به إلى الله بالذبح إلا الأضحية والهدي والعقيقة، أما الذبح في رمضان مع اعتقاد الأجر على الذبح كالذبح في عيد الأضحى فبدعة. وأما الذبح لأجل اللحم فهذا جائز.
* السادس: المكان فلو أن رجلاً اعتكف في غير مسجد فإن اعتكافه لا يصح؛ وذلك لأن الاعتكاف لا يكون إلا في المساجد ولو قالت امرأة أريد أن أعتكف في مصلى البيت. فلا يصح اعتكافها لمخالفة الشرع في المكان. ومن الأمثلة لو أن رجلاً أراد أن يطوف
চতুর্থ: পদ্ধতি (الكيفية)। যদি কোনো ব্যক্তি অজু করে এবং তার দুই পা ধোয়ার মাধ্যমে শুরু করে, অতঃপর মাথা মাসাহ করে, এরপর দুই হাত ধোয়, তারপর মুখমন্ডল ধোয়; তবে আমরা বলব: তার অজু বাতিল (باطل); কারণ এটি পদ্ধতির (الكيفية) দিক থেকে শরয়ি বিধানের পরিপন্থী।
পঞ্চম: সময় (الزمان)। যদি কোনো ব্যক্তি জিলহজ মাসের প্রথম দিনগুলোতে কোরবানি (الأضحية) করে, তবে সেই কোরবানি কবুল করা হবে না; সময়ের (الزمان) ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানের পরিপন্থী হওয়ার কারণে। আমি শুনেছি যে, কিছু মানুষ রমজান মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ভেড়া জবেহ করে থাকে। এই আমলটি এই পদ্ধতিতে একটি বিদআত (بدعة); কারণ কোরবানি (الأضحية), হাদি (الهدي) ও আকিকা (العقيقة) ব্যতীত জবেহ করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আর কোনো বিধান নেই। তবে ঈদুল আজহার কোরবানির মতো সওয়াবের নিয়তে রমজানে জবেহ করা বিদআত (بدعة)। আর কেবল গোশতের উদ্দেশ্যে জবেহ করা বৈধ (جائز)।
ষষ্ঠ: স্থান (المكان)। যদি কোনো ব্যক্তি মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও ইতিকাফ (الاعتكاف) করে, তবে তার ইতিকাফ সহিহ হবে না (لا يصح); কারণ ইতিকাফ কেবল মসজিদেই হয়ে থাকে। যদি কোনো নারী বলেন, "আমি ঘরের নামাজের স্থানে ইতিকাফ করতে চাই", তবে তার ইতিকাফ সহিহ হবে না; স্থানের (المكان) ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানের পরিপন্থী হওয়ার কারণে। আর বিভিন্ন উদাহরণের মধ্যে রয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি তাওয়াফ করতে চায়—
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فوجد المطاف قد ضاق ووجد ما حوله قد ضاق فصار يطوف من وراء المسجد فلا يصح طوافه لأن مكان الطواف البيت قال الله تعالى لإبراهيم الخليل: {وَطَهِّرْ بَيْتِىَ لِلطَّآئِفِينَ} (الحج 26) .
فالعبادة لا تكون عملاً صالحاً إلا إذا تحقق فيها شرطان:
الأول: الإخلاص ـ الثاني: المتابعة، والمتابعة لا تتحقق إلا بالأمور الستة الآنفة الذكر.
* وإنني أقول لهؤلاء الذين ابتلوا بالبدع الذين قد تكون مقاصدهم حسنة ويريدون الخير إذا أردتم الخير فلا والله نعلم طريقاً خيراً من طريق السلف رضي الله عنهم.
* أيها الأخوة عضوا على سنة الرسول صلى الله عليه وسلم بالنواجذ واسلكوا طريق السلف الصالح وكونوا على ما كانوا عليه وانظروا هل يضيركم ذلك شيئاً؟
তিনি দেখলেন যে মাতাফ (তাওয়াফের স্থান) সংকুচিত হয়ে গেছে এবং এর চারপাশও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে, ফলে তিনি মসজিদের পিছন দিক দিয়ে তাওয়াফ করতে শুরু করলেন। এমতাবস্থায় তার তাওয়াফ শুদ্ধ হবে না; কারণ তাওয়াফের স্থান হলো কাবাগৃহ। আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম খলিলকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "এবং আমার গৃহকে পবিত্র করো তাওয়াফকারীদের জন্য।" (সূরা হজ: ২৬)।
কোনো ইবাদত ততক্ষণ পর্যন্ত সৎকর্ম হিসেবে গণ্য হয় না যতক্ষণ না তাতে দুটি শর্ত বাস্তবায়িত হয়:
প্রথমটি: একনিষ্ঠতা (الإخلاص); দ্বিতীয়টি: অনুসরণ (المتابعة)। আর এই অনুসরণ (المتابعة) পূর্বোল্লিখিত ছয়টি বিষয় ব্যতীত অর্জিত হয় না।
* যারা বিদআতে (البدع) লিপ্ত হয়েছেন অথচ যাদের উদ্দেশ্য হয়তো সৎ এবং যারা কল্যাণই কামনা করেন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলছি—যদি আপনারা কল্যাণই চান, তবে আল্লাহর কসম! আমরা সালাফ (السلف) —রাযিয়াল্লাহু আনহুম— এর পথ অপেক্ষা উত্তম কোনো পথ জানি না।
* হে ভ্রাতৃমণ্ডলী! আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে (سنة) মাড়ির দাঁত দিয়ে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন এবং সলফে সালেহীনের (السلف الصالح) পথ অবলম্বন করুন। তারা যে আদর্শের ওপর অটল ছিলেন আপনারাও তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকুন; এরপর দেখুন এটি আপনাদের বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি করে কি না?
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وإني أقول ـ وأعوذ بالله أن أقول ما ليس لي به علم ـ أقول إنك لتجد الكثير من هؤلاء الحريصين على البدع يكون فاتراً في تنفيذ أمور ثبتت شرعيتها وثبتت سنيتها فإذا فرغوا من هذه البدع قابلوا السنن الثابتة بالفتور، وهذا كله من نتيجة أضرار البدع على القلوب، فالبدع أضرارها على القلوب عظيمة، وأخطارها على الدين جسيمة فما ابتدع قوم في دين الله بدعة إلا أضاعوا من السنة مثلها أو أشد، كما ذكر ذلك بعض أهل العلم من السلف.
لكن الإنسان إذا شعر أنه تابع لا مشرع حصل له بذلك كمال الخشية والخضوع والذل والعبادة لرب العالمين، وكمال الإتباع لإمام المتقين، وسيد المرسلين، ورسول رب العالمين محمد صلى الله عليه وسلم.
إنني أوجه نصيحة إلى كل إخواني المسلمين الذين استحسنوا شيئاً من البدع سواءً فيما يتعلق بذات الله، أو أسماء الله، أو صفات الله أو فيما يتعلق برسول الله صلى الله عليه وسلم وتعظيمه أن يتقوا الله ويعدلوا عن ذلك، وأن
আমি বলি—এবং আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এমন বিষয় বলা থেকে যা সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই—আমি বলি যে, আপনি বিদআত (بدعة) অন্বেষণে আগ্রহী এমন অনেক ব্যক্তিকে দেখবেন যারা শরয়ি ভিত্তি ও সুন্নাহ (سنة) হিসেবে প্রমাণিত এমন বিষয়গুলোর পালনে শিথিল। অতঃপর যখন তারা এই বিদআত (بدعة) সমূহ থেকে অবসর পায়, তখন তারা প্রমাণিত সুন্নাহগুলোর (سنن) প্রতি অনীহা প্রদর্শন করে। আর এ সবই হলো অন্তরের ওপর বিদআতের (بدعة) ক্ষতিকর প্রভাবের ফলাফল। কেননা অন্তরের ওপর বিদআতের (بدعة) ক্ষতি অত্যন্ত ব্যাপক এবং দ্বীনের ওপর এর বিপদ অত্যন্ত ভয়াবহ। যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআত (بدعة) উদ্ভাবন করে, তখনই তারা এর সমপরিমাণ অথবা তার চেয়েও গুরুতর কোনো সুন্নাহকে (سنة) বিলুপ্ত করে দেয়; যেমনটি পূর্বসূরী (سلف) আলিমগণের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন।
কিন্তু মানুষ যখন অনুভব করে যে সে একজন অনুসারী (تابع), বিধানদাতা (مشرع) নয়, তখন তার মধ্যে রাব্বুল আলামীনের প্রতি ভয়-ভীতি, বিনয়, নম্রতা ও ইবাদতের পূর্ণতা অর্জিত হয়। আর এর মাধ্যমেই মুত্তাকীদের ইমাম, রাসূলগণের সরদার এবং রাব্বুল আলামীনের রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পূর্ণ অনুসরণ (إتباع) অর্জিত হয়।
আমি আমার সেই সমস্ত মুসলিম ভাইদের প্রতি উপদেশ প্রদান করছি যারা কোনো বিদআতকে (بدعة) ভালো মনে করেছেন, চাই তা আল্লাহর সত্তা (ذات), আল্লাহর নামসমূহ (أسماء) অথবা আল্লাহর গুণাবলী (صفات) সংক্রান্ত বিষয়ে হোক, কিংবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা ও তাঁর সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে হোক; তারা যেন আল্লাহকে ভয় করেন এবং এ থেকে ফিরে আসেন এবং
(খণ্ড: ১)
আল-ইবদা ফী বায়ানি কামালিছ শারয়ি ওয়া খাতরিল ইবতিদা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يجعلوا أمرهم مبنيّاً على الإتباع لا على الابتداع، على الإخلاص لا على الإشراك، على السنة لا على البدعة، على ما يحبه الرحمن لا على ما يحبه الشيطان، ولينظروا ماذا يحصل لقلوبهم من السلامة، والحياة، والطمأنينة، وراحة البال والنور العظيم.
وأسأل الله تعالى أن يجعلنا هداة مهتدين، وقادة مصلحين، وأن ينير قلوبنا بالإيمان والعلم، وأن لا يجعل ما علمنا وبالاً علينا، وأن يسلك بنا طريق عباده المؤمنين، وأن يجعلنا من أوليائه المتقين وحزبه المفلحين.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
তারা যেন তাদের বিষয়াবলিকে অনুসরণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলে, নব-উদ্ভাবনের ওপর নয়; একনিষ্ঠতার ওপর, শিরকের ওপর নয়; সুন্নাহর ওপর, বিদআতের ওপর নয়; পরম দয়াময় যা পছন্দ করেন তার ওপর, শয়তান যা পছন্দ করে তার ওপর নয়। আর তারা যেন লক্ষ্য করে যে, এর ফলে তাদের অন্তরে কেমন নিষ্কলুষতা, সজীবতা, প্রশান্তি, মানসিক স্বস্তি ও সুমহান নূরের সঞ্চার হয়।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের হিদায়াতদানকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং সংশোধনকারী নেতা হিসেবে কবুল করেন। তিনি যেন আমাদের অন্তরসমূহকে ঈমান ও ইলম দ্বারা আলোকিত করেন এবং আমরা যা শিখেছি তা যেন আমাদের জন্য অকল্যাণের কারণ না করেন। তিনি যেন আমাদের তাঁর মুমিন বান্দাদের পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদের তাঁর মুত্তাকি ওলি ও সফলকাম দলের অন্তর্ভুক্ত করেন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।