(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: -)
مسند الدارمي - ت حسين أسد القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند الدارمي المعروف بـ (سنن الدارمي)
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن عبد الرحمن بن الفضل بن بَهرام بن عبد الصمد الدارمي، التميمي السمرقندي (ت 255 هـ)
تحقيق: حسين سليم أسد الداراني [ت 1443 هـ]
الناشر: دار المغني للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 2000 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 محرم 1433
মুসনাদ আদ-দারিমি - তাহকিক: হুসাইন আসাদ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: মুসনাদ আদ-দারিমি যা (সুনান আদ-দারিমি) নামে পরিচিত
লেখক: আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আল-ফাদল বিন বাহরাম বিন আব্দুস সামাদ আদ-দারিমি, আত-তামিমি আস-সামারকান্দি (মৃত্যু ২৫৫ হিজরি)
তাহকিক: হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানি [মৃত্যু ১৪৪৩ হিজরি]
প্রকাশক: দারুল মুগনি পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২২ মুহাররাম ১৪৩৩
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[مسند الدارمي المعروف بـ (سنن الدارمي)]ـ
المؤلف: أبو محمد عبد الله بن عبد الرحمن بن الفضل بن بَهرام بن عبد الصمد الدارمي، التميمي السمرقندي (المتوفى: 255هـ)
تحقيق: حسين سليم أسد الداراني
الناشر: دار المغني للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1412 هـ - 2000 م
عدد الأجزاء: 4
الإصدار: 2.0
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو ضمن خدمة التخريج]
[মুসনাদ আদ-দারিমি যা (সুনান আদ-দারিমি) নামে পরিচিত]
লেখক: আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন আল-ফদল বিন বাহরাম বিন আব্দুস সামাদ আদ-দারিমি, আত-তামিমি আস-সামারকান্দি (মৃত্যু: ২৫৫ হিজরি)
সম্পাদনা: হুসাইন সালিম আসাদ আদ-দারানি
প্রকাশক: দার আল-মুগনি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজত্ব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১২ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
সংস্করণ: ২.০
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি তাখরিজ পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত]
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
بَابُ مَا كَانَ عَلَيْهِ النَّاسُ قَبْلَ مَبْعَثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْجَهْلِ وَالضَّلَالَةِ
অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরণের পূর্বে মানুষ যে অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতার ওপর ছিল
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ الْمُسْنِدُ أَبُو الْوَقْتِ عَبْدُ الْأَوَّلِ بْنُ عِيسَى بْنِ شُعَيْبٍ السِّجْزِيُّ الْهَرَوِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ، أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو الْحَسَنِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُظَفَّرِ الدَّاوُودِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي جُمَادَى الْآخِرَةِ سَنَةَ خَمْسٍ وَسِتِّينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ حَمُّوَيْهِ السَّرَخْسِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ سَنَةَ إِحْدَى وَثَمَانِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عِمْرَانَ عِيسَى بْنُ عُمَرَ بْنِ الْعَبَّاسِ السَّمَرْقِنَدْيُّ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ السَّمَرْقَنْدِيُّ رحمه الله قَالَ:
1 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ: عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُؤَاخَذُ الرَّجُلُ بِمَا عَمِلَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ؟ قَالَ: «مَنْ أَحْسَنَ فِي الْإِسْلَامِ لَمْ يُؤَاخَذْ بِمَا كَانَ عَمِلَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَمَنْ أَسَاءَ فِي الْإِسْلَامِ، أُخِذَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ»
[تعليق المحقق] إسناده صحيح والحديث متفق عليه
শায়খ আল-মুসনিদ আবুল ওয়াক্ত আব্দুল আওয়াল ইবনে ঈসা ইবনে শুয়াইব আস-সিজযি আল-হারাওয়ি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হাসান আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুজাফ্ফার আদ-দাউদি তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে ৪৬৫ হিজরি সনের জুমাদাল আখিরা মাসে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্মুওয়াইহ আস-সারখাসি ৩৮১ হিজরি সনে তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইমরান ঈসা ইবনে উমর ইবনুল আব্বাস আস-সামারকান্দি; আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান আদ-দারিমি আস-সামারকান্দি (রাহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন:
১ - মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! জাহেলিয়াত যুগে (ইসলাম গ্রহণের পূর্বে) যা করা হয়েছে সেজন্য কি কোনো ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি ইসলামে উত্তম আচরণ করবে, জাহেলিয়াত যুগে তার কৃতকর্মের জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে মন্দ আচরণ করবে, তাকে পূর্বের এবং পরের সবকিছুর জন্যই পাকড়াও করা হবে।"
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর সনদ সহীহ এবং হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৩)
2 - أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ النَّضْرِ الرَّمْلِيُّ، عَنْ مَسَرَّةَ بْنِ مَعْبَدٍ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ أَبِي الْحَرَامِ مِنْ لَخْمٍ
⦗ص: 154⦘ عَنِ الْوَضِينِ: أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا أَهْلَ جَاهِلِيَّةٍ وَعِبَادَةِ أَوْثَانٍ، فَكُنَّا نَقْتُلُ الْأَوْلَادَ، وَكَانَتْ عِنْدِي بِنْتٌ لِي فَلَمَّا أَجَابَتْ، وَكَانَتْ مَسْرُورَةً بِدُعَائِي إِذَا دَعَوْتُهَا، فَدَعَوْتُهَا يَوْمًا، فَاتَّبَعَتْنِي فَمَرَرْتُ حَتَّى أَتَيْتُ بِئْرًا مِنْ أَهْلِي غَيْرَ بَعِيدٍ، فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا فَرَدَّيْتُ بِهَا فِي الْبِئْرِ، وَكَانَ آخِرَ عَهْدِي بِهَا أَنْ تَقُولَ: يَا أَبَتَاهُ يَا أَبَتَاهُ فَبَكَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى وَكَفَ دَمْعُ عَيْنَيْهِ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ جُلَسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، أَحْزَنْتَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لَهُ: «كُفَّ فَإِنَّهُ يَسْأَلُ عَمَّا أَهَمَّهُ» ثُمَّ قَالَ لَهُ: " أَعِدْ عَلَيَّ حَدِيثَكَ فَأَعَادَهُ، فَبَكَى حَتَّى وَكَفَ الدَّمْعُ مِنْ عَيْنَيْهِ عَلَى لِحْيَتِهِ، ثُمَّ قَالَ لَهُ: «إِنَّ اللَّهَ قَدْ وَضَعَ عَنِ الْجَاهِلِيَّةِ مَا عَمِلُوا، فَاسْتَأْنِفْ عَمَلَكَ»
[تعليق المحقق] إسناده رجاله ثقات غير أنه مرسل وقد تفرد بروايته الدارمي
২ - ওয়ালিদ ইবনে নাযর আর-রামলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি লাখম গোত্রের বনি হারিস ইবনে আবি হারাম শাখার মাসাররাহ ইবনে মাবাদ থেকে,
⦗পৃষ্ঠা: ১৫৪⦘ তিনি ওয়াদিন থেকে বর্ণনা করেছেন যে: এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলিয়াতের যুগে ছিলাম এবং মূর্তিপূজা করতাম। তখন আমরা সন্তানদের হত্যা করতাম। আমার একটি কন্যা সন্তান ছিল; সে যখন কথা বলার বয়সে পৌঁছাল এবং আমি তাকে ডাকলে সে খুব আনন্দিত হতো, একদিন আমি তাকে ডাকলাম। সে আমার পিছু নিল। আমি হেঁটে আমার পরিবারের নিকটবর্তী একটি কূপের কাছে পৌঁছালাম। তারপর আমি তার হাত ধরে তাকে কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করলাম। তার সাথে আমার শেষ কথা ছিল যখন সে বলছিল: ওগো বাবা! ওগো বাবা! তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাঁদলেন, এমনকি তাঁর দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মজলিসে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাকে বললেন: তুমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ব্যথিত করলে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন: "থামো, সে এমন একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছে যা তাকে অত্যন্ত চিন্তিত করেছে।" তারপর তিনি তাকে বললেন: "তোমার কাহিনীটি আমার কাছে পুনরায় বর্ণনা করো।" সে পুনরায় তা বর্ণনা করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাঁদলেন, এমনকি তাঁর চোখের পানি দাড়ি বেয়ে পড়তে লাগল। এরপর তিনি তাকে বললেন: "জাহিলিয়াতের যুগে মানুষ যা করেছে, আল্লাহ তা মিটিয়ে দিয়েছেন (ক্ষমা করেছেন)। অতএব তুমি নতুন করে আমল শুরু করো।"
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে এটি মুরসাল এবং দারিমী এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৪)
3 - أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمُؤَدِّبِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي موْلَايَ: أَنَّ أَهْلَهُ بَعَثُوا مَعَهُ بِقَدَحٍ فِيهِ زُبْدٌ وَلَبَنٌ إِلَى آلِهَتِهِمْ،
⦗ص: 155⦘ قالَ: فَمَنَعَنِي أَنْ آكُلَ الزُّبْدَ لِمَخَافَتِهَا، قَالَ: " فَجَاءَ كَلْبٌ فَأَكَلَ الزُّبْدَ وَشَرِبَ اللَّبَنَ، ثُمَّ بَالَ عَلَى الصَّنَمِ وَهُوَ: إِسَافٌ، وَنَائِلَةُ " قَالَ هَارُونُ كَانَ الرَّجُلُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا سَافَرَ، حَمَلَ مَعَهُ أَرْبَعَةَ أَحْجَارٍ ثَلَاثَةٌ لِقِدْرِهِ وَالرَّابِعُ يَعْبُدُهُ، وَيُرَبِّي كَلْبَهُ، وَيَقْتُلُ وَلَدَهُ
[تعليق المحقق] إسناده حسن
৩ - হারুন ইবনে মুআবিয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে সুলাইমান আল-মুয়াদ্দিব থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার মনিব আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে: তাঁর পরিবারবর্গ তাঁদের উপাস্যদের উদ্দেশ্যে তাঁর সাথে এক পেয়ালা মাখন ও দুধ পাঠিয়েছিলেন,
⦗পৃষ্ঠা: ১৫৫⦘ তিনি বললেন: তাদের (মূর্তিগুলোর) ভয়ে আমি মাখন খেতে সাহস পেলাম না। তিনি বলেন: "অতঃপর একটি কুকুর এল এবং সে মাখন খেয়ে নিল ও দুধ পান করল, এরপর সে মূর্তির ওপর প্রস্রাব করে দিল; আর সেগুলো ছিল: ইসাফ ও নায়েলা।" হারুন বলেন, জাহেলিয়াত যুগে কোনো লোক যখন সফরে বের হতো, তখন সে নিজের সাথে চারটি পাথর বহন করত; তিনটি তার পাতিল রাখার জন্য (চুলা হিসেবে) এবং চতুর্থটি সে পূজা করার জন্য। সে তার কুকুরকে লালন-পালন করত, অথচ নিজের সন্তানকে হত্যা করত।
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর সনদ হাসান।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৫)
4 - حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا رَيْحَانُ هُوَ: ابْنُ سَعِيدٍ السَّامِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ هُوَ ابْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي الرَّجَاءِ، قَالَ: «كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا أَصَبْنَا حَجَرًا حَسَنًا عَبَدْنَاهُ، وَإِنْ لَمْ نُصِبْ حَجَرًا، جَمَعْنَا كُثْبَةً مِنْ رَمْلٍ، ثُمَّ جِئْنَا بِالنَّاقَةِ الصَّفِيِّ فَتَفَاجُّ عَلَيْهَا، فَنَحْلُبُهَا عَلَى الْكُثْبَةِ حَتَّى نَرْوِيَهَا ثُمَّ نَعْبُدُ تِلْكَ الْكُثْبَةَ مَا أَقَمْنَا بِذَلِكَ الْمَكَانِ» قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ: " الصَّفِيُّ: الْكَثِيرَةُ الْأَلْبَانِ، فَتَفَاجُّ يَعْنِي: النَّاقَةَ إِذَا فَرَّجَتْ بَيْنَ رِجْلَيْهَا لِلْحَلْبِ، وَالْفَجُّ: الطَّرِيقُ الْوَاسِعُ، وَجَمْعُهُ: فِجَاجٌ "
[تعليق المحقق] إسناده ضعيف عباد بن منصور كان يدلس وقد تغير بأخرة وهو موقوف على أبي رجاء عمران بن ملحان
৪ - মুজাহিদ ইবন মূসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রায়হান (যিনি ইবন সাঈদ আস-সামী) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ (যিনি ইবন মানসূর) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু রাজা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা জাহেলি যুগে যখন কোনো সুন্দর পাথর পেতাম, তখন আমরা তার ইবাদত করতাম। আর যদি কোনো পাথর না পেতাম, তবে আমরা বালুর একটি স্তূপ সংগ্রহ করতাম, তারপর একটি অধিক দুগ্ধবতী উষ্ট্রী নিয়ে আসতাম। সেটি সেই স্তূপের ওপর পা ফাঁক করে দাঁড়াত এবং আমরা সেই বালুর স্তূপের ওপর দুধ দোহন করতাম যতক্ষণ না সেটি সিক্ত হতো। এরপর যতক্ষণ আমরা সেই স্থানে অবস্থান করতাম, ততক্ষণ সেই বালুর স্তূপেরই ইবাদত করতাম।" আবু মুহাম্মদ বলেন: "আস-সাফী হলো অধিক দুগ্ধবতী উষ্ট্রী। 'তাফাজ্জু' বলতে বুঝায় যখন উষ্ট্রী দুধ দোহনের জন্য তার দুই পায়ের মাঝে ফাঁক করে। 'ফাজ্জ' হলো প্রশস্ত পথ, যার বহুবচন হলো 'ফিজাজ'।"
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর সনদ দুর্বল। আব্বাদ ইবন মানসূর ‘তাদলীস’ করতেন এবং শেষ বয়সে তার স্মৃতি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল (স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল)। এটি আবু রাজা ইমরান ইবন মিলহানের ওপর মাওকূফ (তার নিজস্ব উক্তি)।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
بَابُ صِفَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত লাভের পূর্বে কিতাবসমূহে তাঁর বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৬)
5 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَالَ: قَالَ كَعْبٌ: " نَجِدُهُ مَكْتُوبًا: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَا فَظًّا وَلَا غَلِيظًا، وَلَا صَخَّابًا بِالْأَسْوَاقِ، وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ، وَأُمَّتُهُ الْحَمَّادُونَ يُكَبِّرُونَ اللَّهَ عز وجل عَلَى كُلِّ نَجْدٍ، وَيَحْمَدُونَهُ فِي كُلِّ مَنْزِلَةٍ، يَتَأَزَّرُونَ عَلَى أَنْصَافِهِمْ، وَيَتَوَضَّئُونَ عَلَى أَطْرَافِهِمْ، مُنَادِيهِمْ يُنَادِي فِي جَوِّ السَّمَاءِ، صَفُّهُمْ فِي الْقِتَالِ، وَصَفُّهُمْ فِي الصَّلَاةِ سَوَاءٌ، لَهُمْ بِاللَّيْلِ دَوِيٌّ كَدَوِيِّ النَّحْلِ مَوْلِدُهُ بِمَكَّةَ، وَمُهَاجَرُهُ بِطَيْبَةَ، وَمُلْكُهُ بِالشَّامِ "
[تعليق المحقق] مرسل وإسناده صحيح
৫ - হাসান ইবনুর রবী' আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল আহওয়াস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আ'মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কা'ব বলেছেন: "আমরা তাঁকে [কিতাবে] এভাবে লিখিত পাই: মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তিনি রুক্ষ স্বভাবের নন, কঠোর হৃদয়ের নন, বাজারে শোরগোলকারী নন, এবং তিনি মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর উম্মত হলো অধিক প্রশংসাকারী, তারা প্রতিটি উচ্চ স্থানে মহান আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করে এবং প্রতিটি অবস্থানে তাঁর প্রশংসা করে। তারা তাদের নিম্নাংশের অর্ধেক পর্যন্ত কাপড় পরিধান করে এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করার মাধ্যমে ওযু করে। তাদের আহ্বানকারী আকাশের দিগন্তে আহ্বান করে। যুদ্ধের ময়দানে তাদের কাতার এবং নামাযের কাতারের বিন্যাস সমান। রাতে তাদের গুঞ্জন মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শুনা যায়। তাঁর জন্ম মক্কায়, তাঁর হিজরতস্থল তাইবা (মদিনা) এবং তাঁর রাজত্ব শামে।"
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এটি মুরসাল এবং এর সনদ সহীহ।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৭)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي خَالِدٌ هُوَ ابْنُ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدٍ هُوَ ابْنُ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنِ ابْنِ سَلَامٍ رضي الله عنه، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إِنَّا لَنَجِدُ صِفَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا، وَحِرْزًا لِلْأُمِّيِّينَ، أَنْتَ عَبْدِي وَرَسُولِي، سَمَّيْتُهُ الْمُتَوَكِّلَ، لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيظٍ، وَلَا صَخَّابٍ بِالْأَسْوَاقِ، وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ مِثْلَهَا، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَتَجَاوَزُ، وَلَنْ أَقْبِضَهُ حَتَّى يُقِيمَ الْمِلَّةَ الْمُتَعَوِّجَةَ بِأَنْ يُشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، نَفْتَحُ بِهِ أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوبًا غُلْفًا» قَالَ عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ، وَأَخْبَرَنِي أَبُو وَاقِدٍ اللَّيْثِيُّ، أَنَّهُ: سَمِعَ كَعْبًا يَقُولُ مِثْلَ مَا قَالَ ابْنُ سَلَامٍ
[تعليق المحقق] إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن صالح كاتب الليث وهو موقوف على ابن سلام
৬ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট আল-লাইস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার নিকট খালিদ—যিনি ইবনে ইয়াযিদ—বর্ণনা করেছেন, সাঈদ—যিনি ইবনে আবি হিলাল—থেকে, তিনি হিলাল ইবনে উসামাহ থেকে, তিনি আতা ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি ইবনে সালাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলতেন: "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্য এভাবে পাই: «নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে এবং নিরক্ষরদের জন্য সুরক্ষাস্বরূপ। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি তাঁর নাম রেখেছি 'আল-মুতাওয়াক্কিল' (আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল)। তিনি রূঢ় নন, কঠোর স্বভাবের নন এবং বাজারে উচ্চবাচ্যকারী নন। তিনি মন্দের প্রতিফল মন্দ দিয়ে দেন না, বরং ক্ষমা ও মার্জনা করেন। আমি ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর প্রাণ হরণ করব না, যতক্ষণ না তাঁর মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে (জাতিকে) সোজা করে দেই এই সাক্ষ্য প্রদানের দ্বারা যে, 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই'। তাঁর মাধ্যমে আমি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং আচ্ছাদিত অন্তরসমূহ খুলে দেব।»" আতা ইবনে ইয়াসার বলেন, আবু ওয়াকিদ আল-লায়সী আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি কাবকে ইবনে সালাম যা বলেছেন ঠিক অনুরূপ বলতে শুনেছেন।
[গবেষকের মন্তব্য] এর সনদ দুর্বল, কারণ আল-লাইসের লেখক আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ দুর্বল এবং এটি ইবনে সালামের ওপর মাওকুফ (তাঁর নিজস্ব বক্তব্য)।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
7 - أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ كَعْبٍ: فِي السَّطْرِ الْأَوَّلِ: «مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، عَبْدِي الْمُخْتَارُ، لَا فَظَّا، وَلَا غَلِيظًا وَلَا صَخَّابًا فِي الْأَسْوَاقِ، وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ، مَوْلِدُهُ، بِمَكَّةَ، وَهِجْرَتُهُ بِطَيْبَةَ، وَمُلْكُهُ بِالشَّامِ» وَفِي السَّطْرِ الثَّانِي: «مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، أُمَّتُهُ الْحَمَّادُونَ يَحْمَدُونَ اللَّهَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ، يَحْمَدُونَ اللَّهَ فِي كُلِّ مَنْزِلَةٍ، وَيُكَبِّرُونَهُ عَلَى كُلِّ شَرَفٍ، رُعَاةُ الشَّمْسِ يُصَلُّونَ الصَّلَاةَ، إِذَا جَاءَ وَقْتُهَا، وَلَوْ كَانُوا عَلَى رَأْسِ كُنَاسَةٍ، وَيَأْتَزِرُونَ عَلَى أَوْسَاطِهِمْ، وَيُوَضِّئُونَ أَطْرَافَهُمْ، وَأَصْوَاتُهُمْ بِاللَّيْلِ فِي جَوِّ السَّمَاءِ كَأَصْوَاتِ النَّحْلِ»
[تعليق المحقق] إسناده فيه زيد بن عوف وهو متروك وقد اتهمه أبو زرعة بالسرقة. وهو موقوف على كعب
৭ - জাইদ বিন আওফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আওয়ানাহ আমাদের বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি যাকওয়ান আবু সালিহ থেকে, তিনি কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: প্রথম পংক্তিতে (রয়েছে): "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তিনি আমার মনোনীত বান্দা। তিনি রূঢ় নন, কঠোর স্বভাবের নন এবং বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের বিপরীতে মন্দ করেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তাঁর জন্মস্থান মক্কায়, তাঁর হিজরতস্থল তাইবায় এবং তাঁর রাজত্ব শামে।" এবং দ্বিতীয় পংক্তিতে (রয়েছে): "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, তাঁর উম্মত হলো অত্যন্ত প্রশংসাকারী, যারা সুখে ও দুঃখে আল্লাহর প্রশংসা করে। তারা প্রতিটি অবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা করে এবং প্রতিটি উচ্চ স্থানে তাঁর তাকবীর পাঠ করে। তারা সূর্যের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী, যখন নামাযের সময় হয় তারা নামায আদায় করে, যদিও তারা আবর্জনার স্তূপের ওপর থাকে। তারা তাদের কোমরে লুঙ্গি পরিধান করে এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করে (অজু করে)। রাতের বেলা আকাশের শূন্যতায় তাদের কণ্ঠস্বর মৌমাছির গুঞ্জনের মতো।"
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর বর্ণনা সূত্রে জাইদ বিন আওফ রয়েছেন, যিনি পরিত্যক্ত; আবু যুরআ তাকে হাদীস চুরির দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। আর এটি কাব-এর উক্তি হিসেবে বর্ণিত (মাওকুফ)।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৮)
8 - أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، أَنَّهُ سَأَلَ كَعْبَ الْأَحْبَارِ: كَيْفَ تَجِدُ نَعْتَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي التَّوْرَاةِ؟ فَقَالَ كَعْبٌ: «نَجِدُهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهَ يُولَدُ بِمَكَّةَ، وَيُهَاجِرُ إِلَى طَابَةَ، وَيَكُونُ مُلْكُهُ بِالشَّامِ وَلَيْسَ بِفَحَّاشٍ،
⦗ص: 159⦘ وَلَا صَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ، وَلَا يُكَافِئُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ، أُمَّتُهُ الْحَمَّادُونَ، يَحْمَدُونَ اللَّهَ فِي كُلِّ سَرَّاءَ، وَيُكَبِّرُونَ اللَّهَ عَلَى كُلِّ نَجْدٍ، يُوَضِّئُونَ أَطْرَافَهُمْ، وَيَأْتَزِرُونَ فِي أَوْسَاطِهِمْ، يُصَفُّونَ فِي صَلََاتِهِمْ كَمَا يُصَفُّونَ فِي قِتَالِهِمْ، دَوِيُّهُمْ فِي مَسَاجِدِهِمْ كَدَوِيِّ النَّحْلِ، يُسْتَمِعُ مُنَادِيهِمْ فِي جَوِّ السَّمَاءِ»
[تعليق المحقق] إن ذكر ابن حبان عروة بن الحارث في ثقات التابعين جعل الحافظ يشير إلى أنه أبو فروة الذي يروي عن ابن عباس ونحن نشك في ذلك فإن كان هو فالإسناد صحيح وإلا فلعله من ترجمة ابن أبي حاتم في " الجرح والتعديل " 425/ 9 والله أعلم
৮ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুজাহিদ ইবনে মুসা, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মা'ন ইবনে ঈসা, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ, তিনি আবু ফারওয়া থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি কাব আল-আহবারকে জিজ্ঞাসা করলেন: তাওরাতে আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলি কেমন পান? কাব বললেন: «আমরা তাকে পাই মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ হিসেবে, যিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করবেন এবং তাবাহ (মদিনায়) হিজরত করবেন, আর তার রাজত্ব হবে শামে। তিনি অশ্লীলভাষী নন,
⦗পৃষ্ঠা: ১৫৯⦘ বাজারে শোরগোলকারী নন এবং মন্দের প্রতিদান মন্দ দিয়ে দেন না; বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করেন। তার উম্মত হবে অত্যন্ত প্রশংসাকারী; তারা প্রতিটি সচ্ছলতায় আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং প্রতিটি উচ্চভূমিতে আল্লাহর তাকবির ধ্বনি দিবে। তারা তাদের হাত-পা ধৌত করে ওযু করবে এবং তাদের কোমরে লুঙ্গি পরিধান করবে। তারা তাদের সালাতে সেভাবেই কাতারবদ্ধ হবে যেভাবে তারা যুদ্ধের ময়দানে কাতারবদ্ধ হয়। তাদের মসজিদে তাদের গুঞ্জন হবে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো এবং আকাশের শূন্যলোকে তাদের আহ্বানকারীর আহ্বান শোনা যাবে।»
[সম্পাদকের মন্তব্য] ইবনে হিব্বান যদি উরওয়াহ ইবনে হারিসকে নির্ভরযোগ্য তাবিঈদের মধ্যে উল্লেখ করে থাকেন, তবে হাফেজ (ইবনে হাজার) ইঙ্গিত করেছেন যে তিনিই সেই আবু ফারওয়া যিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। আমরা এ বিষয়ে সন্দিহান। যদি তিনিই হন, তবে সনদটি সহিহ; অন্যথা সম্ভবত এটি ইবনে আবি হাতিমের ‘আল-জারহ ওয়াত-তাদিল’ ৯/৪২৫-এর জীবনী থেকে নেওয়া। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫৯)
9 - أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ الْمِيثَمِيُّ، حَدَّثَنَا بَحِيرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ إِلَيْكُمْ لَيْسَ بِوَهِنٍ، وَلَا كَسِلٍ، لِيُحْيِيَ قُلُوبًا غُلْفًا، وَيَفْتَحَ أَعْيُنًا عُمْيًا، وَيُسْمِعَ آذَانًا صُمًّا، وَيُقِيمَ السُّنَّةَ الْعَوْجَاءَ، حَتَّى يُقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ "
[تعليق المحقق] مرسل إسناده ضعيف بقية بن الوليد مدلس تدليس التسوية وقد عنعن في هذا الإسناد
৯ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাইওয়াহ বিন শুরাইহ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ আল-মাইসামি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বাহীর বিন সা’দ, খালিদ বিন মা’দান থেকে, তিনি জুবাইর বিন নুফাইর আল-হাদরামি থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তোমাদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল এসেছেন যিনি দুর্বল নন এবং অলসও নন, যেন তিনি আবরণযুক্ত অন্তরসমূহকে জীবিত করেন, অন্ধ চোখসমূহকে উন্মোচিত করেন, বধির কানসমূহকে শ্রবণ করান এবং বক্র সুন্নাহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন, যতক্ষণ না বলা হয়: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক।"
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এটি মুরসাল, এর সনদ দুর্বল। বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ ‘তাদলিসুত তাসবিয়াহ’র জন্য পরিচিত একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এই সনদে ‘আন’ শব্দ ব্যবহার করে (আনাআনা পদ্ধতিতে) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
10 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لَهُ إِلَيْهِ حَاجَةٌ، فَمَشَى مَعَهُ حَتَّى دَخَلَ قَالَ: فَإِحْدَى رِجْلَيْهِ فِي الْبَيْتِ وَالْأُخْرَى خَارِجَهُ كَأَنَّهُ يُنَاجِي، فَالْتَفَتَ فَقَالَ: أَتَدْرِي مَنْ كُنْتُ أُكَلِّمُ؟ إِنَّ هَذَا مَلَكٌ لَمْ أَرَهُ قَطُّ قَبْلَ يَوْمِي هَذَا، اسْتَأْذَنَ رَبَّهُ أَنْ يُسَلِّمَ عَلَيَّ، قَالَ «إِنَّا آتَيْنَاكَ أَوْ أَنْزَلْنَا الْقُرْآنَ فَصْلًا، وَالسَّكِينَةَ صَبْرًا، وَالْفُرْقَانَ وَصْلًا»
[تعليق المحقق] مرسل رجاله ثقات
১০ - মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-হিযামী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক ইবনে সুলায়মান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আমর ইবনে আবি কায়স থেকে, তিনি আতা থেকে, তিনি আমির থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির তাঁর নিকট একটি প্রয়োজন ছিল। ফলে তিনি তাঁর সাথে হাঁটলেন যতক্ষণ না তিনি (ঘরে) প্রবেশ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তাঁর এক পা ছিল ঘরের ভেতরে এবং অন্য পা ছিল বাইরে, যেন তিনি কানে কানে কথা বলছিলেন। অতঃপর তিনি ফিরে তাকালেন এবং বললেন: "তুমি কি জানো আমি কার সাথে কথা বলছিলাম? ইনি একজন ফেরেশতা যাকে আমি আজকের দিনের আগে কখনো দেখিনি। তিনি তাঁর রবের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন আমাকে সালাম দেওয়ার জন্য।" তিনি (ফেরেশতা) বললেন: "নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে দান করেছি অথবা অবতীর্ণ করেছি কুরআনকে সুস্পষ্ট বিধান হিসেবে, প্রশান্তিকে ধৈর্য হিসেবে এবং ফুরকানকে অবিচ্ছিন্ন সংযোগ হিসেবে।"
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] মুরসাল, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬০)
11 - أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا رَيْحَانُ هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ هُوَ ابْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ عَطِيَّةَ: أَنَّهُ سَمِعَ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيَّ، يَقُولُ: أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقِيلَ لَهُ: لِتَنَمْ عَيْنُكَ، وَلْتَسْمَعْ أُذُنُكَ، وَلْيَعْقِلْ قَلْبُكَ، قَالَ: «فَنَامَتْ عَيْنَايَ، وَسَمِعَتْ أُذُنَايَ، وَعَقَلَ قَلْبِي»
⦗ص: 161⦘ قَالَ: فَقِيلَ لِي: سَيِّدٌ بَنَى دَارًا، فَصَنَعَ مَأْدُبَةً، وَأَرْسَلَ دَاعِيًا، فَمَنْ أَجَابَ الدَّاعِيَ، دَخَلَ الدَّارَ، وَأَكَلَ مِنَ الْمَأْدُبَةِ وَرَضِيَ عَنْهُ السَّيِّدُ، وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّاعِيَ، لَمْ يَدْخُلِ الدَّارَ، وَلَمْ يَطْعَمْ مِنَ الْمَأْدُبَةِ، وَسَخِطَ عَلَيْهِ السَّيِّدُ، قَالَ: " فَاللَّهُ: السَّيِّدُ، وَمُحَمَّدٌ: الدَّاعِي، وَالدَّارُ: الْإِسْلَامُ، وَالْمَأْدُبَةُ: الْجَنَّةُ "
[تعليق المحقق] إسناده ضعيف لضعف عباد بن منصور
১১ - মুজাহিদ ইবনু মূসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, রাইহান—যিনি ইবনু সাঈদ—আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আব্বাদ—যিনি ইবনু মানসূর—আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাবিয়াহ আল-জুরাশিকে বলতে শুনেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট (ফিরিশতা) আসলেন এবং তাঁকে বলা হলো, “আপনার চক্ষু যেন ঘুমায়, আপনার কান যেন শোনে এবং আপনার অন্তর যেন অনুধাবন করে।” তিনি বললেন: “অতঃপর আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমালো, আমার কানদ্বয় শুনলো এবং আমার অন্তর অনুধাবন করলো।”
⦗পৃষ্ঠা: ১৬১⦘ তিনি বললেন: অতঃপর আমাকে বলা হলো, “একজন উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি (মনিব) একটি ঘর নির্মাণ করেছেন, সেখানে ভোজের আয়োজন করেছেন এবং একজন আহ্বানকারী পাঠিয়েছেন। অতঃপর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল, সে ঘরে প্রবেশ করল এবং ভোজ থেকে আহার করল আর মনিব তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল না, সে ঘরে প্রবেশ করল না এবং ভোজ থেকেও আহার করল না আর মনিব তার ওপর অসন্তুষ্ট হলেন।” তিনি (নবী) বললেন: “আল্লাহ হলেন সেই উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন সত্তা (মনিব), মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হলেন আহ্বানকারী, ঘরটি হলো ইসলাম এবং ভোজ হলো জান্নাত।”
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] আব্বাদ ইবনু মানসূরের দুর্বলতার কারণে এর সনদটি দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬১)
12 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُونٍ التَّمِيمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ إِلَى الْبَطْحَاءِ، وَمَعَهُ ابْنُ
⦗ص: 162⦘ مَسْعُودٍ فَأَقْعَدَهُ وَخَطَّ عَلَيْهِ خَطًّا، ثُمَّ قَالَ: «لَا تَبْرَحَنَّ فَإِنَّهُ سَيَنْتَهِي إِلَيْكَ رِجَالٌ، فَلَا تُكَلِّمْهُمْ، فَإِنَّهُمْ لَنْ يُكَلِّمُوكَ» فَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَيْثُ أَرَادَ ثُمَّ جَعَلُوا يَنْتَهُونَ إِلَى الْخَطِّ لَا يُجَاوِزُونَهُ، ثُمَّ يَصْدُرُونَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، جَاءَ إِلَيَّ فَتَوَسَّدَ فَخِذِي وَكَانَ إِذَا نَامَ، نَفَخَ فِي النَّوْمِ، نَفْخًا فَبَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مُتَوَسِّدٌ فَخِذِي، رَاقِدٌ، إِذْ أَتَانِي رِجَالٌ كَأَنَّهُمُ الْجِمَالُ عَلَيْهِمْ ثِيَابٌ بِيضٌ اللَّهُ أَعْلَمُ مَا بِهِمْ مِنَ الْجَمَالِ حَتَّى قَعَدَ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ رَأْسِهِ، وَطَائِفَةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، فَقَالُوا بَيْنَهُمْ: مَا رَأَيْنَا عَبْدًا أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ هَذَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ عَيْنَيْهِ لَتَنَامَانِ، وَإِنَّ قَلْبَهُ لَيَقْظَانُ، اضْرِبُوا لَهُ مَثَلًا: سَيِّدٌ بَنَى قَصْرًا ثُمَّ جَعَلَ مَأْدُبَةً فَدَعَا النَّاسَ إِلَى طَعَامِهِ وَشَرَابِهِ، ثُمَّ ارْتَفَعُوا، وَاسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ فَقَالَ: «أَتَدْرِي مَنْ هَؤُلَاءِ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: «هُمُ الْمَلَائِكَةُ» قَالَ: «وَهَلْ تَدْرِي مَا الْمَثَلُ الَّذِي ضَرَبُوهُ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: «الرَّحْمَنُ بَنَى الْجَنَّةَ فَدَعَا إِلَيْهَا عِبَادَهُ، فَمَنْ أَجَابَهُ، دَخَلَ جَنَّتَهُ، وَمَنْ لَمْ يُجِبْ عَاقَبَهُ وَعَذَّبَهُ»
[تعليق المحقق] إسناده حسن
১২ - আল-হাসান ইবনে আলী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু উসামাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন জা’ফর ইবনে মাইমুন আত-তামিমী থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাতহার দিকে বের হলেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন ইবনে
⦗পৃষ্ঠা: ১৬২⦘ মাসউদ। তিনি তাকে বসিয়ে তার চারপাশে একটি রেখা টেনে দিলেন, অতঃপর বললেন: «তুমি এই স্থান থেকে নড়বে না, কেননা শীঘ্রই তোমার কাছে কিছু লোক আসবে, তবে তুমি তাদের সাথে কথা বলবে না এবং তারাও তোমার সাথে কথা বলবে না।» অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গন্তব্যের দিকে চলে গেলেন। তারপর তারা আসতে লাগল এবং সেই রেখা পর্যন্ত পৌঁছে আর তা অতিক্রম করল না, এরপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরে গেল। অবশেষে যখন রাতের শেষ প্রহর হলো, তিনি আমার নিকট ফিরে এলেন এবং আমার উরুর ওপর মাথা রাখলেন। তিনি যখন ঘুমাতেন তখন ঘুমের ঘোরে নিশ্বাসের শব্দ করতেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার উরুর ওপর মাথা রেখে ঘুমানো অবস্থায় ছিলেন, এমন সময় আমার কাছে কিছু লোক আসল যারা দেখতে যেন উটের ন্যায় ছিল, তাদের পরনে ছিল সাদা কাপড়, আল্লাহই ভালো জানেন তাদের মাঝে কী পরিমাণ সৌন্দর্য ছিল। তাদের একদল তাঁর মাথার কাছে বসল এবং একদল তাঁর পায়ের কাছে বসল। তারা নিজেদের মধ্যে বলল: আমরা এমন কোনো বান্দা দেখিনি যাকে এই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুরূপ কিছু দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই তাঁর চক্ষুদ্বয় ঘুমায় কিন্তু তাঁর অন্তর জাগ্রত থাকে। তাঁর জন্য একটি উদাহরণ পেশ করো: এক নেতা একটি প্রাসাদ নির্মাণ করলেন, অতঃপর এক ভোজের আয়োজন করলেন এবং মানুষকে তাঁর খাবার ও পানীয়ের দিকে আমন্ত্রণ জানালেন। এরপর তারা উপরে উঠে গেল এবং ওই মুহূর্তেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাগ্রত হলেন। তিনি বললেন: «তুমি কি জানো এরা কারা?» আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «তারা হলো ফেরেশতা।» তিনি বললেন: «তারা যে উদাহরণটি পেশ করেছে তুমি কি তা জানো?» আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: «করুণাময় (আর-রাহমান) জান্নাত নির্মাণ করেছেন এবং তাঁর বান্দাদের সেদিকে আহ্বান করেছেন। অতএব যে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল, সে তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করল, আর যে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল না, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন এবং আযাব দেবেন।»
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর সানাদ হাসান।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
بَابُ كَيْفَ كَانَ أَوَّلُ شَأْنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم
অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রাথমিক অবস্থা কেমন ছিল
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৩)
13 - أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو السُّلَمِيُّ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ السُّلَمِيِّ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ رَجُلٌ: كَيْفَ كَانَ أَوَّلُ شَأْنِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ " كَانَتْ حَاضِنَتِي مِنْ بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ فَانْطَلَقْتُ أَنَا وَابْنٌ لَهَا فِي بُهْمٍ لَنَا وَلَمْ نَأْخُذْ مَعَنَا زَادًا، فَقُلْتُ يَا أَخِي اذْهَبْ فَأْتِنَا بِزَادٍ مِنْ عِنْدِ أُمِّنَا فَانْطَلَقَ أَخِي، وَمَكَثْتُ عِنْدَ الْبُهْمِ فَأَقْبَلَ طَائِرَانِ أَبْيَضَانِ كَأَنَّهُمَا نَسْرَانِ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: أَهُوَ هُوَ؟ قَالَ الْآخَرُ: نَعَمْ فَأَقْبَلَا يَبْتَدِرَانِي فَأَخَذَانِي فَبَطَحَانِي لِلْقَفَا فَشَقَّا بَطْنِي ثُمَّ اسْتَخْرَجَا قَلْبِي فَشَقَّاهُ، فَأَخْرَجَا مِنْهُ عَلَقَتَيْنِ سَوْدَاوَيْنِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: ائْتِنِي بِمَاءٍ ثَلْجٍ، فَغَسَلَ بِهِ جَوْفِي، ثُمَّ
⦗ص: 164⦘ قَالَ: ائْتِنِي بِمَاءٍ بَرَدٍ، فَغَسَلَ بِهِ قَلْبِي، ثُمَّ قَالَ: ائْتِنِي بِالسَّكِينَةِ فَذَرَّهُ فِي قَلْبِي، ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: حُصْهُ، فَحَاصَهُ وَخَتَمَ عَلَيْهِ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ، ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: اجْعَلْهُ فِي كِفَّةٍ وَاجْعَلْ أَلْفًا مِنْ أُمَّتِهِ فِي كِفَّةٍ " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " فَإِذَا أَنَا أَنْظُرُ إِلَى الْأَلْفِ فَوْقِي أُشْفِقُ أَنْ يَخِرَّ عَلَيَّ بَعْضُهُمْ فَقَالَ: لَوْ أَنَّ أُمَّتَهُ وُزِنَتْ بِهِ لَمَالَ بِهِمْ، ثُمَّ انْطَلَقَا وَتَرَكَانِي " قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " وَفَرِقْتُ فَرَقًا شَدِيدًا ثُمَّ انْطَلَقْتُ إِلَى أُمِّي فَأَخْبَرْتُهَا بِالَّذِي لَقِيتُ، فَأَشْفَقَتْ أَنْ يَكُونَ قَدِ الْتُبِسَ بِي فَقَالَتْ: أُعِيذُكَ بِاللَّهِ فَرَحَّلَتْ بَعِيرًا لَهَا، فَجَعَلَتْنِي عَلَى الرَّحْلِ وَرَكِبَتْ خَلْفِي حَتَّى بَلَغْنَا إِلَى أُمِّي فَقَالَتْ: أَدَّيْتُ أَمَانَتِي وَذِمَّتِي وَحَدَّثَتْهَا بِالَّذِي لَقِيتُ، فَلَمْ يَرُعْهَا ذَلِكَ، وَقَالَتْ: إِنِّي رَأَيْتُ حِينَ خَرَجَ مِنِّي شَيْئًا - يَعْنِي نُورًا - أَضَاءَتْ مِنْهُ قُصُورُ الشَّامِ "
[تعليق المحقق] إسناده ضعيف بقية بن الوليد يدلس تدليس التسوية وقد عنعن في هذا الاسناد
১৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন নুআইম ইবনে হাম্মাদ, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন বাকিয়্যাহ, বাহীর থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে আমর আস-সুলামী, তিনি উতবাহ ইবনে আবদ আস-সুলামী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন—আর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—যে জনৈক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রারম্ভিক অবস্থা কেমন ছিল? তিনি বললেন: "আমার ধাত্রী ছিলেন বনু সা’দ ইবনে বকর গোত্রের। আমি এবং তাঁর এক পুত্র আমাদের মেষপাল নিয়ে বের হলাম কিন্তু আমরা সাথে কোনো পাথেয় (খাবার) নিইনি। আমি বললাম: হে ভাই! যাও এবং আমাদের মায়ের কাছ থেকে আমাদের জন্য কিছু পাথেয় নিয়ে এসো। ফলে আমার ভাই চলে গেল এবং আমি মেষপালের কাছে অবস্থান করলাম। তখন দুটি সাদা পাখি আসল, যেন তারা দুটি ঈগল। তাদের একজন অপরজনকে বলল: ইনিই কি সেই ব্যক্তি? অন্যজন বলল: হ্যাঁ। অতঃপর তারা দ্রুত আমার দিকে এগিয়ে আসল এবং আমাকে ধরে চিৎ করে শুইয়ে দিল। এরপর তারা আমার পেট চিরে ফেলল এবং আমার হৃৎপিণ্ড বের করে তা বিদীর্ণ করল। তারা তা থেকে দুটি কালো জমাট রক্তপিণ্ড বের করল। তখন তাদের একজন অপরজনকে বলল: আমার কাছে বরফের পানি নিয়ে এসো। সে তা দিয়ে আমার উদর গহ্বর ধৌত করল। অতঃপর
⦗পৃষ্ঠা: ১৬৪⦘ বলল: আমার কাছে শিলার পানি নিয়ে এসো। সে তা দিয়ে আমার হৃৎপিণ্ড ধৌত করল। এরপর বলল: আমার কাছে সাকিনাহ (প্রশান্তি) নিয়ে এসো। অতঃপর সে তা আমার হৃৎপিণ্ডে ছিটিয়ে দিল। এরপর তাদের একজন তার সাথীকে বলল: এটি সেলাই করে দাও। সে তা সেলাই করল এবং নবুওয়াতের মোহর দ্বারা মোহরঙ্কিত করে দিল। এরপর তাদের একজন তার সাথীকে বলল: একে এক পাল্লায় রাখো এবং তার উম্মতের এক হাজার লোককে অন্য পাল্লায় রাখো।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আমি তখন আমার উপরের এক হাজার লোকের দিকে তাকাচ্ছিলাম এবং ভয় পাচ্ছিলাম যে তাদের কেউ হয়তো আমার ওপর পড়ে যাবে। তখন সে বলল: যদি তার পুরো উম্মতকেও তার সাথে ওজন করা হয় তবে তিনিই ভারী হবেন। এরপর তারা চলে গেল এবং আমাকে ছেড়ে গেল।" আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "আমি ভীষণভাবে ভীত হলাম, তারপর আমার (ধাত্রী) মায়ের কাছে ফিরে গিয়ে যা ঘটেছিল তা তাঁকে জানালাম। তিনি ভয় পেলেন যে আমার ওপর কোনো কিছুর আছর হয়েছে। তিনি বললেন: আমি তোমাকে আল্লাহর আশ্রয়ে দিচ্ছি। এরপর তিনি তাঁর একটি উট প্রস্তুত করলেন এবং আমাকে হাওদায় বসালেন এবং নিজে আমার পেছনে আরোহণ করলেন। এভাবে আমরা আমার (জন্মদাত্রী) মায়ের কাছে পৌঁছালাম। তিনি বললেন: আমি আমার আমানত ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেছি এবং যা ঘটেছিল তা তাঁকে জানালেন। কিন্তু এটি তাঁকে ভীত করল না। তিনি বললেন: আমি যখন তাকে প্রসব করেছিলাম তখন দেখেছিলাম যে আমার থেকে একটি বিষয়—অর্থাৎ একটি নূর (আলো)—নির্গত হয়েছে যার দ্বারা সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।"
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর সনদ দুর্বল। বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ 'তাদলিসুত তাসবিয়্যাহ' করতেন এবং এই সনদে তিনি 'আন' শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৪)
14 - أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ،
⦗ص: 165⦘ عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ رضي الله عنه، قَالَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ عَلِمْتَ أَنَّكَ نَبِيٌّ حَتَّى اسْتَيْقَنْتَ؟ فَقَالَ: " يَا أَبَا ذَرٍّ أَتَانِي مَلَكَانِ وَأَنَا بِبَعْضِ بَطْحَاءِ مَكَّةَ فَوَقَعَ أَحَدُهُمَا عَلَى الْأَرْضِ، وَكَانَ الْآخَرُ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: أَهُوَ هُوَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ زِنْهُ بِرَجُلٍ، فَوُزِنْتُ بِهِ فَوَزَنْتُهُ، ثُمَّ قَالَ: فَزِنْهُ بِعَشَرَةٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ، ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِمِائَةٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِأَلْفٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَنْتَثِرُونَ عَلَيَّ مِنْ خِفَّةِ الْمِيزَانِ، قَالَ: فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: لَوْ وَزَنْتَهُ بِأُمَّتِهِ لَرَجَحَهَا "
[تعليق المحقق] إسناده منقطع عروة بن الزبير لم يدرك أبا ذر الغفاري ورجاله ثقات
১৪ - আবদুল্লাহ ইবনে ইমরান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে উসমান আল-কুরাশি উমর ইবনে উরওয়া ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে,
⦗পৃষ্ঠা: ১৬৫⦘ তিনি আবু যর আল-গিফারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কীভাবে জানলেন যে আপনি একজন নবী এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত হলেন? তিনি বললেন: "হে আবু যর! আমি যখন মক্কার কোনো এক উপত্যকায় ছিলাম, তখন আমার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসলেন। তাদের একজন জমিনে অবতরণ করলেন এবং অন্যজন আকাশ ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে ছিলেন। তখন তাদের একজন তাঁর সাথীকে বললেন: তিনিই কি সেই ব্যক্তি? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তাকে একজন মানুষের সাথে ওজন করো। এরপর আমাকে তাঁর সাথে ওজন করা হলো এবং আমি ওজনে তাঁর চেয়ে ভারী হলাম। এরপর তিনি বললেন: তাকে দশজনের সাথে ওজন করো। এরপর আমাকে তাদের সাথে ওজন করা হলো এবং আমি তাদের চেয়ে ভারী হলাম। এরপর তিনি বললেন: তাকে একশত জনের সাথে ওজন করো। এরপর আমাকে তাদের সাথে ওজন করা হলো এবং আমি তাদের চেয়ে ভারী হলাম। এরপর তিনি বললেন: তাকে এক হাজার জনের সাথে ওজন করো। এরপর আমাকে তাদের সাথে ওজন করা হলো এবং আমি তাদের চেয়ে ভারী হলাম। তখন পাল্লা হালকা হওয়ার কারণে যেন আমি দেখছিলাম তারা আমার ওপর ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন: এরপর তাদের একজন অপরজনকে বললেন: যদি আপনি তাকে তাঁর পুরো উম্মতের সাথেও ওজন করেন, তবে তিনি তাদের সবার চেয়ে ভারী হবেন।"
[মুহাক্কিকের টীকা] এর সনদটি বিচ্ছিন্ন; উরওয়া ইবনে যুবাইর আবু যর আল-গিফারির সাক্ষাৎ পাননি, তবে এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
15 - أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «يُنَادِيهِمْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا أَنَا رَحْمَةٌ مُهْدَاةٌ»
[تعليق المحقق] إسناده صحيح ولكنه مرسل
১৫ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবন খলীল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবন মুশহির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আ'মাশ, তিনি আবু সালিহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের ডেকে বলতেন: «হে লোকসকল, আমি কেবল এক উপহারস্বরূপ রহমত»
[গবেষকের মন্তব্য] এর সানাদ সহীহ, তবে এটি মুরসাল।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
بَابُ مَا أَكْرَمَ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم مِنْ إِيمَانِ الشَّجَرِ بِهِ، وَالْبَهَائِمِ، وَالْجِنِّ
অধ্যায়: আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গাছপালা, পশু এবং জিনের তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নের মাধ্যমে যা দিয়ে সম্মানিত করেছেন
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৬)
16 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ، عَنْ عَطَاءٍ،
⦗ص: 167⦘ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رضي الله عنهما قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فِي سَفَرٍ فَأَقْبَلَ أَعْرَابِيٌّ فَلَمَّا دَنَا مِنْهُ، قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيْنَ تُرِيدُ؟» قَالَ: إِلى أَهْلِي قَالَ: «هَلْ لَكَ فِي خَيْرٍ؟» قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قَالَ: «تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ» فَقَالَ: وَمَنْ يَشْهَدُ عَلَى مَا تَقُولُ؟ قَالَ: «هَذِهِ السَّلَمَةُ» فَدَعَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهِيَ بِشَاطِئِ الْوَادِي فَأَقْبَلَتْ تَخُدُّ الْأَرْضَ خَدًّا حَتَّى قَامَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَاسْتَشْهَدَهَا ثَلَاثًا، فَشَهِدَتْ ثَلَاثًا أَنَّهُ كَمَا قَالَ، ثُمَّ رَجَعَتْ إِلَى مَنْبَتِهَا وَرَجَعَ الْأَعْرَابِيُّ إِلَى قَوْمِهِ، وَقَالَ: إِنِ اتَّبَعُونِي أَتَيْتُكَ بِهِمْ، وَإِلَّا رَجَعْتُ، فَكُنْتُ مَعَكَ
[تعليق المحقق] حديث صحيح
১৬ - মুহাম্মদ ইবনে তরীফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আতা থেকে,
⦗পৃষ্ঠা: ১৬৭⦘ তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম। তখন এক বেদুইন এগিয়ে এল। যখন সে তাঁর নিকটবর্তী হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «তুমি কোথায় যেতে চাও?» সে বলল: আমার পরিবারের কাছে। তিনি বললেন: «তুমি কি কোনো কল্যাণের পথে আসবে?» সে বলল: সেটি কী? তিনি বললেন: «তুমি সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।» সে বলল: আপনি যা বলছেন তার পক্ষে কে সাক্ষ্য দেবে? তিনি বললেন: «এই সালামাহ গাছটি।» অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছটিকে ডাকলেন, সেটি উপত্যকার প্রান্তে ছিল। সেটি মাটি চিরে অগ্রসর হয়ে তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেল। তিনি তাকে তিনবার সাক্ষ্য দিতে বললেন, সেটি তিনবার সাক্ষ্য দিল যে বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন। এরপর সেটি নিজের উৎপত্তিস্থলে ফিরে গেল। বেদুইন ব্যক্তিটিও তার কওমের কাছে ফিরে গেল এবং বলল: তারা যদি আমার অনুসরণ করে তবে আমি তাদেরকে নিয়ে আপনার কাছে আসব, অন্যথায় আমি ফিরে আসব এবং আপনার সাথেই থাকব।
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] হাদিসটি সহিহ
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৭)
17 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: خَرَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ وَكَانَ لَا يَأْتِي الْبَرَازَ حَتَّى يَتَغَيَّبَ فَلَا يُرَى فَنَزَلْنَا بِفَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ لَيْسَ فِيهَا شَجَرَةٌ وَلَا عَلَمٌ فَقَالَ: «يَا جَابِرُ اجْعَلْ فِي إِدَاوَتِكَ مَاءً ثُمَّ انْطَلِقْ بِنَا» قَالَ: فَانْطَلَقْنَا حَتَّى لَا نُرَى، فَإِذَا هُوَ بِشَجَرَتَيْنِ بَيْنَهُمَا أَرْبَعُ أَذْرُعٍ
⦗ص: 168⦘ فَقَالَ: " يَا جَابِرُ انْطَلِقْ إِلَى هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَقُلْ: يُقُولُ لَكِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: الْحَقِي بِصَاحِبَتِكِ حَتَّى أَجْلِسَ خَلْفَكُمَا "، قَالَ: فَفَعَلْتُ فَرَجَعَتْ إِلَيْهَا فَجَلَسَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهُمَا، ثُمَّ رَجَعَتَا إِلَى مَكَانِهِمَا، فَرَكِبْنَا مَعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَرَسُولُ اللَّهِ بَيْنَنَا كَأَنَّمَا عَلَيْنَا الطَّيْرُ تُظِلُّنَا، فَعَرَضَتْ لَهُ امْرَأَةٌ مَعَهَا صَبِيٌّ لَهَا فَقَالَتْ: يَا رَسُولُ اللَّهِ إِنَّ ابْنِي هَذَا يَأْخُذُهُ الشَّيْطَانُ كُلَّ يَوْمٍ ثَلَاثَ مِرَارٍ، قَالَ: فَتَنَاوَلَ الصَّبِيَّ فَجَعَلَهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ مُقَدَّمِ الرَّحْلِ، ثُمَّ قَالَ: «اخْسَأْ عَدُوَّ اللَّهِ، أَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، اخْسَأْ عَدُوَّ اللَّهِ أَنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثًا» ثُمَّ دَفَعَهُ إِلَيْهَا فَلَمَّا قَضَيْنَا سَفَرَنَا، مَرَرْنَا بِذَلِكَ الْمَكَانِ فَعَرَضَتْ لَنَا الْمَرْأَةُ مَعَهَا صَبِيُّهَا، وَمَعَهَا كَبْشَانِ تَسُوقُهُمَا، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْبَلْ مِنِّي هَدِيَّتِي، فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا عَادَ إِلَيْهِ بَعْدُ، فَقَالَ: «خُذُوا مِنْهَا وَاحِدًا وَرُدُّوا عَلَيْهَا الْآخَرَ»، قَالَ: ثُمَّ سِرْنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَنَا كَأَنَّمَا عَلَيْنَا الطَّيْرُ تُظِلُّنَا، فَإِذَا جَمَلٌ نَادٌّ حَتَّى إِذَا كَانَ بَيْنَ سِمَاطَيْنِ خَرَّ سَاجِدًا، فَجَلَسَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَقَالَ عَلَيَّ النَّاسَ: «مَنْ صَاحِبُ الْجَمَلِ؟» فَإِذَا فِتْيَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالُوا: هُوَ لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «فَمَا شَأْنُهُ؟». قَالُوا: اسْتَنَيْنَا عَلَيْهِ مُنْذُ عِشْرِينَ سَنَةً، وَكَانَتْ بِهِ شُحَيْمَةٌ فَأَرَدْنَا أنْ نَنْحَرَهُ فَنَقْسِمَهُ بَيْنَ غِلْمَانِنَا، فَانْفَلَتَ مِنَّا، قَالَ: «بِيعُونِيهِ» قَالُوا: لَا، بَلْ هُوَ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ،
⦗ص: 169⦘ قَالَ: «أَمَّا لَا فَأَحْسِنُوا إِلَيْهِ حَتَّى يَأْتِيَهُ أَجَلُهُ» قَالَ الْمُسْلِمُونَ عِنْدَ ذَلِكَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَحْنُ أَحَقُّ بِالسُّجُودِ لَكَ مِنَ الْبَهَائِمِ، قَالَ: «لَا يَنْبَغِي لِشَيْءٍ أَنْ يَسْجُدَ لِشَيْءٍ، وَلَوْ كَانَ ذَلِكَ كَانَ النِّسَاءُ لِأَزْوَاجِهِنَّ»
[تعليق المحقق] إسناده ضعيف لضعف إسماعيل بن عبد الملك. ولكن الحديث صحيح بشواهده
১৭ - উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি ইসমাইল ইবনে আব্দুল মালিক থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে এক সফরে বের হলাম। তিনি মলত্যাগের জন্য এমন দূরত্বে যেতেন যেখানে তিনি দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতেন এবং তাকে দেখা যেত না। এরপর আমরা এক জনমানবহীন প্রান্তরে অবতরণ করলাম যেখানে কোনো গাছ বা চিহ্ন ছিল না। তখন তিনি বললেন: «হে জাবির, তোমার পানপাত্রে পানি নাও এবং আমাদের সাথে চলো»। তিনি বলেন: আমরা হাঁটতে শুরু করলাম যতক্ষণ না আমরা দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলাম। হঠাৎ তিনি দুটি গাছ দেখতে পেলেন যাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব ছিল চার হাত।
⦗পৃষ্ঠা: ১৬৮⦘ তিনি বললেন: "হে জাবির, তুমি এই গাছটির কাছে যাও এবং বলো: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাকে বলছেন: তোমার সঙ্গিনীর সাথে মিলে যাও যাতে আমি তোমাদের পেছনে বসতে পারি।" তিনি বলেন: আমি তাই করলাম এবং গাছটি অন্য গাছটির কাছে ফিরে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের পেছনে বসলেন। এরপর গাছ দুটি নিজ নিজ স্থানে ফিরে গেল। অতঃপর আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সওয়ার হলাম এবং আল্লাহর রাসূল আমাদের মাঝে ছিলেন এমনভাবে যে যেন আমাদের মাথার উপর পাখি ছায়া দিচ্ছে। তখন এক মহিলা তার একটি শিশু সন্তানসহ তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার এই ছেলেটিকে শয়তান প্রতিদিন তিনবার ধরে। জাবির বলেন: তিনি শিশুটিকে নিলেন এবং তাকে নিজের ও সওয়ারির সামনের অংশের মাঝখানে রাখলেন। এরপর তিনি বললেন: «দূর হ হে আল্লাহর শত্রু, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম); দূর হ হে আল্লাহর শত্রু, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - এভাবে তিনবার বললেন»। এরপর তিনি শিশুটিকে মহিলার কাছে ফিরিয়ে দিলেন। যখন আমরা আমাদের সফর শেষ করলাম, তখন আমরা সেই স্থান দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন মহিলাটি তার শিশু এবং তাড়িয়ে আনা দুটি দুম্বা নিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত হলো। সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পক্ষ থেকে উপহার কবুল করুন; সেই সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, এরপর থেকে তার আর সেই সমস্যা হয়নি। তিনি বললেন: «ওর থেকে একটি নাও এবং অন্যটি তাকে ফিরিয়ে দাও»। জাবির বলেন: এরপর আমরা চলতে লাগলাম এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে ছিলেন এমনভাবে যেন আমাদের উপর পাখি ছায়া দিচ্ছে। হঠাৎ একটি অবাধ্য উট সামনে এল এবং মানুষের দুই সারির মাঝে এসে সিজদাবনত হয়ে পড়ে থাকল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসলেন এবং লোকদের ডেকে বললেন: «এই উটের মালিক কে?» তখন আনসারদের কিছু যুবক বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এটি আমাদের। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: «এর ব্যাপারটি কী?»। তারা বলল: আমরা বিশ বছর ধরে এর দ্বারা কাজ নিয়েছি। এখন তার শরীরে কিছু চর্বি হয়েছে, তাই আমরা তাকে যবেহ করে আমাদের কিশোরদের মাঝে ভাগ করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে আমাদের থেকে পালিয়ে এসেছে। তিনি বললেন: «এটি আমার কাছে বিক্রি করে দাও» তারা বলল: না, বরং হে আল্লাহর রাসূল, এটি আপনার জন্যই।
⦗পৃষ্ঠা: ১৬৯⦘ তিনি বললেন: «যদি না দাও, তবে তার সাথে সদয় আচরণ করো যতক্ষণ না তার মৃত্যু আসে»। তখন মুসলিমরা বলল: হে আল্লাহর রাসূল, চতুষ্পদ জন্তুর চেয়ে আপনার প্রতি সিজদা করার অধিক হকদার তো আমরা। তিনি বললেন: «কারো জন্য অন্য কারো প্রতি সিজদা করা উচিত নয়। আর যদি তা (বৈধ) হতো, তবে নারীরা তাদের স্বামীদের সিজদা করত»
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] ইসমাইল ইবনে আব্দুল মালিক দুর্বল হওয়ার কারণে এর সনদটি দুর্বল। তবে শাহিদ বর্ণনার ভিত্তিতে হাদিসটি সহিহ।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬৯)
18 - حَدَّثَنَا يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْأَجْلَحُ، عَنِ الذَّيَّالِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما قَالَ: أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى دُفِعْنَا إِلَى حَائِطٍ فِي بَنِي النَّجَّارِ، فَإِذَا فِيهِ جَمَلٌ لَا يَدْخُلُ الْحَائِطَ أَحَدٌ إِلَّا شَدَّ عَلَيْهِ، فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَتَاهُ، فَدَعَاهُ فَجَاءَ وَاضِعًا مِشْفَرَهُ عَلَى الْأَرْضِ حَتَّى بَرَكَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَقَالَ: «هَاتُوا خِطَامًا» فَخَطَمَهُ وَدَفَعَهُ إِلَى صَاحِبِهِ، ثُمَّ الْتَفَتَ، فَقَالَ: «مَا بَيْنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ أَحَدٌ إِلَّا يَعْلَمُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَّا عَاصِيَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ»
[تعليق المحقق] إسناده جيد
১৮ - আমাদের নিকট ইয়লা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট আজলাহ বর্ণনা করেছেন যইয়াল ইবনে হারমালাহ থেকে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে আসছিলাম, এক পর্যায়ে আমরা বনু নাজ্জার গোত্রের একটি বাগানে পৌঁছালাম। সেখানে একটি উট ছিল, কেউ বাগানে প্রবেশ করলেই উটটি তাকে আক্রমণ করত। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি উটটির কাছে আসলেন এবং তাকে ডাকলেন। তখন সেটি তার ঠোঁট মাটিতে ঘষতে ঘষতে এগিয়ে এল এবং তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তখন তিনি বললেন: "একটি লাগাম নিয়ে এসো।" অতঃপর তিনি তাকে লাগাম পরালেন এবং তার মালিকের নিকট সোপর্দ করলেন। এরপর তিনি ফিরে তাকালেন এবং বললেন: "আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী এমন কেউ নেই যে জানে না যে আমি আল্লাহর রাসূল, কেবল অবাধ্য জিন ও মানুষ ব্যতীত।"
[গবেষকের মন্তব্য] এর সনদ জাইয়্যিদ।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
19 - أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ بِابْنٍ لَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنِي بِهِ جُنُونٌ، وَإِنَّهُ يَأْخُذُهُ عِنْدَ غَدَائِنَا وَعَشَائِنَا فَيُخَبَّثُ عَلَيْنَا «فَمَسَحَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَدْرَهُ، وَدَعَا فَثَعَّ ثَعَّةً وَخَرَجَ مِنْ جَوْفِهِ مِثْلُ الْجِرْوِ الْأَسْوَدِ، فَسَعَى»
[تعليق المحقق] إسناده ضعيف من أجل فرقد السبخي
১৯ - হাজ্জাজ বিন মিনহাল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি ফারকাদ আস-সাবাসি থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক নারী তার এক পুত্রকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন এবং বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার এই ছেলেটি উন্মাদনায় আক্রান্ত। আমাদের সকাল ও সন্ধ্যার খাবারের সময় তার ওপর এই অবস্থা ভর করে এবং সে আমাদের খাবার নষ্ট করে দেয়।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার বুকে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং দুআ করলেন; ফলে ছেলেটি একবার বমি করল এবং তার ভেতর থেকে কালো কুকুরের বাচ্চার মতো কিছু একটা বের হয়ে দৌড়ে চলে গেল।
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] ফারকাদ আস-সাবাসির কারণে এর সনদটি দুর্বল।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭০)
20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ، أَنْبَأَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ الْعَبْدِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «إِنِّي لَأَعْرِفُ حَجَرًا بِمَكَّةَ كَانَ يُسَلِّمُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُبْعَثَ إِنِّي لَأَعْرِفُهُ الْآنَ»
[تعليق المحقق] إسناده جيد
২০ - মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আবু বুকাইর আল-আবদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবরাহীম ইবনে তাহমান থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি জাবির ইবনে সামুরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয় আমি মক্কায় এমন একটি পাথরকে চিনি যা আমার নবুওয়াত লাভের পূর্বে আমাকে সালাম প্রদান করত; নিশ্চয় আমি বর্তমানেও সেটাকে চিনি।»
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর সনদ জাইয়্যিদ (উত্তম)।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
21 - حَدَّثَنَا فَرْوَةُ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ أَبِي ثَوْرٍ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ السُّدِّيِّ، عَنْ عَبَّادٍ أَبِي يَزِيدَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رِضْوَانُ اللَّهِ عَلَيْهِ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَكَّةَ فَخَرَجْنَا مَعَهُ فِي بَعْضِ نَوَاحِيهَا، فَمَرَرْنَا بَيْنَ الْجِبَالِ وَالشَّجَرِ، " فَلَمْ نَمُرَّ بِشَجَرَةٍ وَلَا جَبَلٍ إِلَّا قَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ "
[تعليق المحقق] إسناده فيه علتان: ضعف الوليد بن أبي ثور وجهالة عباد أبي يزيد وهو عباد بن أبي يزيد
২১ - ফারওয়াহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালীদ ইবনে আবি সাওর আল-হামদানি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল আস-সুদ্দী থেকে, তিনি আব্বাদ আবি ইয়াযিদ থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা মক্কায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। অতঃপর আমরা তাঁর সাথে মক্কার কোনো এক উপকণ্ঠে বের হলাম এবং পাহাড় ও গাছের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। এমতাবস্থায় আমরা এমন কোনো গাছ বা পাহাড়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করিনি যা বলেনি: "আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ" (হে আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)।
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর সানাদে দুটি ত্রুটি রয়েছে: ওয়ালীদ ইবনে আবি সাওরের দুর্বলতা এবং আব্বাদ আবি ইয়াযিদের অজ্ঞাত হওয়া; আর তিনি হলেন আব্বাদ ইবনে আবি ইয়াযিদ।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭১)
22 - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ شِمْرِ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ رَجُلٍ مِنْ مُزَيْنَةَ، أَوْ جُهَيْنَةَ، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْفَجْرَ فَإِذَا هُوَ بِقَرِيبٍ مِنْ مِائَةِ ذِئْبٍ قَدْ أَقْعَيْنَ وُفُودُ الذِّئَابِ، فَقَالَ لَهُمْ
⦗ص: 172⦘ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَرَضَّخُونَ لَهُمْ شَيْئًا مِنْ طَعَامِكُمْ وَتَأْمَنُونَ عَلَى مَا سِوَى ذَلِكَ؟» فَشَكَوْا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْحَاجَةَ قَالَ: «فَآذِنُوهُنَّ» قَالَ: فَآذَنُوهُنَّ فَخَرَجْنَ وَلَهُنَّ عُوَاءٌ
[تعليق المحقق] رجاله ثقات ولكن قيل: أخطأ محمد بن يوسف في مئة وخمسين حديثا من حديث سفيان
২২ - মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আল-আ'মাশ থেকে, তিনি শিমর ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি মুজাইনা অথবা জুহাইনা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করলেন। হঠাৎ তিনি দেখলেন প্রায় একশত নেকড়ে বাঘ তাদের পেছনের পায়ে ভর দিয়ে বসে আছে; তারা ছিল নেকড়েদের প্রতিনিধি দল। তখন
⦗পৃষ্ঠা: ১৭২⦘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের (সাহাবীদের) বললেন: «তোমরা কি তাদের জন্য তোমাদের খাদ্যের কিছু অংশ বরাদ্দ করবে এবং এর বিনিময়ে অবশিষ্ট সবকিছুর ব্যাপারে তাদের থেকে নিরাপদ থাকবে?» তখন তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদের অভাব-অনটনের কথা অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন: «তাহলে তোমরা তাদের চলে যেতে বলো (বিদায় দাও)»। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তারা তাদের চলে যেতে বললেন, ফলে তারা ডাকতে ডাকতে বেরিয়ে গেল।
[গবেষকের মন্তব্য] এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে বলা হয়েছে যে: মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ সুফিয়ানের বর্ণিত একশত পঞ্চাশটি হাদিসে ভুল করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭২)
23 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: جَاءَ جِبْرِيلُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ جَالِسٌ حَزِينٌ، وَقَدْ تَخَضَّبَ بِالدَّمِ مِنْ فِعْلِ أَهْلِ مَكَّةَ مِنْ قُرَيْشٍ فَقَالَ جِبْرِيلُ عليه السلام: يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ تُحِبُّ أَنْ أُرِيَكَ آيَةً؟ قَالَ: «نَعَمْ»، فَنَظَرَ إِلَى شَجَرَةٍ مِنْ وَرَائِهِ فَقَالَ: ادْعُ بِهَا، فَدَعَا بِهَا، فَجَاءَتْ وَقَامَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَقَالَ: مُرْهَا فَلْتَرْجِعْ، فَأَمَرَهَا فَرَجَعَتْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «حَسْبِي حَسْبِي»
[تعليق المحقق] إسناده صحيح
২৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবন ইবরাহিম, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মুয়াবিয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-আমাশ, তিনি আবু সুফিয়ান থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসলেন যখন তিনি বিষণ্ণ অবস্থায় উপবিষ্ট ছিলেন। কুরাইশ বংশীয় মক্কাবাসীদের আচরণের কারণে তিনি তখন রক্তরঞ্জিত ছিলেন। এমতাবস্থায় জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে আমি আপনাকে একটি নিদর্শন দেখাই? তিনি বললেন: «হ্যাঁ»। তখন তিনি (জিবরাঈল) তাঁর পেছনের একটি গাছের দিকে তাকালেন এবং বললেন: এটিকে ডাকুন। ফলে তিনি সেটিকে ডাকলেন এবং সেটি আসলো ও তাঁর সম্মুখে এসে দাঁড়ালো। তখন তিনি (জিবরাঈল) বললেন: এটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিন। তিনি সেটিকে নির্দেশ দিলেন এবং সেটি ফিরে গেল। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «আমার জন্য এটিই যথেষ্ট, আমার জন্য এটিই যথেষ্ট»।
[মুহাক্কিকের মন্তব্য] এর সানাদ সহীহ।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুদ্দারিমি - তাহকীক হুসাইন আসাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭৩)
24 - أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما، قَالَ: أَتَى رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرٍ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «أَلَا أُرِيكَ آيَةً؟» قَالَ: بَلَى، قَالَ: «فَاذْهَبْ فَادْعُ تِلْكَ النَّخْلَةَ» فَدَعَاهَا فَجَاءَتْ تَنْقُزُ بَيْنَ يَدَيْهِ، قَالَ: قُلْ لَهَا تَرْجِعْ، قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ارْجِعِي» فَرَجَعَتْ حَتَّى عَادَتْ إِلَى مَكَانِهَا، فَقَالَ: يَا بَنِي عَامِرٍ، مَا رَأَيْتُ رَجُلًا كَالْيَوْمِ أَسْحَرَ مِنْهُ
[تعليق المحقق] إسناده صحيح
২৪ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম, আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন জারির ও আবু মুয়াবিয়া, তারা আ'মাশ থেকে, তিনি আবু জাবইয়ান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: বনু আমির গোত্রের এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসল। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «আমি কি তোমাকে একটি নিদর্শন দেখাব?» সে বলল: «হ্যাঁ।» তিনি বললেন: «তবে যাও এবং ওই খেজুর গাছটিকে ডাকো।» সে সেটিকে ডাকল, ফলে সেটি লাফাতে লাফাতে তাঁর সামনে চলে আসল। তিনি বললেন: «একে ফিরে যেতে বলো।» আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটিকে বললেন: «ফিরে যাও।» ফলে সেটি ফিরে গেল এবং পুনরায় নিজের জায়গায় অবস্থান নিল। তখন সে বলল: হে বনু আমির! আজকের মতো এর চেয়ে বড় জাদুকর আমি আর কাউকে দেখিনি।
[মুহাক্কিকের টীকা] এর সানাদ সহিহ।