(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: -)
القواعد الفقهية وتطبيقاتها في المذاهب الأربعة   (محمد مصطفى الزحيلي)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: القواعد الفقهية وتطبيقاتها في المذاهب الأربعة

المؤلف: د. محمد مصطفى الزحيلي

عميد كلية الشريعة والدراسات الإسلامية - جامعة الشارقة

الناشر: دار الفكر - دمشق

الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফিকহি মূলনীতিসমূহ এবং চার মাযহাবে এর প্রয়োগ   (মুহাম্মদ মুস্তফা আল-জুহায়লি)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ


কিতাব: ফিকহি মূলনীতিসমূহ এবং চার মাযহাবে এর প্রয়োগ

লেখক: ড. মুহাম্মদ মুস্তফা আল-জুহায়লি

ডিন, শরিয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ - শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: দারুল ফিকর - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বর)

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

الكتاب: القواعد الفقهية وتطبيقاتها في المذاهب الأربعة

المؤلف: د. محمد مصطفى الزحيلي.

عميد كلية الشريعة والدراسات الإسلامية - جامعة الشارقة

الناشر: دار الفكر - دمشق

الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

গ্রন্থ: আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ এবং চার মাযহাবে এর প্রয়োগ

লেখক: ড. মুহাম্মদ মুস্তফা আল-জুহাইলি।

ডিন, শরিয়াহ ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদ - শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশক: দারুল ফিকর - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরি - ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

الحمد لله الذي أنعم علينا بالإسلام، وأتم لنا الدّين، وفتح أمامنا أبواب الهداية، وبصرنا طرق الاجتهاد، وإعمال العقل، وبذل الجهد، واعتبر ذلك عبادة وتفقهاً وذخراً ليوم الدين.

والصلاة والسلام على رسول الله، المبعوث رحمة للعالمين، البشير النذير، الهادي إلى الحق والصراط المستقيم، والباعث على التفكر والبحث وإعمال الذهن للوصول إلى اليقين.

ورضي الله عن الآل والأصحاب، ورحم الله العلماء والفقهاء والدعاة، وجزى الله الجميع خيراً، وعوض المسلمين عنهم خيراً على الدوام.

وبعد:

فإن القواعد الفقهية من أهم العلوم الإسلامية، وهي مرحلة متطورة للتأليف في الفقه، وضبط فروعه، وإحكام ضوابطه، وحصر جزئياته، ولها فوائد جمة، ومنافع كثيرة، سوف نتطرق إليها بمشيئة الله تعالى.

وقد وُجِدت البدور الأولى للقواعد الفقهية في القرآن والسنة، ثم اعتمد عليها ضمنياً الصحابة والعلماء والفقهاء والأئمة عند الاجتهاد والاستنباط، دون أن تكون مدونة، ثم تفطن العلماء لجمعها، وتحريرها، في القرن الرابع الهجري، وبدأت تنتشر وتشيع في المؤلفات الخاصة، وفي ثنايا كتب الفقه عامة، وعلم الخلاف (الفقه المقارن) خاصة، ثم ظهرت فيها المؤلفات، والمجلدات في المذاهب الفقهية، وكثر التأليف فيها من القرن السابع إلى القرن العاشر، وتم تحرير القواعد، وصياغتها.

وجمعها مع فروعها في كتب خاصة، وسنذكر أهمها في التقديم التالي.

ثم تبلورت مشخصة ومقننة لأول مرة في مجلة الأحكام العدلية التي وضعت سنة
ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ইসলামের নেয়ামত দান করেছেন, আমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, আমাদের সামনে হিদায়াতের দ্বার উন্মোচন করেছেন, আমাদের ইজতিহাদের পথসমূহ দেখিয়েছেন এবং মেধা ও প্রচেষ্টাকে কাজে লাগানোর তাওফিক দিয়েছেন এবং সেটিকে ইবাদত, দ্বীনি প্রজ্ঞা অর্জন ও কিয়ামতের দিনের পাথেয় হিসেবে গণ্য করেছেন।

আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে, যিনি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, সত্য ও সরল পথের দিশারি এবং যিনি নিশ্চিত বিশ্বাসে পৌঁছানোর লক্ষ্যে চিন্তাভাবনা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টার অনুপ্রেরণাদাতা।

আর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর, এবং আল্লাহ রহম করুন আলেম, ফকীহ ও দাঈদের ওপর, এবং আল্লাহ সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং সর্বদা মুসলিম উম্মাহকে তাঁদের উত্তম উত্তরসূরি দান করুন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ফিকহি মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদুল ফিকহিয়া) ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি ফিকহ শাস্ত্রের রচনাশৈলীর একটি উন্নত স্তর, যার মাধ্যমে এর শাখা-প্রশাখাগুলোকে সুসংবদ্ধ করা হয়, এর নীতিমালাকে সুসংহত করা হয় এবং এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে আয়ত্তে আনা হয়। এর রয়েছে অসংখ্য ফায়দা ও বহুমাত্রিক কল্যাণ, যা আমরা ইনশাআল্লাহ আলোচনা করব।

ফিকহি মূলনীতিসমূহের প্রাথমিক বীজ কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যেই বিদ্যমান ছিল। অতঃপর সাহাবী, আলেম, ফকীহ ও ইমামগণ ইজতিহাদ ও মাসআলা উদ্ভাবনের সময় পরোক্ষভাবে এগুলোর ওপর নির্ভর করতেন, যদিও তখন তা বিধিবদ্ধ আকারে ছিল না। পরবর্তীতে চতুর্থ হিজরী শতাব্দীতে আলেমগণ এগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনার প্রতি মনোযোগী হন এবং এটি স্বতন্ত্র গ্রন্থসমূহে এবং সাধারণভাবে ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবগুলোতে এবং বিশেষভাবে ‘ইলমুল খিলাফ’ (তুলনামূলক ফিকহ) শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। অতঃপর বিভিন্ন মাযহাবের ফিকহি গ্রন্থ ও খণ্ডসমূহে এ বিষয়ে স্বতন্ত্র রচনা প্রকাশ পেতে থাকে। সপ্তম থেকে দশম হিজরী শতাব্দী পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচিত হয় এবং মূলনীতিসমূহকে পরিমার্জিত ও বিধিবদ্ধ রূপ দেওয়া হয়।

এবং এগুলোকে এর শাখা-প্রশাখাসহ স্বতন্ত্র কিতাবে সংকলন করা হয়েছে; আমরা পরবর্তী আলোচনায় এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রন্থের নাম উল্লেখ করব।

অতঃপর এটি প্রথমবারের মতো একটি সুনির্দিষ্ট ও সংহিতাবদ্ধ রূপ লাভ করে ‘মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ’-তে, যা প্রণীত হয়েছিল...
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
1286 هـ وطبقت فعلاً كقانون سنة 1293 هـ/ 1876 م، وتداولها القضاة والمحامون أولاً، ثم أولاها العلماء والفقهاء وشراح المجلة ثانياً، وأفردها الشيخ أحمد الزرقا بكتاب مستقل، ورعاها ابنه أستاذنا العلامة الشيخ مصطفى الزرقا (1999 م) في المدخل بدراسة متميزة مع تبويبها، وتصنيفها، والإشادة بها في كتابه القيم الفريد.

(المدخل الفقهي العام) الذي ألفه سنة 1947 م، ثم نال عليه جائزة الملك فيصل العالمية.

وفي العقدين الأخيرين من القرن العشرين الميلادي، ومطلع القرن الخامس عشر الهجري، اتجهت الأنظار في العالم العربي والإسلامي للعناية الفائقة بالقواعد الفقهية، وظهرت فيها الأنشطة المتعددة، وتبوأت المكانة السامية في الرعاية والعناية، وتتجلى في النقاط التالية:

1 - تدريس القواعد الفقهية في المعاهد الدينية، أو المعاهد الإسلامية، أو

الثانويات الشرعية، ثم في الكليات والجامعات، وأصبحت مادة القواعد الفقهية مساقاً مقرراً في كليات الشريعة، وصارت أحد المواد الفقهية المعتمدة للتدريس، وكانها علم مستقل.

2 - ونتج عما سبق ظهور التصانيف والمؤلفات العديدة، الكبيرة والصغيرة في القواعد الفقهية، وتم التعريف بعلم القواعد الفقهية، وبيان موضوعه، ومسائله، ومباحثه، وفوائده، والحاجة إليه، وأهدافه، وبيان نشأته، وضبط حدوده، والتفريق بينه وبين علم أصول الفقه وقواعده، وصلته بالأشباه والنظائر، وعلاقته بالفروق، وعلم الخلاف، وبيان الصلة بينه وبين الضوابط وما يمكن أن يشتبه به، وسنشير إلى بعضها لاحقاً في التقديم التالي.

3 - رافق الجهد السابق كشف الغطاء، وتسليط الأضواء على المؤلفات السابقة في القواعد الفقهية في تراث الفقه الإسلامي العظيم، وإن اختلفت العناوين: القواعد، القواعد الفقهية، الأشباه والنظائر، الفروق، وغير ذلك، وسنشير إليها باختصار في التقديم التالي.
১২৮৬ হিজরি এবং এটি প্রকৃতপক্ষে ১২৯৩ হিজরি / ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে আইন হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। প্রথমে বিচারক ও আইনজীবীরা এটি ব্যবহার করেন, এরপর আলেম, ফকিহ এবং মাজাল্লাহর ব্যাখ্যাকারীরা একে গুরুত্ব প্রদান করেন। শেখ আহমদ আল-জারকা একে একটি স্বতন্ত্র বইয়ে আলাদাভাবে সংকলন করেছেন এবং তাঁর পুত্র আমাদের উস্তাদ আল্লামা শেখ মুস্তফা আল-জারকা (১৯৯৯ খ্রি.) তাঁর মূল্যবান ও অনন্য গ্রন্থ 'আল-মাদখাল'-এ একে অত্যন্ত চমৎকার গবেষণার মাধ্যমে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস, শ্রেণীবদ্ধকরণ এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করার মাধ্যমে লালন করেছেন।

(আল-মাদখাল আল-ফিকহি আল-আম) যা তিনি ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে রচনা করেন এবং পরবর্তীতে এর জন্য কিং ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন।

বিংশ শতাব্দীর শেষ দুই দশকে এবং পঞ্চদশ হিজরি শতাব্দীর শুরুতে আরব ও ইসলামি বিশ্বে ফিকহি মূলনীতিসমূহের (কাওয়ায়েদ ফিকহিয়্যাহ) প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। এতে বহুমুখী কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয় এবং এটি বিশেষ যত্ন ও মনোযোগের উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হয়, যা নিচের পয়েন্টগুলোতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

১ - দ্বীনি মাদরাসা, ইসলামি ইনস্টিটিউট বা শরয়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবং পরবর্তীতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিকহি মূলনীতিসমূহের পাঠদান শুরু হয়। ফিকহি মূলনীতি বিষয়টি শরিয়া অনুষদগুলোতে একটি নির্ধারিত পাঠ্যসূচি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এটি পাঠদানের জন্য অনুমোদিত অন্যতম ফিকহি বিষয়ে পরিণত হয়, যেন এটি একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান।

২ - পূর্বোক্ত বিষয়ের ফলস্বরূপ ফিকহি মূলনীতিসমূহের ওপর ছোট-বড় অসংখ্য গ্রন্থ ও সংকলন প্রকাশিত হয়। ফিকহি মূলনীতি বিজ্ঞানের পরিচয়, এর আলোচ্য বিষয়, মাসআলাসমূহ, এর বিভিন্ন শাখা, উপকারিতা, এর প্রয়োজনীয়তা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়। সেই সঙ্গে এর উৎপত্তি ও বিকাশ বর্ণনা করা, এর সীমানা নির্ধারণ এবং উসূলে ফিকহ ও এর মূলনীতিসমূহের সাথে এর পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে। তদুপরি 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর'-এর সাথে এর সংশ্লিষ্টতা, 'আল-ফুরুক' ও 'ইলমুল খিলাফ'-এর সাথে এর সম্পর্ক এবং 'দওয়াবিত' ও অন্যান্য সদৃশ বিষয়ের সাথে এর যোগসূত্র স্পষ্ট করা হয়েছে। আমরা পরবর্তীতে এই ভূমিকার কিছু অংশে এগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করব।

৩ - পূর্বোক্ত প্রচেষ্টার পাশাপাশি মহান ইসলামি ফিকহ ঐতিহ্যে ফিকহি মূলনীতিসমূহ সম্পর্কিত পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয় এবং সেগুলো উন্মোচিত হয়; যদিও সেগুলোর শিরোনাম ভিন্ন ভিন্ন ছিল, যেমন: আল-কাওয়ায়েদ, আল-কাওয়ায়েদ আল-ফিকহিয়্যাহ, আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর, আল-ফুরুক ইত্যাদি। আমরা পরবর্তী ভূমিকায় সংক্ষেপে এগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করব।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
4 - نتج عما سبق تشمير السواعد لإحياء التراث الإسلامي في القواعد الفقهية.

وإخراج الكتب القديمة إلى النور، بالدراسة والتحقيق، وتم نشر كتب كثيرة في القواعد الفقهية، سواء بجهد مستقل، أو في رسائل بنية الحصول على شهادة الماجستير والدكتوراه في الجامعات الإسلامية، وتولت مراكز البحث العلمي وإإحياء التراث، ودور النشر المختلفة طباعة هذه الكنوز الفقهية، بعد التحقيق العلمي المتميز، والإخراج الفني الأصيل.

5 - رافق المرحلة السابقة جهود مباركة في التأليف والتصنيف في القواعد الفقهية، وبيان مناهج المؤلفين القدامى في ذلك، وكيفية ترتيبهم للقواعد، واختلاف طرقهم ومسالكهم فيها، وعرض جوانب من أعمالهم.

6 - ظهرت في هذه الفترة دراسات جانبية وبحوث مستقلة، بإفراد بعض القواعد بدراسة مستقلة، لشرحها وبيان معناها.، وأدلتها الشرعية، وعرض أهم الفروع الفقهية والمسائل الواقعية التي تندرج تحتها، مع دراسات عن أهمية القواعد، ومدى الاعتماد عليها في الاستدلال.

7 - قام بعض الباحثين باستقراء كتب الفقه في المذاهب لاستخراج القواعد

الفقهية الموجودة فيها، والمبثوثة في جنباتها، وترتيبها، وشرحها، وبيان الفروع والأحكام الفقهية التي سيقت لأجلها، مثل القواعد الفقهية من (الأم) للشافعي،
4 - পূর্বোক্ত আলোচনার ফলস্বরূপ ফিকহী মূলনীতির (কাওয়াইদ ফিকহিয়্যাহ) ক্ষেত্রে ইসলামী ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।

এবং প্রাচীন গ্রন্থসমূহকে অধ্যয়ন ও তাহক্বীকের (গবেষণালব্ধ সম্পাদনা) মাধ্যমে আলোর মুখ দেখানো হয়েছে। ফিকহী মূলনীতি বিষয়ে অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে, তা স্বতন্ত্র প্রচেষ্টায় হোক অথবা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে লিখিত থিসিসের মাধ্যমে হোক। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিতকরণ কেন্দ্রসমূহ এবং বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা এই ফিকহী সম্পদসমূহকে উন্নত মানের বৈজ্ঞানিক তাহক্বীক এবং শৈল্পিক বিন্যাসের পর মুদ্রণের দায়িত্ব পালন করেছে।

5 - পূর্ববর্তী ধাপের পাশাপাশি ফিকহী মূলনীতি সংকলন ও রচনায় এবং এই ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী লেখকদের কর্মপদ্ধতি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বরকতময় প্রচেষ্টা যুক্ত হয়েছে। তারা কীভাবে এই কায়দাগুলো বিন্যস্ত করেছেন, তাদের কর্মপন্থা ও পদ্ধতির ভিন্নতা এবং তাদের কাজের বিভিন্ন দিক এতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

6 - এই সময়ে কিছু পার্শ্ব-অধ্যয়ন ও স্বতন্ত্র গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু কায়দাকে স্বতন্ত্রভাবে ব্যাখ্যা করা, সেগুলোর অর্থ ও শরয়ি দলিল বর্ণনা করা এবং সেগুলোর অধীনে আসা গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী শাখা ও বাস্তব মাসআলাসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে। এর সাথে সাথে কায়দার গুরুত্ব এবং দালিলিক প্রমাণের ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভরতার পরিধি নিয়েও গবেষণা হয়েছে।

7 - কিছু গবেষক বিভিন্ন মাযহাবের ফিকহী গ্রন্থসমূহ গভীরভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ফিকহী কায়দাগুলো আহরণ, বিন্যাস ও ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়া যেসকল ফিকহী শাখা ও বিধানের উদ্দেশ্যে সেগুলো উল্লেখ করা হয়েছে তাও বর্ণনা করেছেন; যেমন শাফেয়ীর (আল-উম্ম) গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত ফিকহী কায়দাসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ومن (المغني) لابن قدامة، ومن (بدائع الصنائع) للكاساني، ومن (فتح القدير)

للكمال بن الهمام، و (المدونة) للإمام مالك، و (المعيار) للونشريسي.

و (زاد المعاد) لابن القيم، و (إعلام الموقعين) لابن القيم، وغير ذلك كثير.

8 - اتجه التأليف والتصنيف بعد ذلك لكتابة الموسوعات في القواعد الفقهية التي تجمع بين مختلف المذاهب، وتستمد مادتها من مجموع الكتب السابقة، منها (موسوعة القواعد الفقهية) للبورنو، و (جمهرة القواعد الفقهية في المعاملات المالية) للندوي.

9 - بلغ الاهتمام بالقواعد الفقهية الذروة والقمة بإنشاء معلمة القواعد الفقهية التي تبناها مجمع الفقه الإسلامي الدولي بجدة، التابع لمنظمة المؤتمر الإسلامي، لجمع كل النشأطات السابقة في أكبر موسوعة وعمل علمي دولي للقواعد، مع تحرير نصوص القواعد، والألفاظ المختلفة للقاعدة، والاستدلال لها، وبيان تطبيقاتها الفقهية، والتمثيل عليها بأمثلة عصرية، وذكر المستثنيات الفقهية لكل قاعدة من مختلف المذاهب، وبالاعتماد على الكتب الخاصة بالقواعد والأشباه والنظائر التراثية، ثم أمهات كتب الفقه في المذاهب.

وكان لي شرف المساهمة في هذا الخصوص، فكتبت بحثاً عن القواعد الفقهية (في مجلة البحث العلمي، جامعة أم القرى، العدد الخامس سنة 1499 / 1979 م) ، ثم شاركت بمؤتمر في إسلام آباد (تشرين الأول/ أكتوبر 1998 م) عن القواعد الفقهية في المذهب الحنفي، وعرضت القواعد الفقهية باختصار في كتابي (النظريات الفقهية) .

وشاركت باستخراج القواعد الفقهية من كتاب (الأم) للشافعي و (زاد المعاد) لابن القيم لمعلمة القواعد الفقهية، وألفت مرجعاً بعنوان.

(القواعد الفقهية على المذهب الحنفي والشافعي) لجامعة الكويت، وكلفت بتحكيم عدة بحوث علمية عن القواعد الفقهية.

وأردت إكمال المشوار، وإتمام العمل بهذا الكتاب عن.

(القواعد الفقهية وتطبيقاتها في المذاهب الأربعة) التزاماً بالخطة المذكورة في التقديم التالي، والمنهج المبين فيه، مع إضافة القواعد الكلية، والقواعد المختلف فيها في المذهبين المالكي والحنبلي، وبيان التطبيقات الفقهية في هذين المذهبين في القواعد الكلية الأساسية

والقواعد الكلية المشتركة في المذاهب الأربعة.
এবং ইবনে কুদামার (আল-মুগনী), আল-কাসানীর (বাদায়িউস সানায়ি), কামাল ইবনুল হুমামের (ফাতহুল কাদির), ইমাম মালিকের (আল-মুদাওওয়ানাহ) এবং আল-ওয়ানশারিসীর (আল-মিয়ার) থেকে।

আরও ইবনুল কাইয়্যিমের (জাদুল মাআদ), ইবনুল কাইয়্যিমের (ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন) এবং এ জাতীয় আরও অনেক গ্রন্থ থেকে।

৮ - এরপর গ্রন্থনা ও সংকলনের ধারাটি ফিকহী মূলনীতি (কাওয়ায়েদ ফিকহিয়্যাহ) সংক্রান্ত এমন বিশ্বকোষ রচনার দিকে ধাবিত হয় যা বিভিন্ন মাযহাবের সমন্বয় ঘটায় এবং পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ থেকে তার উপকরণ সংগ্রহ করে। এর মধ্যে বোরনোর (মওসূআতুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ) এবং নাদভীর (জামহারাতুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ ফিল মুয়ামালাতিল মালিয়্যাহ) উল্লেখযোগ্য।

৯ - ফিকহী মূলনীতিসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ তার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছায় ‘মালামাতুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ’ (ফিকহী মূলনীতির মহাকোষ) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, যা ওআইসি (OIC) এর অন্তর্ভুক্ত জেদ্দায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক ইসলামী ফিকহ একাডেমি গ্রহণ করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল পূর্ববর্তী সকল তৎপরতাকে একটি বৃহৎ বিশ্বকোষে এবং কাওয়ায়েদ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কর্মতৎপরতায় রূপদান করা; যেখানে মূলনীতির পাঠ্য সংশোধন করা হয়েছে, মূলনীতির বিভিন্ন শব্দগত রূপ তুলে ধরা হয়েছে, এর পক্ষে দলীল উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এর ফিকহী প্রয়োগগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক উদাহরণ পেশ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন মাযহাবের আলোকে প্রতিটি মূলনীতির ফিকহী ব্যতিক্রমসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। এটি সম্পন্ন করা হয়েছে কাওয়ায়েদ, আশবাহ ও নাযাইর বিষয়ক ঐতিহ্যবাহী গ্রন্থসমূহ এবং মাযহাবসমূহের মূল ফিকহী গ্রন্থাবলির ওপর ভিত্তি করে।

এই বিষয়ে অবদান রাখার সৌভাগ্য আমারও হয়েছে। আমি ফিকহী মূলনীতি সম্পর্কে একটি গবেষণা প্রবন্ধ লিখেছিলাম (উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা সাময়িকীতে, সংখ্যা ৫, বছর ১৪৯৯ হিজরী / ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ)। এরপর ১৯৯৮ সালের অক্টোবর মাসে ইসলামাবাদে হানাফী মাযহাবের ফিকহী মূলনীতি বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি এবং আমার গ্রন্থ (আন-নাযারিয়াতুল ফিকহিয়্যাহ)-তে সংক্ষেপে ফিকহী মূলনীতিসমূহ উপস্থাপন করি।

আমি ইমাম শাফেয়ীর (আল-উম্ম) এবং ইবনুল কাইয়্যিমের (জাদুল মাআদ) গ্রন্থ থেকে ‘মালামাতুল কাওয়ায়িদিল ফিকহিয়্যাহ’-এর জন্য ফিকহী মূলনীতিসমূহ আহরণ করার কাজে অংশগ্রহণ করি এবং কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি আকর গ্রন্থ রচনা করি যার শিরোনাম ছিল:

(হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ফিকহী মূলনীতিসমূহ)। এ ছাড়া ফিকহী মূলনীতি সংক্রান্ত বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণার পর্যালোচনার দায়িত্বও আমাকে দেওয়া হয়েছিল।

আমি এই পথচলা পূর্ণ করতে এবং বর্তমান গ্রন্থটির মাধ্যমে কাজটি সমাপ্ত করতে চেয়েছি যার শিরোনাম:

(চার মাযহাব অনুযায়ী ফিকহী মূলনীতি ও তার প্রয়োগ)। এটি পরবর্তী উপস্থাপনায় বর্ণিত পরিকল্পনা ও পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রধান মূলনীতিসমূহ (আল-কাওয়ায়িদুল কুল্লিয়্যাহ) এবং মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবে মতভেদপূর্ণ মূলনীতিসমূহ সংযোজন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মৌলিক প্রধান মূলনীতিসমূহে এবং চার মাযহাবের অভিন্ন প্রধান মূলনীতিসমূহে এই দুই মাযহাবের ফিকহী প্রয়োগগুলোও স্পষ্ট করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ونتج عن هذا الجمع والمزج في القواعد الفقهية وتطبيقاتها في المذاهب الأربعة، نتج ما يشبه الفقه المقارن، لبيان القواعد المتفق عليها في المذاهب الأربعة.

والتطبيقات الفقهية المتماثلة للقاعدة في المذاهب الأربعة، وتحررت القواعد التي انفرد فيها كل مذهب مع تطبيقاتها، وبيان الاختلاف في أدلة القواعد، وتعليل الأحكام، وتحرير محل النزاع، ولم يبق من منهج الفقه المقارن إلا مناقشة الأدلة والترجيح وهما مما وقف القلم عنهما، لأن ذلك يخرج عن دراسة القواعد وأسسها وتطبيقاتها.

ونسال الله العون والتوفيق، ونرجو منه القبول والثواب، وندعوه أن ينفع به

لكسب الأجر والثواب، وأن يدخره لنا ليوم الحساب والجزاء، وأن يُعيننا على إتمامه مع التمتع بالصحة والعافية، والرضا وحسن المآب، وأن يجزي الله زوجتي وأولادي الثواب على صبرهم علي بالتأليف، وأن ينفعهم بهذا العمل قبل غيرهم، وأن يحفظهم في دينهم وأهلهم وأولادهم.

وصلى الله على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.

الشارقة

في 18 / 3 / 1426 هـ 17 / 4 / 2005 م

أبو أيمن

الأستاذ الدكتور محمد الزحيلي

عميد كلية الشريعة والدراسات الإسلامية - جامعه الشارقة

وكيل كلية الشريعة للشؤون العلمية - جامعة دمشق - سابقاً
ফিকহি মূলনীতিসমূহ এবং চার মাজহাবের ক্ষেত্রে সেগুলোর প্রয়োগের এই সংকলন ও সংমিশ্রণের ফলে তুলনামূলক ফিকহের মতো একটি বিষয় তৈরি হয়েছে, যাতে চার মাজহাবের সর্বসম্মত মূলনীতিসমূহ স্পষ্ট করা যায়।

এবং চার মাজহাবে মূলনীতির অনুরূপ ফিকহি প্রয়োগগুলোও এতে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রতিটি মাজহাব যেসকল মূলনীতিতে স্বতন্ত্র, সেগুলোর প্রয়োগসহ তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সেই সাথে মূলনীতিসমূহের দলিলের পার্থক্য বর্ণনা, বিধানের কারণ বিশ্লেষণ এবং বিরোধের মূল ক্ষেত্রটি চিহ্নিত করা হয়েছে। তুলনামূলক ফিকহের পদ্ধতি থেকে কেবল দলিলের পর্যালোচনা এবং প্রাধান্য প্রদান (তারজিহ) ব্যতীত আর কিছুই বাকি রাখা হয়নি। আর এই দুটি বিষয়ে কলম বিরতি দেওয়া হয়েছে, কারণ তা মূলনীতি, এর ভিত্তি এবং প্রয়োগের আলোচনার পরিধি বহির্ভূত।

আমরা আল্লাহর কাছে সাহায্য ও তাওফিক প্রার্থনা করছি, তাঁর কাছে কবুলিয়াত ও সওয়াব আশা করছি এবং তাঁর কাছে দুআ করছি যাতে তিনি এর মাধ্যমে উপকৃত করেন।

যেন এর মাধ্যমে সওয়াব ও প্রতিদান অর্জিত হয় এবং তিনি যেন আমাদের জন্য হিসাব ও প্রতিফল দিবসের পাথেয় হিসেবে এটি জমা রাখেন। আর তিনি যেন সুস্থতা, নিরাপত্তা, সন্তুষ্টি ও উত্তম গন্তব্যের সাথে এটি সম্পন্ন করতে আমাদের সাহায্য করেন। আল্লাহ যেন আমার স্ত্রী ও সন্তানদের আমার এই লেখালেখির কাজে ধৈর্য ধারণের জন্য সওয়াব দান করেন এবং অন্যদের আগে তাদের যেন এই কাজ দিয়ে উপকৃত করেন। আল্লাহ যেন তাদের দ্বীন, পরিবার ও সন্তানদের হেফাজত করেন।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আর আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

শারজাহ

১৮ / ০৩ / ১৪২৬ হিজরি, ১৭ / ০৪ / ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

আবু আয়মান

প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ যুহায়লি

ডিন, শরিয়াহ ও ইসলামি স্টাডিজ অনুষদ - শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়

সাবেক একাডেমিক ডেপুটি ডিন, শরিয়াহ অনুষদ - দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌تقديم

الحمد لله حق حمده، الحمد لله الذي تتم بنعمته الصالحات، الحمد لله رب العالمين الذي خلق الإنسان، علمه البيان، وقال: (وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ (76) .

وقال: (وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا (114) .

والصلاة والسلام على رسول اللهء، معلم الناس الخير، ومنقذ البشرية.

وهادي الإنسانية، المبعوث رحمة للعالمين.

اللهم علمنا ما ينفعنا، وانفعنا بما علمتنا، وزدنا علماً، واجعلنا من الذين

يستمعون القول فيتبعون أحسنه، ومن الذين إذا أحسنوا استبشروا، وإذا أساؤوا استغفروا، ومن الذين ورد فيهم قوله تعالى: (وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ (33) .

وبعد:

فإن علم الفقه من أشرف العلوم، وفيه معرفة الحلال والحرام، ويتبلور فيه تطبيق الشريعة، وأحكام الله تعالى في الحياة، ولذلك قال فيه رسول الله

صلى الله عليه وسلم " من يُردِ الله به خيراً يفقهه في الدين " (1) .

ولذلك انكب عليه الصحابة والتابعون، ثم الأئمة المجتهدون، حتى نشأت المذاهب، وانتشرت، وشاعت، وكثر العلماء فيه، وانبرى

المفتون للإفتاء في بيان حكم الله تعالى للناس في جغ شؤون الحياة، لتحقيق أهداف الشريعة ومقاصدها، وتأمين الخير والسعادة والراحة والعدل في الدنيا قبل الآخرة.

--------------------------------------------

.

(1) رواه الإمام أحمد في المسند 3/ 94، 1/ 306، والبخاري 1/ 38، ومسلم 7/ 128 عن معاوية رضي الله عنه مرفوعاً.
উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর যথাযথ প্রশংসার ন্যায়; সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়; সকল প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহর জন্য যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে ভাবপ্রকাশের ক্ষমতা শিক্ষা দিয়েছেন এবং বলেছেন: (এবং প্রত্যেক জ্ঞানবানের উপর রয়েছেন একজন মহাজ্ঞানী) (৭৬)।

এবং তিনি বলেছেন: (এবং বলো, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন) (১১৪)।

আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, যিনি মানুষের জন্য কল্যাণের শিক্ষক এবং মানবতার মুক্তিদাতা।

আর যিনি মানবতার দিশারী এবং জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত।

হে আল্লাহ! আমাদের তা শিক্ষা দিন যা আমাদের জন্য উপকারী হবে এবং আপনি আমাদের যা শিক্ষা দিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন, আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা কথা শোনে এবং তার মধ্য থেকে যা উত্তম তা অনুসরণ করে; এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যারা পুণ্য কাজ করলে আনন্দিত হয় এবং মন্দ কাজ করলে ক্ষমা প্রার্থনা করে; আর তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন: (ঐ ব্যক্তির চেয়ে কার কথা অধিক সুন্দর হতে পারে যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, নেক কাজ করে এবং বলে যে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত) (৩৩)।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ফিকহ শাস্ত্র হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইলম। এতে রয়েছে হালাল ও হারামের জ্ঞান এবং এর মাধ্যমেই শরীয়তের প্রয়োগ ও জীবনে মহান আল্লাহর বিধানসমূহ মূর্ত হয়ে ওঠে। আর এ কারণেই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এ সম্পর্কে বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন" (১)।

তাই সাহাবায়ে কিরাম এবং তাবিঈগণ এর ওপর মনোনিবেশ করেছেন, অতঃপর মুজতাহিদ ইমামগণ; এমনকি মাযহাবসমূহ গড়ে ওঠেছে, বিস্তৃতি লাভ করেছে ও প্রসিদ্ধি পেয়েছে। এতে আলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মুফতিগণ জীবনের সকল ক্ষেত্রে মানুষের জন্য আল্লাহর বিধান বর্ণনার লক্ষ্যে ফাতওয়া প্রদানে সচেষ্ট হয়েছেন, যাতে শরীয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অর্জিত হয় এবং আখিরাতের পূর্বে দুনিয়াতেও কল্যাণ, সুখ, শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

--------------------------------------------

.

(১) ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে ৩/৯৪, ১/৩০৬; বুখারী ১/৩৮ এবং মুসলিম ৭/১২৮-এ মুআবিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ومن ضمن التأليف في علم الفقه، والتحصيل فيه، والتخصص به، نشأ علم

قواعد الفقه، وهو فن عظيم، تجمع فيه الأحكام الفرعية العديدة، والمسائل الجزئية المتناثرة في عبارات وجيزة، وجمل مصقولة، وتراكيب عامة وشاملة، تضبط علم الفقه، وتنسق أحكامه وعلله، وتقربه للأذهان، وتجعله سهل الحفظ والضبط، وتبعده عن النسيان، وتساعد في تكوين الملكة الفقهية، فكان الاعتناء بالقواعد الفقهية محل الإجلال والاحترام، بل والمنافسة في وجوه الخير، فصنفت فيه المؤلفات العدة في كل مذهب، وظهر مع مرور الأيام أهمية علم القواعد، والتأليف فيه، حتى تبوأ مرحلة التنظيم والتقنين، ثم تضافرت الجهود لإنشاء أعظم موسوعة للقواعد

باسم " مَعْلَمة القواعد الفقهية "، وتقرر تدريس القواعد الفقهية في الكليات

والدراسات العليا.

مشكلة البحث

إن وضع القواعد أولاً، والتأليف فيها ثانياً، ودراستها وتدريسها ثالثاً، وشرحها ووضع الأمثلة والتطبيقات لها، والاستثناءات رابعاً، كانت تعتمد على المنهج المذهبى، وتقتصر على نطاق مذهب واحد، من المذاهب الفقهية العديدة، وكنا نجد الصعوبة والمتاعب عند التدريس والاعتماد على كتاب ومذهب، وتكثر الأسئلة والاستفسارات عن قواعد المذهب الآخر، وفروعه وأحكامه.

هدف البحث

أردت أن أجمع بين أهم قواعد المذهب الحنفي، وأهم قواعد المذهب المالكي، وأهم قواعد المذهب الشافعي، وأهم قواعد المذهب الحنبلي، في كتاب واحد، فعزمت على تصنيف هذا الكتاب، لأضع القاعدة الفقهية، وبيان أحكامها وفروعها من المذاهب الأربعة، بقدر الإمكان، وهي المذاهب التي يكز انتشارها في البلاد العربية، ويكثر اجتماعها في معظم المدن والأقطار، وتكثر فيها المؤلفات في القواعد.

وإن جمع التطبيقات من المذاهب يحقق منفعة مهمة للقاعدة، فيدل على عمومها
ফিকহ শাস্ত্রের রচনা, এর অর্জন এবং এতে বিশেষত্ব লাভের ধারাবাহিকতায় ফিকহি মূলনীতি

শাস্ত্রের উদ্ভব হয়েছে। এটি একটি মহান শিল্প, যেখানে অসংখ্য শাখা-প্রশাখাগত হুকুম এবং ইতস্তত বিক্ষিপ্ত আংশিক মাসআলাগুলোকে সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি, মার্জিত বাক্য এবং ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামোর মধ্যে একত্রিত করা হয়। এটি ফিকহ শাস্ত্রকে সুসংহত করে, এর বিধান ও কারণসমূহকে বিন্যস্ত করে, একে বোধগম্য করে তোলে এবং একে মুখস্থ ও আয়ত্ত করা সহজ করে দেয়। এটি বিস্মৃতি থেকে রক্ষা করে এবং ফিকহি প্রজ্ঞা গঠনে সহায়তা করে। তাই ফিকহি মূলনীতিগুলোর প্রতি যত্নশীল হওয়া ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের বিষয়, বরং নেক কাজের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। ফলে প্রতিটি মাযহাবে এ বিষয়ে অসংখ্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় এই মূলনীতি শাস্ত্রের গুরুত্ব এবং এতে গ্রন্থ রচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এমনকি এটি বিন্যাস ও বিধিবদ্ধকরণের স্তরে উন্নীত হয়। এরপর মূলনীতির সর্ববৃহৎ বিশ্বকোষ তৈরির জন্য

"মা'লামাতুল কাওয়াইদ আল-ফিকহিয়্যাহ" নামে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হয় এবং কলেজ

ও উচ্চতর গবেষণায় ফিকহি মূলনীতি পাঠদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গবেষণার সমস্যা

প্রথমত মূলনীতি নির্ধারণ, দ্বিতীয়ত সে বিষয়ে গ্রন্থ রচনা, তৃতীয়ত তা অধ্যয়ন ও পাঠদান এবং চতুর্থত তার ব্যাখ্যা ও উদাহরণ, প্রয়োগ এবং ব্যতিক্রমগুলো উপস্থাপন করা ছিল মাযহাব ভিত্তিক মানহাজের ওপর নির্ভরশীল। এটি অসংখ্য ফিকহি মাযহাবের মধ্য থেকে কেবল একটি মাযহাবের পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আমরা যখন কোনো নির্দিষ্ট বই এবং মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে পাঠদান করতাম, তখন নানাবিধ অসুবিধা ও সমস্যার সম্মুখীন হতাম। অন্য মাযহাবের মূলনীতি, তার শাখা-প্রশাখা এবং বিধান সম্পর্কে প্রচুর প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা উত্থাপিত হতো।

গবেষণার উদ্দেশ্য

আমি হানাফি মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি, মালিকি মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি, শাফেয়ী মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি এবং হাম্বলি মাযহাবের গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহকে একটি গ্রন্থে একত্রিত করতে চেয়েছি। তাই আমি এই বইটি সংকলনের সংকল্প করেছি, যাতে ফিকহি মূলনীতি এবং যথাসম্ভব চার মাযহাব থেকে তার বিধান ও শাখা-প্রশাখাগুলো বর্ণনা করা যায়। এই মাযহাবগুলোই আরব দেশগুলোতে বহুল প্রচলিত এবং অধিকাংশ শহর ও জনপদে এগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে, আর এই মাযহাবগুলোতেই মূলনীতি সংক্রান্ত গ্রন্থাবলি অধিক পরিমাণে রচিত হয়েছে।

মাযহাবসমূহ থেকে প্রয়োগিক উদাহরণগুলো সংগ্রহ করা মূলনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকার বয়ে আনে, যা এর ব্যাপকতা প্রমাণ করে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وشمولها وقبولها، مع بيان فروعها في كتب الفقه المتنوعة وأبوابه المختلفة في المذاهب الأربعة.

واعتمدت في ذلك على الكتب القديمة، وهي كتب القواعد والأشباه والنظائر في المذاهب الأربعة، كما اعتمدت أولاً على عدة كتب معاصرة، وهي:

1 - شرح القواعد الفقهية، للشيخ أحمد بن الشيخ محمد الزرقا.

2 - القواعد الفقهية، للأستاذ عزت عبيد الدعاس، وفيها ترتيب للقواعد.

وتقسيمها إلى قواعد أساسية، وقواعد متفرعة عنها.

وهذان مختصان بقواعد " مجلة الأحكام العدلية " المأخوذة من المذهب الحنفي.

وعددها 99 قاعدة حصراً، مع أمثلتها وأحكامها ووردت فيهما بعض القواعد الكلية عَرَضاً في الشرح، فتضاف إلى القواعد السابقة، وهي في مجملها مستمدة من الأشباه والنظائر لابن نجيم الحنفي.

3 - إيضاح القواعد الفقهية، للشيخ عبد الله بن سعيد محمد عبادي اللحجي الحضرمي الشحاري.

وقد اقتبس اللحجي قواعده من كتاب "الأشباه والنظائر في الفقه الشافعي "

للسيوطي، مع أمثلتها، وقام الفقيه عبد الله بن سليمان الجَرْهَزي اليمني الزبيدي (1201 هـ) وشرح منظومة في القواعد، فاعتمد اللحجي على كتاب السيوطي، وشرح الجَرْهَزي، وهو المقصود عنده باصطلاح الشارح، وذكر الأمثلة والأحكام والفروع والمسائل في المذهب الشافعي حصراً، وقمت بالجمع بين المذهبين، ونقلت
এবং সেগুলোর ব্যাপকতা ও গ্রহণযোগ্যতা, সাথে চারটি মাযহাবের বিভিন্ন ফিকহী গ্রন্থ ও বিভিন্ন অধ্যায়ে সেগুলোর শাখা-প্রশাখার বর্ণনা।

এক্ষেত্রে আমি প্রাচীন গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, যেগুলো হলো চার মাযহাবের কাওয়ায়েদ (মূলনীতি) এবং 'আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর' বিষয়ক গ্রন্থসমূহ। পাশাপাশি আমি প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু সমসাময়িক গ্রন্থের ওপরও নির্ভর করেছি, সেগুলো হলো:

১ - শারহুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ, শায়খ আহমাদ বিন শায়খ মুহাম্মদ আয-যারকা রচিত।

২ - আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ, উস্তাদ ইজ্জাত উবাইদ আদ-দা'আস রচিত, এতে মূলনীতিসমূহের বিন্যাস রয়েছে।

এবং সেগুলোকে মৌলিক মূলনীতি ও তা থেকে নির্গত শাখা মূলনীতিতে বিভক্ত করা হয়েছে।

এই গ্রন্থ দুটি হানাফী মাযহাব থেকে গৃহীত "মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ"-এর মূলনীতিসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট।

সেগুলোর সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে ৯৯টি মূলনীতি, এর সাথে রয়েছে উদাহরণ ও বিধানসমূহ। ব্যাখ্যার মধ্যে প্রসঙ্গক্রমে কিছু সাধারণ মূলনীতিও এসেছে, যা পূর্বোক্ত মূলনীতিগুলোর সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো সামগ্রিকভাবে ইবনে নুজাইম আল-হানাফী রচিত 'আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর' থেকে গৃহীত।

৩ - ঈদাহুল কাওয়াইদিল ফিকহিয়্যাহ, শায়খ আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ মুহাম্মদ ইবাদি আল-লাহজি আল-হাদরামি আশ-শুহারি রচিত।

আল-লাহজি তার মূলনীতিসমূহ সুয়ূতী রচিত "আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর ফীল ফিকহিশ শাফেয়ী" গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করেছেন,

উদাহরণসহ। ফকীহ আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-জারহাযি আল-ইয়ামানি আজ-যাবিদি (১২০১ হি.) মূলনীতিবিষয়ক একটি পদ্যের ব্যাখ্যা (শারহ) করেছেন। ফলে আল-লাহজি সুয়ূতীর গ্রন্থ এবং আল-জারহাযির ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি যখন 'শারহকারী' পরিভাষাটি ব্যবহার করেন, তখন উদ্দেশ্য মূলত তিনিই। তিনি উদাহরণ, বিধান, শাখা-প্রশাখা এবং মাসআলাসমূহ কেবল শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী উল্লেখ করেছেন। আমি উভয় মাযহাবের মধ্যে সমন্বয় করেছি এবং উদ্ধৃত করেছি-
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
العبارات مع التصرف، وزيادات قليلة، وتعديلات طفيفة إذا احتاج الأمر، ثم أضفت قواعد المذهب المالكية وقواعد المذهب الحنبلي.

4 - القواعد الفقهية من خلال كتاب الإشراف للقاضي عبد الوهاب البغدادي المالكي، للدكتور محمد الروقي، وفيه كثير من القواعد الفقهية في المذهب المالكي.

5 - تطبيقات قواعد الفقه عند المالكية، للأستاذ الدكتور الصادق بن عبد الرحمن الغرياني، الذي جمع معظم القواعد الفقهية، ثم بيّن تطبيقاتها الفقهية عند المالكية، ثم ألحق بها الضوابط وأمثلتها الفقهية.

6 - القواعد والضوابط الفقهية للمعاملات المالية عند ابن تيمية، للأستاذ عبد السلام بن إبراهيم بن محمد الحصين، وهي في المذهب الحنبلي غالباً.

7 - إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام مالك، لأبي العباس أحمد بن يحى الونشريسي، (914 هـ) تحقيق أحمد بوطاهر الخطابي.

8 - القواعد، لأبي عبد الله محمد بن محمد بن أحمد المقري (758 هـ) تحقيق الدكتور أحمد بن عبد الله بن حميد.

9 - تقرير القواعد وتحرير الفوائد - القواعد ل (ابن رجب، عبد الرحمن بن أحمد بن رجب الحنبلي (795 هـ) تحقيق أبي عبيدة مشهور بن حسن آل سلمان.

15 - الفروق، لشهاب الدين أحمد بن إدريس القرافي (684 هـ) .

11 - القواعد الكلية، والضوابط الفقهية، ليوسف بن الحسن بن عبد الهادي الحنبلي.

12 - مختصر من قواعد العلائي وكلام الإسنوي، محمود بن أحمد الحموي، المعروف بابن خطيب الدهشة (834 هـ) .

وغير ذلك من الكتب مثل موسوعة القواعد الفقهية لبورنو، وجمهرة القواعد

الفقهية للندوي، والقواعد الفقهية للدكتور يعقوب الباحسين، وغيرها مما سيرد في الحواشي وقائمة المصادر.
শব্দগুলো পরিমার্জন, সামান্য সংযোজন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য সংশোধনসহ নেওয়া হয়েছে, অতঃপর আমি মালিকি মাযহাবের মূলনীতিসমূহ এবং হাম্বলি মাযহাবের মূলনীতিসমূহ যুক্ত করেছি।

৪ - ডক্টর মুহাম্মদ আর-রুকি রচিত 'আল-কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ মিন খিলালি কিতাবিল ইশরাফ লিল কাজি আবদিল ওয়াহহাব আল-বাগদাদি আল-মালিকি', এতে মালিকি মাযহাবের অনেক ফিকহি মূলনীতি রয়েছে।

৫ - প্রফেসর ডক্টর সাদিক বিন আবদুর রহমান আল-গিরইয়ানি রচিত 'তাতবিকাতু কাওয়ায়িদিল ফিকহি ইনদাল মালিকিয়্যাহ', যিনি অধিকাংশ ফিকহি মূলনীতি সংকলন করেছেন, অতঃপর মালিকি মাযহাবে সেগুলোর প্রয়োগ স্পষ্ট করেছেন এবং এর সাথে ফিকহি উপ-নীতি ও সেগুলোর উদাহরণ যুক্ত করেছেন।

৬ - উস্তাদ আবদুস সালাম বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-হুসাইন রচিত 'আল-কাওয়ায়িদ ওয়াল জওয়াবিত আল-ফিকহিয়্যাহ লিল মুয়ামালাত আল-মালিইয়াহ ইনদা ইবনি তাইমিয়্যাহ', এটি মূলত হাম্বলি মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে রচিত।

৭ - আবুল আব্বাস আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিশি (৯১৪ হি.) রচিত 'ইজাহুল মাসালিক ইলা কাওয়ায়িদিল ইমাম মালিক', যা আহমদ বু তাহির আল-খাত্তাবি কর্তৃক সম্পাদিত।

৮ - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-মাক্কারি (৭৫৮ হি.) রচিত 'আল-কাওয়ায়িদ', যা ডক্টর আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ কর্তৃক সম্পাদিত।

৯ - ইবনে রজব আল-হাম্বলি নামে পরিচিত আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন রজব (৭৯৫ হি.) রচিত 'তাকরিরুল কাওয়ায়িদ ওয়া তাহরিরুল ফাওয়ায়িদ' (আল-কাওয়ায়িদ), যা আবু উবাইদাহ মাশহুর বিন হাসান আল সালমান কর্তৃক সম্পাদিত।

১৫ - শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন ইদ্রিস আল-কারাফি (৬৮৪ হি.) রচিত 'আল-ফুরুক'।

১১ - ইউসুফ বিন হাসান বিন আবদিল হাদি আল-হাম্বলি রচিত 'আল-কাওয়ায়িদ আল-কুল্লিয়্যাহ ওয়াল জওয়াবিত আল-ফিকহিয়্যাহ'।

১২ - মাহমুদ বিন আহমদ আল-হামাউই, যিনি ইবনু খাতিব আদ-দাহশাহ (৮৩৪ হি.) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত 'মুখতাসারুন মিন কাওয়ায়িদিল আলাইয়ি ওয়া কালামিল আসনাবি'।

এছাড়াও অন্যান্য গ্রন্থ যেমন—বুরনোর ‘মাওসুআতুল কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ’, নাদভীর ‘জামহারাতুল কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ’ এবং ডক্টর ইয়াকুব আল-বাহুসাইন রচিত ‘আল-কাওয়ায়িদ আল-ফিকহিয়্যাহ’, এবং অন্যান্য গ্রন্থ যা পাদটীকা ও উৎস তালিকায় উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌منهح البحث

1 - وضعت القاعدة الفقهية في الأول، ثم كتبت الألفاظ الأخرى إن وجدت، فإن اتفقت العبارة في إيراد القاعدة فقد حصل المقصود، ثم قمت بتوضيح معنى القاعدة، وبيان المقصود منها، وتحديد المراد من ألفاظها بشكل عام ومشترك، مع بيان الأدلة ومستند القاعدة، ثم ذكرت جميع الأمثلة الواردة في كتاب، أو اثنين، أو ثلاثة، ثم أثبتُ الاستثناء كذلك، مع بيان الرجع لكل فرع أو مسألة أو مثال من المصدر الذي أخذ منه لتحديد المذهب لكل فرع، ثم أضع مرجع القاعدة من سائر الكتب والمصادر.

2 - اقتصر غالباً على بعض الأمثلة والتطبيقات والأدلة، وأثبتُ في نهاية كل مثال المصدر الذي أخذ منه، وذلك في الصلب وليس في الهامش، لمساعدة القارئ في المتابعة حتى لا يتشتت نظره، وفي نهاية التوضيح والأمثلة، والتطبيقات والمستثنى أحدد مصادر الشرح والتطبيق والاستثناء أيضاً.

3 - نظراً لأثر "مجلة الأحكام العدلية" العظيم على تقنين القواعد وتنظيمها في مواد، حتى تبعها في ذلك عدد من القوانين المعاصرة، واختارت 99 قاعدة في 99 مادة، ولأن المجلة أول تقنين معاصر للفقه الإسلامي، فقد أحلنا إلى قواعد المجلة خاصة، ومواد المجلة عامة.

ووضعنا الإحالة بين قوسين (م/. . .) .

4 - اكتفيت بعزو الآيات إلى السورة ورقمها، ورقم الآية، ثم بعزو الأحاديث إلى من خرجها من أصحاب الصحاح والسنن والمسانيد، مع الإحالة التفصيلية للجزء والصفحة.

5 - إن القواعد الخمس الرئيسة متفقة بين المذاهب الأربعة، مع اختلاف أحياناً في الفروع والمسائل والجزئيات التي تدخل تحتها، ولذلك جاءت هذه القواعد في الأول.
গবেষণার পদ্ধতি

১ - ফিকহী মূলনীতিটি প্রথমে স্থাপন করেছি, এরপর যদি অন্য কোনো শব্দ থাকে তবে তা লিখেছি। মূলনীতি বর্ণনায় যদি শব্দের ঐক্য থাকে তবে উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে। এরপর আমি মূলনীতির অর্থ স্পষ্ট করেছি, এর উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছি এবং এর শব্দাবলীর অর্থ সাধারণ ও সমন্বিতভাবে নির্ধারণ করেছি। সাথে সাথে মূলনীতির দলিল ও ভিত্তি বর্ণনা করেছি। এরপর এক, দুই বা তিনটি কিতাবে বর্ণিত সকল উদাহরণ উল্লেখ করেছি। এরপর একইভাবে ব্যতিক্রমগুলোও সাব্যস্ত করেছি। প্রতিটি উপ-শাখা, মাসআলা বা উদাহরণের জন্য তা যে উৎস থেকে গ্রহণ করা হয়েছে তার রেফারেন্স বর্ণনা করেছি যাতে প্রতিটি শাখার মাযহাব নির্ধারিত হয়। এরপর অন্যান্য সকল কিতাব ও উৎস থেকে মূলনীতির রেফারেন্স প্রদান করেছি।

২ - আমি সাধারণত কিছু উদাহরণ, প্রয়োগ এবং দলিলের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং প্রতিটি উদাহরণের শেষে তা যে উৎস থেকে সংগৃহীত হয়েছে তা সাব্যস্ত করেছি; এটি মূল পাঠের ভেতরে করা হয়েছে, পাদটীকায় নয়, যাতে পাঠকের অনুসরণে সুবিধা হয় এবং দৃষ্টি বিক্ষিপ্ত না হয়। ব্যাখ্যা, উদাহরণ, প্রয়োগ এবং ব্যতিক্রমের শেষে আমি ব্যাখ্যা, প্রয়োগ ও ব্যতিক্রমের উৎসগুলোও নির্দিষ্ট করেছি।

৩ - মূলনীতিসমূহকে ধারায় রূপান্তর এবং বিন্যাসে 'মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ'-এর বিশাল প্রভাবের কারণে—এমনকি সমসাময়িক বেশ কিছু আইন এক্ষেত্রে এটিকে অনুসরণ করেছে এবং এটি ৯৯টি ধারায় ৯৯টি মূলনীতি নির্বাচন করেছে—আর যেহেতু 'মাজাল্লা' হলো ইসলামী ফিকহের প্রথম আধুনিক বিধিবদ্ধ রূপ, তাই আমরা বিশেষভাবে মাজাল্লার মূলনীতিসমূহ এবং সাধারণভাবে মাজাল্লার ধারাগুলোর প্রতি রেফারেন্স প্রদান করেছি।

এবং আমরা রেফারেন্সটি প্রথম বন্ধনীর মাঝে (ধারা/. . .) এভাবে রেখেছি।

৪ - আমি আয়াতের ক্ষেত্রে সূরা ও তার নম্বর এবং আয়াত নম্বর উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি। এরপর হাদিসের ক্ষেত্রে সিহাহ, সুনান এবং মাসানিদ গ্রন্থসমূহের সংকলকদের উদ্ধৃতি দিয়েছি এবং সাথে খণ্ড ও পৃষ্ঠার বিস্তারিত রেফারেন্স প্রদান করেছি।

৫ - নিশ্চয়ই প্রধান পাঁচটি মূলনীতি চার মাযহাবের মাঝে ঐকমত্যপূর্ণ, যদিও এর অধীনে আসা উপ-শাখা, মাসআলা ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলোতে মাঝে মাঝে মতভেদ রয়েছে। এ কারণেই এই মূলনীতিগুলো প্রথমে আনা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
6 - إن القواعد الكلية الأربعين عند السيوطي يتفق بعضها مع قواعد المجلة، وقواعد المذهبين المالكي والحنبلي، فكنت أجمع بينها في الشرح والتطبيق والاستثناء مع تحديد المرجع والمصدر، لتحديد الحكم من المذاهب الأربعة أو من بعضها.

7 - انفرد كل مذهب ببعض القواعد الفقهية الكلية، ولكن كثيراً من هذه القواعد تتفق في مضمونها ومدلولها ومعظم تطبيقاتها مع المذهب الثاني، وخاصة القواعد التي انفردت بها المجلة، مثل قاعدة " المرء مؤاخذ بإقراره " (م/ 79) ، وقاعدة "الثابت بالبرهان كالثابت بالبيان " (م/ 75) ، وقاعدة " البيِّنة على المدعي واليمين على من أنكر" (م/ 75) ، وقاعدة " البينة حجة متعدية، والإقرار حجة قاصرة" (م/178، وقاعدة "البينة لإثبات خلاف ظاهر واليمين لإبقاء الأصل " (م/ 77)

وقاعدة "لا حجة مع التناقض لكن لا يختل معه حكم الحاكم " (م/ 85) ، وقاعدة " جناية العجماء جُبار" (م/ 94) ، وقاعدة " الغُرْم بالغُنْم " (م/ 85) ، وقاعدة "إذا تعذر إعمال الكلام يهمل " وغيرها فإنها ثابتة في المذاهب الأخرى.

وكذلك القواعد التي انفرد بها المذهب الشافعي تتفق في مضمونها وأحكامها مع المذهب الحنفي، ولذلك نص عليها ابن نجيم في "الأشباه والنظائر" وأشرت إليها، وكذلك مع المذهب المالكي والمذهب الحنبلي.

ولذلك كانت دراسة بعض القواعد في مذهب واحد، مع أنها متفق عليها، تدل على الطابع الخاص لدراسة قواعد كل مذهب، فقواعد الحنفية - هنا - أكثرها من مجلة الأحكام العدلية المختصة بالمعاملات المالية والإثبات، أما قواعد الشافعية الخاصة فأكثرها في العبادات وبعضها في أبواب الفقه الأخرى، وبعضها مختلف فيه في التطبيقات والفروع في المذهب الشافعي نفسه، كما سترى، والقواعد عند المالكية والحنابلة متنوعة أيضاً.

8 - أثبتُ الفوائد والتنبيهات الواردة في نهاية القاعدة المتصلة بها، وذلك لأهميتها، وفائدتها، وما فيها من علم، ثم وضعت عناوين جانبية لكثير من التنبيهات والفوائد التي وردت بعد القواعد؛ ليعرف القارئ مضمون التنبيه من عنوانه.

9 - كنت أود حذف جميع الأمثلة التي تتعلق بالعبيد والرق والعتق، لعدم وجود
৬ - ইমাম সুয়ূতী (রহ.)-এর চল্লিশটি সর্বজনীন মূলনীতি অনেক ক্ষেত্রে 'মাজাল্লাহ' এবং মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবের মূলনীতিগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই আমি ব্যাখ্যা, প্রয়োগ ও ব্যতিক্রম বর্ণনার ক্ষেত্রে এগুলোকে একত্রিত করার পাশাপাশি এর উৎস ও তথ্যসূত্র নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে চার মাযহাব বা কোনো কোনো মাযহাব থেকে এর বিধান নিশ্চিত করা যায়।

৭ - প্রতিটি মাযহাবেরই কিছু একক ফিকহী মূলনীতি রয়েছে, তবে এই মূলনীতিগুলোর অনেকগুলোই তাদের অর্থ, উদ্দেশ্য এবং অধিকাংশ প্রয়োগের ক্ষেত্রে অন্য মাযহাবের সাথে মিল রাখে। বিশেষ করে সেই মূলনীতিগুলো যা এককভাবে 'মাজাল্লাহ'-তে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: "ব্যক্তি তার নিজের স্বীকারোক্তির কারণে দায়বদ্ধ হয়" (ধারা: ৭৯), "প্রমাণ দ্বারা যা সাব্যস্ত হয়, তা বর্ণনার দ্বারা সাব্যস্ত বিষয়ের অনুরূপ" (ধারা: ৭৫), "দাবিদারের ওপর প্রমাণ পেশ করা এবং অস্বীকারকারীর ওপর শপথ করা আবশ্যক" (ধারা: ৭৫), "সাক্ষ্যপ্রমাণ হলো এমন এক দলিল যা অন্যদের ওপরও বর্তায়, আর স্বীকারোক্তি হলো এমন দলিল যা কেবল স্বীকারোক্তি প্রদানকারীর ওপর সীমাবদ্ধ" (ধারা: ১৭৮), "সাক্ষ্যপ্রমাণ হলো প্রকাশ্য অবস্থার বিপরীত বিষয় সাব্যস্ত করার জন্য এবং শপথ হলো মূল অবস্থাকে বহাল রাখার জন্য" (ধারা: ৭৭)।

এবং এই মূলনীতি: "পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের ক্ষেত্রে কোনো দলিল থাকে না, তবে এর দ্বারা বিচারকের রায় ক্ষুণ্ন হয় না" (ধারা: ৮৫), "পশু দ্বারা সংঘটিত জানমালের ক্ষয়ক্ষতির কোনো ক্ষতিপূরণ নেই" (ধারা: ৯৪), "ক্ষতির দায়ভার লাভের সাথে সম্পৃক্ত" (ধারা: ৮৫), "যখন কোনো বক্তব্য কার্যকর করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন তা বর্জন করা হয়" ইত্যাদি মূলনীতি অন্য মাযহাবগুলোতেও সাব্যস্ত রয়েছে।

অনুরূপভাবে, শাফেয়ী মাযহাবের একক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মূলনীতিগুলো অর্থ এবং বিধানের দিক থেকে হানাফী মাযহাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একারণেই ইবনে নুজাইম তার 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর' গ্রন্থে এগুলো উল্লেখ করেছেন এবং আমি সেদিকে ইঙ্গিত করেছি। মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবের সাথেও এগুলোর সামঞ্জস্য রয়েছে।

একই কারণে কোনো একটি মাযহাবের এমন কিছু মূলনীতি নিয়ে আলোচনা করা যা প্রকৃতপক্ষে সর্বসম্মত, তা প্রতিটি মাযহাবের মূলনীতি অধ্যয়নের বিশেষ বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তোলে। এখানে হানাফী মাযহাবের মূলনীতিগুলোর অধিকাংশই 'মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যাহ' থেকে নেওয়া যা আর্থিক লেনদেন ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংশ্লিষ্ট। পক্ষান্তরে শাফেয়ী মাযহাবের বিশেষ মূলনীতিগুলোর অধিকাংশ ইবাদত সংক্রান্ত এবং কিছু ফিকহের অন্যান্য অধ্যায়ের সাথে সম্পর্কিত। শাফেয়ী মাযহাবের ভেতরেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ও শাখা-প্রশাখা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যা আপনি সামনে দেখতে পাবেন। মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবের মূলনীতিগুলোও একইভাবে বৈচিত্র্যময়।

৮ - আমি মূলনীতির শেষে বর্ণিত এর সাথে সংশ্লিষ্ট ফায়দা ও সতর্কতাগুলো বহাল রেখেছি; কারণ এগুলোর গুরুত্ব, উপকারিতা এবং এতে নিহিত জ্ঞান অত্যন্ত মূল্যবান। অতঃপর মূলনীতির শেষে উল্লেখিত অনেক সতর্কতা ও ফায়দার জন্য আমি পার্শ্ব-শিরোনাম যুক্ত করেছি, যাতে পাঠক শিরোনাম দেখেই সতর্কবার্তার বিষয়বস্তু বুঝতে পারেন।

৯ - আমি দাস-দাসী ও দাসমুক্তি সংক্রান্ত সকল উদাহরণ বাদ দিতে চেয়েছিলাম, কারণ বর্তমান সময়ে এর কোনো অস্তিত্ব নেই...
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
تطبيق عملي لها في الحياة، وإلغاء الرق عالمياً، ولكن اضطررت لذكر أقل قدر من ذلك لأنها واردة في المراجع السابقة من جهة، ولتعلق القاعدة بها من جهة ثانية، ولوجودها في كتب الفقه الأصلية من جهة ثالثة.

‌‌خطة البحث

وضعت تمهيداً لتعريف القواعد، ونشأتها، وأهميتها، ومصادرها، وأهم كتب القواعد في المذاهب الفقهية الأربعة، واهتمام المجلة والعلماء بالقواعد في عصرنا الحاضر.

ثم خصصت القواعد الخمس بباب مستقل مع بيان القواعد المتفرعة عنها، ثم

ذكرت القواعد الكلية المتفق عليها في المذاهب: الحنفي والمالكي والشافعي والحنبلي، ثم القواعد الكلية الواردة في المذهب الحنفي، ثم القواعد الكلية الواردة في المذهب المالكي حصراً، ثم القواعد الكلية الواردة في المذهب الشافعي حصراً، ثم القواعد الكلية الواردة في المذهب الحنبلي، ثم القواعد المختلف فيها في المذهب المالكي، ثم المذهب الشافعي، ثم المذهب الحنبلي، ولذلك جاء الكتاب في باب تمهيدي، وتسعة أبواب، كما يلي:

الباب التمهيدي: في تعريف القواعد الفقهية وفوائدها وأهميتها وكتبها.

الباب الأول. في القواعد الخمس الرئيسية الأساسية وما يتفرع عنها من قواعد.

الباب الثاني: في القواعد الكلية المتفق عليها في المذاهب الحنفي والمالكي

والشافعي والحنبلي.

الباب الثالث: في القواعد الفقهية التي وردت في المذهب الحنفي.

الباب الرابع: في القواعد الفقهية الكلية في المذهب المالكي.

الباب الخامس: في القواعد الفقهية الكلية التي وردت في المذهب الشافعي.

الباب السادس: القواعد الفقهية الكلية التي وردت في المذهب الحنبلي.
জীবনের ক্ষেত্রে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং বিশ্বব্যাপী দাসপ্রথা বিলোপ, তবে আমি এর যৎসামান্য উল্লেখ করতে বাধ্য হয়েছি; কারণ একদিকে তা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে, দ্বিতীয়ত মূলনীতি এর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে এবং তৃতীয়ত ফিকহের মূল গ্রন্থসমূহে এর বিদ্যমানতার কারণে।

‌‌গবেষণা পরিকল্পনা

আমি মূলনীতিমালার সংজ্ঞা, এর উদ্ভব, গুরুত্ব, উৎসসমূহ, চার ফিকহি মাযহাবের মূলনীতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ এবং বর্তমান যুগে সাময়িকী ও আলেমগণের এ সংক্রান্ত গুরুত্ব প্রদানের আলোচনার সমন্বয়ে একটি ভূমিকা উপস্থাপন করেছি।

অতঃপর আমি পাঁচটি মৌলিক মূলনীতিকে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং তার থেকে নির্গত শাখাগত মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করেছি, এরপর

আমি হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবে সর্বসম্মত সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ উল্লেখ করেছি। অতঃপর হানাফি মাযহাবে বর্ণিত সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ, এরপর কেবলমাত্র মালিকি মাযহাবে বর্ণিত সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ, এরপর কেবলমাত্র শাফেয়ি মাযহাবে বর্ণিত সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ, এরপর হাম্বলি মাযহাবে বর্ণিত সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ, অতঃপর মালিকি মাযহাবে মতভেদপূর্ণ মূলনীতিসমূহ, এরপর শাফেয়ি মাযহাব ও হাম্বলি মাযহাবের অনুরূপ বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। ফলে গ্রন্থটি একটি ভূমিকা মূলক অধ্যায় এবং নয়টি মূল অধ্যায়ে বিন্যস্ত হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

ভূমিকা মূলক অধ্যায়: ফিকহি মূলনীতিমালার সংজ্ঞা, উপকারিতা, গুরুত্ব এবং এ সংক্রান্ত গ্রন্থাবলি প্রসঙ্গে।

প্রথম অধ্যায়: প্রধান পাঁচটি মৌলিক মূলনীতি এবং তা থেকে উদ্ভূত শাখাগত নীতিসমূহ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাযহাবে সর্বসম্মত সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: হানাফি মাযহাবে বর্ণিত ফিকহি মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: মালিকি মাযহাবের সামগ্রিক ফিকহি মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: শাফেয়ি মাযহাবে বর্ণিত সামগ্রিক ফিকহি মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: হাম্বলি মাযহাবে বর্ণিত সামগ্রিক ফিকহি মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الباب الثامن: في القواعد المختلف فيها في المذهب الشافعي.

الباب التاسع: في القواعد المختلف فيها في المذهب الحنبلي.

الباب العاشر: في القواعد المختلف فيها في المذهب الحنفي.

الخاتمة، والفهارس.

وأسال الله تعالى أن يبارك لي في هذا العمل، وأن يكتب لي فيه الأجر والثواب، وأن يتقبله مني، ويجعله في ميزان الحسنات، وأن ينفع به، ليبقى ذكراً في الدنيا، وذخراً للآخرة.
অষ্টম অধ্যায়: শাফিয়ী মাযহাবে মতভেদপূর্ণ মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে।

নবম অধ্যায়: হাম্বলী মাযহাবে মতভেদপূর্ণ মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে।

দশম অধ্যায়: হানাফী মাযহাবে মতভেদপূর্ণ মূলনীতিসমূহ প্রসঙ্গে।

উপসংহার এবং নির্ঘণ্টসমূহ।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি আমার এই কর্মে বরকত দান করুন, এতে আমার জন্য পুণ্য ও প্রতিদান লিখে রাখুন, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন, একে আমার নেক আমলের পাল্লায় শামিল করুন এবং এর মাধ্যমে উপকার সাধন করুন; যাতে এটি পৃথিবীতে স্মরণীয় এবং পরকালের জন্য পাথেয় হিসেবে অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الباب التمهيدي

تعريف القواعد الفقهية وفوائدها وأهم كتبها

أولاً: نبدة تاريخية عن ظهور القواعد الفقهية

بدأ التشريع الإسلامي في العهد النبوي، ومع نزول القرآن الكريم، وبيانه في السنة النبوية، لمعرفة أحكام الشرع في جميع شؤون الحياة.

ثم بدأت الحركة الفقهية بالظهور بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم وقام الصحابة والتابعون، ومن بعدهم الأئمة والمجتهدون والعلماء والفقهاء باستنباط الأحكام الفقهية من المصادر الشرعية.

وشمروا عن سواعدهم لاستخراج حكم المسائل والقضايا من الكتاب الكريم.

والسنة الشريفة، والاجتهاد بواسطة بقية المصادر، لاعتقادهم أن لكل قضية أو أمر من أمور الدنيا حكماً لله تعالى، وأنهم المكلفون ببيان هذه الأحكام، ومسؤولون أمام الله تعالى عن ذلك.

فإذا حدث أمر، أو طرأت حادثة، أو أثيرت قضية، أو وقع نزاع، أو استجد بحث، رجع الناس والحكام إلى العلماء والفقهاء والمجتهدين لمعرفة حكم الله تعالى في ذلك، وأحسَّ العلماء بواجبهم نحو هذه الأمانة والمسؤولية الملقاة على عاتقهم، فنظروا في كتاب الله، فإن وجدوا فيه نصاً صريحاً بينوه للناس، وإن لم يجدوا رجعوا إلى السنة دراسة وبحثاً وسؤالاً، فإن وجدوا فيها ضالتهم المنشودة أعلنوها ووقفوا عندها، وإن لم يجدوا نصاً في كتاب ولا سنة شرعوا في الاجتهاد وبذل الجهد والنظر في الكتاب والسنة وما يتضمنان من قواعد مجملة، ومبادئ عامة، وأحكام أصيلة.

ومن إحالة صريحة أو ضمنية إلى المصادر الشرعية الأخرى، ويعملون عقولهم في فهم
প্রারম্ভিক অধ্যায়

ফেকহী মূলনীতিসমূহের (কাওয়াইদ ফিকহিয়্যাহ) সংজ্ঞা, উপকারিতা এবং এর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ

প্রথমত: ফেকহী মূলনীতিসমূহের (কাওয়াইদ ফিকহিয়্যাহ) উৎপত্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ইসলামী শরীয়তের বিধান প্রবর্তন (তাসরি) নবুওয়তের যুগেই শুরু হয়েছে। জীবনের সকল ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধানসমূহ জানার জন্য পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়া এবং সুন্নাহর মাধ্যমে তার ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমেই এর সূচনা হয়।

অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর ফিকহী কর্মকাণ্ড বিকাশ লাভ করতে শুরু করে। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীগণ এবং তাঁদের পরবর্তী ইমাম, মুজতাহিদ, আলেম ও ফকীহগণ শরীয়তের উৎসসমূহ থেকে ফিকহী হুকুমগুলো উদ্ভাবন (ইস্তিম্বাত) করার দায়িত্ব পালন করেন।

পবিত্র কিতাব থেকে বিভিন্ন মাসআলা ও সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার জন্য তাঁরা কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

এবং সুন্নাহর পাশাপাশি অন্যান্য উৎসের মাধ্যমে ইজতিহাদ করেছেন। কারণ তাঁদের বিশ্বাস ছিল যে, দুনিয়ার প্রতিটি বিষয় বা সমস্যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট হুকুম রয়েছে। আর তাঁরা এসব হুকুম বর্ণনা করার জন্য আদিষ্ট এবং এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে দায়বদ্ধ।

যখনই কোনো ঘটনা ঘটত, কোনো আপদ আসত, কোনো সমস্যার উদ্ভব হত, কোনো বিবাদ দেখা দিত কিংবা কোনো নতুন গবেষণার প্রয়োজন হত, তখন সাধারণ মানুষ ও শাসকরা সে বিষয়ে আল্লাহ তাআলার বিধান জানার জন্য আলেম, ফকীহ ও মুজতাহিদদের কাছে ফিরে আসতেন। আলেমগণও তাঁদের কাঁধে অর্পিত এই আমানত ও দায়িত্বের গুরুত্ব অনুভব করতেন। তাঁরা আল্লাহর কিতাবের দিকে দৃষ্টিপাত করতেন; যদি সেখানে কোনো স্পষ্ট নস (পাঠ) পেতেন, তবে তা মানুষের কাছে বর্ণনা করতেন। আর যদি সেখানে না পেতেন, তবে তাঁরা অধ্যয়ন, গবেষণা ও জিজ্ঞাসার মাধ্যমে সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতেন। সেখানে যদি তাঁরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত সমাধান খুঁজে পেতেন, তবে তা প্রকাশ করতেন এবং সে অনুযায়ী অবস্থান গ্রহণ করতেন। আর যদি কিতাব ও সুন্নাহর কোথাও সরাসরি নস না পেতেন, তবে তাঁরা ইজতিহাদ শুরু করতেন এবং কিতাব ও সুন্নাহর সামগ্রিক মূলনীতি, সাধারণ নীতিমালা ও মৌলিক বিধানসমূহের আলোকে গভীর চিন্তা ও প্রচেষ্টা ব্যয় করতেন।

পাশাপাশি অন্যান্য শরয়ী উৎসসমূহের প্রতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশনার আলোকে এবং তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা প্রয়োগ করতেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
النصوص وتفسيرها، وتحقيق مقاصد الشريعة، وأهدافها العامة، ليصلوا من وراء ذلك إلى استنباط الأحكام الفقهية وبيان الحلال والحرام، ومعرفة حكم الله تعالى.

وتكوَّن من عملهم مجموعة ضخمة من الأحكام الشرعية والفروع الفقهية، وقاموا بواجبهم أحسن قيام في مسايرة التطور، ومواكبة الفتوح، ورسم المنهج الإلهي في حياة الفرد والمجتمع والدولة، لتبقى مستظلة بالأحكام الشرعية في كل صغيرة أو كبيرة.

ويظهر من ذلك أن الفقه الإسلامي بدأ من الفروع والجزئيات، واستمر على هذا المنوال طوال القرن الهجري الأول، وظهر خلال القرن الثاني عوامل جديدة، وطرق مختلفة، وتطورات ملموسة، منها ظهور الفقه الافتراضي الذي اتجه إلى مسابقة الزمن، واستباق الحوادث، وافتراض القضايا، وما يستجد من المسائل، لبيان أحكامها الشرعية، كما ظهر أئمة المذاهب الذين دونوا أحكامهم، وتميزت اجتهاداتهم.

وتحددت قواعدهم وأصولهم في الاستنباط والاجتهاد، واستقل كل مذهب بمنهج معين في بيان الأحكام، معتمدين على القواعد والأصول التي يسيرون عليها.

وهنا برزت للوجود ثلاثة أنواع من القواعد، وهي:

1 - قواعد الاستنباط والاجتهاد، وهي السبل التي يعتمد عليها المجتهد، ويستعين بها في معرفة الأحكام من المصادر، وهي قواعد علم أصول الفقه.

2 - قواعد التخريج، التي وضعها العلماء لرواية الأحاديث، وتدوين السنة، وضبط الروايات، وقبول الأسانيد، والحكم عليها بالصحة أو الضعف، والجرح والتعديل، للاعتماد على الصحيح في الاجتهاد والاستنباط، وترك الضعيف، وتجنب الواهي، والحذر من الموضوع، وهذه القواعد هي: مصطلح الحديث، أو أصول الحديث، أو قواعد التحديث.
পাঠ্যসমূহ ও সেগুলোর ব্যাখ্যা, এবং শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ ও এর সাধারণ লক্ষ্যগুলো পূরণ করা, যাতে এর মাধ্যমে তারা ফিকহি বিধানসমূহ আহরণ, হালাল ও হারাম স্পষ্ট করা এবং মহান আল্লাহর বিধান অবগত হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন।

আর তাদের এই কর্মতৎপরতা থেকে শরীয়তি বিধান ও ফিকহি শাখা-প্রশাখার এক বিশাল ভাণ্ডার তৈরি হয়েছে। তারা বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা, নতুন নতুন বিজয় ও প্রসারের সাথে সংগতি বজায় রাখা এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জীবনে খোদায়ী রূপরেখা অঙ্কন করার ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব সর্বোত্তমভাবে পালন করেছেন, যাতে প্রতিটি ছোট বা বড় বিষয়ে জীবন শরীয়তি বিধানের ছায়াতলে থাকতে পারে।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসলামি ফিকহ শাখা-প্রশাখা ও খুঁটিনাটি বিষয় থেকেই শুরু হয়েছিল এবং প্রথম হিজরি শতাব্দী জুড়ে এই ধারা অব্যাহত ছিল। দ্বিতীয় শতাব্দীতে নতুন কিছু অনুষঙ্গ, ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি এবং দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সম্ভাব্য ফিকহের (ফিকহ ইফতিরাযি) উদ্ভব, যা সময়ের সাথে পাল্লা দেওয়া, ঘটনার পূর্বানুমান করা এবং কাল্পনিক সমস্যা ও নতুন উদ্ভূত বিষয়াদির শরীয়তি বিধান বর্ণনার দিকে ধাবিত হয়েছিল। একই সাথে মাযহাবের ইমামগণের আত্মপ্রকাশ ঘটে যারা তাদের বিধানসমূহ লিপিবদ্ধ করেন এবং যাদের ইজতিহাদসমূহ স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য লাভ করে।

এবং বিধান আহরণ ও ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাদের মূলনীতি ও উসুলসমূহ নির্ধারিত হয়ে যায়। প্রতিটি মাযহাব বিধান বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির ওপর স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে, যেখানে তারা তাদের অনুসৃত নিয়ম ও মূলনীতিসমূহের ওপর নির্ভর করতেন।

আর এখানেই তিন প্রকার মূলনীতি বা কায়েদার উদ্ভব ঘটে, সেগুলো হলো:

১ - বিধান আহরণ ও ইজতিহাদের মূলনীতিসমূহ: এগুলো এমন পথ বা মাধ্যম যার ওপর মুজতাহিদ নির্ভর করেন এবং উৎসসমূহ থেকে বিধানসমূহ জানার ক্ষেত্রে এগুলোর সাহায্য গ্রহণ করেন; আর এগুলোই হলো ইলমে উসুলুল ফিকহের মূলনীতি।

২ - তাখরিজের মূলনীতিসমূহ: যা উলামায়ে কেরাম হাদিস বর্ণনা, সুন্নাহ সংকলন, বর্ণনাগুলোর যথার্থতা রক্ষা, সনদ কবুল করা এবং সেগুলোর শুদ্ধতা বা দুর্বলতা নিরূপণ ও জারাহ-তাদিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য প্রণয়ন করেছেন; যাতে ইজতিহাদ ও বিধান আহরণের ক্ষেত্রে সঠিক বা সহিহ হাদিসের ওপর নির্ভর করা যায় এবং দুর্বল হাদিস বর্জন করা যায়, ভিত্তিহীন বর্ণনা এড়িয়ে চলা যায় এবং জাল হাদিস থেকে সতর্ক থাকা যায়। আর এই মূলনীতিগুলো হলো: মুসতালাহুল হাদিস, বা উসুলুল হাদিস, বা কাওয়াইদুত তাহদিস।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
3 - قواعد الأحكام، وهي القواعد التي صاغها العلماء، وبخاصة أتباع الأئمة ومجتهدو المذاهب، لجمع الأحكام المتماثلة، والمسائل المتناظرة، وبيان أوجه الشبه بينها، ثم ربطها في عقد منظوم، يجمع شتاتها، ويؤلف بين أجزائها، ويقيم صلة القربى في أطرافها، لتصبح عائلة واحدة، وأسرة متضامنة، وهي القواعد الكلية في الفقه الإسلامي، أو القواعد الفقهية.

يحدثنا الإمام القرافي عن وجود هذه القواعد فيقول:

"إن الشريعة المحمدية اشتملت على أصول وفروع، وأصولها قسمان:

أحدهما: المسمى بأصول الفقه، وهي في غالب أمره ليس فيها إلا قواعد

الأحكام الناشئة عن الألفاظ العربية، وما يعرض لتلك الألفاظ من النسخ

والترجيح، ونحو: الأمر للوجوب، والنهي للتحريم. . إلخ.

والقسم الثاني: قواعد كلية جليلة، كثيرة العدد، عظيمة المدد، مشتملة على أسرار الشرع وحِكَمه لكل قاعدة من الفروع في الشريعة ما لا يحصى، ولم يذكر منها شيء في أصول الفقه، وإن كان يشار إليها هناك على سبيل الإجمال، ويبقى تفصيله لم يتحصل. . ".

وهذه القواعد التي أشار إليها القرافي، وبيَّن نشأتها هي مناط البحث في هذه

الدراسة لتعريفها، وبيان فائدتها، وأهم كتبها، وعرض أنواعها وما يتفرع عنها.

ثانياً، تعريف القواعد الفقهية

القواعد: جمع قاعدة، والقاعدة لغة: الأساس، ومنه قواعد البناء وأساسه.

قال الله تعالى: (وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ) .

والقاعدة في الاصطلاح بمعنى الضابط، وهي الأمر الكلي المنطبق على جميع
৩ - বিধানের মূলনীতিসমূহ: আর এগুলো হলো সেই সকল মূলনীতি যা আলেমগণ, বিশেষ করে ইমামগণের অনুসারীগণ এবং মাযহাবের মুজতাহিদগণ একই ধরণের বিধান ও সদৃশ মাসআলাসমূহকে একত্রিত করার জন্য এবং সেগুলোর মধ্যকার সাদৃশ্যের দিকগুলো স্পষ্ট করার জন্য প্রণয়ন করেছেন। অতঃপর সেগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল সূত্রে গেঁথেছেন, যা বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে সমবেত করে, সেগুলোর অংশগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটায় এবং সেগুলোর প্রান্তিক বিষয়গুলোর মধ্যে নিকটাত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করে, যাতে তা একটি সুসংবদ্ধ পরিবার ও সংহতিপূর্ণ গোষ্ঠীতে পরিণত হয়। আর এগুলোই হলো ইসলামি ফিকহের সামষ্টিক মূলনীতি বা ফিকহি কায়দাহসমূহ।

ইমাম আল-কারাফি আমাদের এই মূলনীতিগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে বলেন:

"নিশ্চয়ই মুহাম্মাদী শরীয়ত মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখা নিয়ে গঠিত, আর এর মূলনীতিসমূহ দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: যা উসুলুল ফিকহ নামে পরিচিত। এর অধিকাংশ বিষয়ই কেবল সেই সকল বিধানের মূলনীতি যা আরবি শব্দাবলি থেকে উদ্ভূত এবং সেই শব্দাবলির ক্ষেত্রে নসখ (রহিতকরণ) ও তারজীহ (প্রাধান্য দান) এবং এই জাতীয় যে সকল বিষয় আপতিত হয় তা নিয়ে আলোচনা করে; যেমন: নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য এবং নিষেধ হারাম হওয়ার জন্য হওয়া ইত্যাদি।

দ্বিতীয় প্রকার: মহান ও ব্যাপক মূলনীতিসমূহ, যা সংখ্যায় অনেক এবং যার সাহায্য অপরিসীম। এগুলো শরীয়তের রহস্য ও হিকমতসমূহকে ধারণ করে। শরীয়তের শাখা-প্রশাখাগুলোর মধ্যে প্রতিটি মূলনীতির অগণিত প্রয়োগ রয়েছে। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে এগুলোর কোনো কিছুই বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি, যদিও সেখানে সারসংক্ষেপ হিসেবে সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তবে সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ অর্জিত হয়নি...।"

আর কারাফি যে মূলনীতিগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং সেগুলোর উৎপত্তি বর্ণনা করেছেন, সেগুলোই হলো এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়; যাতে সেগুলোর সংজ্ঞা প্রদান, উপকারিতা বর্ণনা, এ বিষয়ে প্রধান কিতাবসমূহ এবং এগুলোর প্রকারভেদ ও এ থেকে উৎসারিত শাখাগুলো তুলে ধরা যায়।

দ্বিতীয়ত: ফিকহি কায়দাহর সংজ্ঞা

কাওয়ায়েদ: এটি কায়েদাহ শব্দের বহুবচন। কায়েদাহর আভিধানিক অর্থ হলো: ভিত্তি; আর এ থেকেই ভবনের মূল ভিত্তি বা বনিয়াদকে কায়েদাহ বলা হয়।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: (আর যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল ঘরের ভিত্তিগুলো উত্তোলন করছিল)।

আর পরিভাষায় কায়েদাহ মূলত নীতি বা নিয়ন্ত্রক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যা এমন একটি সামষ্টিক বিষয় যা তার সকল অংশের ওপর প্রযোজ্য হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
جزئياته، فالقاعدة: قضية كلية يدخل تحتها جزئيات كثيرة، وتحيط بالفروع

والمسائل من الأبواب المتفرقة.

والقاعدة إما أن تطبق على جميع الفروع التي تدخل تحتها، كما سبق في التعريف.

وإما أن تشمل غالبَ الجزئيات أو أكثرها، ويخرج عنها بعض الفروع والجزئيات التي تعتبر استثناءات، وقد تطبق عليها قاعدة أخرى، ولذلك عرفها الحموي في (حاشيته على الأشباه والنظائر) بأنها:

"حكم أغلبي ينطبق على معظم جزئياته ".

وقد اخترنا التعريف الأول الذي يفيد انطباق القاعدة على جميع الجزئيات، لأن الأصل فيها أن تكون كذلك، وأن خروج بعض الفروع عنها لا يضر ولا يؤثر، وتكون استثناء من القاعدة، لأن كل قاعدة أو مبدأ أو أصل له استثناء، وهذا الاستثناء لا يغير من حقيقة الأصل أو المبدأ، وقد صرحت مجلة الأحكام العدلية بهذا فقالت في المادة الأولى منها:

"ثم إن بعض هذه القواعد، وإن كان بحيث إذا انفرد

يوجد من مشتملاته بعض المستثنيات، لكن لا تختل كليتها وعمومها من حيث المجموع، لما أن بعضها يخصص ويقيد بعضاً ".

‌‌ثالثاً: الفرق بين القاعدة والضابط

القاعدة: بمعنى الضابط في الأصل، لكن يميز العلماء بين القاعدة والضابط

عملياً وفي القرون الأخيرة بأن القاعدة تحيط بالفروع والمسائل في أبواب فقهية مختلفة، مثل قاعدة " الأمور بمقاصدها" (م/ 2) فإنها تطبق على أبواب العبادات، والجنايات، والعقود، والجهاد، والأيمان، وغيرها من أبواب الفقه.
এর খুটিনাটি বিষয়সমূহ; সুতরাং কায়েদা (মূলনীতি) হলো: একটি সামগ্রিক বিষয় যার অধীনে অনেকগুলো খুটিনাটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং যা বিভিন্ন অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখা ও মাসআলাসমূহকে পরিবেষ্টন করে।

আর কায়েদা বা মূলনীতি হয় এর অধীনে প্রবেশকারী সকল শাখা-প্রশাখার ওপর প্রযোজ্য হবে, যেমনটি ইতিপূর্বে সংজ্ঞায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

অথবা তা অধিকাংশ খুটিনাটি বিষয়কে শামিল করবে, আর এর থেকে কিছু শাখা ও খুটিনাটি বিষয় বের হয়ে যাবে যেগুলোকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং সেগুলোর ওপর অন্য কোনো কায়েদা প্রযোজ্য হতে পারে। এই কারণেই আল-হামাভী তার (আশবাহ ওয়ান নাযাইর-এর টিকাপুস্তক)-এ এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে:

"এটি এমন এক সংখ্যাগুরু বিধান যা তার অধিকাংশ খুটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়।"

আমরা প্রথম সংজ্ঞাটিকেই গ্রহণ করেছি যা সকল খুটিনাটি বিষয়ের ওপর কায়েদাটি প্রযোজ্য হওয়াকে বুঝায়। কারণ মূলগতভাবে কায়েদা এমনই হওয়া উচিত, এবং এর থেকে কিছু শাখা-প্রশাখা বের হয়ে যাওয়া কোনো ক্ষতি বা প্রভাব সৃষ্টি করে না। সেগুলো কায়েদার ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হয়। কারণ প্রতিটি কায়েদা, মূলনীতি বা আসলের ব্যতিক্রম থাকে। আর এই ব্যতিক্রম আসলের বা মূলনীতির প্রকৃত রূপকে পরিবর্তন করে না। মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যাহ-তে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এর প্রথম ধারায় বলা হয়েছে:

"অতঃপর এই কায়েদাগুলোর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা স্বতন্ত্রভাবে থাকলে এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মাঝে কিছু ব্যতিক্রম পাওয়া যায়, কিন্তু সামগ্রিক বিবেচনায় এর সামগ্রিকতা ও ব্যাপকতা ব্যাহত হয় না। কারণ এগুলোর কতক অন্য কতককে বিশেষায়িত ও সীমাবদ্ধ করে।"

‌‌তৃতীয়ত: কায়েদা (মূলনীতি) ও দাবিত (বিধায়ক)-এর মধ্যে পার্থক্য

কায়েদা: মূলত এটি দাবিত-এর অর্থেই ব্যবহৃত হয়, কিন্তু আলেমগণ ব্যবহারিক ক্ষেত্রে এবং পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে কায়েদা ও দাবিত-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন এভাবে যে—কায়েদা বিভিন্ন ফিকহী অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখা ও মাসআলাসমূহকে পরিবেষ্টন করে। যেমন: "কাজসমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল" (ধারা: ২) এই কায়েদাটি ইবাদত, অপরাধদণ্ড, চুক্তি, জিহাদ, শপথ এবং ফিকহের অন্যান্য সকল অধ্যায়ে প্রযোজ্য হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أما الضابط فإنه يجمع الفروع والمسائل من باب واحد من الفقه، مثل

"لا تصوم المرأة تطوعاً إلا بإذن الزوج أو كان مسافراً "

ومثل "أيما إهاب دُبغ فقد طَهُر"

وهو نص حديث شريف، ومثل "كل ماء مطلق لم يتغير فهو طهور"

ومثل "الكفار مخاطبون بفروع الشريعة" عند الشافعية.

ومثل "الإسلام يجبُّ ما قبله في حقوق الله.

دون ما تعلق به حق آدمي كالقصاص وضمان المال ".

يقول السيوطي: " لأن القاعدة تجمع فروعاً من أبواب شتى، والضابط يجمع فروعَ بابِ واحد".

ويقول أبو البقاء بعد تعريف القاعدة: "والضابط يجمع فروعاً من

باب واحد".

وإن هذا التفريق بين القاعدة والضابط عند معظم العلماء فقط، كما أنه ليس

تفريقاً حتماً جازماً، فقد يذكر كثير من العلماء قواعد فقهية، وهي في حقيقتها مجرد ضابط، كما سيمر معنا.

رابعاً: الفرق بين القواعد الأصولية والقواعد الفقهية

رأينا أن العلماء وضعوا قواعد أصولية للاستنباط والاجتهاد، وكان تدوينها

مبكراً وسابقاً على القواعد الفقهية، وأول من دونها وجمعها في كتاب مستقل الإمام الشافعي رحمه الله تعالى (ت 204 هـ) في كتا به (الرسالة) ثم تطورت وتوسعت وانتشرت وعمت المذاهب.
পক্ষান্তরে দ্বাবিত হলো তা যা ফিকহের একটি নির্দিষ্ট অধ্যায় থেকে শাখা-প্রশাখা ও মাসআলাসমূহ একত্রিত করে, যেমন

"স্বামী উপস্থিত থাকলে তার অনুমতি ছাড়া অথবা সে সফরে থাকা ব্যতীত কোনো নারী নফল রোজা রাখবে না"

এবং যেমন "যেকোনো কাঁচা চামড়া যখন দাবাগাত করা (পরিশোধন) হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়"

এটি একটি হাদিস শরিফের পাঠ, এবং যেমন "প্রত্যেকটি সাধারণ পানি যা পরিবর্তিত হয়নি, তা পবিত্রকারী"

এবং শাফিঈদের মতে যেমন "কাফিররা শরীয়তের শাখা বিধানসমূহের ক্ষেত্রেও সম্বোধিত।"

এবং যেমন "ইসলাম আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী বিষয়গুলোকে মিটিয়ে দেয়।

তবে যা মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন কিসাস ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ, তা ব্যতিরেকে।"

সুয়ূতী বলেন: "কেননা কায়িদাহ বিভিন্ন অধ্যায় থেকে শাখা-প্রশাখাকে একত্রিত করে, আর দ্বাবিত কেবল একটি অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখাকে একত্রিত করে।"

আবু আল-বাকা কায়িদাহর সংজ্ঞা প্রদানের পর বলেন: "আর দ্বাবিত ফিকহের একটি নির্দিষ্ট

অধ্যায়ের শাখা-প্রশাখাকে একত্রিত করে।"

কায়িদাহ ও দ্বাবিতের মধ্যে এই পার্থক্য কেবল অধিকাংশ আলেমদের নিকট স্বীকৃত, তদুপরি এটি কোনো

চূড়ান্ত বা অলঙ্ঘনীয় পার্থক্য নয়। কেননা অনেক আলেম এমন অনেক ফিকহি কায়িদাহ উল্লেখ করেন যা প্রকৃতপক্ষে কেবল দ্বাবিত, যেমনটি সামনে আমাদের নিকট স্পষ্ট হবে।

চতুর্থত: উসূলি কায়িদাহ ও ফিকহি কায়িদাহর মধ্যে পার্থক্য

আমরা দেখেছি যে, উলামায়ে কেরাম মাসআলা উদঘাটন ও ইজতিহাদের জন্য উসূলি কায়িদাহসমূহ প্রণয়ন করেছেন। আর এগুলোর সংকলন

অনেক আগে এবং ফিকহি কায়িদাহর পূর্বেই শুরু হয়েছিল। সর্বপ্রথম যিনি একে স্বতন্ত্র কিতাবে সংকলন ও একত্রিত করেছেন, তিনি হলেন ইমাম শাফিঈ (রহ.) [মৃত্যু ২০৪ হিজরি], তাঁর 'আর-রিসালাহ' কিতাবে। অতঃপর তা বিকশিত ও বিস্তৃত হয় এবং সকল মাযহাবে ছড়িয়ে পড়ে ও সর্বজনীনতা লাভ করে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
كما وضع الأئمة والعلماء قواعد فقهية لجمع الأحكام المتشابهة، والمسائل

المتناظرة، وكانت مبعثرة في الكتب والأبواب الفقهية، وتأخر تدوينها وجمعها بشكل مستقل، كما سنرى.

وصرح القرافي بالنوعين السابقين، وميز بينهما، لكنه جمع في كتابه (الفروق) بين القواعد الأصولية والقواعد الفقهية، وكذلك فحل السيوطي الشافعي، وابن نجيم الحنفي، وابن اللحام الحنبلي، في كتابه (القواعد والفوائد الأصولية) وغيرهم.

ويمكن التمييز بين النوعين بما يلي:

1 - إن القواعد الأصولية ناشئة في أغلبها من الألفاظ العربية، والقواعد العربية، والنصوص العربية، كما صرح القرافي سابقاً، أما القواعد الفقهية فناشئة من الأحكام الشرعية، والمسائل الفقهية.

2 - إن القواعد الأصولية خاصة بالمجتهد، يستعملها عند استنباط الأحكام

الفقهية، ومعرفة حكم الوقائع والمسائل المستجدة في المصادر الشرعية، أما القواعد الفقهية فإنها خاصة بالفقيه، أو المفتي، أو المتعلم الذي يرجع إليها لمعرفة الحكم الموجود للفروع، ويعتمد عليها بدلاً من الرجوع إلى الأبواب الفقهية المتفرقة.

3 - تتصف القواعد الأصولية بالعموم والشمول لجميع فروعها، أما القواعد الفقهية فإنها، وإن كانت عامة وشاملة، تكثر فيها الاستثناءات، وهذه الاستثناءات تشكل أحياناً قواعد مستقلة، أو قواعد فرعية، وهذا ما حدا بكثير من العلماء لاعتبار القواعد الفقهية قواعد أغلبية، وأنه لا يجوز الفتوى بمقتضاها.

4 - تتصف القواعد الأصولية بالثبات، فلا تتبدل ولا تتغير، أما القواعد الفقهية فليست ثابتة، وإنَّما تتغير - أحياناً - بتغير الأحكام المبنية على العرف، وسد الذرائع، والمصلحة وغيرها.
যেমন ইমামগণ ও আলেমগণ সদৃশ হুকুমসমূহ এবং মাসয়ালাসমূহ

সামঞ্জস্যপূর্ণ একত্রিত করার জন্য ফিকহী কায়েদা (নীতিমালা) প্রণয়ন করেছেন, যা ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন কিতাব ও অধ্যায়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। আমরা পরবর্তীতে দেখতে পাব যে, স্বতন্ত্রভাবে এগুলো লিপিবদ্ধ ও সংকলন করার কাজ বেশ দেরিতে হয়েছে।

ইমাম কারাফী উল্লিখিত দুই প্রকারের কথা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, তবে তিনি তাঁর 'আল-ফুরুক' গ্রন্থে উসূলী কায়েদা ও ফিকহী কায়েদার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। একইভাবে শাফেয়ী মাযহাবের দিকপাল সুয়ূতী, হানাফী মাযহাবের ইবনে নুজাইম এবং হাম্বলী মাযহাবের ইবনুল লাহহাম তাঁর 'আল-কাওয়ায়েদ ওয়াল ফাওয়ায়েদ আল-উসূলিয়্যাহ' গ্রন্থে এবং অন্যান্যগণও অনুরূপ করেছেন।

এই দুই প্রকারের মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে পার্থক্য করা সম্ভব:

১ - উসূলী কায়েদাগুলা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আরবি শব্দাবলি, আরবি ব্যাকরণ এবং আরবি নাস (মূল পাঠ) থেকে উদ্ভূত, যেমনটি কারাফী ইতিপূর্বে স্পষ্টভাবে বলেছেন। অপরদিকে ফিকহী কায়েদাগুলা শরয়ী বিধান ও ফিকহী মাসয়ালাসমূহ থেকে উদ্ভূত।

২ - উসূলী কায়েদাগুলা মুজতাহিদের জন্য নির্দিষ্ট, যা তিনি ফিকহী বিধান

আহরণ করার ক্ষেত্রে এবং শরয়ী উৎসসমূহ হতে নতুন উদ্ভূত ঘটনা ও মাসয়ালাসমূহের বিধান জানার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। পক্ষান্তরে ফিকহী কায়েদাগুলা ফকীহ, মুফতি বা শিক্ষার্থীর জন্য নির্দিষ্ট, যারা শাখা-প্রশাখার বিদ্যমান বিধানসমূহ জানার জন্য সেগুলোর শরণাপন্ন হন এবং ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে খোঁজাখুঁজির পরিবর্তে এগুলোর ওপর নির্ভর করেন।

৩ - উসূলী কায়েদাগুলা তার সকল শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে ব্যাপকতা ও পূর্ণাঙ্গতার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। অপরদিকে ফিকহী কায়েদাগুলা যদিও ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ, তবুও এতে প্রচুর ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়। এই ব্যতিক্রমগুলো কখনো কখনো স্বতন্ত্র কায়েদা বা উপ-কায়েদায় পরিণত হয়। একারণেই অনেক আলেম ফিকহী কায়েদাসমূহকে সংখ্যাগুরুভিত্তিক (অঘলাবি) কায়েদা হিসেবে গণ্য করেছেন এবং কেবল এগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফতোয়া প্রদান করা জায়েজ নয় বলে মত দিয়েছেন।

৪ - উসূলী কায়েদাগুলা স্থির ও অপরিবর্তনীয়। তবে ফিকহী কায়েদাগুলা স্থির নয়, বরং এগুলো কখনো কখনো প্রথা (উরফ), উপায় রুদ্ধ করা (সাদ্দুয যারায়ে), জনস্বার্থ (মাসলাহাত) ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে হুকুম পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
5 - إن القواعد الأصولية تسبق الأحكام الفقهية، وأما القواعد الفقهية فهي

لاحقة وتابعة لوجود الفقه وأحكامه وفروعه.

خامساً: الفرق بين القواعد والنطريات

قلنا: إن الفقه الإسلامي بدأ بالفروع والجزئيات في التدوين، ثم انتقل إلى التقعيد بإقامة الضوابط الفقهية والقواعد الكلية.

وهذه الضوابط والقواعد مرحلة ممهدة لجمع القواعد المتشابهة، والمبادئ العامة، لإقامة نظرية عامة في جانب من الجوانب الأساسية في الفقه، ولكن الظروف التي مرت بالأمة الإسلامية، وأحاطت بالاجتهاد والمجتهدين والعلماء، أوقفت العمل عند مرحلة القواعد، إلى أن ظهرت في هذا القرن النهضة الفقهية والدراسات المقارنة، وشرع العلماء في صياغة النظريات الأساسية في الفقه الإسلامي، مثل: نظرية العقد، ونظرية الملكية، ونظرية الأهلية، ونظرية الفساد، ونظرية البطلان، ونظرية الشروط المقترنة بالعقد، ونظرية العقد الموقوف، ونظرية الضرورة، ونظرية

الضمان، ونظرية الإثبات، ونظام الحكم في الإسلام، ونظام المال في الإسلام، ونظرية التكافل الاجتماعي، ونظام الجهاد، وغيرهما، مما يتيح للباحث أو الدارس أن يحصل على منهج الإسلام العام، وآراء الفقهاء في كل جانب من جوانب التشريع الأساسي في الإسلام.

والفرق بين القواعد الفقهية وبين النظريات أن القواعد إنما هي ضوابط وأصول فقهية تجمع الفروع والجزئيات، ويعتمد عليها الفقيه والمفتي في معرفة الأحكام الشرعية.

أما النظريات الفقهية فهي دساتير ومفاهيم كبرى تشكل نظاماً متكاملاً في جانب كبير من جوانب الحياة والتشريع، وأن كل نظرية تشمل مجموعة من القواعد الفقهية.
৫ - উসূলি নীতিসমূহ ফিকহি বিধানের অগ্রগামী, আর ফিকহি নীতিসমূহ হলো ফিকহ, এর বিধান ও এর শাখা-প্রশাখার অস্তিত্বের পরবর্তী এবং অনুগামী বিষয়।

পঞ্চম: নীতিমালা (কায়দা) এবং তত্ত্বের (নজরিয়া) মধ্যে পার্থক্য

আমরা বলেছি: ইসলামি ফিকহ সংকলনের ক্ষেত্রে শাখা-প্রশাখা ও খুঁটিনাটি বিষয় দিয়ে শুরু হয়েছিল, অতঃপর তা ফিকহি নিয়ম ও সামগ্রিক নীতিমালা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নীতিবদ্ধকরণের দিকে অগ্রসর হয়।

আর এই নিয়ম ও নীতিমালাগুলো হলো সাদৃশ্যপূর্ণ নিয়মাবলী ও সাধারণ মূলনীতিগুলোকে একত্রিত করে ফিকহের মৌলিক দিকগুলোর কোনো একটিতে একটি সাধারণ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পর্যায়। কিন্তু মুসলিম উম্মাহর ওপর দিয়ে যে পরিস্থিতি অতিবাহিত হয়েছে এবং ইজতিহাদ, মুজতাহিদ ও আলেমগণ যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা এই কাজটিকে নীতিমালার পর্যায়েই স্থবির করে দিয়েছিল। অবশেষে এই শতাব্দীতে ফিকহি নবজাগরণ ও তুলনামূলক অধ্যয়ন শুরু হলে আলেমগণ ইসলামি ফিকহের মৌলিক তত্ত্বগুলো প্রণয়ন করতে শুরু করেন। যেমন: চুক্তি তত্ত্ব, মালিকানা তত্ত্ব, যোগ্যতা তত্ত্ব, ফাসাদ তত্ত্ব, বাতিল তত্ত্ব, চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী বিষয়ক তত্ত্ব, স্থগিত চুক্তি তত্ত্ব, প্রয়োজনীয়তা তত্ত্ব, জামানত তত্ত্ব, প্রমাণ তত্ত্ব, ইসলামে শাসন ব্যবস্থা, ইসলামে অর্থ ব্যবস্থা, সামাজিক সংহতি তত্ত্ব, জিহাদ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য। যা একজন গবেষক বা শিক্ষার্থীর জন্য ইসলামের সাধারণ কর্মপন্থা এবং ইসলামের মৌলিক আইনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ফকীহগণের মতামত লাভ করা সহজ করে দেয়।

ফিকহি নীতিমালা এবং তত্ত্বের মধ্যে পার্থক্য হলো, নীতিমালা মূলত এমন কিছু ফিকহি নিয়ম ও মূলনীতি যা শাখা-প্রশাখা ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে একত্রিত করে এবং ফকীহ ও মুফতিগণ শারঈ বিধানসমূহ জানার ক্ষেত্রে এগুলোর ওপর নির্ভর করেন।

পক্ষান্তরে ফিকহি তত্ত্বসমূহ হলো বৃহৎ মূলনীতি ও ধারণা যা জীবন এবং আইনের একটি বড় ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গঠন করে, এবং প্রতিটি তত্ত্ব একগুচ্ছ ফিকহি নীতিমালার সমষ্টি।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
كما تقوم النظرية على أركان وشروط ومقومات أساسية، وكثيراً ما تخلو من بيان الأحكام الفقهية، أما القواعد فلا يوجد لها أركان وشروط، وتنطوي على عدد كبير من الأحكام الفقهية والفروع والمسائل.

مثال القواعد " الفقهية " العبرة في العقود للمقاصد والمعاني، لا للألفاظ والمباني "

التي تفسر صيغة العقد، وموضوعه، لتحديد الآثار المترتبة عليه.

ومثال النظريات الفقهية (نظرية العقد) التي تتناول جميع العقود الشرعية في مختلف أحكامها وأطرافها من التعريف والأركان والشروط والآثار، وموقع العقد بين مصادر الالتزام الأخرى.

والخلاصة: أن القواعد واسطة بين الفروع والأصول، أو هي واسطة بين

الأحكام والنظريات.

ونشير هنا إلى أهم تطور للفقه الإسلامي في العصر الحاضر، وذلك بتقنين أحكامه في قانون أو نظام في مجال معين، واختيار الآراء فيه من مختلف المذاهب الفقهية.

والتزام القضاة العمل بموجبه، ويختلف ذلك سعة وضيقاً، وشمولاً وحصراً من بلد إلى آخر، وكان أقدم قانون (مجلة الأحكام العدلية) في الدولة العثمانية التي سنشير إليها، وآخرها قانون العقوبات في الفقه الإسلامي الذي صدر بالسودان، والتقنين مستمر.

سادساً: فوائد القواعد الفقهية وأهميتها

بيَّن لنا العلامة القرافي أهمية القواعد وفوائدها فقال:

"وهذه القواعد مهمة في الفقه، عظيمة النفع، وبقدر الإحاطة بها يعظم قدر

الفقيه، ويشرف، ويظهر رونق الفقه ويعرف، ومن جعل يخرّج الفروع بالمناسبات الجزئية، دون القواعد الكلية، تناقضت عليه الفروع واختلفت، واحتاج إلى حفظ
যথা তত্ত্ব বা থিওরি মৌলিক স্তম্ভ, শর্ত ও মৌলিক উপাদানসমূহের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এটি অনেক সময় ফিকহী বিধানসমূহের বর্ণনা হতে মুক্ত থাকে। পক্ষান্তরে, মূলনীতি বা কায়দার জন্য কোনো রুকন ও শর্ত নেই এবং এটি বিপুল সংখ্যক ফিকহী বিধান, শাখা-উপশাখা ও মাসআলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

ফিকহী কায়দার উদাহরণ হলো: "চুক্তির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থই ধর্তব্য, শব্দ ও বাহ্যিক কাঠামো নয়।"

যা চুক্তির শব্দবিন্যাস এবং এর বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করে, যাতে এর ওপর অর্পিত ফলাফলসমূহ নির্ধারণ করা যায়।

আর ফিকহী তত্ত্বের উদাহরণ হলো "চুক্তি তত্ত্ব", যা সমস্ত শরয়ী চুক্তিকে তার সংজ্ঞা, রুকন, শর্ত ও ফলাফলসহ বিভিন্ন বিধান ও চুক্তির পক্ষের নিরিখে এবং অন্যান্য বাধ্যবাধকতার উৎসের মাঝে চুক্তির অবস্থান নিয়ে আলোচনা করে।

সারসংক্ষেপ হলো: কায়দা বা মূলনীতিসমূহ শাখা-প্রশাখা ও মূলনীতির মধ্যবর্তী একটি মাধ্যম, অথবা এটি

বিধান ও তত্ত্বের মধ্যকার একটি মাধ্যম।

আমরা এখানে বর্তমান যুগে ইসলামী ফিকহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রতি ইঙ্গিত করছি, আর তা হলো একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এর বিধানগুলোকে আইন বা বিধিবদ্ধ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা এবং এতে বিভিন্ন ফিকহী মাযহাব থেকে মতামত নির্বাচন করা।

এবং বিচারকদের ওপর সেই অনুযায়ী আমল করা বাধ্যতামূলক করা। এটি দেশভেদে প্রশস্ততা ও সংকীর্ণতা এবং ব্যাপকতা ও সীমাবদ্ধতার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রাচীনতম আইন ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের "মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া", যার কথা আমরা উল্লেখ করব; আর সর্বশেষটি হলো সুদানে জারি করা ইসলামী ফিকহের দণ্ডবিধি আইন। আর এই আইনি রূপায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ষষ্ঠ: ফিকহী কায়দাসমূহের উপকারিতা ও গুরুত্ব

আল্লামা কারাফী আমাদের নিকট কায়দাসমূহের গুরুত্ব ও উপকারিতা স্পষ্ট করে বলেছেন:

"ফিকহশাস্ত্রে এই কায়দা বা মূলনীতিসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহোপকারী। এগুলোর ওপর দখল বা পরিবেষ্টন অনুযায়ী

ফকীহ বা আইনবিদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, তিনি সম্মানিত হন এবং ফিকহের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় ও পরিচিতি লাভ করে। আর যে ব্যক্তি সামগ্রিক মূলনীতি ব্যতিরেকে কেবল আংশিক সামঞ্জস্যের ভিত্তিতে শাখা-প্রশাখাগুলো আহরণ করতে শুরু করবে, তার নিকট শাখা-প্রশাখাগুলো স্ববিরোধী ও বৈচিত্র্যময় মনে হবে এবং তার জন্য মুখস্থ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবে"
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الجزئيات التي لا تتناهى، ومن ضبط الفقه بقواعده استغنى عن حفظ أكثر

الجزئيات، لاندراجها في الكليات، واتحد - عنده ما تناقض عند غيره، وتناسب ".

وقال العلامة ابن نجيم مبيناً فوائد القواعد:

"الأول: في معرفة القواعد التي تُردُّ إليها، وفرعوا الأحكام عليها، وهي أصل الفقه، وبها يرتقي الفقيه إلى درجة الاجتهاد، ولو بالفتوى".

وممكننا أن نلخص فوائد القواعد وأهميتها بما يلي:

1 - إن دراسة الفروع والجزئيات الفقهية يكاد يكون مستحيلاً، بينما يدرس الطالب والعالم قاعدة كلية تنطبق على فروع كثيرة لا حصر لها، ويتذكر القاعدة ليفرع عليها المسائل والفروع المتشابهة والمتناظرة، ولذلك سمي هذا العلم أيضاً: علم الأشباه والنظائر.

يقول العلامة السيوطي:

"اعلم أن فن الأشباه والنظائر فن عظيم، به يطلع على

حقائق الفقه ومداركه، ومآخذه وأسراره، ويتمهر في فهمه واستحضاره، ويقتدر على الإلحاق والتخريج، ومعرفة المسائل التي ليست بمسطورة، والحوادث والوقائع التي لا تنقضي على مرِّ الزمان، ولهذا قال بعض أصحابنا: الفقه معرفة النظائر".

فهي تسهل ضبط الأحكام الفقهية، وحصرها، وحفظ المسائل الفرعية وجمعها.

2 - إن دراسة الفروع والجزئيات، إن حفظت كلها أو أغلبها، فإنها سريعة

النسيان، ويحتاج الرجوع إليها في كل مرة إلى جهد ومشقة وحرج.

أما القاعدة الفقهية فهي سهلة الحفظ، بعيدة النسيان، لأنها صيغت بعبارة جامعة
অগণিত খুটিনাটি বিষয়সমূহ; আর যে ব্যক্তি ফিকহকে এর মূলনীতিসমূহ দিয়ে আয়ত্ত করে, সে অধিকাংশ খুটিনাটি বিষয় মুখস্থ করা থেকে অব্যাহতি পায়। কারণ সেগুলো মূলনীতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং তার নিকট সেই বিষয়গুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যা অন্যদের নিকট পরস্পরবিরোধী মনে হয়।

আল্লামা ইবনে নুজাইম মূলনীতিসমূহের উপকারিতা বর্ণনা করে বলেন:

"প্রথমত: সেই মূলনীতিগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যেগুলোর দিকে বিষয়সমূহকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং যেগুলোর ভিত্তিতে ফকিহগণ বিধানসমূহ বের করেন। আর এটিই ফিকহ শাস্ত্রের মূল ভিত্তি; এর মাধ্যমেই একজন ফকিহ ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হন, যদিও তা কেবল ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রেই হোক না কেন।"

আমরা মূলনীতিসমূহের উপকারিতা ও গুরুত্বকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করতে পারি:

১ - ফিকহ শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখা ও খুটিনাটি বিষয়গুলো পৃথকভাবে অধ্যয়ন করা প্রায় অসম্ভব। পক্ষান্তরে, একজন ছাত্র বা আলিম যখন একটি মূলনীতি অধ্যয়ন করেন যা অগণিত শাখা-প্রশাখার ওপর প্রযোজ্য হয়, তখন তিনি কেবল সেই মূলনীতিটি মনে রেখেই তার ওপর ভিত্তি করে অনুরূপ ও সমজাতীয় মাসআলা ও শাখা-প্রশাখাগুলো বের করতে পারেন। এ কারণেই এই শাস্ত্রকে 'ইলমুল আশবাহ ওয়ান নাযাইর' (সদৃশ ও তুল্য বিষয়াবলির জ্ঞান) নামেও অভিহিত করা হয়।

আল্লামা সুয়ূতী বলেন:

"জেনে রেখো, 'আশবাহ ওয়ান নাযাইর' শিল্পটি একটি মহান শিল্প। এর মাধ্যমে ফিকহ শাস্ত্রের প্রকৃত তত্ত্ব ও রহস্যসমূহ এবং এর উৎসসমূহ উদ্ঘাটিত হয়। এর ফলে ফিকহ অনুধাবনে ও তা স্মরণে আনায় পারদর্শিতা অর্জিত হয় এবং নতুন মাসআলা সংযোজন ও বিধান উদ্ভাবনে সক্ষমতা তৈরি হয়। সেই সাথে কিতাবে অলিখিত মাসআলাগুলো এবং কালের বিবর্তনে ঘটে যাওয়া অফুরন্ত ঘটনা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। এই কারণেই আমাদের মাযহাবের কেউ কেউ বলেছেন: ফিকহ হলো সমজাতীয় বিষয়গুলো চেনার নাম।"

সুতরাং এটি ফিকহী বিধানসমূহ আয়ত্ত করা, সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করা এবং শাখা মাসআলাগুলো মুখস্থ রাখা ও তা একত্রিত করা সহজ করে দেয়।

২ - যদি ফিকহী শাখা-প্রশাখা ও খুটিনাটি বিষয়গুলো পুরোপুরি বা এর অধিকাংশ মুখস্থও করা হয়, তবে তা দ্রুত ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে প্রতিবার এগুলোর দিকে ফিরে যেতে প্রচুর প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও সংকটের সম্মুখীন হতে হয়।

পক্ষান্তরে ফিকহী মূলনীতি মুখস্থ করা সহজ এবং তা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম; কারণ এটি একটি সারগর্ভ ও ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যে সংকলিত।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
سهلة تبين محتواها، ومتى ذكر أمام الفقيه فرع أو مسألة فإنه يتذكر القاعدة، مثل قاعدة " لا ضرر ولا ضرار"، أو "الضرر يزال "، أو " يتحمل الضرر الخاص لمنع الضرر العام "، أو "الولاية الخاصة أقوى من الولاية العامة".

3 - إن الأحكام الجزئية قد يتعارض ظاهرها، ويبدو التناقض بين عللها، فيقع الطالب والباحث في الارتباك والخلط، وتشتبه عليه الأمور حتى يبذل الجهد والتتبع لمعرفة الحقيقة.

أما القاعدة الفقهية فإنها تضبط المسائل الفقهية، وتنسق بين الأحكام المتشابهة، وترد الفروع إلى أصولها، وتسهل على الطالب إدراكها وأخذها وفهمها.

4 - إن القواعد الكلية تسهل على رجال التشريع غير المختصين بالشريعة فرصة الاطلاع على الفقه بروحه ومضمونه وأسسه وأهدافه، وتقدم العون لهم لاستمداد الأحكام منه، ومراعاة الحقوق والواجبات فيه، وهذا ما حققته القواعد الفقهية في مجلة الأحكام العدلية، والتي انتقلت إلى العديد من القوانين المعاصرة.

5 - تكوِّن القواعد الكلية عند الطالب ملكة فقهية تنير أمامه الطريق لدراسة

أبواب الفقه الواسع، ومعرفة الأحكام الشرعية في المسائل المعروضة عليه، واستنباط الحلول للوقائع المتجددة، والمشأكل المتكررة، والحوادث الجديدة.

6 - تساعد القواعد الكلية في إدراك مقاصد الشريعة، وأهدافها العامة؛ لأن مضمون القواعد الفقهية يعطي تصوراً واضحاً عن المقاصد والغايات، مثل "المشقة تجلب التيْسير"، أو "الرخص لا تناط بالمعاصي "، أو "تصرف الإمام على الرعية منوط بالمصلحة"، وغير ذلك من الفوائد والمنافع الي تحصل من دراسة القواعد الفقهية.
সহজ যা তার বিষয়বস্তুকে স্পষ্ট করে দেয়; আর যখন কোনো ফকিহ বা আইনবিদের সামনে কোনো শাখা-বিষয় বা মাসআলা উল্লেখ করা হয়, তখন তিনি সেই মূলনীতিটি স্মরণ করেন। যেমন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না", অথবা "ক্ষতি দূর করতে হবে", অথবা "সাধারণ ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য ব্যক্তিগত ক্ষতি সহ্য করা হবে", অথবা "সাধারণ কর্তৃত্বের চেয়ে বিশেষ কর্তৃত্ব অধিক শক্তিশালী"।

৩ - আংশিক বা খুঁটিনাটি বিধানসমূহের বাহ্যিক রূপ অনেক সময় পরস্পরবিরোধী হতে পারে এবং তাদের কারণগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য প্রতীয়মান হতে পারে। এর ফলে ছাত্র ও গবেষক বিভ্রান্তি ও সংমিশ্রণে পতিত হয় এবং বিষয়গুলো তার কাছে অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, যতক্ষণ না সে সত্য উদ্ঘাটনে প্রচেষ্টা ও অনুসন্ধান চালায়।

পক্ষান্তরে ফিকহি মূলনীতি মাসআলাগুলোকে সুশৃঙ্খল করে, সদৃশ বিধানগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, শাখা-প্রশাখাগুলোকে তাদের মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে দেয় এবং ছাত্রের জন্য সেগুলো উপলব্ধি করা, আয়ত্ত করা ও বোঝা সহজ করে দেয়।

৪ - সামষ্টিক মূলনীতিসমূহ শরিয়ত বিশেষজ্ঞ নন এমন আইনপ্রণেতাদের জন্য ফিকহের প্রাণসত্তা, বিষয়বস্তু, ভিত্তি এবং লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ সহজ করে দেয়। এটি তাদের জন্য ফিকহ থেকে বিধান আহরণ করতে এবং এতে অধিকার ও কর্তব্যের প্রতি লক্ষ্য রাখতে সহায়তা প্রদান করে। 'মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়াহ'-তে ফিকহি মূলনীতিসমূহ এই লক্ষ্যই অর্জন করেছে, যা পরবর্তীতে অনেক সমসাময়িক আইনে স্থানান্তরিত হয়েছে।

৫ - সামষ্টিক মূলনীতিসমূহ ছাত্রের মধ্যে এমন এক ফিকহি দক্ষতা তৈরি করে, যা তার সামনে ফিকহের বিশাল অধ্যায়সমূহ অধ্যয়ন করার পথকে আলোকিত করে। এর মাধ্যমে সে তার সামনে উপস্থাপিত মাসআলাগুলোর শরয়ি বিধান জানতে পারে এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতি, পুনরাবৃত্তিমূলক সমস্যা ও নতুন ঘটনাবলির সমাধান উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়।

৬ - সামষ্টিক মূলনীতিসমূহ শরিয়তের মাকাসিদ বা সামগ্রিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে সাহায্য করে। কারণ ফিকহি মূলনীতিসমূহের বিষয়বস্তু লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা প্রদান করে। যেমন: "কষ্ট সহজীকরণকে টেনে আনে", অথবা "পাপের সাথে ছাড়ের সুযোগ যুক্ত হবে না", অথবা "জনগণের ওপর শাসকের কর্মতৎপরতা জনকল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত", এবং ফিকহি মূলনীতিসমূহ অধ্যয়ন থেকে অর্জিত অন্যান্য আরও অনেক উপকারিতা ও সুফল।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌سابعاً: مصادر القواعد الفقهية

إن القواعد الكلية في الفقه الإسلامي - بصيغتها الأخيرة - هي من وضع الفقهاء وصياغتهم وترتيبهم، وقد فعلوا ذلك على مر العصور، وحتى العصر الحاضر.

أما أصلها ونشأتها فمستقاة من ثلاثة مصادر، هي:

1 - القرآن الكريم

لقد جاء القرآن الكريم بمبادئ عامة، وقواعد كلية، وضوابط شرعية، في آياته ونصوصه، لتكون مناراً وهداية للعلماء في وضع التفاصيل التي تحقق أهداف الشريعة، وأغراضها العامة، وتتفق مع مصالح الناس، وتطور الأزمان، واختلاف الببئات.

وقد حققت هذه المبادئ العامة في القرآن الكريم هدفين أساسيين.

الأول: تأكيد الكمال في دين الله تعالى الذي ورد في قوله تعالى:.

(الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا) .

والثاني: بيان ميزة المرونة في التشريع الإسلامي لمسايرة جميع العصور والبيئات، ليبقى صالحاً للتطبيق في كل زمان ومكان.

وهذه المبادئ العامة في القرآن الكريم كانت مصدراً مباشراً للأئمة والفقهاء في صياغة القواعد الكلية في الفقه الإسلامي، وإرشادهم إلى المقاصد والغايات من الأحكام، والاستعانة بها لتشمل جميع الفروع التي تدخل تحتها، مثل قوله تعالى: (وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ) .

فالآية تصف المؤمنين بالتشاور في جميع الأمور، سواء كانت عائلية أو اجتماعية أو إدارية أو سياسية، وتركت كيفية التنفيذ

ووسائله بحسب الأحوال والأزمان، ومثل قوله تعالى:.

(وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ) .
সপ্তম: ফিকহী মূলনীতির উৎসসমূহ

ইসলামী ফিকহের সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ—তাদের বর্তমান বিন্যাসে—ফকীহগণের উদ্ভাবন, শব্দচয়ন এবং বিন্যাসের ফসল। তাঁরা যুগ যুগ ধরে এমনকি বর্তমান সময় পর্যন্ত এই কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন।

আর এগুলোর মূল ভিত্তি ও উৎপত্তি তিনটি উৎস থেকে গৃহীত, তা হলো:

১ - পবিত্র কুরআন

পবিত্র কুরআন তার আয়াত ও ভাষ্যের মাধ্যমে সাধারণ নীতিমালা, সামগ্রিক বিধান এবং শরয়ী মানদণ্ড উপস্থাপন করেছে, যাতে তা শরীয়তের উদ্দেশ্য ও এর সাধারণ লক্ষ্যসমূহ অর্জনে এবং মানুষের কল্যাণ, সময়ের বিবর্তন ও পরিবেশের ভিন্নতার সাথে সংগতি রেখে বিস্তারিত বিধিবিধান প্রণয়নে আলেমদের জন্য আলোকবর্তিকা ও দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।

পবিত্র কুরআনের এই সাধারণ নীতিমালাগুলো দুটি মৌলিক লক্ষ্য অর্জন করেছে।

প্রথম: আল্লাহর দ্বীনের পূর্ণতা নিশ্চিত করা, যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে:

(আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।)

দ্বিতীয়: ইসলামী শরীয়তের নমনীয়তার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করা, যাতে সকল যুগ ও পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলা যায় এবং এটি সব সময় ও সব স্থানে প্রয়োগযোগ্য থাকে।

পবিত্র কুরআনের এই সাধারণ নীতিমালাগুলো ছিল ইমাম ও ফকীহগণের জন্য ইসলামী ফিকহের সামগ্রিক মূলনীতি প্রণয়নে একটি প্রত্যক্ষ উৎস এবং বিধানসমূহের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের প্রতি তাদের পথপ্রদর্শক। এগুলো ফকীহগণকে সেই সব শাখাগত মাসআলাগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করেছে যা এর অধীনে পড়ে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (এবং তাদের কাজ তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।)

এই আয়াতে মুমিনদের সকল বিষয়ে পরামর্শ করার গুণ বর্ণনা করা হয়েছে, চাই তা পারিবারিক, সামাজিক, প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক হোক। আর এর বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও মাধ্যমগুলো পরিস্থিতি ও সময়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী:

(এবং নারীদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী তেমনি অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের ওপর দায়িত্ব রয়েছে। )
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
التي تحتبر قاعدة عامة لتحديد الحقوق والواجبات بين الزوجين.

ومثل قوله تعالى: (إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ) ، التي تقرر مبدأ التراضي في العقود والتصرفات، واحترام سلطان الإرادة.

وسترد أمثلة أخرى، كما سترى أن كثيراً من القواعد الفقهية ترجع في أصلها إلى آيات الذكر الحكيم.

2 - السنة النبوية

لقد أعطي رسول الله صلى الله عليه وسلم جوامع الكلم، واختصر له الكلام اختصاراً، وكان عليه الصلاة والسلام ينطق بالحكمة القصيرة التي تخرج مخرج المثل، وتكون قاعدة كلية.

ومبدأ عاماً، ينطوي على الأحكام الكثيرة، والمسائل المتعددة، والفروع المتكررة.

مثل قوله صلى الله عليه وسلم: " المسلمون على شروطهم ".

وقوله: "إنما الأعمال بالنيات ".

وقوله: (الدين النصيحة "، وقوله: " كل عمل ليس عليه أمرنا فهو رَدّ "، وقوله: " الخَرَاج بالضَّمَان، وقوله عليه الصلاة والسلام:

" الحلال بَيِّن والحرام بَيِّن ".
যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণের একটি সাধারণ মূলনীতি হিসেবে গণ্য হয়।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (যদি না তা তোমাদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ব্যবসা হয়), যা চুক্তি ও লেনদেনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মতির নীতি এবং ইচ্ছার স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা করে।

অচিরেই আরও উদাহরণ সামনে আসবে, ঠিক যেমনটি আপনি দেখতে পাবেন যে, অনেক ফিকহী মূলনীতির মূল উৎস হলো মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াতসমূহ।

২ - সুন্নাহ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা) দান করা হয়েছে এবং তাঁর জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি এমন সংক্ষিপ্ত ও হিকমতপূর্ণ কথা বলতেন যা প্রবাদের মতো উচ্চারিত হতো এবং একটি সামগ্রিক মূলনীতিতে পরিণত হতো।

এবং এটি এমন একটি সাধারণ মূলনীতি যা অসংখ্য বিধান, বহুবিধ মাসআলা এবং পুনরাবৃত্ত শাখা-প্রশাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

যেমন তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "মুসলিমরা তাদের চুক্তির শর্তাবলির ওপর অটল থাকবে।"

এবং তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই প্রতিটি কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।"

এবং তাঁর বাণী: "দীন হলো কল্যাণকামিতা", এবং তাঁর বাণী: "যে কাজ আমাদের নির্দেশ বা আদর্শ অনুযায়ী নয় তা প্রত্যাখ্যাত", এবং তাঁর বাণী: "আয় বা লভ্যাংশের অধিকার হবে দায়বদ্ধতার বিনিময়ে", এবং তাঁর আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বাণী:

"হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট।"
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وسترد أمثلة أخرى كثيرة، وسترى أن بعض القواعد الفقهية هي نص حديث

نبوي شريف، وأن كثيراً من القواعد الفقهية ترجع في أصلها واستنباطها إلى

الأحاديث الشريفة.

3 - الاجتهاد

وذلك باستنباط القواعد الكلية من الأصول الشرعية السابقة، ومن مبادئ اللغة العربية، ومسلمات المنطق، ومقتضيات العقول، وتجميع الفروع الفقهية المتشابهة في علة الاستنباط، فالعالم الفقيه يرجع إلى هذه المصادر، ويبذل جهده فيها، ويجمع بين الأحكام المتماثلة، والمسائل المتناظرة، ويستخرج قاعدة كلية منها، تشمل كل ما يدخل تحتها أو أغلبه، وكما فعل علماء الأصول في وضع القواعد الأصولية، سار الفقهاء في القواعد الفقهية.

مثل قاعدة "الأمور بمقاصدها" المأخوذة من مجموعة أحاديث في النية، أهمها

حديث "إنما الأعمال بالنيات "، ومثل قاعدة "الضرر يزال " المأخوذة من حديث " لا ضرر ولا ضرار"، ومثل قاعدة "المرء مؤاخذ بإقراره "

المأخوذة من قوله تعالى: (وَلْيُمْلِلِ الَّذِي عَلَيْهِ الْحَقُّ) .

ومثل قاعدة "السؤال معاد في الجواب " المأخوذة من مبادئ اللغة العربية، ومثل قاعدة "الأصل في الكلام الحقيقة "

المأخوذة من اللغة العربية، وقاعدة "التابع تابع " المأخوذة من مسلمات المنطق، ومثل قاعدة "إذا تعذر إعمال الكلام جهمل ".

وقاعدة "إذا زال المانع عاد الممنوع " المأخوذة من

لوازم التفكير ومبادئ العقل.

ثامناً: أنواع القواعد الفقهية

إن تعريف القاعدة السابقة يشمل جميع القواعد، ولكن القواعد الفقهية على
আরও অনেক উদাহরণ আসবে এবং আপনি দেখতে পাবেন যে কিছু ফিকহি মূলনীতি মূলত নবিজী (সা.)-এর পবিত্র হাদিসেরই

বক্তব্য এবং অনেক ফিকহি মূলনীতি এর মূল উৎস ও উদ্ভাবনের দিক থেকে

হাদিস শরিফের দিকেই ফিরে যায়।

৩ - ইজতিহাদ

আর তা হলো পূর্বোক্ত শরয়ি উৎসসমূহ, আরবি ভাষার মূলনীতিসমূহ, যুক্তিশাস্ত্রের স্বীকৃত বিষয়সমূহ এবং বিবেকের চাহিদাসমূহ থেকে সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ উদ্ভাবন করা এবং উদ্ভাবনের কার্যকারণে সদৃশ ফিকহি শাখাসমূহকে একত্রিত করা। ফলে আলেম ফকিহ এই উৎসসমূহের দিকে ফিরে যান, এতে তাঁর প্রচেষ্টা ব্যয় করেন এবং সমজাতীয় বিধান ও সদৃশ মাসআলাসমূহকে একত্রিত করেন। এরপর তিনি তা থেকে এমন একটি সামগ্রিক মূলনীতি বের করেন যা এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সব কিছুকে বা অধিকাংশকে শামিল করে। আর উসুল শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ যেভাবে উসুলি মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন করেছেন, ফকিহগণও ফিকহি মূলনীতির ক্ষেত্রে সেই পথেই চলেছেন।

যেমন: "কাজসমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল" মূলনীতিটি, যা নিয়ত সম্পর্কিত হাদিসগুচ্ছ থেকে গৃহীত, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো

"নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি। এবং যেমন "ক্ষতি দূর করতে হবে" মূলনীতিটি, যা "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না" হাদিস থেকে নেওয়া হয়েছে। এবং যেমন "ব্যক্তি তার স্বীকারোক্তির কারণে দায়ী হবে" মূলনীতিটি

যা আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর যার ওপর হক রয়েছে সে যেন তা লিখিয়ে দেয়) থেকে নেওয়া হয়েছে।

এবং যেমন "প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি উত্তরের মধ্যেই থাকে" মূলনীতিটি যা আরবি ভাষার মূলনীতিসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে। এবং যেমন "কথার মূল হলো তার প্রকৃত অর্থ" মূলনীতিটি

যা আরবি ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে। এবং "অনুসারী অনুগামী হয়েই থাকে" মূলনীতিটি যা যুক্তিশাস্ত্রের স্বীকৃত বিষয়সমূহ থেকে নেওয়া। এবং যেমন "যখন কোনো কথার ওপর আমল করা অসম্ভব হয়, তখন তা অর্থহীন হয়ে যায়" মূলনীতিটি।

এবং "যখন প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে যায়, তখন নিষিদ্ধ বিষয়টি ফিরে আসে" মূলনীতিটি যা

চিন্তার আবশ্যকতা ও বিবেকের মূলনীতিসমূহ থেকে নেওয়া হয়েছে।

অষ্টম: ফিকহি মূলনীতিসমূহের প্রকারভেদ

পূর্বোক্ত মূলনীতির সংজ্ঞাটি সকল মূলনীতিকেই অন্তর্ভুক্ত করে, তবে ফিকহি মূলনীতিসমূহ...
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
درجات في العموم والشمول، والاتفاق عليها بين المذاهب الفقهية عامة، أو

الاختلاف فيها بين المذاهب، ولكنها شاملة في المذهب الواحد، وبعضها قواعد مختلف فيها في المذهب الواحد، لذلك كانت القواعد الفقهية على أنواع هي:

1 - القواعد الفقهية الأساسية الكبرى، التي تدور معظم مسائل الفقه حولها، حتى رد بعض العلماء الفقه كله إليها، وهي متفق عليها بين جميع المذاهب، وهي:

أ - الأمور بمقاصدها.

ب - اليقين لا يزول بالشَّك.

جـ - المشقة تجلب التيسير.

د - الضرر يزال.

هـ - العادة مُحكمة (1) .

2 - القواعد الكلية: وهي قواعد كلية مُسَلَّم بها في المذاهب، ولكنها أقل فروعاً من القواعد الأساسية، وأقل شمولاً من القواعد السابقة، مثل قاعدة: "الخراج بالضمان "، وقاعدة "الضرر الأشد يُدفَعُ بالضرر الأخف ".

وكثير من هذه القواعد تدخل تحت القواعد الأساسية الخمس، أو تدخل تحت قاعدة أعم منها، ومعظمها نصت عليها مجلة الأحكام العدلية، وقد يدخل تحتها قواعد فرعية أيضاً، وأكثرها متفق عليها بين المذاهب.

3 - القواعد المذهبية: وهي قواعد كلية في بعض المذاهب دون بعض، وهي

قسمان، الأول: قواعد مقررة ومتفق عليها في المذهب، والثاني: قواعد مختلف فيها

--------------------------------------------

.

(1) نظم بعض الشافعية القواعد الخمس الأساسية في أبيات من الشعر، فقال:

خمس مقررة قواعدَ مذهب. . . للشافعي فكن بهن خبيرا

ضَرَرٌ يُزالُ وعادة قد حُكمت. . . وكذا المشقةُ تَجْلِبُ التيسيرا

والشكَ لا ترفع به مُتيقناً. . . والقصدَ أخلِص إنْ أردتَ أجورا
ব্যাপকতা ও অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। সাধারণত ফিকহি মাযহাবগুলোর মধ্যে এগুলোর ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে, অথবা

মাযহাবগুলোর মাঝে এ নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, কিন্তু তা একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের মধ্যে ব্যাপক। আবার এর কিছু এমন নিয়ম যা একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের মধ্যেই মতভেদপূর্ণ। তাই ফিকহি মূলনীতিগুলো কয়েক প্রকার, সেগুলো হলো:

১ - প্রধান মৌলিক ফিকহি মূলনীতিসমূহ: ফিকহের অধিকাংশ মাসআলা এই মূলনীতিগুলোকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। এমনকি কোনো কোনো আলেম সমগ্র ফিকহকে এই মূলনীতিগুলোর দিকেই ফিরিয়েছেন। এই মূলনীতিগুলোর ব্যাপারে সকল মাযহাবের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। সেগুলো হলো:

ক - বিষয়াবলি তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল।

খ - নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না।

গ - কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে।

ঘ - ক্ষতি দূরীভূত করতে হবে।

ঙ - প্রথা বা রীতি হলো মীমাংসাকারী (১)।

২ - সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ: এগুলো এমন সামগ্রিক মূলনীতি যা মাযহাবসমূহে স্বীকৃত, তবে এগুলোর শাখা-প্রশাখা মৌলিক মূলনীতিগুলোর তুলনায় কম এবং পূর্বোক্ত মূলনীতিগুলোর মতো এতটা ব্যাপক নয়। যেমন এই মূলনীতি: "আয়-উপার্জন ঝুঁকির বিনিময়ে", এবং এই মূলনীতি: "তীব্রতর ক্ষতিকে লঘুতর ক্ষতির মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়।"

এই মূলনীতিগুলোর অনেকগুলোই পাঁচটি মৌলিক মূলনীতির অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়, অথবা এগুলোর চেয়েও অধিকতর ব্যাপক কোনো মূলনীতির অধীনে আসে। এগুলোর অধিকাংশই 'মাজাল্লাতুল আহকাম আল-আদলিয়্যাহ'-তে বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর অধীনে উপ-মূলনীতিও থাকতে পারে। এগুলোর বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই মাযহাবগুলোর মাঝে ঐকমত্য রয়েছে।

৩ - মাযহাব-ভিত্তিক মূলনীতিসমূহ: এগুলো এমন সামগ্রিক মূলনীতি যা কোনো বিশেষ মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট, অন্যগুলোতে নয়। এগুলো দুই

প্রকার। প্রথমত: মাযহাবের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং সর্বসম্মত মূলনীতি। দ্বিতীয়ত: যেগুলোতে মতপার্থক্য রয়েছে

--------------------------------------------

.

(১) কতিপয় শাফেয়ি আলেম পাঁচটি মৌলিক মূলনীতিকে কবিতার ছন্দে গেঁথেছেন। তিনি বলেছেন:

শাফেয়ি মাযহাবের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি পাঁচটি। অতএব তুমি সে বিষয়ে অভিজ্ঞ হও।

ক্ষতি দূরীভূত হবে এবং প্রথা মীমাংসাকারী হবে। তেমনিভাবে কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করবে।

নিশ্চয়তাকে তুমি সন্দেহের দ্বারা তুলে দিও না। আর যদি সওয়াব চাও তবে নিয়তকে বিশুদ্ধ করো।
(খণ্ড: ১) আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ওয়া তাতবীকাতুহা ফিল মাযাহিবিল আরবাআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
في المذهب الواحد، مثل قاعدة "العبرة في العقود للمقاصد والمعاني، لا للألفاظ والمباني " فإنها أغلبية في المذهب الحنفي والمالكي، ولكنها قليلة التطبيق في المذهب الشافعي، وقاعدة " من استعجل الشيء قبل أوانه عُوقب بحرمانه " فهي كثيرة التطبيق في المذهب الحنفي والمالكي والحنبلي، نادرة التطبيق عند الشافعية.

ومثل قاعدة " الزُخص لا تُنَاط بالمعاصي " فإنها شائعة عند الشافعية والحنابلة، دون الحنفية، وفيها تفصيل عند المالكية.

4 - القواعد المختلف فيها في المذهب الواحد، فتطبق في بعض الفروع دون بعض، وهي مختلف فيها في فروع المذهب الواحد.

مثل: قاعدة "هل العبرة بالحال أو بالمآل "؟!

فهي قاعدة مختلف فيها في المذهب الشافعي، ولها أمثلة كثيرة، ولذلك تبدأ

غالباً بكلمة " هل؛ "، وقاعدة "هل النظر إلى المقصود أو إلى الموجود "؟!

عند المالكية، وقاعدة "القسمة، هل هي إفراز، أم بيع؛ "

عند الشافعية والحنابلة.

وقد راعى العلماء هذا التنويع للقواعد في تقسيم الدراسة.

وتصنيف القواعد.

وسوف يكون هو المعيار الأساسي في تقسيم القواعد التي سندرسها إن شاء الله تعالى.

تاسعاً: مؤلفات القواعد الفقهية

بدأت صياغة القواعد الفقهية في عصر متقدم، وذلك منذ القرن الثاني الهجري، ولكنها لم تُفرد في التأليف والتصنيف والتدوين بشكل مستقل إلا بعد قرنين تقريباً.

وكانت المذاهب الفقهية قد نضجت وتبلورت، فأخذ تأليف القواعد طابع

المذاهب الفقهية، واتجه علماء كل مذهب لكتابة القواعد في مذهبه، ولكن جاءت صياغة القواعد غالباً عامة وواحدة ومشتركة بين المذاهب، وتختلف الفروع التي تدخل تحتها.
একই মাযহাবের মধ্যে, যেমন একটি নীতিমালা হলো: "চুক্তির ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও অর্থের মূল্যায়ন করা হয়, শব্দ ও কাঠামোর নয়।" এটি হানাফি ও মালিকি মাযহাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তবে শাফেয়ী মাযহাবে এর প্রয়োগ কম। আবার "যে ব্যক্তি কোনো জিনিস সময়ের আগে পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করে, তাকে সেটি থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়" - এই নীতিটি হানাফি, মালিকি ও হাম্বলি মাযহাবে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তবে শাফেয়ীদের নিকট এর প্রয়োগ বিরল।

অনুরূপভাবে "গোনাহের কাজে কোনো ছাড় (রুখসত) যুক্ত হয় না" - এই নীতিটি শাফেয়ী ও হাম্বলিদের নিকট প্রসিদ্ধ হলেও হানাফিদের নিকট তেমন নয়, আর মালিকি মাযহাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

৪ - একই মাযহাবের ভেতরে মতভেদপূর্ণ নীতিসমূহ, যা কিছু শাখাগত মাসআলায় প্রয়োগ করা হয় আবার কিছু ক্ষেত্রে করা হয় না; এবং একই মাযহাবের বিভিন্ন শাখাগত মাসআলায় এগুলো নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

যেমন: "মূল্যায়ন কি বর্তমান অবস্থার ভিত্তিতে হবে নাকি পরিণতির ভিত্তিতে?" - এই নীতিমালাটি।

এটি শাফেয়ী মাযহাবের একটি মতভেদপূর্ণ নীতিমালা এবং এর অনেক উদাহরণ রয়েছে। এ কারণেই এই নীতিগুলো

সাধারণত "কি" শব্দ দিয়ে শুরু হয়। যেমন: মালিকি মাযহাবের একটি নীতি হলো "দৃষ্টি কি উদ্দেশ্যের দিকে হবে নাকি বিদ্যমান বিষয়ের দিকে?"

আবার শাফেয়ী ও হাম্বলিদের নিকট একটি নীতি হলো "বণ্টন কি নিছক অংশ পৃথকীকরণ নাকি এটি একটি বিক্রয়?"

আলেমগণ অধ্যয়ন বিভাজনে এবং ফিকহী নীতিমালার শ্রেণিবিভাগে এই বৈচিত্র্য বজায় রেখেছেন।

এবং নীতিমালার শ্রেণিবিভাগ করেছেন।

আর এটিই হবে আমাদের পঠিতব্য নীতিমালার বিভাজনের মূল মানদণ্ড, ইনশাআল্লাহ তাআলা।

নবম: ফিকহী নীতিমালার গ্রন্থসমূহ

ফিকহী নীতিমালার সংকলন শুরু হয়েছে প্রাচীন যুগে, হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দী থেকেই। তবে স্বতন্ত্রভাবে কিতাব আকারে এটি সংকলিত ও লিপিবদ্ধ হওয়া শুরু হয়েছে এর প্রায় দুই শতাব্দী পর।

ততদিনে ফিকহী মাযহাবগুলো পূর্ণতা ও নির্দিষ্ট রূপ লাভ করেছিল, ফলে নীতিমালার সংকলনগুলো মাযহাবী রূপ পরিগ্রহ করে। প্রত্যেক মাযহাবের আলেমগণ নিজ নিজ মাযহাবের নীতিমালা রচনায় মনোনিবেশ করেন। তবে নীতিমালার শব্দচয়ন বা গঠন সাধারণত সব মাযহাবের ক্ষেত্রেই অভিন্ন ও সাধারণ হয়ে থাকে, কেবল এর অধীনে আসা শাখাগত মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।