(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: -)
بين الرشاد والتيه القسم: كتب عامة
الكتاب: بين الرشاد والتيه
المؤلف: مالك بن الحاج عمر بن الخضر بن نبي (ت 1393هـ)
المحقق: (إشراف ندوة مالك بن نبي)
الناشر: دار الفكر - دمشق سورية
الطبعة: الأولى، 1978م
عدد الصفحات: 215
أعده للشاملة: أبو ياسر الجزائري
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সঠিক পথ ও বিভ্রান্তির মাঝে বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: সঠিক পথ ও বিভ্রান্তির মাঝে
লেখক: মালিক বিন আল-হাজ উমর বিন আল-খিদির বিন নবী (মৃত্যু: ১৩৯৩ হিজরি)
তাহকিক (সম্পাদনা): (মালিক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে)
প্রকাশক: দার আল-ফিকর - দামেস্ক, সিরিয়া
সংস্করণ: প্রথম، ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৫
শামেলা সংস্করণের জন্য প্রস্তুতকারী: আবু ইয়াসির আল-জাজায়েরি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
***************
بين الرشاد والتيه
دار الفكر المعاصر- بيروت لبنان
دار الفكر-دمشق سورية
মালেক বিন নবী
সভ্যতার সমস্যাবলি
***************
সুপথ ও বিভ্রান্তির সন্ধিক্ষণে
দারুল ফিকর আল-মুআসির - বৈরুত, লেবানন
দারুল ফিকর - দামেস্ক, সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
بين الرشاد والتيه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সঠিক পথ ও বিভ্রান্তির মাঝে
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
مالك بن نبي
مشكلات الحضارة
بين الرشاد والتيه
بإشراف ندوة مالك بن نبي
دار الفكر
دمشق-سورية
মালিক বিন নবী
সভ্যতার সমস্যাবলি
সঠিক পথ ও বিভ্রান্তির মাঝে
মালিক বিন নবী সেমিনারের তত্ত্বাবধানে
দারুল ফিকর
দামেস্ক-সিরিয়া
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
جميع الحقوق محفوظة
1426هـ - 2002م
ط1: 1978م.
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১৪২৬ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
১ম সংস্করণ: ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
في عام 1971م ترك أستاذنا مالك بن نبي- رحمه الله في المحكمة الشرعية في طرابلس لبنان، وصية سجلت تحت رقم 275/ 67 في 16 ربيع الثاني 1391هـ الموافق 10 حزيران (يونيو) 1971م، وقد حملني فيها مسؤولية كتبه المعنوية والمادية.
وتحملا مني لهذه الرسالة، ووفاء لندوات سقتنا على ظمأ صافي الرؤية، رأيت تسمية ما يصدر تنفيذا لوصية المؤلف (ندوة مالك بن نبي).
والتسمية هذه، دعوة إلى أصدقاء مالك بن نبي وقارئيه، ليواصلوا نهجا في دراسة المشكلات، كان قد بدأه.
وهي مشروع نطرحه بوصفه نواة لعلاقات فكرية، كان رحمه الله يرغب في توثيقها.
وإنني لأرجو من أصدقاء مالك وقارئيه، مساعدتنا على حفظ حقوق المؤلف في كل ما ينشر بالعربية أو الفرنسية مترجما من قبل المترجمين أو غير مترجم. فقد حمّلني- رحمه الله مسؤولية حفظ هذه الحقوق، والإذن بنشر كتبه. فإن وجدت طبعات لم تذكر فيه إشارة إلى إذن صادر من قبلنا، فهذه طبعات غير مشروعة، ونرجو إبلاغنا عنها.
طرابلس لبنان 18 ربيع الأول 1399هـ
15 شباط (فبراير) 1979م
عمر مسقاوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে আমাদের উস্তাদ মালিক বিন নবী—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—লেবাননের ত্রিপোলির শরীয়াহ আদালতে একটি অসিয়তনামা রেখে গিয়েছিলেন, যা ১৬ই রবিউস সানি ১৩৯১ হিজরি মোতাবেক ১০ই জুন ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ২৭৫/৬৭ নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছিল। এতে তিনি আমাকে তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির নৈতিক ও বৈষয়িক দায়ভার অর্পণ করেছেন।
এই মহান দায়িত্ব পালনার্থে এবং স্বচ্ছ অন্তর্দৃষ্টির তৃষ্ণায় আমাদের সিক্তকারী জ্ঞানতাত্ত্বিক আসরগুলোর প্রতি আনুগত্যের নিদর্শন স্বরূপ, লেখকের অসিয়তনামা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যা কিছু প্রকাশিত হবে তার নাম ‘মালিক বিন নবী মজলিস’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এই নামকরণ মূলত মালিক বিন নবীর বন্ধু ও পাঠকদের প্রতি একটি আহ্বান, যাতে তাঁরা তাঁর সূচিত সমস্যাবলি পর্যালোচনার পদ্ধতিকে অব্যাহত রাখেন।
এটি একটি প্রকল্প যা আমরা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উপস্থাপন করছি, যা তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—সুদৃঢ় করতে চেয়েছিলেন।
আমি মালিকের সুহৃদ ও পাঠকদের নিকট অনুরোধ করছি, আরবি বা ফরাসি ভাষায় অনুবাদক কর্তৃক অনূদিত বা মূল আকারে প্রকাশিত তাঁর সকল রচনার ক্ষেত্রে লেখকের স্বত্ব সংরক্ষণে আমাদের সহযোগিতা করুন। কেননা তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—আমাকে এই স্বত্ব সংরক্ষণ এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ প্রকাশের অনুমতির দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। যদি এমন কোনো সংস্করণ পাওয়া যায় যেখানে আমাদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত অনুমতির কোনো উল্লেখ নেই, তবে সেগুলো অবৈধ সংস্করণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এ বিষয়ে আমাদের অবহিত করার জন্য অনুরোধ করছি।
ত্রিপোলি, লেবানন ১৮ই রবিউল আউয়াল ১৩৯৯ হিজরি
১৫ই ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ
ওমর মেসকাবি
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديمبين الرشاد والتيه
كتاب ضم مقالات كتبها الأستاذ مالك بن نبي بالفرنسية، ونشر معظمها في جريدة ((الثورة الإفريقية La revolution Africain)) إثر عودته إلى الجزائر بعد الاستقلال في الستينات.
وقد جمعها رحمه الله في صيف عام 1972م، وترجمها إلى العربية، ثم بوبها وحدد فصولها، واختتمها بكلمة عن الصراع الفكري.
وقد سلمني أصول هذا الكتاب إثر الفراغ منه، فلما قرأته وجدت من المناسب مراجعة النص بما يحافظ على أسلوب الأستاذ مالك، ويزيل إبهام بعض العبارات، وهكذا أصبح الكتاب جاهزا للتداول بين أيدي القراء، في مرحلة من مسيرة الأمة العربية تداعت عليها الأمم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها.
فالمقالات هذه تعكس أحداث الستينات في الجزائر كما في العالم العربي والإسلامي. وهي أيضا تطرح مشاكل العالم الثالث بعد الاستقلال السياسي، فتسلط عليها أضواء كاشفة تبرز أبعادها وتنير طريق الكفاح، من أجل القضاء على هذه المشاكل.
ففي الستينات، كانت في الجزائر مهمات البناء الجديد للدولة، في الإطار السياسي والإداري والاقتصادي، وكان الأستاذ مالك يواجه بفكره هذه المهمات،
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
উপস্থাপনাসুপথ ও বিভ্রান্তির মাঝে
এটি এমন একটি গ্রন্থ যা উস্তাদ মালিক বিন নবীর ফরাসি ভাষায় রচিত প্রবন্ধগুলোকে সংকলিত করেছে। এর অধিকাংশ প্রবন্ধ ষাটের দশকে স্বাধীনতার পর আলজেরিয়ায় তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর ‘রেভোল্যুশন আফ্রিকেন’ (La revolution Africain) সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছিল।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ১৯৭২ সালের গ্রীষ্মকালে এগুলো সংগ্রহ করেন এবং আরবিতে অনুবাদ করেন। অতঃপর তিনি এগুলোকে অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেন, পরিচ্ছেদসমূহ নির্ধারণ করেন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই সংক্রান্ত একটি আলোচনার মাধ্যমে বইটির সমাপ্তি টানেন।
বইটির কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর তিনি এর মূল পাণ্ডুলিপিগুলো আমার কাছে হস্তান্তর করেন। আমি যখন এটি পাঠ করলাম, তখন উস্তাদ মালিকের বিশেষ রচনাশৈলী অক্ষুণ্ণ রেখে এবং কিছু বাক্যের অস্পষ্টতা দূর করে মূল পাঠটি পরিমার্জন করা সমীচীন মনে করলাম। এভাবেই বইটি পাঠকদের মাঝে প্রচারের জন্য প্রস্তুত হয়; এটি আরব উম্মাহর অগ্রযাত্রার এমন এক সন্ধিক্ষণে সম্পন্ন হয় যখন বিভিন্ন জাতিসমূহ তাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল, যেভাবে আহারকারীরা আহারের পাত্রের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এই প্রবন্ধসমূহ আলজেরিয়ার পাশাপাশি আরব ও মুসলিম বিশ্বের ষাটের দশকের ঘটনাবলিকে প্রতিফলিত করে। এছাড়াও এটি রাজনৈতিক স্বাধীনতা-পরবর্তী তৃতীয় বিশ্বের সমস্যাগুলো তুলে ধরে এবং সেগুলোর ওপর এমন সন্ধানী আলোকপাত করে যা এই সমস্যাগুলোর গভীরতা ও মাত্রা স্পষ্ট করে এবং তা নির্মূল করার সংগ্রামের পথকে আলোকিত করে।
ষাট দশকে আলজেরিয়ায় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর অধীনে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের বিভিন্ন নতুন নতুন দায়িত্ব বিদ্যমান ছিল এবং উস্তাদ মালিক তাঁর চিন্তাধারার মাধ্যমে এই দায়িত্বগুলোর মোকাবিলা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
يرصد الأحداث اليومية والمبادرات المستقبلية. ثم يخرج على الناس بمقالات، تحدد مفاهيم العمل ومقاييسه الثابتة، حتى لا تضل في المفاهيم الغربية المستوردة، أو تتيه في زحمة التضليل المتداول في سوق الصراع الفكري.
وفي هذا الإطار كان الأستاذ مالك يتخذ من مواقف الأمس والحاضر أدلة للتوضيح والمناقشة.
فإذا تحدث عن الثورة في العصر الحديث، اتخذ من الثورات المعاصرة نماذج وأمثالا: الصين وكوبا وما أكثر ما ضجت بأحداثهما الستينات، وما أكثر ما خرج حولهما من تعليق. وما أكثر ما ربط الناس بين التطور والماركسية في تلك المرحلة، وما أكثر ما تحدث زعماء العالم الثالث عن الاشتراكية والتقدمية بوصفهما خطة في معركة البناء والتحرر:
كان حتما على رجل المنهج أن يستخرج الضوابط لهذه التطورات؛ فيطرح ما علق فيها من أوهام ترتبط بالبنية الفكرية للإنسان المتخلف في العالم الإسلامي والعالم الثالث على العموم، ويأخذ الذي يثري مبادرات التغيير والتطور بتجربة فتية راهنة.
لذا استشهد الأستاذ مالك بكثير من المبادرات التي حفل بها العالم الحديث؛ فكانت اليابان مثلا لنهضة استقامت على سنة التاريخ، فأعطت وأثمرت منذ العصر الميجي في منتصف القرن الماضي، وكان الحديث عنها شاهدا على عقم ما اتبعت النهضة الإسلامية الحديثة من سبل فتفرقت بها عن سبيل الأصالة والسنن التي أودعها الله الحياة.
وكانت الصين، ومن قبلها الإتحاد السوفيتي، ومن بعدها كوبا، أمما أمثالنا؛ وقد واجهت أفكار هذه الأمم وقياداتها مشاكلها بتجربة واعية مدركة، فسارعت إلى مكانها في الإسهام في مصير العصر الحديث، في الإطار السياسي
তিনি দৈনন্দিন ঘটনাবলি এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোগসমূহ পর্যবেক্ষণ করেন। অতঃপর তিনি জনসাধারণের সামনে এমন সব প্রবন্ধ নিয়ে উপস্থিত হন, যা কর্মের ধারণা ও তার সুদৃঢ় মানদণ্ডগুলো নির্ধারণ করে দেয়; যাতে তারা আমদানিকৃত পশ্চিমা ধারণাসমূহে বিভ্রান্ত না হয় অথবা বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রামের বাজারে প্রচলিত বিভ্রান্তির ভিড়ে হারিয়ে না যায়।
এই প্রেক্ষাপটে উস্তাদ মালিক অতীত ও বর্তমানের অবস্থানগুলোকে ব্যাখ্যা ও আলোচনার প্রমাণ (أدلة) হিসেবে গ্রহণ করতেন।
যখন তিনি আধুনিক যুগের বিপ্লব নিয়ে আলোচনা করতেন, তখন তিনি সমসাময়িক বিপ্লবগুলোকে আদর্শ ও উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করতেন: যেমন চীন ও কিউবা; ষাটের দশক যাদের ঘটনাবলি দ্বারা কতটা আলোড়িত হয়েছিল এবং যাদের নিয়ে কত বিপুলসংখ্যক মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল! সেই পর্যায়ে মানুষ উন্নয়ন ও মার্কসবাদের মধ্যে কতটা নিবিড় যোগসূত্র কল্পনা করেছিল এবং তৃতীয় বিশ্বের নেতৃবৃন্দ গঠন ও মুক্তির লড়াইয়ে সমাজতন্ত্র ও প্রগতিশীলতাকে কর্মপরিকল্পনা হিসেবে অভিহিত করে কতই না আলোচনা করেছিলেন!
পদ্ধতিবিদ্যার (منهج) অনুসারী একজন ব্যক্তির জন্য এই উন্নয়নগুলোর নীতিমালা (ضوابط) নিরূপণ করা অপরিহার্য ছিল; যাতে তিনি ইসলামি বিশ্ব ও সামগ্রিকভাবে তৃতীয় বিশ্বের অনগ্রসর মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোর সাথে সংলগ্ন অমূলক ধারণাগুলো পরিহার করতে পারেন এবং সমকালীন এক নবীন অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবর্তন ও উন্নয়নের উদ্যোগগুলোকে সমৃদ্ধ করতে পারেন।
এ কারণে উস্তাদ মালিক আধুনিক বিশ্বের বহু উদ্যোগের উদাহরণ দিয়েছেন; এক্ষেত্রে জাপান ছিল ইতিহাসের সুন্নাহর (سنة) ওপর প্রতিষ্ঠিত এক জাগরণের দৃষ্টান্ত, যা গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মেইজি যুগ থেকে ফলপ্রসূ হতে শুরু করেছিল। জাপানের এই আলোচনাটি আধুনিক ইসলামি জাগরণ যে নিষ্ফল পথগুলো অনুসরণ করেছিল তার প্রমাণস্বরূপ ছিল, যার ফলে তারা মৌলিকত্ব এবং আল্লাহ কর্তৃক জীবনে নির্ধারিত সুন্নাহ (سنن) থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছিল।
চীন, তার পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে কিউবা ছিল আমাদের মতোই জাতি; এই জাতিগুলোর চিন্তাধারা ও নেতৃত্ব তাদের সমস্যাগুলোকে এক সচেতন ও গভীর উপলব্ধিপূর্ণ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মোকাবিলা করেছিল। ফলে তারা রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে থেকে আধুনিক যুগের ভাগ্য নির্ধারণে তাদের অবদানের জায়গায় দ্রুত আসীন হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
والاقتصادي، فكان لابد إذن من مثل يؤخذ من هذه التجربة، ومثل يؤخذ من تلك التجربة، على الرغم من التباين المذهبي والسياسي بين التجربتين كلتيهما.
فحين يتحدث الأستاذ مالك عن اليابان حينا، وعن الصين أحيانا، على الرغم من أن الأولى ذات نظام رأسمالي والثانية ذات نظام شيوعي؛ فلكي يزيل عن أذهان العالم الثالث، ما قد فرضته معطيات الحياة المعاصرة، من حتمية الاختيار بين أي من النظامين في مواجهة ضرورات المستقبل.
فالأستاذ مالك يهتم بتوضيح الضوابط الفنية للحركة الاجتماعية، التي تتكون في بنائها ثقافة كل مجتمع، ويتكون في إطار هذه الثقافة حضارة توفر الشروط والضمانات الضرورية لأفراد ذلك المجتمع.
وهو في كل ما حدد من ضوابط في هذه المقالات في الإطار الثوري أو السياسي أو الاقتصادي، إنما يثري الفكر الإسلامي برؤية جديدة، يتعامل من خلالها مع القيم التاريخية والأصالة التي أودعها الإسلام ضمير العالم الإسلامي عبر العصور.
فالأستاذ مالك، يدعو إلى بعث هذه القيم في إطار ثورية حقيقية، ترتكز في أساسها على ما ارتكزت عليه الثورة الإسلامية في عهد النبوة، لذا يربط الأستاذ مالك بين معطيات السنن الإلهية في تطوير المجتمعات وتغييرها، وبين نجاحها الفعلي في كل أمة اتخذت طريق هذه السنن في مواجهة مستقبلها، مهما كان اتجاهها الفكري والمذهبي.
هذا الربط، إنما هو تأكيد للقاعدة التي هي سنة الله لا تبديل لها. فالله {لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُوا مَا بِأَنْفُسِهِمْ} [الرعد: 11/ 13]. وتغيير ما بالنفس إنما هو تغيير ما بالفكر من رؤية للأمور، وما بالروح من رتابة وجمود.
لذا بدا صوت الأستاذ مالك في هذه المقالات، عاليا وأحيانا منفعلا، وهو
...এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্র; ফলে এই অভিজ্ঞতা থেকে যেমন দৃষ্টান্ত গ্রহণ করা জরুরি ছিল, তেমনি ওই অভিজ্ঞতা থেকেও দৃষ্টান্ত নেওয়া আবশ্যক ছিল, যদিও উভয় অভিজ্ঞতার মাঝে আদর্শিক ও রাজনৈতিক ভিন্নতা বিদ্যমান।
অধ্যাপক মালিক যখন কখনো জাপান আবার কখনো চীন সম্পর্কে আলোচনা করেন—যদিও প্রথমটি পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অনুসারী এবং দ্বিতীয়টি সাম্যবাদী ব্যবস্থার—তখন তিনি মূলত তৃতীয় বিশ্বের মনস্তত্ত্ব থেকে সমকালীন জীবন-বাস্তবতার আরোপিত সেই অনিবার্যতার ধারণা দূর করতে চান, যা ভবিষ্যতের প্রয়োজনে এই দুই ব্যবস্থার যেকোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করে।
অধ্যাপক মালিক সামাজিক আন্দোলনের কারিগরি নিয়মাবলী (الضوابط الفنية) স্পষ্টীকরণে গুরুত্বারোপ করেছেন, যার কাঠামোর ওপর প্রতিটি সমাজের সংস্কৃতি নির্মিত হয় এবং এই সংস্কৃতির বলয়ে এমন এক সভ্যতা গড়ে ওঠে যা সেই সমাজের ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
এই প্রবন্ধগুলোতে বৈপ্লবিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি যেসব নিয়মাবলী (ضوابط) নির্ধারণ করেছেন, তার মাধ্যমে তিনি মূলত ইসলামি চিন্তাধারাকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ করেছেন; যার মাধ্যমে তিনি সেই ঐতিহাসিক মূল্যবোধ ও মৌলিকত্বের (الأصالة) সাথে সমন্বয় সাধন করেন যা ইসলাম যুগে যুগে মুসলিম বিশ্বের অন্তরে গচ্ছিত রেখেছে।
অধ্যাপক মালিক এই মূল্যবোধগুলোকে একটি প্রকৃত বৈপ্লবিক কাঠামোর মাঝে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানান, যা মূলত নবুওয়াতের যুগের ইসলামি বিপ্লবের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই অধ্যাপক মালিক সমাজ উন্নয়ন ও পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ঐশী বিধানের (السنن الإلهية) কার্যকারিতা এবং সেই সব জাতির বাস্তব সাফল্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন, যারা তাদের ভবিষ্যৎ মোকাবিলায় এই বিধানের (السنن) পথ অনুসরণ করেছে, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিক অবস্থান যাই হোক না কেন।
এই সমন্বয় মূলত সেই মূলনীতিরই জোরালো সমর্থন যা আল্লাহর অপরিবর্তনীয় বিধান (سنة الله)। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে} [আর-রাদ: ১১/১৩]। আর অন্তরের পরিবর্তন বলতে মূলত চিন্তার পরিবর্তন ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং আত্মার স্থবিরতা ও জড়তার অবসানকে বোঝায়।
তাই এই প্রবন্ধগুলোতে অধ্যাপক মালিকের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত এবং কখনো কখনো আবেগপ্রবণ মনে হয়েছে, এবং তিনি...
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
يرى غفلة الأبصار عن حقيقة الهزيمة في حرب 1967م في فلسطين. وهكذا ضاع ما كان لهذه الصدمة من أمل في بعث الرؤية الجديدة لمستقبل الأمة العربية، وضاع في إثرها كل عمل جاد في تجميع الثروة الاقتصادية والبترولية للعالم العربي، وتحويلها إلى قيمة اقتصادية عالمية ذات بعد سياسي واقتصادي معا.
لذا أهتم مالك بن نبي في الفصل الأخير، باقتصاد العالم الإسلامي والعالم الثالث على العموم، فوضع لهذا الاقتصاد قواعد التنمية الحقيقية التي ترتبط بالجهد الاجتماعي في أساسها.
هذه المقالات تضعنا أمام حقيقة واضحة، حقيقة ترقب حركات التاريخ المعاصر بنظرة موضوعية لا عقدة فيها ولا كراهية؛ نظرة لا تخاف الماركسية ولا الرأسمالية إنما هي تفصل بين واقعها التاريخي وتجربتها الاجتماعية. وهي تأخذ من هذه التجربة بمقدار ما يوضح القاعدة الأساسية التي هي من سنن الله، أما النماذج التي انتهت إليها تلك التجارب، فهي تحظى من الأستاذ مالك باحترام الجهد الإنساني المتعاون، لكنها أبعد ما تكون علاجا لحالة اجتماعية نحاول الخروج من مأزقها.
فالأستاذ مالك يدعو العالم الإسلامي والدول الإسلامية، إلى تجربة تستمد معطياتها من واقع المشكلة، بعد تحليل عناصرها، دون التأثر بالمفاهيم التي زرعتها الحضارة المعاصرة في أفكارنا، وأسدلت ستارها على أبصارنا.
وهو لذلك يدعو في هذه المقالات، إلى علم اجتماع مستقل يختص بمشكلات العالم الثالث بعد الاستقلال السياسي، ويختط لمستقبله الاجتماعي والاقتصادي، خطة تنمية لا يثقلها اطراد نمو العصر الصناعي في الحضارة المعاصرة، وما أفرز هذا الاطراد من مفاهيم ماركسية ومشكلات رأسمالية.
طرابلس- لبنان- 30 شعبان 1398هـ
4 آب (أغسطس) 1978م
عمر مسقاوي
তিনি ১৯৬৭ সালে ফিলিস্তিনে যুদ্ধের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে দৃষ্টির অসতর্কতা লক্ষ্য করেন। এভাবে এই আঘাতের মাধ্যমে আরব জাতির ভবিষ্যতের জন্য যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গির পুনর্জাগরণের আশা ছিল, তা হারিয়ে গেছে। এর ফলে আরব বিশ্বের অর্থনৈতিক ও পেট্রোলিয়াম সম্পদ একত্রিত করার এবং সেগুলোকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মাত্রার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মূল্যে রূপান্তর করার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
তাই মালেক বিন নবী শেষ অধ্যায়ে সাধারণভাবে মুসলিম বিশ্ব এবং তৃতীয় বিশ্বের অর্থনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি এই অর্থনীতির জন্য প্রকৃত উন্নয়নের এমন কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন যা মূলত সামাজিক প্রচেষ্টার সাথে সম্পৃক্ত।
এই প্রবন্ধগুলো আমাদের সামনে এক স্পষ্ট বাস্তবতা তুলে ধরে; এমন এক বাস্তবতা যা সমসাময়িক ইতিহাসের গতিধারাকে এক বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করে, যেখানে কোনো হীনম্মন্যতা বা বিদ্বেষ নেই। এটি এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি যা মার্ক্সবাদ বা পুঁজিবাদকে ভয় পায় না, বরং তাদের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং সামাজিক অভিজ্ঞতার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করে। এটি এই অভিজ্ঞতা থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করে যা আল্লাহর বিধান (سنن الله) সমূহের অন্তর্ভুক্ত মৌলিক ভিত্তিটিকে স্পষ্ট করে। আর ঐসব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে যে মডেলগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে উস্তাদ মালেক মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সম্মান করেন, কিন্তু আমরা যে সামাজিক সংকট থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছি, তার সমাধানের ক্ষেত্রে সেগুলো সমাধানের পথ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।
উস্তাদ মালেক মুসলিম বিশ্ব ও মুসলিম রাষ্ট্রসমূহকে এমন এক অভিজ্ঞতার আহ্বান জানান যা সমস্যার উপাদানসমূহ বিশ্লেষণের পর তার বাস্তব সমাধান থেকে উপাত্ত গ্রহণ করবে। এক্ষেত্রে তিনি সমকালীন সভ্যতা আমাদের চিন্তায় যে ধারণাগুলো রোপণ করেছে এবং আমাদের দৃষ্টিতে যে পর্দা ফেলে দিয়েছে, তার দ্বারা প্রভাবিত না হওয়ার পরামর্শ দেন।
তাই তিনি এই প্রবন্ধগুলোতে একটি স্বতন্ত্র সমাজবিজ্ঞানের আহ্বান জানান, যা রাজনৈতিক স্বাধীনতার পর তৃতীয় বিশ্বের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করবে। এটি তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে যা আধুনিক সভ্যতার শিল্পযুগের ক্রমাগত প্রবৃদ্ধির বোঝা এবং এই প্রবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মার্ক্সবাদী ধারণা ও পুঁজিবাদী সমস্যা দ্বারা ভারাক্রান্ত হবে না।
ত্রিপোলি- লেবানন- ৩০ শাবান ১৩৯৮ হিজরি
৪ আগস্ট ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দ
ওমর মিসকাউই
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأول طريق الثورة. الاطراد الثوري
. الأخلاق والثورة
. تقلبات عبر استقلال جديد
প্রথম অধ্যায়: বিপ্লবের পথ. বৈপ্লবিক ধারাবাহিকতা
. নৈতিকতা ও বিপ্লব
. নতুন স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে সংঘটিত পরিবর্তনসমূহ
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الاطراد الثوريعن (الثورة الإفريقية) عدد 232 - أسبوع 24 - 30 تموز (يوليو) 1967م.
إن العدوان الإسرائيلي وضعنا في أجواء ثورتنا كأننا نعيشها مرة أخرى، والأحداث التي تتابعت منذ ذلك العدوان جعلتنا نتأملها مرة أخرى بعقولنا أيضا.
وها هي ذي نقاط كثيرة حرمنا لهيب المعركة أو قلة خبرتنا من الالتفات إليها في حينها أثناء الثورة الجزائرية، تصبح اليوم تجتذب اهتمامنا، كأنها جديدة علينا.
ولعل كلامنا يكون من قبيل تقرير الواقع، إذا قلنا إن أحدنا يشعر أكثر ما يشعر بالضربة حين تصيبه في مفصل من مفاصله. ويكفينا أن نتصور أو نتذكر الضربة التي تصيبنا في مفصل الذراع أو الركبة، لنقتنع بصحة ما نقول.
وللأطفال في هذا تجربة يومية، ونضيف إلى ذلك أن الجهاز الميكانيكي كثيرا ما يصيبه العطب في مفاصله.
وإذا قدرنا الثورة بوصفها اطرادا، فإن لها روابط تربط بين أطرافها أي مفاصلها، وتكون نقاط الضعف غالبا، عندما ننتقل من مرحلة في الاطراد إلى التي تليها.
বৈপ্লবিক ধারাবাহিকতা(আফ্রিকান বিপ্লব) সংখ্যা ২৩২ - ২৪তম সপ্তাহ - ৩০ জুলাই ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।
ইসরায়েলি আগ্রাসন আমাদের বিপ্লবের সেই পরিবেশে পুনরায় স্থাপন করেছে যেন আমরা তা দ্বিতীয়বার যাপন করছি। সেই আগ্রাসনের পর থেকে ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ আমাদের বিবেক দিয়েও সেগুলোকে নতুন করে অনুধাবন করতে বাধ্য করেছে।
আলজেরীয় বিপ্লবের সময় যুদ্ধের দাবদাহ অথবা আমাদের অভিজ্ঞতার স্বল্পতার কারণে যেসব অসংখ্য বিষয়ের প্রতি আমরা তখন দৃষ্টি দিতে পারিনি, আজ সেগুলো আমাদের নিকট নতুন হয়ে ধরা দিচ্ছে এবং আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
আমাদের কথাগুলো বাস্তব পরিস্থিতিরই এক প্রতিফলন হবে যদি আমরা বলি যে, মানুষ কোনো আঘাতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি তখনই অনুভব করে যখন তা তার শরীরের কোনো সন্ধিস্থলে আঘাত হানে। আমাদের এই বক্তব্যের সত্যতা অনুধাবনের জন্য বাহু বা হাঁটুর সন্ধিস্থলে পাওয়া কোনো আঘাতের কথা কল্পনা বা স্মরণ করাই যথেষ্ট।
শিশুদের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতা। এর সাথে আমরা আরও যোগ করতে পারি যে, কোনো যান্ত্রিক সরঞ্জামের বিকলতাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার সন্ধিস্থলগুলোতেই ঘটে থাকে।
আমরা যদি বিপ্লবকে একটি নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা হিসেবে গণ্য করি, তবে এর বিভিন্ন প্রান্ত বা সন্ধিস্থলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র রয়েছে। ধারাবাহিকতার এক পর্যায় থেকে পরবর্তী পর্যায়ে উত্তরণের ক্রান্তিলগ্নেই সাধারণত দুর্বলতাগুলো পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولم يكن ماركس، عندما كتب (تاريخ كومون باريس) رجل أدب، بل عالم حياة بالنسبة إلى الثورة التي فشلت بباريس عام 1871.
إن نجاح ثورة ما أو فشلها، هو بقدر ما تحتفظ بمحتواها أو تضيعه في الطريق وهذا كله يخضع لقانون.
فالثورة لا ترتجل، إنها اطراد طويل، يحتوي ما قبل الثورة، والثورة نفسها، وما بعدها. والمراحل الثلاث هذه لا تجتمع فيه بمجرد إضافة زمنية، بل تمثل فيه نموا عضويا وتطورا تاريخيا مستمرا، وإذا حدث أي خلل في هذا النمو وفي هذا التطور، فقد تكون النتيجة زهيدة تخيب الآمال.
إن الثورة الفرنسية تضمنت عهد ما قبل الثورة، في صورة مقدمات وجدتها في أفكار (جان جاك روسو) والعلماء الموسوعيين. فكان لهذه الحركة ما يدعمها حتى تحقق لها النجاح يوم 14 تموز (يوليو) عام 1789. لكن عبورها إلى مرحلة ما بعد الثورة كان فيه خلل، جعل أشباه الثوريين مثل (دانتون وميرابو) يسيطرون عليها، ويحاولون بناء مجدهم على حسابها، حتى في التعامل مع العدو، ليمنحهم انتصارات وهمية يعززون بها موقعهم مثل واقعة (قلمى).
ولقد انتهى بها المطاف بين أيدي نابليون الذي صنع منها- والتاريخ يعترف له بالفضل- قضية شخصية تحت لواء الإمبراطورية.
ولكننا مع ماركس ولينين، اكتسبنا في هذا الميدان، معلومات دقيقة، وتقنية ثورية تلم بجوانب الثورة، من مرحلتها التحضيرية إلى مرحلة الإنجاز، ومنها إلى مرحلة الحفاظ على الخط الثوري.
والواقع أن هذه ليست تقنية جديدة في التاريخ، فلو رجعنا إلى الوراء لوجدنا لها أثرا ليس في صيغة حرفية، ولكن في مواقف ثورية محددة.
মারক্স যখন 'প্যারিস কমিউনের ইতিহাস' রচনা করেছিলেন, তখন তিনি কেবল একজন সাহিত্যিক ছিলেন না, বরং ১৮৭১ সালে প্যারিসে ব্যর্থ হওয়া বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে তিনি ছিলেন একজন জীবন-বিজ্ঞানী।
একটি বিপ্লবের সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করে এটি তার আদর্শিক বিষয়বস্তু কতটা বজায় রাখল অথবা যাত্রাপথে তা কতটা হারিয়ে ফেলল তার ওপর। আর এই পুরো বিষয়টি একটি সুনির্দিষ্ট বিধানের অধীন।
বিপ্লব কোনো তাৎক্ষণিক উদ্ভাবন নয়; এটি একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা বিপ্লব-পূর্ব কাল, বিপ্লব এবং বিপ্লব-পরবর্তী কালকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই তিনটি পর্যায় কেবল সময়ের সমষ্টি নয়, বরং তা একটি জৈবিক বিকাশ এবং নিরন্তর ঐতিহাসিক বিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে। যদি এই বিকাশ ও বিবর্তনে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, তবে এর ফলাফল হতে পারে অতি নগণ্য যা আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়।
ফরাসি বিপ্লব তার বিপ্লব-পূর্ব পর্যায়টি ধারণ করেছিল জঁ-জ্যাক রুশো এবং বিশ্বকোষীয় পণ্ডিতদের চিন্তাধারার মধ্যে। ফলে এই আন্দোলনের পেছনে একটি বলিষ্ঠ ভিত্তি বিদ্যমান ছিল যা ১৭৮৯ সালের ১৪ই জুলাই এর চূড়ান্ত সাফল্য নিশ্চিত করেছিল। কিন্তু বিপ্লব-পরবর্তী পর্যায়ে উত্তরণের সময় এতে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যার ফলে দঁতো ও মিরাবোর মতো ছদ্ম-বিপ্লবীরা এর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। তারা বিপ্লবের বিনিময়ে নিজেদের গৌরব অর্জনের চেষ্টা করেছিল, এমনকি শত্রুর সাথে আঁতাত করে কাল্পনিক বিজয় অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চেয়েছিল, যেমনটি ঘটেছিল কালমি-র যুদ্ধে।
পরিশেষে এটি নেপোলিয়নের হস্তগত হয়, যিনি একে—ইতিহাস যার কৃতিত্ব স্বীকার করে—সাম্রাজ্যের পতাকাতলে এক ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয়ে পরিণত করেছিলেন।
তবে মারক্স ও লেনিনের মাধ্যমে আমরা এই ক্ষেত্রে বিপ্লবের প্রস্তুতিমূলক পর্যায় থেকে বাস্তবায়ন পর্যায় এবং সেখান থেকে বিপ্লবী ধারা বজায় রাখার পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি দিক সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও বৈপ্লবিক কৌশলগত জ্ঞান অর্জন করেছি।
বাস্তবিকপক্ষে ইতিহাসে এটি কোনো নতুন কৌশল নয়। আমরা যদি পেছনের দিকে তাকাই, তবে শাব্দিক আকারে না হলেও সুনির্দিষ্ট বিপ্লবী অবস্থানের মধ্যে আমরা এর প্রভাব খুঁজে পাব।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إننا لو اعتبرنا الإسلام من جهة التاريخ المجردة، لرأيناه ثورة كبيرة غيرت كل البناءات السياسية والاجتماعية والأخلاقية والثقافية في المجتمع الجاهلي. إننا نراها في أصعب الظروف قد غيرت كل شيء، حتى أسماء معتنقيها، فكانت النمو الثوري في أدق ما في هذه الكلمة من معنى.
وإذا كان يسيرا على المعاصرين للرسول الكريم، أن يشعروا بذلك في أنفسهم، فإن محكمة أميركية استطاعت هذه الأيام أن تقدر هذا الأثر في شخص الملاكم محمد علي الذي طلّق حتى اسمه القديم (كسيوس كلاي).
إنها دروس حية نلم بمصيرها حين نوازنها مع أحسن الدروس الثورية في الحاضر، أو مع بعض الأخطاء في ثورات معاصرة.
إن الثورة الإسلامية تقدم لنا أولا درسا عاليا، ربما زهدنا فيه أو تناسيناه، في ضبط السلوك. ففي غزوة أحد حيث يتعرض جيش المسلمين لضربة قاسية من جيش المشركين تحت قيادة قريش، نرى النبي عليه الصلاة والسلام يرفض على الرغم من قلة عدد من معه من المهاجرين والأنصار وعدتهم، يرفض سند عبد الله بن أبي وهو على رأس المنافقين واليهود ويقول: ((لا يقاتل معنا إلا من هو على ملتنا)).
ولم يكن هذا الموقف مجرد اندفاع خاص في لحظة معينة، فالقرآن سيعطي له كل معناه في الآية الكريمة: {لَوْ خَرَجُوا فِيكُمْ مَا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا} [التوبة:147/ 9]، مجددا فيها السبب لتجنب القتال مع متطوعين غرباء عن الثورة، أي مجرد مرتزقة كما نقول اليوم.
فالثورة ليست كإحدى الحروب تدور رحاها مع العدد والعتاد، بل إنها تعتمد على الروح والعقيدة.
ولا شك أن هذا المبدأ هو الذي حدد سلوك القيادة السوفيتية أثناء الحرب
আমরা যদি ইসলামকে কেবল বিমূর্ত ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করি, তবে আমরা একে একটি বিশাল বিপ্লব হিসেবে দেখতে পাব যা জাহেলি সমাজের সকল রাজনৈতিক, সামাজিক, নৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোকে পরিবর্তন করে দিয়েছিল। আমরা একে দেখি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মাঝেও সবকিছু বদলে দিতে, এমনকি এর অনুসারীদের নাম পর্যন্ত। এটি ছিল শব্দের সুক্ষ্মতম অর্থে একটি বিপ্লবী জাগরণ।
আর মহান রাসূলের সমসাময়িকদের জন্য যদি এটি নিজেদের মধ্যে অনুভব করা সহজ হয়ে থাকে, তবে বর্তমান সময়ে একটি আমেরিকান আদালত বক্সার মুহাম্মদ আলীর ব্যক্তিত্বে এই প্রভাবটি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছে, যিনি তার পূর্বের নাম (ক্যাসিয়াস ক্লে) পর্যন্ত বর্জন করেছিলেন।
এগুলো হলো জীবন্ত শিক্ষা, যার পরিণাম আমরা তখন উপলব্ধি করি যখন আমরা সেগুলোকে বর্তমানের শ্রেষ্ঠ বিপ্লবী শিক্ষাগুলোর সাথে অথবা সমসাময়িক বিপ্লবগুলোর কিছু ভুলের সাথে তুলনা করি।
ইসলামি বিপ্লব আমাদের প্রথমত আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি উচ্চতর শিক্ষা প্রদান করে, যা সম্পর্কে সম্ভবত আমরা বিরাগভাজন হয়েছি অথবা ভুলে গেছি। ওহুদ যুদ্ধে যখন কুরাইশদের নেতৃত্বে মুশরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে মুসলিম বাহিনী এক কঠোর আঘাতের সম্মুখীন হয়েছিল, তখন আমরা দেখি নবী (সা.) তাঁর সাথে থাকা মুহাজির ও আনসারদের স্বল্প সংখ্যা এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও আবদুল্লাহ ইবনে উবায়ের সমর্থন প্রত্যাখ্যান করেন—যে মুনাফিকদের (منافقين) ও ইহুদিদের প্রধান ছিল—এবং তিনি বলেন: “আমাদের সাথে কেবল তারাই যুদ্ধ করবে যারা আমাদের মিল্লাতভুক্ত (ملتنا)।”
আর এই অবস্থানটি নির্দিষ্ট কোনো মুহূর্তের নিছক ব্যক্তিগত আবেগ ছিল না; বরং কুরআন এই মহান আয়াতে এর পূর্ণ অর্থ প্রদান করেছে: {তারা যদি তোমাদের সাথে বের হতো, তবে তারা কেবল তোমাদের বিশৃঙ্খলাই বৃদ্ধি করত} [আত-তাওবাহ: ৪৭], যেখানে বিপ্লবের আদর্শের সাথে অপরিচিত এমন স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে যুদ্ধ এড়িয়ে চলার কারণ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যাদেরকে আজ আমরা ভাড়াটে সৈন্য (مرتزقة) বলি।
কারণ বিপ্লব এমন কোনো যুদ্ধ নয় যা কেবল সংখ্যা ও যুদ্ধ সরঞ্জামের ওপর আবর্তিত হয়; বরং এটি রুহ এবং আকিদার (عقيدة) ওপর নির্ভর করে।
আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই নীতিটিই যুদ্ধের সময় সোভিয়েত নেতৃত্বের আচরণ নির্ধারণ করেছিল।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
العالمية الثانية؛ إذ في أحلك الأيام من معركة القفقاز ترفض مدد الحلفاء يأتيها عن طريق إيران.
إن لكل ثورة منهجا يتضمن المبادئ التي تسير عليها، كما يتضمن فحوى القرارات التي ستمليها عليها ظروف الطريق.
فموقف أبي بكر بعد وفاة الرسول الكريم، عندما ارتدت بعض القبائل من العرب، وزعمت أنها لا تدفع الزكاة وتبقي على غير ذلك مما أتى به الإسلام، قد يبدو فيه لمعاصريه بعض التشدد والغلو، كما يكون موقف المرتدين غير بعيد عن الأمر المعقول، إذا قدرناه من الجانب المادي فحسب دون الرجوع إلى مبدأ يقره المنهج أي تقره فلسفة الثورة القائمة، وكاد عمر بن الخطاب يكون على هذا الرأي، لولا إصرار أبي بكر رضي الله عنهما وفصله الموقف بقوله ((والله لو منعوني عقالا كانوا يؤدونه لرسول الله لقاتلتهم عليه)).
ولقد قاتل المرتدين فعلا، حتى نصره الله عليهم النصر المبين.
ولنا نحن، في موقف أبي بكر أسوة حسنة. والعبرة التي نأخذها منه هي:
أننا إذا لم نحفظ في عقولنا وقلوبنا مقدمات ومسلمات الثورة، فلن نفقد (عقالا) فقط بل نفقد الروح الثوري ذاته.
فالثورة قد تتغير إلى (لا ثورة) بل قد تصبح (ضد الثورة) بطريقة واضحة خفية. والأمر الذي لا يجوز أن يغيب عن أذهاننا في هذا الصدد هو أن مجتمعا ما بمقتضى طبيعته البشرية ينطوي على خمائر من روح (ما ضد الثورة) طبقا لمبدأ التناقض تناقضا مستمرا. حتى في فترة ثورية، نستطيع تتبع آثاره في تاريخ كل الثورات، تتبعا لا يغني معه أن ندفع عجلة الثورة في وطن ما، بل يجب أن نتتبع حركتها ورقابتها بعد ذلك.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ; যখন ককেশাস যুদ্ধের ঘোরতর দিনগুলোতে মিত্রবাহিনীর সাহায্য যা ইরানের মাধ্যমে আসছিল তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
নিশ্চয়ই প্রতিটি বিপ্লবের একটি কর্মপদ্ধতি (منهج) থাকে যা তার পরিচালিত হওয়ার মূলনীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে, সেই সাথে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী যে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয় তার মর্মার্থও এতে শামিল থাকে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আবু বকর (রা.)-এর অবস্থান—যখন আরবের কিছু গোত্র ধর্মত্যাগ (ردة) করেছিল এবং দাবি করেছিল যে তারা যাকাত প্রদান করবে না, তবে ইসলামের অন্যান্য বিধানসমূহ মেনে চলবে—তা সমসাময়িকদের নিকট কিছুটা কঠোরতা (تشدد) ও বাড়াবাড়ি (غلو) বলে মনে হতে পারতো। একইভাবে মুরতাদদের (مرتدين) অবস্থানও অযৌক্তিক মনে হতো না, যদি আমরা বিষয়টিকে কেবল জাগতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতাম এবং বিপ্লবের মূলনীতি বা কর্মপদ্ধতি (منهج) দ্বারা স্বীকৃত দর্শনের দিকে ফিরে না তাকাতাম। আবু বকর (রা.)-এর দৃঢ়তা না থাকলে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-ও প্রায় এই অভিমতের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। আবু বকর (রা.) এই বলে বিষয়টির চূড়ান্ত ফয়সালা করেন যে, "আল্লাহর কসম, তারা যদি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট প্রদান করত এমন একটি উটের রশিও (عقال) দিতে অস্বীকার করে, তবে আমি তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।"
এবং তিনি প্রকৃতপক্ষে মুরতাদদের (مرتدين) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের ওপর তাঁকে সুস্পষ্ট বিজয় দান করলেন।
আবু বকর (রা.)-এর এই অবস্থানে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ (أسوة حسنة) নিহিত রয়েছে। আর এ থেকে আমরা যে শিক্ষা গ্রহণ করি তা হলো:
আমরা যদি আমাদের বুদ্ধি ও হৃদয়ে বিপ্লবের প্রারম্ভিক ভূমিকা (مقدمات) ও স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহ (مسلمات) সংরক্ষণ না করি, তবে আমরা কেবল একটি 'উটের রশি' (عقال)-ই হারাবো না, বরং স্বয়ং বিপ্লবের চেতনাকেই হারিয়ে ফেলব।
ফলে বিপ্লব 'বিপ্লবহীনতায়' রূপান্তরিত হতে পারে, এমনকি তা স্পষ্ট বা প্রচ্ছন্নভাবে 'বিপ্লব-বিরোধী' (ضد الثورة) রূপ নিতে পারে। এক্ষেত্রে যে বিষয়টি আমাদের বিস্মৃত হওয়া অনুচিত তা হলো, যেকোনো সমাজ তার মানবীয় প্রকৃতির বৈশিষ্ট্যের কারণে নিরন্তর দ্বন্দ্বের নীতি অনুযায়ী একটি 'বিপ্লব-বিরোধী' (ما ضد الثورة) স্পৃহার উপাদান ধারণ করে। এমনকি বিপ্লবের সময়েও সকল বিপ্লবের ইতিহাসে আমরা এর প্রভাব খুঁজে পেতে পারি; এমন পর্যবেক্ষণ ব্যতিরেকে কেবল কোনো ভূখণ্ডে বিপ্লবের চাকা সচল করাই যথেষ্ট নয়, বরং এরপর তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করাও অপরিহার্য।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وفي الملاحة يعرف ربان السفينة هذه الحقيقة بطريقته، إذ يعرف أنه لا يكفيه أن يقلع بسفينته في اتجاه معين، بل يجب عليه أن يراقب السير على طول الطريق من أجل تعديل الاتجاه من حين إلى آخر.
وهذه الضرورة لا تخفى على الأوطان التي قامت فيها الثورات المعاصرة، حيث نرى الشغل الشاغل بقياداتها أن تحافظ على (الخط الثوري)، وبالتالي فهذه الرقابة، بقدر ما لا تعني هذه الكلمة مجرد لفظة، وإن كانت ضرورية في كل ثورة، فهي أكثر إلحاحا في الأوطان التي لا تكون فيها فحسب خمائر (ما ضد الثورة) نتيجة إفراز المجتمع نفسه بطبيعته، بل تكون بالإضافة إلى ذلك محفوفة بالخطر في الاطراد الثوري من الخارج، على أيدي خبراء يعرفون كيف تجهض الثورات.
والخلاصة أن المجتمع الذي يقوم بثورة على الاستعمار فهو بطبيعة وضعه من ذلك الصنف، أي ذلك الصنف الذي تبدو المسلمة الأولى التي تقوم عليها رقابته، هي تقديره لخمائر (ما ضد الثورة) المحقونة في ثورته على أيدي خبراء الاستعمار.
فإذا عددنا هذا التقدير مجرد وسواس (1)، فذلك يقودنا إلى أن نرى الاستعمار طفلا بريئا تعتدي على براءته ألسنة شريرة، وإن ما حدث في سيناء ما هو إلا أضغاث أحلام خامرت نومنا هذه الأيام.
أما إذا كانت مأساة سيناء واقعا عشناه، فالأولى بنا أن نستخلص منه الدرس الذي تقدمه لنا.
--------------------------------------------
নৌচালনায় জাহাজের কাপ্তেন এই সত্যটি তার নিজস্ব পদ্ধতিতে জানেন। তিনি জানেন যে, নির্দিষ্ট একটি অভিমুখে জাহাজ চালানোই তার জন্য যথেষ্ট নয়; বরং সময় সময় গতিপথের সংশোধন (تعديل) করার জন্য তাকে পুরো পথ জুড়ে গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
এই প্রয়োজনীয়তা সমসাময়িক বিপ্লব সংঘটিত হওয়া দেশগুলোর কাছে গোপন নয়। সেখানে আমরা দেখি যে বিপ্লবের নেতৃবৃন্দের প্রধান কাজ হলো 'বিপ্লবী ধারা' বজায় রাখা। সুতরাং, এই পর্যবেক্ষণ—যদিও প্রতিটি বিপ্লবে এই শব্দের আক্ষরিক অর্থের চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে এবং অপরিহার্য—তবুও সেই দেশগুলোর জন্য এটি আরও বেশি জরুরি, যেখানে সমাজ কাঠামোর নিজস্ব স্বভাবজাত কারণেই কেবল 'বিপ্লব-বিরোধী' উপাদান তৈরি হয় না, বরং এর পাশাপাশি বাইরে থেকে সেইসব বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিপ্লবী অগ্রযাত্রায় বিপদের সম্ভাবনা থাকে, যারা জানেন কীভাবে বিপ্লবকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হয়।
সারকথা হলো, যে সমাজ উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে বিপ্লব করে, তার প্রকৃতিই এমন যে, তার পর্যবেক্ষণের ভিত্তি হিসেবে প্রথম স্বতঃসিদ্ধ বিষয়টি হলো উপনিবেশবাদের বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তার বিপ্লবের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া 'বিপ্লব-বিরোধী' উপাদানগুলোকে মূল্যায়ন করা।
আমরা যদি এই মূল্যায়নকে কেবল একটি অমূলক সংশয় (وسواس) হিসেবে গণ্য করি, তবে তা আমাদের এই ধারণার দিকে নিয়ে যাবে যে উপনিবেশবাদ একটি নিষ্পাপ শিশু যার পবিত্রতাকে কিছু মন্দ জিহ্বা কলঙ্কিত করছে। আর সিনাইয়ে যা ঘটেছিল তা কেবল দুঃস্বপ্ন যা ইদানীং আমাদের ঘুমে হানা দিয়েছে।
কিন্তু যদি সিনাইয়ের বিয়োগান্তক ঘটনাটি আমাদের যাপিত কোনো বাস্তবতা হয়ে থাকে, তবে তার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাই আমাদের জন্য সমীচীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فمن الناحية العسكرية ليست القضية في تفوق العتاد وفي عبقرية موشي ديان، كما لا يمل القوم من تكراره لنا منذ شهر، حتى إنهم ضربوا في ألمانيا الغربية صورته على مدالية تذكارية، لتخدير الرأي العام الدولي، ولتنويمنا نحن.
يجب أن ننظر إلى القضية بدقة أكثر: فالعرب لم يكونوا في سيناء، أمام هنيبعل الإسرائيلي الصغير؛ ولكنهم واجهوا بعقلية الصبيان أجهزة في أعلى مستواها التقني وضعها الاستعمار تحت لواء إسرائيلي، ثم أمر اليهود بقصف سفينة التجسس (ليبرتي) كي يزيد في التعمية والتضليل.
لكن الناحية الأخرى تهمنا أكثر بكثير من الناحية العسكرية، إذ يجب أن نقول إن الانتصار الذي حققه اليهود في سيناء، لم تتهيأ شروطه في إسرائيل فحسب ولكن في البلدان العربية، إذ استطاع الاستعمار حتى تنويم الرادار في صبيحة 5 حزيران (يونيو) الأخير، ولا نذكر هذا التفصيل إلا لمجرد التوضيح.
أما الحقيقة فهي تخص فلسفتنا الثورية بأجمعها. فالثورة حين تخشى أخطاءها ليست بثورة، وإذا هي اكتشفت خطأ من أخطائها ثم التفتت عنه فالأمر أدهى وأمر. وفي هذا الصدد نذكر قول ماركس ((يجب دائما أن نكشف الفضيحة عندما نكتشفها حتى لا تلتهمنا)).
إن الشعب الجزائري قام، بدون شك بثورة مجيدة، ولكن هذا لا يعني أنها خالية من الأخطاء في اطرادها الثوري.
ولست أشير هنا إلى الخطأ البريء الخفيف الذي يتولى الوقت نفسه تصحيحه في الاطراد الثوري، بل أشير إلى الخطأ العضوي سواء أفرزه المجتمع، أو حقن به من الخارج حتى صار جزءا من كيانه.
সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি সামরিক সরঞ্জামের শ্রেষ্ঠত্ব বা মোশে দাইয়ানের প্রতিভার কোনো বিষয় নয়; অথচ এক মাস যাবৎ একদল লোক অক্লান্তভাবে আমাদের কাছে এর পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছে। এমনকি তারা আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করতে এবং আমাদের ঘুম পাড়িয়ে রাখতে পশ্চিম জার্মানিতে তার ছবি সংবলিত স্মারক পদক তৈরি করেছে।
আমাদের এই বিষয়টি আরও সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত: সিনাই মরুভূমিতে আরবরা কোনো ক্ষুদ্র ইসরায়েলি 'হানিবল'-এর মুখোমুখি হয়নি; বরং তারা এক অপরিণত মানসিকতা নিয়ে এমন সব উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতির মোকাবিলা করছিল যা সাম্রাজ্যবাদ ইসরায়েলি পতাকার নিচে জড়ো করেছিল। এরপর বিভ্রান্তি ও ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়ে তোলার জন্য ইহুদিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গোয়েন্দা জাহাজ 'লিবার্টি'-তে বোমা বর্ষণ করতে।
তবে সামরিক দিকের চেয়ে অন্য দিকটি আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা আমাদের অবশ্যই বলতে হবে যে, সিনাইয়ে ইহুদিরা যে বিজয় অর্জন করেছিল তার ক্ষেত্র শুধু ইসরায়েলে তৈরি হয়নি, বরং আরব দেশগুলোতেও তৈরি হয়েছিল। এমনকি গত ৫ই জুন সকালে সাম্রাজ্যবাদ রাডার ব্যবস্থাটিকেও অকেজো করে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। আমরা কেবল বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য এই বিবরণটি উল্লেখ করছি।
প্রকৃত সত্য হলো, এটি আমাদের সামগ্রিক বিপ্লবী দর্শনের সাথে সম্পৃক্ত। কোনো বিপ্লব যখন নিজের ভুলগুলোকে ভয় পায়, তখন সেটি আর বিপ্লব থাকে না। আর যদি কোনো বিপ্লব নিজের ভুলগুলো খুঁজে পাওয়ার পরও সেগুলোকে এড়িয়ে যায়, তবে বিষয়টি আরও ভয়াবহ ও তিক্ত হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রসঙ্গে আমরা মার্কসের সেই উক্তিটি স্মরণ করতে পারি: "যখনই আমরা কোনো কেলেঙ্কারি বা ত্রুটি খুঁজে পাব, আমাদের উচিত তা উন্মোচন করা, যেন তা আমাদের গ্রাস করতে না পারে।"
আলজেরিয়ার জনগণ নিঃসন্দেহে এক গৌরবময় বিপ্লব সাধন করেছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে, তাদের বিপ্লবী পথপরিক্রমা ভুলভ্রান্তি থেকে মুক্ত ছিল।
আমি এখানে সেই সব লঘু বা সাধারণ ভুলের কথা বলছি না যা সময়ের সাথে সাথে বিপ্লবের নিজস্ব গতিধারায় সংশোধিত হয়ে যায়; বরং আমি সেই সব মৌলিক বা কাঠামোগত ভুলের দিকে ইঙ্গিত করছি যা সমাজ থেকে তৈরি হয়েছে অথবা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তা বিপ্লবের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فالنوع الأول من الخطأ قد يهم من يهتم بالتاريخ أكثر من سواه، بينما قد يكون له أيضا أثر سيئ في وطن ثوري، يتعرض لمثل الأخطاء فيرتكس إلى عهد الأثرة والمحسوبية والأنانية، عندما نرى مثلا في هذه القرية الجميلة من الجنوب الجزائري، هذا الرجل الذي كان من أركان جمعية العلماء يستولي على قصر، كان يسكنه أحد ولاة العهد البائد ويؤجر مسكنه. فنحن لا نرى في مثل هذا التصرف ما يدل على قلة تعفف فحسب، بل يدل أيضا على هبوط في الروح الثوري، إذن هذا العالم لم يتاجر فقط بملكه بل تاجر بالقيم الثورية.
وإذا كان أحد قادة الحركة النقابية يقترض بعض الملايين من الفرنكات القديمة من شركة بترول، ويبني بها فيلا فخمة لا ليسكنها ولكن ليؤجرها لسفارة أجنبية، فإنني لا أرى في هذا التصرف ما يمت إلى (الخط الثوري) ولا إلى (المطالب النقابية) بصلة.
ولكن يا آلهة نيتشه المتألمة الخجلة!! صفحا عن هذه الأخطاء الطفيفة. إذ هنالك الأخطاء العضوية التي لا يصلحها الزمن بل ينبغي أن تمحوها الثورة.
والثورة التي تريد الوصول إلى هدفها يجب أن تدفع هذا الثمن، وبهذا الثمن وحده تستطيع ذلك.
***
প্রথম প্রকারের ভুলটি সম্ভবত তাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ যারা অন্যের তুলনায় ইতিহাসের প্রতি অধিক আগ্রহী। তবে একটি বিপ্লবী রাষ্ট্রে এর ক্ষতিকর প্রভাবও থাকতে পারে, যা অনুরূপ ভুলসমূহের সম্মুখীন হলে পুনরায় স্বার্থপরতা, স্বজনপ্রীতি ও আত্মকেন্দ্রিকতার যুগে পর্যবসিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যখন আলজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের এই সুন্দর গ্রামে দেখি যে, ওলামা সমিতির (علماء) অন্যতম স্তম্ভ (ركن) হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি একটি প্রাসাদ দখল করে নিচ্ছেন—যেখানে পূর্ববর্তী বিলুপ্ত শাসন আমলের জনৈক গভর্নর বসবাস করতেন—এবং নিজের ঘরটি ভাড়া দিচ্ছেন। আমরা এ ধরণের আচরণের মাঝে কেবল অল্পেতুষ্টির অভাবই দেখি না, বরং এটি বিপ্লবী চেতনার পতনকেও নির্দেশ করে। সুতরাং, এই আলেম (عالم) কেবল তার সম্পত্তি নিয়েই কারবার করেননি, বরং তিনি বিপ্লবী মূল্যবোধের বিনিময়ে ব্যবসা করেছেন।
এবং যদি ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের কোনো নেতা কোনো তেল কোম্পানি থেকে কয়েক মিলিয়ন পুরনো ফ্রাঙ্ক ঋণ গ্রহণ করেন এবং তা দিয়ে একটি বিলাসবহুল ভিলা নির্মাণ করেন—তা বসবাসের জন্য নয়, বরং কোনো বিদেশি দূতাবাসের নিকট ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে—তবে আমি এই আচরণের সাথে ‘বিপ্লবী আদর্শ’ কিংবা ‘ট্রেড ইউনিয়নের দাবি’-এর কোনো সম্পর্ক দেখি না।
কিন্তু হে নিটশের ব্যথিত ও লজ্জিত দেবকুল!! এই সামান্য ভুলগুলোকে মার্জনা করা হোক। কেননা সেখানে এমন কিছু কাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে যা সময়ের ব্যবধানে ঠিক হয় না, বরং বিপ্লবের মাধ্যমেই সেগুলোকে নির্মূল করা প্রয়োজন।
আর যে বিপ্লব তার গন্তব্যে পৌঁছাতে চায়, তাকে অবশ্যই এই মূল্য দিতে হবে; একমাত্র এই মূল্যের বিনিময়েই বিপ্লব তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
***
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأخلاق والثورةعن (الثورة الإفريقية) عدد 264 - أسبوع 7 إلى 13 آذار (مارس) 1968م.
لعل عنوانا كـ (السياسة والأخلاق)، يكون في نظر بعض الناس أكثر انطباقا على محتوى هذا المقال، ولكن حتى على هذا الفرض فقد استعملته في مقال آخر (1).
ومهما يكن من أمر، فكثيرا ما يتهم (كاسترو) بسبب تشدده في الحفاظ على المبدأ الأخلاقي، بأنه يرتجل: يتهمه بذلك طرف من الصحافة اليمينية وأحيانا جناح من الصحافة اليسارية.
فتراه أحيانا في سياسته يقلب رأسا على عقب ما تعارف عليه الناس من مقاييس وتقاليد ثورية، وأحيانا أخرى نراه يلقي في سلة المهملات ما توارثه الناس من أفكار هؤلاء وأولئك، إلقاء قد يلتبس معه سلوكه فعلا على الذين يرونه يرتجل، أو ينفر من هذا السلوك رجال الاقتصاد والتخطيط في الغرب أو في الكتلة الشرقية على حد سواء.
وكأنه هو الآخر ينفر من هؤلاء وخاصة التشيكيين والسوفييت الذين نراه يعزو إليهم فشل بعض المشاريع التي لم تعط نتائج فعلية في كوبا.
--------------------------------------------
চরিত্র ও বিপ্লব(আফ্রিকান বিপ্লব) সংখ্যা ২৬৪ - ৭ থেকে ১৩ মার্চ (মার্চ) ১৯৬৮ খ্রি. হতে সংগৃহীত।
সম্ভবত (রাজনীতি ও চরিত্র)-এর মতো একটি শিরোনাম কিছু মানুষের দৃষ্টিতে এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তুর সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো; তবে এই অনুমিত শিরোনামটি আমি ইতিপূর্বে অন্য একটি প্রবন্ধে ব্যবহার করেছি (১)।
যাই হোক না কেন, নৈতিক আদর্শ রক্ষায় আপসহীনতার কারণে (কাস্ত্রো)-কে প্রায়শই তাৎক্ষণিক কর্মতৎপরতা বা উপস্থিত বুদ্ধিজাত আচরণের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়: দক্ষিণপন্থী সংবাদমাধ্যমের একটি পক্ষ এবং কখনো কখনো বামপন্থী সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ তাকে এই অভিযোগে অভিযুক্ত করে থাকে।
কখনো কখনো আপনি তাকে তার রাজনীতিতে প্রচলিত বৈপ্লবিক মানদণ্ড ও ঐতিহ্যসমূহকে আমূল ওলটপালট করে দিতে দেখবেন, আবার কখনো তাকে অন্যদের কাছ থেকে মানুষের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত চিন্তাগুলোকে আবর্জনার ঝুড়িতে নিক্ষেপ করতে দেখবেন। তার এই বর্জন প্রক্রিয়া সম্ভবত তাদের কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে যারা তাকে পূর্বপ্রস্তুতিহীন বা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মনে করেন, অথবা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয় ব্লকের অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনাবিদগণ তার এই আচরণে সমভাবে বীতশ্রদ্ধ হতে পারেন।
যেন তিনিও তাদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ, বিশেষ করে চেক এবং সোভিয়েতদের প্রতি; কিউবায় আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়া কিছু প্রকল্পের ব্যর্থতার জন্য তিনি যাদেরকে দায়ী করে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
إن (كاسترو) لا يجد بعد في تصرفه، ذلك الجهاز الثقيل من إحصائيات وآلات إلكترونية وأصحاب اختصاص، ذلك الجهاز الذي يجعل الإنتاج المتسلسل عملية لا ثغرة فيها ولا خلل كما هو الأمر في البلاد المصنعة.
ولكن وطنا لم يزل في طور التكوين، لا يمكنه أن يمتع نفسه بهذا الحشد من الأرقام، وبهذا الترف من الآلات الإلكترونية، ليبلغ منذ اللحظة الأولى الذروة في ضبط عملية الإنتاج، والدقة التي لا تترك ذريعة فيها.
إن الإتحاد السوفييتي نفسه مر بهذه المرحلة، فقد كانت، أثناء مخططه الأول بين عامي 1928 - 1932م نسبة (40% إن لم نقل 50%) من إنتاجه من الحديد أو من الخزف، تلقى في أكداس المهملات أو تعود إلى أفران التذويب.
ولم يكن الإتحاد السوفييتي يخشى أن يتعلم الصناعة بهذا الثمن، كما كانت روسيا في عهد بطرس الأكبر تتعلم فن البحرية والحرب العصرية. حتى كان النبلاء فيها من طبقة (البويا) يقصرون لحاهم على الطريقة الأوربية.
إذن فليس على (كوبا) أن تخجل من تدريبها، وإذا اتهم (كاسترو) بأنه يرتجل فليكن؛ غير أننا نعترف بأنه يرتجل بطريقة موفقة عندما نرى، منذ زمن قريب، كيف تخرج من يده قرية مجهزة بمدرسة ومصحة في مكان (مدينة صفائح) توافرا لها منذ شهر ونصف الشهر فقط.
فإذا كانت الحالة هذه بكوبا تثير التعجب والاستغراب من طرف بعض الملاحظين، فإنما يعود ذلك إلى أن القرن العشرين تعود أن يستقطب الأفكار حول قطبين هما: الرأسمالية والماركسية، ولا يحتمل احتمالا ثالثا لهما يبدو معه أن لا مناص من أن تستوحى الأفكار من هذا القطب أو من ذاك القطب، في الميدان الاقتصادي أو التربوي أو السياسي دون تفكير خارجهما.
(কাস্ত্রো) তাঁর কর্মকাণ্ডে এখনও সেই পরিসংখ্যান, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং বিশেষজ্ঞগণের বিশাল ও ভারী ব্যবস্থাপনা খুঁজে পাননি; যে ব্যবস্থাপনা গণ-উৎপাদন প্রক্রিয়াকে কোনো প্রকার ত্রুটি বা বিচ্যুতিহীন একটি ধারায় পরিণত করে, যেমনটি শিল্পোন্নত দেশগুলোতে দেখা যায়।
কিন্তু গঠনপ্রক্রিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা একটি জাতির পক্ষে এই বিপুল উপাত্তের সমাহার এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির বিলাসিতা উপভোগ করা সম্ভব নয়, যাতে করে প্রথম মুহূর্ত থেকেই উৎপাদন প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এমন এক নিখুঁত মানে পৌঁছানো যায় যা কোনো অজুহাতের অবকাশ রাখে না।
স্বয়ং সোভিয়েত ইউনিয়ন এই স্তরের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। ১৯২৮ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যবর্তী প্রথম পরিকল্পনাকালে তাদের উৎপাদিত লোহা বা সিরামিকের একটি বড় অংশ—যা ৪০ শতাংশ বা এমনকি ৫০ শতাংশও হতে পারে—আবর্জনার স্তূপে নিক্ষিপ্ত হতো অথবা পুনরায় গলানোর চুল্লিতে ফেরত পাঠানো হতো।
সোভিয়েত ইউনিয়ন এই মূল্যের বিনিময়ে শিল্পায়ন শিখতে কুণ্ঠিত ছিল না, ঠিক যেমন মহান পিটারের আমলে রাশিয়া নৌবিদ্যা এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল শিখছিল। এমনকি সে সময়কার 'বোয়ার' (Boyar) শ্রেণির অভিজাত ব্যক্তিরা ইউরোপীয় রীতিতে তাঁদের দাড়ি ছোট করে ফেলতেন।
সুতরাং (কিউবা)-র জন্য তার এই প্রশিক্ষণকালীন শিখনপ্রক্রিয়ায় লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আর যদি (কাস্ত্রো)-র বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক উদ্ভাবন বা উপস্থিত বুদ্ধির অভিযোগ তোলা হয়, তবে তা-ই হোক; কিন্তু আমরা অবশ্যই স্বীকার করব যে, তিনি অত্যন্ত সফলভাবে এই উদ্ভাবনী শক্তির প্রয়োগ করেন। কেননা আমরা সম্প্রতি দেখেছি যে, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে একটি 'বস্তির' (Shantytown) পরিবর্তে সেখানে বিদ্যালয় ও চিকিৎসাকেন্দ্র সমৃদ্ধ একটি গ্রাম তাঁরই তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠেছে।
কিউবার এই পরিস্থিতি যদি কোনো কোনো পর্যবেক্ষকের মনে বিস্ময় ও খটকার উদ্রেক করে, তবে তার কারণ হলো বিংশ শতাব্দী কেবল দুটি মেরুকে কেন্দ্র করে চিন্তাধারাকে আবর্তিত করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, আর তা হলো: পুঁজিবাদ এবং মার্ক্সবাদ। এই দুইয়ের বাইরে তৃতীয় কোনো সম্ভাবনা সেখানে স্বীকৃত নয়; ফলে এটি এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে যেখানে মনে হয় যে অর্থনৈতিক, শিক্ষামূলক বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই দুই মেরুর কোনো একটি থেকে ধারণা গ্রহণ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই এবং এর বাইরে চিন্তার কোনো অবকাশ নেই।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
لكن (كاسترو) تحرر في تفكيره من كل تبعية لموسكو أو بكين، على الرغم من أنه ينتمي إلى مدرسة (ماركس) فبدأ يبتكر أو يرتجل كما يقولون.
وليس خروج (كاسترو) عن الماركسية المألوفة تنكرا للفكرة نفسها أو حبا للظهور بالأصالة، إنما هو تمسك رجل دولة بما يراه ضروريا من حرية في الفكر وفي التصرف، للقيام بوظيفته طبقا لما تقتضيه تجربة بلاده.
ونحن ما نزال على مقربة من بداية هذه التجربة، قربا لا نستطيع معه الحكم منذ الآن، فهل ستؤدي إلى انشقاق نظري أم لا؟! وماذا ستكون آثار هذا الانشقاق- إذا حدث- في المجال السياسي بوجه خاص؟!
ولكننا نستطيع منذ الآن ملاحظة فوارق جذرية، إذا ما تذكرنا ما قاله (لينين) وهو يواجه أقسى الصعوبات بعد هدنة (بريست ليتوفسك): ((إذا وجب علينا أن نسير إلى النصر زحفا على البطون ..... فليكن)).
بينما كاسترو يصرخ طاقة جهده بأن (سياسة الثورة) لا تقوم على الحسابات، فالمصلحة الوطنية وما يمليه أمر الدولة، إنما تقوم على المبدأ الأخلاقي.
فهذا كلام لا نتصوره على لسان رجل مثل (الكردينال دوريشيليو)، ولا على لسان (تاليران)، وإنما نجده في صرخة (دوبان دونمور)، الذي صرخ ذات يوم في مناقشات تدور بمجلس الثورة الفرنسية حول قضية المستعمرات، صرخ قائلا: ((فلتمت المستعمرات ولكن لا نسلم في مبدأ من مبادئنا)).
إن (كاسترو) ليس عالم أخلاق وإنما رجل دولة يعرف قيمة الأخلاق في السياسة.
لكن التاريخ لن يصدر عليه حكمه طبقا لمبادئ مجردة بل طبقا لنتائجها في الواقع الملموس.
তবে (কাস্ত্রো) তার চিন্তাধারায় মস্কো বা বেইজিংয়ের প্রতি সব ধরনের বশ্যতা থেকে নিজেকে মুক্ত করেছিলেন, যদিও তিনি (মার্কস) পন্থী ঘরানার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; ফলে তিনি নিজস্ব উদ্ভাবন অথবা যেমনটি বলা হয়—তাৎক্ষণিক উদ্ভাবনী পথে চলতে শুরু করেন।
প্রচলিত মার্ক্সবাদ থেকে (কাস্ত্রো)-র এই বিচ্যুতি মূল আদর্শের প্রতি কোনো অস্বীকৃতি ছিল না, কিংবা নিছক মৌলিকত্ব জাহির করার ইচ্ছাও ছিল না; বরং এটি ছিল একজন রাষ্ট্রনায়কের চিন্তা ও কর্মের সেই স্বাধীনতার প্রতি অবিচল থাকা, যা তিনি তার দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে স্বীয় দায়িত্ব পালনের জন্য অপরিহার্য মনে করেছিলেন।
আমরা এখনও এই অভিজ্ঞতার সূচনালগ্নের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছি, যা আমাদের পক্ষে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অসম্ভব করে তোলে। প্রশ্ন হলো, এটি কি কোনো তাত্ত্বিক বিভাজনের দিকে নিয়ে যাবে কি না? এবং এই বিভাজন যদি ঘটে, তবে বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাব কী হবে?
তবে আমরা এখন থেকেই কিছু মৌলিক পার্থক্য লক্ষ্য করতে পারি, যদি আমরা (ব্রেস্ট-লিটোভস্ক) সন্ধির পর চরম সংকটের মুখে (লেনিন)-এর সেই উক্তিটি স্মরণ করি: "যদি বিজয়ের পথে আমাদের পেটে ভর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়েও চলতে হয়... তবে তা-ই সই।"
অন্যদিকে, কাস্ত্রো পূর্ণ শক্তিতে উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, (বিপ্লবের রাজনীতি) নিছক হিসাব-নিকাশ, জাতীয় স্বার্থ বা রাষ্ট্রীয় নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে চলে না, বরং তা নৈতিক আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
এই ধরনের বক্তব্য (কার্ডিনাল রিশেলিউ) কিংবা (তালিরঁ)-এর মতো ব্যক্তিদের মুখে কল্পনা করা যায় না; বরং এর প্রতিধ্বনি পাওয়া যায় (দ্যুপোঁ দ্য নমুর)-এর সেই দৃপ্ত আহ্বানে, যিনি ফরাসি বিপ্লব কাউন্সিলে উপনিবেশ সংক্রান্ত বিতর্কের সময় চিৎকার করে বলেছিলেন: "উপনিবেশগুলো ধ্বংস হয়ে যাক, তবু আমরা আমাদের আদর্শের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করব না।"
প্রকৃতপক্ষে (কাস্ত্রো) কোনো নীতিশাস্ত্রবিদ নন, বরং তিনি এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক যিনি রাজনীতিতে নৈতিকতার মূল্য অনুধাবন করেন।
তবে ইতিহাস তার ওপর কোনো বিমূর্ত নীতির ভিত্তিতে রায় দেবে না, বরং বাস্তব ক্ষেত্রে সেই নীতির প্রয়োগ ও ফলাফলের ভিত্তিতেই বিচার করবে।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
إنما من ناحية أخرى، يجوز لعالم الاجتماع بل يستحسن منه، أن يعلم ما إذا كان للأخلاق وظيفة في السياسة؟.
إن الأشياء ما تزال بالنسبة إلينا في ضباب الثورة، تجدد نفسها الثوري في كل خطوة وأمام كل صعوبة جديدة تواجهها.
لكن الأشياء بدأت خلال هذا الضباب تتخذ أكثر فأكثر شكلها، وتظهر كصدمات تجربة من شأنها أن تعم العالم الثالث كله، على الرغم من حدودها الضيقة في وطن صغير مثل كوبا.
لاشك أن إدانة الحافز المادي في الإنتاج، لم تعط بعد أثرها الواضح في منحنى التنمية على الأقل، حسب أقوال الصحافة التي نقرؤها في هذه الناحية من العالم.
كما أن إلغاء العلاقات السوقية بين المنتجين والدولة، مع ما يوحي به من إلغاء العملة ذاتها في أمد قد لا يبعد، لا يزال أيضا في غموض.
ولكن الشيء الذي نستطيع تقريره منذ الآن، هو أن هذه القرارات تثيرنا من ناحيتين:
إنها في الميدان الاقتصادي تمثل النموذج المثالي لا نسميه الاستثمار الاجتماعي، وهو أمر لا نجده في وطن آخر في الموضوع نفسه.
ومن هذه الناحية فإنها تقدم درسا لا يستغني عنه العالم الثالث، الذي بين يديه الكثير من الذهب ومن العملة الصعبة.
ولكن هذا الدرس يتضمن جانبا يهم العالم كله، ألا وهو الثقة في القيم الأخلاقية ومنحها الأولوية في الإنتاج وفي درجة الالتزام في الحياة السياسية.
ولنتأمل على سبيل المثال، هذا الدرس في إحدى قضايا العمل الإنتاجي:
إن العامل قد يتغيب من دون عذر عن عمله فما هي عقوبته؟.
তবে অন্যদিক থেকে, একজন সমাজবিজ্ঞানীর জন্য এটি অনুমোদিত, এমনকি বাঞ্ছনীয় যে, তিনি জানবেন রাজনীতিতে নৈতিকতার কোনো ভূমিকা আছে কি না?
বিপ্লবের কুয়াশার মাঝে আমাদের কাছে বিষয়গুলো এখনও অস্পষ্ট; প্রতিটি পদক্ষেপে এবং প্রতিটি নতুন সংকটের মুখে তা নিজের বিপ্লবী রূপকে নবায়ন করছে।
কিন্তু এই কুয়াশার ভেতরেই বিষয়গুলো ক্রমশ সুনির্দিষ্ট আকার ধারণ করতে শুরু করেছে। কিউবার মতো একটি ছোট ভূখণ্ডের সংকীর্ণ সীমানা সত্ত্বেও, এটি এমন এক পরীক্ষামূলক অভিঘাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে যা সমগ্র তৃতীয় বিশ্বকে আলোড়িত করার ক্ষমতা রাখে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উৎপাদনের ক্ষেত্রে বস্তুগত উদ্দীপনার নিন্দা বা বর্জন উন্নয়ন চিত্রে এখনও কোনো স্পষ্ট প্রভাব ফেলতে পারেনি; অন্তত বিশ্বের এই প্রান্তে আমরা যে সকল সংবাদপত্র পড়ি, তাদের ভাষ্য অনুযায়ী বিষয়টি তেমনই।
তদ্রূপ উৎপাদক ও রাষ্ট্রের মধ্যকার বাজার-সম্পর্ক বিলোপ করার বিষয়টিও এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে, যা নিকট ভবিষ্যতে মুদ্রাব্যবস্থা খোদ বিলুপ্ত করার ইঙ্গিত দেয়।
তবে আমরা এখন থেকেই যে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি তা হলো, এই সিদ্ধান্তগুলো আমাদের দুটি দিক থেকে কৌতূহলী করে তোলে:
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এটি এমন এক আদর্শ নমুনা উপস্থাপন করে যাকে আমরা সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে অভিহিত করতে পারি; আর এই বিষয়টি অন্য কোনো দেশে একই প্রসঙ্গে পরিলক্ষিত হয় না।
এদিক থেকে এটি তৃতীয় বিশ্বের জন্য এক অপরিহার্য শিক্ষা প্রদান করে, যাদের হাতে প্রচুর স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রা গচ্ছিত রয়েছে।
কিন্তু এই শিক্ষার এমন একটি দিক রয়েছে যা সমগ্র বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; আর তা হলো নৈতিক মূল্যবোধের ওপর আস্থা বা নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) এবং উৎপাদন ও রাজনৈতিক জীবনের দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে একে অগ্রাধিকার প্রদান করা।
উদাহরণস্বরূপ, উৎপাদনশীল কর্মতৎপরতার একটি ক্ষেত্রে এই শিক্ষাটি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারি:
একজন শ্রমিক কোনো ওজর ছাড়াই কাজ থেকে অনুপস্থিত থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে তার শাস্তি কী হবে?
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
إنه لا يجازى بحسم من تموينه ومن أجرته، ولكن يفرض عليه عدد من أيام تغيب أخرى.
فالجزاء يقوم هنا على قاعدة أن اللولب النفسي ذو فعالية أكبر من اللولب الاقتصادي في حياة الفرد.
ولكن هل هذه القاعدة تصح من دون قيد أو شرط؟.
إننا لا نتصور أثرها إلا في مناخ أخلاقي حقيقي، تكونه الثورة وتحافظ عليه بوصفه صيدا أساسيا لها، كذلك المناخ الذي نشعر به في قصة المخلفين في القرآن الكريم.
ونحن إذا عدنا إلى تجربة كوبا، نرى (كاسترو) لا يخلق هذا المناخ فحسب، بالقرارات العامة التي يتخذها وبتفسيرها للجماهير، بل يمثلها أيضا في سلوكه الشخصي ليكون القدوة في هذا كله.
فعندما قرر سياسة التقشف في استهلاك البترول، كان لها مسوغاتها الاقتصادية، بسبب الحصار الاقتصادي الذي ضربته أمريكا على كوبا، حصارا أصبحت معه واردات البترول حتى من (البلاد الصديقة) لا تغطي غير 2% من الزيادة في الاستهلاك التي تقدر بـ 8% بالنسبة إلى السنوات السابقة. وقد أشار إلى ذلك في خطابه بمناسبة رأس السنة (1).
لكن الأمر الذي يرفع هذا القرار إلى أعلى درجة في الفعالية، هو تفسير (كاسترو) له في غير الإطار الاقتصادي، إذ قال في الخطاب نفسه ((إنه لا يليق بكرامة هذا الشعب أن يبقى دائما يطلب العون من الآخرين)).
فهذا درس ينبغي ألا يهمله العالم الثالث المنغمس في سياسة الاستنجاد
--------------------------------------------
তাকে তার রশদ ও মজুরি কর্তনের মাধ্যমে দণ্ডিত করা হবে না, বরং তার ওপর আরও কিছু দিন অনুপস্থিত থাকার (অতিরিক্ত কার্যকাল) বিধান আরোপ করা হবে।
এখানে দণ্ডটি এই মূলনীতির (قاعدة) ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, ব্যক্তির জীবনে অর্থনৈতিক আবর্তের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক আবর্ত বা প্রভাবক অধিক কার্যকর।
কিন্তু এই মূলনীতিটি (قاعدة) কি কোনো শর্ত বা বাধানিষেধ ছাড়াই সঠিক হতে পারে?
আমরা এর প্রভাব কেবল একটি প্রকৃত নৈতিক পরিবেশেই কল্পনা করতে পারি, যা বিপ্লব নিজেই সৃষ্টি করে এবং তার এক মৌলিক অর্জন হিসেবে একে সংরক্ষণ করে; ঠিক যেমন পরিবেশ আমরা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ‘পেছনে রয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের’ (مخلفون) কাহিনীতে অনুভব করি।
আমরা যদি কিউবার অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকাই, তবে দেখতে পাই যে (কাস্ট্রো) কেবল জনসমক্ষে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ এবং জনসাধারণের কাছে সেগুলোর ব্যাখ্যার মাধ্যমেই এই পরিবেশ সৃষ্টি করেননি, বরং তিনি নিজের ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমেও এর প্রতিনিধিত্ব করেছেন যাতে তিনি এই সবকিছুর ক্ষেত্রে একজন আদর্শ (قدوة) হতে পারেন।
তিনি যখন পেট্রোল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তখন কিউবার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে এর জোরালো অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ছিল; এমন এক অবরোধ যার ফলে এমনকি (বন্ধুপ্রতীম দেশসমূহ) থেকে আমদানিকৃত পেট্রোলও ভোগের সেই ২% বৃদ্ধি মেটাতে পারছিল না, যা পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় ৮% হিসেবে প্রাক্কলন করা হয়েছিল। তিনি ইংরেজি নববর্ষ (১) উপলক্ষে দেওয়া তাঁর ভাষণে এর প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন।
কিন্তু যে বিষয়টি এই সিদ্ধান্তকে কার্যকারিতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে, তা হলো কাস্ট্রো কর্তৃক এর অ-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা প্রদান। তিনি সেই একই ভাষণে বলেছিলেন, “এই জাতির মর্যাদার সাথে এটি সংগতিপূর্ণ নয় যে, তারা সর্বদা অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে।”
এটি এমন একটি শিক্ষা যা সাহায্য প্রার্থনার রাজনীতিতে নিমজ্জিত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والاستجداء. فقد أعطى (كاسترو) من نفسه القدوة، إذ استبدل بالسيارة التي ورثها عن خصمه السابق (باتيستا) سيارة عسكرية تقتصد استهلاك البترول.
هذا كله قد يسميه الآخرون (الأخلاق الماركسية) نسبة إلى انتماء (كاسترو)، ولكننا في إطار النظرة الموضوعية نراه فقط (الأخلاق) في المناخ الثوري.
إن ثورة ما، لن تستطيع تغيير الإنسان إن لم تكن لها قاعدة أخلاقية قوية.
إن (روبسبيير) و (سان جوست) وهما من هما في الثورة الفرنسية، يمثلان قبل كل شيء أنضج صورة لأخلاق ثورية لا تنازل فيها.
فلا يجوز لنا إذن أن نستغرب الأمر إذا ما كان (كاسترو) لا يفسر قرارا اتخذه بالأرقام أي بمسوغات مادية، بل يفسره بمسوغات أخلاقية عندما يشير إلى كرامة الشعب الكوبي.
إن ثورة تقوم، لا تكون ثورة حقيقية لمجرد ما تجتهد في نشر العدالة الاجتماعية بين طبقات الشعب، إذا هي لم تعلمه كيف يستعيد شخصيته، وتلقنه معنى كرامته.
ولقد يكون التعبير عن هذه الكرامة في نص الدستور نفسه، كالتصريح بحقوق الإنسان والمواطن في الثورة الفرنسية، أو يكون بمجرد قرار عن ضرورة التقشف في استهلاك البترول كما أشرنا إليه في كوبا.
وهذه الاعتبارات عن وظيفة الأخلاق، ليست بنت الأمس: فقضية تكريم الإنسان لم تهمل ولم تنس في الثورة الإسلامية منذ أربعة عشر قرنا: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ} [الإسراء70/ 17]. هكذا وضع القرآن الكريم في آية لكرامة الإنسان قاعدة سامية بالنسبة لدنياه ولآخرته.
এবং ভিক্ষাবৃত্তি। (কাস্ত্রো) নিজেই নিজের পক্ষ থেকে একটি আদর্শ (قدوة) পেশ করেছেন, কারণ তিনি তাঁর পূর্ববর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী (বাতিস্তা) থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত গাড়ির পরিবর্তে একটি সামরিক গাড়ি ব্যবহার শুরু করেন যা জ্বালানি সাশ্রয় করে।
অন্যরা হয়তো একে (কাস্ত্রোর) আদর্শিক সম্পৃক্ততার কারণে (মার্ক্সীয় নীতিশাস্ত্র) বলে অভিহিত করতে পারেন, কিন্তু আমরা একটি বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বৈপ্লবিক পরিবেশে একে কেবল (নীতিশাস্ত্র) হিসেবেই দেখি।
নিশ্চয়ই কোনো বিপ্লব মানুষকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে না যদি তার কোনো সুদৃঢ় নৈতিক ভিত্তি (قاعدة) না থাকে।
নিশ্চয়ই (রোবসপিয়ার) এবং (সাঁ-জুস্ত) ফরাসি বিপ্লবে যে স্তরেরই ব্যক্তিত্ব হোন না কেন, তাঁরা সর্বাগ্রে আপসহীন বৈপ্লবিক নীতিশাস্ত্রের এক পরিপক্ক রূপের প্রতিনিধিত্ব করেন।
অতএব আমাদের জন্য বিষয়টি বিস্ময়কর হওয়া উচিত নয় যদি (কাস্ত্রো) তাঁর গৃহীত কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা সংখ্যা বা জাগতিক যুক্তিতে না দিয়ে বরং কিউবান জনগণের মর্যাদার কথা উল্লেখ করে নৈতিক যুক্তিতে প্রদান করেন।
একটি বিপ্লব কেবল তখনই প্রকৃত বিপ্লব হতে পারে না যখন তা জনগণের বিভিন্ন স্তরের মাঝে সামাজিক ন্যায়বিচার (عدالة) প্রতিষ্ঠায় কেবল প্রচেষ্টা (اجتهاد) চালায়, যতক্ষণ না তা মানুষকে শেখায় কীভাবে সে তার ব্যক্তিত্ব ফিরে পাবে এবং তাকে তার মর্যাদার তাৎপর্য অনুধাবন করায়।
এই মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ খোদ সংবিধানের মূলপাঠেই হতে পারে, যেমন ফরাসি বিপ্লবে ঘোষিত মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের ঘোষণা; অথবা কেবল জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের প্রয়োজনীয়তার মতো সাধারণ সিদ্ধান্তের মাধ্যমেও হতে পারে, যেমনটি আমরা কিউবার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি।
নীতিশাস্ত্রের ভূমিকা সম্পর্কিত এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো অতি সাম্প্রতিক কোনো বিষয় নয়: মানুষের মর্যাদার বিষয়টি চৌদ্দশ বছর আগের ইসলামী বিপ্লবেও অবহেলিত বা বিস্মৃত হয়নি: {আর আমি তো আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি} [বনী ইসরাঈল: ৭০/১৭]। এভাবেই পবিত্র কুরআন মানুষের মর্যাদার বর্ণনায় একটি আয়াত (آية)-এর মাধ্যমে তার দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য এক সুউচ্চ মূলনীতি (قاعدة) স্থাপন করেছে।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والإنسان لا يجوز له أن يخالف في سلوكه هذا التكريم، الذي لا يضمن له حقوقا فقط، بل يفرض عليه واجبات أيضا.
هذه الازدواجية تتمثل أحسن تمثيل، في حديث عن حكيم بن حزام إذ يقول:
((سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأعطاني، ثم سألته فأعطاني ثم قال لي:
يا حكيم إن هذا المال خضر حلو، فمن أخذه بسخاء نفس بورك له فيه، ومن أخذه باستشراف نفس لم يبارك له فيه، وكان كالذي يأكل ولا يشبع، واليد العليا خير من اليد السفلى. قال حكيم: فقلت يا رسول الله، والذي بعثك بالحق لا أرزأ أحدا بعدك شيئا حتى أفارق الدنيا، فكان أبو بكر يدعو حكيما ليعطيه العطاء فيأبى أن يقبل منه شيئا، ثم إن عمر دعاه ليعطيه فأبى أن يقبل.
فقال يا معشر المسلمين، إني أعرض عليه حقه الذي قسم الله له من هذا الفيء فيأبى أن يأخذه.
فلم يرزأ حكيم أحدا من الناس بعد النبي صلى الله عليه وسلم حتى توفي رحمه الله).
فهذا الحديث يلخص ويوضح لنا كل ما نسميه (أخلاقية الثورة)، إعطاء الإنسان حقه ولكن مع الحفاظ على كرامته.
إن بعث الإنسان ليس ثمنه ضمان حقوقه فقط.
بل إننا نرى في موقف حكيم، بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، الثمن الحقيقي حين يرفض حقه من الفيء.
إن الثورة الجزائرية تستطيع أن تستوحي من الثورات العصرية، لبعث الإنسان الجزائري وتغييره بعد ما أصابه في فطرته طيلة عهد الاستعمار، ولكن إذا كان خطاب الرئيس (بومدين) الأخير أثناء رحلته في جبال أوراس، قد
মানুষের জন্য তার আচরণে এই সম্মানবোধের পরিপন্থী হওয়া সমীচীন নয়, যা কেবল তার অধিকারই নিশ্চিত করে না বরং তার ওপর কর্তব্যও অর্পণ করে।
এই দ্বিমুখী বৈশিষ্ট্যটি হাকীম ইবনে হিযাম বর্ণিত একটি হাদিসে সর্বোত্তমভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন:
((আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে প্রার্থনা করলাম, তিনি আমাকে দান করলেন। এরপর পুনরায় চাইলাম, তিনি পুনরায় দান করলেন। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন:
হে হাকীম! নিশ্চয়ই এই সম্পদ সবুজ শ্যামল ও মিষ্ট। যে ব্যক্তি মনের ঔদার্যের সাথে তা গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি লোভাতুর হৃদয়ে তা গ্রহণ করবে, তাতে তার জন্য বরকত হবে না; সে এমন ব্যক্তির মতো হবে যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না। আর ওপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম। হাকীম বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আপনার পর ইহকাল ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত আমি আর কারো কাছ থেকে কিছুই গ্রহণ করব না। এরপর আবু বকর (রা.) হাকীমকে ভাতা প্রদানের জন্য ডাকতেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতেন। অতঃপর উমর (রা.)-ও তাকে প্রদানের জন্য ডাকলেন, কিন্তু তিনি তা গ্রহণে অসম্মতি জানালেন।
তখন তিনি বললেন, হে মুসলিম সম্প্রদায়! আমি তার সামনে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তার প্রাপ্য অধিকার পেশ করছি, কিন্তু সে তা নিতে অস্বীকার করছে।
নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মৃত্যু পর্যন্ত হাকীম মানুষের নিকট থেকে আর কিছুই গ্রহণ করেননি)।
এই হাদিসটি আমাদের নিকট সেই বিষয়টিকে সংক্ষেপিত ও সুস্পষ্ট করে, যাকে আমরা 'বিপ্লবের নৈতিকতা' বলে থাকি; অর্থাৎ মানুষের অধিকার তাকে প্রদান করা, তবে তার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে।
মানুষের পুনর্জাগরণ কেবল তার অধিকার নিশ্চিত করার নামান্তর নয়।
বরং আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর হাকীমের অবস্থানের মধ্যে সেই প্রকৃত তাৎপর্য দেখতে পাই, যখন তিনি যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রত্যাখ্যান করেন।
আলজেরীয় বিপ্লব আধুনিক বিপ্লবগুলো থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করতে পারে, যাতে আলজেরীয় মানুষের পুনর্জাগরণ ঘটে এবং দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের ফলে তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতিতে যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে তার পরিবর্তন সাধন করা যায়। তবে আওরাস পর্বতমালা ভ্রমণের সময় প্রেসিডেন্ট (বুমেডিন)-এর সাম্প্রতিক ভাষণটি যদি...
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لفت النظر بصورة عامة، فالمقطع الذي نال منه هتافا أكبر من الحاضرين، هو الذي أشار فيه إلى جذور الثورة الإسلامية.
لقد هتف الشعب لهذا المقطع، لأنه يعيد الثورة إلى إطارها التاريخي الحقيقي. فالشعب أحس عند هذا المقطع بشخصيته تتحرك في أحشائه، ولقد أثارتنا على شاشة التلفزة تلك الصور التي التقطت أثناء الرحلة، حيث نرى رجالا شدادا كالجبال التي حولهم، يجيبون عن الأسئلة المطروحة عليهم وهم يمسحون الدموع. فالقوى الأخلاقية التي قامت بالثورة ثم بدأت تتقهقر في عهد الديماغوجية بدأت تنطلق من جديد. فلعل الإنسان الذي تركته الظروف إلى العزلة والإنفراد يعود إلى عشيرته ومصيره الوطني في المناخ الجديد.
فالحوار الذي دار بين المسؤولين والجماهير، تحت قمم أوراس الشاهقة، قد أعاد في كلمات قالت الحقيقة، الجسر الذي يصل الشعب بالدولة.
وليس غريبا في هذا المناخ من الثقة المتبادلة أن تتحقق المعجزات، ولو كان ثمنها مزيدا من التقشف، لأن الصعوبات لا تزول بين عشية وضحاها بعصا سحرية.
هذا هو السر الذي أدركه (كاسترو) عندما ركز سياسة الإنتاج في بلاده على الحافز الأخلاقي أكثر من الحافز المادي. وقد أنهى بذلك عملية تخريب تقوم بها تحت الأرض شرذمة تسعى لتبريد المناخ الثوري بالمزايدة الديماغوجية أو حتى بالخيانة الصرفة.
إن كل ثورة ملزمة بأن تحمي نفسها من سائر المحاولات التخريبية، التي يكون فيها أصحابها سلطة جانبية في وطن ثوري، يؤثرون فيه حتى لحساب الخارج بما في أيديهم من وسائل السلطة.
সাধারণভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো বিষয় হলো, বক্তব্যের যে অংশটি উপস্থিতদের নিকট থেকে সবচেয়ে বেশি করতালি ও সমর্থন পেয়েছে, তা ছিল ইসলামি বিপ্লবের শেকড়ের প্রতি তার ইঙ্গিত।
জনগণ এই অংশটির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছে, কারণ এটি বিপ্লবকে তার প্রকৃত ঐতিহাসিক কাঠামোর দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। জনগণ এই অংশে নিজেদের ব্যক্তিত্বের এক অন্তর্নিহিত স্পন্দন অনুভব করেছে। টেলিভিশনের পর্দায় সফরের সময় ধারণকৃত সেই দৃশ্যগুলো আমাদের আলোড়িত করেছে, যেখানে আমরা পাহাড়ের মতো সুদৃঢ় পুরুষদের অশ্রু মুছতে মুছতে জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখেছি। যে নৈতিক শক্তিগুলো বিপ্লব ঘটিয়েছিল এবং জনতুষ্টিবাদী প্ররোচনার যুগে পিছু হটতে শুরু করেছিল, তা পুনরায় জাগ্রত হয়েছে। সম্ভবত পরিস্থিতির চাপে যে মানুষটি একাকীত্ব ও বিচ্ছিন্নতা বেছে নিয়েছিল, সে এই নতুন পরিবেশে তার জাতি ও জাতীয় ভাগ্যের সাথে পুনরায় একাত্ম হবে।
সুউচ্চ আউরাস পর্বতশৃঙ্গের পাদদেশে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ও জনসাধারণের মধ্যে যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা সত্যনিষ্ঠ শব্দমালার মাধ্যমে জনগণের সাথে রাষ্ট্রের সংযোগকারী সেতুটিকে পুনঃস্থাপন করেছে।
পারস্পরিক আস্থার (الثقة) এই পরিবেশে অলৌকিক কিছু অর্জন করা মোটেও অসম্ভব নয়, যদিও তার বিনিময়ে আরও কৃচ্ছ্রসাধন প্রয়োজন হতে পারে; কারণ সমস্যাগুলো রাতারাতি কোনো জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় অপসারিত হয় না।
এটিই সেই রহস্য যা ক্যাস্ট্রো উপলব্ধি করেছিলেন যখন তিনি তার দেশের উৎপাদন নীতিতে বস্তুগত প্রণোদনার চেয়ে নৈতিক উদ্দীপনার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি একদল অশুভ চক্রের গোপন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটিয়েছিলেন, যারা জনতুষ্টিবাদী বাগাড়ম্বর কিংবা এমনকি নিছক বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে বিপ্লবী পরিবেশকে স্তিমিত করতে সচেষ্ট ছিল।
প্রতিটি বিপ্লব নিজেকে সব ধরনের নাশকতামূলক প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা করতে দায়বদ্ধ, যেখানে ষড়যন্ত্রকারীরা একটি বিপ্লবী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সমান্তরাল কর্তৃত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয় এবং তাদের হাতে থাকা ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে এমনকি বহিঃশক্তির স্বার্থে কাজ করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وبعبارة أخرى، فإذا كانت الثورة في حاجة إلى (أخلاقية) لا تتنازل عن شيء، فمن واجبها أيضا أن تتمتع بحاسة نقدية لا يفوتها شيء، حتى لا تؤخذ على غرة في أي لحظة وفي أي قطاع من أجهزة الدولة.
فعندما تحدث الرئيس (بومدين)، أثناء رحلته بجبال الأوراس، عن بقايا (الحركيين)، فكأنه أراد أن يشير في هذه المناسبة إلى ضرورة طرح مثل هذه القضية.
وإن طرحها لواجب فعلا، ولنا أكثر من مسوغ في هذا الصدد. وبالإضافة إلى ذلك، فالثورة التي تقف في منتصف الطريق خلال إنجاز مهماتها أو تخشى إصلاح أخطائها فإنها تنتحر.
فالسياسة تستطيع المراوغة والمداهنة، لكن الثورة تفرض عليها أخلاقيتها أن تمضي إلى آخر المطاف.
***
অন্য কথায়, বিপ্লবের যদি এমন এক নৈতিকতার প্রয়োজন হয় যা কোনো কিছুর সাথেই আপস করে না, তবে তার জন্য এটিও অপরিহার্য যে সে এক সূক্ষ্ম সমালোচনামূলক প্রজ্ঞা (حاسة نقدية) লালন করবে যা কোনো কিছুকেই এড়িয়ে যায় না; যাতে করে কোনো মুহূর্তে বা রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের কোনো বিভাগে তাকে আকস্মিকভাবে অপ্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া না যায়।
প্রেসিডেন্ট (বুমাদিন) যখন আওরাস পর্বতমালা সফরকালে হারকিয়্যিনদের (الحركيين) অবশিষ্টাংশ সম্পর্কে আলোচনা করেছিলেন, তখন মনে হয়েছিল তিনি এই বিশেষ সময়ে এ ধরনের একটি বিষয় উত্থাপন করার প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন।
আর এটি উত্থাপন করা প্রকৃতপক্ষে একটি অনিবার্য কর্তব্য এবং এ বিষয়ে আমাদের কাছে একাধিক যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। অধিকন্তু, যে বিপ্লব তার লক্ষ্য অর্জনের মাঝপথে থেমে যায় অথবা নিজের ভুলত্রুটি সংশোধনে ভয় পায়, সে মূলত আত্মহনন করে।
রাজনীতিতে চাতুর্য ও তোষামোদ সম্ভব, কিন্তু বিপ্লবের নৈতিকতা তাকে তার যাত্রার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে বাধ্য করে।
***
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تقلبات عبر استقلال جديدعن (الثورة الإفريقية) عدد 249 أسبوع 23: 29 تشرين الثاني (نوفمبر) 1967.
ها إن الأمر قد تقرر، فالحكومة الإنجليزية صرحت رسميا عن جلاء جنودها، في آخر هذا الشهر من عدن وما حولها مما يسمى (الجنوب العربي).
وهكذا ينشأ استقلال جديد في التيار الذي بدأ بعد الحرب العالمية الثانية تحت اسم (تصفية الاستعمار).
إن الأيام الكبرى في التاريخ فترات يسودها الإكبار والإجلال، وتسكت فيها النزعات الخاصة، وتهمد المنازعات، حتى تلك التي تحركها الفوارق الإيديولوجية، وهكذا تسكن العقول والقلوب إلى بعضها كما حدث في فرنسا عام 1945 عندما ائتلف أتباع (ديجول) وأتباع (توزير) وشكلوا حكومة التحرير.
إنها لحظات فرح وتأمل معا، تضع سماتها على وجوه جماهير مبتهجة، فها هن أولاء النسوة يلوحن بمناديلهن البيضاء، ويطلقن زغاريدهن تحية لجيش منتصر، وها هم أولاء الأطفال يملؤون الجو ضحكا ومرحا. وها هو ذا الشيخ العجوز يمسح بيد ترتعش، دمعة تجري على خد كتب العصر فيه سطور أيامه.
إنهم جميعا يعبرون بطريقتهم الخاصة عن عظمة أيام لها معنى في تاريخ الوطن.
حركاتهم التقليدية المألوفة، تبدو وكأنها تمحو لحظات أخرى عاشوها في
একটি নতুন স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে আবর্তনসমূহ‘আফ্রিকান রিভলিউশন’ (আ-সাওরাতুল ইফরিকিয়্যাহ) সংখ্যা ২৪৯, সপ্তাহ ২৩: ২৯ নভেম্বর ১৯৬৭ থেকে সংগৃহীত।
অবশেষে বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে; ব্রিটিশ সরকার এই মাসের শেষে এডেন এবং এর আশপাশের অঞ্চল—যা ‘দক্ষিণ আরব’ নামে পরিচিত—থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সৈন্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।
এভাবেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ‘উপনিবেশবাদ অবসান’ নামে যে ধারার সূচনা হয়েছিল, তার অধীনে একটি নতুন স্বাধীনতার উন্মেষ ঘটছে।
ইতিহাসের মহিমান্বিত দিনগুলো এমন সময়কাল যখন শ্রদ্ধা ও গাম্ভীর্য বিরাজ করে, ব্যক্তিগত ঝোঁকগুলো নিস্তব্ধ হয়ে যায় এবং বিবাদগুলো দমিত হয়; এমনকি আদর্শিক পার্থক্যের কারণে সৃষ্ট বিবাদগুলোও শান্ত হয়ে আসে। এভাবেই মানুষের মন ও হৃদয় একে অপরের নিকটবর্তী হয়, যেমনটি ১৯৪৫ সালে ফ্রান্সে ঘটেছিল যখন ‘দ্য গল’ ও ‘থোরেজ’-এর অনুসারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন এবং মুক্তি সরকার গঠন করেছিলেন।
এটি একই সাথে আনন্দ ও গভীর ভাবনার মুহূর্ত, যা উল্লসিত জনতার মুখাবয়বে নিজ চিহ্ন রেখে যায়। এই তো সেই নারীরা যারা সাদা রুমাল নেড়ে সম্ভাষণ জানাচ্ছেন এবং বিজয়ী বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে উলুধ্বনি দিচ্ছেন। আর এই তো সেই শিশুরা যারা হাসি ও আমেজে চারপাশ মুখরিত করে তুলছে। এই তো সেই বৃদ্ধ লোক যিনি কম্পিত হাতে গাল বেয়ে পড়া অশ্রু মুছছেন, যার ওপর মহাকাল তার দিনলিপির রেখা অঙ্কন করেছে।
তারা সকলেই নিজ নিজ পন্থায় স্বদেশের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ দিনগুলোর মাহাত্ম্য প্রকাশ করছেন।
তাদের চিরচেনা চিরাচরিত অঙ্গভঙ্গিগুলো দেখে মনে হচ্ছে যেন তা অন্য সেই মুহূর্তগুলোকে মুছে দিচ্ছে যা তারা যাপন করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المحنة. كما يمحو الشعب من ذاكرته أيام حرب خاضها بدمه، أو أيام احتلال أجنبي عاناها أو أيام
… الاستعمار.
ولكن يحدث أحيانا في جو البهجة أن تنفجر المأساة!
فالجزائر التي كانت تعيش عيد استرجاع الوطن المفقود، كادت تعيش ذلك اليوم في 5 تموز (يوليو) عام 1962 يوم حزن وطني، لولا حكمة الشعب وتدخله بين طرفين يتنازعان السلطة.
الوطن يتذكر كيف كاد ذلك اليوم أن يكون أحلك أيام الثورة، لأن بعض الفئات دنست اللحظة الجليلة بنزعات فردية، لم تذب في حرارة التعارف والإخاء اللذين كانا يسودان ذلك اليوم.
هكذا جمدت على الشفاه ذلك اليوم زغاريد النساء، وبدت على وجوه الشيوخ طيات من الأسى جديدة، وتوارى ضحك الأطفال من شوارع العاصمة الجزائرية، حين تواجه الطامعون في السلطة من الفريقين برصاص رشاشاتهما.
نذكر هذا كله في الجزائر ونذكر كيف كانت حكمة الشعب وحدها، الحائل دون تفاقم الصراع والأخذ بعيد الاستقلال إلى جو البهجة والحبور.
وشعب فيتنام وهو لا زال يعيش المأساة يتذكر هو الآخر كيف دنست النوازع يوم استقلاله.
شعب الكونجو وما حل به بعد انسحاب السلطة البلجيكية، ثم شعب نيجيريا يعيش المأساة وكأنها تنتظر كل شعب من شعوب العالم الثالث وهو على عتبة استقلاله.
إنها لظاهرة تتسم بها البلدان المستعمرة، فأي وطن منها ارتفع فيه علم الاستقلال، لم يجد في ذلك اليوم أزمة تنفجر على مستوى قياداته!؟
মহাসংকট। যেমনটি একটি জাতি তার স্মৃতি থেকে নিজের রক্ত দিয়ে লড়া যুদ্ধের দিনগুলো, অথবা বিদেশী দখলদারিত্বের যাতনাময় দিনগুলো, কিংবা
… উপনিবেশবাদের দিনগুলোকে মুছে ফেলে।
কিন্তু কখনও কখনও আনন্দের আমেজের মধ্যেই বিয়োগান্তক বিপর্যয়ের বিস্ফোরণ ঘটে!
আলজেরিয়া, যা হারানো মাতৃভূমি পুনরুদ্ধারের উৎসব উদযাপন করছিল, ১৯৬২ সালের ৫ই জুলাই দিনটি প্রায় এক জাতীয় শোকের দিনে পরিণত হতে চলেছিল; যদি না জনগণের প্রজ্ঞা এবং ক্ষমতা নিয়ে দ্বন্দ্বরত দুই পক্ষের মধ্যে তাদের হস্তক্ষেপ কার্যকর হতো।
স্বদেশ স্মরণ করে কীভাবে সেই দিনটি বিপ্লবের ঘোরতর অন্ধকার দিনে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, কারণ কিছু গোষ্ঠী সেই মহিমান্বিত মুহূর্তটিকে ব্যক্তিগত লালসা দ্বারা কলঙ্কিত করেছিল, যা সেই দিনের বিরাজমান পারস্পরিক পরিচিতি ও ভ্রাতৃত্বের উত্তাপে বিলীন হয়ে যায়নি।
এভাবেই সেদিন ওষ্ঠপ্রান্তে নারীদের উলুধ্বনি জমাট বেঁধে গিয়েছিল, বৃদ্ধদের অবয়বে শোকের নতুন রেখা ফুটে উঠেছিল এবং আলজেরিয়ার রাজধানীর রাজপথ থেকে শিশুদের হাসি অন্তর্হিত হয়েছিল, যখন দুই পক্ষের ক্ষমতালেভীরা একে অপরের বিরুদ্ধে মেশিনগানের গুলি বর্ষণ করে মুখোমুখি হয়েছিল।
আলজেরিয়ায় আমরা এই সবকিছু স্মরণ করি এবং মনে করি কীভাবে কেবল জনগণের প্রজ্ঞাই ছিল সংঘাতের চরম আকার ধারণের পথে একমাত্র অন্তরায় এবং স্বাধীনতার উৎসবকে হর্ষ ও উল্লাসের আমেজে ফিরিয়ে নেওয়ার মাধ্যম।
ভিয়েতনামের জনগণও, যারা এখনও সেই বিয়োগান্তক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে, তারাও মনে রাখে কীভাবে কুপ্রবৃত্তিগুলো তাদের স্বাধীনতা দিবসকে কলঙ্কিত করেছিল।
কঙ্গোর জনগণ এবং বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষের প্রস্থানের পর তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল, অতঃপর নাইজেরিয়ার জনগণও সেই বিয়োগান্তক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে; যেন এটি তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটি জাতির জন্য তাদের স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে প্রতীক্ষমাণ।
এটি একটি বৈশিষ্ট্য যা ঔপনিবেশিক দেশগুলোর মধ্যে পরিলক্ষিত হয়; এমন কোনো দেশ আছে কি যেখানে স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলিত হয়েছে অথচ সেই দিনে তার নেতৃত্বের পর্যায়ে কোনো সংকটের বিস্ফোরণ ঘটেনি!?
(খণ্ড: ১)
বাইনার রাশাদ ওয়াত তীহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لقد كان (التقسيم) وليد هذه الظاهرة في الهند. فكانت باكستان بغثّها وسمينها وما منيت به من خسائر في النفس والنفيس، فضلا عن هجرة الملايين أو تهجيرهم مطاردين في طرفي حدود مصطنعة. وكانت أخيرا رصاصة مني بها رجل (اللاعنف) غاندي نفسه وقضت عليه إبان الزوبعة التي أثارها استقلال الهند.
قد لا نخطئ إذ نعزو ذلك إلى دهاء الإنجليز، فإذا اعتمدنا هذا السبب- وهو ليس السبب الوحيد- فدور رجل مثل (باطيل) (1) ونظيره الباكستاني لا يقل أهمية في الموضوع.
وبعبارة أدق فزعماء المؤتمر الهندي من ناحية، والرابطة الإسلامية من ناحية أخرى، هم الذين تحقق على أيديهم تمزيق الوطن وزهق ملايين النفوس.
ينبغي أن نسقط أحداث الجنوب العربي على هذه الخلفية، إذا أردنا أن نفهم طبيعة الخلاف الناشب اليوم بين الحركتين وهما على عتبة إستقلال الوطن.
هنا أيضا لا نغفل دور (إنجلترا) التي تريد أن تغادر الديار، ولكن بعد إضرام النار في أركانها.
وإذا كان الأمر كذلك، فإنها تقاليد الاستعمار يباشر (تصفية الاستعمار) كما يقولون بهذه الطريقة، حدث ذلك في فلسطين عام 1948 عندما غادرها الجيش البريطاني على رؤوس الأصابع، ليترك الشعب الفلسطيني تحت رحمة رشاشات المنظمات الإرهابية الصهيونية كـ (شتيرن والهجانا).
بل لعل الطريقة التي اتبعها الإنجليز في فلسطين، أكثر وضوحا من الطرق التي يسلكها الاستعمار عادة في مثل هذه الحالات، فقد جاء انسحاب الجيش
--------------------------------------------
(ভারত বিভাজন) ছিল ভারতের এই পরিস্থিতিরই এক ফসল। এর ফলে পাকিস্তান তার ভালো-মন্দ সবকিছু এবং জান-মালের যে অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল—তাছাড়া কৃত্রিম সীমান্তের উভয় প্রান্তে লক্ষ লক্ষ মানুষের হিজরত বা দেশান্তরের ঘটনা তো ছিলই। পরিশেষে এটি ছিল সেই বুলেট যা খোদ 'অহিংস' (অহিংসা) নেতা গান্ধী নিজে বরণ করেছিলেন এবং ভারতের স্বাধীনতার ফলে সৃষ্ট ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে তা তাঁর জীবনাবসান ঘটিয়েছিল।
আমরা যদি এর পেছনে ব্রিটিশদের ধূর্ততাকে দায়ী করি, তবে তা ভুল হবে না; যদিও এটিই একমাত্র কারণ নয়। আর যদি আমরা এই কারণটির ওপর নির্ভর করি, তবে (প্যাটেল) (১) এবং তাঁর পাকিস্তানি প্রতিপক্ষের ভূমিকাও এই বিষয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, একদিকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ এবং অন্যদিকে মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দই ছিলেন তাঁরা, যাঁদের হাতে মাতৃভূমির ব্যবচ্ছেদ এবং লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনাশ বাস্তবায়িত হয়েছিল।
আমরা যদি বর্তমানে স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে উপনীত দুই আন্দোলনের মধ্যে বিদ্যমান বিরোধের স্বরূপ বুঝতে চাই, তবে আমাদের দক্ষিণ আরবের ঘটনাবলিকে এই প্রেক্ষাপটে বিচার করতে হবে।
এখানেও আমরা (ইংল্যান্ড)-এর ভূমিকাকে উপেক্ষা করতে পারি না, যারা এই দেশ ত্যাগ করতে চেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এর প্রতিটি কোণে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার পর।
যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে এটিই হলো সাম্রাজ্যবাদের চিরাচরিত নীতি; তারা তথাকথিত 'সাম্রাজ্যবাদ নির্মূল' (উপনিবেশবাদ বিলোপ) প্রক্রিয়াটি এভাবেই সম্পন্ন করে থাকে। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনেও এমনটিই ঘটেছিল, যখন ব্রিটিশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত সন্তর্পণে সেখান থেকে চলে যায় এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে 'স্টার্ন' ও 'হাগানাহ'-এর মতো জায়নবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর মেশিনগানের মুখে অসহায় অবস্থায় ফেলে যায়।
বরং ফিলিস্তিনে ব্রিটিশদের অনুসৃত পদ্ধতিটি সাম্রাজ্যবাদের সাধারণ কর্মপদ্ধতির চেয়েও অধিক স্পষ্ট ছিল। মূলত সেনাবাহিনীর সেই প্রত্যাহার...
--------------------------------------------