(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
حقيقة شهادة أن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلم القسم: العقيدة
الكتاب: حقيقة شهادة أن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلم
المؤلف: عبد العزيز بن عبد الله بن محمد بن عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن بن الشيخ محمد بن عبد الوهاب
عدد الصفحات: 126
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল — এই সাক্ষ্যের প্রকৃত তাৎপর্য বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল — এই সাক্ষ্যের প্রকৃত তাৎপর্য
লেখক: আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান বিন শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
حقيقة شهادة أن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلم
لسماحة الشيخ
عبد العزيز بن عبد الله بن محمد آل الشيخ
المفتي العام للمملكة العربية السعودية
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল—এই সাক্ষ্য প্রদানের প্রকৃত তাৎপর্য (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
মহামান্য শাইখ
আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-শাইখ
সৌদি আরব রাজ্যের গ্র্যান্ড মুফতি
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه، ومن سار على نهجه واقتفى أثره إلى يوم الدين.
أما بعد:
فهذه رسالة لطيفة مختصرة حول [حقيقة شهادة أن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلم] رأينا نشرها للناس؛ لدعاء الحاجة، بل والضرورة لذلك، ولما نرى من جهل كثير من المسلمين، فضلا عن غيرهم بحقيقة شهادة أن محمدا رسول الله، ووقوعهم فيما يخالفها مما يناقضها، أو يضاد كمالها، أو ينقص به إيمان العبد بها.
فكان لزاما أن نبين ذلك؛ نصيحة لله ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم؛ امتثالا لأمر الله - سبحانه -:
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আর আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর আদর্শ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করবেন, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
এটি [মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)—এই সাক্ষ্যের প্রকৃত স্বরূপ] সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত ও সুনিপুণ পুস্তিকা, যা আমরা মানুষের নিকট প্রচার করা প্রয়োজন মনে করেছি; এর প্রয়োজনীয়তা, বরং অপরিহার্যতা বিবেচনা করে। এছাড়া অনেক মুসলিমের মাঝে—অন্যদের কথা তো বাদই দিলাম—মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল হওয়ার সাক্ষ্যের প্রকৃত তাৎপর্য সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং এই সাক্ষ্যের পরিপন্থী ও একে বাতিলকারী বিষয়, কিংবা এর পূর্ণতার হানিকারক অথবা এর প্রতি বান্দার বিশ্বাসকে (ঈমান) হ্রাস করে—এমন সব বিষয়ে তাদের লিপ্ত হতে দেখে এটি প্রকাশ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
তাই আল্লাহ, তাঁর রাসূল, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের প্রতি অকৃত্রিম শুভকামনার (নসীহত) খাতিরে এবং মহিমান্বিত আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে এটি স্পষ্ট করা আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে:
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
{وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَى تَنْفَعُ الْمُؤْمِنِينَ} (1) وقوله تعالى: {فَذَكِّرْ إِنْ نَفَعَتِ الذِّكْرَى} (2) وقوله عز وجل: {فَذَكِّرْ إِنَّمَا أَنْتَ مُذَكِّرٌ} (3) {لَسْتَ عَلَيْهِمْ بِمُسَيْطِرٍ} (4) إلى غير ذلك من الآيات.
ولقوله صلى الله عليه وسلم: «الدين النصيحة، الدين النصيحة، الدين النصيحة ". قال الصحابة: لمن يا رسول الله؟ قال: " لله، ولكتابه، ولرسوله، ولأئمة المسلمين وعامتهم (5) » . رواه مسلم.
فواجب على كل من عرف الحق بدلائله أن يبينه، وينشره بين الناس، سيما في هذه الأزمان التي اشتدت فيها
--------------------------------------------
{আর আপনি উপদেশ দিন, কেননা উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে} (১) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব আপনি উপদেশ দিন, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়} (২) এবং পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব আপনি উপদেশ দিন, আপনি তো কেবল একজন উপদেশদাতা মাত্র} (৩) {আপনি তাদের ওপর কোনো বলপ্রয়োগকারী নন} (৪) এই জাতীয় আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর কারণে: «দীন হলো কল্যাণকামিতা, দীন হলো কল্যাণকামিতা, দীন হলো কল্যাণকামিতা।" সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন: "কার জন্য হে আল্লাহর রাসূল?" তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের নেতৃবৃন্দের জন্য এবং তাদের সাধারণ জনগণের জন্য (৫) »। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং যে ব্যক্তিই দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য চিনেছে, তার জন্য কর্তব্য (ওয়াজিব) হলো তা স্পষ্ট করা এবং মানুষের মাঝে তা প্রচার করা, বিশেষ করে এই বর্তমান সময়ে যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
غربة الإسلام، وبات المعروف فيها منكرا، والمنكر فيها معروفا، وقل من يرفع رأسه بالحق ويظهره، فلا حول ولا قوة إلا بالله.
وسلوانا قول الرسول صلى الله عليه وسلم: «بدأ الإسلام غريبا، وسيعود كما بدأ غريبا، فطوبى للغرباء (1) »
فأسأل الله العلي القدير: أن يمن علينا بالهداية إلى الصواب، والتوفيق للحق والسداد، وأن يلهمنا رشدنا، ويقينا شر أنفسنا، ويرينا الحق حقا ويرزقنا اتباعه، والباطل باطلا ويرزقنا اجتنابه، وأن يصلح لنا النية والعمل، وأن ينفع بما قيدناه في هذه الرسالة كل من اطلع عليها، ويجعلنا وإخواننا المسلمين من المتعاونين على البر والتقوى، إنه - سبحانه - جواد كريم.
--------------------------------------------
ইসলামের অপরিচিত অবস্থা বা নিঃসঙ্গতা, সেখানে এখন সৎকাজ অসৎকাজ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, আর অসৎকাজ গণ্য হচ্ছে সৎকাজ হিসেবে। সত্যের জন্য মাথা উঁচু করার এবং তা প্রকাশ করার লোক এখন অতি নগণ্য; আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
আর আমাদের সান্ত্বনা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: «ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায়, আর অচিরেই তা আবার পূর্বের ন্যায় অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। সুতরাং সেই অপরিচিত বা নিঃসঙ্গ ব্যক্তিদের জন্য সুসংবাদ (১)»
আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি: তিনি যেন আমাদের সঠিক পথের হিদায়াত দান করেন, সত্য ও সঠিকতার তাওফিক দেন, আমাদের অন্তরে সুবুদ্ধি দান করেন, আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন, আমাদের সত্যকে সত্য হিসেবে দেখান ও তা অনুসরণ করার তাওফিক দেন এবং মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান ও তা বর্জন করার তাওফিক দান করেন। তিনি যেন আমাদের নিয়ত ও আমল সংশোধন করে দেন এবং এই পুস্তিকায় আমরা যা লিপিবদ্ধ করেছি তা দ্বারা প্রত্যেক পাঠকারীকে উপকৃত করেন। আর তিনি যেন আমাদের এবং আমাদের মুসলিম ভাইদের সৎকাজ ও তাকওয়ার বিষয়ে পরস্পরকে সাহায্যকারী হিসেবে কবুল করেন; নিশ্চয়ই তিনি—পবিত্রতা তাঁরই প্রাপ্য—অত্যন্ত দানশীল ও মহানুভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
صفحة فارغة
খালি পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
تمهيد
وقبل البدء في ذلك أمهد بمقدمة أرى أنها نافعة.
فأقول مستعينا بالله:
لما خلق الله آدم ونفخ فيه الروح أمر ملائكته بالسجود له، وكان إبليس من الجن، وليس من الملائكة، وإنما دخل في خطابهم لتوسمه بأفعال الملائكة وتشبهه بهم، وتعبده وتنسكه، لكن حين أمروا بالسجود وسجد الملائكة، لم يسجد إبليس اللعين: {وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ} (1) ويقول - سبحانه - في سورة الكهف: {وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ} (2) الآية. أبي أن يسجد لآدم
--------------------------------------------
ভূমিকা
আর এটি শুরু করার পূর্বে আমি একটি ভূমিকা প্রদান করছি যা আমি মনে করি উপকারী হবে।
অতএব আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে বলছি:
যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং তার মধ্যে রূহ ফুঁকে দিলেন, তখন তিনি তাঁর ফেরেশতাদেরকে তাকে সিজদা করার নির্দেশ দিলেন। আর ইবলিস ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সে ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাকে তাদের প্রতি সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল ফেরেশতাদের ন্যায় আমল, তাদের সাথে সাদৃশ্য এবং তার ইবাদত ও কৃচ্ছ্রসাধনার কারণে। কিন্তু যখন তাদের সিজদা করার আদেশ দেওয়া হলো এবং ফেরেশতারা সিজদা করল, তখন অভিশপ্ত ইবলিস সিজদা করল না: {আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, 'তোমরা আদমের প্রতি সিজদা কর', তখন ইবলিস ব্যতীত তারা সবাই সিজদা করল। সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো} (১) এবং তিনি—মহিমান্বিত তিনি—সূরা আল-কাহফে বলেন: {আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, 'তোমরা আদমের প্রতি সিজদা কর', তখন ইবলিস ব্যতীত তারা সবাই সিজদা করল। সে ছিল জিনদের অন্তর্ভুক্ত, সে তার রবের আদেশ অমান্য করল} (২) আয়াত। সে আদমের প্রতি সিজদা করতে অস্বীকার করল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
كبرا وحسدا وبغيا، فكان عقابه أن طرد من رحمة الله، وحلت عليه لعنة الله، لكن الخبيث ازداد بغيه، وعظم حقده على آدم وذريته، وطلب من الله الإنظار إلى يوم القيامة، فأنظره الله، عند ذلك قال - كما قص الله خبره -: {قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ} (1) {ثُمَّ لَآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} (2)
والمعنى: أنه أقسم أن يضل عباد الله من بني آدم عن طريق الحق وسبيل النجاة؛ لئلا يعبدوا الله ولا يوحدوه، ويسلك شتى الطرق لصدهم عن الخير وتحبيب الشر لهم.
ومثله قوله تعالى قاصا خبره: {قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ} (3) {إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ} (4)
--------------------------------------------
অহংকার, হিংসা ও সীমালঙ্ঘনের কারণে; ফলে তার শাস্তি এই হলো যে তাকে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত করা হলো এবং তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ আপতিত হলো। কিন্তু সেই খবীস তার সীমালঙ্ঘন বৃদ্ধি করল এবং আদম ও তাঁর সন্তানদের ওপর তার বিদ্বেষ প্রবল হলো। সে আল্লাহর কাছে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ প্রার্থনা করল এবং আল্লাহ তাকে অবকাশ দিলেন। তখন সে বলল—যেমনটি আল্লাহ তার সংবাদ বর্ণনা করেছেন—: {সে বলল: আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমি অবশ্যই আপনার সরল পথে তাদের জন্য ওত পেতে বসে থাকব।} (১) {অতঃপর আমি অবশ্যই তাদের কাছে আসব তাদের সম্মুখ থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।} (২)
এর অর্থ হলো: সে শপথ করেছে যে সে আদম সন্তানদের মধ্য থেকে আল্লাহর বান্দাদের সত্য পথ ও মুক্তির পথ থেকে বিভ্রান্ত করবে; যাতে তারা আল্লাহর ইবাদত না করে এবং তাঁর একত্ববাদ (তাওহীদ) প্রতিষ্ঠা না করে। সে তাদেরকে কল্যাণ থেকে ফিরিয়ে রাখতে এবং মন্দকে তাদের নিকট প্রিয় করতে বিভিন্ন পথ অবলম্বন করবে।
অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী তার সংবাদ দিয়ে বলছে: {সে বলল: হে আমার রব! আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমি অবশ্যই পৃথিবীতে তাদের নিকট (পাপকে) সুশোভিত করব এবং আমি অবশ্যই তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট করব।} (৩) {তাদের মধ্য থেকে আপনার একনিষ্ঠ বান্দারা ব্যতীত।} (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقوله - سبحانه -: {قَالَ أَرَأَيْتَكَ هَذَا الَّذِي كَرَّمْتَ عَلَيَّ لَئِنْ أَخَّرْتَنِي إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَأَحْتَنِكَنَّ ذُرِّيَّتَهُ إِلَّا قَلِيلًا} (1) الآية
فلم يزل بآدم عليه السلام وذريته؛ وسوسة وإغواء وإضلالا، حتى تسبب في إهباط آدم من الجنة، وقتل ابن آدم لأخيه، ولم يكفه هذا، فلما مر ببني آدم الزمان، وطال عليهم العهد بالنبوة - حسن إليهم الشرك، وأغواهم، فكان له ما أراد، وصدق عليهم إبليس ظنه فاتبعوه، ووقعوا في الشرك، وكان أول ذلك زمن قوم نوح حين عبدوا الأصنام: ودا، وسواعا، ويغوث، ويعوق، ونسرا، وكانت هذه أسماء رجال صالحين من قوم نوح عليه السلام، فلما هلكوا أوحى الشيطان إلى قومهم أن انصبوا
--------------------------------------------
এবং সুবহানাহু-এর বাণী: {সে বলল, ‘আপনি কি ভেবে দেখেছেন, যাকে আপনি আমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, যদি আপনি আমাকে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন, তবে আমি অল্প কিছু লোক ছাড়া অবশ্যই তার বংশধরদের বশীভূত করে ফেলব’} (১) আয়াতটি।
অতঃপর সে অনবরত আদম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের কুমন্ত্রণা প্রদান, বিভ্রান্ত করা এবং পথভ্রষ্ট করতে লাগল, এমনকি এর ফলে আদমকে জান্নাত থেকে নিচে নামানো হলো এবং আদমের এক পুত্র তার ভাইকে হত্যা করল। আর এতেও সে ক্ষান্ত হয়নি। যখন বনী আদমের ওপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো এবং নবুওয়াতের যুগ তাদের থেকে দূরে চলে গেল—তখন সে তাদের কাছে শিরককে সুশোভিত করল এবং তাদের বিভ্রান্ত করল। ফলে সে যা চেয়েছিল তাই ঘটল, আর ইবলিস তাদের সম্পর্কে তার ধারণা সত্য প্রমাণ করল এবং তারা তার অনুসরণ করল ও শিরকের মধ্যে নিপতিত হলো। আর এর সূচনা হয়েছিল নূহ আলাইহিস সালামের কওমের সময়, যখন তারা মূর্তিপূজা শুরু করেছিল: ওয়াদ্দ, সুওয়া‘, ইয়াগুস, ইয়া‘উক এবং নাসর। আর এগুলো ছিল নূহ আলাইহিস সালামের কওমের কিছু নেককার মানুষের নাম। যখন তারা মৃত্যুবরণ করলেন, তখন শয়তান তাদের কওমের লোকদের কাছে কুমন্ত্রণা দিল যে, তোমরা স্থাপন করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
إلى مجالسهم التي كانوا يجلسون أنصابا، وسموها بأسمائهم، ففعلوا فلم تعبد، حتى إذا هلك أولئك وتنسخ العلم عبدت، هذا ما قاله ابن عباس رضي الله عنهما كما في البخاري
وروى ابن جرير، عن محمد بن قيس قال: (كانوا قوما صالحين من بني آدم، وكان لهم أتباع يقتدون بهم، فلما ماتوا قال أصحابهم الذين كانوا يقتدون بهم: لو صورناهم كان أشوق لنا إلى العبادة إذا ذكرناهم، فصوروهم، فلما ماتوا وجاء آخرون دب إليهم إبليس، فقال: إنما كانوا يعبدونهم وبهم يسقون المطر، فعبدوهم)
هكذا بدأ الشرك في بني آدم، بسبب إغواء إبليس لهم،
তাদের সেই মজলিসগুলোতে যেখানে তারা বসত স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করতে এবং সেগুলোকে তাদের নামেই নামকরণ করতে। তারা তা করল, কিন্তু তখন তাদের উপাসনা করা হতো না। অবশেষে যখন তারা মারা গেল এবং ইলম বিলুপ্ত হয়ে গেল, তখন তাদের উপাসনা শুরু হলো। এটি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন যেমনটি বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে।
ইবনে জারীর মুহাম্মাদ ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (তারা ছিলেন বনী আদমের একদল নেককার লোক, এবং তাদের কিছু অনুসারী ছিল যারা তাদের অনুসরণ করত। যখন তারা মারা গেলেন, তখন তাদের সেই সাথীরা যারা তাদের অনুসরণ করত তারা বলল: আমরা যদি তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করতাম, তবে তা আমাদের ইবাদতের প্রতি অধিক উৎসাহব্যঞ্জক হতো যখনই আমরা তাদের স্মরণ করতাম। তাই তারা তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করল। অতঃপর যখন তারা মারা গেল এবং পরবর্তী প্রজন্ম এলো, ইবলিস তাদের মধ্যে কুমন্ত্রণা দিল এবং বলল: তারা তো কেবল তাদেরই উপাসনা করত এবং তাদের অসিলায় তারা বৃষ্টি পেত। এরপর তারা তাদের উপাসনা শুরু করল।)
এভাবেই ইবলিসের প্ররোচনার কারণে বনী আদমের মধ্যে শিরকের সূচনা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
لكن الله - سبحانه - بحكمته وعلمه ورحمته بعباده لم يتركهم هملا يغويهم إبليس وجنده، بل أرسل إليهم الرسل؛ لتبين لهم الدين الحق، وتحذرهم من الشرك والضلال؛ رحمة منه بعباده، وإقامة للحجة عليهم: {لِيَهْلِكَ مَنْ هَلَكَ عَنْ بَيِّنَةٍ وَيَحْيَا مَنْ حَيَّ عَنْ بَيِّنَةٍ} (1) ويقول - سبحانه -: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا} (2) ويقول - سبحانه -: {وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} (3) {وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا يَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ} (4)
وفي [الصحيحين] عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا أحد أغير من الله، ولذلك حرم
(5)--------------------------------------------
কিন্তু আল্লাহ —সুবহানাহু— তাঁর প্রজ্ঞা, জ্ঞান ও বান্দাদের প্রতি তাঁর করুণার কারণে তাদেরকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি যে ইবলিস ও তার দলবল তাদেরকে বিভ্রান্ত করবে, বরং তিনি তাদের কাছে রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন; যাতে তারা তাদের সামনে সত্য দ্বীন সুস্পষ্ট করেন এবং শিরক ও পথভ্রষ্টতা থেকে তাদের সতর্ক করেন; এটি তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁর পক্ষ থেকে দয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপনের (হুজ্জাত কায়েমের) জন্য: {যাতে যে ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতেই জীবিত থাকে} (১) আর তিনি —সুবহানাহু— বলেন: {সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে (প্রেরণ করা হয়েছে), যাতে রাসূলগণের পরে আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাময়।} (২) আর তিনি —সুবহানাহু— বলেন: {আমি রাসূলগণকে কেবল সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবেই প্রেরণ করি; সুতরাং যারা ঈমান আনে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।} (৩) {আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তাদের অবাধ্যতার কারণে আযাব তাদেরকে স্পর্শ করবে।} (৪)
এবং [সহীহাইন]-এ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আর কেউ নেই, আর সেই কারণেই তিনি হারাম করেছেন...
(৫)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفواحش ما ظهر منها وما بطن، ولا أحد أحب إليه المدح من الله عز وجل؛ ولذلك مدح نفسه» وفي لفظ لمسلم: «من أجل ذلك أنزل الكتاب وأرسل الرسل (1) » وفي [الصحيحين] من حديث سعد بن عبادة رضي الله عنه: «ولا شخص أحب إليه العذر من الله، من أجل ذلك بعث الله المرسلين مبشرين ومنذرين (2) »
فأرسل الله الرسل إقامة للحجة على عباده وإعذارا لهم، وهذه الرسالات من نعم الله على خلقه أجمعين؛ إذ حاجة العباد إليها فوق كل حاجة، وضرورتهم إليها فوق كل ضرورة، فهم في حاجة إلى الرسالة أعظم من حاجتهم
--------------------------------------------
প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতাসমূহ; আর মহান আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রশংসা প্রিয় কেউ নেই; আর সে কারণেই তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন।" মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে: "এ কারণেই তিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন (১)।" আর [সহীহাইন]-এ সাদ ইবনে উবাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসে এসেছে: "আল্লাহর চেয়ে অধিক ওজর পছন্দকারী কোনো সত্তা নেই; এ কারণেই আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন (২)।"
অতঃপর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য এবং তাদের ওজর খণ্ডনের নিমিত্তে রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। আর এই রিসালাতসমূহ সমগ্র সৃষ্টির উপর আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কেননা এর প্রতি বান্দাদের প্রয়োজনীয়তা অন্য সব প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে এবং এর প্রতি তাদের আবশ্যকতা সব আবশ্যকতার ঊর্ধ্বে। সুতরাং রিসালাতের প্রতি তাদের মুখাপেক্ষিতা তাদের [অন্যান্য] মুখাপেক্ষিতার চেয়েও অধিকতর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إلى الطعام والشراب والدواء، إذ قصارى نقص ذلك أو عدمه تلف الأبدان، أما الرسالة ففيها حياة القلوب والأديان، بل الرسالة ضرورية في إصلاح العبد في معاشه ومعاده، فكما أنه لا صلاح له في آخرته إلا باتباع الرسالة، فكذلك لا صلاح له في معاشه ودنياه إلا باتباع الرسالة، كما قرر ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله (1)
أرسل الله الرسل، وجعلهم بشرا من أقوام المرسل إليهم، وبلسانهم؛ ليبينوا لهم الدين الحق: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} (2)
وكل أمة بعث فيها رسول، قال عز وجل:
--------------------------------------------
খাদ্য, পানীয় এবং ঔষধের তুলনায়; কেননা এগুলোর অভাব বা অনুপস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতি হলো দেহের বিনাশ। পক্ষান্তরে রিসালাতের (ঐশী বার্তার) মধ্যে রয়েছে অন্তর ও দ্বীনের জীবন। বরং বান্দার ইহকাল ও পরকালের সংশোধনের জন্য রিসালাত অপরিহার্য। ঠিক যেভাবে রিসালাতের অনুসরণ ব্যতীত তার পরকালের কোনো কল্যাণ নেই, তেমনি রিসালাতের অনুসরণ ব্যতীত তার পার্থিব জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রেও কোনো কল্যাণ নেই। যেমনটি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ) সাব্যস্ত করেছেন (১)
আল্লাহ তাআলা রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং তাদেরকে সেই জনপদেরই মানুষ হিসেবে পাঠিয়েছেন যাদের নিকট তারা প্রেরিত হয়েছেন এবং তাদেরই ভাষায়; যাতে তারা তাদের নিকট সত্য দ্বীন সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন: {আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, যাতে সে তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করতে পারে। অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} (২)
আর প্রত্যেক জাতির নিকটই রাসূল পাঠানো হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
{وَلِكُلِّ أُمَّةٍ رَسُولٌ} (1) وقال - سبحانه -: {وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ} (2)
بعثوا جميعا بدين واحد وهو الإسلام، وإخلاص الدين لله، وتجريد التوحيد له سبحانه، واجتناب عبادة ما سواه: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} (3) وقال - سبحانه -: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} (4)
وفي الحديث عنه صلى الله عليه وسلم: «الأنبياء إخوة لعلات، أمهاتهم شتى ودينهم واحد (5) » متفق عليه.
--------------------------------------------
{প্রত্যেক জাতির জন্য একজন রসূল রয়েছে} (১) এবং তিনি—মহিমান্বিত তিনি—বলেছেন: {আর এমন কোনো জাতি নেই যার নিকট একজন সতর্ককারী অতিক্রান্ত হয়নি} (২)
তাঁরা সকলেই একই দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন, আর তা হলো ইসলাম; আল্লাহর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করা, কেবল তাঁর জন্যই তাওহীদকে বিশুদ্ধ করা এবং তিনি ব্যতীত অন্যের ইবাদত বর্জন করা: {আর আমি অবশ্যই প্রত্যেক জাতির মধ্যে একজন রসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} (৩) এবং তিনি—মহিমান্বিত তিনি—বলেছেন: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রসূল পাঠাইনি যার প্রতি এই ওহী করিনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব তোমরা আমারই ইবাদত করো} (৪)
এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: «নবীগণ হলেন বৈমাত্রেয় ভাই; তাঁদের মায়েরা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু তাঁদের দ্বীন এক (৫)» মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
؛ إذ هذا مقتضى الرسالة، يقول عز وجل: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ} (1)
ولم تزل الرسل تتابع إلى أقوامهم لدعوتهم إلى التوحيد ونبذ الشرك {ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَا} (2) الآية إلى أن جاء موسى وبعده عيسى عليهما السلام، وظهرت في كتبهما البشارة بالنبي محمد صلى الله عليه وسلم.
يقول الله عز وجل: {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ} (3) ويقول عز وجل: {وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَابَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} (4)
--------------------------------------------
যেহেতু এটাই রিসালাতের দাবি, পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: "আর আমি কোনো রাসূলকেই পাঠাইনি যেন আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর আনুগত্য করা হয়।" (১)
রাসূলগণ তাঁদের কওমের কাছে তাওহীদের দাওয়াত দিতে এবং শিরক বর্জনের আহ্বান জানাতে ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকেন। [আল্লাহ বলেন:] "অতঃপর আমি আমার রাসূলগণকে একের পর এক প্রেরণ করেছি" (২) - আয়াতটি শেষ পর্যন্ত। এভাবে মূসা এবং তাঁর পরে ঈসা (আলাইহিমাস সালাম) আগমন করেন এবং তাঁদের কিতাবসমূহে নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ প্রকাশিত হয়।
পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: "যারা সেই রাসূলের অনুসরণ করে, যিনি উম্মী নবী, যাঁর কথা তারা তাদের নিকট সংরক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়।" (৩) এবং মহিমান্বিত আল্লাহ আরও বলেন: "আর যখন মরিয়ম-পুত্র ঈসা বলেছিল: হে বনী ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমার পরে আহমদ নামে যে রাসূল আসবেন, আমি তাঁর সুসংবাদ দানকারী।" (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وبعد أن رفع عيسى عليه السلام، وطال ببني آدم العهد قبل بعثة النبي صلى الله عليه وسلم حمل إبليس بخيله ورجله على بني آدم، فأضلهم ضلالا بعيدا، وأوقعهم في الكفر والشرك والضلال بصنوفه إلا قليلا منهم، وبلغ من حالهم أن مقتهم الله - سبحانه - عربهم وعجمهم إلا القليل.
ثم بعث النبي محمد صلى الله عليه وسلم الذي يقول: «يا أيها الناس، إنما أنا رحمة مهداة (1) »
بعث والحال كما أخبر به صلى الله عليه وسلم في الحديث الذي أخرجه مسلم في [صحيحه] عن عياض بن حمار المجاشعي رضي الله عنه، حيث قال صلى الله عليه وسلم في خطبته: «ألا
(2)--------------------------------------------
ঈসা আলাইহিস সালামকে উপরে উঠিয়ে নেওয়ার পর এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরণের পূর্বে বনী আদমের দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর, ইবলিস তার অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে বনী আদমের উপর চড়াও হলো। ফলে সে তাদের চরম বিভ্রান্তিতে লিপ্ত করল এবং তাদের অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত বাকিদের কুফরি, শিরক ও নানা প্রকার ভ্রষ্টতায় নিপতিত করল। তাদের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের প্রতি—আরব এবং অনারব উভয়ের ওপরই—অসন্তুষ্ট হলেন, কেবল সামান্য কিছু লোক ব্যতীত।
অতঃপর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হলেন, যিনি বলেন: «হে লোকসকল, আমি তো কেবল এক উপহারস্বরূপ রহমত (১)»
তিনি এমন এক অবস্থায় প্রেরিত হয়েছিলেন যে অবস্থার কথা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই হাদিসে বর্ণনা করেছেন যা মুসলিম তাঁর [সহিহ] গ্রন্থে ইয়াদ বিন হিমার আল-মুজাশিঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় বলেছিলেন: «শোনো
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إن ربي أمرني أن أعلمكم ما جهلتم مما علمني يومي هذا، كل مال نحلته عبدا حلال، وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطانا. وإن الله نظر إلى أهل الأرض فمقتهم، عربهم وعجمهم، إلا بقايا من أهل الكتاب. وقال: إنما بعثتك لأبتليك وأبتلي بك، وأنزلت عليك كتابا لا يغسله الماء، تقرؤه نائما ويقظان» . . الحديث
فرفع الله عنهم هذا المقت برسول الله صلى الله عليه وسلم، بعثه رحمة للعالمين، ومحجة للسالكين، ومحجة على الخلائق أجمعين، أرسله بالهدى ودين الحق بين يدي الساعة بشيرا ونذيرا، وداعيا إلى الله بإذنه وسراجا منيرا، فختم به
নিশ্চয়ই আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদেরকে সেই সব বিষয়ে শিক্ষা দেই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজ শিখিয়েছেন। (তিনি বলেন:) আমি কোনো বান্দাকে যে ধন-সম্পদ দান করেছি তা (তার জন্য) হালাল। আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ তাওহীদপন্থী হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শয়তানরা এসে তাদেরকে তাদের দীন থেকে বিচ্যুত করে ফেলে এবং তাদের জন্য আমি যা হালাল করেছিলাম তা তাদের ওপর হারাম করে দেয়। আর তাদেরকে নির্দেশ দেয় যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার স্বপক্ষে আমি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করিনি। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ জমিনবাসীদের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হলেন—তাদের আরব ও অনারব সকলের প্রতিই, কেবল আহলে কিতাবের স্বল্প কিছু অবশিষ্ট লোক ব্যতীত। আর তিনি বললেন: আমি তোমাকে কেবল এজন্যই প্রেরণ করেছি যেন আমি তোমাকে পরীক্ষা করি এবং তোমার মাধ্যমে (অন্যদের) পরীক্ষা করি। আর আমি তোমার প্রতি এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি ধুয়ে মুছে ফেলতে পারবে না, যা তুমি নিদ্রিত ও জাগ্রত উভয় অবস্থায় পাঠ করবে। ... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)
অতঃপর আল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাদের ওপর থেকে এই ক্রোধ তুলে নিয়েছেন। তিনি তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ, সত্যপথের পথিকদের জন্য উজ্জ্বল পথস্বরূপ এবং সমস্ত সৃষ্টির ওপর প্রমাণস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। কিয়ামতের প্রাক্কালে তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে পাঠিয়েছেন। অতঃপর তাঁর মাধ্যমেই তিনি নবুওয়াত সমাপ্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الرسل، وهدى به من الضلال، وعلم به من الجهالة وفتح برسالته أعينا عميا، وآذانا صما، وقلوبا غلفا، فأشرقت الأرض بعد ظلماتها، وتألفت به القلوب بعد شتاتها، فأقام به الملة العوجاء، وأوضح به المحجة البيضاء، ورفع الله الآصار والأغلال، وجعل رسالته عامة للإنس والجان: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ} (1) {قُلْ يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا} (2)
أرسله الله على حين فترة من الرسل، ودروس من الكتب، حين حرف الكلم، وبدلت الشرائع، واستند كل قوم إلى أظلم آرائهم، وحكموا على الله وبين عباد الله بمقالاتهم وأهوائهم، فهدى الله به الخلائق،
--------------------------------------------
রাসূলগণ, এবং তাঁর মাধ্যমে পথভ্রষ্টতা থেকে পথ প্রদর্শন করেছেন, মূর্খতা থেকে জ্ঞান দান করেছেন এবং তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে অন্ধ চক্ষুসমূহ, বধির কর্ণসমূহ এবং মোহরবদ্ধ অন্তরসমূহ উন্মুক্ত করেছেন। ফলে পৃথিবী তার অন্ধকারের পর আলোকিত হয়েছে, এবং অন্তরসমূহ বিচ্ছিন্ন থাকার পর তাঁর মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তিনি তাঁর মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে (ধর্মাদর্শ) সোজা করেছেন, উজ্জ্বল শ্বেত পথ স্পষ্ট করেছেন, এবং আল্লাহ কঠিন বোঝা ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেছেন। আর তিনি তাঁর রিসালাতকে মানব ও জিনের জন্য সর্বজনীন করেছেন: {আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যই প্রেরণ করেছি} (১) {বলুন, হে লোকসকল! আমি তোমাদের সকলের কাছে আল্লাহর রাসূল} (২)
আল্লাহ তাঁকে রাসূলগণের আগমনের দীর্ঘ বিরতি এবং কিতাবসমূহের নিদর্শন বিলুপ্তির সময়ে পাঠিয়েছেন, যখন বাণীর বিকৃতি ঘটানো হয়েছিল, শরীয়তসমূহ পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং প্রতিটি সম্প্রদায় তাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন মতামতের ওপর নির্ভর করত। তারা আল্লাহ সম্পর্কে এবং আল্লাহর বান্দাদের মাঝে নিজেদের মনগড়া বক্তব্য ও খেয়ালখুশি অনুযায়ী ফয়সালা করত। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে সৃষ্টিজগতকে পথ প্রদর্শন করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأوضح به الطريق، وأخرج به الناس من الظلمات إلى النور، وأبصر به العمى، وأرشد به من الغي، وفرق به ما بين الأبرار والفجار، وجعل الهدى والفلاح في اتباعه وموافقته، والضلال والشقاء في معصيته ومخالفته، رؤوف رحيم بالمؤمنين، حريص على هداية الخلق أجمعين، عزيز عليه عنادهم وتعنتهم: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ} (1)
خلاصة دعوته: البشارة، والنذارة، والدعوة إلى الله ببصيرة وحكمة: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا} (2)
هو خاتم الأنبياء، وشريعته وكتابه المهيمن على سائر
--------------------------------------------
এবং তিনি তাঁর মাধ্যমে পথকে সুস্পষ্ট করেছেন, এবং তাঁর মাধ্যমে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন, এবং তাঁর মাধ্যমে অন্ধকে দৃষ্টি দান করেছেন, এবং তাঁর মাধ্যমে পথভ্রষ্টকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। তিনি তাঁর মাধ্যমে সৎকর্মশীল ও পাপাচারীদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। তিনি তাঁর অনুসরণ ও অনুকরণের মধ্যে হেদায়েত ও সফলতা নিহিত রেখেছেন, আর তাঁর অবাধ্যতা ও বিরোধিতার মধ্যে রেখেছেন পথভ্রষ্টতা ও দুর্ভাগ্যের পরিণাম। তিনি মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও করুণাময়, সমগ্র সৃষ্টির হেদায়েতের ব্যাপারে অতিশয় আগ্রহী। তাদের একগুঁয়েমি ও হঠকারিতা তাঁর নিকট অত্যন্ত কষ্টদায়ক: {অবশ্যই তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল এসেছেন; তোমাদের যা কষ্ট দেয় তা তাঁর নিকট অত্যন্ত অসহনীয়। তিনি তোমাদের কল্যাণের ব্যাপারে অতিশয় আগ্রহী, মুমিনদের প্রতি তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও পরম করুণাময়।} (১)
তাঁর দাওয়াতের সারসংক্ষেপ হলো: সুসংবাদ প্রদান, সতর্কীকরণ এবং প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা: {হে নবী! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে।} (২)
তিনি হলেন সর্বশেষ নবী, এবং তাঁর শরীয়ত ও কিতাব পূর্ববর্তী সকল কিছুর ওপর কর্তৃত্বশীল ও রক্ষক
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
الشرائع والكتب الناسخ لها: {مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِنْ رِجَالِكُمْ وَلَكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ} (1) ويقول عز وجل: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ} (2)
شرح الله صدره، ووضع عنه وزره، وجعل الذلة على من خالف أمره، ورفع له ذكره، فلا يذكر الله - سبحانه - إلا ذكر معه، كفى بذلك شرفا، وأعظم ذلك الشهادتان، أساس الإسلام، ومفتاح دار السلام، عاصمة الدماء والأموال والأعراض، شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلم.
فمعنى لا إله إلا الله: لا معبود بحق إلا الله سبحانه.
وأركانها: النفي والإثبات: (لا إله) نافيا جميع ما يعبد
--------------------------------------------
শরীয়তসমূহ এবং সেগুলোকে রহিতকারী কিতাবসমূহ: {মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী} (১) এবং মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: {আর আমি তোমার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর সংরক্ষক} (২)
আল্লাহ তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন, তাঁর বোঝা লাঘব করেছেন এবং যারা তাঁর আদেশের অবাধ্য হয় তাদের জন্য লাঞ্ছনা নির্ধারণ করেছেন। তিনি তাঁর আলোচনাকে উচ্চ করেছেন, ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে যখনই স্মরণ করা হয়, তখন তাঁর (রাসূলের) নামও তাঁর সাথে স্মরণ করা হয়। সম্মান হিসেবে এটাই যথেষ্ট। আর এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো শাহাদাতাইন (দুই সাক্ষ্য), যা ইসলামের ভিত্তি, শান্তির আলয়ের (জান্নাতের) চাবিকাঠি এবং জান-মাল ও সম্মানের রক্ষাকবচ; আর তা হলো—এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।
অতএব ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর অর্থ হলো: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই।
আর এর রুকনসমূহ হলো: নাফি (অস্বীকৃতি) ও ইসবাত (স্বীকৃতি): (লা ইলাহা) উপাসনা করা হয় এমন সব কিছুকে অস্বীকার করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
من دون الله، (إلا الله) مثبتا العبادة لله وحده لا شريك له.
وشروطها: العلم، واليقين، والقبول، والانقياد، والصدق، والإخلاص، والمحبة، وزاد بعضهم شرطا ثامنا وهو: الكفر بما عبد من دون الله.
وتحقيق هذه الشهادة: ألا يعبد إلا الله، وحقها: فعل الواجبات، واجتناب المحرمات.
هذه جمل مختصرة في (شهادة أن لا إله إلا الله) ، أما تفاصيلها فلا تحتملها هذه الكلمة اليسيرة.
ولما كان البحث في حقيقة شهادة أن محمدا رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان من المناسب أن نورد طرفا مما تمس الحاجة إلى العلم به من ذكر نسبة ومولده ومبعثه ووفاته صلى الله عليه وسلم، ثم ذكر شيء من أسمائه وخصائصه وصفاته الخلقية والخلقية، صلوات الله وسلامه عليه.
আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে (একমাত্র আল্লাহকে) আলাদা করে, ইবাদতকে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা, যাঁর কোনো শরিক নেই।
এবং এর শর্তাবলি হলো: জ্ঞান, দৃঢ় বিশ্বাস, গ্রহণ করে নেয়া, আনুগত্য, সত্যবাদিতা, একনিষ্ঠতা এবং ভালোবাসা; আর তাঁদের কেউ কেউ অষ্টম একটি শর্ত বৃদ্ধি করেছেন, আর তা হলো: আল্লাহ ব্যতীত যা কিছুর ইবাদত করা হয় তাকে অস্বীকার করা।
এই সাক্ষ্যের যথার্থ বাস্তবায়ন হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত না করা; আর এর দাবি হলো: ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় বিষয়সমূহ পালন করা এবং হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করা।
এই বাক্যগুলো ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই’—এই সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা; এর বিস্তারিত বিবরণ এই সংক্ষিপ্ত কথায় সংকুলান হওয়া সম্ভব নয়।
যেহেতু ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’—এই সাক্ষ্যের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা হচ্ছে, তাই তাঁর বংশপরিচয়, জন্ম, নবুওয়াত প্রাপ্তি এবং ওফাত সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন, তার কিয়দাংশ উল্লেখ করা এখানে সংগত হবে। অতঃপর তাঁর কিছু নাম, বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলির বর্ণনা দেওয়া হবে; তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
فصلفي نسب النبي صلى الله عليه وسلميقول الله سبحانه وتعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} (1) جاء في بعض القراءات: " من أنفسهم " بفتح الفاء، أي: أنسبهم.
وفي [صحيح مسلم] من حديث واثلة بن الأسقع رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن الله اصطفى كنانة من ولد إسماعيل، واصطفى قريشا من كنانة، واصطفى من قريش بني هاشم، واصطفاني من بني هاشم (2) »
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশপরিচয় প্রসঙ্গেআল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল।} (১) কোনো কোনো কিরাআতে এটি ‘মিন আনফাসিহিম’ (ফা বর্ণে ফাতহাহ বা যবর যোগে) এসেছে, যার অর্থ: তাদের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চবংশীয় ব্যক্তি।
এবং [সহীহ মুসলিম]-এ ওয়াসিলা ইবনুল আসকা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে কিনানাহকে মনোনীত করেছেন, কিনানাহ থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন, কুরাইশ থেকে বনী হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনী হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন। (২)»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وفي [الصحيحين] (1) من حديث أبي سفيان - رضي الله عنه، وقصته مع هرقل، وسؤال هرقل له عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، فكان فيما سأله أن قال: كيف نسبه فيكم؟ قلت: هو فينا ذو نسب. . . إلى أن قال هرقل لأبي سفيان: سألتك عن نسبه، فذكرت أنه فيكم ذو نسب، فكذلك الرسل تبعث في نسب قومها. هذا لفظ البخاري.
فظهر بهذا أنه أكرم الناس نسبا، فهو: محمد بن عبد الله بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب بن لؤي بن غالب بن فهر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن معد بن عدنان.
ونسبه صلى الله عليه وسلم إلى هنا معلوم الصحة، متفق عليه بين النسابين، لا خلاف فيه بينهم، وما فوق عدنان مختلف
--------------------------------------------
এবং [সহীহাইন]-এ (১) আবু সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস এবং হেরাক্লিয়াসের সাথে তাঁর কাহিনী এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে হেরাক্লিয়াসের জিজ্ঞাসার বর্ণনা রয়েছে। হেরাক্লিয়াস তাকে যা জিজ্ঞেস করেছিলেন তার মধ্যে ছিল: "তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন?" আমি বললাম: "তিনি আমাদের মধ্যে উচ্চ বংশীয়।" ... শেষ পর্যন্ত হেরাক্লিয়াস আবু সুফিয়ানকে বললেন: "আমি তোমাকে তাঁর বংশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, আর তুমি উল্লেখ করেছ যে তিনি তোমাদের মধ্যে উচ্চ বংশীয়; আর এভাবেই রাসূলগণ তাঁদের কওমের উচ্চ বংশেই প্রেরিত হন।" এটি বুখারীর শব্দ।
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, তিনি বংশের দিক থেকে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত। তিনি হলেন: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে আন-নদর ইবনে কিনানাহ ইবনে খুজাইমাহ ইবনে মুদরিকাহ ইবনে ইলিয়াস ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান।
এখান পর্যন্ত তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বংশধারা বিশুদ্ধ হিসেবে সুবিদিত এবং এটি বংশবিদদের নিকট সর্বসম্মত, এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। তবে আদনানের পরবর্তী ঊর্ধ্বতন বংশধরদের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فيه، وعدنان من ولد إسماعيل نبي الله عليه السلام، وإسماعيل هو ابن إبراهيم عليه السلام.
وأم النبي صلى الله عليه وسلم هي: آمنة بنت وهب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب بن مرة. . . إلى آخر النسب المذكور سابقا، فأبوه يلتقي مع أمه في جدهما: كلاب بن مرة.
وكان وهب - أبو أمه - في ذلك الوقت هو سيد بني زهرة نسبا وشرفا، فاجتمع للنبي صلى الله عليه وسلم شرف النسب من جهة أبيه وأمه.
এতে রয়েছে, আর আদনান হলেন আল্লাহর নবী ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধর, আর ইসমাইল হলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতা হলেন: আমিনা বিনতে ওয়াহাব বিন আবদে মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাব বিন মুররা... পূর্বে উল্লিখিত বংশপরম্পরার শেষ পর্যন্ত। সুতরাং তাঁর পিতা ও মাতা তাঁদের সাধারণ পূর্বপুরুষ কিলাব বিন মুররার মাধ্যমে মিলিত হন।
আর ওয়াহাব—যিনি ছিলেন তাঁর মাতামহ—তৎকালীন সময়ে বংশ ও আভিজাত্যের বিচারে বনু জুহরা গোত্রের প্রধান ছিলেন। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে পিতা ও মাতা উভয় দিক থেকেই বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব একত্রিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فصلفي مولده صلى الله عليه وسلمولد النبي صلى الله عليه وسلم عام الفيل، بلا خلاف نعلمه بين أهل السير.
وولادته: كانت يوم الإثنين جزما؛ لقوله صلى الله عليه وسلم لما سئل عن صوم يوم الإثنين، قال: «ذاك يوم ولدت فيه، ويوم بعثت، أو أنزل علي فيه (1) » أخرجه مسلم من حديث قتادة رضي الله عنه.
أما شهر الولادة وتاريخها فقد اختلف فيه:
فقيل: في ثاني عشر من شهر ربيع الأول.
وقيل: بل في الثامن منه.
وقيل: بل ولد في رمضان.
وقيل: ولد في سبع وعشرين من رجب، وهو أغربها.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদতাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্ম প্রসঙ্গেনবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হস্তিবর্ষে জন্মগ্রহণ করেছেন, এ বিষয়ে সীরাত বিশেষজ্ঞদের মাঝে আমাদের জানামতে কোনো মতভেদ নেই।
তাঁর জন্ম: নিশ্চিতভাবে সোমবার দিন ছিল; কারণ তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন: «ঐ দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং ঐ দিন আমাকে রাসূল হিসেবে পাঠানো হয়েছে অথবা ঐ দিন আমার ওপর (অহি) অবতীর্ণ করা হয়েছে (১)» ইমাম মুসলিম এটি কাতাদাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।
তবে জন্মের মাস ও তারিখের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে:
বলা হয়ে থাকে: রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখে।
আবার বলা হয়: বরং এর আট তারিখে।
কেউ কেউ বলেছেন: বরং তিনি রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।
আবার বলা হয়: তিনি সাতাশে রজব জন্মগ্রহণ করেছেন, আর এটি সবচেয়ে বিরল মত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فصلفي مبعثه صلى الله عليه وسلموأوحي إليه صلى الله عليه وسلم وهو ابن أربعين، وكان أول بدء الوحي أنه كان يتحنث في غار حراء، وفي مرة من المرات أتاه جبريل عليه السلام فغطه غطه ثم أرسله، فقال: اقرأ. . . . الحديث، فكان هذا مبدأ أمره صلى الله عليه وسلم.
عن عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها أنها قالت: «أول ما بدئ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم، فكان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب إليه الخلاء، وكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه - وهو التعبد - الليالي ذوات العدد قبل أن ينزع إلى أهله، ويتزود لذلك، ثم يرجع إلى خديجة فيتزود لمثلها، حتى جاءه الحق وهو في غار حراء، فجاءه الملك، فقال: اقرأ، قال: ما أنا بقارئ، قال: فأخذني فغطني حتى بلغ
(1)--------------------------------------------
পরিচ্ছেদতাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুয়ত প্রাপ্তি প্রসঙ্গেএবং যখন তাঁর বয়স চল্লিশ বছর, তখন তাঁর নিকট ওহি অবতীর্ণ হয়। ওহি শুরুর সূচনা ছিল এই যে, তিনি হেরা গুহায় নির্জনে ইবাদত করতেন। এবং একদা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁর নিকট আগমন করেন এবং তাঁকে সজোরে আলিঙ্গন করেন, অতঃপর তাঁকে ছেড়ে দেন। তিনি বললেন: পড়ুন... (পরবর্তী হাদিস), আর এটিই ছিল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুয়তের সূচনা।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহি শুরুর সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন, তা ভোরের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হতো। অতঃপর নির্জনতা তাঁর কাছে প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং পরিবারের কাছে ফিরে আসার পূর্বে সেখানে টানা কয়েক রাত ইবাদত করতেন—আর এটিই হলো ‘তাহান্নুছ’—এবং এর জন্য তিনি পাথেয় সাথে নিতেন। অতঃপর তিনি খাদিজার নিকট ফিরে আসতেন এবং অনুরূপ সময়ের জন্য পুনরায় পাথেয় সংগ্রহ করতেন। পরিশেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় তাঁর নিকট সত্য (ওহি) সমাগত হলো। ফেরেশতা তাঁর নিকট আসলেন এবং বললেন: ‘পড়ুন’। তিনি বললেন: ‘আমি পাঠ করতে জানি না’। তিনি (রাসূলুল্লাহ) বললেন: ‘অতঃপর তিনি আমাকে ধরে সজোরে আলিঙ্গন করলেন এমনকি তা আমার সহ্যক্ষমতার সীমায় পৌঁছাল’...
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مني الجهد، ثم أرسلني فقال: اقرأ، قلت: ما أنا بقارئ، فأخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني فقال: اقرأ، فقلت: ما أنا بقارئ، فأخذني فغطني الثالثة ثم أرسلني فقال: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} (1) {خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ} (2) {اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ} (3) فرجع بها رسول الله صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة بنت خويلد رضي الله عنها فقال: " زملوني زملوني " فزملوه حتى ذهب عنه الروع، فقال: لخديجة وأخبرها الخبر: " لقد خشيت على نفسي ". فقالت خديجة: كلا، والله ما يخزيك الله أبدا، إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل، وتكسب المعدوم، وتقري الضيف، وتعين على نوائب الحق، فانطلقت به خديجة، حتى أتت به ورقة بن نوفل بن أسد بن عبد العزى ابن عم خديجة، وكان امرأ قد تنصر في الجاهلية، وكان
--------------------------------------------
আমার কষ্ট চরমে পৌঁছাল, অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: পাঠ করুন, আমি বললাম: আমি পাঠকারী নই, অতঃপর তিনি আমাকে ধরে দ্বিতীয়বার চাপ দিলেন যাতে আমার কষ্ট চরমে পৌঁছাল, তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: পাঠ করুন, আমি বললাম: আমি পাঠকারী নই, অতঃপর তিনি আমাকে ধরে তৃতীয়বার চাপ দিলেন, অতঃপর ছেড়ে দিলেন এবং বললেন: {পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন} (১) {সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে} (২) {পাঠ করুন এবং আপনার রব মহিমান্বিত} (৩) অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হৃদয় প্রকম্পিত অবস্থায় তা নিয়ে ফিরে আসলেন। তিনি খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট প্রবেশ করলেন এবং বললেন: "আমাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দাও"। অতঃপর তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দিলেন যতক্ষণ না তাঁর আতঙ্ক দূর হলো। তিনি খাদিজার নিকট সংবাদটি ব্যক্ত করলেন এবং বললেন: "আমি আমার জীবনের ব্যাপারে আশঙ্কা করছি"। তখন খাদিজা বললেন: কখনোই নয়, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ আপনাকে কখনোই অপদস্থ করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমের বোঝা বহন করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন, মেহমানদারি করেন এবং সত্যের পথে আপতিত বিপদে সাহায্য করেন। অতঃপর খাদিজা তাঁকে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকা ইবনে নাওফাল ইবনে আসাদ ইবনে আব্দুল উযযার নিকট গেলেন। তিনি জাহেলিয়াত যুগে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন এবং
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يكتب الكتاب العبراني، فيكتب من الإنجيل بالعبرانية ما شاء الله أن يكتب، وكان شيخا كبيرا قد عمي، فقالت له خديجة: يا ابن عم اسمع من ابن أخيك، فقال له ورقة: يا ابن أخي، ماذا ترى؟ فأخبره رسول الله صلى الله عليه وسلم خبر ما رأى، فقال له ورقة: هذا الناموس الذي نزل الله على موسى، يا ليتني فيها جذعا، ليتني أكون حيا إذ يخرجك قومك، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " أومخرجي هم؟ ! " قال: نعم، لم يأت رجل قط بمثل ما جئت به إلا عودي، وإن يدركني يومك أنصرك نصرا مؤزرا، ثم لم ينشب ورقة أن توفي وفتر الوحي» . أخرجه البخاري
তিনি হিব্রু লিপিতে লিখতেন এবং হিব্রু ভাষায় ইঞ্জিল থেকে আল্লাহ যতটুকু ইচ্ছা করতেন ততটুকু লিখতেন। তিনি ছিলেন এক অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি যিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন: "হে আমার চাচাতো ভাই, আপনার ভাতিজার কথা শ্রবণ করুন।" ওরাকা তাঁকে বললেন: "হে আমার ভাতিজা, তুমি কী দেখছ?" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা দেখেছিলেন তা তাঁকে অবহিত করলেন। ওরাকা তাঁকে বললেন: "ইনি সেই রহস্য বহনকারী ফেরেশতা (জিবরাঈল) যাকে আল্লাহ মূসার নিকট অবতীর্ণ করেছিলেন। হায়! আমি যদি সেই সময়ে যুবক থাকতাম! হায়! আমি যদি তখন জীবিত থাকতাম যখন তোমার জাতি তোমাকে বহিষ্কার করবে!" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তারা কি আমাকে বহিষ্কার করবে?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছ তার সদৃশ কিছু নিয়ে যে ব্যক্তিই এসেছেন তাঁর সাথে শত্রুতা করা হয়েছে। তোমার সেই সময়টি যদি আমি পাই তবে আমি তোমাকে বলিষ্ঠভাবে সাহায্য করব।" এরপর ওরাকা দ্রুতই মৃত্যুবরণ করলেন এবং ওহী সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল। (এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন)
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
فصلفي وفاته صلى الله عليه وسلميقول الله عز وجل مخاطبا نبيه صلى الله عليه وسلم: {إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَيِّتُونَ} (1) ويقول - سبحانه -: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ} (2) ويقول عز وجل: {وَمَا جَعَلْنَا لِبَشَرٍ مِنْ قَبْلِكَ الْخُلْدَ أَفَإِنْ مِتَّ فَهُمُ الْخَالِدُونَ} (3)
وقد مات صلى الله عليه وسلم بعد أن أدى الأمانة وبلغ رسالة ربه، وجاهد في الله حق الجهاد، ونزل القرآن شاهدا له صلى الله عليه وسلم في آخر حياته، فقد نزلت آية المائدة: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا} (4)
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদতাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওফাত প্রসঙ্গেআল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেন: {নিশ্চয় আপনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে} (১) এবং তিনি -সুবহানাহু- বলেন: {আর মুহাম্মদ একজন রাসূল ছাড়া আর কিছু নন, তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন; সুতরাং তিনি যদি মারা যান কিংবা তাঁকে হত্যা করা হয়, তবে কি তোমরা তোমাদের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে?} (২) এবং আযযা ওয়া জাল্ল বলেন: {আর আপনার পূর্বেও আমি কোনো মানুষকে অমরত্ব দান করিনি; সুতরাং যদি আপনি মারা যান, তবে তারা কি চিরকাল বেঁচে থাকবে?} (৩)
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমানত আদায় করার, তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর জীবনের শেষ ভাগে কুরআন তাঁর সত্যতার সাক্ষ্য প্রদানকারী হিসেবে নাযিল হয়েছে, যখন সূরা আল-মায়েদাহর এই আয়াতটি নাযিল হয়: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসেবে মনোনীত করলাম} (৪)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাকীকাতু শাহাদাতি আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقد نعى الله - سبحانه - إلى نبيه صلى الله عليه وسلم أجله حين أنزل الله عليه سورة النصر، ففي [صحيح البخاري] عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: كان عمر يدخلني مع أشياخ بدر، فكأن بعضهم وجد في نفسه، فقال: لم تدخل هذا معنا ولنا أبناء مثله؟ فقال عمر: إنه من حيث علمتم. فدعاه ذات يوم فأدخله معهم، فما رئيت أنه دعاني يومئذ إلا ليريهم، قال: ما تقولون في قول الله تعالى: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} (1) ؟ فقال بعضهم: أمرنا نحمد الله ونستغفره إذا نصرنا وفتح علينا، وسكت بعضهم فلم يقل شيئا، فقال لي: أكذاك تقول يا ابن عباس؟ ! فقلت: لا، قال: فما تقول؟ قلت: هو أجل رسول الله صلى الله عليه وسلم أعلمه له، قال: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} (2) وذلك علامة أجلك، {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا} (3)
--------------------------------------------
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর সূরা আন-নাসর অবতীর্ণ করেন, তখন তিনি তাঁকে তাঁর ইন্তেকালের সংবাদ দেন। [সহীহ বুখারী]-তে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী প্রবীণ সাহাবীদের সাথে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করতেন। এতে তাঁদের কেউ কেউ মনে মনে কিছুটা ক্ষুব্ধ হলেন এবং বললেন: কেন আপনি একে আমাদের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেন অথচ আমাদের তো এর মতো সমবয়সী সন্তান রয়েছে? উমর বললেন: সে তো ঐ ব্যক্তি যার (জ্ঞান ও মর্যাদা) সম্পর্কে তোমরা অবগত আছো। একদিন তিনি আমাকে ডাকলেন এবং তাঁদের সাথে সভায় অন্তর্ভুক্ত করলেন। আমি মনে করি সেদিন তিনি কেবল তাঁদেরকে (আমার মর্যাদা) দেখানোর জন্যই আমাকে ডেকেছিলেন। তিনি বললেন: মহান আল্লাহর বাণী {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} (১) - এ সম্পর্কে আপনারা কী বলেন? তখন তাঁদের কেউ কেউ বললেন: যখন আমাদের সাহায্য করা হবে এবং আমাদের বিজয় দান করা হবে, তখন আমাদের আল্লাহর প্রশংসা করতে ও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবার তাঁদের কেউ কেউ চুপ রইলেন এবং কিছুই বললেন না। এরপর উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বললেন: হে ইবনে আব্বাস, তুমিও কি তাই বলো? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে তুমি কী বলো? আমি বললাম: এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের সংবাদ, যা আল্লাহ তাঁকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে} (২), আর তা আপনার ইন্তেকালের লক্ষণ। {তখন আপনি আপনার রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন; নিশ্চয়ই তিনি তওবা কবুলকারী।} (৩)
--------------------------------------------