(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: -)
أحكام أهل الذمة - ط رمادي   (ابن القيم)

القسم: مسائل فقهية

الكتاب: أحكام أهل الذمة

المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751هـ)

المحقق: يوسف بن أحمد البكري - شاكر بن توفيق العاروري

الناشر: رمادى للنشر - الدمام

الطبعة: الأولى، 1418 - 1997

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আহকামু আহলিয যিম্মাহ - রামাদি প্রকাশনী   (ইবনুল কায়্যিম)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ

বই: আহকামু আহলিয যিম্মাহ

লেখক: মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব বিন সা’দ শামসুদ্দীন ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)

সম্পাদক: ইউসুফ বিন আহমদ আল-বাকরী - শাকের বিন তাওফীক আল-আরূরী

প্রকাশক: রামাদী পাবলিশিং - দাম্মাম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ - ১৯৯৭

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৭৯)
‌‌[ذكر الجزية] [‌‌بَابُ الْجِزْيَةِ] [‌‌فصل‌‌ ممن تؤخذ الْجِزْيَةِ وحكمتها وسببها]

[سَبَبُ تَأْلِيفِ الْكِتَابِ

بَابُ الْجِزْيَةِ]

سُئِلَ الشَّيْخُ الْإِمَامُ الْعَالِمُ الْعَلَّامَةُ شَمْسُ الدِّينِ زَادَهُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ عَنْ كَيْفِيَّةِ الْجِزْيَةِ الْمَوْضُوعَةِ عَلَى أَهْلِ الذِّمَّةِ بِالْبِلَادِ الْإِسْلَامِيَّةِ، وَسَبَبِ وَضْعِهَا وَعَنْ مِقْدَارِ مَا يُؤْخَذُ مِنَ الْأَغْنِيَاءِ وَمِنَ الْمُتَوَسِّطِينَ وَمِنَ الْفُقَرَاءِ، وَعَنْ حَدِّ الْغَنِيِّ وَالْمُتَوَسِّطِ وَالْفَقِيرِ فِيهَا وَهَلْ يُثَابُ أَوْلِيَاءُ أُمُورِ الْمُسْلِمِينَ - أَمَدَّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى - عَلَى إِلْزَامِهِمْ بِهَا عَلَى حَسَبِ حَالِهِمْ أَمْ لَا؟ وَهَلْ يُؤْخَذُ مِنَ الْغَنِيِّ وَالْفَقِيرِ وَالْمُتَوَسِّطِ؟

وَأَجَابَ: أَمَّا سَبَبُ وَضْعِ الْجِزْيَةِ فَهُوَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} [التوبة: 29] .

 

[مِمَّنْ تُؤْخَذُ الْجِزْيَةُ]

فَأَجْمَعَ الْفُقَهَاءُ عَلَى أَنَّ الْجِزْيَةَ تُؤْخَذُ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَمِنَ
‌[জিজিয়ার আলোচনা] [‌‌জিজিয়া পরিচ্ছেদ] [‌‌অনুচ্ছেদ: যাদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা হবে এবং এর প্রজ্ঞা ও কারণ]

[গ্রন্থ রচনার কারণ

জিজিয়া পরিচ্ছেদ]

শায়খ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলিম শামসুদ্দীন—আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ বৃদ্ধি করুন—জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন ইসলামি ভূখণ্ডে জিম্মিদের ওপর ধার্যকৃত জিজিয়ার পদ্ধতি, তা প্রবর্তনের কারণ এবং ধনী, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রদের থেকে কী পরিমাণ জিজিয়া গ্রহণ করা হবে সে সম্পর্কে। এছাড়া এতে ধনী, মধ্যবিত্ত ও দরিদ্রের মানদণ্ড কী এবং মুসলিম শাসকবর্গ—আল্লাহ তাআলা তাঁদের সাহায্য করুন—জিম্মিদের অবস্থা অনুযায়ী জিজিয়া আদায়ে বাধ্য করার কারণে সওয়াব লাভ করবেন কি না? আর ধনী, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত সবার থেকেই কি তা নেওয়া হবে?

তিনি উত্তর প্রদান করেন: জিজিয়া প্রবর্তনের কারণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন অনুসরণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো; যতক্ষণ না তারা বিনীত হয়ে নিজ হাতে জিজিয়া প্রদান করে।} [সূরা আত-তাওবাহ: ২৯]

 

[যাদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা হবে]

ফকীহগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, জিজিয়া আহলে কিতাব এবং যারা...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৮০)
الْمَجُوسِ.
অগ্নিউপাসকগণ।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৮১)
وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَدْ تَوَقَّفَ فِي أَخْذِ الْجِزْيَةِ مِنَ الْمَجُوسِ حَتَّى شَهِدَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَخَذَهَا مِنْ مَجُوسِ هَجَرَ ذَكَرَهُ الْبُخَارِيُّ.

وَذَكَرَ الشَّافِعِيُّ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ذَكَرَ الْمَجُوسَ فَقَالَ: مَا أَدْرِي كَيْفَ أَصْنَعُ فِي أَمْرِهِمْ، فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ: أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ
আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অগ্নিউপাসকদের নিকট থেকে জিযিয়া গ্রহণ করার বিষয়ে বিরত ছিলেন, যতক্ষণ না আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাক্ষ্য প্রদান করলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাজারের অগ্নিউপাসকদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছিলেন। ইমাম বুখারী এটি উল্লেখ করেছেন।

আর ইমাম শাফিঈ উল্লেখ করেছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অগ্নিউপাসকদের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন: "আমি জানি না তাদের বিষয়ে কী করব।" তখন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আমি শুনেছি..."
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৮৩)
رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: " «سُنُّوا بِهِمْ سُنَّةَ أَهْلِ الْكِتَابِ» " وَهَذَا صَرِيحٌ فِي أَنَّهُمْ لَيْسُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، وَيَدُلُّ عَلَيْهِ قَوْلُهُ تَعَالَى: {أَنْ تَقُولُوا إِنَّمَا أُنْزِلَ الْكِتَابُ عَلَى طَائِفَتَيْنِ مِنْ قَبْلِنَا وَإِنْ كُنَّا عَنْ دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ} [الأنعام: 156] ، فَاللَّهُ سُبْحَانَهُ حَكَى هَذَا عَنْهُمْ، وَلَمْ يُنْكِرْهُ عَلَيْهِمْ وَلَمْ يُكَذِّبْهُمْ فِيهِ.

وَأَمَّا حَدِيثُ عَلِيٍّ أَنَّهُ قَالَ: " أَنَا أَعْلَمُ النَّاسِ بِالْمَجُوسِ كَانَ لَهُمْ عِلْمٌ يُعَلِّمُونَهُ وَكِتَابٌ يَدْرُسُونَهُ، وَإِنَّ مَلِكَهُمْ سَكِرَ فَوَقَعَ عَلَى ابْنَتِهِ أَوْ أُخْتِهِ فَاطَّلَعَ عَلَيْهِ بَعْضُ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ، فَلَمَّا صَحَا جَاءُوا يُقِيمُونَ عَلَيْهِ الْحَدَّ فَامْتَنَعَ مِنْهُمْ وَدَعَا أَهْلَ مَمْلَكَتِهِ وَقَالَ: تَعْلَمُونَ دِينًا خَيْرًا مِنْ دِينِ آدَمَ وَقَدْ أَنْكَحَ بَنِيهِ بَنَاتِهِ، فَأَنَا عَلَى دِينِ آدَمَ، قَالَ: فَتَابَعَهُ قَوْمٌ وَقَاتَلُوا الَّذِينَ يُخَالِفُونَهُ حَتَّى قَتَلَهُمْ، فَأَصْبَحُوا وَقَدْ أُسْرِيَ بِكِتَابِهِمْ وَرُفِعَ الْعِلْمُ الَّذِي فِي صُدُورِهِمْ فَهُمْ أَهْلُ كِتَابٍ، وَقَدْ أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَبُو بَكْرٍ - وَأَرَاهُ قَالَ: وَعُمَرُ - مِنْهُمُ الْجِزْيَةَ ".

فَهَذَا حَدِيثٌ رَوَاهُ الشَّافِعِيُّ فِي " مُسْنَدِهِ " وَسَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তাদের সাথে আহলে কিতাবদের ন্যায় আচরণ করো।" এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট যে তারা আহলে কিতাবদের অন্তর্ভুক্ত নয়। মহান আল্লাহর এই বাণী এর প্রমাণ দেয়: "যাতে তোমরা এ কথা না বলো যে, কিতাব তো কেবল আমাদের পূর্ববর্তী দুই দলের ওপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল, আর আমরা তাদের পঠন-পাঠন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না" [আল-আনআম: ১৫৬]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাদের পক্ষ থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তাদের এই বক্তব্যকে অস্বীকার করেননি কিংবা এতে তাদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেননি।

আর আলীর হাদিস হলো, তিনি বলেছেন: "আমি মাজুসদের সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানি। তাদের এমন জ্ঞান ছিল যা তারা শিক্ষা দিত এবং এমন কিতাব ছিল যা তারা পাঠ করত। একদা তাদের রাজা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার কন্যা অথবা তার বোনের সাথে অপকর্মে লিপ্ত হয়। তার রাজ্যের কিছু লোক বিষয়টি অবগত হয়ে যায়। যখন সে জ্ঞান ফিরে পেল, তখন তারা তার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করতে এল। সে তাদের বাধা প্রদান করল এবং তার রাজ্যের প্রজাদের ডেকে বলল: তোমরা কি আদম (আলাইহিস সালাম)-এর ধর্মের চেয়ে উত্তম কোনো ধর্ম জানো? অথচ তিনি তার পুত্রদের সাথে তার কন্যাদের বিবাহ দিয়েছিলেন। সুতরাং আমি আদমের ধর্মের ওপরই আছি। তিনি বলেন: ফলে একদল লোক তার অনুসরণ করল এবং যারা তার বিরোধিতা করেছিল তাদের সাথে তারা লড়াই করল এমনকি তাদের হত্যা করে ফেলল। অতঃপর প্রভাতে দেখা গেল যে তাদের কিতাবটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অন্তরে বিদ্যমান জ্ঞান তুলে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং তারা আহলে কিতাব ছিল। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর—আমার মনে হয় তিনি উমরের কথাও বলেছেন—তাদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেছেন।"

এটি ইমাম শাফিঈ তাঁর "মুসনাদ"-এ এবং সাঈদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৮৪)
وَغَيْرُهُمَا وَلَكِنَّ جَمَاعَةً مِنَ الْحُفَّاظِ ضَعَّفُوا الْحَدِيثَ.

قَالَ أَبُو عُبَيْدٍ: لَا أَحْسَبُ مَا رَوَوْهُ عَنْ عَلِيٍّ فِي هَذَا مَحْفُوظًا.

وَقَدْ رَوَى الْبُخَارِيُّ فِي " صَحِيحِهِ " عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ أَنَّهُ قَالَ لِعَامِلِ كِسْرَى: " أَمَرَنَا نَبِيُّنَا أَنْ نُقَاتِلَكُمْ حَتَّى تَعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ أَوْ تُؤَدُّوا الْجِزْيَةَ ".

وَفِي " مُسْنَدِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ " وَالتِّرْمِذِيِّ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: «مَرِضَ أَبُو طَالِبٍ فَجَاءَتْهُ قُرَيْشٌ وَجَاءَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَشَكَوْهُ إِلَى أَبِي طَالِبٍ فَقَالَ: يَابْنَ أَخِي مَا تُرِيدُ مِنْ قَوْمِكَ؟ قَالَ: " أُرِيدُ مِنْهُمْ كَلِمَةً تَدِينُ
এবং তারা দুজন ছাড়াও অন্যরাও, কিন্তু হাফেজদের একটি জামাত এই হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন।

আবু উবাইদ বলেন: আলী (রা.) থেকে এই বিষয়ে তারা যা বর্ণনা করেছে, আমি তা সংরক্ষিত (সহিহ) বলে মনে করি না।

ইমাম বুখারি তাঁর "সহিহ"-তে মুগিরা ইবনে শু'বা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কিসরার গভর্নরকে বলেছিলেন: "আমাদের নবী আমাদের আদেশ দিয়েছেন তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যতক্ষণ না তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো অথবা জিজিয়া প্রদান করো।"

এবং "মুসনাদে ইমাম আহমাদ" ও তিরমিযীতে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আবু তালিব অসুস্থ হলেন, তখন কুরাইশরা তাঁর কাছে আসলো এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর নিকট আসলেন। তারা আবু তালিবের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলো। তখন তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি তোমার কওমের নিকট কী চাও? তিনি বললেন: আমি তাদের কাছে এমন একটি বাক্য চাই যার প্রতি তারা অনুগত হবে..."
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৮৫)
لَهُمْ بِهَا الْعَرَبُ، وَتُؤَدِّي إِلَيْهِمْ بِهَا الْعَجَمُ الْجِزْيَةَ» ".

قَالَ كَلِمَةً وَاحِدَةً؟ قَالَ: " كَلِمَةً وَاحِدَةً لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ".

قَالُوا: {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} [ص: 5] {مَا سَمِعْنَا بِهَذَا فِي الْمِلَّةِ الْآخِرَةِ إِنْ هَذَا إِلَّا اخْتِلَاقٌ} [ص: 7] ، قَالَ: فَنَزَلَ فِيهِمْ: {ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ} [ص: 1] ، إِلَى قَوْلِهِ: {اخْتِلَاقٌ} [ص: 7] .

وَفِي " الصَّحِيحَيْنِ " مِنْ حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْأَنْصَارِيِّ: " «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ إِلَى الْبَحْرَيْنِ، وَأَمَّرَ عَلَيْهِمُ الْعَلَاءَ بْنَ الْحَضْرَمِيِّ» ".
এর মাধ্যমে আরবরা তাদের বশীভূত হবে এবং অনারবরা তাদের নিকট জিজিয়া প্রদান করবে।"

তিনি বললেন: "মাত্র একটি বাক্য?" তিনি বললেন: "একটি বাক্য, যা হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।"

তারা বলল: {সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে মাত্র একজন উপাস্য সাব্যস্ত করেছে? নিশ্চয়ই এটি এক আশ্চর্যজনক বিষয়} [সোয়াদ: ৫] {আমরা তো পূর্ববর্তী ধর্মে এমন কথা শুনিনি; এটি এক মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছুই নয়} [সোয়াদ: ৭], তিনি বলেন: অতঃপর তাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হলো: {সোয়াদ, শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের} [সোয়াদ: ১], তাঁর এই কথা পর্যন্ত: {মনগড়া কথা} [সোয়াদ: ৭]।

এবং "সহীহাইন"-এ আমর ইবনে আউফ আল-আনসারীর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহকে বাহরাইনে প্রেরণ করেন এবং আলা ইবনুল হাদরামিকে তাদের ওপর আমির নিযুক্ত করেন।"
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৮৬)
وَذَكَرَ أَبُو عُبَيْدٍ فِي كِتَابِ " الْأَمْوَالِ " عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: «قَبِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجِزْيَةَ مِنْ أَهْلِ الْبَحْرَيْنِ وَكَانُوا مَجُوسًا» .

وَفِي " سُنَنِ أَبِي دَاوُدَ " مِنْ حَدِيثِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ خَالِدَ بْنَ الْوَلِيدِ إِلَى أُكَيْدِرِ دُومَةَ فَأَخَذُوهُ فَأَتَوْا بِهِ فَحَقَنَ لَهُ دَمَهَ، وَصَالَحَهُ عَلَى الْجِزْيَةِ» .

وَقَالَ الزُّهْرِيُّ: أَوَّلُ مَا أُخِذَتِ الْجِزْيَةُ مِنْ أَهْلِ نَجْرَانَ وَكَانُوا نَصَارَى.

وَفِي " صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ " عَنِ [ابْنِ] أَبِي نَجِيحٍ قَالَ: قُلْتُ لِمُجَاهِدٍ: مَا شَأْنُ أَهْلِ الشَّامِ عَلَيْهِمْ أَرْبَعَةُ دَنَانِيرَ وَأَهْلُ الْيَمَنِ عَلَيْهِمْ دِينَارٌ؟ قَالَ: جُعِلَ ذَلِكَ مِنْ قِبَلِ الْيَسَارِ.
আবু উবাইদ তাঁর "আল-আমওয়াল" গ্রন্থে যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহরাইনবাসীদের থেকে জিযিয়া গ্রহণ করেছিলেন এবং তারা ছিল অগ্নিপূজক (মাজুস)।"

এবং "সুনানে আবু দাউদ"-এ আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ বিন ওয়ালিদকে দুমাতুল জান্দালের অধিপতি উকাইদারের কাছে প্রেরণ করেন। তারা তাকে পাকড়াও করে তাঁর কাছে নিয়ে আসে। অতঃপর তিনি তার রক্ত রক্ষা করেন (তাকে প্রাণে মারেননি) এবং জিযিয়ার শর্তে তার সাথে সন্ধি করেন।"

যুহরি বলেন: "সর্বপ্রথম নাজরানবাসীদের থেকে জিযিয়া গ্রহণ করা হয়েছিল এবং তারা ছিল খ্রিস্টান।"

"সহীহ বুখারী"-তে ইবনে আবু নাজীহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি মুজাহিদকে জিজ্ঞেস করলাম, শামের অধিবাসীদের জন্য চার দিনার এবং ইয়ামেনবাসীদের জন্য এক দিনার ধার্য হওয়ার কারণ কী? তিনি বললেন: সচ্ছলতার ভিত্তিতে এটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৮৭)
فَاخْتَلَفَ الْفُقَهَاءُ فِيمَنْ تُؤْخَذُ مِنْهُمُ الْجِزْيَةُ، بَعْدَ اتِّفَاقِهِمْ عَلَى أَخْذِهَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَمِنَ الْمَجُوسِ.

فَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ: تُؤْخَذُ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمَجُوسِ وَعَبَدَةِ الْأَوْثَانِ مِنَ الْعَجَمِ، وَلَا تُؤْخَذُ مِنْ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ مِنَ الْعَرَبِ وَنَصَّ عَلَى ذَلِكَ أَحْمَدُ فِي رِوَايَةٍ عَنْهُ.

وَاحْتَجَّ أَرْبَابُ هَذَا الْقَوْلِ عَلَى ذَلِكَ بِحُجَجٍ مِنْهَا قَوْلُهُ فِي الْحَدِيثِ الْمُتَقَدِّمِ: " «وَتُؤَدِّي إِلَيْكُمْ بِهَا الْعَجَمُ الْجِزْيَةَ» "، وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ بُرَيْدَةَ الَّذِي رَوَاهُ مُسْلِمٌ فِي " صَحِيحِهِ " قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْ سَرِيَّةٍ أَوْصَاهُ فِي خَاصَّتِهِ بِتَقْوَى اللَّهِ وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا، ثُمَّ قَالَ: " اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ، اغْزُوا وَلَا تَغُلُّوا، وَلَا تَغْدِرُوا، وَلَا تُمَثِّلُوا، وَلَا تَقْتُلُوا وَلِيدًا، وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى إِحْدَى ثَلَاثِ خِصَالٍ أَوْ خِلَالٍ، فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ إِلَيْهَا فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الْإِسْلَامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ، وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ، فَإِنْ أَبَوْا أَنْ يَتَحَوَّلُوا مِنْهَا، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَلَا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَسَلْهُمُ
আহলে কিতাব এবং অগ্নিপূজকদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করার ব্যাপারে ঐকমত্য হওয়ার পর, কাদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা হবে সেই বিষয়ে ফকিহগণ মতভেদ করেছেন।

আবু হানিফা বলেন: আহলে কিতাব, অগ্নিপূজক এবং অনারব মূর্তিপূজকদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা হবে; কিন্তু আরব মূর্তিপূজকদের থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। ইমাম আহমাদ থেকেও একটি বর্ণনায় এই কথাটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

এই মতের অনুসারীগণ এর সপক্ষে কতিপয় দলিল পেশ করেছেন, যার মধ্যে পূর্বোক্ত হাদিসে তাঁর এই বাণীটি রয়েছে: "এবং এর মাধ্যমে অনারবরা তোমাদের কাছে জিজিয়া প্রদান করবে।" তারা বুরায়দাহ বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যা মুসলিম তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো বাহিনী বা সেনাদলের ওপর কোনো আমির নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে বিশেষভাবে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং তার সাথে থাকা মুসলিমদের সাথে উত্তম আচরণের উপদেশ দিতেন। অতঃপর তিনি বলতেন: "তোমরা আল্লাহর নামে, আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো; যারা আল্লাহর সাথে কুফরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তোমরা যুদ্ধ করো তবে গনিমতের মাল আত্মসাৎ করো না, অঙ্গীকার ভঙ্গ করো না, মৃতদেহ বিকৃত করো না এবং কোনো শিশুকে হত্যা করো না। তুমি যখন মুশরিকদের মধ্য থেকে তোমার শত্রুর মুখোমুখি হবে, তখন তাদেরকে তিনটি বিষয়ের কোনো একটির দিকে আহ্বান জানাও। তারা এর মধ্যে যেটিই গ্রহণ করবে, তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করো এবং তাদের ওপর আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকো। অতঃপর তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দাও; যদি তারা তাতে সাড়া দেয় তবে তা কবুল করো এবং তাদের ওপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকো। এরপর তাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে মুহাজিরদের আবাসে স্থানান্তরিত হওয়ার আহ্বান জানাও। আর তাদের জানিয়ে দাও যে, যদি তারা তা করে তবে মুহাজিরদের জন্য যা (অধিকার) রয়েছে তাদের জন্যও তা থাকবে এবং মুহাজিরদের ওপর যা (দায়িত্ব) রয়েছে তাদের ওপরও তা বর্তাবে। কিন্তু তারা যদি স্থানান্তরিত হতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দাও যে তারা সাধারণ মুসলিম বেদুইনদের মতো গণ্য হবে। মুমিনদের ওপর আল্লাহর যে বিধান কার্যকর হয় তাদের ওপরও তা কার্যকর হবে; তবে গনিমত এবং ফায়-এর সম্পদের মধ্যে তাদের কোনো অংশ থাকবে না, যদি না তারা মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করে। অতঃপর তারা যদি অস্বীকার করে, তবে তাদের নিকট দাবি করো...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৮৮)
الْجِزْيَةَ فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ، وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ، وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلَا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَلَا ذِمَّةَ نَبِيِّهِ، وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ، وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ فَإِنَّكُمْ إِنْ تُخْفِرُوا ذِمَمَكُمْ وَذِمَمَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ، وَذِمَّةَ رَسُولِهِ، وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ فَلَا تُنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي أَتُصِيبُ حُكْمَ اللَّهِ فِيهِمْ أَمْ لَا؟» ".

وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ أَنْوَاعٌ مِنَ الْفِقْهِ.

مِنْهَا: وَصِيَّةُ الْإِمَامِ لِنُوَّابِهِ، وَأُمَرَائِهِ، وَوُلَاتِهِ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَالْإِحْسَانِ إِلَى الرَّعِيَّةِ فَبِهَذَيْنِ الْأَصْلَيْنِ يُحْفَظُ عَلَى الْأَمِيرِ مَنْصِبُهُ، وَتَقَرُّ عَيْنُهُ بِهِ وَيَأْمَنُ فِيهِ مِنَ النَّكَبَاتِ وَالْغِيَرِ، وَمَتَى تَرَكَ هَذَيْنِ الْأَمْرَيْنِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَا بُدَّ أَنْ يَسْلُبَهُ اللَّهُ عِزَّهُ، وَيَجْعَلَهُ عِبْرَةً لِلنَّاسِ فَمَا إِنْ سُلِبَتِ النِّعَمُ إِلَّا بِتَرْكِ تَقْوَى اللَّهِ وَالْإِسَاءَةِ إِلَى النَّاسِ.

وَمِنْهَا: أَنَّ الْجَيْشَ لَيْسَ لَهُمْ أَنْ يَغُلُّوا مِنَ الْغَنِيمَةِ، وَلَا يَغْدِرُوا بِالْعَهْدِ، وَلَا يُمَثِّلُوا بِالْكُفَّارِ، وَلَا يَقْتُلُوا مَنْ لَمْ يَبْلُغِ الْحُلُمَ.

وَمِنْهَا: أَنَّ الْمُسْلِمِينَ يَدْعُونَ الْكُفَّارَ - قَبْلَ قِتَالِهِمْ - إِلَى الْإِسْلَامِ، وَهَذَا وَاجِبٌ إِنْ كَانَتِ الدَّعْوَةُ لَمْ تَبْلُغْهُمْ، وَمُسْتَحَبٌّ إِنْ بَلَغَتْهُمُ الدَّعْوَةُ، هَذَا إِذَا كَانَ الْمُسْلِمُونَ هُمُ الْقَاصِدِينَ لِلْكُفَّارِ، فَأَمَّا إِذَا قَصَدَهُمُ الْكُفَّارُ فِي دِيَارِهِمْ فَلَهُمْ أَنْ يُقَاتِلُوهُمْ مِنْ غَيْرِ دَعْوَةٍ لِأَنَّهُمْ يَدْفَعُونَهُمْ عَنْ أَنْفُسِهِمْ وَحَرِيمِهِمْ.

وَمِنْهَا: إِلْزَامُهُمْ بِالتَّحَوُّلِ إِلَى دَارِ الْإِسْلَامِ إِذَا كَانُوا مُقِيمِينَ بَيْنَ الْكُفَّارِ، فَإِنْ أَسْلَمُوا كُلُّهُمْ وَصَارَتِ الدَّارُ دَارَ الْإِسْلَامِ لَمْ يُلْزَمُوا بِالتَّحَوُّلِ مِنْهَا بَلْ
জিজিয়া; যদি তারা তাতে সম্মত হয় তবে তা গ্রহণ করো এবং তাদের উপর আক্রমণ থেকে বিরত থাকো। আর যদি তারা অস্বীকার করে, তবে আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। যখন তুমি কোনো দুর্গের লোকদের অবরোধ করবে আর তারা তোমার কাছে আল্লাহ ও তাঁর নবীর জিম্মা (নিরাপত্তা বা অঙ্গীকার) চাইবে, তখন তুমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর নবীর জিম্মা দিও না; বরং তোমার এবং তোমার সঙ্গীদের জিম্মা দাও। কারণ তোমাদের নিজেদের ও তোমাদের সঙ্গীদের জিম্মা ভঙ্গ করা আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের জিম্মা ভঙ্গ করার চেয়ে সহজ। আর যখন তুমি কোনো দুর্গের লোকদের অবরোধ করবে আর তারা আল্লাহর ফয়সালা অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করতে চাইবে, তখন তুমি আল্লাহর ফয়সালায় তাদের গ্রহণ করো না; বরং তোমার নিজের ফয়সালায় তাদের গ্রহণ করো। কেননা তুমি জানো না যে তাদের ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালাটি কি তুমি সঠিকভাবে পালন করতে পারবে কি না।

এই হাদিসের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের ফিকহ (বিধান) রয়েছে।

তন্মধ্যে একটি হলো: ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) কর্তৃক তাঁর প্রতিনিধি, সেনাপতি ও গভর্নরদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং প্রজাদের প্রতি সদাচরণের উপদেশ প্রদান। এই দুটি মূলনীতির মাধ্যমেই একজন আমিরের পদমর্যাদা সুরক্ষিত থাকে, এর দ্বারা তিনি প্রীত হন এবং বিপদ-আপদ ও পরিবর্তনের হাত থেকে নিরাপদ থাকেন। আর যখনই তিনি এই দুটি বিষয় বা এর কোনোটি বর্জন করেন, আল্লাহ অবশ্যই তাঁর সম্মান ছিনিয়ে নেন এবং তাঁকে মানুষের জন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত বানিয়ে দেন। কেননা নেয়ামতসমূহ কেবল আল্লাহর তাকওয়া বর্জন এবং মানুষের প্রতি দুরাচরণের মাধ্যমেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

আরেকটি হলো: সেনাবাহিনীর জন্য যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (গণিমত) থেকে আত্মসাৎ করা, চুক্তি ভঙ্গ করা, কাফেরদের মৃতদেহ বিকৃত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের হত্যা করা বৈধ নয়।

আরেকটি হলো: মুসলমানদের উচিত কাফেরদের সাথে যুদ্ধের পূর্বে তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়া। এটি ওয়াজিব যদি তাদের কাছে দাওয়াত না পৌঁছে থাকে, আর যদি দাওয়াত পৌঁছে থাকে তবে তা মুস্তাহাব। এটি তখন প্রযোজ্য যখন মুসলমানরাই কাফেরদের অভিমুখে অগ্রসর হয়। কিন্তু কাফেররা যদি মুসলমানদের ভূখণ্ডে আক্রমণ করে, তবে দাওয়াত ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অবকাশ রয়েছে, কারণ তখন তারা নিজেদের জান ও সম্মান রক্ষার্থে তাদের প্রতিরোধ করছে।

আরেকটি হলো: তারা যদি কাফেরদের মাঝে বসবাসকারী হয় তবে তাদের দারুল ইসলামে হিজরত করতে বাধ্য করা। যদি তারা সকলে ইসলাম গ্রহণ করে এবং সেই ভূখণ্ড দারুল ইসলামে পরিণত হয়, তবে সেখান থেকে হিজরত করার আবশ্যকতা থাকে না, বরং...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৮৯)
يُقِيمُونَ فِي دِيَارِهِمْ، وَكَانَتْ دَارُ الْهِجْرَةِ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هِيَ دَارَ الْإِسْلَامِ، فَلَمَّا أَسْلَمَ أَهْلُ الْأَمْصَارِ صَارَتِ الْبِلَادُ الَّتِي أَسْلَمَ أَهْلُهَا بِلَادَ الْإِسْلَامِ فَلَا يَلْزَمُهُمُ الِانْتِقَالُ مِنْهَا.

وَمِنْهَا: أَنَّ الْأَعْرَابَ لَيْسَ لَهُمْ شَيْءٌ فِي الْفَيْءِ وَلَا فِي الْغَنَائِمِ مَا لَمْ يُقَاتِلُوا، فَإِذَا قَاتَلُوا اسْتَحَقُّوا مِنَ الْغَنِيمَةِ مَا يَسْتَحِقُّهُ مَنْ شَهِدَ الْوَقْعَةَ وَأَمَّا الْأَعْرَابُ الَّذِينَ لَا يُقَاتِلُونَ الْكُفَّارَ مَعَ الْمُسْلِمِينَ فَلَيْسَ لَهُمْ شَيْءٌ فِي الْفَيْءِ وَلَا فِي الْغَنِيمَةِ.

وَمِنْهَا: أَنَّ الْجِزْيَةَ تُؤْخَذُ مِنْ كُلِّ كَافِرٍ هَذَا ظَاهِرُ هَذَا الْحَدِيثِ وَلَمْ يَسْتَثْنِ مِنْهُ كَافِرًا مِنْ كَافِرٍ.

وَلَا يُقَالُ: هَذَا مَخْصُوصٌ بِأَهْلِ الْكِتَابِ خَاصَّةً، فَإِنَّ اللَّفْظَ يَأْبَى اخْتِصَاصَهُمْ بِأَهْلِ الْكِتَابِ، وَأَيْضًا فَسَرَايَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجُيُوشُهُ أَكْثَرُ مَا كَانَتْ تُقَاتِلُ عَبَدَةَ الْأَوْثَانِ مِنَ الْعَرَبِ.

وَلَا يُقَالُ: إِنَّ الْقُرْآنَ يَدُلُّ عَلَى اخْتِصَاصِهَا بِأَهْلِ الْكِتَابِ، فَإِنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ أَمَرَ بِقِتَالِ أَهْلِ الْكِتَابِ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ، وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أُمِرَ بِقِتَالِ الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ، فَيُؤْخَذُ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ بِالْقُرْآنِ وَمِنْ عُمُومِ الْكُفَّارِ بِالسُّنَّةِ، وَقَدْ أَخَذَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنَ الْمَجُوسِ وَهُمْ عُبَّادُ النَّارِ لَا فَرْقَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ، وَلَا يَصِحُّ أَنَّهُمْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلَا كَانَ لَهُمْ كِتَابٌ، وَلَوْ كَانُوا أَهْلَ كِتَابٍ عِنْدَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم لَمْ يَتَوَقَّفْ عُمَرُ رضي الله عنه فِي أَمْرِهِمْ وَلَمْ
তারা নিজ নিজ বাসস্থানেই অবস্থান করবে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে হিজরতের আবাসস্থল ছিল ইসলামের আবাস (দারুল ইসলাম)। অতঃপর যখন বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ইসলাম গ্রহণ করল, তখন যেসব ভূখণ্ডের অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণ করেছিল তা ইসলামের আবাসে পরিণত হলো, ফলে সেখান থেকে তাদের স্থানান্তরিত হওয়া আর আবশ্যক রইল না।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: মরুবাসী আরবদের জন্য 'ফায়' (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এবং গণিমতের মালে কোনো অংশ নেই যতক্ষণ না তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যখন তারা যুদ্ধ করবে, তখন তারা গণিমতের মালের সেই অংশ পাওয়ার অধিকারী হবে যা যুদ্ধে উপস্থিত ব্যক্তিরা পায়। আর যেসব মরুবাসী আরব মুসলিমদের সাথে মিলে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না, তাদের জন্য 'ফায়' ও গণিমতের মালে কোনো অংশ নেই।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: প্রত্যেক কাফেরের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা হবে। এই হাদিসের বাহ্যিক অর্থ এটাই এবং এতে এক কাফের থেকে অন্য কাফেরকে আলাদা বা ব্যতিক্রম করা হয়নি।

আর একথা বলা যাবে না যে: এটি কেবল আহলে কিতাবদের সাথেই নির্দিষ্ট; কেননা (হাদিসের) শব্দ একে কেবল আহলে কিতাবদের সাথে নির্দিষ্ট করতে অস্বীকার করে। তাছাড়া আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ছোট ও বড় সেনাদলগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আরবের মূর্তিপূজকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত।

আর একথাও বলা যাবে না যে: কুরআন একে কেবল আহলে কিতাবদের সাথে নির্দিষ্ট করার প্রমাণ দেয়। কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আহলে কিতাবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিয়েছেন যতক্ষণ না তারা জিজিয়া প্রদান করে, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা জিজিয়া প্রদান করে। অতএব, আহলে কিতাবদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা হয় কুরআনের মাধ্যমে এবং সাধারণ কাফেরদের থেকে গ্রহণ করা হয় সুন্নাহর মাধ্যমে। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অগ্নিপূজকদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেছেন, অথচ তারা ছিল আগুনের উপাসক; তাদের এবং মূর্তিপূজকদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা আহলে কিতাব ছিল—একথা সঠিক নয় এবং তাদের কোনো কিতাবও ছিল না। যদি তারা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নিকট আহলে কিতাব হিসেবে গণ্য হতো, তবে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত হতেন না এবং...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯০)
يَقُلِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " «سُنُّوا بِهِمْ سُنَّةَ أَهْلِ الْكِتَابِ» " بَلْ هَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّهُمْ لَيْسُوا أَهْلَ كِتَابٍ، وَقَدْ ذَكَرَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ أَهْلَ الْكِتَابِ فِي الْقُرْآنِ فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ، وَذَكَرَ الْأَنْبِيَاءَ الَّذِينَ أَنْزَلَ عَلَيْهِمُ الْكُتُبَ وَالشَّرَائِعَ الْعِظَامَ وَلَمْ يَذْكُرْ لِلْمَجُوسِ - مَعَ أَنَّهَا أُمَّةٌ عَظِيمَةٌ مِنْ أَعْظَمِ الْأُمَمِ شَوْكَةً وَعَدَدًا وَبَأْسًا - كِتَابًا وَلَا نَبِيًّا، وَلَا أَشَارَ إِلَى ذَلِكَ بَلِ الْقُرْآنُ يَدُلُّ عَلَى خِلَافِهِ كَمَا تَقَدَّمَ، فَإِذَا أُخِذَتْ مِنْ عُبَّادِ النِّيرَانِ فَأَيُّ فَرْقٍ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ عُبَّادِ الْأَوْثَانِ؟

فَإِنْ قِيلَ: فَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَأْخُذْهَا مِنْ أَحَدٍ مِنْ عُبَّادِ الْأَوْثَانِ مَعَ كَثْرَةِ قِتَالِهِ لَهُمْ.

قِيلَ: أَجَلْ وَذَلِكَ لِأَنَّ آيَةَ الْجِزْيَةِ إِنَّمَا نَزَلَتْ عَامَ " تَبُوكَ " فِي السَّنَةِ التَّاسِعَةِ مِنَ الْهِجْرَةِ بَعْدَ أَنْ أَسْلَمَتْ جَزِيرَةُ الْعَرَبِ وَلَمْ يَبْقَ بِهَا أَحَدٌ مِنْ عُبَّادِ الْأَوْثَانِ، فَلَمَّا نَزَلَتْ آيَةُ الْجِزْيَةِ أَخَذَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِمَّنْ بَقِيَ عَلَى كُفْرِهِ مِنَ النَّصَارَى وَالْمَجُوسِ وَلِهَذَا لَمْ يَأْخُذْهَا مِنْ يَهُودِ الْمَدِينَةِ حِينَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَلَا مِنْ يَهُودِ خَيْبَرَ لِأَنَّهُ صَالَحَهُمْ قَبْلَ نُزُولِ آيَةِ الْجِزْيَةِ.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তাদের সাথে আহলে কিতাবের ন্যায় আচরণ করো।" বরং এটি একথাই প্রমাণ করে যে, তারা আহলে কিতাব (আসমানী কিতাবধারী) নয়। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আহলে কিতাবদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেই সব নবীদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের প্রতি কিতাব ও মহান শরিয়তসমূহ অবতীর্ণ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি মজুসদের (অগ্নিউপাসক) জন্য কোনো কিতাব কিংবা কোনো নবীর কথা উল্লেখ করেননি—যদিও তারা প্রভাব-প্রতিপত্তি, সংখ্যা এবং শক্তির দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি মহান জাতি ছিল। এমনকি তিনি সেদিকে কোনো ইঙ্গিতও করেননি, বরং কুরআন এর বিপরীত বিষয়ই প্রমাণ করে, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। অতএব, যদি অগ্নিউপাসকদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করা হয়, তবে তাদের এবং মূর্তিপূজকদের মধ্যে পার্থক্য কী রইল?

যদি বলা হয়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূর্তিপূজকদের সাথে এত অধিক যুদ্ধ করা সত্ত্বেও তাদের কারো কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেননি।

এর উত্তরে বলা হবে: হ্যাঁ, এটি সত্য। আর তার কারণ হলো, জিজিয়ার আয়াতটি হিজরি নবম বর্ষে 'তাবুক' অভিযানের বছর অবতীর্ণ হয়েছিল, যখন সমগ্র আরব উপদ্বীপ ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং সেখানে কোনো মূর্তিপূজক অবশিষ্ট ছিল না। ফলে যখন জিজিয়ার আয়াত অবতীর্ণ হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খ্রিস্টান ও মজুসদের মধ্যে যারা নিজ কুফরির ওপর অটল ছিল, তাদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করলেন। এ কারণেই তিনি মদিনায় আগমনের সময় মদিনার ইহুদিদের কাছ থেকে কিংবা খায়বারের ইহুদিদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেননি; কারণ তিনি জিজিয়ার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বেই তাদের সাথে সন্ধি করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯১)
‌‌[ادِّعَاءُ يَهُودِ خَيْبَرَ إِسْقَاطَ الْجِزْيَةِ عَنْهُمْ وَرَدُّ ذَلِكَ]

وَهَذِهِ الشُّبْهَةُ هِيَ الَّتِي أَوْقَعَتْ عِنْدَ الْيَهُودِ أَنَّ أَهْلَ خَيْبَرَ لَا جِزْيَةَ عَلَيْهِمْ، وَأَنَّهُمْ مَخْصُوصُونَ بِذَلِكَ مِنْ جُمْلَةِ الْيَهُودِ، ثُمَّ أَكَّدُوا أَمْرَهَا بِأَنْ زَوَّرُوا كِتَابًا فِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْقَطَ عَنْهُمُ الْكُلَفَ وَالسُّخَرَ وَالْجِزْيَةَ وَوَضَعُوا فِيهِ شَهَادَةَ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ وَمُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ وَغَيْرِهِمَا، وَهَذَا الْكِتَابُ كَذِبٌ مُخْتَلَقٌ بِإِجْمَاعِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ عَشَرَةِ أَوْجُهٍ:

مِنْهَا: أَنَّ أَحَدًا مِنْ عُلَمَاءِ النَّقْلِ وَالسِّيَرِ وَالْمَغَازِي لَمْ يَذْكُرْ أَنَّ ذَلِكَ وَقَعَ أَلْبَتَّةَ مَعَ عِنَايَتِهِمْ بِضَبْطِ مَا هُوَ دُونَ ذَلِكَ بِكَثِيرٍ.

الثَّانِي: أَنَّ الْجِزْيَةَ إِنَّمَا نَزَلَتْ بَعْدَ فَتْحِ خَيْبَرَ فَحِينَ صَالَحَ أَهْلَ خَيْبَرَ لَمْ تَكُنِ الْجِزْيَةُ نَزَلَتْ حَتَّى يَضَعَهَا عَنْهُمْ.

الثَّالِثُ: أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ لَمْ يَكُنْ أَسْلَمَ بَعْدُ فَإِنَّهُ إِنَّمَا أَسْلَمَ عَامَ الْفَتْحِ بَعْدَ خَيْبَرَ.

الرَّابِعُ: أَنَّ سَعْدَ بْنَ مُعَاذٍ تُوُفِّيَ عَامَ الْخَنْدَقِ قَبْلَ فَتْحِ خَيْبَرَ.

الْخَامِسُ: أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي زَمَنِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَهْلِ خَيْبَرَ كُلَفٌ وَلَا سُخَرٌ حَتَّى تُوضَعَ عَنْهُمْ.

السَّادِسُ: أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ لِأَهْلِ خَيْبَرَ مِنَ الْحُرْمَةِ وَرِعَايَةِ حُقُوقِ الْمُسْلِمِينَ مَا يَقْتَضِي وَضْعَ الْجِزْيَةِ عَنْهُمْ، وَقَدْ كَانُوا مِنْ أَشَدِّ الْكُفَّارِ عَدَاوَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ فَأَيُّ خَيْرٍ حَصَلَ بِهِمْ لِلْمُسْلِمِينَ حَتَّى تُوضَعَ عَنْهُمُ الْجِزْيَةُ دُونَ سَائِرِ الْكُفَّارِ؟
[খায়বারবাসীদের পক্ষ থেকে তাদের ওপর থেকে জিজিয়া মওকুফের দাবি এবং এর খণ্ডন]

আর এই সংশয়ই ইহুদিদের মধ্যে এই ধারণা সৃষ্টি করেছে যে, খায়বারবাসীদের ওপর কোনো জিজিয়া নেই এবং তারা সমস্ত ইহুদিদের মধ্যে এই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত। অতঃপর তারা একটি জাল দলিল তৈরি করে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে চেয়েছে, যাতে দাবি করা হয়েছে যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের ওপর থেকে সমস্ত কর, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং জিজিয়া তুলে নিয়েছেন। তারা এতে সাদ বিন মুআয, মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান এবং আরও অনেকের সাক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ জ্ঞানীদের সর্বসম্মত মতে এই দলিলটি দশটি কারণে ডাহা মিথ্যা ও বানোয়াট:

তার মধ্যে একটি হলো: ইতিহাস, সীরাত এবং মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহ) বিশেষজ্ঞদের কেউই উল্লেখ করেননি যে এই ধরনের ঘটনা আদৌ ঘটেছে; অথচ তারা এর চেয়ে অনেক ছোটখাটো বিষয়ও অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করেছেন।

দ্বিতীয়ত: জিজিয়ার বিধান মূলত খায়বার বিজয়ের পর অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে যখন তিনি খায়বারবাসীদের সাথে সন্ধি করেছিলেন, তখন জিজিয়ার বিধান নাজিলই হয়নি যে তিনি তাদের ওপর থেকে তা মওকুফ করবেন।

তৃতীয়ত: মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান তখনো ইসলাম গ্রহণ করেননি। কারণ তিনি মক্কা বিজয়ের বছর ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, যা খায়বার যুদ্ধের পরের ঘটনা।

চতুর্থত: সাদ বিন মুআয খন্দক যুদ্ধের বছর ইন্তেকাল করেন, যা খায়বার বিজয়ের আগের ঘটনা।

পঞ্চমত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সময়ে খায়বারবাসীদের ওপর এমন কোনো অতিরিক্ত কর বা বাধ্যতামূলক শ্রম ছিল না যা তাদের থেকে তুলে নেওয়া হতে পারে।

ষষ্ঠত: খায়বারবাসীদের এমন কোনো সম্মান বা মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় এমন কোনো অবদান ছিল না যা তাদের থেকে জিজিয়া প্রত্যাহারের দাবি রাখে। তারা বরং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের প্রতি কাফেরদের মধ্যে সবচেয়ে চরম শত্রু ছিল। সুতরাং তাদের মাধ্যমে মুসলিমদের এমন কী কল্যাণ হয়েছিল যে অন্য সকল কাফেরকে বাদ দিয়ে কেবল তাদের থেকে জিজিয়া তুলে নেওয়া হবে?
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯২)
السَّابِعُ: أَنَّ الْكِتَابَ الَّذِي أَظْهَرُوهُ ادَّعَوْا أَنَّهُ بِخَطِّ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، وَهَذَا كَذِبٌ قَطْعًا وَعَدَاوَةُ عَلِيٍّ رضي الله عنه لِلْيَهُودِ مَعْرُوفَةٌ، وَهُوَ الَّذِي قَتَلَ " مَرْحَبًا " الْيَهُودِيَّ وَأَثْخَنَ فِي الْيَهُودِ يَوْمَ خَيْبَرَ حَتَّى كَانَ الْفَتْحُ عَلَى يَدَيْهِ.
সপ্তম বিষয়টি হলো: তারা যে লিপিটি প্রকাশ করেছে, সেটির ব্যাপারে তারা দাবি করেছে যে তা আলী ইবনে আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর হস্তাক্ষরে লিখিত। এটি অকাট্যভাবে একটি মিথ্যাচার। ইহুদিদের প্রতি আলী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর শত্রুতা সর্বজনবিদিত। তিনিই ইহুদি ‘মারহাব’কে হত্যা করেছিলেন এবং খায়বারের দিনে ইহুদিদের চরমভাবে পর্যুদস্ত করেছিলেন, এমনকি তাঁর হাতেই বিজয় অর্জিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯৩)
الثَّامِنُ: أَنَّ هَذَا لَا يُعْرَفُ إِلَّا مِنْ رِوَايَةِ الْيَهُودِ وَهُمُ الْقَوْمُ الْبُهُتُ، أَكْذَبُ الْخُلْقِ عَلَى اللَّهِ وَأَنْبِيَائِهِ وَرُسُلِهِ، فَكَيْفَ يُصَدَّقُونَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا يُخَالِفُ كِتَابَ اللَّهِ تَعَالَى؟ !

التَّاسِعُ: أَنَّ هَذَا الْكِتَابَ لَوْ كَانَ صَحِيحًا لَأَظْهَرُوهُ فِي أَيَّامِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ وَفِي أَيَّامِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، وَفِي أَيَّامِ الْمَنْصُورِ وَالرَّشِيدِ، وَكَانَ أَئِمَّةُ الْإِسْلَامِ يَسْتَثْنُونَهُمْ مِمَّنْ تُوضَعُ عَنْهُمُ الْجِزْيَةُ أَوْ لَذَكَرَ ذَلِكَ فَقِيهٌ وَاحِدٌ مِنْ فُقَهَاءِ الْمُسْلِمِينَ، وَلَا يَجُوزُ عَلَى الْأُمَّةِ أَنْ تُجْمِعَ عَلَى مُخَالَفَةِ سُنَّةِ نَبِيِّهَا، وَكَيْفَ يَكُونُ بِأَيْدِي أَعْدَاءِ اللَّهِ كِتَابٌ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا يَحْتَجُّونَ بِهِ كُلَّ وَقْتٍ عَلَى مَنْ يَأْخُذُ الْجِزْيَةَ مِنْهُمْ، وَلَا يَذْكُرُهُ عَالِمٌ وَاحِدٌ مِنْ عُلَمَاءِ السَّلَفِ؟ وَإِنِ اغْتَرَّ بِهِ بَعْضُ مَنْ لَا عِلْمَ لَهُ بِالسِّيرَةِ وَالْمَنْقُولِ مِنَ الْمُتَأَخِّرِينَ، شَنَّعَ عَلَيْهِ أَصْحَابُهُ وَبَيَّنُوا خَطَأَهُ وَحَذَّرُوا مِنْ سَقْطَتِهِ.

الْعَاشِرُ: أَنَّ أَئِمَّةَ الْحَدِيثِ وَالنَّقْلِ يَشْهَدُونَ بِبُطْلَانِ هَذَا الْكِتَابِ،
অষ্টম: এটি কেবল ইহুদিদের বর্ণনা থেকেই জানা যায়; আর তারা হলো এক চরম মিথ্যাবাদী ও অপবাদকারী জাতি, যারা আল্লাহ, তাঁর নবীগণ এবং তাঁর রাসূলগণের নামে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিথ্যাচার করে। সুতরাং আল্লাহ তাআলার কিতাবের পরিপন্থী কোনো বিষয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের কথাকে কীভাবে সত্য বলে মেনে নেওয়া যেতে পারে?!

নবম: এই দলিলটি যদি সহীহ বা সত্য হতো, তবে তারা তা খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে, উমর ইবনে আবদুল আজিজের যুগে এবং মানসুর ও রশীদের যুগে অবশ্যই জনসমক্ষে আনত। তখন ইসলামের ইমামগণ তাদের জিজিয়া মওকুফপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করতেন অথবা মুসলিম ফকীহগণের মধ্যে অন্তত একজন হলেও তা উল্লেখ করতেন। আর উম্মতের পক্ষে তাদের নবীর সুন্নাহর পরিপন্থী কোনো বিষয়ের ওপর একমত হওয়া বৈধ নয়। আল্লাহর শত্রুদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেওয়া কোনো দলিল থাকবে, অথচ যারা তাদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করত তাদের বিরুদ্ধে তারা এটি সর্বদাই প্রমাণ হিসেবে পেশ করবে না এবং সালাফদের একজন আলেমও তা উল্লেখ করবেন না—তা কীভাবে সম্ভব? যদিও পরবর্তী যুগের সীরাত ও রেওয়ায়েত সম্পর্কে জ্ঞানহীন কেউ কেউ এটি দেখে বিভ্রান্ত হয়েছে, তবে তার সমসাময়িক বিজ্ঞজনরা তার কঠোর সমালোচনা করেছেন, তার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন এবং তার এই পদস্খলন থেকে সতর্ক করেছেন।

দশম: হাদিস ও রেওয়ায়েত শাস্ত্রের ইমামগণ এই দলিলের অসারতার সাক্ষ্য প্রদান করেন।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯৪)
وَأَنَّهُ زُورٌ مُفْتَعَلٌ وَكَذِبٌ مُخْتَلَقٌ، وَلَمَّا أَظْهَرَهُ الْيَهُودُ بَعْدَ الْأَرْبَعِ مِائَةٍ عَلَى عَهْدِ الْحَافِظِ أَبِي بَكْرٍ الْخَطِيبِ الْبَغْدَادِيِّ أَرْسَلَ إِلَيْهِ الْوَزِيرُ ابْنُ الْمُسْلِمَةِ فَأَوْقَفَهُ عَلَيْهِ فَقَالَ الْحَافِظُ: هَذَا الْكِتَابُ زُورٌ فَقَالَ لَهُ الْوَزِيرُ: مِنْ أَيْنَ هَذَا؟ فَقَالَ: فِيهِ شَهَادَةُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ وَمُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ وَسَعْدٌ مَاتَ يَوْمَ الْخَنْدَقِ قَبْلَ خَيْبَرَ، وَمُعَاوِيَةُ أَسْلَمَ يَوْمَ الْفَتْحِ سَنَةَ ثَمَانٍ، وَخَيْبَرُ كَانَتْ سَنَةَ سَبْعٍ. فَأَعْجَبَ ذَلِكَ الْوَزِيرَ.

وَالْمَقْصُودُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَأْخُذِ الْجِزْيَةَ مِنْ أَحَدٍ مِنْ
আর এটি একটি বানোয়াট জালিয়াতি এবং উদ্ভাবিত মিথ্যা। যখন ইহুদিরা চারশ হিজরির পর হাফেজ আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদির যুগে এটি প্রকাশ করল, তখন উজির ইবনুল মুসলিমাহ সেটি তাঁর কাছে পাঠিয়ে তাঁকে তা দেখালেন। তখন হাফেজ বললেন: "এই দলিলটি একটি জালিয়াতি।" উজির তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "এটা আপনি কিসের ভিত্তিতে বলছেন?" তিনি বললেন: "এতে সাদ ইবনে মুআদ এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের সাক্ষ্য রয়েছে। অথচ সাদ খন্দকের যুদ্ধের সময় খয়বার বিজয়ের পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন এবং মুয়াবিয়া অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম গ্রহণ করেছেন, আর খয়বার বিজয় হয়েছিল সপ্তম হিজরিতে।" এটি উজিরকে বিস্মিত করল।

আর উদ্দেশ্য হলো এই যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কারো কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেননি...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯৫)
مُشْرِكِي الْعَرَبِ لِأَنَّ آيَةَ الْجِزْيَةِ نَزَلَتْ بَعْدَ عَامِ تَبُوكَ، وَكَانَتْ عُبَّادُ الْأَصْنَامِ مِنَ الْعَرَبِ كُلُّهُمْ قَدْ دَخَلُوا فِي الْإِسْلَامِ فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِمَّنْ لَمْ يَدْخُلْ فِي الْإِسْلَامِ مِنَ الْيَهُودِ وَمِنَ النَّصَارَى وَمِنَ الْمَجُوسِ.

قَالَ الْمُخَصِّصُونَ بِالْجِزْيَةِ لِأَهْلِ الْكِتَابِ: الْمُرَادُ مِنْ إِرْسَالِ الرُّسُلِ وَإِنْزَالِ الْكُتُبِ إِعْدَامُ الْكُفْرِ وَالشِّرْكِ مِنَ الْأَرْضِ وَأَنْ يَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لَا تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ لِلَّهِ} [البقرة: 193] ، وَفِي الْآيَةِ الْأُخْرَى: {وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ} [الأنفال: 39] ، وَمُقْتَضَى هَذَا أَلَّا يُقَرَّ كَافِرٌ عَلَى كُفْرِهِ، وَلَكِنْ جَاءَ النَّصُّ بِإِقْرَارِ أَهْلِ الْكِتَابِ إِذَا أَعْطَوُا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ، فَاقْتَصَرْنَا بِهَا عَلَيْهِمْ وَأَخَذْنَا فِي عُمُومِ الْكُفَّارِ بِالنُّصُوصِ الدَّالَّةِ عَلَى قِتَالِهِمْ إِلَى أَنْ يَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ.

قَالُوا: وَلَا يَصِحُّ إِلْحَاقُ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ بِأَهْلِ الْكِتَابِ ; لِأَنَّ كُفْرَ الْمُشْرِكِينَ أَغْلَظُ مِنْ كُفْرِ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَإِنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ مَعَهُمْ مِنَ التَّوْحِيدِ وَبَعْضِ آثَارِ الْأَنْبِيَاءِ مَا لَيْسَ مَعَ عُبَّادِ الْأَصْنَامِ، وَيُؤْمِنُونَ بِالْمَعَادِ وَالْجَزَاءِ وَالنُّبُوَّاتِ بِخِلَافِ عَبَدَةِ الْأَصْنَامِ.

وَعَبَدَةُ الْأَصْنَامِ حَرْبٌ لِجَمِيعِ الرُّسُلِ وَأُمَمِهِمْ مِنْ عَهْدِ نُوحٍ إِلَى خَاتَمِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ ; وَلِهَذَا أَثَّرَ هَذَا التَّفَاوُتُ الَّذِي بَيْنَ الْفَرِيقَيْنِ فِي حِلِّ الذَّبَائِحِ وَجَوَازِ الْمُنَاكَحَةِ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ دُونَ عُبَّادِ الْأَصْنَامِ، وَلَا يَنْتَقِضُ هَذَا بِالْمَجُوسِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ أَنْ يُسَنَّ بِهِمْ سُنَّةَ أَهْلِ الْكِتَابِ وَهَذَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ الْجِزْيَةَ إِنَّمَا تُؤْخَذُ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَأَنَّهَا إِنَّمَا
আরব মুশরিকদের থেকে (জিজিয়া নেওয়া হয়নি), কারণ জিজিয়ার আয়াত তাবুক যুদ্ধের বছরের পরে নাযিল হয়েছে। আর আরবের মূর্তিপূজকদের সবাই তখন ইসলামে প্রবেশ করেছিল। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই ইহুদি, খ্রিস্টান এবং অগ্নিপূজকদের থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেছিলেন যারা ইসলামে প্রবেশ করেনি।

যারা জিজিয়াকে আহলে কিতাবদের জন্য সুনির্দিষ্ট করেন তারা বলেন: রাসূলদের প্রেরণ এবং কিতাবসমূহ নাযিল করার উদ্দেশ্য হলো পৃথিবী থেকে কুফর ও শিরক মিটিয়ে দেওয়া এবং দ্বীনকে পুরোপুরি আল্লাহর জন্য করা, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না ফেতনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন আল্লাহর জন্য হয়ে যায়" [আল-বাকারা: ১৯৩]। অন্য আয়াতে আছে: "এবং দ্বীন যেন পুরোপুরি আল্লাহর জন্য হয়" [আল-আনফাল: ৩৯]। এর দাবি হলো কোনো কাফেরকে তার কুফরের ওপর বহাল না রাখা, কিন্তু আহলে কিতাবদের বশ্যতা স্বীকারপূর্বক স্বহস্তে জিজিয়া প্রদানের শর্তে তাদের বহাল রাখার ব্যাপারে সুস্পষ্ট দলিল এসেছে। তাই আমরা জিজিয়াকে কেবল তাদের ওপর সীমাবদ্ধ রেখেছি এবং অন্যান্য কাফেরদের ক্ষেত্রে সেই সাধারণ দলিলগুলোর ওপর আমল করেছি যা দ্বীন পুরোপুরি আল্লাহর না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ দেয়।

তারা বলেন: মূর্তিপূজকদের আহলে কিতাবদের সাথে তুলনা করা সঠিক নয়; কারণ মুশরিকদের কুফর আহলে কিতাবদের কুফরের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। কেননা আহলে কিতাবদের কাছে তাওহীদ এবং নবীদের রেখে যাওয়া কিছু নিদর্শনের এমন কিছু অবশিষ্ট আছে যা মূর্তিপূজকদের কাছে নেই। তারা পরকাল, শেষ বিচার ও নবুওয়াতের প্রতি ঈমান রাখে, যা মূর্তিপূজকদের ক্ষেত্রে ভিন্ন।

মূর্তিপূজকরা নূহের যুগ থেকে শুরু করে শেষ নবী ও রাসূল পর্যন্ত সমস্ত রাসূল এবং তাঁদের উম্মতদের শত্রু ছিল। এ কারণেই এই দুই দলের মধ্যকার পার্থক্য যবাইকৃত পশুর মাংস হালাল হওয়া এবং আহলে কিতাব নারীদের সাথে বিবাহের বৈধতার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে, যা মূর্তিপূজকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। অগ্নিপূজকদের (মাজুস) বিষয়টি এর ব্যতিক্রম নয়, কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের ক্ষেত্রে আহলে কিতাবদের নিয়ম অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, জিজিয়া কেবল আহলে কিতাবদের থেকেই গ্রহণ করা হবে এবং এটি কেবল...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯৬)
وُضِعَتْ لِأَجْلِهِمْ خَاصَّةً وَإِلَّا لَوْ كَانَتِ الْجِزْيَةُ تَعُمُّ جَمِيعَ الْكُفَّارِ لَمْ يَكُنْ أَهْلُ الْكِتَابِ أَوْلَى بِهَا مِنْ غَيْرِهِمْ، وَلَقَالَ: لَهُمْ حُكْمُ أَمْثَالِهِمْ مِنَ الْكُفَّارِ يُقَاتَلُونَ حَتَّى يُسْلِمُوا أَوْ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ.

وَأَمَّا تَحْرِيمُ ذَبَائِحِهِمْ وَمُنَاكَحَتِهِمْ فَاتِّفَاقٌ مِنَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم، وَلِهَذَا أَنْكَرَ الْإِمَامُ أَحْمَدُ وَغَيْرُهُ عَلَى أَبِي ثَوْرٍ طَرْدَهُ الْقِيَاسَ وَإِفْتَاءَهُ بِحِلِّ ذَبَائِحِهِمْ وَجَوَازِ مُنَاكَحَتِهِمْ وَدَعَا عَلَيْهِ أَحْمَدُ حَيْثُ أَقْدَمَ عَلَى مُخَالَفَةِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالصَّحَابَةُ كَانُوا أَفْقَهَ وَأَعْلَمَ وَأَسَدَّ قِيَاسًا وَرَأْيًا فَإِنَّهُمْ أَخَذُوا فِي الدِّمَاءِ بِحَقْنِهَا مُوَافَقَةً لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَفِعْلِهِ، حَيْثُ أَخَذَهَا مِنْهُمْ وَأَخَذُوا فِي الْأَبْضَاعِ وَالذَّبَائِحِ بِتَحْرِيمِهَا احْتِيَاطًا وَإِبْقَاءً لَهَا عَلَى الْأَصْلِ، وَإِلْحَاقًا لَهُمْ بِعُبَّادِ الْأَوْثَانِ إِذْ لَا فَرْقَ فِي ذَلِكَ بَيْنَ عُبَّادِ الْأَوْثَانِ وَعُبَّادِ النِّيرَانِ، فَالْأَصْلُ فِي الدِّمَاءِ حَقْنُهَا وَفِي الْأَبْضَاعِ وَالذَّبَائِحِ تَحْرِيمُهَا فَأَبْقَوْا كُلَّ شَيْءٍ عَلَى أَصْلِهِ، وَهَذَا غَايَةُ الْفِقْهِ وَأَسَدُّ مَا يَكُونُ مِنَ النَّظَرِ.

 

‌‌[الْحِكْمَةُ مِنْ إِبْقَاءِ أَهْلِ الْكِتَابِ بَيْنَ أَظْهُرِنَا]

قَالُوا: وَلِلَّهِ تَعَالَى حِكَمٌ فِي إِبْقَاءِ أَهْلِ الْكِتَابَيْنِ بَيْنَ أَظْهُرِنَا فَإِنَّهُمْ مَعَ كُفْرِهِمْ شَاهِدُونَ بِأَصْلِ النُّبُوَّاتِ وَالتَّوْحِيدِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْجَنَّةِ وَالنَّارِ، وَفِي كُتُبِهِمْ مِنَ الْبِشَارَاتِ بِالنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَذِكْرِ نُعُوتِهِ وَصِفَاتِهِ وَصِفَاتِ أُمَّتِهِ مَا هُوَ مِنْ آيَاتِ نُبُوَّتِهِ وَبَرَاهِينِ رِسَالَتِهِ، وَمَا يَشْهَدُ بِصِدْقِ الْأَوَّلِ وَالْآخِرِ.

وَهَذِهِ الْحِكْمَةُ تَخْتَصُّ بِأَهْلِ الْكِتَابِ دُونَ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ فَبَقَاؤُهُمْ مِنْ
এটি বিশেষভাবে তাদের জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে; অন্যথা যদি জিজিয়া সমস্ত কাফেরদের জন্য সাধারণ হতো, তবে আহলে কিতাবগণ অন্যদের চেয়ে এর অধিক হকদার হতো না। সেক্ষেত্রে বলা হতো: তাদের বিধান তাদের মতো অন্যান্য কাফেরদের বিধানের মতোই, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে অথবা জিজিয়া প্রদান করে।

আর তাদের জবেহকৃত পশু ও তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম হওয়ার বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ঐক্যমত রয়েছে। এই কারণেই ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যগণ আবু সাউরের কিয়াসের অনুগমন এবং তাদের জবেহকৃত পশু ও বৈবাহিক সম্পর্ক হালাল হওয়ার ফতোয়া দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন। এমনকি আহমাদ তার বিরুদ্ধে বদদোয়াও করেছেন যেহেতু তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের বিরোধিতার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন অধিক ফকীহ, অধিক জ্ঞানী এবং কিয়াস ও মতামতের ক্ষেত্রে অধিক সঠিক। কেননা তাঁরা রক্ত রক্ষার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী ও কর্মের অনুসরণে তা গ্রহণ করেছেন। আর বৈবাহিক সম্পর্ক ও জবেহকৃত পশুর ক্ষেত্রে সতর্কতাস্বরূপ এবং বিষয়টিকে মূল অবস্থায় বহাল রেখে সেগুলোকে হারাম গণ্য করেছেন। এছাড়া তাদেরকে মূর্তিপূজকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, কেননা মূর্তিপূজক ও অগ্নিপূজকদের মধ্যে এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং রক্তের মূল বিধান হলো তা রক্ষা করা, আর বৈবাহিক সম্পর্ক ও জবেহকৃত পশুর মূল বিধান হলো হারাম হওয়া। ফলে তাঁরা প্রতিটি বিষয়কে তার মূল অবস্থায় বহাল রেখেছেন; আর এটিই হলো ফিকহশাস্ত্রের চরম পরাকাষ্ঠা এবং অত্যন্ত সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।

 

‌‌[আমাদের মাঝে আহলে কিতাবদের অবশিষ্ট রাখার প্রজ্ঞা]

তারা বলেন: আমাদের মাঝে দুই কিতাবধারীদের অবশিষ্ট রাখার পেছনে আল্লাহ তাআলার বহু প্রজ্ঞা রয়েছে। কেননা তারা কুফরি করা সত্ত্বেও নবুওয়াত, তাওহীদ, পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নামের মূল বিষয়ের সাক্ষী। আর তাদের কিতাবসমূহে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে এমন সুসংবাদ এবং তাঁর ও তাঁর উম্মতের গুণাবলির এমন বর্ণনা রয়েছে যা তাঁর নবুওয়াতের নিদর্শন এবং রিসালাতের প্রমাণস্বরূপ, এবং যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সত্যতার সাক্ষ্য প্রদান করে।

আর এই প্রজ্ঞা আহলে কিতাবদের সাথেই নির্দিষ্ট, মূর্তিপূজকদের জন্য নয়। সুতরাং তাদের অবশিষ্ট থাকা...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯৭)
أَقْوَى الْحُجَجِ عَلَى مُنْكِرِ النُّبُوَّاتِ وَالْمَعَادِ وَالتَّوْحِيدِ، وَقَدْ قَالَ تَعَالَى لِمُنْكِرِي ذَلِكَ: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43] ، ذَكَرَ هَذَا عَقِبَ قَوْلِهِ: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43] ، يَعْنِي: سَلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ هَلْ أَرْسَلْنَا قَبْلَ مُحَمَّدٍ رِجَالًا يُوحَى إِلَيْهِمْ أَمْ كَانَ مُحَمَّدٌ بِدْعًا مِنَ الرُّسُلِ لَمْ يَتَقَدَّمْهُ رَسُولٌ حَتَّى يَكُونَ إِرْسَالُهُ أَمْرًا مُنْكَرًا لَمْ يَطْرُقِ الْعَالَمَ رَسُولٌ قَبْلَهُ؟

وَقَالَ تَعَالَى: {وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رُسُلِنَا أَجَعَلْنَا مِنْ دُونِ الرَّحْمَنِ آلِهَةً يُعْبَدُونَ} [الزخرف: 45] ، وَالْمُرَادُ بِسُؤَالِهِمْ سُؤَالُ أُمَمِهِمْ عَمَّا جَاءُوهُمْ بِهِ هَلْ فِيهِ أَنَّ اللَّهَ شَرَعَ لَهُمْ أَنْ يُعْبَدَ مِنْ دُونِهِ إِلَهٌ غَيْرُهُ؟

قَالَ الْفَرَّاءُ: الْمُرَادُ سُؤَالُ أَهْلِ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ فَيُخْبِرُونَهُ عَنْ كُتُبِهِمْ وَأَنْبِيَائِهِمْ.
নবুওয়াত, পরকাল এবং তাওহীদ অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে এটি একটি শক্তিশালী প্রমাণ। আর মহান আল্লাহ এসব অস্বীকারকারীদের উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "অতএব তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের (আহলে যিকর) জিজ্ঞাসা করো।" [আন-নাহল: ৪৩], তিনি এটি তাঁর এই বাণীর পরপরই উল্লেখ করেছেন: "তোমার পূর্বে আমি পুরুষদেরকেই রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি, যাদের কাছে আমি ওহী পাঠাতাম। অতএব তোমরা যদি না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো।" [আন-নাহল: ৪৩], অর্থাৎ: তোমরা আহলে কিতাবদের জিজ্ঞাসা করো যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পূর্বে আমি কি এমন পুরুষদের পাঠিয়েছিলাম যাদের কাছে ওহী আসত, নাকি মুহাম্মাদ রাসূলগণের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন কেউ ছিলেন যার পূর্বে আর কোনো রাসূল আসেনি, যাতে করে তাঁর প্রেরণ করাটা এমন এক অস্বীকারযোগ্য বিষয় হয় যা নিয়ে ইতিপূর্বে পৃথিবীতে কোনো রাসূল পদার্পণ করেননি?

আর মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমার পূর্বে আমি আমার রাসূলদের মধ্য থেকে যাদের পাঠিয়েছি তাদের জিজ্ঞাসা করো, আমি কি দয়াময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নির্ধারণ করেছিলাম যাদের ইবাদত করা হবে?" [আয-যুখরুফ: ৪৫], আর তাদের জিজ্ঞাসা করার অর্থ হলো তাদের উম্মতদেরকে জিজ্ঞাসা করা যে, তাদের নিকট যা নিয়ে আসা হয়েছিল তাতে কি এমন কিছু ছিল যে, আল্লাহ তাঁর পরিবর্তে অন্য কোনো উপাস্যের ইবাদত করার বিধান দিয়েছেন?

আল-ফাররা বলেন: এর অর্থ হলো তাওরাত ও ইঞ্জিলের অনুসারীদের জিজ্ঞাসা করা, ফলে তারা তাদের কিতাব ও নবীদের সম্পর্কে তাঁকে সংবাদ দেবে।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯৮)
وَقَالَ ابْنُ قُتَيْبَةَ: التَّقْدِيرُ وَاسْأَلْ مَنْ أَرْسَلَنَا إِلَيْهِمْ رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَهُمْ أَهْلُ الْكِتَابِ.

وَقَالَ ابْنُ الْأَنْبَارِيِّ: التَّقْدِيرُ وَسَلْ مَنْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ.

وَعَلَى كُلِّ تَقْدِيرٍ، فَالْمُرَادُ التَّقْرِيرُ لِمُشْرِكِي قُرَيْشٍ وَغَيْرِهِمْ مِمَّنْ أَنْكَرَ النُّبُوَّاتِ وَالتَّوْحِيدَ، وَأَنَّ اللَّهَ أَرْسَلَ رَسُولًا أَوْ أَنْزَلَ كِتَابًا أَوْ حَرَّمَ عِبَادَةَ الْأَوْثَانِ.

فَشَهَادَةُ أَهْلِ الْكِتَابِ بِهَذَا حُجَّةٌ عَلَيْهِمْ وَهِيَ مِنْ أَعْلَامِ صِحَّةِ رِسَالَتِهِ صلى الله عليه وسلم إِذْ كَانَ قَدْ جَاءَ عَلَى مَا جَاءَ بِهِ إِخْوَانُهُ الَّذِينَ تَقَدَّمُوهُ مِنْ رُسُلِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ، وَلَمْ يَكُنْ بِدْعًا مِنَ الرُّسُلِ وَلَا جَاءَ بِضِدِّ مَا جَاءُوا بِهِ، بَلْ أَخْبَرَ بِمِثْلِ مَا أَخْبَرُوا بِهِ مِنْ غَيْرِ شَاهِدٍ وَلَا اقْتِرَانٍ فِي الزَّمَانِ وَهَذِهِ مِنْ أَعْظَمِ آيَاتِ صِدْقِهِ.
ইবনে কুতাইবা বলেন: উহ্য অর্থ হলো, 'যাদের কাছে আমি তোমার পূর্বে রাসূল পাঠিয়েছি তাদের জিজ্ঞেস করো', আর তারা হলো আহলে কিতাব।

ইবনুল আম্বারী বলেন: উহ্য অর্থ হলো, 'যাদের আমি তোমার পূর্বে পাঠিয়েছি তাদের জিজ্ঞেস করো'।

আর প্রতিটি ব্যাখ্যানুসারেই মূল উদ্দেশ্য হলো কুরাইশ মুশরিক এবং অন্যদের নিকট বিষয়টি সুনিশ্চিত করা যারা নবুয়ত ও তাওহীদকে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহ যে কোনো রাসূল পাঠিয়েছেন বা কোনো কিতাব নাযিল করেছেন অথবা মূর্তি পূজা হারাম করেছেন তা অস্বীকার করেছে।

সুতরাং এ বিষয়ে আহলে কিতাবদের সাক্ষ্য তাদের বিরুদ্ধে একটি প্রমাণ এবং এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের সত্যতার অন্যতম নিদর্শন। কেননা তিনি তাই নিয়ে এসেছেন যা তাঁর পূর্বে অতিক্রান্ত মহান আল্লাহর অন্যান্য রাসূলগণ নিয়ে এসেছিলেন। তিনি রাসূলগণের মধ্যে নতুন কেউ ছিলেন না এবং তিনি তাদের আনীত বার্তার বিপরীত কিছু নিয়েও আসেননি; বরং তিনি কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বা সমসাময়িক হওয়া ছাড়াই তাঁদের অনুরূপ সংবাদ প্রদান করেছেন, আর এটিই তাঁর সত্যবাদিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ৯৯)
‌‌[شُبْهَةٌ وَجَوَابُهَا]

وَقَالَ تَعَالَى: {فَإِنْ كُنْتَ فِي شَكٍّ مِمَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ فَاسْأَلِ الَّذِينَ يَقْرَءُونَ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكَ لَقَدْ جَاءَكَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكَ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ} [يونس: 94] ، وَقَدْ أَشْكَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ عَلَى كَثِيرٍ مِنَ النَّاسِ وَأَوْرَدَ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى عَلَى الْمُسْلِمِينَ فِيهَا إِيرَادًا وَقَالُوا: كَانَ فِي شَكٍّ فَأُمِرَ أَنْ يَسْأَلَنَا وَلَيْسَ فِيهَا بِحَمْدِ اللَّهِ إِشْكَالٌ، وَإِنَّمَا أُتِيَ أَشْبَاهُ الْأَنْعَامِ مِنْ سُوءِ قَصْدِهِمْ وَقِلَّةِ فَهْمِهِمْ وَإِلَّا فَالْآيَةُ مِنْ أَعْلَامِ نُبُوَّتِهِ صلى الله عليه وسلم وَلَيْسَ فِي الْآيَةِ مَا يَدُلُّ عَلَى وُقُوعِ الشَّكِّ وَلَا السُّؤَالُ أَصْلًا، فَإِنَّ الشَّرْطَ لَا يَدُلُّ عَلَى وُقُوعِ الْمَشْرُوطِ بَلْ وَلَا عَلَى إِمْكَانِهِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} [الأنبياء: 22] ، وَقَوْلِهِ: {قُلْ لَوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذًا لَابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلًا} [الإسراء: 42] ، وَقَوْلِهِ: {قُلْ إِنْ كَانَ لِلرَّحْمَنِ وَلَدٌ فَأَنَا أَوَّلُ الْعَابِدِينَ} [الزخرف: 81] ، وَقَوْلِهِ: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ} [الزمر: 65] ، وَنَظَائِرِهِ، فَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَشُكَّ وَلَمْ يَسْأَلْ.

وَفِي تَفْسِيرِ سَعِيدٍ «عَنْ قَتَادَةَ قَالَ: ذُكِرَ لَنَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ
[একটি সংশয় ও তার উত্তর]

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি আপনার প্রতি যা নাযিল করেছি, সে বিষয়ে যদি আপনি কোনো সন্দেহে থাকেন, তবে আপনার পূর্বের কিতাব যারা পাঠ করে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। অবশ্যই আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার নিকট সত্য এসেছে, সুতরাং আপনি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।" [ইউনুস: ৯৪]। এই আয়াতটি অনেক মানুষের নিকট জটিল মনে হয়েছে এবং ইহুদি ও নাসারারা এটি নিয়ে মুসলমানদের উপর আপত্তি উত্থাপন করেছে। তারা বলেছে: (নবী) সংশয়ে ছিলেন, তাই তাকে আমাদের জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অথচ আল্লাহর প্রশংসায় এতে কোনো জটিলতা নেই। বরং পশুর ন্যায় ওইসব লোকেদের কু-উদ্দেশ্য এবং বোধশক্তির স্বল্পতার কারণে এটি হয়েছে। অন্যথায় আয়াতটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়তের অন্যতম নিদর্শন। আর এই আয়াতে সংশয় ঘটা বা প্রশ্ন করার বিষয়টি আদতেও প্রমাণিত হয় না। কারণ, 'শর্ত' কখনো 'শর্তযুক্ত' বিষয়টি ঘটে যাওয়াকে প্রমাণ করে না, এমনকি তার সম্ভাবনাকেও নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।" [আল-আম্বিয়া: ২২]। এবং তাঁর বাণী: "বলুন, তারা যেমন বলে তেমন যদি তাঁর সাথে আরও উপাস্য থাকত, তবে তারা আরশের অধিপতির দিকে পৌঁছার কোনো পথ খুঁজত।" [আল-ইসরা: ৪২]। এবং তাঁর বাণী: "বলুন, যদি দয়াময় আল্লাহর কোনো সন্তান থাকত, তবে আমিই হতাম প্রথম ইবাদতকারী।" [আয-যুখরুফ: ৮১]। এবং তাঁর বাণী: "আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহী করা হয়েছে যে, আপনি যদি শিরক করেন তবে আপনার আমল অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যাবে।" [আয-যুমার: ৬৫]। এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সংশয় করেননি এবং প্রশ্নও করেননি।

সাঈদের তাফসীরে কাতাদা (র.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ১০০)
وَسَلَّمَ قَالَ: " لَا أَشُكُّ وَلَا أَسْأَلُ» ".

وَقَدْ ذَكَرَ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: فَإِنْ كُنْتَ فِي شَكٍّ أَنَّكَ مَكْتُوبٌ عِنْدَهُمْ فَاسْأَلْهُمْ وَهَذَا اخْتِيَارُ ابْنِ جَرِيرٍ.

قَالَ: يَقُولُ تَعَالَى لِنَبِيِّهِ: فَإِنْ كُنْتَ يَا مُحَمَّدُ فِي شَكٍّ مِنْ حَقِيقَةِ مَا أَخْبَرْنَاكَ وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ، مِنْ أَنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ لَمْ يَخْتَلِفُوا فِي نُبُوَّتِكَ قَبْلَ أَنْ
এবং [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "আমি কোনো সন্দেহ করি না এবং আমি জিজ্ঞাসাও করি না।"

ইবনে জুরাইজ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "যদি আপনি এই বিষয়ে সন্দেহে থাকেন যে তাদের নিকট আপনার কথা লিপিবদ্ধ রয়েছে, তবে তাদের জিজ্ঞাসা করুন।" এটিই ইবনে জারীরের অভিমত।

তিনি বলেন: মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে বলছেন: "হে মুহাম্মদ, আমি আপনাকে যা সংবাদ দিয়েছি এবং আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তার সত্যতার বিষয়ে যদি আপনি কোনো সন্দেহে থাকেন—যা হলো বনী ইসরাঈলরা আপনার নবুওয়াতের বিষয়ে মতভেদ করেনি এর আগে যে—"
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ১০১)
أَبْعَثَكَ رَسُولًا إِلَى خَلْقِي لِأَنَّهُمْ يَجِدُونَكَ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ وَيَعْرِفُونَكَ بِالصِّفَةِ الَّتِي أَنْتَ بِهَا مَوْصُوفٌ فِي كُتُبِهِمْ، فَاسْأَلِ الَّذِينَ يَقْرَءُونَ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكَ كَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ وَنَحْوِهِ مِنْ أَهْلِ الصِّدْقِ وَالْإِيمَانِ بِكَ مِنْهُمْ دُونَ أَهْلِ الْكَذِبِ وَالْكُفْرِ بِكَ.

وَكَذَلِكَ قَالَ ابْنُ زَيْدٍ: قَالَ: هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ [كَانَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَآمَنَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم] .

وَقَالَ الضَّحَّاكُ: سَلْ أَهْلَ التَّقْوَى وَالْإِيمَانِ مِنْ مُؤْمِنِي أَهْلِ الْكِتَابِ [مِمَّنْ أَدْرَكَ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم] .
আমি আপনাকে আমার সৃষ্টির নিকট রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছি, কারণ তারা আপনাকে তাদের নিকট লিখিত পায় এবং তারা আপনাকে সেই বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে চেনে যার দ্বারা আপনি তাদের কিতাবসমূহে বর্ণিত। সুতরাং আপনার পূর্বে যারা কিতাব পাঠ করে তাদের জিজ্ঞাসা করুন— যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম এবং তাঁর মতো তাদের মধ্যকার সত্যনিষ্ঠ ও আপনার প্রতি বিশ্বাসী ব্যক্তিবর্গ, মিথ্যাচারী ও আপনার প্রতি কুফরি পোষণকারীদের ব্যতীত।

অনুরূপভাবে ইবনে যাইদ বলেছেন: তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম [যিনি আহলে কিতাবদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছিলেন]।

এবং যাহহাক বলেছেন: আহলে কিতাবভুক্ত মুমিনদের মধ্যে যারা তাকওয়াবান ও ঈমানদার তাদের জিজ্ঞাসা করুন [যারা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন]।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ১০২)
وَلَمْ يَقَعْ هَؤُلَاءِ وَلَا هَؤُلَاءِ عَلَى مَعْنَى الْآيَةِ وَمَقْصُودِهَا وَأَيْنَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ وَقْتَ نُزُولِ هَذِهِ الْآيَةِ؟ فَإِنَّ السُّورَةَ مَكِّيَّةٌ وَابْنَ سَلَامٍ إِذْ ذَاكَ عَلَى دِينِ قَوْمِهِ، وَكَيْفَ يُؤْمَرُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَسْتَشْهِدَ عَلَى مُنْكِرِي نُبُوَّتِهِ بِأَتْبَاعِهِ؟
এরা অথবা তারা কেউই আয়াতটির অর্থ ও মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারেনি। আর এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার সময় আবদুল্লাহ ইবনে সালাম কোথায় ছিলেন? কেননা সূরাটি মক্কী এবং ইবনে সালাম তখন তাঁর কওমের ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কীভাবে তাঁর নবুওয়াত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে নিজের অনুসারীদের সাক্ষ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে?
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ১০৩)
وَقَالَ كَثِيرٌ مِنَ الْمُفَسِّرِينَ: هَذَا الْخِطَابُ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالْمُرَادُ غَيْرُهُ ; لِأَنَّ الْقُرْآنَ نَزَلَ عَلَيْهِ بِلُغَةِ الْعَرَبِ، وَهُمْ قَدْ يُخَاطِبُونَ الرَّجُلَ بِالشَّيْءِ وَيُرِيدُونَ غَيْرَهُ كَمَا يَقُولُ مُتَمَثِّلُهُمْ: (إِيَّاكِ أَعْنِي وَاسْمَعِي يَا جَارَةُ) .

وَكَقَوْلِهِ تَعَالَى: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ اتَّقِ اللَّهَ وَلَا تُطِعِ الْكَافِرِينَ وَالْمُنَافِقِينَ} [الأحزاب: 1] ، وَالْمُرَادُ أَتْبَاعُهُ بِهَذَا الْخِطَابِ.

قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يُخَاطِبُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَالْخِطَابُ شَامِلٌ لِلْخَلْقِ، وَالْمَعْنَى: وَإِنْ كُنْتُمْ فِي شَكٍّ وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى فِي آخِرِ السُّورَةِ: {قُلْ يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنْ كُنْتُمْ فِي شَكٍّ مِنْ دِينِي فَلَا أَعْبُدُ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ} [يونس: 104] .
অনেক মুফাসসির বলেছেন: এই সম্বোধন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি, আর উদ্দেশ্য হলো অন্য কেউ; কারণ কুরআন তাঁর ওপর আরবদের ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, আর তারা কোনো ব্যক্তিকে কোনো বিষয়ে সম্বোধন করে অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করার রীতি রাখে, যেমন তাদের প্রবাদ রয়েছে: (হে প্রতিবেশী, আমি তোমাকেই উদ্দেশ্য করছি, তাই তুমি শোনো)।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে নবী, আল্লাহকে ভয় করুন এবং কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না} [আহজাব: ১], আর এই সম্বোধনের মাধ্যমে তাঁর অনুসারীরাই উদ্দেশ্য।

আবু ইসহাক বলেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্বোধন করছেন অথচ এই সম্বোধন সমস্ত সৃষ্টির জন্য ব্যাপক, আর এর অর্থ হলো: আর যদি তোমরা সন্দেহের মধ্যে থাকো। এর প্রমাণ হলো সূরার শেষে মহান আল্লাহর বাণী: {বলুন, হে লোকসকল! যদি তোমরা আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দেহে থাকো, তবে আমি তাদের ইবাদত করি না যাদের ইবাদত তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে করো} [ইউনুস: ১০৪]।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ১০৪)
وَقَالَ ابْنُ قُتَيْبَةَ: كَانَ النَّاسُ فِي عَصْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَصْنَافًا مِنْهُمْ كَافِرٌ بِهِ مُكَذِّبٌ، وَآخَرُ مُؤْمِنٌ بِهِ مُصَدِّقٌ، وَآخَرُ شَاكٌّ فِي الْأَمْرِ لَا يَدْرِي كَيْفَ هُوَ، فَهُوَ يُقَدِّمُ رِجْلًا وَيُؤَخِّرُ رِجْلًا، فَخَاطَبَ اللَّهُ تَعَالَى هَذَا الصِّنْفَ مِنَ النَّاسِ وَقَالَ: فَإِنْ كُنْتَ أَيُّهَا الْإِنْسَانُ فِي شَكٍّ مِمَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ مِنَ الْهُدَى عَلَى لِسَانِ مُحَمَّدٍ فَسَلْ.

قَالَ: وَوَحَّدَ وَهُوَ يُرِيدُ الْجَمْعَ كَمَا قَالَ: {يَاأَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ} [الانفطار: 6] ، وَ: {يَاأَيُّهَا الْإِنْسَانُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَى رَبِّكَ كَدْحًا فَمُلَاقِيهِ} [الانشقاق: 6] ، وَ: {وَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُ مُنِيبًا إِلَيْهِ} [الزمر: 8] .

وَهَذَا - وَإِنْ كَانَ لَهُ وَجْهٌ - فَسِيَاقُ الْكَلَامِ يَأْبَاهُ فَتَأَمَّلْهُ وَتَأَمَّلْ قَوْلَهُ تَعَالَى: {يَقْرَءُونَ الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكَ} [يونس: 94] ، وَقَوْلَهُ: {إِنَّ الَّذِينَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ} [يونس: 96] ، وَقَوْلَهُ: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَآمَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ} [يونس: 99] ، وَهَذَا كُلُّهُ
ইবনে কুতাইবা বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মানুষ কয়েক প্রকারের ছিল; তাদের মধ্যে কেউ ছিল তাঁকে অস্বীকারকারী কাফির, কেউ ছিল তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মুমিন, আবার কেউ ছিল এই বিষয়ে সন্দিহান যে সে বুঝতে পারছিল না বিষয়টি কী, ফলে সে একবার সামনে পা বাড়ায় আর একবার পেছনে পা টানে। মহান আল্লাহ এই শ্রেণির মানুষকে সম্বোধন করে বলেছেন: হে মানুষ, মুহাম্মাদের যবানে আমরা তোমার নিকট যে হিদায়াত নাযিল করেছি সে সম্পর্কে যদি তুমি সন্দেহে থাকো, তবে জিজ্ঞাসা করো।

তিনি বলেন: এখানে একবচন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অথচ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বহুবচন, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: {হে মানুষ! কিসে তোমাকে তোমার মহান প্রতিপালক সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল?} [আল-ইনফিতার: ৬], এবং: {হে মানুষ! নিশ্চয়ই তুমি তোমার প্রতিপালকের দিকে পৌঁছাতে কঠোর পরিশ্রম করছ, অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে} [আল-ইনশিকাক: ৬], এবং: {মানুষকে যখন কোনো দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার প্রতিপালককে ডাকে} [আয-যুমার: ৮]।

আর এটি—যদিও এর একটি যৌক্তিক দিক রয়েছে—কিন্তু বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তা অস্বীকার করে। সুতরাং আপনি এটি নিয়ে চিন্তা করুন এবং মহান আল্লাহর এই বাণীটি লক্ষ্য করুন: {যারা আপনার পূর্বে কিতাব পাঠ করে} [ইউনুস: ৯৪], এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই যাদের ব্যাপারে আপনার প্রতিপালকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না} [ইউনুস: ৯৬], এবং তাঁর বাণী: {আর আপনার প্রতিপালক যদি ইচ্ছা করতেন, তবে জমিনে যারা আছে তারা সবাই মিলে ঈমান আনত। তবে কি আপনি মানুষের ওপর জবরদস্তি করবেন যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়?} [ইউনুস: ৯৯], আর এই সবই...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ১০৫)
خِطَابٌ وَاحِدٌ مُتَّصِلٌ بَعْضُهُ بِبَعْضٍ.

وَلَمَّا عَرَفَ أَرْبَابُ هَذَا الْقَوْلِ أَنَّ الْخِطَابَ لَا يَتَوَجَّهُ إِلَّا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا: الْخِطَابُ لَهُ وَالْمُرَادُ بِهِ هَذَا الصِّنْفُ الشَّاكُّ، وَكُلُّ هَذَا فِرَارٌ مِنْ تَوَهُّمِ مَا لَيْسَ بِمَوْهُومٍ: وَهُوَ وُقُوعُ الشَّكِّ مِنْهُ وَالسُّؤَالُ، وَقَدْ بَيَّنَا أَنَّهُ لَا يَلْزَمُ إِمْكَانُ ذَلِكَ فَضْلًا عَنْ وُقُوعِهِ.

فَإِنْ قِيلَ: فَإِذَا لَمْ يَكُنْ وَاقِعًا وَلَا مُمْكِنًا فَمَا مَقْصُودُ الْخِطَابِ وَالْمُرَادُ بِهِ؟

قِيلَ: الْمَقْصُودُ بِهِ إِقَامَةُ الْحُجَّةِ عَلَى مُنْكِرِي النُّبُوَّاتِ وَالتَّوْحِيدِ، وَأَنَّهُمْ مُقِرُّونَ بِذَلِكَ لَا يَجْحَدُونَهُ وَلَا يُنْكِرُونَهُ وَأَنَّ اللَّهَ سُبْحَانَهُ أَرْسَلَ إِلَيْهِمْ رُسُلَهُ وَأَنْزَلَ عَلَيْهِمْ كُتُبَهُ بِذَلِكَ، وَأَرْسَلَ مَلَائِكَتَهُ إِلَى أَنْبِيَائِهِ بِوَحْيِهِ وَكَلَامِهِ، فَمَنْ شَكَّ فِي ذَلِكَ فَلْيَسْأَلْ أَهْلَ الْكِتَابِ، فَأُخْرِجَ هَذَا الْمَعْنَى فِي أَوْجَزِ عِبَارَةٍ وَأَدَلِّهَا عَلَى الْمَقْصُودِ، بِأَنْ جُعِلَ الْخِطَابُ لِرَسُولِهِ الَّذِي لَمْ يَشُكَّ قَطُّ وَلَمْ يَسْأَلْ قَطُّ وَلَا عَرَضَ لَهُ مَا يَقْتَضِي ذَلِكَ، وَأَنْتَ إِذَا تَأَمَّلْتَ هَذَا الْخِطَابَ بَدَا لَكَ عَلَى صَفَحَاتِهِ: مَنْ شَكَّ فَلْيَسْأَلْ فَرَسُولِي لَمْ يَشُكَّ وَلَمْ يَسْأَلْ.

وَالْمَقْصُودُ ذِكْرُ بَعْضِ الْحِكْمَةِ فِي إِبْقَاءِ أَهْلِ الْكِتَابِ بِالْجِزْيَةِ، وَهَذِهِ الْحِكْمَةُ مُنْتَفِيَةٌ فِي حَقِّ غَيْرِهِمْ، فَيَجِبُ قِتَالُهُمْ حَتَّى يَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ.

 

‌‌[سَبَبُ وَضْعِ الْجِزْيَةِ]

وَالْمَسْأَلَةُ مَبْنِيَّةٌ عَلَى حَرْفٍ وَهُوَ أَنَّ الْجِزْيَةَ هَلْ وُضِعَتْ عَاصِمَةً لِلدَّمِ، أَوْ مَظْهَرًا لِصَغَارِ الْكُفْرِ وَإِذْلَالِ أَهْلِهِ فَهِيَ عُقُوبَةٌ؟

فَمَنْ رَاعَى فِيهَا الْمَعْنَى الْأَوَّلَ قَالَ: لَا يَلْزَمُ مِنْ عِصْمَتِهَا لِدَمِ مَنْ خَفَّ كُفْرُهُ بِالنِّسْبَةِ إِلَى غَيْرِهِ وَهُمْ أَهْلُ الْكِتَابِ - أَنْ تَكُونَ عَاصِمَةً لِدَمِ مَنْ
এটি একটি নিরবচ্ছিন্ন সম্বোধন, যার এক অংশ অন্য অংশের সাথে সংযুক্ত।

যখন এই মতের প্রবক্তারা জানতে পারলেন যে, এই সম্বোধন কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতিই নিবদ্ধ, তখন তারা বললেন: সম্বোধন তাঁর প্রতি হলেও এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সংশয়ী এই গোষ্ঠী। এই সব কিছু মূলত এমন এক অমূলক ধারণা থেকে পলায়ন যা আদতে ঘটেনি: আর তা হলো তাঁর পক্ষ থেকে সংশয় জাগ্রত হওয়া এবং প্রশ্ন উত্থাপন। অথচ আমরা স্পষ্ট করেছি যে, এর ঘটা তো দূরের কথা, এর সম্ভাবনা থাকাও আবশ্যক নয়।

যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে যদি এটি সংঘটিত হওয়া বা সম্ভব হওয়াই নাকচ হয়, তবে এই সম্বোধনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী?

উত্তরে বলা হয়: এর উদ্দেশ্য হলো নবুওয়াত ও তাওহীদ অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করা। আর এটি যে, তারা এই বিষয়গুলো স্বীকার করে, তারা তা অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করে না। আরও এটি যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাদের কাছে তাঁর রাসূলদের পাঠিয়েছেন এবং তাদের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আর তাঁর ওহী ও বাণীর মাধ্যমে নবীদের নিকট ফেরেশতা পাঠিয়েছেন। সুতরাং যার এ বিষয়ে সন্দেহ হয়, সে যেন আহলে কিতাবদের জিজ্ঞাসা করে। এই অর্থটিকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং উদ্দেশ্যের প্রতি অধিক নির্দেশক বাক্যে প্রকাশ করা হয়েছে এভাবে যে, সম্বোধনটি তাঁর রাসূলের প্রতি করা হয়েছে যিনি কখনো সন্দেহ করেননি এবং প্রশ্নও করেননি, আর তাঁর সামনে এমন কিছু উপস্থিতও হয়নি যা এর দাবি রাখে। আপনি যখন এই সম্বোধনের প্রতি গভীর মনোযোগ দেবেন, তখন এর পরতে পরতে আপনার কাছে স্পষ্ট হবে যে: 'যার সন্দেহ আছে সে যেন প্রশ্ন করে, কিন্তু আমার রাসূল সন্দেহ করেননি এবং প্রশ্নও করেননি।'

আর উদ্দেশ্য হলো জিজিয়ার বিনিময়ে আহলে কিতাবদের টিকিয়ে রাখার পেছনে বিদ্যমান কিছু প্রজ্ঞার উল্লেখ করা। অন্যদের ক্ষেত্রে এই প্রজ্ঞাটি অনুপস্থিত, তাই তাদের সাথে যুদ্ধ করা ওয়াজিব যতক্ষণ না দ্বীন সম্পূর্ণ আল্লাহর জন্য হয়ে যায়।

 

‌‌[জিজিয়া নির্ধারণের কারণ]

মাসআলাটি একটি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো: জিজিয়া কি রক্ত রক্ষার রক্ষাকবচ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, নাকি কুফরির হীনম্মন্যতা প্রকাশ এবং কুফরি ধারণকারীদের লাঞ্ছিত করার মাধ্যম হিসেবে, যা আদতে একটি শাস্তি?

যারা এক্ষেত্রে প্রথম অর্থটি বিবেচনা করেন, তারা বলেন: যাদের কুফরি অন্যদের তুলনায় হালকা—আর তারা হলো আহলে কিতাব—জিজিয়ার মাধ্যমে তাদের রক্ত নিরাপদ হওয়া থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে, এটি তাদের রক্তকেও নিরাপদ করবে যারা...
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ১০৬)
يَغْلُظُ كُفْرُهُ.

وَمَنْ رَاعَى فِيهَا الْمَعْنَى الثَّانِيَ قَالَ: الْمَقْصُودُ إِظْهَارُ صَغَارِ الْكُفْرِ وَأَهْلِهِ وَقَهْرِهِمْ وَهَذَا أَمْرٌ لَا يَخْتَصُّ أَهْلَ الْكِتَابِ بَلْ يَعُمُّ كُلَّ كَافِرٍ.

قَالُوا: وَقَدْ أَشَارَ النَّصُّ إِلَى هَذَا الْمَعْنَى بِعَيْنِهِ فِي قَوْلِهِ: {حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} [التوبة: 29] ، فَالْجِزْيَةُ صَغَارٌ وَإِذْلَالٌ، وَلِهَذَا كَانَتْ بِمَنْزِلَةِ ضَرْبِ الرِّقِّ.

قَالُوا: وَإِذَا جَازَ إِقْرَارُهُمْ بِالرِّقِّ عَلَى كُفْرِهِمْ جَازَ إِقْرَارُهُمْ عَلَيْهِ بِالْجِزْيَةِ بِالْأَوْلَى ; لِأَنَّ عُقُوبَةَ الْجِزْيَةِ أَعْظَمُ مِنْ عُقُوبَةِ الرِّقِّ؛ وَلِهَذَا يُسْتَرَقُّ مَنْ لَا تَجِبُ عَلَيْهِ الْجِزْيَةُ مِنَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ وَغَيْرِهِمْ.

فَإِنْ قُلْتُمْ: لَا يُسْتَرَقُّ عَيْنُ الْكِتَابِيِّ - كَمَا هِيَ إِحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ عَنْ أَحْمَدَ - كُنْتُمْ مَحْجُوجِينَ بِالسُّنَّةِ وَاتِّفَاقِ الصَّحَابَةِ فَإِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْتَرِقُّ سَبَايَا عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ، وَيَجُوزُ لِسَادَاتِهِنَّ وَطْؤُهُنَّ بَعْدَ انْقِضَاءِ عِدَّتِهِنَّ كَمَا فِي حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه فِي قِصَّةِ سَبَايَا " أَوْطَاسٍ "، وَكَانَتْ فِي آخِرِ غَزَوَاتِ الْعَرَبِ بَعْدَ فَتْحِ مَكَّةَ أَنَّهُ قَالَ:
তার কুফর গুরুতর হয়।

আর যারা এতে দ্বিতীয় অর্থটি বিবেচনা করেছেন, তারা বলেছেন: এর উদ্দেশ্য হলো কুফর ও কুফরের অনুসারীদের হীনতা প্রকাশ করা এবং তাদের অবদমিত করা। আর এটি এমন একটি বিষয় যা কেবল আহলে কিতাবদের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং তা প্রত্যেক কাফিরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তারা বলেন: আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে টেক্সট সরাসরি এই অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করেছে: "যতক্ষণ না তারা বিনীতভাবে নিজ হাতে জিজিয়া প্রদান করে।" [আত-তাওবা: ২৯]। সুতরাং জিজিয়া হলো হীনতা ও লাঞ্ছনা, আর একারণেই এটি দাসত্ব আরোপ করার সমতুল্য।

তারা বলেন: তাদের কুফরের ওপর বহাল থাকা অবস্থায় যদি তাদের ওপর দাসত্ব বহাল রাখা জায়েজ হয়, তবে জিজিয়া গ্রহণের মাধ্যমে তাদের বহাল রাখা আরও বেশি যুক্তিযুক্তভাবে জায়েজ হবে; কারণ জিজিয়ার শাস্তি দাসত্বের শাস্তির চেয়ে বেশি বড়; আর একারণেই নারী, শিশু ও অন্যদের দাস বানানো হয় যাদের ওপর জিজিয়া ওয়াজিব নয়।

যদি আপনারা বলেন: আহলে কিতাবদের নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দাস বানানো যাবে না—যেমনটি ইমাম আহমদের দুটি বর্ণনার একটিতে রয়েছে—তবে সুন্নাহ এবং সাহাবীদের ঐকমত্যের মাধ্যমে আপনাদের যুক্তি খণ্ডন করা হবে। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মূর্তিপূজারী যুদ্ধবন্দিনীদের দাসী হিসেবে গ্রহণ করতেন এবং তাদের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তাদের মনিবদের জন্য তাদের সাথে সহবাস করা বৈধ ছিল, যেমনটি আওতাস যুদ্ধের বন্দিনীদের ঘটনা সম্পর্কে আবু সাঈদ খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এটি ছিল মক্কা বিজয়ের পর আরবদের শেষ যুদ্ধগুলোর অন্তর্ভুক্ত। সেখানে তিনি বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ১০৭)
" «لَا تُوطَأُ حَامِلٌ حَتَّى تَضَعَ، وَلَا حَائِلٌ حَتَّى تُسْتَبْرَأَ بِحَيْضَةٍ» ".

فَجَوَّزَ وَطْأَهُنَّ بَعْدَ الِاسْتِبْرَاءِ وَلَمْ يَشْتَرِطِ الْإِسْلَامَ، وَأَكْثَرُ مَا كَانَتْ سَبَايَا الصَّحَابَةِ فِي عَصْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُقِرُّهُمْ عَلَى تَمَلُّكِ السَّبْيِ.
“গর্ভবতী মহিলার সাথে সে সন্তান প্রসব না করা পর্যন্ত সহবাস করা যাবে না এবং গর্ভবতী নয় এমন মহিলার সাথে এক ঋতুস্রাব দ্বারা জরায়ু পবিত্রতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সহবাস করা যাবে না।”

অতএব তিনি জরায়ুর পবিত্রতা অর্জনের পর তাদের সাথে সহবাস করা বৈধ করেছেন এবং ইসলামের শর্তারোপ করেননি। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে সাহাবীদের অধিকাংশ যুদ্ধবন্দী নারীই ছিল মূর্তিপূজকদের অন্তর্ভুক্ত, আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সেই যুদ্ধবন্দীদের মালিকানার ওপর বহাল রেখেছেন।
(খণ্ড: ১) আহকামু আহলিয যিম্মাহ - তবা রামাদী (পৃষ্ঠা: ১০৮)
وَقَدْ دَفَعَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ إِلَى سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رضي الله عنهما امْرَأَةً مِنَ السَّبْيِ نَفَلَهَا إِيَّاهُ، وَكَانَتْ مِنْ عُبَّادِ الْأَصْنَامِ.

وَأَخَذَ عُمَرُ وَابْنُهُ رضي الله عنهما مِنْ سَبْيِ " هَوَازِنَ "، وَكَذَلِكَ غَيْرُهُمَا مِنَ الصَّحَابَةِ.

وَهَذِهِ الْحَنَفِيَّةُ أُمُّ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ مِنْ سَبْيِ بَنِي حَنِيفَةَ. .

وَفِي الْحَدِيثِ: " «مَنْ قَالَ كَذَا وَكَذَا فَكَأَنَّمَا أَعْتَقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ» " وَلَمْ يَكُونُوا أَهْلَ كِتَابٍ، بَلْ أَكْثَرُهُمْ مِنْ عَبَدَةِ الْأَوْثَانِ.

قَالُوا: وَإِذَا جَازَ الْمَنُّ عَلَى الْأَسِيرِ وَإِطْلَاقُهُ بِغَيْرِ مَالٍ وَلَا اسْتِرْقَاقٍ فَلَأَنْ يَجُوزَ إِطْلَاقُهُ بِجِزْيَةٍ تُوضَعُ عَلَى رَقَبَتِهِ تَكُونُ قُوَّةً لِلْمُسْلِمِينَ، أَوْلَى وَأَحْرَى،
আবু বকর সিদ্দীক (রা.) সালামাহ ইবনে আকওয়া (রা.)-কে যুদ্ধলব্ধ বন্দীদের মধ্য থেকে একজন নারী প্রদান করেছিলেন এবং তা তাঁকে অতিরিক্ত পুরস্কার হিসেবে দিয়েছিলেন, আর সেই নারী মূর্তিপূজকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

উমর এবং তাঁর পুত্র (রা.) 'হাওয়াযিন' গোত্রের বন্দীদের মধ্য থেকে দাস গ্রহণ করেছিলেন এবং অন্যান্য সাহাবীগণও অনুরূপ করেছিলেন।

আর এই হানাফিয়্যা, যিনি মুহাম্মদ ইবনে আলীর মাতা, তিনি বনু হানিফা গোত্রের বন্দীদের মধ্য থেকে ছিলেন। .

হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি এরূপ এরূপ বলবে, সে যেন ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর সন্তানদের মধ্য থেকে চারজন দাসকে মুক্ত করল।" অথচ তারা আহলে কিতাব ছিল না, বরং তাদের অধিকাংশই ছিল মূর্তিপূজক।

তাঁরা বলেন: যদি যুদ্ধবন্দীর প্রতি অনুগ্রহ করা এবং কোনো অর্থ গ্রহণ বা দাসত্বে আবদ্ধ করা ছাড়াই তাকে মুক্তি দেওয়া বৈধ হয়, তবে তার ওপর জিজয়া ধার্য করে তাকে ছেড়ে দেওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত ও শ্রেয়, যা মুসলমানদের জন্য শক্তিতে পরিণত হবে।