(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: -)
فتح القدير للكمال بن الهمام - ط الحلبي   (الكمال بن الهمام)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: شرح فتح القدير على الهداية

المؤلف: كمال الدين، محمد بن عبد الواحد السيواسي ثم السكندري، المعروف بابن الهمام الحنفي [ت 861 هـ، خلافًا لما جاء على غلاف الجزء الأول من ط الحلبي تبعًا لطبعة بولاق: 681 هـ]

الناشر: شركة مكتبة ومطبعة مصفى البابي الحلبي وأولاده بمصر

الطبعة: الأولى، 1389 هـ - 1970 م

عدد الأجزاء: 1 - 7 [وتكملته «نتائج الأفكار» 8 - 10 منشور بالشاملة على حدة]

وصَوّرتْها: دار الفكر، بيروت

[تنبيه]: بأعلى الصفحة كتاب «الهداية» للمرغيناني، يليه -مفصولا بفاصل- شرحه «فتح القدير» للكمال بن الهمام

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কামাল ইবনুল হুমাম বিরচিত ফাতহুল কাদির - হালাবী সংস্করণ   (কামাল ইবনুল হুমাম)

বিভাগ: হানাফী ফিকহ


গ্রন্থ: হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল কাদির

লেখক: কামালুদ্দীন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আস-সিওয়াসী অতঃপর আল-ইসকান্দারী, যিনি ইবনুল হুমাম আল-হানাফী নামে পরিচিত [মৃত্যু ৮৬১ হিজরি, যা বুলাক সংস্করণ অনুসরণ করে হালাবী সংস্করণের প্রথম খণ্ডের প্রচ্ছদে মুদ্রিত ৬৮১ হিজরির বিপরীত]

প্রকাশক: মিসরের মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবী অ্যান্ড সন্স লাইব্রেরি ও প্রেস কোম্পানি

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৮৯ হিজরি - ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১ - ৭ [এবং এর পরিশিষ্ট «নাতায়িজুল আফকার» ৮ - ১০ যা শামেলায় আলাদাভাবে প্রকাশিত]

মুদ্রণে: দারুল ফিকর, বৈরুত

[সতর্কবার্তা]: পৃষ্ঠার উপরিভাগে আল-মারগিনানী বিরচিত গ্রন্থ «আল-হিদায়া» এবং এরপর -বিভাজক দ্বারা পৃথককৃত- কামাল ইবনুল হুমাম বিরচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ «ফাতহুল কাদির» রয়েছে।

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌كلمة الناشر

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على إمام الأنبياء والمرسلين، الذي أرسله الله بالهدى والنور المبين، القائل "من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين" وعلى آله وأصحابه الذين تلقوا عنه القرآن الكريم والسنة من الأحاديث النبوية والأحكام الشرعية، فتلقفتها عنهم. الأمة المحمدية قرنا بعد قرن وجيلا بعد جيل، فجزاهم الله عن الأمة خيرا.

وبعد: فإن الله سبحانه وتعالى وفق علماء الصحابة من لدن عصر صدر الإسلام إلى يومنا هذا إلى نقل أحكام الشريعة الإسلامية، وهداهم لفهم علومها وعلى الأخص علم الفقه، فقد كشفوا الغامض من معانيه، واستنبطوا المسائل الفقهية وبينوها للناس.

ثم جاء بعدهم علماء التابعين فنهجوا نهجهم وسلكوا مسلكهم ومنهم الأئمة المجتهدون. فقد فتحوا المغلق من معاني علم الفقه وغيره من علوم الشريعة، ورتبوا كتبها وأبوابها. وما وصل إلينا وتناقلناه هو نتيجة أبحاثهم، وقدح ذهنهم، ومنخول فكرهم، وغوصهم على عويص المسائل، والبحث عن حل رموز أسرارها، وقتلها بحثا ودرسا، من حين بداية الإسلام، وهدايتهم إلى سبيله.

فهم مصابيح الدجى، وكواكب أنوار يضيئون للناس، ويكشفون غوامض الفهم، ودقائق حكم الشريعة الغراء، يخرجون المسلمين من كل دجنة، ويبينون الناس سننا تتبع، فجزاهم الله عن الإسلام والمسلمين خيرا.

ومن أشرف ما امتاز به الإنسان العقل، ثم العلم والمعرفة اللذين ألفهما ونشرهما أبناء جنسه، والعمل على مدهم بما يحتاجون إليه من أمور الدنيا والدين.

وإن ممن كرسوا حياتهم لخدمة العلم ونشره في آفاق الأرض، وبثه بين الأنام، لينهل منه الخاص والعام، خصوصا المجتمع الإسلامي والأسرة العربية، وتغذيتهم بأنواع العلوم والمعارف على كافة أنواعها؛ من: فقهية، وعربية، وعلوم حديثة. السادة أصحاب [مكتبة ومطبعة السيد مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر].

فقد طبعوا الكتب العظيمة، والمجلدات الضخمة التي لم يتسنّ لكثير من أصحاب المكتبات الأخرى طبعها، ونشروها في أنحاء المعمورة وربوعها وأصقاعها.
প্রকাশকের কথা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক নবী ও রাসূলগণের ইমামের ওপর, যাকে আল্লাহ হেদায়েত ও সুস্পষ্ট নূর দিয়ে পাঠিয়েছেন, যিনি বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন।" আরও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সেই সকল সাহাবীদের ওপর, যারা তাঁর নিকট থেকে পবিত্র কুরআন এবং নববীয় হাদীস ও শরীয়তের বিধানসমূহ গ্রহণ করেছেন। অতঃপর উম্মতে মুহাম্মদী শতাব্দী থেকে শতাব্দী এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেছে। আল্লাহ তাদেরকে এই উম্মতের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

অতঃপর: মহান আল্লাহ ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত সাহাবী ও আলেমদের ইসলামী শরীয়তের বিধানসমূহ পৌঁছে দেওয়ার তৌফিক দিয়েছেন এবং এই ইলমের গভীর অর্থ উপলব্ধি করতে তাদের পথ দেখিয়েছেন, বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে। তারা এর অর্থের অস্পষ্টতা উন্মোচন করেছেন এবং ফিকহী মাসআলাসমূহ উদ্ভাবন করে মানুষের সামনে তা স্পষ্ট করেছেন।

এরপর তাবেয়ী আলেমগণ আসলেন এবং তাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন। তাদের মধ্য থেকেই মুজতাহিদ ইমামগণের আবির্ভাব হয়েছে। তারা ফিকহ ও শরীয়তের অন্যান্য শাস্ত্রের নিগূঢ় অর্থসমূহ উন্মোচন করেছেন এবং এর কিতাব ও অধ্যায়সমূহ বিন্যস্ত করেছেন। আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে এবং আমরা যা পরস্পর আদান-প্রদান করছি, তা হলো তাদের গবেষণা, মেধা, গভীর চিন্তাপ্রসূত নির্যাস, জটিল মাসআলাগুলোর গভীরে প্রবেশ এবং সেগুলোর রহস্য উদঘাটনের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল। ইসলামের শুরু থেকে হিদায়াতের পথে তাদের এই গভীর অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমেই এটি সম্ভব হয়েছে।

তারা অন্ধকারের প্রদীপ এবং আলোর নক্ষত্র যারা মানুষের জন্য পথ আলোকিত করেন। তারা উপলব্ধির অস্পষ্টতা এবং মহান শরীয়তের বিধানসমূহের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উন্মোচন করেন। তারা মুসলিমদের সকল অন্ধকার থেকে বের করে আনেন এবং মানুষের জন্য অনুসরণযোগ্য সুন্নাহর পথ বর্ণনা করেন। আল্লাহ তাদেরকে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বুদ্ধি, এরপর ইলম ও জ্ঞান যা মানুষেরাই সংকলন ও প্রচার করেছে এবং মানুষকে তাদের দুনিয়া ও দ্বীনের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহে সচেষ্ট হয়েছে।

যারা ইলমের খিদমতে এবং পৃথিবীর দিগন্তে তা ছড়িয়ে দিতে জীবন উৎসর্গ করেছেন, মানুষের মধ্যে তা প্রচার করেছেন যাতে বিশেষ ও সাধারণ নির্বিশেষে সকলেই তা থেকে উপকৃত হতে পারে—বিশেষ করে মুসলিম সমাজ ও আরব পরিবারসমূহকে ফিকহ, আরবি ভাষা এবং আধুনিক বিজ্ঞানের মতো সকল প্রকার জ্ঞান ও বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করার জন্য কাজ করেছেন, তারা হলেন মিসরের [মাকতাবা ওয়া মাতবাআ আস-সাইয়্যিদ মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি ওয়া আওলাদুহু]-এর সম্মানিত সত্ত্বাধিকারীবৃন্দ।

তারা এমন সব মহান কিতাব এবং বিশালাকার খণ্ডসমূহ মুদ্রণ করেছেন, যা অন্য অনেক প্রকাশকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। তারা পৃথিবীর সকল প্রান্তে এবং জনপদে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৪)
فهي الآن ومن عهد بعيد تغذى بمطبوعاتها وكتبها الجميلة الطبع على اختلاف أنواعها كل تلميذ متعلم، وعالم جهبذ، وحبر نحرير.

ولا يستغنى عن مطبوعاتها كل من يريد الاطلاع على العلوم بأنواعها، ويغذي روحه ونفسه ويثقفها، ويجيل النظر في رياضها وينابيعها المتشعبة في كل المسائل.

ولقد شاءت إرادة أصحاب المكتبة المذكورة آنفا أن تقوم إن شاء الله بطبع الكتاب الذي هو كاسمه في فقه الحنفية، ألا وهو (فتح القدير على الهداية، على بداية المبتدى) الذي طبقت شهرته الآفاق، وعرفه الخاص والعام، وعليه عدّة شروح لعلماء الحنفية الأفاضل، ممن لهم باع طائل في الفقه واستنباط المسائل، وقد انتفع بتآليفهم كثير من المتعلمين والمتفقهين.

والكتاب غزير في مادته العلمية، ليس بالمعقد في تراكيبه فيجهد الذهن في فهم مسائله بل سهل العبارة؛ لا يستغنى عنه العالم في درسه، ولا المتعلم في مذاكرته وبحثه، عديم النظير في الاستدلال على أحكامه ومسائله؛ فيستدل بالقرآن تارة وبالسنة أخرى، وبإجماع الصحابة، ثم بالقياس والاستنتاج في الأشباه والنظائر من الأحكام والمسائل.

فهو جدير بأن يقتنى كتراث من العلماء الأوائل، وثروة علمية يرجع إليه إذا أشكلت النوازل وطرقت أمور حارت فيها العقول والأفهام.

وقد رتب هكذا:

1 - الهداية شرح بداية المبتدى في أعلى الصفحة.

2 - شرح فتح القدير على الهداية أسفل منه.

3 - شرح العناية على الهداية تحتهما[*].

4 - حاشية سعد الله بن عيسى المفتى على الهداية في نهاية الصفحة.

وذلك تسهيلا على القارئ والمطلع والعالم حتى يتسنى لهم الفهم وسهولة المأخذ من كل منها من غير جهد في تصعيد النظر وتصويبه فيكل المطالع ويمل، وفقهم الله لخدمة العلم والإنسانية جمعاء، وجزاهم الله في الدارين خير الجزاء على هذا العمل الجليل الشريف.

--------------------------------------------

[*] (تعليق الشاملة): هذه النسخة (الإلكترونية) مقتصرة على «فتح القدير» فقط، أما «شرح العناية»، فمنشور (في الشاملة) مستقلًا

এটি বর্তমানে এবং দীর্ঘকাল ধরে তার বিভিন্ন ধরণের প্রকাশনা ও সুমুদ্রিত কিতাবসমূহের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষিত শিক্ষার্থী, প্রাজ্ঞ আলেম এবং সুগভীর পণ্ডিতকে জ্ঞান সরবরাহ করে আসছে।

যারা বিভিন্ন ধরণের জ্ঞান অর্জন করতে চায়, নিজেদের আত্মাকে খোরাক দিতে ও সংস্কৃতিমনা করতে চায় এবং প্রতিটি মাসআলায় বিস্তৃত এর জ্ঞান-উদ্যান ও ঝরনাধারাগুলো অনুধাবন করতে চায়, তাদের জন্য এই প্রকাশনাগুলো অপরিহার্য।

উপরে উল্লিখিত লাইব্রেরির মালিকগণ ইচ্ছা করেছেন যে, তাঁরা ইনশাআল্লাহ এমন একটি কিতাব মুদ্রণ করবেন যা হানাফী ফিকহে তার নামের মতোই সার্থক; আর তা হলো (ফাতহুল কাদির আলাল হিদায়া, আলা বিদায়াতিল মুবতাদি)। যার খ্যাতি বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশেষ ও সাধারণ সবাই একে চেনে। এর ওপর বরেণ্য হানাফী আলেমগণের বেশ কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, ফিকহশাস্ত্র এবং মাসআলা উদ্ভাবনে যাঁদের অগাধ পাণ্ডিত্য রয়েছে। তাঁদের এই রচনাবলির মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী ও ফিকহবিদ উপকৃত হয়েছেন।

কিতাবটি ইলমী উপাদানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ, এর বাক্য গঠনগুলো জটিল নয় যে মাসআলাগুলো বুঝতে মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে দেবে, বরং এর ভাষা অত্যন্ত সহজ; আলেমদের পাঠদানে এবং শিক্ষার্থীদের মুজাকারা ও গবেষণায় এটি অপরিহার্য। এর আহকাম ও মাসআলাসমূহের দলীল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এটি অতুলনীয়; কখনও কুরআন দ্বারা, কখনও সুন্নাহ দ্বারা, আবার কখনও সাহাবায়ে কেরামের ইজমা দ্বারা দলীল পেশ করে। অতঃপর সদৃশ আহকাম ও মাসআলাসমূহে কিয়াস ও ইস্তিনবাতের মাধ্যমে দলীল প্রদান করে।

অতএব, এটি পূর্বসূরি আলেমদের ঐতিহ্য এবং একটি ইলমী সম্পদ হিসেবে সংগ্রহে রাখার যোগ্য, যাতে উদ্ভূত কোনো জটিল সমস্যা বা এমন কোনো বিষয় সামনে এলে এর দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায় যা বুদ্ধি ও বোধশক্তিকে হতবাক করে দেয়।

এটি এভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

১ - পৃষ্ঠার উপরের অংশে 'আল-হিদায়া শারহু বিদায়াতিল মুবতাদি'।

২ - তার নিচে 'শারহু ফাতহিল কাদির আলাল হিদায়া'।

৩ - এই দুইটির নিচে 'শারহুল ইনায়া আলাল হিদায়া'[*]।

৪ - পৃষ্ঠার শেষ অংশে 'হাশিয়া সাদুল্লাহ বিন ঈসা আল-মুফতি আলাল হিদায়া'।

পাঠক, গবেষক এবং আলেমদের সুবিধার্থেই এটি করা হয়েছে, যেন তারা কোনো প্রকার কষ্ট বা বারবার দৃষ্টি ওপর-নিচে করার ক্লান্তি ও বিরক্তি ছাড়াই প্রতিটি থেকে সহজে বুঝতে ও তথ্য গ্রহণ করতে পারেন। আল্লাহ তাঁদেরকে ইলম ও সমগ্র মানবতার সেবার তাওফিক দান করুন এবং এই মহান ও মহিমান্বিত কাজের জন্য উভয় জাহানে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

--------------------------------------------

[*] (শামেলা টীকা): এই (ইলেকট্রনিক) সংস্করণটি শুধুমাত্র ‘ফাতহুল কাদির’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে ‘শারহুল ইনায়া’ স্বতন্ত্রভাবে (শামেলায়) প্রকাশিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم


 

بسم الله الرحمن الرحيم

الْحَمْدُ اللَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ عَلَى مَا أَلْهَمَ وَعَلَّمَ مِنْ الْعِلْمِ مَا لَمْ نَعْلَمْ،
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।


 

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, তিনি যা ইলহাম করেছেন এবং এমন জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যা আমরা জানতাম না।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৬)
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَعْلَى مَعَالِمَ الْعِلْمِ وَأَعْلَامَهُ،


 

وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى خَيْرِ خَلْقِهِ مُحَمَّدٍ
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইলমের নিদর্শনসমূহ ও তার পতাকাসমূহকে সুউচ্চ করেছেন।


 

এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মদের ওপর।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৭)
وَأَظْهَرَ شَعَائِرَ الشَّرْعِ وَأَحْكَامَهُ،


 

النَّبِيِّ الْأَكْرَمِ، الْمَبْعُوثِ إلَى سَائِر الْأُمَمِ بِالشَّرْعِ الْأَقْوَمِ وَالْمَنْهَجِ الْأَحْكَمِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ -[وَبَعْدُ] فَهَذَا تَعْلِيقٌ عَلَى كِتَابِ الْهِدَايَةِ لِلْإِمَامِ الْعَلَّامَةِ بُرْهَانِ الدِّينِ أَبِي الْحَسَنِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الْجَلِيلِ الرِّشْدَانِيِّ الْمَرْغِينَانِيِّ
এবং তিনি শরীয়তের নিদর্শনাবলী ও এর বিধানসমূহ প্রকাশ করেছেন,


 

সম্মানিত নবী, যিনি সুদৃঢ় শরীয়ত ও প্রাজ্ঞ কর্মপদ্ধতি নিয়ে সমস্ত উম্মতের প্রতি প্রেরিত হয়েছেন - তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক - [অতঃপর] এটি ইমাম, আল্লামা বুরহানুদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আবু বকর ইবনে আব্দুল জলীল আর-রাশদানী আল-মারগিনানী-এর ‘আল-হিদায়া’ কিতাবের ওপর একটি টীকা।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৮)
وَبَعَثَ رُسُلًا وَأَنْبِيَاءَ - صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ - إلَى سُبُلِ الْحَقِّ هَادِينَ، وَأَخْلَفَهُمْ عُلَمَاءَ إلَى سُنَنِ سُنَنِهِمْ دَاعِينَ، يَسْلُكُونَ فِيمَا لَمْ يُؤْثَرْ عَنْهُمْ مَسْلَكَ الِاجْتِهَادِ،


 

شَيْخِ الْإِسْلَامِ، أَسْكَنَهُ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ دَارَ السَّلَامِ، شَرَعْت فِي كِتَابَتِهِ فِي شُهُورِ سَنَةِ تِسْعٍ وَعِشْرِينَ وَثَمَانِمِائَةٍ عِنْدَ الشُّرُوعِ فِي إقْرَائِهِ لِبَعْضِ الْإِخْوَانِ، أَرْجُو مِنْ كَرَمِ اللَّهِ سُبْحَانَهُ أَنْ يَهْدِيَنِي فِيهِ صَوَابَ الصَّوَابِ،
এবং তিনি সত্যের পথের দিকে পথপ্রদর্শক হিসেবে রাসূল ও নবীগণকে—তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর দুরুদ বর্ষিত হোক—প্রেরণ করেছেন, এবং তাঁদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এমন আলেমদের যারা তাঁদের সুন্নাতের দিকে আহ্বানকারী, যে বিষয়গুলো তাঁদের থেকে বর্ণিত হয়নি সেগুলোতে তাঁরা ইজতিহাদের পথ অনুসরণ করেন।


 

শায়খুল ইসলাম—আল্লাহ যেন তাঁকে তাঁর রহমতে জান্নাতে স্থান দান করেন—আমি এটি লেখা শুরু করেছি আটশ উনত্রিশ হিজরি সালের মাসগুলোতে যখন আমি কতিপয় দ্বীনি ভাইকে এটি পড়ানো শুরু করি; আমি মহান আল্লাহর মহানুভবতার নিকট আশা করি যে, তিনি এতে আমাকে সঠিক বিষয়ের মাঝে সবচেয়ে সঠিকটি প্রদর্শন করবেন।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৯)
مُسْتَرْشِدِينَ مِنْهُ فِي ذَلِكَ وَهُوَ وَلِيُّ الْإِرْشَادِ، وَخَصَّ أَوَائِلَ الْمُسْتَنْبِطِينَ بِالتَّوْفِيقِ حَتَّى وَضَعُوا مَسَائِلَ مِنْ كُلِّ جَلِيٍّ وَدَقِيقٍ غَيْرَ أَنَّ الْحَوَادِثَ مُتَعَاقِبَةُ الْوُقُوعِ، وَالنَّوَازِلُ يَضِيقُ عَنْهَا نِطَاقُ الْمَوْضُوعِ، وَاقْتِنَاصُ الشَّوَارِدِ بِالِاقْتِبَاسِ مِنْ الْمَوَارِدِ، وَالِاعْتِبَارُ بِالْأَمْثَالِ مِنْ صَنْعَةِ الرِّجَالِ، وَبِالْوُقُوفِ عَلَى الْمَأْخُوذِ يُعَضُّ عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ، وَقَدْ جَرَى عَلَى الْوَعْدِ فِي مَبْدَإِ بِدَايَةِ الْمُبْتَدِي أَنْ أَشْرَحَهَا بِتَوْفِيقِ اللَّهِ تَعَالَى شَرْحًا أَرْسُمُهُ بِكِفَايَةِ الْمُنْتَهِي، فَشَرَعْت فِيهِ


 

وَأَنْ يَجْمَعَ فِيهِ أَشْتَاتَ مَا تَفَرَّقَ مِنْ لُبِّ اللُّبَابِ، لِيَكُونَ عُدَّةً لِطَالِبِي الرِّوَايَةِ، وَمَرْجِعًا لِصَارِفِي الْعِنَايَةِ فِي طَلَبِ الْهِدَايَةِ، وَإِيَّاهُ سُبْحَانَهُ أَسْأَلُ أَنْ يَجْعَلَهُ خَالِصًا لِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ، وَمُوجِبًا لِرِضَاهُ الْمُوصِلِ إلَى جَنَّاتِ النَّعِيمِ. هَذَا، وَإِنَى كُنْت قَرَأْت تَمَامَ الْكِتَابِ سَنَةَ ثَمَانِ عَشْرَةَ أَوْ تِسْعَ عَشْرَةَ عَلَى وَجْهِ الْإِتْقَانِ وَالتَّحْقِيقِ عَلَى سَيِّدِي الشَّيْخِ الْإِمَامِ بَقِيَّةِ الْمُجْتَهِدِينَ وَخَلَفِ الْحُفَّاظِ الْمُتْقِنِينَ سِرَاجِ الدِّينِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الْكِنَانِيِّ الشَّهِيرِ بِقَارِئِ الْهِدَايَةِ، تَغَمَّدَهُ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ وَأَسْكَنَهُ بُحْبُوحَةَ جَنَّتِهِ، وَهُوَ قَرَأَهُ عَلَى مَشَايِخَ عِظَامٍ مِنْ جُمْلَتِهِمْ الشَّيْخُ الْإِمَامُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ عَلَاءُ الدِّينِ السِّيرَامِيُّ، وَهُوَ
এ বিষয়ে তাঁরই নিকট সঠিক নির্দেশ যাঞ্ছা করছি, এবং তিনিই হলেন হিদায়াতের অধিপতি। তিনি প্রাথমিক যুগের উদ্ভাবক গবেষকগণকে তাওফীক প্রদানের মাধ্যমে বিশেষিত করেছেন, এমনকি তাঁরা প্রতিটি স্পষ্ট ও সূক্ষ্ম বিষয় থেকে মাসআলাসমূহ প্রণয়ন করেছেন। তবে ঘটনাপ্রবাহ তো অবিরত ঘটে চলেছে, আর নবউদ্ভূত ঘটনাসমূহের জন্য বিদ্যমান প্রসঙ্গের পরিধি সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। উৎসসমূহ থেকে উদ্ধৃতির মাধ্যমে বিক্ষিপ্ত বিষয়াবলিকে করায়ত্ত করা এবং দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করা তো প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজ। আর যা কিছু সংগৃহীত হয়েছে তা অবগত হয়ে সেগুলোকে মাড়ি দিয়ে কামড়ে ধরার মতো দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা উচিত। 'বিদায়াতুল মুবতাদী'-এর শুরুতে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, আল্লাহ তাআলার তাওফীকে আমি এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করব এবং একে 'কিফায়াতুল মুনতাহী' নামে চিহ্নিত করব; অতঃপর আমি তা শুরু করেছি।


 

এবং যেন আমি এতে সারবস্তুর সারাংশ থেকে বিচ্ছুরিত বিষয়াবলি একত্রিত করি, যা বর্ণনা অন্বেষণকারীদের জন্য পাথেয় এবং হিদায়াত অন্বেষণে মনোনিবেশকারীদের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস হতে পারে। আমি তাঁরই পবিত্র সত্তার নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি একে তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের কারণ বানান যা নিআমতপূর্ণ জান্নাতের দিকে পৌঁছে দেয়। অতঃপর কথা হলো, আমি সম্পূর্ণ কিতাবটি আঠারো বা উনিশ সালে অত্যন্ত নিখুঁত ও সূক্ষ্মভাবে আমার শায়খ, ইমাম, অবশিষ্ট মুজতাহিদগণের গৌরব এবং সুদক্ষ হাফেযগণের উত্তরসূরি সিরাজুদ্দীন উমর ইবন আলী আল-কিনানী—যিনি ক্বারিউল হিদায়া নামে খ্যাত—তাঁর নিকট পাঠ করেছি। আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন এবং জান্নাতের সুপ্রশস্ত স্থানে তাঁকে শান্তিতে রাখুন। আর তিনি এটি বড় বড় মাশায়েখগণের নিকট পাঠ করেছেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খুল ইমাম শায়খুল ইসলাম আলাউদ্দীন আস-সিরামী, আর তিনি
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১০)
وَالْوَعْدُ يُسَوِّغُ بَعْضَ الْمَسَاغِ، وَحِينَ أَكَادُ أَتَّكِي عَنْهُ اتِّكَاءَ الْفَرَاغِ، تَبَيَّنْتُ فِيهِ نُبَذًا مِنْ الْإِطْنَابِ وَخَشِيت أَنْ يُهْجَرَ لِأَجْلِهِ الْكِتَابُ، فَصَرَفْت الْعِنَانَ وَالْعِنَايَةَ إلَى شَرْحِ آخَرِ مَوْسُومٍ بِالْهِدَايَةِ، أَجْمَعُ فِيهِ بِتَوْفِيقِ اللَّهِ تَعَالَى بَيْنَ عُيُونِ الرِّوَايَةِ وَمُتُونِ الدِّرَايَةِ، تَارِكًا لِلزَّوَائِدِ فِي كُلِّ بَابٍ، مُعْرِضًا عَنْ هَذَا النَّوْعِ مِنْ الْإِسْهَابِ، مَعَ مَا أَنَّهُ يَشْتَمِلُ عَلَى أُصُولٍ يَنْسَحِبُ عَلَيْهَا فُصُولٌ، وَأَسْأَلُ اللَّهَ تَعَالَى أَنْ يُوَفِّقَنِي لِإِتْمَامِهَا، وَيَخْتِمَ لِي بِالسَّعَادَةِ بَعْدَ اخْتِتَامِهَا،


 

عَنْ شَيْخِهِ السَّيِّدِ الْإِمَامِ جَلَالِ الدِّينِ شَارِحِ الْكِتَابِ، وَهُوَ عَنْ شَيْخِهِ قُدْوَةِ الْأَنَامِ، بَقِيَّةِ الْمُجْتَهِدِينَ عَلَاءِ الدِّينِ عَبْدِ الْعَزِيزِ النَّجَّارِيِّ صَاحِبِ الْكَشْفِ وَالتَّحْقِيقِ، وَهُوَ عَنْ الشَّيْخِ الْكَبِيرِ أُسْتَاذِ الْعُلَمَاءِ حَافِظِ الدِّينِ النَّسَفِيِّ، وَهُوَ عَنْ شَيْخِهِ
আর এই প্রতিশ্রুতি কিছুটা সুযোগ করে দেয়, এবং যখন আমি পূর্ণ অবসরের কারণে এটি থেকে বিমুখ হওয়ার উপক্রম হই, তখন আমি এতে কিছু দীর্ঘসূত্রতা লক্ষ্য করি এবং আশঙ্কা করি যে এর কারণে হয়তো কিতাবটি পরিত্যক্ত হতে পারে। ফলে আমি আল্লাহ তাআলার তাওফিকে 'হিদায়া' নামে অভিহিত অন্য একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের দিকে আমার মনোযোগ ও যত্ন নিবদ্ধ করি। এতে আমি রেওয়ায়েতের (বর্ণনার) সারবস্তু এবং দেরায়েতের (তত্ত্বের) মূল বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছি। আমি প্রতিটি অধ্যায়ে অতিরিক্ত বিষয়সমূহ বর্জন করেছি এবং এই ধরণের দীর্ঘসূত্রতা থেকে বিমুখ থেকেছি; যদিও এটি এমন সব মূলনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে যেগুলোর ওপর শাখা-প্রশাখাগুলো আবর্তিত হয়। আমি আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন এবং এর সমাপ্তির পর আমার শেষ পরিণতি সৌভাগ্যমণ্ডিত করেন।


 

তিনি বর্ণনা করেছেন তাঁর শাইখ সাইয়্যেদ ইমাম জালালুদ্দীন থেকে, যিনি এই কিতাবের ব্যাখ্যাকার। তিনি বর্ণনা করেছেন তাঁর শাইখ, সৃষ্টির অনুকরণীয় আদর্শ, অবশিষ্ট মুজতাহিদগণের অন্যতম আলাউদ্দীন আব্দুল আযীয আন-নাজ্জারী থেকে, যিনি কাশফ ও তাহকীক গ্রন্থের রচয়িতা। আর তিনি বর্ণনা করেছেন মহান শাইখ, আলিমদের উস্তাদ হাফিযুদ্দীন আন-নাসাফী থেকে। আর তিনি বর্ণনা করেছেন তাঁর শাইখ থেকে...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১১)
حَتَّى إنَّ مَنْ سَمَتْ هِمَّتُهُ إلَى مَزِيدِ الْوُقُوفِ يَرْغَبُ فِي الْأَطْوَلِ وَالْأَكْبَرِ، وَمَنْ أَعْجَلَهُ الْوَقْتُ عَنْهُ يَقْتَصِرُ عَلَى الْأَقْصَرِ وَالْأَصْغَرِ. وَلِلنَّاسِ فِيمَا يَعْشَقُونَ مَذَاهِبُ وَالْفَنُّ خَيْرٌ كُلُّهُ.

ثُمَّ سَأَلَنِي بَعْضُ إخْوَانِي أَنْ أُمْلِيَ عَلَيْهِمْ الْمَجْمُوعَ الثَّانِيَ، فَافْتَتَحْتُهُ مُسْتَعِينًا بِاَللَّهِ تَعَالَى فِي تَحْرِيرِ مَا أُقَاوِلُهُ مُتَضَرِّعًا إلَيْهِ فِي التَّيْسِيرِ لِمَا أُحَاوِلُهُ، إنَّهُ الْمُيَسِّرُ لِكُلِّ عَسِيرٍ وَهُوَ عَلَى مَا يَشَاءُ قَدِيرٌ وَبِالْإِجَابَةِ جَدِيرٌ، وَحَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ.


 

الْإِمَامِ شَمْسِ الدِّينِ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عَبْدِ السِّتَارِ بْنِ مُحَمَّدِ الْكَرْدَرِيِّ، وَهُوَ عَنْ شَيْخِهِ شَيْخِ مَشَايِخِ الْإِسْلَامِ حُجَّةِ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى الْأَنَامِ الْمَخْصُوصِ بِالْعِنَايَةِ صَاحِبِ الْهِدَايَةِ، فَهَذَا طَرِيقُ الْعَبْدِ الضَّعِيفِ فِي هَذَا الْكِتَابِ، وَقَرَأْته قَبْلَهُ مِنْ أَوَّلِهِ إلَى فَصْلِ الْوَكَالَةِ بِالنِّكَاحِ أَوْ نَحْوِهِ عَلَى قَاضِي الْقُضَاةِ جَمَالِ الدِّينِ الْحُمَيْدِيِّ بِالْإِسْكَنْدَرِيَّةِ، وَبِهَا قَرَأْت بَعْضَهُ أَيْضًا عَلَى الشَّيْخِ زَيْنِ الدِّينِ الْمَعْرُوفِ بِالْإِسْكَنْدَرِيِّ الْحَنَفِيِّ بَقِيَّةِ الْمُجْتَهِدِينَ وَالْمُحَقِّقِينَ تَغَمَّدَهُمْ اللَّهُ بِرَحْمَتِهِ أَجْمَعِينَ.
এমনকি যার সংকল্প অধিকতর অবগতির দিকে উচ্চকিত হয়, সে দীর্ঘতর ও বৃহত্তরটির প্রতি আগ্রহী হয়; আর সময় যাকে তার সুযোগ দেয় না, সে সংক্ষিপ্ত ও ক্ষুদ্রতরটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকে। মানুষের পছন্দের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন রুচি রয়েছে এবং এ শাস্ত্রের পুরোটাই কল্যাণময়।

অতঃপর আমার কিছু দ্বীনি ভাই আমাকে তাদের নিকট দ্বিতীয় খণ্ডটি শ্রুতলিখন করার অনুরোধ জানালেন। তাই আমি যা ব্যক্ত করছি তা সম্পাদনায় মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং আমি যা করার চেষ্টা করছি তাতে সহজতা লাভের জন্য তাঁর নিকট বিনীত প্রার্থনা করে এটি শুরু করলাম। নিশ্চয়ই তিনি প্রতিটি কঠিন বিষয়কে সহজকারী, তিনি যা ইচ্ছা করেন তার ওপর ক্ষমতাবান এবং তিনি প্রার্থনা কবুলের যোগ্য। আর আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।


 

ইমাম শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আবদুস সাত্তার ইবনে মুহাম্মদ আল-কারদারি থেকে বর্ণিত। তিনি তাঁর উস্তাদ, ইসলামের শাইখদের শাইখ, সৃষ্টির ওপর মহান আল্লাহর হুজ্জাত (প্রমাণ), বিশেষ অনুগ্রহের অধিকারী এবং হিদায়ার রচয়িতা থেকে বর্ণনা করেছেন। এটিই এই গ্রন্থে এই দুর্বল বান্দার সনদ। এর আগে আমি এটি আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রধান বিচারক জামালুদ্দীন আল-হুমাইদির নিকট এর শুরু থেকে বিবাহের ওকালাত অধ্যায় বা এর কাছাকাছি পর্যন্ত পাঠ করেছি। সেখানে আমি এর কিছু অংশ শাইখ যাইনুদ্দীন আল-হানাফি—যিনি আল-ইস্কান্দারি নামে পরিচিত এবং মুজতাহিদ ও গবেষকদের উত্তরসূরি—তাঁর নিকটও পাঠ করেছি। আল্লাহ তাঁদের সকলকে তাঁর রহমতের চাদরে আবৃত করুন।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌كِتَابُ الطَّهَارَاتِ


 

وَلَمَّا جَاءَ بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ أَكْبَرَ مِنْ قَدْرِي بِمَا لَا يَنْتَسِبُ بِنِسْبَةٍ، عَلِمْت أَنَّهُ مِنْ فَتْحِ جُودِ الْقَادِرِ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ، فَسَمَّيْته وَلِلَّهِ الْمِنَّةُ [فَتْحَ الْقَدِيرِ] لِلْعَاجِزِ الْفَقِيرِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِاَللَّهِ الْعَلِيِّ الْعَظِيمِ.

 

كِتَابُ الطَّهَارَاتِ

جَمَعَهَا عَلَى إرَادَةِ الْأَنْوَاعِ بِاعْتِبَارِ مُتَعَلَّقِهَا مِنْ الْحَدَثِ وَالْخَبَثِ، وَآلَتُهَا مِنْ الْمَاءِ وَالتُّرَابِ، وَسَبَبُ وُجُوبِهَا قِيلَ الْحَدَثُ وَالْخَبَثُ. وَرُدَّ بِأَنَّهُمَا يَنْقُضَانِهَا فَكَيْفَ يُوجِبَانِهَا وَقَدْ يُقَالُ: لَا مُنَافَاةَ بَيْنَ نَقْضِهِمَا شَرْعًا الصِّفَةَ
পবিত্রতাসমূহের কিতাব


 

আর যখন আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমার সামর্থ্যের তুলনায় বহুগুণ বড় এমন কিছু অর্জিত হলো যার কোনো তুলনা হয় না, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সত্তার দানশীলতারই এক উন্মোচন; অতএব সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর—আমি অক্ষম ও নিঃস্ব বান্দার জন্য এর নাম রেখেছি [ফাতহুল কাদির] (সর্বশক্তিমানের বিজয়), আর সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা বা শক্তি নেই।

 

পবিত্রতাসমূহের কিতাব

তিনি (গ্রন্থকার) একে বহুবচনে ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন প্রকার বুঝানোর অভিপ্রায়ে; হদস (অদৃশ্য অপবিত্রতা) ও খাবাস (দৃশ্যমান অপবিত্রতা)-এর সাথে সংশ্লিষ্টতার বিচারে এবং এর উপকরণসমূহ তথা পানি ও মাটির বিবেচনায়। আর এটি আবশ্যক হওয়ার কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তা হলো হদস ও খাবাস। এর বিপরীতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এই দুটি তো পবিত্রতাকে নষ্ট করে দেয়, তবে তা কীভাবে একে আবশ্যক করবে? এর উত্তরে বলা হয়ে থাকে: শরয়ি বিধান অনুযায়ী কোনো বৈশিষ্ট্যকে (পবিত্রতাকে) নষ্ট করা এবং তা অর্জন করা আবশ্যক হওয়ার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৩)
قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} الْآيَةَ.


 

الْحَاصِلَةَ عَنْ تَطْهِيرٍ سَابِقٍ وَإِيجَابِ تَطْهِيرٍ آخَرَ مُسْتَأْنَفٍ.

وَالْأَوْلَى أَنْ يُقَالَ: السَّبَبِيَّةُ إنَّمَا تَثْبُتُ بِدَلِيلِ الْجَعْلِ لَا بِمُجَرَّدِ التَّجْوِيزِ، وَهُوَ مَفْقُودٌ، وَاخْتَارُوا أَنَّهُ إرَادَةُ مَا لَا يَحِلُّ إلَّا بِهَا، وَلَا يَخْفَى أَنَّ مُجَرَّدَ الْإِرَادَةِ لَا يُظْهِرُ وَجْهَ إيجَابِهَا شَيْئًا؛ لِأَنَّهَا لَا تَسْتَلْزِمُ لُحُوقَ الشُّرُوعِ الْمُسْتَلْزِمِ عَدَمَ الطَّهَارَةِ فِي الصَّلَاةِ لَوْ لَمْ تُقَدَّمْ، فَحَقِيقَةُ سَبَبِهَا وُجُوبُ مَا لَا يَحِلُّ إلَّا بِهَا لِمَا عُرِفَ أَنَّ إيجَابَ الشَّيْءِ يَتَضَمَّنُ إيجَابَ شَرْطِهِ لَا لَفْظًا لُغَةٌ، وَكَوْنُ الْإِرَادَةِ مُضْمَرَةً فِي قَوْله تَعَالَى {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا} يُقَيِّدُ تَعْلِيقَ وُجُوبِ الطَّهَارَةِ بِالْإِرَادَةِ الْمُسْتَلْحِقَةِ لِلشُّرُوعِ، وَلَيْسَ ذَلِكَ إلَّا؛ لِأَنَّ الشُّرُوعَ مَشْرُوطٌ بِهَا، فَآلَ الْأَمْرُ إلَى أَنَّ وُجُوبَهَا بِسَبَبِ فِعْلِ مَشْرُوطِهَا، إلَّا أَنَّ وُجُوبَهَا بِوُجُوبِهِ ظَاهِرٌ، وَأَمَّا بِنَقْلِهِ فَلَيْسَ فِيهِ إلَّا الْإِرَادَةُ، إذْ لَا وُجُوبَ إلَّا بَعْدَ الشُّرُوعِ عِنْدَ بَعْضِ الْأَئِمَّةِ، وَلَا نَعْلَمُ قَائِلًا بِوُجُوبِ الطَّهَارَةِ بِمُجَرَّدِ إرَادَةِ النَّافِلَةِ حَتَّى يَأْثَمَ بِتَرْكِهَا وَإِنْ لَمْ يُصَلِّهَا، وَجَعْلُهَا سَبَبًا بِشَرْطِ الشُّرُوعِ يُوجِبُ تَأَخُّرَ وُجُوبِ الْوُضُوءِ وَفِيهِ الْمَحْذُورُ، فَإِنَّ
মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়াবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করো...} আয়াতাংশ পর্যন্ত।


 

যা পূর্ববর্তী পবিত্রতা থেকে অর্জিত হয় এবং নতুন করে পুনরায় অন্য একটি পবিত্রতাকে ওয়াজিব করা।

আর উত্তম হলো এটি বলা যে: কারণ হওয়া (সাবাবিয়্যাত) কেবলমাত্র শরয়ি বিধান প্রবর্তনের দলিলের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়, স্রেফ যুক্তিনির্ভর সম্ভাবনার দ্বারা নয়; আর সেটি এখানে অনুপস্থিত। এবং তারা এটিই মনোনীত করেছেন যে, তা হলো এমন বিষয়ের ইচ্ছা পোষণ করা যা পবিত্রতা ব্যতীত বৈধ হয় না। এবং এটি অস্পষ্ট নয় যে, স্রেফ ইচ্ছা পোষণ করা তার (পবিত্রতা) ওয়াজিব হওয়ার কোনো দিককে বিন্দুমাত্র প্রকাশ করে না; কারণ তা সালাত শুরু করার অনুগামী হওয়াকে আবশ্যক করে না, যা আগে থেকে পবিত্রতা অর্জন না করলে সালাতে পবিত্রতাহীনতাকে আবশ্যক করত। সুতরাং এর প্রকৃত কারণ হলো এমন বিষয় ওয়াজিব হওয়া যা পবিত্রতা ব্যতীত বৈধ হয় না; যেহেতু এটি সুপরিচিত যে, কোনো বিষয়কে ওয়াজিব করা তার শর্তকেও ওয়াজিব করাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যা শাব্দিক বা ভাষাগতভাবে নয়। এবং মহান আল্লাহর বাণী {যখন তোমরা সালাতের উদ্দেশ্যে দাঁড়াবে তখন ধৌত করো} এর মধ্যে 'ইচ্ছা' (ইরাদা) শব্দটি উহ্য থাকা পবিত্রতা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি সালাত শুরু করার অনুগামী ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়াকে সীমাবদ্ধ করে। আর এটি কেবলমাত্র এ কারণে যে, সালাত শুরু করা তার (পবিত্রতার) ওপর শর্তযুক্ত; ফলে বিষয়টি এই দাঁড়াল যে, পবিত্রতা ওয়াজিব হওয়া তার শর্তযুক্ত কর্মটি সম্পাদনের কারণে। তবে শর্তযুক্ত বিষয়টি ওয়াজিব হওয়ার কারণে পবিত্রতা ওয়াজিব হওয়া সুস্পষ্ট; কিন্তু নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে এতে স্রেফ ইচ্ছা পোষণ ছাড়া আর কিছুই নেই, কেননা কোনো কোনো ইমামের মতে নফল ইবাদত শুরু করার পরেই কেবল তা ওয়াজিব হয়। এবং আমরা এমন কোনো প্রবক্তাকে জানি না যিনি স্রেফ নফল ইবাদতের ইচ্ছা করার কারণে পবিত্রতা ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেন, এমনকি সে সালাত আদায় না করলেও তা বর্জন করার কারণে গুনাহগার হবে। আর সালাত শুরু করার শর্তে তাকে কারণ সাব্যস্ত করা ওজু ওয়াজিব হওয়াকে বিলম্বিত করে এবং এতে আপত্তিকর বিষয় রয়েছে, কেননা
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৪)
(فَفَرْضُ الطَّهَارَةِ: غَسْلُ الْأَعْضَاءِ الثَّلَاثَةِ، وَمَسْحُ الرَّأْسِ) بِهَذَا النَّصِّ،


 

إيجَابَهُ شَرْطًا بِإِيجَابِ تَقْدِيمِهِ عَلَيْهِ. وَيُمْكِنُ كَوْنُ إرَادَةِ النَّافِلَةِ سَبَبَ وُجُوبِ أَحَدِ الْأَمْرَيْنِ: إمَّا الْوُضُوءُ، وَإِمَّا تَرْكُ النَّافِلَةِ عَلَى مَعْنَى عَدَمِ الْخُلُوِّ فَيَجُوزُ اجْتِمَاعُهُمَا، فَهِيَ حِينَئِذٍ سَبَبُ وُجُوبٍ وَاجِبٍ مُخَيَّرٍ فَيَصْدُقُ أَنَّهَا سَبَبُ وُجُوبِهِ فِي الْجُمْلَةِ، وَهَذَا كُلُّهُ عَلَى تَقْدِيرِ كَوْنِهَا سَبَبَ وُجُوبِ الْأَدَاءِ، أَمَّا إذَا جُعِلَتْ سَبَبَ أَصْلِ الْوُجُوبِ فَالْإِشْكَالُ أَخَفُّ.

وَأَرْكَانُهَا فِي الْحَدَثِ الْأَصْغَرِ أَرْبَعَةٌ مَذْكُورَةٌ فِي الْكِتَابِ، وَفِي الْأَكْبَرِ غَسْلُ ظَاهِرِ الْبَدَنِ وَالْفَمِ وَالْأَنْفِ، وَفِي الْخَبَثِ إزَالَةُ الْعَيْنِ بِالْمَائِعِ الطَّاهِرِ وَاسْتِعْمَالُهُ ثَلَاثًا فِيمَا لَا يُرَى (قَوْلُهُ بِهَذَا النَّصِّ) لِنَفْيِ أَنَّ وُجُوبَ غَسْلِ الرِّجْلِ بِالْحَدِيثِ فَقَطْ، وَوَجْهُهُ أَنَّ قِرَاءَةَ نَصْبِ الرِّجْلِ عَطْفٌ عَلَى الْمَغْسُولِ، وَقِرَاءَةُ جَرِّهَا كَذَلِكَ وَالْجَرُّ لِلْمُجَاوِرَةِ.

وَعَلَيْهِ أَنْ يُقَالَ بَلْ هُوَ عَطْفٌ عَلَى الْمَجْرُورِ، وَقِرَاءَةُ النَّصْبِ عَطْفٌ عَلَى مَحَلِّ الرُّءُوسِ وَهُوَ مَحَلٌّ يَظْهَرُ فِي الْفَصِيحِ، وَهَذَا أَوْلَى
(পবিত্রতার ফরযসমূহ হলো: তিনটি অঙ্গ ধৌত করা এবং মাথা মাসেহ করা) এই ভাষ্য দ্বারা,


 

এটিকে শর্ত হিসেবে ওয়াজিব করা হয়েছে তার পূর্বে এটিকে সম্পাদন করার আবশ্যকতা প্রদানের মাধ্যমে। আর নফল ইবাদতের ইচ্ছা দুটি বিষয়ের একটি ওয়াজিব হওয়ার কারণ হওয়া সম্ভব: হয় উযু করা, অথবা নফল বর্জন করা—এই অর্থে যে কোনোটি থেকেই মুক্ত থাকা যাবে না, ফলে উভয়টি একত্রে করা বৈধ। এমতাবস্থায় এটি একটি ঐচ্ছিক ওয়াজিবের ওয়াজিব হওয়ার কারণ হবে। সুতরাং মোটের ওপর এটি ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য হওয়া সঠিক। আর এই সবই হচ্ছে আদায় ওয়াজিব হওয়ার কারণ হওয়ার বিবেচনায়; কিন্তু যদি একে মূল ওয়াজিব হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে জটিলতা আরও কম হবে।

ক্ষুদ্র নাপাকির ক্ষেত্রে পবিত্রতার রুকনসমূহ চারটি, যা কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আর বড় নাপাকির ক্ষেত্রে শরীরের উপরিভাগ, মুখ এবং নাক ধৌত করা। আর দৃশ্যমান অপবিত্রতার ক্ষেত্রে পবিত্র তরল দ্বারা মূল নাপাকি দূর করা এবং যা দেখা যায় না এমন ক্ষেত্রে তিনবার ব্যবহার করা। (তাঁর উক্তি: এই ভাষ্য দ্বারা) এটি অস্বীকার করার জন্য যে, পা ধৌত করা ওয়াজিব হওয়া কেবল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এর কারণ হলো, 'পা' শব্দটিকে নসব বা যবর দিয়ে পাঠ করা ধৌতকৃত অঙ্গগুলোর ওপর সংযোজন। আর একে যার বা যের দিয়ে পাঠ করাও অনুরূপ, তবে যের হয়েছে কেবল পার্শ্ববর্তী শব্দের প্রভাবের কারণে।

আর এর ওপর ভিত্তি করে বলা উচিত যে, বরং এটি মাজরুর শব্দের ওপর সংযোজন। আর নসবের কিরাআতটি 'মাথা' এর স্থানের (মহল) ওপর সংযোজন, যা বিশুদ্ধ আরবিতে প্রকাশ পায়; আর এটিই অধিকতর উত্তম।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَالْغَسْلُ هُوَ الْإِسَالَةُ وَالْمَسْحُ هُوَ الْإِصَابَةُ. وَحَدُّ الْوَجْهِ مِنْ قِصَاصِ الشَّعْرِ إلَى أَسْفَلِ الذَّقَنِ وَإِلَى شَحْمَتَيْ الْأُذُنِ؛ لِأَنَّ الْمُوَاجَهَةَ تَقَعُ بِهَذِهِ الْجُمْلَةِ وَهُوَ مُشْتَقٌّ مِنْهَا (وَالْمِرْفَقَانِ وَالْكَعْبَانِ يَدْخُلَانِ فِي الْغَسْلِ) عِنْدَنَا خِلَافًا لِزُفَرَ رحمه الله،


 

لِتَخْرِيجِ الْقِرَاءَتَيْنِ بِهِ عَلَى الْمُطَّرَدِ، بِخِلَافِ تَخْرِيجِ الْجَرِّ عَلَى الْجِوَارِ.

وَقَوْلُ ابْنِ الْحَاجِبِ إنَّ الْعَرَبَ إذَا اجْتَمَعَ فِعْلَانِ مُتَقَارِبَانِ فِي الْمَعْنَى وَلِكُلٍّ مُتَعَلَّقٌ جَوَّزَتْ حَذَفَ أَحَدِهِمَا وَعُطِفَ مُتَعَلَّقُ الْمَحْذُوفِ عَلَى مُتَعَلَّقِ الْمَذْكُورِ كَأَنَّهُ مُتَعَلَّقُهُ كَقَوْلِهِمْ: مُتَقَلِّدًا سَيْفًا وَرُمْحًا، وَتَقَلَّدْت بِالسَّيْفِ وَالرُّمْحِ، وَعَلَفْتُهَا تِبْنًا وَمَاءً بَارِدًا، وَالْحَمْلُ عَلَى الْجِوَارِ لَيْسَ بِجَيِّدٍ؛ إذْ لَمْ يَأْتِ فِي الْقُرْآنِ وَلَا كَلَامٍ فَصِيحٍ انْتَهَى

إنَّمَا يَتِمُّ إذَا كَانَ إعْرَابُ الْمُتَعَلِّقَيْنِ مِنْ نَوْعٍ وَاحِدٍ كَمَا فِي عَلَفْتهَا وَسَقَيْتهَا، وَهُنَا الْإِعْرَابُ مُخْتَلِفٌ؛ لِأَنَّهُ عَلَى مَا قَالَ يَكُونُ الْأَرْجُلُ مَنْصُوبًا؛ لِأَنَّهُ مَعْلُولُ اغْسِلُوا الْمَحْذُوفُ فَحِينَ تُرِكَ إلَى الْجَرِّ لَمْ يَكُنْ إلَّا لِمُجَاوِرَةِ إعْرَابِ الرُّءُوسِ، فَمَا هَرَبَ مِنْهُ وَقَعَ فِيهِ.

فَإِنْ قُلْت: حَاصِلُ هَذَا تَجْوِيزُ أَنْ يُرَادَ بِالنَّصِّ هَذَا الْوَجْهُ مِنْ الِاسْتِعْمَالِ، وَتَجْوِيزُهُ لَا يُوجِبُ وُقُوعَهُ بَلْ حَتَّى تُوجِبَهُ قَرِينَةٌ كَتَعْيِينِ بَعْضِ مَفَاهِيمِ الْمُشْتَرَكِ، وَذَلِكَ مُنْتَفٍ هُنَا.

فَالْجَوَابُ: بَلْ ثَابِتٌ، وَهُوَ إطْبَاقُ رُوَاةِ وُضُوئِهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حِكَايَةِ الْغُسْلِ لَيْسَ غَيْرُ، فَكَانَتْ السُّنَّةُ قَرِينَةً مُنْفَصِلَةً تُوجِبُ إرَادَةَ اسْتِعْمَالِ الْمُوَافِقِ لَهَا بِالنَّصِّ، هَذَا. وَقَدْ وَرَدَ الْحَمْلُ عَلَى الْجِوَارِ فِي بَعْضِ الْأَحَادِيثِ.

فَإِنْ صَحَّتْ وَقُلْنَا بِجَوَازِ الِاسْتِدْلَالِ بِالْحَدِيثِ فِي الْعَرَبِيَّةِ لَمْ يَصِحَّ قَوْلُهُ وَلَا كَلَامٌ فَصِيحٌ، وَفِي الْمَسْأَلَةِ ثَلَاثَةُ مَذَاهِبَ: الْإِطْلَاقُ، وَالْمَنْعُ، وَالتَّفْصِيلُ بَيْنَ كَوْنِ الرَّاوِي عَرَبِيًّا فَنَعَمْ أَوْ عَجَمِيًّا فَلَا.

وَحَلَّ النَّصْبُ عَلَى حَالَةِ ظُهُورِ الرِّجْلِ وَالْجَرِّ عَلَى الْمَسْحِ حَالَةَ اسْتِتَارِهَا بِالْخَلْفِ حَمْلًا لِلْقِرَاءَتَيْنِ عَلَى الْحَالَتَيْنِ.

قَالَ فِي شَرْحِ الْمَجْمَع: فِيهِ نَظَرٌ؛ لِأَنَّ الْمَاسِحَ عَلَى الْخُفِّ لَيْسَ مَاسِحًا عَلَى الرِّجْلِ حَقِيقَةً وَلَا حُكْمًا، لِأَنَّ الْخُفَّ اُعْتُبِرَ مَانِعًا سِرَايَةَ الْحَدَثِ إلَى الْقَدَمِ فَهِيَ طَاهِرَةٌ، وَمَا حَلَّ بِالْخُفِّ أُزِيلَ بِالْمَسْحِ فَهُوَ عَلَى الْخُفِّ حَقِيقَةً وَحُكْمًا (قَوْلُهُ: وَالْغَسْلُ الْإِسَالَةُ) يُفِيدُ أَنَّ الدَّلْكَ لَيْسَ مِنْ حَقِيقَتِهِ خِلَافًا لِمَالِكٍ فَلَا يَتَوَقَّفُ تَحَقُّقُهُ عَلَيْهِ، وَمَرْجِعُهُمْ فِيهِ قَوْلُ الْعَرَبِ غَسَلَتْ الْمَطَرُ الْأَرْضَ، وَلَيْسَ فِي ذَلِكَ إلَّا الْإِسَالَةُ وَهُوَ مَمْنُوعٌ بِأَنْ وَقَعَهَا مِنْ عُلُوٍّ خُصُوصًا مَعَ الشِّدَّةِ وَالتَّكْرَارِ: أَيْ دَلَكَ وَهُمْ لَا يَقُولُونَهُ إلَّا إذَا نُظِّفَتْ الْأَرْضُ، وَهُوَ إنَّمَا يَكُونُ بِدَلْكٍ، وَبِأَنَّهُ غَيْرُ مُنَاسِبٍ لِلْمَعْنَى الْمَعْقُولِ مِنْ شَرْعِيَّةِ الْغُسْلِ وَهُوَ تَحْسِينُ هَيْئَةِ الْأَعْضَاءِ الظَّاهِرَةِ الْقِيَامِ بَيْنَ يَدَيْ الرَّبِّ سبحانه وتعالى تَخْفِيفًا، وَإِلَّا فَالْقِيَاسُ الْكُلُّ، وَالنَّاسُ بَيْنَ حَضَرِيٍّ وَقَرَوِيٍّ خَشِنِ الْأَطْرَافِ لَا يُزِيلُ مَا اسْتَحْكَمَ فِي خُشُونَتِهَا إلَّا الدَّلْكُ، فَالْإِسَالَةُ لَا تُحَصِّلُ مَقْصُودَ شَرْعِيَّتِهَا، ثُمَّ حَدُّ الْإِسَالَةِ الَّتِي هِيَ الْغُسْلُ: أَنْ يَتَقَاطَرَ الْمَاءُ وَلَوْ قَطْرَةً عِنْدَهُمَا، وَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ يُجْزِئُ إذَا سَالَ عَلَى الْعُضْوِ، وَإِنْ لَمْ يَقْطُرْ

(قَوْلُهُ مِنْ قِصَاصِ الشَّعْرِ) خَرَجَ مَخْرَجَ الْعَادَةِ، وَإِنَّمَا طُولُهُ مِنْ مَبْدَإِ سَطْحِ الْجَبْهَةِ إلَى أَسْفَلِ اللَّحْيَيْنِ حَتَّى لَوْ كَانَ أَصْلَعَ لَا يَجِبُ مِنْ قِصَاصِهِ، وَيُجْزِئُ الْمَسْحُ عَلَى الصَّلْعَةِ فِي الْأَصَحِّ وَالْقِصَاصُ مُثَلَّثٌ الْقَافِ

(قَوْلُهُ وَإِلَى شَحْمَتَيْ الْأُذُنِ) يُعْطِي ظَاهِرُهُ وُجُوبَ
ধোয়া হলো প্রবাহিত করা এবং মাসেহ হলো পৌঁছানো। চেহারার সীমানা হলো স্বাভাবিক চুলের রেখা থেকে চিবুকের নিচ পর্যন্ত এবং উভয় কানের লতি পর্যন্ত; কেননা এ অংশটুকুর মাধ্যমেই মুখোমুখি হওয়া (মুওয়াজাহাহ) সম্পন্ন হয় এবং এ শব্দটি তা থেকেই উদ্ভূত। (দুই কনুই এবং উভয় টাখনু ধোয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে) আমাদের নিকট, ইমাম জুফার (রহ.)-এর ভিন্নমতের বিপরীতে।


 

যাতে উভয় কেরাতকে একটি ধারাবাহিক নিয়মের ওপর প্রয়োগ করা যায়, যা নৈকট্যবশত জের (জার আলাল জিওয়ার) প্রদানের নিয়মের বিপরীত।

ইবনুল হাজিবের উক্তি হলো, যখন দুটি অর্থগতভাবে নিকটবর্তী ক্রিয়া একত্রে আসে এবং প্রত্যেকের জন্য পৃথক সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকে, তখন আরবরা তাদের একটিকে বিলুপ্ত করা এবং বিলুপ্ত হওয়া ক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে উল্লিখিত ক্রিয়ার সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর যুক্ত (আতফ) করা বৈধ মনে করে, যেন সেটি তারই সংশ্লিষ্ট বিষয়। যেমন তাদের কথা: "তরবারি ও বর্শা পরিধানকারী হিসেবে", এবং "আমি তরবারি ও বর্শা পরিধান করেছি", এবং "আমি তাকে খড় ও ঠাণ্ডা পানি খাইয়েছি"। আর একে নৈকট্যের (জিওয়ার) ওপর ভিত্তি করা উত্তম নয়; যেহেতু এটি কুরআনে বা কোনো প্রাঞ্জল বক্তব্যে আসেনি—উক্তি সমাপ্ত।

এটি তখনই পূর্ণাঙ্গ হয় যখন উভয় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিভক্তি (ইরাব) একই ধরনের হয়, যেমনটি ‘আমি তাকে খাইয়েছি ও পান করিয়েছি’ বাক্যে হয়েছে। কিন্তু এখানে বিভক্তি ভিন্ন; কারণ তিনি যা বলেছেন সেই অনুযায়ী ‘পা’ (আরজুল) শব্দটি যবরযুক্ত (মানসুব) হবে; কেননা এটি বিলুপ্ত ‘ধৌত করো’ (ইগসিলু) ক্রিয়ার কর্ম (মা'মূল)। সুতরাং যখন একে জের (জার) অবস্থায় রাখা হলো, তখন তা কেবল ‘মাথা’ (রুউস) শব্দের বিভক্তির নৈকট্যের কারণেই হয়েছে। ফলে তিনি যা থেকে বাঁচতে চেয়েছিলেন, তাতেই পতিত হলেন।

আপনি যদি বলেন: এর সারকথা হলো মূল পাঠ (নস) দ্বারা ব্যবহারের এই দিকটির উদ্দেশ্য হওয়া বৈধ হওয়া। আর এর বৈধতা একে অবধারিত করে না, বরং যতক্ষণ না কোনো প্রমাণ (কারিনাহ) একে অবধারিত করে, যেমন একাধিক অর্থবোধক শব্দের কোনো একটি অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর এখানে তা অনুপস্থিত।

উত্তর হলো: বরং তা সাব্যস্ত আছে। আর তা হলো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওজুর বর্ণনাকারীদের কেবল ধোয়ার বর্ণনাই প্রদান করার ওপর ঐকমত্য। সুতরাং সুন্নাহ এখানে একটি বিযুক্ত প্রমাণ (কারিনাহ মুনফাসিলাহ), যা মূল পাঠের মাধ্যমে সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহারের উদ্দেশ্যকে অবধারিত করে। আর কিছু হাদিসে নৈকট্যের ওপর ভিত্তি করে জের প্রদান (জার আলাল জিওয়ার) বর্ণিত হয়েছে।

যদি তা সহিহ হয় এবং আমরা আরবি ভাষায় হাদিস দ্বারা দলিল গ্রহণের বৈধতা স্বীকার করি, তবে তার (ইবনুল হাজিবের) কথা ‘কোনো প্রাঞ্জল বক্তব্যে আসেনি’—সঠিক হবে না। এ মাসআলায় তিনটি মত রয়েছে: শর্তহীনভাবে বৈধ হওয়া, নিষিদ্ধ হওয়া এবং বর্ণনাকারী যদি আরব হন তবে বৈধ আর অনারব হলে না—এই বিস্তারিত বিবরণ।

পা খোলা থাকার অবস্থায় যবর (নসব) পাঠ এবং মোজা পরিহিত অবস্থায় মাসেহ করার ক্ষেত্রে জের (জার) পাঠ সাব্যস্ত হওয়া মূলত উভয় কেরাতকে দুই অবস্থার ওপর প্রয়োগ করার নামান্তর।

শারহুল মজমা-তে বলা হয়েছে: এতে আপত্তির অবকাশ আছে; কারণ মোজার ওপর মাসেহকারী প্রকৃতপক্ষে বা বিধানগতভাবে পায়ের ওপর মাসেহকারী নয়। কেননা মোজাকে অপবিত্রতা (হাদাস) পায়ের দিকে প্রবাহিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, ফলে পা পবিত্র থাকে। আর মোজার ওপর যা পতিত হয় তা মাসেহ দ্বারা দূর করা হয়, সুতরাং এটি প্রকৃতপক্ষে ও বিধানগতভাবে মোজার ওপরই মাসেহ। (তার উক্তি: ধোয়া হলো প্রবাহিত করা) এর দ্বারা বোঝা যায় যে, ঘর্ষণ করা (দলক) ধোয়ার হাকিকতের অন্তর্ভুক্ত নয়, যা ইমাম মালিকের মতের বিপরীত। সুতরাং ধোয়া সম্পন্ন হওয়া এর ওপর নির্ভরশীল নয়। এ বিষয়ে তাদের দলিল হলো আরবদের কথা ‘বৃষ্টি জমিন ধুয়ে দিয়েছে’, আর তাতে পানি প্রবাহিত হওয়া ছাড়া আর কিছু নেই। এর উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, এটি উপর থেকে পড়ার কারণে হয়েছে, বিশেষত তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তির সাথে—অর্থাৎ ঘর্ষণের মাধ্যমে। তারা এ কথা তখনই বলে যখন জমিন পরিষ্কার হয়, আর তা কেবল ঘর্ষণের মাধ্যমেই সম্ভব। এছাড়া এটি ধোয়া শরয়ি হওয়ার যৌক্তিক অর্থের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা হলো মহান রবের সামনে দাঁড়ানোর প্রাক্কালে বাহ্যিক অঙ্গগুলোর শ্রী বৃদ্ধি করা। অন্যথায় কিয়াস তো পুরো শরীর ধোয়ার দাবি করে। মানুষ শহর বা গ্রামের হওয়ার কারণে তাদের হাত-পা রুক্ষ থাকে, আর এই রুক্ষতা ঘর্ষণ ছাড়া দূর হয় না। সুতরাং কেবল পানি প্রবাহিত করা শরয়ি উদ্দেশ্য হাসিল করে না। অতঃপর পানি প্রবাহিত করার সীমানা যা ধোয়া হিসেবে গণ্য: তা হলো পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়া, যদিও তা ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মতে এক ফোঁটা হয়। আর ইমাম আবু ইউসুফের মতে, যদি অঙ্গের ওপর পানি প্রবাহিত হয় তবেই যথেষ্ট হবে, যদিও তা না ঝরে।

(তার উক্তি: স্বাভাবিক চুলের রেখা থেকে) এটি সাধারণ অভ্যাসের আলোকে বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এর দৈর্ঘ্য হলো কপালে উপরিভাগ থেকে দুই চোয়ালের নিচ পর্যন্ত। এমনকি কেউ যদি টেকো হয়, তবে তার চুলের রেখা থেকে ধোয়া ওয়াজিব নয়। আর বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী টাক মাথার ওপর মাসেহ করা যথেষ্ট হবে। ‘কিসাস’ শব্দের ‘কফ’ অক্ষরে তিনটি হরকতই ব্যবহার করা যায়।

(তার উক্তি: এবং উভয় কানের লতি পর্যন্ত) এর বাহ্যিক দিকটি ওয়াজিব হওয়ার অর্থ প্রদান করে
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৬)
هُوَ يَقُولُ: الْغَايَةُ لَا تَدْخُلُ تَحْتَ الْمُغَيَّا كَاللَّيْلِ فِي بَابِ الصَّوْمِ. وَلَنَا أَنَّ هَذِهِ الْغَايَةَ لِإِسْقَاطِ مَا وَرَاءَهَا إذْ لَوْلَاهَا لَاسْتَوْعَبَتْ الْوَظِيفَةُ الْكُلَّ، وَفِي بَابِ الصَّوْمِ لِمَدَّ الْحُكْمِ إلَيْهَا إذْ الِاسْمُ يُطْلَقُ عَلَى الْإِمْسَاكِ سَاعَةً،


 

إدْخَالِ الْبَيَاضِ الْمُعْتَرَضَ بَيْنَ الْعَذَارِ وَالْأُذُنِ بَعْدَ نَبَاتِهِ وَهُوَ قَوْلُهُمَا خِلَافًا لِأَبِي يُوسُفَ؛ لِأَنَّ الْمُسْقِطَ هُوَ النَّابِتُ وَلَمْ يَقُمْ بِهِ، وَيُعْطِي أَيْضًا وُجُوبَ الْإِسَالَةِ عَلَى شَعْرِ اللِّحْيَةِ؛ لِأَنَّهُ أَوْجَبَ غَسْلَ الْوَجْهِ وَحْدَهُ بِذَلِكَ.

وَاخْتَلَفَتْ فِيهِ الرِّوَايَاتُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ، فَعَنْهُ يَجِبُ مَسْحُ رُبْعِهَا، وَعَنْهُ مَسْحُ مَا يُلَاقِي الْبَشَرَةَ، وَعَنْهُ لَا يَتَعَلَّقُ بِهِ شَيْءٌ وَهُوَ رِوَايَةٌ عَنْ أَبِي يُوسُفَ، وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ اسْتِيعَابُهَا.

وَأَشَارَ مُحَمَّدٌ رحمه الله فِي الْأَصْلِ إلَى أَنَّهُ يَجِبُ غَسْلُ كُلِّهِ، قِيلَ وَهُوَ الْأَصَحُّ.

وَفِي الْفَتَاوَى الظَّهِيرِيَّةِ وَعَلَيْهِ الْفَتْوَى؛ لِأَنَّهُ قَامَ مَقَامَ الْبَشَرَةِ فَتَحَوَّلَ الْفَرْضُ إلَيْهِ كَالْحَاجِبِ.

وَقَالَ فِي الْبَدَائِعِ عَنْ ابْنِ شُجَاعٍ: إنَّهُمْ رَجَعُوا عَمَّا سِوَى هَذَا، كُلُّ هَذَا فِي الْكَثَّةِ، أَمَّا الْخَفِيفَةِ الَّتِي تُرَى بَشَرَتُهَا فَيَجِبُ إيصَالُ الْمَاءِ إلَى مَا تَحْتَهَا، وَلَوْ أَمَرَّ الْمَاءَ عَلَى شَعْرِ الذَّقَنِ ثُمَّ حَلَقَهُ لَا يَجِبُ غَسْلُ الذَّقَنِ.

وَفِي الْبَقَّالِيِّ: لَوْ قَصَّ الشَّارِبَ لَا يَجِبُ تَخْلِيلُهُ، وَإِنْ طَالَ يَجِبُ تَخْلِيلُهُ وَإِيصَالُ الْمَاءِ إلَى الشَّفَتَيْنِ، وَكَأَنَّ وَجْهَهُ أَنَّ قَطْعَهُ مَسْنُونٌ فَلَا يُعْتَبَرُ قِيَامُهُ فِي سُقُوطِ غَسْلِ مَا تَحْتَهُ، بِخِلَافِ اللِّحْيَةِ فَإِنَّ إعْفَاءَهَا هُوَ الْمَسْنُونُ، بِخِلَافِ مَا لَوْ نَبَتَتْ جِلْدَةٌ لَا يَجِبُ قَشْرُهَا وَإِيصَالُ الْمَاءِ إلَى مَا تَحْتَهَا، بَلْ لَوْ أَسَالَ عَلَيْهَا أَجْزَأَ؛ لِأَنَّهُ مُخَيَّرٌ فِي قَشْرِهَا؛ إذْ لَمْ يُنْقَلْ فِيهِ سُنَّةٌ

وَالْأَصْلُ الْعَدَمُ فَلَمْ يُعْتَبَرْ قِيَامُهَا مَانِعًا مِنْ الْغُسْلِ، وَالْمُصَنِّفُ فِي التَّجْنِيسِ بَعْدَ إيصَالِ الْمَاءِ إلَى مَنَابِتِ شَعْرِ الْحَاجِبَيْنِ وَالشَّارِبِ مِنْ الْآدَابِ مِنْ غَيْرِ تَفْصِيلٍ، وَأَمَّا الشَّفَةُ فَقِيلَ تَبَعٌ لِلْفَمِ.

وَقَالَ أَبُو جَعْفَرٍ: مَا انْكَتَمَ عِنْدَ انْضِمَامِهِ تَبَعٌ لَهُ وَمَا ظَهَرَ فَلِلْوَجْهِ.

وَفِي الْجَامِعِ الْأَصْغَرِ: إنْ كَانَ وَافِرَ الْأَظْفَارِ وَفِيهَا دَرَنٌ أَوْ طِينٌ أَوْ عَجِينٌ أَوْ الْمَرْأَةُ تَضَعُ الْحِنَّاءَ جَازَ فِي الْقَرَوِيِّ وَالْمَدَنِيِّ.

قَالَ الدَّبُوسِيُّ: هَذَا صَحِيحٌ وَعَلَيْهِ الْفَتْوَى.

وَقَالَ الْإِسْكَافُ: يَجِبُ إيصَالُ الْمَاءِ إلَى مَا تَحْتَهُ إلَّا الدَّرَنَ لِتَوَلُّدِهِ مِنْهُ.

وَقَالَ الصَّفَّارُ فِيهِ: يَجِبُ الْإِيصَالُ إلَى مَا تَحْتَهُ إنْ طَالَ الظُّفْرُ، وَهَذَا حَسَنٌ؛ لِأَنَّ الْغُسْلَ وَإِنْ كَانَ مَقْصُورًا عَلَى الظَّوَاهِرِ لَكِنْ إذَا طَالَ الظُّفْرُ يَصِيرُ بِمَنْزِلَةِ عَرُوضِ الْحَائِلِ كَقَطْرَةِ شَمْعَةٍ وَنَحْوِهِ؛ لِأَنَّهُ عَارِضٌ.

وَفِي النَّوَازِلِ يَجِبُ فِي الْمِصْرِيِّ لَا الْقَرَوِيِّ؛ لِأَنَّ دُسُومَةَ أَظْفَارِ الْمِصْرِيِّ مَانِعَةٌ وُصُولَ الْمَاءِ بِخِلَافِ الْقَرَوِيِّ، وَلَوْ لَزِقَ بِأَصْلِ ظُفْرِهِ طِينٌ يَابِسٌ وَنَحْوُهُ أَوْ بَقِيَ قَدْرُ رَأْسِ الْإِبْرَةِ مِنْ مَوْضِعِ الْغَسْلِ لَمْ يَجُزْ، وَلَا يَجِبُ نَزْعُ الْخَاتَمِ وَتَحْرِيكُهُ إذَا كَانَ وَاسِعًا، وَالْمُخْتَارُ فِي الضَّيِّقِ الْوُجُوبُ، وَلَوْ قُطِعَتْ يَدُهُ أَوْ رِجْلُهُ فَلَمْ يَبْقَ مِنْ الْمِرْفَقِ وَالْكَعْبِ شَيْءٌ يَسْقُطُ الْغُسْلُ، وَلَوْ بَقِيَ وَجَبَ، وَلَوْ طَالَ أَظْفَارُهُ حَتَّى خَرَجَتْ عَنْ رُءُوسِ الْأَصَابِعِ وَجَبَ غَسْلُهَا قَوْلًا وَاحِدًا، وَلَوْ خُلِقَ لَهُ يَدَانِ عَلَى الْمَنْكِبِ فَالتَّامَّةُ هِيَ الْأَصْلِيَّةُ يَجِبُ غَسْلُهَا، وَالْأُخْرَى زَائِدَةٌ فَمَا حَاذَى مِنْهَا مَحَلَّ الْفَرْضِ وَجَبَ غَسْلُهُ وَمَا لَا فَلَا (قَوْلُهُ: هُوَ يَقُولُ الْغَايَةُ لَا تَدْخُلُ) أَيْ هَذِهِ الْغَايَةُ الْمَذْكُورَةُ هُنَا لَا تَدْخُلُ تَحْتَ الْمُغَيَّا، فَاللَّامُ لِلْعَهْدِ الذِّكْرِيِّ غَايَتُهُ أَنَّهُ لَمْ يُبَيِّنْ وَجْهَهُ.
তিনি বলেন: সীমা সীমাবদ্ধ বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হয় না, যেমন সিয়ামের অধ্যায়ে রাত। আর আমাদের যুক্তি হলো যে, এই সীমাটি এর পরবর্তী অংশকে বাদ দেওয়ার জন্য; কারণ এটি না থাকলে বিধানটি পুরো অংশকেই শামিল করত। আর সিয়ামের অধ্যায়ে (সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে) বিধানকে সেই পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করার জন্য, কারণ বিরত থাকার বিষয়টি সামান্য সময়ের জন্যও প্রযোজ্য হয়।


 

গজানোর পর গাল ও কানের মধ্যবর্তী সাদা অংশকে (মুখমণ্ডল ধোয়ার) অন্তর্ভুক্ত করা; আর এটি তাঁদের (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ) মত, যা ইমাম আবু ইউসুফের মতের পরিপন্থী; কারণ যা ধোয়ার আবশ্যকতা রহিত করে তা হলো গজানো চুল, অথচ ওই অংশে চুল নেই। এটি দাড়ির চুলের ওপর পানি প্রবাহিত করা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টিও নির্দেশ করে; কারণ এর মাধ্যমে তিনি কেবল মুখমণ্ডল ধোয়া ওয়াজিব করেছেন। ইমাম আবু হানিফার নিকট এ বিষয়ে বর্ণনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন। তাঁর থেকে এক বর্ণনা মতে, দাড়ির এক-চতুর্থাংশ মাসেহ করা ওয়াজিব। অন্য বর্ণনা মতে, চামড়ার সাথে লেগে থাকা অংশ মাসেহ করা ওয়াজিব। আর অন্য বর্ণনা মতে, এর সাথে কোনো কিছুই সংশ্লিষ্ট নয়; এটি ইমাম আবু ইউসুফ থেকেও একটি বর্ণনা। আর ইমাম আবু ইউসুফ থেকে পূর্ণ দাড়ি মাসেহ করার বর্ণনাও রয়েছে। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) 'আল-আসল' গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন যে, পুরো দাড়ি ধোয়া ওয়াজিব। বলা হয়েছে, এটিই অধিকতর সঠিক মত। 'ফাতাওয়াল জহিরিয়্যাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, এর ওপরই ফতোয়া; কারণ এটি চামড়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, ফলে ভ্রুর ন্যায় ফরজটি এর দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। 'বাদায়িউস সানায়ি' গ্রন্থে ইবনে শুজা থেকে বর্ণিত হয়েছে: তাঁরা এ মত ছাড়া অন্য সব মত থেকে ফিরে এসেছেন। এসবই ঘন দাড়ির ক্ষেত্রে। আর পাতলা দাড়ি যার নিচের চামড়া দেখা যায়, তাতে পানি চামড়া পর্যন্ত পৌঁছানো ওয়াজিব। যদি কেউ চিবুকের চুলের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করে এরপর তা কামিয়ে ফেলে, তবে চিবুক ধোয়া ওয়াজিব হবে না। 'বাক্কালি' গ্রন্থে আছে: যদি কেউ গোঁফ ছোট করে ফেলে তবে তাতে খিলাল করা ওয়াজিব নয়, তবে বড় হলে খিলাল করা এবং ঠোঁট পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ওয়াজিব। এর কারণ মনে হয় এই যে, গোঁফ কাটা সুন্নত, তাই এর অস্তিত্ব নিচের অংশ ধোয়ার আবশ্যকতাকে রহিত করবে না। দাড়ির বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তা ছেড়ে দেওয়া সুন্নত। আরও ভিন্ন হলো যদি অতিরিক্ত চামড়া গজায়, তবে তা তুলে ফেলা এবং নিচের অংশে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব নয়, বরং তার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত করলে যথেষ্ট হবে; কারণ তা তুলে ফেলার ক্ষেত্রে তাকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো সুন্নাহ বর্ণিত হয়নি। মূল বিষয় হলো না থাকা, তাই এর উপস্থিতিকে ধোয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক ধরা হবে না। 'তাজনীত' গ্রন্থে গ্রন্থকার ভ্রু ও গোঁফের চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোকে কোনো পার্থক্য ছাড়াই শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর ঠোঁটের বিষয়ে বলা হয়েছে তা মুখের অনুগামী। আবু জাফর বলেন: মুখ বন্ধ করার সময় যা ঢেকে যায় তা মুখের অংশ, আর যা প্রকাশ থাকে তা মুখমণ্ডলের অংশ। 'জামেউস সগির' গ্রন্থে আছে: যদি কারও নখ বড় হয় এবং তাতে ময়লা, কাদা বা আটা থাকে অথবা নারী মেহেদি ব্যবহার করে, তবে গ্রামবাসী ও শহরবাসী উভয়ের জন্যই তা জায়েজ হবে। দাবুসি বলেন: এটি সঠিক এবং এর ওপরই ফতোয়া। ইসকাফ বলেন: নখের নিচের অংশে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব, তবে ময়লা ব্যতীত, কারণ তা শরীর থেকেই তৈরি হয়। সাফফার এ বিষয়ে বলেন: নখ লম্বা হলে তার নিচের অংশে পানি পৌঁছানো ওয়াজিব। এটি একটি উত্তম মত; কারণ ধোয়া যদিও উপরিভাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তবে নখ লম্বা হলে তা মোমের ফোঁটা বা অনুরূপ প্রতিবন্ধকের স্থলাভিষিক্ত হয়; কারণ এটি একটি আগন্তুক বিষয়। 'নাওয়াযিল' গ্রন্থে আছে, শহরবাসীর জন্য ওয়াজিব, গ্রামবাসীদের জন্য নয়; কারণ শহরবাসীর নখের তৈলাক্ততা পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, যা গ্রামবাসীদের ক্ষেত্রে নয়। যদি নখের গোড়ায় শুকনো কাদা বা অনুরূপ কিছু লেগে থাকে অথবা ধোয়ার স্থান থেকে সুঁইয়ের আগা পরিমাণ বাকি থাকে তবে জায়েজ হবে না। আংটি ঢিলেঢালা হলে তা খোলা বা নাড়ানো ওয়াজিব নয়, তবে সংকীর্ণ হলে ওয়াজিব হওয়াই পছন্দনীয় মত। যদি কারও হাত বা পা কাটা পড়ে এবং কনুই বা টাখনুর কোনো অংশ বাকি না থাকে তবে ধোয়ার আবশ্যকতা রহিত হয়ে যাবে, আর যদি কিছু বাকি থাকে তবে ধোয়া ওয়াজিব। যদি কারও নখ এত লম্বা হয় যে তা আঙুলের মাথা ছাড়িয়ে যায়, তবে সর্বসম্মত মতে তা ধোয়া ওয়াজিব। যদি কাঁধের ওপর দুটি হাত জন্মায়, তবে যেটি পূর্ণ সেটিই মূল এবং তা ধোয়া ওয়াজিব। অন্যটি অতিরিক্ত, তার যে অংশ ফরজের সীমানার সমান্তরাল তা ধোয়া ওয়াজিব, আর যা নয় তা ধোয়া লাগবে না। (তাঁর উক্তি: তিনি বলেন সীমা দাখিল হবে না) অর্থাৎ এখানে উল্লিখিত সীমাটি সীমাবদ্ধ বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হবে না, এখানে 'লাম' বর্ণটি পূর্বোক্ত আলোচনার প্রতি নির্দেশক, বড়জোর কথা হলো তিনি এর কারণ বর্ণনা করেননি।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَالْكَعْبُ هُوَ الْعَظْمُ النَّاتِئُ هُوَ الصَّحِيحُ وَمِنْهُ الْكَاعِبُ. قَالَ (وَالْمَفْرُوضُ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ مِقْدَارُ النَّاصِيَةِ وَهُوَ رُبْعُ الرَّأْسِ) لِمَا رَوَى الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ وَتَوَضَّأَ وَمَسَحَ عَلَى نَاصِيَتِهِ وَخُفَّيْهِ» وَالْكِتَابُ مُجْمَلٌ فَالْتَحَقَ بَيَانًا بِهِ، وَهُوَ حُجَّةٌ عَلَى الشَّافِعِيِّ فِي التَّقْدِيرِ بِثَلَاثِ شَعْرَاتٍ، وَعَلَى مَالِكٍ فِي اشْتِرَاطِ


 

وَقَوْلُهُ كَاللَّيْلِ فِي الصَّوْمِ تَنْظِيرٌ لَا قِيَاسٌ لِعَدَمِ الْجَامِعِ، فَانْدَفَعَ مَا قِيلَ: الْمُقَرَّرُ فِي الْأُصُولِ لِزُفَرَ الِاسْتِدْلَال بِتَعَارُضِ الْأَشْبَاهِ وَهُوَ أَنَّ مِنْ الْغَايَاتِ مَا يَدْخُلُ وَمِنْهَا مَا لَا فَاحْتَمَلَتْ هَذِهِ كُلًّا مِنْهُمَا فَلَا تَدْخُلُ بِالشَّكِّ، وَأَيْضًا مَا بَعْدَ الْمِرْفَقِ وَالْكَعْبِ فِي دُخُولِهِ فِي مُسَمًّى الْيَدِ وَالرِّجْلِ اشْتِبَاهٌ، فَبِتَقْدِيرِ دُخُولِهِ تَدْخُلُ وَبِعَدَمِهِ لَا لِلْأَصْلِ الْمُقَرَّرِ، وَهُوَ أَنَّ مَا بَعْدَ الْغَايَةِ إنْ دَخَلَ فِي الْمُسَمَّى لَوْلَا ذِكْرُهَا دَخَلَ وَإِلَّا فَلَا تَدْخُلُ بِالشَّكِّ، وَمَا أَوْرَدَ عَلَى هَذَا الْأَصْلِ مِنْ أَنَّهُ لَوْ حَلَفَ لَا يُكَلِّمُ فُلَانًا إلَى غَدٍّ لَا يَدْخُلُ مَعَ أَنَّهُ يَدْخُلُ لَوْ تُرِكَتْ لِلْغَايَةِ غَيْرُ قَادِحٍ فِيهِ؛ لِأَنَّ الْكَلَامَ هُنَا فِي مُقْتَضَى اللُّغَةِ، وَالْأَيْمَانُ تُبْنَى عَلَى الْعُرْفِ، وَجَازَ أَنْ يُخَالِفَ الْعُرْفُ اللُّغَةَ، وَكَوْنُهُ صلى الله عليه وسلم أَدَارَ الْمَاءَ عَلَى مَرَافِقِهِ لَا يَسْتَلْزِمُ الِافْتِرَاضَ لِجَوَازِ كَوْنِهِ عَلَى وَجْهِ السُّنَّةِ كَالزِّيَادَةِ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ إلَى أَنْ اسْتَوْعَبَهُ، وَلَا مُخَلِّصَ إلَّا بِنَقْلِ دُخُولِهَا فِي الْمُسَمَّى لُغَةً وَهُوَ أَوْجَهُ الْقَوْلَيْنِ بِشَهَادَةِ غَلَبَةِ الِاسْتِعْمَال بِهِ، وَكَوْنِهِ إذَا كَانَ كَذَلِكَ فَتَكُونُ الْغَايَةُ دَاخِلَةً لُغَةً، وَأَيْضًا عَلَى تَقْدِيرِ مَا قَالَ يَثْبُتُ الْإِجْمَالُ فِي دُخُولِهَا فَيُلْتَحَقُ بِهِ قَوْلُهُ عليه الصلاة والسلام «وَيْلٌ لِلْعَرَاقِيبِ مِنْ النَّارِ» بَيَانًا لِلتَّوَعُّدِ عَلَى تَرْكِهِ فَيَكُونُ اقْتِصَارُهُ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمَرَافِقِ وَقَعَ بَيَانًا لِلْمُرَادِ مِنْ الْيَدِ فَيَتَعَيَّنُ دُخُولُ مَا أَدْخَلَهُ.

وَقَوْلُهُ: اغْسِلْ يَدَك لِلْأَكْلِ مِنْ إطْلَاقِ اسْمِ الْكُلِّ عَلَى الْبَعْضِ اعْتِمَادًا عَلَى الْقَرِينَةِ (قَوْلُهُ هُوَ الصَّحِيحُ) احْتِرَازًا عَمَّا رَوَى هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ رحمه الله أَنَّهُ الَّذِي فِي وَسَطِ الرِّجْلِ عِنْدَ مَعْقِدِ الشِّرَاكِ، فَإِنَّ مُرَادَ مُحَمَّدٍ بِذَلِكَ الْكَعْبُ الَّذِي يَقْطَعُ الْمُحْرِمُ أَسْفَلَهُ مِنْ الْخُفَّ إذَا لَمْ يَجِدْ نَعْلَيْنِ

(قَوْلُهُ وَالْكِتَابُ مُجْمَلٌ) أَيْ فِي حَقِّ الْكَمْيَّةِ، لَكِنَّ الشَّافِعِيَّ رحمه الله يَمْنَعُهُ وَيَقُولُ: هَذَا
টাখনু হলো উদগত হাড়, এটিই সঠিক মত; আর তা থেকেই 'কা'ইব' (উন্নত স্তনবিশিষ্ট নারী) শব্দটি এসেছে। তিনি বলেছেন (মাথা মাসাহ করার ক্ষেত্রে ফরয পরিমাণ হলো মাথার সামনের অংশ বা নাসিয়া পরিমাণ, যা মাথার এক-চতুর্থাংশ)। এর কারণ হলো মুগীরা ইবনে শু'বা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীস যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি গোত্রের আবর্জনা ফেলার স্থানের কাছে আসলেন, অতঃপর তিনি পেশাব করলেন, ওযু করলেন এবং তাঁর মাথার সামনের অংশ (নাসিয়া) ও মোজাদ্বয়ের উপর মাসাহ করলেন।" কিতাব (কুরআন) এখানে সংক্ষিপ্ত, তাই এই বর্ণনাটি তার ব্যাখ্যা হিসেবে এর সাথে যুক্ত হয়েছে। আর এটি তিন চুল পরিমাণ মাসাহ করার ব্যাপারে ইমাম শাফিয়ীর বিরুদ্ধে দলিল, এবং ইমাম মালেকের শর্তারোপের বিরুদ্ধে দলিল...


 

আর তাঁর উক্তি "রোযার ক্ষেত্রে রাতের মতো" বিষয়টি একটি উদাহরণ মাত্র, কোনো কিয়াস নয়; কারণ এদের মধ্যে কোনো অভিন্ন কারণ (জামে') নেই। এর মাধ্যমে সেই আপত্তির উত্তর হয়ে গেল যা বলা হয়েছিল যে: ইমাম যুফারের উসুলে প্রতিষ্ঠিত নিয়ম হলো সমজাতীয় বিষয়ের বিরোধের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা; আর তা হলো—প্রান্তসীমাসমূহের (গয়াত) কোনোটি হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হয় আবার কোনোটি হয় না, তাই এখানে উভয়টির সম্ভাবনা থাকায় সন্দেহের কারণে তা অন্তর্ভুক্ত হবে না। এছাড়াও, 'হাত' ও 'পা' এর সংজ্ঞার মধ্যে কনুই ও টাখনুর পরবর্তী অংশ অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। সুতরাং অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ধরলে তা অন্তর্ভুক্ত হবে, অন্যথায় হবে না—সেই প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির কারণে। আর তা হলো—প্রান্তসীমার পরবর্তী অংশ যদি তা উল্লেখ না করা হলেও সেই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তা অন্তর্ভুক্ত হবে, অন্যথায় সন্দেহের কারণে অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর এই মূলনীতির ওপর যে আপত্তি করা হয়েছে যে—যদি কেউ শপথ করে যে সে অমুকের সাথে 'আগামীকাল পর্যন্ত' কথা বলবে না, তবে আগামীকাল সেই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হয় না, যদিও প্রান্তসীমা উল্লেখ না করলে তা অন্তর্ভুক্ত হতো—এটি উক্ত মূলনীতির কোনো ক্ষতি করে না। কারণ এখানে আলোচনা আভিধানিক অর্থ নিয়ে, আর শপথগুলো প্রচলিত প্রথার ওপর ভিত্তি করে হয়; আর প্রথা আভিধানিক অর্থের বিপরীত হওয়া সম্ভব। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কনুইয়ের ওপর পানি প্রবাহিত করা একে ফরয হওয়া সাব্যস্ত করে না; কারণ এটি সুন্নাত হিসেবে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন পুরো মাথা মাসাহ করার অতিরিক্ত আমল। ভাষাগতভাবে এটি উক্ত সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বর্ণনা ছাড়া এর কোনো গত্যন্তর নেই। আর ব্যবহারের ব্যাপকতাই এর সাক্ষ্য দেয় এবং এটিই দুটি মতের মধ্যে অধিকতর গ্রহণযোগ্য। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন ভাষাগতভাবেই প্রান্তসীমাটি অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী যদি এখানে অস্পষ্টতা সাব্যস্ত হয়, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী "গোড়ালিগুলোর জন্য আগুনের ধ্বংস অনিবার্য" এটি তার ব্যাখ্যা হিসেবে যুক্ত হবে, যা সেটি ছেড়ে দেওয়ার শাস্তির বর্ণনা দেয়। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কনুই পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা মূলত 'হাত' দ্বারা যা উদ্দেশ্য তার ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য হয়েছে। ফলে তিনি যা অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা ধৌত করা অপরিহার্য হয়ে যায়।

আর তাঁর কথা: "খাওয়ার জন্য তোমার হাত ধৌত করো" এটি প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আংশিক অংশ বোঝাতে পূর্ণ নাম ব্যবহার করার অন্তর্ভুক্ত। (তাঁর উক্তি: এটিই সঠিক) এটি হিশাম কর্তৃক ইমাম মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত সেই মতটিকে বর্জন করার জন্য, যেখানে বলা হয়েছে যে টাখনু হলো পায়ের মাঝখানে জুতার ফিতা বাঁধার স্থান। কেননা ইমাম মুহাম্মাদের উদ্দেশ্য ছিল সেই টাখনু যা মুহরিম ব্যক্তি তার মোজার নিচের অংশ থেকে কেটে ফেলে যখন সে জুতো পায় না।

(তাঁর উক্তি: আর কিতাব বা কুরআন সংক্ষিপ্ত) অর্থাৎ পরিমাণের ক্ষেত্রে। কিন্তু ইমাম শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ) এটি অস্বীকার করেন এবং বলেন: এটি
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

مُطْلَقٌ لَا مُجْمَلٌ، وَإِنَّهُ لَمْ يَقْصِدْ إلَى كَمِّيَّةٍ مَخْصُوصَةٍ أَجْمَلَ فِيهَا، بَلْ إلَى الْإِطْلَاقِ لِيَسْقُطَ بِأَدْنَى مَا يُطْلَقُ عَلَيْهِ مَسْحُ الرَّأْسِ عَلَى أَنَّ الَّذِي فِي حَدِيثِ الْمُغِيرَةِ مَسَحَ عَلَى نَاصِيَتِهِ لَا يَقْتَضِي اسْتِيعَابَ النَّاصِيَةِ لِجَوَازِ كَوْنِ ذِكْرِهَا لِدَفْعِ تَوَهُّمِ أَنَّهُ مَسَحَ عَلَى الْفَوْدِ أَوْ الْقَذَالِ فَلَا يَدُلُّ عَلَى مَطْلُوبِكُمْ، وَلَوْ نَظَرْنَا إلَيْهِ عَلَى مَا رَوَاهُ مُسْلِمٌ عَنْ الْمُغِيرَةَ «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ» كَانَ مَحَلُّ النِّزَاعِ فِي الْبَاءِ كَالْآيَةِ أَنَّهَا لِلتَّبْعِيضِ أَوْ لَا، وَلَوْ قُلْنَا إنَّهَا لِلْإِلْصَاقِ لَزِمَ التَّبْعِيضُ بِصَرِيحِ تَقْرِيرِكُمْ فِي قَوْله تَعَالَى {وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ} لِدُخُولِهَا عَلَى الْمَحَلِّ كَمَا سَنَذْكُرُ، فَالْأَوْلَى أَنْ يُسْتَدَلَّ بِرِوَايَةِ أَبِي دَاوُد عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ قِطْرِيَّةٌ، فَأَدْخَلَ يَدَيْهِ مِنْ تَحْتِ الْعِمَامَةِ فَمَسَحَ مُقَدَّمَ رَأْسِهِ» وَسَكَتَ عَلَيْهِ أَبُو دَاوُد فَهُوَ حُجَّةٌ، وَظَاهِرُهُ اسْتِيعَابُ تَمَامِ الْمُقَدَّمِ، وَتَمَامُ مُقَدَّمِ الرَّأْسِ هُوَ الرُّبْعُ الْمُسَمَّى بِالنَّاصِيَةِ.

وَقِطْرِيَّةٌ بِكَسْرِ الْقَافِ وَسُكُونِ الطَّاءِ الْمُهْمَلَةِ: ثِيَابٌ حُمْرٌ لَهَا أَعْلَامٌ مَنْسُوبَةٌ إلَى قَطَرَ مَوْضِعٌ بَيْنَ عُمَانَ وَسَيْفِ الْبَحْرِ عَنْ الْأَزْهَرِيِّ، وَقَالَ غَيْرُهُ: ضَرْبٌ مِنْ الْبُرُودِ فِيهِ حُمْرَةٌ وَلَهَا أَعْلَامٌ فِيهَا بَعْضُ الْخُشُونَةِ، وَمِثْلُهُ مَا رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ عَنْ عَطَاءٍ «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَحَسَرَ الْعِمَامَةَ وَمَسَحَ مُقَدَّمَ رَأْسِهِ، أَوْ قَالَ نَاصِيَتَهُ» فَإِنَّهُ حُجَّةٌ وَإِنْ كَانَ مُرْسَلًا عِنْدَنَا كَيْفَ وَقَدْ اُعْتُضِدَ بِالْمُتَّصِلِ.

بَقِيَ شَيْءٌ، وَهُوَ أَنَّ ثُبُوتَ الْفِعْلِ كَذَلِكَ لَا يَسْتَلْزِمُ نَفْيَ جَوَازِ الْأَقَلِّ فَلَا بُدَّ فِيهِ مِنْ ضَمِّ الْمُلَازَمَةِ الْقَائِلَةِ لَوْ جَازَ الْأَقَلُّ لِفِعْلِهِ مَرَّةً تَعْلِيمًا لَجَازَ وَتُسَلَّمُ، وَقَدْ تُمْنَعُ بِأَنَّ الْجَوَازَ إذَا كَانَ مُسْتَفَادًا مِنْ غَيْرِ الْفِعْلِ لَمْ يُحْتَجْ إلَيْهِ فِيهِ، وَهُنَا كَذَلِكَ نَظَرًا إلَى الْآيَةِ فَإِنَّ الْبَاءَ فِيهَا لِلتَّبْعِيضِ.

وَذَلِكَ لَا يُفِيدُ نَفْيَ جَوَازِ الْأَقَلِّ فَيَرْجِعُ الْبَحْثُ إلَى دَلَالَةِ الْآيَةِ، وَنَقُولُ فِيهِ إنَّ الْبَاءَ لِلْإِلْصَاقِ، وَهُوَ الْمَعْنَى الْمُجْمَعُ عَلَيْهِ لَهَا، بِخِلَافِ التَّبْعِيضِ فَإِنَّ الْمُحَقِّقِينَ مِنْ أَئِمَّةِ الْعَرَبِيَّةِ يَنْفُونَ كَوْنَهُ مَعْنًى مُسْتَقِلًّا لِلْبَاءِ، بِخِلَافِ مَا إذَا جَاءَ فِي ضِمْنِ الْإِلْصَاقِ كَمَا فِيمَا نَحْنُ فِيهِ، فَإِنَّ إلْصَاقَ الْآلَةِ بِالرَّأْسِ الَّذِي هُوَ الْمَطْلُوبُ لَا يَسْتَوْعِبُ الرَّأْسَ، فَإِذَا أَلْصَقَ فَلَمْ يَسْتَوْعِبْ خَرَجَ عَنْ الْعُهْدَةِ بِذَلِكَ الْبَعْضِ لَا لِأَنَّهُ هُوَ الْمُفَادُ بِالْبَاءِ.

وَتَمَامُ تَحْقِيقِهِ فِيمَا كَتَبْنَاهُ عَلَى الْبَدِيعِ فِي الْأُصُولِ، وَحِينَئِذٍ يَتَعَيَّنُ الرُّبُعُ؛ لِأَنَّ الْيَدَ إنَّمَا تَسْتَوْعِبُ قَدْرَهُ غَالِبًا فَلَزِمَ.

وَأَمَّا رِوَايَةُ جَوَازِ قَدْرِ الثَّلَاثِ الْأَصَابِعِ، وَإِنْ صَحَّحَهَا بَعْضُ الْمَشَايِخِ نَظَرًا إلَى أَنَّ الْوَاجِبَ إلْصَاقُ الْيَدِ وَالْأَصَابِعِ أَصْلُهَا؛ وَلِهَذَا يَلْزَمُ كَمَالُ دِيَةِ الْيَدِ بِقَطْعِهَا
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

এটি সাধারণ (মুতলাক), অস্পষ্ট (মুজমাল) নয়; এবং তিনি কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের উদ্দেশ্য করেননি যেখানে অস্পষ্টতা থাকতে পারে, বরং এর উদ্দেশ্য হলো নিঃশর্ততা (ইতলাক), যাতে মাথা মাসেহ করার ন্যূনতম প্রয়োগেই দায়িত্ব নিষ্কৃতি ঘটে। তদুপরি মুগীরাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে যে ‘তাঁর নাসিয়াহর (কপালের ওপরের চুল) ওপর মাসেহ করেছেন’ বলে উল্লেখ আছে, তা পুরো নাসিয়াহর পরিব্যপ্তিকে অপরিহার্য করে না। কারণ, এটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য এই ভ্রম দূর করা হতে পারে যে, তিনি মাথার পার্শ্বদেশে বা পশ্চাৎভাগে মাসেহ করেছেন; সুতরাং এটি আপনাদের দাবির স্বপক্ষে প্রমাণ হয় না। আর যদি আমরা মুসলিম শরীফে মুগীরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনার দিকে লক্ষ্য করি যে, ‘নবী (সা.) অজু করলেন এবং তাঁর নাসিয়াহ মাসেহ করলেন’, তবে এখানে বিতর্কের বিষয়টি হবে ‘বা’ (ب) অক্ষরটিকে নিয়ে—যেমনটি আয়াতের ক্ষেত্রে হয়েছে—যে এটি কি আংশিকতা (তাবয়ীয) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে নাকি অন্য কিছু। আমরা যদি বলি যে এটি সংযোগ (ইলসাক) বুঝাতে এসেছে, তবুও আপনাদেরই সুস্পষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী আংশিকতা (তাবয়ীয) অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী {তোমাদের মাথা মাসেহ করো}-এর ক্ষেত্রে হয়েছে; কারণ এটি সেই স্থানের ওপর প্রবেশ করেছে, যা আমরা অচিরেই উল্লেখ করব। সুতরাং আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আবু দাউদের হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করাই উত্তম: ‘আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে অজু করতে দেখেছি, তখন তাঁর মাথায় কাতরিয়া পাগড়ি ছিল, তিনি পাগড়ির নিচ দিয়ে হাত প্রবেশ করালেন এবং মাথার সম্মুখভাগ মাসেহ করলেন।’ আবু দাউদ (রহ.) এটি বর্ণনা করে নীরব থেকেছেন, তাই এটি একটি দলিল। আর মাথার সম্মুখভাগের পূর্ণ অংশ হলো এক-চতুর্থাংশ, যাকে ‘নাসিয়াহ’ বলা হয়।

এবং ‘কাতরিয়া’ শব্দটি ‘কাফ’ বর্ণে কাসরা (জের) এবং ‘ত্বা’ বর্ণে সুকুন সহযোগে; এটি হচ্ছে লাল বর্ণের কাপড় যাতে বিশেষ চিহ্ন থাকে, যা ওমান ও সমুদ্রতীরবর্তী অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থান ‘কাতার’-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত—এটি আল-আযহারী থেকে বর্ণিত। অন্যগণ বলেন: এটি এক প্রকার চাদর (বুরূদ), যাতে লাল রং ও বিশেষ চিহ্ন থাকে এবং কিছুটা খসখসে হয়। অনুরূপভাবে বায়হাকী আতা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ‘তিনি (সা.) অজু করলেন এবং পাগড়ি সরিয়ে মাথার সম্মুখভাগ মাসেহ করলেন, অথবা তিনি বলেছেন নাসিয়াহ মাসেহ করলেন।’ এটি আমাদের নিকট দলিল হিসেবে গণ্য, যদিও এটি মুরসাল বর্ণনা; কারণ এটি মুত্তাসিল (সংযুক্ত) বর্ণনার দ্বারা সমর্থিত হয়েছে।

একটি বিষয় বাকি রয়ে যায়, তা হলো—রাসূল (সা.)-এর আমল এভাবে সাব্যস্ত হওয়া এই বিষয়টি বাতিল করে দেয় না যে, এর চেয়ে কম পরিমাণ জায়েজ হতে পারে। তাই এখানে এই মূলনীতিটি যুক্ত করা প্রয়োজন যে, ‘যদি এর চেয়ে কম জায়েজ হতো, তবে তিনি শিক্ষা দেওয়ার জন্য হলেও অন্তত একবার তা করতেন।’ তবে একে এই বলে প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে যে, বৈধতা যদি আমল ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে জানা যায়, তবে সেখানে আমলের প্রয়োজন পড়ে না। আর এখানে বিষয়টি তেমনই, কারণ আয়াতের দিকে তাকালে দেখা যায় সেখানে ‘বা’ (ب) বর্ণটি আংশিকতা (তাবয়ীয) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

আর এটি এর চেয়ে কম পরিমাণ জায়েজ হওয়ার বিষয়টিকে নাকচ করে না; সুতরাং আলোচনাটি পুনরায় আয়াতের অর্থগত নির্দেশের দিকেই ফিরে যায়। আমরা এ বিষয়ে বলি যে, ‘বা’ (ب) বর্ণটি সংযোগ (ইলসাক) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটিই এর সর্বসম্মত অর্থ। পক্ষান্তরে আংশিকতা (তাবয়ীয) বুঝানোর বিষয়টি ভিন্ন; কারণ আরবি ভাষার বিশেষজ্ঞ ইমামগণ একে ‘বা’-এর স্বতন্ত্র অর্থ হিসেবে অস্বীকার করেন। তবে যখন এটি সংযোগের (ইলসাক) অন্তর্ভুক্ত হয়ে আসে যেমন আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয়, তখন বিষয়টি ভিন্ন। কেননা মাথার সাথে মাসেহ করার উপকরণের সংযোগ ঘটানো—যা মূলত কাম্য—তা পুরো মাথাকে পরিব্যপ্ত করে না। সুতরাং যদি সংযোগ ঘটে এবং পরিব্যপ্ত না হয়, তবে সেই অংশের মাধ্যমেই দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে, এর অর্থ এই নয় যে ‘বা’ দ্বারা আংশিকতাই উদ্দেশ্য।

এর পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ আমরা ‘আল-বাদি ফি উসুলিল ফিকহ’ কিতাবে লিখেছি। আর এমতাবস্থায় এক-চতুর্থাংশই নির্ধারিত হয়; কারণ হাত সাধারণত এই পরিমাণ স্থানকেই পরিব্যপ্ত করে, তাই এটিই অবধারিত।

আর তিন আঙুল পরিমাণ মাসেহ জায়েজ হওয়ার যে বর্ণনা রয়েছে—যদিও কোনো কোনো মাশায়েখ একে সহিহ বলেছেন এই বিবেচনায় যে, ওয়াজিব হলো হাত স্পর্শ করা আর আঙুলগুলোই হাতের মূল ভিত্তি; এই কারণেই আঙুলগুলো কেটে ফেললে হাতের পূর্ণ দিয়ত (রক্তপণ) প্রদান করা আবশ্যক হয়।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ১৯)
الِاسْتِيعَابِ. وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ: قَدَّرَهُ بَعْضُ أَصْحَابِنَا بِثَلَاثِ أَصَابِعَ مِنْ أَصَابِعِ الْيَدِ لِأَنَّهَا أَكْثَرُ مَا هُوَ الْأَصْلُ فِي آلَةِ الْمَسْحِ.


 

وَالثَّلَاثُ أَكْثَرُهَا، وَلِلْأَكْثَرِ حُكْمُ الْكُلِّ، وَهُوَ الْمَذْكُورُ فِي الْأَصْلِ فَيُحْمَلُ عَلَى أَنَّهُ قَوْلُ مُحَمَّدٍ رحمه الله لِمَا ذَكَرَ الْكَرْخِيُّ وَالطَّحَاوِيُّ عَنْ أَصْحَابِنَا أَنَّهُ مِقْدَارُ النَّاصِيَةِ، وَرَوَاهُ الْحَسَنُ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله.

وَيُفِيدُ أَنَّهَا غَيْرُ الْمَنْصُورِ رِوَايَةُ قَوْلِ الْمُصَنِّفِ، وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ قَدْرُهُ وَدِرَايَةٌ أَنَّ الْمُقَدَّمَةَ الْأَخِيرَةَ فِي حَيِّزِ الْمَنْعِ؛ لِأَنَّ هَذَا مِنْ قَبِيلِ الْمُقَدَّرِ الشَّرْعِيِّ بِوَاسِطَةِ تَعَدِّي الْفِعْلِ إلَى تَمَامِ الْيَدِ فَإِنَّ بِهِ يَتَقَدَّرُ قَدْرُهَا مِنْ الرَّأْسِ وَفِيهِ يُعْتَبَرُ عَيْنُ قَدْرِهِ، وَقَوْلُنَا عَيْنُ قَدْرِهِ؛ لِأَنَّهُ لَوْ أَصَابَ الْمَطَرُ قَدْرَ الْفَرْضِ سَقَطَ، وَلَا تُشْتَرَطُ إصَابَتُهُ بِالْيَدِ؛ لِأَنَّ الْآلَةَ لَمْ تُقْصَدْ إلَّا لِلْإِيصَالِ إلَى الْمَحَلِّ فَحَيْثُ وَصَلَ اُسْتُغْنِيَ عَنْ اسْتِعْمَالِهَا، وَلَوْ مَسَحَ بِبَلَلٍ فِي يَدِهِ لَمْ يَأْخُذْهُ مِنْ عُضْوٍ آخَرَ جَازَ لَا إنْ أَخَذَهُ وَلَوْ بِأُصْبُعٍ وَاحِدَةٍ مَدَّهَا قَدْرَ الْفَرْضِ جَازَ عِنْدَ زَفَرَ وَعِنْدَنَا لَا يَجُوزُ، وَعَلَّلُوا بِأَنَّ الْبِلَّةَ صَارَتْ مُسْتَعْمَلَةً، وَهُوَ مُشْكِلٌ بِأَنَّ الْمَاءَ لَا يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا قَبْلَ الِانْفِصَالِ، وَمَا قِيلَ الْأَصْلُ ثُبُوتُ الِاسْتِعْمَالِ بِنَفْسِ الْمُلَاقَاةِ لَكِنَّهُ سَقَطَ فِي الْمَغْسُولِ لِلْحَرَجِ اللَّازِمِ بِإِلْزَامِ إصَابَةِ كُلِّ جُزْءٍ بِإِسَالَةِ غَيْرِ الْمُسَالِ عَلَى الْجُزْءِ الْآخَرِ، وَلَا حَرَجَ فِي الْمَسْحِ؛ لِأَنَّهُ يَحْصُلُ بِمُجَرَّدِ الْإِصَابَةِ فَبَقِيَ فِيهِ عَلَى الْأَصْلِ، دُفِعَ بِأَنَّهُ مُنَاقِضٌ لِمَا عَلَّلَ بِهِ لِأَبِي يُوسُفَ رحمه الله فِي مَسْأَلَةِ إدْخَالِ الرَّأْسِ فِي الْإِنَاءِ فَإِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ عِنْدَهُ، فَقَالُوا: الْمَسْحُ حَصَلَ بِالْإِصَابَةِ، وَالْمَاءُ إنَّمَا يَأْخُذُ حُكْمَ الِاسْتِعْمَالِ بَعْدَ الِانْفِصَالِ وَالْمُصَابُ بِهِ لَمْ يُزَايِلْ الْعُضْوَ حَتَّى عَدَلَ بَعْضُ الْمُتَأَخِّرِينَ إلَى التَّعْلِيلِ بِلُزُومِ انْفِصَالِ بِلَّةِ الْأُصْبُعِ بِوَاسِطَةِ الْمَدِّ فَيَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا لِذَلِكَ، بِخِلَافِ الْمُصَابِ فِي إدْخَالِ الرَّأْسِ الْإِنَاءَ، وَهَذَا كُلُّهُ يَسْتَلْزِمُ أَنَّ مَدَّ أُصْبُعَيْنِ لَا يَجُوزُ وَقَدْ صَرَّحُوا بِهِ، وَكَذَا يَسْتَلْزِمُ عَدَمَ جَوَازِ مَدِّ الثَّلَاثِ عَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّهُ لَا يُجْزِئُ أَقَلُّ مِنْ الرُّبُعِ، وَهُوَ قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ؛ لِأَنَّهُ إنْ أَخَذَ الِاسْتِعْمَالَ بِالْمُلَاقَاةِ أَوْ انْتَقَلَتْ الْبِلَّةُ لَزِمَ ذَلِكَ، لَكِنِّي لَمْ أَرَ فِي مَدِّ الثَّلَاثِ إلَّا الْجَوَازَ

وَاخْتِيَارُ شَمْسِ الْأَئِمَّةِ أَنَّ الْمَنْعَ فِي مَدِّ الْأُصْبُعِ وَالِاثْنَتَيْنِ غَيْرُ مُعَلَّلٍ بِاسْتِعْمَالِ الْبِلَّةِ بِدَلِيلِ أَنَّهُ لَوْ مَسَحَ بِأُصْبُعَيْنِ فِي التَّيَمُّمِ لَا يَجُوزُ مَعَ عَدَمِ شَيْءٍ يَصِيرُ مُسْتَعْمَلًا خُصُوصًا إذَا تَيَمَّمَ عَلَى الْحَجَرِ الصَّلْدِ، بَلْ الْوَجْهُ عِنْدَهُ أَنَّا مَأْمُورُونَ بِالْمَسْحِ بِالْيَدِ وَالْأُصْبُعَانِ مِنْهَا لَا تُسَمَّى يَدًا، بِخِلَافِ الثَّلَاثِ لِأَنَّهَا أَكْثَرُ مَا هُوَ الْأَصْلُ فِيهَا، وَهُوَ حَسَنٌ لَكِنَّهُ يَقْتَضِي تَعْيِينَ الْإِصَابَةِ بِالْيَدِ، وَهُوَ مُنْتَفٍ بِمَسْأَلَةِ الْمَطَرِ.

وَقَدْ يُدْفَعُ بِأَنَّ الْمُرَادَ تَعْيِينُهَا أَوْ مَا يَقُومُ مَقَامَهَا مِنْ الْآلَاتِ عِنْدَ قَصْدِ الْإِسْقَاطِ بِالْفِعْلِ اخْتِيَارًا، غَيْرَ أَنَّ لَازِمَهُ كَوْنُ تِلْكَ الْآلَةِ الَّتِي هِيَ غَيْرُ الْيَدِ مَثَلًا قَدْرَ ثَلَاثِ أَصَابِعَ مِنْ الْيَدِ، حَتَّى لَوْ
পরিপূর্ণ বেষ্টন করার ক্ষেত্রে। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: আমাদের কোনো কোনো ফকীহ একে হাতের আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে তিনটি আঙ্গুল দ্বারা পরিমাপ করেছেন; কারণ মাসেহ করার যন্ত্রের (হাতের) যা মূল অংশ, এটি তার অধিকাংশ।


 

আর তিনটি হলো এর অধিকাংশ, আর অধিকাংশের জন্য পুরোটির হুকুম প্রযোজ্য হয়। এটিই 'আল-আসল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, ফলে একে ইমাম মুহাম্মাদ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর বক্তব্য হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ ইমাম কারখী ও ইমাম তাহাবী আমাদের ফকীহগণের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এর পরিমাণ হলো মাথার সম্মুখভাগ (নাসিয়াহ)। হাসান ইবনে যিয়াদ এটি ইমাম আবু হানীফা (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণনা করেছেন।

মুসান্নিফের বক্তব্যের এই বর্ণনাটি ইঙ্গিত দেয় যে এটি ইমাম মনসুরের বর্ণনার বিপরীত। কোনো কোনো বর্ণনায় এর পরিমাণের কথা এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনায় (দিরায়াত) দেখা যায় যে, শেষ প্রাঙ্গণটি আপত্তির বেষ্টনীতে রয়েছে; কারণ এটি শারীয়াহ কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণের অন্তর্ভুক্ত যা পূর্ণ হাতের মাধ্যমে কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। কেননা এর দ্বারাই মাথার সেই পরিমাণ নির্ধারিত হয় এবং এতে সেই পরিমাণের হুবহু অস্তিত্ব ধর্তব্য। আমাদের 'সেই পরিমাণের হুবহু অস্তিত্ব' বলার কারণ হলো, যদি বৃষ্টির পানি ফরজ পরিমাণ স্থানে পৌঁছে যায় তবে মাসেহ আদায় হয়ে যাবে, সেখানে হাতের স্পর্শ শর্ত নয়; কারণ মাসেহের যন্ত্র (হাত) কেবল নির্দিষ্ট স্থানে পানি পৌঁছানোর উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়, সুতরাং যেখানে পানি পৌঁছে গেছে সেখানে যন্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে। যদি কেউ হাতে থাকা সিক্ততা দ্বারা মাসেহ করে যা সে অন্য কোনো অঙ্গ থেকে গ্রহণ করেনি, তবে তা জায়েজ। কিন্তু যদি অন্য অঙ্গ থেকে পানি নেয় তবে তা হবে না। যদি কেউ কেবল একটি আঙ্গুল ফরজ পরিমাণ স্থান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়, তবে ইমাম যুফারের মতে তা জায়েজ, কিন্তু আমাদের (হানাফী) মতে তা জায়েজ নয়। তাঁরা এর কারণ হিসেবে বলেছেন যে, সেই সিক্ততা ব্যবহৃত (মুস্তামাল) হয়ে গেছে। তবে এতে প্রশ্ন থেকে যায় যে, পানি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে তা মুস্তামাল হয় না। আর বলা হয়ে থাকে যে, মূলত স্পর্শের মাধ্যমেই ব্যবহৃত হওয়ার বিধান সাব্যস্ত হয়, কিন্তু ধৌত করা অঙ্গসমূহের ক্ষেত্রে কষ্টের কারণে তা রহিত করা হয়েছে; কারণ প্রবাহিত না হওয়া পানিকে এক অংশ থেকে অন্য অংশে পৌঁছানোর কষ্ট অনস্বীকার্য। কিন্তু মাসেহ করার ক্ষেত্রে কোনো কষ্ট নেই; কারণ এটি কেবল স্পর্শের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, তাই মাসেহের ক্ষেত্রে মূল মূলনীতি (স্পর্শেই মুস্তামাল হওয়া) বহাল থাকবে। এই যুক্তিটি খণ্ডন করা হয়েছে এই বলে যে, এটি ইমাম আবু ইউসুফ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর সেই যুক্তির পরিপন্থী যা তিনি পাত্রে মাথা প্রবেশ করানোর মাসআলায় দিয়েছেন, কেননা তখন পানি তাঁর মতে পবিত্রকারী থাকে। ফকীহগণ বলেছেন: স্পর্শের মাধ্যমে মাসেহ অর্জিত হয়, আর পানি বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরেই কেবল 'ব্যবহৃত' হওয়ার হুকুম গ্রহণ করে, অথচ স্পর্শিত পানি অঙ্গ থেকে আলাদা হয়নি। এ কারণে পরবর্তী যুগের কিছু আলেম এই কারণ দর্শিয়েছেন যে, আঙ্গুল টেনে নেওয়ার কারণে আঙ্গুলের সিক্ততা বিচ্ছিন্ন হওয়া আবশ্যক হয়, ফলে তা মুস্তামাল হয়ে যায়। পাত্রে মাথা প্রবেশ করানোর বিষয়টি এর ব্যতিক্রম। এই সব কিছুর দাবি হলো এই যে, দুই আঙ্গুল টেনে মাসেহ করা জায়েজ হবে না এবং ফকীহগণ তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে, এটি তিন আঙ্গুল টেনে মাসেহ করাও নাজায়েজ হওয়ার দাবি রাখে সেই মতানুসারে যা বলে যে এক-চতুর্থাংশের কম মাসেহ যথেষ্ট নয়; আর এটিই ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রাহমাতুল্লাহি আলাইহিমা)-এর মত। কারণ যদি স্পর্শের মাধ্যমে ব্যবহৃত হওয়ার বিধান আসে অথবা সিক্ততা স্থানান্তরিত হয় তবে তা-ই আবশ্যক হয়। কিন্তু আমি তিন আঙ্গুল টেনে মাসেহ করার ক্ষেত্রে জায়েজ হওয়া ব্যতীত অন্য কিছু দেখিনি।

শামসুল আইম্মাহ-এর পছন্দনীয় মত হলো, এক বা দুই আঙ্গুল টেনে মাসেহ করার নিষেধাজ্ঞা পানি ব্যবহৃত বা মুস্তামাল হওয়ার কারণে নয়। এর দলিল হলো, যদি কেউ তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে দুই আঙ্গুল দ্বারা মাসেহ করে তবে তা জায়েজ হবে না, অথচ সেখানে মুস্তামাল হওয়ার মতো কিছু নেই, বিশেষ করে যখন শক্ত পাথরের ওপর তায়াম্মুম করা হয়। বরং তাঁর নিকট সঠিক কারণ হলো এই যে, আমাদের হাতের মাধ্যমে মাসেহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর দুই আঙ্গুলকে 'হাত' বলা হয় না। তিন আঙ্গুলের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এটি হাতের অধিকাংশ এবং একে হাতের স্থলাভিষিক্ত ধরা হয়। এই যুক্তিটি চমৎকার, কিন্তু এটি নির্দিষ্টভাবে হাতের মাধ্যমেই স্পর্শ করাকে আবশ্যক করে, যা বৃষ্টির পানির মাসআলায় অনুপস্থিত।

এর উত্তরে বলা যেতে পারে যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো হাতকে নির্দিষ্ট করা অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে ফরজ আদায়ের ক্ষেত্রে হাতের স্থলাভিষিক্ত কোনো যন্ত্রকে নির্দিষ্ট করা। তবে এর অবশ্যম্ভাবী দাবি হলো, হাত ছাড়া অন্য যে যন্ত্রটি হবে তা যেন হাতের অন্তত তিন আঙ্গুলের সমপরিমাণ হয়, এমনকি যদি
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২০)
قَالَ (وَسُنَنُ الطَّهَارَةِ غَسْلُ الْيَدَيْنِ قَبْلَ إدْخَالِهِمَا الْإِنَاءَ


 

كَانَ عُودًا مَثَلًا لَا يَبْلُغُ ذَلِكَ الْقَدْرَ قُلْنَا بِعَدَمِ جَوَازِ مَدِّهِ.

وَقَدْ يُقَالُ عَدَمُ الْجَوَازِ بِالْأُصْبُعِ بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْبِلَّةَ تَتَلَاشَى وَتَفْرُغُ قَبْلَ بُلُوغِ قَدْرِ الْفَرْضِ، بِخِلَافِ الْأُصْبُعَيْنِ فَإِنَّ الْمَاءَ يَنْحَمِلُ فِيهِ بَيْنَ الْأُصْبُعَيْنِ الْمَضْمُومَتَيْنِ فَضْلُ زِيَادَةٍ تَحْتَمِلُ الِامْتِدَادَ إلَى قَدْرِ الْفَرْضِ، وَهَذَا مُشَاهَدٌ أَوْ مَظْنُونٌ فَوَجَبَ إثْبَاتُ الْحُكْمِ بِاعْتِبَارِهِ، فَعَلَى اعْتِبَارِ صِحَّةِ الِاكْتِفَاءِ بِقَدْرِ ثَلَاثِ أَصَابِعَ يَجُوزُ مَدُّ الْأُصْبُعَيْنِ؛ لِأَنَّهُ مَا بَيْنَهُمَا مِنْ الْمَاءِ يَمْتَدُّ قَدْرَ أُصْبُعٍ ثَالِثٍ، وَعَلَى اعْتِبَارِ تَوَقُّفِ الْإِجْزَاءِ عَلَى الرُّبْعِ لَا يَجُوزُ؛ لِأَنَّ مَا بَيْنَهُمَا مِمَّا لَا يَغْلِبُ عَلَى الظَّنِّ إيعَابُهُ الرُّبُعَ، إلَّا أَنَّ هَذَا يُعَكِّرُ عَلَيْهِ عَدَمُ جَوَازِ التَّيَمُّمِ بِأُصْبُعَيْنِ.

وَأَمَّا الْجَوَازُ بِجَوَانِبِ الْأُصْبُعِ فَإِنَّهُ بِنَاءً عَلَى رِوَايَةِ الِاكْتِفَاءِ بِثَلَاثِ أَصَابِعَ، وَلَوْ أَدْخَلَ رَأْسَهُ إنَاءَ مَاءٍ نَاوِيًا لِلْمَسْحِ فَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ يَجُوزُ عَنْ الْفَرْضِ.

وَالْمَاءُ طَهُورٌ، وَعِنْدَ مُحَمَّدٍ لَا يَجُوزُ وَالْمَاءُ مُسْتَعْمَلٌ.

وَقَوْلُ أَبِي يُوسُفَ أَحْسَنُ؛ لِأَنَّ الْمَاءَ لَا يُعْطَى لَهُ حُكْمُ الِاسْتِعْمَالِ إلَّا بَعْدَ الِانْفِصَالِ، وَاَلَّذِي لَاقَى الرَّأْسَ مِنْ أَجْزَائِهِ لَصِقَ بِهِ فَطَهَّرَهُ وَغَيْرُهُ لَمْ يُلَاقِهِ فَلَمْ يُسْتَعْمَلْ وَفِيهِ نَظَرٌ، ثُمَّ مَحَلُّ الْمَسْحِ مَا فَوْقَ الْأُذُنَيْنِ، فَلَوْ مَسَحَ عَلَى شَعْرِهِ أَجْزَأَهُ، بِخِلَافِ مَا لَوْ كَانَتْ ذُؤَابَتَاهُ مَشْدُودَتَيْنِ عَلَى رَأْسِهِ فَمَسَحَ عَلَى أَعْلَاهُمَا فَإِنَّهُ لَا يَجُوزُ، وَالْمَسْنُونُ فِي كَيْفِيَّةِ الْمَسْحِ أَنْ يَضَعَ كَفَّيْهِ وَأَصَابِعَهُ عَلَى مُقَدَّمِ رَأْسِهِ آخِذًا إلَى قَفَاهُ عَلَى وَجْهٍ يَسْتَوْعِبُ، ثُمَّ يَمْسَحُ أُذُنَيْهِ عَلَى مَا يَذْكُرُهُ، وَأَمَّا مُجَافَاةُ السَّبَّاحَتَيْنِ مُطْلَقًا لِيَمْسَحَ بِهِمَا الْأُذُنَيْنِ وَالْكَفَّيْنِ فِي الْإِدْبَارِ لِيَرْجِعَ بِهِمَا عَلَى الْفَوْدَيْنِ فَلَا أَصْلَ لَهُ فِي السُّنَّةِ، لِأَنَّ الِاسْتِعْمَالَ لَا يَثْبُتُ قَبْلَ الِانْفِصَالِ وَالْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ حَتَّى جَازَ اتِّحَادُ بِلَتِّهِمَا، وَلِأَنَّ أَحَدًا مِمَّنْ حَكَى وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُؤْثَرْ عَنْهُ ذَلِكَ، فَلَوْ كَانَ ذَلِكَ مِنْ الْكَيْفِيَّاتِ الْمَسْنُونَةِ وَهُمْ شَارِعُونَ فِي حِكَايَتِهَا لِتُرْتَكَبَ وَهِيَ غَيْرُ مُتَبَادِرَةٍ لَنَصُّوا عَلَيْهَا.

وَفِي فَتَاوَى أَهْلِ سَمَرْقَنْدَ: إذَا دَهَنَ رِجْلَيْهِ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَأَمَرَّ الْمَاءَ عَلَى رِجْلَيْهِ وَلَمْ يَقْبَلْ الْمَاءَ لِلدُّسُومَةِ جَازَ الْوُضُوءُ؛ لِأَنَّهُ وُجِدَ غَسْلُ الرِّجْلَيْنِ.

وَاعْلَمْ أَنَّ حَدِيثَ الْمُغِيرَةَ الْمَذْكُورَ فِي الْكِتَابِ تَمَامُ مَتْنَيْنِ رَوَاهُمَا الْمُغِيرَةُ أَحَدُهُمَا مَا قَدَّمْنَاهُ مِنْ رِوَايَةِ مُسْلِمٍ عَنْهُ «أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام تَوَضَّأَ وَمَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ عَلَى الْخُفَّيْنِ» وَالْآخَرُ رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْهُ «أَنَّهُ عليه الصلاة والسلام أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا» فَجَمَعَ الْقُدُورِيُّ بَيْنَ مَرْوِيَّيْ الْمُغِيرَةَ وَوَهَمَ الشَّيْخُ عَلَاءُ الدِّينِ إذْ جَعَلَهُ مُرَكَّبًا مِنْ حَدِيثِ الْمُغِيرَةِ «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ بِنَاصِيَتِهِ وَخُفَّيْهِ»، وَمِنْ حَدِيثِ حُذَيْفَةَ فِي السُّبَاطَةِ وَالْبَوْلِ قَائِمًا وَهُوَ يَقْتَضِي تَخْطِئَةَ الْقُدُورِيِّ فِي نِسْبَةِ حَدِيثِ السُّبَاطَةِ إلَى الْمُغِيرَةَ وَلَيْسَ كَذَلِكَ، بَلْ قَدْ رَوَاهُ أَيْضًا الْمُغِيرَةُ كَمَا أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ

 

(قَوْلُهُ وَسُنَنُ الطَّهَارَةِ) إضَافَةُ الشَّيْءِ إلَى مَا هُوَ أَعَمُّ مِنْهُ مِنْ وَجْهٍ لِصِدْقِ السُّنَّةِ مَعَ الطَّهَارَةِ فِي طَهَارَةٍ مَسْنُونَةٍ،
তিনি বলেন, (এবং পবিত্রতার সুন্নাতসমূহ হলো হাত দুটি পাত্রে প্রবেশ করানোর আগে ধৌত করা)


 

উদাহরণস্বরূপ, যদি এটি এমন একটি কাঠি হয় যা উক্ত পরিমাণ পর্যন্ত পৌঁছে না, তবে আমরা সেটি টেনে লম্বা করা জায়েজ না হওয়ার কথা বলি।

আর আঙুলের মাধ্যমে মাসেহ করা জায়েজ না হওয়ার বিষয়টি এই ভিত্তির ওপর বলা হয়ে থাকে যে, আর্দ্রতা ফরয পরিমাণ জায়গায় পৌঁছানোর আগেই নিঃশেষ হয়ে যায় এবং ফুরিয়ে যায়। দুই আঙুলের বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ দুটি আঙুল মিলিয়ে রাখলে তার মাঝে অতিরিক্ত পানি থাকে যা ফরয পরিমাণ পর্যন্ত প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এটি প্রত্যক্ষভাবে দৃশ্যমান অথবা প্রবল ধারণাপ্রসূত, তাই এর ভিত্তিতে বিধান সাব্যস্ত করা আবশ্যক। সুতরাং যদি তিন আঙুল পরিমাণ যথেষ্ট হওয়াকে সঠিক ধরা হয়, তবে দুই আঙুল টেনে মাসেহ করা জায়েজ হবে; কারণ এর মধ্যবর্তী পানি তৃতীয় আঙুলের পরিমাণ পর্যন্ত প্রসারিত হয়। আর যদি এক-চতুর্থাংশ হওয়া শর্ত হয়, তবে এটি জায়েজ হবে না; কারণ দুই আঙুলের মধ্যবর্তী অংশ দ্বারা এক-চতুর্থাংশ পূর্ণ হওয়া প্রবল ধারণার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে এর বিপরীতে আপত্তি হলো যে, দুই আঙুল দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়েজ নয়।

আর আঙুলের পার্শ্বভাগ দিয়ে মাসেহ করা জায়েজ হওয়া তিন আঙুল যথেষ্ট হওয়ার বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে। আর যদি কেউ মাসেহের নিয়তে নিজের মাথা পানির পাত্রে প্রবেশ করায়, তবে ইমাম আবু ইউসুফের মতে ফরয আদায় হয়ে যাবে।

এবং পানি পবিত্র থাকবে। কিন্তু ইমাম মুহাম্মদের মতে এটি জায়েজ হবে না এবং পানি ব্যবহৃত হয়ে যাবে।

ইমাম আবু ইউসুফের মতটি অধিক উত্তম; কারণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে পানিকে 'ব্যবহৃত' হওয়ার হুকুম দেওয়া হয় না। মাথার যে অংশটুকু পানির স্পর্শে এসেছে, পানি তাতে লেগে থেকে তাকে পবিত্র করে দিয়েছে, আর অবশিষ্ট পানি মাথার স্পর্শে আসেনি, তাই তা ব্যবহৃত হয়নি। তবে এতে গবেষণার অবকাশ আছে। অতঃপর, মাসেহের স্থান হলো কান দুটির উপরের অংশ। যদি চুলের ওপর মাসেহ করে তবে তা যথেষ্ট হবে, কিন্তু যদি মাথার ওপর চুল ঝুঁটি করে বাঁধা থাকে এবং সে তার ওপর মাসেহ করে তবে তা জায়েজ হবে না। মাসেহ করার সুন্নাত পদ্ধতি হলো: দুই হাতের তালু এবং আঙুলসমূহ মাথার সামনের অংশে স্থাপন করে ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে যাবে এমনভাবে যেন পুরো মাথা অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর বর্ণিত নিয়মে কান দুটি মাসেহ করবে। আর শাহাদাত আঙুল দুটিকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা যেন তা দিয়ে কান মাসেহ করা যায় এবং হাতের তালু দুটিকে ফেরানোর সময় মাথার দুই পাশ মাসেহ করা—সুন্নাহতে এর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বে পানি ব্যবহৃত হওয়ার বিধান সাব্যস্ত হয় না এবং কান দুটি মাথারই অংশ, এমনকি একই আর্দ্রতা দিয়ে উভয়টি মাসেহ করাও জায়েজ। অধিকন্তু, যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওযুর বর্ণনা দিয়েছেন, তাদের কেউ এমনটি উল্লেখ করেননি। যদি এটি সুন্নাত পদ্ধতি হতো এবং তারা তা বর্ণনা করতে উদ্যত হতেন তবে তারা অবশ্যই তা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতেন, কারণ এটি সাধারণ বুদ্ধিতে আসার মতো বিষয় নয়।

সমরকন্দের আলেমদের ফাতাওয়ায় আছে: যদি কেউ তার পায়ে তেল মালিশ করে, অতঃপর ওযু করে এবং পায়ের ওপর পানি প্রবাহিত করে, কিন্তু তেলের কারণে পা পানি গ্রহণ না করে, তবে ওযু জায়েজ হবে; কেননা পা ধৌত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

জেনে রাখুন যে, কিতাবে উল্লিখিত মুগীরাহ-এর হাদিসটি দুটি স্বতন্ত্র মূল পাঠের সমষ্টি যা মুগীরাহ বর্ণনা করেছেন। একটি হলো আমরা পূর্বে মুসলিমের সূত্রে যা উল্লেখ করেছি যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করেছেন এবং কপালে ও মোজার ওপর মাসেহ করেছেন।" অন্যটি ইবনে মাজাহ তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গোত্রের আবর্জনার স্তূপের কাছে আসলেন এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন।" ইমাম কুদুরী মুগীরাহ-এর এই দুটি বর্ণনাকে একত্রিত করেছেন। আর শায়খ আলাউদ্দীন সংশয়ে পড়েছেন যখন তিনি মনে করেছেন যে এটি মুগীরাহ-এর হাদিস—যেখানে তিনি কপাল ও মোজার ওপর মাসেহ করেছেন—এবং হুযাইফা-এর হাদিস—যেখানে আবর্জনার স্তূপ ও দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার কথা আছে—এর সংমিশ্রণ। এটি ইমাম কুদুরীকে আবর্জনার স্তূপের হাদিসটি মুগীরাহ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার ক্ষেত্রে ভুল সাব্যস্ত করার দাবি রাখে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; বরং মুগীরাহ-ও এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি ইবনে মাজাহ উদ্ধৃত করেছেন।

 

(তাঁর বক্তব্য: এবং পবিত্রতার সুন্নাতসমূহ) কোনো বিষয়কে তার চেয়ে ব্যাপকতর বিষয়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; কারণ সুন্নাহর বিষয়টি পবিত্রতার সাথে সুন্নাত পবিত্রতার ক্ষেত্রে মিলে যায়।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২১)
إذَا اسْتَيْقَظَ الْمُتَوَضِّئُ مِنْ نَوْمِهِ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام «إذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَنَامِهِ فَلَا يَغْمِسَنَّ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلَاثًا فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ» وَلِأَنَّ الْيَدَ آلَةُ التَّطْهِيرِ فَتُسَنُّ الْبُدَاءَةُ بِتَنْظِيفِهَا، وَهَذَا الْغَسْلُ إلَى الرُّسْغِ لِوُقُوعِ الْكِفَايَةِ بِهِ فِي التَّنْظِيفِ.

 

قَالَ (وَتَسْمِيَةُ اللَّهِ تَعَالَى فِي ابْتِدَاءِ الْوُضُوءِ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام «لَا وُضُوءَ


 

وَسُنَّةٌ بِلَا طَهَارَةٍ فِي سُنَّةٍ مَثَلًا صَلَوِيَّةٍ، وَطَهَارَةٌ بِلَا سُنَّةٍ فِي طَهَارَةٍ وَاجِبَةٍ فُعِلَتْ عَلَى غَيْرِ وَجْهِ السُّنَّةِ.

وَاللَّامُ فِيهِ لِلْعَهْدِ: يَعْنِي الطَّهَارَةَ الْمَذْكُورَةَ وَهِيَ الْوُضُوءُ، فَانْدَفَعَ لُزُومُ كَوْنِ السُّنَنِ الْمَذْكُورَةِ سُنَنًا لِغَيْرِ الْوُضُوءِ مِنْ أَنْوَاعِ الطَّهَارَةِ.

وَالسُّنَّةُ: مَا وَاظَبَ صلى الله عليه وسلم مَعَ تَرْكِهِ أَحْيَانًا (قَوْلُهُ غَسْلُ الْيَدَيْنِ قَبْلَ إدْخَالِهِمَا الْإِنَاءَ إذَا اسْتَيْقَظَ إلَخْ) الْحَدِيثُ الْمَذْكُورُ فِي الصَّحِيحَيْنِ بِغَيْرِ نُونِ التَّوْكِيدِ، وَأَمَّا بِهَا فَفِي مُسْنَدِ الْبَزَّارِ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ وَلَفْظُهُ «فَلَا يَغْمِسَنَّ يَدَهُ فِي طَهُورِهِ حَتَّى يُفْرِغَ عَلَيْهَا ثَلَاثًا» ثُمَّ غَسْلُهُمَا هَذَا يَقَعُ عَنْ الْفَرْضِ فَهُوَ فَرْضٌ تَقْدِيمُهُ سُنَّةٌ، وَلِذَا قَالَ مُحَمَّدٌ رحمه الله فِي الْأَصْلِ بَعْدَ غَسْلِ الْوَجْهِ: ثُمَّ يَغْسِلُ ذِرَاعَيْهِ.

وَأَمَّا تَعْلِيقُهُ بِالِاسْتِيقَاظِ، فَمِنْهُمْ مَنْ أَطْلَقَ فِيهِ، وَمِنْهُمْ مَنْ قَيَّدَهُ بِمَا إذَا نَامَ مُسْتَنْجِيًا بِالْأَحْجَارِ أَوْ مُتَنَجِّسَ الْبَدَنِ، أَمَّا لَوْ نَامَ مُتَيَقِّنًا طَهَارَتَهُمَا مُسْتَنْجِيًا بِالْمَاءِ فَلَا يُسَنُّ لَهُ.

وَقِيلَ بِأَنَّهُ سُنَّةٌ مُطْلَقًا لِلْمُسْتَيْقِظِ وَغَيْرِهِ فِي ابْتِدَاءِ الْوُضُوءِ، وَهُوَ الْأَوْلَى؛ لِأَنَّ مَنْ حَكَى وُضُوءَهُ عليه الصلاة والسلام قَدَّمَهُ، وَإِنَّمَا يُحْكَى مَا كَانَ دَأْبُهُ وَعَادَتُهُ لَا خُصُوصُ وُضُوئِهِ الَّذِي هُوَ عَنْ نَوْمٍ، بَلْ الظَّاهِرُ أَنَّ اطِّلَاعَهُمْ عَلَى وُضُوئِهِ عَنْ غَيْرِ النَّوْمِ، نَعَمْ مَعَ الِاسْتِيقَاظِ وَتَوَهُّمِ النَّجَاسَةِ السُّنَّةُ آكَدٌّ، أَمَّا الْوُجُوبُ فَإِنَّمَا يُنَاطُ بِتَحَقُّقِ النَّجَاسَةِ.

 

(قَوْلُهُ وَتَسْمِيَةُ اللَّهِ تَعَالَى) لَفْظُهَا الْمَنْقُولُ عَنْ السَّلَفِ، وَقِيلَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: بِاسْمِ
(যখন অযুকারী তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়) কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সে যেন তার হাত পাত্রে না ডুবায় যতক্ষণ না সে তা তিনবার ধৌত করে; কেননা সে জানে না তার হাত কোথায় রাত্রিযাপন করেছে।" এবং যেহেতু হাত হলো পবিত্রতা অর্জনের যন্ত্র, তাই একে পরিষ্কার করার মাধ্যমে অযু শুরু করা সুন্নাত। আর এই ধৌত করা হবে কবজি পর্যন্ত, কারণ পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে এটাই যথেষ্ট।

 

তিনি বলেন, (এবং অযুর শুরুতে মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীর কারণে: "ঐ ব্যক্তির অযু নেই...


 

পবিত্রতা ব্যতীত সুন্নাত হতে পারে যেমন নামাযের সুন্নাতসমূহ, আবার সুন্নাত ব্যতীত পবিত্রতা হতে পারে যেমন এমন ওয়াজিব পবিত্রতা যা সুন্নাত পদ্ধতি ব্যতিরেকে আদায় করা হয়েছে।

আর এখানে ‘লাম’ বর্ণটি নির্দিষ্টকরণের জন্য; অর্থাৎ উল্লেখিত পবিত্রতা যা হলো অযু। এর ফলে এই সুন্নাতগুলো অযুর পরিবর্তে অন্য কোনো প্রকারের পবিত্রতার সুন্নাত হওয়ার আবশ্যকতা দূর হলো।

আর সুন্নাত হলো: যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করেছেন তবে মাঝেমধ্যে ছেড়েও দিয়েছেন। (তাঁর বক্তব্য: পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে হাত দুইখানা ধৌত করা যখন ঘুম থেকে জাগ্রত হবে ইত্যাদি) উল্লেখিত হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমে তাকিদ যুক্ত ‘নুন’ ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে। আর তাকিদ যুক্ত ‘নুন’ সহ এটি মুসনাদে বাজজারে হিশাম ইবনে হাসসানের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে এবং তার শব্দ হলো: "সে যেন তার পবিত্র করার পানিতে হাত না ডুবায় যতক্ষণ না তার ওপর তিনবার পানি ঢালে।" অতঃপর এই ধৌত করা ফরজের স্থলাভিষিক্ত হয়, তাই এটি ফরজ যা আগে সম্পন্ন করা সুন্নাত। এই কারণেই ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) ‘আসল’ গ্রন্থে মুখমণ্ডল ধৌত করার বর্ণনার পর বলেছেন: অতঃপর সে তার দুই হাত (কনুইসহ) ধৌত করবে।

আর একে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সাথে শর্তযুক্ত করার বিষয়ে কোনো কোনো ফকীহ একে সাধারণ রেখেছেন, আবার কেউ কেউ একে সেই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন যখন কেউ পাথর দিয়ে ইস্তিঞ্জা করে ঘুমায় অথবা তার দেহ নাপাক থাকে। পক্ষান্তরে যদি কেউ নিজের পবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে এবং পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করার পর ঘুমায়, তবে তার জন্য এটি সুন্নাত নয়।

আবার বলা হয়েছে যে, এটি অযুর শুরুতে ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া ব্যক্তি এবং অন্যদের জন্য সাধারণভাবে সুন্নাত; আর এটাই অধিক উত্তম। কেননা যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অযুর বর্ণনা দিয়েছেন তারা একে শুরুতেই উল্লেখ করেছেন। আর সাধারণত তাঁর স্থায়ী কর্মপদ্ধতি ও অভ্যাসই বর্ণনা করা হয়, কেবল ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার বিশেষ অযু নয়। বরং এটাই প্রতীয়মান হয় যে, তারা ঘুম ছাড়াও অন্য সময়েও তাঁর অযুর পদ্ধতি প্রত্যক্ষ করেছেন। হ্যাঁ, ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর নাপাকির আশঙ্কা থাকলে এই সুন্নাতটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়। আর এটি ওয়াজিব হওয়া কেবল নাপাকি নিশ্চিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।

 

(তাঁর উক্তি: এবং মহান আল্লাহর নাম নেওয়া) এর যে শব্দাবলী সালাফদের থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং বলা হয়ে থাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বর্ণিত: বিসমিল্লাহ (আল্লাহর নামে)...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২২)
لِمَنْ لَمْ يُسَمِّ اللَّهَ» وَالْمُرَادُ بِهِ نَفْيُ الْفَضِيلَةِ، وَالْأَصَحُّ أَنَّهَا مُسْتَحَبَّةٌ وَإِنْ سَمَّاهَا فِي الْكِتَابِ سُنَّةً،


 

اللَّهِ الْعَظِيمِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى دِينِ الْإِسْلَامِ، وَقِيلَ الْأَفْضَلُ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ بَعْدَ التَّعَوُّذِ، وَفِي الْمُجْتَبَى يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا، وَفِي الْمُحِيطِ: لَوْ قَالَ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ أَوْ الْحَمْدُ لِلَّهِ أَوْ أَشْهَدُ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ يَصِيرُ مُقِيمًا لِلسُّنَّةِ، وَهُوَ بِنَاءً عَلَى أَنَّ لَفْظَ بِسْمِ أَعَمُّ مِمَّا ذَكَرْنَا.

وَلَفْظُ أَبِي دَاوُد «لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَا وُضُوءَ لَهُ، وَلَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ» وَضُعِّفَ بِالِانْقِطَاعِ، وَهُوَ عِنْدَنَا كَالْإِرْسَالِ بَعْدَ عَدَالَةِ الرُّوَاةِ وَثِقَتِهِمْ لَا يَضُرُّ، وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ مِنْ حَدِيثِ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ رَبِيحِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ «لَا وُضُوءَ لِمَنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ» وَأُعِلَّ بِأَنَّ رَبِيحًا لَيْسَ بِمَعْرُوفٍ. وَنُوزِعَ فِي ذَلِكَ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ: رَبِيحٌ شَيْخٌ، وَقَالَ ابْنُ عَمَّارٍ: ثِقَةٌ، وَقَالَ الْبَزَّارُ: رَوَى عَنْهُ فُلَيْحُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَعَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ وَكَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ وَغَيْرُهُمْ، قَالَ: الْأَثْرَمُ: سَأَلْت أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ عَنْ التَّسْمِيَةِ فِي الْوُضُوءِ فَقَالَ: أَحْسَنُ مَا فِيهَا حَدِيثُ كَثِيرِ بْنِ زَيْدٍ، وَلَا أَعْلَمُ فِيهَا حَدِيثًا ثَابِتًا، وَأَرْجُو أَنْ يُجْزِئَهُ الْوُضُوءُ؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ فِيهِ حَدِيثٌ أَحْكُمُ بِهِ اهـ.

(قَوْلُهُ وَالْأَصَحُّ أَنَّهَا مُسْتَحَبَّةٌ إلَخْ) يَجُوزُ كَوْنُ مُسْتَنَدِهِ فِيهِ ضَعْفَ الْأَحَادِيثِ، وَيَجُوزُ كَوْنُهُ بِحَدِيثِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ قَالَ: «أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَوَضَّأُ فَسَلَّمَتْ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلِيَّ، فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ: إنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرُدَّ عَلَيْكَ إلَّا أَنِّي كُنْتُ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ» رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْنُ مَاجَهْ وَابْنُ حِبَّانَ فِي صَحِيحِهِ، وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد مِنْ حَدِيثِ مُحَمَّدِ بْنِ ثَابِتٍ الْعَبْدِيِّ حَدَّثَنَا نَافِعٌ قَالَ: انْطَلَقْت مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فِي حَاجَةٍ إلَى ابْنِ عَبَّاسٍ، فَلَمَّا قَضَى حَاجَتَهُ كَانَ مِنْ حَدِيثِهِ قَالَ «مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي سِكَّةٍ مِنْ سِكَكِ الْمَدِينَةِ وَقَدْ خَرَجَ مِنْ غَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ إذْ سَلَّمَ عَلَيْهِ رَجُلٌ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلَامُ، ثُمَّ إنَّهُ ضَرَبَ بِيَدِهِ الْحَائِطَ فَمَسَحَ وَجْهَهُ مَسْحًا ثُمَّ ضَرَبَ ضَرْبَةً فَمَسَحَ ذِرَاعَيْهِ إلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ كَفَّهُ وَقَالَ: إنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أَرُدَّ عَلَيْك إلَّا أَنِّي لَمْ أَكُنْ عَلَى طَهَارَةٍ» وَمَا فِي الصَّحِيحَيْنِ «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم أَقْبَلَ مِنْ نَحْوِ بِئْرِ جَمَلٍ فَلَقِيَهُ رَجُلٌ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ حَتَّى أَقْبَلَ عَلَى الْجِدَارِ فَمَسَحَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ رَدَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَلَيْهِ السَّلَامَ». وَرَوَى الْبَزَّارُ هَذِهِ الْقِصَّةَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي بَكْرٍ رَجُلٌ مِنْ آلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَزَادَ وَقَالَ: «إنَّمَا رَدَدْتُ عَلَيْك خَشْيَةَ أَنْ تَقُولَ سَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلِيَّ، فَإِذَا رَأَيْتَنِي هَكَذَا فَلَا تُسَلِّمْ عَلِيَّ فَإِنِّي لَا أَرُدُّ عَلَيْكَ» وَأَبُو بَكْرٍ هَذَا هُوَ ابْنُ عُمَرَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنَ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَهُ عَبْدُ الْحَقِّ وَلَا بَأْسَ بِهِ، وَوَقَعَ مُصَرَّحًا بِاسْمِهِ وَنَسَبِهِ هَذَا فِي مُسْنَدِ السِّرَاجِ.

وَرَوَى ابْنُ مَاجَهْ عَنْ جَابِرٍ «أَنَّ رَجُلًا مَرَّ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ: إذَا
...ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহর নাম নেয়নি।" এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ফযীলত বা পূর্ণতা অস্বীকার করা। আর বিশুদ্ধতর মত হলো এটি মুস্তাহাব, যদিও কিতাবে একে সুন্নাত বলা হয়েছে।


 

মহান আল্লাহর নামে এবং ইসলাম ধর্মের ওপর যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আর বলা হয়েছে উত্তম হলো: আউযুবিল্লাহ পড়ার পর বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলা। 'আল-মুজতাবা' গ্রন্থে উভয়টিকে একত্র করার কথা বলা হয়েছে। 'আল-মুহিত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: যদি কেউ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বা 'আলহামদুলিল্লাহ' অথবা 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, তবে সে সুন্নাত আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে। আর এটি এই ভিত্তির ওপর যে, 'বিসমিল্লাহ' শব্দটি আমরা যা উল্লেখ করেছি তার চেয়েও ব্যাপক।

আবু দাউদের শব্দ হলো: "যে ব্যক্তির ওজু নেই তার সালাত নেই, আর যে ব্যক্তি ওজুর শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করেনি তার ওজু নেই।" হাদিসটি সনদ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্বল বলা হয়েছে। তবে আমাদের নিকট বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভরযোগ্যতার পর তা 'ইরসাল' এর মতো যা কোনো ক্ষতি করে না। ইবনে মাজাহ এটি কাসীর ইবনে যায়িদের হাদিস থেকে, তিনি রবীহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি সাঈদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবু সাঈদ (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ওজুর শুরুতে আল্লাহর নাম নেয়নি তার ওজু নেই।" হাদিসটির ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়েছে যে রবীহ সুপরিচিত নন। তবে আবু যুরআহ থেকে এর বিপরীতে বর্ণিত হয়েছে যে: রবীহ একজন শায়খ। ইবনে আম্মার বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য। বাযযার বলেছেন: তাঁর থেকে ফুলাইহ ইবনে সুলাইমান, আব্দুল আযীয আদ-দারওয়ারদী, কাসীর ইবনে যায়িদ এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। আসরাম বলেন: আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে ওজুতে বিসমিল্লাহ বলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: এ বিষয়ে কাসীর ইবনে যায়িদের হাদিসটিই সবচেয়ে ভালো। তবে এ বিষয়ে কোনো সাব্যস্ত বা অকাট্য হাদিস আমার জানা নেই। আমি আশা করি তার ওজু যথেষ্ট হবে; কারণ এমন কোনো হাদিস নেই যার ভিত্তিতে আমি (বাধ্যতামূলক হওয়ার) কোনো বিধান দিতে পারি। (সমাপ্ত)

(লেখকের বক্তব্য: "আর বিশুদ্ধতর মত হলো এটি মুস্তাহাব" ইত্যাদি) হতে পারে এর ভিত্তি হাদিসসমূহের দুর্বলতা, আবার মুহাজির ইবনে কুনফুযের হাদিসটিও এর ভিত্তি হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসলাম যখন তিনি ওজু করছিলেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম কিন্তু তিনি আমার উত্তর দিলেন না। যখন তিনি ওজু শেষ করলেন তখন বললেন: 'তোমার সালামের উত্তর দিতে আমাকে কেবল এই বিষয়টিই বাধা দিয়েছিল যে, আমি ওজু অবস্থায় ছিলাম না'।" এটি আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ এটি মুহাম্মদ ইবনে সাবিত আল-আবদী এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নাফে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের সাথে কোনো প্রয়োজনে ইবনে আব্বাসের কাছে গিয়েছিলেন। যখন তিনি প্রয়োজন শেষ করলেন, তখন তাঁর বর্ণনার অংশ ছিল যে, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনার কোনো এক গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তিনি মল অথবা মূত্র ত্যাগ করে বের হয়েছিলেন। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁকে সালাম দিলে তিনি উত্তর দিলেন না। অতঃপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে দেয়ালে আঘাত করলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন, তারপর পুনরায় আঘাত করলেন এবং তাঁর দুই বাহু কনুই পর্যন্ত মাসাহ করলেন এবং তাঁর হাতের তালু (মাসাহ করলেন), অতঃপর বললেন: 'তোমার উত্তর দিতে আমাকে কেবল এই বিষয়টিই বাধা দিয়েছিল যে, আমি পবিত্র অবস্থায় ছিলাম না'।" আর বুখারী ও মুসলিম শরীফে রয়েছে যে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বি'রে জামাল এর দিক থেকে আসছিলেন। জনৈক ব্যক্তি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে সালাম দিলে তিনি উত্তর দিলেন না যতক্ষণ না তিনি একটি দেয়ালের দিকে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ও হাত মাসাহ করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সালামের উত্তর দিলেন।" বাযযার এই ঘটনাটি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-এর বংশধর আবু বকর নামক এক ব্যক্তির হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত রয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি কেবল এই আশঙ্কায় তোমার উত্তর দিয়েছি যে তুমি হয়তো বলবে যে, আমি তাঁকে সালাম দিলাম অথচ তিনি উত্তর দিলেন না। অতএব তুমি যখন আমাকে এই অবস্থায় দেখবে তখন আমাকে সালাম দিও না, কারণ আমি তোমার উত্তর দেব না।" এই আবু বকর হলেন ইবনে উমর ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব। আব্দুল হক এটি বলেছেন এবং এতে কোনো দোষ নেই। সিরাজ-এর মুসনাদ গ্রন্থে তাঁর নাম ও বংশপরিচয় স্পষ্টভাবে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে মাজাহ জাবির (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তিনি প্রস্রাব করছিলেন। লোকটি তাঁকে সালাম দিলে তিনি বললেন: যখন..."
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

رَأَيْتَنِي عَلَى هَذِهِ الْحَالَةِ إلَخْ» وَلِيُنْظَرْ فِي التَّوْفِيقِ بَيْنَ هَذِهِ وَكَيْفَ كَانَ فَهِيَ مُتَظَافِرَةٌ عَلَى عَدَمِ ذِكْرِهِ صلى الله عليه وسلم اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى غَيْرِ طَهَارَةٍ، وَمُقْتَضَاهُ انْتِفَاؤُهُ فِي أَوَّلِ الْوُضُوءِ الْكَائِنِ عَنْ حَدَثٍ، وَمَا أُعِلَّ بِهِ غَيْرُ قَادِحٍ لِلْمُتَأَمِّلِ فَهِيَ مُعَارِضَةٌ لِخَبَرِ التَّسْمِيَةِ بَعْدَ الْقَوْلِ بِحُسْنِهِ بِنَاءً عَلَى أَنَّ كَثْرَةَ طُرُقِ الضَّعِيفِ تُرَقِّيهِ إلَى ذَلِكَ وَهُوَ أَوْجُهُ الْقَوْلَيْنِ عَلَى مَا سَنُبَيِّنُهُ فِي غَيْرِ مَوْضِعٍ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى، بَلْ بَعْضُهَا بِخُصُوصِهِ حَسَنٌ لِمَنْ تَأَمَّلَ كَلَامَ أَهْلِ الشَّأْنِ عَلَيْهَا فَيُخْرِجُهُ مِنْ السُّنَّةِ كَمَا أَخْرَجَهُ عَنْ الْإِيجَابِ الَّذِي هُوَ ظَاهِرُهُ، وَكَذَا عَدَمُ نَقْلِهَا فِي حِكَايَةِ عَلِيٍّ وَعُثْمَانَ يَدُلُّ عَلَى مَا قُلْنَا.

وَالْجَوَابُ أَنَّ الضَّعْفَ مُنْتَفٍ لِمَا قُلْنَا، وَالْمُعَارَضَةُ غَيْرُ مُتَحَقِّقَةٍ؛ لِأَنَّ كَرَاهَةَ ذِكْرِ اللَّهِ لَا يَكُونُ مِنْ مُتَمِّمَاتِ الْوُضُوءِ لَا يَسْتَلْزِمُ كَرَاهَةَ مَا جُعِلَ شَرْعًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ تَعَالَى تَكْمِيلًا لَهُ بَعْدَ ثُبُوتِ جَعْلِهِ كَذَلِكَ بِالْحَدِيثِ الْحَسَنِ، فَذَلِكَ الذِّكْرُ ضَرُورِيٌّ لِلْوُضُوءِ الْكَامِلِ شَرْعًا فَلَا تَعَارُضَ لِلِاخْتِلَافِ، وَعَدَمُ نَقْلِهَا فِي حِكَايَتَيْهِمَا إمَّا؛ لِأَنَّهُمَا إنَّمَا حَكَيَا الْأَفْعَالَ الَّتِي هِيَ الْوُضُوءُ وَالتَّسْمِيَةُ لَيْسَتْ مِنْ نَفْسِهِ بَلْ ذِكْرٌ يَفْتَتِحُ هُوَ بِهَا، وَصِدْقُ هَذَا التَّرْكِيبِ يُفِيدُ خُرُوجَهَا عَنْ مُسَمَّاهُ، وَإِمَّا لِعَدَمِ نَقْلِ الرُّوَاةِ عَنْهُمَا، وَإِنْ قَالَاهَا؛ إذْ قَدْ يَنْقُلُ الرَّاوِي بَعْضَ الْحَدِيثِ اشْتِغَالًا بِالْمُهِمِّ بِنَاءً عَلَى اشْتِهَارِ الِافْتِتَاحِ بِالتَّسْمِيَةِ بَيْنَ السَّلَفِ فِي كُلِّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ، كَمَا رَوَى أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ «كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لَمْ يُبْدَأْ فِيهِ بِالْحَمْدُ لِلَّهِ فَهُوَ أَقْطَعُ» وَفِي رِوَايَةٍ «أَجْذَمُ» وَفِي رِوَايَةٍ «لَا يُبْدَأُ فِيهِ بِبَسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ» رَوَاهَا ابْنُ حِبَّانَ مِنْ طَرِيقِينَ وَحَسَّنَهُ ابْنُ الصَّلَاحِ وَإِنْ كَانَ فِيهِ قُرَّةٌ.

وَبِالْجُمْلَةِ عَدَمُ النَّقْلِ لَا يَنْفِي الْوُجُودَ فَكَيْفَ بَعْدَ الثُّبُوتِ بِوَجْهٍ آخَرَ، أَلَا يَرَى أَنَّهُمْ لَمْ يَنْقُلُوا مِنْ حِكَايَتِهِمَا التَّخْلِيلَ، وَلَا شُبْهَةَ فِي اعْتِقَادِي أَنَّهُ مِنْ فِعْلِهِ صلى الله عليه وسلم وَكَذَا لَمْ يَنْقُلُوا السِّوَاكَ وَهُوَ عِنْدَ أَصْحَابِنَا مِنْ سُنَنِ الْوُضُوءِ، وَبَعْضُ مَنْ حَكَى لَمْ يَحْكِ غَسْلَ الْيَدَيْنِ أَوَّلًا وَلَمْ يَقْدَحْ ذَلِكَ فِي ثُبُوتِهَا إذَا ثَبَتَ بِطُرُقٍ.

بَقِيَ أَنْ يُقَالَ فَإِذَا سَلِمَ خَبَرُ التَّسْمِيَةِ عَنْ الْمُعَارِضِ مَعَ حُجِّيَّتِهِ فَمَا مُوجِبُ الْعُدُولِ بِهِ إلَى نَفْيِ الْكَمَالِ وَتَرْكِ ظَاهِرِهِ مِنْ الْوُجُوبِ؟ فَإِنْ قُلْنَا: إنَّهُ حَدِيثُ «إذَا تَطَهَّرَ أَحَدُكُمْ فَذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَيْهِ فَإِنَّهُ يَطْهُرُ جَسَدُهُ كُلُّهُ فَإِنْ لَمْ يَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى طَهُورِهِ لَمْ يَطْهُرْ إلَّا مَا مَرَّ عَلَيْهِ الْمَاءُ» فَهُوَ حَدِيثٌ ضَعِيفٌ، إنَّمَا يَرْوِيهِ عَنْ الْأَعْمَشِ يَحْيَى بْنِ هَاشِمٍ وَهُوَ مَتْرُوكٌ.

وَإِنْ قُلْنَا إنَّهُ حَدِيثُ الْمُسِيءِ صَلَاتَهُ فَإِنَّ فِي بَعْضِ طُرُقِهِ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَهُ «إذَا قُمْتَ إلَى الصَّلَاةِ فَتَوَضَّأْ كَمَا أَمَرَكَ اللَّهُ» وَفِي لَفْظٍ «إنَّهَا لَا تَتِمُّ صَلَاةُ أَحَدِكُمْ حَتَّى يُسْبِغَ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ تَعَالَى فَيَغْسِلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ إلَى الْمِرْفَقَيْنِ، وَيَمْسَحَ رَأْسَهُ وَرِجْلَيْهِ إلَى الْكَعْبَيْنِ، ثُمَّ يُكَبِّرَ اللَّهَ تَعَالَى وَيَحْمَدَهُ» الْحَدِيثُ حَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ، وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ تَسْمِيَةً فِي مَقَامِ التَّعْلِيمِ، فَقَدْ أَعَلَّهُ ابْنُ الْقَطَّانِ بِأَنَّ يَحْيَى بْنَ عَلِيِّ بْنِ خَلَّادٍ لَا يُعْرَفُ لَهُ حَالٌ وَهُوَ مِنْ رُوَاتِهِ، فَأَدَّى النَّظَرُ إلَى وُجُوبِ التَّسْمِيَةِ فِي الْوُضُوءِ، غَيْرَ أَنَّ صِحَّتَهُ لَا تَتَوَقَّفُ عَلَيْهَا؛ لِأَنَّ الرُّكْنَ إنَّمَا يَثْبُتُ بِالْقَاطِعِ، وَبِهَذَا يَنْدَفِعُ مَا قِيلَ الْمُرَادُ بِهِ نَفْيُ الْفَضِيلَةِ، وَإِلَّا يَلْزَمُ نَسْخُ آيَةِ الْوُضُوءِ بِهِ: يَعْنِي الزِّيَادَةَ عَلَيْهَا فَإِنَّهُ إنَّمَا يَلْزَمُ بِتَقْدِيرِ الِافْتِرَاضِ لَا الْوُجُوبِ.

وَمَا قِيلَ إنَّهُ لَا مَدْخَلَ لِلْوُجُوبِ فِي الْوُضُوءِ؛ لِأَنَّهُ شَرْطٌ تَابِعٌ، فَلَوْ قُلْنَا بِالْوُجُوبِ فِيهِ الْمُسَاوِي التَّبَعِ الْأَصْلِ غَيْرُ لَازِمٍ إذْ اشْتِرَاكُهُمَا بِثُبُوتِ الْوَاجِبِ فِيهِمَا لَا يَقْتَضِيهِ لِثُبُوتِ عَدَمِ الْمُسَاوَاةِ بِوَجْهٍ آخَرَ نَحْوَ إنَّهُ لَا يَلْزَمُ بِالنَّذْرِ، بِخِلَافِ الصَّلَاةِ مَعَ أَنَّهُ لَا مَانِعَ مِنْ الْحُكْمِ بِأَنَّ وَاجِبَهُ أَحَطُّ رُتْبَةً مِنْ وَاجِبِ الصَّلَاةِ كَفَرْضِهِ بِالنِّسْبَةِ إلَى فَرْضِهَا.

فَإِنْ قِيلَ: يَرُدُّ عَلَيْهِ مَا قَالُوهُ مِنْ أَنَّ الْأَدِلَّةَ السَّمْعِيَّةَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَقْسَامٍ.

الرَّابِعُ مِنْهَا مَا هُوَ ظَنِّيُّ الثُّبُوتِ وَالدَّلَالَةِ وَأَعْطَوْا حُكْمَهُ إفَادَةَ السُّنِّيَّةِ وَالِاسْتِحْبَابِ وَجَعَلُوا مِنْهُ خَبَرَ التَّسْمِيَةِ، وَصَرَّحَ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

“তুমি আমাকে এই অবস্থায় দেখেছ ইত্যাদি।” এবং এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়টি লক্ষ্য করা উচিত; যেভাবে আর যেরূপেই হোক না কেন, এই বর্ণনাগুলো অপবিত্র অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আল্লাহর নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে একে অপরকে শক্তিশালী করে। এর দাবি হলো, অপবিত্রতা থেকে ওজু শুরু করার সময়ও বিসমিল্লাহ না থাকা। আর এর বিপরীতে যে ত্রুটির কথা বলা হয়েছে তা চিন্তাশীলদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এই বর্ণনাগুলো 'তাসমিয়াহ' বা বিসমিল্লাহ পাঠের হাদিসের পরিপন্থী, যদিও সেই হাদিসকে হাসান বলা হয় এই ভিত্তিতে যে, দুর্বল হাদিসের আধিক্য একে হাসানের পর্যায়ে উন্নীত করে। আর এটিই দুই মতের মধ্যে অধিক অগ্রগণ্য, যা ইনশাআল্লাহ আমরা অন্য স্থানে বর্ণনা করব। বরং এ সংক্রান্ত কিছু বিশেষ হাদিস সেসব বিশেষজ্ঞের নিকট হাসান যারা এর ওপর সুচিন্তিত অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ফলে এটি সুন্নাত হওয়া থেকে খারিজ হয়ে যাবে, যেভাবে তা ওয়াজিব হওয়া থেকে খারিজ হয়েছে (যা এর বাহ্যিক অর্থ ছিল)। অনুরূপভাবে আলী ও উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুমার ওজুর বর্ণনায় তাসমিয়াহর উল্লেখ না থাকা আমাদের বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ দেয়।

এর উত্তর হলো, আমরা যা বলেছি তার ভিত্তিতে দুর্বলতা অপসারিত হয়েছে এবং এখানে কোনো বৈপরীত্যও সাব্যস্ত হয় না। কারণ অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর জিকির করা অপছন্দনীয় হওয়া ওজুর পূর্ণতাদানকারী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। হাসান হাদিস দ্বারা যখন ওজুর পরিপূরক হিসেবে আল্লাহর জিকির সাব্যস্ত হয়ে যায়, তখন সেই সাব্যস্ত জিকির অপছন্দনীয় হওয়ার আবশ্যকতা থাকে না। সুতরাং শরিয়ত অনুযায়ী ওজু পূর্ণ করার জন্য ওই জিকির বা তাসমিয়াহ আবশ্যক, তাই এখানে প্রেক্ষিতের পার্থক্যের কারণে কোনো বৈপরীত্য নেই। আর ওই দুই সাহাবীর বর্ণনায় তাসমিয়াহ না থাকার কারণ হলো— হয় তারা শুধু ওজুর কাজগুলো বর্ণনা করেছেন, আর তাসমিয়াহ ওজুর মূল কাজের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং ওজু শুরু করার একটি জিকির মাত্র। এই বর্ণনাভঙ্গি তাসমিয়াহকে ওজুর সংজ্ঞার বাইরে রাখাকে সমর্থন করে। অথবা বর্ণনাকারীগণ তাদের থেকে এটি বর্ণনা করেননি যদিও তারা তা পাঠ করেছিলেন। কারণ বর্ণনাকারী অনেক সময় অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনায় ব্যস্ত হয়ে হাদিসের কিছু অংশ বাদ দিয়ে দেন; যেহেতু সালাফদের নিকট প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠের বিষয়টি সুপ্রসিদ্ধ ছিল। যেমন আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন: “প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)।” এক বর্ণনায় এসেছে 'অসম্পূর্ণ'। ইবনে হিব্বান দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন: “যা বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দিয়ে শুরু করা হয় না।” ইবনে সালাহ একে হাসান বলেছেন, যদিও এতে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে।

সারকথা হলো, বর্ণনা না থাকা অস্তিত্ব না থাকাকে প্রমাণ করে না; বিশেষত অন্যভাবে যখন তা সাব্যস্ত হয়েছে। আপনি কি দেখেন না যে, তারা তাদের বর্ণনায় ওজুর মধ্যে খিলাল করার কথা উল্লেখ করেননি? অথচ আমার বিশ্বাসে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল ছিল। অনুরূপভাবে তারা মেসওয়াক করার কথাও বর্ণনা করেননি, অথচ আমাদের অনুসারীদের নিকট তা ওজুর সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আবার কেউ কেউ ওজুর শুরুতে দুই হাত ধোয়ার কথা বর্ণনা করেননি, কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে সাব্যস্ত হওয়ার কারণে তা প্রমাণিত হওয়াতে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।

এখন প্রশ্ন থাকে যে, যদি তাসমিয়াহর হাদিসটি বৈপরীত্য থেকে মুক্ত থাকে এবং তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়, তবে একে ওজুর পূর্ণতা না হওয়ার অর্থে কেন নেওয়া হলো এবং ওয়াজিব হওয়ার বাহ্যিক অর্থ কেন ত্যাগ করা হলো? আমরা যদি বলি যে সেই হাদিসটি হলো: “তোমাদের কেউ যখন ওজু করে এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে, তখন তার পুরো শরীর পবিত্র হয়ে যায়; আর যদি ওজুতে আল্লাহর নাম না নেয়, তবে পানির স্পর্শ যতটুকু লেগেছে ততটুকু ছাড়া বাকি শরীর পবিত্র হয় না।” তবে এটি একটি দুর্বল হাদিস, যা আমাশ থেকে ইয়াহইয়া ইবনে হাশিম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি পরিত্যক্ত।

আর যদি আমরা নামাজে ভুলকারী ব্যক্তির হাদিসের কথা বলি, তবে তার কোনো কোনো সূত্রে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেছিলেন: “যখন তুমি নামাজের জন্য দাঁড়াবে, তখন ওজু করো যেভাবে আল্লাহ তোমাকে আদেশ করেছেন।” অন্য শব্দে এসেছে: “তোমাদের কারো নামাজ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে ওজু পূর্ণ করবে যেভাবে আল্লাহ তাআলা তাকে আদেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ সে তার মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করবে এবং মাথা ও টাখনু পর্যন্ত দুই পা মাসাহ করবে। এরপর সে আল্লাহর তাকবির বলবে এবং তাঁর প্রশংসা করবে।” ইমাম তিরমিজি একে হাসান বলেছেন। এখানে শিক্ষার ক্ষেত্রে নবীজি তাসমিয়াহর কথা উল্লেখ করেননি। ইবনুল কাত্তান একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এই মর্মে যে, এর একজন বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে খাল্লাদ-এর অবস্থা অজ্ঞাত। এমতাবস্থায় গভীর পর্যবেক্ষণে ওজুতে তাসমিয়াহ ওয়াজিব হওয়ার কথা আসলেও ওজুর শুদ্ধতা এর ওপর নির্ভর করে না। কারণ কোনো রুকন কেবল অকাট্য দলিল দ্বারাই সাব্যস্ত হয়। এর মাধ্যমে সেই আপত্তিরও জবাব হয়ে যায় যেখানে বলা হয়েছে— এর দ্বারা ফজিলত না থাকা উদ্দেশ্য, অন্যথায় এর দ্বারা ওজুর আয়াতের ওপর অতিরিক্ত বিধান (নাসখ) আবশ্যক হয়ে পড়বে। কারণ আয়াতের ওপর অতিরিক্ত বিধান তখনই আবশ্যক হয় যখন একে ফরজ ধরা হয়, ওয়াজিব ধরলে নয়।

ওজুতে ওয়াজিবের কোনো স্থান নেই বলে যে কথা বলা হয়েছে তার উত্তর হলো: ওজু একটি অনুগামী শর্ত। ওজুতে যদি নামাজের সমান ওয়াজিব সাব্যস্ত করি, তবে অনুগামী বিষয়টি মূলের সমান হয়ে যাওয়া আবশ্যক হয় না। কারণ উভয়ের মধ্যে ওয়াজিব সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব থাকলেও অন্য দিক থেকে সমতা না থাকা প্রমাণিত হতে পারে। যেমন মানত করার মাধ্যমে ওজু আবশ্যক হয় না, কিন্তু নামাজ হয়। তদুপরি নামাজের ওয়াজিবের তুলনায় ওজুর ওয়াজিবের মর্যাদা নিচু স্তরের— এমন হুকুম দিতে কোনো বাধা নেই, যেমন নামাজের ফরজের তুলনায় ওজুর ফরজ।

যদি বলা হয়: তাদের এই বক্তব্যের ওপর ওই নিয়মটি আপতিত হয় যে, শরয়ি দলিলসমূহ চার প্রকার।

চতুর্থ প্রকার হলো যা সাব্যস্ত হওয়া এবং অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে ধারণা প্রসূত। তারা এর বিধান দিয়েছেন সুন্নাত ও মুস্তাহাব হওয়া এবং তারা তাসমিয়াহর হাদিসকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর স্পষ্টভাবে বলেছেন
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَيُسَمِّي قَبْلَ الِاسْتِنْجَاءِ وَبَعْدَهُ هُوَ الصَّحِيحُ.

 

قَالَ (وَالسِّوَاكُ) لِأَنَّهُ عليه الصلاة والسلام كَانَ يُوَاظِبُ عَلَيْهِ وَعِنْدَ فَقْدِهِ


 

بَعْضُهُمْ بِأَنَّ وُجُوبَ الْفَاتِحَةِ لَيْسَ مِنْ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «لَا صَلَاةَ إلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ» بَلْ بِالْمُوَاظَبَةِ مِنْ غَيْرِ تَرْكٍ لِذَلِكَ، فَالْجَوَابُ إنْ أَرَادُوا بِظَنِّيِّ الدَّلَالَةِ مُشْتَرَكَهَا سَلَّمْنَا الْأَصْلَ الْمَذْكُورَ وَمَنَعْنَا كَوْنَ الْخَبَرَيْنِ مِنْ ذَلِكَ، بَلْ نَفْيُ الْكَمَالِ فِيهِمَا احْتِمَالٌ يُقَابِلُهُ الظُّهُورُ فَإِنَّ النَّفْيَ مُتَسَلِّطٌ عَلَى الْوُضُوءِ وَالصَّلَاةِ فِيهِمَا.

فَإِنْ قُلْنَا: النَّفْيُ لَا يَتَسَلَّطُ عَلَى نَفْسِ الْجِنْسِ بَلْ يَنْصَرِفُ إلَى حُكْمِهِ وَجَبَ اعْتِبَارُهُ فِي الْحُكْمِ الَّذِي هُوَ الصِّحَّةُ فَإِنَّهُ الْمَجَازُ الْأَقْرَبُ إلَى الْحَقِيقَةِ، وَإِنْ قُلْنَا يَتَسَلَّطُ هُنَا؛ لِأَنَّهَا حَقَائِقُ شَرْعِيَّةٌ فَيَنْتَفِي شَرْعًا لِعَدَمِ الِاعْتِبَارِ شَرْعًا، وَإِنْ وُجِدَتْ حِسًّا فَأَظْهَرُ فِي الْمُرَادِ، فَنَفْيُ الْكَمَالِ عَلَى كِلَا الْوَجْهَيْنِ احْتِمَالٌ هُوَ خِلَافُ الظَّاهِرِ لَا يُصَارُ إلَيْهِ إلَّا بِدَلِيلٍ، وَإِنْ أَرَادُوا بِهِ مَا فِيهِ احْتِمَالٌ، وَلَوْ مَرْجُوحًا مَنَعْنَا صِحَّةَ الْأَصْلِ الْمَذْكُورِ وَأَسْنَدْنَاهُ بِأَنَّ الظَّنَّ وَاجِبُ الِاتِّبَاعِ فِي الْأَدِلَّةِ الشَّرْعِيَّةِ الِاجْتِهَادِيَّةِ، وَهُوَ مُتَعَلِّقٌ بِالِاحْتِمَالِ الرَّاجِحِ فَيَجِبُ اعْتِبَارُ مُتَعَلَّقِهِ، وَعَلَى هَذَا مَشَى الْمُصَنِّفُ رحمه الله فِي خَبَرِ الْفَاتِحَةِ حَيْثُ قَالَ بَعْدَ ذِكْرِهِ مِنْ طَرَفِ الشَّافِعِيِّ رحمه الله: وَلَنَا قَوْله تَعَالَى {فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} وَالزِّيَادَةُ عَلَيْهِ بِخَبَرِ الْوَاحِدِ لَا تَجُوزُ لَكِنَّهُ يُوجِبُ الْعَمَلَ فَعَمَلنَا بِوُجُوبِهَا، وَهَذَا هُوَ الصَّوَابُ، وَاَللَّهُ سبحانه وتعالى أَعْلَمُ بِحَقِيقَةِ الْحَالِ.

[فَرْعٌ]

نَسِيَ التَّسْمِيَةَ فَذَكَرَهَا فِي خِلَالِ الْوُضُوءِ فَسَمَّى لَا يُحَصِّلُ السُّنَّةَ، بِخِلَافِ نَحْوِهِ فِي الْأَكْلِ.

كَذَا فِي الْغَايَةِ مُعَلَّلًا بِأَنَّ الْوُضُوءَ عَمَلٌ وَاحِدٌ بِخِلَافِ الْأَكْلِ، وَهُوَ إنَّمَا يَسْتَلْزِمُ فِي الْأَكْلِ تَحْصِيلَ السُّنَّةِ فِي الْبَاقِي لَا اسْتِدْرَاكَ مَا فَاتَ (قَوْلُهُ هُوَ الصَّحِيحُ) احْتِرَازٌ عَمَّا قِيلَ قَبْلَهُ فَقَطْ وَمَا قِيلَ بَعْدَهُ فَقَطْ؛ لِأَنَّ مَا قَبْلَهُ حَالَ الِانْكِشَافِ، وَالْأَصَحُّ قَبْلَهُ أَيْضًا لَا حَالَ الِانْكِشَافِ، وَلَا فِي مَحَلِّ النَّجَاسَةِ، وَمِنْ الثَّابِتِ عَنْهُ عليه الصلاة والسلام أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ عِنْدَ دُخُولِ الْخَلَاءِ «اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ» وَالْمُرَادُ الِاسْتِعَاذَةُ مِنْ ذُكْرَانِ الشَّيَاطِينِ وَإِنَاثِهِمْ.

 

(قَوْلُهُ وَالسِّوَاكُ) أَيْ الِاسْتِيَاكُ عِنْدَ الْمَضْمَضَةِ (لِأَنَّهُ عليه الصلاة والسلام كَانَ يُوَاظِبُ عَلَيْهِ) الْمَطْلُوبُ مُوَاظَبَتُهُ عِنْدَ الْوُضُوءِ، وَلَمْ أَعْلَمْ حَدِيثًا صَرِيحًا فِيهِ، فَفِي الصَّحِيحَيْنِ «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ إذَا قَامَ مِنْ اللَّيْلِ يَشُوصُ فَاهُ بِالسِّوَاكِ» وَفِي لَفْظٍ «إذَا قَامَ لِيَتَهَجَّدَ» وَفِي مُسْلِمٍ «كَانَ صلى الله عليه وسلم إذَا دَخَلَ بَيْتَهُ بَدَأَ بِالسِّوَاكِ» وَفِي أَبِي دَاوُد «كَانَ صلى الله عليه وسلم لَا يَسْتَيْقِظُ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ إلَّا تَسَوَّكَ قَبْلَ أَنْ يَتَوَضَّأَ» وَفِي الطَّبَرَانِيِّ «مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ لِشَيْءٍ مِنْ الصَّلَوَاتِ حَتَّى يَسْتَاكَ» وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى مُحَافَظَتِهِ عَلَى السِّوَاكِ اسْتِيَاكُهُ بِسِوَاكِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عِنْدَ وَفَاتِهِ فِي الصَّحِيحَيْنِ، وَفِيهِمَا قَالَ صلى الله عليه وسلم «لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسِّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلَاةٍ أَوْ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ» وَعِنْدَ النَّسَائِيّ فِي رِوَايَةٍ «عِنْدَ كُلِّ وُضُوءٍ» وَرَوَاهَا
এবং ইস্তিঞ্জা (শৌচকার্য) করার পূর্বে এবং পরে বিসমিল্লাহ বলবে; এটিই বিশুদ্ধ অভিমত।

 

তিনি বলেছেন (এবং মিসওয়াক করা সুন্নাত), কারণ নবী (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) সর্বদা এটি পালন করতেন এবং এর অবর্তমানে...


 

তাদের কেউ কেউ বলেন যে, ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব হওয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই বাণী: "সূরা ফাতিহা ছাড়া কোনো সালাত নেই" থেকে প্রমাণিত নয়; বরং তা নিয়মিত আদায় করা এবং কখনও বর্জন না করার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং উত্তর হলো, তারা যদি দলিলের অস্পষ্টতা দ্বারা এর সাধারণ অর্থ উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন, তবে আমরা উল্লিখিত মূলনীতি মেনে নিচ্ছি কিন্তু এই দুটি হাদিসকে সেই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া অস্বীকার করছি। বরং এ দুটিতে পূর্ণতার অভাব বুঝানো একটি সম্ভাবনা মাত্র যার বিপরীতে স্পষ্টতা বিদ্যমান। কারণ নিষেধের হুকুম এখানে অজু এবং সালাতের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে।

আমরা যদি বলি যে, নিষেধ সরাসরি বিষয়টির মূল সত্তার ওপর আপতিত হয় না, বরং তার হুকুমের দিকে ধাবিত হয়, তবে এখানে হুকুম হিসেবে "বিশুদ্ধতা" (সিহহাত) ধরা ওয়াজিব। কেননা এটিই রূপক অর্থের ক্ষেত্রে মূল সত্য বা হাকিকতের নিকটবর্তী। আর আমরা যদি বলি যে, এখানে এটি সরাসরি আপতিত হয়েছে; কারণ এগুলি শরয়ি পরিভাষা, ফলে শরিয়ত কর্তৃক স্বীকৃত না হওয়ার কারণে এটি শরয়িভাবে অবিদ্যমান গণ্য হবে, যদিও বাহ্যিকভাবে তা বিদ্যমান থাকে। তবে এটিই উদ্দিষ্ট অর্থের ক্ষেত্রে অধিক স্পষ্ট। সুতরাং উভয় অবস্থায় "পূর্ণতার অভাব" ধরা একটি সম্ভাবনা মাত্র যা বাহ্যিক অর্থের পরিপন্থী, আর দলিল ছাড়া সেদিকে ধাবিত হওয়া উচিত নয়। আর তারা যদি তা দ্বারা এমন কিছু উদ্দেশ্য নেন যাতে সম্ভাবনা থাকে, যদিও তা দুর্বল হয়, তবে আমরা উল্লিখিত মূলনীতির বিশুদ্ধতা অস্বীকার করছি। আমরা এর স্বপক্ষে দলিল দিচ্ছি যে, ইজতিহাদী শরয়ি দলিলসমূহের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার অনুসরণ করা ওয়াজিব, যা প্রবল সম্ভাবনার সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং সেই সংশ্লিষ্ট বিষয়টিকে আমলযোগ্য ধরা ওয়াজিব। এই পন্থায় গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সূরা ফাতিহার হাদিসের ক্ষেত্রে চলেছেন, যেখানে তিনি ইমাম শাফেয়ি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর পক্ষ থেকে এটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: আমাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী "কুরআন থেকে যা সহজসাধ্য তা পাঠ করো।" আর একক বর্ণনা (খবর-ই-ওয়াহিদ) দ্বারা এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করা জায়েজ নয়, তবে তা আমল করাকে ওয়াজিব করে। তাই আমরা এর ওয়াজিব হওয়ার ওপর আমল করেছি। আর এটিই সঠিক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।

[শাখা মাসআলা]

কেউ বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেল এবং ওজুর মাঝখানে তার মনে পড়ল, তখন বিসমিল্লাহ বললে তা সুন্নাত আদায়কারী হবে না; খাবারের বিষয়টির বিপরীত।

"আল-গায়া" গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, ওজু একটি অখণ্ড আমল, কিন্তু খাওয়া তেমন নয়। আর খাবারের ক্ষেত্রে এটি অবশিষ্ট অংশের জন্য সুন্নাত অর্জনকে আবশ্যক করে, যা অতিক্রান্ত হয়ে গেছে তার ক্ষতিপূরণ নয়। (তাঁর উক্তি: এটিই বিশুদ্ধ অভিমত) - এটি কেবল এর পূর্বে যা বলা হয়েছে এবং এর পরে যা বলা হয়েছে তা থেকে সতর্কতা স্বরূপ। কারণ সতোর উন্মোচিত হওয়ার সময় পূর্বেরটি আর বিশুদ্ধতম মত হলো সতোর উন্মোচিত হওয়ার আগেও নয় এবং অপবিত্রতার স্থানেও নয়। তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি শৌচাগারে প্রবেশের সময় বলতেন: "হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর ও নারী শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া।

 

(তাঁর উক্তি: এবং মিসওয়াক করা) অর্থাৎ কুলি করার সময় মিসওয়াক করা। (কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা এটি পালন করতেন) ওজুর সময় নিয়মিত করা কাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে আমি কোনো স্পষ্ট হাদিস জানি না। তবে সহিহাইন-এ রয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রাতে জাগ্রত হতেন, তখন মেসওয়াক দিয়ে মুখ মাজতেন।" অন্য শব্দে রয়েছে: "যখন তাহাজ্জুদ পড়ার জন্য উঠতেন।" মুসলিমে রয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ঘরে প্রবেশ করতেন, তখন মেসওয়াক দিয়ে শুরু করতেন।" আবু দাউদে আছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাত বা দিনের যখনই ঘুম থেকে জাগ্রত হতেন, ওজু করার আগে মেসওয়াক করতেন।" তাবারানিতে রয়েছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মেসওয়াক না করে কোনো সালাতের জন্য ঘর থেকে বের হতেন না।" মেসওয়াকের প্রতি তাঁর গুরুত্বের প্রমাণ হলো সহিহাইন-এ বর্ণিত তাঁর ইন্তেকালের সময় আব্দুর রহমান বিন আবু বকর-এর মেসওয়াক দিয়ে মেসওয়াক করা। সেই কিতাবদ্বয়ে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমি যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টসাধ্য মনে না করতাম, তবে তাদের প্রতি প্রত্যেক সালাতের সাথে বা প্রত্যেক সালাতের সময় মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" নাসায়ি-এর এক রেওয়ায়েতে রয়েছে: "প্রত্যেক ওজুর সময়।" এবং তিনি তা বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৫)
يُعَالِجُ بِالْأُصْبُعِ لِأَنَّهُ عليه الصلاة والسلام فَعَلَ كَذَلِكَ، وَالْأَصَحُّ أَنَّهُ مُسْتَحَبُّ.

 

قَالَ (وَالْمَضْمَضَةُ وَالِاسْتِنْشَاقُ) لِأَنَّهُ عليه الصلاة والسلام فَعَلَهُمَا عَلَى الْمُوَاظَبَةِ. وَكَيْفِيَّتُهُ أَنْ يُمَضْمِضَ ثَلَاثًا يَأْخُذُ لِكُلِّ مَرَّةٍ مَاءً جَدِيدًا ثُمَّ يَسْتَنْشِقَ كَذَلِكَ


 

ابْنُ خُزَيْمَةَ فِي صَحِيحِهِ وَصَحَّحَهَا الْحَاكِمُ وَذَكَرَهَا الْبُخَارِيُّ تَعْلِيقًا، وَلَا دَلَالَةَ فِي شَيْءٍ عَلَى كَوْنِهِ فِي الْوُضُوءِ إلَّا هَذِهِ، وَغَايَةُ مَا يُفِيدُ النَّدْبُ، وَهُوَ لَا يَسْتَلْزِمُ سِوَى الِاسْتِحْبَابِ، إذْ يَكْفِيهِ إذَا نَدَبَ لِشَيْءٍ أَنْ يَتَعَبَّدَ بِهِ أَحْيَانَا.

وَلَا سُنَّةَ دُونَ الْمُوَاظَبَةِ وَهِيَ لَيْسَتْ بِلَازِمَةٍ مِنْ ذَلِكَ، وَاسْتِدْلَالُهُ فِي الْغَايَةِ بِمَا رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم «صَلَاةٌ بِسِوَاكٍ أَفْضَلُ مِنْ سَبْعِينَ صَلَاةً بِغَيْرِ سِوَاكٍ» يُفِيدُ أَنَّ الْمُرَادَ بِكُلِّ مَا ذَكَرْنَا مِمَّا ظَاهِرُهُ النَّدْبُ عِنْدَ نَفْسِ الصَّلَاةِ كَوْنُهُ عِنْدَ الْوُضُوءِ فَالْحَقُّ أَنَّهُ مِنْ مُسْتَحَبَّاتِ الْوُضُوءِ، وَيُوَافِقُهُ مَا فِي الْهِدَايَةِ الْغَزْنَوِيَّةِ حَيْثُ قَالَ: وَيُسْتَحَبُّ فِي خَمْسَةِ مَوَاضِعَ: اصْفِرَارُ السِّنِّ، وَتَغَيُّرُ الرَّائِحَةِ، وَالْقِيَامُ مِنْ النَّوْمِ، وَالْقِيَامُ إلَى الصَّلَاةِ، وَعِنْدَ الْوُضُوءِ وَالِاسْتِقْرَاءُ يُفِيدُ غَيْرَهَا، وَفِيمَا ذَكَرْنَا أَوَّلَ مَا يَدْخُلُ الْبَيْتَ.

وَيُسْتَحَبُّ فِيهِ ثَلَاثٌ بِثَلَاثِ مِيَاهٍ وَأَنْ يَكُونَ السِّوَاكُ لَيِّنًا فِي غِلَظِ الْأُصْبُعِ وَطُولِ شِبْرٍ مِنْ الْأَشْجَارِ الْمُرَّةِ، وَيَسْتَاكُ عَرْضًا لَا طُولًا.

(قَوْلُهُ يُعَالِجُ بِالْأُصْبُعِ) قَالَ فِي الْمُحِيطِ: قَالَ عَلِيٌّ رضي الله عنه: التَّشْوِيصُ بِالْمُسَبَّحَةِ وَالْإِبْهَامِ سِوَاكٌ.

وَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ وَغَيْرُهُ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ يَرْفَعُهُ «يُجْزِي مِنْ السِّوَاكِ الْأَصَابِعُ» وَتَكَلَّمَ فِيهِ.

وَعَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها «قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يَذْهَبُ فُوهُ يَسْتَاكُ؟ قَالَ نَعَمْ، قُلْتُ: كَيْفَ يَصْنَعُ؟ قَالَ: يُدْخِلُ أُصْبُعَهُ فِي فِيهِ» رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ

 

(قَوْلُهُ وَالْمَضْمَضَةُ وَالِاسْتِنْشَاقُ) وَالسُّنَّةُ فِيهِمَا الْمُبَالَغَةُ لِغَيْرِ الصَّائِمِ وَهُوَ فِي الْمَضْمَضَةِ إلَى الْغَرْغَرَةِ، وَفِي الِاسْتِنْشَاقِ إلَى مَا اشْتَدَّ مِنْ الْأَنْفِ، وَلَوْ شَرِبَ الْمَاءَ عَبًّا أَجْزَأَ عَنْ الْمَضْمَضَةِ، وَهُوَ يُفِيدُ أَنَّ مَجَّهُ لَيْسَ مِنْ حَقِيقَتِهَا، وَقِيلَ لَا يُجْزِئُهُ، وَمَصًّا لَا يُجْزِئُهُ.

(قَوْلُهُ: لِأَنَّهُ عليه الصلاة والسلام فَعَلَهُمَا عَلَى الْمُوَاظَبَةِ) جَمِيعُ مَنْ حَكَى وُضُوءَهُ عليه الصلاة والسلام فِعْلًا وَقَوْلًا اثْنَانِ وَعِشْرُونَ نَفَرًا، وَلَا بَأْسَ بِإِفَادَةِ حَصْرِهِمْ تَكْمِيلًا وَإِسْعَافًا: الْأَوَّلُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ فِعْلًا، وَفِيهِ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا بِثَلَاثِ غَرْفَاتٍ، وَفِيهِ فَمَسَحَ رَأْسَهُ فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَاحِدَةً، رَوَاهُ السِّتَّةُ عَنْهُ، وَالْمُرَادُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ، وَوَهَمَ ابْنُ عُيَيْنَةَ فِي جَعْلِهِ إيَّاهُ ابْنَ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ رَاوِيَ الْأَذَانِ. وَفِي قَوْلِهِ مَسَحَ مَرَّتَيْنِ إلَّا أَنْ يَكُونَ رَوَاهُ بِمَعْنَى أَقْبَلَ وَأَدْبَرَ. الثَّانِي عُثْمَانُ فِعْلًا فِي الصَّحِيحَيْنِ، وَلَمْ يَذْكُرْ فِي الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ عَدَدَ غَرْفَاتٍ، وَلَا فِي الْمَسْحِ إقْبَالًا وَلَا غَيْرَهُ. الثَّالِثُ ابْنُ عَبَّاسٍ فِعْلًا فِي الْبُخَارِيِّ وَفِيهِ «أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ فَتَمَضْمَضَ بِهَا وَاسْتَنْشَقَ» وَفِيهِ «ثُمَّ أَخَذَ
আঙুল দিয়ে (দাঁত) মাজবে, কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরূপ করেছেন। আর বিশুদ্ধতম মত হলো, এটি মুস্তাহাব।

 

তিনি (গ্রন্থকার) বলেছেন: (আর কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া), কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়মিতভাবে এ দুটো সম্পাদন করেছেন। এর পদ্ধতি হলো—তিনবার কুলি করবে, প্রতিবার নতুন পানি গ্রহণ করবে এবং একইভাবে নাকে পানি দেবে।


 

ইবনে খুজাইমা তার সহীহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, আল-হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম বুখারী এটি 'তালিক' হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ওযুর ক্ষেত্রে এর অস্তিত্বের ব্যাপারে এটি ছাড়া অন্য কোনো কিছুর সরাসরি প্রমাণ নেই। এর দ্বারা সর্বোচ্চ যা প্রমাণিত হয় তা হলো 'নাদব' বা সুপারিশযোগ্যতা, যা কেবল মুস্তাহাব হওয়াই দাবি করে। কেননা কোনো জিনিসের প্রতি যখন উৎসাহ প্রদান করা হয়, তখন মাঝেমধ্যে তার মাধ্যমে ইবাদত করাই যথেষ্ট।

নিরবচ্ছিন্নতা (মুওয়াযাবাত) ছাড়া কোনো কাজ সুন্নাত হয় না, আর এখান থেকে তা (নিরবচ্ছিন্নতা) আবশ্যক হয় না। 'আল-গায়াহ' গ্রন্থে ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস—'মিসওয়াকসহ এক সালাত মিসওয়াকবিহীন সত্তর সালাতের চেয়ে উত্তম'—এর মাধ্যমে যে দলিল প্রদান করা হয়েছে, তা এটাই বুঝায় যে, আমরা যা কিছু উল্লেখ করেছি যার বাহ্যিক অর্থ সালাতের সময় 'নাদব' (সুপারিশযোগ্য) হওয়া, তা মূলত ওযুর সময়কার বিষয়কেই নির্দেশ করে। সুতরাং সঠিক কথা হলো—এটি ওযুর মুস্তাহাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি 'হিদায়া গাযনাভিয়্যাহ'র বক্তব্যের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ যেখানে বলা হয়েছে: পাঁচটি স্থানে মিসওয়াক করা মুস্তাহাব—দাঁত হলুদ হয়ে গেলে, মুখের দুর্গন্ধ পরিবর্তিত হলে, ঘুম থেকে উঠলে, সালাতে দাঁড়ানোর সময় এবং ওযুর সময়। অনুসন্ধানে আরও অন্যান্য ক্ষেত্র পাওয়া যায়, যেমন আমাদের উল্লিখিত—ঘরে প্রথম প্রবেশের সময়।

এতে (মিসওয়াকে) তিনবার তিনবার পানি ব্যবহার করা মুস্তাহাব। মিসওয়াকটি যেন আঙুলের মতো মোটা এবং এক বিঘত পরিমাণ দীর্ঘ হয় এবং তিক্ত স্বাদের গাছ থেকে সংগৃহীত হয়। আর দাঁত আড়াআড়িভাবে মাজবে, লম্বালম্বি নয়।

(তাঁর বক্তব্য: আঙুল দিয়ে মাজবে) 'আল-মুহিত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা মিসওয়াক হিসেবে গণ্য।

বায়হাকী ও অন্যান্যরা আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, 'মিসওয়াকের পরিবর্তে আঙুল যথেষ্ট হবে'; তবে এ হাদীসটি নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: 'আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তির দাঁত পড়ে গেছে সে কি মিসওয়াক করবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: সে কীভাবে করবে? তিনি বললেন: সে তার আঙুল মুখের ভেতরে প্রবেশ করাবে।' এটি তাবারানী বর্ণনা করেছেন।

 

(তাঁর বক্তব্য: কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া) রোযাদার ব্যতীত অন্যদের জন্য এই উভয় কাজে মুবালাগাহ বা গভীরতার সাথে করা সুন্নাত। কুলি করার ক্ষেত্রে এর সীমা হলো কণ্ঠনালী পর্যন্ত পানি পৌঁছানো, আর নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে নাকের নরম হাড়ের উপরিভাগ পর্যন্ত। যদি কেউ একবারে পানি পান করে নেয়, তবে তা কুলি করার জন্য যথেষ্ট হবে। এটি নির্দেশ করে যে, পানি মুখে নিয়ে বাইরে নিক্ষেপ করা এর হাকীকত বা অপরিহার্য অংশ নয়। কেউ কেউ বলেছেন, এতে যথেষ্ট হবে না। আর চুষে পানি পান করা যথেষ্ট নয়।

(তাঁর বক্তব্য: কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিতভাবে এ দুটো সম্পাদন করেছেন) যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওযুর পদ্ধতি কথা ও কাজের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তাঁদের সংখ্যা মোট বাইশ জন। পূর্ণাঙ্গতা ও উপকারের উদ্দেশ্যে তাঁদের তালিকা উল্লেখ করতে কোনো বাধা নেই: প্রথম জন হলেন আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (কাজের মাধ্যমে বর্ণনা), এতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তিন অঞ্জলি পানি দিয়ে তিনবার কুলি করেছেন, নাকে পানি দিয়েছেন ও নাক ঝেড়েছেন। এতে আরও রয়েছে যে, তিনি তাঁর মাথা মাসাহ করেছেন—একবার সামনে থেকে পেছনে এবং পেছন থেকে সামনে হাত ঘুরিয়েছেন। 'সিত্তাহ' (ছয়টি হাদীস গ্রন্থ) তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছে। এখানে আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ ইবনে আসিম উদ্দিষ্ট; ইবনে উয়াইনাহ ভুলবশত তাঁকে আযানের বর্ণনাকারী ইবনে যায়েদ ইবনে আবদি রাব্বিহি মনে করেছেন। তাঁর বর্ণনায় 'দুইবার মাসাহ করেছেন' বাক্যটি রয়েছে, তবে সম্ভবত তিনি 'সামনে ও পেছনে নেওয়া' বুঝাতে এটি ব্যবহার করেছেন। দ্বিতীয় জন হলেন উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) (কাজের মাধ্যমে বর্ণনা), যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ বর্ণিত। তবে তিনি কুলি ও নাকের পানির ক্ষেত্রে অঞ্জলির সংখ্যা উল্লেখ করেননি এবং মাথা মাসাহ করার ক্ষেত্রে সামনে থেকে শুরু করা বা অন্য কিছুর কথা উল্লেখ করেননি। তৃতীয় জন হলেন ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) (কাজের মাধ্যমে বর্ণনা), যা বুখারীতে রয়েছে। এতে বলা হয়েছে: 'তিনি এক অঞ্জলি পানি নিলেন এবং তা দিয়ে কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন।' এতে আরও আছে: 'অতঃপর তিনি নিলেন'
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৬)
هُوَ الْمَحْكِيُّ مِنْ وُضُوءٍ صلى الله عليه وسلم


 

غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ فَغَسَلَ بِهَا يَدَهُ الْيُمْنَى ثُمَّ أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ فَغَسَلَ بِهَا يَدَهُ الْيُسْرَى ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ». الرَّابِعُ الْمُغِيرَةُ رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي كِتَابِ اللِّبَاسِ. الْخَامِسُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ فِعْلًا رَوَاهُ أَصْحَابُ السُّنَنِ الْأَرْبَعَةُ، وَفِيهِ «فَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّةً وَاحِدَةً»، وَفِي رِوَايَةِ أَبِي دَاوُد فِي الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ قَالَ بِمَاءٍ وَاحِدٍ. السَّادِسُ الْمِقْدَامُ بْنُ مَعْدِي كَرِبَ قَوْلًا دُونَ تَنْصِيصٍ عَلَى عَدَدٍ فِي شَيْءٍ رَوَاهُ أَبُو دَاوُد. السَّابِعُ أَبُو مَالِكٍ الْأَشْعَرِيُّ فِعْلًا كَاَلَّذِي قَبْلَهُ، رَوَاهُ عَبْدُ الرَّزَّاقِ وَالطَّبَرَانِيُّ وَأَحْمَدُ وَابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَإِسْحَاقُ بْنُ رَاهْوَيْهِ. الثَّامِنُ أَبُو بَكْرَةَ قَوْلًا كَاَلَّذِي قَبْلَهُ، رَوَاهُ الْبَزَّارُ التَّاسِعُ أَبُو هُرَيْرَةَ قَوْلًا كَاَلَّذِي قَبْلَهُ، رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُو يَعْلَى، وَزَادَ " أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم نَضَحَ تَحْتَ ثَوْبِهِ ثُمَّ قَالَ: هَذَا إسْبَاغُ الْوُضُوءِ. الْعَاشِرُ وَائِلُ بْنُ حُجْرٌ، رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ عَنْهُ قَوْلًا، وَفِيهِ «ثُمَّ مَسَحَ عَلَى رَأْسِهِ ثَلَاثًا وَظَاهِرِ أُذُنَيْهِ ثَلَاثًا وَظَاهِرِ رَقَبَتِهِ»، وَأَظُنُّهُ قَالَ وَظَاهِرِ لِحْيَتِهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ قَدَمَهُ الْيُمْنَى وَفَصَلَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ، أَوْ قَالَ خَلَّلَ بَيْنَ أَصَابِعِهِ وَرَفَعَ الْمَاءَ حَتَّى جَاوَزَ الْكَعْبَ ثُمَّ رَفَعَهُ إلَى السَّاقِ، ثُمَّ فَعَلَ بِالْيُسْرَى مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ أَخَذَ حَفْنَةً مِنْ مَاءٍ فَمَلَأَ بِهَا يَدَهُ ثُمَّ وَضَعَهَا عَلَى رَأْسِهِ حَتَّى انْحَدَرَ الْمَاءُ مِنْ جَوَانِبِهِ وَقَالَ: هَذَا إتْمَامُ الْوُضُوءِ، وَلَمْ أَرَهُ يُنَشِّفُ بِثَوْبٍ ". قَالَ الْإِمَامُ: يَرْوِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ حُجْرٌ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ، قَالَ الْبُخَارِيُّ فِيهِ نَظَرٌ.

الْحَادِيَ عَشَرَ جُبَيْرُ بْنُ نُفَيْرٍ، رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ دُونَ تَنْصِيصٍ عَلَى عَدَدٍ فِي الرَّأْسِ وَغَرْفَاتِ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ. الثَّانِي عَشَرَ أَبُو أُمَامَةَ فَرَوَاهُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ. الثَّالِثَ عَشَرَ أَنَسٌ أَخْرَجَ الدَّارَقُطْنِيُّ عَنْ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ أَنَّهُ تَوَضَّأَ ثُمَّ قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَنَّ هَذَا وُضُوءُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دُونَ ذَلِكَ التَّنْصِيصِ.

الرَّابِعَ عَشَرَ أَبُو أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيُّ، رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ وَإِسْحَاقُ بْنُ رَاهْوَيْهِ قَالَ: «كَانَ صلى الله عليه وسلم إذَا تَوَضَّأَ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَأَدْخَلَ أَصَابِعَهُ مِنْ تَحْتِ لِحْيَتِهِ فَخَلَّلَهَا». الْخَامِسَ عَشَرَ كَعْبُ بْنُ عَمْرٍو الْيَمَانِيُّ، رَوَاهُ أَبُو دَاوُد عَنْهُ قَالَ: «دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَتَوَضَّأُ، وَالْمَاءُ يَسِيلُ مِنْ وَجْهِهِ وَلِحْيَتِهِ عَلَى صَدْرِهِ، فَرَأَيْتُهُ يَفْصِلُ بَيْنَ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ» اهـ. وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ، وَفَصَّلَ مَعْنَى التَّفْصِيلِ وَسَنَذْكُرُهُ عَنْ قَرِيبٍ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى. السَّادِسَ عَشَرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أَوْفَى قَوْلًا، رَوَاهُ أَبُو يَعْلَى دُونَ ذَلِكَ التَّنْصِيصِ. السَّابِعَ عَشَرَ الْبَرَاءُ بْنُ عَازِبٍ فِعْلًا، رَوَاهُ الْإِمَامُ أَحْمَدُ كَذَلِكَ. الثَّامِنَ عَشَرَ أَبُو كَاهِلٍ قَيْسُ بْنُ عَائِذٍ قَوْلًا، وَفِيهِ «فَغَسَلَ يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَدَهُ ثَلَاثًا وَتَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَلَمْ يُوَقِّتْ وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ وَلَمْ يُوَقِّتْ»، وَلَعَلَّ قَوْلَهُ ذَلِكَ هُوَ الْوَجْهُ لِلْقَائِلِينَ بِعَدَمِ سُنِّيَّةِ التَّثْلِيثِ فِي غَسْلِ الرِّجْلِ، وَقَدْ ضُعِّفَ بِالْهَيْثَمِ بْنِ جَمَّازٍ، وَحَدِيثُ الرَّبِيعِ بَعْدَهُ صَرِيحٌ فِي تَثْلِيثِ الرِّجْلَيْنِ. التَّاسِعَةَ عَشَرَ الرُّبَيِّعُ بِنْتُ مُعَوِّذٍ فَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد عَنْهَا قَوْلًا قَالَتْ فِيهِ: فَغَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا وَوَضَّأَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ مَرَّةً وَوَضَّأَ يَدَهُ ثَلَاثًا، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ مَرَّتَيْنِ يَبْدَأُ بِمُؤَخَّرِ رَأْسِهِ ثُمَّ بِمُقَدَّمِهِ، وَفِيهِ: وَضَّأَ رِجْلَيْهِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا. الْعِشْرُونَ عَائِشَةُ رضي الله عنها فِعْلًا، رَوَاهُ النَّسَائِيّ فِي سُنَنِهِ الْكُبْرَى، وَفِيهِ: مَسَحَتْ رَأْسَهَا مَسْحَةً وَاحِدَةً إلَى مُؤَخَّرِهِ ثُمَّ مَرَّتْ بِيَدَيْهَا بِأُذُنَيْهَا، وَلَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنْهَا ذِكْرُ التَّسْمِيَةِ إلَّا حَدِيثٌ ضَعِيفٌ أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ عَنْ حَارِثَةَ بْنِ أَبِي الرِّجَالِ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إذَا مَسَّ طَهُورًا سَمَّى اللَّهَ تَعَالَى».

الْحَادِي وَالْعِشْرُونَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ فِعْلًا، رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ، وَفِيهِ: مَسَحَ بِرَأْسِهِ مُقْبِلًا وَمُدْبِرًا وَمَسَّ أُذُنَيْهِ الثَّانِي وَالْعِشْرُونَ عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ وَسَنَذْكُرُهَا قَرِيبًا، وَقَدْ أَشَرْنَا فِيهَا إلَى الْأَطْرَافِ الْمَذْكُورَةِ فِي كَيْفِيَّةِ الْمَسْحِ وَغَرْفَاتِ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ؛ لِأَنَّهُمَا مَوْضِعَا خِلَافٍ فَتَتَيَسَّرُ الْإِحَالَةُ عِنْدَ الْكَلَامِ عَلَيْهِمَا، وَكُلُّهَا نَصَّ عَلَى الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ فَلَا شَكَّ فِي ثُبُوتِ الْمُوَاظَبَةِ عَلَيْهِمَا (قَوْلُهُ هُوَ الْمَحْكِيُّ) تَقَدَّمَ مِنْ حِكَايَةِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ
এটিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অজু থেকে বর্ণিত।


 

এক কোষ পানি দিয়ে তাঁর ডান হাত ধুলেন, এরপর এক কোষ পানি নিয়ে তাঁর বাম হাত ধুলেন, তারপর তাঁর মাথা মাসাহ করলেন। চতুর্থ বর্ণনাকারী আল-মুগিরা, ইমাম বুখারি 'কিতাবুল লিবাস'-এ এটি বর্ণনা করেছেন। পঞ্চম বর্ণনাকারী আলী ইবনে আবি তালিব (আমল হিসেবে), এটি চার সুনান গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন এবং এতে আছে: "তিনি একবার মাথা মাসাহ করেছেন।" আবু দাউদের বর্ণনায় কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, তিনি তা এক কোষ পানিতে করেছেন। ষষ্ঠ বর্ণনাকারী মিকদাম ইবনে মাদি কারিব (উক্তি হিসেবে), কোনো কিছুর সংখ্যার উল্লেখ ছাড়াই আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। সপ্তম বর্ণনাকারী আবু মালিক আল-আশআরি (আমল হিসেবে), পূর্বের বর্ণনার মতোই। এটি আব্দুর রাজ্জাক, তাবারানি, আহমদ, ইবনে আবি শাইবা এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াই বর্ণনা করেছেন। অষ্টম বর্ণনাকারী আবু বাকরা (উক্তি হিসেবে), পূর্বের বর্ণনার মতোই। এটি আল-বাযযার বর্ণনা করেছেন। নবম বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (উক্তি হিসেবে), পূর্বের বর্ণনার মতোই। এটি আহমদ এবং আবু ইয়ালা বর্ণনা করেছেন এবং এতে অতিরিক্ত রয়েছে যে, "তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পোশাকের নিচে পানি ছিটিয়েছেন এবং এরপর বলেছেন: এটিই অজুর পূর্ণতা।" দশম বর্ণনাকারী ওয়াইল ইবনে হুজর, তিরমিযি তাঁর থেকে উক্তি হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। এতে আছে: "এরপর তিনি তিনবার তাঁর মাথা মাসাহ করলেন, তাঁর কানের বহিরাংশ তিনবার এবং তাঁর ঘাড়ের বহিরাংশ তিনবার।" এবং আমি মনে করি তিনি বলেছিলেন, তাঁর দাড়ি তিনবার (খিলাল করেছেন)। "এরপর তিনি তাঁর ডান পা ধুলেন এবং আঙুলগুলোর মাঝে ফাঁক করলেন" অথবা তিনি বলেছিলেন, "আঙুলগুলো খিলাল করলেন এবং পানি এমনভাবে উপরে তুললেন যে তা টাখনু অতিক্রম করল, এরপর তা নলার দিকে তুললেন। তারপর বাম পায়ের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করলেন। এরপর তিনি এক আঁজলা পানি নিয়ে তাঁর হাত পূর্ণ করলেন এবং তা তাঁর মাথার ওপর রাখলেন যাতে পানি তাঁর চারপাশ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে। তিনি বললেন: এটিই অজুর পূর্ণতা, এবং আমি তাঁকে কাপড় দিয়ে মুছতে দেখিনি।" ইমাম বলেন: এটি মুহাম্মদ ইবনে হুজর ইবনে আব্দুল জাব্বার বর্ণনা করেছেন। বুখারি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, "তার বর্ণনায় সমস্যা আছে।"

একাদশ বর্ণনাকারী জুবাইর ইবনে নুফাইর, ইবনে হিব্বান মাথা মাসাহর সংখ্যা এবং কুলি ও নাকে পানির কোষের সংখ্যার উল্লেখ ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন। দ্বাদশ বর্ণনাকারী আবু উমামা, আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। ত্রয়োদশ বর্ণনাকারী আনাস। দারা কুতনি হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি অজু করলেন এবং বললেন: আমাকে আনাস ইবনে মালিক বর্ণনা করেছেন যে, এটিই আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অজু, নির্দিষ্ট সংখ্যার উল্লেখ ছাড়াই।

চতুর্দশ বর্ণনাকারী আবু আইয়ুব আল-আনসারি, তাবারানি এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াই এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন অজু করতেন তখন কুলি করতেন, নাকে পানি দিতেন এবং দাড়ির নিচ দিয়ে তাঁর আঙুলগুলো প্রবেশ করিয়ে তা খিলাল করতেন।" পঞ্চদশ বর্ণনাকারী কাব ইবনে আমর আল-ইয়ামানি, আবু দাউদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আমি নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি অজু করছিলেন এবং পানি তাঁর চেহারা ও দাড়ি থেকে গড়িয়ে তাঁর বুকের ওপর পড়ছিল। আমি তাঁকে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার মাঝে পার্থক্য করতে দেখলাম।" তাবারানিও এটি বর্ণনা করেছেন এবং পার্থক্যের অর্থ বিস্তারিত করেছেন, যা আমরা শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ তাআলা উল্লেখ করব। ষোড়শ বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (উক্তি হিসেবে), আবু ইয়ালা নির্দিষ্ট সংখ্যার উল্লেখ ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন। সপ্তদশ বর্ণনাকারী বারা ইবনে আযিব (আমল হিসেবে), ইমাম আহমদ একইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। অষ্টাদশ বর্ণনাকারী আবু কাহিল কাইস ইবনে আইয (উক্তি হিসেবে)। এতে রয়েছে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর হাত তিনবার ধুলেন, কুলি করলেন ও নাকে তিনবার তিনবার পানি দিলেন, তাঁর দুই হাত তিনবার ধুলেন, মাথা মাসাহ করলেন এবং কোনো সময় বা সংখ্যা নির্ধারণ করেননি, এবং তাঁর দুই পা ধুলেন কিন্তু কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করেননি।" সম্ভবত তাঁর এই উক্তিটিই ঐ সকল আলেমদের অভিমত যারা পায়ের ক্ষেত্রে তিনবার ধোয়া সুন্নত নয় বলে মনে করেন। তবে এটি হাইসাম ইবনে জাম্মায-এর কারণে দুর্বল সাব্যস্ত হয়েছে। আর পরবর্তী রুবায়্যি'-এর হাদিসটি দুই পা তিনবার ধোয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্ট। উনবিংশ বর্ণনাকারী রুবায়্যি' বিনতে মুআউউইয। আবু দাউদ তাঁর থেকে উক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন: "তিনি তাঁর দুই কবজি তিনবার ধুলেন, তাঁর চেহারা তিনবার ধুলেন, একবার কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং তাঁর হাত তিনবার ধুলেন। আর তাঁর মাথা দুইবার মাসাহ করলেন, তাঁর মাথার পিছন থেকে শুরু করলেন এরপর সামনের দিক দিয়ে। এবং এতে আরও রয়েছে: তিনি তাঁর দুই পা তিন তিন বার ধুলেন।" বিংশ বর্ণনাকারী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আমল হিসেবে। নাসাঈ তাঁর 'সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে: "তিনি তাঁর মাথা একবার পিছন দিক পর্যন্ত মাসাহ করলেন, এরপর তাঁর দুই হাত কানের ওপর দিয়ে বয়ে নিলেন।" আর এগুলোর কোনোটিতেই বিসমিল্লাহর উল্লেখ নেই, কেবল একটি দুর্বল হাদিস ছাড়া যা দারা কুতনি হারিসা ইবনে আবি রিজাল থেকে, তিনি আমরাহ থেকে, তিনি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই ওজুর পানি স্পর্শ করতেন, তখনই আল্লাহর নাম নিতেন।"

একবিংশ বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনে উনাইস (আমল হিসেবে), তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছে: "তিনি তাঁর মাথা সামনের দিক থেকে পিছনের দিকে মাসাহ করেছেন এবং কানের ওপর হাত বুলিয়েছেন।" দ্বাবিংশ বর্ণনাকারী আমর ইবনে শুআইব, তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে। আমরা অচিরেই এটি উল্লেখ করব। মাসাহ করার পদ্ধতি এবং কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার কোষের সংখ্যার ক্ষেত্রে আমরা এই বর্ণনার প্রান্তিক অংশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি; কারণ এ দুটি মতপার্থক্যের বিষয়। তাই এ বিষয়ে আলোচনার সময় এর দিকে রেফারেন্স দেওয়া সহজ হবে। আর এগুলোর প্রত্যেকটিতেই কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার ওপর স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে, সুতরাং এ দুটি আমলের ওপর নিয়মিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই। (তাঁর বক্তব্য: এটিই বর্ণিত) আব্দুল্লাহ ইবনে জাইদের বর্ণনা থেকে এটি আগে অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৭)
(وَمَسْحُ الْأُذُنَيْنِ) وَهُوَ سُنَّةٌ بِمَاءِ الرَّأْسِ عِنْدَنَا خِلَافًا لِلشَّافِعِيِّ لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام «الْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ»


 

فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا بِثَلَاثِ غَرْفَاتٍ، وَمَعْلُومٌ أَنَّ الِاسْتِنْثَارَ لَيْسَ أَخْذَ مَاءٍ لِيَكُونَ لَهُ غَرْفَاتٍ، وَالْمُرَادُ بِثَلَاثِ غَرْفَاتٍ مِثْلُ الْمُرَادِ بِقَوْلِهِ ثَلَاثًا، فَكَمَا أَنَّ الْمُرَادَ كُلٌّ مِنْ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ ثَلَاثًا فَكَذَا كُلٌّ مِنْ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ بِثَلَاثِ غَرْفَاتٍ. وَقَدْ جَاءَ مُصَرَّحًا فِي حَدِيثِ الطَّبَرَانِيِّ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْحَاقَ التُّسْتَرِيُّ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ، حَدَّثَنِي طَلْحَةُ بْنُ مُشَرِّفٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ كَعْبِ بْنِ عَمْرٍو الْيَامِيِّ «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ فَمَضْمَضَ ثَلَاثًا وَاسْتَنْشَقَ ثَلَاثًا، يَأْخُذُ لِكُلِّ وَاحِدَةٍ مَاءً جَدِيدًا، وَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، فَلَمَّا مَسَحَ رَأْسَهُ قَالَ هَكَذَا، وَأَوْمَأَ بِيَدَيْهِ مِنْ مُقَدَّمِ رَأْسِهِ حَتَّى بَلَغَ بِهِمَا إلَى أَسْفَلِ عُنُقِهِ مِنْ قِبَلِ قَفَاهُ» وَقَدَّمْنَا رِوَايَةَ أَبِي دَاوُد مُخْتَصَرًا وَسَكَتَ عَلَيْهِ هُوَ وَالْمُنْذِرِيُّ بَعْدَهُ. وَمَا نُقِلَ عَنْ ابْنِ مَعِينٍ أَنَّهُ سُئِلَ: أَلِكَعْبٍ صُحْبَةٌ؟ فَقَالَ: الْمُحَدِّثُونَ يَقُولُونَ إنَّهُ رَآهُ صلى الله عليه وسلم، وَأَهْلُ بَيْتِ طَلْحَةَ يَقُولُونَ لَيْسَتْ لَهُ صُحْبَةٌ غَيْرُ قَادِحٍ، فَإِذَا اعْتَرَفَ أَهْلُ الشَّأْنِ بِأَنَّ لَهُ صُحْبَةً تَمَّ الْوَجْهُ، وَيَدُلُّ عَلَيْهِ مَا رَوَاهُ ابْنُ سَعْدٍ فِي الطَّبَقَاتِ: أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ مِقْسَمٍ الْبَرِّيِّ عَنْ لَيْثٍ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ الْيَامِيِّ عَنْ جَدِّهِ قَالَ «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُ هَكَذَا، وَوَصَفَ فَمَسَحَ مُقَدَّمَ رَأْسِهِ جَرَّ يَدَيْهِ إلَى قَفَاهُ»

وَمَا فِي حَدِيثِ عَلِيٍّ بِمَاءٍ وَاحِدٍ لَا يُعَارِضُ الصَّحِيحَ مِنْ حَدِيثِ ابْنِ زَيْدٍ وَكَعْبٍ، وَمَا فِي حَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ فَأَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ إلَى آخِرِ مَا تَقَدَّمَ يَجِبُ صَرْفُهُ إلَى أَنَّ الْمُرَادَ تَجْدِيدُ الْمَاءِ بِقَرِينَةِ قَوْلِهِ بَعْدَ ذَلِكَ: ثُمَّ أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ فَغَسَلَ بِهَا يَدَهُ الْيُمْنَى، ثُمَّ أَخَذَ غَرْفَةً مِنْ مَاءٍ فَغَسَلَ بِهَا يَدَهُ الْيُسْرَى، وَمَعْلُومٌ أَنَّ لِكُلٍّ مِنْ الْيَدَيْنِ ثَلَاثَ غَرْفَاتٍ لَا غَرْفَةٌ وَاحِدَةٌ، فَكَانَ الْمُرَادُ أَخَذَ مَاءً لِلْيُمْنَى ثُمَّ مَاءً لِلْيُسْرَى، إذْ لَيْسَ يَحْكِي الْفَرَائِضَ فَقَدْ حَكَى السُّنَنَ مِنْ الْمَضْمَضَةِ وَغَيْرِهَا، وَلَوْ كَانَ لَكَانَ الْمُرَادُ أَنَّ ذَلِكَ أَدْنَى مَا يُمْكِنُ إقَامَةُ الْمَضْمَضَةِ بِهِ، كَمَا أَنَّ ذَلِكَ أَدْنَى مَا يُقَامُ فَرْضُ الْيَدِ بِهِ؛ لِأَنَّ الْمَحْكِيَّ إنَّمَا هُوَ وُضُوءُهُ الَّذِي كَانَ عَلَيْهِ لِيَتَّبِعَهُ الْمَحْكِيُّ لَهُمْ، وَمَا رُوِيَ بِكَفٍّ وَاحِدٍ فَلِنَفْيِ كَوْنِهِ بِكَفَّيْنِ مَعًا أَوْ عَلَى التَّعَاقُبِ، كَمَا ذَهَبَ إلَيْهِ بَعْضُهُمْ مِنْ أَنَّ الْمَضْمَضَةَ بِالْيُمْنَى وَالِاسْتِنْشَاقَ بِالْيُسْرَى

 

(قَوْلُهُ وَمَسْحُ الْأُذُنَيْنِ) عَنْ الْحَلْوَانِيِّ وَشَيْخِ الْإِسْلَامِ: يُدْخِلُ الْخِنْصِرَ فِي أُذُنَيْهِ وَيُحَرِّكُهُمَا كَذَا فَعَلَ صلى الله عليه وسلم انْتَهَى.

وَاَلَّذِي فِي ابْنِ مَاجَهْ بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم مَسَحَ أُذُنَيْهِ فَأَدْخَلَهُمَا السَّبَّابَتَيْنِ، وَخَالَفَ إبْهَامَيْهِ إلَى ظَاهِرِ أُذُنَيْهِ فَمَسَحَ ظَاهِرَهُمَا وَبَاطِنَهُمَا» وَقَوْلُ مَنْ قَالَ يَعْزِلُ السَّبَّابَتَيْنِ فِي مَسْحِ الرَّأْسِ مِنْ مَشَايِخِنَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ السُّنَّةَ عِنْدَهُ إدْخَالُهُمَا وَهُوَ الْأَوْلَى (قَوْلُهُ خِلَافًا لَلشَّافِعِيِّ) قِيلَ يَتَعَلَّقُ بِالْمَجْمُوعِ مِنْ سُنَّةٍ بِمَاءِ الرَّأْسِ، وَلَا خِلَافَ فِي الْمَعْنَى لِأَنَّ تَعْلِيقَهُ بِمَاءِ الرَّأْسِ لَيْسَ إلَّا مِنْ حَيْثُ اتِّصَالُهُ بِسُنَّةٍ (قَوْلُهُ لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام: «الْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ») يَعْنِي فَلَا حَاجَةَ إلَى أَخْذِ مَاءٍ
(এবং কানদ্বয় মাসেহ করা) এটি আমাদের নিকট মাথার (জন্য ব্যবহৃত) পানি দ্বারা করা সুন্নাত, যা ইমাম শাফিঈর মতের পরিপন্থী। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: «কানদ্বয় মাথার অংশ»


 

অতঃপর তিনি কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং তিন আঁজলা পানি দ্বারা তিনবার নাক ঝাড়লেন। আর এটি সুপরিচিত যে, নাক ঝাড়া কোনো পানি গ্রহণ করা নয় যে তার জন্য পৃথক আঁজলার প্রয়োজন হবে। সুতরাং তিন আঁজলা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'তিনবার' বলার উদ্দেশ্যের অনুরূপ। অর্থাৎ কুলি ও নাকে পানি দেওয়া যেমন প্রতিটি তিনবার হওয়া উদ্দেশ্য, তেমনি কুলি ও নাকে পানি দেওয়া প্রতিটি তিন আঁজলা দ্বারা সম্পন্ন হওয়াও উদ্দেশ্য। তাবারানির হাদীসে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুসাইন বিন ইসহাক আল-তুস্তারি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শায়বান বিন ফাররুখ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু সালামাহ আল-কিন্দি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন লাইস বিন আবি সুলাইম, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন তালহা বিন মুসাররিফ তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা কাব বিন আমর আল-ইয়ামি হতে বর্ণনা করেন যে, «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওজু করলেন এবং তিনবার কুলি করলেন ও তিনবার নাকে পানি দিলেন, প্রতিটির জন্য তিনি নতুন পানি নিতেন। তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন। এরপর যখন তিনি তাঁর মাথা মাসেহ করলেন, তখন তিনি ইশারা করে দেখালেন 'এভাবে', এবং তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে মাথার সম্মুখভাগ হতে ইশারা শুরু করে তাঁর ঘাড়ের পিছন দিক দিয়ে নিচের অংশ পর্যন্ত উভয় হাত পৌঁছালেন»। আমরা ইতিপূর্বে আবু দাউদের বর্ণনাটি সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করেছি এবং তিনি ও তাঁর পরবর্তী আল-মুনযিরি এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। আর ইবনে মাঈন হতে যা বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কাব কি সাহাবী ছিলেন? তিনি উত্তরে বলেছিলেন: হাদীস বিশারদগণ বলেন যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছেন, কিন্তু তালহার পরিবারের লোকজন বলেন যে তাঁর সাহাবী হওয়া প্রশ্নাতীত নয়; এটি প্রমাণের জন্য ক্ষতিকর নয়। কেননা যখন এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ তাঁর সাহাবী হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন, তখন তা সাব্যস্ত হয়ে যায়। এর সপক্ষে ইবনে সাদ 'তাবাকাত' গ্রন্থে যা বর্ণনা করেছেন তা দলিল হিসেবে কাজ করে: আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন ইয়াজিদ বিন হারুন, তিনি উসমান বিন মিকসাম আল-বাররি হতে, তিনি লাইস হতে, তিনি তালহা বিন মুসাররিফ আল-ইয়ামি হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এভাবে মাসেহ করতে দেখেছি, অতঃপর তিনি বর্ণনা দিলেন যে, তিনি তাঁর মাথার সম্মুখভাগ মাসেহ করলেন এবং তাঁর হাত দুটি ঘাড়ের পিছন পর্যন্ত টেনে নিলেন»।

আর আলী (রা.)-এর হাদীসে 'একই পানি দ্বারা' যা বর্ণিত হয়েছে, তা ইবনে যায়েদ ও কাব (রা.)-এর সহীহ হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। আর ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদীসে 'তিনি এক আঁজলা পানি নিলেন'—এভাবে পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে, তার ব্যাখ্যা অবশ্যই পানি নতুন করে গ্রহণের দিকে নিতে হবে। কারণ এরপর তাঁর এই উক্তি একে সমর্থন করে: "অতঃপর তিনি এক আঁজলা পানি নিলেন এবং তা দ্বারা তাঁর ডান হাত ধৌত করলেন, এরপর তিনি আর এক আঁজলা পানি নিলেন এবং তা দ্বারা তাঁর বাম হাত ধৌত করলেন।" এটি সর্বজনবিদিত যে, দুই হাতের প্রত্যেকটির জন্য তিন আঁজলা পানি সুন্নাত, এক আঁজলা নয়। সুতরাং এর উদ্দেশ্য হলো ডান হাতের জন্য পানি গ্রহণ করা এবং এরপর বাম হাতের জন্য পৃথক পানি গ্রহণ করা। কেননা এখানে কেবল ফরজগুলো বর্ণিত হচ্ছে না, বরং তিনি কুলি করা ও অন্যান্য সুন্নাতসমূহও বর্ণনা করেছেন। আর যদি কেবল ফরজের বর্ণনাই উদ্দেশ্য হতো, তবে এর অর্থ হতো যে এটিই কুলি করার ন্যূনতম পর্যায়, যেমনটি হাতের ফরজের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম পর্যায়। কারণ এখানে মূলত তাঁর সেই ওজু বর্ণিত হচ্ছে যা তিনি নিজে করতেন যাতে অন্যরা তা অনুসরণ করতে পারে। আর 'এক হাতের তালু দ্বারা' যা বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত দুই হাত একত্রে ব্যবহার করা বা পর্যায়ক্রমিক ব্যবহারকে নাকচ করার জন্য। যেমনটি কেউ কেউ মনে করেন যে কুলি করা ডান হাত দিয়ে এবং নাকে পানি দেওয়া বাম হাত দিয়ে হবে।

 

(তাঁর উক্তি: এবং কানদ্বয় মাসেহ করা) আল-হালওয়ানি ও শায়খুল ইসলাম হতে বর্ণিত: তিনি তাঁর কনিষ্ঠ আঙুল দুটি কানের ছিদ্রে প্রবেশ করাতেন এবং সেগুলো নাড়াতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবেই আমল করেছেন। সমাপ্ত।

ইবনে মাজাহ-তে সহীহ সনদে ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, «নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কানদ্বয় মাসেহ করলেন এবং তাঁর দুই তর্জনী আঙুল কানের ছিদ্রে প্রবেশ করালেন, আর তাঁর দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা কানের বহির্ভাগ মাসেহ করলেন। এভাবে তিনি কানের ভিতর ও বাহির উভয় অংশ মাসেহ করলেন»। আমাদের মাশায়েখদের মধ্যে যারা বলেন যে মাথা মাসেহ করার সময় তর্জনী দুটি আলাদা রাখতে হবে, তাঁদের সেই বক্তব্য নির্দেশ করে যে তাঁদের নিকট সুন্নাত হলো তর্জনী প্রবেশ করানো এবং এটিই উত্তম। (তাঁর উক্তি: ইমাম শাফিঈর মতের পরিপন্থী) বলা হয়েছে যে, এটি মাথার পানি দ্বারা সুন্নাত হওয়ার পূর্ণ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে অর্থের দিক থেকে কোনো বিরোধ নেই, কারণ মাথার পানির সাথে এর সংশ্লিষ্টতা মূলত সুন্নাতের সাথে সংযুক্ত হওয়ার কারণেই। (তাঁর উক্তি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: «কানদ্বয় মাথার অংশ») অর্থাৎ, কান মাসেহের জন্য পৃথক নতুন পানি নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَالْمُرَادُ بَيَانُ الْحُكْمِ دُونَ الْخِلْقَةِ. قَالَ (وَتَخْلِيلُ اللِّحْيَةِ) لِأَنَّ النَّبِيَّ عليه الصلاة والسلام أَمَرَهُ جِبْرِيلُ عليه السلام بِذَلِكَ،


 

مُنْفَرِدٍ لَهُمَا، كَمَا لَا يُؤْخَذُ فِي السُّنَّةِ مَاءَانِ لِعُضْوٍ وَاحِدٍ فِي غَيْرِ التَّكْرَارِ.

قَالَ الْبَيْهَقِيُّ: أَشْهَرُ إسْنَادٍ لِلْحَدِيثِ هَذَا يَعْنِي رِوَايَةَ أَبِي دَاوُد وَالتِّرْمِذِيِّ وَابْنِ مَاجَهْ مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ سِنَانِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ رضي الله عنه قَالَ «تَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا وَيَدَيْهِ ثَلَاثًا، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ قَالَ: الْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ» ثُمَّ قَالَ الْبَيْهَقِيُّ: وَكَانَ حَمَّادُ يَشُكُّ فِي رَفْعِهِ فِي رِوَايَةِ قُتَيْبَةَ عَنْهُ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي أَمِنَ قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَوْ مِنْ قَوْلِ أَبِي أُمَامَةَ، وَكَانَ سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ يَرْوِيهِ عَنْ حَمَّادٍ وَيَقُولُ: هُوَ مِنْ قَوْلِ أَبِي أُمَامَةَ انْتَهَى. وَقَدْ ضُعِّفَ شَهْرٌ أَيْضًا. وَأُجِيب بِأَنَّهُ اُخْتُلِفَ فِيهِ عَلَى حَمَّادٍ، فَأَبُو الرَّبِيعِ رَفَعَهُ عَنْهُ وَمَنْ سَمِعَتْ عَلَى مَا عَلِمْت. وَاخْتَلَفَ عَلَى مُسَدَّدٍ عَنْ حَمَّادٍ فِي ذَلِكَ أَيْضًا، وَإِذَا رَفَعَ ثِقَةٌ حَدِيثًا وَوَقَّفَهُ آخَرُ أَوْ فَعَلَ ذَلِكَ شَخْصٌ وَاحِدٌ قُدِّمَ الرَّفْعُ؛ لِأَنَّهُ زِيَادَةٌ، وَالصَّحِيحُ فِي شَهْرٍ التَّوْثِيقُ وَثَّقَهُ أَبُو زُرْعَةَ وَأَحْمَدُ وَيَحْيَى وَالْعِجْلِيُّ وَيَعْقُوبُ بْنُ شَيْبَةَ وَسِنَانُ بْنُ رَبِيعَةَ، وَقَدْ تَوَهَّمَ فِي الْبَيْهَقِيّ التَّحَامُلَ بِسَبَبِ اقْتِصَارِهِ عَلَى حَدِيثِ أَبِي أُمَامَةَ وَالِاشْتِغَالُ بِالتَّكَلُّمِ فِيهِ

، وَفِي الْبَابِ حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ أَخْرَجَهُ ابْنُ مَاجَهْ عَنْ سُوَيْد بْنِ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «الْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ» وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ عَنْ أَبِي كَامِلٍ الْجَحْدَرِيِّ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ «الْأُذُنَانِ مِنْ الرَّأْسِ» وَهُمَا ثَابِتَانِ لِلِاتِّصَالِ وَثِقَةِ الرِّجَالِ، وَقَوْلُ الدَّارَقُطْنِيِّ فِي الثَّانِي إسْنَادُهُ وَهَمٌ إنَّمَا هُوَ مُرْسَلٌ مُحْتَجًّا بِمَا أَخْرَجَهُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلًا. قَالَ ابْنُ الْقَطَّانِ بَعْدَ حُكْمِهِ بِصِحَّتِهِ ثُمَّ نَقَلَ كَلَامَ الدَّارَقُطْنِيِّ: لَيْسَ بِقَدْحٍ فِيهِ، وَمَا يَمْنَعُ أَنْ يَكُونَ فِيهِ حَدِيثَانِ مُسْنَدٌ وَمُرْسَلٌ.

وَلَنَا أَحَادِيثُ أُخَرُ مِنْ فِعْلِهِ صلى الله عليه وسلم: مِنْهَا مَا أَخْرَجَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ وَابْنُ حِبَّانَ وَالْحَاكِمُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ: «أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِوُضُوءِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَهُ». وَفِيهِ: ثُمَّ غَرَفَ غَرْفَةً فَمَسَحَ بِهَا رَأْسَهُ وَأُذُنَيْهِ. وَبَوَّبَ عَلَيْهِ النَّسَائِيّ بَابَ مَسْحِ الْأُذُنَيْنِ مَعَ
এবং উদ্দেশ্য হলো বিধান বর্ণনা করা, শারীরিক গঠন বর্ণনা করা নয়। তিনি বলেছেন (এবং দাড়ি খিলাল করা), কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এ নির্দেশ প্রদান করেছেন।


 

তাদের উভয়ের জন্য স্বতন্ত্রভাবে, যেমন সুন্নাহ অনুসারে পুনরাবৃত্তি ছাড়া একটি অঙ্গের জন্য দুইবার পানি নেওয়া হয় না।

ইমাম বায়হাকী বলেছেন: এই হাদীসের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ সনদ হলো আবু দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনা, যা হাম্মাদ ইবনে যায়েদ হতে বর্ণিত, তিনি সিনান ইবনে রাবী'আহ হতে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব হতে, তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলী রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওযু করলেন, অতঃপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন, তাঁর উভয় হাত তিনবার ধৌত করলেন এবং তাঁর মাথা মাসাহ করলেন; তিনি বললেন: উভয় কান মাথার অংশ।" অতঃপর বায়হাকী বলেন: হাম্মাদ কুতাইবা বর্ণিত রেওয়ায়েতে এটি মারফূ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করতেন, তাই তিনি বলতেন: আমি জানি না এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা নাকি আবু উমামাহ-এর কথা। আর সুলাইমান ইবনে হারব হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করার সময় বলতেন: এটি আবু উমামাহ-এর বক্তব্য। সমাপ্ত। আর শাহর (ইবনে হাওশাব)-কেও দুর্বল বলা হয়েছে। এর জবাবে বলা হয়েছে যে, হাম্মাদ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ হয়েছে; আবু রাবী' একে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আপনি যা শুনেছেন তাও তেমনি। মুসাদ্দাদ যখন হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন তখন তাতেও মতভেদ হয়েছে। আর যখন কোনো নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) রাবী কোনো হাদীসকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং অন্য কেউ একে মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেন, অথবা একই ব্যক্তি যদি কখনও মারফূ এবং কখনও মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেন, তবে মারফূ বর্ণনাটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়; কারণ এটি একটি অতিরিক্ত তথ্য (যিয়াদাহ)। আর শাহর-এর ব্যাপারে সঠিক মত হলো তাঁকে নির্ভরযোগ্য গণ্য করা; আবু যুরআহ, আহমাদ, ইয়াহইয়া, ইজলী, ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ এবং সিনান ইবনে রাবী'আহ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। বায়হাকীর ব্যাপারে পক্ষপাতিত্বের ধারণা করা হয়েছে, কারণ তিনি কেবল আবু উমামাহ-এর হাদীসেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং এর সমালোচনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।

এই অধ্যায়ে আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ-এর হাদীসও রয়েছে, যা ইবনে মাজাহ সুয়াইদ ইবনে সাঈদ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া ইবনে আবি যায়িদাহ শু'বাহ হতে, তিনি হাবীব ইবনে যায়েদ হতে, তিনি আব্বাদ ইবনে তামীম হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "উভয় কান মাথার অংশ।" এবং ইবনে আব্বাসের হাদীস, যা দারা কুতনী আবু কামিল আল-জাহদারী হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, গুন্দার মুহাম্মদ ইবনে জাফর ইবনে জুরাইজ হতে, তিনি আতা হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "উভয় কান মাথার অংশ।" এই দুটি বর্ণনা সূত্রের নিরবচ্ছিন্নতা এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতার কারণে সুসাব্যস্ত। দ্বিতীয় বর্ণনার ব্যাপারে দারা কুতনী যে বলেছেন এর সনদটি একটি বিভ্রম (ওয়াহাম) এবং এটি মূলত মুরসাল—তিনি দলিল হিসেবে ইবনে জুরাইজ হতে সুলাইমান ইবনে মুসা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে তা পেশ করেছেন। ইবনে আল-কাত্তান হাদীসটিকে সহীহ সাব্যস্ত করার পর দারা কুতনী-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন: এটি বর্ণনার জন্য কোনো ত্রুটি নয়। এতে একই হাদীস মুসনাদ এবং মুরসাল উভয় রূপে থাকতে কোনো বাধা নেই।

আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কর্মের মাধ্যমে প্রমাণিত আরও হাদীস রয়েছে: এর মধ্যে একটি হলো যা ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান এবং হাকেম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমি কি তোমাদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওযুর পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করব না? অতঃপর তিনি তা বর্ণনা করেন।" তাতে আছে: "অতঃপর তিনি এক আঁজলা পানি নিলেন এবং তা দিয়ে তাঁর মাথা ও উভয় কান মাসাহ করলেন।" নাসাঈ এর উপর অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন: "মাথার সাথে কান মাসাহ করার অনুচ্ছেদ"
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَقِيلَ هُوَ سُنَّةٌ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله جَائِزٌ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمَا اللَّهُ، لِأَنَّ السُّنَّةَ إكْمَالُ الْفَرْضِ فِي مَحَلِّهِ وَالدَّاخِلُ لَيْسَ بِمَحَلِّ الْفَرْضِ.


 

الرَّأْسِ.

وَأَمَّا مَا رُوِيَ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم أَخَذَ لِأُذُنَيْهِ مَاءً جَدِيدًا فَيَجِبُ حَمْلُهُ عَلَى أَنَّهُ لِفَنَاءِ الْبِلَّةِ قَبْلَ الِاسْتِيعَابِ تَوْفِيقًا بَيْنَهُ وَبَيْنَ مَا ذَكَرْنَا، وَإِذَا انْعَدَمَتْ الْبِلَّةُ لَمْ يَكُنْ بُدٌّ مِنْ الْأَخْذِ كَمَا لَوْ انْعَدَمَتْ فِي بَعْضِ عُضْوٍ وَاحِدٍ، وَلَوْ رَجَّحْنَا كَانَ مَا رَوَيْنَاهُ أَكْثَرَ وَأَشْهَرَ، فَقَدْ رُوِيَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي أُمَامَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ كَمَا ذَكَرْنَا، وَأَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ وَابْنِ عُمَرَ وَعَائِشَةَ رضي الله عنهم بِطُرُقٍ كَثِيرَةٍ، وَاَللَّهُ سُبْحَانَهُ أَعْلَمُ

(قَوْلُهُ جَائِزٌ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ) فِي غَيْرِ نُسْخَةٍ مِنْ كُتُبِ الرِّوَايَةِ سُنَّةٌ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ مُسْتَحَبٌّ عِنْدَهُمَا، وَأَمْثَلُ حَدِيثٍ فِيهِ مَا رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ مِنْ حَدِيثِ عَامِرِ بْنِ شَقِيقٍ الْأَسَدِيِّ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عُثْمَانَ «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ». وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: تَوَضَّأَ وَخَلَّلَ لِحْيَتَهُ، وَقَالَ حَسَنٌ صَحِيحٌ، وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ وَالْحَاكِمُ وَقَالَ: احْتَجَّا بِجَمِيعِ رُوَاتِهِ إلَّا عَامِرَ بْنَ شَقِيقٍ، وَلَا أَعْلَمُ فِيهِ طَعْنًا بِوَجْهٍ مِنْ الْوُجُوهِ، وَلَهُ شَاهِدٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ وَأَنَسٍ وَعَائِشَةَ رضي الله عنهم، ثُمَّ أَخْرَجَ أَحَادِيثَهُمْ «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَخَلَّلَ لِحْيَتَهُ»، وَزَادَ فِي حَدِيثِ أَنَسٍ: «بِهَذَا أَمَرَنِي رَبِّي». وَتُعُقِّبَ بِأَنَّ عَامِرًا ضَعَّفَهُ ابْنُ مَعِينٍ وَقَالَ أَبُو حَاتِمٍ لَيْسَ بِالْقَوِيِّ، وَحَاصِلُ الْأَوَّلِ طَعْنٌ مُبْهَمٌ، وَهُوَ غَيْرُ مَقْبُولٍ عَلَى مَا عَلَيْهِ الْعَمَلُ لَمْ يَقْبَلْهُ التِّرْمِذِيُّ. وَالثَّانِي: لَا يُخْرِجُهُ إلَى الضَّعْفِ، وَلَوْ سُلِّمَ، فَغَايَةُ الْأَمْرِ اخْتِلَافٌ فِيهِ لَا يَنْزِلُ بِهِ عَنْ الْحَسَنِ. قَالَ التِّرْمِذِيُّ فِي عِلَلِهِ الْكَبِيرِ: قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إسْمَاعِيلَ: يَعْنِي الْبُخَارِيَّ أَصَحُّ شَيْءٍ عِنْدِي حَدِيثُ عُثْمَانَ وَهُوَ حَدِيثٌ حَسَنٌ انْتَهَى. وَكَيْفَ وَلَهُ شَوَاهِدُ كَثِيرَةٌ جِدًّا مِنْ حَدِيثِ عَمَّارٍ وَأَنَسٍ كَمَا رَوَاهُمَا الْحَاكِمُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ رَأَيْتُهُ عليه الصلاة والسلام يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ، وَإِنْ ضُعِّفَ بِالِانْقِطَاعِ، وَحَدِيثُ أَنَسٍ قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إذَا تَوَضَّأَ خَلَّلَ لِحْيَتَهُ». رَوَاهُ الْبَزَّارُ وَابْنُ مَاجَهْ وَحَدِيثُ أَبِي أَيُّوبَ نَحْوُهُ رَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَهُوَ ضَعِيفٌ. وَحَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ: «دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم
আরও বলা হয়েছে যে, এটি ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে সুন্নাত এবং ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-দ্বয়ের মতে বৈধ; কেননা সুন্নাত হলো তার স্বস্থানে ফরজের পূর্ণতা বিধান করা, আর অভ্যন্তরীণ অংশ ফরজের স্থান নয়।


 

মাথার।

আর যা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কানদ্বয়ের জন্য নতুন পানি নিয়েছেন, তবে সেটিকে এই মর্মে ব্যাখ্যা করা ওয়াজিব যে, তা পূর্ণতা পাওয়ার পূর্বেই সিক্ততা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে ছিল; যাতে করে সেটির সাথে আমাদের উল্লিখিত বর্ণনার সামঞ্জস্য বিধান করা যায়। আর যখন সিক্ততা শেষ হয়ে যায়, তখন নতুন পানি গ্রহণ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না, যেমনটি কোনো একটি নির্দিষ্ট অঙ্গের কিছু অংশে পানি শেষ হয়ে গেলে হয়ে থাকে। আর যদি আমরা কোনো একটিকে অগ্রাধিকার দেই, তবে আমরা যা বর্ণনা করেছি তা অধিকতর এবং বেশি প্রসিদ্ধ। কেননা আমাদের উল্লিখিত আবু উমামা, ইবনে আব্বাস ও আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদের হাদিস ছাড়াও আবু মুসা আল-াশআরি, আবু হুরায়রা, আনাস, ইবনে ওমর এবং আয়েশা (রা.) থেকে বহু সূত্রে তা বর্ণিত হয়েছে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা অধিক জ্ঞাত।

(লেখকের বক্তব্য: ইমাম আবু হানিফার নিকট বৈধ) বর্ণনার কিতাবসমূহের একাধিক পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে যে, এটি ইমাম আবু ইউসুফের নিকট সুন্নাত এবং তাঁদের উভয়ের নিকট মুস্তাহাব। আর এ বিষয়ে সর্বোত্তম হাদিস হলো যা ইমাম তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন আমের ইবনে শাকীক আল-আসাদি থেকে, তিনি আবু ওয়ায়েল থেকে, তিনি ওসমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।” ইমাম তিরমিযী বলেন: তিনি অজু করেছেন এবং দাড়ি খিলাল করেছেন এবং একে হাসান সহিহ বলেছেন। ইবনে হিব্বান ও হাকেম একে সহিহ বলেছেন। হাকেম বলেন: তাঁরা (ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম) আমের ইবনে শাকীক ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, আর আমি তার বিষয়ে কোনো প্রকার সমালোচনা জানি না। আম্মার ইবনে ইয়াসির, আনাস ও আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে এর সহিহ শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে। অতঃপর তিনি তাঁদের হাদিসসমূহ উল্লেখ করেন যে, “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অজু করেছেন এবং তাঁর দাড়ি খিলাল করেছেন।” আনাস (রা.)-এর হাদিসে অতিরিক্ত রয়েছে: “আমার প্রতিপালক আমাকে এরই নির্দেশ দিয়েছেন।” এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, আমেরকে ইবনে মাঈন দুর্বল বলেছেন এবং আবু হাতিম বলেছেন যে, তিনি শক্তিশালী নন। প্রথমটির সারমর্ম হলো এটি একটি অস্পষ্ট সমালোচনা, যা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয় এবং ইমাম তিরমিযীও তা গ্রহণ করেননি। আর দ্বিতীয়টি তাকে দুর্বলতার পর্যায়ে নিয়ে যায় না; যদি মেনেও নেওয়া হয়, তবে বড়জোর এটি তাঁর ব্যাপারে একটি মতভেদ যা হাদিসটিকে হাসান পর্যায় থেকে নিচে নামায় না। ইমাম তিরমিযী তাঁর ‘ইলালুল কবীর’-এ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল অর্থাৎ ইমাম বুখারি বলেছেন: আমার নিকট ওসমান (রা.)-এর হাদিসটি সর্বাধিক বিশুদ্ধ এবং এটি একটি হাসান হাদিস। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর কেনই বা হবে না, অথচ এর বহু শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) রয়েছে আম্মার ও আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে, যেমনটি হাকেম, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন যে, “আমি তাঁকে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) তাঁর দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি;” যদিও তা বিচ্ছিন্নতার (ইনকিতা) কারণে দুর্বল বলা হয়েছে। আর আনাস (রা.)-এর হাদিসে আছে, তিনি বলেন: “নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন অজু করতেন, তখন তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।” এটি বাযযার ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। আবু আইয়ুব (রা.)-এর হাদিসও এর অনুরূপ, যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং সেটি দুর্বল। আর ইবনে আব্বাস (রা.)-এর হাদিস: “আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট প্রবেশ করলাম...
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৩০)
قَالَ (وَتَخْلِيلُ الْأَصَابِعِ) لِقَوْلِهِ عليه الصلاة والسلام «خَلِّلُوا أَصَابِعَكُمْ كَيْ لَا تَتَخَلَّلَهَا نَارُ جَهَنَّمَ» وَلِأَنَّهُ إكْمَالُ


 

وَهُوَ يَتَوَضَّأُ، وَقَالَ فِيهِ: فَخَلَّلَ لِحْيَتَهُ. وَفِيهِ: فَقُلْت يَا رَسُولَ اللَّهِ هَكَذَا الطَّهُورُ؟ قَالَ: هَكَذَا أَمَرَنِي رَبِّي». رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْأَوْسَطِ. وَرُوِيَ أَيْضًا حَدِيثُ أَبِي أُمَامَةَ وَحَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى وَحَدِيثُ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَحَدِيثُ أُمِّ سَلَمَةَ: «كَانَ إذَا تَوَضَّأَ خَلَّلَ لِحْيَتَهُ». وَضُعِّفَ بِخَالِدِ بْنِ إلْيَاسَ الْعَدَوِيِّ. وَرَوَى الْبَزَّارُ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ «أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم تَوَضَّأَ وَخَلَّلَ». وَرَوَى ابْنُ عَدِيٍّ عَنْ جَابِرٍ «أَنَّهُ وَضَّأَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم غَيْرَ مَرَّةٍ وَلَا مَرَّتَيْنِ وَلَا ثَلَاثٍ، فَرَأَيْتُهُ يُخَلِّلُ لِحْيَتَهُ بِأَصَابِعِهِ كَأَنَّهَا أَسْنَانُ الْمُشْطِ». وَفِيهِ أَضْرَمُ بْنُ غِيَاثٍ النَّيْسَابُورِيُّ مَتْرُوكٌ، وَمَا فِي الْهِدَايَةِ مِمَّا أَخْرَجَهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْهُ صلى الله عليه وسلم قَالَ «أَتَانِي جِبْرِيلُ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ خَلِّلْ لِحْيَتَكَ» وَهُوَ مَعْلُولٌ بِالْهَيْثَمِ بْنِ جَمَّازٍ، وَيَقْرُبُ مِنْهُ مَا فِي أَبِي دَاوُد عَنْ أَنَسٍ: «كَانَ صلى الله عليه وسلم إذَا تَوَضَّأَ أَخَذَ كَفًّا مِنْ مَاءٍ تَحْتَ حَنَكِهِ فَخَلَّلَ بِهِ لِحْيَتَهُ وَقَالَ: بِهَذَا أَمَرَنِي رَبِّي» وَسَكَتَ عَنْهُ، وَكَذَا الْمُنْذِرِيُّ بَعْدَهُ، وَأَعَلَّهُ ابْنُ الْقَطَّانِ بِأَنَّ الْوَلِيدَ بْنَ زَرْوَانَ مَجْهُولٌ. قَالَ الشَّيْخُ الْإِمَامِ: وَهُوَ عَلَى طَرِيقَتِهِ مِنْ طَلَبِ زِيَادَةِ التَّعْدِيلِ مَعَ رِوَايَةِ جَمَاعَةٍ عَنْ الرَّاوِي. وَقَدْ رَوَى عَنْ الْوَلِيدِ هَذَا جَمَاعَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ. فَهَذِهِ طُرُقٌ مُتَكَثِّرَةٌ عَنْ أَكْثَرَ مِنْ عَشَرَةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم لَوْ كَانَ كُلٌّ مِنْهَا ضَعِيفًا ثَبَتَتْ حُجِّيَّةُ الْمَجْمُوعِ عَلَى مَا تَقَدَّمَ. فَكَيْفَ وَبَعْضُهَا لَا يَنْزِلُ عَنْ الْحَسَنِ فَوَجَبَ اعْتِبَارُهَا، إلَّا أَنَّ أَبَا حَنِيفَةَ رحمه الله يَقُولُ: لَمْ يَثْبُتْ مِنْهَا الْمُوَاظَبَةُ بَلْ مُجَرَّدُ الْفِعْلِ، إلَّا فِي شُذُوذٍ مِنْ الطُّرُقِ فَكَانَ مُسْتَحَبًّا لَا سُنَّةً، لَكِنَّ مَا فِي أَبِي دَاوُد مِنْ قَوْلِهِ: بِهَذَا أَمَرَنِي رَبِّي، لَمْ يَثْبُتْ ضَعْفُهُ، وَهُوَ مُغْنٍ عَنْ نَقْلِ صَرِيحِ الْمُوَاظَبَةِ؛ لِأَنَّ أَمْرَهُ تَعَالَى حَامِلٌ عَلَيْهَا

، فَيَتَرَجَّحُ قَوْلُ أَبِي يُوسُفَ كَمَا رَجَّحَهُ فِي الْمَبْسُوطِ، وَيَتَضَاءَلُ الْمَعْنَى الْمَذْكُورُ مِنْ أَنَّ السُّنَّةَ فِي الْوُضُوءِ مَا كَانَ إكْمَالًا لِلْفَرْضِ فِي مَحَلِّهِ، وَدَاخِلُ اللِّحْيَةِ لَيْسَ بِهِ بَعْدَ سَلَامَتِهِ فِي نَفْسِهِ مِمَّا نُقِضَ بِهِ مِنْ أَنَّ الْمَضْمَضَةَ وَالِاسْتِنْشَاقَ سُنَّةٌ وَلَيْسَا فِي مَحَلِّهِ؛ إذْ لَيْسَ فِي الْوَجْهِ بِالْمَنْعِ، وَادِّعَاءِ أَنَّ مَحَلَّيْهِمَا مِنْهُ حُكْمًا إذْ لَهُمَا حُكْمُ الْخَارِجِ مِنْ وَجْهٍ حَتَّى لَا يَفْسُدَ الصَّوْمُ بِإِدْخَالِهِمَا شَيْئًا.

 

(قَوْلُهُ وَتَخْلِيلُ الْأَصَابِعِ) صِفَتُهُ فِي الرِّجْلَيْنِ أَنْ يُخَلِّلَ بِخِنْصِرِ يَدِهِ الْيُسْرَى خِنْصِرَ رِجْلِهِ الْيُمْنَى، وَيَخْتِمَ بِخِنْصِرِ رِجْلِهِ الْيُسْرَى فِي الْقُنْيَةِ، كَذَا وَرَدَ وَاَللَّهُ أَعْلَمُ

وَمِثْلُهُ فِيمَا يَظْهَرُ أَمْرٌ اتِّفَاقِيٌّ لَا سُنَّةٌ مَقْصُودَةٌ.

(قَوْلُهُ حَكَى لَا تَتَخَلَّلُهَا نَارُ جَهَنَّمَ) مُؤَدَّيْ التَّرْكِيبِ أَنَّ التَّخْلِيلَ يُرَادُ لِعَدَمِ التَّظَلُّلِ، وَهُوَ لَا يَسْتَلْزِمُ أَنَّ عَدَمَ التَّخْلِيلِ مُسْتَلْزِمٌ تَخَلُّلَ النَّارِ إلَّا لَوْ كَانَتْ عِلَّةٌ مُسَاوِيَةٌ، وَهُوَ مُنْتَفٍ وَإِلَّا كَانَ التَّخْلِيلُ وَاجِبًا بَعْدَ اعْتِقَادِهِمْ حُجِّيَّةَ الْحَدِيثِ، لَكِنَّ الْمَعْدُودَ فِي السُّنَنِ التَّخْلِيلُ بَعْدَ الْعِلْمِ بِوُصُولِ الْمَاءِ إلَى مَا بَيْنَهَا وَهُوَ لَيْسَ وَاجِبًا، وَحِينَئِذٍ فَلَيْسَ هُوَ مَقْرُونًا بِالْوَعِيدِ بِتَقْدِيرِ التَّرْكِ فَلَا حَاجَةَ إلَى ضَمِّهِ فِي السُّؤَالِ الْقَائِلِ خَلِّلُوا يُفِيدُ الْوُجُوبَ فَكَيْفَ وَهُوَ مَقْرُونٌ بِالْوَعِيدِ ثُمَّ تَكَلَّفَ الْجَوَابَ بِأَنَّهُ مَصْرُوفٌ عَنْهُ بِحَدِيثِ الْأَعْرَابِيِّ، وَأَحَادِيثِ حِكَايَةِ وُضُوئِهِ صلى الله عليه وسلم، إذْ لَيْسَ فِيهَا التَّخْلِيلُ، وَالْوَعِيدُ مَصْرُوفٌ إلَى مَا إذَا لَمْ يَصِلْ الْمَاءُ بَيْنَ الْأَصَابِعِ، هَذَا وَمَتْنُ الْأَحَادِيثِ عَلَى مَا فِي الدَّارَقُطْنِيِّ: خَلِّلُوا أَصَابِعَكُمْ لَا يُخَلِّلُهَا اللَّهُ بِالنَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ. وَهُوَ ضَعِيفٌ بِيَحْيَى بْنِ مَيْمُونٍ التَّمَّارِ، نَعَمْ الْمُصَرَّحُ فِيهِ بِالْوَعِيدِ مَا فِي الطَّبَرَانِيِّ: مَنْ لَمْ يُخَلِّلْ أَصَابِعَهُ بِالْمَاءِ خَلَّلَهَا اللَّهُ بِالنَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

وَأَمْثَلُ أَحَادِيثِ التَّخْلِيلِ مَا فِي سُنَنِ الْأَرْبَعَةِ مِنْ حَدِيثِ لَقِيطِ بْنِ صَبِرَةَ. قَالَ: قَالَ صلى الله عليه وسلم «إذَا تَوَضَّأْتَ فَأَسْبِغْ الْوُضُوءَ وَخَلِّلْ بَيْنَ الْأَصَابِعِ» قَالَ التِّرْمِذِيُّ: حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. وَرَوَى هُوَ وَابْنُ مَاجَهْ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ
তিনি বলেছেন, (এবং আঙুলসমূহের খিলাল করা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে যে: "তোমরা তোমাদের আঙুলসমূহের খিলাল করো যেন জাহান্নামের আগুন সেগুলোর মাঝে প্রবেশ না করে।" এবং এই কারণে যে এটি পূর্ণতা দানকারী


 

আর তিনি ওজু করছিলেন, এবং তাতে বর্ণিত আছে: অতঃপর তিনি তাঁর দাড়ি খিলাল করলেন। তাতে আরও আছে: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ওজু কি এভাবেই? তিনি বললেন: "আমার রব আমাকে এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।" এটি তাবারানি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও আবু উমামাহ, আবদুল্লাহ বিন আবি আওফা, আবু দারদা এবং উম্মে সালামার হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে: "তিনি যখন ওজু করতেন, তখন তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।" আর এটি খালিদ বিন ইলিয়াস আল-আদাওয়ির কারণে দুর্বল সাব্যস্ত হয়েছে। আল-বাযযার আবু বাকরাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওজু করেছেন এবং খিলাল করেছেন।" ইবনে আদি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "তিনি এক, দুই বা তিনবারের অধিক সময় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ওজু করিয়েছেন, তখন আমি তাঁকে তাঁর আঙুলসমূহ দিয়ে দাড়ি খিলাল করতে দেখেছি যেন তা চিরুনির দাঁত।" এতে আযরাম বিন গিয়াস আন-নাইসাপুরি নামক একজন বর্জনীয় রাবী রয়েছে। 'হিদায়া' গ্রন্থে ইবনে আবি শায়বা আনাস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে যা বর্ণনা করেছেন তা হলো: "জিবরীল আমার নিকট এসে বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি আপনার দাড়ি খিলাল করুন।" এটি হাইসাম বিন জাম্মাযের কারণে ত্রুটিযুক্ত। এর কাছাকাছি একটি বর্ণনা আবু দাউদে আনাস থেকে এসেছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওজু করতেন, তখন এক আঁজলা পানি নিয়ে থুতনির নিচে দিতেন এবং তা দিয়ে দাড়ি খিলাল করতেন এবং বলতেন: আমার রব আমাকে এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন।" তিনি এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন, এবং তাঁর পরে মুনযিরিও নীরব থেকেছেন। ইবনুল কাত্তান একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এই কারণে যে, ওয়ালিদ বিন যারওয়ান একজন অপরিচিত ব্যক্তি। শায়খ ইমাম বলেছেন: এটি তাঁর সেই পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে যেখানে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে একদল রাবীর বর্ণনা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত নির্ভরযোগ্যতার অন্বেষণ করা হয়। অথচ এই ওয়ালিদ থেকে একদল আলেম বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এগুলি দশজনেরও বেশি সাহাবী (রাদিআল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত বহুমুখী সূত্র; যদি এগুলোর প্রত্যেকটি দুর্বলও হয়, তবে পূর্ববর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী সমষ্টিগতভাবে এর প্রামাণ্যতা সাব্যস্ত হয়। তবে কেমন করে এটি অগ্রাহ্য হবে যেখানে এগুলোর কোনটি 'হাসান' স্তরের নিচে নয়? তাই এগুলো বিবেচনা করা ওয়াজিব। তবে আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এগুলোর দ্বারা নিয়মিত আমল প্রমাণিত নয়, বরং নিছক কাজটি প্রমাণিত, কেবল কিছু বিরল সূত্র ছাড়া; তাই এটি সুন্নাহ নয় বরং মুস্তাহাব। কিন্তু আবু দাউদে বর্ণিত "আমার রব আমাকে এভাবেই নির্দেশ দিয়েছেন" কথাটির দুর্বলতা প্রমাণিত নয়, এবং এটি স্পষ্ট নিয়মিত আমল বর্ণনার প্রয়োজনীয়তা দূর করে; কারণ মহান আল্লাহর নির্দেশ নিয়মিত আমলের দাবি রাখে

, সুতরাং আবু ইউসুফের মতটিই প্রাধান্য পায় যেমনটি 'আল-মাবসুত' গ্রন্থে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আর উল্লিখিত সেই যুক্তিটি দুর্বল হয়ে পড়ে যে, ওজুর সুন্নাহ কেবল সেই বিষয়গুলো যা নির্ধারিত স্থানে ফরযকে পূর্ণতা দান করে, অথচ দাড়ির অভ্যন্তরভাগ সংরক্ষিত হওয়ার পর আর সেই স্থানে থাকে না—যেই যুক্তিটি এই আপত্তির মাধ্যমে খণ্ডিত হয় যে, কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া সুন্নাহ অথচ সেগুলো নির্ধারিত স্থানে নয়; যেহেতু সেগুলো চেহারার অন্তর্ভুক্ত নয় বলে গণ্য করা হয়, এবং দাবি করা হয় যে হুকুমগতভাবে এ দুটি স্থান চেহারার অন্তর্ভুক্ত কারণ বাহ্যিক অংশের হুকুম এগুলোর উপর প্রযোজ্য, এমনকি এ দুটির ভেতরে কিছু প্রবেশ করালে রোজা নষ্ট হয় না।

 

(তাঁর বাণী: এবং আঙুলসমূহের খিলাল করা) দুই পায়ের ক্ষেত্রে এর পদ্ধতি হলো, বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে ডান পায়ের কনিষ্ঠ আঙুল থেকে খিলাল শুরু করা এবং বাম পায়ের কনিষ্ঠ আঙুলে শেষ করা যা 'আল-কুনিয়া' গ্রন্থে এসেছে; এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, আর আল্লাহই ভালো জানেন

। আর এর সদৃশ বিষয়গুলো বাহ্যত একটি কাকতালীয় বিষয়, উদ্দেশ্যমূলক সুন্নাহ নয়।

(তাঁর বাণী: বর্ণনা করেছেন যেন জাহান্নামের আগুন সেগুলোর মাঝে প্রবেশ না করে) এই বাক্যের সারমর্ম হলো, খিলাল করার উদ্দেশ্য হলো আগুন প্রবেশ না করা। এর মানে এই নয় যে, খিলাল না করলে অবশ্যই আগুন প্রবেশ করবে, যদি না এটি খিলাল না করার একটি সমপর্যায়ের কারণ হতো। আর তা এখানে অনুপস্থিত, অন্যথায় হাদিসের প্রামাণ্যতায় বিশ্বাস করার পর খিলাল করা ওয়াজিব হতো। কিন্তু সুন্নাহর তালিকায় যে খিলাল গণ্য করা হয় তা হলো আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর করা খিলাল, যা ওয়াজিব নয়। এমতাবস্থায়, এটি ত্যাগ করার পরিণাম হিসেবে শাস্তির হুমকির সাথে যুক্ত নয়। সুতরাং এই প্রশ্নের অবতারণা করার প্রয়োজন নেই যে—'খিলাল করো' নির্দেশটি ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে, আবার এর সাথে শাস্তির হুমকিও রয়েছে—অতঃপর এর উত্তর দেওয়ার জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যা দেওয়া যে, এটি গ্রাম্য ব্যক্তির হাদিস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওজু করার বর্ণনামূলক হাদিসসমূহ দ্বারা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, কারণ সেগুলোতে খিলালের কথা নেই। আর শাস্তির হুমকিটি সেই সময়ের জন্য প্রযোজ্য যখন আঙুলের ফাঁকে পানি পৌঁছাবে না। হাদিসের পাঠ হলো—যেমনটি দারাকুতনিতে রয়েছে—"তোমরা তোমাদের আঙুলসমূহ খিলাল করো, তবে আল্লাহ কিয়ামতের দিন সেগুলোকে আগুন দিয়ে খিলাল করবেন না।" এটি ইয়াহইয়া বিন মাইমুন আত-তাম্মারের কারণে দুর্বল। হ্যাঁ, যাতে স্পষ্টভাবে শাস্তির কথা আছে তা তাবারানিতে রয়েছে: "যে ব্যক্তি তার আঙুলসমূহ পানি দিয়ে খিলাল করবে না, আল্লাহ কিয়ামতের দিন সেগুলোকে আগুন দিয়ে খিলাল করবেন।"

খিলাল সংক্রান্ত হাদিসসমূহের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হলো সুনানে আরবাআহ-তে বর্ণিত লাকীত বিন সাবরাহ-র হাদিস। তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যখন তুমি ওজু করবে তখন পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করবে এবং আঙুলসমূহের মাঝে খিলাল করবে।" ইমাম তিরমিজি বলেছেন: এটি হাসান সহিহ হাদিস। তিনি এবং ইবনে মাজাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন
(খণ্ড: ১) ফাতহুল কাদীর লিল কামাল ইবনিল হুমাম - তবা আল-হালাবী (পৃষ্ঠা: ৩১)
الْفَرْضِ فِي مَحَلِّهِ.

 

قَالَ (وَتَكْرَارُ الْغَسْلِ إلَى الثَّلَاثِ) «لِأَنَّ النَّبِيَّ عليه الصلاة والسلام تَوَضَّأَ مَرَّةً مَرَّةً وَقَالَ: هَذَا وُضُوءٌ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ تَعَالَى الصَّلَاةَ إلَّا بِهِ، وَتَوَضَّأَ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ وَقَالَ: هَذَا وُضُوءُ مَنْ يُضَاعِفُ اللَّهُ لَهُ الْأَجْرَ مَرَّتَيْنِ، وَتَوَضَّأَ ثَلَاثًا ثَلَاثًا وَقَالَ: هَذَا وُضُوئِي وَوُضُوءُ الْأَنْبِيَاءِ مَنْ قَبْلِي، فَمَنْ زَادَ عَلَى هَذَا أَوْ نَقَصَ فَقَدْ تَعَدَّى وَظَلَمَ». وَالْوَعِيدُ لِعَدَمِ رُؤْيَتِهِ سُنَّةٌ.


 

- رضي الله عنهما. قَالَ صلى الله عليه وسلم «إذَا تَوَضَّأْت فَخَلِّلْ أَصَابِعَ يَدَيْكَ وَرِجْلَيْكَ» وَقَالَ: حَسَنٌ غَرِيبٌ

، وَعِنْدِي أَنَّهَا كُلَّهَا لِلْوُجُوبِ

وَالْمُرَادُ الْأَمْرُ بِإِيصَالِ الْمَاءِ إلَى مَا بَيْنَهَا إفَادَةُ أَنَّهُ لَا يَجُوزُ تَرْكُ مَا خَفِيَ مِمَّا هُوَ بَيْنَهَا كَمَا هُوَ فِي دَاخِلِ اللِّحْيَةِ، وَالتَّخْلِيلُ بَعْدَ هَذَا مُسْتَحَبٌّ لِعَدَمِ ثُبُوتِ الْمُوَاظَبَةِ مَعَ كَوْنِهِ إكْمَالًا فِي الْمَحَلِّ.

 

(قَوْلُهُ وَتَكْرَارُ الْغَسْلِ إلَى الثَّلَاثِ) قُيِّدَ بِهِ لِإِفَادَةِ أَنَّهُ لَا يُسَنُّ التَّكْرَارُ فِي الْمَسْحِ، ثُمَّ قِيلَ الْأَوَّلُ فَرِيضَةٌ وَالثَّانِي سُنَّةٌ وَالثَّالِثُ إكْمَالٌ، وَقِيلَ الثَّانِي وَالثَّالِثُ سُنَّةٌ، وَقِيلَ: الثَّانِي سُنَّةٌ وَالثَّالِثُ نَفْلٌ، وَالظَّاهِرُ أَنَّهُ مَعْنَى الْأَوَّلِ، وَقِيلَ عَلَى عَكْسِهِ.

وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ الْإِسْكَافِ الثَّلَاثُ تَقَعُ فَرْضًا كَإِطَالَةِ الْقِيَامِ وَالرُّكُوعِ وَنَحْوِهِ.

وَعِنْدِي أَنَّهُ إنْ كَانَ مَعْنَى الثَّانِي أَنَّ الثَّانِيَ مُضَافٌ إلَى الثَّالِثِ سُنَّةً: أَيْ الْمَجْمُوعَ فَهُوَ الْحَقُّ فَلَا يُوصَفُ الثَّانِي بِالسُّنِّيَّةِ فِي حَدِّ ذَاتِهِ، فَلَوْ اقْتَصَرَ عَلَيْهِ لَا يُقَالُ فَعَلَ السُّنَّةَ؛ لِأَنَّ بَعْضَ الشَّيْءِ لَيْسَ بِالشَّيْءِ، وَلَا الثَّالِثُ إذَا لَمْ يُلَاحَظْ مَعَ مَا قَبْلَهُ (قَوْلُهُ: وَالْوَعِيدُ لِعَدَمِ رُؤْيَتِهِ سُنَّةٌ) أَيْ هَذَا الْعَدَدُ وَهَذَا أَحَدُ مَا قِيلَ، فَلَوْ رَآهُ وَزَادَ لِقَصْدِ الْوُضُوءِ عَلَى الْوُضُوءِ أَوْ لِطُمَأْنِينَةِ الْقَلْبِ عِنْدَ الشَّكِّ أَوْ نَقَصَ لِحَاجَتِهِ لَا بَأْسَ بِهِ.

وَقِيلَ أُرِيدَ بِهِ مُجَرَّدُ الْعَدَدِ.

وَقِيلَ: الزِّيَادَةُ عَلَى أَعْضَاءِ الْوُضُوءِ، وَالنَّقْصُ مِنْهَا وَتَعَدَّى يَرْجِعُ إذَا زَادَ وَظَلَمَ يَرْجِعُ إلَى نَقْصٍ، وَأَصْلُ الظُّلْمِ النَّقْصُ، قَالَ اللَّهُ تَعَالَى {وَلَمْ تَظْلِمْ مِنْهُ شَيْئًا} أَيْ لَمْ تَنْقُصْ هَذَا.

وَالْحَدِيثُ بِمَجْمُوعِ هَذَا اللَّفْظِ غَيْرُ مَعْرُوفٍ، بَلْ صَدْرُهُ رُوِيَ عَنْ عِدَّةٍ مِنْ الصَّحَابَةِ يَرْفَعُونَهُ، رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ عَنْ ابْنِ عُمَرَ يَرْفَعُهُ، وَضُعِّفَ بِالْمُسَيِّبِ بْنِ وَاضِحٍ، وَابْنُ مَاجَهْ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ يَرْفَعُهُ، وَضُعِّفَ بِزَيْدِ بْنِ أَبِي الْحَوَارِيِّ وَغَيْرِهِ، وَرَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ فِي كِتَابِ غَرَائِبِ مَالِكٍ مِنْ حَدِيثِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَضُعِّفَ بِعَلِيِّ بْنِ حَسَنٍ الشَّامِيِّ. وَأَمَّا عَجُزُهُ فَإِنَّمَا هُوَ فِي حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ «أَنَّ رَجُلًا أَتَاهُ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ الطَّهُورُ؟ فَدَعَا بِمَاءٍ فِي إنَاءٍ غَسَلَ كَفَّيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا ثُمَّ غَسَلَ ذِرَاعَيْهِ ثَلَاثًا ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، أَدْخَلَ أُصْبُعَيْهِ السَّبَّاحَتَيْنِ فِي أُذُنَيْهِ وَمَسَحَ بِإِبْهَامَيْهِ عَلَى ظَاهِرِ أُذُنَيْهِ، وَبِالسَّبَّاحَتَيْنِ بَاطِنَ أُذُنَيْهِ، ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ ثَلَاثًا ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: هَكَذَا الْوُضُوءُ، فَمَنْ زَادَ عَلَى هَذَا أَوْ نَقَصَ فَقَدْ أَسَاءَ وَظَلَمَ». وَفِي لَفْظٍ لِابْنِ مَاجَهْ «تَعَدَّى وَظَلَمَ». وَلِلنَّسَائِيِّ: «أَسَاءَ وَتَعَدَّى وَظَلَمَ». قَالَ فِي الْإِمَامِ: الْحَدِيثُ صَحِيحٌ عِنْدَ مَنْ يُصَحِّحُ حَدِيثَ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ
নির্দিষ্ট স্থানে ফরয আদায় হওয়া।

 

তিনি (গ্রন্থকার) বলেছেন: (এবং তিনবার পর্যন্ত ধৌত করার পুনরাবৃত্তি করা) "কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার একবার করে ধৌত করে ওযু করেছেন এবং বলেছেন: এটি এমন ওযু যা ব্যতীত আল্লাহ তাআলা সালাত কবুল করবেন না। এবং তিনি দুইবার দুইবার করে ধৌত করে ওযু করেছেন এবং বলেছেন: এটি এমন ব্যক্তির ওযু যার জন্য আল্লাহ তাআলা প্রতিদান দ্বিগুণ করে দেন। এবং তিনি তিনবার তিনবার ধৌত করে ওযু করেছেন এবং বলেছেন: এটি আমার ওযু এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের ওযু। সুতরাং যে ব্যক্তি এর অতিরিক্ত করল অথবা এর চেয়ে কম করল, সে সীমালঙ্ঘন করল ও জুলুম করল।" আর ধমকিটি বিষয়টিকে সুন্নাত হিসেবে গণ্য না করার কারণে।


 

- তাদের উভয়ের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তুমি যখন ওযু করবে, তখন তোমার উভয় হাতের এবং উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ খিলাল করবে।" এবং তিনি (তিরমিযী) বলেছেন: এটি হাসান গরীব।

আর আমার মতে, এ সকল নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আঙ্গুলসমূহের মধ্যবর্তী স্থানে পানি পৌঁছানোর নির্দেশ প্রদান করা, যাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, আঙ্গুলসমূহের মাঝখানে যা গোপন আছে তা ছেড়ে দেয়া জায়েয নয়, যেমনটি দাড়ির ভেতরের অংশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর এর পরবর্তী খিলাল করা মুস্তাহাব, কারণ নিয়মিত পালনের বিষয়টি প্রমাণিত নয়, যদিও এটি নির্দিষ্ট স্থানে ধৌত করার পূর্ণতা দানকারী।

 

(তাঁর উক্তি: এবং তিনবার পর্যন্ত ধৌত করার পুনরাবৃত্তি করা) এর মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এটা বোঝাতে যে, মাসেহ করার ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি করা সুন্নাত নয়। এরপর বলা হয়েছে প্রথমবার ফরয, দ্বিতীয়বার সুন্নাত এবং তৃতীয়বার পূর্ণতা দানকারী। আবার বলা হয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার সুন্নাত। আবার বলা হয়েছে দ্বিতীয়বার সুন্নাত এবং তৃতীয়বার নফল। আর বাহ্যিক অর্থ হলো এটি প্রথম মতের অনুরূপ। আবার কেউ কেউ এর বিপরীতও বলেছেন।

আবু বকর আল-ইসকাফ থেকে বর্ণিত যে, তিনবার ধৌত করা ফরয হিসেবে গণ্য হবে, যেমন কিয়াম ও রুকু দীর্ঘ করা এবং তদ্রূপ অন্যান্য বিষয়।

আর আমার মতে, যদি দ্বিতীয় মতের অর্থ এমন হয় যে দ্বিতীয়বার ধৌত করা তৃতীয়বারের সাথে যুক্ত হয়ে সুন্নাত হিসেবে গণ্য হয়—অর্থাৎ সামগ্রিক সমষ্টি—তবে সেটিই সঠিক। সুতরাং দ্বিতীয়বার ধৌত করাকে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সুন্নাত বলা যাবে না। যদি কেউ শুধু দুইবার ধৌত করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকে তবে বলা যাবে না যে সে সুন্নাত আদায় করেছে; কারণ কোনো বিষয়ের অংশ বিশেষকে সেই পূর্ণ বিষয়টি বলা যায় না। তেমনি তৃতীয়বার ধৌত করাকেও সুন্নাত বলা যাবে না যদি না তার পূর্ববর্তীগুলোর সাথে মিলিয়ে বিবেচনা করা হয়। (তাঁর উক্তি: এবং ধমকিটি বিষয়টিকে সুন্নাত হিসেবে গণ্য না করার কারণে) অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট সংখ্যার ক্ষেত্রে, আর এটি উক্ত বিষয়সমূহের একটি ব্যাখ্যা। সুতরাং যদি কেউ ওযুর ওপর ওযু করার নিয়তে অথবা সন্দেহের সময় মনের প্রশান্তির জন্য তিনবারের বেশি বৃদ্ধি করে, অথবা প্রয়োজনের কারণে কমিয়ে দেয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।

কেউ বলেছেন এর দ্বারা কেবল সংখ্যা উদ্দেশ্য।

কেউ বলেছেন: ওযুর নির্ধারিত অঙ্গসমূহের অতিরিক্ত ধৌত করা এবং তা থেকে কমিয়ে ধৌত করা উদ্দেশ্য। 'সীমালঙ্ঘন করা' শব্দটির সম্পর্ক বৃদ্ধির সাথে এবং 'জুলুম করা' শব্দটির সম্পর্ক কম করার সাথে। আর জুলুমের মূল অর্থ হলো কম করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তা থেকে কোনো কিছু কম করেনি} অর্থাৎ এটি হ্রাস করেনি।

এই পূর্ণ শব্দবিন্যাসে হাদীসটি সুপরিচিত নয়, বরং এর শুরুর অংশটি বেশ কয়েকজন সাহাবী থেকে মারফু হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। দারাকুতনী এটি ইবনে ওমর থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে মুসাইয়িব বিন ওয়াদিহ-এর কারণে একে দুর্বল বলা হয়েছে। ইবনে মাজাহ এটি উবাই বিন কাব থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে একে যায়েদ বিন আবিল হাওয়ারী ও অন্যদের কারণে দুর্বল বলা হয়েছে। দারাকুতনী একে ইমাম মালিকের 'গারায়িব' কিতাবে যায়েদ বিন সাবিত-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আলী বিন হাসান শামী-এর কারণে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। আর এর শেষাংশ মূলত আমর বিন শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতি কী? তখন তিনি একটি পাত্রে পানি আনালেন এবং তাঁর উভয় হাতের তালু তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর উভয় বাহু তিনবার ধৌত করলেন, এরপর তাঁর মাথা মাসেহ করলেন, তাঁর দুই তর্জনী আঙ্গুল দুই কানের ছিদ্রে প্রবেশ করালেন এবং দুই বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা কানের পিঠ এবং দুই তর্জনী দ্বারা কানের ভেতর মাসেহ করলেন। এরপর তাঁর উভয় পা তিনবার তিনবার ধৌত করলেন। এরপর বললেন: ওযু এভাবেই। সুতরাং যে ব্যক্তি এর অতিরিক্ত করল অথবা কম করল, সে মন্দ কাজ করল ও জুলুম করল।" ইবনে মাজাহ-র এক শব্দে আছে: "সীমালঙ্ঘন করল ও জুলুম করল।" নাসায়ীতে আছে: "মন্দ কাজ করল, সীমালঙ্ঘন করল ও জুলুম করল।" আল-ইমাম গ্রন্থে বলা হয়েছে: হাদীসটি তাদের কাছে সহীহ যারা আমর বিন শুয়াইব-এর তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত হাদীসকে সহীহ মনে করেন।