(খণ্ড: ১) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: -)
شرح كتاب الفتن من صحيح البخاري - عبد الكريم الخضير   (عبد الكريم الخضير)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: شرح كتاب الفتن من صحيح البخاري

مؤلف الأصل: محمد بن إسماعيل البخاري، أبو عبد الله (ت 256هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]

تاريخ النشر بالشاملة: 7 محرم 1432

সহীহ বুখারীর ফিতনা অধ্যায়ের ব্যাখ্যা - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর   (আব্দুল কারীম আল-খুদাইর)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যা


গ্রন্থ: সহীহ বুখারীর ফিতনা অধ্যায়ের ব্যাখ্যা

মূল গ্রন্থকার: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী, আবু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ২৫৬ হিজরি)

ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদাইর

শায়খ আল-খুদাইরের ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত অডিও লেকচারের প্রতিলিপি

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বর হলো পাঠের নম্বর - ৮টি পাঠ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৭ মুহাররম ১৪৩২

(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: -)
ـ[شرح كتاب الفتن من صحيح البخاري]ـ

مؤلف الأصل: محمد بن إسماعيل البخاري، أبو عبد الله (المتوفى: 256هـ)

الشارح: عبد الكريم بن عبد الله بن عبد الرحمن بن حمد الخضير

دروس مفرغة من موقع الشيخ الخضير

[الكتاب مرقم آليا، رقم الجزء هو رقم الدرس - 8 دروس]
[সহীহ বুখারীর কিতাবুল ফিতান-এর ব্যাখ্যা]

মূল লেখক: মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী, আবু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু: ২৫৬ হিজরী)

ব্যাখ্যাকার: আব্দুল কারিম বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন হামাদ আল-খুদায়র

শাইখ আল-খুদায়র-এর ওয়েবসাইট থেকে অনুলিপিকৃত পাঠসমূহ

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, খণ্ড নম্বরটি পাঠ নম্বর হিসেবে গণ্য - ৮টি পাঠ]
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١)
شرح كتاب الفتن من صحيح البخاري (1)

‌‌(مقدمة حول الفتن،‌‌ تعريف الفتن، شرح كتاب الفتن: ما جاء في قول الله تعالى: {وَاتَّقُواْ فِتْنَةً لَاّ تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنكُمْ خَآصَّةً}، وباب: قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((سترون بعدي أموراً تنكرونها))، وباب: قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((هلاك أمتي على يدي أغيلمة سفهاء))، وباب: قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((ويل للعرب من شر قد اقترب))

 

الشيخ/ عبد الكريم بن عبد الله الخضير

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على عبده ورسوله، نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فقد تحدثنا في مناسبات كثيرة عن الإمام البخاري -رحمه الله تعالى-، وعن صحيحه، وعن منهجه وطريقته، وإبداعه في كتابه، وعن غفلة الناس عن كثيرٍ من أبوابه، وكثيرٌ من طلاب العلم يغفل عن أبواب هم بأمس الحاجة إليها، والإمام البخاري -رحمه الله تعالى- في هذه الأبواب التي هي من: بدء الخلق، المغازي، السير، الدعوات، الفتن، الرقاق، الاعتصام بالكتاب والسنة، الإمام البخاري -رحمة الله عليه- أبدع في هذه الأبواب، والناس في غفلة عنها، ويعتني الناس بالأحاديث والأحكام العملية، ويرتبون لها الدورات في المناسبات، وفي مثل هذه الظروف من أنسب ما يقرأ مثل هذا الباب من هذا الكتاب، أو هذا الكتاب من هذا الكتاب، وهو كتاب الفتن من كتاب صحيح الإمام البخاري -رحمه الله تعالى-.

 

مقدمة حول الفتن:

والفتن كما لا يخفى عليكم بدأت الآن تطل علينا، وإن كانت من قبل لكنها ظهرت ظهوراً واضحاً في وقتٍ تداعت فيه الأمم على هذه الأمة المحمدية.

 

تعريف الفتن:
সহীহ বুখারীর ফিতনা অধ্যায়ের ব্যাখ্যা (১)

‌‌(ফিতনা প্রসঙ্গে ভূমিকা,‌‌ ফিতনার সংজ্ঞা, ফিতনা অধ্যায়ের ব্যাখ্যা: মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে: {এবং তোমরা সেই ফিতনাকে (বিপদ বা পরীক্ষা) ভয় করো, যা তোমাদের মধ্যে কেবল তাদেরকেই বিশেষভাবে পাকড়াও করবে না যারা জুলুম করেছে}, এবং পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((তোমরা আমার পরে এমন অনেক বিষয় দেখতে পাবে যা তোমরা অপছন্দ করবে)), এবং পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((আমার উম্মতের ধ্বংস হবে কতিপয় নির্বোধ বালকের হাতে)), এবং পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((নিকটবর্তী অনিষ্টের কারণে আরবদের জন্য দুর্ভোগ))

 

শাইখ/ আব্দুল কারীম বিন আব্দুল্লাহ আল-খুদাইর

সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, এবং সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:<

আমরা অনেক উপলক্ষে ইমাম বুখারী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- সম্পর্কে, তাঁর সহীহ গ্রন্থ, তাঁর কর্মপদ্ধতি ও নীতি, তাঁর গ্রন্থের সৃজনশীলতা এবং এর অনেক অধ্যায়ের প্রতি মানুষের অসতর্কতা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। অনেক ইলম অন্বেষণকারী এমন সব অধ্যায় সম্পর্কে গাফেল বা অসতর্ক থাকেন যা তাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। ইমাম বুখারী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- এই অধ্যায়গুলোতে যেমন: সৃষ্টির সূচনা, মাগাযী (যুদ্ধাভিযান), সিয়ার (জীবনচরিত), দুআসমূহ, ফিতনা, রিকাক (হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা), কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা—ইমাম বুখারী -রহিমাহুল্লাহ- এই অধ্যায়গুলোতে অনন্য সৃজনশীলতা প্রদর্শন করেছেন, অথচ মানুষ এগুলো সম্পর্কে গাফেল। মানুষ সাধারণত ব্যবহারিক হাদীস ও আহকামের প্রতি যত্ন প্রদান করে এবং বিভিন্ন উপলক্ষে সেগুলোর জন্য শিক্ষা আসরের আয়োজন করে। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই গ্রন্থ থেকে এই অধ্যায়টি পাঠ করা সবচেয়ে উপযোগী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো ইমাম বুখারী -রহিমাহুল্লাহ তাআলা- এর সহীহ গ্রন্থ থেকে ‘কিতাবুল ফিতান’ বা ‘ফিতনা অধ্যায়’।

 

ফিতনা প্রসঙ্গে ভূমিকা:

ফিতনা যেমনটি আপনাদের কাছে অস্পষ্ট নয়, তা এখন আমাদের সামনে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। যদিও তা আগেও ছিল, তবে এমন এক সময়ে এটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে যখন অন্যান্য জাতিসমূহ এই মুহাম্মদী উম্মতের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে।

 

ফিতনার সংজ্ঞা:
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢)
والفتن في الأصل: جمع فتنة، وهي الابتلاء والاختبار، الابتلاء والاختبار، يقولون: فتن الحداد أو الصائغ الذهب إذا أدخله في النار ليختبر جودته، والأمة الآن تفتتن وتمتحن وتختبر لينظر مدى تمسكها بدينها، الله سبحانه وتعالى يفتن ليختبر {وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ} [(35) سورة الأنبياء] {وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا} [(40) سورة طه] ويفتن ويختبر ويبتلي الخلق بعضهم ببعض، فالفاتن من الخلق بإذن الله عز وجل وإرادته ولا يخرج شيء عن إرادته آثم إن لم يتب، {إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ} [(10) سورة البروج].

والمفتون: المفتون الطرف الآخر، وهو الأمة الإسلامية في مثل هذه الظروف، الفتنة لها سبب وهو إدبارها عن دينها، إدبارها عن دينها هذا هو السبب، فتنا وابتلينا بأعدائنا، والنتيجة إن استفدنا من هذه الفتن، ورجعنا إلى ديننا صارت الفتنة خيراً لنا، وإن استمر بنا الغي والضلال صارت سوءاً على سوء، {وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ} [(35) سورة الأنبياء] ابتلينا سنين بل عقود في هذه البلاد وغيرها بالجوع والخوف والقتل والنهب، وثبت أكثر المسلمين على دينهم، فلم يتنازلوا لا عن دين ولا عرض، ثم ابتلوا بعد ذلك بالسراء ففتحت عليهم الدنيا التي خشيها النبي عليه الصلاة والسلام على أمته، ((والله لا الفقر أخشى عليكم، ولكن أخشى أن تفتح عليكم الدنيا كما فتحت على من قبلكم، فتنافسوها كما تنافسوها، فتهلككم كما أهلكتهم)) وهذا هو الحاصل، فتحت علينا الدنيا فحصل الخلل الكبير، الابتلاء بالشر، الابتلاء بضيق ذات اليد بالفقر يتجاوزه كثيرٌ من الناس، لكن الابتلاء بالسعة، وانفتاح الدنيا، والغنى هذا قل من يتجاوزه، ولذا حصل ما حصل من الخلل الكبير بعد أن فتحت علينا الدنيا، وهذا أمرٌ تشاهدونه، النعم كفرت على كافة المستويات إلا من رحمه الله، لو نظرنا إلى واقع عموم المسلمين -عامة الناس- وجدناهم لما فتحت عليهم الدنيا فرطوا في أمر الله عز وجل، وتنكبوا عن الجادة، وقل مثل هذا في بعض من ينتسب إلى العلم، وبعض من ينتسب إلى طلب العلم فضلاً عن علية القوم.
মূলত 'ফিতান' শব্দটি 'ফিতনাহ'-এর বহুবচন। এর অর্থ হলো পরীক্ষা ও যাচাই। তারা বলে থাকে: স্বর্ণকার বা কামার স্বর্ণকে আগুনে পুড়িয়ে পরীক্ষা করে যখন সে তার গুণগত মান যাচাই করার জন্য তা আগুনে প্রবেশ করায়। বর্তমানে উম্মাহও ফিতনা ও পরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছে যাতে দেখা যায় যে তারা তাদের দ্বীনের ওপর কতটুকু অবিচল রয়েছে। মহান আল্লাহ পরীক্ষা করার জন্যই ফিতনায় ফেলেন। "আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করি" [সূরা আল-আম্বিয়া: ৩৫]। "আমি তোমাকে বহু পরীক্ষার সম্মুখীন করেছি" [সূরা ত্বহা: ৪০]। তিনি তাঁর সৃষ্টির একাংশকে অপরাংশের মাধ্যমে ফিতনা, পরীক্ষা ও কষ্টের সম্মুখীন করেন। সুতরাং সৃষ্টির মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার অনুমতি ও ইচ্ছায় ফিতনা সৃষ্টি করে—আর তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছুই ঘটে না—সে যদি তাওবাহ না করে তবে সে পাপিষ্ঠ। "নিশ্চয়ই যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে পরীক্ষা (নির্যাতন) করেছে, অতঃপর তাওবাহ করেনি, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব" [সূরা আল-বুরুজ: ১০]।

আর 'মাফতুন' (পরীক্ষিত) হলো অপর পক্ষ, যা এই পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহ। এই ফিতনার একটি কারণ রয়েছে, আর তা হলো দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া। দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়াই মূল কারণ। আমরা আমাদের শত্রুদের দ্বারা ফিতনা ও পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি। এর ফলাফল হলো, যদি আমরা এই ফিতনাগুলো থেকে শিক্ষা নিই এবং আমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসি, তবে এই ফিতনা আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আর যদি আমাদের পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহি অব্যাহত থাকে, তবে তা মন্দের ওপর মন্দ বয়ে আনবে। "আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করি" [সূরা আল-আম্বিয়া: ৩৫]। আমরা বছরের পর বছর বরং কয়েক দশক ধরে এই ভূখণ্ডে ও অন্যান্য স্থানে ক্ষুধা, ভয়, হত্যা ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়েছি। অধিকাংশ মুসলিম তাদের দ্বীনের ওপর অটল ছিল; তারা তাদের দ্বীন এবং সম্ভ্রমের ক্ষেত্রে কোনো আপস করেনি। এরপর তারা সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যের মাধ্যমে পরীক্ষিত হলো এবং তাদের সামনে দুনিয়ার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য আশঙ্কা করেছিলেন। "আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের ওপর দারিদ্র্যের আশঙ্কা করি না, বরং আমি আশঙ্কা করি যে তোমাদের ওপর দুনিয়াকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর করা হয়েছিল। ফলে তোমরা তা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করবে যেমনিভাবে তারা করেছিল এবং তা তোমাদের ধ্বংস করে দেবে যেমনিভাবে তাদের ধ্বংস করেছিল।" আর বর্তমানে এটাই ঘটছে। আমাদের ওপর দুনিয়া উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং ফলে বড় ধরনের বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে। মন্দের মাধ্যমে পরীক্ষা অর্থাৎ অভাব-অনটন ও দারিদ্র্যের পরীক্ষা অনেকেই অতিক্রম করতে পারে, কিন্তু প্রাচুর্য, দুনিয়াদারির বিস্তার এবং ধনাঢ্যতার পরীক্ষা খুব কম মানুষই উত্তীর্ণ হতে পারে। এই কারণেই দুনিয়া আমাদের ওপর উন্মুক্ত হওয়ার পর বড় ধরনের যে বিচ্যুতি ঘটার তা ঘটেছে। আর এটি এমন এক বিষয় যা আপনারা প্রত্যক্ষ করছেন। আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া সর্বস্তরেই নেয়ামতের নাশুকরি করা হয়েছে। আমরা যদি সাধারণ মুসলিমদের—অর্থাৎ সাধারণ জনগণের—বাস্তব অবস্থার দিকে তাকাই, তবে দেখব যে যখনই দুনিয়া তাদের সামনে উন্মুক্ত হয়েছে, তখনই তারা মহান আল্লাহর নির্দেশ পালনে অবহেলা করেছে এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। যারা ইলমের সাথে সম্পৃক্ত এবং যারা ইলম অন্বেষণের সাথে সম্পৃক্ত, এমনকি সমাজের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٣)
ابتلينا فما شكرنا، ابتلينا بالضراء فصبرنا والحمد لله، وتجاوز أهل هذه البلاد وغيرهم من بلاد الإسلام تجاوزوا فتنة الضراء في عقودٍ مضت، ثم توالت عليهم النعم فلم يتجاوزوها، وتنكبوا عن الجادة، وبدلوا نعمة الله كفراً، هذا الواقع في كثيرٍ من بلدان المسلمين، {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُواْ نِعْمَةَ اللهِ كُفْرًا وَأَحَلُّواْ قَوْمَهُمْ دَارَ الْبَوَارِ} [(28) سورة إبراهيم] أحل البوار بكثيرٍ من أصحاب الأرض لا سيما في بلاد المسلمين، فنحن بحاجة إلى أن نرجع إلى ديننا، وأن نعتصم بكتاب ربنا ففيه المخرج من الفتن، فنلزم كتاب الله عز وجل قراءةً وحفظاً وتدبراً وفهماً وعملاً، علماً وعملاً، ففيه كل ما يحتاجه المسلم، ونقرأ عليه أو معه ما يعين على فهمه وتدبره، ومن خير ما يعين على فهم الكتاب الذي فيه المخرج من الفتن كلها ما صح عن النبي عليه الصلاة والسلام، ومن أصح ما صح عنه عليه الصلاة والسلام ما حواه هذا الكتاب العظيم الذي هو أصح الكتب بعد كتاب الله عز وجل، فمن المناسب ومن الاختيار الموفق أن يختار الإخوة المنظمون لهذه الدروس هذا الموضوع من هذا الكتاب العظيم، فلعلنا نوفق أن نكمل قراءة هذا الكتاب ومطالبه كثيرة جداً، بل لو سرنا على الطريقة المتبعة في شرح الصحيح لاحتاج إلى زمنٍ طويل جداً لا يكفيه، كتاب الفتن لا دورة ولا دورتين ولا ثلاث، ويحتاج إلى مزيدٍ من البسط، لكن المطلوب التسديد والمقاربة؛ لأن الزمن محدود، والكلام كثير في هذا الباب.

আমরা পরীক্ষায় নিপতিত হয়েছি কিন্তু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিনি। আমরা বিপদের মাধ্যমে পরীক্ষিত হয়েছি অতঃপর ধৈর্য ধারণ করেছি, আর সকল প্রশংসা আল্লাহর। এই ভূখণ্ডের এবং অন্যান্য মুসলিম জনপদের অধিবাসীগণ বিগত দশকগুলোতে বিপদের ফিতনা অতিক্রম করেছেন; এরপর তাদের ওপর একের পর এক নিয়ামত আসতে থাকে কিন্তু তারা তা সফলভাবে অতিক্রম করতে পারেননি। তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং আল্লাহর নিয়ামতকে অকৃতজ্ঞতায় রূপান্তর করেছেন। অনেক মুসলিম দেশের বাস্তবতা এটাই: {আপনি কি তাদের দেখেননি যারা আল্লাহর নিয়ামতকে অকৃতজ্ঞতায় পরিবর্তন করেছে এবং নিজ কওমকে ধ্বংসের আবাসে নামিয়ে এনেছে?} [সূরা ইবরাহীম: ২৮]। পৃথিবীর অনেক জনপদে বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে ধ্বংস নেমে এসেছে। তাই আমাদের প্রয়োজন আমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসা এবং আমাদের প্রতিপালকের কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা, কারণ এর মধ্যেই রয়েছে ফিতনা থেকে উত্তরণের পথ। সুতরাং আমাদের আল্লাহর কিতাবকে পাঠ, মুখস্থকরণ, অনুধাবন ও আমলের মাধ্যমে—অর্থাৎ জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে—আঁকড়ে ধরা আবশ্যক। এতে একজন মুসলিমের প্রয়োজনীয় সব কিছুই বিদ্যমান। আমরা এই কিতাবটি বোঝার ও তা নিয়ে চিন্তা করার সুবিধার্থে এর পাশাপাশি এমন কিছু পাঠ করব যা একে বুঝতে সাহায্য করে। আর ফিতনা থেকে উত্তরণের উপায় সম্বলিত এই কিতাবটি বোঝার জন্য সবচেয়ে উত্তম সহায়ক হলো নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) থেকে যা বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর নবী (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধতম বিষয়গুলোই এই মহান কিতাবটি ধারণ করেছে, যা আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ কিতাব। অতএব, এই পাঠচক্রের আয়োজক ভাইদের পক্ষ থেকে এই মহান কিতাব থেকে এই বিষয়টি নির্বাচন করা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সঠিক একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্ভবত আমরা এই কিতাবটি পাঠ সম্পন্ন করার তৌফিক লাভ করব, যদিও এর ব্যাপ্তি অনেক বিশাল। প্রকৃতপক্ষে, আমরা যদি সহীহ-এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অনুসৃত পদ্ধতি অবলম্বন করি, তবে এর জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে যা সংকুলান হবে না। ফিতনা অধ্যায়টি এক, দুই বা তিনটি অধিবেশনে শেষ করার মতো নয়, এটি আরও বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। তবে বর্তমানে যতটুকু সম্ভব সঠিক ও মূল বিষয়ের কাছাকাছি থাকাই কাম্য; কারণ সময় সীমিত অথচ এই অধ্যায়ে আলোচনার বিষয়বস্তু অনেক।

(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٤)
ومن الفتنة أن يفتن الناس بالأخبار الموضوعة والواهية والإشاعات وترتب عليها أحكام هذه فتنة، أن يتعلق الناس بالأخبار الضعيفة والموضوعة والرؤى والمنامات والتحليلات التي لا تبنى على أساس شرعي ثم ترتب عليها مصاير كما هو الواقع الآن، فعلينا أن نراجع أنفسنا في مثل هذه الظروف تطلب النجاة، والنجاة بالاعتصام بالكتاب والسنة، والإقبال على الله عز وجل بالعبادات الخاصة والعامة، اللازمة والمتعدية، على الإنسان لا سيما من ينتسب إلى العلم وطلبه أن يصدق اللجأ إلى الله عز وجل، فيكثر من النوافل، ويكثر من قراءة القرآن، من تدبره، من تفهم معانيه، من قراءة الكتب الموثوقة في التفسير ليستفيد من قراءته، ويقبل أيضاً على العبادات اللازمة مثل الإكثار من التطوعات من الصلوات والصيام وبر الوالدين وصلة الأرحام، والنفع الخاص والعام، يحرص على صلاح نفسه وصلاح من تحت يده في بيته في مسجده في حيه في مدرسته، بهذا تنجو هذه الأمة من هذا المأزق والمنحنى والمنعطف الخطير الذي تمر به، فكما أخبر النبي عليه الصلاة والسلام: ((يوشك أن تداعى عليكم الأمم)) تداعت الأمم الآن، لكن ما المخرج؟ المخرج فيما أثر عنه عليه الصلاة والسلام من ملازمة كتاب الله عز وجل، ومما أشرنا إليه من قراءة ما يعين على فهم كتاب الله عز وجل، والله المستعان.

 

‌‌شرح كتاب الفتن: ما جاء في قول الله تعالى: {وَاتَّقُواْ فِتْنَةً لَاّ تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنكُمْ خَآصَّةً}:

الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

اللهم علمنا ما ينفعنا، وانفعنا وارفعنا بما علمتنا، واغفر لنا ولشيخنا والسامعين برحمتك يا أرحم الراحمين.

قال الإمام أبو عبد الله البخاري -رحمه الله تعالى- في صحيحه:

كتاب الفتن.

ما جاء في قول الله تعالى: {وَاتَّقُواْ فِتْنَةً لَاّ تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنكُمْ خَآصَّةً} [(25) سورة الأنفال] وما كان النبي صلى الله عليه وسلم يحذر من الفتن.

حدثنا علي بن عبد الله قال: حدثنا بشر بن السرّي …

السري السري بتخفيف الراء.
ফেতনার একটি প্রকার হলো বানোয়াট ও ভিত্তিহীন খবর এবং গুজবের মাধ্যমে মানুষের ফেতনায় পতিত হওয়া এবং এর ওপর ভিত্তি করে বিধানারোপ করা; এটি একটি ফেতনা। মানুষ যখন দুর্বল ও বানোয়াট সংবাদ, স্বপ্ন এবং এমন সব বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করে যার কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই এবং তার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ ও পরিণতি নির্ধারণ করে—যেমনটি বর্তমানে ঘটছে। সুতরাং এ ধরণের পরিস্থিতিতে আমাদের নিজেদের পর্যালোচনা করা উচিত যাতে মুক্তি লাভ করা যায়। আর মুক্তি নিহিত রয়েছে কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক, আত্মিক ও কল্যাণমূলক ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার দিকে ধাবিত হওয়ার মধ্যে। বিশেষ করে যারা ইলমের সাথে সম্পৃক্ত এবং ইলম অন্বেষণকারী, তাদের উচিত আল্লাহর কাছে একনিষ্ঠভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করা। তাই তারা যেন অধিকহারে নফল ইবাদত করে, অধিক কুরআন তিলাওয়াত করে, তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে, এর অর্থ অনুধাবন করে এবং নির্ভরযোগ্য তাফসির গ্রন্থগুলো অধ্যয়ন করে যাতে তারা পাঠ থেকে উপকৃত হতে পারে। এছাড়াও আবশ্যকীয় ইবাদতগুলোর প্রতি যত্নবান হওয়া, যেমন অধিকহারে নফল সালাত, সিয়াম, পিতা-মাতার সেবা, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা এবং ব্যক্তিগত ও জনকল্যাণমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করা। সে যেন নিজের সংশোধন এবং তার অধীনে যারা আছে—যেমন পরিবারে, মসজিদে, এলাকায় বা মাদরাসায়—তাদের সংশোধনের ব্যাপারে আগ্রহী হয়। এভাবেই এই উম্মত বর্তমানের এই সংকটময় পরিস্থিতি এবং বিপজ্জনক বাঁক থেকে মুক্তি পাবে যার মধ্য দিয়ে তারা অতিবাহিত করছে। যেমনটি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম সংবাদ দিয়েছেন: "শীঘ্রই জাতিসমূহ তোমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।" বর্তমানে জাতিসমূহ ঝাঁপিয়ে পড়েছে, কিন্তু এর থেকে উত্তরণের পথ কী? উত্তরণের পথ হলো নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে—আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরা এবং যেমনটি আমি ইঙ্গিত করেছি যে, আল্লাহর কিতাব বুঝতে সাহায্য করে এমন কিতাবসমূহ পাঠ করা। আর আল্লাহই সাহায্যকারী।

 

‌‌কিতাবুল ফিতান (ফেতনা অধ্যায়) এর ব্যাখ্যা: আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে: {আর তোমরা সেই ফেতনাকে ভয় করো যা তোমাদের মধ্যে কেবল জালিমদেরই বিশেষভাবে আক্রান্ত করবে না}:

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।

হে আল্লাহ, আমাদের এমন জ্ঞান দান করুন যা আমাদের উপকারে আসবে, আর আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দিয়ে আমাদের উপকৃত করুন ও আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। হে পরম দয়ালু, আপনার রহমতের উসিলায় আমাদের, আমাদের শায়খকে এবং শ্রোতাদের ক্ষমা করুন।

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন- তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন:

ফেতনা অধ্যায়।

আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তোমরা সেই ফেতনাকে ভয় করো যা তোমাদের মধ্যে কেবল জালিমদেরই বিশেষভাবে আক্রান্ত করবে না} [সুরা আল-আনফাল: ২৫] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফেতনা সম্পর্কে যে সতর্কবাণী প্রদান করেছেন সে সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।

আলী ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর ইবনুল সাররি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ...

আস-সাররি, এখানে 'রা' বর্ণটি হালকাভাবে (তাশদিদ ছাড়া) উচ্চারিত হবে।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٥)
السري قال: حدثنا نافع بن عمر عن ابن أبي مليكة قال: قالت أسماء عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((أنا على حوضي أنتظر من يرد علي، فيؤخذ بناس من دوني فأقول: أمتي، فيقول: لا تدري مشوا على القهقرى)) قال ابن أبي مليكة: "اللهم إنا نعوذ بك أن نرجع على أعقابنا، أو أن نفتن".

حدثنا موسى بن إسماعيل قال: حدثنا أبو عوانة عن مغيرة عن أبي وائل قال: قال عبد الله: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((أنا فرطكم على الحوض، ليرفعن إليّ رجال منكم حتى إذا أهويت لأناولهم اختلجوا دوني، فأقول: أي ربِ أصحابي، يقول: لا تدري ما أحدثوا بعدك)).

حدثنا يحيى بن بكير قال: حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن عن أبي حازم قال: سمعت سهل بن سعد يقول: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((أنا فرطكم على الحوض، من ورده شرب منه، ومن شرب منه لم يظمأ بعده أبداً، ليرد علي أقوام أعرفهم ويعرفوني ثم يحال بيني وبينهم)) قال أبو حازم: فسمعني النعمان بن أبي عياش وأنا أحدثهم هذا فقال: هكذا سمعت سهلاً؟ فقلت: نعم، قال: وأنا أشهد على أبي سعيد الخدري رضي الله عنه لسمعته يزيد فيه قال: ((إنهم مني، فيقال: إنك لا تدري ما بدلوا بعدك، فأقول: سحقاً سحقاً لمن بدل بعدي)).

يقول الإمام -رحمه الله تعالى-: "كتاب الفتن"
আস-সারী বলেন: নাফি বিন উমর ইবনে আবি মুলাইকা থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আসমা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমি আমার হাউজের নিকট অবস্থান করব এবং যারা আমার নিকট আসবে তাদের জন্য অপেক্ষা করব। কিন্তু আমার কাছে পৌঁছানোর আগেই কিছু লোককে সরিয়ে নেওয়া হবে। তখন আমি বলব: 'আমার উম্মত!' তখন বলা হবে: 'আপনি জানেন না, তারা পিছনের দিকে ফিরে গিয়েছিল'।" ইবনে আবি মুলাইকা বলেন: "হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে আশ্রয় চাই যেন আমরা আমাদের পেছনের দিকে ফিরে না যাই অথবা ফিতনায় না পড়ি।"

মুসা ইবনে ইসমাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানাহ মুগীরা থেকে আবু ওয়ায়েল সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি হাউজের পাড়ে তোমাদের অগ্রগামী হব। তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোককে অবশ্যই আমার সামনে উপস্থিত করা হবে, এরপর যখন আমি তাদের কিছু দেওয়ার জন্য ঝুঁকব, তখন তাদের আমার সামনে থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে। তখন আমি বলব: 'হে আমার প্রতিপালক! এরা তো আমার সাথী।' তিনি বলবেন: 'আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী নতুন উদ্ভাবন করেছিল'।"

ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াকুব বিন আব্দুর রহমান আবু হাযিম থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সাহল বিন সাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমি হাউজের পাড়ে তোমাদের অগ্রগামী হব। যে ব্যক্তি সেখানে আসবে সে পানি পান করবে এবং যে একবার পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। অবশ্যই আমার নিকট এমন কিছু দল আসবে যাদের আমি চিনি এবং তারাও আমাকে চেনে। এরপর আমার ও তাদের মাঝে আড়াল তৈরি করে দেওয়া হবে।" আবু হাযিম বলেন: আমি যখন তাদের কাছে এই হাদিসটি বর্ণনা করছিলাম তখন নুমান বিন আবি আয়্যাশ তা শুনলেন এবং বললেন: "তুমি কি সাহলকে এভাবেই বলতে শুনেছ?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "আর আমি আবু সাঈদ খুদরী (রা.)-এর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তাকে হাদিসটিতে এই অতিরিক্ত অংশটুকু বলতে শুনেছি যে, তিনি বলবেন: 'তারা আমারই লোক।' তখন বলা হবে: 'আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী পরিবর্তন করেছিল।' তখন আমি বলব: 'দূর হও, দূর হও ওই ব্যক্তি যে আমার পরে পরিবর্তন করেছে'।"

ইমাম —আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— বলেন: "ফিতনা অধ্যায়"
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٦)
تقدم تعريف الفتن، وأنه الابتلاء والاختبار والامتحان، وأنه يكون بالخير وبالشر، ومن الفتن الفتن الكبرى المضلة التي يستعاذ منها، ومنها: الفتن التي لا ينفك عنها أحد التي تصرف الإنسان عن مقصده، فهو مأمورٌ بمجاهدتها {إِنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ} [(15) سورة التغابن] يعني يشغلونكم عما يرضي الله عز وجل، والإنبجانية والكساء المخطط كادت أن تفتن النبي عليه الصلاة والسلام في صلاته، يعني تشغله عنها، فكل ما يشغل عما يرضي الله عز وجل فتنة، لكنها متفاوتة، والحياة صراع وجهاد، إزاء هذه الفتن على المسلم أن يقاوم بقدر الإمكان، هناك فتن ظاهرة، وهناك فتن باطنة، وهناك فتن كبرى مضلة، وهناك فتن يسيرة لا ينفك منها أحد، وكل هذا ليظهر مدى امتثال المكلف ومدى ارتباطه وتعلقه بربه عز وجل، وهذا الصراع رتب عليه الثواب العظيم، من استسلم ولم يقاوم وضل وفتن هذا مآله معروف، لكن من قاوم تعرض للفتن وقاوم واستفاد منها فيما يرضي الله عز وجل، وخرج منها ظافراً متغلباً على هوى نفسه والشيطان، متغلباً على عدوه من شياطين الإنس والجن إن هذا لا شك أنه ممن أراد الله به خيراً ولو تعرض للفتن، وهذه الفتن إذا وقعت تقاوم، ولا ينبغي للإنسان أن يتمنى وقوع هذه الفتن ليقاوم لا، يعني من باب تمني لقاء العدو، وما يدريك لعلك تخفق، لعلك تفتن، ولا تستطيع أن تقاوم هذه الفتن، لكن إذا حصلت فعليك بالمجاهدة والمصابرة حتى تخرج منها ظافراً بما يرضي الله عز وجل.

كتاب الفتن:

بسم الله الرحمن الرحيم

بالتقديم والتأخير بعض الروايات كما في رواية أبي ذر: "كتاب الفتن، بسم الله الرحمن الرحيم"، وفي رواية ابن عساكر: "بسم الله الرحمن الرحيم: كتاب الفتن"، وهذا يوجد في كثير من الكتب التقديم والتأخير هذا، ولكلٍ وجهه، إذا قدمت البسملة -كما هو الأصل- تكون شاملة للكتاب للترجمة ولما تحته، فهي مقدمة عليه، مبدوءٌ بها، وإذا قدمت الترجمة على البسملة صارت الترجمة بمثابة تسمية السورة، والبسملة بعدها، ولذا يوجد التقديم والتأخير في كثيرٍ من الأبواب.
ফিতনার সংজ্ঞা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এটি হলো পরীক্ষা, যাচাই এবং কষ্টিপাথর; এবং এটি কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয় মাধ্যমে হতে পারে। ফিতনাসমূহের মধ্যে রয়েছে বিভ্রান্তিকর বড় বড় ফিতনা যা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়। আবার এমন ফিতনাও রয়েছে যা থেকে কেউ মুক্ত নয়, যা মানুষকে তার উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত করে দেয়; তাই সে এগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই বা মুজাহাদা করতে আদিষ্ট। {নিশ্চয়ই তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি একটি ফিতনা} [সূরা আত-তাগাবুন: ১৫], অর্থাৎ তারা তোমাদেরকে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিমূলক কাজ থেকে বিমুখ করে দেয়। আম্বিজানিয়া (এক প্রকার পশমী বস্ত্র) ও নকশা করা চাদর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর সালাতের মধ্যে প্রায় ফিতনায় ফেলে দিয়েছিল, অর্থাৎ তা তাঁকে সালাত থেকে বিমুখ করে দিচ্ছিল। সুতরাং আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে বিমুখ করে এমন প্রতিটি বিষয়ই ফিতনা, তবে এগুলোর স্তরে ভিন্নতা রয়েছে। জীবন হলো সংগ্রাম ও সাধনা; এসব ফিতনার মুখে একজন মুসলিমের উচিত সাধ্যমতো প্রতিরোধ করা। কিছু ফিতনা প্রকাশ্য, কিছু গোপন, কিছু বিভ্রান্তিকর বড় ফিতনা, আবার কিছু সামান্য ফিতনা যা থেকে কেউ রেহাই পায় না। এই সব কিছুই শরীয়তের বিধান পালনে আদিষ্ট ব্যক্তির আনুগত্যের মাত্রা এবং তার রবের সাথে তার সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্টতার গভীরতা প্রকাশের জন্য। এই সংগ্রামের ওপরই মহান সওয়াব নির্ধারিত রাখা হয়েছে। যে ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করল, প্রতিরোধ করল না এবং বিভ্রান্ত ও ফিতনাগ্রস্ত হলো, তার পরিণাম তো জানাই আছে। কিন্তু যে ব্যক্তি ফিতনার সম্মুখীন হয়েও তা প্রতিরোধ করল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করল, আর নিজের প্রবৃত্তি ও শয়তানের ওপর বিজয়ী হয়ে এবং মানুষ ও জিন শয়তানরূপী শত্রুদের পরাস্ত করে সফলভাবে বেরিয়ে এল—নিঃসন্দেহে সে এমন ব্যক্তি যার জন্য আল্লাহ কল্যাণ চেয়েছেন, যদিও সে ফিতনার সম্মুখীন হয়েছে। আর ফিতনা যখন আপতিত হয় তখন তা প্রতিরোধ করতে হয়। তবে মানুষের উচিত নয় প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে এসব ফিতনার আকাঙ্ক্ষা করা; না, এটি শত্রু সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা করার মতো। তুমি কী জানো, সম্ভবত তুমি ব্যর্থ হতে পারো, ফিতনায় পড়ে যেতে পারো এবং এসব ফিতনা প্রতিরোধ করতে সক্ষম না-ও হতে পারো। তবে যদি তা ঘটে যায়, তবে তোমার ওপর আবশ্যক হলো মুজাহাদা ও ধৈর্য ধারণ করা, যাতে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি নিয়ে সফলভাবে তা থেকে উত্তীর্ণ হতে পারো।

ফিতনা অধ্যায়:

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে

কোনো কোনো বর্ণনায় আগে-পিছে করার বিষয়টি এসেছে, যেমন আবু যর-এর বর্ণনায় রয়েছে: "ফিতনা অধ্যায়, পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে"। আবার ইবনে আসাকিরের বর্ণনায় রয়েছে: "পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে: ফিতনা অধ্যায়"। অনেক গ্রন্থেই এই আগে-পিছে করার বিষয়টি পাওয়া যায় এবং প্রত্যেকটিরই যৌক্তিক দিক রয়েছে। যদি বিসমিল্লাহ আগে আনা হয়—যেমনটি মূল নিয়ম—তবে তা পুরো অধ্যায়, শিরোনাম এবং তার নিচের বিষয়বস্তুকে শামিল করে; কারণ এটি শুরুতে থাকে এবং এটি দিয়ে শুরু করা হয়। আর যদি বিসমিল্লাহর আগে শিরোনাম আনা হয়, তবে শিরোনামটি সূরার নামকরণের মতো হয়ে যায় এবং বিসমিল্লাহ আসে তার পরে। একারণেই অনেক অধ্যায়ে এই আগে-পিছে হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٧)
"ما جاء في قول الله تعالى" وعند أبي ذر: "باب: ما جاء في قول الله تعالى: {وَاتَّقُواْ فِتْنَةً لَاّ تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنكُمْ خَآصَّةً} [(25) سورة الأنفال] " ونحن في شرح مثل هذا الباب التي ينبغي أن تكون القلوب مرتبطة بكلام النبي عليه الصلاة والسلام لا نطيل في مثل هذه الأمور، لا نطيل في ذكر فروق النسخ والروايات، كما أننا لا نذكر إلا ما تمس الحاجة إليه مما يتعلق بالأسانيد؛ لأنها تقطع تسلسل الارتباط بكلام المصطفى عليه الصلاة والسلام الذي هو المقصود الأعظم، لكن في الأبواب الأخرى، الأبواب العملية ما نترك شيء مما يتعلق بالروايات أو بلطائف الإسناد أو كل ما يتعلق بالحديث سواءً كان في متنه أو في إسناده نتعرض له بقدر الإمكان، بقدر الحاجة، لكن في مثل هذه الأبواب يهمنا بالدرجة الأولى كلام الإمام البخاري -رحمه الله تعالى- في التراجم، وما يردفه به من آثار، ثم بعد ذلك ندخل إلى المقصد الأعظم، وهو كلام النبي عليه الصلاة والسلام.

“আল্লাহ তাআলার বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে।” এবং আবু যর-এর বর্ণনায় রয়েছে: “অধ্যায়: আল্লাহ তাআলার বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে: {আর তোমরা সেই ফিতনাকে ভয় করো যা তোমাদের মধ্য থেকে কেবল যালিমদেরই বিশেষভাবে গ্রাস করবে না} [(২৫) সূরা আল-আনফাল]।” আমরা এই ধরণের অধ্যায়ের ব্যাখ্যায়—যেখানে হৃদয়সমূহ নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বাণীর সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত—এই জাতীয় বিষয়গুলোতে দীর্ঘ আলোচনা করব না। আমরা পাণ্ডুলিপির পার্থক্য এবং বর্ণনার ভিন্নতা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা করব না, যেমনটি আমরা সনদ সংক্রান্ত বিষয়গুলোর মধ্যে কেবল অতি প্রয়োজনীয় অংশ ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করি না; কারণ এগুলো মুস্তাফা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বাণীর সাথে সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যা আমাদের মহান উদ্দেশ্য। তবে অন্যান্য অধ্যায়ে, অর্থাৎ আমলি বা ব্যবহারিক অধ্যায়গুলোতে আমরা বর্ণনাসমূহ বা সনদের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ অথবা হাদীস সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুই বাদ দিই না, তা হাদীসের মূল পাঠ (মতন) বা সনদ যা নিয়েই হোক না কেন; যতটুকু সম্ভব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা তা আলোচনা করি। কিন্তু এই ধরণের অধ্যায়গুলোতে আমাদের নিকট প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনুচ্ছেদগুলোর শিরোনামে ইমাম বুখারী (রহিমানুল্লাহ তাআলা)-এর কথা এবং এর সাথে তিনি যে আছারসমূহ সংযুক্ত করেছেন তা। অতঃপর আমরা মহান উদ্দেশ্যের দিকে প্রবেশ করি, আর তা হলো নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বাণী।

(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٨)
ما جاء في قول الله تعالى: {وَاتَّقُواْ فِتْنَةً لَاّ تُصِيبَنَّ الَّذِينَ ظَلَمُواْ مِنكُمْ خَآصَّةً} [(25) سورة الأنفال] اتقوا: يعني اجعلوا بينكم وبين ما ذكر وقاية، اتقوا فتنةً لا تصيبن الذين ظلموا منكم خاصة، بل تعم الصالح والطالح، المباشر للمعصية، المتركب لها، والراضي بها، والتارك لإنكارها وتغييرها مع قدرته على ذلك، فالفتنة إذا نزلت عمت، في مثل هذه الظروف التي تتحدث عنها الآية، اتقوا فتنةً لا تصيبن الذين ظلموا منكم خاصة، بل تعم من ارتكب الذنب، ومن علم به ورضي بفعله، أو علم به ولم ينكر عليه مع القدرة على الإنكار تعمه، وهذه نتيجة المداهنة وإقرار المنكر، وافتراق الكلمة بحيث تعم الشرور والمعاصي والمنكرات، ويتقاعس الناس، ويتواكلون في إنكارها، تجد الإنسان يمر بشخصٍ يرتكب منكر أو يترك واجب ويتركه، اعتماداً على أنه كلف بهذا الأمر من كلف من قبل ولي الأمر ولسنا بمسئولين، أنت مسئول، مكلف من قبل الله عز وجل، ((من رأى منكم منكراً فليغيره بيده، فإن لم يستطع فبلسانه، فإن لم يستطع … )) خشي من الضرر إذا نطق بالإنكار ينكر بقلبه، ولا يسع أحداً يمر بمنكر مهما كان فاعله ولا ينكر عليه، وما وصل الأمر إلى ما وصل إليه مما نعيشه من ظروف وتعيشه الأمة في سائر الأقطار من انتشار المنكرات مع ضعف في الإنكار إن وجد إلا ضريبة تواكل سنين، تجد الأخيار ينكرون بلا شك والإنكار موجود لكنه ليس على المستوى المطلوب لمقاومة هذه السيول الجارفة من المنكرات التي قصد بها من قبل الأعداء إفساد هذه الأمة؛ لأنها إذا فسدت وفشت فيها المنكرات سهل الاستيلاء عليها، سهل الاستيلاء عليها بعد أن ذلت لذل المعاصي المنكرات، جاء الوعيد الشديد في ترك الإنكار، وإذا ترك صاحب المنكر فإن المصيبة والكارثة تعم صاحبها ومن سكت ومن أقره، وسبب لعن بني إسرائيل أنهم إيش؟ {كَانُواْ لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ} [(79) سورة المائدة] قد يصل الأمر إلى حد اليأس في زوال المنكر، فيقول الإنسان: ما الفائدة في كوني أنكر مع أن صاحب المنكر لا يرتدع ولا يرعوي؟ نقول: عليك أن تبذل السبب، وتمتثل الأمر، وتفعل ما أمرت به، والنتائج بيد الله -عز
মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে যা এসেছে: "আর তোমরা সেই ফিতনাকে (বিপর্যয়কে) ভয় করো, যা তোমাদের মধ্যে কেবল তাদেরকেই পাকড়াও করবে না যারা অন্যায় করেছে।" [সূরা আল-আনফাল: ২৫] 'তোমরা ভয় করো' অর্থাৎ: তোমাদের মাঝে এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তার মাঝে একটি সুরক্ষা বা আড়াল তৈরি করো। তোমরা এমন ফিতনাকে ভয় করো যা কেবল তোমাদের মধ্যে যালিমদেরই আক্রান্ত করবে না, বরং তা নেককার এবং পাপিষ্ঠ উভয়কেই গ্রাস করবে—চাই সে সরাসরি পাপে লিপ্ত হোক, পাপ সংঘটনকারী হোক, তাতে সন্তুষ্ট থাকুক, কিংবা সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তা প্রতিবাদ ও পরিবর্তন করতে বিমুখ হোক। সুতরাং ফিতনা যখন অবতীর্ণ হয় তখন তা ব্যাপক আকার ধারণ করে, আয়াতটি ঠিক এ ধরনের পরিস্থিতির কথাই বলছে। তোমরা এমন ফিতনাকে ভয় করো যা কেবল তোমাদের মধ্যকার যালিমদের পাকড়াও করবে না, বরং যে ব্যক্তি গুনাহ করেছে, যে ব্যক্তি সে সম্পর্কে জেনেও তাতে সন্তুষ্ট ছিল, অথবা যে ব্যক্তি প্রতিবাদ করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিবাদ করেনি—তা তাদের সকলকেই গ্রাস করবে। আর এটি হলো সত্য গোপন করা বা অন্যায়ের প্রতি আপসকামিতা (মুদাহানাহ), মন্দ কাজকে মৌন স্বীকৃতি দেওয়া এবং অনৈক্যের ফল, যার ফলে মন্দকর্ম, অবাধ্যতা ও পাপাচার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করার ক্ষেত্রে অলসতা ও অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা প্রদর্শন করে। আপনি দেখবেন একজন মানুষ কোনো ব্যক্তিকে অপকর্ম করতে বা কোনো ওয়াজিব বর্জন করতে দেখেও তাকে ছেড়ে দিচ্ছে; এই ভরসায় যে, কর্তৃপক্ষ যাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে এটি কেবল তারই কাজ এবং আমরা এর জন্য দায়ী নই। অথচ আপনি দায়ী, আপনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট। "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় দেখে তবে সে যেন তা নিজের হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়, যদি সে সামর্থ্য না রাখে তবে যেন নিজের মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করে, আর যদি সে সামর্থ্য না রাখে …" সে যদি প্রতিবাদের কথা বললে ক্ষতির আশঙ্কা করে তবে সে যেন অন্তর দিয়ে তা ঘৃণা করে। কোনো ব্যক্তির পক্ষেই কোনো অন্যায়ের পাশ দিয়ে যাওয়া এবং তা প্রতিবাদ না করা সমীচীন নয়, চাই সেই অন্যায়ের কর্তা যেই হোক না কেন। আজ আমরা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলিম উম্মাহ যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—অর্থাৎ অন্যায়ের বিস্তার এবং সেই তুলনায় প্রতিবাদের চরম দুর্বলতা—তা দীর্ঘ বছরের অবহেলারই পরিণাম। আপনি দেখবেন পুণ্যবান ব্যক্তিরা নিঃসন্দেহে প্রতিবাদ করছেন এবং প্রতিবাদ বিদ্যমান রয়েছে, তবে তা এই পাপাচারের প্রবল স্রোতকে প্রতিহত করার জন্য কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। শত্রুরা এই পাপাচারের স্রোত পরিকল্পিতভাবে উম্মাহর মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে তাদের ধ্বংস করার জন্য; কারণ যখন একটি জাতি পাপে লিপ্ত হয় এবং সেখানে অন্যায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা সহজ হয়ে যায়। পাপ ও অন্যায়ের লাঞ্ছনায় তারা যখন হীনবল হয়ে পড়ে, তখন তাদের পরাভূত করা সহজ হয়। অন্যায়ের প্রতিবাদ বর্জনের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি এসেছে। আর যখন অন্যায়কারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন বিপদ ও বিপর্যয় সেই অন্যায়কারী এবং যারা নীরব ছিল ও যারা তাতে সম্মতি দিয়েছিল তাদের সকলকেই গ্রাস করে। বনী ইসরাঈল অভিশপ্ত হওয়ার কারণ কী ছিল? "তারা যেসব মন্দ কাজ করত তা হতে একে অন্যকে বারণ করত না।" [সূরা আল-মায়িদাহ: ৭৯] পাপাচার দূর হওয়ার বিষয়ে পরিস্থিতি কখনো কখনো হতাশার পর্যায়ে পৌঁছে যেতে পারে, তখন মানুষ বলতে থাকে: আমার প্রতিবাদ করে লাভ কী, যখন অন্যায়কারী বিরত হচ্ছে না বা কর্ণপাত করছে না? আমরা বলি: আপনার কাজ হলো প্রচেষ্টা চালানো, নির্দেশ পালন করা এবং আপনাকে যা করতে বলা হয়েছে তা সম্পন্ন করা। আর ফলাফল মহান আল্লাহর হাতে।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٩)
وجل-، {وَإِذَ قَالَتْ أُمَّةٌ مِّنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا اللهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا قَالُواْ مَعْذِرَةً إِلَى رَبِّكُمْ} [(164) سورة الأعراف] معذرة يا أخي، أقل الأحوال براءة ذمتك، أنت قمت بما أوجب الله عليك، وقد يدفع الله سبحانه وتعالى بهذا الإنكار -ولو كان ضعيفاً- ما يدفع من ضرائب التواطؤ على السكوت ولو كان ضعيفاً، وليس الأمر خاصاً برجال الحسبة، نعم عليهم المسئولية الأولى والكبرى؛ لأنهم تضاعف عليهم الأمر لتكليفهم من قبل الله عز وجل، وبتكليفهم من قبل ولي الأمر، وبأخذهم الأجرة على ذلك، ولكن هذا لا يعفي غيرهم من الإنكار، فالكل مكلفٌ بالأمر والنهي.

روى الإمام أحمد في مسنده بسندٍ لا بأس به من حديث عدي بن عميرة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((إن الله لا يعذب العامة بعمل الخاصة حتى يروا المنكر بين ظهرانيهم وهم قادرون على أن ينكروه فلا ينكروه، فإذا فعلوا ذلك عذب الله العامة والخاصة)) ما دام الإنكار موجوداً فالأمان -بإذن الله- موجود، ولا ننكر أن هناك فئة مكلفة من قبل ولي الأمر بالأمر والنهي وتقوم بما أوجب الله عليها، لكنها أقل من المستوى المطلوب في مقاومة ما يزج به العدو من منكرات غزت البيوت والمحافل والمجتمعات، فالمسألة تحتاج إلى تظافر جهود في إنكار المنكر باليد، وهذا لولي الأمر أو من خوله ولي الأمر، وباللسان بالحكمة والكلمة الطيبة بالرفق واللين، وبهذا يرفع الله سبحانه وتعالى عنا ما كتب على غيرنا من الأمم، سنة إلهية، سنن إلهية {وَلَن تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلًا} [(62) سورة الأحزاب] إذا عمت المعاصي وكثرت، واستمرأها الخاص والعام، وعاشوا عليها، وتواطئوا عن السكوت عن إنكارها عمهم الله بعذاب، بالعقوبة.
—মহিমান্বিত ও গরীয়ান— {আর যখন তাদের মধ্য থেকে একটি দল বলেছিল, ‘আপনারা কেন এমন সম্প্রদায়কে উপদেশ দিচ্ছেন যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করে দেবেন অথবা কঠোর আযাব দেবেন?’ তারা বলল, ‘আপনাদের রবের নিকট ওজর পেশ করার জন্য’} [(১৬৪) সূরা আল-আ’রাফ]। হে আমার ভাই, এটি তো ওজর পেশ করা। সর্বনিম্ন অবস্থা হলো আপনার দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া; আল্লাহ আপনার ওপর যা আবশ্যক করেছেন আপনি তা পালন করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই আপত্তির মাধ্যমে—তা দুর্বল হলেও—চুপ থাকার মাধ্যমে মৌন সম্মতির যে দায়ভার তৈরি হয় তা প্রতিহত করতে পারেন, যদিও তা (আপত্তি) দুর্বল হয়। আর এই বিষয়টি কেবল ‘হিসবা’ কর্মীদের (সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকারী বিভাগ) জন্য নির্দিষ্ট নয়। হ্যাঁ, তাদের ওপর প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব; কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কর্তৃক অর্পিত দায়িত্বের কারণে তাদের ওপর এই নির্দেশ দ্বিগুণ হয়েছে, এছাড়া রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়া এবং এর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণের কারণেও। কিন্তু এটি অন্যদের এই আপত্তি জানানোর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় না। বরং প্রত্যেকেই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিষয়ে আদিষ্ট।

ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে একটি গ্রহণযোগ্য সনদে আদী বিন আমীরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((নিশ্চয়ই আল্লাহ সাধারণ জনগণকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কর্মের কারণে আযাব দেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের মাঝে প্রকাশ্যভাবে সংঘটিত অপকর্ম দেখতে পায় এবং তা প্রতিহত করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তারা তা প্রতিহত না করে। যখন তারা এমনটি করে, তখন আল্লাহ সাধারণ ও বিশেষ সকলকেই আযাব দেন))। যতক্ষণ পর্যন্ত এই প্রতিবাদ বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ—আল্লাহর ইচ্ছায়—নিরাপত্তা বিদ্যমান থাকবে। আমরা এটি অস্বীকার করছি না যে, রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষ থেকে আদেশ ও নিষেধ করার জন্য একটি দল নিয়োজিত আছে এবং তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু ঘরবাড়ি, সভা-সমাবেশ ও সমাজগুলোতে শত্রুরা যে সকল অপকর্ম ঢুকিয়ে দিচ্ছে, তা প্রতিহত করার জন্য এটি প্রয়োজনীয় স্তরের চেয়ে কম। সুতরাং বিষয়টি হাত দিয়ে অপকর্ম প্রতিহত করার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার মুখাপেক্ষী—আর এটি রাষ্ট্রপ্রধান বা যার কাছে রাষ্ট্রপ্রধান ক্ষমতা অর্পণ করেছেন তার জন্য—এবং প্রজ্ঞা, উত্তম কথা ও নম্রতার সাথে মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করার মাধ্যমে। এর মাধ্যমেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের থেকে তা সরিয়ে নেবেন যা অন্যান্য উম্মতের ওপর নির্ধারিত করেছিলেন। এটি ইলাহি নিয়ম, আল্লাহর সুন্নাহ {আর আপনি আল্লাহর সুন্নাহর কোনো পরিবর্তন পাবেন না} [(৬২) সূরা আল-আহযাব]। যখন পাপ কাজ ব্যাপক ও অধিক হয় এবং বিশেষ ও সাধারণ সব মানুষ তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে নেয় এবং এর ওপরই জীবন যাপন করে ও তা প্রতিহত করার বিষয়ে নীরবতার ওপর একমত হয়, তখন আল্লাহ তাদেরকে আযাব ও শাস্তির মাধ্যমে গ্রাস করেন।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١٠)
"وما كان النبي عليه الصلاة والسلام يحذر من الفتن"، "بابٌ: ما جاء في قول الله تعالى … ، وما كان النبي عليه الصلاة والسلام يحذر من الفتن"، النبي عليه الصلاة والسلام حذر من الفتن، والله سبحانه وتعالى حذر {وَاتَّقُواْ فِتْنَةً} [(25) سورة الأنفال] فعلينا أن نتقي الفتن بدفعها بالأسباب التي تدفعها، ومن أعظم ما يدفع الفتن اهتمام الإنسان بصلاح نفسه أولاً ومن تحت يده، والارتباط بالله عز وجل، وصدق اللجأ إليه مع بذل الأسباب في إصلاح الغير.
"আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করতেন", "অধ্যায়: মহান আল্লাহর বাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে … , এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিতনা সম্পর্কে যে সতর্কতা প্রদান করতেন", নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাও সতর্ক করেছেন {এবং তোমরা ফিতনা থেকে বেঁচে থাকো} [সূরা আল-আনফাল: ২৫]। সুতরাং ফিতনা প্রতিহত করার মাধ্যমসমূহ অবলম্বনের দ্বারা তা থেকে বেঁচে থাকা আমাদের জন্য আবশ্যক, আর ফিতনা দূর করার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হলো মানুষ প্রথমত নিজের এবং তার অধীনস্থদের সংশোধনের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া, এবং মহান আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্ক রাখা ও অন্যদের সংশোধনের প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি তাঁর নিকট একনিষ্ঠভাবে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١١)
يقول الإمام -رحمه الله تعالى-: "حدثنا علي بن عبد الله قال: حدثنا بشر بن السري" علي بن عبد الله هو الإمام المعروف ابن المديني، "قال: حدثنا نافع بن عمر بن عبد الله -القرشي- عن ابن أبي مليكة" اسمه: عبد الله، "قال: قالت: أسماء" بنت أبي بكر "عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((أنا على حوضي)) " الحوض المورود الذي ينبع أو يجتمع من نهر الكوثر، هذا للنبي عليه الصلاة والسلام، وجاء وصفه في السنة في طوله وعرضه ولونه وآنيته، وأنه يشرب منه المتبع من هذه الأمة، ولذا يذاد عنه من تقهقر فارتد أو ابتدع أو غير أو بدل، يقول: ((أنا على حوضي)) وأحاديث الحوض متواترة، ثبت الحوض ثبوتاً قطعياً بالأدلة المتواترة، تواتراً معنوياً، ((أنا على حوضي أنتظر من يرد علي، فيؤخذ بناس من دوني فأقول: أمتي)) يعرفهم النبي عليه الصلاة والسلام، إما بأعيانهم لمعاصرتهم له، أو بأوصافهم باتباعه عليه الصلاة والسلام، وإن حصل منهم من يوجب ردهم من إحداث وابتداع، ((فأقول: أمتي، فيقول: لا تدري مشوا على القهقرى)) يعني: رجعوا إلى الخلف، كانوا لما كنت بين أظهرهم يتقدمون إلى الأمام بفعل ما يرضي الله عز وجل، وترك ما يسخطه، ثم بعدك رجعوا القهقرى، فارتدوا عن دينهم، وهؤلاء ممن يعرفهم النبي عليه الصلاة والسلام بأعيانهم؛ لأنهم وجدوا في عصره، "قال ابن أبي مليكة: اللهم إنا نعوذ بك أن نرجع على أعقابنا، أو نفتن"، على الإنسان أن يخاف، والقلوب بين أصبعين من أصابع الرحمن، فلا يأمن من مثل هذه الفتنة، أن يرجع القهقرى، ((وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع فيسبق عليه الكتاب فيعمل بعمل أهل النار فيدخلها)) ولذا اشتد خوف السلف الصالح من سوء العاقبة، سوء الخاتمة أمرٌ مقلق مخيف، ((وإن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة حتى ما يكون بينه وبينها إلا ذراع -إلا شيء يسير- ثم يسبق عليه الكتاب -لأنه كتبت عليه الشقاوة- فيعمل بعمل أهل النار -بطوعه واختياره لا إجباراً له- فيدخل النار))، وجاء في الحديث: ((أنه يعمل بعمل أهل الجنة فيما يبدو للناس)) وهذا أيضاً أمرٌ مخيف قد يعمل الإنسان الأعمال وهي في ظاهرها صالحة لكنها فيما يبدو

ইমাম -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- বলেন: "আলী ইবনে আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বিশর বিন আস-সারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন।" আলী ইবনে আবদুল্লাহ হলেন প্রসিদ্ধ ইমাম ইবনে আল-মাদিনী। "তিনি বলেন: নাফে ইবনে উমর ইবনে আবদুল্লাহ -আল-কুরাশী- আমাদের কাছে ইবনে আবি মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।" তাঁর নাম: আবদুল্লাহ। "তিনি বলেন: আসমা [আবু বকর (রা.)-এর কন্যা] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ((আমি আমার হাউজের নিকট থাকব))।" আল-হাউয আল-মাওরুদ যা কাউসার নদী থেকে উৎপন্ন হয় বা সেখানে একত্রিত হয়। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য। সুন্নাহতে এর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, রঙ এবং পানপাত্রসমূহের বর্ণনা এসেছে। এই উম্মতের যারা অনুসারী তারা তা থেকে পান করবে। আর এ কারণেই তাকে (হাউযকে) তাদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হবে যারা পিছু হটেছে এবং ধর্মত্যাগ করেছে অথবা বিদআত (নতুন উদ্ভাবন) করেছে অথবা পরিবর্তন ও রূপান্তর করেছে। তিনি বলেন: ((আমি আমার হাউজের নিকট থাকব)) এবং হাউয সম্পর্কিত হাদিসগুলো মুতাওয়াতির। অকাট্য দলীল ও অর্থগত মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমে হাউযের বিষয়টি অকাট্যভাবে প্রমাণিত। ((আমি আমার হাউজের নিকট আমার কাছে আগমনকারীদের জন্য অপেক্ষা করব। অতঃপর আমার অগোচরে কিছু মানুষকে পাকড়াও করা হবে, তখন আমি বলব: আমার উম্মত!)) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের চিনতে পারবেন, হয় তাদের সমসাময়িক হওয়ার কারণে ব্যক্তি হিসেবে, অথবা তাঁর অনুসরণের বৈশিষ্ট্য দ্বারা। যদিও তাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু ঘটেছিল যা তাদের বিতাড়নের কারণ হয়েছিল—যেমন নতুন কিছু উদ্ভাবন করা বা বিদআত করা। ((অতঃপর আমি বলব: আমার উম্মত, তখন বলা হবে: আপনি জানেন না, তারা উল্টো পায়ে ফিরে গিয়েছিল)) অর্থাৎ: তারা পেছনের দিকে ফিরে গিয়েছিল। যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে ছিলেন তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজ করে এবং তাঁর অসন্তুষ্টির কাজ বর্জন করে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। এরপর আপনার পরে তারা উল্টো দিকে ফিরে গেছে এবং তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এরা তারা যাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তি হিসেবে চিনতেন; কারণ তারা তাঁর যুগে বিদ্যমান ছিল। "ইবনে আবি মুলাইকাহ বলেন: হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে আশ্রয় চাই পিছু হটে যাওয়া থেকে অথবা ফিতনায় পড়া থেকে।" মানুষকে অবশ্যই ভয় করতে হবে। আর অন্তরসমূহ দয়াময় আল্লাহর আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙ্গুলের মাঝে থাকে। তাই এ ধরণের ফিতনা থেকে কারো নিরাপদ থাকা উচিত নয় যে সে পিছু হটবে। ((তোমাদের কেউ জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে এমনকি তার এবং জান্নাতের মাঝে কেবল এক হাত পরিমাণ দূরত্ব অবশিষ্ট থাকে, তখন তার উপর ভাগ্যলিপি প্রবল হয় এবং সে জাহান্নামবাসীদের আমল করে ফলে সে তাতে প্রবেশ করে))। এ কারণেই সালাফে সালেহীনরা মন্দ পরিণতির ব্যাপারে অত্যন্ত ভয় পেতেন। মন্দ পরিণতি বা খারাপ সমাপ্তি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়ংকর বিষয়। ((তোমাদের কেউ জান্নাতবাসীদের আমল করতে থাকে এমনকি তার এবং জান্নাতের মাঝে কেবল এক হাত পরিমাণ —অল্প কিছু— অবশিষ্ট থাকে, অতঃপর তার উপর ভাগ্যলিপি প্রবল হয় —যেহেতু তার ভাগ্যে দুর্ভাগা হওয়া লেখা ছিল— ফলে সে জাহান্নামবাসীদের আমল করে —স্বেচ্ছায় ও নিজের পছন্দে, বাধ্য হয়ে নয়— এবং জাহান্নামে প্রবেশ করে))। হাদিসে আরও এসেছে: ((সে মানুষের সামনে জান্নাতবাসীদের মতো আমল করে))। এটিও একটি ভয়ংকর বিষয় যে, একজন মানুষ এমন সব কাজ করতে পারে যা বাহ্যিকভাবে সৎ আমল মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে যা পরিলক্ষিত হয়...

(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١٢)
للناس، وفي قلبه دخن يكون سبباً في صرفه عن الجادة، {وَبَدَا لَهُم مِّنَ اللَّهِ مَا لَمْ يَكُونُوا يَحْتَسِبُونَ} [(47) سورة الزمر] كثير من السلف يعمل الأعمال الصالحة ويخشى أن تكون من هذا الباب، فالخوف مطلوب كما أن الرجاء مطلوب، وإحسان الظن بالله عز وجل، فعلى الإنسان أن يكون بين الأمرين خائفاً راجياً، {وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آتَوا وَّقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ} [(60) سورة المؤمنون] يؤتون ما آتوا من الأعمال الصالحة، ولذا لما سألت عائشة رضي الله عنها: أهم الذين يزنون؟ أهم الذين يسرقون؟ قال: ((لا يا أبنت الصديق، هؤلاء الذين يصلون ويصومون ويزكون، ويعملون الأعمال الصالحة وقلوبهم وجلة)) خائفة أن ترد عليهم، فالإنسان لا يضمن، نعم جاء ما يدل على أن الفواتح عنوان الخواتم، لكن من يضمن أن هذه الفواتح الصالحة خالصة لوجه الله عز وجل، النفس الأمارة، والشيطان، والنية شرود تحتاج إلى من يتابعها في كل وقت، قد يزل الإنسان بكلمة من سخط الله عز وجل يهوي بها في النار سبعين خريفاً، لا يلقي لها بالاً، تكون من سخط الله، والله المستعان.

"قال ابن أبي مليكة: اللهم إنا نعوذ بك أن نرجع على أعقابنا، أو نفتن" يعني عن ديننا، فنرجع القهقرى عما كنا نفعله من أعمالٍ صالحة.
মানুষের জন্য, আর তার অন্তরে রয়েছে কলুষতা যা তাকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, {আর আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের সামনে এমন কিছু প্রকাশ পাবে যা তারা কল্পনাও করেনি} [সূরা আয-যুমার: ৪৭] সালাফদের অনেকে নেক আমল করতেন এবং ভয় পেতেন যে তা যেন এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যায়। অতএব ভয় যেমন কাম্য, তেমনি আশাও কাম্য, এবং আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করাও আবশ্যক। সুতরাং মানুষের উচিত এই দুই অবস্থার মাঝে ভীত ও আশাবাদী হয়ে থাকা, {আর যারা যা দান করার তা দান করে এবং তাদের অন্তর ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে} [সূরা আল-মুমিনুন: ৬০] তারা যা আমল করার তা নেক আমল হিসেবে সম্পাদন করে। এই কারণেই যখন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করলেন: তারা কি তারা যারা ব্যভিচার করে? তারা কি তারা যারা চুরি করে? তিনি বললেন: "না হে সিদ্দীকের কন্যা! তারা হলো ওইসব লোক যারা সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে, যাকাত প্রদান করে এবং নেক আমলসমূহ সম্পাদন করে অথচ তাদের অন্তর থাকে ভীত-সন্ত্রস্ত" এই ভয়ে যে তাদের আমল হয়তো প্রত্যাখ্যান করা হবে। সুতরাং মানুষ কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারে না। হ্যাঁ, এমন বর্ণনা এসেছে যা নির্দেশ করে যে সূচনা হলো সমাপ্তির পরিচায়ক, কিন্তু কে গ্যারান্টি দেবে যে এই নেক সূচনাগুলো একমাত্র আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ ছিল? মন্দপ্রবণ প্রবৃত্তি, শয়তান এবং নিয়তের অস্থিরতা—এসবের জন্য প্রতি মুহূর্তে তদারকি প্রয়োজন। মানুষ হয়তো আল্লাহর অসন্তুষ্টি জাগানিয়া এমন কোনো কথা বলে ফেলে যার কারণে সে সত্তর বছর সমান গভীর জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়, অথচ সে বিষয়টির প্রতি গুরুত্বই দেয়নি; যা ছিল আল্লাহর ক্রোধের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহই সাহায্যকারী।

"ইবনে আবি মুলাইকা বলেছেন: হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আশ্রয় চাই পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া থেকে অথবা ফিতনায় পতিত হওয়া থেকে" অর্থাৎ আমাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত হওয়া, ফলে আমরা যেসব নেক আমল করতাম তা থেকে পশ্চাৎপদে ফিরে যাওয়া।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١٣)
ثم بعد هذا يقول: "حدثنا موسى بن إسماعيل -هو المنقري- قال: حدثنا أبو عوانة -الوضاح بن عبد الله اليشكري- عن مغيرة -بن مقسم- عن أبي وائل -شقيق بن سلمة التابعي الشهير- قال: قال عبد الله -وهو ابن مسعود- قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((أنا فرطكم على الحوض)) " يعني: متقدمٌ بين أيديكم، أمامكم، فالفرط: هو المتقدم الذي يسبق القوم، ولذا جاء في دعاء الجنازة للطفل: ((اللهم اجعله فرطاً وذخراً)) أي: متقدماً، يعني: أجراً متقدماً بين يدي والديه، ((أنا فرطكم على الحوض ليرفعن إلي رجال منكم)) يعني من هذه الأمة، من أمة الإجابة، ((حتى إذا أهويت لأناولهم -يعني لأسقيهم من حوضي- اختلجوا -جذبوا واقتطعوا- دوني، فأقول: أي ربِ أصحابي)) لأنه يعرفهم إما بأعيانهم أو بأوصافهم، ولا يمنع أن يكون من هؤلاء من هو مسلم يختلج ويقتطع لما أحدث في الدين ويدخل النار ثم بعد ذلك إذا هذب ونقي بقدر ما اقترفه من جرائم يدخل الجنة، ((فأقول: أي رب أصحابي، يقول: لا تدري ما أحدثوا بعدك)) من ردة أو بدعة أو منكرات وجرائم كلها محدثات.

ثم قال: "حدثنا يحيى بن بكير -المخزومي- قال: حدثنا يعقوب بن عبد الرحمن -القاري- عن أبي حازم -سلمة بن دينار- عن سهل بن سعد -الساعدي- يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: ((أنا فرطكم على الحوض، من ورده شرب منه، ومن شرب منه لم يظمأ بعده أبداً)) " لم يظمأ بعد أن يشرب من الحوض فإنه لا يظمأ أبداً، يتجاوز هذه الأهوال من غير مشقة ولا ظمأ ((ليرد)) في رواية أبي ذر: ((ليردن))، ((علي أقوام أعرفهم ويعرفوني، ثم يحال بيني وبينهم))، قال أبو حازم: فسمعني النعمان بن أبي عياش وأنا أحدثهم هذا الحديث فقال: هكذا سمعت سهلاً؟ فقلت: نعم" يتأكد، "هكذا سمعت سهلاً؟ " أبو حازم سلمة بن دينار لما حدث بهذا الحديث سُئل للتثبت وللموافقة: "هكذا سمعت سهلاً؟ فقلت: نعم، فقال: وأنا أشهد على أبي سعيد الخدري لسمعته يزيد فيه قال: ((إنهم مني، فيقال: إنك لا تدري ما بدلوا بعدك، فأقول: سحقاً سحقاً)) أي: بعداً بعداً، أي: أبعدهم الله.
এরপর তিনি বলেন: "আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে ইসমাঈল —তিনি আল-মুনকারী— তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু আওয়ানাহ —আল-ওয়াদদাহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ইয়াশকারী— মুগীরাহ —ইবনে মিকসাম— থেকে, তিনি আবু ওয়াঈল —প্রসিদ্ধ তাবেঈ শাকীক ইবনে সালামাহ— থেকে, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ —যিনি ইবনে মাসঊদ— বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((আমি হাউযের নিকট তোমাদের অগ্রগামী))।" অর্থাৎ: তোমাদের সামনে অগ্রবর্তী, তোমাদের সম্মুখে। 'ফারাত' অর্থ হলো সেই অগ্রগামী ব্যক্তি যে কওমের আগে পৌঁছে যায়। এই কারণেই শিশুর জানাযার দোয়ায় এসেছে: ((হে আল্লাহ, তাকে আমাদের জন্য অগ্রগামী এবং পাথেয় করুন)) অর্থাৎ: আগে চলে যাওয়া, মানে তার পিতামাতার সামনে অগ্রিম সওয়াব হিসেবে প্রেরিত। ((অবশ্যই তোমাদের মধ্য থেকে কিছু লোককে আমার নিকট উঠিয়ে আনা হবে)) অর্থাৎ এই উম্মত থেকে, যারা দাওয়াত কবুল করেছে এমন উম্মত থেকে, ((এমনকি আমি যখন তাদের পানি পান করানোর জন্য হাত বাড়াব —অর্থাৎ আমার হাউয থেকে তাদের পান করাব— তখন তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হবে —অর্থাৎ জোরপূর্বক বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে— আমার সামনে থেকে। তখন আমি বলব: হে আমার রব, এরা তো আমার সাথী)) কারণ তিনি তাদের হয় নির্দিষ্টভাবে চিনবেন অথবা তাদের বৈশিষ্ট্য দেখে চিনবেন। আর এদের মধ্যে এমন কেউ মুসলিম হওয়া অসম্ভব নয় যাকে দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করার কারণে ছিনিয়ে নেওয়া হবে এবং বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে, ফলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এরপর তার কৃত অপরাধ অনুযায়ী যখন তাকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করা হবে, তখন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ((তখন আমি বলব: হে আমার রব, এরা তো আমার সাথী। তিনি বলবেন: আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী নতুন বিষয় উদ্ভাবন করেছিল)) চাই তা ধর্মত্যাগ, বিদআত কিংবা কোনো অপছন্দনীয় কাজ ও অপরাধ হোক—এ সবই নতুন উদ্ভাবিত বিষয়।

এরপর তিনি বলেন: "আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর —আল-মাখযূমী— তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন ইয়াকুব ইবনে আব্দুর রহমান —আল-কারী— আবু হাযিম —সালামাহ ইবনে দীনার— থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা'দ —আস-সাঈদী— থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ((আমি হাউযের নিকট তোমাদের অগ্রগামী; যে সেখানে আসবে সে পান করবে, আর যে তা থেকে পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না))।" হাউয থেকে পান করার পর সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না; সে কোনো কষ্ট ও তৃষ্ণা ছাড়াই এই ভয়াবহ পরিস্থিতিগুলো পার হয়ে যাবে। ((পৌঁছাবে)) আবু যর-এর বর্ণনায় এসেছে: ((অবশ্যই পৌঁছাবে)), ((আমার নিকট এমন কিছু লোক যাদের আমি চিনি এবং তারাও আমাকে চেনে, এরপর আমার ও তাদের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি করা হবে))। আবু হাযিম বলেন: "আমি যখন তাদের নিকট এই হাদীসটি বর্ণনা করছিলাম তখন নুমান ইবনে আবি আইয়াশ তা শুনলেন এবং বললেন: তুমি কি সাহলকে এভাবেই বলতে শুনেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ।" এটি নিশ্চিত করার জন্য জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, "তুমি কি সাহলকে এভাবেই বলতে শুনেছ?" আবু হাযিম সালামাহ ইবনে দীনার যখন এই হাদীসটি বর্ণনা করলেন, তখন সত্যতা নিশ্চিতকরণ ও সমর্থনের জন্য তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "তুমি কি সাহলকে এভাবেই বলতে শুনেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন: আর আমি আবু সাঈদ আল-খুদরীর ব্যাপারে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি তাকে এটি আরও বাড়িয়ে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: ((নিশ্চয়ই তারা আমার থেকে, তখন বলা হবে: আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী পরিবর্তন করেছে। তখন আমি বলব: দূর হও, দূর হও))।" অর্থাৎ: দূরে সরে যাক, দূরে সরে যাক, অর্থাৎ আল্লাহ তাদের দূরে সরিয়ে দিন।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١٤)
يقول ابن حجر: "حاصل ما حمل عليه حال المذكورين -يعني هؤلاء الذين يذادون عن الحوض الذين رجعوا القهقرى- حاصل ما حمل عليه حال المذكورين أنهم كانوا ممن ارتد عن الإسلام"، وحينئذٍ فلا إشكال في تبرئ النبي عليه الصلاة والسلام منهم، وإن كانوا ممن لم يرتد لكنه أحدث معصية كبيرة من أعمال البدن أو بدعةً من اعتقاد القلب فقد أجاب بعضهم بأنه يحتمل أن يكون أعرض عنهم ولم يشفع لهم اتباعاً لأمر الله فيهم حتى يعاقبهم على جنايتهم، ولا مانع من دخولهم في عموم شفاعته عليه الصلاة والسلام لأهل الكبائر من أمته، فيخرجون من النار بعد ذلك، كما يخرج سائر العصاة، فالحديث محتمل، هؤلاء الذين يذادون إن كانوا ممن ارتد فلا إشكال هؤلاء أحدثوا ويستحقون أن يذادوا عن الحوض، ويقال لهم: سحقاً سحقاً، وإن كانوا ممن لم يرتد الردة الكاملة وإنما كان رجوعهم للقهقرى ونكوسهم على أعقابهم إنما هو فيما دون ما يخرج عن الملة بإحداث بدعة يعمل بها من بعدهم، أو باقتراف جريمة فمثل هؤلاء يعاقبون، هم مستحقون للعقاب، ومن العقاب ذودهم من الحوض، وقد يدخلون النار فيعذبون وينقون بقدر ذنوبهم، ثم يخرجون منها كما يخرج سائر العصاة، نعم.

 

‌‌شرح: باب: قول النبي صلى الله عليه وسلم-: ((سترون بعدي أموراً تنكرونها)).

باب: قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((سترون بعدي أموراً تنكرونها)).

وقال عبد الله بن زيد: قال النبي صلى الله عليه وسلم: ((اصبروا حتى تلقوني على الحوض)).

حدثنا مسدد قال: حدثنا يحيى بن سعيد قال: حدثنا الأعمش قال: حدثنا زيد بن وهب، قال: سمعت عبد الله قال: قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنكم سترون بعدي أثرة وأموراً تنكرونها)) قالوا: فما تأمرنا يا رسول الله؟ قال: ((أدوا إليهم حقهم، وسلوا الله حقكم)).

حدثنا مسدد عن عبد الوارث عن الجعد عن أبي رجاء عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من كره من أميره شيئاً فليصبر فإنه من خرج من السلطان شبراً مات ميتة جاهلية)).
ইবনে হাজার বলেন: "উল্লিখিত ব্যক্তিদের অবস্থা—অর্থাৎ যাদেরকে হাউজ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হবে এবং যারা পেছনে ফিরে গিয়েছিল—তাদের অবস্থা সম্পর্কে যা ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার সারমর্ম হলো এই যে, তারা এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত বা মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল।" এমতাবস্থায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। আর যদি তারা এমন লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে যারা মুরতাদ হয়নি কিন্তু শারীরিক কোনো কবীরা গুনাহ অথবা অন্তরের বিশ্বাসগত কোনো বিদআত উদ্ভাবন করেছিল, তবে তাদের কারো কারো উত্তর হলো এই যে, সম্ভাবনা রয়েছে তিনি তাদের থেকে বিমুখ হবেন এবং তাদের অপরাধের কারণে যতক্ষণ না তারা শাস্তি পায় ততক্ষণ আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে তাদের জন্য শাফাআত করবেন না। তবে তার উম্মতের কবীরা গুনাহকারীদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ শাফাআতের মধ্যে তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, ফলে অন্যান্য পাপীদের মতোই তারা পরবর্তীতে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে। সুতরাং হাদিসটিতে বিভিন্ন সম্ভাবনা রয়েছে। যাদেরকে হটিয়ে দেওয়া হবে তারা যদি মুরতাদদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে কোনো সমস্যা নেই; তারা দ্বীনে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছিল বিধায় তারা হাউজ থেকে বিতাড়িত হওয়ার যোগ্য। তাদের উদ্দেশ্যে বলা হবে: 'দূর হও, দূর হও'। আর যদি তারা এমন হয় যারা পূর্ণাঙ্গ মুরতাদ হয়নি, বরং তাদের পেছনে ফিরে যাওয়া বা পিছুটান এমন পর্যায়ের ছিল যা দ্বীন থেকে বের করে দেয় না, যেমন এমন কোনো বিদআত উদ্ভাবন করা যা তাদের পরবর্তীকালে অনুসৃত হয়েছে, অথবা কোনো অপরাধ সংঘটন করা; তবে এ জাতীয় লোকদের শাস্তি দেওয়া হবে। তারা শাস্তির যোগ্য এবং সেই শাস্তির একটি অংশ হলো হাউজ থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া। তারা জাহান্নামে প্রবেশ করতে পারে এবং তাদের পাপের পরিমাণ অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করে পবিত্র হতে পারে, অতঃপর অন্যান্য পাপীদের মতো সেখান থেকে বের হয়ে আসবে। হ্যাঁ।

 

‌‌ব্যাখ্যা: অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী-: ((তোমরা অচিরেই আমার পরে এমন বিষয়সমূহ দেখতে পাবে যা তোমরা অপছন্দ করবে))।

অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((তোমরা অচিরেই আমার পরে এমন বিষয়সমূহ দেখতে পাবে যা তোমরা অপছন্দ করবে))।

আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ((তোমরা ধৈর্য ধারণ করো যে পর্যন্ত না হাউজে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো))।

মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাশ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যায়েদ ইবনে ওয়াহাব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন: ((নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে স্বজনপ্রীতি ও অধিকার হরণ এবং এমন সব বিষয় দেখতে পাবে যা তোমরা অপছন্দ করবে)) তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: ((তোমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করবে এবং তোমাদের হকের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবে))।

মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে আবদুল ওয়ারিস থেকে, তিনি জা'দ থেকে, তিনি আবু রাজা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ((যে ব্যক্তি তার আমিরের (শাসকের) কোনো কিছু অপছন্দ করে, সে যেন ধৈর্য ধারণ করে; কারণ যে ব্যক্তি সুলতানের (কর্তৃত্বের) আনুগত্য থেকে এক বিঘতও বিচ্ছিন্ন হবে, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বরণ করবে))।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١٥)
حدثنا أبو النعمان قال: حدثنا حماد بن زيد عن الجعد أبي عثمان قال: حدثني أبو رجاء العطاردي، قال: سمعت ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من رأى من أميره شيئاً يكرهه فليصبر عليه، فإنه من فارق الجماعة شبراً فمات إلا مات ميتة جاهلية)).

حدثنا إسماعيل قال: حدثني ابن وهب عن عمرو عن بكير عن بسر بن سعيد عن جنادة بن أبي أمية قال: دخلنا على عبادة بن الصامت رضي الله عنه وهو مريض قلنا: أصلحك الله حدث بحديث ينفعك الله به سمعته من النبي صلى الله عليه وسلم، قال: دعانا النبي صلى الله عليه وسلم فبايعناه، فقال فيما أخذ علينا أن بايعنا على السمع والطاعة في منشطنا ومكرهنا، وعسرنا ويسرنا، وأثرة علينا، وأن لا ننازع الأمر أهله إلا أن تروا كفراً بواحاً عندكم من الله فيه برهان.

حدثنا محمد بن عرعرة قال: حدثنا شعبة عن قتادة عن أنس بن مالك رضي الله عنه عن أسيد بن حضير أن رجلاً أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله: استعملت فلاناً ولم تستعملني؟ قال: ((إنكم سترون بعدي أثرة فاصبروا حتى تلقوني)).

يقول الإمام -رحمه الله تعالى-: "باب قول النبي صلى الله عليه وسلم -يعني للأنصار-: ((سترون بعدي أموراً تنكرونها)) النبي عليه الصلاة والسلام قال للأنصار: ((سترون بعدي أموراً تنكرونها)) سترون أثرةً بعدي؛ لأن أمر الولاية ليس لهم، بل الأئمة من قريش، والغالب أن من ليست بيده الولاية تقع عليه الأثرة، يؤثر عليه غيره، ولذا قال لهم عليه الصلاة والسلام: ((سترون بعدي أموراً تنكرونها))، وقال عبد الله بن زيد بن عاصم قال النبي عليه الصلاة والسلام للأنصار: ((اصبروا)) على ما تلقون يعني على ما تلقون بعدي من الأثرة ((حتى تلقوني على الحوض)).
আবু নু'মান আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমাদের নিকট আল-জা'দ আবু উসমান থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু রাজা আল-আতারিদী আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি তার আমীরের পক্ষ থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, সে যেন তাতে ধৈর্য ধারণ করে। কেননা, যে ব্যক্তি জামাত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হবে এবং এমতাবস্থায় মারা যাবে, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করবে।"

ইসমাঈল আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমার নিকট আমর থেকে, তিনি বুকায়র থেকে, তিনি বুসর ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি জুনাদা ইবনে আবু উমাইয়াহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট গেলাম যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। আমরা বললাম: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আপনি আমাদের নিকট এমন একটি হাদীস বর্ণনা করুন যা দিয়ে আল্লাহ আপনাকে উপকৃত করবেন এবং যা আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ডেকেছিলেন এবং আমরা তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ (বায়আত) গ্রহণ করেছিলাম। তিনি আমাদের কাছ থেকে যে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন তাতে ছিল যে, আমরা আমীরের কথা শুনব এবং তার আনুগত্য করব—আমাদের সক্রিয় ও অনাগ্রহী উভয় অবস্থায়, আমাদের কষ্ট ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময়ে এবং আমাদের ওপর অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রেও। আর আমরা যেন ক্ষমতাসীনদের সাথে ক্ষমতা নিয়ে বিবাদ না করি, যতক্ষণ না তোমরা প্রকাশ্য কুফরী দেখতে পাও যে বিষয়ে তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে।

মুহাম্মদ ইবনে আরআরাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু'বাহ আমাদের নিকট কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি উসাইদ ইবনে হুযাইর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুককে আমিল হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন কিন্তু আমাকে দেননি? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে অন্যদের অগ্রাধিকার প্রদান (বৈষম্য) দেখতে পাবে, সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধারণ করো যতক্ষণ না তোমরা আমার সাথে (হাওজে) মিলিত হও।"

ইমাম (রাহিমাহুল্লাহু তা'আলা) বলেন: "পরিচ্ছেদ: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী—অর্থাৎ আনসারদের উদ্দেশ্যে—: 'তোমরা আমার পরে এমন অনেক বিষয় দেখতে পাবে যা তোমরা অপছন্দ করবে।' নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আনসারদের বলেছিলেন: 'তোমরা আমার পরে এমন বিষয় দেখতে পাবে যা তোমরা অপছন্দ করবে।' তোমরা আমার পরে অন্যদের অগ্রাধিকার প্রদান দেখতে পাবে; কারণ শাসনের দায়িত্ব তাদের জন্য নয়, বরং ইমামগণ হবেন কুরাইশ বংশ থেকে। আর সাধারণত যাদের হাতে ক্ষমতা থাকে না, তাদের ওপরই অন্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই কারণেই তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাদের বলেছিলেন: 'তোমরা আমার পরে এমন সব বিষয় দেখতে পাবে যা তোমরা অপছন্দ করবে।' আর আবদুল্লাহ ইবনে যাইদ ইবনে আসিম বর্ণনা করেন যে, নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আনসারদের বলেছিলেন: 'তোমরা ধৈর্য ধরো' তোমাদের ওপর যা আপতিত হবে তার ওপর, অর্থাৎ আমার পরে তোমরা যে বৈষম্যের সম্মুখীন হবে তার ওপর, 'যতক্ষণ না তোমরা হাওজে (কাউসারে) আমার সাথে সাক্ষাৎ করো'।"
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١٦)
يقول رحمه الله: "حدثنا مسدد" وهو ابن مسرهد السدوسي الإمام المعروف، ذكر بعضهم -وقد لا يصح بالصيغة المجتمعة المذكورة- مسدد بن مسرهد بن مسربل بن مغربل بن أرندل بن سرندل بن عرندل هذه ذكرت في ترجمته، لكن بهذا التركيب بهذه الصيغة يستنكرها كثيرٌ من أهل العلم، "قال: حدثنا يحيى بن سعيد" الإمام القطان المعروف "قال: حدثنا الأعمش " سليمان بن مهران "قال: حدثنا زيد بن وهب -الجهني- قال سمعت عبد الله" يعني ابن مسعود "قال: قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنكم سترون بعدي أُثرة)) " أو أَثرة، ابن مسعود يقول: "قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم" ابن مسعود من الأنصار وإلا من المهاجرين؟

طالب:. . . . . . . . .

نعم، والخطاب الأول موجه للأنصار كما جاءت بذلك الروايات، وكونه يخص الأنصار من الذكر لأنه ليس لهم من الأمر شيء، ليس لهم من الولاية شيء فهو مظنة لأن يجدوا أثرة، وابن مسعود ومن في حكمه وإن كان من غير الأنصار إلا أنه لبعده عن التطلع عن هذه الأمور لا بد أن يقع عليه شيء من الأثرة؛ لأنه لا يستشرف لمثل هذه الأمور، ولا يتصور أنه يلي أمر من أمور المسلمين لانصرافه عن الدنيا، وعن زهرتها، وعن حظوظها إلى الآخرة.

"قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((إنكم سترون بعدي أثرة)) " سترون ممن يلي الأمر، من ولاة وأمراء بعدي أثرةً، يعني استئثار واختصاص بالحظوظ الدنيوية، فيؤثرون بها غيركم من أقاربهم ومعارفهم، فعلى الإنسان الذي يحس ويشعر بأن غيره أوثر عليه أن يوثر نفسه بما يرضي الله عز وجل، فإذا انصرف الناس وتعلقوا واستشرفوا إلى أمور الدنيا فعلى طالب العلم على وجه الخصوص أن يكون نظره إلى الآخرة، ومع ذلكم كما قال الله -جل وعلا-: {وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا} [(77) سورة القصص] ((إنكم سترون بعدي أثرة)) الضبط الآخر: أُثرة وأَثرة، ((وأموراً تنكرونها)) يعني من أمور الدين، سوف تجدون تغير، ولا يزال التغير يزداد، وكل زمانٍ يزداد السوء بالنسبة لما قبله، ((لا يأتي على الناس زمانٌ إلا والذي بعده شرٌ منه)).
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "মুসাদ্দাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।" তিনি হলেন ইবনে মুসারহাদ আস-সাদুসি, প্রখ্যাত ইমাম। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন - যা উল্লিখিত একত্রিত বিন্যাসে সহিহ নাও হতে পারে - মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ বিন মুসারবাল বিন মুগারবাল বিন আরান্দাল বিন সারান্দাল বিন আরান্দাল। এটি তাঁর জীবনীতে উল্লিখিত হয়েছে, তবে এই বিন্যাসে ও এই শব্দশৈলীতে অনেক আলেম একে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। "তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।" তিনি প্রখ্যাত ইমাম আল-কাত্তান। "তিনি বলেন: আল-আ’মাশ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন," তিনি সুলাইমান বিন মিহরান। "তিনি বলেন: জায়েদ বিন ওয়াহাব আল-জুহানি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি," অর্থাৎ ইবনে মাসউদকে। "তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন: 'নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে পক্ষপাতিত্ব দেখতে পাবে।'" ইবনে মাসউদ বলছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন।" ইবনে মাসউদ কি আনসারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন নাকি মুহাজিরদের?

ছাত্র: . . . . . . . . .

হ্যাঁ, এবং প্রথম সম্বোধনটি আনসারদের প্রতি করা হয়েছে যেমনটি বর্ণনাগুলোতে এসেছে। আনসারদের বিশেষভাবে উল্লেখ করার কারণ হলো, শাসনকাজে তাদের কোনো অংশ ছিল না, কোনো কর্তৃত্ব তাদের ছিল না; ফলে তারা পক্ষপাতিত্বের শিকার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল। ইবনে মাসউদ এবং তাঁর মতো যারা আনসার না হওয়া সত্ত্বেও শাসন ক্ষমতার প্রতি আকাঙ্ক্ষাহীন ছিলেন, তাদের ওপরও কিছু মাত্রায় পক্ষপাতিত্বের প্রভাব পড়া অনিবার্য ছিল; কারণ তিনি এ ধরণের বিষয়ে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন না। আর দুনিয়া, এর চাকচিক্য ও এর সুযোগ-সুবিধা থেকে বিমুখ হয়ে আখিরাতের দিকে মনোনিবেশ করার কারণে তিনি মুসলমানদের কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন এমনটি কল্পনাও করা যেত না।

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন: 'নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে পক্ষপাতিত্ব দেখতে পাবে'।" তোমরা আমার পরে যারা দায়িত্বশীল হবে—সেই সব শাসক ও আমীরদের পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্ব দেখতে পাবে। অর্থাৎ দুনিয়াবী সুযোগ-সুবিধা তারা নিজেদের জন্য কুক্ষিগত ও নির্দিষ্ট করে রাখবে। এর মাধ্যমে তারা তোমাদের বাদ দিয়ে তাদের আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের প্রাধান্য দেবে। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি অনুভব ও উপলব্ধি করবেন যে অন্যকে তাঁর ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, তাঁর উচিত হবে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যা পছন্দ করেন তার মাধ্যমে নিজের নফসকে প্রাধান্য দেওয়া। সুতরাং মানুষ যখন দুনিয়াবী বিষয়ের প্রতি ঝুঁকে পড়বে, আসক্ত হবে এবং আকাঙ্ক্ষা পোষণ করবে, তখন বিশেষভাবে ইলম অন্বেষণকারীর দৃষ্টি হওয়া উচিত আখিরাতের দিকে। তা সত্ত্বেও আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা যেমন বলেছেন: "আর তুমি দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেও না" [সূরা আল-কাসাস: ৭৭]। "নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে পক্ষপাতিত্ব দেখতে পাবে।" এর ভিন্ন উচ্চারণ হলো 'উসরাহ' এবং 'আসারাহ'। "এবং এমন অনেক বিষয় (দেখতে পাবে) যা তোমরা অপছন্দ করবে" অর্থাৎ দ্বীনি বিষয়াবলির ক্ষেত্রে। তোমরা পরিবর্তন দেখতে পাবে এবং এই পরিবর্তন বাড়তেই থাকবে। প্রতিটি সময় তার আগের সময়ের তুলনায় মন্দের দিক থেকে বৃদ্ধি পাবে। "মানুষের কাছে এমন কোনো যুগ আসে না যার পরবর্তী যুগটি তার চেয়ে মন্দ নয়।"
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١٧)
"قالوا: فما تأمرنا يا رسول الله؟ " يعني أن نفعل، ماذا نفعل إذا وجدنا مثل هذا؟ إذا وجدنا مثل هذا التغير من ولاة الأمر من أمراء وأعوان ماذا نفعل؟ يعني هل نقاومهم؟ هل نرضى بالأثرة؟ قال عليه الصلاة والسلام: ((أدوا إليهم حقهم)) يعني مما يجب لهم من السمع والطاعة، وأدوا إليهم الزكاة، وجاهدوا معهم، وصلوا وراءهم ((أدوا إليهم حقهم، وسلوا الله حقكم)) يعني ما يحصل فيه التقصير سلوا الله عز وجل، فلا يجوز للإنسان أن تكون همته الدنيا، إن أعطي منها رضي، وإن لم يعطَ منها لم يرضَ، إن أعطي من أمور الدنيا وفى، وإن لم يعطَ من أمور الدنيا لم يفِ، ليكن همه الآخرة، وما يأتيه من أمور الدنيا مما يعينه عليها من غير استشراف يأخذ، كما جاء في حديث أبي ذر عند مسلم، الذي يأتي المسلم من غير استشراف، ولا يغلب على ظنه أنه يراد له مقابل يأخذه، إن تورع عنه فالورع له باب، لكن إن أخذ لا بأس، إن جاءه من غير طلبٍ ولا استشراف، يقول أبو ذر: "فإن كان ثمناً لدينك فلا"، النبي عليه الصلاة والسلام لما قالوا، لما أخبرهم أنه سيكون هناك أُثرة وأَثرة، وتقديم وتأخير، وزيادة ونقص، وإبعاد وتقريب، هذا موجود على مدى العصور، من بعد الخلفاء الراشدين ظهر هذا الأمر، وكل سنة يزداد الأمر، طيب ماذا نفعل يا رسول الله إذا حصل هذا؟ يعني مقتضاه أن هذا منكر، والمنكر يجب تغييره، فهل نغير؟ قال: لا ((أدوا إليهم حقهم، وسلوا الله حقهم)) ولا يمنع هذا من النصح، فالنصيحة هي الدين، كما جاء في حديث تميم: ((الدين النصيحة، الدين النصيحة، الدين النصيحة)) قلنا: لمن يا رسول الله؟ قال: ((لله، ولرسوله، ولكتابه، ولأئمة المسلمين، وعامتهم)) فلا يعني أن الإنسان يقف وهو ممن آتاه الله القدرة على النصح، والقدرة على التأثير والبيان أن ينصح ولاة الأمر بالرفق واللين، بالأسلوب المجدي النافع الذي يحقق المصلحة دون ترتب أي مفسدة، ((أدوا إليهم حقهم، وسلوا الله حقكم)).

তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের কী আদেশ দিচ্ছেন?" অর্থাৎ আমরা কী করব? যখন আমরা শাসক ও তাদের সহযোগীদের পক্ষ থেকে এই ধরনের কোনো পরিবর্তন বা আচরণের সম্মুখীন হব, তখন আমাদের কী করা উচিত? অর্থাৎ আমরা কি তাদের প্রতিরোধ করব? আমরা কি তাদের এই পক্ষপাতিত্ব বা স্বজনপ্রীতি মেনে নেব? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা তাদের হক আদায় করো।" অর্থাৎ আনুগত্য ও মান্য করার ক্ষেত্রে তাদের প্রতি তোমাদের ওপর যা ওয়াজিব তা পালন করো। তাদের নিকট জাকাত প্রদান করো, তাদের সাথে থেকে জিহাদ করো এবং তাদের পেছনে সালাত আদায় করো। "তোমরা তাদের হক আদায় করো এবং তোমাদের হকের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো।" অর্থাৎ যে বিষয়ে হকের ঘাটতি দেখা দেয়, সে বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো। মানুষের মূল লক্ষ্য যেন কেবল দুনিয়া না হয়; দুনিয়া থেকে কিছু পেলে সে সন্তুষ্ট হবে আর না পেলে অসন্তুষ্ট হবে—এমনটি হওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। পার্থিব বিষয়াদি থেকে তাকে কিছু প্রদান করা হলে সে আনুগত্যের অঙ্গীকার পূর্ণ করে, আর না দেয়া হলে করে না—এমন হওয়া অনুচিত। বরং মানুষের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আখিরাত। আর পার্থিব বিষয়ের মধ্যে যা তাকে আখিরাতের পথে সাহায্য করে এবং যা কোনো প্রকার লোভ-লালসা বা প্রার্থনা ছাড়াই তার কাছে আসে, তা সে গ্রহণ করতে পারে; যেমনটি ইমাম মুসলিমের সংকলনে আবু যার (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ যা কোনো প্রকার আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই একজন মুসলিমের নিকট আসে এবং তার মনে এমন প্রবল ধারণা জন্মে না যে এর বিনিময়ে কোনো কিছু প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তবে সে তা গ্রহণ করতে পারে। যদি সে তা থেকে বেঁচে থাকে (পরহেজগারী করে), তবে তা তাকওয়ার একটি পথ; কিন্তু যদি গ্রহণ করে তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। যদি তা কোনো যাচনা বা আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই তার নিকট আসে (তবে তা গ্রহণ করা যায়)। আবু যার (রা.) বলেন: "তবে যদি তা তোমার দ্বীনের বিনিময় হিসেবে হয়, তবে তা গ্রহণ করো না।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন তাদের বললেন এবং সংবাদ দিলেন যে, অচিরেই পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতি দেখা দেবে, অগ্রগণ্য ও পশ্চাৎপদ করার ঘটনা ঘটবে, পরিমাণে কমবেশি করা হবে এবং কাউকে দূরে সরানো হবে আবার কাউকে কাছে টানা হবে—এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। খুলাফায়ে রাশেদীনের সময়ের পর থেকেই এই বিষয়ের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এবং প্রতি বছর এর মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় হে আল্লাহর রাসূল! যখন এমনটি ঘটবে তখন আমাদের কী করা উচিত? এর দাবি হলো—এটি একটি অন্যায় (মুনকার), আর অন্যায় পরিবর্তন করা তো ওয়াজিব। তবে কি আমরা তা পরিবর্তন করব? তিনি বললেন: না। "বরং তোমরা তাদের হক আদায় করো এবং তোমাদের হকের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো।" আর এটি নসিহত (সদুপদেশ) প্রদান করতে বাধা দেয় না; কেননা নসিহতই হলো দ্বীন। যেমনটি তামীম (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: "দ্বীন হলো নসিহত, দ্বীন হলো নসিহত, দ্বীন হলো নসিহত।" আমরা জিজ্ঞাসা করলাম: কার জন্য হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য এবং মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের জন্য।" এর অর্থ এই নয় যে, যাকে আল্লাহ নসিহত করার সামর্থ্য এবং প্রভাব ও বর্ণনার ক্ষমতা দিয়েছেন, তিনি হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন। বরং তিনি শাসকদের নম্রতা ও কোমলতার সাথে এমন কার্যকরী ও উপকারী পদ্ধতিতে নসিহত করবেন যা কোনো ফিতনা বা অনিষ্ট সৃষ্টি না করেই কল্যাণ বয়ে আনে। (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:) "তোমরা তাদের হক আদায় করো এবং তোমাদের হকের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো।"

(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١٨)
ثم قال: "حدثنا مسدد عن عبد الوارث -بن سعيد- عن الجعد -أبي عثمان الصيرفي- عن أبي رجاء -العطاردي عمران- عن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من كره من أميره شيئاً)) " يعني سواءً كان من أمر الدين أو من أمر الدنيا، ((من كره من أميره شيئاً فليصبر)) يصبر؛ لأن بعض الناس -والباعث له الغيرة- قد لا يصبر، لكن النتيجة؟ النتيجة أن يترتب على فعله وعدم صبره ومخالفته للتوجيه النبوي ((فليصبر)) المسألة تحتاج إلى علاج مناسب، لا يعالج المنكر بما هو أنكر منه، بمفسدة أعظم منه، تحتاج إلى دراسة للأمر، ودراية بالأساليب النافعة الناجعة التي تقضي على المنكر أو تخفف منه بقدر الإمكان، ولا يترتب عليها مفسدة، قال: ((فليصبر، فإنه من خرج من السلطان -يعني عن طاعته- شبراً -يعني ولو بشيء يسير- مات ميتة جاهلية)) كانت هيئة ميتته كهيئة ميتة من عاش في الجاهلية؛ لأن عمله هذا يؤدي إلى الفوضى، عمله هذا يؤدي إلى الفوضى، والفوضى من سمات الجاهلية، القوي يأكل الضعيف، وإنكار المنكر وإن كان مطلوباً إلا أنه ينكر بطرق مناسبة، والبيان والنصح والتوجيه لا بد أن يكون بأسلوب مناسب مؤثر، لا تترتب عليه مفاسد، إذا كان المنكر الذي يزال ترتب عليه منكر أعظم منه ما استفدنا، المنكر ما زال، المقصود أن على من رأى ما ينكر، وما أثر ما ينكر في العصور المتأخرة، هذه سنة إلهية، فساد الأزمان، وفساد أهل الزمان في آخر الزمان معروف مستفيض بالنصوص، والواقع يشهد لذلك، لكن من رأى ما ينكر فليصبر، كما قال النبي عليه الصلاة والسلام: ((فإنه من خرج من السلطان -يعني من طاعته- شبراً مات ميتةً جاهلية)) فكيف بمن خرج ما هو أكبر من الشبر وأعظم منه؟! ويأتي الضابط لما يوجب الخروج، يأتي الضابط وهو الكفر البواح الذي فيه من الله برهان.
এরপর তিনি বললেন: "মুসাদ্দাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল ওয়ারেস -ইবনে সাঈদ- থেকে, তিনি জা'দ -আবু উসমান আস-সাইরাফী- থেকে, তিনি আবু রাজা -আল-উতারিদী ইমরান- থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: ((যে ব্যক্তি তার আমিরের পক্ষ থেকে কোনো কিছু অপছন্দ করে))" অর্থাৎ চাই তা দ্বীনি বিষয় হোক অথবা পার্থিব বিষয় হোক, ((যে ব্যক্তি তার আমিরের পক্ষ থেকে কোনো কিছু অপছন্দ করে, সে যেন ধৈর্য ধারণ করে))। সে ধৈর্য ধরবে; কারণ কিছু মানুষ -যাদের প্রেরণা হলো আত্মমর্যাদাবোধ- হয়তো ধৈর্য ধরে না, কিন্তু এর ফলাফল কী? ফলাফল হলো তার এই কাজ, ধৈর্যহীনতা এবং নববী নির্দেশনা ((সে যেন ধৈর্য ধারণ করে)) এর লঙ্ঘনের ফলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বিষয়টি উপযুক্ত সমাধানের দাবি রাখে; কোনো অন্যায়কে তার চেয়ে বড় কোনো অন্যায় বা আরও বড় বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে প্রতিকার করা যায় না। এর জন্য বিষয়টি নিয়ে গবেষণা এবং এমন সব উপকারী ও কার্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রজ্ঞার প্রয়োজন যা অন্যায়কে মিটিয়ে দেবে অথবা সাধ্যমতো কমিয়ে আনবে, এবং যার ফলে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না। তিনি বললেন: ((সে যেন ধৈর্য ধরে, কেননা যে ব্যক্তি সুলতান থেকে -অর্থাৎ তার আনুগত্য থেকে- এক বিঘত পরিমাণও বেরিয়ে গেল -অর্থাৎ সামান্য পরিমাণ হলেও- সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল))। তার মৃত্যুর ধরন হবে জাহিলিয়াতে বসবাসকারী ব্যক্তির মৃত্যুর ধরনের মতো; কারণ তার এই কাজ বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যায়, তার এই কাজ বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যায়, আর বিশৃঙ্খলা হলো জাহিলিয়াতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করে। আর অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করা যদিও কাম্য, তবুও তা উপযুক্ত পন্থায় করতে হবে। বর্ণনা, নসিহত এবং দিকনির্দেশনা অবশ্যই উপযুক্ত ও প্রভাবশালী পদ্ধতিতে হতে হবে, যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়। যদি কোনো অন্যায় যা দূর করা হচ্ছে তার ফলে তার চেয়ে বড় কোনো অন্যায় বা অপকর্ম সৃষ্টি হয়, তবে আমরা লাভবান হলাম না, বরং অন্যায় দূর হলো না। মূল কথা হলো, যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় কাজ দেখে -আর শেষ যুগে অন্যায়ের আধিক্য তো সবার জানা- এটি একটি ঐশ্বরিক নিয়ম। শেষ জামানায় সময়ের কলুষতা এবং সময়ের মানুষের কলুষতা বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে সুপ্রসিদ্ধ, আর বাস্তব পরিস্থিতিও তার সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় দেখে সে যেন ধৈর্য ধরে, যেমনটি নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: ((কেননা যে ব্যক্তি সুলতান থেকে -অর্থাৎ তার আনুগত্য থেকে- এক বিঘত পরিমাণ বের হয়ে গেল, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যু বরণ করল))। তাহলে তার অবস্থা কী হবে যে এক বিঘতের চেয়েও বড় বা তার চেয়েও গুরুতর কোনো কাজ করল?! আর বিদ্রোহকে যা আবশ্যক করে তার মাপকাঠি সামনে আসবে; আর সেই মাপকাঠি হলো প্রকাশ্য কুফর, যার ব্যাপারে আল্লাহর পক্ষ থেকে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ١٩)
يقول: "حدثنا أبو النعمان -محمد بن الفضل- قال: حدثنا حماد بن زيد -بن درهم- عن الجعد -بن دينار الصيرفي- أبي عثمان، قال: حدثني أبو رجاء -عمران- العطاردي، قال: سمعت ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ((من رأى من أميره شيئاً يكرهه فليصبر عليه)) " يكرهه يعني من أمور الدنيا أو من أمور الدين ما لم يصل إلى حد الكفر البواح ((فليصبر))، ((فإنه –واسم إن ضمير الشأن- فإنه من فارق الجماعة -جماعة المسلمين- شبراً فمات إلا مات ميتة جاهلية)) يعني: فيه خصلة من خصال الجاهلية قد مات عليها، ولا يعني أن يكون بذلك قد خرج عن دائرة الإسلام وصار جاهلياً، لا، إنما فيه خصلة من خصال الجاهلية، وقد قال النبي عليه الصلاة والسلام لأبي ذر: ((إنك امرؤٌ فيك جاهلية)) وفرقٌ بين أن يكون الرجل جاهلياً وبين أن تكون فيه جاهلية، وبين أن يكون منافقاً وفيه نفاق، وبين أن يكون مشركاً وفيه شرك، كما قرر ذلك أهل العلم، اليهود والنصارى مشركون أو فيهم شرك؟ نعم؟

طالب:. . . . . . . . .

فيهم شرك، فيهم شرك ولذا يختلفون في الأحكام عن المشركين، يختلفون في الأحكام عن المشركين هم أهل كتاب لكن فيهم شرك، {الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ} [(6) سورة البينة] ولذا اختلفت أحكامهم عن المشركين الذين استحقوا الوصف الكامل، وكونهم أهل كتاب وفيهم شرك وليسوا بمشركين شركاً مطبقاً كغيرهم لا يعني أنهم على هدى، بل هم كفار خالدون مخلدون في النار، نسأل الله العافية، {إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَالْمُشْرِكِينَ} [(6) سورة البينة] لا يعني أنهم ليسوا بمشركين، وإنما فيهم شرك، أنهم يرجى لهم شيء، لا، هم كفار على كل حال.
তিনি বলেন: "আমাদের কাছে আবু নুমান—মুহাম্মদ ইবনুল ফাদল—বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাম্মাদ ইবনে যাইদ—ইবনে দিরহাম—জা'দ—ইবনে দীনার আস-সাইরাফি—আবু উসমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু রাজা—ইমরান—আল-আতারিদি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: ((কেউ যদি তার আমিরের মধ্যে অপছন্দনীয় কিছু দেখে, তবে সে যেন তাতে ধৈর্য ধারণ করে))।" 'সেটি অপছন্দ করে' বলতে দুনিয়াবী বিষয় বা দ্বীনি বিষয়কে বুঝানো হয়েছে, যতক্ষণ না তা প্রকাশ্য কুফুরির পর্যায়ে পৌঁছায়। ((তবে সে যেন ধৈর্য ধরে)), ((কেননা—আর 'ইন্না'-এর ইসিম হলো দামিরুশ শান—কেননা যে ব্যক্তি মুসলিমদের জামাত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গেল এবং সে অবস্থায় মারা গেল, সে জাহিলিয়াতের মৃত্যুতে মৃত্যুবরণ করল))। এর অর্থ হলো: তার মধ্যে জাহিলিয়াতের একটি স্বভাব বিদ্যমান ছিল যার ওপর সে মৃত্যুবরণ করেছে। এর অর্থ এটি নয় যে, এর দ্বারা সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে গেছে এবং জাহিলি হয়ে গেছে; না, বরং তার মধ্যে জাহিলিয়াতের একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আবু যারকে বলেছিলেন: ((তুমি এমন এক ব্যক্তি যার মধ্যে জাহিলিয়াত রয়েছে))। একজন ব্যক্তি জাহিলি হওয়া এবং তার মধ্যে জাহিলিয়াত থাকা—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ঠিক তেমনি একজন ব্যক্তি মুনাফিক হওয়া এবং তার মধ্যে নিফাক থাকা, অথবা একজন ব্যক্তি মুশরিক হওয়া এবং তার মধ্যে শিরক থাকার মাঝেও পার্থক্য রয়েছে, যেমনটি ইলম অন্বেষণকারীগণ সাব্যস্ত করেছেন। ইহুদি ও নাসারারা কি মুশরিক নাকি তাদের মধ্যে শিরক আছে? হ্যাঁ?

ছাত্র: . . . . . . . . .

তাদের মধ্যে শিরক আছে, তাদের মধ্যে শিরক আছে। এই কারণেই বিধানের ক্ষেত্রে তারা মুশরিকদের থেকে ভিন্ন। বিধানের ক্ষেত্রে তারা মুশরিকদের থেকে আলাদা; তারা আহলে কিতাব কিন্তু তাদের মধ্যে শিরক আছে। {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফুরি করেছে} [(৬) সূরা আল-বাইয়্যিনাহ]। আর এই কারণেই তাদের বিধানসমূহ সেই সব মুশরিকদের থেকে ভিন্ন হয়েছে যারা শিরকের পূর্ণ গুণের অধিকারী। তারা আহলে কিতাব হওয়া এবং তাদের মধ্যে শিরক থাকা সত্ত্বেও অন্যদের মতো পূর্ণাঙ্গ মুশরিক না হওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা হেদায়াতের ওপর আছে। বরং তারা কাফির, যারা চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। {নিশ্চয় আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফুরি করেছে} [(৬) সূরা আল-বাইয়্যিনাহ]। এর অর্থ এই নয় যে তারা মুশরিক নয়; বরং তাদের মধ্যে শিরক রয়েছে। এর দ্বারা তাদের জন্য কোনো কিছুর আশা করা যায়—এমনটি নয়; না, বরং তারা সর্বাবস্থায় কাফির।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢٠)
"حدثنا إسماعيل" بن أبي أويس، "قال: حدثني ابن وهب عن عمرو -بن الحارث- عن بكير -بن عبد الله بن الأشج- عن بسر بن سعيد عن جنادة بن أبي أمية -السدوسي- قال: دخلنا على عبادة بن الصامت" عبادة بن الصامت أحد النقباء في العقبة، وقد شهد البيعات الثلاث: الأولى والثانية والثالثة، وإن كانت عاد الثالثة لا يثبتها كثيرٌ من أهل العلم، لكن نص ابن عبد البر وغيره في ترجمته أنه شهد الثلاث، وليس هذا محل بسط ما يتعلق بالبيعات الثلاث، لكن يهمنا هذه البيعة التي بين أيدينا، "دخلنا على عبادة بن الصامت -وهو مريض- قلنا: أصلحك الله" مريض صحابي جليل، "قلنا: أصلحك الله" بعض الشراح يقول: أصلح أمور دنياك، وإلا هو في دينه صالح، هو صالح ولا شك أحدٌ في صلاحه، ومع ذلكم بحاجة إلى مزيد الصلاح، والرسول عليه الصلاة والسلام مهتدي، والمؤمنون على هدى، ومع ذلكم يقولون: {اهدِنَا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ} [(6) سورة الفاتحة] لا يعني أن الشخص إذا كان صالحاً لا يدعى له بالصلاح، ولذا يغضب كثير من الناس إذا قلت: الله يصلحك، أو أصلحك الله، وإيش أنت ملاحظ؟! كأن الناس تعارفوا على أن هذه اللفظة إنما تقال لصغار السن، فبعضهم يستنكر إذا قيل: أصلحك الله،. . . . . . . . . كل شخص بحاجة لأن يكون صالحاً، والله المستعان.
ইসমাঈল ইবনে আবি উওয়াইস আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমার কাছে আমর ইবনুল হারিস থেকে, তিনি বুকাইর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল আশাজ থেকে, তিনি বুসর ইবনে সাঈদ থেকে এবং তিনি জুনাদা ইবনে আবি উমাইয়া আস-সাদুসী থেকে বর্ণনা করেছেন, জুনাদা বলেন: "আমরা উবাদাহ ইবনুস সামিতের নিকট প্রবেশ করলাম।" উবাদাহ ইবনুস সামিত ছিলেন আকাবার নকিবদের (প্রধানদের) একজন। তিনি তিনটি বায়আতেই (শপথ) উপস্থিত ছিলেন: প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়। যদিও তৃতীয়টির বিষয়টি অনেক আলেম সাব্যস্ত করেন না, তবে ইবনে আব্দুল বার এবং অন্যান্যরা তাঁর জীবনবৃত্তান্তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তিনি তিনটিতেই উপস্থিত ছিলেন। তিনটি বায়আত সংক্রান্ত আলোচনার বিস্তারিত বিবরণের স্থান এটি নয়, বরং আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের সামনে থাকা এই বায়আতটি। "আমরা উবাদাহ ইবনুস সামিতের নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। আমরা বললাম: আল্লাহ আপনার সংশোধন করুন।" তিনি একজন অসুস্থ মহান সাহাবী। "আমরা বললাম: আল্লাহ আপনার সংশোধন করুন।" কিছু ব্যাখ্যাকারী বলেন: (এর অর্থ) আল্লাহ আপনার দুনিয়াবী বিষয়গুলো সংশোধন করুন, নতুবা দ্বীনের ব্যাপারে তো তিনি নেককার (সালেহ)। তিনি নেককার এবং তাঁর নেককার হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, তা সত্ত্বেও আরও বেশি সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হেদায়েতপ্রাপ্ত ছিলেন এবং মুমিনরাও হেদায়েতের ওপর রয়েছেন, তা সত্ত্বেও তাঁরা বলেন: {আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন} [সূরা আল-ফাতিহা: ৬]। এর মানে এই নয় যে, কোনো ব্যক্তি যদি নেককার হয় তবে তার সংশোধনের জন্য দোয়া করা যাবে না। এজন্যই অনেক মানুষ রাগান্বিত হয় যখন বলা হয়: আল্লাহ আপনার সংশোধন করুন, অথবা আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত দিন। আপনি কী লক্ষ্য করছেন? যেন মানুষের মাঝে এটি প্রচলিত হয়ে গেছে যে এই শব্দটি কেবল অল্পবয়সীদের জন্য বলা হয়। তাই 'আল্লাহ আপনার সংশোধন করুন' বলা হলে কেউ কেউ তা অপছন্দ করে... অথচ প্রত্যেক ব্যক্তিরই নেককার হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা হয়।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢١)
"قلنا: أصلحك الله، حدث بحديث ينفعك الله به سمعته من النبي صلى الله عليه وسلم، قال: دعانا النبي صلى الله عليه وسلم -ليلة العقبة- فبايعناه، فقال فيما أخذ علينا" يعني بما اشترط علينا "أن بايعنا على السمع والطاعة" له، السمع والطاعة له، يعني وفي حكمه من يلي أمر المسلمين بعده إلى قيام الساعة من المسلمين، "في منشطنا -يعني في وقت نشاطنا- ومكرهنا" يعني فيما ننشط للاستجابة إليه، "وفي مكرهنا" فيما نكره الإجابة إليه مما يطلبه ولي الأمر، يعني في نشاطنا وعجزنا، فيما نريده وما لا نريده إذا لم يكن معصية لله عز وجل، "وعسرنا ويسرنا، وأثرة علينا" لو حصلت الأثرة بايعناه على أن نفي لمن ولاه الله أمرنا، "وأن لا ننازع الأمر أهله" الملك لا ينازع من تولاه، ويستوي في ذلك من تولى باختيارٍ من أهل الحل والعقد ممن تتوافر فيه الشروط، أو تولى بقوته وسلطانه وسيفه، ولو تخلفت فيه بعض الشروط، ففي حال الاختيار لا يجوز أن يولى على المسلمين إلا من اجتمعت فيه الشروط، في حال الإجبار والإكراه إذا تولى بقوته على المسلمين أن يسمعوا ويطيعوا ولو كان عبداً حبشياً، وإن كان في الأصل لا يجوز تولية العبد الحبشي ابتداءً واختياراً، لكن إذا تولى بقوته فإنه حينئذٍ يجب له السمع والطاعة.

"وأثرة علينا، وأن لا ننازع الأمر أهله إلا أن تروا كفراً بواحاً" بواحاً ظاهراً بادياً لا يختلف فيه، قد يوجد من بعض الأمراء مما يرتكبه من المخالفات ما يختلف فيه هل هو مكفر أو غير مكفر؟ هل يخرج من الملة أو لا يخرج؟ مثل هذا لا يجوز الخروج عليه لماذا؟ لأنه ليس بكفرٍ بواح، لأنه ليس بكفرٍ بواح، إنما الموجب للخروج ونزع اليد من الطاعة إنما هو الكفر البواح الظاهر البادي، "عندكم فيه من الله برهان" يعني نصٌ من القرآن أو السنة لا يحتمل التأويل، فإذا كان عندنا برهان، نص من كتاب الله وسنة رسوله عليه الصلاة والسلام على كفر مرتكب هذا العمل مما لا يحتمل التأويل فإنه حينئذٍ لا سمع ولا طاعة.
আমরা বললাম: আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন, আপনি আমাদের নিকট এমন একটি হাদিস বর্ণনা করুন যার মাধ্যমে আল্লাহ আপনাকে উপকৃত করবেন এবং যা আপনি নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন: নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) -আকাবার রাতে- আমাদের ডেকেছিলেন, অতঃপর আমরা তাঁর নিকট আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করলাম। তিনি আমাদের থেকে যে সব বিষয়ে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন তার মধ্যে তিনি বলেছিলেন, "আমরা যেন তাঁর কথা শুনি ও তাঁর আনুগত্য করি"—তাঁর কথা শোনা ও তাঁর প্রতি অনুগত থাকা। অর্থাৎ তাঁর পরে কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিমদের মধ্যে যারা মুসলিমদের শাসনভার গ্রহণ করবেন তাদের শাসনের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। "আমাদের উদ্যমী অবস্থায় -অর্থাৎ আমাদের কর্মতৎপরতার সময়ে- এবং আমাদের অনিচ্ছার অবস্থায়"—অর্থাৎ যে সব বিষয়ে সাড়া দিতে আমরা স্বতঃস্ফূর্ত হই, এবং "আমাদের অনিচ্ছার অবস্থায়" বলতে শাসক আমাদের নিকট যা দাবি করেন তার মধ্যে যা আমরা অপছন্দ করি। অর্থাৎ আমাদের সক্রিয় ও অক্ষম অবস্থায়; আমরা যা চাই এবং যা চাই না তার সব কিছুতেই, যতক্ষণ না তা মহান আল্লাহর অবাধ্যতামূলক কাজ হয়। "আমাদের সংকটে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এবং আমাদের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও"—যদি শাসকের পক্ষ থেকে স্বজনপ্রীতি বা অন্যের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘটনা ঘটে, তবুও আমরা তাঁর নিকট এই মর্মে শপথ করেছি যে, আল্লাহ যাকে আমাদের শাসনভার অর্পণ করেছেন তাঁর প্রতি আমরা আমাদের কর্তব্য পূর্ণ করব। "এবং যেন আমরা নেতৃত্বের অধিকারীদের সাথে নেতৃত্ব নিয়ে বিবাদে লিপ্ত না হই"—যিনি শাসনভার গ্রহণ করেছেন তাঁর সাথে কর্তৃত্ব নিয়ে ঝগড়া করা যাবে না। আর এই ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য সেই ব্যক্তি যিনি যোগ্যতার শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা লাভ করেছেন, অথবা যিনি নিজের শক্তি, কর্তৃত্ব ও তরবারির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছেন—যদিও তাঁর মাঝে কিছু শর্তের ঘাটতি থাকে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে তো শর্তাবলি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে মুসলিমদের শাসক নিযুক্ত করা বৈধ নয়। তবে বলপ্রয়োগ ও বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রে যদি কেউ নিজের শক্তিবলে ক্ষমতা দখল করেন, তবে মুসলিমদের ওপর তাঁর কথা শোনা ও আনুগত্য করা আবশ্যক, এমনকি তিনি যদি একজন হাবশী ক্রীতদাসও হন। যদিও মূলগতভাবে প্রাথমিকভাবে বা নির্বাচনের ভিত্তিতে হাবশী ক্রীতদাসকে শাসক বানানো বৈধ নয়, কিন্তু যখন তিনি শক্তিবলে ক্ষমতা দখল করবেন তখন তাঁর জন্য কথা শোনা ও আনুগত্য করা ওয়াজিব বা আবশ্যক হয়ে যাবে।

"এবং আমাদের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও, এবং আমরা যেন নেতৃত্বের অধিকারীদের সাথে নেতৃত্ব নিয়ে বিবাদে লিপ্ত না হই, যতক্ষণ না তোমরা প্রকাশ্য কুফরি দেখতে পাও"—প্রকাশ্য বলতে এমন সুস্পষ্ট ও প্রকাশিত বিষয় যা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কোনো কোনো শাসকের পক্ষ থেকে এমন কিছু বিচ্যুতি বা লঙ্ঘন ঘটতে পারে যার ব্যাপারে মতভেদ হতে পারে যে, এটি কি তাকে কাফির সাব্যস্ত করে নাকি করে না? এটি কি তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় নাকি দেয় না? এই ধরনের ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা জায়েজ নেই। কেন? কারণ এটি প্রকাশ্য কুফরি নয়। কেননা বিদ্রোহ করা এবং আনুগত্য ত্যাগ করার একমাত্র কারণ হলো এমন প্রকাশ্য কুফরি যা সুস্পষ্ট ও প্রকাশিত। "যে ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে দলিল রয়েছে"—অর্থাৎ কুরআন বা সুন্নাহর এমন একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা যা ভিন্ন কোনো ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। সুতরাং যখন আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সুন্নাহ থেকে এই কাজ সম্পাদনকারীর কুফরির ব্যাপারে এমন দলিল থাকবে যা ব্যাখ্যার সুযোগ রাখে না, তখন আর কোনো কথা শোনা বা আনুগত্য করা চলবে না।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
ثم بعد هذا يقول الإمام -رحمة الله عليه-: "حدثنا محمد بن عرعرة -القرشي- قال: حدثنا شعبة عن قتادة عن أنس بن مالك عن أسيد بن حضير -الأنصاري- أن رجلاً -هو أسيد نفسه- أن رجلاً أتى النبي عليه الصلاة والسلام" جرد أسيد من نفسه رجلاً تحدث عنه، هذا يسمونه أسلوب التجريد، "أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله: استعملت فلاناً -عمرو بن العاص- ولم تستعملني؟ " يعني وليته على أمر من أمور المسلمين ولم تولني، استعملت: يعني وليت، والوالي في عرف المتقدمين عامل، عامل استعمل فهو عامل، وكان عاملاً لعمر وكان عاملاً لفلان، عامل، لما كانت الولايات ينظر فيها نفع المسلمين، والقيام بخدمتهم، والسهر على مصالحهم يسمى عامل، "استعملتَ فلاناً ولم تستعملني، قال: ((إنكم سترون بعدي أثرة)) " يعني أعظم من ذلك؛ لأن ما فعلته إنما نظرت فيه للمصلحة العامة، وعمرو بن العاص ممن يصلح لهذه الولايات، ليس معنى هذا أن الشخص الذي يولى ينظر فيه مصلحة خاصة، والذي لا يولى ينظر فيه إلى أنه قريبٌ أو بعيد لا، إنما النظر فيمن يحقق المصلحة، ولو كان غيره أفضل منه في ذاته، وكل عملٍ ينتقى له من يناسبه، كل عمل يختار له من يناسبه، كل عمل يختار له من يناسبه ممن يقوم به على أحسن وجه، والخلل بهذا من علامات الساعة، ((إذا وسد الأمر إلى غير أهله فانتظر الساعة)) قد لا يكون الشخص أفضل الناس، بل ولا من أفضل الناس بل هو رجلٌ تقوم به الحاجة، ويسد هذا المكان أفضل من غيره، والقوة مع الأمانة مطلبٌ في مثل هذه الولايات، فإذا كان قويٌ في نفسه أمينٌ في تصرفاته فإنه يستحق حينئذٍ أن يولى على مثل هذه الأمور العامة، وعمرو بن العاص بهذه الصفة.

এরপর ইমাম—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—বলছেন: "আমাদের কাছে মুহাম্মদ বিন আরআরা আল-কুরাশি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে শু'বাহ কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক থেকে, তিনি উসাইদ বিন হুদাইর আল-আনসারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি—যিনি স্বয়ং উসাইদই ছিলেন—নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের কাছে আসলেন।" এখানে উসাইদ নিজের সত্তা থেকে এক ব্যক্তিকে পৃথক করে তার সম্পর্কে কথা বলেছেন, একে বলা হয় 'তাজরিদ' বা পৃথকীকরণ পদ্ধতি। "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি অমুককে—অর্থাৎ আমর ইবনুল আসকে—নিযুক্ত করেছেন, কিন্তু আমাকে কেন নিযুক্ত করলেন না?" অর্থাৎ আপনি তাকে মুসলমানদের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন কিন্তু আমাকে দেননি। 'নিযুক্ত করা' বলতে এখানে দায়িত্ব অর্পণ করা বোঝানো হয়েছে। পূর্ববর্তীদের পরিভাষায় শাসনকর্তা বা ওয়ালিকে 'আমিল' (কর্মকর্তা) বলা হতো; যেহেতু তাকে কাজে নিযুক্ত করা হতো তাই তিনি ছিলেন আমিল। যেমন বলা হতো, তিনি ওমরের আমিল ছিলেন বা অমুকের আমিল ছিলেন। যেহেতু শাসনব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের কল্যাণ সাধন করা, তাদের সেবা করা এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করা, তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আমিল বা কর্মী বলা হতো। "আপনি অমুককে নিযুক্ত করেছেন কিন্তু আমাকে করেননি। তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে পক্ষপাতিত্ব বা স্বার্থপরতা দেখতে পাবে'।" অর্থাৎ এর চেয়েও বড় বিষয় ঘটবে। কেননা আমি যা করেছি তাতে কেবল জনস্বার্থের দিকেই লক্ষ্য রেখেছি। আর আমর ইবনুল আস এই ধরণের পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এর অর্থ এই নয় যে, যাকে নিয়োগ দেওয়া হয় তার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখা হয়, আর যাকে নিয়োগ দেওয়া হয় না তার ক্ষেত্রে সে নিকটজন নাকি দূরবর্তী—তা দেখা হয়; বিষয়টি এমন নয়। বরং লক্ষ্য রাখা হয় কে জনস্বার্থ অধিকতর নিশ্চিত করতে পারবে তার ওপর, যদিও অন্য কেউ ব্যক্তিগতভাবে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে। প্রতিটি কাজের জন্য তাকেই নির্বাচন করা হয় যে সেই কাজের জন্য উপযুক্ত। প্রতিটি কাজের জন্য তাকেই বেছে নেওয়া হয় যে তা সবচেয়ে সুন্দরভাবে সম্পাদন করতে পারবে। আর এই নিয়মের বিচ্যুতি ঘটা কিয়ামতের আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যেমন হাদিসে এসেছে: "যখন অযোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব ন্যস্ত করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।" হতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি সব মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নয়, এমনকি শ্রেষ্ঠদের কাতারভুক্তও নয়; বরং সে এমন এক ব্যক্তি যার দ্বারা প্রয়োজন পূরণ হয় এবং সে এই স্থানটি অন্যের তুলনায় ভালোভাবে পূর্ণ করতে পারে। এই ধরণের দায়িত্বের ক্ষেত্রে সক্ষমতার পাশাপাশি আমানতদারিতা বা সততা কাম্য। সুতরাং যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে দক্ষ এবং কর্মক্ষেত্রে বিশ্বস্ত হয়, তবে সে এই ধরণের জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে নিযুক্ত হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়। আর আমর ইবনুল আস এমনই গুণের অধিকারী ছিলেন।

(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
"استعملتَ فلاناً ولم تستعملني قال: ((إنكم سترون بعدي أثرة، فاصبروا حتى تلقوني)) " يعني أمور هذه الدنيا ينبغي للمسلم أن لا تكون همه، يكفي منها البلغة، فالأثرة في أمور الدنيا أمرها يسير إذا سلم رأس المال وهو الدين، وكثيرٌ من الناس عاش في هذه الحياة عقود بل ممن عمر، حياته كلها على نقيض ما أراده الله -جل وعلا- من عباده، الأصل أن يعيش الإنسان لدينه هذا الأصل، لكن لحاجته إلى الدنيا قيل له: {وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا} [(77) سورة القصص] كثيرٌ من المسلمين مع الأسف الشديد يعيش للدنيا، يعيش عيشته كلها وهمه الدنيا، ومع ذلكم قد ينسى نصيبه من الآخرة وقد لا ينساه، وليس معنى هذا أن الإنسان يصرف عشرين ساعة في العبادة، يصوم النهار، ويقوم الليل، ويتصدق، ويجاهد عمره كله ولا يفتر، قد تكون حياة المسلم كلها عبادة وهو في أريح بال، وأنعم عيش، ينوي في تصرفاته العادية التقرب بها إلى الله عز وجل، فتكون حياته كلها عبادات ((حتى ما يضعه في فيِّ امرأته)) حتى ما يأكله ليستعين به على طاعة الله، حتى في نومه ليستعين به على العبادة، هذه عبادات كلها، فتكون حياته لله عز وجل، {قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ} [(162) سورة الأنعام] كلها لله، والله المستعان.

 

‌‌شرح: باب: قول النبي صلى الله عليه وسلم-: ((هلاك أمتي على يدي أغيلمة سفهاء)).

باب: قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((هلاك أمتي على يدي أغيلمة سفهاء)).

حدثنا موسى بن إسماعيل قال: حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد بن عمرو بن سعيد قال: أخبرني جدي قال: كنت جالساً مع أبي هريرة رضي الله عنه في مسجد النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة، ومعنا مروان، قال أبو هريرة: سمعت الصادق المصدوق يقول: ((هلكة أمتي على يدي غلمة من قريش)) فقال مروان: لعنة الله عليهم غلمة، فقال أبو هريرة: لو شئت أن أقول: بني فلان وبني فلان لفعلت، فكنت أخرج مع جدي إلى بني مروان حين ملكوا بالشام، فإذا رآهم غلماناً أحداثاً قال لنا: عسى هؤلاء أن يكونوا منهم قلنا: أنت أعلم.
"তুমি অমুককে কাজে নিযুক্ত করলে কিন্তু আমাকে করলে না। তিনি বললেন: 'নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে স্বজনপ্রীতি দেখতে পাবে, সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধরো যতক্ষণ না আমার সাথে (হাউজে) মিলিত হও'।" অর্থাৎ দুনিয়ার এই বিষয়গুলো যেন একজন মুসলিমের মূল চিন্তার বিষয় না হয়, এখান থেকে জীবনধারণের মতো সামান্য যা পাওয়া যায় তাই যথেষ্ট। দুনিয়াবী বিষয়ে পক্ষপাতিত্ব হওয়াটা একটি তুচ্ছ বিষয় যদি মূল পুঁজি অর্থাৎ দ্বীন নিরাপদ থাকে। অনেক মানুষ এই জীবনে কয়েক দশক ধরে বেঁচে থাকে, এমনকি দীর্ঘায়ু লাভ করে, অথচ তাদের পুরো জীবনটাই আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর বান্দাদের থেকে যা চেয়েছেন তার বিপরীত ধারায় অতিবাহিত হয়। মূল নীতি হলো মানুষ তার দ্বীনের জন্য বাঁচবে, এটাই হলো ভিত্তি। কিন্তু দুনিয়ার প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাকে বলা হয়েছে: 'আর দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেও না' [সুরা আল-কাসাস: ৭৭]। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, অনেক মুসলিম দুনিয়ার জন্য বাঁচে, সে তার পুরো জীবনটাই অতিবাহিত করে দুনিয়ার চিন্তায় মগ্ন হয়ে। তা সত্ত্বেও সে হয়তো আখিরাত থেকে তার প্রাপ্য অংশ ভুলে যেতে পারে, আবার নাও ভুলতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে, মানুষ বিশ ঘণ্টা ইবাদতে ব্যয় করবে, দিনে রোজা রাখবে, রাতে নামাজ পড়বে, দান-খয়রাত করবে এবং ক্লান্তিহীনভাবে সারাজীবন জিহাদ করবে। বরং একজন মুসলিমের পুরো জীবনটাই ইবাদত হতে পারে যখন সে প্রশান্ত মনে এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনে থাকে; সে যদি তার সাধারণ দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র নৈকট্য লাভের নিয়ত করে, তবে তার পুরো জীবনটাই ইবাদতে পরিণত হয়। 'এমনকি যা সে তার স্ত্রীর মুখে তুলে দেয়' তাও ইবাদত। এমনকি সে যা খায় আল্লাহর আনুগত্যে শক্তি অর্জনের জন্য, এমনকি তার ঘুমও যদি হয় ইবাদতের জন্য শক্তি সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে—এগুলো সবই ইবাদত। তখন তার জীবন আল্লাহর জন্যই নিবেদিত হয়। 'বলুন: নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ আল্লাহর জন্য' [সুরা আল-আন'আম: ১৬২]। এর সবই আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাওয়া হয়।

 

‌‌ব্যাখ্যা: পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী-: ((আমার উম্মতের ধ্বংস হবে কতিপয় নির্বোধ যুবকের হাতে))।

পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: ((আমার উম্মতের ধ্বংস হবে কতিপয় নির্বোধ যুবকের হাতে))।

মূসা ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার দাদা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মদিনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে বসা ছিলাম, আমাদের সাথে মারওয়ানও ছিলেন। আবু হুরায়রা বললেন: আমি সত্যবাদী ও সত্য প্রত্যায়নকারীকে বলতে শুনেছি: ((আমার উম্মতের ধ্বংস কুরাইশদের কতিপয় যুবকের হাতে))। তখন মারওয়ান বললেন: সেই যুবকদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক। আবু হুরায়রা বললেন: আমি যদি বলতে চাইতাম যে তারা অমুক বংশের এবং অমুক বংশের সন্তান, তবে আমি অবশ্যই তা বলতাম। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি আমার দাদার সাথে বনু মারওয়ানের নিকট যেতাম যখন তারা শামে ক্ষমতায় ছিল। তিনি যখন তাদের অল্পবয়সী যুবকদের দেখতেন, তখন আমাদের বলতেন: সম্ভবত এরা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। আমরা বললাম: আপনিই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢٤)
يقول الإمام -رحمة الله عليه-: "باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((هلاك أمتي على يدي أغيلمة سفهاء)) " أغيلمة: تصغير تحقير إما تصغيراً لأسنانهم فهم صبيان، أو تصغير لعقولهم وأحلامهم فهم سفهاء وإن كانوا كبار السن، فمثل هؤلاء سواءٌ كانوا صغاراً في أسنانهم أو في عقولهم وأحلامهم لا شك أن مثل هؤلاء يهلكون الحرث والنسل، مثل هؤلاء يتصرفون التصرفات المهلكة الضارة.
ইমাম—তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক—বলেন: "অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ((আমার উম্মতের ধ্বংস হবে কিছু নির্বোধ বালকের হাতে))।" 'বালকসমূহ': এটি অবজ্ঞাসূচক ক্ষুদ্রতাবাচক শব্দ; হয় তাদের বয়সের স্বল্পতার কারণে যেহেতু তারা কিশোর, অথবা তাদের বুদ্ধি ও বিবেচনার স্বল্পতার কারণে যেহেতু তারা নির্বোধ, যদিও তারা বয়সে বড় হয়ে থাকে। সুতরাং এদের মতো লোক—তারা বয়সে ছোট হোক বা বুদ্ধি ও বিবেচনায় ছোট হোক—এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ ধরনের লোকেরা শস্য ও বংশধারা ধ্বংস করে ফেলে; এ ধরনের লোকেরা ধ্বংসাত্মক ও ক্ষতিকারক আচরণ করে থাকে।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
يقول: "حدثنا موسى بن إسماعيل –التبوذكي- قال: حدثنا عمرو بن يحيى بن سعيد بن عمرو بن سعيد، قال أخبرني جدي -سعيد بن عمرو بن سعيد بن العاص- قال: كنتُ جالساً مع أبي هريرة في مسجد النبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة، ومعنا مروان" يعني ابن الحكم الذي تولى فيما بعد، "قال أبو هريرة: سمعت الصادق المصدوق" الصادق في نفسه، المصدوق عند الله عز وجل، "يقول: ((هلكة أمتي على يدي غلمة)) " في رواية أحمد والنسائي: ((سفهاء من قريش))، "فقال مروان: لعنة الله عليهم" هؤلاء الذين يكونون هلاك الأمة على أيديهم ممن ولي أمر المسلمين لعنهم مروان، أبو هريرة لم يلعنهم ولم ينقل لعنهم عن النبي عليه الصلاة والسلام، وقد اختلف أهل العلم في لعن من هذا وصفه ممن أشير إليه في هذا الحديث كيزيد بن معاوية والحجاج وأمثالهم، أهل العلم يختلفون في مثل هؤلاء، والإمام أحمد لما سأله ابنه عبد الله عن يزيد وذكر له أنه ممن يستحق اللعن، فقال له: لما لا تلعنه؟ فقال -رحمة الله عليه-: هل عرفت أباك لعاناً، الشخص قد يستحق وصف، لكن هل الناس ملزمون بأن يصفوه بهذا الوصف؟ ليسوا بملزمين، السلامة لا يعدلها شيء، اكفف لسانك، المسألة خلافية، وليس المسلم باللعان ولا بالطعان ولا بالفاحش البذيء، فعلى الإنسان أن يحفظ لسانه ولا يقع في فلان ولا علان، لا سيما مع عدم وجود مصلحة ترجى من هذا، النبي عليه الصلاة والسلام لعن بأوصاف، ((لعن الله السارق يسرق البيضة)) ولعن أشخاص: "اللهم العن فلاناً وفلاناً" فأنزل عليه: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ} [(128) سورة آل عمران] فينبغي للإنسان ألا يرسل .. ، يسارع في هذه الأمور ويرسل لسانه، نعم إذا خشي من إنسان بعينه أن يتعدى شره وضرره على من لا يعرف حاله وأن يحذر منه؛ لئلا يتعدى شره وضرره لمن يغتر به.

তিনি বলেন: "আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মূসা ইবনে ইসমাঈল –আত-তাবুযাকী– তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ, তিনি বলেন: আমাকে আমার দাদা –সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ ইবনে আল-আস– সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মদীনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মসজিদে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে বসা ছিলাম এবং আমাদের সাথে মারওয়ানও ছিলেন," অর্থাৎ ইবনুল হাকাম, যিনি পরবর্তীতে শাসনভার গ্রহণ করেছিলেন। "আবু হুরায়রা বললেন: আমি আস-সাদিক আল-মাসদুক (সত্যবাদী ও সত্যয়নকৃত)-কে বলতে শুনেছি," যিনি স্বয়ং সত্যবাদী এবং মহান আল্লাহর নিকট সত্যয়নকৃত, "তিনি বলছেন: ((আমার উম্মতের ধ্বংস একদল বালকের হাতে হবে))।" আহমদ ও নাসাঈর বর্ণনায় রয়েছে: ((কুরাইশদের কিছু নির্বোধের হাতে))। "তখন মারওয়ান বললেন: তাদের ওপর আল্লাহর লানত (অভিসম্পাত) হোক।" মুসলিম উম্মাহর ধ্বংস যাদের হাতে হবে এবং যারা মুসলমানদের শাসনভার গ্রহণ করবে—মারওয়ান তাদের লানত দিয়েছেন। কিন্তু আবু হুরায়রা তাদের লানত দেননি এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকেও তাদের প্রতি লানত দেওয়ার কথা বর্ণনা করেননি। এই হাদীসে যাদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে—যেমন ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া, হাজ্জাজ এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ—তাদের লানত দেওয়ার বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। আলেমগণ এই ধরনের ব্যক্তিদের ব্যাপারে মতপার্থক্য করেন। ইমাম আহমদকে যখন তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ ইয়াজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং উল্লেখ করেছিলেন যে সে লানত পাওয়ার যোগ্য, তখন সে তাঁকে বলেছিল: আপনি তাকে কেন লানত দিচ্ছেন না? তখন তিনি –রাহিমাহুল্লাহ– বলেছিলেন: "তুমি কি তোমার পিতাকে লানতকারী হিসেবে দেখেছ?" কোনো ব্যক্তি কোনো গুণের (বা দোষের) অধিকারী হতে পারে, কিন্তু মানুষ কি তাকে সেই বিশেষণে ভূষিত করতে বাধ্য? তারা বাধ্য নয়। নিরাপত্তার সমকক্ষ আর কিছুই নেই। নিজের জিহ্বাকে সংবরণ করো। বিষয়টি মতভেদপূর্ণ। আর মুমিন ব্যক্তি লানতকারী, কটূক্তিকারী কিংবা অশ্লীল ও কটুভাষী হয় না। সুতরাং মানুষের উচিত তার জিহ্বাকে হেফাযত করা এবং অমুক বা তমুকের সমালোচনায় লিপ্ত না হওয়া, বিশেষ করে যখন এতে কোনো প্রকার কল্যাণের আশা নেই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের ওপর লানত দিয়েছেন, যেমন: ((আল্লাহ চোরকে লানত করুন, যে ডিম চুরি করে))। আবার তিনি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপরও লানত করেছেন: "হে আল্লাহ! অমুক এবং অমুককে লানত করুন।" তখন তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়: {এ বিষয়ে আপনার করার কিছুই নেই} [সূরা আলে ইমরান: ১২৮]। সুতরাং মানুষের উচিত নয় এই সকল বিষয়ে তাড়াহুড়ো করা এবং স্বীয় জিহ্বাকে মুক্তভাবে ছেড়ে দেওয়া। তবে হ্যাঁ, যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির অনিষ্ট ও ক্ষতি এমন কারো ওপর ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে যে তার অবস্থা জানে না, তবে তাকে সতর্ক করা প্রয়োজন; যাতে তার অনিষ্ট ও ক্ষতি এমন কারো ওপর না পৌঁছে যারা তার দ্বারা প্রতারিত হতে পারে।

(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
"فقال مروان: لعنة الله عليهم غلمة" منصوب على اختصاص، "فقال أبو هريرة: لو شئت أن أقول: بني فلان وبني فلان لفعلت" وكأن أبا هريرة رضي الله عنه يعرف أسماءهم، فأبو هريرة حفظ من النبي عليه الصلاة والسلام وعاءين، أما أحد الوعاءين فبثه في الناس، وهو ما يحتاجون إليه من أمور الدين، وأما الوعاء الثاني الذي لا يحتاجون إليه فكتمه؛ لأنه لو بثه في الناس لقطع منه هذا البلعوم يعني لقتل؛ لأنه فيه ذكر أشخاص من مثل هؤلاء الأغيلمة الذين يكون على أيديهم هلاك الأمة ودمارها، ولا مصلحة من التصريح بأسمائهم، وكان أبو هريرة رضي الله عنه يتعوذ بالله عز وجل من الستين وإمارة الصبيان، يقول: "اللهم إني أعوذ بك من رأس الستين، وإمارة الصبيان"، رأس الستين توفي معاوية رضي الله عنه، تولى بعده ابنه يزيد، فأجاب الله عز وجل دعوة أبي هريرة فقبضه قبل ذلك بسنة، توفي سنة (59) أو (58) على خلاف في ذلك، المقصود أن الله أجاب دعاءه فقبضه قبل أن يعاشر ويعامل مثل هؤلاء.

"قال أبو هريرة: "لو شئت أن أقول: بني فلان وبني فلان لفعلت، فكنت -عمرو بن يحيى بن سعيد بن عمرو بن سعيد- يقول: "فكنت أخرج مع جدي سعيد بن عمرو إلى بني مروان حين ملكوا بالشام" ولوا الخلافة بالشام، وفي رواية: "ملكوا"، "فإذا رآهم غلماناً أحداثا ً –شبان- أحداثاً، قال لنا: عسى هؤلاء أن يكونوا منهم؟ " يقوله لحفيده: عسى هؤلاء أن يكونوا ممن ذكر أبو هريرة في الحديث، "قلنا: أنت أعلم" أنت أعرف، أنت الذي سمعت أبا هريرة، وأنت الذي عاصرت هؤلاء وعرفتهم من قبل أن يتولوا وبعد ما تولوا، أنت أعرف وأدرى.

 

‌‌شرح: باب: قول النبي صلى الله عليه وسلم-: ((ويل للعرب من شر قد اقترب)):

باب: قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((ويل للعرب من شر قد اقترب)).
মারওয়ান বললেন: "সেই কিশোরদের ওপর আল্লাহর লানত।" এটি বিশেষায়িত হওয়ার কারণে মানসুব হয়েছে। আবু হুরায়রা বললেন: "আমি যদি অমুক বংশের সন্তান এবং অমুক বংশের সন্তান বলতে চাইতাম, তবে অবশ্যই তা বলতাম।" মনে হচ্ছে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের নাম জানতেন। আবু হুরায়রা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে ইলমের দুটি পাত্র মুখস্থ করেছিলেন। একটি পাত্র তিনি মানুষের মাঝে প্রচার করেছিলেন, যা দ্বীনি বিষয়ে তাদের প্রয়োজন ছিল। আর দ্বিতীয় পাত্রটি, যার প্রয়োজন তাদের ছিল না, তিনি তা গোপন করেছিলেন। কারণ তিনি যদি তা মানুষের মাঝে প্রচার করতেন, তবে তার এই কণ্ঠনালি কেটে ফেলা হতো, অর্থাৎ তাকে হত্যা করা হতো। কেননা এর মধ্যে এমন কিছু কিশোর ব্যক্তির উল্লেখ ছিল যাদের হাতে উম্মতের ধ্বংস ও বিপর্যয় সাধিত হবে, আর তাদের নাম স্পষ্টভাবে প্রকাশ করার মধ্যে কোনো কল্যাণ ছিল না। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ষাট হিজরি এবং বালকদের শাসন থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ষাট হিজরির শুরু এবং বালকদের শাসন থেকে আশ্রয় চাই।" ষাট হিজরির শুরুতে মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মৃত্যুবরণ করেন এবং এরপর তার পুত্র ইয়াজিদ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। আল্লাহ তাআলা আবু হুরায়রার দোয়া কবুল করেছিলেন এবং তার এক বছর আগেই তাকে তুলে নিয়েছিলেন। তিনি ৫৯ বা ৫৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সারকথা হলো, আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেছিলেন এবং তাকে এমন ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা ও লেনদেন করার আগেই মৃত্যু দান করেছিলেন।

আবু হুরায়রা বললেন: "আমি যদি অমুক বংশের সন্তান এবং অমুক বংশের সন্তান বলতে চাইতাম, তবে অবশ্যই বলতাম।" আমর ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ইবনে আমর ইবনে সাঈদ বলেন: "আমি আমার দাদা সাঈদ ইবনে আমরের সাথে বনু মারওয়ানের কাছে যেতাম যখন তারা শামে ক্ষমতাসীন ছিলেন।" তারা শামে খিলাফত পরিচালনা করতেন, আর এক বর্ণনায় আছে: "তারা রাজত্ব করত।" "তিনি যখন তাদের অল্পবয়সী যুবক ও কিশোর হিসেবে দেখতেন, তখন তিনি আমাদের বলতেন: সম্ভবত এরাই তাদের অন্তর্ভুক্ত? (যাদের কথা বলা হয়েছে)" তিনি তার নাতিকে বলতেন: সম্ভবত এরাই সেই সব লোক যাদের কথা আবু হুরায়রা হাদিসে উল্লেখ করেছেন। "আমরা বলতাম: আপনিই ভালো জানেন।" আপনিই বেশি অবগত, আপনিই আবু হুরায়রার নিকট থেকে শুনেছেন এবং আপনিই তাদের সমসাময়িক ছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের আগে এবং পরে আপনিই তাদের ভালো চিনেছেন। তাই আপনিই অধিক জ্ঞাত এবং অভিজ্ঞ।

 

‌‌ব্যাখ্যা: অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী-: "আরবদের জন্য ধ্বংস সেই অনিষ্টের কারণে যা নিকটবর্তী হয়েছে":

অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আরবদের জন্য ধ্বংস সেই অনিষ্টের কারণে যা নিকটবর্তী হয়েছে"।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
حدثنا مالك بن إسماعيل قال: حدثنا ابن عيينة أنه سمع الزهري عن عروة عن زينب بنت أم سلمة رضي الله عنها عن أم حبيبة عن زينب بنت جحش رضي الله عنهن أنها قالت: استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم من النوم محمراً وجهه يقول: ((لا إله إلا الله، ويل للعرب من شر قد اقترب، فتح اليوم من ردم يأجوج ومأجوج مثل هذه)) وعقد سفيان تسعين أو مائة، قيل: "أنهلك وفينا الصالحون؟ قال: ((نعم إذا كثر الخبث)).

حدثنا أبو نعيم قال: حدثنا ابن عيينة عن الزهري وحدثني محمود قال: أخبرنا عبد الرزاق قال: أخبرنا معمر عن الزهري عن عروة عن أسامة بن زيد رضي الله عنهما قال: أشرف النبي صلى الله عليه وسلم على أطم من آطام المدينة، فقال: ((هل ترون ما أرى؟ )) قالوا: لا، قال: ((فإني لأرى الفتن تقع خلال بيوتكم كوقع القطر)).

يقول الإمام -رحمة الله عليه-: "باب قول النبي صلى الله عليه وسلم: ((ويل للعرب من شر قد اقترب)) " ثم ساق حديث أم المؤمنين زينب بنت جحش، وهو مخرجٌ في الصحيح في مواضع، وهو أطول ما في الصحيح إسناداً، يعني أنزل ما في البخاري إسناد هذا الحديث، رواه في بعض المواضع تساعي، الآن مالك بن إسماعيل وابن عيينة سمعا الزهري عن عروة عن زينب عن أم حبيبة عن زينب، سباعي، لكن في موضعٍ آخر رواه بسندٍ تساعي، وهو أنزل ما في الصحيح، وأعلى ما في الصحيح كما هو معروف الثلاثيات.

মালিক ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উইয়াইনাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে তিনি যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি যয়নব বিনতে উম্মে সালামাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে, তিনি উম্মে হাবিবা থেকে, তিনি যয়নব বিনতে জাহাশ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুম থেকে রক্তিম মুখমণ্ডল নিয়ে জাগ্রত হলেন এবং বলছিলেন: ((আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আরবের জন্য ধ্বংস সেই অনিষ্টের কারণে যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর থেকে এই পরিমাণ উন্মুক্ত হয়েছে)) এবং সুফিয়ান নব্বই বা একশ-র চিহ্ন দেখালেন। জিজ্ঞেস করা হলো: "আমাদের মাঝে নেককার লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব?" তিনি বললেন: ((হ্যাঁ, যখন পাপাচার বৃদ্ধি পাবে))।

আবু নুআইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে উইয়াইনাহ যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং মাহমুদ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মা'মার যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি উসামাহ বিন যায়েদ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনার দুর্গসমূহের মধ্য থেকে একটি উচুঁ দুর্গের ওপর উঠলেন এবং বললেন: ((আমি যা দেখছি তোমরা কি তা দেখতে পাচ্ছো?)) তারা বললেন: না। তিনি বললেন: ((আমি তোমাদের ঘরবাড়ির মাঝে বৃষ্টির পতনের মতো ফিতনা পতিত হতে দেখছি))।

ইমাম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেন: "অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: ((আরবের জন্য ধ্বংস সেই অনিষ্টের কারণে যা নিকটবর্তী হয়েছে))" এরপর তিনি উম্মুল মুমিনীন যয়নব বিনতে জাহাশের হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, যা সহীহ গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে উদ্ধৃত হয়েছে। এটি সহীহ বুখারীর দীর্ঘতম সনদ (বর্ণনাসূত্র), অর্থাৎ ইমাম বুখারীর কিতাবে এই হাদীসের সনদটি হলো নিম্নতম পর্যায়ের। কোনো কোনো স্থানে এটি 'তুসাঈ' (নয়জন রাবীর সূত্র) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এখানে মালিক ইবনে ইসমাঈল এবং ইবনে উইয়াইনাহ যুহরী থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি যয়নব থেকে, তিনি উম্মে হাবিবা থেকে, তিনি যয়নব থেকে শুনেছেন—এটি হলো 'সুবায়ী' (সাতজন রাবীর সূত্র)। কিন্তু অন্য স্থানে তিনি এটি 'তুসাঈ' সনদে বর্ণনা করেছেন, যা সহীহ গ্রন্থের দীর্ঘতম সনদ। আর সহীহ বুখারীর সংক্ষিপ্ততম বা উচ্চতর সনদ হিসেবে 'সুলাছিয়াত' (তিনজন রাবীর সূত্র) সর্বজনবিদিত।
(খণ্ড: ١) শারহু কিতাবিল ফিতানি মিন সহীহিল বুখারী - আব্দুল কারীম আল-খুদাইর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
يقول الإمام -رحمه الله تعالى-: "حدثنا مالك بن إسماعيل -بن زياد النهدي- قال: حدثنا ابن عيينة -يعني سفيان- أنه سمع الزهري -محمد بن مسلم بن شهاب الإمام المعروف- عن عروة -بن الزبير- عن زينب بنت أم سلمة عن أم حبيبة عن زينب بنت جحش"، أو ابنت جحش أم المؤمنين رضي الله عنهن،. . . . . . . . . ثلاث صحابيات، "قالت: استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم من النوم محمراً وجهه" في بعض الروايات بل في آخر الفتن من هذا الكتاب: "دخل علي رسول الله صلى الله عليه وسلم يوماً فزعاً" وهنا تقول: "استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم من نومه محمراً وجهه"، دخل عليها بعد أن استيقظ من نومه فزعاً، وكانت حمرة وجهه من ذلك الفزع، فاستيقظ فزعاً، ثم دخل عليها فزعاً، ولا يمنع أن يجتمع هذا كله، "استيقظ النبي صلى الله عليه وسلم من النوم محمراً وجهه يقول: ((لا إله إلا الله .. )) " محمراً: حال كونه محمراً وجهه، ووجهه: فاعل، يقول: ((لا إله إلا الله)) كلمة التوحيد، ينبغي أن تقال في كل حال، وعلى كل حال، في كل ظرف وفي كل مناسبة لا إله إلا الله، ((وأفضل ما قلت أنا والنبيون من قبلي: لا إله إلا الله))، ((ويل للعرب)) كلمة تقال عند حصول هلكة أو توقعها، وهي في الأصل كلمة عذاب أو وادٍ في جهنم كما يقول بعض أهل العلم، ((ويلٌ للعرب من شر قد اقترب)) وتخصيص العرب لأنهم في ذلك الوقت ما دخل غيرهم في الدين أحد، وفي حكمهم ويلٌ له من يوافقهم على الدين، ((ويلٌ للعرب من شرٍ قد اقترب، فتح اليوم من ردم يأجوج ومأجوج)) كيف يقول: اقترب وقد مضى الآن أكثر من أربعة عشر قرناً ولم يحصل؟ إذا لاحظنا أن النبي عليه الصلاة والسلام يقول: ((بعثت أنا والساعة كهاتين)) فزمنه عليه الصلاة والسلام قريب من الساعة، باعتبار أنه لم يكن بينه وبين الساعة أحدٌ من الأنبياء، فهو أقرب الأنبياء إلى قيام الساعة، ولذا قال: ((ويلٌ للعرب من شرٍ قد اقترب، فتح اليوم من ردم يأجوج ومأجوج -سد يأجوج ومأجوج الذي بناه ذو القرنين- مثل هذه)) وعقد سفيان تسعين"، التسعين يأتي إلى السبابة اليمنى ....

ইমাম -আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন- বলেন: "আমাদের কাছে মালিক ইবনে ইসমাঈল ইবনে যিয়াদ আন-নাহদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইবনে উয়ায়নাহ -অর্থাৎ সুফিয়ান- বর্ণনা করেছেন যে, তিনি যুহরী -প্রখ্যাত ইমাম মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব- থেকে শুনেছেন, তিনি উরওয়াহ -ইবনে যুবায়র- থেকে, তিনি উম্মে সালামাহর কন্যা যায়নাব থেকে, তিনি উম্মে হাবীবা থেকে, তিনি যায়নাব বিনতে জাহশ থেকে বর্ণনা করেন", অথবা জাহশের কন্যা উম্মুল মুমিনীন (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হন), . . . . . . . . . এখানে তিনজন নারী সাহাবী রয়েছেন। "তিনি (যায়নাব) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল।" কিছু বর্ণনায়, বরং এই কিতাবের ফিতনা অধ্যায়ের শেষে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় আমার নিকট প্রবেশ করলেন।" আর এখানে তিনি বলছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চেহারা লাল হওয়া অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন।" তিনি ঘুম থেকে ভীত অবস্থায় জাগ্রত হওয়ার পর তাঁর নিকট প্রবেশ করেছিলেন এবং তাঁর চেহারার লাল আভা ছিল সেই ভীতির কারণে। সুতরাং তিনি ভীত অবস্থায় জাগ্রত হলেন, অতঃপর ভীত অবস্থায় তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন; এই সবকিছুর সমন্বয় হতে কোনো বাধা নেই। "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারা লাল হওয়া অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বলছিলেন: ((আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই..))।" এখানে 'লাল হওয়া' শব্দটি অবস্থা (হাল) হিসেবে এসেছে এবং 'চেহারা' হলো তার কর্তা (ফাইল)। তিনি বলছিলেন: ((আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই)) এটি তাওহীদের বাণী, যা প্রতিটি অবস্থায়, সব পরিস্থিতিতে এবং প্রতিটি সময়ে ও উপলক্ষে বলা উচিত; আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। ((আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যা বলেছি তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই))। ((আরবদের জন্য ধ্বংস)) এটি কোনো ধ্বংস সংঘটিত হওয়ার সময় বা তার আশঙ্কার সময় বলা হয়। এটি মূলত শাস্তির একটি শব্দ অথবা জাহান্নামের একটি উপত্যকা, যেমনটি কোনো কোনো আলিম বলেন। ((আরবদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস যা নিকটবর্তী হয়েছে))। এখানে আরবদের নির্দিষ্ট করার কারণ হলো, সেই সময় আরব ব্যতীত অন্য কেউ এই দ্বীনে প্রবেশ করেনি। আর যারা দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের অনুসারী হবে, তাদের জন্যেও এই ধ্বংসের হুকুম প্রযোজ্য। ((আরবদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস যা নিকটবর্তী হয়েছে; আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর -অর্থাৎ যুলকারনাইন যে প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন- থেকে এই পরিমাণ উন্মুক্ত হয়েছে))। তিনি কীভাবে বললেন 'নিকটবর্তী হয়েছে' অথচ বর্তমানে চৌদ্দ শতাব্দীরও বেশি সময় পার হয়ে গিয়েছে কিন্তু তা ঘটেনি? আমরা যদি লক্ষ্য করি যে নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসাল্লাম বলেন: ((আমি এবং কিয়ামত এই দুইটির মতো প্রেরিত হয়েছি)), তাহলে দেখা যায় কিয়ামতের সাপেক্ষে তাঁর সময় অত্যন্ত নিকটবর্তী। কারণ তাঁর এবং কিয়ামতের মাঝে আর কোনো নবী নেই, তাই তিনি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সবচেয়ে নিকটবর্তী নবী। এজন্যই তিনি বলেছেন: ((আরবদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস যা নিকটবর্তী হয়েছে; আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর থেকে এই পরিমাণ উন্মুক্ত হয়েছে)) এবং সুফিয়ান নব্বইয়ের (সংখ্যার) সংকেত তৈরি করলেন। নব্বইয়ের সংকেতটি ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে করা হয়....